(খণ্ড: ১)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: -)
الجامع لعلوم الإمام أحمد - العقيدة القسم: العقيدة
الكتاب: الجامع لعلوم الإمام أحمد - العقيدة
الإمام: أبو عبد الله أحمد بن حنبل
المؤلف: خالد الرباط، سيد عزت عيد، محمد أحمد عبد التواب [بمشاركة الباحثين بدار الفلاح]
الناشر: دار الفلاح للبحث العلمي وتحقيق التراث، الفيوم - جمهورية مصر العربية
الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م
عدد الأجزاء: 22 (هذا القسم هو الجزآن 3، 4 من الكتاب)
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 21 جُمادَى الأولى 1438
ইমাম আহমদের ইলমসমূহের সংকলন - আকীদা বিভাগ: আকীদা
কিতাব: ইমাম আহমদের ইলমসমূহের সংকলন - আকীদা
ইমাম: আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন হাম্বল
লেখক: খালিদ আল-রিবাত، সাইয়্যেদ ইজ্জত ঈদ، মুহাম্মদ আহমদ আব্দুল তাওয়াব [দারুল ফালাহ-এর গবেষকদের সহযোগিতায়]
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ঐতিহ্য পুনঃসম্পাদনার জন্য দারুল ফালাহ، ফাইয়ুম - আরব প্রজাতন্ত্র মিশর
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩০ হিজরী - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২২ (এই বিভাগটি কিতাবটির ৩য় ও ৪র্থ খণ্ড)
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতা আল-নুসসাখ দল, পৃষ্ঠপোষকতায় (মারকাজুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ)
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ জুমাদাল উলা ১৪৩৮
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: -)
مدونة الحنابلة (1)
الجامع لعلوم الإمام أحمد
تأليف
خالد الرباط - سيد عزت عيد - محمد أحمد عبد التواب
(بمشاركة الباحثين بدار الفلاح)
«قسم العقيدة 1»
[المجلد الثالث]
হাম্বলি সংকলন (১)
ইমাম আহমাদ-এর জ্ঞানসমূহের সংকলন
গ্রন্থনায়
খালিদ আল-রিবাত - সাইয়্যেদ ইজ্জত ঈদ - মুহাম্মদ আহমাদ আব্দুল তাওয়াব
(দার আল-ফালাহ-এর গবেষকদের সহযোগিতায়)
«আকিদাহ বিভাগ ১»
[তৃতীয় খণ্ড]
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٢)
جَمِيع الْحُقُوق مَحْفُوظَة لدار الْفَلاح وَلَا يجوز نشر هَذَا الْكتاب بِأَيّ صِيغَة أَو تَصْوِيره PDF إِلَّا بِإِذن خطي من صَاحب الدَّار الْأُسْتَاذ/ خَالِد الرِّبَاط
الطبعة الأولى
1430 هـ - 2009 م
رقم الْإِيدَاع بدار الْكتب
19194/ 2009
دَار الْفَلاح للبحث العلمي وَتَحْقِيق التراث
18 شَارِع أحمس - حَيّ الجامعة - الفيوم
ت: 01000059200
Kh_rbat@hotmail.com
দারুল ফালাহ-এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত এবং এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী উস্তাদ খালিদ আর-রিবাত-এর লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই কিতাবটি কোনো রূপেই প্রকাশ করা বা পিডিএফ (PDF) আকারে চিত্রায়ণ করা বৈধ নয়।
প্রথম সংস্করণ
১৪৩০ হিজরী - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
জাতীয় গ্রন্থাগারে জমাদান নম্বর
১৯১৯৪/ ২০০৯
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ঐতিহ্য সম্পদ সম্পাদনার জন্য দারুল ফালাহ
১৮ আহমাস সড়ক - হাইয়ুল জামিয়া - ফাইয়ুম
টেলিফোন: ০১০০০০৫৯২০০
Kh_rbat@hotmail.com
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٣)
الْجَامِعُ لِعُلوْم الإِمَامِ أَحْمد
[3]
ইমাম আহমাদের জ্ঞানসমূহের সংকলন
[৩]
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٤)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٥)
قسم العقيدة (1)
1 - كتاب عقيدة أهل السنة والجماعة إجمالًا.
2 - كتاب الإيمان.
3 - كتاب الصفات.
4 - كتاب القرآن كلام اللَّه والرد الجهمية.
আকিদা বিভাগ (১)
১ - সংক্ষেপে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর আকিদা বিষয়ক গ্রন্থ।
২ - ঈমান বিষয়ক গ্রন্থ।
৩ - গুণাবলি বিষয়ক গ্রন্থ।
৪ - কুরআন আল্লাহর বাণী এবং জাহমিয়াদের খণ্ডন বিষয়ক গ্রন্থ।
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٩)
1 -
كتاب عقيدة أهل السنة والجماعة إجمالًاقال أبو القاسم: حدثنا أبو محمد حرب بن إسماعيل قال: هذا مذهب أئمة العلم وأصحاب الأثر وأهل السُّنة المعروفين بها المقتدى بهم فيها، وأدركتُ من أدركتُ مِنْ علماءِ أهلِ العراق والحجاز والشام وغيرهم عليها، فمن خالف شيئًا من هذِه المذاهب، أو طعن فيها، أو عاب قائلها فهو مبتدع خارج من الجماعة، زائل عن منهج السنة وسبيل الحق، وهو مذهب أحمد، وإسحاق بن إبراهيم بن مخلد، وعبد اللَّه بن الزبير الحميدي وسعيد بن منصور، وغيرهم ممن جالسنا وأخذنا عنهم العلم، فكان من قولهم: الإيمانُ قولٌ وعَمَلٌ ونِيَّةٌ وتمسكٌ بالسنَّةِ، والإيمانُ يزيدُ ويَنْقُصُ، والاستثناء في الإيمان سُنَّة ماضِيةٌ عن العلماءِ، وإذا سُئِلَ الرجل أمؤمن أنت؟ فإنه يقولُ: أنا مؤمنٌ إن شاء اللَّه، أو مؤمنٌ أرجو، أو يقول: آمنتُ باللهِ وملائكتِهِ وكتُبِهِ ورُسُلِهِ، ومَنْ زَعَمَ أن الإيمانَ قولٌ بلا عمل فَهُوَ مُرْجئ، ومَنْ زَعَمَ أنَّ الإيمانَ هو القولُ والأعمالَ شرائع، فهو مُرجئ، وإنْ زعم أن الإيمان لا يزيد ولا ينقص فهو مُرجئ، وإن قال: إن الإيمانَ يزيد ولا ينقص فقد قال بقول المُرجئة، ومَنْ لَمْ [يَرَ] (1) الاستثناء في الإيمان فهو مُرجئ، ومن زعم أن إيمانه كإيمان جبريل أو الملائكة فهو مُرجئ وأخبث من المُرجئ؟ فهو كاذب، ومن زعم أن الناس لا يتفاضلون في
--------------------------------------------
১ -
সংক্ষেপে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার কিতাবআবুল কাসিম বলেন: আমাদের নিকট আবু মুহাম্মাদ হারব ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এটি হলো ইলমের ইমামগণ, আসহাবুল আসার (বর্ণনা অনুসরণকারী) এবং সুন্নাহর অনুসারীদের মাযহাব যারা এর জন্য সুপরিচিত এবং যাদের এতে অনুসরণ করা হয়। আমি ইরাক, হিজাজ, সিরিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলের আলেমদের মধ্যে যাদের সান্নিধ্য লাভ করেছি, তাদের এই বিশ্বাসের উপরেই পেয়েছি। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাযহাবগুলোর কোনো কিছুর বিরোধিতা করবে, অথবা এতে আপত্তি তুলবে, অথবা এর প্রবক্তাকে দোষারোপ করবে, সে একজন বিদআতি এবং জামাআত থেকে বহিষ্কৃত; সে সুন্নাহর মানহাজ এবং সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত। আর এটি আহমাদ, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মাখলাদ, আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের আল-হুমাইদি, সাঈদ ইবনে মানসুর এবং অন্যদের মাযহাব, যাদের মজলিসে আমরা বসেছি এবং যাদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছি। তাদের বক্তব্য ছিল: ঈমান হলো কথা, কাজ, নিয়ত এবং সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা; আর ঈমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়। ঈমানের ক্ষেত্রে ইস্তিসনা (ইনশাআল্লাহ বলা) আলেমদের পক্ষ থেকে চলে আসা একটি সুন্নাত। যখন কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হয়: "আপনি কি মুমিন?", তখন সে বলবে: "ইনশাআল্লাহ আমি মুমিন", অথবা "আমি মুমিন হওয়ার আশা রাখি", অথবা বলবে: "আমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি"। যে ব্যক্তি দাবি করে যে ঈমান আমল ছাড়া কেবল মৌখিক কথা, সে একজন মুরজিয়া। আর যে দাবি করে যে ঈমান হলো কথা আর আমলগুলো হলো শরিয়তের বিধান, সে একজন মুরজিয়া। আর যদি কেউ দাবি করে যে ঈমান বৃদ্ধিও পায় না এবং হ্রাসও পায় না, তবে সে একজন মুরজিয়া। আর যদি সে বলে যে ঈমান বৃদ্ধি পায় কিন্তু হ্রাস পায় না, তবে সে মুরজিয়াদের ন্যায় কথা বলল। আর যে ব্যক্তি ঈমানের ক্ষেত্রে ইস্তিসনাকে (সঠিক) মনে করে না, সে একজন মুরজিয়া। আর যে দাবি করে যে তার ঈমান জিবরাইল বা ফেরেশতাদের ঈমানের মতো, সে একজন মুরজিয়া এবং মুরজিয়াদের চেয়েও নিকৃষ্ট; সে একজন মিথ্যাবাদী। আর যে দাবি করে যে মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের কোনো তারতম্য নেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ١٠)
الإيمان فقد كذب، ومن زعم أن المعرفة تنفع في القلب، وإن لم يتكلم بها فهو جَهْمي، ومن زعم أنه مؤمن عند اللَّه مستكمل الإيمان فهذا من أشنع قول المرجئة وأقبحه.
والقدر: خيرُه وشرُّه، وقليله وكثيره، وظاهره وباطنه، وحلوه ومره، ومحبوبه ومكروهه، وحسنه وسيئه، وأوله وآخره من اللَّه تبارك وتعالى، قضاءٌ قضاهُ على عباده، وقَدَرٌ قدّره عليهم لا يعدو أحد منهم مشيئة اللَّه، لا يجاوز قضاءه، بل هم كلهم صائرونَ إلى ما خلقهم له، وواقعون في ما قدّر عليهم لا محالة، وهو عدل منه عز ربنا وجل.
والزنا، والسرقة، وشرب الخمر، وقتل النفس، وأكل المال الحرام، والشرك باللَّه، والذنوب جميعًا، والمعاصي كلها بقضاء وقدر من اللَّه من غير أن يكون لأحد من الخلق على اللَّه حجة، بل للَّه الحجة البالغة على خلقه و {لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ}. وعلمُ اللَّه ماضٍ في خلقه بمشيئة منه، قد علم من إبليس ومن غيره ممن عصاه -من لدن أن عُصي ربنا تبارك وتعالى إلى أن تقوم الساعة- المعصيةَ وخلقهم لها، وعلم الطاعة من أهل طاعته وخلقهم لها، فكل يعمل لما خُلِقَ له، وصائر إلى ما قُضي عليه وعُلم منه، ولا يعدو أحد منهم قدر اللَّه ومشيئته، واللَّه الفعال لما يريد.
فمن زعم أن اللَّه تبارك وتعالى شاء لعباده الذين عصوه الخير والطاعة، وأن العباد شاءوا لأنفسهم الشر والمعصية، فعملوا على مشيئتهم، فقد زعم أن مشيئة العباد أغلب من مشيئة اللَّه تبارك وتعالى ذكره، فأي افتراء على اللَّه أكثر من هذا؟ !
ومن زعم أن أحدًا من الخلق صائر إلى غير ما خلق له، فقد نفى قدرة اللَّه عن خلقه، وهذا إفك على اللَّه وكذب عليه.
ঈমান (সম্পর্কে), তবে সে মিথ্যা বলেছে। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে অন্তরের পরিচয় (মা'রিফাত) উপকারে আসবে যদিও সে মুখে তা উচ্চারণ না করে, তবে সে একজন জাহমি। আর যে দাবি করে যে সে আল্লাহর নিকট পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার, তবে এটি মুরজিয়াদের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্যতম কথা।
আর তাকদির: এর ভালো ও মন্দ, কম ও বেশি, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য, মিষ্টি ও তিতা, পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয়, সুন্দর ও কুৎসিত এবং এর শুরু ও শেষ—সবই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে। এটি এমন এক ফয়সালা যা তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর নির্ধারণ করেছেন এবং এমন এক তাকদির যা তিনি তাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন। তাদের কেউই আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে যেতে পারে না এবং তাঁর ফয়সালা অতিক্রম করতে পারে না। বরং তারা সকলেই সেই দিকেই ধাবিত হচ্ছে যার জন্য তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জন্য যা নির্ধারিত হয়েছে তাতে তারা অনিবার্যভাবে পতিত হবে। আর এটি আমাদের মহাপরাক্রমশালী ও মহান রবের পক্ষ থেকে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার।
আর ব্যভিচার, চুরি, মদ্যপান, হত্যা, হারাম সম্পদ ভক্ষণ, আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং যাবতীয় গুনাহ ও সকল পাপাচার আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদির অনুযায়ীই ঘটে, তবে আল্লাহর বিরুদ্ধে সৃষ্টির কারো কোনো অজুহাত থাকবে না। বরং সৃষ্টির ওপর আল্লাহরই অকাট্য প্রমাণ রয়েছে এবং "তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে"। আল্লাহর জ্ঞান তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর ইচ্ছানুযায়ী কার্যকর। ইবলিস এবং যারা তাঁর অবাধ্য হয়েছে—আমাদের রব তাবারাকা ওয়া তাআলার অবাধ্যতা শুরু হওয়া থেকে কিয়ামত পর্যন্ত—তাদের অবাধ্যতা সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন এবং তিনি তাদের সেই কাজের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। আর তাঁর অনুগত বান্দাদের আনুগত্য সম্পর্কেও তিনি জানতেন এবং তাদের সেই কাজের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং প্রত্যেকেই সেই কাজই করে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সেই পরিণতির দিকেই ধাবিত হয় যা তার জন্য নির্ধারিত হয়েছে ও তাঁর জ্ঞানে ছিল। তাদের কেউই আল্লাহর তাকদির ও ইচ্ছার বাইরে যেতে পারে না, আর আল্লাহ যা চান তা-ই করেন।
সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর অবাধ্য বান্দাদের জন্য কল্যাণ ও আনুগত্য চেয়েছিলেন, কিন্তু বান্দারা নিজেদের জন্য মন্দ ও অবাধ্যতা চেয়েছে এবং তারা তাদের নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী আমল করেছে, তবে সে ব্যক্তি দাবি করল যে বান্দাদের ইচ্ছা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার ইচ্ছার ওপর প্রবল। আল্লাহর ওপর এর চেয়ে বড় মিথ্যা অপবাদ আর কী হতে পারে?!
আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, সৃষ্টির কেউ তাকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে তা ব্যতীত অন্য কোনো পরিণতির দিকে ধাবিত হবে, তবে সে তার সৃষ্টির ওপর থেকে আল্লাহর ক্ষমতাকে অস্বীকার করল। আর এটি আল্লাহর বিরুদ্ধে একটি অপবাদ ও মিথ্যাচার।
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ١١)
ومن زعم أن الزنا ليس بقدر قيل له: أرأيت هذِه المرأة التي حملت من الزنا وجاءت بولد، هل شاء اللَّه أن يخلق هذا الولد؟ وهل مضى هذا في سابق علمه؟ فإن قال: لا. فقد زعم أن مع اللَّه خالقًا، وهذا قول يضارع الشرك بل هو الشرك، ومن زعم أن السرقة، وشرب الخمر، وأكل المال الحرام ليس بقضاء وقدر من اللَّه فقد زعم أن هذا الإنسان قادر على أن يأكل رزق غيره، وهذا القول يضارع قول المجوسية والنصرانية، بل أكل رزقه وقضى اللَّه له أن يأكله من الوجه الذي أكله.
ومن زعم أن قتل النفس ليس بقدر من اللَّه فقد زعم أن المقتول مات بغير أجله، فأي كفر باللَّه أوضح من هذا؟ ! بل ذلك كله بقضاء من اللَّه وقدر، وكل ذلك بمشيئته في خلقه وتدبيره فيه، وما جرى في سابق علمه لهم، وهو الحق والعدل يفعلُ ما يريد ومن أقر بالعلم لزمه الإقرار بالقدر، والمشيئة على الصغر والقماءة (1)، واللَّه الضار النافع المضل الهادي فتبارك اللَّه أحسن الخالقين.
ولا نشهد على أحد من أهل القبلة أنه في النار لذنب عمله ولكبيرة أتى بها، إلا أن يكون في ذلك حديث، فيروى الحديث كما جاء على ما روي ويصدق به ويقبل ويعلم أنه كما جاء، ولا نَنُصُّ الشهادة.
ولا نشهد على أحد أنه في الجنة لصلاح عمله أو لخير أتى به إلا أن يكون في ذلك حديث فيروى الحديث كما جاء على ما روي، يصدق به، ويقبل ويعلم أنه كما جاء ولا ننصُّ الشهادة.
والخلافة في قريش ما بقي من الناس اثنان، ليس لأحد من الناس أن
--------------------------------------------
আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে ব্যভিচার তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাকে বলা হবে: তুমি কি সেই নারীর প্রতি লক্ষ্য করেছ যে ব্যভিচারের মাধ্যমে গর্ভবতী হয়েছে এবং সন্তান প্রসব করেছে? আল্লাহ কি এই সন্তানকে সৃষ্টি করার ইচ্ছা করেছিলেন? আর এটি কি তাঁর পূর্বজ্ঞানে অতিক্রান্ত হয়নি? যদি সে বলে: ‘না’, তবে সে দাবি করল যে আল্লাহর সাথে অন্য কোনো স্রষ্টা রয়েছে। আর এই বক্তব্য শিরকের সদৃশ, বরং এটি শিরকই। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে চুরি করা, মদ্যপান করা এবং হারাম সম্পদ ভক্ষণ করা আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে সে দাবি করল যে এই মানুষটি অন্যের রিযিক ভক্ষণ করতে সক্ষম। আর এই বক্তব্য মজুসি ও নাসারাদের বক্তব্যের সদৃশ। বরং সে নিজের রিযিকই ভক্ষণ করেছে এবং আল্লাহ তার জন্য ফয়সালা করেছিলেন যে সে তা ঐভাবেই ভক্ষণ করবে যেভাবে সে ভক্ষণ করেছে।
আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে কোনো প্রাণ হত্যা করা আল্লাহর তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত নয়, সে যেন দাবি করল যে নিহত ব্যক্তি তার নির্ধারিত আয়ু পূর্ণ না করেই মৃত্যুবরণ করেছে। আল্লাহর সাথে এর চেয়ে স্পষ্ট কুফর আর কী হতে পারে?! বরং এ সব কিছুই আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আর এ সব কিছুই তাঁর সৃষ্টির মাঝে তাঁর ইচ্ছা ও ব্যবস্থাপনার অধীন এবং তাদের জন্য তাঁর পূর্বজ্ঞানে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা-ই ঘটে। তিনি সত্য ও ন্যায়পরায়ণ, তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর জ্ঞানকে স্বীকার করে নিল, তার জন্য ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ বিষয়ের ওপরও তাকদীর এবং আল্লাহর ইচ্ছাকে স্বীকার করে নেওয়া আবশ্যক হয়ে গেল (১)। আল্লাহই অনিষ্টকারী, কল্যাণকারী, পথভ্রষ্টকারী ও পথপ্রদর্শক; সুতরাং আল্লাহ কতই না বরকতময়, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা।
আর আমরা আহলে কিবলার কাউকেও তার কৃত কোনো পাপ বা কোনো কবিরা গুনাহর কারণে জাহান্নামী বলে সাক্ষ্য দেই না; যতক্ষণ না সে বিষয়ে কোনো হাদীস থাকে। এমতাবস্থায় হাদীসটি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই বর্ণনা করা হবে, তা বিশ্বাস করা হবে ও গ্রহণ করা হবে এবং তা যেভাবে এসেছে সেভাবেই সত্য বলে জানা হবে। তবে আমরা নির্দিষ্টভাবে কারো ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করি না।
আর আমরা কাউকেও তার সৎকর্ম বা উত্তম কাজের কারণে জান্নাতী বলে সাক্ষ্য দেই না; যতক্ষণ না সে বিষয়ে কোনো হাদীস থাকে। এমতাবস্থায় হাদীসটি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই বর্ণনা করা হবে, তা বিশ্বাস করা হবে ও গ্রহণ করা হবে এবং তা যেভাবে এসেছে সেভাবেই সত্য বলে জানা হবে। তবে আমরা নির্দিষ্টভাবে কারো ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করি না।
আর খিলাফত কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে যতক্ষণ মানুষের মধ্য থেকে দুইজন অবশিষ্ট থাকবে। মানুষের মধ্যে কারো জন্য এটি বৈধ নয় যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ينازعهم فيها، ولا يخرج عليهم، ولا يقر لغيرهم بها إلى قيام الساعة.
والجهاد ماض قائم مع الأئمة بروا أو فجروا، ولا يبطله جور جائر، ولا عدل عادل، والجمعة والعيدان والحج مع السلطان وإن لم يكونوا بررة عدولًا ولا أتقياء، ودفع الخراج والصدقات والأعشار والفيء والغنيمة إلى الأمراء عدلوا فيها أم جاروا.
والانقياد لمن ولاه اللَّه أمرك لا تنزع يدك من طاعة، ولا تخرج عليه بسيفك حتى يجعل اللَّه لك فرجًا ومخرجًا، وأن لا تخرج على السلطان، وتسمع وتطيع لا تنكث بيعة، فمن فعل ذلك فهو مبتدع مخالف مفارق للجماعة.
وإن أمرك السلطان بأمر هو للَّه معصية، فليس لك أن تطيعه البتة، وليس لك أن تخرج عليه ولا تمنعه حقه.
والإمساك في الفتنة سنة ماضية واجب لزومها، فإن ابتليت فقدم نفسك ومالك دون دينك، ولا تعن على الفتنة بيد ولا لسان، ولكن اكفف يدك ولسانك وهواك واللَّه المعين.
والكف عن أهل القبلة لا نكفر أحدًا منهم بذنب، ولا نخرجه من الإسلام بعمل، إلا أن يكون في ذلك حديث، فيروى الحديث كما جاء وكما روي، ويصدق به ويقبله ونعلم أنه كما روي نحو ترك الصلاة، وشرب الخمر، وما أشبه ذلك أو ابتدع بدعة ينسب صاحبها إلى الكفر والخروج من الإسلام، واتَّبع الأثر في ذلك ولا تُجاوزه.
ولا أحب الصلاة خلف أهل البدع، ولا الصلاة على من مات منهم. والأعور خارج لا شك في ذلك، ولا ارتياب وهو أكذب الكاذبين.
وعذاب القبر حق، يسأل العبد عن ربه، وعن نبيه، وعن دينه، ويرى
তাদের সাথে এই বিষয়ে বিবাদ করা যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে না এবং কিয়ামত পর্যন্ত অন্য কারও জন্য তা সাব্যস্ত করা যাবে না।
আর ইমামদের সাথে জিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত চলমান ও প্রতিষ্ঠিত থাকবে, তারা নেককার হোক বা পাপাচারী। কোনো জালিমের জুলুম বা কোনো ইনসাফকারীর ন্যায়বিচার একে বাতিল করবে না। জুমুআ, দুই ঈদ এবং হজ সুলতানের সাথে আদায় করা হবে, যদিও তারা পুণ্যবান, ন্যায়পরায়ণ বা পরহেযগার না হয়। আর খরাজ, সদকা, ওশর, ফায় এবং গনিমত আমিরদের নিকট প্রদান করতে হবে, চাই তারা এতে ন্যায়বিচার করুক বা জুলুম করুক।
আর আল্লাহ যাকে আপনার উপর কর্তৃত্ব দান করেছেন তার আনুগত্য করা; তার আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নেবেন না এবং তলোয়ার নিয়ে তার বিরুদ্ধে বের হবেন না যতক্ষণ না আল্লাহ আপনার জন্য কোনো প্রশস্ততা ও পথ বের করে দেন। আর সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করা এবং শোনা ও আনুগত্য করা; আনুগত্যের অঙ্গীকার ভঙ্গ না করা। যে ব্যক্তি এমনটি করবে, সে হবে বিদআতি, বিরোধীতাকারী এবং জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন।
আর যদি সুলতান আপনাকে এমন কোনো বিষয়ের আদেশ দেন যা আল্লাহর নাফরমানি, তবে আপনার জন্য তার আনুগত্য করা মোটেও বৈধ নয়। তবে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাও আপনার জন্য বৈধ নয় এবং তার প্রাপ্য অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করাও যাবে না।
আর ফিতনার সময় বিরত থাকা একটি চিরন্তন সুন্নাহ যা আঁকড়ে ধরা ওয়াজিব। যদি আপনি পরীক্ষায় পতিত হন, তবে আপনার দ্বীনের পরিবর্তে আপনার জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করুন। হাত বা জিহ্বা দিয়ে ফিতনায় সাহায্য করবেন না, বরং আপনার হাত, আপনার জিহ্বা এবং আপনার প্রবৃত্তি সংবরণ করুন; আর আল্লাহই সাহায্যকারী।
আর আহলে কিবলার বিষয়ে সংযত থাকা; আমরা তাদের কাউকে কোনো গুনাহের কারণে কাফের বলি না এবং কোনো কর্মের কারণে তাকে ইসলাম থেকে বের করে দিই না, যদি না এ বিষয়ে কোনো হাদিস থাকে। সুতরাং হাদিস যেভাবে এসেছে এবং বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই বর্ণনা করা হবে, তা বিশ্বাস করা হবে এবং গ্রহণ করা হবে; আর আমরা জানি যে এটি তেমনই যেমনটি বর্ণিত হয়েছে—যেমন সালাত ত্যাগ করা, মদ পান করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো, অথবা সে এমন কোনো বিদআত উদ্ভাবন করল যার কারণে তার প্রবর্তককে কুফর ও ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার দিকে নিসবত করা হয়। এই বিষয়ে আপনি আসার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) অনুসরণ করুন এবং তা অতিক্রম করবেন না।
আর আমি বিদআতিদের পেছনে সালাত আদায় করা এবং তাদের মৃতদের জানাজা পড়া পছন্দ করি না। আর সেই কানা (দাজ্জাল) অবশ্যই বের হবে, এতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই, আর সে চরম মিথ্যাবাদীদের মধ্যে একজন।
আর কবরের আজাব সত্য; বান্দাকে তার রব সম্পর্কে, তার নবী সম্পর্কে এবং তার দ্বীন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে, এবং সে দেখতে পাবে...
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ١٣)
مقعده من الجنة أو النار.
ومنكر ونكير حق، وهما فتانا القبور نسأل اللَّه الثبات.
وحوض محمد صلى الله عليه وسلم حق، ترد عليه أمته، وله آنية يشربون بها منه.
والصراط حق يوضع في سواء جهنم فيمر الناس عليه، والجنة من وراء ذلك نسأل اللَّه السلامة والجواز.
والميزان حق يوزن به الحسنات والسيئات كما شاء اللَّه أن يوزن به.
والصور حق ينفخ فيه إسرافيل فيموت الخلق، ثم ينفخ فيه فيقومون لرب العالمين للحساب والقضاء، والثواب والعقاب والجنة والنار.
واللوح المحفوظ حق يستنسخ منه أعمال العباد، لما سبقت فيه من المقادير والقضاء.
والقلم حق كتب اللَّه به مقادير كل شيء، وأحصاه في الذكر فتبارك ربنا وتعالى.
والشفاعة يوم القيامة حق يشفعُ قوم في قوم، فلا يصيرون إلى النار، ويخرج قوم من النار -بعدما دخلوها- بشفاعة الشافعين، ويخرج قوم من النار برحمة اللَّه بعد ما يلبثهم فيها ما شاء اللَّه، وقوم يخلدون في النار أبدًا، وهم أهل الشرك والتكذيب والجحود والكفر باللَّه.
ويذبح الموت يوم القيامة بين الجنة والنار، وقد خُلِقَت الجنة وما فيها، وخُلِقَت النار وما فيها خلقهما اللَّه، ثم خلق الخلق لهما لا يفنيان ولا يفنى من فيهما أبدًا، فإن احتج مبتدع زنديق بقول اللَّه تبارك وتعالى: {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ} [القصص: 88] وبنحو هذا فقيل له: كل شيء مما كتب اللَّه عليه الفناء والهلاك هالك، والجنة والنار خُلقتا للبقاء لا للفناء، ولا للهلاك وهما من الآخرة لا من الدنيا، والحور العين لا يمتن عند
তাঁর জান্নাত বা জাহান্নামের ঠিকানা।
মুনকার ও নাকির সত্য, এবং তাঁরা দু’জন কবরের পরীক্ষক; আমরা আল্লাহর কাছে দৃঢ়তা প্রার্থনা করি।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাওয সত্য, তাঁর উম্মত সেখানে উপস্থিত হবে এবং সেখানে পান করার জন্য পাত্র রয়েছে যা দিয়ে তারা সেখান থেকে পান করবে।
সিরাত সত্য যা জাহান্নামের ওপর স্থাপন করা হবে, অতঃপর মানুষ তার ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে, আর তার পরেই জান্নাত; আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও পার হওয়ার তাওফীক প্রার্থনা করি।
মীযান সত্য যার মাধ্যমে নেকি ও গুনাহসমূহ ওজন করা হবে, যেভাবে আল্লাহ ওজন করতে চাইবেন।
সূর সত্য যাতে ইসরাফিল ফুঁৎকার দেবেন ফলে সৃষ্টিজগত মারা যাবে, অতঃপর তাতে পুনরায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে তখন তারা রব্বুল আলামীনের সামনে হিসাব-নিকাশ, ফয়সালা, প্রতিদান ও শাস্তি এবং জান্নাত ও জাহান্নামের জন্য দণ্ডায়মান হবে।
লাওহে মাহফূয সত্য যেখান থেকে বান্দাদের আমলসমূহ অনুলিপি করা হয়, যেহেতু সেখানে তকদীর ও ফয়সালাসমূহ পূর্বেই নির্ধারিত রয়েছে।
কলম সত্য যার মাধ্যমে আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের তকদীর লিখেছেন এবং তা যিকরে (সংরক্ষিত ফলকে) গণনা করে রেখেছেন; আমাদের রব অতীব বরকতময় ও সুউচ্চ।
কিয়ামত দিবসের সুপারিশ সত্য; একদল লোক অন্য একদল লোকের জন্য সুপারিশ করবে ফলে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, এবং একদল লোক জাহান্নামে প্রবেশের পর সুপারিশকারীদের সুপারিশে সেখান থেকে বের হবে, আর একদল লোক আল্লাহর রহমতে জাহান্নাম থেকে বের হবে সেখানে আল্লাহ যতটুকু সময় চান অবস্থান করার পর। আর একদল লোক জাহান্নামে চিরকাল অবস্থান করবে, তারা হলো শিরককারী, মিথ্যারোপকারী, সত্য অস্বীকারকারী এবং আল্লাহর সাথে কুফরীকারী।
কিয়ামত দিবসে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে মৃত্যুকে যবেহ করা হবে। জান্নাত ও এতে যা কিছু আছে এবং জাহান্নাম ও এতে যা কিছু আছে তা ইতোমধ্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে, আল্লাহ তা সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি এ দুটির জন্যই সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন; এ দুটি কখনো ধ্বংস হবে না এবং সেখানে যারা থাকবে তারাও কখনো নিঃশেষ হবে না। যদি কোনো বিদআতি যিন্দীক আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার এই বাণীর মাধ্যমে বিতর্ক করে যে: "তাঁর চেহারা ব্যতীত প্রতিটি জিনিস ধ্বংসশীল" [আল-কাসাস: ৮৮] এবং এর অনুরূপ আয়াত দিয়ে, তবে তাকে বলা হবে: আল্লাহ যার ওপর বিনাশ ও ধ্বংস লিখে দিয়েছেন তার প্রতিটি বিষয়ই ধ্বংসশীল, কিন্তু জান্নাত ও জাহান্নাম স্থায়িত্বের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, বিনাশ বা ধ্বংসের জন্য নয়। আর এ দুটি আখিরাতের বিষয়, দুনিয়ার নয়। আর হুরুল আইনরা নিকটবর্তী সময়ে মারা যাবে না...
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ١٤)
قيام الساعة، ولا عند النفخة، ولا أبدًا؛ لأن اللَّه تبارك وتعالى خلقهن للبقاء لا للفناء، ولم يكتب عليهن الموت، فمن قال بخلاف ذلك فهو مبتدع مخالف وقد ضل عن سواء السبيل.
وخلق اللَّه سبع سماوات بعضها فوق بعض، وسبع أرضين بعضها أسفل من بعض، وبين الأرض العليا والسماء الدنيا مسيرة خمسمائة عام، وبين كل سماءٍ إلى سماءٍ مسيرة خمسمائة عام، والماء فوق السماء السابعة، وعرش الرحمن فوق الماء، واللَّه تبارك وتعالى على العرش، والكرسي موضع قدميه، وهو يعلم ما في السماوات السبع، وما في الأرضين السبع، وما بينهن، وما تحتهن، وما تحت الثرى، وما في قعر البحار، ومنبت كل شعرة، وكل شجرة، وكل زرع، وكل نبت، ومسقط كل ورقة، وعدد ذلك كله، وعدد الحصا، والرمل والتراب، ومثاقيل الجبال، وقطر الأمطار، وأعمال العباد، وآثارهم، وكلامهم وأنفاسهم، وتمتمتهم، وما توسوس به صدورهم يعلم كل شيء لا يخفى عليه شيء من ذلك، وهو على العرش فوق السماء السابعة، ودونه حجب من نار ونور وظلمة وما هو أعلم بها، فإن احتج مبتدع أو مخالف أو زنديق بقول اللَّه تبارك وتعالى {وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ} [ق: 16] وبقوله: {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ} [الحديد: 4] وبقوله: {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ} [المجادلة: 7] ونحو ذلك من متشابه القرآن فقل: إنما يعني بذلك العلم؛ لأن اللَّه تبارك وتعالى على العرش فوق السماء السابعة العليا يعلم ذلك كله، وهو بائن من خلقه لا يخلو من علمه مكان، وللَّه عرش، وللعرش حملة يحملونه، وله حدٌّ اللَّه أعلم بحده، واللَّه على عرشه عز ذكره، وتعالى جده، ولا إله غيره.
واللَّه تبارك وتعالى سميع لا يشك، بصير لا يرتاب، عليم لا يجهل،
কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময়ও নয়, শিংকায় ফুঁৎকার দেওয়ার সময়ও নয়, আর কখনও নয়; কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা সেগুলোকে স্থায়িত্বের জন্য সৃষ্টি করেছেন, ধ্বংসের জন্য নয়, এবং তিনি সেগুলোর জন্য মৃত্যু নির্ধারণ করেননি। সুতরাং যে ব্যক্তি এর বিপরীতে বলবে, সে একজন বিদআতি ও বিরুদ্ধাচরণকারী এবং সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
আর আল্লাহ সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন যার একটি অন্যটির উপরে, এবং সাত জমিন সৃষ্টি করেছেন যার একটি অন্যটির নিচে। সর্বোচ্চ জমিন এবং নিকটতম আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশ বছরের পথ, এবং প্রত্যেক আসমান থেকে অন্য আসমানের দূরত্ব পাঁচশ বছরের পথ। সপ্তম আসমানের উপরে পানি রয়েছে এবং পানির উপরে রহমানের আরশ রয়েছে। আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা আরশের উপরে উঠেছেন, এবং কুরসি হলো তাঁর দুই পা রাখার স্থান। তিনি জানেন যা কিছু সাত আসমানে আছে, যা কিছু সাত জমিনে আছে, যা তাদের মাঝে আছে, যা তাদের নিচে আছে, যা মাটির নিচে আছে এবং যা সমুদ্রের অতল গহ্বরে আছে। তিনি প্রতিটি পশম, প্রতিটি বৃক্ষ, প্রতিটি ফসল এবং প্রতিটি উদ্ভিদের উৎপত্তিস্থল জানেন। তিনি প্রতিটি পাতা ঝরে পড়ার স্থান জানেন, এবং এই সবকিছুর সংখ্যা জানেন। তিনি কণা, বালু ও মাটির সংখ্যা জানেন, পাহাড়সমূহের ওজন, বৃষ্টির ফোঁটা, বান্দাদের আমল, তাদের চিহ্নসমূহ, তাদের কথা, তাদের নিঃশ্বাস, তাদের অস্ফুট শব্দ এবং তাদের অন্তরে যা কুমন্ত্রণা দেয়—সবই তিনি জানেন। তিনি সবকিছু জানেন, এর কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন নয়। তিনি সপ্তম আসমানের উপরে আরশের উপরে উঠেছেন এবং তাঁর নিচে আগুন, নূর ও অন্ধকারের পর্দা রয়েছে এবং এমন কিছু যা সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন। যদি কোনো বিদআতি, বিরুদ্ধাচরণকারী বা যিন্দিক আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার বাণী: {এবং আমি তার শাহরগ অপেক্ষাও নিকটতর} [ক্বাফ: ১৬], এবং তাঁর বাণী: {তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন} [আল-হাদীদ: ৪], এবং তাঁর বাণী: {তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে তিনি থাকেন না} [আল-মুজাদালা: ৭] এবং কুরআনের এই জাতীয় মুতাশাবিহ আয়াতগুলো দিয়ে দলিল পেশ করে, তবে তুমি বলো: এর দ্বারা কেবল জ্ঞানই উদ্দেশ্য; কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা সপ্তম উচ্চ আসমানের উপরে আরশের উপরে উঠেছেন, তিনি এই সব কিছু জানেন। তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক, কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞান বহির্ভূত নয়। আল্লাহর একটি আরশ আছে, এবং আরশের বহনকারী ফেরেশতা রয়েছে যারা এটি বহন করে। আরশের একটি সীমা আছে যা সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। আল্লাহ তাঁর আরশের উপরে উঠেছেন—তাঁর জিকির মহিমান্বিত হোক, তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ এবং তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।
আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা সর্বশ্রোতা যাতে কোনো সংশয় নেই, সর্বদ্রষ্টা যাতে কোনো সন্দেহ নেই, সর্বজ্ঞানী যিনি অজ্ঞ নন।
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ١٥)
جواد لا يبخل، حليم لا يعجل، حفيظ لا ينسى، يقظان لا يسهو، رقيب لا يغفل، يتكلم ويتحرك، ويسمع ويبصر وينظر، ويقبض ويبسط، ويفرح، ويحب ويكره ويبغض ويرضى، ويسخط ويغضب، ويرحم ويعفو ويغفر، ويعطي ويمنع، وينزل كل ليلة إلى السماء الدنيا كيف شاء وكما شاء، {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11]، وقلوب العباد بين [أصبعين من] أصابع الرحمن يقلبها كيف يشاء، ويوعيها ما أراد. وخلق آدم بيده على صورته، والسماوات والأرضون يوم القيامة في كفه وقبضته، ويضع قدمه في جهنم فتزوى، ويخرج قوم من النار بيده، وينظر أهل الجنة إلى وجهه يزورونه فيكرمهم، ويتجلى لهم فيعطيهم، ويُعرض عليه العباد يوم الفصل والدين فيتولى حسابهم بنفسه لا يولي ذلك غيره، عز ربنا وجل وهو على ما يشاء قدير.
والقرآن كلام اللَّه تكلم به ليس بمخلوق، فمن زعم أن القرآن مخلوق فهو جهمي كافر، ومن زعم أن القرآن كلام اللَّه ووقف ولم يقل ليس بمخلوق فهو أكفر من الأول وأخبث قولًا، ومن زعم أن ألفاظنا بالقرآن وتلاوتنا له مخلوقة والقرآن كلام اللَّه فهو جهمي خبيث مبتدع.
ومن لم يكفر هؤلاء القوم ولا الجهمية كلهم فهو مثلهم، وكلم اللَّه موسى وناوله التوراة من يده إلى يده (1)، ولم يزل اللَّه متكلمًا عالمًا فتبارك اللَّه أحسن الخالقين.
والرؤيا من اللَّه وهي حق إذا رأى صاحبها شيئًا في منامه مما ليس
--------------------------------------------
তিনি দানশীল, কার্পণ্য করেন না; পরম সহিষ্ণু, তড়িঘড়ি করেন না; সংরক্ষণকারী, ভুলে যান না; সদা জাগ্রত, অসতর্ক হন না; পর্যবেক্ষণকারী, গাফেল হন না; তিনি কথা বলেন ও নড়াচড়া করেন, এবং শুনেন, দেখেন ও দৃষ্টিপাত করেন; তিনি সংকীর্ণ করেন ও প্রশস্ত করেন; তিনি আনন্দিত হন, ভালোবাসেন, অপছন্দ করেন, ঘৃণা করেন ও সন্তুষ্ট হন; তিনি অসন্তুষ্ট হন ও রাগান্বিত হন; তিনি রহম করেন, ক্ষমা করেন ও মাফ করে দেন; তিনি দান করেন ও বিরত রাখেন; এবং তিনি প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন যেভাবে তিনি চান এবং যেমনভাবে তিনি চান, "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা" [আশ-শুরা: ১১]; আর বান্দাদের অন্তরসমূহ রহমানের আঙুলসমূহের মধ্য থেকে [দুইটি আঙুলের] মাঝে থাকে, তিনি যেভাবে চান তা পরিবর্তন করেন এবং যা চান তা ধারণ করান। আর তিনি আদমকে তাঁর হাত দিয়ে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন; এবং কিয়ামতের দিন আসমানসমূহ ও জমিনসমূহ তাঁর হাতের তালু ও মুষ্টির মধ্যে থাকবে; তিনি জাহান্নামে তাঁর পা রাখবেন, ফলে তা গুটিয়ে যাবে; আর তিনি একদল লোককে তাঁর হাত দিয়ে জাহান্নাম থেকে বের করবেন; জান্নাতবাসীরা তাঁর চেহারার দিকে তাকাবে, তারা তাঁর সাক্ষাৎ করবে এবং তিনি তাদের সম্মানিত করবেন; তিনি তাদের সামনে প্রকাশিত হবেন এবং তাদের দান করবেন; আর বিচার ও কর্মফলের দিনে বান্দাদের তাঁর সামনে পেশ করা হবে, তখন তিনি নিজেই তাদের হিসাব গ্রহণ করবেন, অন্য কাউকে এর দায়িত্ব দেবেন না; আমাদের রব মহান ও মহিমান্বিত এবং তিনি যা চান তার ওপর ক্ষমতাবান।
আর কুরআন আল্লাহর কালাম, তিনি তা বলেছেন, তা সৃষ্ট নয়; সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে কুরআন সৃষ্টি, সে একজন জাহমি কাফির; আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে কুরআন আল্লাহর কালাম এবং এ বিষয়ে থেমে যায় ও বলে না যে তা সৃষ্ট নয়, সে প্রথম ব্যক্তির চেয়েও বড় কাফির এবং তার কথা অধিক নিকৃষ্ট; আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে কুরআনের শব্দসমূহে আমাদের উচ্চারণ ও আমাদের তেলাওয়াত করা সৃষ্টি কিন্তু কুরআন আল্লাহর কালাম, সে একজন নিকৃষ্ট বিদআতি জাহমি।
আর যে ব্যক্তি এই লোকদের এবং সকল জাহমিদের কাফির বলবে না, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত; আর আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেছেন এবং তাওরাত তাঁর হাত থেকে তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন (১); আর আল্লাহ সর্বদা কথা বলা ও জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, অতএব আল্লাহ বরকতময়, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা।
আর স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তা সত্য, যখন স্বপ্নদ্রষ্টা তার ঘুমে এমন কিছু দেখে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ١٦)
هو ضغث فقصها على عالم وصدق فيها، وأولها العالم على أصل تأويلها الصحيح، ولم يحرف فالرؤيا وتأويلها حينئذٍ حق، وقد كانت الرؤيا من النبيين وحيًا، فأي جاهل بأجهل ممن يطعن في الرؤيا، ويزعم أنها ليست بشيء، وقد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم: "أنَّ رُؤيا المؤمنِ كلامٌ يكلم الربُّ عبده" (1)، وقال: "الرُّؤيا من اللَّه" (2) وباللَّه التوفيق.
ومن السنة الواضحة البينة الثابتة المعروفة ذكر محاسن أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم كلهم أجمعين، والكف عن ذكر مساوئهم والذي شجر بينهم، فمن سب أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، أو أحدًا منهم أو طعن عليهم، أو عرض بعيبهم أو عاب أحدًا منهم بقليل أو كثير، أو دق أو جل مما يتطرق إلى الوقيعة في أحد منهم، فهو مبتدع رافضي خبيث مخالف، لا قبل اللَّه صرفه ولا عدله، بل حبهم سنة، والدعاء لهم قربة، والاقتداء بهم وسيلة، والأخذ بآثارهم فضيلة.
وخير الأمة بعد النبي صلى الله عليه وسلم أبو بكر، وخيرهم بعد أبي بكر عمر، وخيرهم بعد عمر عثمان. وقال قوم من أهل العلم وأهل السنة: وخيرهم بعد عثمان علي. ووقف قوم على عثمان، وهم خلفاء راشدون مهديون، ثم أصحاب محمد بعد هؤلاء الأربعة خير الناس، لا يجوز لأحد إن يذكر شيئًا من مساوئهم، ولا يطعن على أحد منهم بعيب، ولا ينقص ولا وقيعة، فمن فعل ذلك فالواجب على السلطان تأديبه وعقوبته ليس له أن يعفو بل
--------------------------------------------
এটি একগুচ্ছ বিভ্রান্তিকর স্বপ্ন ছিল, অতঃপর তিনি তা একজন বিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে বর্ণনা করলেন এবং তিনি এতে সত্যবাদী ছিলেন। সেই বিজ্ঞ ব্যক্তি একে এর সঠিক ব্যাখ্যার মূলনীতির ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করলেন এবং কোনো বিকৃতি করেননি, তখন সেই স্বপ্ন ও এর ব্যাখ্যা সত্য হিসেবে গণ্য হয়। আর নবীদের স্বপ্ন ছিল ওহী (প্রত্যাদেশ)। স্বপ্নের ব্যাপারে যে ব্যক্তি দোষারোপ করে এবং দাবি করে যে এর কোনো ভিত্তি নেই, তার চেয়ে বড় মূর্খ আর কে হতে পারে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: "মুমিনের স্বপ্ন হলো এমন এক কথা, যার মাধ্যমে প্রতিপালক তাঁর বান্দার সাথে কথা বলেন" (১), এবং তিনি বলেছেন: "স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে" (২)। আর আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফিক অর্জিত হয়।
স্পষ্ট, উজ্জ্বল, প্রতিষ্ঠিত ও সুপরিচিত সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল সাহাবীর গুণাবলি আলোচনা করা এবং তাঁদের দোষত্রুটি ও তাঁদের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিবাদ বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকা। সুতরাং যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের অথবা তাঁদের কাউকে গালি দেয়, কিংবা তাঁদের নিন্দা করে, কিংবা তাঁদের কোনো ত্রুটি প্রকাশ করে অথবা তাঁদের ছোট-বড় কোনো বিষয়ে সমালোচনা করে যা তাঁদের মর্যাদাহানির পর্যায়ে পড়ে, তবে সে ব্যক্তি একজন বিদআতী, ঘৃণ্য রাফেজী এবং বিরোধী। আল্লাহ তার কোনো নফল বা ফরজ ইবাদত কবুল করবেন না। বরং তাঁদের ভালোবাসা সুন্নাহ, তাঁদের জন্য দোয়া করা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়, তাঁদের অনুসরণ করা একটি মাধ্যম এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা একটি ফজিলত।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু বকর, আবু বকরের পরে শ্রেষ্ঠ হলেন উমর, আর উমরের পরে শ্রেষ্ঠ হলেন উসমান। ইলম ও সুন্নাহর অনুসারী একদল আলিম বলেছেন: উসমানের পরে শ্রেষ্ঠ হলেন আলী। আবার একদল উসমানের ওপর থেমে গেছেন। তাঁরা সকলেই হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদুন। এই চারজনের পরে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণই শ্রেষ্ঠ মানুষ। কারো জন্য তাঁদের কোনো দোষত্রুটি উল্লেখ করা, কাউকে নিন্দা করা, খাটো করা বা কুৎসা রটনা করা বৈধ নয়। যে ব্যক্তি এমনটি করবে, শাসকের দায়িত্ব হলো তাকে আদব শিক্ষা দেওয়া এবং শাস্তি প্রদান করা। শাসকের জন্য তাকে ক্ষমা করে দেওয়া বৈধ নয় বরং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ١٧)
يعاقبه ثم يستتيبه، فإن تاب قبل منه، وإن لم يتب أعاد عليه العقوبة ثم خلده الحبس حتى يموت أو يراجع فهذا السنة في أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم.
ويعرف للعرب حقها وفضلها وسابقتها ويحبهم لحديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: "حبُّ العربِ إيمانٌ وبُغضهم نفاق" (1) ولا يقول بقول الشعوبية وأراذل الموالي الذين لا يحبون العرب، ولا يقرون لها بالفضل، فإن قولهم بدعة وخلاف.
ومَنْ حَرَّمَ المكاسبَ والتجارات وطلب المال من وجهه، فقد جهل وأخطأ وخالف، بل المكاسب من وجوهها حلال قد أحله اللَّه ورسوله، والعلماء من الأمة، فالرجل ينبغي له أن يسعى على نفسه وعياله، ويبتغي من فضل ربه، فإن ترك ذلك على أنه لا يرى الكسب فهو مخالف، وكلُّ أحدٍ أحق بماله الذي ورثه أو استفاده، أو أصابه أو اكتسبه لا كما يقول المتكلمون المخالفون.
والدين إنما هو كتاب اللَّه وآثار وسنن وروايات صحاح عن الثقات بالأخبار الصحيحة القوية المعروفة المشهورة، يرويها الثقة الأول المعروف عن الثاني الثقة المعروف، يصدق بعضهم بعضًا حتى ينتهي ذلك إلى النبي صلى الله عليه وسلم، أو أصحاب النبي، أو التابعين، أو تابع التابعين، أو من بعدهم من الأئمة المعروفين المقتدى بهم، المتمسكين بالسنة،
--------------------------------------------
তাকে শাস্তি প্রদান করবেন, অতঃপর তওবা করতে বলবেন। যদি সে তওবা করে তবে তা গ্রহণ করা হবে, আর যদি সে তওবা না করে তবে পুনরায় তাকে শাস্তি দেবেন, এরপর তাকে আমৃত্যু কারারুদ্ধ করে রাখবেন যতক্ষণ না সে মারা যায় অথবা সঠিক পথে ফিরে আসে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ব্যাপারে এটিই হলো সুন্নাহ।
আর আরবদের অধিকার, মর্যাদা ও অগ্রগামিতা সম্পর্কে অবগত থাকা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের কারণে তাদের ভালোবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত: "আরবদের ভালোবাসা ঈমান এবং তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা নিফাক।" (১) আর শুউবিয়্যাহ ও নিকৃষ্ট আযাদকৃত দাসদের মতো কথা বলবে না, যারা আরবদের ভালোবাসে না এবং তাদের মর্যাদাকে স্বীকার করে না। নিশ্চয়ই তাদের কথা বিদআত এবং সুন্নাহর পরিপন্থী।
আর যে ব্যক্তি বৈধ পন্থায় উপার্জন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থ অন্বেষণকে হারাম সাব্যস্ত করে, সে অবশ্যই অজ্ঞতা প্রদর্শন করেছে, ভুল করেছে এবং বিরোধিতা করেছে। বরং সঠিক পন্থায় উপার্জন হালাল, যা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং উম্মতের আলেমগণ হালাল করেছেন। সুতরাং মানুষের উচিত নিজের এবং পরিবারের জন্য প্রচেষ্টা চালানো এবং স্বীয় রবের অনুগ্রহ অন্বেষণ করা। যদি কেউ উপার্জনকে বৈধ মনে না করে তা বর্জন করে, তবে সে সুন্নাহর বিরোধী। প্রত্যেকেই তার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত, লব্ধ অথবা উপার্জিত সম্পদের ব্যাপারে সর্বাধিক হকদার; বিরোধী কালামশাস্ত্রবিদরা যা বলে তা সঠিক নয়।
দ্বীন হলো আল্লাহর কিতাব এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে বর্ণিত শক্তিশালী, সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ সহীহ সংবাদ, আছার, সুন্নাহ ও রেওয়ায়াতসমূহ; যা একজন সুপরিচিত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী অপর একজন সুপরিচিত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেন এবং একে অপরের সত্যায়ন করেন, যতক্ষণ না তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত অথবা নবীর সাহাবীগণ, তাবেঈগণ, তাবে-তাবেঈগণ অথবা তাঁদের পরবর্তী অনুসরণীয় সুপরিচিত ইমামগণ—যারা সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছেন—পর্যন্ত পৌঁছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ١٨)
والمتعلقين بالأثر، الذين لا يُعرفون ببدعة، ولا يُطعَن عليهم بكذب، ولا يُرمَون بخلاف، وليسوا أصحاب قياس ولا رأي، لأن القياس في الدين باطل، والرأي كذلك وأبطل منه، وأصحاب الرأي والقياس في الدين مبتدعة جهلة ضُلّال، إلا أن يكون في ذلك أثر عمن سلف من الأئمة الثقات، فالأخذ بالأثر أولى.
ومن زعم أنه لا يرى التقليد، ولا يقلد دينه أحدًا فهذا قولُ فاسقٍ مبتدعٍ عدؤّ للَّه ولرسوله صلى الله عليه وسلم، ولدينه، ولكتابه، ولسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، إنما يريد بذلك إبطال الأثر، وتعطيل العلم، وإطفاء السنة، والتفرد بالرأي والكلام والبدعة والخلاف، فعلى قائل هذا القول لعنة اللَّه والملائكة والناس أجمعين، فهذا من أخبث قول المبتدعة، وأقربها إلى الضلالة والردى، بل هو ضلالة، زعم أنه لا يرى التقليد وقد قلد دينه أبا حنيفة وبشرًا المريسي، وأصحابه، فأي عدو لدين اللَّه أعدى ممن يريد أن يطفئ السنن، ويبطل الآثار والروايات، ويزعم أنه لا يرى التقليد وقد قلد دينه من قد سميت لك، وهم أئمة الضلال، ورءوس البدع، وقادة المخالفين فعلى قائل هذا القول غضب اللَّه.
فهذِه الأقاويل التي وصفت مذاهب أهل السنة والجماعة، والأثر، وأصحاب الروايات، وحملة العلم الذين أدركناهم وأخذنا عنهم الحديث، وتعلمنا منهم السنن، وكانوا أئمة معروفين ثقات أهل صدق وأمانة يقتدى بهم ويؤخذ عنهم، ولم يكونوا أصحاب بدع ولا خلاف، ولا تخليط وهو قول أئمتهم، وعلمائهم الذين كانوا قبلهم، فتمسكوا بذلك رحمكم اللَّه، وتعلموه وعلموه وباللَّه التوفيق.
ولأصحاب البدع نبز وألقاب، وأسماء لا تشبه أسماء الصالحين ولا
এবং যারা আসারের (বর্ণনা) সাথে সংশ্লিষ্ট, যারা বিদআতের জন্য পরিচিত নন, যাদের ওপর মিথ্যাচারের অপবাদ দেওয়া হয় না এবং যাদেরকে সুন্নাহর বিরোধিতার দায়ে অভিযুক্ত করা হয় না। তারা কিয়াস (যুক্তি) কিংবা রায়ের (ব্যক্তিগত মতামত) অনুসারী নন; কারণ দ্বীনের ব্যাপারে কিয়াস বাতিল এবং রায়ও তদ্রূপ, বরং তা আরও বেশি বাতিল। দ্বীনের ক্ষেত্রে রায় ও কিয়াসের অনুসারীরা হলো বিদআতী, অজ্ঞ ও পথভ্রষ্ট; তবে যদি এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পূর্বসূরি ইমামগণের পক্ষ থেকে কোনো আসার (বর্ণনা) বিদ্যমান থাকে, সেক্ষেত্রে সেই আসার গ্রহণ করাই উত্তম।
আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে তাকলিদ (অনুসরণ) মান্য করে না এবং তার দ্বীনের বিষয়ে কাউকে অনুসরণ করে না, তবে এটি এক ফাসেক বিদআতীর কথা, যে আল্লাহ, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর দ্বীন, তাঁর কিতাব এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর শত্রু। সে এর মাধ্যমে কেবল আসারকে বাতিল করতে, ইলমকে অকেজো করতে, সুন্নাহকে নিভিয়ে দিতে এবং রায়, কালাম (তত্ত্বকথা), বিদআত ও বিরোধিতার মাধ্যমে একক হয়ে থাকতে চায়। এই কথা যে বলে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত। এটি বিদআতীদের নিকৃষ্টতম বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত এবং পথভ্রষ্টতা ও ধ্বংসের নিকটতম, বরং এটিই হলো পথভ্রষ্টতা। সে দাবি করে যে সে তাকলিদ মানে না, অথচ সে তার দ্বীনের বিষয়ে আবু হানিফা এবং বিশর আল-মারীসী ও তাদের অনুসারীদের তাকলিদ করেছে। আল্লাহর দ্বীনের জন্য সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় শত্রু আর কে হতে পারে, যে সুন্নাহসমূহকে নিভিয়ে দিতে চায়, আসার ও বর্ণনাগুলোকে বাতিল করতে চায় এবং দাবি করে যে সে তাকলিদ করে না, অথচ সে তার দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদেরই তাকলিদ করেছে যাদের নাম আমি আপনার কাছে উল্লেখ করেছি? অথচ তারা হলো ভ্রষ্টতার ইমাম, বিদআতের মূল হোতা এবং বিরোধিতাকারীদের নেতা। সুতরাং এই কথা যে বলে, তার ওপর আল্লাহর ক্রোধ।
এই বর্ণনাগুলোই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, আসার, বর্ণনাকারী এবং ইলমের বাহকদের মাজহাবের বিবরণ, যাদেরকে আমরা পেয়েছি এবং যাদের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেছি ও সুন্নাহ শিখেছি। তারা ছিলেন সুপরিচিত ও নির্ভরযোগ্য ইমাম এবং সত্যনিষ্ঠ ও আমানতদার ব্যক্তিত্ব, যাদের অনুসরণ করা হয় এবং যাদের থেকে ইলম গ্রহণ করা হয়। তারা বিদআতী, সুন্নাহ বিরোধী কিংবা বিভ্রান্ত ছিলেন না। আর এটিই ছিল তাদের ইমাম ও তাদের পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্য। অতএব আপনারা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন, আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন; এটি শিখুন এবং শিক্ষা দিন। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে।
আর বিদআতীদের কিছু মন্দ উপাধি, লকব ও নাম রয়েছে যা নেককারদের নামের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয় এবং...
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ١٩)
الأئمة ولا العلماء من أمة محمد صلى الله عليه وسلم.
فمن أسمائهم المرجئة: وهم الذين يزعمون أن الإيمان قول بلا عمل، وأن الإيمان هو القول، والأعمال شرائع، وأن الإيمان مجرد، وأن الناس لا يتفاضلون في الإيمان، وأن إيمانهم وإيمان الملائكة والأنبياء واحد، وأن الإيمان لا يزيد ولا ينقص، وأن الإيمان ليس فيه استثناء، وأن من آمن بلسانه ولما يعمل فهو مؤمن حقًّا، وأنهم مؤمنون عند اللَّه بلا استثناء. هذا كله قول المرجئة وهو أخبث الأقاويل وأضله وأبعده من الهدى.
والقدرية: هم الذين يزعمون أن إليهم الاستطاعة والمشيئة والقدرة، وأنهم يملكون لأنفسهم الخير والشر والضر والنفع والطاعة والمعصية، والهدى والضلالة، وأن العباد يعملون بدءًا من أنفسهم من غير أن يكون سبق لهم ذلك في علم اللَّه، وقولهم يضارع قول المجوسية والنصرانية وهو أصل الزندقة.
والمعتزلة: وهم يقولون قول القدرية ويدينون بدينهم، ويكذبون بعذاب القبر، والشفاعة، والحوض، ولا يرون الصلاة خلف أحد من أهل القبلة، ولا الجمعة إلا من كان على مثل رأيهم وأهوائهم، ويزعمون أن أعمال العباد ليست في اللوح المحفوظ.
والبكرية: وهم قدرية، وهم أصحاب الحبة والقيراط، والدانق يزعمون أن من أخذ حبة، أو قيراطًا، أو دانقًا حرامًا فهو كافر، وقولهم يضاهئ قول الخوارج.
والجهمية: أعداء اللَّه: وهم الذين يزعمون أن القرآن مخلوق وأن اللَّه لم يكلم موسى، وأن اللَّه لا يتكلم، ولا يرى، ولا يعرف للَّه مكان، وليس للَّه عرش، ولا كرسي، وكلام كثير أكره حكايته، وهم كفار زنادقة
ইমামগণ এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতের আলিমগণ নন।
তাদের নামের অন্তর্ভুক্ত হলো মুরজিআ: তারা ওই সকল লোক যারা দাবি করে যে, ঈমান হলো আমলবিহীন মৌখিক স্বীকৃতি এবং ঈমান কেবল মুখের কথা, আর আমলসমূহ হলো বিধান মাত্র। তারা বলে যে ঈমান হলো এক ও অবিভাজ্য এবং ঈমানের ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে কোনো ভেদাভেদ নেই। তাদের ঈমান এবং ফেরেশতা ও নবীদের ঈমান এক ও অভিন্ন। ঈমান বাড়েও না, কমেও না। ঈমানের মধ্যে কোনো প্রকার ব্যতিক্রম (ইনশাআল্লাহ বলা) নেই। যে ব্যক্তি মুখে ঈমান এনেছে অথচ আমল করেনি, সে-ই প্রকৃত মুমিন এবং তারা আল্লাহর নিকট কোনো প্রকার ব্যতিক্রম ছাড়াই মুমিন। এ সবই মুরজিআদের বক্তব্য এবং এটি নিকৃষ্টতম, পথভ্রষ্ট ও হিদায়েত থেকে দূরতম একটি মতবাদ।
আর কাদারিয়া: তারা হলো ওই সকল লোক যারা দাবি করে যে, সক্ষমতা, ইচ্ছা ও ক্ষমতা তাদের নিজেদের হাতে। তারা মনে করে যে, তারা নিজেদের জন্য কল্যাণ, অকল্যাণ, ক্ষতি, উপকার, আনুগত্য, অবাধ্যতা, হিদায়েত এবং গোমরাহির মালিক। তারা বিশ্বাস করে যে, বান্দারা আল্লাহর ইলমে পূর্বনির্ধারিত হওয়া ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমল শুরু করে। তাদের এই বক্তব্য অগ্নিপূজক ও খ্রিস্টানদের বক্তব্যের অনুরূপ এবং এটিই ধর্মদ্রোহিতার মূল ভিত্তি।
আর মুতাজিলা: তারা কাদারিয়াদের মতো কথা বলে এবং তাদের ধর্মই অনুসরণ করে। তারা কবরের আজাব, সুপারিশ এবং হাউজকে অস্বীকার করে। তারা কিবলাপন্থী কোনো ইমামের পেছনে সালাত আদায় করা এবং জুমুআ পড়ার পক্ষে মত দেয় না, যদি না সেই ইমাম তাদের মতো মতাদর্শ ও খেয়ালখুশির অনুসারী হয়। তারা দাবি করে যে, বান্দাদের আমলসমূহ লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত নেই।
আর বাকরিয়া: তারা হলো কাদারিয়াদের একটি গোষ্ঠী; তারা শস্যদানা, কিরাত ও দানিকের (সামান্য সম্পদের) প্রবক্তা। তারা দাবি করে যে, যদি কেউ এক দানা পরিমাণ অথবা এক কিরাত অথবা এক দানিক পরিমাণ হারাম মাল গ্রহণ করে, তবে সে কাফির হয়ে যাবে। তাদের এই বক্তব্য খারিজিদের বক্তব্যের সদৃশ।
আর জাহমিয়া: তারা আল্লাহর শত্রু। তারা দাবি করে যে কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট), আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে কথা বলেননি, আল্লাহ কথা বলেন না এবং তাঁকে দেখা যাবে না। তারা মনে করে আল্লাহর কোনো সুনির্দিষ্ট স্থান নেই, আল্লাহর কোনো আরশ নেই এবং কোনো কুরসি নেই। তারা আরও অনেক কথা বলে যা বর্ণনা করা আমি অপছন্দ করি। তারা হলো কাফির ও ধর্মদ্রোহী।
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
أعداء اللَّه فاحذروهم.
والواقفة: وهم الذين يزعمون أنا نقول: إن القرآن كلام اللَّه. ولا نقول: غير مخلوق. وهم شر الأصناف وأخبثها.
واللفظية: وهم الذين يزعمون أنا نقول: إن القرآن كلام اللَّه. ولكن ألفاظنا. بالقرآن وتلاوتنا وقراءتنا له مخلوقة، وهم جهمية فساف.
والرافضة: الذين يتبرءون من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ويسبونهم وينقصونهم، ويكفرون الأمة إلا نفرًا يسيرًا، وليست الرافضة من الإسلام في شيء.
والمنصورية: وهم رافضة أخبث الروافض، وهم الذين يقولون: من قتل أربعين رجلًا ممن خالفهم هَواهم دخل الجنة، وهم الذين يخنقون الناس ويستحلون أموالهم، وهم الذين يقولون: أخطأ جبريل بالرسالة، وهذا الكفر الواضح الذي لا يشوبه إيمان، فنعوذ باللَّه منه.
والسبائية: وهم رافضة كذابون، وهم قريب ممن ذكرت مخالفون للأئمة.
والرافضة أسوأ أثرًا في الإسلام من أهل الكفر ومن أهل الحرب، وصنف من الرافضة يقولون: عليٌّ في السحاب، ويقولون: عليٌّ يبعث قبل يوم القيامة. وهذا كله كذب وزور وبهتان.
والزيدية: وهم رافضة، وهم الذين يتبرؤون من عثمان وطلحة والزبير وعائشة، ويرون القتال مع كل من خرج من ولد علي برًّا كان أو فاجرًا حتى يَغلب أو يُغلب.
والخشبية: وهم الذين يقولون قول الزيدية.
والشيعة: وهم فيما زعموا ينتحلون حب آل محمد دون الناس، وكذبوا، بل هم خاصة المبغضون لآل محمد. دون الناس، إنما شيعة آل
আল্লাহর শত্রু, সুতরাং তাদের থেকে সতর্ক থেকো।
ওয়াকিফিয়া: তারা হলো সেই সব লোক যারা দাবি করে যে, আমরা বলি: কুরআন আল্লাহর বাণী। কিন্তু আমরা বলি না যে তা অ-সৃষ্ট। তারা সকল উপদলের মধ্যে সবচেয়ে মন্দ এবং নিকৃষ্ট।
লাফজিয়া: তারা হলো সেই সব লোক যারা দাবি করে যে, আমরা বলি: কুরআন আল্লাহর বাণী। কিন্তু কুরআনে আমাদের উচ্চারণ, আমাদের তিলাওয়াত এবং আমাদের পাঠ সৃষ্টি; তারা হলো পাপাচারী জাহমিয়া।
রাফেজিয়া: যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং তাদের গালিগালাজ করে ও অবমাননা করে, আর অল্প কয়েকজন ব্যতীত সমগ্র উম্মতকে কাফের গণ্য করে। ইসলামের সাথে রাফেজিদের কোনো সম্পর্ক নেই।
মানসুরিয়া: তারা রাফেজিদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। তারা বলে: যে ব্যক্তি তাদের খেয়াল-খুশির বিরুদ্ধাচরণকারী চল্লিশজন ব্যক্তিকে হত্যা করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা মানুষের শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং তাদের ধন-সম্পদ হরণ করা বৈধ মনে করে। তারা এমন লোক যারা বলে: জিবরাঈল রিসালাত বা বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ভুল করেছেন; এটি স্পষ্ট কুফরি যাতে ঈমানের কোনো সংমিশ্রণ নেই। আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি।
সাবাইয়া: তারা মিথ্যাবাদী রাফেজি। আমি যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাদের সাথে এদের সাদৃশ্য রয়েছে এবং তারা ইমামদের বিরোধী।
ইসলামের মধ্যে কুফরি ও যুদ্ধরত কাফেরদের প্রভাবের চেয়ে রাফেজিদের কুপ্রভাব অত্যন্ত মন্দ। রাফেজিদের একটি দল বলে: আলী মেঘমালার মধ্যে অবস্থান করছেন এবং তারা বলে: কিয়ামতের দিন আসার আগেই আলীকে পুনরায় পাঠানো হবে। এসবই ডাহা মিথ্যা, বানোয়াট এবং অপবাদ।
যায়দিয়া: তারা রাফেজি। তারা উসমান, তালহা, জুবাইর এবং আয়েশা (রা.)-এর থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং আলীর বংশধরদের মধ্য থেকে যারা বিদ্রোহ করে বের হয়—চাই সে নেককার হোক বা পাপাচারী—তাদের সাথে মিলে লড়াই করাকে অপরিহার্য মনে করে, যতক্ষণ না তারা বিজয়ী হয় অথবা পরাজিত হয়।
খাশবিয়া: তারা যায়দিয়াদের মতবাদই পোষণ করে।
শিয়া: তারা যা দাবি করে তা হলো, মানুষের মধ্যে কেবল তারাই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবারের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করে। অথচ তারা মিথ্যা বলেছে; বরং তারাই মানুষের মধ্যে বিশেষভাবে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবারের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী। প্রকৃতপক্ষে আহলে বায়তের অনুসারী তো তারাই...
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٢١)
محمد المتقون أهل السنة والأثر، من كانوا وحيث كانوا، الذين يحبون آل محمد وجميع أصحاب محمد، ولا يذكرون أحدًا منهم بسوء، ولا عيب، ولا منقصة، فمن ذكر أحدًا من أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم بسوء أو طعن عليه بعيب أو تبرأ من أحد منهم، أو سبهم، أو عرض بسبهم وشتمهم فهو رافضي مخالف خبيث ضال.
وأما الخوارج: فمرقوا من الدين، وفارقوا الملة، وشردوا على الإسلام، وشذوا عن الجماعة، وضلوا عن سبيل الهدى، وخرجوا على السلطان والأئمة، وسلوا السيف على الأمة، واستحلوا دماءهم وأموالهم، وكفروا من خالفهم إلا من قال بقولهم، وكان على مثل رأيهم، وثبت معهم في دار ضلالتهم، وهم يشتمون أصحابَ محمدٍ وأصهارَه وأختانَه، ويتبرؤون منهم، ويرمونهم بالكفر والعظائم ويرون خلافهم في شرائع الدين وسنن الإسلام، ولا يؤمنون بعذاب القبر، ولا الحوض، ولا الشفاعة، ولا يخرجوا أحدًا من أهل النار، وهم يقولون: من كذب كذبة، أو أتى صغيرة أو كبيرة من الذنوب فمات من غير توبة فهو كافر فهو في النار خالدًا مخلدًا فيها أبدًا، وهم يقولون بقول البكرية في الحبة والقيراط، وهم قدرية جهمية مرجئة رافضة، ولا يرون جماعة إلا خلف إمامهم، وهم يرون تأخير الصلاة عن وقتها، ويرون الصوم قبل رؤية [الهلال]، والفطر قبل رؤيته، وهم يرون النكاح بغير ولي ولا سلطان، ويرون المتعة في دينهم، ويرون الدرهم بالدرهمين يدًا بيد حلالًا، وهم لا يرون الصلاة في الخفاف، ولا المسح عليها، وهم لا يرون للسلطان عليهم طاعة، ولا لقريش خلافة، وأشياء كبيرة يخالفون فيها الإسلام وأهله، فكفى بقوم ضلالة يكون هذا
মুহাম্মাদ-এর মুত্তাকী অনুসারী, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল আসার—তাঁরা যেখানেই থাকুন না কেন—তাঁরা মুহাম্মাদ-এর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীকে ভালোবাসেন। তাঁরা তাঁদের কাউকেই মন্দভাবে, কোনো দোষত্রুটি বা তুচ্ছজ্ঞানের সাথে স্মরণ করেন না। সুতরাং যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)-এর সাহাবীদের কাউকে মন্দভাবে উল্লেখ করে, কিংবা কারো প্রতি কোনো দোষারোপের মাধ্যমে আক্রমণ করে, কিংবা তাঁদের কারো থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়, অথবা তাঁদের গালি দেয়, কিংবা তাঁদের গালিগালাজ বা অপবাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, তবে সে একজন রাফেযী, চরমপন্থী বিরোধী, অপবিত্র এবং পথভ্রষ্ট।
আর খারিজিদের ব্যাপারে কথা হলো: তারা দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়েছে, মিল্লাত (ধর্মীয় আদর্শ) ত্যাগ করেছে এবং ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। তারা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং হিদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তারা সুলতান ও ইমামদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে এবং উম্মাহর বিরুদ্ধে তলোয়ার ধারণ করেছে। তারা মুসলিমদের রক্ত ও ধন-সম্পদকে হালাল জ্ঞান করেছে। যারা তাদের মতের সাথে একমত নয়, তাদের তারা কাফির আখ্যা দিয়েছে; কেবল তারাই তাদের নিকট মুমিন যারা তাদের মত গ্রহণ করেছে, তাদের মতাদর্শের ওপর অটল থেকেছে এবং তাদের ভ্রষ্টতার আবাসে তাদের সাথে অবস্থান করেছে। তারা মুহাম্মাদ-এর সাহাবীগণ এবং তাঁর বৈবাহিক আত্মীয়দের গালি দেয়, তাঁদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় এবং তাঁদের ওপর কুফর ও গুরুতর পাপের অপবাদ আরোপ করে। তারা দ্বীনের শরীয়ত ও ইসলামের রীতিনীতির ক্ষেত্রে সাহাবীদের বিরুদ্ধাচরণ করাকে সঙ্গত মনে করে। তারা কবরের আযাব, হাউয এবং শাফায়াতে (সুপারিশ) বিশ্বাস করে না। তারা জাহান্নামীদের মধ্য থেকে কেউ বের হবে বলেও বিশ্বাস করে না। তারা বলে: যে ব্যক্তি কোনো মিথ্যা বলবে, কিংবা কোনো ছোট বা বড় পাপে লিপ্ত হবে এবং তাওবা ছাড়া মারা যাবে, সে কাফির এবং সে জাহান্নামে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। তারা শস্যদানা ও কিরাত সংক্রান্ত মাসআলায় বাকরিয়াদের মত পোষণ করে এবং তারা একাধারে কাদারিয়া, জাহমিয়া, মুরজিয়া ও রাফেযী। তারা তাদের নিজস্ব ইমাম ব্যতীত অন্য কারো পেছনে জামাতে নামায আদায় করা জায়েয মনে করে না। তারা নামাযকে তার নির্ধারিত ওয়াক্ত থেকে বিলম্বিত করা এবং চাঁদ দেখার আগেই রোজা রাখা ও চাঁদ দেখার আগেই ইফতার করাকে বৈধ মনে করে। তারা অভিভাবক বা শাসকের অনুমতি ছাড়াই বিবাহ করাকে সঠিক মনে করে এবং তাদের ধর্মে ‘মুতা’ বিবাহ জায়েয মনে করে। তারা হাতে হাতে এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম গ্রহণ করাকে হালাল মনে করে। তারা চামড়ার মোজার ওপর নামায পড়া বা মাসেহ করা স্বীকার করে না। তারা শাসকের আনুগত্য এবং কুরাইশদের খিলাফত স্বীকার করে না। এছাড়া তারা আরও এমন বহু গুরুতর বিষয়ে ইসলাম ও তার অনুসারীদের বিরোধিতা করে, যা কোনো সম্প্রদায়ের পথভ্রষ্টতার জন্য যথেষ্ট।
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
رأيهم ومذهبهم ودينهم وليسوا من الإسلام في شيء، وهم المارقة.
ومن أسماء الخوارج:
الحرورية، وهم أهل حروراء.
والأزارقة: وهم أصحاب نافع بن الأزرق، وقولهم أخبث الأقاويل وأبعدها من الإسلام والسُّنة.
والنجدية: وهم أصحاب نجدة بن عامر.
والإباضية: وهم أصحاب عبد اللَّه بن إباض.
والصفرية: وهم أصحاب داود بن النعمان حين قيل له: إنك صفر من العلم.
والبهيسية، والميمونية، والخازمية؛ كل هؤلاء خوارج فساق مخالفين للسنة خارجين من الملّة أهل بدعة وضلالة، وهم لصوص قطاع قد عرفناهم بذلك.
والشعوبية: وهم أصحاب بدعة يقولون: العرب والموالي عندنا واحد لا يرون للعرب حقًّا، ولا يعرفون لهم فضلًا، ولا يحبونهم، بل يبغضون العرب، ويضمرون لهم الغل والحسد والبغضة في قلوبهم. هذا قول قبيح ابتدعه رجل من أهل العراق، وتابعه نفر يسير فقُتِلَ عليه.
وأصحاب الرأي: وهم مبتدعة ضُلّال أعداء السُّنة والأثر، يرون الدين رأيًا وقياسًا واستحسانًا، وهم يخالفون الآثار، ويبطلون الحديث، ويردون على الرسول، ويتخذون أبا حنيفة ومن قال بقوله إمامًا يدينون بدينهم، ويقولون بقولهم، فأي ضلالة أبين ممن قال بهذا أو كان على مثل هذا، يتركُ قولَ الرسول وأصحابه ويتبعُ رأيَ أبي حنيفة وأصحابه، فكفى بهذا غيًّا وطغيانًا وردًّا.
এটি তাদের অভিমত, মাযহাব এবং ধর্ম; ইসলামের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা হলো ধর্মত্যাগী।
আর খারেজিদের কিছু নাম হলো:
হারুরিয়া: তারা হলো হারুরার অধিবাসী।
আজারিকা: তারা নাফি ইবনুল আজরাকের অনুসারী; তাদের বক্তব্য সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং ইসলাম ও সুন্নাহ থেকে তা দূরতম।
নাজদিয়া: তারা নাজদা ইবনে আমিরের অনুসারী।
ইবাদিয়া: তারা আবদুল্লাহ ইবনে ইবাদের অনুসারী।
সুফরিয়া: তারা দাউদ ইবনে নু'মানের অনুসারী; তাকে বলা হয়েছিল যে, সে ইলম বা জ্ঞান থেকে শূন্য।
বুহাইসিয়া, মাইমুনিয়া এবং খাজিমিয়া; এরা সবাই পাপাচারী খারেজি, সুন্নাহর বিরোধী, মিল্লাত থেকে বহিষ্কৃত এবং বিদআত ও গোমরাহির অনুসারী। তারা ডাকাত ও দস্যু, যা আমরা তাদের সম্পর্কে জেনেছি।
শুউবিয়া: তারা বিদআতি গোষ্ঠী, যারা বলে: আমাদের নিকট আরব এবং আযমি দাসরা সমান। তারা আরবদের কোনো অধিকার স্বীকার করে না, তাদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবগত নয় এবং তাদের ভালোবাসে না; বরং তারা আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং নিজেদের অন্তরে তাদের প্রতি শত্রুতা, হিংসা ও ঘৃণা লুকিয়ে রাখে। এটি একটি জঘন্য মতবাদ যা ইরাকের এক ব্যক্তি উদ্ভাবন করেছিল এবং অল্প কিছু লোক তার অনুসরণ করেছিল, যার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।
আসহাবুর রায় (যুক্তিপন্থীরা): তারা হলো বিদআতি ও পথভ্রষ্ট, সুন্নাহ ও আসারের শত্রু। তারা দ্বীনকে রায়, কিয়াস ও ইসতিহসানের মাধ্যমে বিচার করে। তারা আসার বা বর্ণনাসমূহের বিরোধিতা করে, হাদিসকে অকার্যকর করে এবং রাসূলের কথার প্রতিবাদ করে। তারা আবু হানিফা এবং যারা তার মতের অনুসারী তাদের ইমাম হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের দ্বীনের অনুসরণ করে এবং তাদের কথা অনুযায়ী চলে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই কথা বলে বা এই পথের ওপর থাকে, তার চেয়ে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতা আর কী হতে পারে, যে রাসূল এবং তাঁর সাহাবীদের কথা পরিত্যাগ করে এবং আবু হানিফা ও তার সাথীদের রায়ের অনুসরণ করে? পথভ্রষ্টতা, সীমালঙ্ঘন ও সত্য প্রত্যাখ্যানের জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
والولاية بدعة والبراءة بدعة، وهم يقولون: نتولى فلانًا ونتبرأ من فلان. وهذا القول بدعة فاحذروه.
ومن قال بشيء من هذِه الأقاويل أو رآها، أو صوَّبَها، أو رضيها، أو أحبها فقد خالف السنة، وخرج من الجماعة، وترك الأثر، وقال بالخلاف، ودخل في البدعة، وزل عن الطريق، وما توفيقنا إلا باللَّه عليه توكلنا، وبه استعنا، ولا حول ولا قوة إلا باللَّه.
وقد أحدث أهل الأهواء والبدع والخلاف أسماء شنيعة قبيحة فسموا بها أهل السنة يريدون بذلك عيبهم والطعن عليهم، والوقيعة فيهم، والازدراء بهم عند السفهاء والجهال، فأما المرجئة فإنهم يسمون أهل السنة شكاكًا، وكذبت المرجئة بل هم أولى بالشك وبالتكذيب. وأما القدرية فإنهم يسمون أهل السنة والإثبات مجبرة، وكذبت القدرية، بل هم أولى بالكذب والخلاف ألغوا قدرة اللَّه عن خلقه، وقالوا له ما ليس بأهل له تبارك وتعالى.
وأما الجهمية: فإنهم يسمون أهل السنة مشبهة، وكذبت الجهمية أعداء اللَّه بل هم أولى بالتشبيه والتكذيب افتروا على اللَّه الكذب وقالوا على اللَّه الزور والإفك وكفروا في قولهم.
وأما الرافضة: فإنهم يسمون أهل السنة ناصبة، وكذبت الرافضة، بل هم أولى بهذا الاسم إذ ناصبوا أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم السب والشتم وقالوا فيهم غير الحق، ونسبوهم إلى غير العدل كذبًا وظلمًا، وجرأة على اللَّه واستخفافًا لحق الرسول، واللَّه أولى بالتغيير والانتقام منهم.
وأما الخوارج: فإنهم يسمون أهل السنة والجماعة مرجئة، وكذبت الخوارج، بل هم المرجئة يزعمون أنهم على إيمان دون الناس ومن خالفهم كفار.
وأما أصحاب الرأي والقياس: فإنهم يسمون أصحاب السنة نابتة وكذب
'ওয়ালায়া' (আনুগত্য) একটি বিদআত এবং 'বারাআত' (বিচ্ছিন্নতা) একটি বিদআত; তারা বলে: আমরা অমুকের প্রতি আনুগত্য পোষণ করি এবং অমুক থেকে বিচ্ছিন্নতা ঘোষণা করি। এই বক্তব্য একটি বিদআত, সুতরাং তা থেকে সতর্ক থাকুন।
যে ব্যক্তি এই সকল বক্তব্যের কোনো একটি বলবে, অথবা তা সঠিক মনে করবে, অথবা তা সমর্থন করবে, অথবা তাতে সন্তুষ্ট থাকবে, অথবা তা পছন্দ করবে—তবে সে সুন্নাহর বিরোধিতা করল, জামাআত থেকে বের হয়ে গেল, আসার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) পরিত্যাগ করল, মতভেদকে গ্রহণ করল, বিদআতে প্রবেশ করল এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হলো। আমাদের তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আমরা তাঁরই ওপর ভরসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
প্রবৃত্তি পূজারী, বিদআতী এবং বিরোধীরা কতগুলো জঘন্য ও কুৎসিত নাম উদ্ভাবন করেছে, যার মাধ্যমে তারা আহলুস সুন্নাহকে নামকরণ করে। এর মাধ্যমে তারা তাদের দোষারোপ করতে, তাদের প্রতি বিদ্রূপ করতে, তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে এবং নির্বোধ ও জ্ঞানহীনদের কাছে তাদের হেয় প্রতিপন্ন করতে চায়। মুরজিয়ারা আহলুস সুন্নাহকে 'শাক্কাক' (সন্দেহ পোষণকারী) বলে অভিহিত করে; অথচ মুরজিয়ারা মিথ্যা বলেছে, বরং তারাই সন্দেহ ও মিথ্যারোপের অধিক যোগ্য। আর কাদরিয়ারা আহলুস সুন্নাহ ও আল্লাহর গুণাবলী সাব্যস্তকারীদের 'মুজবিরাহ' (জবরদস্তিবাদী) বলে ডাকে; অথচ কাদরিয়ারা মিথ্যা বলেছে, বরং তারাই মিথ্যা ও বিরোধিতার অধিক যোগ্য। তারা তাদের সৃষ্টি থেকে আল্লাহর ক্ষমতাকে নাকচ করে দিয়েছে এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলেছে যার যোগ্য তিনি (বরকতময় ও সুউচ্চ) নন।
আর জাহমিয়ারা আহলুস সুন্নাহকে 'মুশাব্বিহা' (সাদৃশ্যদানকারী) বলে ডাকে; অথচ আল্লাহর শত্রু জাহমিয়ারা মিথ্যা বলেছে, বরং তারাই সাদৃশ্যদান ও মিথ্যারোপের অধিক যোগ্য। তারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে এবং আল্লাহ সম্পর্কে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথা বলেছে এবং তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে কুফরি করেছে।
আর রাফেযীরা আহলুস সুন্নাহকে 'নাসিবি' বলে ডাকে; অথচ রাফেযীরা মিথ্যা বলেছে, বরং তারাই এই নামের অধিক যোগ্য। কারণ তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করেছে, তাদের গালিগালাজ করেছে, তাদের সম্পর্কে সত্য বহির্ভূত কথা বলেছে এবং মিথ্যা ও জুলুমের আশ্রয় নিয়ে সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতা অস্বীকার করেছে। এটি ছিল আল্লাহর বিরুদ্ধে ধৃষ্টতা এবং রাসুলের হকের অবমাননা। আল্লাহই তাদের পরিবর্তন করতে এবং তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে অধিক সক্ষম।
আর খাওয়ারিজরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতকে 'মুরজিয়া' বলে ডাকে; অথচ খাওয়ারিজরা মিথ্যা বলেছে, বরং তারাই মুরজিয়া। তারা দাবি করে যে কেবল তারাই ঈমানের ওপর আছে এবং অন্য লোকরা নেই, আর যারা তাদের বিরোধিতা করে তারা কাফের।
আর রায় (ব্যক্তিগত অভিমত) ও কিয়াসের অনুসারীরা সুন্নাহর অনুসারীদের 'নাবিতাহ' বলে ডাকে এবং তারা মিথ্যা বলেছে।
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
أصحاب الرأي أعداء اللَّه، بل هم النابتة تركوا أثر الرسول صلى الله عليه وسلم وحديثه وقالوا بالرأي، وقاسوا الدين بالاستحسان، وحكموا بخلاف الكتاب والسنة، وهم أصحاب بدعة جهلة ضلال طلاب دنيا بالكذب والبهتان. فرحم اللَّه عبدًا قال بالحق، واتبع الأثر، وتمسك بالسنة، واقتدى بالصالحين، وجانب أهل البدع وترك مجالستهم ومحادثتهم أحتسابًا وطلبًا للقربة من اللَّه وإعزاز دينه، وما توفيقنا إلا باللَّه (1).
"مسائل حرب" ص 355 - 366
قال عبدوس: سمعت أبا عبد اللَّه أحمد بن حنبل يقول: أصول السنة عندنا: التمسك بما كان عليه أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم والاقتداء بهم، وترك البدع وكل بدعة فهي ضلالة، وترك الخصومات، والجلوس مع أصحاب الأهواء، وترك المراء والجدال، والخصومات في الدين.
والسنة: عندنا آثار رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، والسنة تفسر القرآن وهي دلائل القرآن. وليس في السنة قياس، ولا تضرب لها الأمثال، ولا تدرك بالعقول، ولا الأهواء إنما هي الاتباع وترك الهوى.
ومن السنة اللازمة التي من ترك منها خصلة لم يقلها ويؤمن بها لم يكن من أهلها:
--------------------------------------------
আসহাবে রায় (যুক্তিনির্ভর মতাবলম্বীরা) আল্লাহর শত্রু, বরং তারা হলো সেই আগাছা যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আসার (পরম্পরা) ও তাঁর হাদীস পরিত্যাগ করেছে এবং নিজস্ব মত (রায়) অনুযায়ী কথা বলেছে। তারা 'ইস্তিহসান' (পছন্দনীয়তা) দ্বারা দ্বীনকে কিয়াস (অনুমান) করেছে এবং কিতাব ও সুন্নাহর পরিপন্থী ফয়সালা দিয়েছে। তারা বিদআতী, অজ্ঞ ও পথভ্রষ্ট; তারা মিথ্যা ও অপবাদের মাধ্যমে দুনিয়া অন্বেষণকারী। আল্লাহ সেই বান্দার ওপর রহম করুন যে সত্য কথা বলে, আসার-এর অনুসরণ করে, সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে, নেককার পূর্বসূরিদের (সালেহীন) অনুকরণ করে এবং বিদআতীদের এড়িয়ে চলে। আর সওয়াবের আশায়, আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে ও তাঁর দ্বীনকে সম্মানিত করার লক্ষ্যে তাদের সাথে উঠাবসা ও কথাবার্তা বর্জন করে। আমাদের তাওফীক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই (১)।
"মাসাইলু হারব" পৃষ্ঠা ৩৫৫ - ৩৬৬
আবদুস বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: আমাদের নিকট সুন্নাহর মূলনীতি হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ যে বিষয়ের ওপর ছিলেন তা আঁকড়ে ধরা এবং তাদের অনুসরণ করা, বিদআত বর্জন করা—আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা—তর্ক-বিতর্ক পরিহার করা, প্রবৃত্তি পূজারীদের সাথে বসা বর্জন করা এবং দ্বীনের বিষয়ে বাদানুবাদ, ঝগড়া ও বিবাদ পরিত্যাগ করা।
আর আমাদের নিকট সুন্নাহ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আসার (পরম্পরা)। সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং তা কুরআনের প্রমাণস্বরূপ। সুন্নাহর ক্ষেত্রে কোনো কিয়াস (অনুমান) নেই, এর জন্য কোনো উদাহরণ পেশ করা যাবে না, আর তা বুদ্ধি বা প্রবৃত্তি দ্বারা অনুধাবনযোগ্য নয়; বরং তা কেবলই অনুসরণের নাম এবং প্রবৃত্তি বর্জনের নাম।
আর অপরিহার্য সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সব বিষয়, যার কোনো একটি বৈশিষ্ট্য কেউ বর্জন করলে, তা মুখে স্বীকার না করলে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন না করলে সে সুন্নাহর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে না:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
الإيمان بالقدر خيره وشره، والتصديق بالأحاديث فيه، والإيمان بها لا يقال: لم؟ ولا كيف؟ إنما هو التصديق بها والإيمان بها.
ومَنْ لم يعرف تفسير الحديث ويبلغه عقله فقد كُفي ذلك وأحكم له فعليه الإيمان به والتسليم له مثل حديث الصادق المصدوق (1) وما كان مثله في القدر. ومثل أحاديث الرؤية كلها، وإن نَبَتْ عن الأسماع واستوحش منها المستمع، فإنما عليه الإيمان بها، وأن لا يرد منها حرفًا واحدًا، وغيرها من الأحاديث المأثورات عن الثقات.
لا يخاصم أحدا ولا يناظره، ولا يتعلم الجدلط فإن الكلام في القدر والرؤية والقرآن وغيرها من السنن مكروه منهي عنه، ولا يكون صاحبه -إن أصاب بكلامه السنة- من أهل السنة حتى يدع الجدل ويسلم، وبؤمن بالآثار.
والقرآن كلام اللَّه، وليس بمخلوق، ولا تضعف أن تقول: ليس بمخلوق، فإن كلام اللَّه منه وليس ببائن منه، وليس منه شيء مخلوق، وإياك ومناظرة من أحدث فيه ومن قال باللفظ وغيره، ومن وقف فيه فقال: لا أدري، مخلوق أو ليس بمخلوق؟ وإنما هو كلام اللَّه وليس بمخلوق.
والإيمان بالرؤية يوم القيامة كما رُوي عن النبي صلى الله عليه وسلم من الأحاديث الصحاح.
وأن النبي صلى الله عليه وسلم قد رأى ربه، وأنه مأثور عن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم صحيح.
--------------------------------------------
ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা এবং এই সংক্রান্ত হাদিসসমূহকে সত্য বলে স্বীকার করা। এগুলোর প্রতি ঈমান এমনভাবে হতে হবে যেন বলা না হয়: ‘কেন?’ বা ‘কীভাবে?’ বরং এগুলোর প্রতি কেবল সত্যয়ন ও ঈমান আনাই হলো কর্তব্য।
আর যে ব্যক্তি হাদিসের ব্যাখ্যা জানে না এবং তার বুদ্ধি সেখানে পৌঁছায় না, তার জন্য বিষয়টি সুনির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে এবং এতটুকুই তার জন্য যথেষ্ট। সুতরাং তার দায়িত্ব হলো সেই হাদিসের প্রতি ঈমান আনা এবং তা নিঃসংকোচে মেনে নেওয়া। যেমন: ‘সাদিকুল মাসদুক’ (যিনি সত্যবাদী এবং যার সত্যবাদিতা স্বীকৃত) এর বর্ণিত হাদিস (১) এবং ভাগ্যের বিষয়ে এর অনুরূপ অন্যান্য হাদিস। অনুরূপভাবে (আল্লাহকে) দেখার বিষয়ে বর্ণিত সকল হাদিস; যদিও তা শ্রবণকারীর কাছে শ্রুতিকটু মনে হয় কিংবা তা শুনে শ্রবণকারী বিচলিত বোধ করে। তবুও তার দায়িত্ব হলো এর প্রতি ঈমান আনা এবং এর একটি অক্ষরও প্রত্যাখ্যান না করা। এছাড়া নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণিত অন্যান্য হাদিসের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।
সে যেন কারো সাথে ঝগড়া না করে এবং তর্কে লিপ্ত না হয়, আর সে যেন যুক্তি-তর্ক না শেখে। কেননা ভাগ্য, (আল্লাহকে) দেখা, কুরআন এবং এ জাতীয় অন্যান্য সুন্নাহর বিষয়ে কালাম (যুক্তিনির্ভর বিতর্ক) করা অপছন্দনীয় ও নিষিদ্ধ। কোনো ব্যক্তি—যদিও সে তার কথার মাধ্যমে সুন্নাহর সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়—ততক্ষণ পর্যন্ত আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হবে না, যতক্ষণ না সে বিতর্ক বর্জন করে, আত্মসমর্পণ করে এবং আছার (সালাফদের বর্ণিত বর্ণনা) সমূহের প্রতি ঈমান আনে।
আর কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়। ‘তা সৃষ্টি নয়’—একথা বলতে তুমি মোটেও দুর্বলতা প্রকাশ করো না। কেননা আল্লাহর কালাম তাঁরই সত্তা থেকে (নির্গত), তা তাঁর সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয় এবং তাঁর থেকে (প্রকাশিত) কোনো কিছুই সৃষ্টি নয়। আর যারা কুরআনের বিষয়ে নতুন মতবাদের উদ্ভাবন করেছে এবং যারা লফয (উচ্চারণ) বা অন্য কিছু নিয়ে বিতর্ক করে, তাদের সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়া থেকে সাবধান থেকো। আর যে ব্যক্তি এ বিষয়ে সংশয়ে থাকে এবং বলে: ‘আমি জানি না, তা সৃষ্টি নাকি সৃষ্টি নয়’—সেও তাদের অন্তর্ভুক্ত। বরং কুরআন কেবলই আল্লাহর কালাম এবং তা সৃষ্টি নয়।
আর কিয়ামতের দিন (আল্লাহকে) দেখার প্রতি ঈমান আনা সত্য, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে।
আর নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবকে দেখেছেন; এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি সহিহ বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
رواه قتادة، عن عكرمة، عن ابن عباس (1)، ورواه الحكم بن أبان، عن عكرمة، عن ابن عباس (2)، ورواه علي بن زيد، عن يوسف بن مهران، عن ابن عباس (3). والحديث عندنا على ظاهره كما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم والكلام فيه بدعة، ولكن نؤمن به كما جاء على ظاهره ولا نناظر فيه أحدًا.
والإيمان بالميزان كما جاء: "يوزن العبد يوم القيامة فلا يزن جناح بعوضة" (4). وتوزن أعمال العباد كما جاء في الأثر.
والإيمان به والتصديق به، والإعراض عن من رد ذلك وترك مجادلته.
وأن اللَّه تبارك وتعالى يكلم العباد يوم القيامة ليس بينهم، وبينه ترجمان، والإيمان به والتصديق به.
والإيمان بالحوض، وأن لرسول اللَّه صلى الله عليه وسلم حوضا يوم القيامة ترد عليه أمته، عرضه مثل طوله مسيرة شهر، آنيته كعدد نجوم السماء على ما
--------------------------------------------
কাতাদাহ এটি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন (১), হাকাম বিন আবান এটি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন (২), এবং আলী বিন যাইদ এটি ইউসুফ বিন মিহরান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন (৩)। আমাদের নিকট এই হাদিসটি এর বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। এ বিষয়ে (তর্ক-বিতর্ক ও ধরণ নির্ধারণের) আলোচনা করা বিদআত, বরং আমরা এর ওপর ঈমান আনি যেমনটি এর বাহ্যিক অর্থে এসেছে এবং আমরা এ বিষয়ে কারো সাথে বিতর্কে লিপ্ত হই না।
এবং মীযানের (দাঁড়িপাল্লা) ওপর ঈমান আনা যেমনটি বর্ণিত হয়েছে: "কিয়ামতের দিন বান্দাকে ওজন করা হবে, তখন (আল্লাহর নিকট) তার ওজন মশার একটি ডানার সমানও হবে না" (৪)। আর বান্দাদের আমলসমূহও ওজন করা হবে যেমনটি আসারে (বর্ণনায়) এসেছে।
এবং এর ওপর ঈমান আনা ও তা সত্য বলে বিশ্বাস করা, আর যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করে তাকে এড়িয়ে চলা ও তার সাথে বিতর্ক বর্জন করা।
এবং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কিয়ামতের দিন বান্দাদের সাথে কথা বলবেন, তাঁদের ও তাঁর মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না; এর ওপর ঈমান আনা ও তা সত্য বলে বিশ্বাস করা।
এবং হাওযের ওপর ঈমান আনা, আর কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাওয থাকবে যেখানে তাঁর উম্মত পানি পান করতে আসবে। এর প্রস্থ এর দৈর্ঘ্যের সমান এক মাসের পথ, এর পানপাত্রের সংখ্যা আকাশের নক্ষত্ররাজির ন্যায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
صحت به الأخبار (1) من غير وجه.
والإيمان بعذاب القبر، وأن هذِه الأمة تفتن في قبورها وتسأل عن الإيمان والإسلام ومن ربه؟ ومن نبيه؟ ويأتيه منكر ونكير كيف شاء اللَّه وكيف أراد. والإيمان به والتصديق به.
والإيمان بشفاعة النبي صلى الله عليه وسلم، وبقوم يخرجون من النار بعدما احترقوا وصاروا فحمًا، فيؤمر بهم إلى نهر على باب الجنة كما جاء في الأثر (2) كيف شاء اللَّه، وكما شاء، إنما هو الإيمان به والتصديق به، والإيمان أن المسيح الدجال خارج مكتوب بين عينيه (كافر) والأحاديث التي جاءت فيه، والإيمان بأن ذلك كائن، وأن عيسى ابن مريم ينزل فيقتله بباب لد.
والإيمان قول وعمل يزيد وينقص كما جاء في الخبر: "أَكْمَلُ المُؤْمِنِينَ إِيمانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا" (3).
ومن ترك الصلاة فقد كفر، وليس من الأعمال شيء تركه كفر إلا الصلاة من تركها فهو كافر، وقد أحل اللَّه قتله.
وخير هذِه الأمة بعد نبيها أبو بكر الصديق، ثم عمر بن الخطاب، ثم عثمان بن عفان. نقدم هؤلاء الثلاثة كما قدمهم أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم لم يختلفوا في ذلك، ثم بعد هؤلاء الثلاثة أصحاب الشورى الخمس علي بن أبي طالب، وطلحة، والزبير، وعبد الرحمن بن عوف، وسعد
--------------------------------------------
এটি একাধিক সূত্রে সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত (১)।
কবরের আজাবের প্রতি ঈমান রাখা, এবং নিশ্চয়ই এই উম্মত তাদের কবরে পরীক্ষিত হবে এবং তাদের ঈমান ও ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে—তার রব কে? তার নবী কে? আর তার নিকট মুনকার ও নাকির আসবে, যেভাবে আল্লাহ ইচ্ছা করেছেন এবং যেভাবে তিনি চেয়েছেন। এর প্রতি ঈমান আনা এবং একে সত্য বলে বিশ্বাস করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুপারিশের (শাফায়াত) প্রতি ঈমান রাখা, এবং এমন এক কওমের প্রতি ঈমান রাখা যারা জাহান্নাম থেকে বের হবে ভস্মীভূত হয়ে কয়লায় পরিণত হওয়ার পর; অতঃপর তাদের জান্নাতের দরজায় অবস্থিত একটি নহরের দিকে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে (২)—আল্লাহ যেভাবে ইচ্ছা করেছেন এবং যেভাবে চেয়েছেন। এটি মূলত এর প্রতি ঈমান আনা এবং একে সত্য বলে বিশ্বাস করা। আর এই ঈমান রাখা যে মসীহ দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে, যার দুই চোখের মাঝে 'কাফির' লেখা থাকবে এবং তার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসসমূহের প্রতি ঈমান রাখা। আর এটি বিশ্বাস করা যে তা অবশ্যই ঘটবে এবং ঈসা ইবনে মারিয়াম অবতরণ করবেন ও তাকে লুদ্দের ফটকে হত্যা করবেন।
ঈমান হলো কথা ও কাজের নাম, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়; যেমনটি বর্ণনায় এসেছে: "মুমিনদের মধ্যে ঈমানে সবচেয়ে পরিপূর্ণ সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর" (৩)।
যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করল সে কুফরি করল। আমলসমূহের মধ্যে সালাত ব্যতীত অন্য কোনো আমল ত্যাগ করা কুফরি নয়; সুতরাং যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করল সে কাফির, আর আল্লাহ তার হত্যা বৈধ করেছেন।
এই উম্মতের মধ্যে তাদের নবীর পর সর্বোত্তম হলেন আবু বকর সিদ্দিক, তারপর উমর ইবনুল খাত্তাব, তারপর উসমান ইবনে আফফান। আমরা এই তিনজনকে অগ্রাধিকার প্রদান করি যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ তাঁদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তাঁরা কোনো মতভেদ করেননি। তারপর এই তিনজনের পর শুরার পাঁচজন সদস্য: আলী ইবনে আবি তালিব, তালহা, যুবাইর, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ এবং সাদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
كلهم يصلح للخلافة وكلهم إمام.
ونذهب إلى حديث ابن عمر: كُنّا نَعُدُّ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَيٌّ وَأَصْحابُهُ مُتَوافِرُونَ: أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمانُ ثُمَّ نَسْكُتُ (1).
ثم من بعد أصحاب الشورى أهل بدر من المهاجرين، ثم أهل بدر من الأنصار من أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم على قدر الهجرة والسابقة أولًا فأولًا.
ثم أفضل الناس بعد هؤلاء: أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، القرن الذي بعث فيهم، كل من صحبه سنة أو شهرا أو يوما أو ساعة أو رآه فهو من أصحابه، له من الصحبة على قدر ما صحبه، وكانت سابقته معه، وسمع منه ونظر إليه نظرة، فأدناهم صحبة هو أفضل من القرن الذين لم يروه، ولو لقوا اللَّه بجميع الأعمال، كان هؤلاء الذين صحبوا النبي صلى الله عليه وسلم ورأوه وسمعوا منه ومن رآه بعينه وآمن به ولو ساعة أفضل بصحبته من التابعين ولو عملوا كل أعمال الخير.
والسمع والطاعة للأئمة، وأمير المؤمنين البر والفاجر، ومن ولي الخلافة فاجتمع الناس عليه ورضوا به، ومن غلبهم بالسيف حتى صار خليفة وسمي أمير المؤمنين.
والغزو ماض مع الأمراء إلى يوم القيامة البر والفاجر لا يترك، وقسمة الفيء وإقامة الحدود إلى الأئمة ماض ليس لأحدٍ أنْ يطعن عليهم ولا ينازعهم.
ودفع الصدقات إليهم جائزة ونافذة، من دفعها إليهم أجزأت عنه برًّا كان أو فاجرًا. وصلاة الجمعة خلفه وخلف من ولَّى جائزة تامة ركعتين، من
--------------------------------------------
তাঁরা সকলেই খিলাফতের যোগ্য এবং তাঁরা সকলেই ইমাম।
আর আমরা ইবনে উমরের হাদিসের মত পোষণ করি: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় যখন তাঁর সাহাবীগণ পর্যাপ্ত সংখ্যায় বিদ্যমান ছিলেন, তখন একে একে গণনা করতাম: আবু বকর, উমর এবং উসমান; এরপর আমরা চুপ থাকতাম (১)।
অতঃপর শুরা সদস্যদের পরে মুহাজিরদের মধ্য থেকে বদর যুদ্ধের অংশগ্রহণকারীরা, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্য থেকে আনসারদের বদর যোদ্ধারা; হিজরত ও ইসলামে অগ্রবর্তিতার ক্রমানুসারে একের পর এক।
এরপর এই স্তরের লোকদের পরে শ্রেষ্ঠ মানুষ হলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ—সেই প্রজন্ম যাদের মধ্যে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে যারা তাঁর সাহচর্য এক বছর, এক মাস, এক দিন বা এক ঘণ্টা পেয়েছেন অথবা তাঁকে দেখেছেন, তাঁরা তাঁর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর সাহচর্যের মর্যাদা হবে সাহচর্য লাভের পরিমাণ ও তাঁর সাথে ইসলামের প্রাথমিক যুগে অতিবাহিত সময়ের অনুপাতে, যিনি তাঁর কথা শুনেছেন এবং তাঁর দিকে এক পলক তাকিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের সাহাবীও পরবর্তী প্রজন্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যারা তাঁকে দেখেনি, যদিও তারা সমস্ত আমল নিয়ে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হয়। যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য পেয়েছেন, তাঁকে দেখেছেন এবং তাঁর কথা শুনেছেন—এমনকি যারা তাঁকে স্বচক্ষে দেখেছেন এবং তাঁর ওপর ঈমান এনেছেন সামান্য সময়ের জন্য হলেও—তাঁরা সাহচর্যের কারণে তাবেয়ীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যদিও তারা (তাবেয়ীরা) সমস্ত নেক আমল করে থাকে।
ইমামগণ এবং আমীরুল মুমিনীনের কথা শোনা ও আনুগত্য করা আবশ্যক, তিনি নেককার হোন কিংবা পাপাচারী (ফাজির)। আর যে ব্যক্তি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং জনগণ তাঁর ওপর ঐক্যমত হয়েছে ও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে, কিংবা যে ব্যক্তি তরবারির শক্তিতে বিজয়ী হয়ে খলিফা হয়েছেন এবং 'আমীরুল মুমিনীন' হিসেবে অভিহিত হয়েছেন, (তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব)।
আর আমীরদের সাথে জিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, তিনি নেককার হোন বা পাপাচারী, এটি বর্জন করা যাবে না। আর গনীমতের মাল (ফাই) বণ্টন ও দণ্ডবিধি (হদ) কার্যকর করা ইমামদের দায়িত্বে ন্যস্ত থাকবে; এ ক্ষেত্রে তাঁদের দোষারোপ করা বা তাঁদের সাথে বিবাদ করার অধিকার কারো নেই।
আর তাঁদের কাছে জাকাত-সাদাকাহ প্রদান করা বৈধ ও কার্যকর। যে ব্যক্তি তাঁদের কাছে তা প্রদান করবে, তার পক্ষ থেকে তা যথেষ্ট হবে—শাসক নেককার হোক বা পাপাচারী। তাঁর পেছনে এবং তিনি যাঁকে নিযুক্ত করবেন তাঁর পেছনে জুমুআহর সালাত আদায় করা বৈধ ও পূর্ণাঙ্গ দুই রাকাত হিসেবে গণ্য হবে, যে ব্যক্তি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
أعادهما فهو مبتدع تارك للآثار مخالف للسنة ليس له من فضل الجمعة شيء، إذا لم ير الصلاة خلف الأئمة من كانوا: برهم وفاجرهم، فالسنة أن تصلي معهم ركعتين، من أعادهما فهو مبتدع وتدين بأنها تامة، ولا يكن في صدرك من ذلك شك.
ومن خرج على إمام المسلمين، وقد كان الناس اجتمعوا عليه، وأقروا له بالخلافة بأي وجه كان بالرضا أو بالغلبة فقد شق هذا الخارج عصا المسلمين، وخالف الآثار عن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فإن مات الخارج عليه مات ميتة جاهلية.
ولا يحل قتال السلطان، ولا الخروج عليه لأحد من الناس فمن فعل ذلك فهو مبتدع على غير السنة والطريق.
وقتال اللصوص والخوارج جائز إذا عرضوا للرجل في نفسه وماله فله أن يقاتل عن نفسه وماله، ويدفع عنها بكل ما يقدر عليه. وليس له إذا فارقوه أو تركوه أن يطلبهم، ولا يتبع آثارهم ليس لأحد إلا للإمام أو ولاة المسلمين إنما له أن يدفع عن نفسه في مقامه ذلك، وينوي بجهده أن لا يقتل أحدًا، فإن أتى عليه في دفعه عن نفسه في المعركة فأبعد اللَّه المقتول، وإن قتل هذا في تلك الحال وهو يدفع عن نفسه وماله رجوت له الشهادة، كما جاء في الأحاديث.
وجميع الآثار في هذا: إنما أمر بقتاله ولم يؤمر بقتله ولا اتباعه ولا يُجهز عليه إن صُرع أو كان جريحًا، وإن أخذه أسيرًا فليس له أن يقتله، ولا يقيم عليه الحد ولكن يرفع أمره إلى من ولاه اللَّه فيحكم فيه.
ولا يشهد على أحد من أهل القبلة بعمل يعلمه بجنة ولا نار يرجو للصالح ويخاف عليه، ويخاف على المسيء المذنب ويرجو له رحمة اللَّه.
যে ব্যক্তি সেই দুই রাকাত পুনরায় পড়বে সে বিদআতি, আসার (বর্ণনা) বর্জনকারী এবং সুন্নাহর বিরোধী। তার জুমার সওয়াবের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, যদি সে ইমামদের পেছনে সালাত আদায় করা বৈধ মনে না করে তারা যেমনই হোক না কেন: নেককার কিংবা ফাসেক। সুন্নাহ হলো তাদের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করা। যে ব্যক্তি পুনরায় তা পড়বে সে বিদআতি। আর আপনি বিশ্বাস করবেন যে তা পূর্ণ হয়েছে এবং আপনার অন্তরে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ রাখবেন না।
যে ব্যক্তি মুসলমানদের ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে অথচ জনগণ তার ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং তার খিলাফতকে স্বীকৃতি দিয়েছে—যেকোনোভাবেই হোক না কেন, সন্তুষ্টির মাধ্যমে হোক বা শক্তি প্রয়োগে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে—তবে এই বিদ্রোহী মুসলমানদের ঐক্য বিনষ্ট করল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আসারসমূহের বিরোধিতা করল। এমতাবস্থায় সে যদি মৃত্যুবরণ করে তবে সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল।
সুলতানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা কারো জন্য বৈধ নয় এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাও কারো জন্য জায়েজ নয়। যে ব্যক্তি এমনটি করবে সে বিদআতি এবং সুন্নাহ ও সঠিক পথের বহির্ভূত।
চোর এবং খারেজিদের সাথে লড়াই করা জায়েজ যখন তারা কোনো ব্যক্তির জান ও মালের ওপর আক্রমণ করে। এমতাবস্থায় সে তার জান ও মাল রক্ষার্থে লড়াই করতে পারে এবং সাধ্যমতো তা প্রতিহত করতে পারে। তবে তারা যদি তাকে ছেড়ে চলে যায় বা পিছু হটে তবে তাদের অন্বেষণ করা বা তাদের পিছু ধাওয়া করা তার জন্য জায়েজ নয়। এটি ইমাম বা মুসলিম শাসকদের কাজ। সে কেবল নিজের অবস্থানে থেকে নিজেকে রক্ষা করবে এবং যথাসম্ভব কাউকে হত্যা না করার নিয়ত রাখবে। যদি আত্মরক্ষা করতে গিয়ে যুদ্ধের ময়দানে আক্রমণকারী নিহত হয়, তবে আল্লাহ তাকে রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দিন। আর যদি আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে এ ব্যক্তি নিহত হয়, তবে আমি তার জন্য শাহাদাতের আশা রাখি, যেমনটি হাদিসসমূহে এসেছে।
এ প্রসঙ্গে বর্ণিত সকল আসারের মর্ম হলো: তাকে প্রতিহত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাকে হত্যা করার বা তার পিছু নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। সে যদি ধরাশায়ী হয় বা আহত হয় তবে তার ওপর চূড়ান্ত আঘাত করা যাবে না। তাকে বন্দি হিসেবে পেলে তাকে হত্যা করার অধিকার তার নেই এবং তার ওপর দণ্ড কার্যকর করার অধিকারও তার নেই। বরং তার বিষয়টি আল্লাহর পক্ষ থেকে নিযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট সোপর্দ করবে এবং তারা এ বিষয়ে ফয়সালা দেবেন।
কিবলা পন্থী কোনো ব্যক্তির আমল দেখে তার জান্নাতি বা জাহান্নামী হওয়ার সাক্ষ্য দেবে না। সৎকর্মশীলের জন্য জান্নাতের আশা রাখবে ও তার ব্যাপারে ভয় করবে, আর পাপাচারী গুনাহগারের জন্য শাস্তির ভয় করবে এবং তার জন্য আল্লাহর রহমতের আশা রাখবে।
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
ومن لقي اللَّه بذنب يجب له به النار تائبًا غير مصر عليه، فإن اللَّه عز وجل يتوب عليه ويقبل التوبة عن عباده ويعفو عن السيئات.
ومن لقيه وقد أقيم عليه حد ذلك الذنب في الدنيا، فهو كفارته كما جاء الخبر عن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم (1). ومن لقيه مصرًّا غير تائب من الذنوب التي استوجب بها العقوبة، فأمره إلى اللَّه عز وجل إن شاء عذبه وإن شاء غفر له، ومن لقيه كافرًا عذبه ولم يغفر له.
والرجم حق على من زنا وقد أحصن إذا اعترف أو قامت عليه بينة، وقد رجم رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، وقد رجمت الأئمة الراشدون.
ومن انتقص أحدا من أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أو أبغضه لحدث كان منه، أو ذكر مساوئه كان مبتدعًا حتى يترحم عليهم جميعًا، ويكون قلبه لهم سليمًا.
والنفاق: هو الكفر، أن يكفر باللَّه ويعبد غيره، ويظهر الإسلام في العلانية مثل المنافقين الذين كانوا على عهد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم.
وهذِه الأحاديث التي جاءت "ثَلاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ فَهُوَ مُنافِقٌ" (2) هذا على التغليظ، نرويها كما جاءت ولا نفسرها.
وقوله: "لا ترجعوا بعدي كفارًا ضلالًا يضرب بعضكم رقاب بعض" (3).
ومثل: "إذا التقى المسلمان بسيفيهما فالقاتل والمقتول في النار" (4).
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি এমন কোনো গোনাহ নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে যার কারণে তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত ছিল, কিন্তু সে তা থেকে তাওবাহ করেছে এবং তার ওপর অবিচল থাকেনি, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাকে ক্ষমা করে দেবেন, তাঁর বান্দাদের পক্ষ থেকে তাওবাহ কবুল করবেন এবং মন্দ কাজসমূহ মার্জনা করবেন।
আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে দুনিয়াতে তার ওপর সেই গোনাহের দণ্ড (হদ) কার্যকর করা হয়েছে, তবে সেটিই হবে তার জন্য কাফফারা, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সংবাদে এসেছে (১)। আর যে ব্যক্তি শাস্তির উপযোগী গোনাহসমূহের ওপর অবিচল থাকা অবস্থায় তাওবাহ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, তবে তার বিষয়টি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে আযাব দেবেন এবং চাইলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কাফের অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, তিনি তাকে আযাব দেবেন এবং তাকে ক্ষমা করবেন না।
রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) করা সেই বিবাহিত ব্যক্তির জন্য হক যে ব্যভিচার করেছে, যদি সে স্বীকারোক্তি দেয় অথবা তার বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজম কার্যকর করেছেন এবং খোলাফায়ে রাশেদীনও রজম কার্যকর করেছেন।
যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের কাউকে তুচ্ছজ্ঞান করবে অথবা তাদের থেকে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার কারণে তাদের ঘৃণা করবে, অথবা তাদের দোষ-ত্রুটি আলোচনা করবে, সে হবে একজন বিদআতী; যতক্ষণ না সে তাদের সবার জন্য রহমতের দুআ করে এবং তাদের প্রতি তার অন্তর কলুষমুক্ত হয়।
আর নিফাক (মুনাফেকী) হলো কুফর; অর্থাৎ আল্লাহর সাথে কুফরি করা এবং অন্য কারো ইবাদত করা, আর প্রকাশ্যে ইসলাম প্রকাশ করা, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে মুনাফেকরা করত।
আর এই সব হাদিস যাতে এসেছে "তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে সে হবে মুনাফিক" (২) - এটি কঠোরতা আরোপের জন্য; আমরা এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই বর্ণনা করি এবং এর কোনো ব্যাখ্যা করি না।
এবং তাঁর বাণী: "তোমরা আমার পরে একে অপরের ঘাড় কাটার মাধ্যমে পথভ্রষ্ট কাফের হয়ে ফিরে যেও না" (৩)।
এবং অনুরূপ: "যখন দুইজন মুসলিম তাদের তলোয়ার নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়, তখন হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামী" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٣١)
ومثل: "سِبابُ المُسْلِمِ فُسُوقٌ وَقِتالُهُ كُفْرٌ" (1).
ومثل: "من قال لأخيه: يا كافر فقد باء بها أحدهما" (2).
ومثل: "كفْرٌ باللَّهِ تبَرُّؤٌ مِنْ نَسَبٍ وَإِنْ دَقَّ" (3).
ونحوه من الأحاديث مما قد صح وحفظ فإنا نسلم له وإن لم يعلم تفسيرها ولا يتكلم فيه ولا يجادل فيه ولا تفسر هذِه الأحاديث إلا بمثل ما جاءت ولا نردها إلا بأحق منها. والجنة والنار مخلوقتان قد خلقتا كما جاء عن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: "دخلتُ الجنة فرأيت قصرًا" (4) و"رأيتُ الكوثر" (5). و"اطلعتُ في الجنة فرأيتُ لأهلها كذا واطلعتُ في النار فرأيتُ كذا ورأيتُ كذا" (6) فمن زعم أنهما لم تخلقا فهو مكذب بالقرآن وأحاديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ولا أحسبه يؤمن بالجنة والنار.
ومن مات من أهل القبلة موحدًا يصلى عليه ويستغفر له ولا تترك
--------------------------------------------
উদাহরণস্বরূপ: "মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসিকি এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরি।" (১)।
আরও উদাহরণ: "যে তার ভাইকে বলল: হে কাফির, তবে তাদের একজনের ওপর তা আপতিত হবে।" (২)।
আরও উদাহরণ: "বংশপরিচয় অস্বীকার করা আল্লাহর সাথে কুফরি, যদিও তা সামান্য হয়।" (৩)।
এবং এ জাতীয় অন্যান্য হাদিস যা সহিহ এবং সংরক্ষিত হয়েছে, আমরা তা বিনাবাক্যে মেনে নেই, যদিও সেগুলোর ব্যাখ্যা জানা না থাকে। সে ব্যাপারে কোনো কথা বলা হয় না, কোনো বিতর্ক করা হয় না এবং এই হাদিসগুলোর ব্যাখ্যা কেবল সেভাবেই করা হয় যেভাবে সেগুলো এসেছে। আমরা এগুলোকে প্রত্যাখ্যান করি না কেবল সেগুলোর চেয়ে অধিকতর সত্যের (হক) মাধ্যমে ছাড়া। আর জান্নাত ও জাহান্নাম সৃজিত, এগুলোকে সৃষ্টি করা হয়েছে যেমনটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: "আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম এবং একটি প্রাসাদ দেখলাম" (৪) এবং "আমি কাউসার দেখেছি" (৫)। এবং "আমি জান্নাতে উঁকি দিলাম এবং তার অধিবাসীদের জন্য এমন এমন দেখলাম এবং জাহান্নামে উঁকি দিলাম এবং এমন এমন দেখলাম" (৬)। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে এই দুটি (জান্নাত ও জাহান্নাম) সৃষ্টি করা হয়নি, সে কুরআন ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসসমূহকে অস্বীকারকারী এবং আমি তাকে জান্নাত ও জাহান্নামে বিশ্বাসী বলে মনে করি না।
এবং কিবলাপন্থীদের মধ্যে যারা একত্ববাদী (মুওয়াহহিদ) অবস্থায় মারা যাবে, তাদের জানাজা পড়তে হবে এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, আর তা ত্যাগ করা যাবে না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - আল-আকীদা
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
الصلاة عليه لذنب أذنبه صغيرًا كان أو كبيرًا وأمره إلى اللَّه عز وجل (1).
"شرح أصول الاعتقاد" لللالكائي 1/ 176 - 185 (317)
قال الحسن بن إسماعيل الرَّبعي: قال لي أحمد بن حنبل، إمام أهل السنة الصابر تحت المحنة: أجمع تسعون رجلًا من التابعين، وأئمة المسلمين، وأئمة السلف، وفقهاء الأمصار على أن السُّنة التي توفي عليها رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، أولها: الرضا بقضاء اللَّه، والتسليم لأمره والصبر على حكمه، والأخذ بما أمر اللَّه به، والانتهاء عما نهى عنه، والإيمان بالقدر خيره وشره، وترك المراء والجدال في الدين، والمسح على الخفين، والجهاد مع كل خليفة، بر وفاجر، والصلاة على من مات من أهل القبلة، والإيمان قول وعمل يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية. والقرآن كلام اللَّه، منزل على قلب نبيه محمد صلى الله عليه وسلم غير مخلوق، من حيثما تُلي، والصبر تحت لواء السلطان على ما كان فيه من عدل أو جور، وأن لا نخرج على الأمراء بالسيف وإن جاروا، وأن لا نُكفر أحدًا من أهل التوحيد، وإن عملوا الكبائر، والكف عما شجر بين أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم. وأفضل الناس بعد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: أبو بكر وعمر وعثمان وعلي ابن عم رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، والترحم على جميع أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وأزواجه وأصهاره، رضوان اللَّه عليهم أجمعين، فهذِه السنة الزموها تسلموا، أخذها هدى وتركها ضلالة (2).
"طبقات الحنابلة" 1/ 349
--------------------------------------------
তাঁর উপর (জানাজার) সালাত আদায় করা, তিনি যে গুনাহই করে থাকুন না কেন, তা ছোট হোক বা বড়, এবং তাঁর বিষয়টি মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন। (১)।
লালাকায়ীর "শারহু উসুলিল ইতিকাদ" ১/ ১৭৬ - ১৮৫ (৩১৭)
হাসান ইবনে ইসমাঈল আর-রাবঈ বলেন: আহলুস সুন্নাহর ইমাম, পরীক্ষার সময় ধৈর্যধারণকারী আহমদ ইবনে হাম্বল আমাকে বলেছেন: তাবেয়ীগণের মধ্য থেকে নব্বই জন ব্যক্তি, মুসলিমদের ইমামগণ, সালাফদের ইমামগণ এবং বিভিন্ন শহরের ফকিহগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সুন্নাহর উপর ইন্তেকাল করেছেন তার প্রথমটি হলো: আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, তাঁর আদেশের কাছে আত্মসমর্পণ করা, তাঁর বিধানের ওপর ধৈর্য ধরা, আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন তা গ্রহণ করা এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা, ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান রাখা, দ্বীনের বিষয়ে বিতর্ক ও ঝগড়া ত্যাগ করা, মোজার ওপর মাসাহ করা, এবং প্রত্যেক খলিফার সাথে জিহাদ করা, তিনি নেককার হোন বা গুনাহগার, কিবলাপন্থীদের মধ্যে যারা মারা যায় তাদের জানাজার সালাত আদায় করা, এবং ঈমান হলো কথা ও কাজের নাম, যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানির মাধ্যমে হ্রাস পায়। কুরআন আল্লাহর কালাম, যা তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হৃদয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, এটি সৃষ্টি নয়, যেভাবেই এটি তিলাওয়াত করা হোক না কেন, শাসকের পতাকাতলে ধৈর্য ধারণ করা, চাই তিনি ন্যায়পরায়ণ হোন বা অত্যাচারী, এবং শাসকদের বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে বিদ্রোহ না করা যদিও তারা জুলুম করে, তাওহীদপন্থীদের কাউকেই কাফির না বলা যদিও তারা কবিরা গুনাহ করে থাকে, এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মাঝে সৃষ্ট বিবাদ নিয়ে নীরবতা অবলম্বন করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন: আবু বকর, উমর, উসমান এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই আলী, এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমস্ত সাহাবী, তাঁর স্ত্রীগণ এবং তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের জন্য রহমতের দোয়া করা, আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন। সুতরাং এই সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো তবেই তোমরা মুক্তি পাবে; এটি গ্রহণ করা হিদায়াত এবং বর্জন করা ভ্রষ্টতা (২)।
"তাবাকাতুল হানাবিলা" ১/ ৩৪৯
--------------------------------------------