(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: -)
المعجم الجامع في تراجم المعاصرين   (مجموعة من المؤلفين)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: المعجم الجامع في تراجم العلماء وطلبة العلم المعاصرين

المؤلف: أعضاء ملتقى أهل الحديث

أعده للشاملة: أسامة بن الزهراء عضو في ملتقى أهل الحديث

http://www.ahlalhdeeth.com

[الكتاب مرقم آليا، غير مطبوع]

عدد الصفحات: 372

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সমকালীন ব্যক্তিদের জীবনী সংক্রান্ত সংকলিত অভিধান   (একদল লেখক)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: সমকালীন আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীদের জীবনী সংক্রান্ত সর্বজনীন অভিধান

লেখক: মুলতাকা আহলিল হাদিসের সদস্যবৃন্দ

শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: উসামা বিন আয-যাহরা, সদস্য, মুলতাকা আহলিল হাদিস

http://www.ahlalhdeeth.com

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৃষ্ঠাসংখ্যায়িত، অমুদ্রিত]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭২

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ١)
المعجم الجامع في تراجم العلماء وطلبة العلم المعاصرين

‌‌مقدمة صاحب الموضوع الأصلي

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله حمداً لا ينفد أفضل ما ينبغي أن يحمد صلى الله وسلم على أفضل المصطفين محمد وعلى آله وأصحابه ومن بعد.

الموضوع / المعجم الجامع في تراجم العلماء وطلبة العلم المعاصرين

اعداد وتقديم / أعضاء ملتقى أهل الحديث

نبذة عن الموضوع

الموضوع طرح من قبل الاخ الفاضل / عبد الله بن خميس أحد أعضاء ملتقى أهل الحديث باسم الجامع في تراجم العلماء وطلبة العلم المعاصرين كبداية عمل لإتمامه على أفضل ما يكون وقد شاركه الأعضاء في إثراء الموضوع بطرح عدة تراجم لأهل العلم سواء كانوا علماء او طلاب علم وقد وصلت التراجم فيه الى زهاء 201 ترجمة بدون ترتيب وتنسيق فقمنا ولله الحمد بترتيب تلك التراجم على أحرف المعجم ليسهل على من يطلبها الوصول اليها بسرعة وقد أسميناه المعجم لتراجم العلماء وطلاب العلم المعاصرين

وعلى هذا يكون البرنامج هو الإصدار الأول لاننا لم ننتهي من جمع جميع التراجم وحتى نستفيد مما هو موجود لدينا الآن تم طرحه والقادم سوف يكون اشمل ان شاء الله
সমকালীন আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীদের জীবনী বিষয়ক সমন্বিত অভিধান

‌‌মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপনকারীর ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা কখনো শেষ হবে না এবং যা সর্বোত্তম প্রশংসার উপযোগী। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর এবং এরপর।

বিষয় / সমকালীন আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীদের জীবনী বিষয়ক সমন্বিত অভিধান

প্রস্তুতি ও উপস্থাপনা / মুলতাকা আহলুল হাদিসের সদস্যবৃন্দ

বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এই বিষয়টি 'মুলতাকা আহলুল হাদিস'-এর অন্যতম সদস্য শ্রদ্ধেয় ভাই আবদুল্লাহ ইবনে খামিস কর্তৃক 'সমকালীন আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীদের জীবনীর সংকলন' নামে একটি কাজ শুরু করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে উত্থাপিত হয়েছিল, যেন এটি সর্বোত্তম উপায়ে সম্পন্ন করা যায়। পরবর্তীতে সদস্যগণ আলেম অথবা ইলম অন্বেষণকারী—উভয় শ্রেণির বিদগ্ধ ব্যক্তিদের বেশ কিছু জীবনী প্রদানের মাধ্যমে এই বিষয়টিকে সমৃদ্ধ করতে অংশগ্রহণ করেছেন। এতে বিন্যাস ও সুবিন্যস্তকরণ ছাড়াই জীবনীর সংখ্যা প্রায় ২০১-এ পৌঁছেছে। ফলস্বরূপ, আমরা আল্লাহর প্রশংসা আদায় করছি যে, আমরা এই জীবনীগুলোকে অভিধানের বর্ণক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি যাতে সন্ধানকারীর জন্য দ্রুত কাঙ্ক্ষিত তথ্যে পৌঁছানো সহজ হয়। আমরা এর নামকরণ করেছি 'সমকালীন আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীদের জীবনীর অভিধান'।

সেই প্রেক্ষিতে এই কার্যক্রমটি প্রথম সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত, কারণ আমরা এখনো সমস্ত জীবনী সংগ্রহের কাজ শেষ করিনি। বর্তমানে আমাদের কাছে যা উপলব্ধ রয়েছে তা থেকে উপকৃত হওয়ার লক্ষ্যেই এটি প্রকাশ করা হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ পরবর্তী সংস্করণগুলো আরও ব্যাপক ও বিস্তারিত হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٢)
‌‌مقدمة الكتاب الخاص بالموسوعة

الحمد لله رب العالمين وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فهذه نسخة ثانية من كتاب المعجم الجامع في تراجم العلماء وطلبة العلم المعاصرين

وقد رأيت إدخالها على الموسوعة الشاملة للإستفادة منها بشكل جيد لما فيها من تراجم، ثم ظهر لي أن أضيف تراجم أخرى لمجموعة من العلماء وطلبة العلم في مختلف الفنون إكمالا لما بدأه الإخوة في ملتقى أهل الحديث

ويعلم الله جل وعز أني اجتهدت في جمع بعض هذه التراجم وكلها أخذتها من مواقع على الشبكة العنكبوتية كموقع: طريق الإسلام، موقع صيد الفوائد، موقع مشكاة، موقع إسلام أون لاين، ملتقى أهل الحديث وغيرها من المواقع.....

والتزمت بذكر مصدر كل ترجمة كما فعل الإخوة في الإصدار الأول لهذا الكتاب

وقد بلغ عدد المترجم لهم هنا: 274 والباب مفتوح لكل أخ لإضافة تراجم أخرى، أو أن ينبهني - مشكورا - إلى أخطاء وقعت فيها …

هذا وأسأل الله العظيم أن يجعل هذا العمل خاصا لوجها الكريم

أخوكم أسامة بن الزهراء - عفا الله عنه - عضو في ملتقى أهل الحديث المبارك
বিশ্বকোষ সংশ্লিষ্ট এই গ্রন্থের ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

এটি সমসাময়িক আলেম ও জ্ঞানান্বেষীদের জীবনী সংক্রান্ত 'আল-মু'জাম আল-জামি' (সমন্বিত অভিধান) গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ।

এতে বিদ্যমান জীবনীগুলো থেকে যথাযথভাবে উপকৃত হওয়ার লক্ষ্যে আমি একে আল-মাকতাবাতুশ শামিলার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অতঃপর 'মুলতাকা আহলিল হাদিস'-এর ভাইয়েরা যা শুরু করেছিলেন তার পরিপূরক হিসেবে বিভিন্ন শাস্ত্রের একদল আলেম ও জ্ঞানান্বেষীর আরও কিছু জীবনী যোগ করা সমীচীন মনে করেছি।

আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী জানেন যে, আমি এই জীবনীগুলোর কিছু সংগ্রহ করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং এগুলোর সবই আমি ইন্টারনেট সাইট থেকে গ্রহণ করেছি, যেমন: তারিকুল ইসলাম সাইট, সাইদুল ফাওয়াইদ সাইট, মিশকাত সাইট, ইসলাম অনলাইন সাইট, মুলতাকা আহলিল হাদিস এবং অন্যান্য সাইট.....

এই গ্রন্থের প্রথম সংস্করণে ভাইয়েরা যেভাবে করেছিলেন, আমিও প্রতিটি জীবনীর উৎস উল্লেখ করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি।

এখানে যাদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে তাদের সংখ্যা ২৭৪ এবং অন্যান্য জীবনী যোগ করার জন্য অথবা আমার করা কোনো ভুল সম্পর্কে আমাকে সকৃতজ্ঞভাবে সতর্ক করার জন্য প্রতিটি ভাইয়ের জন্য দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে …

পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে শুধুমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন।

আপনাদের ভাই উসামা বিন আয-যাহরা —আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন— বরকতময় মুলতাকা আহলিল হাদিসের একজন সদস্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌أحمد أمين.. مؤرخ الفكر الإسلامي

(في ذكرى وفاته: 27 من رمضان 1373 هـ)

مصطفى عاشور

أحمد أمين

شهدت مصر في الفترة بين أواخر القرن التاسع عشر الميلادي، وأوائل القرن العشرين تكون جيل من العلماء الموسوعيين في كافة المجالات، استطاع أن يقود الحياة الثقافية في مصر والعالم العربي ردحا من الزمن، واستطاع أيضا أن ينير الطريق الثقافي للأجيال التي جاءت بعده لتبني على مجهوداته ولتكمل مسيرته.

وقد رأى هذا الجيل أن يقود الناس من خلال الكلمة والفكر قبل السياسة والحكم، ولذلك اهتم اهتماما قل نظيره بتثقيف نفسه، فتعامل مع الينابيع الصافية والأصيلة للحضارة والثقافة العربية والإسلامية، وفي الوقت نفسه تعامل وتفاعل مع الحضارة والثقافة الغربية.

وعندما وصل هذا الجيل الفريد إلى الدرجة العالمية من العلم تلفت حوله، فوجد الناس خواء، فقراء فكريا وعلميا، غير أن عقولهم ما زالت تربة خصبة لزراعة الأفكار؛ لذلك سعى ما وسعه الجهد للنهوض بأمته وأبناء جلدته، فخاطب الناس على كافة الجبهات، وفي شتى الميادين؛ فكان هذا الجيل هو حزب الثقافة والنهوض، فلم تضيعه السياسة في مناوراتها، ووعورة طريقها ولكن السياسة كانت عنده مرادفا للوطنية.

حياة في كلمات

تلك المقدمة هي ملخص حياة هذا الجيل الفريد، وهي تنطبق على كثير من رواده، ومنهم الكاتب الموسوعي "أحمد أمين" الذي بدأ حياته أزهريا، واستطاع بعد محاولات أن يخلع هذا الزي، ثم عمل مدرسا بمدرسة القضاء الشرعي سنوات طويلة، ثم جلس على كرسي القضاء ليحكم بين الناس بالعدل، فصار العدل رسما له إلى جانب رسمه، ثم أصبح أستاذا بالجامعة، فعميدا رغم أنه لا يحمل درجة الدكتوراة!، ثم تركها ليساهم في إنشاء أكبر مجلتين في تاريخ الثقافة العربية هما: "الرسالة"، و"الثقافة"، ثم بدأ رحلة من البحث والتنقيب في الحياة العقلية للعرب، فجاء بعد عناء طويل بـ"فجر الإسلام" و"ضحى الإسلام" و"ظُهر الإسلام".

النشأة والتكوين

وُلد أحمد أمين إبراهيم الطباخ في (2 من محرم 1304هـ= 11 من أكتوبر 1886م) في القاهرة، وكان والده أزهريا مولعا بجمع كتب التفسير والفقه والحديث، واللغة والأدب، بالإضافة إلى ذلك كان يحفظ القرآن الكريم ويعمل في الصباح مدرسا في الأزهر، ومدرسا في مسجد الإمام الشافعي، وإماما للمسجد، كما كان يعمل مصححا بالمطبعة الأميرية؛ فتفتحت عيناه على القرآن الكريم الذي يتلوه أبوه صباح مساء.

واهتم والده به منذ صغره، وساعده في حفظ القرآن الكريم، وفرض عليه برنامجا شاقا في تلقي دروسه وعوده على القراءة والإطلاع، كما كان الأب صارما في تربية ابنه يعاقبه العقاب الشديد على الخطأ اليسير؛ وهو ما جعل الابن خجولا، وعُرف عنه أيضا إيثاره للعزلة، فاتجه إلى الكتب بدلا من الأصحاب؛ فنَمَتْ عقليته على حساب الملكات الأخرى.

ودخل أحمد أمين الكُتَّاب وتنقل في أربعة كتاتيب، ودخل المدرسة الابتدائية، وأعجب بنظامها إلا أن أباه رأى أن يلحقه بالأزهر، ودرس الفقه الحنفي؛ لأنه الفقه الذي يعد للقضاء الشرعي.
আহমদ আমিন.. ইসলামি চিন্তাধারার ইতিহাসবিদ

(তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে: ২৭ রমজান ১৩৭৩ হিজরি)

মুস্তফা আশুর

আহমদ আমিন

মিশর উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সকল ক্ষেত্রে একদল বিশ্বকোষীয় পণ্ডিত আলেমদের জন্ম প্রত্যক্ষ করেছে, যারা দীর্ঘকাল ধরে মিশর ও আরব বিশ্বের সাংস্কৃতিক জীবনকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সাংস্কৃতিক পথকে আলোকিত করেছিলেন যাতে তাঁরা তাঁদের প্রচেষ্টার ওপর ভিত্তি করে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন।

এই প্রজন্ম রাজনীতি ও শাসনের চেয়ে শব্দ এবং চিন্তার মাধ্যমে মানুষকে পরিচালিত করাকে শ্রেয় মনে করত। এই কারণে তাঁরা নিজেদের সুশিক্ষিত করার ক্ষেত্রে এমন মনোযোগ দিয়েছিলেন যার উদাহরণ বিরল। তাঁরা ইসলামি ও আরব সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিশুদ্ধ ও মৌলিক উৎসগুলোর সাথে যেমন সস্পৃক্ত ছিলেন, তেমনি পশ্চিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাথেও তাঁদের মিথস্ক্রিয়া ও আদান-প্রদান ছিল।

যখন এই অনন্য প্রজন্ম জ্ঞানের বৈশ্বিক স্তরে পৌঁছালেন, তখন তাঁরা চারপাশে তাকিয়ে দেখলেন যে মানুষ জ্ঞান ও চিন্তার দিক দিয়ে রিক্ত ও দরিদ্র, যদিও তাঁদের মন ছিল নতুন চিন্তা বপনের জন্য এক উর্বর ভূমি। তাই তাঁরা নিজের জাতি ও স্বজাতির উন্নতির জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। তাঁরা সর্বস্তরের মানুষের সাথে বিভিন্ন ময়দানে কথা বলেছেন। এই প্রজন্মই ছিল সংস্কৃতি ও জাগরণের ধারক। রাজনীতি তাঁদেরকে কূটচাল ও বন্ধুর পথের গোলকধাঁধায় হারিয়ে ফেলতে পারেনি, বরং তাঁদের কাছে রাজনীতি ছিল দেশপ্রেমেরই সমার্থক।

শব্দের মোড়কে একটি জীবন

উপরিউক্ত ভূমিকাটি হলো এই অনন্য প্রজন্মের জীবনের সারসংক্ষেপ, যা তাঁদের অনেক অগ্রপথিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিশ্বকোষীয় লেখক "আহমদ আমিন", যিনি তাঁর জীবন শুরু করেছিলেন একজন আজহারি হিসেবে। অনেক চেষ্টার পর তিনি সেই পোশাক ত্যাগ করতে সক্ষম হন। এরপর তিনি দীর্ঘ বছর 'মাদরাসাতুল কাদা আল-শরয়ি'তে (শরয়ি বিচার বিভাগীয় বিদ্যালয়) শিক্ষকতা করেন। এরপর তিনি বিচারকের আসনে বসেন যাতে মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার করতে পারেন। ফলে তাঁর নামের পাশাপাশি ন্যায়বিচার তাঁর পরিচয়ে পরিণত হয়। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং পরে ডিন হন, যদিও তাঁর পিএইচডি ডিগ্রি ছিল না! অতঃপর তিনি আরব সংস্কৃতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ দুটি সাময়িকী: "আর-রিসালাহ" এবং "আস-সাকাফাহ" প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এরপর তিনি আরবদের বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন নিয়ে গবেষণা ও অনুসন্ধানের এক যাত্রা শুরু করেন। দীর্ঘ সাধনার পর তিনি উপহার দেন "ফজরুল ইসলাম", "দুহাল ইসলাম" এবং "জুহুরুল ইসলাম"।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা

আহমদ আমিন ইব্রাহিম আল-তাব্বাখ ২ মহররম ১৩০৪ হিজরি মোতাবেক ১১ অক্টোবর ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন আজহারি আলেম এবং তাফসির, ফিকহ, হাদিস, ভাষা ও সাহিত্যের কিতাব সংগ্রহে অত্যন্ত অনুরাগী। এর পাশাপাশি তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করেছিলেন এবং সকালে আল-আজহারে ও ইমাম শাফেয়ি মসজিদে শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন এবং সেই মসজিদের ইমাম ছিলেন। এছাড়া তিনি 'মাতবাআহ আল-আমিরিয়্যাহ'তে (সরকারি ছাপাখানা) প্রুফ রিডার হিসেবেও কাজ করতেন। ফলে আহমদ আমিনের চোখ খুলেছিল এমন এক পরিবেশে যেখানে তাঁর পিতা সকাল-সন্ধ্যা পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতেন।

তাঁর পিতা শৈশব থেকেই তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন এবং পবিত্র কুরআন হিফজ করতে তাঁকে সাহায্য করেন। তিনি তাঁর উপর পড়ালেখার এক কঠিন রুটিন চাপিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁকে পাঠ ও অধ্যয়নে অভ্যস্ত করেছিলেন। পিতা তাঁর পুত্রকে লালন-পালনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন; সামান্য ভুলের জন্যও তিনি তাঁকে কঠোর শাস্তি দিতেন। যা ছেলেটিকে লাজুক প্রকৃতির করে তুলেছিল এবং তিনি একাকীত্ব পছন্দ করার জন্য পরিচিতি লাভ করেন। ফলে বন্ধুদের পরিবর্তে তিনি বইয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন; এতে তাঁর অন্যান্য প্রতিভার চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বেশি ঘটেছিল।

আহমদ আমিন মক্তবে ভর্তি হন এবং পর্যায়ক্রমে চারটি মক্তব পরিবর্তন করেন। এরপর তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং এর নিয়মানুবর্তিতায় মুগ্ধ হন। তবে তাঁর পিতা তাঁকে আল-আজহারে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে তিনি হানাফি ফিকহ অধ্যয়ন করেন; কারণ এই ফিকহই ছিল শরয়ি বিচারকদের প্রস্তুতির জন্য নির্ধারিত পাঠ্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٤)
مدرسة القضاء الشرعي

وقد نشأت في تلك الفترة مدرسة القضاء الشرعي التي اختير طلابها من نابغي أبناء الأزهر بعد امتحان عسير، فطمحت نفس أحمد إلى الالتحاق بها، واستطاع بعد جهد أن يجتاز اختباراتها، ويلتحق بها في (1325هـ= 1907م) ، وكانت المدرسة ذات ثقافة متعددة دينية ولغوية وقانونية عصرية وأدبية، واختير لها ناظر كفء هو "عاطف باشا بركات" الذي صاحبه أحمد أمين ثمانية عشر عاما، وتخرج في المدرسة سنة (1330هـ= 1911م) حاصلا على الشهادة العالمية، واختاره عاطف بركات معيدا في المدرسة فتفتحت نفس الشاب على معارف جديدة، وصمم على تعلم اللغة الإنجليزية فتعلمها بعد عناء طويل، وفي ذلك يقول: "سلكت كل وسيلة لتحقيق هذه الغاية".

وشاءت الأقدار أن يحاط وهو بمدرسة القضاء الشرعي بمجموعة من الطلاب والأساتذة والزملاء لكل منهم ثقافته المتميزة واتجاهه الفكري؛ فكان يجلس مع بعضهم في المقاهي التي كانت بمثابة نوادٍ وصالونات أدبية في ذلك الوقت يتناقشون، واعتبرها أحمد أمين مدرسة يكون فيها الطالب أستاذا، والأستاذ طالبا، مدرسة تفتحت فيها النفوس للاستفادة من تنوع المواهب.

وكان تأثير عاطف بركات فيه كبيرا؛ إذ تعلم منه العدل والحزم والثبات على الموقف، كان يعلمه في كل شيء في الدين والقضاء وفي تجارب الناس والسياسة، حتى إنه أُقصي عن مدرسة القضاء الشرعي بسبب وفائه لأستاذه بعدما قضى بها 15 عاما نال فيها أكثر ثقافته وتجاربه؛ لذلك قال عن تركها: "بكيت عليها كما أبكي على فقد أب أو أم أو أخ شقيق".

القضاء والعدل

شغل أحمد أمين وظيفة القاضي مرتين الأولى سنة (1332هـ= 1913م) في "الواحات الخارجة" لمدة ثلاثة شهور، أما المرة الثانية فحين تم إقصاؤه من مدرسة "القضاء الشرعي" لعدم اتفاقه مع إدارتها، بعد أن تركها أستاذه عاطف بركات، وأمضى في القضاء في تلك الفترة أربع سنوات، عُرف عنه فيها التزامه بالعدل وحبه له، حتى صار يُلقب بـ"العدل"، واستفاد من عمله بالقضاء أنه كان لا يقطع برأي إلا بعد دراسة وتمحيص شديد واستعراض للآراء والحجج المختلفة، ولم تترك نزعة القضاء نفسه طيلة حياته بدءا من نفسه حتى الجامعة.

الجامعة

بدأ اتصال أحمد أمين بالجامعة سنة (1345هـ= 1926م) عندما رشحه الدكتور "طه حسين" للتدريس بها في كلية الآداب، ويمكن القول بأن حياته العلمية بالمعنى الصحيح آتت ثمارها وهو في الجامعة؛ فكانت خطواته الأولى في البحث على المنهج الحديث في موضوع المعاجم اللغوية، وكانت تمهيدا لمشروعه البحثي عن الحياة العقلية في الإسلام التي أخرجت "فجر الإسلام" و"ضحى الإسلام".

وتولى في الجامعة تدريس مادة "النقد الأدبي"، فكانت محاضراته أولى دروس باللغة العربية لهذه المادة بكلية "الآداب"، ورُقِّي إلى درجة أستاذ مساعد من غير الحصول على الدكتوراة، ثم إلى أستاذ فعميد لكلية الآداب سنة (1358هـ= 1939م) ، واستمر في العمادة سنتين استقال بعدهما؛ لقيام الدكتور "محمد حسين هيكل" وزير المعارف بنقل عدد من مدرسي كلية الآداب إلى الإسكندرية من غير أن يكون لأحمد أمين علم بشيء من ذلك، فقدم استقالته وعاد إلى عمله كأستاذ، وهو يردد مقولته المشهورة: "أنا أصغر من أستاذ وأكبر من عميد".

وفي الجامعة تصدَّع ما بينه وبين طه حسين من وشائج المودة؛ إذ كان لطه تزكيات خاصة لا يراها أحمد أمين صائبة التقدير، وتكرر الخلاف أكثر من مرة فاتسعت شُقَّة النفور، وقال عنه طه: "كان يريد أن يغير الدنيا من حوله، وليس تغير الدنيا ميسرا للجميع".

وقد عد فترة العمادة فترة إجداب فكري، وقحط تأليفي؛ لأنها صرفته عن بحوثه في الحياة العقلية.

الجامعة الشعبية

وفي سنة (1365هـ= 1945م) انتُدب للعمل مديرا للإمارة الثقافية بوزارة المعارف، وهي إدارة تعمل دون خطة مرسومة واضحة؛ فليس لها أول يُعرف ولا آخر يُوصف تساعد الجاد على العمل، والكسول على الكسل، وفي توليه لهذه الإدارة جاءت فكرة "الجامعة الشعبية"؛ حيث رأى أن للشعب حقا في التعلم والارتواء العلمي، وكان يعتز بهذه الجامعة اعتزازا كبيرا ويطلق عليها "ابنتي العزيزة"، وهي التي تطورت فيما بعد إلى ما سُمي بقصور الثقافة، وكان آخر المناصب التي شغلها بعد إحالته إلى التقاعد منصب مدير الإدارة الثقافية بجامعة الدول العربية.

لجنة التأليف والترجمة والنشر

أشرف أحمد أمين على لجنة التأليف والترجمة والنشر مدة أربعين سنة منذ إنشائها حتى وفاته، وكان لهذه اللجنة أثر بالغ في الثقافة العربية؛ إذ قدمت للقارئ العربي ذخائر الفكر الأوروبي في كل فرع من فروع المعرفة تقديما أمينا يبتعد عن الاتجار، كما قدمت ذخائر التراث العربي مشروحة مضبوطة، فقدمت أكثر من 200 كتاب مطبوع.

وكانت الثقة في مطبوعات اللجنة كبيرة جدا؛ لذلك رُزقت مؤلفات اللجنة حظا كبيرا من الذيوع وتخطفتها الأيدي والعقول، كما أنشأت هذه اللجنة مجلة "الثقافة" في (ذي الحجة 1357هـ = يناير 1939م) ، ورأس تحريرها، واستمرت في الصدور أربعة عشر عاما متوالية، وكان يكتب فيها مقالا أسبوعيا في مختلف مناحي الحياة الأدبية والاجتماعية، وكانت ثمرة هذه الكتابات كتابه الرائع "فيض الخاطر" بأجزائه العشرة.

وامتازت مجلة الثقافة بعرضها للتيارات والمذاهب السياسية الحديثة، وتشجيعها للتيار الاجتماعي في الأدب وفن الرواية والمسرحية، وعُنيت المجلة بالتأصيل والتنظير.

كما كان يكتب في مجلة "الرسالة" الشهيرة، وأثرى صفحاتها بمقالاته وكتاباته، وخاض بعض المحاورات مع كبار كتاب ومفكري عصره على صفحات الثقافة، ومنها محاورته مع الدكتور "زكي نجيب محمود"، الذي كتب مقالا نعى وانتقد فيه محققي التراث العربي ونشر ذخائره، ورأى أن الفكر الأوروبي أجدر بالشيوع والذيوع والترجمة من مؤلفات مضى زمانها، وأطلق على كتب التراث "الكتاب القديم المبعوث من قبره"، ثم قال: "سيمضي الغرب في طريقه، وهو يحاول الصعود إلى ذرى السماء، ونحن نحفر الأجداث لنستخرج الرمم".

فأثارت هذه الكلمات المجحفة للتراث أحمد أمين؛ فرد على ما قيل، وأكد أن الغرب أسس نهضته ومدنيته على الحضارة الرومانية واليونانية، وأكد أيضا أن المستشرقين هم أول من اهتم بالتراث العربي فنشروا أصوله وذخائره.
শরিয়াহ বিচার বিভাগীয় বিদ্যালয়

উক্ত সময়ে শরিয়াহ বিচার বিভাগীয় বিদ্যালয় (মাদরাসাতুল কাজা আশ-শারয়ী) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার শিক্ষার্থীগণ আল-আযহারের মেধাবী সন্তানদের মধ্য থেকে কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হতেন। আহমদ আমিনের মনে সেখানে ভর্তির আকাঙ্ক্ষা জাগে এবং কঠোর পরিশ্রমের পর তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৩২৫ হিজরি (১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দ) সালে সেখানে ভর্তি হতে সক্ষম হন। বিদ্যালয়টি ধর্মীয়, ভাষাগত, আধুনিক আইনগত ও সাহিত্যিক বহুবিধ সংস্কৃতির কেন্দ্র ছিল। এর জন্য "আতিফ পাশা বারাকাত" নামক একজন দক্ষ অধ্যক্ষকে নির্বাচিত করা হয়েছিল, যাঁর সান্নিধ্যে আহমদ আমিন আঠারো বছর অতিবাহিত করেন। তিনি ১৩৩০ হিজরি (১৯১১ খ্রিষ্টাব্দ) সালে উক্ত বিদ্যালয় থেকে "শাহাদাতুল আলামিয়্যাহ" (বিদ্বান সনদ) অর্জন করেন। আতিফ বারাকাত তাঁকে উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করেন, ফলে এই যুবকের সামনে নতুন জ্ঞানের দুয়ার উন্মোচিত হয়। তিনি ইংরেজি ভাষা শেখার সংকল্প করেন এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তা আয়ত্ত করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন: "এই লক্ষ্য অর্জনে আমি সম্ভাব্য সকল উপায় অবলম্বন করেছি।"

নিয়তি চেয়েছিল যে, শরিয়াহ বিচার বিভাগীয় বিদ্যালয়ে থাকাকালীন তিনি এমন একদল ছাত্র, শিক্ষক ও সহকর্মীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকবেন যাঁদের প্রত্যেকেরই স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঝোঁক ছিল। তিনি তাঁদের কয়েকজনের সাথে এমন সব ক্যাফেতে বসতেন যেগুলো তৎকালীন সময়ে সাহিত্যিক ক্লাব ও মজলিসের সমতুল্য ছিল। সেখানে তাঁরা বিতর্ক করতেন। আহমদ আমিন একে এমন একটি বিদ্যালয় মনে করতেন যেখানে ছাত্র হয় শিক্ষক আর শিক্ষক হন ছাত্র; এটি এমন এক বিদ্যালয় যেখানে বৈচিত্র্যময় প্রতিভা থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য মনের দুয়ার খুলে যেত।

তাঁর ওপর আতিফ বারাকাতের প্রভাব ছিল অপরিসীম; কারণ তিনি তাঁর কাছ থেকে ন্যায়বিচার, দৃঢ়তা এবং নিজ অবস্থানে অটল থাকা শিখেছিলেন। তিনি তাঁকে ধর্ম, বিচার ব্যবস্থা এবং মানুষের অভিজ্ঞতা ও রাজনীতি—সব বিষয়েই শিক্ষা দিতেন। এমনকি তাঁর শিক্ষকের প্রতি আনুগত্যের কারণে ১৫ বছর সেখানে কাটানোর পর (যেখানে তিনি তাঁর অধিকাংশ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন) তাঁকে শরিয়াহ বিচার বিভাগীয় বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাই বিদ্যালয়টি ত্যাগ করার ব্যাপারে তিনি বলেছিলেন: "আমি এর জন্য সেভাবেই কেঁদেছি যেভাবে পিতা, মাতা বা আপন ভাইকে হারানোর শোকে কাঁদে।"

বিচার বিভাগ ও ন্যায়বিচার

আহমদ আমিন দুইবার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রথমবার ১৩৩২ হিজরি (১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দ) সালে "আল-ওয়াহাতুল খারিজাহ"-তে তিন মাসের জন্য। আর দ্বিতীয়বার তখন, যখন তাঁর শিক্ষক আতিফ বারাকাত চলে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিরোধের কারণে তাঁকে "শরিয়াহ বিচার বিভাগীয় বিদ্যালয়" থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই সময়ে তিনি চার বছর বিচার বিভাগে অতিবাহিত করেন। সেখানে তিনি ন্যায়বিচারের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং এর প্রতি ভালোবাসার জন্য সুপরিচিত ছিলেন, এমনকি তিনি "আল-আদল" (ন্যায়বিচারক) উপাধিতে ভূষিত হন। বিচার বিভাগে কাজের মাধ্যমে তিনি এই শিক্ষা লাভ করেন যে, গভীর অধ্যয়ন, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন মত ও যুক্তি পর্যালোচনা না করে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নেই। বিচার বিভাগীয় এই প্রবণতা তাঁর নিজের সত্তা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সারাজীবন তাঁর মাঝে বিদ্যমান ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়

১৯২৬ সালে (১৩৪৫ হিজরি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আহমদ আমিনের যোগাযোগ শুরু হয়, যখন ডক্টর "ত্বহা হোসেন" তাঁকে কলা অনুষদে শিক্ষকতার জন্য মনোনীত করেন। বলা যেতে পারে যে, তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন সঠিক অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়েই পূর্ণতা পায়। আধুনিক পদ্ধতিতে গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর প্রথম পদক্ষেপ ছিল ভাষাগত অভিধানসমূহের ওপর কাজ করা, যা ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন নিয়ে তাঁর গবেষণা প্রকল্পের পথ প্রশস্ত করে। এরই ফসল হিসেবে "ফজরুল ইসলাম" ও "দুহাল ইসলাম" গ্রন্থদ্বয় প্রকাশিত হয়।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে "সাহিত্য সমালোচনা" (নকদ আদাবি) বিষয়টি পড়ানোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর সেই বক্তৃতাগুলোই ছিল কলা অনুষদে এই বিষয়ের ওপর আরবি ভাষায় প্রথম পাঠ। ডক্টরেট ডিগ্রি ছাড়াই তিনি সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান, এরপর অধ্যাপক এবং ১৯৩৯ সালে (১৩৫৮ হিজরি) কলা অনুষদের ডিন হন। তিনি দুই বছর ডিন পদে বহাল ছিলেন এবং এরপর পদত্যাগ করেন। কারণ, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর "মুহাম্মদ হোসেন হাইকাল" আহমদ আমিনকে না জানিয়েই কলা অনুষদের বেশ কয়েকজন শিক্ষককে আলেকজান্দ্রিয়ায় বদলি করেছিলেন। ফলে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং পুনরায় অধ্যাপক হিসেবে তাঁর কাজে ফিরে যান। তখন তিনি তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তিটি উচ্চারণ করেন: "আমি অধ্যাপকের চেয়ে ছোট কিন্তু ডিনের চেয়ে বড়।"

বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন ত্বহা হোসেনের সাথে তাঁর বন্ধুত্বের বন্ধনে ফাটল ধরে। কারণ ত্বহা হোসেনের কিছু বিশেষ সুপারিশ ছিল যা আহমদ আমিন সঠিক মনে করেননি। এই মতবিরোধ বারবার হওয়ায় তাঁদের মধ্যকার দূরত্ব বেড়ে যায়। ত্বহা হোসেন তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন: "তিনি তাঁর চারপাশের পৃথিবীকে পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন, আর পৃথিবীকে পরিবর্তন করা সবার জন্য সহজসাধ্য নয়।"

তিনি তাঁর ডিন থাকাকালীন সময়টিকে বুদ্ধিবৃত্তিক বন্ধ্যাত্ব ও রচনার খরা কাল হিসেবে গণ্য করতেন; কারণ এটি তাঁকে ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন নিয়ে তাঁর গবেষণা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল।

গণবিশ্ববিদ্যালয়

১৯৪৫ সালে (১৩৬৫ হিজরি) তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাংস্কৃতিক আমানতের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। এটি এমন একটি বিভাগ ছিল যা কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই চলত; এর না ছিল কোনো পরিচিত শুরু, না ছিল কোনো বর্ণনাযোগ্য শেষ। এটি পরিশ্রমীকে কাজে এবং অলসকে অলসতায় সহায়তা করত। এই বিভাগের দায়িত্ব থাকাকালীনই "গণবিশ্ববিদ্যালয়" (আল-জামিআ আশ-শাবিয়্যাহ) এর ধারণাটি আসে; যেখানে তিনি অনুভব করেন যে জনগণের শিক্ষা ও জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণের অধিকার রয়েছে। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্ববোধ করতেন এবং একে "আমার প্রিয় কন্যা" বলে ডাকতেন। এটিই পরবর্তীতে "সাংস্কৃতিক প্রাসাদ" (কুসুরুস সাকাফাহ) নামে পরিচিত লাভ করে। অবসর গ্রহণের পর তাঁর সর্বশেষ দায়িত্ব ছিল আরব লীগের সাংস্কৃতিক বিভাগের পরিচালক পদ।

গ্রন্থ রচনা, অনুবাদ ও প্রকাশনা কমিটি

আহমদ আমিন এই কমিটির প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত দীর্ঘ চল্লিশ বছর এর তত্ত্বাবধান করেন। আরবি সংস্কৃতিতে এই কমিটির প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী; কারণ এটি জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় ইউরোপীয় চিন্তাধারার মূল্যবান ভাণ্ডারগুলো কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছাড়াই বিশ্বস্ততার সাথে আরব পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছিল। একইভাবে এটি ব্যাখ্যা ও শুদ্ধিকরণ সহকারে আরবি ঐতিহ্যের মূল্যবান সম্পদসমূহ উপস্থাপন করেছিল। এভাবে তারা ২০০টিরও বেশি মুদ্রিত বই উপহার দিয়েছে।

কমিটির প্রকাশনাগুলোর ওপর মানুষের অগাধ আস্থা ছিল; ফলে কমিটির গ্রন্থগুলো ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে এবং পাঠক ও চিন্তাবিদগণ তা সানন্দে গ্রহণ করেন। এছাড়াও এই কমিটি ১৩৫৭ হিজরির জিলহজ মাসে (জানুয়ারি ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দ) "আল-সাকাফা" (সংস্কৃতি) নামক একটি পত্রিকা চালু করে। তিনি এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন এবং এটি টানা চৌদ্দ বছর প্রকাশিত হয়। তিনি এতে সাহিত্যিক ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রতি সপ্তাহে একটি প্রবন্ধ লিখতেন। এই লেখাগুলোরই ফসল হলো তাঁর দশ খণ্ডের চমৎকার গ্রন্থ "ফায়জুল খাতির"।

আল-সাকাফা পত্রিকা আধুনিক রাজনৈতিক ধারা ও মতবাদসমূহ উপস্থাপনের মাধ্যমে এবং সাহিত্যে সামাজিক ধারা ও উপন্যাস-নাটক শিল্পকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বিশিষ্টতা অর্জন করেছিল। পত্রিকাটি শেকড় সন্ধান এবং তাত্ত্বিক আলোচনার প্রতিও বিশেষ গুরুত্বারোপ করত।

পাশাপাশি তিনি বিখ্যাত "আল-রিসালা" পত্রিকাতেও লিখতেন এবং তাঁর প্রবন্ধ ও রচনার মাধ্যমে এর পাতাগুলোকে সমৃদ্ধ করতেন। তিনি "আল-সাকাফা"-র পাতায় তাঁর সময়ের বড় বড় লেখক ও চিন্তাবিদদের সাথে কিছু বিতর্কেও লিপ্ত হয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল ডক্টর "জাকি নাজিব মাহমুদ"-এর সাথে তাঁর বিতর্ক। জাকি নাজিব একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন যেখানে তিনি আরবি ঐতিহ্যের গবেষকদের সমালোচনা ও নিন্দা করেছিলেন এবং এই ঐতিহ্য প্রকাশের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি মনে করতেন যে, সেকেলে রচনার চেয়ে ইউরোপীয় চিন্তাধারা প্রচার ও অনুবাদ করা বেশি যুক্তিযুক্ত। তিনি ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থগুলোকে "কবর থেকে পুনরুত্থিত প্রাচীন গ্রন্থ" বলে অভিহিত করেন এবং বলেন: "পাশ্চাত্য তার পথে এগিয়ে যাবে এবং আকাশের উচ্চতায় আরোহণের চেষ্টা করবে, আর আমরা মৃতদেহ বের করার জন্য কবর খুঁড়ব।"

ঐতিহ্যের প্রতি এই অবিচারমূলক কথাগুলো আহমদ আমিনকে ক্ষুব্ধ করে। তিনি এই বক্তব্যের জবাব দেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, পাশ্চাত্য তাদের রেনেসাঁ ও সভ্যতাকে রোমান ও গ্রিক সভ্যতার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে তুলেছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, প্রাচ্যবিদরাই প্রথম আরবি ঐতিহ্যের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং এর মূল ও অমূল্য সম্পদগুলো প্রকাশ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٥)
المجامع اللغوية

وقد أصبح عضوا بمجمع اللغة العربية سنة (1359هـ= 1940م) بمقتضى مرسوم ملكي، وكان قد اختير قبل ذلك عضوا مراسلا في المجمع العربي بدمشق منذ (1345هـ= 1926م) ، وفي المجمع العلمي العراقي، وبعضويته في هذه المجامع الثلاثة ظهرت كفايته وقدرته على المشاركة في خدمة اللغة العربية.

وكان رأيه أن المجمع ليست وظيفته الأساسية وضع المصطلحات وإنما عمله الأساسي هو وضع المعجم اللغوي التاريخي الأدبي الكبير، ويضاف هذا الإسهام الكبير في مجمع اللغة العربية إلى رصيده في خدمة الثقافة، كما اختير عضوا في المجلس الأعلى لدار الكتب سنة (1358هـ= 1939م) .

السياسة

كانت السياسة عند أحمد أمين تعني الوطنية لا يرى فرقا بينهما، وترجع معرفته بالسياسة وأقطابها إلى أستاذه عاطف بركات، وقد أُعجب الزعيم سعد زغلول به وبوطنيته، وبدقة تقاريره التي كان يكتبها عن أحوال مصر إبان ثورة 1919، ورغم ميله للوفد فإنه لم يشارك في السياسة بقدر كبير خوفا من العقوبة، وفي صراحة شديدة يقول: "ظللت أساهم في السياسة وأشارك بعض من صاروا زعماء سياسيين، ولكن لم أندفع اندفاعهم، ولم أظهر في السياسة ظهورهم لأسباب، أهمها لم أتشجع شجاعتهم؛ فكنت أخاف السجن وأخاف العقوبة".

ولما قارب سن الإحالة إلى المعاش اعتذر عن رئاسة تحرير جريدة "الأساس" التي اعتزم السعوديون إصدارها، وكان في ذلك الوقت منصرفا لأعماله الثقافية والفكرية المختلفة؛ لذلك كان بعده عن السياسة موافقا لهوى في نفسه من إيثار العزلة، واستقلال في الرأي وحرية في التفكير.

شخصية لا تعطي لونا واحدا

كانت المعرفة والثقافة والتحصيل العلمي هي الشغل الشاغل لأحمد أمين، حتى إنه حزن حزنا شديدا على ما ضاع من وقته أثناء توليه المناصب المختلفة، ورأى أن هذه المناصب أكلت وقته وبعثرت زمانه ووزعت جهده مع قلة فائدتها، وأنه لو تفرغ لإكمال سلسلة كتاباته عن الحياة العقلية الإسلامية لكان ذلك أنفع وأجدى وأخلد.

وقد امتازت كتاباته بدقة التعبير وعمق التحليل والنفاذ إلى الظواهر وتعليلها، والعرض الشائق مع ميله إلى سهولة في اللفظ وبعد عن التعقيد والغموض؛ فألّف حوالي 16 كتابا، كما شارك مع آخرين في تأليف وتحقيق عدد من الكتب الأخرى، وترجم كتابا في مبادئ الفلسفة.

فجر الإسلام والحياة العقلية

أما شهرته فقامت على ما كتبه من تاريخ للحياة العقلية في الإسلام في سلسلته عن فجر الإسلام وضحاه وظهره؛ لأنه فاجأ الناس بمنهج جديد في البحث وفي أسلوبه ونتائجه، فأبدى وجها في الكتابة التحليلية لعقل الأمة الإسلامية لم يُبدِه أحدٌ من قبله على هذا النحو؛ لذلك صارت سلسلته هذه عماد كل باحث جاء من بعده؛ فالرجل حمل سراجًا أنار الطريق لمن خلفه نحو تاريخ العقلية الإسلامية.

غير أنه كتب فصلا عن الحديث النبوي وتدوينه، ووضع الحديث وأسبابه، لم يتفق معه فيه بعض علماء عصره العظام، مثل: الشيخ محمد أبو زهرة، والدكتور مصطفى السباعي؛ فصوبوا ما يحتاج إلى تصويب في لغة بريئة وأدب عف، وقرأ أحمد أمين ما كتبوا وخصهم بالثناء، إلا أن البعض الآخر قال: إنه تلميذ المستشرقين، واتهموه بأنه يشكك في جهود المحدثين.

والواقع أن كتابا كـ "فجر الإسلام" يقع في عدة أجزاء كبار عن تاريخ الحياة العقلية في الإسلام منذ ظهوره وحتى سقوط الخلافة العباسية، تعرّض فيه كاتبه لآلاف الآراء، ومئات الشخصيات، لا بد أن توجد فيه بعض الأمور والآراء التي تحتاج إلى تصويب، دون أن يذهب ذلك بفضله وسبقه وقيمته.

وقد وجد أحمد أمين صعوبة كبيرة في تحليل الحياة العقلية العربية، ويقول في ذلك: "لعل أصعب ما يواجه الباحث في تاريخ أمته هو تاريخ عقلها في نشوئه وارتقائه، وتاريخ دينها وما دخله من آراء ومذاهب".

وفي كتابه "ضحى الإسلام" تحدث عن الحياة الاجتماعية والثقافية ونشأة العلوم وتطورها والفرق الدينية في العصر العباسي الأول، وأراد بهذه التسمية (ضحى الإسلام) الاعتبار الزمني لتدرج الفكر العلمي من عصر إلى عصر، واستطاع بأسلوب حر بليغ أن يمزج السياسة بالفكر عند الحديث عن الظواهر الجديدة في المجتمع الإسلامي، وكذلك تدرّج اللهو بتدرَج العصور؛ إذ بدأ ضئيلا في العهد الأول، ثم استشرى في العصور التالية، وحلل الزندقة وأسباب ظهورها وانتشارها وخصائص الثقافات الأجنبية من فارسية وهندية… إلخ، وهذا الكتاب من أَنْفَس ما كتب، وهو من ذخائر الفكر الإسلامي دون نزاع.

أما كتابه "زعماء الإصلاح في العصر الحديث" فاشتهر اشتهارا ذائعا؛ لأنه قُرِّر على طلاب المدارس عدة سنوات، فكثرت طبعاته وتداولتها الأيدي على نطاق واسع.

وكتاب "فيض الخاطر" جمع فيه مقالاته المختلفة في "الرسالة" و"الثقافة" … وغيرهما، وبلغت حوالي 900 مقالة في عشرة أجزاء. وكتاب "حياتي" الذي دوّن فيه سيرته الذاتية، ويقول عن هذا الكتاب: "لم أتهيب شيئا من تأليف ما تهيبت من إخراج هذا الكتاب"، ونشر قبل وفاته بأربع سنوات.

أما كتبه الأخرى فهي: "ظُهر الإسلام"، و"يوم الإسلام"، و"قاموس العادات والتقاليد المصرية"، و"النقد الأدبي"، و"قصة الأدب في العالم"، و"قصة الفلسفة" … وغيرها.

وتعاون مع بعض المحققين في إصدار كتاب "العقد الفريد" لـ "ابن عبد ربه"، و"الإمتاع والمؤانسة"، لـ "أبي حيان التوحيدي"، و"الهوامل والشوامل"، و"البصائر والذخائر"، و"خريدة القصر وفريدة العصر".
ভাষাতাত্ত্বিক অ্যাকাডেমিসমূহ

তিনি (১৩৫৯ হিজরি = ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দ) সালে একটি রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে আরবি ভাষা অ্যাকাডেমির সদস্য হন। এর আগে (১৩৪৫ হিজরি = ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ) থেকে তিনি দামেস্কের আরবি অ্যাকাডেমি এবং ইরাকি সায়েন্টিফিক অ্যাকাডেমির সহযোগী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই তিনটি অ্যাকাডেমিতে তাঁর সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে আরবি ভাষার সেবায় তাঁর যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রকাশ পায়।

তাঁর অভিমত ছিল যে, অ্যাকাডেমির মূল কাজ কেবল পরিভাষা তৈরি করা নয়, বরং এর প্রধান কাজ হলো একটি বৃহৎ ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক ভাষাতাত্ত্বিক অভিধান সংকলন করা। আরবি ভাষা অ্যাকাডেমিতে তাঁর এই বিশাল অবদান সাংস্কৃতিক সেবায় তাঁর অর্জনের সাথে যুক্ত হয়। এছাড়া (১৩৫৮ হিজরি = ১৯Check ৩৯ খ্রিস্টাব্দ) সালে তিনি 'দারুল কুতুব'-এর উচ্চতর পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনীতি

আহমদ আমিনের কাছে রাজনীতি মানে ছিল দেশপ্রেম; তিনি এই দুয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য দেখতেন না। রাজনীতি ও এর কর্ণধারদের সাথে তাঁর পরিচয় ঘটেছিল তাঁর শিক্ষক আতিফ বারাকাতের মাধ্যমে। জননেতা সাদ জাগলুল তাঁর প্রতি এবং তাঁর দেশপ্রেমের প্রতি মুগ্ধ ছিলেন, বিশেষ করে ১৯১৯ সালের বিপ্লবের সময় মিশরের পরিস্থিতির ওপর তাঁর লেখা নির্ভুল প্রতিবেদনগুলোর কারণে। 'ওয়াফদ' দলের প্রতি তাঁর ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও শাস্তির ভয়ে তিনি রাজনীতিতে খুব বেশি সক্রিয় হননি। অত্যন্ত অকপটে তিনি বলেন: "আমি রাজনীতিতে অবদান রেখেছি এবং যারা রাজনৈতিক নেতা হয়েছেন তাদের অনেকের সাথে অংশ নিয়েছি, কিন্তু আমি তাদের মতো আবেগপ্রবণ হইনি এবং নির্দিষ্ট কিছু কারণে তাদের মতো রাজনীতিতে প্রকাশ্যে আসিনি; যার প্রধান কারণ হলো আমি তাদের মতো সাহসী ছিলাম না; আমি জেল ও শাস্তিকে ভয় পেতাম।"

যখন তিনি অবসরের কাছাকাছি পৌঁছান, তখন সৌদিদের প্রকাশিতব্য 'আল-আসাস' পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি তাঁর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে নিবিষ্ট ছিলেন; তাই রাজনীতি থেকে তাঁর এই দূরত্ব নির্জনতা প্রিয়তা, মতামতের স্বাধীনতা এবং চিন্তার স্বকীয়তার প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত ঝোঁকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

একরৈখিক নয় এমন এক ব্যক্তিত্ব

জ্ঞান, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা অর্জনই ছিল আহমদ আমিনের প্রধান ধ্যান-জ্ঞান। এমনকি বিভিন্ন পদে আসীন থাকার সময় যে সময়টুকু নষ্ট হয়েছে, তার জন্য তিনি অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করতেন। তিনি মনে করতেন যে, এই পদগুলো তাঁর সময় গ্রাস করেছে, তাঁর সময়কে বিক্ষিপ্ত করেছে এবং সামান্য উপকারের বিনিময়ে তাঁর পরিশ্রমকে বিলিয়ে দিয়েছে। তিনি যদি ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক লেখাগুলো শেষ করার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে পারতেন, তবে তা আরও বেশি উপকারী, ফলপ্রসূ এবং দীর্ঘস্থায়ী হতো।

তাঁর লেখনি ছিল অভিব্যক্তির নির্ভুলতা, বিশ্লেষণের গভীরতা এবং বিভিন্ন ঘটনার কারণ উদঘাটনে অনন্য। সহজ শব্দ ব্যবহার এবং জটিলতা ও অস্পষ্টতা থেকে দূরে থাকার ফলে তাঁর উপস্থাপনা ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তিনি প্রায় ১৬টি বই রচনা করেছেন এবং অন্যদের সাথে মিলে আরও বেশ কিছু বই রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। এছাড়াও তিনি দর্শনের মূলনীতির ওপর একটি বই অনুবাদ করেছেন।

ফজরুল ইসলাম ও বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন

তাঁর খ্যাতি মূলত ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের ওপর লেখা তাঁর সিরিজ 'ফজরুল ইসলাম', 'দুহাল ইসলাম' এবং 'জুহরুল ইসলাম'-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত। কারণ তিনি গবেষণার নতুন পদ্ধতি, শৈলী এবং ফলাফলের মাধ্যমে মানুষকে চমকে দিয়েছিলেন। তিনি মুসলিম উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক বিশ্লেষণের এমন এক রূপ তুলে ধরেছিলেন যা তাঁর আগে কেউ এভাবে করেনি। একারণে তাঁর এই সিরিজটি পরবর্তী সকল গবেষকের জন্য প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আসলে এমন একটি প্রদীপ হাতে নিয়েছিলেন যা তাঁর উত্তরসূরিদের জন্য ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের পথকে আলোকিত করেছে।

তবে তিনি নববী হাদিস ও এর সংকলন এবং জাল হাদিস ও এর কারণ সম্পর্কে এমন একটি অধ্যায় লিখেছিলেন, যার সাথে তাঁর সময়ের কিছু মহান আলেম একমত হতে পারেননি। যেমন: শেখ মুহাম্মদ আবু জাহরা এবং ডক্টর মুস্তফা আস-সিবাঈ। তাঁরা অত্যন্ত মার্জিত ভাষায় এবং শিষ্টাচারের সাথে যা সংশোধনের প্রয়োজন ছিল তা সংশোধন করে দেন। আহমদ আমিন তাঁদের লেখাগুলো পড়েছেন এবং তাঁদের প্রশংসা করেছেন। তবে অন্য কিছু ব্যক্তি বলেছেন যে, তিনি প্রাচ্যবিদদের ছাত্র এবং তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে মুহাদ্দিসদের প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগ তোলেন।

প্রকৃতপক্ষে 'ফজরুল ইসলাম'-এর মতো একটি গ্রন্থ যা ইসলামের আবির্ভাব থেকে আব্বাসীয় খিলাফতের পতন পর্যন্ত বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের ওপর বেশ কয়েকটি বিশাল খণ্ডে রচিত, সেখানে লেখক হাজার হাজার মতামত ও শত শত ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। ফলে সেখানে এমন কিছু বিষয় ও মতামত থাকা অনিবার্য যা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে, তবে তা এই কাজের শ্রেষ্ঠত্ব, অগ্রগামিতা এবং মূল্যকে ক্ষুণ্ণ করে না।

আহমদ আমিন আরবের বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন বিশ্লেষণে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন: "সম্ভবত নিজের জাতির ইতিহাসের ক্ষেত্রে একজন গবেষক সবচেয়ে কঠিন যে সমস্যার সম্মুখীন হন, তা হলো এর চিন্তাধারার উদ্ভব ও বিকাশের ইতিহাস এবং এর ধর্মের ইতিহাস ও তাতে প্রবেশ করা বিভিন্ন মতবাদ ও মাযহাব।"

তাঁর 'দুহাল ইসলাম' গ্রন্থে তিনি প্রথম আব্বাসীয় যুগের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন, বিজ্ঞানের উদ্ভব ও বিকাশ এবং ধর্মীয় দলগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি 'দুহাল ইসলাম' নামকরণের মাধ্যমে যুগ ভেদে বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার ক্রমবিকাশকে বুঝিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সাবলীল শৈলীতে মুসলিম সমাজের নতুন নতুন প্রবণতা আলোচনার সময় রাজনীতির সাথে চিন্তাধারার সংমিশ্রণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। একইভাবে তিনি বিভিন্ন যুগে আমোদ-প্রমোদের ক্রমবিকাশ তুলে ধরেছেন; যা প্রথম যুগে সামান্য ছিল এবং পরবর্তী যুগে ব্যাপক আকার ধারণ করে। তিনি জিন্দিকবাদ এবং এর উদ্ভব ও বিস্তারের কারণ এবং পারস্য ও ভারতীয় ইত্যাদি বিদেশী সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। এই বইটি তাঁর লেখা সবচেয়ে মূল্যবান বইগুলোর একটি এবং এটি নিঃসন্দেহে ইসলামী চিন্তাধারার অন্যতম ভাণ্ডার।

তাঁর 'জুয়ামাউল ইসলাহ ফিল আসরিল হাদিস' বইটি অত্যন্ত খ্যাতি লাভ করেছিল; কারণ এটি বেশ কয়েক বছর স্কুল-কলেজের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে এর অনেকগুলো সংস্করণ প্রকাশিত হয় এবং তা ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।

'ফায়দুল খাতির' বইটিতে তিনি 'আর-রিসালা' এবং 'আস-সাকাফা' ইত্যাদি পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর বিভিন্ন প্রবন্ধগুলো সংকলন করেছেন, যা ১০টি খণ্ডে প্রায় ৯০০টি প্রবন্ধের সমান। তাঁর 'হায়াতি' বইটিতে তিনি তাঁর আত্মজীবনী লিপিবদ্ধ করেছেন। এই বইটি সম্পর্কে তিনি বলেন: "কোনো বই রচনার ক্ষেত্রে আমি এতটা ইতস্ততবোধ করিনি যতটা এই বইটি প্রকাশের ক্ষেত্রে করেছি।" এটি তাঁর মৃত্যুর চার বছর আগে প্রকাশিত হয়।

তাঁর অন্যান্য বইগুলো হলো: 'জুহরুল ইসলাম', 'ইয়াওমুল ইসলাম', 'কামুসুল আদাত ওয়াত তাকালিদিল মিসরিয়্যাহ', 'আন-নাকদুল আদাবি', 'কিসসাতুল আদাব ফিল আলাম', 'কিসসাতুল ফালসাফাহ' ইত্যাদি।

তিনি আরও কয়েকজন গবেষকের সাথে মিলে ইবনে আবদু রাব্বিহি-র 'আল-ইকদুল ফারিদ', আবু হাইয়ান আত-তাওহিদির 'আল-ইমতা ওয়া আল-মুয়ানাশাহ', 'আল-হাওয়ামিল ওয়া আশ-শাওয়ামিল', 'আল-বাসাইর ওয়া আজ-জাখাইর' এবং 'খারিদাতুল কাসর ওয়া ফারিদাতুল আসর' সম্পাদনা ও প্রকাশে সহযোগিতা করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٦)
النهاية

وقد أصيب أحمد أمين قبل وفاته بمرض في عينه، ثم بمرض في ساقه فكان لا يخرج من منزله إلا لضرورة قصوى، ورغم ذلك لم ينقطع عن التأليف والبحث حتى توفاه الله في (27 من رمضان 1373هـ= 30 من مايو 1954م) ؛ فبكاه الكثيرون ممن يعرفون قدره.

ولعل كلمته: "أريد أن أعمل لا أن أسيطر" مفتاح هام في فهم هذه الشخصية الكبيرة.

أهم مصادر الدراسة:

محمد رجب البيومي: أحمد أمين- مؤرخ الفكر الإسلامي- دار القلم- دمشق- الطبعة الأولى- (1422هـ= 2001) .

فيهم حافظ الدناصوري: أحمد أمين وأثره في اللغة والنقد الأدبي- مكتبة الملك فيصل الإسلامية- الهرم- مصر- 1986م.

لمعي المطيعي: هذا الرجل من مصر- دار الشروق- الطبعة الأولى- (1417هـ= 1997م) .

--------------------------------------------

المصدر: موقع إسلام أون لاين: www.islam-online.net
উপসংহার

আহমদ আমিন তার ইন্তেকালের পূর্বে চোখের রোগে আক্রান্ত হন, অতঃপর তার পায়ে ব্যাধিতে আক্রান্ত হন, যার ফলে তিনি অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ঘর থেকে বের হতেন না। তা সত্ত্বেও তিনি লেখালেখি ও গবেষণার কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হননি যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে (২৭ রমজান ১৩৭৩ হিজরি = ৩০ মে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ) তারিখে মৃত্যু দান করেন; তার মর্যাদা সম্পর্কে অবগত অনেকেই তার বিদায়ে ক্রন্দন করেছেন।

সম্ভবত তার এই উক্তিটি: "আমি কাজ করতে চাই, কর্তৃত্ব করতে নয়" এই মহান ব্যক্তিত্বকে অনুধাবনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি।

অধ্যয়নের প্রধান উৎসসমূহ:

মুহাম্মদ রজব আল-বায়্যুমি: আহমদ আমিন- ইসলামি চিন্তাধারার ইতিহাসবিদ- দারুল কলম- দামেস্ক- প্রথম সংস্করণ- (১৪২২ হিজরি = ২০০১ খ্রিস্টাব্দ)।

ফাহিম হাফিজ আদ-দানাসুরি: আহমদ আমিন এবং ভাষা ও সাহিত্য সমালোচনায় তার প্রভাব- মাকতাবাতুল মালিক ফয়সাল আল-ইসলামিয়া- আল-হারাম- মিশর- ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ।

লাময়ি আল-মুতিয়ি: হাজা আর-রাজুলু মিন মিসর (মিশরের এই ব্যক্তি)- দারুশ শুরুক- প্রথম সংস্করণ- (১৪১৭ হিজরি = ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ)।

--------------------------------------------

উৎস: ইসলাম অনলাইন ওয়েবসাইট: www.islam-online.net
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌أحمد بن أحمد سلامة

 

(1335 - 1407 هـ- 1916 - 1987 م)

ولد بمدينة ذمار في اليمن، أخذ الفقه والحديث والعربية من علمائها. تولى التدريس في بعض المعاهد بصنعاء.

رحل إلى مكة المكرمة، وأخذ هناك عن علماء الحرمين، ثم عاد إلى صنعاء، وقام بالتدريس.

ثم كان من كبار مدرسي المعهد العالي للقضاء.

من مؤلفاته:

- كتاب الإيمان (ألفه بالاشتراك مع آخرين) .
আহমদ বিন আহমদ সালামা

 

(১৩৩৫ - ১৪০৭ হিজরি - ১৯১৬ - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ)

তিনি ইয়েমেনের দামার শহরে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে তিনি ফিকহ, হাদিস ও আরবি ভাষা শিক্ষা লাভ করেন। সানআর কিছু ইনস্টিটিউটে তিনি অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি মক্কা মুকাররমায় সফর করেন এবং সেখানে হারামাইন শরিফাইনের আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর তিনি সানআয় ফিরে আসেন এবং শিক্ষকতা শুরু করেন।

পরবর্তীতে তিনি উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউটের অন্যতম জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ছিলেন।

তার রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

- কিতাবুল ইমান (এটি তিনি অন্যদের সাথে যৌথভাবে রচনা করেছেন)।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌أحمد بن عبد الكريم نجيب

بسم الله الرحمن الرحيم

سيرة ذاتية للدكتور / أحمد بن عبد الكريم نجيب

• الاسم: أحمد بن عبد الكريم نجيب

• مكان الميلاد: قرية (أطمة) التابعة لمحافظة (إدلب) في سوريّة.

• تاريخ الميلاد: 30 آذار (مارس) 1971 م.

• الجنسيّة: سوري.

• الحالة الاجتماعيّة:

- متزوج منذ عام 1992 م، وأب لخمسة أولاد هم: آلاء (من مواليد عام 1994 م، في حلب بسوريّة) ، والهيثم (من مواليد عام 1995 م، في سراة عبيدة بالسعوديّة) ، وعبد الكريم (من مواليد عام 2000 م، في سراييفو بالبوسنة) وأروى (من مواليد عام 2001 م، في دَبْلِن بإيرلندا) وفراس (من مواليد عام 2002 م، في دبلن بإيرلندا.

 

• المؤهلات الدراسيّة:

- الثانويّة العامّة (من القسم العلمي) بتقديرٍ جيّدٍ جداً من ثانويّة الملك خالد بخميس مشيط (السعوديّة) سنة 1989 م.

- ليسانس في العلوم الإسلاميّة والعربية بتقدير ممتاز من كلّية العلوم الإسلاميّة والعربيّة، التابعة للمجمع العلمي العالي بدمشق سنة 1994م.

- درجة التخصص (الماجستير) في علم الحديث النبوي بتقدير ممتاز من جامعة الدراسات الإسلاميّة في (كراتشي) بالباكستان سنة 1995 م.

- الدرجة العالميّة (الدكتوراه) في علوم السنّة والحديث النبوي بتقدير ممتاز من جامعة أم درمان الإسلاميّة في السودان سنة 2001 م.

• بلدان الإقامة:

• بين عامي 1971 م و 1980 م في سوريّة.

• بين عامي 1980 و 1989 في السعوديّة.

• بين عامي 1989 و 1992 م في الإمارات.

• بين عامي 1992 م و 1997 م بين سوريا والسعوديّة وبلدان يوغسلافيا السابقة.

• بين عامي 1997 و 1999 م في دولة قطر.

• بين عامي 1999 م و 2001 في البوسنة والهرسك.

• منذ مطلع شهر تموز عام 2001 وحتى الآن في جمهوريّة أيرلندا.

 

• الوظائف والأعمال والمهام:

• حتى عام 1992 م: دراسة نظاميّة.

• بين عامي 1995 م و 1996 م مدير إقليمي لمكاتب مؤسسة الحرمين الخيريّة في البوسنة والهرسك، وأستاذ زائر (متعاون) في كليّة الدراسات الإسلاميّة في سراييفو، والأكاديميّة الإسلاميّة في زينتسا.

• بين عامي 1997 م و 1999 م مدرّس علوم شرعيّة في المعهد الديني بالدوحة، التابع لوزارة التربية والتعليم والثقافة القطريّة.

• منذ عام 1999 م وحتى الآن متطوّع في الدعوة إلى الله في جمهوريّات يوغسلافيا السابقة (البوسنة وكوسوفو والجبل الأسود) ، وغيرها من بلدان أوروبا الشرقيّة والغربيّة، وباحث مستقل في العلوم الشرعيّة.

 

• الآثار العلميّة:

• الإسلام على حلبة الصراع، نشرته دار المجتمع في جدّة، عام 1992 م.

• جلاء الظلمة في التحذير من سيادة الشعب والأمّة، نشرته مكتبة الصحابة في جدّة، عام 1993 م.

• أفيقوا أيّها المسلمون وانظروا ما يراد بكم، نشرته مكتبة الصحابة في جدّة، عام 1993 م

• فصل الخطاب في بيان عقيدة الشيخ محمد بن عبد الوهّاب، نشرته مكتبة الصحابة في جدّة، عام 1993 م، وأعيد طبعه للتوزيع الخيري على نفقة فاعل خير بالمدينة المنورة في نفس العام

• أخبار الآحاد (رسالة ماجستير في علوم الحديث) .

• البدعة.. أقسامها وأحكامها بين المدح والذم.

• مدخل إلى علوم السنّة (باللغة البوسنويّة) ، نشرته الأكاديميّة الإسلاميّة في زينتسا بالبوسنة، بتمويل من مؤسسة الحرمين الخيريّة، عام 1996 م.

• السنة النبويّة: مكانتها وأثرها في حياة مسلمي البوسنة والهرسك (رسالة دكتوراه) .

• أقوم السنن في نقض تقسيم البدع إلى سيئٍ وحسن (بحث نشرته مجلّة الحكمة عام 1997 م) .

• رفع الريبة في بيان ما يجوز وما لا يجوز من الغيبة للإمام الشوكاني (نشرته مكتبة الفارابي في دمشق عام 2001 م) .

• حال المرأة المسلمة في البوسنة والهرسك بين الأمس واليوم وتأثره بالسنة النبويّة (نشرته دار الخير في دمشق عام 2001م)

• إضافة إلى بضعة أبحاث مقالات وقصائد نشرت في عددٍ من الصحف العربيّة وعلى الشبكة العالمية (الانترنت) .

هذا، وبالله التوفيق.

وصلّى الله وسلّم وبارك على نبيّنا محمّدٍ وآله وصحبه أجمعين

 

http://saaid.net/Doat/Najeeb/0.htm

--------

بواسطة العضو ابو ابراهيم الكويتي
আহমাদ বিন আব্দুল কারিম নাজীব

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ডক্টর আহমাদ বিন আব্দুল কারিম নাজীবের জীবনবৃত্তান্ত

• নাম: আহমাদ বিন আব্দুল কারিম নাজীব

• জন্মস্থান: সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের অন্তর্গত আতমাহ গ্রাম।

• জন্ম তারিখ: ৩০ মার্চ ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ।

• জাতীয়তা: সিরীয়।

• বৈবাহিক অবস্থা:

- ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ থেকে বিবাহিত এবং পাঁচ সন্তানের জনক। তারা হলেন: আলা (জন্ম ১৯৯৪ খ্রি., সিরিয়ার আলেপ্পোতে), আল-হাইসাম (জন্ম ১৯৯৫ খ্রি., সৌদি আরবের সরাত আবিদাহতে), আব্দুল কারিম (জন্ম ২০০০ খ্রি., বসনিয়ার সারায়েভোতে), আরওয়া (জন্ম ২০০১ খ্রি., আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে) এবং ফিরাস (জন্ম ২০০২ খ্রি., আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে)।

 

• শিক্ষাগত যোগ্যতা:

- উচ্চ মাধ্যমিক (বিজ্ঞান বিভাগ) ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে সৌদি আরবের খামিস মুশাইতের কিং খালিদ হাই স্কুল থেকে অত্যন্ত ভালো (ভেরি গুড) ফলাফলসহ উত্তীর্ণ।

- ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কের আল-মাজমাউল ইলমি আল-আলি অধিভুক্ত কলেজ অব ইসলামিক অ্যান্ড অ্যারাবিক সায়েন্সেস থেকে ইসলামি ও আরবি বিজ্ঞানে স্নাতক (লিসান্স) ডিগ্রি অর্জন (চমৎকার বা এক্সিলেন্ট ফলাফলসহ)।

- ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তানের করাচির জামিয়াতুদ দিরাসাত আল-ইসলামিয়া থেকে ইলমে হাদিসের ওপর বিশেষায়িত ডিগ্রি (মাস্টার্স) অর্জন (চমৎকার বা এক্সিলেন্ট ফলাফলসহ)।

- ২০০১ খ্রিস্টাব্দে সুদানের উম্মে দুরমান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে সুন্নাহ ও হাদিস বিজ্ঞানে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ডক্টরেট (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জন (চমৎকার বা এক্সিলেন্ট ফলাফলসহ)।

• আবাসের দেশসমূহ:

• ১৯৭১ থেকে ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সিরিয়ায়।

• ১৯৮০ থেকে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সৌদি আরবে।

• ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

• ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সিরিয়া, সৌদি আরব এবং প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়ার দেশসমূহে।

• ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কাতার রাষ্ট্রে।

• ১৯৯৯ থেকে ২০০১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায়।

• ২০০১ খ্রিস্টাব্দের জুলাইয়ের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রে।

 

• পেশা ও দায়িত্বসমূহ:

• ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা।

• ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত: বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় আল-হারামাইন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের আঞ্চলিক পরিচালক এবং সারায়েভোর কলেজ অব ইসলামিক স্টাডিজ ও জেনিৎসার ইসলামিক একাডেমিতে ভিজিটিং প্রফেসর (সহযোগী)।

• ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত: কাতারের শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দোহা রিলিজিয়াস ইনস্টিটিউটে শরিয়া বিজ্ঞানের শিক্ষক।

• ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে বর্তমান পর্যন্ত: প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়ার প্রজাতন্ত্রসমূহে (বসনিয়া, কসোভো ও মন্টিনিগ্রো) এবং পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপের অন্যান্য দেশে আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজে স্বেচ্ছাসেবী এবং শরিয়া বিজ্ঞানে স্বাধীন গবেষক হিসেবে কর্মরত।

 

• ইলমি ও গবেষণামূলক কর্মসমূহ:

• আল-ইসলাম আলা হালবাতিল সিরা' (সংঘাতের ময়দানে ইসলাম), জেদ্দার দারুল মুজতামা থেকে ১৯৯২ সালে প্রকাশিত।

• জালাউয যুলমাহ ফিত তাহযীরি মিন সিয়াদাতিল শা'বি ওয়াল উম্মাহ (জনগণ ও জাতির সার্বভৌমত্বের বিষয়ে সতর্কীকরণে অন্ধকার দূরীভূতকরণ), জেদ্দার মাকতাবাতুস সাহাবা থেকে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত।

• আফিকু আইয়ুহাল মুসলিমুনা ওয়ানযুরু মা ইউরাদু বিকুম (হে মুসলিমগণ জেগে ওঠো এবং দেখো তোমাদের নিয়ে কী পরিকল্পনা করা হচ্ছে), জেদ্দার মাকতাবাতুস সাহাবা থেকে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত।

• ফাসলুল খিতাব ফি বায়ানি আকিদাতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের আকিদা বর্ণনায় চূড়ান্ত বক্তব্য), জেদ্দার মাকতাবাতুস সাহাবা থেকে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত এবং একই বছর মদিনা মুনাওয়ারার একজন দানবীরের অর্থায়নে দাতব্য বিতরণের জন্য পুনর্মুদ্রিত।

• আখবারুল আহাদ (হাদিস বিজ্ঞানে মাস্টার্স থিসিস)।

• আল-বিদআহ.. আকসামুহা ওয়া আহকামুহা বাইনাল মাদহি ওয়ায যাম (বিদআত: প্রশংসা ও নিন্দার আলোকে এর প্রকারভেদ ও বিধান)।

• মাদখাল ইলা উলূমিস সুন্নাহ (সুন্নাহ বিজ্ঞানের ভূমিকা - বসনীয় ভাষায়), আল-হারামাইন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বসনিয়ার জেনিৎসার ইসলামিক একাডেমি থেকে ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত।

• আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ: মাকানাতুহা ওয়া আসারুহা ফি হায়াতি মুসলিমিল বুসনা ওয়াল হারসাক (সুন্নাতে নববী: বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুসলিমদের জীবনে এর মর্যাদা ও প্রভাব - পিএইচডি থিসিস)।

• আকওয়ামুস সুনান ফি নাকদি তাকসিমিল বিদয়ি ইলা সাইয়িইয়িন ওয়া হাসান (বিদআতকে ভালো ও মন্দে বিভক্ত করার খণ্ডনে সুদৃঢ় নীতি - ১৯৯৭ সালে আল-হিকমাহ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত গবেষণা)।

• রাফউর রিবাহ ফি বায়ানি মা ইয়াজুযু ওয়া মা লা ইয়াজুযু মিনাল গীবাহ (গীবতের বৈধ ও অবৈধ দিক বর্ণনায় সংশয় নিরসন) - ইমাম শাওকানী রচিত (২০০১ সালে দামেস্কের মাকতাবাতুল ফারাবি থেকে প্রকাশিত)।

• হাশিয়াতে আল-মারআতিল মুসলিমাহ ফিল বুসনা ওয়াল হারসাক বাইনাল আমসি ওয়াল ইয়াউম ওয়া তাআসসুরুহা বিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় মুসলিম নারীদের অতীত ও বর্তমান অবস্থা এবং সুন্নাতে নববীর প্রভাব - ২০০১ সালে দামেস্কের দারুল খায়ের থেকে প্রকাশিত)।

• এছাড়াও বেশ কিছু গবেষণাপত্র, প্রবন্ধ এবং কবিতা বিভিন্ন আরবি সংবাদপত্র এবং ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়েছে।

আল্লাহর তৌফীকেই সব সমাপ্ত।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।

 

http://saaid.net/Doat/Najeeb/0.htm

--------

সদস্য আবু ইব্রাহিম আল-কুয়েতি কর্তৃক
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌أحمد بن علي سير مباركي

تاريخ ومكان الميلاد: 1368هـ- المنصورية. الحالة الاجتماعية: متزوج وله 9 أولاد.

العنوان الدائم: مجلس الشورى الرياض 11212.

المؤهلات العلمية:

- الدكتوراه: كلية الشريعة والقانون جامعة الأزهر- شريعة 1397هـ-.

- الماجستير: المعهد العالي للقضاء - شريعة إسلامية 1392هـ-.

- الجامعية: كلية الشريعة بالرياض - جامعة الأمام 1388هـ-.

- الثانوية العامة: المعهد العلمي جامعة الأمام 1383هـ-.

 

الحياة العلمية

- ملازم قضائي: وزارة العدل.

- معيد: كلية الشريعة بالرياض - جامعة الإمام.

- أستاذ مساعد: كلية الشريعة بالرياض - جامعة الإمام.

- أستاذ مشارك: كلية الشريعة بالرياض - جامعة الإمام.

- أستاذ: كلية الشريعة بالرياض - جامعة الإمام.

- وكيل قسم: قسم أصول الفقه- كلية الشريعة بالرياض- جامعة الإمام.

- رئيس قسم: قسم أصول الفقه- كلية الشريعة بالرياض- جامعة الإمام.

- عضو: مجلس الشورى منذ عام 1414هـ-.

- صدر مرسوم ملكي بتعيينه بهيئة كبار العلماء في 6/3/1422هـ-.

 

المؤتمرات والندوات

- شارك في المؤتمرات والندوات التي تعقدها جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية داخل المملكة.

المؤلفات والبحوث

- تحقيق كتاب العدة في أصول الفقه للقاضي أبى يعلى- خمسة أجزاء (منشور) .

- العرف وآثاره في الشريعة والقانون (منشور) .

- الحافظ بن حجر وكتابه تعريف أهل النقديس (منشور) .

- القاضي أبو يعلى الأصول الفقهية.

- مآلات الأفعال عند الأصوليين وآثارهما الفقهية.

- الإطلاق والتطليق عند الأصوليين وآثارهما الفقهية.

- أصول الفقه للمرحلة الثانوية المطورة بالاشتراك/ منشور.

- السياسة الشرعية للمرحلة المذكورة بالاشتراك/ منشور.

- تقييد المباح بين الشريعة والقانون.

http://www.bab.com/who/personality....d=110&perid=853

------

بواسطة العضو عبد الله الخميس
আহমেদ বিন আলী সায়্যির মুবারকী

জন্ম তারিখ ও স্থান: ১৩৬৮ হিজরি- আল-মানসুরিয়া। বৈবাহিক অবস্থা: বিবাহিত এবং ৯ সন্তানের জনক।

স্থায়ী ঠিকানা: মজলিসুশ শূরা, রিয়াদ ১১২১২।

শিক্ষাগত যোগ্যতা:

- ডক্টরেট: শরীয়াহ ও আইন অনুষদ, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়- শরীয়াহ ১৩৯৭ হিজরি-।

- মাস্টার্স: বিচার বিভাগের উচ্চতর ইন্সটিটিউট - ইসলামী শরীয়াহ ১৩৯২ হিজরি-।

- স্নাতক: শরীয়াহ অনুষদ, রিয়াদ - ইমাম বিশ্ববিদ্যালয় ১৩৮৮ হিজরি-।

- উচ্চ মাধ্যমিক: সায়েন্টিফিক ইন্সটিটিউট, ইমাম বিশ্ববিদ্যালয় ১৩৮৩ হিজরি-।

 

কর্মজীবন

- বিচার বিভাগীয় সহকারী: আইন মন্ত্রণালয়।

- টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট: শরীয়াহ অনুষদ, রিয়াদ - ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়।

- সহকারী অধ্যাপক: শরীয়াহ অনুষদ, রিয়াদ - ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়।

- সহযোগী অধ্যাপক: শরীয়াহ অনুষদ, রিয়াদ - ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়।

- অধ্যাপক: শরীয়াহ অনুষদ, রিয়াদ - ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়।

- বিভাগীয় উপ-প্রধান: উসুলুল ফিকহ বিভাগ- শরীয়াহ অনুষদ, রিয়াদ- ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়।

- বিভাগীয় প্রধান: উসুলুল ফিকহ বিভাগ- শরীয়াহ অনুষদ, রিয়াদ- ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়।

- সদস্য: মজলিসুশ শূরা (পরামর্শ পরিষদ) ১৪১৪ হিজরি থেকে।

- ৬/৩/১৪২২ হিজরিতে তাকে উচ্চতর উলামা পরিষদে নিয়োগ দিয়ে রাজকীয় ফরমান জারি করা হয়।

 

সম্মেলন ও সেমিনার

- তিনি দেশের অভ্যন্তরে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন সম্মেলন ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন।

রচনাবলি ও গবেষণা

- কাযী আবু ইয়া'লার 'আল-উদ্দাহ ফি উসুলিল ফিকহ' গ্রন্থের তাহকিক- পাঁচ খণ্ড (প্রকাশিত)।

- আল-উরফ ওয়া আসারুহু ফিশ শরীয়াহ ওয়াল কানুন (শরীয়াহ ও আইনে প্রথা এবং এর প্রভাব) (প্রকাশিত)।

- আল-হাফিজ ইবনে হাজার ওয়া কিতাবুহু তারিফু আহলিত তাকদিস (হাফিজ ইবনে হাজার এবং তার রচিত গ্রন্থ 'তারিফু আহলিত তাকদিস') (প্রকাশিত)।

- আল-কাযী আবু ইয়া'লা: আল-উসুলুল ফিকহিয়্যাহ।

- মা’আলাতুল আফ’আল ইনদাল উসুলিয়্যিন ওয়া আসারুহুমাল ফিকহিয়্যাহ (উসুলবিদদের নিকট কার্যাবলির পরিণাম এবং এর ফিকহী প্রভাব)।

- আল-ইতলাক ওয়াত তাতলিক ইনদাল উসুলিয়্যিন ওয়া আসারুহুমাল ফিকহিয়্যাহ।

- উন্নত মাধ্যমিক স্তরের জন্য উসুলুল ফিকহ (যৌথভাবে)/ প্রকাশিত।

- উক্ত স্তরের জন্য আস-সিয়াসাহ আশ-শরইয়্যাহ (যৌথভাবে)/ প্রকাশিত।

- তাকয়িদুল মুবাহ বাইনাশ শরীয়াহ ওয়াল কানুন (শরীয়াহ ও আইনের আলোকে বৈধ বিষয়কে সীমাবদ্ধ করা)।

http://www.bab.com/who/personality....d=110&perid=853

------

সদস্য আবদুল্লাহ আল-খামিসের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌أحمد بن محمد بن أحمد بن حمد المنقور (1067 هـ- - 1125 هـ-)

 

الشيخ احمد بن محمد بن أحمد بن حمد المنقور - هكذا نسبه من خط يده، المنقوري، التميمي نسباً، فالمنقور نسبة الى بطن كبير من بني سعد بن تميم أحد البطون الأربعة الكبار في قبيلة بني تميم.

قال الشيخ ابن عيسى: وبنو منقر منهم المناقير أهل حوطة سدير، ومنهم صاحب المجموع احمد بن محمد المنقور. أهـ-.

 

ولد المترجم في بلده حوطة سدير في الثاني عشر من ربيع الأول عام 1067هـ- ونشأ فيها، وتوفيت والدته وكان في الثانية عشرة من عمره، وتوفي والده بعد عشر سنوات من وفاة والدته، وقد جد واجتهد في طلب العلم فأخذ من عدة علماء أشهرهم العلامة قاضي الرياض الشيخ عبد الله ذهلان، الذي رحل إليه المترجم من بلده إلى الرياض خمس رحلات لأخذ العلم عنه، حتى مهر فيه لا سيما في الفقه، فقد أوفى في تحصيله على الغاية.

وجمع من تقارير شيخه سفراً ضخماً من البحوث والتقارير والفوائد وعرف بمجموع المنقور.

قال ابن حميد في طبقاته: (واجتهد مع الورع والديانة والقناعة والصبر على الفقر والعيال، وكان يتعيش من الزراعة ويقاسي فيها الشدائد مع حرصه على الدروس في غير قريته، ومهر في الفقه فقط مهارة تامة، وصنف تصانيف حسنة) أهـ-.

وقد حصل من شيخه عبد الله بن ذهلان على اجازة علمية اثنى فيها المجيز على المجاز ثناء عطراً

وقال الشيخ محمد بن مانع في مقدمة منسك المترجم المطبوع:

(والمصنف رحمه الله مشهور بالثقة، والمشايخ النجديون يعولون على نقله ويعتمدون عليه) . أهـ-.

وله نبذة في التاريخ عن نجد ذكر فيها زوجاته وأبناءه وبناته ومواليدهم وذكر حجاته وزياراته للمسجد النبوي الشريف، ورحلاته في طلب العلم، وبعض زملائه في الدراسة.

وكانت اول حجة له عام 1091 هـ-، ثم تتالت حجاته.

وقد ولي قضاء بلدة الحوطة حتى مات، ثم خلفه عليه ابنه الشيخ إبراهيم.

 

مؤلفاته واثاره:

كتابه المجموع المشهور باسم - مجموع المنقور - وقد طبع باسم (الفوائد والمسائل المفيدة) ، والمطلع على هذا المجموع يأخذه العجب من كثرة ما اطلع عليه المترجم من الكتب والمجاميع والرسائل والمسائل.

منسك لطيف في الحج، مطبوع في مطابع المكتب الإسلامي، لزهير الشاويش.

تاريخ لنجد، صغير، أغلب أخباره - محلية - عن مقاطعة المؤلف سدير، وأخباره إشارات مختصرة، وقد ابتدأ في أخباره عام 948هـ- إلى وفاته سنة 1125 هـ-، وقد حققه ونشره د. عبد العزيز الخويطر.

قال ابن حميد: (وله جوابات سديدة عن مسائل فقهية كثيرة) .

 

وله مكتبة كبيرة غالبها بخطه.

وفاته:

توفي في بلدته (حوطة سدير) في السادس من جمادى الأولى عام 1125هـ-، وكان في الثامنة والخمسين من عمره، وله عقب في بلاده واشهر أبنائه الشيخ إبراهيم.

-------

بواسطة العضو عبد الله الخميس
আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হামাদ আল-মানকুর (১০৬৭ হিজরি - ১১২৫ হিজরি)

 

শাইখ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হামাদ আল-মানকুর — তাঁর স্বহস্তে লিখিত নসবনামা (বংশতালিকা) অনুযায়ী এভাবেই তাঁর বংশ পরিচিতি দেওয়া হয়েছে। তিনি আল-মানকুরি, আর বংশগতভাবে আত-তামিমি। মানকুর শব্দটি বনু তামিম গোত্রের বড় চারটি শাখার অন্যতম শাখা বনু সাদ বিন তামিমের একটি বড় উপদলের সাথে সম্পর্কিত।

শাইখ ইবনে ঈসা বলেন: বনু মানকারের অন্তর্ভুক্ত হলো হাওতাতু সুদাইরের মানাকির সম্প্রদায়, যাদের অন্যতম হলেন 'আল-মাজমু'র রচয়িতা আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মানকুর। (সমাপ্ত)

 

জীবনীকার ১০৬৭ হিজরির ১২ই রবিউল আউয়াল তাঁর নিজ শহর হাওতাতু সুদাইরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। যখন তাঁর বয়স বারো বছর, তখন তাঁর মা ইন্তেকাল করেন। মায়ের মৃত্যুর দশ বছর পর তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। তিনি ইলম অর্জনে অত্যন্ত প্রচেষ্টা ও সাধনা করেন এবং বেশ কয়েকজন আলিমের নিকট থেকে জ্ঞান আহরণ করেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিলেন রিয়াদের প্রখ্যাত আল্লামা ও কাযি শাইখ আব্দুল্লাহ জুহলান। ইলম অর্জনের জন্য জীবনীকার তাঁর নিজ শহর থেকে রিয়াদে তাঁর কাছে পাঁচবার সফর করেন, শেষ পর্যন্ত তিনি ইলমে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন, বিশেষ করে ফিকহশাস্ত্রে তিনি সফলতার চরম শিখরে পৌঁছান।

তিনি তাঁর শাইখের পাঠদান ও আলোচনা থেকে গবেষণা, প্রতিবেদন ও শিক্ষণীয় বিষয়াবলির একটি বিশাল সংকলন তৈরি করেন, যা 'মাজমু আল-মানকুর' নামে পরিচিত।

ইবনে হুমাইদ তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে বলেন: (তিনি পরহেজগারি, ধার্মিকতা, অল্পে তুষ্টি এবং অভাব-অনটন ও পরিবার-পরিজনের দায়িত্ব পালনে ধৈর্যের সাথে কঠোর সাধনা করেছেন। তিনি কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং এতে অনেক কষ্ট সহ্য করতেন; তা সত্ত্বেও নিজের গ্রামের বাইরেও পাঠদানে তাঁর অত্যন্ত আগ্রহ ছিল। তিনি কেবল ফিকহশাস্ত্রে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন এবং অনেক উত্তম গ্রন্থ রচনা করেছেন।) (সমাপ্ত)

তিনি তাঁর শাইখ আব্দুল্লাহ বিন জুহলানের কাছ থেকে একটি ইলমি ইজাযত (সনদ) লাভ করেন, যেখানে ইজাযতদাতা তাঁর ছাত্রের অত্যন্ত ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

শাইখ মুহাম্মদ বিন মানি' জীবনীকারের মুদ্রিত মানাসিক (হজ বিধিবিধান) গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন:

(মুসান্নিফ রহমতুল্লাহি আলাইহি একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত। নজদি শাইখগণ তাঁর বর্ণিত উদ্ধৃতির ওপর নির্ভর করেন এবং তাঁকে প্রামাণ্য হিসেবে গ্রহণ করেন।) (সমাপ্ত)

নজদ সম্পর্কে তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যেখানে তিনি তাঁর স্ত্রী, পুত্র, কন্যা এবং তাঁদের জন্মবৃত্তান্ত উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও তিনি তাঁর হজের বিবরণ, মসজিদে নববী যিয়ারত, ইলম অর্জনের সফরসমূহ এবং তাঁর কিছু সহপাঠীর নাম উল্লেখ করেছেন।

তাঁর প্রথম হজ ছিল ১০৯১ হিজরিতে, এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে আরও হজ করেন।

তিনি মৃত্যু পর্যন্ত আল-হাওতাহ শহরের কাযি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তাঁর পুত্র শাইখ ইবরাহিম তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।

 

তাঁর রচনাবলি ও কর্মসমূহ:

তাঁর সংকলিত গ্রন্থটি 'মাজমু আল-মানকুর' নামে প্রসিদ্ধ, যা 'আল-ফাওয়ায়েদ ওয়াল মাসাইল আল-মুফিদাহ' নামে মুদ্রিত হয়েছে। যে কেউ এই মজমুটি পাঠ করলে জীবনীকার কত বিপুল সংখ্যক কিতাব, সংকলন, রিসালাহ ও মাসআলা অধ্যয়ন করেছেন তা দেখে বিস্মিত হবেন।

হজের বিষয়ে একটি চমৎকার মানাসিক (নির্দেশিকা), যা জুহাইর আশ-শাউইশ-এর আল-মাকতাব আল-ইসলামি প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

নজদের ইতিহাস সম্পর্কিত একটি ছোট গ্রন্থ, যার অধিকাংশ তথ্যই লেখকের নিজ অঞ্চল সুদাইর কেন্দ্রিক স্থানীয় সংবাদ। এর তথ্যগুলো সংক্ষিপ্ত নির্দেশনামূলক। তিনি এতে ৯৪৮ হিজরি থেকে শুরু করে তাঁর মৃত্যুর বছর ১১২৫ হিজরি পর্যন্ত ঘটনাবলি উল্লেখ করেছেন। এটি ডক্টর আব্দুল আজিজ আল-খুওয়াইতির সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন।

ইবনে হুমাইদ বলেন: (অসংখ্য ফিকহি মাসআলার ব্যাপারে তাঁর অত্যন্ত সঠিক ও শক্তিশালী উত্তরসমূহ রয়েছে)।

 

তাঁর একটি বিশাল লাইব্রেরি ছিল, যার অধিকাংশ বই-ই ছিল তাঁর নিজ হাতে লেখা।

মৃত্যু:

তিনি ১১২৫ হিজরির ৬ই জুমাদাল উলা মাসে তাঁর নিজ শহর (হাওতাতু সুদাইর)-এ মৃত্যুবরণ করেন। সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তাঁর নিজ দেশে তাঁর বংশধর বিদ্যমান রয়েছে এবং তাঁর সন্তানদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন শাইখ ইবরাহিম।

-------

সদস্য আব্দুল্লাহ আল-খামিসের সৌজন্যে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌أحمد شحاته الألفى

 

اسمه:أحمد شحاته الألفى السكندرى.

كنيته ولقبه: أبو محمد الألفى.

مولده: ولد عام (1951) .تقريبا بمدينة الأسكندرية.

نشأته: نشأ محبا للعلم وقد تأثر فى نشأته بدعاة جماعة أنصار السنة المحمدية ودعوتهم الى التوحيد ومحاربة البدع ، والحث على لزوم السنة.

شيوخه:

الشيخ العلامة محمد نجيب المطيعى أحذ عنه الفقه والحديث ، وحفظ القرأن على الشيخ ضيف أحد شيوخ جماعة أنصار السنة المحمدية..

 

منهجه فى الدعوة:

يرى الشيخ أن دعوتنا يجب أن تكون عامة لكل أهل التوحيد ممن يدخلون فى دائرة العذر، وفى هذا ينكر الشيخ على بعض الدعاة ممن لديهم خصوصية فى العمل الجماعى أدت بهم للدخول فى اطار الحزبية الممقوتة.ودعوته موافقة للكبار ابن باز وابن عثيمين والألبانى. (كتاب

وسنة بفهم سلف الأمة) .

 

دروسه:

يقوم الشيخ بتدريس كتب السنة وشروحاتها بالأضافة الى أبحاثه القيمة وقد درسنا معه الكثير منها وهو الأن يشرح فى جامع الترمذى يوم الثلاثاء بعد العصر بمسجد البخارى.

*مذهبه الشيخ شافعى المذهب فبما يوافق الدليل وينهى أشد النهى

عن التقليد وقوله قول الأئمة (اذا صح الحديث فهو مذهبى) .

 

مصنفاته:

له مولفات كثيرةتبلغ قرابة الأربعين مولفا"،معظمها لم ينشر بعد ويمكن

مطالعة بعضها على موقع الشيخ.http://www.shehata.netfirms.com

وأزف لكم بشرى فان (دار الهوارى بالأسكندرية) . سوف تبدأ فى طبع

كتب الشيخ وأولها كتاب (طوق الحمامة فى التدواى بالحجامة) .

 

صلته بأهل العلم:

للشيخ مراسلات مع الكثير من أهل العلم منهم الشيخ على حشيش والشيخ أبو أسحاق الحوينى وغيرهم.

 

تلاميذه:

للشيخ تلاميذ كيثيرون منتشرون فى الأسكندريةممن استفادوا من

دروسه وخطبه، أما أبرز من يواظبون على حضور دروسه فيما أعرف:

*أبو عبد الرحمن محمد مصطفى السكندرى.نزيل الشارقة، صاحب كتاب

(زوائد الدب الفرد على الصحيحين) .

* الأخ/ناصر عبد اللطيف.

*الأخ /نزيه الشيراوى.

* الأخ/فكرى زين العابدين.

*الأخ/ أبوالأشبال ناصر الهوارى السكندرى.

 

*عنوان الشيخ:

الأسكندرية-العصافرة قبلى -خلف مدينة فيصل -مسجد الأمام البخارى.

*التليفون: (5378883-00203) .

وكتبه تلميذه المحب/ (أبوالأشبال السكندرى) ..

 

http://www.ahlalhdeeth.com/vb/showt … &threadid=18227

---------

بواسطة العضو عبد الله الخميس
আহমদ শিহাতা আল-আলফি

 

নাম: আহমদ শিহাতা আল-আলফি আল-ইস্কান্দারি।

উপনাম ও লকব: আবু মুহাম্মাদ আল-আলফি।

জন্ম: তিনি আনুমানিক ১৯৫১ সালে আলেকজান্দ্রিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন।

বেড়ে ওঠা: তিনি ইলমের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে বেড়ে ওঠেন। তাঁর বেড়ে ওঠায় জামায়াতে আনসারুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়াহর দাঈদের প্রভাব ছিল এবং তাওহীদের প্রতি তাঁদের দাওয়াত, বিদআতের বিরুদ্ধে লড়াই এবং সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার প্রতি তাঁদের উদ্দীপনার প্রভাব ছিল।

শিক্ষকবৃন্দ:

শায়খ আল্লামা মুহাম্মাদ নাজীব আল-মুতিয়ি, যাঁর নিকট থেকে তিনি ফিকহ ও হাদীস গ্রহণ করেছেন। তিনি জামায়াতে আনসারুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়াহর অন্যতম শায়খ, শায়খ দইফ-এর নিকট কুরআন হিফজ করেছেন।

 

দাওয়াহ পদ্ধতি:

শায়খ মনে করেন যে, আমাদের দাওয়াত তাওহীদপন্থী সেই সকল মানুষের জন্য সাধারণ হওয়া উচিত যারা ওজরের (অপারগতার) গণ্ডির অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে শায়খ সেই সব দাঈদের সমালোচনা করেন যাদের দলগত কাজে এমন বিশেষত্ব রয়েছে যা তাদেরকে নিন্দনীয় দলাদলি বা হিজবিয়্যাতের গণ্ডিতে নিয়ে গেছে। তাঁর দাওয়াত বড় বড় আলেম যেমন ইবন বাজ, ইবন উসাইমীন এবং আলবানীর দাওয়াতের সাথে সংগতিপূর্ণ। (উম্মাহর সালাফদের বুঝ অনুযায়ী কিতাব ও সুন্নাহ)।

 

দরসসমূহ:

শায়খ সুন্নাহর কিতাবসমূহ এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা পাঠদান করেন, পাশাপাশি তাঁর মূল্যবান গবেষণাগুলোও পড়ান। আমরা তাঁর সাথে এর অনেকগুলোই অধ্যয়ন করেছি। তিনি বর্তমানে প্রতি মঙ্গলবার আসরের পর বুখারী মসজিদে জামে তিরমিযীর ব্যাখ্যা প্রদান করছেন।

*মাযহাব: শায়খ দলীল অনুযায়ী শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী। তিনি অন্ধ তাকলীদ থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেন এবং তাঁর বক্তব্য হলো ইমামদের সেই বাণী: (যদি হাদীস সহীহ হয় তবে সেটিই আমার মাযহাব)।

 

রচনাবলি:

তাঁর প্রায় চল্লিশটির মতো গ্রন্থ রয়েছে, যার অধিকাংশ এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাঁর কিছু লেখা শায়খের ওয়েবসাইটে দেখা যেতে পারে: http://www.shehata.netfirms.com। আপনাদের জন্য একটি সুসংবাদ হলো যে, (আলেকজান্দ্রিয়ার দারুল হাওয়ারী) শায়খের বইগুলো ছাপানো শুরু করবে এবং তার প্রথমটি হলো (তাকুল হামামা ফিত তাদাউয়ি বিল হিজামা) নামক গ্রন্থ।

 

আলেমদের সাথে সম্পর্ক:

অনেক আলেমের সাথে শায়খের পত্রালাপ রয়েছে, তাঁদের মধ্যে শায়খ আলী হাশীশ, শায়খ আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী এবং অন্যান্যরা রয়েছেন।

 

ছাত্রবৃন্দ:

আলেকজান্দ্রিয়ায় শায়খের অনেক ছাত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন যারা তাঁর দরস ও খুতবা থেকে উপকৃত হয়েছেন। আমার জানামতে যারা নিয়মিত তাঁর দরসে উপস্থিত থাকেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

*আবু আবদুর রহমান মুহাম্মাদ মুস্তফা আল-ইস্কান্দারি, শারজাহর অধিবাসী, (যাওয়ায়েদুল আদাবুল মুফরাদ আলাস সহীহাইন) গ্রন্থের লেখক।

* ভাই/ নাসির আবদুল লতিফ।

* ভাই/ নাযীহ আশ-শিরাউয়ি।

* ভাই/ ফিকরী যয়নুল আবেদীন।

* ভাই/ আবুল আশবাল নাসির আল-হাওয়ারী আল-ইস্কান্দারি।

 

*শায়খের ঠিকানা:

আলেকজান্দ্রিয়া - আসাফিরা কিবলি - ফয়সাল সিটির পেছনে - ইমাম বুখারী মসজিদ।

*টেলিফোন: (০০২০৩-৫৩৭৮৮৮৩)।

এটি লিখেছেন তাঁর প্রিয় ছাত্র/ (আবুল আশবাল আল-ইস্কান্দারি)।

 

http://www.ahlalhdeeth.com/vb/showt … &threadid=18227

---------

সদস্য আবদুল্লাহ আল-খামীস-এর মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌أحمد فهمي أبو سنة

هذه رحلتي وهذا عطائي.. سيرتي بقلمي

14/10/2003

بقلم الشيخ/ أحمد فهمي أبو سنة

أبو سنة بعد أن حصل على أول دكتوراة من الأزهر

اسمي أحمد فهمي أبو سنة ولدت في محافظة الجيزة مركز الصف سنة 1909، حفظت القرآن الكريم على يد جدي الشيخ محمود خليفة أبو سنة رحمه الله، وتلقيت عليه من القرآن الكريم بعض الكتب الصغيرة في علمي التجويد والنحو، وكان للكتاتيب على أيامنا دور بارز في نشر كتاب الله تعالى.

في رحاب الأزهر الشريف

ولما جاوزت السنة 11 من عمري التحقت بالأزهر سنة 1921 وقطعت مرحلتيه الابتدائية والثانوية في القاهرة، وتلقيت فيهما العلم على يد كثير من كبار علماء الأزهر في ذلك الوقت مثل الشيخ يوسف حجازي في الفقه، والشيخ عبد الرءوف الرفاعي في النحو، والشيخ محمد المدلل، وغيرهم الكثير.

وأذكر أنه قد ألغيت الدراسة الأزهرية وأنا في السنة الأولى من القسم الابتدائي؛ بسبب قيام المظاهرات ضد الاحتلال الإنجليزي، واشتراك طلاب الأزهر فيها، وبطبيعة الحال لم يحصلوا علما فتعطلت الدراسة وألغيت الامتحانات، ثم عادت الدراسة مرة أخرى في العام التالي 1922/ 1923.

وأذكر من زملائي في تلك الفترة على سبيل المثال الدكتور حسن عون الأستاذ بجامعة القاهرة قسم الدراسات العربية والحاصل على الدكتوراة من فرنسا، والأستاذ محمود الأزرق الذي عمل بالقضاء الشرعي بعد ذلك والشيخ شغبون، وغيرهم الكثير.

أما عن نظام الدراسة في هذين القسمين فقد كانت محببة للجميع، وكنت مع دراستي أحب الاطلاع على الكتب، ولا سيما كتب الفقه والأدب.

ومع بداية التعليم الثانوي سنة 26/ 1927 نشأ على عهدنا منهج في الأزهر متطور جمع فيه بين علوم الأزهر المتعارفة القائمة على المتون والشروح وبين العلوم الحديثة كالطبيعة والكيمياء والرياضيات والجغرافيا والتاريخ، فكان الطالب يدرس دراسة مزدوجة في عهد مشيخة الشيخ محمد أبو الفضل الجيزاوي، ثم أدركنا مشيخة الشيخ محمد مصطفى المراغي الأولى سنة 1928، ثم مشيخة الشيخ الأحمدي الظواهري سنة 1929، وكان ذلك في آخر القسم الثانوي.

في التعليم العالي

أبو سنة عضو في لجنة المناقشة لرسالة علمية بالأزهر

 

ثم انتقلنا إلى السنة الأولى من القسم العالي في سنة 1931، وهي ذات الدراسة على النظام القديم حضرناها في الجامع الأزهر على يد كثير من العلماء أمثال الشيخ أحمد عبد السلام في الفقه والشيخ حامد جاد في التفسير، وغيرهما.

وفي هذا الوقت بدأت كلية الآداب بجامعة القاهرة تفتح أبوابها لطلاب الأزهر ودار العلوم، وكنت من الذين تاقت أنفسهم للتعرف على التعليم الجامعي، فجمعت بين النظامين الأزهري والجامعي، وكنت أتلقى العلم هنا وهناك ساعدني في ذلك تشجيع الأساتذة لي في كلية الآداب الذين درست على أيديهم أمثال الدكتور أمين الخولي في الحديث، والدكتور أحمد أمين في قاعة البحث، والدكتور إبراهيم مصطفى في النحو، والدكتور أحمد الشايب في الأدب.

وكان ذلك على عهد طه حسين الذي فتح باب الالتحاق بكلية الآداب وشجع عليه الطلاب وبخاصة طلاب الأزهر ودار العلوم.

وما هي إلا شهور معدودة وقد أوشك العام الدراسي على الانتهاء وعلم والدي رحمه الله وكان من أقران أساتذتي في كلية الآداب برغبتي في المضي في التعليم الجامعي على حساب دراستي في الأزهر، فأقنعني وأقنع أساتذتي -لمعرفته بهم باعتبار أن أغلبهم من دار العلوم أو القضاء الشرعي- بعودتي للأزهر والتفرغ للدراسة الشرعية فيه وحده، فأكرمني الله بسبب بُعد نظر والدي رحمه الله.

وبعد نجاحي في السنة الأولى من القسم العالي وبداية السنة الثانية منه افتتحت الكليات الأزهرية النظامية وهي الشريعة وأصول الدين واللغة العربية في عهد مشيخة الشيخ محمد الأحمدي الظواهري.

وبعد اطلاعي على مناهج الكليات الثلاث السابقة اخترت الالتحاق بكلية الشريعة فكان الطالب الذي أمضى سنة بالقسم العالي من أمثالي يلتحق بالسنة الثانية بكلية الشريعة مباشرة، بخلاف الطلاب الحاصلين على الثانوية الأزهرية فإنهم عند التحاقهم بالكلية يدخلون السنة الأولى كطلاب جدد على الدراسة الجامعية.

ولذلك كانت الدراسة بالنسبة لنا شاقة فقد وزع علينا منهج الكلية على مدى ثلاث سنوات بدلا من أربع، أما عن أساتذتي في هذه المرحلة فهم على سبيل المثال الشيخ حسن البيومي، والشيخ يوسف المرصفي، والشيخ محمد عبد الفتاح العناني، أولئك الذين درسوا لي علم الأصول، والشيخ محمد عرفة في التفسير، والشيخ عبد الرحمن تاج شيخ الجامع الأزهر بعد ذلك.

وأذكر أنني قطعت سنوات الكلية بجد وحزم حتى تخرجت ونلت الشهادة العليا منها، والحق يقال إن الذي وضع نظام الإصلاح بالأزهر وإنشاء الكليات هو الشيخ المراغي، ولكن الذي نفذ هذا الإصلاح هو الشيخ الأحمدي الظواهري، ثم عاد الشيخ المراغي في سنة 1936 وواصل إصلاحه للأزهر وتخرج على عهده أول فوج من طلاب الدراسات العليا قسم الأساتذة.

أول دكتوراة في الأزهر

وفي سنة 1935 التحقت بالدراسات العليا بالكلية وكانت مدتها طويلة وبلا مكآفات تشجيعية في هذه المدة، فلما جاء الشيخ المراغي قرر منح طلاب هذا القسم مكآفات أعانتهم على الاستمرار فيه.

وفي سنة 1940 نجحت في الدراسات العليا وحصلت على الشهادة العالمية من درجة أستاذ دكتوراة كمتخصص في الفقه والأصول وتاريخ التشريع، وكان نظام التخصص على عهدنا قسمين:

(أ) القسم الأول:

1 - تخصص للحصول على العالمية مع إجازة التدريس، وكانت مدته سنتين يعمل بها صاحبها مدرسا في المعاهد الأزهرية.

2 - تخصص للحصول على العالمية مع إجازة القضاء بعدها، وصاحبها يكون قاضيا في المحاكم الشرعية.

(ب) أما القسم الثاني من التخصص فهو تخصص المادة للحصول على العالمية من درجة أستاذ، وكانت مدته ست سنوات متواصلة ينتقى طلابه من الأوائل؛ ليعملوا فور تخرجهم ونجاحهم مدرسين في الكلية نفسها.

وكان موضوع رسالتي العرف في رأي الفقهاء والأصوليين، وأذكر أنها كانت أول رسالة قدمت على هذا النظام الجديد، فقد كنت أول من نوقش في القسم على النظام الجديد للحصول على الدكتوراة، وهذه الأولية هي أولية زمانية بمعنى كوني الأول في القسم الذي نوقشت رسالته؛ لأن اسمي يبدأ بالهمزة والهمزة أول حروف العربية.

كان معي في الدراسات العليا من الزملاء الشيخ محمد أبو النور زهير، الشيخ أحمد ندا، والشيخ طه العربي، والشيخ سيد جهلان.

وعن نظام امتحان العالمية من درجة أستاذ "الدكتوراة" فكان يتكون من مرحلتين على الطالب أن يجتازها بنجاح وكانت المرحلة الأولى عبارة عن:

- إلقاء محاضرة عامة

- مناقشة في مسألة علمية؛ يسمى الامتحان فيها بالامتحان في التعيين

- امتحان تحريري

وكانت اللجنة المؤلفة لتقييم المحاضرة والتعيين مؤلفة من سبعة أشخاص برئاسة الشيخ المراغي وعضوية الشيخ عبد المجيد سليم مفتي مصر والشيخ إبراهيم الجبالي والشيخ أحمد أبو النصر والشيخ محمد عبد الفتاح العناني والشيخ عيسى منون والشيخ محمود أبو دقيقة رحمهم الله جميعا، فإذا اجتاز الطالب هذا الامتحان بنجاح يتأهب بعد ذلك للمرحلة الثانية وهي إعداد رسالته تمهيدا لمناقشتها وتقييمها بعد كتابتها عن طريق لجنة أخرى وهي اللجنة الخماسية وكانت مؤلفة من الشيخ المراغي رئيسا وعضوية الشيخ عبد المجيد سليم والشيخ الفقيه الحقوقي أحمد إبراهيم والشيخ محمود شلتوت شيخ الأزهر بعد ذلك والشيخ يوسف المرصفي، وكانت رسالتي للدكتوراة أول مناقشة علنية في ظل نظام الشيخ المراغي الذي ظل معمولا به حتى 1961، وقد دعا الشيخ المراغي إلى هذا الامتحان كبار الشخصيات وعلية القوم من أمثال لطفي السيد باشا وغيره.

أما عن مكان مناقشة الرسالة فهو نفس مبنى كلية الشريعة القديم قبل إنشاء المبنى الجديد بالدراسة وهذا المبنى القديم في الأصل كان مدرسة للقضاء الشرعي قبل إلغائها وقيام كلية الشريعة مكانها، وهذا المبنى يعرف الآن بمعهد البرموني الأزهري.

وقد اكتظ المبنى بالحاضرين من الضيوف والطلاب يوم المناقشة واستحال تنظيم الجلسة حتى خشي المنظمون لها من تصدع المبنى، فقال الشيخ المراغي رحمه الله بالحرف الواحد كما رأيت في مجلة "الاثنين والدنيا": لولا أن يقال عن مشيخة الأزهر إنها لم تستطع ضبط النظام في امتحان عقد لأحد أبنائها لفض هذا الاجتماع وانتهت المناقشة بحصولي على لقب العالمية من درجة أستاذ في الفقه وأصوله وتاريخ التشريع، وللعلم ظل هذا اللقب معمولا به في الأزهر لمدة ثلاثين عاما حتى تغير إلى لقب الدكتوراة والذي ظهر في عام 1965.

التدريس بالجامعات العربية

وفي سنة 1941 عينت مدرسا في كلية الشريعة فأستاذا مساعدا فأستاذا، وظللت بها حتى سنة 1974، وهو سن الإحالة للمعاش غير أنه ابتداء من سنة 1960 كثرت إعاراتي إلى الجامعات العربية مثل دمشق سنة 60/1961، وجامعة ليبيا بكلية الحقوق سنة 1962، وجامعة بغداد سنة 1967، وأخيرا جامعة الملك بن عبد العزيز أم القرى الآن سنة 1972، وما زلت بها أستاذا للدراسات الشرعية حتى الآن وأحضر لمصر في الإجازات الصيفية.

ومنذ تخرجي وعلى مدى 50 عاما تقريبا، وأنا معني بالدراسات الشرعية المختلفة بما في ذلك تخصصي في الفقه وأصوله وتاريخ التشريع، مثل السياسة التشريعية والاقتصاد الإسلامي ومقاصد الشريعة ومصطلح الحديث والتفسير، وأخيرا التصوف الذي اضطررت إلى تدريسه في الجامعة الليبية بسبب تغيب أستاذ المادة الدكتور عمر الشيباني، وكان ذلك أثناء فترة تدريسي بالجامعة الليبية.

بين مجمع البحوث الإسلامية ورابطة العالم الإسلامي

وفي مشيخة الشيخ بيصار وبالتحديد في سنة 1980 عُينت عضوا في مجمع البحوث الإسلامية أثناء إعارتي لجامعة أم القرى بمكة، وبرغم إعاراتي لكثير من الجامعات العربية فقد حضرت العديد من جلسات المجمع، خاصة ما ينعقد منها في الإجازات الصيفية.

ومن مظاهر التكريم التي حظيت بها طوال فترة حياتي أنني حصلت على وسام العلوم والفنون من الطبقة الأولى في العيد الألفي للأزهر الشريف سنة 1983، وفي نفس الوقت عُينت عضوا بمجمع الفقه التابع لرابطة العالم الإسلامي، حيث نجيب عن الفتاوى التي تعرض علينا في مؤتمرات مجمع الرابطة في صورة قرارات.

وهذه المجامع مثل مجمع البحوث ومجامع الفقه الإسلامي الأخرى يجب أن تظل قائمة وأن يعظم نشاطها في بيان شرع الله وإصدار الفتاوى العلمية الصحيحة فيما يحتاج إليه الناس وفيما يختلف فيه الكاتبون في الصحف، فإن الناس لا يطمئنون إلا إلى أمثال المجامع وعلى رأسها مجمع البحوث في الأزهر حتى نمنع أي مفتئت على الشريعة بغير علم، وبذكر أحكام في الصحف ما أنزل الله بها من سلطان، وها نحن الآن نسمع في الربا أفكارا غريبة ينسبها الناشرون إلى الشريعة بتعليلات واهية ولا تستند إلى الحق في شيء والذي ينبغي أن يسأل فيه أهل الذكر وهم القائمون بهذه المجامع حتى يطمئن الناس على دينهم ومعاملاتهم.

أما عن نشاطي في مجمع البحوث الإسلامية فأذكر أنه في مرة استفتاني المجمع وأنا بالسعودية في حكم شهادات الاستثمار فقلت بحرمة المجموعة (أ، ب) منها معللا ذلك بالأدلة والأحكام في حينها أما المجموعة (ج) منها فذكرت رأيي وهو أن فيها شبهة ربا؛ لأنها ليست نوعا من المضاربة، فالذي يدفع للبنك ليس من أجل المساهمة في مشاريع الدولة، وإنما من أجل الكسب، فالدافع إنما يدفع انتظارا ليوم السحب فإن ظهر اسمه بين الفائزين نال الجائزة وإلا فلا، فهذا المال الذي يأخذ وقت السحب عند فوزه يأخذه مقابل ماذا؟! ولهذا ليست شهادات استثمار المجموعة (ج) ربا صريحا. وإنما فيها شبهة الربا بناء على ذلك.

وفي مؤتمر الاقتصاد الإسلامي بمكة المكرمة المنعقد سنة 1976 عرضت علينا مسألة التأمين التجاري على الحياة فرفضناه كما رفضناه في الستينيات؛ لأنه باطل لما فيه من ربا وغرر وقمار، وإن كنا قد أجرينا بديلا عنه التأمين التعاوني القائم على إيداع مجموعة من الأفراد مقدارا معينا من المال لخدمة الأعضاء من علاج وإعانة، وما إلى ذلك من أنشطة للأعضاء بشرط أن ما يتبقى في الصندوق عند نهاية العام لا يرد ويجوز أن يستثمر عن طريق المضاربة والشركات ذات الربح الحلال، ثم يوزع الربح على المودعين كل بمقدار نسبة مساهمته في المشروع.

الجهود العلمية ومنهجه فيها:

مؤلفات وبحوث

ومن أهم المؤلفات والبحوث التي نشرت لي:

1- كتاب العرف في رأي الفقهاء والأصوليين وهي رسالتي للدكتوراة.

2-كتاب الوسيط في أصول الفقه.

3-كتاب نظرية الحق في الفقه الإسلامي.

4-بحث حقوق المرأة السياسية في الإسلام.

وهنا كتب تحت الطبع من أهمها:

5 - نظرية العقد في الفقه الإسلامي.

6 - عقد الزواج.

7 - مقاصد الشريعة.

8 - الاقتصاد الإسلامي.

9 - محاضرات في أصول الفقه.

10 - نظرية العقد ونظرية الملك ونظرية الضمان.

11- فضلا عن إلقاء المحاضرات وحضور الندوات المختلفة في الفقه والاقتصاد الإسلامي منها محاضرة ألقيتها في جمعية الشبان المسلمين في سنة 1955/ 1956 بعنوان "حقوق المرأة في الإسلام"، وكانت ردا على دعاوى القائلين وقتها بأحقية المرأة في الحكم والقضاء، ولكن ما وصلت إليه من البحث والاطلاع بين لي أن المرأة لا تصلح للولايات العامة مثل الخلافة كرئيس أعلى للدولة أو القضاء كقاضية، وإن كانت تصلح للولايات الخاصة وعلى أثر ذلك استفتي الأزهر.

12- تحرير بحوث ومقالات بمجلة الأزهر ومجلة رابطة العالم الإسلامي ومن بينها على سبيل المثال بحث في "الإشهار في العقود" وآخر باسم "حماية الفقه الإسلامي".

13- أحاديث إذاعية بغرض التعريف بالإسلام على هيئة فتوى فقهية بدأت في إذاعة بغداد أثناء إعارتي لجامعة بغداد سنة 1968.

أما عن منهجي في بحوثي وكتبي فيقوم على الأدلة الشرعية الصحيحة من كتاب الله تعالى القرآن الكريم وسنة الرسول المصطفى صلى الله عليه وسلم وإجماع علماء المسلمين والقياس والمصالح المرسلة وأن يدون الفقه بأسلوب القواعد والنظريات.

جبهة علماء الأزهر والشيخ أبو زهرة

أما معرفتي بالشيخ أبي زهرة فقد تعرفت عليه حينما دعاني للاشتراك معه في إصدار موسوعة السنة، وكان ذلك في الخمسينيات حوالي سنة 56/1957، ثم تقابلنا معا بعد ذلك في جبهة علماء الأزهر وهي هيئة من كبار علماء الشريعة بمصر عددهم ما بين عشرين إلى ثلاثين عالما، وقد تكونت بغرض الدفاع عن الدين وما يصدر عن العامة من الشبه والانحرافات التي تنشر أو تفعل اعتداء على الشريعة، وكان مقر هذه الهيئة أحد المساجد الموجودة بشارع نوبار بالقاهرة. والواقع أن الشيخ أبا زهرة كانت ميزته التي تبرزه عن أقرانه هي كثرة مؤلفاته، فما من موضوع يمت إلى الشريعة ويشغل الناس إلا وكتب فيه كتابا مثل كتاب "العلاقات الدولية في الإسلام" و"التكامل الاجتماعي في الإسلام"، وكتب في الأعلام من الفقهاء وغير ذلك.

والحق أن كتاباته جيدة وبخاصة الكتب التي درسها في الجامعة مثل كتبه عن الأئمة الأعلام، فالشيخ أبو زهرة ما قصر في حياته فقد صرف أيامه في الدفاع عن الشريعة. وأذكر قوله لي: "مما من الله علي أني كنت خاملا فرفعني طلب العلم" رحمه الله تلك كانت عبارته. وكان وهو يستقل القطار لإلقاء المحاضرات في جامعة الإسكندرية وغيرها من الجامعات يقطع وقته في الاطلاع؛ لذا أثرى المكتبة الإسلامية. أضف على هذا شجاعته في الحق فكان لا يخاف فيه لومة لائم، فقد اعترض على الربا، ورفض التأمين التجاري على الحياة أعلن رأيه صراحة وكنا في مؤتمر الفقه الإسلامي الذي انعقد في دمشق إبان الوحدة بين مصر وسوريا، وقد حضرت المؤتمر مندوبا عن الأزهر، وحضر الشيخ أبو زهرة مندوبا عن الجامعة المصرية وكان مقرر المؤتمر الشيخ علي الخفيف وأراد الشيخ الخفيف والدكتور مصطفى الزرقا جواز إباحة التأمين على الحياة فاعترضت مع الشيخ أبي زهرة على ذلك معتمدين على بيان الأدلة الشرعية في ذلك فرفض المؤتمر إجازته.

الرسائل الجامعية

بدأت التدريس في الدراسات العليا في الستينيات وبخاصة لطلاب الجزء الأول منها وهو الدراسة المنهجية للفقه وأصوله من الناحية النظرية تمهيدا لإعداد الطالب للجزء الثاني والأخير وهو تحضير الرسالة ومناقشتها، ثم شاركت وأشرفت على كثير من الرسائل العلمية أذكر منها رسالة بعنوان "الرخصة والعزيمة"، وكانت في آخر الستينيات وأخرى بعنوان "طرق القضاء" سنة 1974، ورسالة "فقه عمر" و"مقاصد الشريعة"، و"دلالة السكوت" لطالبة سعودية، و"رفع الحرج" سنة 1986 و"نظرية الخطأ"، و"تطور النقود في الإسلام"، و"السياسة المالية في الاقتصاد الإسلامي" وأخرى حول "العمل في الإسلام".

وهناك رسائل أخرى للدكتوراة قيد المناقشة منها "الحقوق المقدمة عند التزاحم" للطالبة السعودية شادية الكحكي، و"الأجل في عقد البيع" للطالب التركي عبد الله أوزجان و"الآثار الإسلامية للوقف" للطالب الكويتي عبد الله السميط

مواقف وذكريات لا تنسى

من الذكريات التي لا تنسى مشاهد الحج لبيت الله الحرام وكانت بالنسبة لي في سنة 1949، كنت وقتها مدرسا في كلية الشريعة بالقاهرة وذهبت مع بعثة الأزهر للسعودية لأداء مناسك الحج لأول مرة، ولا أستطيع أن أصف أو أعلل لك مدى فرحي وسروري وبهجتي وقتها.

الموقف الثاني يوم تعييني مدرسا في كلية الشريعة التي مكنني فيها الله سبحانه وتعالى أن أفضي على طلابي بكل ما حذقت من العلم وما منحني الله من مواهب تساعد على ذلك، فما بخلت على طلابي بشيء أشعر أنه ينفعهم.

وعن أعز أمنية لي وليس لي في الحياة بعدها حاجة هي إخراج كتبي التي كتبتها وهي قيد الطبع الآن، أما أمنيتي العامة هي أن يعود الأزهر إلى عهده الأول من إنهاضه للعلوم الإسلامية وترقية الناحيتين الدينية والعلمية وفي أذهان طلابه؛ حتى يكونوا مؤهلين لنشر دعوة الإسلام في الداخل الخارج.

اقرأ في الموضوع:

بين العلم والحياة.. سيرة موجزة لعالم

--------------------------------------------------------------------------------

 

*المقال أملاه العلامة الراحل في سنواته الأخيرة بمنزله في ضاحية حلوان بجنوب القاهرة على الأستاذ ناصر محمود وهدان، وقد سبق نشره بمجلة الأزهر الشريف، والعنوان من قلم التحرير

http://www.islamonline.net/Arabic/f … rticle03a.shtml

 

أحمد فهمي أبو سنة.. شيخ الأصوليين

 

بين العلم والحياة.. سيرة موجزة لعالم

 

14/10/2003

 

وفاء سعداوي

 

الشيخ فهمي أبوسنة

هل كتب علينا ألا يغادرنا سرا ومن دون كلمة وداع إلا من كانوا يستحقون منا كل احتفاء وتكريم وأن تلهج الألسنة بذكرهم تقديرا ووفاء؟ وهل صار الرحيل في صمت وتعتيم هو دأب الأعلام والعلماء فصاروا إذا غابوا لم يُفتقدوا بعد أن حضروا ولم يُذكروا؟!

أخشى أن تكون الإجابة نعم، وبكل أسف!

فقد مضى ما يقرب من الشهر ولم نقرأ أو نسمع نبأ رحيل العلامة الأزهري وشيخ الأصوليين الدكتور أحمد فهمي أبو سنة أستاذ أصول الفقه بجامعتي الأزهر الشريف وأم القرى الذي وافاه الأجل ليلة السبت (23 رجب 1424 هـ-= 20 سبتمبر 2003م) ، والذي كان آخر حبة في عقد من العلماء المجددين العاملين من أبناء جيله (ولد 1909م) ، فقد أمضى حياته كلها عالما ومعلما فنفع الله به كثيرا، وتخرجت عليه أجيال حملت لواء العلم والدعوة في بلده مصر وفي الجزيرة العربية والعراق وبلاد الشام والمغرب العربي وتركيا وكثير من أنحاء العالم الإسلامي.

الكتاب الأعظم في بابه

ولا يذكر شيخنا العلامة رحمه الله إلا ويذكر معه كتابه العظيم وهو أول كتبه "العرف والعادة في رأي الفقهاء والأصوليين" الذي وضعه قبل أكثر من 60 عاما وحصل به على أول دكتوراة من الأزهر الشريف (نوقشت في 20-1-1941) وهي شهادة العالمية من درجة أستاذ والتي أصبح لقبها الدكتوراة بدءا من عام 1961، فقد كان رائدا في بابه ومرجعا لكل ما كتب عن العرف والعادة في الفقه فيما بعد.

وإذا كان ذلك الكتاب قد أدخل إلى باب تنزيل الأصول على الجزئيات فإن كتابه "الوسيط في أصول الفقه" يسهم في تقريب تلك الأصول ذاتها، فقد لمس الشيخ الجليل الصعوبة التي يجدها كثير من طلبة العلم الشرعي في فهم كتب التراث الأصولي لدقة عباراتها وصرامة منهجها من جهة، وللضعف العام الذي لحق الطالب لظروف وملابسات كثيرة لا مجال للخوض فيها هنا، من جهة أخرى. فأراد الشيخ أن يقرب عبارة أصل من أصول كتب السادة الأحناف وهو "كتاب التوضيح في حل غوامض التنقيح" للشيخ الإمام صدر الشريعة "الحفيد" ت 747هـ- الذي وضح به كتابه "التنقيح" الذي نقح فيه أصول فخر الإسلام البزدوي فاختار الشيخ أبو سنة القسم الثاني منه وكان يقوم بتدريسه لطلبته بالسنة الثانية بكلية الشريعة عام 1955 فقرب صعبه وأوضح مشكله واستدرك وزاد عليه وخالفه ووافقه؛ فجاءت عبارته سهلة واضحة ومبينة وساعده على ذلك أنه كان رحمه الله يجمع منذ حداثته بين علوم الشريعة وعلوم الأدب واللغة فأفاد وأجاد، فجاء كتابه وسيطا بين الطلبة وبين علم باذخ حجبت أكثرهم منه صوارف العجز عن مواصلته وتفهمه.

ولأن طبعة هذا الكتاب الوسيط في أصول الحنفية الأولى كانت قد صدرت قبل 45 عاما ونفدت منذ زمن طويل فقد أعاد تلميذه د. محمد سالم أبو عاصي الأستاذ بكلية أصول الدين بالأزهر إخراجه على صورته الأولى ليملأ مكانا شاغرا في الدراسات الأصولية، ويبل غلة أهل العلم وتشوقهم إلى مطالعته.

تيسير الأصول لمن أراد الوصول

وقد كان للشيخ أبو سنة رؤية في إصلاح الأزهر، من ركائزها أهمية تيسير علوم الدين للطلاب، وذلك بإعادة كتابتها بأسلوب جامع بين السهولة والتهذيب والتحقيق العلمي الكامل مع المحافظة على التراث الأول. وبهذه الروح كتب شيخنا بحوثه في أصول الفقه مقربا البعيد من أساليب الأوائل ومصفيا الرحيق من شهد الأكابر؛ لتكون لبنة من بناء النهضة الحديثة بالأزهر الشريف الذي وضع أساسها الشيخ مصطفى المراغي والشيخ الأحمدي الظواهري.

وقد عرف عن الشيخ الجليل أبو سنة ولعه بكل ما يتعلق بالأصول علما وثقافة ومعايشة، حتى إنه من فرط حبه وإجلاله للإمام الفحل علم الأصوليين الكمال ابن همام، كان يَعُده صديقا شخصيا له فكان لا يذكره إلا ويقول: صديقي ابن الهمام، وكان عظيم الاهتمام بكتابيه "المسايرة" في العقائد و"التحرير" في الأصول، فنراه في هذه المحاضرات يتأثر بطريقة "صديقه" الكمال في كتابة الأصول، ورغم أنه كان حنفي المذهب أبا عن جد معتزا بذلك فإنه في كتابته الأصولية كان يجمع بين طريقة كل من الأحناف والجمهور، ويرجح ما يراه راجحا في ميزان التحقيق من غير نظر إلى موافقته أو مخالفته مذهبه، فقد كان معروفا بحبه للبحث والنظر، وتقليب وجوه الرأي، ورفضه التقليد والاتباع غير المستبصر لأقوال السابقين.

وهذا المنهج الذي سلكه شيخنا في كتبه ومحاضراته حصل له بعد زمن طويل قضاه في ممارسة علوم الشريعة واللغة فقد كان والده قاضيا شرعيا ببلدته الصف وشاعرا ورئيسا للبعثة التي كانت تخرج من مصر بأمر السلطان حسين كامل لمساعدة المجاهدين في ليبيا بقيادة الملك إدريس السنوسي.

في دمشق الفيحاء

في دمشق الفيحاء

 

ومن الفترات التي كان الشيخ الجليل يعتز بها في حياته: عام قضاه في دمشق الفيحاء 1960- 1961 أثناء الوحدة بين مصر وسوريا؛ إذ كان يعتبرها أخصب سنوات حياته بركة في الوقت والجهد والنشاط، فقد درس فيها لطلاب كلية الشريعة بجامعة دمشق أصول الفقه بصفة أساسية وبعض المواد الأخرى الفرعية، ولاقى من تواصلهم ما بعث في نفسه الرغبة في المزيد من التجويد والإبداع فيما يلقيه عليهم، وقابل الطلبة ذلك بالحرص على كل ما يتلقونه من أستاذهم فعملوا على تجميع محاضراته وتنسيقها وكتبوها على الآلة الكاتبة وقابلوها على الشيخ الذي أعاد تحريرها وألف بينها على الوجه الذي نراه في كتابه: "دراسات أصولية - محاضرات في أصول الفقه".

مع طلابه وتلامذته

وكان للشيخ مكتبة تحتل دورا بأكمله من منزله العامر بضاحية حلوان بالقاهرة على مساحة 160م تغطي حوائطها الآلاف من أمهات الكتب في الفقه والأصول والقانون والتفسير والحديث واللغة بفروعها من نحو وبلاغة وصرف وشعر وغيرها والاقتصاد والتاريخ الإسلامي القديم والحديث والمذاهب والاتجاهات الفكرية وغيرها من العلوم والمعارف التي وضعها بين يدي تلاميذه ينهلون منها ما يشاءون من المعرفة وقتما شاءوا، وكان يستقبل تلامذته طوال اليوم في مكتبته الخاصة المنفصلة عن منزله حتى يرفع عنهم حرج الزيارة والمكوث طويلا، بل كان يقوم رحمه الله على خدمتهم وضيافتهم بنفسه، خاصة الوافدين من خارج البلاد حتى بعد اعتلال صحته.

وقد عرف عن الشيخ أبو سنة زهده في المناصب وحرصه على الاقتصار على مهام العالم والمربي فحسب، فرفض كل المناصب التي عرضت عليه بما فيها المناصب الإدارية بالجامعة الأزهرية حتى إنه لم يقبل بعمادة كلية الشريعة، بل ومنصب وزير الأوقاف، وتفرغ رحمه الله لتعليم الطلاب والباحثين فتخرجت على يديه أجيال كثيرة من شتى البلاد العربية والإسلامية بعضهم تولى أكبر المناصب العلمية في بلده. ومنهم على سبيل المثال لا الحصر: الشيخ صالح مرزوق، الأمين العام للمجمع الفقهي برابطة العالم الإسلامي بمكة، والشيخ عبد الرحمن السديسي إمام وخطيب المسجد الحرام، ود. عبد الله السميط عضو مجلس الشورى الكويتي. وكان له في تركيا أيضا عدد من التلامذة (اقرأ رسالة طلابه الأتراك في عزائه) من أشهرهم أمين سراج القطب البارز بحزب السعادة الإسلامي بتركيا، ود. عبد الله أوزجان أستاذ الشريعة بجامعة سكاريا بتركيا، وكان من آخر تلامذته الذين كان يشرف على رسائلهم العلمية قبل وفاته "يشار أحمد شريف" ممثل الإفتاء اليوناني في الخارج.

وقد كان لتلاميذه الوالد العطوف الذي فتح لهم أبواب صدره وبيته ومكتبته التي تحوي مخطوطات نادرة عرض عليه مبالغ باهظة لشرائها إلا أنه فضل أن يستفيد بها طلبة العلم مجانا وزودهم بتوجيهاته القيمة غير مقتصر على وقت من ليل أو نهار حتى لو لم تكن ظروفه الصحية تسمح بذلك، فقد كانوا يملون وهو لا يمل وكانت لقاءاته معهم حلقات علمية مثمرة وعبادة وقدوة، ولا ينسى تلاميذه مواقفه وصلاته الإنسانية التي تستمر بهم حتى بعد انتهاء إشرافه على رسائلهم.

حياته مع أهله

في العراق مع أحد طلابه

 

ولم يكن ينسى أهل بلدته الريفية، الصف، بل كانت له بصماته في كل مكان، فقد كان حريصا على نشر الوعي الديني ومحاربة البدع من خلال دروسه وخطبه، فألغى مولد جده الشيخ أحمد أبو سنة الذي اعتاد أهل البلدة إحياءه، وفي المعهد الديني الذي أنشأه تلقى ثلاثة أرباع شباب البلدة تعليمهم الأزهري، وفي مدرسته لتحفيظ القرآن الكريم يدرس سنويا 800 طالب من الأطفال والرجال والنساء يحمل منهم القرآن الكريم كل عام 13 تقريبا، وتجرى بينهم مسابقات حفظ القرآن الكريم التي توزع جوائزها في حفل إحياء ليلة القدر كل رمضان بمنزله بالبلدة، بالإضافة إلى المقابر الشرعية، والمستوصف الطبي، والوحدة الزراعية، ومبنى البريد، والمدرسة الابتدائية، وغيرها من المؤسسات التي أنشأها.

وقد كانت له تجربة فريدة في رعاية عائلته الكبيرة الممتدة فحرصا على تضامنها أسس "رابطة آل أبو سنة"، ووضع لائحة تحدد أهدافها وهي تحقيق التواصل بين أفرادها ونبذ الخلاف وتذليل المصاعب أمام أفرادها لممارسة العمل العام، وحدد اجتماعا دوريا يوم الأربعاء الأول من كل شهر، وشكل لجانا مثل لجنة الصلح بين المتخاصمين، ولجنة المواريث لتوزيع الميراث حسب أحكام الشريعة لتحقيق هذه الأهداف ضمت عمداء العائلة الأكثر تعلما ونشاطا في خدمة الأسرة، وعين مسجلا لمحاضرات الاجتماعات ورئيسا للرابطة ينوب عنه، ومسئولا ماليا يتولى الإنفاق في المساعدات وأمين الصندوق.

وبرغم مسئولياته العلمية والدعوية فإنه تحمل تبعته تجاه أسرته وفي بيته فكان خير معلم ومرب للأولاد، له عظيم الأثر في حياتهم؛ إذ بث فيهم روح الفضيلة والدين وحب العلم، ولم يحرمهم من أشعاره فخصهم بقصائده خاصة في المناسبات كأيام ميلادهم ونجاحهم وزواجهم، حتى إنه خص إحدى بناته بخمس عشرة قصيدة، وساعده في ذلك زوجته التي كانت خير معين له في رحلته العلمية والدعوية، فكانت العين التي يقرأ بها ويرى بها الحياة؛ إذ كان رحمه الله قد تعرض لحادث في طفولته تسبب في ضعف بصره إلى أن فقده عندما تقدم به العمر فكانت رحمها الله تكتب بخط يدها كل ما يريد الشيخ تسجيله من تأليف كتب وبحوث ومحاضرات وفتاوى ودروس وخطب الجمعة والعيدين وتقرأ به، وتكتب تعليقاته على الهوامش، ثم تسجيل ما كتبه على شرائط كاسيت ليحمله الشيخ أينما يشاء ويسمعه، كما كانت تساعده على استقبال طلبة العلم وضيافتهم.

رحمه الله رحمة واسعة وأجزل له العطاء.

http://www.islamonline.net/Arabic/f … article03.shtml

--------

بواسطة العضو عبد الله الخميس
আহমেদ ফাহমি আবু সুন্নাহ

এটি আমার সফর এবং এটিই আমার অবদান.. আমার কলমে আমার জীবনী

১৪/১০/২০০৩

লিখেছেন শেখ/ আহমেদ ফাহমি আবু সুন্নাহ

আল-আযহার থেকে প্রথম ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের পর আবু সুন্নাহ

আমার নাম আহমেদ ফাহমি আবু সুন্নাহ। আমি ১৯০৯ সালে গিজা প্রদেশের আস-সাফ কেন্দ্রে জন্মগ্রহণ করি। আমি আমার দাদা শেখ মাহমুদ খলিফা আবু সুন্নাহ (রহ.)-এর কাছে পবিত্র কুরআন হিফজ করি এবং তাঁর কাছেই কুরআনের পাশাপাশি তাজবিদ ও নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের কিছু ছোট কিতাব পাঠ করি। আমাদের সময়ে আল্লাহর কিতাব প্রচারে মক্তবগুলোর এক অনন্য ভূমিকা ছিল।

মর্যাদাপূর্ণ আল-আযহারের আঙিনায়

যখন আমার বয়স ১১ বছর পার হলো, তখন ১৯২১ সালে আমি আল-আযহারে ভর্তি হই এবং কায়রোতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর শেষ করি। এই সময়ে আমি আল-আযহারের তৎকালীন অনেক বড় বড় আলেমের কাছে ইলম অর্জন করি, যেমন ফিকহ শাস্ত্রে শেখ ইউসুফ হিজাজি, নাহু শাস্ত্রে শেখ আবদুর রউফ আল-রিফাই, শেখ মুহাম্মদ আল-মুদাল্লাল এবং আরও অনেকে।

আমার মনে আছে, আমি যখন প্রাথমিক শাখার প্রথম বর্ষে ছিলাম, তখন ব্রিটিশ দখদারিত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং তাতে আল-আযহারের ছাত্রদের অংশগ্রহণের কারণে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই ছাত্ররা তখন শিক্ষা অর্জন করতে পারেনি, ফলে পড়াশোনা ব্যাহত হয় এবং পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এরপর পরবর্তী বছর ১৯২২/১৯২৩ সালে আবারও পড়াশোনা শুরু হয়।

সেই সময়ের সহপাঠীদের মধ্যে আমার মনে পড়ে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগীয় অধ্যাপক ড. হাসান আউন-এর কথা, যিনি ফ্রান্স থেকে ডক্টরেট করেছিলেন; আরও ছিলেন অধ্যাপক মাহমুদ আল-আজরাক, যিনি পরবর্তীতে শরীয়াহ আদালতের বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন, এবং শেখ শাগবুনসহ আরও অনেকে।

এই দুই শাখার শিক্ষা পদ্ধতি সবার কাছেই খুব প্রিয় ছিল। আমি পড়াশোনার পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালোবাসতাম, বিশেষ করে ফিকহ ও সাহিত্যের বই।

১৯২৬/১৯২৭ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা শুরুর সাথে সাথে আমাদের যুগে আল-আযহারে একটি উন্নত পাঠ্যক্রম তৈরি হয়, যেখানে মূল পাঠ (মুতুন) ও ব্যাখ্যাগ্রন্থের (শুরুহ) ওপর ভিত্তি করে প্রচলিত আযহারী শিক্ষার সাথে আধুনিক বিজ্ঞান যেমন পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, ভূগোল ও ইতিহাসকে সমন্বিত করা হয়। শেখ মুহাম্মদ আবু আল-ফজল আল-জিজাওয়ির শায়খুল আযহার থাকাকালীন ছাত্ররা এই দ্বিমুখী শিক্ষা গ্রহণ করত। এরপর আমরা ১৯২৮ সালে শেখ মুহাম্মদ মোস্তফা আল-মারাগির প্রথম দফার শায়খুল আযহার পদ এবং ১৯২৯ সালে শেখ আল-আহমাদি আল-জাওয়াহিরির শায়খুল আযহার পদের সময়কাল পাই; এটি ছিল মাধ্যমিক শাখার শেষ দিকে।

উচ্চশিক্ষায়

আবু সুন্নাহ আল-আযহারের একটি গবেষণা পত্রের মূল্যায়ন কমিটির সদস্য হিসেবে

 

এরপর ১৯৩১ সালে আমরা উচ্চতর শাখার প্রথম বর্ষে পদার্পণ করি। এটি ছিল পুরনো পদ্ধতির শিক্ষা যা আমরা জামে আল-আযহারে অনেক আলেমের কাছে গ্রহণ করেছি, যেমন ফিকহ শাস্ত্রে শেখ আহমেদ আবদুস সালাম এবং তাফসির শাস্ত্রে শেখ হামিদ জাদ ও অন্যান্যরা।

এই সময়ে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ আল-আযহার ও দারুল উলুমের ছাত্রদের জন্য তাদের দ্বার উন্মুক্ত করতে শুরু করে। আমি সেইসব ব্যক্তিদের একজন ছিলাম যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ছিল। তাই আমি আযহারী ও বিশ্ববিদ্যালয়—উভয় পদ্ধতিই একসাথে চালিয়ে যাই। আমি এখানে এবং সেখানে উভয় স্থানেই শিক্ষা গ্রহণ করতাম। এতে আমাকে কলা অনুষদের সেই অধ্যাপকরা উৎসাহিত করেছিলেন যাদের কাছে আমি পাঠ গ্রহণ করেছি, যেমন হাদিস শাস্ত্রে ড. আমিন আল-খুলি, গবেষণা কক্ষে ড. আহমেদ আমিন, নাহু শাস্ত্রে ড. ইব্রাহিম মোস্তফা এবং সাহিত্যে ড. আহমেদ আল-শায়েখ।

এটি ছিল তাহা হোসেনের সময়কাল, যিনি কলা অনুষদে ভর্তির পথ খুলে দিয়েছিলেন এবং ছাত্রদের, বিশেষ করে আল-আযহার ও দারুল উলুমের ছাত্রদের উৎসাহিত করতেন।

কয়েক মাস যেতে না যেতেই শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার উপক্রম হলো। আমার বাবা (রহ.), যিনি কলা অনুষদের আমার শিক্ষকদের সমসাময়িক ছিলেন, তিনি আল-আযহারের পড়াশোনার বিনিময়ে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানতে পারলেন। তিনি আমাকে এবং আমার শিক্ষকদের—যাদের অধিকাংশকেই তিনি দারুল উলুম বা শরীয়াহ আদালতের বিচারক হওয়ার সুবাদে চিনতেন—বোঝালেন যেন আমি আল-আযহারে ফিরে আসি এবং কেবল শরীয়াহ শিক্ষার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করি। আমার বাবার (রহ.) সেই দূরদর্শী চিন্তার কারণে আল্লাহ আমাকে সম্মানিত করেছেন।

উচ্চতর শাখার প্রথম বর্ষে সাফল্যের পর এবং দ্বিতীয় বর্ষের শুরুতে শেখ মুহাম্মদ আল-আহমাদি আল-জাওয়াহিরির যুগে আল-আযহারের নিয়মিত অনুষদসমূহ—শরীয়াহ, উসুলুদ্দীন এবং আরবি ভাষা—উদ্বোধন করা হয়।

পূর্বোক্ত তিনটি অনুষদের পাঠ্যক্রম দেখার পর আমি শরীয়াহ অনুষদে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিই। আমার মতো যারা উচ্চতর শাখায় এক বছর কাটিয়েছে, তারা সরাসরি শরীয়াহ অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি হতে পারত। অন্যদিকে যারা আল-আযহারের মাধ্যমিক স্তর শেষ করে আসত, তারা নতুন ছাত্র হিসেবে প্রথম বর্ষে ভর্তি হতো।

এ কারণে আমাদের জন্য পড়াশোনা ছিল বেশ কঠিন, কারণ চার বছরের পাঠ্যক্রম আমাদের তিন বছরে শেষ করতে হতো। এই স্তরে আমার শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন শেখ হাসান আল-বায়ুমি, শেখ ইউসুফ আল-মারসাফি, শেখ মুহাম্মদ আবদ আল-ফাত্তাহ আল-আনানি—যিনি আমাকে উসুল শাস্ত্র পড়িয়েছেন, তাফসির শাস্ত্রে শেখ মুহাম্মদ আরাফাহ এবং পরবর্তীতে জামে আল-আযহারের শায়খ হওয়া শেখ আবদুর রহমান তাজ।

আমার মনে আছে, আমি অত্যন্ত একাগ্রতা ও দৃঢ়তার সাথে অনুষদের বছরগুলো পার করি এবং উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করি। সত্য বলতে কি, আল-আযহারে সংস্কার পদ্ধতি এবং অনুষদসমূহ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা শেখ আল-মারাগি করেছিলেন, কিন্তু এই সংস্কার বাস্তবায়ন করেছিলেন শেখ আল-আহমাদি আল-জাওয়াহিরি। পরবর্তীতে ১৯৩৬ সালে শেখ আল-মারাগি আবারও ফিরে আসেন এবং আল-আযহারের সংস্কার অব্যাহত রাখেন। তাঁর সময়েই উচ্চতর গবেষণার 'প্রফেসর' শাখা থেকে প্রথম ব্যাচের ছাত্ররা উত্তীর্ণ হন।

আল-আযহারের প্রথম ডক্টরেট

১৯৩৫ সালে আমি অনুষদের উচ্চতর গবেষণায় ভর্তি হই। এর মেয়াদ ছিল দীর্ঘ এবং এই সময়ে কোনো উৎসাহমূলক বৃত্তি ছিল না। যখন শেখ আল-মারাগি আসলেন, তিনি এই শাখার ছাত্রদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করলেন যা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল।

১৯৪০ সালে আমি উচ্চতর গবেষণায় উত্তীর্ণ হই এবং ফিকহ, উসুল ও আইন প্রণয়নের ইতিহাসে বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রফেসর গ্রেডের 'আলামিয়্যাহ' ডিগ্রি লাভ করি। আমাদের সময়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার পদ্ধতি ছিল দুই প্রকার:

(ক) প্রথম প্রকার:

১- শিক্ষকতার অনুমতিসহ আলামিয়্যাহ ডিগ্রি অর্জনের বিশেষায়ন। এর মেয়াদ ছিল দুই বছর এবং এর অধিকারীরা আযহারী ইনস্টিটিউটগুলোতে শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন।

২- বিচারকের অনুমতিসহ আলামিয়্যাহ ডিগ্রি অর্জনের বিশেষায়ন। এর অধিকারীরা শরীয়াহ আদালতগুলোতে বিচারক হতেন।

(খ) দ্বিতীয় প্রকার বিশেষায়ন ছিল কোনো বিষয়ে প্রফেসর গ্রেডে আলামিয়্যাহ অর্জনের জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়া। এর মেয়াদ ছিল টানা ছয় বছর। মেধাতালিকার প্রথম দিকের ছাত্রদের মধ্য থেকে এতে বাছাই করা হতো, যাতে তারা উত্তীর্ণ হওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট অনুষদেই শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারে।

আমার গবেষণাপত্রের বিষয় ছিল "ফকীহ ও উসুলশাস্ত্রবিদদের দৃষ্টিতে উরফ (প্রথা)"। আমার মনে আছে এটিই ছিল নতুন পদ্ধতিতে উপস্থাপিত প্রথম থিসিস। নতুন পদ্ধতিতে ডক্টরেট অর্জনের জন্য আমিই প্রথম ব্যক্তি যার থিসিস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। এই 'প্রথম' হওয়াটা ছিল সময়ের দিক থেকে, অর্থাৎ এই বিভাগে আমিই প্রথম যার থিসিস আলোচিত হয়েছে; কারণ আমার নাম শুরু হয় 'হামজা' (আলিফ) দিয়ে, আর হামজা হলো আরবি বর্ণমালার প্রথম অক্ষর।

উচ্চতর গবেষণায় আমার সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন শেখ মুহাম্মদ আবু আল-নূর জুহাইর, শেখ আহমেদ নাদা, শেখ তাহা আল-আরবি এবং শেখ সাইয়্যেদ জাহলান।

প্রফেসর গ্রেডের আলামিয়্যাহ (ডক্টরেট) পরীক্ষার পদ্ধতি দুটি পর্যায়ে বিভক্ত ছিল যা ছাত্রকে সফলভাবে অতিক্রম করতে হতো। প্রথম পর্যায় ছিল:

- একটি সাধারণ বক্তৃতা প্রদান

- একটি বৈজ্ঞানিক বিষয়ে আলোচনা; যাকে বলা হতো নিয়োগ পরীক্ষা (ইমতিহানুত তা'য়িন)

- লিখিত পরীক্ষা

বক্তৃতা ও নিয়োগ পরীক্ষা মূল্যায়নের জন্য গঠিত কমিটিতে সাতজন সদস্য ছিলেন। এর সভাপতি ছিলেন শেখ আল-মারাগি এবং সদস্যরা ছিলেন মিশরের মুফতি শেখ আবদুল মাজিদ সেলিম, শেখ ইব্রাহিম আল-জাবালি, শেখ আহমেদ আবু আল-নাসর, শেখ মুহাম্মদ আবদ আল-ফাত্তাহ আল-আনানি, শেখ ঈসা মানুন এবং শেখ মাহমুদ আবু দাকিকা—আল্লাহ তাদের সকলের ওপর রহম করুন। ছাত্র যদি এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতো, তবে সে দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুতি নিত, যা ছিল থিসিস তৈরি করা এবং সেটি রচনার পর অন্য একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি কর্তৃক মূল্যায়ন ও আলোচনার ব্যবস্থা করা। সেই কমিটিতে ছিলেন সভাপতি হিসেবে শেখ আল-মারাগি এবং সদস্য হিসেবে শেখ আবদুল মাজিদ সেলিম, ফকীহ ও আইনবিদ শেখ আহমেদ ইব্রাহিম, পরবর্তীতে শায়খুল আযহার হওয়া শেখ মাহমুদ শালতুত এবং শেখ ইউসুফ আল-মারসাফি। শেখ আল-মারাগির প্রবর্তিত পদ্ধতিতে আমার ডক্টরেট থিসিসটিই ছিল প্রথম প্রকাশ্য আলোচনা, যা ১৯৬১ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল। শেখ আল-মারাগি এই পরীক্ষায় লুতফি আল-সাইয়্যেদ পাশার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

থিসিস আলোচনার স্থানটি ছিল শরীয়াহ অনুষদের সেই পুরনো ভবন যা নতুন ভবন তৈরির আগে ব্যবহৃত হতো। এই পুরনো ভবনটি মূলত শরীয়াহ অনুষদ হওয়ার আগে শরীয়াহ বিচার বিভাগীয় বিদ্যালয় ছিল। এই ভবনটি এখন 'বারমুনি আযহারী ইনস্টিটিউট' নামে পরিচিত।

আলোচনার দিন ভবনটি অতিথি ও ছাত্রছাত্রীদের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি বিশৃঙ্খলা এতটাই বেড়েছিল যে আয়োজকরা ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছিলেন। শেখ আল-মারাগি (রহ.) তখন হুবহু এই কথাটি বলেছিলেন, যা আমি "আল-ইছনাইন ওয়া আদ-দুনিয়া" ম্যাগাজিনে দেখেছি: "যদি আল-আযহারের মাশায়িখদের সম্পর্কে এই কথা ওঠার আশঙ্কা না থাকত যে তারা তাদেরই এক সন্তানের জন্য আয়োজিত পরীক্ষায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন, তবে আমি এই সমাবেশটি ভেঙে দিতাম।" পরিশেষে ফিকহ, উসুল এবং আইন প্রণয়নের ইতিহাসে প্রফেসর গ্রেডে আলামিয়্যাহ ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে আলোচনা শেষ হয়। উল্লেখ্য যে, আল-আযহারে এই উপাধিটি ত্রিশ বছর পর্যন্ত প্রচলিত ছিল, যা ১৯৬৫ সালে 'ডক্টরেট' উপাধিতে পরিবর্তিত হয়।

আরব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকতা

১৯৪১ সালে আমি শরীয়াহ অনুষদে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হই, এরপর সহকারী অধ্যাপক ও পরবর্তীতে অধ্যাপক পদে উন্নীত হই। ১৯৭৪ সালে অবসরের বয়স পর্যন্ত আমি সেখানেই ছিলাম। তবে ১৯৬০ সাল থেকে বিভিন্ন আরব বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ডেপুটেশন (প্রেষণ) বেড়ে যায়। যেমন ১৯৬০/১৯৬১ সালে দামেস্কে, ১৯৬২ সালে লিবিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে, ১৯৬৭ সালে বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সবশেষে ১৯৭২ সালে কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমান উম্মুল কুরা)। আমি এখনও সেখানে শরীয়াহ গবেষণার অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছি এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে মিশরে আসি।

আমার স্নাতক হওয়ার পর থেকে গত প্রায় ৫০ বছর ধরে আমি ফিকহ, উসুল ও আইন প্রণয়নের ইতিহাসসহ বিভিন্ন শরীয়াহ গবেষণায় নিয়োজিত আছি। এর মধ্যে রয়েছে আইন প্রণয়ন নীতি, ইসলামী অর্থনীতি, মাকাসিদুশ শরীয়াহ, হাদিসের পরিভাষা এবং তাফসির। সবশেষে তাসাউফ শাস্ত্রও আমাকে লিবিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে হয়েছে, কারণ সেই বিষয়ের অধ্যাপক ড. ওমর আল-শাইবানি অনুপস্থিত ছিলেন। এটি ছিল লিবিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শিক্ষকতা চলাকালীন সময়ের ঘটনা।

ইসলামী গবেষণা একাডেমি ও মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের মাঝে

শেখ বিশারের শায়খুল আযহার থাকাকালীন, বিশেষ করে ১৯৮০ সালে, আমি যখন মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেষণে ছিলাম, তখন আমাকে ইসলামী গবেষণা একাডেমির (মাজমাউল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ) সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। অনেক আরব বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও আমি একাডেমির বহু অধিবেশনে যোগ দিয়েছি, বিশেষ করে যেগুলি গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে অনুষ্ঠিত হতো।

আমার জীবনে প্রাপ্ত সম্মাননাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৮৩ সালে আল-আযহারের সহস্রাব্দ বার্ষিকীতে 'প্রথম শ্রেণির বিজ্ঞান ও শিল্পকলা পদক' লাভ। একই সময়ে আমি মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের ফিকহ একাডেমির সদস্য নিযুক্ত হই, যেখানে আমরা আমাদের সামনে উপস্থাপিত ফতোয়াগুলোর উত্তর সিদ্ধান্তের আকারে প্রদান করি।

এই একাডেমিগুলো, যেমন ইসলামী গবেষণা একাডেমি এবং অন্যান্য ফিকহ একাডেমিগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকা এবং আল্লাহর শরীয়াহ স্পষ্ট করতে তাদের তৎপরতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। মানুষের যা প্রয়োজন এবং পত্রপত্রিকার লেখকরা যেসব বিষয়ে মতভেদ করেন, সেগুলোতে সঠিক ফতোয়া প্রদান করা এদের কাজ। কারণ সাধারণ মানুষ এই একাডেমিগুলো, বিশেষ করে আল-আযহারের গবেষণা একাডেমির ওপরই ভরসা পায়। এর ফলে আমরা জ্ঞানহীনভাবে শরীয়াহর ওপর হস্তক্ষেপ রোধ করতে পারব। পত্রপত্রিকায় এমন সব বিধান দেওয়া হয় যার স্বপক্ষে আল্লাহর কোনো প্রমাণ নেই। বর্তমানে আমরা সুদের ব্যাপারেও বিচিত্র সব ধারণা শুনছি যা লেখকরা ভিত্তিহীন যুক্তিতে শরীয়াহর দিকে সম্বন্ধ করছেন। এই বিষয়ে 'আহলুজ জিকর' বা বিশেষজ্ঞ আলেমদেরই জিজ্ঞাসা করা উচিত যারা এই একাডেমিগুলো পরিচালনা করছেন, যাতে মানুষ তাদের দ্বীন ও লেনদেনের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারে।

ইসলামী গবেষণা একাডেমিতে আমার কার্যক্রম সম্পর্কে বলতে গেলে, আমার মনে পড়ে একবার আমি যখন সৌদি আরবে ছিলাম, তখন একাডেমি আমার কাছে ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেটের বিধান জানতে চেয়েছিল। আমি তখন (এ, বি) গ্রুপের সার্টিফিকেটকে হারাম বলেছিলাম এবং সে সময়ের দলীল ও বিধান দিয়ে তা ব্যাখ্যা করেছিলাম। আর (সি) গ্রুপের ব্যাপারে আমার মতামত দিয়েছিলাম যে, এতে সুদের সন্দেহ আছে; কারণ এটি মুদারাবা জাতীয় কিছু নয়। যারা ব্যাংকে টাকা জমা দেয় তারা রাষ্ট্রের প্রকল্পে অংশীদার হওয়ার জন্য দেয় না, বরং লাভের জন্য দেয়। জমাদানকারী লটারির দিনের অপেক্ষায় থাকে, যদি তার নাম বিজয়ীদের তালিকায় আসে তবে সে পুরস্কার পায়, নতুবা নয়। লটারির সময় বিজয় লাভ করে সে যে টাকা পায়, তা কিসের বিনিময়ে পায়?! এ কারণে (সি) গ্রুপের ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেট সরাসরি সুদ না হলেও এতে সুদের সন্দেহ রয়েছে।

১৯৭৬ সালে মক্কায় অনুষ্ঠিত ইসলামী অর্থনীতি সম্মেলনে আমাদের সামনে বাণিজ্যিক জীবন বীমার বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। আমরা এটি প্রত্যাখ্যান করি, যেমনটি আমরা ষাটের দশকেও করেছিলাম; কারণ এটি বাতিল এবং এতে সুদ, ধোঁকা (গারার) ও জুয়া রয়েছে। তবে আমরা এর বিকল্প হিসেবে 'সমবায় বীমা' (তাকাফুল) প্রবর্তন করি, যা নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য বা সদস্যদের সাহায্যের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখার ওপর ভিত্তি করে চলে। শর্ত হলো বছরের শেষে যা অবশিষ্ট থাকবে তা ফেরত দেওয়া হবে না এবং তা মুদারাবা বা হালাল মুনাফা দেয় এমন কোম্পানির মাধ্যমে বিনিয়োগ করা যেতে পারে, অতঃপর মুনাফা বিনিয়োগকারীদের মাঝে যার যার অংশ অনুপাতে বণ্টন করা হবে।

বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা ও পদ্ধতি:

গ্রন্থ ও গবেষণাসমূহ

আমার প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ও গবেষণাসমূহ হলো:

১- কিতাব আল-উরফ ফি রায়িল ফুকাহা ওয়াল উসুলিয়্যিন (ফকীহ ও উসুলশাস্ত্রবিদদের দৃষ্টিতে প্রথা), এটিই আমার ডক্টরেট থিসিস।

২- কিতাব আল-ওয়াসিত ফি উসুলিল ফিকহ।

৩- কিতাব নাজারিয়াতুল হাক্ক ফিল ফিকহিল ইসলামি (ইসলামী ফিকহে অধিকার তত্ত্ব)।

৪- ইসলামে নারীর রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক গবেষণা।

মুদ্রণাধীন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই হলো:

৫ - নাজারিয়াতুল আকদ ফিল ফিকহিল ইসলামি (ইসলামী ফিকহে চুক্তি তত্ত্ব)।

৬ - আকদুন নিকাহ (বিবাহ চুক্তি)।

৭ - মাকাসিদুশ শরীয়াহ।

৮ - আল-ইকতিসাদ আল-ইসলামি (ইসলামী অর্থনীতি)।

৯ - মুহাদারাত ফি উসুলিল ফিকহ (উসুলুল ফিকহের ওপর বক্তৃতামালা)।

১০ - চুক্তি তত্ত্ব, মালিকানা তত্ত্ব এবং জামানত (নিশ্চয়তা) তত্ত্ব।

১১- এছাড়া বিভিন্ন সেমিনারে ফিকহ ও ইসলামী অর্থনীতি বিষয়ে বক্তৃতা প্রদান। ১৯৫৫/১৯৫৬ সালে মুসলিম যুব সংঘে "ইসলামে নারীর অধিকার" শিরোনামে একটি বক্তৃতা দিয়েছিলাম। এটি ছিল তৎকালীন সেইসব দাবির জবাব যারা নারী শাসন ও বিচারক হওয়ার যোগ্য বলে দাবি করত। তবে আমার গবেষণা ও অধ্যয়ন থেকে আমি যা পেয়েছি তা হলো, নারী সাধারণ নেতৃত্ব বা 'বিলায়তে আম্মা' যেমন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রধান (খিলাফত) বা বিচারক হওয়ার যোগ্য নন, যদিও তারা বিশেষ নেতৃত্বের (বিলায়তে খাসসা) জন্য যোগ্য। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আল-আযহারের কাছে ফতোয়া চাওয়া হয়েছিল।

১২- আল-আযহার পত্রিকা এবং রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামি পত্রিকায় গবেষণাপত্র ও নিবন্ধ রচনা। যার মধ্যে উদাহরণস্বরূপ "চুক্তিতে ঘোষণা" এবং "ইসলামী ফিকহের সুরক্ষা" শীর্ষক গবেষণা।

১৩- ইসলাম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফতোয়ার আকারে রেডিও আলোচনা, যা ১৯৬৮ সালে বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন বাগদাদ রেডিওতে শুরু হয়েছিল।

আমার গবেষণা ও বইগুলোতে আমার অনুসৃত পদ্ধতি হলো আল্লাহর কিতাব কুরআন কারীম, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ, মুসলিম আলেমদের ইজমা, কিয়াস ও মাসালিহে মুরসালাহ্-এর সঠিক শরয়ী দলীলগুলোর ওপর ভিত্তি করা এবং ফিকহশাস্ত্রকে বিভিন্ন নীতিমালা ও তত্ত্বের আঙ্গিকে লিপিবদ্ধ করা।

আযহারী আলেমদের ফ্রন্ট ও শেখ আবু জাহরা

শেখ আবু জাহরার সাথে আমার পরিচয় হয় যখন তিনি আমাকে 'সুন্নাহ বিশ্বকোষ' সম্পাদনায় তাঁর সাথে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। এটি ছিল পঞ্চাশের দশকে, ১৯৫৬/১৯৫৭ সালের দিকে। এরপর আমাদের দেখা হয় 'জাবহাতু উলামাইল আযহার' (আযহারী আলেমদের ফ্রন্ট)-এ। এটি ছিল মিশরের বিশ থেকে ত্রিশ জন বিজ্ঞ শরীয়াহ বিশেষজ্ঞ আলেমের একটি সংস্থা। এটি গঠিত হয়েছিল দ্বীনের প্রতিরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া শরীয়াহ বিরোধী সন্দেহ ও বিচ্যুতি দূর করার লক্ষ্যে। এই সংস্থার কার্যালয় ছিল কায়রোর নুবার স্ট্রিটের একটি মসজিদে। প্রকৃতপক্ষে শেখ আবু জাহরার বৈশিষ্ট্য যা তাকে সমসাময়িকদের থেকে আলাদা করেছিল তা হলো তাঁর প্রচুর রচনা। শরীয়াহ সম্পর্কিত এবং জনগুরুত্বপূর্ণ এমন কোনো বিষয় ছিল না যা নিয়ে তিনি বই লেখেননি, যেমন "ইসলামে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক", "ইসলামে সামাজিক সংহতি" এবং ফকীহদের জীবনী ইত্যাদি।

সত্যি বলতে কি, তাঁর লেখাগুলো অত্যন্ত উন্নত মানের, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি যে বইগুলো পড়াতেন যেমন ইমামদের জীবনী। শেখ আবু জাহরা তাঁর জীবনে কোনো অবহেলা করেননি, তিনি তাঁর পুরো সময় শরীয়াহর প্রতিরক্ষায় ব্যয় করেছেন। আমার মনে পড়ে তিনি আমাকে বলেছিলেন: "আল্লাহর নেয়ামত সমূহের মধ্যে একটি হলো আমি অপরিচিত ছিলাম, ইলম অন্বেষণ আমাকে উচ্চাসনে বসিয়েছে"—রহিমাহুল্লাহ, এটি ছিল তাঁর উক্তি। তিনি যখন আলেকজান্দ্রিয়া বা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচার দিতে ট্রেনে যেতেন, সেই সময়টুকুও অধ্যয়নে ব্যয় করতেন; এভাবেই তিনি ইসলামী লাইব্রেরিকে সমৃদ্ধ করেছেন। এর সাথে যোগ করুন সত্যের পথে তাঁর অসীম সাহস; তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় পেতেন না। তিনি সুদের প্রতিবাদ করেছেন, বাণিজ্যিক জীবন বীমা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং প্রকাশ্যেই তাঁর মত জানিয়েছেন। দামেস্কে মিশর ও সিরিয়ার একীভূত থাকাকালীন এক ইসলামী ফিকহ সম্মেলন হয়েছিল, যেখানে আমি আল-আযহারের প্রতিনিধি হিসেবে এবং শেখ আবু জাহরা মিশরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের আহ্বায়ক ছিলেন শেখ আলী আল-খাফিফ। শেখ আল-খাফিফ এবং ড. মোস্তফা আল-জারকা জীবন বীমা বৈধ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি ও শেখ আবু জাহরা শরয়ী দলীলের ভিত্তিতে তার প্রতিবাদ জানাই এবং সম্মেলন তা বৈধ করতে অস্বীকৃতি জানায়।

বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা পত্রসমূহ

আমি ষাটের দশকে উচ্চতর গবেষণায় শিক্ষকতা শুরু করি, বিশেষ করে প্রথম পর্বের ছাত্রদের জন্য যা ছিল ফিকহ ও উসুলের তাত্ত্বিক আলোচনা। এটি ছাত্রকে দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব অর্থাৎ থিসিস তৈরি ও আলোচনার জন্য প্রস্তুত করত। এরপর আমি অনেক থিসিসে অংশগ্রহণ ও তত্ত্বাবধান করেছি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ষাটের দশকের শেষে "আর-রুখসা ওয়াল আজীমাহ", ১৯৭৪ সালে "তুরুকুল কাদা" (বিচার পদ্ধতি), "ফিকহে ওমর", "মাকাসিদুশ শরীয়াহ", এক সৌদি ছাত্রীর "দালালাতুস সুকুত", ১৯৮৬ সালে "রাফউল হারাজ", "ভুল তত্ত্ব" (নাজারিয়াতুল খাতা), "ইসলামে মুদ্রার বিবর্তন", "ইসলামী অর্থনীতিতে অর্থায়ন নীতি" এবং "ইসলামে কর্ম" বিষয়ক থিসিস।

এছাড়া ডক্টরেটের আরও কিছু থিসিস আলোচনার অপেক্ষায় আছে যেমন সৌদি ছাত্রী শাদিয়া আল-কাহকির "অধিকারের সংঘাতকালে অগ্রাধিকার", তুর্কি ছাত্র আবদুল্লাহ ওজজানের "বিক্রয় চুক্তিতে সময়সীমা" এবং কুয়েতি ছাত্র আবদুল্লাহ আল-সুমাইতের "ওয়াকফের ইসলামী নিদর্শনসমূহ"।

অবিস্মরণীয় মুহূর্ত ও স্মৃতি

অবিস্মরণীয় স্মৃতিগুলোর মধ্যে একটি হলো আল্লাহর ঘর হজের দৃশ্য। এটি ছিল ১৯৪৯ সাল। আমি তখন কায়রোর শরীয়াহ অনুষদের শিক্ষক এবং আল-আযহারের প্রতিনিধি দলের সাথে প্রথমবার হজ পালনের জন্য সৌদি আরব গিয়েছিলাম। সেই সময়ের আনন্দ, উল্লাস ও ভালো লাগার কথা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।

দ্বিতীয় মুহূর্তটি হলো শরীয়াহ অনুষদে আমার শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার দিনটি। যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাকে আমার ছাত্রদের মাঝে আমার অর্জিত ইলম এবং আল্লাহ প্রদত্ত মেধা বিলিয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি আমার ছাত্রদের জন্য উপকারী মনে হয় এমন কিছু দিতে কখনও কার্পণ্য করিনি।

আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা এবং এর পর দুনিয়ায় আমার আর কোনো প্রয়োজন নেই, তা হলো আমার সেই বইগুলো প্রকাশ করা যা এখন মুদ্রণাধীন। আর আমার সাধারণ আকাঙ্ক্ষা হলো আল-আযহার যেন তার সেই গৌরবোজ্জ্বল যুগে ফিরে আসে, ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের পুনর্জাগরণ ঘটায় এবং ছাত্রদের মাঝে ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক উভয় দিক উন্নত করে; যাতে তারা দেশে ও বিদেশে ইসলামের দাওয়াত প্রচারের যোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

এই বিষয়ে আরও পড়ুন:

ইলম ও জীবনের মাঝে.. একজন আলেমের সংক্ষিপ্ত জীবনী

--------------------------------------------------------------------------------

 

*নিবন্ধটি মরহুম আল্লামা তাঁর জীবনের শেষ বছরগুলোতে কায়রোর দক্ষিণ শহরতলী হেলওয়ানের নিজ বাসভবনে অধ্যাপক নাসের মাহমুদ ওয়াহদানকে ডিকটেশন দিয়ে লিখিয়েছিলেন। এটি এর আগে আল-আযহার আল-শরীফ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। শিরোনামটি সম্পাদকের দেওয়া।

http://www.islamonline.net/Arabic/f … rticle03a.shtml

 

আহমেদ ফাহমি আবু সুন্নাহ.. উসুলশাস্ত্রবিদদের শায়খ

 

ইলম ও জীবনের মাঝে.. একজন আলেমের সংক্ষিপ্ত জীবনী

 

১৪/১০/২০০৩

 

ওয়াফা সাদাউয়ি

 

শেখ ফাহমি আবু সুন্নাহ

আমাদের কপালে কি এটাই লেখা আছে যে, যারা আমাদের পক্ষ থেকে পরম শ্রদ্ধা ও সম্মান পাওয়ার যোগ্য এবং যাদের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করা উচিত, তারা আমাদের ছেড়ে নীরবে এবং কোনো বিদায়বাণী ছাড়াই চলে যাবেন? নীরবতা আর অগোচরে চলে যাওয়াই কি বরেণ্য মনীষী ও আলেমদের রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে? তাঁরা কি এভাবেই বিদায় নিচ্ছেন যে উপস্থিত থাকাকালীন তাঁদের কথা মনে করা হয় না আর চলে গেলে তাঁদের অভাব অনুভব করা হয় না!

আমি ভয় পাচ্ছি এর উত্তর হয়তো 'হ্যাঁ', আর অত্যন্ত দুঃখের সাথেই তা বলছি!

প্রায় এক মাস হতে চলল অথচ আমরা আল-আযহারের প্রখ্যাত আলেম ও উসুলশাস্ত্রবিদ ড. আহমেদ ফাহমি আবু সুন্নাহর প্রয়াণের খবরটি কোথাও পড়িনি বা শুনিনি। আল-আযহার আল-শরীফ এবং উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপক গত শনিবার রাতে (২৩ রজব ১৪২৪ হিজরী = ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ) ইন্তেকাল করেছেন। তিনি ছিলেন তাঁর সমসাময়িক (জন্ম ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দ) সংস্কারক ও কর্মবীর আলেমদের মালার শেষ মুক্তা। তিনি তাঁর পুরো জীবন আলেম ও শিক্ষক হিসেবে অতিবাহিত করেছেন এবং আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে অনেককে উপকৃত করেছেন। তাঁর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এমন প্রজন্ম এখন মিশর, আরব উপদ্বীপ, ইরাক, সিরিয়া, উত্তর আফ্রিকা, তুরস্ক এবং মুসলিম বিশ্বের অনেক প্রান্তে ইলম ও দাওয়াতের ঝাণ্ডা বহন করছেন।

স্বীয় বিষয়ে শ্রেষ্ঠ কিতাব

আমাদের শায়খ আল্লামা (রহ.)-এর কথা উঠলেই তাঁর মহান কিতাবটির কথা চলে আসে, যা তাঁর প্রথম রচিত গ্রন্থ— "ফকীহ ও উসুলশাস্ত্রবিদদের দৃষ্টিতে উরফ ও আদাহ (প্রথা ও রীতি)"। তিনি এটি ৬০ বছরেরও বেশি সময় আগে রচনা করেছিলেন এবং এর মাধ্যমেই আল-আযহারের প্রথম ডক্টরেট লাভ করেন (যা ২০-১-১৯৪১ তারিখে আলোচিত হয়েছিল)। এটি ছিল প্রফেসর গ্রেডের আলামিয়্যাহ ডিগ্রি যা ১৯৬১ সাল থেকে 'ডক্টরেট' নামে অভিহিত হয়। তিনি এই বিষয়ে পথিকৃৎ ছিলেন এবং পরবর্তীতে ফিকহ শাস্ত্রে উরফ ও আদাহ নিয়ে যা কিছু লেখা হয়েছে তার জন্য এটি একটি প্রধান রেফারেন্স বই।

এই কিতাবটি যদি মৌলিক নীতিগুলোকে প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ব্যবহারের পথ খুলে দেয়, তবে তাঁর অন্য কিতাব "আল-ওয়াসিত ফি উসুলিল ফিকহ" সেই নীতিগুলোকেই সহজবোধ্য করতে সহায়তা করে। শ্রদ্ধেয় শেখ লক্ষ্য করেছিলেন যে, অনেক শরীয়াহ শিক্ষার্থী প্রাচীন উসুল শাস্ত্রের বইগুলো বুঝতে বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হয়। এর কারণ একদিকে সেই বইগুলোর সূক্ষ্ম প্রকাশভঙ্গি ও কঠোর পদ্ধতি এবং অন্যদিকে বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে ছাত্রদের সাধারণ দুর্বলতা। তাই শেখ চেয়েছিলেন হানাফি মাযহাবের অন্যতম মূল কিতাব "আত-তাওদীহ ফি হাল্লি গাওয়ামিদিত তানক্বীহ"-এর ভাষাকে সহজ করতে। এই মূল গ্রন্থটি ইমাম সদরুশ শরীয়াহ 'আল-হাফিদ' (মৃত্যু ৭৪৭ হি.) রচনা করেছিলেন তাঁর নিজের কিতাব 'তানক্বীহ'-এর ব্যাখ্যা হিসেবে, যা আবার ফখরুল ইসলাম আল-বাজদাউয়ির উসুলের পরিমার্জিত রূপ। শেখ আবু সুন্নাহ এর দ্বিতীয় খণ্ডটি বেছে নেন যা তিনি ১৯৫৫ সালে শরীয়াহ অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রদের পড়াতেন। তিনি এর কঠিন বিষয়গুলোকে সহজ করেন, জটিল অংশগুলো স্পষ্ট করেন এবং কিছু ক্ষেত্রে সংযোজন বা বিয়োজন করেন। এভাবে তাঁর প্রকাশভঙ্গি অত্যন্ত সহজ ও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এতে তাঁকে সহায়তা করেছিল তাঁর শৈশব থেকে অর্জিত শরীয়াহর পাশাপাশি সাহিত্য ও ভাষা জ্ঞান। ফলে তাঁর কিতাবটি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন এক বিজ্ঞানের সেতুবন্ধন হয়ে ওঠে যা অনেকে অক্ষমতার কারণে বুঝতে পারতেন না।

এই 'আল-ওয়াসিত' কিতাবটির প্রথম মুদ্রণ ৪৫ বছর আগে হয়েছিল এবং তা দীর্ঘকাল বাজারে ছিল না। ফলে তাঁর ছাত্র আল-আযহারের উসুলুদ্দীন অনুষদের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সালেম আবু আসি এটি পুনরায় প্রকাশ করেন যাতে উসুল শাস্ত্রের গবেষণায় যে শূন্যতা ছিল তা পূরণ হয় এবং জ্ঞানপিপাসুদের তৃষ্ণা মেটে।

উসুল শাস্ত্রকে সহজীকরণ

শেখ আবু সুন্নাহর আল-আযহার সংস্কারের একটি স্বপ্ন ছিল। এর মূল ভিত্তি ছিল ছাত্রদের জন্য দ্বীনি জ্ঞানকে সহজসাধ্য করা। অর্থাৎ প্রাচীন ঐতিহ্য বজায় রেখে আধুনিক শৈলীতে সহজবোধ্য কিন্তু পূর্ণ বৈজ্ঞানিক তাহকীকসহ কিতাবগুলো নতুন করে লেখা। এই ভাবনা থেকেই শেখ উসুলুল ফিকহ বিষয়ে তাঁর গবেষণাপত্রগুলো লিখেছিলেন যাতে প্রাচীনদের কঠিন শৈলীকে সহজ করে আলেমদের নির্যাস বের করে আনা যায়। এটি ছিল আল-আযহারের আধুনিক জাগরণের একটি ভিত্তি যা শেখ মোস্তফা আল-মারাগি ও শেখ আল-আহমাদি আল-জাওয়াহিরি স্থাপন করেছিলেন।

শ্রদ্ধেয় শেখ আবু সুন্নাহ উসুল শাস্ত্রের জ্ঞান, সংস্কৃতি ও চর্চার সাথে এতটাই মিশে গিয়েছিলেন যে, উসুলবিদদের শ্রেষ্ঠ ইমাম কামাল ইবনুল হুমামের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কারণে তাঁকে নিজের ব্যক্তিগত বন্ধু মনে করতেন। তিনি তাঁর কথা বললেই বলতেন: "আমার বন্ধু ইবনুল হুমাম"। তিনি তাঁর দুটি কিতাব— আকীদা বিষয়ে "আল-মুসায়ারাহ" এবং উসুল বিষয়ে "আত-তাহরীর"-এর প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন। আমরা তাঁর লেকচারগুলোতে উসুল রচনার ক্ষেত্রে তাঁর এই 'বন্ধু' কামালের প্রভাব দেখতে পাই। হানাফি মাযহাবী হয়েও তিনি উসুল রচনার সময় হানাফি ও জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ)—উভয় পদ্ধতিকেই সমন্বয় করতেন। তিনি মাযহাবের সাথে মিলল কি না তা না দেখে বরং তাহকীক বা গবেষণার বিচারে যা সঠিক মনে হতো তাকেই প্রাধান্য দিতেন। তিনি গবেষণা ও চিন্তাশীলতার জন্য পরিচিত ছিলেন এবং অন্ধ অনুকরণ ও পূর্ববর্তীদের উক্তি বাছবিচার ছাড়া গ্রহণ করা অপছন্দ করতেন।

এই পদ্ধতি শেখ তাঁর কিতাব ও লেকচারে দীর্ঘকাল শরীয়াহ ও ভাষা চর্চার পর অর্জন করেছিলেন। তাঁর বাবা আস-সাফ শহরের শরীয়াহ আদালতের বিচারক, কবি এবং সেই প্রতিনিধি দলের প্রধান ছিলেন যারা সুলতান হোসেন কামেলের আদেশে লিবিয়ার মুজাহিদদের সাহায্য করতে রাজা ইদ্রিস আল-সেনুসির নেতৃত্বে গিয়েছিলেন।

দামেস্কে

দামেস্কে

 

শেখ তাঁর জীবনের যে সময়টিকে অত্যন্ত গর্বের সাথে স্মরণ করতেন তা হলো ১৯৬০-১৯৬১ সালে মিশর ও সিরিয়ার ঐক্যের সময় দামেস্কে কাটানো এক বছর। তিনি এই বছরটিকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বরকতময় ও সফল বছর মনে করতেন। সেখানে তিনি দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের ছাত্রদের প্রধানত উসুলুল ফিকহ এবং আরও কিছু আনুষঙ্গিক বিষয় পড়াতেন। ছাত্রদের আগ্রহ তাঁকে আরও সৃজনশীল ও নিখুঁতভাবে পড়াতে উৎসাহিত করত। ছাত্ররা তাঁর প্রতিটি লেকচার সংগ্রহ করত, টাইপ করত এবং শেখকে দিয়ে সংশোধন করিয়ে নিত। এভাবেই তাঁর "দিরাসাত উসুলিয়্যাহ - মুহাদারাত ফি উসুলিল ফিকহ" বইটি আলোর মুখ দেখে।

তাঁর ছাত্র ও শিষ্যদের সাথে

কায়রোর হেলওয়ান শহরতলীতে শেখের বাড়িতে ১৬০ বর্গমিটারের একটি ফ্লোর জুড়ে ছিল তাঁর বিশাল লাইব্রেরি। সেখানে ফিকহ, উসুল, আইন, তাফসির, হাদিস, ভাষা (নাহু, বালাগাত, সরফ, কাব্য), অর্থনীতি, প্রাচীন ও আধুনিক ইসলামী ইতিহাস এবং বিভিন্ন চিন্তাধারার হাজার হাজার মৌলিক কিতাব ছিল। তিনি এগুলো তাঁর ছাত্রদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন যাতে তারা যখন ইচ্ছা জ্ঞান আহরণ করতে পারে। তিনি তাঁর বাড়ির পাশেই আলাদা একটি লাইব্রেরিতে ছাত্রদের সময় দিতেন যাতে তাদের যাতায়াতে কোনো সংকোচ না হয়। এমনকি অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি বিশেষ করে বিদেশি ছাত্রদের নিজে হাতে আপ্যায়ন ও সেবা করতেন।

শেখ আবু সুন্নাহ পদমর্যাদার প্রতি অনাসক্ত ছিলেন এবং নিজেকে একজন আলেম ও শিক্ষক হিসেবেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাইতেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কোনো পদ গ্রহণ করতে রাজি হননি, এমনকি শরীয়াহ অনুষদের ডিন হতে বা ওয়াকফ মন্ত্রী হতেও রাজি হননি। তিনি নিজেকে ছাত্র ও গবেষকদের শিক্ষার জন্য বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরে মিশর, আরব বিশ্ব, তুরস্ক ও মুসলিম বিশ্বের বহু দেশ থেকে আসা ছাত্ররা শিক্ষা লাভ করেছেন যারা পরবর্তীতে নিজ দেশে বড় বড় পদে আসীন হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ: মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের ফিকহ একাডেমির সেক্রেটারি জেনারেল শেখ সালেহ মারজুক, মসজিদে হারামের ইমাম ও খতিব শেখ আবদুর রহমান আস-সুদাইস এবং কুয়েতের মজলিসে শুরার সদস্য ড. আবদুল্লাহ আল-সুমাইত। তুরস্কেও তাঁর অনেক ছাত্র ছিল (শোকবার্তায় তুর্কি ছাত্রদের চিঠিটি পড়ুন), যাদের মধ্যে বিখ্যাত হলেন তুরস্কের সাদাত পার্টির নেতা আমিন সিরাজ এবং সাকারিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহর অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ ওজজান। তাঁর শেষ দিকের ছাত্রদের একজন ছিলেন গ্রিসের মুফতিদের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি "ইয়াশার আহমেদ শরীফ"।

তিনি তাঁর ছাত্রদের জন্য ছিলেন একজন স্নেহময় পিতা। তাঁর লাইব্রেরিতে বিরল অনেক পাণ্ডুলিপি ছিল যা কেনার জন্য বড় বড় অঙ্কের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা বিক্রি করেননি বরং ছাত্রদের বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য রেখে দিয়েছিলেন। তাঁর শরীর ভালো না থাকলেও দিন-রাত তিনি ছাত্রদের দিকনির্দেশনা দিতেন। ছাত্ররা ক্লান্ত হলেও তিনি ক্লান্ত হতেন না। তাঁর এই বৈঠকগুলো ছিল জ্ঞানচর্চা, ইবাদত ও আদর্শের মিলনমেলা। ছাত্ররা তাঁর সেই মানবিক আচরণ ও সম্পর্কের কথা কখনও ভুলবে না যা থিসিস শেষ হওয়ার পরও বজায় থাকত।

পরিবার ও নিজ এলাকার সাথে তাঁর জীবন

ইরাকে তাঁর এক ছাত্রের সাথে

 

তিনি তাঁর গ্রামের এলাকা আস-সাফ-এর মানুষদের কথা কখনও ভুলে যাননি। তাঁর পদচিহ্ন সেখানে সর্বত্র ছিল। তিনি তাঁর ওয়াজ ও আলোচনার মাধ্যমে দ্বীনি সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিদআত প্রতিরোধের কাজ করতেন। তিনি তাঁর দাদা শেখ আহমেদ আবু সুন্নাহর ওরস বন্ধ করে দিয়েছিলেন যা আগে ধুমধাম করে পালন করা হতো। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দ্বীনি ইনস্টিটিউটে গ্রামের তিন-চতুর্থাংশ যুবক আযহারী শিক্ষা লাভ করেছে। তাঁর কুরআন হিফজ মাদ্রাসায় প্রতি বছর ৮০০ জন শিশু, পুরুষ ও মহিলা পড়াশোনা করে, যেখান থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৩ জন হাফেজ বের হয়। প্রতি রমজানে তাঁর গ্রামের বাড়িতে লাইলাতুল কদরের অনুষ্ঠানে কুরআন প্রতিযোগিতার পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া সেখানে শরীয়াহ সম্মত কবরস্থান, ক্লিনিক, কৃষি কেন্দ্র, পোস্ট অফিস এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অনেক প্রতিষ্ঠান তিনি গড়ে তুলেছেন।

তিনি তাঁর বিশাল যৌথ পরিবারের দেখাশোনার জন্য একটি অনন্য ব্যবস্থা করেছিলেন। পরিবারের বন্ধন দৃঢ় রাখতে তিনি "আবু সুন্নাহ ফ্যামিলি অ্যাসোসিয়েশন" গঠন করেন। এর লক্ষ্য ছিল সদস্যদের মাঝে যোগাযোগ রক্ষা, বিবাদ মেটানো এবং জনহিতকর কাজে সহায়তা করা। তিনি প্রতি মাসের প্রথম বুধবার মাসিক সভার নিয়ম করেছিলেন। বিবাদ মেটানোর জন্য সালিশি কমিটি এবং শরীয়াহ অনুযায়ী মিরাস বণ্টনের জন্য উত্তরাধিকার কমিটি গঠন করেন। এতে পরিবারের শিক্ষিত ও সক্রিয় সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সভার কার্যক্রম লিপিবদ্ধ করার জন্য একজন রেজিস্ট্রার এবং অ্যাসোসিয়েশনের একজন সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ করেন।

বিশাল ইলমি ও দাওয়াতি দায়িত্ব সত্ত্বেও তিনি তাঁর পরিবারের প্রতি পূর্ণ খেয়াল রাখতেন। তিনি ছিলেন সন্তানদের জন্য সেরা শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক। তিনি তাদের মাঝে নৈতিকতা, দ্বীন ও ইলমের প্রতি ভালোবাসা বুনে দিয়েছিলেন। তিনি তাদের জন্য কবিতা লিখতেন—বিশেষ করে তাদের জন্মদিন, সাফল্য বা বিয়ের অনুষ্ঠানে। এমনকি তাঁর এক মেয়ের জন্য তিনি পনেরোটি কবিতা লিখেছিলেন। এই যাত্রায় তাঁর স্ত্রী ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় সহায়িকা। তিনি ছিলেন শেখের চোখের মতো; কারণ শৈশবে এক দুর্ঘটনার ফলে শেখের দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে তিনি পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারান। তাঁর স্ত্রীই শেখের বলা সব বই, গবেষণা, লেকচার, ফতোয়া এবং জুমার খুতবা লিখে দিতেন। তিনি কিতাবের হাশিয়া বা টীকাগুলোও লিখে দিতেন। এরপর সেই লেখাগুলো ক্যাসেটে রেকর্ড করতেন যাতে শেখ যেখানে ইচ্ছা তা শুনতে পারেন। এছাড়া ছাত্রদের আপ্যায়ন ও সেবায় তিনি শেখকে সাহায্য করতেন।

আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন এবং উত্তম প্রতিদান দিন।

http://www.islamonline.net/Arabic/f … article03.shtml

--------

সদস্য আবদুল্লাহ আল-খামিস কর্তৃক উপস্থাপিত
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌أحمد محمد نور سيف

- من مواليد: 1358هـ-، في مكة المكرمة.

- تخرج من معهد المعلمين الابتدائي عام 1376هـ-.

- عمل مدرساً في المراحل الابتدائية والمتوسطة والثانوية، بوزارة المعارف.

- واصل دراسته حتى تخرج من كلية الشريعة.

- نقلت خدماته إلى كلية الشريعة واللغة العربية بتاريخ 1/11/1392هـ-.

المؤهلات والدرجات العلمية:

بكالوريوس: 1383هـ- - من كلية الشريعة واللغة العربية.

الماجستير: 1392هـ- - من كلية الشريعة - فرع جامعة الملك عبد العزيز في الكتاب والسنة

الدكتوراه: 1396هـ- - من كلية أصول الدين - جامعة الأزهر في الحديث وعلومه.

أستاذ مشارك: 1402هـ-.

أستاذ: 1408هـ-.

الأعمال العلمية:

أ- البحوث:

- عمل أهل المدينة بين مصطلحات مالك وآراء الأصوليين (رسالة الماجستير) دار الاعتصام - القاهرة.

- الوضع على نقاء الحديث، مجلة كلية الشريعة والدراسات الإسلامية، العدد (2) 1396هـ-.

- مصادر ابن عساكر في تاريخه من كتب الرجال، نشرته وزارة الثقافة والعلوم بمناسبة مؤتمر ابن عساكر في مرور 900 عام على وفاته، دمشق.

* مجلة البحوث الفقهية المعاصرة ** السنة الرابعة عشرة - العدد السادس والخمسون 1423هـ-

- دلالة النظر والاعتبار عند المحدثين في مراتب الجرح والتعديل، مجلة البحث العلمي، العدد الثاني 1399هـ-.

- خوارم المروءة وأثرها في عدالة الرواة، مجلة البحث العلمي، العدد الخامس 1402هـ-.

- الجرح والتعديل ثمرة علوم الحديث، عدد خاص بالسنة (المصدر الثاني للتشريع الإسلامي) 1402هـ- مجلة رابطة العالم الإسلامي.

- مجالس المذاكرة عند المحدثين، عدد خاص بالحديث النبوي والقدسي رواية ودراية 1411هـ-، مجلة المنهل.

- عناية المحدثين بتوثيق المرويات وأثر ذلك في تحقيق المخطوطات، بحث مقدم للمؤتمر العام العالمي الرابع للسنة النبوية بالأزهر، دار المأمون للتراث، دمشق 1407هـ-.

ب- التحقيق:

- يحيى بن معين وكتابه التاريخ. (رسالة دكتوراه) ، نشر مركز البحث العلمي وإحياء التراث الإسلامي، جامعة أم القرى، الهيئة المصرية العامة للكتاب - القاهرة 1399 - 1979م.

- التاريخ في جرح الرواة وتعديلهم، رواية الدارمي، نشر مركز البحث العلمي وإحياء التراث الإسلامي، جامعة أم القرى، دار المأمون للتراث، دمشق.

- أقوال يحيى بن معين في الرجال - رواية ابن الهيثم البادي، نشر مركز البحث العلمي وإحياء التراث الإسلامي، جامعة أم القرى، دار المأمون للتراث، دمشق.

- سؤالان ابن الجنيد لأبي زكريا يحيى بن معين. مكتبة الدار، المدينة المنورة 1408هـ-.

النشاط العلمي:

الإشراف على الرسائل العلمية.

- أشرف على 10 رسائل في الماجستير بجامعة أم القرى، وعلى 28 رسالة دكتوراه، بجامعة أم القرى، وجامعة الإمام محمد بن سعود، وجامعة أم درمان الإسلامية.

مناقشة الرسائل العملية:

- اشترك في مناقشة 25 رسالة ماجستير، 27 رسالة دكتوراه في جامعة أم القرى.

* الهيئة العلمية الاستشارية*

والجامعة الإسلامية، وجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، وجامعة الملك عبد العزيز، وجامعة الملك سعود، والمعهد العالي لأصول الدين بالجزائر.

المشاركات العلمية:

- شارك في وضع مناهج قسم الكتاب والسنة في كلية الدعوة وأصول الدين.

- شارك في وضع مناهج الدراسات العليا الشرعية، بجامعة أم القرى.

- شارك في عضوية تحرير مجلة كلية الشريعة.

- شارك في عضوية تحرير مجلة البحث العلمي.

- عضوية مجلس الجامعة - عضوية المجلس العلمي للجامعة.

المهام الإدارية:

- علم وكيلاً لمركز البحث العلمي وإحياء التراث الإسلامي.

- عمل رئيساً لقسم القراءات بكلية الدعوة وأصول الدين.

النشاط العلمي خارج الجامعة:

- شارك بمواد علمية في الموسوعة العلمية. التي يصدرها وقف الديانة التركي - اسطنبول.

- يشرف على (موسوعة التفسير الميسر) التي تتبناها رابطة العالم الإسلامي - عن طريق الحاسب الآلي.

- يقوم بالتدريس في المسجد الحرام بإذن من الإشراف الديني بالمسجد الحرام 1392هـ-.

- قدم حلقات في إذاعة صوت الإسلام (من أدب المحدثين) .

- أحيل إلى التقاعد المبكر بطلبة عام 1417هـ-.

- عمل نائباً لمركز البحث العلمي وإحياء التراث 1399هـ- - 1401هـ-.

- أنشأ داراً للبحوث والدراسات الإسلامية بدبي.

- وعين مديراً لها عام 1996م - 1418هـ-.

- كلف رئاسة مجلس الأوقاف بدبي عام 1996م - 1418هـ-.

http://www.fiqhia.com/dr1.php

-------

بواسطة العضو عبد الله الخميس
‌আহমদ মুহাম্মদ নূর সাইফ

- জন্ম: ১৩৫৮ হিজরি, মক্কা মুকাররমায়।

- ১৩৭৬ হিজরিতে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

- শরীয়াহ অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যান।

- ১/১১/১৩৯২ হিজরি তারিখে তার কর্মস্থল শরীয়াহ ও আরবি ভাষা অনুষদে স্থানান্তরিত হয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও উচ্চতর ডিগ্রি:

স্নাতক: ১৩৮৩ হিজরি - শরীয়াহ ও আরবি ভাষা অনুষদ থেকে।

মাস্টার্স: ১৩৯২ হিজরি - শরীয়াহ অনুষদ - বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআন ও সুন্নাহ বিভাগ থেকে।

ডক্টরেট: ১৩৯৬ হিজরি - উসূলে দ্বীন অনুষদ - আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান বিষয়ে।

সহযোগী অধ্যাপক: ১৪০২ হিজরি।

অধ্যাপক: ১৪০৮ হিজরি।

গবেষণামূলক কর্মসমূহ:

ক- গবেষণাপত্র:

- ইমাম মালিকের পরিভাষা এবং উসূলবিদদের মতামতের আলোকে মদিনাবাসীদের আমল (মাস্টার্স থিসিস) দারুল ইতিসাম - কায়রো।

- হাদিসের বিশুদ্ধতার ওপর জালিয়াতদের প্রভাব, শরীয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ সাময়িকী, সংখ্যা (২) ১৩৯৬ হিজরি।

- তার ইতিহাসে রিজাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহ হতে ইবনে আসাকিরের উৎসসমূহ, ইবনে আসাকিরের মৃত্যুর ৯০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত, দামেস্ক।

* সমকালীন ফিকহি গবেষণা সাময়িকী ** চতুর্দশ বর্ষ - ৫৬তম সংখ্যা ১৪২৩ হিজরি।

- জারহ ও তা'দিলের স্তর বিন্যাসে মুহাদ্দিসগণের নিকট নজর এবং ইতিবার-এর গুরুত্ব, বৈজ্ঞানিক গবেষণা সাময়িকী, দ্বিতীয় সংখ্যা ১৩৯৯ হিজরি।

- শ্লীলতা পরিপন্থী কাজ এবং রাবিদের ন্যায়পরায়ণতার ওপর এর প্রভাব, বৈজ্ঞানিক গবেষণা সাময়িকী, পঞ্চম সংখ্যা ১৪০২ হিজরি।

- জারহ ও তা'দিল হলো হাদিস বিজ্ঞানের ফসল, সুন্নাহ বিষয়ক বিশেষ সংখ্যা (ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস) ১৪০২ হিজরি - রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামি সাময়িকী।

- মুহাদ্দিসগণের ইলমি আলোচনার মজলিসসমূহ, নবিজির হাদিস এবং হাদিসে কুদসির বর্ণনা ও অনুধাবন বিষয়ক বিশেষ সংখ্যা ১৪১১ হিজরি, আল-মানহাল সাময়িকী।

- বর্ণনাগুলোর নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণে মুহাদ্দিসগণের গুরুত্বারোপ এবং পাণ্ডুলিপি সম্পাদনায় এর প্রভাব, আল-আযহারে সুন্নাহ বিষয়ক চতুর্থ বৈশ্বিক সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র, দারুল মামুন লিত-তুরাস, দামেস্ক ১৪০৭ হিজরি।

খ- পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (তাহকিক):

- ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং তার ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ (ডক্টরেট থিসিস), বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইসলামি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মিশরীয় সাধারণ গ্রন্থ সংস্থা - কায়রো ১৩৯৯ - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ।

- রাবিদের জারহ ও তা'দিল বিষয়ক ইতিহাস, দারেমির বর্ণনা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইসলামি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, দারুল মামুন লিত-তুরাস, দামেস্ক।

- রিজাল শাস্ত্র বিষয়ে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের বক্তব্যসমূহ - ইবনুল হাইসাম আল-বাদীর বর্ণনা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইসলামি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, দারুল মামুন লিত-তুরাস, দামেস্ক।

- আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের নিকট ইবনুল জুনাইদের দুই প্রশ্ন। মাকতাবাতুদ দার, মদিনা মুনাওয়ারা ১৪০৮ হিজরি।

ইলমি কার্যক্রম:

গবেষণা থিসিস তত্ত্বাবধান।

- তিনি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০টি মাস্টার্স থিসিস এবং উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় ও উম্মুদুরমান ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮টি ডক্টরেট থিসিস তত্ত্বাবধান করেছেন।

থিসিস মূল্যায়ন:

- তিনি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫টি মাস্টার্স এবং ২৭টি ডক্টরেট থিসিসের মূল্যায়ন ও পরীক্ষক পর্ষদে অংশগ্রহণ করেছেন।

* বৈজ্ঞানিক পরামর্শক সংস্থা *

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়, বাদশাহ সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় এবং আলজেরিয়ার উচ্চতর উসূলে দ্বীন ইনস্টিটিউট।

ইলমি অবদান:

- দাওয়া ও উসূলে দ্বীন অনুষদের কুরআন ও সুন্নাহ বিভাগের পাঠ্যক্রম প্রণয়নে অংশগ্রহণ করেছেন।

- উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শরীয়াহ শিক্ষা কার্যক্রমের পাঠ্যক্রম প্রণয়নে অংশগ্রহণ করেছেন।

- শরীয়াহ অনুষদ সাময়িকীর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য ছিলেন।

- বৈজ্ঞানিক গবেষণা সাময়িকীর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য ছিলেন।

- বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সদস্য - বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য।

প্রশাসনিক দায়িত্ব:

- বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইসলামি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কেন্দ্রের ভাইস ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন।

- দাওয়া ও উসূলে দ্বীন অনুষদের কিরাত বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ইলমি কার্যক্রম:

- তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক ওয়াকফ (ইস্তাম্বুল) কর্তৃক প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক বিশ্বকোষের বিভিন্ন ইলমি নিবন্ধ প্রণয়নে অংশগ্রহণ করেছেন।

- কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামি কর্তৃক পরিচালিত 'সহজ তাফসির বিশ্বকোষ' তত্ত্বাবধান করছেন।

- মসজিদে হারামের ধর্মীয় তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ১৩৯২ হিজরি থেকে সেখানে শিক্ষকতা করছেন।

- ভয়েস অফ ইসলাম রেডিওতে 'মুহাদ্দিসদের আদব থেকে' শীর্ষক ধারাবাহিক পর্ব পরিচালনা করেছেন।

- ১৪১৭ হিজরিতে নিজ আবেদনের প্রেক্ষিতে আগাম অবসরে যান।

- ১৩৯৯-১৪০১ হিজরি পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।

- দুবাইয়ে ইসলামি গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।

- ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ - ১৪১৮ হিজরিতে এর পরিচালক নিযুক্ত হন।

- ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ - ১৪১৮ হিজরিতে দুবাই ওয়াকফ কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

http://www.fiqhia.com/dr1.php

-------

সদস্য আবদুল্লাহ আল-খামিসের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌أحمد محمد الشرقاوي

الاسم: أحمد محمد الشرقاوي سالم

العنوان: بالمملكة العربية السعودية: القصيم عنيزة ص ب 152

الجوال بالمملكة 0508859385

العمل: أستاذ مشارك بكلية أصول الدين والدعوة الإسلامية جامعة الأزهر- قسم التفسير وعلوم القرآن، وكلية التربية للبنات عنيزة

المؤهلات العلمية

* حصل على درجة الإجازة العالية من كلية أصول الدين والدعوة قسم التفسير والحديث -بتقدير ممتاز مع مرتبة الشرف الأولى سنة 1990 م، وكان ترتيبه الأول على الدفعة 0

* حصل على الدراسات العليا من كلية أصول الدين والدعوة جامعة الأزهر بترتيب الأول 0

* حصل على درجة التخصص الماجستير في أصول الدين قسم التفسير وعلوم القرآن جامعة الأزهر سنة 1994 م وكان موضوع الرسالة " منهج الشيخ سعيد حوى رحمه الله في التفسير " 0

* حصل على درجة العالمية الدكتوراه في التفسير وعلوم القرآن من كلية أصول الدين جامعة الأزهر سنة 1998 م بمرتبة الشرف الأولى وكان موضوعها "المرأة في القصص القرآني " دراسة موضوعية مقارنة 0

* رقي إلى درجة أستاذ مشارك بتاريخ 7/5 / 2003م
আহমেদ মুহাম্মদ আল-শারক্বাউই

নাম: আহমেদ মুহাম্মদ আল-শারক্বাউই সালেম

ঠিকানা: সৌদি আরব রাজত্ব: আল-কাসিম, উনাইজাহ, পি.ও. বক্স ১৫২

মোবাইল (সৌদি আরব): ০৫০৮৮৫৯৩৮৫

কর্মস্থল: সহযোগী অধ্যাপক, উসুলুদ্দিন ও দাওয়াহ ইসলামিয়া অনুষদ, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় - তাফসির ও কুরআন বিজ্ঞান বিভাগ, এবং উনাইজাহ মহিলা শিক্ষা কলেজ

শিক্ষাগত যোগ্যতা

* ১৯৯০ সালে উসুলুদ্দিন ও দাওয়াহ অনুষদের তাফসির ও হাদিস বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থানসহ অত্যন্ত চমৎকার (মুমতাজ) ফলাফলের সাথে স্নাতক (ইজাজাহ আলিয়াহ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

* আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দিন ও দাওয়াহ অনুষদ থেকে প্রথম স্থান অধিকার করে উচ্চতর শিক্ষা (পোস্ট গ্রাজুয়েট) সম্পন্ন করেছেন।

* ১৯৯৪ সালে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দিন অনুষদের তাফসির ও কুরআন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি (মাস্টার্স) অর্জন করেন। তাঁর থিসিসের বিষয় ছিল "তাফসির শাস্ত্রে শায়খ সাঈদ হাওয়া (রহিমাহুল্লাহ)-এর পদ্ধতি"।

* ১৯৯৮ সালে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দিন অনুষদ থেকে তাফসির ও কুরআন বিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণির সম্মানসহ ডক্টরেট (আলামিয়া) ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল "কুরআনের গল্পে নারী: একটি বিষয়ভিত্তিক তুলনামূলক অধ্যয়ন"।

* ৭/৫/২০০৩ তারিখে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ١٥)
التدرج الوظيفي:

* عين معيدا بكلية أصول الدين والدعوة بالزقازيق قسم التفسير وعلوم القرآن بتاريخ 9/4 /1992

* رقي إلى درجة مدرس مساعد بتاريخ 6/3/1995 م 0

* ثم رقي إلى درجة مدرس بتاريخ 2/12/1998 م وحتى 2002 0

* رقي إلى درجة أستاذ مشارك بتاريخ 2/ 5 /2003

* يعمل حاليا بكلية التربية للبنات بعنيزة.

التدريس:

* قام بالتدريس في العديد من كليات جامعة الأزهر: كلية أصول الدين والدعوة، وكلية اللغة العربية، وكلية الشريعة، وكلية الدراسات الإسلامية والعربية، وكلية الدراسات الإنسانية، كذلك العديد من المعاهد العلمية ودور التحفيظ وحلقات المساجد، وعقد الكثير من الدورات العلمية في كتب العقيدة والفقه والتفسير وعلومه والحديث وعلومه.

* درَّس التفسير التحليلي والموضوعي والمقارن، وتاريخ التفسير ومناهجه وعلوم القرآن وعلوم الحديث والحديث والسيرة النبوية والفقه وأصوله ومقاصد التشريع وتاريخه، والثقافة الإسلامية، واللغة وعلومها.

* أشرف على العديد من الرسائل العلمية بمصر والسعودية وبعض البلدان العربية والإسلامية.

* قام بالتدريس لطالبات الدراسات العليا عديدا من المواد منها مادة مناهج البحث ومادة تحقيق التراث وغيرها.

* درَّس شرح المنظومة البيقونية للشيخ ابن عثيمين رحمه الله وذلك في معهد إعداد المعلمات التابع لجمعية تحفيظ القرآن بعنيزة.

الدورات العلمية

* حاضر في الكثير من الدورات العلمية بمصر والسعودية.
পেশাগত ক্রমোন্নতি:

* ১৯৯২ সালের ৯ই এপ্রিল তারিখে জাকাজিগ-এর উসুলুদ দ্বীন ও দাওয়াহ অনুষদের তাফসীর ও উলূমুল কুরআন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিযুক্ত হন।

* ১৯৯৫ সালের ৬ই মার্চ তারিখে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান।

* এরপর ১৯৯৮ সালের ২রা ডিসেম্বর তারিখে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান এবং ২০০২ সাল পর্যন্ত এই পদে আসীন ছিলেন।

* ২০০৩ সালের ২রা মে তারিখে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান।

* বর্তমানে তিনি উনাইজার মহিলা শিক্ষা অনুষদে কর্মরত আছেন।

অধ্যাপনা:

* তিনি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো অনুষদে অধ্যাপনা করেছেন: উসুলুদ দ্বীন ও দাওয়াহ অনুষদ, আরবি ভাষা অনুষদ, শরীয়াহ অনুষদ, ইসলামি ও আরবি শিক্ষা অনুষদ এবং মানবিক শিক্ষা অনুষদ। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ইনস্টিটিউট, কুরআন হিফজ কেন্দ্র এবং মসজিদের হালকাসমূহে পাঠদান করেছেন। এছাড়া তিনি আকীদা, ফিকহ, তাফসীর ও এর সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান এবং হাদীস ও হাদীস বিজ্ঞান বিষয়ের গ্রন্থসমূহের উপর অনেক বৈজ্ঞানিক কোর্স পরিচালনা করেছেন।

* তিনি বিশ্লেষণধর্মী, বিষয়ভিত্তিক ও তুলনামূলক তাফসীর, তাফসীরের ইতিহাস ও পদ্ধতি, উলূমুল কুরআন, উলূমুল হাদীস, হাদীস, সীরাতুন্নবী, ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ, মাকাসিদুশ শারীয়াহ ও এর ইতিহাস, ইসলামি সংস্কৃতি এবং ভাষা ও ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান করেছেন।

* তিনি মিশর, সৌদি আরব এবং কিছু আরব ও ইসলামি দেশের অনেকগুলো গবেষণাপত্র তত্ত্বাবধান করেছেন।

* তিনি উচ্চতর গবেষণার ছাত্রীদের গবেষণার পদ্ধতি এবং ঐতিহ্যবাহী পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (তাহকীকুত তুরাস) সহ আরও অনেক বিষয়ে পাঠদান করেছেন।

* তিনি উনাইজার কুরআন হিফজ সংস্থার অধীনস্থ মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শেখ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) রচিত 'শারহুল মানজুমাতুল বাইকুনিয়্যাহ' পাঠদান করেছেন।

বৈজ্ঞানিক কোর্সসমূহ

* তিনি মিশর এবং সৌদি আরবের অনেকগুলো বৈজ্ঞানিক কোর্সে লেকচার দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ١٦)
* وله أبحاث عديدة على ملتقى أهل التفسير وملتقى أهل الحديث وعضو بملتقى أهل القرآن وملتقى الجمعية العلمية السعودية للقرآن وعلومه وموقع صيد الفوائد وموقع لها أون لاين وموقع طريق الإسلام وموقع أم الكتاب وموقع مشكاة وغيره وعلى العديد من المنتديات.

البحوث والمؤلفات:

 

كتب وأبحاث منشورة

1. المرأة في القصص القرآني ط دار السلام للطباعة والنشر والتوزيع 2000م

2. فصل المقال في إمامة النساء للرجال. نشر على العديد من المواقع على شبكة الانترنت.

3. مناهج المفسرين مكتبة الرشد بالرياض 1425هـ.

4. مدخل إلى الثقافة الإسلامية مكتبة الرشد بالرياض 1425هـ.

5. الصبر عند فقد الولد ط/ دار السلام للطباعة والنشر والتوزيع ط/ 2000 م0

6. صلاة الاستخارة فضلها وأحكامها ط/ دار السلام للطباعة والنشر والتوزيع ط/2000 م0

7. المنهل القدسي في فضائل آية الكرسي توزيع دار السلام بالقاهرة

8. المقصد السني تفسير آية الكرسي. توزيع دار السلام بالقاهرة

9. يتيمة الدهر في تفسير سورة العصر. توزيع دار السلام بالقاهرة

10. تأملات في قصة أصحاب الكهف حولية كلية أصول الدين جامعة الأزهر 0

11. اختلاف المفسرين أسبابه وضوابطه. حولية كلية أصول الدين جامعة الأزهر.

12. منهج الشيخ سعيد حوى في كتابه الأساس في التفسير "رسالة التخصص الماجستير" طبع الجزء الأول منها بمطبعة الفردوس بالزقازيق.

13. نظرية الوحدة الموضوعية في القرآن الكريم من خلال الأساس في التفسير.

14. نظرات في علوم القرآن مطبعة الفردوس.

15. موقف الإمام الشوكاني في تفسيره من المناسبات منشور بمكتبة التفسير بملتقى أهل التفسير. وحولية كلية أصول الدين جامعة الأزهر

16. دراسات في مناهج المفسرين المعاصرة مطبعة الفردوس.
মুলতাক্বা আহলুত তাফসির এবং মুলতাক্বা আহলুল হাদিসে তাঁর অসংখ্য গবেষণা রয়েছে এবং তিনি মুলতাক্বা আহলুল কুরআন, কুরআন ও এর বিজ্ঞান বিষয়ক সৌদি বৈজ্ঞানিক সমিতি (মুলতাক্বা আল-জামিয়্যাহ আল-ইলমিয়্যাহ আস-সাউদিয়্যাহ লিল-কুরআন ওয়া উলুমিহ), সাইদুল ফাওয়ায়িদ ওয়েবসাইট, লাহা অনলাইন ওয়েবসাইট, তারিকুল ইসলাম ওয়েবসাইট, উম্মুল কিতাব ওয়েবসাইট, মিশকাত ওয়েবসাইট ও অন্যান্য সাইট এবং অনেক ফোরামের সদস্য।

গবেষণা ও গ্রন্থাবলি:

 

প্রকাশিত বই ও গবেষণাপত্র

১. কুরআনিক কাহিনীতে নারী, দারুস সালাম প্রকাশনী, ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ।

২. পুরুষদের ওপর নারীদের ইমামতির বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা। ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত।

৩. মুফাসসিরগণের কর্মপদ্ধতি, মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ, ১৪২৫ হিজরি।

৪. ইসলামি সংস্কৃতির ভূমিকা, মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ, ১৪২৫ হিজরি।

৫. সন্তান হারানোয় ধৈর্য ধারণ, দারুস সালাম প্রকাশনী, ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ।

৬. সালাতুল ইস্তিখারা: এর ফজিলত ও বিধান, দারুস সালাম প্রকাশনী, ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ।

৭. আল-মানহালুল কুদসি ফি ফাদায়িলি আয়াতিল কুরসি (আয়াতুল কুরসির ফজিলত), পরিবেশনায়: দারুস সালাম, কায়রো।

৮. আল-মাকসাদুস সুন্নি: আয়াতুল কুরসির তাফসির, পরিবেশনায়: দারুস সালাম, কায়রো।

৯. ইয়াতিমাতুদ দাহর ফি তাফসিরি সূরাতিল আসর, পরিবেশনায়: দারুস সালাম, কায়রো।

১০. আসহাবে কাহাফের কাহিনীতে কিছু ভাবনা, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের বার্ষিকী পত্রিকা।

১১. মুফাসসিরগণের মতভেদ: এর কারণ ও নীতিমালা, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের বার্ষিকী পত্রিকা।

১২. শেখ সাঈদ হাওয়ার 'আল-আসাস ফিত তাফসির' গ্রন্থের পদ্ধতি (মাস্টার্স থিসিস), এর প্রথম খণ্ড জাগাজিগ শহরের আল-ফিরদাউস প্রেসে মুদ্রিত।

১৩. 'আল-আসাস ফিত তাফসির' গ্রন্থের আলোকে পবিত্র কুরআনের বিষয়ভিত্তিক ঐক্যের তত্ত্ব।

১৪. উলুমুল কুরআনের ওপর কিছু পর্যালোচনা, আল-ফিরদাউস প্রেস।

১৫. ইমাম শাওকানির তাফসিরে 'মুনাসাবাত' (আয়াতসমূহের যোগসূত্র) সংক্রান্ত অবস্থান; মুলতাক্বা আহলুত তাফসির-এর লাইব্রেরিতে এবং আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের বার্ষিকী পত্রিকায় প্রকাশিত।

১৬. সমকালীন মুফাসসিরগণের কর্মপদ্ধতি বিষয়ক অধ্যয়ন, আল-ফিরদাউস প্রেস।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ١٧)
كتب وبحوث مُعدَّة للطبع:

17. حقوق المرأة في السنة النبوية:

18. كيف انتشر الإسلام وهل انتشر بالسيف؟

19. الأسرة المسلمة بين الماضي والحاضر وآفاق المستقبل.

20. أسماء الله الحسنى في ضوء الكتاب والسنة.

21. غثاء السيل!

22. بيت في الجنة.

23. 70 فائدة من قصة الإفك.

24. تأملات في قصة موسى والخصر

 

الأنشطة العلمية والاجتماعية:

* شارك في مؤتمر الثقافة الإسلامية بالإحساء 23 شوال 1426هـ بورقة عمل عن: الثقافة الإسلامية وقضايا المرأة.

* شارك في المؤتمر التأسيسي للمنظمات التطوعية في العالم الإسلامي.باسطنبول بورقة عمل حول سبل النهوض بالعمل الخيري في ضوء النهوض بالأمة.

* عضو الجمعية السعودية للقرآن الكريم وعلومه.

* عضو مؤسس في الاتحاد العالمي للمنظمات الإسلامية التطوعية.

* عضو هيئة علماء الجمعية الشرعية للعاملين بالكتاب والسنة بمصر من 2000 وحتى تاريخه 0

* من المعنيين بقضايا المرأة والأسرة المسلمة.

* من المهتمين برد الشبهات المثارة حول الإسلام بوجه عام.

* كتب العديد من المقالات المتنوعة في الصحف والمجلات العربية وعلى بعض المواقع الإسلامية على شبكة الانترنت.

* رئيس الجمعية الشرعية فرع أبوكبير شرقية بمصر من 1999 إلى 1422هـ

* عضو مؤسس لجمعية أصدقاء المرضى بالشرقية - مصر 0

* حصل على لقب الطالب المثالي على مستوى جامعة الأزهر لعام 1990 م

* مشرف ومنسق للدورات الصيفية والمخيمات التي نظمتها هيئة الإغاثة الإسلامية بجمعية الهداية لطلاب البعوث الإسلامية 0

* شارك في العديد من الأسابيع الثقافية التي نظمتها جمعية أنصار السنة المحمدية والجمعية الشرعية بمصر.

* دَرَسَ في عدة دورات لتعليم اللغة الإنجليزية بمصر والسعودية.

والله الموفق

--------------------------------------------

المصدر: موقع صيد الفوائد: www.saaid.net
মুদ্রণের জন্য প্রস্তুতকৃত বই ও গবেষণাসমূহ:

১৭. সুন্নাহ-এ নববীতে নারীর অধিকার:

১৮. ইসলাম কীভাবে ছড়িয়েছে এবং তা কি তরবারির মাধ্যমে ছড়িয়েছে?

১৯. অতীত ও বর্তমানের মাঝে মুসলিম পরিবার এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা।

২০. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ।

২১. প্রবল বন্যার ফেনা!

২২. জান্নাতে একটি ঘর।

২৩. ইফকের ঘটনা থেকে ৭০টি শিক্ষা।

২৪. মূসা ও খিজিরের ঘটনার প্রতিফলন

 

বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক কার্যক্রম:

* তিনি ২৩ শাওয়াল ১৪২৬ হিজরিতে আহসায় অনুষ্ঠিত ইসলামি সংস্কৃতি সম্মেলনে 'ইসলামি সংস্কৃতি ও নারী বিষয়ক সমস্যা' শীর্ষক একটি কর্মপত্র নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।

* তিনি ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত মুসলিম বিশ্বের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর প্রতিষ্ঠাতা সম্মেলনে 'উম্মাহর জাগরণের আলোকে দাতব্য কাজের উন্নতির উপায়' শীর্ষক একটি কর্মপত্র নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।

* পবিত্র কুরআন ও উলুমুল কুরআন বিষয়ক সৌদি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য।

* ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ ইসলামিক ভলান্টিয়ার অর্গানাইজেশনস-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

* ২০০০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত মিশরের 'জামঈয়্যাহ শারইয়্যাহ লি-আমিলিনা বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ'-এর ওলামা পরিষদের সদস্য।

* নারী ও মুসলিম পরিবারের সমস্যাবলি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।

* সাধারণভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সংশয় নিরসনে আগ্রহীদের অন্তর্ভুক্ত।

* তিনি বিভিন্ন আরবি সংবাদপত্র ও সাময়িকীতে এবং ইন্টারনেটের কিছু ইসলামি ওয়েবসাইটে অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেছেন।

* ১৯৯৯ থেকে ১৪২২ হিজরি পর্যন্ত মিশরের শারকিয়ার আবু কবির শাখার জামঈয়্যাহ শারইয়্যাহ-এর সভাপতি।

* মিশরের শারকিয়ার 'পেশেন্ট ফ্রেন্ডস সোসাইটি'র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

* ১৯৯০ সালে আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আদর্শ ছাত্রের খেতাব লাভ করেন।

* 'হিদায়া সোসাইটি'তে আন্তর্জাতিক ইসলামি শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামি রিলিফ অর্গানাইজেশন কর্তৃক আয়োজিত গ্রীষ্মকালীন কোর্স এবং ক্যাম্পগুলোর সুপারভাইজার ও সমন্বয়কারী।

* মিশরের 'আনসারুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়াহ' এবং 'জামঈয়্যাহ শারইয়্যাহ' কর্তৃক আয়োজিত অসংখ্য সাংস্কৃতিক সপ্তাহে অংশগ্রহণ করেছেন।

* মিশর ও সৌদিতে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার বেশ কয়েকটি কোর্সে অধ্যয়ন করেছেন।

আল্লাহই তাওফিকদাতা

--------------------------------------------

উৎস: সাইদ আল-ফাওয়াইদ ওয়েবসাইট: www.saaid.net
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌أحمد منصور آل سبالك

 

هذه كلمات في ترجمة الشيخ العلامة الأصولي/ أحمد منصور آل سبالك. لا أكتبها تمجيدا لشخص ولكن أكتبها إعلاما بهذا الأصولي الذي نحسبه ممن فتح الله عليهم في علم الأصول

وهو من العلوم التي قل من تخصص فيها من أهل السنة في مصر -حسب علمي- ورأينا الشباب السلفي يتجهون إلى ذلك الضال (علي جمعة) رأس الأشاعرة وقد رأيت بعضهم تحول إلى مفوض بعد الحضور عنده فإلى الله المشتكى

والشيخ -حفظه الله- دلالة على أن الأزهر رغم ما فيه ما زال يخرج نبتا طيبا ذكرّنا بالشيخ أحمد شاكر والشيخ الوكيل -رحمهما الله تعالى-

كما أني أكتب هذه الترجمة لإخواننا في معهد العزيز بالله كي يتعرفوا على الشيخ

والله المستعان

هو الشيخ أحمد بن منصور بن حسين بن محمد بن سبالك

ولد الشيخ -حفظه الله- في أسوان في أقصى صعيد مصر

النشأة والتعلم: في القاهرة حيث انتقل إليها للتعلم والدراسة ثم استفر بها

*تعلم بالأزهر الشريف -عمره الله بالعلم-وقرأ فيه على يد مشايخ أجلاء وهم:

- الشيخ العلامة/ عبد الغني عبد الخالق: قرأ عليه الفقه والأصول.

- الشيخ العلامة/ محمد السايس: قرأ عليه الفقه والأصول.

- الشيخ العلامة/ أبو النور زهير: قرأ عليه الأصول.

- الشيخ العلامة/ أحمد مسلم: قرأ عليه الفقه.

- الشيخ العلامة/ عبد الله المشد: قرأ عليه الفقه.

- الشيخ العلامة/ حسنين مخلوف: قرأ عليه الفقه والأصول والعقيدة.

- الشيخ العلامة/ عبد الرزاق عفيفي: قرأ عليه الفقه والأصول والعقيدة

والفرق والمذاهب والتفسير.

- الشيخ العلامة/ محمد عبد المنعم القيعي: قرأ عليه الأصول والتفسير

وعلوم القرآن والنحو.

- الشيخ العلامة/ محمد جميل غازي: قرأ عليه الأدب والبلاغة والعقيدة

والتفسير وعلوم القرآن.

- الشيخ العلامة/ محمد نايل: قرأ عليه اللغة العربية وعلومها.

- الشيخ العلامة/ محمد أبو شهبة: قرأ عليه الحديث وعلومه والسيرة النبوية.

- الشيخ العلامة/ محمد المطيعي: قرأ عليه الفقه والحديث وعلومه.

- الشيخ العلامة/ عبد الرزاق البكري: قرأ عليه علم القراءات.

مصنفاته:

ألف في شتى علوم الشريعة من العقيدة والفرق والمذاهب والتفسير وعلوم القرآن واللغة العربية

وعلومها والحديث وعلومه والفقه والأصول وكان جل مصنفاته في الأخيرين ومنها:

- الإشارات النافعات على شرح منتهى الإرادات وقد ذكر الشيخ أنه حققه على عشرين مخطوطة.

- السالك في شرح موطأ الإمام مالك.

-إنعام من الله الصمد في شرح بداية المجتهد ونهاية المقتصد

-الثمر الداني في كيفية البحث في الفقه الإسلامي

-منة الوهاب في بيان الفقه المقارن للطلاب

-هداية المقلدين عند اختلاف آراء المجتهدين

- أعذار الفقهاء

-رسالة الحنكة في اختلاف المطالع

- المقدمة الضرورية لدارسي الفقه والأصول.

- أصول الفقه وابن تيمية وقد أخبرني الشيخ-حفظه الله- أنه في سبعة وعشرين مجلداً أنهى منها الشيخ واحد وعشرين مجلدا.

- الأصول الواضحات في شرح الورقات.

- غاية التحرير في شرح مختصر التحرير.

- الابتهاج في شرح المنهاج.

- البدر الساطع في شرح جمع الجوامع.

- السراج الوهاج في بيان ماهية الزواج.

- فتح من رب البرية في اختصار شرح العقيدة الطحاوية.

- شرح شرح العقيدة الطحاوية بكلام ابن القيم وابن تيمية.

- المختصر في النحو.

- المدخل لدراسة السنة النبوية.

- غاية النفحات قواعد لدراسة الأسماء والصفات. قال عنه الدكتور/ مصطفى حلمي (إحاطة كاملة بموضوعه وإجابة شافية لكل سؤال يرد على الخاطر عند تناول مسألة صفات الله عزوجل-

وقال: هي دراسة جامعة لم تترك شاردة ولا واردة)

** شارك الشيخ -حفظه الله- في مؤتمرات علمية عديدة منها ما يتصل ب-:

الفقه والأصول والنوازل التي تنزل بالأمة الإسلامية وقضايا العصر والتفسير وعلوم القرآن واللغة العربية وعلومها والحديث وعلومه والعقيدة والفرق والمذاهب.

*شارك في وضع المنهاج لمعاهد علمية عديدة وشارك في تقييم مناهج معاهد أخرى.

*شارك في دوريات مختلفة بمقالات وأبحاث شتى.

* له سلسة محاضرات إذاعية وتليفزيونية وبالأخص في القنوات الفضائية.

* له سلسة محاضرات في المساجد والمنتديات ودور المناسبات في شتى المجالات.

* حاضر في الحرمين الشريفين (المكي والمدني) وحاضر في الأزهر الشريف.

* يعمل عميدا لمعهد علوم القرآن والحديث للدراسات الإسلامية والعربية.

* عضو في لجنة الفتوى بمراكز إسلامية عديدة.

*عضو في جبهة علماء الأزهر الشريف.

وكل من رأى الشيخ -حفظه المولى- علم ما عليه من أدب جم وتواضع شديد وسعة صدر قل أن يصادفها المرء

وصدق من قال حال رجل في ألف رجل خير من مقال ألف رجل في رجل.

والحمد لله رب العالمين.

نقلا عن: الأخ الفاضل الغالى حامد الحنبلى

http://www.ahlalhdeeth.com/vb/showt … &threadid=11582

---------

بواسطة العضو أبو عبد الرحمن الدرعمى
আহমাদ মানসুর আল-সাবালক

 

এই কথাগুলো শায়খ আল্লামা উসূলবিদ আহমাদ মানসুর আল-সাবালক-এর জীবনী প্রসঙ্গে। আমি এগুলো কোনো ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করার জন্য লিখছি না, বরং এই উসূলবিদ সম্পর্কে অবগত করার জন্য লিখছি, যাঁকে আমরা উসূল শাস্ত্রের (ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি) এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি যাঁদের জন্য আল্লাহ এই শাস্ত্রের দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছেন।

এটি এমন একটি শাস্ত্র যাতে মিশরের আহলুস সুন্নাহর মধ্যে খুব কম লোকই বিশেষজ্ঞ হয়েছেন—আমার জানামতে। আমরা দেখেছি সালাফি যুবকরা সেই পথভ্রষ্ট (আলী জুমা)-র দিকে ঝুঁকছে, যিনি আশআরিদের প্রধান; আমি তাদের কয়েকজনকে দেখেছি তার মজলিসে উপস্থিত হওয়ার পর ‘মুফাউউয়িদাহ’ (আল্লাহর গুণাবলির অর্থ আল্লাহর ওপর সোপর্দকারী)-তে পরিণত হয়েছে, সুতরাং আল্লাহর কাছেই ফরিয়াদ।

আর শায়খ—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, আযহার বিশ্ববিদ্যালয় তার বর্তমান পরিস্থিতির মাঝেও এখনও এমন উত্তম ফসল উৎপন্ন করছে, যা আমাদের শায়খ আহমাদ শাকির এবং শায়খ আল-ওয়াকীল—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন—এর কথা মনে করিয়ে দেয়।

এছাড়া আমি এই জীবনীটি ‘মা’হাদ আল-আযীয বিল্লাহ’-র আমাদের ভাইদের জন্য লিখছি যাতে তারা শায়খ সম্পর্কে পরিচিত হতে পারেন।

আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

তিনি হলেন শায়খ আহমাদ বিন মানসুর বিন হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন সাবালক।

শায়খ—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—মিশরের দূরবর্তী উচ্চভূমি আসওয়ানে জন্মগ্রহণ করেন।

বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষাগ্রহণ: কায়রোতে, যেখানে তিনি জ্ঞান অর্জন ও পড়াশোনার জন্য স্থানান্তরিত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীকালে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

* তিনি আযহার আল-শরীফে পড়াশোনা করেছেন—আল্লাহ একে ইলমের দ্বারা আবাদ রাখুন—এবং সেখানে তিনি প্রথিতযশা শায়খদের কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন, তাঁরা হলেন:

- শায়খ আল্লামা আব্দুল গনি আব্দুল খালিক: তাঁর নিকট ফিকহ ও উসূল শাস্ত্র পড়েছেন।

- শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ আস-সাইস: তাঁর নিকট ফিকহ ও উসূল শাস্ত্র পড়েছেন।

- শায়খ আল্লামা আবু আন-নূর যুহাইর: তাঁর নিকট উসূল শাস্ত্র পড়েছেন।

- শায়খ আল্লামা আহমাদ মুসলিম: তাঁর নিকট ফিকহ শাস্ত্র পড়েছেন।

- শায়খ আল্লামা আব্দুল্লাহ আল-মাশাদ: তাঁর নিকট ফিকহ শাস্ত্র পড়েছেন।

- শায়খ আল্লামা হাসানাইন মাখলুফ: তাঁর নিকট ফিকহ, উসূল এবং আকিদাহ পড়েছেন।

- শায়খ আল্লামা আব্দুল রাজ্জাক আফীফী: তাঁর নিকট ফিকহ, উসূল, আকিদাহ,

ফিরকা ও মাযহাবসমূহ এবং তাফসীর পড়েছেন।

- শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ আব্দুল মুনইম আল-ক্বীঈ: তাঁর নিকট উসূল, তাফসীর,

উলূমুল কুরআন এবং নাহু (ব্যাকরণ) পড়েছেন।

- শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ জামিল গাজী: তাঁর নিকট আদব (সাহিত্য), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), আকিদাহ,

তাফসীর এবং উলূমুল কুরআন পড়েছেন।

- শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ নায়েল: তাঁর নিকট আরবি ভাষা ও এর সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহ পড়েছেন।

- শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ আবু শাহবাহ: তাঁর নিকট হাদীস, উলূমুল হাদীস এবং সীরাত পড়েছন।

- শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ আল-মুত্বীঈ: তাঁর নিকট ফিকহ, হাদীস ও উলূমুল হাদীস পড়েছেন।

- শায়খ আল্লামা আব্দুল রাজ্জাক আল-বাকরী: তাঁর নিকট ক্বিরাআত শাস্ত্র পড়েছেন।

তাঁর রচনাবলি:

তিনি শরীয়তের বিভিন্ন বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আকিদাহ, ফিরকা ও মাযহাবসমূহ, তাফসীর, উলূমুল কুরআন, আরবি ভাষা ও এর সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহ, হাদীস ও উলূমুল হাদীস এবং ফিকহ ও উসূল। তবে তাঁর অধিকাংশ রচনা ছিল শেষের দুটি বিষয়ে, যার মধ্যে রয়েছে:

- আল-ইশারাতুন নাফিয়াত আলা শারহি মুনতাহাল ইরাদাত: শায়খ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি বিশটি পাণ্ডুলিপির সাহায্যে তাহকীক করেছেন।

- আস-সালিক ফী শারহি মুয়াত্ত্বা আল-ইমাম মালিক।

- ইনআমুন মিনাল্লাহিস সামাদ ফী শারহি বিদায়াতুল মুজতাহিদ ওয়া নিহায়াতুল মুকতাসিদ।

- আস-সামারুদ দানী ফী কাইফিয়্যাতিল বাহসি ফিল ফিকহিল ইসলামী।

- মিন্নাতুল ওয়াহহাব ফী বায়ানিল ফিকহিল মুকারিন লিত্তুলাব।

- হিদায়াতুল মুকাল্লিদীন ইনদা ইখতিলাফি আরওয়াইল মুজতাহিদীন।

- আ’যারুল ফুকাহহা।

- রিসালাতুল হিনকাহ ফিল ইখতিলাফিল মাত্বালি’।

- আল-মুকাদ্দিমাতুজ যারুরিয়্যাহ লিদারিহিল ফিকহি ওয়াল উসূল।

- উসূলুল ফিকহি ওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ: শায়খ—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—আমায় জানিয়েছেন যে, এটি ২৭ খণ্ডে সমাপ্ত হবে, যার মধ্যে শায়খ ২১ খণ্ড সম্পন্ন করেছেন।

- আল-উসূলুল ওয়াদিহাত ফী শারহিল ওয়ারাকাত।

- গায়াতুত তাহরীর ফী শারহি মুখতাসারিত তাহরীর।

- আল-ইবতিহাজ ফী শারহিল মিনহাজ।

- আল-বাদরুস সাতি’ ফী শারহি জামউল জাওয়ামি’।

- আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ ফী বায়ানি মাহিয়্যাতিয যাওয়ায।

- ফাতহুন মির রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী ইখতিসারি শারহিল আকিদাতিত ত্বাহাবিয়্যাহ।

- শারহু শারহিল আকিদাতিত ত্বাহাবিয়্যাহ (ইবনুল কাইয়্যিম এবং ইবনু তাইমিয়্যাহর বক্তব্যের আলোকে)।

- আল-মুখতাসার ফিন নাহু।

- আল-মাদখাল লি দিরাসাতিল সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ।

- গায়াতুন নাফাহাত কাওয়াইদু লি দিরাসাতিল আসমাই ওয়াস সিফাত। এটি সম্পর্কে ডক্টর মুস্তফা হিলমী বলেছেন: (স্বীয় বিষয়ে এটি এক পূর্ণাঙ্গ পরিবেষ্টনকারী এবং মহান আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত মাসআলা আলোচনার সময় মনে যে সকল প্রশ্নের উদয় হয়, তার প্রতিটি ক্ষেত্রে এটি একটি পর্যাপ্ত উত্তর।)

তিনি আরও বলেছেন: এটি এমন এক ব্যাপক গবেষণা যা ছোট-বড় কোনো কিছুই বাদ দেয়নি।

** শায়খ—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—অনেকগুলো ইলমি সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন যার মধ্যে রয়েছে:

ফিকহ, উসূল, উম্মাহর ওপর আপতিত সমসাময়িক দুর্যোগ ও ফিকহি সমস্যাসমূহ, আধুনিক কালের বিভিন্ন বিষয়, তাফসীর, উলূমুল কুরআন, আরবি ভাষা ও সাহিত্য, হাদীস ও উলূমুল হাদীস এবং আকিদাহ, ফিরকা ও মাযহাবসমূহ।

* তিনি অনেকগুলো দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম প্রণয়নে অংশগ্রহণ করেছেন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম মূল্যায়নে ভূমিকা রেখেছেন।

* বিভিন্ন সাময়িকীতে নানা নিবন্ধ ও গবেষণাপত্র লিখেছেন।

* রেডিও এবং টেলিভিশনে, বিশেষ করে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে তাঁর ধারাবাহিক আলোচনা রয়েছে।

* বিভিন্ন মসজিদ, সভা-সমাবেশ এবং অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর ধারাবাহিক বক্তৃতা রয়েছে।

* তিনি দুই পবিত্র হারাম শরীফে (মক্কা ও মদিনা) এবং আযহার আল-শরীফে দরস প্রদান করেছেন।

* তিনি উলূমুল কুরআন ও হাদীস ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক অ্যান্ড অ্যারাবিক স্টাডিজ-এর ডিন হিসেবে কর্মরত আছেন।

* বিভিন্ন ইসলামিক সেন্টারের ফতোয়া বোর্ডের সদস্য।

* জাবহাতু উলামাই আযহার আল-শরীফ-এর সদস্য।

যে ব্যক্তিই শায়খকে—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—দেখেছেন, তিনি তাঁর সুমহান আদব, প্রবল বিনয় এবং প্রশস্ত হৃদয়ের পরিচয় পেয়েছেন, যা সাধারণত খুব কমই দেখা যায়।

সত্যই বলা হয়েছে: হাজারো মানুষের মাঝে একজন মানুষের আমলি অবস্থা, এক ব্যক্তির ব্যাপারে হাজারো মানুষের প্রশংসাসূচক বক্তব্যের চেয়ে উত্তম।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

সংগৃহীত: ভদ্রোতম ভাই হামেদ আল-হাম্বলী-এর নিকট থেকে।

http://www.ahlalhdeeth.com/vb/showt … &threadid=11582

---------

সদস্য আবু আবদুর রহমান আদ-দার'আমী কর্তৃক।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ١٩)
أحمد أمين.. مؤرخ الفكر الإسلامي

(في ذكرى وفاته: 27 من رمضان 1373 هـ)

مصطفى عاشور

أحمد أمين

شهدت مصر في الفترة بين أواخر القرن التاسع عشر الميلادي، وأوائل القرن العشرين تكون جيل من العلماء الموسوعيين في كافة المجالات، استطاع أن يقود الحياة الثقافية في مصر والعالم العربي ردحا من الزمن، واستطاع أيضا أن ينير الطريق الثقافي للأجيال التي جاءت بعده لتبني على مجهوداته ولتكمل مسيرته.

وقد رأى هذا الجيل أن يقود الناس من خلال الكلمة والفكر قبل السياسة والحكم، ولذلك اهتم اهتماما قل نظيره بتثقيف نفسه، فتعامل مع الينابيع الصافية والأصيلة للحضارة والثقافة العربية والإسلامية، وفي الوقت نفسه تعامل وتفاعل مع الحضارة والثقافة الغربية.

وعندما وصل هذا الجيل الفريد إلى الدرجة العالمية من العلم تلفت حوله، فوجد الناس خواء، فقراء فكريا وعلميا، غير أن عقولهم ما زالت تربة خصبة لزراعة الأفكار؛ لذلك سعى ما وسعه الجهد للنهوض بأمته وأبناء جلدته، فخاطب الناس على كافة الجبهات، وفي شتى الميادين؛ فكان هذا الجيل هو حزب الثقافة والنهوض، فلم تضيعه السياسة في مناوراتها، ووعورة طريقها ولكن السياسة كانت عنده مرادفا للوطنية.

حياة في كلمات

تلك المقدمة هي ملخص حياة هذا الجيل الفريد، وهي تنطبق على كثير من رواده، ومنهم الكاتب الموسوعي "أحمد أمين" الذي بدأ حياته أزهريا، واستطاع بعد محاولات أن يخلع هذا الزي، ثم عمل مدرسا بمدرسة القضاء الشرعي سنوات طويلة، ثم جلس على كرسي القضاء ليحكم بين الناس بالعدل، فصار العدل رسما له إلى جانب رسمه، ثم أصبح أستاذا بالجامعة، فعميدا رغم أنه لا يحمل درجة الدكتوراة!، ثم تركها ليساهم في إنشاء أكبر مجلتين في تاريخ الثقافة العربية هما: "الرسالة"، و"الثقافة"، ثم بدأ رحلة من البحث والتنقيب في الحياة العقلية للعرب، فجاء بعد عناء طويل بـ"فجر الإسلام" و"ضحى الإسلام" و"ظُهر الإسلام".

النشأة والتكوين

وُلد أحمد أمين إبراهيم الطباخ في (2 من محرم 1304هـ= 11 من أكتوبر 1886م) في القاهرة، وكان والده أزهريا مولعا بجمع كتب التفسير والفقه والحديث، واللغة والأدب، بالإضافة إلى ذلك كان يحفظ القرآن الكريم ويعمل في الصباح مدرسا في الأزهر، ومدرسا في مسجد الإمام الشافعي، وإماما للمسجد، كما كان يعمل مصححا بالمطبعة الأميرية؛ فتفتحت عيناه على القرآن الكريم الذي يتلوه أبوه صباح مساء.

واهتم والده به منذ صغره، وساعده في حفظ القرآن الكريم، وفرض عليه برنامجا شاقا في تلقي دروسه وعوده على القراءة والإطلاع، كما كان الأب صارما في تربية ابنه يعاقبه العقاب الشديد على الخطأ اليسير؛ وهو ما جعل الابن خجولا، وعُرف عنه أيضا إيثاره للعزلة، فاتجه إلى الكتب بدلا من الأصحاب؛ فنَمَتْ عقليته على حساب الملكات الأخرى.

ودخل أحمد أمين الكُتَّاب وتنقل في أربعة كتاتيب، ودخل المدرسة الابتدائية، وأعجب بنظامها إلا أن أباه رأى أن يلحقه بالأزهر، ودرس الفقه الحنفي؛ لأنه الفقه الذي يعد للقضاء الشرعي.

مدرسة القضاء الشرعي

وقد نشأت في تلك الفترة مدرسة القضاء الشرعي التي اختير طلابها من نابغي أبناء الأزهر بعد امتحان عسير، فطمحت نفس أحمد إلى الالتحاق بها، واستطاع بعد جهد أن يجتاز اختباراتها، ويلتحق بها في (1325هـ= 1907م) ، وكانت المدرسة ذات ثقافة متعددة دينية ولغوية وقانونية عصرية وأدبية، واختير لها ناظر كفء هو "عاطف باشا بركات" الذي صاحبه أحمد أمين ثمانية عشر عاما، وتخرج في المدرسة سنة (1330هـ= 1911م) حاصلا على الشهادة العالمية، واختاره عاطف بركات معيدا في المدرسة فتفتحت نفس الشاب على معارف جديدة، وصمم على تعلم اللغة الإنجليزية فتعلمها بعد عناء طويل، وفي ذلك يقول: "سلكت كل وسيلة لتحقيق هذه الغاية".

وشاءت الأقدار أن يحاط وهو بمدرسة القضاء الشرعي بمجموعة من الطلاب والأساتذة والزملاء لكل منهم ثقافته المتميزة واتجاهه الفكري؛ فكان يجلس مع بعضهم في المقاهي التي كانت بمثابة نوادٍ وصالونات أدبية في ذلك الوقت يتناقشون، واعتبرها أحمد أمين مدرسة يكون فيها الطالب أستاذا، والأستاذ طالبا، مدرسة تفتحت فيها النفوس للاستفادة من تنوع المواهب.

وكان تأثير عاطف بركات فيه كبيرا؛ إذ تعلم منه العدل والحزم والثبات على الموقف، كان يعلمه في كل شيء في الدين والقضاء وفي تجارب الناس والسياسة، حتى إنه أُقصي عن مدرسة القضاء الشرعي بسبب وفائه لأستاذه بعدما قضى بها 15 عاما نال فيها أكثر ثقافته وتجاربه؛ لذلك قال عن تركها: "بكيت عليها كما أبكي على فقد أب أو أم أو أخ شقيق".

القضاء والعدل

غلاف كتاب فجر الإسلام لأحمد أمين

شغل أحمد أمين وظيفة القاضي مرتين الأولى سنة (1332هـ= 1913م) في "الواحات الخارجة" لمدة ثلاثة شهور، أما المرة الثانية فحين تم إقصاؤه من مدرسة "القضاء الشرعي" لعدم اتفاقه مع إدارتها، بعد أن تركها أستاذه عاطف بركات، وأمضى في القضاء في تلك الفترة أربع سنوات، عُرف عنه فيها التزامه بالعدل وحبه له، حتى صار يُلقب بـ"العدل"، واستفاد من عمله بالقضاء أنه كان لا يقطع برأي إلا بعد دراسة وتمحيص شديد واستعراض للآراء والحجج المختلفة، ولم تترك نزعة القضاء نفسه طيلة حياته بدءا من نفسه حتى الجامعة.

الجامعة

بدأ اتصال أحمد أمين بالجامعة سنة (1345هـ= 1926م) عندما رشحه الدكتور "طه حسين" للتدريس بها في كلية الآداب، ويمكن القول بأن حياته العلمية بالمعنى الصحيح آتت ثمارها وهو في الجامعة؛ فكانت خطواته الأولى في البحث على المنهج الحديث في موضوع المعاجم اللغوية، وكانت تمهيدا لمشروعه البحثي عن الحياة العقلية في الإسلام التي أخرجت "فجر الإسلام" و"ضحى الإسلام".

وتولى في الجامعة تدريس مادة "النقد الأدبي"، فكانت محاضراته أولى دروس باللغة العربية لهذه المادة بكلية "الآداب"، ورُقِّي إلى درجة أستاذ مساعد من غير الحصول على الدكتوراة، ثم إلى أستاذ فعميد لكلية الآداب سنة (1358هـ= 1939م) ، واستمر في العمادة سنتين استقال بعدهما؛ لقيام الدكتور "محمد حسين هيكل" وزير المعارف بنقل عدد من مدرسي كلية الآداب إلى الإسكندرية من غير أن يكون لأحمد أمين علم بشيء من ذلك، فقدم استقالته وعاد إلى عمله كأستاذ، وهو يردد مقولته المشهورة: "أنا أصغر من أستاذ وأكبر من عميد".

وفي الجامعة تصدَّع ما بينه وبين طه حسين من وشائج المودة؛ إذ كان لطه تزكيات خاصة لا يراها أحمد أمين صائبة التقدير، وتكرر الخلاف أكثر من مرة فاتسعت شُقَّة النفور، وقال عنه طه: "كان يريد أن يغير الدنيا من حوله، وليس تغير الدنيا ميسرا للجميع".

وقد عد فترة العمادة فترة إجداب فكري، وقحط تأليفي؛ لأنها صرفته عن بحوثه في الحياة العقلية.

الجامعة الشعبية

وفي سنة (1365هـ= 1945م) انتُدب للعمل مديرا للإمارة الثقافية بوزارة المعارف، وهي إدارة تعمل دون خطة مرسومة واضحة؛ فليس لها أول يُعرف ولا آخر يُوصف تساعد الجاد على العمل، والكسول على الكسل، وفي توليه لهذه الإدارة جاءت فكرة "الجامعة الشعبية"؛ حيث رأى أن للشعب حقا في التعلم والارتواء العلمي، وكان يعتز بهذه الجامعة اعتزازا كبيرا ويطلق عليها "ابنتي العزيزة"، وهي التي تطورت فيما بعد إلى ما سُمي بقصور الثقافة، وكان آخر المناصب التي شغلها بعد إحالته إلى التقاعد منصب مدير الإدارة الثقافية بجامعة الدول العربية.

لجنة التأليف والترجمة والنشر

أشرف أحمد أمين على لجنة التأليف والترجمة والنشر مدة أربعين سنة منذ إنشائها حتى وفاته، وكان لهذه اللجنة أثر بالغ في الثقافة العربية؛ إذ قدمت للقارئ العربي ذخائر الفكر الأوروبي في كل فرع من فروع المعرفة تقديما أمينا يبتعد عن الاتجار، كما قدمت ذخائر التراث العربي مشروحة مضبوطة، فقدمت أكثر من 200 كتاب مطبوع.

وكانت الثقة في مطبوعات اللجنة كبيرة جدا؛ لذلك رُزقت مؤلفات اللجنة حظا كبيرا من الذيوع وتخطفتها الأيدي والعقول، كما أنشأت هذه اللجنة مجلة "الثقافة" في (ذي الحجة 1357هـ = يناير 1939م) ، ورأس تحريرها، واستمرت في الصدور أربعة عشر عاما متوالية، وكان يكتب فيها مقالا أسبوعيا في مختلف مناحي الحياة الأدبية والاجتماعية، وكانت ثمرة هذه الكتابات كتابه الرائع "فيض الخاطر" بأجزائه العشرة.

وامتازت مجلة الثقافة بعرضها للتيارات والمذاهب السياسية الحديثة، وتشجيعها للتيار الاجتماعي في الأدب وفن الرواية والمسرحية، وعُنيت المجلة بالتأصيل والتنظير.

 

غلاف كتاب ضحى الإسلام لأحمد أمين

كما كان يكتب في مجلة "الرسالة" الشهيرة، وأثرى صفحاتها بمقالاته وكتاباته، وخاض بعض المحاورات مع كبار كتاب ومفكري عصره على صفحات الثقافة، ومنها محاورته مع الدكتور "زكي نجيب محمود"، الذي كتب مقالا نعى وانتقد فيه محققي التراث العربي ونشر ذخائره، ورأى أن الفكر الأوروبي أجدر بالشيوع والذيوع والترجمة من مؤلفات مضى زمانها، وأطلق على كتب التراث "الكتاب القديم المبعوث من قبره"، ثم قال: "سيمضي الغرب في طريقه، وهو يحاول الصعود إلى ذرى السماء، ونحن نحفر الأجداث لنستخرج الرمم".

فأثارت هذه الكلمات المجحفة للتراث أحمد أمين؛ فرد على ما قيل، وأكد أن الغرب أسس نهضته ومدنيته على الحضارة الرومانية واليونانية، وأكد أيضا أن المستشرقين هم أول من اهتم بالتراث العربي فنشروا أصوله وذخائره.

المجامع اللغوية

وقد أصبح عضوا بمجمع اللغة العربية سنة (1359هـ= 1940م) بمقتضى مرسوم ملكي، وكان قد اختير قبل ذلك عضوا مراسلا في المجمع العربي بدمشق منذ (1345هـ= 1926م) ، وفي المجمع العلمي العراقي، وبعضويته في هذه المجامع الثلاثة ظهرت كفايته وقدرته على المشاركة في خدمة اللغة العربية.

وكان رأيه أن المجمع ليست وظيفته الأساسية وضع المصطلحات وإنما عمله الأساسي هو وضع المعجم اللغوي التاريخي الأدبي الكبير، ويضاف هذا الإسهام الكبير في مجمع اللغة العربية إلى رصيده في خدمة الثقافة، كما اختير عضوا في المجلس الأعلى لدار الكتب سنة (1358هـ= 1939م) .

السياسة

كانت السياسة عند أحمد أمين تعني الوطنية لا يرى فرقا بينهما، وترجع معرفته بالسياسة وأقطابها إلى أستاذه عاطف بركات، وقد أُعجب الزعيم سعد زغلول به وبوطنيته، وبدقة تقاريره التي كان يكتبها عن أحوال مصر إبان ثورة 1919، ورغم ميله للوفد فإنه لم يشارك في السياسة بقدر كبير خوفا من العقوبة، وفي صراحة شديدة يقول: "ظللت أساهم في السياسة وأشارك بعض من صاروا زعماء سياسيين، ولكن لم أندفع اندفاعهم، ولم أظهر في السياسة ظهورهم لأسباب، أهمها لم أتشجع شجاعتهم؛ فكنت أخاف السجن وأخاف العقوبة".

ولما قارب سن الإحالة إلى المعاش اعتذر عن رئاسة تحرير جريدة "الأساس" التي اعتزم السعوديون إصدارها، وكان في ذلك الوقت منصرفا لأعماله الثقافية والفكرية المختلفة؛ لذلك كان بعده عن السياسة موافقا لهوى في نفسه من إيثار العزلة، واستقلال في الرأي وحرية في التفكير.

شخصية لا تعطي لونا واحدا

كانت المعرفة والثقافة والتحصيل العلمي هي الشغل الشاغل لأحمد أمين، حتى إنه حزن حزنا شديدا على ما ضاع من وقته أثناء توليه المناصب المختلفة، ورأى أن هذه المناصب أكلت وقته وبعثرت زمانه ووزعت جهده مع قلة فائدتها، وأنه لو تفرغ لإكمال سلسلة كتاباته عن الحياة العقلية الإسلامية لكان ذلك أنفع وأجدى وأخلد.

وقد امتازت كتاباته بدقة التعبير وعمق التحليل والنفاذ إلى الظواهر وتعليلها، والعرض الشائق مع ميله إلى سهولة في اللفظ وبعد عن التعقيد والغموض؛ فألّف حوالي 16 كتابا، كما شارك مع آخرين في تأليف وتحقيق عدد من الكتب الأخرى، وترجم كتابا في مبادئ الفلسفة.

فجر الإسلام والحياة العقلية

أما شهرته فقامت على ما كتبه من تاريخ للحياة العقلية في الإسلام في سلسلته عن فجر الإسلام وضحاه وظهره؛ لأنه فاجأ الناس بمنهج جديد في البحث وفي أسلوبه ونتائجه، فأبدى وجها في الكتابة التحليلية لعقل الأمة الإسلامية لم يُبدِه أحدٌ من قبله على هذا النحو؛ لذلك صارت سلسلته هذه عماد كل باحث جاء من بعده؛ فالرجل حمل سراجًا أنار الطريق لمن خلفه نحو تاريخ العقلية الإسلامية.

غير أنه كتب فصلا عن الحديث النبوي وتدوينه، ووضع الحديث وأسبابه، لم يتفق معه فيه بعض علماء عصره العظام، مثل: الشيخ محمد أبو زهرة، والدكتور مصطفى السباعي؛ فصوبوا ما يحتاج إلى تصويب في لغة بريئة وأدب عف، وقرأ أحمد أمين ما كتبوا وخصهم بالثناء، إلا أن البعض الآخر قال: إنه تلميذ المستشرقين، واتهموه بأنه يشكك في جهود المحدثين.

والواقع أن كتابا كـ "فجر الإسلام" يقع في عدة أجزاء كبار عن تاريخ الحياة العقلية في الإسلام منذ ظهوره وحتى سقوط الخلافة العباسية، تعرّض فيه كاتبه لآلاف الآراء، ومئات الشخصيات، لا بد أن توجد فيه بعض الأمور والآراء التي تحتاج إلى تصويب، دون أن يذهب ذلك بفضله وسبقه وقيمته.

وقد وجد أحمد أمين صعوبة كبيرة في تحليل الحياة العقلية العربية، ويقول في ذلك: "لعل أصعب ما يواجه الباحث في تاريخ أمته هو تاريخ عقلها في نشوئه وارتقائه، وتاريخ دينها وما دخله من آراء ومذاهب".

وفي كتابه "ضحى الإسلام" تحدث عن الحياة الاجتماعية والثقافية ونشأة العلوم وتطورها والفرق الدينية في العصر العباسي الأول، وأراد بهذه التسمية (ضحى الإسلام) الاعتبار الزمني لتدرج الفكر العلمي من عصر إلى عصر، واستطاع بأسلوب حر بليغ أن يمزج السياسة بالفكر عند الحديث عن الظواهر الجديدة في المجتمع الإسلامي، وكذلك تدرّج اللهو بتدرَج العصور؛ إذ بدأ ضئيلا في العهد الأول، ثم استشرى في العصور التالية، وحلل الزندقة وأسباب ظهورها وانتشارها وخصائص الثقافات الأجنبية من فارسية وهندية… إلخ، وهذا الكتاب من أَنْفَس ما كتب، وهو من ذخائر الفكر الإسلامي دون نزاع.

أما كتابه "زعماء الإصلاح في العصر الحديث" فاشتهر اشتهارا ذائعا؛ لأنه قُرِّر على طلاب المدارس عدة سنوات، فكثرت طبعاته وتداولتها الأيدي على نطاق واسع.

وكتاب "فيض الخاطر" جمع فيه مقالاته المختلفة في "الرسالة" و"الثقافة" … وغيرهما، وبلغت حوالي 900 مقالة في عشرة أجزاء. وكتاب "حياتي" الذي دوّن فيه سيرته الذاتية، ويقول عن هذا الكتاب: "لم أتهيب شيئا من تأليف ما تهيبت من إخراج هذا الكتاب"، ونشر قبل وفاته بأربع سنوات.

أما كتبه الأخرى فهي: "ظُهر الإسلام"، و"يوم الإسلام"، و"قاموس العادات والتقاليد المصرية"، و"النقد الأدبي"، و"قصة الأدب في العالم"، و"قصة الفلسفة" … وغيرها.

وتعاون مع بعض المحققين في إصدار كتاب "العقد الفريد" لـ "ابن عبد ربه"، و"الإمتاع والمؤانسة"، لـ "أبي حيان التوحيدي"، و"الهوامل والشوامل"، و"البصائر والذخائر"، و"خريدة القصر وفريدة العصر".

النهاية

وقد أصيب أحمد أمين قبل وفاته بمرض في عينه، ثم بمرض في ساقه فكان لا يخرج من منزله إلا لضرورة قصوى، ورغم ذلك لم ينقطع عن التأليف والبحث حتى توفاه الله في (27 من رمضان 1373هـ= 30 من مايو 1954م) ؛ فبكاه الكثيرون ممن يعرفون قدره.

ولعل كلمته: "أريد أن أعمل لا أن أسيطر" مفتاح هام في فهم هذه الشخصية الكبيرة.

أهم مصادر الدراسة:

محمد رجب البيومي: أحمد أمين- مؤرخ الفكر الإسلامي- دار القلم- دمشق- الطبعة الأولى- (1422هـ= 2001) .

فيهم حافظ الدناصوري: أحمد أمين وأثره في اللغة والنقد الأدبي- مكتبة الملك فيصل الإسلامية- الهرم- مصر- 1986م.

لمعي المطيعي: هذا الرجل من مصر- دار الشروق- الطبعة الأولى- (1417هـ= 1997م) .

--------------------------------------------

المصدر: موقع إسلام أون لاين: www.islam-online.net
আহমদ আমিন... ইসলামী চিন্তাধারার ইতিহাসবিদ

(তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে: ২৭ রমজান ১৩৭৩ হিজরি)

মোস্তফা আশুর

আহমদ আমিন

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মিশর সর্বক্ষেত্রে একদল বিশ্বকোষীয় পণ্ডিতের উত্থান প্রত্যক্ষ করেছিল, যাঁরা দীর্ঘকাল ধরে মিশর ও আরব বিশ্বের সাংস্কৃতিক জীবনকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সাংস্কৃতিক পথও আলোকিত করেছিলেন, যাতে সেই প্রজন্ম তাঁদের প্রচেষ্টার ওপর ভিত্তি করে সামনে এগিয়ে যেতে পারে এবং তাঁদের পথ চলা অব্যাহত রাখতে পারে।

এই প্রজন্ম মনে করেছিল যে, রাজনীতি ও শাসনের আগে শব্দ এবং চিন্তার মাধ্যমে মানুষকে নেতৃত্ব দিতে হবে। তাই তাঁরা নিজেদের শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে এমন মনোযোগ দিয়েছিলেন যার দৃষ্টান্ত খুব কমই দেখা যায়। তাঁরা একদিকে যেমন আরব ও ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিশুদ্ধ ও মৌলিক উৎসের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রেখেছিলেন, তেমনি সমান্তরালভাবে পশ্চিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাথেও মিথস্ক্রিয়া করেছিলেন।

এই অনন্য প্রজন্ম যখন জ্ঞানের বিশ্বজনীন স্তরে পৌঁছাল এবং চারদিকে তাকাল, তখন তারা দেখল মানুষ চিন্তা ও জ্ঞানের দিক থেকে রিক্ত ও দরিদ্র। অথচ মানুষের মন তখনও নতুন চিন্তার চাষাবাদের জন্য অত্যন্ত উর্বর ভূমি ছিল। তাই তারা নিজেদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় স্বজাতি ও উম্মাহর পুনর্জাগরণের জন্য সচেষ্ট হয়েছিলেন। তাঁরা সকল ফ্রন্টে এবং প্রতিটি ময়দানে মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। এই প্রজন্মই ছিল সংস্কৃতি ও পুনর্জাগরণের কাণ্ডারি। রাজনীতি তার কূটকৌশল ও বন্ধুর পথে তাঁদের হারিয়ে দিতে পারেনি, বরং তাঁদের কাছে রাজনীতি ছিল দেশপ্রেমেরই সমার্থক।

শব্দে গাঁথা জীবন

এই ভূমিকাটি সেই অনন্য প্রজন্মের জীবনের সারসংক্ষেপ এবং এটি তাঁদের অনেক অগ্রপথিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাঁদেরই একজন হলেন বিশ্বকোষীয় লেখক "আহমদ আমিন", যিনি তাঁর জীবন শুরু করেছিলেন আজহারি হিসেবে। অনেক চেষ্টার পর তিনি আজহারি পোশাক ত্যাগ করতে সক্ষম হন। এরপর তিনি দীর্ঘ বছর 'মাদরাসাতুল কাজা আশ-শারয়ী' (শরয়ী বিচার বিভাগীয় বিদ্যালয়)-তে শিক্ষকতা করেন। এরপর তিনি মানুষের মধ্যে ইনসাফের সাথে বিচার করার জন্য বিচারকের আসনে বসেন, ফলে 'ন্যায়বিচার' তাঁর পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হন, এমনকি ডক্টরেট ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও তিনি অনুষদের ডিন নিযুক্ত হন! পরবর্তীতে তিনি আরব সংস্কৃতির ইতিহাসের দুটি বিখ্যাত সাময়িকী "আর-রিসালাহ" এবং "আস-সাকাফাহ" প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এরপর তিনি আরবদের বুদ্ধিভিত্তিক জীবনের ওপর গবেষণা ও অনুসন্ধান শুরু করেন এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর উপহার দেন "ফজরুল ইসলাম", "দুহাল ইসলাম" এবং "জুহুরুল ইসলাম" এর মতো কালজয়ী গ্রন্থ।

জন্ম ও গঠন

আহমদ আমিন ইব্রাহিম আল-তাব্বাখ ১৩০৪ হিজরির ২ মহরম (১১ অক্টোবর ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দ) কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন আজহারি আলিম, যিনি তাফসির, ফিকহ, হাদিস, ভাষা ও সাহিত্যের কিতাব সংগ্রহে অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করেছিলেন এবং সকালে আল-আজহারে ও ইমাম শাফিঈ মসজিদে শিক্ষকতা করতেন। তিনি মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমিরিয়া ছাপাখানায় প্রুফ রিডার হিসেবেও কাজ করতেন। ফলে আহমদ আমিনের চোখ খুলেছিল এমন এক পরিবেশে যেখানে তাঁর পিতা সকাল-সন্ধ্যা কুরআন তিলাওয়াত করতেন।

তাঁর পিতা শৈশব থেকেই তাঁর প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন এবং তাঁকে কুরআন হিফজ করতে সাহায্য করেছিলেন। তিনি তাঁর ওপর পড়াশোনার এক কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁকে বই পড়া ও জ্ঞান অন্বেষণে অভ্যস্ত করেছিলেন। তাঁর পিতা ছেলের লালন-পালনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন এবং সামান্য ভুলের জন্য কঠোর শাস্তি দিতেন। এই কঠোরতা তাঁকে লাজুক প্রকৃতিতে পরিণত করেছিল এবং তিনি একাকীত্ব পছন্দ করতেন। বন্ধুদের পরিবর্তে তিনি বইয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন; ফলে তাঁর অন্য সব বৃত্তির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশই বেশি ঘটেছিল।

আহমদ আমিন মক্তবে ভর্তি হন এবং পর্যায়ক্রমে চারটি মক্তবে পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং এর সুশৃঙ্খল পরিবেশ তাঁর খুব ভালো লাগে। তবে তাঁর পিতা তাঁকে আল-আজহারে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে তিনি হানাফি ফিকহ অধ্যয়ন করেন, কারণ এই ফিকহ তখন শারয়ী বিচারকদের জন্য নির্ধারিত ছিল।

মাদরাসাতুল কাজা আশ-শারয়ী (শরয়ী বিচার বিভাগীয় বিদ্যালয়)

সেই সময়ে 'মাদরাসাতুল কাজা আশ-শারয়ী' প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে আল-আজহারের মেধাবী ছাত্রদের কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করে নেওয়া হতো। আহমদ আমিন সেখানে ভর্তির আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন এবং কঠোর পরিশ্রমের পর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৩২৫ হিজরি (১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ) সালে সেখানে ভর্তি হন। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ছিল বহুমুখী ধর্মীয়, ভাষাগত, আইনগত এবং আধুনিক সাহিত্য সংস্কৃতির সংমিশ্রণ। এই প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন যোগ্য পরিচালক বাছাই করা হয়েছিল, যাঁর নাম ছিল "আতিফ পাশা বারাকাত"। আহমদ আমিন তাঁর সাথে আঠারো বছর অতিবাহিত করেন। ১৩৩০ হিজরি (১৯১১ খ্রিস্টাব্দ) সালে তিনি 'আলামিয়া' (স্নাতকোত্তর সমমান) ডিগ্রি অর্জন করে স্নাতক সম্পন্ন করেন। আতিফ বারাকাত তাঁকে ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন, যা যুবকের সামনে জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তিনি ইংরেজি ভাষা শেখার দৃঢ় সংকল্প করেন এবং দীর্ঘ সাধনার পর তা আয়ত্ত করেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন: "এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমি সকল উপায় অবলম্বন করেছিলাম।"

তকদিরের লিখন অনুযায়ী, তিনি যখন মাদরাসাতুল কাজা আশ-শারয়ীতে ছিলেন, তখন তাঁর চারপাশে এমন একদল ছাত্র, শিক্ষক এবং সহকর্মী ছিলেন যাঁদের প্রত্যেকেরই ছিল স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও চিন্তাধারা। তিনি তাঁদের সাথে ক্যাফেগুলোতে বসতেন, যেগুলো সে সময় এক একটি সাহিত্যিক ক্লাব বা বৈঠকখানা হিসেবে পরিচিত ছিল। সেখানে তাঁরা জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করতেন। আহমদ আমিন ইহাকে এমন এক বিদ্যাপীঠ মনে করতেন যেখানে ছাত্র হয় শিক্ষক আর শিক্ষক হয় ছাত্র। এটি ছিল এমন এক স্থান যেখানে বিভিন্ন মেধার বৈচিত্র্য থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতো।

তাঁর ওপর আতিফ বারাকাতের প্রভাব ছিল অপরিসীম। তাঁর কাছ থেকেই তিনি ন্যায়বিচার, দৃঢ়তা এবং নিজ অবস্থানে অবিচল থাকার শিক্ষা পেয়েছিলেন। তিনি তাঁকে ধর্ম, বিচার ব্যবস্থা, মানুষের অভিজ্ঞতা এবং রাজনীতি—সব বিষয়েই শিক্ষা দিতেন। এমনকি ১৫ বছর সেখানে অতিবাহিত করার পর, যাঁর কাছে তিনি তাঁর অধিকাংশ সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন, সেই শিক্ষকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের কারণে তাঁকে এই প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাই প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ার সময় তিনি বলেছিলেন: "আমি এর জন্য সেভাবেই কেঁদেছি যেভাবে পিতা, মাতা বা আপন ভাইকে হারানোর শোকে মানুষ কাঁদে।"

বিচার বিভাগ ও ন্যায়বিচার

আহমদ আমিনের 'ফজরুল ইসলাম' বইয়ের প্রচ্ছদ

আহমদ আমিন দুইবার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রথমবার ১৩৩২ হিজরি (১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ) সালে 'আল-ওয়াহাত আল-খারিজাহ'-তে তিন মাসের জন্য। দ্বিতীয়বার যখন তাঁকে মাদরাসাতুল কাজা আশ-শারয়ী থেকে কর্তৃপক্ষের সাথে মতপার্থক্যের কারণে সরিয়ে দেওয়া হয়, বিশেষ করে তাঁর শিক্ষক আতিফ বারাকাত প্রতিষ্ঠানটি ত্যাগ করার পর। এই পর্যায়ে তিনি বিচার বিভাগে চার বছর অতিবাহিত করেন। এই সময়ে তিনি ন্যায়বিচারের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ও অনুরাগের জন্য পরিচিতি লাভ করেন এবং 'আল-আদল' (ন্যায়বিচারক) উপাধিতে ভূষিত হন। বিচার বিভাগে কাজের ফলে তাঁর এই স্বভাব তৈরি হয়েছিল যে, তিনি গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন মতামত ও যুক্তি বিশ্লেষণ না করে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দিতেন না। বিচারকের এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর সারা জীবন বজায় ছিল, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সময়ও।

বিশ্ববিদ্যালয়

১৩৪৫ হিজরি (১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ) সালে আহমদ আমিনের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ শুরু হয়, যখন ডক্টর "তহা হোসেন" তাঁকে কলা অন্বেষণ অনুষদে শিক্ষকতার জন্য মনোনীত করেন। বলা যেতে পারে, তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন সঠিক অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালেই পূর্ণতা পায়। আধুনিক পদ্ধতিতে গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর প্রথম পদক্ষেপ ছিল ভাষাগত অভিধান নিয়ে কাজ করা। এটি ছিল ইসলামি জগতের বুদ্ধিভিত্তিক জীবন নিয়ে তাঁর গবেষণার প্রাথমিক ধাপ, যার ফলশ্রুতিতে "ফজরুল ইসলাম" ও "দুহাল ইসলাম" এর মতো গ্রন্থ রচিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি "সাহিত্য সমালোচনা" (Adabi Naqd) বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কলা অনুষদে এই বিষয়ের ওপর আরবি ভাষায় তাঁর দেওয়া লেকচারগুলোই ছিল প্রথম পাঠ। ডক্টরেট ডিগ্রি ছাড়াই তিনি সহকারী অধ্যাপক এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক ও কলা অনুষদের ডিন (১৩৫৮ হিজরি/১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ) নিযুক্ত হন। তিনি দুই বছর ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তারপর পদত্যাগ করেন। কারণ তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর "মুহাম্মদ হোসেন হাইকাল" আহমদ আমিনকে না জানিয়েই কলা অনুষদের কয়েকজন শিক্ষককে আলেকজান্দ্রিয়াতে বদলি করেছিলেন। এতে তিনি পদত্যাগ করেন এবং পুনরায় অধ্যাপনার কাজে ফিরে যান। তখন তিনি তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন: "আমি একজন অধ্যাপকের চেয়ে ছোট, কিন্তু একজন ডিনের চেয়ে বড়।"

বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালেই তহা হোসেনের সাথে তাঁর বন্ধুত্বের বন্ধনে ফাটল ধরে। তহা হোসেনের কিছু বিশেষ সুপারিশ আহমদ আমিনের কাছে সঠিক বলে মনে হয়নি। বারবার মতপার্থক্যের কারণে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়। তহা হোসেন তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন: "তিনি তাঁর চারপাশের পৃথিবীকে বদলে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পৃথিবীকে বদলে দেওয়া সবার জন্য সহজ নয়।"

ডিন হিসেবে কাটানো সময়টাকে তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক বন্ধ্যাত্ব ও রচনার খরা হিসেবে গণ্য করতেন; কারণ এই দায়িত্ব তাঁকে ইসলামি জগতের বুদ্ধিভিত্তিক জীবন নিয়ে গবেষণা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল।

গণবিশ্ববিদ্যালয় (পিপলস ইউনিভার্সিটি)

১৩৬৫ হিজরি (১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ) সালে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাংস্কৃতিক প্রশাসন বিভাগের পরিচালক নিযুক্ত হন। এটি এমন এক বিভাগ ছিল যার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। তিনি এই প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে "গণবিশ্ববিদ্যালয়" (Al-Jamia al-Sha'biyya) এর ধারণা নিয়ে আসেন। তিনি মনে করতেন, সাধারণ মানুষেরও জ্ঞান অর্জনের অধিকার রয়েছে। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অত্যন্ত গর্ববোধ করতেন এবং একে "আমার প্রিয় কন্যা" বলে ডাকতেন। পরবর্তীতে এটিই 'সংস্কৃতি প্রাসাদ' (Culture Palaces) নামে পরিচিতি পায়। অবসরে যাওয়ার আগে তাঁর শেষ দায়িত্ব ছিল আরব লীগের সাংস্কৃতিক বিভাগের পরিচালক।

গ্রন্থ রচনা, অনুবাদ ও প্রকাশনা কমিটি

আহমদ আমিন এই কমিটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত দীর্ঘ চল্লিশ বছর এর তত্ত্বাবধান করেন। আরব সংস্কৃতিতে এই কমিটির প্রভাব ছিল অপরিসীম। এটি কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছাড়াই অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে ইউরোপীয় চিন্তাধারার শ্রেষ্ঠ কাজগুলো জ্ঞানের প্রতিটি শাখায় আরবি পাঠকদের কাছে তুলে ধরেছিল। পাশাপাশি তারা ব্যাখ্যা ও সংশোধনের মাধ্যমে আরবি ঐতিহ্যের অমূল্য রত্নগুলো উপস্থাপন করেছিল। এই কমিটি ২০০টিরও বেশি মুদ্রিত গ্রন্থ প্রকাশ করেছে।

এই কমিটির প্রকাশনাগুলোর ওপর মানুষের আস্থা ছিল প্রগাঢ়; তাই তাদের বইগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এই কমিটিই ১৩৫৭ হিজরির জিলহজ (জানুয়ারি ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ) মাসে "আস-সাকাফাহ" সাময়িকী চালু করে এবং তিনি এর প্রধান সম্পাদক হন। এটি টানা চৌদ্দ বছর প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি এতে সাহিত্য ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে সাপ্তাহিক কলাম লিখতেন। এই লেখাগুলোর সংকলনই হলো তাঁর দশ খণ্ডের চমৎকার গ্রন্থ "ফায়জুল খাতির"।

"আস-সাকাফাহ" সাময়িকী আধুনিক রাজনৈতিক মতাদর্শ উপস্থাপনে এবং সাহিত্যে সামাজিক ধারা ও নাটক-উপন্যাসকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে অনন্য ছিল। এটি ছিল তাত্ত্বিক ও মৌলিক গবেষণার এক আধার।

 

আহমদ আমিনের 'দুহাল ইসলাম' বইয়ের প্রচ্ছদ

তিনি বিখ্যাত "আর-রিসালাহ" সাময়িকীতেও লিখতেন এবং তাঁর প্রবন্ধের মাধ্যমে এর পাতাকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। "আস-সাকাফাহ"-র পাতায় তিনি সমসাময়িক বড় বড় লেখক ও চিন্তাবিদদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতেন। এর মধ্যে ডক্টর "জাকি নাজিব মাহমুদ"-এর সাথে তাঁর বিতর্ক উল্লেখযোগ্য। জাকি নাজিব একটি প্রবন্ধে আরবি ঐতিহ্যের (তুরাস) গবেষকদের সমালোচনা করেছিলেন এবং মনে করেছিলেন যে, পুরনো হয়ে যাওয়া বইগুলোর চেয়ে ইউরোপীয় চিন্তাধারা অনুবাদ ও প্রচার করা বেশি জরুরি। তিনি ঐতিহ্যের বইগুলোকে "কবর থেকে উঠে আসা পুরনো কিতাব" বলে অভিহিত করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "পাশ্চাত্য আকাশের উচ্চতায় ওঠার চেষ্টা করবে, আর আমরা কঙ্কাল বের করার জন্য কবর খুঁড়ব।"

ঐতিহ্যের প্রতি এই বিরূপ মন্তব্য আহমদ আমিনকে ক্ষুব্ধ করে। তিনি এর প্রতিবাদ করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, পাশ্চাত্য তাদের রেনেসাঁ ও সভ্যতা রোমান ও গ্রিক সভ্যতার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে তুলেছে। তিনি আরও বলেন যে, প্রাচ্যবিদরাই (অরিয়েন্টালিস্ট) সর্বপ্রথম আরবি ঐতিহ্যের গুরুত্ব অনুধাবন করে এর মূল উৎসগুলো প্রকাশ করেছিলেন।

ভাষা একাডেমি

১৩৫৯ হিজরি (১৯৪০ খ্রিস্টাব্দ) সালে তিনি এক রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে আরবি ভাষা একাডেমির সদস্য হন। এর আগে ১৩৪৫ হিজরি (১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ) সালে তিনি দামেস্কের আরবি একাডেমি এবং ইরাকি বিজ্ঞান একাডেমির সংশ্লিষ্ট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই তিনটি একাডেমির সদস্য হিসেবে তিনি আরবি ভাষার সেবায় তাঁর দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।

তাঁর মত ছিল যে, একাডেমির মূল কাজ কেবল পরিভাষা তৈরি করা নয়, বরং একটি বিশাল ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক অভিধান তৈরি করা। ভাষা একাডেমিতে এই গুরুত্বপূর্ণ অবদান তাঁর সাংস্কৃতিক সেবার ঝুলিতে যুক্ত হয়। এছাড়াও ১৩৫৮ হিজরি (১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ) সালে তিনি 'দারুল কুতুব' (জাতীয় গ্রন্থাগার)-এর সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনীতি

আহমদ আমিনের কাছে রাজনীতি মানেই ছিল দেশপ্রেম, তিনি এই দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখতেন না। রাজনীতি ও এর কর্ণধারদের সাথে তাঁর পরিচয় ছিল তাঁর শিক্ষক আতিফ বারাকাতের মাধ্যমে। নেতা সাদ জাগলুল তাঁর দেশপ্রেম এবং ১৯১৯ সালের বিপ্লবের সময় মিশরের অবস্থা নিয়ে লেখা তাঁর নির্ভুল রিপোর্টের প্রশংসা করতেন। ওয়াফদ দলের প্রতি তাঁর ঝোঁক থাকলেও শাস্তির ভয়ে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে খুব বেশি সক্রিয় হননি। তিনি অত্যন্ত অকপটে বলেছিলেন: "আমি রাজনীতিতে অবদান রেখেছি এবং অনেক রাজনৈতিক নেতার সাথে কাজ করেছি, কিন্তু তাঁদের মতো ঝাঁপিয়ে পড়িনি বা তাঁদের মতো নিজেকে প্রকাশ করিনি। এর প্রধান কারণ ছিল আমি তাঁদের মতো সাহসী ছিলাম না; আমি জেল ও শাস্তিকে ভয় পেতাম।"

যখন তিনি অবসরের কাছাকাছি পৌঁছান, তখন তিনি সৌদিদের উদ্যোগে প্রকাশিতব্য "আল-আসাস" পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। সে সময় তিনি তাঁর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক কাজে নিমগ্ন ছিলেন। রাজনীতি থেকে দূরে থাকাটা তাঁর একাকীত্বপ্রিয়তা, স্বাধীন মতামত ও মুক্তচিন্তার স্বভাবের সাথে মানানসই ছিল।

এক বহুমুখী ব্যক্তিত্ব

জ্ঞানার্জন ও সংস্কৃতিই ছিল আহমদ আমিনের ধ্যান-জ্ঞান। বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে থাকার কারণে যে সময়টুকু নষ্ট হয়েছিল, সেজন্য তিনি অত্যন্ত দুঃখবোধ করতেন। তিনি মনে করতেন, এই পদগুলো তাঁর সময় নষ্ট করেছে এবং সামান্য উপকারের বিনিময়ে তাঁর শক্তিকে বিক্ষিপ্ত করেছে। তিনি যদি ইসলামি বুদ্ধিভিত্তিক জীবনের ওপর তাঁর ধারাবাহিকের কাজ সম্পন্ন করতে পারতেন, তবে তা অনেক বেশি উপকারী ও চিরস্থায়ী হতো।

তাঁর লেখার বৈশিষ্ট্য ছিল শব্দের নির্ভুল প্রয়োগ, গভীর বিশ্লেষণ এবং ঘটনার মূল কারণ উদ্ঘাটন। কঠিন ও অস্পষ্টতা এড়িয়ে সহজ ভাষায় আকর্ষণীয় উপস্থাপনা ছিল তাঁর বিশেষত্ব। তিনি প্রায় ১৬টি বই লিখেছেন এবং আরও অনেক বইয়ের রচনা ও সম্পাদনায় শরিক ছিলেন। তিনি দর্শনের মূলনীতির ওপর একটি বইও অনুবাদ করেছিলেন।

ফজরুল ইসলাম ও বুদ্ধিভিত্তিক জীবন

মূলত ইসলামি বুদ্ধিভিত্তিক জীবনের ইতিহাস নিয়ে লেখা তাঁর ধারাবাহিক "ফজরুল ইসলাম", "দুহাল ইসলাম" ও "জুহুরুল ইসলাম" এর মাধ্যমেই তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। কারণ তিনি তাঁর গবেষণার নতুন পদ্ধতি, শৈলী ও ফলাফলের মাধ্যমে মানুষকে চমকে দিয়েছিলেন। তিনি উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের এমন এক বিশ্লেষণাত্মক দিক উন্মোচন করেছিলেন যা আগে কেউ এভাবে করেনি। একারণেই তাঁর এই ধারাবাহিকটি পরবর্তী সকল গবেষকের জন্য প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এমন এক প্রদীপ বহন করেছিলেন যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ইসলামি বুদ্ধিভিত্তিক ইতিহাসের পথকে আলোকিত করেছে।

তবে তিনি হাদিস সংকলন ও জাল হাদিসের কারণ নিয়ে একটি অধ্যায় লিখেছিলেন, যার সাথে তাঁর সময়ের অনেক বড় আলেম একমত হতে পারেননি। যেমন শেখ মুহাম্মদ আবু জাহরা এবং ডক্টর মোস্তফা সিবায়ী। তাঁরা অত্যন্ত ভদ্র ও শালীন ভাষায় সেসব বিষয়ের সংশোধন করে দিয়েছিলেন। আহমদ আমিন তাঁদের লেখাগুলো পড়েছিলেন এবং তাঁদের প্রশংসাও করেছিলেন। তবে অন্য কেউ কেউ তাঁকে প্রাচ্যবিদদের শিষ্য এবং মুহাদ্দিসদের প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছিলেন।

বাস্তবতা হলো, "ফজরুল ইসলাম" এর মতো একটি বিশাল গ্রন্থ যা ইসলামের শুরু থেকে আব্বাসীয় খিলাফতের পতন পর্যন্ত কয়েক খণ্ডে বিস্তৃত, সেখানে লেখক হাজার হাজার মতামত ও শত শত ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। এমতাবস্থায় সেখানে কিছু ভুলভ্রান্তি বা সংশোধনের অবকাশ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু এটি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, অগ্রগামিতা ও কাজের মূল্যকে কোনোভাবেই কমিয়ে দেয় না।

আহমদ আমিন আরব বুদ্ধিভিত্তিক জীবনের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অনেক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন: "একজন গবেষকের জন্য তাঁর জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো তার বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রমবিকাশের ইতিহাস এবং ধর্মের ইতিহাস ও তাতে প্রবেশ করা বিভিন্ন মতবাদ নিয়ে আলোচনা করা।"

তাঁর "দুহাল ইসলাম" গ্রন্থে তিনি প্রথম আব্বাসীয় যুগের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন, বিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় দল নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই নাম (দুহাল ইসলাম বা ইসলামের পূর্বাহ্ণ) দেওয়ার কারণ ছিল এক যুগ থেকে অন্য যুগে বৈজ্ঞানিক চিন্তার ক্রমবিকাশকে সময়ানুক্রমিকভাবে বোঝানো। তিনি অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় ইসলামি সমাজের নতুন প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনার সময় রাজনীতির সাথে চিন্তাধারার সমন্বয় ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন। একইভাবে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে যুগে যুগে আমোদ-প্রমোদের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। যেমন প্রথম যুগে এটি ছিল নগণ্য, যা পরবর্তী যুগে প্রকট আকার ধারণ করে। তিনি জিন্দিকিয়াত (নাস্তিক্যবাদ), এর উদ্ভবের কারণ ও বিস্তার এবং পারস্য ও ভারতীয় সংস্কৃতির প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন। এই বইটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ এবং নিঃসন্দেহে ইসলামি চিন্তাধারার একটি অমূল্য সম্পদ।

অন্যদিকে তাঁর "زعماء الإصلاح في العصر الحديث" (আধুনিক যুগের সংস্কারক নেতৃবৃন্দ) বইটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করে; কারণ এটি দীর্ঘ বছর স্কুল-কলেজের পাঠ্য ছিল। ফলে এটি ব্যাপক হারে মুদ্রিত ও পঠিত হয়েছে।

"ফায়জুল খাতির" গ্রন্থে তিনি "আর-রিসালাহ" ও "আস-সাকাফাহ" সাময়িকীতে প্রকাশিত তাঁর বিভিন্ন প্রবন্ধ সংকলন করেছেন, যা দশ খণ্ডে প্রায় ৯০০টি প্রবন্ধের সমষ্টি। তাঁর "حياتي" (আমার জীবন) বইটিতে তিনি তাঁর আত্মজীবনী লিখেছেন। এই বই সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন: "অন্য কোনো বই লিখতে গিয়ে আমি এত দ্বিধাবোধ করিনি যতটা এই বইটি প্রকাশে করেছি।" এটি তাঁর মৃত্যুর চার বছর আগে প্রকাশিত হয়।

তাঁর অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে: "জুহুরুল ইসলাম", "ইয়াওমুল ইসলাম", "মিশরীয় রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের অভিধান", "সাহিত্য সমালোচনা", "বিশ্ব সাহিত্যের গল্প", "দর্শনের গল্প" ইত্যাদি।

এছাড়াও তিনি গবেষকদের সহায়তায় ইবনে আবদে রাব্বিহির "আল-ইকদুল ফারিদ", আবু হাইয়ান তাওহিদির "আল-ইমতা' ওয়া আল-মুআনিসা", "আল-হাওয়ামিল ওয়া আল-শাওয়ামিল", "আল-বাসায়ির ওয়া আল-জাখায়ির" এবং "খারীদাতুল কাসর" এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কিতাবগুলো সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন।

শেষ কথা

মৃত্যুর আগে আহমদ আমিন চোখের রোগে এবং পরে পায়ের রোগে আক্রান্ত হন, যার ফলে তিনি খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতেন না। তা সত্ত্বেও তিনি লেখালেখি ও গবেষণা থেকে বিরত হননি। অবশেষে ২৭ রমজান ১৩৭৩ হিজরি (৩০ মে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ) সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বহু গুণগ্রাহী শোকাতুর হয়েছিলেন।

হয়তো তাঁর এই উক্তিটি: "আমি কাজ করতে চাই, শাসন করতে নয়"—এই মহান ব্যক্তিত্বকে বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি।

অধ্যয়নের প্রধান উৎসসমূহ:

মুহাম্মদ রজব আল-বায়ুমি: আহমদ আমিন- মুরিখুল ফিকর আল-ইসলামি- দারুল কালাম- দামেস্ক- প্রথম সংস্করণ- (১৪২২ হিজরি= ২০০১ খ্রিস্টাব্দ)।

ফাহিম হাফিজ আদ-দানাসুরি: আহমদ আমিন ওয়া আসারুহু ফিল লুগাহ ওয়ান নাকদিল আদাবি- মাকতাবাতুল মালিক ফয়সাল আল-ইসলামিয়্যাহ- হারাম- মিশর- ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ।

লাময়ি আল-মতিয়ি: হাজা আর-রাজুলু মিন মিসর- দারুশ শুরুক- প্রথম সংস্করণ- (১৪১৭ হিজরি= ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ)।

--------------------------------------------

উৎস: ইসলাম অনলাইন ওয়েবসাইট: www.islam-online.net
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌إبراهيم بن احمد بن محمد المنقور (1103هـ- - 1175هـ-)

الشيخ إبراهيم بن احمد بن محمد بن احمد بن حمد بن محمد المنقور.

هكذا نسبه بخط والده.

وقد ولد في وطنهم - حوطة سدير - فقد قال والد المترجم في تاريخه: (وفي أول شهر ذي الحجة سنة ثلاث ومائة وألف ولد ابني إبراهيم أصلحه الله) . أهـ-.

نشأ المترجم في هذه البلدة وقرأ على مشايخ نجد، واشهر مشايخه والده العلامة الفقيه الشيخ احمد المنقور، صاحب المجموع المشهور، وجد حتى أدرك لاسيما في الفقه فإن جل اشتغاله به.

وقد قرأ مجموع والده قراءة عالم متبصر.

والمترجم ولي قضاء بلدة الحوطة، وصار هو المرجع الوحيد فيها بالتدريس والوعظ والإفتاء، ولما استولى الأمير عبد العزيز بن محمد على بلدان سدير عام 1170 هـ- أمر قضاة بلدان سدير بالذهاب معه إلى الدرعية لمواجهة والده الإمام محمد بن سعود والشيخ محمد بن عبد الوهاب، فجاؤا معه ومنهم قاضي حوطة سدير المترجم الشيخ إبراهيم المنقور فقابل الشيخ محمد بن عبد الوهاب والإمام محمد بن سعود فأقراه على قضاء بلده، وعاد إليها وبقي في قضائها ونشاطه العلمي فيها حتى مات، ومن المعلوم انهما لم يقرأه في عمله إلا برضا عن كفاءته العلمية ورضاً عن عقيدته.

وفاته:

قال ابن بشر: (وفيها - أي سنة 1175 هـ- - حدث في البلدان بقضاء الله وباء شديد يسمى (أبو دمغة) مات فيها قاضي سدير إبراهيم بن

احمد المنقور) . أهـ.

وأبو دمغة كما تسميه العامة في نجد هو داء يصيب الدماغ، وقليل الناجي من أصابته.

--------------

بواسطة العضو عبد الله الخميس
ইবরাহিম বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মানকুর (১১০৩ হি.- ১১৭৫ হি.-)

শায়খ ইবরাহিম বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হামাদ বিন মুহাম্মদ আল-মানকুর।

তাঁর পিতার হস্তাক্ষরে তাঁর বংশপরম্পরা এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

তিনি তাঁদের স্বদেশ - হাউতাতু সুদাইর - এ জন্মগ্রহণ করেন। জীবনীকারের পিতা তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে বলেছেন: (১১০৩ হিজরি সনের জিলহজ মাসের শুরুতে আমার পুত্র ইবরাহিম জন্মগ্রহণ করেছে, আল্লাহ তাকে সংশোধন করে দিন)। সমাপ্ত।

তিনি এই জনপদেই বেড়ে ওঠেন এবং নজদের মাশায়েখদের নিকট পাঠগ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন তাঁর পিতা আল্লামা ফকিহ শায়খ আহমদ আল-মানকুর, যিনি প্রসিদ্ধ 'আল-মাজমু' এর রচয়িতা। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রম করেন এবং বিশেষ করে ফিকহ শাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জন করেন, কেননা তাঁর অধিকাংশ ব্যস্ততা ছিল একে কেন্দ্র করেই।

তিনি তাঁর পিতার সংকলিত 'মাজমু' একজন দূরদর্শী আলেমের ন্যায় পাঠ করেছিলেন।

তিনি হাউতা জনপদের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে পাঠদান, ওয়ায-নসিহত ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তিনিই একমাত্র নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। যখন ১১৭০ হিজরি সনে আমির আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ সুদাইরের জনপদগুলো জয় করেন, তখন তিনি সুদাইরের কাজীদেরকে তাঁর সাথে দিরইয়াহ যাওয়ার নির্দেশ দেন যাতে তারা তাঁর পিতা ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ এবং শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেন। ফলে তাঁরা তাঁর সাথে আসেন এবং তাঁদের মধ্যে হাউতাতু সুদাইরের কাজী শায়খ ইবরাহিম আল-মানকুরও ছিলেন। তিনি শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁরা তাঁকে তাঁর জনপদের বিচারক পদে বহাল রাখেন। তিনি সেখানে ফিরে আসেন এবং মৃত্যু অবধি বিচারকার্য ও ইলমি কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকেন। এটা সুবিদিত যে, তাঁরা তাঁর ইলমি যোগ্যতা এবং আকিদার ব্যাপারে সন্তুষ্ট না হয়ে তাঁকে নিজ পদে বহাল রাখতেন না।

তাঁর মৃত্যু:

ইবনে বিশর বলেন: (উক্ত বছরে - অর্থাৎ ১১৭৫ হিজরি সনে - শহরগুলোতে আল্লাহর ফয়সালায় 'আবু দামগাহ' নামক একটি ভয়াবহ মহামারি দেখা দেয়, যাতে সুদাইরের কাজী ইবরাহিম বিন আহমদ আল-মানকুর ইন্তেকাল করেন)। সমাপ্ত।

'আবু দামগাহ' নজদের সাধারণ মানুষের পরিভাষায় এমন একটি ব্যাধি যা মস্তিষ্ককে আক্রান্ত করে এবং এতে আক্রান্ত হয়ে খুব কম লোকই মুক্তি পায়।

--------------

সদস্য আব্দুল্লাহ আল-খামিসের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌إبراهيم بن عبد العزيز السويح (1302 - 1399 هـ- 1885 - 1979 م)

قاض، ولد في روضة سدير بالسعودية، وتولى القضاء في العلا وتبوك وملحقاتها.

من مؤلفاته:

- بيان الهدى من الضلال في الرد على صاحب الأغلال.

--------------

بواسطة العضو عبد الله الخميس
ইবরাহীম বিন আব্দুল আযীয আস-সুওয়াইহ (১৩০২ - ১৩৯৯ হিজরী - ১৮৮৫ - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ)

তিনি একজন বিচারক ছিলেন। তিনি সৌদি আরবের রওজাতু সুদাইরে জন্মগ্রহণ করেন এবং আল-উলা, তাবুক ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলসমূহে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে:

- বায়ানুল হুদা মিনায দ্বলাল ফি-রদ্দী আলা সাহিবিল আগলাল (পথভ্রষ্টতা হতে হিদায়াতের স্পষ্ট বর্ণনা: 'আল-আগলাল' প্রণেতার খণ্ডন)।

--------------

সদস্য আব্দুল্লাহ আল-খামিসের সৌজন্যে
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌إبراهيم بن عبد الله اللاحم

هو: د. إبراهيم بن عبد الله بن عبد الرحمن اللاحم، ولد عام 1376هـ- في مدينة بريدة، درس القرآن الكريم وأتمه حفظًا على يدي بعض المشايخ المتفرغين للتحفيظ في المساجد، وأكمل دراسته الثانوية في بريدة، ثم أتم تعليمه الجامعي في كلية الشريعة بالرياض، وتخرج منها عام 1396هـ-، ولأن ميوله -حفظه الله- كانت لعلوم السنة وما يخدمها، تخصص في علم الحديث وأكمل دراسته العليا فيه، وأعد رسالة الماجستير في تحقيق كتاب "الكشف الحثيث في من رمي بوضع الحديث" لبرهان الدين الحلبي، وناقش الرسالة عام 1401هـ-، وأعد رسالة الدكتوراه في كتاب "التحقيق في أحاديث التعليق" لابن الجوزي، وناقش الرسالة عام 1409هـ-، والشيخ -رعاه الله- مبرِّز في علم المصطلح وتفريعاته وقواعده، وعلم الجرح والتعديل، وقد تتلمذ على عدد من العلماء وتأثر بهم وهم: 1- فضيلة الشيخ صالح الفوزان -حفظه الله تعالى-.

2- فضيلة الشيخ صالح البليهي رحمه الله.

3- فضيلة الشيخ عبد الرحمن البراك -حفظه الله-.

4- فضيلة الشيخ عبد الكريم اللاحم -حفظه الله-.

5- فضيلة الشيخ صالح الأطرم -شفاه الله-.

6- فضيلة الشيخ صالح المنصور -حفظه الله-.

والشيخ إبراهيم -رعاه الله- عضو في هيئة التدريس في جامعة الإمام محمد بن سعود فرع القصيم، نفع الله به وسدد خطاه.

http://www.taimiah.org/biographies/lahem.asp

-------------

بواسطة العضو عبد الله الخميس
ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-লাহিম

তিনি হলেন: ড. ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-লাহিম। তিনি ১৩৭৬ হিজরি সনে বুরায়দাহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন করেন এবং মসজিদে হিফজ করানোর জন্য নিয়োজিত কয়েকজন শাইখের নিকট সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেন। তিনি বুরায়দাহ শহরে তাঁর মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন, অতঃপর রিয়াদের শরীয়াহ অনুষদ (কুল্লিয়াতুশ শারিয়াহ) থেকে তাঁর স্নাতক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং ১৩৯৬ হিজরিতে সেখান থেকে ডিগ্রি লাভ করেন। সুন্নাহর ইলম এবং এর খিদমত সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ থাকার কারণে—আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন—তিনি হাদীসশাস্ত্রে বিশেষত্ব অর্জন করেন এবং এতে উচ্চতর শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি বুরহানুদ্দীন আল-হালাবি রচিত "আল-কাশফুল হাসিস ফি মান রুমিয়া বি-ওয়াদউল হাদীস" নামক গ্রন্থের তাহক্বীক্বের ওপর তাঁর মাস্টার্স থিসিস প্রস্তুত করেন এবং ১৪০১ হিজরিতে থিসিস ডিফেন্স সম্পন্ন করেন। তিনি ইবনুল জাওযি রচিত "আত-তাহক্বীক্ব ফি আহাদীসিত তা'লীক্ব" নামক গ্রন্থের ওপর তাঁর পিএইচডি থিসিস প্রস্তুত করেন এবং ১৪০৯ হিজরিতে থিসিস ডিফেন্স সম্পন্ন করেন। শাইখ—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন—হাদীসের পরিভাষা শাস্ত্র (মুসতালাহ), এর শাখা-প্রশাখা ও মূলনীতি এবং জারাহ-তাদীল শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ও প্রসিদ্ধ। তিনি বেশ কয়েকজন আলেমের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, তাঁরা হলেন: ১- ফযীলাতুশ শাইখ সালিহ আল-ফাওযান—আল্লাহ তাআলা তাঁকে হেফাযত করুন।

২- ফযীলাতুশ শাইখ সালিহ আল-বুলাইহি—রহিমাহুল্লাহ।

৩- ফযীলাতুশ শাইখ আব্দুর রহমান আল-বাররাক—আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন।

৪- ফযীলাতুশ শাইখ আব্দুল করীম আল-লাহিম—আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন।

৫- ফযীলাতুশ শাইখ সালিহ আল-আতরাম—আল্লাহ তাঁকে সুস্থতা দান করুন।

৬- ফযীলাতুশ শাইখ সালিহ আল-মানসুর—আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন।

শাইখ ইব্রাহিম—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন—ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাসিম শাখার শিক্ষক মণ্ডলীর একজন সদস্য। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনের উপকার করুন এবং তাঁর পদক্ষেপসমূহকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

http://www.taimiah.org/biographies/lahem.asp

-------------

সদস্য আব্দুল্লাহ আল-খামিসের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌إبراهيم بن ناصر المنيف

هو إبراهيم بن ناصر بن عبد المحسن المنيف من آل محمد من الوهبة من بني تميم. ولد في حوطة سدير في بداية عام 1344هـ-، ودرس على يد علماء وأئمة الحوطة، وكان فطنا ذكيا منذ صغره ن فقد حفظ القرآن الكريم في سن مبكرة.

نشأ وترعرع وشب عودة بحوطة سدير ودرس على أيدي علماء أفاضل وأخص منهم بالذكر فضيلة الشيخ عبد الله العنقري قاضي سدير، وجالس كثيرا سماحة الشيخ محمد بن إبراهيم بن عبد اللطيف آل الشيخ مفتي الديار السعودية، ودرس أيضا على سماحة الشيخ عبد اله بن حميد، والشيخ سليمان بن خزيم، والشيخ علي بن سويد، والشيخ صالح الغصون.

في بداية عام 1360هـ- عين الشيخ إبراهيم إماما لأحد مساجد حوطة سدير وظل بهذا المسجد حتى عام 1374هـ- وفي نهاية عام 1374هـ- عين مدرسا للعلوم الدينية في إحدى مدارس الحوطة وفي معهد المعلمين بالبلدة نفسها وظل بهذا العمل حتى عام 1383هـ-.

وعين كاتب ضبط في محكمة المزاحمية حتى نهاية عام 1394هـ-، ثم انتقل إلى الرياض حيث عمل ضبط بالمحكمة المستعجلة بها وظل بهذا العمل إلى عام 1401هـ- حيث صدر قرار من قبل معالي وزير العدل بتعيينه كاتب عدل بالرياض ومن ذلك اليوم وهو يعمل بها حتى الآن أمد الله في عمره. وعلاوة على كتابة العدل يعمل إماما لمسجد الرويتع الكائن بالرياض كما أنه مأذون عقود الأنكحة.

توفي رحمه الله في 15 / 6 / 1413 هـ- في مدينة الرياض.

-------------

بواسطة العضو عبد الله الخميس
ইব্রাহিম বিন নাসির আল-মুনিফ

তিনি হলেন বনু তামিমে আল-ওয়াহাবা শাখার আল-মুহাম্মদ বংশীয় ইব্রাহিম বিন নাসির বিন আব্দুল মুহসিন আল-মুনিফ। তিনি ১৩৪৪ হিজরি সালের শুরুতে হাওতাত সুদাইরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাওতার ওলামা ও ইমামগণের নিকট জ্ঞানার্জন করেন। তিনি শৈশব থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও বুদ্ধিমান ছিলেন এবং অল্প বয়সেই পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন।

তিনি হাওতাত সুদাইরে লালিত-পালিত ও বর্ধিত হন এবং বরেণ্য আলেমদের কাছে শিক্ষা লাভ করেন, যাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন সুদাইরের বিচারক ফজিলাতুশ শায়খ আব্দুল্লাহ আল-আনকারি। তিনি সৌদি আরবের মুফতি শায়খ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল লতিফ আল-আশ-শায়খের মজলিসে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। এছাড়াও তিনি শায়খ আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ, শায়খ সুলাইমান বিন খুজাইম, শায়খ আলি বিন সুওয়াইদ এবং শায়খ সালিহ আল-গুসুন এর নিকট জ্ঞানার্জন করেন।

১৩৬০ হিজরি সালের শুরুতে শায়খ ইব্রাহিম হাওতাত সুদাইরের একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ১৩৭৪ হিজরি পর্যন্ত সেই দায়িত্বে বহাল থাকেন। ১৩৭৪ হিজরি সালের শেষভাগে তিনি হাওতার একটি বিদ্যালয়ে এবং একই শহরের শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ধর্মীয় বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ১৩৮৩ হিজরি সাল পর্যন্ত এই পেশায় নিয়োজিত থাকেন।

অতঃপর তিনি ১৩৯৪ হিজরি সালের শেষ পর্যন্ত মুজাহমিয়া আদালতে রেকর্ড ক্লার্ক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। এরপর তিনি রিয়াদে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে দ্রুত বিচার আদালতে রেকর্ড ক্লার্ক হিসেবে কাজ করেন। ১৪০১ হিজরি সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল ছিলেন, এরপর মাননীয় বিচার মন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাকে রিয়াদের নোটারি পাবলিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জারি করা হয়। তখন থেকে তিনি সেখানে কর্মরত ছিলেন, আল্লাহ তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন। নোটারি পাবলিকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি রিয়াদে অবস্থিত আল-রুয়াইতি’ মসজিদের ইমাম এবং বিবাহ নিবন্ধক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৪১৩ হিজরি সালের ১৫/০৬ তারিখে রিয়াদ শহরে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

-------------

সদস্য আব্দুল্লাহ আল-খামিসের মাধ্যমে সংগৃহীত
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌إحسان إلهي ظهير (1360هـ- - 1407هـ-)

نبذة مختصرة عن السيرة الذاتية

للشيخ إحسان إلهي ظهير

مجاهدون بالقلم

 

خالد بن سليمان الجبرين

 

إحسان إلهي عالم باكستاني من أولئك الذين حملوا لواء الحرب على أصحاب الفرق الضالة، وبينوا بالتحقيق والبحث الأصيل مدى ماهم فيه من انحراف عن سبيل الله وحياد عن سنة نبيه، وإن ادعوا الإسلام وملأوا مابين الخافقين نفاقاً وتقية.

ولد في "سيالكوت" عام (1363هـ) ولما بلغ التاسعة كان قد حفظ القرآن كاملاً وأسرته تعرف بالانتماء إلى أهل الحديث.. وقد أكمل دراسته الابتدائية في المدارس العادية وفي الوقت نفسه كان يختلف إلى العلماء في المساجد وينهل من معين العلوم الدينية والشرعية.

الجامعة والنبوغ الجامعي:

لقد حصل الشيخ على الليسانس في الشريعة من الجامعة الإسلامية في المدينة المنورة وكان ترتيبه الأول على طلبة الجامعة وكان ذلك عام (1961م) .

وبعد ذلك رجع إلى الباكستان وانتظم في جامعة البنجاب، كلية الحقوق والعلوم السياسية، وفي ذلك الوقت عين خطيباً في أكبر مساجد أهل الحديث بلاهور. ثم حصل على الليسانس أيضاً.

وظل يدرس حتى حصل على ست شهادات ماجستير في الشريعة، واللغة العربية، والفارسية، والأردية، والسياسة. وكل ذلك من جامعة البنجاب وكذلك حصل على شهادة الحقوق من كراتشي.

المناصب والوظائف والدعوة:

كان رحمه الله رئيساً لمجمع البحوث الإسلامية.

بالإضافة إلى رئاسة تحرير مجلة "ترجمان الحديث" التابعة لجمعية أهل الحديث بلاهور في باكستان، كذلك كان مدير التحرير بمجلة أهل الحديث الأسبوعية.

وكان رحمه الله عظيم الشأن في أموره كلها.. رجع يوم رجع إلى بلاده ممتلئاً حماساً للدعوة الإسلامية.

وقد عرض عليه العمل في المملكة العربية السعودية فأبى آخذاً بقوله تعالى: وما كان المؤمنون لينفروا كافة فلولا نفر من كل فرقة منهم طائفة ليتفقهوا في الدين ولينذروا قومهم إذا رجعوا إليهم لعلهم يحذرون (122) {التوبة: 122} .

يقول عنه الدكتور محمد لقمان السلفي في مجلة الدعوة (1) :

"لقد عرفت هذا المجاهد الذي أوقف حياته بل باع نفسه في سبيل الله أكثر من خمس وعشرين سنة عندما جمعتني به رحمه الله مقاعد الدراسة في الجامعة الإسلامية، جلست معه جنباً إلى جنب لمدة أربع سنوات فعرفته طالباً ذكياً يفوق أقرانه في الدراسة، والبحث، والمناظرة! وجدته يحفظ آلاف الأحاديث النبوية عن ظهر قلب كان يخرج من الفصل.. ويتبع مفتي الديار الشامية الشيخ ناصر الدين الألباني (2) ويجلس أمامه في فناء الجامعة على الحصى يسأله في الحديث ومصطلحه ورجاله ويتناقش معه، والشيخ رحب الصدر يسمع منه، ويجيب على أسئلته وكأنه لمح في عينيه ما سيكون عليه هذا الشاب النبيه من الشأن العظيم في سبيل الدعوة إلى الله والجهاد في سبيله بالقلم واللسان".

وكان الشيخ رحمه الله يتصل بالدعاة والعلماء في أيام الحج في شتى بقاع الأرض.. يتداول معهم الموضوعات الإسلامية والمشاكل التي يواجهها المسلمون.

دعاة الضلالة والحقد المستعر:

لكل مجاهد مخلص.. خصوم وأعداء، ولكل حق ضده من الباطل وبما أن الشيخ كان سلفي العقيدة من المنتمين لأهل الحديث فقد جعله هذا في حرب فكرية دائمة مع الطوائف الضالة كالرافضة والإسماعيلية والقاديانية.

لقد كان يرفضها.. ويرد على ضلالاتها.. ويجابهها في كل مكان وكل منتدى شأنه شأن كل مؤمن حقيقي الإيمان يعتقد في قرارة نفسه أن الكتاب والسنة هما الطريق الأوحد ولا طريق سواه لكل من أراد أن يكون من المنتمين لدين الإسلام. ويعتقد كذلك أن أدياناً تبنى على الكذب وتتستر خلف الترهات والأباطيل لجديرة بألا تصمد أمام النقاش وأن تتضعضع أمام سواطع الحق ونور الحقيقة.

ولهذا الأمر طفق يلقي المحاضرات، ويعقد المناقشات والمناظرات مع أصحاب الملل الضالة، ويصنف الكتب المعتمدة على مبدأ الموضوعية في النقل والمناقشة والتحقيق. وكثيراً ما كان يرد على المبطلين بأقوالهم.. ويسعى إلى كشف مقاصدهم والإبانة عن انحرافهم وضلالهم وفي كل ذلك كان يخرج من المعركة منتصراً يعضده الحق، وينصره الله تعالى.

ولما أحس به أهل الانحراف، وشعروا بأنه يخنق أنفاسهم، ويدحض كيدهم عمدوا إلى طريقة تنبئ عن جبن خالع.. عمدوا إلى التصفية الجسدية بطريقة ماكرة!

وفاته واستشهاده:

في لاهور بجمعية أهل الحديث وبمناسبة عقد ندوة العلماء كان الشيخ يلقي محاضرة مع عدد من الدعاة والعلماء، وكان أمامه مزهرية ظاهرها الرحمة والبراءة، وداخلها قنبلة موقوتة.. انفجرت لتصيب إحسان إلهي ظهير بجروح بالغة، وتقتل سبعة من العلماء في الحال وتلحق بهم بعد مدة اثنان آخران.

كان ذلك في 23-7-1407هـ-، ليلاً.

وبقي الشيخ إحسان أربعة أيام في باكستان، ثم نقل إلى الرياض بالمملكة العربية السعودية على طائرة خاصة بأمر من الملك فهد بن عبد العزيز حفظه الله واقتراح من العلامة الشيخ عبد العزيز بن باز رحمه الله.

وأدخل المستشفى العسكري، لكن روحه فاضت إلى بارئها في الأول من شعبان عام (1407هـ) ، فنقل بالطائرة إلى المدينة المنورة ودفن بمقبرة البقيع بالقرب من صحابة رسول الله (3) .

آثاره:

بالإضافة إلى محاضراته في الباكستان، والكويت، والعراق، والمملكة العربية السعودية والمراكز الإسلامية في مختلف ولايات أمريكا.

فقد كتب العديد من الكتب والمؤلفات التي سعى إلى جمع مصادرها من أماكن متفرقة كأسبانيا، وبريطانيا، وفرنسا، وإيران، ومصر.. وإليك قائمة بأسماء تلك الكتب (4) :

1 الشيعة والسنة (1393هـ) .

2 الشيعة وأهل البيت (1403هـ) وهي الطبعة الثالثة.

3 الشيعة والتشيع فرق وتاريخ.

4 الإسماعيلية تاريخ وعقائد (1405هـ) .

5 البابية عرض ونقد.

6 القاديانية (1376هـ) .

7 البريلوية عقائد وتاريخ (1403هـ)

8 البهائية نقد وتحليل (1975م) .

9 الرد الكافي على مغالطات الدكتور علي عبد الواحد وافي (1404هـ) .

10 التصوف، المنشأ والمصادر الجزء الأول (1406هـ) .

11 دراسات في التصوف وهو الجزء الثاني.

12 الشيعة والقرآن (1403هـ) .

13 الباطنية بفرقها المشهورة.

14 فرق شبه القارة الهندية ومعتقداتها.

15 النصرانية.

16 القاديانية باللغة الإنجليزية.

17 الشيعة والسنة بالفارسية.

18 كتاب الوسيلة بالإنجليزية والأوردية.

19 كتاب التوحيد.

20 الكفر والإسلام بالأوردية.

21 الشيعة والسنة بالفارسية والإنجليزية والتايلندية.

خالد بن سليمان الجبرين

---------------

 

* الهوامش:

1. مجلة الدعوة السعودية عدد (1087)

2. حيث كان الألباني مدرساً بالجامعة الإسلامية في الفترة ما بين (1381هـ- و 1383)

3. إحسانا الهي ظهيرا ص (23)

4. المصدر نفسه ص: (9) - ص (16)

5. الدعوة عدد (1087)

*المراجع: ِِ

1. إحسان الهي ظهير - رسالة من تأليف: محمد إبراهيم الشيباني

2. مجلة الدعوة السعودية العدد (1087)

3. مجلة المجتمع الكويتية (812)

4. مجلة الفيصل السعودية العدد (123)

---------------------

منقول من مجلة الجندي المسلم

(مجلة تصدر عن وزارة الدفاع السعودية)

العدد 105

http://saaid.net/Warathah/1/taher.htm

--------------

بواسطة العضو ابو ابراهيم الكويتي
ইহসান ইলাহি জহির (১৩৬০ হি. - ১৪০৭ হি.)

শায়খ ইহসান ইলাহি জহিরের

সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত

কলম দ্বারা জিহাদকারীগণ

 

খালিদ বিন সুলাইমান আল-জাবরিন

 

ইহসান ইলাহি ছিলেন একজন পাকিস্তানি আলেম, যিনি বিচ্যুত দলগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঝাণ্ডা ধারণ করেছিলেন। তিনি প্রকৃত গবেষণা ও মৌলিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে উন্মোচন করেছেন যে, তারা আল্লাহর পথ থেকে কতটা বিচ্যুত এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ থেকে কতটা দূরে সরে গেছে; যদিও তারা ইসলামের দাবি করত এবং কপটতা (নিফাক) ও তাকিয়ার মাধ্যমে আকাশ-পাতাল পূর্ণ করে ফেলেছিল।

তিনি ১৩৬৩ হিজরিতে ‘শিয়ালকোট’-এ জন্মগ্রহণ করেন। নয় বছর বয়সে তিনি সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। তাঁর পরিবার আহলে হাদিসের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিল। তিনি সাধারণ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন এবং একই সঙ্গে মসজিদে আলেমদের সান্নিধ্যে যাতায়াত করতেন এবং দ্বীনি ও শরয়ী জ্ঞানের ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণ করতেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা জীবনের মেধা:

শায়খ মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরীয়াহ বিষয়ে লিসেন্স (স্নাতক) ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৬১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

এরপর তিনি পাকিস্তানে ফিরে যান এবং পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ওই সময়েই তিনি লাহোরের আহলে হাদিসদের সবচেয়ে বড় মসজিদে খতিব হিসেবে নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি সেখান থেকেও লিসেন্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি তাঁর পড়াশোনা অব্যাহত রাখেন এবং পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরীয়াহ, আরবি, ফারসি, উর্দু ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান—এই পাঁচটি বিষয়ে এবং করাচি থেকে আইন বিষয়ে মোট ছয়টি স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেন।

পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও দাওয়াত:

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ‘মাজমাউল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ’ (ইসলামী গবেষণা পরিষদ)-এর সভাপতি ছিলেন।

এর পাশাপাশি তিনি লাহোরের ‘জমিয়তে আহলে হাদিস’-এর মুখপত্র ‘তরজুমানুল হাদিস’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক এবং সাপ্তাহিক ‘আহলে হাদিস’ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সকল কর্মতৎপরতায় অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। নিজ দেশে ফিরে আসার পর তিনি ইসলামী দাওয়াতের জন্য পূর্ণ উদ্দীপনায় আত্মনিয়োগ করেন।

তাঁকে সৌদি আরবে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি আল্লাহর এই বাণীকে সামনে রেখে তা প্রত্যাখ্যান করেন: "আর মুমিনদের পক্ষে সম্ভব নয় যে, তারা সকলে একযোগে অভিযানে বের হবে। তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসবে, তখন তাদের সতর্ক করতে পারে; যাতে তারা বেঁচে থাকতে পারে?" (সূরা আত-তাওবাহ: ১২২)।

তাঁর সম্পর্কে ড. মুহাম্মদ লুকমান সালাফি ‘আদ-দাওয়াহ’ ম্যাগাজিনে (১) বলেন:

"আমি এই মুজাহিদকে চিনেছি, যিনি নিজের জীবনকে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করেছেন, বরং পঁচিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। যখন মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন তাঁর সাথে আমার পরিচয় হয়। চার বছর আমি তাঁর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পড়াশোনা করেছি এবং তাঁকে একজন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হিসেবে পেয়েছি, যিনি পড়াশোনা, গবেষণা ও বিতর্কে সমসাময়িকদের চেয়ে অনেক অগ্রগামী ছিলেন। আমি দেখেছি তিনি মুখস্থ হাজার হাজার হাদিস বর্ণনা করতে পারতেন। তিনি ক্লাস থেকে বের হয়ে সিরিয়ার মুফতি শায়খ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি (২)-এর অনুসরণ করতেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় কাঁকরের ওপর তাঁর সামনে বসে হাদিস, হাদিসের পরিভাষা ও রাবিদের সম্পর্কে প্রশ্ন করতেন এবং আলোচনা করতেন। শায়খও অত্যন্ত উদারতার সাথে তাঁর কথা শুনতেন এবং প্রশ্নের উত্তর দিতেন; যেন শায়খ তাঁর চোখের চাহনিতেই দেখতে পেতেন যে, এই মেধাবী যুবক ভবিষ্যতে আল্লাহর পথে দাওয়াত এবং কলম ও জিহ্বার মাধ্যমে জিহাদের ময়দানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে।"

শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) হজের দিনগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দায়ি ও আলেমদের সাথে যোগাযোগ করতেন এবং তাঁদের সাথে মুসলমানদের বিভিন্ন সমস্যা ও ইসলামী বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করতেন।

ভ্রান্ত পথের আহ্বানকারী ও চরম বিদ্বেষ:

প্রত্যেক একনিষ্ঠ মুজাহিদেরই কিছু শত্রু ও বিরোধী থাকে, আর প্রত্যেক সত্যের বিপরীতে থাকে মিথ্যা। যেহেতু শায়খ আহলে হাদিসদের অন্তর্ভুক্ত একজন সালাফি আকিদার আলেম ছিলেন, তাই এটি তাঁকে রাফেজি, ইসমাইলি ও কাদিয়ানিদের মতো বিচ্যুত দলগুলোর সাথে এক নিরন্তর বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধে লিপ্ত করেছিল।

তিনি এসব মতবাদকে প্রত্যাখ্যান করতেন, তাদের ভ্রান্তির জবাব দিতেন এবং প্রতিটি সভা ও সেমিনারে তাদের মোকাবিলা করতেন। এটি ছিল একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য, যিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে, যারা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হতে চায় তাদের জন্য কুরআন ও সুন্নাহই একমাত্র পথ এবং এটি ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। তিনি আরও বিশ্বাস করতেন যে, যেসব ধর্ম মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এবং আজেবাজে ও বাতিল কথার আড়ালে লুকায়, সেগুলো কখনোই যুক্তি-তর্কের সামনে টিকে থাকতে পারে না এবং সত্যের প্রখর আলোর সামনে ধসে পড়তে বাধ্য।

এই উদ্দেশ্যেই তিনি লেকচার দিতে শুরু করেন, বিচ্যুত মতাবলম্বীদের সাথে আলোচনা ও বিতর্কের আয়োজন করেন এবং উদ্ধৃতি, আলোচনা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে নির্ভরযোগ্য কিতাবাদি রচনা করেন। অধিকাংশ সময় তিনি বাতিলপন্থীদের নিজস্ব বক্তব্য দিয়েই তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতেন। তিনি তাদের হীন উদ্দেশ্য উন্মোচন এবং তাদের বিচ্যুতি ও ভ্রষ্টতা স্পষ্ট করার চেষ্টা করতেন। এই প্রতিটি লড়াইয়ে তিনি সত্যের সমর্থনে বিজয়ী হয়ে ফিরতেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে সাহায্য করতেন।

যখন বিচ্যুত দলগুলো তাঁর প্রভাব অনুভব করল এবং বুঝতে পারল যে তিনি তাদের শ্বাসরোধ করে ধরছেন এবং তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিচ্ছেন, তখন তারা অত্যন্ত কাপুরুষোচিত এক চরম পথ বেছে নিল। তারা ধূর্ততার সাথে তাঁকে শারীরিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করল!

মৃত্যু ও শাহাদাত:

লাহোরে জমিয়তে আহলে হাদিসের উদ্যোগে আয়োজিত এক ওলামা সম্মেলনে শায়খ আরও কয়েকজন দায়ি ও আলেমের সাথে আলোচনা পেশ করছিলেন। তাঁর সামনে একটি ফুলের তোড়া রাখা ছিল, যা দেখতে নিরীহ ও সুন্দর মনে হলেও তার ভেতরে ছিল একটি টাইম বোমা। বোমাটির বিস্ফোরণে ইহসান ইলাহি জহির গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই সাতজন আলেম নিহত হন এবং পরবর্তীতে আরও দুইজন মারা যান।

এটি ছিল ২৩-৭-১৪০৭ হিজরি, রাত।

শায়খ ইহসান পাকিস্তানে চার দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর বাদশাহ ফাহদ বিন আবদুল আজিজের নির্দেশে এবং আল্লামা শায়খ আবদুল আজিজ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রস্তাবে তাঁকে একটি বিশেষ বিমানে সৌদি আরবের রিয়াদে স্থানান্তর করা হয়।

তাঁকে সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু ১লা শাবান ১৪০৭ হিজরিতে তাঁর আত্মা মহান রবের সান্নিধ্যে চলে যায়। এরপর বিমানে করে তাঁর মরদেহ মদিনা মুনাওয়ারায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের নিকটবর্তী জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয় (৩)।

অবদান:

পাকিস্তান, কুয়েত, ইরাক, সৌদি আরব এবং আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ইসলামিক সেন্টারগুলোতে তাঁর দেওয়া লেকচারগুলো ছাড়াও তিনি অনেকগুলো কিতাব রচনা করেছেন।

এসব কিতাবের উৎস সংগ্রহের জন্য তিনি স্পেন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইরান ও মিশরের মতো বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। নিচে তাঁর রচিত কিতাবগুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলো (৪):

১. শিয়া ও সুন্নাহ (১৩৯৩ হি.)।

২. শিয়া ও আহলে বায়ত (১৪০৩ হি.) - এটি ছিল তৃতীয় সংস্করণ।

৩. শিয়া ও শিয়াবাদ: উপদল ও ইতিহাস।

৪. ইসমাইলিয়া: ইতিহাস ও আকিদা (১৪০৫ হি.)।

৫. বাবিয়াত: পর্যালোচনা ও সমালোচনা।

৬. কাদিয়ানিয়্যাত (১৩৭৬ হি.)।

৭. বেরলভিয়াত: আকিদা ও ইতিহাস (১৪০৩ হি.)।

৮. বাহায়িয়াত: সমালোচনা ও বিশ্লেষণ (১৯৭৫ খ্রি.)।

৯. ড. আলী আব্দুল ওয়াহিদ ওয়াফি-এর বিভ্রান্তির দাঁতভাঙা জবাব (১৪০৪ হি.)।

১০. তাসাউফ: উৎস ও সূত্র - প্রথম খণ্ড (১৪০৬ হি.)।

১১. তাসাউফ নিয়ে গবেষণা - দ্বিতীয় খণ্ড।

১২. শিয়া ও কুরআন (১৪০৩ হি.)।

১৩. বাতিনিয়া ও এর প্রসিদ্ধ উপদলসমূহ।

১৪. ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন দল ও তাদের বিশ্বাস।

১৫. খ্রিস্টধর্ম।

১৬. কাদিয়ানিয়্যাত (ইংরেজি ভাষায়)।

১৭. শিয়া ও সুন্নাহ (ফারসি ভাষায়)।

১৮. কিতাবুল ওয়াসিলা (ইংরেজি ও উর্দু ভাষায়)।

১৯. কিতাবুত তাওহিদ।

২০. কুফর ও ইসলাম (উর্দু ভাষায়)।

২১. শিয়া ও সুন্নাহ (ফারসি, ইংরেজি ও থাই ভাষায়)।

খালিদ বিন সুলাইমান আল-জাবরিন

---------------

 

* টীকা:

১. সৌদি আরবের আদ-দাওয়াহ ম্যাগাজিন, সংখ্যা (১০৮৭)

২. আলবানি ১৩৮১ হি. থেকে ১৩৮৩ হিজরি পর্যন্ত মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

৩. ইহসান ইলাহি জহির, পৃষ্ঠা: ২৩

৪. একই উৎস, পৃষ্ঠা: ৯ - ১৬

৫. আদ-দাওয়াহ, সংখ্যা (১০৮৭)

*তথ্যসূত্র: ِِ

১. ইহসান ইলাহি জহির - লেখক: মুহাম্মদ ইব্রাহিম আশ-শাইবানি

২. সৌদি আদ-দাওয়াহ ম্যাগাজিন, সংখ্যা (১০৮৭)

৩. কুয়েতি আল-মুজতামাউ ম্যাগাজিন (৮১২)

৪. সৌদি আল-ফয়সাল ম্যাগাজিন, সংখ্যা (১২৩)

---------------------

আল-জুন্দি আল-মুসলিম ম্যাগাজিন থেকে সংগৃহীত

(সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিন)

সংখ্যা: ১০৫

http://saaid.net/Warathah/1/taher.htm

--------------

সদস্য আবু ইব্রাহিম আল-কুয়েতি-এর মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌إحسان عباس

ولد في قرية عين غزال بفلسطين عام 1920م، وتعلم حتى تخرج من الكلية العربية في القدس عام 1941م، ثم واصل تعليمه العالي حتى نال الدكتوراه من كلية الآداب جامعة القاهرة سنة 1954م.

 

وقد بدأ تدريسه الجامعي في كلية غوردن التذكارية في السودان، ثم جامعة الخرطوم، ثم انتدب للتدريس في الجامعة الأمريكية في بيروت عام 1961م، وشغل فيها منصب رئيس دائرة اللغة العربية ولغات الشرق الأدنى، ومدير مركز الدراسات العربية ودراسات الشرق الأوسط، ورئيس تحرير مجلة الأبحاث، وهو عضو في المجمع العلمي العربي بدمشق والمجمع العلمي الهندي (عن فلسطين) وهو الآن يعمل في الجامعة الأردنية بعمان.

 

وقد شارك الدكتور (إحسان عباس) في ضروب مختلفة من النشاط الأكاديمي والتربوي في جامعات ومؤتمرات وندوات عربية وعالمية كثيرة عن الدراسات العربية والإسلامية والتراث والأدب الحديث، كما كان مستشاراً لعدد من الجامعات في تخطيطها لبرامج الدراسات العليا.

 

وللدكتور إحسان عباس إنتاج علمي متميز يقرب من الستين كتاباً؛ تأليفا وتحقيقاً وترجمة إضافة إلى ما يزيد على السبعين بحثاً ومقالة ومراجعة لكتب.

 

ومما ألف من الكتب عن الشعر العربي المعاصر: اتجاهات الشعر العربي المعاصر، وبدر شاكر السياب، وعبد الوهاب البياتي والشعر العربي الحديث، ومما حققه: فريدة القصر، للعماد الأصفهاني، ورسائل ابن حزم الاندلسي، وديوان لبيد بن ربيعة العامري، ومما ترجمه: كتاب الشعر، لأرسطو، وأرنست همنغواي، لكارلوس بيكر.

 

حقق د. إحسان عباس عبر حياته العلمية والأدبية الحافلة قدرا عاليا من الإبداع الفكري المقترن بالأصالة وبراعة العرض، وأغنى الدراسات الأدبية بأعماله الرائدة التي مزج فيها بين خصائص التراث العربي، وآداب اللغات الأخرى وأتاح المجال لتحديث دراسة الأدب والشعر العربي المعاصر والتفاعل بينه وبين الآداب العالمية الأخرى.

 

فاز بجائزة الملك فيصل العالمية للأدب العربي (بالاشتراك) عام 1400هـ-/1980م، وكان موضوع الجائزة "الدراسات التي تناولت الشعر العربي المعاصر".

-------------

بواسطة العضو عبد الله الخميس
ইহসান আব্বাস

তিনি ১৯২০ সালে ফিলিস্তিনের আইন গাজাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪১ সালে জেরুসালেমের অ্যারাবিক কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা পর্যন্ত শিক্ষাগ্রহণ করেন। এরপর তিনি তাঁর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যান এবং ১৯৫৪ সালে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

 

তিনি সুদানের গর্ডন মেমোরিয়াল কলেজে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন, এরপর খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতার জন্য নিযুক্ত হন এবং সেখানে তিনি আরবি ভাষা ও নিকট প্রাচ্য ভাষা বিভাগের প্রধান, আরবি অধ্যয়ন ও মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন কেন্দ্রের পরিচালক এবং 'আল-আবহাস' পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দামেস্কের আরব সায়েন্টিফিক একাডেমি এবং (ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি হিসেবে) ইন্ডিয়ান সায়েন্টিফিক একাডেমির সদস্য। বর্তমানে তিনি আম্মানের জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন।

 

ডক্টর ইহসান আব্বাস আরবি ও ইসলামি অধ্যয়ন, ঐতিহ্য এবং আধুনিক সাহিত্য বিষয়ক অসংখ্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, সম্মেলন ও সেমিনারে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষায়তনিক ও শিক্ষা বিষয়ক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষণা (পিএইচডি) কার্যক্রমের পরিকল্পনা প্রণয়নে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।

 

ডক্টর ইহসান আব্বাসের ষাটটির কাছাকাছি অনন্য গবেষণালব্ধ গ্রন্থ রয়েছে; যার মধ্যে মৌলিক রচনা, পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও অনুবাদ অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও সত্তরটিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও গ্রন্থ সমালোচনা রয়েছে।

 

সমকালীন আরবি কবিতা বিষয়ক তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'ইত্তি জাহাতুশ শি’রিল আরবি আল-মুআসির' (সমকালীন আরবি কবিতার গতিধারা), 'বদর শাকির আল-সাইয়াব', এবং 'আবদুল ওয়াহাব আল-বায়াতি ওয়াশ শি’রুল আরবি আল-হাদিস'। তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: ইমাদ আল-আসফাহানি রচিত 'ফারিদাতুল কাসর', 'রাসায়েল ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি' (ইবনে হাজম আল-আন্দালুসির পত্রাবলি), এবং লাবিদ বিন রাবিআ আল-আমিরির কাব্যসমগ্র (দিওয়ান)। তাঁর অনূদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: অ্যারিস্টটলের 'পোয়েটিক্স' (কিতাবুশ শি’র) এবং কার্লোস বেকারের 'আর্নেস্ট হেমিংওয়ে'।

 

ডক্টর ইহসান আব্বাস তাঁর বর্ণাঢ্য জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক জীবনে মৌলিকত্ব ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনার সমন্বয়ে উচ্চমানের বুদ্ধিবৃত্তিক সৃজনশীলতা প্রদর্শন করেছেন। তিনি তাঁর অগ্রগামী কাজের মাধ্যমে সাহিত্য গবেষণাকে সমৃদ্ধ করেছেন, যেখানে তিনি আরবি ঐতিহ্যের বৈশিষ্ট্যের সাথে অন্যান্য ভাষার সাহিত্যের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। তিনি সমকালীন আরবি সাহিত্য ও কবিতার গবেষণাকে আধুনিকীকরণ এবং বিশ্বের অন্যান্য সাহিত্যের সাথে এর মিথস্ক্রিয়ার পথ প্রশস্ত করেছেন।

 

তিনি ১৪০০ হিজরি/১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে আরবি সাহিত্যে কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার (যৌথভাবে) লাভ করেন। পুরস্কারের নির্ধারিত বিষয় ছিল "সমকালীন আরবি কবিতা বিষয়ক গবেষণা"।

-------------

সদস্য আবদুল্লাহ আল-খামিসের সৌজন্যে
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌إسماعيل محمد الأنصاري

1340هـ-/1921م- تنبكتو (مالي) 1417هـ-/1996م الرياض

- تلقى علومه ودرس في تنبكتو، حيث درس النحو والصرف واللغة وحفظ ألفيه بن مالك وكلفه مشايخه بحفظ الكثير من المتون نظما ونثرا، وقرأ القرآن بقراءة نافع وحفظه غيبا، كما تلقى على مشايخه كتب التوحيد وأصول الفقه وعلم المنطق والمعلقات وفن البلاغة ومصطلح الحديث الشريف والتفسير، ومن أبرز مشايخه: الشيخ محمد عبد الرحمن الأنصاري، والشيخ محمد بن ثاني الأنصاري، والشيخ حمد بن الأمين الأنصاري، والشيخ محمد بن صالح الإدريسي، والشيخ عبد الله بن محمود المدني، ونال الإجازة من مشايخه في التفسير والحديث، وقدم للملكة عام 1370هـ- وتلقي علوم التوحيد والعقيدة والحديث وعلومه والتفسير وأصوله، وفي عام 1372هـ- نال الإجازة بالتدريس في المسجد الحرام، متخصص في التفسير، والحديث، والفقه، والعقيدة، إلى جانب النحو، والصرف، والأدب.

- عمل مدرسا بالمدرسة الصولتية عام 1370هـ-، وانتدب في عام 1374هـ- للتدريس في المعهد العلمي بالرياض، ثم اختاره سماحة مفتي المملكة آنذاك الشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخ مدرسا في مسجده، ثم مدرسا في معهد إمام الدعوة بعد تأسيسه تحت رئاسته أيضا، ثم انتقل إلى الرئاسة العامة لإدارة البحوث العلمية والإفتاء وكان اسمها في ذلك الوقت دار الإفتاء ليكون عضوا بها بأمر من سماحة المفتي آنذاك الشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخ عام 1382هـ-، إلى أن أحيل إلى التقاعد لبلوغه السن النظامية، ومع ذلك استمر يؤدي العمل الذي يوكل إليه في هذا المجال.

- من مؤلفاته: الإمام بشرح عمدة الأحكام (مجلدان) ، التحفة الربانية بشرح الأربعين النووية وتكملتها للحافظ بن رجب، تصحيح حديث صلاة التراويح عشرين ركعة والرد الألباني في تضعيفه، الإرشاد في القطع بقول حديث الآحاد، رسالة في شأن الخضر عليه السلام (مخطوط) ، النبذة النحوية في الأسئلة والأجوبة النحوية، الفقيه والمتفقه للحافظ الخطيب البغدادي (تحقيق) ، الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر للخلال (تحقيق) الأعلام العلية في مناقب الشيخ ابن تيمية لأبي حفص البزار (تحقيق) ، العجالة السنية في شرح الألفية في السيرة النبوية للعراقي بشرح المناوي (تحقيق) ، النهاية للحافظ ابن كثير وهي خاتمة كتابه البداية (تحقيق) ، تطهير الاعتقاد للصنعاني (تحقيق) ، إباحة التحلي بالذهب المحلق (رد على الشيخ ناصر الدين الألباني في تحريمه للتحلي بالذهب المحلق للنساء) ، الصارم المنكي في الرد على السبكي لابن عبد الهادي (تحقيق) ، قرة عيون الموحدين للشيخ عبد الرحمن بن حسن (تحقيق) ، الوابل الصيب لابن القيم (تحقيق) ، أخلاق العلماء للآجري (تحقيق.

------------

بواسطة العضو عبد الله الخميس
‌‌ইসমাইল মুহাম্মদ আল-আনসারী

১৩৪০ হিজরি-/১৯২১ খ্রিস্টাব্দ- টিম্বাকটু (মালি) ১৪১৭ হিজরি-/১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ রিয়াদ

- তিনি টিম্বাকটুতে শিক্ষা লাভ করেন এবং অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি নাহু, সরফ ও ভাষা শিক্ষা করেন এবং ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ মুখস্থ করেন। তার শায়খগণ তাকে গদ্য ও পদ্যের বহু মতন (মূল পাঠ) মুখস্থ করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি নাফে-এর কিরাত অনুযায়ী কুরআন অধ্যয়ন করেন এবং তা সম্পূর্ণ মুখস্থ করেন। পাশাপাশি তিনি তার শায়খদের কাছে তাওহীদ, উসুলুল ফিকহ, মানতিক (তর্কশাস্ত্র), মুয়াল্লাকাত, বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা এবং তাফসীর শাস্ত্রের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করেন। তার উল্লেখযোগ্য শায়খদের মধ্যে রয়েছেন: শায়খ মুহাম্মদ আবদুর রহমান আল-আনসারী, শায়খ মুহাম্মদ বিন সানি আল-আনসারী, শায়খ হামাদ বিন আল-আমিন আল-আনসারী, শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-ইদ্রিসী এবং শায়খ আবদুল্লাহ বিন মাহমুদ আল-মাদানী। তিনি তাফসীর ও হাদিস শাস্ত্রে তার শায়খদের কাছ থেকে ইজাযত লাভ করেন। ১৩৭০ হিজরিতে তিনি সৌদি আরবে আগমন করেন এবং সেখানে তাওহীদ, আকিদাহ, হাদিস ও এর মূলনীতি এবং তাফসীর ও এর মূলনীতি শিক্ষা করেন। ১৩৭২ হিজরিতে তিনি মাসজিদুল হারামে পাঠদানের ইজাযত লাভ করেন। তিনি তাফসীর, হাদিস, ফিকহ এবং আকিদাহর পাশাপাশি নাহু, সরফ ও সাহিত্যে বিশেষজ্ঞ ছিলেন।

- তিনি ১৩৭০ হিজরিতে মাদ্রাসা সওলতিয়াহ-তে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৩৭৪ হিজরিতে তাকে রিয়াদের মা'হাদ আল-ইলমিতে শিক্ষকতার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। অতঃপর তদানীন্তন গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল-শায়খ তাকে তার নিজস্ব মসজিদে শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করেন। এরপর তারই নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত মা'হাদ ইমামুদ দাওয়াহ-তেও তিনি শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। অতঃপর তিনি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইফতা প্রশাসনের জেনারেল প্রেসিডেন্সিতে স্থানান্তরিত হন, যার নাম তৎকালীন সময়ে ছিল ‘দারুল ইফতা’। ১৩৮২ হিজরিতে গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল-শায়খের নির্দেশে তিনি এর সদস্য হন। চাকরির নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়ায় তাকে অবসরে পাঠানো পর্যন্ত তিনি সেখানে কর্মরত ছিলেন। তবে তা সত্ত্বেও তিনি এ ক্ষেত্রে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

- তার উল্লেখযোগ্য রচনাবলি: উমদাতুল আহকামের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-ইমাম’ (দুই খণ্ড), আরবাঈন নববী ও হাফেজ ইবনে রজবের সংযোজনীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-তুহফাতুর রাব্বানিয়্যাহ’, তারাবীহ নামায বিশ রাকাত সংক্রান্ত হাদিসের বিশুদ্ধতা নিরূপণ এবং এটি দুর্বল আখ্যা দেওয়ার বিষয়ে আলবানীর মতের খণ্ডন, একক বর্ণনা (আখবারে আহাদ) দ্বারা অকাট্যতার বিষয়ে ‘আল-ইরশাদ’, খিজির আলাইহিস সালামের বিষয়ে একটি রিসালাহ (পাণ্ডুলিপি), নাহু শাস্ত্রের প্রশ্ন ও উত্তরের ওপর ‘আল-নুবজাতুন নাহওয়িয়্যাহ’, হাফেজ খতিব আল-বাগদাদীর ‘আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ’ (সম্পাদনা), খাল্লালের ‘আল-আমর বিল মা’রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার’ (সম্পাদনা), আবু হাফস আল-বাযযারের লেখা শায়খ ইবনে তাইমিয়য়াহর জীবনী ‘আল-আলামুল আলিয়্যাহ’ (সম্পাদনা), আল-ইরাকির সিরাত বিষয়ক আলফিয়্যাহর ওপর আল-মানাওয়ীর ব্যাখ্যা ‘আল-উজালতুস সানিয়্যাহ’ (সম্পাদনা), হাফেজ ইবনে কাসীরের ‘আল-নিহায়াহ’ যা তার ‘আল-বিদায়াহ’ গ্রন্থের শেষ অংশ (সম্পাদনা), সানআনী রচিত ‘তাতহীরুল ইতিকাদ’ (সম্পাদনা), কারুকার্যখচিত গোলাকার স্বর্ণালঙ্কার পরিধানের বৈধতা (নারীদের জন্য এর হারাম হওয়ার বিষয়ে শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানীর মতের খণ্ডন), সুবকীর খণ্ডনে ইবনে আব্দুল হাদীর ‘আল-সারিমুল মুনকি’ (সম্পাদনা), শায়খ আব্দুর রহমান বিন হাসানের ‘কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহহিদীন’ (সম্পাদনা), ইবনুল কাইয়্যিমের ‘আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব’ (সম্পাদনা) এবং আজুরীর ‘আখলাকুল উলামা’ (সম্পাদনা)।

------------

সদস্য আবদুল্লাহ আল-খামিসের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌العربي بن أحمد الحاج

المعلومات الشخصية:

تاريخ ومكان الميلاد: 23 سبتمبر 1955م، أصغير (المغرب) .

الجنسية: جزائري

المؤهلات العلمية:

1- شهادة البكالوريا في الآداب من وهران (الجزائر) سنة 1974م بدرجة "الشرف".

2- شهادة الليسانس في الحقوق (التوجيه القضائي) من جامعة وهران (الجزائر) سنة 1979م بتقدير "جيد جداً".

3- دبلوم الدراسات المعمقة في القانون الخاص من جامعة "ران" (RENNES) بفرنسا سنة 1980م بدرجة الشرف.

4- دكتوراه دولة في القانون الخاص من جامعة "ران" (RENNES) بفرنسا سنة 1984م بتقدير "مشرف جداً".

ثالثاً: التسلسل الوظيفي:

1- أستاذ مساعد في جامعة وهران (الجزائر) من 9/9/1984 إلى 8/9/1985م.

2- أستاذ مساعد مرسم في جامعة وهران من 9/9/1985 إلى 25/12/1988م.

3- أستاذ مكلف بالدروس مرسم من 26/12/1988 إلى 27/10/1989م.

4- أستاذ محاضر مرسم في نفس الجامعة من 1/1/1990 إلى 27/10/1993م.

5- أستاذ بروفيسور في القانون الخاص في جامعة وهران من 27/10/1993 إلى 18/9/1996م.

6- أستاذ مشارك في الفقه الإسلامي بالمعهد الوطني العالي للشريعة الإسلامية بوهران في

الفترة: 1987 - 1996م.

7- أستاذ بروفيسور في القانون الخاص في جامعة الملك سعود (كلية العلوم الإدارية) بالرياض في السعودية من 5/5/1417هـ- (1996) إلى يومنا هذا.

رابعاً: نبذة مختصرة عن الخبرة العلمية:

1- أستاذ للدراسات العليا (ماجستير القانون الخاص) في جامعة وهران في الفترة 1986- 1996م.

2- أستاذ في الفقه الإسلامي بالمعهد الوطني العالي للشريعة الإسلامية بوهران في الفترة: 1987- 1996م.

3- أستاذ القانون في جامعة التكوين المتواصل، فرع وهران، في الفترة 1988-1994م.

4- محامي معتمد لدى المحكمة العليا في الجزائر العاصمة في الفترة من: 1992-1996م.

5- رئيس وحدة البحث الخاصة بالقانون الطبي بكلية الحقوق بجامعة وهران في الفترة: 1988-1996م.

6- عضو في المجلس العلمي لكلية الحقوق والعلوم الإدارية بجامعة وهران في الفترة: 1988-1996م.

7- عضو في لجنة الخُبراء التابعة لوزارة التعليم العالي في الجزائر في الفترة: 1993-1996م

8- مقرر لجنة معادلة المقررات والشهادات الدراسية في جامعة الملك سعود (كلية العلوم الإدارية) منذ 1419هـ- إلى يومنا هذا.

9- أشرف على عدة رسائل دكتوراه دولة في القانون الخاص والفقه الإسلامي.

10- ألقى عدة محاضرات في ملتقيات وندوات داخل الوطن العربي وخارجه.

11- له عدة مؤلفات وأبحاث تحت الطبع في القانون المدني والفقه الإسلامي.

12- أقدمية تربوية وعلمية قدرها 18 سنة في التعليم الجامعي والبحث العلمي العالي.

خامساً: الكتب المطبوعة والمنشورة:

1- المدخل لدراسة الفقه الإسلامي، د. م. ج، الجزائر ط1 (1990م) وط2 (1992م)

2- النظرية العامة للالتزامات في القانون المدني الجزائري (في جزئين) ، د. م. ج. الجزائر، ط1 (1992م) ، ط2 (1997م) .

3- الوجيز في شرح قانون الأسرة الجزائري في (جزئين) ، د. م. ج. الجزائر، ط1 (1994م) ، ط2 (1999م) .

4- التعليق على قانون الأسرة الجزائري، د. م. ج. الجزائر، ط1 (1995م) ط2 (2001م) .

5- أبحاث ومذكرات في القانون والفقه (في جزئين) د. م. ج. الجزائر، ط1 1995م.

6- أحكام المواريث، د. م. ج. الجزائر 1996م.

7- بحوث في فقه المعاملات، المعهد الوطني العالي للشريعة الإسلامية، وهران 1996م.

سادساً: أهم المقالات والبحوث العلمية المنشورة:

1- معصومية الجثة في الفقه الإسلامي. مجلة الحقوق، الكويت، العدد 4، ديسمبر 1999م، ص173.

2- الأحكام الشرعية والطبية للمتوفى في الفقه الإسلامي. مجلة البحوث الفقهية المعاصرة، الرياض، 1999م، العدد 42، ص8.

3- معالم نظرية الشركة لدى فقهاء الشريعة الإسلامية: مجلة البحوث الفقهية، المعاصرة، الرياض 1998م، العدد 39، ص7.

4- الأركان الشرعية لقيام عقد البيع في الفقه الإسلامي (دراسة مقارنة) . المجلة الجزائرية للعلوم القانونية، الجزائر، 1998م، العدد 2، ص107.

5- حكم الشريعة الإسلامية في قتل الرحمة أو تيسير الموت للمريض الميؤوس من شفائه. مجلة منار الإسلام، أبو ظبي، العدد 5، أغسطس 1999م، ص16.

6- حكم استنساخ الميت في الفقه الإسلامي، مجلة المحامي، الرياض، العدد 7، رمضان 1421هـ-. ص54.

7- الضوابط الشرعية والأخلاقية والإنسانية للإنعاش الصناعي. مجلة المنار الإسلامي، أبو ظبي، العدد 7، أكتوبر 2000م، ص54.

8- موقف الفقه الإسلامي من التجارب الطبية والعملية على الجنين. مجلة الدعوة، الرياض العدد 1775، 11 يناير 2001م، ص40.

9- معالم نظرية الحق لدى فقهاء الشريعة الإسلامية. مجلة البحوث الفقهية المعاصر، الرياض 1995م، العدد 25، ص49.

10- حكم الشريعة الإسلامية في أعمال الطب والجراحة والبيولوجيا المستحدثة مجلة البحوث الفقهية المعاصرة، الرياض 1993م، العدد 18، ص53.

11- المسؤولية عن الأشياء غير الحية في القانون المدني الجزائري. المجلة الجزائرية للعلوم القانونية، 1991م، عدد 3، ص 646.

12- حكم الإكراه وعلاقته بالمسؤولية المدنية في الشريعة الإسلامية والقانون المدني الجزائري المجلة الجزائرية للعلوم القانونية، 1990م، عدد 1، ص216.

13- مفهوم التعسف في استعمال الحق في القانون المدني الجزائري، المجلة الجزائرية للعلوم القانونية، 1992م، عدد 4، ص694.

14- الخطأ العقدي في القانون الجزائري. مجلة الرسالة القانونية، 1994م، عدد3و4 (في حلقتين) .

15- دعوى المسؤولية التقصيرية في القانون القضائي الجزائري. المجلة الجزائرية للعلوم القانونية، 1994، عدد 2 ص410.

16- مشكلة الميت الحي (أو المتوفى دماغياً) بين علماء الطب وفقهاء الإسلام. مجلة منار الإسلام، أبو ظبي، العدد 12، ذو الحجة 1421هـ-، مارس 2001م، ص54.

17- دور النيابة العامة أمام المحاكم المدنية في القانون القضائي الجزائري. المجلة الجزائرية للعلوم القانونية، 1993، عدد1، ص166.

18- شروط انعقاد الوصية في قانون الأسرة الجزائرية. المجلة الجزائرية للعلوم القانونية، 1990، عدد 2، ص392.

19- طرق الطلاق في قانون الأسرة الجزائرية. المجلة الجزائرية للعلوم القانونية، 1990 عدد3، ص610.

20- ترك الخصومة في القضايا المدنية والجنائية في القانون القضائي الجزائري. جريدة المساء، أبريل 1988 (حلقات متسلسلة) .

21- مسؤولية الأطباء والجراحين المدنية والجنائية في القانون القضائي الجزائري. ملتقى القانون الطبي، جامعة سيدي بلعباس، أبريل 1992م.

22- أهمية المفاهيم الاقتصادية في المجال التعاقدي في القانون القضائي الجزائري ملتقى نظرية العقد، جامعة وهران، مايو 1993.

23- مشكلة إجرام الأحداث بين الوقاية والإصلاح في التشريع الجزائري. مجلة الشرطة، الأعداد 37، 38، 39، لسنة 1989م.

24- الحماية الجنائية للأسرة في التشريع الجنائي الجزائري والمقارن. جريدة المساء، جانفي 1989م. (حلقات متسلسلة) .

25- نظام النيابة العامة ودورها في القضايا الجنائية والمدنية في التشريع الجزائري. مجلة الجمهورية الأسبوعية، 1991، الأعداد من 102 إلى 107.

26- جريمة الرشوة في قانون العقوبات الجزائري والفقه الجنائي الإسلامي. جريدة المساء، جانفي 1988 (حلقات متسلسلة) .

27- أصالة الفقه الإسلامي وقابليته للتطور. جريدة المساء، مايو 1988 (حلقات متسلسلة) .

28- البحث والاستدلال كمرحلة من مراحل الخصومة الجنائية في قانون الإجراءات الجنائية (الجزائري) . المجلة الجزائرية للعلوم القانونية 1991، عدد1، ص348.

29- منهجية الإمام مالك في استنابط الأحكام الشرعية. جريدة المساء، أبريل 1988 (حلقات متسلسلة) .

30- تحديد الشخص المسؤول عن الأضرار الناجمة عن الأشياء في القانون المدني الجزائري. مجلة الشرطة، 1992، عدد 49 و50 (في حلقتين) .

http://www.fiqhia.com/dr6.php

-------------

بواسطة العضو عبد الله الخميس
আল-আরাবি বিন আহমাদ আল-হাজ

ব্যক্তিগত তথ্যাদি:

জন্মতারিখ ও স্থান: ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ, আসগির (মরক্কো)।

জাতীয়তা: আলজেরীয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা:

১- ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে ওরান (আলজেরিয়া) থেকে সাহিত্যে উচ্চ মাধ্যমিক (ব্যাকালোরেট) সার্টিফিকেট, "সম্মান" গ্রেডসহ।

২- ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে ওরান বিশ্ববিদ্যালয় (আলজেরিয়া) থেকে আইনে (বিচার বিভাগীয় দিকনির্দেশনা) স্নাতক ডিগ্রি, "ভেরি গুড" গ্রেডসহ।

৩- ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের "রেন" (RENNES) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেসরকারি আইনে (Private Law) উচ্চতর গবেষণামূলক ডিপ্লোমা, সম্মানসহ।

৪- ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের "রেন" (RENNES) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেসরকারি আইনে (Private Law) রাষ্ট্রীয় ডক্টরেট ডিগ্রি, "অত্যন্ত সম্মানজনক" গ্রেডসহ।

তৃতীয়ত: পেশাগত ক্রমধারা:

১- ওরান বিশ্ববিদ্যালয়ে (আলজেরিয়া) সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ৯/৯/১৯৮৪ থেকে ৮/৯/১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

২- ওরান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ৯/৯/১৯৮৫ থেকে ২৫/১২/১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

৩- লেকচারার (স্থায়ী) হিসেবে ২৬/১২/১৯৮৮ থেকে ২৭/১০/১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

৪- একই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে ১/১/১৯৯০ থেকে ২৭/১০/১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

৫- ওরান বিশ্ববিদ্যালয়ে বেসরকারি আইনের অধ্যাপক (প্রফেসর) হিসেবে ২৭/১০/১৯৯৩ থেকে ১৮/৯/১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

৬- ওরানের 'ন্যাশনাল হায়ার ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক শরীয়াহ'-তে ইসলামী ফিকহ বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে ১৯৮৭ - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ সময়কালে।

৭- সৌদি আরবের রিয়াদে বাদশাহ সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে (প্রশাসনিক বিজ্ঞান অনুষদ) বেসরকারি আইনের অধ্যাপক (প্রফেসর) হিসেবে ৫/৫/১৪১৭ হিজরী (১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ) থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত।

চতুর্থত: বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

১- ১৯৮৬-১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ সময়কালে ওরান বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষা (বেসরকারি আইনে মাস্টার্স) স্তরের অধ্যাপক।

২- ১৯৮৭-১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ সময়কালে ওরানের 'ন্যাশনাল হায়ার ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক শরীয়াহ'-তে ইসলামী ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপক।

৩- ১৯৮৮-১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ সময়কালে কন্টিনিউয়াস এডুকেশন ইউনিভার্সিটির ওরান শাখায় আইনের অধ্যাপক।

৪- ১৯৯২-১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ সময়কালে আলজিয়ার্সের সুপ্রিম কোর্টের স্বীকৃত আইনজীবী।

৫- ১৯৮৮-১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ সময়কালে ওরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের 'মেডিকেল আইন' সংক্রান্ত বিশেষ গবেষণা ইউনিটের প্রধান।

৬- ১৯৮৮-১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ সময়কালে ওরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও প্রশাসনিক বিজ্ঞান অনুষদের বৈজ্ঞানিক পরিষদের সদস্য।

৭- ১৯৯৩-১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ সময়কালে আলজেরিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য।

৮- ১৪১৯ হিজরী থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাদশাহ সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের (প্রশাসনিক বিজ্ঞান অনুষদ) পাঠ্যক্রম ও সার্টিফিকেট সমমান নির্ধারণ কমিটির আহ্বায়ক।

৯- বেসরকারি আইন এবং ইসলামী ফিকহ শাস্ত্রে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় ডক্টরেট থিসিস তত্ত্বাবধান করেছেন।

১০- আরব বিশ্ব এবং এর বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে বহু বক্তৃতা প্রদান করেছেন।

১১- দেওয়ানি আইন এবং ইসলামী ফিকহ শাস্ত্রে তার বেশ কিছু গ্রন্থ এবং গবেষণা প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

১২- বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা প্রদান এবং উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ১৮ বছরের শিক্ষাগত ও বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞতা।

পঞ্চমত: মুদ্রিত ও প্রকাশিত গ্রন্থাবলি:

১- ইসলামী ফিকহ অধ্যয়নের ভূমিকা, ডি.এম.জেড, আলজেরিয়া, ১ম সংস্করণ (১৯৯০ খ্রি.) এবং ২য় সংস্করণ (১৯৯২ খ্রি.)।

২- আলজেরীয় দেওয়ানি আইনে বাধ্যবাধকতার সাধারণ তত্ত্ব (দুই খণ্ডে), ডি.এম.জেড, আলজেরিয়া, ১ম সংস্করণ (১৯৯২ খ্রি.), ২য় সংস্করণ (১৯৯৭ খ্রি.)।

৩- আলজেরীয় পারিবারিক আইনের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা (দুই খণ্ডে), ডি.এম.জেড, আলজেরিয়া, ১ম সংস্করণ (১৯৯৪ খ্রি.), ২য় সংস্করণ (১৯৯৯ খ্রি.)।

৪- আলজেরীয় পারিবারিক আইনের উপর টীকা, ডি.এম.জেড, আলজেরিয়া, ১ম সংস্করণ (১৯৯৫ খ্রি.), ২য় সংস্করণ (২০০১ খ্রি.)।

৫- আইন ও ফিকহ শাস্ত্রের গবেষণা ও স্মারক লিপি (দুই খণ্ডে), ডি.এম.জেড, আলজেরিয়া, ১ম সংস্করণ ১৯৯৫ খ্রি.।

৬- উত্তরাধিকার আইনের বিধানাবলি, ডি.এম.জেড, আলজেরিয়া ১৯৯৬ খ্রি.।

৭- লেনদেন সংক্রান্ত ফিকহ (ফিকহুল মুয়ামালাত) বিষয়ে গবেষণা, ন্যাশনাল হায়ার ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক শরীয়াহ, ওরান ১৯৯৬ খ্রি.।

ষষ্ঠত: প্রধান প্রবন্ধ এবং প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রসমূহ:

১- ইসলামী ফিকহে মৃতদেহের পবিত্রতা। মজিলাতুল হুকুক, কুয়েত, সংখ্যা ৪, ডিসেম্বর ১৯৯৯ খ্রি., পৃষ্ঠা ১৭৩।

২- ইসলামী ফিকহে মৃত ব্যক্তির শরয়ী ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিধান। মজিলাতুল বুহুস আল-ফিকহিয়্যাহ আল-মুয়াসিরাহ, রিয়াদ, ১৯৯৯ খ্রি., সংখ্যা ৪২, পৃষ্ঠা ৮।

৩- ইসলামী শরীয়াহর ফকীহদের দৃষ্টিতে অংশীদারি (শিরকাহ) তত্ত্বের বৈশিষ্ট্য: মজিলাতুল বুহুস আল-ফিকহিয়্যাহ আল-মুয়াসিরাহ, রিয়াদ ১৯৯৮ খ্রি., সংখ্যা ৩৯, পৃষ্ঠা ৭।

৪- ইসলামী ফিকহে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির শরয়ী স্তম্ভসমূহ (একটি তুলনামূলক অধ্যয়ন)। আল-মাজাল্লাহ আল-জাযাইরিয়্যাহ লিল-উলুম আল-কানুনিয়্যাহ, আলজেরিয়া, ১৯৯৮ খ্রি., সংখ্যা ২, পৃষ্ঠা ১০৭।

৫- আরোগ্য লাভের আশা নেই এমন রোগীর করুণা মৃত্যু (Euthanasia) বা মৃত্যু সহজীকরণ সম্পর্কে ইসলামী শরীয়াহর বিধান। মজিলাতু মানারিল ইসলাম, আবুধাবি, সংখ্যা ৫, আগস্ট ১৯৯৯ খ্রি., পৃষ্ঠা ১৬।

৬- ইসলামী ফিকহে মৃত ব্যক্তির ক্লোনিং করার বিধান। মজিলাতুল মুহামী, রিয়াদ, সংখ্যা ৭, রমজান ১৪২১ হিজরী, পৃষ্ঠা ৫৪।

৭- কৃত্রিম পুনরুজ্জীবনের (Artificial Resuscitation) শরয়ী, নৈতিক এবং মানবিক নীতিমালা। মজিলাতুল মানার আল-ইসলামী, আবুধাবি, সংখ্যা ৭, অক্টোবর ২০০০ খ্রি., পৃষ্ঠা ৫৪।

৮- ভ্রূণের ওপর চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার বিষয়ে ইসলামী ফিকহের অবস্থান। মজিলাতুদ দাওয়াহ, রিয়াদ, সংখ্যা ১৭৭৫, ১১ জানুয়ারি ২০০১ খ্রি., পৃষ্ঠা ৪০।

৯- ইসলামী শরীয়াহর ফকীহদের নিকট অধিকার (হক) তত্ত্বের রূপরেখা। মজিলাতুল বুহুস আল-ফিকহিয়্যাহ আল-মুয়াসিরাহ, রিয়াদ ১৯৯৫ খ্রি., সংখ্যা ২৫, পৃষ্ঠা ৪৯।

১০- আধুনিক চিকিৎসা, সার্জারি ও জীববিজ্ঞানের কর্মকাণ্ডে ইসলামী শরীয়াহর বিধান। মজিলাতুল বুহুস আল-ফিকহিয়্যাহ আল-মুয়াসিরাহ, রিয়াদ ১৯৯৩ খ্রি., সংখ্যা ১৮, পৃষ্ঠা ৫৩।

১১- আলজেরীয় দেওয়ানি আইনে নির্জীব বস্তুর দায়বদ্ধতা। আল-মাজাল্লাহ আল-জাযাইরিয়্যাহ লিল-উলুম আল-কানুনিয়্যাহ, ১৯৯১ খ্রি., সংখ্যা ৩, পৃষ্ঠা ৬৪৬।

১২- ইসলামী শরীয়াহ এবং আলজেরীয় দেওয়ানি আইনে জবরদস্তির বিধান এবং দেওয়ানি দায়ের সাথে এর সম্পর্ক। আল-মাজাল্লাহ আল-জাযাইরিয়্যাহ লিল-উলুম আল-কানুনিয়্যাহ, ১৯৯০ খ্রি., সংখ্যা ১, পৃষ্ঠা ২১৬।

১৩- আলজেরীয় দেওয়ানি আইনে অধিকারের অপব্যবহারের ধারণা। আল-মাজাল্লাহ আল-জাযাইরিয়্যাহ লিল-উলুম আল-কানুনিয়্যাহ, ১৯৯২ খ্রি., সংখ্যা ৪, পৃষ্ঠা ৬৯৪।

১৪- আলজেরীয় আইনে চুক্তিভিত্তিক ভুল। মজিলাতুর রিসালাহ আল-কানুনিয়্যাহ, ১৯৯৪ খ্রি., সংখ্যা ৩ ও ৪ (দুই পর্বে)।

১৫- আলজেরীয় বিচার বিভাগীয় আইনে অপকর্মজনিত দায়ের মামলা (Tort liability)। আল-মাজাল্লাহ আল-জাযাইরিয়্যাহ লিল-উলুম আল-কানুনিয়্যাহ, ১৯৯৪, সংখ্যা ২, পৃষ্ঠা ৪১০।

16- চিকিৎসা বিজ্ঞানী এবং ইসলামী ফকীহদের দৃষ্টিতে 'জীবন্ত মৃত' (বা ব্রেন ডেথ) সমস্যা। মজিলাতু মানারিল ইসলাম, আবুধাবি, সংখ্যা ১২, জিলহজ ১৪২১ হিজরী, মার্চ ২০০১ খ্রি., পৃষ্ঠা ৫৪।

১৭- আলজেরীয় বিচার বিভাগীয় আইনে দেওয়ানি আদালতসমূহে পাবলিক প্রসিকিউশনের ভূমিকা। আল-মাজাল্লাহ আল-জাযাইরিয়্যাহ লিল-উলুম আল-কানুনিয়্যাহ, ১৯৯৩, সংখ্যা ১, পৃষ্ঠা ১৬৬।

১৮- আলজেরীয় পারিবারিক আইনে ওসিয়ত কার্যকর হওয়ার শর্তাবলি। আল-মাজাল্লাহ আল-জাযাইরিয়্যাহ লিল-উলুম আল-কানুনিয়্যাহ, ১৯৯০, সংখ্যা ২, পৃষ্ঠা ৩৯২।

১৯- আলজেরীয় পারিবারিক আইনে তালাকের পদ্ধতিসমূহ। আল-মাজাল্লাহ আল-জাযাইরিয়্যাহ লিল-উলুম আল-কানুনিয়্যাহ, ১৯৯০, সংখ্যা ৩, পৃষ্ঠা ৬১০।

২০- আলজেরীয় বিচার বিভাগীয় আইনে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় বিবাদ ত্যাগ করা। আল-মাসা সংবাদপত্র, এপ্রিল ১৯৮৮ (ধারাবাহিক কিস্তি)।

২১- আলজেরীয় বিচার বিভাগীয় আইনে চিকিৎসক ও সার্জনদের দেওয়ানি ও ফৌজদারি দায়বদ্ধতা। মেডিকেল আইন সেমিনার, সিদি বেল আব্বাস বিশ্ববিদ্যালয়, এপ্রিল ১৯৯২ খ্রি.।

২২- আলজেরীয় বিচার বিভাগীয় আইনে চুক্তির ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ধারণার গুরুত্ব। চুক্তি তত্ত্ব সেমিনার, ওরান বিশ্ববিদ্যালয়, মে ১৯৯৩।

২৩- আলজেরীয় আইনে কিশোর অপরাধ সমস্যা: প্রতিরোধ ও সংশোধন। মজিলাতুশ শুরতাহ, সংখ্যা ৩৭, ৩৮, ৩৯, ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ।

২৪- আলজেরীয় এবং তুলনামূলক ফৌজদারি আইনে পরিবারের ফৌজদারি সুরক্ষা। আল-মাসা সংবাদপত্র, জানুয়ারি ১৯৮৯ খ্রি. (ধারাবাহিক কিস্তি)।

২৫- আলজেরীয় আইনে পাবলিক প্রসিকিউশন ব্যবস্থা এবং ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় এর ভূমিকা। মজিলাতুল জুমহুরিয়্যাহ আল-উসবুইয়্যাহ, ১৯৯১, সংখ্যা ১০২ থেকে ১০৭।

২৬- আলজেরীয় দণ্ডবিধি এবং ইসলামী ফৌজদারি ফিকহে ঘুষের অপরাধ। আল-মাসা সংবাদপত্র, জানুয়ারি ১৯৮৮ (ধারাবাহিক কিস্তি)।

২৭- ইসলামী ফিকহের মৌলিকত্ব এবং এর বিবর্তনের সক্ষমতা। আল-মাসা সংবাদপত্র, মে ১৯৮৮ (ধারাবাহিক কিস্তি)।

২৮- ফৌজদারি কার্যবিধিতে (আলজেরীয়) ফৌজদারি বিবাদের একটি পর্যায় হিসেবে অনুসন্ধান ও প্রমাণ সংগ্রহ। আল-মাজাল্লাহ আল-জাযাইরিয়্যাহ লিল-উলুম আল-কানুনিয়্যাহ, ১৯৯১, সংখ্যা ১, পৃষ্ঠা ৩৪৮।

২৯- শরয়ী বিধান আহরণে ইমাম মালিকের পদ্ধতি। আল-মাসা সংবাদপত্র, এপ্রিল ১৯৮৮ (ধারাবাহিক কিস্তি)।

৩০- আলজেরীয় দেওয়ানি আইনে বস্তু থেকে উদ্ভূত ক্ষতির জন্য দায়ী ব্যক্তি নির্ধারণ। মজিলাতুশ শুরতাহ, ১৯৯২, সংখ্যা ৪৯ ও ৫০ (দুই পর্বে)।

http://www.fiqhia.com/dr6.php

-------------

সদস্য আবদুল্লাহ আল-খামিস কর্তৃক
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٢٨)
الشيخ‌‌ أحمد شاكر

هو الأستاذ العلامة المحدث أبو الأشبال الشيخ أحمد بن محمد شاكر بن أحمد ابن عبد القادر. ولد رحمه الله بعد فجر يوم الجمعة في التاسع والعشرين من شهر جمادي الأخرة سنة 1309هـ الموافق 1892م بمنزل والده بالقاهرة، ثم ارتحل مع والده إلى السودان حيث كان قد عُينَ قاضياً فيها.

درس الشيخ أحمد شاكر في السودان بكلية» غوردن «ثم بعد رجوعه إلى مصر درس بالإسكندرية، ثم التحق بالأزهر الذي صار والده وكيلاً لمشيخته سنة 1328هـ.

وانتقال الشيخ إلى الأزهر كان بداية عهد جديد من حياته، فقد استطاع أن يتصل بكثير من العلماء وطلبة العلم الموجودين في القاهرة ثم بدأ ينتقل في مكتبات القاهرة ويستفيد من العلماء ويكثر من المطالعة وقد حاز على الشهادة العالمية من الأزهر سنة 1917م وعمل في التدريس لمدة أربعة أشهر فقط، ثم عمل في سلك القضاء حتى أحيل على التقاعد سنة 1951م.

ولم ينقطع خلال فترة اشتغاله بالقضاء عن المطالعة والتصنيف، بل إنه أثرى المكتبة الإسلامية بأبحاثه القيمة وتحقيقه لأمهات الكتب المفيدة.

وكانت وفاته في السادس والعشرين من شهر ذي القعدة سنة 1377هـ الموافق 1958م.

 

أشهر شيوخه:

 

تربى الشيخ أحمد شاكر في بيئة علمية، فوالده كان وكيلاً للأزهر، وجده لأمه العالم الجليل هارون عبد الرزاق؛ بالإضافة إلى وجود الأزهر الذي كان يستقطب كبار العلماء من شتى بلدان العالم الإسلامي مما أتاح للشيخ فرصة أن ينهل من معين العلم والعلماء.

ومن أشهر العلماء الذين استفاد منهم:

1- والده العلامة محمد شاكر، وكان أعظم الناس أثراً في حياته.

2- الشيخ عبد السلام الفقي، وقد تعلم منه كتب الأدب واللغة والشعر.

3- الشيخ محمود أبو دقيقة، وتعلم منه الفقه وأصوله بالإضافة إلى أنه تعلم منه الفروسية، والرماية، والسباحة.

4- علامة الشام الشيخ جمال الدين القاسمي.

5- علامة المغرب ومحدثها الشيخ عبد الله بن إدريس السنوسي، وقد أجازه برواية صحيح البخاري وبقية الكتب الستة.

6- الشيخ طاهر الجزائري من كبار علماء الشام.

7- العلامة محمد رشيد رضا صاحب مجلة المنار، وغيرهم من جهابذة العلم.

 

جهوده في خدمة السنة:

 

أهم المصنفات التي حققها وعلق عليها:

1- تحقيق كتاب الرسالة للإمام الشافعي تحقيقاً علمياً نافعاً ينم عن غزارة علمه وسعة اطلاعه، وهو أول كتاب عرف به الشيخ أحمد.

2- تحقيق (الجامع) للترمذي عن عدة نسخ، وصل فيه إلى نهاية الجزء الثالث.

3- تحقيق وشرح مسند الإمام أحمد بن حنبل، وقد شرع بخدمة هذا الكتاب من 1911م حتى بدأ بطباعته سنة 1946م، فهرس أحاديثه حسب الموضوعات، وخرجها وشرح مفرداته وعلق عليه تعليقات هامة ومفيدة، ولكنه لم ينته من تخريج كامل أحاديث المسند بل وصل إلى ثلث الكتاب تقريباً، وعدد الأحاديث التي حققها [8099] وقدم للكتاب بنقل كتابين جعلهما كالمقدمة بالنسبة للمسند هما:» خصائص المسند «للحافظ أبي موسى المديني» والمصعد الأحمد في ختم مسند الإمام أحمد «لابن الجزري.

4- تحقيق مختصر سنن أبي داود للحافظ المنذري، ومعه معالم السنن للخطابي، وتهذيب ابن قيِّم الجوزية، بالاشتراك مع الشيخ محمد حامد الفقي، وطبع الكتاب في ثمانية مجلدات.

5- تحقيق صحيح ابن حبان: حقق الجزء الأول منه فقط.

6- شرح ألفية السيوطي في علم الحديث، وطبع الكتاب في مجلدين.

7- الباعث الحثيث شرح» اختصار علوم الحديث «للحافظ ابن كثير.

8- تحقيق كتاب» الإحكام في أصول الأحكام «لابن حزم.

9- عمدة التفسير عن الحافظ ابن كثير اختصره وحذف منه الأسانيد، والروايات الإسرائيلية والأحاديث الضعيفة، وتفاصيل المسائل الكلامية، وهو أفضل المختصرات التي طبعت لتفسير ابن كثير.

10- تخريج أحاديث من تفسير الطبري: شارك أخاه محمود شاكر في تخريج أحاديث بعض الأجزاء من هذا التفسير وعلق على بعض الأحاديث إلى الجزء الثالث عشر.

11- تحقيق كتاب» لباب الآداب «للأمير أسامة بن منقذ المتوفى سنة 584هـ.

12- تحقيق كتاب شرح العقيدة الطحاوية. هذا بالإضافة إلى كتب أخرى قيمة في الأدب واللغة، وبحوث مفيدة في الفقه والقضايا الاجتماعية والسياسية كتبها في مجلة» الهدي النبوي «حينما كان رئيس تحرير لها، وقد جمعت بعض هذه المقالات ونشرت في كتاب بعنوان ((كلمة الحق)) .

 

جهوده في المجال السياسي والاجتماعي:

 

عاش الشيخ أحمد شاكر في فترة امتازت بكثرة الأحداث وتواليها، والدول الإسلامية تئن تحت نير الاستعمار الإنكليزي والفرنسي، وخور المسلمين وعجز معظم العلماء عن القيام بواجبهم، بل كانوا يشعرون بالانهزامية والصغار أمام هجمات الصليبيين وتلامذتهم من المستشرقين الفكرية وطعنهم في هذا الدين، والتركيز على مصر المركز العلمي للعالم الإسلامي، واليهود يخططون لاحتلال فلسطين، وأحكام الشريعة الإسلامية أقصيت عن حياة الناس، بفعل الفساد والتخطيط الصليبي الماكر ضد هذه الأمة، حتى صار التدين والتمسك بدين الإسلام، وصمة عار وتخلفاً ورجعية.

وأمام هذه الموجات المتلاطمة والعواصف الجارفة التي تهب بالفساد وقمع الصالحين من العباد، ونصبوا لذلك رايات في كل هضبة وواد.

فلا يقوى على الصمود والمواجهة إلا العظماء من الرجال، وما دام أنه كما يقال: لكل زمان دولة ورجال، فقد هيأ الله سبحانه وتعالى الشيخ ليذود عن حياض هذه الأمة ويدافع عن شرفها وعزتها التي لا تكون أبداً إلا بتمسكها بكتاب الله وسنة رسوله عليه الصلاة والسلام، فانبرى الشيخ للتصدي لكل الأفكار الهدامة متمسكاً بكتاب الله ملتزماً بعقيدة السلف، يقارع الأعداء وتلامذة الغرب من المستشرقين دون أن تلين له قناة أو تخور له عزيمة، مع قلة من أمثاله من الرجال.

وصار يدبج ببراعه مقالات نفيسة وتعليقات مفيدة على بعض ما حققه من الكتب، ومن ذلك تعليقاته على تفسير ابن جرير الطبري، وعمدة التفسير مفصلاً القول عن آيات الحاكمية وتكفير من لا يحكم بشريعة الله، وتعليقاته لا تزال مصدراً هاماً لمن جاء بعده من العلماء المجاهدين الذين فتح الله بصيرتهم ولا أريد للقارئ لمقالتي هذه أن يعيش في جو التصور النظري، بل أنصح والدين النصيحة بالاطلاع على كتاب» كلمة الحق «فليس من سمع كمن رأى وعندها يتعرف القارئ على مدى مقدرة الشيخ على البيان وفصاحته، ودفاعه عن هذا الدين الحنيف، وتصديه للمبتدعين، والخرافيين وللمستشرقين وغيرهم.

وأريد أن أخص بالذكر من بين المقالات الهامة للشيخ ثلاثة مقالات هي:» أيتها الأمم المستعبدة «،» بيان إلى الأمة المصرية خاصة وإلى الأمم العربية والإسلامية عامة «، والثالثة» تحية المؤتمر العربي في قضية فلسطين «.

ستلاحظ من خلالها مواقفه الحازمة وبغضه لأعداء الله، وتحريض الأمة على جهاد المستعمر الذي نهب خيرات البلاد ونشر في الأمة الفساد.

 

منهجه في تصحيح الأسانيد:

 

غلب على الشيخ في مجال البحث العلمي الاهتمام بتخريج الأحاديث ودراسة أسانيدها خاصة في تخريجه لأحاديث المسند.

وعند تتبع الأسانيد التي حكم عليها بالصحة، يلاحظ أن أهم القواعد التي يسير عليها في تصحيح إسناد حديث ما هي كالآتي:

1- إذا ذكر البخاري الراوي في» تاريخه الكبير «وسكت عنه، ولم يذكره في الضعفاء فإن الشيخ يعتبر سكوته توثيقاً للراوي.

2- إذا ذكر ابن أبي حاتم الراوي في» الجرح والتعديل «وسكت عنه أيضا، فإن الشيخ يعتبر سكوته عن الراوي توثيقاً له.

3- كان يعتمد على توثيق ابن حبان فالرواة الذين ذكرهم ابن حبان في كتاب» الثقات «ثقات عند الشيخ أحمد شاكر.

4- توثيقه لـ (عبد الله بن لهيعة) بإطلاق.

5- توثيقه للمجهول من التابعين قياساً لحالهم على حال الصحابة.

 

ومما أخذ على الشيخ أمور:

 

الأولى: معظم الكتب الهامة التي قام بتحقيقها أو شرحها لم يكد يتممها وكأنه كان يشتغل بأكثر من كتاب في وقت واحد، فالترمذي والمسند وصحيح ابن حبان وتفسير ابن كثير وتفسير الطبري، وغيرها، لم تكتمل، ولو أكملها لكانت الفائدة أوسع وأكثر، فلا تكاد تجد من يسد هذا الفراغ الذي تركه الشيخ، فمنهجه وأسلوبه يختلف عمن جاء من بعده.

 

الثانية:: في نقد منهجه في تصحيح الأسانيد بناء على أهم القواعد المذكورة آنفاً. فالبخاري في» التاريخ الكبير «وكذا ابن أبي حاتم في» الجرح والتعديل «لا يعتبر سكوتهما عن الراوي تعديلاً له، فقد يذكر البخاري في كتابه راوياً ضعيفاً ويسكت عنه، وقد يسكت عن بعض الرواة المجهولين، ويسكت أحياناً عن بعض الرواة الذين لم يعرفهم ولم يفرق بين أسمائهم. وأما ابن أبي حاتم فقد يسكت عن الرواة الذين لم يتمكن من معرفة أحوالهم فقد قال في مقدمة كتاب الجرح والتعديل:

» على أنا قد ذكرنا أسامي كثيرة مهملة من الجرح والتعديل، كتبناها ليشتمل الكتاب على كل من روي عنه العلم وجاء وجود الجرح والتعديل فيهم فنحن ملحقوها بهم من بعد إن شاء الله تعالى «.

أما اعتماده على توثيق ابن حبان، فابن حبان كان متساهلاً في التوثيق فما كل من ذكرهم في» كتاب الثقات «بثقات.

وقد تكلم عن تساهل ابن حبان في التوثيق العلامة عبد الرحمن المعلمي اليماني في كتاب» التنكيل «وكذا الشيخ ناصر الألباني في مواضع من السلسلة الضعيفة. فكان مما قاله الألباني:» إن ابن حبان متساهل في التوثيق، فإنه كثيراً ما يوثق المجهولين حتى الذين يصرح هو بنفسه أنه لا يدري من هو ولا من أبوه «.

وتساهله نابع من اصطلاحه في تعريف العدل، فالعدل عنده من لم يعرف منه الجرح إذ الجرح ضد التعديل، فمن لم يعلم بجرح فهو عدل إذا لم يبين ضده إذ لم يكلف الناس معرفة ما غاب عنهم (1) .

وأما توثيقه لعبد الله بن لهيعة بإطلاق فهو موضع انتقاد أيضاً.

إذ أن عبد الله بن لهيعة ضعفه أكثر العلماء الذين يعتد بقولهم كابن معين، والنسائي وابن المديني، والجوزجاني، وابن حبان، والذهبي، وابن خزيمة، لأنه اختلط في آخر عمره بعد احتراق كتبه وأما من روى عنه قبل الاختلاط فروايته صحيحة، والذين رووا عنه قبل أن يختلط وقبل احتراق كتبه هم العبادلة.» عبد الله ابن المبارك، وعبد الله بن وهب، وعبد الله بن المقرئ «وفي غير رواية هؤلاء عنه فهو ضعيف.

وأما توثيقه للمجهولين من التابعين فليس بصحيح، وإنما فعل ذلك قياساً لحال هؤلاء على حال الصحابة، والفرق واضح، فالصحابة مشهود بعدالتهم وثقتهم وقد رضي الله عنهم ورضوا عنه، وليس حال التابعين كذلك، قال الحافظ ابن حجر:» ثم إن من بعد الصحابة تلقوا ذلك منهم وبذلوا أنفسهم في حفظه وتبليغه، وكذلك من بعدهم إلا أنه دخل فيمن بعد الصحابة في كل عصر قوم ممن ليست لهم أهلية ذلك وتبليغه، فأخطأوا فمما تحملوا ونقلوا، ومنهم من تعمد ذلك فدخلت الآفة فيه من هذا الوجه، فأقام الله طائفة كثيرة من هذه الأمة للذب عن سنة نبيه صلى الله عليه وسلم فتكلموا في الرواة على قصد النصيحة « (2) .

لكن الشيخ أحمد شاكر إذا مر بتابعي وكان مجهولاً، فكثيراً ما يكرر العبارة الآتية: ((وهو تابعي، فأمره على الستر والعدل حتى يتبين فيه جرح)) .

 

الحواشي:

1- مقدمة كتاب الثقات.

2- لسان الميزان: 1/3

 

[مجلّة البيان] العدد 39
শেখ‌‌ আহমদ শাকির

তিনি হলেন উস্তাদ, আল্লামা, মুহাদ্দিস আবু আল-আশবাল শেখ আহমদ বিন মুহাম্মদ শাকির বিন আহমদ বিন আব্দুল কাদির। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ১৩০৯ হিজরির জুমাদাল আখিরা মাসের ২৯ তারিখ শুক্রবার ভোরে, ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক কায়রোতে তাঁর পিতার বাসভবনে জন্মগ্রহণ করেন। এরপর তিনি তাঁর পিতার সাথে সুদানে চলে যান, যেখানে তাঁর পিতা বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

শেখ আহমদ শাকির সুদানের "গর্ডন কলেজে" পড়াশোনা করেন। এরপর মিশরে ফিরে এসে আলেকজান্দ্রিয়ায় পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তিনি আল-আজহারে ভর্তি হন, যেখানে তাঁর পিতা ১৩২৮ হিজরিতে উপাচার্য (ওয়াকিল) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

শেখ আহমদ শাকিরের আল-আজহারে স্থানান্তর ছিল তাঁর জীবনের এক নতুন যুগের সূচনা। সেখানে তিনি কায়রোতে অবস্থানরত অনেক উলামা ও ইলম অন্বেষণকারীর সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। এরপর তিনি কায়রোর লাইব্রেরিগুলোতে যাতায়াত শুরু করেন, উলামাদের থেকে উপকৃত হন এবং প্রচুর পড়াশোনা করেন। তিনি ১৯১৭ সালে আল-আজহার থেকে 'আলামিয়্যাহ' ডিগ্রি লাভ করেন এবং মাত্র চার মাস শিক্ষকতা করেন। এরপর তিনি বিচার বিভাগে যোগ দেন এবং ১৯৫১ সালে অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন।

বিচার বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন তিনি পড়াশোনা ও গ্রন্থ রচনার কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হননি; বরং তিনি তাঁর মূল্যবান গবেষণা এবং গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক কিতাবসমূহের তাহকিকের (সম্পাদনা) মাধ্যমে ইসলামি পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করেছেন।

তিনি ১৩৭৭ হিজরির ২৬শে জিলকদ মোতাবেক ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।

 

তাঁর প্রখ্যাত শিক্ষকগণ:

 

শেখ আহমদ শাকির একটি ইলমি পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর পিতা ছিলেন আল-আজহারের উপাচার্য এবং তাঁর মাতামহ ছিলেন মহান আলেম হারুন আব্দুল রাজ্জাক। এছাড়া আল-আজহারের অস্তিত্বের কারণে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বড় বড় উলামারা সেখানে আসতেন, যা শেখের জন্য ইলম ও উলামাদের ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণের সুযোগ করে দিয়েছিল।

যাঁদের কাছ থেকে তিনি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন:

১- তাঁর পিতা আল্লামা মুহাম্মদ শাকির, যাঁর প্রভাব তাঁর জীবনে ছিল সবচেয়ে বেশি।

২- শেখ আব্দুস সালাম আল-ফিকি, যাঁর কাছে তিনি আদব (সাহিত্য), ভাষা ও কবিতার কিতাবসমূহ পড়েছেন।

৩- শেখ মাহমুদ আবু দাকিকা, যাঁর কাছে তিনি ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ পড়ার পাশাপাশি অশ্বারোহণ, তিরন্দাজি ও সাঁতার শিখেছেন।

৪- শামের আল্লামা শেখ জামালুদ্দিন আল-কাসিমি।

৫- মরক্কোর আল্লামা ও মুহাদ্দিস শেখ আব্দুল্লাহ বিন ইদ্রিস আস-সানুসি, যিনি তাঁকে সহিহ বুখারি ও কুতুবুস সিত্তার বাকি কিতাবসমূহ বর্ণনার অনুমতি (ইজাজাহ) দিয়েছিলেন।

৬- শেখ তাহের আল-জাজায়িরি, যিনি শামের বড় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

৭- 'আল-মানার' পত্রিকার সম্পাদক আল্লামা মুহাম্মদ রশিদ রিদা এবং ইলমের অন্যান্য দিকপালগণ।

 

সুন্নাহর সেবায় তাঁর অবদান:

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিতাবসমূহ যেগুলোর তিনি তাহকিক ও টীকা প্রদান করেছেন:

১- ইমাম শাফিঈর 'আল-রিসালাহ' কিতাবটির বৈজ্ঞানিক ও ফলপ্রসূ তাহকিক, যা তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও গভীর জ্ঞানের পরিচয় দেয়। এটিই প্রথম কিতাব যার মাধ্যমে শেখ আহমদ পরিচিতি লাভ করেন।

২- তিরমিজির 'আল-জামে' এর তাহকিক, যা তিনি বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপির সাহায্যে করেছিলেন এবং এর তৃতীয় খণ্ডের শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন।

৩- ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের 'মুসনাদ'-এর তাহকিক ও ব্যাখ্যা। তিনি ১৯১১ সাল থেকে এই কিতাবটির সেবা শুরু করেন এবং ১৯৪৬ সালে এটি ছাপানো শুরু হয়। তিনি এর হাদিসগুলোকে বিষয়ভিত্তিক সূচিপত্র করেছেন, হাদিসের মান নির্ণয় (তাখরিজ) করেছেন, কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং এর ওপর গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী টীকা যুক্ত করেছেন। তবে তিনি পুরো মুসনাদের তাখরিজ শেষ করতে পারেননি; কিতাবটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। তাঁর তাহকিককৃত হাদিসের সংখ্যা ৮০৯৯টি। তিনি মুসনাদের ভূমিকা স্বরূপ দুটি কিতাব যুক্ত করেছিলেন: হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনির 'খাসায়েস আল-মুসনাদ' এবং ইবনুল জাজরির 'আল-মুসআদ আল-আহমদ ফি খতম মুসনাদ আল-ইমাম আহমদ'।

৪- হাফেজ মুনজিরির 'মুখতাসার সুনান আবি দাউদ'-এর তাহকিক, যার সাথে খাত্তাবির 'মাআলিমুস সুনান' এবং ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর 'তাহজিব' যুক্ত ছিল। এটি শেখ মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকির সাথে যৌথভাবে সম্পাদিত এবং আট খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।

৫- 'সহিহ ইবনে হিব্বান'-এর তাহকিক: তিনি কেবল এর প্রথম খণ্ডটি সম্পন্ন করেছিলেন।

৬- হাদিস শাস্ত্রে আলফিয়্যাহ আস-সুয়ূতির ব্যাখ্যা, যা দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।

৭- হাফেজ ইবনে কাসিরের 'ইতিসার উলূম আল-হাদিস'-এর ব্যাখ্যা 'আল-বাঈস আল-হাসিস'।

৮- ইবনে হাজমের 'আল-ইহকাম ফি উসুল আল-আহকাম' কিতাবটির তাহকিক।

৯- হাফেজ ইবনে কাসিরের তাফসিরের সারসংক্ষেপ 'উমদাতুত তাফসির', যেখান থেকে তিনি সনদসমূহ, ইসরাঈলি বর্ণনা, দুর্বল হাদিস এবং কালাম শাস্ত্রের বিস্তারিত বিতর্ক বাদ দিয়েছেন। এটি ইবনে কাসিরের তাফসিরের এ পর্যন্ত ছাপানো সংক্ষিপ্তসারগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

১০- তাফসিরে তাবারির হাদিসসমূহের তাখরিজ: তিনি তাঁর ভাই মাহমুদ শাকিরের সাথে এই তাফসিরের কিছু খণ্ডের হাদিসগুলোর মান নির্ণয়ে অংশগ্রহণ করেন এবং ১৩তম খণ্ড পর্যন্ত কিছু হাদিসের ওপর টীকা প্রদান করেন।

১১- ৫৮৪ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আমির উসামা বিন মুনকিজের 'লুবাবুল আদাব' কিতাবটির তাহকিক।

১২- 'শারহ আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ' কিতাবটির তাহকিক। এছাড়া সাহিত্য ও ভাষার ওপর আরও অনেক মূল্যবান কিতাব এবং ফিকহ, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ের ওপর গবেষণাধর্মী লেখা রয়েছে যা তিনি 'আল-হাদি আন-নববী' পত্রিকার সম্পাদক থাকাকালীন লিখেছিলেন। তাঁর এসব প্রবন্ধের কিছু অংশ সংগ্রহ করে 'কালিমাতুল হক্ক' (সত্যের বাণী) শিরোনামে বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

 

রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে তাঁর অবদান:

 

শেখ আহমদ শাকির এমন এক সময় অতিবাহিত করেছেন যা ঘনঘন রাজনৈতিক ঘটনায় পরিপূর্ণ ছিল। মুসলিম দেশগুলো তখন ব্রিটিশ ও ফরাসি উপনিবেশবাদের যাতায় পিষ্ট হচ্ছিল। মুসলমানদের দুর্বলতা এবং অধিকাংশ আলেমদের নিজেদের দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা প্রকট হয়ে উঠেছিল। বরং তারা ক্রুসেডারদের বুদ্ধিবৃত্তিক আক্রমণ এবং তাদের শিষ্য প্রাচ্যবিদদের ধর্মের প্রতি অপবাদ ও বিষোদগারের সামনে পরাজয় গ্লানি ও হীনম্মন্যতায় ভুগছিল। মুসলিম বিশ্বের ইলমি কেন্দ্র মিশরের ওপর বিশেষ লক্ষ্য রাখা হচ্ছিল, ইহুদিরা ফিলিস্তিন দখলের পরিকল্পনা করছিল এবং মানুষের জীবন থেকে ইসলামি শরিয়ার বিধানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই উম্মাহর বিরুদ্ধে ক্রুসেডারদের কুটিল চক্রান্ত ও দুর্নীতির ফলে দ্বীনদারি ও ইসলামের ওপর অটল থাকাকে কলঙ্ক, অনগ্রসরতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতা হিসেবে গণ্য করা হতে থাকে।

এই উত্তাল তরঙ্গমালা এবং বিধ্বংসী ঝড়ের সামনে যা কলুষতা ছড়িয়ে দিচ্ছিল এবং নেককার বান্দাদের দমন করছিল, আর প্রতিটি পাহাড়ে ও উপত্যকায় এর বিজয় নিশান উড়িয়েছিল।

এমন পরিস্থিতিতে কেবল মহান ব্যক্তিত্বরাই দৃঢ়তা ও মোকাবিলা করার ক্ষমতা রাখেন। প্রবাদ আছে, প্রতিটি সময়েরই নিজস্ব রাষ্ট্র ও বীরপুরুষ থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা শেখকে এই উম্মাহর সীমানা পাহারা দেওয়ার জন্য এবং এর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন, যা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা ছাড়া কখনই সম্ভব নয়। শেখ সমস্ত ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, আল্লাহর কিতাবকে মজবুতভাবে ধারণ করেন এবং সালাফদের আকিদার ওপর অটল থাকেন। তিনি প্রাচ্যবিদদের এবং পশ্চিমের শিষ্যদের মোকাবিলা করেন কোনো প্রকার নতি স্বীকার না করে বা মনোবল না হারিয়ে। তাঁর মতো এমন ব্যক্তিত্ব তখন খুব কমই ছিল।

তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে চমৎকার প্রবন্ধ এবং তাঁর তাহকিককৃত কিতাবসমূহে মূল্যবান টীকা লিখতে শুরু করেন। এর মধ্যে রয়েছে তাফসিরে ইবনে জারির তাবারি ও উমদাতুত তাফসিরের ওপর তাঁর টীকা, যেখানে তিনি আল্লাহর বিধান (হাকিমিয়্যাহ) এবং আল্লাহর শরিয়া অনুযায়ী যারা শাসন করে না তাদের কুফরির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁর এই টীকাগুলো আজও পরবর্তী মুজাহিদ আলেমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত, যাঁদের অন্তরকে আল্লাহ সত্য দেখার তৌফিক দিয়েছেন। আমি এই প্রবন্ধের পাঠকদের কেবল তাত্ত্বিক ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে বলব না, বরং দ্বীনি নসিহত হিসেবে 'কালিমাতুল হক্ক' বইটি পড়ার পরামর্শ দেব। কারণ শোনা কথা দেখার মতো নয়; বইটি পড়লে পাঠক শেখের বর্ণনাভঙ্গি ও প্রাঞ্জলতা, ইসলামের প্রতিরক্ষা এবং বিদআতি, কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও প্রাচ্যবিদদের মোকাবিলায় তাঁর সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

আমি শেখের গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধগুলোর মধ্যে তিনটি প্রবন্ধের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই: 'হে শৃঙ্খলিত জাতিসমূহ', 'বিশেষভাবে মিশরের জনগণের প্রতি এবং সাধারণভাবে আরব ও মুসলিম জাতিসমূহের প্রতি বিবৃতি', এবং তৃতীয়টি হলো 'ফিলিস্তিন প্রশ্নে আরব সম্মেলনের প্রতি অভিনন্দন'।

এসবের মাধ্যমে আপনি আল্লাহর শত্রুদের প্রতি তাঁর কঠোর অবস্থান ও ঘৃণা এবং যারা দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে ও উম্মাহর মধ্যে ফাসাদ ছড়িয়েছে সেই উপনিবেশবাদীদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য উম্মাহকে উৎসাহিত করার বিষয়টি লক্ষ্য করবেন।

 

সনদ বিশুদ্ধকরণের ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি:

 

গবেষণার ক্ষেত্রে শেখ হাদিসের তাখরিজ এবং সনদের পর্যালোচনার দিকেই বেশি মনোযোগী ছিলেন, বিশেষ করে মুসনাদের হাদিসগুলোর তাখরিজের ক্ষেত্রে।

তিনি যেসব সনদকে 'সহিহ' বা বিশুদ্ধ বলে রায় দিয়েছেন সেগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, একটি হাদিসের সনদ সহিহ করার ক্ষেত্রে তিনি যে প্রধান নিয়মগুলো অনুসরণ করেছেন তা নিম্নরূপ:

১- ইমাম বুখারি যদি তাঁর 'তারিখুল কাবীর'-এ কোনো বর্ণনাকারীর উল্লেখ করে তাঁর সম্পর্কে নীরব থাকেন এবং তাঁকে 'জুয়াফা' (দুর্বল বর্ণনাকারী) এর মধ্যে উল্লেখ না করেন, তবে শেখ তাঁর এই নীরবতাকে বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা (তাওসিক) হিসেবে গণ্য করতেন।

২- ইবনে আবি হাতেম যদি 'আল-জারহ ওয়াত-তাদিল'-এ কোনো বর্ণনাকারীর উল্লেখ করে নীরব থাকেন, তবে শেখ সেই নীরবতাকেও বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা বলে ধরতেন।

৩- তিনি ইবনে হিব্বানের তাওসিকের ওপর নির্ভর করতেন। সুতরাং ইবনে হিব্বান তাঁর 'কিতাবুস সিকাত'-এ যেসব বর্ণনাকারীকে উল্লেখ করেছেন, তারা শেখ আহমদ শাকিরের কাছে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।

৪- তিনি আব্দুল্লাহ বিন লাহিয়াকে ঢালাওভাবে নির্ভরযোগ্য গণ্য করতেন।

৫- তিনি অজ্ঞাত (মাজহুল) তাবেয়িদের অবস্থাকে সাহাবিদের অবস্থার সাথে তুলনা করে তাঁদের নির্ভরযোগ্য মনে করতেন।

 

শেখ সম্পর্কে যেসব সমালোচনা করা হয়েছে:

 

প্রথমত: তিনি যেসব গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের তাহকিক বা ব্যাখ্যা শুরু করেছিলেন, সেগুলোর অধিকাংশই তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি। মনে হয় তিনি একসাথে অনেকগুলো কিতাবের কাজ করতেন। তিরমিজি, মুসনাদ, সহিহ ইবনে হিব্বান, তাফসিরে ইবনে কাসির, তাফসিরে তাবারি ইত্যাদি কিতাবগুলোর কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। তিনি এগুলো সম্পন্ন করলে উপকার আরও ব্যাপক ও গভীর হতো। শেখ যে শূন্যতা রেখে গেছেন তা পূরণ করার মতো কাউকে পাওয়া দুষ্কর, কারণ তাঁর পদ্ধতি ও শৈলী অন্যদের থেকে আলাদা ছিল।

 

দ্বিতীয়ত: পূর্বোল্লিখিত প্রধান নিয়মগুলোর ভিত্তিতে তাঁর সনদ বিশুদ্ধকরণের পদ্ধতির সমালোচনা। বুখারি তাঁর 'তারিখুল কাবীর'-এ এবং ইবনে আবি হাতেম তাঁর 'আল-জারহ ওয়াত-তাদিল'-এ কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কে নীরব থাকা মানেই তিনি নির্ভরযোগ্য (তাদিল) হওয়া নয়। কারণ বুখারি তাঁর কিতাবে কোনো দুর্বল বর্ণনাকারীকে উল্লেখ করে নীরব থাকতে পারেন, আবার কোনো অজ্ঞাত বর্ণনাকারী সম্পর্কেও নীরব থাকতে পারেন। কখনও কখনও তিনি এমন বর্ণনাকারী সম্পর্কেও নীরব থাকেন যাঁদের তিনি চেনেন না অথবা যাঁদের নামের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেননি। আর ইবনে আবি হাতেম এমন বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে নীরব থাকেন যাঁদের অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানতে পারেননি। তিনি 'আল-জারহ ওয়াত-তাদিল' কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন:

"আমরা অনেক নাম উল্লেখ করেছি যাদের সম্পর্কে জারহ বা তাদিলের কোনো মন্তব্য নেই। আমরা এগুলো লিখেছি যেন কিতাবটি এমন প্রত্যেককে অন্তর্ভুক্ত করে যাদের থেকে ইলম বর্ণিত হয়েছে। পরবর্তীতে যখন তাদের সম্পর্কে জারহ বা তাদিলের তথ্য পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ আমরা তা যুক্ত করে দেব।"

আর ইবনে হিব্বানের তাওসিকের ওপর তাঁর নির্ভরতার ক্ষেত্রে কথা হলো, ইবনে হিব্বান বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য বলার ক্ষেত্রে শিথিল (মুতাসাহিল) ছিলেন। 'কিতাবুস সিকাত'-এ তিনি যাঁদের উল্লেখ করেছেন তাঁরা সবাই নির্ভরযোগ্য নন।

তাওসিকের ক্ষেত্রে ইবনে হিব্বানের এই শিথিলতা নিয়ে আল্লামা আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি তাঁর 'আত-তানকিল' কিতাবে এবং শেখ নাসির আল-আলবানি 'সিলসিলাতুজ জুয়াফা'র বিভিন্ন স্থানে আলোচনা করেছেন। আলবানি যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: "ইবনে হিব্বান নির্ভরযোগ্য নির্ধারণে শিথিল। তিনি অনেক সময় অজ্ঞাতদেরও নির্ভরযোগ্য বলেন, এমনকি যাদের সম্পর্কে তিনি নিজেই স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি জানেন না ব্যক্তিটি কে বা তার পিতা কে।"

তাঁর এই শিথিলতার উৎস হলো 'আদল' (ন্যায়পরায়ণতা) সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব পরিভাষা। তাঁর মতে আদল হলো সেই ব্যক্তি যার মধ্যে 'জারহ' (ত্রুটি) পাওয়া যায়নি। কারণ জারহ হলো তাদিলের বিপরীত। সুতরাং যার কোনো ত্রুটি জানা যায়নি সে-ই আদিল বা ন্যায়পরায়ণ হিসেবে গণ্য হবে যতক্ষণ না তার বিপরীত কিছু প্রকাশ পায়। কারণ যা মানুষের অগোচরে তা জানার জন্য মানুষকে বাধ্য করা হয়নি। (১)

আর আব্দুল্লাহ বিন লাহিয়াকে ঢালাওভাবে নির্ভরযোগ্য বলাও সমালোচনার বিষয়।

কেননা অধিকাংশ আলেম যাঁদের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য, যেমন ইবনে মাঈন, নাসায়ি, ইবনে মাদিনি, জাওজাজানি, ইবনে হিব্বান, জাহাবি ও ইবনে খুজাইমা—তাঁরা আব্দুল্লাহ বিন লাহিয়াকে দুর্বল বলেছেন। কারণ তাঁর জীবনের শেষ দিকে কিতাবগুলো পুড়ে যাওয়ার পর তিনি হাদিস বর্ণনায় গোলমাল (ইখতিলাত) পাকিয়ে ফেলতেন। তবে তাঁর গোলমাল হওয়ার আগে বা কিতাব পোড়ার আগে যাঁরা তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন তাঁদের বর্ণনা সঠিক। তাঁরা হলেন তিন আব্দুল্লাহ: "আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব এবং আব্দুল্লাহ বিন আল-মুকরি"। এঁদের ছাড়া অন্য কেউ তাঁর থেকে বর্ণনা করলে তা দুর্বল বলে গণ্য হয়।

আর অজ্ঞাত তাবেয়িদের নির্ভরযোগ্য গণ্য করাও সঠিক নয়। তিনি সাহাবিদের অবস্থার সাথে তুলনা করে এটি করেছেন, অথচ পার্থক্য অত্যন্ত স্পষ্ট। সাহাবিদের ন্যায়পরায়ণতা ও নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। তাবেয়িদের অবস্থা তেমন নয়। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "সাহাবিদের পর যাঁরা এসেছেন তাঁরা তাঁদের থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন এবং তা সংরক্ষণ ও প্রচারের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। কিন্তু সাহাবিদের পরবর্তী যুগে প্রত্যেক যুগে এমন কিছু লোক প্রবেশ করেছে যাদের সেই ইলম বহন ও প্রচারের যোগ্যতা ছিল না। ফলে তারা যা গ্রহণ ও বর্ণনা করেছে তাতে ভুল করেছে। আবার কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তা করেছে, ফলে এদিক থেকে ত্রুটি প্রবেশ করেছে। তাই আল্লাহ এই উম্মতের এক বিশাল দলকে তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ রক্ষার জন্য দাঁড় করিয়েছেন যারা নসিহতের উদ্দেশ্যে বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন।" (২)

তবে শেখ আহমদ শাকির যখন কোনো অজ্ঞাত তাবেয়ির কথা আসত, তখন তিনি প্রায়ই এই বাক্যটি পুনরাবৃত্তি করতেন: "তিনি একজন তাবেয়ি, তাই তাঁর বিষয়টি পর্দা ও ন্যায়ের ওপর থাকবে যতক্ষণ না তাঁর মধ্যে কোনো ত্রুটি প্রকাশ পায়।"

 

টীকা:

১- কিতাবুস সিকাত-এর ভূমিকা।

২- লিসানুল মিজান: ১/৩

 

[আল-বয়ান পত্রিকা] সংখ্যা ৩৯
(খণ্ড: ১) আল-মুজামুল জামি ফী তারাজিমিল মুআসিরীন (পৃষ্ঠা: ٢٩)
الشيخ‌‌ أحمد النجمي

ترجمة الشيخ أحمد بن يحيى بن محمد بن شبير النجمي

بقلم تلميذه محمد بن هادي المدخلي

 

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئآت أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد:

((فإن للعلماء علينا من الحقوق ما بتركه يتم العقوق، ومن رعايتها: ضبط أحوالهم الشريفة، وتدوين مناقبهم المنيفة، وتخليد محاسنهم في بطون الأوراق، والمحافظة على حفظ نتائج أفكارهم () التي هي من أنفس الأعلاق، ومن ذلك:

تعظيمهم باللسان، والجنان، والأركان، وعدم التعرض لما يؤذيهم بالدخول في أعراضهم الجميلة، والاستهانة بمناقبهم الجزيلة الجليلة، والتقعد لهم بمراصد الاستخفاف، والتنصب لهم بمنصة الخلاف.

وقد ورد في الآيات الفرقانية، والأحاديث النبوية، والآثار المصطفوية، ما يقتضي النهي عن ذلك وتتخطى بمن عمل به أيمن المسالك)) () .

وممن له علينا هذا الحق شيخنا العلامة الشيخ: أحمد بن يحيى النجمي ـ حفظه الله ـ فقد انتفعنا بعلمه كثيراً فجزاه الله عنا أفضل الجزاء.

وقد كثر الطلب من الإخوة المحبين للشيخ في كتابة نبذة ولو مختصرة عنه وعن حياته الذاتية والعلمية، وألحُّوا علي في ذلك غاية الإلحاح، وأنا أتهرب من ذلك، واعتذر دائماً إليهم، لعلمي بالعجز والقصور لدي، ولكن كل ذلك لم يفد شيئاً ولم يعذرني منهم أحد، فلما رأيت ذلك منهم استعنت بالله تعالى وحده في كتابة هذه النبذة المختصرة عن شيخنا ـ حفظه الله تعالى.

فأقول:

اسمه ونسبه:

هو شيخنا الفاضل العلامة، المحدث، المسند، الفقيه، مفتي منطقة جازان حالياً، وحامل راية السنة والحديث فيها الشيخ أحمد بن يحيى بن محمد بن شبير النجمي آل شبير من بني حُمَّد، إحدى القبائل المشهورة بمنطقة جازان.

 

ولادته:

ولد الشيخ ـ حفظه الله ـ بقرية النجامية في الثاني والعشرين من شهر شوال عام ستة وأربعين وثلاثمائة والف للهجرة النبوية، 22/10/1346هـ ونشأ في حجر أبوين صالحين ليس لهما سواه.

ولهذا فقد نذرا به لله ـ أي لا يكلفانه بشئ من أعمال الدنيا ـ وقد حقق الله ما أرادا.

فكانا محافظين عليه محافظة تامة، حتى إنهما لا يتركانه يلعب بين الأولاد ولما بلغ سن التمييز أدخلاه كتاتيب القرية فتعلم القراءة والكتابة وقرأ القرآن في الكتاتيب الأهلية قبل مجئ الشيخ عبد الله القرعاوي رحمه الله ثلاث مرات آخرها في العام (1358هـ) الذي قدم فيه الشيخ القرعاوي.

حيث قرأ القرآن أولاً على الشيخ عبده بن محمد عقيل النجمي عام 1355هـ، ثم قرأ أيضاً على الشيخ: يحيى فقيه عبسي وهو من أهل اليمن وكان قد قدم على النجامية وبقي بها ودرس عليه شيخنا في عام 1358هـ ولما قدم الشيخ عبد الله القرعاوي، حصلت بينه وبين هذا المعلم مناظرة في مسألة الاستواء ـ وكان أشعرياً ـ فهزم، وهرب على إثر ذلك {وقطع دابر القوم الذين ظلموا والحمد لله رب العالمين} .

 

نشأته العلمية:

 

وبعدما هرب مدرسهم الأشعري تردد الشيخ مع عمَّيه الشيخ حسن بن محمد، والشيخ حسين بن محمد النجميين على الشيخ عبد الله القرعاوي في مدينة صامطة أياماً ولكنه لم يستمر، وكان ذلك في عام (1359هـ) وفي عام (1360) وفي صفر بالتحديد التحق شيخنا بالمدرسة السلفية وقرأ القرآن هذه المرة بأمر الشيخ عبد الله القرعاوي رحمه الله على الشيخ عثمان بن عثمان حملي رحمه الله حيث قرأ عليه القرآن مجوداً وحفظ (تحفة الأطفال) و (هداية المستفيد) و (الثلاثة الأصول) و (الأربعين النووية) و (الحساب) وأتقن تعلم الخط.

وكان يجلس في الحلقة التي وضعه الشيخ فيها إلى أن يتفرق الطلبة الصغار بعد صلاة الظهر، ثم ينظم إلى الحلقة الكبرى التي يتولى الشيخ عبد الله القرعاوي تدريسها بنفسه فيجلس معهم من بعد صلاة الظهر إلى صلاة العشاء، ثم يعود مع عميه المذكورين سابقاً إلى قريته (النجامية) .

وبعد أربعة أشهر أذن له الشيخ عبد الله القرعاوي رحمه الله أن ينضم إلى هذه الحلقة ـ حلقة الكبار ـ التي يدرسها الشيخ بنفسه، فقرأ على الشيخ فيها: (الرحبية) في الفرائض، و (الآجرومية) في النحو، و (كتاب التوحيد) و (بلوغ المرام) و (البيقونية) ، و (نخبة الفكر) وشرحها (نزهة النظر) ، و (مختصرات في السيرة) ، و (تصريف الغزي) ، و (العوامل في النحو مائة) ، و (والورقات) في أصول الفقه، و (العقيدة الطحاوية) بشرح الشيخ عبد الله القرعاوي، قبل أن يروا شرح ابن أبي العز عليها، ودرس أيضاً شيئاً من (الألفية) لابن مالك، و (الدرر البهية) مع شرحها (الدراري المضية) في الفقه، وكلاهما للشوكاني رحمه الله وغير ذلك من الكتب سواء منها ما درسوه كمادة مقررة كالكتب السابقة أو ما درسوه على سبيل التثقف لبعض الرسائل والكتب الصغيرة، أو كانوا يرجعون إليه عند البحث كـ (نيل الأوطار) و (زاد المعاد) و (نور اليقين) و (الموطأ) و (الأمهات) .

وفي عام (1362هـ) وزع عليهم الشيخ عبد الله رحمه الله أجزاء الأمهات الموجودة في مكتبته وهي: (الصحيحين) و (سنن أبي داود) و (سنن النسائي) و (موطأ الإمام مالك) فقرؤا عليه فيها ولم يكملوها؛ لأنهم تفرقوا بسبب القحط.

وفي عام (1364هـ) عادوا فقرؤا عليه ثم أجازه الشيخ عبد الله ـ رحمه الله تعالى ـ برواية الأمهات الست.

وفي عام (1369هـ) درس على الشيخ إبراهيم بن محمد العمودي رحمه الله قاضي صامطة في ذلك الوقت كتاب إصلاح المجتمع، وكتاب الشيخ عبد الرحمن بن سعدي رحمه الله في الفقه المرتب على صيغة السؤال والجواب واسمه: (الإرشاد إلى معرفة الأحكام) .

كما درس على الشيخ على بن الشيخ عثمان زياد الصومالي بأمر من الشيخ عبد الله القرعاوي رحمه الله في النحو كتاب (العوامل في النحو مائة) وكتب أخرى في النحو والصرف.

وفي عام (1384هـ) حضر في حلقة الشيخ الإمام العلامة مفتي الديار السعودية الشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخ رحمه الله لمدة تقارب شهران في التفسير في (تفسير ابن جرير الطبري) بقراءة عبد العزيز الشلهوب كما حضر في العام نفسه في حلقة شيخنا الإمام العلامة الشيخ عبد العزيز بن باز ـ حفظه الله ـ لمدة شهر ونصف تقريباً في صحيح البخاري بين المغرب والعشاء.

 

شيوخه:

مما مضى يتبين لنا شيوخه ـ حفظه الله ـ وهذا ترتيبهم:

1 ـ الشيخ إبراهيم بن محمد العمودي ـ قاضي صامطة في حينه.

2 ـ الشيخ حافظ بن أحمد الحكمي رحمه الله.

3 ـ الشيخ العلامة الداعية المجدد في جنوب المملكة عبد الله القرعاوي ـ رحمه الله تعالى ـ وبه تخرج الشيخ أحمد، فهو أكثر شيوخه إفادة له.

4 ـ الشيخ عبده بن محمد عقيل النجمي.

5 ـ الشيخ عثمان بن عثمان حملي.

6 ـ الشيخ علي بن الشيخ عثمان زياد الصومالي.

7 ـ الشيخ الإمام العلامة مفتي البلاد السعودية السابق محمد بن إبراهيم آل الشيخ رحمه الله.

8 ـ الشيخ يحيى فقيه عبسي اليمني.

 

تلاميذه:

ولشيخنا ـ حفظه الله تعالى ـ كثير وكثير من التلاميذ، فمن أمضى مثل هذه المدة في التدريس التي تقارب النصف قرن، كم يتصور أن يكون تلاميذه، ولو ذهبت أعددهم لاحتجت إلى مجلد ضخم؛ وإنما أذكر نموذجاً يستدل به على الباقين فمنهم:

1 ـ شيخنا العلامة المحدث ناصر السنة الشيخ ربيع بن هادي.

2 ـ شيخنا العلامة الفقيه زيد بن محمد هادي المدخلي.

3 ـ شيخنا العالم الفاضل علي بن ناصر الفقيهي.

وإنما اكتفيت بذكر هؤلاء الثلاثة لشهرتهم في الأوساط العلمية، فلا يعتب علينا أحد.

ذكاؤه ـ وفقه الله ـ:

يتمتع الشيخ بدرجة من الذكاء عالية جداً وهاك قصة تدل على ذكائه وحافظته منذ صغره ـ حفظه الله:

يقول العم الشيخ عمر بن أحمد جردي المدخلي ـ وفقه الله:

((لما كان الشيخ أحمد يحضر مع عميه حسناً وحسيناً النجميين إلى المدرسة السلفية بصامطة ـ أي في عام ـ 1359هـ ـ وعمره آنذاك 13 سنة كان يسمع الدروس التي يلقيها الشيخ عبد الله القرعاوي على تلاميذه الكبار، وكان يحفظها حفظاً)) .

قلت: وهذا هو ما جعل الشيخ عبد الله القرعاوي يلحقه بحلقة الكبار الذين كان الشيخ يتولى تدريسهم بنفسه؛ لأنه رأى نجابته وسرعة حفظه وذكائه.

 

أعماله:

 

عمل شيخنا ـ حفظه الله ـ مدرساً بمدارس شيخه القرعاوي رحمه الله احتساباً، وعندما بدأت الوظائف عين مدرساً بقريته (النجامية) وكان ذلك في عام 1367هـ، وفي عام 1372هـ نقل إماماً ومدرساً في قرية (أبو سبيلة) في (بالحُرَّث) ، وفي عام 1374هـ وفي 1/1/1374هـ بالتحديد عندما فتح المعهد العلمي في (صامطة) عين مدرساً به حتى عام 1384هـ حيث استقال من التدريس بالمعهد على أمل أن يدرس بالجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية وسافر إليها؛ لكن حصلت له ظروف حالت دون ذلك، فعاد إلى المنطقة وكتب الله له التعيين واعظاً مرشداً بوزارة العدل بمنطقة جازان فقام بالوعظ والإرشاد أحسن قيام.

وفي عام (1387هـ) وبالتحديد في 1/7 منه عاد مدرساً بالمعهد العلمي بمدينة (جازان) حسب طلبه، وفي ابتداء الدراسة عام 1389هـ عاد إلى التدريس بمعهد (صامطة) وبقي به مدرساً حتى أحيل على التقاعد في 1/7/1410هـ.

ومنذ ذلك الحين إلى كتابة هذه الأسطر، وهو مشتغل بالتدريس في بيته والمسجد المجاور له ومساجد أخرى في المنطقة في دروس أسبوعية مع القيام بأمر الفتوى.

وهو في هذا كله قد عمل بوصية شيخه له في مداومته على التعليم والمحافظة على المتعلمين وخاصة الغرباء والمنقطعين منهم، وله ـ حفظه الله ـ على ذلك صبر عجيب، فجزاه الله عنا خيراً.

وقد عمل أيضاً بوصية شيخه القرعاوي رحمه الله فواصل الدراسة والبحث والاستفادة، وخاصة في علمي الحديث والفقه وأصولهما حتى فاق أقرانه وأصبح له في ذلك اليد الطولى، بارك الله في عمره وعلمه ونفع بجهوده.

 

آثاره العلمية:

لشيخنا ـ حفظه الله ـ آثار علمية كثيرة بعضها طبع وبعضها لم يطبع، نسأل الله تعالى أن ييسر طبعه حتى يحصل الانتفاع به ومن ذلك:

1 ـ أوضح الإشارة في الرد على من أباح الممنوع من الزيارة.

2 ـ تأسيس الأحكام شرح عمدة الأحكام ـ طبع منه جزء صغير جداً جداً.

3 ـ تنزيه الشريعة عن إباحة الأغاني الخليعة.

4 ـ رسالة الإرشاد إلى بيان الحق في حكم الجهاد.

5 ـ رسالة في حكم الجهر بالبسملة.

6 ـ فتح الرب الودود في الفتاوى والردود.

7 ـ المورد العذب الزلال فيما انتقد على بعض المناهج الدعوية من العقائد والأعمال.

وغير ذلك من المؤلفات النافعة التي قدمها للمسلمين جزاه الله خير الجزاء ونفع به الإسلام والمسلمين.

وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

كتبه تلميذه

محمد بن هادي بن علي المدخلي

المحاضر بكلية الحديث بالجامعة

الإسلامية بالمدينة النبوية
শায়খ‌ ‌ আহমাদ আন-নাজমি

শায়খ আহমাদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ বিন শুবাইর আন-নাজমির জীবনী

তাঁর ছাত্র মুহাম্মাদ বিন হাদি আল-মাদখালির কলমে

 

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

((নিশ্চয়ই আমাদের ওপর আলেমগণের এমন কিছু হক বা অধিকার রয়েছে যা বর্জন করা অবাধ্যতার শামিল। সেই হকসমূহ পালনের অন্তর্ভুক্ত হলো: তাঁদের মহান অবস্থাসমূহ সংরক্ষণ করা, তাঁদের সুউচ্চ গুণাবলি লিপিবদ্ধ করা এবং তাঁদের কল্যাণসমূহ কাগজের পাতায় চিরস্থায়ী করা। তাঁদের চিন্তাপ্রসূত ফলাফলসমূহ (যা অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ) রক্ষা করা। তার মধ্যে রয়েছে:

জবান, অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে তাঁদের সম্মান করা এবং তাঁদের সম্মানহানি ঘটে এমন কোনো বিষয়ে লিপ্ত না হওয়া, তাঁদের সুমহান গুণাবলিকে তুচ্ছজ্ঞান না করা, তাঁদের অবমাননা করার সুযোগ না খোঁজা এবং তাঁদের বিরোধিতা করার মঞ্চ তৈরি না করা।

আল-কুরআনের আয়াত, নববী হাদিস এবং সালাফদের আছারে এমন অনেক প্রমাণ এসেছে যা এ ধরনের কাজ থেকে নিষেধ করে এবং যে ব্যক্তি এ অনুযায়ী আমল করে সে সফলদের পথে পরিচালিত হয়)) ।

যাঁদের আমাদের ওপর এই হক রয়েছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আমাদের শায়খ, আল্লামা শায়খ: আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আন-নাজমি -আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন। আমরা তাঁর ইলম থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি, আল্লাহ তাঁকে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

শায়খের মুহিব্বিন বা ভালোবাসা পোষণকারী ভাইদের পক্ষ থেকে তাঁর জীবন ও ইলমি সফর সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত হলেও কিছু লেখার জন্য বারবার অনুরোধ আসছিল। তাঁরা এ বিষয়ে অনেক জোর দিচ্ছিলেন, আর আমি আমার অক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতার কথা ভেবে তা থেকে এড়িয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আমার কোনো ওজরই তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য হচ্ছিল না। যখন আমি তাঁদের এই বিশেষ আগ্রহ দেখলাম, তখন আমি আমাদের শায়খ -আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন- সম্পর্কে এই সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখার জন্য একমাত্র মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করলাম।

আমি বলছি:

নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আমাদের সম্মানিত শায়খ, আল্লামা, মুহাদ্দিস, মুসনিদ, ফকিহ, বর্তমানে জাযান অঞ্চলের মুফতি এবং সেখানে সুন্নাহ ও হাদিসের ঝাণ্ডাবাহী শায়খ আহমাদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ বিন শুবাইর আন-নাজমি আল শুবাইর। তিনি জাযান অঞ্চলের অন্যতম প্রসিদ্ধ গোত্র বনু হুম্মাদ-এর অন্তর্ভুক্ত।

 

জন্ম:

শায়খ -আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন- হিজরি ১৩৪৬ সালের ২২শে শাওয়াল নাজামিয়্যাহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এক নেককার দম্পতির কোলে বেড়ে ওঠেন, তিনি ছাড়া তাঁদের আর কোনো সন্তান ছিল না।

এই কারণে তাঁরা তাঁকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করেছিলেন -অর্থাৎ দুনিয়াবি কোনো কাজে তাঁকে নিয়োজিত করবেন না- এবং আল্লাহ তাঁদের সেই ইচ্ছা পূরণ করেছিলেন।

তাঁরা তাঁর প্রতি পূর্ণ খেয়াল রাখতেন, এমনকি অন্য শিশুদের সাথে তাঁকে খেলাধুলা করতে দিতেন না। যখন তিনি বুঝমান হওয়ার বয়সে পৌঁছালেন, তখন তাঁরা তাঁকে গ্রামের মক্তবে ভর্তি করে দিলেন। সেখানে তিনি পড়তে ও লিখতে শেখেন এবং শায়খ আব্দুল্লাহ আল-কারআউয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) আসার আগে স্থানীয় মক্তবে তিনবার কুরআন পাঠ করেন। সর্বশেষ ১৩৫৮ হিজরিতে যখন শায়খ কারআউয়ি আগমন করেন, তখন তিনি সেখানে ছিলেন।

তিনি প্রথমে ১৩৫৫ হিজরিতে শায়খ আবদু বিন মুহাম্মাদ আকিল আন-নাজমির নিকট কুরআন পাঠ করেন। এরপর শায়খ ইয়াহইয়া ফকিহ আবসি-এর নিকট পাঠ করেন, যিনি ইয়ামেন থেকে নাজামিয়্যাহ গ্রামে এসেছিলেন এবং সেখানেই অবস্থান করছিলেন। ১৩৫৮ হিজরিতে আমাদের শায়খ তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। যখন শায়খ আব্দুল্লাহ আল-কারআউয়ি আসলেন, তখন এই শিক্ষকের সাথে 'ইস্তিওয়া' (আল্লাহর উপরে উঠা) সংক্রান্ত মাসআলায় তাঁর বিতর্ক হয়। ঐ শিক্ষক আশআরি মতাদলম্বী ছিলেন এবং তিনি বিতর্কে পরাজিত হন। এরপর তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। {এভাবে যালিম সম্প্রদায়ের মূলোৎপাটন করা হলো এবং সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।}

 

ইলমি বেড়ে ওঠা:

 

তাঁদের আশআরি শিক্ষক পালিয়ে যাওয়ার পর শায়খ তাঁর দুই চাচা শায়খ হাসান বিন মুহাম্মাদ এবং শায়খ হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আন-নাজমির সাথে সামিতাহ শহরে শায়খ আব্দুল্লাহ আল-কারআউয়ির নিকট কয়েক দিন যাতায়াত করেন, কিন্তু তা নিরবচ্ছিন্ন ছিল না। এটি ছিল ১৩৫৯ হিজরি এবং ১৩৬০ হিজরির সফর মাসে। এরপর আমাদের শায়খ মাদরাসা সালাফিয়্যাহ-তে ভর্তি হন। শায়খ আব্দুল্লাহ আল-কারআউয়ির নির্দেশে তিনি শায়খ উসমান বিন উসমান হামলি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট তাজবিদ সহকারে কুরআন পাঠ করেন এবং 'তুহফাতুল আতফাল', 'হিদায়াতুল মুস্তাফিদ', 'সালাসাতুল উসুল', 'আরবাঈন নববী' ও 'হিসাব' (গণিত) মুখস্থ করেন এবং সুন্দর হস্তাক্ষর রপ্ত করেন।

শায়খ তাঁকে যে হালকায় বসিয়েছিলেন সেখানে তিনি জোহরের নামাজ পর্যন্ত থাকতেন যতক্ষণ না ছোট ছাত্ররা চলে যেত। এরপর তিনি বড়দের হালকায় যোগ দিতেন যেখানে স্বয়ং শায়খ আব্দুল্লাহ আল-কারআউয়ি পাঠদান করতেন। সেখানে তিনি জোহর থেকে এশা পর্যন্ত বসে থাকতেন এবং এরপর তাঁর উল্লিখিত দুই চাচার সাথে নিজ গ্রাম নাজামিয়্যাহ-তে ফিরে আসতেন।

চার মাস পর শায়খ আব্দুল্লাহ আল-কারআউয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁকে বড়দের হালকায় বসার অনুমতি দেন। সেখানে তিনি শায়খের নিকট পাঠ করেন: ফারায়েয শাস্ত্রে 'রাহবিয়্যাহ', নাহু শাস্ত্রে 'আজরুমিয়্যাহ', 'কিতাবুত তাওহিদ', 'বুলুগুল মারাম', 'বাইকুনিয়্যাহ', 'নুখবাতুল ফিকার' ও তার শারহ 'নুযহাতুন নাযার', 'সীরাতের সংক্ষিপ্তসার', 'তাসরিফে গাযযি', 'আওয়ামিলু ফিন নাহু মিআহ', উসুলে ফিকহে 'ওয়ারাকাত' এবং ইবনে আবিল ইয-এর শারহ দেখার আগে শায়খ আব্দুল্লাহ আল-কারআউয়ির ব্যাখ্যা অনুযায়ী 'আকিদাহ তাহাবিয়্যাহ' পাঠ করেন। এছাড়াও তিনি ইবনে মালিকের 'আলফিয়্যাহ'র কিছু অংশ এবং ফিকহ শাস্ত্রে শাওকানির 'দুরারুল বাহিয়্যাহ' ও তার শারহ 'আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ' সহ অন্যান্য কিতাব পাঠ করেন। এর কিছু ছিল সিলেবাসভুক্ত কিতাব, আর কিছু ছিল জ্ঞান অর্জনের জন্য ছোট পুস্তিকা। আবার গবেষণার সময় তাঁরা 'নাইলুল আওতার', 'যাদুল মাআদ', 'নূরুল ইয়াকিন', 'মুয়াত্তা' এবং 'উম্মাহাত' (প্রধান হাদিস গ্রন্থসমূহ) এর শরণাপন্ন হতেন।

১৩৬২ হিজরিতে শায়খ আব্দুল্লাহ তাঁর লাইব্রেরিতে থাকা প্রধান হাদিস গ্রন্থসমূহের খণ্ডগুলো তাঁদের মাঝে বণ্টন করে দেন। সেগুলো ছিল: সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম), সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসায়ি এবং মুয়াত্তা ইমাম মালেক। তাঁরা তাঁর নিকট সেগুলো পাঠ করেন কিন্তু দুর্ভিক্ষের কারণে ছাত্ররা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তা শেষ করতে পারেননি।

১৩৬৪ হিজরিতে তাঁরা পুনরায় ফিরে এসে পাঠ সম্পন্ন করেন এবং শায়খ আব্দুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁকে সিত্তাহ উম্মাহাত (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থ) বর্ণনার অনুমতি (ইজাযাহ) প্রদান করেন।

১৩৬৯ হিজরিতে তিনি সামিতাহ-এর তৎকালীন কাজী শায়খ ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আল-আমুদির নিকট 'ইসলাহুল মুজতামা' এবং শায়খ আব্দুর রহমান বিন সাদি-এর প্রশ্নোত্তরে সাজানো ফিকহ গ্রন্থ 'আল-ইরশাদ ইলা মা'রিফাতিল আহকাম' পাঠ করেন।

এছাড়া শায়খ আব্দুল্লাহ আল-কারআউয়ির নির্দেশে শায়খ আলি বিন শায়খ উসমান যিয়াদ আস-সুমালির নিকট নাহু শাস্ত্রে 'আওয়ামিলু ফিন নাহু মিআহ' এবং নাহু ও সরফের অন্যান্য কিতাব পাঠ করেন।

১৩৮৪ হিজরিতে তিনি প্রায় দুই মাস সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল আশ-শায়খের হালকায় উপস্থিত হয়ে আব্দুল আজিজ আশ-শালহুবের পাঠে 'তাফসিরে ইবনে জারির তবারি' শ্রবণ করেন। একই বছর তিনি আমাদের শায়খ ইমাম আল্লামা শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বায -আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন- এর হালকায় প্রায় দেড় মাস মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে 'সহিহ বুখারি'র পাঠে উপস্থিত ছিলেন।

 

শিক্ষকবৃন্দ:

পূর্বের আলোচনা থেকে আমাদের শায়খের শিক্ষকদের পরিচয় পাওয়া যায়, তাঁদের ক্রম নিম্নরূপ:

১. শায়খ ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আল-আমুদি - তৎকালে সামিতাহ-এর কাজী।

২. শায়খ হাফেয বিন আহমাদ আল-হাকামি (রাহিমাহুল্লাহ)।

৩. শায়খ আল্লামা, দাঈ ও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের সংস্কারক আব্দুল্লাহ আল-কারআউয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) - যাঁর নিকট শায়খ আহমাদ শিক্ষা সমাপন করেন এবং তিনি তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপকারী ছিলেন।

৪. শায়খ আবদু বিন মুহাম্মাদ আকিল আন-নাজমি।

৫. শায়খ উসমান বিন উসমান হামলি।

৬. শায়খ আলি বিন শায়খ উসমান যিয়াদ আস-সুমালি।

৭. সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি, ইমাম, আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল আশ-শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)।

৮. শায়খ ইয়াহইয়া ফকিহ আবসি আল-ইয়ামানি।

 

ছাত্রবৃন্দ:

আমাদের শায়খের ছাত্রসংখ্যা অগণিত। যিনি প্রায় অর্ধশতাব্দী কাল শিক্ষকতায় অতিবাহিত করেছেন, তাঁর ছাত্র কত হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। আমি যদি তাঁদের তালিকা করতে যাই তবে একটি বিশাল ভলিউমের প্রয়োজন হবে। তবে আমি নমুনা হিসেবে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করছি:

১. আমাদের শায়খ, আল্লামা, মুহাদ্দিস, সুন্নাহর সাহায্যকারী শায়খ রবি বিন হাদি।

২. আমাদের শায়খ, আল্লামা, ফকিহ শায়খ যাইদ বিন মুহাম্মাদ হাদি আল-মাদখালি।

৩. আমাদের শায়খ, সম্মানিত আলেম শায়খ আলি বিন নাসির আল-ফাকিহি।

আমি কেবল এই তিনজনের নাম তাঁদের ইলমি মহলে খ্যাতির কারণে উল্লেখ করলাম, যাতে অন্য কেউ মনঃক্ষুণ্ণ না হন।

তাঁর মেধা ও বুদ্ধিমত্তা:

শায়খ অত্যন্ত উচ্চমানের মেধার অধিকারী। তাঁর শৈশবের মেধা ও মুখস্থ শক্তি সম্পর্কে একটি ঘটনা বর্ণিত আছে:

চাচা শায়খ উমর বিন আহমাদ জারদি আল-মাদখালি বলেন:

((যখন শায়খ আহমাদ তাঁর দুই চাচা হাসান ও হুসাইনের সাথে সামিতাহ-এর মাদরাসা সালাফিয়্যাহ-তে আসতেন (অর্থাৎ ১৩৫৯ হিজরিতে যখন তাঁর বয়স ১৩ বছর), তখন তিনি শায়খ আব্দুল্লাহ আল-কারআউয়ির বড় ছাত্রদের দেওয়া দরসগুলো শুনতেন এবং সেগুলো হুবহু মুখস্থ করে ফেলতেন)) ।

আমি (লেখক) বলি: এটাই শায়খ আব্দুল্লাহ আল-কারআউয়িকে বাধ্য করেছিল তাঁকে বড়দের হালকায় অন্তর্ভুক্ত করতে, কারণ তিনি তাঁর বুদ্ধিমত্তা, দ্রুত মুখস্থ করার ক্ষমতা ও প্রতিভা প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

 

কর্মজীবন:

 

আমাদের শায়খ প্রথমে সওয়াবের আশায় তাঁর শায়খ আল-কারআউয়ির মাদরাসাগুলোতে শিক্ষকতা করেন। যখন সরকারি নিয়োগ শুরু হয়, তখন ১৩৬৭ হিজরিতে তিনি তাঁর নিজ গ্রাম নাজামিয়্যাহ-তে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৩৭২ হিজরিতে তিনি 'বালহুররাস'-এর 'আবু সাবিলা' গ্রামে ইমাম ও শিক্ষক হিসেবে স্থানান্তরিত হন। ১৩৭৪ হিজরির ১লা মহররম যখন সামিতাহ-তে 'মা'হাদ ইলমি' (ইনস্টিটিউট) খোলা হয়, তখন সেখানে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ১৩৮৪ হিজরি পর্যন্ত সেখানে থাকেন। এরপর তিনি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার আশায় ইনস্টিটিউটের শিক্ষকতা থেকে ইস্তফা দিয়ে সেখানে সফর করেন। কিন্তু কিছু পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। এরপর তিনি পুনরায় নিজ এলাকায় ফিরে আসেন এবং বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাযান অঞ্চলে ওয়াজ ও ইরশাদ (উপদেশদান) এর কাজে নিযুক্ত হন। তিনি এই দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেন।

১৩৮৭ হিজরির ১লা রজব তিনি তাঁর আবেদন অনুযায়ী জাযান শহরের 'মা'হাদ ইলমি'-তে শিক্ষক হিসেবে ফিরে আসেন। ১৩৮৯ হিজরির শুরুতে তিনি পুনরায় 'সামিতাহ' ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতায় ফেরেন এবং ১/৭/১৪১০ হিজরিতে অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন।

সেই থেকে আজ অবধি তিনি নিজ বাড়িতে, পার্শ্ববর্তী মসজিদে এবং অঞ্চলের অন্যান্য মসজিদে সাপ্তাহিক দরস ও ফতোয়া প্রদানের কাজে নিয়োজিত আছেন।

এই সবকিছুর মাধ্যমে তিনি মূলত তাঁর শায়খের অসিয়ত পালন করছেন, যা ছিল নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা দান এবং বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ছাত্রদের দেখাশোনা করা। এ কাজে তাঁর ধৈর্য বিস্ময়কর, আল্লাহ তাঁকে আমাদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দিন।

এছাড়াও তিনি শায়খ কারআউয়ির অসিয়ত মোতাবেক জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও বিশেষ করে হাদিস, ফিকহ ও উসুলের ইলম অর্জন অব্যাহত রাখেন, ফলে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান এবং এসকল শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী হন। আল্লাহ তাঁর হায়াতে ও ইলমে বরকত দান করুন এবং তাঁর প্রচেষ্টাকে ফলপ্রসূ করুন।

 

ইলমি অবদানসমূহ:

আমাদের শায়খের অনেক ইলমি কাজ রয়েছে, যার কিছু মুদ্রিত হয়েছে আর কিছু পাণ্ডুলিপি আকারে আছে। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এগুলোর মুদ্রণ সহজ করে দেন যাতে মানুষ উপকৃত হতে পারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১. আওযাহুল ইশারা ফির রাদ্দি আলা মান আবাহাল মামনুআ মিনায যিয়ারা।

২. তأسিসুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (এর অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ মুদ্রিত হয়েছে)।

৩. তানযিহুশ শারিয়াহ আন ইবাহাতিল আগানিল খালিআহ।

৪. রিসালাতুল ইরশাদ ইলা বায়ানিল হাক্কি ফি হুকমিল জিহাদ।

৫. রিসালাতুন ফি হুকমিল জাহরি বিল বাসমালাহ।

৬. ফাতহুর রাব্বিল ওয়াদুদ ফিল ফাতায়া ওয়ার রুদুদ।

৭. আল-মাওরিদিল আযবিয যালাল ফীমা ইনতাকাদা আলা বাদিল মানাহিজিদ দাওয়াবিয়্যাতি মিনাল আকাইদি ওয়াল আমাল।

এছাড়াও আরও অনেক উপকারী গ্রন্থ তিনি মুসলিমদের উপহার দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের তাঁর দ্বারা উপকৃত করুন।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

 

ইতি, তাঁর ছাত্র

মুহাম্মাদ বিন হাদি বিন আলি আল-মাদখালি

লেকচারার, হাদিস অনুষদ, মদিনা

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারাহ