(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: -)
الإيضاح العضدي   (أبو علي الفارسي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: الإيضاح العضدي

المؤلف: أبو علي الفارسيّ (288 - 377 هـ)

المحقق: د. حسن شاذلي فرهود (كلية الآداب - جامعة الرياض)

الطبعة: الأولى، 1389 هـ - 1969 م.

عدد الصفحات: 324

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1438

আল-ইজাহ আল-আদুদি   (আবু আলি আল-ফারিসি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: আল-ইজাহ আল-আদুদি

লেখক: আবু আলি আল-ফারিসি (২৮৮ - ৩৭৭ হিজরি)

মুহাক্কিক: ড. হাসান শাযলি ফারহুদ (কলা অনুষদ - রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়)

সংস্করণ: প্রথম، ১৩৮৯ হিজরি - ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৪

শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতা আন-নুসসাখ দল, (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)-এর তত্ত্বাবধানে

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم [وبه نستعين]

الحمد لله رب العالمين وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله الطيبين.

أما على إثر ذلك أطال الله بقاء الأمير الجليل عضد الدولة مولانا وأدام عزه، وتأييده، ونصره، وأسبغ عليه طوله، وفضله، فإني جمعت في هذا الكتاب أبواباً من العربية متحرياً في جمعها على ما ورد به أمره أعلاه الله. فإن وافق اجتهادي ما رسم فذلك بيمن نقيبته، وحسن تنبيهه، وهدايته وإن قصر إدراك عبده عما حده مولانا أدام الله إرشاده ورشده رجوت أن يسعني صفحه لعلمه بأن الخطأ بعد التحري موضوع عن المخطيء.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে [এবং তাঁরই সাহায্য আমরা প্রার্থনা করি]

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পবিত্র পরিজনদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

অতঃপর, আল্লাহ মহানুভব আমীর আদুদুদ দাওলা—আমাদের অভিভাবক—এর হায়াত দীর্ঘায়িত করুন এবং তাঁর মর্যাদা, সমর্থন ও বিজয়কে চিরস্থায়ী করুন; তিনি তাঁর ওপর স্বীয় মেহেরবানি ও অনুগ্রহ পূর্ণরূপে বর্ষণ করুন। আমি এই কিতাবে আরবি ব্যাকরণ ও ভাষাশৈলীর কিছু অধ্যায় সংকলন করেছি, যেখানে তাঁর (আল্লাহ তাঁর মর্যাদাকে সমুন্নত রাখুন) নির্দেশ অনুযায়ী আমি যথাযথভাবে তথ্য অনুসন্ধানে সচেষ্ট হয়েছি। যদি আমার ইজতিহাদ (اجتهاد) বা গবেষণালব্ধ প্রয়াস তাঁর অঙ্কিত রূপরেখার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, তবে তা তাঁরই কল্যাণময় নেতৃত্ব, উত্তম সতর্কতা ও সঠিক দিকনির্দেশনার বরকতে হয়েছে। আর যদি তাঁর দাসের বোধশক্তি আমাদের অভিভাবক—আল্লাহ যাঁর হিদায়াত ও প্রজ্ঞা অব্যাহত রাখুন—কর্তৃক নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত পৌঁছাতে অপূর্ণ থেকে যায়, তবে আমি তাঁর ক্ষমা ও উদারতার আশা রাখি। কারণ তিনি জানেন যে, সর্বোচ্চ অনুসন্ধানের পর কোনো ভুল (خطأ) সংঘটিত হলে তা ভুলকারী (مخطئ) এর ওপর থেকে মওকুফ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ৬)
الكلام يأتلف من ثلاثة أشياء: اسم، وفعل، وحرف. فما جاز الإخبار عنه من هذا الكلم فهو اسم. ومثال الإخبار عنه، كقولنا: عبد الله مقبل، وقام بكر. فمقبل خبر عن عبد الله، وقام خبر عن بكر. والاسم الدال على معنى غير معين نحو: العلم، والجهل في هذا الاعتبار كالاسم الدال على عين تقول: العلم حسن، والجهل قبيح.

فيكون حسن خبراً عن العلم، كما كان مقبل خبراً عن عبد الله في قولك: عبد الله مقبل.

ومن صفات الاسم جواز دخول الألف واللام عليه ولحاق التنوين له كقولنا: الغلام والفرس، وفرس، وغلام.
বাক্য তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত: বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)। এই শব্দগুলোর মধ্য থেকে যে অংশটি সম্পর্কে সংবাদ প্রদান (الإخبار عنه) করা বৈধ, তা-ই হলো বিশেষ্য (اسم)। সংবাদ প্রদানের উদাহরণ হলো যেমন আমাদের উক্তি: 'আবদুল্লাহ আগমনকারী' এবং 'বকর দাঁড়িয়েছে'। এখানে 'আগমনকারী' শব্দটি আবদুল্লাহ সম্পর্কে সংবাদ (خبر) এবং 'দাঁড়িয়েছে' শব্দটি বকর সম্পর্কে সংবাদ (خبر)। অনির্দিষ্ট অর্থের প্রতি নির্দেশকারী বিশেষ্য (اسم) যেমন—জ্ঞান ও মূর্খতা, এই বিচারে তা নির্দিষ্ট সত্তার প্রতি নির্দেশকারী বিশেষ্যের (اسم) ন্যায়। আপনি বলেন: 'জ্ঞান উত্তম' এবং 'মূর্খতা মন্দ'।

এক্ষেত্রে 'উত্তম' শব্দটি 'জ্ঞান' সম্পর্কে সংবাদ (خبر) হবে, ঠিক যেমন আপনার উক্তি 'আবদুল্লাহ আগমনকারী'-তে 'আগমনকারী' শব্দটি আবদুল্লাহ সম্পর্কে সংবাদ (خبر) ছিল।

বিশেষ্যের (اسم) বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো তার শুরুতে আলিফ-লাম (الألف واللام) প্রবেশ করা বৈধ হওয়া এবং শেষে তানভীন (التنوين) যুক্ত হওয়া; যেমন আমাদের উক্তি: 'বালকটি' ও 'ঘোড়াটি' এবং 'একটি ঘোড়া' ও 'একজন বালক'।
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ৭)
وأما الفعل فما كان مسنداً إلى شيء، ولم يسند إليه شيء مثال ذلك: خرج عبد الله، وينطلق بكر، واذهب ولا تضرب فقولنا: خرج، وينطلق كل واحد منهما مسند إلى الاسم الذي بعده وكذلك قولنا: اذهب ولا تضرب الفعل فيه مسند إلى ضمير المخاطب المأمور أو المنهي، وهو مضمر فيه. ولو أسند إلى الفعل شيء فقيل ضحك خرج، أو كتب ينطلق، وما أشبه ذلك لم يكن كلاما.

فالاسم في باب الإسناد إليه والحديث عنه أعم من الفعل لأن الاسم كما يجوز أن يكون مخبراً عنه فقد يجوز أن يكون خبراً في قولك: زيد منطلق، والله إلهنا. والفعل في باب الأخبار أخص من الاسم لأنه إنما يكون أبداً مسنداً إلى غيره، ولا يسند غيره إليه.

والفعل ينقسم بانقسام الزمان: ماض، وحاضر، ومستقبل فالماضي نحو: ذهب، وسمع، ومكث، واستخرج، ودحرج والحاضر نحو: يكتب، ويقوم، ويقرأ، وجميع ما لحقت أوله زيادة [من الزيادات الهمزة، والنون، والتاء والياء] وهذا اللفظ يشمل الحاضر والمستقبل. فإذا
আর ক্রিয়া (فعل) হলো এমন যা কোনো কিছুর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مسند) করা হয়, কিন্তু তার প্রতি অন্য কিছুকে সম্বন্ধযুক্ত (مسند) করা হয় না। এর উদাহরণ হলো: "আবদুল্লাহ বের হয়েছে", "বকর যাচ্ছে", "যাও" এবং "প্রহার করো না"। এখানে আমাদের বক্তব্য: "বের হয়েছে" এবং "যাচ্ছে"—এদের প্রত্যেকটিই তার পরবর্তী বিশেষ্য বা নামের (اسم) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مسند)। একইভাবে আমাদের উক্তি: "যাও" এবং "প্রহার করো না"—এক্ষেত্রে ক্রিয়াটি (فعل) আদেশপ্রাপ্ত বা নিষেধকৃত সম্বোধিত ব্যক্তির সর্বনামের (ضمير) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مسند), যা এর অভ্যন্তরে উহ্য (مضمر) রয়েছে। যদি ক্রিয়ার (فعل) প্রতি কোনো কিছুকে সম্বন্ধযুক্ত (مسند) করা হতো এবং বলা হতো "হাসি বের হয়েছে" কিংবা "লিখছে যাচ্ছে" অথবা এই জাতীয় কিছু, তবে তা পূর্ণাঙ্গ বাক্য বা কথা (كلام) হিসেবে গণ্য হতো না।

সুতরাং কোনো কিছুর প্রতি সম্বন্ধ (إسناد) করা এবং সেই সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ্য বা নাম (اسم) ক্রিয়ার (فعل) চেয়ে অধিক ব্যাপক (أعم)। কেননা বিশেষ্য (اسم) যেমন সংবাদকৃত বিষয় বা উদ্দেশ্য (مخبر عنه) হওয়া বৈধ, তেমনি সংবাদ বা বিদেহ (خبر) হওয়াও আপনার এই উক্তিতে বৈধ: "যায়েদ প্রস্থানকারী" এবং "আল্লাহ আমাদের ইলাহ"। আর সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে ক্রিয়া (فعل) বিশেষ্যের (اسم) চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট (أخص); কারণ তা সর্বদা অন্যের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مسند) হয়, কিন্তু অন্য কোনো কিছুকে তার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مسند) করা যায় না।

আর সময়ের (زمان) বিভাজন অনুযায়ী ক্রিয়া (فعل) বিভক্ত হয়: অতীত (ماض), বর্তমান (حاضر) এবং ভবিষ্যৎ (مستقبل)। অতীত (ماض) যেমন: সে গিয়েছে, সে শুনেছে, সে অবস্থান করেছে, সে বের করেছে এবং সে গড়িয়েছে। বর্তমান (حاضر) যেমন: সে লিখছে, সে দাঁড়াচ্ছে, সে পড়ছে এবং ঐ সমস্ত শব্দ যার শুরুতে অতিরিক্ত বর্ণসমূহ [যেমন: হামজা, নুন, তা এবং ইয়া] যুক্ত হয়েছে। আর এই রূপটি বর্তমান (حاضر) ও ভবিষ্যৎ (مستقبل) উভয়কালকেই অন্তর্ভুক্ত করে। অতঃপর...
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ৮)
دخلت عليه السين أو سوف اختص به المستقبل، وخلص له وذلك نحو: سوف يكتب، وسيقرأ.

والحرف ما جاء لمعنى ليس باسم ولا فعل، نحو لام الجر وبائه، وهل، وقد، وسوف، وحتى، وأما.
এর ওপর সীন (السين) অথবা সাওফা (سوف) যুক্ত হলে তা ভবিষ্যৎ (المستقبل) কালের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায় এবং কেবল তার জন্যই নিবেদিত থাকে; আর তা হলো যেমন: সে অচিরেই লিখবে (سوف يكتب) এবং সে শীঘ্রই পাঠ করবে (سيقرأ)।

আর অব্যয় (الحرف) হলো এমন যা কোনো অর্থ প্রকাশের জন্য আসে এবং যা বিশেষ্য (الاسم) বা ক্রিয়া (الفعل) নয়; যেমন: সম্বন্ধবাচক লাম (لام الجر) ও এর বা (بائه), এবং হাল (هل), কদ (قد), সাওফা (سوف), হাত্তা (حتى) ও আম্মা (أما)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌باب ما إذا إيتلف من هذه الكلم الثلاث كان كلاما مستقلا

فالاسم يأتلف مع الاسم، فيكون كلاماً مفيداً كقولنا: عمرو أخوك، وبشر صاحبك. ويأتلف الفعل مع الاسم فيكون كذلك كقولنا: كتب عبد الله، وسر بكر. ومن ذلك: زيد في الدار ويدخل الحرف على كل واحد من الجملتين فيكون كلاماً كقولنا: إن عمراً أخوك، وما بشر صاحبك، وهل كتب عبد الله، وما سر بكر، ولعل زيداً في الدار. وما عدا ما ذكر مما يمكن إيتلافه من هذه الكلم فمطرح إلا الحرف مع الاسم في النداء نحو: يا زيد، ويا عبد الله. فإن الحرف والاسم قد إيتلف منهما كلام مفيد في النداء.
‌অধ্যায়: এই তিনটি শব্দের সমন্বয়ে যখন একটি স্বাধীন বাক্য গঠিত হয়

অতঃপর বিশেষ্য (اسم) যখন বিশেষ্যের (اسم) সাথে মিলিত হয়, তখন তা একটি অর্থবোধক বাক্যে পরিণত হয়; যেমন আমাদের উক্তি: ‘আমর তোমার ভাই’ এবং ‘বিশর তোমার সাথী’। তদ্রূপ ক্রিয়া (فعل) যখন বিশেষ্যের (اسم) সাথে মিলিত হয়, তখন তা-ও অনুরূপ (বাক্য) হয়; যেমন আমাদের উক্তি: ‘আবদুল্লাহ লিখেছে’ এবং ‘বাকর আনন্দিত হয়েছে’। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: ‘যাইদ বাড়িতে’। আর অব্যয় (حرف) এই উভয় প্রকার বাক্যের প্রতিটির শুরুতে যুক্ত হয়ে বাক্য গঠন করে; যেমন আমাদের উক্তি: ‘নিশ্চয়ই আমর তোমার ভাই’, ‘বিশর তোমার সাথী নয়’, ‘আবদুল্লাহ কি লিখেছে?’, ‘বাকর আনন্দিত হয়নি’ এবং ‘হয়তো যাইদ বাড়িতে’। উল্লিখিত সমন্বয়গুলো ব্যতীত এই শব্দগুলোর মাধ্যমে আর যা কিছু গঠন করা সম্ভব তা বর্জনীয়, তবে সম্বোধনের (نداء) ক্ষেত্রে বিশেষ্যের (اسم) সাথে অব্যয়ের (حرف) সমন্বয় এর ব্যতিক্রম; যেমন: ‘হে যাইদ’ এবং ‘হে আবদুল্লাহ’। কেননা সম্বোধনের (نداء) ক্ষেত্রে অব্যয় (حرف) ও বিশেষ্যের (اسم) সমন্বয়ে একটি অর্থবোধক বাক্য গঠিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌باب (حد) الإعراب

الإعراب أن تختلف أواخر الكلم لاختلاف العامل مثال ذلك: هذا رجل، ورأيتُ رجلاً، ومررتُ برجلٍ فالآخر من هذا الاسم قد اختلف باعتقاب الحركات (على آخره) واعتقاب هذه الحركات (المختلفة) على الآخر إنما هو لاختلاف العوامل التي هي: هذا، ورأيت، والباء في: مررتُ برجلٍ. فهذه عوامل كل واحد منها غير الآخر. وهذا الاختلاف الذي يكون في الأواخر على ضربين أحدهما اختلاف في اللفظ. والآخر اختلاف في الموضع فالاختلاف في اللفظ على ضربين أحدهما بتعاقب الحركات والآخر بالحروف. وحركات الإعراب ثلاث رفع، ونصب، وجر وقد تقدم ذكر ما يختلف آخره بها قبل.
ই'রাব (শব্দরূপ)-এর সংজ্ঞা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

ই'রাব হলো আমিল (প্রভাবক)-এর ভিন্নতার কারণে শব্দের শেষাংশের অবস্থার পরিবর্তন হওয়া। উদাহরণস্বরূপ: 'হাজা রাজুলুন', 'রাআইতু রাজুলান' এবং 'মারারতু বি-রাজুলিন'। এখানে এই বিশেষ্য পদটির শেষাংশ হারাকাতসমূহের পর্যায়ক্রমিক আগমনের কারণে (শব্দের শেষে) পরিবর্তিত হয়েছে। আর শব্দের শেষে এই (ভিন্ন ভিন্ন) হারাকাতসমূহের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন মূলত আমিলসমূহের ভিন্নতার কারণেই হয়েছে; যা হলো: 'হাজা', 'রাআইতু' এবং 'মারারতু বি-রাজুলিন' বাক্যের 'বা' বর্ণটি। এই আমিলগুলোর প্রতিটি একে অপরের থেকে পৃথক। শব্দের শেষাংশে সংঘটিত এই পরিবর্তন দুই প্রকার; যার একটি হলো শাব্দিক (উচ্চারণগত) পরিবর্তন এবং অপরটি হলো স্থানগত পরিবর্তন। শাব্দিক পরিবর্তন আবার দুই ধরনের; একটি হারাকাতের পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের মাধ্যমে এবং অন্যটি হরফ বা বর্ণের মাধ্যমে হয়। ই'রাবের হারাকাতসমূহ তিনটি: রফ, নসব এবং জর। এগুলোর মাধ্যমে যেসব শব্দের শেষাংশ পরিবর্তিত হয়, সে সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ১২)
والاختلاف الآخر بالحروف [مثاله] في الأسماء كقولهم: أخوك؛ وأبوك، وفوه، وذو مال (وحموها) وتثنية الأسماء وجمعها على حد التثنية وهو جمع السلامة نحو: مسلمان، ومسلمون وكلا إذا أضيف إلى المضمر نحو قولهم: جاءني الرجلان كلاهما ورأيت الرجلين كليهما، ومررت بالرجلين كليهما. وفي الأفعال نحو: يضربان، ويضربون، وتضربين يا امرأة. والاختلاف الكائن في الموضع دون اللفظ مثاله في الأسماء نحو: عصا، ورحى، ومثنى، ومعطى. وفي الأفعال نحو: يخشى ويغشى [يسعى]. والمعرب من الكلم صنفان، الأسماء المتمكنة والأفعال المضارعة. والحروف كلها مبنية. فالأسماء المتمكنة ما لم تشابه الحروف. ولم تتضمن معناها وهي في الأمر العام لا تخلو من أن تكون اسم جنس كأسد وثور وفهم وفضل وضرب وأكل وبياض وسواد أو مشتقه من ذلك كفاهم وفاضل وآكل وضارب وأسود وأبيض أو منقولة [من ذلك] كرجل يسمى بأسد،
অন্য প্রকারের ভিন্নতা হলো অক্ষরের (الحروف) মাধ্যমে। বিশেষ্যের (الأسماء) ক্ষেত্রে [এর উদাহরণ] যেমন তাদের উক্তি: আখুকা (أخوك), আবুকা (أبوك), ফুহু (فوه), যূ-মালিন (ذو مال) এবং হামুহা (وحموها)। বিশেষ্যের দ্বিবচন (تثنية) এবং দ্বিবচনের পদ্ধতিতে গঠিত বহুবচন যা হলো সুস্থ বহুবচন (جمع السلامة); যেমন: দুইজন মুসলিম (مسلمان) ও অনেক মুসলিম (مسلمون)। এবং কিলা (كلا) যখন সর্বনামের (المضمر) সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়; যেমন তাদের উক্তি: ‘আমার নিকট ব্যক্তিদ্বয় এসেছে তারা উভয়েই’ (جاءني الرجلان كلاهما), ‘আমি ব্যক্তিদ্বয়কে দেখেছি তাদের উভয়কে’ (رأيت الرجلين كليهما) এবং ‘আমি ব্যক্তিদ্বয়ের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি তাদের উভয়ের’ (مررت بالرجلين كليهما)। ক্রিয়ার (الأفعال) ক্ষেত্রে উদাহরণ যেমন: তারা দুইজন প্রহার করছে (يضربان), তারা সকলে প্রহার করছে (يضربون) এবং হে নারী, তুমি প্রহার করছ (تضربين)। আর যে ভিন্নতা উচ্চারণের (اللفظ) পরিবর্তে অবস্থানে (الموضع) ঘটে, বিশেষ্যের (الأسماء) ক্ষেত্রে তার উদাহরণ হলো: লাঠি (عصا), যাঁতা (رحى), দ্বৈতাংশ (مثنى) এবং প্রদত্ত (معطى)। ক্রিয়ার (الأفعাল) ক্ষেত্রে উদাহরণ যেমন: সে ভয় পায় (يخشى), সে আচ্ছন্ন করে (يغشى) এবং [সে প্রচেষ্টা করে - يسعى]। শব্দের মধ্যে রূপান্তরযোগ্য (المعرب) শব্দ দুই প্রকার: সুপ্রতিষ্ঠিত বিশেষ্য (الأسماء المتمكنة) এবং বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الأفعال المضارعة)। আর সকল অব্যয় (الحروف) হলো অপরিবর্তনীয় (مبنية)। সুপ্রতিষ্ঠিত বিশেষ্য (الأسماء المتمكنة) হলো সেগুলো যা অব্যয়ের (الحروف) সদৃশ নয় এবং অব্যয়ের অর্থও ধারণ করে না। সাধারণ বিষয়ের ক্ষেত্রে এটি জাতিবাচক বিশেষ্য (اسم جنس) হওয়া থেকে মুক্ত নয়, যেমন: সিংহ (أسد), বলদ (ثور), উপলব্ধি (فهم), মর্যাদা (فضل), প্রহার (ضرب), ভোজন (أكل), শুভ্রতা (بياض) এবং কৃষ্ণতা (سواد); অথবা তা থেকে ব্যুৎপন্ন (مشتقة), যেমন: উপলব্ধিকারী (فاهم), মর্যাদাবান (فاضল), ভোজনকারী (آكل), প্রহারকারী (ضارب), কালো (أسود) এবং সাদা (أبيض); অথবা [সেখান থেকে] স্থানান্তরিত (منقولة), যেমন কোনো ব্যক্তির নাম রাখা হলো আসাদ (أسد)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ১৩)
أو ثور، أو فضل وهذه الأسماء المعربة تكون على ضربين منصرف وغير منصرف. فالمنصرف ما دخله الجر والتنوين نحو: مررتُ برجل وذهبت إلى عمرو. وغير المنصرف ما كان ثانياً من جهتين من الجهات التسع التي تمنع الصرف، فلم يدخله الجر مع التنوين وكان في موضع الجر مفتوحا نحو: رأيتُ إبراهيمَ، ومررتُ بإبراهيم، (يا هذا) وقوله عز وجل: {فحيوا بأحسن منها}. وإذا دخلت الألف واللام على مالا ينصرف، أو أضيف إتجر، كقولك: مررتُ بالأحمر، وبأحمر القوم، وبإبراهيمهم، لأن هذا موضع قد أمن فيه التنوين. والأفعال المضارعة ما لحقت أوائلها زيادة من هذه الزيادات الأربع التي هي الهمزة في أفعل أنا، و [النون في] نفعل نحن، و [التاء في] تفعل أنت، أو هي، و [الياء في] يفعل هو. فهذه الأفعال أعربت لمضارعتها الاسم، ومشابهتها له [ذلك] أنه إذا قيل: هو يفعل، صلح أن يكون للحال والاستقبال. فإذا ألحقت السين، أو سوف، فقيل:
অথবা সাওর, অথবা ফাদল। আর এই মু’রাব (রূপান্তরযোগ্য) বিশেষ্যসমূহ দুই প্রকারের হয়ে থাকে: মুনশারিফ (পরিবর্তনশীল) এবং গায়রে মুনশারিফ (অপরিবর্তনশীল)। মুনশারিফ হলো তা, যাতে জের এবং তানউইন প্রবেশ করে; যেমন: 'আমি একজন ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম' এবং 'আমি আমরের কাছে গেলাম'। আর গায়রে মুনশারিফ হলো তা, যা শব্দ-পরিবর্তন রোধকারী নয়টি বিষয়ের মধ্য থেকে দুটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়, ফলে এতে তানউইনসহ জের প্রবেশ করে না এবং তা জেরের স্থানে জবরযুক্ত হয়; যেমন: 'আমি ইবরাহিমকে দেখলাম', 'আমি ইবরাহিমের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম', (হে এই ব্যক্তি) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তবে তোমরা তার চেয়ে উত্তম সম্ভাষণ দ্বারা অভিবাদন করো}। যখন আলিফ এবং লাম গায়রে মুনশারিফ শব্দের শুরুতে আসে অথবা তা মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত) হয়, তখন তা জের গ্রহণ করে; যেমন আপনার উক্তি: 'আমি লাল বর্ণের লোকটির নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম', 'আমি সম্প্রদায়ের লাল বর্ণের লোকটির নিকট দিয়ে গেলাম' এবং 'তাদের ইবরাহিমের নিকট দিয়ে'; কারণ এটি এমন একটি স্থান যেখানে তানউইন না হওয়া নিশ্চিত। আর মুদারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন) ক্রিয়াগুলো হলো সেগুলো, যেগুলোর শুরুতে এই চারটি অতিরিক্ত বর্ণের কোনো একটি যুক্ত হয়; যথা: 'আমি করি' অর্থে হামজাহ, [আমরা করি অর্থে নুন], [তুমি করো বা সে (স্ত্রী) করে অর্থে তা] এবং [সে (পুরুষ) করে অর্থে ইয়া]। এই ক্রিয়াগুলো বিশেষ্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে মু’রাব (রূপান্তরযোগ্য) হয়েছে। এদের সাদৃশ্য এই যে, যখন বলা হয় 'সে করছে', তখন তা বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ উভয় কালের অর্থ প্রদানের উপযোগী হয়। অতঃপর যখন এর শুরুতে 'সিন' অথবা 'সাওফা' যুক্ত হয়, তখন বলা হয়:
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ১৪)
سيفعلُ، أو سوف يفعلُ، خلصت للاستقبال، وزال بدخول الحرف عليه الشياع الذي كان فيه قبل فصار كالاسم إذا دخل عليه لام التعريف نحو: الرجلُ [والغلام] فقصرته على مخصوص بعد أن كان شائعاً فمضارعتها الاسم أو جبت لها جملة إعرابها الذي هو الرفع، والنصب، والجزم. فأما الرفع فيها خاصة فلوقوعها موقع الاسم خاصة كقولنا: مررتُ برجلٍ يكتبُ. فيكتب ارتفع لوقوعه موقع كاتب. فالمعنى الذي رُفِعَت به غير المعنى الذي أُعربت به.
"সে করবে" অথবা "অচিরেই সে করবে" বাক্যগুলো ভবিষ্যৎকালের (الاستقبال) জন্য সুনির্দিষ্ট হয়েছে। এতে অব্যয় বা হরফ (حرف) প্রবেশের ফলে ইতিপূর্বে এতে বিদ্যমান ব্যাপকতা (الشياع) দূরীভূত হয়েছে। ফলে এটি সেই বিশেষ্য বা ইসমের (اسم) ন্যায় হয়েছে যার শুরুতে নির্দিষ্টকারী লাম (لام التعريف) যুক্ত হয়; যেমন: ব্যক্তিটি [এবং বালকটি]। ফলে সাধারণ বা ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করার পর এটি একটি নির্দিষ্ট অর্থে সীমাবদ্ধ হয়েছে। বিশেষ্যের (اسم) সাথে এই সাদৃশ্যই এর জন্য সেই সামগ্রিক শব্দরূপ বা ইরাব (إعراب) সাব্যস্ত করেছে যা হলো রফ (الرفع), নাসব (النصب) এবং জযম (الجزم)। তবে এতে বিশেষভাবে রফ (الرفع) হওয়ার কারণ হলো বিশেষত বিশেষ্যের (اسم) স্থানে এর অবস্থান; যেমন আমাদের উক্তি: "আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যে লিখছে"। এখানে "লিখছে" ক্রিয়াটি রফ (الرفع) প্রাপ্ত হয়েছে "লেখক" শব্দের স্থলে অবস্থানের কারণে। সুতরাং যে অর্থের ভিত্তিতে একে রফ (الرفع) প্রদান করা হয়েছে, তা সেই অর্থ থেকে ভিন্ন যার ভিত্তিতে একে শব্দরূপ বা ইরাব (إعراب) প্রদান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌باب البناء

البناء خلاف الإعراب، وهو أن لا يختلف الآخر باختلاف العامل. ولا يخلو البناء من أن يكون على سكون، أو على حركة فالبناء على السكون يكون في الاسم، والفعل، والحرف. فالبناء على السكون في الاسم نحو: كم، ومن، وإذ. تقول: بكم رجلاً مررتً، وكم رجلا جاءك، وكم رجلاً ضربت، فتختلف العوامل، ولا يختلف الآخر كما اختلف آخر المعرب حيث اختلف العامل. والبناء على السكون في الفعل جميع أمثلة الأمر للمخاطب إذا لم يلحق أوله حرف المضارعة نحو: اقرأ، واجلس واكتب، وقل وبع. وفي الحرف نحو: قد وهل، وبل. والمبني على الحركة [من الكلم] ينقسم بانقسام الحركات التي هي الضمة، والفتحة، والكسرة. فالبناء على الفتحة يكون في الكلم الثلاث، كما كان البناء على السكون كذلك. فالمبني على الفتح من الأسماء نحو: أين، وكيف، وحيث. وفي الأفعال جميع أمثلة الماضي نحو:
অপরিবর্তনীয়তা (البناء) অধ্যায়

অপরিবর্তনীয়তা (البناء) হলো রূপান্তর (الإعراب)-এর বিপরীত; আর তা হলো আমিল বা প্রভাবক (العامل)-এর পরিবর্তনের কারণে শব্দের শেষ অবস্থা পরিবর্তিত না হওয়া। অপরিবর্তনীয়তা (البناء) হয় সুকুন (سكون)-এর ওপর ভিত্তি করে অথবা হরকত বা স্বরচিহ্ন (حركة)-এর ওপর ভিত্তি করে। সুকুন (سكون)-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়তা (البناء) বিশেষ্য (الاسم), ক্রিয়া (الفعل) এবং অব্যয় (الحرف)-এর মধ্যে হয়ে থাকে। বিশেষ্য (الاسم)-এর ক্ষেত্রে সুকুন (سكون)-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়তা (البناء)-এর উদাহরণ হলো: কাম (كم), মান (من) এবং ইজ (إذ)। আপনি বলবেন: "বি কাম রাজুলান মারারতু" (কতজন লোকের পাশ দিয়ে আমি অতিক্রম করলাম), "কাম রাজুলান জা'আকা" (কতজন লোক তোমার কাছে এসেছে), "কাম রাজুলান দারাবতা" (কতজন লোককে তুমি প্রহার করেছ)। এখানে আমিল বা প্রভাবক (العامل) পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু শব্দের শেষাংশ পরিবর্তিত হয়নি, যেমনটি রূপান্তরযোগ্য (المعرب) শব্দের শেষাংশ আমিল বা প্রভাবক (العامل)-এর পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। আর ক্রিয়ার (الفعل) ক্ষেত্রে সুকুন (سكون)-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়তা (البناء) হলো সম্বোধিত ব্যক্তির জন্য আদেশবাচক (الأمر) ক্রিয়ার সকল উদাহরণে, যখন তার শুরুতে মুজারি বা বর্তমানকালীন ক্রিয়ার বর্ণ যুক্ত না হয়। যেমন: ইকরা (اقرأ), ইজলিস (اجلس), উক্তুব (اكتب), কুল (قل) এবং বি’ (بع)। আর অব্যয়ের (الحرف) ক্ষেত্রে যেমন: কাদ (قد), হাল (هل) এবং বাল (بل)। আর হরকত বা স্বরচিহ্ন (الحركة)-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত অপরিবর্তনীয় (المبني) শব্দসমূহ স্বরচিহ্নগুলোর প্রকারভেদে বিভক্ত হয়, যা হলো: দম্মা (الضمة), ফাতহা (الفتحة) এবং কাসরা (الكسرة)। তিন প্রকার শব্দের মধ্যেই ফাতহা (الفتحة)-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়তা (البناء) হয়ে থাকে, যেমনটি সুকুন (سكون)-এর ক্ষেত্রেও হয়েছিল। বিশেষ্য (الاسم)-এর মধ্যে ফাতহা (الفتحة)-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (المبني) হলো যেমন: আয়না (أين), কাইফা (كيف) এবং হাইসু (حيث)। আর ক্রিয়ার (الفعل) ক্ষেত্রে অতীতকালীন (الماضي) ক্রিয়ার সকল উদাহরণ যেমন:
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ১৬)
ذهب، وعلم، وظرف [وشرف] واستخرج، ودحرج، وأحر نجم وفي الحروف نحو: إن، وليت، ولعل، (وثم) ، وسوف، والبناء على الكسر يكون في الاسم، والحرف [دون الفعل] فالاسم نحو: هؤلاء، وأمس، وحذار، وبداد. والحرف نحو باء الجر ولامه في لزيد، ويزيد. وكذلك البناء على الضم يكون فيها دون الفعل. فمثال الاسم المبني على الضم أول، وقبل، وبعد وعل، وياحكم في النداء. ومثاله في الحروف منذ فيمن جر بها.
জাহাবা, ‘আলিমা, যুরুফা [এবং শারুফা], ইস্তাখরাজা, দাহরাজা এবং ইহরানজামা। অব্যয় বা বর্ণের ক্ষেত্রে উদাহরণ যেমন: ইন্না, লাইতা, লা‘আল্লা, (এবং সুম্মা) ও সাওফা। কাসরার ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় হওয়া বিশেষ্য এবং অব্যয়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে [ক্রিয়া ব্যতীত]। বিশেষ্যের উদাহরণ যেমন: হা-উলাই, আমসি, হাযারি এবং বাদাদি। অব্যয়ের উদাহরণ যেমন যের প্রদানকারী ‘বা’ এবং ‘লি-যাইদিন’ ও ‘ইয়াযিদ’ শব্দের শুরুতে যুক্ত ‘লাম’। একইভাবে যম্মার ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় হওয়া বিশেষ্য ও অব্যয়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, ক্রিয়া ব্যতীত। যম্মার ওপর ভিত্তি করে গঠিত বিশেষ্যের উদাহরণ হলো: আউয়ালু, কাবলু, বা’দু, ‘আলু এবং আহ্বানের ক্ষেত্রে ‘ইয়া হাকামু’। অব্যয়ের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো ‘মুনযু’—তাদের নিকট যারা এর দ্বারা পরবর্তী শব্দকে যের প্রদান করে থাকেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌باب من أحكام أواخر الأسماء المعربة

الأسماء المعربة على ضربين صحيح، ومعتل. فالصحيح في هذا الباب ما لم يكن آخره ألفا، ولا ياء ولا واوا وذلك نحو: رجل، وفرس، ووعد، وثوب، وعلم، وذكر. فهذا الضرب تتعاقب عليه حركات الإعراب. والمعتل ما كان آخره ياء، أو ألفا، أو واوا ولا يخلو ما قبل هذه الحروف المعتلة من أن يكون ساكنا، أو متحركا فإذا سكن ما قبل الواو والياء جريا مجرى الصحيح في تعاقب الحركات عليهما اعتقابها على الصحيح وذلك [قولك]: ظبي ونحي، وغزو، وحقو. والمدغم فيهما كذلك نحو: كرسي وولي [ومرضي] ، (ومرمي). وعتو، وعدو وغزو. لأن المدغم يكون ساكنا فسكون الياء الأولى في كرسي ومرمي والواو الأولى في عتو ومغزو كسكون الباء في ظبي
রূপান্তরযোগ্য বিশেষ্যসমূহের (الأسماء المعربة) শেষাক্ষরের বিধান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

রূপান্তরযোগ্য বিশেষ্যসমূহ (الأسماء المعربة) দুই প্রকার: সঠিক (صحيح) এবং দুর্বল (معتل)। এই অধ্যায়ে সঠিক (صحيح) হলো ওই শব্দ যার শেষে আলিফ, ইয়া কিংবা ওয়াও নেই। যেমন: রাজুলুন (ব্যক্তি), ফারাসুন (ঘোড়া), ওয়াদুন (প্রতিশ্রুতি), সাওবুন (পোশাক), ইলমুন (জ্ঞান) এবং জিকরুন (স্মরণ)। এই প্রকারের শব্দের ওপর ইরাবের হরকতসমূহ (حركات الإعراب) পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। আর দুর্বল (معتل) হলো ওই শব্দ যার শেষে ইয়া, আলিফ কিংবা ওয়াও থাকে। এই দুর্বল বর্ণগুলোর পূর্ববর্তী অক্ষরটি স্থির (ساكن) অথবা স্বরযুক্ত (متحرك) হওয়া থেকে মুক্ত নয়। যখন ওয়াও এবং ইয়া-এর পূর্ববর্তী অক্ষর স্থির (ساكن) হয়, তখন এ দুটির ওপর হরকতসমূহের পর্যায়ক্রমিক আবর্তন সঠিক (صحيح) শব্দের ন্যায় সাব্যস্ত হয়, যেভাবে সঠিক (صحيح) শব্দের ওপর তা আবর্তিত হয়। আর তা হলো [আপনার উক্তি]: জাবয়ুন, নাহয়ুন, গাজওয়ুন এবং হাকওয়ুন। একইভাবে এদের মধ্যে যা সন্ধিযুক্ত (مدغم) হয়েছে তাও অনুরূপ, যেমন: কুরসিয়্যুন, ওয়ালিয়্যুন, [মারদিয়্যুন] এবং (মারমিয়্যুন); আর উতুব্বুন, আদুব্বুন এবং গাজওয়ুন। কারণ সন্ধিযুক্ত (مدغم) বর্ণটি সর্বদা স্থির (ساكن) হয়ে থাকে। ফলে 'কুরসিয়্যুন' ও 'মারমিয়্যুন' শব্দের প্রথম ইয়া-এর স্থিরতা (سكون) এবং 'উতুব্বুন' ও 'মাগজুউয়্যুন' শব্দের প্রথম ওয়াও-এর স্থিরতা (سكون) ঠিক তেমনি, যেমন 'জাবয়ুন' শব্দের বা-এর স্থিরতা (سكون)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ১৮)
والزاي في غزو. ويجري هذا المجرى (كساء ورداء) وآي ورأى. وإذا تحرك ما قبل هذه الحروف التي تقع في أواخر الأسماء المعتلة فلا تخلو الحركة من أن تكون فتحة أو كسرة أو ضمة. فإذا كانت الحركة فتحة كان الآخر ألفا وإذا كان ألفا كان في الأحوال الثلاث على صورة واحدة تقول: هذه رحى. ورأيت رحى، ومررت برحى. وهذه الأسماء التي [يكون] [في] أواخرها الألف على ضربين منصرف وغير منصرف. فالمنصرف يلحقه التنوين فيلتقي مع الألف فتحذف الألف لالتقاء الساكنين في الدرج تقول: هذه رحى [ي غلام] فاعلم وهذه نوى يا فتى. فإذا وقفت وقفت على الألف. وغير المنصرف لا يلحقه التنوين فتثبت الألف في الوقف والوصل تقول هذه حُبلى ، وهذه بُشرى يا فتى ، وذكرته ذكرى. وإن كانت

এবং 'গাজউ' (غزو) শব্দের 'যা' (ز)। আর 'কিসাউন' (كساء), 'রিদাউন' (رداء), 'আয়িন' (آي) এবং 'রাআ' (رأى) শব্দগুলোও এই একই নিয়মে পরিচালিত হয়। আর যখন এই বর্ণগুলোর পূর্বে কোনো হরকত আসে যা ত্রুটিযুক্ত বিশেষ্যের (الأسماء المعتلة) শেষে অবস্থিত, তখন সেই হরকতটি ফাতহাহ (فتحة), কাসরাহ (كسرة) অথবা যম্মাহ (ضمة) হওয়া ছাড়া অন্য কিছু হয় না। যদি হরকতটি ফাতহাহ (فتحة) হয়, তবে শেষ বর্ণটি আলিফ (ألف) হয়ে যায়। আর যখন তা আলিফ (ألف) হয়, তখন তিন অবস্থাতেই তা একই রূপ ধারণ করে। যেমন আপনি বলবেন: এটি একটি যাঁতা (رحى), আমি একটি যাঁতা দেখেছি এবং আমি একটি যাঁতার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি। আর এই সকল বিশেষ্য যাদের শেষে আলিফ (ألف) থাকে, তা দুই প্রকার: পূর্ণ পরিবর্তনশীল (منصرف) এবং অপূর্ণ পরিবর্তনশীল (غير منصرف)। পূর্ণ পরিবর্তনশীল (منصرف) শব্দের সাথে তানভীন (تنوين) যুক্ত হয়, ফলে বাক্য প্রবাহের সময় তা আলিফের সাথে মিলিত হয় এবং দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে আলিফটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। আপনি বলবেন: 'হে বালক! জেনে রেখো এটি একটি যাঁতা' এবং 'হে যুবক! এটি হলো আঁটি (نوى)'। তবে যখন আপনি থামবেন (وقف), তখন আলিফের ওপরই থামবেন। আর অপূর্ণ পরিবর্তনশীল (غير منصرف) শব্দের শেষে তানভীন (تنوين) যুক্ত হয় না, ফলে থামা (وقف) এবং মিলিয়ে পড়া (وصل) উভয় অবস্থাতেই আলিফ (ألف) বহাল থাকে। আপনি বলবেন: এটি গর্ভবতী (حبلى), এবং হে যুবক! এটি সুসংবাদ (بشرى), এবং আমি তাকে স্মরণ করেছি (ذكرى)। আর যদি...

(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ১৯)
الحركة التي قبل الآخر كسرة كان الآخر ياء فإذا صار آخر الاسم ياء قبلها كسرة كان في الرفع والجر على صورة واحدة تقول: هذا قاضٍ، وذاك غاز، ومررت بقاض وغاز فيكون لفظ الجر والرفع واحداً وكذلك: هذا قاضيك، وذاك غازيك، ومررت بقاضيك وغازيك. وكذلك إذا لحق الألف واللام نحو: (هذا) القاضي، وهذا الداعي، ومررت بالقاضي والداعي. فأما في النصب فإن الياء تتحرك في هذه المواضع بالفتح وليس في الأسماء اسم في آخره حرف علة وقبلها ضمة فإذا أدى قياس إلى ذلك رفض، فأبدلت من الضمة كسرة فصار الآخر ياء مكسورا ما قبلها فإذا صار كذلك كان بمنزلة القاضي والغازي وذلك قولهم: حقو وأحق، وجرر واجر وقلنس وعرقوة قال الشاعر:

শেষ বর্ণের পূর্ববর্তী হরকত (حركة) যখন কাসরা (كسرة) হয়, তখন শেষ বর্ণটি ইয়া (ياء) হয়। সুতরাং যখন কোনো বিশেষ্য (اسم)-এর শেষ বর্ণ ইয়া (ياء) হয় এবং তার পূর্বে কাসরা (كسرة) থাকে, তখন রফ (رفع) এবং জর (جر) উভয় অবস্থায় তা একই রূপে থাকে। আপনি বলবেন: ‘ইনি একজন বিচারক (قاضٍ)’, ‘উনি একজন যোদ্ধা (غاز)’ এবং ‘আমি একজন বিচারক (قاض) ও যোদ্ধার (غاز) নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি’; ফলে জর (جر) ও রফ (رفع) এর শব্দরূপ অভিন্ন হয়। একইভাবে: ‘ইনি আপনার বিচারক (قاضيك)’, ‘উনি আপনার যোদ্ধা (غازيك)’ এবং ‘আমি আপনার বিচারক (قاضيك) ও আপনার যোদ্ধার (غازيك) নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি’। একইভাবে যখন আলিফ ও লাম যুক্ত হয়, যেমন: ‘বিচারকটি (القاضي)’, ‘আহ্বানকারীটি (الداعي)’ এবং ‘আমি বিচারক (القاضي) ও আহ্বানকারীর (الداعي) নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি’। তবে নসব (نصب) এর ক্ষেত্রে এই স্থানগুলোতে ইয়া (ياء) বর্ণটি ফাতহা (فتح) দিয়ে হরকতপ্রাপ্ত হয়। বিশেষ্যগুলোর (أسماء) মধ্যে এমন কোনো বিশেষ্য (اسم) নেই যার শেষে কোনো দুর্বল বর্ণ (حرف علة) রয়েছে এবং তার পূর্বে দম্মাহ (ضمة) রয়েছে। যদি কিয়াস (قياس) সেদিকে ধাবিত করে, তবে তা বর্জন করা হয় এবং দম্মাহকে (ضمة) কাসরা (كسرة) দ্বারা পরিবর্তন করা হয়। ফলে শেষ বর্ণটি ইয়া (ياء) হয়ে যায় যার পূর্বের বর্ণটি কাসরাযুক্ত। আর যখন বিষয়টি এমন হয়, তখন তা ‘বিচারক (القاضي)’ এবং ‘যোদ্ধা (الغازي)’ এর পর্যায়ভুক্ত হয়ে যায়। আর এটিই তাদের উক্তি: ‘হাক্বউ (حقو)’ ও ‘আহক্বু (أحق)’, এবং ‘জারার (جرر)’ ও ‘আজরু (اجر)’ এবং ‘কালানসু (قلنس)’ ও ‘আরকুওয়াহ (عرقوة)’। কবি বলেছেন:

(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ২০)
(ليث هزير مدل عند خيسته … بالرقمتين له أجر وأعراس)
(সে তার আস্তানার নিকটে এক গর্জনকারী ও বিক্রমী সিংহ … রাকমাতাইনে তার জন্য রয়েছে শিকার ও উৎসব)
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌باب التثنية والجمع

لا يخلو الاسم المثنى من أن يكون مرفوعا أو منصوبا أو مجروراً فإن كان مرفوعا لحقته ألف ونون نحو: رجلان، وفرسان، وشجرتان وحجران (وضربتان) وإن كان مجروراً، أو منصوبا لحقته بدل الألف ياء نحو: مررت برجلين ، ورأيت رجلين فالنون مكسورة وما قبل الألف والياء مفتوح. فأما الاسم المجموع فلا يخلو من أن يجمع جمع التكسير أو (جمع) السلامة. فجمع التكسير يشمل أولى العلم وغيرهم تقول: رجل ورجال كما تقول: سبع وسباع ملك وملائكة ودرهم ودراهم وإنسان وأناسي. فأما جمع السلامة فهو الجمع الذي على حد التثنية. وسمي جمعا على حد التثنية لأنه يسلم فيه بناء الواحد كما يسلم في التثنية ولا يغير نظمه عما كان عليه في الإفراد فإنه يكون في الأمر العام لأولي العلم. وتلحقه في الرفع واو مضموم ما قبلها. وفي الجر والنصب ياء مكسورة ما قبلها. وتلحق بعد الواو الياء نون مفتوحة، وذلك قولك: هؤلاء المسلمون، وجاءني الصالحون، والزيدون، والعمرون ومررت بالصالحين، والزيدين (والعمرين)
দ্বিবচন (التثنية) ও বহুবচন (الجمع) অধ্যায়

দ্বিবচন (المثنى) বিশেষ্যটি মারফু (مرفوع), মানসুব (منصوب) অথবা মাজরুর (مجرور) হওয়া থেকে মুক্ত নয়। যদি তা মারফু (مرفوع) হয়, তবে তার শেষে আলিফ ও নুন যুক্ত হয়; যেমন: দুইজন পুরুষ, দুইজন অশ্বারোহী, দুইটি গাছ, দুইটি পাথর এবং (দুইটি আঘাত)। আর যদি তা মাজরুর (مجرور) অথবা মানসুব (منصوب) হয়, তবে আলিফের পরিবর্তে শেষে ইয়া যুক্ত হয়; যেমন: আমি দুইজন পুরুষের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং আমি দুইজন পুরুষকে দেখলাম। এক্ষেত্রে নুনটি কাসরা (যের) যুক্ত হয় এবং আলিফ ও ইয়া-এর পূর্বের বর্ণটি ফাতহা (জবর) যুক্ত হয়। পক্ষান্তরে বহুবচন (المجموع) বিশেষ্যের ক্ষেত্রে তা জামআ তাকসির (جمع التكسير) অথবা জামআ সালামাহ (جمع السلامة) হওয়া থেকে মুক্ত নয়। জামআ তাকসির (جمع التكسير) বিবেকসম্পন্ন (أولي العلم) এবং অন্যদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করে; আপনি বলবেন: একজন পুরুষ ও অনেক পুরুষ, যেমনটি আপনি বলেন: একটি হিংস্র প্রাণী ও অনেক হিংস্র প্রাণী, ফেরেশতা ও অনেক ফেরেশতা, দিরহাম ও অনেক দিরহাম এবং মানুষ ও অনেক মানুষ। আর জামআ সালামাহ (جمع السلامة) হলো সেই বহুবচন যা দ্বিবচনের নিয়মে গঠিত হয়। একে দ্বিবচনের নিয়মে গঠিত বহুবচন বলা হয় কারণ এতে একবচন শব্দকাঠামো (بناء الواحد) অক্ষুণ্ণ থাকে যেমনটি দ্বিবচনের (التثنية) ক্ষেত্রে থাকে এবং একবচন (الإفراد) অবস্থায় শব্দের যে বিন্যাস থাকে তার কোনো পরিবর্তন হয় না। এটি সাধারণত বিবেকসম্পন্ন (أولي العلم) সত্তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। মারফু (مرفوع) অবস্থায় এর শেষে একটি ওয়াও যুক্ত হয় যার পূর্বের বর্ণটি পেশযুক্ত হয়। আর মাজরুর (مجرুর) ও মানসুব (منصوب) অবস্থায় একটি ইয়া যুক্ত হয় যার পূর্বের বর্ণটি যেরযুক্ত হয়। ওয়াও ও ইয়া-এর পরে একটি জবরযুক্ত নুন যুক্ত হয়; আর তা হলো আপনার এই বক্তব্য: ‘এরা মুসলিমগণ’, ‘আমার নিকট পুণ্যবানগণ এসেছে’, ‘যায়েদগণ’, ‘আমরগণ’ এবং ‘আমি পুণ্যবানদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম’, ‘যায়েদদের’ এবং (আমরদের)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ২২)
والنصب كالجر في (هذا) الجمع، وهو جمع السلامة كما كان [مثله] في التثنية. وهذه النون التي تقع في أواخر هذه الأسماء المثناة والمجموعة بدل من الحركة والتنوين اللذين كانا في المفرد. فإن كان المجموع مؤنثا ألحق ألفا وتاء، وكانت التاء مضمونة في موضع الرفع، ومكسورة في موضع الجر. والنصب كالجر. في هذا الجمع، كما كان مثله في جمع المذكر. وتلحق التاء نون ساكنة بمنزلة النون [التي] في "مسلمون"، وذلك قولك: هؤلاء مسلمان، وصالحات، ومررت بمسلمات [وصالحات] ورأيت [مسلمات] وصالحات.

এই বহুবচনের (جمع) ক্ষেত্রে নসব (نصب) অবস্থাটি জার (جر) অবস্থার মতোই হবে; আর এটি হলো সুস্থ বহুবচন (جمع السلامة), যেমনটি দ্বিবচনের (تثنية) ক্ষেত্রেও অনুরূপ ছিল। আর এই দ্বিবচন (مثناة) ও বহুবচন (مجموعة) বিশিষ্ট বিশেষ্যগুলোর শেষে যে নুন (نون) যুক্ত হয়, তা মূলত একবচনের (مفرد) হরকত (حركة) ও তানবিনের (تنوিন) স্থলাভিষিক্ত। যদি বহুবচনটি স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث) হয়, তবে তাতে আলিফ ও তা (ألفا وتاء) যুক্ত করা হবে। রফ (رفع) এর অবস্থায় 'তা' বর্ণটি পেশযুক্ত (مضمومة) হবে এবং জার (جر) এর অবস্থায় যেরযুক্ত (مكسورة) হবে। এই বহুবচনের (جمع) ক্ষেত্রে নসব (نصب) অবস্থাটি জার (جر) এর মতোই হবে, যেমনটি পুংলিঙ্গ বহুবচনের (جمع المذكر) ক্ষেত্রেও হয়েছিল। আর 'তা' বর্ণের সাথে একটি সাকিনযুক্ত নুন (نون ساكنة) যুক্ত হয় যা "মুসলিমুন" শব্দে থাকা নুনের (النون) সমপর্যায়ের। আর তা হলো আপনার এই উক্তি: "হাউলাই মুসলিমানে" (এরা দুইজন মুসলিম) ও "সলিহাত" (সতী নারীগণ); আর "মারারতু বি-মুসলিমাতিন [ওয়া সলিহাতিন]" (আমি মুসলিম ও সতী নারীদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম) এবং "রাআইতু [মুসলিমাতিন] ওয়া সলিহাতিন" (আমি মুসলিম ও সতী নারীদের দেখলাম)।

(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌باب إعراب الأفعال

الأفعال على ضربين معرب ومبني:

فالمعرب ما كان مضارعا للاسم، والمضارع ما كان في أوله همزة، أو نون، أو تاء، أو ياء وذلك [نحو]: أفعل أنا، ونفعل نحن، وتفعل أنت أو هي، وبفعل هو. وإعرابه على ثلاثة أضرب رفع، ونصب، وجزم. فالرفع خاصة يكون فيها لما تقدم ذكره من وقوعها موقع الأسماء وأما النصب فيها فبالحروف الناصبة لها وهي: أَنْ، ولَنْ (وكي) وإذن، ذلك نحو: لن يقوم زيد، وآمرك أن تذهب، وجئت كي تعطيني، ويقول القائل: أنا أرعى حقك، فأقول له: إذن أكرمك. وينتصب أيضا بعد حتى، والام في (نحو) قولك: سرت حتى أدخلها، وما كنت لاضربك. وبعد الفاء في جواب النفي [والاستفهام] وما أشبهه مما كان غير واجب في نحو: ما جئتني فأكرمك. وبعد الواو في نحو: لا تأكل السمك وتشرب اللبن.
ক্রিয়া পদের রূপান্তর (إعراب الأفعال) পরিচ্ছেদ

ক্রিয়া পদ দুই প্রকার: রূপান্তরযোগ্য (معرب) এবং অপরিবর্তনীয় (مبني):

রূপান্তরযোগ্য (معرب) হলো সেই ক্রিয়া যা বিশেষ্যের সদৃশ, আর বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন (مضارع) ক্রিয়া হলো যার শুরুতে হামজা, নুন, তা অথবা ইয়া থাকে। আর তা হলো [যেমন]: আমি করি, আমরা করি, তুমি করো অথবা সে (স্ত্রী) করে এবং সে (পুরুষ) করে। এর রূপান্তর (إعراب) তিন প্রকার: রফ (رفع), নসব (نصب) এবং জজম (جزم)। রফ (رفع) বিশেষভাবে সেই সব ক্রিয়াতে হয় যা পূর্বে বর্ণিত বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে। আর এতে নসব (نصب) হয় নসব প্রদানকারী অব্যয়সমূহের (الحروف الناصبة) মাধ্যমে, আর সেগুলো হলো: আন (أَنْ), লান (لَنْ), (কাই - كي) এবং ইদান (إذن)। যেমন: জায়েদ কখনোই দাঁড়াবে না, আমি তোমাকে যাওয়ার আদেশ দিচ্ছি, আমি এসেছি যাতে তুমি আমাকে কিছু দান করো। এবং কোনো বক্তা যখন বলে: আমি তোমার অধিকার রক্ষা করি, তখন আমি তাকে বলি: তবে আমি তোমাকে সম্মানিত করব (إذن)। এছাড়া এটি 'হাত্তা' (حتى) এবং 'লাম' (لام)-এর পরেও নসব (نصب) প্রাপ্ত হয়, (যেমন) আপনার উক্তি: আমি পথ চললাম যতক্ষণ না তাতে প্রবেশ করলাম, এবং আমি তোমাকে প্রহার করার মতো ছিলাম না। এছাড়া না-বোধক (النفي) ও [প্রশ্নবোধক (الاستفهام)] বাক্যের উত্তর হিসেবে আসা 'ফা' (فاء)-এর পরে এবং এ জাতীয় ক্ষেত্রে যেখানে বিষয়টি অবধারিত নয় সেখানেও নসব (نصب) হয়; যেমন: তুমি আমার কাছে আসোনি যে আমি তোমাকে সম্মান করব। এবং 'ওয়াও' (واو)-এর পরেও নসব (نصب) হয়; যেমন: তুমি মাছ খেয়ো না এবং (একই সাথে) দুধ পান করো না।
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ২৪)
والجزم فيها بالحروف الجازمة وهي: لم، ولما، ولا في النهي واللام في الأمر وذلك نحو: لم يذهب عبد الله، ولما يقم زيد، ولا تضرب أحداً، وليذهب عبد الله وليتمثل ذلك الأمر .. وحرف الجزاء وهو (نحو). إن تكرمني أكرمك وإن تعطني أعطك، فإن ثنيت الفعل في المضارع المرفوع ألحقت لعلاقة التثنية ألفاً (ولعلامة) الرفع نوناً مكسورة وذلك نحو. هما يضربان ويذهبان. وإن جمعته في الفعل المضارع المرفوع ألحقت للجمع واواً. ولعلامة الرفع نوناً مفتوحة وذلك نحو. هم يضربون ويذهبون. فإن كان هذا الفعل لمخاطب مؤنث ألحقته لعلامة التأنيث ياء مكسوراً ما قبلها، وللرفع نوناً مفتوحة فقلت. أنت تذهبين يا هذه. فإن ألحق الفعل حرفاً ناصباً أو جازماً حذفت هذه النونات فقلت. لم تفعلا، ولن تفعلا ولم يفعلوا، ولن تفعلوا، ولن تفعلي، ولم تفعلي، ولم تفعلي يا امرأة. فإن كان الفعل لجماعة مؤنث قلت. أنتن تفعلين؛ ولم تفعلن، لن تفعلن، وهن يفعلن (ولم يفعلن، ولن يفعلن) فتثبت هذه النون في [حالة] الرفع والحزم والنصب ولم تحذف لأنها علامة جمع وليست بدلالة الرفع كالنون التي تقدم ذكرها.

আর এতে জজম (الجزم) প্রদান করা হয় জজম প্রদানকারী অব্যয় (الحروف الجازمة) দ্বারা, আর সেগুলো হলো: ‘লাম’ (لم), ‘লাম্মা’ (لما), নিষেধাজ্ঞাসূচক (النهي) ‘লা’ এবং আদেশসূচক (الأمر) ‘লাম’। আর তা হলো এমন: ‘লাম ইয়াজহাব আবদুল্লাহ’ (আবদুল্লাহ যায়নি), ‘লাম্মা ইয়াকুম যায়েদ’ (যায়েদ এখনও দাঁড়ায়নি), ‘লা তাদরিব আহাদান’ (কাউকে মেরো না), ‘লি-ইয়াজহাব আবদুল্লাহ’ (আবদুল্লাহ যেন যায়) এবং সে যেন ওই নির্দেশটি পালন করে... আর শর্ত ও প্রতিদানবাচক অব্যয় (حرف الجزاء), যা হলো (যেমন): ‘ইন তুকরিমানি উকরিমকা’ (যদি তুমি আমাকে সম্মান করো তবে আমি তোমাকে সম্মান করব) এবং ‘ইন তু’তিনি আ’তিকা’ (যদি তুমি আমাকে দান করো তবে আমি তোমাকে দান করব)। যদি আপনি মারফু বর্তমানকালীন ক্রিয়াকে (المضارع المرفوع) দ্বিবচন (التثنية) করেন, তবে দ্বিবচন সম্পর্কের কারণে একটি আলিফ এবং রফ (الرفع)-এর আলামত হিসেবে কাসরাযুক্ত একটি নুন যুক্ত করবেন; যেমন: ‘হুমা ইয়াদরিবানি’ এবং ‘হুমা ইয়াজহাবানি’। আর যদি আপনি বর্তমানকালীন মারফু ক্রিয়াকে বহুবচন (الجمع) করেন, তবে বহুবচনের জন্য একটি ওয়াও এবং রফ (الرفع)-এর আলামত হিসেবে ফাতহাযুক্ত একটি নুন যুক্ত করবেন; যেমন: ‘হুম ইয়াদরিবুনা’ এবং ‘হুম ইয়াজহাবুনা’। যদি এই ক্রিয়াটি স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث) সম্বোধনের জন্য হয়, তবে স্ত্রীলিঙ্গবাচক (التأنيث) আলামত হিসেবে আপনি একটি ‘ইয়া’ (যার পূর্বের অক্ষরটি কাসরাযুক্ত) এবং রফ (الرفع)-এর জন্য একটি ফাতহাযুক্ত নুন যুক্ত করবেন; অতঃপর বলবেন: ‘আন্তি তাজহাবি না ইয়া হাজিহি’। এরপর যদি ক্রিয়াটির শুরুতে কোনো নসব প্রদানকারী (ناصباً) বা জজম প্রদানকারী (جازماً) অব্যয় যুক্ত হয়, তবে এই নুনগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে; তখন আপনি বলবেন: ‘লাম তাফআলা’, ‘লান তাফআলা’, ‘লাম ইয়াফআলু’, ‘লান ইয়াফআলু’, ‘লান তাফআলি’, ‘লাম তাফআলি’ এবং ‘লাম তাফআলি ইয়া আমরাআহ’। আর যদি ক্রিয়াটি স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচনের (جماعة مؤنث) জন্য হয়, তবে বলবেন: ‘আন্তুন না তাফআলনা’; এবং ‘লাম তাফআলনা’, ‘লান তাফআলনা’, এবং ‘হুন্না ইয়াফআলনা’ (এবং ‘লাম ইয়াফআলনা’, ‘লান ইয়াফআলনা’)। এই নুনটি রফ (الرفع), জজম (الجزم) এবং নসব (النصب) অবস্থায় অপরিবর্তিত থাকবে এবং বিলুপ্ত হবে না; কারণ এটি বহুবচনের আলামত, এটি রফ (الرفع)-এর পরিচায়ক নয়—যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত নুনের ক্ষেত্রে ছিল।

(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وإذا كان آخر الفعل واواً، أو ياء أو ألفاُ نحو: يغزو ويرمي، ويخشى فإن هذه الحروف كلها تثبت ساكنة في الرفع وتحذف كلها في الجزم نحو: لم يخش، ولم يغز ولم يرم وتتحرك الواو والياء في النصب بالفتح نحو: لن يدعو زيد، ولن يرمي عمرو. والألف تبقى في النصب على سكونها نحو: لن يخشى فيكون لفظ النصب كلفظ الرفع. والمبني من الفعال على ضربين مبني على الفتح وهو جميع أمثلة الماضي نحو: ذهب، وسمع (مكث) ومبني على السكون وهو جميع أمثلة الأمر للمخاطب نحو: اذهب، واضرب.
যদি ক্রিয়ার (فعل) শেষ বর্ণটি ওয়াও (واواً), ইয়া (ياء) অথবা আলিফ (ألفاً) হয়, যেমন: সে যুদ্ধ করছে (يغزو), সে নিক্ষেপ করছে (يرمي) এবং সে ভয় করছে (يخشى); তবে রফ (رفع) অবস্থায় এই বর্ণগুলো স্থির (ساكنة) থাকে এবং জজম (جزم) অবস্থায় এই সবগুলো বর্ণ বিলুপ্ত (تحذف) হয়ে যায়। যেমন: সে ভয় করেনি (لم يخش), সে যুদ্ধ করেনি (لم يغز) এবং সে নিক্ষেপ করেনি (لم يرم)। আর নসব (نصب) অবস্থায় ওয়াও এবং ইয়া বর্ণ দুটি ফাতহাহ (فتح) দ্বারা হরকতযুক্ত হয়, যেমন: যায়েদ কখনো ডাকবে না (لن يدعو زيد) এবং আমর কখনো নিক্ষেপ করবে না (لن يرمي عمرو)। আলিফ বর্ণটি নসবের অবস্থায় তার সুকুন (سكون) বা স্থির রূপেই বহাল থাকে, যেমন: সে কখনো ভয় করবে না (لن يخشى); ফলে নসবের উচ্চারণটি রফ-এর উচ্চারণের মতোই হয়। ক্রিয়াগুলোর (أفعال) মধ্যে অপরিবর্তনীয় (مبني) রূপ দুই প্রকার: ফাতহাহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على الفتح), যা অতীতকাল (ماضي)-র সকল উদাহরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; যেমন: সে গিয়েছে (ذهب), সে শুনেছে (سمع) এবং সে অবস্থান করেছে (مكث)। দ্বিতীয়টি হলো সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على السكون), যা উপস্থিত ব্যক্তির প্রতি আদেশবাচক (أمر للمخاطব) ক্রিয়ার সকল উদাহরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; যেমন: তুমি যাও (اذهب) এবং তুমি প্রহার করো (واضرب)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌باب إعراب الأسماء

إعراب الأسماء على ثلاثة أضرب رفع، ونصب، وجر، فالرفع في الرتبة قبل النصب والجر. وذلك أن الرفع يستغنى عن النصب والجر نحو: قام زيد، وعمرو منطلق. والنصب والجر لا يكونان حتى يتقدم الرفع نحو: قام زيد قياماً، ومر زيد بعمرو راكباً وعمرو منطلق اليوم. فأما قولهم: إن زيداً ذاهب، فمشبه بالمفعول به المقدم نحو: ضرب زيداً عمرو. وكذلك قولهم: ما بكر خارجاً مشبه بالفعل والفاعل. وإذا كان الرفع في الرتبة قبلها وجب أن يقدم عليها في الذكر.
ইসিমের ই'রাব (إعراب) সংক্রান্ত অধ্যায়

ইসিমের ই'রাব (إعراب) তিন প্রকার: রফ' (رفع), নাসব (نصب) এবং জার (جر)। মর্যাদার ক্রমে রফ' (رفع)-এর অবস্থান নাসব (نصب) ও জার (جر)-এর পূর্বে। এর কারণ হলো, রফ' (رفع) অনেক ক্ষেত্রে নাসব (نصب) ও জার (جر) ছাড়াই পূর্ণতা পায়; যেমন: ‘জায়িদ দাঁড়িয়েছে’ এবং ‘আমর প্রস্থানকারী’। কিন্তু রফ' (رفع) অগ্রবর্তী হওয়া ব্যতীত নাসব (نصب) ও জার (جر) সংঘটিত হয় না; যেমন: ‘জায়িদ যথাযথভাবে দাঁড়িয়েছে’, ‘জায়িদ আরোহী অবস্থায় আমরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছে’ এবং ‘আমর আজ প্রস্থানকারী’। আর তাদের উক্তি: ‘নিশ্চয়ই জায়িদ গমনকারী’, এটি মূলত অগ্রবর্তী মাফউল বিহি (المفعول به)-এর সদৃশ; যেমন: ‘আমর জায়িদকে প্রহার করেছে’। অনুরূপভাবে তাদের উক্তি: ‘বকর বের হওয়া ব্যক্তি নয়’, এটি ক্রিয়া (الفعل) ও কর্তার (الفاعل) সদৃশ। যেহেতু মর্যাদার ক্রমে রফ' (رفع) এগুলোর পূর্বে, তাই আলোচনার ক্ষেত্রেও এটিকে অগ্রবর্তী রাখা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌باب الابتداء

الابتداء وصف في الاسم المبتدإ يرتفع به. وصفة الاسم المبتدإ أن يكون معري من العوامل الظاهرة، ومسنداً إليه شيء ومثاله: زيد منطلق، وعمرو ذاهب، والعلم حسن والجهل قبيح، فزيد ارتفع بتعريه من العوامل الظاهرة [من] نحو: إن، وكان، وظننت، وإسناد الانطلاقي، والذهاب ونحو ذلك إليه. ومن الأسماء المرتفعة المرتفعة بالابتداء الاسم الوقع بعد لولا في نحو قولك: لولا زيد لذهب عمرو. فزيد رفع بالابتداء، وخبره محذوف، كأنه قال: لولا زيد حاضر أو مقيم، ولولا هذه هي التي معناها امتناع الشيء لوجود غيره، وذلك أن ذهاب عمرو امتنع لوجود غيره. وليست لولا هذه التي معناها التحضيض (نحو قولك: لولا أعطيت زيداً، ولولا أخذت عمراً). كقوله:

(تعدون عقر النيب أفضل مجدكم … بنى ضو طري لولا الكمي المقنعا)
প্রারম্ভিকা (الابتداء) বিষয়ক পরিচ্ছেদ

প্রারম্ভিকা (الابتداء) হলো উদ্দেশ্য বা মুক্তাদা (مبتدأ) ইসমের এমন একটি বৈশিষ্ট্য যার দ্বারা সেটি পেশযুক্ত বা মারফু (مرفوع) হয়। আর উদ্দেশ্য বা মুক্তাদা (مبتدأ) ইসমের বৈশিষ্ট্য হলো—এটি দৃশ্যমান সকল প্রভাবক (عامل) থেকে মুক্ত থাকবে এবং এর দিকে কোনো কিছু সম্বন্ধ বা মুসনাদ (مسند) করা হবে। এর উদাহরণ: জায়েদ প্রস্থানকারী, আমর গমনকারী, জ্ঞান উত্তম এবং অজ্ঞতা কদর্য। এখানে 'জায়েদ' শব্দটি ইন্না, কানা এবং জনন্তু—এর মতো দৃশ্যমান প্রভাবক (عامل) থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে এবং এর দিকে প্রস্থান, গমন ও এই জাতীয় বিষয়সমূহ সম্বন্ধ করার কারণে পেশযুক্ত (مرفوع) হয়েছে। প্রারম্ভিকা (الابتداء)-এর কারণে পেশযুক্ত হওয়া ইসমসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো সেই ইসম যা 'লাওলা' (لولا)-এর পরে আসে। যেমন আপনার উক্তি: 'যদি জায়েদ না থাকতো তবে আমর চলে যেত'। এখানে 'জায়েদ' শব্দটি প্রারম্ভিকা (الابتداء)-এর কারণে পেশযুক্ত বা রফা (رفع) প্রাপ্ত হয়েছে এবং এর সংবাদ বা খবর (خبر) উহ্য (محذوف) রয়েছে; যেন বলা হয়েছে: 'যদি জায়েদ উপস্থিত বা অবস্থানরত থাকতো'। আর এই 'লাওলা' হলো সেই অব্যয় যা অন্য কিছুর অস্তিত্বের কারণে কোনো বিষয়ের অনুপস্থিতি বা নিবৃত্তি (امتناع) বোঝায়। যেমন এখানে আমরের চলে যাওয়া নিবৃত্ত হয়েছে অন্য একজনের (জায়েদ) অস্তিত্বের কারণে। এটি সেই 'লাওলা' নয় যা উৎসাহ প্রদান বা তাহদিদ (تحضيض) অর্থে ব্যবহৃত হয় (যেমন আপনার উক্তি: 'কেন আপনি জায়েদকে দিলেন না?' এবং 'কেন আপনি আমরকে ধরলেন না?')। যেমন কবির কবিতা:

(তোমরা বৃদ্ধ উষ্ট্রীদের পা কাটাকেই তোমাদের শ্রেষ্ঠ গৌরব মনে করো... হে বনী দাউতারি, যদি সেই শিরস্ত্রাণ পরিহিত বীর না থাকতো!)
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ৩০)
لأن الاسم بعد لولا هذه لا يرتفع بالابتداء من حيث كان معناها التحضيض. والتحضيض يقع على الفعل، والابتداء يختص به الاسم. فإذن لا يقع الاسم (المبتدأ) بعد لولا هذه التي للتحضيض كما لا يقع بعد أن التي للشرط والجزاء نحو: إن الله أمكنني من فلان [قتلته] ولا بعد إذا في نحو: إذا السماء انشقت". فإنما هذه الأسماء بعد هذه الحروف محمولة على الفعل دون الابتداء [كأنه إذا قال: إن أمكنني الله، فتقديره: إن أمكنني الله أمكنني، فأخر الفعل لأن ما ظهر يدل عليه وبعنى عنه]. ومما يرتفع من السماء بالابتداء زيد في قولهم: أين زيد وكيف عمرو فعمرو وزيد يرتفعان بالابتداء وكيف وأين خبران لمبتدإ قدما عليها لما فيهما

কারণ এই 'লাওলা'-এর পরবর্তী বিশেষ্যটি প্রারম্ভিকতা (ابتداء) হিসেবে রফ-প্রাপ্ত হয় না, যেহেতু এর অর্থ হলো উদ্বুদ্ধকরণ (تحضيض)। আর উদ্বুদ্ধকরণ (تحضيض) ক্রিয়ার ওপর কার্যকর হয়, যেখানে প্রারম্ভিকতা (ابتداء) বিশেষ্যের জন্য নির্দিষ্ট। অতএব, উদ্বুদ্ধকরণের (تحضيض) জন্য ব্যবহৃত এই 'লাওলা'-এর পরে বিশেষ্য (উদ্দেশ্যপদ (مبتدأ)) আসে না, ঠিক যেমন শর্ত ও প্রতিদানের জন্য ব্যবহৃত 'ইন'-এর পরে আসে না, যেমন: "যদি আল্লাহ আমাকে অমুকের ব্যাপারে সামর্থ্য দেন [আমি তাকে হত্যা করব]"; এবং যেমন 'ইযা'-এর পরেও আসে না, যেমন: "যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে"। সুতরাং এই বর্ণগুলোর পরবর্তী বিশেষ্যগুলো প্রারম্ভিকতার পরিবর্তে ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট হিসেবে গণ্য হয় [যেন বলা হচ্ছে: "যদি আল্লাহ আমাকে সামর্থ্য দেন", এর অন্তর্নিহিত বিশ্লেষণ হলো: "যদি আল্লাহ আমাকে সামর্থ্য দেন তবে তিনি আমাকে সামর্থ্য দিয়েছেন", ফলে ক্রিয়াটিকে উহ্য রাখা হয়েছে কারণ যা প্রকাশ পেয়েছে তা-ই এর অর্থ নির্দেশ করে এবং এর জন্য যথেষ্ট হয়]। আর প্রারম্ভিকতা (ابتداء) হিসেবে রফ-প্রাপ্ত হওয়ার একটি উদাহরণ হলো তাদের এই বক্তব্য: "যায়েদ কোথায়?" এবং "আমর কেমন আছে?"; এখানে 'আমর' এবং 'যায়েদ' প্রারম্ভিকতা (ابتداء) হিসেবে রফ-প্রাপ্ত হয়েছে এবং 'কোথায়' ও 'কেমন' শব্দ দুটি হলো উদ্দেশ্যপদের বিদেহ (خبر) যা বিশেষ কারণে পূর্বে আনীত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ৩১)
من معنى الاستفهام. والاستفهام لا يتقدم عليه ما كان في حيزه. وتقول: متى الخروج، ومتى الصيام ولا يجوز: متى زيد، كما لا يجوز: زيد يوم الجمعة، لأن ظروف الزمان لا تتضمن الجثث، ظروف الأمكنة تتضمن الأحداث والجثث. ومما يرتفع بالابتداء قولهم عبد الله نحو: عبد الله ضربته وبكر مررت به. والاختيار (الجيد) في عبد الله الرفع، وضربته في موضع خبره. ويجوز أن تنصب عبد الله بفعل مضمر يكون [جوابه] الذي ظهر تفسيره كأنه قال: ضربت عبد الله ضربته، أو أهنت عبد الله ضربته. فاستغنى عن إظهار هذا الفعل لدلالة الثاني عليه. فما جاء على ذلك قوله تعالى: {والقمر قدرناه منازل} فإن عطف هذا الاسم الذي يختار فيه الرفع بالابتداء على فعل وفاعل اختبر فيه النصب وذلك قولك: قام عبد الله وزيداً ضربته، وسرت اليوم وبكراً لقيته، ومثل ذلك قوله عز وجل {وجعلنا في قلوب الذين اتبعوه رأفة ورحمة ورهبانيةً ابتدعوها} فقوله: {ورهبانية} محمول على فعل كأنه
এটি প্রশ্নবোধক (استفهام)-এর অর্থের অন্তর্ভুক্ত। আর প্রশ্নবোধক (استفهام) চিহ্নের পূর্বে এমন কোনো শব্দ অগ্রবর্তী হতে পারে না যা তার প্রভাবসীমার (حيز) অন্তর্গত। আপনি বলবেন: 'প্রস্থান কখন?' এবং 'রোজা কখন?' কিন্তু এটি বলা বৈধ নয়: 'জায়েদ কখন?' যেমন এটি বলা বৈধ নয়: 'জুমার দিন জায়েদ', কারণ সময়ের বিশেষণগুলো (ظروف الزمان) কোনো বস্তুগত সত্তাকে (جثث) নির্দেশ করে না, অথচ স্থানের বিশেষণগুলো ঘটনা (أحداث) ও সত্তা (جثث) উভয়কেই নির্দেশ করতে পারে। আর বাক্যের সূচনা (ابتداء) হিসেবে পেশযুক্ত (رفع) হওয়ার অন্তর্ভুক্ত হলো তাদের উক্তি 'আবদুল্লাহ', যেমন: 'আবদুল্লাহকে আমি প্রহার করেছি' এবং 'বকর, আমি তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি'। 'আবদুল্লাহ' শব্দের ক্ষেত্রে উত্তম (جيد) পছন্দ হলো পেশ (رفع) হওয়া, এবং 'আমি তাকে প্রহার করেছি' বাক্যটি তার বিধেয় (خبر)-এর স্থলে অবস্থিত। আবার 'আবদুল্লাহ' শব্দটিকে একটি উহ্য ক্রিয়া (فعل مضمر) দ্বারা জবর (نصب) প্রদান করাও বৈধ, যার ব্যাখ্যা (تفسير) পরবর্তী প্রকাশ্য অংশটি দ্বারা সূচিত হয়; যেন সে বলেছে: 'আমি আবদুল্লাহকে প্রহার করেছি, তাকে আমি প্রহার করেছি', অথবা 'আমি আবদুল্লাহকে অপমান করেছি, তাকে আমি প্রহার করেছি'। সুতরাং পরবর্তী অংশটি পূর্বেরটির প্রতি নির্দেশক হওয়ার কারণে উক্ত ক্রিয়াটি প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে। মহান আল্লাহর বাণী: {আর চাঁদের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি বিভিন্ন মঞ্জিল} এই নিয়মের আলোকেই এসেছে। কারণ, এমন বিশেষ্য (اسم)—যার ক্ষেত্রে বাক্যের সূচনা (ابتداء) হিসেবে পেশ (رفع) হওয়া পছন্দনীয়—তাকে যদি এমন ক্রিয়া (فعل) ও কর্তার (فاعل) ওপর সংযোজন (عطف) করা হয় যেখানে জবর (نصب) হওয়া বাঞ্ছনীয়, (তবে তা জবরযুক্ত হবে)। যেমন আপনার উক্তি: 'আবদুল্লাহ দাঁড়িয়েছে এবং জায়েদকে আমি প্রহার করেছি', এবং 'আজ আমি চলেছি এবং বকরের সাথে আমি সাক্ষাৎ করেছি'। অনুরূপ উদাহরণ হলো মহান আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং যারা তাঁর অনুসরণ করেছিল তাদের অন্তরে আমি মমতা ও দয়া দিয়েছি, আর বৈরাগ্যবাদ (رهبانية) যা তারা নিজেরা উদ্ভাবন (ابتداع) করেছে}। সুতরাং তাঁর বাণী: {বৈরাগ্যবাদ} শব্দটি একটি উহ্য ক্রিয়ার (فعل) ওপর নির্ভরশীল যেন...
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ৩২)
قال: وابتدعوا رهبانية ابتدعوها. ألا ترى أن الرهبانية لا يستقيم حملها على جعلها مع وصفها بقوله: ابتدعوها لأن ما يجعله هو تعالى لا يبتدعونه هم. وجعل هذه هي التي تتعدى إلى مفعول واحد لأنه بمنزلة عمل، كقوله عز وجل: {وجعل الظلمات والنور} {وجعل لكم من الجبال أكنانا وجعل لكم سرابيل تقيكم الحر وسرابيل تقيكم بأسكم}. وجعل فعل استُعمل على ثلاثة أضرب: أحدهما يتعدى إلى مفعول واحد وهو ما تقدم ذكره. والثاني أن يكون بمعنى التسمية فيتعدى إلى مفعولين كقوله عز وجل: {وجعل الملائكة الذين هم عباد الرحمن إناثاً} وكقول القائل: جعلت البصرة بغداد، وجعلت حسنى قبيحاً. فهذا في الإعمال كحسبت وظننت في أن المفعول الثاني هو المفعول الأول. والثالث أن يكون بمعنى ألقيت كقولهم: جعلت متاعك

তিনি বলেছেন: "আর বৈরাগ্যবাদ (رهبانية), যা তারা উদ্ভাবন (ابتدعوها) করেছে।" আপনি কি দেখছেন না যে, বৈরাগ্যবাদকে (رهبانية) 'নির্ধারণ (جعل)' অর্থে গ্রহণ করা সঠিক নয় যখন এর সাথে তাঁর এই বর্ণনা রয়েছে: 'তারা তা উদ্ভাবন (ابتدعوها) করেছে'। কারণ আল্লাহ যা নির্ধারণ (جعل) করেন, তা তারা উদ্ভাবন করে না। আর এই 'জাআলা (جعل)' শব্দটি এখানে একটি মাত্র কর্মপদের (مفعول واحد) দিকে ধাবিত হয়, কারণ এটি কর্ম বা কাজ (عمل) সম্পাদনের পর্যায়ভুক্ত। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি অন্ধকার ও আলো সৃষ্টি করেছেন (جعل)} এবং {তিনি তোমাদের জন্য পাহাড়ের মধ্যে আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন (جعل) এবং তোমাদের জন্য পোশাক বানিয়েছেন (جعل) যা তোমাদের তাপ থেকে রক্ষা করে এবং এমন বর্ম যা তোমাদের যুদ্ধে রক্ষা করে}।

'জাআলা (جعل)' ক্রিয়াটি তিনভাবে ব্যবহৃত হয়: প্রথমত, যা একটি মাত্র কর্মপদের (مفعول واحد) দিকে ধাবিত হয়, যার বর্ণনা ইতিপূর্বে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এটি নামকরণের (تسمية) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা দুটি কর্মপদের (مفعولين) দিকে ধাবিত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তারা ফেরেশতাদেরকে, যারা পরম করুণাময়ের বান্দা, নারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছে (جعل)}। অথবা কারো উক্তি: 'আমি বসরাকে বাগদাদ বানিয়েছি (جعلت)', এবং 'আমি সৌন্দর্যকে কদর্যরূপে সাব্যস্ত করেছি (جعلت)'। প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি 'আমি মনে করেছি (حسبت)' এবং 'আমি ধারণা করেছি (ظننت)' এর ন্যায়, যেখানে দ্বিতীয় কর্মপদটি (مفعول) মূলত প্রথম কর্মপদটিই হয়ে থাকে। তৃতীয়ত, এটি 'আমি নিক্ষেপ করেছি বা রেখেছি (ألقيت)' অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন তাদের কথা: 'আমি তোমার আসবাবপত্র রেখেছি (جعلت)'।

(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بعضه على بعض. أي ألقيت. قال الله عز وجل: {ويجعل الخبيث بعضه على بعضٍ} فهذا الضرب تتعدى فيه جعل إلى مفعولين وليس الثاني فيه هو الأول كما كان في الباب الذي قبله ولكن كقولهم: أمرتك بالخير واستغفر الله من ذنبٍ، في أن الفعل يتعدى إلى المفعول الثاني بحرف جر. ولجعل قسم آخر وهو أن تستعمل استعمال الأفعال التي لمقاربة الفعل، والأخذ فيه كقولهم: جعل يقول، وطفق يفعل، وأخذ يقول، وكربت تغيب. وقال الشاعر:

(وقد جعلت إذا ما قمت يثقلني … ثوبي فأنهض نهض الشارب الثمل)
একে অপরের ওপর। অর্থাৎ নিক্ষেপ করেছি। মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং তিনি অপবিত্রকে একে অপরের ওপর স্তূপ করবেন।} এই প্রকারে (ضرب) 'জাআলা' (جعل) ক্রিয়াটি দুটি কর্মপদের (مفعولين) দিকে ধাবিত হয় এবং এখানে দ্বিতীয়টি প্রথমটির মতো নয়, যেমনটি পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে ছিল। বরং এটি তাদের উক্তির ন্যায়: 'আমি তোমাকে কল্যাণের আদেশ দিয়েছি' এবং 'আমি আল্লাহর নিকট পাপ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি', যেখানে ক্রিয়াটি অব্যয়ের (حرف جر) মাধ্যমে দ্বিতীয় কর্মপদের (مفعول ثان) দিকে সম্প্রসারিত হয়। 'জাআলা' (جعل)-এর আরেকটি প্রকার (قسم) রয়েছে, যা কোনো কাজের নৈকট্য (مقاربة) বা শুরু করা বোঝায় এমন ক্রিয়াগুলোর ন্যায় ব্যবহৃত হয়; যেমন তাদের উক্তি: 'সে বলতে শুরু করল', 'সে করতে লাগল', 'সে বলতে শুরু করল', এবং 'সূর্য প্রায় অস্তমিত হলো'। জনৈক কবি বলেছেন:

(আর আমি যখন দাঁড়ালাম তখন আমার পোশাক আমাকে ভারাক্রান্ত করতে লাগল … ফলে আমি মাতাল পানকারীর ন্যায় কোনোমতে উঠে দাঁড়ালাম)
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وأنشد سيبويه:

(وقد جعلت نفسي تطيب لضغمة … لضغمهماها يقرع العظم نابها)

ومما يرتفع فيه الاسم بالابتداء قولهم: ضربي زيداً قائماً، وأكثر شُربي السويق ملتوياً، وأخطب ما يكون الأمير قائماً. فضربي، وأكثر، وأخطب يرتفع بالابتداء وقائما سد مسد خبر المبتدإ والتقدير: ضربي زيداً إذ كان قائماً أو إذا كان قائماً. زمن ذلك قولهم:
সিবওয়াইহ আবৃত্তি করেছেন:

(এবং আমি আমার নফসকে একটি দংশনের জন্য প্রস্তুত করেছি … তাদের দংশনের জন্য যার ছেদক দাঁত হাড়কে চূর্ণ করে দেয়)

এবং যে সকল ক্ষেত্রে বিশেষ্য (اسم) প্রারম্ভিকতার (ابتداء) কারণে রফ (رفع) প্রাপ্ত হয়, তার মধ্যে তাদের এই কথাটি অন্যতম: "দণ্ডায়মান অবস্থায় যায়েদকে আমার প্রহার করা", "মিশ্রিত অবস্থায় ছাতুর শরবত আমার অধিক পান করা" এবং "আমির যখন দণ্ডায়মান থাকেন তখনই তার ভাষণ সবচেয়ে বেশি প্রাঞ্জল হওয়া"। এখানে "ضربي", "أكثر" এবং "أخطব" শব্দগুলো প্রারম্ভিকতার (ابتداء) কারণে রফ (رفع) প্রাপ্ত হয়েছে এবং "قائما" শব্দটি উদ্দেশ্যের (مبتدأ) বিধেয়-এর (خبر) স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। এর অন্তর্নিহিত বিশ্লেষণ (تقدير) হলো: "যায়েদ যখন দণ্ডায়মান ছিল তখন আমার তাকে প্রহার করা" অথবা "যখন সে দণ্ডায়মান হবে তখন"। এরই সময়কাল হলো তাদের এই কথাটি:
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
أقائم أخوك، وأذاهب الزيدان. فقائم، وذاهب يرتفعان بالابتداء وأخوك. والزيدان (يرتفعان) بفعلهما. وقد سد الفاعلان في كل واحد من المسألتين مسد خبر المبتدإ وحسن ذلك وجاز من حيث كان المعنى: أيقوم أخوك، وأيذهب الزيدان. ومما يرتفع بالابتداء قولهم: كل رجلٍ وضيعته [أي
তোমার ভাই কি দণ্ডায়মান? এবং দুই জায়েদ কি প্রস্থানকারী? এখানে 'দণ্ডায়মান' (قائم) এবং 'প্রস্থানকারী' (ذاهب) শব্দদ্বয় ইবতিদা (ابتداء) এর কারণে মারফু (مرفوع) হয়েছে এবং 'তোমার ভাই' (أخوك)। আর 'দুই জায়েদ' (الزيدان) (মারফু (مرفوع) হয়েছে) তাদের আমলের দ্বারা। উভয় মাসআলার প্রত্যেকটিতেই ফায়েল (فاعل) বা কর্তা মুবতাদা (مبتدأ)-এর খবরের (خبر) স্থলাভিষিক্ত হয়েছে; এবং এটি উত্তম ও বৈধ হয়েছে এই দিক থেকে যে, এর অর্থ দাঁড়ায়: 'তোমার ভাই কি দণ্ডায়মান হবে?' এবং 'দুই জায়েদ কি প্রস্থান করবে?'। আর ইবতিদা (ابتداء) এর কারণে মারফু (مرفوع) হওয়ার আরেকটি উদাহরণ হলো তাদের এই উক্তি: প্রত্যেক ব্যক্তি এবং তার সহায়-সম্পদ [অর্থাৎ...
(খণ্ড: ১) আল-ঈযাহুল আদুদী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
مع ضيعته] فكل رفع بالابتداء والخبر محذوف، وأنت أعلم وربك وحسن حذف الخبر حيث طال الكلام، وكان معنى الواو كمعنى "مع" وتقول: مررت برجل سواء والعدم، فتعطف العدم على المضمر في سواء والأحسن أن تؤكد. وإن شئت رفعت سواء فقلت: سواء هو والعدم، فيرتفع هو بالابتداء والعدم معطوف عليه. وسواء خبر مقدم. ومما يرتفع بالابتداء قولهم: زيد أضربه، وعمر لا تكرمه فزيد يرتفع [ها] هنا بالابتداء والأحسن فيه النصب. فأما زيد ضربته وزيد لم أضربه، فالاختيار فيه الرفع ويجوز فيه النصب على إضمار فعل يفسره هذا الظاهر.
[তার ক্ষতির সাথে] প্রতিটি রফ (رفع) ইবতিদা (ابتداء) এর কারণে হয়েছে এবং খবর (خبر) এখানে বিলুপ্ত (محذوف) রয়েছে। আপনি এবং আপনার রব অধিক অবগত—বাক্য দীর্ঘ হলে এবং ‘ওয়াও’ বর্ণটি ‘সাথে’ (مع) এর অর্থ প্রদান করলে খবর (خبر) বিলোপ করা উত্তম। আপনি বলতে পারেন: ‘আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যার নিকট অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব সমান’; এখানে ‘সাওয়াহ’ (سواء) এর অন্তর্গত গোপন (مضمر) সর্বনামের ওপর ‘অনস্তিত্ব’ শব্দটিকে আতফ করা হয়েছে, তবে তাকিদ প্রদান করাই উত্তম। আপনি চাইলে ‘সাওয়াহ’ শব্দটিকে রফ (رفع) প্রদান করে বলতে পারেন: ‘তার নিকট অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব সমান’, এমতাবস্থায় ‘হুয়া’ (هو) সর্বনামটি ইবতিদা (ابتداء) এর কারণে রফ (رفع) প্রাপ্ত হবে এবং ‘অনস্তিত্ব’ শব্দটি তার ওপর আতফ (معطوف) হবে; আর ‘সাওয়াহ’ শব্দটি অগ্রবর্তী খবর (خبر مقدم) হিসেবে গণ্য হবে। ইবতিদা (ابتداء) এর মাধ্যমে রফ (رفع) হওয়ার আরও কিছু উদাহরণ হলো তাদের উক্তি: ‘যায়েদ, আমি তাকে প্রহার করছি’ এবং ‘আমর, তুমি তাকে সম্মান করো না’। এখানে ‘যায়েদ’ শব্দটি [এই] স্থানে ইবতিদা (ابتداء) এর কারণে রফ (رفع) হয়েছে, তবে এক্ষেত্রে নসব (نصب) হওয়াই উত্তম। পক্ষান্তরে, ‘আমি যায়েদকে প্রহার করেছি’ এবং ‘আমি যায়েদকে প্রহার করিনি’—এর ক্ষেত্রে রফ (الرفع) হওয়াই পছন্দনীয়। তবে এখানে একটি উহ্য রাখা (إضمار) ক্রিয়ার ভিত্তিতে নসব (النصب) হওয়াও বৈধ, যা এই প্রকাশ্য ক্রিয়া দ্বারা ব্যাখ্যায়িত হয়।