(খণ্ড: ১) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: -)
الجامع لعلوم الإمام أحمد - علل الحديث   (أحمد بن حنبل)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: الجامع لعلوم الإمام أحمد - علل الحديث

الإمام: أبو عبد الله أحمد بن حنبل

المؤلف: إبراهيم النحاس

الناشر: دار الفلاح للبحث العلمي وتحقيق التراث، الفيوم - جمهورية مصر العربية

الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م

عدد الأجزاء: 22 (هذا القسم هو الجزآن 14 و 15 من الكتاب)

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 جُمادَى الأولى 1438

আল-জামি‘ লি-উলূমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস   (আহমাদ বিন হাম্বল)

বিভাগ: হাদীসের ত্রুটি ও প্রশ্নসমূহ


কিতাব: আল-জামি‘ লি-উলূমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস

ইমাম: আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বল

লেখক: ইব্রাহীম আন-নাহহাস

প্রকাশক: দারুল ফালাহ লীল-বাহসিল ইলমি ওয়া তাহকীকিত তুরাস, ফাইয়ুম - আরব প্রজাতন্ত্র মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২২ (এই অংশটি কিতাবটির ১৪ ও ১৫তম খণ্ড)

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাুন নুসাখ দল, (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)-এর তত্ত্বাবধানে

[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ জুমাদাল উলা ১৪৩৮

(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১)
مدونة الحنابلة (1)

 

الجامع لعلوم الإمام أحمد

 

تصنيف

إبراهيم النحاس

 

«قسم الحديث 1»

 

[المجلد الرابع عشر]
হানবালি সংকলন (১)

 

ইমাম আহমাদের ইলমসমূহের পূর্ণাঙ্গ সংকলন

 

সংকলনে

ইবরাহিম আন-নাহহাস

 

«হাদিস বিভাগ ১»

 

[চতুর্দশ খণ্ড]
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২)
جَمِيع الْحُقُوق مَحْفُوظَة لدار الْفَلاح وَلَا يجوز نشر هَذَا الْكتاب بِأَيّ صِيغَة أَو تَصْوِيره PDF إِلَّا بِإِذن خطي من صَاحب الدَّار الْأُسْتَاذ/ خَالِد الرِّبَاط

 

الطبعة الأولى

1430 هـ - 2009 م

 

رقم الْإِيدَاع بدار الْكتب

19194/ 2009

 

دَار الْفَلاح للبحث العلمي وَتَحْقِيق التراث

18 شَارِع أحمس - حَيّ الجامعة - الفيوم

ت: 01000059200

Kh_rbat@hotmail.com
দারুল ফালাহ-এর জন্য সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী উস্তাদ/ খালিদ আল-রিবাত-এর লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই কিতাবটি কোনো মাধ্যমেই প্রকাশ করা বা পিডিএফ (PDF) আকারে প্রতিলিপি করা অনুমোদিত নয়।

 

প্রথম সংস্করণ

১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

 

জাতীয় গ্রন্থাগারে জমাদান নম্বর

১৯১৯৪/ ২০০৯

 

বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ঐতিহ্য (তুরাছ) সম্পাদনার জন্য দারুল ফালাহ

১৮ আহমাস স্ট্রিট - ইউনিভার্সিটি ডিস্ট্রিক্ট - ফাইয়ুম

ফোন: ০১০০০০৫৯২০০

Kh_rbat@hotmail.com
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩)
الْجَامِعُ لِعُلوْم الإِمَامِ أَحْمد

[14]
ইমাম আহমাদের ইলমসমূহের সংকলন

[১৪]
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة دار الفلاح

الحمد للَّه رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الخلق أجمعين، ثم أما بعد،

فهذا قسم علوم الحديث عند الإمام أحمد بن حنبل من الموسوعة المباركة الجامعة لعلوم الإمام المبجل، وهي بالطبع لا تشتمل ما أسنده الإمام فهذا خارج نطاق هذه الموسوعة، وقد كنا عملنا على هذا القسم ولكن وجدنا الأخ الفاضل إبراهيم النحاس قد سبقنا فآثرنا إشراكه في العمل بدلا من تكرار الجهد، وقد قام -جزاه اللَّه خيرًا- بعمله بكفاءة، وإن كان عنده اختلاف يسير عن طريقتنا، فهو لا يلتزم هنا بذكر الراوي عن الإمام أحمد، وقد عالجنا هذا في بعض المواضع، كما أن الأمر واضح في بعض المواضع من المصدر، لكن هناك مواضع أخرى سيلزم الباحث الرجوع إلى المصدر الأصلي إذا كان في حاجة لاسم الراوي، كما أنه لم يلتزم وجود الراوي في المصدر الذي نقل منه، وهو ما التزمناه في باقي الموسوعة، ويلزم هنا أن أشير إلى أنَّ كثيرًا من المسائل الموجودة في هذا القسم تكررت في مواضع من قسم الفقه، وهو ما يجعل ذكر الراوي هنا أقل أهمية، كما زاد في الحاشية بعض التعليقات الفقهية، وهو ما لم نفعله في باقي العمل إلا نادرًا، وهناك اختلاف في أمور أخرى فنية أكثر منها علمية. وقد قمنا بتعديل معظم العزو إلى الطبعات المعتمدة عندنا، كما عدلنا ترتيب بعض المسائل، مع إضافات يسيرة.

وقد صدَّر الأخ إبراهيم عمله بمقدمة وضَّح فيها منهجه، وعرَّج على أمور ذات صلة بعلم الحديث، وأعطى لمحة عن منهج الإمام أحمد في الجرح والتعديل، ثم ذكر مصادر أقوال الإمام أحمد التي اعتمد عليها.
দারুল ফালাহ-এর ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিবর্গের প্রতি। অতঃপর,

এটি মহিমান্বিত ইমামের জ্ঞান-বিজ্ঞান সংবলিত বরকতময় বিশ্বকোষ থেকে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের হাদিস শাস্ত্রীয় জ্ঞান সম্পর্কিত অংশ। স্বাভাবিকভাবেই এতে ইমাম কর্তৃক বর্ণিত মুসনাদসমূহ (সূত্রবদ্ধ হাদিস) অন্তর্ভুক্ত নেই, কারণ তা এই বিশ্বকোষের পরিধির বাইরে। আমরা এই অংশের কাজ শুরু করেছিলাম, কিন্তু আমরা দেখলাম যে সম্মানিত ভাই ইবরাহিম আন-নাহহাস আমাদের আগেই এ কাজ করে ফেলেছেন। তাই প্রচেষ্টার পুনরাবৃত্তি না করে আমরা তাকেই এই কাজে শরিক করাকে শ্রেয় মনে করেছি। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তাঁর কাজ সম্পন্ন করেছেন—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন। যদিও আমাদের পদ্ধতির সাথে তাঁর সামান্য পার্থক্য রয়েছে; তিনি এখানে ইমাম আহমাদের থেকে বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেননি। আমরা কিছু স্থানে এটি সংশোধন করেছি, আবার কিছু স্থানে মূল উৎস থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট। তবে অন্যান্য কিছু স্থানের ক্ষেত্রে গবেষককে মূল উৎসের দিকে ফিরে যেতে হবে যদি তাঁর বর্ণনাকারীর নামের প্রয়োজন হয়। তদুপরি, তিনি যে উৎস থেকে উদ্ধৃত করেছেন সেখানে বর্ণনাকারীর উপস্থিতির ব্যাপারেও তিনি দায়বদ্ধ থাকেননি, যা আমরা বিশ্বকোষের বাকি অংশে বজায় রেখেছি। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এই অংশের অনেক মাসআলা ফিকহ অংশের বিভিন্ন স্থানে পুনরাবৃত্তি হয়েছে, যার ফলে এখানে বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা কম গুরুত্ববহ হয়ে পড়েছে। এছাড়া তিনি টীকায় কিছু ফিকহি মন্তব্য যোগ করেছেন, যা আমরা আমাদের কাজের বাকি অংশে খুব কমই করেছি। এছাড়া অন্যান্য কিছু কারিগরি বিষয়েও পার্থক্য রয়েছে যা তাত্ত্বিক বিষয়ের চেয়ে বেশি কৌশলগত। আমরা অধিকাংশ উদ্ধৃতি আমাদের নিকট অনুমোদিত সংস্করণ অনুযায়ী পরিমার্জন করেছি, পাশাপাশি সামান্য কিছু সংযোজনসহ কিছু মাসআলার বিন্যাসেও পরিবর্তন এনেছি।

ভাই ইবরাহিম তাঁর কাজের শুরুতে একটি ভূমিকা প্রদান করেছেন, যাতে তিনি তাঁর কর্মপদ্ধতি স্পষ্ট করেছেন এবং হাদিস শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন। এছাড়া তিনি জারহ ও তা'দিল (হাদিস বর্ণনাকারীর সমালোচনা ও গুণাগুণ বিচার) বিষয়ে ইমাম আহমাদের পদ্ধতির একটি রূপরেখা প্রদান করেছেন। অতঃপর তিনি ইমাম আহমাদের সেই সকল উক্তির উৎসসমূহ উল্লেখ করেছেন যার ওপর তিনি নির্ভর করেছেন।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬)
وقد زاد الباحثون بدار الفلاح على عمل الأخ إبراهيم: كتاب شرح الأحاديث والآثار، وكتاب علوم الحديث، ليتم النفع بهذا القسم من الموسوعة.

وأود أن أشير هنا إلى كتاب "الجامع لعلوم الحديث عند الحافظ ابن رجب" والذي جمعه الأخ/ جهاد المرشدي، وقمنا بمراجعته وإعادة ترتيبه وفهرسته؛ ليكون حلقة في سلسلة مع هذا القسم وغيره إن شاء اللَّه.

نسأل اللَّه التوفيق والسداد، وهو الهادي إلى سبيل الرشاد.

خالد الرباط
এবং দার আল-ফালাহ-এর গবেষকগণ ভাই ইব্রাহিমের কর্মের সাথে আরও যুক্ত করেছেন: 'শারহুল আহাদিস ওয়াল আসার' এবং 'উলূমুল হাদিস' গ্রন্থদ্বয়, যাতে বিশ্বকোষের এই অংশটির মাধ্যমে উপকার পূর্ণতা লাভ করে।

আর আমি এখানে 'আল-জামি লি-উলূমিল হাদিস ইনদাল হাফিজ ইবনে রজব' গ্রন্থটির প্রতি ইঙ্গিত করতে চাই, যা ভাই জিহাদ আল-মুরশিদি সংগ্রহ করেছেন এবং আমরা এটি পর্যালোচনা, পুনর্বিন্যাস ও সূচিবদ্ধ করেছি; যেন তা ইনশাআল্লাহ এই বিভাগ ও অন্যান্য বিভাগের সাথে একটি ধারাবাহিকের যোগসূত্র হতে পারে।

আমরা আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করি, আর তিনিই সঠিক পথের দিশারী।

খালিদ আল-রিবাত
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة المؤلف "إبراهيم النحاس"

الحمد للَّه بارئ البريات وغافر الخطيئات، المطلع على الضمائر والنيات، أحاط بكل شيء علمًا، ووسع كل شيء رحمة وحلمًا، وقهر كل مخلوق عزة وحكمة، لا تدركه الأبصار، ولا تغيره الأعصار، ولا تتوهمه الأفكار، وأتقن ما صنع وأحكمه، وأحصى كل شيء وعلمه، ورفع قدر العلم وعظمه، وخص به من خلقه من كرمه، وحض عباده المؤمنين على النفير للتفقه في الدين، وندبهم إلى إنذار بريته، كما ندب إلى ذلك أهل رسالته، ومنحهم ميراث أهل نبوته، ورضيهم للقيام بحجته، والنيابة عنه في الإخبار بشريعته، واختصهم من بين عباده بخشيته.

ثم أمر سائر الناس بسؤالهم والرجوع إلى أقوالهم، وجعل علامة زيغهم وضلالهم ذهاب علمائهم.

فمن هؤلاء العلماء العاملين الإمام أحمد بن محمد بن حنبل رحمه الله مفتي الأمة، خصه اللَّه بالفضل الوافر، والخاطر العاطر، والعلم الكامل، طنت بذكره الأمصار، وضنت بمثله الأعصار، من أوفاهم فضيلة وأتبعهم لرسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وأعلمهم به وأزهدهم في الدنيا وأطوعهم لربه.

قال ابن القيم (1): كان بمدينة السلام إمام أهل السنة على الإطلاق أحمد ابن حنبل الذي ملأ الأرض علمًا وحديثًا وسنة، حتى أن أئمة الحديث والسنة بعده هم أتباعه إلى يوم القيامة، وكان رضي الله عنه شديد الكراهة لتصنيف الكتب وكان يحب تجريد الحديث، ويكره أن يكتب كلامه ويشتد عليه جدًّا، فعلم اللَّه

--------------------------------------------

(1) "إعلام الموقعين" (1/ 28) بتصرف.
লেখক "ইব্রাহিম আন-নাহহাস"-এর ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির নির্মাতা এবং গুনাহসমূহ ক্ষমাশীল, যিনি গোপন রহস্য ও নিয়ত সম্পর্কে সম্যক অবগত, তিনি স্বীয় জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন এবং দয়া ও সহনশীলতা দ্বারা সবকিছুকে ব্যাপ্ত করেছেন। তিনি আপন মর্যাদা ও হিকমত দ্বারা প্রতিটি মাখলুককে পরাভূত করেছেন। দৃষ্টিসমূহ তাঁকে প্রত্যক্ষ করতে পারে না, মহাকাল তাঁকে পরিবর্তিত করতে পারে না এবং কোনো চিন্তা-কল্পনা তাঁকে ধারণ করতে পারে না। তিনি যা নির্মাণ করেছেন তা অত্যন্ত নিপুণ ও সুদৃঢ় করেছেন, সবকিছু গণনা করেছেন ও তা পরিজ্ঞাত হয়েছেন। তিনি ইলমের মর্যাদাকে উচ্চ ও মহান করেছেন এবং তাঁর অনুগ্রহের মধ্য দিয়ে সৃষ্টির মধ্য হতে বিশেষ ব্যক্তিবর্গকে এর জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য বেরিয়ে পড়ার তাগিদ দিয়েছেন এবং তাঁর মাখলুককে সতর্ক করার জন্য তাঁদেরকে উৎসাহিত করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর রাসূলগণের ক্ষেত্রে করেছিলেন। তিনি তাঁদেরকে নবীদের উত্তরাধিকার দান করেছেন, স্বীয় প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁদের পছন্দ করেছেন, তাঁর শরীয়ত সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদেরকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং আপন বান্দাদের মধ্য থেকে শুধুমাত্র তাঁদেরকেই তাঁর ভীতির জন্য খাস করেছেন।

অতঃপর তিনি অবশিষ্ট মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করতে এবং তাঁদের বক্তব্যের দিকে ফিরে আসতে। আর আলেমদের তিরোধানকে তিনি মানুষের বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতার নিদর্শন সাব্যস্ত করেছেন।

এই সকল আমলকারী আলেমদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন), যিনি উম্মতের মুফতি। আল্লাহ তাঁকে প্রচুর ফযীলত, সুগন্ধিময় হিতাকাঙ্ক্ষা এবং পূর্ণাঙ্গ ইলম দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। সকল জনপদে তাঁর আলোচনা ধ্বনিত হয়েছে এবং মহাকাল তাঁর ন্যায় দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির দানে কার্পণ্য করেছে। তিনি ছিলেন তাঁদের মাঝে সর্বাপেক্ষা কামেল মর্যাদাসম্পন্ন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বাধিক অনুসারী, তাঁর সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, দুনিয়াবিমুখ এবং স্বীয় রবের সর্বাধিক অনুগত।

ইবনুল কায়্যিম (১) বলেছেন: মদিনাতুস সালামে (বাগদাদে) নিরঙ্কুশভাবে আহলে সুন্নাহর ইমাম ছিলেন আহমদ বিন হাম্বল, যিনি জমিনকে ইলম, হাদীস ও সুন্নাহ দ্বারা পূর্ণ করে দিয়েছিলেন। এমনকি তাঁর পরবর্তী সুন্নাহ ও হাদীসের ইমামগণ কিয়ামত পর্যন্ত তাঁরই অনুসারী। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কিতাব সংকলন করাকে অত্যন্ত অপছন্দ করতেন এবং শুধুমাত্র হাদীস সংরক্ষণ করতে পছন্দ করতেন। তিনি তাঁর নিজের কথা লিখে রাখাকে অপছন্দ করতেন এবং এটি তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুতর মনে হতো। অতঃপর আল্লাহ অবগত হলেন...

--------------------------------------------

(১) "ইলামুল মুওয়াক্কিঈন" (১/ ২৮), পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৮)
حسن نيته وقصده من كلامه، وفتواه أكثر من ثلاثين سفرًا، ومَنَّ اللَّه سبحانه علينا بأكثرها فلم يفتنا منها إلا القليل، وجمع الخلال نصوصه في "الجامع الكبير" فبلغ نحو عشرين سفرًا أو أكثر، ورويت فتاويه ومسائله، وحُدِّثَ بها قرنًا بعد قرن، فصارت إمامًا وقدوة لأهل السنة على اختلاف طبقاتهم، حتى أن المخالفين لمذهبه بالاجتهاد والمقلدين لغيره ليعظمون نصوصه وفتاواه، ويعرفون لها حقها وقربها من النصوص وفتاوى الصحابة، ومن تأمل فتاواه وفتاوى الصحابة رأى مطابقة كل منها على الأخرى، ورأى الجميع كأنها تخرج من مشكاه واحدة، حتى أن الصحابة إذا اختلفوا على قولين جاء عنه في المسألة روايتان، وكان تحريه لفتاوى الصحابة كتحري أصحابه لفتاويه ونصوصه، بل أعظم، حتى أنه ليقدم فتاواهم على الحديث المرسل، قال إسحاق بن إبراهيم ابن هانئ في "مسائله": قلت لأبي عبد اللَّه: حديث عن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم مرسل برجال ثبت أحب إليك أو حديث عن الصحابة والتابعين متصل برجال ثبت؟ قال: أبو عبد اللَّه رحمه الله: عن الصحابة أعجب إليّ.

قلت: مما يدل على شدة تمسك الإمام أحمد بالحديث والآثار، فقد ذكر عبد اللَّه في "مسائله" (1) لأبيه قال: سمعت أبي -وذكر وضع الكتب فقال: أكرهها؛ هذا أبو حنيفة وضع كتابًا فجاء أبو يوسف ووضع كتابًا وجاء ابن الحسن فوضع كتابًا، فهذا لا انقضاء له، كلما جاء رجل وضع كتابًا، وهذا مالك وضع كتابًا، وجاء الشافعي أيضًا، وجاء هذا -يعني: أبا ثور- وهذِه الكتب وضعها بدعة، كلما جاء رجل وضع كتابًا، ويترك حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وأصحابه. أو كما قال أبي هذا أو نحوه.

--------------------------------------------

(1) "مسائل عبد اللَّه" (437).
তাঁর নিয়তের বিশুদ্ধতা, তাঁর বাণীর উদ্দেশ্য এবং তাঁর ফতোয়া ত্রিশ খণ্ডেরও অধিক। আল্লাহ পবিত্র ও মহান আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, এর অধিকাংশই আমরা পেয়েছি এবং খুব সামান্যই আমাদের হাতছাড়া হয়েছে। আল-খাল্লাল তাঁর সকল বক্তব্যকে 'আল-জামেউল কাবীর'-এ সংকলন করেছেন, যা প্রায় বিশ খণ্ড বা তারও বেশি। তাঁর ফতোয়া ও মাসআলাসমূহ বর্ণিত হয়েছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তা পঠিত হয়ে আসছে। ফলে তা আহলে সুন্নাতের সকল স্তরের মানুষের জন্য এক ইমাম ও আদর্শে পরিণত হয়েছে। এমনকি যারা ইজতিহাদের ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাবের বিরোধী এবং যারা অন্যের অনুসারী, তারাও তাঁর বক্তব্য ও ফতোয়াকে অত্যন্ত সম্মান করে। তারা এর যথার্থতা এবং মূল পাঠ ও সাহাবীদের ফতোয়ার সাথে এর নৈকট্য সম্পর্কে অবগত। কেউ যদি তাঁর ফতোয়া এবং সাহাবীদের ফতোয়া নিয়ে চিন্তা করে, তবে সে উভয়ের মধ্যে পূর্ণ সামঞ্জস্য দেখতে পাবে এবং মনে হবে যেন সব একই উৎস থেকে নির্গত হয়েছে। এমনকি সাহাবীগণ যদি কোনো বিষয়ে দুটি মতে বিভক্ত হতেন, তবে তাঁর থেকেও সে বিষয়ে দুটি বর্ণনা পাওয়া যেত। সাহাবীদের ফতোয়া অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে তাঁর সতর্কতা ছিল তাঁর অনুসারীদের কর্তৃক তাঁর ফতোয়া ও বক্তব্য অনুসন্ধানের চেয়েও বেশি, বরং তার চেয়েও মহান। এমনকি তিনি সাহাবীদের ফতোয়াকে মুরসাল হাদীসের ওপর প্রাধান্য দিতেন। ইসহাক বিন ইব্রাহিম ইবন হানি তাঁর 'মাসাইল'-এ বলেছেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে বললাম: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে বর্ণিত আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন) মুরসাল হাদীস আপনার কাছে অধিক প্রিয়, নাকি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে বর্ণিত সাহাবী ও তাবেয়ীদের মুত্তাসিল (সংযুক্ত) বর্ণনা? আবু আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বললেন: সাহাবীদের থেকে বর্ণিতটিই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়।

আমি বলছি: ইমাম আহমাদ কর্তৃক হাদীস ও আসারকে (পূর্বসূরীদের বাণী) দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার একটি অন্যতম প্রমাণ হলো—আব্দুল্লাহ তাঁর পিতার 'মাসাইল'-এ (১) উল্লেখ করেছেন যে: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি—তিনি বই রচনা করার বিষয়টি উল্লেখ করে বললেন: আমি একে অপছন্দ করি; এই যে আবু হানিফা একটি বই রচনা করলেন, এরপর আবু ইউসুফ এসে একটি বই রচনা করলেন, তারপর ইবনুল হাসান এসে একটি বই রচনা করলেন। এর তো কোনো শেষ নেই, যখনই কেউ আসে একটি বই রচনা করে। এই যে মালিক একটি বই রচনা করলেন, শাফেয়ীও এলেন, এবং তিনিও (অর্থাৎ আবু সাওর) এলেন। এই বইগুলো রচনা করা হলো নব উদ্ভাবন (বিদআত)। যখনই কেউ আসে একটি বই রচনা করে এবং আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন) ও তাঁর সাহাবীদের হাদীস বর্জন করা হয়। অথবা আমার পিতা এমনটি বা এর কাছাকাছি কিছু বলেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) "আব্দুল্লাহর মাসাইল" (৪৩৭)।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৯)
وعاب وضع الكتب وكرهه كراهية شديدة، وكان أبي يكره "جامع سفيان" وينكره، ويكرهه كراهية شديدة، وقال: من سمع هذا من سفيان؟ ولم أره يصحح لأحد سمعه من سفيان ولم يرض أبي أن يسمع من أحد حديثًا.

اعلم أن من أهم مباحث هذا العلم وأشدها تعليقًا بتحصيل الغاية المنشودة من علم الحديث معرفة علل الأحاديث، وهو فن دقيق؛ إذ به ينكشف مداخل الوهم والخطأ في مرويات الثقات الغالب على نقولهم السلامة والاستقامة، ولدقته لم يتحقق إلا لزمرة يسيرة من العلماء صاروا بذلك أئمة يُقتدى بهم، وحجة يرجع إليهم.

وإن استمداد هذا العلم الشريف من كلام هؤلاء الأئمة ومناهجهم، وبمطالعة ذلك وتدبره يحصل لطالب علم الحديث أهلية الكلام في هذا الفن الدقيق.

قال الحافظ ابن رجب رحمه الله: ولا بد في هذا العلم من طول الممارسة، وكثرة المذاكرة، فإذا عدمت المذاكرة به فليكثر طالبه المطالعة في كلام الأئمة العارفين كيحيى القطان، ومن تلقى عنه كأحمد، وعلي بن المديني وغيرهم، فمن رزق مطالعة ذلك وفهمه وتفقهت نفسه فيه؛ صارت له قوة نفس وملكة، صلح له أن يتكلم فيه (1).

ورحم اللَّه أبا عبد اللَّه على شدة تمسكه بالأحاديث والآثار وترك ما دونها من الأخبار؛ فلذلك وقع أختيارنا على أقواله في الحكم على الأحاديث، فهو فيه سابق فرسانه، وفي الفقه سابق ميدانه، وأعلم الناس بالفتيا في زمانه، ويندر أن يسمح الزمان بمثله.

--------------------------------------------

(1) نقلا عن كتاب "إعلال الحديث عند الإمام أحمد" للدكتور/ البشير.
তিনি বই সংকলন করার বিষয়টিকে দোষারোপ করতেন এবং এটিকে তীব্রভাবে অপছন্দ করতেন। আমার পিতা 'জামে সুফিয়ান' অপছন্দ করতেন এবং এটি প্রত্যাখ্যান করতেন, আর এটি তিনি অত্যন্ত তীব্রভাবে অপছন্দ করতেন। তিনি বলতেন: "কে এটি সুফিয়ান থেকে শুনেছে?" আমি তাকে দেখিনি যে তিনি সুফিয়ান থেকে কারো শ্রবণকে সঠিক বলে গণ্য করেছেন, এবং আমার পিতা কারো কাছ থেকে হাদীস শুনতে সম্মত হননি।

জেনে রাখুন যে, হাদীস বিজ্ঞানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (ইল্লাল) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। এটি একটি সূক্ষ্ম শিল্প; কারণ এর মাধ্যমেই বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় বিভ্রান্তি ও ভুলের অনুপ্রবেশ উন্মোচিত হয়, যাদের বর্ণনা সাধারণত ত্রুটিমুক্ত ও সঠিক হয়ে থাকে। এর সূক্ষ্মতার কারণে এটি কেবল একদল স্বল্পসংখ্যক আলিমের পক্ষেই অর্জন করা সম্ভব হয়েছে, যারা এর মাধ্যমে অনুসরণযোগ্য ইমাম এবং এমন দলিলে পরিণত হয়েছেন যাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়।

আর এই মহান শাস্ত্রের বুৎপত্তি ঘটে এই ইমামগণের বাণী ও তাঁদের কর্মপদ্ধতি থেকে। এগুলো অধ্যয়ন ও গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে একজন হাদীস শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর মনে এই সূক্ষ্ম শিল্পে কথা বলার যোগ্যতা তৈরি হয়।

হাফেজ ইবনে রজব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: "এই শাস্ত্রে দীর্ঘ অনুশীলন এবং অধিক আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং যখন আলোচনার সুযোগ না থাকে, তখন শিক্ষার্থীর উচিত প্রাজ্ঞ ইমামগণের বাণীর অধিক অধ্যয়ন করা, যেমন ইয়াহইয়া আল-কাত্তান এবং যারা তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন যেমন আহমদ, আলী ইবনুল মাদিনী এবং অন্যান্যগণ। অতএব, যাকে এই সবের অধ্যয়ন, অনুধাবন এবং তাতে প্রজ্ঞা দান করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি আত্মিক শক্তি ও বিশেষ যোগ্যতা তৈরি হয়, ফলে তার জন্য এই বিষয়ে কথা বলা সমীচীন হয় (১)।"

আল্লাহ আবু আব্দুল্লাহর ওপর রহমত বর্ষণ করুন হাদীস ও আছারের প্রতি তাঁর কঠোর আনুগত্য এবং এ ছাড়া অন্যান্য সংবাদের বর্জনের কারণে; এই কারণেই হাদীসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা তাঁর বক্তব্যসমূহকে নির্বাচন করেছি। তিনি এই ক্ষেত্রে তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে অগ্রগামী অশ্বারোহী এবং ফিকহ শাস্ত্রে নিজ ময়দানের অগ্রপথিক ছিলেন। তিনি তাঁর যুগের ফতোয়া প্রদানকারীগণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন এবং সময়ের আবর্তনে তাঁর মতো মানুষের আগমন বিরল।

--------------------------------------------

(১) ডক্টর আল-বাশীর রচিত ‘ইলালুল হাদীস ইনদাল ইমাম আহমদ’ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১০)
وهو من خير القرون المشهود لها، فقد زكى النبي صلى الله عليه وسلم القرون الأولى فقال: "خَيْرُ القُرُونِ قَرْنِي ثُمَّ الذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ"، وأيضا ذم القرون بعد ذلك فقال: "مَا يَأْتِي زَمَانٌ إِلَّا الذِي بَعْدَهُ شَرٌّ مِنْهُ".

لذلك فقد قمت بعون اللَّه وقوته بجمع أقوال الإمام أحمد رحمه الله على الأحاديث، ليعلم ذلك من اقتفى آثاره، وأُبين كثيرًا لمن أراد مذهبه واختاره.

وأشير إلى قوله على سبيل الاختصار، وأعزو ما أمكنني عزوه من الأخبار إلى كتب الأئمة من علماء الآثار؛ لتحصل الثقة بمدلولها، والتمييز بين صحيحها ومعلولها.
আর তিনি ছিলেন সাক্ষ্যপ্রাপ্ত সর্বোত্তম প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমদিকের প্রজন্মগুলোর প্রশংসা করে বলেছেন: "সর্বোত্তম প্রজন্ম হলো আমার যুগ, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী", এবং তিনি পরবর্তী যুগগুলোর নিন্দা করে বলেছেন: "এমন কোনো কাল আসে না যার পরবর্তী কালটি তার চেয়ে নিকৃষ্ট নয়।"

সে কারণেই আমি আল্লাহর সাহায্য ও সামর্থ্যে হাদিসের ওপর ইমাম আহমাদ রহমতুল্লাহি আলাইহির উক্তিগুলো সংকলন করেছি; যাতে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণকারীরা তা জানতে পারে এবং যারা তাঁর মাযহাব জানতে ও গ্রহণ করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য অনেক কিছুই স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারি।

আমি সংক্ষেপে তাঁর উক্তিগুলো নির্দেশ করছি এবং খবর বা বর্ণনাগুলোকে যথাসম্ভব আছার (বর্ণনা) বিশেষজ্ঞ ইমামগণের কিতাবসমূহের দিকে সম্বন্ধ করছি; যাতে সেগুলোর অর্থের ওপর আস্থা অর্জিত হয় এবং সহিহ ও ত্রুটিযুক্ত বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করা যায়।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌منهجي في البحث

التزمت في بحثي قدر الاستطاعة المنهج التالي:

- الأحاديث المذكورة كلها على الرفع أو لمن كان في حكم الرفع، إلا ما استثني من أقوال الصحابة في التفسير والفتن كعمل الصحيحين أحيانًا.

- أعرضت عن قوله رحمه الله على الأحاديث بلفظ: أذهب إليه، أو أحتج به، أو عليه العمل عندنا، أو ما شابه ذلك؛ لأن الغالب عليها عند الإمام أحمد الناحية الفقهية إلا إذا احتاج إليه المقام فأذكره وأنبه عليه.

- قد يكون الحديث ثابتًا صحيحًا، بل في الصحيحين وإنما المنتقد السند المذكور، فأبينه وأذكر البديل الصحيح.

- لم أتعرض للأحاديث بكل طرقها، وإنما فقط على أقوال الإمام أحمد في الأسانيد المذكورة، كشأن أهل العلل في هذا الفن.

- إذا كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما وقام الإمام أحمد بتصحيحه، فلا أذكره إلا إذا احتاج إليه المقام، وأما إذا تكلم فيه بقدح فأقوم بذكره.

- الطرق التي ذكرتها في التخريج هي نفس الطرق التي ذكرها الإمام أحمد على هذا المتن، فقد تجد في التخريج: "لم أقف عليه"؛ أي: من الطرق التي ذكرها الإمام أحمد، وقد يكون المتن محفوظًا.

- قمت بترتيب الأبواب ترتيبًا فقهيًا مستعينًا بطريقة صاحبي الصحيح، حتى فيما صدرت به الباب.

- قد أتعرض لبعض المسائل الفقهية في بعض الأبواب في الحاشية؛ لإتمام الفائدة وزيادة النفع.
গবেষণায় আমার পদ্ধতি

আমি আমার গবেষণায় যথাসম্ভব নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

- উল্লিখিত হাদীসসমূহ সবই মারফু অথবা যা মারফু-এর হুকুমভুক্ত, তবে সাহাবীগণের ওইসব উক্তি ব্যতীত যা তাফসীর ও ফিতনা (বিপর্যয়) সম্পর্কিত, যেমনটি কখনো কখনো দুই সহীহ গ্রন্থে করা হয়েছে।

- আমি হাদীসের ওপর তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) এই ধরণের উক্তিগুলো বর্জন করেছি: "আমি এই মত গ্রহণ করি", বা "আমি এর মাধ্যমে দলিল পেশ করি", বা "আমাদের নিকট এর ওপর আমল বিদ্যমান", অথবা এই জাতীয় শব্দ; কারণ ইমাম আহমাদের নিকট এগুলোর বেশিরভাগই ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, তবে ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োজন হলে আমি তা উল্লেখ করেছি এবং সে বিষয়ে সতর্ক করেছি।

- হাদীসটি হয়তো সুপ্রতিষ্ঠিত ও সহীহ, এমনকি তা দুই সহীহ গ্রন্থেও থাকতে পারে, কিন্তু কেবল উল্লিখিত সানাদটি (বর্ণনাসূত্র) সমালোচিত হতে পারে; তাই আমি সেটি স্পষ্ট করেছি এবং এর সঠিক বিকল্প উল্লেখ করেছি।

- আমি হাদীসের সকল সূত্রের ওপর আলোকপাত করিনি, বরং কেবল উল্লিখিত সানাদগুলোর ব্যাপারে ইমাম আহমাদের উক্তিগুলোর ওপর নির্ভর করেছি, যেমনটি এই শিল্পের ইল্লাত (ত্রুটি) বিশেষজ্ঞগণ করে থাকেন।

- যদি হাদীসটি দুই সহীহ গ্রন্থে বা এর কোনো একটিতে থাকে এবং ইমাম আহমদ সেটি সহীহ বলে গণ্য করেন, তবে আমি তা উল্লেখ করিনি যদি না ক্ষেত্রবিশেষে তার প্রয়োজন হয়। আর যদি তিনি তাতে কোনো সমালোচনা করেন, তবে আমি তা উল্লেখ করেছি।

- তাখরীজের (উৎস নির্ণয়) ক্ষেত্রে আমি সেই সব সূত্রই উল্লেখ করেছি যা ইমাম আহমদ এই মাতনের (মূল পাঠ) ওপর উল্লেখ করেছেন। তাই আপনি হয়তো তাখরীজে পাবেন: "আমি এটি খুঁজে পাইনি"; অর্থাৎ ইমাম আহমদ কর্তৃক উল্লিখিত সূত্রগুলোর মধ্যে তা পাইনি, অথচ মাতনটি হয়তো সংরক্ষিত বা সহীহ হতে পারে।

- আমি দুই সহীহ গ্রন্থের রচয়িতাগণের পদ্ধতি অনুসরণে অধ্যায়গুলোকে ফিকহী ক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি, এমনকি অধ্যায়ের শিরোনাম বা প্রারম্ভিক আলোচনার ক্ষেত্রেও।

- ফায়দা পূর্ণ করতে এবং উপকারিতা বাড়াতে আমি কিছু অধ্যায়ের পাদটীকায় কিছু ফিকহী মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১২)
- قام الإخوة بدار الفلاح بمراجعة الكتاب مع بعض الإضافات القليلة على ما جمعتُه، مع تعديل بعضها، كما زادوا كتابين في آخر الكتاب، أحدهما ما ورد عن الإمام أحمد في غريب الحديث، والآخر ما ورد عن الإمام أحمد في علوم الحديث، فزادت الفائدة وكمل المراد إن شاء اللَّه.

واللَّه أسأل أن ينفع به من كتبه، أو قرأه، أو حصله، أو سعى في شيء منه، واللَّه يعصمنا من الزلل، ويوفقنا في القول والعمل.

ثم أعتذر لذوي الألباب، من التقصير الواقع في هذا الكتاب، وأسألهم أن ينظروا بعين الرضا والصواب، فما كان من نقص كملوه، ومن خطأ أصلحوه، فقلما يخلص مُصنف من الهفوات أو ينجو من العثرات.

واللَّه أسأل صفحًا جميلًا، وعفوًا كثيرًا، وأن يتجاوز عن التقصير والنسيان، والحمد للَّه ولي الإنعام، وصلى اللَّه على من هو للأنبياء ختام، وعلى آله سُرج الظلام، وعلى أصحابه الغر الكرام.

كتبه: أبو معاذ إبراهيم بن محمد بن محمد السيد المشهور بـ / إبراهيم النحاس
দার আল-ফালাহ-এর ভাইয়েরা আমার সংকলিত বিষয়ের ওপর সামান্য কিছু সংযোজন এবং কিছু পরিমার্জন সহকারে বইটি পর্যালোচনা করেছেন। এছাড়াও তারা বইটির শেষে আরও দুটি বই যুক্ত করেছেন: একটি হলো 'গারীবুল হাদীস' (হাদীসের দুর্লভ শব্দাবলি) বিষয়ে ইমাম আহমাদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে এবং অন্যটি হলো 'উলূমুল হাদীস' (হাদীস বিজ্ঞান) বিষয়ে ইমাম আহমাদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে। এর ফলে উপকারিতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়েছে।

আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে তাকে উপকৃত করেন যে এটি লিখেছে, অথবা পড়েছে, অথবা সংগ্রহ করেছে, কিংবা এর কোনো কাজে সচেষ্ট হয়েছে। আল্লাহ আমাদের ভুলভ্রান্তি থেকে রক্ষা করুন এবং কথা ও কাজে আমাদের তাওফীক দান করুন।

অতঃপর আমি এই বইটিতে ঘটে যাওয়া ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য প্রজ্ঞাবানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি তাদের কাছে অনুরোধ করি যেন তারা সন্তুষ্টি ও শুদ্ধির দৃষ্টিতে এটি দেখেন। সুতরাং এতে যা কিছু অসম্পূর্ণতা রয়েছে তা যেন তারা পূর্ণ করে দেন এবং কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করে দেন। কেননা খুব কম লেখকই ভুলভ্রান্তি থেকে মুক্ত থাকতে পারেন বা স্খলন থেকে রক্ষা পান।

আর আমি আল্লাহর কাছে সুন্দর ক্ষমা ও প্রচুর মার্জনা প্রার্থনা করছি, এবং প্রার্থনা করছি যেন তিনি ত্রুটি ও বিস্মৃতি ক্ষমা করে দেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সকল নিয়ামতের মালিক। আর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যিনি নবীদের পরিসমাপ্তি, এবং তাঁর পরিবারের ওপর যারা অন্ধকারের প্রদীপ স্বরূপ, আর তাঁর মহৎ ও সম্মানিত সাহাবীবর্গের ওপর।

এটি লিখেছেন: আবু মুআয ইব্রাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ, যিনি ইব্রাহীম আন-নাহহাস নামে পরিচিত।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌منهج الإمام أحمد وإطلاقاته في الجرح والتعديل

الإمام أحمد رحمه الله رباني الأمة في وقته وعالمها وفقيهها وحافظها وعابدها وزاهدها، وشهرة فضائله ومناقبه تغني عن الإطالة فيها، وقد أفرد العلماء التصانيف لمناقبه؛ فمنهم من طول ومنهم من قصر، ومن أراد المزيد فليراجع ترجمته مبسوطة في المصادر المعروفة. وما يهمنا هنا هو منهجه ومعرفة مخارج إطلاقاته التي عرفها أصحابه وسار عليها هذا الإمام رحمه الله.

كما هو معروف أن منهج الإمام أحمد في المسائل الفقهية يعتمد على الكتاب والسنة والإجماع وعمل الصحابة والتابعين.

فالإمام أحمد كثيرًا ما يعتمد في منهجه على العمل بالحديث وإن لم يصح. وقد قال ابن رجب وابن تيمية وغيرهما: إن الإمام أحمد يأخذ بالحديث الضعيف إن لم يكن في الباب غيره أحب إليه من الرأي، وهذا ظاهر.

ولكني وجدت من خلال الاستقراء والتتبع لكتب الإمام أحمد أنه رحمه الله قد يأخذ بالحديث الضعيف على العمل الفقهي، وإن كان في الباب حديث صحيح فيأخذ به أيضًا ويكون له في ذلك روايتان.

قال الخلال (1): وأبو عبد اللَّه يحتاج من يقلد مذهبه أن يعرفه من رواية جماعة؛ لأنه ربما روى عنه المسألة الواحدة جماعة حتى يصبح قوله فيها العشرة ونحوهم؛ لأنه ربما يسأله عن المسألة الواحدة جماعة حتى يقول لا أدري وإنما يعني: لا أدري ما أختار، ويسأل عن تلك بعينها، فيجيب بالاختلاف لمن قال لا ونعم، ولا ينفذ له قول، ويسأل عن تلك المسألة

--------------------------------------------

(1) "أحكام أهل الملل" (1/ 214).
ইমাম আহমাদ-এর মানহাজ এবং জারহ ও তা'দীলের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যবহৃত পরিভাষাসমূহ

ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সময়ের উম্মতের রাব্বানী, আলিম, ফকিহ, হাফিজ, আবিদ এবং যাহিদ ছিলেন। তাঁর ফযীলত ও গুণাবলির প্রসিদ্ধি এতই বেশি যে এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন নেই। উলামায়ে কিরাম তাঁর গুণাবলির ওপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন; তাঁদের কেউ তা দীর্ঘ করেছেন, আবার কেউ সংক্ষেপ করেছেন। আর যারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান, তারা সুপরিচিত উৎসগুলোতে তাঁর বিস্তারিত জীবনী দেখে নিতে পারেন। আমাদের জন্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাঁর মানহাজ (পদ্ধতি) এবং তাঁর ব্যবহৃত পরিভাষাসমূহ অনুধাবন করা, যা তাঁর সাথীরা জানতেন এবং এই ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) যার ওপর পরিচালিত হতেন।

যেমনটি সুপরিচিত যে, ফিকহী মাসআলার ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ-এর মানহাজ কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের আমলের ওপর নির্ভরশীল।

ইমাম আহমাদ তাঁর মানহাজে প্রায়শই হাদীসের ওপর আমল করার ওপর নির্ভর করতেন, যদিও তা সহীহ না হয়। ইবন রাজাব, ইবন তাইমিয়্যাহ এবং অন্যান্যরা বলেছেন: ইমাম আহমাদ যঈফ হাদীস গ্রহণ করেন যদি সেই অধ্যায়ে অন্য কিছু না থাকে, যা তাঁর কাছে রায়ের (ব্যক্তিগত মতামত) চেয়ে অধিক পছন্দনীয়। আর এটি সুস্পষ্ট।

কিন্তু আমি ইমাম আহমাদ-এর কিতাবসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে পেয়েছি যে, তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) কখনো কখনো ফিকহী আমলের ক্ষেত্রে যঈফ হাদীস গ্রহণ করেন, যদিও সেই অধ্যায়ে সহীহ হাদীস বিদ্যমান থাকে; এমতাবস্থায় সে বিষয়ে তাঁর থেকে দুটি বর্ণনা পাওয়া যায়।

আল-খাল্লাল (১) বলেছেন: আর আবু আব্দুল্লাহর (ইমাম আহমাদ) মাযহাব যারা অনুসরণ করে, তাদের জন্য আবশ্যক হলো একদল রাবীর বর্ণনা থেকে তা জানা; কারণ সম্ভবত একই মাসআলায় একদল লোক তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে তাতে তাঁর বক্তব্য দশটি বা তার কাছাকাছি হয়ে যায়। কারণ সম্ভবত একই মাসআলা সম্পর্কে একদল লোক তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছেন, তখন তিনি বলতেন 'আমি জানি না'। এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো: আমি জানি না কোনটি আমি পছন্দ করব। অতঃপর সেই একই মাসআলা সম্পর্কে পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি যারা 'না' অথবা 'হ্যাঁ' বলেছে তাদের মতভেদের প্রেক্ষিতে উত্তর দিতেন, এবং কোনো একটি বক্তব্য তিনি চূড়ান্ত করতেন না। আর যখন সেই মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়...

--------------------------------------------

(১) "আহকামু আহলিল মিলাল" (১/ ২১৪)।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৪)
أيضًا في وقت آخر، فيحتج للجميع ويعلق مذهبه، ويسأل عن تلك أيضًا في وقت، فيجيب بمذهبه من غير احتجاج للمسألة إذا كان قد تبين له الأمر فيها، ويسأل عن تلك أيضًا ويحتج عليه، ويسأل عن مذهبه وعن الشيء ذهب إليه، فيجيبهم فيصبح مذهبه في تلك المسألة في ذلك الوقت وفي مسائله رحمه الله مسائل يحتاج الرجل أن يتفهمها ولا يعجل، وهو قد قال: ربما بقيت في المسألة ذكر بعضهم من العشر سنين إلى الثلاث سنين. بينت هذا كله في هذا الموضوع. أعني: لمن يقلد من مذهب أبي عبد اللَّه شيئًا ألا يتعجل وأن يستثبت.

ونفعنا اللَّه وإياكم، ونسأله التوفيق فإنه لطيف.

فقد كان أبو عبد اللَّه رجلا لا يذهب إلا في الكتاب والسنة وقول الصحابة والتابعين وكان يحب السلامة والتثبت فيما يقول ويدفع الجواب فإذا أجاب لم يجب إلا بما صح.

قلت: منهج الإمام أحمد في المسائل الفقهية يعتمد على الكتاب والسنة والإجماع وعمل الصحابة والتابعين.

فهو كثيرًا ما يعتمد في منهجه على العمل بالحديث وإن لم يصح.

قال الأثرم: كان أبو عبد اللَّه، ربما كان الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم وفي إسناده شيء، فيأخذ به إذا لم يجئ خلافه أثبت منه مثل حديث عمرو بن شعيب وإبراهيم الهجري، وربما أخذ بالحديث المرسل إذا لم يجئ خلافه.

ذكر ابن رجب في "شرح علل الترمذي" (1) قال: ظاهر كلام أحمد أن المرسل عنده هو نوع الضعيف، لكنه يأخذ بالحديث إذا كان فيه ضعف ما لم يجئ عن النبي صلى الله عليه وسلم خلافه أو عن الصحابة.

--------------------------------------------

(1) (213 - 313).
অন্য এক সময়ে তিনি সবার জন্য দলিল পেশ করতেন এবং নিজের মাজহাব উল্লেখ করতেন। আবার কখনও তাঁকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, যদি বিষয়টি তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়ে থাকত, তবে দলিল পেশ ছাড়াই নিজের মাজহাব অনুযায়ী উত্তর দিতেন। আবার তাঁকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো এবং তাঁর বিরুদ্ধে দলিল পেশ করা হতো, তখন তিনি নিজের মাজহাব ও যে মতের দিকে তিনি গিয়েছেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে তাঁদের উত্তর দিতেন। ফলে সেই সময়ে সেই মাসআলায় তাঁর মাজহাব এবং তাঁর অন্যান্য মাসআলাসমূহ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—এমন মাসআলা হয়ে দাঁড়াত যা একজন মানুষের অনুধাবন করার প্রয়োজন এবং তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। তিনি নিজেই বলেছিলেন: "হয়তো আমি কোনো মাসআলা নিয়ে থেকেছি"—তাদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন—"দশ বছর থেকে তিন বছর পর্যন্ত।" আমি এই সব কিছু এই স্থানে স্পষ্ট করেছি। আমার উদ্দেশ্য হলো: যারা আবু আব্দুল্লাহর মাজহাবের কোনো কিছু অনুসরণ করেন, তারা যেন তাড়াহুড়ো না করেন এবং সুনিশ্চিত হন।

আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের উপকৃত করুন, এবং আমরা তাঁর নিকট তাওফিক কামনা করি, নিশ্চয়ই তিনি অতি দয়ালু।

আবু আব্দুল্লাহ এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি কিতাব, সুন্নাহ এবং সাহাবী ও তাবিঈদের কথা ছাড়া অন্য কোনো পথ অনুসরণ করতেন না। তিনি যা বলতেন তাতে নিরাপত্তা ও দৃঢ়তা পছন্দ করতেন এবং উত্তর প্রদান এড়িয়ে চলতেন; তবে যখন তিনি উত্তর দিতেন, কেবল যা সহিহ প্রমাণিত হতো তা দিয়েই উত্তর দিতেন।

আমি বলছি: ফিকহি মাসআলাসমূহে ইমাম আহমাদের মানহাজ কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা এবং সাহাবী ও তাবিঈদের আমলের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি তাঁর পদ্ধতিতে প্রায়শই হাদিসের ওপর আমল করার ওপর নির্ভর করতেন, যদিও তা সহিহ না হতো।

আল-আছরাম বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ—হয়তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো হাদিসের সনদে কিছুটা দুর্বলতা থাকত, তবুও তিনি সেটি গ্রহণ করতেন যদি তার বিপরীতে অধিকতর নির্ভরযোগ্য অন্য কিছু না আসত; যেমন আমর ইবনে শুআইব ও ইবরাহিম আল-হিজরীর হাদিস। আবার কখনও তিনি মুরসাল হাদিসও গ্রহণ করতেন যদি তার বিপরীতে অন্য কিছু না আসত।

ইবনে রাজাব 'শারহু ইলালিত তিরমিজি'তে (১) উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: আহমাদের কথার বাহ্যিক দিক হলো, তাঁর নিকট মুরসাল হাদিস দুর্বল হাদিসেরই একটি প্রকার। তবে তিনি হাদিস গ্রহণ করতেন যদি তাতে কিছুটা দুর্বলতাও থাকত, যতক্ষণ না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অথবা সাহাবীদের থেকে এর বিপরীতে অন্য কিছু আসত।

--------------------------------------------

(১) (২১৩ - ৩১৩)।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৫)
ومن ثم كان لزاما على من يطلب الفقه على مذهب الإمام أحمد أن يدرس الحديث أولا دراسة وافية لفهم كتب العلل وإطلاقات الإمام أحمد وغيره؛ لأن الإمام أحمد قد يحتج بحديث ويعمل به ويقول: (أذهب إليه)، وفي مكان آخر يضعفه ويصفه بالنكارة.

مثال: نقل ابن رجب في "شرح البخاري" (1): قال الإمام أحمد في حديث عائشة رضي الله عنها: "النساء شقائق الرجال". قال: هذا منكر، وقال: أذهب إليه.

وأيضا نقل ابن رجب في "شرح علل الترمذب" (2)، والخلال في "الجامع لأحكام أهل الذمة" (3).

قول الإمام أحمد، في حديث معمر عن الزهري عن سالم عن ابن عمر أن غيلان أسلم وعنده عشر نسوة، قال: ليس بصحيح والعمل عليه، وكان عبد الرزاق يقول: عن معمر عن الزهري مرسلا.

قال ابن القيم في "الفروسية" (4): روى الإمام أحمد حديث علي: أن العباس سأل رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم في تعجيل صدقته قبل أن تحل فرخص له في ذلك (5).

قال الأثرم: سمعت أبا عبد اللَّه، ذكر له هذا الحديث، فضعفه وقال: ليس ذلك بشيء، هذا مع أن مذهبه جواز تعجيل الزكاة.

وأيضا نقل ابن القيم عن الإمام أحمد في حديث عائشة: "لا نذر في

--------------------------------------------

(1) (1/ 341 - 342).

(2) (313 - 314).

(3) 1/ 253.

(4) ص 198 - 199.

(5) رواه أحمد 1/ 104، وأبو داود (1624)، والترمذي (678)، وابن ماجه (1795).
অতএব, ইমাম আহমাদের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ অন্বেষণকারীর জন্য 'ইলাল' (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ এবং ইমাম আহমাদ ও অন্যদের পরিভাষাগুলো বোঝার জন্য হাদীস শাস্ত্রকে প্রথমে বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করা আবশ্যক। কেননা, ইমাম আহমাদ কখনো কোনো হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেন, তার ওপর আমল করেন এবং বলেন: "আমি এর দিকেই যাচ্ছি (এটিই আমার মত)", আবার অন্য স্থানে তিনি সেটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করেন এবং সেটিকে 'মুনকার' (অস্বাভাবিক) বলে অভিহিত করেন।

উদাহরণস্বরূপ: ইবনে রজব 'শারহুিল বুখারি'তে (১) উদ্ধৃত করেছেন: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদীস—"নারীরা পুরুষদেরই সহোদরা"—প্রসঙ্গে ইমাম আহমাদ বলেছেন: "এটি মুনকার (ত্রুটিযুক্ত)", আবার তিনি বলেছেন: "আমি এর দিকেই যাচ্ছি (অর্থাৎ এটিই গ্রহণ করছি)"।

এছাড়াও ইবনে রজব 'শারহু ইলালিত তিরমিযি'তে (২) এবং আল-খাল্লাল 'আল-জামি লি-আহকাম আহলিয যিম্মাহ'তে (৩) উদ্ধৃত করেছেন।

ইমাম আহমাদের বক্তব্য—মামার হতে যুহরী হতে সালেম হতে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে, যেখানে আছে যে, গাইলান যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তার দশজন স্ত্রী ছিল—তিনি (ইমাম আহমাদ) বলেছেন: "এটি সহীহ (বিশুদ্ধ) নয়, তবে আমল এর ওপরই (কার্যকর)"। আর আবদুর রাজ্জাক বলতেন: "এটি মামার হতে যুহরী হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত"।

ইবনুল কায়্যিম 'আল-ফুরুসিয়্যাহ'তে (৪) বলেছেন: ইমাম আহমাদ আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তার সদকা (যাকাত) ওয়াজিব হওয়ার আগেই অগ্রিম প্রদানের অনুমতি চেয়েছিলেন, অতঃপর তিনি তাঁকে সেই অনুমতি প্রদান করেন (৫)।

আল-আছরাম বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহকে (ইমাম আহমাদ) বলতে শুনেছি, যখন তাঁর নিকট এই হাদীসটি উল্লেখ করা হলো, তিনি এটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করেন এবং বলেন: "এটি নির্ভরযোগ্য কিছু নয়"। অথচ তাঁর মাযহাব হলো যাকাত অগ্রিম প্রদান করা জায়েয।

এছাড়াও ইবনুল কায়্যিম আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে ইমাম আহমাদ থেকে উদ্ধৃত করেছেন: "কোনো মানত নেই...

--------------------------------------------

(১) (১/ ৩৪১ - ৩৪২)।

(২) (৩১৩ - ৩১৪)।

(৩) ১/ ২৫৩।

(৪) পৃষ্ঠা ১৯৮ - ১৯৯।

(৫) আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন ১/ ১০৪, আবু দাউদ (১৬২৪), তিরমিযী (৬৭৮), এবং ইবনে মাজাহ (১৭৯৫)।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৬)
معصية وكفارته كفارة اليمين" قال: هذا حديث منكر، مع أنه رواه وبنى عليه مذهبه واحتج به.

قلت: ذكر ابن قدامة في "المغني" (1) قول الإمام أحمد في حديث ابن عمر رضي الله عنهما "العرب بعضهم لبعض أكفاء إلا حائكًا أو حجامًا" قيل للإمام أحمد: كيف تأخذ بهذا وأنت تضعفه؟ قال: العمل عليه.

وأشد من هذا فقد يضعف الحديث بالإعراض عنه فقط وإن لم يتكلم عليه ويذهب إلى آثار الصحابة. مثال ذلك: في مسألة القصر في السفر:

نقل ابن قدامه في "المغني" (2): قال الأثرم: قيل لأبي عبد اللَّه: في كم تقصر الصلاة؟ قال: في أربعة بُرُد.

قيل له: مسيرة يوم تام؟ قال: لا، أربعة برد -ستة عشر فرسخا- مسيرة يومين.

قال ابن قدامة: وهو قول ابن عباس وابن عمر، وإليه ذهب مالك والليث والشافعي وإسحاق.

قلت: وفي الباب حديث أخرجه مسلم (3) من طريق شعبة عن يحيى بن يزيد الهنائي قال: سألت أنس بن مالك عن قصر الصلاة؟ فقال: كان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم إذا خرج مسيرة ثلاثة أميال -أو ثلاثة فراسخ، شعبة الشاك- صلي ركعتين.

قلت: ويحيى بن يزيد الهنائي ليس من أصحاب أنس، وهو مقل جدًّا أو ليس له في الكتب الستة إلا هذا الحديث عن أنس. وقد قال فيه ابن معين:

--------------------------------------------

(1) 9/ 395.

(2) 3/ 105.

(3) رواه مسلم (691).
"পাপ এবং এর কাফফারা হলো শপথের কাফফারা।" তিনি বলেন: এটি একটি মুনকার হাদিস, যদিও তিনি এটি বর্ণনা করেছেন, এর ওপর তাঁর মাযহাবের ভিত্তি স্থাপন করেছেন এবং একে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন।

আমি বলছি: ইবনে কুদামাহ 'আল-মুগনি' (১) গ্রন্থে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে ইমাম আহমাদ-এর উক্তি উল্লেখ করেছেন যে, "আরবরা একে অপরের সমতুল্য (কুফু), তবে তন্তুবায় বা ক্ষৌরকার ব্যতীত।" ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কেন এটি গ্রহণ করছেন অথচ আপনি নিজেই একে দুর্বল বলছেন? তিনি বললেন: এর ওপর আমল বিদ্যমান।

এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, কখনও কোনো হাদিসের ওপর মন্তব্য না করেও কেবল তা থেকে বিমুখ হওয়ার মাধ্যমেই তাকে দুর্বল গণ্য করা হয় এবং সাহাবীগণের আছারের (বর্ণনার) দিকে ধাবিত হওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ: সফরে কসর করার মাসআলায়:

ইবনে কুদামাহ 'আল-মুগনি' (২) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন: আল-আছরাম বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হলো: কত দূরত্বে নামাজ কসর করতে হবে? তিনি বললেন: চার বারিদ দূরত্বে।

তাঁকে বলা হলো: পূর্ণ একদিনের পথ? তিনি বললেন: না, চার বারিদ—যা ষোলো ফারসাখ—অর্থাৎ দুই দিনের পথ।

ইবনে কুদামাহ বলেন: এটি ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমরের অভিমত এবং ইমাম মালিক, লাইস, শাফিঈ ও ইসহাক এই মতই গ্রহণ করেছেন।

আমি বলছি: এই বিষয়ে ইমাম মুসলিম (৩) শু'বাহর সূত্রে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াযিদ আল-হুনাই থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে নামাজের কসর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তিন মাইল—অথবা তিন ফারসাখ, শু'বাহর সন্দেহ—পথ অতিক্রম করতে বের হতেন, তখন দুই রাকাত নামাজ পড়তেন।

আমি বলছি: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াযিদ আল-হুনাই আনাস (রা.)-এর ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত নন এবং তিনি খুবই স্বল্প বর্ণনাকারী, এমনকি কুতুবে সিত্তাহ-তে আনাস (রা.) থেকে তাঁর এই একটি হাদিসই বর্ণিত আছে। তাঁর সম্পর্কে ইবনে মাঈন বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) ৯/৩৯৫।

(২) ৩/১০৫।

(৩) মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৬৯১)।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৭)
صُويلح. وقال أبو حاتم: شيخ. [أكثر ما تطلق عند أبي حاتم على الجهالة] قال الحافظ في "التقريب": مقبول. قال الذهبي في "الميزان": لا بأس به.

قلت: فمثل هذا الراوي لا يتحمل أحاديث الأحكام، والتي قال فيها الإمام أحمد: إذا جاءت أردنا رجالا هكذا، وضم يده ورفع الإبهام؛ كناية عن الرواة الثقات الأثبات وممن ضعف الحديث من أجل يحيى بن يزيد الهنائي:

ابن عبد البر في "الاستذكار" (1) فقد قال: يحيى بن يزيد الهنائي شيخ من أهل البصرة ليس مثله ممن يحتمل هذا المعنى الذي خالف جمهور الصحابة والتابعين، ولا هو ممن يوثق في ضبط هذا الأصل.

ومما سبق تبين لك أن الإمام أحمد لم يحتج بهذا الحديث لما عرفت، وأعرض عنه وأخذ بآثار الصحابة، وقد تكون آثار الصحابة أيضًا ضعيفة ويعمل بها الإمام أحمد فلينتبه لذلك.

فالعمل الفقهي قد يقترن بصحة الحديث، وقد لا يقترن في مذهب الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله.

مثال آخر: قال الإمام أحمد، عندما سئل عن حديث مالك بن الحويرث: أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم يصلي فإذا كان في وتر من صلاته لم ينهض حتى يستوي قاعدًا (2).

قال: الإمام أحمد: صحيح. وقال مرة: ليس لهذا الحديث ثان. يعني: لم ترو هذِه الجلسة في غير هذا.

وقال مرة: أكثر الأحاديث ليس فيها ذكر شيء من ذلك.

قلت: يشير الإمام أحمد إلى جلسة الاستراحة أنها لم تُرْوَ في حديثٍ غير

--------------------------------------------

(1) 6/ 94.

(2) أخرجه البخاري برقم (823).
সুয়াইলিহ (মোটামুটি ভালো)। আবু হাতিম বলেন: শাইখ। [আবু হাতিমের পরিভাষায় 'শাইখ' শব্দটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে জাহালাত (অজ্ঞাত অবস্থা) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়]। আল-হাফিয 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেন: মাকবুল (গ্রহণযোগ্য)। আয-যাহাবি 'আল-মিযান' গ্রন্থে বলেন: এতে কোনো সমস্যা নেই।

আমি বলছি: এই ধরণের বর্ণনাকারী আহকামের (বিধান সংক্রান্ত) হাদিসসমূহের ভার বহনে সক্ষম নন, যেগুলোর ব্যাপারে ইমাম আহমাদ বলেছেন: যখন এগুলো (আহকাম) আসে, তখন আমরা এমন পুরুষদের (বর্ণনাকারীদের) চাই, এই বলে তিনি তাঁর হাত মুষ্টিবদ্ধ করলেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি তুললেন; এটি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের দিকে রূপক ইঙ্গিত। আর যারা ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াযিদ আল-হুনাই-এর কারণে হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:

ইবনে আব্দিল বার 'আল-ইসতিযকার' (১) গ্রন্থে বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াযিদ আল-হুনাই বসরাবাসীদের একজন শাইখ, তাঁর মতো ব্যক্তি এমন অর্থ বহনের যোগ্য নন যা জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) সাহাবী ও তাবিঈদের বিরোধী, আর এই মূলনীতির সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও তিনি নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত নন।

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আপনার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, আপনি যা জেনেছেন তার কারণে ইমাম আহমাদ এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেননি, তিনি এটি এড়িয়ে গিয়েছেন এবং সাহাবীদের আসার (বর্ণনা) গ্রহণ করেছেন। কখনও কখনও সাহাবীদের আসারও দুর্বল হতে পারে এবং ইমাম আহমাদ তা দ্বারা আমল করতে পারেন, তাই এ বিষয়টি লক্ষ্য রাখা উচিত।

সুতরাং ফিকহী আমল হাদিসের বিশুদ্ধতার সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে, আবার ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবে তা সম্পৃক্ত নাও হতে পারে।

অন্য একটি উদাহরণ: ইমাম আহমাদকে যখন মালিক ইবনে হুওয়াইরিসের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সালাত আদায় করতে দেখেছেন, যখন তিনি তাঁর সালাতের বেজোড় রাকাতে হতেন, তখন তিনি সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত উঠতেন না (২)।

ইমাম আহমাদ বলেন: সহীহ। তিনি অন্য সময় বলেন: এই হাদিসের দ্বিতীয় কোনোটি নেই। অর্থাৎ: এই বৈঠক (বসা) এটি ছাড়া অন্য কোথাও বর্ণিত হয়নি।

তিনি আরও বলেন: অধিকাংশ হাদিসে এর কোনো উল্লেখ নেই।

আমি বলছি: ইমাম আহমাদ জলসা-ই-ইসতিরাহা (বিশ্রামের বৈঠক)-এর দিকে ইঙ্গিত করছেন যে, এটি অন্য কোনো হাদিসে বর্ণিত হয়নি

--------------------------------------------

(১) ৬/ ৯৪।

(২) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৮২৩)।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৮)
هذا. ولكن قد رويت -أي: جلسة الاستراحة- في حديث المسيء صلاته، فلما أعرض عنها ولم يذكرها، فهل يقال: إنه لم يقف على حديث المسيء في صلاته؟ هذا أمر فيه بعد؛ لشهرة هذا الحديث عند العوام، فحسبك بإمام أهل السنة. هذا وقد اختلف في هذا الحديث على عبيد اللَّه العمري. فقد رواه القطان وأبو أسامة بدونها ورواه ابن نمير عنه بإثباتها، والراجح واللَّه أعلم عدم ثبوتها؛ فقد قال الحافظ في "الفتح" (1): أشار البخاري إلى أن هذِه اللفظة وهم، فقد قال عقب الحديث: قال أبو أسامة في الأخير: حتى تستوي قائمًا، ويمكن أن يحمل إن كان محفوظًا على الجلوس للتشهد.

قال ابن رجب في "الفتح": فهذِه اللفظة قد اختلف فيها في حديث أبي هريرة فمن الرواة من ذكر أنه أمره بالجلوس بعد السجدتين ومنهم من ذكر أنه أمره بالقيام بعدهما وهذا هو الأشبه، فإن هذا الحديث لم يذكر أحد فيه أن النبي صلى الله عليه وسلم علمه شيئًا من سنن الصلاة المتفق عليها، فكيف يكون قد أمره بهذِه الجلسة؟ فهذا بعيد جدًّا (2). قال: ثم وجدت البيهقي قد ذكر هذا، وذكر أن أبا أسامة اختلف عليه في ذكر هذِه الجلسة الثانية بعد السجدتين قال: والصحيح عنه أنه قال بعد ذكر السجدتين: "ثم ارفع حتى تستوي قائمًا". قال البيهقي: وقد رواه البخاري في "صحيحه" عن إسحاق بن منصور عن أبي أسامة، وذكر رواية ابن نمير ولم يذكر تخريج البخاري لها، ولم يذكر يحيى بن سعيد في روايته السجود الثاني ولا ما بعده من القعود أو القيام.

قال: والقيام أشبه بما سيق الخبر لأجله من عدِّ الأركان دون السنن، واللَّه أعلم.

--------------------------------------------

(1) 2/ 279 (793).

(2) 5/ 482 (823).
এটি। তবে বিশ্রামের বৈঠক —অর্থাৎ: জিলসাতুল ইস্তিরাহা— ‘সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির’ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যখন তিনি এটি এড়িয়ে গেছেন এবং তা উল্লেখ করেননি, তখন কি এ কথা বলা যায় যে, তিনি সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির হাদিসটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না? এটি একটি দূরবর্তী বিষয়; কারণ সাধারণ মানুষের নিকটও এই হাদিসটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, সুতরাং আহলে সুন্নতের ইমামের ক্ষেত্রে তা বলাই বাহুল্য। আর উবায়দুল্লাহ আল-উমরীর বর্ণনায় এই হাদিসটি নিয়ে মতভেদ হয়েছে। কাত্তান এবং আবু উসামা এটি ছাড়াই বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে নুমাইর এটি সাব্যস্ত করে তার থেকে বর্ণনা করেছেন। অধিকতর সঠিক মত —এবং আল্লাহই ভালো জানেন— হলো এটি সাব্যস্ত না হওয়া; কেননা হাফেজ ‘আল-ফাতহ’ গ্রন্থে (১) বলেছেন: ইমাম বুখারি ইঙ্গিত করেছেন যে, এই শব্দচয়নটি একটি ভুল, তিনি হাদিসটির পরপরই বলেছেন: আবু উসামা শেষে বলেছেন: ‘যতক্ষণ না তুমি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে উঠো’। আর যদি এটি সংরক্ষিত হয় তবে তা তাশাহহুদের জন্য বসার ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব।

ইবনে রজব ‘আল-ফাতহ’ গ্রন্থে বলেছেন: আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর হাদিসে এই শব্দটির ক্ষেত্রে মতভেদ হয়েছে। বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাকে দুই সিজদার পর বসার আদেশ দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাকে দুই সিজদার পর দাঁড়ানোর আদেশ দিয়েছেন। আর এটিই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ এই হাদিসে কেউই উল্লেখ করেননি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সালাতের সর্বসম্মত সুন্নাতসমূহের মধ্য থেকে কিছু শিখিয়েছেন; তাহলে তিনি তাকে এই বৈঠকের আদেশ কীভাবে দেবেন? এটি অত্যন্ত দূরবর্তী বিষয় (২)। তিনি বলেন: এরপর আমি দেখলাম যে ইমাম বায়হাকী এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দুই সিজদার পর এই দ্বিতীয় বৈঠকের বর্ণনায় আবু উসামার ক্ষেত্রে মতভেদ হয়েছে। তিনি বলেন: তার পক্ষ থেকে সঠিক বর্ণনা হলো যে তিনি দুই সিজদা উল্লেখ করার পর বলেছেন: ‘অতঃপর মাথা তোলো যতক্ষণ না তুমি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে উঠো’। বায়হাকী বলেন: ইমাম বুখারি তার ‘সহিহ’ গ্রন্থে এটি ইসহাক ইবনে মানসুর থেকে, তিনি আবু উসামা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইবনে নুমাইরের বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন কিন্তু তার জন্য বুখারির তাখরিজ উল্লেখ করেননি। আর ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ তার বর্ণনায় দ্বিতীয় সিজদা এবং এর পরবর্তী বসা বা দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করেননি।

তিনি বলেন: দাঁড়ানোর বিষয়টিই সেই প্রেক্ষাপটের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ যার জন্য হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো রুকনগুলো গণনা করা, সুন্নাতগুলো নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) ২/ ২৭৯ (৭৯৩)।

(২) ৫/ ৪৮২ (৮২৩)।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৯)
قال ابن رجب: وهذا يدل على أن ذكر الجلسة الثانية غير محفوظ عن يحيى.

[قلت]: مما سبق يتبين سبب إعراض الإمام أحمد عن هذِه الزيادة، لضعفها وعدم ثبوتها، فقال في حديث مالك بن الحويرث بأنها لم ترو هذِه الجلسة في غير هذا.

فإعراض الإمام أحمد عن هذا الحديث ونفيه له يدل على ضعفه عنده وإن لم يضعفه تصريحًا.

قال ابن القيم في "الفروسية" (1): ومذهبه -يعني: الإمام أحمد- وهو ألا يقدم على الحديث الصحيح شيئًا البتة لا عملا ولا قياسًا ولا قول صاحب، وإذا لم يكن في المسألة حديث صحيح، وكان فيها حديث ضعيف وليس في الباب شيء يردُّه عمل به، فإن عارضه ما هو أقوى منه تركه للمعارض القويِّ، وإذا كان في المسألة حديث ضعيف وقياس قدَّم الحديث الضعيف على القياس.

وليس الضعيف في اصطلاحه هو الضعيف في اصطلاح المتأخرين، بل هو والمتقدمون يقسمون الحديث إلى صحيح وضعيف، والحسن عندهم داخل في الضعيف بحسب مراتبه، وأول من عرف عنه أنه قسمه إلى ثلاثة أقسام أبو عيسى الترمذي ثم الناس تبع له بعد، فأحمد يقدم الضعيف الذي هو حسن (2) عنده على القياس ولا يلتفت إلى الضعيف الواهي الذي لا يقوم به حجة، بل ينكر على من أحتج به وذهب إليه، فإن لم يكن عنده

--------------------------------------------

(1) ص 202 - 203.

(2) قلت: كلام ابن القيم رحمه الله ليس على إطلاقه؛ لأن الحسن عند الإمام أحمد وغيره له صور وأشكال كثيرة جدًا، ولا يعني بذلك الضعيف هو الحسن عنده، فقد أطلق الحسن على النكارة والشذوذ والمخالفة، وحتى على الراوي المتروك، =
ইবনে রাজাব বলেন: এটি প্রমাণ করে যে, দ্বিতীয়বার বসার বিষয়টি ইয়াহইয়া থেকে সংরক্ষিত নয়।

[আমি বলছি]: পূর্বের আলোচনা থেকে ইমাম আহমদ কর্তৃক এই অতিরিক্ত অংশটি বর্জন করার কারণ স্পষ্ট হয়; তা হলো এর দুর্বলতা এবং এটি প্রমাণিত না হওয়া। মালিক ইবনুল হুওয়াইরিসের হাদীস সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, এটি ছাড়া অন্য কোনো বর্ণনায় এই বসার কথাটি আসেনি।

সুতরাং ইমাম আহমদ কর্তৃক এই হাদীসটি এড়িয়ে যাওয়া এবং একে প্রত্যাখ্যান করা তাঁর নিকট হাদীসটির দুর্বলতারই প্রমাণ দেয়, যদিও তিনি স্পষ্টভাবে একে যয়ীফ বা দুর্বল বলেননি।

ইবনুল কাইয়্যিম "আল-ফুরুসিয়্যাহ" (১) গ্রন্থে বলেন: তাঁর মাযহাব—অর্থাৎ ইমাম আহমাদের নীতি—হলো সহীহ হাদীসের ওপর তিনি অন্য কোনো কিছুকেই প্রাধান্য দেন না; আমল, কিয়াস কিংবা সাহাবীর বক্তব্য কোনোটিই নয়। যখন কোনো বিষয়ে কোনো সহীহ হাদীস থাকে না, কিন্তু একটি যয়ীফ হাদীস থাকে এবং সেই বিষয়ে একে খণ্ডন করার মতো কিছু না থাকে, তবে তিনি সেটি অনুযায়ীই আমল করেন। আর যদি তার বিপরীতে অধিকতর শক্তিশালী কিছু থাকে, তবে শক্তিশালীটির কারণে তিনি একে বর্জন করেন। যখন কোনো মাসআলায় একটি যয়ীফ হাদীস এবং একটি কিয়াস বিদ্যমান থাকে, তখন তিনি কিয়াসের ওপর যয়ীফ হাদীসকেই অগ্রাধিকার দেন।

তাঁর পরিভাষায় 'যয়ীফ' বলতে পরবর্তীকালের (মুতাআখখিরীন) পরিভাষার 'যয়ীফ' নয়; বরং তিনি এবং পূর্ববর্তীগণ (মুতাক্বাদ্দিমীন) হাদীসকে কেবল সহীহ ও যয়ীফ—এই দুই ভাগে বিভক্ত করতেন। তাঁদের নিকট 'হাসান' হাদীস তার পর্যায়ক্রম অনুযায়ী যয়ীফেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল। সর্বপ্রথম যাঁর সম্পর্কে জানা যায় যে তিনি হাদীসকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন, তিনি হলেন আবু ঈসা আত-তিরমিযী; পরবর্তী সময়ে মানুষ তাঁরই অনুসরণ করেছে। সুতরাং আহমদ সেই যয়ীফ হাদীসকে কিয়াসের ওপর প্রাধান্য দেন যা তাঁর নিকট 'হাসান' (২) হিসেবে গণ্য। তিনি অত্যন্ত দুর্বল (ওয়াহী) যয়ীফ হাদীসের দিকে ভ্রুক্ষেপও করেন না যা দ্বারা দলিল বা প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় না; বরং তিনি এমন ব্যক্তির প্রতিবাদ করেন যে একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করে ও এর ওপর ভিত্তি করে কোনো মত পোষণ করে। যদি তাঁর নিকট...

--------------------------------------------

(১) পৃ. ২০২ - ২০৩।

(২) আমি বলছি: ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যটি নিঃশর্ত নয়; কারণ ইমাম আহমদ ও অন্যদের নিকট 'হাসান'-এর অনেক রূপ ও বৈচিত্র্য রয়েছে। এর মানে এই নয় যে, যয়ীফ মানেই তাঁর নিকট হাসান। কারণ তিনি মুনকার, শায ও বিরোধপূর্ণ বর্ণনার ক্ষেত্রেও 'হাসান' শব্দটির প্রয়োগ করেছেন, এমনকি পরিত্যক্ত (মাতরুক) রাবীর ক্ষেত্রেও। =
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২০)
في المسألة حديث أخذ فيها بأقوال الصحابة ولم يخالفهم. وإن اختلفوا رجح من أقوالهم ولم يخرج منها، وإذا اختلفت الصحابة في مسألة ففي الغالب بختلف جوابه فيها ويخرج عنه فيها روايتان أو أكثر، فكل مسألة عن الصحابة فيها روايتان إلا وعنه فيها روايتان أو أكثر وهو أتبع خلق اللَّه تعالى للسنن مرفوعها وموقوفها. أ. هـ

- ومما أكثر الكلام حوله إطلاق الإمام أحمد لفظ المنكر، فقد ذهب جمع من أهل العلم المتأخرين والمعاصرين على أن النكارة عند الإمام أحمد على مجرد التفرد.

فقد قال الحافظ ابن حجر في "هدي السارب" في ترجمة محمد بن إبراهيم التيمي -صاحب حديث "الأعمال بالنيات" بعد ذكر قول الإمام أحمد: يروي أحاديث مناكير.

قال: المنكر أطلقه أحمد بن حنبل وجماعة على الحديث الفرد الذي لا متابع له.

ويتضح قول الحافظ أكثر في "النكت" (1) قال: فقد أطلق الإمام أحمد والنسائي وغير واحد من النقاد لفظ المنكر على مجرد التفرد، لكن حيث لا يكون التفرد في وزن من يحكم لحديثه بالصحة بغير عاضد يعضده.

فقول الحافظ هنا قريب من طريقة الإمام أحمد، ولكن عند الإمام أحمد حتى ولو كان المتفرد من الثقات أو من كبار الثقات بقرائن أهمها الوهم والخطأ.

--------------------------------------------

= وعلى العمل الفقهي، وعلى الناحية اللغوية، وعلى طيب الكلام، وفي الأمر تفصيل واسع، وأيضًا سبق قول الإمام أحمد على حديث "النساء شقائق الرجال"، ووصفه بالنكارة، ثم عمل به، فليس الضعيف الواهي يترك في كل الأحيان.

(1) ص 274.
এই মাসআলায় এমন হাদিস রয়েছে যেখানে তিনি সাহাবীদের বক্তব্যের ওপর আমল করেছেন এবং তাঁদের বিরোধিতা করেননি। আর তাঁরা যদি মতভেদ করেন, তবে তিনি তাঁদের বক্তব্যের মধ্য থেকেই কোনো একটিকে প্রাধান্য দেন এবং তাঁদের মতের বাইরে যান না। যখন কোনো মাসআলায় সাহাবীদের মধ্যে মতভেদ হতো, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর জবাবও ভিন্ন ভিন্ন হতো এবং এ বিষয়ে তাঁর থেকে দুটি বা ততোধিক বর্ণনা বর্ণিত হতো। সাহাবীদের থেকে বর্ণিত প্রতিটি মাসআলা যাতে দুটি বর্ণনা রয়েছে, সেখানে তাঁর থেকেও দুটি বা ততোধিক বর্ণনা রয়েছে। তিনি আল্লাহর মাখলুকের মধ্যে মারফু ও মাওকুফ সুন্নাতের সর্বাধিক অনুসারী ছিলেন। (সমাপ্ত)

- একটি বিষয় নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে, আর তা হলো ইমাম আহমাদের 'মুনকার' শব্দের প্রয়োগ। পরবর্তীকালের এবং সমসাময়িক একদল আলেম এ মত পোষণ করেছেন যে, ইমাম আহমাদের নিকট কেবল 'তাফাররুদ' (একক বর্ণনা) হওয়াই 'নাকারা' হিসেবে বিবেচিত।

হাফেজ ইবনে হাজার 'হাদিউস সারী'-তে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমী—যিনি "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসের বর্ণনাকারী—তাঁর জীবনীতে ইমাম আহমাদের এই উক্তিটি উল্লেখ করার পর বলেন: "তিনি মুনকার হাদিসসমূহ বর্ণনা করেন।"

তিনি বলেন: আহমদ ইবনে হাম্বল এবং একদল আলেম 'মুনকার' শব্দটি এমন একক হাদিসের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন যার কোনো সমর্থক বর্ণনা নেই।

হাফেজের বক্তব্য 'আন-নুকাত'-এ (১) আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেছে, তিনি বলেন: ইমাম আহমদ, নাসায়ি এবং একাধিক হাদিস বিশারদ কেবল একক বর্ণনার কারণে 'মুনকার' শব্দটি প্রয়োগ করেছেন; তবে সেটা তখন যখন একক বর্ণনাকারী এমন স্তরের হন না যার হাদিসকে কোনো শক্তিশালী সমর্থক ছাড়াই সহিহ বলে গণ্য করা যায়।

এখানে হাফেজের বক্তব্য ইমাম আহমাদের পদ্ধতির কাছাকাছি, তবে ইমাম আহমাদের নিকট বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য বা উচ্চস্তরের নির্ভরযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও (একে মুনকার বলতে পারেন) যদি সেখানে ভ্রম বা ভুলের মতো কোনো লক্ষণ বিদ্যমান থাকে।

--------------------------------------------

= এবং ফিকহী আমলের ক্ষেত্রে, ভাষাগত দিকের ক্ষেত্রে এবং উত্তম কথার ক্ষেত্রে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। ইতিপূর্বে "নারীরা পুরুষদেরই সমতুল্য" এই হাদিসের ব্যাপারে ইমাম আহমাদের উক্তি অতিবাহিত হয়েছে, যেখানে তিনি একে 'নাকারা' (মুনকার) বলে অভিহিত করেছেন, অতঃপর এর ওপর আমলও করেছেন। সুতরাং দুর্বল ও ভিত্তিহীন হাদিস সব সময় বর্জন করা হয় না।

(১) পৃষ্ঠা ২৭৪।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২১)
فقد توقف الإمام أحمد في زيادة: (من المسلمين) في زكاة الفطر الذي أخرجه البخاري (1) من حديث ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فرض زكاة الفطر صاعًا من تمر أو صاعًا من شعير على كل حر أو عبد، ذكر أو أنثى من المسلمين.

والمتفرد بها مالك بن أنس، فلم يقبله، حتى توبع الإمام مالك فقبلها. وهو مذهب يحيى بن سعيد وغير واحد من النقاد.

قال مسلم في مقدمة "الصحيح": وعلامة المنكر في حديث المحدث: إذا ما عرضت روايته للحديث على رواية غيره من أهل الحفظ والرضا، خالفت روايته روايتهم، أو لم تكد توافقها، فإذا كان الأغلب من حديثه كذلك: كان مهجور الحديث، غير مقبولِهِ ولا مستعملِهِ.

قال الذهبي في "الموقظة" (2): قد يسمي جماعة من الحفاظ الحديث الذي ينفرد به مثل هشيم بن غياث منكرا، فإن كان المتفرد من طبقة مشيخة الأئمة أطلقوا النكارة على ما انفرد به مثل عثمان بن أبي شيبة وأبي سلمة التبوذكي، وقالوا: هذا منكر.

قال أيضا في "الميزان" (3) في ترجمة علي بن المديني: إن تفرد الصدوق ومن دونه يعد منكرًا.

وفي "مسائل ابن هانئ" (4) للإمام أحمد: قيل له: هذِه الفوائد التي فيها المناكير، ترى أن يكتب الحديث المنكر؟ قال المنكر أبدًا منكر -قيل له: فالضعفاء؟ قال: قد يحتاج إليهم في كل وقت. كأنه لم ير بالكتاب عنهم بأسًا.

--------------------------------------------

(1) "صحيح البخاري" (1504).

(2) انظر "الموقظة" ص 77.

(3) "ميزان الاعتدال" 4/ 60 - 61 (5874).

(4) "مسائل ابن هانئ" (1924 - 1925).
ইমাম আহমাদ (১) বুখারী কর্তৃক সংকলিত ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীসে যাকাতুল ফিতরের বর্ণনায় 'মুসলিমদের মধ্য থেকে' (মিনাল মুসলিমীন) কথাটি অতিরিক্ত হওয়ার বিষয়ে বিরত থেকেছেন। যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রত্যেক স্বাধীন বা ক্রীতদাস, পুরুষ বা নারী—মুসলিমদের মধ্য থেকে—সবার ওপর এক সা' খেজুর বা এক সা' যব যাকাতুল ফিতর হিসেবে ফরয করেছেন।

এই অতিরিক্ত অংশটি বর্ণনায় মালিক বিন আনাস একক হয়ে পড়েছিলেন, ফলে তিনি (ইমাম আহমাদ) তা গ্রহণ করেননি, যতক্ষণ না ইমাম মালিকের অনুকূলে অন্য বর্ণনাকারী পাওয়া গেছে, তখন তিনি তা গ্রহণ করেন। আর এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এবং একাধিক সমালোচকের নীতি।

ইমাম মুসলিম 'সহীহ'র মুকাদ্দিমায় (ভূমিকা) বলেছেন: একজন মুহাদ্দিসের হাদীসে 'মুনকার' (প্রত্যাখ্যাত) হওয়ার নিদর্শন হলো: যখন তার বর্ণিত হাদীসটি অন্যান্য হাফিয এবং নির্ভরযোগ্য রাবীদের হাদীসের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়, তখন তার বর্ণনাটি তাদের বর্ণনার বিরোধী হয় অথবা তার সাথে কোনো সামঞ্জস্য থাকে না। যখন তার অধিকাংশ হাদীসের অবস্থা এমন হয়, তখন তার বর্ণিত হাদীস বর্জন করা হবে এবং তা গ্রহণযোগ্য বা আমলযোগ্য হবে না।

আয-যাহাবী 'আল-মুকিযাহ' (২) গ্রন্থে বলেছেন: হাফিযদের এক জামাত এমন হাদীসকে 'মুনকার' বলেন যা হুশাইম বিন গিয়াছ-এর মতো ব্যক্তি এককভাবে বর্ণনা করেন। তবে যদি একক বর্ণনাকারী ইমামদের উস্তাদদের স্তরের হন, তবুও তারা তার একক বর্ণনার ওপর 'নাকারা' (মুনকার হওয়া) শব্দটি প্রয়োগ করেন, যেমন উসমান ইবনে আবী শাইবা এবং আবু সালামাহ আত-তাবুযাকী; তারা বলেন: এটি মুনকার।

তিনি (যাহাবী) 'আল-মিযান' (৩) গ্রন্থে আলী ইবনুল মাদীনীর জীবনীতে আরও বলেন: 'সদুক' (সত্যবাদী) বা তার নিচের স্তরের রাবীর একক বর্ণনাকে 'মুনকার' হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইমাম আহমাদের 'মাসায়িলু ইবনে হানি' (৪) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: এই ফাওয়ায়েদগুলো যাতে 'মুনকার' (অস্বীকৃত) বর্ণনা রয়েছে, আপনি কি মুনকার হাদীস লিখে রাখাকে সমীচীন মনে করেন? তিনি বললেন: মুনকার সর্বদা মুনকারই থাকে। তাকে বলা হলো: তাহলে যয়ীফ বা দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ে আপনার মত কী? তিনি বললেন: তাদের প্রয়োজন তো সব সময়ই পড়ে। মনে হলো যেন তিনি তাদের থেকে (হাদীস) লিখে রাখায় কোনো সমস্যা দেখছেন না।

--------------------------------------------

(১) "সহীহ বুখারী" (১৫০৪)।

(২) দেখুন "আল-মুকিযাহ" পৃষ্ঠা ৭৭।

(৩) "মিযানুল ইতিদাল" ৪/ ৬০ - ৬১ (৫৮৭৪)।

(৪) "মাসায়িলু ইবনে হানি" (১৯২৪ - ১৯২৫)।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২২)
قال ابن رجب في "شرح علل الترمذي" (1) عن الإمام أحمد أنه قال: لا تكتبوا هذِه الأحاديث الضرائب؛ فإنها مناكير وعامتها عن الضعفاء.

قال ابن رجب في "شرح الترمذي" (2): ولم أقف لأحد من المتقدمين على حد المنكر من الحديث وتعريفه إلا على ما ذكره أبو بكر البرديجي الحافظ -وكان من أعيان الحفاظ المبرزين- في العلل: أن المنكر هو الذي يحدث به الرجل عن الصحابة أو عن التابعين عن الصحابة، لا يعرف ذلك الحديث وهو متن الحديث إلا من طريق الذي رواه فيكون منكرًا، ذكر هذا الكلام في سياق ما إذا انفرد شعبة أو سعيد بن أبي عروبة أو هشام الدستوائي بحديث عن قتادة عن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم وهذا كالتصريح بأنه كل ما ينفرد به ثقة عن ثقة ولا يعرف المتن من غير ذلك الطريق فهو منكر، كما قاله الإمام أحمد في حديث عبد اللَّه بن دينار عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم في النهي عن بيع الولاء وهبته؛ حيث قال: لم يتابع عبد اللَّه بن دينار عليه، وإن الصحيح ما روى نافع عن ابن عمر (3) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ".

وكذا قال أحمد في حديث مالك، عن الزهري، عن عروة، عن عائشة: أن الذين جمعوا الحج والعمرة طافوا حين قدموا لعمرتهم وطافوا لحجهم حين رجعوا من منى قال: لم يقل هذا أحد إلا مالك وقال: ما أظن مالكا إلا غلط فيه لم يجئ به أحد غيره، وقال مرة: لم يروه إلا مالك ومالك ثقة.

--------------------------------------------

(1) "شرح علل الترمذي" 1/ 408 - 409.

(2) "شرح علل الترمذي" 1/ 450 - 451.

(3) رواه البخاري (2535)، ومسلم (1506/ 16).
ইবনে রজব 'শারহু ইলালিত তিরমিযি' (১)-এ ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: তোমরা এই অপরিচিত ও বিরল হাদিসগুলো লিখো না; কারণ এগুলো মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) এবং এগুলোর অধিকাংশই দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণিত।

ইবনে রজব 'শারহুত তিরমিযি' (২)-এ বলেছেন: আমি পূর্ববর্তীদের কারোর মাঝে 'মুনকার' হাদিসের সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা খুঁজে পাইনি, কেবল হাফেজ আবু বকর আল-বারদিজি—যিনি বিশিষ্ট ও শীর্ষস্থানীয় হাফেজদের অন্যতম ছিলেন—তাঁর 'আল-ইলাল' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তা ব্যতীত। তিনি বলেছেন: মুনকার হলো সেই হাদিস যা কোনো ব্যক্তি সাহাবী থেকে অথবা তাবেয়ী সূত্রে সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, অথচ সেই হাদিস বা হাদিসের মূল পাঠটি কেবল সেই বর্ণনাকারীর মাধ্যমেই পরিচিত হয়, তখন সেটি মুনকার হিসেবে গণ্য হয়। তিনি এই কথাটি সেই প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করেছেন যখন শু'বা, সাঈদ ইবনে আবি আরুবা অথবা হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ী এককভাবে কাতাদা থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করেন। এটি যেন এই বিষয়েরই সুস্পষ্ট ঘোষণা যে, কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী যখন অপর কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে এককভাবে কোনো হাদিস বর্ণনা করেন এবং সেই সূত্র ব্যতীত অন্য কোনোভাবে হাদিসের মূল পাঠটি পরিচিত না হয়, তবে সেটি মুনকার। যেমনটি ইমাম আহমাদ আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে ইবনে উমর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন যাতে 'ওয়ালা' (দাসমুক্তির অধিকার) বিক্রি বা দান করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে; সেখানে তিনি বলেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে দিনারকে এতে কেউ অনুসরণ করেনি। আর সঠিক হলো যা নাফে' ইবনে উমর (৩) থেকে বর্ণনা করেছেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ওয়ালা (দাসমুক্তির অধিকার) কেবল তারই প্রাপ্য যে মুক্ত করেছে।"

অনুরূপভাবে ইমাম আহমাদ ইমাম মালিকের একটি হাদিস সম্পর্কেও বলেছেন, যা তিনি যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন: "যারা হজ ও ওমরাহ একত্রে পালন করেছিলেন (কিরান হজ), তারা যখন তাদের ওমরার জন্য আসতেন তখন তাওয়াফ করতেন এবং যখন মিনা থেকে ফিরতেন তখন তাদের হজের জন্য তাওয়াফ করতেন।" তিনি বলেছেন: মালিক ছাড়া আর কেউ এ কথা বলেননি। তিনি আরও বলেছেন: আমার ধারণা মালিক এতে ভুল করেছেন, কারণ তিনি ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি। তিনি অন্য এক সময় বলেছেন: মালিক ছাড়া এটি কেউ বর্ণনা করেনি, অথচ মালিক একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।

--------------------------------------------

(১) 'শারহু ইলালিত তিরমিযি' ১/ ৪০৮ - ৪০৯।

(২) 'শারহু ইলালিত তিরমিযি' ১/ ৪৫০ - ৪৫১।

(৩) বুখারি (২৫৩৫) এবং মুসলিম (১৫০৬/ ১৬) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৩)
قال ابن رجب: ولعل أحمد إنما استنكره لمخالفته للأحاديث في أن القارن يطوف طوافًا واحدًا.

ثم قال ابن رجب: قال البرديجي بعد ذلك: فأما أحاديث قتادة الذي يرويها الشيوخ مثل حماد بن سلمة وهمام وأبان والأوزاعي، ينظر في الحديث، فإن كان الحديث يحفظ من غير طريقهم عن النبي صلى الله عليه وسلم أو عن أنس بن مالك من وجه آخر لم يدفع، وإن كان لا يعرف عن أحد عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا من طريق عن أنس إلا من رواية هذا الذي ذكرت لك كان منكرًا.

وقال: إذا روى الثقة من طريق صحيح عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم حديثًا لا يصاب إلا عند الرجل الواحد لم يضره أن لا يرويه غيره إذا كان متن الحديث معروفًا ولا يكون منكرًا ولا معلولًا.

وقال في حديث رواه عمرو بن عاصم عن همام عن إسحاق بن طلحة عن أنس أن رجلا قال للنبي صلى الله عليه وسلم: إني أصبت حدًّا فأقمه عليَّ رضي الله عنه. . الحديث. هذا عندي حديث منكر وهو عندي وهم من عمرو بن عاصم.

قال ابن رجب في "شرح علل الترمذي" (1): وأما أكثر الحفاظ المتقدمين فإنهم يقولون في الحديث إذا تفرد به واحد وإن لم يرو الثقات خلافه أن لا يتابع عليه ويجعلون ذلك علة فيه اللهم إلا أن يكون ممن كثر حفظه واشتهرت عدالته وحديثه كالزهري ونحوه، وربما يستنكرون بعض تفردات الثقات الكبار أيضًا، ولهم في كل حديث نقد خاص وليس عندهم لذلك ضابط يضبطه.

قال المعلمي في "الأنوار الكاشفة" (2): والأئمة كثيرًا ما يخرجون الراوي بخبر واحد منكر جاء به فضلها عن خبرين أو أكثر ويقولون: الخبر

--------------------------------------------

(1) 1/ 252 - 253.

(2) ص 14.
ইবনে রজব বলেছেন: সম্ভবত আহমাদ এটি অস্বীকার করেছেন কারণ এটি সেই হাদিসগুলোর বিরোধী যেগুলোতে বলা হয়েছে যে, 'ক্বিরান' হজকারী একবারই তাওয়াফ করবেন।

অতঃপর ইবনে রজব বলেছেন: এরপরে আল-বারদিজি বলেছেন: আর ক্বাতাদাহর হাদিসসমূহ যা হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, হাম্মাম, আবান এবং আওযাঈর মতো শাইখগণ বর্ণনা করেছেন, সেই হাদিসটি পর্যালোচনা করা হবে। যদি হাদিসটি তাদের সূত্র ছাড়া অন্য কোনো সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অথবা আনাস ইবনে মালিক থেকে অন্য কোনোভাবে সংরক্ষিত থাকে, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে না। কিন্তু যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অন্য কারও মাধ্যমে বা আনাস থেকে অন্য কারও মাধ্যমে এটি পরিচিত না হয়ে কেবল আপনার কাছে উল্লিখিত এই সূত্র থেকেই বর্ণিত হয়, তবে তা 'মুনকার' (অস্বীকৃত) হিসেবে গণ্য হবে।

এবং তিনি বলেছেন: যদি কোনো নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো সাহাবী থেকে সহিহ সূত্রে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করেন যা কেবল একজন ব্যক্তির কাছেই পাওয়া যায়, তবে অন্য কেউ তা বর্ণনা না করা তার জন্য ক্ষতিকর হবে না, যদি হাদিসের মূল পাঠ (মতন) পরিচিত হয় এবং তা মুনকার কিংবা 'মালুল' (ত্রুটিযুক্ত) না হয়।

তিনি সেই হাদিস সম্পর্কে বলেছেন যা আমর ইবনে আসিম হাম্মাম থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে তালহা থেকে এবং তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: "আমি দণ্ডযোগ্য অপরাধ করেছি, তাই আমার ওপর তা কার্যকর করুন..." হাদিসের শেষ পর্যন্ত। এটি আমার কাছে একটি 'মুনকার' হাদিস এবং আমার মতে এটি আমর ইবনে আসিমের পক্ষ থেকে একটি বিভ্রান্তি (ওয়াহম)।

ইবনে রজব 'শারহু ইলালিত তিরমিজি' (১)-এ বলেছেন: আর অধিকাংশ পূর্ববর্তী হাফিজগণের মত হলো যে, কোনো হাদিস যদি একজন রাবি এককভাবে বর্ণনা করেন—যদিও নির্ভরযোগ্য রাবিগণ তার বিপরীতে কোনো বর্ণনা করেননি—তবুও সেই বর্ণনায় তাকে সমর্থন করা হয় না এবং তারা এটিকে একটি ত্রুটি (ইল্লাহ) হিসেবে গণ্য করেন। তবে যদি সেই রাবি এমন কেউ হন যার মুখস্থ শক্তি প্রখর এবং যার সততা ও হাদিস বর্ণনার বিষয়টি জুহরি বা তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের মতো সুপরিচিত হয়, তবে ভিন্ন কথা। এমনকি বড় বড় নির্ভরযোগ্য রাবিদের কোনো কোনো একক বর্ণনাকেও তারা কখনও কখনও অস্বীকার করেন। প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ সমালোচনা পদ্ধতি রয়েছে এবং এর জন্য তাদের কাছে কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই যা দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আল-মুয়াল্লিমি 'আল-আনওয়ার আল-কাশিফাহ' (২)-তে বলেছেন: ইমামগণ প্রায়শই একজন রাবিকে তার বর্ণিত একটি মাত্র 'মুনকার' খবরের কারণে বর্জন করেন যা তিনি নিয়ে এসেছেন, যা অন্য দুই বা ততোধিক খবরের চেয়েও গুরুতর বিবেচিত হয় এবং তারা বলেন: খবরটি...

--------------------------------------------

(১) ১/ ২৫২ - ২৫৩।

(২) পৃষ্ঠা ১৪।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৪)
الذي تمتنع صحته أو تبعد منكرًا أو باطلًا، وتجد ذلك كثيرًا في تراجم الضعفاء والعلل.

قلت: تطلق النكارة على معان منها الوهم والخطأ، وما لا أصل له، وعلى غير الصحيح وعلى الضعيف والشديد الضعف، وعلى الكذب وعلى رواية الثقة والصدوق بقرائن والمجهول والمتروك وغير ذلك.

قلت: وتطلق النكارة في المرتبة الأولى على الوهم والخطأ، فعلى سبيل المثال: في "علل عبد اللَّه بن أحمد بن حنبل" قال: سألت أبي عن حديث حدثناه الفضل بن زياد الذي يقال له: الطَّسِّي قال: حدثنا إسماعيل ابن عياش، عن موسى بن عقبة، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم "لا يقرأ الجنب والحائض شيئًا من القرآن".

فقال أبي: هذا باطل أنكره على إسماعيل بن عياش. يعنى: أنه وهم من إسماعيل بن عياش (1).

- وفي "الضعفاء" للعقيلي (2): قال الأثرم: قلت لأحمد: تحفظ عن عبد اللَّه بن رجاء، عن عبيد اللَّه، عن نافع عن ابن عمر "تلحلال بيَّن"، فقال: هذا منكر ما أرى هذا بشيء، وقال لي أبو عبيد اللَّه: إن ابن رجاء هذا زعم أن كتبه كانت ذهبت، فجعل يكتب مات حفظه ولعله توهم هذا. ثم حسن أحمد أمر عبد اللَّه.

- وفي كتاب "العلل ومعرفة الرجال" (3) رواية المروذي: قلت لأحمد: تعرف عن الوليد، عن الأوزاعي، عن يحيى، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة،

--------------------------------------------

(1) "علل عبد اللَّه بن أحمد بن حنبل" (5675).

(2) "الضعفاء" للعقيلي 2/ 252.

(3) (268).
যেটির বিশুদ্ধতা অসম্ভব বা সুদূরপরাহত তা 'মুনকার' বা 'বাতিল'; দুর্বল বর্ণনাকারীদের জীবনী এবং হাদীসের ত্রুটি (ইলাল) বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে আপনি এর প্রচুর উদাহরণ পাবেন।

আমি বলছি: 'নাকারা' (মুনকার হওয়া) শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে—ভ্রম ও ভুল, যার কোনো ভিত্তি নেই এমন বর্ণনা, সহীহ নয় এমন বর্ণনা, দুর্বল ও চরম দুর্বল বর্ণনা, মিথ্যা বর্ণনা, বিশেষ কোনো প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী রাবীর বর্ণনা, অজ্ঞাত ও পরিত্যক্ত রাবীর বর্ণনা ইত্যাদি।

আমি বলছি: 'নাকারা' শব্দটি প্রথমত ভ্রম ও ভুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। উদাহরণস্বরূপ: আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বলের "আল-ইলাল" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে এমন একটি হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যা ফযল বিন যিয়াদ (যাকে আত-তাসসি বলা হয়) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ বর্ণনা করেছেন, তিনি মূসা বিন উকবা থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে— "অপবিত্র ব্যক্তি এবং ঋতুমতী নারী কুরআনের কিছুই পাঠ করবে না।"

অতঃপর আমার পিতা বললেন: এটি বাতিল, তিনি এটিকে ইসমাঈল ইবনে আইয়াশের পক্ষ থেকে অগ্রহণযোগ্য (মুনকার) হিসেবে গণ্য করেছেন। অর্থাৎ: এটি ইসমাঈল ইবনে আইয়াশের একটি ভ্রম (১)।

- আর উকাইলীর "আদ-দুয়াফা" গ্রন্থে (২) বর্ণিত হয়েছে: আল-আছরাম বলেন: আমি আহমাদকে বললাম: আপনি কি আব্দুল্লাহ বিন রাজা থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণিত "হালাল সুস্পষ্ট" হাদীসটি সম্পর্কে জানেন? তিনি বললেন: এটি 'মুনকার', আমি এটিকে কিছুই মনে করি না। আবু আব্দুল্লাহ আমাকে বললেন: এই ইবনে রাজা দাবি করেছিলেন যে তার কিতাবগুলো হারিয়ে গিয়েছিল, ফলে তিনি তার স্মৃতি থেকে লিখতে শুরু করেছিলেন এবং সম্ভবত এটি ছিল তার একটি ভ্রম। এরপর আহমাদ আব্দুল্লাহর অবস্থা সম্পর্কে ভালো মন্তব্য করেন।

- এবং "আল-ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল" গ্রন্থে (৩) আল-মারওয়াযীর বর্ণনায় রয়েছে: আমি আহমাদকে বললাম: আপনি কি ওয়ালীদ থেকে, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসটি চেনেন?

--------------------------------------------

(১) আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বলের "আল-ইলাল" (৫৬৭৫)।

(২) উকাইলীর "আদ-দুয়াফা" ২/ ২৫২।

(৩) (২৬৮)।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৫)
عن النبي صلى الله عليه وسلم: متي كُتبت نبيًّا؟ قال: هذا منكر هذا من خطأ الأوزاعي، وهو كثيرًا ما يخطئ عن يحيى بن أبي كثير.

قال الحافظ في "التهذيب" (1) في ترجمة الفضل بن دلهم: قال الأثرم عن أحمد: ليس به بأس إلا أن له أحاديث. قلت: هو واسطي؟ قال: نعم، لا أعلم أحدًا روى عن وكيع عنه. قال: وسمعت أبا عبد اللَّه ذكر حديثه عن الحسن، عن قبيصة بن حريث، عن سلمة بن المحبق حديث: "خذوا عني". فقال: هذا حديث منكر. يعني: أنه أخطأ فيه؛ لأن قتادة وغيره رووه عن الحسن عن حطان بن عبد اللَّه الرقاشي عن عبادة.

- وقال أيضًا في حديث عائشة: في ترك الوضوء من القبلة: هذا منكر. نقله ابن رجب في "شرح علل الترمذي" (2). وقال مره: نرى أنه غلط؛ فإن عروة المذكور في الحديث هو عروة المزني ولم يدرك عائشة، ورواه أيضًا إبراهيم التيمي عن عائشة، ولا يصح سماعه من عائشة.

- وفي "العلل" (3) رواية عبد اللَّه بن أحمد: قال في حديث البراء بن عازب رضي الله عنه في قوله تعالى: {انْظُرُوا إِلَى ثَمَرِهِ إِذَا أَثْمَرَ} [الأنعام: 99]. قال: نضجه حين ينضج.

قال الإمام أحمد: ليس هذا من حديث أبي إسحاق هذا يؤكل، كأنه أنكره من حديث عمار أنه وهم والحديث حدثنا به إبراهيم الهروي.

- وفي "العلل" رواية عبد اللَّه، و"المنتخب لابن قدامة من علل الخلال"، و"فضائل الصحابة" لأحمد (4): ذكر حديث أبي بكر: "ما نفعني

--------------------------------------------

(1) 4/ 492.

(2) (348).

(3) (5704 - 5705).

(4) "العلل" رواية عبد اللَّه (2532)، و"المنتخب من علل الخلال" لابن قدامة (107)، و"فضائل الصحابة" لأحمد 79 - 80.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত: "আপনি কখন নবী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন?" তিনি (ইমাম আহমদ) বললেন: এটি মুনকার (প্রত্যাখ্যাত)। এটি আওযায়ী-এর ভুল থেকে উদ্ভূত; তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে প্রায়ই ভুল করতেন।

হাফেজ (ইবনে হাজার) "আত-তাহযীব"-এ (১) ফাদল ইবনে দালহামের জীবনীতে বলেছেন: আসরাম আহমদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই তবে তার কিছু (অগ্রহণযোগ্য) হাদিস রয়েছে। আমি বললাম: তিনি কি ওয়াসিতি? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি জানি না যে ওয়াকী তার থেকে বর্ণনা করেছেন এমন কেউ আছেন। তিনি বললেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে (ইমাম আহমদ) হাসান থেকে, তিনি ক্ববিসাহ ইবনে হুরাইছ থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে আল-মুহাব্বিক থেকে বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করতে শুনেছি: "তোমরা আমার থেকে গ্রহণ করো।" এরপর তিনি বললেন: এটি একটি মুনকার হাদিস। অর্থাৎ, তিনি এতে ভুল করেছেন; কারণ কাতাদাহ এবং অন্যরা এটি হাসান থেকে, তিনি হিত্তান ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রাকাশি থেকে, তিনি উবাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

- তিনি আরও বলেছেন আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত চুমু খাওয়ার ফলে অজু না করার হাদিস সম্পর্কে: এটি মুনকার। ইবনে রাজাব এটি "শারহু ইলালিত তিরমিযী"-তে (২) উদ্ধৃত করেছেন। তিনি একবার বলেছিলেন: আমরা মনে করি এটি ভুল; কারণ হাদিসে উল্লিখিত উরওয়াহ হলেন উরওয়াহ আল-মুযানী এবং তিনি আয়িশাকে পাননি (সাক্ষাৎ পাননি), এবং এটি ইবরাহিম আত-তাইমিও আয়িশা থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ আয়িশার থেকে তার শ্রবণ সহিহ নয়।

- এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদের বর্ণিত "আল-ইলাল"-এ (৩) আছে: তিনি বারা ইবনে আযেব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলেছেন: {তোমরা এর ফলের দিকে লক্ষ্য করো যখন তা ফলবান হয়} [আল-আনআম: ৯৯]। তিনি বলেছেন: এর অর্থ যখন তা পরিপক্ক হয় তখন তার পরিপক্কতা।

ইমাম আহমদ বলেছেন: এটি আবু ইসহাকের হাদিস নয়, এটি (হাদিস হিসেবে নয় বরং ভিন্ন কিছু যা) প্রচলিত, মনে হচ্ছে তিনি আম্মারের হাদিস হিসেবে এটিকে মুনকার সাব্যস্ত করেছেন যে এটি একটি ভ্রম এবং হাদিসটি ইবরাহিম আল-হারাওয়ী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।

- এবং আব্দুল্লাহর বর্ণিত "আল-ইলাল", "আল-খলাল এর ইলাল থেকে ইবনে কুদামাহ-এর নির্বাচিত অংশ", এবং আহমদের "ফাদায়িলুস সাহাবা"-তে (৪) আবু বকরের হাদিসটি উল্লেখ করা হয়েছে: "আমাকে যা উপকৃত করেনি...

--------------------------------------------

(১) ৪/ ৪৯২।

(২) (৩৪৮)।

(৩) (৫৭০৪ - ৫৭০৫)।

(৪) আব্দুল্লাহর বর্ণিত "আল-ইলাল" (২৫৩২), এবং ইবনে কুদামাহ কর্তৃক "আল-মুনতাখাব মিন ইলালিল খলাল" (১০৭), এবং আহমদের "ফাদায়িলুস সাহাবা" ৭৯ - ৮০।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৬)
مال ما نفعني مال أبي بكر" فأنكره الإمام أحمد إنكارًا شديدًا وقال: هذا خطأ، ثم قال: ثنا عبد الرزاق عن معمر عن الزهري عن سعيد بن المسيب قال: قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم.

- وذكر الخطيب في "تاريخ بغداد" (1) حديث عمران بن الحصين رضي الله عنه: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم راكبًا وتحته -أو قال- عليه قطيفة من أرض الجزيرة. فأنكرها الإمام، فقيل له: تراه وهم؟ فقال: ينبغي أن يكون كذلك.

- وفي "المنتخب لابن قدامه من علل الخلال"، و"تاريخ بغداد" ذكر حديث ابن مسعود رضي الله عنه: "إن الإسلام بدأ غريبا وسيعود غريبا كما بدأ"؛ قال أحمد: هذا حديث منكر (2)، ومرة: أخطأ فيه الأعمش (3).

- وفي "ضعفاء العقيلي"، و"العلل" رواية عبد اللَّه (4): ذكر حديث جابر رضي الله عنه: كان النبي صلى الله عليه وسلم يشهد مع المشركين مشاهدهم. قال الإمام أحمد: هذا الحديث منكر جدًّا أو موضوع، أو كأنه موضوع. وقال: نراه يتوهم. يعني: عثمان بن محمد بن أبي شبية.

وأطلق أيضًا الأئمة النكارة على الوهم والخطأ وإن كان المتفرد ثقة.

قال أبو داود في "السنن" (5): حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الحَنَفِيِّ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ ابن جُرَيْج، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الخَلَاءَ وَضَعَ خَاتَمَهُ.

--------------------------------------------

(1) "تاربخ بغداد" 2/ 80.

(2) "المنتخب لابن قدامة من علل الخلال" (11).

(3) "تاريخ بغداد" 3/ 273.

(4) "ضعفاء العقيلي" 3/ 222 و"العلل" رواية عبد اللَّه (1333).

(5) "سنن أبي داود" 1/ 25.
"আবুবকরের সম্পদের মতো কোনো সম্পদই আমার উপকার করেনি"—ইমাম আহমাদ এটি তীব্রভাবে অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: "এটি ভুল।" এরপর তিনি বলেছেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন।

- খতীব 'তারিখে বাগদাদ' (১) গ্রন্থে ইমরান ইবনুল হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস উল্লেখ করেছেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সওয়ার অবস্থায় দেখেছি এবং তাঁর নিচে—অথবা তিনি বলেছেন—তাঁর উপরে জাযীরা অঞ্চলের একটি চাদর ছিল।" ইমাম আহমাদ এটিকে অস্বীকার করেছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: "আপনি কি মনে করেন এটি বর্ণনাকারীর বিভ্রম (ওয়াহম)?" তিনি বললেন: "এমনটিই হওয়া সমীচীন।"

- ইবনে কুদামার 'আল-মুনতাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল' এবং 'তারিখে বাগদাদ' গ্রন্থে ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই ইসলাম অপরিচিত অবস্থায় শুরু হয়েছিল এবং তা অচিরেই সূচনার ন্যায় অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে।" ইমাম আহমাদ বলেন: "এটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদীস (২)।" অন্য এক স্থানে তিনি বলেন: "আমাস এতে ভুল করেছেন (৩)।"

- উকাইলীর 'যুয়াফা' এবং আবদুল্লাহর বর্ণনায় 'আল-ইলাল' (৪) গ্রন্থে জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুশরিকদের সাথে তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতেন।" ইমাম আহমাদ বলেন: "এই হাদীসটি অত্যন্ত মুনকার অথবা বানোয়াট, কিংবা এটি বানোয়াট সদৃশ।" তিনি আরও বলেন: "আমরা তাকে বিভ্রান্ত (ওয়াহম) মনে করি।" অর্থাৎ: উসমান বিন মুহাম্মাদ বিন আবি শাইবা।

ইমামগণ ভ্রান্তি ও ভুলের ওপরও 'মুনকার' শব্দের প্রয়োগ করেছেন, যদিও একক বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) হয়ে থাকেন।

আবু দাউদ 'আস-সুনান' (৫) গ্রন্থে বলেছেন: নসর বিন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-হানাফী থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁর আংটি খুলে রাখতেন।

--------------------------------------------

(১) "তারিখে বাগদাদ" ২/ ৮০।

(২) "আল-মুনতাখাব লিবনি কুদামা মিন ইলালিল খাল্লাল" (১১)।

(৩) "তারিখে বাগদাদ" ৩/ ২৭৩।

(৪) "যুয়াফা আল-উকাইলী" ৩/ ২২২ এবং আবদুল্লাহর বর্ণনায় "আল-ইলাল" (১৩৩৩)।

(৫) "সুনানে আবু দাউদ" ১/ ২৫।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৭)
قَالَ أَبُو دَاوُد: هذا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ، وَإِنَّمَا يُعْرَفُ عَنْ ابن جُرَيْجٍ، عَنْ زِيَادِ ابْنِ سَعْدٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ ثُمَّ أَلْقَاهُ. وَالْوَهْمُ فِيهِ مِنْ هَمَّامٍ وَلَمْ يَرْوِهِ إِلَّا هَمَّامٌ.

قال ابن عبد البر (1) في "التمهيد": احتجوا بحديث عبد الرزاق، عن الثوري، عن سليمان الشيباني، عن يزيد بن الأصم، عن ابن عباس، أن رجلًا سأل النبي صلى الله عليه وسلم فقال: أحج عن أبي؟ قال: "نعم، إن لم تزده خيرًا لم تزده شرًا".

قال أبو عمر: أما هذا الحديث فقد حملوا فيه على عبد الرزاق؛ لانفراده به عن الثوري من بين سائر أصحابه، وقالوا: هذا حديث لا يوجد في الدنيا عند أحد بهذا الإسناد إلا في كتاب عبد الرزاق أو في كتاب من أخرجه من كتاب عبد الرزاق ولم يروه أحد عن الثوري غيره وقد خطئوه وهو عندهم خطأ فقالوا: هذا لفظ منكر لا تشبهه ألفاظ النبي صلى الله عليه وسلم أن يأمر لما لا يدري هل ينفع أم لا ينفع.

[قلت]: وكثيرًا ما تجد في هذا الكتاب من إطلاقات الإمام أحمد النكارة على الوهم والخطأ وإن كان المتفرد ثقة وإن لم يخالف، وتطلق النكارة أيضًا على رواية الضعيف.

أمثلة على ذلك:

- ففي "سنن البيهقي" و"نصب الراية" و"زاد المعاد" (2) قول الإمام أحمد في حديث عمرو بن العاص رضي الله عنه: لا تلبسوا علينا سنة نبينا صلى الله عليه وسلم، عدة المتوفى عنها زوجها أربعة أشهر وعشرًا.

--------------------------------------------

(1) 9/ 129.

(2) "سنن البيهقي" 7/ 448، و"نصب الراية" 3/ 550، و"زاد المعاد" 5/ 722.
আবু দাউদ বলেছেন: এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস। এটি ইবনে জুরাইজ থেকে, যিয়াদ ইবনে সা'দ থেকে, যুহরি থেকে, আনাস (রা.)-এর সূত্রে কেবল এভাবেই পরিচিত যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি রুপার আংটি গ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সেটি ফেলে দেন। এতে বিভ্রান্তি ঘটেছে হাম্মাম-এর পক্ষ থেকে, আর হাম্মাম ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি।

ইবনে আব্দুল বার (১) 'আত-তামহিদ' গ্রন্থে বলেছেন: তারা আব্দুর রাজ্জাকের হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যা আস-সাওরি থেকে, তিনি সুলাইমান আশ-শায়বানি থেকে, তিনি ইয়াযিদ ইবনুল আসম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: আমি কি আমার পিতার পক্ষ থেকে হজ করতে পারি? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যদি তা তার জন্য কল্যাণ বৃদ্ধি না-ও করে, তবে তার অকল্যাণ বৃদ্ধি করবে না।"

আবু উমর বলেছেন: এই হাদিসটির ক্ষেত্রে তারা আব্দুর রাজ্জাকের উপর দোষারোপ করেছেন; কারণ আস-সাওরির অন্যান্য সকল ছাত্রের মধ্যে কেবল তিনিই এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেছেন: এই সনদসহ এই হাদিসটি পৃথিবীতে আব্দুর রাজ্জাকের কিতাব অথবা যারা তার কিতাব থেকে এটি সংকলন করেছেন তাদের কিতাব ছাড়া আর কারো কাছে পাওয়া যায় না। তিনি ছাড়া আর কেউ এটি আস-সাওরি থেকে বর্ণনা করেননি। তারা একে ভুল সাব্যস্ত করেছেন এবং তাদের মতে এটি একটি ত্রুটি। তারা বলেছেন: এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) শব্দচয়ন, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাচনভঙ্গির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয় যে, তিনি এমন কিছুর আদেশ দেবেন যার উপকারিতা বা অপকারিতা সম্পর্কে জানা নেই।

[আমি বলছি]: এই গ্রন্থে আপনি প্রায়ই ইমাম আহমদের পক্ষ থেকে কোনো বর্ণনাকে 'নাকারা' (মুনকার হওয়া) বলতে দেখবেন যখন তাতে বিভ্রান্তি বা ভুল থাকে, যদিও এককভাবে বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) হন এবং তিনি কারো বিরোধিতা না-ও করেন। এছাড়া দুর্বল বর্ণনাকারীর বর্ণনার ক্ষেত্রেও 'নাকারা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

এর উদাহরণসমূহ:

- যেমন 'সুনানে বায়হাকি', 'নাসবুর রায়াহ' এবং 'যাদুল মা'আদ' (২) গ্রন্থে আমর ইবনুল আস (রা.) বর্ণিত হাদিসের ব্যাপারে ইমাম আহমদের উক্তি রয়েছে: "তোমরা আমাদের নিকট আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহকে অস্পষ্ট করো না; যে নারীর স্বামী মারা গেছেন তার ইদ্দত হলো চার মাস দশ দিন।"

--------------------------------------------

(১) ৯/ ১২৯।

(২) "সুনানে বায়হাকি" ৭/ ৪৪৮, "নাসবুর রায়াহ" ৩/ ৫৫০, এবং "যাদুল মা'আদ" ৫/ ৭২২।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৮)
قال أحمد: منكر.

وقال: ضعيف لا يصح.

- وفي "سنن أبي داود" (1): قال الإمام أحمد في حديث علي: لَئِنْ بَقِيتُ لِنَصَارى بَنِي تَغْلِبَ لَأَقْتُلَنَّ المُقَاتِلَةَ، وَلَأَسْبِيَنَّ الذُّرِّيَّةَ، فَإِنِّي كَتَبْتُ الكِتَابَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَنْ لَا يُنَصِّرُوا أَبْنَاءَهُمْ. أنكره إنكارا شديدا، ومرة ضعفه.

- وفي "فتح الباري" (2) لابن رجب: سئل الإمام أحمد عن حديث ابن عمر رضي الله عنهما في الضربتين في التيمم قال: هذا حديث منكر. وقال مرة: أحاديث الضربتين ضعاف جدًا.

- وفي "الضعفاء" للعقيلي و"تلخيص الحبير" (3): قول الإمام أحمد على حديث عائشة رضي الله عنها: أنه كان يأمر بالغسل من الجنابة والحجامة ومن غسل الميت ويوم الجمعة.

قال: ذاك حديث منكر. وقال مرة: ضعيف.

- وفي "فتح الباري" لابن رجب، و"التلخيص الحبير" (4): قول الإمام أحمد على حديث أبي هريرة رضي الله عنه: "الجمعة على من آواه الليل إلى أهله" أنكر أشد الإنكار ومرة ضعفه. وتطلق النكارة على الكذب.

الأمثلة:

- في "المنتخب" لابن قدامة، و"الضعفاء" (5) للعقيلي: حديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه: "اللهم وال من والاه وعاد من عاداه"، قال الإمام أحمد:

--------------------------------------------

(1) 3/ 283.

(2) 2/ 92.

(3) "الضعفاء" 4/ 197 و"التلخيص الحبير" 1/ 1371.

(4) "فتح الباري" لابن رجب 5/ 408، و"التلخيص الحبير" 2/ 54.

(5) "المنتخب" لابن قدامة (121)، والعقيلي في "الضعفاء" 1/ 249.
আহমাদ বলেছেন: মুনকার (অস্বীকৃত)।

এবং তিনি বলেছেন: যঈফ (দুর্বল), এটি সহীহ নয়।

- এবং "সুনান আবি দাউদ" (১)-এ রয়েছে: ইমাম আহমাদ আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস সম্পর্কে বলেছেন: যদি আমি বনু তাগলিবের খ্রিস্টানদের জন্য অবশিষ্ট থাকি, তবে আমি অবশ্যই তাদের যোদ্ধাদের হত্যা করব এবং তাদের সন্তানদের বন্দী করব; কেননা আমি তাদের এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে এই মর্মে চুক্তিপত্র লিখেছিলাম যে, তারা যেন তাদের সন্তানদের খ্রিস্টান না বানায়। তিনি এটি অত্যন্ত কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন এবং কোনো কোনো সময় একে দুর্বল বলেছেন।

- এবং ইবনে রজবের "ফাতহুল বারী" (২)-তে রয়েছে: ইমাম আহমাদকে তায়াম্মুমে দুইবার আঘাত করা সম্পর্কিত ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এটি একটি মুনকার হাদীস। তিনি অন্য সময় বলেছেন: দুইবার আঘাত করার হাদীসগুলো অত্যন্ত দুর্বল।

- এবং উকায়লীর "আয-যুয়াফা" ও "তালখীসুল হাবীর" (৩)-এ রয়েছে: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদীস সম্পর্কে ইমাম আহমাদের বক্তব্য: যে তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানাবাত থেকে গোসল, হাজামাহ (রক্তমোক্ষণ), মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো এবং জুমার দিনের গোসলের আদেশ দিতেন।

তিনি বলেন: সেটি একটি মুনকার হাদীস। এবং অন্য সময় বলেছেন: যঈফ (দুর্বল)।

- এবং ইবনে রজবের "ফাতহুল বারী" ও "তালখীসুল হাবীর" (৪)-এ রয়েছে: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস: "জুমা তার ওপর ওয়াজিব যে রাতে তার পরিবারের আশ্রয়ে পৌঁছে" সম্পর্কে ইমাম আহমাদের বক্তব্য; তিনি এটি অত্যন্ত কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন এবং কোনো সময় একে যঈফ বলেছেন। আর 'নাকারাহ' (মুনকার হওয়া) শব্দটি মিথ্যার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়।

উদাহরণসমূহ:

- ইবনে কুদামার "আল-মুনতাখাব" এবং উকায়লীর "আয-যুয়াফা" (৫)-তে রয়েছে: আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস: "হে আল্লাহ, যে তাকে বন্ধু মনে করে আপনি তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন, আর যে তার সাথে শত্রুতা করে আপনি তার সাথে শত্রুতা করুন", ইমাম আহমাদ বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) ৩/ ২৮৩।

(২) ২/ ৯২।

(৩) "আয-যুয়াফা" ৪/ ১৯৭ এবং "তালখীসুল হাবীর" ১/ ১৩৭১।

(৪) ইবনে রজবের "ফাতহুল বারী" ৫/ ৪০৮, এবং "তালখীসুল হাবীর" ২/ ৫৪।

(৫) ইবনে কুদামার "আল-মুনতাخাব" (১২১), এবং উকায়লীর "আয-যুয়াফা" ১/ ২৪৯।
(খণ্ড: ১৪) আল-জামে লি-উলুমিল ইমাম আহমাদ - ইলালুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৯)
منكر جدًا.

قال العقيلي: كأنه لم يشك أن هذا الحديث كذب.

- وفي "علل عبد اللَّه بن أحمد" (1): حديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: كان رجل يهوى امرأة، وكان ذات يوم جالسًا عند رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فاستأذن في حاجة فأذن له، فخرج في يوم مطر فإذا هو بامرأة على غدير تغتسل فلما رآها جلس منها مجلس الرجل من امرأته وحرك ذكره فإذا هو مثل الهدبة الحديث.

قال الإمام أحمد: ما أرى هذا إلا كذاب، أو كذب، وأنكره جدًّا.

- وفي "العلل" رواية عبد اللَّه وغيرها: قال الإمام أحمد على حديث ابن مسعود رضي الله عنه في القراءة على المصروع ببعض آيات من سورة المؤمنون.

قال: هذا الحديث موضوع، هذا حديث الكذابين منكر.

وتطلق النكارة أيضًا على المخالفة (2).

- ففي "علل المروذي" (3) قال: ذكرت للإمام أحمد: حديث زهير بن محمد، عن العلاء، عن أبية، عن أبي هريرة قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: "إذا كان نصف شعبان فلا صوم" فأنكره، وقال: سألت ابن مهدي عنه فلم يحدثني به وكان يتوقاه، ثم قال الإمام أحمد: هذا خلاف الأحاديث التي رويت عن النبي صلى الله عليه وسلم.

- وفي "شرح علل الترمذي" (4) لابن رجب: قال على حديث عائشة

--------------------------------------------

(1) "العلل" برواية عبد اللَّه (2039).

(2) "العلل" رواية عبد اللَّه (5979).

(3) "علل المروذي" (278).

(4) ص 412.
চরমভাবে বর্জনীয় (মুনকার)।

উকায়লী বলেন: মনে হয় তিনি এই হাদীসটি মিথ্যা হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করেননি।

- এবং "আবদুল্লাহ বিন আহমদের ইলাল" গ্রন্থে (১): ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি এক মহিলাকে ভালোবাসত। একদিন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসা ছিল, এরপর সে কোনো প্রয়োজনে অনুমতি চাইল এবং তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। সে এক বৃষ্টির দিনে বের হলো এবং দেখল এক মহিলা জলাশয়ে গোসল করছে। তাকে দেখে সে তার সাথে সেভাবে বসল যেভাবে একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে বসে এবং সে তার অঙ্গ সঞ্চালন করল, তখন দেখা গেল তা কাপড়ের পাড়ের (সুতার) মতো শিথিল—হাদীস।

ইমাম আহমদ বলেন: আমি একে মিথ্যাবাদী ছাড়া আর কিছু মনে করি না, অথবা এটি একটি মিথ্যা হাদীস; তিনি একে চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

- এবং "আল-ইলাল" আবদুল্লাহর বর্ণনা ও অন্যান্য স্থানে: ইমাম আহমদ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত মৃগী রোগীর ওপর সূরা আল-মুমিনুনের কিছু আয়াত পাঠ করার হাদীস সম্পর্কে বলেন।

তিনি বলেন: এই হাদীসটি জাল, এটি মিথ্যাবাদীদের হাদীস এবং তা বর্জনীয় (মুনকার)।

বিরুদ্ধাচরণের (মুখালাফাহ) ক্ষেত্রেও 'নাকারা' (মুনকার হওয়া) শব্দটি ব্যবহৃত হয় (২)।

- যেমন "মারওয়াযীর ইলাল" গ্রন্থে (৩) বলা হয়েছে: আমি ইমাম আহমদের কাছে যুহাইর বিন মুহাম্মাদ, আল-আলা থেকে, তার পিতা থেকে, আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখ করলাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন শা'বানের অর্ধেক অতিবাহিত হয় তখন আর রোজা নেই"; তিনি এটি অস্বীকার করলেন এবং বললেন: আমি ইবনে মাহদীকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি কিন্তু তিনি আমার কাছে এটি বর্ণনা করেননি এবং তিনি এটি এড়িয়ে চলতেন। এরপর ইমাম আহমদ বলেন: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহের পরিপন্থী।

- এবং ইবনে রজব রচিত "শারহু ইলালিত তিরমিযী" (৪) গ্রন্থে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীস সম্পর্কে তিনি বলেন

--------------------------------------------

(১) "আল-ইলাল", আবদুল্লাহর বর্ণনা (২০৩৯)।

(২) "আল-ইলাল", আবদুল্লাহর বর্ণনা (৫৯৭৯)।

(৩) "ইলালুল মারওয়াযী" (২৭৮)।

(৪) পৃষ্ঠা ৪১২।