(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: -)
أصول الفقه - آيات وأحاديث الأحكام من أمالي الأستاذ الإمام القسم: الفقه العام
الكتاب: أصول الفقه - آيات وأحاديث الأحكام من أمالي الأستاذ الإمام
المؤلف: عبد الحميد بن باديس
تعليق وتحقيق: محمد الحسن فضلاء، مفتش التعليم الابتدائي والمتوسط (سابقا)
الناشر: دار البعث للطباعة والنشر - قسنطينة - الجزائر
الطبعة: الأولى، 1405 هـ - 1985 م
عدد الصفحات: 90
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1438
উসূলে ফিকহ - উস্তাদ ইমামের আমালি থেকে সংগৃহীত আহকামের আয়াত ও হাদিসসমূহ বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
বই: উসূলে ফিকহ - উস্তাদ ইমামের আমালি থেকে সংগৃহীত আহকামের আয়াত ও হাদিসসমূহ
লেখক: আবদুল হামিদ বিন বাদিস
টীকা ও সম্পাদনা: মুহাম্মদ আল-হাসান ফুদলা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদর্শক (সাবেক)
প্রকাশক: দারুল বা’স মুদ্রণ ও প্রকাশনা - কন্সটানটাইন - আলজেরিয়া
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯০
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাযাইরি
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১)
من آثار الحركة العلمية
بالجامع الأخضر
(1)أصول الفقه
آيات وأحاديث الأحكام
من أمالي
الأستاذ الإمام
عبد الحميد بن باديس
تعليق وتحقيق
محمد الحسن فضلاء
مفتش التعليم الإبتدائي والمتوسط (سابقا)
نشر
دار البعث
জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের নিদর্শনাদি থেকে
আল-জামে আল-আখদারে
(১)ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)
বিধান (أحكام) সম্বলিত আয়াত ও হাদিসসমূহ
শ্রুতলিপি (أمالي) থেকে
উস্তাদ ইমাম
আব্দুল হামিদ বিন বাদিস
ব্যাখ্যা ও সম্পাদনা (تحقيق)
মুহাম্মদ আল-হাসান ফুদলা
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদর্শক (প্রাক্তন)
প্রকাশনায়
দার আল-বাস
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
من آثار الحركة العلمية بالجامع الأخضر (1)
أصول الفقه
آيات وأحاديث الأحكام
من أمالي
الأستاذ الإمام
عبد الحميد بن باديس
تعليق وتحقيق
محمد الحسن فضلاء
مفتش التعليم الإبتدائي والمتوسط (سابقا)
الطبعة الأولى
1405 هـ - 1985 م
نشر
دار البعث
জামে আল-আখদারের জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের স্মারকসমূহ থেকে (১)
উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)
বিধানাবলির (الأحكام) আয়াত ও হাদিসসমূহ
আমালি (أمالي) থেকে
উস্তাদ আল-ইমাম
আবদুল হামিদ বিন বাদিস
টীকা ও তাহকিক (تحقيق)
মুহাম্মদ আল-হাসান ফুদলা
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদর্শক (সাবেক)
প্রথম সংস্করণ
১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ
প্রকাশনায়
দার আল-বা'াস
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
حقوق الطبع محفوظة
رقم الإيداع القانوني
39499
1985
و. قسنطينة
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
আইনি জমাদান নম্বর
৩৯৪৯৯
১৯৮৫
কনস্টানটাইন প্রদেশ
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
المدخلزمن كالربيع حل وزالا
… ليت أيامه خلقن طوالا
حقا، لقد كان زمنا كالربيع في اشراقته، وفي خصوبته، وفي خيره، ودفقه وعطائه. ذلك هو زمن 1933 - 1935.
هو ثلاث سنوات في عمر تلمذتي بقسنطينة، وفي الجامع الأخضر لدى رائد الحركة الاصلاحية، وقائد النهضة العلمية، المنبعثة في الجزائر الأستاذ عبد الحميد بن باديس، طيب الله ثراه، وجازاه عن جهاده بما يجازى به عباده الصالحين، يوم لاينفع مال ولا بنون، الا من أتى الله بقلب سليم.
وقد سبقني الى هذا الزمن بسنتين أخي وصديقي المجاهد الأستاذ الفضيل الورتلاني الذي زار قسنطينة في مطلع السنة الدراسية الأخصرية 30 - 31 فاندهش لما فوجئ به من الدروس والنظام والنهضة، والحركة الدائبة، والحياة الجديدة، فشعر بالرضى وأحس بالاطمئنان، وعزم على الاسقرار والانتماء، وقرر أن يغادر حلقات الدروس التي تجمعنا واياه في البلد، على دروس العربية والبلاغة وشتى الفنون الأخرى من فقه وأحكام وقرآن.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাবসন্তের ন্যায় একটি সময় এল এবং বিদায় নিল
… হায়! যদি এর দিনগুলো দীর্ঘ করা হতো।
প্রকৃতপক্ষে, তা ছিল বসন্তের মতো এক প্রদীপ্ত, উর্বর, কল্যাণময়, প্রাণবন্ত এবং দানশীল সময়। সেটি ছিল ১৯৩৩ - ১৯৩৫ সালের সময়কাল।
এটি ছিল কনস্টানটাইনে আমার ছাত্রজীবনের তিনটি বছর; আল-জামে আল-আখদারে, আলজেরিয়ায় পুনরুত্থিত সংস্কার আন্দোলনের অগ্রপথিক এবং ইলমি রেনেসাঁর সিপাহসালার উস্তাদ আব্দুল হামিদ বিন বাদিস-এর সান্নিধ্যে। আল্লাহ তাঁর কবরকে পবিত্র করুন এবং তাঁর জিহাদের বিনিময়ে তাঁকে সেই প্রতিদান দান করুন যা তিনি তাঁর নেক বান্দাদের প্রদান করেন; সেই দিনে যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।
আমার এই সময়ের দুই বছর আগেই আমার ভাই ও বন্ধু মুজাহিদ উস্তাদ আল-ফুদিল আল-ওর তিলানি সেখানে পৌঁছেছিলেন, যিনি ৩০ - ৩১ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে কনস্টানটাইন সফর করেন। সেখানে পাঠদান, শৃঙ্খলা, জাগরণ, নিরন্তর কর্মতৎপরতা এবং নতুন জীবন প্রত্যক্ষ করে তিনি বিস্মিত ও অভিভূত হন। এতে তিনি সন্তুষ্টি ও প্রশান্তি অনুভব করেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান ও জ্ঞানার্জনের সংকল্প করেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, নিজ শহরে আমাদের সাথে আরবি ভাষা, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং ফিকহ (فقه), বিধান (أحكام) ও কুরআনসহ বিভিন্ন বিষয়ের যেসব পাঠদান চক্রে তিনি অংশগ্রহণ করতেন, সেগুলো তিনি ত্যাগ করবেন।
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
وفجأة انفرط من عقدنا، وانضم عمليا الى حلقات دروس الجامع الأخضر وفروعه بكل ما يملك من قناعة وارادة واستعداد.
وحين استقر به المقام أخذ ينهل من مناهل العلم والعرفات، ويغوص لاستخراج اللآلى والمكتنهات، وعلى حين غرة، لمح الأستاذ ابن باديس منه مخايل الذكاء والنجابة وبعد النظر، فزاده عناية، وأولاه اههاما وقربه اليه، وشاركه في أعماله، لما وجد فيه من صفات الدعاة الأمناء: (الايمان، والشجاعة، والفصاحة، والقدرة عل الاقناع، والثقة بالنفس)، فاعتمده، ورشحه لحمل رسالة الدعوة الى الله، بعد ما براه كالسهم، وزوده بزاد العلم، وحصنه بقوة الفهم، ونفاذ البصيرة.
وعاد الينا معشر زملائه الطلبة بقوة جبارة تحارب السكون والانطواء، بحمل في داخله نفسا متأججة من الحماس، وقبسا وهاجا من نور الله، يفيض بهما علما وحكمة وأفكارا وبيانا، فيتناول بيننا آيات من القرآن الكريم، أمثال قوله تعالى: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ}. وقوله صلى الله عليه وآله وسلم: (من سلك طريقا يلتمس فيه علما سهل الله له طريقا إلى الجنة). ثم يفيض على الموضوع سيلا من المعاني ويفجر منه شلالا من الأسرار التي تنطوي عليها لآيات القرآنية والأحاديث النبوية، تلك الأسرار التي لم تتفتح لها أفهامنا، ونحن نتلو هذه الآيات مع كل القرآن الذي نحفظه، ونقرأ هذه الأحاديث من قبل.
فكان من أثر هذا اللقاء، وهذه الصيحة التي جهر بها بيننا، أن استجاب لها نحو عشرين طالبا، انفرطوا من العقد الذي كان يجمعنا، فانبعثوا لطلب العلم، وانضموا الى طلبة (الجامع الأخضر)، وما كانت مبادرتهم لاتخاذ هذا السبيل الا نتيجة لذلك المخاض الذي أحدثته فينا جميعا أسرار الآية القرآنية الآنفة الذكر، وجمع من الحكم البالغة التي كان يغدق بها علينا.
হঠাৎ করেই তিনি আমাদের দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন এবং নিজের পূর্ণ প্রত্যয়, সংকল্প ও প্রস্তুতি নিয়ে জামে আল-আখজার এবং এর শাখাগুলোর পাঠচক্রগুলোতে বাস্তবিকভাবে যুক্ত হলেন।
সেখানে থিতু হওয়ার পর তিনি ইলম ও মা’রিফাতের ঝরনাধারা থেকে পান করতে শুরু করলেন এবং জ্ঞান-মুক্তা ও নিহিত রহস্য অন্বেষণে ডুব দিলেন। এমতাবস্থায় আকস্মিকভাবে উস্তাদ ইবনে বাদিস তার মধ্যে মেধা, আভিজাত্য ও দূরদর্শিতার লক্ষণসমূহ লক্ষ্য করলেন। ফলে তিনি তার প্রতি যত্ন বাড়িয়ে দিলেন, তাকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করলেন, নিজের সান্নিধ্যে স্থান দিলেন এবং তাকে নিজের কর্মতৎপরতায় শরিক করলেন; কারণ তিনি তার মধ্যে বিশ্বস্ত (الأمناء) দাঈদের গুণাবলি খুঁজে পেয়েছিলেন: (ঈমান, সাহস, বাগ্মিতা, মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা এবং আত্মবিশ্বাস)। অতঃপর তিনি তার ওপর আস্থা স্থাপন করলেন এবং তাকে আল্লাহর পথে দাওয়াতের মহান জিম্মাদারি বহনের জন্য মনোনীত করলেন; তাকে তীরের ন্যায় শাণিত করার পর, ইলমের পাথেয় দ্বারা সমৃদ্ধ করার পর এবং গভীর সমঝশক্তি ও অন্তর্দৃষ্টির তীক্ষ্ণতা দিয়ে তাকে সুসজ্জিত করার পর।
অতঃপর তিনি আমাদের ছাত্রসমাজের মাঝে এক প্রবল শক্তি নিয়ে ফিরে এলেন, যা স্থবিরতা ও বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে আপসহীন। তার অন্তরে ছিল উদ্দীপনার এক প্রজ্বলিত শিখা এবং আল্লাহর নূরের এক দীপ্তি। এই দুইয়ের প্রভাবে তিনি ইলম, হিকমত, চিন্তা ও প্রাঞ্জলতা ছড়িয়ে দিতেন। তিনি আমাদের মাঝে পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ নিয়ে আলোচনা করতেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন যেন তারা তাদেরকে সতর্ক করতে পারে; যাতে তারা সাবধানতা অবলম্বন করতে পারে}। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন)। অতঃপর তিনি বিষয়ের গভীরে অর্থের ফল্গুধারা বইয়ে দিতেন এবং কুরআনের আয়াত ও নববী হাদিসসমূহের মধ্যে লুকায়িত রহস্যের ঝরনাধারা উন্মোচিত করতেন; সেই সব গূঢ় রহস্য যা আমাদের অনুধাবনে আসেনি, অথচ আমরা এই আয়াতগুলোসহ পুরো কুরআন মুখস্থ তিলাওয়াত করতাম এবং এই হাদিসগুলো আগেও পাঠ করতাম।
এই সাক্ষাৎ এবং আমাদের মাঝে তার এই উদাত্ত আহ্বানের প্রভাবে প্রায় বিশজন ছাত্র তাতে সাড়া দিল। তারা আমাদের পূর্বের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে ইলম অন্বেষণে ব্রতী হলো এবং জামে আল-আখজার-এর ছাত্রদের সাথে যুক্ত হলো। তাদের এই পথে অগ্রসর হওয়া ছিল মূলত উল্লিখিত কুরআনি আয়াতের রহস্য এবং তিনি আমাদের ওপর হিকমতের যে অমিয় ধারা বর্ষণ করেছিলেন, তার ফলে আমাদের সবার মধ্যে সৃষ্ট এক বিশেষ জাগরণেরই বহিঃপ্রকাশ।
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
وفي نهاية السنة الدراسية القسنطينية 32 - 33 لم نستقبل الفضيل الورتلاني وحده، ولكننا استقبلنا أفواجا من (الذين رجعوا الينا) بألسنة لاهجة، وعقول نيرة، وأفكار مشعة، وشباب أدرك مفهوم النضج الحقيقي الذي يتوقون اليه، ولاحظنا التغيير المفاجئ، الذي عاد به زملاؤنا من خلال سنة دراسية واحدة.
فهنا لا مناص من أن تستجيب للدعوة مجموعة أخرى من الطلبة الذين كنت أنا من بينهم.
وبهؤلاء وأمثالهم في كل جهات القطر انبثت الحركة الاصلاحية، وانبعثت النهضة العلمية، وازداد انتشارها بسرعة البرق، حتى غزت أوكار الطرقية التي انتشرت في أنحاء البلاد، وجذبت أبناءهم وأبناء مشائخ الزوايا، وأبناء الفقهاء انصاق الطرقيين، وحركت نفوسا جامدة منهم، وأحيت جذورا ميتة، أخذت تلح على الخروج من التقوقع والانكماش الى السطح، ومن حياة الركود والسكون الى حياة النضال والكفاح، ومن الخمول والجمود الى الحركة والنشاط.
{قَالَ مَنْ يُحْيِ الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ؟ قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ}. قرآن كريم.
كيف نشأت فكرة الكتاب؟
وحين عدت الى مذكراتي، مذكرات الصبا، ومذكرات ثلاث سنوات كانت ضمن كراسات التلمذة بقسنطينة وهي مذكرات النضج والبلوغ، ومذكرات ربيع العمر الذي يذكرني به هذا الكراس الضخم ذو الغلاف المزين الذي يحمل اسم متجر (كلوب) بقسنطينه سارع فرانسا.
قلت عدت الى هذه المذكرات لأراجعها واستخلص سمينها من غثها، وصوابها من خطئها، فعثرت من بينها على غرر كنت محتفظا بها طيلة
এবং ৩২-৩৩ এর কনস্টানটাইন শিক্ষাবর্ষের শেষে আমরা কেবল ফুযাইল আল-ওয়ারতিলানিকেই একা গ্রহণ করিনি, বরং আমরা সেইসব (যারা আমাদের কাছে ফিরে এসেছিল) দলের পর দলকে স্বাগত জানিয়েছিলাম যাদের জিহ্বা ছিল প্রশংসামুখর, বুদ্ধি ছিল প্রদীপ্ত, চিন্তা ছিল বিকিরণকারী এবং এমন একদল যুবক যারা সেই প্রকৃত পরিপক্কতার ধারণা উপলব্ধি করেছিল যার জন্য তারা আকাঙ্ক্ষী ছিল। আমরা সেই আকস্মিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি, যা আমাদের সহপাঠীরা মাত্র এক শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমে নিয়ে ফিরেছিল।
এখানে এই আহ্বানে সাড়া দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না একদল ছাত্রের জন্য, যাদের মধ্যে আমিও ছিলাম।
এঁদের এবং দেশের সব প্রান্তের তাঁদের মতো অন্যদের মাধ্যমেই সংস্কারবাদী আন্দোলন বিস্তৃত হয়েছিল এবং ইলমি নবজাগরণ উদ্ভূত হয়েছিল। এর প্রসার বিদ্যুতের গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছিল, এমনকি তা সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা তরিকতপন্থীদের আস্তানাগুলোকেও প্রভাবিত করেছিল এবং তাদের সন্তানদের, জাউইয়ার শায়খদের সন্তানদের এবং তরিকতপন্থীদের অনুসারী ফকিহদের (الفقهاء) সন্তানদের আকৃষ্ট করেছিল। এটি তাদের মধ্য থেকে স্থবির আত্মাকে নাড়া দিয়েছিল এবং মৃত শিকড়গুলোকে পুনরুজ্জীবিত করেছিল, যা খোলস ও সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে পৃষ্ঠে আসার জন্য এবং স্থবিরতা ও নিস্তব্ধতার জীবন থেকে সংগ্রাম ও প্রচেষ্টার জীবনে এবং আলস্য ও জড়তা থেকে গতিশীলতা ও সক্রিয়তায় ফেরার জন্য পীড়াপীড়ি শুরু করেছিল।
{সে বলে, ‘কে হাড়গুলোকে জীবিত করবে যখন সেগুলো জরাজীর্ণ হয়ে যাবে?’ বলুন, ‘তিনিই সেগুলোকে জীবিত করবেন যিনি সেগুলোকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন এবং তিনি প্রত্যেক সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।’} আল-কুরআন।
কিভাবে বইটির ধারণা জন্ম নিল?যখন আমি আমার স্মৃতিকথাগুলোর দিকে ফিরে তাকালাম—শৈশবের স্মৃতিকথা এবং কনস্টানটাইনে ছাত্রজীবনের তিন বছরের স্মৃতিকথা যা ছিল পরিপক্কতা ও সাবালকত্বের স্মারক, এবং জীবনের বসন্তকালের স্মৃতি যা আমাকে মনে করিয়ে দেয় সজ্জিত মলাটের এই বিশাল খাতাটি, যা কনস্টানটাইনের ফ্রান্স স্ট্রিটের ‘ক্লাব’ দোকানের নাম বহন করছে।
আমি বলছি, আমি এই স্মৃতিকথাগুলোর দিকে ফিরে তাকালাম যাতে সেগুলো পর্যালোচনা করতে পারি এবং এর অসার (غث) অংশ থেকে সারবস্তু (سمين) এবং ভুল (خطأ) থেকে সঠিক (صواب) অংশগুলো আলাদা করতে পারি। এগুলোর মধ্যে আমি এমন কিছু শ্রেষ্ঠ অংশ (غرر) খুঁজে পেয়েছি যা আমি দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করছিলাম...
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
خمسين سنة خلت لم تعبث بها يد الضياع؛ فقررت أن أبرزها الى النور؛ وأضعها بين يدي الجمهور - من شبابنا المثقفين.
وجدت كتبا ثلاثة أو أربعة، ومختلفات أخرى:
الكتاب الأول: هو: أصول الفقه من آيات وأحاديث الأحكام.
الكتاب الثاني هو: العقائد الإسلامية من الآيات القرآنية والأحاديث النبوية.
الكتاب الثالث هو: التربية بالقرآن والسنة.
الكتاب الرابع هو: مقتطفات من ديوان الحماسة والامالي لأبي علي القالي.
وهذه الكتب الأربعة هي عبارة عن إملاآت كان يمليها الأستاذ عبد الحميد ابن باديس على طلبته يربيهم بها، وينمي معارفهم وأفهامهم ومداركهم بمدلولاتها ومقاصدها.
فكتاب (أصول الفقه) هذا كان يلقى درسا وإملاء على طلبة السنة الثالثة، وقد تلقيته كاملا بحيث لم يفتني منه شيء، وهو ما أوليته عنايتي، فكتبته وأخرجته وعلقت عليه وشرحت ما ألهمني الله إلى شرحه، وبذلت قصارى الجهد في تصحيح مادته وأحاديثه.
وأذكر هنا ملاحظة قد طرأت عقب الانتهاء من تدريس (أصول الفقه) فقد عزم الأستاذ على تعويض المادة بفن (مصطلح الحديث)، ورغبنا نحن معشر طلبة القسم تعويضها باحدى قصائد المعلقات السبع، فكتبنا رسالة باسم طلبة القسم في اليوم الذي تقرر فيه الشروع في (مصطلح الحديث) - نبدي فيها رغبتنا، فأخذت الرسالة، وطرقت باب مقصورته مستأذنا بالدخول، فأذن لي، ودخلت، فوجدته مضطجعا على حشية يعد درسه ويحضره.
পঞ্চাশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে যা বিলীন হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে; তাই আমি সেগুলোকে আলোর মুখ দেখাতে এবং আমাদের শিক্ষিত যুবকদের নিয়ে গঠিত জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আমি তিন বা চারটি বই এবং অন্যান্য বিবিধ কিছু সংকলন খুঁজে পেয়েছি:
প্রথম গ্রন্থটি হলো: আহকাম বা বিধিবিধান সংক্রান্ত আয়াত ও হাদিস থেকে সংগৃহীত উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)।
দ্বিতীয় গ্রন্থটি হলো: কুরআনের আয়াত এবং নববী হাদিস থেকে সংগৃহীত ইসলামী আকিদাহ (العقائد)।
তৃতীয় গ্রন্থটি হলো: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তারবিয়াত (التربية) বা প্রশিক্ষণ।
চতুর্থ গ্রন্থটি হলো: আবু আলী আল-কালীর 'দিওয়ানুল হামাসাহ' এবং 'আল-আমালি' থেকে সংগৃহীত সারাংশ।
এই চারটি বই মূলত উস্তাদ আব্দুল হামিদ ইবনে বাদিস কর্তৃক তাঁর ছাত্রদের নিকট প্রদত্ত কিছু শ্রুতলিপি (إملاء), যার মাধ্যমে তিনি তাদের গড়ে তুলতেন এবং সেগুলোর মর্মার্থ ও উদ্দেশ্য (مقاصد) অনুধাবনের মাধ্যমে তাদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বোধশক্তিকে বিকশিত করতেন।
এই 'উসুলুল ফিকহ' (أصول الفقه) গ্রন্থটি তৃতীয় বর্ষের ছাত্রদের পাঠদান ও শ্রুতলিপি (إملاء) হিসেবে প্রদান করা হতো। আমি এটি পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করেছিলাম এবং এর কোনো অংশই আমার হাতছাড়া হয়নি। আমি এই গ্রন্থটির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি, এটি লিপিবদ্ধ ও প্রকাশ করেছি এবং এর ওপর টীকা (تعليق) যুক্ত করেছি। আল্লাহ আমাকে যা ব্যাখ্যা করার তাওফিক দিয়েছেন তা ব্যাখ্যা করেছি এবং এর বিষয়বস্তু ও হাদিসগুলো সংশোধনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি।
আমি এখানে একটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করছি যা 'উসুলুল ফিকহ' (أصول الفقه) পাঠদান শেষ হওয়ার পরপরই সামনে এসেছিল। উস্তাদ এই বিষয়টি পরিবর্তন করে 'মুসতালাহুল হাদিস' (مصطلح الحديث) শাস্ত্রটি শুরু করার সংকল্প করেছিলেন। আর আমরা বিভাগের ছাত্ররা এর পরিবর্তে 'মুআল্লাকাতুস সাবআ' বা সাতটি ঝুলন্ত কবিতার কোনো একটি পড়ার ইচ্ছা পোষণ করলাম। যে দিন 'মুসতালাহুল হাদিস' (مصطلح الحديث) শুরু করার দিন ধার্য হলো, সে দিন আমরা বিভাগের ছাত্রদের পক্ষ থেকে একটি পত্র লিখলাম—যাতে আমরা আমাদের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিলাম। আমি পত্রটি নিয়ে অনুমতি চেয়ে তাঁর কক্ষের দরজায় করাঘাত করলাম। তিনি আমাকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন এবং আমি প্রবেশ করলাম। আমি তাঁকে একটি জাজিমের ওপর হেলান দিয়ে শোয়া অবস্থায় তাঁর পাঠের প্রস্তুতি নিতে দেখলাম।
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
قلت: سيدي أقدم لكم هذه الرسالة باسم الطلبة. قال: ضعها على المكتب، فوضعتها حيث أمر وانصرفت. فما هو الا بعض الوقت حتى خرج الينا، واقتعد كرسيه، مفتتحا درسه في فن (مصطلح الحديث) الذي استغرق فيه خمسين دقيقة في التعريف به مع الشرح والتحليل، والتقديم، وحين انتهى منه طوف بنظراته المشوبة بالابتسام من اليمين الى اليسار، ومن اليسار الى اليمين صامتا، ثم قال:
يا قوم لم أهجركم لملالة
… مني ولا لمقال واش حاسد
لكنني جربتكم فوجدتكم
… لا تصبرون على طعام واحد
ثم قام وانصرف، وكان البيتان أبلغ جواب على المقترح والرسالة. لكنه رحمه الله ما طالت المدة حتى سارع في تلبية رغبتنا، فأدرج ضمن البرنامج قصيدة (زهير بن أبي سلمى)، وكنا نتلقى درسها في سدة المسجد، حيث إن قاعته مشغولة.
هذا ما سجلته على الكتاب الأول، وأما الكتاب الثاني: فقد سبقني الى نشره أخي وزميلي في التلمذة الأستاذ محمد الصالح رمضان في سنة 1966 - نشر الشركة الجزائرية.
وهذا الكتاب أيضا قد قدم درسا واملاء لتلاميذ السنة الأولى أو الثانية، لا أذكر ذلك على وجه التحديد، والذي أتذكره هنا ان الساعة التي تقدم فيها املاآته كانت فارغة بالنسبة لي، وأستاذنا لا يسمح لغير طلبة القسم الخاص بالحضور. ولتطلعي للمعرفة، وشغفي بالمزيد منها، وشدة تعلقي بالأستاذ، بحيث كنت أتمنى ألا يفوتني منه شيء لو وجدت الى ذلك سبيلا. عمدت الى حيلة توصلت بها الى تسجيل هذا الدرس وحضوره في جميع حصصه. وكنت أصعد الى سدة المسجد، ومعي الزميل الأستاذ بلقاسم
আমি বললাম: "মহোদয়, ছাত্রদের পক্ষ থেকে আমি আপনার নিকট এই পত্রটি পেশ করছি।" তিনি বললেন: "এটি ডেস্কের ওপর রাখো।" আমি তাঁর নির্দেশানুযায়ী তা যথাস্থানে রেখে চলে এলাম। অল্প কিছু সময় পরেই তিনি আমাদের সামনে বেরিয়ে এলেন এবং নিজ আসনে উপবেশন করলেন। এরপর তিনি হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্রের ওপর তাঁর পাঠ শুরু করলেন, যেখানে তিনি এর সংজ্ঞা, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ এবং উপক্রমণিকার পেছনে প্রায় পঞ্চাশ মিনিট সময় ব্যয় করলেন। পাঠ শেষ করার পর তিনি নিরব থেকে মৃদু হাসিমাখা দৃষ্টিতে ডান থেকে বামে এবং বাম থেকে ডানে তাকালেলন। এরপর তিনি বললেন:
হে প্রিয় জাতি, আমি কোনো ক্লান্তিবোধ থেকে তোমাদের ছেড়ে যাইনি
… আর কোনো হিংসুক চোগলখোরের কথার কারণেও নয়।
বরং আমি তোমাদের পরীক্ষা করেছি এবং দেখেছি যে তোমরা
… একঘেয়ে খাবারের (জ্ঞানের) ওপর ধৈর্য ধরতে পারো না।
এরপর তিনি উঠে চলে গেলেন। প্রস্তাব ও পত্রের ব্যাপারে এই কবিতা দুটিই ছিল সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ উত্তর। তবে আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, খুব বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার আগেই তিনি আমাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তৎপর হলেন। তিনি পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করলেন (জুহাইর বিন আবি সুলমা)-এর কবিতা এবং আমরা মসজিদের উঁচু বারান্দায় এর পাঠ গ্রহণ করতাম, যেহেতু তখন এর মূল কক্ষটি অন্য কাজে নিয়োজিত ছিল।
প্রথম বইটিতে আমি এটিই লিপিবদ্ধ করেছিলাম। আর দ্বিতীয় বইটির কথা বলতে গেলে: আমার অগ্রজ এবং ছাত্রজীবনের সহপাঠী উস্তাদ মুহাম্মদ আস-সালেহ রামাদান ১৯৬৬ সালে এটি প্রকাশের ক্ষেত্রে আমার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন - যা আলজেরীয় প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
এই বইটি প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রদের জন্য পাঠ এবং শ্রুতিলিপি (إملاء) হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল, যা আমার ঠিক নিশ্চিতভাবে মনে নেই। তবে আমার যা মনে আছে তা হলো, তাঁর শ্রুতিলিপি (إملاء) প্রদানের সময়টি আমার জন্য অবসর ছিল। আমাদের উস্তাদ বিশেষ বিভাগের ছাত্র ব্যতীত অন্যদের উপস্থিত থাকার অনুমতি দিতেন না। জ্ঞানের প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ, আরও জানার গভীর তৃষ্ণা এবং উস্তাদের প্রতি আমার তীব্র অনুরাগের কারণে আমি কোনোভাবেই তাঁর কোনো বিষয় হাতছাড়া করতে চাচ্ছিলাম না যদি এর কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যেত। তাই আমি একটি কৌশল অবলম্বন করলাম যার মাধ্যমে আমি এই পাঠটি লিপিবদ্ধ করতে এবং এর প্রতিটি অধিবেশনে উপস্থিত হতে সক্ষম হলাম। আমি মসজিদের উঁচু বারান্দায় আরোহণ করতাম এবং আমার সাথে সহকর্মী উস্তাদ বেলকাসেম থাকতেন।
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
الزغداني رحمه الله، الذي أجده أحيانا قد سبقني اليها، معتمدا على نفس حيلتي، فأنبطح - واياه - على أرضية السدة متجهين لمصدر الصوت حتى لا نرى، فنتلقى الدرس ونكتبه حتى أتينا على آخر الكتاب، ولم يفتني لحسن حظي - منه درس من الدروس.
وأما الكتاب الثالث فهو التربية بالقرآن والسنة، وهذا الكتاب لا يختلف مسلكه عن مسلكه كتابي (أصول الفقه) و (العقائد) ويشتمل على نحو 78 عنوانا في مختلف المقاصد، واصلاح العقائد، وتربية النفس، وتهذيب المجتمع، وتطهيره من الخرافات والأوهام، فهو كتاب جامع نافع، يزخر بالمعرفة، لا يستغنى عنه شبابنا اليوم وشباب فجر الأيام المقبلة.
ان عبد الحميد بن باديس كان يربي أبناءه وطلبته على القرآن والسنة، ويربط اهتماماتهم بهما، ويغذيهم بأمثلة من واقع الحياة وصورها؛ ويعلمهم كيف يضعون أصابعهم على الداء والدواء بما يستمده لهم من أسرارهما، ويدربهم على المقارنة والاستدلال؛ ويدخل بهم في متاهات كتب الفروع، وخرج بهم وقد شدها شدا وثيقا بالأصول.
كان يدرس في الفقه مختصر الشيخ خليل، وأقرب المسالك، والرسالة لابن أبي زيد القيرواني وغيرها من كتب الفروع حقا، ولكنه لا يكتفى بظاهرها، وتوضيح مسالكها، وتقرير أحكامها فحسب، بل يعود بها الى الأصل ليربطها به، حتى يحرر طلبته من ربقة التقليد الأعمى، فتتحرر نفوسم، وتستمد الأحكام من الأصل الذي لا شائبة فيه.
واذكر انه كان يثني على الشيخ خليل، ويعده من كبار المصلحين والأصوليين، الا انه أحيانا ينحى باللائمة على شراحه - وما أكثرهم - الذين زادوا للمسائل تعقيدا بمطولاتهم وحواشيهم، التي كثيرا ما تتسبب في غياب الحقيقة من حيث كان قصدهم تبيانها.
আল-জুগদানি (রাহিমাহুল্লাহ), যাকে আমি মাঝেমধ্যে দেখেছি যে তিনি আমার আগেই সেখানে পৌঁছে গেছেন এবং আমার মতোই একই কৌশল অবলম্বন করেছেন। অতঃপর আমি ও তিনি—উভয়েই—উঁচু পাটাতনের মেঝেতে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়তাম এবং শব্দের উৎসের দিকে মুখ ফেরাতাম যেন আমাদের দেখা না যায়। এভাবে আমরা পাঠ গ্রহণ করতাম এবং তা লিখে নিতাম, যতক্ষণ না আমরা কিতাবটির শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছিলাম। আমার সৌভাগ্য যে, কিতাবটির কোনো পাঠই আমার ছুটে যায়নি।
আর তৃতীয় কিতাবটি হলো 'কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে শিক্ষা', আর এই কিতাবটির কর্মপন্থা আমার 'উসুলুল ফিকহ' এবং 'আকায়েদ' নামক কিতাব দুটির কর্মপন্থা থেকে ভিন্ন নয়। এটি বিভিন্ন উদ্দেশ্য, আকিদা সংশোধন, নফসের লালন-পালন, সমাজ সংস্কার এবং কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা থেকে সমাজকে মুক্ত করার বিষয়ে প্রায় ৭৮টি শিরোনাম অন্তর্ভুক্ত করে। এটি একটি ব্যাপক ও উপকারী কিতাব, যা জ্ঞানে ভরপুর; বর্তমানের যুবসমাজ এবং আগামী দিনের উদীয়মান তরুণদের জন্য এটি অপরিহার্য।
নিশ্চয়ই আব্দুল হামিদ বিন বাদিস তাঁর সন্তানদের ও ছাত্রদের কুরআন ও সুন্নাহর আদর্শে গড়ে তুলতেন, তাঁদের মনোযোগকে এই দুটির সঙ্গেই সম্পৃক্ত করতেন এবং জীবনের বাস্তব উদাহরণ ও প্রেক্ষাপটের মাধ্যমে তাঁদের পুষ্ট করতেন। তিনি তাঁদের শিখিয়েছিলেন কীভাবে এই দুটির রহস্য থেকে প্রাপ্ত নির্যাস দ্বারা রোগ ও ওষুধের ওপর আঙুল রাখতে হয় (অর্থাৎ সমস্যা ও সমাধান চিহ্নিত করতে হয়)। তিনি তাঁদের তুলনা এবং দলীল অনুসন্ধান (استدلال) পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দিতেন। তিনি তাঁদের নিয়ে শাখা-প্রশাখার কিতাবসমূহের গোলকধাঁধায় প্রবেশ করতেন এবং তাঁদের সেখান থেকে এমনভাবে বের করে আনতেন যে, তিনি সেগুলোকে মূলনীতির (الأصول) সাথে সুদৃঢ়ভাবে গেঁথে দিতেন।
তিনি ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে 'মুখতাসারুশ শায়খ খলিল', 'আকরাবুল মাসালিক' এবং ইবনে আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানির 'আর-রিসালা'সহ অন্যান্য শাখা-প্রশাখার কিতাবসমূহ পড়াতেন। তবে তিনি কেবল সেগুলোর বাহ্যিক রূপ, পথ উন্মোচন এবং বিধানসমূহ (الأحكام) স্থির করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন না, বরং সেগুলোকে মূল উৎসের (الأصل) দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতেন যেন সেগুলোর সাথে সেটির সম্পর্ক স্থাপন করা যায়। এর ফলে তিনি তাঁর ছাত্রদের অন্ধ অনুকরণের (التقليد) শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতেন, ফলে তাঁদের অন্তর স্বাধীন হতো এবং তাঁরা এমন এক নির্মল উৎস থেকে বিধানসমূহ (الأحكام) আহরণ করতেন যাতে কোনো পঙ্কিলতা নেই।
আমার মনে পড়ে, তিনি শায়খ খলিলের প্রশংসা করতেন এবং তাঁকে বড় মাপের সংস্কারক ও উসুলবিদ (الأصوليين) হিসেবে গণ্য করতেন। তবে মাঝেমধ্যে তিনি তাঁর ব্যাখ্যাকারকদের সমালোচনা করতেন—যাঁদের সংখ্যা অনেক—যাঁরা তাঁদের দীর্ঘ ব্যাখ্যা ও টীকা-টিপ্পনীর মাধ্যমে মাসআলাগুলোকে আরও জটিল করে তুলেছেন। এর ফলে অনেক সময় সত্য উন্মোচন করা তাঁদের উদ্দেশ্য হওয়া সত্ত্বেও তা আড়ালে চলে যেত।
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
هذه تموجات وخواطر قد ترددت في نفسي، واعترضت لي؛ فلم أقو على كبتها أو الخلاص منها وأراها لا بد منها وقد فرضت وجودها وأنا أقدم هذا الكتاب (كتاب أصول الفقه) من آيات وأحاديث الأحكم، الذي وفقني الله الى جمع مادته، واخراجه، رجاء أن ينفع الله به شباب المسلمين كما نفع به من قبل، ويجازيني عن هذا العمل الذي ما قصدت به الا وجه الله وابتغاء مرضاته، انه سميع مجيب. ولا حول ولا قوة الا بالله.
الجزائر في 10 محرم 1404 هـ - و 16 أكتوبر 1983 م
محمد الحسن فضلاء
مفتش التعليم الابتدائي والمتوسط
এগুলি কিছু ভাবতরঙ্গ এবং চিন্তা যা আমার অন্তরে বারবার উদিত হয়েছে এবং আমার সম্মুখীন হয়েছে; আমি এগুলোকে দমন করতে বা এগুলো থেকে মুক্তি পেতে সক্ষম হইনি। আমি অনুভব করছি যে এগুলোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য এবং এগুলো তাদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছে যখন আমি বিধানসমূহের (الأحكام) আয়াত (آيات) ও হাদিস সম্বলিত এই গ্রন্থটি (ফেকাহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) বিষয়ক গ্রন্থ) পেশ করছি, যার বিষয়বস্তু সংগ্রহ ও সংকলনের তৌফিক আল্লাহ আমাকে দান করেছেন। এই আশায় যে, আল্লাহ এর মাধ্যমে মুসলিম যুবকদের উপকৃত করবেন যেমনটি তিনি ইতিপূর্বে করেছেন এবং এই কাজের জন্য আমাকে প্রতিদান দেবেন যার মাধ্যমে আমি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর সন্তোষ লাভেরই ইচ্ছা করেছি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও প্রার্থনা কবুলকারী। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই।
আলজেরিয়া, ১০ মুহররম ১৪০৪ হিজরি - ১৬ অক্টোবর ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ
মুহাম্মদ আল-হাসান ফুদলা
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদর্শক
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
كتاب الطهارة
الطهورالآيات:
- {وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا} (1)
- {وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ} (2)
الأحاديث:
- قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (التراب طهور، والمؤمن طهور، إناء أحدكم اذا ولغ فيه كلب فليغسل سبعا احداهن بالتراب. (3)
- عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: جاء رجل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله: انا نركب البحر، ونحمل معنا القليل من الماء، فان توضأنا به
--------------------------------------------
পবিত্রতা অধ্যায়পবিত্রকারী পানিআয়াতসমূহ:
- {এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্রকারী (طهور) পানি বর্ষণ করেছি} (১)
- {এবং তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর পানি বর্ষণ করেন যাতে তার মাধ্যমে তোমাদের পবিত্র করতে পারেন} (২)
হাদিসসমূহ:
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (মাটি পবিত্রকারী (طهور), এবং মুমিন পবিত্র (طهور); তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুর মুখ দেয়, তখন সে যেন তা সাতবার ধৌত করে, যার মধ্যে একবার মাটি দ্বারা হয়।) (৩)
- আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সমুদ্র ভ্রমণ করি এবং আমাদের সাথে সামান্য পানি বহন করি। যদি আমরা তা দিয়ে ওযু করি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
عطشنا، أفنتوضأ بماء البحر؟ فقال رسول اله صلى الله عليه وسلم: (هو الطهور ماؤه، الحل ميتته) رواه البخاري وغيره.
- وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قيل يا رسول الله أفنتوضأ من بئر بضاعة (1)؟ فقال صلى الله عليه وسلم (الماء طهور لا ينجسه شيء) (2) رواه أحمد وأبو داود والترمذي وقال حديث حسن، وقال أحمد: حديث صحيح.
- عن جابر رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم، أنه قال: (أعطيت خمسا لم يعطهن أحد من الأنبياء قبلي:
1) نصرت بالرعب (3) مسافة شهر.
2) وجعلت لي الأرض مسجدا وطهورا، فأيما رجل من أمتي أدركته الصلاة فليصل.
3) وأحلت لي الغنائم (4) ولم تحل لأحد قبلي.
--------------------------------------------
আমরা তৃষ্ণার্ত ছিলাম, আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে অজু করব? তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: (এর পানি পবিত্র, আর এর মৃত প্রাণী হালাল)। এটি বুখারি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
- এবং আবু সাঈদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি বুদাআহ (১) কূপের পানি দিয়ে অজু করব? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: (পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না) (২)। এটি আহমাদ, আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে হাসান (حسن) হাদিস বলেছেন, আর আহমাদ একে সহিহ (صحيح) হাদিস বলেছেন।
- জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে যা আমার পূর্ববর্তী কোনো নবিকে দেওয়া হয়নি:
১) এক মাসের দূরত্বের পথ পর্যন্ত শত্রুর মনে ভীতি (৩) সঞ্চার করার মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে।
২) সমগ্র জমিনকে আমার জন্য সিজদাহর স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে; সুতরাং আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তির ওপর যেখানেই সালাতের সময় উপস্থিত হবে, সে যেন সেখানেই সালাত আদায় করে নেয়।
৩) আমার জন্য গনিমতের মাল (৪) হালাল করা হয়েছে, যা আমার পূর্ববর্তী কারো জন্য হালাল করা হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
4) وأعطيت الشفاعة.
5) وكان النبي يبعث الى قومه خاصة، وبعثت الى الناس عامة).
رواه الشيخان
طهارة الحدثالوضوء من آيات أحكامه
- قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ}. (1).
الأحاديث
- عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (لا يقبل الله صلاة أحدكم اذا أحدث حتى يتوضأ) رواه الشيخان.
- عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (اذا استيقظ أحدكم من نومه فليغسل يديه قبل أن يدحلهما في وضوئه (2) فان أحدكم لا يدري أين باتت يده) (3) رواه مالك.
- عن عمران مولى عثمان بن عفان رضي الله عنه أنه رآى عثمان رضي الله عنه دعا بوضوء، فأفرغ على يديه من إنائه فغسلهما ثلاث مرات ثم أدخل يمينه في
--------------------------------------------
৪) এবং আমাকে শাফায়াত (شفاعة) প্রদান করা হয়েছে।
৫) ইতিপূর্বে প্রত্যেক নবীকে কেবল তাঁর নিজ কওমের (সম্প্রদায়ের) নিকট পাঠানো হতো, আর আমাকে পাঠানো হয়েছে সমগ্র মানবজাতির জন্য।
শেখাইন এটি বর্ণনা করেছেন।
নাপাকি থেকে পবিত্রতা (طهارة الحدث)অজুর বিধান সম্পর্কিত আয়াতসমূহ
- মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল এবং হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো}। (১)।
হাদিসসমূহ
- আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমাদের মধ্যে কেউ যখন অপবিত্র (أحدث) হয়, তখন অজু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার নামাজ কবুল করেন না) শেখাইন এটি বর্ণনা করেছেন।
- আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমাদের মধ্যে কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে, তখন সে যেন অজুর পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর পূর্বে তা ধুয়ে নেয় (২), কেননা তোমাদের কেউ জানে না রাতে তার হাত কোথায় ছিল) (৩) ইমাম মালিক এটি বর্ণনা করেছেন।
- উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর মুক্তদাস ইমরান থেকে বর্ণিত যে, তিনি উসমান (রা.)-কে অজুর পানি চাইতে দেখলেন; অতঃপর তিনি তাঁর পাত্র থেকে দুই হাতে পানি ঢাললেন এবং তা তিনবার ধৌত করলেন, এরপর তাঁর ডান হাত প্রবেশ করালেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الوضوء، ثم تمضمض واستنشق واستنثر، ثم غسل وجهه ثلاثا، ثم مسح برأسه، ثم غسل كلتا رجليه ثلاثا، ثم قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يتوضأ نحو وضوئي هذا، وقال: (من توضأ نحو وضوئي هذا، ثم صلى ركعتين لا يحدث فيهما نفسه، غفر له ما تقدم من ذنبه) رواه الشيخان
- عن عمر بن يحي المازني عن أبيه قال: شهدت عمر بن أبي حسن، سأل عبد الله بن زيد عن وضوء النبي صلى الله عليه وسلم فدعا بتور (1) من ماء فتوضأ لهم وضوء النبي صلى الله عليه وسلم فأكفأ (2) على يديه من التور، واستنثر ثلاثا بثلاث غرفات ثم أذخل يده فغسل وجهه ثلاثا، ثم أدخل يديه فغسلهما مرتين الى المرفقين، ثم أدخل يده فمسح رأسه وأقبل بهما وأدبر مرة واحدة، ثم غسل رجليه. رواه الشيخان.
- عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (ويل للأعقاب (3) من النار) رواه الشيخان.
- عن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعجبه التيامن في تنعله، وترجله، وطهوره، وفي شأنه كله، (4) رواه الشيخان.
--------------------------------------------
ওযু করলেন, অতঃপর কুলি করলেন, নাকে পানি নিলেন ও নাক ঝাড়লেন। এরপর তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করলেন, অতঃপর মাথা মাসেহ করলেন এবং উভয় পা তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তিনি বললেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করতে দেখেছি। তিনি আরও বলেন: "যে ব্যক্তি আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করবে, অতঃপর এমনভাবে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে যেখানে সে নিজের মনে অন্য কোনো পার্থিব চিন্তা আনবে না, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" এটি শাইখান বর্ণনা করেছেন।
- উমর ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাজিনী থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনে আবি হাসানকে দেখেছি, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি পানির একটি পাত্র (১) আনালেন এবং তাঁদের সামনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযুর ন্যায় ওযু করে দেখালেন। তিনি পাত্র থেকে তাঁর উভয় হাতের ওপর পানি ঢাললেন (২), তারপর তিন আজলা পানি দিয়ে তিনবার নাক পরিষ্কার করলেন। এরপর হাত প্রবেশ করিয়ে তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করলেন। অতঃপর উভয় হাত প্রবেশ করিয়ে কনুই পর্যন্ত দুইবার ধৌত করলেন। এরপর হাত প্রবেশ করিয়ে মাথা মাসেহ করলেন—উভয় হাত সামনে আনলেন এবং পিছনে নিলেন (একবার)। তারপর তাঁর উভয় পা ধৌত করলেন। এটি শাইখান বর্ণনা করেছেন।
- আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অগ্নিশিখার পক্ষ থেকে গোড়ালিগুলোর (৩) জন্য দুর্ভোগ।" এটি শাইখান বর্ণনা করেছেন।
- আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুতা পরিধান করা, চুল আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জন এবং তাঁর প্রতিটি কাজেই ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন (৪)। এটি শাইখান বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المسح على الخفينالآيات:
- قال تعالى: {وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ} (1)
الأحاديث:
- عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم بال؛ ثم توضأ، ومسح خفيه (2) رواه الشيخان.
- عن المغيرة بن شعبة رضي الله عنه قال: كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم فأهويت لأنزع خفيه فقال: (دعهما فاني ادخلتهما طاهرتين) (3) رواه الشيخان.
- وعن شريح بن هانئ قال: أتيت عائشة رضي الله عنها أسألها عن المسح على الخفين فقالت: عليك بابن أبي طالب فسله، فانة كان بسافر مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ; فسألته فقال: جعل رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثة أيام ولياليهن لمسافر، ويوما وليلة للمقيم. رواه مسلم.
--------------------------------------------
চামড়ার মোজার উপর মাসেহ করাআয়াতসমূহ:
- মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পা দুটি টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো} (১)
হাদিসসমূহ:
- জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রস্রাব করতে দেখলাম; অতঃপর তিনি ওজু করলেন এবং তাঁর চামড়ার মোজার উপর মাসেহ করলেন। (২) এটি উভয় শায়খ (الشيخان) বর্ণনা করেছেন।
- মুগিরা বিন শু'বা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম, অতঃপর আমি তাঁর চামড়ার মোজা খুলে দেওয়ার জন্য নিচু হলাম। তখন তিনি বললেন: "এগুলো থাকতে দাও, কারণ আমি এগুলো পবিত্র অবস্থায় পরিধান করেছি।" (৩) এটি উভয় শায়খ (الشيخان) বর্ণনা করেছেন।
- শুরাইহ বিন হানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রা.)-এর নিকট চামড়ার মোজার উপর মাসেহ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে আসলাম। তিনি বললেন: তুমি আলী বিন আবি তালিবের কাছে যাও এবং তাকে জিজ্ঞাসা করো, কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সফরে থাকতেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত এবং মুকিমের জন্য এক দিন এক রাত সময় নির্ধারণ করেছেন। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
موجبات الوضوءالآيات:
- قوله تعالى: {أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ (1)، أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ}. (2)
- {إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ} (3)
الأحاديث:
- (لا يقبل الله صلاة أحدكم اذا أحدث حتى يتوضأ) رواه الشيخين.
- وقوله صلى الله عليه وسلم (اذا استيقظ أحدكم من نومه
… ) إلى آخر الحديث المتقدم.
- عن صفوان بن عسال قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمرنا اذا كنا سفرا ان لا ننزع خفافنا ثلاثة ايام ولياليهن الا من جنابة، لكن من غائط وبول ونوم. رواه أحمد والنسائي والترمذي.
- عن انس رضي الله عنه كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ينتظرون العشاء الآخرة حتى تخفق (4) رؤوسهم، ثم يصلون ولا يتوضئون. رواه أبو داود.
--------------------------------------------
ওযুর কারণসমূহআয়াতসমূহ:
- মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তোমাদের কেউ মলত্যাগ (غائط) থেকে আসলে (১), অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ (ملامسة) করলে}। (২)
- {যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত (ধৌত করো)} (৩)
হাদিসসমূহ:
- (আল্লাহ তোমাদের কারও সালাত কবুল করেন না যখন সে অপবিত্র (أحدث) হয়, যতক্ষণ না সে ওযু করে) শাইখাইন এটি বর্ণনা করেছেন।
- এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: (যখন তোমাদের কেউ তার ঘুম থেকে জাগ্রত হয়
… ) পূর্বে বর্ণিত হাদিসের শেষ পর্যন্ত।
- সাফওয়ান বিন আসসাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিতেন যে, যখন আমরা সফরে থাকতাম তখন যেন তিন দিন ও তিন রাত আমাদের মোজা না খুলি জানাবাত (جنابة) ব্যতীত; তবে মলত্যাগ (غائط), প্রস্রাব (بول) ও ঘুমের কারণে (খোলার প্রয়োজন নেই)। আহমাদ, নাসাঈ এবং তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।
- আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ শেষ এশার সালাতের জন্য অপেক্ষা করতেন এমনকি (তন্দ্রার কারণে) তাদের মাথা ঝুলে পড়ত (৪), অতঃপর তারা সালাত আদায় করতেন এবং ওযু করতেন না। আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
- عن ابن عباس رضي الله عنه قال: بت عند خالتى ميمونه، فقام صلى الله عليه وسلم فقمت الى جانبه الأيسر (1)، فأخذ بيدي فجعلني من شقه الأيمن، فجعلت اذا اغفيت (2) يأخذ بشحمة أذني، فصلى احدى عشرة ركعة. رواه مسلم.
- عن المقداد بن الأسود أنه سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الرجل اذا دنا من أهله فخرج منه المذي (3) ماذا عليه؟ فقال صلى الله عليه وسلم (اذا وجد ذلك أحدكم فلينضح (4) فرجه بالماء، وليتوضأ وضوءه للصلاة). رواه مالك.
- عن عائشة رضي الله عنها قالت: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم ليصلي، وإني لمعترضة بين يديه اعتراض الجنازة؛ ، حتى اذا اراد ان يوتر (5) مسني برجليه. رواه النسائي.
- عن عائشة رضي الله عنها قالت: فقدت رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة في الفراش فالتمسته، فوضعت يدي على بطن قدميه وهو في المسجد، وهما منصوبتان وهو يقول:
- (اللهم اني أغوذ برضاك من سخطك، وبمعافاتك من عقوبتك، وأعوذ بك منك، لا أحصي ثناء عليك، أنت كما أثنيت على نفسك). رواه مسلم.
--------------------------------------------
- ইবনে আব্বাস (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার খালা মাইমুনার নিকট রাত যাপন করেছিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ালেন, আমিও তাঁর বাম পাশে (১) দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমার হাত ধরে আমাকে তাঁর ডান পাশে নিয়ে আসলেন। আমি যখনই তন্দ্রাচ্ছন্ন (২) হচ্ছিলাম, তিনি আমার কানের লতি ধরে নাড়া দিচ্ছিলেন। তিনি এগারো রাকাত সালাত আদায় করলেন। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
- মিকদাদ বিন আসওয়াদ থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে যখন সে তার স্ত্রীর নিকটবর্তী হয় এবং তার মযী (৩) নির্গত হয়, তবে তার ওপর কী করণীয়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (তোমাদের কেউ যখন তা লক্ষ্য করবে, তখন সে যেন তার লজ্জাস্থান পানি দিয়ে ধৌত করে (৪) এবং সালাতের ওযুর ন্যায় ওযু করে)। এটি মালিক বর্ণনা করেছেন।
- আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন আর আমি তাঁর সামনে জানাজার লাশের ন্যায় আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম; এমনকি যখন তিনি বিতর (৫) আদায় করতে চাইতেন, তখন তিনি তাঁর পা দিয়ে আমাকে স্পর্শ করতেন। এটি নাসায়ি বর্ণনা করেছেন।
- আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক রাতে আমি বিছানায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তাই আমি তাঁকে হাত দিয়ে খুঁজতে লাগলাম। আমার হাত তাঁর দু’পায়ের তালুর ওপর পড়ল যখন তিনি সিজদাবনত ছিলেন এবং তাঁর পা দুটি খাড়া অবস্থায় ছিল। তিনি বলছিলেন:
- (হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার ক্রোধ হতে আশ্রয় চাই, এবং আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আপনার শাস্তি হতে আশ্রয় চাই। আমি আপনার নিকট আপনার থেকেই আশ্রয় চাই। আমি আপনার প্রশংসা গুনে শেষ করতে পারব না; আপনি তেমনই যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
- عن بسرة بن صفوان رضي الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: (من مس ذكره فلا يصلي حتى يتوضأ) رواه مالك وأصحاب السنن، وهم الترمذي والنسائي وابو داود.
الغسلالآيات:
- {وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا} (1)
- {وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ (2) حَتَّى تَغْتَسِلُوا} (3)
الأحاديث:
عن عائشة رضي الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا اغتسل من الجنابة بدأ بغسل يديه ثم توضأ كما يتوضأ للصلاة، ثم يدخل اصابعه في الماء فيخلل بها أصول شعره ثم يصب على رأسه ثلاث غرفات بيديه، ثم يفيض الماء على جلده كله ثم يغسل رجليه. رواه الشيخان.
- عن أم سلمة رضي الله عنها قالت: قلت لرسول الله صلى الله عليه وسلم يا رسول الله، اني امرأة أشد شعر رأسي، أفأنفضه لغسل الجنابة والحيضة؟ فقال: (لا، انما يكفيك ان تحثي (4) على رأسك ثلاث حثيات) (5). رواه مسلم.
--------------------------------------------
বুসরা বিন সাফওয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে, সে যেন অজু না করা পর্যন্ত সালাত আদায় না করে।" এটি মালিক এবং সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন, আর তাঁরা হলেন তিরমিজি, নাসায়ি ও আবু দাউদ।
গোসলআয়াতসমূহ:
- {এবং যদি তোমরা অপবিত্র অবস্থায় থাকো, তবে পবিত্রতা অর্জন করো} (১)
- {এবং অপবিত্র অবস্থায় নয়, তবে যদি তোমরা পথ অতিক্রমকারী হও, যতক্ষণ না তোমরা গোসল করো} (৩)
হাদিসসমূহ:
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসল করতেন, তখন তিনি তাঁর দুই হাত ধৌত করার মাধ্যমে শুরু করতেন, তারপর সালাতের অজুর ন্যায় অজু করতেন। এরপর তিনি পানির মধ্যে তাঁর আঙ্গুলগুলো প্রবেশ করাতেন এবং তা দিয়ে চুলের গোড়া খিলাল করতেন, তারপর দুই হাতে তিন আঁজলা পানি তাঁর মাথার ওপর ঢালতেন। অতঃপর তিনি তাঁর সমস্ত চামড়ার ওপর পানি প্রবাহিত করতেন এবং সবশেষে তাঁর দুই পা ধৌত করতেন। এটি শায়খাইন (الشيخان) বর্ণনা করেছেন।
- উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এমন একজন নারী যে মাথার চুল শক্ত করে বেণী করে রাখি; আমি কি জানাবাত ও ঋতুস্রাবের গোসলের জন্য তা খুলে ফেলব? তিনি বললেন: "না, তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে তুমি তোমার মাথার ওপর তিন আঁজলা (৪) পানি ঢেলে দেবে" (৫)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
موجبات الغسل- عن عائشة رضي الله عنها خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض اسفاره، حتى اذا كنا بالبيداء أو بذات الجيش (1) انقطع عقد لي (2)، فأقام رسول الله صلى الله عليه وسلم على التماسه (3) وأقام الناس معه، وليسوا على ماء وليس معهم ماء، فأتى الناس الى أبي بكر فقالوا: ألا ترى ما صنعت عائشة (4) أقامت برسول الله صلى الله عليه وسلم وبالناس وليسوا على ماء وليس معہهم ماء (5)، قالت عائشة: فجاء أبو بكر ورسول الله صلى الله عليه وسلم واضع رأسه على فخذي (6) قد نام، فقال: حبست (7) رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس، وليسوا على ماء، وليس معهم ماء، قالت عائشه فعاتبني أبو بكر، وقال ما شاء الله أن يقول، وجعل يطعن بيده في خاصرتي، فلا يمنعني من التحرك الا مكان رسول الله صلى الله عليه وسلم على فخذي، فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم وبات تلك الليلة حتى أصبح على غير ماء، فأنزل الله تعالى آية {فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا} (8).
--------------------------------------------
গোসলের আবশ্যকতা- আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর কোনো এক সফরে বের হলাম। পরিশেষে যখন আমরা বায়দা অথবা যাতুল জাইশ (১) নামক স্থানে পৌঁছালাম, তখন আমার একটি হার ছিঁড়ে (২) হারিয়ে গেল। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি খোঁজার জন্য সেখানে অবস্থান করলেন এবং লোকজনও তাঁর সাথে অবস্থান নিল। তারা কোনো পানির নিকটে ছিল না এবং তাদের সাথেও কোনো পানি ছিল না। তখন লোকজন আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এসে বলল, “আয়েশা কী করেছেন আপনি কি তা দেখছেন না? (৪) তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও লোকজনকে আটকে রেখেছেন, অথচ তারা কোনো পানির নিকটে নেই এবং তাদের সাথেও কোনো পানি নেই (৫)।” আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, অতঃপর আবু বকর আসলেন, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঊরুর ওপর মাথা রেখে (৬) ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি (আবু বকর) বললেন, “তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও লোকজনকে আটকে রেখেছ (৭), অথচ তারা কোনো পানির নিকটে নেই এবং তাদের সাথেও কোনো পানি নেই।” আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, অতঃপর আবু বকর আমাকে তিরস্কার করলেন এবং আল্লাহ যা চাইলেন তিনি আমাকে (কঠোর ভাষায়) তা-ই বললেন। তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার পাঁজরের পাশে গুঁতো দিতে লাগলেন; আমার ঊরুর ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থানের কারণে আমি নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে থাকলেন এবং সেই রাত অতিবাহিত করে পানিহীন অবস্থাতেই ভোর করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন: {তোমরা পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো} (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فقال أسيد بن خضير: ما هي بأول بركتكم يا أهل أبي بكر! ، قالت: فبعثنا البعير الذي كنت عليه فوجدنا العقد تحته. رواه مالك.
أسباب التيمم- عن جابر رضي الله عنه قال: خرجنا في سفر، فأصاب رجلا منا حجر فشجه في رأسه، ثم احتلم؛ فسأل أصحابه: هل تجدون لي رخصة في التيمم؟ فقالوا ما نجد لك رخصة وأنت تقدر على الماء، فاغتسل فمات.
فلما قدمنا على رسول الله صلى الله عليه وسلم أخبر بذلك، فقال: (قتلوه قتلهم الله ألا سألوا اذ لم يعلموا؟ فانما شفاء العي (1) السؤال، انما كان يكفيه أن يتيمم، أو يعصب (2) على جرحه خرقة، ثم يمسح عليه، ويغسل سائر جسده) رواه أبو داود والدارقطني وصححه ابن السكن.
- عن عمرو بن العاص رضي الله عنه لما بعث في غزوة ذات السلاسل (3) قال: احتلمت في ليلة شديدة البرودة فأشفقت إن اغتسلت أن أهلك فتيممت، ثم صليت بأصحابي صلاة الصبح، فلما قدمنا على رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكروا ذلك له، فقال: (يا عمرو صليت بأصحابك وأنت جنب؟ ) فقلت ذكرت قول الله عز وجل: {ولا تقتلوا أنفسكم ان الله كان بكم رحيما} (4)، فتيممت ثم صليت، فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يقل شيئا. رواه أحمد وأبو داود والدارقطني.
--------------------------------------------
তখন উসাইদ ইবনুল হুদাইর (রা.) বললেন: "হে আবু বকরের পরিবার! এটিই আপনাদের প্রথম বরকত নয়!" আয়েশা (রা.) বলেন: "এরপর আমরা সেই উটটিকে উঠালাম যার ওপর আমি আরোহী ছিলাম এবং আমরা তার নিচেই হারটি খুঁজে পেলাম।" মালিক এটি বর্ণনা করেছেন।
তায়াম্মুমের কারণসমূহ- জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা এক সফরে বের হলাম। আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির মাথায় পাথর লেগে ক্ষত সৃষ্টি হলো। এরপর তার স্বপ্নদোষ হলো। সে তার সাথীদের জিজ্ঞাসা করল: "আপনারা কি আমার জন্য তায়াম্মুমের কোনো অনুমতি পান?" তারা বলল: "আমরা আপনার জন্য কোনো অনুমতি পাচ্ছি না, যেহেতু আপনি পানি ব্যবহারে সক্ষম।" অতঃপর সে গোসল করল এবং মারা গেল।
আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট ফিরে আসলাম এবং তাঁকে বিষয়টি জানানো হলো, তখন তিনি বললেন: "তারা তাকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন। তারা যখন জানত না, তখন কেন জিজ্ঞাসা করল না? নিশ্চয়ই অজ্ঞতার প্রতিকার তো কেবল জিজ্ঞাসা করা। তার জন্য কেবল তায়াম্মুম করাই যথেষ্ট ছিল, অথবা তার ক্ষতের ওপর একটি পট্টি বেঁধে তার ওপর মাসাহ করা এবং তার শরীরের অবশিষ্ট অংশ ধুয়ে ফেলাই যথেষ্ট ছিল।" আবু দাউদ ও দারা কুতনী এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনুল সাকান একে সহিহ (صححه) বলেছেন।
- আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন তাঁকে 'জাতুস সালাসিল' অভিযানে পাঠানো হয়েছিল, তিনি বলেন: এক অত্যন্ত শীতের রাতে আমার স্বপ্নদোষ হলো। আমি আশঙ্কা করলাম যে, যদি গোসল করি তবে আমি ধ্বংস হয়ে যাব। ফলে আমি তায়াম্মুম করলাম এবং আমার সাথীদের নিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করলাম। যখন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট ফিরে আসলাম, তারা তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করল। তিনি বললেন: "হে আমর! তুমি কি অপবিত্র অবস্থায় তোমার সাথীদের নিয়ে নামাজ পড়েছ?" আমি বললাম, আমি মহান আল্লাহর বাণী স্মরণ করেছি: {তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু}। ফলে আমি তায়াম্মুম করেছি এবং নামাজ পড়েছি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) হাসলেন এবং কোনো মন্তব্য করলেন না। আহমদ, আবু দাউদ ও দারা কুতনী এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
- عن عمار بن يسار رضي الله عنه قال: بعثني رسول الله صلى الله عليه وسلم في حاجة فأجنببت (1)، فتمرغت كما تتمرغ الدابة، ثم أتيب النبي صلى الله عليه وسلم فذكرت ذلك له، فقال: (إنما يكفيك هكذا) وضرب النبي صلى الله عليه وسلم بكفيه الأرض، وتنفخ فيهما (2) ثم مسح بهما وجهه وكفيه. رواه الشيخان.
- عن عمران بن حصين رضي الله عنه قال: كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر، فصلى بالناس، فاذا برجل معتزل (3)، فقال: (ما منعك أن تصلي)؟ فقال: أصابتني جنابة ولا ماء، قال: (عليك بالصعيد (4) فانه يكفيك) رواه الشيخان.
الطهارة من الخبث- قوله تعالى: {وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ}. (5)
- وقوله تعالى: {وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ}. (6)
--------------------------------------------
- আম্মার বিন ইয়াসির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে একটি প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন, তখন আমি অপবিত্র হয়ে পড়লাম (১)। অতঃপর আমি পশুর ন্যায় মাটিতে গড়াগড়ি করলাম। এরপর আমি নবী (সা.)-এর নিকট ফিরে এসে তাঁর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: "তোমার জন্য কেবল এভাবেই যথেষ্ট ছিল।" অতঃপর নবী (সা.) তাঁর উভয় হাতের তালু মাটিতে আঘাত করলেন এবং তাতে ফুঁ দিলেন (২), এরপর তা দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল ও উভয় হাতের তালু মাসাহ করলেন। শাইখান (ইমাম বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেছেন।
- ইমরান বিন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, তখন এক ব্যক্তিকে আলাদা হয়ে থাকতে দেখলেন (৩)। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমাকে সালাত আদায়ে কিসে বাধা দিল?" সে বলল: আমি অপবিত্র হয়ে গেছি কিন্তু কোনো পানি নেই। তিনি বললেন: "তুমি পবিত্র মাটি ব্যবহার করো (৪), কারণ এটিই তোমার জন্য যথেষ্ট।" শাইখান (ইমাম বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেছেন।
নাপাকি বা দৃশ্যমান অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন- মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র করুন}। (৫)
- এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি ইব্রাহিম ও ইসমাইলকে নির্দেশ দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো}। (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ما تجب منه الطهارة- عن فاطمة بنت حبيش رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (اذا أقبلت حيضتك فدعي الصلاة، واذا أدبرت فاغسلي عنك الدم وصلي) أخرجه الشيخان.
- عن عائشة رضي الله عنها سئلت عن المني يصيب الثوب فقالت: كنت أغسلة من ثوب رسول الله صلى الله عليه وسلم فيخرج الى الصلاة وآثار الغسل في ثوبه (1) اخرجه الشيخان.
- عن المقداد بن الأسود رضي الله عنه سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن المذي، فقال له: (اذا وجد أحدكم ذلك فليغسل فرجه بالماء) رواه مسلم.
- عن ابن عباس رضي الله عنه قال: مر رسول الله صلى الله عليه وسلم بقبرين فقال: (إنهما ليعذبان، وما يعذبان في كبير (2) بلى، إنه لكبير، أما أحدهما: فكان لا يستبرئ من البول، وأما الآخر: فكان يمشي بالنميمة) (3) رواه مسلم.
كيف يكون التطهير؟
- عن عائشة رضي الله عنها قالت: أوتي صلى الله عليه وسلم بصبي فبال على ثوبه، فدعا بماء وأتبعه اياه فلم يغسل. رواه مسلم.
--------------------------------------------
যেসব কারণে পবিত্রতা অর্জন ওয়াজিব- ফাতিমা বিনতে হুবাইশ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমার ঋতুস্রাব শুরু হবে তখন সালাত বর্জন করো, আর যখন তা শেষ হবে তখন তোমার শরীর থেকে রক্ত ধুয়ে ফেলো এবং সালাত আদায় করো।" এটি দুই শায়খ বর্ণনা করেছেন।
- আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, কাপড়ে বীর্য লাগলে করণীয় সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাপড় থেকে তা ধুয়ে ফেলতাম, অতঃপর তিনি সালাতের জন্য বের হতেন এমতাবস্থায় যে, তার কাপড়ে ধোয়ার চিহ্ন (১) অবশিষ্ট থাকত।" এটি দুই শায়খ বর্ণনা করেছেন।
- মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মযী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে বললেন: "তোমাদের কেউ যখন তা অনুভব করবে, তখন সে যেন তার লজ্জাস্থান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
- ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তাদের উভয়কে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, আর তাদের কোনো বড় (২) কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তা বড় (গুনাহ)। তাদের একজন প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করত না, আর অন্যজন চোগলখুরি (৩) করে বেড়াত।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতি কেমন?- আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট একটি শিশুকে আনা হলো, সে তার কাপড়ে প্রস্রাব করে দিল। অতঃপর তিনি পানি আনালেন এবং তা প্রস্রাবের ওপর ঢেলে দিলেন, কিন্তু ধৌত করেননি। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
- عن عائشة رضي الله عنها قالت: كانت احدانا تحيض ثم تفترص (1) الدم من ثوبها عند طهرها، فتغسله وتنضح على سائره (2) ثم تصلي فيه. رواه مسلم.
- عن أنس رضي الله عنه قال: بينما نحن في المسجد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ جاء أعرابي فقام يبول في المسجد، فقال أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم مه! مه! (3) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم (لا تزربوه (4) دعوه) فتركوه حتى بال، ثم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دعاه ثم قال له: (ان هذه المساجد لا تصلح لشيء من هذا البول أو القذر (5)، انما هي لذكر الله عز وجل، والصلاة، وقراءة القرآن)، أو كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال فأمر رجلا بدلو من ماء فشنه (6) عليه. اخرجه الشيخان.
- عن أبي سعد الخدري رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (اذا جاء أحدكم المسجد فليقلب نعليه، فلينظر فيهما، فإن رأى خبثا (7) فليمسحه في الأرض، ثم ليصلي فيهما. رواه أحمد وأبو داود.
--------------------------------------------
- আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের কেউ ঋতুবতী হতেন, অতঃপর পবিত্র হওয়ার সময় তিনি তাঁর কাপড় থেকে রক্ত খুঁটে তুলতেন (১), তারপর তা ধৌত করতেন এবং অবশিষ্টাংশের (২) ওপর পানি ছিটিয়ে দিতেন, অতঃপর তাতে সালাত আদায় করতেন। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
- আনাস (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা আমরা মসজিদে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম, এমতাবস্থায় একজন গ্রাম্য ব্যক্তি আসলেন এবং মসজিদে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে শুরু করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ বললেন: থামো! থামো! (৩)। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (তোমরা তার প্রস্রাব বাধাগ্রস্ত করো না (৪), তাকে ছেড়ে দাও)। ফলে তারা তাকে ছেড়ে দিলেন যতক্ষণ না তিনি প্রস্রাব শেষ করলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ডাকলেন এবং তাকে বললেন: (নিশ্চয়ই এই মসজিদসমূহ প্রস্রাব বা অপবিত্রতার (৫) মতো কোনো কিছুর জন্য উপযুক্ত নয়। এগুলো কেবল আল্লাহর যিকির, সালাত এবং কুরআন তিলাওয়াতের জন্য)। অথবা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেরূপ বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি এক ব্যক্তিকে এক বালতি পানি নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন এবং সে তা তার ওপর ঢেলে দিল (৬)। এটি শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন।
- আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসে, সে যেন তার জুতো জোড়া উল্টে দেখে এবং তা পরীক্ষা করে। যদি সে তাতে কোনো অপবিত্রতা (৭) (خبثا) দেখে, তবে সে যেন তা মাটিতে ঘষে মুছে ফেলে, অতঃপর তাতে সালাত আদায় করে)। এটি আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
العفو عمن يشق غسله- قوله تعالى: {فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًا}. (1)
- عن هشام بن عروة عن أبيه، أن المسور بن مخرمة أخبره، أنه دخل على عمر بن الخطاب رضي الله عنه من الليلة التي طعن فيها، فأيقظ عمر لصلاة الصبح، فقال عمر: نعم، ولا حظ فى الاسلام لمن ترك الصلاة، فصلى عمر وجرحه يثعب (2) دما. رواه مالك.
آداب قضاء الحاجة- قوله تعالى: {أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ}. (3)
- عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (اتقوا اللاعنين) (4)، قالوا: وما اللاعنان يا رسول الله؟ قال: (الذي يتخلى في طريق الناس أو ظلهم) رواه مسلم.
--------------------------------------------
যাকে ধৌত করা কষ্টসাধ্য তার জন্য অবকাশ- মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তোমরা যদি ভয় পাও, তবে পদব্রজে অথবা সওয়ার অবস্থায় (নামাজ আদায় করো)}। (১)
- হিশাম ইবনে উরওয়াহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, মিসওয়ার ইবনুল মাখরামাহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট সেই রাতে প্রবেশ করেছিলেন যে রাতে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তিনি উমরকে ফজরের নামাজের জন্য জাগ্রত করলেন। তখন উমর বললেন: "হ্যাঁ, ইসলামে সেই ব্যক্তির কোনো অংশ নেই যে নামাজ ত্যাগ করে।" অতঃপর উমর নামাজ আদায় করলেন এমতাবস্থায় যে, তার ক্ষতস্থান থেকে রক্ত প্রবাহিত (يثعب) হচ্ছিল। মালিক এটি বর্ণনা করেছেন।
শৌচকর্মের আদবসমূহ- মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তোমাদের কেউ যদি শৌচস্থান থেকে আসে}। (৩)
- আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা অভিশাপ বয়ে আনে এমন দুটি কাজ (اللاعنين) থেকে বেঁচে থাকো।" তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! অভিশাপ বয়ে আনে এমন সেই দুটি কাজ কী? তিনি বললেন: "যে মানুষের চলাচলের পথে অথবা তাদের ছায়াযুক্ত স্থানে মলত্যাগ করে।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
- عن سلمان الفارسي رضي الله عنه قال: نهانا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان نستقبل القبلة بغائط أو بول، أو أن نستنجي باليمين أو أن نستنجي بأقل من ثلاثة أحجار، أو أن نستنجي برجيع (1) أو عظم. رواه مسلم.
- عن ابن عمر رضي الله عنه قال: رقيت يوما على بيت حفصة (2) فرأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقضي حاجته مستقبل الشام مستدبر الكعبة (3). رواه الشيخان.
- عن المغيرة بن شعبة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (خذ الإداوة) (4) فانطلق حتى توارى عني، فقضى حاجته رواه الشيخان.
- عن أنس رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا دخل الخلاء قال: (اللهم إني أعوذ بك من الخبث والخبائث) (5) رواه الشيخان.
- عن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا خرج من الخلاء قال: (عفرانك) (6) رواه أحمد وغيره.
--------------------------------------------
- সালমান ফারসি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিষেধ করেছেন মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করতে, অথবা ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য করতে, অথবা তিনটি পাথরের কম দিয়ে শৌচকার্য করতে, অথবা মল (১) বা হাড় দিয়ে শৌচকার্য করতে। এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম।
- ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আমি হাফসা (২)-র ঘরের ছাদে আরোহণ করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে শামের দিকে মুখ করে এবং কাবার দিকে পিঠ দিয়ে (৩) হাজত পূরণ করতে দেখলাম। এটি বর্ণনা করেছেন দুই শেখ (বুখারি ও মুসলিম)।
- মুগীরা ইবনে শুবা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (পানির পাত্রটি নাও) (৪)। অতঃপর তিনি চলে গেলেন যতক্ষণ না আমার দৃষ্টি থেকে আড়ালে চলে গেলেন, এরপর তিনি হাজত পূরণ করলেন। এটি বর্ণনা করেছেন দুই শেখ (বুখারি ও মুসলিম)।
- আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: (হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট অপবিত্র নর ও নারী শয়তানদের (৫) অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি)। এটি বর্ণনা করেছেন দুই শেখ (বুখারি ও মুসলিম)।
- আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন শৌচাগার থেকে বের হতেন তখন বলতেন: (আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি) (৬)। এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ও অন্যান্যরা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الحيض- قوله تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ (1) قُلْ هُوَ أَذًى (2) فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ (3) حَتَّى يَطْهُرْنَ (4) فَإِذَا تَطَهَّرْنَ (5) فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ} (6).
- عن عائشة رضي الله عنها قالت: قالت فاطمة بنت حبيش لرسول الله صلى الله عليه وسلم إني امرأة استحاض (7) فلا أطهر، أفأدع الصلاة؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم (لا، إنما ذلك عرق وليس بالحيضة، فاذا أقبلت الحيضة فاتركي الصلاة، فاذا ذهب قدرها (8) فاغسلي عنك الدم وصلي) رواه البخاري.
--------------------------------------------
মাসিক (حيض)- মহান আল্লাহর বাণী: {তারা আপনাকে মাসিক (حيض) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা ক্ষতিকর বস্তু। সুতরাং তোমরা মাসিকের (حيض) সময় স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকো এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে, তখন তাদের নিকট সেভাবে গমন করো যেভাবে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন} (৬)।
- আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ফাতিমা বিনতে হুবাইশ রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বললেন, আমি এমন একজন নারী যার অতিরিক্ত রক্তস্রাব (استحاضة) হয়, ফলে আমি পবিত্র হতে পারি না; আমি কি সালাত ছেড়ে দেব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: (না, তা কেবল একটি শিরার রক্ত, মাসিক (حيض) নয়। সুতরাং যখন মাসিকের (حيض) সময় উপস্থিত হবে তখন সালাত ছেড়ে দাও, আর যখন তার সময় অতিক্রান্ত হবে তখন রক্ত ধুয়ে ফেলো এবং সালাত আদায় করো) বুখারি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
- عن عائشة رضي الله عنها ان أم حبيبة بنت جحش التى كانت تحت عبد الرحمن (1) بن عوف، شكت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم الدم (2) فقال لها: (امكثي قدر ما كانت تحبسك حيضتك، ثم اغتسلي) فكانت تغتسل عند كل صلاة (3). رواه مسلم.
النفساء- عن أم سلمة رضي الله عنها قالت: كانت النفساء تقعد على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم أربعين يوما. رواه أحمد وأبو داود.
--------------------------------------------
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, উম্মে হাবিবা বিনতে জাহাশ—যিনি আব্দুর রহমান (১) ইবনে আউফের স্ত্রী ছিলেন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে রক্তস্রাব (২) সম্পর্কে অভিযোগ করলেন। তিনি তাঁকে বললেন: "তোমার ঋতুস্রাব তোমাকে যতক্ষণ আটকে রাখত, ততক্ষণ অপেক্ষা করো; তারপর গোসল করো।" এরপর তিনি প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করতেন (৩)। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
প্রসূতি নারী (النفساء)- উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে প্রসূতি নারীরা (النفساء) চল্লিশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন। আহমাদ ও আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলাল ফিকহ - আয়াত ওয়া আহাদীসুল আহকাম মিন আমালিল উসতায আল-ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
كتاب الصلاة
المواقيتالآيات الواردة فى مواقيت الصلاة:
- {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا} (1)
- {أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ (2) الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ (3) وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا} (4)
- {وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ (5) النَّهَارِ وَزُلَفًا (6) مِنَ اللَّيْلِ} (7)
--------------------------------------------
সালাত অধ্যায়সালাতের সময়সূচিসালাতের সময়সূচি সম্পর্কিত অবতীর্ণ আয়াতসমূহ:
- {নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিধিবদ্ধ (موقوتا) কর্তব্য} (১)
- {সালাত কায়েম করুন সূর্য ঢলে পড়ার (دلوك) সময় থেকে রাতের অন্ধকার (غسق) পর্যন্ত এবং ফজরের কুরআন পাঠ (সালাত) আদায় করুন; নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন পাঠ ফেরেশতাদের উপস্থিতির (مشهودا) সময়} (৪)
- {আর আপনি সালাত কায়েম করুন দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের কিছু অংশে (زلفا)} (৭)
--------------------------------------------