(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: -)
من بلاغة القرآن فى التعبير بالغدو والأصال   (محمد دسوقي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: من بلاغة القرآن فى التعبير بالغدو والأصال والعشى والإبكار

المؤلف: الدكتور محمد محمد عبد العليم دسوقي

رقم الإيداع بدار الكتب: 8606/2003 م

عدد الصفحات: 141

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সকাল ও শেষ বিকাল বর্ণনায় কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র   (মোহাম্মদ দেসুকি)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি


বই: সকাল, শেষ বিকাল, সন্ধ্যা ও প্রত্যুষ বর্ণনায় কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র

লেখক: ডক্টর মোহাম্মদ মোহাম্মদ আব্দুল আলীম দেসুকি

দার আল-কুতুব-এ জমাদানের নম্বর: ৮৬০৬/২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪১

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌من بلاغة القرآن في التعبير بالغدو والآصال والعشي والإبكار

إعداد: الدكتور محمد محمد عبد العليم دسوقي

 

‌‌المقدمة

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه، وبعد:

فما من شك فى أن معرفة مواضع ودلالات الألفاظ فى سياقاتها، وبخاصة ما اشتجر القوم فيه واشتد الخلاف على دلالته.. يتوقف أولأًً على تحرير معاني تيك الألفاظ في معجمات العربية وقواميسها، كما أن تدبر مواقع لفظة ما، بغية الوقوف على دلالتها ومدى أثرها في نسق الذكر الحكيم، هو من النصيحة لكتاب الله الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه.. وتدعونا هذه التوطئة لأن أقرر أن الحديث عن سر مجيىء النظم الكريم معبَّراً فيه عن الطرف الأول للنهار بـ (الغدو) تارة، وبـ (قبل طلوع الشمس) أخرى، وبـ (الإبكار) ثالثة، وبـ (بالإشراق) رابعة، ومجيؤه معبّراً فيه عن الطرف الثاني بـ (العشي) تارة، وبـ (قبل الغروب) أخرى، وبـ (الآصال) ثالثة.. وكذا الحديث عن مقابلة (العشي) بـ (الإبكار) تارة وبـ (الغداة) أخرى وبـ (الإشراق) ثالثة، (ومقابلة (البُكرة) ببعض ما ذُكر تارة وبـ (الأصيل) أخرى.. وكذا مجيؤ تلك المفردات معرّفةً في بعض الأحيان ومنكرةً في بعضها الآخر إلى غير ذلك.. لهو مما يستدعي بل يستوجب الوقوف على أسباب هذا التنوع وعن أسرار مجيئه على الصورة التي ورد عليها، ذلك أن الألفاظ في هذا وما جاء على شاكلته "تختلف ولا تراها إلا متفقة وتفترق ولا تراها إلا مجتمعة، وتذهب في طبقات البيان وتنتقل في منازل البلاغة، وأنت لا تعرف منها إلا روحاً تداخلك بالطرب وتُشرب قلبك الروعة، وتنتزع من نفسك حس الاختلاف الذي طالما تدبرت به سائر الكلام وتصفحت به على البلغاء في ألوان خطابهم وأساليب كلامهم
কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রে (البلاغة) গুদুউ, আসাল, আশি এবং ইবকার শব্দের প্রয়োগ-বৈচিত্র্যের রহস্য

প্রস্তুতকরণে: ডক্টর মুহাম্মদ মুহাম্মদ আব্দুল আলিম দাউদ

 

মুকাদ্দিমা (المقدمة)

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেছে তাদের ওপর। অতঃপর:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, শব্দমালার অবস্থান ও প্রসঙ্গের (سياق) আলোকে তাদের অর্থের মর্মার্থ অনুধাবন করা—বিশেষ করে যে বিষয়গুলোতে আলেমদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে এবং যার অর্থের বিষয়ে বিতর্ক জোরালো হয়েছে—তা সর্বাগ্রে আরবি অভিধানসমূহ (معجمات) ও শব্দকোষগুলোতে উক্ত শব্দাবলির অর্থ বিশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল। তেমনিভাবে, কোনো শব্দের প্রয়োগস্থল নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করা—যাতে এর সঠিক অর্থ এবং মহাগ্রন্থের বিন্যাসে এর প্রভাবের স্বরূপ উদ্ঘাটন করা যায়—তা হলো আল্লাহর কিতাবের প্রতি একনিষ্ঠতা (النصيحة) প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত; যার অগ্র-পশ্চাৎ কোনো দিক থেকেই মিথ্যা বা বাতিলের প্রবেশ সম্ভব নয়। এই ভূমিকা আমাকে এ কথা বলার দিকে ধাবিত করে যে, কুরআনের শৈল্পিক গাঁথুনিতে দিনের প্রথম ভাগকে কখনো ‘গুদুউ’ (الغدو), কখনো ‘সূর্যোদয়ের পূর্বে’ (قبل طلوع الشمس), কখনো ‘ইবকার’ (الإبكار) এবং কখনো ‘ইশরাক’ (الإشراق) শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করার রহস্য নিয়ে আলোচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে দিনের শেষ ভাগকে কখনো ‘আশি’ (العشي), কখনো ‘সূর্যাস্তের পূর্বে’ (قبل الغروب) এবং কখনো ‘আসাল’ (الآصال) শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করার তাৎপর্যও প্রণিধানযোগ্য। অনুরূপভাবে ‘আশি’র বিপরীতে কখনো ‘ইবকার’, কখনো ‘গাদাত’ (الغداة) এবং কখনো ‘ইশরাক’ ব্যবহার করা, কিংবা ‘বুকরাহ’ (البكرة)-এর বিপরীতে উল্লিখিত শব্দসমূহ বা ‘আসিল’ (الأصيل) শব্দ ব্যবহার করার বিষয়টিও আলোচনার দাবি রাখে। তদ্রূপ এই শব্দগুলো কখনো নির্দিষ্ট (معرفة) অবস্থায় এবং কখনো অনির্দিষ্ট (نكرة) অবস্থায় আসা এবং এজাতীয় অন্যান্য বৈচিত্র্যের কারণ ও রহস্য উদ্ঘাটন করা অপরিহার্য। কেননা এই জাতীয় শব্দমালা আপাতদৃষ্টিতে ভিন্ন হলেও আপনি সেগুলোকে সংগতিপূর্ণ হিসেবেই দেখতে পাবেন; এগুলো পৃথক হওয়া সত্ত্বেও আপনি সেগুলোকে সুসমন্বিত রূপেই পাবেন। এগুলো অলঙ্কারশাস্ত্রের (البلاغة) বিভিন্ন স্তরে এমন এক প্রাণস্পন্দন তৈরি করে যা আপনার হৃদয়ে আনন্দের হিল্লোল এবং বিস্ময়ের আবহ সৃষ্টি করে। এটি আপনার অন্তর থেকে সেই পার্থক্যের অনুভূতিকে দূর করে দেয় যা সচরাচর আপনি অন্যান্য সাধারণ মানুষের কথা বা বাগ্মীদের বিভিন্ন প্রকারের ভাষণ ও রচনার রীতি পর্যবেক্ষণের সময় উপলব্ধি করে থাকেন।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ২)
وطبقات نظامهم مما يعلو ويسفل أو يستمر وينتقض أو يأتلف ويختلف … فأنت ما دمت في القرآن حتى تفرغ منه، لا ترى غير صورة واحدة من الكمال وإن اختلفت أجزاؤها في جهات التركيب وموضع التأليف وألوان التصوير وأغراض الكلام" (1) .

وقد كان دافعي لخوض غمار هذا البحث مع الرغبة في استجلاء أسرار التنوع فيما ذكرتُ، واستكناه الحكمة من وراء اصطفاء هذين الوقتين وانفرادهما - دون سواهما – بالذكر.. ندرة بل لا أبالغ إن قلت انعدام تخصيصه - فيما أعلم - بدراسة مستقلة تكشف عن هذا الكم غير القليل من المترادفات والمتقابلات، ومن عجيب ما لاحظت أن الدراسات التي عنيت بالبحث عن مثل هذا، وحتى التي تناول مصنفوها ما اشتبه من النظم، وأفردوا لأجله العديد من الكتب والمجلدات من نحو ما فعله الإسكافي في كتابه (درة التنزيل وغرة التأويل) ، والدامغاني في كتابه (الوجوه والنظائر) ، والغرناطي في كتابه (ملاك التأويل) ، لم تعرض هي الأخرى لشيئ من ذلك، الأمر الذى دعاني للاعتماد كلية بعد الله أولاً، على ما كتبه أهل التأويل على الرغم من تحفظي على كثير مما ذكروه في هذا الصدد.

--------------------------------------------

(1) إعجاز القرآن لمصطفى صادق الرافعي ص 188، 189.
"তাদের বিন্যাসের স্তরসমূহ কখনো উচ্চমার্গের হয় আবার কখনো নিম্নগামী হয়, কখনো নিরবচ্ছিন্ন থাকে আবার কখনো ব্যাহত হয়, কখনো সুসংগত হয় আবার কখনো বৈচিত্র্যময় হয় … সুতরাং আপনি যতক্ষণ কুরআনের সাথে থাকবেন এবং এটি পাঠ শেষ করবেন, ততক্ষণ আপনি পূর্ণতার একটি অনন্য রূপ ছাড়া অন্য কিছু দেখতে পাবেন না, যদিও এর গঠনশৈলী, রচনার বিন্যাস, চিত্রায়নের ধরণ এবং বক্তব্যের উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে এর অংশগুলোর মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।" (১) ।

আমি যা উল্লেখ করেছি তার মধ্যেকার বৈচিত্র্যের রহস্য উন্মোচন এবং এই নির্দিষ্ট সময় দুটিকে চয়ন করার ও অন্য সব বাদ দিয়ে কেবল এই দুটিকেই উল্লেখ করার অন্তর্নিহিত হিকমত বা প্রজ্ঞা অনুসন্ধানের আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি—আমার এই গবেষণার গভীরে প্রবেশের মূল প্রেরণা ছিল এ বিষয়ে কোনো স্বতন্ত্র গবেষণার দুর্লভতা, বরং আমি যদি বলি অভাব রয়েছে—তবে তা অত্যুক্তি হবে না, যা বিপুল সংখ্যক সমার্থক (مترادفات) এবং বিপরীতার্থক (متقابلات) বিষয়গুলোকে উন্মোচিত করবে। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো আমি লক্ষ্য করেছি যে, এই ধরণের অনুসন্ধান নিয়ে যারা কাজ করেছেন, এমনকি যেসব লেখক শব্দবিন্যাসের অস্পষ্টতা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এ উদ্দেশ্যে বহু গ্রন্থ ও খণ্ড রচনা করেছেন—যেমন ইসকাফি তার 'দুররাতুল তানজিল ওয়া গুররাতুল তাবিল' গ্রন্থে, দামঘানি তার 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' গ্রন্থে এবং গারনাতি তার 'মালাকুত তাবিল' গ্রন্থে করেছেন—তারাও এ বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করেননি। এই বিষয়টিই আমাকে প্রথমত আল্লাহর ওপর এবং এরপর ব্যাখ্যাকারীদের (أهل التأويل) লেখনীর ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে প্ররোচিত করেছে, যদিও এই প্রসঙ্গে তাদের উল্লেখিত অনেক বিষয়ের ওপর আমার কিছুটা আপত্তি বা সতর্কতা রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মুস্তফা সাদিক আল-রাফেয়ি রচিত ইজাযুল কুরআন, পৃষ্ঠা ১৮৮, ১৮৯।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ৩)
هذا وقد اقتضى الحديث عن طرفي النهار في النسق الكريم وعن طرائق التعبير عنهما وسر تنوعها، أن تأتي تلك الدراسة في ثلاثة مباحث تناول أولها مدلولات هذه الألفاظ وأسباب تنوعها وتخصيصها بالذكر دون سائر الأوقات الأخرى، وجاء ثانيها متحدثاً عما خُص به هذان الوقتان من أمر التسبيح وما إذا كان المعنى فيه محمولاً على ظاهره المعروف في اصطلاح التخاطب من التنزيه ومن قول (سبحان الله) أم غير ذلك من معانيه المستعمل فيها على جهة المجاز، كما تطرق المبحث الثالث للحديث عن المقامات التي ورد فيها التعبير عن طرفي النهار وكيف جاء كلٌّ منها متناغماً مع ما ناسبه من هذه المتقابلات، ومع ما تلاءم وكان منه بسبب من تعريف أو تنكير ومن تقديم أو تأخير.

والله الموفق والهادي إلى سواء السبيل.

 

المبحث الأول:

مدلولات الألفاظ الواردة في معنى طرفي النهاروسر تنوعها وتخصيصها بالذكر

 

مما تجدر الإشارة إليه أنه لا غناء عند تناول أيٍّ من الموضوعات التي تتنوع طرق الحديث عنه، من الوقوف أولاً على معاني المفردات المعبرة عنه، وبخاصة عندما يتم التقابل بين بعضها البعض، إذ بغير الوقوف على دلالة هذه المتقابلات، بل وعلى دلالة كلِّ مفردة مما احتوته واشتملت عليه لا يتسنى بحال استكناه ما بسياقاتها، ولا بحث ما بأسرار تنوعها وبلاغة مواقعها.

والحق أن المفردات التي عُبر بها عن طرفي النهار وقوبلت بأضدادها تمثل في موضوعنا هذا لآلئ متقابلة، نُثرت حباتها المتطابقة في النسق الكريم هنا وهناك، في نظام بديع هو غاية في الدقة والإحكام.

تحرير القول في معنى ما ورد في طرفي النهار:
এই পবিত্র বিন্যাসে দিনের দুই প্রান্ত এবং তাদের প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি ও তাদের বৈচিত্র্যের রহস্য সম্পর্কে আলোচনা তিনটি পরিচ্ছেদে উপস্থাপনের দাবি রাখে। এর মধ্যে প্রথমটিতে এই শব্দগুলোর অর্থ এবং তাদের বৈচিত্র্যের কারণ ও অন্যান্য সময়ের পরিবর্তে বিশেষভাবে এগুলোর উল্লেখের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এই দুই সময়ের জন্য নির্ধারিত তসবীহ সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে; অর্থাৎ এখানে অর্থ কি আভিধানিক বা পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা বা পবিত্রতা বর্ণনা করা বোঝানো হয়েছে, নাকি রূপক (مجاز) অর্থে ব্যবহৃত অন্য কোনো অর্থ উদ্দেশ্য। একইভাবে তৃতীয় পরিচ্ছেদে সেই প্রেক্ষাপটগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যেখানে দিনের দুই প্রান্তের ভাব প্রকাশ করা হয়েছে এবং কীভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে এই বৈপরিত্যমূলক বিষয়গুলো তাদের উপযোগী বিষয়গুলোর সাথে সংগতিপূর্ণ হয়েছে; সেই সাথে নির্দিষ্টকরণ (تعريف) বা অনির্দিষ্টকরণ (تنكير) এবং অগ্রবর্তন (تقديم) বা অনুবর্তন (تأخير)-এর মাধ্যমে কীভাবে যথাযথভাবে সামঞ্জস্য বিধান করা হয়েছে।

আর আল্লাহই তাওফীকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী।

 

প্রথম পরিচ্ছেদ:

দিনের দুই প্রান্তের অর্থে ব্যবহৃত শব্দাবলির তাৎপর্য, বৈচিত্র্যের রহস্য এবং বিশেষভাবে এগুলোর উল্লেখের কারণ

 

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, কোনো বিষয়ের ওপর আলোচনা করার সময় যেখানে ভাব প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, সেখানে সর্বপ্রথম শব্দগুলোর আভিধানিক অর্থ সম্পর্কে অবগত হওয়া অপরিহার্য। বিশেষ করে যখন সেগুলোর মাঝে বৈপরিত্য পরিলক্ষিত হয়। কারণ, এই বিপরীতধর্মী শব্দগুলোর অর্থ এবং প্রতিটি শব্দের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবন করা ছাড়া কোনোভাবেই প্রসঙ্গের গভীরতা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়, কিংবা তাদের বৈচিত্র্যের রহস্য এবং অলঙ্করণশৈলীর সূক্ষ্মতা নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব নয়।

সত্য কথা এই যে, দিনের দুই প্রান্তকে বোঝানোর জন্য যে শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে এবং যেগুলোর বিপরীতে বিপরীত শব্দ আনা হয়েছে, তা আমাদের এই বিষয়ের ক্ষেত্রে একে অপরের পরিপূরক মুক্তার মতো। এই পবিত্র বিন্যাসে সেই অভিন্ন মুক্তদানাগুলো এখানে-ওখানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক অপূর্ব শৃঙ্খলায়, যা অত্যন্ত নিখুঁত এবং সুসংগত।

দিনের দুই প্রান্ত সম্পর্কে বর্ণিত শব্দাবলির অর্থের বিশদ বিশ্লেষণ:
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ৪)
ولتكن البداية تتبعاً لمعاني أكثر هذه الألفاظ وروداً في النظم القرآني، وهي كلمة (العشي) .. فقد وردت هذه الكلمة المراد بها آخر النهار في مقابلة أوله تسع مرات، أربعا منها قوبلت بـ (الإبكار) وذلك في قوله سبحانه: (واذكر ربك كثيراً وسبح بالعشي والإبكار.. آل عمران/41) ، وقوله:) فأوحى إليهم أن سبحوه بكرة وعشياً.. مريم /11) ، وقوله: (لا يسمعون فيها لغواً إلا سلاماً ولهم رزقهم فيها بكرة وعشياً.. مريم /62) ، وقوله: (واستغفر لذنبك وسبح بحمد ربك بالعشي والإبكار.. غافر/55) .. وثلاثا قوبلت فيها بلفظة (الغدو) ، وهي قوله: (ولا تطرد الذين يدعون ربهم بالغداة والعشي.. الأنعام/52) ، وقوله: (واصبر نفسك مع الذين يدعون ربهم بالغداة والعشي.. الكهف/28) ، وقوله: (النار يعرضون عليها غدواً وعشياً.. غافر/46) .. كما قوبلت مرة بـ (الإشراق) ، وذلك في قوله: (إنا سخرنا الجبال معه يسبحن بالعشي والإشراق.. ص/18) وأخرى بالإظهار، وذلك في قوله: (فسبحان الله حين تمسون وحين تصبحون. وله الحمد في السموات والأرض وعشياً وحين تظهرون.. الروم/17، 18) ، وقدمت كلمة (العشيّ) في هذه المرات التسع أربع مرات، وتأخرت عن أضدادها في الخمس المتبقية.

والعشي في أصله من العشا وهو سوء البصر بالليل والنهار من غير عمى، ويكون في الناس والدواب والإبل والطير (1) يقال: (ركب فلان عُِشوة) : إذا باشر أمراً على غير بيان (2) ومن أمثالهم السائرة: (هو يخبط خبْط عشواء) ، يُضرب مثلاً للسادر الذي يركب رأسه، ولا يهتم لعاقبته، كالناقة العشواء التي لا تبصر فهي تخبط بيديها كلّ ما مرت به، وشبه زهير في قوله:

رأيت المنايا خبْط عشواء من تُصبْ تُمِتْه ومن تخطىء يُعَمِّر فيهرِم

--------------------------------------------

(1) ينظر لسان العرب 4/2959.

(2) أساس البلاغة 2/118.
শুরুটা হোক কুরআনের শব্দবিন্যাসে এই শব্দগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহৃত শব্দটির অর্থ অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে, আর তা হলো ‘আল-আশি’ শব্দটি। কুরআনে এই শব্দটি দিনের শেষ ভাগ বোঝাতে তার শুরুর ভাগের বিপরীতে নয়বার এসেছে। এর মধ্যে চারবার শব্দটি ‘আল-ইবকার’ শব্দের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়েছে; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: (আপনার পালনকর্তাকে অধিক স্মরণ করুন এবং সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন.. আলে ইমরান/৪১), এবং মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর তিনি ইশারায় তাদেরকে সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতে বললেন.. মারইয়াম/১১), এবং তাঁর বাণী: (তারা সেখানে কোনো অসার বাক্য শুনবে না, কেবল শান্তি ছাড়া; এবং সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের জন্য রিযিক থাকবে.. মারইয়াম/৬২), এবং তাঁর বাণী: (তোমার গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সকাল ও সন্ধ্যায় তোমার পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করো.. গাফির/৫৫)। তিনবার এটি ‘আল-গুদু’ শব্দের বিপরীতে এসেছে; আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: (আর যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে ডাকে, তাদের তুমি তাড়িয়ে দিও না.. আল-আন’আম/৫২), এবং তাঁর বাণী: (তুমি নিজেকে তাদের সাথে ধৈর্যশীল রাখো যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে ডাকে.. আল-কাহাফ/২৮), এবং তাঁর বাণী: (তাদেরকে সকাল ও সন্ধ্যায় আগুনের সামনে উপস্থিত করা হয়.. গাফির/৪৬)। এছাড়া একবার এটি ‘আল-ইশরাক’ শব্দের বিপরীতে এসেছে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আমি পর্বতমালাকে তার অনুগত করে দিয়েছিলাম, তারা সকাল ও সন্ধ্যায় তার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করত.. সোয়াদ/১৮)। অন্য একবার এটি ‘ইজহার’ বা দ্বিপ্রহর শব্দের বিপরীতে এসেছে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (অতএব তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করো যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং যখন তোমরা সকালে উপনীত হও। আর আসমান ও জমিনে এবং সন্ধ্যায় ও দ্বিপ্রহরে তাঁরই প্রশংসা.. আর-রুম/১৭, ১৮)। এই নয় বারের মধ্যে ‘আল-আশি’ শব্দটি চারবার আগে এসেছে এবং বাকি পাঁচবার তার বিপরীতে ব্যবহৃত শব্দগুলোর পরে এসেছে।

‘আল-আশি’ শব্দটি মূলত ‘আল-আশা’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হচ্ছে সম্পূর্ণ অন্ধত্ব নয় বরং রাতে ও দিনে দৃষ্টির দুর্বলতা বা ক্ষীণদৃষ্টি। এটি মানুষ, চতুষ্পদ জন্তু, উট ও পাখির ক্ষেত্রেও দেখা যায় (১)। বলা হয়ে থাকে: (অমুক ব্যক্তি অস্পষ্ট বিষয়ে লিপ্ত হয়েছে); যখন সে কোনো কাজ স্পষ্ট ধারণা ছাড়াই শুরু করে (২)। তাদের একটি প্রচলিত প্রবাদ হলো: (সে দিশেহারা উটের মতো হাতড়াচ্ছে); এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে বলা হয় যে পরিণতির পরোয়া না করে হঠকারিতা করে; যেমন দৃষ্টিহীন উট চলার সময় সামনে যা পায় তাতেই পা দিয়ে আঘাত করে। কবি যুহাইর তাঁর কবিতায় এই উপমা দিয়ে বলেছেন:

আমি মৃত্যুকে দেখেছি এক দিশেহারা উটের মতো; যাকে সে আঘাত করে তাকে মেরেই ফেলে, আর যাকে আঘাত করে না সে দীর্ঘজীবী হয়ে বার্ধক্যে উপনীত হয়।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: লিসানুল আরব ৪/২৯৫৯।

(২) আসাসুল বালাগাহ ২/১১৮।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ৫)
شبه المنايا التي مُثّلت في صورة شاخصة للعيان وهي تطيح بكل ما اعترض طريقها فتأخذه دون ما مساءلة ودون ما استثناء، بالجمل الذي يخبط خبط عشواء.. وتتعدى تلك المفردة بنفسها فيقال: عشوته أي قصدته ليلاً، وتُعدى بـ (إلى) كما في قولهم: (عشا إلى النار وعشاها) ، إذا أتى ناراً للضيافة واستدل عليها ببصر ضعيف، و (عشا الرجل إلى أهله يعشو) ، إذا علم مكان أهله فقصد إليهم أول الليل، كما تُعدى بـ (عن) إن صدر عنه إلى غيره كما في قول الله تعالى: (ومن يعش عن ذكر الرحمن نقيض له شيطاناً فهو له قرين.. الزخرف/36) ، قال الفراء: معناه من يعرض عن ذكر الرحمن. قال: ومن قرأ (يَعْشَ عن ذكر الرحمن) فمعناه من يعمَ عنه، وقيل أي يظلم بصره (1) .

فالمادة على ما هو متضح تدور حول ضعف الرؤية وقِصر النظر في البصر أو في البصيرة، ومن ثمّ أطلقت على ما يتحقق فيه ذلك في الحال أو الزمان، فإذا زالت الشمس فتحول الظلّ شرقياً وتحولت الشمس غربية دعي ذلك الوقت (العشي) ، كذا قال أبو الهيثم فيما نقله عنه صاحب اللسان، وقال الأزهري فيما نقله عنه أيضاً: (يقع العَشِي على ما بين زوال الشمس إلى وقت غروبها، فإذا غابت فهو العِشاء) (2) .

--------------------------------------------

(1) ينظر لسان العرب 4/2960.

(2) ينظر السابق.

মৃত্যুর সেই ভয়াবহ রূপ যা চোখের সামনে মূর্ত হয়ে ওঠে এবং তার পথে আসা সবকিছুকেই কোনো জবাবদিহিতা বা ব্যতিরেক ছাড়াই নিশ্চিহ্ন করে দেয়, তাকে এমন এক উটের সাথে তুলনা করা হয়েছে যা এলোপাথাড়িভাবে আঘাত (خبط عشواء) করে। এই শব্দটির রূপান্তর ঘটে; যেমন বলা হয়: ‘আমি রাতের বেলায় তার কাছে গিয়েছি’ (عشوته)। আবার এটি ‘ইলা’ অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয়, যেমন তাদের কথা: ‘মেহমানদারির জন্য আগুনের দিকে যাওয়া’ (عشا إلى النار) এবং ‘আগুনের সংকল্প করা’ (عشاها), যখন কেউ আতিথ্য গ্রহণের জন্য আগুনের কাছে আসে এবং অত্যন্ত দুর্বল দৃষ্টি (بصر ضعيف) নিয়ে সেটির অবস্থান শনাক্ত করে। অনুরূপভাবে বলা হয়: ‘ব্যক্তি তার পরিবারের অবস্থান অবগত হয়ে রাতের প্রথম প্রহরে তাদের দিকে যাত্রা করল’ (عشا الرجل إلى أهله يعشو)। আবার যখন এটি বিমুখতা অর্থে ব্যবহৃত হয় তখন ‘আন’ অব্যয় যোগে আসে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয় (يعش), আমরা তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করি, অতঃপর সে হয় তার সহচর” (সূরা আয-যুখরুফ: ৩৬)। আল-ফাররা বলেন: এর অর্থ হলো যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়। তিনি আরও বলেন: যারা ‘ইয়াশা’ (يَعْشَ) পড়েছেন, তাদের নিকট এর অর্থ হলো যে ব্যক্তি তা থেকে অন্ধ হয়ে যায় (يعمَ); আবার বলা হয়েছে এর অর্থ হলো যার দৃষ্টি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়।

সুতরাং শব্দমূলটি থেকে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, এটি মূলত দৃষ্টির দুর্বলতা (ضعف الرؤية) এবং চাক্ষুষ দৃষ্টি বা অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) ক্ষেত্রে ক্ষীণদৃষ্টি (قصر النظر) কেন্দ্রিক অর্থ প্রদান করে। এই সূত্র ধরেই শব্দটি এমন অবস্থা বা সময়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে যেখানে এই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। যেমন, সূর্য যখন ঢলে পড়ে এবং ছায়া পূর্বমুখী হয় আর সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে যায়, তখন সেই সময়কে ‘বিকেল/সন্ধ্যা’ (العشي) বলা হয়। আবু আল-হাইসাম ‘লিসানুল আরব’ প্রণেতার সূত্রে এমনটিই বর্ণনা করেছেন। আল-আযহারিও তার সূত্রে উল্লেখ করেছেন: “সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে ‘বিকেল/সন্ধ্যা’ (العشي) বলা হয়; আর যখন সূর্য অস্ত যায় তখন তাকে ‘রাতের শুরু’ (العشاء) বলা হয়।”

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব ৪/২৯৬০ দ্রষ্টব্য।

(২) পূর্বোক্ত উৎস দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ৬)
وهذا فيما أرى أدق مما ساقه صاحب اللسان وصاحب بصائر ذوي التمييز بأسلوب التضعيف (1) ، بل وساقه الأصفهاني بدونه من أنه (من زوال الشمس إلى الصباح) (2) ، حيث أفرده الأخير بالذكر في الدلالة على هذا المعنى ولم يذكر غيره.. فإن ذلك يرد عليه ما أفاده سياق الآيات التي جاءت فيها هذه المفردة مع ما قابلها، حيث وقع التسبيح فيهما عطفاً على الذكر المطلق كما في نحو قوله تعالى: (يا أيها الذين آمنوا اذكروا الله ذكراً كثيراُ وسبحوه بكرة وأصيلاً.. الأحزاب/41، 42) والعطف - على ما هو معلوم - يقتضي المغايرة، وعليه فالمعنى- والله تعالى أعلم بمراده- اذكروا الله أيها المؤمنون في كل وقت وخصوا هذين الوقتين بما هو أدل على كمال نعمته ودلائل قدرته وعجيب صنعه بتنزيهه تعالى وتسبيحه.

--------------------------------------------

(1) السابق وينظر بصائر ذوي التمييز للفيروزابادي 4/69.

(2) المفردات في غريب القرآن للراغب الأصفهاني ص 335 وينظر التحرير والتنوير 7/247 مجلد 4.

এবং এটি আমার দৃষ্টিতে সেই বর্ণনার চেয়েও অধিক সূক্ষ্ম যা লিসানের লেখক এবং বাসাইর যাভি আত-তাময়িজের লেখক দুর্বলকরণ (تضعيف) পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন (১)। বরং ইসফাহানী এটি ছাড়াই উল্লেখ করেছেন যে, এটি হলো (সূর্য ঢলে পড়া থেকে সকাল পর্যন্ত) (২), যেখানে শেষোক্ত ব্যক্তি এই অর্থের প্রতি নির্দেশ করার ক্ষেত্রে একেই এককভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি অন্য কোনো কিছু উল্লেখ করেননি। কেননা এটি সেই আয়াতের প্রেক্ষাপট দ্বারা খণ্ডিত হয় যেখানে এই শব্দটি তার বিপরীতে থাকা শব্দের সাথে এসেছে, যেখানে উভয় ক্ষেত্রে পবিত্রতা বর্ণনাকে সাধারণ জিকিরের ওপর সংযোজন (عطف) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: (হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো এবং সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো.. আল-আহজাব/৪১, ৪২)। আর ব্যাকরণগত সংযোজন (عطف) —যেমনটি সুপরিচিত— অর্থের ভিন্নতা দাবি করে; অতএব এর অর্থ হলো—আর আল্লাহ তাআলাই তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত—হে মুমিনগণ, তোমরা সর্বদা আল্লাহর জিকির করো এবং এই বিশেষ দুই সময়কে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণার (تسبيح) মাধ্যমে এমন বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট করো যা তাঁর নিয়ামতের পূর্ণতা, কুদরতের প্রমাণাদি এবং তাঁর সৃষ্টিশৈলীর বিস্ময়কর নিদর্শনের প্রতি অধিকতর নির্দেশক।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত এবং দেখুন আল-ফিরোজাবাদী রচিত বাসাইর যাভি আত-তাময়িজ ৪/৬৯।

(২) রাঘিব আল-ইসফাহানী রচিত মুফরাদাত ফি গারিবিল কুরআন পৃ. ৩৩৫ এবং দেখুন আত-তাহরির ওয়াত-তানভির ৭/২৪৭, খণ্ড ৪।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ৭)
كما يرد عليه الآية الكريمة: (ولله يسجد من في السموات والأرض طوعاً وكرهاً وظلالهم بالغدو والآصال … الرعد/15) ، إذ وقوع الآصال الذي يفيده، في مقابلة ما يقابله غالباً وهو (الغدو) ، يشير إلى تعيين المراد من العشي، ويوجب أن يكون المراد به ما قبل غروب الشمس لان ظلال الأشياء لا تحدث - كما هو متعالم لدى الخاصة والعامة- إلا فيما بين طلوع الشمس وغروبها.. ويردعليه كذلك قوله تعالى: (وأقم الصلاة طرفي النهار وزلفاً من الليل.. هود/114) لأن "الإقامة: وهي إيقاع العمل على ما يستحقه، تقتضي أن يكون المراد بالصلاة هنا الصلاة المفروضة، فالطّرفان ظرفان لإقامة الصلاة المفروضة، فعلم أن المأمور إيقاع صلاة في أول النهار وهي الصبح، وصلاة في آخره وهي العصر، ويكون ذلك هو المراد من الغداة والعشي الذي كثر ورودهما في آي التنزيل وفي السنة المطهرة.. والزلف جمع زلفة، وهي الساعة القريبة من أختها، وهذا أيضاً يُعلم منه أن المأمور به، إيقاع الصلاة في طائفة من الليل الذي يبدأ من صلاة المغرب وهي - بالطبع- غير الصلاة التي في طرفي النهار.." (1) ، وفي بصائر ذوي التمييز: "قوله: (وأقم الصلاة طرفي النهار) أي الغداة والعشي" (2) ، وفيه: "قوله تعالى: (طرفي النهار) أي الفجر والعصر" (3) ، رُوي ذلك عن الحسن وقتادة والضحاك ونص عليه الزمخشري والبيضاوي (4) واستظهره أبو حيان بناء على أن طرف الشيئ يقتضي أن يكون من الشيئ، والتزم أن أول النهار من الفجر" (5) . وعليه فقد "وجب - على حد قول الرازي- حمل الطرف الثاني على صلاة العصر" (6) ، فيكون المراد

--------------------------------------------

(1) التحرير 12/179 من المجلد 6 بتصرف.

(2) البصائر 3/503 وينظر الكشاف 2/296.

(3) البصائر 3/503.

(4) ينظر الكشاف 4/200 وتفسير البيضاوي بحاشية الشهاب6/256والآلوسي 12/234 مجلد 7.

(5) ومن جعله من طلوع الشمس، عدّ الصبح كالمغرب طرف مجازي، وجعْله حقيقة فيهما، هو من زخرف القول لما ذكرنا من أدلة.

(6) مفاتيح الغيب 8/631.
তেমনিভাবে এর প্রেক্ষিতে এই মহান আয়াতটি পেশ করা হয়: (আর আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে তারা ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত হয় এবং তাদের ছায়াগুলোও সকাল ও সন্ধ্যায় [সিজদাবনত হয়] … আর-রা'দ/১৫)। যেহেতু এখানে 'আসাল' (সন্ধ্যা) শব্দের ব্যবহার হয়েছে যা সাধারণত তার বিপরীত শব্দ 'গুদু' (সকাল)-এর বিপরীতে আসে, যা 'আশি' (বিকাল/সন্ধ্যা) দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা নির্দিষ্ট করে দেয়। এর দ্বারা সূর্যাস্তের পূর্বের সময় উদ্দেশ্য হওয়া আবশ্যক, কারণ বস্তুর ছায়া - যা সাধারণ ও বিশিষ্ট সকলের কাছেই সুপরিচিত - কেবল সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়েই সৃষ্টি হয়। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর এই বাণীটিও এর সপক্ষে আসে: (আর দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের কিছু অংশে সালাত কায়েম করো... হুদ/১১৪)। কারণ "ইকামা: যার অর্থ হলো কোনো কাজকে তার প্রাপ্যতা অনুযায়ী সম্পাদন করা; যা দাবি করে যে এখানে সালাত বলতে ফরয সালাত উদ্দেশ্য হবে। সুতরাং (দিনের) দুই প্রান্ত হলো ফরয সালাত কায়েমের দুটি সময়। এর দ্বারা বোঝা গেল যে, আদিষ্ট বিষয়টি হলো দিনের শুরুতে একটি সালাত আদায় করা—যা সুবহে (সাদিক)—এবং দিনের শেষে একটি সালাত আদায় করা—যা আসর। আর কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহর বিভিন্ন আয়াতে 'গাদাহ' ও 'আশি' শব্দের যে অধিক ব্যবহার এসেছে, তা দ্বারা মূলত এগুলোই উদ্দেশ্য। আর 'যুলুফ' শব্দটি 'যুলফাহ'-এর বহুবচন, যার অর্থ হলো এক সময়ের নিকটবর্তী অন্য সময়। এ থেকেও জানা যায় যে, আদিষ্ট বিষয়টি হলো রাতের কিছু অংশে সালাত আদায় করা যা মাগরিবের সালাত থেকে শুরু হয় এবং এটি স্বাভাবিকভাবেই দিনের দুই প্রান্তের সালাত থেকে ভিন্ন।" (১), আর 'বাসাইরু যাউয়িত তামীয' গ্রন্থে রয়েছে: "তাঁর বাণী: (আর দিনের দুই প্রান্তে সালাত কায়েম করো) অর্থাৎ সকালে ও সন্ধ্যায়" (২)। এতে আরও রয়েছে: "মহান আল্লাহর বাণী: (দিনের দুই প্রান্তে) অর্থাৎ ফজর ও আসর" (৩)। এটি হাসান, কাতাদাহ ও দাহহাক থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে এবং যামাখশারী ও বায়যাবী (৪) এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) দিয়েছেন। আবু হাইয়ান এটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন এই যুক্তিতে যে, কোনো জিনিসের প্রান্ত বা সীমা সেই জিনিসেরই অংশ হওয়া আবশ্যক, এবং তিনি দৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন যে দিনের শুরু হয় ফজর থেকে (৫)। এর ওপর ভিত্তি করেই - ইমাম রাযীর বক্তব্য অনুযায়ী - "দ্বিতীয় প্রান্তকে আসরের সালাতের ওপর প্রয়োগ করা ওয়াজিব" (৬), সুতরাং উদ্দেশ্য হবে

--------------------------------------------

(১) আল-তাহরীর ১২/১৭৯, খণ্ড ৬ থেকে পরিমার্জিত।

(২) আল-বাসাইর ৩/৫০৩ এবং দ্রষ্টব্য আল-কাশশাফ ২/২৯৬।

(৩) আল-বাসাইর ৩/৫০৩।

(৪) দ্রষ্টব্য আল-কাশশাফ ৪/২০০ এবং শিহাবের হাশিয়াসহ তাফসীরে বায়যাবী ৬/২৫৬ এবং আল-আলুসী ১২/২৩৪, খণ্ড ৭।

(৫) যারা একে সূর্যোদয় থেকে গণ্য করেছেন, তারা সকালকে (সুবহ) মাগরিবের মতো রূপক (مجازي) প্রান্ত হিসেবে বিবেচনা করেছেন; আর একে উভয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত (حقيقة) হিসেবে গণ্য করা মূলত আমাদের বর্ণিত দলীলসমূহের কারণে অলঙ্কারপূর্ণ অসার উক্তি মাত্র।

(৬) মাফাতিহুল গাইব ৮/৬৩১।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ৮)
به العشي، إذ ليس قبل غروب الشمس سواه.

وأصرح من ذلك في دلالة (الطرف الثاني) على (العشي) المأمور فيه بالتسبيح، قوله تعالى في ذات الأمر، وفي إطلاقه على نفس الوقت، (وسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس وقبل غروبها.. طه/130) ، وقوله في سياق مماثل: (وقبل الغروب.. ق/39) إذ ليس قبل الغروب- لتأدية ما صدر الأمر به في العشي من تسبيح- خلا العصر، وعليه فإنه لا يجوز أن يكون المراد من (العشي) صلاة المغرب، على ما هو المختار لدى الطبري وغيره والمروي عن ابن عباس، لأن ما ذكروه يعكر صفوه الأدلة التي سقناها، وكونها داخلة تحت قوله تعالى: (وزلفاً من الليل) (1) اللهم إلا على سبيل الحمل على المجاز فإنه يسوغ حينذاك، "لأن ما يقرب من الشيئ يجوز أن يطلق عليه اسمه" (2) ولعل الذي حدا بمن ذهب إلى هذا لأن يقول به، ويجعله أحد قولين مشهورين في معنى التسبيح بالغدو والآصال كما سيأتي بيانه، تعذر العمل بظاهر هذه الآية لإجماع الأمة على أن إقامة الصلاة في ذلك الوقت غير مشروعة، فتعين من ثمّ تفسير الطرف الثاني بصلاة المغرب.. وجوابه أن هذا التعين محمول على المجاز، وذلك لا يمنع من أن يكون مراده على الحقيقة هو العصر، وعليه "فإن كان النهار في أول الفجر إلى غروب الشمس فالمغرب (طرف) ، مجازاً وهو حقيقةً طرفُ الليل، وإن كان من طلوع الشمس إلى غروبها فالصبح كالمغرب طرف مجازي" (3) والحقيقة فيه هو ركعتا الضحى، يعضد هذا قوله سبحانه في حق داود عليه السلام (إنا سخرنا الجبال معه يسبحن بالعشي والإشراق..ص /18) ، وكذا ما ورد من الآثار ومن أدلة السنة المطهرة مما يفيد أن الإشراق مراد به صلاة الضحى.

--------------------------------------------

(1) مفاتيح الغيب 8/631 بتصرف.

(2) السابق.

(3) الآوسي 12/234 مجلد 7وينظرالوجوه والنظائر للدامغاني 2/49.
সন্ধ্যাবেলায় (العشي), কেননা সূর্যাস্তের পূর্বে এটি ব্যতীত অন্য কোনো সময় নেই।

তসবিহ পাঠের জন্য আদিষ্ট সন্ধ্যা (العشي) নির্দেশ করার ক্ষেত্রে 'দ্বিতীয় প্রান্ত' (الطرف الثاني) শব্দটির ব্যবহারের চেয়েও অধিক স্পষ্ট হলো মহান আল্লাহর বাণী, যা একই প্রসঙ্গে এবং একই সময়ের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়েছে: (এবং তোমার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করো সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে.. ত্বহা/১৩০), এবং অনুরূপ প্রেক্ষাপটে তাঁর বাণী: (এবং সূর্যাস্তের পূর্বে.. ক্বাফ/৩৯)। কেননা সূর্যাস্তের পূর্বে—সন্ধ্যাবেলায় (العشي) তসবিহ পাঠের যে আদেশ এসেছে তা পালন করার জন্য—আসর ব্যতীত আর কোনো সময় নেই। এর ওপর ভিত্তি করে এটি বলা সমীচীন নয় যে, সন্ধ্যা (العشي) দ্বারা মাগরিবের নামাজ উদ্দেশ্য, যদিও ইমাম তাবারী ও অন্যান্যদের নিকট এটিই পছন্দনীয় (المختار) এবং ইবনে আব্বাস থেকে এটিই বর্ণিত (مروي)। কারণ তারা যা উল্লেখ করেছেন তা আমাদের উপস্থাপিত দলিলসমূহের স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং তা মহান আল্লাহর বাণী: (এবং রাতের কিছু অংশে) (১) এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরিপন্থী। তবে একে কেবল রূপক (مجاز) অর্থে গ্রহণ করা হলে তা বৈধ হতে পারে, "কেননা কোনো জিনিসের নিকটবর্তী বিষয়কে সেই জিনিসের নামে অভিহিত করা জায়েজ" (২)। সম্ভবত যারা এই মত পোষণ করেছেন তাদের এমনটি বলার কারণ—যা সামনে আলোচনা করা হবে যে এটি সকালে ও সন্ধ্যায় তসবিহ পাঠের অর্থের দুটি প্রসিদ্ধ মতের একটি—হলো এই আয়াতের বাহ্যিক (ظاهر) অর্থের ওপর আমল করা অসম্ভব হওয়া। কেননা ওই সময়ে নামাজ কায়েম করা শরীয়তসম্মত নয় বলে উম্মতের ঐক্যমত্য (إجماع) রয়েছে, ফলে 'দ্বিতীয় প্রান্ত' বলতে মাগরিবের নামাজকে ব্যাখ্যা করা অবধারিত হয়ে পড়েছে। এর উত্তর হলো, এই অবধারিত হওয়া রূপক (مجاز) অর্থের ওপর নির্ভরশীল, যা এর প্রকৃত (حقيقة) উদ্দেশ্য আসর হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। সেই অনুযায়ী, "দিন যদি ফজর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হয়, তবে মাগরিব হলো রূপক (مجاز) অর্থে দিনের প্রান্ত, আর প্রকৃতপক্ষে (حقيقة) এটি রাতের প্রান্ত। আর দিন যদি সূর্যোদয় থেকে সূر্যাস্ত পর্যন্ত হয়, তবে সকালও মাগরিবের মতো একটি রূপক (مجاز) প্রান্ত" (৩)। আর এক্ষেত্রে প্রকৃত (حقيقة) অর্থ হলো চাশতের দুই রাকাত নামাজ। দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর এই বাণী একে সমর্থন করে: (আমি পর্বতমালাকে তার অনুগত করে দিয়েছিলাম, তারা সন্ধ্যায় (العشي) ও সকালে তসবিহ পাঠ করত.. সোয়াদ/১৮)। একইভাবে বিভিন্ন বর্ণনা (آثار) ও পবিত্র সুন্নাহর দলিল থেকেও প্রমাণিত হয় যে, ইশরাক দ্বারা চাশতের নামাজই উদ্দেশ্য।

--------------------------------------------

(১) মাফাতিহুল গাইব ৮/৬৩১ (সংক্ষেপিত)।

(২) প্রাগুক্ত।

(৩) আল-আলুসি ১২/২৩৪, খণ্ড ৭; এবং দেখুন: আদ-দামাগানি রচিত আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর ২/৪৯।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ৯)
والأصيل هو في معنى ما ذكر، يقول الزمحشري: "الآصال جمع أُصُل وهي العشي" (1) ، وإن كان من فرق بينهما فيكمن في أنه يتوسع في العشي بما لا يتوسع في الأصيل، وفي اللسان: "الأصيل: العشي.. والأصيل: الوقت بعد العصر إلى المغرب" (2) والجمع أُصُلٌ وأُصلان.. قال الزجاج: آصال جمع أُصُل فهو على هذا جمع الجمع (3) ، وإنما سمي كذلك لالتصاقه واتصاله بما هو الأصل لليوم التالي وأوله.. وقالوا في تصغير الأصيل أصيلانُ وأصيلال على البدل، أبدلوا من النون لاماً، ومنه قول النابغة:

وقفتُ فيها أصيلالاً أسائلها عيَّت جواباَ وما بالربع من أحد" (4)

--------------------------------------------

(1) الكشاف 3/68.

(2) لسان العرب 1/89.

(3) وحاصل ما ذكره وغيره في (آصال) أنها جمع أُصُل، وأُصُل جمع أصيل فهي بذلك جمع الجمع، أو هي جمع أصيل كيمين وأيمان، أو هي جمع أُصُل مفرداً كعنق وأعناق وهذه تجمع أيضاً على أُصلان.

(4) لسان العرب 1/89 وينظر الكشاف 3/68ومفاتيح الغيب 11/594 ونظم الدرر3/179 والتحرير 9/242 مجلد 5 ومفردات الراغب ص19 والوابل الصيب ص192 والآلوسي 9 /224مجلد 6، 18/258 مجلد 10.
'আসীল' শব্দটি পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেই অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আল-যামাখশারী বলেন: "আসাল হলো 'উসুল'-এর বহুবচন, আর তা হলো বিকাল" (১)। যদিও এই দুইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকে, তবে তা হলো এই যে, 'আশি' শব্দটিকে যেভাবে বিস্তৃত অর্থে ব্যবহার করা হয়, 'আসীল' শব্দটিকে সেভাবে করা হয় না। লিসানুল আরব গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে: "আসীল হলো বিকাল... আর আসীল হলো আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়" (২)। এর বহুবচন হলো 'উসুল' এবং 'উসলান'। আয-যাজ্জাজ বলেন: আসাল হলো 'উসুল'-এর বহুবচন, সুতরাং এই হিসেবে এটি হলো বহুবচনের বহুবচন (৩)। এই সময়ের এমন নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি পরবর্তী দিনের মূল ও শুরুর সাথে মিলিত ও সংযুক্ত থাকে। তারা 'আসীল' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ হিসেবে 'আসীলায়ান' এবং বিকল্প হিসেবে 'নুন'-এর পরিবর্তে 'লাম' ব্যবহার করে 'আসীলাল' বলে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে নাবিগা-র উক্তি:

“আমি সেখানে পড়ন্ত বিকেলে দাঁড়িয়ে তাকে প্রশ্ন করছিলাম, সে উত্তর দিতে অক্ষম হলো; অথচ সেই বসতিতে কেউ ছিল না” (৪)

--------------------------------------------

(১) আল-কাশশাফ ৩/৬৮।

(২) লিসানুল আরব ১/৮৯।

(৩) তিনি এবং অন্যরা 'আসাল' সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তার নির্যাস হলো এটি 'উসুল'-এর বহুবচন, আর 'উসুল' হলো 'আসীল'-এর বহুবচন; ফলে এটি বহুবচনের বহুবচন। অথবা এটি 'আসীল'-এর বহুবচন যেমন 'ইয়ামিন' থেকে 'আইমান'। অথবা এটি একবচন 'উসুল'-এর বহুবচন যেমন 'উনুক' থেকে 'আ’নাক', আর এর বহুবচন 'উসলান'-ও হয়ে থাকে।

(৪) লিসানুল আরব ১/৮৯; আরও দ্রষ্টব্য: আল-কাশশাফ ৩/৬৮, মাফাতিহুল গায়েব ১১/৫৯৪, নাযমুদ দুরার ৩/১৭৯, আত-তাহরীর ৯/২৪২ (৫ম খণ্ড), মুফরাদাতুর রাগিব পৃ. ১৯, আল-ওয়াবিলুস সাইয়িব পৃ. ১৯২, আল-আলুসী ৯/২২৪ (৬ষ্ঠ খণ্ড), ১৮/২৫৮ (১০ম খণ্ড)।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ১০)
ومحصلة ما ذكر أن وقت (العشي) و (الأصيل) هو ما بعد صلاة العصر إلى ما قبيل غروب الشمس وتلك هي حقيقتهما على ما تقضي به لغة العرب وتفيده سياقات الآيات الوارد فيها ذان اللفظان.. وإذا ما أُطلقا – سيما الأخير منهما - على ما بعيد غروب الشمس وهو ما يوافق صلاة المغرب، فإنه يكون على سبيل المجاز المرسل لعلاقة المجاورة، وقد يكنى بهما عن استغراق الشطر الثاني للنهار إذا اقتضاه المقام وأومأ إليه السياق (1) .

--------------------------------------------

(1) وأغرب من قال بأن معنى (العشي) هو ما كان وقتاً لصلاة الظهر قاله مجاهد ومحمد بن كعب القرظي وابن عطية، لـ"أن في جعل الظهر من الطرف الثاني خفاء، وإنما الظهر نصف النهار، والنصف– على حد قول صاحب روح المعاني- لايسمى طرفاً إلا بمجاز بعيد [تفسير الآلوسي 12/234من المجلد 7] ، وأُضيف بأن لو كان هذا صحيحاً لما كان هناك معنى للعطف في قوله تعالى: (وله الحمد في السموات والأرض وعشياً وحين تظهرون.. الروم/18) إذ يصير من عطف الشيىء على نفسه، وهو مما لا يسوغ القول به، وأغرب منه للسبب ذاته ما ذكرناه من حده من الزوال إلى الصباح- كذا فعل الراغب في المفردات (ص 335) دون أن يذكر غيره، وابن عاشور في التحرير- 7/247من المجلد 4- الذي ناقض نفسه فذكر في قوله تعالى: (يسبحن بالعشي والإشراق) وقوله: (إذ عرض عليه بالعشي … ص/31) أنه ما بعد العصر إلى الغروب [ينظر التحرير 23/228 مجلد 11، 23/254 مجلد 11] .
উল্লিখিত আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো এই যে, ‘আশি’ (العشي) এবং ‘আসিল’ (الأصيل) এর সময় হলো আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের ঠিক পূর্ব পর্যন্ত। আরবি ভাষা এবং যে সকল আয়াতের প্রেক্ষাপটে এই শব্দ দুটি এসেছে সেগুলোর দাবি অনুযায়ী এটিই শব্দ দুটির প্রকৃত অর্থ। আর যদি এই শব্দ দুটিকে—বিশেষ করে পরবর্তীটি—সূর্যাস্তের ঠিক পরবর্তী সময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় (যা মাগরিবের নামাজের সময়ের সাথে সংগতিপূর্ণ), তবে তা নৈকট্য বা সংলগ্নতার সম্পর্কের কারণে আল-মাজাযুল মুরসাল (المجاز المرسل) হিসেবে গণ্য হবে। ক্ষেত্রবিশেষে প্রেক্ষাপটের দাবি ও প্রাসঙ্গিক আলোচনার ইঙ্গিত অনুযায়ী এই শব্দ দুটি দ্বারা দিনের দ্বিতীয় অর্ধাংশের পুরোটাকেও রূপকভাবে বোঝানো হতে পারে (১)।

--------------------------------------------

(১) যে ব্যক্তি মনে করেন ‘আশি’ (العشي) এর অর্থ হলো জোহরের নামাজের সময়, তার অভিমতটি অত্যন্ত অদ্ভুত; মুজাহিদ, মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরযি এবং ইবন আতিয়্যাহ এমনটি বলেছেন। কারণ দিনের শেষ প্রান্তের মধ্যে জোহরকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি অস্পষ্ট; জোহর হলো মূলত মধ্যাহ্ন। আর রুহুল মাআনি গ্রন্থের লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী—অত্যন্ত দূরবর্তী রূপক অর্থ ছাড়া মধ্যভাগকে প্রান্ত (طرف) বলা যায় না [তাফসিরে আলুসি ৭ম খণ্ড, ১২/২৩৪]। আমি এর সাথে আরও যোগ করতে চাই যে, যদি এই মতটি সঠিক হতো, তবে মহান আল্লাহর এই বাণীতে পুনরুল্লেখের কোনো অর্থ থাকত না: “এবং বিকেলে (عشياً) ও যখন তোমাদের জোহরের সময় হয় (حিন تظهرون)” [সুরা আর-রুম: ১৮]। কারণ তখন এটি একই বিষয়কে নিজের ওপর সংযোজন (عطف) করার নামান্তর হয়ে দাঁড়াবে, যা গ্রহণযোগ্য কোনো কথা নয়। আর একই কারণে এর চেয়েও অদ্ভুত মত হলো সেটি, যা এর সীমা সূর্য ঢলে পড়া থেকে সকাল পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে—যেমনটি রাঘিব আল-মুফরাদাত (পৃ. ৩৩৫) গ্রন্থে অন্য কোনো মত উল্লেখ না করেই করেছেন। ইবন আশুরও আত-তাহরির গ্রন্থে (৪র্থ খণ্ড, ৭/২৪৭) এমনটি করেছেন, অথচ তিনি নিজেই নিজের কথার বিরোধিতা করে মহান আল্লাহর বাণী: “যারা সন্ধ্যায় (بالعشي) ও সকালে পবিত্রতা ঘোষণা করে” এবং “যখন তার সামনে বিকেলে (بالعشي)... [সুরা সোয়াদ: ৩১]” এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, এটি আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় [দ্রষ্টব্য: আত-তাহরির ১১শ খণ্ড, ২৩/২২৮ এবং ২৩/২৫৪]।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ১১)
وابتناء على ما سبق ذكره يكون وقت الغداة والإبكار، والمراد منهما حقيقة: الطرف الأول من النهار، وهو ما يكون من النهار من أول الفجر إلى ما قبيل طلوع الشمس إذ هو المقابل للطرف الثاني منه، ويطلق على ما بعيد ذلك على سبيل المجاز لعلاقة المجاورة أيضاً، وقد يكنى بهما كذلك عن الاستغراق لجميع أجزاء الشطر الأول من النهار إذا اقتضى المقام ذلك وأملاه السياق.. يقول ابن منظور: "الغُدوة بالضم: البُكرة. وهي ما بين صلاة الغداة وطلوع الشمس.. والغداة كالغدوة وجمعها غدوات.. وقال الليث: الغُدوة جمعٌ مثل الغدوات، والغُدى جمع غُدوة.. وأنشد) بالغُدى والأصائل) وقالوا: إني لآتيه بالغدايا والعشايا، والغداة لا تجمع على الغدايا ولكنهم كسَّروه على ذلك - أي جمعوه جمع تكسير- ليطابقوا بين لفظه ولفظ العشايا، وليزاوجوا بينهما، فإذا أفردوه لم يكسِّروه.. ويستعمل مصدراً، يقال: غدا عليه غَدْوة وغُدُوّاً، واغتدى: بكَّر، والاغتداء: الغدو، وغاداه باكره وغدا عليه.. وقوله تعالى: (بالغدو والآصال) أي بالغدوات (1) ، فعبر بالفعل عن الوقت - إذ الأصل فيه: يغدون بالتسبيح أول النهار أي بعيد طلوع الفجر- كما يقال: أتيتك طلوع الشمس أي وقت طلوع الشمس، ويقال: غدا الرجل يغدو فهو غادٍ، وفي الحديث: (لغدوة أوروحة في سبيل الله..) ، والغدوة: المرة من الغُدُوِّ وهو سير أول النهار، نقيض الرواح (2) ".

--------------------------------------------

(1) وفي حال جعل (غدو) مصدراً لا جمعاً. يقدر معه مضاف مجموع أي أوقات الغدو، ليطابق قوله (الآصال) كذا في روح المعاني 9/224 مجلد 6.

(2) اللسان 6/3220، 3221 بتصرف وينظر تمييز ذوي البصائر 4/122 والرازي 7/424 والآلوسي 9/224 مجلد 6.

পূর্বে যা আলোচনা করা হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে 'গাদাহ' এবং 'ইবকার'-এর সময় নির্ধারিত হয়। এগুলোর প্রকৃত অর্থ হলো: দিনের প্রথম ভাগ। অর্থাৎ, ফজর শুরু হওয়া থেকে সূর্যোদয়ের ঠিক আগ পর্যন্ত সময়কে বোঝায়; যেহেতু এটি দিনের দ্বিতীয় ভাগের বিপরীত। এছাড়া নিকটবর্তী সম্পর্কের কারণে রূপক (مجاز) হিসেবে এর পরবর্তী সময়ের ক্ষেত্রেও এই শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়। ক্ষেত্রবিশেষে এবং প্রসঙ্গের প্রয়োজনে দিনের প্রথম অংশের পুরো সময়কে শামিল (استغراق) করার জন্য এ দুটি শব্দ দ্বারা ইঙ্গিত করা হতে পারে। ইবনে মঞ্জুর বলেন: "'গুদওয়াহ' (পেশ সহযোগে) অর্থ হলো সকালের প্রথম প্রহর। এটি হলো ফজরের নামাজ এবং সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময়। 'গাদাহ' শব্দটি 'গুদওয়াহ'-এর মতোই, যার বহুবচন হলো 'গাদাওয়াত'। লাইস বলেছেন: 'গুদওয়াহ' হলো 'গাদাওয়াত'-এর ন্যায় বহুবচন, আর 'গুদা' হলো 'গুদওয়াহ'-এর বহুবচন। তিনি কাব্য আবৃত্তি করেছেন: '(সকালে ও সন্ধ্যায়)'। তারা বলেন: 'আমি অবশ্যই তার কাছে সকালে ও সন্ধ্যায় আসি।' 'গাদাহ' শব্দের বহুবচন 'গাদায়া' হয় না, তবে তারা একে এভাবে ভেঙেছেন—অর্থাৎ একে অনিয়মিত বহুবচন (جمع تكسير) হিসেবে গঠন করেছেন—যাতে 'আশায়া' শব্দের সাথে এর মিল থাকে এবং শব্দদ্বয়ের মধ্যে ছন্দময় সামঞ্জস্য বজায় থাকে। যখন তারা একে এককভাবে ব্যবহার করেন, তখন একে এভাবে বহুবচন করেন না। এটি ক্রিয়ামূল (مصدر) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বলা হয়: 'গাদা আলাইহি গুদওয়াতান ওয়া গুদুউয়ান' (সে খুব সকালে তার কাছে গেল)। 'ইগতাদা' অর্থ ভোরে যাওয়া। 'আল-ইগতিদা' অর্থ হলো সকালবেলা যাওয়া। 'গাদাহু' অর্থ হলো খুব ভোরে তার নিকট আসা। মহান আল্লাহর বাণী: '(সকালে ও সন্ধ্যায়)' অর্থাৎ প্রভাতকালে। এখানে সময় বোঝাতে ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে—কেননা এর মূল অর্থ হলো: তারা দিনের শুরুতে তাসবিহ পাঠ করে বের হয় অর্থাৎ ফজরের ঠিক পরপরই—যেমন বলা হয়: 'আমি তোমার কাছে সূর্যোদয়ের সময় এসেছি' অর্থাৎ সূর্যোদয়ের ওয়াক্তে। বলা হয়: লোকটি সকালে বের হলো, তাই সে একজন প্রাতঃভ্রমণকারী। হাদিসে এসেছে: 'আল্লাহর পথে এক সকাল অথবা এক বিকাল অতিবাহিত করা...'। 'গুদওয়াহ' বলতে সকালবেলার একবারের যাত্রাকে বোঝায়, যা দিনের শুরুর দিকের সফর এবং এটি বিকালবেলার যাত্রার (رواح) বিপরীত।"

--------------------------------------------

(১) যদি 'গুদুউ' শব্দটিকে বহুবচন না ধরে ক্রিয়ামূল (مصدر) হিসেবে ধরা হয়, তবে এর সাথে একটি বহুবচন 'মুদাফ' বা সম্বন্ধপদ উহ্য ধরতে হবে; অর্থাৎ 'প্রাতঃভ্রমণের সময়সমূহ', যাতে তা 'আল-আসাল' (সন্ধ্যাসমূহ) শব্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। অনুরূপ বর্ণনা পাওয়া যায় রুহুল মাআনি ৯/২২৪, খণ্ড ৬-এ।

(২) আল-লিসান ৬/৩২২০, ৩২২১ পরিমার্জিত; আরও দেখুন: তাময়িজু যাবিল বাসায়ের ৪/১২২, আর-রাজি ৭/৪২৪ এবং আল-আলুসি ৯/২২৪, খণ্ড ৬।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ১২)
ويكشف رحمه الله في كتابه لسان العرب عن معنى البكرة مفصحاً عن مرادفتها لصاحبتها فيقول: إنها تعني "الغداة.. والبكور والتبكير: الخروج في ذلك الوقت، والإبكار: الدخول فيه، قال سيبويه: لا يستعمل إلا ظرفاً، والإبكار كالإصباح هذا قول أهل اللغة، وعندي - والكلام لا يزال لابن منظور- أنه مصدر أبكر، (1) وبكَرَ على الشيئ وإليه يبكر بكوراً، وبكّر تبكيراً وابتكر وأبكر وباكره: أتاه بكرة.. وكلُّ من بادر إلى شيئ فقد أبكر عليه، وبكّر أي وقت كان، يقال: بكِّروا بصلاة المغرب أي صلوها عند سقوط القرص، وقوله تعالى: (بالعشي والإبكار) جعل الإبكار وهو فعل، يدل على الوقت وهو البُكرة – يريد أنه كسابقه، الأصل فيه: يبكرون بالتسبيح أول النهار أي بُعيد طلوع الفجر- والباكور من كلّ شيئ المعجل المجيئ والإدراك وبَكْرُ كل شيئ أوله" (2) ومنه قوله تعالى: (ولقد صبّحهم بكرة عذاب مستقر … القمر /38) يعني أول النهار وباكره (3) .

فالمادة على هذا تدور حول معنى الإسراع والمبادرة والمعاجلة في أول الوقت وهي إن نُوّنت صارت ظرفاً أو مصدراً، وأريد بها وقت الغدوة، وفي معنى ذلك يقول الراغب: "أصل الكلمة هي البُكرة التي هي أول النهار فاشتق من لفظه لفظ الفعل فقيل: بَكَرَ فلان بكوراً إذا خرج بُكرة، وتُصُوِّر منها معنى التعجيل لتقدمها على سائر أوقات النهار" (4) .

--------------------------------------------

(1) وعليه فإذا قوبل بالعشي كان على تقدير: وقت الإبكار، واللفظان (بكرة وعشياً) هما على أيّ حال معربان غير منصرفين، ويطلقان ظرفاً وعلماً للجنسية على وقتيهما سواء قصد تعيينهما ليوم معين أو لم يقصد، ويجوز تنوينهما على الحالين اتفاقاً [ينظر البحر 2/ 453 ودراسات لأسلوب القرآن د/ عضيمة 9/ 727] .

(2) اللسان1/332 وينظر مفاتيح الغيب 4/205.

(3) الكشاف 4/401.

(4) المفردات ص57
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে 'বুকরাহ' শব্দের অর্থ উন্মোচন করেছেন এবং এর সমার্থক শব্দের মাধ্যমে এর উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: এর অর্থ হলো "প্রাতঃকাল... আর 'বুকুর' ও 'তাবকির' অর্থ হলো: সেই সময়ে বের হওয়া, এবং 'ইবকার' অর্থ হলো: সেই সময়ে প্রবেশ করা। সিবওয়াইহি বলেন: এটি কেবল সময়বাচক অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর লভিদদের মতে 'ইবকার' হলো 'ইসবাহ' (ভোর হওয়া)-এর মতো। ইবনে মানজুরের বক্তব্য অনুযায়ী—আমার মতে, এটি 'আবকারা' এর ক্রিয়ামূল (১)। কোনো বিষয়ের প্রতি বা কোনো বিষয়ের দিকে ভোরে যাওয়া বা জলদি যাওয়ার ক্ষেত্রে 'বাকারু' ও 'ইয়াবকুরু' শব্দ ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও 'বাক্কারা', 'তাবকির', 'ইবতাকারা', 'আবকারা' এবং 'বাকারাহু' শব্দগুলো প্রাতঃকালে আসার অর্থে ব্যবহৃত হয়। যে ব্যক্তি কোনো কাজে অগ্রণী হয়, সে মূলত সেই কাজে 'আবকারা' বা ক্ষিপ্রতা প্রদর্শন করেছে, তা যে কোনো সময়ের জন্যই হোক না কেন। যেমন বলা হয়: তোমরা মাগরিবের সালাত জলদি আদায় করো, অর্থাৎ সূর্যের চাকতি অদৃশ্য হওয়ার পরপরই তা আদায় করো। আর মহান আল্লাহর বাণী: (সন্ধ্যায় ও প্রাতঃকালে), এখানে 'ইবকার' শব্দটি একটি ক্রিয়া হওয়া সত্ত্বেও তা সময়ের ওপর নির্দেশনা প্রদান করছে, যা হলো 'বুকরাহ' (প্রাতঃকাল)। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—পূর্বের ন্যায় মূলত তারা দিনের শুরুতে অর্থাৎ ফজর উদিত হওয়ার অব্যবহিত পরেই তাসবিহ পাঠে তৎপর হতো। আর যে কোনো জিনিসের ক্ষেত্রে 'বাকূর' বলতে সেই জিনিসকে বোঝায় যা দ্রুত আগমন করে এবং অর্জিত হয়। আর কোনো জিনিসের 'বাকর' হলো তার প্রারম্ভ বা শুরু।" (২) এর সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী: (আর অবশ্যই ভোরবেলা তাদের ওপর এক স্থায়ী আজাব আপতিত হলো... ক্বামার/৩৮), এখানে 'বুকরাহ' অর্থ হলো দিনের শুরু এবং এর প্রারম্ভিক সময় (৩)।

সুতরাং, এই ধাতুগত মূলটি মূলত সময়ের শুরুতে দ্রুত করা, অগ্রণী হওয়া এবং ত্বরান্বিত করার অর্থকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এতে যখন তানউইন যুক্ত হয়, তখন এটি সময়বাচক অব্যয় বা ক্রিয়ামূলের অর্থ প্রদান করে এবং এর দ্বারা সকালের সময়কে বোঝানো হয়। এই অর্থের স্বপক্ষে ইমাম রাগিব বলেন: "শব্দটির মূল উৎস হলো 'বুকরাহ', যা দিনের শুরুকে বোঝায়। অতঃপর এর শব্দমূল থেকে ক্রিয়াবাচক শব্দ উদ্ভূত হয়েছে; ফলে বলা হয়: অমুক ব্যক্তি 'বাকুর' করেছে, যখন সে ভোরে বের হয়। দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এর অগ্রগামিতার কারণে এখান থেকে দ্রুত করার বিষয়টি কল্পনা করা হয়েছে।" (৪) ।

--------------------------------------------

(১) সে অনুযায়ী, যদি একে 'আশিয়্যি' (সন্ধ্যা) এর বিপরীতে ব্যবহার করা হয়, তবে তা 'ইবকার'-এর সময় হিসেবে গণ্য হবে। 'বুকরাহ' এবং 'আশিয়্যান' শব্দ দুটি যে কোনো অবস্থায় পরিবর্তনশীল এবং গায়রে মুনসারিফ (অর্ধ-পরিবর্তনশীল)। এই শব্দ দুটিকে সময়বাচক অব্যয় হিসেবে এবং নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্টভাবে সময়ের জাতিবাচক নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়, চাই তা কোনো নির্দিষ্ট দিন বোঝাতে হোক বা না হোক। উভয় অবস্থাতেই সর্বসম্মতিক্রমে এগুলোতে তানউইন যুক্ত করা জায়েজ। [দ্রষ্টব্য: আল-বাহর ২/৪৫৩ এবং দিরাসাত লি উসলুবিল কুরআন, ড. আদিমাহ ৯/৭২৭] ।

(২) লিসানুল আরব ১/৩৩২; আরও দেখুন: মাফাতিহুল গায়ব ৪/২০৫।

(৩) আল-কাশশাফ ৪/৪০১।

(৪) আল-মুফরাদাত, পৃষ্ঠা ৫৭।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ১৩)
وإن كان من فرق بين كلمة (بكرة) التي اتضح من خلال كلام أهل اللغة أن وقتها هو ما بين صلاة الصبح وطلوع الشمس.. وما راد فها مما وقع في مقابل العشي لكن بلفظ (الإشراق) هو أن الإشراق يكون عند من التزم جعل أول النهار من طلوع الشمس، إذ هو بهذا حقيقة فيه، ولذا قالوا في تفسير قول الله تعالى في حق داود عليه السلام: (إنا سخرنا الجبال معه يسبحن بالعشي والإشراق.. ص/18) يعنى حين تشرق الشمس أي تضيئ ويصفو شعاعها، "يقال شرقت الشمس شروقاً: طلعت، وأشرقت: أضاءت" (1) ، "وأشرق القوم: دخلوا في وقت الشروق" (2) ، "وأشرق الرجل: أي دخل في شروق الشمس، وفي التنزيل: (فأخذتهم الصيحة مشرقين.. الحجر/73) أي مصبحين، (فأتبعوهم مشرقين.. الشعراء/60) أي لحقوهم وقت دخولهم في شروق الشمس وهو طلوعها" (3) .

مدلولات الغداة والعشي وما في معناهما بين الحقيقة والمجاز:

والذي ينعم النظر في تتبع مقولات أهل التأويل من المفسرين والمشغولين بالدراسات القرآنية في معنى ما جاء في طرفي النهار، يلحظ أنهم لا يقصرون مدلولي الغداة والعشي على وقتيهما المعلومين والمخصصين لهما عند أهل اللغة على جهة الحقيقة، أعنى من الفجر إلى طلوع الشمس ومن العصر إلى انتهاء النهار.. بل إنهم يتوسعون فيهما ليمتدا لديهم وليشملا سائر ساعات الليل والنهار، وما ذلك إلا حملاًَ لمعنى الأمر بالتسبيح بالغداة والعشيّ على معنى المداومة وفقاً لمدلولات النصوص وسياقات الآيات المُومِئَة إلى ذلك.

--------------------------------------------

(1) تمييز ذوي البصائر 3/311.

(2) اللسان 4/2245.

(3) السابق.
যদি 'বাকরা' (بكرة) শব্দটির মধ্যে কোনো পার্থক্য থেকে থাকে—ভাষাবিদদের আলোচনার মাধ্যমে যা স্পষ্ট হয়েছে যে, এর সময় হলো ফজরের নামাজ ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময়—এবং 'আশিয়্যি' (العشي) এর বিপরীতে সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত 'ইশরাক' (الإشراق) শব্দের মধ্যে, তবে তা হলো: যারা দিনের শুরুকে সূর্যোদয় থেকে ধরা আবশ্যক মনে করেন, তাদের নিকট 'ইশরাক' মূলত সেই সময়টিকেই বোঝায়। এই কারণেই দাউদ (আ.)-এর ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণীর তাফসিরে তারা বলেন: "আমি পাহাড়গুলোকে তাঁর অনুগত করে দিয়েছিলাম, সেগুলো সকাল ও সন্ধ্যায় (بالعشي والإشراق) তাঁর সাথে পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা করত" (ছোয়াদ: ১৮); অর্থাৎ যখন সূর্য উদিত হয় তথা আলোকিত হয় এবং এর কিরণ স্বচ্ছ হয়। "বলা হয়, 'শারাকাতুশ শামসু শুরূকান' অর্থাৎ সূর্য উদিত হয়েছে, আর 'আশরাকাত' অর্থ আলোকিত হয়েছে" (১)। "আর 'আশরাকাল কাওমু' অর্থ তারা সূর্যোদয়ের সময়ে প্রবেশ করেছে" (২)। "আর 'আশরাকার রাজুলু' অর্থ সে সূর্যোদয়ের সময় বা রোদে প্রবেশ করেছে। পবিত্র কালামে বর্ণিত হয়েছে: 'অতঃপর সূর্যোদয়ের সময় (مشرقين) এক বিকট শব্দ তাদেরকে পাকড়াও করল' (হিজর: ৭৩) অর্থাৎ প্রভাতকালে। 'অতঃপর তারা সূর্যোদয়ের সময় (مشرقিন) তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল' (শুআরা: ৬০) অর্থাৎ তারা যখন সূর্যোদয়ের সময় তথা প্রভাতে প্রবেশ করল তখন তাদের নাগাল পেল" (৩)।

'গাদাত' (الغداة) ও 'আশিয়্যি' (العشي) এবং এই অর্থের শব্দাবলির প্রকৃত (حقيقة) ও রূপক (مجاز) ব্যবহারের তাৎপর্য:

যারা দিনের দুই প্রান্তের অর্থের ব্যাপারে মুফাসসিরগণ এবং কুরআন গবেষণায় নিয়োজিত ব্যাখ্যাকারদের বক্তব্যের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করবেন, তারা লক্ষ্য করবেন যে, তারা 'গাদাত' ও 'আশিয়্যি' শব্দদ্বয়ের অর্থকে ভাষাবিদদের নির্ধারিত ও সুপরিচিত সেই প্রকৃত (حقيقة) সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন না; অর্থাৎ ফজর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসর থেকে দিনের শেষ পর্যন্ত। বরং তারা এই শব্দ দুটির অর্থকে আরও প্রশস্ত করেন যাতে তা রাত ও দিনের অন্যান্য সময়কেও অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটি করার কারণ হলো, মূল পাঠের অর্থ (نصوص) এবং আয়াতের প্রাসঙ্গিকতা যা নির্দেশ করে, সেই অনুযায়ী সকাল-সন্ধ্যায় তসবিহ পাঠের নির্দেশকে 'অবিরাম' (المداومة) আমল করার অর্থের ওপর প্রয়োগ করা।

--------------------------------------------

(১) তাময়িযু যাউইল বাসাইর ৩/৩১১।

(২) আল-লিসান ৪/২২৪৫।

(৩) প্রাগুক্ত।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ১৪)
ولنتأمل في ذلك مثلاً ما ذكره صاحب الكشاف تفسيراً لقول الله تعالى عن أهل الجنة: (ولهم رزقهم فيها بكرة وعشياً.. مريم/62) وقد تبعه فيه غيره، يقول: - "أراد دوام الرزق ودروره كما تقول: (أنا عند فلان صباحاً ومساءً وبكرةً وعشياً) ، تريد الديمومة ولا تقصد الوقتين المعلومين" (1) ، وما ذكره الطاهر ابن عاشور في تفسيره لقول الله تعالى: (ولا تطرد الذين يدعون ربهم بالغداة والعشيّ يريدون وجهه.. الأنعام/52) حيث يقول: "الغداة: أول النهار، والعشيّ من الزوال إلى الصباح، والباء للظرفية.. والمعنى أنهم يدعون الله اليوم كله، فالغداة والعشي قصد بهما استيعاب الزمان والأيام كما يقصد بالمشرق والمغرب استيعاب الأمكنة، وكما يقال: الحمد لله بكرةً وأصيلاً" (2) ، وفي معناه يقول الآلوسي تفسيراً لنفس الآية: "والمراد بهما ها هنا الدوام كما يقال فعله مساءً وصباحاً إذا داوم عليه" (3) ، وعلى هذا دأب جلّ المفسرين وربما كان مستندهم في هذا صحة ما ورد عن العرب "إني لآتيه بالعشايا والغدايا" (4) يقصدون بذلك استدامة المجيئ.

--------------------------------------------

(1) تفسير الكشاف 2/516، 515وينظر الرازي 9/487 وحاشية الشهاب لى البيضاوي 6/292.

(2) التحرير7/247 مجلد4.

(3) الآلوسي 7/232 مجلد5.

(4) اللسان 4/2962.

উদাহরণস্বরূপ, জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: (সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তাদের জন্য রয়েছে রিযিক... মারইয়াম/৬২) এর ব্যাখ্যায় আল-কাশশাফ রচয়িতা যা উল্লেখ করেছেন এবং পরবর্তীতে অন্যরাও তাঁকে অনুসরণ করেছেন, তা আমরা বিবেচনা করতে পারি। তিনি বলেন: "এর মাধ্যমে তিনি রিযিকের স্থায়িত্ব ও প্রাচুর্য বুঝিয়েছেন, যেমনটি আপনি বলে থাকেন: (আমি অমুক ব্যক্তির নিকট সকাল ও সন্ধ্যায় এবং ভোরে ও বিকালে থাকি), এর দ্বারা আপনি সময়ের স্থায়িত্ব বুঝাতে চান, নির্দিষ্ট দুটি সময়কে উদ্দেশ্য করেন না" (১)। আর মহান আল্লাহর বাণী: (আর যারা তাদের প্রতিপালককে সকাল ও সন্ধ্যায় ডাকে এবং তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে, আপনি তাদেরকে তাড়িয়ে দেবেন না... আল-আন'আম/৫২) এর ব্যাখ্যায় আত-তাহির ইবনে আশুর যা উল্লেখ করেছেন, সেখানে তিনি বলেন: "আল-গাদাহ: দিনের শুরু, আর আল-আশি: সূর্য ঢলে পড়া থেকে সকাল পর্যন্ত, এবং 'বা' অক্ষরটি আধার বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ হলো তারা সারাদিন আল্লাহকে ডাকে। এখানে সকাল ও সন্ধ্যা দ্বারা সময়ের ব্যাপ্তি ও দিনসমূহকে পরিবেষ্টন করা উদ্দেশ্য, ঠিক যেমনটি পূর্ব ও পশ্চিম দ্বারা সকল স্থানকে পরিবেষ্টন করা বুঝানো হয় এবং যেমন বলা হয়: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য সকালে ও বিকালে" (২)। একই আয়াতের ব্যাখ্যায় আল-আলুসী অনুরূপ অর্থে বলেন: "এখানে এ দুটি শব্দ দ্বারা স্থায়িত্ব উদ্দেশ্য, যেমনটি বলা হয় যে সে কাজটি সকাল-সন্ধ্যায় করেছে যখন সে তা নিয়মিতভাবে করে" (৩)। অধিকাংশ মুফাসসির এই নীতিই অনুসরণ করেছেন এবং সম্ভবত এক্ষেত্রে তাঁদের ভিত্তি ছিল আরবদের নিকট থেকে যা সহিহ (صحيح) ভাবে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আমি তার কাছে সকাল-সন্ধ্যায় আসি" (৪), যার মাধ্যমে তাঁরা আসার নিরবচ্ছিন্নতা বুঝিয়ে থাকেন।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে কাশশাফ ২/৫১৬, ৫১৫; আরও দেখুন রাযী ৯/৪৮৭ এবং হাশিয়া আশ-শিহাব আলাল বায়যাবি ৬/২৯২।

(২) আত-তাহরির ৭/২৪৭, খণ্ড ৪।

(৩) আল-আলুসী ৭/২৩২, খণ্ড ৫।

(৪) আল-লিসান ৪/২৯৬২।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ১৫)
والحق أن الأمر في هذا لا يعدو أن يكون كناية عن المداومة في فعل المجيئ، وفي استدامة الدعاء، وفي عدم انقطاع الرزق عن أهل الجنة، ولا يعني بحال أن يخرج اللفظان عن حقيقتهما الموضوعة لهما في اصطلاح التخاطب، إذ ليس من المعقول أن يظل هؤلاء المتحدث عنهم في آية الأنعام على حال واحدة لا يحيدون عنه ولا يميدون، كما لا يعقل أن يبقى أهل الجنة الوارد ذكرهم في آية مريم يطعمون ويشربون مدة خلودهم الأبدي وبقائهم السرمدي، إذ ذلك - مما لا شك فيه- مما يبعث على الملل ومما يتنافى مع خلق التوسط والزهادة اللذين تربوا عليهما في الدنيا، كما أن فيه مشغلة كذلك عن التمتع بسائر ألوان النعيم الأخرى التي أعدها الله لعباده الصالحين من نحو التسري بالحور العين والتقابل على السرر والأرائك والورود على الحوض ومصاحبة الأخلاء من المتقين والنبيين والصديقين والشهداء والصالحين وحسن أولئك رفيقاً، بل وفوق كل ذلك وأعلاه السعي لنيل رضا الله سبحانه والتمتع بالنظر إلى وجهه الكريم كما في قوله صلى الله عليه وسلم عن رب العزة سبحانه من أنه (يقول لأهل الجنة: يا أهل الجنة، فيقولون: لبيك ربنا وسعديك والخير بين يديك، فيقول: هل رضيتم؟ فيقولون: وما لنا لا نرضى يا رب وقد أعطيتنا ما لم تعط أحداً من خلقك؟ فيقول: ألا أعطيكم أفضل من ذلك؟ فيقولون: يارب وأي شيئ أفضل من ذلك؟ فيقول: أحلّ عليكم رضواني فلا أسخط عليكم بعده أبداً) (1) ، وقوله فيما رواه مسلم: (إذا دخل أهل الجنة الجنة وأهل النار النار نادى منادياً يا أهل الجنة إن لكم عند الله موعداً يريد أن ينجزكموه فيقولون: وما هو؟ ألم يثقل موازيننا ألم يبيض وجوهنا ويدخلنا الجنة ويُجِرْنا من النار؟ قال: فيكشف لهم الحجاب فينظرون إليه فوالله ما أعطاهم شيئاً أحب إليهم من النظر إليه ولا أقر لأعينهم) .

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري ومسلم واللفظ له.

প্রকৃতপক্ষে সত্য এই যে, এই বিষয়টি কেবল যাতায়াতের ক্রিয়ায় স্থায়িত্ব, দোয়ার ধারাবাহিকতা এবং জান্নাতবাসীদের রিজিক বন্ধ না হওয়ার একটি রূপক (كناية) প্রকাশ মাত্র। এর অর্থ কোনোভাবেই এমন নয় যে, শব্দ দুটি তাদের কথোপকথনের পরিভাষা (اصطلاح) অনুযায়ী নির্ধারিত প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে। কারণ, এটি যুক্তিসঙ্গত নয় যে সূরা আল-আনআমের আয়াতে যাদের কথা বলা হয়েছে তারা কেবল একটিই অবস্থায় অতিবাহিত করবে যেখান থেকে তারা বিচ্যুত বা বিচলিত হবে না। তেমনিভাবে এটিও ভাবা যায় না যে, সূরা মারিয়ামে উল্লিখিত জান্নাতবাসীরা তাদের অনন্তকাল ও চিরস্থায়ী অবস্থানের পুরো সময়জুড়ে কেবল পানাহারেই লিপ্ত থাকবে। কারণ এটি নিঃসন্দেহে একঘেয়েমি সৃষ্টি করবে এবং মধ্যপন্থা ও দুনিয়াতে তারা যে অনাড়ম্বর (زهادة) চরিত্রে গড়ে উঠেছে তার পরিপন্থী হবে। তদুপরি, এটি আল্লাহ তাআলা তাঁর নেক বান্দাদের জন্য প্রস্তুতকৃত অন্যান্য নেয়ামত ভোগ করা থেকেও বিচ্যুত রাখবে; যেমন—হুরদের সান্নিধ্য লাভ, সুসজ্জিত আসনে মুখোমুখি বসা, হাউজে গমন এবং নবী, সত্যনিষ্ঠ, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের সাহচর্য লাভ করা, আর সঙ্গী হিসেবে তাঁরা কতই না চমৎকার! বরং এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে ও সর্বোচ্চে হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রয়াস এবং তাঁর মহান সত্তার দিদার লাভ করা। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান রব্বুল ইজ্জত সম্পর্কে বর্ণনা (رواه) করেছেন যে, তিনি জান্নাতবাসীদের বলবেন: "হে জান্নাতবাসী! তারা বলবে: লাব্বাইকা রাব্বানা ওয়া সাদাইকা, সকল কল্যাণ আপনার হাতে। তিনি বলবেন: তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছ? তারা বলবে: হে আমাদের রব! আমরা কেন সন্তুষ্ট হব না, অথচ আপনি আমাদের এমন কিছু দান করেছেন যা আপনার সৃষ্টির আর কাউকে দান করেননি। তিনি বলবেন: আমি কি তোমাদের এর চেয়েও উত্তম কিছু দেব না? তারা বলবে: হে রব! এর চেয়ে উত্তম আর কী হতে পারে? তিনি বলবেন: আমি তোমাদের ওপর আমার সন্তুষ্টি অবধারিত করলাম, এরপর আমি আর কখনো তোমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হব না।" (১) এবং ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত (رواه) একটি বর্ণনায় এসেছে: "যখন জান্নাতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামিরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: হে জান্নাতবাসী! আল্লাহর কাছে তোমাদের একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে যা তিনি তোমাদের পূর্ণ করতে চান। তারা বলবে: সেটি কী? তিনি কি আমাদের নেকির পাল্লা ভারী করে দেননি? আমাদের চেহারা উজ্জ্বল করেননি এবং আমাদের জান্নাতে দাখিল করে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি? এরপর আল্লাহ পর্দার উন্মোচন করবেন, ফলে তারা তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করবে। আল্লাহর কসম! তাঁর দিদারের চেয়ে প্রিয় এবং নয়নপ্রীতিকর আর কিছুই আল্লাহ তাদের দান করেননি।"

--------------------------------------------

(১) বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন এবং শব্দবিন্যাস মুসলিমের।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد استشعرالبيضاوي كل هذه المعاني فراح يمرض حمل المعنى على الديمومة ويتورك على القائلين به، ويقدم عليه ما يفيد الحمل على الحقيقة، يقول: قوله (ولهم رزقهم فيها بكرة وعشياً) : "على عادة المتنعمين والتوسط بين الزهادة والرغابة (1) ، وقيل المراد دوام الرزق ودروره" (2)

والعجيب أن يستنكر ابنُ منظور على من يذهب إلى إطلاق (العِشاء) على فترة ما بين زوال الشمس إلى طلوع الفجر ولا ينكر بنفس القدر على من ذهب إلى أن العشيّ: من زوال الشمس إلى الصباح، مكتفياً في ذلك بلفظ التضعيف، إذ يقول: "وقيل العشي من زوال الشمس إلى الصباح، ويقال لما بين المغرب والعتمة: عِشاء وزعم قوم أن العِشاء من زوال الشمس إلى طلوع الفجر وأنشد في ذلك:

غدونا غدوة سحراً بليلٍ عِشاءً بعد ما انتصف النهار" (3) .

على الرغم من أن قول الشاعر: (بعد ما انتصف النهار) يفيد اقتراب ما بعد منتصف النهار إلى وقت العِشاء، فيكون الحمل على المجاز لعلاقة المجاورة مستساغاً لقرب المسافة الزمنية.. وليس من هذا في شيئ القول بأن العَشيّ هو ما يمتد وقته ليتسع لما بين زوال الشمس إلى صباح اليوم التالي.. والأعجب منه أن يورد في ذلك ما أنشده ابن الأعرابي من قوله:

هيفاءُ عجزاءُ خريدٌ بالعشيّ تضحك عن ذي أشرٍ عذْبٍ نقي

--------------------------------------------

(1) وكان العرب يسمون الأكل مرة واحدة في اليوم والليلة (الوجبة) باعتبار أن أكلها يوجب زهادة، وكان إذا أصاب أحدهم الغداء والعشاء أعجبهم ذلك ويسمون ماعداهما (الرغبة) أي في كثرة الأكل، فأخبرهم سبحانه أن لهم في الجنة هذه الحالة التي تعجبهم [ينظر أضواء على متشابهات القرآن للشيخ خليل ياسين 2/10] .

(2) تفسير البيضاوي 6/292.

(3) اللسان4/2962.
আল-বায়যাভি এই সকল অর্থের গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন। তাই তিনি এর অর্থকে স্থায়িত্বের ওপর প্রয়োগ করাকে দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন (تمريض) করেছেন এবং যারা এই মত পোষণ করেন তাদের সমালোচনা করেছেন। এর পরিবর্তে তিনি সেই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যা একে প্রকৃত অর্থের ওপর প্রয়োগ করার দাবি রাখে। তিনি বলেন: তাঁর বাণী (এবং সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের জন্য থাকবে জীবনোপকরণ): "তা হলো ভোগবিলাসীদের অভ্যাস অনুযায়ী এবং স্বল্পাহার ও অতিাহারের মধ্যবর্তী অবস্থা (১), আর বলা হয়েছে (وقيل) এর উদ্দেশ্য হলো রিজিকের স্থায়িত্ব ও প্রাচুর্য" (২)।

আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, ইবনে মানযুর সেই ব্যক্তির ঘোর আপত্তি জানান যে 'ইশা' শব্দটিকে সূর্য ঢলে পড়া থেকে শুরু করে ফজর পর্যন্ত সময়ের জন্য ব্যবহার করে; কিন্তু তিনি একইভাবে সেই ব্যক্তির প্রতি আপত্তি জানান না যে 'আশিয়্যি' বলতে সূর্য ঢলে পড়া থেকে সকাল পর্যন্ত সময়কে বুঝিয়েছে। বরং তিনি এখানে কেবল দুর্বলতার প্রকাশক শব্দ (لفظ التضعيف) ব্যবহার করেই ক্ষান্ত হয়েছেন। যেমন তিনি বলেন: "এবং বলা হয়েছে (وقيل) যে, আশিয়্যি হলো সূর্য ঢলে পড়া থেকে সকাল পর্যন্ত সময়। আর মাগরিব ও আতিমাহ-এর (গভীর অন্ধকার) মধ্যবর্তী সময়কে 'ইশা' বলা হয়। একদল দাবি করেছেন যে, ইশা হলো সূর্য ঢলে পড়া থেকে ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত। এই প্রসঙ্গে কবি বলেছেন:

আমরা খুব ভোরে বের হলাম, শেষ রাতে সাহরির সময়, রাতের বেলায়, ইশার সময়, যখন দিন দ্বিপ্রহর অতিক্রান্ত হয়েছে" (৩) ।

যদিও কবির উক্তি (যখন দিন দ্বিপ্রহর অতিক্রান্ত হয়েছে) দ্বারা বুঝায় যে, দ্বিপ্রহরের পরবর্তী সময়টি ইশার সময়ের নিকটবর্তী। এমতাবস্থায় সময়ের ঘনিষ্ঠতার কারণে পার্শ্ববর্তী সম্পর্কের ভিত্তিতে একে রূপক (مجاز) হিসেবে গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত হতে পারে। তবে 'আশিয়্যি' বলতে এমন কোনো সময়কে বুঝায় না যা সূর্য ঢলে পড়া থেকে শুরু করে পরবর্তী দিনের সকাল পর্যন্ত বিস্তৃত। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, তিনি ইবনে আরাবি কর্তৃক আবৃত্ত একটি কবিতা এখানে উদ্ধৃত করেছেন:

সুন্দরী, সুগঠিত ও লাজুক কিশোরীটি সন্ধ্যায় তার শুভ্র ও উজ্জ্বল সুন্দর দাঁত দেখিয়ে হাসছে।

--------------------------------------------

(১) আরবরা দিন ও রাতের মধ্যে একবার আহার করাকে 'ওয়াজবাহ' (الوجبة) বলত, এই বিবেচনায় যে তা গ্রহণ করা স্বল্পাহার নির্দেশ করে। আর যদি কেউ দুপুরের আহার ও রাতের আহার উভয়টি গ্রহণ করত, তবে তারা তা পছন্দ করত এবং এ দুটি বাদে অন্য আহারকে 'রাগবাহ' (الرغبة) অর্থাৎ অতিাহার বলত। সুতরাং মহান আল্লাহ তাদের সংবাদ দিচ্ছেন যে, জান্নাতে তাদের জন্য এই পছন্দনীয় অবস্থা বিদ্যমান থাকবে [দেখুন: শায়খ খলীল ইয়াসীন রচিত আদওয়া আলা মুতাশাবিহাতুল কুরআন, ২/১০] ।

(২) তাফসিরে বায়যাভি ৬/২৯২।

(৩) লিসানুল আরব ৪/২৯৬২।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ১৭)
فينفي عنه وضع العشيّ موضع الليل، ويتلمس له مخرجاً ويعلق عليه بقوله: "فإن أراد (بالليل) ، فإما أن يكون سمى الليل عشياً لمكان العِشاء الذي هو الظلمة، وإما أن يكون وضع (العشيّ) موضع الليل لقربه منه من حيث كان العشي آخر النهار وآخر النهار متصل بأول الليل" (1) … يقول: "وإنما أراد الشاعر أن يبالغ بتخرُّدِها واستحيائها، لأن الليل قد يعدم فيه الرقباء والجلساء وأكثر من يُستحيا منه، فإذا كان ذلك مع عدم هؤلاء فما ظنك بتخرُّدها نهاراً إذا حضروا؟ " (2) ، وإذا ما اتفقنا على أن لفظ (الأصيل) هو في معنى العشيّ كما قرر أهل اللغة وأهل التأويل وعلى ماسبق ذكره، فإن الزوال وما يقرب منه – على ماقرروا أيضاً – لا يسمى أصيلاً، وما قيل من أنه يسمى كذلك، لو سلم فهو ارتكاب لغير المألوف من غير ضرورة تدعو إليه (3) ، وطرقاً للباب على وتيرة واحدة وقياساً على ما سبق نقول: إن إطلاق العشي كذلك ليمتد إلى صباح اليوم التالي هو أيضاً ارتكاب لغير المألوف من غير ضرورة تدعو إليه.

ونظير ما مضى - مما يعد مقبولاً- في الحمل على المجاز مع ما يفيده من الدلالة على الاستغراق والاستدامة على فعل الشيئ في الوقتين المذكورين، ما ذكره الرازي في تفسيره لقول الله تعالى: (واستغفر لذنبك وسبح بحمد ربك بالعشي والإبكار.. غافر/55) قال: "الإبكار عبارة عن أول النهار إلى النصف، والعشيّ عبارة عن النصف إلى آخر النهار، فيدخل فيه كل الأوقات" (4) ، وأحسب أن هذا هو الأليق فيما هذا شأنه وفيما يقتضي المقام حمله على معنى الاستغراق في الزمن وفاءً بحق السياق، على اعتبار أن ما يقرب من الشيئ يطلق عليه اسمه، وقد نحا كثير من المفسرين هذا المنحى مقدمين إياه على القول بمغالطة أهل اللغة والجنوح بالعشيّ وجعله من زوال الشمس إلى الصباح.

--------------------------------------------

(1) السابق.

(2) السابق بتصرف.

(3) ينظر حاشية الشهاب9/363.

(4) مفاتيح الغيب13/569.
সুতরাং তিনি রাতের স্থলে সন্ধ্যাবেলা (العشيّ) শব্দটির প্রয়োগকে অস্বীকার করেছেন এবং এর একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা খুঁজে বের করার চেষ্টা করে এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন: "যদি তিনি (রাত) উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে হতে পারে তিনি 'ইশা' (العشاء)-এর অন্ধকারের কারণে রাতকে 'আশিয়্য' নামে অভিহিত করেছেন। অথবা হতে পারে তিনি রাতের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে 'আশিয়্য' শব্দটিকে রাতের স্থলাভিষিক্ত করেছেন; যেহেতু 'আশিয়্য' হলো দিনের শেষ ভাগ এবং দিনের শেষ ভাগ রাতের শুরুর সাথে সংযুক্ত।" (১) … তিনি বলেন: "কবি এর মাধ্যমে তার লাজুকতা ও লজ্জাশীলতার অতিশয়োক্তি করতে চেয়েছেন। কারণ রাতে সাধারণত কোনো পর্যবেক্ষক বা সঙ্গীসাথী এবং যাদের সামনে অধিক লজ্জা করা হয় তাদের উপস্থিতি থাকে না। সুতরাং যদি তাদের অনুপস্থিতিতেই এই অবস্থা হয়, তবে দিনের বেলা যখন তারা উপস্থিত থাকে তখন তার লাজুকতা সম্পর্কে আপনার ধারণা কী হবে?" (২), আর যদি আমরা একমত হই যে 'আসীল' (الأصيل) শব্দটি 'আশিয়্য'-এর অর্থেই ব্যবহৃত হয়—যেমনটি ভাষাবিদ ও ব্যাখ্যাবিদগণ (أهل التأويل) স্থির করেছেন এবং পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে—তবে জাওয়াল (সূর্য ঢলে পড়া) এবং এর নিকটবর্তী সময়কে—তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীও—'আসীল' বলা যায় না। আর একে 'আসীল' বলা সংক্রান্ত যে কথাটি রয়েছে, তা যদি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও এটি কোনো অনিবার্য প্রয়োজন ছাড়াই একটি অপরিচিত রীতির অনুসরণ মাত্র (৩)। একই ধারা বজায় রেখে এবং পূর্বের আলোচনার সাথে তুলনা বা অনুমানের (قياس) ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি: 'আশিয়্য' শব্দটিকে একইভাবে পরবর্তী দিনের সকাল পর্যন্ত বিস্তৃত করাও কোনো আবশ্যকতা ছাড়া একটি অপরিচিত রীতিরই অনুসরণ।

পূর্বের আলোচনার অনুরূপ—যা গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত—কোনো বিষয়কে রূপক (مجاز) অর্থে গ্রহণ করা এবং এর মাধ্যমে উক্ত দুই সময়ে কোনো কাজের ব্যপ্তি ও স্থায়িত্ব বুঝানো সম্পর্কে ইমাম রাজি তাঁর তাফসিরে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন: (এবং আপনার গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন.. গাফির/৫৫)। তিনি বলেন: "'ইবকার' (الإبكار) বলতে দিনের শুরু থেকে মধ্যভাগ পর্যন্ত বুঝায় এবং 'আশিয়্য' (العشيّ) বলতে মধ্যভাগ থেকে দিনের শেষ পর্যন্ত বুঝায়, ফলে এতে সমস্ত সময় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।" (৪) আর আমি মনে করি, যে বিষয়ের প্রকৃতি এমন এবং যেখানে প্রাসঙ্গিকতার দাবি অনুযায়ী সময়ের ব্যপ্তি বুঝানো প্রয়োজন, সেখানে এটিই অধিকতর উপযুক্ত; এই বিবেচনায় যে, কোনো জিনিসের নিকটবর্তী সময়কে তার নামেই অভিহিত করা হয়। অনেক তাফসিরবিদ (المفسرين) এই পথই অনুসরণ করেছেন এবং তারা ভাষাবিদদের ভুল ধরার চেয়ে কিংবা 'আশিয়্য' শব্দটিকে সূর্য ঢলে পড়া থেকে সকাল পর্যন্ত টেনে নেওয়ার চেয়ে এই ব্যাখ্যাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত।

(২) সামান্য পরিমার্জনসহ প্রাগুক্ত।

(৩) দ্রষ্টব্য: হাশিয়াতুশ শিহাব, ৯/৩৬৩।

(৪) মাফাতিহুল গায়ব, ১৩/৫৬৯।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ১৮)
من هؤلاء صاحب التحرير والتنوير فقد ذهب في تفسيره لنفس الآية التي حمل الزمخشري فيها معنى العشيّ والإبكار على الاستدامة الشاملة لسائر ساعات اليوم والليلة، وهي قوله تعالى: (ولهم رزقهم فيها بكرةً وعشياً.. مريم/62) ، إلى أن المقصود من " (البكرة) : النصف الأول من النهار، و (العشيّ) النصف الأخير (1) . والجمع بينهما كناية عن استغراق الزمن (2) ، أي لهم رزقهم غير محصور ولا مقدر بل كلما شاءوا" (3) .. وإن كان يعاب عليه أنه لم يستمر على هذا المنحى وراح في مواضع أخرى يحمل معنى العشي على ما بين زوال الشمس إلى الصباح على نحو ما فعل في تفسيره لآية الأنعام.

ولا يُحتج لهذا أن المقصد من كلامه الذي أورده في تفسير آية الأنعام، وكذا كلام من حجل بقيده، التكنية عن الاستدامة، لأن الجواب عن ذلك أن الكناية لا تمنع من إرادة ظاهر اللفظ، وظاهر اللفظ يصعب حمله – على نحو ما ارتأينا- في آيتي مريم والأنعام على وجه الحقيقة.

--------------------------------------------

(1) ولعل هذا ما عناه ابن منظور بقوله: "إنما أراد لهم رزقهم في مقدار ما بين الغداة والعشي".

(2) والأليق منه حمل المعنى على الحقيقة، لإفادة التوسط بين الزهادة والرغابة لما سبق ذكره.

(3) التحرير والتنوير 16/138 مجلد8.
এদের মধ্যে রয়েছেন 'আত-তাহরির ওয়াত-তানভির'-এর রচয়িতা। তিনি সেই একই আয়াতের তাফসিরে—যেখানে আজ-জামাখশারি সায়াহ্ন ও প্রভাতকালের অর্থকে দিন ও রাতের সমস্ত সময় জুড়ে নিরবচ্ছিন্নতা হিসেবে গ্রহণ করেছেন—অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: (সেখানে তাদের জন্য সকাল-সন্ধ্যা তাদের রিযিক রয়েছে.. মারইয়াম/৬২), সেখানে তিনি এই মত পোষণ করেছেন যে, 'প্রভাতকাল' (البكرة) বলতে দিনের প্রথম অর্ধাংশ এবং 'সায়াহ্নকাল' (العشيّ) বলতে শেষ অর্ধাংশকে বোঝানো হয়েছে (১)। এই দুটির সমন্বয় হলো সময়ের ব্যপ্তিকে বোঝানোর জন্য একটি পরোক্ষ ইঙ্গিত (كناية) (২), অর্থাৎ তাদের রিযিক সীমিত বা পরিমাপকৃত নয়, বরং যখনই তারা চাইবেন তখনই তা পাবেন (৩)। যদিও তাঁর সমালোচনা করা হয় এই কারণে যে, তিনি এই ধারায় অটল থাকেননি এবং অন্যান্য স্থানে সায়াহ্নকালের অর্থকে সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে সকাল পর্যন্ত সময় হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যেমনটি তিনি সূরা আল-আনআমের আয়াতের তাফসিরে করেছেন।

সূরা আল-আনআমের আয়াতের তাফসিরে তিনি যা উল্লেখ করেছেন, এবং যারা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন তাদের বক্তব্যকেও স্থায়িত্বের পরোক্ষ ইঙ্গিত হিসেবে দলিল হিসেবে পেশ করা যাবে না। কারণ এর উত্তর হলো, পরোক্ষ ইঙ্গিত (كناية) শব্দের বাহ্যিক রূপ (ظاهر اللفظ) উদ্দেশ্য হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে না; অথচ—যেমনটি আমরা দেখেছি—মারইয়াম ও আল-আনআম উভয় আয়াতের ক্ষেত্রে শব্দের বাহ্যিক রূপকে (ظاهر اللفظ) আক্ষরিক অর্থে (حقيقة) গ্রহণ করা কঠিন।

--------------------------------------------

(১) সম্ভবত ইবনে মনজুর তাঁর এই কথার মাধ্যমে এটাই বুঝিয়েছেন: "তিনি কেবল সকাল ও সন্ধ্যার মধ্যবর্তী সময়ের পরিমাপে তাদের রিযিক বুঝিয়েছেন।"

(২) ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তার ভিত্তিতে অনাশক্তি ও আকাঙ্ক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থে এর অর্থকে আক্ষরিক অর্থে (حقيقة) গ্রহণ করাই অধিকতর সমীচীন।

(৩) আত-তাহরির ওয়াত-তানভির ১৬/১৩৮, ৮ম খণ্ড।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ১৯)
على أن هذا المنحى قد يحمد في مثل قوله سبحانه: (واذكر ربك في نفسك تضرعاً وخيفةً ودون الجهر من القول بالغدو والآصال ولا تكن من الغافلين … الأعراف/205) إذ الحمل فيه بضميمة قوله صلى الله عليه وسلم: (تنام عيني ولا ينام قلبي) ، وقوله سبحانه: (ولا تكن من الغافلين) .. على التكنية عن سائر أحواله صلى الله عليه وسلم يقظةً أومناماً سراً أو إعلاناً ليلاً أو نهاراً لمما يدل عليه السياق ويومِئ إليه، والشرط في ذلك ألا يوجد في سياق الكلام ما ينافيه أو يتماشى معه من نحو إطلاق الذكر وتقييد نوع منه بوقتي الغداة والعشيّ في نحو قوله سبحانه: (يا أيها الذين آمنوا اذكروا الله ذكراً كثيراً وسبحوه بكرةً وأصيلاً.. الأحزاب/41، 42) ، وكذا ما تعيّن الحمل فيه على الوقتين لكون الموقوت بزمنيهما مختص بهما لا يتعداهما، كما في قوله سبحانه: (ولله يسجد من في السموات والأرض طوعاً وكرهاً وظلالهم بالغدو والآصال.. الرعد/15) إذ من المعلوم بداهة أن الفيئ لا يظهر بصورة كاملة تشعر بما يمليه النظم الكريم إلا في الوقتين بمعناهما اللغوي، ونظير ذلك ما كان منصوصاً على وقتيه ببعض دلائله التي لا ينصرف بها المعنى إلا إليه، كما في الآية الكريمة الواردة في حق داود عليه السلام: (إنا سخرنا الجبال معه بالعشي والإشراق.. ص/18) ذلك أن "وقت الإشراق محدود بوقت ارتفاعهما عن الأفق الشرقي وهو ما يسمى بالضحوة الصغرى" (1) وذلك لا يتأتى إلا وقت بدء طلوعها ولا يكون دون ذلك أو سواه بحال.

من أسرار تقديم بعض مسميات طرفي النهار على بعض ووجه تنوعها:

--------------------------------------------

(1) روح المعاني 23/356 من المجلد 13 بتصرف.
তবে এই দৃষ্টিভঙ্গিটি মহান আল্লাহর বাণীর ন্যায় ক্ষেত্রে প্রশংসিত হতে পারে: (এবং তুমি তোমার পালনকর্তাকে মনে মনে বিনয় ও ভীতি সহকারে এবং অনুচ্চস্বরে সকালে ও সন্ধ্যায় স্মরণ করো এবং উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না … আল-আরাফ/২০৫)। কেননা এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (আমার চক্ষুদ্বয় নিদ্রা যায় কিন্তু আমার অন্তর নিদ্রা যায় না) এবং মহান আল্লাহর বাণী: (এবং উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না)-এর সমন্বয়ে অর্থ গ্রহণ করার বিষয়টি হলো—জাগ্রত বা নিদ্রিত, গোপনে বা প্রকাশ্যে, রাতে বা দিনে তাঁর সকল অবস্থাকে রূপকভাবে প্রকাশ করা, যা প্রসঙ্গের দাবি এবং এর প্রতিই ইঙ্গিত করে। আর এক্ষেত্রে শর্ত হলো কথার প্রাসঙ্গে এমন কিছু না থাকা যা এর পরিপন্থী হয় কিংবা জিকিরের ব্যাপকতা এবং সকাল ও সন্ধ্যার সময়ের সাথে এর কোনো বিশেষ প্রকারের সীমাবদ্ধতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: (হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো এবং সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো... আল-আহজাব/৪১, ৪২)। একইভাবে যেখানে অর্থকে সুনির্দিষ্টভাবে দুটি সময়ের ওপর প্রয়োগ করা নির্ধারিত হয়েছে, কারণ সেই সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি কেবল ওই দুই সময়ের জন্যই নির্দিষ্ট এবং তা সে সময় অতিক্রম করে না; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: (আর আল্লাহর প্রতিই সিজদাহ করে যারা আসমান ও জমিনে আছে ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় এবং তাদের ছায়াগুলোও সকাল ও সন্ধ্যায়... আর-রাদ/১৫)। কেননা এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, প্রতিচ্ছায়া পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় না যা এই পবিত্র বিন্যাসের দাবি পূরণ করে—কেবল আভিধানিক অর্থে ওই দুই সময়েই তা সম্ভব। এর সদৃশ হলো যা কিছু তার সময় সংক্রান্ত নিদর্শনের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, যার অর্থ অন্য কোনো দিকে ধাবিত হয় না; যেমন দাউদ আলাইহিস সালামের ব্যাপারে অবতীর্ণ পবিত্র আয়াতে এসেছে: (আমি পাহাড়গুলোকে তাঁর অনুগত করে দিয়েছিলাম, যারা তাঁর সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করত সন্ধ্যায় ও সূর্যোদয়ের সময়... সোয়াদ/১৮)। এটি এ কারণে যে, "ইশরাকের সময়টি পূর্ব দিগন্ত থেকে সূর্য উদিত হওয়ার সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ, যাকে দোহওয়াতুস সুগরা বলা হয়" (১), আর এটি কেবল সূর্যোদয়ের শুরুতেই সম্ভব এবং এর আগে বা অন্য কোনো সময়ে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

দিনের দুই প্রান্তের কিছু নামকে অন্যগুলোর আগে উল্লেখ করার রহস্য এবং সেগুলোর বৈচিত্র্যের কারণসমূহ:

--------------------------------------------

(১) রুহুল মাআনী, ১৩তম খণ্ড, ২৩/৩৫৬, পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ২০)
وإذا ما رُمنا الإبحار في الكتاب العزيز بغية الوقوف على سر التنوع في التعبير عن الوقتين المنوط بهما هذا البحث، وأردنا الكشف عن علائق التراكيب التي قُدم فيها بعض مسميات هذين الوقتين على البعض الآخر، وابتغينا الغوص للتعرف على وجوه اختلاف سياقاتها وتناغيها وتواصلها.. فإنه لا بد لنا أولاً أن نستجلي الملابسات التي ورد فيها ذكر هذين الوقتين.

والمتأمل للسياقات التي قُدم فيها لفظ (العشيّ) على الإبكار كما في حق زكريا عليه السلام: (واذكر ربك كثيراً وسبح بالعشيّ والإبكار.. آل عمران/41) ، وقوله في مخاطبة نبيه محمد صلى الله عليه وسلم -قبل هجرته إلى مكة: (واستغفر لذنبك وسبح بحمد ربك بالعشيّ والإبكار.. غافر/55) ، يبصر بضميمة ما جاء في قوله سبحانه في حق داود عليه السلام: (إنا سخرنا الجبال معه يسبحن بالعشيّ والإشراق.. ص/18) ، أن الإبكار يدقُّ جعله وصفاً لأول النهار من بعد طلوع الشمس لا الفجر (1) ، كما يرمق أن في اصطفاء مفردة (الإبكار) ، وفي تقديم (العشيّ) عليها ما يصور حال الأمم السابقة المستضعفة وما كانت عليه من تلبس بالعبادة المفروضة، وكذا ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وصحبه الكرام قبل فرض الصلوات الخمس وقبل الجهر بالدعوة والصدع بها.

--------------------------------------------

(1) وسيأتي ما يفيد أن طرف النهار الأول يطلق ويراد به أحد معنيين: مابعد طلوع الفجر ومابعد طلوع الشمس، فعلى من التزم جعل أول النهار من طلوع الفجر جعل ما بعد طلوع الشمس مجازاً فيه والعكس بالعكس.
আমরা যখন পবিত্র গ্রন্থে (আল-কুরআন) এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট সময়দ্বয় প্রকাশের বৈচিত্র্যের রহস্য সম্পর্কে জানার উদ্দেশ্যে অবগাহন করতে চাই, এবং এই সময়ের নামগুলোর একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার গাঠনিক বিন্যাসের সম্পর্কসমূহ উন্মোচন করতে চাই, এবং সেগুলোর প্রসঙ্গের ভিন্নতা, সামঞ্জস্য ও নিরবচ্ছিন্নতার দিকগুলো জানার জন্য গভীরে প্রবেশ করতে চাই... তবে আমাদের জন্য প্রথমেই সেই পরিস্থিতিগুলো স্পষ্ট করা আবশ্যক যাতে এই সময়দ্বয়ের উল্লেখ এসেছে।

যে ব্যক্তি সেই প্রেক্ষাপটগুলো নিয়ে চিন্তা করবেন যেখানে 'বৈকাল' (العشيّ) শব্দটিকে 'প্রত্যুষ' (الإبكار)-এর আগে আনা হয়েছে, যেমন জাকারিয়া আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে: (আর আপনার রবকে অধিক স্মরণ করুন এবং বৈকাল (العشيّ) ও প্রত্যুষে (الإبكار) তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন.. আল ইমরান/৪১), এবং মক্কায় হিজরতের পূর্বে তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে মহান আল্লাহর বাণী: (অতএব আপনি আপনার গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং বৈকালে (العشيّ) ও প্রত্যুষে (الإبكار) আপনার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন.. গাফির/৫৫), তিনি দাউদ আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণীর সাথে মিলিয়ে দেখলে বুঝতে পারবেন যে: (আমি পর্বতমালাকে তার অনুগত করে দিয়েছিলাম, তারা বৈকালে (العشيّ) ও সূর্যোদয়ের সময় (الإشراق) তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করত.. সোয়াদ/১৮), সূর্যোদয়ের পরের সময়কে দিনের শুরুর বর্ণনা হিসেবে 'প্রত্যুষ' (الإبكار) শব্দ দ্বারা অভিহিত করাই সূক্ষ্মতর, ফজর (الفجر)-এর ক্ষেত্রে নয় (১)। ঠিক তেমনি তিনি লক্ষ্য করবেন যে, 'প্রত্যুষ' (الإبكار) শব্দটি নির্বাচন করা এবং এর আগে 'বৈকাল' (العشيّ)-কে নিয়ে আসার মাঝে পূর্ববর্তী দুর্বল জাতিসমূহের অবস্থা এবং তাদের ওপর অর্পিত ইবাদতে নিমগ্ন থাকার চিত্র ফুটে ওঠে। অনুরূপভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে এবং প্রকাশ্যে দাওয়াতের ঘোষণা দেওয়ার পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সম্মানিত সাহাবীদের অবস্থাও এতে প্রতিফলিত হয়।

--------------------------------------------

(১) সামনে এমন বিষয় আসবে যা স্পষ্ট করবে যে, দিনের প্রথম ভাগ বলতে দুটি অর্থের কোনো একটিকে বোঝানো হয়: ফজর (الفجر) উদয়ের পর অথবা সূর্যোদয়ের পর। সুতরাং যারা দিনের শুরুকে ফজর (الفجر) উদয় থেকে ধরা আবশ্যক মনে করেন, তারা সূর্যোদয়ের পরের সময়কে এতে রূপক (مجازاً) হিসেবে গণ্য করেন এবং এর বিপরীত মতাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ২১)
ونعلم أنه صلى الله عليه وسلم قد أمر بأن يقتدي بالأنبياء من قبله وأن يعبد الله بالكيفية التي كانوا يعبدونه سبحانه بها (1) ، وصلاة ركعتين في آخر النهار ومثلهما بأوله هو الأوفق لحال أولئك الأوائل الذين صدّقوا بدعوة النبي صلى الله عليه وسلم في صدر الإسلام فقد كان معظمهم خليط من الفقراء والضعفاء والأرقاء وليس بوسعهم مجابهة قوى الكفر المتعصبة لشركها ووثنيتها، بل ولا إظهار شعائر الدين الذي آمنت به، ولقد بلغ الضعف بهذه الثلّة المؤمنة التي آمنت بالنبي محمد صلى الله عليه وسلم في بداية الأمر لحدّ أنه إذا أراد أحدهم ممارسة عبادة من العبادات التي كُلف بها ذهب إلى شعاب مكة يستخفي فيها من عيون قريش.. فمع انشغال أهل الكفر في أول هذين الوقتين بجلب الرزق والسعي على المعاش، وخلودهم في آخرهما للدعة والراحة بعد عناء يوم كامل من العمل، يمكن لأولئك المستضعفين أن يمارسوا بشئ من الحرية والبعد عن الضغط والتعرض للأذى، ما كلفوا به من قِبل ربهم وما تعلموه من نبيهم.. والبدء بالعشي أقدر على تصوير هذه الفترة، وأبلغ في بيان حالتي الإخفاء والهمس اللذين كانوا عليهما أثناء تأدية ما كلفوا به من صلاة، وترديد ما كان ينزل على نبيهم صلى الله عليه وسلم من آي الذكر الحكيم.

--------------------------------------------

(1) وذلك قوله سبحانه: (أولئك الذين هدى الله فبهداهم اقتده.. الأنعام/90) .

আমরা জানি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণের অনুসরণ করার এবং তাঁরা যেভাবে মহান আল্লাহর ইবাদত করতেন সেই পদ্ধতিতেই তাঁর ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল (১)। আর দিনের শেষে দুই রাকাত এবং দিনের শুরুতে অনুরূপ দুই রাকাত সালাত আদায় করা সেই সব অগ্রজ ব্যক্তিদের অবস্থার সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, যারা ইসলামের প্রারম্ভে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাওয়াতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন। তাঁদের অধিকাংশ ছিলেন দরিদ্র, দুর্বল (ضعيف) এবং দাসদের একটি মিশ্রণ। তাঁদের পক্ষে কুফর শক্তির মোকাবিলা করা সম্ভব ছিল না, যারা তাদের শিরক ও মূর্তিপূজার প্রতি অত্যন্ত গোঁড়া ছিল; এমনকি তাঁরা যে দ্বীনের প্রতি ঈমান এনেছিলেন তার নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করাও তাঁদের সাধ্যাতীত ছিল। শুরুর দিকে নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনয়নকারী এই মুমিন দলের দুর্বলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, যখনই তাঁদের কেউ কোনো অর্পিত ইবাদত পালন করতে চাইতেন, তখনই কুরাইশদের চোখ থেকে আত্মগোপন করার জন্য মক্কার গিরিপথগুলোতে চলে যেতেন। যেহেতু দিনের এই দুই সময়ের শুরুতে কুফরি শক্তির লোকেরা জীবিকা অন্বেষণ ও জীবনযাত্রার প্রচেষ্টায় ব্যস্ত থাকত এবং দিনের শেষে সারাদিনের কর্মব্যস্ততা ও ক্লান্তির পর বিশ্রাম ও আয়েশে মগ্ন হত, তাই সেই নিপীড়িত (مستضعف) লোকদের জন্য কিছুটা স্বাধীনতা নিয়ে এবং কোনো চাপ বা ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া ছাড়াই তাঁদের রবের পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব এবং নবীর কাছ থেকে শেখা বিষয়গুলো পালন করা সম্ভব ছিল। আর ‘আশি’ (অর্থাৎ দিনের শেষাংশ) এর মাধ্যমে শুরু করার বিষয়টি তৎকালীন সময়ের প্রেক্ষাপট ফুটিয়ে তুলতে অধিকতর সক্ষম এবং সালাত আদায় ও নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর অবতীর্ণ প্রজ্ঞাময় যিকিরের আয়াতসমূহ তিলাওয়াতের সময় তাঁরা যে গোপনীয়তা ও ফিসফিসানি বজায় রাখতেন, তা বর্ণনায় অধিকতর প্রাঞ্জল।

--------------------------------------------

(১) আর তা মহান আল্লাহর এই বাণী: "তারাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ হিদায়েত দান করেছেন, সুতরাং আপনি তাদের হিদায়েতের অনুসরণ (اقتداء) করুন।" (সূরা আল-আনআম: ৯০)।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ২২)
ولا يبعد أن يكون حال زكريا عليه السلام مع مناوئيه من اليهود شبيهاً بحال أولئك الصحب الكرام مع كفار مكة، فيكون في هذا أيضا الوجه في البدء بالعشيّ، بل إن هذا ما ينبئ به طبيعة هؤلاء القوم الذين تخصصوا في الإيذاء وفي قتل الأبرياء والأنبياء بغير حق، ففي تفسير ما أخبر الله به عن قتلهم أنبياء الله ذكر أهل العلم نصوصاً تصرح بقتل سيدنا زكريا وابنه يحيى عليهما السلام على يد أولئك الأنجاس، ومن ذلك ما ذكره ابن القيم رحمه الله في قوله: "ومن تلاعب الشيطان بهم ما كان في شأن زكريا ويحيى عليهما السلام وقتلهم لهما حتى سلط الله عليهم بختنصر وسنحاريب وجنودهما فنالوا منهم ما نالوه" (1) ، كما حكى عنهم في موضع آخر أنهم "هم قتلة الأنبياء، قتلوا زكريا وابنه يحيى وخلقاً كثيراً من الأنبياء حتى قتلوا في يوم واحد سبعين نبياً في أول النهار وأقاموا سوق بقلهم آخره، كأنهم لم يصنعوا شيئاً" (2) . الأمر الذي يعكس مدى الهلع والخوف الذي كان ينتاب أهل الحق في تلك الأزمنة الغابرة، ويعكس بالتالي سر البدء بالعشي في آية آل عمران.

ومما قيل في سر تقديم (العشيّ) مراعاً فيه السياق ما ذكره البقاعي في حق آية غافر سالفة الذكر من أنه "لما كان المقام لإثبات قيام الساعة (3) وكان العشيّ أدل عليها قدمه" (4) .

--------------------------------------------

(1) إغاثة اللهفان 2/319.

(2) هداية الحيارى ص54 وينظر تفسير ابن كثير 1/102، 355.

(3) يعني قوله تعالى: (النار يعرضون عليها غدواً وعشياً ويوم تقوم الساعة أدخلوا آل فرعون أشد العذاب. وإذ يتحاجون في النار.. إلى آخر الآيات 46-51) .

(4) نظم الدرر 6/525.
যাকারিয়া আলাইহিস সালামের সাথে তাঁর ইহুদি বিরোধীদের অবস্থা মক্কার কাফিরদের সাথে সেই সম্মানিত সাহাবীদের অবস্থার অনুরূপ হওয়া সুদূরপরাহত নয়। আর এ কারণেই সান্ধ্যকাল দিয়ে শুরু করার একটি তাৎপর্য এখানে নিহিত রয়েছে। বরং সেই সকল লোকদের প্রকৃতিই এমনটি নির্দেশ করে, যারা অন্যায়ভাবে নিরপরাধ মানুষ ও নবীগণকে কষ্ট দেওয়া এবং হত্যা করার কাজে লিপ্ত ছিল। আল্লাহ তাআলা নবীদের হত্যার বিষয়ে যা সংবাদ দিয়েছেন তার ব্যাখ্যায় আলেমগণ (أهل العلم) এমন কিছু বর্ণনা বা মূলপাঠ (نصوص) উল্লেখ করেছেন যা সেই অপবিত্রদের হাতে আমাদের নেতা যাকারিয়া ও তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া আলাইহিমাস সালামের হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে। এর মধ্যে ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর বক্তব্যে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো: "শয়তান তাদের সাথে যে প্ররোচনা বা খেলা করেছিল তার একটি অংশ ছিল যাকারিয়া ও ইয়াহইয়া আলাইহিমাস সালামের বিষয় এবং তাদের হাতে এই দুজনকে হত্যা করা, যতক্ষণ না আল্লাহ তাদের ওপর বুখতানাসসার, সানহারিব এবং তাদের সৈন্যদের আধিপত্য দান করেন এবং তারা তাদের ওপর সেই ধ্বংসযজ্ঞ চালায় যা চালানোর ছিল" (১)। তিনি অন্য স্থানে তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, "তারাই হলো নবীদের হত্যাকারী; তারা যাকারিয়া ও তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া এবং আরও অনেক নবীকে হত্যা করেছে। এমনকি তারা একদিনে দিনের শুরুতে সত্তরজন নবীকে হত্যা করেছিল এবং দিনের শেষে তাদের শাক-সবজির বাজার বসিয়েছিল, যেন তারা কিছুই করেনি" (২)। এই বিষয়টি সেই অতিবাহিত সময়ের সত্যপন্থীদের মনে যে আতঙ্ক ও ভীতির সঞ্চার হয়েছিল তা প্রতিফলিত করে এবং এর মাধ্যমে সূরা আলে ইমরানের আয়াতে সান্ধ্যকাল দিয়ে শুরু করার রহস্য ফুটে ওঠে।

প্রাসঙ্গিকতা বা প্রেক্ষাপট (سياق) বজায় রেখে সান্ধ্যকালকে আগে উল্লেখ করার রহস্য সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো আল-বিকায়ি ইতিপূর্বে উল্লিখিত সূরা গাফিরের আয়াতের প্রেক্ষিতে যা উল্লেখ করেছেন: "যেহেতু প্রেক্ষিতটি ছিল কিয়ামত (৩) সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণের জন্য, আর সান্ধ্যকাল এর প্রতি অধিক নির্দেশক, তাই তিনি এটিকে আগে উল্লেখ করেছেন" (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইগাসাতুল লাহফান ২/৩১৯।

(২) হিদায়াতুল হায়ারা পৃষ্ঠা ৫৪ এবং দেখুন তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/১০২, ৩৫৫।

(৩) অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার বাণী: (তাদেরকে সকাল ও সন্ধ্যায় আগুনের সামনে উপস্থিত করা হয় এবং যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন বলা হবে: ফেরাউন গোত্রকে কঠোরতম আজাবে প্রবেশ করাও। আর যখন তারা আগুনের মধ্যে বিতর্ক করবে... ৪৬-৫১ আয়াত পর্যন্ত)।

(৪) নাজমুদ দুরার ৬/৫২৫।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ২৩)
وأيّاً ما كان الأمر فإن السياق في الآيتين المذكورتين يختلف عنه في آية (ص) وإن كان منه بسبب إذ المناسب للبدء بالعشيّ قبل الإشراق، هو ما كان عليه داود عليه السلام من أوب إلى الله وترجيع، وقد كان يشاركه في ذلك الجبال والطير كما دل عليه قوله تعالى: (واذكر عبدنا داود ذا الأيد إنه أواب.. ص/17) ، وقوله: (يا جبال أوبي معه والطير.. سبأ/10) ، وقوله: (والطير محشورة كل له أواب.. ص/19) ، وظهور كل ذلك في وقت العشيّ أبين في تذكر المصير وما سيؤول إليه حال الخلق.

يقول صاحب نظم الدرر "لما كان - أي التسبيح- في سياق الأوبة، وكان آخر النهار وقت الرجوع لكل ذي إلف إلى مألفه مع أنه وقت للفتور والاستراحة من المتاعب قال (بالعشيّ) "، وكان من ثمّ البدء به "تقوية للعامل وتذكيراً للغافل" (1) .

وإنما كان تقديم العشيّ - فيما هو قريب مما ذكرناه من أمر الإبكار والإشراق - أعني الإظهار في قوله جل وعلا: (فسبحان الله حين تمسون وحين تصبحون وله الحمد في السموات والأرض وعشياً وحين تظهرون … الروم/17) ، لنفس ما سبق ذكره في آية غافر حيث الكلام عن القيامة وإثبات الحشر والبعث حتى ليكاد يكون متطابقاً معه تمام التطابق، ومن ثم فملابساتها هي من ملابسات نظيرتها.

--------------------------------------------

(1) السابق 6/370.
বিষয়টি যাই হোক না কেন, উল্লিখিত দুই আয়াতের প্রসঙ্গের সাথে সূরা সোয়াদ-এর আয়াতের প্রসঙ্গের ভিন্নতা রয়েছে, যদিও এর মধ্যে একটি যোগসূত্র বিদ্যমান। কারণ, সূর্যোদয়ের (إشراق) আগে অপরাহ্নের (عشيّ) উল্লেখ করা এখানে এই কারণে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, দাউদ আলাইহিস সালাম আল্লাহর দিকে অত্যন্ত প্রত্যাবর্তনকারী (أواب) ও তাসবিহ পাঠে পুনরাবৃত্তি (ترجيع) করতে অভ্যস্ত ছিলেন। পাহাড় ও পাখিও তাঁর সাথে এই কাজে শরিক হতো, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী থেকে প্রমাণিত হয়: “আমাদের বান্দা শক্তিশালী দাউদকে স্মরণ করুন, সে ছিল অত্যন্ত প্রত্যাবর্তনকারী (أواب)... সূরা সোয়াদ/১৭”, এবং তাঁর বাণী: “হে পাহাড়সমূহ! তোমরা তাঁর সাথে তাসবিহ পাঠে বারবার প্রত্যাবর্তন করো (أوبي) এবং হে পক্ষীকুল তোমরাও... সূরা সাবা/১০”, এবং তাঁর বাণী: “আর পক্ষীকুলকেও সমবেত করা হয়েছিল, সকলেই ছিল তাঁর প্রতি প্রত্যাবর্তনকারী (أواب)... সূরা সোয়াদ/১৯”। আর অপরাহ্নের সময় এসবের প্রকাশ ঘটা পরকাল এবং সৃষ্টির শেষ পরিণতির কথা স্মরণে আনার ক্ষেত্রে অধিক সুস্পষ্ট।

নাযমুদ দুরার গ্রন্থের লেখক বলেন, "যেহেতু এটি—অর্থাৎ তাসবিহ—প্রত্যাবর্তনের (الأوبة) প্রেক্ষাপটে এসেছে এবং দিনের শেষ ভাগ হলো প্রতিটি পরিচিত সত্তার তার আপন আশ্রয়ে প্রত্যাবর্তনের (الرجوع) সময়, যদিও এটি ক্লান্তি ও শ্রম থেকে বিশ্রামের সময়, তাই তিনি অপরাহ্ন (بالعشيّ) শব্দটির কথা বলেছেন।" আর সে কারণেই অপরাহ্নের মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে যাতে "একনিষ্ঠ কর্মীর স্পৃহা বৃদ্ধি পায় এবং অসতর্ক ব্যক্তিকে সতর্ক করা যায়।" (১)

আর অপরাহ্নের (العشيّ) বিষয়টিকে আগে উল্লেখ করার বিষয়টি—যা আমরা প্রত্যুষ (إبكار) ও সূর্যোদয় (إشراق) সম্পর্কে ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করেছি তার কাছাকাছি—অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণীতে যে দ্বিপ্রহরের (الإظهار) কথা বলা হয়েছে: “অতএব তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং যখন ভোরে উপনীত হও। আর আসমান ও জমিনে সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই, এবং অপরাহ্নে (عشياً) ও যখন তোমরা দ্বিপ্রহরে (تظهرون) উপনীত হও... সূরা আর-রূম/১৭”, তা মূলত সূরা গাফিরের সেই আয়াতের কারণের মতোই যেখানে কিয়ামত, হাশর (الحشر) এবং পুনরুত্থান (البعث) সাব্যস্ত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এমনকি তা প্রায় পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ, আর সে কারণেই এর পারিপার্শ্বিকতা তার অনুরূপ আয়াতেরই মতো।

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত ৬/৩৭০।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ২৪)
وفي مراعاة تقديم ما هو ألصق بالسياق في آية الروم وأدل عليه يقول الفخر الرازي: إنه "قدم الإمساء على الإصباح ههنا وأخره في قوله تعالى: (وسبحوه بكرةً وأصيلاً.. الأحزاب/42) لأن ههنا، أول الكلام ذِكْر الحشر والإعادة من قوله تعالى: (الله يبدأ الخلق ثم يعيده) إلى قوله تعالى: (فأولئك في العذاب محضرون.. الروم/11-16) ، وآخر هذه الآية أيضاً – يعني ما جاء عقبها- ذكر الحشر والإعادة بقوله تعالى: (يخرج الحي من الميت ويخرج الميت من الحي وكذلك تخرجون.. الروم/19) والإمساء آخر فذكر الآخر أولاً لتذكر الآخرة" (1) وهو في معنى ما ذكره البقاعي في حق آية غافر وفاءً بحق السياق. ويريد الرازي بما ذكره أن مقابلة العشيّ بالظهيرة والإمساء بالإصباح وتقديم ما تقدم في كلٍُ جاء ملائماً للسياق في التذكير بيوم القيامة، فعلى نحو ما يعقب الركونً إلى الدعة والراحة والنوم والسكون في الإمساء والعشي حركة بعد الاستيقاظ وانتشار، يعقب الموت وإعادة إحياء الخلق من جديد، وإخراجهم من قبورهم، الحشر واجتماع الناس في يوم لا ريب فيه، ولما كان الموت الذي يمثل الإمساء والعشيّ، ويشبهه في ترتيبه الزمني بوقوعه قبل الحشر، وكان الغرض من السياق التذكير بالآخرة قدم من ثمت الإمساء والعشيّ، رداً على قالتهم السوء بإنكار البعث والحساب من ناحية، وإقامة للحجة عليهم بنصب الأدلة عليهما بتشبيههما بالاستيقاظ بعد الموتة الصغرى من ناحية أخرى.

--------------------------------------------

(1) الرازي 12/452.

সূরা আর-রূমের আয়াতের প্রেক্ষাপটের সাথে সবচেয়ে নিবিড় ও অধিকতর নির্দেশক বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ফখর আল-দীন আল-রাজি বলেন: "তিনি এখানে সন্ধ্যাকে সকালের আগে উল্লেখ করেছেন, অথচ আল্লাহ তাআলার বাণী—(এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো.. আল-আহযাব/৪২)-এ একে পরে এনেছেন। কারণ এখানে আলোচনার শুরুতে আল্লাহ তাআলার এই বাণী থেকে—(আল্লাহ প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তিনি পুনরায় সৃষ্টি করবেন) থেকে নিয়ে (তারাই আজাবে উপস্থিত থাকবে.. আর-রূম/১১-১৬) পর্যন্ত হাশর ও পুনরুত্থান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আর এই আয়াতের শেষেও—অর্থাৎ এর অব্যবহিত পরে যা এসেছে—তা হলো আল্লাহ তাআলার বাণীর মাধ্যমে হাশর ও পুনরুত্থানের উল্লেখ: (তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন এবং এভাবেই তোমাদের বের করা হবে.. আর-রূম/১৯)। আর সন্ধ্যা হলো দিনের শেষ সময়, তাই পরকালকে স্মরণ করানোর উদ্দেশ্যে ‘শেষ’ সময়কে আগে উল্লেখ করা হয়েছে।" (১) এটি প্রেক্ষাপটের দাবি পূরণের ক্ষেত্রে সূরা গাফিরের আয়াতের ব্যাপারে আল-বিকায়ি যা উল্লেখ করেছেন তারই সমার্থক। রাজি এর মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, শেষ বিকেলকে দ্বিপ্রহরের বিপরীতে এবং সন্ধ্যাকে সকালের বিপরীতে রাখা এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রে যেটিকে আগে আনা হয়েছে তা কিয়ামত দিবসের স্মরণের প্রেক্ষাপটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেভাবে সন্ধ্যা ও শেষ বিকেলে আরাম, বিশ্রাম, নিদ্রা ও স্থবিরতার পর পুনরায় জাগ্রত হওয়া ও কর্মতৎপরতা শুরু হয়, তেমনিভাবে মৃত্যু এবং সৃষ্টিজগতকে নতুন করে জীবিত করা, তাদের কবর থেকে বের করে আনা এবং এক অনস্বীকার্য দিনে মানুষের হাশর ও মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। যেহেতু মৃত্যু—যা সন্ধ্যা ও শেষ বিকেলের প্রতিনিধিত্ব করে এবং সময়ের পরিক্রমায় হাশরের পূর্বে সংঘটিত হওয়ার দিক থেকে তার সদৃশ—আর যেহেতু প্রেক্ষাপটের মূল উদ্দেশ্য ছিল পরকালকে স্মরণ করানো, তাই একদিকে পুনরুত্থান ও হিসাব-নিকাশ অস্বীকার করে তাদের বলা মন্দ কথার প্রতিবাদ হিসেবে এবং অন্যদিকে ক্ষুদ্র মৃত্যুর পর জাগ্রত হওয়ার সাথে সাদৃশ্য দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য এখানে সন্ধ্যা ও শেষ বিকেলকে আগে আনা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-রাজি ১২/৪৫২।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ২৫)
وفي البحر المحيط: "قوبل بالعشيّ الإمساء وبالإظهار الإصباح، لأن كلا منهما يُعقب بما قابله، فالعشيّ يعقبه الإمساء، والإصباح يعقبه الإظهار" (1) ، وفي معنى ما ذُكريقول الآلوسي "قدم الإمساء على الإصباح لتقدم الليل والظلمة، وقدم العشيّ على الإظهار لأنه بالنسبة إلى الإظهار كالإمساء بالنسبة إلى الإصباح" (2) ويعنيان بذلك أنهم في "الاستعمال العربي يعتبرون فيه الليالي مبدأ عدد الأيام (3) ، فهو أسبق في حساب أيام الشهر، وفي التنزيل قال تعالى: (سيروا فيها ليالي وأياماً آمنين.. سبأ/18) " (4) ، وقال أبو السعود بأن تقديم (عشياً) على (حين تظهرون) لمراعاة الفواصل وتغيير الأسلوب (5) ، وليس ما ذكروه بالوجه بل هو - فيما أرى- على ما ذكرت، مراعاة لمكان النزول. وإن كنت لا أرى فيما ذكره الفخر الرازي – وفاء بحق السياق - بأساً، وفي محصلته يقول الطاهر في عبارة بليغة موجزة: "قدم فعل الإمساء على فعل الإصباح.. لأن الكلام لما وقع عقب ذكر الحشر من قوله: (الله يبدأ الخلق ثم يعيده ثم إليه ترجعون.. الروم/11) ، وذكر قيام الساعة، ناسب أن يكون الإمساء وهو آخر اليوم خاطراً في الذهن فقُدم لهم ذكره" (6) .

وهكذا يجيىء النظم غاية في التناسق بين مفرداته والتآخي بين جملة، كما يجيئ التقديم والتأخير للأوقات محققاً الغرض الذي يهدف إليه سياق النص القرآني، وتلك - وأيم الله- آية من آيات الإعجاز في كتاب الله.

--------------------------------------------

(1) ينظر البحر المحيط الآية17، 18من سورة الروم.

(2) الآلوسي 21/45 مجلد 12، وينظر حاشية الشهاب على البيضاوي 7/379.

(3) كما كانوا يؤرخون بالليالي ويبتدئون الشهر بالليلة الأولى التي بعد طلوع الهلال، وهو ما أقرهم الإسلام عليه واستمر عليه الحال.

(4) التحرير 21/66 مجلد 10، 26/327 مجلد 12.

(5) تفسير أبي السعود 7/55 مجلد4.

(6) التحرير 21/66 مجلد 10.
আল-বাহরুল মুহীত-এ উল্লেখ করা হয়েছে: "বিকালের বিপরীতে সন্ধ্যাকে এবং দুপুরের বিপরীতে ভোরকে আনা হয়েছে, কারণ এদের প্রত্যেকটি তার বিপরীতটির অনুগামী হয়; সুতরাং বিকালের অনুগামী হয় সন্ধ্যা এবং ভোরের অনুগামী হয় দুপুর" (১)। বর্ণিত বিষয়ের অর্থ সম্পর্কে আলূসী বলেন, "রাত ও অন্ধকারের অগ্রবর্তিতার কারণে সন্ধ্যাকে ভোরের আগে আনা হয়েছে এবং বিকালকে দুপুরের আগে রাখা হয়েছে, কারণ দুপুরের তুলনায় বিকালের অবস্থান হচ্ছে ভোরের তুলনায় সন্ধ্যার অবস্থানের মতো" (২)। এর দ্বারা তারা বোঝাতে চেয়েছেন যে, তারা "আরবি ব্যবহারে রাতকে দিনের গণনার শুরু হিসেবে বিবেচনা করে (৩), তাই মাসের দিন গণনায় এটি অগ্রবর্তী। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন: (তোমরা সেখানে রাত ও দিন নিরাপদে ভ্রমণ করো.. সাবা/১৮)" (৪)। আবুস সাউদ বলেছেন যে, পদাস্তিক মিল (فواصل) রক্ষা এবং বাচনভঙ্গির পরিবর্তনের খাতিরে 'দুপুর'-এর আগে 'বিকাল' শব্দটিকে আনা হয়েছে (৫)। তারা যা উল্লেখ করেছেন তা-ই একমাত্র কারণ নয়, বরং আমার মতে—আমি যা উল্লেখ করেছি—তা অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটের (مقام النزول) প্রতি লক্ষ রেখে করা হয়েছে। যদিও ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী যা উল্লেখ করেছেন—প্রসঙ্গের (سياق) দাবি পূরণের ক্ষেত্রে—তাতে আমি কোনো সমস্যা দেখছি না। এর সারসংক্ষেপে আত-তাহির অত্যন্ত সাবলীল ও সংক্ষিপ্ত ভাষায় বলেন: "সন্ধ্যা ক্রিয়াটিকে ভোর ক্রিয়াটির আগে আনা হয়েছে... কারণ বক্তব্যটি যখন হাশরের বর্ণনার পর এসেছে—যেমন আল্লাহর বাণী: (আল্লাহ প্রথমবার সৃষ্টি করেন, তারপর তিনি তা পুনরায় সৃষ্টি করবেন, এরপর তোমাদের তাঁরই কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে.. রূম/১১)—এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আলোচনার প্রেক্ষিতে দিন শেষ হওয়ার বিষয়টি অর্থাৎ সন্ধ্যা মনের পর্দায় ভেসে আসাই সংগত ছিল, তাই তাদের কাছে এর উল্লেখটি আগে পেশ করা হয়েছে" (৬)।

এভাবেই এই শব্দবিন্যাস তার শব্দাবলির মধ্যে চরম সামঞ্জস্য এবং বাক্যগুলোর মধ্যে গভীর সৌহার্দ্য নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। একইভাবে সময়ের এই অগ্র-পশ্চাৎ বিন্যাস কুরআনিক প্রেক্ষাপট যে উদ্দেশ্য সাধন করতে চায় তা পূর্ণ করেছে। আল্লাহর শপথ! এটি আল্লাহর কিতাবের অলৌকিকত্বের (إعجاز) অন্যতম একটি নিদর্শন।

--------------------------------------------

(১) আল-বাহরুল মুহীত দ্রষ্টব্য, সূরা আর-রূমের ১৭ ও ১৮ নম্বর আয়াত।

(২) আলূসী ২১/৪৫ খণ্ড ১২; এবং বাইযাবীর ওপর শিহাবের হাশিয়া ৭/৩৭৯ দ্রষ্টব্য।

(৩) যেভাবে তারা রাত দিয়ে তারিখ নির্ধারণ করত এবং নতুন চাঁদ উদয়ের পর প্রথম রাত থেকে মাস শুরু করত; ইসলাম এটিকে অনুমোদন করেছে এবং এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

(৪) আত-তাহরীর ২১/৬৬ খণ্ড ১০, ২৬/৩২৭ খণ্ড ১২।

(৫) তাফসীরে আবুস সাউদ ৭/৫৫ খণ্ড ৪।

(৬) আত-তাহরীর ২১/৬৬ খণ্ড ১০।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ২৬)
"وتغيير الأسلوب في (عشياّ) لما أنه لا يجيىء منه الفعل بمعنى الدخول في العشي كالمساء والصباح والظهيرة، ولعل السر في ذلك على ما قيل: إنه ليس من الأوقات التي تختلف فيها أحوال الناس وتتغير تغيراً ظاهراً مصححاً لوصفهم بالخروج عما قبلها والدخول فيها، كالأوقات المذكورة، فإن كلا منها وقت يتغير فيه الأحوال تغيراً ظاهراً، أما في المساء والصباح فظاهر، وأما في الظهيرة فلأنها وقت يعاد فيه التجرد عن الثياب للقيلولة" (1) ، فهو وقت عورة كما صُرح بذلك في سورة النور.

وفي سر تخصيص الأولين في قوله تعالى: (حين تمسون وحين تصبحون) في آية الروم بالتنزيه، والأخيرين (عشياً وحين تظهرون) بالتحميد، يقول البيضاوي: إن "تخصيص التسبيح بالمساء والصباح، لأن آثار القدرة والعظمة فيهما أظهر، وتخصيص الحمد بالعشي الذي هو آخر النهار.. والظهيرة التي هي وسطه، لأن تجدد النعم فيهما أكثر" (2) .. وما جاء في الحواشي الشهابية وكذا ما ذكره الآلوسي من أن هذا يرد عليه عطف ظرف الزمان (عشياً) على المكان (في السموات) ، وأن هذا وعكسه لا يجوز (3) ، جوابه أنه يمكن جعله معطوفاً على مقدر أي (وله الحمد في السموات والأرض) دائماً (وعشياً) ، على أنه تخصيص بعد تعميم، والجملة اعتراضية (4) وعليه يكون العطف في (وحين تظهرون) على قوله قبل: (وحين تمسون وحين تصبحون) ، ويكون التخصيص في الثلاث بالتنزيه، وفي العشي بالتحميد.

--------------------------------------------

(1) الآلوسي 21/45 مجلد 12.

(2) تفسير البيضاوي 7/380.

(3) حاشية الشهاب 7/380، والآلوسي 21/45 مجلد 12.

(4) السابقان.
'عشياّ' (সন্ধ্যাবেলা) শব্দটির ক্ষেত্রে প্রকাশভঙ্গি পরিবর্তনের কারণ হলো, এটি থেকে এমন কোনো ক্রিয়া গঠিত হয় না যা 'مساء' (সন্ধ্যা), 'صباح' (সকাল) এবং 'ظهيرة' (দুপুর) শব্দগুলোর মতো সেই সময়ে প্রবেশ করা বোঝায়। সম্ভবত এর রহস্য হলো—যেমনটি বলা হয়েছে—এটি এমন সময়গুলোর অন্তর্ভুক্ত নয় যাতে মানুষের অবস্থার এমন কোনো প্রকাশ্য পরিবর্তন ঘটে যা পূর্বের অবস্থা থেকে বের হওয়া এবং নতুন অবস্থায় প্রবেশ করার বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যেমনটি উল্লিখিত সময়গুলোর ক্ষেত্রে ঘটে। কারণ উল্লিখিত প্রতিটি সময়ে মানুষের অবস্থার এক দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে। সন্ধ্যা (مساء) ও সকালের (صباح) বিষয়টি তো স্পষ্ট। আর দুপুরের (ظهيرة) বিষয়টি এই কারণে যে, এটি এমন সময় যখন কায়লুলা বা দুপুরের বিশ্রামের (قيلولة) জন্য পোশাক ত্যাগের পুনরাবৃত্তি ঘটে। সুতরাং এটি একটি আবরুর (عورة) সময়, যেমনটি সূরা আন-নূরে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

সূরা আর-রূমের আয়াতে প্রথম দুটি সময়কে—অর্থাৎ (যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং যখন তোমরা সকালে উপনীত হও)—পবিত্রতা ঘোষণার (تنزيه) জন্য এবং শেষ দুটি সময়কে (সন্ধ্যাবেলা ও যখন তোমরা দুপুরে উপনীত হও) প্রশংসা জ্ঞাপনের (تحميد) জন্য নির্দিষ্ট করার রহস্য সম্পর্কে বায়যাভী বলেন: "তাসবিহ (تسبيح) বা পবিত্রতা ঘোষণাকে সন্ধ্যা (مساء) ও সকালের (صباح) সাথে নির্দিষ্ট করা হয়েছে কারণ এই দুই সময়ে আল্লাহর কুদরত ও মহত্ত্বের নিদর্শনসমূহ অধিকতর প্রকাশ পায়। আর প্রশংসা জ্ঞাপনকে (تحميد) দিনের শেষভাগ অর্থাৎ সন্ধ্যাবেলা (عشي) এবং দিনের মধ্যভাগ অর্থাৎ দুপুর (ظهيرة) বেলা—যা দিনের মধ্যবর্তী সময়—তার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, কারণ এই দুই সময়ে নেয়ামতের নবায়ন অধিক হয়ে থাকে।" (২) আর হাশিয়া আল-শিহাব এবং আলূসী যা উল্লেখ করেছেন যে, এর ফলে স্থানবাচক অব্যয়ের (ظرف المكان) (আকাশমণ্ডলীর মধ্যে) ওপর কালবাচক অব্যয় (ظرف الزمان) 'عشياً' (সন্ধ্যাবেলা)-কে অন্বয় (عطف) করার প্রশ্ন ওঠে এবং এটি বা এর বিপরীতটি ব্যাকরণগতভাবে সিদ্ধ নয় (৩), তার উত্তর হলো—একে একটি উহ্য শব্দের সাথে অন্বয় (عطف) করা সম্ভব, অর্থাৎ: (আসমান ও জমিনে সর্বদা তাঁরই প্রশংসা) এবং (সন্ধ্যাবেলাতেও)। এটি ব্যাপকতার পর বিশেষায়নের অন্তর্ভুক্ত এবং বাক্যটি একটি ব্যাখ্যামূলক বাক্য (جملة اعتراضية)। (৪) এমতাবস্থায় 'وحين تظهرون' (এবং যখন তোমরা দুপুরে উপনীত হও) অংশটির অন্বয় (عطف) হবে পূর্ববর্তী বাক্য 'حين تمسون وحين تصبحون' (যখন তোমরা সন্ধ্যায় ও সকালে উপনীত হও)-এর ওপর। ফলে তিন সময়ের ক্ষেত্রে পবিত্রতা ঘোষণা (تنزيه) এবং সন্ধ্যাবেলার (عشي) ক্ষেত্রে প্রশংসা জ্ঞাপন (تحميد) নির্দিষ্ট হবে।

--------------------------------------------

(১) আলূসী ২১/৪৫, খণ্ড ১২।

(২) তাফসীরে বায়যাভী ৭/৩৮০।

(৩) হাশিয়া আল-শিহাব ৭/৩৮০ এবং আলূসী ২১/৪৫, খণ্ড ১২।

(৪) পূর্বোক্ত।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ২৭)
وعلى نحو ما جاء الترتيب في تقديم العشيّ في حال الاستضعاف والخوف - أعني على الوجه الذي تراءى لنا- متناغماً مع سياق الآيات التي قدمت فيها ومع نظمها.. يجيىء الترتيب كذلك في تقديم المقابل للعشيّ عندما يُزال ذلك ويُستشعر بدلاً عنه معاني الأمن والقوة، والأمان والكثرة. ولعلك تجد صدى هذا في حديث القرآن عن أهل الجنة وتحديداً في قوله سبحانه عنهم: (لا يسمعون فيها لغواً إلا سلاماً ولهم رزقهم فيها بكرة وعشياً.. مريم/62) ، وفي حديثه عما كان من أمر زكريا عليه السلام عندما (خرج على قومه من المحراب فأوحى إليهم أن سبحوه بكرة وعشياً.. مريم/11) ، وفي حديثه عن أهل الإيمان بعد أن مكّن الله لهم وذلك في قوله: (يا أيها الذين آمنوا اذكروا الله ذكراً كثيراً. وسبحوه بكرة وأصيلا..الأحزاب/41، 42) .

فقد أضحى الذين زحزحوا عن النار وأدخلوا الجنة في مأمن من عناء الدنيا ومن عذاب جهنم (لايسمعون حسيسها وهم فيما اشتهت أنفسهم خالدون. لا يحزنهم الفزع الأكبر وتتلقاهم الملائكة هذا يومكم الذي كنتم توعدون.. الأنبياء/102، 103) ، وأضحى زكريا عليه السلام في مأمن عن أعين الرقباء والأعداء، وفي منعة من قومه الذين "كانوا من وراء المحراب ينتظرونه أن يفتح لهم الباب فيدخله ويصلوا" (1) ، كما تغير حال المؤمنين في المدينة بعد أن تهيىء لهم المجتمع الآمن المستقر، وبعد أن أذهب الله عنهم ما كان بهم من ضعف وصاروا ذوي بأس شديد ومنعة، ويمكن لك أن تستكنه هذه المعاني وتستشعر أنفة العظمة والعزة التي انخلعت على الصحب الكرام، وأنت تقارن ما جاء في آية الأحزاب بما جاء في قوله سبحانه عنهم: (واذكروا إذ أنتم قليل مستضعفون في الأرض تخافون أن يتخطفكم الناس.. الأنفال/26) .

--------------------------------------------

(1) تفسير أبي السعود 5/258 مجلد 3.
দুর্বলতা ও ভীতির অবস্থায় ‘সন্ধ্যা’ শব্দটিকে আগে আনার বিন্যাস যেভাবে এসেছে—অর্থাৎ আমাদের নিকট যেভাবে প্রতিভাত হয়েছে—তা সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহের প্রেক্ষাপট এবং শব্দশৈলীর সাথে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ। অনুরূপভাবে, যখন সেই ভীতি দূর হয়ে যায় এবং তার পরিবর্তে নিরাপত্তা, শক্তি, প্রশান্তি ও প্রাচুর্যের ভাব অনুভূত হয়, তখন ‘সন্ধ্যা’-এর বিপরীত শব্দটিকে (অর্থাৎ সকাল) আগে আনার বিন্যাস পরিলক্ষিত হয়। আপনি সম্ভবত জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে কুরআনের বর্ণনায় এর প্রতিফলন খুঁজে পাবেন; বিশেষত তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণীতে: (সেখানে তারা সালাম ব্যতীত কোনো অসার বাক্য শুনবে না এবং সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের জন্য জীবনোপকরণ রয়েছে—মরিয়ম/৬২)। এছাড়া যাকারিয়া আলাইহিস সালাম-এর বৃত্তান্তে যখন বলা হয়েছে: (অতঃপর তিনি মেহরাব থেকে তাঁর সম্প্রদায়ের সামনে বের হলেন এবং তাদের ইশারায় নির্দেশ দিলেন যেন তারা সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে—مريم/১১)। এবং মুমিনদের অবস্থা সুসংহত হওয়ার পর তাদের সম্পর্কে আল্লাহর এই বাণীতে: (হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো এবং সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো—আল-আহযাব/৪১, ৪২)।

মূলত যারা জাহান্নাম থেকে দূরে অবস্থান করছেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করেছেন, তারা পার্থিব ক্লেশ ও জাহান্নামের শাস্তি থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছেন: (তারা জাহান্নামের ক্ষীণতম আওয়াজও শুনবে না এবং তারা তাদের মনের বাসনা অনুযায়ী চিরকাল অবস্থান করবে। মহাভীতি তাদেরকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদেরকে এই বলে অভ্যর্থনা জানাবে যে—এটিই তোমাদের সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল—আল-আম্বিয়া/১০২, ১০৩)। তেমনি যাকারিয়া আলাইহিস সালাম শত্রুদের কুনজর ও শত্রুতা থেকে মুক্ত এবং তাঁর সম্প্রদায়ের মাঝে সুরক্ষিত অবস্থানে ছিলেন, যারা "মেহরাবের ওপাশে তাঁর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকত যেন তিনি তাদের জন্য দরজা খুলে দেন এবং তারা প্রবেশ করে সালাত আদায় করতে পারে" (১)। তদ্রূপ মদিনায় মুমিনদের অবস্থারও পরিবর্তন ঘটেছিল যখন তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ গঠিত হয়েছিল এবং আল্লাহ তাদের দুর্বলতা দূর করে প্রবল শক্তি ও প্রতিরক্ষা দান করেছিলেন। আপনি এই সূক্ষ্ম অর্থগুলো অনুধাবন করতে পারবেন এবং সম্মানিত সাহাবায়ে কিরামের সেই আভিজাত্য ও মর্যাদাপূর্ণ গাম্ভীর্য অনুভব করতে পারবেন, যখন আপনি আল-আহযাব সূরার আয়াতের সাথে তাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ এই বাণীর তুলনা করবেন: (এবং স্মরণ করো, যখন তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে, জমিনে তোমাদের দুর্বল মনে করা হতো, তোমরা আশঙ্কা করতে যে মানুষ তোমাদের ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে—আল-আনফাল/২৬)।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে আবিস সাউদ, ৫/২৫৮, খণ্ড ৩।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ২৮)
الأمر الذي يؤكد على أنه حتى عندما يكون أمر تقديم كلمة على كلمة متعلقاً بما ذكره العلوي في الطراز تحت باب (ما يجوز تقديمه ولو لم يفسد معناه) (1) ، فإن بلاغة النظم القرآني تقتضي أن يجيىء التناسق والترتيب بين الكلمات تحقيقاً للغرض، وأنه عندما يتغير الغرض من موضع إلى موضع آخر لا جرم يتغير معه ترتيب النظم. وإلا فـ"لو كان القصد بالنظم إلى اللفظ نفسه دون أن يكون الغرض ترتيب المعاني في النفس، ثم النطق بالألفاظ على حذوها لكان ينبغي - كما ذكر شيخ البلاغة - أن لايختلف حال اثنين في العلم بحُسن النظم أو غير الحُسن فيه لأنهما يُحسان بتوالي الألفاظ في النطق إحساساً واحداً ولا يعرف أحدهما في ذلك شيئاً يجهله الآخر" (2) .

وجه تخصيص طرفي النهار بالذكر دون سواهما:

ولا يعني هذا العنوان بحال أن يُقصر التسبيح لله تعالى على الوقتين ويُترك فيما عداهما. بل مراده البحث عن سر إفرادهما بالذكر، وبيان أنهما في ذلك وفي الدلالة على أهميتهما كإفراد التسبيح من بين الأذكار مع اندراجه فيهما لكونه العمدة (3) .

هذا وقد تعددت الأقوال في سر تخصيص وقتي الغداة والعشي بالذكر ليكونا وما في معناهما زمناً لتسبيح الله وتنزيهه دون سائر الأوقات الأخرى. فمن قائل أن الوجه في ذلك:

--------------------------------------------

(1) ينظر الطراز للعلوي 2/73.

(2) دلائل الإعجاز تحقيق محمود شاكر ص 51.

(3) تفسير الآلوسي 22/61 مجلد 12، وينظر 9/224 مجلد 6، والبيضاوي 7/495.
এই বিষয়টি নিশ্চিত করে যে, একটি শব্দের ওপর অন্য শব্দকে আগে নিয়ে আসার বিষয়টি যখন আল-আলাভি তার 'আত-তিরাজ' গ্রন্থে "যা আগে আনা বৈধ যদিও তা অর্থের বিকৃতি না ঘটায়" (১) শীর্ষক পরিচ্ছেদে যা উল্লেখ করেছেন তার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তখন কুরআনিক রচনাশৈলীর (النظم) অলঙ্কারশাস্ত্র দাবি করে যে, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে শব্দাবলির মধ্যে সুসামঞ্জস্য ও বিন্যাস বজায় থাকবে। আর যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উদ্দেশ্যের পরিবর্তন ঘটে, তখন অনিবার্যভাবে সেই সাথে রচনার বিন্যাসও পরিবর্তিত হয়। অন্যথায়, "যদি রচনার উদ্দেশ্য কেবল শব্দের বাহ্যিক রূপের প্রতিই হতো—হৃদয়ে অর্থের বিন্যাস এবং সেই অনুযায়ী শব্দের উচ্চারণ উদ্দেশ্য না হতো—তবে অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমাম (شيخ البلاغة) যেমনটি উল্লেখ করেছেন—রচনার সৌন্দর্য বা অসৌন্দর্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে দুই ব্যক্তির অবস্থা ভিন্ন হতো না। কারণ উচ্চারণের সময় শব্দের পর্যায়ক্রমিক ধারা সম্পর্কে উভয়েই অভিন্ন অনুভূতি লাভ করত এবং তাদের একজন এ বিষয়ে এমন কিছু জানত না যা অন্যজন জানে না" (২)।

দিনের দুই প্রান্তকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ:

এই শিরোনামটির অর্থ কোনোভাবেই এটি নয় যে, আল্লাহ তাআলার তসবিহ কেবল এই দুই সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং অন্য সময়ে তা বর্জন করা হবে। বরং এর উদ্দেশ্য হলো, এই দুই সময়কে স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করার রহস্য অনুসন্ধান করা। পাশাপাশি এটি স্পষ্ট করা যে, এই দুই সময়ের স্বতন্ত্র উল্লেখ এবং তাদের গুরুত্বের প্রমাণ হলো সাধারণ জিকিরসমূহের (الأذكار) মধ্য থেকে তসবিহকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো, যদিও তসবিহ জিকিরের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটিই মূল ভিত্তি (العمدة) (৩)।

সকাল এবং সন্ধ্যাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার রহস্য নিয়ে বহুবিধ মত রয়েছে, যাতে এই দুই সময় এবং এর সমজাতীয় সময়গুলো অন্য সময়ের তুলনায় আল্লাহ তাআলার তসবিহ ও পবিত্রতা বর্ণনার (تنزيه) জন্য নির্ধারিত হয়। কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারীর মতে এর কারণ হলো:

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-আলাভি রচিত আত-তিরাজ ২/৭৩।

(২) দালাইলুল ইজাজ, মাহমুদ শাকির সম্পাদিত, পৃষ্ঠা ৫১।

(৩) তাফসির আল-আলুসি ২২/৬১, ১২তম খণ্ড; আরও দ্রষ্টব্য ৯/২২৪, ৬ষ্ঠ খণ্ড এবং আল-বায়দাভি ৭/৪৯৫।
(খণ্ড: ১) মিন বালাগাতিল কুরআন ফিত তাবীর বিল গুদুওয়ি ওয়াল আসাল (পৃষ্ঠা: ২৯)
1- كونهما مشهودين أي يحضرهما ملائكة الليل والنهار، يلتقون فيهما ويتعاقبون على ابن آدم على نحو ما ورد في حديث أبي هريرة بلفظ: "يتعاقبون فيكم ملائكة بالليل وملائكة بالنهار، ويجتمعون في صلاة الفجر وصلاة العصر، ثم يعرج الذين باتوا فيكم فيسألهم، وهو أعلم. كيف تركتم عبادي؟ فيقولون: تركناهم وهم يصلون وأتيناهم وهم يصلون" (1) . ولا وجه لما ذكره الشهاب من أن دلالة الحديث "على ما ذكر محل نظر" (2) على اعتبار أن عروجهم يتنافى مع كون الوقتين مشهورين بحضورهم.. ذلك لأن الحديث نص في الطريقة التي يكونون عليها أثناء حضورهم وشهودهم على بني البشر فضلاً عن أنه كذلك نصٌّ في الصلاة التي تكون بوقتي الغداة والعشي. إذ ليسا إلا الفجر والعصر كما سبق تقريره، قال ابن بطال فيما نقله عنه ابن حجر "خَصّ هذين الوقتين لاجتماع الملائكة فيهما ورفعهم أعمال العباد لئلا يفوتهم هذا الفضل العظيم" (3) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري 555، 7429، 7486، 7223، ومسلم 632، والنسائي 1/240، 241، وأحمد 2/486، 257، 344، وابن حبان 1737، ومالك 1/170، والبغوي 380.

(2) حاشية الشهاب 7/495.

(3) فتح الباري 2/26.
১- উভয় ওয়াক্ত প্রত্যক্ষকৃত (مشهود) হওয়া; অর্থাৎ সেখানে রাত ও দিনের ফেরেশতারা উপস্থিত হন। তারা এই দুই সময়ে মিলিত হন এবং আদম সন্তানের কাছে পালাবদল করেন, যেমনটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "তোমাদের নিকট রাতে ও দিনে ফেরেশতারা পালাক্রমে আগমন করেন এবং তারা ফজর ও আসরের নামাজে একত্রিত হন। অতঃপর যারা তোমাদের মাঝে রাত কাটিয়েছিলেন তারা আরোহণ করেন। তখন মহান আল্লাহ অধিক অবগত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জিজ্ঞাসা করেন: তোমরা আমার বান্দাদের কী অবস্থায় রেখে এসেছ? তারা বলেন: আমরা যখন তাদের ছেড়েছি তখন তারা নামাজরত ছিল এবং আমরা যখন তাদের নিকট গিয়েছিলাম তখনও তারা নামাজরত ছিল।" (১)। শিহাব যা উল্লেখ করেছেন যে, "উক্ত বিষয়ের ওপর হাদিসটির প্রমাণ উপস্থাপনের বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে (محل نظر)" (২), তার কোনো ভিত্তি নেই; কারণ তিনি মনে করেছেন যে ফেরেশতাদের আরোহণ করা এই দুই সময়ে তাদের উপস্থিতির কারণে বিষয়টি প্রসিদ্ধ (مشهور) হওয়ার সাথে সাংঘর্ষিক। মূলত হাদিসটি মানবজাতির নিকট তাদের উপস্থিতি ও প্রত্যক্ষ করার (شهود) পদ্ধতির ব্যাপারে একটি অকাট্য বর্ণনা (نص)। তদুপরি এটি সকাল ও সন্ধ্যার দুই সময়ের নামাজের ব্যাপারেও সুস্পষ্ট দলিল (نص), যা ইতোপূর্বে সাব্যস্ত হয়েছে যে তা ফজর ও আসর ব্যতীত অন্য কিছু নয়। ইবনে হাজার কর্তৃক উদ্ধৃত বর্ণনায় ইবনে বাত্তাল বলেন: "এই দুটি সময়কে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে ফেরেশতাদের সমাবেশের জন্য এবং বান্দাদের আমলসমূহ উত্তোলন করার জন্য, যাতে তারা এই মহান ফযিলত থেকে বঞ্চিত না হয়।" (৩)।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ৫৫৫, ৭৪২৯, ৭৪৮৬, ৭২২৩; মুসলিম ৬৩২; নাসায়ি ১/২৪০, ২৪১; আহমাদ ২/৪৮৬, ২৫৭, ৩৪৪; ইবনে হিব্বান ১৭৩৭; মালিক ১/১৭০ এবং বাগাউয়ি ৩৮০।

(২) হাশিয়াহ আশ-শিহাব ৭/৪৯৫।

(৩) ফাতহুল বারি ২/২৬।