(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أسرار الكون = الهيئة السنية في الهيئة السنية (الجلال السيوطي)
القسم: الفقه العام
الكتاب: أسرار الكون = الهيئة السَّنِية في الهيئة السُّنِّية
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م
عدد الصفحات: 112
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আসরারুল কাওন = আল-হাইআতুস সানিয়্যাহ ফিল হাইআতিস সুন্নিয়্যাহ (সুন্নাহর আলোকে জ্যোতির্বিজ্ঞান) (আল-জালাল আল-সুয়ূতী)
বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: আসরারুল কাওন = আল-হাইআতুস সানিয়্যাহ ফিল হাইআতিস সুন্নিয়্যাহ
লেখক: আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর، জালালুদ্দিন আল-সুয়ূতী (মৃত ৯১১ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণকপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم اللَّهِ الرحمن الرحيم.الحمد لله الذي علمنا ما لم نكن نعلم، وصلى الله على سيد الخلق محمد وعلى آله وصحبه وسلم.هذا كتاب في علم الهيئة، اقتبسته من الآثار، وتتبعته من الأخبار، ليبتهج به أولو النهى، ويعتبر به أولو الأبصار وسميته: (الهيئة السنية في الهيئة السنية) والله أسأل حسن النية، وخاتمة مرضية.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের তা শিক্ষা দিয়েছেন যা আমরা জানতাম না, এবং সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ সত্তা মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সঙ্গী-সাথীদের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।এটি জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক একটি গ্রন্থ, যা আমি বিভিন্ন বর্ণনা (الآثار) থেকে গ্রহণ করেছি এবং সংবাদসমূহ (الأخبار) হতে অনুসন্ধান করে সঙ্কলন করেছি, যাতে প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিগণ এর দ্বারা আনন্দিত হন এবং অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ শিক্ষা গ্রহণ করেন। আমি এর নাম দিয়েছি: 'আল-হায়আতুস সানিয়্যাহ ফিল হায়আতিল সুন্নিয়্যাহ'। আমি আল্লাহর নিকট উত্তম নিয়ত এবং সন্তোষজনক পরিণতির প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
باب ما ورد في العرش والكرسيقال تعالى: (وَهُوَ رَبُّ العَرشِ العَظيمِ) ، وقال: (وَسِعَ كُرسِيُّهُ السَمَواتِ والأَرضَ) . العرش والكرسي من نور اللهأخرج ابن أبي حاتم، وأبو الشيخ في كتاب العظمة عن وهب بن منبه قال: (إِن اللَهَ تعالى خلق العرش والكرسي من نوره؛ فالعرش ملتصق بالكرسي، والماء في جوف الكرسي، وحول العرش أربعة أنهار: نهر من نور يتلألأ، ونهر من نار تتلظى، ونهر من ثلج أبيض، تلتمع
আরশ ও কুরসি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়মহান আল্লাহ বলেন: (এবং তিনি মহান আরশের রব), এবং তিনি বলেন: (তাঁর কুরসি আসমানসমূহ ও জমিন পরিব্যাপ্ত করে আছে)। আরশ ও কুরসি আল্লাহর নূর থেকেইবনে আবি হাতিম এবং আবুশ শাইখ ‘কিতাবুল আজামাহ’ গ্রন্থে ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে সংকলন করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর নূর থেকে আরশ ও কুরসি সৃষ্টি করেছেন; আরশ কুরসির সাথে সংলগ্ন, আর পানি কুরসির অভ্যন্তরে রয়েছে। আরশের চারপাশে চারটি নদী রয়েছে: একটি নূরের নদী যা ঝিলমিল করছে, একটি আগুনের নদী যা প্রজ্বলিত হচ্ছে এবং একটি শ্বেত তুষারের নদী যা চমকাচ্ছে...
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
منه الأبصار، ونهر من ماء، والملائكة قيام في تلك الأنهار، يسبحون الله تعالى، وللعرش ألسنة بعدد ألسنة الخلق كلهم، فهو يسبح الله تعالى، ويذكره بتلك الألسنة) .وأخرج ابن أبي حاتم، وأبو الشيخ عن سعد الطائي قال: (العرش ياقوتة حمراء) .وأخرج سعيد بن منصور، وأبو الشيخ عن مجاهد قال: (ما أخذت السموات والأرض من العرش إلا كما تأخذ الحلقة من أرض
...তা থেকে দৃষ্টিসমূহ, এবং পানির একটি নহর; আর ফেরেশতারা সেই নহরগুলোতে দণ্ডায়মান হয়ে মহান আল্লাহর পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা করছেন। আরশের জন্য সমস্ত সৃষ্টির জিহ্বার সমান সংখ্যক জিহ্বা রয়েছে, যা দিয়ে সেটি মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করে এবং সেই জিহ্বাগুলো দ্বারা তাঁর জিকির করে।ইবনে আবি হাতেম এবং আবু আল-শায়খ সা'দ আল-তাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেছেন: (আরশ হলো একটি লাল ইয়াকুত পাথর)।সাঈদ ইবন মনসুর এবং আবু আল-শায়খ মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেছেন: (আসমান ও জমিন আরশের তুলনায় কেবল তেমনই, যেমন কোনো বিস্তীর্ণ প্রান্তরে একটি আংটি)।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فلاة) . أربعة خلقوا بيد اللهوأخرج أبو الشيخ عن ابن عمر قال: (خلق الله أربعة أشياء بيده: آدم، والعرش، والقلم، وجنة عدن، وقال لسائر الخلق كن فكان) .وأخرج أبو الشيخ عن ابن عباس قال: (ما يقدر قدر العرش إلا الذي خلقه، وإن السموات في خلق العرش مثل قبة في صحراء) .
বিজন মরুভূমি) । আল্লাহর হাত দ্বারা সৃষ্ট চারটি বস্তুআবু আল-শেখ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: (আল্লাহ তাআলা চারটি বস্তু নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন: আদম, আরশ, কলম এবং আদন জান্নাত; আর অবশিষ্ট সৃষ্টির জন্য তিনি বললেন ‘হও’, ফলে তা হয়ে গেল) ।আবু আল-শেখ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: (আরশের যথার্থ মহিমা কেবল তিনিই নিরূপণ করতে পারেন যিনি একে সৃষ্টি করেছেন। আর আরশের বিশালত্বের তুলনায় আসমানসমূহ একটি বিজন মরুভূমিতে স্থাপিত একটি গম্বুজের ন্যায়) ।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأخرج الطبراني وأبو الشيخ بسند صحيح عن عبد الله بن عمرو بن العاص قال: (إن العرش مطوق بحية، والوحي ينزل في السلاسل) .وأخرج أبو الشيخ عن الشعبي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (العرش من ياقوتة حمراء، وإن ملكا من الملائكة نظر إليه وغلى عظمه، فأوحى الله إليه: إني قد جعلت فيك قوة سبعين ألف ملك، لكل ملك سبعون ألف جناح، فطر، فطار الملك بما فيه من القوة والأجنحة ما شاء الله أن يطير، فوق، فنظر فكأنه لم يسر) .وأخرج عن مجاهد قال: (ما موضع كرسيه من العرش إلا مثل حلقة في أرض فلاة) .وأخرج عن الربيع بن أنس في قوله تعالى: (وَالسَّقفِ
তাবারানি এবং আবু আশ-শাইখ একটি সহিহ (صحيح) সনদে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (নিশ্চয়ই আরশ একটি সাপ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং ওহি শৃঙ্খলের ঝংকারের ন্যায় শব্দে অবতীর্ণ হয়)।আবু আশ-শাইখ আশ-শা’বি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আরশ লাল ইয়াকুত পাথর দ্বারা নির্মিত। ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা সেটির দিকে তাকালেন এবং এর বিশালত্ব দেখে অভিভূত হলেন। তখন আল্লাহ তার প্রতি ওহি পাঠালেন: ‘আমি তোমার মধ্যে সত্তর হাজার ফেরেশতার শক্তি দান করেছি এবং প্রতিটি ফেরেশতার রয়েছে সত্তর হাজার করে ডানা; সুতরাং তুমি উড়তে থাকো।’ অতঃপর সেই ফেরেশতা তার যাবতীয় শক্তি ও ডানা নিয়ে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী যতক্ষণ সম্ভব উড়লেন; এরপর তিনি থামলেন এবং লক্ষ্য করলেন যে, তিনি যেন বিন্দুমাত্র পথও অতিক্রম করতে পারেননি)।মুজাহিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: (আরশের তুলনায় কুরসির অবস্থান যেন এক বিশাল মরুভূমিতে পড়ে থাকা একটি আংটির মতো)।আর-রবি ইবনে আনাস থেকে মহান আল্লাহর বাণী: (এবং সুউচ্চ ছাদ) এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المَرفوعِ) قال: هو العرش (وَالبَحرِ المَسجورِ) قال: الماء الأعلى الذي تحت العرش.وأخرج سعيد بن منصور وعبد الرزاق وابن أبي حاتم عن علي بن أبي طالب في قوله تعالى: (وَالبَحرِ المَسجورِ) قال: بحر تحت العرش.
(উন্নত ছাদ/المرفوع) প্রসঙ্গে তিনি বলেন: এটি হলো আরশ। (এবং উত্তাল সমুদ্র/والبحر المسجور) সম্পর্কে তিনি বলেন: এটি হলো আরশের নিচে অবস্থিত ঊর্ধ্বস্থিত পানি।সাঈদ বিন মনসুর, আব্দুর রাজ্জাক এবং ইবনে আবি হাতিম আলী ইবনে আবি তালিব থেকে মহান আল্লাহর বাণী— “(এবং উত্তাল সমুদ্র/والبحر المسجور)” প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন (أخرج); তিনি বলেন: এটি আরশের নিচে অবস্থিত একটি সমুদ্র।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وأخرج أبو الشيخ عن حماد قال: (خلق الله العرش من زمردة خضراء، وخلق له أربعة قوائم من ياقوتة حمراء، وخلق له ألف لسان، وخلق في الأرض ألف أمة، كل أمة تسبح الله بلسان من ألسنة العرش) .
আবুশ শায়খ হাম্মাদ থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: (আল্লাহ তাআলা আরশকে একটি সবুজ পান্না দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, এবং এর জন্য লাল ইয়াকুত পাথরের চারটি স্তম্ভ তৈরি করেছেন, আর এর জন্য এক হাজারটি জিহ্বা সৃষ্টি করেছেন, এবং পৃথিবীতে এক হাজার জাতি সৃষ্টি করেছেন; প্রতিটি জাতি আরশের জিহ্বাগুলোর মধ্য থেকে একটি জিহ্বার মাধ্যমে আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে)।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وأخرج - بسند واه - عن محمد بن علي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (الكرسي لؤلؤ، والقلم لؤلؤ، وطول القلم سبعمائة سنة، وطول الكرسي حيث لا يعلمه إلا العالمون) .(؟ وَكانَ عَرشُهُ عَلى الماءِ) : وأخرج ابن أبي حاتم، وأبو الشيخ عن الربيع ابن أنس رضي الله عنه قال: (وَكانَ عَرشُهُ عَلَى الماءِ) قال: (لما خلق الله السموات والأرض قسم الماء الذي كان عليه عرشه قسمين، فجعل نصفه تحت العرش
এবং তিনি—একটি অত্যন্ত দুর্বল (واه) সনদ (سند) এর মাধ্যমে—মুহাম্মাদ ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (কুরসি হলো মুক্তা এবং কলম হলো মুক্তা; কলমের দৈর্ঘ্য সাতশত বছর এবং কুরসির দৈর্ঘ্য এমন যা কেবল মহাজ্ঞানীগণই অবগত আছেন)।(এবং তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর): ইবনে আবি হাতিম এবং আবু আল-শাইখ রাবি ইবনে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (এবং তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর) আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: (যখন আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি সেই পানিকে দুই ভাগে বিভক্ত করলেন যার ওপর তাঁর আরশ ছিল। অতঃপর তিনি এর অর্ধেক আরশের নিচে স্থাপন করলেন...)
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وهو البحر المسجور، فلا تقطر منه قطرة حتى ينفخ في الصور فينزل مثل الطل فتنبت منه الأجسام وجعل النصف الآخر تحت الأرض السفلى) .وأخرج ابن أبي حاتم، وأبو الشيخ من طريق السدى عن أبي مالك قال: (الكرسي تحت العرش) .وأخرج ابن جرير وابن مردويه وأبو الشيخ عن أبي ذر قال: قال رسول
এটি হলো উদ্বেলিত সমুদ্র, যেখান থেকে সিঙায় ফুৎকার না দেওয়া পর্যন্ত এক ফোঁটাও ঝরবে না। অতঃপর তা শিশিরের ন্যায় বর্ষিত হবে এবং তা থেকে দেহসমূহ উৎপন্ন হবে। আর এর অপর অর্ধাংশ রাখা হয়েছে সর্বনিম্ন ভূমির নিচে।ইবনে আবি হাতিম এবং আবু আল-শাইখ আস-সুদ্দির সূত্র (طريق) থেকে আবু মালিকের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: (কুরসি আরশের নিচে অবস্থিত)।ইবনে জারির, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং আবু আল-শাইখ আবু যর থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল বলেছেন
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الله صلى الله عليه وسلم: (يا أبا ذر ما السموات السبع في الكرسي إلا كحلقة ملقاة في أرض فلاة، وفضل العرش على الكرسي كفضل الفلاة على تلك الحلقة) .وأخرج ابن جرير عن الضحاك قال: (كرسيه الذي يوضع تحت العرش، الذي يجعل الملوك عليه أقدامهم) .وأخرج الفريابي، وابن أبي حاتم، والطبراني، والحاكم في المستدرك وصححه على شرط الشيخين عن ابن عباس قال: (الكرسي موضع القدمين، وله أطيط، والعرش لا يقدر أحد قدره) .وأخرج ابن جرير، وابن المنذر عن أبي موسى الأشعري قال: (الكرسي موضع القدمين، وله أطيط كأطيط الرحل) .
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (হে আবু যার, কুরসির তুলনায় সাত আসমান একটি বিশাল মরুভূমিতে পড়ে থাকা একটি আংটির মতো; আর কুরসির ওপর আরশের শ্রেষ্ঠত্ব হলো সেই আংটির ওপর বিশাল মরুভূমির শ্রেষ্ঠত্বের মতো)।এবং ইবনে জারির আদ-দাহহাক থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেছেন: (কুরসি হলো তা যা আরশের নিচে রাখা হয়, যেখানে বাদশাহগণ তাঁদের পা রাখেন)।এবং আল-ফিরইয়াবি, ইবনে আবি হাতিম, আত-তাবারানি এবং আল-হাকিম তাঁর আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা (أخرج) করেছেন এবং শাইখাইনের শর্ত (شرط) অনুযায়ী এটিকে সহিহ (صححه) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: (কুরসি হলো দু’পা রাখার স্থান এবং এর একটি মড়মড় শব্দ রয়েছে; আর আরশের মাহাত্ম্য কেউ পরিমাপ করতে সক্ষম নয়)।এবং ইবনে জারির ও ইবনে আল-মুনজির আবু মুসা আল-আশআরি থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেছেন: (কুরসি হলো দু’পা রাখার স্থান এবং উটের জিনের শব্দের ন্যায় এর একটি মড়মড় শব্দ রয়েছে)।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قلت قوله: موضع القدمين استعارة وتمثيل بملوك الدنيا كما أوضحته رواية الضحاك عن ابن عباس.قال: (لو أن السموات، والأرضين السبع بسطن ثم وصلن بعضهن إلى بعض ما كن في سعة الكرسي إلا بمنزلة الحلقة في المفازة) .وأخرج ابن جرير، وابن أبي حاتم، وابن المنذر عن السدى قال: (إن السموات والأرض في جوف الكرسي والكرسي بين يدي العرش وهو موضع قدميه) .وأخرج ابن جرير عن الضحاك قال: (كان الحق يقول: الكرسي هو العرش) . باب ما بين العرش والسماء السابعة
আমি বলছি, তাঁর কথা: ‘উভয় কদমের স্থান’ বিষয়টি একটি রূপক (استعارة) এবং পার্থিব রাজাদের সাথে তুলনা (تمثيل), যেমনটি ইবনে আব্বাস থেকে দাহহাকের বর্ণনা (رواية) দ্বারা স্পষ্ট হয়েছে।তিনি বলেছেন: (যদি সাত আসমান এবং সাত জমিনকে প্রসারিত করা হয়, অতঃপর একটির সাথে অন্যটিকে যুক্ত করা হয়, তবে কুরসির প্রশস্ততার তুলনায় তা মরুভূমিতে পড়ে থাকা একটি আংটির মতোই হবে)।ইবনে জারির, ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনুল মুনযির সুদ্দী থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: (নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও জমিন কুরসির অভ্যন্তরে রয়েছে এবং কুরসি আরশের সামনে অবস্থিত, আর তা হলো তাঁর উভয় কদমের স্থান)।ইবনে জারির দাহহাক থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: (আল-হাক্ব বলতেন: কুরসিই হলো আরশ)। আরশ এবং সপ্তম আসমানের মধ্যবর্তী বিষয়ের পরিচ্ছেদ (باب)
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
حجب اللهأخرج أبو الشيخ من طريق عن ابن عمر، ومن طريق آخر عن مجاهد قال: (بين العرش وبين الملائكة سبعون حجابا، حجاب من نار، وحجاب من ظلمة، وحجاب من نور، وحجاب من ظلمة، وحجاب من نور، وحجاب من ظلمة) .وأخرج عن مجاهد قال: (بين العرش والملائكة سبعون ألف حجاب من نور) . يا جبريل هل رأيت ربكوأخرج أبو الشيخ عن زرارة بن أوفى قال: إن النبي صلى الله عليه وسلم سأل جبريل: هل رأيت ربك فانتفض وقال: (إن بيني وبينه سبعين حجابا من نور لو دنوت من أدناها لاحترقت) .وأخرج موصولا من حديث أنس مثله.
আল্লাহর পর্দাগুলোআবু আল-শেখ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত একটি সূত্রের (طريق) মাধ্যমে এবং মুজাহিদ থেকে বর্ণিত অপর একটি সূত্রের (طريق) মাধ্যমে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: (আরশ এবং ফেরেশতাদের মধ্যে সত্তরটি পর্দা রয়েছে; আগুনের পর্দা, অন্ধকারের পর্দা, আলোর পর্দা, অন্ধকারের পর্দা, আলোর পর্দা এবং অন্ধকারের পর্দা)।এবং তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: (আরশ এবং ফেরেশতাদের মধ্যে সত্তর হাজার আলোর পর্দা রয়েছে)। হে জিবরাঈল! আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন?আবু আল-শেখ যুরারাহ ইবনে আওফা থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈলকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? তখন তিনি প্রকম্পিত হলেন এবং বললেন: (নিশ্চয়ই আমার এবং তাঁর মধ্যে সত্তরটি আলোর পর্দা রয়েছে, যদি আমি তার নিকটতম পর্দার কাছে যেতাম তবে অবশ্যই পুড়ে যেতাম)।এবং তিনি আনাস-এর হাদিস থেকে অনুরূপ একটি সংযুক্ত (موصولا) বর্ণনা (أخرج) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وأخرج أبو الشيخ من طريق عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال: (احتجب الله عن جميع خلقه بأربع بنار وظلمة، ثم بنور وظلمة من فوق السموات السبع، والبحر الأعلى فوق ذلك كله، تحت العرش) .وأخرج أبو الشيخ عن سهل بن سعد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (دون الله سبعون ألف حجاب من نور وظلمة، وما تسمع نفس شيئا من حس تلك الحجب إلا زهقت نفسه) .
আবু আশ-শাইখ আমর ইবন শুআইবের সূত্র (طريق) থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেছেন: (আল্লাহ তাআলা তাঁর সমস্ত সৃষ্টি থেকে চারটি পর্দার মাধ্যমে নিজেকে আবৃত রেখেছেন: আগুন ও অন্ধকার, অতঃপর নূর ও অন্ধকার, যা সাত আসমানের উপরে অবস্থিত; আর এই সবকিছুর উপরে রয়েছে সুউচ্চ সমুদ্র, যা আরশের নিচে অবস্থিত)। এবং আবু আশ-শাইখ সাহল ইবন সা'দ থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আল্লাহর সামনে সত্তর হাজার নূর ও অন্ধকারের পর্দা রয়েছে; কোনো প্রাণী যদি সেই পর্দাগুলোর সামান্যতম শব্দও শোনে, তবে অবশ্যই তার প্রাণ বিয়োগ ঘটবে)।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أنواع الحجبوأخرج عن القرظي قال: (بلغنا أن بين الجبار - عزوجل - وبين أدنى خلقه أربعة حجب، ما بين كل حجابين كما بين السماء والأرض، حجاب من ظلمة، وحجاب من نور، وحجاب من ماء، وحجاب من نار بيضاء) . كم المسافة بين الحجاب والحجابوأخرج عن وهب بن منبه قال: (بين ملائكة حملة الكرسي، وبين ملائكة العرش، سبعون حجابا من الظلمة وسبعون حجابا من البرد، وسبعون حجابا من الثلج، وسبعون حجابا من النور، غلظ كل حجاب منها مسيرة خمسمائة عام، ومن الحجاب إلى الحجاب مسيرة خمسمائة عام) .وأخرج أبو الشيخ - بسند ضعيف - عن ابن عباس قال: (من السماء السابعة إلى العرش مسيرة ستة وثلاثين ألف عام) .
পর্দার প্রকারভেদআল-কুরাজি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: (আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, মহাপরাক্রমশালী —মহান ও পরাক্রমশালী— এবং তাঁর সৃষ্টির নিম্নস্তরের মাঝে চারটি পর্দা রয়েছে। প্রত্যেক দুই পর্দার মধ্যবর্তী দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়; অন্ধকারের পর্দা, আলোর পর্দা, পানির পর্দা এবং শ্বেত অগ্নির পর্দা)। এক পর্দা থেকে অন্য পর্দার দূরত্ব কতটুকুওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: (কুরসি বহনকারী ফেরেশতাগণ এবং আরশের ফেরেশতাগণের মাঝে সত্তরটি অন্ধকারের পর্দা, সত্তরটি শীতলতার পর্দা, সত্তরটি বরফের পর্দা এবং সত্তরটি আলোর পর্দা রয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটি পর্দার স্থূলতা পাঁচশত বছরের পথ এবং এক পর্দা থেকে অন্য পর্দার দূরত্ব পাঁচশত বছরের পথ)।আবু আল-শায়খ —একটি দুর্বল (ضعيف) সূত্রের (سند) মাধ্যমে— ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (সপ্তম আসমান থেকে আরশ পর্যন্ত ছত্রিশ হাজার বছরের পথ)।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
نور الشمس ونور العرشوأخرج عن عكرمة قال: (الشمس جزء من سبعين جزءا من نور الكرسي، والكرسي جزء من سبعين جزءا من نور العرش) .
সূর্যের জ্যোতি এবং আরশের জ্যোতিইকরিমা থেকে বর্ণিত (أخرج) হয়েছে, তিনি বলেন: (সূর্য হলো কুরসির জ্যোতির সত্তর ভাগের এক ভাগ, এবং কুরসি হলো আরশের জ্যোতির সত্তর ভাগের এক ভাগ)।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
باب ما جاء في اللوح والقلمقال تعالى: (في لَوحٍ مَحفوظ) ، وقال: (ن وَالقَلمِ) . وصف اللوح المحفوظأخرج أبو الشيخ - بسند جيد - عن ابن عباس قال: (خلق الله اللوح المحفوظ كمسيرة مائة عام، وقال للقلم - قبل أن يخلق الخلق وهو على العرش: اكتب.. فقال القلم: وما أكتب؟ قال: علمي في خلقي، فجرى بما هو كائن
লাওহ (ফলক) ও কলম সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিচ্ছেদমহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: (সংরক্ষিত ফলকে), এবং তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: (নুন, শপথ কলমের)। লাওহে মাহফুজের বিবরণআবুশ শায়খ একটি উত্তম (جيد) সনদ (سند) সহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (আল্লাহ তাআলা লাওহে মাহফুজ সৃষ্টি করেছেন যা একশ বছরের পথ চলার দূরত্বের সমান; তিনি কলমকে—সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পূর্বে যখন তিনি আরশের উপর ছিলেন—বললেন: 'লেখো'। কলম আরজ করল: 'আমি কী লিখব?' তিনি বললেন: 'আমার সৃষ্টিজগত সম্পর্কে আমার জ্ঞান।' ফলে যা কিছু ঘটবে তা কলম লিখে ফেলল।)
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
إلى يوم القيامة) . وصف القلموأخرج أبو الشيخ من طرق عن مالك بن دينار عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن لله لوحا، أحد وجهيه ياقوتة، والوجه الثاني زمردة خضراء، قلمه النور، فيه يخلق، وفيه يرزق، وفيه يحيى، وفيه يميت، وفيه يعز، وفيه يفعل ما يشاء في كل يوم وليلة) .وأخرج أبو الشيخ والطبراني من طريق سعيد بن جبير عن ابن عباس قال: (إن الله خلق من درة بيضاء، دفتاه من ياقوتة حمراء وزبرجد، قلمه نور، وكتابه نور ينظر منه كل يوم ثلاثمائة وستين نظرة، يخلق فيها ويرزق، ويعز ويذل، ويفعل ما يشاء) . لا إله إلا الله تدخل الجنةوأخرج أبو الشيخ عن طريق أبي ظلال عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن لله لوحا من زبرجدة خضراء، جعله تحت العرش، وكتب فيه: إني أنا الله لا إله إلا أنا، أرحم وأترحم، جعلت بضعة عشر وثلاثمائة خلق، من جاء بخُلُق منها مع شهادة أن لا إله إلا الله دخل الجنة) . في اللوح ثلاثمائة وخمس عشرة شريعةوأخرج البيهقي في الشعب عن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله لعيه وسلم: (إن بين يدي الله لوحا فيه ثلاثمائة وخمس عشرة شريعة، يقول الرحمن: وعزتي وجلالي لا يأتيني عبد من عبادي
কিয়ামত দিবস পর্যন্ত) । কলমের বর্ণনাআবুশ শাইখ মালিক ইবনে দিনার হতে আনাস (রা.)-এর সূত্রে বিভিন্ন পথসমূহ (طرق)-এর মাধ্যমে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহর একটি লওহ বা ফলক রয়েছে, যার এক পাশ ইয়াকুত পাথর এবং অপর পাশ সবুজ পান্না দিয়ে তৈরি। তার কলম হলো নূর বা আলো। এতেই তিনি সৃষ্টি করেন, এতেই রিযিক দান করেন, এতেই জীবন দান করেন, এতেই মৃত্যু দেন, এতেই সম্মানিত করেন এবং এতেই তিনি প্রতিদিন ও রাতে যা ইচ্ছা তা-ই করেন) ।আবুশ শাইখ এবং তাবারানি সাঈদ ইবনে জুবায়ের হতে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, তিনি বলেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ একটি সাদা মুক্তা থেকে [ফলকটি] সৃষ্টি করেছেন, যার দুই কপাট লাল ইয়াকুত ও যবরজদ পাথর দিয়ে নির্মিত। তার কলম হলো নূর এবং তার লিপি হলো নূর। তিনি প্রতিদিন এতে তিনশ ষাট বার দৃষ্টিপাত করেন; তাতে তিনি সৃষ্টি করেন ও রিযিক দান করেন, সম্মানিত করেন ও লাঞ্ছিত করেন এবং যা ইচ্ছা তা-ই করেন) । 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' জান্নাতে প্রবেশ করায়আবুশ শাইখ আবু যিলাল-এর সূত্র (طريق)-এর মাধ্যমে আনাস (রা.) হতে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহর সবুজ যবরজদ পাথরের একটি লওহ বা ফলক রয়েছে, যা তিনি আরশের নিচে রেখেছেন। তাতে তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন: নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, আমি দয়ালু এবং অত্যন্ত দয়াশীল। আমি তিনশ তেরো প্রকার স্বভাব সৃষ্টি করেছি। যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সাক্ষ্যের সাথে এর মধ্য থেকে কোনো একটি স্বভাব নিয়ে উপস্থিত হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে) । লওহ-এ তিনশ পনেরোটি শরিয়ত রয়েছেবাইহাকি শুয়াবুল ঈমান-এ আবু সাঈদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহর সম্মুখে একটি লওহ বা ফলক রয়েছে যাতে তিনশ পনেরোটি শরিয়ত (شريعة) লিপিবদ্ধ আছে। রহমান বলেন: আমার ইজ্জত ও প্রতাপের কসম, আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এমন কোনো বান্দা আমার কাছে আসবে না...
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
لا يشرك بي شيئا - فيه واحدة منكن - إلا أدخلته الجنة) .وأخرج ابن جرير، وأبو الشيخ في تفسيره قال: (إن الله كان عرشه على الماء، وخلق السموات والأرض بالحق، وخلق القلم، فكتب به ما هو خالق، وما هو كائن من خلقه، ثم إن ذلك الكتاب سبح الله ومجده ألف عام قبل أن يخلق شيئا من الخلق) . القلم هو أول شيء خلقوأخرج أبو يعلى - بسند حسن - عن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أول شيء خلقه الله تعالى القلم، وأمره أن يكتب كل شيء) . ماذا يكتب القلموأخرح الطبراني - بسند حسن - عن ابن عباس قال: (إن الله خلق العرش فاستوى عليه،
আমার সাথে কোনো কিছু শরিক করে না—তোমাদের মধ্যে এমন কেউ—তবে আমি অবশ্যই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব)।ইবনে জারির এবং আবুশ শাইখ তাঁর তাফসির গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহর আরশ পানির উপরে ছিল, এবং তিনি সত্যের সাথে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, আর তিনি কলম সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি তার মাধ্যমে যা কিছু তিনি সৃষ্টি করবেন এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যা কিছু ঘটবে তা লিপিবদ্ধ করেছেন। এরপর সেই কিতাব কোনো কিছু সৃষ্টির এক হাজার বছর পূর্ব থেকে আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করেছে)। কলমই সর্বপ্রথম সৃষ্টিআবূ ইয়ালা—হাসান (حسن) সনদ (سند) সহকারে—ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম, এবং তিনি তাকে সবকিছু লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন)। কলম কী লিখবেআত-তাবারানি—হাসান (حسن) সনদ (سند) সহকারে—ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ আরশ সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তার ওপর সমাসীন হয়েছেন,
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ثم خلق القلم فأمره أن يجري بإذنه، وعظم القلم ما بين السماء والأرض فقال: بم أجري يا رب قال: بما أنا خالق وكائن في خلقي: من قطر أو نبات، أو خير أو شر - يعني به العمل - أو رزق أو أجل؛ فجرى القلم بما هو كائن إلى يوم القيامة، فأثبته الله في الكتاب المكنون عنده تحت العرش) . القلم خلقه الله من نوروأخرج أبو الشيخ عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إن الله تبارك وتعالى أول شيء خلق، خلق القلم وهو من نور مسيرة خمسمائة عام، فأمره فجرى بما هو كائن إلى يوم القيامة) .وأخرج عن مجاهد قال: (خلق الله اليراع أول ما خلق من الأشياء - واليراع القصب - ثم خلق القلم من ذلك اليراع ثم قال: اكتب ما يكون إلى
অতঃপর তিনি কলম সৃষ্টি করলেন এবং সেটিকে তাঁর অনুমতিক্রমে চলার নির্দেশ দিলেন। আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানের ন্যায় কলমটি বিশালাকার ধারণ করল। সে আরজ করল: হে আমার প্রতিপালক! আমি কী লিখব? তিনি বললেন: আমি যা কিছু সৃষ্টি করব এবং আমার সৃষ্টিতে যা কিছু ঘটবে—তা বৃষ্টির ফোঁটা হোক বা উদ্ভিদ, কল্যাণ হোক বা অকল্যাণ (অর্থাৎ আমল), কিংবা রিজিক অথবা আয়ু—সব লিখে ফেলো। ফলে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে কলম তা লিখে ফেলল এবং আল্লাহ তা তাঁর নিকট আরশের নিচে অবস্থিত সুরক্ষিত কিতাবে লিপিবদ্ধ করলেন। আল্লাহ কলমকে নূর থেকে সৃষ্টি করেছেনআবুশ শায়খ ইবনে উমর (রা.)-এর সূত্রে নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম। এটি পাঁচশত বছরের পথ সমপরিমাণ নূর দ্বারা তৈরি। অতঃপর তিনি একে আদেশ দিলেন এবং এটি কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তা লিখে চলল।"এবং তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলা সবকিছুর আগে ইয়ারায়—যা মূলত নলখাগড়া—সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর সেই ইয়ারায় থেকে কলম সৃষ্টি করেন এবং বলেন: যা কিছু ঘটবে তা লিখো..."
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
يوم القيامة) .وأخرج - بسند واه - عن ابن عباس قال: (أول شيء خلق الله عزوجل العرش من نور، ثم الكرسي، ثم لوحا محفوظا من درة بيضاء، دفتاه من ياقوتة حمراء، قلمه نور، وكتابه نور، ينظر الله عزوجل فيه كل يوم ثلاثمائة وستين نظرة، يخلق في كل نظرة، ويحيى ويميت، ويعز ويذل، ويرفع أقواما، ويخفض أقواما، ويفعل ما يشاء، ويحكم ما يريد، وخلق قلما من نور، طوله خمسمائة عام، وعرضه خمسمائة عام قبل أن يخلق الخلق، وقال للقلم:) اكتب، قال: وما أكتب قال: اكتب علمي في خلقي إلى أن تقوم الساعة، فجرى القلم بما هو كائن في علم الله إلى يوم القيامة، إن كتاب ذلك العلم على الله يسير هين، وسنة القلم مشقوقة، ينبع منه المدد (.
কেয়ামতের দিন)।এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে একটি অত্যন্ত দুর্বল (واهٍ) সনদে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: (মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম নূর থেকে আরশ সৃষ্টি করেছেন, তারপর কুরসি, এরপর শ্বেত মুক্তার একটি সংরক্ষিত ফলক, যার দুই পার্শ্ব লাল ইয়াকুত পাথরের; এর কলম নূরের এবং এর লিপিও নূরের। মহান আল্লাহ এতে প্রতিদিন তিনশত ষাট বার দৃষ্টিপাত করেন; প্রতিটি দৃষ্টিপাতে তিনি সৃষ্টি করেন, জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, সম্মানিত করেন ও লাঞ্ছিত করেন, কোনো জাতিকে সমুন্নত করেন ও কোনো জাতিকে অবনত করেন; তিনি যা চান তা-ই করেন এবং যা ইচ্ছা করেন সেই ফয়সালাই দেন। আর তিনি নূর থেকে একটি কলম সৃষ্টি করেছেন, মাখলুকাত সৃষ্টির পাঁচশত বছর আগে যার দৈর্ঘ্য ছিল পাঁচশত বছর এবং প্রস্থ ছিল পাঁচশত বছর। তিনি কলমকে বললেন: লেখো। কলম বলল: আমি কী লিখব? তিনি বললেন: কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত আমার সৃষ্টিজগত সম্পর্কে আমার জ্ঞান লিখে ফেলো। অতঃপর আল্লাহর জ্ঞানে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হওয়ার ছিল, কলম তা লিখে ফেলল। নিশ্চয়ই সেই জ্ঞান লিপিবদ্ধ করা আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ ও অনায়াস। আর কলমের নিবটি দ্বিখণ্ডিত, যা থেকে কালি নির্গত হয়)।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
باب ما ورد في السموات السبع والأرضين السبعقال الله تعالى:) الَّذي خَلَقَ سَبعَ سَمَواتٍ وَمِنَ الأَرضِ مِثلَهُنّ (.أخرج ابن مردويه في مسنده، وأبو الشيخ والبزار بسند صحيح عن أبي ذر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) ما بين السماء والأرض مسيرة خمسمائة عام، وغلظ كل منهما مسيرة خمسمائة عام، كذلك إلى السماء السابعة، والأرضين مثل ذلك، وما بين السماء السابعة إلى العرش مثل جميع ذلك (.
সাত আসমান ও সাত জমিন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়মহান আল্লাহ বলেন: "যিনি সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান এবং পৃথিবীও সেই পরিমাণে।"ইবনে মারদুইয়াহ তার মুসনাদ গ্রন্থে এবং আবুশ শাইখ ও আল-বাজার একটি সহিহ (صحيح) সনদে আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশ বছরের পথ এবং এগুলোর প্রত্যেকটির পুরুত্ব পাঁচশ বছরের পথ। সপ্তম আসমান পর্যন্ত একইভাবে এবং জমিনসমূহের ক্ষেত্রেও অনুরূপ। আর সপ্তম আসমান থেকে আরশ পর্যন্ত দূরত্ব হলো এই সবকিছুর সমষ্টির সমান।"
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وأخرج أبو الشيخ عن أبي الدرداء قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) كثف الأرض مسيرة خمسمائة عام، وكثف الثانية مثل ذلك، وما بين كل أرضين مثل ذلك (. الرسول يصف المسافات بين السماوات والأرضوأخرج الإمام أحمد في مسنده، وأبو داود والترمذي وابن ماجه، والحاكم، وأبو الشيخ عن العباس بن عبد المطلب قال:) كنا جلوسا عند النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আবু আল-শায়খ আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জমিনের পুরুত্ব পাঁচশত বছরের পথ, এবং দ্বিতীয় জমিনের পুরুত্বও তদ্রূপ, এবং প্রতিটি দুই জমিনের মধ্যবর্তী স্থানও অনুরূপ।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্ণনাইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে, এবং আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, হাকেম ও আবু আল-শায়খ আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম..."
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فقال: أتدرون كم بين السماء والأرض قلنا: الله ورسوله أعلم: قال: بينهما مسيرة خمسمائة سنة، ومن كل سماء إلى سماء مسيرة خمسمائة سنة، وكثف كل سماء مسيرة خمسمائة سنة، وفوق السماء السابعة بحر، بين أعلاه وأسفله وأظلافهن كما بين السماء والأرض، ثم فوق ذلك العرش، بين أسفله وأعلاه كما بين السماء والأرض (.وأخرج الترمذي، وابن مردويه، وأبو الشيخ عن أبي هريرة قال:) كنا جلوسا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ مرت سحابة، ففال النبي صلى الله عليه وسلم:) أتدرون ما هذه قالوا: الله وروسوله أعلم.
তিনি বললেন: তোমরা কি জানো আসমান ও জমিনের মাঝে কতটুকু দূরত্ব? আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: এ দুটির মাঝে পাঁচশ বছরের পথ। এক আসমান থেকে অন্য আসমানের দূরত্ব পাঁচশ বছরের পথ। প্রতিটি আসমানের পুরুত্ব পাঁচশ বছরের পথ। সপ্তম আসমানের উপরে একটি সমুদ্র রয়েছে, যার উপরিভাগ ও তলদেশের দূরত্ব এবং (বহনকারীদের) খুরগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। তারপর এর উপরে রয়েছে আরশ, যার নিম্নভাগ ও উপরিভাগের দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। (
এবং তিরমিজি, ইবনে মারদুওয়াইহ ও আবুশ শাইখ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন:) আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে বসা ছিলাম, এমন সময় একটি মেঘখণ্ড অতিক্রম করল। তখন নবী (সা.) বললেন:) তোমরা কি জানো এটি কী? তারা বলল: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
قال: هذه العنان، هذه زوايا الأرض يسوقه الله إلى قوم لا يشكرونه ولا يعبدونه. قال: هل تدرون ما فوق ذلك قالوا: اله ورسوله أعلم. قال: فإن فوق ذلك موج مكفوف وسقف محفوظ، ثم قال: هل تدرون ما فوق ذلك قالوا: الله ورسوله أعلم. قال: فإن فوق ذلك سماء أخرى، ثم قال: هل تدرون ما بينهما قالوا: الله ورسوله أعلم. قال: فإن بينهما مسيرة خمسمائة عام حتى عد سبع سموات، بين كل سماء مسيرة خمسمائة عام، ثم قال: هل تدرون ما فوق ذلك قالوا: الله ورسوله أعلم، قال فإن فوق ذلك العرش، فهل تدرون كم بينهما قالوا: الله ورسوله أعلم، قال: فإن بين ذلك كما بين السمائين، أو كما قال، ثم قال: ما تدرون ما تحتكم قالوا: الله ورسوله أعلم، قال: أرض أخرى، وبينهما مسيرة خمسمائة عام، حتى عدّ سبع أرضين، بين كل أرض مسيرة خمسمائة عام (.
তিনি বললেন: "এটি হলো মেঘমালা, এগুলো পৃথিবীর প্রান্তসমূহ যা আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায়ের দিকে চালিত করেন যারা তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না এবং তাঁর ইবাদতও করে না।" তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো এর উপরে কী আছে?" তাঁরা বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক অবগত।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এর উপরে রয়েছে নিয়ন্ত্রিত তরঙ্গ এবং সংরক্ষিত ছাদ।" অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো এর উপরে কী আছে?" তাঁরা বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক অবগত।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এর উপরে রয়েছে অন্য এক আকাশ।" অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো এই দুইয়ের মাঝে কী আছে?" তাঁরা বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক অবগত।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এই দুইয়ের মাঝখানে পাঁচশত বছরের পথ অতিক্রমের দূরত্ব রয়েছে।" এভাবে তিনি সাতটি আকাশ গণনা করলেন; যার প্রতি দুই আকাশের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশত বছরের পথ। অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো এর উপরে কী আছে?" তাঁরা বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক অবগত।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এর উপরে রয়েছে আরশ।" অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো এই দুইয়ের মাঝে কতটুকু দূরত্ব?" তাঁরা বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক অবগত।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এর মধ্যবর্তী দূরত্ব দুই আকাশের মধ্যবর্তী দূরত্বের অনুরূপ," অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো তোমাদের নিচে কী আছে?" তাঁরা বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক অবগত।" তিনি বললেন: "অন্য এক পৃথিবী এবং এই দুইয়ের মাঝে পাঁচশত বছরের পথ অতিক্রমের দূরত্ব রয়েছে।" এভাবে তিনি সাতটি পৃথিবী গণনা করলেন; যার প্রতি দুই পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশত বছরের পথ।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وأخرج ابن أبي حاتم، وأبو الشيخ قال:) اللَهُ الَّذي خَلَقَ سَبعَ سَمَواتٍ وَمِنَ الأَرضِ مِثلَهُنَّ (وجعل ما بين كل سمائين كما بين السماء الدنيا والأرض، وجعل كثفها مثل ذلك، وجعل ما بين كل أرض كما بين السماء الدنيا والأرض، وكثف كل أرض مثل ذلك، وكان العرش على الماء، فرفع الماء حتى جعل عليه العرش، ثم ذهب الماء حتى جعله تحت الأرضين السابعة) .وأخرج عثمان بن سعيد الدارمي - في كتاب الرد على الجهمية وابو الشيخ عن ابن مسعودي قال: (ما بين الأرض والسماء
ইবনে আবি হাতিম এবং আবুশ শাইখ বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেছেন: (আল্লাহ সেই সত্তা যিনি সাত আসমান এবং পৃথিবীও তদ্রূপ সৃষ্টি করেছেন। তিনি প্রতি দুই আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্বকে দুনিয়ার আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায় নির্ধারণ করেছেন এবং সেগুলোর পুরুত্বকেও অনুরূপ করেছেন। তিনি প্রতি দুই জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বকেও দুনিয়ার আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায় নির্ধারণ করেছেন এবং প্রতিটি জমিনের পুরুত্বকেও তদ্রূপ করেছেন। আর আরশ ছিল পানির উপরে, অতঃপর তিনি পানিকে উত্তোলন করলেন এবং তার ওপর আরশ স্থাপন করলেন, এরপর পানি অপসারিত হলো যতক্ষণ না তিনি একে সপ্তম জমিনের নিচে স্থাপন করলেন)।উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি—আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ গ্রন্থে—এবং আবুশ শাইখ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেছেন: (জমিন ও আসমানের মধ্যবর্তী
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
مسيرة خمسمائة عام، وما بين كل سمائين خمسمائة عام، ومصير كل سماء - يعني غلظ ذلك - خمسمائة عام، وما بين السماء إلى الكرسي مسيرة خمسمائة عام، وما بين الكرسي والماء مسيرة خمسمائة عام) . كيف بدأ الخلقوأخرج ابن جرير وابن المنذر عن ابن مسعود وناس من الصحابة قال: (إن الله تبارك وتعالى كان عرشه على الماء، لم يخلق شيئا غير ما خلق قبل الماء، فلما أراد أن يخلق الخلق، أخرج من الماء دخانا فارتفع فوق الماء فسما عليه فسماه سماء، ثم أييس الماء فجعله أرضا واحدة، ثم فتقها فجعلها سبع أرضين في يومين في الأحد والإثنين، فخلق الأرض على الحوت، والحوت هو النون الذي ذكره
পাঁচশত বছরের পথ, এবং প্রত্যেক দুই আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশত বছরের পথ, এবং প্রতিটি আসমানের ঘনত্ব—অর্থাৎ এর স্থূলতা—পাঁচশত বছরের পথ, আর আসমান থেকে কুরসি পর্যন্ত পাঁচশত বছরের পথ, এবং কুরসি ও পানির মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশত বছরের পথ) । সৃষ্টির সূচনা কীভাবে হয়েছিলএবং ইবনে জারীর ও ইবনে মুনজির ইবনে মাসউদ এবং একদল সাহাবী (الصحابة) থেকে উদ্ধৃত (أخرج) করেছেন যে তারা বলেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার আরশ পানির ওপর ছিল। তিনি পানির আগে যা কিছু সৃষ্টি করেছিলেন তা ছাড়া আর কিছুই সৃষ্টি করেননি। যখন তিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টির ইচ্ছা করলেন, তখন পানি থেকে ধোঁয়া নির্গত করলেন এবং তা পানির ওপরে উঠে গেল, অতঃপর তিনি একে সুউচ্চ করলেন এবং এর নাম দিলেন আসমান। এরপর তিনি পানিকে শুষ্ক করে একক জমিনে পরিণত করলেন, এরপর একে বিদীর্ণ করে দুই দিনে—রবিবার ও সোমবার—সাতটি জমিনে বিভক্ত করলেন। অতঃপর তিনি জমিনকে মাছের ওপর সৃষ্টি করলেন, আর মাছটি হলো সেই ‘নুন’ যার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
تعالى في القرأن بقوله:) ن وَالقَلَمِ (، والحوت في الماء، والماء على صفاة، والصفاة على ظهر ملك، والملك على الصخرة، والصخرة في الريح، وهي الصخرة التي ذكرها لقمان، ليست في السماء ولا في الأرض، فتحرك الحوت فاضطرب فتزلزلت الأرض، فأرسل عليها الجبال فقرت، فالجبال تفخر على الأرض وذلك قوله تعالى:) وَألقى في الأَرضِ رَواسِيَ أَن تَميدَ بِكُم (، وخلق الجبال فيها وأقوات أهلها وشجرها وما ينبغي لها في يومين: الثلاثاء والأربعاء) ثُمَّ اِستَوى إِلى السَماءِ وَهِيَ دُخانٌ (وذلك الدخان من تنفس الماء حين تنفس فجعلها سماء واحدة ثم فتقها فجعلها سبع سموات في يومين: الخميس والجمعة، وإنما سمى يوم الجمعة لأنه جمع فيه خلق السموات والأرض) وَأوحَى
মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনে তাঁর বাণীর মাধ্যমে [বলেন]: "নূন, শপথ কলমের।" আর মাছ (তিমি) পানির ওপর, পানি একটি মসৃণ পাথরের ওপর, পাথরটি একজন ফেরেশতার পিঠের ওপর, ফেরেশতাটি একটি বিশাল শিলাখণ্ডের ওপর এবং শিলাখণ্ডটি বায়ুর মধ্যে অবস্থিত। এটিই সেই শিলাখণ্ড যার কথা লোকমান উল্লেখ করেছেন; যা আসমানেও নেই এবং জমিনেও নেই। অতঃপর মাছটি নড়াচড়া করায় তা আন্দোলিত হয় এবং পৃথিবী প্রকম্পিত হয়। তখন তিনি জমিনের ওপর পাহাড়সমূহ স্থাপন করলেন, ফলে তা স্থির হলো। সুতরাং পাহাড়সমূহ জমিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তিনি জমিনে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছেন যাতে তা তোমাদের নিয়ে নড়ে না ওঠে।" তিনি তাতে পাহাড়সমূহ, তার অধিবাসীদের খাদ্যসামগ্রী, বৃক্ষরাজি এবং যা কিছু তার জন্য উপযুক্ত তা দুই দিনে সৃষ্টি করেছেন: মঙ্গলবার ও বুধবার। "অতঃপর তিনি আসমানের দিকে মনোনিবেশ করলেন যখন তা ছিল ধোঁয়া।" সেই ধোঁয়া ছিল পানির নিঃশ্বাস থেকে নির্গত, যখন তা শ্বাস ছেড়েছিল। অতঃপর তিনি তাকে একটি আসমান হিসেবে তৈরি করেন, এরপর তাকে বিদীর্ণ করে দুই দিনে সাতটি আসমানে পরিণত করেন: বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার। আর জুমার দিনের নামকরণ এ জন্যই করা হয়েছে যে, সেদিন আসমান ও জমিনের সৃষ্টিকে একত্রিত করা হয়েছিল। এবং তিনি প্রত্যাদেশ করলেন...
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
في كُلِّ سَمَاءٍ أَمرَها (قال: خلق في كل سماء خلقا من الملائكة، والخلق الذي فيها من البحار والجبال وجبل البر، وما لا يعلم ثم زين السماء الدنيا بالكواكب، فجعلها زينة وحفظا يحفظ من الشياطين) . كيف فتق الله السموات والأرضوأخرج أبو الشيخ عن سعيد بن جبير في قوله تعالى: (كانَتا رَتقاً فَفَتقَناهُما) قال: (كانت السموات والأرضون ملتزقتين، فلما رفع السماء وأنبذها من الأرض فكان فتقها الذي ذكر الله) .وأخرج أبو الشيخ عن مجاهد في قوله: (كانَتا رَتقاً فَفَتقناهُما) قال: (
প্রত্যেক আসমানে তার জন্য নির্দেশসমূহ (তিনি বলেন: তিনি প্রত্যেক আকাশে ফেরেশতাকুল সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে সৃষ্টি করেছেন সাগরসমূহ, পর্বতমালা, বরফের পাহাড় এবং এমন অনেক কিছু যা (মানুষ) জানে না। অতঃপর তিনি নিকটবর্তী আকাশকে নক্ষত্ররাজি দ্বারা সুশোভিত করেছেন এবং একে করেছেন সৌন্দর্য ও শয়তান হতে সুরক্ষাস্বরূপ)। আল্লাহ কীভাবে আসমানসমূহ ও জমিনকে পৃথক করেছেনআবু আল-শেখ সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন: (তারা উভয়ে মিলিত ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম)। তিনি বলেন: (আসমানসমূহ ও জমিনসমূহ পরস্পর সংযুক্ত ছিল, যখন তিনি আসমানকে উপরে উঠালেন এবং জমিন থেকে বিচ্ছিন্ন করলেন, তখন সেটিই ছিল সেই পৃথকীকরণ যা আল্লাহ উল্লেখ করেছেন)।আবু আল-শেখ মুজাহিদ থেকে এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন: (তারা উভয়ে মিলিত ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম)। তিনি বলেন: (
(খণ্ড: ১)
আসরারুল কাউন = আল-হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ ফীল হাইয়াতুস সুন্নিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
من الأرضين معها ست فتلك سبع أرضين) ومن السماء ست سموات فتلك سبع سموات (. السماء قبةوأخرج عن إياس بن معاوية قال:) السماء مقببة على الأرض مثل القبة (.وأخرج عن وهب قال:) شيء من أطراف السماء محدق بالأرضين، والبحار كأطراف الفسطاط (.وأخرج ابن أبي حاتم عن جرير بن مطعم: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:) إن الله
(জমিনগুলোর সাথে আরও ছয়টি জমিন রয়েছে, ফলে সেগুলো মোট সাতটি জমিন) এবং (আকাশের সাথে আরও ছয়টি আসমান রয়েছে, ফলে সেগুলো মোট সাতটি আসমান)। আকাশ একটি গম্বুজইয়াস ইবনে মুয়াবিয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আকাশ জমিনের ওপর গম্বুজের ন্যায় গম্বুজাকৃতি হয়ে আছে)।ওয়াহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আকাশের প্রান্তসীমার কিছু অংশ জমিনসমূহকে পরিবেষ্টন করে আছে, আর সমুদ্রসমূহ তাঁবুর প্রান্তের ন্যায়)।ইবনে আবি হাতিম জরীর ইবনে মুতঈম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ