(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الفروق الفقهية للدمشقي - ط الحكمة القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: الفروق الفقهية
المؤلف: أبو الفضل مسلم بن علي الدمشقي (المتوفى في القرن الخامس الهجري)
دراسة وتحقيق: محمد أبو الأجفان [ت 1427 هـ]- حمزة أبو فارس
الناشر: دار الحكمة للطباعة والتوزيع والنشر، طرابلس - ليبيا
الطبعة: الأولى لدار الحكمة 2007 م (وهي الثانية لمحققيه، وكانت الأولى عن دار الغرب)
عدد الصفحات: 193
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1439
আল-ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ আদ-দিমাশকি - দারুল হিকমাহ সংস্করণ বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র এবং ফিকহি মূলনীতিসমূহ
গ্রন্থ: আল-ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ
লেখক: আবু আল-ফাদল মুসলিম ইবনে আলী আদ-দিমাশকি (পঞ্চম হিজরি শতাব্দীতে মৃত্যুবরণ করেছেন)
গবেষণা ও সম্পাদনা: মুহাম্মদ আবু আল-আজ্জাফান [মৃ. ১৪২৭ হি.]- হামজাহ আবু ফারিস
প্রকাশক: দারুল হিকমাহ মুদ্রণ, বিতরণ ও প্রকাশনা، ত্রিপোলি - লিবিয়া
সংস্করণ: দারুল হিকমাহ-এর প্রথম সংস্করণ ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ (যা সম্পাদকদ্বয়ের জন্য দ্বিতীয় সংস্করণ، আর প্রথম সংস্করণটি দারুল গারব থেকে প্রকাশিত হয়েছিল)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৩
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহাররম ১৪৩৯
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الفروق الفقهية
تأليف
أبي الفضل مسلم بن علي الدمشقي (المتوفى في القرن الخامس الهجري)
دراسة وتحقيق
محمد أبو الأجفان - حمزة أبو فارس
আল-ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ
রচনায়
আবু আল-ফজল মুসলিম বিন আলী আদ-দিমাশকি (মৃত্যু: পঞ্চম হিজরি শতাব্দী)
গবেষণা ও সম্পাদনা
মুহাম্মদ আবু আল-আজফান - হামজাহ আবু ফারিস
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
دار الحكمة
للطباعة والتوزيع والنشر
الهضبة الخضراء - تقسيم ابن خلدون
الطبعه الأولى، 2007 م
দারুল হিকমাহ
মুদ্রণ, বিতরণ ও প্রকাশনার জন্য
আল-হাদবা আল-খাদরা - ইবনে খালদুন বিভাগ
প্রথম সংস্করণ, ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد أشرف المرسلين لقد كان من ثمرات جهودنا العلمية نشر الفروق الفقهية لأبي الفضل مسلم الدمشقي في طبعته الأولى سنة 1992.
واعتبرنا هذه الفروق من أطيب ثمار بستان علوم الفقه وكانت بهجتنا بصدوره غامرة، فهي من عطاء عالم من العلماء الذين لم تكتب لهم الشهرة، عالم استفاد كثيراً من أبرز أعلام المدرسة المالكية بالعراق القاضي عبد الوهاب البغدادي، وهي تنتمي إلى فن مهم من فنون الفقه الإسلامي توسع وأثري بفضل جهود أعلام الفقه، وتحقيقهم وبحثهم، ونظرهم في علل الأحكام، هو فن يسعد به من تقدم في دراسة الفروع الفقهية وحصلت له ملكة، فن يكون رافداً من روافد نهر علم مقاصد الشريعة.
وفي الدراسة التي قدمنا بها لتحقيق الطبعة الأولى من فروق الدمشقي نبذة عن أهمية الفروق الفقهية تجلي فوائدها، نأمل أن يكون لنا بها إسهام علمي في بيان أهمية الفروق الفقهية، وتطور التأليف فيها.
وفروق الدمشقي بعد ظهور طبعتها الأولى، عرفت بهذا العالم المغمور، وأبرزت منهجه في كتابه، وأفادت بمجموعة من الفروق الجارية على أحكام مذهبه المالكي سواء كانت موضوع قلمه أو من جمعه ونقله، مع ترتيبه
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাযাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। ১৯৯২ সালে আবু আল-ফজল মুসলিম আদ-দিমাশকি রচিত 'আল-ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ' গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ প্রকাশ করা ছিল আমাদের ইলমি প্রচেষ্টার অন্যতম ফসল।
আমরা এই ফিকহি পার্থক্যসমূহকে (الفروق) ফিকহ শাস্ত্রের বাগানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফল হিসেবে বিবেচনা করেছি এবং এর প্রকাশে আমাদের আনন্দ ছিল সীমাহীন। এটি এমন এক আলেমের অবদান যাঁকে তেমন খ্যাতি দেওয়া হয়নি; এমন একজন আলেম যিনি ইরাকের মালেকি মাজহাবের অন্যতম প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব কাজি আব্দুল ওয়াহাব আল-বাগদাদির নিকট থেকে প্রভূত ইলম অর্জন করেছেন। এটি ইসলামি ফিকহের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত যা ফিকহ শাস্ত্রের প্রথিতযশা ইমামদের প্রচেষ্টা, তাঁদের গবেষণামূলক সম্পাদন (تحقيق), অনুসন্ধান এবং বিধানের কারণসমূহের (علل الأحكام) প্রতি তাঁদের গভীর দৃষ্টির কল্যাণে বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ হয়েছে। এটি এমন এক শাস্ত্র যা তাঁদের আনন্দ দেয় যারা ফিকহি শাখা-প্রশাখা অধ্যয়নে অগ্রসর হয়েছেন এবং এতে বিশেষ ব্যুৎপত্তি (ملكة) লাভ করেছেন; এটি এমন এক শাস্ত্র যা শরিয়তের লক্ষ্যসমূহের (مقاصد الشريعة) জ্ঞান-প্রবাহের অন্যতম উৎস।
দিমাশকির 'ফুরুক' গ্রন্থের প্রথম সংস্করণের গবেষণামূলক সম্পাদনার (تحقيق) শুরুতে আমরা যে অধ্যয়নমূলক ভূমিকা পেশ করেছি, তাতে ফিকহি পার্থক্যের (الفروق) গুরুত্ব ও এর উপকারিতা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে। আমরা আশা করি যে, ফিকহি পার্থক্যের (الفروق) গুরুত্ব এবং এ বিষয়ক গ্রন্থ রচনার বিবর্তন বর্ণনায় এর মাধ্যমে আমাদের একটি ইলমি অবদান থাকবে।
দিমাশকির 'ফুরুক' গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ প্রকাশের পর তা এই প্রচারবিমুখ আলেমকে পরিচিত করে তুলেছে এবং তাঁর গ্রন্থে অনুসৃত পদ্ধতিকে ফুটিয়ে তুলেছে। এটি তাঁর মালেকি মাজহাবের বিধান অনুযায়ী এমন একগুচ্ছ পার্থক্যের (الفروق) দ্বারা উপকৃত করেছে, যা হয় তাঁর নিজস্ব লেখনী অথবা তাঁর দ্বারা সংগৃহীত, বর্ণিত ও সুবিন্যস্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وتنسيقه، وموافقته على أحكامها واستنتاخه واجتهاده، وهو ما عهدناه في التصنيف الفقهي قديماً لدى علماء مختلف المذاهب التشريعية.
لقيت تلك الطبعة من طلبة الفقه ورواد الثقافة الإسلامية من الإقبال ما أتاح لنا البهجة وما أثلج منا الصدر، فسرعان ما نفذت نسخها، وتساءل الكثير من طلبتنا عن الطريقة للحصول على نسخ من الكتاب، فلم يكن بدء من إعادة الطبع تلبية للرغبات، وكان الناشر للطبعة الأولى منصرفاً إلى الكتب ذات الحجم الكبير مهتماً بتوفير الموضوعات التي يعجز الكثير من الناشرين عن طبعها، أعانه الله وزادهُ من الفضل والتوفيق.
وها هي الفرصة تتاح من جديد للدمشقي ولنا ولقراء الفقه المالكي ظهور طبعة ثانية، بفضل اهتمام وعناية الأستاذ عبد الله القاضي صاحب الفضل في خدمة تراثنا النفيس جزاه الله خيراً وهو صاحب دار الحكمة للنشر.
وعندما شرعنا في مراجعة الطبعة الأولى استعداداً للثانية أصدرت دار البحوث للدراسات الإسلامية وإحياء التراث بدبي (دولة الإمارات) كتاباً في الفروق الفقهية معزوا للقاضي عبد الوهاب البغدادي في طبعتين بتحقيقين مختلفين، في نطاق عنايتها بشخصية القاضي وتراثه، وكانت أقامت له مؤتمراً حافلاً في دبي (من 16 إلى 22 مارس سنة 2003).
لقي فيه القاضى العناية البالغة تعريفاً بجوانب نبوغه وبمصنفاته ومنهجه في تأليفها، وبجهوده الجبارة وقيمته بين أعلام المذهب المالكي. وبأثره في تياره.
ومما رأت الدار أن تتحف به المشاركين في المؤتمر وسائر القراء فروق القاضى عبد الوهاب بتحقيقها الأول الذي قام به جلال القذافي الجهاني، ثم
এবং এর বিন্যাস, এর বিধানসমূহের সাথে সামঞ্জস্য, অনুলিপি প্রস্তুতকরণ এবং তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد); যা আমরা বিভিন্ন আইনগত মাযহাবের আলেমদের প্রাচীন ফিকহি রচনারীতিতে প্রত্যক্ষ করি।
ফিকহের শিক্ষার্থী ও ইসলামী সংস্কৃতির অনুসারীদের নিকট সেই সংস্করণটি এমন ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে যা আমাদের জন্য আনন্দের ও চিত্তসুখের কারণ হয়েছে। অতি দ্রুত এর কপিগুলো শেষ হয়ে যায় এবং আমাদের অনেক শিক্ষার্থী গ্রন্থটি সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। ফলে পাঠকদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে এটি পুনরায় মুদ্রণের কোনো বিকল্প ছিল না। প্রথম সংস্করণের প্রকাশক বৃহৎ কলেবরের গ্রন্থগুলোর প্রতি মনোযোগী ছিলেন এবং এমন সব বিষয়বস্তু প্রকাশে আগ্রহী ছিলেন যা অনেক প্রকাশকের পক্ষেই মুদ্রণ করা দুঃসাধ্য ছিল। আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও তাওফিক বৃদ্ধি করুন।
এখন আদ-দিমাশকি, আমাদের এবং মালিকি ফিকহের পাঠকদের জন্য দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশের সুযোগ পুনরায় তৈরি হয়েছে। এর মূলে রয়েছে উস্তাদ আব্দুল্লাহ আল-কাদীর বিশেষ আগ্রহ ও তদারকি, যিনি আমাদের মূল্যবান ঐতিহ্য (تراث) রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। তিনি দারুল হিকমাহ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী।
যখন আমরা দ্বিতীয় সংস্করণের প্রস্তুতির লক্ষ্যে প্রথম সংস্করণটি পুনঃনিরীক্ষণ শুরু করি, তখন দুবাইয়ের (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ‘দারুল বুহুস লিন-দিরাসাতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়া ইহ্ইয়ািত তুরাস’ প্রতিষ্ঠানটি কাজী আব্দুল ওয়াহহাব আল-বাগদাদীর প্রতি নিসবতকৃত (معزو) ফিকহি পার্থক্যের (ফুরুক) ওপর একটি গ্রন্থ দুটি ভিন্ন তাহকিক (تحقيق) সহ দুটি সংস্করণে প্রকাশ করে। এটি ছিল উক্ত কাজীর ব্যক্তিত্ব ও তাঁর ঐতিহ্যের (تراث) প্রতি তাদের বিশেষ মনোযোগের অংশ। তারা দুবাইয়ে তাঁর সম্মানে একটি বিশাল সম্মেলনেরও আয়োজন করেছিল (১৬ থেকে ২২ মার্চ ২০০৩ পর্যন্ত)।
সেখানে কাজীর প্রতিভা, তাঁর রচনাবলি এবং তা রচনার পদ্ধতি (منهج), তাঁর সুমহান প্রচেষ্টা এবং মালিকি মাযহাবের মনীষীদের মাঝে তাঁর অবস্থান ও প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করা হয়।
সেই প্রতিষ্ঠানটি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ও সাধারণ পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্য যা সমীচীন মনে করেছিল, তা হলো জালাল আল-কাদ্দাফি আল-জুহানি কর্তৃক প্রথম তাহকিককৃত (تحقيق) কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের ‘আল-ফুরুক’। এরপর
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
طبعت بعيد المؤتمر الفروق نفسها بتحقيقها الذي قام به محمود سلامة الغرياني.
وكانت النسخة المعتمدة لكلا المحققين واحدة فريدة يتيمة هي نسخة مكتبة الأوقاف بطرابلس ليبيا تحمل رقم (588).
وقد انخدع المحققان لما رأيا على غلافها بخط مغاير نسبة الفروق إلى القاضي عبد الوهاب، فدفعهما ذلك إلى تحقيقها مؤكدين النسبة معرضين عن العهود لدى جمهور المحققين من استعمال معايير معينة يستدل بها على معرفة عنوان الكتاب والتأكد من صيغته ومعرفة المؤلف والتأكد من نسبة الكتاب إليه.
من المعروف لدى المبتدئين في تحقيق كتب التراث أن إثبات نسبة المصنفات إلى أصحابها هي أهم شيء وأخطر خطوة من خطوات التحقيق، وقد تحدث المتخصصون عن هذه الطريقة طويلاً، ونحن ننصح المحققين بقراءة بعض الكتب التي ألفت في مناهج تحقيق التراث والتي عدد أربى المطبوعات منها على الخمسين كتاباً.
ومن الواضح أن وجود اسم أحد المؤلفين على غلاف كتاب أو أول ورقة منه، ولو كانت بنفس الخط، لا ينفع وحده أبداً لإثبات نسبة الكتاب إلى مؤلفه، ومن يعتمد على ذلك فهو في جهل عظيم بفن التحقيق، وهذا الذي حدث لنسخة طرابلس. ثم إن هذه النسخة كانت النسبة فيها إلى المؤلف بخط مغاير، وقد أخبرنا الأستاذ إبراهيم الشريف (قسم المخطوطات بمركز جهاد الليبين) أنه بيّن هذه المغايرة لمن يطلب تصويرها، ولكنهم لم يأبهوا بذلك، وقد انزلقت أقدام كثير من المحققين انخدعوا بما وجدوا على بعض المخطوطات من
সম্মেলনের পরপরই মাহমুদ সালামা আল-গিরিয়ানীর সম্পাদনায় (تحقيق) একই 'আল-ফুরুক' গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়।
উভয় সম্পাদকের (محقق) নিকট নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিটি ছিল একটি অনন্য ও একক কপি, যা লিবিয়ার ত্রিপোলির আওকাফ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি এবং এর নম্বর হলো (৫৮৮)।
পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে ভিন্ন হাতের লেখায় 'আল-ফুরুক' গ্রন্থটিকে কাজী আব্দুল ওয়াহাবের দিকে সম্পৃক্তকরণ (نسبة) দেখে উভয় সম্পাদকই (محقق) প্রতারিত হন। এটি তাদের গ্রন্থটি সম্পাদনায় (تحقيق) উদ্বুদ্ধ করে এবং তারা এই সম্পৃক্তকরণকে (نسبة) নিশ্চিত বলে দাবি করেন; অথচ তারা অধিকাংশ সম্পাদকের (محقق) অনুসৃত সেই মানদণ্ডগুলো উপেক্ষা করেছেন যা বইয়ের শিরোনাম চিহ্নিতকরণ, এর পাঠ্যের বিশুদ্ধতা নিশ্চিতকরণ, লেখক পরিচিতি এবং লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধ বা সম্পৃক্তকরণ (نسبة) যাচাই করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
ঐতিহ্যবাহী কিতাব সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে নতুনদের কাছেও এটি সুপরিচিত যে, কোনো রচনার সম্পৃক্তকরণ (نسبة) তার মূল লেখকের প্রতি নিশ্চিত করা সম্পাদনার (تحقيق) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর ধাপ। বিশেষজ্ঞরা এই পদ্ধতি সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন; আমরা সম্পাদকদের (محقق) ঐতিহ্যবাহী কিতাব সম্পাদনার (تحقيق) পদ্ধতির ওপর রচিত কিছু বই পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি, যার মুদ্রিত সংখ্যা পঞ্চাশেরও বেশি।
এটা স্পষ্ট যে, কোনো বইয়ের প্রচ্ছদে বা প্রথম পাতায় কোনো লেখকের নাম থাকা—এমনকি তা একই হাতের লেখায় হলেও—বইটিকে উক্ত লেখকের দিকে সম্পৃক্ত (نسبة) করার জন্য তা একা যথেষ্ট নয়। যারা এর ওপর নির্ভর করেন তারা সম্পাদনা (تحقيق) শিল্প সম্পর্কে চরম অজ্ঞতায় নিমজ্জিত; আর ত্রিপোলির পাণ্ডুলিপিটির ক্ষেত্রে ঠিক এমনটাই ঘটেছে। অধিকন্তু, এই পাণ্ডুলিপিতে লেখকের প্রতি সম্পৃক্তকরণটি (نسبة) ভিন্ন হাতের লেখায় ছিল। ওস্তাদ ইব্রাহিম আল-শরীফ (লিবিয়ান জিহাদ সেন্টারের পাণ্ডুলিপি বিভাগ) আমাদের জানিয়েছেন যে, যারা এই কিতাবের ফটোকপি চেয়েছিলেন তাদের কাছে তিনি এই ভিন্নতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন, কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করেননি। অনেক সম্পাদকেরই (محقق) পদস্খলন ঘটেছে যারা কিছু পাণ্ডুলিপিতে প্রাপ্ত তথ্যের দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
نسبتها إلى غير أهلها بخطوط ناسخين تجهل أغراضهم، ولا يعرف مستواهم العلمي والخلقي. ومن هؤلاء المحققين من تدارك خطأه بالرجوع عن ذلك.
نعود فنقول:
وإن وجود عبارة: قال القاضي أبو محمد عبد الوهاب في أول ورقة في المخطوط لا يعني ذلك أن الكتاب للقاضى، وإلا لزم أن ينسب الكتاب إلى سحنون؛ لأن ثالث فرق ابتدأ بقول المؤلف: قال سحنون
… أو لزم أن ينسب الكتاب إلى مالك؛ لأن كثيراً من الفروق بدايتها: قال مالك. هذا مما لا يصح أبداً. وإنما معني ذلك أن صاحب الكتاب جمع فروقاً كثيرة لعلماء شتي، بعض هذه الفروق بل كثير منها للقاضي عبد الوهاب.
وإذا اعتمدنا -في مناهج التحقيق- الاكتفاء بأول عبارة يبتدئ بها المؤلفون النقول عمن سبقهم، فإنه يلزم أن ننسب كتاب (كتاب البروق) للونشريسي إلى عبد الحق الصقلي؛ لأن أول فرق فيه منقول عنه أفيعقل ذلك؟
ثم كيف يعقل أن يقول القاضى وهو صاحب التأليف أو أحد المؤلفين عن نفسه عبارة رحمه الله وهو حي أثناء تأليف الكتاب؟ وإنما المعقول أن يقولها في حق غيره ممن نقل عنه أو استفاد منه.
وقول الأستاذ الجهاني عن نسخة طرابلس من الفروق: (لم يذكر المحققان أنها نسبت إلى القاضي عبد الوهاب، بل نفياً أنها نسبت لأحد) أما في شقه الأول فصحيح، فإننا لم ننسبها للقاضي؛ لأننا جازمون بأنها ليست له، وأما الشق الثاني فغير صحيح، إذ أننا لم ننسب هذه النسخة لأحد؛ بل لم نتحدث عن نسبتها مطلقاً، ونحن إنما استعنا بها لا على أنها للدمشقي، وإنما لأننا
অজ্ঞাত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং যাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও চারিত্রিক মান অজানা, এমন লিপিকারদের হস্তাক্ষরে এই গ্রন্থগুলো তাদের প্রকৃত লেখকের পরিবর্তে অন্যদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। এই গবেষকদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যারা ভুল অনুধাবন করে তা থেকে ফিরে আসার মাধ্যমে নিজেদের সংশোধন করেছেন।
আমরা পুনরায় বলছি:
পাণ্ডুলিপির (مخطوط) প্রথম পাতায় ‘কাজী আবু মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব বলেছেন’—এই বাক্যের উপস্থিতি এটা প্রমাণ করে না যে বইটি কাজীর। অন্যথায় বইটি সাহনুনের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ত; কেননা বইটির তৃতীয় পার্থক্য (فرق) শুরু হয়েছে লেখকের এই বক্তব্য দ্বারা যে: ‘সাহনুন বলেছেন...’
… অথবা বইটি ইমাম মালিকের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ত; কারণ অনেকগুলো পার্থক্যের (فروق) সূচনাতে রয়েছে: ‘মালিক বলেছেন’। এটি মোটেও সঠিক হতে পারে না। বরং এর অর্থ হলো, গ্রন্থকার বিভিন্ন আলেমদের থেকে অনেক পার্থক্য বা মাসআলা সংকলন করেছেন, যার কিছু অংশ বরং অনেকগুলোই কাজী আবদুল ওয়াহাবের।
আমরা যদি সম্পাদনার (تحقيق) পদ্ধতির ক্ষেত্রে লেখকদের পূর্ববর্তীদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের জন্য ব্যবহৃত প্রথম বাক্যের ওপর নির্ভর করাকে যথেষ্ট মনে করি, তবে ওয়ানশারিসীর কিতাব আল-বুরুক গ্রন্থটিকে আবদুল হক আস-সাকল্লির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়বে; কারণ বইটির প্রথম পার্থক্যটিই তার থেকে বর্ণিত (منقول)। এটি কি যুক্তিসঙ্গত?
অধিকন্তু, কাজী স্বয়ং গ্রন্থকার বা রচয়িতাদের একজন হয়ে কীভাবে বই রচনার সময় জীবিত থাকা অবস্থায় নিজের সম্পর্কে ‘আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন’ বাক্যটি বলতে পারেন? বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয় হলো যে, তিনি এটি অন্য কারো ক্ষেত্রে বলবেন যার থেকে তিনি বর্ণনা (نقل) করেছেন বা উপকৃত হয়েছেন।
আল-ফুরুক গ্রন্থের ত্রিপোলি পাণ্ডুলিপি (نسخة) সম্পর্কে উস্তাদ আল-জাহানির বক্তব্য: “(সম্পাদকদ্বয় উল্লেখ করেননি যে এটি কাজী আবদুল ওয়াহাবের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত, বরং তারা এটি অন্য কারো প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন)।” তার বক্তব্যের প্রথম অংশটি সঠিক, কারণ আমরা এটি কাজীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করিনি; যেহেতু আমরা সুনিশ্চিত যে এটি তার নয়। তবে দ্বিতীয় অংশটি সঠিক নয়, কারণ আমরা এই পাণ্ডুলিপিটি (نسخة) কারো দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করিনি; বরং আমরা এর সম্বন্ধ নিয়ে মোটেও কোনো কথা বলিনি। আমরা এটি ব্যবহার করেছি এটা মনে করে নয় যে এটি দিমশাকীর, বরং এজন্য যে আমরা
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
استفدنا منها أثناء المقابلة في الألفاظ، ولم نفعل ما فعل الأستاذ محمود الغرياني حيث اعتمد في تحقيق الكتاب الذي نسبه إلى القاضي - كالمحقق الأول على فروق الدمشقي مع أنه منكرٌ نسبته إليه، فكيف ينفيه تارة، وينسبه إلى الدمشقي تارة أخرى عندما يعتمد عليه، وإن هذا الشيء عجيب.
ومما يؤكد أن نسخة طرابلس لا يمكن نسبتها إلى القاضي ما جاء في الفروق ص 91، ص 95 من النسخة المطبوعة بتحقيق الجهاني: "هذا قول بعض شيوخنا" أهـ. وجاء في نفس الفرق من فروق الدمشقي -الذي هو للقاضي عبد الوهاب على رأي السيد محمود- الفرق 34 ص 84 في نفس الموضوع: "وهذا قول القاضي رحمه الله في الدرس" اهـ. ولا شك أنه يعني القاضي عبد الوهاب؛ لأن هذا التفريق للقاضي عبد الوهاب نص عليه في شرح الرسالة عند قول صاحبها: ومن عليه دنانير أو دراهم من بيع ..... ينظر الجزء الرابع ص 279 - 280 من نسخة تمكروت المخطوطة.
وهكذا يفند هذا الدليل نسبة المخطوطة إلى القاضي عبد الوهاب، ويثبت نسبة الفروق للدمشقي الذي توخى الأمانة بنسبة القول الفقهي لشيخه القاضي. وكما ترون فإن هذا الدليل لم ينهض إلا بالاطلاع على مصنف آخر للقاضي ما زال مخطوطاً، وهو شرح القاضي على الرسالة. وهذا الشرح المهم أسعفنا بدليل آخر يؤكد بما لا يدع مجالاً للشك وَهْمَ من عزا نسخة طرابلس إلى القاضي وهو الدليل التالي:
عندما تعرض القاضي عبد الوهاب في شرح الرسالة (مخطوطة تمكروت ج 5 ص 138 - 139) للمفاضلة بين مكة والمدينة واستدل لرأيه بَيَّنَ أن بعض الحانقين عمل مسألة في رد إجماع أهل المدينة زعم أنه نقض بها كلام القاضي أبي
শব্দগত মিলকরণের (مقابلة) সময় আমরা তা থেকে উপকৃত হয়েছি। আমরা উস্তাদ মাহমুদ আল-গিরিয়ানির মতো করিনি, যিনি কিতাবটি সম্পাদনায়—যাকে তিনি প্রথম মুহাক্কিকের মতোই আল-কাদির দিকে সম্বন্ধ করেছেন—আদ-দিমাশকির 'ফুরুক'-এর ওপর নির্ভর করেছেন; অথচ তার দিকে এর সম্বন্ধটি প্রত্যাখ্যাত (منكر)। তিনি কীভাবে এক সময় তা অস্বীকার করেন, আবার যখন তার ওপর নির্ভর করেন তখন তা আদ-দিমাশকির দিকে সম্বন্ধ করেন? বিষয়টি সত্যিই বিস্ময়কর।
ত্রিপোলি পাণ্ডুলিপিটি যে আল-কাদির দিকে সম্বন্ধ করা সম্ভব নয়, তার অন্যতম প্রমাণ হলো আল-জিহানির সম্পাদনায় মুদ্রিত 'ফুরুক'-এর ৯১ ও ৯৫ পৃষ্ঠায় যা এসেছে: "এটি আমাদের জনৈক শাইখের বক্তব্য।" সমাপ্ত। আবার আদ-দিমাশকির ফুরুক—যা সাইয়িদ মাহমুদের মতে মূলত কাজি আবদুল ওয়াহাবের—তার ৩৪ নং ফুরক, ৮৪ পৃষ্ঠায় একই বিষয়ে এসেছে: "এটি দরসে কাজি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য।" সমাপ্ত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এখানে কাজি আবদুল ওয়াহাবকেই বোঝানো হয়েছে; কারণ এই পার্থক্যকরণটি স্বয়ং কাজি আবদুল ওয়াহাব 'শারহুর রিসালা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যখন তিনি মূল গ্রন্থের লেখকের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন: "কারও ওপর বিক্রয়লব্ধ দিনার বা দিরহাম থাকলে..." দেখুন: তামকরুত পাণ্ডুলিপির (نسخة مخطوطة) চতুর্থ খণ্ড, ২৭৯-২৮০ পৃষ্ঠা।
এভাবে এই দলিলটি পাণ্ডুলিপিটিকে কাজি আবদুল ওয়াহাবের দিকে সম্বন্ধ করার বিষয়টিকে খণ্ডন করে এবং 'ফুরুক'-কে আদ-দিমাশকির দিকে সম্বন্ধ করার বিষয়টি সাব্যস্ত করে, যিনি তাঁর শাইখ আল-কাদির ফিকহি উক্তিটিকে তাঁর দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে আমানতদারি বজায় রেখেছেন। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে, আল-কাদির অন্য একটি গ্রন্থের ওপর দৃষ্টিপাত করা ছাড়া এই দলিলটি প্রতিষ্ঠিত হতো না, যা এখনো পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) আকারেই রয়েছে; আর সেটি হলো রিসালার ওপর কাজির ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ)। এই গুরুত্বপূর্ণ শারহটি আমাদের সামনে এমন একটি দলিল তুলে ধরেছে, যা কোনো সন্দেহ ছাড়াই ত্রিপোলি পাণ্ডুলিপিকে আল-কাদির দিকে সম্বন্ধকারীর ভ্রান্তি (وهم) নিশ্চিত করে। সেই দলিলটি নিম্নরূপ:
যখন কাজি আবদুল ওয়াহাব 'শারহুর রিসালা' (তামকরুত পাণ্ডুলিপি مخطوطة, ৫ম খণ্ড, ১৩৮-১৩৯ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে মক্কা ও মদিনার মধ্যকার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং নিজের মতের স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন, তখন তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো এক বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তি মদিনাবাসীদের ঐকমত্য (إجماع) প্রত্যাখ্যান করার বিষয়ে একটি মাসআলা তৈরি করেছে এবং দাবি করেছে যে এর মাধ্যমে সে কাজি আবুর বক্তব্য খণ্ডন করেছে...
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفرج رحمه الله .... ثم أتى بكلام هذا الرجل بلفظه، ثم قال: (وقد أجبنا عن كلام هذا الرذل وما أورده من الجهل في مقدمات كتاب الفروق ما أنت إن شاء الله تقف عليه ويرضيك ما أثبتناه فيه وبالله التوفيق) أهـ.
فأين هذا الجواب، بل أين كلام صاحب الرد في فروق الدمشقي -الذي نسبناه خطأ إلى الدمشقي وهو للقاضى على رأي المحققين الجهاني والغرياني - وأين ذلك في كتاب الفروق الثابت النسبة إلى القاضي على زعمهما؟ أم النسخة التي أعتمدا عليها مبتورة الأول؟
أما قول الأستاذ الجهاني ص 18 في مقدمة تحقيقه معتمداً على ما قلناه أثناء تحقيق فروق الدمشقي في نقل عبارة القاضي عبد الوهاب في فروقه من قِبَلِ المواق، حيث عقب على ذلك بقوله: "فيها أن المواق قد وقف على كتاب القاضي عبد الوهاب، ونقل منه نصاً غير موجود في الفروق الدمشقية (1) بينما هو موجود في هذه النسخة المنسوبة للقاضي عبد الوهاب
… إلا إذا افترضنا أن الدمشقي نقلها من كتاب آخر من كتب القاضي عبد الوهاب رحمه الله لأن هناك فروقاً نقلها بالحرف عن فروق القاضي: وقد نسب المواق بعضها في عدة مواضع من كتابه إلى القاضى عبد الوهاب ولم ينسبها إلى الدمشقي (ثم ذكر تلك المواضع) أهـ.
ظن المحقق الجهاني أن نقل المواق لبعض فروق القاضي في كتابه يثبت نسخة طرابلس إليه، وهذا فهم في غاية العجب، فإننا لم نختلف في أن ما نقله المواق أو غيره هو للقاضي عبد الوهاب، بل هو له، لكن الكلام منصب على الكتاب إليه. وإذا صح نسبة الكتاب إلى مؤلف بمجرد وجود كلام له نقله غيره عنه فيجب أن ننسب كتاب المواق إلى القاضي عبد الوهاب لأن به
আল-ফারাজ রাহিমাহুল্লাহ .... এরপর তিনি এই ব্যক্তির বক্তব্য হুবহু উদ্ধৃত করেন, অতঃপর বলেন: (আমরা এই হীন ব্যক্তির বক্তব্যের এবং সে যে অজ্ঞতা পেশ করেছে তার জবাব 'কিতাবুল ফুরুক'-এর ভূমিকায় দিয়েছি, যা আপনি ইনশাআল্লাহ দেখতে পাবেন এবং আমরা সেখানে যা প্রমাণ করেছি তা আপনাকে সন্তুষ্ট করবে। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি) সমাপ্ত।
তাহলে এই জবাব কোথায়? বরং 'ফুরুক আদ-দিমাশকী'-তে সেই প্রতিবাদকারীর বক্তব্য কোথায়—যা আমরা ভুলবশত আদ-দিমাশকীর দিকে নিসবত (نسبة) করেছিলাম, অথচ মুহাক্কিক (محقق) আল-জাহানি ও আল-গিরিয়ানির মতে তা কাজীর (القاضي)—এবং তাদের দাবি অনুযায়ী কাজীর দিকে সুনিশ্চিত নিসবত (نسبة) হওয়া 'কিতাবুল ফুরুক'-এ সেই অংশ কোথায়? নাকি তারা যে পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন তার প্রথমাংশ কর্তিত (مبتورة)?
আর উস্তাদ আল-জাহানির বক্তব্য (পৃষ্ঠা ১৮), যা তিনি তার সম্পাদিত (تحقيق) কিতাবের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন—যেখানে তিনি 'ফুরুক আদ-দিমাশকী'র সম্পাদনার (تحقيق) সময় আল-মাওয়াক কর্তৃক কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের 'ফুরুক' থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের বিষয়ে আমাদের কথার ওপর নির্ভর করেছেন—সেখানে তিনি মন্তব্য করে বলেছেন: "এতে বোঝা যায় যে, আল-মাওয়াক কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের কিতাবটি দেখেছিলেন এবং সেখান থেকে এমন একটি মূল পাঠ (نص) উদ্ধৃত করেছেন যা 'ফুরুক আদ-দিমাশকিয়্যাহ' (১)-তে নেই; অথচ কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের দিকে নিসবতকৃত (منسوبة) এই পাণ্ডুলিপিতে তা বিদ্যমান
… তবে আমরা যদি ধরে নেই যে, আদ-দিমাশকী এটি কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের রাহিমাহুল্লাহ অন্য কোনো কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেছেন, কারণ সেখানে এমন কিছু পার্থক্য রয়েছে যা তিনি কাজীর 'ফুরুক' থেকে হুবহু উদ্ধৃত করেছেন: আল-মাওয়াক তার কিতাবের বেশ কিছু স্থানে এগুলোর কয়েকটিকে কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের দিকে নিসবত (نسبة) করেছেন এবং সেগুলোকে আদ-দিমাশকীর দিকে নিসবত (نسبة) করেননি (অতঃপর তিনি সেই স্থানগুলো উল্লেখ করেছেন)" সমাপ্ত।
মুহাক্কিক (محقق) আল-জাহানি ধারণা করেছেন যে, আল-মাওয়াক তার কিতাবে কাজীর কিছু পার্থক্যমূলক মাসআলা উদ্ধৃত করায় ত্রিপোলির পাণ্ডুলিপিটি তার (কাজী) প্রতি সাব্যস্ত হয়। এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের একটি উপলব্ধি (فهم)। আমরা এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করিনি যে, আল-মাওয়াক বা অন্যরা যা উদ্ধৃত করেছেন তা কাজী আব্দুল ওয়াহহাবেরই বক্তব্য; বরং তা অবশ্যই তার। কিন্তু মূল আলোচনাটি কিতাবটিকে তার দিকে নিসবত (نسبة) করার বিষয়ে নিবদ্ধ। যদি অন্যের উদ্ধৃত করা বক্তব্যের উপস্থিতির মাধ্যমেই কোনো কিতাবকে কোনো লেখকের বলে নিসবত (نسبة) করা সঠিক হয়, তবে তো আল-মাওয়াকের কিতাবকেও কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের দিকে নিসবত (نسبة) করতে হবে, কেননা এতে...
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
فروقاً له. وهذا لا يقول به عاقل. ثم كيف ينتظر المحقق بفهمه هذا من المواق أن ينسب الفرق للدمشقي، وهو من كلام عبد الوهاب حتى ولو نقله غيره، فإن الكلام ينسب إلى صاحبه، وحتى نوضح المسألة لهذا المحقق مع أن ذكرها يستحيي منه لأن المبتدئين يعرفون ذلك، ولكننا مضطرون لمجاراة هذا الفهم العجيب فنقول:
على فرض وجدنا كلاماً لابن عطية مثلاً في الجامع لأحكام القرآن للقرطبي، وأردنا أن ننقل هذا الكلام ولم يكن عندنا كتاب المحرر الوجيز أو كان عندنا ولكننا لم نجده فيه في موضعه المتوقع سنقول بلا شك: قال ابن عطية، ثم نذكر كلامه اعتماداً على ما جاء في كتاب القرطبي وما أكثر القول عن ابن عطية في تفسير القرطبي، ولا يمكن -والحالة هذه- أن يأتي أحد غريب الفهم فينسب كتاب القرطبي إلى ابن عطية.
نرجع إلى مسألتنا: فإذا نقل أحد العلماء فرقاً أو فروقاً للقاضي من كتاب أحد تلاميذه أو حتى من كتاب متأخر جدًا عن زمن القاضي مثل الونشريسي، فإن النقل صحيح أعئ الفرق للقاضي وليس للدمشقي أو الونشريسي، ولكن هذا النقل لا يجعلنا ننسب الكتب التي حوت هذا الكلام إلى القاضي عبد الوهاب.
وأما قول الجهاني: (أن ترتيب الكتابين يبين بما لا شك فيه أنهما كتابان مختلفان) هذا كلام صحيح، ولكن هذا لا يثبت النسخة الطرابلسية للقاضي، والأن المحقق لم يطلع إلا على نسخة طرابلس. وقد استقر في ذهنه -وأنى لك أن تتريل ذلك- أن هذه النسخة هي كتاب القاضي عبد الوهاب، ولو أطلع على بقية النسخ لوجدها كلها مختلفة ترتيباً وتنسيقاً وعدداً، لكننا لا نعرف
...পার্থক্যসমূহ তার জন্য। আর কোনো বিবেকবান ব্যক্তি এমন কথা বলবেন না। অতঃপর এই গবেষক তার এই বোধশক্তি দিয়ে আল-মাওয়াক-এর কাছ থেকে কীভাবে আশা করেন যে, তিনি এই পার্থক্যটিকে আদ-দিমাশকির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করবেন? অথচ এটি আব্দুল ওয়াহাবের বক্তব্য, যদিও অন্য কেউ তা উদ্ধৃত করেছেন। কেননা বক্তব্য সর্বদা তার মূল প্রবক্তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। আর এই গবেষকের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য—যদিও এটি উল্লেখ করতে লজ্জাবোধ হচ্ছে কারণ প্রাথমিক শিক্ষার্থীরাও এটি জানে—তবুও আমরা তার এই অদ্ভুত চিন্তাধারার সাথে তাল মেলাতে বাধ্য হয়ে বলছি:
ধরা যাক, আমরা উদাহরণস্বরূপ আল-কুরতুবীর ‘আল-জামি’ লি আহকামিল কুরআন’ গ্রন্থে ইবনে আতিয়্যাহর কোনো বক্তব্য পেলাম। এখন আমরা সেই বক্তব্যটি উদ্ধৃত করতে চাই, অথচ আমাদের কাছে ‘আল-মুহাররার আল-ওয়াজিজ’ গ্রন্থটি নেই অথবা থাকলেও আমরা এটি প্রত্যাশিত স্থানে খুঁজে পাচ্ছি না; এমতাবস্থায় আমরা নিঃসন্দেহে বলব: ‘ইবনে আতিয়্যাহ বলেছেন’। অতঃপর আল-কুরতুবীর কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে তার কথাটি উল্লেখ করব। আর আল-কুরতুবীর তাফসিরে ইবনে আতিয়্যাহর উদ্ধৃতি কতই না বেশি! এমতাবস্থায় অদ্ভুত বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন কোনো ব্যক্তি এসে আল-কুরতুবীর কিতাবকে ইবনে আতিয়য়াহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতে পারে না।
আমরা আমাদের মূল বিষয়ে ফিরে আসি: যদি কোনো আলেম কাজীর কোনো ছাত্রের কিতাব থেকে অথবা এমনকি আল-ওয়ানশারীসীর মতো কাজীর সময়ের অনেক পরের কোনো কিতাব থেকে কাজী সাহেবের কোনো একটি পার্থক্য বা একাধিক পার্থক্য উদ্ধৃত করেন, তবে সেই উদ্ধৃতিটি সঠিক (صحيح); অর্থাৎ এই পার্থক্যটি কাজীরই সাব্যস্ত হবে, আদ-দিমাশকি বা আল-ওয়ানশারীসীর নয়। কিন্তু এই উদ্ধৃতির কারণে আমরা এই বক্তব্য ধারণকারী কিতাবগুলোকে কাজী আব্দুল ওয়াহাবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতে পারি না।
আর আল-জাহানির এই বক্তব্য: (নিশ্চয়ই কিতাব দুটির বিন্যাস কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই প্রমাণ করে যে কিতাব দুটি ভিন্ন) —এই কথাটি সঠিক (صحيح)। কিন্তু এটি কাজীর অনুকূলে ত্রিপোলি পাণ্ডুলিপিকে সাব্যস্ত করে না। বর্তমানে গবেষক শুধুমাত্র ত্রিপোলি পাণ্ডুলিপিটিই দেখার সুযোগ পেয়েছেন। আর তার মনে এটি বদ্ধমূল হয়ে গেছে—আর আপনি কীভাবে তা কল্পনা করবেন—যে, এই পাণ্ডুলিপিটিই কাজী আব্দুল ওয়াহাবের কিতাব। যদি তিনি বাকি পাণ্ডুলিপিগুলো দেখতেন, তবে তিনি সেগুলোকে বিন্যাস, সুসংবদ্ধকরণ এবং সংখ্যার দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পেতেন। কিন্তু আমরা জানি না...
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
مؤلفيها، فلو أن المحقق -حفظه الله- وجدها أو على أغلفتها العبارة التي وضعها أحد النُّساخ على نسخة طرابلس لجزم ولابد أن هذه النسخ جميعها للقاضي عبد الوهاب، وأن القاضي لابد أن يكون قد ألف مجموعة من الكتب في الفروق، وأن ذلك قد انطلى على محققي فروق الدمشقي الذين لا خبرة لهما بفن تحقيق التراث، خصوصاً وأن الأستاذ الجهاني قد حقق كتاب النظائر ونسبه إلى من وجد اسمه مكتوباً على غلاف المخطوط وأشار إلى أن المؤلف ترجمته غير معروفة، وأن الكتاب لا تعرف له إلا هذه النسخة الوحيدة.
ونقول هنا إن للكتاب نسخة في القرويين منسوبة للقاضى عبد الوهاب ولو رآها الأستاذ محمود الغرياني لسارع إلى تحقيقها ونسبتها إلى القاضي عبد الوهاب ولدفع بما إلى دار البحوث مبطلاً ما فعله الأستاذ الجهاني من نسبتها إلى القاضى الصنهاجي رقم هذه النسخة 2/ 382 ضمن مجموع، يراجع في بقية المعلومات عنها فهارس الشيخ محمد العابد الفاسي وهي أقدم من النسخة التي استعملها الأستاذ الجهاني إذ أنها منسوخة عام 973 هـ والنسخة التي اعتمدها المحقق الجهاني منسوخة على قوله سنة 1270 هـ. وتوجد نسخة في دار الكتب الوطنية بتونس منسوبة إلى أبي عمران الفاسي العالم المشهور وتوجد نسخة أخرى في تشستر بتي أيرلندا وقد نسب الكتاب فيها إلى ابن عبدون! مختلفة الترتيب مع النسختين السابقتين، ولكن المحتوى هو هو، فقد جاءت المسائل التي ابتدأت بها النسختان الأخريان جاءت في الورقة 13 /و.
فهل تكفي هذه الكتابة في إثبات نسبة الكتاب إلى ابن عبدون أو إلى القاضي عبد الوهاب أو إلى غيره. ونزيد فنذكر الأستاذ الجاني إلي نسخة أيرلندا التي نسبت الكتاب إلى ابن عبدون قد نسبته إليه في الغلاف، وفي أول
তাদের লেখকগণ। যদি গবেষক (المحقق) —আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন— এটি খুঁজে পেতেন অথবা এর প্রচ্ছদে সেই বক্তব্যটি পেতেন যা অনুলিপিকারকদের (النساخ) একজন ত্রিপোলি পাণ্ডুলিপির (نسخة) ওপর লিখেছিলেন, তবে তিনি অবশ্যই নিশ্চিত হতেন যে এই সকল পাণ্ডুলিপিই (نسخ) কাজী আবদুল ওয়াহহাবের। আর কাজী অবশ্যই 'আল-ফুরুক' বিষয়ে একগুচ্ছ গ্রন্থ রচনা করেছেন। বিষয়টি দামেস্কি ফুরুক-এর সেই দুই গবেষকের (المحققين) ওপর ধোঁকা হিসেবে কার্যকর হয়েছে যাদের ঐতিহ্যবাহী পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق التراث) শিল্পে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। বিশেষ করে যখন অধ্যাপক আল-জাহানি 'কিতাব আন-নাজাইর' সম্পাদনা (حقق) করেছেন এবং এটিকে সেই ব্যক্তির দিকে নিসবত করেছেন যার নাম তিনি পাণ্ডুলিপির (المخطوط) প্রচ্ছদে লিখিত পেয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে লেখকের পরিচিতি বা জীবনী (ترجمة) অজানা, এবং এই গ্রন্থটির এই একটি মাত্র পাণ্ডুলিপি (نسخة) ছাড়া আর কোনোটির কথা জানা নেই।
আমরা এখানে বলছি যে, আল-কারাউয়্যিন-এ এই গ্রন্থটির একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) রয়েছে যা কাজী আবদুল ওয়াহহাবের দিকে নিসবত করা হয়েছে। অধ্যাপক মাহমুদ আল-ঘিরইয়ানি যদি এটি দেখতেন, তবে তিনি দ্রুত এটি সম্পাদনা (تحقيق) করতে এবং কাজী আবদুল ওয়াহহাবের দিকে নিসবত করতে উদ্যোগী হতেন এবং এটি দার আল-বুহুস-এ জমা দিতেন—অধ্যাপক আল-জাহানি এটিকে কাজী সানহাজির দিকে নিসবত করার মাধ্যমে যা করেছেন তা বাতিল করে দিয়ে। একটি সংকলনের (مجموع) মধ্যে এই পাণ্ডুলিপিটির (النسخة) নম্বর হলো ২/৩৮২; এর সম্পর্কে বাকি তথ্যের জন্য শেখ মুহাম্মদ আল-আবিদ আল-ফাসির ক্যাটালগ (فهارس) দেখা যেতে পারে। এটি অধ্যাপক আল-জাহানি কর্তৃক ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপির (النسخة) চেয়েও প্রাচীন, কারণ এটি ৯৭৩ হিজরিতে অনুলিপি (منسوخة) করা হয়েছিল, আর গবেষক (المحقق) আল-জাহানির বক্তব্য অনুযায়ী তার ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপিটি (النسخة) ১২৭০ হিজরিতে অনুলিপি করা। তিউনিসিয়ার দার আল-কুতুব আল-ওয়াতানিয়্যাহ-তে বিখ্যাত আলেম আবু عمران আল-ফাসির দিকে নিসবত করা একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) পাওয়া যায়। আয়ারল্যান্ডের চেস্টার বিটিতে আরও একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) আছে যেখানে গ্রন্থটিকে ইবনে আবদুনের দিকে নিসবত করা হয়েছে! পূর্ববর্তী দুটি পাণ্ডুলিপির (النسختين) তুলনায় এর বিন্যাস ভিন্ন হলেও বিষয়বস্তু একই। অন্য দুটি পাণ্ডুলিপি (النسختان) যে মাসয়ালাগুলো দিয়ে শুরু হয়েছে, এখানে তা ১৩/ক পৃষ্ঠায় এসেছে।
সুতরাং এই লেখাটুকু কি গ্রন্থটিকে ইবনে আবদুন বা কাজী আবদুল ওয়াহহাব বা অন্য কারো দিকে নিসবত প্রমাণের জন্য যথেষ্ট? আমরা আরও বাড়িয়ে অধ্যাপক আল-জাহানিকে আয়ারল্যান্ডের সেই পাণ্ডুলিপির (نسخة) কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যা গ্রন্থটিকে ইবনে আবদুনের দিকে নিসবত করেছে; এর প্রচ্ছদে এবং শুরুতে তাকেই লেখক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
مسألة وعند نهاية الكتاب. فهل هذا كاف؟ وحتى هذه النسخة التي ظن الأستاذ الجهاني أنها الوحيدة من كتاب النظائر والتي لم يعلق عليها إلا ست مرات في الكتاب تعليقات لا معني لها، فبقى الكتاب بحاجة إلى تحقيق زيادة على تصحيح النسبة، ولا نريد هنا أن نتتبع أخطاء الكتاب وتصحيفاته.
أما المحقق الثاني الأستاذ محمود الغرياني فقد غمرته الفرحة -أكثر من صاحبه- باطلاعه على نسخة طرابلس، فظن أنه الوحيد الذي اطلع واكتشف هذا الكتاب فقال في مقدمة تحقيقه ص 9: "فهذا كتاب الفروق الفقهية للقاضي عبد الوهاب أقدمه اليوم في هذه الصورة محققاً على نسخة خطية وحيدة، تفردت بنسبة هذه الفروق للقاضي عبد الوهاب تصريحاً، ليكون تصحيحاً لخطأ توثيق غريب، كاد يؤدي إلى إزاحة هذا الجزء من تراث القاضي عبد الوهاب من النشر والظهور
… ".
ثم تحدث المحقق الذي اكتشف هذه النسبة للكتاب، والتي غابت عن الناس قبله، رغم قراءتمم لهذه النسخة قبل اطلاع المحقق عليها بعقدين من الزمن، تحدث عن الداعي لنشره فقال: "وإذا كان هناك من داع لنشر هذا الكتاب منسوباً لمؤلفه رغم نشر نصف مادته -أو أكثر قليلاً- منسوبة لتلميذه الدمشقي، فهو إعادة الفضل لأهله .... ".
وتحت عنوان (العثور على المخطوطة) قال المحقق: وعند مراجعة ما كتبه المحققان اتضح أيضاً أنهما (أي محققي كتاب فروق الدمشقي لا يعرفان لفروق القاضي عبد الوهاب مكاناً يوجد فيه، وهو نفس الموقف الذي اتخذه الدكتور حمزة أبو فارس عند تحقيقه فروق الونشريسي. إلا أن ما كنت قد أطلعت عليه من فهرس مخطوطات مركز دراسات جهاد الليبيين هو وجود مخطوطة
একটি মাসআলা এবং বইয়ের শেষে। তবে কি এটিই যথেষ্ট? এমনকি এই পাণ্ডুলিপিটি, যেটিকে উস্তাদ আল-জিহানি 'কিতাবুন নাযাইর'-এর একমাত্র পাণ্ডুলিপি বলে মনে করেছিলেন এবং যাতে তিনি বইটিতে মাত্র ছয়বার অর্থহীন মন্তব্য করেছেন, ফলে বইটি সম্বন্ধকরণের (نسبة) সংশোধনের পাশাপাশি অতিরিক্ত সম্পাদনার (تحقيق) প্রয়োজনে রয়ে গেছে। আমরা এখানে বইটির ভুলভ্রান্তি এবং এর লিপিক্রমিক বিভ্রাটসমূহ (تصحيفات) অনুসরণ করতে চাই না।
আর দ্বিতীয় গবেষক-সম্পাদক (محقق) উস্তাদ মাহমুদ আল-গারিয়ানি তার সঙ্গীর চেয়েও বেশি আনন্দে আপ্লুত হয়েছিলেন ত্রিপোলির পাণ্ডুলিপিটি হাতে পেয়ে। তিনি মনে করেছিলেন যে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি এই বইটি দেখেছেন এবং আবিষ্কার করেছেন। তাই তিনি তার সম্পাদিত সংস্করণের ভূমিকার ৯ নং পৃষ্ঠায় বলেন: "এটি কাজী আব্দুল ওয়াহাবের 'আল-ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ', যা আমি আজ একটি মাত্র হস্তলিখিত কপির (نسخة خطية) ভিত্তিতে সম্পাদিত (محققاً) রূপে পেশ করছি। এই পাণ্ডুলিপিটি কাজী আব্দুল ওয়াহাবের দিকে এই 'ফুরুক'-এর সম্বন্ধকরণকে (نسبة) স্পষ্টভাবে সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অনন্য। এটি একটি অদ্ভুত নির্ভরযোগ্যতা প্রতিপাদন (توثيق) সংক্রান্ত ত্রুটির সংশোধন হিসেবে গণ্য হবে, যা কাজী আব্দুল ওয়াহাবের এই ঐতিহ্যবাহী অংশটিকে প্রকাশ ও প্রচার থেকে প্রায় আড়াল করে ফেলেছিল
… "।
অতঃপর সেই গবেষক-সম্পাদক (محقق) বইটির এই সম্বন্ধকরণ (نسبة) সম্পর্কে আলোচনা করেন যা তার পূর্ববর্তী লোকদের নিকট অস্পষ্ট ছিল, যদিও তারা এই গবেষক-সম্পাদকের (محقق) দেখার দুই দশক আগেই এই পাণ্ডুলিপিটি পড়েছিলেন। তিনি এটি প্রকাশের কারণ সম্পর্কে বলেন: "বইটির অর্ধেকেরও বেশি বিষয়বস্তু তার ছাত্র আদ-দিমাশকির দিকে সম্বন্ধিত (منسوبة) করে ইতিপূর্বে প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও এর মূল লেখকের নামে প্রকাশ করার যদি কোনো কারণ থাকে, তবে তা হলো প্রকৃত অধিকারীকে তার প্রাপ্য কৃতিত্ব ফিরিয়ে দেওয়া.... "।
এবং (পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তি) শিরোনামের অধীনে গবেষক-সম্পাদক (محقق) বলেন: "দুইজন গবেষক-সম্পাদকের (محققان) লেখা পর্যালোচনা করার সময় এটিও স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা (অর্থাৎ 'ফুরুক আদ-দিমাশকি' গ্রন্থের গবেষক-সম্পাদকদ্বয়) কাজী আব্দুল ওয়াহাবের 'ফুরুক'-এর প্রাপ্তিস্থান সম্পর্কে জানতেন না। এটি ডক্টর হামজা আবু ফারিসও তার 'ফুরুক আল-ওয়ানশারিশি' সম্পাদনার (تحقيق) সময় একই অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তবে আমি লিবিয়ান জিহাদ স্টাডিজ সেন্টারের পাণ্ডুলিপি তালিকা (فهرস) থেকে যা অবগত হয়েছি তা হলো একটি পাণ্ডুলিপির (مخطوطة) অস্তিত্ব।"
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
بعنوان. "فروق عبد الوهاب" وأنها توجد ضمن مخطوطات المركز برقم 588 ضمن مجموع أوله كتاب معين الحكام لابن عبد الرفيع، ولا يوجد لهذه المخطوطة أي ذكر عند محققي تراث القاضي عبد الوهاب أو تراث تلميذه.
وقد أثار هذا الأمر استغراباً أدى بي إلى أن أسعى في سبيل تحصيل هذه المخطوطة والاطلاع عليها، والغريب في الأمر أن أجدها مخطوطة متكاملة واضحة الخط، كاملة الصفحات بها صفحة العنوان، وبما صفحة النهاية، وجميع ذلك بخط واحد، على نفس الدرجة من الوضوح، وهي تقطع بنسبتها إلى القاضى عبد الوهاب انتهى كلام المحقق.
انظر إلى هذه الاستغرابات العجيبة وهذه النتائج الأعجب!
وأول استغرابات المحقق أن من سبقه في الكتابة عن القاضى عبد الوهاب، أو عن تلاميذه لم يعرفوا هذه المخطوطة الكاملة الواضحة إلى أن جاء هو فاكتشفها وأخرجها للناس محققة تحقيقاً علمياً لم يسبق إليه.
ونحن نستغرب استغرابه ونتعجب لتعجبه فقد عرفنا هذه النسخة وقرأناها قبل أن يسمع بها بأكثر من عقد من الزمن، وليس ذلك ادعاء، والدليل هو نشر اللوحة الأولى منها بصفحتيها في مقدمة تحقيق فروق الدمشقي الذي نشر منه 1992 م، فكيف يصح له أن يقول لا يعرفان لهذه النسخة وجوداً. ولا شك أنه أطلع على فروق الدمشقي، إلا أن يكون اطلع عليه بعد كتابته المقدمة، ولكن الرجل قد استعمل هذا الكتاب واستفاد منه رغم أنه لا يقر بنسبة إلى الدمشقي. إذن نحن نعرف هذه النسخة ولم ننسبها إلى القاضى لأنها نسبتها إليه غير ثابتة، بل العكس نحن نجزم حتى الآن بأنها من تأليف بعض تلاميذه. أما من هو هذا التلميذ فالله أعلم. يبقى الأمر مجهولاً إلى أن يعثر الأستاذ
"ফুরুক আবদুল ওয়াহহাব" শিরোনামে; এটি কেন্দ্রের ৫৮৮ নম্বর পাণ্ডুলিপির অন্তর্ভুক্ত, যা ইবন আবদ আল-রাফি-এর 'মুঈন আল-হুক্কাম' কিতাবটি দিয়ে শুরু হওয়া একটি সংকলনের অংশ। কাজী আবদুল ওয়াহহাব বা তাঁর ছাত্রের জ্ঞানতাত্ত্বিক উত্তরাধিকারের গবেষকদের নিকট এই পাণ্ডুলিপিটির কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না।
বিষয়টি এমন এক বিস্ময় জাগিয়েছে যা আমাকে এই পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহ করতে এবং তা পর্যবেক্ষণ করতে সচেষ্ট করেছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো যে, আমি একে একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি হিসেবে পেয়েছি যার হাতের লেখা অত্যন্ত স্পষ্ট, পৃষ্ঠাগুলো সম্পূর্ণ এবং এতে শিরোনাম পাতা ও শেষ পাতাও রয়েছে। এর সবকিছুই একই হাতের লেখায় এবং সমমানের স্পষ্ট। এটি অকাট্যভাবে কাজী আবদুল ওয়াহহাবের দিকে এর সম্বন্ধযুক্ততাকে নিশ্চিত করে—গবেষকের বক্তব্য এখানেই শেষ।
এই অদ্ভুত বিস্ময় এবং তার চাইতেও আশ্চর্যজনক ফলাফলগুলোর দিকে লক্ষ্য করুন!
গবেষকের প্রথম বিস্ময় হলো যে, কাজী আবদুল ওয়াহহাব বা তাঁর ছাত্রদের নিয়ে যারা ইতিপূর্বে লেখালেখি করেছেন, তারা এই পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট পাণ্ডুলিপিটি সম্পর্কে জানতেন না; অবশেষে তিনি এসে এটি আবিষ্কার করলেন এবং মানুষের সামনে এমন বৈজ্ঞানিক সম্পাদনার মাধ্যমে উপস্থাপন করলেন যা আগে কখনও হয়নি।
আমরা তাঁর বিস্ময় দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছি এবং তাঁর আশ্চর্য হওয়া দেখে আশ্চর্য হচ্ছি। কেননা আমরা এই কপিটি চিনেছি এবং তা পাঠ করেছি তিনি এ সম্পর্কে শোনারও এক দশকেরও বেশি সময় আগে। এটি কোনো নিছক দাবি নয়, এর প্রমাণ হলো ১৯৯২ সালে প্রকাশিত 'ফুরুক আদ-দিমাশকি'-এর সম্পাদনার ভূমিকায় এর প্রথম পৃষ্ঠার উভয় পাশের ছবি প্রকাশ করা। সুতরাং তাঁর জন্য এ কথা বলা কীভাবে সঠিক হতে পারে যে, তারা এই কপিটির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতেন না? এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি 'ফুরুক আদ-দিমাশকি' কিতাবটি দেখেছেন, তবে এমন হতে পারে যে তিনি এর ভূমিকা লেখার পর তা দেখেছেন। কিন্তু এই ব্যক্তি কিতাবটি ব্যবহার করেছেন এবং তা থেকে উপকৃত হয়েছেন, যদিও তিনি এটি দিমাশকির দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন না। সুতরাং আমরা এই পাণ্ডুলিপিটি সম্পর্কে জানতাম কিন্তু একে কাজীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করিনি কারণ তাঁর প্রতি এর সম্বন্ধযুক্ততা প্রমাণিত (ثابت) নয়। বরং এর বিপরীতে আমরা এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে দৃঢ়নিশ্চিত যে এটি তাঁর কোনো এক ছাত্রের রচনা। তবে সেই ছাত্র কে, তা আল্লাহই ভালো জানেন। বিষয়টি অজ্ঞাত (مجهول) রয়ে যাবে যতক্ষণ না উস্তাদ খুঁজে পান।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
محمود على نسخة أخرى على غلافها اسم مؤلف فينسبها إليه شريطة أن يكون العنوان وبقية الكتاب بخط واحد.
لم نقل هذا الكلام سخرية -معاذ الله- ولكن ما قلناه هو منهج الرجل في إثبات نسبة الكتاب إلى مؤلفيها وقد صرح بذلك فيما نقلناه عنه حيث قال: "وجميع ذلك بخط واحد، على نفس الدرجة من الوضوح، وهي تقطع بنسبتها إلى القاضي عبد الوهاب".
بل نحن ننصح هذا المحقق -وفق منهجه هذا- أن يعيد تحقيق كتاب آخر هو "فصول الأحكام وبيان ما مضى به العمل عند الفقهاء والحكام" رقمه في خزانة القرويين 1/ 382 وهو منسوب إلى القاضي عبد الوهاب وسيجد العنوان وبقية الكتاب بنفس الخط والوضوح، فيظفر بهذه الغنيمة التي لم يُفْطَن إليها من قبل فيقدمها إلى دار البحوث بدبي لتنشرها محققة تحقيقاً علمياً على نسخة فريدة، لم يعرفها، أو عرفها غلطا محققان أحدهما من تونس هو الدكتور أبو الأجفان، والأخرى الأستاذة البتول بنت علي من الغرب، حيث نسباها إلى الباجي، ولم يأخذا بمنهج الأستاذ محمود في إثبات نسبة الكتاب، وإلا فكيف يتجاهلان نسبة هذا الكتاب إلى القاضي عبد الوهاب في نسخة القرويين وينسباها إلى الباجي كما فعل محققا فروق الدمشقي تماماً.
والمنظار الثاني الذي استعمله المحقق هو منظار المحقق المتشكك المتسائل، ذلك أن توافقاً من هذا النوع لا يمكن أن يكون نقلاً، والنقل من غير تصريح واضح به يؤثر على المصداقية العلمية للمؤلف.
وقبل أن نرد ونطمس منظاره هذا نقول: إذا كان النقل من غير تصريح يؤثر على المصدأقية العلمية على المؤلف فمعنى ذلك أن القاضي أبا بكر بن
মাহমুদ অন্য একটি পাণ্ডুলিপির (نسخة) ওপর নির্ভর করেন যার প্রচ্ছদে একজন লেখকের নাম রয়েছে এবং তিনি তা তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করেন এই শর্তে যে, শিরোনাম ও গ্রন্থের অবশিষ্ট অংশ একই হাতের লেখায় হতে হবে।
আমরা এই কথাগুলো বিদ্রূপ করার জন্য বলিনি—আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই (معاذ الله)—বরং আমরা যা বলেছি তা হলো বইটির রচয়িতার দিকে এর সম্বন্ধ প্রমাণের ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির অনুসৃত পদ্ধতি। তিনি আমাদের উদ্ধৃত বক্তব্যে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "এবং এর সমস্ত কিছু একই হস্তাক্ষরে, স্পষ্টতার একই মানে বিদ্যমান, যা কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের দিকে এর সম্বন্ধকে অকাট্যভাবে (تقطع) সাব্যস্ত করে।"
বরং আমরা এই গবেষককে (محقق) পরামর্শ দিই—তাঁর এই পদ্ধতি অনুসরণ করে—তিনি যেন অন্য একটি গ্রন্থ পুনরায় সম্পাদনা (تحقيق) করেন, যার নাম "ফুসুলুল আহকাম ওয়া বায়ানু মা মাদা বিহি আল-আমাল ইনদাল ফুকারা ওয়াল হুক্কাম"; কারাওয়িয়্যিন লাইব্রেরিতে এর নম্বর হলো ১/৩৮২ এবং এটি কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত। সেখানে তিনি শিরোনাম এবং বইয়ের অবশিষ্ট অংশ একই হস্তাক্ষর ও স্পষ্টতায় পাবেন; ফলে তিনি এমন এক অমূল্য সম্পদ লাভ করবেন যা ইতিপূর্বে কারোর দৃষ্টিগোচর হয়নি। অতঃপর তিনি তা দুবাইয়ের দারুল বুহুস-এ পেশ করবেন যাতে তারা একটি অদ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির (نسخة فريدة) ওপর ভিত্তি করে শাস্ত্রীয় মানদণ্ডে সম্পাদিত (تحقيق) অবস্থায় তা প্রকাশ করতে পারে। এই পাণ্ডুলিপিটি সম্পর্কে দুইজন গবেষক (محقق) হয় অবগত ছিলেন না অথবা ভুল জানতেন; তাঁদের একজন তিউনিসিয়ার ড. আবু আল-আজফান এবং অন্যজন পশ্চিমা বিশ্বের উস্তাদা আল-বাতুল বিনতে আলী। তাঁরা উভয়েই বইটিকে আল-বাজি-র দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং গ্রন্থটির সম্বন্ধ প্রমাণের ক্ষেত্রে উস্তাদ মাহমুদের পদ্ধতি গ্রহণ করেননি। অন্যথায়, তাঁরা কীভাবে কারাওয়িয়্যিন পাণ্ডুলিপিতে কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের দিকে এই বইটির সম্বন্ধকে উপেক্ষা করে এটিকে আল-বাজি-র দিকে নিসবত করলেন, ঠিক যেভাবে ফুরুক আদ-দিমাশকি-র দুই সম্পাদক (محقق) করেছেন।
উক্ত গবেষক (محقق) যে দ্বিতীয় দৃষ্টিভঙ্গিটি ব্যবহার করেছেন তা হলো একজন সংশয়বাদী ও প্রশ্নকারী গবেষকের (محقق) দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁর মতে, এই ধরনের সাদৃশ্য কেবল সাধারণ উদ্ধৃতি হতে পারে না; আর সুস্পষ্ট স্বীকৃতি ব্যতিরেকে উদ্ধৃতি প্রদান লেখকের বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতাকে (مصداقية) প্রভাবিত করে।
আমরা এর প্রত্যুত্তর দেওয়ার এবং তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ধূলিসাৎ করার পূর্বে বলতে চাই: যদি সুস্পষ্ট উল্লেখ ছাড়া উদ্ধৃতি প্রদান লেখকের বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতাকে (مصداقية) ক্ষুণ্ণ করে, তবে এর অর্থ এই যে, কাজী আবু বকর বিন...
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
العربي فقد مصداقيته في كتابه "عارضة الأحوذي" الذي نقل فيه كلاماً كثيراً بل كثيرًا جدًا من كتب ابن عبد البر ولم يصرح بإسمه إلا في مواضع قليلة، كما أخبرنا به محققو كتاب العارضة.
ثم بعد ذلك أين النقل من غير تصريح في كتاب الدمشقي الذي يقول المحقق إنه تتبعه خصوصاً في قسمه الدراسى، ومن نتائج هذا التتبع أنه وجد تحقيق الكتاب اعتمد على نسخة طرابلس (انظر هذا مع أنه قال سابقاً: إن المحققين لم يعرفاها ولم يطلعا عليها) ناسبًا إياها للدمشقي.
ونقول للمحقق، إننا -كما سبق ذكره- لم ننسبها إلى الدمشقي ولا إلى غيره ولكننا اعتمدناها في تصحيح بعض الألفاظ كما اعتمد هذا المحقق على فروق الدمشقي مع أنه يشك في نسبته إلى مؤلفه.
تعسف محمود الغرياني في بعض الأمور التي حاول أن يثبت بها ما أراد ومن ذلك أنه احتار لما رأى القاضي عياضا في المدارك لا يعزو كتاب الفروق للقاضي عبد الوهاب، فعمد إلى محاولة اتهام غيره بتحريف عبارة، معتبراً أصلها (الصحيح) هو الفروق والعبارة لعياض هي المروزي في سياق ذكر مؤلفات عبد الوهاب حيث يقول: (وكتابه الآخر المسمى بالمروزي في الأصول)، فقد توهم الغرياني أن المروزي تصحيف لـ (الفروق) وقال: "رغم أنني لم أجد القاضي عياض! ! ! قد ذكر هذا الكتاب في مداركه في النسختين المطبوعتين إلا أنني أتوقع أن يكون الكتاب المذكور باسم المروزي ضمن مؤلفات القاضي عبد الوهاب في المدارك هو تصحيف لكتاب الفروق، ولا يسعنا التأكد من ذلك إلا بمراجعة الأصول الخطية للمدارك، ذلك أن
আল-আরাবি তার "আরিদাতুল আহওয়াজি" গ্রন্থে নিজের নির্ভরযোগ্যতা হারিয়েছেন, যেখানে তিনি ইবনে আবদিল বার-এর বইগুলো থেকে প্রচুর, এমনকি অত্যধিক উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং খুব অল্প জায়গা ছাড়া তার নাম স্পষ্ট করে উল্লেখ করেননি, যেমনটি আমাদের 'আল-আরিদাহ' গ্রন্থের গবেষকগণ জানিয়েছেন।
অতঃপর আদ-দিমাশকির গ্রন্থে নাম উল্লেখহীন উদ্ধৃতিগুলো কোথায়, যে সম্পর্কে গবেষক দাবি করেছেন যে তিনি বিশেষ করে এর গবেষণামূলক অংশে তা অনুসন্ধান করেছেন? এই অনুসন্ধানের অন্যতম ফলাফল হিসেবে তিনি দেখেছেন যে, গ্রন্থটির সম্পাদনা ত্রিপোলি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে (লক্ষ্য করুন যে, তিনি ইতিপূর্বে বলেছিলেন: গবেষকদ্বয় এটি সম্পর্কে জানতেন না এবং এটি দেখেননি), আর তিনি এটিকে আদ-দিমাশকির বলে অভিহিত করেছেন।
আমরা গবেষককে বলতে চাই যে, আমরা—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—এটিকে আদ-দিমাশকি বা অন্য কারো প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করিনি, বরং কিছু শব্দ সংশোধনের (تصحيح) ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করেছি; ঠিক যেমন এই গবেষক 'ফুরুক আদ-দিমাশকি'-র ওপর নির্ভর করেছেন, যদিও তিনি এর লেখকের প্রতি সম্বন্ধের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেন।
মাহমুদ আল-গিরইয়ানি কিছু বিষয়ে জবরদস্তি করেছেন যার মাধ্যমে তিনি যা চেয়েছিলেন তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো, তিনি যখন দেখলেন যে কাজী আইয়াজ 'আল-মাদারিক' গ্রন্থে 'আল-ফুরুক' কিতাবটি কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের দিকে সম্বন্ধ করেননি, তখন তিনি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। ফলে তিনি অন্যকে একটি বাক্য বিকৃতির (تحريف) দায়ে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি মনে করেন যে তার মূল (সঠিক (صحيح)) রূপটি হলো 'আল-ফুরুক'। আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাবলির বর্ণনায় আইয়াজের ব্যবহৃত বাক্যটি হলো 'আল-মারওয়াযি', যেখানে তিনি বলেন: (এবং উসুল (الأصول)-এর ক্ষেত্রে তার অন্য কিতাবটির নাম হলো 'আল-মারওয়াযি')। আল-গিরইয়ানি ধারণা করেছেন যে 'আল-মারওয়াযি' শব্দটি 'আল-ফুরুক' শব্দের একটি বর্ণবিকৃতি (تصحيف)। তিনি বলেন: "যদিও আমি কাজী আইয়াজকে পাইনি! ! ! যিনি তার মাদারিক গ্রন্থের দুটি মুদ্রিত সংস্করণে এই কিতাবটি উল্লেখ করেছেন, তবুও আমি ধারণা করছি যে মাদারিক গ্রন্থে কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাবলির মধ্যে 'আল-মারওয়াযি' নামে উল্লেখিত কিতাবটি মূলত 'আল-ফুরুক' কিতাবের একটি বর্ণবিকৃতি (تصحيف)। মাদারিক গ্রন্থের মূল হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিগুলো পর্যালোচনা করা ছাড়া আমাদের পক্ষে এটি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়, কারণ..."
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تصحيفك بالغة أصابت النص المطبوع، وأفقدت الباحثين التسليم بما يثبت فيه من قراءة للنص" (مقدمة التحقيق ص 22 هامش 2).
وقد كفانا مؤونة التعليق على هذا الكلام التهافت الدكتور عبد الحكيم الأنيس الباحث الأول في دار البحوث للدراسات الإسلامية وإحياء التراث بدبي، حيث قال: "اتفقت النسخ التي رجعت إليها (يعني من الدارك) (المخطوطتان والمطبوعتان) على تسميته بالمروزي" انظر كتابه (القاضي عبد الوهاب البغدادي المالكي في آثار القدماء والمحدثين ص 93 هامش 3، نشر دار البحوث بدبي).
ونضيف إلى ذلك أن مختصري المدارك لابن حمادة وابن رشيق المخطوطين ليس فيهما إلا ما في الأصل ولا ذكر للفروق كما أفادنا الدكتور قاسم سعد الذي يملك صورتي نسختين منه كانتا من مصادر في كتابه القيم (جمهرة تراجم الفقهاء المالكية، نشر دار البحوث بدبي).
وإن السيد الغرياني لفي غنى عن التعسف في إقامة هذا الدليل الضعيف القائم على احتمال أضعف، فقد نسب غير عياض له كتاباً في الفروق، والنقل عنه موجود.
وقد ازدادت حيرة الغرياني أكثر بإفادة أقرب تلاميذ القاضي عبد الوهاب إليه وهو أبو الفضل الدمشقي في مقدمة فروق أن شيخه القاضي ألف كتاباً في الفروق وأنه أخبر تلميذه أنه تلف له ولم يعمل غيره.
ورغم أن هذه الإفادة لا تمنع من وجود فروق للقاضي تناثرت في الكتب الفقهية قبل فقد الكتاب الأصل، ولا تمنع من إمكان العثور عليه ومن إعادة
"আপনার শব্দের এই বিকৃতি (تصحيف) মুদ্রিত পাঠ্যকে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত করেছে এবং পাঠ্যের যে পাঠ তাতে প্রমাণিত হয়েছে, সে বিষয়ে গবেষকদের স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অসম্ভব করে তুলেছে" (সম্পাদনার ভূমিকা, পৃষ্ঠা ২২, টীকা ২)।
দুবাইয়ের 'দারুল বুহুস লিন-দিরাসাত আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়া ইহয়াউত তুরাস'-এর প্রধান গবেষক ডক্টর আব্দুল হাকিম আল-আনিস এই অসংলগ্ন কথার ওপর মন্তব্য করার কষ্ট থেকে আমাদের রেহাই দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "আমি (মাদারিক-এর) যেসব কপির (পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত উভয় প্রকার) শরণাপন্ন হয়েছি, সেগুলো তাকে 'আল-মারওয়াযি' নামে অভিহিত করার ক্ষেত্রে একমত।" দেখুন তার গ্রন্থ: (আল-কাদি আব্দুল ওয়াহহাব আল-বাগদাদি আল-মালিকি ফি আসারিল কুদামা ওয়াল মুহাদ্দিসিন, পৃষ্ঠা ৯৩, টীকা ৩, প্রকাশনায়: দারুল বুহুস, দুবাই)।
আমরা এর সাথে আরও যোগ করতে চাই যে, ইবনে হাম্মাদাহ ও ইবনে রাশিক কর্তৃক সংক্ষেপিত 'মাদারিক'-এর পাণ্ডুলিপি দুটিতে মূল গ্রন্থে যা আছে তা ব্যতীত অতিরিক্ত কিছু নেই এবং সেখানে 'ফুরূক' (আইনগত পার্থক্য) সম্পর্কে কোনো উল্লেখ নেই; যেমনটি আমাদের জানিয়েছেন ডক্টর কাসিম সাদ। তার নিকট এই গ্রন্থের দুটি অনুলিপি রয়েছে যা তার মূল্যবান গ্রন্থ 'জামহারাতু তারাউজমিল ফুকাহাইল মালিকিয়্যাহ' (প্রকাশনায়: দারুল বুহুস, দুবাই)-এর অন্যতম উৎস ছিল।
জনাব আল-গুরইয়ানি আরও দুর্বল (أضعف) একটি সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে এই দুর্বল (ضعيف) প্রমাণটি দাঁড় করানোর জন্য জবরদস্তির আশ্রয় না নিলেও পারতেন। কেননা আইয়ায ছাড়াও অন্য বিদ্বানগণ তার নামে 'ফুরূক' বিষয়ক একটি কিতাবের নিসবত করেছেন এবং তা থেকে উদ্ধৃতিও বিদ্যমান রয়েছে।
গুরইয়ানির বিভ্রান্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে কাদি আব্দুল ওয়াহহাবের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ছাত্র আবু আল-ফজল আদ-দিমাশকির দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে। তিনি 'ফুরূক'-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তার উস্তাদ কাদি 'ফুরূক' বিষয়ক একটি কিতাব রচনা করেছিলেন এবং তিনি তার ছাত্রকে জানিয়েছিলেন যে সেটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং তিনি তা ছাড়া অন্য কোনো কিতাব রচনা করেননি।
যদিও এই তথ্যটি মূল গ্রন্থটি হারিয়ে যাওয়ার পূর্বে ফিকহি গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাদিবর 'ফুরূক' বিষয়ক আলোচনা থাকার সম্ভাবনাকে নাকচ করে না, এবং এটি খুঁজে পাওয়ার বা পুনরায় উদ্ধার করার সম্ভাবনাকেও নাকচ করে না...
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
تأليفه
… رغم ذلك فإن حيرة الغرياني دفعته إلى سلوك طريق المس من شخصية الدمشقي، والمنهج العلمي السليم في البحث لا يرتضي المس غير المبرر، فالدمشقي -في نظره- يشهد لنفسه عندما ينقل عن شيخه خبر ضياع كتابه، وإذا قبلنا شهادته انتفت عنه تهمة انتحال فروق شيخه كما قال في ص 22.
ليس من الأدب مع أعلامنا المبادرة إلى اتهامهم، وليس من المنهج السليم رد أقوالهم بما عز لنا من تلك التهم الزائفة.
فهذا الدمشقي اشتهر بوطيد علاقته بشيخه وتأثره به، وولوعه بالفروق كان بفضل شيخه القاضي، وكلام الدمشقي وثيقة يعتمدها الباحث، ومن نقد هذه الوثيقة وردها لأنه رأى في كتاب الدمشقي فروقاً معزوة لشيخه ولغيره، يقال له: اعلم أن الطريقة السائدة في التأليف الفقهي كثيراً ما تعتمد النقل مع الإضافة، فلا ضير في نقل بعض فروق شيخه أو الفروق المتداولة، فهذا العلم مثل غيره من الفنون الفقهية أثري بتراكم المعلومات، وتناقل الفروع والأحكام والتعليل والتنظير، وكان من المألوف نسبة الكتاب المتضمن لكثير من نصوص السالفين والنقل عنهم إلى جامعه الذي له دور في التنسيق والتنظيم والبيان -إضافة إلى النقل والاستشهاد- مع الإضافة البارزة في كثير من الأحيان.
ألا ترون معنا أن كتابة مقدمات التحقيق تقتضي إلماماً بتاريخ علومنا الإسلامية ومعرفة بمناهج مؤلفيها، وبما كان معروفاً من طرق النقل وأساليب العرض والبيان.
তার গ্রন্থ রচনা
… তা সত্ত্বেও গুরিয়ানীর বিভ্রান্তি তাঁকে দামেশকীর ব্যক্তিত্বকে খাটো করার পথে ধাবিত করেছে। গবেষণার সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কোনো অযৌক্তিক আক্রমণকে সমর্থন করে না। দামেশকী—তাঁর দৃষ্টিতে—নিজের সপক্ষে সাক্ষ্য (شهادة) দিচ্ছেন যখন তিনি তাঁর শায়খ (شيخ) থেকে কিতাব হারিয়ে যাওয়ার সংবাদটি বর্ণনা (نقل) করছেন। আমরা যদি তাঁর সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণ করি, তবে তাঁর শায়খ (شيخ)-এর 'ফুরূক' বা মাসআলাগত পার্থক্যসমূহ আত্মসাতের (انتحال) যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা নাকচ হয়ে যায়, যেমনটি তিনি ২২ পৃষ্ঠায় বলেছেন।
আমাদের বরেণ্য আলেমদের প্রতি অভিযোগ তুলতে তাড়াহুড়ো করা শিষ্টাচারসম্মত নয়। তেমনি সেই সকল ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে তাঁদের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করাও সঠিক পদ্ধতি নয়।
এই দামেশকী তাঁর শায়খ (شيخ)-এর সাথে সুদৃঢ় সম্পর্কের জন্য এবং তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। 'ফুরূক' বা মাসআলাগত পার্থক্যের প্রতি তাঁর প্রবল অনুরাগ ছিল মূলত তাঁর শায়খ (شيخ) কাজীর বদৌলতে। দামেশকীর বক্তব্য গবেষকের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত। যিনি এই দলিলটির সমালোচনা করেন এবং এটি প্রত্যাখ্যান করেন এই কারণে যে, তিনি দামেশকীর কিতাবে তাঁর শায়খ (شيخ) ও অন্যদের প্রতি সম্পৃক্ত কিছু 'ফুরূক' দেখতে পেয়েছেন, তাঁকে বলা উচিত: জেনে রাখুন যে, ফিকহী গ্রন্থ রচনার প্রচলিত পদ্ধতিতে অনেক সময় কিছু সংযোজনসহ বর্ণনা (نقل)-এর ওপর নির্ভর করা হয়। সুতরাং তাঁর শায়খ (شيخ)-এর কিছু 'ফুরূক' অথবা প্রচলিত 'ফুরূক'সমূহ উদ্ধৃত করাতে কোনো দোষ নেই। কারণ এই ইলম অন্যান্য ফিকহী শাখার মতোই তথ্যের পুঞ্জীভবন, শাখা-প্রশাখা, আহকাম, কারণ বিশ্লেষণ (تعليل) ও তাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয়েছে। পূর্বসূরিদের অনেক উদ্ধৃতি সম্বলিত কিতাবকে তার সংকলকের প্রতি সম্পৃক্ত করা তখন একটি সাধারণ নিয়ম ছিল; যিনি বর্ণনা (نقل) ও উদ্ধৃতির পাশাপাশি সেগুলো বিন্যাস, সুসংগঠিতকরণ ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতেন এবং প্রায়শই তাতে উল্লেখযোগ্য সংযোজনও করতেন।
আপনারা কি আমাদের সাথে একমত নন যে, তাহকীক বা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ভূমিকা লেখার জন্য আমাদের ইসলামী উলূমের ইতিহাস এবং গ্রন্থকারদের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন? পাশাপাশি বর্ণনা (نقل)-এর নিয়মাবলী এবং উপস্থাপন ও ব্যাখ্যার শৈলী সম্পর্কেও অবগত থাকা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
لا شك أن القارئ الكريم مسلم بهذه الحقيقة التي تصرخ بها كتب منهج التحقيق وتدعمها محاضرات المنهج في الدراسات العليا، وتؤكدها خبرة المحققين الذين لا يختارون للتحقيق إلا ما يدخل ضمن دائرة اختصاصهم تجنباً لأسباب الزلل والتضليل.
وأن من أدرك هذه الحقيقة ودرس القواعد الفقهية والأشباه والنظائر الفقهية وفروق مسائل الفقه ومارس مصنفاتها المؤلفة في مختلف عهود المعرفة الشرعية، لا يتصور ولا يخطر بباله أن المسائل التي ترد في مصنف من تلك المصنفات عند المؤلف نفسه فقط عندما يؤلف كتاباً آخر يوردها فيه، وكأنها أصبحت حكرًا عليه.
هذا التصور وجدناه عند المحقق الغرياني، صرح به في مقدمة تحقيق الفروق عندما أراد نسبتها للقاضي عبد الوهاب ونفيها عن غيره (23 - 28) حيث أشار إلى التوافق بين مسائل الفروق وبين ما كتبه القاضي في كتبه الأخرى، توافق في الموضوعات، استدل به على أن (كاتب مسائل المعونة والتلقين والإشراف هو نفسه كاتب الفروق) وقدم نماذج لتلك الاتفاقات مثل جواز قراءة الحائض القرآن للضرورة، ورد هذا الحكم في فروق القاضي وفي معونته مع الاستدلال فيهما بما ورد من النهي عن السفر بالقرآن إلى أرض العدو، ثم الكتابة إليهم به.
ونقول: إن أحكام المسائل المكونة للفروق تتكرر في أكثر من كتاب يكرر ذكرها مصنفو الفروق وحتى المصنف الواحد فِى كتبه، كما هو الشأن في تكرار القواعد والضوابط في كتب الأشباه وكذلك النظائر التي تراها مكررة، فلتراجع كتبها عبر مراحل تطور تأليفها، ولينظر فروق الونشريسي الجامع لما
নিঃসন্দেহে সম্মানিত পাঠক সেই সত্যটি মেনে নেবেন, যা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা পদ্ধতি (تحقيق) সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ উচ্চস্বরে ঘোষণা করে এবং উচ্চতর গবেষণার পাঠদানসমূহ তাকে সমর্থন দেয়। এটি সেইসব গবেষকদের (محقق) অভিজ্ঞতার দ্বারাও নিশ্চিত হয়েছে, যারা ভুলভ্রান্তি ও বিভ্রান্তি এড়াতে কেবল তাদের বিশেষজ্ঞতার গণ্ডির ভেতরে থাকা বিষয়গুলোই সম্পাদনার (تحقيق) জন্য নির্বাচন করেন।
যিনি এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেছেন এবং ফিকহী মূলনীতি (قواعد), আশবাহ ও নাযাইর এবং ফিকহী মাসআলাসমূহের পার্থক্য (فروق) অধ্যয়ন করেছেন এবং শরয়ী জ্ঞানের বিভিন্ন যুগে রচিত এই সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ (مصنفات) নিয়ে চর্চা করেছেন, তিনি কল্পনাও করতে পারেন না যে, এই সকল গ্রন্থের কোনো একটিতে বর্ণিত মাসআলাসমূহ কেবল সেই লেখকের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, যা তিনি কেবল অন্য কোনো কিতাব রচনা করার সময় তাতে উল্লেখ করেন; যেন তা কেবল তারই একচেটিয়া সম্পদে পরিণত হয়েছে।
এই ধরনের ধারণা আমরা গবেষক (محقق) গুরিয়ানীর মাঝে দেখতে পাই। তিনি আল-ফুরূক গ্রন্থের সম্পাদনার (تحقيق) ভূমিকায় এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যখন তিনি বইটিকে কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের প্রতি নিসবত (نسبة) করতে এবং অন্য কারও থেকে তা নাকচ করতে চেয়েছিলেন (২৩ - ২৮)। সেখানে তিনি আল-ফুরূকের মাসআলাসমূহ এবং কাজীর অন্য কিতাবসমূহের মধ্যে বিষয়ের সংগতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি এর মাধ্যমে দলীল পেশ (استدلال) করেছেন যে, মাঊনাহ, তালকীন এবং ইশরাফ গ্রন্থসমূহের লেখকই হলেন আল-ফুরূক গ্রন্থের লেখক। তিনি এই মিলগুলোর কিছু নমুনা পেশ করেছেন, যেমন—প্রয়োজনে ঋতুবতী নারীর জন্য কুরআন পাঠ বৈধ হওয়া। এই বিধানটি কাজীর আল-ফুরূক এবং মাঊনাহ উভয় গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে উভয় স্থানে শত্রুভূমিতে কুরআন নিয়ে সফর করা এবং পরবর্তীতে তাদের কাছে তা লিখে পাঠানোর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা দ্বারা দলীল পেশ (استدلال) করা হয়েছে।
আমরা বলি: আল-ফুরূক গঠনকারী মাসআলাসমূহের বিধানগুলো একাধিক গ্রন্থে পুনরাবৃত্ত হয়। আল-ফুরূক বিষয়ের গ্রন্থকারগণ (مصنفون) এগুলো বারবার উল্লেখ করেন, এমনকি একজন গ্রন্থকারও (مصنف) তার বিভিন্ন কিতাবে তা করেন। যেমনটি দেখা যায় আশবাহ বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে ফিকহী মূলনীতি (قواعد) ও নিয়মাবলির (ضوابط) পুনরাবৃত্তি এবং একইভাবে নাযাইর গ্রন্থসমূহেও যা আপনি পুনরাবৃত্ত হতে দেখেন। সুতরাং গ্রন্থ রচনার বিবর্তনের বিভিন্ন ধাপে এই বইগুলো পর্যালোচনা করা উচিত এবং ওয়ানশারীসীর আল-ফুরূক দেখা উচিত যা সংকলন করেছে যা...
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أثر عن عبد الحق الصقلي والدمشقي وغيرهما من القدامى الصائغين للفروق، وليقرأ ما كتب الباحثون الممتازون عن مناهج المؤلفين ومراحل تطور التأليف عندهم، إن عطاء علمائنا مستمر عبر العصور وأن واجب الدارسين المعاصرين فهم خصائص تراكم المعرفة الشرعية وإدراك مناهجهم في إثرائها ووحدة غايتهم في خدمتها وطرقهم في النقد والتحليل والتعقب، وذلك أجدى من المسارعة إلى الاتهام ودعوى الانتحال أو محاولة الهدم ورفع راية الباطل والضلال.
ولم يكتف السيد محمود الغرياني بذلك، فأبدى في مقدمة تحقيقه شكا في شخصية أبي الفضل مسلم الدمشقي، محاولاً التطرق بذلك إلى نفي نسبة فروق فقهية له، مستخدماً لذلك من الأدلة ما ينبئ عن قلة معرفة بمناهج علمائنا في التأليف المتصل بالفقه وقواعده وفروقه، وعن انتفاء إدراك الضوابط المعهودة لإثبات النسبة، تلك الضوابط التي أفاض في بيانها مؤلفو منهج التحقيق، وسار عليها من أجادوا التحقيق وبرعوا في مجاله، وتنكبها آخرون فزلت بهم القدم، ونسبوا كتباً إلى غير مؤلفيها، وعرفت ساحة التحقيق أخطاء فادحة تعقبها بعض النقاد، وتداركها المنصفون من أهل الذكر والمعرفة.
وقد حفزنا إصدار الفروق المنسوبة للقاضي عبد الوهاب إلى الإسهام في بيان الحقيقة في هذه المقدمة لطبعة فروق تلميذه الدمشقي للمرة الثانية، معتبرين أنه إسهام علمي نخدم به جانباً من ثقافتنا الفقهية التي تمثل عنصراً مهماً من عناصر حضارتنا الإسلامية الناشئة عن الدعوة الإسلامية دعوة الخير والهدى.
আব্দুল হক আস-সিকিল্লি, আদ-দিমাশকি এবং 'ফুরুক' (পার্থক্যসূচক নীতি) শাস্ত্রের প্রাচীন প্রণেতাদের থেকে বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। গবেষকদের উচিত লেখকদের কর্মপদ্ধতি এবং তাঁদের গ্রন্থ রচনার বিবর্তনের পর্যায়গুলো সম্পর্কে বিশিষ্ট গবেষকদের লেখনী পাঠ করা। নিশ্চয়ই যুগ যুগ ধরে আমাদের আলেমদের জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদান অব্যাহত রয়েছে এবং বর্তমান সময়ের গবেষকদের দায়িত্ব হলো শরয়ি জ্ঞানের এই ক্রমবিকাশের বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুধাবন করা এবং এই জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসৃত পদ্ধতি, এর সেবায় তাঁদের অভিন্ন লক্ষ্য এবং তাঁদের সমালোচনা (النقد), বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার (التعقب) পদ্ধতিসমূহ হৃদয়ঙ্গম করা। এটি ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা, তথ্য চুরির দাবি করা কিংবা কোনো কিছুকে নস্যাৎ করার চেষ্টা এবং বাতিল ও গোমরাহির ঝাণ্ডা তুলে ধরার চেয়ে অধিক ফলপ্রসূ।
জনাব মাহমুদ আল-গিরয়ানি এখানেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি তাঁর সম্পাদিত পাণ্ডুলিপির (تحقيق) ভূমিকায় আবুল ফজল মুসলিম আদ-দিমাশকির ব্যক্তিত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর (দিমাশকির) দিকে ফিকহশাস্ত্রীয় পার্থক্যসমূহ সম্পর্কিত রচনার সম্বন্ধকে (نسبة) অস্বীকার করার চেষ্টা করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি এমন কিছু দলিল ব্যবহার করেছেন যা ফিকহ, এর মূলনীতি ও পার্থক্যসমূহ সংক্রান্ত রচনার ক্ষেত্রে আমাদের আলেমদের অনুসৃত পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁর অপ্রতুল জ্ঞানেরই প্রমাণ দেয়। এছাড়া কোনো গ্রন্থের সম্বন্ধ (نسبة) সাব্যস্ত করার জন্য যে প্রচলিত মানদণ্ডসমূহ (الضوابط) রয়েছে—যা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق) পদ্ধতির প্রণেতারা বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন—তা অনুধাবনে ব্যর্থতার বিষয়টিও ফুটে উঠেছে। যারা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনায় (تحقيق) দক্ষতা ও পারদর্শিতা অর্জন করেছেন তারা এই মানদণ্ডগুলো অনুসরণ করেছেন; পক্ষান্তরে অন্যরা এগুলো পরিহার করায় পদস্খলনের শিকার হয়েছেন এবং গ্রন্থসমূহকে ভুল লেখকের দিকে সম্বন্ধ (نسبة) করেছেন। ফলে পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে কিছু মারাত্মক ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে যা কতিপয় সমালোচক (النقاد) চিহ্নিত করেছেন এবং বিশেষজ্ঞ ও জ্ঞানীদের মধ্যে যারা ইনসাফপন্থী তারা তা সংশোধন করেছেন।
কাজি আব্দুল ওয়াহহাবের নামে সম্বন্ধকৃত 'আল-ফুরুক' গ্রন্থটির প্রকাশনা আমাদের উৎসাহিত করেছে তাঁর ছাত্র আদ-দিমাশকির 'ফুরুক' গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণের এই ভূমিকায় প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে অবদান রাখতে। আমরা একে একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক খিদমত হিসেবে গণ্য করছি যার মাধ্যমে আমরা আমাদের ফিকহী সংস্কৃতির একটি দিক পরিবেশন করছি, যা কল্যাণ ও হেদায়েতের দাওয়াত তথা ইসলামি দাওয়াত থেকে উদ্ভূত আমাদের ইসলামি সভ্যতার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لقد أتاحت لنا هذه الطبعة الجديدة لفروق الدمشقي أن نزيد تأكيد نسبتها إلى صاحبها الذي لم يتوسع المترجمون القدامى من التعريف به -كما فعلوا مع كثير من فقهائنا- وفي اعتقادنا أن المرجو في كل باحث أن يضيف الجديد للمعرفة ببحثه، فنرجوا أن نكون بإثبات النسبة وبنشر هذا الكتاب في طبعتيه، قد أضفنا الجديد، وصححنا خطأ من تطاول على أعلامنا، ولم يتحر الصواب، ولم يستعمل المقاييس السلمية والضوابط الدقيقة لوضع الأمور في نصابها، ولم يدرك مناهج أعلامنا في التصنيف والتقعيد وعرض الأحكام، ذلك المنهج الذي تكامل فيه التأليف الفقهي بالجهود المتضافرة التي سار أصحابها في طريق قويم ينبغي دراسته وإدراك خصائصه قبل التصدي لتحقيق التراث الفقهي، فقد أثبت الواقع أن أهل الاختصاص أملك لوسائل النجاح في تحقيق كتب اختصاصهم، وأن التصدي للتحقيق ولنقد ما حقق يقتضي خبرة وممارسة ما فتئت جامعاتنا الإسلامية تدرب طلبة الدراسات العليا على امتلاكها، حتى يخرجوا من تراثنا المحجوب ما ينفع الناس على الصورة التي أرادها مؤلفوه بعد الاطمئنان إلى أهميته وصحة نسبته اطمئناناً مبيناً على التثبت والمنهج النقدي والفكر الموضوعي بعيداً عن العاطفة والأحكام الفجة التي يسوق إليها التسرع والله يقول الحق وهو يهدي السبيل. المحققان
مكة المكرمة 20 شوال 1424 هـ
ফুরুক আদ-দিমাশকি-এর এই নতুন সংস্করণটি আমাদের জন্য এর রচয়িতার প্রতি এর সম্পৃক্ততার (نسبة) বিষয়টি আরও দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করার সুযোগ করে দিয়েছে, যাঁদের সম্পর্কে প্রাচীন জীবনীকারগণ (مترجمون) খুব বেশি বিস্তারিত আলোচনা করেননি—যেমনটি তাঁরা আমাদের অনেক ফকীহদের ক্ষেত্রে করেছেন। আমাদের বিশ্বাস যে, প্রত্যেক গবেষকের কাছ থেকে এটিই কাম্য যে তিনি তাঁর গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞানজগতে নতুন কিছু যোগ করবেন। অতএব, আমরা আশা করি যে, রচয়িতার এই সম্পৃক্ততা (نسبة) প্রমাণ করার মাধ্যমে এবং এই গ্রন্থটি এর উভয় সংস্করণে প্রকাশের মাধ্যমে আমরা নতুন কিছু সংযোজন করতে পেরেছি এবং সেই ব্যক্তিদের ভুল সংশোধন করেছি যারা আমাদের প্রথিতযশা ইমামদের সমালোচনায় ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন, সত্য অনুসন্ধান করেননি এবং বিষয়গুলোকে যথাযথ স্থানে স্থাপনের জন্য সঠিক মানদণ্ড ও সূক্ষ্ম নিয়মাবলি প্রয়োগ করেননি। তাঁরা গ্রন্থ রচনা, মূলনীতি নির্ধারণ (تقعيد) এবং বিধান উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমাদের ইমামদের অনুসৃত পদ্ধতি (منهج) উপলব্ধি করতে পারেননি। সেই পদ্ধতি (منهج), যাতে ফিকহী রচনাশৈলী সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে এবং যার রচয়িতাগণ এক সঠিক পথে চলেছেন, যা ফিকহী ঐতিহ্য (تراث) সম্পাদনার (تحقيق) গুরুদায়িত্ব গ্রহণের আগেই অধ্যয়ন করা এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ উপলব্ধি করা আবশ্যক। বাস্তব এটিই প্রমাণ করেছে যে, বিশেষজ্ঞগণ তাঁদের নিজ নিজ বিশেষায়িত ক্ষেত্রের গ্রন্থসমূহ সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে সফলতার উপকরণগুলোর ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণ রাখেন। আর সম্পাদনা (تحقيق) এবং সম্পাদিত কাজের সমালোচনার (نقد) জন্য এমন অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের প্রয়োজন যা আমাদের ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চতর গবেষণার শিক্ষার্থীদের অর্জনে নিরন্তর প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো, যাতে তাঁরা আমাদের অপ্রকাশিত ঐতিহ্য (تراث) থেকে মানুষের জন্য কল্যাণকর বিষয়গুলো এমনভাবে বের করে আনতে পারেন যেভাবে মূল লেখকগণ চেয়েছিলেন; এবং এর গুরুত্ব ও রচনার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে এমন এক নিশ্চিত বিশ্বাস অর্জনের পর যা যাচাই-বাছাই (تثبت), বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি (منهج نقدي) এবং আবেগ ও হঠকারিতা থেকে উৎসারিত অপরিপক্ক সিদ্ধান্তমুক্ত বস্তুনিষ্ঠ চিন্তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আর আল্লাহ সত্য বলেন এবং তিনিই সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। সম্পাদকদ্বয়
মক্কা মোকাররমা ২০ শাওয়াল ১৪২৪ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
بسم الله الرحمن الرحيم
تصديرالحمد لله ربنا العظيم، والصلاة والسلام على رسوله الكريم، المبعوث رحمة للعالمين، بشريعة العدل والإحسان، التي نهض أعلام الأمة ببيانها وتفصيل أحكامها ونشرها.
وبعد فقد تفاوت فقهاؤنا في التوغل في مجال الاجتهاد، وتنوعت وسائلهم وطرقهم في استعمال العقل المهتدي بتعاليم الوحي الإلهي، وكان من جملة هذه الطرق التنظير بين المسائل المتشابهة، وبيان الفروق بين الفروع التي ظاهرها التشابه، وهي متباينة في حقيقة أمرها.
وقد أثمرت جهود الفقهاء في فن الجموع والفروق، وآتت أكلها الطيب، فتعددت مؤلفات هذا الفن وارتبطت بعلم القواعد الفقهية الدالة على أسرار الشريعة ومقاصدها، كما ربطها بعضهم بالمطارحات والمحاضرة العلمية.
ولئن اشتهرت بعض كتب الفروق ولمعت نجوم أصحابها، فإن بعضها لم يشتهر ولم يتداول، وبقي ضمن المخطوطات التي لا تصل إليها الأيدي إلا نادراً.
ومن هذا الصنف الثاني كتاب هام، صاحبه من الرواد الذين خاضوا مجال التأليف في هذا الفن الفقهي، بذل جهداً في التقعيد والتفصيل، واستعمل العقل في المسائل، مثبنا مدى خضوعها للنظر والتوجيه والتعليل.
إنه أبو الفضل مسلم بن على الدمشقي المالكي من المركز العراقي، أحد تلاميذ علامتي بغداد الشهيرين أبي بكر الأبهري والقاضي عبد الوهاب
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আমাদের মহান রব আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত রাসূলের ওপর, যাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে ইনসাফ ও ইহসানের শরিয়তসহ প্রেরণ করা হয়েছে; যে শরিয়তের ব্যাখ্যা, আহকামের বিস্তারিত বিবরণ ও প্রচার-প্রসারে উম্মাহর বরেণ্য আলেমগণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
অতঃপর, ইজতিহাদের ময়দানে গভীর জ্ঞান অন্বেষণের ক্ষেত্রে আমাদের ফকিহগণের মাঝে ভিন্নতা বিদ্যমান। ঐশী ওহির শিক্ষায় পরিচালিত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসৃত উপায় ও পদ্ধতিসমূহ ছিল বৈচিত্র্যময়। এসব পদ্ধতির মধ্যে অন্যতম ছিল সদৃশ মাসআলাগুলোর মধ্যে তাত্ত্বিক সামঞ্জস্য বিধান করা এবং এমন সব শাখা-বিধানের পার্থক্য স্পষ্ট করা, যা আপাতদৃষ্টিতে সদৃশ মনে হলেও প্রকৃত বিচারে সেগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ফকিহগণের 'জুমু' (একত্রীকরণ) এবং 'ফুরুক' (পার্থক্য নিরূপণ) শাস্ত্রের এই প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং তা সুমিষ্ট ফল বয়ে এনেছে। ফলে এই শাস্ত্রে অসংখ্য গ্রন্থ রচিত হয়েছে এবং এটি শরিয়তের নিগূঢ় রহস্য ও মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) নির্দেশকারী ফিকহি মূলনীতি শাস্ত্রের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে; যেমনটি কেউ কেউ একে বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনার সাথেও সম্পৃক্ত করেছেন।
ফুরুক শাস্ত্রের কিছু কিতাব যদিও ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং সেগুলোর রচয়িতাগণ নক্ষত্রের ন্যায় দ্যুতি ছড়িয়েছেন, তবে কিছু গ্রন্থ তেমন প্রসিদ্ধি পায়নি এবং ব্যাপকভাবে প্রচলিতও হয়নি। সেগুলো পাণ্ডুলিপি আকারেই রয়ে গেছে, যা খুব কমই মানুষের হাতে পৌঁছেছে।
এই দ্বিতীয় শ্রেণির অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ কিতাব হলো এটি, যার লেখক ফিকহি রচনার এই ময়দানে অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি মূলনীতি নির্ধারণ ও বিস্তারিত বিশ্লেষণে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন এবং মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করেছেন, যা থেকে মাসআলাগুলোর ওপর গভীর পর্যবেক্ষণ, দিকনির্দেশনা ও কারণ নির্ণয়ের গুরুত্ব প্রমাণিত হয়।
তিনি হলেন আবু আল-ফজল মুসলিম বিন আলী আদ-দিমাশকি আল-মালিকি, ইরাকি কেন্দ্রিক একজন আলেম। তিনি বাগদাদের প্রখ্যাত দুই আল্লামা আবু বকর আল-আবহরি এবং কাজি আব্দুল ওয়াহহাবের অন্যতম ছাত্র।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
البغدادي، اللذين كان لهما الأثر الفعال في تيار المذهب المالكي ابتداء من النصف الثاني من القرن الرابع.
لقد رأينا أن من المجدي اتجاه العناية إلى مصنفات أعلامنا المغمورين لنفض الغبار عن تراثهم وتقريبه للناس لتتحقق الاستفادة منه، فانصرفنا إلى كتاب (الفروق) للدمشقي إسهاماً منا في التعريف بأعلامنا الذين طواهم النسيان، وإبرازاً لأثر فقهى ينتمي إلى فن طريف يبين ضرباً من النشاط العقلي في ميدان التشريع، ويقنع الناس بأن شريعة الإسلام غير متناقضة ولا متهافتة، بل هي قائمة على المصالح مراعية للحقوق منسجمة مع مقتضيات العقول السليمة، هادفة إلى ما فيه الخير والسعادة.
انصرفنا إذن إلى هذا الكتاب تحفزنا إليه جدواه ورغبتنا في أن يتوفر للقراء لون من القواعد الضابطة للمسائل، إذ بدون وسائل الضبط والربط بين الجزيئات العديدة يصعب حفظ الأحكام وإدراكها.
وقد مهدنا لتحقيق هذا الكتاب بدراسة ذات ثلاثة فصول، الأول: للتعريف بالمؤلف، والثاني: لفن الفروق، والثالث: لفروق الدمشقي.
فبالنسبة إلى المؤلف كانت المصادر شحيحة تضن بالمعلومات المعرفة بحياته وشخصيته، فاستغللنا الإفادات القليلة التي صرحت بها، وربطنا حياته ببيئته العراقية وعصره ومذهبه والنشاط العلمي والعلاقات بين الفقهاء، كما أبرزنا سند المؤلف إلى إمام مذهبه وأشرنا إلى قيمة شيخيه المعروفين وترجمنا لتلميذه السبتي المعروف.
আল-বাগদাদীদ্বয়, চতুর্থ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে মালিকি মাযহাবের ধারায় যাঁদের কার্যকর প্রভাব ছিল।
আমরা অনুভব করেছি যে, আমাদের বিস্মৃত মনীষীদের রচনার প্রতি মনোনিবেশ করা ফলপ্রসূ হবে, যাতে তাঁদের ঐতিহ্যের ওপর থেকে ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলে তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় এবং এর সুফল অর্জিত হয়। তাই আমরা দামেশকির ‘আল-ফুরুক’ গ্রন্থের দিকে মনোনিবেশ করেছি আমাদের সেই সব মনীষীদের সাথে পরিচিত করার প্রয়াসে যাঁদের কথা বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে গেছে। পাশাপাশি, একটি অনন্য শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত এমন একটি ফিকহি (فقهي) কর্মকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে যা শরীয়তের ক্ষেত্রে এক ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতা প্রকাশ করে এবং মানুষকে আশ্বস্ত করে যে, ইসলামি শরীয়ত কোনোভাবেই স্ববিরোধী বা অসার নয়। বরং এটি জনকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত, অধিকারসমূহের প্রতি যত্নশীল, সুস্থ বিবেকের দাবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা কিছু মঙ্গল ও সৌভাগ্যের আধার, তার প্রতি লক্ষ্য রাখে।
সুতরাং আমরা এই গ্রন্থটির দিকে মনোনিবেশ করেছি এর উপযোগিতা এবং পাঠকদের জন্য মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে এক ধরণের নিয়ন্ত্রণমূলক মূলনীতি প্রদানের আকাঙ্ক্ষা থেকে। কারণ বহুবিধ খুঁটিনাটি বিষয়ের মধ্যে শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সংযোগের উপায় ছাড়া বিধানসমূহ (أحكام) মুখস্থ রাখা এবং অনুধাবন করা কঠিন।
আমরা এই গ্রন্থটির তাহকিক বা সম্পাদনার জন্য তিনটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত একটি গবেষণার মাধ্যমে ভূমিকা প্রস্তুত করেছি: প্রথমটি লেখকের পরিচিতি, দ্বিতীয়টি ‘ফুরুক’ শাস্ত্র নিয়ে এবং তৃতীয়টি দামেশকির ‘ফুরুক’ সংক্রান্ত।
লেখকের ক্ষেত্রে উৎসগুলো অত্যন্ত অপ্রতুল ছিল এবং তাঁর জীবন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে তথ্যের অভাব ছিল। তাই আমরা বিদ্যমান সামান্য তথ্যগুলোকেই কাজে লাগিয়েছি এবং তাঁর জীবনকে তাঁর ইরাকি পরিবেশ, যুগ, মাযহাব, ইলমি তৎপরতা এবং ফকিহদের মধ্যকার সম্পর্কের সাথে যুক্ত করেছি। পাশাপাশি আমরা তাঁর মাযহাবের ইমাম পর্যন্ত লেখকের সনদ (سند) ফুটিয়ে তুলেছি এবং তাঁর দুই প্রখ্যাত শায়েখের গুরুত্ব উল্লেখ করেছি। সেই সাথে তাঁর প্রখ্যাত ছাত্র সাবতির জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وبالنسبة إلى فن الفروق عرفنا به وبينا حاجة المجتهد والمفتي إلى الفروق الفقهية، ثم استعرضنا مؤلفاتها في المذاهب، وهي مؤلفات لم ينشر أغلبها.
كما حللنا فروق الدمشقي ودرسناها لتتجلى أهميتها ومنهجها.
أما منهجنا في التحقيق فقد اعتمدنا فيه ما يلي:
- إخراج نص الفروق بشكل سليم دقيق قدر الإمكان.
- ترتيب الفروق حسبما جاء في النسخة التونسية التي نسبت الفروق إلى مسلم الدمشقي، وقد جعلناها أصلاً.
- مقابلة النص بما جاء في النسخ الأخرى التي سيرد وصفها، مع الاستعانة بفروق الونشريسي الموسوم بعدة البروق، وتهدف هذه المقابلة إلى اختيار النص السليم لإثباته بالصلب، مع إثبات أهم الفروق بين النسخ بالهامش والإعراض من أغلب الأخطاء والتصحيف الذي لم نر في إثباته بالهامش جدوى.
- الإشارة إلى الموطن الذي يوجد به الفرق في النسخ المعتمدة، إن وجد بها أو ببعضها، حيث إن هذه النسخ مختلفة في إثباتها للفروق وفي ترتيبها، وإذا كان للفرق ما يطابقه أو يقاربه من فروق الونشريسي أشرنا إلى صفحته ورقمه في المطبوع.
- وضع العبارات المضافة إلى الأصل بين عافقتين، وهي التي رأينا النص يحتاج إليها لسلامة المعنى، وهي مستمدة من النسخ الأخرى أو من عدة البروق، وفي النادر هي من اقتراحنا بعد الفحص والتأمل وتأكد الحاجة إليها في السياق ليتضح المعنى المقصود.
বৈসাদৃশ্য বিদ্যা (ফুরুক) সংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে আমরা এর পরিচয় দিয়েছি এবং ফিকহি বৈসাদৃশ্যসমূহের (الفروق الفقهية) প্রতি মুজতাহিদ (المجتهد) ও মুফতির (المفتي) প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছি। অতঃপর আমরা বিভিন্ন মাযহাবের এই সংক্রান্ত গ্রন্থাবলি পর্যালোচনা করেছি, যেগুলোর অধিকাংশ এখনো প্রকাশিত হয়নি।
একইভাবে আমরা দিমাস্কির ফুরুক বিশ্লেষণ ও অধ্যয়ন করেছি যাতে এর গুরুত্ব ও পদ্ধতি সুপ্রকাশিত হয়।
আমাদের সম্পাদনা (التحقيق) পদ্ধতির ক্ষেত্রে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অনুসরণ করেছি:
- ফুরুক-এর মূল পাঠ যথাসম্ভব নির্ভুল ও সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করা।
- টিউনিসিয়া থেকে প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিতে যেভাবে এসেছে, সেই ক্রম অনুযায়ী ফুরুকসমূহ বিন্যস্ত করা, যেখানে ফুরুকসমূহকে মুসলিম আদ-দিমাস্কির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং একেই আমরা মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি।
- অন্যান্য পাণ্ডুলিপির (النسخ) পাঠ্যের সাথে মূল পাঠ্যের তুলনা (مقابلة) করা—যেগুলোর বর্ণনা সামনে আসবে—পাশাপাশি ওনশারিশির ইদ্দাতুল বুরুক নামক গ্রন্থের সহায়তা গ্রহণ করা। এই তুলনার উদ্দেশ্য হলো মূল পাঠে উপস্থাপনের জন্য সঠিক পাঠ্যটি নির্বাচন করা এবং পাণ্ডুলিপিভেদে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো টীকায় (الهامش) উল্লেখ করা। তবে অধিকাংশ ভুল এবং বর্ণাশুদ্ধি (التصحيف) যা টীকায় উল্লেখ করা নিরর্থক মনে হয়েছে, তা বর্জন করা হয়েছে।
- নির্ভরযোগ্য (المعتمدة) পাণ্ডুলিপিগুলোর যেখানে বৈসাদৃশ্যটি বিদ্যমান, সেই স্থান নির্দেশ করা—যদি তা সবগুলোতে বা কোনোটিতে পাওয়া যায়। যেহেতু এই পাণ্ডুলিপিগুলো বৈসাদৃশ্য প্রমাণে এবং তাদের বিন্যাসের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন। যদি কোনো বৈসাদৃশ্যের সাথে ওনশারিশির ইদ্দাতুল বুরুক-এর কোনো বর্ণনা হুবহু মিলে যায় বা নিকটবর্তী হয়, তবে আমরা মুদ্রিত কপির পৃষ্ঠা ও নম্বর উল্লেখ করেছি।
- মূল পাঠের সাথে অতিরিক্ত সংযোজিত বাক্যগুলোকে তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে রাখা হয়েছে, যা অর্থের পূর্ণতার জন্য আবশ্যক বলে আমরা মনে করেছি। এগুলো মূলত অন্যান্য পাণ্ডুলিপি (النسخ) অথবা ইদ্দাতুল বুরুক থেকে সংগৃহীত। বিরল ক্ষেত্রে, নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার পর এবং প্রসঙ্গের প্রয়োজনে অর্থ স্পষ্ট করার লক্ষ্যে আমরা তা প্রস্তাব করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
- تخريج الأحاديث الواردة ضمن الفروق.
- التعريف بالأعلام المذكورين ممن لم تسبق الترجمة لهم في المقدمة التمهيدية.
- توثيق الأقوال المنقولة من المدونة الكبرى ومن بعض المصادر الفقهية.
- إسناد أرقام إلى الفروق بلغت 128، وتعتمد هذه الأرقام في فهرسي القواعد والمصطلحات وتصحب عناوين الفروق في فهرس الموضوعات.
- الإشارة إلى بداية اللوحة في الأصل بالخط المائل مع إثبات رقمها بالهامش بين عاقفتين مصحوباً بالحرف (أ) للوجه والحرف (ب) للظهر.
هذا وقد ذيلنا نص الفروق بالفهارس التي رأيناها ميسرة للاستفادة من هذا الكتاب، وهي التالية:
الآيات القرآنية، الأحاديث النبوية، القواعد الفقهية والأصولية، المصطلحات الفقهية، الموضوعات.
والملاحظ:
أن فهرس المصطلحات يرشد القارئ إلى الفروق التي جاء بها كل مصطلح فقهي بلفظه أو بمعناه، ويعرفه بمواطن المسائل ذات الصلة بالمصطلح، إذ يتضمن الفرق الواحد أكثر من مسألة ويشير إلى أكثر من موضوع.
وأن فهرس الموضوعات يشتمل -بعد مقدمة التحقيق- على عناوين جميع الفروق، وقد صغنا هذه العناوين وجعلنا كل واحد منها متضمناً حكمي المسألتين اللتين بينهما فرق بأسلوب راعينا فيه الاختصار ما أمكن.
- আল-ফুরুক-এর অন্তর্ভুক্ত হাদিসগুলোর উৎস নির্দেশ (تخريج) করা।
- প্রারম্ভিক ভূমিকায় যাদের জীবনী পূর্বে আলোচনা করা হয়নি, এমন ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রদান করা।
- আল-মুদাওওয়ানাহ আল-কুবরা এবং কিছু ফিকহশাস্ত্রীয় উৎস থেকে উদ্ধৃত বক্তব্যসমূহের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (توثيق) করা।
- পার্থক্যসমূহের জন্য ক্রমিক নম্বর প্রদান করা হয়েছে যা ১২৮ পর্যন্ত পৌঁছেছে; এই নম্বরগুলো মূলনীতি ও পরিভাষা নির্দেশিকায় গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়সূচিতে পার্থক্যের শিরোনামগুলোর সাথেও এগুলো যুক্ত করা হয়েছে।
- মূল পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠার শুরুকে বাঁকা হরফের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং মার্জিনে ব্র্যাকেটের ভেতর পৃষ্ঠা নম্বরসহ সামনের পৃষ্ঠার জন্য (أ) এবং উল্টো পৃষ্ঠার জন্য (ب) অক্ষরটি ব্যবহার করা হয়েছে।
আমরা এই গ্রন্থের মূল পাঠের শেষে এমন কিছু নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র যুক্ত করেছি যা কিতাবটি থেকে উপকৃত হওয়া সহজ করবে, সেগুলো নিম্নরূপ:
কুরআনের আয়াতসমূহ, নববী হাদিসসমূহ, ফিকহি ও উসুলি (أصولية) মূলনীতিসমূহ, ফিকহি পরিভাষাসমূহ এবং বিষয়সমূহ।
লক্ষণীয় যে:
পরিভাষা নির্দেশিকাটি পাঠককে সেই সকল পার্থক্যের দিকে পরিচালিত করে যেখানে প্রতিটি ফিকহি পরিভাষা তার শব্দগত বা অর্থগতভাবে এসেছে। এটি পাঠককে সংশ্লিষ্ট পরিভাষার মাসআলা (مسائل) সমূহের স্থান সম্পর্কে অবগত করে, কারণ প্রতিটি পার্থক্যের আলোচনায় একাধিক মাসআলা (مسألة) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে এবং যা একাধিক বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে।
এবং বিষয়সূচিটি—সম্পাদনার ভূমিকার পরে—সমস্ত পার্থক্যের শিরোনামসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা এই শিরোনামগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত করেছি যাতে প্রতিটি শিরোনামে দুটি মাসআলা (مسألتين) এর বিধান (حكم) উল্লেখ থাকে যাদের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান, এবং এক্ষেত্রে আমরা যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ততা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
نسأل الله العلي القدير أن ينفع بهذا العمل العلمي، وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، وأن يلهمنا السداد، وأن يوفق قراء هذا الكتاب إلى الصفح عن السهو والخطأ، وإلى إرشادنا إلى الصواب تحقيقاً للتعاون على البر والتقوى، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
تونس في 21 شوال 1411 = 6 ماي 1991
المحققان
محمد أبو الأجفان
حمزة أبو فارس
আমরা সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই ইলমি কাজের দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন এবং একে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। তিনি যেন আমাদের সঠিক চিন্তার প্রেরণা দেন এবং এই গ্রন্থের পাঠকদের ভুলভ্রান্তি ও বিচ্যুতি ক্ষমা করার এবং পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে আমাদের সঠিক পথের দিশা দেওয়ার তাওফিক দান করেন। আমাদের সর্বশেষ প্রার্থনা হলো—সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
তিউনিসিয়া, ২১ শাওয়াল ১৪১১ হিজরি = ৬ মে ১৯৯১ ঈসায়ী
গবেষকদ্বয় (المحققان)
মুহাম্মদ আবু আল-আজফান
হামজা আবু ফারিস
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الدراسةالفصل الأول: مؤلف الفروق
الفصل الثاني: فن الفروق
الفصل الثالث: فروق الدمشقي
গবেষণামূলক আলোচনাপ্রথম পরিচ্ছেদ: পার্থক্যসমূহ (الفروق) এর গ্রন্থকার
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পার্থক্যসমূহ বিষয়ক বিদ্যা (فن الفروق)
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দামেশকির বর্ণিত পার্থক্যসমূহ (فروق الدمشقي)
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الأول: مؤلف الفروق
من هو مسلم الدمشقي؟
مؤلف هذا الكتاب هو أبو الفضل مسلم بن علي بن محمد بن حسن الدمشقي.
ترجم له القاضي عياض ترجمة موجزة، ووصفه بقوله: (فقيه مالكي مشهور) (1).
وهذه الشهرة لم تتجاوز حدود عصر مترجمه عياض (-544) فيما يبدو، حيث لم نجد له ذكراً في المصادر الموالية لهذا العصر باستثناء ما جاء في (مختصر المدارك) لابن حمادة وفي (الديباج المذهب) حيث لخص ابن فرحون ما عند عياض في سطرين (2).
وكان فيما أُغفل، مما يتعلق بحياة هذا الرجل، تاريخ ولادته وتاريخ وفاته، ولم يُذكر من شيوخه إلا الذي أكثر ملازمته وهو القاضي أبو محمد عبد الوهاب البغدادي (-422) ومن تلاميذه إلا قاسمًا المأموني السبتي (-448) وأفادنا مترجمنا نفسه في فروقه أنه درس على الشيخ أبي بكر الأبهري (-375).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-ফুরূক-এর রচয়িতামুসলিম আদ-দামেশকী কে?এই গ্রন্থের রচয়িতা হলেন আবুল ফজল মুসলিম বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাসান আদ-দামেশকী।
কাযী আয়াজ তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচনা করেছেন এবং তাঁকে এই বলে বর্ণনা করেছেন: (প্রসিদ্ধ (مشهور) মালিকী ফকিহ) (১)।
দৃশ্যত মনে হয় যে, এই প্রসিদ্ধি তাঁর জীবনীকার আয়াজের (-৫৪৪) যুগের গণ্ডি অতিক্রম করেনি; কারণ ইবনে হামাদার 'মুখতাসারুল মাদারিক' এবং 'আদ-দিবাজুল মুজাহহাব' ব্যতীত এই যুগ-পরবর্তী উৎসগুলোতে আমরা তাঁর কোনো উল্লেখ খুঁজে পাইনি। 'আদ-দিবাজ'-এ ইবনে ফারহুন, কাযী আয়াজের বর্ণনাকে মাত্র দুই লাইনে সারসংক্ষেপ করেছেন (২)।
এই ব্যক্তির জীবন সংশ্লিষ্ট যে বিষয়গুলো উপেক্ষা করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে কেবল একজনের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে যাঁর সাহচর্যে তিনি দীর্ঘকাল ছিলেন, আর তিনি হলেন কাযী আবু মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহহাব আল-বাগদাদী (-৪২২)। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে কেবল কাসিম আল-মামুনী আস-সাবতী-এর (-৪৪৮) নাম উল্লিখিত হয়েছে। আর আমাদের আলোচিত এই গ্রন্থকার নিজেই তাঁর 'ফুরূক' গ্রন্থে তথ্য দিয়েছেন যে, তিনি শেখ আবু বকর আল-আভহারী-এর (-৩৭৫) নিকট অধ্যয়ন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ومن تواريخ الوفاة لهؤلاء نستنتج أن أبا الفضل مسلماً عاش في النصف الثاني من القرن الرابع هـ والنصف والأول من القرن الخامس هـ، ولا يُستبعد أنه وُلد في السنوات الأولى من النصف الثاني من القرن أو في نهاية العقد الأول منه، إذ بذلك يتأتى له الاستفادة من مجالس الأبهري ودروسه العالية، ونستنتج أيضاً أنه صحب القاضي عبد الوهاب في سن نضجه، وأنه تجاوز السبعين من العمر في تقديرنا.
العراق في عصرهفي عصر مسلم الدمشقي كانت الخلافة العباسية بالعراق على غاية من الضعف والانحلال، وكان الصراع على السلطة على أشده: فتن منتشرة وهرج ومرج، وصراع بين الفرس والأتراك، ومحن متلاحقة تنزل بالمسلمين، وتضعف شوكتهم (1). وفي هذا الجو السياسي المدلهم ظهرت مذاهب هدامة، زادت حدة التشتت، وذر قرن بدع يناوئ أصحابُها المتمسكين بالسنة، وازداد لهيب التطاحن المذهبي اشتعالاً.
مع كل ذلك كانت العراق تحتضن حركة علمية، وتشهد نشاط العلماء في مختلف الفنون، وكانت المذاهب الفقهية تتعايش ويثري أصحابها المكتبة الإسلامية بالمؤلفات الغزيرة القيمة.
والمذهب المالكي الذي يعتنقه مسلم الدمشقي هو أحد المذاهب السنية التي كانت إذ ذاك بالعراق تعارض المذاهب الشيعية وتناقش آراءها، وتصحح
--------------------------------------------
তাদের মৃত্যুর এই তারিখগুলো থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, আবুল ফজল মুসলিম চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ এবং পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর প্রথমার্ধে বসবাস করেছিলেন। এটি অসম্ভব নয় যে, তিনি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর বছরগুলোতে অথবা তার প্রথম দশকের শেষের দিকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন; কারণ এর মাধ্যমেই তাঁর পক্ষে আল-আভহারীর মজলিসসমূহ এবং তাঁর উচ্চতর পাঠদান থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব হয়েছিল। আমরা আরও এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, তিনি তাঁর পরিপক্ক বয়সে কাজী আব্দুল ওয়াহাব-এর সাহচর্য লাভ করেছিলেন এবং আমাদের অনুমান অনুযায়ী তিনি সত্তর বছর বয়স অতিক্রম করেছিলেন।
তাঁর যুগে ইরাকমুসলিম দামেস্কীর যুগে ইরাকে আব্বাসীয় খিলাফত অত্যন্ত দুর্বল ও পতনোন্মুখ অবস্থায় ছিল এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ছিল চরম পর্যায়ে: চারদিকে ছড়িয়ে পড়া ফেতনা, বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা, পারস্য ও তুর্কিদের মধ্যে সংঘাত এবং মুসলমানদের ওপর একের পর এক নেমে আসা বিপর্যয় তাদের শক্তিকে (১) দুর্বল করে দিয়েছিল। এই ঘোর অন্ধকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছু ধ্বংসাত্মক মতবাদের উদ্ভব ঘটেছিল যা বিভক্তিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। এমন কিছু বিদআত (بدع) প্রকাশ পেয়েছিল যার প্রবক্তারা সুন্নাহ (السنة) আঁকড়ে থাকা ব্যক্তিদের বিরোধিতা করত এবং মাযহাবী সংঘাতের লেলিহান শিখা আরও তীব্র হয়ে উঠেছিল।
এই সবকিছুর সত্ত্বেও ইরাক একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল ছিল এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে উলামায়ে কেরামের তৎপরতা প্রত্যক্ষ করছিল। সেখানে বিভিন্ন ফিকহী মাযহাব (المذاهب الفقهية) সহাবস্থান করত এবং সেগুলোর অনুসারীরা প্রচুর ও মূল্যবান রচনার মাধ্যমে ইসলামি পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করছিলেন।
আর মালেকি মাযহাব, যার অনুসারী ছিলেন মুসলিম দামেস্কী, ছিল তৎকালীন ইরাকের অন্যতম সুন্নি মাযহাব যা শিয়া মাযহাবগুলোর বিরোধিতা করত এবং তাদের মতামতের ওপর আলোচনা-পর্যালোচনা ও তার সংশোধন করত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الباطل من العقائد التي أعلنتها بعض الفرق، وتدحض زيف المغرضين والمبتدعة (1).
ظهور المذهب المالكي بالعراق وانتشارهابتدأ انتشار المذهب المالكي بالعراق على يد بعض تلاميذ الإمام مالك الذين شدوا رحالهم إلى المدينة المنورة للأخذ عن إمامها أمثال:
- أبي أيوب سليمان بن بلال قاضي بغداد (2) (-176).
- أبي عبد الرحمن عبد الله بن المبارك (3) (-181).
- أبي سعيد عبد الرحمن بن مهدي العنبري البصري المحدث (4) (-198).
- أبي العباس الوليد بن مسلم بن السائب الدمشقي (5) (-199).
- أبي زكريا يحيي بن يحيي بن بكير التميمي النيسابوري (6) (-226).
وفي القرن الثالث تواصل امتداد المذهب المالكي بالعراق بواسطة طلبته الذين أخذوا عن أصحاب مالك المدنيين، وعادوا بفمهه وبما رووا عنه من أحاديث لينشروها بالعراق، ومنهم أبو الفضل أحمد بن المعذل البصري (7).
--------------------------------------------
ভ্রান্ত আকিদা যা কিছু দল ঘোষণা করেছে, এবং তা কুচক্রী ও বিদআতি (المبتدعة) দের অসারতাকে খণ্ডন করে (১)।
ইরাকে মালিকি মাযহাবের উদ্ভব ও এর প্রসারইরাকে মালিকি মাযহাবের প্রসার শুরু হয়েছিল ইমাম মালিকের কিছু ছাত্রের হাত ধরে, যারা মদিনার ইমামের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে মদিনা মুনাওয়ারায় সফর করেছিলেন, যেমন:
- আবু আইয়ুব সুলায়মান বিন বিলাল, বাগদাদের বিচারক (২) (-১৭৬)।
- আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (৩) (-১৮১)।
- আবু সাঈদ আব্দুর রহমান বিন মাহদি আল-আনবারি আল-বাসরি, হাদিস বিশারদ (المحدث) (৪) (-১৯৮)।
- আবুল আব্বাস ওয়ালিদ বিন মুসলিম বিন সাইব আদ-দামেশকি (৫) (-১৯৯)।
- আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বিন বুকাইর আত-তামিমি আন-নিশাপুরি (৬) (-২২৬)।
এবং তৃতীয় শতাব্দীতে ইরাকে মালিকি মাযহাবের বিস্তার অব্যাহত থাকে তাঁর সেই ছাত্রদের মাধ্যমে যারা মদিনাবাসী ইমাম মালিকের সহচরদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। তারা তাঁর ফিকহ এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ ইরাকে প্রচার করার জন্য ফিরে আসেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবুল ফজল আহমদ বিন মুয়াজ্জাল আল-বাসরি (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিদ-দিমাশকী - ত আল-হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وفي هذا القرن لمع نجم أسرة عراقية مالكية أنجبت الكثير من الأعلام، وهي التي يقول عنها البرهان بن فرحون: "من أجل بيوت العلم بالعراق وأرفع مراتب السؤدد في الدين والدنيا، وهم نشروا هذا المذهب هناك، وعنهم اقتبس، فمنهم من أئمة الفقه ومشيخة الحديث عدة كلهم جلة، ورجال سنة، روي عنهم في أقطار الأرض، وانتشر ذكرهم ما بين المشرق والمغرب، وتردد العلم في طبقاتهم وبيتهم نحو ثلاثمائة عام، من زمن جدهم الإمام: حماد بن زيد وأخيه سعيد، ومولدهما في نحو المائة، إلى وفاة آخر من وصف منهم بعلم، وهو المعروف بابن أبي يعلى، ووفاته قرب أربعمائة" (1).
ومن مشاهير فقهاء هذه الأسرة المالكية بالعراق:
- أبو سيف يعقوب بن إسماعيل بن حماد (2) (-246).
- أبو إعاعيل حماد بن إسحاق البغدادي (-269) ألف كثيراً من الكتب، منها: المهادنة، والرد على الشافعي (3).
- القاضى أبو إسحاق إسماعيل بن إسحاق (- حوالي 284) أخو أبي إسماعيل
حماد المذكور. تفقه به أهل العراق من المالكية. يذكر أبو الوليد الباجي أنه لم يبلغ درجة الاجتهاد بعد مالك إلا القاضي إسماعيل (4)، وقد اشتهر بالرد على المخالفين من الشافعية والحنفية (5).
--------------------------------------------
এই শতাব্দীতে একটি ইরাকি মালিকি পরিবারের নক্ষত্র উদিত হয়, যারা বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের (أعلام) জন্ম দিয়েছে। তাঁদের সম্পর্কে বুরহান ইবনে ফারহুন বলেন: "ইরাকের ইলমি ঘরানাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং দ্বীন ও দুনিয়ার নেতৃত্বের মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের। তাঁরাই সেখানে এই মাযহাব প্রচার করেছেন এবং তাঁদের থেকেই তা গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ফিকহ শাস্ত্রের ইমাম এবং হাদিসের শায়খদের (مشيخة) এক বিশাল জামাত রয়েছে, যাঁরা সকলেই বরেণ্য এবং সুন্নাহর অনুসারী (رجال سنة)। পৃথিবীর প্রান্তরে প্রান্তরে তাঁদের থেকে বর্ণনা করা হয়েছে এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত তাঁদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে এবং তাঁদের পরিবারে প্রায় তিনশ বছর ইলমের আবর্তন ছিল—তাঁদের দাদা ইমাম হাম্মাদ ইবনে যায়েদ এবং তাঁর ভাই সাঈদের সময় (যাঁদের জন্ম হিজরি একশ সালের কাছাকাছি) থেকে শুরু করে তাঁদের মধ্যে ইলম দ্বারা গুণান্বিত সর্বশেষ ব্যক্তি, যিনি ইবন আবি ইয়ালা নামে পরিচিত এবং যাঁর মৃত্যু চারশ হিজরির কাছাকাছি সময়ে, তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত" (১)।
ইরাকের এই মালিকি পরিবারের প্রসিদ্ধ ফকিহদের মধ্যে রয়েছেন:
- আবু সাইফ ইয়াকুব ইবনে ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ (২) (-২৪৬)।
- আবু ইসমাইল হাম্মাদ ইবনে ইসহাক আল-বাগদাদি (-২৬৯)। তিনি অনেক কিতাব রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: আল-মুহাদানা এবং আর-রাদ্দ আলাশ শাফিয়ি (৩)।
- কাজি আবু ইসহাক ইসমাইল ইবনে ইসহাক (- প্রায় ২৮৪)। তিনি উল্লেখিত আবু ইসমাইল হাম্মাদের ভাই। ইরাকের মালিকি অনুসারীরা তাঁর নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেছেন। আবুল ওয়ালিদ আল-বাজি উল্লেখ করেন যে, ইমাম মালিকের পর কাজি ইসমাইল ব্যতীত আর কেউ ইজতিহাদের (اجتهاد) স্তরে পৌঁছাতে পারেননি (৪)। তিনি শাফিয়ি ও হানাফি মাযহাবের বিরোধীদের খণ্ডন করার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন (৫)।
--------------------------------------------