(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: -)
اختيارات القاضي أبي يعلى الحنبلي الفقهية من أول كتاب الطهارة إلى آخر باب التيمم القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: اختيارات القاضي أبي يعلى الحنبلي الفقهية، من أول كتاب الطهارة إلى آخر باب التيمم جمعاً ودراسةً
رسالة: ماجستير في الفقه المقارن - قسم الفقه، كلية الشريعة والدراسات الإسلامية، جامعة القصيم
إعداد: عدنان بن عوض بن رشيد الرشيدي
إشراف: د عبدالعزيز بن محمد الحجيلان
العام الجامعي: 1430 هـ - 1431 هـ
عدد الصفحات: 366
[كتاب إلكتروني بترقيم الشاملة]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 رمضان 1442
কাজী আবু ইয়ালা আল-হাম্বলীর ফিকহী ইখতিয়ারসমূহ: পবিত্রতা অধ্যায়ের শুরু থেকে তায়াম্মুম পরিচ্ছেদের শেষ পর্যন্ত বিভাগ: হাম্বলী ফিকহ
গ্রন্থ: কাজী আবু ইয়ালা আল-হাম্বলীর ফিকহী ইখতিয়ারসমূহ, কিতাবুত তাহারাতের শুরু থেকে তায়াম্মুম পরিচ্ছেদের শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ ও গবেষণা
থিসিস: তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রে মাস্টার্স - ফিকহ বিভাগ, শরীয়াহ ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ, কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়
প্রস্তুতি: আদনান বিন আওয়াদ বিন রশীদ আর-রশীদী
তত্ত্বাবধান: ড. আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-হুজায়লান
শিক্ষাবর্ষ: ১৪৩০ হিজরী - ১৪৩১ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৬
[শামেলা নম্বর অনুযায়ী ই-বুক]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ রমজান ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ১)
المملكة العربية السعودية
وزارة التعليم العالي
جامعة القصيم
كلية الشريعة والدراسات الإسلامية
قسم الفقه
اختيارات القاضي أبي يعلى الحنبلي الفقهية
من أول كتاب الطهارة إلى آخر باب التيمم
جمعاً ودراسةً
رسالة مقدمة لنيل درجة الماجستير في الفقه المقارن
إعداد الطالب
عدنان بن عوض بن رشيد الرشيدي
إشراف الأستاذ الدكتور
عبدالعزيز بن محمد الحجيلان
1430 هـ - 1431 هـ
সৌদি আরব সাম্রাজ্য
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়
কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়
শরীয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ
ফিকহ বিভাগ
কাজী আবু ইয়ালা আল-হাম্বলীর ফিকহি ইখতিয়ারসমূহ
পবিত্রতা অধ্যায়ের শুরু থেকে তায়াম্মুম পরিচ্ছেদের শেষ পর্যন্ত
সংকলন ও গবেষণা
তুলনামূলক ফিকহ-এ মাস্টার্স ডিগ্রি লাভের জন্য উপস্থাপিত গবেষণাপত্র
প্রস্তুতকারক ছাত্র
আদনান বিন আওয়াদ বিন রশিদ আল-রাশিদী
তত্ত্বাবধানে প্রফেসর ডক্টর
আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-হুজাইলান
১৪৩০ হিজরি - ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
অসীম দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد:
فإن الله عز وجل أرسل رسوله محمدًا صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق، وجعل دينه آخر الأديان السماوية، وشريعته آخر الشرائع المنزلة، وكان الأنبياء عليهم السلام يبعثون إلى أقوامهم خاصة، وبُعث محمد صلى الله عليه وسلم إلى الناس عامة، ومن هنا كانت شريعته أتم الشرائع وأشملها، وأبهاها وأحسنها.
ولاشك أن من علماء الأمة من ورث من مشكاة النبوة حتى فتح الله عليهم بالعلم والقبول، فحفظ الله بهم علم من سلف، ويهدي بهم من اهتدى من الخلف، وجعل لفتواه واختياره موطن ثقة وقبول، عند أهل العلم خاصة، وعند الناس عامة، وإذا كان ذلك كذلك فإن الأمة تتحمل تبعة حفظ علمه، والانتفاع به ونشره.
وإن من هؤلاء الأعلام القاضي الإمام أبي يعلى الفراء ت 458 هـ-رحمه الله تعالى- وفي أثناء بحثي عن موضوع يستحق أن يكون جديراً بالبحث، لنيل درجة الماجستير استرعى اهتمامي كثرة المسائل التي اختارها القاضي أبو يعلى في كتابه الروايتين والوجهين، وترجيحاته بين روايات الإمام أحمد رحمه الله، وكثرة الناقلين لاختياراته وترجيحاته من الأصحاب، من أجل ذلك أردت أن أسهم بجهدي المتواضع مع بقية الزملاء الفضلاء في الكلية -طلبة الدراسات العليا- في مشروع يجمع من خلاله فقه هذا الإمام؛ لتفرقها ولكثرتها في كتب الأصحاب كالمغني والفروع والإنصاف والشرح الكبير وشرح الزركشي وغيرها من كتب الحنابلة، مما يصعب معه التعرف على اختيار القاضي أبي يعلى رحمه الله -في المسألة، مع العلم أن هذه الاختيارات لم تلق حظها من الإبراز والدراسة الفقهية المقارنة، فوافقت الجامعة مشكورة ممثلة بقسم الفقه في الكلية على هذا المقترح.
وبناء على ما سبق؛ فقد صح العزم، على اختيار موضوع "اختيارات القاضي أبي يعلى الحنبلي الفقهية من أول كتاب الطهارة إلى آخر باب التيمم- جمعاً ودراسةً-"؛ليكون أطروحتي لاستكمال متطلبات درجة الماجستير، والله المستعان، وعليه التكلان.
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর। এরপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন দিয়ে পাঠিয়েছেন, এবং তাঁর দ্বীনকে আসমানী ধর্মগুলোর মধ্যে সর্বশেষ এবং তাঁর শরীয়তকে অবতীর্ণ শরীয়তগুলোর মধ্যে সর্বশেষ করেছেন। নবীগণ আলাইহিমুস সালাম বিশেষভাবে তাঁদের নিজ নিজ কওমের নিকট প্রেরিত হতেন, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমগ্র মানবজাতির নিকট প্রেরিত হয়েছেন। এ কারণেই তাঁর শরীয়ত সমস্ত শরীয়তের মধ্যে সবচেয়ে নিখুঁত, ব্যাপক, উজ্জ্বল ও সর্বোত্তম।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উম্মাহর আলেমদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা নবুওয়াতের প্রদীপ থেকে উত্তরাধিকার লাভ করেছেন, যার ফলে আল্লাহ তাদের জন্য ইলম ও কবুলিয়্যাতের দ্বার উন্মোচন করেছেন। আল্লাহ তাদের মাধ্যমে সালাফদের ইলমকে সংরক্ষণ করেছেন এবং তাদের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের হিদায়াতপ্রাপ্তদের পথ প্রদর্শন করেন। তিনি তাঁদের ফতোয়া ও পছন্দকে (ইখতিয়ার) আলেমদের কাছে বিশেষভাবে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সাধারণভাবে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার বিষয় বানিয়েছেন। আর বিষয়টি যখন এমনই, তখন এই উম্মাহর ওপর তাঁদের ইলম সংরক্ষণ করা, তা থেকে উপকৃত হওয়া এবং তা প্রচার করার দায়িত্ব বর্তায়।
এই বরেণ্য ব্যক্তিদের অন্যতম হলেন ইমাম কাযী আবু ইয়ালা আল-ফাররা (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরি) -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য গবেষণার যোগ্য একটি বিষয় অনুসন্ধানের সময় আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে কাযী আবু ইয়ালা তাঁর ‘আর-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন’ গ্রন্থে যে বিপুল সংখ্যক মাসআলা নির্বাচন করেছেন এবং ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনাগুলোর মধ্যে তাঁর প্রদানকৃত অগ্রাধিকারসমূহ, এবং মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে তাঁর সেই ইখতিয়ার ও অগ্রাধিকারগুলো বর্ণনাকারীদের আধিক্য। এই কারণে, আমি কলেজের উচ্চতর গবেষণার অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে আমার বিনম্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে এমন একটি প্রকল্পে অবদান রাখতে চেয়েছি যার মাধ্যমে এই ইমামের ফিকহ সংকলিত হবে। কারণ তাঁর ফিকহী সিদ্ধান্তগুলো হাম্বলী মাযহাবের কিতাবসমূহ যেমন: আল-মুগনী, আল-ফুরু, আল-ইনসাফ, আশ-শারহুল কাবীর, শারহুয যারকাশী এবং অন্যান্য গ্রন্থে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় এবং অধিক হওয়ার কারণে কোনো মাসআলায় কাযী আবু ইয়ালা (রহিমাহুল্লাহ)-এর পছন্দ বা ইখতিয়ার কী তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সাথে সাথে এই ইখতিয়ারগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন ও তুলনামূলক ফিকহী পর্যালোচনার সুযোগ লাভ করেনি। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ যারা ফিকহ বিভাগের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছেন।
পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে, আমি “কাযী আবু ইয়ালা আল-হাম্বলীর ফিকহী ইখতিয়ারসমূহ: পবিত্রতা অধ্যায়ের শুরু থেকে তায়াম্মুম পরিচ্ছেদের শেষ পর্যন্ত -সংকলন ও পর্যালোচনা-” বিষয়টি নির্বাচনের দৃঢ় সংকল্প করেছি; যাতে এটি আমার মাস্টার্স ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা পূরণের থিসিস হিসেবে গণ্য হয়। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর ওপরই ভরসা করছি।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ৪)
-
أهمية الموضوع:1 - مكانة القاضي أبي يعلى رحمه الله -عند العلماء وخصوصاً الحنابلة، فقد أسهم بتحقيقاته وتقييداته في خدمة المذهب، فلا يكاد يخلو كتاب من كتب التالين له إلا وينقل عنه، ويعزو إليه، ففي دراسة اختياراته وجمعها في مكان واحد خدمة للمذهب الحنبلي خاصة، وللفقه المقارن عامة.
2 - القيمة العلمية لاختيارات القاضي أبي يعلى رحمه الله بين العلماء وخصوصاً الحنابلة، فقد كانوا يجلونه، ويأخذون باختياراته وترجيحاته، ويعتمدونها ويهتمون بها.
3 - أن اختيارات القاضي أبي يعلى رحمه الله، مفرقة في بطون الكتب فيصعب العثور عليها بسهولة، لا سيما مع هذه الثروة العلمية التي خلفها وراءه، ومن ثم كان جمعها وترتيبها ودراستها مفيداً جداً للباحثين وطلبة العلم، لا سيما ما يتعلق بأحكام الطهارة التي يحتاجها كل مسلم ومسلمة في حياته اليومية.
বিষয়ের গুরুত্ব:১ - আলেমদের নিকট এবং বিশেষ করে হাম্বলীগণের নিকট ক্বাযী আবু ইয়া’লা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মর্যাদা। তিনি তাঁর তাহকীক ও টীকা-টিপ্পনীর মাধ্যমে মাযহাবের খিদমতে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। তাঁর পরবর্তী লেখকদের এমন কোনো কিতাব নেই বললেই চলে, যাতে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়নি অথবা তাঁর প্রতি নিসবত করা হয়নি। সুতরাং তাঁর ইখতিয়ারসমূহ (পছন্দকৃত মতসমূহ) অধ্যয়ন করা এবং একস্থানে সেগুলোকে সংকলন করা বিশেষভাবে হাম্বলী মাযহাবের এবং সাধারণভাবে তুলনামূলক ফিকহের (ফিকহে মুকারান) জন্য এক বড় খিদমত।
২ - আলেমদের নিকট এবং বিশেষ করে হাম্বলীগণের নিকট ক্বাযী আবু ইয়া’লা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ইখতিয়ারসমূহের ইলমী গুরুত্ব। তাঁরা তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং তাঁর ইখতিয়ার ও তারজীহসমূহ (প্রাধান্য দেওয়া মতসমূহ) গ্রহণ করতেন, সেগুলোর ওপর নির্ভর করতেন এবং সেগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করতেন।
৩ - ক্বাযী আবু ইয়া’লা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ইখতিয়ারসমূহ বিভিন্ন কিতাবের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, যার ফলে সেগুলোকে সহজে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর; বিশেষ করে তিনি যে বিশাল ইলমী সম্পদ রেখে গেছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে। ফলশ্রুতিতে, সেগুলো সংকলন, বিন্যাস এবং অধ্যয়ন করা গবেষক ও তালিবে ইলমদের জন্য অত্যন্ত উপকারী, বিশেষ করে পবিত্রতা (তাহারাত) সংক্রান্ত আহকামের ক্ষেত্রে, যা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ৫)
أسباب اختيار الموضوع:دفعني لاختيار هذا الموضوع جملة من الأسباب منها:
1 - ما تقدم من أهمية الموضوع.
2 - البحث في اختيارات القاضي أبي يعلى رحمه الله -يفتح لطالب العلم الباب للتعرف على الروايات المختلفة عن الإمام أحمد رحمه الله -في المسألة، فإذا أضيف إلى ذلك مقارنتها ببقية المذاهب ساعد الطالب في فهم تلك المسائل، وتكوين الملكة الفقهية لديه.
3 - أن لدراسة أحكام الطهارة أهمية كبرى في الإسلام؛ وذلك لأنها شرط لصحة الصلاة ومفتاحها، و لأن الطهارة يحتاجها كل مسلم ومسلمة، وقد امتدح الله المتطهرين فقال: {إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ} [البقرة:222].
4 - أن أراء القاضي واختياراته الفقهية، لم تلق حظها من الجمع والدراسة مع مالها من قيمة علمية لا تخفى، والقيام بجمعها في مكان واحد، وتحريرها على نسق متآلف عمل جدير بالعناية.
5 - رغبتي في خدمة المذهب الحنبلي من خلال جمع اختيارات عالم من علمائه المحققين، لما في ذلك من إثراء للمكتبة الفقهية المعاصرة.
বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ:বেশ কিছু কারণ আমাকে এই বিষয়টি বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - ইতিপূর্বে উল্লেখিত বিষয়ের গুরুত্ব।
২ - কাজী আবু ইয়ালা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পছন্দসমূহ (ইখতিয়ারাত) নিয়ে গবেষণা করা জ্ঞানান্বেষী শিক্ষার্থীর জন্য কোনো মাসআলায় ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত বিভিন্ন বর্ণনা সম্পর্কে জানার দ্বার উন্মোচন করে দেয়। এর সাথে যদি অন্যান্য মাযহাবের তুলনা যুক্ত করা হয়, তবে তা শিক্ষার্থীকে সেই মাসআলাগুলো বুঝতে এবং তার মধ্যে ফিকহী প্রজ্ঞা (মালকাহ) গঠনে সহায়তা করে।
৩ - ইসলামে পবিত্রতার (তাহারাত) বিধানসমূহ অধ্যয়নের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে; কেননা এটি সালাত বিশুদ্ধ হওয়ার শর্ত এবং এর চাবিকাঠি। আর পবিত্রতা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর প্রয়োজন। আল্লাহ তাআলা পবিত্রতা অর্জনকারীদের প্রশংসা করেছেন, তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন} [আল-বাকারা: ২২২]।
৪ - কাজীর ফিকহী মতামত ও পছন্দসমূহ তার অনস্বীকার্য ইলমি গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত সংকলন ও অধ্যয়নের সুযোগ লাভ করেনি। সেগুলোকে একস্থানে একত্রিত করা এবং একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করা বিশেষ যত্নের দাবিদার একটি কাজ।
৫ - হাম্বলী মাযহাবের একজন মুহাক্কিক আলেমের পছন্দসমূহ সংকলনের মাধ্যমে এই মাযহাবের সেবা করার আকাঙ্ক্ষা, যা সমসাময়িক ফিকহী লাইব্রেরিকে সমৃদ্ধ করবে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ৬)
-
الدراسات السابقة:لقد تتبعت هذا الموضوع في دليل رسائل المعهد العالي للقضاء، ودليل رسائل كلية الشريعة، ومركز الملك فيصل للبحوث والدراسات الإسلامية، ومكتبة الملك فهد الوطنية، والمكتبة المركزية بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية فلم أجد من بحث هذا الموضوع، باستثناء بعض الرسائل العلمية بتحقيق تراث هذا الإمام كتحقيق فضيلة الشيخ الدكتور / عبد الكريم اللاحم لكتابه الروايتين والوجهين، ونحوها من الرسائل العلمية في تحقيق مؤلفاته، كما سيأتي ذكرها في سرد مؤلفاته، بيد أنها لم تتعرض هذه الدراسات لجمع اختياراته ودراستها، حسب علمي مما شجعني على بحثه وعقد العزم على الكتابة فيه، وإتحاف المكتبة الإسلامية بكل ما هو جديد ومفيد.
-
-
পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ:আমি উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউটের থিসিস নির্দেশিকা, শরীয়াহ অনুষদের থিসিস নির্দেশিকা, কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে এই বিষয়টি অনুসন্ধান করেছি। তবে এই ইমামের ঐতিহ্য (তুরাস) সম্পাদনা বিষয়ক কিছু অ্যাকাডেমিক থিসিস ব্যতীত আমি কাউকে এই বিষয়ে গবেষণা করতে দেখিনি; যেমন তাঁর ‘আর-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল-ওয়াজহাইন’ গ্রন্থের ওপর শায়খ ডক্টর আব্দুল কারীম আল-লাহিম-এর তাহকীক এবং তাঁর অন্যান্য রচনার তাহকীক সংক্রান্ত অনুরূপ থিসিসসমূহ—যা তাঁর রচনাবলির তালিকায় সামনে উল্লেখ করা হবে। তবে আমার জানা মতে, এই অধ্যয়নগুলোতে তাঁর নিজস্ব পছন্দসমূহ (ইখতিয়ারাত) সংগ্রহ ও পর্যালোচনার বিষয়টি আসেনি, যা আমাকে এ বিষয়ে গবেষণা করতে ও লেখার সংকল্প গ্রহণে উৎসাহিত করেছে, যেন ইসলামী লাইব্রেরিকে নতুন ও উপকারী কিছু উপহার দেওয়া যায়।
-
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ৭)
خطة البحث:تتكون خطة البحث من مقدمة وتمهيد وأربعة فصول وخاتمة.
المقدمة: وتتضمن أهمية الموضوع، و أسباب اختياره، و الدراسات السابقة، وخطة البحث ومنهج البحث.
التمهيد: وفيه التعريف بالقاضي أبي يعلى رحمه الله، وبمؤلفاته وطريقته في الاختيار، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: التعريف بالمؤلف.
1 - اسمه ونسبه و مولده.
2 - نشأته وحياة العلمية ورحلاته في طلب العلم.
3 - مشايخه وتلاميذه.
4 - مكانته العلمية ومكانته الاجتماعية.
5 - وفاته.
المطلب الثاني: التعريف بمؤلفاته، وطريقته رحمه الله -في الاختيار.
1 - مؤلفات القاضي أبي يعلى المطبوعة.
2 - مؤلفات القاضي أبي يعلى المخطوطة.
3 - طريقة القاضي أبي يعلى في الاختيار.
গবেষণা পরিকল্পনা:গবেষণা পরিকল্পনাটি একটি ভূমিকা, একটি প্রারম্ভিকা, চারটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।
ভূমিকা: এতে বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণসমূহ, পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ, গবেষণা পরিকল্পনা এবং গবেষণা পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রারম্ভিকা: এতে কাযী আবু ইয়ালা রহমাতুল্লাহি আলাইহি, তাঁর রচনাবলি এবং মাসআলা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যা দুটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচিতি।
১ - তাঁর নাম, বংশপরিচয় এবং জন্ম।
২ - তাঁর বেড়ে ওঠা, শিক্ষা জীবন এবং ইলম অর্জনে তাঁর সফরসমূহ।
৩ - তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রবৃন্দ।
৪ - তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ মর্যাদা এবং সামাজিক অবস্থান।
৫ - তাঁর মৃত্যু।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলির পরিচিতি এবং মাসআলা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) পদ্ধতি।
১ - কাযী আবু ইয়ালার মুদ্রিত গ্রন্থসমূহ।
২ - কাযী আবু ইয়ালার পাণ্ডুলিপি গ্রন্থসমূহ।
৩ - মাসআলা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কাযী আবু ইয়ালার পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفصل الأول: اختيارات القاضي أبي يعلى في أبواب المياه، والآنية، الاستنجاء.
اختياراته في باب المياه، وفيه اثنتا عشرة مسألة.
المسألة الأولى: ملاقاة الماء الجاري للنجاسة.
المسألة الثانية: حكم الوضوء من الماء المشمس.
المسألة الثالثة: حكم الماء المسخن بالنجاسة.
المسألة الرابعة: الماء المنفصل عن غسل اليد من نوم الليل.
المسألة الخامسة: حكم طهارة الرجل بفضل طهور المرأة إذا خلت به.
المسألة السادسة: المراد بخلوة المرأة بالماء.
المسألة السابعة: حكم الماء الذي خلت به المرأة لإزالة نجاسة.
المسألة الثامنة: هل مقدار القلتين على وجه التقريب أو التحديد؟
المسألة التاسعة: الوضوء بالماء المتغير بمائع طاهر.
المسألة العاشرة: حكم الماء الذي يمكن نزحه إذا وقع فيه بول الآدمي أو عذرته ولم يتغير.
المسألة الحادية عشرة: حكم الباقي من الماء الكثير إذا تغير بعضه بنجاسة.
المسألة الثانية عشرة: حكم اشتباه الطاهر بالنجس.
প্রথম পরিচ্ছেদ: পানি, পাত্র ও ইসতিনজা অধ্যায়ে কাজী আবু ইয়ালার চয়নকৃত মতামত।
পানি অধ্যায়ে তাঁর চয়নকৃত মতামত, এবং এতে বারোটি মাসআলা রয়েছে।
প্রথম মাসআলা: প্রবাহিত পানির সাথে নাপাকির মিলন।
втоরীয় মাসআলা: রৌদ্রে তপ্ত পানি দ্বারা ওযুর বিধান।
তৃতীয় মাসআলা: নাপাক বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত করা পানির বিধান।
চতুর্থ মাসআলা: রাতের ঘুমের পর হাত ধোয়ার ফলে পৃথক হওয়া পানির বিধান।
পঞ্চম মাসআলা: মহিলার নির্জনে ব্যবহারকৃত উদ্বৃত্ত পবিত্র পানি দ্বারা পুরুষের পবিত্রতা অর্জনের বিধান।
ষষ্ঠ মাসআলা: পানির সাথে মহিলার নির্জনতা বলতে কী বোঝায়।
সপ্তম মাসআলা: নাপাকি দূর করার লক্ষ্যে মহিলার নির্জনে ব্যবহারকৃত পানির বিধান।
অষ্টম মাসআলা: কুল্লাতাইনের (দুই মটকা) পরিমাণ কি আনুমানিক নাকি সুনির্ধারিত?
নবম মাসআলা: পবিত্র তরল পদার্থের সংমিশ্রণে পরিবর্তিত পানি দ্বারা ওযু করার বিধান।
দশম মাসআলা: মানুষের প্রস্রাব বা বিষ্ঠা পড়ার পর পরিবর্তিত না হওয়া এমন পানির বিধান যা সেঁচে শেষ করা সম্ভব।
একাদশ মাসআলা: অধিক পরিমাণ পানির একাংশ নাপাকির কারণে পরিবর্তিত হলে অবশিষ্ট অংশের বিধান।
দ্বাদশ মাসআলা: পবিত্র ও অপবিত্রর মধ্যে সংশয় দেখা দেওয়ার বিধান।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ৯)
اختياراته في باب الآنية، وفيه تمهيد، وأربع مسائل.
التمهيد: في تعريف الآنية لغةً، واصطلاحاً.
المسألة الأولى: حكم اليسير من الفضة لغير حاجه.
المسألة الثانية: جلد الميتة المدبوغ.
المسألة الثالثة: حكم لبن الميتة و أنفحتها.
المسألة الرابعة: حكم عظم الميتة.
اختياراته في باب الاستنجاء، وفيه تمهيد، وسبع مسائل.
التمهيد: في تعريف الاستنجاء، لغةً، وشرعاً.
المسألة الأولى: حكم اللبث فوق الحاجة.
المسألة الثانية: حكم تطهير باطن فرج الثيب.
المسألة الثالثة: حكم الاستجمار بغير الأحجار.
المسألة الرابعة: حكم الاستجمار بشعب الحجر الواحد.
المسألة الخامسة: الاستجمار في الصفحتين والحشفة.
المسألة السادسة: حكم الاستجمار لو انسد المخرج وانفتح غيره.
المسألة السابعة: حكم استقبال القبلة واستدبارها حال قضاء الحاجة.
পাত্র অধ্যায়ে তাঁর পছন্দসমূহ, এতে একটি উপক্রমণিকা ও চারটি মাসআলা রয়েছে।
উপক্রমণিকা: শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে পাত্রের সংজ্ঞায়।
প্রথম মাসআলা: প্রয়োজন ব্যতীত সামান্য পরিমাণ রূপা ব্যবহারের বিধান।
দ্বিতীয় মাসআলা: মৃত পশুর দাবাগাতকৃত (সংস্কৃত) চামড়া।
তৃতীয় মাসআলা: মৃত পশুর দুধ ও রেনেটের (পনির তৈরির উপাদান) বিধান।
চতুর্থ মাসআলা: মৃত পশুর হাড়ের বিধান।
ইস্তিঞ্জা অধ্যায়ে তাঁর পছন্দসমূহ, এতে একটি উপক্রমণিকা ও সাতটি মাসআলা রয়েছে।
উপক্রমণিকা: শাব্দিক ও শরয়ী অর্থে ইস্তিঞ্জার সংজ্ঞায়।
প্রথম মাসআলা: প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করার বিধান।
দ্বিতীয় মাসআলা: বিবাহিতা নারীর লজ্জাস্থানের অভ্যন্তরীণ অংশ পবিত্র করার বিধান।
তৃতীয় মাসআলা: পাথর ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে ইস্তিজমার (শৌচকার্য) করার বিধান।
চতুর্থ মাসআলা: একটি পাথরের বিভিন্ন অংশ দিয়ে ইস্তিজমার করার বিধান।
পঞ্চম মাসআলা: নিতম্বের দুই পাশ ও লিঙ্গাগ্রের ক্ষেত্রে ইস্তিজমার।
ষষ্ঠ মাসআলা: স্বাভাবিক নির্গমন পথ রুদ্ধ হয়ে অন্য পথ উন্মুক্ত হলে ইস্তিজমার করার বিধান।
সপ্তম মাসআলা: হাজত পূরণের সময় কিবলার দিকে মুখ করা বা কিবলার দিকে পিঠ দেওয়ার বিধান।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ১০)
الفصل الثاني: اختياراته في أبواب السواك وسنن الوضوء، و فروض الوضوء وصفته، و مسح الخفين، ونواقض الوضوء.
اختياراته في باب السواك وسنن الوضوء، وفيه خمس مسائل.
المسألة الأولى: حكم السواك للنبي صلى الله عليه وسلم.
المسألة الثانية: حكم تسوك الصائم قبل الزوال بسواك رطب.
المسألة الثالثة: حكم التسوك بإصبعه أو بخرقة.
المسألة الرابعة: حكم التسمية في الوضوء.
المسألة الخامسة: حكم أخذ ماء جديد للأذنين.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মেসওয়াক ও ওযুর সুন্নাতসমূহ, ওযুর ফরযসমূহ ও তার পদ্ধতি, মোজার ওপর মাসাহ এবং ওযু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ সংক্রান্ত তাঁর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ।
মেসওয়াক ও ওযুর সুন্নাত অধ্যায়ে তাঁর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ, এবং এতে পাঁচটি মাসআলা রয়েছে।
প্রথম মাসআলা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য মেসওয়াক করার হুকুম।
দ্বিতীয় মাসআলা: সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে রোযাদারের কাঁচা মেসওয়াক দিয়ে মেসওয়াক করার হুকুম।
তৃতীয় মাসআলা: আঙুল বা কাপড়ের টুকরো দিয়ে মেসওয়াক করার হুকুম।
চতুর্থ মাসআলা: ওযুর শুরুতে বিসমিল্লাহ পাঠের হুকুম।
পঞ্চম মাসআলা: উভয় কানের জন্য নতুন পানি গ্রহণের হুকুম।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ১১)
اختياراته في باب فروض الوضوء وصفته، وفيه تمهيد، وتسع مسائل.
التمهيد: في تعريف الفرض، والوضوء، لغةً، وشرعاً.
المسألة الأولى: ترتيب المضمضة والاستنشاق في أعضاء الوضوء.
المسألة الثانية: حكم غسل داخل العينين في الوضوء.
المسألة الثالثة: حكم غسل النزعتين.
المسألة الرابعة: حكم استيعاب الرأس بالمسح.
المسألة الخامسة: حكم تعيين الناصية للمسح.
المسألة السادسة: حكم ارتفاع الحدث إذا نوى ما تسن له الطهارة.
المسألة السابعة: حكم طهارة من نوى بطهارته أحد الأحداث.
المسألة الثامنة: حكم غسل الأقطع من المرفقين.
المسألة التاسعة: حكم تنشيف الأعضاء من ماء الوضوء.
ওযুর ফরযসমূহ ও এর পদ্ধতির অধ্যায়ে তাঁর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ; এতে একটি ভূমিকা এবং নয়টি মাসআলা রয়েছে।
ভূমিকা: আভিধানিক ও শরয়ী পরিভাষায় ফরয ও ওযুর সংজ্ঞায়।
প্রথম মাসআলা: ওযুর অঙ্গগুলোর মধ্যে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার ধারাবাহিকতা।
দ্বিতীয় মাসআলা: ওযুর সময় চোখের ভেতরের অংশ ধোয়ার বিধান।
তৃতীয় মাসআলা: নাযআতাইন (কপালের দুই পাশের চুলহীন অংশ) ধোয়ার বিধান।
চতুর্থ মাসআলা: সম্পূর্ণ মাথা মাসেহ করার বিধান।
পঞ্চম মাসআলা: মাসেহ করার জন্য নাসিয়া (কপালের উপরিভাগের চুল) নির্দিষ্ট করার বিধান।
ষষ্ঠ মাসআলা: যে কাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা সুন্নত, তার নিয়ত করলে অপবিত্রতা (হাদাস) দূর হওয়ার বিধান।
সপ্তম মাসআলা: যে ব্যক্তি তার পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো একটি অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করে, তার পবিত্রতার বিধান।
অষ্টম মাসআলা: যার কনুই থেকে হাত কাটা, তার ধোয়ার বিধান।
নবম মাসআলা: ওযুর পানি থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মুছে শুকানোর বিধান।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ১২)
اختياراته في باب مسح الخفين، وفيه تمهيد، وثمان مسائل.
التمهيد: في تعريف المسح والخف، في اللغة والشرع.
المسألة الأولى: حكم المداومة على المسح على الخفين.
المسألة الثانية: حكم اشتراط إمكان المشي بالخف.
المسألة الثالثة: لبس الخف قبل كمال الطهارة.
المسألة الرابعة: حكم المسح على الفوقاني إذا كان مخرقا والتحتاني صحيحا.
المسألة الخامسة: مدة مسح المسافر إذا مسح مقيماً ثم سافر.
المسألة السادسة: المسح على القلانس.
المسألة السابعة: بطلان الطهارة بخلع الخفين.
المسألة الثامنة: اشتراط اللبس على طهارة للمسح على الجبيرة.
মোজা মাসাহ অধ্যায়ে তাঁর অগ্রাধিকারসমূহ; এতে একটি ভূমিকা এবং আটটি মাসআলা রয়েছে।
ভূমিকা: আভিধানিক ও শরীয়তি পরিভাষায় মাসাহ এবং খুফ (চামড়ার মোজা)-এর সংজ্ঞা প্রসঙ্গে।
প্রথম মাসআলা: মোজা মাসাহ-এর ওপর ধারাবাহিকতা বা নিয়মিত আমল করার বিধান।
দ্বিতীয় মাসআলা: মোজা পরিধান করে হাঁটা সম্ভব হওয়ার শর্তারোপের বিধান।
তৃতীয় মাসআলা: পবিত্রতা (অজু) পূর্ণ হওয়ার আগে মোজা পরিধান করা।
চতুর্থ মাসআলা: উপরের মোজাটি ছেঁড়া এবং নিচেরটি অক্ষত থাকলে উপরেরটির ওপর মাসাহ করার বিধান।
পঞ্চম মাসআলা: মুসাফির অবস্থায় মাসাহ-এর সময়সীমা, যদি কেউ মুকিম (অবস্থানকারী) অবস্থায় মাসাহ শুরু করে অতঃপর সফরে বের হয়।
ষষ্ঠ মাসআলা: টুপির ওপর মাসাহ করা।
সপ্তম মাসআলা: মোজা খুলে ফেলার কারণে পবিত্রতা (অজু) ভঙ্গ হওয়ার বিধান।
অষ্টম মাসআলা: জাবীরাহ (ব্যান্ডেজ)-এর ওপর মাসাহ করার জন্য পবিত্রতা থাকা অবস্থায় তা পরিধান করার শর্তারোপ।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
اختياراته في باب نواقض الوضوء، وفيه تمهيد، و ست مسائل:
التمهيد: في تعرف النواقض، لغةً، وشرعاً.
المسألة الأولى: حد الفاحش من النجاسة الخارجة من غير السبيلين.
المسألة الثانية: حكم وضوء من نام راكعاً أو ساجداً.
المسألة الثالثة: حكم وضوء من مس ذكره بظهر كفه.
المسألة الرابعة: حكم وضوء من مس ذكره من غير شهوة.
المسألة الخامسة: حكم مس المرأة الميتة لشهوة.
المسألة السادسة: حكم تصفح المحدث للمصحف بكمه.
الفصل الثالث: اختياراته في باب الغسل، وفيه تمهيد، و ثلاث مسائل:
التمهيد: في تعريف الغسل، لغةً، وشرعاً.
المسألة الأولى: الطهارة الواجبة بخروج بقية المني بعد الغسل وقبل البول.
المسألة الثانية: ارتفاع الحدث الأصغر بالطهارة عن الحدث الأكبر إذا نواهما.
المسألة الثالثة: حكم الغسل للحجامة.
ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ অধ্যায়ে তাঁর চয়নসমূহ, এতে একটি ভূমিকা ও ছয়টি মাসআলা রয়েছে:
ভূমিকা: আভিধানিক ও শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের (নাওয়াকিয) পরিচয়।
প্রথম মাসআলা: মল-মূত্র ত্যাগের দুটি পথ ব্যতীত অন্য কোনো পথ দিয়ে নির্গত অপবিত্রতার 'ফাহিশ' বা অতিরিক্ত হওয়ার সীমা।
দ্বিতীয় মাসআলা: রুকু বা সিজদা অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়া ব্যক্তির ওযুর বিধান।
তৃতীয় মাসআলা: হাতের পাতার উল্টো পিঠ দিয়ে লিঙ্গ স্পর্শ করলে ওযুর বিধান।
চতুর্থ মাসআলা: কামভাব ব্যতীত লিঙ্গ স্পর্শ করলে ওযুর বিধান।
পঞ্চম মাসআলা: কামভাবের সাথে মৃত নারীকে স্পর্শ করার বিধান।
ষষ্ঠ মাসআলা: অপবিত্র অবস্থায় আস্তিন দিয়ে মুসহাফের পাতা উল্টানোর বিধান।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গোসল অধ্যায়ে তাঁর চয়নসমূহ, এতে একটি ভূমিকা ও তিনটি মাসআলা রয়েছে:
ভূমিকা: আভিধানিক ও শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে গোসলের সংজ্ঞা।
প্রথম মাসআলা: গোসলের পর এবং প্রস্রাবের পূর্বে অবশিষ্ট বীর্য নির্গত হওয়ার কারণে আবশ্যকীয় পবিত্রতা।
দ্বিতীয় মাসআলা: বড় নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে ছোট নাপাকি দূর হওয়া, যখন উভয়ের নিয়ত করা হয়।
তৃতীয় মাসআলা: হিজামা বা সিঙা লাগানোর কারণে গোসল করার বিধান।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الفصل الرابع: اختياراته في باب التيمم، وفيه تمهيد، وخمس عشرة مسألة:
التمهيد: وفيه تعريف التيمم لغة واصطلاحاً.
المسألة الأولى: حكم التيمم قبل الاستنجاء.
المسألة الثانية: حكم التسمية في التيمم.
المسألة الثالثة: حكم التيمم قبل طلب الماء.
المسألة الرابعة: نفخ اليدين عن التراب في التيمم.
المسألة الخامسة: حكم التيمم إذا وجد الماء وهو في الصلاة.
المسألة السادسة: حكم التيمم إذا خرج الوقت.
المسألة السابعة: حكم التيمم في الحضر لعذر.
المسألة الثامنة: حكم التيمم لخوف زيادة المرض.
المسألة التاسعة: حكم التيمم لخوف فوات الجنازة.
المسألة العاشرة: حكم صلاة فاقد الطهورين.
المسألة الحادية عشرة: حكم الترتيب والموالاة لمن توضأ وتيمم للجرح.
المسألة الثانية عشرة: التيمم لنجاسة على بدنه عجز عن إزالتها.
المسألة الثالثة عشرة: حكم تيمم من نوى وصمد للريح فعمه التراب.
المسألة الرابعة عشرة: حكم من وجد من الماء بعض ما يكفيه.
المسألة الخامسة عشرة: إذا اجتمع حي وميت، ولا يكفي الماء إلا لواحد فمن يأخذه؟
الخاتمة: وتشتمل على أهم نتائج البحث، والتوصيات.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তায়াম্মুম অধ্যায়ে তাঁর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ, এতে রয়েছে একটি ভূমিকা এবং পনেরটি মাসআলা:
ভূমিকা: এতে রয়েছে আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে তায়াম্মুমের পরিচয়।
প্রথম মাসআলা: ইস্তিনজার পূর্বে তায়াম্মুম করার বিধান।
দ্বিতীয় মাসআলা: তায়াম্মুমে তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ) পাঠ করার বিধান।
তৃতীয় মাসআলা: পানি খোঁজার পূর্বে তায়াম্মুম করার বিধান।
চতুর্থ মাসআলা: তায়াম্মুমে হাত থেকে মাটি ঝেড়ে ফেলার জন্য ফুঁ দেওয়া।
পঞ্চম মাসআলা: সালাতরত অবস্থায় পানি পাওয়া গেলে তায়াম্মুমের বিধান।
ষষ্ঠ মাসআলা: ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেলে তায়াম্মুমের বিধান।
সপ্তম মাসআলা: কোনো ওজরের কারণে আবাসে (সফর ব্যতীত) থাকাকালীন তায়াম্মুমের বিধান।
অষ্টম মাসআলা: রোগ বেড়ে যাওয়ার ভয়ে তায়াম্মুম করার বিধান।
নবম মাসআলা: জানাজা ছুটে যাওয়ার ভয়ে তায়াম্মুম করার বিধান।
দশম মাসআলা: পবিত্রতার উভয় মাধ্যম (পানি ও মাটি) হারানো ব্যক্তির সালাতের বিধান।
একাদশ মাসআলা: ক্ষতস্থানের কারণে অজু ও তায়াম্মুম উভয়টি গ্রহণকারীর ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা ও নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখার বিধান।
দ্বাদশ মাসআলা: শরীরের অপবিত্রতা দূর করতে অক্ষম হলে তায়াম্মুম করা।
ত্রয়োদশ মাসআলা: যে ব্যক্তি নিয়ত করে বাতাসের মুখোমুখি হলো এবং ধূলিকণা তার পুরো অবয়ব ঢেকে দিল, তার তায়াম্মুমের বিধান।
চতুর্দশ মাসআলা: যে ব্যক্তি প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পেল, তার বিধান।
পঞ্চম মাসআলা: যদি জীবিত ও মৃত ব্যক্তি একত্রে থাকে এবং পানি কেবল একজনের জন্য যথেষ্ট হয়, তবে কে তা ব্যবহার করবে?
উপসংহার: এতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল এবং সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
منهج البحث:
سلكت في بحث مسائل هذه الرسالة الطريقة الآتية:
1/ جمعت كل ما وقع لي من اختيارات القاضي أبي يعلى سواء التي خالف فيها المذهب أو وافقه فيها كما هو المنهج المقرر من قبل قسم الفقه في الكلية، وذلك من خلال ما صححه من الروايات والأوجه في كتابه الروايتين والوجهين، وما نقله عنه الأصحاب كما في الفروع والإنصاف وغيرها من كتب الأصحاب، كقولهم (اختاره القاضي)، (وهو اختيار القاضي)، (رجحه القاضي)، ونحوها من صيغ الترجيح.
2/ صدرت اختيار القاضي أبي يعلى في كل مسألة معنوناً لاختياره، مع ذكر نص اختياره فيها و التوثيق لها في الهامش.
3/ بينت المقصود بالمسألة إن احتاج الأمر إلى ذلك.
4/ حررت محل النزاع إن وجد.
5/بينت سبب الخلاف في المسألة.
6/ رتبت هذه المسائل على حسب ترتيب كتاب زاد المستقنع وهو ما عليه المتأخرون من فقهاء الحنابلة.
مع التقيد بالمنهج الذي أقره قسم الفقه وهو:
1 - تصويرالمسألة المراد بحثها تصويراً دقيقاً قبل بيان حكمها ليتضح المقصود من دراستها.
2 - إذا كانت المسألة من مواضع الاتفاق أذكر حكمها بدليلها مع توثيق الاتفاق من مظانه المعتبرة.
গবেষণার পদ্ধতি:
এই গবেষণাপত্রের মাসয়ালাসমূহ পর্যালোচনায় আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করেছি:
১/ কাযী আবু ইয়া'লার যেসব ইখতিয়ার (পছন্দকৃত মত) আমার হস্তগত হয়েছে, চাই সেগুলো মাযহাবের পরিপন্থী হোক বা অনুকূলে—যা কলেজের ফিকহ বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি—তা আমি সংগ্রহ করেছি। এটি করা হয়েছে তাঁর 'আর-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন' গ্রন্থে তাঁর বিশুদ্ধ গণ্য করা বর্ণনা ও অভিমতসমূহ এবং তাঁর পরবর্তী অনুসারীগণ কর্তৃক তাঁর থেকে বর্ণিত উক্তিগুলো থেকে, যেমনটি 'আল-ফুরু', 'আল-ইনসাফ' এবং অনুসারীদের অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে। যেমন তাঁদের উক্তি: (কাযী এটি পছন্দ করেছেন), (এটি কাযীর ইখতিয়ার), (কাযী এটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন) এবং এই জাতীয় অন্যান্য প্রাধান্যসূচক শব্দাবলি।
২/ প্রতিটি মাসয়ালায় কাযী আবু ইয়া'লার ইখতিয়ারকে শিরোনাম হিসেবে শুরুতে উল্লেখ করেছি, সাথে সেই বিষয়ে তাঁর ইখতিয়ারের মূল পাঠ উল্লেখ করেছি এবং পাদটীকায় তার তথ্যসূত্র প্রদান করেছি।
৩/ প্রয়োজনবোধে মাসয়ালার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছি।
৪/ মতভেদের মূল স্থান যদি থাকে, তবে তা সুনির্দিষ্ট করেছি।
৫/ মাসয়ালার ক্ষেত্রে মতভেদের কারণ স্পষ্ট করেছি।
৬/ মাসয়ালাগুলোকে 'যাদুল মুস্তাকনি' গ্রন্থের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সাজিয়েছি, যা পরবর্তী যুগের হাম্বলী ফকীহগণ অনুসরণ করেছেন।
ফিকহ বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত পদ্ধতির অনুসরণসহ, যা হলো:
১ - গবেষণার উদ্দিষ্ট মাসয়ালার হুকুম বর্ণনার পূর্বে সেটির একটি সঠিক চিত্র উপস্থাপন করা, যাতে এর পর্যালোচনার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়।
২ - যদি মাসয়ালাটি সর্বসম্মত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সেই ঐকমত্যের উদ্ধৃতিসহ এর হুকুম ও দলিল উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
3 - إذا كانت المسألة من مسائل الاختلاف، فاتبعت ما يلي:
أ حررت محل الخلاف إذا كانت بعض صور المسألة محل خلاف وبعضها محل اتفاق.
ب ذكرت الأقوال في المسألة وبينت من قال بها من أهل العلم، ويكون عرض الأقوال حسب الاتجاهات الفقهية، وذكرت الأقوال في المسألة مبتدئاً بالترتيب التاريخي للمذاهب، فأبدأ بقول الحنفية ومن وافقهم ثم المالكية وهكذا.
ج- اقتصرت على المذاهب الفقهية المعتبرة مع العناية بذكر ما تيسر الوقوف عليه من أقوال السلف الصالح، وإذا لم أقف على المسألة في أحد المذاهب فسلكت فيها مسلك التخريج.
د- وثقت الأقوال من كتب أهل المذهب نفسه.
هـ- استقصيت أدلة الأقوال مع بيان وجه الدلالة، وذكرت ما يرد عليها من مناقشات وما يجاب به عنها.
و- الترجيح مع بيان سببه، وذكر ثمرة الخلاف إن وجدت.
ي- اعتنيت بضرب الأمثلة.
4 - اعتمدت على أمهات المصادر والمراجع الأصلية في التحرير والتوثيق والتخريج والجمع
5 - ركزت على موضوع البحث وتجنبت الاستطراد.
6 - تجنب الأقوال الشاذة.
7 - رقمت الآيات وبينت سورها.
৩ - যদি বিষয়টি মতভেদমূলক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
ক. যদি মাসআলার কিছু রূপ মতভেদপূর্ণ এবং কিছু রূপ ঐকমত্যপূর্ণ হয়, তবে আমি মতভেদের ক্ষেত্রটি সুনির্দিষ্ট করেছি।
খ. মাসআলাটিতে বিদ্যমান মতামতগুলো উল্লেখ করেছি এবং আহলে ইলমদের মধ্য থেকে কে তা বলেছেন তা স্পষ্ট করেছি। মতামতগুলো ফিকহি ধারার ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং মাযহাবগুলোর ঐতিহাসিক ক্রম অনুযায়ী মাসআলার বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করেছি। সে অনুযায়ী আমি হানাফি মাযহাব ও তাদের সাথে একমত পোষণকারীদের বক্তব্য দিয়ে শুরু করেছি, এরপর মালিকি এবং একইভাবে অন্যান্যদের।
গ- আমি নির্ভরযোগ্য ফিকহি মাযহাবগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং সালাফে সালেহীনের বক্তব্যগুলোর মধ্যে যা পাওয়া সহজ হয়েছে তা উল্লেখ করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি। যদি কোনো মাযহাবে আমি মাসআলাটি খুঁজে না পাই, তবে সেক্ষেত্রে 'তাখরীজ'-এর পদ্ধতি অবলম্বন করেছি।
ঘ- সংশ্লিষ্ট মাযহাবের নিজস্ব কিতাবসমূহ থেকেই বক্তব্যগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান করেছি।
ঙ- দালিলিক নির্দেশনার ধরন স্পষ্ট করার পাশাপাশি মতামতগুলোর দলিলসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছি এবং এর বিপরীতে আনীত আপত্তি ও তার উত্তরসমূহ উল্লেখ করেছি।
চ- কারণ উল্লেখপূর্বক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত (তরজীহ) প্রদান করেছি এবং মতভেদের কোনো ফলাফল থাকলে তা উল্লেখ করেছি।
ছ- উদাহরণ প্রদানের প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছি।
৪ - সম্পাদনা, তথ্যসূত্র প্রদান, তাখরীজ এবং সংকলনের ক্ষেত্রে আমি মৌলিক উৎস ও প্রধান রেফারেন্স গ্রন্থগুলোর ওপর নির্ভর করেছি।
৫ - আমি গবেষণার মূল বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছি এবং অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করেছি।
৬ - শায (বিচ্ছিন্ন) মতামতগুলো এড়িয়ে চলেছি।
৭ - আয়াতসমূহের নম্বর প্রদান করেছি এবং সংশ্লিষ্ট সূরার নাম উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
8 - خرجت الأحاديث، وبيَّنت ما ذكره أهل الشأن في درجتها – إن لم تكن في الصحيحين أو أحدهما – فإن كانت كذلك فأكتفي حينئذ بتخريجها.
9 - خرجت الآثار من مصادرها الأصلية وحكمت عليها.
10 - عند تخريج الحديث أو الأثر قمت بذكر الكتاب والباب ثم ذكرت الجزء والصفحة ورقمت الحديث أو الأثر إن كان مذكوراً في المصدر.
11 - عرَّفت بالمصطلحات الفقهية الواردة في البحث والتي تحتاج إلى تعريف وبيَّنت الألفاظ الغريبة ووضحت المصطلحات العلمية.
12 - اعتنيت بقواعد اللغة العربية والإملاء وعلامات الترقيم.
13 - ترجمت للأعلام غير المشهورين والمعاصرين.
14 - أتبعت الرسالة بالفهارس الفنية المتعارف عليها، وهي:
فهرس الآيات القرآنية.
فهرس الأحاديث والآثار.
فهرس الأعلام.
فهرس المصادر والمراجع.
فهرس الموضوعات.
الصعوبات التي واجهتها في هذا البحث.
1 - كثرة اختياراته المخالفة للمذهب.
2 - تفرق أقواله وكثرتها، وكثرة الناقلين عنه، في أغلب مؤلفات الحنابلة.
৮ - আমি হাদীসসমূহের তাখরীজ করেছি এবং সেগুলোর মান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পারদর্শীগণের বক্তব্য বর্ণনা করেছি—যদি তা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা এ দুটির কোনো একটিতে না থাকে—আর যদি সেখানে থাকে, তবে আমি শুধু তাখরীজ করার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছি।
৯ - আমি আসারসমূহ (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী) মূল উৎসসমূহ থেকে বের করেছি এবং সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতার মান বর্ণনা করেছি।
১০ - হাদীস বা আসারের তাখরীজের সময় আমি কিতাব ও অধ্যায়ের উল্লেখ করেছি, এরপর খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি এবং মূল উৎসে হাদীস বা আসারের ক্রমিক নম্বর দেওয়া থাকলে তা নম্বরভুক্ত করেছি।
১১ - গবেষণায় আসা যেসকল ফিকহী পরিভাষার সংজ্ঞার প্রয়োজন ছিল আমি তার পরিচয় দিয়েছি, দুর্লভ ও কঠিন শব্দসমূহ বিশ্লেষণ করেছি এবং ইলমী পরিভাষাগুলো স্পষ্ট করেছি।
১২ - আমি আরবি ব্যাকরণ, বানানরীতি এবং বিরামচিহ্নের নিয়মাবলির প্রতি সযত্ন দৃষ্টি দিয়েছি।
১৩ - আমি অপ্রসিদ্ধ ব্যক্তি এবং সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গের জীবনী ও পরিচয় উল্লেখ করেছি।
১৪ - আমি গবেষণাপত্রটির শেষে প্রচলিত নির্ঘণ্টসমূহ (সূচিপত্র) যুক্ত করেছি, যা হলো:
কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।
হাদীস ও আসারসমূহের নির্ঘণ্ট।
ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।
উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের নির্ঘণ্ট।
বিষয়বস্তুর নির্ঘণ্ট।
এই গবেষণার ক্ষেত্রে আমি যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি:
১ - মাযহাবের পরিপন্থী তাঁর মতসমূহের আধিক্য।
২ - হাম্বলী মাযহাবের অধিকাংশ গ্রন্থাবলীতে তাঁর উক্তিসমূহের বিক্ষিপ্ততা ও আধিক্য এবং তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের আধিক্য।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
شكر وتقدير:
ولا يسعني في هذا المقام إلا أن أشكر ربي سبحانه على نعمه التي لا تعد ولا تحصى، وعلى توفيقه وامتنانه وتيسيره وإعانته، فله الحمد والشكر حتى يرضى، وإن من شكر الله شكر من أحسن إلي من خلقه، وأولهم وأحقهم بالشكر والديّ الكريمين، لا سيما والدتي متعها الله بالصحة والعافية وحسن العاقبة التي تولت تربيتي مبكراً، بعد وفاة الوالد غفر الله له، فرب اغفر لهما وارحمهما كما ربياني صغيراً.
ثم أثني بالشكر الجزيل والعرفان الجميل لجامعة القصيم ممثلة بكلية الشريعة والدراسات الإسلامية فجزى الله خيراً عميد كلية الشريعة، ووكيلها وعميد الدراسات العليا بها، ورئيس قسم الفقه، وجميع أعضاء هيئة التدريس على إتاحتهم الفرصة لي لإكمال دراستي فيها، وما أسدوه لي من نصائح وتوجيهات، وأخص بالذكر ثم الشكر فضيلة شيخنا الأستاذ الدكتور عبد العزيز بن محمد الحجيلان الذي تفضل بالإشراف على هذه الرسالة، فقد كان لتوجيهاته وملحوظاته أكبر الأثر في تسديد هذا الجهد، وإكمال هذا العمل، فجزاه الله على ذلك خيراً كثيراً، وعافاه في الدنيا والآخرة.
وفي الختام هذا البحث جهد المقل كسائر الأعمال البشرية التي يعتريها النقص والخطأ والهفوات والنسيان مما هو من طبيعة البشر، فما كان فيه من صواب فمن الله وحده فهو الذي علمني ما لم أكن أعلم، وكان فضله عليّ كبيراً، وما كان فيه من خطأ فمن نفسي والشيطان، وأستغفر الله العظيم من ذلك، وأتوب إليه من كل ذنب.
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি:
এই পর্যায়ে আমি আমার রব সুবহানাহু-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে পারছি না তাঁর অগণিত নেয়ামতের জন্য এবং তাঁর তাওফিক, অনুগ্রহ, সহজীকরণ ও সাহায্যের জন্য। সুতরাং তাঁরই জন্য সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা যতক্ষণ না তিনি সন্তুষ্ট হন। আর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি দিক হলো তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যারা আমার প্রতি ইহসান বা অনুগ্রহ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় করা। তাদের মধ্যে কৃতজ্ঞতার প্রথম ও সর্বাধিক হকদার হলেন আমার সম্মানিত পিতামাতা; বিশেষ করে আমার মহীয়সী জননী—আল্লাহ তাঁকে সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও উত্তম পরিণাম দান করুন—যিনি পিতার ইন্তেকালের পর শৈশব থেকেই আমার লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করেছেন, আল্লাহ পিতাকে ক্ষমা করুন। হে আমার রব! আপনি তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন যেমনটি তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছিলেন।
অতঃপর আমি কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি, যার প্রতিনিধিত্ব করেছে শরিয়াহ ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ। আল্লাহ শরিয়াহ অনুষদের ডিন, সহকারী ডিন, উচ্চশিক্ষা অনুষদের ডিন, ফিকহ বিভাগের প্রধান এবং সকল অনুষদ সদস্যকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, যারা আমাকে এখানে পড়াশোনা সম্পন্ন করার সুযোগ দিয়েছেন এবং আমাকে বিভিন্ন উপদেশ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। বিশেষভাবে আমি স্মরণ করছি এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ প্রফেসর ডক্টর আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-হুজাইলানকে, যিনি অনুগ্রহপূর্বক এই থিসিসটির তত্ত্বাবধান করেছেন। তাঁর দিকনির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসমূহ এই প্রচেষ্টাকে সঠিক রূপ দিতে এবং এই কাজটি সম্পন্ন করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আল্লাহ তাঁকে এর জন্য প্রভূত কল্যাণ দান করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁকে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন।
পরিশেষে, এই গবেষণাটি একজন স্বল্প জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র, অন্যান্য মানবিক কাজের ন্যায় এতেও অপূর্ণতা, ভুল-ভ্রান্তি ও বিস্মৃতি থাকা স্বাভাবিক, যা মানুষের মজ্জাগত স্বভাব। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, কারণ তিনি আমাকে তা শিখিয়েছেন যা আমি জানতাম না এবং আমার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান। আর এতে যা কিছু ভুল রয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি এর জন্য মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং সকল গুনাহ থেকে তাঁর কাছে তওবা করছি।
এবং আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
التمهيدوفيه التعريف بالقاضي أبي يعلى رحمه الله، وبمؤلفاته،
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: التعريف بالمؤلف.
المطلب الثاني: التعريف بمؤلفاته، وطريقته في الاختيار.
ভূমিকাআর এতে রয়েছে কাজী আবু ইয়ালা (রহিমাহুল্লাহ) ও তাঁর রচনাবলির পরিচিতি,
আর এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: লেখকের পরিচিতি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলির পরিচিতি এবং তাঁর নির্বাচন পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ২০)
المطلب الأول: التعريف بالمؤلف.
1. اسمه ونسبه و مولده ولقبه.
2. نشأته وحياة العلمية ورحلاته في طلب العلم.
3. مشايخه وتلاميذه.
4. مكانته العلمية ومكانته الاجتماعية.
5. ثناء العلماء عليه.
6. وفاته.
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচয়.
১. তাঁর নাম, বংশপরিচয়, জন্ম এবং উপাধি।
২. তাঁর বেড়ে ওঠা, জ্ঞানগর্ভ জীবন এবং ইলম অন্বেষণে তাঁর সফরসমূহ।
৩. তাঁর শিক্ষকবৃন্দ ও ছাত্রবৃন্দ।
৪. তাঁর ইলমি মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান।
৫. তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।
৬. তাঁর মৃত্যু।
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ২১)
المطلب الأول: التعريف بالمؤلف.
1 - اسمه ونسبه و مولده ولقبه (1).
اسمه: محمد بن الحسين بن محمد بن خلف بن الفرَّاء، أبو يعلى البغدادي، واشتهر بعد ذلك بأبي يعلى، ولقب بالقاضي لتوليه القضاء، ويقال له أيضاً أَبو يعلى الكبير لأَنه جد الحنابلة منهم، فهو أَول حنبلي من أَهله، وللتفريق بينه وبين الحفيد: أَبو يعلى الصغير
(2).
نسبه: الفرَّاء، نسبة إلى خياطة الفراء والتجارة بها
(3).
مولده: ولد في بغداد لسبع وعشرين أو ثمان وعشرين أو تسع وعشرين خلت من شهر الله المحرم سنة ثمانين وثلاثمائة من الهجرة النبوية
(4).
لقبه: القاضي، لتوليه القضاء
(5).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচিতি।
১ - তাঁর নাম, বংশপরিচয়, জন্ম ও উপাধি (১)।
তাঁর নাম: মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন খালাফ বিন আল-ফাররা, আবু ইয়ালা আল-বাগদাদী। এরপর তিনি আবু ইয়ালা নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। বিচারপতির (কাজীর) দায়িত্ব পালন করার কারণে তাঁকে 'আল-কাদী' উপাধি দেওয়া হয়। তাঁকে 'আবু ইয়ালা আল-কাবীর' (বড় আবু ইয়ালা)-ও বলা হয়, কারণ তিনি তাঁদের মধ্য থেকে হাম্বলিদের আদিপুরুষ; তিনি ছিলেন তাঁর পরিবারের প্রথম হাম্বলি। তাঁর নাতি 'আবু ইয়ালা আস-সাগীর' (ছোট আবু ইয়ালা)-এর সাথে পার্থক্য করার জন্য এই নাম ব্যবহৃত হয়
(২)।
বংশপরিচয়: আল-ফাররা। পশমী পোশাক সেলাই এবং এর ব্যবসার দিকে সম্বন্ধ করে এই নাম রাখা হয়েছে
(৩)।
জন্ম: তিনি আল্লাহর মাস মহররমের সাতাশ, আটাশ বা ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ৩৮০ হিজরীতে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন
(৪)।
উপাধি: আল-কাদী (বিচারপতি), বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনের কারণে
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ২২)
2 - نشأته وحياة العلمية ورحلاته في طلب العلم.
ولد القاضي ونشأ في بيت علم ودين، فقد كان أبوه الحسين بن محمد الفراء رجلاً صالحاً فقيهاً، درس على مذهب الإمام أبي حنيفة -رحمهما الله- وأسند الحديث، توفي سنة 390 هـ
(1)، بالإضافة إلى نشأته في بيئة علمية، حيث ولد في بغداد ونشأ بها، وقد كانت آن ذاك عاصمة الخلافة العباسية، ومهد العلماء فكانت النهضة العلمية فيها متوافرة الدواعي مكتملة الأسباب، متنوعة العلوم والفنون، بالإضافة للمكتبات الزاخرة بالمصادر والمراجع في كل فن، مما كان له كبير الأثر في شخصية القاضي أبي يعلى وتكوينه العلمي وعلو منزلته فيه.
فقد سمع الحديث مبكراً، وعمره خمس سنوات في سنة 385 هـ
(2)، وتوفي والده وهو لم يجاوز العاشرة من عمره، وكان وصيه رجلاً صالحاً يقال له الحربي
(3)، فنقل القاضي إلى دار القز
(4) حيث يسكن، وفيها مسجد يصلي فيه رجل صالح يقال له ابن مقدحة المقرئ
(5)، يقرئ القرآن و يلقن من يقرأ عليه العبارات من مختصر الخرقي
(6) فلقنه ما جرت عادته بتلقينه من العبادات فاستزاده القاضي فقال له ذلك الشيخ: هذا القدر الذي أحسنته فإن أردت زيادة عليه فعليك بالشيخ أبي عبد الله بن حامد
(7) فإنه شيخ هذه الطائفة ومسجده بباب الشعير فمضى إليه وصحبه، ولازمه وتتلمذ عليه إلى أن توفي ابن حامد رحمه الله -سنة 403 هـ، وكان من المشايخ الذين لازمهم القاضي وتأثر بهم كثيراً.
وتصدر بأمره للإفادة سنة 402 هـ. فقد سئل ابن حامد رحمه الله -إمام الحنبلية في وقته عند خروجه إلى الحج في سنة اثنتين وأربعمائة فقيل له: على من ندرس؟ وإلى من نجلس؟ فقال: إلى هذا الفتى وأشار إلى القاضي الإمام أبي يعلي
(8).
ورحل لأجل طلب العلم وتحصيله إلى مكة، ودمشق، وحلب وسمع الحديث، من بعض المحدثين كالحافظ عبد الرحمن بن أبي نصر رحمه الله
(9) في دمشق، وأبي نصر عبيد الله بن سعيد السجزي
(10) في مكة، وتبادل الرسائل معه.
(11)وسمع من أبي عبدالله الحاكم، صاحب المستدرك
(12)، ولم يكن القاضي رحمه الله -كثير رحلات لما سبق من كون بغداد وقتئذ حاضنة العلم، ومقصد الطلبة.
--------------------------------------------
২ - তাঁর বেড়ে ওঠা, শিক্ষাজীবন এবং জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর সফরসমূহ.
কাজী একটি ইলমি ও দ্বীনদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-ফাররা ছিলেন একজন নেককার ফকিহ ব্যক্তি। তিনি ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন)-এর মাযহাব অনুযায়ী পড়াশোনা করেছিলেন এবং হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ৩৯০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(১)। তদুপরি তিনি এক ইলমি পরিবেশে বেড়ে ওঠেন, যেহেতু তিনি বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বড় হন। তৎকালীন সময়ে এটি ছিল আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী এবং উলামায়ে কেরামের চারণভূমি। ফলে সেখানে ইলমি জাগরণের উপকরণসমূহ সহজলভ্য ও পূর্ণাঙ্গ ছিল, জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখাগুলো ছিল বৈচিত্র্যময়। এছাড়াও সেখানে প্রতিটি শাস্ত্রের মৌলিক উৎস ও রেফারেন্স সমৃদ্ধ কুতুবখানা বা পাঠাগার বিদ্যমান ছিল, যা কাজী আবু ইয়ালার ব্যক্তিত্ব গঠন, ইলমি ভিত তৈরি এবং এই ক্ষেত্রে তাঁর সুউচ্চ মাকাম লাভের পেছনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
তিনি খুব অল্প বয়সে ৩8৫ হিজরিতে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে হাদিস শ্রবণ শুরু করেন
(২)। তাঁর বয়স যখন দশ বছরও পার হয়নি, তখনই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। তাঁর অভিভাবক ছিলেন আল-হারবী
(৩) নামক এক নেককার ব্যক্তি। অতঃপর কাজীকে ‘দারুল কায’
(৪) নামক এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে তিনি বসবাস করতেন। সেখানে একটি মসজিদ ছিল যেখানে ইবনে মাকদাহ আল-মুক্রি
(৫) নামক একজন নেককার ব্যক্তি নামাজ পড়াতেন। তিনি কুরআন পাঠ করাতেন এবং তাঁর কাছে যারা পড়ত তাদেরকে ‘মুখতাসার আল-খিরাকি’
(৬) থেকে ইবারত তালকিন করতেন (মুখস্থ করাতেন)। তিনি তাঁর চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে ইবাদত বিষয়ক অংশগুলো তালকিন করলেন। কাজী আরও বেশি শেখার আগ্রহ প্রকাশ করলে সেই শায়খ তাঁকে বললেন: ‘আমি যতটুকু ভালো জানি তা এই পরিমাণই। তুমি যদি এর চেয়ে বেশি চাও, তবে তোমার শায়খ আবু আব্দুল্লাহ বিন হামিদের
(৭) কাছে যাওয়া উচিত। কারণ তিনি এই জামাতের প্রধান শায়খ এবং ‘বাব আশ-শায়ির’-এ তাঁর মসজিদ অবস্থিত।’ অতঃপর তিনি তাঁর কাছে যান এবং তাঁর সান্নিধ্য গ্রহণ করেন। ইবনে হামিদ (রহ.)-এর মৃত্যু (৪০৩ হি.) পর্যন্ত তিনি তাঁর ছাত্রত্ব বজায় রাখেন এবং ছায়ার মতো তাঁর সাথে লেগে থাকেন। তিনি ছিলেন সেই সকল শায়খদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সাহচর্যে কাজী দীর্ঘকাল ছিলেন এবং যাদের দ্বারা তিনি ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন।
৪০২ হিজরিতে তাঁর নির্দেশেই তিনি জ্ঞান বিতরণের (ফাতাওয়া প্রদানের) আসনে বসেন। তাঁর সময়ের হাম্বলিদের ইমাম ইবনে হামিদ (রহ.)-কে ৪০২ হিজরিতে হজে যাওয়ার প্রাক্কালে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ‘আমরা কার কাছে পড়াশোনা করব? কার মজলিসে বসব?’ তিনি বললেন: ‘এই যুবকের কাছে’, এবং তিনি কাজী ইমাম আবু ইয়ালার
(৮) দিকে ইশারা করলেন।
তিনি জ্ঞান অন্বেষণ ও তা অর্জনের উদ্দেশ্যে মক্কা, দামেস্ক ও আলেপ্পো সফর করেন এবং প্রখ্যাত মুহাদ্দিসগণের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। যেমন দামেস্কে হাফেজ আব্দুর রহমান বিন আবু নাসর (রহ.)
(৯) এবং মক্কায় আবু নাসর উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ আস-সিজজি
(১০)। তাঁর সাথে কাজীর পত্রবিনিময়ও চলত।
(১১)তিনি আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থের লেখক আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের
(১২) নিকট থেকেও হাদিস শ্রবণ করেন। তবে কাজী (রহ.) খুব বেশি দেশ-দেশান্তর সফর করেননি, কারণ আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, তৎকালীন বাগদাদ ছিল ইলমের কেন্দ্রবিন্দু এবং শিক্ষার্থীদের গন্তব্যস্থল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
3 - مشايخه وتلاميذه.
تلقى القاضي رحمه الله العلم في فنون متعددة وعلى علماء كثر من أبرزهم:
1 - عبيد الله بن عثمان بن يحيى المعروف بابن جنيقا أبو القاسم الدقاق، وهو جده لأمه، محدث ثقة، توفي رحمه الله -سنة 390 هـ
(1).
2 - الحسن بن حامد بن علي بن مروان، أبو عبدالله البغدادي، إمام الحنابلة في وقته، له مصنفات في علوم مختلفة، منها الجامع في اختلاف العلماء، في أربعمائة جزء، وشرح أصول الدين، وأصول الفقه، وتهذيب الأجوبة، وغيرها توفي رحمه الله -سنة 403 هـ
(2).
3 - الحسين بن أحمد بن جعفر، المعروف بابن البغدادي، سمع منه القاضي، وخرّج عنه في مصنفاته، وكان صدوقاً، ديناً عابداً، توفي سنة 404 هـ
(3).
4 - محمد بن عبد الله بن محمد بن حمدويه بن نعيم النيسابوري، أبو عبدالله الحاكم، صاحب المستدرك، طلب العلم ورحل في تحصيله، من أهل العلم والفضل، والحفظ والمعرفة، له مصنفات عدة، منها معرفة علوم الحديث، وتأريخ النيسابوريين، والمدخل إلى علم الصحيح، والإكليل، وغيرها، توفي رحمه الله -سنة 405 هـ
(4).
5 - محمد بن أحمد بن محمد بن فارس بن سهل، أبو الفتح بن أبي الفوارس، المحقق الحافظ، توفي رحمه الله -سنة 412 هـ
(5).
6 - علي بن أحمد بن عمر بن حفص الحمامي البغدادي، الإمام، المحدث، مقرئ العراق، أبو الحسن المقرئ، كان صادقاً، ديناً فاضلاً، تفرد بأسانيد القراءات وعلوها في وقته، توفي رحمه الله -سنة 417 هـ
(6).
7 - علي بن عمر الحَرْبي، أبو الحسن السُّكّري، سمع منه الحديث توفي سنة 386 هـ
(7).
8 - عبد الله بن محمد بن إسحاق، أبو القاسم بن حبابة، المتوفى سنة 389 هـ
(8).
9 - إسماعيل بن سعيد بن محمد، أبو القاسم المُعَدِّل، المتوفى سنة 392 هـ وأخذ عنه الحديث
(9).
10 - علي بن معروف بن محمد، أبو الحسن البزار، ثقة في حديثه
(10)وغيرهم ممن تلقى عنهم القاضي أبو يعلى- رحمهم الله جميعاً-
(11).
--------------------------------------------
৩ - তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রগণ.
কাজী (রাহিমাহুল্লাহ) বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় বহু সংখ্যক আলেমদের নিকট ইলম অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
১ - উবাইদুল্লাহ বিন উসমান বিন ইয়াহইয়া, ইবনে জুনাইকা নামে পরিচিত, আবুল কাসিম আদ-দাক্কাক; তিনি ছিলেন তাঁর মাতামহ, একজন বিশ্বস্ত মুহাদ্দিস। তিনি রাহিমাহুল্লাহ ৩৯০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(১).
২ - হাসান বিন হামিদ বিন আলী বিন মারওয়ান, আবু আব্দুল্লাহ আল-বাগদাদী; তাঁর সময়ের হাম্বলী ইমাম। বিভিন্ন ইলমী বিষয়ে তাঁর বহু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চারশ খণ্ড বিশিষ্ট 'আল-জামি ফি ইখতিলাফিল উলামা', 'শারহু উসুলিদ দীন', 'উসুলুল ফিকহ', 'তাহযিবুল আজউবা' এবং অন্যান্য। তিনি রাহিমাহুল্লাহ ৪০৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(২).
৩ - হুসাইন বিন আহমদ বিন জাফর, ইবনুল বাগদাদী নামে পরিচিত। কাজী তাঁর থেকে হাদীস শুনেছেন এবং তাঁর কিতাবসমূহে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন সত্যবাদী, দ্বীনদার ও ইবাদতগুজার। তিনি ৪০৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(৩).
৪ - মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হামদুয়াহ বিন নুআইম আন-নাইসাবুরী, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম, 'আল-মুস্তাদরাক' এর লেখক। তিনি ইলম অন্বেষণ করেছেন এবং তা অর্জনে সফর করেছেন। তিনি আহলে ইলম, ফযীলতপূর্ণ, হিফয ও মারেফাত (হাদীস শাস্ত্রের গভীর জ্ঞান) সম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর অনেকগুলো রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে 'মা'রিফাতু উলূমিল হাদীস', 'তারীখে নাইসাবুর', 'আল-মাদখাল ইলা ইলমিস সহীহ', 'আল-ইকলীল' এবং আরও অন্যান্য। তিনি রাহিমাহুল্লাহ ৪০৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(৪).
৫ - মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ফারিস বিন সাহল, আবুল ফাতহ বিন আবিল ফাওয়ারিস; তিনি ছিলেন মুহাক্কিক ও হাফেজ। তিনি রাহিমাহুল্লাহ ৪১২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(৫).
৬ - আলী বিন আহমদ বিন উমর বিন হাফস আল-হামামী আল-বাগদাদী; ইমাম, মুহাদ্দিস, ইরাকের মুকরি (কুরআন পাঠ বিশেষজ্ঞ), আবু হাসান আল-মুকরি। তিনি ছিলেন সত্যবাদী, দ্বীনদার ও ফযীলতপূর্ণ। তিনি তাঁর সময়ে কেরাত শাস্ত্রের উচ্চতর ও একক সনদসমূহের অধিকারী ছিলেন। তিনি রাহিমাহুল্লাহ ৪১৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(৬).
৭ - আলী বিন উমর আল-হারবী, আবু হাসান আস-সুককারী; তিনি তাঁর থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। ৩৮৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(৭).
৮ - আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক, আবুল কাসিম বিন হুবাবা; ৩৮৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(৮).
৯ - ইসমাইল বিন সাঈদ বিন মুহাম্মদ, আবুল কাসিম আল-মুআদ্দিল; ৩৯২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর নিকট থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন
(৯).
১০ - আলী বিন মারুফ বিন মুহাম্মদ, আবু হাসান আল-বাযযার; হাদীস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)
(১০)এবং আরও অন্যান্য যাদের নিকট থেকে কাজী আবু ইয়ালা ইলম অর্জন করেছেন— আল্লাহ তাঁদের সকলের উপর রহম করুন—
(১১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
تلاميذه.
لا غرو أن عالماً بمنزلة القاضي أبي يعلى في العلم والتحقيق، أن يتوافد عليه الجم الغفير والعدد الكثير من الطلبة، فقد تخرج على يديه العلماء والقراء والفقهاء المحققون، وغيرهم كثير، ولعل من أبرزهم.
1 - الخطيب البغدادي الحافظ أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد البغدادي، صاحب تأريخ بغداد، وشرف أهل الحديث، والمتفق والمفترق، والتبيين لأسماء المدلسين، وغيرها فقد قال عن نفسه (كتبنا عنه -القاضي- وكان ثقة)
(1) توفي رحمه الله -سنة 463 هـ
(2).
2 - الشريف أبو جعفر عبد الخالق بن عيسى بن أحمد بن محمد بن عيسى الهاشمي من أكبر تلامذة القاضي، فقد درس في حياة شيخه وأفتى، حتى أطلق عليه إمام الحنابلة، وكان مختصر الكلام مليح التدريس جيد الكلام في المناظرة عالما بالفرائض وأحكام القرآن والأصول، صنف رؤوس المسائل وشرح من المذهب: الطهارة وبعض الصلاة وسلك فيه طريق القاضي أبي يعلى في الجامع الكبير، وله جزء في أدب الفقه، وبعض فضائل أحمد، وترجيح مذهبه توفي رحمه الله -سنة 470 هـ
(3).
3 - أبو علي المقرئ الحسن بن أحمد بن عبد الله المعروف بابن البنا، تفقه على القاضي أبي يعلى وعلق عنه المذهب والخلاف وهو من قدماء أصحابه له مصنفات كثيرة منها شرح الخرقي في الفقه، الكامل في الفقه، الكافي المحدد في شرح المجرد، الخصال والأقسام، نزهة الطالب في تجريد المذاهب، آداب العالم والمتعلم، أخبار القاضي أبي يعلى وغيرها كثير توفي رحمه الله -سنة 417 هـ
(4)4 - القاضي أبو علي يعقوب بن إبراهيم بن أحمد بن سطور البَرْزَبيني، تفقه على القاضي أبي يعلى، حتى برع في الفقه، ودرس في حياته، وصنف كتبا في الأصول والفروع وكان له غلمان كثيرون، وكان مبارك التعليم لم يدرس عليه أحد إلا أفلح وصار فقيها. وله تصانيف في المذهب. منها: " التعليقة في الفقه " في عدة مجلدات، وهي مُلخصة من تعليقة شيخه القاضي، توفي رحمه الله -سنة 486 هـ
(5).
5 - القاضي الفقيه الواعظ على بن محمد بن علي أبو منصور بن الأنباري، سمع من القاضي أبي يعلى الحديث الكثير، وتفقه عليه حتى برع في الفقه، وأفتى ووعظ بجامع القصر وجامع المنصور وجامع المهدي، وكان مظهراً للسنة في مجالسه، توفي رحمه الله -سنة 507 هـ
(6).
--------------------------------------------
তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, জ্ঞান ও গবেষণায় কাজী আবু ইয়া'লার মতো মর্যাদাবান একজন আলেমের নিকট বিপুল সংখ্যক ছাত্রের সমাগম হবে। তাঁর নিকট থেকে বহু আলেম, ক্বারী, গবেষক ফকিহ এবং আরও অনেকে শিক্ষা সমাপন করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
১ - আল-খতিব আল-বাগদাদি, আল-হাফিজ আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত বিন আহমদ আল-বাগদাদি। তিনি ‘তারিখে বাগদাদ’, ‘শারাফু আহলিল হাদিস’, ‘আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাগ’, ‘আত-তাবয়িন লি আসমায়িল মুদাল্লিসিন’ এবং অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন, (আমরা তাঁর—কাজী—নিকট থেকে লিখেছি এবং তিনি বিশ্বস্ত ছিলেন)। তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি—৪৬৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
২ - আশ-শরিফ আবু জাফর আব্দুল খালেক বিন ঈসা বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-হাশেমি। তিনি কাজীর অন্যতম প্রধান ছাত্র ছিলেন। তিনি তাঁর শাইখের জীবদ্দশাতেই পাঠদান ও ফতোয়া প্রদান করেছেন, এমনকি তাঁকে ‘হাম্বলিদের ইমাম’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তিনি সংক্ষিপ্ত অথচ চমৎকার পাঠদান করতেন, বিতর্কে (মুনাজারা) পারদর্শী ছিলেন এবং ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), কুরআনের আহকাম ও উসুল শাস্ত্রে বিজ্ঞ ছিলেন। তিনি ‘রুউসুল মাসায়িল’ রচনা করেন এবং মাযহাবের ‘তাহারাত’ (পবিত্রতা) ও নামাজের কিছু অংশ ব্যাখ্যা করেছেন। এতে তিনি ‘আল-জামি আল-কাবির’ গ্রন্থে কাজী আবু ইয়া'লার পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। এছাড়াও ফিকহি আদব এবং ইমাম আহমদের কিছু মর্যাদা ও তাঁর মাযহাবের প্রাধান্য বিষয়ে তাঁর সংকলন রয়েছে। তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি—৪৭০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
৩ - আবু আলী আল-মুকরি আল-হাসান বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ, যিনি ইবনুল বান্না নামে পরিচিত। তিনি কাজী আবু ইয়া'লার নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং তাঁর নিকট থেকে মাযহাব ও ইখতিলাফ (মতপার্থক্য) লিপিবদ্ধ করেন। তিনি তাঁর প্রাচীন সাথীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর অসংখ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: ফিকহ শাস্ত্রে ‘শারহুল খিরাকি’, ‘আল-কামিল ফিল ফিকহ’, ‘আল-কাফি আল-মুহাদ্দাদ ফি শারহিল মুজাররাদ’, ‘আল-খিসাল ওয়াল আকসাম’, ‘নুজহাতুত তালিব ফি তাজরিদিল মাজাহিব’, ‘আদাবুল আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম’, ‘আখবারুল কাজী আবু ইয়া'লা’ এবং আরও অনেক। তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি—৪১৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
৪ - কাজী আবু আলী ইয়াকুব বিন ইবরাহিম বিন আহমদ বিন সুতুর আল-বারজাবিনি। তিনি কাজী আবু ইয়া'লার নিকট ফিকহ পড়েন এবং এই শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি তাঁর শাইখের জীবদ্দশাতেই পাঠদান করেছেন এবং উসুল ও ফুরু (মূলনীতি ও শাখা জ্ঞান) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর অনেক ছাত্র ছিল এবং তাঁর পাঠদান বরকতময় ছিল; তাঁর নিকট যে-ই পড়েছে, সে-ই সফল হয়েছে এবং ফকিহ হয়েছে। মাযহাবের ওপর তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে কয়েক খণ্ডে সমাপ্ত ‘আত-তালিকু ফিল ফিকহ’ অন্যতম; যা তাঁর উস্তাদ কাজীর ‘তালিকাহ’ থেকে সংক্ষেপিত। তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি—৪৮৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
৫ - কাজী, ফকিহ ও ওয়ায়েজ আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী আবু মানসুর বিন আল-আনবারি। তিনি কাজী আবু ইয়া'লার নিকট থেকে প্রচুর হাদিস শুনেছেন এবং তাঁর কাছে ফিকহ পড়ে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন। তিনি ফতোয়া দিতেন এবং জামেউল কাসর, জামেউল মনসুর ও জামেউল মাহদিতে ওয়াজ করতেন। তিনি তাঁর মজলিসগুলোতে সুন্নাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি—৫০৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
6 - الفقيه محفوظ بن أحمد بن الحسن بن أحمد الكلوذَاني، أبو الخطاب البغدادي، أحد أئمة المذهب وأعيانه، درس الفقه على القاضي أبي يعلى، ولزمَهُ حتى برع في المذهب والخلاف، وقرأ عليه بعض مصنفاته، وقرأ الفرائض وبرع فيها أيضا، وصار إمام وقته، وفريد عصره في الفقه. ودرَّس وأفتى، وقَصَده الطلبة، وصنف كتبا حسانا في المذهب والأصول والخلاف، وانتُفع بها بحسن قصده، فمن تصانيفه: الهداية في الفقه، والخلاف الكبير المسمى "بالانتصار في المسائل الكبار"، و " الخلاف الصغير " المسمى ب " رؤوس المسائل "، وغيرها من المصنفات الكثيرة النافعة، توفي رحمه الله -سنة 510 هـ
(1).
7 - قاضي القضاة أبو الوفاء علي بن محمد بن عقيل، الفقيه البغدادي، المقرئ الفقيه، الأصولي، الواعظ المتكلم، أحد الأئمة الأعلام، وشيخ الإسلام، كان يقول: (شيخي في الفقه: القاضي أَبُو يعلى المملوء عقلا وزهدا وورعا)
(2)، وله تصانيف كثيرة في أنواع العلم، وأكبر تصانيفه: كتاب " الفنون " وهو كتاب كبير جدا، فيه فوائد كثيرة جليلة، في الوعظ، والتفسير، والفقه، والأصلين، والنحو، واللغة، والشعر، والتاريخ، له في الفقه كتاب الفصول، ويُسمى " كفاية المفتي " في عشر مجلدات، و الإشارة مجلد لطيف، وهو مختصر كتاب الروايتين والوجهين والواضح في أصول الفقه، غيرها من المصنفات في فنون متعددة، توفي رحمه الله -سنة 513 هـ
(3).
8 - أبو محمد رزق الله بن عبد الوهاب بن عبد العزيز بن الحرث بن أسد التميمي، البغدادي المقرئ، المحدث الفقيه الواعظ، شيخ أهل العراق في زمانه و أحد الحنابلة المشهورين، له مصنفات منها: شرح الإرشاد، والخصال والأقسام، توفي رحمه الله -سنة 488 هـ
(4).
9 - ابنه العالم الورع الصالح أبو القاسم عبيد الله بن محمد بن الحسين الفراء، سمع من أبيه، ورحل في طلب العلم والحديث إلى البلاد: واسط والبصرة والكوفة وعكبرا والموصل والجزيرة وآمد وغير ذلك، وعلق قبل سفرته عن تلميذ والده الشريف أبي جعفر، ولما ظهرت البدع في سنة تسع وستين وأربعمائة هاجر من بلدته إلى حرم الله، وكانت وفاته في مضيه إلى مكة بموضع يعرف بمعدن النقرة في أواخر ذي القعدة من السنة التي سافر فيها وله من العمر ست وعشرون سنة رحمه الله
(5). وغيرهم كثير رحمهم الله جميعاً-
(6).
--------------------------------------------
৬ - ফকিহ মাহফুজ বিন আহমাদ বিন আল-হাসান বিন আহমাদ আল-কালওয়াযানি, আবু আল-খাত্তাব আল-বাগদাদি; তিনি এই মাযহাবের অন্যতম ইমাম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি কাজি আবু ইয়া’লার কাছে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং তার সান্নিধ্যে থাকেন যতক্ষণ না তিনি মাযহাব ও মতভেদীয় জ্ঞানে (খিলাফ) পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তিনি তার কাছে নিজের কিছু গ্রন্থ পাঠ করেন। এছাড়াও তিনি ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) পড়েন এবং তাতেও বুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি তার সময়ের ইমাম এবং ফিকহ শাস্ত্রে যুগের অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তিনি শিক্ষাদান ও ফতোয়া প্রদানের কাজ করেন এবং শিক্ষার্থীরা তার কাছে আসতে শুরু করে। তিনি মাযহাব, উসুল এবং খিলাফ বিষয়ে অত্যন্ত চমৎকার কিছু গ্রন্থ রচনা করেন, যা তার নিষ্ঠার কারণে মানুষের জন্য উপকারী সাব্যস্ত হয়। তার রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ফিকহ শাস্ত্রে 'আল-হিদায়াহ', 'আল-ইন্তিসার ফিল মাসাইল আল-কিবার' নামক বড় খিলাফ গ্রন্থ এবং 'রুউসুল মাসাইল' নামক ছোট খিলাফ গ্রন্থসহ আরও অনেক উপকারী পাণ্ডুলিপি। তিনি —রাহিমাহুল্লাহ— ৫১০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন
(১)।
৭ - কাযিউল কুদাত (প্রধান বিচারপতি) আবু আল-ওয়াফা আলি বিন মুহাম্মাদ বিন আকিল, বাগদাদি ফকিহ, কারি, ফকিহ, উসুলবিদ, ওয়ায়েজ ও কালামশাস্ত্রবিদ; তিনি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইমাম এবং শায়খুল ইসলাম। তিনি বলতেন: (ফিকহ শাস্ত্রে আমার শায়খ হলেন: কাজি আবু ইয়া’লা, যিনি বুদ্ধি, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) ও তাকওয়ায় পরিপূর্ণ)
(২)। বিভিন্ন জ্ঞান শাখায় তার অসংখ্য রচনা রয়েছে। তার সবচেয়ে বড় গ্রন্থ হলো: 'কিতাবুল ফুনুন'; এটি অত্যন্ত বিশাল একটি গ্রন্থ, যাতে ওয়াজ-নাসিহত, তাফসির, ফিকহ, দুই উসুল (উসুলুদ দীন ও উসুলুল ফিকহ), নাহু, ভাষা, কবিতা ও ইতিহাসের অনেক মহান ও মূল্যবান শিক্ষা রয়েছে। ফিকহ শাস্ত্রে তার 'আল-ফুসুল' নামক গ্রন্থ রয়েছে, যা দশ খণ্ডে রচিত এবং 'কিফায়াতুল মুফতি' নামেও পরিচিত। এছাড়াও 'আল-ইশারাহ' নামে এক খণ্ডের একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রয়েছে, যা মূলত 'কিতাবুর রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহািন' এর সংক্ষিপ্তসার। আরও রয়েছে উসুলুল ফিকহ বিষয়ে 'আল-ওয়াদিহ' সহ বিভিন্ন বিষয়ের অনেক গ্রন্থ। তিনি —রাহিমাহুল্লাহ— ৫১৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন
(৩)।
৮ - আবু মুহাম্মাদ রিযকুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুল আজিজ বিন আল-হারিস বিন আসাদ আত-তামিমি, বাগদাদি কারি, মুহাদ্দিস, ফকিহ ও ওয়ায়েজ। তিনি তার সময়ে ইরাকবাসীদের শায়খ এবং অন্যতম প্রসিদ্ধ হাম্বলি ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: 'শারহুল ইরশাদ' এবং 'আল-খিসাল ওয়াল আকসাম'। তিনি —রাহিমাহুল্লাহ— ৪৮৮ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন
(৪)।
৯ - তার পুত্র, পরহেযগার ও সৎ আলেম আবু আল-কাসিম উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আল-ফাররা। তিনি তার পিতার কাছ থেকে ইলম অর্জন করেন এবং ইলম ও হাদিস অন্বেষণে বিভিন্ন দেশ ও শহরে সফর করেন: ওয়াসিত, বসরা, কুফা, উকবারা, মসুল, জাজিরা, আমিদ ইত্যাদি। নিজের সফরের পূর্বে তিনি তার পিতার ছাত্র শরিফ আবু জাফরের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। যখন ৪৬৯ হিজরি সনে বিদআতের প্রাদুর্ভাব ঘটে, তখন তিনি নিজ শহর থেকে আল্লাহর হারামের (মক্কা) উদ্দেশ্যে হিজরত করেন। মক্কায় যাওয়ার পথে 'মাদিন আন-নুকরা' নামক স্থানে সেই বছরের যিলকদ মাসের শেষের দিকে তার ইন্তেকাল হয়। সে সময় তার বয়স ছিল ছাব্বিশ বছর, রাহিমাহুল্লাহ
(৫)। এছাড়াও আরও অনেক ছাত্র রয়েছেন, আল্লাহ তাদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
4 - مكانته العلمية ومكانته الاجتماعية.
مكانته العلمية:
كان إمام وقته وفريد دهره وقريع عصره لا يعرف في شرق الأرض وغربها شخص يتقدم في علم مذهبه عليه أو يضاف في ذلك إليه، حتى قال تلميذه أبو الوفاء بن عقيل رحمه الله: (لم أدرك فيمن رأيت وحاضرت من العلماء على اختلاف مذاهبهم من كملت له شرائط الاجتهاد المطلق إلا ثلاثة)
(1) وذكر أولهم القاضي أبا يعلى بن الفراء.
هذا مع تقدمه على فقهاء زمانه بقراءته للقرآن بالقراءات العشر وكثرة سماعه للحديث وعلو إسناده في المرويات، ومما يدلل على مكانته العلمية وكثرة قاصديه للتعلم منه أنه حضر الناس مجلسه وهو يملي حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد صلاة الجمعة بجامع المنصورحتى امتلأ المسجد من كثرة الحضور حتى سجدوا في حلقة الإملاء على ظهور الناس لكثرة الزحام، وما رأى الناس في زمانهم مجلساً للحديث اجتمع فيه ذلك الجم الغفير والعدد الكثير غير مجلس القاضي أبي يعلى رحمه الله -وأنه حزر العدد بالألوف وذلك مع نباهة من حضر من الأعيان وأماثل هذا الزمان من النقباء وقاضي القضاة والشهود والفقهاء وكان يوما مشهودا
(2).
مكانته الاجتماعية:
أما مكانته الاجتماعية فقد حاز رضى الناس، بما كان عليه من مكانةٍ علميةٍ وما يتصف به من جميل الخلال، وتواضع جم وخلق رفيع، أكسبه احترام أهل زمانه وتقديرهم له وتوقيره ولا أدل على هذه المكانة السامية له في قلوب الناس من يوم وفاته حيث تعطلت الأسواق وأغلقت المتاجر، لشهود جنازته، وحضرها أرباب الدولة وأعيان الناس من الفقهاء والقضاة، ونقباء الهاشميين وغيرهم من أهل المكانة والفضل
(3).
--------------------------------------------
৪ - তাঁর ইলমী মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান.
ইলমী মর্যাদা:
তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের ইমাম, যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী। পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে এমন কোনো ব্যক্তি জানা ছিল না, যিনি তাঁর মাযহাবের ইলমে তাঁর চেয়ে অগ্রবর্তী ছিলেন অথবা এই ক্ষেত্রে যাঁর নাম তাঁর সাথে যুক্ত করা চলত। এমনকি তাঁর ছাত্র আবু আল-ওয়াফা ইবনে আকিল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (আমি যেসব আলেমকে দেখেছি এবং যাঁদের মজলিসে উপস্থিত হয়েছি—তাঁদের মাযহাবের ভিন্নতা সত্ত্বেও—তাঁদের মধ্যে মুতলাক ইজতিহাদের শর্তাবলি যাঁর মধ্যে পূর্ণ হয়েছে এমন মাত্র তিনজনকে পেয়েছি)
(১) এবং তিনি তাঁদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে কাজী আবু ইয়ালা ইবনুল ফারা-এর নাম উল্লেখ করেছেন।
এর সাথে তিনি দশ কিরাআতে কুরআন পাঠ, প্রচুর পরিমাণে হাদিস শ্রবণ এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে উচ্চ সনদ অর্জনের কারণে তাঁর সমসাময়িক ফকিহদের ওপর অগ্রগণ্য ছিলেন। তাঁর ইলমী মর্যাদা এবং তাঁর কাছে ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে আগতদের আধিক্যের প্রমাণ এই যে, জুমার নামাজের পর মানসুর জামে মসজিদে যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস লিখে দিতেন (ইমলা করতেন), তখন মানুষের ভিড়ে পুরো মসজিদ পূর্ণ হয়ে যেত। এমনকি প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে মানুষ ইমলার মজলিসে একে অপরের পিঠের ওপর সিজদাহ করত। কাজী আবু ইয়ালা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মজলিস ছাড়া সেই সময়ের মানুষ হাদিসের এমন কোনো মজলিস দেখেনি যেখানে এত বিশাল জনসমাগম ও বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটেছিল—যেখানে সংখ্যাটি হাজারে অনুমান করা হতো। এছাড়া উপস্থিতদের মধ্যে সমসাময়িক যুগের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ যেমন নকীবগণ, প্রধান বিচারপতি, সাক্ষী ও ফকিহদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য এবং দিনটি ছিল এক জনাকীর্ণ ও স্মরণীয় দিন
(২)।
সামাজিক অবস্থান:
সামাজিক অবস্থানের দিক থেকে তিনি তাঁর উচ্চতর ইলমী মর্যাদা এবং তাঁর সুন্দর গুণাবলি, গভীর বিনয় ও উন্নত চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন করেছিলেন। এসব গুণাবলি সমসাময়িকদের মাঝে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা, মূল্যায়ন ও সম্মান তৈরি করেছিল। মানুষের অন্তরে তাঁর এই সুউচ্চ মর্যাদার এর চেয়ে বড় কোনো প্রমাণ নেই যে, তাঁর ইন্তেকালের দিন তাঁর জানাজায় শরিক হওয়ার জন্য বাজারঘাট অচল হয়ে গিয়েছিল এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর জানাজায় রাষ্ট্রের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফকিহ ও বিচারকদের মতো গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ, হাশেমি বংশের নকীবগণ এবং অন্যান্য উচ্চমর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়েছিলেন
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
5 - ثناء العلماء عليه.
إن الثروة العلمية التي تركها القاضي أبو يعلى رحمه الله، دليل على سعة اطلاعه، وكثرة علمه، فلذلك أثنى عليه العلماء وذكروه بالجميل، وعرفوا له فضله وحقه.
فقال عنه ابنه أبو الحسين رحمه الله: (كان عالم زمانه
… وكان له في الأصول والفروع القدم العالي
… وأصحاب الإمام أحمد رضي الله عنه له يتبعون ولتصانيفه يَدْرسون ويُدَرِّسون وبقوله يفتنون وعليه يعولون والفقهاء على اختلاف مذهبهم وأصولهم كانوا عنده يجتمعون ولمقاله يسمعون ويطيعون وبه ينتفعون وبالاهتمام به يقتدون وقد شوهد له من الحال ما يغني عن المقال لا سيما مذهب إمامنا أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل واختلاف الروايات عنه ومما صح لديه منه)
(1).
وقال ابن الجوزي
(2) رحمه الله: (انتهى إليه علم المذهب، وكانت له التصانيف الكثيرة في الفروع والأصول)
(3).
وقال الذهبي
(4) رحمه الله: (أبو يعلى بن الفرّاء، شيخ الحنابلة، القاضي الحبر .. صاحب التصانيف، وفقيه العصر، كان إماماً لا يدرك
… ، وجميع الطائفة معترفون بفضله، ومغترفون من بحره)
(5).
وقال: (أفتى ودرس، وتخرج به الأصحاب، وانتهت إليه الإمامة في الفقه، وكان عالم العراق في زمانه، مع معرفة بعلوم القرآن وتفسيره، والنظر والأصول)
(6).
حتى قال عنه: (وأما في الفقه ومعرفة مذاهب الناس، ومعرفة نصوص أحمد رحمه الله،واختلافها، فإمام لا يدرك قراره، -رحمه الله تعالى-)
(7).
وقال ابن كثير
(8) رحمه الله: (شيخ الحنابلة، وممهد مذهبهم في الفروع)
(9).
--------------------------------------------
৫ - তাঁর প্রতি আলেমগণের প্রশংসা.
কাজী আবু ইয়ালা (রাহিমাহুল্লাহ) যে ইলমী সম্পদ রেখে গেছেন, তা তাঁর ব্যাপক পড়াশোনা ও জ্ঞানের গভীরতার প্রমাণ। এই কারণেই আলেমগণ তাঁর প্রশংসা করেছেন, তাঁকে উত্তমরূপে স্মরণ করেছেন এবং তাঁর মর্যাদা ও অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
তাঁর পুত্র আবু আল-হুসাইন (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের আলেম
… উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু (শাখা মাসয়ালা) শাস্ত্রে তাঁর সুউচ্চ অবস্থান ছিল
… ইমাম আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর অনুসারীরা তাঁকে অনুসরণ করতেন, তাঁর কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করতেন ও পাঠদান করতেন, তাঁর কথার ওপর ভিত্তি করে ফতোয়া দিতেন এবং তাঁর ওপরই নির্ভর করতেন। বিভিন্ন মাযহাব ও উসুলের ফকিহগণ তাঁর নিকট সমবেত হতেন, তাঁর কথা শুনতেন, আনুগত্য করতেন এবং তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হতেন। তাঁর ব্যাপারে এমন অবস্থা প্রত্যক্ষ করা গেছে যা বর্ণনার ঊর্ধ্বে, বিশেষ করে আমাদের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল-এর মাযহাব, তাঁর থেকে বর্ণিত বিভিন্ন রেওয়ায়েত এবং তাঁর কাছে যা সহিহ প্রমাণিত হয়েছে সে বিষয়ে)
(১)।
ইবনুল জাওযী
(২) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (মাযহাবের ইলম তাঁর কাছে এসে শেষ হয়েছে এবং ফুরু ও উসুলের ওপর তাঁর অনেক রচনা ছিল)
(৩)।
আয-যাহাবী
(৪) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (আবু ইয়ালা ইবনুল ফাররা, হাম্বলিদের শায়খ, মহাজ্ঞানী কাজী... বহু কিতাবের রচয়িতা এবং যুগের ফকিহ; তিনি ছিলেন এমন এক ইমাম যার সমকক্ষ পাওয়া দুষ্কর
… , এবং পুরো জামাত তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্বীকার করে এবং তাঁর ইলমের সমুদ্র থেকে জ্ঞান আহরণ করে)
(৫)।
তিনি আরও বলেছেন: (তিনি ফতোয়া দিয়েছেন ও পাঠদান করেছেন, তাঁর নিকট অনেক ছাত্র তৈরি হয়েছে, ফিকহ শাস্ত্রের ইমামত তাঁর কাছে এসে শেষ হয়েছে। কুরআন ও তাফসীর, বিতর্ক এবং উসুল শাস্ত্রের জ্ঞানের পাশাপাশি তিনি তাঁর সময়ের ইরাকের আলেম ছিলেন)
(৬)।
এমনকি তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও বলেছেন: (আর ফিকহ এবং মানুষের বিভিন্ন মাযহাব সম্পর্কে জ্ঞান, এবং ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নস (মূল পাঠ) ও সেগুলোর ভিন্নতা সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এমন এক ইমাম যার গভীরতা পরিমাপ করা যায় না, -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন-)
(৭)।
ইবনে কাসীর
(৮) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (হাম্বলিদের শায়খ এবং ফুরু শাস্ত্রে তাদের মাযহাবের পথপ্রদর্শক)
(৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
6 - وفاته.
بعد حياة حافلة بالعلم والعمل، ونشر العلم بالتدريس والفتوى والكتابة والتأليف، توفي القاضي أبو يعلى رحمه الله -بمدينة بغداد، وذلك ليلة ا التاسع عشر من شهر رمضان المبارك بين العشاءين سنة 458 هـ ثمان وخمسين وأربعمائة هجرية، وصلى عليه ابنه أبو القاسم يوم الإثنين بجامع المنصور، وقبر بمقبرة حرب، وتعطلت الأسواق واجتمع في جنازته جمع لم ير مثله، وحضره القضاة، والأعيان، وأرباب الدولة، والفقهاء، وكان أوصى أن يغسله الشريف أبو جعفر، وأن يكفن في ثلاثة أثواب، وأن لا يدفن معه إلا ماغزله لنفسه من الأكفان، وألا يخرق عليه ثوب ولا يقعد لعزاء
(1).
--------------------------------------------
৬ - তাঁর ইন্তেকাল.
ইলম ও আমল এবং দরস-তাদরীস, ফতোয়া প্রদান, লিখনী ও গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে দ্বীনি ইলম প্রসারে পরিপূর্ণ এক দীর্ঘ জীবনের পর, কাজী আবু ইয়ালা —আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন— বাগদাদ নগরীতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ৪৫৮ হিজরী সনের ১৯শে রমজানুল মুবারক দিবাগত রাতে মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে। সোমবার দিন জামে মানসুরে তাঁর পুত্র আবু কাসিম তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান এবং হারব কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর ইন্তেকালে বাজারঘাট বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁর জানাজায় এমন এক বিশাল জনসমাবেশ ঘটে যার নজির ইতিপূর্বে দেখা যায়নি। জানাজায় বিচারকগণ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ফকীহগণ উপস্থিত ছিলেন। তিনি অসিয়ত করে গিয়েছিলেন যেন শরীফ আবু জাফর তাঁকে গোসল করান, তাঁকে যেন তিনটি কাপড়ে কাফন দেওয়া হয় এবং তিনি নিজের জন্য যে কাফন বুনেছিলেন তা ব্যতীত অন্য কিছু যেন তাঁর সাথে দাফন না করা হয়। আরও অসিয়ত করেছিলেন যেন তাঁর শোকে কোনো কাপড় ছেঁড়া না হয় এবং শোক পালনের জন্য যেন কোনো সভা বা মজলিস না বসে
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিয়ারাতুল কাযী আবী ইয়ালা আল-হাম্বালী আল-ফিকহিয়্যাহ মিন আউয়ালি কিতাবিত তাহারাহ ইলা আখিরি বাবিত তায়াম্মুম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المطلب الثاني:التعريف بمؤلفاته، وطريقته في الاختيار.
1 - مؤلفات القاضي أبي يعلى المطبوعة.
2 - مؤلفات القاضي أبي يعلى المخطوطة.
3 - طريقة أبي يعلى في الاختيار.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:তাঁর রচনাবলি এবং মতামত নির্বাচনে তাঁর পদ্ধতির পরিচিতি.
১ - কাযী আবু ইয়া’লার মুদ্রিত রচনাবলি।
২ - কাযী আবু ইয়া’লার পাণ্ডুলিপি রচনাবলি।
৩ - মতামত নির্বাচনে আবু ইয়া’লার পদ্ধতি।