(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: -)
الإشارة في أصول الفقه - ت فركوس القسم: أصول الفقه
الكتاب: الإشارة في معرفة الأصول والوجازة في معنى الدليل
المؤلف: أبو الوليد سليمان بن خلف الباجي الأندلسي (ت 474 هـ)
دراسة وتحقيق وتعليق: محمد علي فركوس [أستاذ بالمعهد الوطني العالي لأصول الدين (الخروبة - جامعة الجزائر)]
الناشر: المكتبة المكية (مكة المكرمة) - دار البشائر الإسلامية (بيروت)
الطبعة: الأولى، 1416 هـ - 1996 م
عدد الصفحات: 396
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 28 جُمادَى الآخرة 1438
উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের ইশারা - ফারকুস কর্তৃক সম্পাদিত বিভাগ: উসূলুল ফিকহ (ফিকহের মূলনীতি)
বই: আল-ইশারা ফি মা'রিফাতিল উসূল ওয়াল ওয়াজাজাহ ফি মা'নাদ দলিল
লেখক: আবু আল-ওয়ালিদ সুলায়মান ইবনে খালাফ আল-বাজি আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৪৭৪ হিজরি)
গবেষণা, সম্পাদনা ও টীকা: মুহাম্মদ আলি ফারকুস [প্রফেসর, ন্যাশনাল হায়ার ইনস্টিটিউট অফ উসূলুদ্দিন (আল-খাররুবা - আলজেরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়)]
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল মাক্কিয়্যাহ (মক্কা মুকাররমা) - দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ (বৈরুত)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৬
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: আবু ইয়াসির আল-জাযাইরি
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ১)
كتاب
الإشارة في معرفة الأصول
والوجازة في معنى الدليل
تأليف
الإمام الحافظ أبو الوليد سليمان بن خلف الباجي الأندلسي
(المتوفى سنة 474 هـ)
دراسة وتحقيق وتعليق
محمد علي فركوس
أستاذ بالمعهد الوطني العالي لأصول الدين
(الخروبة - جامعة الجزائر)
المكتبة المكية - دار البشائر الإسلامية
গ্রন্থ
উসূল পরিচিতিতে ইশারা
এবং দলিলের মর্মার্থের সংক্ষিপ্তসার
গ্রন্থনায়
ইমাম হাফিজ আবু আল-ওয়ালিদ সুলাইমান বিন খালাফ আল-বাজি আল-আন্দালুসি
(মৃত্যু ৪৭৪ হিজরি)
গবেষণা, সম্পাদনা ও টীকা প্রদান
মুহাম্মদ আলী ফারকুস
ন্যাশনাল হায়ার ইনস্টিটিউট অব উসুল আদ-দিনের অধ্যাপক
(আল-খারুবা - আলজিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়)
আল-মাকতাবাতুল মাক্কিয়া - দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ৩)
إِذَا كُنْتُ أَعْلَمُ عِلْمًا يَقِينًا
… بِأَنَّ جَمِيعَ حَيَاتِي كَسَاعَهْ
فَلِمَ لَا أَكُونُ ضَنِينًا بِهَا
… وَأَجْعَلُهَا في صَلَاحٍ وَطَاعَهْ
(أبو الوليد الباجي)
আমি যখন নিশ্চিত জ্ঞানের সহিত অবগত হই
… যে আমার সমগ্র জীবন মাত্র একটি মুহূর্তের ন্যায়
তবে কেন আমি ইহার প্রতি অতিশয় যত্নশীল (কৃপণ) হইব না
… এবং ইহাকে ব্যয় করিব না সংশোধন ও আনুগত্যের পথে
(আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি)
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقَدّمَة
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
وصلاة الله وسلامه عليه، وعلى آله وصحبه، وإخوانه، أجمعين إلى يوم الدين.
أما بعد:
فلقد أفرغ أئمتنا المجتهدون وسعهم في استثمار مصادر التشريع، وبذلوا طاقتهم في استنباط الأحكام بما آتاهم الله تعالى من سعة الفكر، وبُعد النظر، وقوة البيان، وسلامة الفطرة، وحسن القصد، هذا وإن اختلفت اجتهاداتهم فبناء على اختلافهم في مناهج البحث، وفي الأصول الموضوعة لكل مجتهد، فكان علم أصول الفقه كفيلًا بالنظر في الأدلة الشرعية، ومنهاجًا قويمًا للاجتهاد واستنباط الأحكام الشرعية من الأدلة والنصوص، ودعامة، أساسية لدراسة المذاهب والآراء المختلفة والمقارنة بينها، ومقياسًا توزن به الآراء عند الاختلاف، وسلامة لذهن الفقيه في تجنب الخطأ وإدراك الصواب، ووسيلة ناجحة لحفظ الدين وصيانة الشريعة، ولا يخفى أنه لا يستغني عن هذا الفن من تأهل للنظر والاجتهاد، ومن يهتم بعلم الفقه والخلاف.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং তাঁর ভাইদের উপর—কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাদের সকলের উপর।
অতঃপর:
আমাদের মুজতাহিদ ইমামগণ শরীয়তের উৎসগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ সামর্থ্য ব্যয় করেছেন এবং আল্লাহ তাআলা তাদেরকে যে চিন্তার প্রশস্ততা, দূরদৃষ্টি, সাবলীল বর্ণনাভঙ্গি, সুস্থ ফিতরাত ও উত্তম উদ্দেশ্য দান করেছেন তার মাধ্যমে বিধানসমূহ (আহকাম) আহরণে তারা তাদের শক্তি নিয়োগ করেছেন। আর তাদের ইজতিহাদসমূহে যদি কোনো পার্থক্য হয়ে থাকে, তবে তা হয়েছে গবেষণার পদ্ধতি এবং প্রত্যেক মুজতাহিদের জন্য নির্ধারিত মূলনীতিসমূহের (উসূল) ভিন্নতার কারণে। অতএব, উসূলে ফিকহ শাস্ত্র শরীয়তের দলিলসমূহ পর্যালোচনার জন্য যথেষ্ট এবং ইজতিহাদ ও দলিল ও নস (শরয়ী পাঠ) থেকে শরয়ী বিধান আহরণের জন্য একটি সঠিক পথ হিসেবে গণ্য। এটি বিভিন্ন মাযহাব ও মতামতের অধ্যয়ন এবং তাদের মধ্যে তুলনার একটি মৌলিক ভিত্তি। এটি মতভেদের সময় মতামত যাচাই করার একটি মানদণ্ড, ভুল এড়ানো ও সঠিকটি অনুধাবনের ক্ষেত্রে ফকীহের মেধার সুরক্ষা এবং দ্বীন রক্ষা ও শরীয়ত সংরক্ষণের একটি সফল মাধ্যম। আর এটি অস্পষ্ট নয় যে, যারা গবেষণা ও ইজতিহাদের যোগ্যতা রাখেন এবং যারা ফিকহ ও মতপার্থক্যমূলক ইলম (ইলমুল খিলাফ) নিয়ে আগ্রহী, তারা কেউই এই শাস্ত্র থেকে বিমুখ থাকতে পারেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولم يفُتْ أئمتنا المجتهدون إدراك الفوائد العظيمة لهذا العلم ومدى أهميته البالغة، فلذلك أصَّلُوا الأصول، وقعَّدوا القواعد في معرفة الأحكام الشرعية وكيفية استنباطها من أدلتها التفصيلية، فصنفوا في هذا العلم المصنفات ورتَّبوا أبوابه، وهذَّبوا مسائله، وحققوا مباحثه، ويسَّروا مسالكه، فبهذا رسموا لنا طريق الاجتهاد، وفتحوا باب البحث، فأصبح كل مجتهد يشير إلى دليل حكمه ويبيِّن وجه الاستدلال به وفق ضوابط أصولية محددة تحديدًا واضحًا ودقيقًا مبينة لمناهج استنباطهم.
ولا يُنكر فضل العلماء الذين بذلوا جهودًا مضنية وطاقاتٍ واسعة في خدمة الشريعة والعناية بعلومها بما تركوه لنا من ثروة علمية هائلة من الكتب العلمية، النافعة في شتى العلوم والفنون تعجُّ المكتبات وتزخر بها في مختلف الأمصار والأقطار، فلولا أن الله تعالى قيضهم للقيام بهذه المهمة الجليلة والعمل الجاد لما وصل إلينا شيء من هذه المصادر الأساسية التي منها الاقتباس وعليها المعول.
ولم يكن ما استنبطه العلماء من أحكام وليد الهوى والشهوة، ولا مدفوعًا بزيغ وانحراف، أو مصلحة شخصية أو مقصد مادي أو أدبي، وإنما كان وفق أسباب موضوعية علمية يعذر لمثلها المخطئ ويؤجر أجرًا واحدًا، ويُحمد المصيب ويؤجر أجرين فضلًا من الله ورحمة.
وضمن هذا المنظور فإن الإمام القاضي أبا الوليد سليمان بن خلف الباجي (المتوفي سنة 474 هـ) أحد قادة الفكر الأندلسي الذين بلغوا ذروة المجد العلمي والنبوغ الفكري في القرن الخامس الهجري، فقد ساهم في إثراء وتعزيز الثروة العلمية العظيمة بما تركه من آثار علمية قيِّمة، نافعة جليلة، جمعت بين الرواية والدراية، والمنقول والمعقول، فبرع في القرآن والحديث وعلومهما، والفقه وأصوله، والعربية وقواعدها، وعلم الكلام ومضايقه والعقليات وغوامضها، فكان خبيرًا بها، قادرًا على التأليف فيها.
ومن مصنفاته الأصولية كتابه الموسوم بعنوان (الإشارة في معرفة الأصول،
আমাদের মুজতাহিদ ইমামগণ এই ইলমের মহান উপকারিতা এবং এর সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব উপলব্ধি করতে ভুল করেননি। তাই তারা শরয়ী আহকাম জানা এবং বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে তা উদ্ভাবনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং নিয়মকানুন নির্ধারণ করেছেন। তারা এই শাস্ত্রে গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন, এর অধ্যায়সমূহ বিন্যস্ত করেছেন, এর মাসআলাগুলোকে পরিমার্জিত করেছেন, এর গবেষণার বিষয়সমূহ যাচাই করেছেন এবং এর পথগুলোকে সহজতর করেছেন। এর মাধ্যমে তারা আমাদের জন্য ইজতিহাদের পথ অঙ্কন করেছেন এবং গবেষণার দ্বার উন্মোচন করেছেন। ফলে প্রত্যেক মুজতাহিদ তার হুকুমের দলিলের প্রতি ইঙ্গিত করতে এবং সুস্পষ্ট ও সুনির্ধারিত উসুলি নীতিমালার আলোকে তাদের উদ্ভাবন পদ্ধতি বর্ণনা করে দলিলের প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছেন।
সেই আলেমদের অবদান অস্বীকার করা যায় না যারা শরীয়তের সেবায় এবং এর জ্ঞানবিজ্ঞানের পরিচর্যায় হাড়ভাঙা পরিশ্রম ও ব্যাপক সামর্থ্য ব্যয় করেছেন। তারা আমাদের জন্য বিভিন্ন জ্ঞান ও বিদ্যায় উপকারী বৈজ্ঞানিক কিতাবপত্রের এক বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার রেখে গেছেন, যার দ্বারা বিভিন্ন জনপদ ও দেশের লাইব্রেরিগুলো সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা যদি এই মহান দায়িত্ব পালন এবং কঠোর পরিশ্রমের জন্য তাদেরকে নিয়োজিত না করতেন, তবে এই মৌলিক উৎসগুলোর কিছুই আমাদের কাছে পৌঁছাত না, যেখান থেকে জ্ঞান আহরণ করা হয় এবং যার ওপর নির্ভর করা হয়।
আলেমগণ যে আহকাম বা বিধানসমূহ উদ্ভাবন করেছেন তা প্রবৃত্তি বা লালসার ফসল ছিল না, কিংবা তা কোনো বিচ্যুতি, বক্রতা, ব্যক্তিগত স্বার্থ অথবা পার্থিব বা জাগতিক উদ্দেশ্য দ্বারা তাড়িত ছিল না। বরং তা ছিল এমন কিছু বস্তুনিষ্ঠ ইলমি কারণের অনুবর্তী, যার ফলে ভুলকারী মার্জনা পায় এবং একটি সওয়াব লাভ করে, আর সঠিক সিদ্ধান্তকারী প্রশংসিত হয় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও রহমতস্বরূপ দ্বিগুণ সওয়াব লাভ করে।
এই প্রেক্ষাপটে, ইমাম কাজী আবুল ওয়ালিদ সুলাইমান বিন খালাফ আল-বাজি (মৃত্যু ৪৭৪ হিজরি) হলেন আন্দালুসিয়ান চিন্তাধারার অন্যতম নেতা, যিনি পঞ্চম হিজরি শতাব্দীতে ইলমি মর্যাদা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছেছিলেন। তিনি তার রেখে যাওয়া মূল্যবান ও মহিমান্বিত ইলমি নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে এই বিশাল জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করতে অবদান রেখেছেন। তার কাজগুলোতে বর্ণনা ও অনুধাবন এবং শ্রুত ও বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটেছে। তিনি কুরআন, হাদিস ও এদের সংশ্লিষ্ট জ্ঞানবিজ্ঞান, ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ, আরবি ভাষা ও এর ব্যাকরণ, এবং ইলমুল কালামের জটিল বিষয়সমূহ ও যুক্তিশাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। তিনি এসকল বিষয়ে সুনিপুণ অভিজ্ঞ ছিলেন এবং এগুলোতে গ্রন্থ রচনায় সক্ষম ছিলেন।
উসুল শাস্ত্রের ওপর তার রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো 'আল-ইশারা ফি মারিফাতিল উসুল' (উসুলের পরিচিতি বিষয়ে নির্দেশনা) শিরোনামের কিতাবটি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ৭)
والوجازة في معنى الدليل) وهذا الكتاب على اختصاره وصغر حجمه فإنه مستوعب لمعلومات أصولية نفيسة، مفيدة للمبتدئ، ولا يستغني عنها الباحث لا سيما فيما يتعلق بأصول المذهب المالكي، حيث توخى فيه المصنف الإيجاز واختصره على كتابه الأصولي الكبير: (إحكام الفصول في أحكام الأصول) (1) وأشار إلى أهم المسائل الأصولية إشارة موجزة ومختصرة كما هو ظاهر من عنوان الكتاب، فبدأ المصنف بتعريف الاصطلاحات الأصولية المالكية على نحو ما هو موجود في كتابه (الحدود في الأصول) (2)، ثم تعرَّض إلى أدلة الشرع وقسمها إلى ثلاثة أقسام:
تناول في القسم الأول الأصل وأدرج تحته الكتاب، والسنة، وإجماع الأمة.
أما القسم الثاني فتناول فيه معقول الأصل وأدرج تحته لحن الخطاب، وفحوى الخطاب، والحصر، ومعنى الخطاب.
وأما القسم الثالث فقد خصصه لاستصحاب الحال وجعله ضربين: استصحاب حال العقل، واستصحاب حال الإجماع.
ثم تعرض - أخيًرا - لباب أحكام الترجيح تناول ترجيحات من جهة الإسناد والمتن أولًا ثم ترجيحات العلل والمعاني ثانيًا (3).
هذا، وبغض النظر عما يتضمنه محتوى الكتاب من معلومات وقواعد أصولية نافعة، فإن قيمته العلمية تظهر بصورة جلية في إشارة المصنف إلى جملة
--------------------------------------------
(এবং দলিলের অর্থের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ততা) এবং এই কিতাবটি তার সংক্ষিপ্তসার ও ছোট আয়তন সত্ত্বেও উসূল শাস্ত্রের মূল্যবান তথ্যাবলি সংবলিত, যা একজন শিক্ষানবিশের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং একজন গবেষকের জন্য এটি অপরিহার্য, বিশেষ করে মালিকি মাজহাবের উসূল বা মূলনীতির ক্ষেত্রে। যেহেতু লেখক এতে সংক্ষিপ্তকরণের সংকল্প করেছেন এবং তিনি তাঁর বৃহৎ উসূলি গ্রন্থ: 'ইহকামুল ফুসুল ফি আহকামিল উসূল' (১) থেকে একে সংক্ষেপিত করেছেন এবং কিতাবের শিরোনাম থেকে যেমনটি স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ ইশারার মাধ্যমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উসূলি মাসআলাসমূহের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। লেখক মালিকি উসূলি পরিভাষাগুলোর সংজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমে কিতাবটি শুরু করেছেন যেমনটি তাঁর 'আল-হুদুদ ফিল উসূল' (২) কিতাবে বর্ণিত রয়েছে। অতঃপর তিনি শরয়ি দলিলসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সেগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন:
তিনি প্রথম ভাগে 'আসল' (মূল ভিত্তি) নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এর অধীনে কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং উম্মতের ইজমা (ঐক্যমত্য) অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
দ্বিতীয় ভাগে তিনি 'মাকুলুল আসল' (মূল ভিত্তির যৌক্তিক অর্থ) নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এর অধীনে লাহুনুল খিতাব, ফাহওয়াল খিতাব, আল-হাসর (সীমাবদ্ধকরণ) এবং মানাল খিতাব অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
আর তৃতীয় ভাগটি তিনি 'ইসতিসহাবুল হাল' (পূর্বাবস্থার ধারাবাহিকতা) এর জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং একে দুই প্রকারে বিভক্ত করেছেন: আকলের (বিবেকের) অবস্থার ইসতিসহাব এবং ইজমার অবস্থার ইসতিসহাব।
অতঃপর তিনি সবশেষে 'আহকামুত তারজিহ' (প্রাধান্য প্রদানের বিধিবিধান) অধ্যায়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে তিনি প্রথমে সনদ ও মতনের দিক থেকে প্রাধান্য এবং দ্বিতীয়ত ইল্লত (কারণ) ও অর্থের দিক থেকে প্রাধান্য নিয়ে আলোচনা করেছেন (৩)।
এটি ছাড়াও, কিতাবটিতে অন্তর্ভুক্ত তথ্য ও উপকারী উসূলি মূলনীতিসমূহ ছাড়াও এর ইলমি বা তাত্ত্বিক গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে লেখকের বেশ কিছু বিষয়ের দিকে ইঙ্গিতের মাধ্যমে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ৮)
من أقوال العلماء الأفذاذ من أئمة المذهب المالكي المعروفين بالإجادة والإتقان في علم الأصول، الذين لم يعثر على اجتهاداتهم وآرائهم الأصولية المدونة، أولم تنل حظها من الطباعة والنشر أمثال:
- أبي إسحاق إسماعيل بن إسحاق بن اسماعيل بن حمَّاد الجهضمي الأزدي البصري المتوفى سنة 282 هـ.
- أبي الفرج عمرو بن محمد بن عمرو الليثي البغدادي المتوفى سنة 331 هـ.
- أبي بكر محمد بن عبد الله بن محمد بن صالح الأبهري المتوفى سنة 375 هـ.
- أبي تمام علي بن محمد بن أحمد البصري.
- أبي الحسن علي بن عمر بن أحمد الشهير بابن القصَّار الأبهري الشيرازي البغدادي المتوفى سنة 398 هـ.
- أبي بكر محمد بن الطيب بن جسر البصري المشتهر بالقاضي الباقلاني المتوفى سنة 403 هـ.
- أبي محمد عبد الوهاب بن علي بن نصر بن أحمد التغلبي البغدادي المتوفى سنة 422 هـ.
- أبي عبد الله محمد بن أحمد بن عبد الله بن خوز منداد البصري المتوفى في أواخر القرن الرابع الهجري.
- أبي الحسن عبيد الله بن المنتاب بن الفضل البغدادي.
هذا، وكتاب (الإشارة) وإن طبع مرارًا بتونس فإن طبعتها في غاية الرداءة وبها كثير من السقط سواء في الكلمات أو الجمل، وتارة فقرات برمتها، الأمر الذي يختل معه المعنى، فضلًا عن أخطاء مطبعية كثيرة تعتري مجمل النصوص الواردة.
وحتى ينال الكتاب حظه كاملًا من الدراسة والتحقيق، أحببت أن أبذل قصارى جهدي، وأفرغ ما في وسعي لإحياء كتابه من جديد في محاولة لإخراجه على صورة قريبة من الصورة التي وضعها المصنف، ولعلي بذلك أكون قد أديت بعض ما عليّ من واجبات تعميمًا للخير وخدمة للعلم.
মালেকি মাযহাবের সেই সকল অদ্বিতীয় বিজ্ঞ ইমামদের উক্তিসমূহ থেকে—যারা উসুল শাস্ত্রে নৈপুণ্য ও পারদর্শিতার জন্য সুপরিচিত, যাদের লিখিত উসুলি ইজতিহাদ ও মতামতসমূহ খুঁজে পাওয়া যায়নি অথবা যেগুলো মুদ্রিত ও প্রকাশিত হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেনি, যেমন:
- আবু ইসহাক ইসমাইল ইবনে ইসহাক ইবনে ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ আল-জাহদামি আল-আজদি আল-বসরি, মৃত্যু ২৮২ হিজরি।
- আবু আল-ফারাজ আমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আমর আল-লায়ছি আল-বাগদাদি, মৃত্যু ৩৩১ হিজরি।
- আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ আল-আবহরি, মৃত্যু ৩৭৫ হিজরি।
- আবু তাম্মাম আলি ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-বসরি।
- আবু আল-হাসান আলি ইবনে উমর ইবনে আহমাদ, যিনি ইবনুল কাসসার আল-আবহরি আশ-শিরাজি আল-বাগদাদি নামে পরিচিত, মৃত্যু ৩৯৮ হিজরি।
- আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আত-তায়্যিব ইবনে জাসর আল-বসরি, যিনি কাজি আল-বাকিল্লানি নামে পরিচিত, মৃত্যু ৪০৩ হিজরি।
- আবু মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আলি ইবনে নাসর ইবনে আহমাদ আত-তাগলিবি আল-বাগদাদি, মৃত্যু ৪২২ হিজরি।
- আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে খুজ মানদাদ আল-বসরি, মৃত্যু চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শেষ দিকে।
- আবু আল-হাসান উবায়দুল্লাহ ইবনে আল-মুন্তাব ইবনে আল-ফাদল আল-বাগদাদি।
উল্লেখ্য যে, 'আল-ইশারা' বইটি তিউনিসিয়ায় একাধিকবার মুদ্রিত হলেও এর মুদ্রণমান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং এতে শব্দ বা বাক্য এমনকি কখনো পুরো অনুচ্ছেদও বাদ পড়ে গেছে, যার ফলে অর্থের ব্যাঘাত ঘটে। এর পাশাপাশি উল্লিখিত মূল পাঠ্যগুলোতে প্রচুর মুদ্রণজনিত ভুলত্রুটিও পরিলক্ষিত হয়।
বইটি যেন অধ্যয়ন ও গবেষণার পূর্ণ মর্যাদা লাভ করে, সেজন্য আমি আমার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করার এবং বইটি পুনরায় জীবিত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর সংকল্প করেছি। একে এমন এক আঙ্গিকে উপস্থাপনের প্রয়াস চালিয়েছি যা গ্রন্থকারের মূল পাণ্ডুলিপির কাছাকাছি হয়। সম্ভবত এর মাধ্যমে আমি কল্যাণের প্রসার এবং ইলমের খিদমতে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্বের কিঞ্চিৎ পালন করতে সক্ষম হব।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ৯)
وعليه، فقد تناولت دراسة هذا الكتاب وتحقيقه باتباع منهجية تتمثل في قسمين: الأول دراسي، والثاني تحقيقي.
* بالنسبة للقسم الدراسي، فقد حرصت من حيث التنظيم أن أجعل البحث مقبولًا بتسلسله، وثيقًا بترابطه ليسهل تناوله والإحاطة به، ورتبت الخطة على مقدمة وتمهيد وفصلين.
وتشمل المقدمة على بيان أهمية ما يتضمنه كتاب (الإشارة) في علم أصول الفقه من قيمة علمية، ومكانة المصنِّف العلمية، وبسط منهجي في الكتاب. ثم مهدت للفصلين الآتيين تمهيدًا بيَّنتُ فيه - باختصار - الوضع السياسي في القرن الخامس الهجري بالأندلس وهو عصر ملوك الطوائف الذي عاش فيه أبو الوليد الباجي، وانعكاساته السلبية على الوضع الاجتماعي المتردي لأصل إلى ذكر بعض ملامح الواقع العلمي وعوامل الازدهار الفكري.
ثم قسمت الفصلين على الشكل التالي:
الفصل الأول
ترجمة أبي الوليد الباجي
المبحث الأول: اسم أبي الوليد الباجي ونسبه ومولده.
المطلب الأول: اسم أبي الوليد الباجي ونسبه وألقابه.
المطلب الثاني: مولد أبي الوليد الباجي.
الفرع الأول: تاريخ ميلاد أبي الوليد الباجي.
الفرع الثاني: مكان ميلاد أبي الوليد الباجي.
المبحث الثاني: أسرة أبي الوليد الباجي وأولاده.
المطلب الأول: أسرة أبي الوليد الباجي.
المطلب الثاني: أولاد أبي الوليد الباجى.
সেই অনুযায়ী, আমি এই গ্রন্থটির অধ্যয়ন এবং সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন করেছি একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে যা দুটি অংশে বিভক্ত: প্রথমটি গবেষণামূলক অংশ এবং দ্বিতীয়টি সম্পাদনমূলক অংশ।
গবেষণামূলক অংশের ক্ষেত্রে, আমি বিন্যাসের দিক থেকে গবেষণাপত্রটিকে এর ক্রমধারায় গ্রহণযোগ্য এবং এর আন্তঃসম্পর্কের ক্ষেত্রে নিবিড় করার জন্য সচেষ্ট হয়েছি, যাতে এটি গ্রহণ করা এবং আয়ত্ত করা সহজ হয়; আর আমি এর পরিকল্পনাকে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমনিকা এবং দুটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি।
ভূমিকাটিতে উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রে 'আল-ইশারা' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব, গ্রন্থকারের ইলমি মর্যাদা এবং গ্রন্থে অনুসৃত পদ্ধতির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এরপর আমি পরবর্তী দুটি অধ্যায়ের জন্য এমন একটি উপক্রমনিকা প্রস্তুত করেছি যেখানে সংক্ষেপে হিজরি পঞ্চম শতাব্দীতে আন্দালুসের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্ণনা করেছি—যা ছিল ‘মুলুকুত তাওয়াইফ’ (ক্ষুদ্র রাজন্যবর্গ) এর শাসনকাল, যে সময়ে আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি জীবিত ছিলেন। সেই সাথে বিপর্যস্ত সামাজিক পরিস্থিতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাবগুলো আলোচনা করেছি, যাতে আমি সে সময়ের বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক বাস্তবতার কিছু বৈশিষ্ট্য এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সমৃদ্ধির কারণসমূহ উল্লেখ করতে পারি।
অতঃপর আমি অধ্যায় দুটিকে নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়
আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির জীবনী
প্রথম পরিচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির নাম, বংশপরিচয় এবং জন্ম।
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির নাম, বংশপরিচয় এবং উপাধি।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির জন্ম।
প্রথম শাখা: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির জন্ম তারিখ।
দ্বিতীয় শাখা: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির জন্মস্থান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির পরিবার ও সন্তানসন্ততি।
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির পরিবার।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির সন্তানসন্ততি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الثالث: نشأة أبي الوليد الباجي ووفاته.
المطلب الأول: نشأة أبي الوليد الباجي.
المطلب الثاني: وفاة أبي الوليد الباجي.
الفصل الثاني
حياة أبي الوليد الباجي العلمية
المبحث الأول: مساعي أبي الوليد الباجي العلمية.
المطلب الأول: المراحل التعليمية لأبي الوليد الباجي.
الفرع الأول: المراحل التعليمية الداخلية.
الفرع الثاني: المراحل التعليمية الخارجية.
المطلب الثاني: شيوخ أبي الوليد الباجي وأقرانه وتلاميذه.
الفرع الأول: شيوخ أبي الوليد الباجي.
الفقرة الأولى: أهم شيوخ أبي الوليد الباجي بالأندلس.
الفقرة الثانية: أهم شيوخ أبي الوليد الباجي بالمشرق.
الفرع الثاني: أقران أبي الوليد الباجي وتلاميذه.
الفقرة الأولى: أقران أبي الوليد الباجي.
الفقرة الثانية: تلاميذ أبي الوليد الباجي.
المبحث الثاني: شخصية أبي الوليد الباجي ونشاطه العام.
المطلب الأول: شخصية أبي الوليد الباجي الأدبية.
الفرع الأول: شعر أبي الوليد الباجي ونثره.
الفقرة الأولى: صور من شعر أبي الوليد الباجي.
الفقرة الثانية: صور من نثر أبي الوليد الباجي.
الفرع الثاني: منزلة أبي الوليد الباجي بين علماء عصره.
المطلب الثاني: النشاط العام لأبي الوليد الباجي.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর বেড়ে ওঠা এবং মৃত্যু।
প্রথম অনুচ্ছেদ: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর বেড়ে ওঠা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর মৃত্যু।
দ্বিতীয় অধ্যায়
আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন
প্রথম পরিচ্ছেদ: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রচেষ্টাসমূহ।
প্রথম অনুচ্ছেদ: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর শিক্ষাজীবনের পর্যায়সমূহ।
প্রথম শাখা: অভ্যন্তরীণ শিক্ষাপর্যায়সমূহ।
দ্বিতীয় শাখা: বহিঃস্থ শিক্ষাপর্যায়সমূহ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর শিক্ষকবৃন্দ, সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ এবং ছাত্রবৃন্দ।
প্রথম শাখা: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর শিক্ষকবৃন্দ।
প্রথম উপশাখা: আন্দালুসে আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর প্রধান শিক্ষকবৃন্দ।
দ্বিতীয় উপশাখা: প্রাচ্যে আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর প্রধান শিক্ষকবৃন্দ।
দ্বিতীয় শাখা: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ এবং ছাত্রবৃন্দ।
প্রথম উপশাখা: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ।
দ্বিতীয় উপশাখা: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর ছাত্রবৃন্দ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর সাধারণ কার্যাবলি।
প্রথম অনুচ্ছেদ: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব।
প্রথম শাখা: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর কবিতা ও গদ্য।
প্রথম উপশাখা: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর কবিতার কিছু নমুনা।
দ্বিতীয় উপশাখা: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর গদ্যের কিছু নমুনা।
দ্বিতীয় শাখা: তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মাঝে আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর মর্যাদা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আবুল ওয়ালীদ আল-বাজীর সাধারণ কার্যাবলি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفرع الأول: نشاط أبي الوليد الباجي العام ومناظراته العلمية.
الفقرة الأولى: نشاط أبي الوليد الباجي العام.
الفقرة الثانية: مناظرات أبي الوليد الباجي العلمية.
أولًا: مناظرة أبي الوليد الباجي لابن حزم الظاهري.
ثانيًا: مناظرة أبي الوليد الباجي لبعض علماء عصره.
الفرع الثاني: صلة الحكام بأبي الوليد الباجي.
المبحث الثالث: آثار أبي الوليد الباجي العلمية.
المطلب الأول: مؤلفات أبي الوليد الباجي العلمية.
الفرع الأول: كتب أبي الوليد الباجي.
الفقرة الأولى: كتب أبي الوليد الباجي في الفقه.
الفقرة الثانية: كتب أبي الوليد الباجي في علم الحديث والتراجم.
الفقرة الثالثة: كتب أبي الوليد الباجي في أصول الفقه والجدل.
الفقرة الرابعة: كتب أبي الوليد الباجي في الزهد والرقائق.
الفقرة الخامسة: كتب أبي الوليد الباجي المتنوعة.
الفرع الثاني: رسائل أبي الوليد الباجي ومسائله.
الفقرة الأولى: رسائل أبي الوليد الباجي.
الفقرة الثانية: مسائل أبي الوليد الباجي.
المطلب الثاني: كتاب الإشارة في أصول الفقه.
الفرع الأول: توثيق كتاب (الإشارة).
الفرع الثاني: وصف المخطوط مع بيان منهج المصنف فيه.
الفقرة الأولى: وصف المخطوط.
الفقرة الثانية: منهج المصنف المتبع في كتابه (الإشارة).
প্রথম শাখা: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির সাধারণ কর্মকাণ্ড এবং তাঁর ইলমি বিতর্কসমূহ।
প্রথম অনুচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির সাধারণ কর্মকাণ্ড।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির ইলমি বিতর্কসমূহ।
প্রথমত: ইবনে হাজম আজ-জাহিরির সাথে আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির বিতর্ক।
দ্বিতীয়ত: তাঁর সমসাময়িক কিছু আলেমের সাথে আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির বিতর্ক।
দ্বিতীয় শাখা: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির সাথে শাসকদের সম্পর্ক।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির ইলমি অবদানসমূহ।
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির ইলমি রচনাবলি।
প্রথম শাখা: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির গ্রন্থাবলি।
প্রথম অনুচ্ছেদ: ফিকহ শাস্ত্রে আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির গ্রন্থাবলি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইলমে হাদিস এবং জীবনী সাহিত্যে আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির গ্রন্থাবলি।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: উসুলে ফিকহ এবং বিতর্কশাস্ত্রে আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির গ্রন্থাবলি।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: যুহদ ও রাকায়েক বিষয়ে আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির গ্রন্থাবলি।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির বিবিধ গ্রন্থাবলি।
দ্বিতীয় শাখা: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির রিসালা ও মাসআলাসমূহ।
প্রথম অনুচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির রিসালাসমূহ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির মাসআলাসমূহ।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: কিতাবুল ইশারা ফি উসুলিল ফিকহ।
প্রথম শাখা: ‘আল-ইশারা’ গ্রন্থের প্রামাণিকতা।
দ্বিতীয় শাখা: পাণ্ডুলিপির বর্ণনা এবং এতে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতির বিবরণ।
প্রথম অনুচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপির বর্ণনা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ‘আল-ইশারা’ গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ১২)
* أما القسم التحقيقي فيتمشل عملي ومنهجي فيه بسلوكي الخطوات التالية:
1 - اتباع منهج الإكثار ما أمكن من ذكر مصادر التخريج لتوثيق صحة النص، وزيادة تأكيده، والتعرف على مظان المباحث المتطرق إليها للفائدة التعليمية وذلك وفق قواعد تتبع، ومناهج تحتذى، ويتم ذلك بالرجوع إلى المصادر الأصلية للمؤلف ثم تثبيت المصادر الأخرى الثانوية، ويعد هذا المسلك أحد المناهج الحديثة في تحقيق التراث (1).
2 - توجيه العناية إلى توثيق نص الكتاب، وتصحيحه، وتخليصه من شوائب التصحيف والتحريف، وذلك بمراعاة الأمور التالية:
* اتباع الرسم المعروف في العصر الحاضر، ثم معارضته ومقابلته بالمخطوط.
* إثبات السقط من الكلمات والجمل والفقرات في المتن والإشارة إليها في الهامش.
* إعجام ما أهمله الناسخ من كلمات من غير الإشارة إليها في الهامش.
* إثبات تصويبات الناسخ التي على الحواشي في صلب المتن من غير إشارة إليها في الهامش، خشية إثقال الهوامش بأمور لا ضرورة لها.
* الاستعانة بكتب أبي الوليد الباجي في تصحيح النص وتحريره منها: كتاب (إحكام الفصول في أحكام الأصول) وكتاب (الحدود في أصول الفقه) وكتاب (تفسير المنهاج في ترتيب طرق الحجاج) في علم الجدل.
3 - بيان موضع الآيات الواردة في النصوص ونسبتها إلى سورها في القرآن الكريم.
--------------------------------------------
গবেষণামূলক অংশের ক্ষেত্রে আমার কাজ ও পদ্ধতি নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো অনুসরণের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে:
১ - পাঠ্যের বিশুদ্ধতা প্রমাণ এবং একে আরও সুদৃঢ় করতে যথাসম্ভব অধিক পরিমাণে তথ্যসূত্রের উৎস (তাখরিজ) উল্লেখ করার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। সেই সাথে শিক্ষামূলক উপযোগিতার লক্ষ্যে আলোচিত বিষয়গুলোর মূল উৎসস্থলগুলো চিনে নেওয়ার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। এটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও অনুসৃত পদ্ধতি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে, যা লেখকের মূল উৎসসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে এবং এরপর অন্যান্য গৌণ উৎসগুলো নিশ্চিত করার মাধ্যমে করা হয়েছে। ঐতিহ্য সম্পাদনার (তাহকিক) ক্ষেত্রে এটি অন্যতম আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে গণ্য হয় (১)।
২ - গ্রন্থের পাঠ্যকে প্রামাণ্য করা, সংশোধন করা এবং লিখনগত ভুল ও বিকৃতি থেকে মুক্ত করার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা হয়েছে:
* বর্তমান সময়ে প্রচলিত লিখনরীতি অনুসরণ করা, অতঃপর পাণ্ডুলিপির সাথে তার তুলনা ও মোকাবিলা করা।
* মূল পাঠ্য থেকে বাদ পড়া শব্দ, বাক্য ও অনুচ্ছেদগুলো মূল পাঠে যুক্ত করা এবং পাদটীকায় সেদিকে ইঙ্গিত করা।
* অনুলিপিকারক যেসব শব্দের নুকতা দিতে ছেড়ে দিয়েছেন, পাদটীকায় উল্লেখ না করেই সেগুলো যথাযথভাবে প্রদান করা।
* অনুলিপিকারক পার্শ্বটীকায় যে সংশোধনগুলো লিখেছিলেন, পাদটীকায় অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের বোঝা না বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সেগুলো সরাসরি মূল পাঠে অন্তর্ভুক্ত করা।
* পাঠ্য সংশোধন ও সম্পাদনার ক্ষেত্রে আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির গ্রন্থসমূহের সহায়তা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: ‘ইহকামুল ফুসুল ফি আহকামিল উসুল’, ‘আল-হুদুদ ফি উসুলিল ফিকহ’ এবং বিতর্কশাস্ত্রের ওপর রচিত ‘তাফসিরুল মিনহাজ ফি তারতিবি তুরুকিল হুজ্জাজ’।
৩ - পাঠ্যে আসা আয়াতগুলোর অবস্থান বর্ণনা করা এবং পবিত্র কুরআনের সংশ্লিষ্ট সূরার দিকে তা সম্বন্ধযুক্ত করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
4 - تخريج الأحاديث الواردة في المتن مع الإشارة إلى قول المحدثين في التصحيح والتضعيف.
5 - تخريج الآثار من الكتب المعنية بجمعها.
6 - تمحيص وتحرير العزو للآراء التي ينقلها المصنف وإرجاعها إلى مصادرها الأصلية، فإن تعذر ذلك عزوتها إلى مصادر أخرى.
7 - إحالة الآيات القرآنية المفسَّرة في المتن إلى كتب التفاسير المختلفة لتحقيق التفسير الوارد في النص.
8 - عزو الفروع الفقهية المترتبة على الاختلاف في الأصول إلى مصادر الفقه المقارن.
9 - الإشارة على هامش المتن إلى الآراء الأصولية الموافقة للرأي المعتمد عند المصنف والمخالفة له مع ذكر جملة من المصادر الأصولية المذهبية
المختلفة.
10 - عزو الإجماع الوارد في المتن إلى كتب الإجماع المخصصة له.
11 - شرح وبيان الغموض الحاصل في بعض فصول الكتاب.
12 - شرح غريب المفردات اللغوية وإرجاعها إلى المعاجم الأصلية المعتمدة.
13 - إضافة أبيات الشعر الواردة في المتن إلى أصحابها مع الإشارة إلى المصدر أو الديوان الشعري.
14 - تخصيص ترجمة موجزة لكل عَلَم من الأئمة الأعلام المذكورة في النص للتعريف به، ولم استثن من انتشرت شهرته كالخلفاء الراشدين وبعض الصحابة والأئمة الأربعة، لأنه مع ذيوع اسمهم قد يجهل بعض خصوصياتهم أو كتبهم أو تاريخ وفاتهم (*). وهذه الترجمة تتضمن:
--------------------------------------------
৪ - মূল পাঠে বর্ণিত হাদীসগুলোর তাখরীজ করা এবং সহীহ ও যয়ীফ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের মতামতের ইঙ্গিত প্রদান করা।
৫ - আছারসমূহ (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী) সেগুলোর সংকলিত গ্রন্থসমূহ থেকে তাখরীজ করা।
৬ - গ্রন্থকার কর্তৃক উদ্ধৃত মতামতগুলোর তথ্যসূত্র যাচাই ও নিরূপণ করা এবং সেগুলোকে তাদের মূল উৎসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া; আর যদি তা অসম্ভব হয় তবে অন্য কোনো উৎসের দিকে উদ্ধৃত করা।
৭ - মূল পাঠে ব্যাখ্যায়িত কুরআনের আয়াতগুলোকে বিভিন্ন তাফসীরগ্রন্থের দিকে নির্দেশ করা, যাতে পাঠে উল্লিখিত তাফসীরের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়।
৮ - উসূলে (মূলনীতিতে) পার্থক্যের কারণে উদ্ভূত ফিকহী শাখা-প্রশাখাগুলোকে তুলনামূলক ফিকহের উৎসসমূহে উদ্ধৃত করা।
৯ - মূল পাঠের টীকায় গ্রন্থকারের নিকট নির্ভরযোগ্য মতের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং তার বিরোধী উসূলে ফিকহের মতামতগুলোর প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা, সাথে বিভিন্ন মাযহাবের উসূলে ফিকহের বেশ কিছু উৎসের উল্লেখ করা।
১০ - মূল পাঠে উল্লিখিত ইজমা’র বিষয়গুলোকে ইজমা বিষয়ক নির্ধারিত গ্রন্থসমূহে উদ্ধৃত করা।
১১ - গ্রন্থের কিছু পরিচ্ছেদে বিদ্যমান অস্পষ্টতা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা।
১২ - কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা করা এবং সেগুলোকে মূল নির্ভরযোগ্য অভিধানসমূহের উদ্ধৃতিসহ উল্লেখ করা।
১৩ - মূল পাঠে উদ্ধৃত কাব্যের পঙ্ক্তিগুলোকে তাদের রচয়িতাদের নামে সংযুক্ত করা এবং মূল উৎস বা কাব্যগ্রন্থের (দীওয়ান) ইঙ্গিত প্রদান করা।
১৪ - পাঠে উল্লিখিত প্রসিদ্ধ ইমামগণের প্রত্যেকের পরিচয় প্রদানের জন্য সংক্ষিপ্ত জীবনীর ব্যবস্থা করা; এমনকি যাদের প্রসিদ্ধি সর্বজনবিদিত, যেমন খুলাফায়ে রাশেদীন, কিছু সাহাবী এবং চার ইমাম—তাদেরও আমি বাদ দিইনি। কারণ তাদের নাম সুপরিচিত হওয়া সত্ত্বেও অনেকে তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ, গ্রন্থাবলি বা মৃত্যু তারিখ সম্পর্কে অবগত না-ও থাকতে পারে (*)। আর এই জীবনীর অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
اسم العلم، وكنيته، ومذهبه، وبعض كتبه، وتاريخ وفاته، ثم أحيل تفصيل ذلك إلى كتب تراجم الرجال مع ذكر الجزء والصفحة.
15 - الاكتفاء بالإحالة إلى الصفحات المتقدمة عند تكرر الحديث أو العَلَم في موضع آخر، ما عدا الآيات التي أبين موضعها من السورة عند التكرار.
16 - عند تكرر مصدر سابق فإنني لا أشير في الهامش بعبارة: (المصدر السابق) أو (نفس المصدر) أو (المصدر نفسه) أو (ذات المصدر) أو (المصدر ذاته) (1) للصعوبة التي قد تزداد عن كثرة النقل على مصدر واحد، فيكثر تقليب الصفحات بزيادتها، وإنما أكتفي بإعادة كتابة المصدر من جديد بجزئه وصفحته.
17 - إعداد فهارس فنية علمية عامة للكتاب تسهيلًا للرجوع إليه. وهي تشتمل على:
* فهرس الآيات القرآنية.
* فهرس الأحاديث النبوية.
* فهرس الآثار.
* فهرس الأعلام والطوائف.
* فهرس الأقطار والبلدان.
* فهرس الكتب، وقد رتبت الكتب على الشكل التالي:
- كتب علوم القرآن والتفسير.
- كتب العقائد والفرق والأديان.
- كتب الحديث وعلومه.
--------------------------------------------
ব্যক্তির নাম, উপনাম, মাযহাব, তাঁর কিছু গ্রন্থ এবং মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে; এরপর বিস্তারিত তথ্যের জন্য খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখপূর্বক জীবনীগ্রন্থসমূহের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে।
১৫ - হাদীস বা কোনো ব্যক্তির আলোচনা অন্য কোনো স্থানে পুনরাবৃত্তি ঘটলে পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাগুলোর প্রতি কেবল নির্দেশ করাই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে; তবে আয়াতের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করা হয়েছে, যার সূরার অবস্থান পুনরাবৃত্তির সময়ও স্পষ্ট করা হয়েছে।
১৬ - কোনো পূর্ববর্তী উৎস পুনরাবৃত্তি হলে আমি পাদটীকায়: (পূর্বোক্ত উৎস) অথবা (একই উৎস) বা এই জাতীয় শব্দ ব্যবহার করিনি (১)। কারণ একটি উৎস থেকে অধিক উদ্ধৃতি দেওয়ার ফলে পৃষ্ঠা উল্টানোর যে অসুবিধা তৈরি হয় তা নিরসনের লক্ষ্যে আমি পুনরায় খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ মূল উৎসের নাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।
১৭ - গ্রন্থটির বিষয়বস্তু খুঁজে পাওয়া সহজ করার লক্ষ্যে এতে কিছু সাধারণ উচ্চতর গবেষণামূলক নির্ঘণ্ট তৈরি করা হয়েছে। সেগুলো নিম্নরূপ:
* কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।
* হাদীসে নববীর নির্ঘণ্ট।
* আছারসমূহের (সাহাবী ও তাবিঈগণের বাণী) নির্ঘণ্ট।
* ব্যক্তি ও দলসমূহের নির্ঘণ্ট।
* অঞ্চল ও দেশসমূহের নির্ঘণ্ট।
* গ্রন্থসমূহের নির্ঘণ্ট; গ্রন্থগুলোকে নিম্নোক্ত বিন্যাসে সাজানো হয়েছে:
- উলূমুল কুরআন ও তাফসীর বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।
- আকীদা, দল-উপদল এবং ধর্ম বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।
- হাদীস ও উলূমুল হাদীস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
- كتب أصول الفقه.
- كتب الفقه.
- كتب اللغة وعلومها.
- كتب القبائل والأنساب.
- كتب التاريخ والتراجم.
- كتب الأقطار والبلدان.
- كتب متنوعة أخرى.
* فهرس الموضوعات.
هذا، وإني لا أدعي الإصابة والعصمة من الخطأ في كل ما قمت به، فالكمال لله، والعصمة لمن عصمه الله تعالى، ولذا فإني أهيب بكل من وجد خللًا أن يبصرني بما فيه، أو عيبًا فيرشدني إليه، وسأكون له من الشاكرين.
كما يهمني أن أسجل في هذه الكلمة تقديري وشكري لكل إخواني الذين سهلوا لي السبيل في إنجاز هذا العمل من غير أن يفوتني التعبير عن مشاعر العرفان للأستاذ محمد بن الحسين السليماني على حثه ومساعدته عملًا بقوله: (مَنْ لَا يَشْكُرِ النَّاسَ لَا يَشْكُرِ اللَّه) (1).
والله أسأل أن يجعل جهدنا خالصًا لوجهه الكريم، وأن تتحقق الفائدة، ويعمم النفع، ويكتب له القبول، وأن يسدد خطانا ويلهمنا التوفيق لتقديم المزيد من العمل العلمي للأمة الإسلامية، وعلى الله قصد السبيل، وما ذلك على الله بعزيز.
--------------------------------------------
- উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ।
- ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ।
- ভাষা ও ভাষা বিজ্ঞান বিষয়ক কিতাবসমূহ।
- গোত্র ও বংশপরিচয় বিষয়ক কিতাবসমূহ।
- ইতিহাস ও জীবনী বিষয়ক কিতাবসমূহ।
- দেশ ও জনপদ বিষয়ক কিতাবসমূহ।
- অন্যান্য বিবিধ কিতাবসমূহ।
* বিষয়সূচি।
এতদসত্ত্বেও, আমি যা কিছু সম্পাদন করেছি তার সবটুকুর ক্ষেত্রে নির্ভুলতা ও ত্রুটিমুক্ত হওয়ার দাবি করছি না; কেননা পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহরই গুণ, আর নির্ভুলতা কেবল তাঁরই জন্য যাঁকে মহান আল্লাহ রক্ষা করেছেন। সুতরাং যে কেউ কোনো বিচ্যুতি প্রত্যক্ষ করবেন তাকে আমাকে তা অবগত করার জন্য কিংবা কোনো ত্রুটি দেখলে আমাকে সেই দিকে পথপ্রদর্শন করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, এবং আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।
একইভাবে আমার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, এই বাণীতে আমি আমার সেই সকল ভাইদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা নিবেদন করছি যারা এই কার্যটি সুসম্পন্ন করার পথে আমার জন্য পথ সুগম করে দিয়েছেন। পাশাপাশি উস্তাদ মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আস-সুলাইমানির উৎসাহ ও সহযোগিতার জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা থেকেও আমি বিরত থাকছি না; যা মূলত এই বাণীর ওপর আমলস্বরূপ: (যে ব্যক্তি মানুষের শুকরিয়া আদায় করে না সে আল্লাহরও শুকরিয়া আদায় করে না) (১)।
আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এই শ্রমকে একমাত্র তাঁরই মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন, যেন এর দ্বারা প্রকৃত ফায়দা অর্জিত হয়, এর কল্যাণ পরিব্যাপ্ত হয় এবং এটি গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। তিনি যেন আমাদের পথচলাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং উম্মতে ইসলামিয়ার জন্য আরও অধিক ইলমি কাজ পেশ করার তাওফিক দান করেন। সঠিক পথের দিশা প্রদান করা আল্লাহরই কাজ, আর এটি আল্লাহর জন্য মোটেও কঠিন নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على محمد وعلى آله وإخوانه إلى يوم الدين.
المحقق
أ/ أبو عبد المعز
محمد علي فركوس
الجزائر في: 24 ذو القعدة 1411 هـ
الموافق لـ: 7 جوان / حزيران 1991 م
এবং আমাদের সর্বশেষ আহ্বান হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহ সালাত বর্ষণ করুন মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং বিচার দিবস পর্যন্ত তাঁর ভাইদের ওপর।
গবেষক ও সম্পাদক
উস্তায আবু আব্দুল মুইয
মুহাম্মাদ আলি ফারকুস
আলজেরিয়া: ২৪ যুল-ক্বাদাহ ১৪১১ হিজরি
মোতাবেক: ৭ জুন ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
القسم الدراسي
শিক্ষা বিভাগ
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تمهيدكان على إثر سقوط الخلافة الأموية في قرطبة في مستهل القرن الخامس الهجري ظهور بلاد الأندلس مجزئةً إلى دويلات يحكمها ملوك الطوائف، ومن أشهرهم: بنو حمود بقرطبة ومالقة والجزيرة الخضراء، وبنو هود بسرقسطة، وبنو زيري بغرناطة، وبنو عباد بإشبيلية، وبنو الأفطس ببَطَلْيَوس، وبنو عامر ببلنسية، وبنو صُمادح بالمريَّة، وبنو النون بطُليْطِلة. وكان كلُّ ملك يستقل فيها بما تحت يده رسميًا (1).
وفي تلك الفترة كانت الأندلس تموج بالفوضى والاضطرابات السياسية، واشتغال كل هؤلاء الملوك في الكيد والدس والمؤامرة بعضهم لبعض، فلا يكاد
يمرُّ يوم إلا ويحدث بها وقائع مروعة من اغتيال وحرق وتقتيل ونهب.
وفي ظل هذه الأوضاع المزرية ولد الإمام أبو الوليد سليمان بن خلف الباجي سنة 403 هـ والأندلس تعاني فتنًا ومآسي شديدة، وترعرع وشبَّ وسط
شقاق وفرقة وتطاحن ملوك الأندلس على النفوذ والسلطان والألقاب (2). وقد جسَّد
--------------------------------------------
ভূমিকাপঞ্চম হিজরি শতাব্দীর সূচনায় কর্ডোবায় উমাইয়া খিলাফতের পতনের পর আন্দালুস ভূখণ্ড বিভিন্ন ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যা 'মুলুকুত তাওয়াইফ' (দলপতি রাজন্যবর্গ) দ্বারা শাসিত হতো। তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিল: কর্ডোবা, মালাগা ও আলজাসিরা আল-খাদরায় বনু হাম্মুদ; সারাকুস্তায় বনু হুদ; গ্রানাডায় বনু যিরি; সেভিলে বনু আব্বাদ; বাদাজোজে বনু আফতাস; ভ্যালেন্সিয়ায় বনু আমির; আলমেরিয়ায় বনু সুমাদিহ এবং টোলেডোতে বনু নুন। প্রত্যেক রাজা তার নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনভাবে শাসন করত (১)।
সেই সময়ে আন্দালুস বিশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় টালমাটাল ছিল। এই সকল রাজারা একে অপরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও কূটকৌশলে লিপ্ত ছিলেন। এমন কোনো দিন অতিবাহিত হতো না যাতে হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ, হত্যাযজ্ঞ ও লুণ্ঠনের মতো ভয়াবহ ঘটনা না ঘটত।
এই শোচনীয় পরিস্থিতির মধ্যেই ৪০৩ হিজরিতে ইমাম আবুল ওয়ালিদ সুলায়মান বিন খালাফ আল-বাজি জন্মগ্রহণ করেন, যখন আন্দালুস চরম ফিতনা ও বিয়োগান্তক পরিস্থিতির মোকাবিলা করছিল। তিনি আন্দালুসের রাজাদের প্রভাব, ক্ষমতা ও উপাধির লড়াই এবং অনৈক্য ও বিভেদের মাঝেই বেড়ে ওঠেন (২)। আর এটি ফুটিয়ে তুলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ২০)
ابن حزم فساد حالتهم بقوله: (اجتمع عندنا بالأندلس في صقع واحد خلفاء أربعة، كل واحد منهم يخطب له بالخلافة بموضعه، وتلك فضيحة لم ير مثلها، أربعة رجال في مسافة ثلاثة أيام يتسمَّى كلُّ منهم بالخلافة وإمارة المؤمنين) (1) ولما عاد أبو الوليد الباجي من رحلته المشرقية التي قضى فيها ثلاث عشرة سنة عايش قلوبًا متفرقة، ومواقف متباينة، وكلمة مشتتة، عمل على تأليفها في سفارته بين الملوك للتصدي للعدوان النصراني (2) خاصة بعد سقوط طليطلة وما خلَّفه من:
ذعر وانزعاج وآثار بالغة، كان لذلك كله الأثر السلبي المدمِّر على وحدة الأندلس وقوتها السياسية والاقتصادية والعسكرية، ووجوب الاستنصار بجيش المرابطين بقيادة يوسف بن تاشفين لمواجهة الخطر النصراني المتربص، وقد توفي أبو الوليد الباجي سنة 474 هـ قبل تمام غرضه (3) ورؤية النصر الساحق للمسلمين على جيوش النصارى مجتمعة في معركة الزلاقة سنة 479 هـ، وإن كان له الفضل في المسعى والجهد المبذول في سبيل الوحدة وتحقيق النصر (4).
وقد كان لاختلال أحوال ملوك الطوائف وتشتُّت صفوفهم انعكاسات سلبية.
من الناحية الاجتماعية تمثلت في مخلفات متردِّية حيث كان هؤلاء الملوك يرهقون مجتمعهم ويلزمون رعيهم - ظلمًا - بدفع ضرائب مالية ومغارم جائرة بدعوى
--------------------------------------------
ইবনে হাজম তাদের শোচনীয় অবস্থার বর্ণনা দিয়ে বলেন: (আমাদের নিকট আন্দালুসের এক অঞ্চলেই চারজন খলিফা একত্র হয়েছে, যাদের প্রত্যেকের নামেই নিজ নিজ এলাকায় খেলাফতের খুতবা পাঠ করা হয়; এটি এমন এক কলঙ্ক যার নজির দেখা যায়নি। মাত্র তিন দিনের দূরত্বের ব্যবধানে চারজন ব্যক্তি অবস্থান করছে, যাদের প্রত্যেকেই নিজেকে খেলাফত ও আমিরুল মুমিনীন উপাধিতে ভূষিত করছে) (১)। আর যখন আবু ওয়ালিদ আল-বাজি তাঁর প্রাচ্যের সফর থেকে ফিরে এলেন—যেখানে তিনি তেরো বছর অতিবাহিত করেছিলেন—তখন তিনি বিভক্ত অন্তর, পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। তিনি রাজাদের মধ্যে তাঁর দূতিয়ালির মাধ্যমে তাদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন যাতে খ্রিস্টান আগ্রাসন প্রতিহত করা যায় (২), বিশেষ করে তোলেদোর (তলাইতলা) পতনের পর এবং এর ফলে সৃষ্ট:
আতঙ্ক, অস্থিরতা এবং সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাবের পর। এই সবকিছুরই আন্দালুসের ঐক্য এবং এর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ছিল। ফলে ওত পেতে থাকা খ্রিস্টান বিপদ মোকাবিলায় ইউসুফ ইবনে তাশফিনের নেতৃত্বে মুরাবিতুন বাহিনীর সাহায্য প্রার্থনা করা অনিবার্য হয়ে পড়ে। আবু ওয়ালিদ আল-বাজি তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ হওয়ার (৩) এবং ৪৭৯ হিজরিতে যাল্লাকার যুদ্ধে সম্মিলিত খ্রিস্টান বাহিনীর বিরুদ্ধে মুসলমানদের চূড়ান্ত বিজয় দেখে যাওয়ার আগেই ৪৭৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। যদিও ঐক্য প্রচেষ্টা এবং বিজয় অর্জনের পেছনে তাঁর নিরলস পরিশ্রম ও সাধনার বিশেষ অবদান রয়েছে (৪)।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজন্যবর্গের (মুলুকুত তওয়ায়েফ) বিশৃঙ্খল অবস্থা এবং তাদের অনৈক্যের নেতিবাচক প্রভাব বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়।
সামাজিক দিক থেকে এটি এক চরম অবনতিশীল পরিস্থিতির জন্ম দেয়, কারণ এই রাজারা তাদের সমাজকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন এবং প্রজাদের ওপর অন্যায়ভাবে উচ্চ হারে কর ও জুলুমপূর্ণ আর্থিক জরিমানা চাপিয়ে দিচ্ছিলেন এই অজুহাতে যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ২১)
مجابهة المصاريف المختلفة الناجمة عن ظروف الحرب والقتال، كما فشت فيهم ظاهرة المجون والفساد والإسراف والتبذير على الشهوات بمعاقرة الخمرة وعقد مجالس البدخ والأنس مع التسلية والنشوة بالمغنين والفتيات والجواري، وقد كانت هذه الظاهرة مشتركة عند جميع ملوك الطوائف وبطانتهم (1).
وفي هذا المضمون يقول محمد عبد الله عنان: (وقد قاسى الشعب الأندلسي في ظل طغيان الطوائف كثيرًا من ضروب الاضطهاد والظلم، ولم يكن ذلك قاصرًا على متاعب الفوضى الاجتماعية الشاملة التي كان يعيش في غمارها، وانقلاب الأوضاع في سائر مناحي الحياة، وتوالي الفتن والحروب الداخلية، ولكنه كان يقاسي في نفس الوقت من جشع أولائك الأمراء الطغاة، الذين كانوا يجعلون من ممالكهم ضياعًا خاصة، يستغلونها بأقسى الوسائل وأشنعها، ويجعلون من شعوبهم عبيدًا يستصفون ثرواتهم، وثمار كدِّهم، إرضاء لشهواتهم في إنشاء القصور الباذخة، واقتناء الجواري والعبيد، والانهماك في حياة الترف الناعم، والإغداق على الصحب والمنافقين، هذا، فضلًا عن حشد الجند لإقامة نيرهم، وتدعيم طغيانهم، وقد ترتب على ذلك أن انهارت المعايير الأخلاقية، واختلط الحق بالباطل، والحلال بالحرام ولم يعد الناس يعتدون بالوسيلة، بل يذهبون إلى اقتضاء الغاية، وتحقيق الكسب بأي الوسائل) (2).
كما انتشر بين الأسر الحاكمة والمحكومة حبُّ التزوج بالنصرانيات وما يفضي ذلك إلى سوء تقدير لعواقب الأمور، وأسندت لأهل الذمة من اليهود مهام حيوية ضمن مناصب راقية متمثلة في جباية الأموال وكتابة الدواوين (3)، حيث كانوا وراء كلِّ مؤامرة أو دسيسة مدبَّرة على حساب المسلمين، أو فتنة مشتعلة تأتي على الأخضر واليابس
--------------------------------------------
যুদ্ধ ও লড়াইয়ের পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন ব্যয় মেটানো, সেই সাথে তাদের মধ্যে অনৈতিকতা, দুর্নীতি, অপচয় এবং প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে অযথা ব্যয়ের প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছিল—মদ্যপান, বিলাসিতা ও আমোদ-প্রমোদের আসর বসানো এবং গায়ক, তরুণী ও দাসীদের মাধ্যমে বিনোদন ও নেশায় মত্ত হওয়ার মাধ্যমে। এই প্রবণতাটি সকল ‘মুলুকুত তাওয়ায়েফ’ (ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের রাজন্যবর্গ) এবং তাদের পারিষদবর্গের মধ্যে সাধারণ ছিল (১)।
এই প্রসঙ্গে মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইনান বলেন: (আন্দালুসিয়ার জনগণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের শাসকদের স্বৈরশাসনের অধীনে বিভিন্ন ধরণের নিপীড়ন ও জুলুমের শিকার হয়েছিল। এবং তা কেবল সেই ব্যাপক সামাজিক বিশৃঙ্খলার কষ্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না যার গভীরে তারা নিমজ্জিত ছিল, কিংবা জীবনের সকল ক্ষেত্রে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন এবং একের পর এক ফিতনা ও অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং একই সাথে তারা সেই জালেম আমিরদের লোভ-লালসারও শিকার হচ্ছিল, যারা তাদের রাজ্যগুলোকে ব্যক্তিগত জমিদারিতে পরিণত করেছিল এবং তারা অত্যন্ত কঠোর ও জঘন্য উপায়ে সেগুলোকে শোষণ করত। তারা তাদের প্রজাদের দাসে পরিণত করেছিল এবং তাদের সম্পদ ও শ্রমের ফসল লুটে নিত নিজেদের লালসা মেটানোর জন্য—বিলাসবহুল প্রাসাদ নির্মাণ, দাস-দাসী সংগ্রহ, অতি-বিলাসী জীবনে নিমগ্ন হওয়া এবং বন্ধু-বান্ধব ও মুনাফিকদের অকাতরে অর্থ বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। এছাড়া, নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখা এবং স্বৈরশাসন সুসংহত করার জন্য সৈন্য সংগ্রহ তো ছিলই। এর ফলে নৈতিক মানদণ্ড ধসে পড়েছিল, সত্য-মিথ্যা এবং হালাল-হারাম মিশে গিয়েছিল। মানুষ আর উপায়ের পবিত্রতার তোয়াক্কা করত না, বরং যেকোনো উপায়ে লক্ষ্য অর্জন এবং উপার্জনকে প্রাধান্য দিত) (২)।
একইভাবে শাসক ও শাসিত উভয় শ্রেণীর পরিবারগুলোর মধ্যে খ্রিষ্টান নারীদের বিয়ের প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছিল, যা পরিস্থিতির পরিণাম সম্পর্কে ভুল অনুমানের দিকে পরিচালিত করত। এছাড়া জিম্মি ইহুদিদের উচ্চতর পদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল, যেমন কর আদায় এবং দাপ্তরিক নথিপত্র লেখা (৩)। ফলে তারা মুসলমানদের স্বার্থের বিরুদ্ধে করা প্রতিটি ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের পেছনে ছিল, অথবা এমন প্রজ্বলিত ফিতনার মূলে ছিল যা সবকিছুকে ধ্বংস করে দিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ২২)
هذا، ونتيجة لانغماس الحكام وبطانتهم في الملذات وركونهم إليها وتفريطهم في المهام، وانحلالهم السياسي والاجتماعي، أن وَهَن في نفوسهم الوازع الديني، وماتت فيهم دوافع النصرة والحمية عن الإسلام، وقد كان ذلك سببًا في ظهور التعصب القبلي والجنسي وما خلفه من أضرار كبيرة بين العرب
والموالي في معارك دامية، وما تلاه من نزعة شعوبية ظهرت لتمجيد العجم والتنقيص من قدر العرب وما صاحب ذلك من الطعن في ملة الإسلام والتطاول على الشريعة المحمدية (1).
وفي هذا العصر، كان الفقهاء أكبر عضد لملوك الطوائف في تبرير طغيانهم وقهرهم، وأكبر سند في تزكية تصرفاتهم وابتزازهم لأموال الرعية، وحرصًا على النفوذ والمال، فقد كانوا يضعون تحت خدمة السلطان فتاوى فقهية مؤيدة للظلم.
والجور والاستغلال، ومبيحة للدس والمكر والاستعانة بالكفار وغيرها من المحرمات، ويدعون الناس باسم أحكام الدين وتعاليم الشريعة وفد نوَّه أبو مروان ابن حيان هذا التواطؤ الصارخ والتضامن المخزي بين الملوك والفقهاء، المؤسس على التعاون على الإثم والعدوان حيث يقول.
(ولم تزل آفة الناس مُذ خلقوا في صنفين منهم هم كالملح: فيهم الأمراء والفقهاء قل ما تتنافر أشكالهم، وبصلاحهم يصلحون، وبفسادهم يفسدون، وقد خص الله تعالى هذا القرن الذي نحن فيه من اعوجاج صنفيهم لدينا بما لا كفاية له، ولا مخلص منه، فالأمراء القاسطون، قد نكبوا بهم عن نهج الطريق ذيادًا عن الجماعة، وجريًا إلى الفرقة، والفقهاء أئتهم صموت عنهم، صدف عما أكده الله تعالى من التبيين لهم، قد أصبحوا بين آكل من حلوائهم، وخابط في أهوائهم وبين مستشعر مخافتهم، آخذًا بالتقية في صدقهم) (2).
غير أن داخل هذا التيار الاجتماعي العاصف بكل القيم برزت مواقف
--------------------------------------------
এটি এই কারণে যে, শাসকবর্গ এবং তাদের পারিষদবর্গের ভোগবিলাসে নিমজ্জিত হওয়া, সেদিকেই ঝুঁকে পড়া, দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের ফলে তাদের অন্তরে ধর্মীয় চেতনা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাদের মধ্যে ইসলামের সাহায্য ও তার প্রতি মমত্ববোধের প্রেরণা লোপ পেয়েছিল। এটিই গোত্রীয় ও জাতিগত গোঁড়ামির উদ্ভব এবং এর ফলে আরব
ও মাওয়ালিদের (অনারব মুসলিম) মধ্যে রক্তাক্ত যুদ্ধে যে ভয়াবহ ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছিল তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর পরবর্তীতে 'শুউবিয়্যাহ' চেতনার উদ্ভব ঘটে, যা অনারবদের মহিমা প্রচার এবং আরবদের মর্যাদা হ্রাসের জন্য সচেষ্ট ছিল। এর সাথে সাথে ইসলামের মিল্লাতের প্রতি বিদ্রূপ এবং মুহাম্মদী শরীয়তের ওপর হস্তক্ষেপের মতো ঘটনাও ঘটেছিল (১)।
এই যুগে ফকীহগণ ছিলেন ‘মুলুকুত তাওয়ায়েফ’ বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের রাজাদের স্বৈরাচার ও নিপীড়ন জায়েজ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সহযোগী এবং প্রজাদের ধন-সম্পদ আত্মসাৎ ও তাদের কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী অবলম্বন। প্রভাব-প্রতিপত্তি ও অর্থের লোভে তারা সুলতানের সেবায় জুলুমের স্বপক্ষে ফিকহী ফতোয়া প্রদান করতেন।
অবিচার ও শোষণ, এবং ষড়যন্ত্র, চাতুরি ও কাফিরদের সাহায্য গ্রহণসহ অন্যান্য হারাম কাজকে তারা বৈধ করে দিয়েছিলেন। তারা দ্বীনি বিধান ও শরীয়তের শিক্ষার দোহাই দিয়ে মানুষকে ডাকতেন। আবু মারওয়ান ইবনে হাইয়ান রাজা ও ফকীহদের মধ্যে এই প্রকাশ্য আঁতাত এবং লজ্জাজনক সংহতির কথা উল্লেখ করেছেন, যা ছিল পাপ ও শত্রুতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এক পারস্পরিক সহযোগিতা। তিনি বলেন:
(মানুষ সৃষ্টির পর থেকেই তাদের বিপদ দুই শ্রেণীর মানুষের মধ্যে নিহিত, যারা লবণের ন্যায়: তারা হলো আমীর বা শাসক এবং ফকীহ বা আলেম। তাদের ধরণ খুব কমই ভিন্ন হয়; তাদের সংশোধনে মানুষ সংশোধিত হয় এবং তাদের বিচ্যুতিতে মানুষ পথভ্রষ্ট হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের বর্তমান এই শতাব্দীকে তাদের উভয়ের এমন বক্রতার জন্য নির্ধারিত করেছেন যার কোনো প্রতিকার নেই এবং যা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ারও কোনো পথ নেই। যালিম শাসকরা উম্মাহর ঐক্য থেকে দূরে সরে গিয়ে এবং বিভেদের দিকে ধাবিত হয়ে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। আর ফকীহগণ তাদের ব্যাপারে নিশ্চুপ হয়ে আছেন এবং আল্লাহ তাআলা সত্য সুস্পষ্ট করার যে নির্দেশ দিয়েছেন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তারা এখন হয় শাসকদের অনুগ্রহভোগী ও তাদের প্রবৃত্তির অনুসারী, অথবা তাদের ভয়ে তটস্থ এবং সত্য বলার ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক কৌশল (তাকিয়া) অবলম্বনকারী) (২)।
তবে সমস্ত মূল্যবোধকে তছনছ করে দেওয়া এই উত্তাল সামাজিক স্রোতের অভ্যন্তরে এমন কিছু অবস্থান বা দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছিল—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مشرِّفة من فئة صالحة من العلماء مغلوبة على أمرها وتعالت أصواتها مندِّدة للباطل والجور والطغيان ومستنكرة لهذا الوضع المتردي وما آلت إليه البلاد والعباد من فساد (1).
هذا، وعلى نقيض الوضع السياسي والاجتماعي المتردي فإن الجانب الثقافي والعلمي والأدبي كاد يكون العصر الذهبي لجميع مظاهر الفكر، فقد حفل هذا العصر بحصاد ثقافي وعلمي كبير، ومردُ ذلك إلى عدة عوامل من أهمها إفراد كل ملك ببلاط فخم يجمع إلى جانبه جماعة الفكر والأدب (2) مع تمتع كل ملك بمستوى راق في الميدان العلمي والأدبي (3)، وفي هذا السياق يقول الأستاذ عنان: (وإنها لظاهرة من أبرز ظواهر عصر الطوائف أن يكون معظم الملوك والرؤساء من أكابر الأدباء والشعراء والعلماء، وأن تكون قصورهم منتديات زاهرة، ومجامع حقة للعلوم والآداب والفنون) (4)، كما أن الازدهار الفكري والأدبي يرجع أيضًا إلى تمتع الحياة الفكرية في مسيرتها بشيء من الاستقلال من عصر الخلافة إلى أن آتت ثمارها في عهد ملوك الطوائف بتشجيع من الملوك وتحت حمايتهم رغم طغيانهم المطبق. ومن عوامل الازدهار أيضًا التنافس الجاد
--------------------------------------------
উলামায়ে কেরামের একটি সৎ দলের পক্ষ থেকে মহিমান্বিত [ভূমিকা], যারা পরিস্থিতির শিকার হওয়া সত্ত্বেও বাতিল, জুলুম ও স্বৈরশাসনের নিন্দা জানিয়ে এবং এই শোচনীয় অবস্থা ও দেশ ও জনগণের যে বিপর্যয় ঘটেছে তার বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদ করেছিলেন (১)।
তবে, এই শোচনীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির বিপরীতে সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক ও সাহিত্যিক দিকটি চিন্তাশীলতার সকল ক্ষেত্রে প্রায় এক স্বর্ণযুগে পরিণত হয়েছিল। এই যুগটি বিশাল সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক অর্জনে পরিপূর্ণ ছিল এবং এর পেছনে বেশ কিছু কারণ ছিল। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল প্রত্যেক রাজার একটি করে জাঁকজমকপূর্ণ দরবার থাকা, যেখানে তিনি বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্যিকদের সমবেত করতেন (২), সেইসাথে প্রত্যেক রাজার জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্যের ময়দানে উচ্চ পর্যায়ের পারদর্শিতা (৩)। এই প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইনান বলেন: (তায়েফা যুগের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো যে, অধিকাংশ রাজা ও শাসক ছিলেন বড় মাপের সাহিত্যিক, কবি ও আলিম এবং তাদের প্রাসাদগুলো ছিল প্রাণবন্ত মিলনমেলা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্পের প্রকৃত কেন্দ্র) (৪)। এছাড়াও বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাহিত্যিক সমৃদ্ধির কারণ ছিল এই যে, খিলাফত আমল থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন তার পথচলায় কিছুটা স্বাধীনতা ভোগ করেছিল, যা পরবর্তীতে রাজাদের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় তায়েফা রাজাদের যুগে পূর্ণতা পায়, যদিও তাদের চরম স্বৈরাচার বিদ্যমান ছিল। সমৃদ্ধির আরেকটি কারণ ছিল কঠোর প্রতিযোগিতা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بين الملوك في إنشاء المكتبات وتعميرها الأمر الذي جعل البلاد تعج بمختلف العلوم والأدب والفنون (1) مما سهَّل انتعاش الحركة العلمية والأدبية بنشاط حثيث يتجلى في: وفرة المصادر وكثرة المؤلفات في شتى العلوم، تعدد الرحلات العلمية إلى المشرق قصد التحصيل العلمي، تشجيع المناظرات والمساجلات بين العلماء والفقهاء والأدباء والشعراء، فضلًا عن تنقلات العلماء إلى مختلف حواضر الأندلس لنشر علومهم وبث معرفتهم.
هذا، وقد كان القرن الخامس الهجري حافلًا بنشاط علمي حر ومتفتِّح وأدب رفيع، وجدل فقهي نشيط، لمعت فيه قمم علمية موسوعية فذة كأبي محمد ابن حزم، وأبي الوليد الباجي، وأبي عمر يوسف بن عبد البر، وأبو الحسن علي بن سيده وغيرهم الذين يرتفعون إلى الذروة في تفكيرهم ومستواهم العلمي الرفيِع.
حاصل القول: إن تجزئة بلاد الأندلس إلى إمارات متناحرة كان له مساوي عديدةٌ قضت على تماسك المسلمين ووحدتهم السياسية والعسكرية، وخلَّفت آثارًا في غاية الخطورة، ووجدت العصبيات والأهواء والمجون والفساد سبيلًا مفتوحًا للعبث بالمقدسات العقائدية والمقومات الإسلامية نتيجة لضعف الوارع الديني، رغم المحاولات الجادة التي قام بها رجال الفكر والعلم - تجاوبًا مع الوضع السياسي والاجتماعي - في سبيل توحيد كلمتهم وتحذيرهم من العواقب، ولكنها لم تجد آذانًا صاغية، ومع ذلك، فإن موانع الظلم السياسي والفساد الأخلاقي لم يثنِ العلماء في بذل جهود مضنية، وإفراغ طاقات متأججة لتحصيل العلوم وتطويرها في حركة مستمرة، ونشاط دؤوب تحت رعاية حكامهم وحرص عامتهم، ومن هؤلاء الأئمة الأفذاذ القاضي أبي الوليد سليمان بن خلف الباجي الذي لمع نجمه في هذه الحقبة من الزمان كفقيه أصولي، مناظر مجادل لا يشق له غبار.
--------------------------------------------
রাজন্যবর্গের মধ্যে পাঠাগার স্থাপন ও তা আবাদ করার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ দেশটিকে বিভিন্ন বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্পকলায় মুখরিত করে তুলেছিল (১)। এটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বৈজ্ঞানিক ও সাহিত্যিক আন্দোলনের পুনর্জাগরণকে সহজতর করেছিল, যা বিভিন্নভাবে প্রকাশ পায়: বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় উৎসের প্রাচুর্য ও অসংখ্য রচনার আধিক্য, জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রাচ্যের দেশগুলোতে বহুসংখ্যক বৈজ্ঞানিক সফর, আলেম, ফকিহ, সাহিত্যিক ও কবিদের মধ্যে বিতর্ক ও শাস্ত্রীয় আলোচনার উৎসাহ প্রদান, সেইসাথে আন্দালুসের বিভিন্ন নগরীতে আলেমদের যাতায়াত যাতে তারা তাদের ইলম ও জ্ঞান প্রচার ও প্রসার ঘটাতে পারেন।
তদুপরি, হিজরি পঞ্চম শতাব্দী ছিল মুক্ত ও উন্মুক্ত জ্ঞানতাত্ত্বিক তৎপরতা, উচ্চমানের সাহিত্য এবং প্রাণবন্ত ফিকহী বিতর্কে ভরপুর। এই যুগে এমন কিছু অনন্য বিশ্বকোষীয় জ্ঞানতাত্ত্বিক মহীরুহদের আবির্ভাব ঘটেছিল যারা উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো ভাস্বর ছিলেন, যেমন আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম, আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি, আবু উমর ইউসুফ ইবনে আবদিল বারর, আবু আল-হাসান আলী ইবনে সিদাহ এবং অন্যান্যরা, যারা তাদের চিন্তাচেতনা ও উচ্চতর বৈজ্ঞানিক স্তরের দিক থেকে শিখরে আরোহণ করেছিলেন।
আলোচনার সারকথা হলো: আন্দালুস ভূখণ্ডকে বিবদমান কতগুলো আমিরাতে বিভক্ত করার বহুবিধ কুফল ছিল যা মুসলমানদের সংহতি এবং তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক ঐক্যকে ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রভাব রেখে গিয়েছিল। ধর্মীয় অনুভূতির দুর্বলতার ফলে গোঁড়ামি, কুপ্রবৃত্তি, অশ্লীলতা ও দুর্নীতি আকিদাগত পবিত্রতা ও ইসলামি স্তম্ভসমূহ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এক উন্মুক্ত পথ খুঁজে পেয়েছিল। যদিও রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে চিন্তাবিদ ও জ্ঞানীরা তাদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, কিন্তু তা কোনো কর্ণপাতকারী খুঁজে পায়নি। তা সত্ত্বেও, রাজনৈতিক জুলুম এবং চারিত্রিক অবক্ষয়ের প্রতিবন্ধকতাগুলো আলেমদের কঠোর পরিশ্রম করা এবং নিরবচ্ছিন্ন গতিতে জ্ঞান অর্জন ও তার উন্নয়নে প্রদীপ্ত শক্তি ব্যয় করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তাদের শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সাধারণ জনগণের আগ্রহে এই তৎপরতা অব্যাহত ছিল। এই অনন্য ইমামদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কাজী আবু আল-ওয়ালিদ সুলাইমান বিন খালাফ আল-বাজি, যাঁর নক্ষত্র এই যুগে একজন উসুলি ফকিহ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী তার্কিক হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الفصل الأول
ترجمة أبي الوليد الباجي
المبحث الأول: اسم أبي الوليد الباجي ونسبه ومولده.
المبحث الثاني: أسرة أبي الوليد الباجي وأبناؤه.
المبحث الثالث: نشأة أبي الوليد الباجي ووفاته.
প্রথম অধ্যায়
আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজীর জীবনী
প্রথম পরিচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজীর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজীর পরিবার ও সন্তানসন্ততি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজীর বেড়ে ওঠা ও মৃত্যু।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفصل الأولترجمة أبي الوليد الباجي (1)
سنتعرض في هذا الفصل إلى التعريف باسم الباجي ونسبة وألقابه ومولده في المبحث الأول، ثم نستتبعه بأسرته وأبنائه في المبحث الثاني، ونخصص
المبحث الثالث في ذكر نشأته ووفائه.
***
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদআবু ওয়ালিদ আল-বাজি-এর জীবনী (১)
আমরা এই পরিচ্ছেদে প্রথম অনুচ্ছেদে আল-বাজি-এর নাম, বংশপরিচয়, উপাধি এবং জন্ম সম্পর্কে আলোচনা করব, অতঃপর দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে তাঁর পরিবার ও সন্তানদের বিবরণ দেব, এবং
তৃতীয় অনুচ্ছেদটি তাঁর বেড়ে ওঠা ও মৃত্যু বর্ণনায় উৎসর্গ করব।
***
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المبحث الأولاسم أبي الوليد الباجي ونسبه ومولدهوفي هذا المبحث نتناول اسم الباجي ونسبه وألقابه في المطلب الأول، ونخصص المطلب الثاني لمولده.
المطلب الأولاسم أبي الوليد الباجي ونسبه وألقابههو سليمان بن خلف بن سعد (1) بن أيوب بن وارث، التُّجِيبِي، التميمي،
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদআবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজীর নাম, বংশপরিচয় ও জন্মএই পরিচ্ছেদে আমরা প্রথম অনুচ্ছেদে আল-বাজীর নাম, বংশপরিচয় ও উপাধি নিয়ে আলোচনা করব এবং দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটি তাঁর জন্মের জন্য নির্দিষ্ট করব।
প্রথম অনুচ্ছেদআবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজীর নাম, বংশপরিচয় ও উপাধিতিনি হলেন সুলায়মান বিন খালাফ বিন সাদ (১) বিন আইয়ুব বিন ওয়ারিস, আত-তুজিবি, আত-তামিমি,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الباجي، القرطبي، البَطَلْيوسِي، الذهبي، الاندلسي، القاضي المالكي، المكنى بأبي الولد (1).
- فالتُّجِيبِي نسبة إلى قبيلة (تُجِيْب) العربية، بطن من بطون كندة، سموا باسم جدتهم العليا: تُجيب بنت ثوبان بن سليم بن رهاء من بني مذحج، وكان عميرة بن أبي المهاجر أول رجل من قبيلة (تجيب) نزل بأرض الأندلس مع جنود جيش الإسلام الفاتح، ثم زاد نسل التجيبيين وارتفع عددهم في الأندلس، وأصبحت لهم ديارًا، ومن ديارهم (بَطَلْيَوسْ) وهي موطن أجداد أبي الوليد الباجي (2).
- أما التميمي (3) فنسبة إلى بني تميم من مر بن أد بن طابخة، وهم من أكبر بطون العرب (4).
- وأما الباجي فنسبة إلى باجة (5) مدينة أندلسية شهيرة من أقدم مدائن
--------------------------------------------
আল-বাজি, আল-কুরতুবি, আল-বাতালইউসি, আজ-জাহাবি, আল-আন্দালুসি, মালিকি বিচারক, যাঁর উপনাম আবুল ওয়লাদ (১)।
- আত-তুজিবি হলো আরবীয় ‘তুজিব’ গোত্রের সাথে সম্পর্কিত একটি নিসবাহ, যা কিনদাহ গোত্রের একটি শাখা। তাদের উচ্চতর পিতামহী তুজিব বিনতে সাওবান ইবনে সুলাইম ইবনে রাহা-এর নামে তাদের নামকরণ করা হয়েছে, যিনি বনু মাজহিজ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। উমাইরা ইবনে আবিল মুহাজির ছিলেন তুজিব গোত্রের প্রথম ব্যক্তি যিনি বিজয়ী মুসলিম বাহিনীর সাথে আন্দালুসের ভূমিতে পদার্পণ করেছিলেন। এরপর তুজিবিদের বংশ বৃদ্ধি পায় এবং আন্দালুসে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং সেখানে তাদের আবাসস্থল গড়ে ওঠে। তাদের এই আবাসস্থলগুলোর মধ্যে একটি হলো (বাতালইউস), যা আবুল ওয়ালিদ আল-বাজির পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস (২)।
- আর আত-তামিমি (৩) হলো মুর ইবনে আদ ইবনে তাবিখাহ-এর বংশধর বনু তামিম গোত্রের সাথে সম্পর্কিত। তারা আরবদের অন্যতম বৃহত্তম শাখা (৪)।
- আর আল-বাজি হলো বাজা (৫) নামক শহরের সাথে সম্পর্কিত, যা আন্দালুসের একটি বিখ্যাত ও প্রাচীনতম শহর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الأندلس بنيت في أيام الأقاصرة، وتقع اليوم في البرتغال على 140 كلم إلى الجنوب الشرقي من لشبونة.
وقد نسب أبو الوليد الباجي إليها بعد مغادرة أجداده مدينة (بَطَلْيوَس) إليها، وأقام بها إلى أن بلغ الثالثة والعشرن من عمره (1).
- أما القرطبي فنسبة إلى (قرطبة). المدينة الأندلسية الشهيرة أم مدائنها ومستقر خلافة الأمويين بها (2). ونسب إليها بعد انتقاله مع أسرته من باجة الأندلس إليها.
- وأما البطَلْيوسي فنسبة إلى (بَطَلْيَوس) مدينة أندلسية، بناها عبد الرحمن بن مروان المعروف بالجليقي بإذن الأمير عبد الله له، وهي تقع في الغرب الجنوبي من إسبانيا (3).
--------------------------------------------
আন্দালুসের বেজা (Beja) শহরটি সিজারদের যুগে নির্মিত হয়েছিল এবং বর্তমানে এটি পর্তুগালে লিসবন থেকে ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি-কে এই শহরের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, যখন তাঁর পূর্বপুরুষগণ বাতালইউস (বাদাখোস) শহর ছেড়ে এখানে চলে আসেন এবং তেইশ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি এখানে অবস্থান করেন (১)।
- আর আল-কুরতুবী-কে কুরতুবা (কর্ডোবা)-র সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। এটি আন্দালুসের একটি বিখ্যাত শহর, যা শহরগুলোর জননী এবং সেখানে উমাইয়া খিলাফতের কেন্দ্র ছিল (২)। পরিবারের সাথে আন্দালুসের বেজা থেকে সেখানে হিজরত করার পর তাঁর নিসবত বা সম্বন্ধ এর দিকেই করা হয়।
- আর আল-বাতালইউসী-কে বাতালইউস (বাদাখোস) শহরের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, এটি একটি আন্দালুসীয় শহর যা আল-জিল্লিকী নামে পরিচিত আব্দুর রহমান ইবনে মারওয়ান আমীর আব্দুল্লাহর অনুমতি নিয়ে নির্মাণ করেছিলেন। এটি স্পেনের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وأضيف لأبي الوليد الباجي هذه النسبة لأن أصل آبائه من هذه المدينة، ولأنه ولد بها على أرجح الأقوال كما سيأتي.
- وأما تلقيه بـ (الذهبي) فلاشتغاله بضرب ورق الذهب للغزل، وذلك بعد رجوعه من رحلته العلمية المشرقية سنة 439 هـ (1).
- أما الأندلسي فنسبة إلى بلاد الأندلس التي افتتحها المسلمون بقيادة موسى بن نصير وطارق بن زياد في أيام الوليد بن عبد الملك سنة 92 هـ (2).
المطلب الثانيمولد أبي الوليد الباجياختلف المترجمون في تاريخ ميلاد الباجي، وفي مكان مسقط رأسه، وتفريعًا على هذا الخلاف، نخصص لتاريخ ميلاد الباجي الفرع الأول، ومكان ولادته الفرع الثاني.
الفرع الأول: تاريخ ميلاد أبي الوليد الباجي:تعارضت أقوال المترجمين والمؤرخين لحياة الباجي واضطربت في تاريِخ ميلاده على ثلاثة أقوال:
- القول الأول: إنه ولد يوم الثلاثاء 15 من ذي القعدة سنة 403 هـ وهو ما عليه الجمهور (3).
--------------------------------------------
আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজীর সাথে এই নিসবতটি (সম্বন্ধ) যুক্ত করা হয়েছে কারণ তাঁর পূর্বপুরুষদের মূল ছিল এই শহর থেকে, এবং অধিকাংশ মতানুসারে তিনি সেখানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন যা সামনে বিস্তারিত আসবে।
- আর তাঁর (আল-জাহাবী) উপাধি পাওয়ার কারণ হলো যে, তিনি ৪৩৯ হিজরিতে তাঁর প্রাচ্যদেশীয় ইলমি সফর থেকে ফিরে আসার পর সুতা কাটার কাজে ব্যবহারের জন্য স্বর্ণের পাত তৈরির পেশায় নিয়োজিত ছিলেন (১)।
- আর আল-আন্দালুসী নিসবতটি হলো আন্দালুস ভূখণ্ডের দিকে সম্পর্কিত, যা মুসলিমগণ মুসা ইবনে নুসাইর এবং তারিক ইবনে যিয়াদের নেতৃত্বে ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের শাসনামলে ৯২ হিজরিতে বিজয় করেছিলেন (২)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদআবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজীর জন্মজীবনীকারগণ আল-বাজীর জন্মের তারিখ এবং তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ করেছেন। এই মতভেদের রেশ ধরে আমরা আল-বাজীর জন্মের তারিখের জন্য প্রথম শাখা এবং তাঁর জন্মস্থানের জন্য দ্বিতীয় শাখা নির্ধারণ করেছি।
প্রথম শাখা: আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজীর জন্মের তারিখ:আল-বাজীর জীবনীর লিপিকার ও ঐতিহাসিকদের বক্তব্য তাঁর জন্মের তারিখ নিয়ে পরস্পরবিরোধী এবং তা তিনটি মতের ওপর আবর্তিত হয়েছে:
- প্রথম মত: তিনি ৪0৩ হিজরির ১৫ই জিলকদ মঙ্গলবার জন্মগ্রহণ করেছেন এবং জমহুর (অধিকাংশ) আলিম এই মতের ওপর রয়েছেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
- القول الثاني: إنه ولد سنة 404 هـ. وهو ما مال إليه ابن عساكر (1).
- القول الثالث: إنه ولد سنة 402 هـ. وهو ما ذهب إليه الباحث الإسباني آنخل جنثالث بالنثيا (2).
والظاهر أن مذهب. الجمهور أقوى لجملة من المرجحات تتمثل فيما يلي:
1 - شهادة أم الباجي على صحة التاريخ الذي ارتضاه الجمهور، وذلك فيما رواه تلميذ الباجي أحمد بن زغلول قال: (رأيت تاريخ ميلاده بخط أمِّه - وكانت فقيهة - أنه سنة ثلاث وأربعمائة) (3).
ولا يخفى في مثل هذه المقامات أن شهادة النساء أولى ومقدمة على الغير، وخاصة ورود تاريخ ميلاده مقيدًا من والدته، فضلًا عن كونها فقيهة.
2 - ما ذكره أبو علي الغساني - وهو من طلبته الملازمين للباجي - أنه قال:
(سمعت أبا الوليد الباجي يقول: (مولدي في ذي القعدة سنة ثلاث وأربعمائة) (4) ومما لا يغيب أن الشخص أعرف بنفسه وأعلم بأحواله وتواريِخ حياته.
3 - ما رواه ابن بشكوال قال: (قرأت بخط القاضي محمد بن أبي الخير
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অভিমত: তিনি ৪০৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। এটি এমন এক মত যার প্রতি ইবনে আসাকির ঝুঁকেছেন (১)।
- তৃতীয় অভিমত: তিনি ৪০২ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। এটি স্পেনীয় গবেষক আঞ্জেল গঞ্জালেস প্যালেনসিয়া-এর অভিমত (২)।
এবং দৃশ্যত সংখ্যাগরিষ্ঠদের (জমহুর) অভিমতটিই অধিক শক্তিশালী, কারণ এর স্বপক্ষে বেশ কিছু অগ্রাধিকারমূলক কারণ রয়েছে যা নিম্নরূপ:
১ - সংখ্যাগরিষ্ঠদের পছন্দকৃত তারিখটির সঠিকতার ব্যাপারে ইমাম বাজির মাতার সাক্ষ্য; যা ইমাম বাজির ছাত্র আহমাদ ইবনে জাগলুল বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: (আমি তাঁর জন্ম তারিখ তাঁর মাতার স্বহস্তে লিখিত দেখেছি—আর তিনি একজন ফকিহা ছিলেন—সেখানে উল্লেখ ছিল যে, তা চারশত তিন হিজরি সনে) (৩)।
এবং এই জাতীয় ক্ষেত্রগুলোতে নারীদের সাক্ষ্য অন্যদের তুলনায় অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য ও অগ্রগণ্য হওয়া অস্পষ্ট নয়, বিশেষ করে যখন তাঁর জন্ম তারিখটি খোদ তাঁর মাতার পক্ষ থেকেই নির্ধারিত হয়ে এসেছে, তদুপরি তিনি একজন ফকিহাও ছিলেন।
২ - আবু আলী আল-গাসসানি—যিনি ইমাম বাজির সার্বক্ষণিক ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—যা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:
(আমি আবুল ওয়ালিদ আল-বাজিকে বলতে শুনেছি: "আমার জন্ম চারশত তিন হিজরি সনের জিলকদ মাসে") (৪)। আর এটি কারো অজানা নয় যে, একজন ব্যক্তি নিজের সম্পর্কে এবং নিজের জীবনের অবস্থা ও তারিখসমূহ সম্পর্কে অন্যের তুলনায় অধিকতর অবগত থাকেন।
৩ - ইবনে বাশকুওয়াল যা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: (আমি কাজি মুহাম্মাদ ইবনে আবি আল-খাইর-এর স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপিতে পড়েছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাহ ফী উসূলাল ফিকহ - ত ফারকূস
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
- شيخنا رحمه الله قال: (
… وولد يوم الثلاثاء في النصف من ذي القعدة سنة ثلاث وأربعمائة) (1).
4 - ليس ثمة دليل للمخالفين يتمسك به لإثبات ما ذهبوا إليه. وعليه فمذهبهم ظاهر البطلان لا يقوى على المعارضة.
الفرع الثاني: مكان ميلاد أبي الوليد الباجي:لا خلاف بين علماء التراجم في أن أصل آباء أبي الوليد من مدينة بَطَلْيوَس (2) ولكن محل الخلاف في مسقط رأسه هل كان في هذه المدينة أم في غيرها، وقد ترتب على هذا الخلاف ثلاثة آراء متباينة تتمثل في الآتي:
- القول الأول: إن مسقط رأسه بِبَطَلْيَوس، ثم رُحل به في صباه إلى باجة الأندلس، ثم انتقل بعدها إلى قرطبة وهو قول القاضي ابن أبي الخير (3) وتبعه ابن خلكان (4).
- القول الثاني: إن مسقط رأسه بباجة الأندلس بعد انتقال أجداده من بطليوس، ومن باجة الأندلس انتقل إلى قرطبة مع أسرته. وهو ظاهر قول الجمهور (5).
- القول الثالث: إن مسقط رأسه بقرطبة، وأصله من بطليوس، ثم انتقل أجداده
--------------------------------------------
আমাদের শাইখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: (
… এবং তিনি চারশত তিন হিজরি সনের যিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে মঙ্গলবার দিন জন্মগ্রহণ করেন) (১)।
৪ - বিরোধীদের নিকট এমন কোনো দলিল নেই যা দিয়ে তারা তাদের অভিমত প্রমাণ করতে পারে। অতএব, তাদের মতবাদটি স্পষ্টতই বাতিল এবং তা বিরোধিতার মোকাবিলা করার শক্তি রাখে না।
দ্বিতীয় শাখা: আবুল ওয়ালিদ আল-বাজি-র জন্মস্থান:জীবনীকার আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, আবুল ওয়ালিদের পিতৃপুরুষদের আদি নিবাস ছিল বাতালইয়াওস (২) শহর। তবে তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে যে, তা কি এই শহরে ছিল নাকি অন্য কোথাও। এই মতভেদের ফলে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন মত পরিলক্ষিত হয় যা নিম্নরূপ:
- প্রথম মত: তাঁর জন্মস্থান বাতালইয়াওসে, অতঃপর শৈশবে তাঁকে আন্দালুসের বাজাহ-তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এর পরে তিনি কুরতুবায় স্থানান্তরিত হন। এটি কাজী ইবনে আবিল খাইর-এর (৩) অভিমত এবং ইবনে খাল্লিকান (৪) তাঁর অনুসরণ করেছেন।
- দ্বিতীয় মত: তাঁর পূর্বপুরুষগণ বাতালইয়াওস থেকে হিজরত করার পর আন্দালুসের বাজাহ-তে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং বাজাহ থেকে তিনি সপরিবারে কুরতুবায় চলে যান। এটিই জমহুর বা সংখ্যাধিক্য ওলামায়ে কেরামের অভিমত হিসেবে প্রতীয়মান হয় (৫)।
- তৃতীয় মত: তাঁর জন্মস্থান কুরতুবায়, আর তাঁর আদি উৎস বাতালইয়াওস। অতঃপর তাঁর পূর্বপুরুষগণ স্থানান্তরিত হন...
--------------------------------------------