(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مذكرة أصول الفقه - الجامعة الإسلامية (-)
القسم: أصول الفقه
الكتاب: مُذَكِرَةُ أُصُولِ اَلْفِقْهِ
المؤلف: الجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية
الناشر: موقع الجامعة على الإنترنت
[الكتاب مرقم آليا]
عدد الصفحات: 63
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুজাক্কিরাহ উসুলুল ফিকহ - জামিয়া ইসলামিয়া (-)
বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
কিতাব: মুজাক্কিরাহ উসুলুল ফিকহ
লেখক: মদিনা মুনাওয়ারার জামিয়া ইসলামিয়া (ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়)
প্রকাশক: বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট
[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
مُذَكِرَةُ أُصُولِ اَلْفِقْهِالمرحلة الثانويةالجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية أصول الفقهاعلم أن أصول الفقه مركب من مضاف وهو كلمة "أصول " ومضاف إليه وهو كلمة "الفقه" ويسمى مركبا إضافياَ وقد أخذ هذا المركب الإِضافي فوضع علماً على العلم المعهود فينبغي تعريفه باعتبار كونه مركباً إضافيا وباعتبار كونه علما.أولًا تعريفه باعتبار كونه مركباً إضافياً1- كلمة أصول: الأصول جمع أصل والأصل في اللغة ما انبنى عليه غيره كالأساس أصل للسقف والجدار وكعروق الشجرة الثابتة في الأرض كما في قوله تعالى: {أصلها ثابت وفرعها في السماء} .وفي الاصطلاح يطلق الأصل على عدة معان منها:1- القاعدة العامة: كقولهم الأمر يقتضي الوجوب، يوضح ذلك قوله تعالى: {وما آتاكم الرسول فخذوه} فهذا أمر عام يقتضي وجوب الأخذ بكل ما آتانا الرسول العظيم من غير تعرض في هذه الآية بالذات إلى فرد من أفراد الأوامر التي وجهها إلينا رسول الله صلى الله عليه وسلم.2- الدليل، كقولك: أصل وجوب الصوم قوله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا كتب عليكم الصيام} أي دليله.2- كلمة الفقه: الفقه لغة الفهم ومنه قوله تعالى حكاية عن موسى {واحلل عقدة من لساني يفقهوا قولي} أي يفهموه.وفي الاصطلاح: العلم بالأحكام الشرعية التي طريقها الاجتهاد من أدلتها التفصيلية.فأصول الفقه إذاً: قواعده التي يبنى عليهاشرح تعريف الفقه:1- المراد بالعلم ما يشمل غلبة الظن كما في قوله تعالى {فإن علمتموهن مؤمنات} أي: ظننتموهن.2- المراد بالأحكام الشرعية: الوجوب والندب والحرمة والكراهة والإِباحة فيخرج بقيد الشرعية: الأحكام العقلية كالواحد نصف الاثنين؛ والحسية مثل كون الثلج بارداً، والعادية كنزول المطر بعد الرعد والبرق.
উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)-এর সংক্ষিপ্ত পাঠমাধ্যমিক স্তরমদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)জেনে রাখুন যে, উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) শব্দটি একটি সম্বন্ধযুক্ত যৌগিক শব্দ (مركب إضافي), যা মুদাফ (مضاف) অর্থাৎ 'উসুল' এবং মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) অর্থাৎ 'ফিকহ' শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। এই সম্বন্ধযুক্ত যৌগিক শব্দটিকে পরবর্তীতে একটি বিশেষ শাস্ত্রের নাম (علم) হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং একে সম্বন্ধযুক্ত যৌগিক শব্দ হিসেবে এবং একটি শাস্ত্রের নাম হিসেবে—উভয় দিক থেকেই সংজ্ঞায়িত করা প্রয়োজন।প্রথমত: সম্বন্ধযুক্ত যৌগিক শব্দ হিসেবে এর সংজ্ঞা১- উসুল শব্দ: 'উসুল' (أصول) শব্দটি 'আসল' (أصل)-এর বহুবচন। আভিধানিক অর্থে 'আসল' (أصل) হলো এমন বিষয় যার ওপর অন্য কিছু দাঁড়িয়ে থাকে; যেমন ঘরের ভিত্তি হলো ছাদ ও দেয়ালের আসল। তদ্রূপ মাটির গভীরে সুদৃঢ় গাছের শিকড়; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যার মূল (أصل) সুদৃঢ় এবং তার শাখা আকাশে বিস্তৃত।"পরিভাষায় 'আসল' (أصل) শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যথা:১- সাধারণ মূলনীতি (القاعدة العامة): যেমন ফকিহগণের উক্তি: 'নির্দেশ (আমর) আবশ্যকতা (وجوب) দাবি করে'। মহান আল্লাহর এই বাণী এর ব্যাখ্যা প্রদান করে: "রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো।" এটি একটি সাধারণ নির্দেশ যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যা কিছু প্রদান করেছেন তার প্রতিটি বিষয় গ্রহণ করার আবশ্যকতা (وجوب) প্রমাণ করে; যদিও এই আয়াতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে প্রদত্ত নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।২- দলিল (الدليل): যেমন আপনার উক্তি: সিয়াম বা রোজা ফরয হওয়ার 'আসল' (أصل) হলো মহান আল্লাহর বাণী: "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম বা রোজা ফরয করা হয়েছে।" অর্থাৎ এর দলিল (الدليل)।২- ফিকহ শব্দ: আভিধানিক অর্থে 'ফিকহ' হলো অনুধাবন বা বুঝা (الفهم)। যেমন মূসা (আ.)-এর কথা বর্ণনা করে মহান আল্লাহ বলেছেন: "এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে (يفقهوا)" অর্থাৎ অনুধাবন করতে পারে।পরিভাষায়: বিস্তারিত দলিল-প্রমাণাদি হতে ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর মাধ্যমে আহরিত শরয়ি বিধানসমূহের (الأحكام الشرعية) জ্ঞান।অতএব, উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) হলো: এর এমন কিছু মূলনীতি যার ওপর ভিত্তি করে ফিকহ শাস্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।ফিকহ-এর সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:১- এখানে 'জ্ঞান' (العلم) বলতে এমন বিষয়কে বোঝানো হয়েছে যা প্রবল ধারণা (غلبة الظن)-কেও অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "যদি তোমরা তাদের মুমিন বলে জানতে পার (علمتموهن)" অর্থাৎ প্রবল ধারণা পোষণ করো।২- শরয়ি বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) বলতে উদ্দেশ্য হলো: ওয়াজিব বা আবশ্যকতা (وجوب), মুস্তাহাব (ندب), হারাম বা নিষিদ্ধতা (حرمة), মাকরুহ বা অপছন্দনীয়তা (كراهة) এবং মুবাহ বা বৈধতা (إباحة)। 'শরয়ি' শর্তটি যুক্ত করার মাধ্যমে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সংজ্ঞার বহির্ভূত হয়ে যাবে: বুদ্ধিবৃত্তিক বিধান (الأحكام العقلية) - যেমন এক হলো দুইয়ের অর্ধেক; ইন্দ্রিয়জাত বিধান (الأحكام الحسية) - যেমন বরফ শীতল হওয়া; এবং স্বাভাবিক বিধান (الأحكام العادية) - যেমন মেঘের ডাক ও বিদ্যুৎ চমকানোর পর বৃষ্টি হওয়া।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
3- والمراد بالتي طريقها الاجتهاد: إخراج ما لا يصح فيه اجتهاد كمعرفة كون الصلاة والصيام واجبين، والزنا والسرقة محرمين لمعرفة ذلك من الدين بالضرورة.ثانياً تعريفه باعتبار كونه لقباً لهذا الفنهو علم يبحث عن أحوال أدلة الفقه الإِجمالية وطرق الاستفادة منها وحال المستفيد.شرح هذا التعريف:1- المراد بطرق الاستفادة: معرفة الترجيح عند التعارض مثلا.2- وبالإِجمالية: ما عدا التفصيلية، كالأمر يقتضي الوجوب والنهي يقتضي التحريم، والمطلق يحمل على المقيد والعام يخص بالمخصص، والقياس والإِجماع حجة.موضوعهوموضوع هذا الفن: الأدلة الموصلة إلى معرفة الفقه. وكيفية الاستدلال بها على الأحكام مع معرفة حال المستدل.فائدتهوفائدة هذا العلم هي: العلم بأحكام الله تعالى المتضمنة للفوز بسعادة الدارين.استمدادهويستمد هذا العلم من ثلاثة أشياء:1- علم أصول الدين- أي التوحيد- لتوقف الأدلة الشرعية على معرفة الباري جل وعلا، وصدق المبلغ عنه صلى الله عليه وسلم وهما مبينان فيه مقررة أدلتهما في مباحثه.2- علم اللغة العربية: لأن فهم الكتاب والسنة والاستدلال بهما متوقفان على معرفتها إذ هما عربيان.3- الأحكام الشرعية من حيث تصورها؛ لأن المقصود إثباتها أو نفيها وغير المتصور لها لا يتمكن من ذلك لأن الحكم على الشيء فرع عن تصوره.حكمهوحكم تعلم أصول الفقه وتعليمه فرض كفاية.الأحكام الشرعيةتقدم لك أن الفقه هو العلم بالأحكام الشرعية، وإليك فيما يلي بيان هذه الأحكام بإيجاز:تعريف الحكم:الحكم لغة: المنع، واصطلاحاً: مقتضى خطاب الله المتعلق بأفعال المكلفين.أقسام الحكم الشرعيوالأحكام الشرعية على قسمين:1- تكليفية 2- وضعية.فالحكم التكليفي: هو مقتضى خطاب الله تعالى المتعلق بأفعال المكلفين على جهة الاقتضاء أو التخيير.والحكم الوضعي: هو ما وضعه الشارع من أسباب وشروط وموانع تعرف عند وجودها أحكام الشرع من إثبات أو نفي.
৩- এবং যার পদ্ধতি হলো ইজতিহাদ (اجتهاد) বলতে উদ্দেশ্য হলো: এমন বিষয়গুলোকে বাদ দেওয়া যাতে ইজতিহাদ (اجتهاد) চলে না, যেমন সালাত ও সিয়াম যে ওয়াজিব (واجب), এবং ব্যভিচার ও চুরি যে হারাম (محرم) তা জানা; কারণ এগুলো দ্বীনের অকাট্যভাবে জ্ঞাত (ضرورة) বিষয়।দ্বিতীয়ত: এই শাস্ত্রের পারিভাষিক নাম হিসেবে এর সংজ্ঞাএটি এমন একটি ইলম যা ফিকহ শাস্ত্রের সামগ্রিক (إجمالي) দলিলসমূহ, সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং বিধান আহরণকারীর অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে।এই সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:১- বিধান আহরণের পদ্ধতি বলতে উদ্দেশ্য হলো: যেমন দলিলাদির মধ্যে বিরোধের (تعارض) সময় প্রাধান্য নিরূপণ (ترجيح) পদ্ধতি জানা।২- এবং সামগ্রিক (إجمالي) বলতে উদ্দেশ্য: বিস্তারিত (تفصيلي) দলিলসমূহ ব্যতিরেকে অন্যান্য দলিল; যেমন: আদেশ (أمر) তার আবশ্যকতা (وجوب) দাবি করে, আর নিষেধ (نهي) তার হারাম (تحريم) হওয়া দাবি করে। এবং নিঃশর্ত (مطلق) শব্দকে শর্তযুক্ত (مقيد) এর ওপর প্রয়োগ করা হবে, আর সাধারণ (عام) শব্দকে সুনির্দিষ্টকারী (مخصص) দ্বারা খাস করা হবে। এছাড়া কিয়াস (قياس) ও ইজমা (إجماع) হলো দলিল (حجة)।আলোচ্য বিষয়এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো: সেই সকল দলিল যা ফিকহী জ্ঞান অর্জনের পাথেয়; এবং বিধান আহরণকারীর অবস্থা জানার পাশাপাশি ঐ সকল দলিল থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি।উপকারিতাএই ইলমের উপকারিতা হলো: আল্লাহ তাআলার বিধানসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যা উভয় জগতের কল্যাণ ও সৌভাগ্য লাভের পাথেয়।উৎসসমূহএই ইলম তিনটি বিষয় থেকে সংগৃহীত হয়:১- ইলমে উসুলুদ দ্বীন—অর্থাৎ তাওহীদ—কারণ শরয়ী দলিলসমূহ মহান সৃষ্টিকর্তাকে জানা এবং তাঁর পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছানো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যতা জানার ওপর নির্ভরশীল। আর এই দুটি বিষয় উসুলুদ দ্বীন শাস্ত্রের পরিচ্ছেদে দালিলিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত।২- আরবি ভাষা তত্ত্ব: কারণ কুরআন ও সুন্নাহর মর্মার্থ বোঝা এবং তা থেকে দলিল গ্রহণ করা আরবি ভাষা জানার ওপর নির্ভরশীল; যেহেতু এই দুটি আরবি ভাষায় অবতীর্ণ।৩- শরয়ী আহকাম (الأحكام الشرعية) এর স্বরূপ অনুধাবনের ক্ষেত্রে; কারণ লক্ষ্য হলো তা সাব্যস্ত করা বা নাকচ করা। আর যার স্বরূপ জানা নেই তার পক্ষে তা সম্ভব নয়, কারণ কোনো বিষয় সম্পর্কে বিধান প্রদান করা সেই বিষয়ের সঠিক ধারণার ওপর নির্ভরশীল।বিধানউসুলুল ফিকহ শিক্ষা করা এবং শিক্ষা দেওয়া ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)।শরয়ী আহকামইতিপূর্বে আপনি জেনেছেন যে, ফিকহ হলো শরয়ী বিধানাবলি (الأحكام الشرعية) সংক্রান্ত জ্ঞান। নিচে এই বিধানসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:হুকুম-এর সংজ্ঞা:হুকুম (الحكم) আভিধানিকভাবে: ‘প্রতিবন্ধকতা’ বা ‘বিরত রাখা’। পরিভাষায়: মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সম্বোধনের দাবি।শরয়ী বিধানের প্রকারভেদশরয়ী বিধান দুই প্রকার:১- তাকলিফী (تكليفي) ২- ওয়াদঈ (وضعي)।হুকুম তাকলিফী (الحكم التكليفي): তা হলো মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে দাবি (আদেশ বা নিষেধ) বা ইচ্ছাধিকার হিসেবে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর বাণী।হুকুম ওয়াদঈ (الحكم الوضعي): তা হলো যা শারী’ (বিধানদাতা) কোনো কারণ (سبب), শর্ত (شرط) বা প্রতিবন্ধক (مانع) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির মাধ্যমে শরীয়তের বিধান সাব্যস্ত হওয়া বা নাকচ হওয়া সম্পর্কে জানা যায়।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
الفرق بين القسمين: والفرق بين التكليفية والوضعية هو: أن التكليفية كلف المخاطب بمقتضاها فعلا أو تركاً، وأما الوضعية فقد وضعت علامات للفعل أو الترك أو أوصافاً لهما.أقسام الحكم التكليفيينقسم الحكم التكليفي إلى خمسة أقسام: لأنه إما أن يكون بطلب فعل أو بطلب ترك، وكلاهما إما جازم أو غير جازم وإما أن يكون فيه تخيير بين الفعل والترك، وبيانها كالآتي:1- فالخطاب بطلب الفعل الجازم: إيجاب، ومتعلقه: واجب.2- والخطاب بطلب الفعل غير الجازم: ندب، ومتعلقه: مندوب.3- والخطاب بطلب الترك الجازم: تحريم، ومتعلقه: محرم.4- والخطاب بطلب الترك غير الجازم: كراهة، ومتعلقه: مكروه.5- والخطاب بالتخيير بين الفعل والترك: إباحة، ومتعلقه: مباح.تنبيه: جرى الأصوليون على عد المباح من أقسام الحكم التكليفي وفي ذلك تسامح إذ المباح لا تكليف فيه لاستواء طرفيه.الواجبالواجب في اللغة: اللازم والثابت قال الله تعالى: {فإذا وجبت جنوبها فكلوا منها} أي سقطت واستقرت على الأرض، وقال الشاعر:أطاعت بنو بكر أميراً نهاهموا عن السلم حتى كان أول واجبوفىِ الاصطلاح: هو ما يثاب فاعله امتثالا ويستحق تاركه العقاب.تقسيمات الواجبينقسم أولا بحسب فاعله إلى فرض عين وفرض كفاية لأنه:أ- إما أن يكون مطلوبا من كل فرد بعينه كالصلوات الخمس فهو فرض عين.ب- أو يكتفي فيه بفعل البعض كصلاة الجنازة فهو فرض كفاية.وذلك لأن الشارع لا ينظر إلى الأخير من حيث الفاعل بل من حيث وجود الفعل ممن كان هو.وثانيا: بحسب وقته المحدد له: إِلى مضيق وموسع لأنه:أ- إن كان الوقت المحدد لفعله بقدره فقط فمضيق. كوقت الصيام في رمضان فإن الصوم يستغرق ما بين طلوع الفجر إلى غروب الشمس فلا يمكن صيام نفل معه وكذلك آخر الوقت إذا لم يبق إلا ما تؤدى فيه الفريضة كقبيل طلوع الشمس بالنسبة إلى الصبح أو قبيل غرويها بالنسبة إلى العصر.
দুই প্রকারের মধ্যে পার্থক্য: বিধানমূলক (تكليفية) এবং সম্পর্কিত (وضعية) বিধানের মধ্যে পার্থক্য হলো: বিধানমূলক (تكليفية) বিধানে সম্বোধিত ব্যক্তিকে এর চাহিদা অনুযায়ী কোনো কাজ সম্পাদন বা বর্জনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, আর সম্পর্কিত (وضعية) বিধানে কোনো কাজের জন্য বা কাজ বর্জনের জন্য কিছু চিহ্ন অথবা বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা হয়।বিধানমূলক নির্দেশ (الحكم التكليفي)-এর প্রকারভেদবিধানমূলক নির্দেশ (الحكم التكليفي) পাঁচ প্রকারে বিভক্ত: কারণ এটি হয় কোনো কাজ করার তলব (দাবি) অথবা কাজ বর্জনের তলব হবে, আর এই উভয়টিই হয় সুদৃঢ় (جازم) অথবা অ-সুদৃঢ় (غير جازم) হবে, অথবা এতে কাজ করা ও বর্জনের মধ্যে পছন্দ করার স্বাধীনতা (تخيير) দেওয়া হবে। এগুলোর বিবরণ নিম্নরূপ:1- কাজ করার সুদৃঢ় তলব সম্বলিত সম্বোধন হলো: আবশ্যকতা (إيجاب), আর এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো: অবশ্য পালনীয় (واجب)।2- কাজ করার অ-সুদৃঢ় তলব সম্বলিত সম্বোধন হলো: সুপারিশ (ندب), আর এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো: পছন্দনীয় (مندوب)।3- কাজ বর্জনের সুদৃঢ় তলব সম্বলিত সম্বোধন হলো: নিষিদ্ধকরণ (تحريم), আর এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো: নিষিদ্ধ (محرم)।4- কাজ বর্জনের অ-সুদৃঢ় তলব সম্বলিত সম্বোধন হলো: অপছন্দনীয়তা (كراهة), আর এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো: অপছন্দনীয় (مكروه)।5- কাজ করা বা বর্জনের মধ্যে স্বাধীনতা সম্বলিত সম্বোধন হলো: বৈধতা (إباحة), আর এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো: বৈধ (مباح)।সতর্কতা: উসুলবিদগণ (الأصوليون) বৈধ (مباح)-কে বিধানমূলক নির্দেশ (الحكم التكليفي)-এর প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত করার রীতি অবলম্বন করেছেন; তবে এতে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে, যেহেতু বৈধ (مباح) কাজের ক্ষেত্রে উভয় দিক (করা বা না করা) সমান হওয়ার কারণে তাতে কোনো প্রকৃত দায়িত্বারোপ (تكليف) নেই।অবশ্য পালনীয় (واجب)শাব্দিক অর্থে অবশ্য পালনীয় (واجب): আবশ্যক এবং সুদৃঢ়। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর যখন তাদের পার্শ্বদেশ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে (وجبت), তখন তোমরা তা থেকে আহার করো} অর্থাৎ যখন তা পড়ে যায় এবং জমিনে স্থির হয়। কবি বলেন:বনু বকর এমন এক আমিরের আনুগত্য করল যে তাদের সন্ধি করতে নিষেধ করেছিল, যতক্ষণ না প্রথম পতন (واجب) সংঘটিত হলো।পারিভাষিক অর্থে: এটি এমন বিষয় যার সম্পাদনকারী আনুগত্যের উদ্দেশ্যে তা পালন করলে সওয়াব লাভ করে এবং বর্জনকারী শাস্তির উপযুক্ত হয়।অবশ্য পালনীয় (واجب)-এর প্রকারভেদএটি পালনকারীর বিবেচনায় প্রথমত ব্যক্তিগত আবশ্যকতা (فرض عين) এবং সামষ্টিক আবশ্যকতা (فرض كفاية)-তে বিভক্ত; কারণ:অ- হয় এটি প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট নির্দিষ্টভাবে চাওয়া হবে, যেমন: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ; এটি ব্যক্তিগত আবশ্যকতা (فرض عين)।আ- অথবা কয়েকজনের আদায়ের মাধ্যমেই তা যথেষ্ট হবে, যেমন: জানাজার নামাজ; এটি সামষ্টিক আবশ্যকতা (فرض كفاية)।এর কারণ হলো, শারি' (الشارع - বিধানদাতা) শেষোক্তটির ক্ষেত্রে পালনকারীর দিকে লক্ষ্য করেন না, বরং কার মাধ্যমে সম্পাদিত হলো তা নির্বিশেষে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার দিকে লক্ষ্য করেন।দ্বিতীয়ত: নির্ধারিত সময়ের বিবেচনায় এটি সংকীর্ণ (مضيق) এবং প্রশস্ত (موسع) এই দুই ভাগে বিভক্ত; কারণ:অ- যদি কাজটি সম্পাদনের জন্য নির্ধারিত সময় কেবল সেই কাজের পরিমাণের সমান হয়, তবে তা সংকীর্ণ (مضيق)। যেমন: রমজানের রোজার সময়; কেননা রোজা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পুরো সময়টি নিয়ে নেয়, ফলে এর সাথে অন্য কোনো নফল রোজা রাখা সম্ভব নয়। অনুরূপভাবে ওয়াক্তের শেষ সময়, যখন কেবল ফরজ নামাজ আদায়ের সময়টুকু অবশিষ্ট থাকে; যেমন: ফজরের ক্ষেত্রে সূর্যোদয়ের ঠিক পূর্বমুহূর্ত অথবা আসরের ক্ষেত্রে সূর্যাস্তের ঠিক পূর্বমুহূর্ত।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
ب- وإن كان يسعه ويسع غيره من جنسه معه فموسع كأوقات الصلوات الخمس فإن وقت كل صلاة يسعها ويسع غيرها معها من النوافل.وثالثاً: بحسب الفعل: إلى معين ومبهم لأنه:أ- إن كان الفعل مطلوباً بعينه لا يقوم غيره مقامه كالصلاة والصوم والحج ونحوها فمعين.ب- وإن كان الفعل مبهما في أشياء محصورة يجزي واحد منها كخصال الكفارة من عتق أو إطعام أو صوم فمبهم إذ الواجب واحد لا بعينه.المندوبالمندوب لغة: اسم مفعول من الندب وهو الدعاء إلى الفعل كما قال الشاعر:لايسألون أخاهم حين يندبهم في النائبات على ما قال برهاناوفي الاصطلاح: ما يثاب فاعله ولا يعاقب تاركه ويطلبه الشارع طلبا غير جازم.وهو مرادف للسنة والمستحب والتطوع.ومذهب الجمهور أن المندوب مأمور به، ومن أدلتهم قوله تعالى: {إن الله يأمر بالعدل والإِحسان وإيتاء ذي القربى} ، وقوله: {وأمر بالمعروف} وقوله: {وأمر بالعرف} ومن هذه الأشياء المأمور بها ما هو مندوب، ومنها: أن الأمر استدعاء وطلب والمندوب مستدعي ومطلوب. فيكون مأموراً به.المحظورالمحظور لغة: الممنوع، واصطلاحا: ما يثاب تاركه امتثالا ويستحق فاعله العقاب، كالزنا والسرقة وشرب الخمر والدخان وحلق اللحى ونحو ذلك، ويسمى محرماً ومعصية وذنبا وحجرا.المكروهالمكروه لغة: ضد المحبوب قال الله تعالى: {ولكن الله حبب إليكمٍ الِإيمان وزينه في قلوبكم وكره إليكم الكفر والفسوق والعصيان} ، واصطلاحا هو: ما يقتضي الثواب على تركه امتثالا لا العقاب على فعله كتقديم الرجل اليسرى عند دخول المسجد، واليمنى عند الخروج منه.المباحالمباح لغة: كل ما لا مانع دونه كما قيل:ولقد أبحنا ما حميـ ت ولا مبيح لما حميناوفي الاصطلاح هو: ما كان الخطاب فيه بالتخيير بين الفعل والترك فلم يثب على فعله ولم يعاقب على تركه كالأكل والنوم والاغتسال للتبرد ومحل ذلك ما لم تدخله النية فإن نوى بالمباح خيراً كان له به أجر.أقسام الحكم الوضعي
খ- আর যদি তা তার নিজের এবং নিজের সমজাতীয় অন্য আমলেরও সংকুলান করে, তবে তা প্রশস্ত (موسع); যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ওয়াক্তসমূহ। কেননা প্রতিটি নামাজের ওয়াক্ত সেই নামাজ এবং তার সাথে অন্যান্য নফল (نوافل) নামাজেরও অবকাশ রাখে।তৃতীয়ত: কাজের ধরন অনুযায়ী: নির্দিষ্ট (معين) এবং অনির্দিষ্ট (مبهم) ভাগে বিভক্ত। কারণ:ক- যদি কাজটি সুনির্দিষ্টভাবে কাম্য হয় এবং অন্য কিছু তার স্থলাভিষিক্ত না হয়, যেমন নামাজ, রোজা, হজ ইত্যাদি, তবে তা নির্দিষ্ট (معين)।খ- আর যদি কাজটি নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের মধ্যে অনির্দিষ্ট থাকে, যার যে কোনো একটি আদায় করলেই যথেষ্ট হয়, যেমন কাফফারার বিধানসমূহ: দাস মুক্তি, খাবার দান অথবা রোজা; তবে তা অনির্দিষ্ট (مبهم)। কেননা এখানে ওয়াজিব (واجب) হলো একটি, তবে তা নির্দিষ্ট নয়।মানদুব (المندوب)শাব্দিক অর্থে মানদুব (المندوب): এটি 'নাদব' (الندب) শব্দ থেকে নির্গত ইসমুল মাফউল, যার অর্থ কোনো কাজের প্রতি আহ্বান করা। যেমন কবি বলেছেন:"বিপদ-আপদে যখন সে তাদের আহ্বান করে, তখন তারা তার উচ্চারিত আহ্বানের সপক্ষে কোনো প্রমাণ বা যুক্তি চায় না।"পারিভাষিক অর্থে: যার সম্পাদনকারী সওয়াব লাভ করে এবং বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হয় না, আর শারিয়া প্রদানকারী তা পালনের জন্য অনির্বার্য নয় এমন তলব বা আবেদন করেছেন।এটি সুন্নাত (سنة), মুস্তাহাব (مستحب) এবং নফল (تطوع) কাজের সমার্থক।জমহুর উলামাদের মতে মানদুব (المندوب) হলো আদিষ্ট বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। তাদের দলিলসমূহের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ তায়ালার বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, ইহসান এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দিচ্ছেন", এবং তাঁর বাণী: "সৎকাজের আদেশ দাও" এবং "ভালো কাজের আদেশ দাও"। এই আদিষ্ট বিষয়গুলোর মধ্যে কিছু মানদুব (مندوب) রয়েছে। অন্য একটি দলিল হলো: আদেশ মানেই হলো কোনো কিছুর আহ্বান ও তলব করা, আর মানদুবও (مندوب) আহ্বানকৃত ও তলবকৃত বিষয়। অতএব, এটি আদিষ্ট বিষয় হিসেবে গণ্য হবে।নিষিদ্ধ (المحظور)শাব্দিক অর্থে নিষিদ্ধ (المحظور): বারণকৃত বা প্রতিহত। পারিভাষিক অর্থে: যা নির্দেশ পালনের নিয়তে বর্জনকারী সওয়াব লাভ করে এবং সম্পাদনকারী শাস্তির যোগ্য হয়; যেমন ব্যভিচার, চুরি, মদপান, ধূমপান, দাড়ি মুণ্ডানো ইত্যাদি। একে হারাম (محرم), পাপাচার (معصية), গুনাহ (ذنب) এবং বাধা (حجر) বলা হয়।মাকরূহ (المكروه)শাব্দিক অর্থে মাকরূহ (المكروه): পছন্দনীয়র বিপরীত। আল্লাহ তায়ালা বলেন: "কিন্তু আল্লাহ ঈমানকে তোমাদের কাছে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের হৃদয়ে সুشোভিত করেছেন; আর কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় (كره) করেছেন।" পারিভাষিক অর্থে: যা নির্দেশ পালনের নিয়তে বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু সম্পাদন করলে শাস্তি পেতে হয় না; যেমন মসজিদে প্রবেশের সময় বাম পা আগে দেওয়া এবং বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দেওয়া।মুবাহ (المباح)শাব্দিক অর্থে মুবাহ (المباح): যার সামনে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। যেমন বলা হয়েছে:"তুমি যা সংরক্ষিত রেখেছিলে আমরা তা উন্মুক্ত (أبحنا) করে দিয়েছি, অথচ আমাদের সংরক্ষিত বিষয় উন্মুক্ত করার কেউ নেই।"পারিভাষিক অর্থে: যাতে বিধান পালনের ক্ষেত্রে করা বা না করার ব্যাপারে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে; ফলে তা করলে সওয়াব নেই এবং বর্জন করলে শাস্তিও নেই; যেমন আহার করা, ঘুমানো এবং শীতল হওয়ার জন্য গোসল করা। এর কার্যকারিতা ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ এতে কোনো নিয়ত যুক্ত না হয়; যদি কেউ মুবাহ (مباح) কাজের মাধ্যমে কল্যাণের নিয়ত করে, তবে সে তার জন্য প্রতিদান পাবে।হুকুম ওয়াদয়ী (الحكم الوضعي) এর প্রকারভেদ
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
1- السببالسبب في اللغة ما توصل به إلى غيره، واصطلاحا: ما يلزم من وجوده الوجود ومن عدمه العدم لذاته كزوال الشمس فإنه سبب في وجوب صلاة الظهر وكملك النصاب فإنه سبب في وجوب الزكاة وكالولاء والنسب في الميراث.2- الشرطالشرط لغة: واحد الشروط مأخوذ من الشرط- بالتحريك- وواحد الأشراط والمراد به العلامة.وفي الاصطلاح: ما يلزم من عدمه العدم، ولا يلزم من وجوده وجود ولا عدم لذاته. كالطهارة مثلا فإنها شرط في صحة الصلاة فيلزم من عدم وجود الطهارة عدم وجود الصلاة الشرعية، ولا يلزم من وجود الطهارة وجود الصلاة، إذ قد يكون الإنسان متطهراً ويمتنع من فعل الصلاة.3- المانعالمانع في اللغة: الحاجز، واصطلاحاً: هو ما يلزم من وجوده العدم ولا يلزم من عدمه وجود ولا عدم لذاته، كالقتل في الميراث، والحيض في الصلاة، فإن وجد القتل امتنع الميراث، وإن وجد الحيض امتنعت الصلاة وقد ينعدمان ولا يلزم ميراث ولا صلاة، فهو بعكس الشرط إذ الشرط يتوقف وجود المشروط على وجوده، والمانع ينفى وجوده.ولكي يتبين لك الفرق بين السبب والشرط والمانع، أنظر في زكاة المال مثلا تجد سبب وجوبها وجود النصاب ويتوقف ذلك الوجوب على حولان الحول فهو شرط فيه، وإن وجد دين منع وجوبها فهو مانع لذلك الوجوب على القول بأن الدين مانع. الصحيح والفاسدالصحيح لغة: ضد السقيم، وفي الاصطلاح: ما يتعلق به اعتداد في العبادات، ونفوذ في المعاملات، كأن تقع الصلاة مثلا مستوفاة شروطها تامة أركانها مع انتفاء الموانع ولو في اعتقاد الفاعل وكذلك البيع يقع من جائز التصرف على مباح مقدور على تسليمه مملوك في نفس الأمر، فلو باع ما يظن أنه ملك غيره فبان أنه ملكه صح البيع، إذ المعاملات مبناها على ما في نفس الأمر والعبادات على ما في اعتقاد الفاعل.
১- কারণ (السبب)শাব্দিক অর্থে কারণ (السبب) হলো এমন বিষয় যা অন্য কোনো কিছুর কাছে পৌঁছার মাধ্যম হয়। আর পরিভাষায়: যার অস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব আবশ্যক হয় এবং যার অনুপস্থিতি থেকে অনুপস্থিতি আবশ্যক হয় তার নিজস্ব সত্তার কারণে। যেমন সূর্যের ঢলে পড়া; এটি জোহরের সালাত ওয়াজিব হওয়ার কারণ (السبب)। যেমন নিসাবের মালিক হওয়া; এটি জাকাত ওয়াজিব হওয়ার কারণ (السبب)। আর যেমন উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ‘ওয়ালা’ (মালিকানা বা বন্ধুত্ব) এবং বংশীয় সম্পর্ক।২- শর্ত (الشرط)শাব্দিক অর্থে: ‘শর্ত’ হলো ‘শুরুত’ (শর্তসমূহ)-এর একবচন যা ‘শারাত’—হরকতযুক্ত অবস্থায়—থেকে গৃহীত, যা ‘আশরাত’-এর একবচন এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিদর্শন বা চিহ্ন।আর পরিভাষায়: যার অনুপস্থিতি থেকে অনুপস্থিতি আবশ্যক হয়, কিন্তু যার অস্তিত্ব থেকে তার নিজস্ব সত্তার কারণে অস্তিত্ব বা অনুপস্থিতি কোনোটিই আবশ্যক হয় না। যেমন পবিত্রতা অর্জন; এটি সালাত সঠিক (الصحيح) হওয়ার জন্য একটি শর্ত (الشرط)। সুতরাং পবিত্রতার অনুপস্থিতি থেকে শরয়ি সালাতের অনুপস্থিতি আবশ্যক হয়, কিন্তু পবিত্রতা থাকলেই সালাত থাকা আবশ্যক হয় না; কেননা একজন ব্যক্তি পবিত্র থাকা সত্ত্বেও সালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকতে পারে।৩- প্রতিবন্ধক (المانع)শাব্দিক অর্থে প্রতিবন্ধক (المانع) হলো অন্তরায় বা বাধা। পরিভাষায়: এটি এমন বিষয় যার অস্তিত্ব থেকে অনুপস্থিতি আবশ্যক হয়, কিন্তু যার অনুপস্থিতি থেকে তার নিজস্ব সত্তার কারণে অস্তিত্ব বা অনুপস্থিতি কোনোটিই আবশ্যক হয় না। যেমন উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে হত্যা এবং সালাতের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব। সুতরাং যদি হত্যার উপস্থিতি থাকে তবে উত্তরাধিকার রহিত হয়, আর যদি ঋতুস্রাবের উপস্থিতি থাকে তবে সালাত রহিত হয়। অথচ এই উভয়টি না থাকলেও উত্তরাধিকার বা সালাত থাকা আবশ্যক হয় না। সুতরাং এটি শর্তের (الشرط) বিপরীত; কেননা শর্তের (الشرط) ক্ষেত্রে শর্তযুক্ত বিষয়ের অস্তিত্ব তার অস্তিত্বের ওপর নির্ভর করে, আর প্রতিবন্ধক (المانع) তার অস্তিত্বকে নাকচ করে দেয়।আপনার নিকট কারণ (السبب), শর্ত (الشرط) এবং প্রতিবন্ধকের (المانع) মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হওয়ার জন্য মালের জাকাতের দিকে লক্ষ্য করুন। আপনি দেখবেন যে তা ওয়াজিব হওয়ার কারণ (السبب) হলো নিসাব পরিমাণ মাল থাকা। আর এই ওয়াজিব হওয়া নির্ভর করে বছর অতিবাহিত হওয়ার ওপর, যা এর জন্য একটি শর্ত (الشرط)। আর যদি ঋণ থাকে তবে তা ওয়াজিব হওয়াকে বাধা দেয়, সুতরাং ঋণ হলো সেই ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক (المانع)—এই মতানুসারে যে ঋণ একটি প্রতিবন্ধক (المانع)। সঠিক (الصحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (الفاسد)শাব্দিক অর্থে সঠিক (الصحيح) হলো অসুস্থের বিপরীত। পরিভাষায়: ইবাদতের ক্ষেত্রে যার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে যার কার্যকারিতা রয়েছে। যেমন উদাহরণস্বরূপ সালাত তার শর্তসমূহ (الشروط) পূরণ করে এবং রুকনসমূহ পূর্ণাঙ্গ করে প্রতিবন্ধকসমূহ (الموانع) মুক্ত হয়ে আদায় হওয়া, যদিও তা আদায়কারীর বিশ্বাসের নিরিখে হয়। একইভাবে লেনদেনের ক্ষেত্রে ক্রয়-বিক্রয় এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হওয়া যার লেনদেনের অধিকার রয়েছে, এবং তা এমন বৈধ বস্তুর ওপর হওয়া যা হস্তান্তরে সক্ষম এবং প্রকৃতপক্ষেই মালিকানাধীন। সুতরাং কেউ যদি এমন কিছু বিক্রি করে যা সে অন্যের মালিকানা মনে করেছিল কিন্তু পরে প্রকাশ পেল যে তা তারই মালিকানা, তবে সেই ক্রয়-বিক্রয় সঠিক (الصحيح) হবে। কারণ লেনদেনের ভিত্তি হলো প্রকৃত অবস্থার ওপর আর ইবাদতের ভিত্তি হলো আদায়কারীর বিশ্বাসের ওপর।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
والفاسد لغة: المختل، وفي الاصطلاح: ما لا اعتداد به في العبادات كإيقاع الصلاة المفروضة قبل دخول وقتها، ولا نفوذ له في المعاملات كبيع مالا يملك مثلا.ويرادفه الباطل إلا عند أبي حنيفة فيغاير بينهما، إذ الفاسد عنده ما شرع بأصله ومنع بوصفه كبيع مد قمح بمد قمحِ ودرهم، فبيع مد بمد صحيح مشروع بأصله فلو رفع الدرهم صح البيع نظرا إلى أصل مشروعيته.الرخصة والعزيمةالعزيمة لغة: القصد المؤكد.واصطلاحاً: الحكم الثابت بدليل شرعي خال من معارض راجح كتحريم الزنا في المنهيات ووجوب الصلاة في المأمورات.والرخصة لغة: اللين والسهولة يقال شيء رخص: أي لين.واصطلاحاً: ما ثبت على خلاف دليل شرعي لمعارض راجح، كتيمم المريض لمرضه مع وجود الماء وأكل الميتة عند الاضطرار.فالتيمم ثبت على خلاف دليل شرعي وهو قوله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا إذا قمتم إلى الصلاة فاغسلوا وجوهكم} الآية. لمعارض راجح وهو قوله تعالى: {وإن كنتم مرضى أو على سفر} الآية. وكذلك أكل المضطر للميتة على خلاف دليل شرعي هو قوله تعالى: {حرمت عليكم الميتة} وقد أجيز لدليل راجح عليه وهو قوله تعالى: {فمن اضطر في مخمصة} الآية. فدفعه بأكل الميتة عن نفسه الجوع المفضي إلى الهلاك أرجح بلا شك من مطلق تضرره بخبثها. أقسام اللفظ من حيث الدلالةاللفظ من حيث هو دال على المعنى له حالات:1- ألا يحتمل إلا معنى واحدا كقوله تعالى: {تلك عشرة كاملة} .وقوله: {فتم ميقات ربه أربعين ليلة} ومثل هذا يسمى "نصاً" مأخوذ من منصة العروس ومعناه في اللغة الرفع.2- أن يحتمل أكثر من معنى على السواء كما في "قرء وعين "ويسمى "مجملا".3- أن يحتمل أكثر من معنى ولكنه في أحدها أرجح منه في غيره فالراجح يسمى "ظاهراً ". كقولك "رأيت اليوم أسداً " فهو محتمل للحيوان المفترس وللرجل الشجاع ولكنه في الأول أرجح.
ফাসিদ (فاسد) এর আভিধানিক অর্থ: ত্রুটিযুক্ত বা বিশৃঙ্খল। আর পরিভাষায়: ইবাদতের ক্ষেত্রে এমন বিষয় যা ধর্তব্য নয়, যেমন ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে ফরজ সালাত আদায় করা; আর লেনদেনের ক্ষেত্রে যার কোনো কার্যকারিতা নেই, যেমন মালিকানাধীন নয় এমন কোনো বস্তু বিক্রি করা।এটি বাতিল (باطل) এর সমার্থক, তবে ইমাম আবু হানিফার নিকট এই দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাঁর মতে, ফাসিদ (فاسد) হলো যা মূলত শরিয়তসম্মত কিন্তু এর গুণ বা বৈশিষ্ট্যের কারণে নিষিদ্ধ, যেমন এক মুদ গমের বিনিময়ে এক মুদ গম ও এক দিরহাম বিক্রি করা। এখানে এক মুদ গমের বিনিময়ে এক মুদ গম বিক্রয় করা মূলত বৈধ (صحيح) ও শরিয়তসম্মত, তাই যদি দিরহামটি সরিয়ে ফেলা হয় তবে এর মূল বৈধতার দিকে লক্ষ্য রেখে বিক্রয়টি সঠিক হবে।রুখসত (رخصة) ও আজিমত (عزيمة)আজিমত (عزيمة) এর আভিধানিক অর্থ: দৃঢ় সংকল্প।আর পরিভাষায়: এমন বিধান যা কোনো প্রবল বিরোধী প্রমাণ ছাড়াই শরয়ি দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে, যেমন নিষেধের ক্ষেত্রে ব্যভিচার হারাম হওয়া এবং আদেশের ক্ষেত্রে সালাত ওয়াজিব হওয়া।রুখসত (رخصة) এর আভিধানিক অর্থ: নমনীয়তা ও সহজতা। বলা হয় কোনো বস্তু 'রুখস' অর্থাৎ তা নরম বা কোমল।আর পরিভাষায়: যা কোনো প্রবল বিরোধী কারণবশত শরয়ি দলিলের বিপরীতে সাব্যস্ত হয়েছে। যেমন পানি থাকা সত্ত্বেও অসুস্থতার কারণে অসুস্থ ব্যক্তির তায়াম্মুম করা এবং নিরুপায় অবস্থায় মৃত প্রাণী ভক্ষণ করা।সুতরাং তায়াম্মুম শরয়ি দলিলের বিপরীতে সাব্যস্ত হয়েছে, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য দন্ডায়মান হও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো..." (আয়াত)। এটি একটি প্রবল বিরোধী প্রমাণের ভিত্তিতে হয়েছে, যা মহান আল্লাহর এই বাণী: "আর যদি তোমরা অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাকো..." (আয়াত)। অনুরূপভাবে, নিরুপায় ব্যক্তির মৃত প্রাণী ভক্ষণ করাও শরয়ি দলিলের পরিপন্থী, যা মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের জন্য মৃত প্রাণী হারাম করা হয়েছে"। তবে এটি একটি প্রবল দলিলের ভিত্তিতে বৈধ করা হয়েছে যা মহান আল্লাহর বাণী: "তবে যে ব্যক্তি তীব্র ক্ষুধায় নিরুপায় হয়ে পড়ে..." (আয়াত)। সুতরাং মৃত প্রাণী ভক্ষণের মাধ্যমে নিজের জীবন থেকে ধ্বংসাত্মক ক্ষুধাকে নিবারণ করা নিঃসন্দেহে মৃত প্রাণীর অপবিত্রতা জনিত সাধারণ ক্ষতির চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য। নির্দেশনার দিক থেকে শব্দের প্রকারভেদঅর্থের নির্দেশক হিসেবে শব্দের কয়েকটি অবস্থা রয়েছে:1- শব্দটি কেবল একটিই অর্থ প্রকাশ করবে, যাতে অন্য কোনো অর্থের সম্ভাবনা থাকবে না। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এগুলো পূর্ণ দশটি"।এবং আল্লাহর বাণী: "এভাবে তার রবের নির্ধারিত সময় চল্লিশ রাতে পূর্ণ হলো"। এই জাতীয় শব্দকে "নস" (نص) বলা হয়। এটি কনের বসার আসন (মিনাসসা) থেকে গৃহীত এবং এর আভিধানিক অর্থ হলো উচ্চ করা।2- সমভাবে একাধিক অর্থের সম্ভাবনা রাখা, যেমন 'কুরু' এবং 'আইন' শব্দ। একে "মুজমাল" (مجمل) বলা হয়।3- একাধিক অর্থের সম্ভাবনা রাখা, তবে একটি অর্থ অন্যটির তুলনায় অধিক প্রবল হওয়া। সেক্ষেত্রে প্রবল অর্থটিকে "জহির" (ظاهر) বলা হয়। যেমন আপনার কথা "আজ আমি একটি সিংহ দেখেছি"; এখানে হিংস্র প্রাণী এবং সাহসী মানুষ—উভয় অর্থেরই সম্ভাবনা রয়েছে, তবে প্রথম অর্থটিই অধিক প্রবল।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
4- وإن حمل على المعنى المرجوح فهو المؤول كحمل لفظ "الأسد" على الرجل الشجاع كما في المثال السابق. ولابد في حمله على المعنى المرجوح من قرينة وإلا كان باطلا.ووجه الحصر في هذه الأقسام: أن اللفظ إما أن يحتمل معنى واحداً فقط أو أكثر فالأول النص، والثاني إما أن يكون في أحد المعنيين أو المعاني أظهر منه في غيره أولا بأن يكون على السواء فالأول الظاهر ومقابله المؤول والثاني المجمل.حكم هذه الأقسام1- لا يعدل عن النص إلا بنسخ.2- لا يعمل بالمجمل إلا بعد البيان.3- لا يترك الظاهر وينتقل إلى المؤول إلا لقرينة قوية تجعل الجانب المرجوح راجحاً.مثاله: لفظ " الجار" في حديث " الجار أحق بصقبه " فإنه راجح في المجاور مرجوح في الشريك فحمله الحنابلة على الشريك مع أنه مرجوح لقرينة قوية وهي قوله صلى الله عليه وسلم: "فإذا ضربت الحدود وصرفت الطرق فلا شفعة " فقالوا: لا ضرب لحدود ولا صرف لطرق إلا في الشركة أما الجيران فكل على حدوده وطرقه، ولهذا قالوا: لا شفعة لجار.المجمل والمبين(1) المجملتعريفه: أ- لغة: هو ما جمع وجملة الشيء مجموعه كجملة الحساب.ب- واصطلاحاً: ما احتمل معنيين أو أكثر من غير ترجح لأحدهما أو أحدها على غيره.الأمثلة: من ذلك لفظ القرء، فهو متردد بين معنيين على السواء: الطهر والحيض بدون ترجح لأحدهما على الآخر ولهذا التردد وقع الخلاف في المراد بالقرء في قوله تعالى: {والمطلقات يتربصن بأنفسهن ثلاثة قروء} فحمله الشافعي ومالك على الطهر، وأبو حنيفة وأحمد حملاه على "الحيض ".أنواع الإجمالقد يكون الإجمال في مركب أو مفرد، والمفرد يكون اسماً أو فعلاً أو حرفاً، وقد يكون لاختلاف في تقدير حرف محذوف.الأمثلة: 1- الإجمال في المركب كقوله تعالى: {إلا أن يعفون أو يعفو الذي بيده عقدة النكاح} . لاحتمال أن يكون الزوج وأن يكون الولي. ولذا حمله أحمد والشافعي على الزوج؛ وحمله مالك على الولي.
4- আর যদি শব্দটিকে কম গ্রহণযোগ্য (المرجوح) অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে তাকে ব্যাখ্যাকৃত (المؤول) বলা হয়। যেমন পূর্বের উদাহরণে "সিংহ" শব্দটিকে একজন সাহসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা। তবে কোনো শব্দকে কম গ্রহণযোগ্য (المرجوح) অর্থের ওপর প্রয়োগ করার জন্য অবশ্যই একটি লক্ষণা বা ইঙ্গিত (قرينة) থাকতে হবে, অন্যথায় তা বাতিল বলে গণ্য হবে।এই বিভাগগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণ হলো: শব্দ হয় একটি মাত্র অর্থ প্রকাশ করবে অথবা একাধিক অর্থ। প্রথমটি হলো অকাট্য পাঠ (النص)। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে হয় কোনো একটি অর্থ অন্য অর্থগুলোর তুলনায় অধিকতর স্পষ্ট হবে, নতুবা উভয়টি সমান হবে। প্রথমটি হলো স্পষ্টার্থবোধক (الظاهر) এবং এর বিপরীতটি হলো ব্যাখ্যাকৃত (المؤول); আর দ্বিতীয়টি হলো অস্পষ্ট বা সংক্ষিপ্ত (المجمل)।এই বিভাগসমূহের বিধান1- রহিতকরণ (النسخ) ব্যতীত অকাট্য পাঠ (النص) থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না।2- ব্যাখ্যা (البيان) প্রাপ্তি ব্যতীত অস্পষ্ট বা সংক্ষিপ্ত (المجمل) শব্দের ওপর আমল করা যাবে না।3- কোনো শক্তিশালী লক্ষণা বা ইঙ্গিত (قرينة) ব্যতিরেকে স্পষ্টার্থবোধক (الظاهر) অর্থ ত্যাগ করে ব্যাখ্যাকৃত (المؤول) অর্থের দিকে যাওয়া যাবে না, যা কম গ্রহণযোগ্য (المرجوح) দিকটিকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (الراجح) দিকে পরিণত করে।এর উদাহরণ: হাদিসের মধ্যে ব্যবহৃত "প্রতিবেশী" শব্দটি। হাদিসটি হলো: "প্রতিবেশী তার হকের ক্ষেত্রে বেশি নিকটবর্তী।" এই শব্দটি পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (الراجح) এবং অংশীদারের ক্ষেত্রে কম গ্রহণযোগ্য (المرجوح)। তা সত্ত্বেও হাম্বলি মাযহাবের ইমামগণ একে অংশীদারের ওপর প্রয়োগ করেছেন শক্তিশালী একটি লক্ষণা বা ইঙ্গিতের (قرينة) কারণে। আর সেটি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যখন সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং পথ পৃথক করে দেয়া হয়, তখন আর শুফআ (অগ্রক্রয়াধিকার) থাকে না।" তারা বলেন: সীমানা নির্ধারণ ও পথ পৃথকীকরণ কেবল অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেই সম্ভব। পক্ষান্তরে সাধারণ প্রতিবেশীদের প্রত্যেকের সীমানা ও পথ পৃথকই থাকে। এজন্য তারা বলেন: সাধারণ প্রতিবেশীর জন্য কোনো শুফআ নেই।অস্পষ্ট (المجمل) ও স্পষ্ট (المبين)(1) অস্পষ্ট বা সংক্ষিপ্ত (المجمل)এর সংজ্ঞা: ক- শাব্দিক অর্থ: এটি কোনো কিছুকে একত্রিত করা বুঝায়। যেমন কোনো জিনিসের সমষ্টি বা যোগফলকে 'জুমলা' বলা হয়।খ- পারিভাষিক অর্থ: যা দুই বা ততোধিক অর্থ প্রকাশ করে কিন্তু কোনো একটি অর্থকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য বা অগ্রাধিকার (الترجح) প্রদান করা যায় না।উদাহরণ: যেমন "কুরু" (القرء) শব্দটি। এটি পবিত্রতা ও ঋতুস্রাব—এই দুই অর্থের মধ্যে সমানভাবে দ্বিধাগ্রস্ত, যার একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য (الترجح) দেওয়া যায় না। এই দোদুল্যমানতার কারণেই মহান আল্লাহর বাণী: "আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ তিন 'কুরু' পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে" এতে 'কুরু' এর উদ্দেশ্য নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। ইমাম শাফেয়ী ও মালেক একে পবিত্রতা অর্থে গ্রহণ করেছেন, আর ইমাম আবু হানিফা ও আহমদ একে "ঋতুস্রাব" অর্থে গ্রহণ করেছেন।অস্পষ্টতার (الإجمال) প্রকারভেদঅস্পষ্টতা (الإجمال) কখনো যৌগিক বাক্যে হয় আবার কখনো একক শব্দে। একক শব্দটি বিশেষ্য, ক্রিয়া বা অব্যয় হতে পারে। আবার কখনো বিলুপ্ত কোনো বর্ণ বা শব্দ উহ্য ধরার পার্থক্যের কারণেও অস্পষ্টতা হতে পারে।উদাহরণ: ১- যৌগিক বাক্যে অস্পষ্টতা (الإجمال), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তবে যদি তারা ক্ষমা করে দেয় অথবা সে ব্যক্তি ক্ষমা করে দেয় যার হাতে বিয়ের বন্ধন রয়েছে।" এখানে বিয়ের বন্ধন যার হাতে—তিনি স্বামী হতে পারেন আবার অভিভাবকও হতে পারেন। একারণে ইমাম আহমদ ও শাফেয়ী একে স্বামী অর্থে গ্রহণ করেছেন এবং ইমাম মালেক একে অভিভাবক অর্থে গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
2- الإِجمال في المفرد:أ- الإجمال في الاسم: تقدم منه لفظ "القرء" ومثله لفظ "العين " للجارحة والجارية والنقد.ب- الإِجمال في الفعل: كقوله تعالى: {والليل إذا عسعس} لتردده بين أقبل وأدبر.جـ- الإِجمال في الحرف: كقوله تعالى: {فامسحوا بوجوهكم وأيديكم منه} لاحتمال من للتبعيض ولابتداء الغاية ولذا حمله أحمد والشافعي على الأول، وحمله مالك وأبو حنيفة على الثاني.3- الإِجمال بسبب الخلاف في تقدير الحرف المحذوف كقوله تعالى: {وترغبون أن تنكحوهن} . لأن الحرف المقدر بعد ترغبون يحتمل أن يكون " في " أي ترغبون في نكاحهن لجمالهن، ويحتمل أن يكون "عن " أي ترغبون عن نكاحهن لفقرهن ودمامتهن.العمل في المجمل: ينظر أولاً هل هناك قرائن أو مرجحات لأحد المعاني أولا فإن وجدت عمل بها، وإلا ترك الاستدلال به ولذا قيل: إذا وجد الاحتمال بطل الاستدلال.(نصوص ليست مجملة)ا- التحريم المضاف إلى الأعيان كقوله تعالى: {حرمت عليِكم أمهاتكم} وقوله: {حرمت عليكم الميتة} ليست بمجمل لظهوره عرفاَ في النكاح في الأول، وفي الأكل في الثاني.2- قوله تعالى: {وامسحوا برؤوسكم} ليس بمجمل بل هو ظاهر في مسح جميع الرأس لأن الرأس اسم للكل لا للبعض.3- قوله صلى الله عليه وسلم: "رفع عن أمتي الخطأ والنسيان " ليس بمجمل إذ المراد به رفع المؤاخذة لأن ذات اخطأ والنسيان، غير مرفوعة. وضمان المتلف خطأ أو نسياناً غير مرفوع إجماعاً فلم يبق إلا رفع المؤاخذة.4- قوله صلى الله عليه وسلم: "لا صلاة إلا بطهور"، "لا نكاح إلا بولي"، "لا صيام لمن لم يبيت الصيامِ من الليل" ونحو ذلك ليس بمجمل لأن المراد نفي الصحة والاعتداد شرعا.5- قوله صلى الله عليه وسلم: "لا عمل إلا بنية" ليس بمجمل لأن العمل:أ - إن كان عبادة فالمراد فيه الصحة والاعتداد شرعاً.
২- একক শব্দের মধ্যে সংক্ষিপ্ততা (إجمال):ক- বিশেষ্যের মধ্যে সংক্ষিপ্ততা (إجمال): ইতিপূর্বে "আল-কুর'" (القرء) শব্দটি অতিবাহিত হয়েছে। অনুরূপ "আল-আইন" (العين) শব্দটিও; যা চাক্ষুষ অঙ্গ, ঝরণা এবং নগদ অর্থ বা মুদ্রার জন্য ব্যবহৃত হয়।খ- ক্রিয়ার মধ্যে সংক্ষিপ্ততা (إجمال): যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {শপথ রজনীর, যখন তা অবতীর্ণ হয় অথবা অপসৃত হয়}; কারণ ‘আসা’ এবং ‘যাওয়া’—উভয় অর্থেই শব্দটির ব্যবহারের অবকাশ রয়েছে।গ- অব্যয়ের মধ্যে সংক্ষিপ্ততা (إجمال): যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত তা দিয়ে (منه) মাসেহ করো}; কারণ এখানে ‘মিন’ (من) অব্যয়টি অংশবাচকতা (تبعيض) অথবা সীমানার সূচনা নির্দেশ করার সম্ভাবনা রাখে। এই কারণেই ইমাম আহমদ ও শাফেয়ী একে প্রথম অর্থের (অংশবাচকতা) ওপর প্রয়োগ করেছেন, আর ইমাম মালিক ও আবু হানিফা একে দ্বিতীয় অর্থের (সীমানার সূচনা) ওপর প্রয়োগ করেছেন।৩- উহ্য অব্যয়ের অনুমানের পার্থক্যের কারণে সংক্ষিপ্ততা (إجمال): যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা তাদের বিবাহ করতে আগ্রহী হও}। কারণ ‘তারগাবূনা’ শব্দের পর উহ্য অব্যয়টি ‘ফী’ (في) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, অর্থাৎ তোমরা তাদের সৌন্দর্যের কারণে তাদের বিবাহে আগ্রহী হও; আবার ‘আন’ (عن) হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, অর্থাৎ তোমরা তাদের দারিদ্র্য ও কুশ্রীতার কারণে তাদের বিবাহে অনাগ্রহী হও।সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের ওপর আমল: প্রথমে দেখতে হবে যে, কোনো একটি অর্থের পক্ষে কোনো দলীল বা অগ্রাধিকার প্রদানকারী বিষয় আছে কি না; যদি পাওয়া যায় তবে সে অনুযায়ী আমল করা হবে। অন্যথায় এর মাধ্যমে দলীল হিসেবে গ্রহণ (الاستدلال) বর্জন করা হবে। এই জন্যই বলা হয়েছে: "যখন একাধিক সম্ভাবনা উপস্থিত হয়, তখন দলীল হিসেবে গ্রহণ (الاستدلال) বাতিল হয়ে যায়।"(যেসব বর্ণনা সংক্ষিপ্ত (مجمل) নয়)ক- সত্তার সাথে সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা: যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের ওপর তোমাদের মাতাদের হারাম করা হয়েছে} এবং তাঁর বাণী: {তোমাদের ওপর মৃত প্রাণীকে হারাম করা হয়েছে}। এগুলো সংক্ষিপ্ত (مجمل) নয়, কারণ প্রথাগতভাবে প্রথমটিতে বিবাহ এবং দ্বিতীয়টিতে আহার করা নিষিদ্ধ হওয়া সুস্পষ্ট (ظاهر)।২- মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তোমাদের মাথা মাসেহ করো}। এটি সংক্ষিপ্ত (مجمل) নয়, বরং এটি পুরো মাথা মাসেহ করার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট (ظاهر); কারণ ‘মাথা’ শব্দটি পূর্ণাঙ্গ সত্তার নাম, কোনো আংশিক বিষয়ের নয়।৩- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমার উম্মতের ভুল ও বিস্মৃতি ক্ষমা করা হয়েছে।" এটি সংক্ষিপ্ত (مجمل) নয়, কারণ এখানে উদ্দেশ্য হলো পাকড়াও বা গুনাহ তুলে নেওয়া; যেহেতু ভুল ও বিস্মৃতি সরাসরি রহিত হয়ে যায় না। আর ভুলবশত বা বিস্মৃতিবশত কোনো সম্পদ বিনষ্ট করলে তার ক্ষতিপূরণ প্রদান করার বিধান রহিত না হওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) রয়েছে। সুতরাং এখানে কেবল পরকালীন জবাবদিহিতা বা গুনাহ তুলে নেওয়া ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না।৪- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "পবিত্রতা ব্যতীত কোনো সালাত নেই", "অভিভাবক ব্যতীত কোনো বিবাহ নেই", "যে ব্যক্তি রাতের বেলা সিয়ামের নিয়ত করেনি তার কোনো সিয়াম নেই"—এই জাতীয় বর্ণনাগুলো সংক্ষিপ্ত (مجمل) নয়। কারণ এখানে উদ্দেশ্য হলো শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধতা (صحة) ও গ্রহণযোগ্যতা নাকচ করা।৫- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয়ই নিয়ত ব্যতীত কোনো আমল নেই"—এটি সংক্ষিপ্ত (مجمل) নয়। কারণ আমল যদি:ক- ইবাদত হয়, তবে উদ্দেশ্য হলো শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে তার বৈধতা (صحة) ও গ্রহণযোগ্যতা।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ب- وإن كان معاملة فهو يصح ويعتد به دون النية إجماعاً، والنفي فيه ينصب على انتفاء الأجر. فمن رد الأمانة والمغصوب مثلا لا يريد وجه الله فإن المطالبة تسقط عنه ويصح فعله ويعتد به ولكن لا أجر له، وكذلك جميع التروك.(2) - المبينأ- المبين "بالفتح " بمعنى البين الواضح وهو المقابل للمجمل لأنه المتضح معناه فلا يفتقر إلى بيان من خارج. ويسمى البيان أيضاً.ب- والمبين "بالكسر" على زنة اسم الفاعل هو الموضح لإجمال المجمل.- وهو اصطلاحاً: الكاشف عن المراد من الخطاب، وعلى هذا درج أكثر الأصوليين فخصوا البيان بإيضاح ما فيه من خفاء. ومنهم من يطلقه على كل إيضاح سواء تقدمه خفاء أم لا.ما يقع به البيانيقع البيان بالقول تارة وبالفعل تارة وبهما معا وقد يكون بترك الفعل ليدل على عدم الوجوب.البيان بالقول:1- كتاب بكتاب قال تعالى: {إلا ما يتلى عليكم} فهذا مجمل بينه الله بقوله: {حرمت عليكم الميتة والدم} الآية.2- كتاب بسنة قال تعالى: {وآتوا حقه يوم حصاده} فحقه مجمل بينه صلى الله عليه وسلم بقوله: "فيما سقت السماء العشرة وفيما سقى بالنضح نصف العشر".البيان بالفعل:أ- يكون بصورة العمل كصلاته صلى الله عليه وسلم فوق المنبر ليبين للناس ولذا قال لهم: "صلوا كما رأيتموني أصلى". وكقطعه يد السارق من الكوع.ب- ويكون بالكتابة ككتابته صلى الله عليه وسلم أسنان الزكاة لعماله عليها.جـ- ويكون بالإشارة كقوله: "الشهر هكذا وهكذا وهكذا". وأشار بأصابع يديه وقبض الإبهام في الثالثة يعنى تسعة وعشرين يوماً.البيان بترك الفعل: كتركه صلى الله عليه وسلم التراويح في رمضان بعد أن فعلها وكتركه الوضوء مما مست النار، مما دل على عدم الوجوب فيهما.مراتب البيان:مراتبه متفاوتة فأعلاها ما كان بالخطاب ثم بالفعل: ثم بالإشارة، ثم بالكتابة ومعلوم أن الترك قصداً فعل.
খ- আর যদি তা লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় হয়, তবে তা নিয়ত ছাড়াও সর্বসম্মতভাবে শুদ্ধ এবং ধর্তব্য হবে। এক্ষেত্রে (হাদিসে বর্ণিত) অস্বীকৃতিটি কেবল সওয়াব বা পুণ্য না পাওয়ার বিষয়ের ওপর বর্তাবে। যেমন—কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির ইচ্ছা ছাড়াই আমানত কিংবা জবরদখল করা বস্তু ফেরত দেয়, তবে তার ওপর থেকে পাওনা পরিশোধের দায়ভার রহিত হয়ে যাবে এবং তার কাজটি শুদ্ধ ও ধর্তব্য হবে, কিন্তু সে এর জন্য কোনো সওয়াব পাবে না। তদ্রূপ বর্জনীয় সকল বিষয়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।(২) - আল-মুবাইয়্যান (المبين)ক- আল-মুবাইয়্যান (المبين - ‘ইয়া’ বর্ণে ফাতহা যোগে): এর অর্থ হলো সুষ্পষ্ট বা প্রকাশমান। এটি সংক্ষিপ্ত (مجمل) এর বিপরীত। কারণ এর অর্থ সুপ্রকাশিত, তাই এটি বাইরে থেকে কোনো বর্ণনার মুখাপেক্ষী নয়। একে বর্ণনা বা ব্যাখ্যাও বলা হয়।খ- আল-মুবাইয়্যিন (المبين - ‘ইয়া’ বর্ণে কাসরা যোগে): এটি কর্তৃবাচক বিশেষ্য (ইসমুল ফাঈল)-এর ওজনে, যা সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের অস্পষ্টতা দূরকারী বা বর্ণনাকারী।- পারিভাষিক সংজ্ঞায় এটি হলো: যা সম্বোধনের উদ্দেশ্যকে উন্মোচিত করে। অধিকাংশ মূলনীতিবিদ (الأصوليين) এই সংজ্ঞাই অনুসরণ করেছেন; ফলে তাঁরা অস্পষ্টতা দূর করার বিষয়টিকে ব্যাখ্যার জন্য সুনির্দিষ্ট করেছেন। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে যে কোনো সুস্পষ্টকরণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন, চাই তা আগে থেকে অস্পষ্ট থাকুক বা না থাকুক।যা দ্বারা বর্ণনা বা ব্যাখ্যা সম্পন্ন হয়বর্ণনা বা ব্যাখ্যা কখনো বক্তব্যের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, কখনো কর্মের মাধ্যমে, আবার কখনো উভয়টির মাধ্যমে। আবার কখনো কোনো কাজ বর্জনের মাধ্যমেও বর্ণনা হতে পারে, যা সেটির আবশ্যকতা (وجوب) না থাকার প্রমাণ দেয়।কথার মাধ্যমে বর্ণনা:১- কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের বর্ণনা: আল্লাহ তাআলা বলেন: "যা তোমাদের নিকট পাঠ করা হয় তা ছাড়া"। এটি একটি সংক্ষিপ্ত (مجمل) আয়াত, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন: "তোমাদের জন্য মৃত জানোয়ার ও রক্ত হারাম করা হয়েছে..." (আয়াত)।২- সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের বর্ণনা: আল্লাহ তাআলা বলেন: "ফসল কাটার দিন তার হক আদায় কর"। এখানে 'হক' শব্দটি সংক্ষিপ্ত (مجمل), যা নবী (সা.) তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন: "আকাশের পানিতে সিক্ত জমিতে উশর (দশ ভাগের এক ভাগ) এবং সেচের পানিতে সিক্ত জমিতে নিসফে উশর (বিশ ভাগের এক ভাগ) যাকাত প্রদান করতে হবে।"কাজের মাধ্যমে বর্ণনা:ক- কোনো কাজের বাস্তব রূপ প্রদর্শনের মাধ্যমে হতে পারে, যেমন মানুষের সামনে সুস্পষ্ট করার জন্য নবী (সা.)-এর মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা। এজন্যই তিনি তাঁদের বলেছিলেন: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় কর যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।" তদ্রূপ কবজি থেকে চোরের হাত কাটা।খ- লিখনের মাধ্যমে হতে পারে, যেমন নবী (সা.) কর্তৃক যাকাত আদায়ের কর্মচারীদের নিকট যাকাতযোগ্য পশুর বয়সের সীমা লিখে পাঠানো।গ- ইশারার মাধ্যমে হতে পারে, যেমন তাঁর এই বাণী: "মাস এভাবে, এভাবে এবং এভাবে"। তিনি তাঁর উভয় হাতের আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন এবং তৃতীয়বার বৃদ্ধাঙ্গুলি গুটিয়ে নিলেন, যার অর্থ উনত্রিশ দিন।কাজ বর্জনের মাধ্যমে বর্ণনা: যেমন নবী (সা.) কর্তৃক রমজানে কিছুক্ষণ করার পর তারাবিহ বর্জন করা এবং আগুন স্পর্শ করা খাবার গ্রহণের পর ওযু বর্জন করা; যা এ উভয় ক্ষেত্রে আবশ্যকতা (وجوب) না থাকার প্রমাণ বহন করে।বর্ণনা বা ব্যাখ্যার স্তরসমূহ:এর স্তরগুলো বিভিন্ন রকম। এর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো যা বক্তব্যের মাধ্যমে হয়, এরপর কর্মের মাধ্যমে, এরপর ইশারার মাধ্যমে এবং সবশেষে লিখনের মাধ্যমে। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো কাজ বর্জন করাও একটি কাজ হিসেবেই গণ্য।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
تأخير البيان عن وقت الحاجة وإليهتأخير البيان على قسمين:1- تأخير إلى أن يأتي وقت العمل، فهذا جائز وواقع فقد فرضت الصلاة ليلة الإسراء مجملة وتأخر بيانها إلى الغد حتى جاء جبريل وبينها، وقد علم رسول الله صلى الله عليه وسلم أن المراد بقوله تعالى في خمس الغنيمة: {ولذي القربى} بنو هاشم وبنو عبد المطلب دون إخوانهم من بنى نوفل وعبد شمس مع أن الكل أولاد عبد مناف فأخر بيانه حتى سأله جبير بن مطعم النوفلي وعثمان بن عفان العبشمي رضي الله عنهما فقال: أنا وبنو المطلب لم نفترق في جاهلية ولا في إسلام، وكذا آيات الصلاة والزكاة والحج بينتها السنة بالتراخي والتدريج، ويدل لذلك أيضاً قوله تعالى: {فإذا قرأناه فاتبع قرآنه ثم إن علينا بيانه} . وثم للتراخي إلى غير ذلك من الأدلة.2- تأخير عن وقت الحاجة، فهذا لا يجوز لأنه يلزمه تكليف المخاطب بما لا يطيق وهو غير جائز.منزلة المبين من المبينلا يشترط في المبين- باسم الفاعل- أن يكون أقوى سنداً أو دلالة من المبين- باسم المفعول- بل يجوز بيان المتواتر بأخبار الآحاد، والمنطوق بالمفهوم.الأمثلة:أ- بيان الكتاب بالسنة كقوله تعالى: {فإن طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجاً غيره} ، بين صلى الله عليه وسلم نكاح الزوج الثاني بأنه الوطء بقوله لامرأة رفاعة القرظي: "حتى تذوقي عسيلته ويذوق عسيلتك " وقوله تعالى: {واعدوا لهم ما استطعتم من قوة} ، بينه صلى الله عليه وسلم بقوله: "ألا إن القوة الرمي"، ويدل لبيان الكتاب بالسنة قوله تعالى: {وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم} .ب- وبيان المنطوق بالمفهوم كبيان منطوق قوله تعالى في سورة النور: {والزاني} ، بمفهوم الموافقة في قوله تعالى: {فعليهن نصف ما على المحصنات من العذاب} فإن مفهوم موافقته أن العبد كالأمة في ذلك يجلد خمسين جلدة فبين هذا المفهوم أن المراد بالزاني في سورة النور خصوص الحر.لا يشترط في البيان أن يعلمه كل إنسان
প্রয়োজনের সময় এবং তার পরবর্তী সময় পর্যন্ত ব্যাখ্যা বিলম্বিত করাব্যাখ্যা বিলম্বিত করা দুই প্রকার:1- আমল বা পালনের সময় আসা পর্যন্ত বিলম্ব করা: এটি জায়েজ এবং বাস্তবসম্মত। যেমন—মিরাজের রাতে নামাজ অস্পষ্ট (مجمل) হিসেবে ফরজ করা হয়েছিল এবং পরবর্তী দিন জিবরাঈল (আ.) এসে তা ব্যাখ্যা করার পূর্ব পর্যন্ত এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা বিলম্বিত হয়েছিল। অনুরূপভাবে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন যে, গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ সম্পর্কিত মহান আল্লাহর বাণী: {এবং নিকটাত্মীয়দের জন্য} বলতে বনু হাশেম ও বনু আবদিল মুত্তালিবকে বোঝানো হয়েছে, তাদের ভাই বনু নাওফাল ও বনু আবদে শামস এর অন্তর্ভুক্ত নয়—যদিও তারা সবাই আবদে মানাফের সন্তান। তিনি এর ব্যাখ্যা বিলম্বিত করেছিলেন যতক্ষণ না জুবায়ের ইবনে মুতয়িম আল-নাওফালি এবং উসমান ইবনে আফফান আল-আবশামি (রা.) তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন: "আমি এবং বনু মুত্তালিব জাহেলি ও ইসলামি কোনো যুগেই একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি।" একইভাবে সালাত, জাকাত ও হজের আয়াতসমূহ সুন্নাহ (سنة) দ্বারা ধাপে ধাপে ও বিলম্বিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এর সপক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণীটিও দলিল: {সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠ অনুসরণ করুন, অতঃপর এর ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব আমারই}। এখানে ‘সুম্মা’ (অতঃপর) শব্দটি বিলম্বিত হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। এ ছাড়াও আরও অনেক দলিল রয়েছে।2- প্রয়োজনের সময়ের পরে বিলম্ব করা: এটি জায়েজ নয়। কারণ, এর ফলে সম্বোধিত ব্যক্তিকে তার সাধ্যাতীত কাজের দায়িত্ব প্রদান করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা কোনোভাবেই জায়েজ নয়।ব্যাখ্যাকারী ও ব্যাখ্যাকৃত বিষয়ের মর্যাদাব্যাখ্যাকারী (مبين)-এর জন্য এটি শর্ত নয় যে, তাকে ব্যাখ্যাকৃত (مبين) বিষয় হতে সনদ (سند) বা প্রমাণ্য (دلالة) বিচারে অধিক শক্তিশালী হতে হবে। বরং ক্রমাগত বর্ণনা (متواتر)-কে একক বর্ণনা (أخبار الآحاد) দ্বারা এবং ব্যক্ত বক্তব্য (منطوق)-কে অর্জিত ভাবার্থ (مفهوم) দ্বারা ব্যাখ্যা করা জায়েজ।উদাহরণসমূহ:ক- সুন্নাহ (سنة) দ্বারা কুরআনের ব্যাখ্যা: যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর সে যদি তাকে তালাক দেয়, তবে এরপর সে তার জন্য হালাল হবে না যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে}। এখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করা’ বলতে শারীরিক মিলনকে বুঝিয়েছেন। রিফায়া আল-কুরাজি (রা.)-এর স্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন: "যতক্ষণ না তুমি তার মধু আস্বাদন করবে এবং সে তোমার মধু আস্বাদন করবে।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তাদের মুকাবিলার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি প্রস্তুত করো}। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "জেনে রেখো, শক্তি হচ্ছে তীর নিক্ষেপ।" সুন্নাহ (سنة) দ্বারা কুরআনের ব্যাখ্যার সপক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণীটি দলিল: {আমি আপনার প্রতি এই জিকির নাজিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের কাছে তাদের প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন}।খ- ব্যক্ত বক্তব্য (منطوق)-কে অর্জিত ভাবার্থ (مفهوم) দ্বারা ব্যাখ্যা করা: যেমন সূরা আন-নূরে বর্ণিত মহান আল্লাহর বাণী {ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী}-এর ব্যক্ত বক্তব্য (منطوق)-কে সূরা আন-নিসার এই আয়াতের সদৃশ ভাবার্থ (مفهوم الموافقة) দ্বারা ব্যাখ্যা করা: {তাদের জন্য স্বাধীন নারীদের অর্ধেক শাস্তি}। এর সদৃশ ভাবার্থ (مفهوم الموافقة) হলো, এ ক্ষেত্রে দাসও দাসীর মতোই এবং তাকেও পঞ্চাশটি বেত্রাঘাত করতে হবে। সুতরাং এই ভাবার্থ (مفهوم) দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, সূরা আন-নূরে ‘ব্যভিচারী’ বলতে কেবল স্বাধীন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এটি শর্ত নয় যে, তা প্রত্যেক মানুষকে জানতে হবে।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ليس من شرط البيان أن يعلمه جميع المكلفين الموجودين في وقته بل يجوز أن يكون بعضهم جاهلا به فإنه يقال بين له غير أنه لم يتبين مثال ذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم بين أن عمل قوله تعالى: {يوصيكم الله في أولادكم} ، لا يتناول الأنبياء بقوله: "إنا معاشر الأنبياء لا نورث " فلا يقدح في هذا البيان أن فاطمة رضي الله عنها لم تعلم به وجاءت إلى أبي بكر تطلب ميراثها منه صلى الله عليه وسلم. تقسيم الكلام إلى حقيقة ومجازفي تقسيم الكلام إلى حقيقة ومجاز ثلاثة آراءأعلم أولاً أن للناس في تقسيم الكلام إلى حقيقة ومجاز ثلاثة آراء:1- منع هذا التقسيم أصلا وأنه لا مجاز لا في القرآن ولا في اللغة العربية، ومن الذاهبين إلى ذلك أبو إسحق الإِسفرائيني وقد نصر هذا القول شيخ الإِسلام ابن تيمية في كتاب الإِيمان فقال: إن تقسيم الكلام إلى حقيقة ومجاز اصطلاح حادث بعد انقضاء القرون الثلاثة لم يتكلم به أحد من الصحابة ولا التابعين لهم بإحسان ولا أحد من الأئمة المشهورين في العلم كمالك والثوري والأوزاعي وأبي حنيفة والشافعي بل ولا تكلم به أئمة اللغة والنحو مثل: الخليل وسيبويه وأبي عمرو بن العلاء ونحوهم إلى- أن قال- وهذا الشافعي هو أول من جرد الكلام في أصول الفقه لم يقسم هذا التقسيم ولا تكلم بلفظ الحقيقة والمجاز.2- منع وجود المجاز في القرآن دون اللغة ونسبه في كتاب الإيمان إلى أبي الحسن الجزري وابن حامد من الحنابلة ومحمد بن خويزمنداد من المالكية وإلى داود بن علي الظاهري وابنه أبي بكر.3- وقوع المجاز في اللغة وفي القرآن وهو قول القاضي أبي يعلى وابن عقيل وأبي الخطاب وغيرهم من الحنابلة ورجحه ابن قدامة في روضة الناظر ونسبه الزركشي في كتابه البرهان في علوم القرآن إلى الجمهور وإليك كلاما موجزا يتعلق بتقسيم الكلام إلى حقيقة ومجاز عند من يرى ذلك التقسيم:
বর্ণনার (البيان) শর্ত এটি নয় যে, তৎকালে বিদ্যমান সকল দায়বদ্ধ ব্যক্তি (المكلفين) তা জানবেন; বরং এটি সম্ভব যে তাদের কেউ কেউ এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকবেন। কারণ এমতাবস্থায় বলা হয় যে, তাঁর নিকট বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে, যদিও তিনি তা অনুধাবন করতে পারেননি। এর উদাহরণ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে, মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন}—এর বিধান নবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "আমরা নবী সম্প্রদায়, আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না।" সুতরাং এই বর্ণনার (البيان) ক্ষেত্রে এটি কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না যে, ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা এ সম্পর্কে জানতেন না এবং তিনি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তরাধিকার দাবি করতে এসেছিলেন। কালামকে হাকিকত ও মাজাজে বিভক্তিকরণকালামকে হাকিকত (حقيقة) ও মাজাজে (مجاز) বিভক্ত করার ক্ষেত্রে তিনটি অভিমত রয়েছে।প্রথমে জেনে নিন যে, কালামকে হাকিকত (حقيقة) ও মাজাজে (مجاز) বিভক্ত করার ক্ষেত্রে আলেমদের তিনটি মত রয়েছে:১- এই বিভাজনকে মূলে অস্বীকার করা এবং কুরআন বা আরবি ভাষা—কোথাও কোনো মাজাজ (مجاز) নেই বলে মনে করা। আবু ইসহাক আল-ইসফরাইনি এই মতের প্রবক্তাদের অন্তর্ভুক্ত। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ কিতাবুল ইমান-এ এই মতকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন: কালামকে হাকিকত (حقيقة) ও মাজাজে (مجاز) বিভক্ত করা একটি নবউদ্ভাবিত পরিভাষা (اصطلاح حادث), যা প্রথম তিন যুগ অতিবাহিত হওয়ার পর উদ্ভূত হয়েছে। সাহাবি, তাঁদের একনিষ্ঠ অনুসারী তাবেয়ি (التابعين) কিংবা মালেক, সাওরি, আওজায়ি, আবু হানিফা ও শাফেয়ির মতো ইলম জগতের প্রসিদ্ধ ইমামদের কেউ এ সম্পর্কে কিছু বলেননি। এমনকি খলিল, সিবওয়াইহি, আবু আমর ইবনুল আলা ও তাঁদের সমপর্যায়ের ভাষাবিদ ও ব্যাকরণবিদ ইমামগণও এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। পরিশেষে তিনি বলেন— ইমাম শাফেয়ি, যিনি উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) বিষয়ে সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র কিতাব লিখেছেন, তিনিও এই বিভাজন করেননি এবং হাকিকত (حقيقة) ও মাজাজ (مجاز) শব্দ দুটি ব্যবহার করেননি।২- আরবি ভাষায় মাজাজ (مجاز) থাকলেও কুরআনে এর অস্তিত্ব অস্বীকার করা। কিতাবুল ইমান-এ এই মতটিকে হাম্বলি মাযহাবের আবুল হাসান আল-জাজারি ও ইবনে হামিদ, মালিকি মাযহাবের মুহাম্মদ বিন খুওয়াইজ মানদাদ এবং দাউদ বিন আলী আল-জাহিরি ও তাঁর পুত্র আবু বকরের দিকে নিসবত করা হয়েছে।৩- ভাষা ও কুরআন উভয় ক্ষেত্রেই মাজাজ (مجاز) সংঘটিত হওয়া। এটি কাজী আবু ইয়ালা, ইবনে আকিল, আবুল খাত্তাব ও অন্যান্য হাম্বলি আলেমদের মত। ইবনে কুদামা রওজাতুন নাজির গ্রন্থে এটিকে প্রাধান্য (رجحه) দিয়েছেন এবং জারকাশি তাঁর আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন গ্রন্থে একে জমহুর (الجمهور) বা সংখ্যাগুরু আলেমের মত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যারা এই বিভাজন স্বীকার করেন, তাদের নিকট কালামকে হাকিকত (حقيقة) ও মাজাজে (مجاز) বিভক্ত করা সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الحقيقةالحقيقة لغة: مأخوذة من الحق بمعنى الثابت على أنه بمعنى فاعل أو المثبت على أنه بمعنى مفعول.واصطلاحاً: اللفظ المستعمل فيما وضع له ابتداء في اصطلاح التخاطب، كلفظ أسد، في الحيوان المفترس. وشمس في الكوكب المضيء، وكلمة.. في اصطلاح التخاطب.. تبين لنا أصل تقسيمهم الحقيقة إلى ثلاثة أقسام:1- لغوية … ... 2- عرفية … ... … 3- شرعيةالحقيقة اللغوية: هي اللفظ المستعمل فيما وضع له أولا في اللغة كأسد في الحيوان المفترس.الحقيقة العرفية: وتكون عامة وخاصة.أ- فالعرفية العامة: ما تعارف عليه عامة أهل اللغة بغلبة استعمال اللفظ في بعض مدلوله أو بتغليب المجاز على الحقيقة.فالأول: أن يكون اللفظ قد وضع في أصل اللغة لمعنى عام ثم خصصه العرف ببعض مسمياته كلفظ "دابة" فإن أصله لكل ما دب على وجه الأرض غير أن العرف خصصه بذوات الأربع.والثاني: أن يكون اللفظ في أصل اللغة لمعنى ثم يشتهر في عرف الاستعمال في المعنى المجازي بحيث لا يفهم من اللفظ عند إطلاقه غيره كلفظ " الغائط " فإنه في أصل الوضع للمكان المطمئن من الأرض ثم نقل عنه إلى الفضلة الخارجة من الإِنسان. وكلفظ " الراوية" فإنه في الأصل للبعير الذي يستقى عليه ثم نقل عنه إِلى المزادة.ب- والعرفية الخاصة: ما تعارف عليه بعض الطوائف من الألفاظ التي وضعها لمعنى عندهم كتعارف أهل النحو على استعمال الرفع والنصب وأدوات الجر في معان اصطلحوا عليها: وكتعارف أهل البلاغة على المسند والمسند إليه ونحو ذلك.الحقيقة الشرعية: هي اللفظ المستعمل فيما وضع له أولا في الشرع كالصلاة للعبادة المخصوصة المفتتحة بالتكبير المختتمة بالتسليم، وكّالإيمان، للاعتقاد والقول والعمل.المجازالمجاز: وهو لغة مكان الجواز أو الجواز على أنه مصدر ميمي.وفي الاصطلاح قسمان: لغوي وعقلي.أ- فالمجاز اللغوي هو اللفظ المستعمل في غير ما وضع له أولا لعلاقة مع قرينة.
প্রকৃত অর্থ (الحقيقة)শাব্দিক অর্থে প্রকৃত অর্থ (الحقيقة) শব্দটি 'হক' (الحق) থেকে গৃহীত, যা 'ছাবিত' বা স্থির অর্থে কর্তৃবাচক (فاعل) হিসেবে অথবা 'মুছাব্বাত' বা সুপ্রতিষ্ঠিত অর্থে কর্মবাচক (مفعول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।পারিভাষিক অর্থে: শব্দকে কথোপকথনের পরিভাষায় যে অর্থের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই অর্থেই তার ব্যবহার। যেমন ‘সিংহ’ শব্দটি হিংস্র পশুর ক্ষেত্রে এবং ‘সূর্য’ শব্দটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হওয়া। ‘কথোপকথনের পরিভাষা’ শব্দসমষ্টি আমাদের কাছে প্রকৃত অর্থকে (الحقيقة) তিন ভাগে বিভক্ত করার মূল ভিত্তিটি স্পষ্ট করে দেয়:১- ভাষাগত (لغوية) … ... ২- প্রথাগত (عرفية) … ... … ৩- শরয়ি (شرعية)ভাষাগত প্রকৃত অর্থ (الحقيقة اللغوية): এটি এমন শব্দ যা ভাষাগত দিক থেকে প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন হিংস্র পশুর ক্ষেত্রে ‘সিংহ’ শব্দের ব্যবহার।প্রথাগত প্রকৃত অর্থ (الحقيقة العرفية): এটি সাধারণ (عامة) ও বিশেষ (خاصة)—দুই প্রকার হয়ে থাকে।ক- সাধারণ প্রথাগত (العرفية العامة): ভাষাভাষী সাধারণ মানুষ শব্দের কোনো কোনো অর্থের অতি-ব্যবহারের কারণে অথবা প্রকৃত অর্থের (الحقيقة) ওপর রূপক অর্থকে (المجاز) প্রাধান্য দেওয়ার ফলে যা নিজেদের মধ্যে প্রচলন করে নিয়েছে।প্রথমটি হলো: মূল ভাষায় শব্দটি কোনো সাধারণ অর্থের জন্য নির্ধারিত ছিল, পরবর্তীতে লোকপ্রথা তাকে বিশেষ কোনো নামকরণের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। যেমন—'দাব্বাহ' (دابة) শব্দ; যা মূলত জমিনের ওপর বিচরণকারী প্রত্যেক প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল, কিন্তু লোকপ্রথা একে চতুষ্পদ জন্তুর জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।দ্বিতীয়টি হলো: শব্দটি মূল ভাষায় একটি অর্থের জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু ব্যবহারের প্রথায় সেটি রূপক অর্থে (المجاز) এমনভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে, শব্দটি সাধারণভাবে উচ্চারণ করলে রূপক অর্থ ছাড়া অন্য কিছু বোঝা যায় না। যেমন—'গায়েত' (الغائط) শব্দ; এটি মূলত নিচু ভূমির জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তা মানুষের মলমূত্র ত্যাগের অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে। অনুরূপভাবে 'রাবিয়াহ' (الراوية) শব্দ; যা মূলত পানি বহনকারী উটের জন্য ব্যবহৃত হতো, পরবর্তীতে তা পানির মশকের জন্য ব্যবহৃত হতে শুরু করে।খ- বিশেষ প্রথাগত (العرفية الخاصة): কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের নিকট শব্দাবলির যে অর্থ প্রচলিত থাকে, যা তারা তাদের নিজস্ব প্রয়োজনে নির্ধারণ করে নেয়। যেমন—নাহুবিদগণের নিকট রফ (الرفع), নসব (النصب) এবং জরের (الجر) অব্যয়সমূহের ব্যবহার—যেসব অর্থে তারা নিজেরা পরিভাষা তৈরি করে নিয়েছেন। অনুরূপভাবে বালাগাত শাস্ত্রবিদগণের নিকট মুসনাদ (المسند) ও মুসনাদ ইলাইহ (المسند إليه) এর পরিভাষা ইত্যাদি।শরয়ি প্রকৃত অর্থ (الحقيقة الشرعية): এটি এমন শব্দ যা শরিয়তের পরিভাষায় প্রাথমিকভাবে যে বিষয়ের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, সেই অর্থেই ব্যবহৃত হয়। যেমন—সেই বিশেষ ইবাদতের জন্য সালাত (الصلاة) শব্দের ব্যবহার যা তাকবিরের মাধ্যমে শুরু হয় এবং সালামের মাধ্যমে শেষ হয়; এবং বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি ও কর্মের সমষ্টির জন্য ঈমান (الإيمان) শব্দের ব্যবহার।রূপক অর্থ (المجاز)রূপক অর্থ (المجاز): শাব্দিক অর্থে এটি অতিক্রম করার স্থান অথবা মীমি মাসদার (مصدر ميمي) হিসেবে অতিক্রম করা অর্থে ব্যবহৃত।পারিভাষিক অর্থে এটি দুই প্রকার: ভাষাগত (لغوي) এবং বুদ্ধিগত (عقلي)।ক- ভাষাগত রূপক অর্থ (المجاز اللغوي): এটি এমন শব্দ যা কোনো সম্পর্কের কারণে এবং কোনো অনুষঙ্গের (قرينة) উপস্থিতিতে তার মূল বা প্রাথমিক নির্ধারিত অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مثاله: لفظة "الأسد" في الرجل الشجاع فإنها استعملت في غير ما وضعت له أولًا إذا وضع الأول لها إنما هو في الحيوان المفترس واستعمالها في الرجل الشجاع بالوضع الثاني بسبب التجوز بها عن محلها الأول.العلاقة والغرض منها: واشتراط العلاقة يخرج استعمال اللفظ في غير ما وضع له بطريق السهو أو الغلط كقولك: خذ هذا القلم وتشير إلى كتاب مثلًا، أو بطريق القصد ولكنِ لا مناسبة بين المعنيين كقولك: خذ هذا الكتاب أو اشتريت كتاباً تريد تفاحاَ أو ثوباً إذ لا مناسبة بين الكتاب والتفاح ولا بين الكتاب والثوب.والغرض من العلاقة: انتقال الذهن من المعنى الأول إلى المعنىِ الثاني عن طريقها فهي كالجسر للذهن يعبر عليها كما في قولك: رأيت أسدًا يرمى، فإن جسر الانتقال من الحيوان المفترس إلى الرجل الشجاع إنما هي الشجاعة التي تربط بين المعنيين في قولك: حيوان مفترس ورجل شجاع.أقسام العلاقة: والعلاقة إما المشابهة كمشابهة الرجل الشجاع للأسد في الشجاعة في المثال المتقدم لأنها معنى مشترك بينهما.وإما غير المشابهة كقولهم "بث الأمير عيوناً له في المدينة" أي جواسيس. وكل مجاز علاقته المشابهة يسمى "استعارة " لأنك شبهت ثم استعرتِ لفظ المشبه به وأطلقته على المشبه وكل مجاز علاقته غير المشابهة يسمى "مجازاَ مرسلا" لأنه أرسل عن قيد المشابهة.والعلاقات بغير المشابهة متعددة لأنها تعم كل مناسبة أو ملابسة بين المعنيين تصحح نقل اللفظ من معناه الأول إلى الثاني كالكلية والجزئية فالأولى كأن تطلق الكل وتريد الجزء كما تقول: قبضت الشرطة على اللص إذ القبض لم يحصل من جميع الشرطة وإنما حصل من بعضهم والثانية كإطلاق العين وإرادة كل الِإنسان في المثال المتقدم للجاسوس.وكالسببية أو المسببية فالمسببية أن تطلق السبب وتريد المسبب كأن تقوله: "رعينا الغيث" والمسببية أن تطلق المسبب وتريد السبب كأن تقول: "أمطرت السماء ربيعًا".
उदाहरणস্বরূপ: একজন সাহসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে "সিংহ" শব্দটি ব্যবহার করা; কারণ এটি মূলত যা বোঝাতে নির্ধারিত হয়েছিল তার পরিবর্তে অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কেননা শব্দটির প্রাথমিক প্রয়োগ ছিল কেবল হিংস্র প্রাণীর জন্য এবং সাহসী ব্যক্তির জন্য এর ব্যবহার হচ্ছে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রয়োগ, যা মূল অর্থ থেকে রূপক (مجاز) ব্যবহারের মাধ্যমে বিচ্যুত হওয়ার কারণে ঘটেছে।সম্পর্ক (العلاقة) এবং এর উদ্দেশ্য: সম্পর্কের (العلاقة) শর্তারোপ করা এমন শব্দ ব্যবহারকে বর্জন করে যা ভুলবশত বা অসতর্কতাবশত মূল অর্থের বাইরে ব্যবহৃত হয়। যেমন আপনার বলা: "এই কলমটি নিন" অথচ আপনি একটি বইয়ের দিকে ইশারা করছেন। অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বলা কিন্তু দুটি অর্থের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই, যেমন আপনার বলা: "এই বইটি নিন" অথবা "আমি একটি বই কিনেছি" অথচ আপনি আপেল বা কাপড় বুঝিয়েছেন; কারণ বই এবং আপেলের মধ্যে কিংবা বই এবং কাপড়ের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই।সম্পর্কের উদ্দেশ্য: এর মাধ্যমে যেন মন প্রথম অর্থ থেকে দ্বিতীয় অর্থের দিকে ধাবিত হতে পারে। এটি মনের জন্য একটি সেতুর মতো যা সে অতিক্রম করে। যেমন আপনার বলা: "আমি একজন সিংহকে তীর নিক্ষেপ করতে দেখেছি"। এখানে হিংস্র প্রাণী থেকে সাহসী ব্যক্তির দিকে ধাবিত হওয়ার সেতুটি হলো 'সাহস', যা আপনার উক্তিতে হিংস্র প্রাণী এবং সাহসী ব্যক্তি—এই উভয় অর্থের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে।সম্পর্কের প্রকারভেদ: সম্পর্ক (العلاقة) হয় সাদৃশ্যপূর্ণ (المشابهة) হবে, যেমন পূর্বের উদাহরণে সাহসের ক্ষেত্রে সাহসী ব্যক্তির সাথে সিংহের সাদৃশ্য; কারণ এটি উভয়ের মধ্যে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।অথবা সম্পর্কটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ (غير المشابهة) হবে। যেমন তাদের উক্তি: "আমীর শহরে তার চক্ষুসমূহ ছড়িয়ে দিয়েছেন" অর্থাৎ গোয়েন্দা। প্রতিটি রূপক (مجاز), যার সম্পর্ক সাদৃশ্যপূর্ণ (المشابهة) তাকে ইস্তিআরা (استعارة) বলা হয়; কারণ আপনি এখানে তুলনা করেছেন এবং পরে যার সাথে তুলনা করা হয়েছে তার শব্দটি ধার করে যার তুলনা করা হয়েছে তার ওপর প্রয়োগ করেছেন। আর প্রতিটি রূপক (مجاز), যার সম্পর্ক বৈসাদৃশ্যপূর্ণ (غير المشابهة) তাকে মাজাজে মুরসাল (مجازاَ مرسلا) বলা হয়; কারণ এটি সাদৃশ্যের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত (أرسل)।বৈসাদৃশ্যপূর্ণ সম্পর্কগুলো অনেক প্রকারের হতে পারে; কারণ এটি দুটি অর্থের মধ্যে এমন প্রতিটি সামঞ্জস্য বা সংশ্লিষ্টতাকে অন্তর্ভুক্ত করে যা শব্দটিকে তার প্রথম অর্থ থেকে দ্বিতীয় অর্থে স্থানান্তরিত করাকে সঠিক সাব্যস্ত করে। যেমন: সামগ্রিকতা (الكلية) এবং আংশিকতা (الجزئية)। প্রথমটি হলো যখন আপনি সামগ্রিক কোনো কিছু উল্লেখ করবেন কিন্তু তার অংশ বিশেষ বোঝাতে চাইবেন, যেমন আপনার বলা: "পুলিশ চোরটিকে গ্রেপ্তার করেছে"। এখানে গ্রেপ্তার করার কাজটি সকল পুলিশ সদস্য কর্তৃক সম্পন্ন হয়নি, বরং তাদের কিছু সদস্যের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো আংশিক নাম উল্লেখ করে পূর্ণ ব্যক্তি বোঝানো, যেমনটি গোয়েন্দার ক্ষেত্রে পূর্বের উদাহরণে অতিক্রান্ত হয়েছে।তদ্রূপ কারণিকতা (السببية) অথবা কার্যিকতা (المسببية)। কার্যিকতা (المسببية) হলো যখন আপনি কারণ উল্লেখ করবেন কিন্তু তার দ্বারা কার্যকে বোঝাতে চাইবেন, যেমন আপনার বলা: "আমরা বৃষ্টি চারণ করেছি"। আর কার্যিকতা (المسببية) হলো কার্য উল্লেখ করে কারণ বোঝানো, যেমন আপনার বলা: "আকাশ বসন্ত বর্ষণ করেছে"।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وكالحالية بأن تطلق الحال وتريد المحل أو المحلية بأن تطلق المحل وتريد الحال فيه إلى غير ذلك.والمجاز اللغوي يكون مفرداً ومركباً:1- فالمفرد هو: ما كان في اللفظ المفرد وتقدمت أمثلته.2- والمركب: ما كان في الجمل فإن كانت العلاقة فيه المشابهة سمي استعارة تمثيلية وإلا فمجاز مركب مرسل كتشبيه صورة بصورة ونقل الدال على الصورة المشبه بها وإطلاقها على الصورة المشبهة كقولك لمتردد في أمر: أراك تقدم رجلا وتؤخر أخرى.وقولك لمن جمع خصلتين ذميمتين كشرب الدخان وحلق اللحى مثلا: أَحَشَفًا وسوء كيلة.ب- المجاز العقلي: ويكون المجاز عقلياً إذا كانت الألفاظ مستعملة في حقائقها ولكن التجوز حصل في الإِسناد كقولك: بنى الأمير القصر، فبنى والأمير والقصر مستعملة في حقائقها ولكن التجوز حصل بنسبة البناء إلى الأمير إذ الباني له حقيقة العمال. الأمريطلق لفظ الأمر إطلاقين:الأول: على طلب الفعل كقوله تعالى: {وأمر أهلك بالصلاة} وهذا الأمر يجمع على أوامر.الثاني: على الفعل والحال والشأن كقوله تعالى: {وشاورهم في الأمر}وهذا الأمر يجمع على أمور والمراد هنا: الأول لما فيه من الطلب.والأمر في الاصطلاح: استدعاء فعل بالقول الدال عليه على سبيل الاستعلاء وأكثر الأصوليين لا يشترط العلو ولا الاستعلاء في الأمر واستشهدوا بقول عمرو بن العاصِ لمعاوية:أمرتك أمراً جازماَ فعصيتني وكان من التوفيق قتل ابن هاشموكان خارجاً على معاوية فظفر به ثم عفا عنه، فخرج عليه مرة أخرى، ومعلوم أنه ليس هناك علو ولا استعلاء من عمرو على معاوية، وكذلك قوله تعالى حكاية عن فرعون لقومه: {فماذا تأمرون} .ويمكن أن يجاب عن ذلك بأنه حين منحهم سلطة إبداء الرأي كان ذلك إعلاء لهم.صيغهوللأمر صيغ تدل على طلب الفعل إذا تجردت عن القرائن الصارفة عنه وهي أربع:1- فعل الأمر: مثل: أقم الصلاة، استغفروا ربكم، يا أيها النبي جاهد الكفار والمنافقين.
যেমন অবস্থাগত সম্বন্ধ (الحالية), যেখানে অবস্থা উল্লেখ করে স্থান বোঝানো হয়; অথবা স্থানিক সম্বন্ধ (المحلية), যেখানে স্থান উল্লেখ করে তাতে অবস্থানরত অবস্থা বোঝানো হয়, ইত্যাদি।শাব্দিক রূপক (المجاز اللغوي) একক বা যৌগিক হতে পারে:১- একক হলো: যা একক শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং এর উদাহরণগুলো আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে।২- যৌগিক: যা বাক্যের মধ্যে ঘটে। যদি এতে বিদ্যমান সম্পর্ক সাদৃশ্যমূলক হয়, তবে তাকে রূপক উপমা (استعارة تمثيلية) বলা হয়। অন্যথায় তা বিযুক্ত যৌগিক রূপক (مجاز مركب مرسل)। যেমন কোনো একটি অবস্থাকে অন্য একটি অবস্থার সাথে তুলনা করা এবং যে অবস্থার সাথে তুলনা করা হচ্ছে তার পরিচায়ক শব্দটিকে যে অবস্থাকে তুলনা করা হচ্ছে তার ওপর প্রয়োগ করা। উদাহরণস্বরূপ, কোনো বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তিকে তোমার বলা: "আমি দেখছি তুমি এক পা এগোচ্ছ আর অন্য পা পেছাচ্ছ।"অথবা এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে তোমার উক্তি যে দুটি মন্দ স্বভাবকে একত্রিত করেছে—যেমন ধূমপান করা এবং দাড়ি মুণ্ডন করা: "তুমি কি নিম্নমানের খেজুরের সাথে ওজনেও কম দিচ্ছ?" (এটি একটি প্রবাদ)।খ- বুদ্ধিগত রূপক (المجاز العقلي): রূপকটি বুদ্ধিগত হয় যখন শব্দগুলো তাদের প্রকৃত অর্থে (الحقائق) ব্যবহৃত হয় কিন্তু রূপকত্ব প্রকাশ পায় সম্পর্কায়নের (الإسناد) ক্ষেত্রে। যেমন তোমার কথা: "আমীর প্রাসাদটি নির্মাণ করেছেন।" এখানে 'নির্মাণ করা', 'আমীর' এবং 'প্রাসাদ' শব্দগুলো তাদের প্রকৃত অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু রূপকত্ব তৈরি হয়েছে নির্মাণের সম্পর্কটি আমীরের দিকে নিসবত করার মাধ্যমে; অথচ প্রকৃতপক্ষে এর নির্মাতা হলো শ্রমিকরা। আদেশ (الأمر)'আমর' (الأمر) শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:প্রথমত: কোনো কাজ সম্পাদনের তলব বা দাবি করা। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আপনার পরিবারবর্গকে নামাজের আদেশ দিন}। এই 'আমর'-এর বহুবচন হলো 'আওয়ামির' (أوامر)।দ্বিতীয়ত: কাজ, অবস্থা এবং বিষয় অর্থে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করুন}এই 'আমর'-এর বহুবচন হলো 'উমুর' (أمور)। এখানে উদ্দেশ্য হলো প্রথম অর্থটি, কারণ এতে তলব বা দাবির বিষয়টি বিদ্যমান।পারিভাষিক অর্থে আদেশ (الأمر) হলো: শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের (الاستعلاء) সাথে কোনো শব্দ দ্বারা কাজ সম্পাদন করার দাবি জানানো। তবে অধিকাংশ মূলনীতিবিদ (الأصوليين) আদেশের ক্ষেত্রে উচ্চমর্যাদা (العلو) বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের (الاستعلاء) শর্তারোপ করেন না। তারা মুয়াবিয়া (রা.)-এর প্রতি আমর ইবনুল আস (রা.)-এর উক্তিকে দলিল হিসেবে পেশ করেন:আমি আপনাকে একটি চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছিলাম কিন্তু আপনি আমার অবাধ্য হলেন, অথচ হাশেমের পুত্রকে হত্যা করাই ছিল সঠিক কাজ।তিনি মুয়াবিয়া (রা.)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন, অতঃপর তিনি তাকে কাবু করার পর ক্ষমা করে দেন। পরে তিনি পুনরায় বিদ্রোহ করেন। এটি জানা কথা যে, এখানে মুয়াবিয়া (রা.)-এর ওপর আমরের কোনো উচ্চমর্যাদা (العلو) বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন (الاستعلاء) ছিল না। অনুরূপভাবে ফেরাউন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার বর্ণনা, যেখানে সে তার কওমকে বলেছিল: {তাহলে তোমরা আমাকে কী আদেশ দিচ্ছ?}।এর উত্তর এভাবে দেয়া সম্ভব যে, যখন সে তাদের মতামত প্রকাশের ক্ষমতা প্রদান করেছিল, তখন তা তাদের জন্য একটি উচ্চমর্যাদা দান স্বরূপ ছিল।আদেশের রূপসমূহ (صيغ الأمر)যখন কোনো ভিন্নমুখী অর্থ প্রদানকারী অনুষঙ্গ (القرائن) না থাকে, তখন কাজ সম্পাদনের দাবি বোঝাতে আদেশের (الأمر) চারটি রূপ (صيغ) রয়েছে:১- আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل الأمر): যেমন: নামাজ কায়েম করো, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, হে নবী! কাফের ও মুনাফেকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
2- المضارع المجزوم بلام الأمر: مثل قوله تعالى: {ثم ليقضوا تفثهم وليوفوا نذورهم وليطوفوا بالبيت العتيق} .3- اسم فعل الأمر: مثل قوله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا عليكم أنفسكم} .4- المصدر النائب عن فعل الأمر: مثل قوله تعالى: {فضرب الرقاب} .صيغ تفيد ما تفيده صيغ الأمرتقدم ذكر صيغ الأمر الأصلية، وهناك صيغ أخرى تدل على الأمر بالشيء وطلب إيجاده ومن هذه الصيغ: التصريح بلفظ الأمر مثل: آمركم وأمرتكم أنتم مأمورون؟ وكذا التصريح بالإيجاب؛ والفرض والكتب؛ ولفظة حق على العباد وعلى المؤمنين؛ وكذا ما فيه ترتيب الذم والعقاب على الترك أو إحباط العمل بالترك ونحو ذلك.هذا هو رأى الجمهور واستدلوا بإجماع أهل اللغة على تسمية ذلك أمراً فإن السيد إذا قالت لعبده: "اعطني كذا " عد آمراً وعد العبد مطيعاً إن فعل وعاصياً إن ترك.وذهب الأشاعرة ومن وافقهم إلى أن الأمر ليست له صيغة لفظية لأن الكلام عندهم المعنى القائم بالنفس دون اللفظ وإنما جعل اللفظ ليعبر به عن المعنى النفسي ويدل عليه. وهذا الرأي باطل لمخالفة الكتاب والسنة.أما الكتاب فقوله تعالى لزكريا: {آيتك ألا تكلم الناس ثلاث ليال سوياً} فإنه لم يسم المعنى الذي قام بنفس زكريا وأفهمه قومه بالإشارة إليهم: كلاما.وأما السنة فقوله صلى الله عليه وسلم: "إن الله تجاوز لأمتي ما حدثت أنفسها ما لم تتكلم به أو تعمله"، ففرق بين المعنى القائم بالنفس والكلام وأخبر برفع المؤاخذةْ في الأول دون الثاني.الحكم الذي تقتضيه صيغة الأمر عند الإِطلاق
২- লামে আমর (لام الأمر) দ্বারা মাজজুম (مجزوم) মুজারি (المضارع) ক্রিয়া: যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তারপর তারা যেন তাদের ময়লা দূর করে, তাদের মানত পূর্ণ করে এবং প্রাচীন ঘরের তাওয়াফ করে}।৩- ইসমে ফে’লে আমর (اسم فعل الأمر): যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের চিন্তা করো}।৪- আমরের ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত মাসদার (المصدر): যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা গর্দানে আঘাত করো}।আমরের গঠনশৈলী যে অর্থ প্রদান করে সেই একই অর্থ প্রদানকারী অন্যান্য শব্দাবলিআমরের মূল গঠনশৈলীগুলো পূর্বে আলোচিত হয়েছে। এছাড়াও আরও কিছু শব্দকাঠামো রয়েছে যা কোনো বিষয়ের আদেশ এবং তা সম্পন্ন করার দাবির ওপর দালালত (دلالة) করে। এই গঠনশৈলীগুলোর মধ্যে রয়েছে: সরাসরি 'আমর' (আদেশ) শব্দটি উল্লেখ করা, যেমন: ‘আমি তোমাদের আদেশ দিচ্ছি’, ‘আমি তোমাদের আদেশ দিয়েছি’, ‘তোমরা আদিষ্ট (مأمورون)’; তদ্রূপ ওয়াজিব (الإيجاب), ফরজ (الفرض) এবং বিধান (الكتب) হিসেবে স্পষ্ট উল্লেখ করা; বান্দাদের ওপর বা মুমিনদের ওপর ‘হক’ (حق) শব্দটি ব্যবহার করা; এছাড়া যে ক্ষেত্রে কোনো কাজ বর্জনের ওপর নিন্দা (الذم) ও শাস্তির (العقاب) বিধান রাখা হয়েছে অথবা বর্জনের কারণে আমল বাতিল (إحباط العمل) হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি।এটিই জুমহুর (الجمهور) বা সংখ্যাগুরু আলিমের অভিমত। তারা একে 'আমর' বা আদেশ হিসেবে নামকরণের ব্যাপারে ভাষাবিদদের ইজমা (إجماع) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। কেননা মনিব যখন তার দাসকে বলে: "আমাকে অমুক বস্তু দাও", তখন তাকে আদেশদাতা (آمر) হিসেবে গণ্য করা হয় এবং দাস যদি তা পালন করে তবে তাকে অনুগত (مطيع) এবং বর্জন করলে অবাধ্য (عاصي) হিসেবে গণ্য করা হয়।আশাইরা (الأشاعرة) এবং তাদের অনুসারীগণ মনে করেন যে, আমরের কোনো শাব্দিক গঠনশৈলী (صيغة لفظية) নেই। কারণ তাদের মতে 'কালাম' বা কথা হলো মনে বিদ্যমান অর্থ (المعنى القائم بالنفس), শব্দ নয়। শব্দকে কেবল সেই মানসিক অর্থ প্রকাশ ও তার ওপর নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মতটি বাতিল (باطل), কারণ এটি কিতাব (الكتاب) ও সুন্নাহর (السنة) পরিপন্থী।কিতাব বা কুরআনের দলিলের ক্ষেত্রে, জাকারিয়া (আ.)-কে উদ্দেশ্য করে মহান আল্লাহর বাণী: {তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি তিন দিন মানুষের সাথে কথা বলবে না}। এখানে জাকারিয়া (আ.)-এর মনে যে অর্থ উদিত হয়েছিল এবং যা তিনি ইশারার মাধ্যমে তার কওমকে বুঝিয়েছিলেন, তাকে ‘কালাম’ বা কথা বলা হয়নি।সুন্নাহর দলিল হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনের কুমন্ত্রণা ক্ষমা করেছেন, যতক্ষণ না তারা তা মুখে বলে বা কাজে পরিণত করে।" এখানে মনের ভেতরের ধারণা এবং কথার (الكلام) মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে এবং প্রথমটির ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা তুলে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নয়।শর্তহীন প্রয়োগের (الإطلاق) ক্ষেত্রে আমরের গঠনশৈলী যে হুকুম (الحكم) দাবি করে।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
إذا وردت صيغة الأمر مجردة عن القرائن الدالة على المراد بها اقتضت الوجوب وهو قول الجمهور وعليه دلت الأدلة كقوله تعالى لإِبليس: {ما منعك ألا تسجد إذ أمرتك} وقوله: {وإذا قيل لهم اركعوا لا يركعون} وقوله: {فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم} وقوله: {أفعصيت أمري} وقوله: {وما كان لمؤمن ولا مؤمنة إذا قضى الله ورسوله أمراً أن يكون لهم الخيرة من أمرهم} إلى غير ذلك إذ لا خلاص للمأمور من الوعيد ولا نجاة له من العذاب ولا من عار العصيان إلا بالامتثال ويدل لذلك أيضاً أن الصحابة رضي الله عنهم كانوا يستدلون بالأمر على الوجوب ولم يقع بينهم خلاف في ذلك فكان إجماعاً وكذلك إطباق أهل اللغة على ذم العبد الذي لمِ يمتثل أمر سيده ووصفه بالعصيان، ولا يذم ويوصف بالعصيان إلا من كان تاركا لواجب عليه.الأمر بالشيء أمر به وبما لا يتم إلا بهإذا كان الواجب المطلق يتوقف وجوده على شيء فإن الأمر يشمله أيضاً ضرورة توقف حصول الواجب عليه كالطهارة فإن الأمر بالصلاة يشملها وهذا معنى قولهم " الأمر بالشيء أمر به وبما لا يتم إلا به " وليس معنى ذلك أن وجوبه جاء ضمناً بدون دليل مستقل، بل له أدلة أخرى، غير أن الأمر الخاص بذلك الواجب يقتضي وجوب ما توقف الواجب عليه.هذا في الواجب المطلق فإن وجوب الصلاة مثلا غير مشروط بقيد فيكون الأمر بها مقتضياً الأمر بما لا يتم إلا به وهو الطهارة.أما في الواجب المقيد فليس كذلك كالزكاة فإن وجوبها مقيد بملك النصاب فليس الأمر بها أمراً بتحصيل النصاب ليتم وجوب إخراجها بإمتلاكه، لأن ذلك إتمام للوجوب لا للواجب، ولذا يقولون: مالا يتم الواجب إلا به فهو واجب،ومالا يتم الوجوب إلا به فليس بواجب، والصلاة قد استقر وجوبها، أما الزكاة فلا تجب حتى يحصل النصاب.استعمال صيغة الأمر في غير معناها الأصلي
যদি আদেশের রূপ (صيغة الأمر) তার উদ্দিষ্ট অর্থের প্রতি নির্দেশকারী কোনো প্রাসঙ্গিক লক্ষণ (قرينة) থেকে মুক্ত হয়ে আসে, তবে তা আবশ্যকতা (وجوب)-র দাবি রাখে। এটিই জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাধিক্য আলেমদের মত এবং এর সপক্ষেই দলিলসমূহ প্রমাণ দেয়। যেমন ইবলিসের প্রতি মহান আল্লাহর বাণী: “আমি যখন তোমাকে আদেশ দিয়েছিলাম তখন কিসে তোমাকে সিজদাহ করতে বাধা দিয়েছিল?” এবং তাঁর বাণী: “আর যখন তাদের বলা হয় রুকু করো, তখন তারা রুকু করে না।” আরও মহান আল্লাহর বাণী: “অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা বা বিপর্যয় আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।” এবং তাঁর বাণী: “তুমি কি আমার আদেশ অমান্য করেছ?” আরও তাঁর বাণী: “আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে না।” এছাড়া আরও অনেক দলিল রয়েছে। কেননা আদিষ্ট ব্যক্তির জন্য শাস্তির হুমকি থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই এবং শাস্তি ও অবাধ্যতার কলঙ্ক থেকে মুক্তির কোনো পথ নেই আনুগত্য ও আদেশ পালন ব্যতীত। এই বিষয়টি আরও একভাবে প্রমাণিত হয় যে, সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কোনো আদেশের মাধ্যমে সেটির আবশ্যকতা (وجوب)-র ওপর দলিল পেশ করতেন এবং এ ব্যাপারে তাঁদের মধ্যে কোনো মতভেদ সৃষ্টি হয়নি, ফলে এটি একটি ঐকমত্য (إجماع) হিসেবে গণ্য হয়েছিল। একইভাবে ভাষাবিদগণও সেই দাসের নিন্দা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে তার মুনিবের আদেশ পালন করে না এবং তাকে অবাধ্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আর কাউকে নিন্দিত বা অবাধ্য হিসেবে তখনই অভিহিত করা হয় যখন সে তার ওপর অর্পিত কোনো ওয়াজিব (واجب) ত্যাগ করে।কোনো বিষয়ের আদেশ দেওয়া মানেই সেই বিষয়টির আদেশ এবং যার মাধ্যমে বিষয়টি পূর্ণ হয় তারও আদেশ।যদি নিঃশর্ত ওয়াজিব (الواجب المطلق)-র অস্তিত্ব কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করে, তবে সেই আদেশটি তাকেও অন্তর্ভুক্ত করবে; কারণ সেই বিষয়টি ছাড়া ওয়াজিব অর্জন করা সম্ভব নয়। যেমন পবিত্রতা (طهارة); সালাতের আদেশ পবিত্রতাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটিই তাদের এই উক্তির অর্থ: "কোনো বিষয়ের আদেশ দেওয়া মানেই সেই বিষয়টির আদেশ এবং যার মাধ্যমে বিষয়টি পূর্ণ হয় তারও আদেশ।" এর অর্থ এই নয় যে, এর আবশ্যকতা স্বতন্ত্র দলিল ব্যতিরেকে কেবল পরোক্ষভাবে এসেছে; বরং এর অন্য দলিলও রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ওয়াজিবের আদেশ সেই বিষয়ের আবশ্যকতাকে দাবি করে যার ওপর সেই ওয়াজিবটি নির্ভরশীল।এটি নিঃশর্ত ওয়াজিব (الواجب المطلق)-র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন সালাতের আবশ্যকতা কোনো শর্তের সাথে যুক্ত নয়, তাই সালাতের আদেশ সেই বিষয়ের আদেশের দাবি রাখে যা ছাড়া সালাত পূর্ণ হয় না—আর তা হলো পবিত্রতা (طهارة)।তবে শর্তযুক্ত ওয়াজিব (الواجب المقيد)-র ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়, যেমন জাকাত। কেননা জাকাতের আবশ্যকতা নিসাব (نصاب) পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার সাথে শর্তযুক্ত। তাই জাকাতের আদেশ নিসাব অর্জন করার আদেশ নয় যাতে মালিকানার মাধ্যমে জাকাত আদায়ের আবশ্যকতা পূর্ণ হয়। কারণ এটি আবশ্যকতা সাব্যস্ত হওয়ার শর্ত পূর্ণ করা (إتمام للوجوب), স্বয়ং ওয়াজিব সম্পাদন করা (إتمام للواجب) নয়। আর এই কারণেই উসূলবিদগণ বলেন: যা ছাড়া ওয়াজিব (واجب) সম্পন্ন হয় না তা ওয়াজিব (واجب)।আর যা ছাড়া আবশ্যকতা (وجوب) সাব্যস্ত হয় না তা ওয়াজিব নয়। সালাতের আবশ্যকতা তো আগে থেকেই নির্ধারিত, কিন্তু নিসাব অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত জাকাত ওয়াজিব (واجب) হয় না।আদেশের রূপ (صيغة الأمر)-কে তার মূল অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থে ব্যবহার করা।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قد تخرج صيغة الأمر عن معناها الأصلي إلى معان ترشد إليها القرائن ومن ذلك ما يأتي:1- للإِباحة مثل قوله تعالى: {كلوا واشربوا} .2- وللتهديد مثل قوله تعالى: {اعملوا ما شئتم} .3- وللامتنان مثل قوله تعالى: {كلوا من طيبات ما رزقناكم} .4- وللإكرام مثل قوله تعالى: {أدخلوها بسلام آمنين} .5- وللتعجيز مثل قوله تعالى: {فأتوا بسورة من مثله} .6- وللتسوية مثل قوله تعالى: {واصبروا أو لا تصبروا} .7- وللاحتقار مثل قوله تعالى: {القوا ما أنتم ملقون} .8- وللمشورة مثل قوله تعالى: {فانظر ماذا ترى} .9- وللاعتبار مثل قوله تعالى: {انظروا إلى ثمره إذا أثمر} .10- وللدعاء مثل قولك: {رب اغفر لي} .11- وللالتماس: مثل قولك لزميلك: {ناولني القلم} .إلى غير ذلك من المعاني المتنوعة.تكرار المأمور به أو عدم تكرارهفي هذا البحث ثلاث صور: لأن الأمر إما أن يقيد بما يفيد الوحدة أو بما يفيد التكرار أو يكون خالياً عن القيد.فالأول: يحمل على ما قيد به، والقيد إما صفة أو شرط، فالقيد بصفة كقوله تعالى: {والسارق والسارقة فاقطعوا أيديهما} وفكلما حصلت السرقة وجب القطع ما لم يكن تكرارها قبله، والمقيد بشرط كقوله صلى الله عليه وسلم: " إذا سمعتم المؤذن فقولوا مثل ما يقول ".. الخ.والثاني: يحمل على ما قيد به أيضاً كقوله تعالى: {ولله على الناس حج البيت من استطاع إليه سبيلا} وقد سئل رسول الله-صلى الله عليه وسلم أفي كل عام يارسول الله؟ فأجاب بما يدل على أنه في العمر مرة فيحمل في الآية على الوحدة لهذا القيد.أما الثالث: وهو الخالي عن القيد فالأكثرون على عدم إفادته التكرار لأنه لمطلق إيجاد الماهية والمرة الواحدة تكفى فيه فمثلا لو قال الزوج لوكيله "طلق زوجتي " لم يملك إلا تطليقة واحدة ولو أمر السيد عبده بدخول الدار مثلا برأت ذمته بمرة واحدة ولم يحسن لومه ولا توبيخه.الأمر المطلق يقتضي فعل المأمور به على الفور
আদেশের রূপ (صيغة الأمر) কখনো কখনো তার মূল অর্থ থেকে বিচ্যুত হয়ে এমন সব অর্থের দিকে ধাবিত হয় যা বিভিন্ন পারিপার্শ্বিকতা (قرائن) দ্বারা নির্দেশিত হয়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:1- বৈধতা (إباحة) প্রকাশের জন্য; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আহার করো ও পান করো}।2- হুমকির (تهديد) জন্য; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা যা ইচ্ছা করো}।3- অনুগ্রহ প্রকাশের (امتنان) জন্য; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমি তোমাদেরকে যে উত্তম রিযিক দিয়েছি তা থেকে আহার করো}।4- সম্মান প্রদর্শনের (إكرام) জন্য; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তাতে শান্তিতে ও নিরাপদে প্রবেশ করো}।5- অক্ষম করার (تعجيز) জন্য; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে এসো}।6- সমতা (تسوية) বোঝানোর জন্য; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা ধৈর্য ধারণ করো অথবা ধৈর্য ধারণ না করো}।7- তুচ্ছজ্ঞান করার (احتقار) জন্য; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা যা নিক্ষেপ করতে চাও, নিক্ষেপ করো}।8- পরামর্শের (مشورة) জন্য; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং ভেবে দেখো তোমার অভিমত কী}।9- শিক্ষা গ্রহণের (اعتبار) জন্য; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা এর ফলের দিকে তাকাও যখন তা ফলবতী হয়}।10- প্রার্থনার (دعاء) জন্য; যেমন তোমার কথা: {হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন}।11- অনুরোধের (التماس) জন্য: যেমন তোমার সহকর্মীকে বলা: {আমাকে কলমটি দাও}।এ জাতীয় আরও বিবিধ অর্থ রয়েছে।আদেশকৃত বিষয়টির (المأمور به) পুনরাবৃত্তি ঘটা বা না ঘটাএই আলোচনায় তিনটি চিত্র রয়েছে: কারণ আদেশ হয় একবার (وحدة) হওয়া নির্দেশক কোনো শর্তের সাথে যুক্ত হবে, অথবা পুনরাবৃত্তি (تكرار) নির্দেশক কোনো শর্তের সাথে যুক্ত হবে, অথবা কোনো শর্ত থেকেই মুক্ত হবে।প্রথম প্রকার: যা শর্তযুক্ত করা হয়েছে তার ওপরই এটি নির্ভর করবে। এই শর্ত কখনো কোনো বৈশিষ্ট্য (صفة) হতে পারে অথবা কোনো বিশেষ শর্ত (شرط) হতে পারে। বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে শর্তযুক্ত হওয়ার উদাহরণ যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {চোর ও চোরনী, তোমরা তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও}। সুতরাং যখনই চুরি সংঘটিত হবে, তখনই হাত কাটা আবশ্যক হবে, যদি না এর আগে চুরির পুনরাবৃত্তি ঘটে থাকে। আর বিশেষ শর্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ হওয়ার উদাহরণ যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে শুনতে পাবে, তখন সে যা বলে তোমরাও তাই বলো" ইত্যাদি।দ্বিতীয় প্রকার: এটিও যে শর্তের সাথে যুক্ত হবে সে অনুযায়ীই নির্ধারিত হবে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেই ঘরের হজ করা তার জন্য আবশ্যিক কর্তব্য}। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হয়েছিল: হে আল্লাহর রাসূল! এটি কি প্রতি বছর? তিনি এমন উত্তর দিয়েছিলেন যা প্রমাণ করে যে, এটি জীবনে একবারই। সুতরাং এই সীমাবদ্ধতার কারণে আয়াতে আদেশটিকে একবার (وحدة) আদায়ের ওপর প্রয়োগ করা হবে।তৃতীয় প্রকার: যা শর্তহীন (خال عن القيد); অধিকাংশ উলামার মতে এটি পুনরাবৃত্তি (تكرار) বোঝায় না। কারণ এর উদ্দেশ্য হলো কেবল মূল বিষয়টির (ماهية) অস্তিত্ব নিশ্চিত করা, আর একবার আদায়ের মাধ্যমেই তা সম্পন্ন হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো স্বামী তার প্রতিনিধিকে বলে "আমার স্ত্রীকে তালাক দাও", তবে সে কেবল একটি তালাক দেওয়ারই অধিকার রাখবে। আবার কোনো মনিব যদি তার দাসকে ঘরে প্রবেশের আদেশ দেয়, তবে একবার প্রবেশের মাধ্যমেই সে দায়মুক্ত হবে এবং এরপর তাকে ভর্ৎসনা বা তিরস্কার করা সমীচীন হবে না।শর্তহীন আদেশ (الأمر المطلق) আদেশকৃত কাজটি অবিলম্বে (على الفور) পালন করাকে আবশ্যক করে।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
إذا وردت صيغة الأمر خالية مما يدل على فور أو تراخ اقتضت فعل المأمور به فورا في أول زمن الإِمكان لقيام الأدلة على ذلك كقوله تعالى: {وسارعوا إلى مغفرة من ربكم} وقوله: {سابقوا إلى مغفرة من ربكم} وقوله: {فاستبقوا الخيرات} وكمدحه المسارعين في قوله: {أولئك يسارعون في الخيرات} . ووجه دلالة هذه النصوص أن وضع الاستباق والمسابقة والمسارعة للفورية.وكذم الله تعالى لإبليس على عدم المبادرة بالسجود بقوله تعالى: {ما منعك أن لا تسجد إذ أمرتك} أي في قوله تعالى: {وإذ قلنا للملائكة اسجدوا لآدم فسجدوا إلا إبليس} ، ولو لم يكن الأمر للفور لما استحق الذم ويدل لذلك من جهة اللغة: أن السيد لو أمر عبده فلم يمتثل فعاقبه فاعتذر العبد بأن الأمر على التراخي لم يكن عذره مقبولا عندهم.وما استدل به القائلون بأنه على التراخي من تأخير النبي صلى الله عليه وسلم الحج إلى سنة عشر مدفوع بكون النبي صلى الله عليه وسلم يحتمل أنه أخره، لأغراض منها: كراهيته لمشاهدة ما كان المشركون يفعلونه في الحرم مما فيه مخالفة للشريعة، فلما أذن مؤذنوه في السنة التاسعة ببراءة الله ورسوله من المشركين ومنعهم من قربان الحرم وطهر الله مكة من أدران الشرك حج عليه الصلاة والسلام.من يدخل في خطاب التكليف ومن لا يدخلالناس على قسمين:1- قسم لم يكتمل إدراكه، وذلك إما لعدم البلوغ كالصغير أو لفقدان العقل كالمجنون، أو لتغطيته كالسكران أو لذهوله كالساهي.2- قسم مكتمل الإدراك، وهو البالغ العاقل السالم من العوارض المتقدمة فالقسم الأول لا يدخل في نطاق التكليف ولا يشمله الخطاب بدليل العقل والنقل.أ- أما من جهة العقل فلأن الأمر يقتضي الامتثال ومن لم يدرك أمراً لا يتأتي منه امتثاله.ب- وأما من جهة النقل فلحديث "رفع القلم عن ثلاثة" الحديث.
আদেশের রূপ (صيغة الأمر) যদি তাৎক্ষণিকতা (فور) বা বিলম্ব (تراخ) নির্দেশক কোনো অনুষঙ্গ থেকে মুক্ত হয়ে আসে, তবে তা সম্ভাব্য প্রথম সময়েই আদেশকৃত বিষয়টি অবিলম্বে (فورا) পালন করাকে আবশ্যক করে। এর সপক্ষে নানাবিধ প্রমাণ রয়েছে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমার দিকে দ্রুত ধাবিত হও"; এবং তাঁর বাণী: "তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমার দিকে প্রতিযোগিতা করো"; এবং তাঁর বাণী: "তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করো"। আর যারা দ্রুত কাজ সম্পাদন করে আল্লাহ তাদের প্রশংসা করে বলেছেন: "তারাই দ্রুত কল্যাণকর কাজসমূহ সম্পাদন করে"। এই দলিলের পাঠ (نصوص) গুলোর প্রমাণের দিক হলো এই যে, প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়া বা দ্রুত ধাবিত হওয়া শব্দগুলো তাৎক্ষণিকতা (فورية) বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।তদ্রূপ, সিজদাহ করার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক তৎপরতা না দেখানোর কারণে ইবলিসের প্রতি আল্লাহ তাআলার নিন্দা করা, যেমনটি তিনি বলেছেন: "আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম, তখন কিসে তোমাকে সিজদাহ করা থেকে বিরত রাখল?" অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে: "যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমের প্রতি সিজদাহ করো, তখন ইবলিস ব্যতীত সকলে সিজদাহ করল"। যদি আদেশটি তাৎক্ষণিকতার (فور) জন্য না হতো, তবে সে নিন্দার যোগ্য হতো না। ভাষাগত দিক থেকেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়: কোনো মনিব যদি তার দাসকে আদেশ করেন আর সে তা পালন না করে, ফলে মনিব তাকে শাস্তি দেন, অতঃপর দাস যদি ওজর পেশ করে যে আদেশটি বিলম্ব (تراخي) করে পালনের সুযোগ সংবলিত ছিল, তবে তাদের নিকট এই ওজর গ্রহণযোগ্য হবে না।যারা আদেশ বিলম্ব (تراخي) করে পালনের সুযোগ থাকার পক্ষে মত দেন এবং দলিল হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দশম হিজরি পর্যন্ত হজ বিলম্ব করার কথা উল্লেখ করেন, তা খণ্ডনযোগ্য। কারণ সম্ভবত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে তা বিলম্ব করেছিলেন, যার মধ্যে একটি হলো: হারাম শরিফে মুশরিকরা শরিয়ত পরিপন্থী যেসব কর্মকাণ্ড করত, তা প্রত্যক্ষ করার প্রতি তাঁর অনীহা। অতঃপর নবম হিজরিতে যখন তাঁর ঘোষণাকারীরা মুশরিকদের সাথে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন এবং তাদের হারাম শরিফে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেন, আর আল্লাহ মক্কাকে শিরকের আবিলতা থেকে পবিত্র করলেন, তখন তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) হজ আদায় করলেন।শরয়ি দায়বদ্ধতার সম্বোধনের (خطاب التكليف) অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি এবং যারা এর অন্তর্ভুক্ত নয়মানুষ দুই প্রকার:1- এমন এক শ্রেণি যাদের বোধশক্তি পূর্ণতা পায়নি। এর কারণ হতে পারে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া যেমন শিশু, অথবা বিবেক-বুদ্ধি না থাকা যেমন উন্মাদ, অথবা তা আচ্ছন্ন হওয়া যেমন মাতাল, কিংবা অন্যমনস্ক হওয়া যেমন বিস্মৃত ব্যক্তি।2- এমন এক শ্রেণি যাদের বোধশক্তি পূর্ণাঙ্গ; যারা প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান এবং উল্লিখিত প্রতিবন্ধকতাগুলো থেকে মুক্ত। প্রথম শ্রেণিটি শরয়ি দায়বদ্ধতার (تكليف) আওতাভুক্ত নয় এবং যুক্তি (عقل) ও বর্ণনা (نقل) উভয় প্রকার প্রমাণের ভিত্তিতে তারা সম্বোধনের (خطاب) অন্তর্ভুক্ত হবে না।অ- যুক্তির (عقل) দিক থেকে প্রমাণ হলো: আদেশ মূলত আনুগত্য (امتثال) দাবি করে, আর যে ব্যক্তি কোনো বিষয় বুঝতে পারে না, তার পক্ষ থেকে তা পালন করা সম্ভব নয়।ব- বর্ণনার (نقل) দিক থেকে প্রমাণ হলো: "তিন ব্যক্তি থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে" এই হাদিস।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ولا يعترض على هذا بتضمين ما أتلفه لأن ضمان حق الغير يستوي فيه العاقل ونجير العاقل حتى لو أتلفته بهيمة لزم صاحبها ضمانه.وأما القسم الثاني: فهم إما مسلمون أو غير مسلمين، والخطاب إما بأصل كالعقائد وإما بفرع كالصلاة والصيام ونحو ذلك.أ- فالخطاب بأصل يشملهما إتفاقا.ب- والخطاب بفرع فيه خلاف والصحيح دخول الكفار فيه كالمسلمين، ومن أدلة ذلك قوله تعالى عن الكفار: {ما سلككم في سقر قالوا لم نك من المصلين ولم نك نطعم المسكين وكنا نخوض مع الخائضين وكنا نكذب بيوم الدين} فذكروا من أسباب تعذيبهم تركهم لما أمروا به من الفروع كتركهم الصلاة والزكاة وارتكابهم لما نهوا عنه بخوضهم مع الخائضين، ولم يقتصروا على ذكر السبب الأكابر وهو تكذيبهم بيوم الدين.ومنها رجمه صلى الله عليه وسلم اليهوديين، وكذلك قوله تعالى: {الذين كفروا وصدوا عن سبيل الله زدنا هم عذاباً فوق العذاب} . وكما أن المؤمن يثاب على إيمانه وعلى امتثاله الأوامر واجتناب النواهي فكذلك الكافر يعاقب على ترك التوحيد وعلى ارتكاب النواهي وعدم امتثال الأوامر.النهيتعريفه: أ - لغة المنع. ومنه سمي العقل نهية لأنه ينهى صاحبه ويمنعه من الوقوع فيما لا يليق.ب - واصطلاحاً: طلب الكف عن فعل على سبيل الاستعلاء، بغير كف ونحوها.مثال قوله تعالى: {لا تأكلوا أموالكم بينكم بالباطل} ، وقوله: {لا تخونوا الله والرسول وتخونوا أماناتكم وأنتم تعلمون} .صيغته: "كل مضارع مجزوم بلا " ولا يدخل في ذلك: كف، أو خل،أو ذر، أو دع مما جاء لطلب الكف كما في قوله تعالى: {وذروا ظاهر الِإثم وباطنه} {ودع أذاهم} {فخلوا سبيلهم} لأنها وإن كانت تفيد طلب الكف إلا أنها بصيغة الأمر.مقتضى النهي: التحريم حقيقة بالاتفاق لقوله صلى الله عليه وسلم: " وما نهيتكم عنه فاجتنبوه".صيغ تفيد ما تفيده صيغة النهي
অন্যের সম্পদ নষ্ট করার ক্ষতিপূরণের বিধান দিয়ে এর ওপর কোনো আপত্তি তোলা যাবে না। কারণ অন্যের অধিকারের ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে বুদ্ধিমান এবং নির্বোধ (غير عاقل) উভয়েই সমান; এমনকি কোনো পশু যদি কিছু নষ্ট করে, তবে তার মালিকের ওপর তার ক্ষতিপূরণ প্রদান করা আবশ্যক হয়।আর দ্বিতীয় প্রকার: তারা হয় মুসলিম নতুবা অমুসলিম। আর এই সম্বোধন হয় মৌলিক (أصل) বিষয়াদি যেমন আকাইদ সংক্রান্ত, অথবা শাখা-প্রশাখা (فرع) সংক্রান্ত যেমন সালাত, সিয়াম ও তদ্রূপ অন্যান্য বিষয়।ক- মৌলিক (أصل) বিষয় সংক্রান্ত সম্বোধন সর্বসম্মতিক্রমে উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।খ- শাখা-প্রশাখা (فرع) সংক্রান্ত সম্বোধনের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। তবে সঠিক (صحيح) মত হলো, মুসলিমদের মতো কাফিররাও এর অন্তর্ভুক্ত। এর অন্যতম দলিল হলো কাফিরদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমাদের কিসে সাকারে (জাহান্নামে) নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, আমরা মিসকিনদের খাদ্য দান করতাম না, আমরা অনর্থক আলোচনাকারীদের সাথে অনর্থক আলোচনায় মগ্ন থাকতাম এবং আমরা বিচার দিবসকে অস্বীকার করতাম}। এখানে তারা তাদের আজাবের কারণ হিসেবে শাখা-প্রশাখা (فرع) সংক্রান্ত নির্দেশনাবলি বর্জন করার কথা উল্লেখ করেছে, যেমন সালাত ও জাকাত বর্জন করা। তেমনিভাবে তারা নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে, যেমন অনর্থক আলোচনায় মগ্ন হওয়া। তারা কেবল প্রধানতম কারণ অর্থাৎ বিচার দিবসকে অস্বীকার করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।এর অন্য একটি প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক দুই ইহুদিকে রজম করা। তদ্রূপ আল্লাহ তাআলার বাণী: {যারা কুফরি করেছে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, আমি তাদের আজাবের ওপর আজাব বাড়িয়ে দেব}। আর মুমিন ব্যক্তি যেভাবে তার ঈমান, আদেশ পালন এবং নিষেধ বর্জনের কারণে সওয়াব প্রাপ্ত হয়, তেমনিভাবে কাফির ব্যক্তিও তাওহিদ বর্জন করা, নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া এবং আদেশ পালন না করার কারণে শাস্তির সম্মুখীন হবে।নিষেধ (النهي)সংজ্ঞা: ক - আভিধানিক অর্থ: বারণ করা। এই অর্থ থেকেই আকল বা বুদ্ধিকে 'নুহ্ইয়াহ' বলা হয়; কারণ এটি তার অধিকারীকে অনুচিত কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বারণ করে এবং বিরত রাখে।খ - পারিভাষিক অর্থ: উচ্চমর্যাদার অধিকারী কর্তৃক কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার দাবি করা, যাতে 'কাফফা' বা অনুরূপ কোনো শব্দ ব্যবহার করা হয় না।উদাহরণ হিসেবে আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না} এবং {তোমরা জেনেশুনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে খিয়ানত করো না এবং তোমাদের আমানতসমূহেরও খিয়ানত করো না}।এর রূপ (صيغة): "লা (না-বোধক অব্যয়) যুক্ত প্রতিটি মজজুম মুদারি বা বর্তমানকালীন ক্রিয়া।" এর মধ্যে 'কাফ্ফা' অথবা 'খাল্লি' অন্তর্ভুক্ত হবে না,অথবা 'যার' অথবা 'দা' ইত্যাদি শব্দ অন্তর্ভুক্ত হবে না যা বিরত থাকার দাবি বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন গুনাহ বর্জন করো}, {তাদের পীড়ন উপেক্ষা করো} এবং {তাদের পথ ছেড়ে দাও}। কারণ এগুলো যদিও বিরত থাকার দাবি বুঝায়, কিন্তু এগুলো মূলত আদেশ (أمر) সূচক রূপের অন্তর্ভুক্ত।নিষেধের দাবি (مقتضى النهي): সর্বসম্মতিক্রমে নিষেধের প্রকৃত দাবি হলো কোনো বিষয়কে হারাম (التحريم) করা। এর দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমি তোমাদের যা থেকে নিষেধ করেছি, তা বর্জন করো।"এমন কিছু রূপ যা নিষেধের (النهي) রূপের মতো একই অর্থ প্রদান করে:
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ويلتحق بصيغة النهي في إفادة التحريم: التصريح بلفظ التحريم، والنهي والحظر والوعيد على الفعل، وذم الفاعل، وإيجاب الكفارة بالفعل، وكلمة ما كان لهم كذا ولم يكن لهم. وكذا ترتيب الحد على الفعل وكلمة "لا يحل " ووصف الفعل بأنه فساد أو أنه من تزيين الشيطان وعمله. وأنه تعالى لا يرضاه لعباده، ولا يزكى فاعله، ولا يكلمه ولا ينظر إليه ونحو ذلك.ورود صيغة النهي بغير التحريم1- ترد للكراهية كالنهي عن الشرب من فم القربة.2- وترد للدعاء إن كان من أدنى لأعلى مثل: ربنا لا تؤاخذنا إن نسينا أو أخطأنا.3- وترد للإرشاد مثل قوله تعالى: {لا تسألوا عن أشياء أن تبد لكم تسؤكم} .وعلى العموم فإنها ترد لكثير مما يرد له الأمر غير أن الأمر لطلب الفعل والنهي لطلب الكف.أحوال النهيأحوال النهي أربع وهي:1- أن يكون النهي عن شيء واحد فقط وهو الكثير كالنهي عن الزنا مثلا.2- أن يكون النهي عن الجمع بين متعدد، وللمنهي أن يفعل أيها شاء على انفراده، كالجمع بين الأختين. والجمع بين المرأة وعمتها، وبينها وبين خالتها.3- أن يكون النهي عن التفريق بين شيئين أو أكثر دون الجمعِ كالتفريق بين رجليه بنعل إحداهما دون الأخرى. بل على المنهي أن ينعلهما معا أو يحفيهما معاً.4- أن يكون النهي عن متعدد اجتماعا وافتراقاً مثل قوله تعالى: {ولا تطع منهم آثماً أو كفورا} . فلا تجوز طاعتهما مجتمعين ولا مفترقين، ومن أمثلة ذلك: لا تأكل السمك وتشرب اللبن. على جزم الفعلين، فإن النهي منصب على الأكل والشرب اجتماعا وافتراقاً، فإذا نصب الثاني كان مثالا للحالة الثانية. وإذا رفع كان مثالا للحالة الأولى.اقتضاء النهي فساد المنهي عنهالمنهيات على قسمين:1- قسم منهي عنه ولم يتوجه إليه طلب قط مثل قوله تعالى: {ولا تقربوا الزنا} وقوله: {واعبدوا الله ولا تشركوا به شيئا} .
হারাম হওয়া (تحريم) বোঝাতে নিষেধের (نهي) রূপের সাথে যা যা যুক্ত হয় তা হলো: সরাসরি হারাম (تحريم) শব্দ উল্লেখ করা, নিষেধ (نهي) ও নিষেধাজ্ঞা (حظر) শব্দের ব্যবহার, কোনো কাজের ওপর শাস্তির ধমক (وعيد) প্রদান করা, কাজের কর্তার নিন্দা করা, কোনো কাজের কারণে কাফফারা (كفارة) ওয়াজিব হওয়া এবং 'তাদের জন্য এমনটি করা উচিত নয়' বা 'তাদের জন্য এমনটি ছিল না' জাতীয় শব্দাবলি। অনুরূপভাবে কোনো কাজের ওপর নির্ধারিত দণ্ড (حد) বিধান করা, 'বৈধ নয়' শব্দটির ব্যবহার এবং কাজটিকে ফাসাদ বা অসারতা (فساد) হিসেবে বর্ণনা করা অথবা একে শয়তানের সুশোভিত কাজ বা তার কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দেওয়া। এছাড়া মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য সেই কাজ পছন্দ করেন না, এর কর্তাকে পবিত্র করবেন না, তার সাথে কথা বলবেন না বা তার দিকে তাকাবেন না—এ জাতীয় শব্দাবলিও এর অন্তর্ভুক্ত।হারাম (تحريم) ব্যতীত অন্য অর্থে নিষেধের (نهي) রূপের ব্যবহার১- এটি অপছন্দনীয়তা (كراهية) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেমন মশক বা কলসির মুখ থেকে সরাসরি পানি পানে নিষেধ (نهي)।২- এটি দোয়া (دعاء) বা প্রার্থনার অর্থে ব্যবহৃত হয় যদি তা নিম্ন পর্যায় থেকে উচ্চ পর্যায়ের প্রতি হয়, যেমন: হে আমাদের পালনকর্তা! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না।৩- এটি নির্দেশিকা (إرشاد) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে।"সামগ্রিকভাবে, আদেশ (أمر) যে সকল অর্থে ব্যবহৃত হয়, নিষেধও (نهي) সে সকল অর্থের অনেকগুলোতে ব্যবহৃত হয়; পার্থক্য কেবল এই যে, আদেশ (أمر) কোনো কাজ সম্পাদনের দাবি জানায় আর নিষেধ (نهي) কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার (كف) দাবি জানায়।নিষেধের (نهي) অবস্থাসমূহনিষেধের (نهي) অবস্থা চারটি, যা হলো:১- কেবল একটি মাত্র বিষয় থেকে নিষেধ (نهي) করা, যা সচরাচর বেশি দেখা যায়; যেমন ব্যভিচার থেকে নিষেধ (نهي) করা।২- একাধিক বিষয়ের একত্রে সমন্বয় করা থেকে নিষেধ (نهي) করা, তবে যাকে নিষেধ করা হয়েছে সে চাইলে এককভাবে যেকোনোটি করতে পারে। যেমন দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা, অথবা কোনো নারী ও তার ফুফু এবং নারী ও তার খালাকে একত্রে বিবাহ করা।৩- একত্রে করার পরিবর্তে দুই বা ততোধিক বিষয়ের মধ্যে পৃথক করা থেকে নিষেধ (نهي) করা; যেমন দুই পায়ের এক পায়ে জুতা পরে অন্য পা খালি রাখা। বরং যাকে নিষেধ করা হয়েছে সে হয় দুই পায়েই জুতা পরবে নতুবা দুই পা-ই খালি রাখবে।৪- একাধিক বিষয় একত্রে বা পৃথক পৃথকভাবে করা থেকে নিষেধ (نهي) করা; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের মধ্য থেকে কোনো পাপিষ্ঠ বা অকৃতজ্ঞের আনুগত্য করো না।" সুতরাং তাদের উভয়ের আনুগত্য যেমন একত্রে করা জায়েজ নেই, তেমনি পৃথকভাবেও জায়েজ নেই। এর আরেকটি উদাহরণ হলো: "তুমি মাছ খেয়ো না এবং দুধ পান করো না" (উভয় ক্রিয়ার শেষে জজম দিয়ে)। এখানে নিষেধটি মাছ খাওয়া ও দুধ পান করার ওপর একত্রে এবং পৃথক পৃথক—উভয়ভাবেই প্রযোজ্য। যদি দ্বিতীয় ক্রিয়াটি নসব দিয়ে পড়া হয়, তবে তা দ্বিতীয় অবস্থার উদাহরণ হবে। আর যদি রফা দিয়ে পড়া হয়, তবে তা প্রথম অবস্থার উদাহরণ হবে।নিষেধ (نهي) নিষিদ্ধ বিষয়টির ফাসাদ বা অসারতা (فساد) দাবি করেনিষিদ্ধ বিষয়সমূহ (منهيات) দুই প্রকার:১- এমন বিষয় যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে এবং যার প্রতি কখনও কোনো আদেশ বা তলব করা হয়নি। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না" এবং তাঁর বাণী: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না।"
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وهذا هو المنهي عنه لذاته، أي لقبحه في نفسه، فهذا محرم قطعا وباطل لزوما. وما ترتب عليه باطل كذلك، كالولد من الزنا لا يلحق بأبيه، وعمل المشرك لا يثاب عليه.2- وقسم منهي عنه من وجه مع وجود أمر به من وجه آخر وهذا القسم على ثلاث صور.أ- منهي عنه لصفته.ب- منهي عنه لأمر لازم له.جـ- منهي عنه لأمر خارج عنه.الأمثلة على ما تقدم.أولا: المنهي عنه لصفتهأ- في العبادات: نهي الحائض عن الصلاة، ونهى السكران عنها أيضاً.ب- في المعاملات: النهي عن بيع الملاقيح وذلك لجهالة البيع.ثانياً: المنهي عنه لأمر لازم لهأ- في العبادات: النهي عن الصوم يوم العيد، لما يلزمه من الإعراض عن ضيافة الله في ذلك اليوم.ب- في المعاملات: النهي عن بيع العبد المسلم لكافر إذا لم يعتق عليه لما فيه من ولاية الكافر على المسلم المبيع.ثالثاً: المنهي عنه لأمر خارج عنهأ- في العبادات: النهي عن الوضع بماء مغصوب أو الصلاة في أرض مغصوبة.وبيان كون النهي لأمر خارج عنه. أن النهي لا لنفس الوضوء ولكن لأنه حق للغير لا يجوز استعماله بغير إذن فسواء فيه الإتلاف بوضوء أو بإراقة أو غير ذلك،ويتضح لك الفرق بين المنهي عنه لذاته والمنهي عنه لأمر خارج عنه بالفرق بين الماء المتنجس والماء المغصوب.ب- في المعاملات: النهي عن البيع بعد النداء لصلاة الجمعة.وبيان، كونه لأمر خارج عنه أن البيع قد استوفى شروطه ولكنه مظنة لفوات الصلاة كما أن فوات الصلاة قد يكون لعدة أسباب أخرى.والجمهور على أن النهي في هذه الصورة لا يقتضي الفساد لأن نفس المنهي عنه وهو البيع سالم من مبطل والنهي لذلك الخارج، فالجهة منفكة أي جهة صحة البيع عن جهة توجه النهي إليه. وعند أحمد أن النهي يقتضي الفساد لأن النهي يقتضي العقاب والصحة تقتضي الثواب فلا يثاب ويعاقب في وقت واحد بسبب محمل واحد.الأدلة على اقتضاء النهي الفساد…، وهي كثيرة.
এটি হলো সত্তাগত কারণে নিষিদ্ধ (المنهي عنه لذاته), অর্থাৎ যা নিজের মাঝেই মন্দ হওয়ার কারণে নিষিদ্ধ। সুতরাং এটি অকাট্যভাবে হারাম (محرم) এবং আবশ্যিকভাবে বাতিল (باطل)। এর ওপর যা কিছু বিন্যস্ত হবে তাও অনুরূপভাবে বাতিল (باطل); যেমন ব্যভিচারজাত সন্তান তার পিতার সাথে যুক্ত হয় না এবং মুশরিকের আমলের কোনো প্রতিদান বা সওয়াব (الثواب) দেওয়া হয় না।২- এমন এক প্রকার যা একদিক থেকে নিষিদ্ধ (منهي عنه) হওয়ার পাশাপাশি অন্য দিক থেকে তার নির্দেশও বিদ্যমান। আর এই প্রকারটি তিন ধরনের।ক- তার বৈশিষ্ট্যের কারণে নিষিদ্ধ (منهي عنه لصفته)।খ- এমন বিষয়ের কারণে নিষিদ্ধ যা তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত (منهي عنه لأمر لازم له)।গ- বাহ্যিক কোনো বিষয়ের কারণে নিষিদ্ধ (منهي عنه لأمر خارج عنه)।পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর উদাহরণ:প্রথমত: বৈশিষ্ট্যের কারণে নিষিদ্ধ (المنهي عنه لصفته)ক- ইবাদতের ক্ষেত্রে: ঋতুবতী নারীর সালাত আদায়ে নিষেধাজ্ঞা এবং মাতাল ব্যক্তিরও সালাত আদায়ে নিষেধাজ্ঞা।খ- লেনদেনের ক্ষেত্রে: 'মালায়কিহ' (পশুর গর্ভস্থ ভ্রূণ) বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা, আর তা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অজ্ঞতা বা অনিশ্চয়তা (جهالة) থাকার কারণে।দ্বিতীয়ত: ওতপ্রোতভাবে জড়িত বিষয়ের কারণে নিষিদ্ধ (المنهي عنه لأمر لازم له)ক- ইবাদতের ক্ষেত্রে: ঈদের দিনে রোজা রাখা নিষিদ্ধ, কারণ এতে ঐ দিনে আল্লাহর মেহমানদারি থেকে বিমুখ হওয়া আবশ্যকীয় হয়ে পড়ে।খ- লেনদেনের ক্ষেত্রে: কোনো মুসলিম দাসকে কাফিরের নিকট বিক্রয় করা নিষিদ্ধ যদি তার ফলে সে মুক্ত না হয়; কেননা এতে বিক্রিত মুসলিমের ওপর কাফিরের কর্তৃত্ব (ولاية) প্রতিষ্ঠিত হয়।তৃতীয়ত: বাহ্যিক বিষয়ের কারণে নিষিদ্ধ (المنهي عنه لأمر خارج عنه)ক- ইবাদতের ক্ষেত্রে: জবরদখলকৃত (مغصوب) পানি দ্বারা অজু করা অথবা জবরদখলকৃত (مغصوب) জমিতে সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ।আর এটি বাহ্যিক বিষয়ের কারণে নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাখ্যা হলো—এই নিষেধাজ্ঞাটি মূল অজুর জন্য নয়, বরং যেহেতু এটি অন্যের অধিকারভুক্ত সম্পদ যা অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বৈধ নয়। সুতরাং অজুর মাধ্যমে তা ব্যয় করা হোক কিংবা ঢেলে ফেলে দেওয়া হোক, উভয়ই সমান।সত্তাগত কারণে নিষিদ্ধ (المنهي عنه لذاته) এবং বাহ্যিক কারণে নিষিদ্ধ (المنهي عنه لأمر خارج عنه)-এর মধ্যকার পার্থক্য তোমার কাছে অপবিত্র পানি (الماء المتنجس) এবং জবরদখলকৃত (مغصوب) পানির পার্থক্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।খ- লেনদেনের ক্ষেত্রে: জুমার সালাতের আজানের পর ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া।আর এটি বাহ্যিক বিষয়ের কারণে নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাখ্যা হলো—বিক্রয় প্রক্রিয়াটি তার শর্তসমূহ পূর্ণ করেছে, তবে এটি সালাত ছুটে যাওয়ার একটি কারণ; ঠিক যেমন সালাত অন্য অনেক কারণেও ছুটে যেতে পারে।জমহুর বা সংখ্যাগুরু উলামাদের (الجمهور) মতে, এই সুরতে বা অবস্থায় নিষেধাজ্ঞাটি কাজ বাতিল বা অকার্যকর (الفساد) হওয়া দাবি করে না। কারণ নিষিদ্ধ বিষয়টি অর্থাৎ বিক্রয় প্রক্রিয়াটি স্বয়ং বাতিলকারী বিষয় থেকে মুক্ত এবং নিষেধাজ্ঞাটি কেবল সেই বাহ্যিক বিষয়ের জন্য। ফলে বিক্রয়ের শুদ্ধতার দিকটি এবং নিষেধাজ্ঞার দিকটি পরস্পর পৃথক। ইমাম আহমাদ (রাহ.)-এর মতে, নিষেধাজ্ঞা কাজ বাতিল (الفساد) হওয়া দাবি করে; কারণ নিষেধাজ্ঞা শাস্তির (العقاب) দাবি রাখে আর শুদ্ধতা সওয়াবের (الثواب) দাবি রাখে। ফলে একই সময়ে একই কারণে কোনো ব্যক্তি সওয়াব (الثواب) এবং শাস্তি (العقاب) উভয়টি পেতে পারে না।নিষেধাজ্ঞা যে কাজ বাতিল বা অকার্যকর (الفساد) হওয়া দাবি করে তার দলিলসমূহ..., যা সংখ্যায় অনেক।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
منها. قوله عليه السلام في الحديث الصحيح: "من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد" أي مردود وما كان مردودا على فاعله فكأنه لم يوجد، والرد إذا أضيف إلى العبادات اقتضى عدم الاعتداد بها وإذا أضيف إلى العقود اقتضى فسادها وعدم نفوذها.ومنها: أمره صلى الله عليه وسلم بلالا حين اشترى صاعا من التمر الجيد بصاعين من الرديء برده وإعلامه بأن ذلك عين الربا.ومنها: أن الصحابة كانوا يستدلون على الفساد بالنهي كاستدلالهم على فساد عقود الربا بقوله صلى الله عليه وسلم: " لا تبيعوا الذهب بالذهب إلا مثلا بمثل " وعلى فساد نكاح المحرم بالنهي عنه.الأمر والنهي بلفظ الخبرالأمر والنهي بلفظ الخبر كالأمر والنهي بلفظ الطلب في جميع الأحكام، واليك الأمثلة على النوعين:أ- مثال الأمر بلفظ الخبر قوله تعالى: {والمطلقات يتربصن بأنفسهن ثلاثة قروء} وقوله: {والوالدات يرضعن أولادهن حولين كاملين} وقوله صلى الله عليه وسلم: "من مات وعليه صيام صام عنه وليه ".ب- ومثال النهي بلفظ الخبر قوله تعالى: {فلا رفث ولا فسوق ولا جدال في الحج} وقوله صلى الله عليه وسلم: "لا ضرر ولا ضرار" وقوله في كتابه لعمرو بن حزم: "وأن لا يمس القرآن إلا طاهر". العامتعريفه: أ- هو في اللغة الشامل.والعموم شمول أمر لآخر مطلقاً.ب- وفي الاصطلاح: هو اللفظ المستغرق لما يصلح له دفعة بوضع واحد من غير حصر.فخرج بقولنا " دفعة " نحو رجل. في سياق الإثبات فإنه وإن كان مستغرقاً لجميع ما يصلح له إلا أن هذا الاستغراق على سبيل البدلية لا دفعة واحدة. وبقولنا بوضع واحد. المشترك مثل "القرء والعين " فإنه بوضعين أو أكثر.وبقولنا من غير حصر. أسماء الأعداد كعشرة ومائة. وهذا عند من لا يرى لفظ العدد من صيغ العموم.صيغ العموموللعموم ألفاظ دالة عليه تسمى صيغ العموم ومنها ما يأتي:1- كل: مثل قوله تعالى: {كل نفس ذائقة الموت} وقوله: {كل آمن بالله وملائكته} .
এর মধ্যে একটি হলো সহিহ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তবে তা প্রত্যাখ্যাত (مردود)।" অর্থাৎ সেটি বর্জনীয়। আর যা তার কর্তার প্রতি প্রত্যাখ্যাত হয়, তা যেন অস্তিত্বহীন। 'প্রত্যাখ্যান' (الرد) শব্দটি যখন ইবাদতের সাথে যুক্ত হয়, তখন তা সেটির অগ্রহণযোগ্যতা নির্দেশ করে; আর যখন তা চুক্তির সাথে যুক্ত হয়, তখন তা সেটির অসারতা (الفساد) এবং অকার্যকারিতা নির্দেশ করে।আরও একটি উদাহরণ হলো: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে বেলাল (রা.)-কে দেওয়া নির্দেশ, যখন তিনি দুই সা নিম্নমানের খেজুরের বিনিময়ে এক সা উন্নত মানের খেজুর ক্রয় করেছিলেন। তিনি তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তাকে অবহিত করেন যে এটিই হলো প্রকৃত সুদ (الربا)।আরও একটি উদাহরণ হলো: সাহাবায়ে কেরাম (রা.) কোনো বিষয়ের অসারতা (الفساد) প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার (النهي) মাধ্যমে দলিল পেশ করতেন। যেমন—সুদ সংশ্লিষ্ট চুক্তির অসারতা (الفساد) প্রমাণের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করা: "তোমরা সোনার বিনিময়ে সোনা বিক্রি করো না সমান সমান ব্যতীত।" অনুরূপভাবে ইহরাম অবস্থায় থাকাকালীন বিয়ের অসারতা (الفساد) প্রমাণের জন্য এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা (النهي) দ্বারা দলিল প্রদান।সংবাদমূলক বাক্যের মাধ্যমে আদেশ ও নিষেধসংবাদমূলক বাক্যের মাধ্যমে আদেশ (الأمر) ও নিষেধ (النهي) সমস্ত বিধানের ক্ষেত্রে অনুরোধমূলক বাক্যের মাধ্যমে আদেশ ও নিষেধের মতোই গণ্য। উভয় প্রকারের উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:ক- সংবাদমূলক বাক্যের মাধ্যমে আদেশের (الأمر) উদাহরণ—মহান আল্লাহর বাণী: {তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন 'কুরু' (ঋতু বা পবিত্রতা) পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে} এবং আল্লাহর বাণী: {আর মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে}। এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল এমতাবস্থায় যে তার ওপর রোজা কাজা ছিল, তবে তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক রোজা রাখবে।"খ- সংবাদমূলক বাক্যের মাধ্যমে নিষেধের (النهي) উদাহরণ—মহান আল্লাহর বাণী: {হজের সময় কোনো অশ্লীলতা, কোনো পাপাচার এবং কোনো ঝগড়া-বিবাদ নেই}। এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না।" এবং আমর ইবনে হাযমের কাছে লেখা পত্রে বর্ণিত: "পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না।" ব্যাপক (العام)সংজ্ঞা: ক- শাব্দিক অর্থে এটি হলো 'শামিল' বা অন্তর্ভুক্তকারী। আর ব্যাপকতা (العموم) বলতে বোঝায় এক বিষয় অন্য বিষয়কে শর্তহীনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা।খ- পারিভাষিক অর্থে: এটি এমন শব্দ যা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ না রেখে (من غير حصر), একক শব্দ গঠনের মাধ্যমে (بوضع واحد), তার উপযুক্ত সকল অর্থকে একই সাথে (دفعة) পরিব্যাপ্ত (المستغرق) করে।আমাদের সংজ্ঞায় ব্যবহৃত "একই সাথে" (دفعة) কথাটির মাধ্যমে ইতিবাচক বাক্যে ব্যবহৃত 'রজুল' (একজন পুরুষ)-এর মতো শব্দগুলো বাদ পড়েছে। কারণ, এটি তার উপযুক্ত সকল অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করার যোগ্যতা রাখলেও এই অন্তর্ভুক্তিকরণ 'বিকল্প' হিসেবে হয়, একই সাথে (دفعة) নয়। আর "একক শব্দ গঠনের মাধ্যমে" (بوضع واحد) কথাটির মাধ্যমে অনেকার্থবোধক (المشترك) শব্দসমূহ যেমন—'কুরু' এবং 'আইন' বাদ পড়েছে; কারণ এগুলোর একাধিক অর্থ প্রদানের জন্য একাধিক প্রেক্ষিত বা গঠন রয়েছে।আর "সীমাবদ্ধ না রেখে" (من غير حصر) কথাটির মাধ্যমে সংখ্যাবাচক শব্দসমূহ যেমন—দশ এবং একশ বাদ পড়েছে। এটি তাদের মতানুসারে যারা সংখ্যাবাচক শব্দকে ব্যাপকতা প্রকাশকারী শব্দাবলির (صيغ العموم) অন্তর্ভুক্ত মনে করেন না।ব্যাপকতা প্রকাশকারী শব্দাবলি (صيغ العموم)ব্যাপকতা বা 'আম' হওয়ার ওপর প্রমাণ বহনকারী কিছু সুনির্দিষ্ট শব্দ রয়েছে যেগুলোকে ব্যাপকতা প্রকাশকারী শব্দাবলি (صيغ العموم) বলা হয়। তার মধ্যে কিছু নিম্নরূপ:1- 'কুল্লু' (كل) বা প্রত্যেক: যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে} এবং আল্লাহর বাণী: {প্রত্যেকেই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণের ওপর ঈমান এনেছে}।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
2- جميع مثل جاء القوم جميعهم.3- الجمع المعرف بالألف واللام لغير العهد مثل قد أفلح المؤمنون، وكذا المعرف بالإضافة مثل يوصيكم الله في أولادكم.4- المفرد المعرف بالألف واللام لغير العهد مثل {والعصر إن الِإنسان لفي خسر إلا الذين آمنوا … } السورة. وكذا المعرف بالإضافة {وإن تعدوا نعمة الله لا تحصوها} .5- المثنى المعرف بأل مثل قوله صلى الله عليه وسلم، " إذا التقى المسلمان بسيفيهما.."الحديث فإنه يعم كل مسلمين.6- ما- وهي لما لا يعقل مثالها- موصولة- قوله تعالى: {ما عندكم ينفد وما عند الله باق} ومثالها- شرطية- قوله تعالى: {وما تفعلوا من حْير يعلمه الله} .7- من- وهي لمن يعقل، مثاله- موصولة- قوله تعالى: {ولا تؤمنوا إلا لمن تبع دينكم} ومثالها- شرطية- قوله تعالى: {فمن يعمل مثقال ذرة خيراً يره} .8- متى- للزمان المبهم- شرطية مثل متى زرتني أكرمتك.9- أين- للمكان المبهم- شرطية مثل قوله تعالى: {أينما تكونوا يدرككم الموت} .10- النكرة في سياق النفي وتكون نصا في العموم وظاهرة فيهنصيهّ النكرة في العموم وظهورها فيهتكون النكرة في سياق النفي نصا صريحاً في العموم في الحالات الآتية:1- إذا بنيت مع لا نحو، لا إله إلا الله.2- إذا زيدت قبلها من وتزاد من قبلها في ثلاثة مواضع:أ- قبل الفاعل مثل {لتنذر قوماً ما أتاهم من نذير} الآية.ب- قبل المفعول مثل {وما أرسلنا من قبلك من رسول} الآية.جـ- قبل المبتدأ مثل {وما من إله إلا إله واحد} .3- النكرة الملازمة للنفي مثل: ديار كما في قوله تعالى عن نوح: {لا تذر على الأرض من الكافرين ديارا} .وتكون ظاهرة لا نصاً فيما عدا ذلك كالنكرة العاملة فيها " لا " عمل ليس مثل قولك لا رجل في الدار.دلالة اللفظ العام واستعمالاته
2- 'সকল' (جميع) এর মতো শব্দসমূহ; যেমন- কওমের (দলের) সকলেই এসেছে।3- সেই সকল বহুবচন (الجمع) যা 'আহদ' (পূর্ব-পরিচিত) ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে আলিফ-লাম দ্বারা নির্দিষ্ট (المعرف بالألف واللام) করা হয়েছে; যেমন- "নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে", অনুরূপভাবে যা ইযাফাত (الإضافة) এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা হয়েছে; যেমন- "আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন"।4- সেই সকল একবচন (المفرد) যা 'আহদ' (পূর্ব-পরিচিত) ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে আলিফ-লাম দ্বারা নির্দিষ্ট (المعرف بالألف واللام) করা হয়েছে; যেমন- {সময়ের শপথ, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত...} সূরাটি। অনুরূপভাবে যা ইযাফাত (الإضافة) এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা হয়েছে; যেমন- {আর যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, তবে তা শেষ করতে পারবে না}।5- আলিফ-লাম দ্বারা নির্দিষ্ট (المعرف بأل) দ্বিবচন (المثنى); যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "যখন দুইজন মুসলিম তাদের তলোয়ার নিয়ে মুখোমুখি হয়..." হাদিসটি সকল মুসলিমকেই অন্তর্ভুক্ত করে।6- 'মা' (ما) - এটি বিবেকহীন সত্তার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর উদাহরণ- মউসুল (موصولة) হিসেবে- আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমাদের কাছে যা আছে তা শেষ হয়ে যাবে এবং আল্লাহর কাছে যা আছে তা অবশিষ্ট থাকবে}। এবং এর উদাহরণ- শর্তসূচক (شرطية) হিসেবে- আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা ভালো কাজের যা কিছুই করো, আল্লাহ তা জানেন}।7- 'মান' (من) - এটি বিবেকবান সত্তার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর উদাহরণ- মউসুল (موصولة) হিসেবে- আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমাদের দ্বীন যারা অনুসরণ করে তারা ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস করো না}। এবং এর উদাহরণ- শর্তসূচক (شرطية) হিসেবে- আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করলে সে তা দেখবে}।8- 'মাতা' (متى) - অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য শর্তসূচক (شرطية) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যেমন- যখনই তুমি আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে, আমি তোমাকে সম্মান করব।9- 'আইনা' (أين) - অনির্দিষ্ট স্থানের জন্য শর্তসূচক (شرطية) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যেমন- আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই}।10- না-বোধক বাক্যের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (النكرة في سياق النفي), যা ব্যাপকতার (العموم) ক্ষেত্রে অকাট্য (نص) হয় এবং কখনো এতে প্রকাশ্য (ظاهر) হয়।ব্যাপকতার (العموم) ক্ষেত্রে অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (النكرة) অকাট্য (نص) হওয়া এবং প্রকাশ্য (ظهور) হওয়া।নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে না-বোধক বাক্যের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (النكرة) ব্যাপকতার (العموم) ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট অকাট্য (نص صريح) হয়:1- যখন এটি 'লা' (لا) এর সাথে গঠিত হয়; যেমন- "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই)।2- যখন এর পূর্বে অতিরিক্ত 'মিন' (من) যুক্ত হয়। 'মিন' (من) এর পূর্বে তিনটি স্থানে অতিরিক্ত হিসেবে আসে:ক- কর্তার (الفاعل) পূর্বে; যেমন- {যাতে আপনি এমন এক কওমকে সতর্ক করতে পারেন যাদের কাছে কোনো সতর্ককারী আসেনি} আয়াতটি।খ- কর্মের (المفعول) পূর্বে; যেমন- {আপনার পূর্বে আমি কোনো রাসুল প্রেরণ করিনি} আয়াতটি।গ- উদ্দেশ্য বা প্রারম্ভিক বিশেষ্যের (المبتدأ) পূর্বে; যেমন- {এক ইলাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই}।3- সেই অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (النكرة) যা সর্বদা না-বোধক বাক্যে ব্যবহৃত হয়; যেমন- "দাইয়্যার" (ديار - গৃহবাসী), যেমনটি নূহ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার বাণীতে এসেছে: {জমিনের ওপর কাফিরদের কোনো গৃহবাসীকে অবশিষ্ট রেখো না}।আর এটি অকাট্য (نص) নয় বরং প্রকাশ্য (ظاهر) হবে উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলো ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে; যেমন- সেই অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (النكرة) যাতে 'লা' (لا) শব্দটি 'লাইসা' (ليس) এর মতো আমল করে, যেমন আপনার উক্তি: "বাড়িতে কোনো লোক নেই"।ব্যাপক (العام) শব্দের অর্থগত নির্দেশনা এবং এর ব্যবহারসমূহ।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأصل في العام أن تكون دلالته كلية أي يكون الحكم فيه على كل فرد من أفراده المندرجة تحته وهذا إن لم يدخله تخصيص هو العام الباقي على عمومه وهو قليل ومن أمثلته:1- قوله: {وما من دابة في الأرض إلا على الله رزقها} .2- وقوله: {والله بكل شيء عليم} .3- وقوله: {وحرمت عليكم أمهاتكم} .وقد يطلق ويكون المراد به فرداً من أفراده، وهذا هو العام المراد به الخصوص. كقوله تعالى: {الذين قال لهم الناس} على أن المراد بالناس خصوص نعيم بن مسعود أو غيره، وقوله تعالى: {أم يحسدون الناس على ما آتاهم الله من فضله} ، على أن المراد بالناس هنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد يطلق عاما ثم يدخله التخصيص، وهذا هو العام المخصوص. كقوله تعالى: {والمطلقات يتربصن بأنفسهن ثلاثة قروء} فلفظ المطلقات عام خصص بقوله تعالى: {وأولات الأحمال أجلهن أن يضعن حملهن} ، فجعل أجلهن وضع الحمل لا ثلاثة قروء.عموم حكم الخطاب الخاص به صلى الله عليه وسلمالخطاب الخاص بالنبي صلى الله عليه وسلم يتناول حكمه الأمة إلا إذا دل دليل على اختصاصه به.ومن أدلة ذلك قوله تعالى: {فلما قضى زيد منها وطرا زوجناكها لكيلا يكون على المؤمنين حرج في أزواج أدعيائهم إذا قضوا منهن وطرا} ، وقوله تعالى في الواهبة نفسها: {خالصة لك من دون المؤمنين} ولو كان حكم الخطاب به يختص به لم يصح التعليل في الآية الأولى ولم يحتج إلى التخصيص في الآية الثانية.العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب
সাধারণ (عام) শব্দের মূলনীতি হলো এর নির্দেশকটি হবে সামগ্রিক (كلية), অর্থাৎ এর অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি ব্যক্তির ওপর বিধানটি প্রযোজ্য হবে। যদি এতে কোনো বিশিষ্টকরণ (تخصيص) প্রবেশ না করে, তবে একে তার ব্যাপকতায় অবশিষ্ট থাকা সাধারণ (العام الباقي على عمومه) বলা হয়; এটি সংখ্যায় কম। এর উদাহরণসমূহ:১- মহান আল্লাহর বাণী: "আর পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নয়।"২- এবং তাঁর বাণী: "আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।"৩- এবং তাঁর বাণী: "তোমাদের ওপর তোমাদের মাতাদের হারাম করা হয়েছে।"কখনও শব্দটি সাধারণ (عام) হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় তার কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ; একে বলা হয় বিশিষ্টতা উদ্দেশ্যকারী সাধারণ (العام المراد به الخصوص)। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "যাদেরকে মানুষ বলেছিল," এখানে 'মানুষ' (الناس) বলতে কেবল নুআইম ইবনে মাসউদ অথবা অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "নাকি তারা মানুষকে হিংসা করে যা আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ থেকে তাদের দিয়েছেন," এখানে 'মানুষ' (الناس) বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বোঝানো হয়েছে। আবার কখনও শব্দটি সাধারণ (عام) হিসেবে প্রযুক্ত হওয়ার পর তাতে বিশিষ্টকরণ (تخصيص) প্রবেশ করে; একে বলা হয় বিশিষ্টীকৃত সাধারণ (العام المخصوص)। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের অপেক্ষায় রাখবে।" এখানে 'তালাকপ্রাপ্তা নারী' (المطلقات) শব্দটি সাধারণ (عام), যা মহান আল্লাহর অন্য একটি বাণী দ্বারা বিশিষ্ট করা হয়েছে: "আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল হলো সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত।" ফলে তাদের ইদ্দত তিন ঋতুর পরিবর্তে সন্তান প্রসব হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি নির্দিষ্ট সম্বোধনের বিধানের ব্যাপকতানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সুনির্দিষ্ট সম্বোধন (الخطاب الخاص) তাঁর উম্মতের বিধানকেও শামিল করে, যদি না তা কেবল তাঁর জন্য নির্দিষ্ট হওয়ার কোনো দলিল (دليل) পাওয়া যায়।এর দলিলের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর জায়েদ যখন তার সাথে প্রয়োজন শেষ করল (তালাক দিল), তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের জন্য তাদের পালকপুত্রদের স্ত্রীদের ব্যাপারে কোনো অসুবিধা না থাকে, যখন তারা তাদের সাথে প্রয়োজন শেষ করে।" এবং নিজেকে দানকারিণী নারীর বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী: "এটি কেবল আপনার জন্য মুমিনদের বাদ দিয়ে।" যদি তাঁর প্রতি সম্বোধনের বিধানটি কেবল তাঁর সাথেই সুনির্দিষ্ট (يختص به) হতো, তবে প্রথম আয়াতের কারণ দর্শানো (التعليل) সঠিক হতো না এবং দ্বিতীয় আয়াতে বিশিষ্টকরণের (التخصيص) প্রয়োজন হতো না।বিবেচ্য হলো শব্দের ব্যাপকতা (عموم اللفظ), কারণের বিশেষত্ব (خصوص السبب) নয়।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
إذا ورد لفظ العموم على سبب خاص لم يسقط عمومه سواء كان السبب سؤالا أو غيره كما روى أنه صلى الله عليه وسلم مر على شاة ميتة لميمونة فقال: "أيما أهاب دبغ فقد طهر" ويدل لذلك أن الصحابة كانوا يستدلون بالعمومات الواردة في أسباب خاصة من غير خلاف، وأصرح الأدلة في ذلك أن الأنصاري الذي قبل الأجنبية ونزلت فيه {وإن الحسنات يذهبن السيئات} سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن حكم هذه الآية هل يختص به بقوله: "ألي هذا وحدي " فأجابه النبي صلى الله عليه وسلم بما يدل على التعميم حيث قال: "بل لأمتي كلهم " ويوضحه من جهة اللغة: أن الرجل لو قالت له زوجته: طلقني فطلق جميع نسائه وقع الطلاق عليهن ولم يختص بالطالبة وحدها.الحكم على المفرد بحكم العام لا يسقط عمومهإذا ذكر حكم عام محكوم عليه بحكم ثم حكم بذلك الحكم على بعض أفراده لم يسقط به حكم العام خلافاً لأبي ثور، وسواء ذكرا معا مثل {تنزل الملائكة والروح} أم لا مثل حديث "أيما إهاب دبغ فقد طهر" مع حديث مسلم أنه صلى الله عليه وسلم مر بشاة ميتة فقال: "هلا أخذتم إهابها فانتفعتم به " ومثل حديث. "من وجد متاعه عند رجل قد أفلس فهو أحق به من غيره ". مع حديث "إذا ابتاع الرجل سلعة ثم أفلس وهي عنده فهو أحق بها من الغرماء". ومثل قول جابر رضي الله عنه: قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالشفعة في كل شيء. مع حديث "فإذا وقعت الحدود وصرفت الطرق فلا شفعة".وفائدة الحكم على بعض العام بحكم العام قيل إنها نفي احتمال إخراجه من العام.ما ينزل منزلة العموم
যদি কোনো সাধারণ (عموم) শব্দ বিশেষ কোনো প্রেক্ষাপট বা কারণের (سبب خاص) ভিত্তিতে বর্ণিত হয়, তবে তার সাধারণতা (عموم) বিলুপ্ত হয় না; চাই সেই কারণটি কোনো প্রশ্ন হোক বা অন্য কিছু। যেমন বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মুনা (রা.)-এর একটি মৃত বকরির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেছিলেন: "যে কোনো চামড়া যখন পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।" এর সপক্ষে দলীল হলো, সাহাবীগণ কোনো মতভেদ ছাড়াই বিশেষ কারণের (أسباب خاصة) প্রেক্ষিতে বর্ণিত সাধারণ (عموم) শব্দাবলি দ্বারা দলিল পেশ করতেন। এ বিষয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট দলিল হলো সেই আনসারী সাহাবীর ঘটনা, যিনি একজন পরনারীকে চুম্বন করেছিলেন এবং যার প্রেক্ষিতে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল: {নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়}। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই আয়াতের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এটি কি কেবল তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট (خاص)? তিনি বলেছিলেন: "এটি কি কেবল আমার একার জন্য?" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণীকরণের (تعميم) প্রমাণস্বরূপ উত্তর দিয়েছিলেন: "বরং আমার উম্মতের সকলের জন্য।" ভাষাগত দিক থেকেও এটি স্পষ্ট যে: কোনো ব্যক্তির স্ত্রী যদি তাকে বলে "আমাকে তালাক দাও" এবং সে তার সকল স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়, তবে তাদের সকলের ওপরই তালাক পতিত হবে এবং তা কেবল আবেদনকারিণীর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।সাধারণের অন্তর্ভুক্ত কোনো এককের ওপর সাধারণের বিধান অনুযায়ী পুনরায় বিধান আরোপ করলে তার সাধারণতা (عموم) বিলুপ্ত হয় নাযদি কোনো সাধারণ (عام) বিধান বর্ণনা করা হয়, অতঃপর সেই বিধানটিই তার অন্তর্ভুক্ত কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা অংশের (أفراد) ওপর পুনরায় প্রয়োগ করা হয়, তবে এর মাধ্যমে সাধারণ (عام) বিধানটি রহিত হয় না; ইমাম আবু সাওর-এর মত এর ব্যতিক্রম। চাই উভয়টি একত্রে উল্লিখিত হোক—যেমন: {ফেরেশতাগণ এবং রূহ (روح) অবতীর্ণ হন}—কিংবা পৃথকভাবে। যেমন "যে কোনো চামড়া যখন পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়" হাদিসের সাথে মুসলিম-এর এই হাদিসটি যে, তিনি (সা.) একটি মৃত বকরির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেছিলেন: "তোমরা কেন এর চামড়াটি গ্রহণ করলে না যা দিয়ে তোমরা উপকৃত হতে পারতে?" অনুরূপভাবে: "যে ব্যক্তি তার মাল এমন কোনো লোকের কাছে পায় যে দেউলিয়া হয়ে গেছে, তবে সে অন্যের তুলনায় ওই মালের বেশি হকদার" হাদিসের সাথে এই হাদিসটি: "যখন কোনো ব্যক্তি কোনো পণ্য ক্রয় করে অতঃপর সে দেউলিয়া হয়ে যায় এবং পণ্যটি তার নিকটেই থাকে, তবে সে পাওনাদারদের তুলনায় এর বেশি হকদার।" এবং যেমন জাবির (রা.)-এর উক্তি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি বস্তুর ক্ষেত্রে অগ্রক্রয়াধিকারের (شفعة) ফয়সালা দিয়েছেন—এই হাদিসের সাথে ঐ হাদিসটি: "যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং পথ পৃথক করে দেওয়া হয়, তখন আর কোনো অগ্রক্রয়াধিকার (شفعة) থাকে না।"সাধারণ (عام) বিধানের অন্তর্ভুক্ত কোনো অংশকে পুনরায় সাধারণের বিধানের আওতায় নিয়ে আসার উপকারিতা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি সেই অংশটিকে সাধারণ (عام) থেকে বের করে দেওয়ার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়।যা সাধারণের (عموم) স্থলাভিষিক্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
اشتهر بين الأصوليين فيما ينزل منزلة العموم عبارة مسجعة تنسب إلى الشافعي رحمه الله ونصها: "ترك الاستفصال في حكاية الحال مع قيام الاحتمال ينزل منزلة العموم في المقال ويحسن به الاستدلال " ومن أمثلة هذه القاعدة قوله صلى الله عليه وسلم لغيلان الثقفي وقد أسلم على عشر نسوة: "امسك منهن أربعاً وفارق سائرهن " ولم يسأله هل عقد عليهن معاً أو على الترتيب فدل على عدم الفرق بين الحالين. الخاصتعريفه: الخاص مقابل للعام فإذا كان العام يتناول أكثر من واحد بلا حصر فإن الخاص لا يتناول سوى واحد كزيد مثلا أو يتناول أكثر منه ولكنه على سبيل الحصر، كاثنين أو خمسة أو مائة لأنه خاص بهذا العدد، ومنه النكرة في سياق الإثبات كقولك رأيت رجلا في البيت أو اعتق عبداً، فإنه وإن كان صالحاً لكل رجل، وصادقاً بأي عبد إلا أنه عملياً لا يصدق إلا بفرد واحد يختص به لأنه بمعنى رأيت رجلا واحداً واعتق عبداً واحداً.التخصيصتعريفه: لغة الإفراد.واصطلاحاً: قصر العام على بعض أفراده لدليل يدل على ذلك.أي جعل الحكم الثابت للعام مقصوراً على بعض أفراده بإخرِاج البعض الآخر عنه وقد يكون التخصيص قصر المتعدد على بعض أفراده أيضاَ.الأمثلة: أ- قصر العام كقوله تعالى: {يوصيكم الله في أولادكم} فهذا عام في جميع أولاد المخاطبين وعام في كل ولد، فخص الأول بقوله صلى الله عليه وسلم: "إنا معاشر الأنبياء لا نورث " فأخرج أولاد الأنبياء من عموم أولاد المخاطبين.وقال صلى الله عليه وسلم: " لا يرث المسلم الكافر " - الحديث- فخص عموم كل ولد بإخراج الولد الكافر.ب- مثال قصر المتعدد: كقولك مثلا: له عليَّ عشرة دنانير إلا ثلاثة فإن فيه قصر الدين على سبعة فقط.فتحصل في هذا أمران:1- عام أو متعدد، أخرج منه البعض، فهو العام المخصوص المتقدم ذكره.2- دال على الإِخراج، فهو المخصص- باسم الفاعل- كالحديثين المذكورين، والاستثناء في الأخير.المخصصات
উসুলবিদদের (الأصوليين) নিকট ব্যাপকতা (العموم)-এর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর দিকে নিসবতকৃত একটি ছন্দবদ্ধ বাক্য প্রসিদ্ধ রয়েছে, যার মূল বক্তব্য হলো: "সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কোনো ঘটনার বর্ণনায় বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ বর্জন করা বক্তব্যের ব্যাপকতা (العموم)-এর পর্যায়ভুক্ত এবং এর মাধ্যমে দলিল প্রদান (الاستدلال) সঠিক।" এই নীতিটির একটি উদাহরণ হলো গাইলান আস-সাক্বাফি-এর প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী, যখন তিনি দশজন স্ত্রী থাকা অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন: "তাদের মধ্যে চারজনকে রেখে দাও এবং বাকিদের বিচ্ছিন্ন করে দাও।" নবী (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করেননি যে, তিনি কি তাদের সকলকে একসাথে বিয়ে করেছিলেন নাকি ধারাবাহিকভাবে? এটি উভয় অবস্থার মধ্যে কোনো পার্থক্য না থাকার ওপর প্রমাণ বহন করে। বিশেষ (الخاص)সংজ্ঞা: বিশেষ (الخاص) হলো ব্যাপক (العام)-এর বিপরীত। যদি ব্যাপক (العام) কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই একাধিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে বিশেষ (الخاص) কেবল একজনকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন জায়েদ; অথবা একাধিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে তবে তা সীমাবদ্ধভাবে, যেমন দুই, পাঁচ বা একশ, কারণ এটি এই সংখ্যার জন্যই নির্দিষ্ট। এর অন্তর্ভুক্ত হলো ইতিবাচক বাক্যে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (النكرة), যেমন আপনার উক্তি: "আমি ঘরে একজন লোক দেখেছি" বা "একজন দাস মুক্ত করো।" যদিও এটি যেকোনো লোকের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে এবং যেকোনো দাসের ক্ষেত্রে সত্য হতে পারে, তবুও ব্যবহারিকভাবে এটি কেবল একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয় যার সাথে এটি সংশ্লিষ্ট, কারণ এর অর্থ হলো "আমি একজন লোক দেখেছি" এবং "একজন দাস মুক্ত করো।"বিশেষায়ন (التخصيص)সংজ্ঞা: আভিধানিকভাবে এর অর্থ পৃথক করা।পারিভাষিক অর্থে: কোনো দলিলের (دليل) ভিত্তিতে ব্যাপক (العام)-কে তার অন্তর্ভুক্ত কতিপয় ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা।অর্থাৎ ব্যাপক (العام)-এর জন্য সাব্যস্ত বিধানকে কতিপয় সদস্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা এবং অন্য সদস্যদের তা থেকে বের করে দেওয়া। কখনো বিশেষায়ন (التخصيص) বলতে বহুবচনের সংখ্যাকে তার কিছু সদস্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করাও বোঝায়।উদাহরণসমূহ: ক. ব্যাপক (العام)-কে সীমাবদ্ধ করা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন} এটি সম্বোধনকৃত ব্যক্তিদের সকল সন্তানদের ক্ষেত্রে ব্যাপক (عام) এবং প্রত্যেক সন্তানের ক্ষেত্রেও ব্যাপক (عام)। প্রথমত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীর মাধ্যমে একে বিশেষায়ন (خص) করা হয়েছে: "আমরা নবী সমাজ, আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না।" ফলে তিনি নবীদের সন্তানদের সম্বোধনকৃতদের সন্তানদের ব্যাপকতা (عموم) থেকে বের করে দিয়েছেন।এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "মুসলমান কোনো কাফেরের উত্তরাধিকারী হয় না" - হাদিস। এটি কাফের সন্তানকে বের করে দেওয়ার মাধ্যমে প্রত্যেক সন্তানের ব্যাপকতাকে (عموم) বিশেষায়ন (خص) করেছে।খ. বহুবচনকে সীমাবদ্ধ করার উদাহরণ: যেমন আপনার উক্তি: "আমার কাছে তার দশ দিনার পাওনা আছে, তিন দিনার বাদে।" এখানে ঋণকে কেবল সাত দিনারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।এর মাধ্যমে দুটি বিষয় অর্জিত হলো:1- ব্যাপক (عام) বা বহুবচন, যা থেকে কিছু অংশ বের করে দেওয়া হয়েছে; এটিই হলো ইতিপূর্বে উল্লেখিত বিশেষায়িত ব্যাপক (العام المخصوص)।2- যা বের করে দেওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে, একে বিশেষায়নকারী (المخصص) -কারকবাচক বিশেষ্য হিসেবে- বলা হয়; যেমন উল্লিখিত দুটি হাদিস এবং শেষ উদাহরণে করা ব্যতিক্রম (الاستثناء)।বিশেষায়নকারী বিষয়সমূহ (المخصصات)
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المخصص العام على قسمين: متصل ومنفصل.الأول: هو ما لا يستقل بنفسه بل يتعلق معناه باللفظ فهو مقارن له دائماً.والثاني: هو ما استقل بنفسه ولا ارتباط له في الذكر مع العام من لفظ أو غيره.المخصصات المتصلةوهي خمسة أشياء:1- الاستثناء 2 - الشرط 3- الصفة 4- الغاية 5- بدل البعض.التخصيص بالاستثناءتعريفه: هو إخراج البعض بأداة إلا أو ما يقوم مقامها. وهو قسمان. متصل ومنقطع.ا- فالمتصل: ما كان فيه المستثنى بعضا من المستثنى منه كقوله تعالى في شأن نوح عليه السلام: {فلبث فيهم ألف سنة إلا خمسين عاما} وهذا القسم هو المقصود باتفاق.2- والمنقطع: ما لم يكن فيه المستثنى بعضا من المستثنى منه نحو: له على عشرة دنانير إلا كتابا.وفي التخصيص بهذا النوع خلاف وعلى القول به كما عند المالكية يحتاج إلى التأويل أي إلا قيمة الكتاب، فيكون المخرج من العشرة دنانير قيمة الكتاب فكأنه يعود عمليا إلى النوع الأول.شروط صحة الاستثناءولصحة التخصيص بالاستثناء شروط منها:1- أن يكون ملفوظاً يسمع، لا بمجرد النية، إلا في يمين ظلماً عند المالكية.2- أن يكون متصلا بما قبله لفظا في العرف، فلا يضر فصله بتنفس أو عطاس خلافاً لابن عباس إذ أجاز فصله مطلقاً.3- أن لا يستغرق المستثنى منه كخمسة إلا خمسة لأنه يعد لغواً، أو أكثر من النصف عند الحنابلة كخمسة إلا ثلاثة لأن الاستثناء لإخراج القليل. وحاصل الخلاف في الشرط الأخير كالآتي:1- أن يكون المستثنى أقل مما بقى كخمسة إلا اثنين فهذا صحيح بالإجماع.2- أن يكون المستثنى مستغرقاً لجميع المستثنى منه كخمسة إلا خمسة وهذا باطل عند الأكثر خلافاً لابن طلحة الأندلسي.3- أن يكون المستثنى أكثر مما بقى كخمسة إلا أربعة وهو جائز عند الجمهور ممنوع عند الحنابلة.ورود الاستثناء بعد جمل متعاطفة
সাধারণকে নির্দিষ্টকারী (المخصص العام) দুই প্রকার: সংযুক্ত (متصل) এবং বিচ্ছিন্ন (منفصل)।প্রথমটি হলো: যা নিজে নিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, বরং এর অর্থ মূল শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে; ফলে এটি সর্বদা শব্দের সাথেই বিদ্যমান থাকে।আর দ্বিতীয়টি হলো: যা নিজে নিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং উচ্চারণের ক্ষেত্রে সাধারণ শব্দের (العام) সাথে এর কোনো সম্পর্ক বা সংযুক্তি নেই।সংযুক্ত নির্দিষ্টকারীসমূহ (المخصصات المتصلة)এগুলো পাঁচটি বিষয়:১- ব্যতিক্রম (الاستثناء), ২- শর্ত (الشرط), ৩- গুণ বা বিশেষণ (الصفة), ৪- সীমা (الغاية), ৫- আংশিক স্থলাভিষিক্ত (بدل البعض)।ব্যতিক্রমের মাধ্যমে নির্দিষ্টকরণ (التخصيص بالاستثناء)সংজ্ঞা: 'ইল্লা' (إلا) বা এর সমপর্যায়ের কোনো অব্যয়ের মাধ্যমে কিছু অংশকে বহির্ভূত করা। এটি দুই প্রকার: সংযুক্ত (متصل) ও বিচ্ছিন্ন (منقطع)।ক- সংযুক্ত (المتصل): যাতে ব্যতিক্রমকৃত বিষয়টি (المستثنى) যা থেকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে (المستثنى منه) তারই অংশ হয়। যেমন নূহ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি তাদের মাঝে পঞ্চাশ বছর কম এক হাজার বছর অবস্থান করেন}। এই প্রকারটিই সর্বসম্মতিক্রমে মূল উদ্দেশ্য।২- বিচ্ছিন্ন (المنقطع): যাতে ব্যতিক্রমকৃত বিষয়টি (المستثنى) যা থেকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে (المستثنى منه) তার অংশ নয়। যেমন: "তার আমার নিকট দশ দিনার প্রাপ্য রয়েছে, তবে একটি বই ব্যতীত।"এই প্রকারের মাধ্যমে নির্দিষ্টকরণ করার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। মালিকি মাযহাব অনুযায়ী যারা এটিকে সমর্থন করেন, তাদের মতে এখানে ব্যাখ্যার (التأويل) প্রয়োজন রয়েছে; অর্থাৎ "বইটির মূল্য ব্যতীত"। ফলে দশ দিনার থেকে যা বাদ যাবে তা হলো বইটির মূল্য, যা কার্যত প্রথম প্রকারের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।ব্যতিক্রম (الاستثناء) সঠিক হওয়ার শর্তাবলিব্যতিক্রমের মাধ্যমে নির্দিষ্টকরণ সঠিক হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি হলো:১- এটি উচ্চারিত হতে হবে যা শোনা যায়, কেবল নিয়তের মাধ্যমে হবে না; তবে মালিকি মাযহাব মতে অন্যায়ভাবে কৃত শপথের ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা।২- এটি প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পূর্ববর্তী শব্দের সাথে শব্দগতভাবে সংযুক্ত হতে হবে। তবে শ্বাস গ্রহণ বা হাঁচির কারণে বিচ্ছিন্ন হলে তা ক্ষতিকর হবে না। ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহু) এর মত এর ব্যতিক্রম, কারণ তিনি সাধারণভাবে বিচ্ছেদকে বৈধ বলেছেন।৩- ব্যতিক্রমকৃত বিষয়টি মূল বিষয়কে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলবে না; যেমন: "পাঁচ ব্যতীত পাঁচ", কারণ এটি নিরর্থক (لغو) হিসেবে গণ্য হবে। অথবা হাম্বলি মাযহাব মতে অর্ধেকের বেশি হবে না; যেমন: "তিন ব্যতীত পাঁচ", কারণ ব্যতিক্রম করা হয় অল্প অংশকে বের করার জন্য। শেষ শর্তটির ব্যাপারে মতভেদের সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:১- ব্যতিক্রমকৃত অংশটি অবশিষ্ট অংশের চেয়ে কম হতে হবে, যেমন: "দুই ব্যতীত পাঁচ"। এটি সর্বসম্মতিক্রমে (بالإجماع) সঠিক।২- ব্যতিক্রমকৃত অংশটি যদি মূল অংশকে পূর্ণরূপে গ্রাস করে ফেলে, যেমন: "পাঁচ ব্যতীত পাঁচ", তবে অধিকাংশের মতে এটি বাতিল (باطل); ইবনে তালহা আল-আন্দালুসি এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন।৩- ব্যতিক্রমকৃত অংশটি যদি অবশিষ্ট অংশের চেয়ে বেশি হয়, যেমন: "চার ব্যতীত পাঁচ", তবে এটি জমহুর বা অধিকাংশের মতে বৈধ (جائز) কিন্তু হাম্বলিদের মতে নিষিদ্ধ (ممنوع)।পরস্পর সংযুক্ত একাধিক বাক্যের পরে ব্যতিক্রমের উপস্থিতি
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال الله تعالى: {والذين يرمون المحصنات ثم لم يأتوا بأربعة شهداء فاجلدوهم ثمانين جلدة ولا تقبلوا لهم شهادة أبداً وأولئك هم الفاسقون إلا الذين تابوا من بعد ذلك وأصلحوا فإن الله غفور رحيم} .فقد ورد الاستثناء في هذه الآية بعد ثلاث جمل:1- جملة الأمر بالجلد.2- جملة النهي عن قبول الشهادة منهم.3- جملة الحكم عليهم بالفسق.فهل يعود الاستثناء إلى الجميع أو إلى الجملة الأخيرة فقط، خلاف.أ- فالجمهور على أنه يعود إلى الجميع لأنه الظاهر ما لم يدل دليل على خلاف ذلك فلا يصح رجوعه إلى جملة الجلد في هذه الآية مثلا.ب- وأبو حنيفة على أنه يعود إلى الجملة الأخيرة فقط لأنه المتيقن.ومثله ورود الاستثناء بعد مفردات متعاطفة أيضاً نحو: تصدق على الفقراء والمساكين والغارمين إلا الفسقة منهم.التخصيص بالشرطتعريفه: المراد بالشرط هنا. الشرط اللغوي وهو المعروف بتعليق أمر بأمر. وأدواته كثيرة منها: إن وإذا مثل "إن نجح زيد فأعطه جائزة".ووجه التخصيص بالشرط في المثال المتقدم: أنه يخرج من الكلام حالا من أحوال زيد وهي عدم نجاحه، ولولا الشرط لوجب إعطاؤه الجائزة على كل حال. وقد جاء في قوله تعالى: {وإذا ضربتم في الأرض فليس عليكم جناح أن تقصروا من الصلاة} تعليق قصر الصلاة على حصول الشرط وهو الضرب في الأرض، ولولا الشرط لجاز القصر مطلقاً حضراً وسفراً، لكنه خصص بحالة السفر، ويشترط للتخصيص بالشرط أن يتصل بالمشروط لفظاً كما في الاستثناء.التخصيص بالصفةوالمراد بالصفة. الصفة المعنوية، لا النعت المعروف في علم النحو، فتشمل الحال والظرف والتمييز وغيرها.والغالب في الصفةْ أن تجيء مخصصة للموصوف قبلها وربما تقدمت عليه كما في إضافة الصفة إلى الموصوف.ووجه التخصيص بالصفة: أنها تقصر الحكم على ما تصدق عليه وتخرج مفهومها عن نطاق الحكم إذا كان لها مفهوم معتبر.
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর যারা সচ্চরিত্রা নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অতঃপর চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না, তোমরা তাদের আশিটি বেত্রাঘাত করো এবং কখনোই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না, আর তারাই হলো পাপাচারী (الفاسقون)। তবে যারা এরপর তাওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} .এই আয়াতে ব্যতিক্রম (الاستثناء) তিনটি বাক্যের পরে এসেছে:১- বেত্রাঘাতের নির্দেশ সম্বলিত বাক্য।২- তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ না করার নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত বাক্য।৩- তাদের ওপর পাপাচারী (الفسق) হওয়ার হুকুম প্রদানের বাক্য।এখন এই ব্যতিক্রম (الاستثناء) কি সবগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে নাকি শুধু শেষ বাক্যের ক্ষেত্রে, এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।ক- জুমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ আলিমের মতে, এটি সবগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, কারণ এটিই বাহ্যিক অর্থ (الظاهر), যতক্ষণ না এর বিপরীতে কোনো দলিল পাওয়া যায়। তাই এই আয়াতে উদাহরণস্বরূপ বেত্রাঘাতের বাক্যের দিকে এটি প্রত্যাবর্তন করা সঠিক হবে না।খ- ইমাম আবু হানিফার মতে, এটি শুধুমাত্র শেষ বাক্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, কারণ এটিই সুনিশ্চিত (المتيقن)।অনুরূপভাবে পরস্পর সংযুক্ত একক শব্দের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম (الاستثناء) আসতে পারে, যেমন: "দরিদ্র, মিসকিন এবং ঋণগ্রস্তদের দান করো, তবে তাদের মধ্যে যারা পাপাচারী (الفسقة) তারা ছাড়া।"শর্ত (الشرط) দ্বারা বিশেষায়ন (التخصيص)সংজ্ঞা: এখানে শর্ত (الشرط) বলতে ভাষাগত শর্ত (الشرط اللغوي) উদ্দেশ্য, যা এক বিষয়কে অন্য বিষয়ের সাথে ঝুলিয়ে রাখা বা সম্পৃক্ত করা হিসেবে পরিচিত। এর অব্যয় অনেক, যেমন: 'ইন' (যদি) এবং 'ইজা' (যখন)। যেমন- "যদি জায়েদ সফল হয়, তবে তাকে পুরস্কার দাও।"উল্লিখিত উদাহরণে শর্ত (الشرط) দ্বারা বিশেষায়ন (التخصيص)-এর কারণ হলো: এটি জায়েদের একটি অবস্থাকে বক্তব্যের বাইরে নিয়ে যায়, আর তা হলো তার সফল না হওয়া। শর্ত (الشرط) না থাকলে সব অবস্থাতেই তাকে পুরস্কার দেওয়া আবশ্যক হতো। মহান আল্লাহ তায়ালার বাণীতে এসেছে: {আর যখন তোমরা জমিনে সফর করবে, তখন সালাত কসর করায় তোমাদের কোনো গুনাহ নেই}। এখানে সালাত কসর করাকে একটি শর্ত (الشرط) বা অবস্থার ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে, আর তা হলো জমিনে সফর করা। যদি এই শর্ত (الشرط) না থাকতো, তবে মুকিম বা মুসাফির সর্বাবস্থায় কসর করা জায়েজ হতো, কিন্তু একে সফরের অবস্থার সাথে বিশেষায়িত (خصص) করা হয়েছে। তবে শর্ত (الشرط) দ্বারা বিশেষায়ন (التخصيص)-এর জন্য শর্ত হলো তা ভাষাগতভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে যুক্ত থাকতে হবে, যেমনটি ব্যতিক্রম (الاستثناء)-এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।বৈশিষ্ট্য (الصفة) দ্বারা বিশেষায়ন (التخصيص)এখানে বৈশিষ্ট্য (الصفة) বলতে গুণবাচক বৈশিষ্ট্য (الصفة المعنوية) উদ্দেশ্য, ইলমুন নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের পরিচিত বিশেষণ (النعت) নয়। সুতরাং এটি হাল (অবস্থা), জরফ (স্থান বা কাল) এবং তামিইজ (পার্থক্যকারী) ইত্যাদিকেও অন্তর্ভুক্ত করে।সাধারণত বৈশিষ্ট্য (الصفة) তার পূর্ববর্তী বিশেষিত (الموصوف) শব্দকে বিশেষায়িত (مخصصة) করার জন্য আসে, আবার কখনো কখনো তা বিশেষিত (الموصوف) শব্দের আগে আসতে পারে, যেমনটি মুদাফ-মুদাফ ইলাইহি-এর ক্ষেত্রে ঘটে।বৈশিষ্ট্য (الصفة) দ্বারা বিশেষায়ন (التخصيص)-এর ধরন হলো: এটি হুকুমকে তার প্রয়োগযোগ্য বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ করে দেয় এবং যদি এর গ্রহণযোগ্য অর্থ বা মাফহুম (مفهوم) থাকে, তবে সেই মাফহুমকে (مفهوم) হুকুমের আওতা থেকে বের করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাহ উসুলিল ফিকহ - আল জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أ- فمثلا: اقرأ الكتب النافعة في البيت، فإن قولك لصديقك اقرأ الكتب، عام في كل كتاب ولكن الوصف بالنفع قصر حكم القراءة على النافع منها وأخرج ماعدا ذلك.ب- وكذلك "اقرأ الكتب " عام في كل مكان ولكن قولك "في البيت " قصر القراءة في مكان دون غيره.جـ- وقولك "إذا حضرت مبكراً أدركت الدرس الأول " فحضرت عام في جميع الأحوال، ومبكراً تخصيص له، ومن أمثلة التخصيص بالصفة قوله تعالى: {ومن لم يستطع منكم طولا أن ينكح المحصنات المؤمنات فما ملكت أيمانكم من فتياتكم المؤمنات} . فلفظة {فتياتكم} عامة خصصتها الصفة بالمؤمنات.شرط التخصيص بالصفة: ويشترط لذلك أن تكون الصفة متصلة بالموصوف لفظاً كما في الشرط والاستثناء.التخصيص بالغايةغاية الشيء: نهايته ولها أدوات دالة عليها هي: إلى وحتى.وهي التي يتقدمها عموم يشمل ما بعدها لأنها تخرج ما بعدها من عموم ما قبلها مثاله. قال تعالى: {قاتلوا الذين لا يؤمنون بالله ولا باليوم الآخر ولا يحرمون ما حرم الله ورسوله، ولا يدينون دين الحق من الذين أوتوا الكتاب حتى يعطوا الجزية عن يد وهم صاغرون} .فإن ما قبل الغاية وهو الأمر بقتالهم عام يشمل كل أحوالهم، فلولا التخصيص بالغاية لكنا مأمورين بقتالهم سواء أعطوا الجزية أم لم يعطوها.التخصيص ببدل البعضإذا قلت "أكرم القوم العلماء منهم" فقد أبدلت عموم القوم وجعلت الإِكرام خاصاً بهم فهذا البدل مخصص عند البعض وهو الصحيح.ومن أمثلته قوله تعالى: {ولله على الناس حج البيت من استطاع إليه سبيلا} . فلفظ الناس عام يشمل المستطيع وغير المستطيع، فلما ذكر بعده بدل البعض خصصه بالمستطيع.المخصصات المنفصلةتقدم تعريف المخصص المنفصل وهو أقسام نذكر بعضها فيما يلي:أولا: التخصيص بالنص من الكتاب أو السنة وهو:
ক- উদাহরণস্বরূপ: তুমি বাড়িতে উপকারী বইগুলো পড়ো। তোমার বন্ধুকে যখন তুমি বলো "বইগুলো পড়ো", তখন তা সকল বইয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক (عام)। কিন্তু 'উপকারী' গুণটি পড়ার বিধানকে কেবল উপকারী বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে এবং তা ছাড়া অন্য সব বইকে এর অন্তর্ভুক্ত থেকে বের করে দিয়েছে।খ- একইভাবে "বইগুলো পড়ো" কথাটি সব স্থানের জন্য ব্যাপক (عام), কিন্তু তোমার বলা "বাড়িতে" শব্দটি পাঠের বিষয়টিকে অন্য সব স্থান বাদ দিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ করে দেয়।গ- এবং তোমার কথা "যদি তুমি ভোরে উপস্থিত হও তবে তুমি প্রথম পাঠটি পাবে", এখানে 'উপস্থিত হওয়া' বিষয়টি সকল অবস্থার জন্য ব্যাপক (عام), আর 'ভোরে' শব্দটি তার জন্য বিশেষায়ন (تخصيص)। গুণ (الصفة) এর মাধ্যমে বিশেষায়নের (التخصيص) একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যার মুক্ত ঈমানদার নারী বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত ঈমানদার দাসীদের বিয়ে করবে}। এখানে "তোমাদের দাসীগণ" (فتياتكم) শব্দটি ব্যাপক (عام), যাকে "ঈমানদার" (المؤمنات) গুণটি (الصفة) বিশেষিত (خصصتها) করেছে।গুণ (الصفة) এর মাধ্যমে বিশেষায়নের (التخصيص) শর্ত: এর জন্য শর্ত হলো যে, গুণটি (الصفة) শব্দগতভাবে তার বিশেষিত বিষয়ের (الموصوف) সাথে সংযুক্ত হতে হবে, যেমনটি শর্ত (الشرط) এবং ব্যতিক্রমের (الاستثناء) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।সীমার (الغاية) মাধ্যমে বিশেষায়ন (التخصيص)কোনো বস্তুর সীমা (الغاية): তার সমাপ্তি; আর এটি নির্দেশকারী অব্যয়সমূহ হলো: 'পর্যন্ত' (إلى) এবং 'পর্যন্ত' (حتى)।এটি এমন যার পূর্বে একটি ব্যাপকতা (عموم) থাকে যা তার পরবর্তী অংশকেও অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ এটি তার পরবর্তী অংশকে পূর্ববর্তী ব্যাপকতা (عموم) থেকে বের করে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা যুদ্ধ করো আহলে কিতাবদের ঐ লোকদের সাথে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না এবং সত্য দ্বীন অনুসরণ করে না; যতক্ষণ না তারা অনুগত হয়ে নিজ হাতে জিজিয়া প্রদান করে}।এখানে সীমার (الغاية) পূর্ববর্তী অংশ অর্থাৎ তাদের সাথে যুদ্ধ করার আদেশটি ব্যাপক (عام) যা তাদের সকল অবস্থাকে শামিল করে। যদি এই সীমার (الغاية) মাধ্যমে বিশেষায়ন (التخصيص) না হতো, তবে তারা জিজিয়া প্রদান করুক বা না করুক সর্বাবস্থায় তাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আমরা আদিষ্ট থাকতাম।অংশবিশেষের বদল (بدل البعض) এর মাধ্যমে বিশেষায়ন (التخصيص)তুমি যদি বলো "কওম বা গোত্রকে সম্মান করো, তাদের মধ্যকার আলেমদের", তবে তুমি কওমের ব্যাপকতাকে (عموم) পরিবর্তন করেছ এবং সম্মান করাকে তাদের জন্য নির্দিষ্ট (خاص) করে দিয়েছ। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে এই বদলটি (البدل) বিশেষায়নকারী (مخصص) এবং এটিই সঠিক (الصحيح) মত।এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেই ঘরের হজ করা তার ওপর অবশ্য কর্তব্য}। এখানে "মানুষ" (الناس) শব্দটি ব্যাপক (عام) যা সামর্থ্যবান ও অসামর্থ্যবান উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। যখন এরপর অংশবিশেষের বদল (بدل البعض) উল্লেখ করা হলো, তখন তা একে সামর্থ্যবানদের জন্য বিশেষিত (خصصه) করে দিল।পৃথক বিশেষায়নকারীসমূহ (المخصصات المنفصلة)পৃথক বিশেষায়নকারীর (المخصص المنفصل) সংজ্ঞা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এর কিছু প্রকার রয়েছে যা নিচে উল্লেখ করা হলো:প্রথমত: কুরআন বা সুন্নাহর নস (النص) এর মাধ্যমে বিশেষায়ন (التخصيص), আর তা হলো: