(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: -)
كتاب الرؤيا   (حمود بن عبد الله التويجري)

القسم: الفقه العام


الكتاب: كتاب الرؤيا

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)

الناشر: دار اللواء

الطبعة: الأولى، 1412هـ

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 197

تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو القعدة 1432

কিতাবুর রুইয়া   (হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুয়াইজিরী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: কিতাবুর রুইয়া

লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুয়াইজিরী (মৃত্যু ১৪১৩ হি.)

প্রকাশক: দারুল লিওয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হি.

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৭

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ যিলকদ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: -)
ـ[كتاب الرؤيا]ـ

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (المتوفى: 1413هـ)

الناشر: دار اللواء

الطبعة: الأولى، 1412هـ

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
ـ[স্বপ্ন বিষয়ক গ্রন্থ]ـ

গ্রন্থকার: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আল-তুওয়াইজিরি (মৃত্যু: ১৪১৩ হিজরি)

প্রকাশক: দার আল-লিওয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি

[গ্রন্থটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ به من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا ومن نزغات الشيطان وتضليله، ومن تحزينه في النوم وتهويله.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، الذي جعل البشرى في الحياة الدنيا وفي الآخرة لأوليائه المؤمنين المتقين فقال تعالى: {أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ * الَّذِينَ آَمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ * لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآَخِرَةِ لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} [يونس: 62 - 64].

وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله خاتم الأنبياء والمرسلين، أرسله الله رحمة للعالمين، فبلَّغ الرسالة وأدَّى الأمانة ونصح الأمة ودلهَّم على كل خير، وحذَّرهم من كل شر، وتركهم على البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك، وكان مما أخبرهم به أنه لم يبقَ من مبشرات النبوة إلا الرؤيا الصالحة يراها المسلم أو تُرى له، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد، فقد جاء في الرؤيا أحاديث كثيرة عن النبي صلى الله عليه وسلم، بعضها في تعظيم شأن الرؤيا الصالحة، وبعضها في بيان أنواع الرؤيا وما ينبغي أن يفعله
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। (আশ্রয় চাই) শয়তানের কুমন্ত্রণা ও তার বিভ্রান্তি থেকে এবং ঘুমের মধ্যে তার দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করা ও ভয় দেখানো থেকে।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। যিনি তাঁর মুমিন ও মুত্তাকি বন্ধুদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে সুসংবাদ রেখেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {জেনে রেখো, আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে; তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়ার জীবনে ও আখেরাতে সুসংবাদ। আল্লাহর বাণীর কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই মহাসাফল্য।} [ইউনুস: ৬২ - ৬৪]।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, সর্বশেষ নবী ও রাসূল। আল্লাহ তাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছেন। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং তাদের সকল কল্যাণের পথ দেখিয়েছেন। আর তাদের সকল অনিষ্ট থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি তাদের এক স্বচ্ছ শ্বেতশুভ্র দ্বীনের ওপর রেখে গেছেন, যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল। ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না। তিনি তাদের যা জানিয়েছিলেন তার মধ্যে এটিও ছিল যে, নবুয়তের সুসংবাদবাহী বিষয়সমূহের মধ্যে কেবল সৎস্বপ্নই অবশিষ্ট রয়েছে, যা একজন মুসলিম নিজে দেখে অথবা তার জন্য অন্য কেউ দেখে। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর, স্বপ্ন সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যার কিছু সৎস্বপ্নের গুরুত্ব বর্ণনায়, আর কিছু স্বপ্নের প্রকারভেদ এবং স্বপ্নের ক্ষেত্রে যা করা উচিত সে বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ৬)
من رأى شيئًا منها، وبعضها في الآداب التي تتعلق بتأويل الرؤيا، وبعضها في ذكر الرؤيا الظاهرة التي لا تحتاج إلى تأويل، وبعضها في تأويل الرؤيا التي تحتاج إلى التأويل، وسأذكر من ذلك ما تيسر إن شاء الله تعالى، وأذكر ما جاء عن بعض الصحابة والتابعين في تأويل الرؤيا وما جاء عمن بعدهم ممن اشتهر بتأويل الرؤيا.

والذي دعاني إلى الكتابة في هذا الموضوع هو ما رأيته من تهاون الأكثرين بشأن الرؤيا سواء كانت صالحة أو غير صالحة، وما رأيته أيضًا من جهلهم بالآداب التي تتعلق بالرؤيا وتأويلها وما ينبغي ذكره من الرؤيا وما لا ينبغي ذكره، وقد رأيت كثيرًا من الناس يسارعون إلى السؤال عما يرونه في المنام من الرؤيا المكروهة وذلك لعدم علمهم بأنه لا يجوز ذكرها ولا السّؤال عنها لأنها من تهويل الشيطان وتحزينه وربما حملهم حب الاطلاع على ذكرها لبعض المتخرصين الذين لا علم لهم بآداب الرؤيا وتأويلها فيعبَّرونها لهم من الوجه المكروه فيحصل لهم الغم والحزن من تعبيرهم. وربما وقع بهم المكروه من الرؤيا لما سيأتي في حديث أبي رزين العقيلي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الرؤيا على رجل طائر ما لم تعبر فإذا عبرت وقعت». فليحذر العاقل من ذكر الرؤيا لكل أحد، وليحذر أيضًا أن يقص رؤياه على غير ذي رأي عالم بالتأويل. والأولى بالعاقل أن يكتم ما يراه في منامه من المكروه ولا يذكره لأحد من الناس ولو كان أقرب قريب إليه. وأما ما يراه من الحسن الذي يعجبه فإنه يذكره لمن يحبه كما سيأتي بيان ذلك في بعض الأحاديث الصحيحة. والله المسئول المرجو الإجابة أن يجعل عملي خالصًا لوجهه الكريم إنه خير مأمول وأكرم مسئول.

 

فصل

في تعظيم شأن الرؤيا الصالحة

وقد جاء في تعظيمها أحاديث كثيرة تزيد على الثلاثين:

الأول منها عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم -
যে ব্যক্তি এর মধ্য থেকে কিছু দেখেছে, এর কিছু অংশ স্বপ্নের ব্যাখ্যা (تأويل) সংশ্লিষ্ট আদবসমূহ সম্পর্কে, কিছু অংশ এমন প্রকাশ্য স্বপ্ন সম্পর্কে যার ব্যাখ্যার (تأويل) প্রয়োজন হয় না, এবং কিছু অংশ এমন স্বপ্নের ব্যাখ্যা (تأويل) সম্পর্কে যার জন্য ব্যাখ্যার (تأويل) প্রয়োজন হয়। আমি এর মধ্য থেকে যা সহজসাধ্য তা ইনশাআল্লাহ উল্লেখ করব এবং স্বপ্ন ব্যাখ্যার (تأويل) বিষয়ে কিছু সাহাবী (صحابة) ও তাবেয়ী (تابعين) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে এবং তাদের পরবর্তী যারা স্বপ্ন ব্যাখ্যার (تأويل) জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন তাদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাও উল্লেখ করব।

এই বিষয়ে আমার লেখার মূল কারণ হলো, অধিকাংশ মানুষের স্বপ্ন সম্পর্কে উদাসীনতা আমি লক্ষ্য করেছি, চাই তা নেক (صالح) স্বপ্ন হোক বা না হোক। এছাড়া স্বপ্নের আদব ও তার ব্যাখ্যা (تأويل), কোন স্বপ্ন বলা উচিত আর কোনটি উচিত নয়—সে সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতাও আমি দেখেছি। আমি অনেককে দেখেছি যে তারা ঘুমের মধ্যে দেখা অপ্রীতিকর (مكروه) স্বপ্ন সম্পর্কে দ্রুত জিজ্ঞেস করতে শুরু করে। এর কারণ হলো তাদের এই জ্ঞানের অভাব যে, এমন স্বপ্ন বর্ণনা করা বা সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা বৈধ নয়। কারণ এগুলো শয়তানের পক্ষ থেকে ভয় প্রদর্শন (تهويل) ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করার জন্য হয়ে থাকে। আর সম্ভবত জানার প্রবল আগ্রহ তাদের এমন কিছু মিথ্যাচারী বা অনুমানকারী (متخرصون) ব্যক্তিদের নিকট তা বর্ণনা করতে প্ররোচিত করে যাদের স্বপ্নের আদব ও ব্যাখ্যা (تأويل) সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই। ফলে তারা সেগুলোর অপ্রীতিকর (مكروه) দিক থেকে ব্যাখ্যা (تعبير) করে থাকে এবং তাদের সেই ব্যাখ্যার (تعبير) কারণে মানুষ দুঃখ ও দুশ্চিন্তায় পতিত হয়। আর সম্ভবত স্বপ্নের সেই অনিষ্ট তাদের ওপর আপতিত হয়, যেমনটি আবু রাজিন আল-উকাইলি (রা.)-এর হাদিসে সামনে আসবে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «স্বপ্ন যতক্ষণ ব্যাখ্যা (تعبير) করা না হয়, ততক্ষণ তা পাখির পায়ের ওপর (অস্থির অবস্থায়) থাকে। যখন তা ব্যাখ্যা (تعبير) করা হয়, তখন তা আপতিত হয়»। সুতরাং বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিত হবে না প্রত্যেকের কাছে স্বপ্নের কথা বলা। এছাড়া ব্যাখ্যা (تأويل) সম্পর্কে অভিজ্ঞ নয় এমন ব্যক্তির কাছে স্বপ্ন বর্ণনা করা থেকেও সতর্ক থাকা উচিত। বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য উত্তম হলো ঘুমের মধ্যে দেখা অপ্রীতিকর (مكروه) স্বপ্ন গোপন রাখা এবং কারো কাছে তা প্রকাশ না করা, এমনকি সে যদি তার নিকটাত্মীয়ও হয়। আর যা কিছু সে ভালো দেখে যা তাকে আনন্দ দেয়, তা সে তাকেই বলবে যাকে সে ভালোবাসে; যেমনটি সামনে কিছু সহিহ (صحيح) হাদিসের বর্ণনায় স্পষ্ট হবে। আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা ও উত্তর প্রত্যাশা করি যে, তিনি যেন আমার এই আমলকে শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রত্যাশার স্থল এবং মহান দাতা।

 

পরিচ্ছেদ

নেক (صالح) স্বপ্নের গুরুত্ব বর্ণনায়

এর গুরুত্ব সম্পর্কে ত্রিশটিরও অধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে:

প্রথমটি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি -
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ৭)
يقول: «لم يبق من النبوة إلا المبشرات»، قالوا: وما المبشرات؟ قال: «الرؤيا الصالحة» رواه البخاري. وقد رواه مالك في الموطأ مختصرًا ولفظه: «ليس يبقى بعدي من النبوة إلا الرؤيا الصالحة» ورواه أحمد وأبو داود وابن حبان في "صحيحه" والحاكم في "مستدركه" كلهم من طريق مالك وصححه الحاكم والذهبي.

الحديث الثاني: روى مالك في الموطأ عن زيد بن أسلم عن عطاء بن يسار أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لن يبقى بعدي من النبوة إلا المبشرات» فقالوا: وما المبشرات يا رسول الله؟ قال: «الرؤيا الصالحة يراها الرجل الصالح أو تُرى له» «جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة» وهذا مرسل صحيح الإسناد، ويشهد له حديث أبي هريرة المذكور قبله وما سيأتي بعده من الأحاديث الصحيحة.

الحديث الثالث: عن ابن عباس رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أيها الناس إنه لم يبقَ من مبشرات النبوة إلا الرؤيا الصالحة يراها المسلم أو تُرى له» رواه الإمام أحمد ومسلم وأبو داود والنسائي وابن ماجه وابن حبان في "صحيحه" والبيهقي في "سننه".

الحديث الرابع: عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الرسالة والنبوة قد انقطعت فلا رسول بعدي ولا نبي»، قال: فشق ذلك على الناس فقال: «ولكن المبشرات»، قالوا: يا رسول الله وما المبشرات؟ قال: «رؤيا الرجل المسلم وهي جزء من أجزاء النبوة» رواه الإمام أحمد والترمذي والحاكم؛ وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح غريب. وقال الحاكم: صحيح الإسناد على شرط مسلم ووافقه الذهبي في تلخيصه. وقال الترمذي: وفي الباب عن أبي هريرة وحذيفة بن أسيد وابن عباس وأم كرز وأبي أسيد.

الحديث الخامس: عن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا يبقى بعدي من النبوة شيء إلا المبشرات»، قالوا: يا رسول الله وما المبشرات؟ قال: «الرؤيا الصالحة يراها الرجل أو تُرى له» رواه الإمام أحمد
তিনি বলেন: «নবুয়তের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই সুসংবাদসমূহ (المبشرات) ব্যতীত», তারা জিজ্ঞেস করলেন: আর সুসংবাদসমূহ (المبشرات) কী? তিনি বললেন: «নেক স্বপ্ন», এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালেক মুওয়াত্তায় এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দাবলি হলো: «আমার পরে নবুয়তের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না নেক স্বপ্ন ব্যতীত», আর আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে এবং হাকেম তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন; তারা সবাই মালেকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম ও যাহাবি একে সহীহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।

দ্বিতীয় হাদিস: ইমাম মালেক মুওয়াত্তায় যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমার পরে নবুয়তের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না সুসংবাদসমূহ (المبشرات) ব্যতীত», তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সুসংবাদসমূহ (المبشرات) কী? তিনি বললেন: «নেক স্বপ্ন, যা একজন নেককার ব্যক্তি নিজে দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়», «এটি নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ» এবং এটি মুরসাল (مرسل) যার সনদ সহীহ (صحيح الإسناد); পূর্বে উল্লিখিত আবু হুরায়রার হাদিস এবং পরবর্তীতে আগত সহীহ (صحيح) হাদিসসমূহ এর সপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে।

তৃতীয় হাদিস: ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «হে লোকসকল! নবুয়তের সুসংবাদসমূহের (مبشرات) মধ্যে নেক স্বপ্ন ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, যা একজন মুসলিম নিজে দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়», এটি ইমাম আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে এবং বায়হাকি তার সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

চতুর্থ হাদিস: আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই রিসালাত ও নবুয়তের ধারা বন্ধ হয়ে গেছে, সুতরাং আমার পরে আর কোনো রাসূল নেই এবং কোনো নবীও নেই», তিনি বলেন: বিষয়টি মানুষের কাছে কঠিন মনে হলো, তখন তিনি বললেন: «তবে সুসংবাদসমূহ (المبشرات) থাকবে», তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সুসংবাদসমূহ (المبشرات) কী? তিনি বললেন: «মুসলিম ব্যক্তির স্বপ্ন, যা নবুয়তের অংশসমূহের একটি অংশ», এটি ইমাম আহমদ, তিরমিজি ও হাকেম বর্ণনা করেছেন; ইমাম তিরমিজি বলেন: এই হাদিসটি হাসান (حسن) সহীহ (صحيح) গরিব (غريب)। হাকেম বলেন: এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ সনদ (صحيح الإسناد) বিশিষ্ট এবং যাহাবি তার তালখিস গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন। তিরমিজি আরও বলেন: এই অনুচ্ছেদে আবু হুরায়রা, হুজাইফা ইবনে উসাইদ, ইবনে আব্বাস, উম্মু কারয এবং আবু উসাইদ থেকে (হাদিস বর্ণিত) রয়েছে।

পঞ্চম হাদিস: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমার পরে নবুয়তের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না সুসংবাদসমূহ (المبشرات) ব্যতীত», তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সুসংবাদসমূহ (المبشرات) কী? তিনি বললেন: «নেক স্বপ্ন, যা কোনো ব্যক্তি নিজে দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়», এটি ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ৮)
وابنه عبد الله بإسناد على شرط مسلم، وقد رواه البزار وقال فيه: قالوا: يا رسول الله وما المبشرات؟ قال: «الرؤيا الصالحة يراها الرجل الصالح أو تُرى له».

الحديث السادس: عن أبي الطفيل – عامر بن واثلة – رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا نبوة بعدي إلا المبشرات»، قال: قيل: وما المبشرات يا رسول الله؟ قال: «الرؤيا الحسنة»، أو قال: «الرؤيا الصالحة» رواه الإمام أحمد والطبراني. قال الهيثمي: ورجاله ثقات.

الحديث السابع: عن حذيفة بن أسيد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ذهبت النبوة فلا نبوة بعدي إلا المبشرات»، قيل: وما المبشرات؟ قال: «الرؤيا الصالحة يراها الرجل أو تُرى له» رواه الطبراني والبزار. قال الهيثمي: ورجال الطبراني ثقات.

الحديث الثامن: عن أم كرز الكعبية رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ذهبت النبوة وبقيت المبشرات» رواه الدارمي وابن ماجه وابن جرير وابن حبان في "صحيحه".

الحديث التاسع: عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن قوله تبارك وتعالى: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآَخِرَةِ} [يونس: 64]، قال: «هي الرؤيا الصالحة يراها المسلم أو تُرى له» رواه الإمام أحمد والدارمي والترمذي وابن ماجه وابن جرير والحاكم. قال الترمذي: هذا حديث حسن، وقال الحاكم: صحيح على شرط الشيخين ووافقه الذهبي في تلخيصه. وفي رواية لأحمد وابن جرير عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه أنه سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله أرأيت قول الله تبارك وتعالى: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآَخِرَةِ}، فقال: «لقد سألتني عن شيء ما سألني عنه أحد من أمتي أو أحد قبلك»، قال: «تلك الرؤيا الصالحة يراها الرجل الصالح أو تُرى له».
এবং তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ মুসলিমের শর্তানুযায়ী (شرط) একটি সূত্রের (إسناد) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। এটি আল-বাজার বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, সুসংবাদসমূহ কী? তিনি বললেন: "নেক স্বপ্ন, যা একজন নেককার ব্যক্তি নিজে দেখেন অথবা তাঁর জন্য দেখা হয়।"

ষষ্ঠ হাদিস: আবু তুফায়েল —আমের বিন ওয়াসিলা— (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার পরে সুসংবাদসমূহ ব্যতীত আর কোনো নবুওয়াত নেই।" তিনি বলেন, জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল, সুসংবাদসমূহ কী? তিনি বললেন: "উত্তম স্বপ্ন", অথবা বললেন: "নেক স্বপ্ন।" এটি ইমাম আহমাদ ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন। হাইসামি বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।

সপ্তম হাদিস: হুযায়ফা বিন আসিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নবুওয়াত চলে গেছে, সুতরাং আমার পরে সুসংবাদসমূহ ব্যতীত আর কোনো নবুওয়াত নেই।" জিজ্ঞাসা করা হলো: সুসংবাদসমূহ কী? তিনি বললেন: "নেক স্বপ্ন, যা একজন ব্যক্তি নিজে দেখেন অথবা তাঁর জন্য দেখা হয়।" এটি তাবারানি ও আল-বাজার বর্ণনা করেছেন। হাইসামি বলেছেন: তাবারানির বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।

অষ্টম হাদিস: উম্মে কুরয আল-কাবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নবুওয়াত চলে গেছে এবং সুসংবাদসমূহ অবশিষ্ট রয়েছে।" এটি দারেমি, ইবনে মাজাহ, ইবনে জারির এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

নবম হাদিস: উবাদাহ বিন সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম: {তাদের জন্য পার্থিব জীবনে ও পরকালে রয়েছে সুসংবাদ} [ইউনুস: ৬৪], তিনি বললেন: "তা হলো নেক স্বপ্ন, যা একজন মুসলিম দেখেন অথবা তাঁর জন্য দেখা হয়।" এটি ইমাম আহমাদ, দারেমি, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, ইবনে জারির এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেছেন: এটি হাসান (حسن) হাদিস। হাকেম বলেছেন: এটি শায়খায়নের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী (شرط) সহিহ (صحيح) এবং যাহাবি তাঁর তালখিস গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আর আহমাদ ও ইবনে জারিরের এক বর্ণনায় উবাদাহ বিন সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার এই বাণী সম্পর্কে আপনার কী অভিমত: {তাদের জন্য পার্থিব জীবনে ও পরকালে রয়েছে সুসংবাদ}, তখন তিনি বললেন: "তুমি আমাকে এমন এক বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ যা আমার উম্মতের কেউ অথবা তোমার পূর্বে অন্য কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করেনি।" তিনি বললেন: "তা হলো নেক স্বপ্ন, যা একজন নেককার ব্যক্তি নিজে দেখেন অথবা তাঁর জন্য দেখা হয়।"
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ৯)
الحديث العاشر: عن أبي الدرداء رضي الله عنه قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن هذه الآية: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآَخِرَةِ}، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «الرؤيا الصالحة يراها المؤمن أو تُرى له» رواه الإمام أحمد وابن أبي شيبة والترمذي وابن جرير والحاكم، وهذا لفظ ابن جرير في إحدى الروايات عنده ولأحمد نحوه في إحدى الروايات عنده. وقال الترمذي: هذا حديث حسن. زاد أحمد وابن جرير في إحدى الروايات عندهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «وبشراه في الآخرة الجنة» وقد جاءت هذه الزيادة في رواية ابن أبي شيبة مختصرة.

الحديث الحادي عشر: عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا}، قال: «الرؤيا الصالحة يبشرها المؤمن، هي جزء من تسعة وأربعين جزءًا من النبوة فمن رأى ذلك فليخبر بها ومن رأى سوى ذلك فإنما هو من الشيطان ليحزنه فلينفث عن يساره ثلاثًا وليسكت ولا يخبر بها أحدًا» رواه الإمام أحمد من طريق ابن لهيعة عن دراج ابن أبي السمح. قال الهيثمي: وحديثهما حسن وفيهما ضعف وبقية رجاله ثقات. وقد رواه ابن جرير بنحوه مختصرًا ولفظه قال: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} «الرؤيا الصالحة يبشر بها العبد جزء من تسعة وأربعين جزءًا من النبوة» وفي رواية قال: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} «الرؤيا الصالحة يبشر بها المؤمن جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة».

الحديث الثاني عشر: عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الرؤيا الحسنة هي البشرى يراها المسلم أو تُرى له» رواه ابن جرير وإسناده صحيح. وفي رواية له عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} «الرؤيا الصالحة يراها العبد الصالح أو تُرى له وهي في الآخرة الجنة». وفي رواية له قال أبو هريرة رضي الله عنه: «الرؤيا الحسنة بشرى من الله وهي المبشرات».

الحديث الثالث عشر: عن هشام – وهو ابن حسان – عن محمد – وهو ابن سيرين – عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا اقترب الزمان لم تكد رؤيا المسلم تكذب وأصدقهم رؤيا أصدقهم حديثًا ورؤيا
দশম হাদিস: আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি: {তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনে ও আখেরাতে সুসংবাদ রয়েছে}। নবী (সা.) বললেন: «এটি হলো সৎ স্বপ্ন যা মুমিন ব্যক্তি দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়»। এটি ইমাম আহমদ, ইবনে আবি শায়বাহ, তিরমিজি, ইবনে জারির এবং আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন। এটি ইবনে জারিরের নিকট বর্ণিত একটি বর্ণনার শব্দ এবং আহমদের নিকটও অনুরূপ একটি বর্ণনা রয়েছে। তিরমিজি বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস। আহমদ এবং ইবনে জারির তাদের একটি বর্ণনায় অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «আর আখেরাতে তার সুসংবাদ হলো জান্নাত»। ইবনে আবি শায়বাহর বর্ণনায় এই অতিরিক্ত অংশটি সংক্ষেপে এসেছে।

একাদশ হাদিস: আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি {তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনে সুসংবাদ রয়েছে} আয়াতটি সম্পর্কে বলেছেন: «এটি হলো সৎ স্বপ্ন যার মাধ্যমে মুমিন সুসংবাদ পায়, এটি নবুওয়তের উনপঞ্চাশ ভাগের এক ভাগ। সুতরাং যে ব্যক্তি তা দেখে সে যেন তা বর্ণনা করে, আর যে ব্যক্তি তা ছাড়া অন্য কিছু দেখে তা শয়তানের পক্ষ থেকে তাকে চিন্তিত করার জন্য; সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলে এবং চুপ থাকে ও কারো কাছে তা বর্ণনা না করে»। এটি ইমাম আহমদ, ইবনে লাহিয়া সূত্রে দাররাজ ইবনে আবি সামহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-হাইসামি বলেছেন: তাদের উভয়ের হাদিস হাসান (حسن), তবে তাদের মধ্যে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে এবং তাদের সূত্রের বাকি রাবিগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। ইবনে জারির এর অনুরূপ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং তার শব্দ হলো: {তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনে সুসংবাদ রয়েছে} «সৎ স্বপ্ন যার সুসংবাদ বান্দাকে দেওয়া হয়, তা নবুওয়তের উনপঞ্চাশ ভাগের এক ভাগ»। অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেছেন: {তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনে সুসংবাদ রয়েছে} «সৎ স্বপ্ন যার সুসংবাদ মুমিনকে দেওয়া হয়, তা নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ»।

দ্বাদশ হাদিস: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «উত্তম স্বপ্নই হলো সুসংবাদ যা মুসলিম ব্যক্তি দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়»। এটি ইবনে জারির বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহিহ (إسناده صحيح)। তার নিকট আবু হুরায়রা (রা.) থেকে নবী (সা.) সূত্রে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় আছে: {তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনে সুসংবাদ রয়েছে} «সৎ স্বপ্ন যা সৎ বান্দা দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়, আর আখেরাতে তা হলো জান্নাত»। তার আরেকটি বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: «উত্তম স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ এবং তা মুবাশশিরাত (সুসংবাদসমূহ) এর অন্তর্ভুক্ত»।

ত্রয়োদশ হাদিস: হিশাম—যিনি ইবনে হাসসান—মুহাম্মদ—যিনি ইবনে সিরিন—থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «যখন সময় ঘনিয়ে আসবে, তখন মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। আর তোমাদের মধ্যে যার কথা যত বেশি সত্য, তার স্বপ্নও তত বেশি সত্য হবে। আর স্বপ্ন...»
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ১০)
المسلم جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة»، قال: وقال: «الرؤيا ثلاث فالرؤيا الصالحة بشرى من الله عز وجل والرؤيا تحزين من الشيطان والرؤيا من الشيء يحدث به الإنسان نفسه فإذا رأى أحدكم ما يكره فلا يحدثه أحدًا وليقم فليصل»، قال: «وأحب القيد في النوم وأكره الغُلّ، القيد ثبات في الدين» رواه الإمام أحمد عن يزيد – وهو ابن هارون – عن هشام وإسناده صحيح على شرط الشيخين. وقد رواه مسلم وأبو داود والترمذي من طريق عبد الوهاب الثقفي عن أيوب السختياني عن محمد بن سيرين عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم بنحوه إلا أنه قد جاء في رواية مسلم: «ورؤيا المسلم جزء من خمس وأربعين جزءًا من النبوة» وليست هذه الجملة في رواية أبي داود. وجاء في رواية مسلم بعد قوله قال: «وأحب القيد وأكره الغُلّ والقيد ثبات في الدين» فلا أدري هو في الحديث أم قاله ابن سيرين، وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح.

ورواه الترمذي أيضًا من طريق قتادة عن محمد بن سيرين عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الرؤيا ثلاث فرؤيا حق ورؤيا يحدث بها الرجل نفسه ورؤيا تحزين من الشيطان فمن رأى ما يكره فليقم فليصلَّ»، وكان يقول: «يعجبني القيد وأكره الغُلّ، القيد ثبات في الدين»، وكان يقول: «من رآني فإني أنا هو فإنه ليس للشيطان أن يتمثل بي»، وكان يقول: «لا تقصّ الرؤيا إلا على عالم أو ناصح». قال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح.

قلت: ويستفاد منه أن ذكر القيد والغُلّ مرفوع إلى النبي صلى الله عليه وسلم.

ورواه ابن ماجه من طريق الأوزاعي عن ابن سيرين عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا قرب الزمان لم تكد رؤيا المؤمن تكذب وأصدقهم رؤيا أصدقهم حديثًا، ورؤيا المؤمن جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة» هكذا رواه مختصرًا وإسناده صحيح.

ورواه عبد الرزاق في "مصنفه" عن معمر عن أيوب عن ابن سيرين عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «في آخر الزمان لا تكاد رؤيا المؤمن تكذب وأصدقهم رؤيا أصدقهم حديثًا، والرؤيا ثلاث، الرؤيا الحسنة بشرى من الله، والرؤيا يحدث بها الرجل نفسه، والرؤيا تحزين من الشيطان
“একজন মুসলিমের স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।” তিনি বলেন: এবং তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বলেছেন: “স্বপ্ন তিন প্রকার: নেক স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, শয়তানের পক্ষ থেকে দুশ্চিন্তা উদ্রেককারী স্বপ্ন এবং এমন স্বপ্ন যা মানুষ মনে মনে ভাবে (মনের কল্পনা)। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তবে সে যেন তা কারো কাছে বর্ণনা না করে এবং সে যেন উঠে সালাত আদায় করে।” তিনি বলেন: “আমি স্বপ্নে শিকল (পায়ে বাঁধার বেড়ি) পছন্দ করি এবং গলার বেড়ি অপছন্দ করি; শিকল হলো দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা।” ইমাম আহমাদ এটি ইয়াজিদ—যিনি ইবনে হারুন—তাঁর থেকে, তিনি হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) শায়খাইনের শর্তানুযায়ী (على شرط الشيخين) সহিহ (صحيح)। মুসলিম, আবু দাউদ ও তিরমিজি এটি আব্দুল ওয়াহহাব আল-সাকাফীর সূত্রে আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এবং তিনি নবী ﷺ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে: “আর মুসলিমের স্বপ্ন নবুওয়াতের পঁয়তাল্লিশ ভাগের এক ভাগ”; এই বাক্যটি আবু দাউদের বর্ণনায় নেই। মুসলিমের বর্ণনায় তাঁর এই উক্তির পর এসেছে: “আমি শিকল পছন্দ করি এবং গলার বেড়ি অপছন্দ করি; আর শিকল হলো দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা” — (রাবী বলেন) আমি জানি না এটি হাদিসের অংশ নাকি ইবনে সিরিন এটি বলেছেন। আর তিরমিজি বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)।

তিরমিজি এটি কাতাদাহর সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “স্বপ্ন তিন প্রকার: সত্য স্বপ্ন, যা মানুষ নিজের সাথে মনে মনে কথা বলে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে দুশ্চিন্তা উদ্রেককারী স্বপ্ন। সুতরাং যে ব্যক্তি অপছন্দনীয় কিছু দেখে, সে যেন উঠে সালাত আদায় করে।” তিনি বলতেন: “শিকল আমার নিকট ভালো লাগে এবং গলার বেড়ি আমি অপছন্দ করি; শিকল হলো দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা।” তিনি বলতেন: “যে আমাকে দেখেছে, সে আমাকেই দেখেছে; কারণ শয়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না।” তিনি আরও বলতেন: “আলেম বা নাসেহ (শুভাকাঙ্ক্ষী) ব্যতীত অন্য কারো কাছে স্বপ্নের কথা বর্ণনা করো না।” তিরমিজি বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)।

আমি (লেখক) বলছি: এ থেকে বুঝা যায় যে, শিকল ও গলার বেড়ি-সংক্রান্ত আলোচনাটি নবী ﷺ পর্যন্ত মারফু (مرفوع) হিসেবে গণ্য।

ইবনে মাজাহ এটি আওজায়ির সূত্রে ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যখন সময় ঘনিয়ে আসবে তখন মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কথায় সবচেয়ে বেশি সত্যবাদী, তার স্বপ্নও সবচেয়ে বেশি সত্য হবে। আর মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।” এভাবেই তিনি এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)।

আব্দুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ-এ মা’মার থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এবং তিনি নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “শেষ জামানায় মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কথায় সবচেয়ে বেশি সত্যবাদী, তার স্বপ্নও সবচেয়ে বেশি সত্য হবে। আর স্বপ্ন তিন প্রকার: উত্তম স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, যা মানুষ মনে মনে ভাবে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে দুশ্চিন্তা উদ্রেককারী স্বপ্ন...
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ১১)
فإذا رأى أحدكم رؤيا يكرهها فلا يحدث بها أحدًا وليقم فليصل». قال أبو هريرة: يعجبني القيد وأكره الغُلّ، القيد ثبات في الدين، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «رؤيا المؤمن جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة» وقد رواه الإمام أحمد والترمذي والحاكم من طريق عبد الرزاق. وساق مسلم إسناده من طريق عبد الرزاق وذكر منه قول أبي هريرة: «يعجبني القيد وأكره الغُلّ والقيد ثبات في الدين»، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «رؤيا المؤمن جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة». وأما أول الحديث فقد اكتفى عن ذكره بما ذكره قبله من رواية عبد الوهاب الثقفي عن أيوب عن ابن سيرين عن أبي هريرة رضي الله عنه.

وقد رواه البخاري في «باب القيد في المنام» من طريق عوف -وهو الأعرابي- قال: حدثنا محمد بن سيرين أنه سمع أبا هريرة رضي الله عنه يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا اقترب الزمان لم تكد رؤيا المؤمن تكذب ورؤيا المؤمن جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة وما كان من النبوة فإنه لا يكذب». قال محمد: وأنا أقول هذه. قال: وكان يقال الرؤيا ثلاث: حديث النفس وتخويف الشيطان وبشرى من الله؛ فمن رأى شيئًا يكرهه فلا يقصه على أحد وليقم فليصلَّ، قال: وكان يُكره الغُلّ في النوم، وكان يعجبهم القيد، ويقال القيد ثبات في الدين. وروى قتادة ويونس وهشام وأبو هلال عن ابن سيرين عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم وأدرجه بعضهم كله في الحديث. وحديث عوف أبين. وقال يونس: لا أحسبه إلا عن النبي صلى الله عليه وسلم في القيد.

قلت: قد جاء ذكر الغُلّ والقيد مرفوعًا وموقوفًا في أحاديث صحيحة، فأما الرفع فإنه ظاهر من رواية هشام بن حسان عن ابن سيرين، وصريح في رواية قتادة عن ابن سيرين، وصريح أيضًا فيما رواه الدارمي عن محمد بن عبد الله الرقاشي عن يزيد بن زريع عن سعيد عن قتادة عن محمد بن سيرين عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يقول: «أكره الغُلّ وأحب القيد، القيد ثبات في الدين» إسناده صحيح على شرط الشيخين. وأما الوقف فإنه صريح في رواية أيوب عن ابن سيرين، وصريح أيضًا فيما رواه ابن أبي شيبة عن أبي أسامة عن هشام – وهو ابن حسان – عن محمد – وهو ابن
"সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন তা কারো কাছে বর্ণনা না করে এবং উঠে সালাত আদায় করে।" আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: "শিকল আমার কাছে পছন্দনীয় এবং আমি গলার জোয়াল অপছন্দ করি; শিকল হলো দ্বীনের ওপর অবিচলতা।" এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।" এটি ইমাম আহমাদ, তিরমিযী এবং হাকেম আবদুর রাজ্জাকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মুসলিম আবদুর রাজ্জাকের সূত্রে এর সনদ (إسناد) উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে আবু হুরায়রা (রা.)-এর এই উক্তিটিও বর্ণনা করেছেন: "শিকল আমার কাছে পছন্দনীয় এবং আমি জোয়াল অপছন্দ করি; শিকল হলো দ্বীনের ওপর অবিচলতা।" আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।" আর হাদিসের প্রথম অংশের ক্ষেত্রে তিনি এর আগে আব্দুল ওয়াহহাব সাকাফী কর্তৃক আইয়ুবের মাধ্যমে ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.)-এর যে বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন, তাতেই যথেষ্ট মনে করেছেন।

বুখারি এটি 'স্বপ্নে শিকল দেখা' অনুচ্ছেদে আউফের সূত্রে—যিনি আল-আরাবি নামে পরিচিত—বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন আমাদের বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন শেষ জামানা ঘনিয়ে আসবে, তখন মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ; আর যা নবুওয়তের অংশ তা মিথ্যা হতে পারে না।" মুহাম্মাদ বলেন: "আমিও এমনটি বলি।" তিনি (আবু হুরায়রা) বলেন: "বলা হতো স্বপ্ন তিন প্রকার—মনের খেয়াল, শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ।" সুতরাং যে ব্যক্তি স্বপ্নে এমন কিছু দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন তা কারো কাছে বর্ণনা না করে বরং উঠে সালাত আদায় করে। তিনি বলেন: "স্বপ্নে গলার জোয়াল দেখা অপছন্দ করা হতো এবং শিকল তাদের কাছে পছন্দনীয় ছিল; আর বলা হতো শিকল হলো দ্বীনের ওপর অবিচলতা।" কাতাদাহ, ইউনুস, হিশাম এবং আবু হিলাল ইবনে সিরীন থেকে আবু হুরায়রা (রা.)-এর মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং তাদের কেউ কেউ পুরো বিষয়টিকে হাদিসের অন্তর্ভুক্ত (مدرج) করে দিয়েছেন। আউফের হাদিসটি অধিকতর স্পষ্ট। ইউনুস বলেন: "শিকলের ব্যাপারে আমি একে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত ছাড়া অন্য কিছু মনে করি না।"

আমি বলি: সহিহ (صحيح) হাদিসগুলোতে মারফু (مرفوع) এবং মাওকুফ (موقوف) উভয়ভাবেই জোয়াল ও শিকলের উল্লেখ এসেছে। মারফু (مرفوع) হওয়ার বিষয়টি হিশাম ইবনে হাসসানের সূত্রে ইবনে সিরীনের বর্ণনায় প্রকাশ্য, এবং ইবনে সিরীন থেকে কাতাদাহর বর্ণনায় এটি সুস্পষ্ট (صريح)। এছাড়াও দারেমী এটি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রাকাশি থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে যুরাই থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে এবং তিনি মুহাম্মাদ ইবনে সিরীনের সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেন: "আমি জোয়াল অপছন্দ করি এবং শিকল ভালোবাসি; শিকল হলো দ্বীনের ওপর অবিচলতা।" এর সনদ (إسناد) শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح)। আর মাওকুফ (موقوف) হওয়ার বিষয়টি আইয়ুবের সূত্রে ইবনে সিরীনের বর্ণনায় সুস্পষ্ট (صريح)। এছাড়াও ইবনে আবি শাইবা এটি আবু উসামার সূত্রে হিশাম—যিনি ইবনে হাসসান—তার থেকে এবং তিনি মুহাম্মাদ—যিনি ইবনে—
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ১২)
سيرين – عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: «أحب القيد في المنام وأكره الغُلّ، القيد ثبات في الدين» إسناده صحيح على شرط الشيخين. وعلى هذا فإنه يحتمل أن أبا هريرة رضي الله عنه كان يحدث به تارة مرفوعًا وتارة يحدث به ولا يرفعه، وكذلك كان يفعل ابن سيرين يحدث به تارة مرفوعًا وتارة موقوفًا. وأما الرواة عن ابن سيرين فإن كلا منهم يحدث بما سمعه منه من الرفع أو الوقف، وبهذا يحصل الجمع بين الروايتين والله أعلم.

الحديث الرابع عشر: عن عوف بن مالك رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن الرؤيا ثلاث، منها أهاويل من الشيطان ليحزن بها ابن آدم، ومنها ما يهم به الرجل في يقظته فيراه في منامه، ومنها جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة» رواه ابن أبي شيبة وابن ماجه وابن حبان في "صحيحه" من حديث أبي عبيد الله مسلم بن مِشْكَم عن عوف بن مالك. وزاد ابن ماجه قال: قلت له: أنت سمعت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: نعم، أنا سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم، أنا سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم. وقد ذكر ابن حبان هذه الزيادة إلا أنه لم يكرر قوله، أنا سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم.

 

الحديث الخامس عشر: عن يحيى بن سعيد عن أبي سلمة بن عبد الرحمن قال: سمعت أبا قتادة بن ربعي يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ‌‌«الرؤيا الصالحة من الله والحُلْم من الشيطان، فإذا رأى أحدكم الشيء يكرهه فلينفث عن يساره ثلاث مرات إذا استيقظ وليتعوَّذ بالله من شرها فإنها لن تضره إن شاء الله». قال أبو سلمة: «إن كنت لأرى الرؤيا هي أثقل عليّ من الجبل فلما سمعت هذا الحديث فما كنت أباليها». رواه مالك والبخاري ومسلم وهذا لفظ مالك. ورواه أحمد وأبو داود والترمذي وابن ماجه مختصرًا، وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح. وزاد مسلم في رواية له: «وليتحول عن جنبه الذي كان عليه». وفي رواية ابن ماجه قال: «الرؤيا من الله والحُلْم من الشيطان فإن رأى أحدكم شيئًا يكرهه فليبصق عن يساره ثلاثًا وليستعذ بالله من الشيطان الرجيم ثلاثًا وليتحول عن جنبه الذي كان عليه» إسناده صحيح وهو أحد الأسانيد عند مسلم.
সিরিন – আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি স্বপ্নে শিকল (পায়ে বাঁধা) পছন্দ করি এবং গলায় পরার বেড়ি অপছন্দ করি; শিকল হলো দ্বীনের ওপর অবিচলতা»। এর সনদ (إسناد) শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্ত অনুযায়ী সহিহ (صحيح)। এর ওপর ভিত্তি করে এ সম্ভাবনা থাকে যে, আবু হুরায়রা (রা.) কখনো এটি মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করতেন আবার কখনো এটি মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করতেন না। একইভাবে ইবনে সিরিনও এটি কখনো মারফু (مرفوع) হিসেবে আবার কখনো মাওকুফ (موقوف) হিসেবে বর্ণনা করতেন। আর ইবনে সিরিন হতে বর্ণনাকারীদের (الرواة) প্রত্যেকেই তার নিকট হতে মারফু (الرفع) বা মাওকুফ (الوقف) হিসেবে যা শুনেছেন তা-ই বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমেই দুই ধরনের বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

চতুর্দশ হাদিস: আউফ ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই স্বপ্ন তিন প্রকার; তার মধ্যে একটি হলো শয়তানের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন যাতে ইবনে আদম (মানুষ) চিন্তিত হয়, আরেকটি হলো যা মানুষ জাগ্রত অবস্থায় চিন্তা করে এবং স্বপ্নে তা দেখে, আর অন্যটি হলো নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ»। এটি ইবনে আবি শাইবাহ, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে আবু উবায়দুল্লাহ মুসলিম ইবনে মিশকাম হতে আউফ ইবনে মালিকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ একটি অতিরিক্ত অংশ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (বর্ণনাকারী) তাঁকে বললেন: আপনি কি এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট হতে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট হতে শুনেছি; আমি এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট হতে শুনেছি। ইবনে হিব্বানও এই অতিরিক্ত অংশটি উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি 'আমি এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট হতে শুনেছি' বাক্যটি পুনরাবৃত্তি করেননি।

 

পঞ্চদশ হাদিস: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ হতে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু কাতাদাহ ইবনে রিবঈকে বলতে শুনেছি যে, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: ‌‌«ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং মন্দ স্বপ্ন (হুলম) শয়তানের পক্ষ থেকে, সুতরাং তোমাদের কেউ যখন এমন কিছু দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন জাগ্রত হওয়ার পর তার বাম পাশে তিনবার থুতু ফেলে এবং এর অনিষ্ট হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে; তাহলে তা ইনশাআল্লাহ তার কোনো ক্ষতি করবে না»। আবু সালামাহ বলেন: «আমি এমন স্বপ্ন দেখতাম যা আমার কাছে পাহাড়ের চেয়েও ভারী মনে হতো। কিন্তু যখন আমি এই হাদিসটি শুনলাম, তখন থেকে আমি আর এর পরোয়া করি না»। এটি মালিক, বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং এটি মালিকের শব্দবিন্যাস। আর আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান সহিহ (حسن صحيح)। মুসলিম তাঁর একটি বর্ণনায় (رواية) অতিরিক্ত যোগ করেছেন: «এবং সে যেন তার সেই পার্শ্ব পরিবর্তন করে যে পার্শ্বে সে শুয়ে ছিল»। আর ইবনে মাজাহর বর্ণনায় (رواية) এসেছে: «স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং মন্দ স্বপ্ন (হুলম) শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন তার বাম পাশে তিনবার থুতু ফেলে এবং বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর কাছে তিনবার আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং তার সেই পার্শ্ব পরিবর্তন করে যে পার্শ্বে সে শুয়ে ছিল»। এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح) এবং এটি মুসলিমের কাছে থাকা সনদগুলোর (الأسانيد) একটি।
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ১৩)
ورواه الإمام أحمد والبخاري ومسلم أيضًا من طريق الزهري عن أبي سلمة قال: كنت أرى الرؤيا أُعْرَى منها (1) غير أني لا أزمّل (2) حتى لقيت أبا قتادة فذكرت ذلك له فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «الرؤيا من الله والحُلْم من الشيطان فإذا حَلَم أحدُكم حُلْمًا يكرهه فلينفث عن يساره ثلاثًا وليتعوَّذ بالله من شرها فإنها لن تضره» هذا لفظ مسلم. وفي رواية أحمد قال: «فمن رأى رؤيا يكرهها فلا يخبر بها وليتفل عن يساره ثلاثًا وليستعذ بالله من شرها فإنها لا تضره». قال سفيان مرة أخرى: «فإنه لن يرى شيئًا يكرهه»؛ سفيان هو ابن عيينة رواه عن الزهري ورواه عنه أحمد. ورواية البخاري مختصرة.

ورواه الإمام أحمد والبخاري ومسلم أيضًا من طريق عبد ربه بن سعيد عن أبي سلمة قال: إن كنت لأرى الرؤيا تمرضني قال: فلقيت أبا قتادة فقال: وأنا فكنت لأرى الرؤيا تمرضني حتى سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «الرؤيا الصالحة من الله فإذا رأى أحدكم ما يحب فلا يحدث بها إلا من يحب وإذا رأى ما يكره فليتفل عن يساره ثلاثًا وليتعوَّذ بالله من الشيطان الرجيم وشرها ولا يحدث بها أحدًا فإنها لا تضره» ورواه الدارمي بنحوه وزاد: «فإذا رأى أحدكم ما يحب فليحمد الله».

وفي رواية لمسلم قال: «الرؤيا الصالحة من الله والرؤيا السوء من الشيطان فمن رأى رؤيا فكره منها شيئًا فلينفث عن يساره وليتعوذ بالله من الشيطان لا تضره ولا يخبر بها أحدًا، فإن رأى رؤيا حسنة فليبشر ولا يخبر إلا من يحب».

--------------------------------------------

(1) قوله: أعْرى منها، أي يصيبني البرد والرَّعْدَة من الخوف يقال: عُرِي فهو مَعْرُوٌ. قال الجوهري: العُرَواء قرة الحمى ومسها في أول ما تأخذ بالرعدة وقد عُرِيَ الرجل على ما لم يسم فاعله فهو مَعْرُوٌ. وقال النووي في "شرح مسلم": أعرى بضم الهمزة وإسكان العين وفتح الراء أي أحَمُّ لخوفي من ظاهرها. قال أهل اللغة: يقال: عُرِيَ الرجل بضم العين وتخفيف الراء يُعْرى إذا أصابه عُراء بضم العين وبالمد وهو نفض الحمى، وقيل: رعدة انتهى.

(2) قوله أزمَّل، قال النووي: معناه أغطى وألفّ كالمحموم.
ইমাম আহমাদ, বুখারি এবং মুসলিমও যুহরির সূত্রে আবু সালামা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি এমন স্বপ্ন দেখতাম যার কারণে আমি জ্বরাক্রান্ত (১) হয়ে পড়তাম, কিন্তু আমি চাদর মুড়ি (২) দিতাম না, যতক্ষণ না আমি আবু কাতাদার সাথে সাক্ষাৎ করি। আমি তাঁর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন কোনো স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে, সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলে এবং এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে; তবে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না» এটি মুসলিমের শব্দাবলি। আহমাদ-এর এক বর্ণনায় রয়েছে: «সুতরাং যে ব্যক্তি অপছন্দনীয় কোনো স্বপ্ন দেখে, সে যেন তা কাউকে না জানায় এবং তার বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলে আর এর অনিষ্ট হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায়; তবে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না»। সুফিয়ান অন্য এক সময় বলেছেন: «সে এমন কিছু দেখবে না যা সে অপছন্দ করে»; এখানে সুফিয়ান হলেন ইবনে উয়াইনাহ, তিনি যুহরি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। বুখারির বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত।

ইমাম আহমাদ, বুখারি এবং মুসলিমও আবদ রাব্বিহি ইবনে সাইদ-এর সূত্রে আবু সালামা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি অবশ্যই এমন স্বপ্ন দেখতাম যা আমাকে অসুস্থ করে দিত। তিনি বলেন: এরপর আমি আবু কাতাদার সাথে সাক্ষাৎ করি। তিনি বললেন: আমিও এমন স্বপ্ন দেখতাম যা আমাকে অসুস্থ করে দিত, যতক্ষণ না আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «উত্তম স্বপ্ন (الرؤيا الصالحة) আল্লাহর পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু দেখে যা সে পছন্দ করে, তবে সে যেন তা প্রিয়জন ব্যতীত অন্য কারো নিকট বর্ণনা না করে। আর যদি এমন কিছু দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলে এবং বিতাড়িত শয়তান ও এর অনিষ্ট হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায় এবং তা কারো নিকট বর্ণনা না করে; তবে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না» দারেমি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বর্ধিত করেছেন: «সুতরাং তোমাদের কেউ যখন পছন্দনীয় কিছু দেখে, তখন সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে»।

মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেছেন: «উত্তম স্বপ্ন (الرؤيا الصالحة) আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং মন্দ স্বপ্ন (الرؤيا السوء) শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো স্বপ্ন দেখে যার কোনো অংশ সে অপছন্দ করে, সে যেন তার বাম দিকে ফুঁ দেয় এবং শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায়; তা তার ক্ষতি করবে না এবং সে যেন তা কাউকে না জানায়। আর যদি সে উত্তম স্বপ্ন দেখে তবে সে যেন সুসংবাদ গ্রহণ করে এবং প্রিয়জন ব্যতীত অন্য কাউকে তা না জানায়»।

--------------------------------------------

(১) তাঁর উক্তি: 'অ্যারু মিনহা', অর্থাৎ ভয়ের কারণে আমার শীত ও কাঁপুনি অনুভূত হতো। বলা হয়: 'উরিয়া', অর্থাৎ সে আক্রান্ত। জাওহারি বলেন: 'আল-উরাওয়া' হলো জ্বরের তীব্রতা এবং এর প্রভাব যা কাঁপুনি দিয়ে শুরু হয়। আর নববী 'শারহু মুসলিম'-এ বলেছেন: 'অ্যারু' হামযাহ-তে পেশ, আইন-এ সাকিন এবং র-এ জবর সহকারে, অর্থাৎ ভয়ের কারণে আমি জ্বরাক্রান্ত হতাম। ভাষাবিদগণ বলেন: 'উরিয়া' আইন-এ পেশ এবং র-এ তাশদিদ ছাড়া, যখন কেউ জ্বরের তীব্রতায় বা কাঁপুনিতে আক্রান্ত হয়। সমাপ্ত।

(২) তাঁর উক্তি: 'আযাম্মিল', নববী বলেন: এর অর্থ হলো আমি কাপড় দিয়ে নিজেকে আবৃত করতাম বা মুড়িয়ে নিতাম যেমনটি অসুস্থ ব্যক্তি করে থাকে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ১৪)
ورواه الإمام أحمد والبخاري أيضًا من طريق يحيى بن أبي كثير عن أبي سلمة عن أبي قتادة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من رأى رؤيا تعجبه فليحدث بها فإنها بشرى من الله عز وجل ومن رأى رؤيا يكرهها فلا يحدث بها وليتفل عن يساره ويتعوذ بالله من شرها» هذا لفظ أحمد، ولفظ البخاري قال: «الرؤيا الصالحة من الله والحُلْم من الشيطان فإذا حلم أحدكم فليعوذ منه وليبصق عن شماله فإنها لا تضره» ورواه البخاري أيضًا من طريق عبيد الله بن جعفر عن أبي سلمة عن أبي قتادة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الرؤيا الصالحة من الله والحُلْم من الشيطان فمن رأى شيئًا يكرهه فلينفث عن شماله ثلاثًا وليتعوذ من الشيطان فإنها لا تضره».

ورواه الإمام أحمد والبخاري أيضًا من طريق يحيى بن أبي كثير عن عبد الله بن أبي قتادة عن أبيه رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن الرؤيا الصالحة من الله والحُلْم من الشيطان فإذا حَلَم أحدكم حُلْمًا يخافه فليبصق عن شماله ثلاث مرات وليتعوذ بالله من الشيطان فإنه لا يضره» هذا لفظ أحمد. وعند البخاري قال: «فليبصق عن يساره وليتعوذ بالله من شرها فإنها لا تضره» ورواه الدارمي بنحو رواية أحمد.

الحديث السادس عشر: عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إذا رأى أحدكم الرؤيا يحبها فإنما هي من الله فليحمد الله عليها وليحدث بها، وإذا رأى غير ذلك مما يكره فإنما هي من الشيطان فليستعذ بالله من شرها ولا يذكرها لأحد فإنها لا تضره» رواه الإمام أحمد والبخاري.

الحديث السابع عشر: عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إذا رأى أحدكم الرؤيا يكرهها فليبصق عن يساره ثلاثًا وليستعذ بالله من الشيطان ثلاثًا وليتحول عن جنبه الذي كان عليه» رواه ابن أبي شيبة وأحمد ومسلم وابن ماجه وابن حبان.

الحديث الثامن عشر: عن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الرؤيا الصالحة جزء من سبعين جزءًا من النبوة فمن رأى خيرًا فليحمد الله
ইমাম আহমদ এবং বুখারি এটি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসিরের সূত্র (طريق) থেকে আবু সালামাহ হয়ে আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি এমন কোনো স্বপ্ন দেখে যা তার ভালো লাগে, সে যেন তা বর্ণনা করে, কারণ তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ। আর যে ব্যক্তি এমন কোনো স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে, সে যেন তা বর্ণনা না করে, বরং সে যেন তার বাম দিকে থুতু ফেলে এবং এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়»। এটি আহমদের শব্দশৈলী (لفظ), আর বুখারির শব্দশৈলী (لفظ) হলো: «উত্তম স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন মন্দ স্বপ্ন দেখে, তখন সে যেন তা থেকে আশ্রয় চায় এবং তার বাম দিকে থুতু ফেলে, তাহলে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না»। বুখারি এটি ওবায়দুল্লাহ ইবনে জাফরের সূত্র (طريق) থেকে আবু সালামাহ হয়ে আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে নবী (সা.) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «উত্তম স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং কেউ যখন এমন কিছু দেখে যা সে অপছন্দ করে, তখন সে যেন তার বাম দিকে তিনবার ফুঁ দেয় এবং শয়তান থেকে আশ্রয় চায়, তাহলে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না»।

এবং ইমাম আহমদ ও বুখারি এটি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসিরের সূত্র (طريق) থেকে আবদুল্লাহ ইবনে আবি কাতাদাহ হয়ে তার পিতা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই উত্তম স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন কোনো মন্দ স্বপ্ন দেখে যা সে ভয় পায়, তবে সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলে এবং আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চায়, তাহলে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না»। এটি আহমদের শব্দশৈলী (لفظ)। আর বুখারির বর্ণনায় রয়েছে: «সে যেন তার বাম দিকে থুতু ফেলে এবং এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়, তাহলে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না»। দারেমি এটি আহমদের বর্ণনা (رواية) এর অনুরূপ (نحو) বর্ণনা করেছেন।

ষোড়শ হাদিস: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: «তোমাদের কেউ যখন এমন কোনো স্বপ্ন দেখে যা সে পছন্দ করে, তবে তা মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে। সুতরাং সে যেন এজন্য আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তা বর্ণনা করে। আর যদি সে এর বাইরে এমন কিছু দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে তা মূলত শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং সে যেন এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় এবং তা কারো কাছে উল্লেখ না করে, তাহলে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না»। এটি ইমাম আহমদ এবং বুখারি বর্ণনা করেছেন।

সপ্তদশ হাদিস: জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন এমন কোনো স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে, তখন সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলে এবং শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে তিনবার আশ্রয় চায় এবং যে পাশে শুয়েছিল তা পরিবর্তন করে অন্য পাশে ফিরে শোয়»। এটি ইবনে আবি শাইবাহ, আহমদ, মুসলিম, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন।

অষ্টাদশ হাদিস: ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: «উত্তম স্বপ্ন নবুওয়াতের সত্তর ভাগের এক ভাগ। সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণকর কিছু দেখে, সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে...
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ১৫)
عليه وليذكره ومن رأى غير ذلك فليستعذ بالله من شر رؤياه ولا يذكرها فإنها لا تضره» رواه الإمام أحمد والطبراني في "الأوسط". قال الهيثمي: ورجاله رجال الصحيح غير سليمان بن داود الهاشمي وهو ثقة. وقال الشيخ أحمد محمد شاكر في تعليقه على المسند: إسناده صحيح.

الحديث التاسع عشر: عن أم سلمة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا رأى أحدكم في منامه ما يكره فلينفث عن يساره ثلاثًا وليستعذ مما رأى» رواه الإمام أحمد. قال الهيثمي: ورجاله ثقات.

الحديث العشرون: عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن رجلاً جاء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله إني أرى الرؤيا تمرضني، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الرؤيا الحسنة من الله والسيئة من الشيطان فإذا رأى أحدكم ذلك فلينفث عن يساره ثلاثًا وليتعوذ بالله من شرها فإنها لا تضره» رواه الطبراني في "الأوسط". قال الهيثمي: وفيه كثير بن سليم وهو ضعيف وقد وثقه ابن حبان وذكره في الضعفاء.

قلت: يشهد لحديثه كثير من الأحاديث الصحيحة التي تقدم ذكرها.

الحديث الحادي والعشرون: عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الرؤيا الصالحة بشرى وهي جزء من سبعين جزءًا من النبوة» رواه البزار والطبراني في "الكبير والصغير". قال الهيثمي: ورجال الصغير رجال الصحيح.

الحديث الثاني والعشرون: عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الرؤيا الصالحة جزء من سبعين جزءًا من النبوة» رواه الإمام أحمد ومسلم وابن ماجه.

الحديث الثالث والعشرون: عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الرؤيا الصالحة جزء من سبعين جزءًا من النبوة» رواه الإمام أحمد وأبو يعلى والبزار والطبراني. قال الهيثمي: ورجاله رجال الصحيح.

الحديث الرابع والعشرون: عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال
...সে যেন তা বর্ণনা করে। আর যে ব্যক্তি এর বাইরে অন্য কিছু দেখে, সে যেন তার স্বপ্নের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং তা কারো কাছে প্রকাশ না করে; কেননা তা তার কোনো ক্ষতি করবে না।" ইমাম আহমাদ এবং তাবারানি "আল-আওসাতে" এটি বর্ণনা করেছেন। আল-হাইসামি বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীরা সহিহ (الصحيح)-এর বর্ণনাকারী, সুলায়মান বিন দাউদ আল-হাশিমি ব্যতীত, এবং তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)।" শায়খ আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির মুসনাদের টিকায় বলেছেন: "এর সনদ (إسناده) সহিহ (صحيح)।"

ঊনবিংশ হাদিস: উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন তার স্বপ্নে এমন কিছু দেখে যা সে অপছন্দ করে, তখন সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে এবং সে যা দেখেছে তা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে।" ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন। আল-হাইসামি বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات)।"

বিংশ হাদিস: আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি এমন স্বপ্ন দেখি যা আমাকে ব্যথিত করে।" রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "উত্তম স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে; সুতরাং তোমাদের কেউ যখন তেমন কিছু দেখে, তখন সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে এবং আল্লাহর নিকট এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে, কেননা তা তার কোনো ক্ষতি করবে না।" তাবারানি "আল-আওসাতে" এটি বর্ণনা করেছেন। আল-হাইসামি বলেছেন: "এর সনদে কাসির বিন সুলাইম রয়েছে এবং সে দুর্বল (ضعيف); যদিও ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলে গণ্য করেছেন এবং তাকে দুর্বলদের (الضعفاء) তালিকায় উল্লেখ করেছেন।"

আমি বলছি: তার এই হাদিসের সমর্থনে ইতিপূর্বে বর্ণিত বহু সহিহ (الصحيحة) হাদিস রয়েছে যা এর সাক্ষ্য প্রদান করে।

একবিংশ হাদিস: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নেক স্বপ্ন হলো সুসংবাদ এবং তা নবুওয়তের সত্তর ভাগের এক ভাগ।" আল-বাযযার এবং তাবারানি "আল-কাবির" ও "আস-সগির" গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। আল-হাইসামি বলেছেন: "আস-সগির-এর বর্ণনাকারীরা সহিহ (الصحيح)-এর বর্ণনাকারী।"

দ্বাবিংশ হাদিস: ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নেক স্বপ্ন নবুওয়তের সত্তর ভাগের এক ভাগ।" ইমাম আহমাদ, মুসলিম এবং ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন।

ত্রয়োবিংশ হাদিস: ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "নেক স্বপ্ন নবুওয়তের সত্তর ভাগের এক ভাগ।" ইমাম আহমাদ, আবু ইয়ালা, আল-বাযযার এবং তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন। আল-হাইসামি বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীরা সহিহ (الصحيح)-এর বর্ণনাকারী।"

চতুবিংশ হাদিস: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন...
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ১৬)
رسول الله صلى الله عليه وسلم: «رؤيا العبد المؤمن الصادقة الصالحة جزء من سبعين جزءًا من النبوة» رواه الإمام أحمد. قال الهيثمي: وفيه كليب بن شهاب وهو ثقة وفيه كلام لا يضر. وقد رواه ابن حبان في "صحيحه" مختصرًا ولفظه: «الرؤيا جزء من سبعين جزءًا من النبوة».

الحديث الخامس والعشرون: عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «رؤيا الرجل المسلم الصالح جزء من سبعين جزءًا من النبوة» رواه ابن أبي شيبة وابن ماجه.

الحديث السادس والعشرون: عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الرؤيا الحسنة من الرجل الصالح جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة» رواه مالك وأحمد والبخاري وابن ماجه وابن حبان في "صحيحه".

الحديث السابع والعشرون: عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «الرؤيا الصالحة جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة» رواه البخاري.

الحديث الثامن والعشرون: عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «رؤيا المؤمن جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة» رواه الإمام أحمد والبخاري ومسلم والترمذي وابن ماجه. وفي رواية لأحمد ومسلم: «الرؤيا الصالحة يراها المسلم أو تُرى له جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة»، ورواه مسلم ولفظه: «رؤيا المسلم يراها أو تُرى له». وفي حديث ابن مسهر: «الرؤيا الصالحة جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة». وساق مالك في "الموطأ" إسناده إلى أبي هريرة وأحال بلفظه على حديث أنس الذي تقدم ذكره.

الحديث التاسع والعشرون: عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «رؤيا المؤمن جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة» رواه
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মুমিন বান্দার সত্য ও নেক স্বপ্ন নবুওয়তের সত্তর ভাগের এক ভাগ» এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন। আল-হাইসামি বলেন: এতে কুলাইব ইবনে শিহাব রয়েছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), আর তার ব্যাপারে কিছু সমালোচনা (كلام) রয়েছে যা ক্ষতিকারক নয়। ইবনে হিব্বান তার "সহিহ"-তে এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং তার শব্দাবলি হলো: «স্বপ্ন নবুওয়তের সত্তর ভাগের এক ভাগ»।

পঁচিশতম হাদিস: আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «নেককার মুসলিম ব্যক্তির স্বপ্ন নবুওয়তের সত্তর ভাগের এক ভাগ» এটি ইবনে আবি শায়বাহ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

ছাব্বিশতম হাদিস: আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নেককার ব্যক্তির উত্তম স্বপ্ন নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ» এটি মালিক, আহমাদ, বুখারি, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে হিব্বান তার "সহিহ"-তে বর্ণনা করেছেন।

সাতাশতম হাদিস: আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «নেক স্বপ্ন নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ» এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

আটাশতম হাদিস: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ» এটি ইমাম আহমাদ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। আহমাদ ও মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: «নেক স্বপ্ন যা মুসলিম নিজে দেখে অথবা তাকে দেখানো হয়, তা নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ», মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার শব্দাবলি হলো: «মুসলিমের স্বপ্ন যা সে দেখে অথবা তাকে দেখানো হয়»। ইবনে মুশহিরের হাদিসে রয়েছে: «নেক স্বপ্ন নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ»। মালিক "মুয়াত্তা"-তে আবু হুরায়রা পর্যন্ত এর সনদ (إسناد) উল্লেখ করেছেন এবং শব্দাবলির ক্ষেত্রে পূর্বে উল্লিখিত আনাস (রা.)-এর হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

ঊনত্রিশতম হাদিস: উবাদাহ ইবনুস সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ» এটি বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ১৭)
الإمام أحمد والبخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والدارمي. وقال الترمذي: حديث صحيح.

الحديث الثلاثون: عن أنس رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «رؤيا المؤمن جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة» رواه البخاري.

الحديث الحادي والثلاثون: عن أبي رزين – واسمه لقيط بن عامر العقيلي – رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الرؤيا جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة» رواه الإمام أحمد وابن أبي شيبة والترمذي وابن ماجه وابن حبان والحاكم. وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح وصححه الحاكم والذهبي. وفي رواية لأحمد والترمذي وابن حبان: «رؤيا المؤمن جزء من أربعين جزءًا من النبوة». وفي رواية لأحمد: «الرؤيا الصالحة جزء من أربعين جزءًا من النبوة». وفي رواية لابن حبان: «الرؤيا جزء من سبعين جزءًا من النبوة».

الحديث الثاني والثلاثون: عن عوف بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «رؤيا المؤمن جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة» رواه البزار.

الحديث الثالث والثلاثون: عن جابر رضي الله عنه أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «رؤيا الرجل المؤمن جزء من النبوة» رواه الإمام أحمد. قال الهيثمي: وفيه ابن لهيعة وحديثه حسن وفيه ضعف.

فصل

 

في‌‌ ذكر الآثار عن الصحابة والتابعين

في تعظيم شأن الرؤيا الصالحة

وقد جاءت عنهم في ذلك آثار كثيرة. منها ما رواه ابن جرير عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: «ذهبت النبوة وبقيت المبشرات»، قيل: وما المبشرات؟ قال: «الرؤيا الصالحة يراها الرجل أو تُرى له».
ইমাম আহমাদ, বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি এবং দারেমি এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেন: হাদিসটি সঠিক (صحيح)।

ত্রিশতম হাদিস: আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবি (সা.) বলেছেন: «মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ» এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

একত্রিশতম হাদিস: আবু রাজিন—তার নাম লাকিত ইবনে আমির আল-উকাইলি—(রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: «স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ» এটি ইমাম আহমাদ, ইবনে আবি শাইবাহ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান এবং হাকিম বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেছেন: এটি একটি উত্তম-সঠিক (حسن صحيح) হাদিস এবং হাকিম ও জাহাবি এটিকে সঠিক (صححه) বলে সত্যায়ন করেছেন। আহমাদ, তিরমিজি এবং ইবনে হিব্বানের এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: «মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়াতের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ»। আহমাদের অন্য এক বর্ণনায় (رواية) আছে: «নেক স্বপ্ন নবুওয়াতের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ»। ইবনে হিব্বানের আর একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: «স্বপ্ন নবুওয়াতের সত্তর ভাগের এক ভাগ»।

বত্রিশতম হাদিস: আউফ ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: «মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ» এটি বাজার বর্ণনা করেছেন।

তেত্রিশতম হাদিস: জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: «মুমিন ব্যক্তির স্বপ্ন নবুওয়াতের অংশ» এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন। হাইসামি বলেন: এতে ইবনে লাহিআহ রয়েছেন এবং তার হাদিস উত্তম (حسن), তবে এতে কিছুটা দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে।

পরিচ্ছেদ

 

সাহাবি এবং তাবেয়িদের থেকে বর্ণিত‌ আসার (الآثار) এর উল্লেখ প্রসঙ্গে

নেক স্বপ্নের গুরুত্ব বর্ণনায়

তাদের থেকে এ বিষয়ে অনেক আসার (آثار) বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে একটি ইবনে জারির, ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «নবুওয়াত প্রস্থান করেছে কিন্তু মুবাশশিরাত (সুসংবাদসমূহ) রয়ে গেছে», জিজ্ঞেস করা হলো: মুবাশশিরাত কী? তিনি বললেন: «নেক স্বপ্ন যা কোনো ব্যক্তি নিজে দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়»।
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ১৮)
ومنها ما رواه ابن جرير أيضًا عن ابن عباس رضي الله عنهما في قوله: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} [يونس: 64] قال: «هي الرؤيا الحسنة يراها المؤمن أو تُرى له». وفي رواية قال: «هي الرؤيا الحسنة يراها العبد المسلم لنفسه أو لبعض إخوانه» ورواه ابن أبي شيبة بنحو هذه الرواية.

ومنها ما رواه ابن جرير أيضًا عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: «الرؤيا الحسنة بشرى من الله وهي المبشرات» ورواه ابن أبي شيبة ولفظه قال: «الرؤيا من المبشرات وهي جزء من سبعين جزءًا من النبوة».

ومنها ما رواه ابن جرير أيضًا عن نافع بن جبير عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم في قوله: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} قال: «هي الرؤيا الحسنة يراها الإنسان أو ترى له».

ومنها ما رواه عبد الرزاق وابن أبي شيبة عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: «الرؤيا الصالحة الصادقة جزء من سبعين جزءًا من النبوة» هذا لفظ ابن أبي شيبة، ولفظ عبد الرزاق: «رؤيا المؤمن جزء من سبعين جزءًا من النبوة».

ومنها ما رواه ابن أبي شيبة عن أنس رضي الله عنه أنه قال: «رؤيا المسلم جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة».

ومنها ما رواه مالك في "الموطأ" عن هشام بن عروة عن أبيه أنه كان يقول في هذه الآية: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآَخِرَةِ} قال: «هي الرؤيا الصالحة يراها الرجل الصالح أو تُرى له» ورواه ابن أبي شيبة وابن جرير بنحوه.

ومنها ما رواه ابن أبي شيبة عن مجاهد: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} قال: «هي الرؤيا الصالحة يراها المسلم أو تُرى له» ورواه ابن جرير بنحوه.
এর মধ্যে একটি হলো যা ইবনে জারির ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের জন্য পার্থিব জীবনে সুসংবাদ রয়েছে} [ইউনুস: ৬৪] সম্পর্কে বর্ণনা (رواه) করেছেন। তিনি বলেন: "তা হলো উত্তম স্বপ্ন যা মুমিন ব্যক্তি নিজে দেখে অথবা তার জন্য অন্য কেউ দেখে।" অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ তিনি বলেন: "তা হলো উত্তম স্বপ্ন যা কোনো মুসলিম বান্দা নিজের জন্য দেখে অথবা তার কোনো দ্বীনি ভাইয়ের জন্য দেখা হয়।" ইবনে আবি শাইবাহ-ও এই বর্ণনার অনুরূপ (بنحوه) বর্ণনা (رواه) করেছেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে যা ইবনে জারির আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা (رواه) করেছেন, তিনি বলেন: "উত্তম স্বপ্ন হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ এবং তা হলো মুবাশশিরাত (সুসংবাদ প্রদানকারী)।" ইবনে আবি শাইবাহ এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন এবং তার শব্দাবলী (لفظ) হলো: "স্বপ্ন মুবাশশিরাতের অন্তর্ভুক্ত এবং তা নবুওয়াতের সত্তর ভাগের এক ভাগ।"

এর মধ্যে আরও রয়েছে যা ইবনে জারির নাফি বিন জুবাইর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একজন সাহাবী (أصحاب)-এর সূত্র থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের জন্য পার্থিব জীবনে সুসংবাদ রয়েছে} সম্পর্কে বর্ণনা (رواه) করেছেন। তিনি বলেন: "তা হলো উত্তম স্বপ্ন যা মানুষ নিজে দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়।"

এর মধ্যে আরও রয়েছে যা আবদুর রাজ্জাক এবং ইবনে আবি শাইবাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা (رواه) করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "নেক ও সত্য স্বপ্ন নবুওয়াতের সত্তর ভাগের এক ভাগ।" এটি ইবনে আবি শাইবাহ-এর শব্দাবলী (لفظ), আর আবদুর রাজ্জাকের শব্দাবলী (لفظ) হলো: "মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়াতের সত্তর ভাগের এক ভাগ।"

এর মধ্যে আরও রয়েছে যা ইবনে আবি শাইবাহ আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা (رواه) করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "মুসলিমের স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।"

এর মধ্যে আরও রয়েছে যা মালিক মুওয়াত্তা গ্রন্থে হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এই আয়াত: {তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনে সুসংবাদ রয়েছে} সম্পর্কে বলতেন: "তা হলো নেক স্বপ্ন যা কোনো নেককার ব্যক্তি নিজে দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়।" ইবনে আবি শাইবাহ ও ইবনে জারির এর অনুরূপ (بنحوه) বর্ণনা (رواه) করেছেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে যা ইবনে আবি শাইবাহ মুজাহিদ থেকে বর্ণনা (رواه) করেছেন: {তাদের জন্য পার্থিব জীবনে সুসংবাদ রয়েছে}। তিনি বলেন: "তা হলো নেক স্বপ্ন যা কোনো মুসলিম নিজে দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়।" ইবনে জারিরও এর অনুরূপ (بنحوه) বর্ণনা (رواه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ১৯)
ومنها ما رواه ابن جرير عن عطاء في قوله: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} قال: «هي رؤيا الرجل المسلم يبشر بها في حياته».

ومنها ما رواه ابن جرير أيضًا عن إبراهيم قال: كانوا يقولون: «الرؤيا من المبشرات».

ومنها ما رواه ابن جرير أيضًا عن يحيى بن أبي كثير في قوله: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} قال: «هي الرؤيا الصالحة يراها المسلم أو تُرى له». وهذه الآثار لها حكم الرفع وقد تقدمت بألفاظها في الأحاديث المرفوعة.

فصل

في ذكر فوائد الأحاديث التي تقدم ذكرها

وقد اشتملت الأحاديث التي تقدم ذكرها على فوائد كثيرة وأمور مهمة من آداب الرؤيا وما يتعلق بها من الأحكام.

الأولى: تعظيم شأن الرؤيا الصالحة يراها المسلم أو تُرى له، وبيان أنها من المبشرات التي يبشر بها المؤمن في حياته كما أخبر الله بذلك في قوله: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآَخِرَةِ}. قال ابن العربي المالكي: معنى صلاحها استقامتها وانتظامها. انتهى.

الثانية: أن الرؤيا الصالحة جزء من أجزاء النبوة، وقد اختلفت الروايات في تحديد هذا الجزء كما تقدم، وكثرت أقوال العلماء في توجيه الروايات بما لا طائل تحته ولا فائدة في ذكره. وقد قال ابن العربي المالكي في "عارضة الأحوذي": القدر الذي أراده النبي صلى الله عليه وسلم أن يبيّن أن الرؤيا جزء من النبوة في الجملة لنا لأنه اطلاع على الغيب، وذلك قوله: «لم يبق بعدي من النبوة إلا المبشرات» وتفصيل النسبة تختص به درجة النبوة. وقال أيضًا وأنا موعز إليكم أن لا تتعرضوا لأعداد الشريعة فإنها ممتنعة عن إدراكها في متعلقاتها. انتهى.

وقال الخطابي في الكلام على قوله صلى الله عليه وسلم: «رؤيا المؤمن جزء من ستة
এর মধ্যে রয়েছে যা ইবনে জারীর আতা থেকে বর্ণনা করেছেন মহান আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে: {তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনে সুসংবাদ রয়েছে}। তিনি বলেন: «এটি একজন মুসলিম ব্যক্তির স্বপ্ন, যার মাধ্যমে তাকে তার জীবনে সুসংবাদ প্রদান করা হয়»।

এর মধ্যে আরও রয়েছে যা ইবনে জারীর ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «তাঁরা বলতেন: স্বপ্ন হলো সুসংবাদসমূহের (المبشرات) অন্তর্ভুক্ত»।

এর মধ্যে আরও রয়েছে যা ইবনে জারীর ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে বর্ণনা করেছেন মহান আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে: {তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনে সুসংবাদ রয়েছে}। তিনি বলেন: «এটি হলো সৎ স্বপ্ন যা একজন মুসলিম নিজে দেখেন অথবা তার জন্য দেখা হয়»। আর এই বর্ণনাগুলোর (الآثار) হুকুম (حكم) হলো মারফু (الرفع) এবং এগুলো ইতিপূর্বে মারফু (المرفوعة) হাদিসসমূহের মধ্যে শব্দসহ অতিক্রান্ত হয়েছে।

পরিচ্ছেদ

ইতিপূর্বে উল্লেখিত হাদিসসমূহের উপকারিতা বর্ণনায়

ইতিপূর্বে উল্লেখিত হাদিসসমূহ স্বপ্নের শিষ্টাচার এবং এ সংক্রান্ত হুকুম (الأحكام) সম্পর্কে অনেক উপকারিতা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত করেছে।

প্রথমত: সৎ স্বপ্নের মর্যাদাকে গুরুত্ব প্রদান করা যা একজন মুসলিম নিজে দেখেন অথবা তার জন্য দেখা হয়, এবং এটি যে সুসংবাদসমূহের (المبشرات) অন্তর্ভুক্ত যা দ্বারা একজন মুমিনকে তার জীবনে সুসংবাদ দেওয়া হয়, যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীতে সংবাদ দিয়েছেন: {তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে সুসংবাদ রয়েছে}। ইবনুল আরাবী আল-মালিকী বলেন: এর সৎ হওয়ার অর্থ হলো এর সঠিকতা ও সুশৃঙ্খল হওয়া। (সমাপ্ত)।

দ্বিতীয়ত: সৎ স্বপ্ন নবুওয়তের অংশসমূহের একটি অংশ। এই অংশের নির্ধারণে বর্ণনাগুলোর (الروايات) মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। বর্ণনাগুলোর (الروايات) ব্যাখ্যায় আলেমদের উক্তি অনেক, যার কোনো বিশেষ ভিত্তি নেই এবং তা উল্লেখ করায় কোনো উপকারও নেই। ইবনুল আরাবী আল-মালিকী 'عارضة الأحوذي' গ্রন্থে বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পরিমাণ অংশ বুঝাতে চেয়েছেন তা হলো—আমাদের জন্য সাধারণভাবে স্বপ্ন নবুওয়তের একটি অংশ, কারণ এটি অদৃশ্যের সংবাদ লাভের একটি মাধ্যম। আর তা হলো তাঁর বাণী: «আমার পর নবুওয়তের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই সুসংবাদসমূহ (المبشرات) ব্যতীত» এবং অনুপাতের বিস্তারিত বিবরণ নবুওয়তের স্তরের সাথে নির্দিষ্ট। তিনি আরও বলেন: «আমি আপনাদের সতর্ক করছি যে আপনারা যেন শরীয়তের সংখ্যাতাত্ত্বিক বিষয়গুলো নিয়ে তর্কে লিপ্ত না হন, কারণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সেগুলো অনুধাবন করা অসম্ভব»। (সমাপ্ত)।

আর খাত্তাবি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «মুমিনের স্বপ্ন ছয় ভাগের এক ভাগ...»-এর আলোচনায় বলেন:
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ২০)
وأربعين جزءًا من النبوة» معنى هذا الكلام تحقيق أمر الرؤيا وتأكيده. ونقل العيني في "عمدة القاري" عن الزجاج أنه قال تأويل قوله: «جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة» أن الأنبياء عليهم السلام يخبرون بما سيكون والرؤيا تدل على ما يكون. انتهى. وذكر الخطابي عن بعض العلماء أنه قال: معناه أن الرؤيا تجيء على موافقة النبوة، لا أنها جزء باق من النبوة. وقال آخر: معناه أنها جزء من أجزاء علم النبوة باقٍ، والنبوة غير باقية بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو معنى قوله صلى الله عليه وسلم: «ذهبت النبوة وبقيت المبشرات الرؤيا الصالحة يراها المسلم أو تُرى له». انتهى.

الثالثة: أن الرؤيا من الله والحُلْم من الشيطان. قال ابن الأثير في "النهاية في غريب الحديث": الرؤيا والحُلْم عبارة عما يراه النائم في نومه من الأشياء، لكن غلبت الرؤيا على ما يراه من الخير والشيء الحسن، وغلب الحُلْم على ما يراه من الشر والقبيح. ومنه "أضغاث أحلام" ويستعمل كل منهما موضع الآخر، وتضم لام الحُلم وتسكن. ومنه الحديث: «من تَحلَّم كلّف أن يعقد بين شعيرتين» أي قال: إنه رأى في النوم ما لم يره. يُقال: حَلَم بالفتح إذا رأى، وتَحَلَّم إذا ادعى الرؤيا كاذبًا. انتهى.

وقال الجوهري: الحُلْم بالضم ما يراه النائم تقول منه حَلَم بالفتح واحتلم، والحِلْم بالكسر الأناة تقول منه حَلُم الرجل بالضم وتَحَلَّم تكلف الحِلْم، وتحالم أرى من نفسه ذلك وليس به. انتهى. وقال النووي: أما الحُلْم فبضم الحاء وإسكان اللام، والفعل منه حَلَم بفتح اللام. انتهى.

الرابعة: أنه إذا اقترب الزمان لم تكد رؤيا المؤمن تكذب. وقد ذكر الخطابي وغيره من العلماء في معنى اقتراب الزمان قولين، أحدهما: أنه قرب زمان الساعة ودنو وقتها. والثاني: أن معنى اقترب الزمان اعتداله واستواء الليل والنهار. قال الخطابي والمعبرون: يزعمون أن أصدق الرؤيا ما كان في أيام الربيع ووقت اعتدال الليل والنهار.

قلت: والقول الأول هو الصحيح وقد جاء النص على ذلك في رواية أيوب السختياني عن ابن سيرين عن أبي هريرة رضي الله عنه عن
...এবং নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।" এই কথার অর্থ হলো স্বপ্নের বিষয়টি সুনিশ্চিত করা এবং তা সুদৃঢ় করা। আল-আইনি 'উমদাতুল কারি'-তে আজ-জাজ্জাজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি "নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ" বাণীর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেছেন: নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) ভবিষ্যতে যা ঘটবে সে সম্পর্কে সংবাদ দেন, আর স্বপ্নও যা ঘটবে তার ইঙ্গিত দেয়। সমাপ্ত। আল-খাত্তাবি জনৈক আলিমের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এর অর্থ হলো স্বপ্ন নবুওয়াতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে আসে, এমন নয় যে এটি নবুওয়াতের কোনো অবশিষ্টাংশ। অন্য একজন বলেছেন: এর অর্থ হলো এটি নবুওয়াতের ইলমের অংশগুলোর মধ্যে একটি অবশিষ্টাংশ, অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর নবুওয়াত আর অবশিষ্ট নেই। আর এটিই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মর্মার্থ: "নবুওয়াত চলে গেছে কিন্তু সুসংবাদসমূহ রয়ে গেছে; আর তা হলো নেক স্বপ্ন যা কোনো মুসলিম দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়।" সমাপ্ত।

তৃতীয়ত: স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং 'হুলম' (মন্দ স্বপ্ন) শয়তানের পক্ষ থেকে। ইবনুল আসির 'আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস'-এ বলেছেন: ঘুমন্ত ব্যক্তি নিদ্রাবস্থায় যা কিছু দেখে তাকেই 'রুয়া' (স্বপ্ন) ও 'হুলম' দ্বারা প্রকাশ করা হয়, তবে কল্যাণকর ও ভালো বিষয় দেখার ক্ষেত্রে 'রুয়া' শব্দটি প্রাধান্য পেয়েছে এবং মন্দ ও কুৎসিত বিষয় দেখার ক্ষেত্রে 'হুলম' শব্দটি প্রাধান্য পেয়েছে। আর তা থেকেই "এলোমেলো স্বপ্নগুচ্ছ" (আদগাসু আহলাম) শব্দটি এসেছে। এদের প্রত্যেকটি একে অপরের স্থলে ব্যবহৃত হয়। 'হুলম' শব্দের 'লাম' বর্ণটি পেশযুক্ত বা সাকিন উভয়ভাবেই পড়া যায়। হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি মিথ্যা স্বপ্ন বলবে, তাকে দুটি যব দানার মাঝে গিট দেওয়ার জন্য বাধ্য করা হবে"; অর্থাৎ সে এমন দাবি করল যে সে স্বপ্নে এমন কিছু দেখেছে যা মূলত সে দেখেনি। বলা হয়: 'হালামা' (লাম-এ জবর যোগে) যখন সে স্বপ্ন দেখে, আর 'তাহাল্লামা' যখন সে মিথ্যা স্বপ্নের দাবি করে। সমাপ্ত।

আল-জাওহারি বলেছেন: 'হুলম' (পেশ যোগে) হলো যা ঘুমন্ত ব্যক্তি দেখে, এখান থেকে বলা হয় 'হালামা' (জবর যোগে) এবং 'ইহতালামা'। আর 'হিলম' (যের যোগে) হলো সহনশীলতা; এখান থেকে বলা হয় 'হালুমা' (পেশ যোগে) অর্থাৎ ব্যক্তিটি সহনশীল হলো, আর 'তাহাল্লামা' অর্থ সহনশীল হওয়ার চেষ্টা করা, আর 'তাহালামা' অর্থ সহনশীলতা প্রদর্শন করা অথচ সে প্রকৃতপক্ষে তেমন নয়। সমাপ্ত। আন-নববী বলেছেন: 'হুলম' শব্দটি হা-তে পেশ এবং লাম-এ সাকিন যোগে হবে, আর এর ক্রিয়াপদটি হলো 'হালামা' (লাম-এ জবর যোগে)। সমাপ্ত।

চতুর্থত: যখন সময় ঘনিয়ে আসবে, তখন মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। আল-খাত্তাবি এবং অন্যান্য আলেমগণ 'সময় ঘনিয়ে আসা' এর মর্মার্থ সম্পর্কে দুটি মত উল্লেখ করেছেন; যার একটি হলো: কিয়ামতের সময় ঘনিয়ে আসা ও তার সময় নিকটবর্তী হওয়া। দ্বিতীয়টি হলো: সময় ঘনিয়ে আসার অর্থ হলো ঋতুর নাতিশীতোষ্ণতা এবং দিন ও রাত সমান হওয়া। আল-খাত্তাবি ও স্বপ্নবিশারদগণ বলেছেন: তাদের ধারণা মতে সবচেয়ে সত্য স্বপ্ন হলো বসন্তকালের স্বপ্ন এবং দিন ও রাত সমান হওয়ার সময়কার স্বপ্ন।

আমি বলছি: প্রথম মতটিই হলো সঠিক (الصحيح) এবং আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি কর্তৃক ইবনে সিরিন থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية)-তে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট পাঠ বিদ্যমান রয়েছে, যা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে...
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ২১)
النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «في آخر الزمان لا تكاد رؤيا المؤمن تكذب» وهو حديث صحيح وقد تقدم ذكره في الحديث الثالث عشر. وأما القول الثاني فباطل مردود لأنه لا قول لأحد مع قول رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد قال ابن العربي المالكي في "عارضة الأحوذي" قوله: "اقترب الزمان" هو افتعل من القرب، واختلف في معناه فقيل: أراد به اقترب من الاعتدال، والثاني إذا اقترب من الانتهاء بإقبال الساعة. فأما الأول فلا يصح من وجهين. أحدهما: أن اعتدال الليل والنهار ليس له في ذلك أثر ولا يتعلق به معنى إلا ما قالته الفلاسفة من أن اعتدال الزمان تعتدل به الأخلاط. وهذا مبني على تعليقها بالطبائع وهو باطل. الثاني: أنه يعارضه أن الزمان يعتدل إذا شارفت الشمس الميزان وهو معارض لصناعتهم لأن في ذلك الزمان وإن كان في مقابلة مشارفة الحمل تسقط الأوراق ويسقط الماء عن الثمار عكس المقارن الأول. والرؤيا عندهم فيه قاصرة وقد اغتّر بعض الناس بهذا التأويل فقال به، والأصح أنه اقتراب يوم القيامة فإنها الحاقة التي تحق فيها الحقائق فكلما قرب منها فهو أخص بها. انتهى.

ونقل ابن حجر في "فتح الباري" عن ابن أبي جمرة أنه قال: معنى كون رؤيا المؤمن في آخر الزمان لا تكاد تكذب أنها تقع غالبًا على الوجه الذي لا يحتاج إلى تعبير فلا يدخلها الكذب. قال: والحكمة في اختصاص ذلك بآخر الزمان أن المؤمن في ذلك الوقت يكون غريبًا فيقل أنيس المؤمن ومُعينه في ذلك الوقت فيكرم بالرؤيا الصادقة. انتهى.

الخامسة: أن أصدق المؤمنين حديثًا أصدقهم رؤيا. قال النووي: ظاهره أنه على إطلاقه لأن غير الصادق في حديثه يتطرق الخلل إلى رؤياه وحكايته إياها. وقال القاضي أبو بكر بن العربي المالكي قوله: «أصدقهم رؤيا أصدقهم حديثًا» وذلك لأن الأمثال إنما تضرب له على مقتضى أحواله من تخليط وتحقيق وكذب وصدق وهزل وجدّ ومعصية وطاعة. قال ابن سيرين: ما احتلمت في حرام قط، فقال بعضهم: ليت عقل ابن سيرين في المنام يكون لي في اليقظة. انتهى. ونقل الحافظ ابن حجر في "فتح الباري" عن المهلب أنه قال: الناس على ثلاث درجات، الأنبياء ورؤياهم كلها صدق وقد
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «শেষ জামানায় মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে»। এটি একটি সহীহ (صحيح) হাদিস এবং ইতিপূর্বে ত্রয়োদশ হাদিসে এর আলোচনা অতিক্রান্ত হয়েছে। আর দ্বিতীয় মতটি বাতিল (باطل) ও প্রত্যাখ্যাত (مردود); কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর বিপরীতে কারো কথা গ্রহণযোগ্য নয়। ইবনুল আরাবী মালিকী "عارضة الأحوذي" (আরদাতুল আহওয়াজী)-তে বলেছেন: তাঁর বাণী "সময় নিকটবর্তী হবে"—এটি 'নিকটবর্তী হওয়া' অর্থ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ নিয়ে মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেছেন: এর দ্বারা তিনি ঋতুর সমতার নিকটবর্তী হওয়া বুঝিয়েছেন। দ্বিতীয় মত হলো: কিয়ামত সন্নিকটবর্তী হওয়ার মাধ্যমে সময়ের সমাপ্তির নিকটবর্তী হওয়া। প্রথম মতটি দুটি কারণে সঠিক নয়। প্রথমত: রাত ও দিনের সমতার ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব নেই এবং এর সাথে এমন কোনো অর্থ সংশ্লিষ্ট নয়, কেবল দার্শনিকরা যা বলে থাকে যে—সময়ের সমতার দ্বারা স্বভাবজাত উপাদানসমূহের সমতা আসে। এটি মূলত প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীলতার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, যা বাতিল (باطل)। দ্বিতীয়ত: এর বিপরীত যুক্তি হলো যে, সূর্য যখন তুলা রাশিতে উপনীত হয় তখন সময় সমতায় আসে, যা তাদের কর্মপদ্ধতির পরিপন্থী। কারণ সেই সময়ে—যদিও তা মেষ রাশির বিপরীতে—পাতা ঝরে পড়ে এবং ফল থেকে রস শুকিয়ে যায়, যা প্রথম অবস্থার বিপরীত। তাদের নিকট এই সময়ে স্বপ্ন অসম্পূর্ণ থাকে। কিছু মানুষ এই ব্যাখ্যার দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে এটি গ্রহণ করেছেন। অথচ অধিক সঠিক (الأصح) মত হলো যে, এটি কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়া; কেননা এটি হলো সেই ধ্রুব সত্য যাতে প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হবে। সুতরাং কিয়ামত যত নিকটবর্তী হবে, স্বপ্ন তত বেশি এর সাথে বিশিষ্ট হবে। সমাপ্ত।

ইবনে হাজার ফাতহুল বারী-তে ইবনে আবী জামরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: শেষ জামানায় মুমিনের স্বপ্ন মিথ্যা না হওয়ার অর্থ হলো—অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা এমনভাবে সংঘটিত হবে যার কোনো ব্যাখ্যা (تعبير) প্রয়োজন হবে না, ফলে তাতে মিথ্যার অনুপ্রবেশ ঘটবে না। তিনি বলেন: শেষ জামানার সাথে একে নির্দিষ্ট করার হিকমত বা প্রজ্ঞা হলো এই যে, মুমিন ব্যক্তি সেই সময়ে 'গরীব' (একাকী) হবে, তখন মুমিনের বন্ধু ও সাহায্যকারী কমে যাবে, তাই তাকে সত্য (الصادقة) স্বপ্নের মাধ্যমে সম্মানিত করা হবে। সমাপ্ত।

পঞ্চম: যে মুমিন কথা বলায় সবচেয়ে বেশি সত্যবাদী, তার স্বপ্নও সবচেয়ে বেশি সত্য হবে। ইমাম নববী বলেন: এর প্রকাশ্য অর্থ হলো এটি এর সাধারণ অবস্থার ওপর প্রযোজ্য; কারণ যার কথায় সত্যবাদিতা নেই, তার স্বপ্নে এবং তা বর্ণনায় ত্রুটি বা গোলযোগ দেখা দেয়। কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবী মালিকী বলেন, তাঁর বাণী: «তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি সত্যবাদী, তার স্বপ্নও সবচেয়ে বেশি সত্য হবে»—এর কারণ হলো মানুষের কাছে দৃষ্টান্তসমূহ তার অবস্থা অনুযায়ী উপস্থাপিত হয়; যেমন সংমিশ্রণ, যথার্থতা, মিথ্যা, সত্য, কৌতুক, গুরুত্ব, পাপ ও আনুগত্য। ইবনে সিরীন বলেন: আমি কখনো হারামে স্বপ্নদোষগ্রস্ত হইনি। কেউ কেউ বলেছেন: ইবনে সিরীনের ঘুমের ঘোরের বুদ্ধি যদি আমার জাগ্রত অবস্থায় থাকত! সমাপ্ত। হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারী-তে মুহাল্লাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: মানুষ তিন স্তরের; নবীগণ—যাঁদের সকল স্বপ্নই সত্য এবং...
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ২২)
يقع فيها ما يحتاج إلى تعبير، والصالحون والأغلب على رؤياهم الصدق وقد يقع فيها ما لا يحتاج إلى تعبير، ومن عداهم يقع في رؤياهم الصدق والأضغاث وهم على ثلاثة أقسام. مستورون فالغالب استواء الحال في حقهم، وفسقة والغالب على رؤياهم الأضغاث ويقل فيها الصدق، وكفار ويندر في رؤياهم الصدق جدًا، ويشير إلى ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: «وأصدقهم رؤيا أصدقهم حديثًا» وقد وقعت الرؤيا الصادقة من بعض الكفار كما في رؤيا صاحبي السجن مع يوسف عليه السلام ورؤيا ملكهما وغير ذلك. انتهى.

وقال القرطبي: المسلم الصادق الصالح هو الذي يناسب حاله حال الأنبياء فأكرم بنوع مما أكرم به الأنبياء وهو الاطلاع على الغيب، وأما الكافر والفاسق والمخلط فلا، ولو صدقت رؤياهم أحيانًا فذلك كما قد يصدق الكذوب، وليس كل من حدًّث عن غيب يكون خبره من أجزاء النبوة كالكاهن والمنجم. انتهى. وقال ابن حجر: إن الرؤيا الصحيحة وإن اختصت غالبًا بأهل الصلاح فقد تقع لغيرهم. انتهى.

السادسة: تقسيم الرؤيا إلى ثلاث. الأولى: رؤيا حق وهي الرؤيا الصالحة التي هي بشرى من الله لمن رآها أو رؤيت له. الثانية: رؤيا مما يحدث به الرجل نفسه. الثالثة: رؤيا أهاويل من الشيطان ليحزن بها ابن آدم. قال القاضي أبو بكر بن العربي المالكي: أما تقسيم الرؤيا على ثلاثة أقسام فهي قسمة صحيحة مستوفية للمعاني وهي عند الفلاسفة على أربعة أقسام بحسب الطبائع الأربع، وقد بيّنا في كل كتاب ونادينا على كل باب وصرخنا على الوهاد والأنقاب بأنه لا تأثير للأخلاط ولا فعل، وإنما الصحيح ما قاله النبي صلى الله عليه وسلم وهي الرؤيا البشرى إما بمحبوب وإما بمكروه وإما تحزين من الشيطان يضرب به الأمثال المكروهة الكاذبة ليحزنه، وإما خطرات الوساوس وحديث النفوس فتجري على غير قصد ولا عقد في المنام جريانها في اليقظة. انتهى.

السابعة: الإخبار عن الرؤيا التي تعجب من رآها بأنها بشرى من الله.

الثامنة: أنه ينبغي للمؤمن أن يستبشر بالرؤيا الحسنة لقوله في بعض
স্বপ্নের মধ্যে এমন বিষয় থাকে যার ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়। পুণ্যবান ব্যক্তিদের অধিকাংশ স্বপ্নই সত্যতা (الصدق) ভিত্তিক হয়ে থাকে, তবে কখনো কখনো তাতে এমন কিছুও থাকে যার ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না। এছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে তাদের স্বপ্নে সত্যতা (الصدق) এবং অলীক কল্পনা (أضغاث) উভয়ই থাকে; তারা তিন ভাগে বিভক্ত। প্রথমত: অপ্রকাশিত বা গোপন (مستورون) ব্যক্তি, যাদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় উভয় অবস্থা সমান থাকে। দ্বিতীয়ত: পাপাচারী (فسقة), যাদের স্বপ্নে অলীক কল্পনার (أضغاث) প্রাধান্য থাকে এবং সত্যতা (الصدق) খুব কম হয়। তৃতীয়ত: কাফির, যাদের স্বপ্নে সত্যতা (الصدق) হওয়া অত্যন্ত বিরল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী সেদিকেই ইঙ্গিত করে: «তোমাদের মধ্যে যার কথা যত বেশি সত্য, তার স্বপ্নও তত বেশি সত্য»; তবে কিছু কাফিরের পক্ষ থেকেও সত্য (صادقة) স্বপ্ন সংঘটিত হয়েছে, যেমন ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর সাথে থাকা কারাগারের দুই সঙ্গীর স্বপ্ন এবং তাদের বাদশাহর স্বপ্ন ইত্যাদি। সমাপ্ত।

আল-কুরতুবী বলেন: সেই সত্যবাদী ও পুণ্যবান মুসলিমই নবীগণের অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যাকে নবীগণকে প্রদত্ত বিশেষ সম্মাননার একটি অংশ দ্বারা সম্মানিত করা হয়েছে, আর তা হলো গায়েব বা অদৃশ্য বিষয়ের অবগত হওয়া। তবে কাফির, পাপাচারী (فاسق) এবং বিভ্রান্ত (مخلط) লোকের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না; যদিও কখনো তাদের স্বপ্ন সত্য (صدقت) হয়, তবে তা মিথ্যাবাদীর কখনো কখনো সত্য কথা বলার মতোই। আর গায়েব সম্পর্কে সংবাদ প্রদানকারী প্রত্যেকের সংবাদই নবুওয়াতের অংশ নয়, যেমন গণক বা জ্যোতিষী। সমাপ্ত। ইবনে হাজার বলেন: সঠিক (صحيحة) স্বপ্ন যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুণ্যবানদের সাথে নির্দিষ্ট, তবে তা অন্যদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। সমাপ্ত।

ষষ্ঠ: স্বপ্নকে তিন ভাগে ভাগ করা। প্রথম: সত্য (حق) স্বপ্ন, যা পুণ্যময় (صالحة) স্বপ্ন এবং তা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ স্বরূপ, যা স্বপ্নদ্রষ্টা নিজের জন্য দেখে বা তার জন্য অন্য কেউ দেখে। দ্বিতীয়: মানুষের নিজের মনের কল্পনাপ্রসূত (حديث النفس) স্বপ্ন। তৃতীয়: শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতিপ্রদর্শনমূলক স্বপ্ন, যার মাধ্যমে সে আদম সন্তানকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করতে চায়। কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবি আল-মালিকি বলেন: স্বপ্নকে তিন ভাগে ভাগ করার এই পদ্ধতিটি সঠিক এবং অর্থের দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ। দার্শনিকদের মতে এটি প্রকৃতিগত চারটি উপাদানের ভিত্তিতে চার প্রকার। আমরা প্রতিটি কিতাবে এটি বর্ণনা করেছি, প্রতিটি অধ্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি এবং প্রতিটি উচ্চভূমি ও গিরিপথে উচ্চকণ্ঠে বলেছি যে, শারীরিক উপাদানের (الأخلاط) কোনো প্রভাব বা ক্রিয়া নেই। বরং সঠিক বিষয়টি হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; আর তা হলো সুসংবাদবাহী স্বপ্ন—যা কোনো প্রিয় বিষয় হতে পারে অথবা অপ্রিয় বিষয় হতে পারে, অথবা শয়তানের পক্ষ থেকে দুশ্চিন্তা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রদর্শিত অপছন্দনীয় ও মিথ্যা কোনো কাল্পনিক দৃশ্য হতে পারে যাতে সে মর্মাহত হয়, অথবা নিছক কুমন্ত্রণা ও মনের জল্পনা-কল্পনা (حديث النفس) হতে পারে যা জাগ্রত অবস্থার ন্যায় ঘুমের মধ্যেও কোনো উদ্দেশ্য বা সংকল্প ছাড়াই প্রবহমান থাকে। সমাপ্ত।

সপ্তম: পছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ হিসেবে বর্ণনা করা।

অষ্টম: মুমিনের উচিত উত্তম স্বপ্ন দেখে আনন্দিত হওয়া, কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কোনো বর্ণনায় বলেছেন...
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ২৩)
الروايات عن أبي قتادة رضي الله عنه: «فإن رأى رؤيا حسنة فليبشر». قال الإمام أحمد: الرؤيا تسرّ المؤمن ولا تغرّه.

التاسعة: الأمر لمن رأى رؤيا يحبها أن يحمد الله عليها ويحدث بها.

العاشرة: نهي من رأى رؤيا حسنة أن يخبر بها إلا من يحب. وهذا مما يتساهل فيه كثير من المنسوبين إلى العلم فضلاً عن العامة فتجد كثيرًا منهم يخبر بالرؤيا الحسنة من يحب ومن لا يحب.

الحادية عشرة: نهي من رأى رؤيا يكرهها أن يحدث بها أحدًا. وهذا أيضًا مما يتساهل فيه كثير من الناس.

الثانية عشرة: الأمر لمن رأى رؤيا يكرهها أن يبصق عن يساره ثلاثًا إذا استيقظ وأن يستعيذ بالله من الشيطان ثلاثًا وأن يتحول عن جنبه الذي كان عليه.

الثالثة عشرة: أمره أيضًا أن يستعيذ من شر رؤياه.

الرابعة عشرة: الإخبار بأن من فعل ما أمر به إذا رأى الرؤيا المكروهة واجتنب ما نهي عنه من التحديث بها فإنها لا تضره. وقد قال ابن سيرين: اتق الله في اليقظة ولا تبال ما رأيت في النوم.

الخامسة عشرة: أمر من رأى رؤيا يكرهها أن يقوم فيصلي. قال ابن العربي المالكي: لأن التحرم بها عصمة من الأسواء ونهي عن المنكر والفحشاء. انتهى.

السادسة عشرة: أن رؤية القيد في المنام حسن محمود وقد تقدم النص على أن القيد ثبات في الدين. قال أبو بكر ابن العربي المالكي: إنما جعل القيد ثباتًا في الدين لأن المقيد لا يستطيع المشي وقد ضربه النبي صلى الله عليه وسلم مثلاً للإيمان الذي يمنع عن المشي إلى الباطل فجعله ثباتًا في الدين كذلك. انتهى.

السابعة عشرة: أن رؤية الغُلّ في المنام مكروه لأنه من صفات أهل النار. والغُلُّ بضم المعجمة وتشديد اللام واحد الأغلال. قال الفيومي في
আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনা (الروايات): "যদি কেউ উত্তম স্বপ্ন (رؤيا حسنة) দেখে, তবে সে যেন সুসংবাদ গ্রহণ করে।" ইমাম আহমাদ বলেন: "স্বপ্ন মুমিনকে আনন্দিত করে কিন্তু তাকে প্রতারিত করে না।"

নবম: যে ব্যক্তি তার পছন্দনীয় স্বপ্ন দেখে, তাকে আল্লাহর প্রশংসা করার এবং তা বর্ণনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দশম: যে ব্যক্তি উত্তম স্বপ্ন (رؤيا حسنة) দেখেছে, সে যেন তার প্রিয় ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কাউকে তা না জানায়—এই মর্মে নিষেধাজ্ঞা। এটি এমন একটি বিষয় যাতে সাধারণ মানুষের কথা বাদই দিলাম, ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তিও শিথিলতা প্রদর্শন করেন; ফলে দেখা যায় তাদের অনেকেই উত্তম স্বপ্ন (رؤيا حسنة) প্রিয়-অপ্রিয় নির্বিশেষে সবার কাছে প্রকাশ করে দেন।

একাদশ: যে ব্যক্তি অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখেছে, সে যেন তা কাউকে না বলে—এই মর্মে নিষেধাজ্ঞা। এটিও এমন একটি বিষয় যাতে অনেক মানুষ শিথিলতা দেখান।

দ্বাদশ: যে ব্যক্তি অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখে, জাগ্রত হওয়ার পর তাকে তার বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলার, তিনবার শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার এবং যে পার্শ্বে শুয়েছিল তা পরিবর্তন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ: তাকে তার স্বপ্নের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চতুর্দশ: এই সংবাদ প্রদান যে, যদি কেউ অপছন্দনীয় স্বপ্ন (الرؤيا المكروهة) দেখার পর নির্দেশিত কাজগুলো করে এবং তা বর্ণনা করার নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকে, তবে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না। ইবনে সিরিন বলেছেন: "জাগ্রত অবস্থায় আল্লাহকে ভয় করো, তবে স্বপ্নে যা দেখেছ তা নিয়ে পরোয়া করো না।"

পঞ্চদশ: অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করার নির্দেশ। ইবনুল আরাবি আল-মালিকি বলেন: "কারণ সালাতে লিপ্ত হওয়া অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা দেয় এবং তা মন্দ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।" সমাপ্ত।

ষোড়শ: স্বপ্নে শৃঙ্খল (القيد) দেখা ভালো ও প্রশংসনীয়; আর শৃঙ্খল যে দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার প্রমাণ, তা ইতিপূর্বেই বর্ণিত হয়েছে। আবু বকর ইবনুল আরাবি আল-মালিকি বলেন: "শৃঙ্খলকে দ্বীনের ওপর অবিচলতা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে কারণ শৃঙ্খলিত ব্যক্তি হাঁটাচলা করতে পারে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে ঈমানের উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন, যা বাতিলের দিকে ধাবিত হওয়া থেকে বিরত রাখে। ফলে তিনি একে একইভাবে দ্বীনের ওপর অবিচলতা হিসেবে গণ্য করেছেন।" সমাপ্ত।

সপ্তদশ: স্বপ্নে গলার বেড়ি (الغُلّ) দেখা অপছন্দনীয় (مكروه); কারণ এটি জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য। 'গুল' (الغُلّ) শব্দটি গলার বেড়ি অর্থবোধক 'আগলাল' শব্দের একবচন। ফায়ুমি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ২৪)
"المصباح المنير": الغُلُّ بالضم طوق من حديث يجعل في العنق والجمع أغلال مثل قفل وأقفال. وقال ابن منظور في "لسان العرب": الغُلُّ جامعة توضع في العنق أو اليد، والجمع أغلال، ويقال: في رقبته غُلُّ من حديد. وقوله تعالى وتقدس: {إِنَّا جَعَلْنَا فِي أَعْنَاقِهِمْ أَغْلَالًا أغلالاً} [يس: 8] هي الجوامع تجمع أيديهم إلى أعناقهم، وقولهم في المرأة السيئة الخلق: «غُلُّ قَمِلٌ» أصله أن العرب كانوا إذا أسروا أسيرًا غلوه بغل من قِدًّ وعليه شعر فربما قمل في عنقه إذا قَبَّ ويبس فتجتمع عليه محنتان الغُلُّ والقمل. ضربه مثلاً للمرأة السيئة الخلق الكثيرة المهر لا يجد بعلها منها مخلصًا، والعرب تكني عن المرأة بالغُلّ. وفي الحديث: «وإن من النساء غُلاُّ قَمِلاً يقذفه الله في عنق من يشاء ثم لا يخرجه إلا هو». انتهى.

قال المهلب: الغُلّ يعبّر بالمكروه لأن الله أخبر في كتابه أنه من صفات أهل النار بقوله تعالى: {إذ الأغلال في أعناقهم} [غافر: 71] الآية. وقد يدل على الكفر وقد يعبّر بامرأة تؤذي. انتهى.

وقال ابن العربي المالكي قوله: «وأحب القيد وأكره الغُلّ» أما حبه القيد فلذكر النبي صلى الله عليه وسلم له في قسم المحمود فقال: «قَيَّد الإيمان الفتك» وأما الغُلّ فذكره شرعًا في المذموم كقوله: {خُذُوهُ فَغُلُّوهُ} [الحاقة: 30]، {إذ الأغلال في أعناقهم} [الإسراء: 29]، {وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ} [الإسراء: 29] و {غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ} [المائدة: 64]. انتهى.

وقال النووي: قال العلماء: إنما أحب القيد لأنه في الرجلين وهو كفّ عن المعاصي والشرور وأنواع الباطل. وأما الغُلّ فموضعه العنق وهو صفة أهل النار. وأما أهل التعبير فقالوا: إن القيد ثبات في الأمر الذي يراه الرائي بحسب من يرى له ذلك. وقالوا: إذا انضم الغل إلى القيد دل على زيادة
"আল-মিসবাহুল মুনির" গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'গুল' শব্দটি পেশ যোগে উচ্চারিত হয়, যা লোহার তৈরি একটি বেড়ি যা গলায় পরানো হয় এবং এর বহুবচন হলো 'আগলাল', যেমন 'কুফল' এর বহুবচন 'আকফাল'। ইবনে মানজুর "লিসানুল আরব" গ্রন্থে বলেছেন: 'গুল' হলো সেই হাতকড়া যা গলায় বা হাতে লাগানো হয়, এর বহুবচন হলো 'আগলাল'। বলা হয়ে থাকে: তার ঘাড়ে লোহার বেড়ি রয়েছে। মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আমি তাদের গলায় বেড়ি পরিয়ে দিয়েছি} [ইয়াসীন: ৮] - এখানে 'আগলাল' বলতে সেই হাতকড়াকে বোঝানো হয়েছে যা তাদের হাতকে ঘাড়ের সাথে একত্রিত করে রাখে। আর দুশ্চরিত্রা মহিলার ক্ষেত্রে তাদের প্রবাদ: "উকুনযুক্ত বেড়ি"। এর মূল উৎস হলো, আরবরা যখন কোনো যুদ্ধবন্দীকে বন্দী করত, তখন তাকে পশমযুক্ত কাঁচা চামড়ার বেড়ি দিয়ে বাঁধত। ফলে চামড়াটি শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেলে তার গলায় উকুনের সৃষ্টি হতো। এতে তার ওপর দুটি মসিবত একত্রিত হতো: বেড়ি এবং উকুন। একে সেই দুশ্চরিত্রা নারীর উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয় যার মোহরানা অনেক বেশি এবং যার থেকে তার স্বামী কোনো নিষ্কৃতি পায় না। আরবরা রূপক অর্থে নারীকে 'বেড়ি' বলে অভিহিত করে। হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয় নারীদের মধ্যে এমন কিছু 'উকুনযুক্ত বেড়ি' রয়েছে যা আল্লাহ যার গলায় ইচ্ছা নিক্ষেপ করেন, অতঃপর তিনি ব্যতীত আর কেউ তা থেকে মুক্তি দেন না।" সমাপ্ত।

আল-মুহাল্লাব বলেছেন: 'বেড়ি' দ্বারা অপছন্দনীয় বিষয় বোঝানো হয়, কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে একে জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন: {যখন তাদের গলায় বেড়ি পরানো হবে} [গাফির: ৭১] আয়াতটি। এটি কখনও কুফরির প্রমাণ দেয়, আবার কখনও কষ্টদায়ক নারী হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। সমাপ্ত।

ইবনুল আরাবি আল-মালিকি তাঁর উক্তি— "আমি শেকল পছন্দ করি এবং বেড়ি অপছন্দ করি"—এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: শেকল পছন্দ করার কারণ হলো, নবী (সা.) একে প্রশংসনীয় ভাগে উল্লেখ করে বলেছেন: "ঈমান চোরাগোপ্তা হত্যাকে শেকলবদ্ধ (প্রতিহত) করেছে।" আর বেড়ির কথা শরীয়তে নিন্দনীয় প্রসঙ্গে এসেছে, যেমন আল্লাহর বাণী: {তাকে ধরো এবং তার গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও} [হাক্কাহ: ৩০], {যখন তাদের গলায় বেড়ি পরানো হবে} [ইসরা: ২৯], {তুমি তোমার হাত তোমার গ্রীবায় আবদ্ধ করে রেখো না} [ইসরা: ২৯] এবং {তাদের হাতগুলো আবদ্ধ করা হয়েছে} [মায়িদাহ: ৬৪]। সমাপ্ত।

আন-নববী বলেছেন: ওলামায়ে কেরাম বলেন: তিনি শেকল পছন্দ করেছেন কারণ এটি পায়ে থাকে এবং এটি গুনাহ, মন্দ কাজ ও যাবতীয় বাতিল কাজ থেকে বিরত রাখে। অন্যদিকে বেড়ির স্থান হলো গলা এবং এটি জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য। স্বপ্ন বিশারদগণ বলেছেন: শেকল হলো কোনো বিষয়ে অবিচল থাকা, যা স্বপ্নদ্রষ্টা তার অবস্থা অনুযায়ী দেখে থাকে। তারা আরও বলেন: যখন বেড়ির সাথে শেকল যুক্ত হয়, তখন তা কাঠিন্য ও জটিলতা বৃদ্ধির প্রমাণ দেয়।
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ২৫)
المكروه، وإذا جعل الغل في اليدين حُمِد لأنه كفّ لهما عن الشر. وقد يدل على البخل بحسب الحال، وقالوا أيضًا: إن رأى أن يديه مغلولتان فهو بخيل. وإن رأى أنه قيّد وغلّ فإنه يقع في سجن وشدة. قال الحافظ ابن حجر في "فتح الباري" بعد ذكره لكلام النووي، قلت: وقد يكون الغُلّ في بعض المرائي محمودًا كما وقع لأبي بكر الصديق رضي الله عنه، فأخرج أبو بكر بن أبي شيبة بسند صحيح عن مسروق قال: «مر صهيب بأبي بكر فأعرض عنه فسأله فقال: رأيت يدك مغلولة على باب أبي الحشر رجل من الأنصار، فقال أبو بكر: جمع لي ديني إلى يوم الحشر».

الثامنة عشرة: الأمر بأن لا تقص الرؤيا إلا على عالم أو ناصح.

وسيأتي ذكر الأحاديث الواردة في هذا وكلام العلماء فيما يتعلق بهذه الفائدة في فصل مستقل إن شاء الله تعالى.

فصل

 

في‌‌ النهي عن الإخبار بما يراه في نومه من المكروه وتلعّب الشيطان به

فأما النهي عن الإخبار بالرؤيا المكروهة فقد تقدم في خمسة أحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم. أولها: الحديث الحادي عشر عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما. وثانيها: الحديث الثالث عشر عن أبي هريرة رضي الله عنه وقد جاء ذلك فيه من عدة طرق. وثالثها: الحديث الخامس عشر عن أبي قتادة رضي الله عنه وقد جاء ذلك فيه من عدة طرق. ورابعها: الحديث السادس عشر عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه. وخامسها: الحديث الثامن عشر عن ابن عمر رضي الله عنهما.

وأما النهي عن إخبار الرجل بتلعب الشيطان به في النوم فقد جاء فيه حديثان صحيحان؛ أحدهما: عن أبي الزبير عن جابر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا حَلَم أحدكم فلا يخبر أحدًا بتلعب الشيطان به في
অপছন্দনীয় (مکروه) বিষয়; আর যখন দুই হাতে বেড়ি পরানো হয়, তখন তা প্রশংসনীয় হয়, কারণ এটি হাত দুটিকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। অবস্থাভেদে এটি কৃপণতাও নির্দেশ করতে পারে। আলেমগণ আরও বলেছেন: যদি কেউ দেখে যে তার দুই হাত শৃঙ্খলিত, তবে সে কৃপণ। আর যদি দেখে যে তাকে বন্দি করা হয়েছে এবং শিকল পরানো হয়েছে, তবে সে কারাবাস ও কঠোর কষ্টের সম্মুখীন হবে। হাফেজ ইবনে হাজার "ফাতহুল বারি"-তে ইমাম নববীর বক্তব্য উল্লেখ করার পর বলেছেন, আমি বলি: কোনো কোনো স্বপ্নে বেড়ি পরা প্রশংসনীয় হতে পারে, যেমনটি আবু بকর সিদ্দিক (রা.)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল। আবু বকর বিন আবি শাইবা একটি সহিহ (صحيح) সনদে মাসরুক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সোহাইব (রা.) আবু বকর (রা.)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এরপর তিনি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আমি স্বপ্নে দেখেছি আনসারদের মধ্য থেকে আবু হাশর নামক এক ব্যক্তির দরজায় আপনার হাত শৃঙ্খলিত অবস্থায় আছে। তখন আবু বকর (রা.) বললেন: হাশরের দিন পর্যন্ত আমার দ্বীনকে আমার জন্য সংরক্ষিত ও সংগৃহীত করা হয়েছে।

আঠারোতম শিক্ষা: স্বপ্ন কেবল কোনো আলেম অথবা হিতৈষীর কাছেই ব্যক্ত করার নির্দেশ।

এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ এবং এই সংক্রান্ত আলেমদের বক্তব্য ইনশাআল্লাহ স্বতন্ত্র একটি পরিচ্ছেদে সামনে আসবে।

পরিচ্ছেদ

 

অনুচ্ছেদ: ঘুমের মধ্যে অপছন্দনীয় (مکروه) কিছু দেখা এবং শয়তানের খেল-তামাশা সম্পর্কে কাউকে জানাতে নিষেধ করা প্রসঙ্গে

অপছন্দনীয় (مکروه) স্বপ্ন সম্পর্কে কাউকে জানানো থেকে নিষেধের বিষয়টি নবী (সা.) থেকে বর্ণিত পাঁচটি হাদিসে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। প্রথমটি: আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত একাদশ হাদিস। দ্বিতীয়টি: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত ত্রয়োদশ হাদিস, যা একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তৃতীয়টি: আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত পঞ্চদশ হাদিস, যা একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। চতুর্থটি: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত ষোড়শ হাদিস। পঞ্চমটি: ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত অষ্টাদশ হাদিস।

আর ঘুমের মধ্যে শয়তানের খেল-তামাশা সম্পর্কে কাউকে জানানো থেকে নিষেধ করার বিষয়ে দুটি সহিহ (صحيح) হাদিস বর্ণিত হয়েছে; যার একটি: আবু জুবাইর জাবের (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন স্বপ্ন দেখে, তখন সে যেন শয়তানের খেল-তামাশার কথা কাউকে না বলে...
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ২৬)
المنام» رواه الإمام أحمد ومسلم وابن ماجه، وهذا لفظ مسلم. وفي رواية لمسلم وابن حبان عن أبي الزبير عن جابر رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال لأعرابي جاءه فقال: إني حلمت أن رأسي قطع فأنا أتبعه، فزجره النبي صلى الله عليه وسلم وقال: «لا تخبر بتلعب الشيطان بك في المنام» وقد رواه ابن أبي شيبة مختصرًا ولفظه جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: إني رأيت كأن عنقي ضربت، قال: «لِمَ يخبر أحدكم بلعب الشيطان به».

ورواه الإمام أحمد ومسلم أيضًا من حديث أبي سفيان – واسمه طلحة بن نافع – عن جابر رضي الله عنه قال: أتى النبي صلى الله عليه وسلم رجل فقال: يا رسول الله رأيت البارحة فيما يرى النائم كأنّ عنقي ضربت فسقط رأسي فاتبعته فأخذته فأعدته مكانه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا لعب الشيطان بأحدكم فلا يحدثن به الناس» هذا لفظ أحمد، ورواه ابن ماجه بنحوه. وفي رواية مسلم قال: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله رأيت في المنام كأن رأسي قطع، قال: فضحك النبي صلى الله عليه وسلم وقال: «إذا لعب الشيطان بأحدكم في منامه فلا يحدث به الناس» ورواه ابن أبي شيبة بنحوه. وفي رواية لمسلم قال: جاء أعرابي إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله رأيت في المنام كأن رأسي ضرب فتدحرج فاشتددت على أثره فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم للأعرابي: «لا تحدث الناس بتلعب الشيطان بك في منامك»، وقال – أي جابر -: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يخطب فقال: «لا يحدثن أحدكم بتلعب الشيطان به في منامه».

الحديث الثاني: عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: إني رأيت رأسي ضرب فرأيته يتدهده، فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال: «يطرق أحدكم الشيطان فيتهول له ثم يغدو يخبر الناس» رواه الإمام أحمد وابن أبي شيبة وابن ماجه وأسانيدهم صحيحة على شرط الشيخين. وقد جاء أيضًا حديثان في ضحك النبي صلى الله عليه وسلم من قول الرجل الذي أخبره أنه رأى في منامه أن رأسه قد قطع فذهب يتبعه، ولكن ليس في الحديثين نهي عن تحديث الرجل بتلعب الشيطان به في المنام فلذلك لم أذكرهما ههنا. وسيأتي ذكرهما في الفصل الذي تذكر فيه الأشياء التي يستدل بها على التأويل إن شاء الله تعالى.
স্বপ্ন...» এটি ইমাম আহমদ, মুসলিম ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং এটি মুসলিমের শব্দ। মুসলিম ও ইবনে হিব্বানের একটি বর্ণনায় (رواية) আবু যুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি জাবির (রা.) থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক বেদুইন তাঁর কাছে এসে বলল: "আমি স্বপ্নে দেখেছি যে আমার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে এবং আমি এর পিছু পিছু ছুটছি।" তখন নবী (সা.) তাকে ধমক দিয়ে বললেন: "স্বপ্নে তোমার সাথে শয়তানের এই খেলাধুলার কথা কাউকে বলবে না।" ইবনে আবি শায়বাহ এটি সংক্ষিপ্তভাবে (مختصرًا) বর্ণনা করেছেন যার শব্দ এরূপ: এক ব্যক্তি নবী (সা.)-এর নিকট এসে বলল: "আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমার ঘাড় দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছে।" তিনি বললেন: "তোমাদের কেউ যেন তার সাথে শয়তানের এহেন খেলার সংবাদ না দেয়।"

ইমাম আহমদ ও মুসলিম এটি আবু সুফিয়ান—যার নাম তালহা বিন নাফে—এর সূত্রে জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সা.)-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! গত রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমার ঘাড় দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছে, ফলে আমার মাথাটি পড়ে গেল। এরপর আমি সেটির পিছু নিলাম এবং সেটি ধরে পুনরায় তার স্থানে বসিয়ে দিলাম।" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "যখন শয়তান তোমাদের কারো সাথে খেলাধুলা করে, তখন সে যেন মানুষের কাছে তা বর্ণনা না করে।" এটি আহমদের শব্দ, আর ইবনে মাজাহ এর সমার্থবোধক বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের এক বর্ণনায় (رواية) বলা হয়েছে: এক ব্যক্তি নবী (সা.)-এর নিকট এসে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি স্বপ্নে দেখেছি যেন আমার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে।" বর্ণনাকারী বলেন: তখন নবী (সা.) হাসলেন এবং বললেন: "যখন তোমাদের কারো স্বপ্নে শয়তান খেলাধুলা করে, তবে সে যেন মানুষের কাছে তা বর্ণনা না করে।" ইবনে আবি শায়বাহ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় (رواية) আছে: এক বেদুইন নবী (সা.)-এর নিকট এসে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমার মাথায় আঘাত করা হলো এবং সেটি গড়িয়ে চলে গেল, আর আমি সেটির পেছনে দ্রুত ছুটলাম।" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বেদুইনকে বললেন: "স্বপ্নে শয়তানের তোমার সাথে এই খেলার কথা মানুষের নিকট বর্ণনা করো না।" তিনি—অর্থাৎ জাবির (রা.)—বলেন: আমি নবী (সা.)-কে খুতবা দিতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "তোমাদের কেউ যেন স্বপ্নে তার সাথে শয়তানের এই খেলার কথা বর্ণনা না করে।"

দ্বিতীয় হাদিস: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে বলল: "আমি দেখলাম আমার মাথায় আঘাত করা হয়েছে এবং আমি সেটি গড়িয়ে পড়তে দেখলাম।" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) মুচকি হাসলেন এবং বললেন: "তোমাদের কারো নিকট শয়তান আসে এবং তাকে আতঙ্কিত করে, আর সে সকালে উঠে মানুষের কাছে তা বলে বেড়ায়।" ইমাম আহমদ, ইবনে আবি শায়বাহ ও ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাদের সনদসমূহ (أسانيد) শাইখাইনের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (صحيحة)। সেই ব্যক্তির বক্তব্য সম্পর্কেও দুটি হাদিস এসেছে—যে নবী (সা.)-কে বলেছিল যে সে স্বপ্নে তার মাথা কেটে যেতে দেখেছে এবং সেটির পিছু ছুটছে—যা শুনে নবী (সা.) হেসেছিলেন। কিন্তু সেই হাদিস দুটিতে স্বপ্নে শয়তানের খেলাধুলার কথা বর্ণনা করার ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা (نهي) নেই, তাই আমি এখানে সেগুলো উল্লেখ করিনি। ইনশাআল্লাহ তাআলা, স্বপ্নের ব্যাখ্যার (التأويل) ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো দ্বারা দালিল গ্রহণ করা হয় (يستدل بها), সেই পরিচ্ছেদে (الفصل) অচিরেই সেগুলো উল্লেখ করা হবে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ২৭)
فصل

 

في‌‌ما يقوله من رأى في منامه ما يكرهه

عن إبراهيم النخعي أنه قال: «إذا رأى أحدكم رؤيا يكرهها فليقل أعوذ بما عاذت به ملائكة الله ورسله من شر رؤياي التي رأيت الليلة أن تضرني في ديني ودنياي يا رحمن» رواه عبد الرزاق وابن أبي شيبة وإسناد كل منهما صحيح. وقد تقدم في الفصل الأول عدة أحاديث أمر فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم بالاستعاذة من شر الرؤيا المكروهة ومن شر الشيطان وأخبر أن من فعل هذا فإن الرؤيا لا تضره.

فصل

 

في‌‌ما يقوله من يروّع في منامه أو يجد وحشة

روى مالك في "الموطأ" عن يحيى بن سعيد قال: بلغني أن خالد بن الوليد قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: إني أروّع في منامي، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «قل أعوذ بكلمات الله التامة من غضبه وعقابه وشرّ عباده ومن همزات الشياطين وأن يحضرون» وروى الإمام أحمد بإسناد صحيح عن الوليد بن الوليد رضي الله عنه أنه قال: يا رسول الله إني أجد وحشة، قال: «فإذا أخذت مضجعك فقل أعوذ بكلمات الله التامة من غضبه وعقابه وشر عباده ومن همزات الشياطين وأن يحضرون فإنه لا يضرك وبالحري أن لا يقربك». وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمنا كلمات نقولهن عند النوم من الفزع: «بسم الله أعوذ بكلمات الله التامة من غضبه وعقابه وشر عباده ومن همزات الشياطين وأن يحضرون» رواه الإمام أحمد وأبو داود والترمذي ولفظه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا فزع أحدكم في النوم فليقل: أعوذ بكلمات الله التامات من غضبه وعقابه وشر عباده ومن همزات الشياطين وأن يحضرون فإنها لن تضره» ثم قال: هذا حديث حسن غريب، ورواه الحاكم وصححه.
পরিচ্ছেদ

 

বিষয়ে‌‌যিনি স্বপ্নে অপছন্দনীয় কিছু দেখেন তার করণীয়

ইব্রাহিম নাখয়ি থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: "তোমাদের কেউ যখন এমন কোনো স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন বলে: আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি সেই বিষয়ের মাধ্যমে যার মাধ্যমে আল্লাহর ফেরেশতাগণ এবং তাঁর রাসূলগণ আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন—আমার আজ রাতের দেখা স্বপ্নের অনিষ্ট থেকে, যেন তা আমার দ্বীন ও দুনিয়ার কোনো ক্ষতি না করতে পারে, হে দয়াময়।" এটি আবদুর রাজ্জাক এবং ইবনে আবি শাইবা বর্ণনা করেছেন এবং তাদের উভয়ের সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)। প্রথম পরিচ্ছেদে ইতিপূর্বে বেশ কিছু হাদিস অতিক্রান্ত হয়েছে যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দনীয় স্বপ্নের অনিষ্ট এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি এটি করবে সেই স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করবে না।

পরিচ্ছেদ

 

বিষয়ে‌‌যিনি ঘুমে ভীত হন অথবা একাকীত্ব অনুভব করেন তার করণীয়

ইমাম মালিক "মুয়াত্তা" গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেন: "আমি আমার ঘুমে ভীত হই।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "বলো, আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ, তাঁর শাস্তি, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট এবং শয়তানদের কুমন্ত্রণা ও আমার কাছে তাদের উপস্থিতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" ইমাম আহমদ একটি সহিহ সনদ (إسناد صحيح) সহ ওয়ালিদ ইবনুল ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি একাকীত্ব অনুভব করি।" তিনি বললেন: "যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন বলো—আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ, তাঁর শাস্তি, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট এবং শয়তানদের কুমন্ত্রণা ও আমার কাছে তাদের উপস্থিতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তবে তা তোমার কোনো ক্ষতি করবে না এবং আশা করা যায় যে তারা তোমার কাছেও আসবে না।" আমর ইবনে শুআইব থেকে তার পিতা, তিনি তার দাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ঘুমের সময় আতঙ্ক থেকে বাঁচার জন্য কিছু বাক্য শিক্ষা দিতেন: "আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ, তাঁর শাস্তি, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট এবং শয়তানদের কুমন্ত্রণা ও আমার কাছে তাদের উপস্থিতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" এটি ইমাম আহমদ, আবু দাউদ এবং তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। তিরমিজির শব্দ হলো—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন ঘুমের মধ্যে ভীত হয়, সে যেন বলে: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ, তাঁর শাস্তি, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট এবং শয়তানদের কুমন্ত্রণা ও আমার কাছে তাদের উপস্থিতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি; তবে এটি কখনো তার কোনো ক্ষতি করবে না।" অতঃপর তিনি বলেন: এই হাদিসটি হাসান গারিব (حسن غريب)। হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صححه) বলে সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ২৮)
فصل

 

في‌‌ النهي عن قص الرؤيا على غير عالم أو ناصح

قد تقدم في الحديث الثالث عشر ما رواه الترمذي من طريق قتادة عن محمد ابن سيرين عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: «لا تقص الرؤيا إلا على عالم أو ناصح». قال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح. وقد رواه الدارمي بإسناد صحيح ولفظه عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يقول: «لا تقصوا الرؤيا إلا على عالم أو ناصح».

وروى الإمام أحمد والترمذي عن أبي رزين – واسمه لقيط بن عامر العقيلي – رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الرؤيا معلقة برجل طائر ما لم يحدث بها صاحبها فإذا حدث بها وقعت ولا تحدثوا بها إلا عالمًا أو ناصحًا أو لبيبًا» هذا لفظ إحدى روايات أحمد. وفي رواية له قال: وأحسبه قال: «لا يحدث بها إلا حبيبًا أو لبيبًا»، ورواه الترمذي بنحوه وقال: هذا حديث حسن صحيح، ورواه الإمام أحمد أيضًا وابن أبي شيبة وأبو داود وابن ماجه وابن حبان بنحوه وقالوا فيه: وأحسبه قال: «ولا تقصها إلا على وادًّ أو ذي رأي» وقد رواه الدارمي وابن حبان في "صحيحه" والحاكم في "مستدركه" مختصرًا وصححه الحاكم والذهبي.

وروى عبد الرزاق في مصنفه عن معمر عن أيوب عن أبي قلابة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الرؤيا تقع على ما تعبّر، ومَثَلُ ذلك مثل رجلٍ رفع رجله فهو ينتظر متى يضعها فإذا رأى أحدكم رؤيا فلا يحدث بها إلا ناصحًا أو عالمًا» هكذا رواه مرسلاً ورجاله رجال الصحيح. وقد رواه الحاكم موصولاً من طريق عبد الرزاق عن معمر عن أيوب عن أبي قلابة عن أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم فذكره بمثله وصححه ووافقه الذهبي على تصحيحه.

قال الخطابي في "معالم السنن" في الكلام على حديث أبي رزين رضي الله عنه، معنى هذا الكلام حُسن الارتياد لموضع الرؤيا واستعبارها العالم بها الموثوق برأيه وأمانته، وقوله: «على رجل طائر» مَثَلُ ومعناه أنها لا
পরিচ্ছেদ

 

বিদ্বান অথবা উপদেশদাতা ব্যতীত অন্য কারো কাছে স্বপ্ন বর্ণনা করার নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে

তেরোতম হাদিসে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যা তিরমিজি কাতাদাহর সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: «বিদ্বান অথবা উপদেশদাতা ব্যতীত অন্য কারো কাছে স্বপ্ন বর্ণনা করবে না»। তিরমিজি বলেন: এটি একটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস। দারিমি এটি সহিহ (صحيহ) সনদ (إسناد) যোগে বর্ণনা করেছেন এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণিত তাঁর শব্দগুলো হলো: «তোমরা বিদ্বান অথবা উপদেশদাতা ব্যতীত অন্য কারো কাছে স্বপ্ন বর্ণনা করো না»।

ইমাম আহমদ ও তিরমিজি আবু রাজিন—তাঁর নাম লাকিত বিন আমির আল-উকাইলি—(রা.) থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «স্বপ্ন পাখির পায়ের ওপর ঝুলন্ত থাকে যতক্ষণ না তা বর্ণনা করা হয়; যখন তা বর্ণনা করা হয় তখন তা ঘটে যায়। আর তোমরা বিদ্বান, উপদেশদাতা অথবা প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি ব্যতীত কারো কাছে স্বপ্ন বর্ণনা করো না»—এটি আহমদের একটি বর্ণনার শব্দ। তাঁর অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন: আমার মনে হয় তিনি বলেছেন: «পছন্দনীয় ব্যক্তি অথবা প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি ব্যতীত কারো কাছে তা বর্ণনা করবে না»। তিরমিজি এটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)। ইমাম আহমদ, ইবনে আবি শাইবাহ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে হিব্বানও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তারা তাতে উল্লেখ করেছেন: আমার মনে হয় তিনি বলেছেন: «অকৃত্রিম বন্ধু অথবা বিজ্ঞ ব্যক্তি ব্যতীত কারো কাছে স্বপ্ন বর্ণনা করো না»। দারেমি এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম ও দাহাবি এটিকে সহিহ (صحيহ) সাব্যস্ত করেছেন।

আবদুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে মা'মার থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «স্বপ্নের ব্যাখ্যা যেভাবে করা হয় সেভাবেই তা ঘটে। এর উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো যে তার পা তুলেছে এবং অপেক্ষা করছে কখন তা নিচে রাখবে; সুতরাং তোমাদের কেউ যখন কোনো স্বপ্ন দেখে, সে যেন উপদেশদাতা অথবা বিদ্বান ব্যতীত কারো কাছে তা বর্ণনা না করে»। এভাবেই তিনি এটি মুরসাল (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ (صحيহ) হাদিসের বর্ণনাকারী। হাকেম এটি আবদুর রাজ্জাকের সূত্রে মা'মার থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে মুত্তাসিল (متصل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। তিনি এটিকে সহিহ (صحيহ) বলেছেন এবং দাহাবিও তাঁর এই সহিহ (صحيح) বলার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন।

খাত্তাবি মাআলিমুস সুনান গ্রন্থে আবু রাজিন (রা.)-এর হাদিসের আলোচনায় বলেন, এই কথার অর্থ হলো স্বপ্নের জন্য উত্তম স্থান অনুসন্ধান করা এবং এর ব্যাখ্যার জন্য এমন বিদ্বান ব্যক্তির শরণাপন্ন হওয়া যার বিচারবুদ্ধি ও আমানতদারির ওপর আস্থা রাখা যায়। আর তাঁর উক্তি: «পাখির পায়ের ওপর» এটি একটি উপমা এবং এর অর্থ হলো যে তা...
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ২৯)
يستقر قرارها ما لم تعبر. وقال أبو إسحاق الزجاج في قوله: «لا يقصها إلا على وادًّ أو ذي رأي» الوادّ لا يحب أن يستقبلك في تفسيرها إلا بما تحب وإن لم يكن عالمًا بالتعبير لم يعجل لك بما يغمك. لا أن تعبيره يزيلها عما جعلها الله عليه، وأما ذو الرأي فمعناه ذو العلم بتعبيرها فهو يخبرك بحقيقة تفسيرها أو بأقرب ما يعلم منها، ولعله أن يكون في تفسيره موعظة تردعك عن قبيح أنت عليه أو تكون فيها بشرى فتشكر الله على النعمة فيها. انتهى.

وقال القاضي أبو بكر ابن العربي إن كانت – أي الرؤيا – بشرى أو شككت فيها فلا تحدث بها إلا عالمًا ناصحًا. العالم يعبرها له على الخير إذا أمكنه والناصح يرشده إلى ما ينفعه ويعينه عليه. وروي في آخر: «ولا تحدث بها إلا حبيبًا أو لبيبًا». أما الحبيب فإذا عرف قال وإن جهل سكت، وأما اللبيب وهو العاقل العارف بتأويلها فإنه ينبئك بما تُعَوَّل عليه فيها وإن ساءته سكت عنك وتركها. انتهى.

وذكر البغوي في "شرح السنة" عن الإمام – وهو شيخه القاضي حسين بن محمد – أنه قال في قوله: «إذا رأى أحدكم ما يكره فلا يحدث به»، وفي حديث أبي قتادة: «فإذا رأى أحدكم ما يحب فلا يحدث به إلا من يحب» فيه إرشاد المستعبر لموضع رؤياه فإن رأى ما يكره فلا يحدث به حتى لا يستقبله في تفسيرها ما يزاد به همًّا، وإن رأى ما يحبه فلا يحدث به إلا من يحبه لأنه لا يأمن ممن لا يحبه أن يعبره حسدًا على غير وجهه فيغمه أو يكيده بأمركما أخبر الله سبحانه وتعالى عن يعقوب عليه السلام حين قص عليه يوسف عليه السلام رؤياه: {قَالَ يَا بُنَيَّ لَا تَقْصُصْ رُؤْيَاكَ عَلَى إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا لَكَ كَيْدًا} [يوسف: 5]. انتهى.

وذكر ابن حجر في "فتح الباري" في الكلام على قوله: «فلا يحدث بها إلا من يحب» أن الحكمة فيه أنه إذا حدث بالرؤيا الحسنة من لا يحب قد يفسرها له بما لا يحب إما بغضًا وإما حسدًا فقد تقع على تلك الصفة أو يتعجل
স্বপ্নের বিষয়টি স্থির থাকে যতক্ষণ না তার ব্যাখ্যা (تعبير) করা হয়। আবু ইসহাক আজ-জাজ্জাজ এই বাণীর ব্যাখ্যায় বলেন, "স্বপ্নের কথা কেবল কোনো স্নেহভাজন (وادّ) বা বিজ্ঞ ব্যক্তির (ذي رأي) কাছেই বর্ণনা করবে।" স্নেহভাজন ব্যক্তি তার ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আপনার সামনে কেবল তাই উপস্থাপন করতে পছন্দ করেন যা আপনার জন্য সুখকর; আর যদি তিনি ব্যাখ্যায় পারদর্শী নাও হন, তবুও তিনি আপনার কাছে এমন কিছু প্রকাশে তাড়াহুড়া করবেন না যা আপনাকে বিষণ্ণ করে। এর অর্থ এটি নয় যে, তাঁর ব্যাখ্যা স্বপ্নটিকে সেই বাস্তবতা থেকে সরিয়ে দেবে যা আল্লাহ তার জন্য নির্ধারণ করেছেন। পক্ষান্তরে বিজ্ঞ ব্যক্তি (ذو الرأي) বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে যিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন; তিনি আপনাকে এর ব্যাখ্যার প্রকৃত রূপ অথবা তাঁর জানামতে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী অর্থ সম্পর্কে অবহিত করবেন। হতে পারে তাঁর ব্যাখ্যার মধ্যে এমন কোনো উপদেশ থাকবে যা আপনাকে আপনার কোনো মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে অথবা তাতে কোনো সুসংবাদ (بشرى) থাকবে যা আপনাকে সেই নেয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে উদ্বুদ্ধ করবে। সমাপ্ত।

কাজি আবু বকর ইবনুল আরাবি বলেন, স্বপ্ন যদি সুসংবাদ (بشرى) হয় অথবা আপনি সে সম্পর্কে সংশয়ে থাকেন, তবে কেবল একজন বিদ্বান (عالم) ও হিতৈষীর (ناصح) কাছেই তা বর্ণনা করবেন। বিদ্বান ব্যক্তি সম্ভব হলে তার সামনে কল্যাণকরভাবে সেটির ব্যাখ্যা (تعبير) করবেন, আর হিতৈষী তাকে এমন বিষয়ের দিকে দিকনির্দেশনা দেবেন যা তার জন্য উপকারী হবে এবং তাকে সেই কাজে সাহায্য করবে। অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: "স্নেহভাজন (حبيب) অথবা বুদ্ধিমান (لبيب) ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো কাছে স্বপ্নের কথা বর্ণনা করো না।" স্নেহভাজন ব্যক্তি যদি ব্যাখ্যা জানেন তবে বলবেন, আর যদি না জানেন তবে চুপ থাকবেন। পক্ষান্তরে বুদ্ধিমান (لبيب) ব্যক্তি—যিনি একজন বিবেকবান ও স্বপ্নের ব্যাখ্যা (تأويل) সম্পর্কে অভিজ্ঞ—তিনি আপনাকে সেই বিষয়ের সংবাদ দেবেন যার ওপর আপনি নির্ভর করতে পারেন; আর যদি স্বপ্নটি তাঁর কাছে মন্দ মনে হয়, তবে তিনি আপনার কাছে চুপ থাকবেন এবং তা এড়িয়ে যাবেন। সমাপ্ত।

আল-বাগাওয়ি 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে ইমাম—যিনি তাঁর উস্তাদ কাজি হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ—থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসুলের এই বাণীর ব্যাপারে বলেন: "যখন তোমাদের কেউ এমন কিছু দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন তা বর্ণনা না করে।" এবং আবু কাতাদাহ (রা.)-এর হাদিসে এসেছে: "যখন তোমাদের কেউ এমন কিছু দেখে যা সে পছন্দ করে, তবে সে যেন কেবল তাকেই তা বর্ণনা করে যাকে সে ভালোবাসে।" এতে স্বপ্ন ব্যাখ্যাপ্রার্থীর (مستعبر) জন্য তার স্বপ্নের প্রেক্ষিত সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে। যদি সে অপছন্দনীয় কিছু দেখে তবে তা বর্ণনা করবে না, যাতে ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তার সামনে এমন কিছু না আসে যা তার দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দেয়। আর যদি সে পছন্দনীয় কিছু দেখে তবে তা কেবল তাকেই বলবে যাকে সে ভালোবাসে। কারণ, যাকে সে ভালোবাসে না তার পক্ষ থেকে সে নিরাপদ নয়; এমন হতে পারে যে সে হিংসাবশত ভুলভাবে সেটির ব্যাখ্যা (تعبير) করবে এবং তাকে বিষণ্ণ করে তুলবে অথবা তার বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্ত করবে। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যখন ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) তাঁর কাছে স্বপ্নের কথা বর্ণনা করেছিলেন: {তিনি বললেন, হে বৎস! তোমার স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের নিকট বর্ণনা করো না; নচেৎ তারা তোমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করবে} [ইউসুফ: ৫]। সমাপ্ত।

ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারি' গ্রন্থে "কেবল তাকেই বলবে যাকে তুমি ভালোবাসো" এই বাণীর আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে, এর মধ্যে নিহিত রহস্য হলো, যখন কেউ তার উত্তম স্বপ্নটি এমন কারো কাছে বর্ণনা করে যাকে সে পছন্দ করে না, তখন সে ব্যক্তি হয়তো বিদ্বেষবশত অথবা হিংসাবশত এমনভাবে সেটির ব্যাখ্যা (تعبير) করতে পারে যা স্বপ্নদ্রষ্টা পছন্দ করে না। ফলে সেটি সেই অবস্থায় পতিত হতে পারে অথবা ত্বরান্বিত হতে পারে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ৩০)
لنفسه من ذلك حزنًا ونكدًا فأمر بترك تحديث من لا يحب بسبب ذلك. انتهى.

فصل

 

في‌‌ ذكر أصدق الرؤيا

عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أصدق الرؤيا بالأسحار» رواه الإمام أحمد والترمذي والدارمي وابن حبان في "صحيحه" والحاكم وصححه ووافقه الذهبي على تصحيحه. قال القاضي أبو بكر بن العربي في الكلام على هذا الحديث، وذلك لوجهين. أحدهما: فضل الوقت بانتشار الرحمة فيه. الثاني: لراحة القلب والبدن بالنوم وخروجهما عن تعب الخواطر وتواتر الشعوب والتصرفات. ومتى كان القلب أفرغ كان الوعي لما يلقى إليه. انتهى.

فصل

 

في‌‌ ذكر أقصى المدة التي ينتهي إليها تأويل الرؤيا

عن أبي عثمان النهدي عن سلمان الفارسي رضي الله عنه قال: «كان بين رؤيا يوسف وتأويلها أربعون سنة» رواه ابن أبي شيبة وابن جرير والحاكم في "المستدرك"، وقال الذهبي في "تلخيصه": على شرط البخاري ومسلم.

وعن عبد الله بن شداد أنه قال: «كان بين رؤيا يوسف وتأويلها أربعون سنة» رواه ابن أبي شيبة وابن جرير. وفي رواية لابن جرير عن عبد الله بن شداد قال: «وقعت رؤيا يوسف بعد أربعين سنة وإليها ينتهي أقصى الرؤيا». وقال سعيد بن المسيب: آخر الرؤيا أربعون سنة، يعني في تأويلها. رواها ابن سعد في "الطبقات".

وقال ابن عبد البر في كتابه "بهجة المجالس" قال الزبير – يعني ابن بكار – حدثني أبو ضمرة أنس بن عياض قال: قيل لجعفر بن محمد: كم
এর ফলে তিনি নিজের মাঝে দুঃখ ও কষ্ট অনুভব করেন, তাই তিনি যার ওপর অসন্তুষ্ট তাকে হাদিস বর্ণনা করা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। সমাপ্ত।

পরিচ্ছেদ

 

সবচেয়ে সত্য স্বপ্নের আলোচনা প্রসঙ্গে

আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «শেষ রাতের স্বপ্নই সবচেয়ে সত্য» এটি ইমাম আহমদ, তিরমিজি, দারেমি এবং ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া হাকেম এটি বর্ণনা করে একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন এবং ইমাম জাহাবিও তাঁর এই সহিহ (صحيح) করার মতের সাথে একমত পোষণ করেছেন। কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবি এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, এটি দুটি কারণে। প্রথমত: ওই সময়ে রহমত বিস্তারের কারণে সময়ের শ্রেষ্ঠত্ব। দ্বিতীয়ত: ঘুমের মাধ্যমে হৃদয় ও শরীরের প্রশান্তি এবং দুশ্চিন্তা ও বহুমুখী কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি থেকে মুক্তি। আর যখন হৃদয় অধিকতর ভারমুক্ত থাকে, তখন এতে যা অর্পণ করা হয় তা সংরক্ষণে এটি অধিকতর সজাগ থাকে। সমাপ্ত।

পরিচ্ছেদ

 

স্বপ্ন বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ সময়সীমার আলোচনা প্রসঙ্গে

আবু উসমান আন-নাহদি সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «ইউসুফ আলাইহিস সালামের স্বপ্ন এবং তার বাস্তবায়নের মাঝে চল্লিশ বছর সময় ছিল» এটি ইবনে আবি শায়বা, ইবনে জারির এবং হাকেম ‘আল-মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইমাম জাহাবি তাঁর ‘তালখিস’ গ্রন্থে বলেছেন: এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী।

আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: «ইউসুফ আলাইহিস সালামের স্বপ্ন এবং তার বাস্তবায়নের মাঝে চল্লিশ বছর সময় ছিল» এটি ইবনে আবি শায়বা ও ইবনে জারির বর্ণনা করেছেন। ইবনে জারিরের এক বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ বলেন: «ইউসুফ আলাইহিস সালামের স্বপ্ন চল্লিশ বছর পর সংঘটিত হয়েছিল এবং স্বপ্নের সর্বোচ্চ সীমা এখানেই শেষ হয়»। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন: স্বপ্নের শেষ সীমা হলো চল্লিশ বছর, অর্থাৎ এর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। ইবনে সাদ এটি ‘আত-তাবাকাত’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আব্দুল বার তাঁর ‘বাহজাতুল মাজালিস’ গ্রন্থে বলেন, জুবায়ের—অর্থাৎ ইবনে বাক্কার—বলেছেন: আবু দামরা আনাস ইবনে ইয়াদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনে মুহাম্মদকে জিজ্ঞাসা করা হলো: কত...
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ৩১)
تتأخر الرؤيا؟ فقال: «رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم كأن كلبًا أبقع يلغ في دمه» فكان شمر بن ذي الجوشن قاتل الحسين رضي الله عنه وكان أبرص فكان تأويل الرؤيا بعد خمسين سنة.

فصل

 

في‌‌ تحريم التحلم بما لم يره في منامه

وذكر الوعيد الشديد على ذلك

عن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من أفرى الفرى أن يُري عينه ما لم تَرَ» رواه الإمام أحمد والبخاري، وفي رواية لأحمد قال: «أفرى الفرى من ادعى إلى غير أبيه وأفرى الفرى من أرى عينيه في النوم ما لم تريا ومن غير تخوم الأرض».

وعن واثلة بن الأسقع رضي الله عنه قال: قال نبي الله صلى الله عليه وسلم: «إن من أعظم الفرى أن يدعى الرجل إلى غير أبيه أو يري عينيه في المنام ما لم تريا أو يقول على رسول الله صلى الله عليه وسلم ما لم يقل» رواه الإمام أحمد والبخاري وهذا لفظ أحمد وإسناده صحيح على شرط الشيخين. ورواه أحمد أيضًا بإسنادين كل منهما على شرط مسلم ولفظه في إحدى الروايتين: «إن أعظم الفرية ثلاث أن يفتري الرجل على عينيه يقول رأيت ولم ير وأن يفتري على والديه فيدعى إلى غير أبيه أو يقول سمعت ولم يسمع» ورواه ابن حبان في "صحيحه" والحاكم في "مستدركه" وقال: صحيح على شرط الشيخين ووافقه الذهبي في تلخيصه.

قال ابن الأثير في «النهاية في غريب الحديث»: الفرى جمع فرية وهي الكذبة. وأفرى أفعل منه للتفضيل، أي من أكذب الكذبات أن يقول رأيت في النوم كذا وكذا ولم يكن رأي شيئًا لأنه كذب على الله فإنه هو الذي يرسل مَلَك الرؤيا ليريه المنام. انتهى.

وعن أبي شريح الخزاعي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن من أعتى الناس على الله عز وجل من قتل غير قاتله أو طلب بدم الجاهلية من أهل
স্বপ্ন কি বিলম্বে বাস্তবায়িত হয়? তিনি বললেন: «রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বপ্নে দেখলেন যেন একটি চিত্রবিচিত্র কুকুর তাঁর রক্ত পান করছে»। শিমর ইবনে জিল জাওশান ছিলেন হুসাইন (রা.)-এর হত্যাকারী এবং সে ছিল শ্বেতী রোগী। ফলে সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা পঞ্চাশ বছর পর বাস্তবায়িত হয়েছিল।

পরিচ্ছেদ

 

স্বপ্নে যা দেখেনি তা দেখার দাবি করার (মিথ্যা স্বপ্ন বলা) হারামের বর্ণনা

এবং এর ওপর কঠোর হুঁশিয়ারি উল্লেখ

ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো কোনো ব্যক্তি তার চোখকে এমন কিছু দেখানোর (দাবি করার) চেষ্টা করা যা সে দেখেনি»। এটি ইমাম আহমাদ ও বুখারি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ-এর অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে, তিনি বলেছেন: «সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো সেই ব্যক্তি যে নিজের পিতাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করে, আর সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো যে তার চোখকে স্বপ্নে এমন কিছু দেখানোর দাবি করে যা সে দেখেনি এবং যে জমিনের সীমানা পরিবর্তন করে»।

ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই অন্যতম বড় মিথ্যা হলো কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার পিতাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করা, অথবা স্বপ্নে তার চোখকে এমন কিছু দেখানোর দাবি করা যা সে দেখেনি, অথবা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি এমন কিছু আরোপ করা যা তিনি বলেননি»। এটি ইমাম আহমাদ ও বুখারি বর্ণনা করেছেন। এটি আহমাদ-এর শব্দাবলি এবং এর সনদ (إسناد) শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح)। আহমাদ এটি আরও দুটি সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন যার প্রতিটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী। দুই বর্ণনার (رواية) একটির শব্দাবলি হলো: «নিশ্চয়ই সবচেয়ে বড় মিথ্যা তিনটি: কোনো ব্যক্তি তার চোখের ওপর মিথ্যা আরোপ করা অর্থাৎ বলা যে সে দেখেছে অথচ সে দেখেনি, তার পিতামাতার ওপর মিথ্যাচার করা অর্থাৎ নিজের পিতাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে পিতা দাবি করা, অথবা বলা যে সে শুনেছে অথচ সে শোনেনি»। এটি ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে এবং হাকেম তাঁর মুসতাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح) এবং যাহাবি তাঁর তালখিস গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

ইবনুল আসির 'আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস' গ্রন্থে বলেছেন: 'ফিরা' হলো 'ফিরইয়াহ' এর বহুবচন, যার অর্থ মিথ্যা। আর 'আফরা' হলো এর আধিক্যবাচক রূপ, অর্থাৎ সবচেয়ে বড় মিথ্যাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো স্বপ্নে এটা সেটা দেখার দাবি করা অথচ সে কিছুই দেখেনি। কারণ এটি আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করার শামিল, যেহেতু তিনিই স্বপ্নের ফেরেশতাকে স্বপ্ন দেখানোর জন্য প্রেরণ করেন। সমাপ্ত।

আবু শুরাইহ আল-খুজাঈ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার নিকট সেই ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি অবাধ্য যে তার প্রকৃত হত্যাকারী ব্যতীত অন্য কাউকে হত্যা করে, অথবা জাহেলি যুগের রক্তের প্রতিশোধ দাবি করে...»
(খণ্ড: ১) কিতাবুর রুইয়া (পৃষ্ঠা: ৩২)
الإسلام أو بَصَّرَ عينيه في النوم ما لم تبصر» رواه أحمد والطبراني، قال الهيثمي: ورجاله رجال الصحيح.

وعن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من تَحلَّم بحلْم لم يره كلف أن يعقد بين شعيرتين ولن يفعل» رواه الإمام أحمد والبخاري وهذا لفظه. ولفظ أحمد: «ومن تحلم عذب يوم القيامة حتى يعقد شعيرتين وليس عاقدًا». وفي رواية له: «ومن تحلم كلف يوم القيامة أن يعقد شعيرتين – أو قال – بين شعيرتين وعذب ولن يعقد بينهما». وفي رواية له أيضًا: «ومن تحلم عذب حتى يعقد شعيرة وليس بعاقد»، ورواه أبو داود ولفظه: «ومن تحلم كلف أن يعقد شعيرة» ورواه الترمذي ولفظه: «من تحلم كاذبًا كلف يوم القيامة أن يعقد بين شعرتين ولن يعقد بينهما» ثم قال: هذا حديث حسن صحيح. ورواه ابن ماجه ولفظه: «من تحلم حلمًا كاذبًا كلف أن يعقد بين شعيرتين ويعذب على ذلك» ورواه ابن حبان في "صحيحه" ولفظه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الذي يُري عينيه في المنام ما لم يَرَ يكلف يوم القيامة أن يعقد بين شعرتين».

وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ومن تَحلَّم كاذبًا دفع إليه شعيرة وعذب حتى يعقد بين طرفيها وليس بعاقد» رواه الإمام أحمد.

وعن علي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من كذب في حُلْمِهِ كلف يوم القيامة عقد شعيرة» رواه الإمام أحمد والترمذي والدارمي والحاكم، وقال الترمذي: هذا حديث حسن. قال: وفي الباب عن ابن عباس وأبي هريرة وأبي شريح وواثلة.

وعن علي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من كذب في الرؤيا متعمدًا فليتبوأ مقعده من النار» رواه عبد الله ابن الإمام أحمد في "زوائد المسند".

قال ابن الأثير في «النهاية في غريب الحديث» ومنه الحديث: «من تَحلَّم كُلَّف أن يعقد بين شعيرتين» أي قال: إنه رأى في النوم ما لم يَرَه. يقال: حَلَم بالفتح إذا رأى. وتَحلَّم إذا ادعى الرؤيا كاذبًا. فإن قيل: إن كذب الكاذب في منامه لا يزيد على كذبه في يقظته فلِمَ زادت عقوبته ووعيده
...ইসলাম অথবা স্বপ্নে নিজের দুই চোখকে এমন কিছু দেখানো যা তারা দেখেনি।" আহমদ ও তাবারানি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। হাইসামি বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীরা সহিহ (صحيح) হাদিসের বর্ণনাকারী।"

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো স্বপ্ন দেখার ভান করল যা সে দেখেনি, তাকে কিয়ামতের দিন দুটি যবের দানার মাঝে গিঁট দেওয়ার জন্য বাধ্য করা হবে, অথচ সে তা কখনোই করতে পারবে না।" ইমাম আহমদ ও বুখারি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি বুখারির শব্দ। আহমদের পাঠ হলো: "আর যে ব্যক্তি স্বপ্ন দেখার ভান করবে, তাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেওয়া হবে যতক্ষণ না সে দুটি যবের দানার মাঝে গিঁট দেয়, অথচ সে কখনোই তা দিতে পারবে না।" তাঁর অন্য এক বর্ণনায় আছে: "যে ব্যক্তি স্বপ্ন দেখার ভান করবে, তাকে কিয়ামতের দিন দুটি যবের দানার মাঝে—অথবা তিনি বলেছেন—দুটি যবের দানার সংযোগস্থলে গিঁট দিতে বাধ্য করা হবে এবং তাকে শাস্তি দেওয়া হবে, অথচ সে তাদের মাঝে গিঁট দিতে পারবে না।" তাঁর আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি স্বপ্ন দেখার ভান করবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে যতক্ষণ না সে একটি যবের দানায় গিঁট দেয়, অথচ সে তা দিতে পারবে না।" আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর পাঠ হলো: "যে ব্যক্তি স্বপ্ন দেখার ভান করবে তাকে একটি যবের দানায় গিঁট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।" তিরমিযি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর পাঠ হলো: "যে ব্যক্তি মিথ্যা স্বপ্ন দেখার ভান করবে, কিয়ামতের দিন তাকে দুটি চুলের মাঝে গিঁট দিতে বাধ্য করা হবে, অথচ সে তা করতে পারবে না।" অতঃপর তিনি বলেন: "এটি একটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস।" ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর পাঠ হলো: "যে ব্যক্তি মিথ্যা স্বপ্ন দেখার ভান করবে, তাকে দুটি যবের দানার মাঝে গিঁট দিতে বাধ্য করা হবে এবং এজন্য তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।" ইবনে হিব্বান তাঁর "সহিহ"-তে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর পাঠ হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি স্বপ্নে নিজের চোখকে এমন কিছু দেখানোর দাবি করে যা সে দেখেনি, তাকে কিয়ামতের দিন দুটি চুলের মাঝে গিঁট দিতে বাধ্য করা হবে।"

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি মিথ্যা স্বপ্ন দেখার ভান করবে, তাকে একটি যবের দানা দেওয়া হবে এবং শাস্তি দেওয়া হবে যতক্ষণ না সে এর দুই প্রান্তের মাঝে গিঁট দেয়, অথচ সে তা করতে পারবে না।" ইমাম আহমদ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি স্বপ্নের ব্যাপারে মিথ্যা বলবে, কিয়ামতের দিন তাকে একটি যবের দানায় গিঁট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।" ইমাম আহমদ, তিরমিযি, দারেমি এবং হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযি বলেছেন: "এই হাদিসটি হাসান (حسن)।" তিনি আরও বলেন: "এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা, আবু শুরাইহ এবং ওয়াসিলা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকেও বর্ণনা রয়েছে।"

আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে স্বপ্নের ব্যাপারে মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়।" ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ "যাওয়াইদুল মুসনাদ"-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনুল আসির 'আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস'-এ বলেছেন: হাদিসের এই অংশ—"যে ব্যক্তি স্বপ্ন দেখার ভান করবে তাকে দুটি যবের দানার মাঝে গিঁট দিতে বাধ্য করা হবে"—এর অর্থ হলো সে দাবি করল যে সে স্বপ্নে এমন কিছু দেখেছে যা সে দেখেনি। বলা হয়: হা-বর্ণে ফাতহা দিয়ে 'হালামা' যখন কেউ স্বপ্ন দেখে। আর 'তাহাল্লামা' বলা হয় যখন কেউ মিথ্যা স্বপ্ন দেখার ভান করে। যদি প্রশ্ন করা হয় যে: মিথ্যাবাদীর স্বপ্নে মিথ্যা বলা তো তার জাগ্রত অবস্থায় মিথ্যা বলার চেয়ে বেশি কিছু নয়, তবে কেন তার শাস্তি ও ধমকি বৃদ্ধি করা হয়েছে?