(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: -)
الجمع بين الصحيحين لعبد الحق القسم: كتب السنة
الكتاب: الجمع بين الصحيحين
المؤلف: أبو محمد عبد الحق بن عبد الرحمن الإشبيلي (ت 582 هـ)
اعتنى به: حمد بن محمد الغماس
تقديم: الشيخ بكر بن عبد الله أبو زيد
الناشر: دار المحقق للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1999 م
عدد الأجزاء: 4
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الآخر 1440
আব্দুল হকের সহীহাইনদ্বয়ের সংকলন বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
বই: সহীহাইনদ্বয়ের সংকলন
লেখক: আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক বিন আব্দুর রহমান আল-ইশবিলি (মৃত্যু ৫৮২ হিজরি)
সম্পাদনায়: হামাদ বিন মুহাম্মদ আল-গাম্মাস
উপস্থাপনায়: শাইখ বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ
প্রকাশক: দারুল মুহাক্কিক প্রকাশনা ও বিতরণ, রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছে: লিপিকার সমিতি, বাস্তবায়ন (সায়েন্টিফিক এলিট সেন্টার), এবং পৃষ্ঠপোষকতা (সুলাইমান আল-রাজি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন)
[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউস সানি ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: -)
الجمع بين الصحيحين
تأليف
الإمام الحافظ أبي محمد عبد الحق بن عبد الرحمن الإشبيلي (المتوفى سنة 582 هـ)
اعتنى به
حمد بن محمد الغماس
تقديم
الشيخ بكر بن عبد الله أبو زيد
رئيس مجمع الفقه الإسلامي وعضو هيئة كبار العلماء
دار المحقق
সহীহাইনদ্বয়ের সংকলন
রচনায়
ইমাম হাফিয আবু মুহাম্মাদ আব্দুল হক বিন আব্দুর রহমান আল-ইশবিলি (মৃত্যু ৫৮২ হিজরি)
সম্পাদনায়
হামাদ বিন মুহাম্মাদ আল-গাম্মাস
উপস্থাপনায়
শায়খ বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়দ
ইসলামী ফিকহ একাডেমির সভাপতি এবং সিনিয়র উলামা পরিষদের সদস্য
দারুল মুহাক্কিক
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ١)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم فضيلة الشيخ بكر بن عبد الله أبو زيدرئيس مجمع الفقه الإسلامي، وعضو هيئة كبار العلماء وعضو اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء بالمملكة العربية السعودية
الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده محمد، وصحبه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد: فنشهد أن سنَّة النبي صلى الله عليه وسلم وهذا الكتاب من معينها: وحْيٌ من الله، وتنزيل من الله، دين يدان به الله سبحانه وتعالى، بلَّغها النبي صلى الله عليه وسلم أمته بلسان عربي معصوم لم يعرف إلا الأفصح من لسان العرب -بله الفصيح- لسان مبارك ينطق عروبة غضة طرية في حروفها، وكلماتها، وجملها، على وجهٍ لم تداخله أنفاس العجم -وحاشاه-، مُسْنَدًا لم يدب إليه ضعف فما دونه من نفثات "رَتَنٍ" ومن والاه.
فهي بحق لأمة الإجابة صحائف دين، ولغة، وبيان، وفصاحة، وبلاغة، فَشَرَفٌ عظيم لهذه الأمة، احتضان علمائها الهداة لهذا الرصيد العظيم، والسند المتين لها فِي دينها في حياتها، والذخيرة النافعة لها بعد مماتها. لذا تعددت مسالك علمائها في خدمتها، وتقريبها.
وكان من وجوه التأليف فيها، الجمع بين أحاديث ذروة سنامها من
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শ্রদ্ধেয় শায়খ বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যাইদ-এর উপস্থাপনাসভাপতি, ইসলামিক ফিকহ একাডেমি, এবং সদস্য, উর্ধ্বতন উলামা পরিষদ ও স্থায়ী বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া কমিটি, সৌদি আরব।
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর।
অতঃপর: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ —আর এই কিতাবটি সেই সুন্নাহরই একটি উৎস— আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহী এবং তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বিষয়; এটি এমন এক দ্বীন যার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদত করা হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের কাছে এটি পৌঁছে দিয়েছেন এক নির্ভুল আরবি ভাষায়, যা আরবের সর্বাধিক সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষারই বহিঃপ্রকাশ—এমনকি সাধারণ প্রাঞ্জলতারও ঊর্ধ্বে। এটি এমন এক বরকতময় ভাষা যা এর প্রতিটি বর্ণ, শব্দ ও বাক্যে এক সজীব ও প্রাণবন্ত আরব্য আভিজাত্য প্রকাশ করে, যা অনারবদের কোনো প্রভাব দ্বারা কলুষিত হয়নি—কখনো তা হওয়ারও নয়—এবং যা এমন শক্তিশালী সনদ ও পরম্পরা দ্বারা সমর্থিত যাতে কোনো দুর্বলতা বা অস্পষ্ট অনারব বাচনভঙ্গির অনুপ্রবেশ ঘটেনি।
সুতরাং এটি যথাযথভাবেই উম্মতে ইজাবাতের (ইসলাম গ্রহণকারী উম্মত) জন্য দ্বীন, ভাষা, বর্ণনাশৈলী, প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের দালিলিক নথিপত্র। এই উম্মতের জন্য এটি এক বিরাট গৌরবের বিষয় যে, তাদের পথপ্রদর্শক আলেম সমাজ এই মহান সম্পদকে ধারণ করেছেন। এটি তাদের ইহকালীন জীবনে দ্বীনের এক শক্তিশালী ভিত্তি এবং মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য এক পরম উপকারী পাথেয়। আর এ কারণেই এর খিদমত ও একে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে উলামায়ে কিরাম নানাবিধ কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছেন।
এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনার একটি অন্যতম পদ্ধতি ছিল সুন্নাহর সর্বোচ্চ শিখরের হাদিসসমূহকে একত্রিত করা, যা...
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٢)
صحيحي العَلَمَين المباركين: البخاري، ومسلم -رحمهما الله تعالى-، بداية من الجوزقي المتوفي سنة 388 هـ -رحمه الله تعالى- في كتابه "الجمع بين الصحيحين"، ثم ابن عبيد الدمشقي المتوفي سنة 401 هـ، ثم ابن الفرات المتوفي سنة 414 هـ، والقرَّاب المتوفي سنة 414 هـ، ثم البرقاني المتوفي سنة 425 هـ، ثم الحميدي المتوفي سنة 488 هـ، وهكذا في آخرين من المشرق والمغرب، حتى وصلت النوبة إلى حافظ المغرب في زمانه عبد الحق الإشبيلي المتوفي سنة 582 هـ -رحم الله الجميع- إذ تعرض هذا الحافظ إلى الصحيحين، فجمع نَفْسَهُ، وأَحْضَر آليات الجمع والترتيب، على ما بسط في مقدمته، مما يدل على أنه لَقِيَ الألاقي، والعنَاءَ الْمُعَنِّي، مُنْبِئَةً عَن علم متين، وحِسٍّ رقيق، واحتساب عظيم، وكأنما لسان حاله يقول:
وفي سبيل الله ما لاقيت
ولهذا ظَفرَ بثناء مَن بعده من الْحُفاظ عليه، شرقًا، وغربًا، شامًا، وعراقًا، ومصرًا، منهم: العراقي، والذهبي، وابن ناصر الدين، وغيرهم، ممن جرى ذكر كلمات بعضهم في مقدمة التحقيق.
وقد اتخذ -رحمه الله تعالى- صحيح مسلم أصلًا، يضم إليه روايات البخاري -رحمه الله تعالى- في صحيحه؛ لأسباب ذكرها في مقدمته، لا للمذهب السائد لدى المغاربة من تفضيل "صحيح مسلم" على "صحيح البخاري".
والآن هذا طالب علم من الأزد، من أرض القصيم، أرض الغَضَى
দুই বরকতময় ইমাম: বুখারী ও মুসলিম —আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি দয়া করুন— এর সহীহ গ্রন্থদ্বয় নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে জাওযাকি (মৃত্যু ৩৮৮ হিজরি) —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন— এর মাধ্যমে তাঁর ‘আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন’ গ্রন্থে। এরপর ইবন উবাইদ আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৪০১ হিজরি), এরপর ইবনুল ফুরাত (মৃত্যু ৪১৪ হিজরি), এরপর আল-কাররাব (মৃত্যু ৪১৪ হিজরি), এরপর আল-বারকানি (মৃত্যু ৪২৫ হিজরি), এরপর আল-হুমাইদি (মৃত্যু ৪৮৮ হিজরি) এবং এভাবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের আরও অনেকে এ বিষয়ে কাজ করেছেন। শেষ পর্যন্ত সময়টি এসে পৌঁছাল তাঁর সময়ের মাগরিবের হাফিয আব্দুল হক আল-ইশবিলি (মৃত্যু ৫৮২ হিজরি) —আল্লাহ সবার প্রতি দয়া করুন— এর কাছে। যখন এই হাফিয ‘সহীহাইন’ নিয়ে কাজ শুরু করলেন, তিনি নিজের সবটুকু সামর্থ্য উজাড় করে দিলেন এবং সংকলন ও বিন্যাসের যাবতীয় পদ্ধতি অবলম্বন করলেন, যা তিনি তাঁর ভূমিকায় বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, তিনি চরম প্রতিকূলতা ও হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের সম্মুখীন হয়েছিলেন, যা তাঁর গভীর জ্ঞান, সূক্ষ্ম অনুভূতি এবং মহান নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। যেন তাঁর অবস্থার ভাষা বলছিল:
এবং আল্লাহর পথেই আমি যা কিছু সহ্য করেছি
এ কারণেই তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে, শাম, ইরাক ও মিশরে তাঁর পরবর্তী হাফিযদের প্রশংসা লাভ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইরাকি, যাহাবি, ইবন নাসিরুদ্দিন এবং আরও অনেকে, যাঁদের কয়েকজনের বক্তব্য এই সম্পাদনার ভূমিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন— সহীহ মুসলিমকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এর সাথে ইমাম বুখারীর —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন— বর্ণনাগুলোকে যুক্ত করেছেন কিছু সুনির্দিষ্ট কারণে যা তিনি তাঁর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন; তবে মাগরিববাসীদের মধ্যে প্রচলিত সহীহ বুখারীর ওপর সহীহ মুসলিমকে প্রাধান্য দেওয়ার মতাদর্শের কারণে নয়।
আর এখন ইনি হলেন আযদ গোত্রের, কাসিম অঞ্চলের গাদা ভূমির একজন ইলম অন্বেষণকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٣)
والقيصوم، قال الفيروز آبادي المتوفي سنة 817 هـ. -رحمه الله تعالى- في فاتحة قاموسه: "الحمد لله منطق البلغاء باللُّغى في البوادي، ومودع اللسان أَلْسَنَ اللُّسن الهوادي، ومخصص عروق القيصوم، وغَضَى القصيم بما لم يَنَلْهُ العَبْهَرُ والجادي
… ".
فجمع هذا الشيخ الموفق بين طِيبِ المنبت نسبًا، وأرضًا، وحسن الاختيار في إخراج هذا الكتاب: "الجمع بين الصحيحين" للحافظ الإشبيلي، من ضيق المخطوطات إلى سعة المطبوعات، إسهامًا في نشر هذا الدين، وتعليمًا للمسلمين، فأحيا الله به هذا الأثر النفيس، وأعاد -أحسن الله إليه- التحقيق إلى خُطَّته التي اختطّها شيوخ هذا الشأن.
فمقدمة التحقيق مع إيجازها، مسبوكة بطريقة تُوقف الناظر فيها على هذا الكتاب، فيحيط به علمًا.
وتثبيت النص، وتبيان الفروق، هو عمدته في التحقيق والإخراج، وهو المقصد الأساس من التحقيق.
وتحشيته بتعليقات تُرْشِد الناظر فيه إلى مواطن الحديث عند من خرّجه، وشرح غريبه بكلمات هي "برقيات" توضح المراد من غير إسهاب ولا إثقال، وهكذا.
وختامًا، فهذا العِلْقُ النفيس جدير بحفاوة أهل العلم، وطلابه، والخاصة والعامة، وأن يكون للمسلم سميرًا وهجيرًا، يعاهد نفسه. بما فيه من أنوار الوحي ومشكاة النبوة، حتى يمتلئ قلبه بالعلم والإيمان وجوارحه بالعمل.
এবং কাইসুম; ৮১৭ হিজরীতে ইন্তেকালকারী ফিরোজাবাদী -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- তাঁর কামূস গ্রন্থের শুরুতে বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মরুপ্রান্তরগুলোতে ভাষাভাষীদের বিভিন্ন ভাষায় বাগ্মিতা দান করেছেন, এবং পথপ্রদর্শক রসনাসমূহকে স্পষ্ট জিহ্বা দান করেছেন, আর কাইসুমের শিকড় ও কাসিমের গাদা উদ্ভিদকে এমন বৈশিষ্ট্য দিয়ে বিশিষ্ট করেছেন যা নার্গিস ও জাফরান পায়নি
… "।
এই সফল শাইখ বংশীয় মর্যাদা ও ভূমিগত আভিজাত্যের পাশাপাশি হাফেজ ইশবিলী রচিত "আল-জমউ বাইনাস সাহীহাঈন" নামক এই কিতাবটিকে পাণ্ডুলিপির সংকীর্ণতা থেকে প্রকাশনার প্রশস্ততায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে চমৎকার নির্বাচনকে একত্রিত করেছেন। এটি দ্বীন প্রচারে এক অবদান এবং মুসলমানদের জন্য শিক্ষা। আল্লাহ এর মাধ্যমে এই মহামূল্যবান নিদর্শনকে পুনর্জীবিত করেছেন এবং তিনি -আল্লাহ তাঁর প্রতি ইহসান করুন- তাহকীক বা সম্পাদনাকে সেই ধারায় ফিরিয়ে এনেছেন যা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ শাইখগণ নির্ধারণ করেছিলেন।
তাহকীকের ভূমিকাটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এমন শৈলীতে রচিত হয়েছে যা পাঠককে এই কিতাব সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয়, ফলে সে এটি সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করতে পারে।
মূল পাঠ্য সাব্যস্ত করা এবং পাঠভেদসমূহ স্পষ্ট করাই হলো তাহকীক ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে তাঁর মূল স্তম্ভ, আর এটিই তাহকীকের মৌলিক উদ্দেশ্য।
কিতাবটিতে এমন সব টীকা সংযোজন করা হয়েছে যা পাঠককে হাদীসটির মূল উৎসের দিকে নির্দেশ করে এবং কঠিন শব্দগুলোর ব্যাখ্যা এমন সব সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে করা হয়েছে যা দীর্ঘসূত্রিতা বা জটিলতা ছাড়াই উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেয়, এভাবেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
পরিশেষে, এই মহামূল্যবান সম্পদটি আলেম সমাজ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ ও বিশিষ্ট সকলের পক্ষ থেকে সমাদর পাওয়ার যোগ্য। এটি যেন একজন মুসলমানের জন্য দিবারাত্রির সঙ্গী হয়, যার মাধ্যমে সে নিজের আত্মার পরিচর্যা করবে। এতে নিহিত ওহীর নূর এবং নবুওয়াতের আলো যেন তার অন্তরকে ইলম ও ঈমানে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আমলে পরিপূর্ণ করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٤)
وليكون أساسًا أمام المتخصص بعلم الحديث للإضافة والاستدراك. غفر الله لمؤلفه، ونفع الله المسلمين بكتابه، وشكر الله لأخينا في الله الشيخ / حمد بن محمد الغَمَّاس إخراج هذا الكتاب، وإِنَّ الدَّالَّ على الخير كفَاعِلِه، وندعو الله لنا وله بالعلم النافع والعمل الصالح. والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى صحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
بقلم
بكر بن عبد الله أبو زيد
في صيف 1/ 5 / 1419
بالطائف
এবং যেন এটি হাদীস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞের নিকট সংযোজন ও সংশোধনের একটি ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয়। আল্লাহ এর লেখককে ক্ষমা করুন, তাঁর কিতাবের মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করুন এবং আমাদের দ্বীনী ভাই শায়খ হামাদ বিন মুহাম্মাদ আল-গাম্মাসকে এই কিতাবটি প্রকাশের জন্য আল্লাহ প্রতিদান দান করুন; আর নিশ্চয়ই কল্যাণের পথপ্রদর্শক তা সম্পাদনকারীর ন্যায়। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের ও তাঁর জন্য উপকারী জ্ঞান এবং নেক আমলের দোয়া করছি। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের উপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
লিখনে
বাকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ
১/ ৫ / ১৪১৯ হিজরীর গ্রীষ্মকালে
তায়েফে
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة التحقيقبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله حمدًا طيبًا كثبرًا مباركًا فيه كما يحب ربنا ويرضاه، والصلاة والسلام على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه ومن اتبع سنته واهتدى بهداه، وبعد:
فإن "تقريب السنة بين يدي الأمة"، وربط المسلمين بالصحيح الثابت من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتيسير تناوله لهم من أعظم أسباب الاستقامة على أقوم سنن، والعصمة من مضلات الفتن، وسلامة التدين من شوائب البدع وعوارض الزيغ.
وإن أعظم تحصين لعقول المسلمين ضد الموضوعات والخرافات هو ملؤُها بالأحاديث الصحاح الثابتات؛ فإن أنوار النبوة كاشفة لظلمة الجهالة، مبينةٌ لَبْس الباطل واشتباهه.
ولا ترى موفقًا إلى إدمان النظر في صحيح السنة إلا أَنِست منه نُفْرة من الباطل والموضوع، وبصيرة في التمييز بين الصحاح الثابتة والموضوعات المختلقة، ولذا عظمت الرغبة في إخراج كتاب جامع للأحاديث الصحيحة الثابتة التي حكم بصحتها أئمة هذا الشأن، علماء السنة وحملة ميراث النبوة.
وكان التفكير منحصرًا فِي إخراج كتاب في الجمع بين الصحيحين اللذَين هما أصح الكتب بعد كتاب الله عز وجل، فالكلام فِي صحة أحاديثهما
সম্পাদনার ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যে প্রশংসা অতি উত্তম, প্রচুর ও বরকতময়; যে প্রশংসা আমাদের রব পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও যারা তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করেছে এবং তাঁর হিদায়াত অনুযায়ী পথ চলেছে তাদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই "উম্মাহর নিকট সুন্নাহকে নিকটবর্তী করা", মুসলমানদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের সহীহ ও সুসাব্যস্ত বর্ণনাগুলোর সাথে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের জন্য তা গ্রহণ করা সহজসাধ্য করা হলো সরল পথের ওপর অবিচল থাকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম, বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে বাঁচার উপায় এবং বিদআতের কলুষতা ও বিচ্যুতির আপদ থেকে দ্বীনদারীকে নিরাপদ রাখার রক্ষা কবজ।
আর জাল হাদীস ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মুসলমানদের জ্ঞান ও বুদ্ধিকে সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে বড় উপায় হলো সেগুলোকে সহীহ ও সুসাব্যস্ত হাদীস দ্বারা সমৃদ্ধ করা; কেননা নবুওয়াতের নূর হলো মূর্খতার অন্ধকার দূরকারী এবং বাতিলের বিভ্রান্তি ও অস্পষ্টতাকে উন্মোচনকারী।
আপনি এমন কাউকে পাবেন না যাকে সহীহ সুন্নাহর গভীর অধ্যয়নে অভ্যস্ত হওয়ার তাওফীক দেওয়া হয়েছে, অথচ তার মাঝে বাতিল ও জাল হাদীসের প্রতি ঘৃণা এবং সহীহ হাদীস ও মনগড়া জাল বর্ণনার মাঝে পার্থক্য করার দূরদর্শিতা ফুটে ওঠেনি। আর এই কারণেই এমন একটি সংকলন গ্রন্থ প্রকাশের আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়েছে যা এমন সব সহীহ ও সুসাব্যস্ত হাদীসকে একত্রিত করবে, যেগুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে এই শাস্ত্রের ইমামগণ, সুন্নাহর আলিমগণ এবং নবুওয়াতের উত্তরাধিকার বহনকারীগণ রায় দিয়েছেন।
আর চিন্তা-ভাবনা মূলত সীমাবদ্ধ ছিল 'সহীহাইন' (বুখারী ও মুসলিম)-কে একত্রিত করে একটি গ্রন্থ প্রকাশের বিষয়ে, যা মহান আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ। সুতরাং এই দুই গ্রন্থের হাদীসসমূহের বিশুদ্ধতার বিষয়ে আলোচনা...
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٦)
أمر قد فرغ منه.
ثم هي مع ذلك تمتاز بالشمولية في مواضيعها؛ لأن صاحبي الصحيح عملا كتابيهما على الأبواب، فجاءت أحاديثها شاملة للعقائد، والعبادات، والمعاملات، والأخلاق، والآداب، والأذكار، والدعوات، والمغازي، والعسير، وأخبار الأنبياء، ونبأ اليوم الآخر والبعث والمعاد .... ، وغير ذلك.
فضميمتها حصيلة متكاملة للمسلم يكون فيها تصحيح للاعتقاد، وتفقه في العبادة، وتهذيب للسلوك، وتزكية للنفوس، وترغيب في الفضائل.
فمن تضلع منها فقد قَبَس نورًا من أنوار النبوة، وأخذ بحظ وافر من هدى الرسالة، فاقتدى على هدى، واتبع عدى بصيرة، وسلك إلى الله على أَثَر أعلم الخلق به، وأخشاهم له، وأحبهم إليه -صلوات الله وسلامه عليه-.
ولما كان أحسن كتاب جمع أحاديثهما مع التقصي والتحرير وحسن الترتيب هو: كتاب (الجمع بين الصحيحين) لأبي محمد عبد الحق بن عبد الرحمن الإشبيلي، قمت بخدمة الكتاب والعناية به، وقدمت له بمقدمة موجزة عن:
- مكانة الصحيحين والجمع بينهما.
- التعريف بالمؤلف.
- التعريف بالكتاب.
এটি এমন একটি বিষয় যা ইতিপূর্বেই নির্ধারিত হয়ে গেছে।
তদুপরি, এটি তার বিষয়বস্তুর ব্যাপকতার মাধ্যমে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী; কেননা সহীহদ্বয়ের সংকলকদ্বয় তাঁদের কিতাব দুটি অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাসে সংকলন করেছেন। ফলে এর হাদিসসমূহ আকিদাহ, ইবাদত, মুয়ামালাত (লেনদেন), আখলাক (চরিত্র), আদব (শিষ্টাচার), আজকার (জিকির-আজকার), দোয়া, মাগাযী (যুদ্ধাভিযান), সীরাত (জীবনচরিত), নবিগণের সংবাদ, পরকাল ও পুনরুত্থান সংক্রান্ত সংবাদ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সুতরাং এ দুটির সমন্বয় একজন মুসলিমের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহ, যার মাধ্যমে আকিদাহর সংশোধন, ইবাদতের গভীর জ্ঞান অর্জন, আচরণের পরিমার্জন, নফসের পরিশুদ্ধি এবং নেক আমলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
অতএব, যে ব্যক্তি এ থেকে গভীর জ্ঞান আহরণ করল, সে নবুওয়াতের নূর থেকে আলোকবর্তিকা লাভ করল এবং রিসালাতের হিদায়াত থেকে এক বিশাল অংশ গ্রহণ করল। ফলে সে হিদায়াতের ওপর ইক্তিদা করল এবং চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসরণ করল। আর সে আল্লাহর দিকে অগ্রসর হলো সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে সবচাইতে বেশি অবগত সত্তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে, যিনি সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহকে সবচাইতে বেশি ভয় করেন এবং তাঁর কাছে সবচাইতে প্রিয়—তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
যেহেতু পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান, পরিমার্জন এবং উত্তম বিন্যাসের সাথে সহীহদ্বয়ের হাদিসসমূহকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব হলো আবু মুহাম্মাদ আব্দুল হক বিন আব্দুর রহমান আল-ইশবিলী রচিত ‘আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন’ কিতাবটি, তাই আমি এই কিতাবটির খিদমত ও পরিচর্যা করেছি এবং এতে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা প্রদান করেছি যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে:
- সহীহদ্বয়ের মর্যাদা এবং এ দুটির সমন্বয়ের গুরুত্ব।
- লেখকের পরিচিতি।
- কিতাবটির পরিচিতি।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٧)
- وصف النسخ الخطية.
- العمل في الكتاب.
فإلى كل محب لرسول الله صلى الله عليه وسلم، معظم لسنته، متبع لهديه، أقدم هذا الكتاب سائلًا الله للجميع الهدى والسداد.
- পাণ্ডুলিপি সমূহের বিবরণ।
- কিতাবটির সম্পাদনা পদ্ধতি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যেক অনুরাগী, তাঁর সুন্নাহর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনকারী এবং তাঁর হেদায়েতের অনুসারীদের নিকট আমি এই কিতাবটি পেশ করছি; আল্লাহর নিকট সকলের জন্য হেদায়েত ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٨)
الصحيحان والجمع بينهماحسب هذين الكتابين -صحيح البخاري (1) وصحيح مسلم (2) - سموًا ورفعةً وإمامةً وجلالةً أن يقال عنهما: إنهما أصح كتابين بعد كتاب الله جل وعلا، وأن تتواطأ السنة ورثة النبوة وعلماء الأمة على تعظمهما وتقديمهما، والثناء عليهما، وأنهما في أعلى درجات الصحة.
قال النووي: "اتفق العلماء رحمهم الله على أن أصح الكتب -بعد القرآن العزيز- الصحيحان: البخاري ومسلم، وتلقتهما الأمة بالقبول" (3) ا. هـ.
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: "الذي اتفق عليه أهل العلم أنه ليس بعد القرآن أصح من كتاب البخاري ومسلم" (4).
قال العلائي: "إن الأئمة اتفقت على أن كل ما أسنده البخاري أو مسلم في كتابيهما الصحيحين فهو صحيح لا ينظر فيه" (5).
--------------------------------------------
সহীহদ্বয় এবং তাদের মাঝে সমন্বয়এই কিতাবদ্বয় -সহীহ বুখারী (১) এবং সহীহ মুসলিম (২) - এর মর্যাদা, উচ্চতা, শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, এগুলো সম্পর্কে বলা হয়: আল্লাহর কিতাবের (যিনি মহিমান্বিত ও উচ্চ) পর এগুলোই সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব। এছাড়া নবুওয়াতের উত্তরসূরি সুন্নাহর অনুসারীগণ এবং উম্মতের আলেমগণ এগুলোকে সম্মান করতে, অগ্রাধিকার দিতে ও প্রশংসা করতে ঐক্যমত পোষণ করেছেন এবং এই কিতাবদ্বয় বিশুদ্ধতার সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে।
ইমাম নববী বলেন: "আলেমগণ -আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন- এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মহাগ্রন্থ কুরআনের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব হলো সহীহদ্বয়: বুখারী ও মুসলিম। পুরো উম্মত এগুলোকে কবুল করে নিয়েছে।" (৩) সমাপ্ত।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "আহলুল ইলম বা জ্ঞানীরা এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, কুরআনের পর বুখারী ও মুসলিমের কিতাব অপেক্ষা বিশুদ্ধ আর কিছু নেই।" (৪)।
আল-আলাঈ বলেন: "ইমামগণ এই মর্মে একমত হয়েছেন যে, বুখারী বা মুসলিম তাঁদের সহীহ কিতাবদ্বয়ে যা কিছু মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তা সবই সহীহ, এতে পুনরায় পর্যালোচনার অবকাশ নেই।" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٩)
وقال الطيبي: "أول من صنف في الصحيح المجرد الإمام البخاري، ثم مسلم، وكتاباهما أصح الكتب بعد كتاب الله العزيز" (1).
وقال العيني: "اتفق علماء الشرق والغرب على أنه ليس بعد كتاب الله تعالى أصح من صحيحي البخاري ومسلم" (2).
وقال الفصيح الهروي: "أول من صنف في الصحيح المجرد الإمام البخاري ثم مسلم وكتاباهما أصح الكتب بعد كتاب الله تعالى" (3).
ليس بعجيب أن يقال في الصحيحين ذلك فهما كذلك، ولكن العجب أنهما أول تأليف في الصحيح المجرد، والمعتاد في البدايات النقص ووجود الخلل، ثم يستكمل ذلك من يأتي بعد، إلا الصحيحين فقد أدركا الأولية والأفضلية، فهما أول ما ألف في الصحيح، ثم توالت بعد المؤلفات والمستخرجات، فلم تدرك تلك الرتبة ولا قاربت تلك المنزلة، والله يختص برحمته من يشاء والله واسع عليم.
لقد تحرى الإمامان البخاري ومسلم -رحمهما الله- الصدق في كتابيهما وبالغا في التحري، وقد قال صلى الله عليه وسلم (ولا يزال الرجل يصدق ويتحرى الصدق حتى يكتب عند الله صديقًا) (4)، فأبقى الله ذكرهما في العالمين، وجعل لهما لسان صدق في الآخرين، وذلك فضل الله يؤتيه من
--------------------------------------------
তীবী রহ. বলেন: "একচ্ছত্রভাবে বিশুদ্ধ হাদীস সংকলনে প্রথম যিনি গ্রন্থ রচনা করেন তিনি হলেন ইমাম বুখারী, অতঃপর মুসলিম। তাঁদের গ্রন্থদ্বয় মহান আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ" (১)।
আইনী রহ. বলেন: "পূর্ব ও পশ্চিমের আলিমগণ একমত হয়েছেন যে, মহান আল্লাহর কিতাবের পর বুখারী ও মুসলিমের দুই সহীহ গ্রন্থের চেয়ে বিশুদ্ধ আর কোনো কিতাব নেই" (২)।
ফাসিহ আল-হারাউয়ী বলেন: "একচ্ছত্রভাবে সহীহ হাদীসের ওপর প্রথম গ্রন্থ সংকলন করেন ইমাম বুখারী, এরপর মুসলিম। তাঁদের গ্রন্থদ্বয় মহান আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব" (৩)।
দুই সহীহ গ্রন্থ সম্পর্কে এমনটি বলা আশ্চর্যের কিছু নয়, কারণ সেগুলো প্রকৃতপক্ষেই তেমন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এই যে, গ্রন্থদ্বয় একচ্ছত্র সহীহ হাদীস সংকলনের ক্ষেত্রে প্রথম রচনা; অথচ সূচনালগ্নের কাজগুলোতে সাধারণত অপূর্ণতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি বিদ্যমান থাকে এবং পরবর্তীতে যারা আসেন তারা তা পূর্ণ করেন। কিন্তু দুই সহীহ গ্রন্থ এর ব্যতিক্রম। সেগুলো প্রথম হওয়ার গৌরব এবং শ্রেষ্ঠত্ব—উভয়ই অর্জন করেছে। সেগুলো হলো সহীহ হাদীস বিষয়ে রচিত প্রথম গ্রন্থ, যার পর ধারাবাহিকভাবে আরও অনেক সংকলন ও মুস্তাখরাজ রচিত হয়েছে, কিন্তু সেগুলো উক্ত স্তর অর্জন করতে পারেনি এবং সেই মর্যাদার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতের জন্য মনোনীত করেন এবং আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) তাঁদের গ্রন্থদ্বয়ে সত্যনিষ্ঠার পূর্ণ প্রয়াস চালিয়েছেন এবং সতর্কতার চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ব্যক্তি সত্য বলতে থাকে এবং সত্যের অন্বেষণে থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহর নিকট তাকে মহাসত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়" (৪)। ফলে আল্লাহ বিশ্ববাসীর মাঝে তাঁদের স্মরণকে অক্ষুণ্ণ রেখেছেন এবং পরবর্তীদের মাঝে তাঁদের জন্য সুখ্যাতি দান করেছেন। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, যা তিনি দান করেন যাকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ١٠)
يشاء، والله ذو الفضل العظيم.
ولما كان الصحيحان بهذه المثابة، فقد نفر إلى خدمتهما وتقريبهما علماء السنة، وحفاظ الحديث، وتنوعت هذه الخدمة؛ كاختصارهما، أو الانتخاب منهما، أو جمع المتفق عليه بينهما، أو شرحهما، أو بيان غريبهما، أو عمل أطراف لهما، أو إفراد رجاطما، أو الصحابة الذي رووا لهما
… ، وهكذا.
وكان من جهود العلماء في تقريب الصحيحين وتيسيرهما للناس: الجمع بينهما، وأُلفت في ذلك كتب كثيرة منها:
1 - الجمع بين الصحيحين لأبي عبد الله محمد بن أبي نصر فتوح بن حميد بن يصل الأزدي الحميدي المتوفي سنة ثمان وثمانين وأربعمائة.
ويلاحظ:
أ- أن الحميدي رحمه الله خالف طريقة صاحبي الصحيح في ترتيبه، فإنهما رتبا كتابيهما على الأبواب، أما هو فرتب الجمع بينهما على المسانيد، وذلك يُفَوِّتُ ما قصده الشيخان من جعل كتابيهما على الأبواب، فإن لهما في ذلك فقهًا دقيقًا.
ب- أن الحميدي أضاف إلى أحاديث الصحيحين زيادات من المستخرجات عليهما، وربما لم يميز الزيادة عن أصل الحديث عند صاحبي الصحيح.
قال السخاوي: "ربما يسوق الحديث الطويل ناقلًا له من مستخرج البرقاني أو غيره، ثم يقول: اختصره البخاري فأخرج طرفًا منه، ولا يبين
তিনি যা ইচ্ছা করেন, আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী।
যেহেতু সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এই সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, তাই সুন্নাহর আলিমগণ এবং হাদীসের হাফেযগণ এই দুই কিতাবের খিদমতে এবং এগুলোকে মানুষের নিকট সহজবোধ্য করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। এই খিদমত ছিল নানাবিধ; যেমন- গ্রন্থদ্বয়ের সংক্ষেপণ, অথবা সেগুলো থেকে চয়ন, অথবা উভয়ের মধ্যকার ঐকমত্যপূর্ণ হাদীসগুলো একত্র করা, অথবা সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা, অথবা সেগুলোর দুরূহ শব্দাবলি বিশ্লেষণ করা, অথবা সেগুলোর ‘আতরাফ’ (সূত্র-নির্দেশিকা) তৈরি করা, অথবা সেগুলোর বর্ণনাকারীদের স্বতন্ত্র তালিকা তৈরি করা, কিংবা যে সকল সাহাবী এই হাদীসগুলো বর্ণনা করেছেন তাঁদের পৃথকভাবে উল্লেখ করা
... এভাবেই আরও নানা কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সহীহাইনকে মানুষের নিকট নিকটবর্তী ও সহজতর করার ক্ষেত্রে আলিমগণের অন্যতম প্রচেষ্টা ছিল: উভয় কিতাবকে একত্র করা। এই বিষয়ে অনেক কিতাব রচিত হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো:
১ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি নাসর ফুতুহ বিন হুমাইদ বিন ইয়াসাল আল-আযদি আল-হুমাইদি (মৃত্যু: ৪৮৮ হিজরী) কর্তৃক সংকলিত 'আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন'।
লক্ষ্যযোগ্য যে:
ক- আল-হুমাইদি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর বিন্যাস পদ্ধতিতে সহীহাইনের লেখকদ্বয়ের পদ্ধতির অনুসরণ না করে ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন। কেননা তাঁরা দু’জন তাঁদের কিতাবসমূহকে অধ্যায়ভিত্তিক (আবওয়াব) সাজিয়েছিলেন, পক্ষান্তরে তিনি সেই দুই কিতাবকে ‘মুসনাদ’ (বর্ণনাকারী সাহাবীর নাম) অনুযায়ী বিন্যস্ত করে একত্র করেছেন। এর ফলে শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) তাঁদের কিতাবসমূহকে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাসের মাধ্যমে যে উদ্দেশ্য পোষণ করেছিলেন তা ব্যাহত হয়েছে, কারণ তাঁদের সেই বিন্যাসে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ফিকহ বা গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক তাৎপর্য নিহিত ছিল।
খ- আল-হুমাইদি সহীহাইনের হাদীসসমূহের সাথে সেগুলোর ওপর রচিত ‘মুস্তাখরাজ’ গ্রন্থসমূহ থেকে অতিরিক্ত অংশ যুক্ত করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি সহীহাইনদ্বয়ের মূল হাদীস থেকে সেই অতিরিক্ত অংশগুলোকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করেননি।
সাখাভী বলেন: "তিনি হয়তো কোনো দীর্ঘ হাদীস আল-বারকানীর মুস্তাখরাজ বা অন্য কোনো উৎস থেকে উদ্ধৃত করে নিয়ে আসেন, এরপর বলেন: ইমাম বুখারী এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং এর কিয়দাংশ উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি তা স্পষ্ট করেন না..."
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ١١)
القدر المقتصر عليه، فيلتبس على الواقف عليه، ولا يميزه إلا بالنظر في أصله، ولكنه في الكثير يميز بأن يقول بعد سياق الحديث بطوله: اقتصر البخاري على كذا، وزاد فيه البرقاني كذا" (1).
ولذا قال ابن الصلاح: "غير أن الجمع بين الصحيحين للحميدي الأندلسي يشتمل زيادة تتمات لبعض الأحاديث، فربما نقل من لا يميز بعض ما يجده في الصحيحين أو أحدهما وهو مخطئ؛ لكونه من تلك الزيادات التي لا وجود لها في واحد من الصحيحين". (2)
وقال العراقي في التبصرة والتذكرة (وليت إذ زاد الحميدي ميزا) (3).
2 - الجمع بين الصحيحين للحسن بن محمد الصاغاني المتوفي سنة 650 هـ. والمسمى (مشارق الأنوار النبوية من صحاح الأخبار المصطفوية).
ويلاحظ:
أ- أنه رتبه ترتيبًا لم يسبق إليه، ولم يتابع عليه، فلم يرتبه على الأبواب، ولا على المسانيد، ولا على حروف المعجم، وإنما رتبه على الكلمات الأُوَل على أبواب النحو؛ مبتدئًا بمَنْ الموصولة، ثم مَنْ الاستفهامية، ثم إن، ثم إذا
… ، وهكذا. وهذا يجعل الاستفادة منه في غاية العسر.
ب -كما أنه اقتصر فيه على الأحاديث القولية فقط.
--------------------------------------------
যতটুকু সংক্ষেপ করা হয়েছে, ফলে এটি পাঠকের কাছে অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং মূল গ্রন্থের দিকে নজর দেওয়া ছাড়া একে পৃথক করা সম্ভব হয় না। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি দীর্ঘ হাদিস বর্ণনার পর এই বলে একে পৃথক করেন যে: "বুখারি এই পর্যন্ত সংক্ষেপ করেছেন এবং বারকানি এতে এই অংশটুকু বৃদ্ধি করেছেন" (১)।
এই কারণে ইবনুস সালাহ বলেছেন: "তবে হুমায়দি আল-আন্দালুসি রচিত 'আল-জাম' বাইনাস সহিহাইন' গ্রন্থে কিছু হাদিসের অতিরিক্ত পরিশিষ্টাংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে যে ব্যক্তি পার্থক্য করতে সক্ষম নয়, সে হয়তো সহিহাইন বা তার কোনো একটিতে যা পায় তা উদ্ধৃত করে এবং সে ভুল করে; কারণ এটি মূলত সেই সব অতিরিক্ত অংশের অন্তর্ভুক্ত যার কোনো অস্তিত্ব সহিহাইনের কোনো একটিতেও নেই" (২)।
ইরাকি 'আত-তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ' গ্রন্থে বলেছেন: (আফসোস! হুমায়দি যখন অতিরিক্ত অংশ যোগ করেছিলেন, তখন যদি তিনি তা পৃথক করে দিতেন) (৩)।
২ - হাসান বিন মুহাম্মদ আস-সাগানি (মৃত্যু ৬৫০ হিজরি) রচিত 'আল-জাম' বাইনাস সহিহাইন', যার নাম 'মাশারিকুল আনওয়ারিন নাবাওয়িয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুস্তফাভিয়্যাহ'।
লক্ষণীয় যে:
ক- তিনি এটি এমন এক বিন্যাসে সাজিয়েছেন যার নজির পূর্বে ছিল না এবং পরবর্তীতেও কেউ তা অনুসরণ করেনি। তিনি এটি অধ্যায়ভিত্তিক, রাবিভিত্তিক বা বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজাননি। বরং তিনি এটি নাহু বা ব্যাকরণের অধ্যায় অনুযায়ী শব্দের শুরুর অংশ ধরে বিন্যস্ত করেছেন; যেমন- 'মান' (মওসূলাহ) দিয়ে শুরু করেছেন, তারপর 'মান' (প্রশ্নবোধক), তারপর 'ইন্না', তারপর 'ইযা'
… , এভাবে। আর এটি গ্রন্থটি থেকে উপকৃত হওয়া অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।
খ- এর পাশাপাশি তিনি এতে কেবল বাচনিক হাদিসসমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ج- ثم إنه أضاف إلى أحاديث الصحيحين أحاديث من مسند الشهاب للقضاعي، وكتاب النجم للإقليشي؛ رأى أنهما مما صح من كتابيهما، فمزج أحاديث الصحيحين بغيرهما. وقد شرح الكتاب غبر واحد، وطبعت الكتاب مؤسسة الكتب الثقافية.
3 - الجمع بين الصحيحين مع حذف السند والمكرر من البين. لأبي حفص عمر بن بدر بن سعيد ضياء الدين الكردي الحنفي المتوفي سنة (622 هـ).
وقد طبع بتحقيق الدكتور علي البواب، والكتاب استله مؤلفه من جامع الأصول لابن الأثير، ولم يرجع إلى كتاب البخاري ومسلم، وابن الأثير لم يأخذ من الصحيحين أيضًا، وإنما أخذ من الجمع بين الصحيحين للحميدي، وقد نتج عن ذلك أخطاء في نسبة ألفاظ إلى الصحيحين وليست فيها، بل مما زاده الحميدي من بعض المستخرجات، أو ذكر لفظ الحديث على أنه لصاحبي الصحيح مع أنه لأحد أصحاب السنن الذين أخرجوا الحديث بسياق أتم، وقد ذكر محقق الكتاب أمثلة لهذه الأخطاء في مقدمة تحقيقه 10 - 14.
وكما أن الموصلي استل كتابه من جامع الأصول، فقد اقتفاه في طريقة الترتيب وهي ترتيب الكتب على حروف المعجم.
4 - ولأبي عبد الله محمد بن حسين بن أحمد بن محمد الأنصاري الْمَرِيّ
গ- অতঃপর তিনি সহীহাইনের হাদীসসমূহের সাথে কুযাঈ-এর ‘মুসনাদুশ শিহাব’ এবং ইকলীশী-এর ‘কিতাবুন নাজম’ থেকে হাদীস যুক্ত করেন; তিনি মনে করেছেন যে এগুলি তাদের কিতাবদ্বয়ের সহীহ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত, তাই তিনি সহীহাইনের হাদীসগুলোকে অন্যগুলোর সাথে মিশ্রিত করেছেন। একাধিক আলেম এই গ্রন্থের ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং মুয়াসসাসাতুল কুতুব আল-সাকাফিয়্যাহ থেকে এটি প্রকাশিত হয়েছে।
৩ - সানাদ এবং পুনরাবৃত্তি বর্জন করে সহীহাইন সংকলন। এটি আবু হাফস উমর ইবনে বদর ইবনে সাঈদ যিয়াউদ্দীন আল-কুর্দি আল-হানাফীর (মৃত্যু ৬২২ হিজরী) রচনা।
এটি ডক্টর আলী আল-বাওয়াব-এর তাহকীকসহ মুদ্রিত হয়েছে। লেখক এই কিতাবটি ইবনুল আসীর-এর ‘জামি’উল উসুল’ থেকে চয়ন করেছেন এবং তিনি বুখারী ও মুসলিমের মূল গ্রন্থের দিকে প্রত্যাবর্তন করেননি। আবার ইবনুল আসীরও সরাসরি সহীহাইন থেকে গ্রহণ করেননি, বরং তিনি হুমায়দীর ‘আল-জাম‘ বাইনাস সহীহাইন’ থেকে গ্রহণ করেছেন। এর ফলে সহীহাইনের দিকে এমন কিছু শব্দ সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে যা সেখানে নেই, বরং সেগুলো আল-হুমায়দী তার কিছু মুস্তাখরাজাত থেকে বৃদ্ধি করেছেন। অথবা হাদীসের পাঠকে সহীহাইনের রচয়িতাদ্বয়ের পাঠ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অথচ সেটি মূলত সুনান গ্রন্থকারদের কারো পাঠ, যারা হাদীসটিকে আরও পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন। মুহাক্কিক তার তাহকীককৃত ভূমিকার ১০-১৪ পৃষ্ঠায় এই ভুলগুলোর উদাহরণ উল্লেখ করেছেন।
যেহেতু আল-মাওসিলী তার বইটি ‘জামি’উল উসুল’ থেকে চয়ন করেছেন, তাই বিন্যাস পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তিনি তাকে অনুসরণ করেছেন, আর তা হলো কিতাবসমূহকে বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতি অনুযায়ী সাজানো।
৪ - এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন হুসাইন বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারী আল-মাররীর।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ١٣)
- بوزن غَنِيّ -نسبة إلى المرية المتوفى سنة (582 هـ) (1).
5 - وللإمام أبي محمد حسين بن مسعود الفراء البغوي المتوفى سنة (516 هـ).
6 - وللإمام أبي بكر محمد بن عبد الله بن محمد الجوزقي النيسابوري المتوفى سنة (388 هـ).
7 - ولأبي محمد إسماعيل بن أحمد المعروف بابن الفرات السرخسي الهروي المتوفى سنة (414 هـ).
8 - ولأبي جعفر أحمد بن محمد القرطبي المعروف بابن حجة المتوفى سنة (642 هـ).
9 - ولأبي بكر أحمد بن محمد البرقاني المتوفى سنة (425 هـ).
10 - ولأبي مسعود إبراهيم بن محمد بن عبيد الدمشقي (2) المتوفى سنة (401 هـ).
11 - الجمع بين الصحيحين بأسانيده لأبي محمد إسماعيل بن إبراهيم السرخسي القراب المتوفى سنة (414 هـ) (3).
12 - الجامع بين الصحيحين بحذف المعاد والطرق، لأبي نعيم عبيد الله بن
--------------------------------------------
- গানিয়্যি-এর ওজনে - আল-মারিয়্যাহ-র সাথে সম্পৃক্ত, যিনি ৫৮২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (১)।
৫ - এবং ইমাম আবু মুহাম্মাদ হুসাইন বিন মাসউদ আল-ফাররা আল-বাগাভী রহ.-এর জন্য, যিনি ৫১৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
৬ - এবং ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-জাওযাকি আন-নাইসাবুরী রহ.-এর জন্য, যিনি ৩৮৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
৭ - এবং আবু মুহাম্মাদ ইসমাইল বিন আহমাদ, যিনি ইবনুল ফুরাত আস-সারখাসি আল-হারাভী নামে পরিচিত, মৃত্যু বছর ৪১৪ হিজরি।
৮ - এবং আবু জাফর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-কুরতুবী, যিনি ইবনে হুজজাহ নামে পরিচিত, মৃত্যু বছর ৬৪২ হিজরি।
৯ - এবং আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বারকানী রহ.-এর জন্য, মৃত্যু বছর ৪২৫ হিজরি।
১০ - এবং আবু মাসউদ ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন উবাইদ আদ-দিমাশকী (২), মৃত্যু বছর ৪০১ হিজরি।
১১ - আল-জাম’ বাইনাস সাহিহাইন বি আসানিদিহি (নিজস্ব সনদসহ দুই সহীহ গ্রন্থের সংকলন), রচনায় আবু মুহাম্মাদ ইসমাইল বিন ইবরাহিম আস-সারখাসি আল-ক্বাররাব, মৃত্যু বছর ৪১৪ হিজরি (৩)।
১২ - আল-জামি’ বাইনাস সাহিহাইন বি হাযফিল মুয়াদ ওয়াত তুরুক (পুনরাবৃত্তি ও সনদসমূহ বাদ দিয়ে দুই সহীহ গ্রন্থের সংকলন), রচনায় আবু নুআইম উবাইদুল্লাহ বিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ١٤)
الحسن بن حمد بن أحمد بن الحداد الأصبهاني المتوفى سنة (517 هـ) (1).
13 - الجمع بين الصحيحين لزكي الدين عبد العظيم بن عبد القوي المنذري المتوفى سنة (656 هـ) (2).
14 - الجمع بين الصحيحين على الأبواب للحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني المتوفى سنة (852 هـ) (3).
15 - مسند الصحيحين، وسنن الصحيحين لعبد الحق بن عبد الواحد الهاشمي المتوفى سنة (1394 هـ). وقد قسمه إلى قسمين: القسم الأول: مسند الصحيحين ورتبه على مسانيد الصحابة، ورتب أسماءهم على حروف المعجم، وهو بهذا قريب من صنيع الحميدي. القسم الثاني: مسند الصحيحين، أو مصنف الصحيحين، ورتبه على الأبواب على ترتيب صحيح مسلم وهو في هذا قريب من صنيع عبد الحق الإشبيلي.
على أنه في كلا القسمين يسوق الحديث بإسناده، ويعزوه إلى الكتاب والباب في أصله، معتمدًا تبويب النووي بالنسبة لصحيح مسلم، والكتاب مصدر عن أصل بخط مؤلفه رحمه الله.
16 - الجامع بين الصحيحين، جمع وترتيب صالح بن أحمد الشامي (من المعاصرين) طبع دار القلم سنة (1415).
--------------------------------------------
আল-হাসান ইবনে হামদ ইবনে আহমাদ ইবনে আল-হাদ্দাদ আল-আসফাহানি, মৃত্যু (৫১৭ হি.) (১)।
১৩ - যাকিউদ্দীন আবদুল আজিম ইবনে আবদুল কাওয়ি আল-মুনজিরি কর্তৃক রচিত ‘আল-জামউ বাইনাস সাহিহাইন’, মৃত্যু (৬৫৬ হি.) (২)।
১৪ - হাফিজ আহমাদ ইবনে আলি ইবনে হাজার আল-আসকালানি কর্তৃক রচিত ‘আল-জামউ বাইনাস সাহিহাইন আলাল আবওয়াব’, মৃত্যু (৮৫২ হি.) (৩)।
১৫ - আবদুল হক ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আল-হাশেমি কর্তৃক রচিত ‘মুসনাদুস সাহিহাইন’ এবং ‘সুনানুস সাহিহাইন’, মৃত্যু (১৩৯৪ হি.)। তিনি এটিকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: প্রথম ভাগ: ‘মুসনাদুস সাহিহাইন’, যা তিনি সাহাবায়ে কেরামের মুসনাদ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন এবং তাঁদের নামসমূহ অভিধানের বর্ণক্রম অনুযায়ী সাজিয়েছেন; এটি আল-হুমায়দির কাজের অনুরূপ। দ্বিতীয় ভাগ: ‘মুসনাদুস সাহিহাইন’ বা ‘মুসান্নাফুস সাহিহাইন’, যা তিনি সহিহ মুসলিমের বিন্যাস অনুযায়ী বিভিন্ন অধ্যায়ে সাজিয়েছেন; এটি এক্ষেত্রে আবদুল হক আল-ইশবিলির কাজের অনুরূপ।
তবে তিনি উভয় ভাগেই হাদিসগুলো এর সনদসহ উল্লেখ করেছেন এবং মূল গ্রন্থের কিতাব ও অধ্যায়ের প্রতি সম্বন্ধ করেছেন। সহিহ মুসলিমের বিন্যাসের ক্ষেত্রে তিনি ইমাম নববির পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছেন। এই কিতাবটি স্বয়ং লেখকের (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত।
১৬ - সালিহ ইবনে আহমাদ আশ-শামি (সমকালীন আলেমদের অন্তর্ভুক্ত) কর্তৃক সংকলিত ও বিন্যস্ত ‘আল-জামি’ বাইনাস সাহিহাইন’। এটি ১৪১৫ হিজরিতে দারুল কলম থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ١٥)
ولكن أوفى هذه الكتب جمعًا، وأحسنها ترتيبًا، وأتقنها ضبطًا وتحريرًا هو كتاب الحافظ الإمام أبي محمد عبد الحق، ويأتي في التعريف بالكتاب كلام العلماء عنه وثناؤهم بذلك عليه.
তবে সংকলনের দিক থেকে এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে অধিক পূর্ণাঙ্গ, বিন্যাসের দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম এবং নির্ভুলতা ও সম্পাদনার দিক থেকে সবচেয়ে নিপুণ হলো হাফিয ইমাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক-এর গ্রন্থ; গ্রন্থটির পরিচিতি পর্বে এটি সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্য এবং এর কারণে তাঁর প্রতি তাঁদের প্রশংসা উপস্থাপিত হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ١٦)
التعريف بالمؤلف (1)
نسبه ونسبته:هو الحافظ أبو محمد عبد الحق بن عبد الله بن الحسين بن سعيد بن إبراهيم الأزدي الإشْبِيلي البِجَائِي. ويعرف في زمانه بابن الخراط -والخراط نسبةً إلى خرط الخشب، فلعل أباه أو أحد أجداده احترف هذه المهنة-.
حياته:ولد عبد الحق سنة 510 هـ وهذا قول جمهور المؤرخين لحياته (2).
وقال أبو جعفر بن الزبير: ولد سنة 514 هـ (3) وقال أبو العباس بن قنفذ: ولد سنة 416 هـ (4).
ويفهم من نصوص المترجمين أن مولده بإشبيلية (5)؛ لأنهم نصوا على أنه من أهل إشبيلية، وأنه بها نشأ (6).
--------------------------------------------
লেখকের পরিচিতি (১)
তাঁর বংশ ও সম্পর্ক:তিনি হলেন হাফেজ আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে সাঈদ ইবনে ইবরাহিম আল-আযদি আল-ইশবিলি আল-বিজায়ি। তিনি তাঁর সময়ে ইবনুল খাররাত নামে পরিচিত ছিলেন—আর 'খাররাত' শব্দটি কাঠ খোদাই বা কাঠের কাজের (টার্নিং) সাথে সম্পর্কিত। সম্ভবত তাঁর পিতা বা তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ এই পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
তাঁর জীবনকাল:আব্দুল হক ৫১০ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর জীবনীকার ঐতিহাসিকদের অধিকাংশের অভিমত এটাই (২)।
আবু জাফর ইবনে আল-যুবাইর বলেন: তিনি ৫১৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন (৩)। আবু আব্বাস ইবনে কুনফুয বলেন: তিনি ৪১৬ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন (৪)।
জীবনীকারদের বর্ণনা থেকে বোঝা যায় যে, তাঁর জন্ম ইশবিলিয়া (সেভিল) শহরে (৫); কারণ তাঁরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে তিনি ইশবিলিয়ার অধিবাসী ছিলেন এবং সেখানেই তিনি বেড়ে উঠেছেন (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وفي إشبيلية سمع من آخر تلامذة ابن حزم بالإجازة القاضي شريح المتوفى سنة (539 هـ).
ثم تحول من إشبيلية إلى لبلة (1)، ولازم بها أبا الحسن خليل بن إسماعيل السكوني، وقرأ عليه، وتفقه به وتأدب (2).
ثم ارتحل من لبلة إلى بجاية (3) فسكنها وقت الفتنة التي زالت بها الدولة اللمتونية بدولة الموحدين (4). وكان استيلاء الموحدين عليها سنة (547 هـ).
وسكن عبد الحق بجاية، واتخذها وطنًا، فنشر بها علمه، وصنف تصانيفه، وبها اشتهر اسمه، وبعد صيته، وكمل خبره (5)، ودعى بها إلى خطتي القضاء والخطابة للموحدين فامتنع عن ذلك وأبى. ثم دعي إلى ذلك حين دخلها ابن غانية الميورقي فأجاب؛ حيث ولي قضاء بجاية مدة قليلة، وكذلك الخطابة (6). وقد كان دخول ابن غانية بجاية في 6/ 8 / 580 هـ. واستعادها منه الموحدون في 19/ 2/ 581 هـ. وكان
--------------------------------------------
এবং সেভিলে (ইশবিলিয়াহ) তিনি ইবনে হাজমের সর্বশেষ ছাত্রদের মধ্যে ইজাজাহপ্রাপ্ত কাজি শুরাইহ (মৃত্যু ৫৩৯ হিজরি)-এর নিকট থেকে শ্রবণ করেন।
এরপর তিনি সেভিল থেকে লাবলা (১)-তে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে আবুল হাসান খলিল ইবনে ইসমাইল আস-সুকুনির সংশ্রবে থাকেন, তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেন এবং তাঁর মাধ্যমে ফিকহ ও আদব অর্জন করেন (২)।
অতঃপর তিনি লাবলা থেকে বিজায়া (৩)-তে সফর করেন এবং সেখানে সেই ফিতনার সময় বসবাস করেন যার মাধ্যমে মুওয়াহহিদুন রাষ্ট্রের হাতে লামতুনি (আলমোরাভিদ) রাষ্ট্রের পতন ঘটেছিল (৪)। আর ৫৪৭ হিজরিতে মুওয়াহহিদুনরা এটি দখল করে নেয়।
আব্দুল হক বিজায়াতে বসবাস করেন এবং একে স্বদেশ হিসেবে গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি তাঁর ইলম প্রচার করেন, তাঁর কিতাবসমূহ রচনা করেন, সেখানে তাঁর নাম প্রসিদ্ধি লাভ করে, তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর বিবরণ পূর্ণতা পায় (৫)। সেখানে তাঁকে মুওয়াহহিদুনদের বিচার বিভাগ ও খুতবার পদের জন্য আহ্বান জানানো হলেও তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ইবনে গানিয়া আল-মায়ুরকি সেখানে প্রবেশ করলে তাঁকে পুনরায় সেই পদের জন্য ডাকা হলে তিনি তা কবুল করেন; ফলে তিনি অল্প সময়ের জন্য বিজায়ার বিচার বিভাগ ও খুতবার দায়িত্ব পালন করেন (৬)। আর বিজায়াতে ইবনে গানিয়ার প্রবেশ ঘটেছিল ৬/ ৮ / ৫৮০ হিজরিতে এবং মুওয়াহহিদুনরা তাঁর কাছ থেকে এটি ১৯/ ২/ ৫৮১ হিজরিতে পুনরায় উদ্ধার করে। আর ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ١٨)
ذلك سببًا لحقد أبي يوسف يعقوب أمير الموحدين على الإمام عبد الحق. قال المراكشي: ورام سفك دمه، فعصمه الله منه، وتوفاه الله حتف أنفه وفوق فراشه (1).
شيوخه وتلاميذه:أخذ أبو محمد العلم عن طائفة، منهم: أبو الحسن طارق بن موسى بن يعيش المنصفي (2) (549 هـ)، وأبو الحكم عبد السلام بن برَّجان اللخمي (3) (536 هـ)، وأبو بكر عبد العزيز بن خلف بن مدير الأزدي (544 هـ)، وأبو الإصبع عبد العزيز بن علي الطحان (4) (559 هـ)، والمحدث أبو محمد طاهر بن عطية الحجاري (5) (537 هـ)، والقاضي أبو بكر بن العربي (6) (543 هـ).
وممن روى عن الحافظ عبد الحق:
أبو جعفر أحمد بن علي بن عون الله الأنصاري (7) (609 هـ)، وأبو الحسن علي بن محمد بن جميل المعافري (8) (605 هـ)، وأبو الفضل
--------------------------------------------
এটাই ছিল মুওয়াহ্হিদুন আমীর আবু ইউসুফ ইয়াকুবের ইমাম আব্দুল হকের প্রতি বিদ্বেষের কারণ। আল-মাররাকুশি বলেন: তিনি তাঁর রক্ত প্রবাহিত করতে চেয়েছিলেন (অর্থাৎ হত্যা করতে চেয়েছিলেন), কিন্তু আল্লাহ তাঁকে তাঁর থেকে রক্ষা করেন এবং আল্লাহ তাঁকে তাঁর বিছানায় স্বাভাবিক মৃত্যু দান করেন (১)।
তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রগণ:আবু মুহাম্মদ একদল আলেম থেকে ইলম অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবুল হাসান তারিক বিন মুসা বিন ইয়াইশ আল-মুনসিফি (২) (৫৪৯ হি.), আবুল হাকাম আব্দুস সালাম বিন বাররাজান আল-লাখমি (৩) (৫৩৬ হি.), আবু বকর আব্দুল আজিজ বিন খালাফ বিন মুদাইর আল-আজদি (৫৪৪ হি.), আবুল আসবা' আব্দুল আজিজ বিন আলি আত-তাহহান (৪) (৫৫৯ হি.), মুহাদ্দিস আবু মুহাম্মদ তাহির বিন আতিয়্যাহ আল-হাজ্জারি (৫) (৫৩৭ হি.) এবং আল-কাদি আবু বকর ইবনুল আরাবি (৬) (৫৪৩ হি.)।
আর যাঁরা হাফেজ আব্দুল হক থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
আবু জাফর আহমদ বিন আলি বিন আওনিল্লাহ আল-আনসারি (৭) (৬০৯ হি.), আবুল হাসান আলি বিন মুহাম্মদ বিন জামিল আল-মাআফিরি (৮) (৬০৫ হি.), এবং আবুল ফজল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ١٩)
جعفر بن محمد بن طاهر القيسي (1) (598 هـ)، وأبو محمد عبد الله بن سليمان بن حوط الله (2) (612 هـ)، وأبو الحسن ابن أبي نصر الزاهد (3) (652 هـ)، وأبو محمد عبد الله بن أحمد بن التميمي (4) (620 هـ)، وغيرهم كثير.
مناقبه وثناء العلماء عليه:ذكره تلميذه الضبي فقال: الفقيه المحدث الحافظ، كان متواضعًا متقللًا من الدنيا، وكان إذا صلى الصبح في الجامع أقرأ إلى وقت الضحى، ثم قام فركع ثماني ركعات، ونهض إلى منزله واشتغل بالتأليف إلى صلاة الظهر. فإذا صلى الظهر وأدى الشهادات قرئ عليه في أثناء ذلك إلى العصر، فإذا صلى العصر مشى في حوائج الناس. وكان لا يدخل بجاية أحد من الطلاب إلا سأل عنه ومشى إليه وآنسه بما يقدر عليه (5).
وقال اليافعي: كان مع جلالته لا العلم قانعًا متعففًا موصوفًا بالصلاح والورع ولزوم السنة (6).
وقال ابن الأبار: كان فقيهًا حافظًا عالمًا بالحديث وعلله، عارفًا
--------------------------------------------
জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাহের আল-কায়সি (১) (৫৯৮ হি.), এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে হাওতিল্লাহ (২) (৬১২ হি.), এবং আবুল হাসান ইবনে আবি নাসর আজ-জাহিদ (৩) (৬৫২ হি.), এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আত-তামিমি (৪) (৬২০ হি.), এবং আরও অনেকে।
তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:তাঁর ছাত্র আদ-দাব্বি তাঁর উল্লেখ করে বলেন: তিনি ছিলেন ফকিহ, মুহাদ্দিস ও হাফেজ; তিনি বিনয়ী ছিলেন এবং দুনিয়া বিমুখ ছিলেন। তিনি যখন জামে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তেন, তখন থেকে চাশতের ওয়াক্ত পর্যন্ত পাঠদান করতেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে আট রাকাত নামাজ আদায় করতেন এবং নিজ গৃহে ফিরে জোহরের নামাজ পর্যন্ত গ্রন্থ রচনায় ব্যস্ত থাকতেন। যখন তিনি জোহরের নামাজ আদায় করতেন এবং সাক্ষ্য প্রদানের কাজগুলো সম্পাদন করতেন, তখন সেই সময়ের মধ্যে আসর পর্যন্ত তাঁর সামনে কিতাব পাঠ করা হতো। আসরের নামাজ শেষ করে তিনি মানুষের প্রয়োজন মেটাতে বের হতেন। বিজায়া শহরে কোনো ছাত্র আসলে তিনি অবশ্যই তার খোঁজ নিতেন, তার কাছে যেতেন এবং সাধ্যমতো তাকে সঙ্গ দিয়ে আশ্বস্ত করতেন (৫)।
আল-ইয়াফেয়ি বলেন: তিনি ইলমের সুমহান মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও অল্পে তুষ্ট ও পবিত্র স্বভাবের ছিলেন। তিনি নেক আমল, পরহেজগারি এবং সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসরণের গুণে গুণান্বিত ছিলেন (৬)।
ইবনুল আব্বার বলেন: তিনি ছিলেন একজন ফকিহ, হাফেজ, হাদিস ও হাদিসের ত্রুটি-বিচ্যুতি (ইলাল) সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেম এবং অভিজ্ঞ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
بالرجال، موصوفًا بالخير والصلاح والزهد والورع ولزوم السنة والتقلل من الدنيا، مشاركًا في الأدب وقول الشعر (1).
وقال الغبريني: الإمام الشيخ الفقيه الجليل المحدث الحافظ المتقن المجيد العابد الزاهد القاضي الخطب، له رضي الله عنه تآليف جليلة نبل قدرها، واشتهر أمرها، وتداولها الناس رواية وقراءة وشرحًا وتبينًا.
قال: وسمعت أنه رحمه الله كان يقسم ليله أثلاثًا، ثلثًا للقراءة، وثلثًا للعبادة، وثلثًا للنوم، وكان مع ذلك متقللًا من الدنيا، مقتصرًا على أقل الكافي منها، وكانت له أخلاق حسنة فاضلة (2).
وقال ابن ناصر الدين: كان بالحفظ ومعرفة الحديث وعلله ورجاله موصوفًا، وبالصلاح والزهد ولزوم السنة معروفًا (3).
وقال الذهبي: الإمام البارع المجود العلامة الحجة (4).
وفال الورثلاني: كان رضي الله عنه لوذعيًّا فاضلًا كريمًا لا نظير له، وكانت تأتيه أمَتُهُ مرارًا في يوم واحد لمجلس درسه تطلب منه دراهم فلم يخيبها قط، ثم قال بعض تلامذته: هذا شيء كثير يا شيخ! فقال: أستحي أن تجتمع فيَّ ثلاث شينات: شيخ وشحيح وإشبيلي (5).
--------------------------------------------
লোকদের মাঝে তিনি কল্যাণ, নেক আমল, দুনিয়াবিমুখতা, পরহেজগারি, সুন্নাহর অনুসরণ এবং পার্থিব জগতের প্রতি অনাগ্রহের গুণে গুণান্বিত ছিলেন। এছাড়া তিনি সাহিত্য এবং কবিতা রচনার ক্ষেত্রেও পারদর্শী ছিলেন (১)।
গুফরিনি বলেন: তিনি ছিলেন ইমাম, শাইখ, মহান ফকিহ, মুহাদ্দিস, হাফিজ, অত্যন্ত দক্ষ ও নিপুণ আলেম, ইবাদতকারী, দুনিয়াবিমুখ, কাজি এবং খতিব। তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) অনেক মহান গ্রন্থ রয়েছে যেগুলোর মর্যাদা অত্যন্ত উঁচু এবং তা বেশ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। মানুষ সেগুলো বর্ণনা, পঠন, ব্যাখ্যা এবং বিশদ আলোচনার মাধ্যমে পরস্পর আদান-প্রদান করে থাকে।
তিনি আরও বলেন: আমি শুনেছি যে তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর রাতকে তিন ভাগে ভাগ করতেন—এক ভাগ অধ্যয়নের জন্য, এক ভাগ ইবাদতের জন্য এবং এক ভাগ ঘুমের জন্য। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন পার্থিব জগতের প্রতি অনাগ্রহী, অতি অল্প জীবনোপকরণেই তুষ্ট থাকতেন এবং তিনি অত্যন্ত উত্তম ও মহৎ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন (২)।
ইবনে নাসিরুদ্দিন বলেন: তিনি মুখস্থ শক্তি, হাদিস শাস্ত্র, হাদিসের ত্রুটিসমূহ এবং রাবিদের (বর্ণনাকারী) সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। এছাড়া তিনি নেক আমল, দুনিয়াবিমুখতা এবং সুন্নাহর অনুসরণের জন্যও প্রসিদ্ধ ছিলেন (৩)।
যাহাবি বলেন: তিনি ছিলেন দক্ষ ইমাম, সুনিপুণ আলেম, আল্লামা এবং হুজ্জাহ (প্রমাণস্বরূপ ব্যক্তিত্ব) (৪)।
ওয়ারসিলানি বলেন: তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, গুণী, সম্মানিত এবং তাঁর সমতুল্য কেউ ছিল না। তাঁর দাসী একদিনে একাধিকবার তাঁর দরসগাহে আসত এবং তাঁর কাছে দিরহাম চাইত, আর তিনি কখনও তাকে ফিরিয়ে দিতেন না। অতঃপর তাঁর জনৈক ছাত্র বললেন: হে শাইখ! এটি তো অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে। তখন তিনি বললেন: আমি আমার মধ্যে তিনটি 'শিন' (শ অক্ষরযুক্ত শব্দ) একত্রিত হওয়াকে লজ্জাবোধ করি: শাইখ (বিদ্বান), শাহীহ (কৃপণ) এবং ইশবিলি (সেভিলের অধিবাসী) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وكما ترى فإن مترجميه قد أخلصوا الثناء عليه، وتواردوا على وصفه بالعلم والإتقان، والصلاح والعبادة، والقناعة والزهادة.
مؤلفاته:1 - الأحكام الوسطى طبع بتحقيق حمدي السلفي، وصبحي السامرائي سنة 1416 هـ.
2 - الأحكام الصغرى طبع في مجلدين من إخراج مكتبة ابن تيمية بالقاهرة سنة 1413 هـ وقد قام الشيخ أبو عبد الرحمن بن عقيل بعمل مقدمة حافلة لكتب الأحكام وأخرج قطعة يسيرة من أوله هي أول شيء من تراث عبد الحق تسفر عنه المطابع. سنة 1403 هـ.
3 - العاقبة طبع بتحقيق خضر محمد خضر سنة 1406 هـ.
4 - الأحكام الشرعية الكبرى.
5 - بيان الحديث المعتل ذكره الأنصاري وقال: هو قدر صحيح مسلم وذكر أنه نهب منه في الفتنة.
6 - تلقين الولد.
7 - جامع الكتب الستة جمع فيه بين الصحيحين والسنن الأربع.
8 - الجمع بين الصحيحين.
90 - كتاب الرقاق.
10 - كتاب الصلاة والتهجد.
11 - الواعي في اللغة.
وله غير ذلك فقد أوصلها أبو عبد الرحمن بن عقيل إلى (28) مؤلفًا،
যেমন আপনি দেখছেন যে, তাঁর জীবনীকারগণ তাঁর প্রশংসায় একনিষ্ঠ ছিলেন এবং তাঁরা তাঁকে জ্ঞান ও পারদর্শিতা, নেক আমল ও ইবাদত এবং অল্পে তুষ্টি ও দুনিয়াবিমুখতার গুণে বিশেষিত করার ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন।
তাঁর রচনাবলি:১ - আল-আহকামুল উস্তা; এটি হামদি আস-সালাফি এবং সুবহি আস-সামাররায়ীর তাহকীকে ১৪১৬ হিজরি সনে প্রকাশিত হয়েছে।
২ - আল-আহকামুস সুগরা; এটি কায়রোর মাকতাবাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ থেকে ১৪১৩ হিজরি সনে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। শায়খ আবু আব্দুর রহমান বিন আকীল 'আহকাম' গ্রন্থাবলির জন্য একটি পাণ্ডিত্যপূর্ণ ভূমিকা রচনা করেছেন এবং এর শুরুর দিক থেকে একটি ছোট অংশ প্রকাশ করেছেন, যা আব্দুল হকের ঐতিহ্যের মধ্যে ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত প্রথম নিদর্শন ছিল। এটি ১৪০৩ হিজরি সনে প্রকাশিত হয়।
৩ - আল-আকিবা; এটি খিজির মুহাম্মদ খিজিরের তাহকীকে ১৪০৬ হিজরি সনে প্রকাশিত হয়েছে।
৪ - আল-আহকামুশ শারঈয়্যাহ আল-কুবরা।
৫ - বায়ানুল হাদিসিল মু'তাল্ল; আনসারী এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি আয়তনে সহীহ মুসলিমের সমান। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ফিতনার সময় তাঁর নিকট থেকে এটি লুণ্ঠন করা হয়েছিল।
৬ - তালকীনুল ওয়ালাদ।
৭ - জামিউল কুতুবিস সিত্তাহ; এতে তিনি সহীহাইন এবং সুনানে আরবাআকে একত্রে সংকলন করেছেন।
৮ - আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন।
৯ - কিতাবুর রিকাক।
১০ - কিতাবুস সালাত ওয়াত তাহাজ্জুদ।
১১ - আল-ওয়ায়ী ফিল লুগাহ।
এছাড়া তাঁর আরও গ্রন্থ রয়েছে। আবু আব্দুর রহমান বিন আকীল সেগুলোকে (২৮)টি গ্রন্থ পর্যন্ত গণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
فانظر عَدَّها وتوثيقها وأماكن نسخها في مقدمة الشروح والتعليقات على كتب الأحكام (117 - 154)، فإنه قد جمع فأوعب في الجمع، واستقصى فبالغ في الاستقصاء، فشكر الله سعيه ونفع بعلمه.
وفاته:توفي في بجاية في أواخر ربيع الآخر سنة (582 هـ) (1)، وقيل: توفي في ربيع الآخر سنة (581 هـ) (2).
--------------------------------------------
সুতরাং সেগুলোর গণনা, প্রামাণিকতা এবং পাণ্ডুলিপির অবস্থানসমূহ 'আহকামের কিতাবসমূহের ব্যাখ্যা ও টীকা' (শুরুহ ওয়াত তালিফাত আলা কুতুবিল আহকাম) এর ভূমিকায় (১১৭ - ১৫৪) দেখুন। কেননা তিনি সেগুলোকে অত্যন্ত সবিস্তারে একত্রিত করেছেন এবং অনুসন্ধানে চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং তাঁর ইলমের মাধ্যমে উপকৃত করুন।
তাঁর মৃত্যু:তিনি ৫৮২ হিজরী সনের রবিউস সানি মাসের শেষ দিকে বিজায়াতে ইন্তেকাল করেন (১), এবং বলা হয়েছে: তিনি ৫৮১ হিজরী সনের রবিউস সানি মাসে ইন্তেকাল করেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
التعريف بالكتاب
منهج الكتاب وميزاتهلم يكن عمل الإمام أبي محمد مجرد الحذف والاختصار، أو الجمع والإضافة، ولكنه قصد إلى خُطةٍ تدل على براعة وإتقان، كما تدل على حفظ وتيقظ واستحضار، وذلك أنه راعى الجمع المستقصى، والتحرير البالغ، والترتيب الحسن، والتعليق المختصر المفيد.
1 - أما الجمع المستقصى فإن الإمام أبا محمد يسوق أتم ألفاظ الحديث وأوفاها، ثم يتبعها بزوائد الروايات المتفرقة، ولئن كان هذا ميسورًا في صحيح مسلم، فإن التقاط الروايات من أماكنها المتفرقة في صحيح البخاري أمر في غاية العسر، لولا ما أنعم الله به على الإمام عبد الحق من حفظ واستحضار عجيبين. ولذلك فإن القارئ يجد الحديث مزبورًا أمامه في صعيد واحد بكل رواياته المتفرقة في الصحيحين، مع التفصيل الواضح لما اتفق عليه الشيخان من ألفاظ الحديث وما انفرد به كل منهما.
* ومن استقصائه في الجمع: ذكره ما انفرد به مسلم استطرادًا حتى لا يفوت على قارئ الكتاب شيء مما في الصحيح.
مثال ذلك: أن الإمام مسلمًا أورد في كتاب الصلاة قول يحيى بن أبي كثير: (لا يستطاع العلم براحة الجسم)، فساقها أبو محمد في موضعها.
গ্রন্থ পরিচিতিগ্রন্থের কর্মপদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্যসমূহইমাম আবু মুহাম্মদের কাজ কেবল বর্জন ও সংক্ষিপ্তকরণ কিংবা সংকলন ও সংযোজন ছিল না। বরং তিনি এমন এক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন যা তাঁর দক্ষতা ও নিপুণতার প্রমাণ দেয়, সেই সাথে তাঁর মুখস্থশক্তি, সজাগতা ও উপস্থিত স্মৃতিরও সাক্ষ্য বহন করে। আর তা হলো, তিনি এতে পুঙ্খানুপুঙ্খ সংকলন, চূড়ান্ত সম্পাদনা, উত্তম বিন্যাস এবং সংক্ষিপ্ত অথচ উপকারী টীকা প্রদান নিশ্চিত করেছেন।
১ - পুঙ্খানুপুঙ্খ সংকলনের ক্ষেত্রে ইমাম আবু মুহাম্মদ হাদীসের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও পরিপুর্ণ শব্দগুলো উল্লেখ করেন, এরপর বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলোর অতিরিক্ত অংশসমূহ তার অনুগামী করেন। আর যদিও সহীহ মুসলিমের ক্ষেত্রে এটি সহজসাধ্য ছিল, তবে সহীহ বুখারীর বিভিন্ন স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলো আহরণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল, যদি না আল্লাহ তাআলা ইমাম আব্দুল হককে বিস্ময়কর মুখস্থশক্তি ও উপস্থিত স্মৃতি দ্বারা অনুগ্রহ করতেন। ফলে পাঠক হাদীসটিকে সহীহাইনের সকল বিচ্ছিন্ন বর্ণনাসহ এক স্থানেই লিপিবদ্ধ পায়, যার সাথে শায়খাইন হাদীসের কোন শব্দে একমত হয়েছেন এবং কোনটিতে তারা একক বর্ণনা দিয়েছেন তার সুস্পষ্ট বিবরণ থাকে।
* তাঁর সংকলনের পুঙ্খানুপুঙ্খতার একটি উদাহরণ হলো: তিনি প্রাসঙ্গিকভাবে সহীহ মুসলিমের একক বর্ণনাগুলোও উল্লেখ করেছেন যাতে এই গ্রন্থের পাঠকের নিকট সহীহ গ্রন্থের কোনো কিছুই বাদ না পড়ে।
এর উদাহরণ হলো: ইমাম মুসলিম সালাত অধ্যায়ে ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীরের এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন যে: (শরীরের আরামের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়); আবু মুহাম্মদও এটি তার যথাযথ স্থানে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
* ومن استقصائه: أنه ألحق في آخر كتابه جميع ما في صحيح البخاري من المعلقات، بحيث إن من قرأ كتابه علم أنه ما ترك شاذة رلا فاذة من روايات الصحيحين إلا اكتنزها في كتابه هذا.
* ومن استقصائه في الجمع: أنه أنعم النظر في تراجم البخاري رحمه الله والتي أودعها فقهه، فاختار منها ما كانت للبخاري فقاهة في صياغته، ثم اتبع الحديث بها بحيث يقول بعده: وبوب عليه البخاري فقال: باب كذا، وباب كذا، ونحو ذلك؛ ليبين شفوف نظر البخاري في استخراج هذه المعاني من الحديث، وتضمينها في تراجم أبوابه، ويتحف بها قارئ كتابه فلا تفوته فوائدها.
مثال ذلك: أنه ذكر حديث عائشة رضي الله عنها قالت: أعتم رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة من الليالي بصلاة العشاء -وهي التي تدعى العتمة-، فلم يخرج حتى قال عمر بن الخطاب: نام النساء والصبيان
…ثم قال: خرجه في باب خروج النساء إلى المساجد بالليل والغلس، وفي باب النوم قبل العشاء لمن غلب، وخرجه في باب وضوء الصبيان وحضورهم الجماعة.
2 - أما تحريره البالغ فيظهر ذلك في:
دقته في بيان الفررق بين الروايات داخل الصحيح، وإن بدا أن هذا الفرق طفيف لا يستدعي الإشارة إليه. مثال ذلك:
* ذكر حديث عائشة قالت: أعتم رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة حتى ذهب عامة الليل، وحتى نام أهل المسجد، ثم خرج فصلى فقال: (إنه
* এবং তাঁর পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের একটি দিক হলো: তিনি তাঁর গ্রন্থের শেষে সহীহ বুখারীর সমস্ত 'মুআল্লাকাত' (ঝুলন্ত বর্ণনা) যুক্ত করেছেন, যাতে তাঁর গ্রন্থ পাঠকারী বুঝতে পারেন যে, তিনি সহীহাইন-এর ছোট-বড় বা বিরল কোনো বর্ণনাই বাদ দেননি, বরং এই গ্রন্থে তা সঞ্চিত করেছেন।
* এবং সংকলনের ক্ষেত্রে তাঁর পুঙ্খানুপুঙ্খতার আরেকটি দিক হলো: তিনি ইমাম বুখারীর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সেই শিরোনামসমূহের প্রতি গভীর দৃষ্টি দিয়েছেন যেগুলোর মধ্যে তিনি তাঁর ফিকহ নিহিত রেখেছেন। তিনি সেখান থেকে ইমাম বুখারীর শব্দচয়নের প্রজ্ঞাগুলো বেছে নিয়েছেন, এরপর সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট হাদিস উল্লেখ করেছেন; এভাবে যে তিনি হাদিসের পর বলেন: "ইমাম বুখারী এর ওপর অনুচ্ছেদ বিন্যাস করে বলেছেন: অমুক অনুচ্ছেদ, অমুক অনুচ্ছেদ" ইত্যাদি; যাতে তিনি হাদিস থেকে এসব অর্থ আহরণ এবং তা অনুচ্ছেদের শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ইমাম বুখারীর তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি স্পষ্ট করতে পারেন, এবং তাঁর গ্রন্থের পাঠককে এমন এক উপহার প্রদান করেন যাতে তারা এই ফায়দাগুলো থেকে বঞ্চিত না হয়।
এর উদাহরণ হলো: তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক রাতে এশার সালাত আদায়ে অনেক বিলম্ব করেছিলেন—যাকে ‘আতামা’ বলা হয়—তিনি ততক্ষণ বের হননি যতক্ষণ না উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: নারী ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে
…এরপর তিনি বলেন: ইমাম বুখারী এটি ‘রাতে ও অন্ধকারের সময় নারীদের মসজিদে গমনের অনুচ্ছেদ’-এ বর্ণনা করেছেন, এবং ‘যাকে ঘুমের চাপ গ্রাস করেছে তার এশার আগে ঘুমানোর অনুচ্ছেদ’-এ বর্ণনা করেছেন, আর এটি ‘শিশুদের ওজু এবং জামাতে তাদের উপস্থিতির অনুচ্ছেদ’-এ বর্ণনা করেছেন।
2 - আর তাঁর অত্যন্ত সূক্ষ্ম সম্পাদনা পরিলক্ষিত হয় এতে:
সহীহ গ্রন্থের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনায় তাঁর নির্ভুলতা, যদিও আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে এটি অত্যন্ত সামান্য পার্থক্য যা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। উদাহরণস্বরূপ:
* তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক রাতে অনেক বিলম্ব করেছিলেন এমনকি রাতের অধিকাংশ সময় পার হয়ে গিয়েছিল এবং মসজিদের লোকেরা ঘুমিয়ে পড়েছিল। এরপর তিনি বের হলেন এবং সালাত আদায় করলেন, অতঃপর বললেন: (নিশ্চয়ই এটি
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
لوقتها لولا أن أشق على أمتي). وفي رواية (لولا أن يشق).
فانظر إلى دقة الفرق بين هذين اللفظين ومع ذلك لم يفوت الإمام عبد الحق الإشارة إليه.
* ومن تحريره: دقته أيضًا في بيان الفروق بين روايات الشيخين.
مثال ذلك:
- أنه ذكر ما أخرجه مسلم عن أنس؛ أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له: (اللهم أكثر ماله وولده وبارك له فيه)، ثم قال: وقال البخاري: (وبارك له فيما أعطيته). خرجه في الأدعية.
وهذا من الإمام عبد الحق غاية الدقة والتحرير.
* ومن تحريره: أن الحديث إذا كان عند أحد صاحبي الصحيح عن صحابي، وعند الآخر عن صحابي غيره بين ذلك في موضعه. مثال ذلك:
- ذكر حديث مسلم عن أبي سعيد الخدري أنه دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجده يصلي على حصير يسجد عليه. ثم قال: خرج البخاري الصلاة على الحصير من حديث أنس وميمونة، ولم يخرج عن أبي سعيد فيه شيئًا.
وهذا من الإمام عبد الحق كاشف للبس الذي يقع فيه البعض من ذكر الحديث متفقًا عليه، في حين أنه عند كلٍّ من صاحبي الصحيح عن صحابي غير الصحابي الذي عند الآخر.
ومن تحريره عنايته ببيان الاختلاف بين رواة الصحيح، وهي فروق دقيقة، لكنها دالة على أن الإمام عبد الحق عند تأليفه لكتابه هذا كان
(তার ওয়াক্তে, যদি না আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে করতাম)। অন্য এক বর্ণনায় (যদি না তা কষ্টকর হতো)।
সুতরাং এই দুটি শব্দের মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্যের দিকে লক্ষ্য করুন, তা সত্ত্বেও ইমাম আব্দুল হক এর প্রতি ইঙ্গিত করতে ভুলেননি।
* তাঁর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মধ্য থেকে: শায়খায়নের (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনাসমূহের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনার ক্ষেত্রেও তাঁর সূক্ষ্মতা।
তার উদাহরণ:
- তিনি উল্লেখ করেছেন যা ইমাম মুসলিম আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বলেছিলেন: (হে আল্লাহ, আপনি তাঁর ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করে দিন এবং তাতে বরকত দান করুন), অতঃপর তিনি (ইমাম আব্দুল হক) বললেন: আর ইমাম বুখারি বলেছেন: (এবং আপনি তাঁকে যা দিয়েছেন তাতে বরকত দিন)। তিনি এটি দুআ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।
আর এটি ইমাম আব্দুল হকের পক্ষ থেকে অত্যন্ত সূক্ষ্মতা ও নিপুণ বিশ্লেষণের পরিচায়ক।
* তাঁর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মধ্য থেকে: কোনো হাদিস যদি সহিহ গ্রন্থের দুই ইমামের একজনের কাছে একজন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়, আর অন্যজনের কাছে অন্য কোনো সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়, তবে তিনি যথাস্থানে তা স্পষ্ট করে দেন। উদাহরণস্বরূপ:
- তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণিত ইমাম মুসলিমের হাদিসটি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে প্রবেশ করে তাঁকে একটি চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতে দেখলেন যার উপর তিনি সিজদা করছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: ইমাম বুখারি চাটাইয়ের উপর সালাত আদায়ের হাদিসটি আনাস ও মায়মুনা থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি আবু সাঈদ থেকে এই বিষয়ে কোনো কিছু বর্ণনা করেননি।
এটি ইমাম আব্দুল হকের পক্ষ থেকে সেই অস্পষ্টতা দূরকারী যাতে কেউ কেউ কোনো হাদিসকে মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) বলার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিতে পতিত হন, অথচ এটি সহিহ গ্রন্থের দুই ইমামের প্রত্যেকের কাছে ভিন্ন ভিন্ন সাহাবী থেকে বর্ণিত।
তাঁর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের অন্তর্ভুক্ত হলো সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের মধ্যকার মতপার্থক্য বর্ণনায় তাঁর বিশেষ যত্ন, যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম পার্থক্য, তবে তা প্রমাণ করে যে ইমাম আব্দুল হক যখন এই গ্রন্থটি রচনা করছিলেন তখন তিনি ছিলেন
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
مستحضرًا رواياته لكتابي البخاري ومسلم، معتنيًا بصحة الرواية وبيان الفروق بين رواة كتابي الشيخين. مثال ذلك:
- ذكر حديث مسلم عن أبي هريرة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (نحن أحق بالشك من إبراهيم)، ثم قال: خرجه البخاري في باب قول الله تعالى: {وَنَبِّئْهُمْ عَنْ ضَيفِ إِبْرَاهِيمَ} من كتاب الأنبياء، وفي تفسير سورة البقرة، وفي كليهما قال: (نحن أحق من إبراهيم)، ولم يقل: بالشك، وكذلك في تفسير سورة يوسف عليه السلام. هكذا فيما رأيت من النسخ المروية عن أبي ذر، إلا في رواية الأصيلي عن أبي زيد المروزي، فإنه وقع له في كتاب التفسير كما وقع لمسلم (نحن أحق بالشك من إبراهيم).
* ومن تحريره تتبعه لنسخ الصحيح. مثاله:
- ما ذكره عند حديث عائشة في الكشوف فإنه أورده من رواية مسلم، ثم قال: وقال البخاري: فخسفت الشمس فركع ضحى. وقال: وانصرف فقال ما شاء الله أن يقول، ثم أمرهم أن يتعوذوا من عذاب القبر، ولم يذكر قول مسلم بن الحجاج "إني قد رأيتكم
… " إلى آخره. ووقع عنده هذا الحديث الذي فيه ذكر اليهودية ناقصًا، وذلك أنه ذكر أن النبي صلى الله عليه وسلم قام، ثم ركع، ثم قام، ثم ركع، ثم سجد، ثم قام، ثم ركع، ثم قام، ثم سجد، وكذلك رأيته في غير نسخة. ا. هـ.
فانظر إلى قوله: وكذلك رأيته في غير نسخة، فإنه لم يكتف بالوقوف على نسخة منه حتى تتبع ذلك في غير نسخة.
وعلى هذا فنسخة من كتاب الجمع بين الصحيحين للحافظ عبد الحق
বুখারী ও মুসলিম গ্রন্থদ্বয়ের বর্ণনাসমূহ সামনে রেখে, বর্ণনার বিশুদ্ধতার প্রতি যত্নশীল হয়ে এবং শাইখায়ন (ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম) এর কিতাবদ্বয়ের বর্ণনাকারীদের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ বর্ণনা করে। এর উদাহরণ নিম্নরূপ:
- আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত মুসলিমের হাদীসটি উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমরা ইবরাহীমের চেয়ে সন্দেহের বেশি হকদার)। এরপর তিনি বলেন: বুখারী এটি আম্বিয়া অধ্যায়ের মহান আল্লাহর বাণী: {তাদেরকে ইবরাহীমের মেহমানদের সম্পর্কে সংবাদ দাও} অনুচ্ছেদে এবং সূরা বাকারার তাফসীরে সংকলন করেছেন। এই উভয় স্থানেই তিনি বলেছেন: (আমরা ইবরাহীমের চেয়ে বেশি হকদার), কিন্তু 'সন্দেহের' কথাটি বলেননি। অনুরূপভাবে সূরা ইউসুফ আলাইহিস সালামের তাফসীরেও। আবু যার থেকে বর্ণিত পাণ্ডুলিপিগুলোতে আমি এভাবেই দেখেছি, কেবল আবু জায়েদ আল-মারওয়াযী থেকে আল-আসীলীর বর্ণনায় তা ভিন্ন; কেননা তার নিকট তাফসীর গ্রন্থে মুসলিমের বর্ণনার মতোই এসেছে (আমরা ইবরাহীমের চেয়ে সন্দেহের বেশি হকদার)।
* তার গবেষণার অন্তর্ভুক্ত হলো সহীহ্-এর পাণ্ডুলিপিগুলোর যথাযথ অনুসন্ধান। এর উদাহরণ:
- সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত আয়েশা (রা.)-এর হাদীসে তিনি যা উল্লেখ করেছেন, তা তিনি মুসলিমের বর্ণনা থেকে উদ্ধৃত করেছেন। এরপর তিনি বলেন: আর বুখারী বলেছেন: অতঃপর সূর্যগ্রহণ হলো এবং তিনি দিনের আলোয় রুকু করলেন। তিনি আরও বলেন: তিনি (সালাত শেষে) ফিরে আসলেন এবং আল্লাহ যা চাইলেন তা বললেন। এরপর তিনি তাদেরকে কবরের আযাব থেকে পানাহ চাইতে নির্দেশ দিলেন। তিনি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের এই কথাটি উল্লেখ করেননি "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের দেখেছি
… " শেষ পর্যন্ত। তার নিকট ইয়াহুদী নারীর উল্লেখ সম্বলিত এই হাদীসটি অসম্পূর্ণভাবে এসেছে। আর তা হলো, তিনি উল্লেখ করেছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন, এরপর রুকু করলেন, এরপর দাঁড়ালেন, এরপর রুকু করলেন, এরপর সাজদাহ করলেন, এরপর দাঁড়ালেন, এরপর রুকু করলেন, এরপর দাঁড়ালেন, এরপর সাজদাহ করলেন। আমি একাধিক পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই দেখেছি। (সমাপ্ত)
সুতরাং তার এই উক্তির প্রতি লক্ষ্য করুন: "আমি একাধিক পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই দেখেছি।" কারণ তিনি কেবল একটি পাণ্ডুলিপি দেখেই ক্ষান্ত হননি, বরং একাধিক পাণ্ডুলিপিতে তা অনুসন্ধান করেছেন।
আর এভাবেই হাফেয আব্দুল হকের 'আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন' কিতাবের পাণ্ডুলিপিটি...
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
هي في الواقع نسخة محررة موثقة لمتون الصحيحين، تولى حافظ متقن محقق مدقق تفلية كلماتها، وتوثق من جملها، وروى أصولها عن مؤلفيها بحدثنا وأخبرنا، ثم انتظمها في كتابه هذا كما تنتظم درر الجواهر في أسلاك الذهب.
3 - أما ترتيبه فقد سدد فيه هذا الإمام غاية التسديد؛ حيث قَفَى فيه إمام هذا الشأن أبا الحسين مسلم بن الحجاج الذي عُدَّ ترتيبه لصحيحه من أعظم ميزاته كما قال الإمام النووي عن الإمام مسلم: ومن أكبر الدلائل على جلالته وإمامته وورعه وحذقه وقعوده في علوم الحديث واضطلاعه منها وتفننه فيها: كتاب الصحيح الذي لم يوجد في كتاب قبله ولا بعده من حسن الترتيب وتلخيص طرق الحديث .... ، فلا نظير لكتابه في هذه الدقائق وصنعة الإسناد، وهذا عندنا من المحققات (1).
وقال الحافظ ابن حجر: حصل لمسلم في كتابه حظ عظيم مفرط لم يحصل لأحد مثله، بحيث إن بعض الناس كان يفضله على صحيح محمد بن إسماعيل؛ ذلك لما اختص به من جمع الطرق وجودة السياق .... (2).
ولذا فقد بقيت ميزة صحيح مسلم هذه مضمنة في كتاب عبد الحق لأنه سار على سِيَاقة مسلم وترتيبه.
ثم إنه عمد إلى روايات البخاري فألحقها بمواضعها المناسبة لها من أبواب مسلم، وقد أحسن في إلحاق أفراد البخاري في مواضعها من كتابه
--------------------------------------------
এটি প্রকৃতপক্ষে সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর মূল পাঠসমূহের একটি সম্পাদিত ও প্রামাণিক সংস্করণ। একজন নিপুণ, গবেষক ও সূক্ষ্মদর্শী হাফেজ এর প্রতিটি শব্দের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং এর বাক্যগুলোর নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি এর মূল উৎসগুলো তাদের লেখকদের নিকট থেকে 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' এবং 'আমাদের অবহিত করেছেন' সূত্রের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি সেগুলোকে তাঁর এই কিতাবে এমনভাবে বিন্যস্ত করেছেন যেভাবে সোনার সুতায় মণি-মুক্তার দানাগুলো গেঁথে রাখা হয়।
৩ - এর বিন্যাসের ক্ষেত্রে এই ইমাম অত্যন্ত সঠিক ও নির্ভুল পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন; যেখানে তিনি এই শাস্ত্রের ইমাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজকে অনুসরণ করেছেন, যাঁর সহীহ গ্রন্থের বিন্যাসকে তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করা হয়। যেমনটি ইমাম নববী ইমাম মুসলিম সম্পর্কে বলেছেন: "তাঁর মাহাত্ম্য, ইমামত, তাকওয়া, দক্ষতা, হাদীস শাস্ত্রে তাঁর সুগভীর জ্ঞান, এতে তাঁর ব্যুৎপত্তি ও পারদর্শিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রমাণ হলো তাঁর 'সহীহ' কিতাবটি, যার বিন্যাসের সৌন্দর্য এবং হাদীসের সূত্রগুলোর সংক্ষিপ্তকরণের ক্ষেত্রে এর পূর্বে বা পরে আর কোনো কিতাব পাওয়া যায়নি...। সুতরাং এই সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ এবং ইসনাদ বা সনদ তৈরির শৈল্পিকতায় তাঁর কিতাবের কোনো নজির নেই এবং এটি আমাদের নিকট সুনিশ্চিত বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত (১)।"
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "মুসলিম তাঁর কিতাবের মাধ্যমে এমন এক বিশাল ও অতুলনীয় মর্যাদা লাভ করেছেন যা তাঁর মতো আর কেউ পায়নি, এমনকি কিছু মানুষ একে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের (বুখারী) সহীহ-এর ওপর প্রধান্য দিতেন; আর তা হাদীসের সূত্রসমূহকে একত্রিত করা এবং চমৎকার বর্ণনাভঙ্গির বৈশিষ্ট্যের কারণে... (২)।"
আর এই কারণেই সহীহ মুসলিমের এই বৈশিষ্ট্যটি আবদুল হকের কিতাবেও বিদ্যমান রয়েছে, কারণ তিনি মুসলিমের বর্ণনাভঙ্গি ও বিন্যাস পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।
অতঃপর তিনি বুখারীর বর্ণনাগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং মুসলিমের অধ্যায়সমূহের মধ্যে সেগুলোর উপযুক্ত স্থানে সেগুলোকে যুক্ত করেন। বুখারীর একক বর্ণনাগুলোকে তাঁর কিতাবের সঠিক স্থানে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিআবদিল হাক্ক
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
غاية الإحسان، إذ وضعها مع الأحاديث المتسقة مع معناها، وألحقها بأولى الأبواب بها، فما ظنك بعد بكتاب يتواطأ على ترتيبه حافظا المشرق والمغرب مسلم بن الحجاج النيسابوري، وعبد الحق بن عبد الرحمن الإشبيلي رحمهما الله تعالى؟ !
4 - وأما التعليق على الأحاديث فهي تعليقات الأئمة الحفاظ، مختصرة محررة، قليلة مباركة، كاشفة على وجازتها عن علم غزير، وحفظ متين، ويمكن تصنيفها على النحو الآتي: -
1 - الإشارة إلى روايات للحديث خارج الصحيحين تتضمن زيادة فائدة لم يذكرها صاحبا الصحيح. مثاله:
* ذكر حديث ابن مسعود قال: أتى النبي صلى الله عليه وسلم الغائط، فأمرني أن آتيه بثلاثة أحجار، فوجدت حجرين، والتمست الثالث فلم أجده، فأخذت روثة فأتيته بها، فأخذ الحجرين وألقى الروثة وقال: (هذا ركس).
ثم قال: ذكره الدارقطني في "سننه" وقال فيه: "فألقى الروثة وقال: (إنها رجس، إيتني بحجر). ا. هـ.
فذكر رواية الدارقطني لتضمنها الأمر بالإتيان بحجر ثالث حتى لا يفهم من الرواية الأولى الاكتفاء بحجرين.
* ذكر حديث مصعب بن شيبة، عن طلق بن حبيب، عن عبد الله بن الزبير، عن عائشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (عشر من الفطرة: قص الشارب، وإعفاء اللحية، والسواك، واستنشاق الماء، وقص الأظفار،
এটি পরম ইহসান (তথা কল্যাণ), কারণ তিনি একে এর অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হাদীসগুলোর সাথে রেখেছেন এবং সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে উপযুক্ত অধ্যায়গুলোর সাথে যুক্ত করেছেন। তাহলে এমন একটি কিতাব সম্পর্কে আপনার ধারণা কী হতে পারে, যার বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দুই হাফিয—মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আন-নিশাপুরী এবং আব্দুল হক ইবনে আব্দুর রহমান আল-ইশবিলী (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন)—একমত হয়েছেন?!
৪ - আর হাদীসগুলোর ওপর টীকা-টিপ্পনী সম্পর্কে বলতে গেলে, এগুলো হলো হাফিয ইমামগণের টীকা; যা সংক্ষিপ্ত, পরিমার্জিত, স্বল্প কিন্তু বরকতময়, যা সংক্ষেপ হওয়া সত্ত্বেও গভীর জ্ঞান ও সুদৃঢ় হিফযের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। একে নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করা যেতে পারে: -
১ - সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর বাইরের এমন সব হাদীসের বর্ণনার দিকে ইঙ্গিত করা, যেগুলোতে অতিরিক্ত কিছু উপকারিতা রয়েছে যা সহীহাইনের লেখকদ্বয় উল্লেখ করেননি। উদাহরণস্বরূপ:
* ইবনে মাসউদের হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৌচাগারে আসলেন, এরপর আমাকে তিনটি পাথর নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন। আমি দুটি পাথর পেলাম এবং তৃতীয়টি খুঁজলাম কিন্তু তা পেলাম না। তখন আমি একটি শুকনো গোবর নিলাম এবং সেটি নিয়ে তাঁর কাছে আসলাম। তিনি পাথর দুটি নিলেন এবং গোবরটি ফেলে দিলেন ও বললেন: (এটি অপবিত্র)।
এরপর তিনি বললেন: এটি দারাকুতনী তাঁর "সুনান"-এ উল্লেখ করেছেন এবং তাতে বলেছেন: "তিনি গোবরটি ফেলে দিলেন এবং বললেন: (নিশ্চয়ই এটি নাপাক, আমার কাছে একটি পাথর নিয়ে এসো)।" সমাপ্ত।
সুতরাং তিনি দারাকুতনীর বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন কারণ এতে তৃতীয় একটি পাথর নিয়ে আসার নির্দেশ রয়েছে, যাতে প্রথম বর্ণনা থেকে কেবল দুটি পাথরেই যথেষ্ট—এমন কিছু বুঝে না আসে।
* মুসআব ইবনে শাইবা-এর হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি তালক ইবনে হাবীব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (দশটি বিষয় ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত: গোঁফ ছোট করা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করা, নখ কাটা,