(খণ্ড: ১)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: -)
الحلل الإبريزية من التعليقات البازية على صحيح البخاري القسم: شروح الحديث
الكتاب: الحلل الإبريزية من التعليقات البازية على صحيح البخاري
للإمام: عبد العزيز بن عبد الله بن باز
بقلم: أبي محمد عبد الله بن مانع الروقي
الناشر: دار التدمرية للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 جُمادَى الأولى 1438
সহীহ বুখারীর ওপর বাযী টীকা থেকে সংকলিত আল-হুলাল আল-ইবরীযিয়্যাহ বিভাগ: হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
বই: সহীহ বুখারীর ওপর বাযী টীকা থেকে সংকলিত আল-হুলাল আল-ইবরীযিয়্যাহ
ইমাম: আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
লিখনী: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মানে' আল-রুকী
প্রকাশক: দার আত-তাদমুরিয়্যাহ প্রকাশনী ও পরিবেশনী, সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরী - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২২ জুমাদাল উলা ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١)
الحلل الإبريزية
من
التعليقات البازية
على صحيح البخاري
بقلم
أبي محمد عبد الله بن مانع الروقي
الجزء الأول
বিশুদ্ধ স্বর্ণখচিত অলঙ্কারমালা
হতে
সহীহ বুখারীর ওপর শায়খ বিন বাযের ব্যাখ্যা-টীকা
সংকলনে
আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মানি আল-রুকী
প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ১)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١)
تقريظالحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد؛
فإن آثار العلماء الربانيين في أمتهم متعددة ومتنوعة، في حال حياتهم المباركة وبعد مماتهم: أما في حال حياتهم فالأثر ملموس ومشاهد يعيشه الناس مع علمائهم: علمًا وتعليمًا، واقتداءًا، وتوجيهًا وأمرًا بالمعروف ونهيًا عن المنكر، ونشرًا للدين، وذبًا عنه، ووقوفًا أمام أعدائه من الملحدين والزنادقة وأهل البدع والإفساد.
وكم شهد المسلمون في كل عصر مواقف لعلمائهم العاملين ينصرون فيها حقًا ويردون باطلًا كادت أن ترتفع أعلامه ويعم خطره على أمة الإسلام. وهؤلاء هم الذين تفقدهم الأمة إذا ماتوا. بل ربما لم يعرف الكثيرون قدرهم إلا بعد رحيلهم.
وأما بعد وفاتهم فأظهر أثار العلماء:
1 - تلاميذهم الذين تلقوا عنهم، وساروا على منهاجهم، في نشر العلم النافع والدعوة إلى الله تعالى، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، فلشيوخهم
… - من هذا الأجر نصيب - دون أن ينقص من أجور التلامذة، كما جاء بذلك الحديث الصحيح عن رسول الله
…2 - المؤسسات والمدارس التي أنشأوها أو شاركوا في إنشائها، وبقيت هذه المدارس ودور العلم تقدم للأمة العلم الصحيح والعمل الصالح من
প্রশংসা ও অভিমতসকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাথীদের উপর।
অতঃপর;
নিশ্চয়ই উম্মতের মাঝে রব্বানী আলেমদের প্রভাব বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময়, তা তাঁদের বরকতময় জীবনে হোক কিংবা মৃত্যুর পরে। তাঁদের জীবদ্দশায় সেই প্রভাব স্পর্শযোগ্য ও দৃশ্যমান, যা মানুষ তাঁদের আলেমদের সাথে অতিবাহিত করার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করে: যেমন—জ্ঞানার্জন ও শিক্ষাদান, অনুসরণ, দিকনির্দেশনা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ, দ্বীন প্রচার, দ্বীন রক্ষা এবং নাস্তিক, যিনদীক, বিদআতি ও ফিতনাবাজ শত্রুদের মোকাবিলায় অটল থাকা।
প্রতিটি যুগেই মুসলমানরা তাঁদের আমলকারী আলেমদের এমন সব সাহসী অবস্থান প্রত্যক্ষ করেছে, যেখানে তাঁরা সত্যকে সাহায্য করেছেন এবং বাতিলকে প্রতিহত করেছেন, যার ঝাণ্ডা প্রায় সমুন্নত হতে চলেছিল এবং যার বিপদ মুসলিম উম্মাহর উপর ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। এরাই সেই ব্যক্তি, যাঁদের মৃত্যুর পর উম্মত রিক্ততা অনুভব করে। বরং সম্ভবত অনেকে তাঁদের প্রস্থান বা বিদায়ের পরেই তাঁদের মর্যাদা অনুধাবন করতে পারে।
আর তাঁদের মৃত্যুর পর আলেমদের সর্বাধিক প্রকাশ্য প্রভাবগুলো হলো:
১ - তাঁদের ছাত্রবৃন্দ, যাঁরা তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন এবং উপকারী জ্ঞান প্রচার, আল্লাহর দিকে আহ্বান, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে তাঁদের মানহাজ বা পদ্ধতির উপর পরিচালিত হয়েছেন। ফলে তাঁদের উস্তাদদের জন্য
সাওয়াবের - এই সওয়াবের একটি অংশ রয়েছে - যা ছাত্রদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করবে না, যেমনটি রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে এসেছে।
২ - ঐ সকল প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা যেগুলো তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেছেন অথবা প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণ করেছেন; আর এই মাদ্রাসা ও জ্ঞানপীঠগুলো উম্মতকে সঠিক জ্ঞান ও নেক আমল প্রদান করে চলেছে...
(খণ্ড: ১)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢)
خلال من تخرج منها من طلاب العلم الذين هم قدوات لغيرهم، يمتد أثرهم إلى عموم المسلمين.
3 - العلم النافع من خلال الكتب والرسائل والردود التي يؤلفونها بحيث تبقى علمًا تتلقاه الأمة، وتنتشر بمقدار كثرة نسخها واتساع انتشارها في بلاد المسلمين. ولأهمية هذا الأثر الأخير وعظم دوره في الأمة كما هو معلوم، حيث لا تزال المخطوطات الإسلامية العلمية المتفرقة في جميع أنحاء العالم أحد أهم ما يعني به طلاب العلم وتفتخر به أمة الإسلام على بقية الأمم. فإنني أحب أن أقف وقفة مع هذا الأثر لعلماء الإسلام قديمًا وحديثًا فأقول: كم يحزننا أن نقرأ ونسمع من علماء كبار كانوا أئمة في التحقيق في فنون العلم الشرعي المختلفة، وكانوا مرجعًا للأمة، بل ولعلماء عصرهم في معضلات المسائل، ثم لا نجد لهؤلاء العلماء أثرًا إلا ما دوّن من تراجمهم في كتب الأعلام والرجال - وكثيرًا ما تكون مختصرة لا تغني شيئًا -.
هذا في الماضي أما في عصرنا الحاضر فقد تجددت وسائل حفظ العلم، وصارت الدروس والمحاضرات تسجل وتحفظ ليستفاد منها من خلال التسجيل أو بعد أن تفرغ وتصحح وتطبع. ولكن الشأن في الدروس التي لم تسجل، كما هو الحال في كثير من دروس الشيخ الإمام عبد العزيز بن باز رحمه الله تعالى ليس هناك وسيلة لحفظ ذلك إلا عن طريق ما يدونه التلاميذ ويعلقونه أثناء الدرس، تلقيًا عن الشيخ مباشرة. وهذا ما نشير إليه في الفقرة التالية:
4 - ما يدونه التلاميذ ويعلقونه عن شيوخهم من خلال الأسئلة، أو سماع الدروس والتعليقات والتنبيهات التي تكون أثناء تلقي العلم عنهم أو
সেই সকল জ্ঞান অন্বেষণকারীদের মাধ্যমে যারা এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছেন, যারা অন্যদের জন্য আদর্শ এবং যাদের প্রভাব সাধারণ মুসলিমদের মাঝে বিস্তৃত হয়।
৩ - উপকারী জ্ঞান সেই সকল বই, পুস্তিকা এবং খণ্ডনমূলক রচনার মাধ্যমে যা তারা রচনা করেন, যাতে তা উম্মাহর নিকট গৃহীত একটি জ্ঞান হিসেবে অবশিষ্ট থাকে এবং মুসলিম দেশগুলোতে এর পাণ্ডুলিপির আধিক্য ও ব্যাপক প্রসারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই সর্বশেষ প্রভাবটির গুরুত্ব এবং উম্মাহর মধ্যে এর সুমহান ভূমিকার কারণে—যেমনটি সবার জানা যে—সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইসলামি জ্ঞানতাত্ত্বিক পাণ্ডুলিপিগুলো আজও জ্ঞান অন্বেষণকারীদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু এবং এর মাধ্যমে ইসলামি উম্মাহ অন্যান্য জাতির ওপর গর্ব করে থাকে। তাই আমি প্রাচীন ও বর্তমান যুগের ইসলামি আলেমদের এই প্রভাবটি নিয়ে কিছুটা আলোচনা করতে চাই; আমি বলতে চাই: আমরা যখন এমন সব বড় বড় আলেমদের সম্পর্কে পড়ি বা শুনি যারা শরয়ী জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গবেষণার ক্ষেত্রে ইমাম ছিলেন এবং যারা উম্মাহর জন্য, এমনকি তাদের সমসাময়িক আলেমদের কাছেও জটিল মাসআলাসমূহের সমাধানের আশ্রয়স্থল ছিলেন, তখন আমরা অত্যন্ত ব্যথিত হই যে, বর্তমানে খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গের জীবনী গ্রন্থে তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ছাড়া আর কোনো চিহ্ন বা প্রভাব পাওয়া যায় না—যা অনেক ক্ষেত্রেই অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং পর্যাপ্ত নয়।
এটি ছিল অতীতের কথা, তবে আমাদের বর্তমান যুগে জ্ঞান সংরক্ষণের উপায়গুলো আধুনিক হয়েছে। এখন পাঠদান ও বক্তৃতাগুলো রেকর্ড করা হয় এবং সংরক্ষণ করা হয় যাতে সেই রেকর্ডিং থেকে অথবা তা লিখিত রূপ দিয়ে, সংশোধন ও মুদ্রণের মাধ্যমে উপকৃত হওয়া যায়। কিন্তু সেই সব পাঠদানের বিষয় ভিন্ন যা রেকর্ড করা হয়নি, যেমনটি শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বাজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর অনেক পাঠের ক্ষেত্রে ঘটেছে। সরাসরি শায়খের কাছ থেকে গ্রহণ করার সময় ছাত্ররা যা লিখে রাখত এবং পাঠ চলাকালীন যে টীকাগুলো যোগ করত, তা ছাড়া এই জ্ঞান সংরক্ষণের আর কোনো মাধ্যম নেই। আর এটিই আমরা পরবর্তী অনুচ্ছেদে উল্লেখ করছি:
৪ - ছাত্ররা তাদের শায়খদের থেকে প্রশ্নের মাধ্যমে অথবা জ্ঞান অর্জনের সময় সরাসরি পাঠ শ্রবণ করে এবং সেই সাথে যে সকল টীকা ও সতর্কতা লিপিবদ্ধ করত অথবা
(খণ্ড: ১)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٣)
القراءة عليهم. وأظهر ما يمثل هذا النوع أمران:
أحدهما: الأسئلة والمسائل التي يسألها التلاميذ أو يسمعونها أثناء الدرس بحيث يقوم بالسؤال غيرهم، فيقومون بتدوين ذلك وهذا كثير كما هو الحال في مسائل الإمام أحمد وغيره من أئمة الإسلام.
الثاني: ما يدونه بعض الطلاب على طرة كتبهم أو في ورق آخر مستقل أثناء إلقاء الشيوخ دروسهم، وهذا النوع من تلقي وتدوين العلم من أشق ما يعانيه الطلاب، ولا يكاد يقوى على الاستمرار عليه إلا القليل النادر (1) من طلاب العلم، لأن الكثيرين يحبون الاستماع ويعتمدون على ما يبقى في الذاكرة من علم الشيخ وفوائده وتحقيقاته.
وهذا الكتاب والسفر النفيس الذي يقدمه أخونا الشيخ الفاضل / عبد الله بن مانع الروقي، والذي اختار له أسمًا جميلًا وعنوانًا لطيفًا معبرًا «الحلل الإبريزية من التعليقات البازية على صحيح البخاري» هو من ذلك النوع الشاق على طلاب العلم، والذي عُرف به أخونا الشيخ عبد الله من بين المشايخ الذين تلقوا وحضروا دروس شيخنا ووالدنا ابن باز رحمه الله حيث كان حريصًا على تدوين الفوائد والنكت والتعليقات والترجيحات، ولا يترك منها شيئًا حتى ولو كان أمرًا معلومًا مشهورًا بين طلاب العلم. فقيّد العلم وأنجح، وكان من أثار ذلك جملة من المسائل التي حفظها ودونها، وجملة من التعليقات على بعض كتب العلم ومنها هذا الكتاب المبارك الذي يجمع بين: صحيح البخاري، ومواضع من فتح
--------------------------------------------
তাদের সামনে পাঠ করা। আর এই প্রকারকে যা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে তা হলো দুটি বিষয়:
প্রথমটি: সেইসব প্রশ্ন ও মাসায়েল যা ছাত্ররা জিজ্ঞাসা করে অথবা পাঠদান চলাকালীন তারা শুনতে পায় যখন অন্যরা প্রশ্ন করে থাকে, অতঃপর তারা সেগুলো লিপিবদ্ধ করে। এটি অত্যন্ত ব্যাপক, যেমনটি ইমাম আহমাদ এবং ইসলামের অন্যান্য ইমামদের মাসায়েলসমূহের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
দ্বিতীয়টি: শায়েখদের দরস প্রদানের সময় কিছু ছাত্র তাদের কিতাবের প্রান্তসীমায় (মার্জিনে) অথবা স্বতন্ত্র কোনো কাগজে যা লিপিবদ্ধ করে। ইলম অর্জন ও তা লিপিবদ্ধ করার এই পদ্ধতিটি ছাত্রদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য কাজগুলোর একটি। ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে অতি নগণ্য সংখ্যক (১) ব্যতীত কেউ এর ওপর অবিচল থাকতে সক্ষম হয় না। কারণ অধিকাংশ লোকই শ্রবণ করাকে পছন্দ করে এবং শায়েখের ইলম, ফায়দা ও তাহকীকাত থেকে যা স্মৃতিতে অবশিষ্ট থাকে তার ওপর নির্ভর করে।
আর এই মূল্যবান কিতাব ও গ্রন্থ যা আমাদের শ্রদ্ধেয় ভাই ফাদীলতুশ শায়েখ আবদুল্লাহ বিন মানি’ আল-রুকী পেশ করেছেন—যার জন্য তিনি একটি সুন্দর নাম ও চমৎকার অর্থবহ শিরোনাম পছন্দ করেছেন: 'সহীহ বুখারীর ওপর আল-তালিকাত আল-বাজিয়্যাহ হতে আল-হুলাল আল-ইবরীজিয়্যাহ'—এটি ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য সেই কষ্টসাধ্য প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত। আমাদের শায়েখ ও পিতা ইবনে বায (আল্লাহ তাকে রহম করুন)-এর দরসে উপস্থিত হওয়া ও ইলম অর্জনকারী শায়েখদের মধ্যে আমাদের ভাই শায়েখ আবদুল্লাহ এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমেই পরিচিত ছিলেন। কেননা তিনি ইলমি ফায়দা, সূক্ষ্ম পয়েন্ট, টীকা ও রাজেহ মতসমূহ (তরজীহাত) লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন; তিনি এর কোনো কিছুই বাদ দিতেন না, এমনকি তা যদি ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট অতি পরিচিত ও প্রসিদ্ধ কোনো বিষয়ও হতো। এভাবে তিনি ইলমকে আবদ্ধ করেছেন এবং সফল হয়েছেন। তারই ফসল হলো সেইসব মাসায়েল যা তিনি মুখস্থ করেছেন ও লিপিবদ্ধ করেছেন এবং বিভিন্ন ইলমি কিতাবের ওপর করা টীকা-টিপ্পনীসমূহ, যার অন্তর্ভুক্ত হলো এই বরকতময় কিতাবটি যা সহীহ বুখারী এবং ফাতহুল বারীর বিভিন্ন স্থানকে একত্র করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٤)
الباري، وتعليقات الشيخ ابن باز. فأكرم بهم من سلسلة ذهبية توجت بحفظها وإخراجها للأمة من جانب أخينا عبد الله وفقه الله وسدده وأعظم أجره.
بقي أن أشير إلى أن أهم ما يميز دروس الشيخ العلامة ابن باز رحمه الله قوة الترجيح ومتانة التحقيق ووضوح التعليق، فهو في مثل هذه الدروس العلمية لا يحرص على الشرح والتفصيل الواضحات، التي لا تحتاج إليها المطولات، وإنما يعلق التعليق المهم الذي يحتاج إليه العلماء وطلاب العلم الذين أخذوا أجمل العلم وأدركوا مسائله، ولكن تمر عليهم معضلات ومشكلات يحتاجون فيها إلى الجهابذة الذين يحلونها ويقررون القول الراجح منها وهذا ما يميز هذه التعليقات النفيسة في السفر المبارك.
فدونك هذه الدرر، قصيرة في عبارتها عظيمة في معانيها وتحقيقاتها، يكفي أنها خلاصة علم شيخ قضى من عمره ما يزيد على السبعين عامًا مع هذا العلم والقراءة والتحقيق ليلًا ونهارًا حضرًا وسفرًا رحمه الله رحمة واسعة وجمعنا به في عليين.
أما أخونا الشيخ عبد الله بن مانع فنقول له: جزاك الله خيرًا على ما عانيت أثناء الدروس، وجزاك الله خيرًا على حرصك على نشر علم الشيخ بدل أن يبقى محبوسًا، ونحن ننتظر المزيد من هذا النوع من العلم فعجّل بنشره وفقك الله وسددك وأثابك.
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
وكتبه / عبد الرحمن الصالح المحمود
الرياض 18/ 3/1427 هـ.
আল-বারী, এবং শাইখ ইবনে বাযের টীকা। আমাদের ভাই আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে এই স্বর্ণালি ধারার সংরক্ষণ ও উম্মাহর জন্য প্রকাশের মাধ্যমে তা এক অনন্য সম্মানে ভূষিত হয়েছে। আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন, সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং তার প্রতিদানকে মহান করুন।
উল্লেখ্য যে, আল্লামা শাইখ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ)-এর দারসগুলোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো অগ্রাধিকার প্রদানের সক্ষমতা (তরজীহ), গবেষণার দৃঢ়তা এবং টীকা প্রদানের স্বচ্ছতা। এই ধরনের ইলমি দারসগুলোতে তিনি স্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা বা দীর্ঘ আলোচনার প্রতি আগ্রহ দেখান না, যেগুলোর জন্য দীর্ঘ কিতাব পাঠের প্রয়োজন পড়ে না। বরং তিনি এমন গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য বা টীকা প্রদান করেন যা আলিমগণ এবং ইলম অর্জনকারী উচ্চ পর্যায়ের তালিবে ইলমদের প্রয়োজন হয়, যারা ইলমের মূল নির্যাস গ্রহণ করেছেন এবং এর মাসআলাগুলো অনুধাবন করেছেন। তবুও তাদের সামনে এমন কিছু জটিল ও কঠিন বিষয় চলে আসে যার সমাধানের জন্য তাদের এমন বিশেষজ্ঞ বা বিজ্ঞ আলিমদের প্রয়োজন হয় যারা তা সমাধান করবেন এবং বিশুদ্ধ মতটি নির্ধারণ করবেন। আর এই বরকতময় কিতাবে এই মূল্যবান টীকাগুলোই সেই বৈশিষ্ট্য বহন করছে।
সুতরাং আপনার সামনে রয়েছে এই মুক্তোগুলো, যা শব্দে সংক্ষিপ্ত কিন্তু এর অর্থ ও গবেষণায় মহান। এটাই যথেষ্ট যে, এগুলো এমন একজন শাইখের ইলমের নির্যাস যিনি তার জীবনের সত্তর বছরেরও বেশি সময় এই ইলম, পঠন ও গবেষণার পেছনে ব্যয় করেছেন—দিবা-রাত্রি, প্রবাসে ও আবাসে। আল্লাহ তাকে ব্যাপক রহমত দান করুন এবং আমাদের সকলকে ইল্লিয়্যিনে তার সাথে একত্রিত করুন।
আর আমাদের ভাই শাইখ আবদুল্লাহ বিন মানে'র ব্যাপারে আমরা বলব: দারসগুলোর সংকলনে আপনি যে কষ্ট করেছেন তার জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। শাইখের ইলমকে আবদ্ধ না রেখে তা প্রচার করার যে আগ্রহ আপনি দেখিয়েছেন সেজন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমরা এই ধরনের ইলম আরও প্রত্যাশা করছি, তাই এটি প্রকাশে ত্বরান্বিত করুন। আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন, সঠিক পথে রাখুন এবং পুরস্কৃত করুন।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
লেখক / আব্দুর রহমান আস-সালিহ আল-মাহমুদ
রিয়াদ ১৮/ ০৩/ ১৪২৭ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: -)
الحلل الإبريزية من التعليقات البازية على صحيح البخاري القسم: شروح الحديث
الكتاب: الحلل الإبريزية من التعليقات البازية على صحيح البخاري
للإمام: عبد العزيز بن عبد الله بن باز
بقلم: أبي محمد عبد الله بن مانع الروقي
الناشر: دار التدمرية للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 جُمادَى الأولى 1438
সহীহ বুখারীর ওপর বাযীয় টীকাসমূহ থেকে প্রাপ্ত স্বর্ণময় অলংকারসমূহ বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাসমূহ
গ্রন্থ: সহীহ বুখারীর ওপর বাযীয় টীকাসমূহ থেকে প্রাপ্ত স্বর্ণময় অলংকারসমূহ
ইমাম: আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
কলমে: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মানি আল-রুকী
প্রকাশক: দারুত তাদমুরিয়্যাহ প্রকাশনা ও বিতরণ, সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরী - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২২ জুমাদাল উলা ১৪৩৮
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٣)
إسنادي إلى «الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه» للإمام الحافظ أبي عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم ابن المغيرة البخاري رضي الله عنه.
قال الفقير إلى مولاه: أبو محمد عبد الله بن مانع الروقي: حدثنا (إجازة) أبو تراب الظاهري، وأحمد الشاطري، وعبد القادر البخاري، قالوا حدثنا عمر بن حمدان المحرسي، قال: حدثنا السيد محمد بن عبد الحي الكتاني.
وحدثنا (إجازة) أبو تراب الظاهري، قال: حدثنا السيد محمد بن عبد الحي الكتاني، عن أبيه عبد الكبير الكتاني، عن عبد الغني الدهلوي، عن محمد بن إسحاق الدهلوي، عن عبد العزيز الدهلوي، عن أبيه ولي الله الدهلوي، عن سالم بن عبد الله البصري، عن أبيه عبد الله بن سالم البصري، عن محمد بن علاء الدين الحافظ البابلي، عن محمد حجازي الشعراوي الواعظ، عن محمد بن أركماس، عن الحافظ شهاب الدين أحمد بن علي بن حجر العسقلاني، قال: أخبرنا أبو إسحاق التنوخي، قال أخبرنا أبو العباس الحجار، قال: أخبرنا أبو الحسين بن المبارك الزبيدي، قال: أخبرنا أبو الوقت السجزي، قال: أخبرنا أبو الحسن عبد الرحمن بن محمد الداودي، قال: أخبرنا عبد الله بن حَمُّويه السرخسي، قال: أخبرنا الفربري، قال: أخبرنا الإمام أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم ابن المغيرة الجعفي البخاري رحمه الله، قال: حدثنا الحميدي عبد الله بن الزبير، قال حدثنا سفيان، قال: حدثنا يحيى بن سعيد الأنصاري، قال: أخبرني محمد بن إبراهيم التيمي: أنه سمع علقمة بن وقاص الليثي
ইমাম হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম ইবনে আল-মুগিরা আল-বুখারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সংকলিত ‘আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুখতাসার মিন উমুরি রাসূলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি’ এর প্রতি আমার সনদ।
তাঁর রবের মুখাপেক্ষী অভাবী বান্দা আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন মানি আল-রুকি বলেছেন: আমাদের নিকট (ইজাজত বা অনুমতিসূত্রে) বর্ণনা করেছেন আবু তুরাব আল-জাহিরি, আহমাদ আল-শাতিরি এবং আব্দুল কাদির আল-বুখারি; তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন হামদান আল-মাহরিসি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল হাই আল-কাত্তানি।
এবং আমাদের নিকট (ইজাজত বা অনুমতিসূত্রে) বর্ণনা করেছেন আবু তুরাব আল-জাহিরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল হাই আল-কাত্তানি, তিনি তাঁর পিতা আব্দুল কাবির আল-কাত্তানি থেকে, তিনি আব্দুল গনি আদ-দেহলভি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আদ-দেহলভি থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ আদ-দেহলভি থেকে, তিনি তাঁর পিতা ওয়ালিউল্লাহ আদ-দেহলভি থেকে, তিনি সালিম বিন আব্দুল্লাহ আল-বাসরি থেকে, তিনি তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ বিন সালিম আল-বাসরি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আলাউদ্দিন আল-হাফিজ আল-বাবিলি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ হিজাজি আশ-শা’রাবি আল-ওয়ায়েজ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আরকামাস থেকে, তিনি হাফিজ শিহাবুদ্দিন আহমাদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানি থেকে, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আবু ইসহাক আত-তানুখি, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আবুল আব্বাস আল-হাজ্জার, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন বিন আল-মুবরাক আল-জুবাইদি, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আবু আল-ওয়াক্ত আস-সিজজি, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আবু আল-হাসান আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ আদ-দাওদি, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন হাম্মুয়াহ আস-সারখাসি, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আল-ফিরাবরি, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম ইবনে আল-মুগিরা আল-জু’ফি আল-বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুমাইদি আব্দুল্লাহ বিন আল-জুবাইর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারি, তিনি বলেন: আমাকে খবর দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আত-তাইমি যে, তিনি আলকামাহ বিন ওয়াক্কাস আল-লাইসিকে শুনতে পেয়েছেন।
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٤)
يقول: سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه على المنبر، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها، أو إلى امرأة ينكحها، فهجرته إلى ما هاجر إليه».
তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি কেবল তাই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে হবে অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে»।
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٥)
المقدمةالحمد لله ولي الصالحين، ورب الطيبين، تفضل على من شاء من عباده فهداه وعلمه ووفقه وسدده، فيا لسعادة من جعله الله إمامًا للمتقين يعلمهم ويهديهم إلى صراط الله المستقيم، فأي فضل عليهم قد أسداه، وأي تكريم لهم قد أعطاه، أولئك هم عبادة الله البررة {وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [القصص: 68].
وأصلي وأسلم على الرحمة المهداة، والنعمة المسداة خير الورى، وأشرف من وطئ الثري، نبينا محمد صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه ومن اتبع هداه.
أما بعد: فهذه جملة من تعليقات إمام أهل السنة في عصره شيخنا عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله على صحيح البخاري وشيئًا من تعليقاته على مواضع من فتح الباري.
سطرتها أناملي، سماعًا منه وجاد بها المولى كرمًا منه فلله الحمد كثيرًا كما أنعم كثيرًا أسميتها الحلل الإبريزية من التعليقات البازية.
أسأل الله أن يتقبلها عملًا صالحًا لوجهه خالصًا وأن ينفعني بها وشيخي إنه جواد كريم.
وقد امتازت تعليقات شيخنا رحمه الله تعالى بميزات من أهمها:1 - القطع بحكم في كثير من المسائل، وما كان ذلك من الشيخ في أكثر ما قطع به إن لم يكن كله إلا بعد طول بحث وتأمل ونظر، فهي مسائل محققة محررة عنده، أخذنا زبدتها، وقطفنا ثمرتها.
2 - الإيجاز في عبارته مع ما تؤديه من عظيم المعاني، والفوائد، فالمسألة
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৎকর্মশীলদের অভিভাবক এবং পবিত্রদের রব। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন, ফলে তাকে হিদায়াত দান করেন, জ্ঞান দান করেন, তাওফিক দেন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করেন। ধন্য সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ মুত্তাকীদের ইমাম বানিয়েছেন, যিনি তাদেরকে শিক্ষা দেন এবং আল্লাহর সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন। তিনি তাদের ওপর কতই না অনুগ্রহ করেছেন এবং তাদের কতই না সম্মানিত করেছেন! তারাই আল্লাহর পুণ্যবান বান্দা। {আর তোমার রব যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন; তাদের কোনো পছন্দ করার ইখতিয়ার নেই। আল্লাহ পবিত্র এবং তারা যাকে শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে} [আল-কাসাস: ৬৮]।
এবং আমি সালাত ও সালাম পেশ করছি প্রেরিত রহমত, দানকৃত নি’মত এবং সৃষ্টির সেরা ও মাটির ওপর পদচারণাকারী সবচেয়ে সম্মানিত সত্তা, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গীগণ ও যারা তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করে তাদের ওপর।
অতঃপর: এটি স্বীয় যুগের আহলে সুন্নাতের ইমাম, আমাদের শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সহীহ বুখারীর ওপর প্রদত্ত কিছু টীকা এবং ফাতহুল বারীর কিছু স্থানের ওপর তাঁর মন্তব্যের সংকলন।
আমার আঙুলগুলো তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে এগুলো লিপিবদ্ধ করেছে এবং মহান রব তাঁর দয়ায় এগুলো দান করেছেন। সুতরাং আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা, যেভাবে তিনি অনেক নি’মত দান করেছেন। আমি এর নাম রেখেছি 'আল-হিলাল আল-ইবরিজিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ' (বাযী মন্তব্যসমূহের স্বর্ণোজ্জ্বল অলংকার)।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত একটি নেক আমল হিসেবে কবুল করেন এবং এর দ্বারা আমাকে ও আমার শাইখকে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা ও দয়ালু।
আমাদের শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মন্তব্যসমূহ কিছু বৈশিষ্ট্যে অনন্য, যার মধ্যে প্রধান হলো:১ - অনেক মাসআলায় অকাট্য সিদ্ধান্ত প্রদান করা। শাইখ যে বিষয়গুলোতে অকাট্য সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তার বেশিরভাগই বরং প্রায় সবটুকুই দীর্ঘ গবেষণা, চিন্তা ও পর্যালোচনার পর দিয়েছেন। সুতরাং মাসআলাগুলো তাঁর নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত ও সম্পাদিত ছিল, আমরা কেবল তার সারমর্ম গ্রহণ করেছি এবং এর ফল আহরণ করেছি।
২ - মহান অর্থ ও উপকারিতা বহন করার পাশাপাশি তাঁর প্রকাশভঙ্গিতে সংক্ষিপ্ততা। ফলে মাসআলাটি...
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٦)
يكون فيها خلاف كبير جدًا، يلخصه الشيخ رحمه الله تعالى في سطر أو سطرين مع ترجيح ما يراه، ولا أراه إلا كما قال الدارقطني «كان أبو القاسم بن منيع قلما يتكلم على الحديث فإذا تكلم كان كلامه كالمسمار في الساج» (1).
3 - الفوائد المستنبطة، وبعضها لا يكاد يوجد عند غيره رحمه الله تعالى.
4 - التعقبات المقنعة، فهو أحيانًا يعلق على رواية، أو حكم، أو يتعقب بعض من قال بقول يراه الشيخ مرجوحًا، فيفصح عن وجه الضعف فيه بأوجز عبارة، وأبلغ معنى.
وهذه الميزات من أهم الأسباب التي دفعتني لإخراج هذه المجموعة المباركة من التعليقات، وقد انبهر بها بعض أهل العلم لما أطلع عليها وألح في لزوم إخراجها سريعًا.
وهنا تنبيهات مهمة للقارئ الكريم:1 - حرصت كل الحرص على كتابة لفظ شيخنا بالنص إن أمكنني ذلك، وإن شق فأكتبه بالمعنى القريب.
2 - كتبت عن شيخنا أحواله في الدرس: من تبسم، وبكاء، وتسبيح، وتهليل، وتكبير، وتعجب، ودعاء.
3 - كل ما في الحاشية من كلام شيخنا إلا ما صدرته بقولي قلت: فمن كلامي. وما كان مصدرًا بنجمة فهو من كلامه أفردته بذلك لأنه ليس على صلب المتن.
4 - أذكر تاريخ السؤال عند الحاجة لذلك.
5 - إذا أحلت على جزء أو صفحة (من الأصل) فأريد به الجامع الصحيح مع شرحه فتح الباري (السلفية الثانية) وهو المراد بقولي تم الجزء ..
--------------------------------------------
যে বিষয়ে অনেক বড় মতভেদ রয়েছে, শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) তা এক বা দুই লাইনে সারসংক্ষেপ করেন এবং নিজের নিকট অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতটি উল্লেখ করেন। আমি তাকে সেই রূপই দেখি যেমনটি আদ-দারাকুতনী বলেছিলেন: "আবুল কাসিম বিন মানি' হাদিসের ব্যাপারে খুব কমই কথা বলতেন, কিন্তু যখন তিনি কথা বলতেন, তখন তার কথা শাল কাষ্ঠে পেরেকের মতো বিদ্ধ হতো।" (১)।
৩ - উদ্ভূত উপকারসমূহ (ফাওয়াইদ), যার কিছু অংশ শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) ছাড়া অন্য কারো কাছে খুব একটা পাওয়া যায় না।
৪ - সন্তোষজনক পর্যালোচনা বা খণ্ডন; তিনি কখনও কোনো বর্ণনা বা হুকুমের ওপর মন্তব্য করেন, অথবা এমন কোনো উক্তির পর্যালোচনা করেন যা শায়খের নিকট দুর্বল মনে হয়। ফলে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত শব্দে কিন্তু গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ভাষায় তার দুর্বলতার দিকটি স্পষ্ট করে দেন।
এই বৈশিষ্ট্যগুলোই ছিল অন্যতম প্রধান কারণ যা আমাকে এই বরকতময় টীকা-সমষ্টি প্রকাশ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। কোনো কোনো আহলুল ইলম (আলেম) যখন এটি দেখেছিলেন, তখন তারা অভিভূত হয়েছিলেন এবং এটি দ্রুত প্রকাশের জন্য জোরাজুরি করেছিলেন।
সম্মানিত পাঠকের জন্য এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:১ - আমি আমাদের শায়খের বক্তব্য হুবহু শব্দে লিখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যদি তা সম্ভব হয়, আর যদি তা কঠিন হয় তবে আমি এর নিকটবর্তী মর্ম অনুযায়ী লিখেছি।
২ - পাঠদানকালে আমাদের শায়খের অবস্থা সম্পর্কেও লিখেছি: যেমন তার মৃদু হাসি, কান্না, তাসবিহ পাঠ, তাহলিল পাঠ, তাকবির পাঠ, বিস্ময় প্রকাশ এবং দোয়া।
৩ - পাদটীকায় যা কিছু আছে সবই আমাদের শায়খের কথা, কেবল যা আমার উক্তি 'আমি বলছি' দ্বারা শুরু হয়েছে তা আমার কথা। আর যে কথাগুলোর শুরুতে তারকা চিহ্ন রয়েছে সেগুলোও শায়খের কথা, যা আমি পৃথকভাবে উল্লেখ করেছি কারণ সেগুলো মূল পাঠের (মতন) অন্তর্ভুক্ত নয়।
৪ - প্রয়োজনবোধে আমি প্রশ্নের তারিখ উল্লেখ করেছি।
৫ - যদি আমি কোনো খণ্ড বা পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি (মূল কিতাব থেকে) দেই, তবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফাতহুল বারীসহ 'আল-জামি আস-সহিহ' (সালাফিয়্যাহ দ্বিতীয় মুদ্রণ), যা আমার 'খণ্ড সমাপ্ত হয়েছে' উক্তির দ্বারাও উদ্দেশ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٧)
6 - إذا قلت كذا في العيني فأعني به شرح بدر الدين العيني على البخاري المسمى (عمدة القاري).
7 - حذفت بعض الأسماء التي صرح بها شيخنا- إلا ما كان ذكره مكملًا للمقصود.
8 - الأحاديث الطوال اكتفيت بذكر ما عليه التعليق في أكثرها دون ذكر الحديث بكامله، وكنت في الأول أمرت الناسخ بالاكتفاء بذلك، ثم غيرت رأيي وقلت: بل اكتبها كلها، فاستدرك الناسخ بعضها، وبقي البعض الآخر لم يكمل .. فلعلنا نكملها في طبعات قادمة إن شاء الله تعالى حرصًا على عدم تأخير إخراج هذه التعليقات المباركة.
9 - سألت شيخنا عن كثير من الأحاديث لمعرفة قوله فيها، وأحيانًا أثبت ما رأيته في درجة الحديث للإفادة.
10 - أضفت فوائد مهمة من كلام بعض أهل العلم كشيخ الإسلام ابن تيمية وابن القيم وغيرهما لدعاء الحاجة لها.
11 - بذلت ما أستطيع لتصحيح الملازم، واجتهدت في ذلك ولكن يبقى عمل الإنسان معرضًا للنقص والزلل فمن وجد عيبًا فليستره، وحالي كما قال الأول:
متى تصل العطاش إلى ارتواء
… إذا استقت البحار من الركايا
ومن يثني الأصاغر عن مراد
… وقد جلس الأكابر في الزوايا
وإن ترفع الوضعاء يومًا
… على الرفعاء من إحدى البلايا
إذا استوت الأسافل والأعالي
… فقد طابت منادمة المنايا
وكل علم يكتب وينشر إنما تعرف نفاسته، وتثمن قيمته، بقيمة صاحبه العلمية وشيخنا أبو عبد الله هذا الإمام العلم شيخ الإسلام في عصره شيخنا
6 - যখন আমি বলব 'আইনি-তে এমন আছে', তখন এর দ্বারা আমি বুখারীর ওপর বদরুদ্দিন আল-আইনির 'উমদাতুল কারি' নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থটি উদ্দেশ্য নিয়েছি।
7 - আমি এমন কিছু নাম বাদ দিয়েছি যা আমাদের শায়খ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন—তবে সেই নামগুলো ব্যতীত যেগুলোর উল্লেখ উদ্দেশ্য পূর্ণ করার জন্য সহায়ক ছিল।
8 - দীর্ঘ হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে আমি অধিকাংশ সময় পূর্ণ হাদিস উল্লেখ না করে কেবল সেই অংশটুকু উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি যার ওপর টীকা রয়েছে। শুরুতে আমি অনুলিপিকারকে কেবল ঐটুকুই লিখতে বলেছিলাম, পরে আমি আমার মত পরিবর্তন করি এবং বলি: বরং সম্পূর্ণটুকুই লেখো। ফলে অনুলিপিকার কিছু হাদিস পুনরায় যুক্ত করে পূর্ণ করেছেন, আর কিছু অংশ অপূর্ণ রয়ে গেছে... এই বরকতময় টীকাগুলো প্রকাশে বিলম্ব না করার স্বার্থে সম্ভবত আমরা আগামী সংস্করণগুলোতে সেগুলো পূর্ণ করব, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
9 - অনেক হাদিস সম্পর্কে আমি আমাদের শায়খকে জিজ্ঞেস করেছি যাতে সেগুলোর ব্যাপারে তাঁর মতামত জানা যায়, আর কখনো কখনো উপকারের জন্য হাদিসের মান সম্পর্কে আমি যা দেখেছি তা লিখে রেখেছি।
10 - বিশেষ প্রয়োজনীয়তার কারণে আমি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়্যিম এবং অন্যান্য আহলে ইলমদের বক্তব্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফায়দা যোগ করেছি।
11 - আমি পাণ্ডুলিপিগুলো সংশোধনের জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এবং এ ব্যাপারে কঠোর পরিশ্রম করেছি। তবে মানুষের কাজ সবসময়ই ত্রুটি ও স্খলনের সম্মুখীন হয়। অতএব কেউ যদি কোনো ত্রুটি খুঁজে পান তবে তিনি যেন তা গোপন রাখেন (সংশোধন করে দেন)। আর আমার অবস্থা প্রাচীন কবির বাণীর মতো:
পিপাসার্তরা কখন তৃপ্তি লাভ করবে
… যদি সমুদ্রগুলো ছোট জলাশয় থেকে পানি পান করে?
আর ছোটদের কে তাদের সংকল্প থেকে বিরত রাখবে
… যখন বড়রা কোণঠাসা হয়ে নির্জনে বসে থাকে?
আর যদি কখনো নিচুরা উচ্চমর্যাদাবানদের ওপর প্রাধান্য পায়
… তবে তা বড় বিপদগুলোর একটি।
যখন অধম ও উত্তম সমান হয়ে যায়
… তখন মৃত্যুর সাহচর্যই আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।
যে কোনো জ্ঞান যা লেখা ও প্রকাশ করা হয়, তার উৎকর্ষ জানা যায় এবং তার মূল্য নির্ধারিত হয় তার লেখকের ইলমি মর্যাদার ভিত্তিতে। আর আমাদের শায়খ আবু আব্দুল্লাহ হলেন এই যুগের ইলমের ইমাম ও শায়খুল ইসলাম, আমাদের শায়খ।
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٨)
ابن باز رحمه الله تعالى- وكنت رأيته بعد موته في المنام جالسًا وقد طلب ماءً فسقاه من سقاه من تلاميذ- وقد عرفت بعضهم- لكنه أراد ماءً باردًا غير ما سقي- فجاء أحدهم بماء بارد فسقي الشيخ فتبسم كأنه يقول: نعم هذا دواء العطشان.
ولا أستطيع أن أصف شيخنا رحمه الله تعالى إلا بمقالة المزي في شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى وهو قوله: ما رأيت أحدًا أعلم بكتاب الله ولا بسنة رسوله صلى الله عليه وسلم ولا أتبع لهما منه. وكفى بهذا عن ترجمته رحمه الله تعالى.
ختامًا
… أشكر كل من أعانني على إخراج هذه التعليقات، وأسأل الله تعالى أن يثيبهم أجزل الثواب وأعظمه، ولا يفوتني أن أشكر الرجل الخير الجواد- أحسبه كذلك- مطلق الغويري سلمه الله تعالى فقد تبرع بتكلفة طباعة الملازم وتجهيز الكتب - فجزاه الله خير الجزاء وحفظه في نفسه وولده وماله.
وكذلك أشكر زوجتي (أم محمد) التي استحثتني على التكميل والمسارعة فجزاهم الله جميعًا خير الجزاء، وسدّد فينا وفيهم القول والعمل.
وسيتلو هذا الكتاب- إن شاء الله تعالى- سؤالاتي لابن باز وهي كثيرة جدًا، وتعليقات شيخنا على كتب أخرى يسر الله تعالى إخراجها، وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء، فلا قرت عين حاسد والحمد لله رب العالمين.
وكتبه أبو محمد
عبد الله بن مانع الروقي
ص. ب 9010 الرياض 11413
ইবনে বায (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)—আমি তাঁকে তাঁর মৃত্যুর পর স্বপ্নে উপবিষ্ট অবস্থায় দেখেছি। তিনি পানি চাইলেন, তখন তাঁর ছাত্রদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁকে পানি পান করালেন—যাদের কয়েকজনকে আমি চিনি—কিন্তু তিনি যা পান করানো হয়েছিল তা ছাড়া শীতল পানি চাইলেন। এরপর তাঁদের একজন শীতল পানি নিয়ে এল এবং শেখকে পান করাল। তখন তিনি মুচকি হাসলেন যেন তিনি বলছেন: হ্যাঁ, তৃষ্ণার্তের ঔষধ এটাই।
আমি আমাদের শেখকে (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সম্পর্কে ইমাম আল-মিযযীর সেই উক্তি ছাড়া অন্য কোনোভাবে বর্ণনা করতে সক্ষম নই, যা হলো: "আমি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী এবং এই দুইয়ের অধিক অনুসারী আর কাউকে দেখিনি।" তাঁর জীবনী হিসেবে এটিই যথেষ্ট (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)।
পরিশেষে
… আমি তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই যাঁরা আমাকে এই টীকাগুলো প্রকাশ করতে সহায়তা করেছেন। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁদের সর্বোত্তম ও মহান প্রতিদান দান করেন। আমি সেই কল্যাণকামী ও দানশীল ব্যক্তি—আমি তাঁকে তেমনই মনে করি—মুতলাক আল-গুয়াইরি (আল্লাহ তাআলা তাঁকে নিরাপদ রাখুন)-কে ধন্যবাদ জানাতে ভুলব না, কারণ তিনি পাণ্ডুলিপি মুদ্রণ এবং বই প্রস্তুতির খরচ অনুদান হিসেবে দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁকে, তাঁর সন্তান ও তাঁর সম্পদকে হিফাজত করুন।
একইভাবে আমি আমার স্ত্রী (উম্মু মুহাম্মাদ)-কে ধন্যবাদ জানাই, যিনি আমাকে এটি সম্পন্ন করতে এবং দ্রুত শেষ করতে উৎসাহিত করেছেন। আল্লাহ তাঁদের সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং আমাদের ও তাঁদের কথা ও কাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।
এই বইটির পরে—যদি আল্লাহ তাআলা চান—ইবনে বাযের প্রতি আমার প্রশ্নগুলো প্রকাশিত হবে, যা সংখ্যায় অনেক; এবং অন্যান্য কিতাবের ওপর আমাদের শেখের টীকাগুলো আসবে যা প্রকাশ করা আল্লাহ তাআলা সহজ করে দিয়েছেন। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। কোনো হিংসুকের চোখ যেন শীতল না হয়। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন আবু মুহাম্মাদ
আব্দুল্লাহ বিন মানি আল-রুকি
ডাক বাক্স ৯০১০ রিয়াদ ১১৪১৩
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٩)
1 - كتاب بدء الوحي
1 - باب كيف كان بدء الوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم -
1 - حدثنا الحميدي عبد الله بن الزبير قال حدثنا سفيان قال: حدثنا يحيى بن سعيد الأنصاري قال: أخبرني محمد بن إبراهيم التيمي أنه سمع علقمة بن وقاص الليثي يقول: سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه على المنبر قال: سمعت رسول الله يقول: «إنما الأعمال بالنيات (1)، وإنما لكلِّ امرء ما نوى: فمن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها، أو إلى امرأة ينكحها، فهجرته إلى ما هاجر إليه».
2 - باب2 - حدثنا عبد الله بن يوسف قال: أخبرنا مالك عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها أن الحارث بن هشام رضي الله عنه سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول كيف يأتيك الوحي؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أحيانًا يأتيني مثل صلصلة الجرس وهو أشده علي فيفصم عني وقد وعيت عنه ما قال، وأحيانًا يتمثل لي الملك رجلًا فيكلمني فأعي ما يقول». قال عائشة رضي الله عنها: ولقد رأيته ينزل عليه الوحي في اليوم الشديد البرد فيفصم عنه وإن جبينه ليتفصد عرقًا (2).
--------------------------------------------
১ - ওহীর সূচনা অধ্যায়
১ - পরিচ্ছেদ: কীভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহীর সূচনা হয়েছিল-
১ - আমাদের নিকট হুমাইদী আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আত-তৈমী সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আলক্বামাহ ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়সীকে বলতে শুনেছেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মিম্বরের ওপর বলতে শুনেছি: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল (১), এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পায় যা সে নিয়ত করে। সুতরাং যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে হয় অথবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত সেই বিষয়ের জন্যই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।»
২ - পরিচ্ছেদ২ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হারিস ইবনে হিশাম রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট ওহী কীভাবে আসে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «কখনও তা আমার নিকট ঘণ্টার শব্দের মতো আসে এবং এটিই আমার ওপর সবচাইতে কঠিন হয়; অতঃপর যখন তা শেষ হয় তখন ফেরেশতা যা বলেছেন আমি তা মুখস্থ করে ফেলি। আবার কখনও ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার সামনে আসেন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নিই।» আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: আমি প্রচণ্ড শীতের দিনে তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হতে দেখেছি, যখন ওহী শেষ হতো তখন তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরে পড়ত (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
3 - باب3 - عن عائشة أم المؤمنين أنها قالت: أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح. ثم حبب إليه الخلاء، وكان يخلو بغار حراء فيتحنث فيه - وهو التعبد - الليالي ذوات العدد، قبل أن ينزع إلى أهله ويتزود لذلك، ثم يرجع إلى خديجة فيتزود لمثلها، حتى جاءه الحق وهو في غار حراء، فجاءه الملك فقال: اقرأ. قال: ما أنا بقارئ. قال: فأخذني الجهد، ثم أرسلني فقال: اقرأ. فقلت: ما أنا بقارئ. فأخذني فغطني الثالثة، ثم أرسلني فقال: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (1) خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ (2) اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ} [العلق: 1 - 3]، فرجع بها رسول الله صلى الله عليه وسلم يرجف فؤاده، فدخل على خديجة بنت خويلد رضي الله عنها فقال: زملوني زملوني. فزملوه حتى ذهب عنه الروع، فقال لخديجة وأخبرها الخبر: لقد خشيت على نفسي. فقالت خديجة: كلا والله ما يخزيك الله أبدًا (1)، إنك لتصل الرحم، وتحمل الكل .....
--------------------------------------------
৩ - পরিচ্ছেদ৩ - উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ওহী বা প্রত্যাদেশের সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা ভোরের আলোর ন্যায় সুষ্পষ্টভাবে প্রকাশিত হতো। অতঃপর নির্জনতা তাঁর নিকট প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং সেখানে টানা বেশ কিছু রাত ইবাদত (তাহান্নুছ) করতেন, নিজ পরিবারের নিকট ফিরে আসার এবং পাথেয় সংগ্রহ করার পূর্ব পর্যন্ত। অতঃপর তিনি পুনরায় খাদীজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য পুনরায় পাথেয় নিয়ে যেতেন। পরিশেষে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় তাঁর নিকট সত্য (ওহী) আসলো। ফেরেশতা তাঁর নিকট এসে বললেন: "পড়ুন"। তিনি বললেন: "আমি তো পড়তে জানি না।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "অতঃপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে প্রবলভাবে চাপ দিলেন, যার ফলে আমি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়ুন। আমি বললাম: আমি তো পড়তে জানি না। অতঃপর তিনি আমাকে দ্বিতীয়বার জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন, যাতে আমি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়ুন। আমি বললাম: আমি তো পড়তে জানি না। এরপর তিনি আমাকে তৃতীয়বার জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন এবং ছেড়ে দিয়ে বললেন: {পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন (১) সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে (২) পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহিমান্বিত} [সূরা আলাক: ১ - ৩]"। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কম্পিত হৃদয়ে তা নিয়ে ফিরে আসলেন এবং খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করে বললেন: "আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো।" তাঁরা তাঁকে বস্ত্রাবৃত করলেন যতক্ষণ না তাঁর আতঙ্ক দূর হলো। তিনি খাদীজার নিকট পুরো ঘটনা বর্ণনা করে বললেন: "আমি নিজের জীবনের আশঙ্কা করছি।" খাদীজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: "কখনো না, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না (১)। কারণ আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١١)
4 - باب5 - حدثنا موسى بن إسماعيل قال حدثنا أبو عوانة قال: حدثنا موسى ابن أبي عائشة قال: حدثنا سعيد بن جبير عن ابن عباس في قوله تعالى: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ} [القيامة: 16]، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعالج من التنزيل شدة، وكان مما يحرك شفتيه، فقال ابن عباس: فأنا أحركهما لكم كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحركهما. وقال سعيد أنا أحركهما كما رأيت ابن عباس يحركهما - فحرك شفتيه - فأنزل الله تعالى: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ (16) إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ} [القيامة: 16، 17]، قال: جمعه لك في صدرك وتقرأه {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} قال: فاستمع له وأنصت {ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} ثم إن علينا أن نقرأه. فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذلك إذا أتاه جبريل استمع، فإذا انطلق جبريل قرأه النبي صلى الله عليه وسلم كما قرأه (1).
--------------------------------------------
৪ - অধ্যায়৫ - মূসা ইবন ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবূ আওয়ানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মূসা ইবন আবী আয়িশাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাঈদ ইবন জুবায়ের ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {তাড়াহুড়ো করে মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা এর সাথে নাড়াচাড়া করবেন না} [কিয়ামাহ: ১৬] প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: ওহী অবতরণের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচণ্ড কষ্ট সহ্য করতেন এবং প্রায়ই তাঁর ঠোঁট দুটি নাড়াচাড়া করতেন। তখন ইবন আব্বাস বলেন: আমি তোমাদের সম্মুখে আমার ঠোঁট দুটি নাড়ছি ঠিক যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা নাড়তে দেখেছি। আর সাঈদ বলেন: আমি আমার ঠোঁট দুটি নাড়ছি ঠিক যেভাবে আমি ইবন আব্বাসকে তা নাড়তে দেখেছি—অতঃপর তিনি তাঁর ঠোঁট দুটি নাড়লেন। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {তাড়াহুড়ো করে মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা এর সাথে নাড়াচাড়া করবেন না (১৬) নিশ্চয়ই এটি সংরক্ষণ করা এবং তিলাওয়াত করানো আমাদেরই দায়িত্ব} [কিয়ামাহ: ১৬, ১৭]। ইবন আব্বাস বলেন: অর্থাৎ তা আপনার বক্ষদেশে জমা করে দেওয়া এবং আপনার তা পাঠ করা (আমাদের দায়িত্ব)। {অতঃপর যখন আমরা তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন।} তিনি বলেন: অর্থাৎ মনোযোগ দিয়ে তা শ্রবণ করুন এবং চুপ থাকুন। {অতঃপর তা বর্ণনা করার দায়িত্ব আমাদেরই।} অর্থাৎ অতঃপর তা আপনার পাঠ করা নিশ্চিত করা আমাদেরই দায়িত্ব। এরপর থেকে যখনই জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট আসতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করতেন। আর জিবরীল (আলাইহিস সালাম) চলে গেলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি যেভাবে পাঠ করেছিলেন ঠিক সেভাবেই তা পাঠ করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
6 - باب7 - حدثنا أبو اليمان الحكم بن نافع قال أخبرنا شعيب عن الزهري قال أخبرني عبيد لله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود أن عبد الله بن عباس أخبره أن أبا سفيان بن حرب أخبره أن هرقل أرسل إليه في ركب من قريش، وكانوا تجارًا بالشام في المدة التي كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ماد فيها أبا سفيان وكفار قريش، فأتوه وهو بإيلياء، فدعاهم في مجلسه وحوله عظماء الروم، ثم دعاهم ودعا بترجمان فقال: أيكم أقرب نسبًا بهذا الرجل الذي يزعم أنه نبي؟ فقال أبو سفيان: فقلت أنا أقربهم نسبًا. فقال: أدنوه مني، وقربوه. فوالله لولا الحياء من أن يأثروا علي كذبًا لكذبت عنه. ثم كان أول ما سألني عنه أن قال: كيف نسبه فيكم؟ قلت هو فينا ذو نسب. قال فهل قال هذا القول منكم أحد قط قبله؟ قلت: لا. قال فهل كان من آبائه من ملك؟ قلت: لا. قال: فأشراف الناس يتبعونه أم ضعفاؤهم؟ فقلت: بل ضعفاؤهم .... فهل يغدر؟ قلت: لا، ونحن منه في مدة (1)
… قال: ماذا يأمركم» (2)
… وهم أتباع الرسل (3)
… عن قدمه (4)
… لقد أمر ابن أبي كبشة (5).
--------------------------------------------
৬ - অধ্যায়৭ - আবুল ইয়ামান আল-হাকাম ইবনে নাফি আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শুয়াইব আমাদের যুহরী থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু সুফিয়ান ইবনে হারব তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, হিরাক্লিয়াস কুরাইশদের এক কাফেলার মধ্যে তাকে ডেকে পাঠালেন। তারা তখন সিরিয়ায় ব্যবসায়ী হিসেবে অবস্থান করছিলেন—ঐ সময়ে যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু সুফিয়ান ও কুরাইশ কাফিরদের সাথে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে ছিলেন। তারা তার নিকট আসলেন যখন তিনি ইলিয়ায় (জেরুসালেম) অবস্থান করছিলেন। তিনি তাদের তার মজলিসে ডাকলেন এবং তার চারপাশে রোমের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি তাদের ডাকলেন এবং তার দোভাষীকেও ডাকলেন। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমাদের মধ্যে বংশীয় দিক থেকে সেই ব্যক্তির সবচেয়ে নিকটবর্তী কে, যে ব্যক্তি নিজেকে নবী বলে দাবি করে?" আবু সুফিয়ান বলেন: আমি বললাম, "আমিই বংশীয়ভাবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকটবর্তী।" তিনি বললেন: "তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো এবং তার সাথীদেরকেও কাছে বসাও।" (আবু সুফিয়ান বলেন) আল্লাহর কসম! আমার যদি এই লজ্জা না থাকত যে তারা আমার নামে মিথ্যা রটনা করবে, তবে আমি অবশ্যই তার সম্পর্কে মিথ্যা বলতাম। এরপর তিনি আমাকে তার সম্পর্কে প্রথম যা জিজ্ঞাসা করলেন তা হলো: "তোমাদের মধ্যে তার বংশমর্যাদা কেমন?" আমি বললাম, "তিনি আমাদের মধ্যে উচ্চ বংশীয়।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমাদের মধ্যে কি ইতিপূর্বে আর কেউ কখনো এই কথা বলেছে?" আমি বললাম, "না।" তিনি বললেন: "তার পিতৃপুরুষদের মধ্যে কি কেউ রাজা ছিলেন?" আমি বললাম, "না।" তিনি বললেন: "সম্ভ্রান্ত লোকেরা কি তার অনুসরণ করছে নাকি দুর্বল লোকেরা?" আমি বললাম, "বরং দুর্বল লোকেরা... সে কি কখনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে?" আমি বললাম, "না, তবে আমরা বর্তমানে তার সাথে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিতে (১)
… আছি।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তিনি তোমাদের কী নির্দেশ দেন?" (২)
… তারা তো রাসূলগণের অনুসারী (৩)
… তার পা থেকে (৪)
… আবু কাবশার ছেলের (৫) বিষয়টি তো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
كتاب الإيمان
1 - باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: «بني الإسلام على خمس»وهو قول وفعل. ويزيد (1) وينقص. قال الله تعالى: {لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ - وَزِدْنَاهُمْ هُدًى - وَيَزِيدُ اللَّهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى - وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَآتَاهُمْ تَقْوَاهُمْ - وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا}.
2 - باب دعاؤكم إيمانكم (2)
8 - عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا رسول الله، وأقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، والحج، وصوم رمضان».
3 - باب أمور الإيمانوقول الله تعالى: {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ
--------------------------------------------
ঈমান অধ্যায়১ - পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত»আর ঈমান হলো কথা ও কাজ। এটি বৃদ্ধি পায় (১) এবং হ্রাস পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যাতে তারা তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বৃদ্ধি করে নেয় - এবং আমরা তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করে দিয়েছিলাম - আর যারা সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করে দেন - আর যারা সৎপথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করে দেন এবং তাদের তাকওয়া দান করেন - এবং যাতে মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায়}।
২ - পরিচ্ছেদ: তোমাদের দুআই হলো তোমাদের ঈমান (২)
৮ - ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, হজ সম্পাদন করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা»।
৩ - পরিচ্ছেদ: ঈমানের বিষয়সমূহএবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোর মধ্যে কোনো পুণ্য নেই, বরং পুণ্যবান সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ, শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ ও নবীগণের ওপর ঈমান আনে এবং সম্পদ দান করে...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ} [البقرة: 177] (1) الآية.
قال الحافظ:
… وعن الخليل البضع السبع (2).
4 - باب المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده10 - عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «المسلم (3) من سلم المسلمون من لسانه ويده، والمهاجر من هجر ما نهى الله عنه».
8 - باب حب الرسول صلى الله عليه وسلم من الإيمان15 - عن قتادة عن أنس قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده وولده والناس أجمعين» (4).
--------------------------------------------
...তাঁর ভালোবাসায় নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী এবং দাসমুক্তির জন্য (সম্পদ দান করে), আর সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে; এবং যারা অঙ্গীকার করলে তা পূর্ণ করে এবং যারা অর্থকষ্টে, দুঃখ-কষ্টে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্যধারণ করে; এরাই সত্যবাদী এবং এরাই মুত্তাকী। [আল-বাকারা: ১৭৭] (১) আয়াত।
হাফেজ বলেন:
… এবং আল-খলিল থেকে বর্ণিত, 'বিদ'উ' হলো সাত (২)।
৪ - পরিচ্ছেদ: মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে১০ - আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মুসলিম (৩) সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে, এবং মুহাজির সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা ত্যাগ করে»।
৮ - পরিচ্ছেদ: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ভালোবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত১৫ - কাতাদাহ সূত্রে আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান এবং সমস্ত মানুষ থেকে অধিক প্রিয় হই» (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
9 - باب حلاوة الإيمان17 - عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ثلاث من كن فيه وجد حلاوة الإيمان: أن يكون الله ورسوله أحب إليه مما سواهما (1)، وأن يحب المرء لا يحبه إلا لله، وأن يكره أن يعود في الكفر كما يكره أن يقذف في النار».
10 - باب علامة الإيمان حب الأنصار17 - حدثنا أبو الوليد قال: حدثنا شعبة قال أخبرني عبد الله بن عبد الله بن جبر قال: سمعت أنسًا عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «آية (2) الإيمان حب الأنصار، وآية النفاق بغض الأنصار».
قال الحافظ: .... ووفي بالتخفيف، وفي رواية بالتشديد، وهما بمعنى (3).
12 - باب من الدين الفرار من الفتن19 - حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن عبد الرحمن بن عبد الله بن عبد الرحمن بن أبي صعصعة عن أبيه عن أبي سعيد الخدري أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يوشك أن يكون خير مال المسلم غنم يتبع بها شعف الجبال، ومواقع القطر، يفر بدينه من الفتن» (4).
--------------------------------------------
৯ - ঈমানের মিষ্টতা সংক্রান্ত অধ্যায়১৭ - আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: «তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে ঈমানের মিষ্টতা আস্বাদন করবে: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাঁর নিকট অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হওয়া (১), কোনো ব্যক্তিকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ভালোবাসা এবং কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে এমন অপছন্দ করা যেমন সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে»।
১০ - আনসারদের ভালোবাসা ঈমানের নিদর্শন সংক্রান্ত অধ্যায়১৭ - আবুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাবর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস (রা.)-কে নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: «ঈমানের নিদর্শন (২) হলো আনসারদের ভালোবাসা এবং মুনাফেকীর নিদর্শন হলো আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা»।
হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: .... শব্দটি হালকা উচ্চারণে বর্ণিত হয়েছে, আবার কোনো বর্ণনায় দ্বিত্ব উচ্চারণে এসেছে, আর উভয়টি একই অর্থবোধক (৩)।
১২ - ফিতনা থেকে পলায়ন করা দ্বীনের অংশ হওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়১৯ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা মালিক থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি সা'সাআ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «এমন সময় ঘনিয়ে আসছে যখন একজন মুসলিমের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হবে একপাল বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় এবং বৃষ্টির জায়গায় চলে যাবে; ফিতনা থেকে নিজের দ্বীন রক্ষার জন্য সে পলায়ন করবে» (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
15 - باب تفاضل أهل الإيمان في الأعمال22 - عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يدخل أهل الجنة الجنة وأهل النار النار، ثم يقول الله تعالى أخرجوا من كان في قلبه مثقال حبة من خردل من إيمان، فيخرجون منها قد اسودوا فيلقون في نهار الحيا - أو الحياة، شك مالك - فينبتون كما تنبت الحبة في جانب السيل، ألم تر أنها تخرج صفراء ملتوية»؟ (1).
قال وهيب: حدثنا عمرو «الحياة». وقال: «خردل من خير».
16 - باب الحياء من الإيمان24 - عن سالم بن عبد الله عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مر على رجل من الأنصار - وهو يعظ أخاه في الحياء - فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «دعه، فإن الحياء من الإيمان» (2).
17 - باب {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ}25 - حدثنا عبد الله بن محمد المسندي قال حدثنا أبو روح الحرمي بن عمارة قال حدثنا شعبة عن واقد بن محمد قال: سمعت أبي يحدث عن ابن عمر
--------------------------------------------
১৫ - পরিচ্ছেদ: আমলের ক্ষেত্রে ঈমানদারদের মর্যাদার তারতম্য২২ - আবু সাঈদ আল-খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «জান্নাতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামবাসীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এরপর আল্লাহ তাআলা বলবেন: যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান আছে তাকে বের করে আনো। অতঃপর তাদেরকে জাহান্নাম থেকে এমন অবস্থায় বের করা হবে যে তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। এরপর তাদেরকে হায়াত (জীবন) এর নদীতে - অথবা হায়া এর নদীতে, মালিকের সন্দেহ - নিক্ষেপ করা হবে। ফলে তারা এমনভাবে গজিয়ে উঠবে যেমন প্লাবনের স্রোতের কিনারায় শস্যদানা গজিয়ে ওঠে। তুমি কি দেখনি যে তা হলুদ বর্ণের ও বাঁকা হয়ে বের হয়?» (১)।
ওহাইব বলেন: আমর আমাদের কাছে ‘আল-হায়াত’ (জীবন) শব্দে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি বলেছেন: «সরিষার দানা পরিমাণ কল্যাণ (খায়ের)»।
১৬ - পরিচ্ছেদ: লজ্জা ঈমানের অঙ্গ২৪ - সালিম বিন আবদুল্লাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক আনসারী ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন - তিনি তখন তাঁর ভাইকে লজ্জাশীলতার বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিলেন - তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «ওকে ছেড়ে দাও, কারণ লজ্জা ঈমানের অংশ» (২)।
১৭ - পরিচ্ছেদ: {কিন্তু তারা যদি তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও}২৫ - আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুসনাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু রূহ আল-হারামী ইবনে উমারা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট শু’বা ওয়াকিদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا رسول الله، ويقيموا الصلاة، ويؤتوا الزكاة. فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحق الإسلام، وحسابهم على الله» (1).
18 - باب من قال إن الإيمان هو العمللقول الله تعالى: {وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ}.
26 - عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل: أي العمل أفضل؟ فقال: «إيمان بالله ورسوله». قيل: ثم ماذا؟ قال: «الجهاد في سبيل الله». قيل: ثم ماذا؟ قال: «حج مبرور» (2).
قال الحافظ:
… قال العلماء: اختلاف الأجوبة في ذلك باختلاف الأحوال (3)، واحتياج المخاطبين، وذكر ما يعلمه السائل والسامعون وترك ما علموه، ويمكن أن يقال: إن لفظة «من» (4) مرادة كما يقال فلان أعقل الناس ....
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। যখন তারা এটি করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, ইসলামের হক ব্যতীত; আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়» (১)।
১৮ - অনুচ্ছেদ: যারা বলেন ঈমান হলো আমলমহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর এটিই সেই জান্নাত, যার উত্তরাধিকারী তোমাদের করা হয়েছে তোমাদের আমলের বিনিময়ে}।
২৬ - আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো: কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: «আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান»। বলা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «আল্লাহর পথে জিহাদ»। বলা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «মকবুল হজ» (২)।
হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন:
… উলামাগণ বলেন: এর উত্তরসমূহের ভিন্নতা অবস্থার ভিন্নতার কারণে (৩), এবং সম্বোধিত ব্যক্তিদের প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, আর যা প্রশ্নকারী ও শ্রোতারা জানে না তা উল্লেখ করা এবং যা তারা জানে তা ছেড়ে দেওয়া। আর এটাও বলা সম্ভব যে: «মিন» (৪) শব্দটি এখানে উদ্দেশ্য, যেমন বলা হয় অমুক ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান ....
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
19 - باب إذا لم يكن الإسلام على الحقيقة، وكان على الاستسلام (1) أو الخوف
27 - عن سعد رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أعطى رهطًا - وسعد جالس - فترك رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلًا هو أعجبهم إلي. فقلت: يا رسول الله مالك عن فلان؟ فو الله إني لأراه مؤمنًا. فقال: أو مسلمًا. فسكت قليلًا. ثم غلبني ما أعلم منه فعدت لمقالتي فقلت: مالك عن فلان؟ فو الله إني لأراه مؤمنًا. فقال: أو مسلمًا. ثم غلبني ما أعلم منه فعدت لمقالتي، وعاد رسول الله صلى الله عليه وسلم. ثم قال: يا سعد، إني لأعطي الرجل وغيره أحب إلي منه، خشية أن يكبه (2) الله في النار. ورواه يونس وصالح ومعمر وابن أخي الزهري عن الزهري.
قال الحافظ:
… ومحصل ما ذكره واستدل به أن الإسلام يطلق ويراد به الحقيقة الشرعية وهو الذي يرادف الإيمان وينفع عند الله، وعليه قوله تعالى: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} وقوله تعالى: {فَمَا وَجَدْنَا فِيهَا غَيْرَ بَيْتٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ} (3).
--------------------------------------------
১৯ - পরিচ্ছেদ: যখন ইসলাম প্রকৃত না হয়ে কেবল বাহ্যিক আনুগত্য বা ভয়ের কারণে হয় (১)
২৭ - সাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদল লোককে কিছু দান করলেন—আর সাদ সেখানে বসা ছিলেন—কিন্তু আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এক ব্যক্তিকে বাদ দিলেন যিনি তাদের মধ্যে আমার কাছে সবচাইতে পছন্দনীয় ছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি অমুক ব্যক্তিকে কেন দান করলেন না? আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তাকে মুমিন (বিশ্বাসী) মনে করি। তিনি বললেন: অথবা মুসলিম? আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর তার সম্পর্কে আমি যা জানি তা আমাকে তাড়িত করল, তাই আমি পুনরায় আমার কথাটি বললাম: কেন আপনি অমুককে দান করলেন না? আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তাকে মুমিন মনে করি। তিনি বললেন: অথবা মুসলিম? এরপর পুনরায় তার সম্পর্কে আমার জানা বিষয়টি আমাকে তাড়িত করল এবং আমি আবারও আমার কথাটি বললাম, আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও একই উত্তর দিলেন। তারপর তিনি বললেন: হে সাদ, আমি কখনো কোনো ব্যক্তিকে কিছু দান করি অথচ অন্য ব্যক্তি আমার কাছে তার চেয়ে বেশি প্রিয়, এই আশঙ্কায় যে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনে উপুড় করে নিক্ষেপ করবেন (২)। আর এটি বর্ণনা করেছেন ইউনুস, সালিহ, মা'মার এবং ইবনু আখিজ জুহরি, তারা সকলেই জুহরি থেকে।
হাফিজ (ইবনু হাজার) বলেন:
… তিনি যা উল্লেখ করেছেন এবং যার দ্বারা দলিল পেশ করেছেন তার সারমর্ম হলো, ইসলাম শব্দটি ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা শরয়ী প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, যা ঈমানের সমার্থক এবং আল্লাহর কাছে ফলদায়ক। এর ওপর ভিত্তি করেই আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট মনোনীত দীন হলো ইসলাম} এবং আল্লাহর বাণী: {সেখানে আমি একটি মুসলিম ঘর ছাড়া আর কাউকে পাইনি} (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
20 - باب إفشاء السلام من الإسلام. وقال عمار. ثلاث من جمعهن فقد جمع الإيمان: الإنصاف من نفسك، وبذل السلام للعالم، والإنفاق من الإقتار (1)
28 - عن عبد الله بن عمرو أن رجلًا سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم: أي الإسلام خير؟ قال: «تطعم الطعام وتقرأ السلام على من عرفت ومن لم تعرف».
21 - باب كفران العشير، وكفر دون كفر فيهعن أبي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم - (2)
29 - حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن زيد ابن أسلم عن عطاء بن يسار عن ابن عباس قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «أريت النار، فإذا أكثر أهلها النساء يكفرن. قيل: أيكفرن بالله؟ قال: يكفرن العشير، ويكفرن الإحسان. لو أحسنت إلى إحداهن الدهر ثم رأت منك شيئًا قالت: ما رأيت منك خيرًا قط».
22 - باب المعاصي من أمر الجاهلية. ولا يكفر صاحبها بارتكابها إلا بالشرك،لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «إنك إمرؤ فيك جاهلية» وقول الله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء: 48] (3).
--------------------------------------------
২০ - অধ্যায়: সালাম প্রচার করা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত। আম্মার (রা.) বলেন: তিনটি গুণ যার মাঝে একত্রিত হবে, সে পূর্ণ ঈমান লাভ করল: নিজের পক্ষ থেকে ইনসাফ (ন্যায়বিচার) করা, জগতের সকলকে সালাম প্রদান করা এবং অভাবের সময় দান করা। (১)২৮ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: ইসলামের কোন কাজগুলো সর্বোত্তম? তিনি বললেন: «অন্যকে অন্ন দান করা এবং পরিচিত-অপরিচিত সকলকে সালাম দেওয়া।»
২১ - অধ্যায়: স্বামীর অকৃতজ্ঞতা এবং কুফর অপেক্ষা নিম্নস্তরের কুফর।আবু সাঈদ খুদরী (রা.) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত - (২)২৯ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মালেক থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমাকে জাহান্নাম দেখানো হলো, আমি দেখলাম সেখানকার অধিবাসীদের অধিকাংশই নারী; তারা কুফরি করে। জিজ্ঞাসা করা হলো: তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরি করে? তিনি বললেন: তারা স্বামীর অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং ইহসানের (উপকারের) প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়। তুমি যদি তাদের কারো প্রতি আজীবন ইহসান করো, অতঃপর সে তোমার থেকে সামান্য কিছু (ত্রুটি) দেখে, তবে সে বলবে: তোমার নিকট আমি কখনও কোনো কল্যাণ দেখিনি।»
২২ - অধ্যায়: গুনাহসমূহ জাহেলিয়াতের অন্তর্ভুক্ত। শিরক করা ব্যতীত গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি কাফের হয়ে যায় না,যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তুমি এমন ব্যক্তি যার মধ্যে জাহেলিয়াত বিদ্যমান» এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না; তবে এর নিম্নপর্যায়ের গুনাহ যার জন্য ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করেন।} [নিসা: ৪৮] (৩)।--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
30 - حدثنا سليمان بن حرب قال: حدثنا شعبة عن واصل الأحدب عن المعرور قال: لقيت أبا ذر بالربذة وعليه حلة وعلى غلامه حلة (1)، فسألته عن ذلك فقال: إني ساببت رجلًا عيرته بأمه، فقال لي النبي صلى الله عليه وسلم: «يا أبا ذر، أعيرته بأمه؟ إنك إمرؤ فيك جاهلية. إخوانكم خولكم (2). جعلهم الله تحت أيدكم. فمن كان أخوه تحت يده فليطعمه مما يأكل، وليلبسه مما يلبس، ولا تكلفوهم ما يغلبهم، فإن كلفتموهم فأعينوهم».
باب {وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا}فسماهم المؤمنين31 - حدثنا عبد الرحمن بن المبارك حدثنا حماد بن زيد حدثنا أيوب ويونس عن الحسن عن الأحنف بن قيس قال: ذهبت لأنصر هذا الرجل. فلقيني أبو بكرة (3) فقال: أين تريد؟ قلت: أنصر هذا الرجل. قال: ارجع، فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إذا التقى المسلمان بسيفيهما فالقاتل والمقتول في النار» فقلت: يا رسول الله هذا القاتل، فما بال المقتول؟ قال: «إنه كان حريصًا على قتل صاحبه».
--------------------------------------------
৩০ - সুলায়মান ইবন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুবা আমাদের নিকট ওয়াসিল আল-আহদাব থেকে, তিনি আল-মা'রুর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাবাদা নামক স্থানে আবু যারের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তখন তার পরিধানে এক জোড়া কাপড় ছিল এবং তার দাসের পরিধানেও এক জোড়া কাপড় ছিল (১)। আমি তাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আমি এক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিলাম এবং তার মাকে নিয়ে তাকে লজ্জা দিয়েছিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: «হে আবু যার, তুমি কি তাকে তার মায়ের ব্যাপারে লজ্জা দিলে? তোমার মধ্যে এখনো জাহিলিয়াত রয়ে গেছে। তোমাদের ভাইয়েরাই তোমাদের সেবক (২)। আল্লাহ তাদের তোমাদের হাতের অধীনে করে দিয়েছেন। সুতরাং যার ভাই তার অধীনে থাকে, সে যেন তাকে তাই খাওয়ায় যা সে নিজে খায় এবং তাকে তাই পরায় যা সে নিজে পরে। তোমরা তাদের সাধ্যাতীত কোনো কাজের দায়িত্ব দিও না; আর যদি এমন কোনো কাজের দায়িত্ব দাও তবে তাদের সাহায্য করো।»
অধ্যায়: {আর মুমিনদের দুই দল যদি যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও}এখানে তিনি তাদের মুমিন বলে অভিহিত করেছেন।৩১ - আবদুর রহমান ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে যায়েদ আমাদের নিকট আইয়ুব ও ইউনুস থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আহনাফ ইবনে কাইস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এই ব্যক্তিকে সাহায্য করতে যাচ্ছিলাম। তখন আবু বকরাহ (৩) এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেন: তুমি কোথায় যাচ্ছ? আমি বললাম: আমি এই ব্যক্তিকে সাহায্য করতে চাই। তিনি বললেন: ফিরে যাও, কেননা আমি আল্লাহর রাসূল সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যখন দুইজন মুসলিম তাদের তলোয়ার নিয়ে মুখোমুখি হয়, তখন হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামে যাবে।» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এটি তো হত্যাকারীর ব্যাপার, কিন্তু নিহত ব্যক্তির কী অবস্থা? তিনি বললেন: «সেও তার সঙ্গীকে হত্যা করতে উদগ্রীব ছিল।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
23 - باب ظلم دون ظلم (1)
32 - عن سليمان عن إبراهيم عن علقمة عن عبد الله قال: لما نزلت {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ} [الأنعام: 82]، قال أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم: أينا لم يظلم فأنزل الله: {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ}.
24 - باب علامة المنافق33 - حدثنا سليمان أبو الربيع قال: حدثنا إسماعيل بن جعفر قال: حدثنا نافع بن مالك بن أبي عامر أبو سهيل عن أبيه عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «آية المنافق (2) ثلاث: إذا حدث كذب، وإذا وعد أخلف، وإذا ائتمن خان».
--------------------------------------------
২৩ - অধ্যায়: এক যুলুম অপর যুলুমের চেয়ে ছোট (১)
৩২ - সুলায়মান থেকে বর্ণিত, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আলকামা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন অবতীর্ণ হলো— {যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুমের (শির্কের) সাথে মিশ্রিত করেনি} [আল-আন’আম: ৮২], তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ বললেন: আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে (নিজের নফসের ওপর) যুলুম করেনি? তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {নিশ্চয়ই শিরক হলো মহা যুলুম}।
২৪ - অধ্যায়: মুনাফিকের আলামত৩৩ - সুলায়মান আবুুর রবী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল বিন জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাফে বিন মালিক বিন আবি আমির আবু সুহাইল তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মুনাফিকের আলামত তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন খেয়ানত করে»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
34 - حدثنا قبيصة بن عقبة قال حدثنا سفيان عن الأعمش عن عبد الله بن مرة عن مسروق عن عبد الله بن عمرو أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أربع من كن فيه كان منافقًا خالصًا (1)، ومن كانت فيه خصلة منهن كانت فيه خصلة من النفاق حتى يدعها، إذا ائتمن خان، وإذا حدث كذب، وإذا عاهد غدر، وإذا خاصم فجر».
قال الحافظ: ........ وأحسن الأجوبة ما ارتضاه القرطبي (2).
26 - باب الجهاد من الإيمان36 - حدثنا حرمي بن حفص قال: حدثنا عبد الواحد قال: حدثنا عمارة قال: حدثنا أبو زرعة بن عمرو بن جرير قال: سمعت أبا هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «انتدب الله لمن خرج في سبيله- لا يخرجه إلا إيمان بي وتصديق برسلي- أن أرجعه بما نال من أجر أو غنيمة، أو أدخله الجنة. ولولا أن أشق على أمتي ما قعدت خلف سرية، ولوددت أني أقتل في سبيل الله ثم أحيا، ثم أقتل ثم أحيا، ثم أقتل» (3).
--------------------------------------------
৩৪ - আমাদের কাছে কাবিসাহ ইবনে উকবাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যার মধ্যে চারটি বৈশিষ্ট্য থাকবে সে খাঁটি মুনাফিক (১), আর যার মধ্যে এগুলোর কোনো একটি বৈশিষ্ট্য থাকবে, তার মধ্যে নিফাকের একটি বৈশিষ্ট্য থাকবে যতক্ষণ না সে তা ত্যাগ করে: যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে, যখন কথা বলে সে মিথ্যা বলে, যখন অঙ্গীকার করে সে তা ভঙ্গ করে এবং যখন বিবাদে লিপ্ত হয় সে অশ্লীল আচরণ করে (সীমা লঙ্ঘন করে)»।
আল-হাফিয বলেন: ........ আর সর্বোত্তম উত্তর হলো সেটিই যা কুরতুবী পছন্দ করেছেন (২)।
২৬ - অধ্যায়: জিহাদ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত৩৬ - আমাদের কাছে হারামী ইবনে হাফস হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবদুল ওয়াহিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে উমারাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু যুরআহ ইবনে আমর ইবনে জারীর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরাইরাহকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তির জিম্মাদারী গ্রহণ করেছেন যে তাঁর পথে বের হয়—কেবল আমার প্রতি ঈমান এবং আমার রাসূলদের প্রতি বিশ্বাসই তাকে বের করে—যে আমি তাকে সওয়াব বা গণিমতসহ ফিরিয়ে আনব যা সে লাভ করেছে, অথবা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। আর যদি আমার উম্মতের ওপর কষ্টকর হবে বলে আমি মনে না করতাম, তবে আমি কোনো যুদ্ধাভিযানকারী সেনাদলের পেছনে বসে থাকতাম না। আমার একান্ত আকাঙ্ক্ষা এই যে, আমি আল্লাহর পথে শহীদ হই, পুনরায় জীবিত হই, আবার শহীদ হই, পুনরায় জীবিত হই এবং আবারও শহীদ হই» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
29 - باب الدين يسر، وقول النبي صلى الله عليه وسلم
«أحب الدين (1) إلى الله الحنيفية السمحة» (2)
39 - عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن الدين يسر، ولن يشاد الدين أحدٌ إلا غلبه، فسددوا وقاربوا، واستعينوا بالغدوة والروحة وشيء من الدلجة».
30 - باب الصلاة من الإيمان، وقول الله تعالى {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ} يعني صلاتكم عند البيت40 - عن البراءة أن النبي صلى الله عليه وسلم كان أول ما قدم المدينة نزل على أجداده- أو قال أخواله- من الأنصار، وأنه صلى قبل بيت المقدس ستة عشر شهرًا، أو سبعة عشر شهرًا، وكان يعجبه أن تكون قبلته قبل البيت، وأنه صلى أول صلاة صلاها صلاة العصر، وصلى معه قوم، فخرج رجل ممن صلى معه فمر على أهل مسجد وهم راكعون فقال: أشهد بالله لقد صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل مكة، فداروا - كما هم- قبل البيت (3).
وكانت اليهود
--------------------------------------------
২৯ - পরিচ্ছেদ: দ্বীন সহজ, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী
«আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় দ্বীন (১) হলো সহজ ও একনিষ্ঠ আদর্শ» (২)
৩৯ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। যে কেউ দ্বীন নিয়ে কড়াকড়ি করবে, দ্বীন তার ওপর প্রবল হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা সঠিক পথে থাকো, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো, সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং সকাল, বিকাল ও রাতের শেষাংশের ইবাদতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।»
৩০ - পরিচ্ছেদ: সালাত ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, এবং মহান আল্লাহর বাণী {আর আল্লাহ এমন নন যে তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন} অর্থাৎ বায়তুল্লাহর অভিমুখে তোমাদের সালাত৪০ - বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রথম মদিনায় আসলেন, তখন তিনি তাঁর দাদা—অথবা তিনি বলেছেন মাতুলদের—নিকট আনসারদের মাঝে অবস্থান নিলেন। তিনি বায়তুল মাকদিসের দিকে ষোল মাস অথবা সতের মাস সালাত আদায় করেছিলেন। তবে তিনি পছন্দ করতেন যেন তাঁর কিবলা বায়তুল্লাহর (কাবার) দিকে হয়। তিনি প্রথম যে সালাতটি আদায় করেছিলেন তা ছিল আসরের সালাত। তাঁর সাথে একদল লোকও সালাত আদায় করেছিলেন। অতঃপর তাঁর সাথে সালাত আদায়কারী ব্যক্তিদের একজন সেখান থেকে বের হয়ে এক মসজিদের মুসল্লিদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তারা রুকু অবস্থায় ছিলেন। তখন তিনি বললেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মক্কার (কাবার) দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছি। এ কথা শুনে তারা যেভাবে ছিলেন সেভাবেই বায়তুল্লাহর দিকে ঘুরে গেলেন (৩)।
আর ইয়াহুদিরা ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
قد أعجبتهم إذ كان يصلي قبل بيت المقدس، وأهل الكتاب، فلما ولى وجهة قبل البيت أنكروا ذلك.
31 - باب حسن إسلام المرء41 - عن عطاء بن يسار أخبره أن أبا سعيد الخدري أخبره أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إذا أسلم العبد فحسن إسلامه يكفر الله عنه كل سيئة كان زلفها، وكان بعد ذلك القصاص: الحسنة بعشر أمثالها إلى سبعمائة ضعف، والسيئة بمثلها، إلا أن يتجاوز الله عنها» (1).
32 - باب أحب الدين إلى الله أدومه43 - عن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم دخل عليها وعندها امرأة. قال: «من هذه؟ » قالت: فلانة- تذكر من صلاتها (2) - قال: «مه، عليكم بما تطيقون، فوالله لا يمل الله حتى تملوا». وكان أحب الدين إليه ما دام عليه صاحبه.
33 - باب زيادة الإيمان ونقصانهوقول الله تعالى: {وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا} وقال
--------------------------------------------
তারা এতে সন্তুষ্ট ছিল যখন তিনি বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন এবং আহলে কিতাবগণও এতে সন্তুষ্ট ছিল; অতঃপর যখন তিনি (কাবা) ঘরের দিকে তাঁর মুখ ফেরালেন, তখন তারা তা অস্বীকার করল।
৩১ - অধ্যায়: ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য৪১ - আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তাঁকে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "যখন কোনো বান্দা ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার ইসলাম সুন্দর হয়, তখন আল্লাহ তার ইতিপূর্বেকার কৃত সকল পাপ ক্ষমা করে দেন। এরপর শুরু হয় যথাযথ প্রতিদান: প্রতিটি নেক আমলের বিনিময়ে দশ গুণ হতে সাতশ গুণ পর্যন্ত সওয়াব দেওয়া হয়, আর প্রতিটি মন্দ কাজের জন্য ঠিক ততটুকুই গুনাহ্ লেখা হয়, যতক্ষণ না আল্লাহ তা ক্ষমা করে দেন।" (১)।
৩২ - অধ্যায়: আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় দ্বীন সেটিই যা নিয়মিত পালন করা হয়৪৩ - আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট আসলেন, তখন তাঁর নিকট একজন মহিলা উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "ইনি কে?" তিনি বললেন: "অমুক মহিলা"—তিনি তাঁর সালাতের আধিক্যের কথা আলোচনা করছিলেন (২)—রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "থামো, তোমরা ততটুকুই আমল করো যতটুকু করার সামর্থ্য তোমাদের আছে। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ ক্লান্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা নিজেরা ক্লান্ত হয়ে পড়ো।" আর তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল ছিল সেটিই, যা পালনকারী নিয়মিত করে।
৩৩ - অধ্যায়: ঈমানের হ্রাস ও বৃদ্ধিএবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর যেন মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায়" এবং তিনি বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-হুলালুল ইবরিযিয়্যাহ মিনাত তালীকাতিল বাযিয়্যাহ আলা সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
{الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} فإذا ترك شيئًا من الكمال فهو ناقص.
44 - عن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يخرج من النار من قال لا إله إلا الله وفي قلبه وزن شعيرة من خير، ويخرج من النار من قال لا إله إلا الله وفي قلبه وزن برة من خير، ويخرج من النار من قال لا إله إلا الله وفي قلبه وزن ذرة من خير» (1).
45 - حدثنا الحسن بن الصباح سمع جعفر بن عون حدثنا أبو العميس أخبرنا قيس بن مسلم عن طارق بن شهاب عن عمر بن الخطاب أن رجلًا من اليهود قال له: يا أمير المؤمنين، آية في كتابكم تقرءونها لو علينا معشر اليهود نزلت لاتخذنا ذلك اليوم عيدًا. قال: أي آية؟ قال: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} (2) قال عمر: قد عرفنا ذلك اليوم والمكان الذي نزلت فيه على النبي صلى الله عليه وسلم وهو قائم بعرفة، يوم جمعة.
34 - باب الزكاة من الإسلام، وقوله:{وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ} (3)
--------------------------------------------
{আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম} সুতরাং যদি পূর্ণাঙ্গতার কোনো কিছু বর্জন করা হয়, তবে তা অপূর্ণাঙ্গ।
৪৪ - আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সেই ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে বের হবে যে বলেছে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' এবং যার হৃদয়ে একটি যব পরিমাণ কল্যাণ রয়েছে। আর সেই ব্যক্তিও জাহান্নাম থেকে বের হবে যে বলেছে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' এবং যার হৃদয়ে একটি গমের দানা পরিমাণ কল্যাণ রয়েছে। এবং সেই ব্যক্তিও জাহান্নাম থেকে বের হবে যে বলেছে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' এবং যার হৃদয়ে একটি অণু পরিমাণ কল্যাণ রয়েছে।" (১)।
৪৫ - হাসান ইবনুল সাব্বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি জাফর ইবনে আউন থেকে শুনেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু আল-উমাইস বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাইস ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ইহুদি ব্যক্তি তাঁকে বলল: হে আমিরুল মুমিনীন! আপনাদের কিতাবে এমন একটি আয়াত আছে যা আপনারা পাঠ করেন, সেটি যদি আমাদের ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর অবতীর্ণ হতো, তবে আমরা সেই দিনটিকে উৎসবের দিন হিসেবে গ্রহণ করতাম। তিনি বললেন: কোন আয়াত? সে বলল: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} (২)। উমর (রা.) বললেন: আমরা সেই দিন এবং সেই স্থানটি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে অবগত আছি যে অবস্থায় আয়াতটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল; তিনি তখন জুমার দিনে আরাফাতের ময়দানে দণ্ডায়মান ছিলেন।
৩৪ - অধ্যায়: জাকাত ইসলামের অন্তর্ভুক্ত, এবং আল্লাহর বাণী:{তাদেরকে এ ছাড়া আর কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে তাঁরই প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে, এবং সালাত কায়েম করবে ও জাকাত প্রদান করবে; আর এটাই হলো সঠিক দ্বীন।} (৩)
--------------------------------------------