(খণ্ড: ১) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
تفسير القرطبي = الجامع لأحكام القرآن   (القرطبي)

القسم: التفسير


الكتاب: الجامع لأحكام القرآن

المؤلف: أبو عبد الله، محمد بن أحمد الأنصاري القرطبي

تحقيق: أحمد البردوني وإبراهيم أطفيش

الناشر: دار الكتب المصرية - القاهرة

الطبعة: الثانية، 1384 هـ - 1964 م

عدد الأجزاء: 20 جزءا (في 10 مجلدات)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 شعبان 1432

তাফসীরে কুরতুবী = আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন   (আল-কুরতুবী)

বিভাগ: তাফসীর


কিতাব: আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-আনসারী আল-কুরতুবী

তাহকীক: আহমদ আল-বারদুনী এবং ইব্রাহিম আতফিশ

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ - কায়রো

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৮৪ হিজরী - ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২০ খণ্ড (১০টি ভলিউমে)

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২১ শা'বান ১৪৩২

(খণ্ড: ১) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الجامع لأحكام القرآن = تفسير القرطبي]ـ

المؤلف: أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أبي بكر بن فرح الأنصاري الخزرجي شمس الدين القرطبي (المتوفى: 671هـ)

تحقيق: أحمد البردوني وإبراهيم أطفيش

الناشر: دار الكتب المصرية - القاهرة

الطبعة: الثانية، 1384هـ - 1964 م

عدد الأجزاء: 20 جزءا (في 10 مجلدات)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي، وضمن خدمة مقارنة تفاسير]
تنبيهات:

1 - الكتاب مرتبط بنسختين مصورتين، إحداهما موافقة في ترقيم الصفحات (ط عالم الكتب)، والأخرى هي ط الرسالة بتحقيق الدكتور عبد الله بن عبد المحسن التركي

2 - ط دار الكتب المصرية (=الهيئة المصرية العامة للكتاب)، التي أُخذت عنها هذه النسخة الإلكترونية: مقابلة على 24 نسخة مخطوطة ومُراجعة على كتب التفسير والقراءات، وكتب الحديث والإعراب التي رجع إليها المؤلف، وخاصة قراءة نافع التي جعلها المؤلف أصلاً لتفسيره.

ثم طبعتها كثير من دور النشر بعد ذلك بنفس أرقام أجزائها وصفحاتها وحواشيها، منها: دار إحياء التراث العربي بيروت - لبنان 1405 هـ - 1985 م، ومنها دار عالم الكتب 1423 هـ - 2003 م
—[আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন = তাফসীরে কুরতুবী]—

লেখক: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবু বকর বিন ফারাহ আল-আনসারী আল-খাজরাজী শামসুদ্দিন আল-কুরতুবী (মৃত্যু: ৬৭১ হিজরি)

সম্পাদনা ও তাহকীক: আহমদ আল-বারদুনি এবং ইব্রাহিম ইতফিশ

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ - কায়রো

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৮৪ হিজরি - ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২০ খণ্ড (১০টি ভলিউমে)

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ, এটি পাদটীকা সমৃদ্ধ এবং তাফসীর তুলনা সেবার অন্তর্ভুক্ত]
সতর্কবার্তাসমূহ:

১ - বইটি দুটি স্ক্যানকৃত সংস্করণের সাথে যুক্ত, যার একটির পৃষ্ঠা সংখ্যা (দারু আলমিল কুতুব) সংস্করণের অনুরূপ, এবং অপরটি ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুহসিন আত-তুর্কির সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘আর-রিসালাহ’ সংস্করণ।

২ - দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ (= হাইআতুল মিসরিয়্যাহ আল-আম্মাহ লিল কিতাব) সংস্করণ, যেখান থেকে এই ইলেকট্রনিক সংস্করণটি সংগ্রহ করা হয়েছে: এটি ২৪টি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সম্পাদিত এবং তাফসীর, কিরাত, হাদীস ও ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থসমূহের আলোকে পর্যালোচিত যেগুলোর সাহায্য লেখক নিয়েছেন; বিশেষ করে ইমাম নাফে‘র কিরাতকে লেখক তাঁর তাফসীরের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

পরবর্তীতে অনেক প্রকাশনা সংস্থা একই খণ্ড, পৃষ্ঠা ও টীকা বজায় রেখে এটি মুদ্রণ করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবী, বৈরুত - লেবানন ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ, এবং দারু আলমিল কুতুব ১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٣)
- ط -

 

‌‌مقدمة الطبعة الثانية

(بسم الله الرحمن الرحيم)

مقدمة الطبعة الثانية

لعلنا في غير حاجة إلى تعريف القراء بهذا التفسير العظيم، بعد ان عرفوه في طبعته الاولى فأقبلوا عليه إقبالا منقطع النظير. إذ لم يكد يخرج منه جزء حتى تهافت عليه الجمهور، ممن عرفوا فضل القرطبي وعلمه وأدبه، ودقته في تأويل كتاب الله تعالى، وعرض اقوال الأئمة من جهابذة المحققين، وأولي البصر بكتاب الله من أعلام المجتهدين. ولقد رأى القراء حين طلع عليهم تفسير القرطبي مبلغ ما بذله مؤلفه من جهد كبير، وعناية فائقة، يدلان على عمقه في البحث، ومقدرته على فهم كتاب الله، وإلمامه بأصول علوم الشريعة وفروعها، من لغة وأدب وبلاغة. يتجلى كل أولئك في استنباطه الأحكام الشرعية من نصوص الآيات الكريمة، حتى ليكاد يستغني به القارئ عن دراسة كتب الفقه، ثم في استشهاده بكثير من النصوص الأدبية من لغة العرب شعرها ونثرها، مما يشهد له بطول البيع وسعة الأفق. وإن أخذ عليه شي فليس إلا هنات يسيرة، لا تنقص من مقداره، ولا تغض من قيمته، فقد ينبو الحسام، وقد يكبو الجواد. فمن ذلك أنه خالف أحيانا ما اشترطه على نفسه في مقدمة كتابه إذ يقول:" … وَأَضْرِبُ عَنْ كَثِيرٍ مِنْ قَصَصِ الْمُفَسِّرِينَ وَأَخْبَارِ الْمُؤَرِّخِينَ، إِلَّا مَا لَا بُدَّ مِنْهُ، وَلَا غنى عنه للتبيين … "
- সংস্করণ -

 

‌‌দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)

দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

সম্ভবত পাঠকদের নিকট এই মহান তাফসীর গ্রন্থটি নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, যেহেতু প্রথম সংস্করণের মাধ্যমেই তাঁরা এর সাথে পরিচিত হয়েছেন এবং এর প্রতি অভূতপূর্ব আগ্রহ দেখিয়েছেন। এর প্রতিটি খণ্ড প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই সাধারণ মানুষ এর প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন; বিশেষ করে তাঁরা, যাঁরা ইমাম কুরতুবীর মর্যাদা, জ্ঞান ও সাহিত্যিক পারঙ্গমতা এবং আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যায় তাঁর সূক্ষ্মতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। সেই সাথে প্রথিতযশা গবেষক ইমামগণ এবং আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে প্রজ্ঞাবান শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদগণের মতামত উপস্থাপনে তাঁর দক্ষতার বিষয়েও তাঁরা অবগত ছিলেন। ইমাম কুরতুবীর তাফসীর যখন পাঠকদের সামনে আত্মপ্রকাশ করল, তখন তাঁরা দেখতে পেলেন এর লেখক কতখানি বিশাল পরিশ্রম ও অসাধারণ যত্ন বিনিয়োগ করেছেন। এটি গবেষণায় তাঁর গভীরতা, আল্লাহর কালাম অনুধাবনের সক্ষমতা এবং ভাষা, সাহিত্য ও অলঙ্কারশাস্ত্রসহ শরীয়াহ বিজ্ঞানের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা সম্পর্কে তাঁর পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়। এই সবকিছুর প্রতিফলন ঘটেছে পবিত্র আয়াতের পাঠ থেকে তাঁর শরয়ী বিধান উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে, যা পাঠ করলে পাঠকের জন্য ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ অধ্যয়নের প্রয়োজনীয়তা প্রায় শেষ হয়ে যায়। এছাড়া আরবী সাহিত্যের কাব্য ও গদ্য থেকে তাঁর প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও জ্ঞানের ব্যাপকতার সাক্ষ্য দেয়। যদি তাঁর কোনো সমালোচনা থেকে থাকে, তবে তা কেবল সামান্য কিছু বিচ্যুতি মাত্র, যা তাঁর মর্যাদা বা মূল্যকে কোনোভাবেই হ্রাস করে না; কেননা তীক্ষ্ণ তলোয়ারও লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারে এবং তেজস্বী ঘোড়াও হোঁচট খেতে পারে। এর মধ্যে একটি হলো, তিনি মাঝে মাঝে তাঁর কিতাবের ভূমিকায় নিজের দেওয়া শর্তের খেলাফ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন: " … এবং আমি মুফাসসিরদের বহু কিচ্ছা-কাহিনী ও ঐতিহাসিকদের বর্ণনা বর্জন করব, তবে যতটুকু অনিবার্য এবং বিষয়বস্তু স্পষ্ট করার জন্য অপরিহার্য, তা ব্যতীত … "
(খণ্ড: ১) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٤)
- ي -

فليس مما لا بد منه أو لا غنى عنه ما ينقله عَنْ كَعْبِ الْأَحْبَارِ:" أَنَّ إِبْلِيسَ تَغَلْغَلَ إِلَى الْحُوتِ الَّذِي عَلَى ظَهْرِهِ الْأَرْضُ كُلُّهَا، فَأَلْقَى فِي قَلْبِهِ فَقَالَ: هَلْ تَدْرِي مَا عَلَى ظَهْرِكَ يَا لُوثِيَا «1» مِنَ الْأُمَمِ وَالشَّجَرِ وَالدَّوَابِّ وَالنَّاسِ وَالْجِبَالِ! لَوْ نَفَضْتَهُمْ أَلْقَيْتَهُمْ عَنْ ظَهْرِكَ أَجْمَعَ. قَالَ: فَهَمَّ لُوثِيَا بِفِعْلِ ذَلِكَ، فَبَعَثَ اللَّهُ دَابَّةً فَدَخَلَتْ فِي مَنْخَرِهِ، فَعَجَّ إِلَى الله منها فخرجت «2» .... ". وليس مما لا بد منه:" أَنَّ الْحَيَّةَ كَانَتْ خَادِمَ آدَمَ عليه السلام فِي الْجَنَّةِ فَخَانَتْهُ بِأَنْ مَكَّنَتْ عَدُوَّ اللَّهِ من نفسها وأظهرت له العداوة هناك، فلما هبطوا تأكدت العداوة وجعل رزقها التراب «3» ". وليس مما لا بد منه ما يرويه عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ:" سَأَلَتِ الْيَهُودُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّعْدِ مَا هو؟ قال: ملك من الملائكة مَعَهُ مَخَارِيقُ مِنْ نَارٍ يَسُوقُ بِهَا السَّحَابَ حيث شاء الله «4» ". وليس مما لا بد منه ما ذكره عن كلب اصحاب الكهف والاختلاف في لونه وفي اسمه «5». ولا ما يرويه عن الزهري في قوله تعالى" جاعِلِ الْمَلائِكَةِ رُسُلًا أُولِي أَجْنِحَةٍ مَثْنى وَثُلاثَ وَرُباعَ": أَنَّ جِبْرِيلَ عليه السلام قَالَ لَهُ: يَا مُحَمَّدُ لَوْ رَأَيْتَ إِسْرَافِيلَ إِنَّ لَهُ لَاثْنَيْ عَشَرَ أَلْفَ جَنَاحٍ، مِنْهَا جَنَاحٌ بِالْمَشْرِقِ، وَجَنَاحٌ بِالْمَغْرِبِ، وَإِنَّ الْعَرْشَ لَعَلَى كَاهِلِهِ، وَإِنَّهُ فِي الْأَحَايِينِ لَيَتَضَاءَلُ لِعَظَمَةِ اللَّهِ حَتَّى يَعُودَ مِثْلَ الوصع «6» .... ". ولا ما ذكره في قَوْلُهُ تَعَالَى:" وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمانِيَةٌ": أَنَّ فَوْقَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ ثَمَانِيَةُ أَوْعَالٍ «7» بَيْنَ أَظْلَافِهِنَّ وَرُكَبِهِنَّ مِثْلُ مَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سماء، وفوق ظهورهن العرش «8» ".
(1). اسم الحوت.

(2). راجع ج 1 ص 257.

(3). ج 1 ص 313.

(4). ج 1 ص 327.

(5). راجع ج 10 ص 370.

(6). ج 14 ص 320 والوصع: عصفور صغير.

(7). الأوعال: جمع وعل، وهو التيس الجبلي.

(8). ج 18 ص 267.
- ই -

এটি মোটেও অপরিহার্য বা অনস্বীকার্য কোনো বিষয় নয় যা কাব আল-আহবার থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: "ইবলিস সেই মাছটির কাছে সুড়সুড়ি দিয়ে পৌঁছে গেল যার পিঠের ওপর সমস্ত পৃথিবী অবস্থিত। সে তার অন্তরে কুমন্ত্রণা দিয়ে বলল: হে লুথিয়া (১), তোমার পিঠে কী পরিমাণ জাতি, বৃক্ষরাজি, চতুষ্পদ জন্তু, মানুষ ও পাহাড় রয়েছে তা কি তুমি জানো! তুমি যদি একবার ঝাড়া দাও তবে তাদের সকলকেই তোমার পিঠ থেকে ফেলে দিতে পারবে। বর্ণনাকারী বলেন: তখন লুথিয়া তা করার ইচ্ছা করল। অতঃপর আল্লাহ একটি ক্ষুদ্র প্রাণী পাঠালেন যা তার নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করল, ফলে সে আল্লাহর কাছে আর্তনাদ করল এবং সেটি বেরিয়ে এল (২)..." এটিও কোনো অপরিহার্য বিষয় নয় যে: "সাপ জান্নাতে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর খাদেম ছিল, অতঃপর সে আল্লাহর শত্রুকে নিজের মাধ্যমে সুযোগ করে দিয়ে তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল এবং সেখানে তাঁর প্রতি শত্রুতা প্রদর্শন করেছিল। অতঃপর যখন তারা পৃথিবীতে অবতরণ করল তখন শত্রুতা সুনিশ্চিত হলো এবং মাটিকে তার রিযিক হিসেবে নির্ধারণ করা হলো (৩)।" এটিও অপরিহার্য নয় যা ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "ইয়াহূদীরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বজ্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল যে তা কী? তিনি বললেন: সে ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা, যার কাছে আগুনের চাবুক রয়েছে যা দিয়ে সে মেঘমালাকে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী হাঁকিয়ে নিয়ে যায় (৪)।" আসহাবে কাহাফের কুকুর এবং তার রঙ ও নাম সম্পর্কে যে মতভেদ বর্ণিত হয়েছে তা-ও কোনো অপরিহার্য বিষয় নয় (৫)। মহান আল্লাহর বাণী "যিনি ফেরেশতাদের করেন বাণীবাহক—তাঁরা দুই দুই, তিন তিন অথবা চার চার পাখাবিশিষ্ট" এর ব্যাখ্যায় যুহরী থেকে বর্ণিত এ কথাটিও আবশ্যিক নয় যে: জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁকে বলেছিলেন: "হে মুহাম্মদ, আপনি যদি ইসরাফীলকে দেখতেন! তার বারো হাজার ডানা রয়েছে, যার মধ্যে একটি ডানা প্রাচ্যে এবং একটি ডানা প্রতীচ্যে। আর আরশ তার কাঁধের ওপর অবস্থিত। আল্লাহর মহত্ত্বের কারণে মাঝে মাঝে সে সংকুচিত হয়ে এতটাই ছোট হয়ে যায় যে 'অস' (একটি ছোট চড়ুই পাখি সদৃশ পাখি) এর মতো হয়ে যায় (৬)..." আর মহান আল্লাহর বাণী "এবং সেদিন তোমার রবের আরশকে আটজন তাদের ওপর বহন করবে" এর ব্যাখ্যায় যা বর্ণিত হয়েছে তা-ও আবশ্যিক নয় যে: "সপ্তম আকাশের ওপর আটটি পাহাড়ী ছাগল সদৃশ ফেরেশতা (৭) রয়েছে, যাদের খুর থেকে হাঁটু পর্যন্ত দূরত্ব এক আকাশ থেকে অন্য আকাশের দূরত্বের সমান, আর তাদের পিঠের ওপর আরশ অবস্থিত (৮)।"
(১). মাছের নাম।

(২). দেখুন: ১ম খণ্ড, ২৫৭ পৃষ্ঠা।

(৩). ১ম খণ্ড, ৩১৩ পৃষ্ঠা।

(৪). ১ম খণ্ড, ৩২৭ পৃষ্ঠা।

(৫). দেখুন: ১০ম খণ্ড, ৩৭০ পৃষ্ঠা।

(৬). ১৪শ খণ্ড, ৩২০ পৃষ্ঠা। 'অস' (الوصع) হলো একটি ছোট চড়ুই পাখি।

(৭). 'আওয়াল' (الأوعال): 'ওয়াল' (وعل) এর বহুবচন, যার অর্থ পাহাড়ী বুনো ছাগল।

(৮). ১৮শ খণ্ড, ২৬৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٥)
- ك -

إلى غير ذلك من الأمثلة التي ترد في مناسبات مختلفة، جارى فيها من سبقه من المفسرين

الذين ينقلون عن الإسرائيليات ولا يتحرون الدقة في المعلومات الكونية، خصوصا في الكلام على خلق السموات والأرض، وتأويل الآيات التي تتعرض للظواهر الطبيعية، أو تشير إلى المسائل العلمية. وللمؤلف في ذلك كثير من العذر، لأنه- رحمه الله تابع فيه ثقافة عصره، وما تجري به ألسنة العلماء في ذلك الزمان. وقد رأت الدار- بعد أن تحققت حاجة الناس إلى هذا الكتاب، ورغبة الكثير من العلماء في الأقطار الإسلامية في ذيوعه- أن تقرر إعادة طبعها تعميما للفائدة. هذا وسيرى القارئ أننا حرصنا على أن تكون هذه الطبعة موافقة لسابقتها في أجزائها وصفحاتها وأرقامها، إلا في تفاوت يسير، يستطيع القارئ أن يدركه في الصفحة التالية أو السابقة. كما أننا نبهنا في هذه الطبعة إلى أمر لم يكن في سابقتها، فعند ما يذكر المؤلف عبارة: (على ما يأتي بيانه) نوضح ذلك في الهامش، مبينين موضعه من الكتاب حتى يسهل على القارئ متابعة الدراسة، وربط الكلام بعضه ببعض، دون جهد أو عناء. ولا يفوتني أن أنوه بفضل حضرات الزملاء الذين اشتركوا معي في تصحيح هذا الكتاب في طبعته الأولى بعد جزئه الرابع، وهم السادة: الشيخ إبراهيم أطفيش، والشيخ بشندي خلف الله، والشيخ محمد محمد حسنين. والله المسئول أن ينفع بهذا التفسير الجليل، وأن يجزي مؤلفه خير الجزاء، وأن يعين القائمين بنشر التراث الإسلامي من أمثال هذا الكتاب العظيم. وأن يوفق" الدار" في تأدية رسالتها حتى تنهض بهذا العبء الكبير، وتقدم للعالم أجمع خير تراث تركه الأقدمون. وصلي الله على سيدنا ومولانا محمد، وعلى آله وصحابته أجمعين.

مصححه أحمد عبد العليم البردوني

16 من المحرم سنة 6 (1372 من أكتوبر سنة 1952).
- কা -

এ জাতীয় আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে যা বিভিন্ন প্রসঙ্গে উল্লেখিত হয়েছে; লেখক এখানে তাঁর পূর্বসূরি মুফাসসিরদের অনুসরণ করেছেন, যারা ইসরাইলি বর্ণনা (ইসরাইলিয়াত) উদ্ধৃত করতেন এবং মহাজাগতিক তথ্যাবলির ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতা বজায় রাখতেন না, বিশেষ করে আসমান ও জমিন সৃষ্টির বর্ণনা এবং প্রাকৃতিক ঘটনাপ্রবাহ বা বৈজ্ঞানিক বিষয়াবলি নির্দেশকারী আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে। লেখকের জন্য এক্ষেত্রে যথেষ্ট ওজর রয়েছে; কারণ তিনি —আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন— সে সময়ের প্রচলিত সংস্কৃতি এবং তৎকালীন আলেমদের মাঝে চর্চিত মতাদর্শেরই অনুকরণ করেছেন। প্রকাশনী কর্তৃপক্ষ—এই কিতাবটির প্রতি মানুষের আবশ্যকতা এবং মুসলিম বিশ্বের বহু আলেম এটি প্রচারের প্রতি গভীর আগ্রহ অনুভব করার পর—এর উপকারিতাকে সর্বজনীন করার লক্ষ্যে এটি পুনঃমুদ্রণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য যে, পাঠক লক্ষ্য করবেন আমরা এই সংস্করণটিকে খণ্ড, পৃষ্ঠা ও নম্বর বিন্যাসের দিক থেকে পূর্ববর্তী সংস্করণের অনুরূপ রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি; সামান্য কিছু পার্থক্য ব্যতিরেকে, যা পাঠক পরবর্তী বা পূর্ববর্তী পৃষ্ঠায় সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন। তদুপরি, আমরা এই সংস্করণে এমন একটি বিষয় যুক্ত করেছি যা পূর্বের সংস্করণে ছিল না; যখনই লেখক "আগামীতে এর ব্যাখ্যা আসছে" এরূপ বাক্য উল্লেখ করেছেন, আমরা পাদটীকায় সেই বিষয়টি কিতাবের কোন স্থানে রয়েছে তা স্পষ্ট করে দিয়েছি, যাতে পাঠকের জন্য পাঠ অনুসরণ করা এবং অহেতুক শ্রম ছাড়াই বক্তব্যের ধারাবাহিকতা ও যোগসূত্র রক্ষা করা সহজ হয়। সেই সকল সম্মানিত সহকর্মীদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি যারা প্রথম সংস্করণের চতুর্থ খণ্ডের পরবর্তী অংশসমূহ সম্পাদনায় আমার সাথে অংশগ্রহণ করেছেন; তাঁরা হলেন: শায়খ ইবরাহিম আতফিশ, শায়খ বাশান্দি খালাফ উল্লাহ এবং শায়খ মুহাম্মদ মুহাম্মদ হাসনাইন। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন এই মহান তাফসিরের মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করেন, এর লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং এই মহান গ্রন্থের ন্যায় ইসলামি ঐতিহ্য (তুরাথ) প্রকাশনায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গকে সহায়তা করেন। তিনি যেন এই প্রকাশনী সংস্থাকে (দার) তাদের লক্ষ্য অর্জনে তাওফিক দান করেন যাতে তারা এই বিশাল দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয় এবং বিশ্ববাসীর সামনে পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্য উপহার দিতে পারে। আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

সম্পাদক: আহমদ আবদুল আলিম আল-বারদুনি

১৬ই মহররম, ১৩৭২ হিজরি (৬ই অক্টোবর, ১৯৫২ ঈসায়ী)।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٦)
- ل -

 

‌‌ترجمة أبي عبد الله القرطبي مؤلف هذا التفسير «1»

أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أبي بكر بن فرح (بإسكان الراء وبالحاء المهملة)، الأنصاري الخزرجي الأندلسي القرطبي المفسر، كان من عباد الله الصالحين، والعلماء العارفين، الورعين الزاهدين في الدنيا، المشغولين بما يعنيهم من أمور الآخرة. أوقاته معمورة ما بين توجه وعبادة وتصنيف.

مؤلفاته- جمع في تفسير القرآن كتابا كبيرا في اثني عشر مجلدا، سماه كتاب" الْجَامِعِ لِأَحْكَامِ الْقُرْآنِ، وَالْمُبَيِّنِ لِمَا تَضَمَّنَهُ مِنَ السنة وآي الفرقان" وهو من أجل التفاسير وأعظمها نفعا، أسقط منه القصص والتواريخ، وأثبت عوضها أحكام القرآن، واستنباط الأدلة، وذكر القراءات والاعراب والناسخ والمنسوخ (وهو هذا التفسير). وله كِتَابِ" الْأَسْنَى، فِي شَرْحِ أَسْمَاءِ اللَّهِ الْحُسْنَى". وكتاب" التذكار، في أفصل الاذكار". وضعه على طريقة التبيان للنووي، لكن هذا أتم منه وأكثر علما. وكتاب" التذكرة، بأمور الآخرة". وكتاب" شرح التقصي". وكتاب" قَمْعُ الْحِرْصِ بِالزُّهْدِ وَالْقَنَاعَةِ، وَرَدُّ ذُلِّ السُّؤَالِ بالكتب والشفاعة". قال ابن فرحون: لم أقف على تأليف أحسن منه في بابه. وله" أرجوزة جمع فيها أسماء النبي صلى الله عليه وسلم". وله تآليف وتعاليق مفيدة غير هذا. وكان مطرحا للتكلف، يمشي بثوب واحد وعلى رأسه طاقية. قال صاحب نفح الطيب: إنه من الراحلين من الأندلس.
(1). عن الديباج المذهب في معرفة أعيان علماء المذهب (مذهب مالك) لابن فرحون، ونفح الطيب للمقرى.
- ল -

 

‌এই তাফসীরের রচয়িতা আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরতুবীর জীবনী «১»

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবু বকর ইবনে ফারাহ (রা বর্ণে সুকুন এবং বিন্দুহীন হা যোগে), আল-আনসারি আল-খাজরাজি আল-আন্দালুসি আল-কুরতুবী আল-মুফাসসির; তিনি আল্লাহর নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত এবং প্রাজ্ঞ আলেম ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরহেযগার, দুনিয়াবিমুখ এবং পরকালীন কল্যাণকর বিষয়ে নিমগ্ন। তাঁর সময় ইবাদত, বন্দেগী ও গ্রন্থ রচনার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হতো।

তাঁর রচনাবলী- তিনি কুরআনের তাফসীর বিষয়ে বারো খণ্ডে একটি বিশাল গ্রন্থ সংকলন করেছেন, যার নাম দিয়েছেন "আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, ওয়াল মুবাইয়িন লিমা তাদাম্মানাহু মিনাস সুন্নাহ ওয়া আয়িল ফুরকান"। এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও অত্যন্ত উপকারী তাফসীর গ্রন্থ। তিনি এতে কিচ্ছা-কাহিনী ও ইতিহাস বর্জন করেছেন এবং এর পরিবর্তে কুরআনের আহকাম (বিধান), দলীলের ভিত্তিতে মাসআলা ইস্তিম্বাত (উদ্ঘাটন), কিরাত, ইরাব (ব্যাকরণ), এবং নাসিখ-মানসুখ (রহিতকারী ও রহিত) আলোচনা করেছেন (যা বর্তমানে আপনার সম্মুখে বিদ্যমান)। তাঁর আরও গ্রন্থ হলো "আল-আসনা ফী শারহি আসমাইল্লাহিল হুসনা", "আত-তিজকার ফী আফদালিল আজকার" - যা তিনি ইমাম নববীর 'আত-তিবইয়ান' এর পদ্ধতিতে রচনা করেছেন, তবে এটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ এবং ইলমে সমৃদ্ধ। এছাড়া "আত-তাযকিরাহ বি-উমুরিল আখিরাহ", "শারহুত তাকাসসি" এবং "কামউল হিরসি বিয-যুহদি ওয়াল কানাআতি ওয়া রাদ্দু যুল্লিস সুয়ালি বিল কুতুবি ওয়াশ শাফাআতি"। ইবনে ফারহুন বলেন: আমি এই বিষয়ে এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো রচনা দেখিনি। তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ (উরজুযাহ) রয়েছে যেখানে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামসমূহ একত্রিত করেছেন। এছাড়াও তাঁর আরও অনেক উপকারী রচনা ও টীকা রয়েছে। তিনি লৌকিকতা ও কৃত্রিমতা মুক্ত ছিলেন, একটি সাধারণ পোশাক ও মাথায় টুপি পরে চলাফেরা করতেন। 'নাফহুত তীব' এর লেখক বলেন: তিনি আন্দালুস থেকে হিজরতকারী বা সফরকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
(১). ইবনে ফারহুন রচিত মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ আলেমদের পরিচিতিমূলক গ্রন্থ 'আদ-দীবাজুল মুদাহহাব' এবং আল-মাক্কারি রচিত 'নাফহুত তীব' থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٧)
- م -

شيوخه - سمع من الشيخ أبي العباس أحمد بن عمر القرطبي بعض شرحه" المفهم، لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم". وحدث عن الْحَافِظِ أَبِي عَلِيٍّ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ محمد البكري، وحدث أيضا عن الحافظ أبي الحسن علي بن محمد بن علي بن حفص اليحصبي وغيرهما. وكان مستقرا بمنية ابن خصيب، وتوفي ودفن بها في ليلة الاثنين التاسع من شوال سنة 671، رحمه الله ورضي عنه.
- ম -

তাঁর শিক্ষকবৃন্দ - তিনি শায়খ আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে উমর আল-কুরতুবীর নিকট থেকে তাঁর রচিত শারহ "আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিসি কিতাবি মুসলিম"-এর কিছু অংশ শ্রবণ করেছেন। তিনি হাফিজ আবু আলী আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাকরি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং হাফিজ আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হাফস আল-ইয়াহসুবী ও অন্যান্যদের থেকেও হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি মুনইয়াতু ইবনে খাসিব-এ বসবাস করতেন এবং ৬৭১ হিজরি সনের ৯ই শাওয়াল সোমবার দিবাগত রাতে সেখানেই ইন্তেকাল করেন ও তাঁকে সেখানেই দাফন করা হয়। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
تفسير القرطبي = الجامع لأحكام القرآن   (القرطبي)

القسم: التفسير


الكتاب: الجامع لأحكام القرآن

المؤلف: أبو عبد الله، محمد بن أحمد الأنصاري القرطبي

تحقيق: أحمد البردوني وإبراهيم أطفيش

الناشر: دار الكتب المصرية - القاهرة

الطبعة: الثانية، 1384 هـ - 1964 م

عدد الأجزاء: 20 جزءا (في 10 مجلدات)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 شعبان 1432

তাফসীরে কুরতুবী = আল-জামিউ লি-আহকামিল কুরআন   (আল-কুরতুবী)

বিভাগ: তাফসীর


গ্রন্থ: আল-জামিউ লি-আহকামিল কুরআন

লেখক: আবু আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-আনসারী আল-কুরতুবী

সম্পাদনা: আহমদ আল-বারদুনী এবং ইবরাহীম আতফীশ

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ - কায়রো

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৮৪ হিজরি - ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২০ খণ্ড (১০টি ভলিউমে)

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ শাবান ১৪৩২

(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١)
الجزء الأول

 

‌‌[المدخل]

‌‌[خطبة الكتاب وفيها الكلام على علو شأن المفسرين]

بسم الله الرحمن الرحيم وَبِهِ نَسْتَعِينُ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وآله وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا. قَالَ الشَّيْخُ الْفَقِيهُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْعَامِلُ الْعَلَّامَةُ الْمُحَدِّثُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ محمد بن أحمد بن أبى بكر فَرَحٍ الْأَنْصَارِيُّ الْخَزْرَجِيُّ الْأَنْدَلُسِيُّ ثُمَّ الْقُرْطُبِيُّ، رضي الله عنه: الْحَمْدُ لِلَّهِ الْمُبْتَدِئُ بِحَمْدِ نَفْسِهِ قَبْلَ أَنْ يَحْمَدَهُ حَامِدٌ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، الرَّبُّ الصَّمَدُ الْوَاحِدُ، الْحَيُّ الْقَيُّومُ الَّذِي لَا يَمُوتُ، ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، وَالْمَوَاهِبِ الْعِظَامِ، وَالْمُتَكَلِّمُ بِالْقُرْآنِ، وَالْخَالِقُ لِلْإِنْسَانِ، وَالْمُنْعِمُ عَلَيْهِ بِالْإِيمَانِ، وَالْمُرْسِلُ رَسُولَهُ بِالْبَيَانِ، مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم مَا اخْتَلَفَ الْمَلَوَانِ «1»، وَتَعَاقَبَ الْجَدِيدَانِ، أَرْسَلَهُ بِكِتَابِهِ الْمُبِينِ، الْفَارِقِ بَيْنَ الشَّكِّ وَالْيَقِينِ، الَّذِي أَعْجَزَتِ الْفُصَحَاءَ مُعَارَضَتُهُ، وَأَعْيَتِ الْأَلِبَّاءَ مُنَاقَضَتُهُ، وَأَخْرَسَتِ الْبُلَغَاءَ مُشَاكَلَتُهُ، فَلَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا. جَعَلَ أَمْثَالَهُ عِبَرًا لِمَنْ تَدَبَّرَهَا، أوامره هُدًى لِمَنِ اسْتَبْصَرَهَا، وَشَرَحَ فِيهِ وَاجِبَاتِ الْأَحْكَامِ، وَفَرَّقَ فِيهِ بَيْنَ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ، وَكَرَّرَ فِيهِ الْمَوَاعِظَ وَالْقِصَصَ لِلْأَفْهَامِ، وَضَرَبَ فِيهِ الْأَمْثَالَ، وَقَصَّ فِيهِ غَيْبَ الْأَخْبَارِ، فَقَالَ تَعَالَى" مَا فَرَّطْنا فِي الْكِتابِ مِنْ شَيْءٍ «2» ". وخاطب بِهِ أَوْلِيَاءَهُ فَفَهِمُوا، وَبَيَّنَ لَهُمْ فِيهِ مُرَادَهُ فَعَلِمُوا. فَقَرَأَةُ الْقُرْآنِ حَمَلَةُ سِرِّ اللَّهِ الْمَكْنُونِ، وَحَفَظَةُ عِلْمِهِ الْمَخْزُونِ، وَخُلَفَاءُ أَنْبِيَائِهِ وَأُمَنَاؤُهُ، وَهُمْ أَهْلُهُ وَخَاصَّتُهُ وَخِيرَتُهُ وَأَصْفِيَاؤُهُ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى اله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:" إِنَّ لِلَّهِ أَهْلِينَ مِنَّا «3» " قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ هُمْ؟ قَالَ:" هُمْ أَهْلُ الْقُرْآنِ أَهْلُ اللَّهِ وَخَاصَّتُهُ" أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ فِي سُنَنِهِ، وَأَبُو بَكْرٍ الْبَزَّارُ فِي مُسْنَدِهِ. فَمَا أَحَقَّ مَنْ عَلِمَ كِتَابَ اللَّهِ أن يزدجر بنواهيه، ويتذكر
(1). الملوان: الليل والنهار.

(2). آيه 38 سورة الأنعام.

(3). في سنن ابن ماجة:" من الناس".
প্রথম খণ্ড

 

‌‌[ভূমিকা]

‌‌[গ্রন্থের ভূমিকা: এতে মুফাসসিরগণের উচ্চ মর্যাদা বিষয়ক আলোচনা রয়েছে]

পরম দয়াময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক। ফকিহ, ইমাম, আমলকারী আলিম, বিজ্ঞ পন্ডিত, মুহাদ্দিস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে আবু বকর ফারাহ আল-আনসারী আল-খাজরাজি আল-আন্দালুসি, অতঃপর আল-কুরতুবি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো প্রশংসাকারীর প্রশংসা করার পূর্বেই নিজ সত্তার প্রশংসা দ্বারা শুরু করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি অমুখাপেক্ষী প্রতিপালক, এক। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক, যাঁর মৃত্যু নেই; মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী এবং মহান দানসমূহের দাতা। তিনি কুরআনের বক্তা, মানুষের স্রষ্টা, তাকে ঈমান দ্বারা ধন্যকারী এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়ে প্রেরণকারী—যতদিন দিন ও রাত আবর্তিত হবে এবং নতুন নতুন সময়ের আগমন ঘটবে। তিনি তাঁকে তাঁর সুস্পষ্ট কিতাব দিয়ে পাঠিয়েছেন, যা সন্দেহ ও ধ্রুব বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্যকারী; যার মোকাবিলা করতে বাগ্মীগণ অক্ষম হয়েছে, যার বিরোধিতা করতে জ্ঞানীরা ক্লান্ত হয়েছে এবং যার সমতুল্য কিছু উপস্থাপন করতে অলঙ্কারবিদগণ নির্বাক হয়ে গেছে। তারা এর সদৃশ কিছু নিয়ে আসতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়। তিনি এর উপমাগুলোকে চিন্তাশীলদের জন্য শিক্ষা বানিয়েছেন, এর নির্দেশসমূহকে দূরদৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য হিদায়াত করেছেন। এতে তিনি আবশ্যিক বিধানসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন, হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্য করেছেন, উপলব্ধির নিমিত্তে বারবার উপদেশ ও কাহিনী বর্ণনা করেছেন, দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন এবং অদৃশ্যের সংবাদ দান করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন, "আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি।" তিনি এর মাধ্যমে তাঁর প্রিয়জনদের সম্বোধন করেছেন, ফলে তারা তা বুঝতে পেরেছে এবং এতে তাঁদের জন্য তাঁর উদ্দেশ্যসমূহ বর্ণনা করেছেন, ফলে তারা তা জানতে পেরেছে। অতএব কুরআন পাঠকারীগণ আল্লাহর গোপন রহস্যের বাহক এবং তাঁর সংরক্ষিত জ্ঞানের হেফাযতকারী। তারা নবীদের উত্তরসূরি ও আমানতদার; তারাই আল্লাহর পরিজন, তাঁর বিশিষ্টজন, মনোনীত ও শ্রেষ্ঠ বান্দা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মানুষের মধ্য থেকে আল্লাহর কিছু পরিজন রয়েছে।" সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: "তারা হলো কুরআনওয়ালা, যারা আল্লাহর পরিজন ও তাঁর বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা।" এটি ইবনে মাজাহ তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে এবং আবু বকর আল-বাযযার তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান লাভ করেছে, তার জন্য এটাই সবচেয়ে সংগত যে, সে এর নিষেধাবলী থেকে বিরত থাকবে এবং উপদেশ গ্রহণ করবে...
(১). আল-মালাওয়ান: রাত এবং দিন।

(২). সূরা আল-আনআম, আয়াত ৩৮।

(৩). সুনান ইবনে মাজাহ-তে "মানুষের মধ্য থেকে" শব্দ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٢)
مَا شُرِحَ لَهُ فِيهِ، وَيَخْشَى اللَّهَ وَيَتَّقِيهِ، ويراقبه ويستحييه. فانه حُمِّلَ أَعْبَاءَ الرُّسُلِ، وَصَارَ شَهِيدًا فِي الْقِيَامَةِ عَلَى مَنْ خَالَفَ مِنْ أَهْلِ الْمِلَلِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى:" وَكَذلِكَ جَعَلْناكُمْ أُمَّةً وَسَطاً لِتَكُونُوا شُهَداءَ عَلَى النَّاسِ «1» ". أَلَا وَإِنَّ الْحُجَّةَ عَلَى مَنْ عَلِمَهُ فَأَغْفَلَهُ، أَوْكَدُ مِنْهَا عَلَى مَنْ قَصَّرَ عَنْهُ وَجَهِلَهُ. وَمَنْ أُوتِيَ عِلْمَ الْقُرْآنِ فَلَمْ يَنْتَفِعْ، وَزَجَرَتْهُ نَوَاهِيهِ فَلَمْ يَرْتَدِعْ، وَارْتَكَبَ مِنَ الْمَآثِمِ قَبِيحًا، وَمِنَ الْجَرَائِمِ فَضُوحًا، كَانَ الْقُرْآنُ حُجَّةً عَلَيْهِ، وَخَصْمًا لَدَيْهِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" الْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ" خَرَّجَهُ مُسْلِمٌ. فَالْوَاجِبُ عَلَى مَنْ خَصَّهُ اللَّهُ بِحِفْظِ كِتَابِهِ أَنْ يَتْلُوَهُ حَقَّ تِلَاوَتِهِ، وَيَتَدَبَّرَ حَقَائِقَ عِبَارَتِهِ، وَيَتَفَهَّمَ عَجَائِبَهُ، وَيَتَبَيَّنَ غَرَائِبَهُ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى:" كِتابٌ أَنْزَلْناهُ إِلَيْكَ مُبارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آياتِهِ «2» ". وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى:" أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلى قُلُوبٍ أَقْفالُها «3» ". جَعَلَنَا اللَّهُ مِمَّنْ يَرْعَاهُ حَقَّ رِعَايَتِهِ، وَيَتَدَبَّرُهُ حق تدبره، ويقوم بقسطه، ويفي بِشَرْطِهِ، وَلَا يَلْتَمِسُ الْهُدَى فِي غَيْرِهِ، وَهَدَانَا لِأَعْلَامِهِ الظَّاهِرَةِ، وَأَحْكَامِهِ الْقَاطِعَةِ الْبَاهِرَةِ، وَجَمَعَ لَنَا بِهِ خَيْرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، فَإِنَّهُ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ. ثُمَّ جَعَلَ إِلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم بَيَانَ مَا كَانَ مِنْهُ مُجْمَلًا، وَتَفْسِيرَ مَا كَانَ مِنْهُ مُشْكِلًا، وَتَحْقِيقَ مَا كَانَ مِنْهُ مُحْتَمَلًا، لِيَكُونَ لَهُ مَعَ تَبْلِيغِ الرِّسَالَةِ ظُهُورُ الِاخْتِصَاصِ بِهِ، وَمَنْزِلَةِ التَّفْوِيضِ إليه، قال اله تَعَالَى:" وَأَنْزَلْنا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ «4» ". ثُمَّ جَعَلَ إِلَى الْعُلَمَاءِ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتِنْبَاطَ مَا نَبَّهَ على معانيه، وأشار إلى أصوله ليتوصلوا باجتهاد فِيهِ إِلَى عِلْمِ الْمُرَادِ، فَيَمْتَازُوا بِذَلِكَ عَنْ غَيْرِهِمْ، وَيَخْتَصُّوا بِثَوَابِ اجْتِهَادِهِمْ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى:" يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجاتٍ «5» ". فَصَارَ الْكِتَابُ أَصْلًا وَالسَّنَةُ لَهُ بَيَانًا، وَاسْتِنْبَاطُ الْعُلَمَاءِ لَهُ إِيضَاحًا وَتِبْيَانًا. فَالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ صُدُورَنَا أَوْعِيَةَ كِتَابِهِ، وَآذَانَنَا مَوَارِدَ سُنَنِ نَبِيِّهِ، وَهِمَمَنَا مَصْرُوفَةً إِلَى تَعَلُّمِهِمَا وَالْبَحْثِ عَنْ مَعَانِيهِمَا وَغَرَائِبِهِمَا، طَالِبِينَ بِذَلِكَ رِضَا رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَمُتَدَرِّجِينَ بِهِ إِلَى عِلْمِ الْمِلَّةِ وَالدِّينِ. (وَبَعْدُ فلما كان كتاب الله هو الكفيل بجمع عُلُومِ الشَّرْعِ، الَّذِي اسْتَقَلَّ بِالْسُّنَّةِ وَالْفَرْضِ، وَنَزَلَ بِهِ أَمِينُ السَّمَاءِ إِلَى أَمِينِ الْأَرْضِ، رَأَيْتُ أن أشتغل به مدى عمري، وأستفرغ
(1). آية 143 سورة البقرة.

(2). آية 29 سورة ص. [ ..... ]

(3). آية 24 سورة القتال.

(4). آية 44 سورة النحل.

(5). آية 11 سورة المجادلة.
যাতে তার বক্ষ উন্মোচিত হয়েছে, এবং সে আল্লাহকে ভয় করবে, তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করবে, তাঁকে সর্বদা উপস্থিত মনে করবে এবং তাঁকে লজ্জা করবে। কেননা তার ওপর রাসূলগণের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে এবং কিয়ামতের দিন সে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে যারা সত্যের বিরোধিতা করেছে তাদের ওপর সাক্ষী হবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে মনোনীত করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির ওপর সাক্ষী হতে পারো (১)"। জেনে রেখো, যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করার পর তা অবহেলা করেছে, তার বিরুদ্ধে আল্লাহর দলিল সেই ব্যক্তির চেয়ে অধিক শক্তিশালী যে জ্ঞান অর্জনে ত্রুটি করেছে এবং অজ্ঞ থেকেছে। যাকে কুরআনের জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে অথচ সে তা দ্বারা উপকৃত হয়নি, কুরআনের নিষেধসমূহ তাকে ধমক দেওয়া সত্ত্বেও সে বিরত হয়নি এবং সে কদর্য পাপে লিপ্ত হয়েছে ও জঘন্য অপরাধ করেছে, কিয়ামতের দিন কুরআন তার বিরুদ্ধে দলিল এবং অভিযোগকারী হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কুরআন তোমার স্বপক্ষে অথবা বিপক্ষে অকাট্য দলিল," এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। সুতরাং আল্লাহ যাকে তাঁর কিতাব হিফজ করার বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন, তার ওপর আবশ্যক হলো এর যথাযথ তিলাওয়াত করা, এর শব্দাবলির প্রকৃত অর্থ নিয়ে গভীর চিন্তা করা, এর বিস্ময়কর বিষয়গুলো অনুধাবন করা এবং এর দুর্লভ রহস্যগুলো স্পষ্ট করা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এটি একটি বরকতময় কিতাব যা আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে (২)"। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা করে না, নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা লাগানো রয়েছে? (৩)"। আল্লাহ আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা একে যথাযথভাবে রক্ষা করে, যথার্থভাবে এর মর্ম অনুধাবন করে, এর ন্যায়বিচার কায়েম করে, এর শর্তাবলি পূরণ করে এবং কুরআন ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত অন্বেষণ করে না। তিনি আমাদের এর সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এবং অকাট্য ও উজ্জ্বল বিধানগুলোর দিকে পরিচালিত করুন। এর মাধ্যমে আমাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ ত্বরান্বিত করুন; নিশ্চয়ই তিনি তাকওয়া ও ক্ষমার মালিক। অতঃপর তিনি তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বর্ণনা, অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা এবং সম্ভাব্য অর্থগুলোর স্বরূপ উন্মোচনের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন; যাতে রিসালাত প্রচারের পাশাপাশি তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও ব্যাখ্যার কর্তৃত্ব প্রকাশ পায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি তোমার প্রতি উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি মানুষের নিকট তা স্পষ্ট করে দাও যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে (৪)"। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরবর্তী আলেমদের ওপর সেই সব মর্মার্থ উদ্ঘাটনের দায়িত্ব দিয়েছেন যেগুলোর প্রতি তিনি ইঙ্গিত করেছেন এবং যার মূলনীতির দিকে ইশারা করেছেন; যাতে তারা ইজতিহাদের মাধ্যমে আল্লাহর উদ্দেশ্যগত জ্ঞান লাভ করতে পারেন। এর মাধ্যমে তারা অন্যদের থেকে পৃথক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হন এবং নিজেদের ইজতিহাদের সওয়াবের জন্য মনোনীত হন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদায় উন্নত করবেন (৫)"। ফলে আল্লাহ কিতাব হলো মূল ভিত্তি, সুন্নাহ হলো তার ব্যাখ্যা এবং আলেমদের উদ্ঘাটন (ইস্তিনবাত) হলো তার বিশদ স্পষ্টীকরণ। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের অন্তরকে তাঁর কিতাবের আধার, আমাদের কর্ণসমূহকে তাঁর নবীর সুন্নাহর উৎসস্থল এবং আমাদের সংকল্পকে এই দুইটির শিক্ষা গ্রহণ এবং এদের নিগূঢ় অর্থ ও রহস্য অনুসন্ধানে নিয়োজিত করেছেন; যার মাধ্যমে আমরা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অন্বেষণ করি এবং শরয়ি ও ধর্মীয় জ্ঞানের সোপানে আরোহণ করি। (অতঃপর, যেহেতু আল্লাহর কিতাবই শরয়ি জ্ঞানসমূহ একত্রিত করার প্রধান মাধ্যম, যা সুন্নাহ ও ফরজ বিধানসমূহকে ধারণ করে আছে এবং যা আসমানের আমানতদার (জিবরাঈল) যমিনের আমানতদারের (মুহাম্মদ) নিকট নিয়ে অবতরণ করেছেন, তাই আমি মনস্থ করলাম যে, আমার সারা জীবন এই কিতাবের খিদমতে ব্যয় করব এবং আমার শক্তি সামর্থ্য উজার করব...)
(১). সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১৪৩।

(২). সূরা সাদ, আয়াত ২৯। [ ..... ]

(৩). সূরা আল-কিতাল (মুহাম্মদ), আয়াত ২৪।

(৪). সূরা আন-নাহল, আয়াত ৪৪।

(৫). সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত ১১।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٣)
فيه منتي «1»، بأن أكتب تَعْلِيقًا وَجِيزًا، يَتَضَمَّنُ نُكَتًا مِنَ التَّفْسِيرِ وَاللُّغَاتِ، وَالْإِعْرَابِ وَالْقِرَاءَاتِ، وَالرَّدِّ عَلَى أَهْلِ الزَّيْغِ وَالضَّلَالَاتِ، وَأَحَادِيثَ كَثِيرَةً شَاهِدَةً لِمَا نَذْكُرُهُ مِنَ الْأَحْكَامِ وَنُزُولِ الْآيَاتِ، جَامِعًا بَيْنَ مَعَانِيهِمَا، وَمُبَيِّنًا مَا أَشْكَلَ مِنْهُمَا، بِأَقَاوِيلِ السَّلَفِ، وَمَنْ تَبِعَهُمْ مِنَ الْخَلَفِ. وَعَمِلْتُهُ تَذْكِرَةً لِنَفْسِي، وَذَخِيرَةً لِيَوْمِ رَمْسِي، وَعَمَلًا صَالِحًا بَعْدَ مَوْتِي. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى:" يُنَبَّؤُا الْإِنْسانُ يَوْمَئِذٍ بِما قَدَّمَ وَأَخَّرَ

«2» ". وَقَالَ تَعَالَى:" عَلِمَتْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ وَأَخَّرَتْ «3» ". وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ". وَشَرْطِي فِي هَذَا الْكِتَابِ: إِضَافَةُ الْأَقْوَالِ إِلَى قَائِلِيهَا، وَالْأَحَادِيثِ إِلَى مُصَنِّفِيهَا، فَإِنَّهُ يُقَالُ: مِنْ بَرَكَةِ الْعِلْمِ أَنْ يُضَافَ الْقَوْلُ إِلَى قَائِلِهِ. وَكَثِيرًا مَا يجئ الْحَدِيثُ فِي كُتُبِ الْفِقْهِ وَالتَّفْسِيرِ مُبْهَمًا، لَا يَعْرِفُ مَنْ أَخْرَجَهُ إِلَّا مَنَ اطَّلَعَ عَلَى كتب الحديث، فيبقى من لأخبره لَهُ بِذَلِكَ حَائِرًا، لَا يَعْرِفُ الصَّحِيحَ مِنَ السَّقِيمِ، وَمَعْرِفَةُ ذَلِكَ عِلْمٌ جَسِيمٌ، فَلَا يُقْبَلُ مِنْهُ الِاحْتِجَاجُ بِهِ، وَلَا الِاسْتِدْلَالُ حَتَّى يُضِيفَهُ إِلَى مَنْ خَرَّجَهُ مِنَ الْأَئِمَّةِ الْأَعْلَامِ، وَالثِّقَاتِ الْمَشَاهِيرِ مِنْ عُلَمَاءِ الْإِسْلَامِ. وَنَحْنُ نُشِيرُ إِلَى جُمَلٍ مِنْ ذَلِكَ فِي هَذَا الْكِتَابِ، وَاللَّهُ الْمُوَفِّقُ لِلصَّوَابِ. وَأَضْرِبُ عَنْ كَثِيرٍ مِنْ قَصَصِ المفسرين، وأخبار المؤرخين، إلا مالا بُدَّ مِنْهُ وَلَا غِنًى عَنْهُ لِلتَّبْيِينِ، وَاعْتَضْتُ من ذلك تبيين آي الأحكام، بمسائل تفسير عَنْ مَعْنَاهَا، وَتُرْشِدُ الطَّالِبَ إِلَى مُقْتَضَاهَا، فَضَمَّنْتُ كل آية لتضمن حُكْمًا أَوْ حُكْمَيْنِ فَمَا زَادَ، مَسَائِلَ نُبَيِّنُ فِيهَا مَا تَحْتَوِي عَلَيْهِ مِنْ أَسْبَابِ النُّزُولِ وَالتَّفْسِيرِ الْغَرِيبِ وَالْحُكْمِ، فَإِنْ لَمْ تَتَضَمَّنْ حُكْمًا ذَكَرْتُ مَا فِيهَا مِنَ التَّفْسِيرِ وَالتَّأْوِيلِ، هَكَذَا إِلَى آخَرِ الْكِتَابِ. وَسَمَّيْتُهُ بِ (الْجَامِعِ لِأَحْكَامِ الْقُرْآنِ، وَالْمُبَيِّنِ لِمَا تَضَمَّنَهُ مِنَ السُّنَّةِ وَآيِ الْفُرْقَانِ) جَعَلَهُ اللَّهُ خَالِصًا لِوَجْهِهِ، وَأَنْ يَنْفَعَنِي بِهِ وَوَالِدَيَّ وَمَنْ أَرَادَهُ بِمَنِّهِ، إِنَّهُ سَمِيعُ الدعاء، قريب مجيب، آمين.
(1). المنة (بالضم): القوة.

(2). آية 13 سورة القيامة.

(3). آية 5 سورة الانفطار.
এতে রয়েছে আমার সামর্থ্য [১], যেন আমি একটি সংক্ষিপ্ত টীকা রচনা করি, যা তাফসীর, ভাষাতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও কিরাত (পঠনপদ্ধতি) সংক্রান্ত সূক্ষ্ম বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করবে; এবং পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত গোষ্ঠীর খণ্ডন এবং প্রচুর হাদীস যা আমরা বিধিবিধান ও আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে উল্লেখ করব তার সাক্ষ্য প্রদান করবে। এটি উভয়ের অর্থের মধ্যে সমন্বয় সাধনকারী এবং পূর্বসূরি (সালাফ) ও উত্তরসূরিদের (খালাফ) বক্তব্যের মাধ্যমে যা অস্পষ্ট তা স্পষ্টকারী হবে। আমি এটি নিজের জন্য স্মারক হিসেবে, আমার কবরের দিনের জন্য পাথেয় হিসেবে এবং মৃত্যুর পর একটি সৎকর্ম হিসেবে প্রস্তুত করেছি। আল্লাহ তাআলা বলেন: "সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে এবং কী পিছনে রেখে গেছে

[২]।" তিনি আরও বলেন: "প্রত্যেক ব্যক্তি জানতে পারবে সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে এবং কী পিছনে রেখে গেছে [৩]।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি ক্ষেত্র ছাড়া: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, অথবা নেককার সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" এই কিতাবে আমার শর্ত হলো: উক্তিগুলোকে তাদের বক্তার দিকে এবং হাদীসগুলোকে তাদের সংকলনকারীর দিকে সম্বন্ধিত করা। কেননা বলা হয়: ইলমের বরকত হলো কথাকে তার বক্তার দিকে সম্বন্ধ করা। প্রায়শই ফিকহ ও তাফসীরের কিতাবসমূহে হাদীস অস্পষ্টভাবে আসে; হাদীসের কিতাবসমূহ সম্পর্কে যারা অবগত নয় তারা ছাড়া কেউ জানে না এটি কে বর্ণনা করেছেন। ফলে যার এ বিষয়ে জ্ঞান নেই সে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায়, সে সঠিক ও ত্রুটিযুক্ত হাদীসের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। অথচ এটি জানা এক বিশাল জ্ঞান। তাই একে দলীল হিসেবে গ্রহণ করা কিংবা এর মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করা ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে না, যতক্ষণ না একে ইসলামের প্রখ্যাত ইমাম ও নির্ভরযোগ্য ওলামায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা এটি সংকলন করেছেন তাদের দিকে সম্বন্ধিত করা হয়। আমরা এই কিতাবে এ বিষয়গুলোর প্রতি নির্দেশ করব এবং আল্লাহই সঠিক পথের তাওফীকদাতা। আমি মুফাসসিরদের বর্ণিত বহু কিচ্ছা-কাহিনী এবং ইতিহাসবিদদের সংবাদ বর্জন করব, কেবল যতটুকু ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য অপরিহার্য ও অনস্বীকার্য ততটুকু ছাড়া। আর এর পরিবর্তে আমি বিধিবিধান সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান করব সেসব তাফসীর সংক্রান্ত মাসআলার মাধ্যমে যা সেগুলোর অর্থ প্রকাশ করে এবং জ্ঞানান্বেষীকে তার লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করে। তাই আমি প্রতিটি আয়াতের অন্তর্ভুক্ত করেছি—তা একটি বা দুটি বিধান অথবা তার চেয়েও বেশি যা-ই ধারণ করুক না কেন—এমন সব মাসআলা যাতে আমরা শানে নুযূল (অবতরণের প্রেক্ষাপট), বিরল শব্দের ব্যাখ্যা এবং বিধানসমূহ বর্ণনা করব। আর যদি আয়াতে কোনো বিধান না থাকে, তবে কিতাবের শেষ পর্যন্ত এভাবেই এর তাফসীর ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ উল্লেখ করব। আমি এই গ্রন্থের নামকরণ করেছি— (আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন ওয়াল মুবাইয়িন লিমা তাদাম্মানাহু মিনাস সুন্নাতি ওয়া আয়িল ফুরকান)। আল্লাহ এটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন এবং তাঁর অনুগ্রহে আমাকে, আমার পিতামাতাকে এবং যারা এর জ্ঞান অন্বেষণ করবে তাদের উপকৃত করুন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী, নিকটবর্তী ও সাড়াদানকারী। আমীন।
(১). আল-মুনাহ (পেশ যোগে): শক্তি বা সামর্থ্য।

(২). সূরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত ১৩।

(৩). সূরা আল-ইনফিতার, আয়াত ৫।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٤)
باب ذكر جمل من فضائل القرآن، والترغيب فيه، وفضل طالبه وقارئه ومستمعه والعامل به

اعْلَمْ أَنَّ هَذَا الْبَابَ وَاسِعٌ كَبِيرٌ، أَلَّفَ فِيهِ الْعُلَمَاءُ كُتُبًا كَثِيرَةً، نَذْكُرُ مِنْ ذَلِكَ نكتا تدل على فضله، وما أعده اللَّهُ لِأَهْلِهِ، إِذَا أَخْلَصُوا الطَّلَبَ لِوَجْهِهِ. وَعَمِلُوا بِهِ. فَأَوَّلُ ذَلِكَ أَنْ يَسْتَشْعِرَ الْمُؤْمِنُ مِنْ فَضْلِ الْقُرْآنِ أَنَّهُ كَلَامُ رَبِّ الْعَالَمِينَ، غَيْرُ مخلوق، كلام من ليس كمثله شي، وَصِفَةُ مَنْ لَيْسَ لَهُ شَبِيهٌ وَلَا نِدٌّ، فَهُوَ مِنْ نُورِ ذَاتِهِ جَلَّ وَعَزَّ، وَأَنَّ الْقِرَاءَةَ أَصْوَاتُ الْقُرَّاءِ وَنَغَمَاتُهُمْ، وَهِيَ أَكَسَابُهُمُ الَّتِي يُؤْمَرُونَ بِهَا فِي حَالٍ إِيجَابًا فِي بَعْضِ الْعِبَادَاتِ، وَنَدْبًا فِي كَثِيرٍ مِنَ الْأَوْقَاتِ، وَيُزْجَرُونَ «1» عَنْهَا إِذَا أَجْنَبُوا، وَيُثَابُونَ عَلَيْهَا وَيُعَاقَبُونَ عَلَى تَرْكِهَا. وَهَذَا مِمَّا أَجْمَعَ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ أَهْلُ الْحَقِّ، وَنَطَقَتْ بِهِ الْآثَارُ، وَدَلَّ عَلَيْهَا الْمُسْتَفِيضُ من الأخبار، ويتعلق الثواب والعقاب إلا بما هو من اكتساب الْعِبَادِ، عَلَى مَا يَأْتِي بَيَانُهُ. وَلَوْلَا أَنَّهُ- سُبْحَانَهُ- جَعَلَ فِي قُلُوبِ عِبَادِهِ مِنَ الْقُوَّةِ عَلَى حَمْلِهِ مَا جَعَلَهُ، لِيَتَدَّبَّرُوهُ وَلِيَعْتَبِرُوا بِهِ، وليتذكروا ما فيه من طاعته وعبادته، يَقُولُ- تَعَالَى جَدُّهُ- وَقَوْلُهُ الْحَقُّ:" لَوْ أَنْزَلْنا هذَا الْقُرْآنَ عَلى جَبَلٍ لَرَأَيْتَهُ خاشِعاً مُتَصَدِّعاً مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ «2» ". فأين قوت الْقُلُوبِ مِنْ قُوَّةِ الْجِبَالِ! وَلَكِنَّ اللَّهَ تَعَالَى رَزَقَ عِبَادَهُ مِنَ الْقُوَّةِ عَلَى حَمْلِهِ مَا شَاءَ أَنْ يَرْزُقَهُمْ، فَضْلًا مِنْهُ وَرَحْمَةً. وَأَمَّا مَا جَاءَ مِنَ الْآثَارِ فِي هَذَا الْبَابِ- فَأَوَّلُ ذَلِكَ مَا خَرَّجَهُ التِّرْمِذِيُّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" يَقُولُ الرَّبُّ تبارك وتعالى مَنْ شغله القرآن وذكري عن مسألتي أعطيته مَا أُعْطِي السَّائِلِينَ- قَالَ:- وَفَضْلُ كَلَامِ اللَّهِ عَلَى سَائِرِ الْكَلَامِ كَفَضْلِ اللَّهِ عَلَى خَلْقِهِ". قَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ. وَرَوَى أَبُو مُحَمَّدٍ الدَّارِمِيُّ السَّمَرْقَنْدِيُّ فِي مُسْنَدِهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: السَّبْعُ الطُّوَلُ مِثْلُ التَّوْرَاةِ، وَالْمِئُونَ مِثْلُ الْإِنْجِيلِ، وَالْمَثَانِي مِثْلُ الزَّبُورِ، وَسَائِرُ الْقُرْآنِ بعد فضل. وأسند عن الحارث
(1). في نسخة: ويؤجرون عنها إذا أجيبوا.

(2). آية 21 سورة الحشر.
আল-কুরআনের কতিপয় ফযীলত, এর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং কুরআন অন্বেষণকারী, তিলাওয়াতকারী, শ্রবণকারী ও তদানুযায়ী আমলকারীর মর্যাদা সংক্রান্ত অধ্যায়

জেনে রাখুন, এই অধ্যায়টি অত্যন্ত ব্যাপক ও সুবিস্তৃত। এ বিষয়ে উলামায়ে কিরাম বহু কিতাব রচনা করেছেন। আমরা এখান থেকে এমন কিছু সূক্ষ্ম বিষয় উল্লেখ করব যা এর শ্রেষ্ঠত্ব এবং আল্লাহ তাআলা এর অনুসারীদের জন্য যা প্রস্তুত করে রেখেছেন তা নির্দেশ করে; যদি তারা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তা অন্বেষণ করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে। এর মধ্যে সর্বপ্রথম বিষয় হলো, মুমিন ব্যক্তি কুরআনের ফযীলত সম্পর্কে এই অনুভূতি হৃদয়ে পোষণ করবে যে, এটি রব্বুল আলামীনের কালাম (বাণী), যা সৃষ্টি নয়। এটি এমন সত্তার কালাম যাঁর সদৃশ কেউ নেই এবং এটি এমন এক সত্তার গুণ যাঁর কোনো উপমা বা সমকক্ষ নেই। সুতরাং এটি তাঁর সুমহান ও পরাক্রমশালী সত্তার নূর হতে আগত। আর তিলাওয়াত হলো তিলাওয়াতকারীদের কণ্ঠস্বর ও সুরের মূর্ছনা; এটি তাদের অর্জিত কাজ যার জন্য তারা আদিষ্ট। এটি কোনো কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক এবং অধিকাংশ সময়েই মুস্তাহাব। নাপাকি অবস্থায় তাদের এটি তিলাওয়াত করতে নিষেধ করা হয়েছে। তারা এর জন্য সওয়াবপ্রাপ্ত হয় এবং এটি বর্জন করার কারণে শাস্তির সম্মুখীন হয়। এটি এমন এক বিষয় যার ওপর হকের অনুসারী মুসলিমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন, আছারসমূহ এ কথা ব্যক্ত করেছে এবং প্রসিদ্ধ বর্ণনাগুলো এর প্রমাণ বহন করে। সওয়াব ও আযাব কেবল বান্দার উপার্জিত কার্যাবলীর সাথেই সংশ্লিষ্ট, যার বর্ণনা সামনে আসবে। যদি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের হৃদয়ে তা ধারণ করার মতো শক্তি দান না করতেন, যাতে তারা এটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে পারে, শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং এতে বর্ণিত তাঁর আনুগত্য ও ইবাদতের বিষয়গুলো স্মরণ করতে পারে (তবে তারা তা পারত না)। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—আর তাঁর বাণী চিরসত্য: "যদি আমি এই কুরআন কোনো পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি তাকে আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হতে দেখতে।" পাহাড়ের শক্তির তুলনায় মানুষের হৃদয়ের শক্তি কোথায়! কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও রহমত স্বরূপ তাঁর বান্দাদেরকে তা ধারণ করার জন্য ততটুকু শক্তি দান করেছেন যতটুকু তিনি চেয়েছেন। আর এই অধ্যায়ে বর্ণিত আছারসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম হলো যা ইমাম তিরমিযী আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মহান রব ইরশাদ করেন: যাকে কুরআন এবং আমার যিকির আমার কাছে কিছু চাওয়া থেকে বিরত রেখেছে, আমি তাকে যাঞ্চাকারীদের চেয়েও উত্তম কিছু দান করব।" তিনি আরও বলেন: "অন্যান্য সকল বাণীর ওপর আল্লাহর বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, যেমন তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব।" তিনি বলেন: এটি একটি হাসান গরীব হাদীস। আবু মুহাম্মাদ আদ-দারেমী আস-সামারকান্দী তাঁর মুসনাদে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "সাতটি দীর্ঘ সূরা তাওরাতের সমতুল্য, একশ বা ততোধিক আয়াত বিশিষ্ট সূরাগুলো ইঞ্জিলের সমতুল্য, মাসানী (বারবার পঠিত সূরাগুলো) যাবূরের সমতুল্য এবং অবশিষ্ট কুরআন হলো অতিরিক্ত ফযীলতপূর্ণ।" তিনি আল-হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন...
(১). কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: তারা এর জন্য প্রতিদানপ্রাপ্ত হবে যখন তারা সাড়া দেয়।

(২). সূরা আল-হাশর, আয়াত ২১।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٥)
عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه وَخَرَّجَهُ التِّرْمِذِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ «1» رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:" سَتَكُونُ فِتَنٌ كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ. قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْمَخْرَجُ مِنْهَا؟ قَالَ: كِتَابُ اللَّهِ تبارك وتعالى فِيهِ نَبَأُ مَنْ قَبْلَكُمْ وَخَبَرُ مَا بَعْدَكُمْ وَحُكْمُ مَا بَيْنَكُمْ هُوَ الْفَصْلُ لَيْسَ بِالْهَزْلِ مَنْ تَرَكَهُ مِنْ جَبَّارٍ قَصَمَهُ اللَّهُ وَمَنَ ابْتَغَى الْهُدَى فِي غيره أصله اللَّهُ هُوَ حَبْلُ اللَّهِ الْمَتِينُ وَنُورُهُ الْمُبِينُ وَالذِّكْرُ الْحَكِيمُ وَهُوَ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ وَهُوَ الَّذِي لَا تَزِيغُ بِهِ الْأَهْوَاءُ وَلَا تَلْتَبِسُ بِهِ الْأَلْسِنَةُ وَلَا تَتَشَعَّبُ مَعَهُ الْآرَاءُ وَلَا يَشْبَعُ من الْعُلَمَاءُ وَلَا يَمَلُّهُ الْأَتْقِيَاءُ وَلَا يَخْلَقُ عَلَى كَثْرَةِ الرَّدِّ وَلَا تَنْقَضِي عَجَائِبُهُ وَهُوَ الَّذِي لَمْ تَنْتَهِ الْجِنُّ إِذْ سَمِعَتْهُ أَنْ قَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا مَنْ عَلِمَ عِلْمَهُ سَبَقَ وَمَنْ قَالَ بِهِ صَدَقَ وَمَنْ حَكَمَ بِهِ عَدَلَ وَمَنْ عَمِلَ بِهِ أُجِرَ وَمَنْ دَعَا إِلَيْهِ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ خُذْهَا إِلَيْكَ يَا أَعْوَرُ «2» "." الْحَارِثُ" رَمَاهُ الشَّعْبِيُّ بِالْكَذِبِ وَلَيْسَ بِشَيْءٍ، وَلَمْ يَبِنْ مِنَ الْحَارِثِ كَذِبٌ، وَإِنَّمَا نُقِمْ عَلَيْهِ إِفْرَاطُهُ فِي حُبِّ عَلِيٍّ وَتَفْضِيلِهِ لَهُ عَلَى غَيْرِهِ. وَمِنْ هَاهُنَا- وَاللَّهُ أَعْلَمُ- كَذَّبَهُ الشَّعْبِيُّ، لِأَنَّ الشَّعْبِيَّ يَذْهَبُ إِلَى تَفْضِيلِ أَبِي بَكْرٍ، وَإِلَى أَنَّهُ أَوَّلُ مَنْ أسلم. قال أبو عمر عَبْدِ الْبَرِّ: وَأَظُنُّ الشَّعْبِيَّ عُوقِبَ لِقَوْلِهِ فِي الحارث الهمداني: حدثني الحارث وكان أحد الْكَذَّابِينَ. وَأَسْنَدَ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ بَشَّارِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْأَنْبَارِيُّ النَّحْوِيُّ اللُّغَوِيُّ فِي كِتَابِ" الرَّدِّ عَلَى مَنْ خَالَفَ مُصْحَفَ عُثْمَانَ" عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ: رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم:" إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ مَأْدُبَةُ اللَّهِ فَتَعَلَّمُوا مِنْ مَأْدُبَتِهِ مَا اسْتَطَعْتُمْ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ حَبْلُ اللَّهِ وَهُوَ النُّورُ الْمُبِينُ وَالشِّفَاءُ النَّافِعُ عِصْمَةُ مَنْ تَمَسَّكَ بِهِ وَنَجَاةُ مَنِ اتَّبَعَهُ لَا يعوج فيقوم ولا يزيغ فيستعيب وَلَا تَنْقَضِي عَجَائِبُهُ وَلَا يَخْلَقُ عَنْ كَثْرَةِ الرَّدِّ فَاتْلُوهُ فَإِنَّ اللَّهَ يَأْجُرُكُمْ عَلَى تِلَاوَتِهِ بكل حرف عشرة حَسَنَاتٍ أَمَا إِنِّي لَا أَقُولُ الم حَرْفٌ وَلَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ وَاضِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ يَدَعُ أَنْ يَقْرَأَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَفِرُّ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ وَإِنَّ أَصْفَرَ الْبُيُوتِ مِنَ الْخَيْرِ الْبَيْتُ الصَّفِرُ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ". وَقَالَ أَبُو عَبِيدٍ فِي غَرِيبِهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: إِنَّ هَذَا القرآن مأدبة
(1). ورد هذا الحديث في صحيح الترمذي (ج 2 ص 149 طبع بولاق) مع اختلاف في بعض كلماته. زيادة ونقص.

(2). قوله: يا أعور: لقب الحارث بن عبد اله المذكور ف يسند هذا الحديث
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত এবং তিরমিজি এটি সংকলন করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি «১»: "অচিরেই অন্ধকার রাতের ন্যায় ঘোর ফিতনা প্রকাশ পাবে।" আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! তা থেকে বাঁচার উপায় কী?" তিনি বললেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার কিতাব। এতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিষয়ের মীমাংসা রয়েছে। এটি সত্য-মিথ্যার চূড়ান্ত ফয়সালাকারী, কোনো কৌতুক নয়। কোনো দর্পিত ব্যক্তি একে বর্জন করলে আল্লাহ তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন। যে ব্যক্তি একে ছাড়া অন্য কোথাও হেদায়েত তালাশ করে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করেন। এটি আল্লাহর সুদৃঢ় রজ্জু, সুস্পষ্ট নূর এবং প্রজ্ঞাময় উপদেশ। এটিই সরল পথ। এর প্রভাবে কুপ্রবৃত্তি বিচ্যুত হয় না, জিহ্বা বিভ্রান্ত হয় না এবং আলেমগণ এর জ্ঞানে তৃপ্ত হন না। এটি বারবার পাঠেও পুরনো হয় না এবং এর বিস্ময়কর নিদর্শনাদি শেষ হয় না। এটি এমন এক কিতাব, যা শুনে জিনেরা না বলে থাকতে পারেনি—'আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি'। যে এর ইলম অর্জন করে সে অগ্রগামী হয়, যে এর মাধ্যমে কথা বলে সে সত্য বলে, যে এর দ্বারা বিচার করে সে ন্যায়বিচার করে, যে এর ওপর আমল করে সে প্রতিদানপ্রাপ্ত হয় এবং যে এর দিকে আহ্বান করে সে সঠিক পথের দিশা পায়। হে আওয়ার! এটি তুমি স্মরণে রাখো «২»।" হারিস—শাবী তাকে মিথ্যুক বলে অভিযুক্ত করেছেন, কিন্তু এটি ভিত্তিহীন; হারিসের কোনো মিথ্যাচার প্রমাণিত হয়নি। বরং তাঁর ওপর ক্ষোভের কারণ ছিল আলী (রা.)-এর প্রতি তাঁর প্রগাঢ় ভালোবাসা এবং অন্যদের ওপর তাঁকে প্রাধান্য দেওয়া। সম্ভবত এ কারণেই—আল্লাহই ভালো জানেন—শাবী তাকে মিথ্যুক বলেছেন। কারণ শাবী আবু বকর (রা.)-এর শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর প্রথম ইসলাম গ্রহণের মত পোষণ করতেন। আবু উমর ইবনে আব্দুল বার বলেন: আমার ধারণা, হারিস আল-হামদানি সম্পর্কে "হারিস আমার কাছে বর্ণনা করেছে অথচ সে ছিল চরম মিথ্যুকদের একজন"—এরূপ উক্তির কারণে শাবী তিরস্কৃত হয়েছেন। ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম ইবনে বাশশার ইবনে মুহাম্মদ আল-আনবারি তাঁর "আর-রদ্দু আলা মান খালাফা মুশহাফা উসমান" গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই কুরআন আল্লাহর এক ভোজসভা, সুতরাং তোমরা তাঁর এই ভোজসভা থেকে যথাসম্ভব শিক্ষা গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই এই কুরআন আল্লাহর রজ্জু, এটি সুস্পষ্ট নূর এবং নিরাময় দানকারী শিফা। যে একে আঁকড়ে ধরবে তার জন্য এটি সুরক্ষা এবং যে একে অনুসরণ করবে তার জন্য এটি মুক্তি। এটি লক্ষ্যচ্যুত হয় না যে সংশোধন করতে হবে, বিচ্যুত হয় না যে দোষারোপ করা যাবে। এর বিস্ময়কর দিকগুলো ফুরিয়ে যায় না এবং অধিক পাঠেও এটি পুরনো হয় না। সুতরাং তোমরা এটি তিলাওয়াত করো, কেননা আল্লাহ তোমাদের এর তিলাওয়াতের বিনিময়ে প্রতিটি অক্ষরের জন্য দশটি করে নেকি দান করবেন। সাবধান! আমি বলছি না যে 'আলিফ-লাম-মীম' একটি অক্ষর। আর আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন না দেখি যে সে এক পা অন্য পায়ের ওপর তুলে অলসভাবে বসে আছে অথচ সূরা আল-বাকারাহ তিলাওয়াত করা ছেড়ে দিয়েছে। কারণ শয়তান সেই ঘর থেকে পলায়ন করে যেখানে সূরা আল-বাকারাহ পাঠ করা হয়। আর সেই ঘরটিই কল্যাণের দিক থেকে সবচেয়ে রিক্ত, যে ঘরটি আল্লাহর কিতাব হতে শূন্য।" আবু উবাইদ তাঁর 'গারিব' গ্রন্থে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই এই কুরআন একটি ভোজসভা...
(১). এই হাদিসটি তিরমিজিতে (২য় খণ্ড, ১৪৯ পৃষ্ঠা, বুলাক মুদ্রণ) কিছু শব্দের কম-বেশি ও পরিবর্তনসহ বর্ণিত হয়েছে।

(২). তাঁর উক্তি: হে আওয়ার (একচক্ষু বিশিষ্ট): এটি হারিস বিন আবদুল্লাহর উপাধি, যিনি এই হাদিসের সনদে উল্লিখিত হয়েছেন।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٦)
اللَّهِ فَمَنْ دَخَلَ فِيهِ فَهُوَ آمِنٌ. قَالَ: وَتَأْوِيلُ الْحَدِيثِ أَنَّهُ مَثَلٌ، شَبَّهَ الْقُرْآنَ بِصَنِيعٍ صَنَعَهُ اللَّهُ عز وجل لِلنَّاسِ، لَهُمْ فِيهِ الخير وَمَنَافِعٌ، ثُمَّ دَعَاهُمْ إِلَيْهِ. يُقَالُ: مَأْدُبَةٌ وَمَأْدَبَةٌ، فَمَنْ قَالَ: مَأْدُبَةٌ، أَرَادَ الصَّنِيعَ يَصْنَعُهُ الْإِنْسَانُ فَيَدْعُو إِلَيْهِ النَّاسَ. وَمَنْ قَالَ: مَأْدَبَةٌ، فَإِنَّهُ يَذْهَبُ بِهِ إِلَى الْأَدَبِ، يَجْعَلُهُ مَفْعَلَةٌ مِنَ الْأَدَبِ، وَيَحْتَجُّ بِحَدِيثِهِ الْآخَرِ:" إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ مَأْدَبَةُ اللَّهِ عز وجل فَتَعْلَّمُوا مِنْ مَأْدَبَتِهِ". وكان الأحمر يجعلها لُغَتَيْنِ بِمَعْنًى وَاحِدٍ، وَلَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا يَقُولُ هَذَا غَيْرَهُ. [قَالَ:] وَالتَّفْسِيرُ الْأَوَّلُ أَعْجَبُ إِلَيَّ. وَرَوَى الْبُخَارِيُّ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:" خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ". وَرَوَى مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ الْأُتْرُجَّةِ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا طَيِّبٌ وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ التَّمْرَةِ لَا رِيحَ لَهَا وَطَعْمُهَا حُلْوٌ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ الرَّيْحَانَةِ رِيحُهَا طِيِّبٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ الْحَنْظَلَةِ لَا رِيحَ لَهَا وَطَعْمُهَا مُرٌّ". وَفِي رِوَايَةٍ:" مَثَلُ الْفَاجِرِ" بَدَلُ الْمُنَافِقِ". وَقَالَ الْبُخَارِيُّ:" مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ الْأُتْرُجَّةِ طَعْمُهَا طَيِّبٌ وَرِيحُهَا طَيِّبٌ وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ التَّمْرَةِ … " وَذَكَرَ الْحَدِيثَ. وَذَكَرَ أَبُو بَكْرٍ الْأَنْبَارِيُّ: وَقَدْ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الْحَلْوَانِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ حَدَّثْنَا هُشَيْمٌ «1»، ح. وَأَنْبَأَنَا إِدْرِيسُ حَدَّثَنَا خَلَفٌ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنِ الْعَوَّامِ بْنِ حَوْشَبٍ: أَنَّ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ
(1). جرت العادة بالاقتصار على الرمز في حدثنا وأخبرنا، واستمر الاصطلاح عليه من قديم الأعصار الى زماننا، واشتهر ذلك بحيث لا يخفى، فيكتبون من حدثنا" ثنا" وهي الثاء والنون والألف، وربما حذفوا الثاء. ويكتبون من أخبرنا" أنا" ولا تحسن زيادة الباء قبل" نا"، وإذا كان للحديث إسنادان أو أكثر كتبوا عند الانتقال من إسناد الى إسناد" ح" وهي حاء مهملة، والمختار أنها. مأخوذة من التحول، لتحوله من إسناد الى إسناد، وأنه يقول القارئ إذا انتهى إليها:" ح" ويستمر في قراءة ما بعدها. وقيل: إنها من حال بين الشيئين إذا حجز، لكونها حالت بين الإسنادين وأنه لا يلفظ عند الانتهاء إليها بشيء، بل وليست من الرواية. وقيل: إنها رمز الى قوله:" الحديث". وأن أهل المغرب كلهم يقولون إذا وصلوا إليها: الحديث. ثم هذه الحاء توجد في كتب المتأخرين كثيرا، وهي كثيرة في صحيح مسلم، قليلة في صحيح البخاري. (عن مقدمة النووي على صحيح مسلم).
আল্লাহর; সুতরাং যে ব্যক্তি এতে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ হবে। তিনি বলেন: হাদীসটির ব্যাখ্যা হলো এটি একটি উপমা। এখানে কুরআনকে এমন একটি ভোজের সাথে তুলনা করা হয়েছে যা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ মানুষের জন্য প্রস্তুত করেছেন, যাতে তাদের জন্য কল্যাণ ও নানাবিধ উপকার নিহিত রয়েছে, অতঃপর তিনি তাদেরকে এর দিকে আহ্বান করেছেন। শব্দটি ‘মা’দুবাহ’ (مَأْدُبَةٌ) এবং ‘মা’দাবাহ’ (مَأْدَبَةٌ) উভয়ভাবেই পঠিত হয়। যারা ‘মা’দুবাহ’ বলেন, তাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষের প্রস্তুতকৃত সেই ভোজ বা আপ্যায়ন যার দিকে সে মানুষকে দাওয়াত দেয়। আর যারা ‘মা’দাবাহ’ বলেন, তারা এর দ্বারা ‘আদব’ বা শিষ্টাচারের দিকে ইঙ্গিত করেন এবং একে ‘আদব’ শব্দ থেকে ‘মাফ’আলাহ’ ওজনের শব্দ হিসেবে গণ্য করেন। তিনি তাঁর অন্য একটি হাদীস দ্বারা এর সপক্ষে দলিল পেশ করেন: "নিশ্চয়ই এই কুরআন মহান আল্লাহর শিষ্টাচার-শিক্ষা (মা’দাবাহ), সুতরাং তোমরা তাঁর সেই শিষ্টাচার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো।" আল-আহমার একে একই অর্থের দুটি শব্দ (উচ্চারণভেদ) হিসেবে গণ্য করতেন এবং আমি তাঁকে ছাড়া আর কাউকে এ কথা বলতে শুনিনি। [তিনি বলেন:] প্রথম ব্যাখ্যাটিই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। ইমাম বুখারী উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সেই ব্যক্তি যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা শিক্ষা দেয়।" ইমাম মুসলিম আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "যে মুমিন কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো লেবুর (উতরুজজাহ) মতো, যার সুঘ্রাণও চমৎকার এবং স্বাদও চমৎকার। আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো খেজুরের মতো, যার কোনো ঘ্রাণ নেই কিন্তু স্বাদ মিষ্টি। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো রায়হান ফুলের (সুগন্ধি লতা) মতো, যার ঘ্রাণ চমৎকার কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো মাকাল ফলের (হানজালা) মতো, যার কোনো ঘ্রাণ নেই এবং স্বাদও তিক্ত।" অন্য এক বর্ণনায় ‘মুনাফিক’-এর পরিবর্তে ‘পাপাচারী’ (ফাজের) শব্দটি এসেছে। ইমাম বুখারী বলেন: "যে মুমিন কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ লেবুর ন্যায় যার স্বাদ চমৎকার এবং ঘ্রাণও চমৎকার, আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ খেজুরের ন্যায় … " এবং তিনি পুরো হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। আবু বকর আল-আনবারী উল্লেখ করেছেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-হালওয়ানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল হামিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন «১», (হ)। এবং আমাদের নিকট ইদ্রিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালাফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন আউওয়াম ইবনে হাওশাব থেকে যে, আবু আব্দুর রহমান
(১). হাদীস শাস্ত্রে ‘হাদ্দাসানা’ এবং ‘আখবারানা’ শব্দগুলোকে সংক্ষেপে প্রতীকী বর্ণে লেখার রীতি প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে এবং এটি সুপরিচিত। যেমন ‘হাদ্দাসানা’-এর বদলে ‘ছানা’ (ثنا) লেখা হয়, যেখানে ছা, নুন এবং আলিফ থাকে; কখনও শুধু ‘ছা’ বর্ণটিও লেখা হয়। ‘আখবারানা’-এর বদলে ‘আনা’ (أنا) লেখা হয়, এবং ‘না’-এর আগে ‘বা’ বৃদ্ধি করা সমীচীন নয়। যখন কোনো হাদীসের একাধিক সনদ থাকে, তখন এক সনদ থেকে অন্য সনদে যাওয়ার সময় ‘হা’ (ح) বর্ণটি লেখা হয়। বিশুদ্ধ মতানুযায়ী এটি ‘তাহউইল’ বা রূপান্তর শব্দ থেকে গৃহীত, যা এক সনদ থেকে অন্য সনদে পরিবর্তনকে বোঝায়। পাঠক যখন সেখানে পৌঁছান তখন তিনি ‘হা’ উচ্চারণ করেন অথবা পরবর্তী অংশ পড়তে থাকেন। কেউ কেউ বলেন এর অর্থ হলো এটি দুই বিষয়ের মাঝে অন্তরায় (হাজিজ), যেহেতু এটি দুই সনদের মাঝে প্রতিবন্ধক হিসেবে থাকে এবং সেখানে কোনো শব্দ উচ্চারণ করতে হয় না, বরং এটি বর্ণনার অংশ নয়। আবার কেউ বলেছেন এটি ‘আল-হাদীস’ শব্দের সংক্ষেপ। মাগরিব তথা উত্তর আফ্রিকার অধিবাসীগণ সেখানে পৌঁছালে ‘আল-হাদীস’ বলেন। পরবর্তীকালের লেখকদের কিতাবে এই ‘হা’-এর ব্যবহার প্রচুর পাওয়া যায়; ইমাম মুসলিমের সহীহ গ্রন্থে এটি অধিক ব্যবহৃত হয়েছে, বুখারীতে এর ব্যবহার কম। (দ্রষ্টব্য: সহীহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর ভূমিকা)।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٧)
السُّلَمِيَّ كَانَ إِذَا خَتَمَ عَلَيْهِ الْخَاتِمُ الْقُرْآنَ أَجْلَسَهُ بَيْنَ يَدَيْهِ وَوَضَعَ يَدُهُ عَلَى رَأْسِهِ وَقَالَ لَهُ: يَا هَذَا، اتَّقِ اللَّهَ! فَمَا أَعْرِفُ أَحَدًا خَيْرًا مِنْكَ إِنْ عَمِلْتَ بِالَّذِي عَلِمْتَ. وَرَوَى الدَّارِمِيُّ عَنْ وَهْبٍ الذِّمَارِيِّ قَالَ: مَنْ آتَاهُ اللَّهُ الْقُرْآنَ فَقَامَ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ، وَعَمِلَ بِمَا فِيهِ وَمَاتَ على طاعة، بَعَثَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ السَّفَرَةِ وَالْأَحْكَامِ. قَالَ سَعِيدٌ «1»: السَّفَرَةُ الْمَلَائِكَةُ، وَالْأَحْكَامُ «2» الْأَنْبِيَاءُ. وَرَوَى مسلم عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" الْمَاهِرُ بِالْقُرْآنِ مَعَ السفرة الكرام البررة والذي يقرأ القرآن ويتعتع فِيهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ لَهُ أَجْرَانِ". التَّتَعْتُعُ: التَّرَدُّدُ فِي الْكَلَامِ عِيًّا وَصُعُوبَةً، وَإِنَّمَا كَانَ لَهُ أَجْرَانِ مِنْ حَيْثُ التِّلَاوَةِ وَمِنْ حَيْثُ الْمَشَقَّةِ، وَدَرَجَاتُ الْمَاهِرِ فَوْقَ ذَلِكَ كُلِّهِ، لِأَنَّهُ قَدْ كَانَ الْقُرْآنُ مُتَعْتَعًا عَلَيْهِ، ثُمَّ تَرَقَّى عَنْ ذَلِكَ إِلَى أَنْ شُبِّهَ بِالْمَلَائِكَةِ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَرَوَى التِّرْمِذِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لَا أَقُولُ الم حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلْفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ". قَالَ: حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ، وَقَدْ رُوِيَ مَوْقُوفًا. وَرَوَى مُسْلِمٌ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ فِي الصُّفَّةِ، فَقَالَ:" أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يَغْدُوَ كُلَّ يَوْمٍ إِلَى بُطْحَانَ أَوْ إِلَى الْعَقِيقِ فَيَأْتِي مِنْهُ بِنَاقَتَيْنِ كَوْمَاوَيْنِ «3» فِي غَيْرِ إِثْمٍ وَلَا قَطْعِ رَحِمٍ" فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كُلُّنَا نُحِبُّ ذَلِكَ، قَالَ:" أَفَلَا يَغْدُو أَحَدُكُمْ إِلَى الْمَسْجِدِ فَيَعْلَمُ «4» أَوْ يَقْرَأُ آيَتَيْنِ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عز وجل خَيْرٌ لَهُ مِنْ نَاقَتَيْنِ وَثَلَاثٌ خَيْرٌ لَهُ مِنْ ثَلَاثٍ وَأَرْبَعٌ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَرْبَعٍ وَمِنْ أَعْدَادِهِنَّ مِنَ الْإِبِلِ". وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يسر الله عليه
(1). سعيد هذا، هو سعيد بن عبد العزيز بن أبي يحيى التنوخي، أحد رجال سند هذا الحديث. وفي الأصول:" سعد" وهو تحريف.

(2). هكذا في نسخ الأصل وسنن الدارمي. ولعل الغرض وذوو الأحكام، أو هو جمع حكيم كشريف وأشرف أو حكم كبطل وأبطال.

(3)." كوماوين" تثنية كوماء، أي مشرفة السنام عاليته. [ ..... ]

(4). قوله: فيعلم. ضبط بنصب الفعل ورفعه وبتشديد اللام من التعلم، وبتخفيفها من العلم
আস-সুলামী যখন কারো কোরআন খতম সম্পন্ন হতো, তাকে তাঁর সামনে বসাতেন এবং তার মাথায় হাত রেখে বলতেন: হে ব্যক্তি! আল্লাহকে ভয় করো। কারণ তুমি যা শিখেছ সে অনুযায়ী যদি আমল করো, তবে আমি তোমার চেয়ে উত্তম কাউকে চিনি না। আদ-দারিমি ওয়াহাব আজ-জিমারি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ যাকে কোরআন দান করেছেন, অতঃপর সে দিবা-রাত্রি তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করেছে এবং আনুগত্যের ওপর মৃত্যুবরণ করেছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সম্মানিত দূতগণ ও বিচারকগণের (নবীগণের) সাথে পুনরুত্থিত করবেন। সাঈদ [১] বলেন: 'সাফারা' হলো ফেরেশতাগণ এবং 'আহকাম' [২] হলো নবীগণ। ইমাম মুসলিম আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোরআনে পারদর্শী ব্যক্তি উচ্চমর্যাদাশীল নেককার লিপিকার ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করে এবং পাঠ করতে গিয়ে আটকে যায় এবং তা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।" 'তাতাত'উ' অর্থ হচ্ছে অক্ষমতা ও কাঠিন্যের কারণে কথা বলতে গিয়ে দ্বিধাবোধ করা বা আটকে যাওয়া। তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব হওয়ার কারণ হলো—একটি তিলাওয়াতের জন্য এবং অন্যটি শ্রমের জন্য। আর পারদর্শী ব্যক্তির মর্যাদা এই সব কিছুর ঊর্ধ্বে; কারণ তার ওপরও একসময় কোরআন পাঠ কঠিন ছিল, অতঃপর সে তা থেকে উন্নতি লাভ করে ফেরেশতাদের সাদৃশ্য লাভ করেছে। আল্লাহই ভালো জানেন। ইমাম তিরমিযী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে; আর প্রতিটি নেকি তার দশগুণ। আমি বলছি না যে 'আলিফ-লাম-মীম' একটি অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।" তিনি বলেন: এই সূত্রে হাদীসটি হাসান সহীহ ও গরীব, এবং এটি মাওকুফ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মুসলিম উকবা ইবনে আমির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে বের হয়ে এলেন যখন আমরা সুফফায় ছিলাম। তখন তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে কে এমন আছে যে প্রতিদিন সকালে বুতহান অথবা আকিক উপত্যকায় গিয়ে কোনো পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ছাড়াই দুটি বিশালাকার উঁচু কুঁজবিশিষ্ট উটনী [৩] নিয়ে আসতে পছন্দ করবে?" আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সবাই তা পছন্দ করি। তিনি বললেন: "তোমাদের কেউ কি সকালে মসজিদে গিয়ে মহান আল্লাহর কিতাব থেকে দুটি আয়াত শিখবে [৪] অথবা পাঠ করবে না? এটি তার জন্য দুটি উটনীর চেয়ে উত্তম, তিনটি আয়াত তিনটি উটনীর চেয়ে উত্তম এবং চারটি আয়াত চারটি উটনীর চেয়ে উত্তম; অনুরূপভাবে আয়াতের সংখ্যা অনুযায়ী উটের সংখ্যার চেয়েও উত্তম।" আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের পার্থিব বিপদসমূহের কোনো একটি বিপদ দূর করে দেবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহের কোনো একটি বিপদ দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্তের প্রতি সহজ করবে, আল্লাহ তার ইহকাল ও পরকালে সহজ করবেন..."
(১). এই সাঈদ হলেন সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আবু ইয়াহইয়া আত-তানুখী, এই হাদীসের সনদের অন্যতম বর্ণনাকারী। মূল পাণ্ডুলিপিতে 'সা'দ' রয়েছে যা একটি অনুলিখন প্রমাদ।

(২). মূল পাণ্ডুলিপি এবং সুনান আদ-দারিমিতে এভাবেই এসেছে। সম্ভবত এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রজ্ঞাবান বা শাসকগণ, অথবা এটি 'হাকীম' শব্দের বহুবচন যেমন শরীফ থেকে আশরাফ, অথবা এটি 'হাকাম' শব্দের বহুবচন যেমন বাতাল থেকে আবতাল।

(৩). 'কাওমাওয়াইন' শব্দটি কাওমা-এর দ্বিবচন, যার অর্থ বিশালাকার ও উঁচু কুঁজবিশিষ্ট উটনী। [ ..... ]

(৪). তাঁর কথা: 'ফি-ইয়া'লামা/ইয়া'লামু'। এই শব্দটির ক্রিয়ারূপ নসব (জবর) ও রাফ (পেশ) উভয় ভাবেই বর্ণিত হয়েছে এবং এটি ল্যাম বর্ণে তাশদীদ সহ (শেখা অর্থে) এবং তাশদীদ ছাড়া (জানা অর্থে) উভয় পাঠেই পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٨)
فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ الله له شريقا إِلَى الْجَنَّةِ وَمَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ إِلَّا نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَحَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ وَمَنْ أبطأ به علمه لم يسره بِهِ نَسَبُهُ". وَرَوَى أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَالدَّارَمِيُّ وَالتِّرْمِذِيُّ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يقول:" الْجَاهِرُ بِالْقُرْآنِ كَالْجَاهِرِ بِالصَّدَقَةِ وَالْمُسِرُّ بِالْقُرْآنِ كَالْمُسِرِّ بِالصَّدَقَةِ". قَالَ التِّرْمِذِيُّ: حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ. وَرَوَى التِّرْمِذِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قال:" يجئ القرآن «1» يوم القيامة فيقول يا رَبِّ حُلَّةً فَيَلْبَسُ تَاجَ الْكَرَامَةِ ثُمَّ يَقُولُ يَا رَبِّ زِدْهُ فَيَلْبَسُ حُلَّةَ الْكَرَامَةِ ثُمَّ يَقُولُ يَا رَبِّ ارْضَ عَنْهُ فَيَرْضَى عَنْهُ فَيُقَالُ لَهُ اقْرَأْ وَارْقَ وَيُزَادُ بِكُلِّ آيَةٍ حَسَنَةٌ". قَالَ: حَدِيثٌ صَحِيحٌ. وَرَوَى أَبُو دَاوُدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ وَارَتْقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَتَكَ عِنْدَ آخَرَ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا". وَأَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ فِي سُنَنِهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ إِذَا دَخَلَ الْجَنَّةَ اقْرَأْ وَاصْعَدْ فَيَقْرَأُ وَيَصْعَدُ بِكُلِّ آيَةٍ دَرَجَةً حَتَّى يَقْرَأَ آخَرَ شي مَعَهُ". وَأَسْنَدَ أَبُو بَكْرٍ الْأَنْبَارِيُّ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْحِمْصِيِّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" مَنْ أُعْطِيَ ثُلُثَ الْقُرْآنِ فَقَدْ أُعْطِيَ ثُلُثَ النُّبُوَّةِ وَمَنْ أُعْطِيَ ثُلُثَيِ الْقُرْآنِ أُعْطِي ثُلُثَيِ النُّبُوَّةِ وَمَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ كُلَّهُ فَقَدْ أُعْطِيَ النُّبُوَّةَ كُلَّهَا غَيْرَ أَنَّهُ لَا يُوحَى إِلَيْهِ وَيُقَالُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ اقْرَأْ وَارْقَ فَيَقْرَأُ آيَةً وَيَصْعَدُ دَرَجَةً حَتَّى يُنْجِزَ مَا مَعَهُ مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ يُقَالُ لَهُ اقْبِضْ فَيَقْبِضُ ثُمَّ يُقَالُ لَهُ أَتَدْرِي مَا فِي يَدَيْكَ فَإِذَا فِي يَدِهِ الْيُمْنَى الْخُلْدُ وَفِي الْيُسْرَى النَّعِيمُ". حَدَّثَنَا إِدْرِيسُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ تَمَّامٍ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" مَنْ أَخَذَ ثُلُثَ الْقُرْآنِ وَعَمِلَ به فقد أخذ ثلث النبوة ومن أخذ
(1). الذي في نسخ الأصل:" يجئ صاحب القرآن". والتصويب عن سنن الترمذي.
দুনিয়া ও আখিরাতে। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ ততক্ষণ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে লিপ্ত থাকে। আর যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। আর যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটি ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং নিজেদের মধ্যে তা অধ্যয়ন করে, তখন তাদের ওপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়, রহমত তাদেরকে ঢেকে নেয়, ফেরেশতারা তাদেরকে বেষ্টন করে রাখে এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তীদের কাছে তাদের কথা আলোচনা করেন। আর যার আমল তাকে পিছিয়ে দেয়, তার বংশমর্যাদা তাকে এগিয়ে নিতে পারে না। আর আবু দাউদ, নাসাঈ, দারেমি ও তিরমিজি উকবা ইবনে আমির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "উচ্চৈঃস্বরে কুরআন পাঠকারী প্রকাশ্যে দানকারীর মতো, আর নিভৃতে কুরআন পাঠকারী গোপনে দানকারীর মতো।" ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি হাসান গরিব পর্যায়ের হাদিস। আর ইমাম তিরমিজি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামত দিবসে কুরআন (১) উপস্থিত হবে এবং বলবে, 'হে আমার রব! তাকে পোশাক দান করুন।' তখন তাকে সম্মানের মুকুট পরানো হবে। এরপর সে বলবে, 'হে আমার রব! আরও বৃদ্ধি করুন।' তখন তাকে সম্মানের পোশাক পরানো হবে। এরপর সে বলবে, 'হে আমার রব! তার ওপর সন্তুষ্ট হোন।' তখন আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হবেন। এরপর তাকে বলা হবে, 'তুমি পাঠ করতে থাকো এবং ওপরের দিকে আরোহণ করতে থাকো।' আর প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে তার জন্য একটি করে নেকি বৃদ্ধি করা হবে।" তিনি (তিরমিজি) বলেন: এটি সহিহ হাদিস। আর আবু দাউদ আবদুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কুরআনের অধিকারীকে বলা হবে, তুমি পাঠ করো এবং ওপরে আরোহণ করো, আর সেইভাবে তারতিলের সাথে পাঠ করো যেভাবে তুমি দুনিয়াতে পাঠ করতে। কেননা তোমার মর্যাদা হবে তোমার পঠিত শেষ আয়াতের নিকট।" আর ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কুরআনের অধিকারী যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তাকে বলা হবে, পাঠ করো এবং ওপরে ওঠো। সে পাঠ করতে থাকবে এবং প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে একটি করে স্তর ওপরে উঠতে থাকবে, যতক্ষণ না সে তার কাছে থাকা শেষ অংশটি পাঠ করবে।" আর আবু বকর আল-আনবারি আবু উমামা আল-হিমসি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যাকে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ দান করা হয়েছে, তাকে নবুওয়াতের এক-তৃতীয়াংশ দান করা হয়েছে। আর যাকে কুরআনের দুই-তৃতীয়াংশ দান করা হয়েছে, তাকে নবুওয়াতের দুই-তৃতীয়াংশ দান করা হয়েছে। আর যে ব্যক্তি পূর্ণ কুরআন পাঠ করেছে, তাকে পূর্ণ নবুওয়াত দান করা হয়েছে, তবে তার কাছে ওহি অবতীর্ণ হয় না। কিয়ামত দিবসে তাকে বলা হবে, 'পাঠ করো এবং ওপরে আরোহণ করো।' তখন সে এক একটি আয়াত পাঠ করবে এবং এক একটি স্তর ওপরে আরোহণ করবে, যতক্ষণ না সে তার কাছে থাকা কুরআনের শেষ অংশটি সম্পন্ন করবে। এরপর তাকে বলা হবে, 'মুষ্টিবদ্ধ করো।' তখন সে মুষ্টিবদ্ধ করবে। এরপর তাকে বলা হবে, 'তুমি কি জানো তোমার দুই হাতে কী রয়েছে?' তখন দেখা যাবে তার ডান হাতে রয়েছে অনন্তকাল এবং বাম হাতে রয়েছে নিয়ামত।" ইদ্রিস ইবনে খালাফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে আইয়াশ তাম্মাম-এর সূত্রে হাসান (বসরী)-র থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ গ্রহণ করল এবং সে অনুযায়ী আমল করল, সে নবুওয়াতের এক-তৃতীয়াংশ গ্রহণ করল। আর যে ব্যক্তি...
(১). মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "কুরআনের অধিকারী উপস্থিত হবে"। আর সংশোধনটি সুনান আত-তিরমিজি থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٩)
نصف القرآن وعمل به فقد أخذ نِصْفِ النُّبُوَّةِ وَمَنْ أَخَذَ الْقُرْآنَ كُلَّهُ فَقَدْ أَخَذَ النُّبُوَّةَ كُلَّهَا. قَالَ: وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْمَرْوَزِيُّ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدٌ وَهُوَ ابْنُ سَعْدَانَ حدثنا الحسن بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ حَفْصٍ عَنْ كَثِيرِ بْنِ زياد عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ وَتَلَاهُ وَحَفِظَهُ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ وَشَفَّعَهُ فِي عَشَرَةٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ كُلٌّ قَدْ وَجَبَتْ لَهُ النار". وقالت أو الدرداء: دخلت على عائشة رضى الله عنه فَقُلْتُ لَهَا: مَا فَضْلُ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ عَلَى مَنْ لَمْ يَقْرَأْهُ مِمَّنْ دَخَلَ الْجَنَّةَ؟ فقالت عائشة رضى الله عنه: إِنْ عَدَدَ آيِ الْقُرْآنِ عَلَى عَدَدِ دَرَجِ الْجَنَّةِ، فَلَيْسَ أَحَدٌ دَخَلَ الْجَنَّةَ أَفْضَلَ مِمَّنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ. ذَكَرَهُ أَبُو مُحَمَّدٍ مَكِّيٌّ. وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ وَاتَّبَعَ مَا فِيهِ هَدَاهُ اللَّهُ مِنَ الضَّلَالَةِ، وَوَقَاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ سُوءَ الْحِسَابِ، وَذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى يَقُولُ" فَمَنِ اتَّبَعَ هُدايَ فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقى «1» ". قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَضَمِنَ اللَّهُ لِمَنِ اتَّبَعَ الْقُرْآنَ أَلَّا يَضِلَّ فِي الدُّنْيَا وَلَا يَشْقَى فِي الآخرة وذكره مَكِّيٌّ أَيْضًا. وَقَالَ اللَّيْثُ يُقَالُ مَا الرَّحْمَةُ إِلَى أَحَدٍ بِأَسْرَعَ مِنْهَا إِلَى مُسْتَمِعِ الْقُرْآنِ، لِقَوْلِ اللَّهِ جَلَّ ذِكْرُهُ:" وَإِذا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ «2» ". وَ" لَعَلَّ" مِنَ اللَّهِ وَاجِبَةٌ. وَفِي مُسْنَدِ أَبِي دَاوُدَ الطَّيَالِسِيِّ وَهُوَ أَوَّلُ مُسْنَدٍ «3» أُلِّفَ فِي الْإِسْلَامِ- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:" مَنْ قَامَ بِعَشْرِ آيَاتٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنَ الْغَافِلِينَ وَمَنْ قَامَ بِمِائَةِ آيَةٍ كُتِبَ مِنَ الْقَانِتِينَ وَمَنْ قَامَ بِأَلْفِ آيَةٍ كُتِبَ مِنَ المقنطرين" والآثار في معنى هذ الْبَابِ كَثِيرَةٌ، وَفِيمَا ذَكَرْنَا كِفَايَةٌ، وَاللَّهُ الْمُوَفِّقُ للهداية.
(1). آية 123 سورة طه.

(2). آية 204 سورة الأعراف.

(3). قوله:" وهو أول مسند" إلخ. قال صاحب الظنون:" والذي حمل قائل هذا القول تقدم عصره على أعصار من صنف المسانيد، وظن أنه هو الذي صنفه وليس كذلك، فانه ليس من تصنيف أبي داود، وإنما بعض الحفاظ الخراسانيين جمع فيه ما رواه يوسف بن حبيب خاصة عن أبي داود. ولأبي داود من الأحاديث التي لم تدخل هذا المسند قدره أو أكثر، كما ذكره البقاعي في حاشية الألفية". وقد توفي الطيالسي سنة 204 هـ.
যে ব্যক্তি কুরআনের অর্ধেক গ্রহণ করল এবং তদনুসারে আমল করল, সে নবুওয়াতের অর্ধেক প্রাপ্ত হলো; আর যে পুরো কুরআন গ্রহণ করল, সে পূর্ণ নবুওয়াতই লাভ করল। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে মুহাম্মদ—যিনি ইবনে সা’দান—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফস থেকে, তিনি কাসীর ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি আসিম ইবনে দামরাহ থেকে, তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করল, তিলাওয়াত করল এবং তা মুখস্থ করল, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের এমন দশজন ব্যক্তির ব্যাপারে তার সুপারিশ কবুল করবেন যাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গিয়েছিল।" উম্মুদ দারদা বলেন: আমি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করে তাকে জিজ্ঞেস করলাম: জান্নাতে প্রবেশকারীদের মধ্যে যারা কুরআন পাঠ করেছে, যারা পাঠ করেনি তাদের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব কী? আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: কুরআনের আয়াতের সংখ্যা জান্নাতের স্তরের সংখ্যার সমান; সুতরাং জান্নাতে প্রবেশকারীদের মধ্যে কুরআন পাঠকারীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই। আবু মুহাম্মদ মক্কী এটি উল্লেখ করেছেন। ইবনে আব্বাস বলেন: যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করল এবং এতে যা আছে তা অনুসরণ করল, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েত দেবেন এবং কিয়ামতের দিন কঠিন হিসাব থেকে রক্ষা করবেন। আর এটি এজন্য যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলা বলেন: "অতঃপর যে আমার প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না" (১)। ইবনে আব্বাস বলেন: আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য জিম্মাদার হয়েছেন যে কুরআন অনুসরণ করবে, যাতে সে দুনিয়াতে পথভ্রষ্ট না হয় এবং আখিরাতে দুর্ভাগা না হয়; মক্কী এটিও উল্লেখ করেছেন। লাইস বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, কুরআন শ্রবণকারীর প্রতি রহমত যত দ্রুত আসে, অন্য কারো প্রতি তত দ্রুত আসে না। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং নিশ্চুপ থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষিত হয়" (২)। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে "লাআল্লা" (যাতে) শব্দটি অবধারিত বিষয় (ওয়াজিব) বোঝায়। আবু দাউদ আত-তায়ালিসির মুসনাদে—যা ইসলামে সংকলিত প্রথম মুসনাদ (৩)—আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি দশটি আয়াত নিয়ে (নামাজে) দাঁড়াল, তাকে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না; যে একশত আয়াত নিয়ে দাঁড়াল, তাকে অনুগতদের (কানেতীন) অন্তর্ভুক্ত করা হবে; আর যে এক হাজার আয়াত নিয়ে দাঁড়াল, তাকে বিপুল সওয়াবের অধিকারী (মুকানতিরীন) হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হবে।" এই অধ্যায়ের মর্মার্থ সংবলিত বর্ণনা অনেক, আর আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট। আল্লাহই সঠিক পথের তাওফীকদাতা।
(১). সূরা ত্বহা, আয়াত ১২৩।

(২). সূরা আল-আরাফ, আয়াত ২০৪।

(৩). তাঁর উক্তি: "এটিই প্রথম মুসনাদ" ইত্যাদি। ‘কাশফুয যুনুন’ গ্রন্থকার বলেন: "যিনি এই কথা বলেছেন তাকে এমনটি বলতে প্ররোচিত করেছে মুসনাদ সংকলকদের যুগের তুলনায় তাঁর যুগের প্রাচীনত্ব, এবং তিনি মনে করেছেন যে এটি তাঁর (আবু দাউদের) নিজস্ব সংকলন; অথচ বিষয়টি তেমন নয়। কারণ এটি আবু দাউদের সংকলন নয়, বরং খুরাসানের জনৈক হাফিয ইউসুফ ইবনে হাবীবের বর্ণিত আবু দাউদের বর্ণনাগুলো এতে সংগ্রহ করেছেন। আবু দাউদের এমন অনেক হাদীস রয়েছে যা এই মুসনাদে স্থান পায়নি, বরং তার সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি হাদীস বাইরে রয়ে গেছে, যেমনটি আল্লামা বিকায়ি 'আলফিয়্যাহ'-এর টীকায় উল্লেখ করেছেন।" তায়ালিসি ২০৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٠)
باب كيفية التلاوة لكتاب الله تعالى، وما يكره منها وما يحرم، واختلاف الناس في ذلك

روى البخاري عن قتادة قال: سألت رسول الله صلى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: كَانَ يَمُدُّ مَدًّا [إِذَا] قَرَأَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، يَمُدُّ بِسْمِ اللَّهِ، وَيَمُدُّ بِالرَّحْمَنِ، وَيَمُدُّ بِالرَّحِيمِ. وَرَوَى التِّرْمِذِيُّ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَطِّعُ قِرَاءَتَهُ يَقُولُ:" الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعالَمِينَ" ثُمَّ يَقِفُ" الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ" ثم يقف، وكان يقرؤها" ملك يوم الدين". قَالَ: حَدِيثٌ غَرِيبٌ. وَأَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ بِنَحْوِهِ. وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ:" أَحْسَنُ النَّاسِ صَوْتًا مَنْ إِذَا قَرَأَ رَأَيْتَهُ «1» يَخْشَى اللَّهَ تَعَالَى". وَرُوِيَ عَنْ زِيَادٍ النُّمَيْرِيِّ أَنَّهُ جَاءَ مَعَ الْقُرَّاءِ إِلَى أنس بن مالك فقيل له: اقرأ. فرقع صَوْتَهُ وَطَرَّبَ، وَكَانَ رَفِيعَ الصَّوْتِ، فَكَشَفَ أَنَسٌ عَنْ وَجْهِهِ، وَكَانَ عَلَى وَجْهِهِ خِرْقَةٌ سَوْدَاءُ فَقَالَ: يَا هَذَا، مَا هَكَذَا كَانُوا يَفْعَلُونَ! وَكَانَ إِذَا رَأَى شَيْئًا يُنْكِرُهُ كَشَفَ الْخِرْقَةَ عن وجهه. وروى عن قيس بن عبادة أَنَّهُ قَالَ: كَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَكْرَهُونَ رَفْعَ الصَّوْتِ عِنْدَ الذِّكْرِ. وَمِمَّنْ رُوِىَ عَنْهُ كَرَاهَةُ رَفْعِ الصَّوْتِ عند قراءة القرآن سعيد ين الْمُسَيَّبِ وَسَعِيد بْنُ جُبَيْرٍ وَالْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ وَالْحَسَنُ وَابْنُ سِيرِينَ وَالنَّخَعِيِّ وَغَيْرُهُمْ، وَكَرِهَهُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَأَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، كُلُّهُمْ كَرِهَ رَفْعَ الصَّوْتِ. بِالْقُرْآنِ وَالتَّطْرِيبَ فِيهِ. رُوِيَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ يَؤُمُّ النَّاسَ فَطَرَّبَ فِي قِرَاءَتِهِ، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ سَعِيدٌ يَقُولُ: أَصْلَحَكَ اللَّهُ! إِنَّ الْأَئِمَّةَ لَا تَقْرَأُ هَكَذَا. فَتَرَكَ عُمَرُ التَّطْرِيبَ بَعْدُ. وَرُوِيَ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ: أَنَّ رَجُلًا قَرَأَ فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَطَرَّبَ، فَأَنْكَرَ ذَلِكَ الْقَاسِمُ وَقَالَ يَقُولُ اللَّهُ عز وجل:" وَإِنَّهُ لَكِتابٌ عَزِيزٌ. لَا يَأْتِيهِ الْباطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ «2» " الْآيَةَ. وَرُوِيَ عَنْ مَالِكٍ أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ النَّبْرِ فِي قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ فِي الصَّلَاةِ، فَأَنْكَرَ وَكَرِهَهُ كَرَاهَةً شَدِيدَةً، وَأَنْكَرَ رَفْعَ الصَّوْتِ بِهِ. وَرَوَى ابْنُ الْقَاسِمِ عَنْهُ أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ الألحان في الصلاة
(1). رأي هنا بمعنى علم، وفي بعض النسخ:" رأيته" بالبناء للمجهول، ومعناه الظن.

(2). آية 41، 42 سورة فصلت
আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াতের পদ্ধতি, এর মধ্যে যা অপছন্দনীয় ও যা নিষিদ্ধ এবং এ বিষয়ে মানুষের মতভেদ সংক্রান্ত অধ্যায়।

ইমাম বুখারি কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর (তিলাওয়াত) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: তিনি দীর্ঘ করে পড়তেন; যখন তিনি 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' পাঠ করতেন, তখন তিনি 'বিসমিল্লাহ' শব্দটিকে দীর্ঘ করতেন, 'আর-রহমান' শব্দটিকে দীর্ঘ করতেন এবং 'আর-রহিম' শব্দটিকে দীর্ঘ করতেন। ইমাম তিরমিজি উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর তিলাওয়াতকে বিরতি দিয়ে দিয়ে পড়তেন; তিনি বলতেন: "সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য", অতপর থামতেন, "পরম করুণাময়, অতি দয়ালু" অতপর থামতেন এবং তিনি "বিচার দিবসের মালিক" পড়তেন। তিনি (তিরমিজি) বলেন: এটি একটি 'গরিব' হাদিস। ইমাম আবু দাউদও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। নবি (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম কণ্ঠস্বর সেই ব্যক্তির, যখন তুমি তাকে তিলাওয়াত করতে দেখবে (১) তখন মনে করবে যে সে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করছে।" জিয়াদ আন-নুমাইরি থেকে বর্ণিত যে, তিনি কারিদের একটি দলের সাথে আনাস বিন মালিক (রা.)-এর কাছে আসলেন। তাকে পড়তে বলা হলো। তিনি উচ্চস্বরে সুরেলা কণ্ঠে তিলাওয়াত করলেন; তাঁর কণ্ঠস্বর বেশ উঁচু ছিল। তখন আনাস (রা.) তাঁর মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরালেন—তাঁর মুখে একটি কালো কাপড় ছিল—এবং বললেন: "হে লোক! তারা (সাহাবীগণ) এমনটি করতেন না!" আর যখনই তিনি অপছন্দনীয় কিছু দেখতেন, তখন মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে ফেলতেন। কাইস ইবনে উবাদাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীগণ জিকিরের সময় উচ্চৈঃস্বর করা অপছন্দ করতেন। যাঁদের থেকে কুরআন তিলাওয়াতের সময় উচ্চৈঃস্বর করা অপছন্দনীয় হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, কাসিম ইবনে মুহাম্মদ, হাসান, ইবনে সিরিন, নাখয়ি এবং অন্যান্যগণ। ইমাম মালিক ইবনে আনাস এবং আহমদ ইবনে হাম্বলও এটি অপছন্দ করেছেন। তাঁরা সবাই কুরআনের ক্ষেত্রে উচ্চৈঃস্বর করা এবং কৃত্রিম সুর প্রয়োগ করা অপছন্দ করেছেন। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণিত যে, তিনি উমর ইবনে আবদুল আজিজকে মানুষের ইমামতি করতে শুনলেন। তিনি তিলাওয়াতের সময় সুর লহরি তুলছিলেন। তখন সাঈদ তাঁর কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, "আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করুন! ইমামগণ এভাবে তিলাওয়াত করেন না।" এর পর থেকে উমর (ইবনে আবদুল আজিজ) তিলাওয়াতের সেই কৃত্রিম সুর ত্যাগ করেন। কাসিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি নবি (সা.)-এর মসজিদে কৃত্রিম সুরে তিলাওয়াত করছিলেন, কাসিম তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন: আল্লাহ তায়ালা বলেন: "নিশ্চয় এটি এক সম্মানিত কিতাব। এতে মিথ্যা আসতে পারে না এর সামনে থেকেও না এবং পেছন থেকেও না (২)" - আয়াতটির শেষ পর্যন্ত। ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে সালাতে কুরআন তিলাওয়াতের সময় ঝংকার (নাবর) দেওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং কঠোরভাবে অপছন্দ করেছেন। এছাড়া তিনি উচ্চৈঃস্বরে তিলাওয়াতও প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইবনুল কাসিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে সালাতে সুমধুর সুর প্রয়োগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল...
(১). এখানে 'দেখা' অর্থ জানা বা উপলব্ধি করা। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে এটি কর্মবাচ্যের শব্দে এসেছে, যার অর্থ 'তাকে দেখা যায়', অর্থাৎ তার মধ্যে ভীতি পরিলক্ষিত হয়।

(২). সুরা ফুসসিলাত, আয়াত ৪১, ৪২
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١١)
فَقَالَ: لَا يُعْجِبُنِي، وَقَالَ: إِنَّمَا هُوَ غِنَاءٌ يَتَغَنَّوْنَ بِهِ لِيَأْخُذُوا عَلَيْهِ الدَّرَاهِمَ. وَأَجَازَتْ طَائِفَةٌ رَفْعَ الصَّوْتِ بِالْقُرْآنِ وَالتَّطْرِيبَ بِهِ، وَذَلِكَ لِأَنَّهُ إِذَا حَسُنَ الصَّوْتُ بِهِ كَانَ أَوْقَعَ فِي النُّفُوسِ وَأَسْمَعَ فِي الْقُلُوبِ، وَاحْتَجُّوا بِقَوْلِهِ عليه السلام:" زَيَّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ" رَوَاهُ الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ. وَبِقَوْلِهِ عَلَيْهِ السالم:" لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ" أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ. وَبِقَوْلِ أَبِي مُوسَى لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: لَوْ أَعْلَمُ أَنَّكَ تَسْتَمِعُ لِقِرَاءَتِي لَحَبَّرْتُهُ لَكَ تَحْبِيرًا. وَبِمَا رَوَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُغَفَّلٍ قَالَ: قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفَتْحِ فِي مَسِيرٍ لَهُ سُورَةَ" الْفَتْحِ" عَلَى رَاحِلَتِهِ فَرَجَّعَ فِي قِرَاءَتِهِ. وَمِمَّنْ ذَهَبَ إِلَى هَذَا أَبُو حَنِيفَةَ وأصحابه والشافعي وابن المبارك والنظر بْنُ شُمَيْلٍ، وَهُوَ اخْتِيَارُ أَبِي جَعْفَرٍ الطَّبَرِيِّ وَأَبِي الْحَسَنِ بْنِ بَطَّالٍ وَالْقَاضِي أَبِي بَكْرِ بْنِ الْعَرَبِيِّ وَغَيْرِهِمْ. قُلْتُ: الْقَوْلُ الْأَوَّلُ أَصَحُّ لِمَا ذَكَرْنَاهُ وَيَأْتِي. وَأَمَّا مَا احْتَجُّوا بِهِ مِنَ الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ فَلَيْسَ عَلَى ظَاهِرِهِ وَإِنَّمَا هُوَ مِنْ بَابِ الْمَقْلُوبِ، أَيْ زَيِّنُوا أَصْوَاتَكُمْ بِالْقُرْآنِ. قَالَ الْخَطَّابِيُّ: وَكَذَا فَسَّرَهُ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ: زَيِّنُوا أَصْوَاتَكُمْ بِالْقُرْآنِ، وَقَالُوا هُوَ مِنْ بَابِ الْمَقْلُوبِ، كَمَا قَالُوا: عَرَضْتُ الْحَوْضَ عَلَى النَّاقَةِ، وَإِنَّمَا هُوَ عَرَضْتُ النَّاقَةَ عَلَى الْحَوْضِ. قَالَ: وَرَوَاهُ مَعْمَرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ طَلْحَةَ، فَقَدَّمَ الْأَصْوَاتَ عَلَى الْقُرْآنِ، وَهُوَ صحيح. قَالَ الْخَطَّابِيُّ: وَرَوَاهُ طَلْحَةُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْسَجَةَ عَنِ الْبَرَاءِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:" زَيَّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ" أَيِ الْهَجُوا بِقِرَاءَتِهِ وَاشْغَلُوا بِهِ أَصْوَاتَكُمْ. اتخذوه شِعَارًا وَزِينَةً، وَقِيلَ: مَعْنَاهُ الْحَضُّ عَلَى قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ وَالدُّءُوبُ عَلَيْهِ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:" زَيِّنُوا أَصْوَاتَكُمْ بِالْقُرْآنِ". وَرُوِيَ عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ:" حَسِّنُوا أَصْوَاتَكُمْ بِالْقُرْآنِ". قُلْتُ: وَإِلَى هَذَا الْمَعْنَى يرجع قوله عيلة السلام:" وليس مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ" أَيْ لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يُحَسِّنْ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ، كَذَلِكَ تَأَوَّلَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِيِ مُلَيْكَةَ. قَالَ عبد الجبار ابن الْوَرْدِ: سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي مُلَيْكَةَ يَقُولُ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ: مَرَّ بِنَا أَبُو لُبَابَةَ فَاتَّبَعْنَاهُ
তিনি বললেন: "এটি আমার নিকট পছন্দনীয় নয়।" তিনি আরও বললেন: "এটি তো কেবল একটি সুর বা গান যা তারা গেয়ে থাকে যাতে তারা এর বিনিময়ে দিরহাম (অর্থ) গ্রহণ করতে পারে।" অন্যদিকে একদল আলেম কুরআনের ক্ষেত্রে উচ্চৈঃস্বর এবং সুর (তাতরীব) করাকে বৈধতা দিয়েছেন; কারণ যখন এর মাধ্যমে কণ্ঠস্বর সুন্দর করা হয়, তখন তা হৃদয়ে অধিক প্রভাব ফেলে এবং অন্তরে অধিক শ্রুতিমধুর হয়। তারা নবী (সা.)-এর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: "তোমরা তোমাদের কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে কুরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো।" এটি বারা ইবনে আযেব বর্ণনা করেছেন এবং আবু দাউদ ও নাসায়ি হাদিসটি সংকলন করেছেন। তারা নবী (সা.)-এর অপর একটি বাণীর মাধ্যমেও দলিল দিয়েছেন: "যে ব্যক্তি সুর করে কুরআন পাঠ করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" এটি মুসলিম সংকলন করেছেন। এছাড়াও তারা আবু মুসা (রা.)-এর সেই উক্তি দ্বারা দলিল দিয়েছেন যা তিনি নবী (সা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: "যদি আমি জানতাম যে আপনি আমার তিলাওয়াত শুনছেন, তবে আমি আপনার জন্য একে অত্যন্ত সুন্দর ও সুমধুর করে পাঠ করতাম।" আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস থেকেও তারা প্রমাণ গ্রহণ করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কা বিজয়ের বছর এক সফরে তাঁর বাহনের পিঠে বসে সুরা 'আল-ফাতহ' তিলাওয়াত করছিলেন এবং তিনি তিলাওয়াতে সুরলহরী (তারজি‘) সৃষ্টি করেছিলেন।" যারা এই মতের অনুসারী হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীগণ, শাফেয়ি, ইবনুল মুবারক এবং নাজর ইবনে শুমাইল। এটি আবু জাফর তাবারী, আবুল হাসান ইবনে বাত্তাল, কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবি এবং অন্যদেরও মনোনীত মত। আমি (লেখক) বলছি: প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ, যার কারণ আমরা উল্লেখ করেছি এবং সামনেও আসবে। আর তারা প্রথম যে হাদিসটি দিয়ে দলিল দিয়েছেন, সেটি তার বাহ্যিক অর্থে নয়, বরং এটি ‘মাকলুব’ (শব্দ স্থানান্তরের) পর্যায়ভুক্ত; যার অর্থ হলো: "তোমরা কুরআনের মাধ্যমে তোমাদের কণ্ঠস্বরকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো।" খাত্তাবী বলেন: অনেক হাদিস বিশারদ এভাবেই এর ব্যাখ্যা করেছেন: "তোমরা কুরআনের মাধ্যমে তোমাদের কণ্ঠস্বরকে সুশোভিত করো।" তারা বলেছেন, এটি ‘মাকলুব’ বা স্থানান্তরের অন্তর্ভুক্ত, যেমন তারা বলে থাকেন: "আমি হাউজটিকে উটের সামনে পেশ করলাম," অথচ মূলত উটটিকে হাউজের নিকট উপস্থিত করা হয়। তিনি আরও বলেন: মা'মার এই হাদিসটি মানসুর থেকে, তিনি তালহা থেকে বর্ণনা করেছেন, যাতে তিনি কুরআন অপেক্ষা কণ্ঠস্বর শব্দটিকে আগে উল্লেখ করেছেন—আর এটিই সঠিক। খাত্তাবী বলেন: তালহা এই হাদিসটি আব্দুর রহমান ইবনে আউসাজাহ থেকে এবং তিনি বারা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে কুরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো।" এর অর্থ হলো এর তিলাওয়াতে মগ্ন হও এবং এতে তোমাদের কণ্ঠস্বরকে নিয়োজিত করো। একে তোমাদের বিশেষ চিহ্ন ও অলঙ্কার হিসেবে গ্রহণ করো। অন্য মতে বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো কুরআন তিলাওয়াতের প্রতি উৎসাহিত করা এবং এতে অভ্যস্ত হওয়া। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "তোমরা কুরআনের মাধ্যমে তোমাদের কণ্ঠস্বরকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো।" ওমর (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "কুরআনের মাধ্যমে তোমাদের কণ্ঠস্বরকে সুন্দর করো।" আমি (লেখক) বলছি: নবী (সা.)-এর এই বাণীর অর্থও একই প্রসঙ্গের দিকে ফিরে যায়: "যে ব্যক্তি সুর করে কুরআন পড়ে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়," অর্থাৎ যে ব্যক্তি কুরআনের মাধ্যমে নিজের কণ্ঠস্বরকে সুন্দর করে না; আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা এভাবেই এর অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন। আব্দুল জাব্বার ইবনুল ওয়ার্দ বলেন: আমি ইবনে আবি মুলাইকাকে বলতে শুনেছি, আব্দুল্লাহ ইবনে আবি ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন যে, আবু লুবাবা আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং আমরা তাঁর অনুসরণ করলাম।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٢)
حَتَّى دَخَلَ بَيْتَهُ، فَإِذَا رَجُلٌ رَثُّ الْهَيْئَةِ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ،" لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ". قَالَ فَقُلْتُ لِابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ: يَا أَبَا مُحَمَّدٍ، أَرَأَيْتَ إِذَا لَمْ يَكُنْ حَسَنَ الصَّوْتِ؟ قَالَ: يُحَسِّنُهُ مَا اسْتَطَاعَ. ذَكَرَهُ أَبُو دَاوُدَ، وَإِلَيْهِ يَرْجِعُ أَيْضًا قَوْلُ أَبِي مُوسَى لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: إِنِّي لَوْ عَلِمْتُ أَنَّكَ تَسْتَمِعُ لِقِرَاءَتِي لَحَسَّنْتُ صَوْتِيَّ بالقرآن، وزينته ورتلته. وهذا يدل [على] أَنَّهُ كَانَ يَهُذُّ «1» فِي قِرَاءَتِهِ مَعَ حُسْنِ الصَّوْتِ الَّذِي جُبِلَ عَلَيْهِ. وَالتَّحْبِيرُ: التَّزْيِينُ وَالتَّحْسِينُ، فَلَوْ عَلِمَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَسْمَعُهُ لَمَدَّ فِي قِرَاءَتِهِ وَرَتَّلَهَا، كَمَا كَانَ يَقْرَأُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَيَكُونُ ذَلِكَ زِيَادَةً فِي حُسْنِ صَوْتِهِ بِالْقِرَاءَةِ. وَمَعَاذَ اللَّهِ أَنْ يُتَأَوَّلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إن يَقُولَ: إِنَّ الْقُرْآنَ يُزَيَّنُ بِالْأَصْوَاتِ أَوْ بِغَيْرِهَا، فَمَنْ تَأَوَّلَ هَذَا فَقَدْ وَاقَعَ أَمْرًا عَظِيمًا أَنْ يُحْوِجَ الْقُرْآنَ إِلَى مَنْ يُزَيِّنُهُ، وَهُوَ النُّورُ وَالضِّيَاءُ وَالزَّيْنُ الْأَعْلَى لِمَنْ أُلْبِسَ بَهْجَتَهُ وَاسْتَنَارَ بِضِيَائِهِ. وَقَدْ قِيلَ: إِنَّ الْأَمْرَ بِالتَّزْيِينِ اكْتِسَابُ الْقِرَاءَاتِ وَتَزْيِينُهَا بِأَصْوَاتِنَا وَتَقْدِيرُ ذَلِكَ، أَيْ زينو الْقِرَاءَةَ بِأَصْوَاتِكُمْ، فَيَكُونُ الْقُرْآنُ بِمَعْنَى الْقِرَاءَةِ، كَمَا قال تعال" وَقُرْآنَ الْفَجْرِ «2» " أَيْ قِرَاءَةَ الْفَجْرِ، وَقَوْلِهِ:" فَإِذا قَرَأْناهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ

«3» " أَيْ قِرَاءَتَهُ. وَكَمَا جَاءَ فِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: إِنَّ فِي الْبَحْرِ شَيَاطِينَ مَسْجُونَةً أَوْثَقَهَا سُلَيْمَانُ عليه السلام، وَيُوشِكُ أَنْ تَخْرُجَ فَتَقْرَأَ عَلَى النَّاسِ قُرْآنًا، أَيْ قِرَاءَةً. وَقَالَ الشَّاعِرُ «4» فِي عُثْمَانَ رضي الله عنه:

ضَحَّوْا بِأَشْمَطَ «5» عُنْوَانُ السُّجُودِ بِهِ … يُقَطِّعُ اللَّيْلَ تَسْبِيحًا وَقُرْآنًا

أَيْ قِرَاءَةً فَيَكُونُ مَعْنَاهُ عَلَى هَذَا التَّأْوِيلِ صَحِيحًا إِلَّا أَنْ يُخْرِجَ الْقِرَاءَةَ الَّتِي هِيَ التِّلَاوَةُ عَنْ حَدِّهَا- عَلَى مَا نُبَيِّنُهُ- فَيُمْتَنَعُ. وَقَدْ قِيلَ: إِنَّ مَعْنَى يَتَغَنَّى بِهِ، يَسْتَغْنِي بِهِ مِنَ الِاسْتِغْنَاءِ الَّذِي هُوَ ضِدُّ الِافْتِقَارِ، لَا مِنَ الغناء، يقال: تغنيت وتغانيت بنعنى استغنيت. وفي الصحاح: تغنى
(1). الهذ والهذذ: سزعة القطع وسرعة القراءة.

(2). آية 78 سورة الإسراء.

(3). آية 18 سورة القيامة.

(4). هو حسان بن ثابت رضى الله عنه.

(5). الشمط بالتحريك: بياض شعر الرأس يخالطه سواده. وقيل: الشمط في الرجل شيب اللحية.
যতক্ষণ না তিনি নিজ গৃহে প্রবেশ করলেন, সেখানে জীর্ণশীর্ণ বেশভূষার এক ব্যক্তি ছিলেন। আমি তাকে বলতে শুনলাম: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "যে ব্যক্তি কুরআনের মাধ্যমে সুর দান (সুরেলা পাঠ) করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি ইবনে আবি মুলাইকাহকে বললাম: হে আবু মুহাম্মদ, আপনার অভিমত কী যদি কারো কণ্ঠ সুন্দর না হয়? তিনি বললেন: সে সাধ্যানুসারে তা সুন্দর করার চেষ্টা করবে। আবু দাউদ এটি উল্লেখ করেছেন। আবু মুসা (আল-আশআরী) রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা কথাটিও এরই অন্তর্ভুক্ত: "যদি আমি জানতাম যে আপনি আমার তিলাওয়াত শুনছেন, তবে আমি অবশ্যই কুরআনের মাধ্যমে আমার কণ্ঠকে অধিকতর সুন্দর করতাম, একে সুশোভিত করতাম এবং উত্তমরূপে তারতীলসহ পাঠ করতাম।" এটি প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁর সৃষ্টিগত সুন্দর কণ্ঠের সাথে দ্রুততার সাথেও তিলাওয়াত করতেন। 'তাহবীর' (التَّحْبِيرُ) অর্থ হলো সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সুশোভিত করা। সুতরাং যদি তিনি জানতেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনছেন, তবে তিনি তাঁর তিলাওয়াতকে দীর্ঘায়িত করতেন এবং তারতীল সহকারে পাঠ করতেন, যেমনটি তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে পাঠ করতেন। আর এটি তাঁর তিলাওয়াতের কণ্ঠমাধুর্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হতো। আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই এমন অপব্যাখ্যা থেকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কথা বলেছেন যার অর্থ দাঁড়ায়— কুরআন কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে বা অন্য কিছুর মাধ্যমে সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়। যে ব্যক্তি এমন ব্যাখ্যা করবে, সে এক ভয়াবহ বিষয়ে লিপ্ত হলো যে, কুরআনের মতো সত্তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করার জন্য কারো মুখাপেক্ষী হতে হয়! অথচ কুরআন স্বয়ং এক নূর, জ্যোতি এবং সেই সর্বোচ্চ সৌন্দর্য যা দ্বারা ভূষিত ব্যক্তি মহিমান্বিত হয় এবং যার আলোতে সে আলোকিত হয়। এও বলা হয়েছে যে, সৌন্দর্যমণ্ডিত করার নির্দেশ মূলত তিলাওয়াতের দক্ষতা অর্জন করা এবং আমাদের কণ্ঠের মাধ্যমে একে সুশোভিত করা এবং সেটির পরিমাপ ঠিক রাখা। অর্থাৎ: তোমাদের কণ্ঠের মাধ্যমে তিলাওয়াতকে সুন্দর করো। এখানে 'কুরআন' শব্দটি 'তিলাওয়াত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং ফজরের কুরআন", অর্থাৎ ফজরের তিলাওয়াত। এবং তাঁর বাণী: "যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন", অর্থাৎ সেই তিলাওয়াতের। যেমনটি সহীহ মুসলিমে আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "সমুদ্রে কিছু কারারুদ্ধ শয়তান রয়েছে যাদের সুলাইমান আলাইহিস সালাম বন্দি করে রেখেছেন; শীঘ্রই তারা বেরিয়ে আসবে এবং মানুষের সামনে কুরআন অর্থাৎ তিলাওয়াত পাঠ করবে।" কবি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে বলেছেন:

তারা এমন এক শুভ্রকেশ ব্যক্তিকে কোরবানি করেছে যার কপালে সিজদার চিহ্ন বর্তমান ছিল … যে সারা রাত অতিবাহিত করত তাসবীহ ও কুরআনের মাধ্যমে

অর্থাৎ তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী এর অর্থ সঠিক হবে, যদি না তিলাওয়াতকে তার নির্দিষ্ট সীমা থেকে বের করে দেওয়া হয়—যেমনটি আমরা পরে বর্ণনা করব—সেক্ষেত্রে তা নিষিদ্ধ হবে। আরও বলা হয়েছে যে, 'ইয়াতাগান্না বিহি' অর্থ হলো—এর মাধ্যমে অভাবমুক্ত হওয়া বা তুষ্ট হওয়া, যা অভাবী হওয়ার বিপরীত; এটি গান গাওয়ার অর্থ থেকে উদ্ভূত নয়। বলা হয়: আমি অভাবমুক্ত হয়েছি বা তুষ্ট হয়েছি। 'সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'তাগান্না'
(১) আল-হাযয এবং আল-হাযায: দ্রুত কর্তন করা এবং দ্রুত তিলাওয়াত করা।

(২) সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৭৮।

(৩) সূরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত ১৮।

(৪) তিনি হলেন হাসসান ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু।

(৫) আশ-শামাত: মাথার চুলের শুভ্রতা যা কালো চুলের সাথে মিশ্রিত থাকে। কারো মতে, পুরুষের দাড়ির শুভ্রতা।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٣)
الرَّجُلُ بِمَعْنَى اسْتَغْنَى، وَأَغْنَاهُ اللَّهُ. وَتَغَانَوْا أَيِ اسْتَغْنَى بَعْضُهُمْ عَنْ بَعْضٍ. قَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ حبناء التميمي:

كِلَانَا غَنِيٌّ عَنْ أَخِيهِ حَيَاتَهُ … وَنَحْنُ إِذَا مُتْنَا أَشَدُّ تَغَانِيَا

وَإِلَى هَذَا التَّأْوِيلِ ذَهَبَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَوَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، وَرَوَاهُ سُفْيَانُ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ سُفْيَانَ أَيْضًا وَجْهٌ آخَرُ ذَكَرَهُ إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ، أَيْ يُسْتَغْنَى بِهِ عَمَّا سِوَاهُ مِنَ الْأَحَادِيثِ. وَإِلَى هَذَا التَّأْوِيلِ ذَهَبَ الْبُخَارِيُّ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ لِإِتْبَاعِهِ التَّرْجَمَةَ بِقَوْلِهِ تَعَالَى" أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنْزَلْنا عَلَيْكَ الْكِتابَ يُتْلى عَلَيْهِمْ «1» ". والمراد الاسستغناء بِالْقُرْآنِ عَنْ عِلْمِ أَخْبَارِ الْأُمَمِ، قَالَهُ أَهْلُ التَّأْوِيلِ. وَقِيلَ: إِنَّ مَعْنَى يَتَغَنَّى بِهِ، يَتَحَزَّنُ بِهِ، أَيْ يَظْهَرُ عَلَى قَارِئِهِ الْحُزْنُ الَّذِي هُوَ ضِدُّ السُّرُورِ عِنْدَ قِرَاءَتِهِ وَتِلَاوَتِهِ، وَلَيْسَ مِنَ الْغَنِيَّةِ، لِأَنَّهُ لَوْ كَانَ مِنَ الْغَنِيَّةِ لَقَالَ: يَتَغَانَى بِهِ، وَلَمْ يَقُلْ يَتَغَنَّى بِهِ ذَهَبَ إِلَى هَذَا جَمَاعَةٌ مِنَ الْعُلَمَاءِ: مِنْهُمُ الإمام أبو محمد ابن حِبَّانَ الْبُسْتِيُّ، وَاحْتَجُّوا بِمَا رَوَاهُ مُطَرِّفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَلِصَدْرِهِ أَزِيزٌ كَأَزِيزِ الْمِرْجَلِ مِنَ الْبُكَاءِ. الْأَزِيزُ (بِزَايَيْنِ): صَوْتُ الرَّعْدِ وَغَلَيَانِ الْقِدْرِ. قَالُوا: فَفِي هَذَا الْخَبَرِ بَيَانٌ وَاضِحٌ عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ بِالْحَدِيثِ التَّحَزُّنُ، وَعَضَّدُوا هَذَا أَيْضًا بِمَا رَوَاهُ الْأَئِمَّةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم:" اقْرَأْ عَلِيَّ" فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ سُورَةَ" النِّسَاءِ" حَتَّى إِذَا بَلَغْتُ" فَكَيْفَ إِذا جِئْنا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنا بِكَ عَلى هؤُلاءِ شَهِيداً" «2» فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ فَإِذَا عَيْنَاهُ تَدْمَعَانِ. فَهَذِهِ أَرْبَعُ تَأْوِيلَاتٍ، لَيْسَ فِيهَا مَا يَدُلُّ عَلَى الْقِرَاءَةِ بِالْأَلْحَانِ وَالتَّرْجِيعِ فِيهَا. وَقَالَ أَبُو سَعِيدِ بْنُ الْأَعْرَابِيِّ فِي قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم:" لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ" قَالَ: كَانَتِ الْعَرَبُ تُولَعُ بِالْغِنَاءِ وَالنَّشِيدِ فِي أَكْثَرِ أَقْوَالِهَا، فَلَمَّا نَزَلَ الْقُرْآنُ أَحَبُّوا أَنْ يَكُونَ الْقُرْآنُ هِجِّيرَاهُمْ «3» مَكَانَ الْغِنَاءِ، فَقَالَ:" لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ". التَّأْوِيلُ الْخَامِسُ- مَا تَأَوَّلَهُ مَنِ اسْتَدَلَّ بِهِ عَلَى التَّرْجِيعِ وَالتَّطْرِيبِ، فَذَكَرَ عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ قَالَ: ذَكَرْتُ لِأَبِي عاصم النبيل تأول ابْنِ عُيَيْنَةَ فِي قَوْلِهِ:" يَتَغَنَّ" يَسْتَغْنِى، فَقَالَ:
(1). آية 51 سورة العنكبوت.

(2). آية 41 سورة النساء. [ ..... ]

(3). هجيراهم: دأبهم وعادتهم.
ব্যক্তিটি অভাবমুক্ত হয়েছে অর্থে (এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়), এবং আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত করেছেন। আর 'তাগানাও' অর্থ হলো তারা একে অপরের থেকে অমুখাপেক্ষী হয়েছে। মুগিরা বিন হাবনা আত-তামিমি বলেছেন:

আমরা উভয়েই জীবনভর আমাদের ভাইয়ের থেকে অমুখাপেক্ষী … আর মৃত্যুর পর আমরা আরও বেশি অমুখাপেক্ষী হয়ে পড়ি

সুফিয়ান বিন উইয়াইনা এবং ওয়াকি বিন আল-জাররাহ এই ব্যাখ্যার দিকে গিয়েছেন এবং সুফিয়ান এটি সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান থেকে অন্য একটি অভিমতও বর্ণিত হয়েছে যা ইসহাক বিন রাহাওয়াই উল্লেখ করেছেন; অর্থাৎ এর দ্বারা অন্যান্য হাদিস থেকে বিমুখ হয়ে আল-কুরআনের মাধ্যমে অমুখাপেক্ষিতা অর্জন করা উদ্দেশ্য। মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি এই ব্যাখ্যার দিকেই গিয়েছেন, কারণ তিনি অনুচ্ছেদে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অনুসরণ করেছেন: "তাদের জন্য কি এটি যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা তাদের নিকট পাঠ করা হয় «১»"। আর এর অর্থ হলো পূর্ববর্তী জাতিসমূহের সংবাদের জ্ঞান থেকে আল-কুরআনের মাধ্যমে অমুখাপেক্ষিতা অর্জন করা; এটি ব্যাখ্যাকারগণ বলেছেন। কেউ কেউ বলেন: 'ইয়াতাগান্না বিহি' এর অর্থ হলো এর মাধ্যমে বিষাদগ্রস্ত হওয়া। অর্থাৎ এটি পাঠ ও তিলাওয়াতের সময় পাঠকের মাঝে বিষাদ বা হাহাকার প্রকাশ পাবে যা আনন্দের বিপরীত। এটি 'গানীয়াহ' (স্বয়ংসম্পূর্ণতা) থেকে নির্গত নয়; কারণ এটি যদি সেখান থেকে হতো তবে 'ইয়াতাগানা' বলা হতো, 'ইয়াতাগান্না' নয়। একদল আলেম এই মত গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে ইমাম আবু মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি অন্যতম। তারা মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ বিন আশ-শিলখির তাঁর পিতা থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাত আদায় করতে দেখেছি, এমতাবস্থায় তাঁর বক্ষদেশ থেকে কান্নার কারণে হাঁড়ির টগবগ শব্দের মতো আওয়াজ আসছিল। 'আজিজ' (দুইটি 'ঝা' সহ) অর্থ হলো বজ্রের শব্দ বা পাত্রের টগবগ করার আওয়াজ। তাঁরা বলেন: এই বর্ণনায় স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, হাদিসের উদ্দেশ্য হলো বিষাদগ্রস্ত হওয়া। তাঁরা তাঁদের এই মতের সমর্থনে আইম্মাহ কেরাম কর্তৃক আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত হাদিসটিও পেশ করেন, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার সামনে তিলাওয়াত করো।" তখন আমি তাঁর সামনে সূরা "আন-নিসা" পাঠ করলাম, এমনকি যখন আমি এই আয়াতে পৌঁছলাম— "তখন কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব «২»"— তখন আমি তাঁর দিকে তাকালাম এবং দেখলাম তাঁর চোখ দুটি অশ্রুসজল। সুতরাং এই চারটি ব্যাখ্যা হলো এমন যাতে সুর বা লহর তুলে তিলাওয়াত করার কোনো প্রমাণ নেই। আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি আল-কুরআনের মাধ্যমে সুর (বা অমুখাপেক্ষিতা) অবলম্বন করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়" সম্পর্কে বলেন: আরবরা তাদের অধিকাংশ কথায় গান ও কবিতা আবৃত্তিতে আসক্ত ছিল; অতঃপর যখন কুরআন অবতীর্ণ হলো, তারা গানের পরিবর্তে কুরআনকেই তাদের চিরচেনা অভ্যাসে পরিণত করা পছন্দ করল। তাই তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি কুরআনের মাধ্যমে অভাবমুক্ত হয় না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" পঞ্চম ব্যাখ্যা—যারা একে কণ্ঠস্বর প্রকম্পিত করা ও সুরেলা করে পড়ার দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন তাদের ব্যাখ্যা। উমর বিন শাব্বাহ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবু আসিম আন-নাবিলের নিকট ইবনে উইয়াইনার ব্যাখ্যা (অর্থাৎ অভাবমুক্ত হওয়া) উল্লেখ করলে তিনি বলেন:
(১). সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত ৫১।

(২). সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪১। [ ..... ]

(৩). হাজিরাহুম: তাদের অভ্যাস ও চিরচেনা রীতি।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٤)
لم يضع ابن عيينة شيئا. وسيل الشَّافِعِيُّ عَنْ تَأْوِيلِ ابْنِ عُيَيْنَةَ فَقَالَ: نَحْنُ أعلم بهذا، ولو أَرَادَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الِاسْتِغْنَاءَ لقال: من لم يستغن، ولكن قَالَ" يَتَغَنَّ" عَلِمْنَا أَنَّهُ أَرَادَ التَّغَنِّي. قَالَ الطَّبَرَيُّ: الْمَعْرُوفُ عِنْدَنَا فِي كَلَامِ الْعَرَبِ أَنَّ التَّغَنِّي إِنَّمَا هُوَ الْغِنَاءُ الَّذِي هُوَ حُسْنُ الصَّوْتِ بِالتَّرْجِيعِ. وَقَالَ الشَّاعِرُ:

تَغَنَّ بِالشِّعْرِ مَهْمَا كُنْتَ قَائِلَهُ … إِنَّ الْغِنَاءَ بِهَذَا الشِّعْرِ مِضْمَارُ

قَالَ: وَأَمَّا ادِّعَاءُ الزَّاعِمِ أَنَّ تَغَنَّيْتُ بِمَعْنَى اسْتَغْنَيْتُ فَلَيْسَ فِي كَلَامِ الْعَرَبِ وَأَشْعَارِهَا، وَلَا نعلم أحد مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالَهُ، وَأَمَّا احْتِجَاجُهُ بِقَوْلِ الأعشى:

وكنت امرأ زَمِنًا بِالْعِرَاقِ … عَفِيفَ الْمُنَاخِ طَوِيلَ التَّغَنْ

وَزَعْمَ أَنَّهُ أَرَادَ الِاسْتِغْنَاءَ فَإِنَّهُ غَلَطٌ مِنْهُ، وَإِنَّمَا عَنَى الْأَعْشَى فِي هَذَا الْمَوْضِعِ الْإِقَامَةَ، مِنْ قَوْلِ الْعَرَبِ: غَنِيَ فَلَانٌ بِمَكَانِ كَذَا أَيْ أَقَامَ، وَمِنْهُ قَوْلُهُ تَعَالَى:" كَأَنْ لَمْ يَغْنَوْا فِيهَا «1» " وَأَمَّا اسْتِشْهَادُهُ بِقَوْلِهِ:

وَنَحْنُ إِذَا مُتْنَا أَشَدُّ تَغَانِيَا

 

فَإِنَّهُ إِغْفَالٌ مِنْهُ، وَذَلِكَ أَنَّ التَّغَانِيَ تَفَاعُلٌ مِنْ نَفْسَيْنِ إِذَا اسْتَغْنَى كُلٌّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَنْ صَاحِبِهِ، كَمَا يُقَالُ: تَضَارَبَ الرَّجُلَانِ، إِذَا ضَرَبَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا صَاحِبَهُ. وَمَنْ قَالَ هَذَا فِي فِعْلِ الِاثْنَيْنِ لَمْ يَجُزْ أَنْ يَقُولَ مَثْلَهُ فِي الْوَاحِدِ، فَغَيْرُ جَائِزٍ أَنْ يُقَالَ: تَغَانَى زَيْدٌ وَتَضَارَبَ عَمْرٌو، وَكَذَلِكَ غَيْرُ جَائِزٍ أَنْ يُقَالَ: تَغَنَّى بِمَعْنَى اسْتَغْنَى. قُلْتُ: مَا ادَّعَاهُ الطَّبَرَيُّ مِنْ أَنَّهُ لَمْ يَرِدْ فِي كَلَامِ الْعَرَبِ تَغَنَّى بِمَعْنَى اسْتَغْنَى، فَقَدْ ذَكَرَهُ الْجَوْهَرِيُّ كَمَا ذَكَرْنَا، وَذَكَرَهُ الْهَرَوِيُّ أَيْضًا. وَأَمَّا قَوْلُهُ: أَنَّ صِيغَةَ فَاعَلَ إِنَّمَا تَكُونُ مِنَ اثْنَيْنِ فَقَدْ جَاءَتْ مِنْ وَاحِدٍ في ما ضيع كَثِيرَةٍ، مِنْهَا قَوْلُ ابْنِ عُمَرَ: وَأَنَا يَوْمَئِذٍ قَدْ نَاهَزْتُ الِاحْتِلَامَ. وَتَقُولُ الْعَرَبُ: طَارَقْتُ النَّعْلَ وَعَاقَبْتُ اللِّصَّ وَدَاوَيْتُ الْعَلِيلَ، وَهُوَ كَثِيرٌ، فَيَكُونُ تَغَانَى مِنْهَا. وَإِذَا احْتَمَلَ قَوْلُهُ عليه الصلاة والسلام:" يَتَغَنَّ" الْغِنَاءَ وَالِاسْتِغْنَاءَ فَلَيْسَ حَمْلُهُ عَلَى أَحَدِهِمَا بِأُولَى مِنَ الْآخَرِ، بَلْ حَمْلُهُ عَلَى الِاسْتِغْنَاءِ أَوْلَى لَوْ لَمْ يَكُنْ لَنَا تَأْوِيلٌ غيره، لأنه مروي عن
(1). آية 92 سورة الأعراف.
ইবনে উয়াইনা ভুল কিছু করেননি। ইমাম শাফিঈকে ইবনে উয়াইনার ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এ বিষয়ে আমরা অধিক অবগত। যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দ্বারা অভাবমুক্ত হওয়া বা অমুখাপেক্ষী হওয়া বুঝাতে চাইতেন, তবে তিনি ‘মান লাম ইয়াস্তাগনি’ বলতেন। কিন্তু তিনি যখন ‘ইয়াতাগান্না’ বলেছেন, তখন আমরা বুঝতে পারি যে তিনি সুললিত কণ্ঠে তিলাওয়াত করাকেই বুঝিয়েছেন। তাবারী বলেন: আমাদের নিকট আরবদের ভাষায় ‘তাগান্নী’ হিসেবে যা পরিচিত তা হলো ‘গিনা’ বা সুর করে পড়া, যা হচ্ছে ধ্বনি পরিবর্তনের মাধ্যমে কণ্ঠস্বরকে সুন্দর করা। জনৈক কবি বলেছেন:

কবিতাটি সুললিত কণ্ঠে পাঠ করো যখনই তুমি তা বলবে … নিশ্চয় এই কবিতা সুর করে পাঠ করা হলো অনুশীলনের ক্ষেত্রের মতো

তিনি বলেন: আর দাবিদার যে দাবি করে যে ‘তাগান্নাইতু’ এর অর্থ ‘ইস্তাগনাইতু’ (আমি অভাবমুক্ত হয়েছি), তা আরবদের ভাষা বা কবিতায় পাওয়া যায় না। কোনো আলিমও এমনটি বলেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আর আল-আ’শার পঙ্ক্তি দ্বারা তার দলিল পেশ করার বিষয়টি:

আমি ইরাকে দীর্ঘকাল অবস্থানকারী এক ব্যক্তি ছিলাম … পবিত্র আবাসস্থল এবং দীর্ঘ অবস্থানের অধিকারী

তার এই ধারণা যে কবি এখানে ‘ইস্তিগনা’ বা অভাবমুক্ত হওয়া বুঝিয়েছেন, তা মূলত তার ভুল। আল-আ’শা এখানে অবস্থান করা বুঝিয়েছেন, যা আরবদের উক্তি ‘গানিয়া ফুলানুন বি-মাকানি কাযা’ (অমুক ব্যক্তি অমুক স্থানে বসবাস করেছে) থেকে এসেছে। এরই প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহর বাণী: "যেন তারা সেখানে বসবাসই করেনি (১)"। আর তার এই পঙ্ক্তি দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন করার বিষয়টি:

এবং আমরা যখন মারা যাই, তখন একে অপরের প্রতি অধিক অমুখাপেক্ষী হয়ে পড়ি

 

এটি তার অসতর্কতা। কেননা ‘তাগানি’ হলো দু’জন ব্যক্তির মধ্যেকার ‘তাফাউল’ (পারস্পরিক ক্রিয়া), যখন তারা একে অপর থেকে অমুখাপেক্ষী হয়। যেমন বলা হয়: ‘তাদারাবা আর-রাজুলান’ (ব্যক্তিদ্বয় পরস্পর মারামারি করেছে), যখন তাদের প্রত্যেকে অন্যকে প্রহার করে। যারা দ্বিবচনের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করেন, তাদের জন্য একবচনের ক্ষেত্রে এমনটি বলা জায়েজ নয়। সুতরাং ‘তাগানা যায়দুন’ বা ‘তাদারাবা আমরুন’ বলা জায়েজ নয়। তেমনিভাবে ‘তাগান্না’ শব্দটিকে ‘ইস্তাগনা’ অর্থে ব্যবহার করাও বৈধ নয়। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তাবারী যা দাবি করেছেন যে আরবদের ভাষায় ‘তাগান্না’ শব্দটি ‘ইস্তাগনা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়নি, তা জাওহারী উল্লেখ করেছেন যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি এবং হারাবীও তা উল্লেখ করেছেন। আর তার এই বক্তব্য যে: ‘ফা’আলা’ রূপান্তরটি কেবল দু’জনের পক্ষ থেকে হতে হয়, তা অনেক ক্ষেত্রেই একজনের পক্ষ থেকে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন ইবনে উমরের উক্তি: "এবং আমি সেদিন সাবালকত্বের নিকটবর্তী হয়েছিলাম।" আর আরবরা বলে: "আমি জুতায় তালি লাগিয়েছি", "আমি চোরকে শাস্তি দিয়েছি" এবং "আমি অসুস্থের চিকিৎসা করেছি"—এমন উদাহরণ প্রচুর। সুতরাং ‘তাগানা’ শব্দটিও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আর যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী ‘ইয়াতাগান্না’ শব্দটি সুললিত পাঠ এবং অভাবমুক্ত হওয়া—উভয় অর্থেরই সম্ভাবনা রাখে, তখন একটিকে অপরটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার বিশেষ কোনো কারণ নেই। বরং অভাবমুক্ত হওয়ার অর্থে গ্রহণ করাই অধিক সমীচীন হতো যদি আমাদের কাছে অন্য কোনো ব্যাখ্যা না থাকতো, কারণ এটি বর্ণিত হয়েছে...
(১) সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত: ৯২।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٥)
صَحَابِيٍّ كَبِيرٍ كَمَا ذَكَرَ سُفْيَانُ. وَقَدْ قَالَ ابْنُ وَهْبٍ فِي حَقِّ سُفْيَانَ: مَا رَأَيْتُ أَعْلَمَ بِتَأْوِيلِ الْأَحَادِيثِ مِنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، وَمَعْلُومٌ أَنَّهُ رَأَى الشَّافِعِيَّ وَعَاصَرَهُ. وَتَأْوِيلٌ سَادِسٌ- وَهُوَ مَا جَاءَ مِنَ الزِّيَادَةِ فِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:" مَا أَذِنَ اللَّهُ «1» لِشَيْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِيٍّ حَسَنِ الصَّوْتِ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ يَجْهَرُ بِهِ". قَالَ الطَّبَرَيُّ وَلَوْ كَانَ كَمَا قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ لَمْ يَكُنْ لِذِكْرِ حَسَنِ الصَّوْتِ وَالْجَهْرِ بِهِ مَعْنًى. قُلْنَا قَوْلَهُ:" يَجْهَرُ بِهِ" لَا يَخْلُو أَنْ يَكُونَ مِنْ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَوْ مِنْ قَوْلِ أَبِي هُرَيْرَةَ أَوْ غَيْرِهِ، فَإِنْ كَانَ الْأَوَّلُ وَفِيهِ بُعْدٌ، فَهُوَ دَلِيلٌ عَلَى عَدَمِ التَّطْرِيبِ وَالتَّرْجِيعِ، لِأَنَّهُ لَمْ يَقُلْ: يُطَرِّبُ بِهِ، وَإِنَّمَا قَالَ: يَجْهَرُ بِهِ: أَيْ يُسْمِعُ نَفْسَهُ وَمَنْ يَلِيهِ، بِدَلِيلِ قَوْلِهِ عليه السلام لِلَّذِي سَمِعَهُ وَقَدْ رَفَعَ صَوْتَهُ بِالتَّهْلِيلِ:" أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا «2» عَلَى أَنْفُسِكُمْ فَإِنَّكُمْ لَسْتُمْ تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا .... " الْحَدِيثَ، وَسَيَأْتِي. وكذلك إِنْ كَانَ مِنْ صَحَابِيٍّ أَوْ غَيْرِهِ فَلَا حُجَّةَ فِيهِ عَلَى مَا رَامُوهُ، وَقَدِ اخْتَارَ هَذَا التَّأْوِيلَ بَعْضُ عُلَمَائِنَا فَقَالَ: وَهَذَا أَشْبَهُ، لِأَنَّ الْعَرَبَ تُسَمِّي كُلَّ مَنْ رَفْعَ صَوْتَهُ وَوَالَى بِهِ غَانِيًا، وَفِعْلَهُ ذَلِكَ غِنَاءً وَإِنْ لَمْ يُلَحِّنْهُ بِتَلْحِينِ الْغِنَاءِ. قَالَ: وَعَلَى هَذَا فسره الصحابي، وهو أعلم بالمقال وأقعد بالحال. وقد احتج أبو الحسن لِمَذْهَبِ الشَّافِعِيِّ فَقَالَ: وَقَدْ رَفَعَ الْإِشْكَالَ فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ مَا رَوَاهُ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ قَالَ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ وغنوا به واكتبوه فو الذي نَفْسِي بِيَدِهِ لَهُوَ أَشَدُّ تَفَصِّيًا «3» مِنَ الْمَخَاضِ من العقل". قال علمائنا: وَهَذَا الْحَدِيثُ وَإِنْ صَحَّ سَنَدُهُ فَيَرُدُّهُ مَا يعلم على القطع والبتات من قِرَاءَةَ الْقُرْآنِ بَلَغَتْنَا مُتَوَاتِرَةً عَنْ كَافَّةِ الْمَشَايِخِ، جِيلًا فَجِيلًا إِلَى الْعَصْرِ الْكَرِيمِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَيْسَ فِيهَا تلحين
(1). قوله: ما أذن .... إلخ قال المناوي: يعني ما رضى الله من المسموعات شيئا هو أرضى عنده ولا أحب إليه من قول نبي يتغنى بالقرآن، أي يجهر به ويحسن صوته بالقراءة بخشوع وتحزن، وأراد بالقران ما يقرأ من الكتب المنزلة.

(2). قوله:" اربعوا" أي كفوا وارفقوا.

(3). التفصي: التقلب والخروج.
সুফিয়ান যেমন উল্লেখ করেছেন যে, তিনি একজন প্রথিতযশা সাহাবী ছিলেন। ইবনে ওয়াহাব সুফিয়ান সম্পর্কে বলেছেন: হাদীসের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে আমি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনার চেয়ে বড় কোনো অভিজ্ঞ আলেম দেখিনি। আর এটা তো সুপরিচিত যে তিনি ইমাম শাফেঈকে দেখেছিলেন এবং তাঁর সমসাময়িক ছিলেন। ষষ্ঠ ব্যাখ্যা—সহীহ মুসলিমে আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত অতিরিক্ত বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "আল্লাহ কোনো কিছুর প্রতি এমন কান দেন না (পছন্দ করেন না) যেমন কান দেন সেই সুন্দর কণ্ঠস্বর বিশিষ্ট নবীর প্রতি, যিনি উচ্চৈঃস্বরে তিলাওয়াতের মাধ্যমে কুরআনে সুরারোপ করেন।" ইমাম তাবারী বলেন, বিষয়টি যদি ইবনে উয়াইনার বর্ণনার মতো হতো, তবে সুন্দর কণ্ঠস্বর এবং উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করার উল্লেখের কোনো অর্থ থাকত না। আমরা বলি, তাঁর উক্তি "তিনি উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করেন"—এটি হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, অথবা আবূ হুরায়রা কিংবা অন্য কারো বক্তব্য। যদি এটি প্রথমটি (অর্থাৎ নবীর উক্তি) হয়—যদিও এতে কিছুটা দূরবর্তিতা আছে—তবে তা সুরের মূর্ছনা বা তিলাওয়াতে অতিরিক্ত তান তোলার অসারতার প্রমাণ। কারণ তিনি ‘সুরেলা মূর্ছনা দিচ্ছেন’ বলেননি, বরং বলেছেন ‘উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করছেন’; অর্থাৎ নিজেকে এবং নিকটবর্তীদের শোনাচ্ছেন। এর প্রমাণ হলো সেই ব্যক্তির প্রতি নবী আলাইহিস সালামের বাণী, যাকে তিনি উচ্চৈঃস্বরে তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পাঠ করতে শুনেছিলেন: "হে লোকসকল! তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও (কণ্ঠস্বর সংযত রাখো), কারণ তোমরা কোনো বধির বা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না...।" এই হাদীসটি সামনে বিস্তারিত আসবে। একইভাবে, যদি এটি কোনো সাহাবী বা অন্য কারো বক্তব্য হয়, তবে বিরোধীরা যা প্রমাণ করতে চাচ্ছে তার স্বপক্ষে এটি দলিল হবে না। আমাদের কোনো কোনো আলেম এই ব্যাখ্যাটি গ্রহণ করে বলেছেন: এটিই অধিক যুক্তিযুক্ত। কারণ আরবরা যখন কেউ কণ্ঠস্বর উঁচু করে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে পাঠ করে, তখন তাকে গায়ক বলে এবং তার কাজকে গান বলে অভিহিত করে, যদিও সে সঙ্গীতের মতো সুরারোপ না-ও করে। তিনি বলেন: এই ভিত্তিতেই সাহাবী এর ব্যাখ্যা করেছেন, আর তিনিই বক্তব্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অধিক অবগত এবং পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি যোগ্য। ইমাম আবুল হাসান শাফেঈ মাযহাবের সপক্ষে দলিল পেশ করে বলেন: এই বিষয়ের জটিলতা নিরসন করে দিয়েছে ইবনে আবী শায়বা বর্ণিত সেই বর্ণনাটি, তিনি বলেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদ ইবনুল হুবাব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মূসা ইবনে আলী ইবনে রাবাহ তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি উকবাহ ইবনে আমের থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা কুরআন শেখো, এর মাধ্যমে সুরেলা কণ্ঠে তিলাওয়াত করো এবং তা লিখে রাখো। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! এটি বাঁধনমুক্ত উষ্ট্রীর পলায়নের চেয়েও দ্রুত অন্তর থেকে হারিয়ে যায়।" আমাদের আলেমগণ বলেন: এই হাদীসের সনদ যদি সহীহও হয়, তবুও তা নিশ্চিত ও চূড়ান্তভাবে আমাদের নিকট মুতাওয়াতির সূত্রে পৌঁছানো কুরআন তিলাওয়াতের সেই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত হবে, যা সকল মাশায়েখদের মাধ্যমে যুগ পরম্পরায় সুবর্ণ যুগ হয়ে খোদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে; আর তাতে সঙ্গীতের মতো সুরারোপের কোনো অস্তিত্ব নেই।
(১). তাঁর বক্তব্য: ‘আল্লাহ কান দেন না...’ ইত্যাদি প্রসঙ্গে আল-মুনাভী বলেন: এর অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা কোনো শ্রবণযোগ্য বিষয়ের প্রতি এত বেশি সন্তুষ্ট হন না এবং তাঁর নিকট তা এত বেশি প্রিয় নয়, যতটা সেই নবীর প্রতি হয় যিনি কুরআনের মাধ্যমে সুরারোপ (তিলাওয়াত) করেন। অর্থাৎ যিনি উচ্চৈঃস্বরে তিলাওয়াত করেন এবং খুশু-খুযু ও বিষণ্ণ চিত্তে সুন্দর কণ্ঠে পাঠ করেন। এখানে কুরআন বলতে নাযিলকৃত আসমানী কিতাবসমূহ বোঝানো হয়েছে।

(২). তাঁর কথা: ‘আরবাঊ’ অর্থ হলো—তোমরা ক্ষান্ত হও এবং নরম হও।

(৩). আত্ব-তাফাসসী: অর্থ হলো ছটফট করা এবং বেরিয়ে যাওয়া।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٦)
وَلَا تَطْرِيبٌ، مَعَ كَثْرَةِ الْمُتَعَمِّقِينَ فِي مَخَارِجِ الْحُرُوفِ وَفِي الْمَدِّ وَالْإِدْغَامِ وَالْإِظْهَارِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ كَيْفِيَّةِ الْقِرَاءَاتِ. ثُمَّ إِنَّ فِي التَّرْجِيعِ وَالتَّطْرِيبِ هَمْزُ مَا لَيْسَ بِمَهْمُوزٍ وَمَدُّ مَا ليس بممدود، فترجيع الألف الواحدة ألفات والواو الواحدة واوات والشبه «1» الْوَاحِدَةُ شُبَهَاتٍ، فَيُؤَدِّي ذَلِكَ إِلَى زِيَادَةٍ فِي الْقُرْآنِ وَذَلِكَ مَمْنُوعٌ، وَإِنْ وَافَقَ ذَلِكَ مَوْضِعَ نَبْرٍ وَهَمْزٍ صَيَّرُوهَا نَبْرَاتٍ وَهَمْزَاتٍ، وَالنَّبْرَةُ حَيْثُمَا وَقَعَتْ مِنَ الْحُرُوفِ فَإِنَّمَا هِيَ هَمْزَةٌ وَاحِدَةٌ لأغير، إِمَّا مَمْدُودَةٌ وَإِمَّا مَقْصُورَةٌ. فَإِنْ قِيلَ: فَقَدْ رَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُغَفَّلٍ قَالَ: قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم في مَسِيرٍ لَهُ سُورَةَ" الْفَتْحِ" عَلَى رَاحِلَتِهِ فَرَجَّعَ فِي قِرَاءَتِهِ، وَذَكَرَهُ الْبُخَارِيُّ وَقَالَ فِي صِفَةِ التَّرْجِيعِ: آء آء آء، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ. قُلْنَا: ذَلِكَ مَحْمُولٌ عَلَى إِشْبَاعِ الْمَدِّ فِي مَوْضِعِهِ، ويحتمل أن يكون صَوْتِهِ عِنْدَ هَزِّ الرَّاحِلَةِ، كَمَا يَعْتَرِي رَافِعَ صوته إذا كان راكبا من اضغاط صَوْتِهِ وَتَقْطِيعِهِ لِأَجْلِ هَزِّ الْمَرْكُوبِ، وَإِذَا احْتَمَلَ هَذَا فَلَا حُجَّةَ فِيهِ. وَقَدْ خَرَّجَ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْغَنِيِّ بْنُ سَعِيدٍ الْحَافِظُ مِنْ حديث قتادة عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَتْ قِرَاءَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدَّ لَيْسَ فِيهَا تَرْجِيعٌ وَرَوَى ابن جريح عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُؤَذِّنٌ يُطَرِّبُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" إِنَ الْأَذَانَ سَهْلٌ سَمْحٌ فَإِذَا كَانَ أَذَانُكَ سَمْحًا سَهْلًا وَإِلَّا فَلَا تُؤَذِّنْ". أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي سُنَنِهِ فَإِذَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَدْ مَنَعَ ذَلِكَ فِي الْأَذَانِ فَأَحْرَى أَلَّا يُجَوِّزَهُ فِي الْقُرْآنِ الَّذِي حَفِظَهُ الرَّحْمَنُ، فَقَالَ وَقَوْلُهُ الْحَقُّ:" إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحافِظُونَ «2» ". وَقَالَ تَعَالَى:" لَا يَأْتِيهِ الْباطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ «3» ". قُلْتُ: وَهَذَا الْخِلَافُ إِنَّمَا هُوَ مَا لَمْ يُفْهَمْ مَعْنَى الْقُرْآنِ بِتَرْدِيدِ الْأَصْوَاتِ وَكَثْرَةِ التَّرْجِيعَاتِ، فإن زاد الأمر على ذلك لَا يُفْهَمُ مَعْنَاهُ فَذَلِكَ حَرَامٌ بِاتِّفَاقٍ، كَمَا يَفْعَلُ الْقُرَّاءُ بِالدِّيَارِ الْمِصْرِيَّةِ الَّذِينَ يَقْرَءُونَ أَمَامَ الْمُلُوكِ وَالْجَنَائِزِ، وَيَأْخُذُونَ عَلَى ذَلِكَ الْأُجُورَ وَالْجَوَائِزَ، ضل سعيهم، وخاب
(1). سيذكر المؤلف في باب (ذكر معنى الصورة والآية) إلخ: أن الشبهات هي الحروف، ولم أر هذا التعبير لغيره.

(2). آية 9 سورة الحجر.

(3). آية 42 سورة فصلت.
সুর করে তিলাওয়াত (তাতরিব) করা বৈধ নয়, যদিও মাখরাজ, মাদ, ইদগাম, ইজহার ও কিরাআতের অন্যান্য নিয়মাবলীতে গভীর পান্ডিত্য প্রদর্শনকারীদের আধিক্য রয়েছে। তাছাড়া আওয়াজ প্রকম্পিত করা (তারজি) এবং সুর করে পড়ার ক্ষেত্রে এমন স্থানে হামজা যুক্ত করা হয় যেখানে হামজা নেই এবং এমন স্থানে দীর্ঘ (মাদ) করা হয় যেখানে মাদ নেই। এর ফলে একটি আলিফকে অনেকগুলো আলিফে, একটি ওয়াওকে অনেকগুলো ওয়াওয়ে এবং একটি বর্ণের সাদৃশ্যকে (শুবহাহ) একাধিক বর্ণে পরিণত করা হয়। এটি কুরআনে অতিরিক্ত সংযোজনের দিকে ধাবিত করে, যা নিষিদ্ধ। আর যদি তা কোনো প্রাবল্য (নাবর) বা হামজার স্থানে ঘটে, তবে তারা সেটিকে একাধিক প্রাবল্য ও হামজায় রূপান্তর করে। অথচ বর্ণের মধ্যে ‘নাবর’ যেখানেই ঘটুক না কেন, তা কেবল একটি হামজাই, অন্য কিছু নয়—তা দীর্ঘ হোক বা হ্রস্ব। যদি বলা হয়: আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক সফরে তাঁর সওয়ারিতে বসে সূরা ‘আল-ফাতহ’ তিলাওয়াত করার সময় কিরাআতে আওয়াজ প্রকম্পিত করেছিলেন। ইমাম বুখারী এটি উল্লেখ করেছেন এবং এই প্রকম্পনের বর্ণনায় বলেছেন: ‘আ আ আ’—তিনবার। আমরা বলি: এটি নির্ধারিত স্থানে মাদ্দ পরিপূর্ণ (ইশবা) করার ওপর নির্ভরশীল। আবার সম্ভাবনা রয়েছে যে, সওয়ারি দুলার সময় তাঁর কণ্ঠে এমন আওয়াজ তৈরি হয়েছিল; যেমনটি উচ্চৈঃস্বরে তিলাওয়াতকারী কোনো আরোহীর ক্ষেত্রে বাহনের নড়াচড়ার কারণে আওয়াজ রুদ্ধ বা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ফলে ঘটে থাকে। আর যখন এই সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকে, তখন তা (তাতরিবের পক্ষে) দলিল হিসেবে গণ্য হতে পারে না। হাফেজ আবু মুহাম্মদ আবদুল গনি ইবনে সাঈদ কাতাদাহ—আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তিলাওয়াত ছিল দীর্ঘায়িত (মাদ), তাতে কোনো ‘তারজি’ (আওয়াজের প্রকম্পন) ছিল না। ইবনে জুরাইজ আতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একজন মুয়াজ্জিন ছিল যে সুর করে আযান দিত। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আযান হবে সহজ ও সাবলীল। তোমার আযান যদি সাবলীল ও সহজ হয় তবে দাও, অন্যথায় আযান দিও না।" দারা কুতনী তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি সংকলন করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আযানের ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ করেছেন, তখন কুরআনের ক্ষেত্রে তা নাজায়েজ হওয়া আরও যুক্তিযুক্ত, যার হেফাজতের দায়িত্ব পরম করুণাময় আল্লাহ স্বয়ং গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন এবং তাঁর বাণী সত্য: "নিশ্চয় আমি এই উপদেশবাণী (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "এতে মিথ্যা প্রবেশ করতে পারে না এর সামনে থেকেও নয় এবং এর পিছন থেকেও নয়। এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" আমি (গ্রন্থকার) বলি: এই মতপার্থক্য ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ আওয়াজের অতিশয় প্রকম্পন বা সুরের কারণে কুরআনের অর্থ বুঝতে অসুবিধা না হয়। কিন্তু বিষয়টি যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে অর্থই অনুধাবন করা যায় না, তবে তা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। যেমনটি মিশর অঞ্চলের ক্বারীগণ করে থাকেন, যারা রাজা-বাদশাহদের সামনে কিংবা জানাজায় তিলাওয়াত করেন এবং এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক ও পুরস্কার গ্রহণ করেন। তাদের এই প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে এবং তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
(১). লেখক পরবর্তীতে ‘সূরা ও আয়াতের অর্থ’ শীর্ষক পরিচ্ছেদে উল্লেখ করবেন যে: ‘শুবাহাত’ দ্বারা বর্ণসমূহ (হরফ) বোঝানো হয়েছে; আমি অন্য কারো কাছ থেকে এমন অভিব্যক্তি দেখিনি।

(২). সূরা আল-হিজর, আয়াত ৯।

(৩). সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৪২।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٧)
عملهم، فسيحتلون بِذَلِكَ تَغْيِيرَ كِتَابِ اللَّهِ، وَيُهَوِّنُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمُ الِاجْتِرَاءَ عَلَى اللَّهِ بِأَنْ يَزِيدُوا فِي تَنْزِيلِهِ مَا لَيْسَ فِيهِ، جَهْلًا بِدِينِهِمْ، وَمُرُوقًا عَنْ سُنَّةِ نَبِيِّهِمْ، وَرَفْضًا لِسَيْرِ الصَّالِحِينَ فِيهِ مِنْ سَلَفِهِمْ، وَنُزُوعًا إِلَى مَا يُزَيِّنُ لَهُمُ الشَّيْطَانُ مِنْ أَعْمَالِهِمْ، وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا، فَهُمْ فِي غَيِّهِمْ يَتَرَدَّدُونَ، وَبِكِتَابِ اللَّهِ يَتَلَاعَبُونَ، فإنا لله وإنا إليه راجعون! لكن أَخْبَرَ الصَّادِقُ أَنَّ ذَلِكَ يَكُونُ، فَكَانَ كَمَا أَخْبَرَ صلى الله عليه وسلم. ذَكَرَ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو الْحُسَيْنِ رَزِينٌ وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ التِّرْمِذِيُّ الْحَكِيمُ فِي" نَوَادِرِ الْأُصُولِ" مِنْ حَدِيثِ حُذَيْفَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:" اقْرَءُوا الْقُرْآنَ بِلُحُونِ الْعَرَبِ وَأَصْوَاتِهَا وَإِيَّاكُمْ وَلَحَوْنَ أَهْلِ الْعِشْقِ وَلَحَوْنَ أَهْلِ الْكِتَابَيْنِ وَسَيَجِيءُ بَعْدِي قَوْمٌ يُرَجِّعُونَ بِالْقُرْآنِ تَرْجِيعَ الْغِنَاءِ والنوح لا يجاوز جناجرهم مفتونة قلوبهم وقلوب الذين يُعْجِبُهُمْ شَأْنُهُمْ". اللُّحُونُ: جَمْعُ لَحْنٍ، وَهُوَ التَّطْرِيبُ وَتَرْجِيعُ الصَّوْتِ وَتَحْسِينُهُ بِالْقِرَاءَةِ وَالشِّعْرِ وَالْغِنَاءِ. قَالَ علمائنا: وَيُشْبِهُ أَنْ يَكُونَ هَذَا الَّذِي يَفْعَلُهُ قُرَّاءُ زَمَانِنَا بَيْنَ يَدَيِّ الْوُعَّاظِ وَفِي الْمَجَالِسِ مِنَ اللُّحُونِ الْأَعْجَمِيَّةِ الَّتِي يَقْرَءُونَ بِهَا، مَا نَهَى عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. والترجيع في القراءة: ترديد الحرف كَقِرَاءَةِ النَّصَارَى. وَالتَّرْتِيلُ فِي الْقِرَاءَةِ هُوَ التَّأَنِّي فِيهَا وَالتَّمَهُّلُ وَتَبْيِينُ الْحُرُوفِ وَالْحَرَكَاتِ تَشْبِيهًا بِالثَّغْرِ الْمُرَتَّلِ، وَهُوَ الْمُشَبَّهُ بِنُورِ الْأُقْحُوَانِ، وَهُوَ الْمَطْلُوبُ فِي قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى:" وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا «1» ". وَسُئِلَتْ أُمُّ سَلَمَةَ عَنْ قِرَاءَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وصلاته، فقالت: مالكم وصلاته! [كان يصلي ثم ينام قدر ما صلى، ثم يصلي قدر ما نام، ثم ينام قدر ما صلى حتى يصبح «2»]، ثُمَّ نَعَتَتْ قِرَاءَتَهُ، فَإِذَا هِيَ تَنْعِتُ قِرَاءَةً مفسرة حرفا حرفا. أخرجه النسائي وأبو دائد وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ.

 

‌‌باب تحذير أهل القرآن والعلم من الرياء وغيره

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى:" وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً" «3». وقال تعالى:" فَمَنْ كانَ يَرْجُوا لِقاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صالِحاً وَلا يُشْرِكْ بِعِبادَةِ رَبِّهِ أَحَداً" «4». روى مسلم عن أبي هريرة
(1). آية 4 سورة المزمل.

(2). الزيادة عن سنن الترمذي وأبي داود.

(3). آية 36 سورة النساء.

(4). آية 110 سورة الكهف.
তাদের কর্মের মাধ্যমে তারা আল্লাহর কিতাব পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করবে এবং অজ্ঞতাবশত তাঁর অবতীর্ণ কিতাবে যা নেই তা যোগ করার মাধ্যমে আল্লাহর বিরুদ্ধে ধৃষ্টতা প্রদর্শনকে নিজেদের জন্য সহজ করে নেবে। তারা তাদের দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ এবং তাদের নবীর সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত, তাদের নেককার পূর্বসূরিদের আদর্শ বর্জনকারী এবং শয়তান তাদের জন্য যা সুশোভিত করে তার প্রতি অনুরাগী। অথচ তারা মনে করে যে তারা উত্তম কাজ করছে। তারা তাদের বিভ্রান্তিতেই দিশেহারা এবং আল্লাহর কিতাব নিয়ে খেলা করছে। আমরা তো আল্লাহরই এবং তাঁরই কাছে আমাদের ফিরে যেতে হবে! তবে সত্যবাদী (রাসূল) সংবাদ দিয়েছিলেন যে এমনটি ঘটবে, আর তিনি যেমন সংবাদ দিয়েছিলেন ঠিক তেমনই ঘটেছে। ইমাম হাফিজ আবু আল-হুসাইন রাজিন এবং আবু আব্দুল্লাহ তিরমিজি আল-হাকিম 'নাওয়াদিরুল উসুল' গ্রন্থে হুজাইফা (রা.) বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আরবের সুর ও তাদের কণ্ঠস্বরে কুরআন পাঠ করো। প্রেমাসক্তদের সুর এবং আহলে কিতাবদ্বয়ের সুর থেকে বেঁচে থাকো। অচিরেই আমার পরে এমন এক কওমের আবির্ভাব হবে যারা গানের মতো এবং বিলাপের সুরে কুরআনকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পড়বে, যা তাদের কণ্ঠনালীর নিচে নামবে না। তাদের অন্তর এবং যারা তাদের এ অবস্থাকে পছন্দ করে তাদের অন্তর ফিতনাগ্রস্ত।" 'লুহুন' হলো 'লাহন'-এর বহুবচন, যার অর্থ সুরারোপ করা, কণ্ঠকে প্রকম্পিত করা এবং তিলাওয়াত, কবিতা ও গানের সুরকে সুন্দর করা। আমাদের উলামায়ে কিরাম বলেছেন: আমাদের যুগের তিলাওয়াতকারীরা ওয়ায়েজদের সামনে এবং মজলিসগুলোতে যে অনারব সুরের মাধ্যমে তিলাওয়াত করে, তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিষেধ করেছেন তার সদৃশ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে 'তারজি' হলো বর্ণের পুনরাবৃত্তি করা, যেমনটি খ্রিস্টানরা করে থাকে। আর তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে 'তারতীল' হলো ধীরস্থিরভাবে ও স্পষ্টভাবে তিলাওয়াত করা এবং বর্ণ ও হরকতসমূহকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা, যা সুবিন্যস্ত দন্তপাটির সাদৃশ্য রাখে, যা আবার ডেইজি ফুলের শুভ্রতার সাথে তুলনীয়। আর কুরআনের তিলাওয়াতে এটিই কাম্য। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "এবং কুরআন পাঠ করো ধীরে ধীরে ও স্পষ্টভাবে (১)"। উম্মু সালামাহ (রা.)-কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তিলাওয়াত ও সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তাঁর সালাতের সাথে তোমাদের কী সম্পর্ক! [তিনি সালাত আদায় করতেন, তারপর তিনি যতটুকু সময় সালাত আদায় করেছেন ততটুকু সময় ঘুমাতেন। এরপর পুনরায় তিনি যতটুকু সময় ঘুমিয়েছেন ততটুকু সময় সালাত আদায় করতেন, তারপর তিনি যতটুকু সময় সালাত আদায় করেছেন ততটুকু সময় ঘুমাতেন, এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত চলতে থাকতো (২)]। তারপর তিনি তাঁর তিলাওয়াতের বিবরণ দিলেন; তিনি এমনভাবে বিবরণ দিলেন যাতে প্রতিটি বর্ণ পৃথক পৃথকভাবে স্পষ্ট হচ্ছিল। ইমাম নাসায়ী, আবু দাউদ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিজি বলেছেন: এটি হাসান সহিহ গারিব হাদিস।

 

‌‌অধ্যায়: কুরআন ও ইলম অর্জনকারীদের রিয়া (লোকদেখানো মনোভাব) এবং অন্যান্য মন্দ স্বভাব থেকে সতর্কীকরণ

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না (৩)"। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: "কাজেই যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন নেক আমল করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে (৪)"। ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন...
(১). সূরা আল-মুযযাম্মিল, আয়াত ৪।

(২). সুনান তিরমিজি ও আবু দাউদ থেকে অতিরিক্ত অংশ।

(৩). সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩৬।

(৪). সূরা আল-কাহফ, আয়াত ১১০।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٨)
قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:" إِنْ أَوَّلَ النَّاسِ يُقْضَى عَلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرِفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ قاتلت فيك حتى استشهدت قال كذبت ولكنك قَاتَلْتَ لِأَنْ يُقَالَ جَرِيءٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرِفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ العلم ليقال علام وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ هُوَ قَارِئٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ وأعطاه من أنصاف الْمَالِ كُلِّهِ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرِفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلَّا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ هُوَ جَوَادٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النار". يقال التِّرْمِذِيُّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ: ثُمَّ ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى رُكْبَتِي فَقَالَ:" يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أُولَئِكَ الثَّلَاثَةُ أَوَّلُ خَلْقِ اللَّهِ تُسَعَّرُ بِهِمُ النَّارُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ". أَبُو هُرَيْرَةَ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ، وَقِيلَ: عَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَقَالَ: كُنِّيتُ أَبَا هُرَيْرَةَ لِأَنِّي حَمَلْتُ هِرَّةً فِي كُمِّي، فَرَآنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ:" مَا هَذِهِ"؟ قُلْتُ: هِرَّةٌ، فَقَالَ:" يَا أَبَا هُرَيْرَةَ". قَالَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ: وَهَذَا الْحَدِيثُ فِيمَنْ لَمْ يُرِدْ بِعَمَلِهِ وَعِلْمِهِ وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى. وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ:" مَنْ طَلَبِ الْعِلْمَ لِغَيْرِ اللَّهِ أَوْ أَرَادَ بِهِ غَيْرَ اللَّهِ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ". وَخَرَّجَ ابْنُ الْمُبَارَكِ فِي رَقَائِقِهِ عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" يَظْهَرُ هَذَا الدِّينُ حَتَّى يُجَاوِزَ الْبِحَارَ وَحَتَّى تُخَاضَ الْبِحَارُ بِالْخَيْلِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تبارك وتعالى ثُمَّ يَأْتِي أَقْوَامٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ فَإِذَا قَرَءُوهُ قَالُوا مَنْ أَقْرَأُ مِنَّا مَنْ أَعْلَمُ مِنَّا" ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ:" هَلْ تَرَوْنَ فِي أُولَئِكُمْ مِنْ خَيْرٍ" قَالُوا: لَا. قَالَ:" أُولَئِكَ مِنْكُمْ وَأُولَئِكَ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ وَأُولَئِكَ هُمْ وَقُودُ النَّارِ". وَرَوَى أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى به وجه لله لَا يَتَعَلَّمُهُ إِلَّا لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضًا مِنَ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ". يَعْنِي رِيحَهَا. قَالَ التِّرْمِذِيُّ: حَدِيثٌ
তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার করা হবে তাদের মধ্যে একজন হলো এমন ব্যক্তি যে শহীদ হয়েছিল। তাকে (আল্লাহর দরবারে) উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে প্রদত্ত তাঁর নিয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে তা স্বীকার করবে। তিনি বলবেন: তুমি এই নিয়ামতগুলোর বিনিময়ে কী আমল করেছ? সে বলবে: আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য লড়াই করেছি যতক্ষণ না আমি শহীদ হয়েছি। তিনি বলবেন: তুমি মিথ্যা বলেছ, বরং তুমি লড়াই করেছ যাতে তোমাকে 'বীর' বলা হয়, আর তা বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে, ফলে তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে যতক্ষণ না তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। আর এক ব্যক্তি যে ইলম অর্জন করেছে, তা শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নিয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে তা স্বীকার করবে। তিনি বলবেন: তুমি এগুলোর বিনিময়ে কী আমল করেছ? সে বলবে: আমি ইলম অর্জন করেছি, তা শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি। তিনি বলবেন: তুমি মিথ্যা বলেছ, বরং তুমি ইলম অর্জন করেছ যাতে তোমাকে 'বিদ্বান' বলা হয় এবং কুরআন পাঠ করেছ যাতে তোমাকে 'কারী' বলা হয়, আর তা বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে, ফলে তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে যতক্ষণ না তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সচ্ছলতা দান করেছিলেন এবং সব ধরনের ধন-সম্পদ দান করেছিলেন। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নিয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে তা স্বীকার করবে। তিনি বলবেন: তুমি এগুলোর বিনিময়ে কী আমল করেছ? সে বলবে: আপনি যেখানে ব্যয় করা পছন্দ করেন এমন কোনো পথই আমি বাকি রাখিনি যেখানে আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করিনি। তিনি বলবেন: তুমি মিথ্যা বলেছ, বরং তুমি তা করেছ যাতে তোমাকে 'দানবীর' বলা হয়, আর তা বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে, ফলে তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।" তিরমিযী এই হাদীসে উল্লেখ করেছেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দুই হাঁটুর ওপর হাত মেরে বললেন: "হে আবু হুরায়রা! এই তিনজন হলো আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে প্রথম ব্যক্তি যাদের দ্বারা কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে।" আবু হুরায়রা—তাঁর নাম হলো আবদুল্লাহ, আর কারো মতে আবদুর রহমান। তিনি বলেছেন: আমার উপনাম আবু হুরায়রা রাখা হয়েছিল কারণ আমি আমার আস্তিনে একটি বিড়ালছানা বহন করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখে বললেন: "এটি কী?" আমি বললাম: বিড়ালছানা। তখন তিনি বললেন: "হে আবু হুরায়রা!" ইবনে আবদিল বারর বলেছেন: এই হাদীসটি তাদের সম্পর্কে যারা তাদের আমল ও ইলমের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য করেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য ইলম তলব করল অথবা এর দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ভিন্ন অন্য কিছু উদ্দেশ্য করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়।" ইবনুল মুবারক তাঁর 'রাকায়িক' গ্রন্থে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এই দীন ততক্ষণ বিজয়ী থাকবে যতক্ষণ তা সমুদ্র অতিক্রম করবে এবং আল্লাহর পথে সমুদ্রের ওপর দিয়ে ঘোড়া পরিচালিত হবে। অতঃপর এমন এক কওম আসবে যারা কুরআন পাঠ করবে এবং যখন তারা তা পাঠ করবে তখন বলবে, 'আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কারী কে আছে? আমাদের চেয়ে বড় আলেম কে আছে?'" অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীদের দিকে ফিরে বললেন: "তোমরা কি তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ দেখতে পাও?" তারা বললেন: না। তিনি বললেন: "তারা তোমাদের মধ্য থেকেই হবে এবং এই উম্মতেরই অন্তর্ভুক্ত হবে, আর তারাই হবে জাহান্নামের ইন্ধন।" আবু দাউদ ও তিরমিযী আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন ইলম শিখল যার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা হয়, অথচ সে তা শিখল কেবল দুনিয়ার কোনো বস্তুগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে, সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।" অর্থাৎ এর সুগন্ধি। তিরমিযী বলেছেন: হাদীসটি...
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٩)
حَسَنٌ. وَرُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ جُبِّ الْحَزَنِ" قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا جُبُّ الْحَزَنِ؟ قَالَ:" وَادٍ فِي جَهَنَّمَ تَتَعَوَّذُ مِنْهُ جَهَنَّمُ فِي كُلِّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ" قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنْ يدخله؟ قال:" القراء المراءون بأعملهم" قَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ. وَفِي كِتَابِ أَسَدِ بْنِ مُوسَى أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:" إِنَّ فِي جَهَنَّمَ لَوَادِيًا إِنَّ جهنم لتتعوذ من ذَلِكَ الْوَادِي كُلَّ يَوْمٍ سَبْعَ مَرَّاتٍ وَإِنَّ فِي ذَلِكَ الْوَادِي لَجُبًّا إِنَّ جَهَنَّمَ وَذَلِكَ الوادي ليتعوذون بالله من شر ذلك الجب وإن فط الْجُبِّ لَحَيَّةً وَإِنَّ جَهَنَّمَ وَالْوَادِيَ وَالْجُبَّ لَيَتَعَوَّذُونَ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّ تِلْكَ الْحَيَّةِ سَبْعَ مَرَّاتٍ أَعَدَّهَا اللَّهُ لِلْأَشْقِيَاءِ مِنْ حَمَلَةِ الْقُرْآنِ الَّذِينَ يَعْصُونَ اللَّهَ". فَيَجِبُ عَلَى حَامِلِ الْقُرْآنِ وَطَالِبِ الْعِلْمِ أَنْ يَتَّقِيَ اللَّهَ فِي نَفْسِهِ وَيُخْلِصَ العمل لله، فإن كان تقدم له شي مما يكره فليبادر التوبة التوبة والإنابة، وليبتدئ الإخلاص في الطلب. عمله. فالذي يلزم حامل القرآن من التحفظ أَكْثَرَ مِمَّا يَلْزَمُ غَيْرُهُ، كَمَا أَنَّ لَهُ من الأجر ما ليس لغيره. وروى التِّرْمِذِيُّ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" أنزل اله فِي بَعْضِ الْكُتُبِ- أَوْ أَوْحَى- إِلَى بَعْضِ الْأَنْبِيَاءِ قُلْ لِلَّذِينِ يَتَفَقَّهُونَ لِغَيْرِ الدِّينِ وَيَتَعَلَّمُونَ لغير العمل ويطلبون الدنيا بعمل الآخر يَلْبَسُونَ لِلنَّاسِ مُسُوكَ «1» الْكِبَاشِ وَقُلُوبُهُمْ كَقُلُوبِ الذِّئَابِ أَلْسِنَتُهُمْ أَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ وَقُلُوبُهُمْ أَمَرُّ مِنَ الصَّبْرِ إِيَّايَ يُخَادِعُونَ وَبِي يَسْتَهْزِئُونَ لِأُتِيحَنَّ لَهُمْ فِتْنَةً تَذَرُ الْحَلِيمَ فِيهِمْ حَيْرَانَ". وَخَرَّجَ الطَّبَرِيُّ فِي كِتَابِ آدَابِ النُّفُوسِ: حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ الْبَجَلِيِّ عَنِ ابْنِ صَدَقَةَ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ مَنْ حَدَّثَهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" لَا تُخَادِعِ الله فإنه من يخادع الله يخدعه الله وَنَفْسَهُ يَخْدَعُ لَوْ يَشْعُرُ". قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْفَ يُخَادِعُ

اللَّهَ؟ قَالَ:" تَعْمَلُ بِمَا أَمَرَكَ اللَّهُ بِهِ وَتَطْلُبُ بِهِ غَيْرَهُ وَاتَّقُوا الرِّيَاءَ فَإِنَّهُ الشِّرْكُ وَإِنَّ الْمُرَائِيَ يُدْعَى يَوْمَ القيامة على رءوس الْأَشْهَادِ بِأَرْبَعَةِ أَسْمَاءٍ يُنْسَبُ إِلَيْهَا يَا كَافِرُ يَا خَاسِرُ يَا غَادِرُ يَا فَاجِرُ ضَلَّ عملك وبطل
(1). المسوك (جمع مسك، بفتح ثم سكون): الجلد.
হাদিসটি হাসান (উত্তম)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "তোমরা 'জুব্বুল হাযান' (দুঃখের কূপ) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো।" তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, 'জুব্বুল হাযান' কী? তিনি বললেন: "এটি জাহান্নামের এমন একটি উপত্যকা, যা থেকে জাহান্নাম নিজেই প্রতিদিন একশবার আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল, সেখানে কারা প্রবেশ করবে? তিনি বললেন: "সেসব ক্বারি (কুরআন পাঠকারী), যারা তাদের আমল দ্বারা লোকদেখানো প্রদর্শন (রিয়া) করে।" তিনি (ইমাম তিরমিজি) বলেন: এটি একটি গরিব হাদিস। আসাদ ইবনে মুসার কিতাবে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই জাহান্নামে একটি উপত্যকা রয়েছে, যে উপত্যকা থেকে জাহান্নাম প্রতিদিন সাতবার আশ্রয় প্রার্থনা করে। আর সেই উপত্যকায় একটি কূপ রয়েছে; জাহান্নাম এবং সেই উপত্যকা স্বয়ং সেই কূপের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়। সেই কূপে একটি সাপ রয়েছে; জাহান্নাম, উপত্যকা ও কূপ—সবই সেই সাপের অনিষ্ট থেকে দিনে সাতবার আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়। আল্লাহ তাআলা এটি কুরআনের সেসব হতভাগ্য বাহকদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন, যারা আল্লাহর অবাধ্যতা করে।" অতএব, কুরআনের বাহক এবং জ্ঞানান্বেষী ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো নিজের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা। যদি ইতিপূর্বে তার পক্ষ থেকে অপছন্দনীয় কোনো কাজ হয়ে থাকে, তবে তার উচিত দ্রুত তওবা ও আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের পথে ধাবিত হওয়া এবং জ্ঞান অন্বেষণে একনিষ্ঠতা শুরু করা। কুরআনের ধারকের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা অন্য যে কারও চেয়ে অনেক বেশি জরুরি, যেমন তার জন্য এমন প্রতিদান রয়েছে যা অন্য কারও নেই। ইমাম তিরমিজি আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ তাআলা কোনো কোনো কিতাবে নাজিল করেছেন—অথবা কোনো কোনো নবীর প্রতি ওহি পাঠিয়েছেন—যে, তুমি ঐসব লোকদের বলে দাও, যারা দ্বীন ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে ধর্মতত্ত্ব (ফিকহ) শিক্ষা করে, আমল করা ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করে এবং পরকালীন আমলের বিনিময়ে দুনিয়া অন্বেষণ করে; তারা মানুষের সামনে ভেড়ার চামড়া পরিধান করে (নম্রতা দেখায়), কিন্তু তাদের অন্তর নেকড়ের অন্তরের মতো। তাদের জিহ্বা মধুর চেয়েও মিষ্টি, কিন্তু তাদের অন্তর তিক্ত গাছ (সাবির) অপেক্ষা তিক্ত। তারা কি আমাকেই ধোঁকা দিতে চায়, নাকি আমার সাথেই উপহাস করে? আমি তাদের ওপর এমন এক ফিতনা (বিপদ) চাপিয়ে দেব, যা তাদের মধ্যকার ধৈর্যশীল ব্যক্তিকেও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেবে।" ইমাম তবারি তাঁর 'আদাবুন নুফুস' কিতাবে বর্ণনা করেছেন: আবু কুরাইব মুহাম্মদ ইবনুল আলা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহারিবি থেকে, তিনি আমর ইবনে আমির আল-বাজালি থেকে, তিনি ইবনে সাদাকাহ থেকে, তিনি নবী (সা.)-এর জনৈক সাহাবি অথবা তাঁর থেকে শ্রবণকারী জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "তোমরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করো না। কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে, আল্লাহ তাকেই প্রতারিত করেন (শাস্তি দেন) এবং সে মূলত নিজের সাথেই প্রতারণা করে, যদি সে তা উপলব্ধি করত।" তাঁরা আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর সাথে কীভাবে প্রতারণা করা হয়?

তিনি বললেন: "তুমি আল্লাহর নির্দেশিত আমল করবে অথচ এর মাধ্যমে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে অন্বেষণ করবে। তোমরা লোকদেখানো ইবাদত (রিয়া) থেকে বেঁচে থাকো, কেননা তা শিরক। নিশ্চয়ই রিয়াকারীকে কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে উপস্থিত সকলের সামনে চারটি নামে ডাকা হবে—হে কাফের! হে ক্ষতিগ্রস্ত! হে প্রতারক! হে পাপাচারী! তোমার আমল পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং বাতিল হয়ে গেছে।"
(১). আল-মুসুক (মাস্ক-এর বহুবচন): চামড়া।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٢٠)
أَجْرُكَ فَلَا خَلَاقَ لَكَ الْيَوْمَ فَالْتَمِسْ أَجْرَكَ مِمَّنْ كُنْتَ تَعْمَلُ لَهُ يَا مُخَادِعُ. وَرَوَى عَلْقَمَةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: كيف أنتم! لَبِسَتْكُمْ فِتْنَةٌ يَرْبُو فِيهَا الصَّغِيرُ، وَيَهْرَمُ الْكَبِيرُ، وَتُتَّخَذُ سُنَّةً مُبْتَدَعَةً يَجْرِي عَلَيْهَا النَّاسُ فَإِذَا غير منها شي قيل: غُيِّرَتِ السُّنَّةُ. قِيلَ: مَتَى ذَلِكَ يَا أَبَا عبد الرحمن؟ قال: إذا كثر قراؤكم. قل فقهائكم، وَكَثُرَ أُمَرَاؤُكُمْ، وَقُلْ أُمَنَاؤُكُمْ، وَالْتُمِسَتِ الدُّنْيَا بِعَمَلِ الْآخِرَةِ، وَتُفُقِّهَ لِغَيْرِ الدِّينِ. وَقَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ: بَلَغَنَا عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ: لَوْ أَنَّ حَمَلَةَ الْقُرْآنِ أَخَذُوهُ بِحَقِّهِ وَمَا ينبغي لأحبهم الله، ولكن ي لبوا بِهِ الدُّنْيَا فَأَبْغَضَهُمُ اللَّهُ، وَهَانُوا عَلَى النَّاسِ. وَرُوِيَ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ فِي قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى:" فَكُبْكِبُوا «1» فِيها هُمْ وَالْغاوُونَ" قَالَ: قَوْمٌ وَصَفُوا الْحَقَّ وَالْعَدْلَ بِأَلْسِنَتِهِمْ، وَخَالَفُوهُ إلى غيره .. سيأتي لِهَذَا الْبَابِ مَزِيدُ بَيَانٍ فِي أَثْنَاءِ الْكِتَابِ إن شاء الله تعالى.

 

‌‌باب ما ينبغي لصاحب القرآن أن يأخذ نفسه به ولا يغفل عنه

فَأَوَّلُ ذَلِكَ أَنَّ يُخْلِصَ فِي طَلَبِهِ لِلَّهِ عز وجل كما ذكرنا، وَأَنْ يَأْخُذَ نَفْسَهُ بِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ فِي لَيْلِهِ وَنَهَارِهِ، فِي الصَّلَاةِ أَوْ فِي غَيْرِ الصَّلَاةِ لئلا ينساه. وروى مُسْلِمٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:" إِنَّمَا مَثَلُ صَاحِبِ الْقُرْآنِ كَمَثَلِ صَاحِبِ الْإِبِلِ الْمُعَقَّلَةِ إِنْ عَاهَدَ عَلَيْهَا أَمْسَكَهَا وَإِنْ أَطْلَقَهَا ذَهَبَتْ وَإِذَا قام صاحب القرآن فقرأه بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ ذَكَرَهُ وَإِذَا لَمْ يَقُمْ بِهِ نَسِيَهُ وَيَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَكُونَ لِلَّهِ حَامِدًا، وَلِنِعَمِهِ شَاكِرًا، وَلَهُ ذَاكِرًا، وَعَلَيْهِ مُتَوَكِّلًا، وَبِهِ مستعينا وإليه راغبا، وبه معتصما، وللموت مُسْتَعِدًّا. وَيَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَكُونَ خَائِفًا مِنْ ذَنْبِهِ، رَاجِيًا عَفْوَ رَبِّهِ، وَيَكُونَ الْخَوْفُ فِي صحته أغلب عليه، إذا لَا يَعْلَمُ بِمَا يُخْتَمُ لَهُ، وَيَكُونَ الرَّجَاءُ عِنْدَ حُضُورِ أَجْلِهِ أَقْوَى فِي نَفْسِهِ، لِحُسْنِ الظَّنِّ بِاللَّهِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:" لَا يَمُوتَنَّ أَحَدُكُمْ إِلَّا وَهُوَ يُحْسِنُ بِاللَّهِ الظَّنَّ". أَيْ أَنَّهُ يَرْحَمُهُ وَيَغْفِرُ لَهُ. وَيَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَكُونَ عَالِمًا بِأَهْلِ زَمَانِهِ، مُتَحَفِّظًا مِنْ سُلْطَانِهِ، سَاعِيًا فِي خَلَاصِ نَفْسِهِ، وَنَجَاةِ مُهْجَتِهِ، مُقَدِّمًا بَيْنَ يَدَيْهِ مَا يَقْدِرُ عَلَيْهِ مِنْ عَرَضِ دُنْيَاهُ، مُجَاهِدًا لِنَفْسِهِ فِي ذَلِكَ مَا اسْتَطَاعَ. وَيَنْبَغِي لَهُ أَنْ يكون أهم أموره عنده الْوَرَعِ فِي دِينِهِ، وَاسْتِعْمَالُ تَقْوَى اللَّهِ وَمُرَاقَبَتِهِ فيما أمره به ونهاه عنه.
(1). آية 94 سورة الشعراء. [ ..... ]
তোমার বিনিময়—আজ তোমার কোনো অংশ নেই; অতএব হে প্রতারক, তুমি যার জন্য কাজ করতে তার নিকটই তোমার প্রতিদান তালাশ করো। আলকামা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন তোমাদেরকে এমন এক ফিতনা আচ্ছন্ন করবে যাতে ছোটরা বড় হবে এবং বৃদ্ধরা জরাজীর্ণ হবে, আর তাকে একটি উদ্ভাবিত সুন্নাত হিসেবে গ্রহণ করা হবে যা মানুষ অনুসরণ করবে। যখন এর থেকে কিছু পরিবর্তন করা হবে, তখন বলা হবে: 'সুন্নাত পরিবর্তন করা হয়েছে।' জিজ্ঞেস করা হলো: হে আবু আব্দুর রহমান! তা কখন হবে? তিনি বললেন: যখন তোমাদের ক্বারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু ফকীহদের সংখ্যা কমে যাবে; তোমাদের নেতাদের সংখ্যা বাড়বে কিন্তু বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা কমে যাবে; পরকালের আমল দিয়ে দুনিয়া অন্বেষণ করা হবে এবং দ্বীন ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করা হবে। সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ বলেন: ইবনে আব্বাস থেকে আমাদের নিকট পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন: যদি কুরআন বহনকারীরা তা যথাযথ হক ও গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করত, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাদের ভালোবাসতেন। কিন্তু তারা এর মাধ্যমে দুনিয়া তালাশ করেছে, ফলে আল্লাহ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং মানুষের নিকট তারা তুচ্ছ গণ্য হয়েছে। আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী থেকে মহান আল্লাহর বাণী—"অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে তাতে (জাহান্নামে) উপুড় করে ফেলে দেওয়া হবে"—সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: তারা এমন এক কওম যারা তাদের জিহ্বা দিয়ে সত্য ও ন্যায়ের বর্ণনা দিত, কিন্তু কাজকর্মে তার উল্টোটা করত। ইনশাআল্লাহ কিতাবের পরবর্তী অংশে এই অধ্যায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

 

‌‌অধ্যায়: কুরআনের সঙ্গীর জন্য যা অবলম্বন করা আবশ্যক এবং যা থেকে তার গাফেল হওয়া অনুচিত

এর মধ্যে প্রথমটি হলো, আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি সেভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইখলাস বা একনিষ্ঠতা অবলম্বন করা। আর দিন-রাত, সালাতের ভেতরে ও বাইরে কুরআন তিলাওয়াতে নিজেকে নিয়োজিত রাখা যাতে সে তা ভুলে না যায়। ইমাম মুসলিম ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কুরআন ধারণকারীর উদাহরণ হলো রশি দিয়ে বাঁধা উটের মালিকের মতো। যদি সে তার দেখাশোনা করে তবে সে তাকে আটকে রাখতে পারে, আর যদি সে তাকে ছেড়ে দেয় তবে সে চলে যায়।" যখন কুরআনের সঙ্গী রাত-দিন তা তিলাওয়াত করে, তখন তার তা মনে থাকে; আর যখন সে তা দ্বারা কিয়াম (সালাত বা তিলাওয়াত) করে না, তখন সে তা ভুলে যায়। তার উচিত আল্লাহর প্রশংসাকারী, তাঁর নিআমতের কৃতজ্ঞতা আদায়কারী, তাঁকে স্মরণকারী, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুলকারী, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনাকারী, তাঁর প্রতি অনুরাগী, তাঁর রজ্জুকে ধারণকারী এবং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা। তার উচিত নিজের পাপের ব্যাপারে ভীত থাকা এবং রবের ক্ষমার ব্যাপারে আশাবাদী হওয়া। সুস্থ অবস্থায় ভয় যেন তার ওপর প্রবল থাকে, কারণ সে জানে না তার শেষ পরিণতি কী হবে; আর মৃত্যু উপস্থিত হলে আল্লাহর প্রতি সুধারণার কারণে আশা যেন তার মনে অধিক শক্তিশালী হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা ছাড়া মৃত্যুবরণ না করে।" অর্থাৎ আল্লাহ তাকে রহম করবেন এবং ক্ষমা করবেন। তার উচিত নিজ জামানার মানুষ সম্পর্কে অবগত থাকা, ক্ষমতার অধিকারী থেকে সতর্ক থাকা, নিজের মুক্তি ও প্রাণের নাজাতের চেষ্টায় রত থাকা, দুনিয়াবি সহায়-সম্পদ থেকে যা সম্ভব (পরকালের পাথেয় হিসেবে) অগ্রিম পাঠিয়ে দেওয়া এবং এ ব্যাপারে সাধ্যমতো নফসের সাথে জিহাদ করা। তার নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত দ্বীনের ক্ষেত্রে পরহেযগারী (ওয়ারা), আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন এবং তাঁর নির্দেশিত ও নিষিদ্ধ বিষয়গুলোতে তাঁর নজরদারির (মুরাকাবা) কথা স্মরণে রাখা।
(১). সূরা আশ-শুয়ারা, আয়াত ৯৪। [ ..... ]
(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٢١)
وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: يَنْبَغِي لِقَارِئِ الْقُرْآنِ أَنْ يُعْرَفَ بِلَيْلِهِ إِذَا النَّاسُ نَائِمُونَ، وَبِنَهَارِهِ إِذَا الناس مستيقضون، وببكائه إذ النَّاسُ يَضْحَكُونَ، وَبِصَمْتِهِ إِذَا النَّاسُ يَخُوضُونَ، وَبِخُضُوعِهِ إِذَا النَّاسُ يَخْتَالُونَ، وَبِحُزْنِهِ إِذَا النَّاسُ يَفْرَحُونَ. وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو: لَا يَنْبَغِي لِحَامِلِ الْقُرْآنِ أَنْ يَخُوضَ مَعَ مَنْ يَخُوضُ، وَلَا يَجْهَلُ مَعَ مَنْ يَجْهَلُ، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَصْفَحُ لِحَقِّ الْقُرْآنِ، لِأَنَّ فِي جَوْفِهِ كَلَامَ اللَّهِ تَعَالَى. وَيَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَأْخُذَ نَفْسَهُ بِالتَّصَاوُنِ عَنْ طُرُقِ الشُّبُهَاتِ، وَيُقِلَّ الضَّحِكَ وَالْكَلَامَ فِي مَجَالِسِ الْقُرْآنِ وَغَيْرِهَا بِمَا لَا فَائِدَةَ فِيهِ، وَيَأْخُذَ نَفْسَهُ بِالْحِلْمِ وَالْوَقَارِ. وَيَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَتَوَاضَعَ لِلْفُقَرَاءِ، وَيَتَجَنَّبَ التَّكَبُّرَ وَالْإِعْجَابَ، وَيَتَجَافَى عَنِ الدُّنْيَا وَأَبْنَائِهَا إِنْ خَافَ عَلَى نَفْسِهِ الْفِتْنَةَ، وَيَتْرُكَ الْجِدَالَ وَالْمِرَاءَ، وَيَأْخُذَ نَفْسَهُ بِالرِّفْقِ والأدب. وينبغي له أن يكون ممن يؤن شَرُّهُ، وَيُرْجَى خَيْرُهُ وَيُسْلَمُ مِنْ ضَرِّهِ، وَأَلَّا يَسْمَعَ مِمَّنْ نَمَّ عِنْدَهُ، وَيُصَاحِبَ مَنْ يُعَاوِنُهُ عَلَى الْخَيْرِ وَيَدُلُّهُ عَلَى الصِّدْقِ وَمَكَارِمِ الْأَخْلَاقِ وَيُزَيِّنُهُ وَلَا يَشِينُهُ، وَيَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَتَعَلَّمَ أَحْكَامَ الْقُرْآنِ، فَيَفْهَمَ عَنِ اللَّهِ مُرَادَهُ وَمَا فَرَضَ عَلَيْهِ، فَيَنْتَفِعَ بِمَا يَقْرَأُ وَيَعْمَلَ بِمَا يَتْلُو، فَكَيْفَ يَعْمَلُ بِمَا لَا يَفْهَمُ مَعْنَاهُ، وَمَا أَقْبَحَ أَنْ يُسْأَلَ عَنْ فِقْهِ مَا يَتْلُوهُ وَلَا يَدْرِيهِ، فَمَا مَثَلُ مَنْ هَذِهِ حَالَتُهُ إِلَّا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا. وَيَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَعْرِفَ الْمَكِّيَّ مِنَ الْمَدَنِيِّ لِيُفَرِّقَ بِذَلِكَ بَيْنَ مَا خَاطَبَ اللَّهُ بِهِ عِبَادَهُ فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ، وَمَا نَدَبَهُمْ إِلَيْهِ فِي آخِرِ الْإِسْلَامِ، وَمَا افْتَرَضَ اللَّهُ فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ، وَمَا زَادَ عَلَيْهِ مِنَ الْفَرَائِضِ فِي آخِرِهِ. فَالْمَدَنِيُّ هُوَ النَّاسِخُ لِلْمَكِّيِّ فِي أَكْثَرِ الْقُرْآنِ، وَلَا يُمْكِنُ أَنْ يَنْسَخَ الْمَكِّيُّ الْمَدَنِيَّ، لِأَنَّ الْمَنْسُوخَ هُوَ الْمُتَقَدِّمُ فِي النُّزُولِ قَبْلَ النَّاسِخِ لَهُ. وَمِنْ كَمَالِهِ أَنْ يَعْرِفَ الْإِعْرَابَ وَالْغَرِيبَ، فَذَلِكَ مِمَّا يُسَهِّلُ عَلَيْهِ مَعْرِفَةَ مَا يَقْرَأُ، وَيُزِيلُ عَنْهُ الشَّكَّ فِيمَا يَتْلُو. وَقَدْ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ الطَّبَرِيُّ سَمِعْتُ الْجَرْمِيَّ يَقُولُ: أَنَا مُنْذُ ثَلَاثِينَ سَنَةً أُفْتِي النَّاسَ فِي الْفِقْهِ مِنْ كِتَابِ سِيبَوَيْهِ. قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ: وَذَلِكَ أَنَّ أَبَا عُمَرَ الْجَرْمِيَّ كَانَ صَاحِبَ حَدِيثٍ، فَلَمَّا عَلِمَ كِتَابَ سِيبَوَيْهِ تَفَقَّهَ فِي الْحَدِيثِ، إِذْ كَانَ كِتَابُ سِيبَوَيْهِ يُتَعَلَّمُ منه النظر والتفسير. ثم فِي السُّنَنِ الْمَأْثُورَةِ الثَّابِتَةِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم،

ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: কুরআন পাঠকারীর জন্য উচিত হলো তার রাত দ্বারা পরিচিত হওয়া যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তার দিন দ্বারা যখন মানুষ জাগ্রত থাকে, তার রোনাজারি দ্বারা যখন মানুষ হাসাহাসি করে, তার নীরবতা দ্বারা যখন মানুষ অসার আলোচনায় লিপ্ত হয়, তার বিনয় দ্বারা যখন মানুষ অহংকার প্রদর্শন করে এবং তার বিষণ্ণতা দ্বারা যখন মানুষ (অসার বিষয় নিয়ে) আনন্দিত হয়। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন: কুরআনের ধারকের জন্য সমীচীন নয় যে, সে অসার আলোচনায় লিপ্ত ব্যক্তিদের সাথে তাতে লিপ্ত হবে, কিংবা অজ্ঞদের ন্যায় আচরণ করবে; বরং কুরআনের মর্যাদার খাতিরে সে ক্ষমা ও মার্জনা করবে, কেননা তার বক্ষস্থলে মহান আল্লাহর বাণী নিহিত রয়েছে। এবং তার জন্য উচিত হলো নিজেকে সন্দেহপূর্ণ বিষয়াদি থেকে রক্ষা করা এবং কুরআনের মজলিসে ও অন্যান্য স্থানে অনর্থক হাসি ও নিরর্থক কথাবার্তা কমিয়ে দেওয়া এবং সহিষ্ণুতা ও গাম্ভীর্য অবলম্বন করা। তার জন্য কর্তব্য হলো দরিদ্রদের প্রতি বিনয়ী হওয়া, অহংকার ও আত্মমুগ্ধতা পরিহার করা এবং নিজের ওপর ফিতনার আশঙ্কা থাকলে দুনিয়া ও দুনিয়াদারদের থেকে বিমুখ থাকা। ঝগড়া-বিবাদ ও বাকবিতণ্ডা বর্জন করা এবং নম্রতা ও শিষ্টাচার অবলম্বন করাও তার জন্য আবশ্যক। তার হওয়া উচিত এমন ব্যক্তি যার অনিষ্ট থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে, যার কল্যাণের আশা করা যায় এবং যার ক্ষতি থেকে মানুষ রক্ষা পায়। তার সামনে কেউ চোগলখুরি করলে সে যেন তা কর্ণপাত না করে এবং সে যেন এমন সঙ্গীর সাহচর্য গ্রহণ করে যে তাকে কল্যাণের কাজে সহায়তা করবে, সত্য ও মহৎ চরিত্রের পথ দেখাবে, তাকে অলংকৃত করবে এবং কলঙ্কিত করবে না। তার জন্য বাঞ্ছনীয় হলো কুরআনের বিধানাবলী শিক্ষা করা, যাতে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর উদ্দেশ্য এবং তার ওপর অর্পিত ফরজসমূহ বুঝতে পারে; ফলে সে যা পাঠ করে তা থেকে উপকৃত হতে পারবে এবং যা তিলাওয়াত করে তদনুযায়ী আমল করতে পারবে। কেননা যার অর্থ সে বোঝে না, সে অনুযায়ী আমল করবে কীভাবে? আর এটা কতই না কুৎসিত যে, তাকে তার পঠিত বিষয়ের সম্যক জ্ঞান (ফিকহ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে অথচ সে তা জানবে না! এই অবস্থায় তার দৃষ্টান্ত কেবল সেই গাধার ন্যায় যে কিতাব বহন করে। তার জন্য কর্তব্য হলো মক্কি ও মাদানি আয়াত সম্পর্কে জ্ঞান রাখা, যাতে সে এর মাধ্যমে ইসলামের সূচনালগ্নে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যা সম্বোধন করেছেন এবং ইসলামের শেষ পর্যায়ে তাদের যে বিষয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন, তার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে; এবং ইসলামের শুরুতে আল্লাহ যা ফরজ করেছিলেন এবং শেষে এর সাথে আরও যা ফরজ বৃদ্ধি করেছেন তা জানতে পারে। কেননা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কুরআনের মাদানি অংশগুলো মক্কি অংশের রহিতকারী (নাসিখ), আর মক্কি অংশ মাদানিকে রহিত করা সম্ভব নয়, কারণ মানসুখ (রহিত হওয়া আয়াত) সাধারণত নাসিখের পূর্বে অবতীর্ণ হয়। তার পূর্ণতা অর্জনের অন্যতম দিক হলো ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ই’রাব) ও বিরল শব্দাবলি (গারিব) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা, যা তার পঠিত বিষয়ের মর্মার্থ অনুধাবন সহজ করে দেয় এবং তিলাওয়াতকৃত বিষয়ে তার সন্দেহ দূর করে। আবু জাফর তবারি বলেন, আমি জারমিকে বলতে শুনেছি: আমি ত্রিশ বছর যাবত সিবওয়াইহ-এর কিতাব থেকে মানুষকে ফিকহ বিষয়ে ফতোয়া দিচ্ছি। মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ বলেন: এর কারণ হলো আবু উমর জারমি ছিলেন একজন হাদিস বিশারদ; যখন তিনি সিবওয়াইহ-এর কিতাব আয়ত্ত করলেন, তখন তিনি হাদিসের মর্মার্থ অনুধাবনে পারদর্শী হয়ে উঠলেন, যেহেতু সিবওয়াইহ-এর কিতাব থেকে বিচার-বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা-পদ্ধতি শিক্ষা করা যায়। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত সুন্নাহসমূহের জ্ঞান অর্জন করা...

(খণ্ড: ١) তাফসীরুল কুরতুবী = আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
فيما يصل إِلَى مُرَادِ اللَّهِ عز وجل فِي كِتَابِهِ وَهِيَ تَفْتَحُ لَهُ أَحْكَامَ الْقُرْآنِ فَتْحًا، وَقَدْ قَالَ الضَّحَّاكُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى:" وَلكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِما كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتابَ «1» ". قَالَ: حَقٌّ عَلَى كُلِّ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ أن يكون فقيها. وذكر ابن أبي الجوزي قَالَ: أَتَيْنَا فُضَيْلَ بْنَ عِيَاضٍ سَنَةَ خَمْسٍ وَثَمَانِينَ وَمِائَةٍ وَنَحْنُ جَمَاعَةٌ، فَوَقَفْنَا عَلَى الْبَابِ فَلَمْ يَأْذَنْ لَنَا بِالدُّخُولِ، فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ: إِنْ كَانَ خَارِجًا لِشَيْءٍ فَسَيَخْرُجُ لِتِلَاوَةِ الْقُرْآنِ، فَأَمَرْنَا قَارِئًا فَقَرَأَ فَاطَّلَعَ عَلَيْنَا مِنْ كُوَّةٍ، فَقُلْنَا: السَّلَامُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، فَقَالَ وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ، فَقُلْنَا: كَيْفَ أَنَتَ يَا أَبَا عَلِيٍّ، وَكَيْفَ حَالُكَ؟ فَقَالَ: أَنَا مِنَ اللَّهِ فِي عَافِيَةٍ وَمِنْكُمْ فِي أَذًى، وَإِنَّ مَا أَنْتُمْ فيه حديث فِي الْإِسْلَامِ، فَإِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ! مَا هَكَذَا كُنَّا نَطْلُبُ الْعِلْمَ، وَلَكِنَّا كُنَّا نَأْتِي الْمَشْيَخَةَ فَلَا نَرَى أَنْفُسَنَا أَهْلًا لِلْجُلُوسِ مَعَهُمْ، فَنَجْلِسُ دُونَهُمْ وَنَسْتَرِقُ السَّمْعَ، فَإِذَا مَرَّ الْحَدِيثُ سَأَلْنَاهُمْ إِعَادَتَهُ وَقَيَّدْنَاهُ، وَأَنْتُمْ تَطْلُبُونَ الْعِلْمَ بِالْجَهْلِ، وَقَدْ ضَيَّعْتُمْ كِتَابَ اللَّهِ، وَلَوْ طَلَبْتُمْ كِتَابَ اللَّهِ لَوَجَدْتُمْ فِيهِ شِفَاءً لِمَا تُرِيدُونَ، قَالَ: قُلْنَا قَدْ تَعَلَّمْنَا الْقُرْآنَ، قَالَ: إِنَّ فِي تَعَلُّمِكُمُ الْقُرْآنَ شُغْلًا لِأَعْمَارِكُمْ وَأَعْمَارِ أَوْلَادِكُمْ، قُلْنَا: كَيْفَ يَا أَبَا عَلِيٍّ؟ قَالَ: لَنْ تعلموا القرآن حتى تعرف. اإعرابه، ومحكمه من متشابهه، وناسخه من منسوخه، إذا عَرَفْتُمْ ذَلِكَ اسْتَغْنَيْتُمْ عَنْ كَلَامِ فُضَيْلٍ وَابْنِ عُيَيْنَةَ،، ثُمَّ قَالَ: أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ" يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفاءٌ لِما فِي الصُّدُورِ وَهُدىً وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ. قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ «2» ". قُلْتُ: فَإِذَا حَصَلَتْ هَذِهِ الْمَرَاتِبُ لِقَارِئِ الْقُرْآنِ كَانَ مَاهِرًا بِالْقُرْآنِ، وَعَالِمًا بِالْفُرْقَانِ، وَهُوَ قَرِيبٌ عَلَى مَنْ قَرَّبَهُ عَلَيْهِ، وَلَا يَنْتَفِعُ بِشَيْءٍ مِمَّا ذَكَرْنَا حَتَّى يُخْلِصَ النِّيَّةَ فِيهِ لِلَّهِ جَلَّ ذِكْرُهُ عِنْدَ طَلَبِهِ أَوْ بَعْدَ طَلَبِهِ كَمَا تَقَدَّمَ. فَقَدْ يَبْتَدِئُ الطَّالِبُ لِلْعِلْمِ يُرِيدُ بِهِ الْمُبَاهَاةَ وَالشَّرَفَ فِي الدُّنْيَا، فَلَا يَزَالُ بِهِ فَهْمُ الْعِلْمِ حَتَّى يَتَبَيَّنَ أَنَّهُ عَلَى خَطَأٍ فِي اعْتِقَادِهِ فَيَتُوبَ مِنْ ذَلِكَ وَيُخْلِصَ النِّيَّةَ

لِلَّهِ تَعَالَى فَيَنْتَفِعَ بِذَلِكَ وَيَحْسُنَ حَالُهُ. قَالَ الْحَسَنُ: كُنَّا نَطْلُبُ الْعِلْمَ لِلدُّنْيَا فَجَرَّنَا إلى الآخرة. وقاله سفيان الثوري. وقال بْنُ أَبِي ثَابِتٍ: طَلَبْنَا هَذَا الْأَمْرَ وَلَيْسَ لَنَا فِيهِ نِيَّةٌ ثُمَّ جَاءَتِ النِّيَّةُ بَعْدُ.
(1). آية 79 سورة آل عمران.

(2). ايتا 57، 58 سورة يونس.
যা মহান আল্লাহর কিতাবের উদ্দেশ্য উপলব্ধিতে সহায়তা করে এবং তার নিকট কুরআনের বিধানসমূহকে সুস্পষ্টভাবে উন্মোচিত করে। আল্লাহ তাআলার বাণী: "বরং তোমরা রব্বানী হও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে..."—এই আয়াতের ব্যাখ্যায় দাহহাক (রহ.) বলেছেন: যে ব্যক্তিই কুরআন শিক্ষা করে, তার জন্য ফকীহ (সুক্ষ্মদর্শী প্রাজ্ঞ) হওয়া আবশ্যক। ইবন আবিল জাওযী উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমরা একশ পঁচাশি হিজরি সালে একদল লোক ফুযাইল ইবন ইয়াযের নিকট আসলাম। আমরা দরজায় দাঁড়ালাম কিন্তু তিনি আমাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিলেন না। তখন দলের কেউ কেউ বলল: তিনি যদি কোনো কারণে বাইরে আসেন, তবে তা কুরআন তিলাওয়াতের জন্যই হবে। অতঃপর আমরা একজন কারীকে (কুরআন পাঠ করতে) নির্দেশ দিলাম। সে পাঠ করলে তিনি একটি গবাক্ষ (ছোট জানালা) দিয়ে আমাদের দিকে তাকালেন। আমরা বললাম: আপনার ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তিনি বললেন: তোমাদের ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক। আমরা বললাম: হে আবু আলী, আপনি কেমন আছেন? আপনার অবস্থা কী? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তিতে আছি আর তোমাদের পক্ষ থেকে কষ্টে আছি। তোমরা যা করছ তা ইসলামে এক নতুন প্রথা! আমরা তো আল্লাহরই এবং তাঁর কাছেই আমাদের প্রত্যাবর্তন! আমরা এভাবে ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণ করতাম না। বরং আমরা মাশায়েখদের (শিক্ষকগণের) নিকট আসতাম, তখন নিজেদের তাঁদের সাথে বসার যোগ্য মনে করতাম না; তাই তাঁদের থেকে কিছুটা দূরে বসতাম এবং কান পেতে মনোযোগ দিয়ে কথা শুনতাম। যখন কোনো হাদীস বর্ণিত হতো, আমরা তাঁদের কাছে তা পুনরায় বলার অনুরোধ করতাম এবং তা লিখে রাখতাম। আর তোমরা অজ্ঞতার সাথে ইলম অন্বেষণ করছ; তোমরা আল্লাহর কিতাবকে অবজ্ঞা করেছ। যদি তোমরা আল্লাহর কিতাব অন্বেষণ করতে, তবে তাতে তোমাদের কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের আরোগ্য খুঁজে পেতে। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা বললাম, আমরা তো কুরআন শিখেছি। তিনি বললেন: তোমাদের কুরআন শিক্ষার মধ্যেই তোমাদের এবং তোমাদের সন্তানদের জীবন অতিবাহিত করার মতো যথেষ্ট রসদ রয়েছে। আমরা বললাম: তা কীভাবে, হে আবু আলী? তিনি বললেন: তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কুরআন শিখবে না যতক্ষণ না এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (ই’রাব), এর মুহকাম (সুস্পষ্ট) ও মুতাশাবিহ (রূপক) এবং নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) আয়াতসমূহ চিনতে পারবে। যখন তোমরা এগুলো জানবে, তখন ফুযাইল ও ইবন উয়াইনার কথার আর প্রয়োজন হবে না। অতঃপর তিনি বললেন: আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাতা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। "হে মানবজাতি! তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এসেছে উপদেশ এবং অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য, আর মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত। বল, এটি আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়; সুতরাং এতেই তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত। তারা যা সঞ্চয় করে, এটি তার চেয়ে উত্তম।" আমি (গ্রন্থকার) বলি: যখন কুরআন পাঠকের মাঝে এই স্তরগুলো অর্জিত হবে, তখন সে কুরআনে দক্ষ এবং ফুরকানের (সত্য-মিথ্যা পার্থক্যকারী কিতাব) আলিম বলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি একে আপন করে নেয়, এটিও তার নিকটবর্তী হয়। তবে আমরা যা উল্লেখ করেছি, তার কোনো কিছুই উপকারে আসবে না যতক্ষণ না সে ইলম অন্বেষণকালে বা তার পরে আল্লাহর জন্য নিয়তকে খাঁটি করবে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। কখনও কোনো ইলম অন্বেষণকারী হয়তো দুনিয়াতে গর্ব ও আভিজাত্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে শুরু করে, কিন্তু ইলম উপলব্ধি করতে করতে তার নিকট স্পষ্ট হয়ে যায় যে সে তার বিশ্বাসে ভুলের ওপর রয়েছে, তখন সে তা থেকে তাওবা করে এবং আল্লাহর জন্য নিয়তকে খাঁটি করে। ফলে সে এর দ্বারা উপকৃত হয় এবং তার অবস্থা সুন্দর হয়ে যায়। হাসান (বসরী) বলেন: আমরা দুনিয়ার উদ্দেশ্যে ইলম অন্বেষণ করেছিলাম, কিন্তু তা আমাদের আখিরাতের দিকে নিয়ে গেল। সুফিয়ান সাওরীও অনুরূপ বলেছেন। ইবন আবি সাবিত বলেন: আমরা এই ইলম অন্বেষণ করেছি যখন আমাদের কোনো (সঠিক) নিয়ত ছিল না, অতঃপর পরবর্তীতে নিয়ত (ইখলাস) এসেছে।


(১). সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৭৯।

(২). সূরা ইউনুস, আয়াত ৫৭, ৫৮।