(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: -)
عدة البروق في جمع ما في المذهب من الجموع والفروق   (الونشريسي)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: عدة البروق في جمع ما في المذهب من الجموع والفروق

المؤلف: أبو العباس أحمد بن يحيى الونشريسي

دراسة وتحقيق: حمزة أبو فارس

أصل جزء من الكتاب: (قسم العبادات، أي من أول الكتاب إلى كتاب الأيمان) رسالة ماجستير من قسم الدراسات الإِسلامية بجامعة الفاتح بطرابلس - ثم أكمل المحقق الكتاب بعد ذلك

الناشر: دار الغرب الإسلامي، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1410 هـ - 1990 م

عدد الصفحات: 730

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 29 صفر 1440

ইদ্দাতুল বুরুক ফি জাময়ি মা ফিল মাজহাব মিনাল জুমুয়ি ওয়াল ফুরুক   (আল-ওয়ানশারিসি)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি উসুল (মূলনীতিসমূহ)


গ্রন্থ: ইদ্দাতুল বুরুক ফি জাময়ি মা ফিল মাজহাব মিনাল জুমুয়ি ওয়াল ফুরুক (মাজহাবের সাধারণ ও বৈসাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়াবলি একত্রিতকরণে বিদ্যুতের প্রস্তুতি)

লেখক: আবু আব্বাস আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আল-ওয়ানশারিসি

গবেষণা ও সম্পাদনা: হামজা আবু ফারিস

গ্রন্থের একটি অংশের মূল উৎস: (ইবাদত বিভাগ, অর্থাৎ গ্রন্থের শুরু থেকে শপথের অধ্যায় পর্যন্ত) ত্রিপোলির আল-ফাতেহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি শিক্ষা বিভাগ থেকে অর্জিত একটি মাস্টার্স থিসিস - পরবর্তীতে সম্পাদক সম্পূর্ণ গ্রন্থটি সম্পন্ন করেন

প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামি, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৩০

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নুসসাখ (অনুলিপিকারক সংঘ), বাস্তবায়নে (মারকাজুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আল-দাহয়ান চ্যারিটেবল এন্ডোমেন্টস)

[গ্রন্থের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৯ সফর ১৪৪০ হিজরি

(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: -)
عدة البروق في جمع ما في المذهب من الجموع والفروق

 

لأبي العباس أحمد بن يحيى الونشريسي

 

دراسة وتحقيق

حمزة أبو فارس

 

دار الغرب الإسلامي
মাযহাবের সাধারণ ও বৈসাদৃশ্যপূর্ণ মাসআলাসমূহের সংকলনে বিদ্যুতের সরঞ্জাম

 

আবুল আব্বাস আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-ওয়ানশারীসী

 

গবেষণা ও সম্পাদনা

হামজা আবু ফারিস

 

দারুল গারব আল-ইসলামী
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ২)
جَميع الحقوق مَحفوظَة

الطَّبْعَة الأولى

1410 هـ - 1990 م

 

دَار الغَرْب الإسْلامي

ص. ب: 5787/ 113

بَيروت - لبْنان
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

 

দারুল গারব আল-ইসলামি

পি. ও. বক্স: ৫৭৮৭/ ১১৩

বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ৩)
عدّة البروُق في جمع مَا في المذهَب منَ الجمُوع والفروُق
মাযহাবের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যসমূহের সংকলনে আলোকদ্যুতির সরঞ্জাম।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تَمْهيد

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأصلي وأسلم على أفضل الخلق سيد ولد آدم، سيدنا محمد وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهديه، وسار على نهجه إلى يوم الدين.

وبعد، فإِن الخزائن العامة والخاصة في كافة أنحاء العالم تزخر بكمية ضخمة من تراثنا الخالد، الذي ألفه سلف الأمة فكونوا لها به حضارة أصبحت مضرب الأمثال، في الوقت الذي كان فيه غيرهم يغط في نومه.

ثم انعكس الأمر، فاستيقظ النائمون وسرقوا ثمرة هذا التراث، حين أهمله قومه، فأصبحوا مكان النائمين. وفي هذا القرن بدأت بشائر الصحوة تلوح، وبدأت الأنظار تتجه نحو التراث لتسترشد به، فانقسم مثقفو المسلمين تجاهه ثلاثة أقسام:

بعضهم كفر به ورأى أن مجرد الحديث عنه يعتبر تضييعًا للوقت، أما تحقيقه ونشره فهو عين الرجعية والتخلف. وفريق يذهب إلى إحياء هذا التراث غثه وسمينه، ولا هدف له سوى ذلك. وفريق ثالث، وهو أعدلهم في رأيي، يرى أنه يلزم تحقيق ما يفيدنا في ديننا ودنيانا بعد تمحيصه، على أن نجعله أساسًا نبني عليه حضارتنا الإِسلامية الجديدة.

وعلى كل حال بدأ التحرك حثيثًا نحو تحقيق هذا التراث الذي فقد منه، في شرق الأرض وغربها، الكثير، ومع ذلك فقد بقي منه ما فيه خير وبركة.

ومع أني لا أنكر أن بعض البلاد الإِسلامية قد بذلت جهدها -وما زالت تبذل-
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি সালাত ও সালাম পেশ করছি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, আদম সন্তানের নেতা, আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর প্রদর্শিত পথে চলেছে ও তাঁর আদর্শ অনুসরণ করেছে তাদের ওপর।

অতঃপর, সারা বিশ্বের সরকারি ও বেসরকারি সংগ্রহশালাগুলো আমাদের সেই চিরস্থায়ী ঐতিহ্যের বিশাল ভাণ্ডারে সমৃদ্ধ, যা এই উম্মাহর পূর্বসূরিগণ রচনা করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা এমন এক সভ্যতা গড়ে তুলেছিলেন যা প্রবাদে পরিণত হয়েছে, এমন এক সময়ে যখন অন্যরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল।

অতঃপর পরিস্থিতির বিপরীত পরিবর্তন ঘটল; যারা ঘুমিয়ে ছিল তারা জেগে উঠল এবং এই ঐতিহ্যের ফলসমূহ ছিনিয়ে নিল যখন এর প্রকৃত অধিকারীরা একে অবহেলা করেছিল। ফলে তারা ঘুমন্তদের স্থলাভিষিক্ত হলো। বর্তমান শতাব্দীতে জাগরণের শুভলক্ষণ দেখা দিতে শুরু করেছে এবং এই ঐতিহ্যের মাধ্যমে সঠিক দিকনির্দেশনা লাভের উদ্দেশ্যে মানুষের দৃষ্টি এর দিকে নিবদ্ধ হচ্ছে। একে কেন্দ্র করে মুসলিম শিক্ষিত সমাজ তিন ভাগে বিভক্ত হয়েছে:

তাদের একদল একে অস্বীকার করেছে এবং তারা মনে করে যে একে নিয়ে কেবল আলোচনা করাই সময়ের অপচয়; আর এর পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও প্রকাশ করা তো চরম প্রতিক্রিয়াশীলতা ও পশ্চাৎপদতা। অন্য এক দল এই ঐতিহ্যের ভালো-মন্দ সব কিছুকেই পুনর্জীবিত করতে চায় এবং এ ছাড়া তাদের অন্য কোনো লক্ষ্য নেই। তৃতীয় এক দল—যারা আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে ন্যায়নিষ্ঠ—তারা মনে করে যে, আমাদের দীন ও দুনিয়ার জন্য যা কল্যাণকর তা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করে সম্পাদনা করা আবশ্যক, যাতে আমরা একে আমাদের নতুন ইসলামী সভ্যতা নির্মাণের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে পারি।

যাহোক, পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলো থেকে এই ঐতিহ্যের অনেক কিছু হারিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও এটি সম্পাদনার লক্ষে দ্রুত গতিতে কাজ শুরু হয়েছে। তবুও এর যতটুকু অবশিষ্ট আছে তাতে প্রভূত কল্যাণ ও বরকত নিহিত রয়েছে।

যদিও আমি অস্বীকার করি না যে, কিছু মুসলিম দেশ এ ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টা ব্যয় করেছে—এবং এখনও করে যাচ্ছে—
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ৬)
في سبيل إحياء التراث الإِسلامي النافع، فإِن بعضها إما لا يعنيه الأمر، وإما متجه نحو تحقيق جزء من التراث لسنا بحاجة إلى تحقيقه؛ إذ ليست له أهمية أولية، إن كانت له أهمية أصلًا.

ويأخذك العجب إذا عرفت أن بعض فطاحل العلماء يضيع وقته الثمين ليخرج لنا مخطوطة في الموسيقا ويترك المخطوطات في التفسير والحديث والفقه تئن تحت الغبار وتصيح من الأرضة.

حسبت أن القلم كاد يجرني إلى الخروج عما أردت الحديث عنه في هذا التمهيد، لذا أعود فأقول: إن الشريعة الإِسلامية تتعرض لحملة من المشككين يصورون فيها للشباب المسلم أن الشريعة الإِسلامية لا تصلح لهذا الزمان، لأنها جاءت لعصر مضى وانقضى، مضت عليه السنون، تفتح أثناءها العقل الشري، وتقدم خلالها العلم، فلم يعد لهذه الشريعة لزوم. وفعلًا ورث الحكم في كثير من البلاد الإِسلامية أناس تشربت عقولهم ما قاله الأعداء، فأعرضوا عن ذكر الرحمن فقيض الله لهم شياطين فهم لهم قرناء، فزينوا لهم أعمالهم، فاستبدلوا بشرع الخالق شرع المخلوقين، وفضلوا الناقص على الكامل ويحسبون أنهم مهتدون.

ورغم أن الأيام بدأت تكشف زيف ما يردده أعداء الإسلام وتلاميذهم فإِنه من الواجب إخراج تلك الكتب التي تبين أن الشرع الإِسلامي أَحكامه متطابقة مع العقل السليم، وأن لها عللًا، وأنها مستقيمة مع الأقيسة الصحيحة، كيف لا، وقد أنزلها الذي يعلم السر وأخفى، وهو الذي خلق الإِنسان ويعلم ما توسوس به نفسه، ألا له الخلق والأمر.

ولقد اخترت مخطوطة تعنى بالفروق بين المسائل الفقهية التي ظاهرها الاتفاق، وجاءت أحكامها مختلفة، فيظن من ليس له علم أن الشريعة الإِسلامية متناقضة وأنها مبنية على غير أساس.

وقد تصدى للتأليف في هذا الموضوع رجال سخرهم الله للدفاع عن شريعته الغراء، وهذه المخطوطة التي أقدم لها اليوم هي إحداها. وهي من تأليف الشيخ أحمد بن يحيى الونشريسي المتوفى سنة 914 هـ صاحب الموسوعة المعروفة بالمعيار المعرب.
উপকারী ইসলামি ঐতিহ্য পুনর্জীবনের পথে, তাদের মধ্যে কিছু পক্ষ হয় এই বিষয়ে ভ্রূক্ষেপ করে না, অথবা ঐতিহ্যের এমন কিছু অংশ সম্পাদনা করার দিকে ঝুঁকেছে যা সম্পাদনা করার আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই; কেননা এর কোনো মৌলিক গুরুত্ব নেই, যদি আদৌ এর কোনো গুরুত্ব থেকে থাকে।

আপনি অবাক হবেন যদি জানতে পারেন যে, কিছু প্রথিতযশা আলেম তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন সংগীতের ওপর কোনো পাণ্ডুলিপি প্রকাশের জন্য, অথচ তাফসির, হাদিস ও ফিকহের পাণ্ডুলিপিগুলোকে ধুলোর নিচে আর্তনাদ করতে এবং উইপোকার কামড়ে চিৎকার করতে ছেড়ে দিচ্ছেন।

আমি ভাবলাম যে কলম আমাকে এই ভূমিকায় যা বলতে চেয়েছিলাম তা থেকে হয়তো দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তাই আমি ফিরে এসে বলছি: ইসলামি শরিয়ত সন্দেহবাদীদের এমন এক অভিযানের সম্মুখীন হচ্ছে যেখানে তারা মুসলিম যুবকদের সামনে চিত্রিত করছে যে, ইসলামি শরিয়ত এই বর্তমান সময়ের জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ এটি এমন এক অতীত যুগের জন্য এসেছিল যা অতিবাহিত হয়ে গেছে, যার ওপর দিয়ে বহু বছর বয়ে গেছে, যার মাঝে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটেছে এবং বিজ্ঞানের উন্নতি হয়েছে, ফলে এই শরিয়তের আর কোনো প্রয়োজন অবশিষ্ট নেই। আর বাস্তবেও অনেক ইসলামি দেশে শাসনের উত্তরাধিকারী হয়েছে এমন সব মানুষ যাদের মস্তিষ্ক শত্রুদের কথায় সিক্ত হয়ে আছে, ফলে তারা দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়েছে আর আল্লাহ তাদের জন্য শয়তানদের নিয়োজিত করেছেন যারা তাদের সহচর হয়েছে। তারা তাদের কার্যাবলিকে তাদের কাছে সুশোভিত করেছে, ফলে তারা স্রষ্টার শরিয়তের বদলে সৃষ্টির প্রবর্তিত আইন গ্রহণ করেছে এবং পূর্ণাঙ্গের চেয়ে অপূর্ণাঙ্গকে প্রাধান্য দিয়েছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা সঠিক পথে আছে।

যদিও দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে ইসলামের শত্রু ও তাদের শিষ্যদের প্রোপাগান্ডার অসারতা প্রকাশ পেতে শুরু করেছে, তবুও এমন সব কিতাব প্রকাশ করা অপরিহার্য যা স্পষ্ট করে যে, ইসলামি শরিয়তের বিধানসমূহ সুস্থ বিবেকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, এগুলোর পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে এবং এগুলো সঠিক কিয়াসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেনই বা হবে না, অথচ এটি তিনি নাজিল করেছেন যিনি গোপন ও অতি গোপন বিষয় সম্পর্কে অবগত, এবং তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং জানেন তার কুপ্রবৃত্তি তাকে কী কুমন্ত্রণা দেয়; জেনে রেখো, সৃষ্টি ও আদেশ কেবল তাঁরই।

আমি এমন একটি পাণ্ডুলিপি নির্বাচন করেছি যা ফিকহ শাস্ত্রের সেই সব মাসআলার পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করে যেগুলোর বাহ্যিক রূপ একই রকম মনে হলেও সেগুলোর বিধান ভিন্ন ভিন্ন। ফলে জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা মনে করে যে ইসলামি শরিয়ত স্ববিরোধী এবং এটি কোনো ভিত্তি ছাড়াই গড়ে উঠেছে।

এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনার কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন এমন সব ব্যক্তি যাদের আল্লাহ তাঁর উজ্জ্বল শরিয়ত রক্ষার জন্য নিয়োজিত করেছেন, আর আজ আমি যে পাণ্ডুলিপিটির ভূমিকা লিখছি তা সেগুলোরই একটি। এটি শেখ আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-ওয়ানশারিসি (মৃত্যু ৯১৪ হিজরি) কর্তৃক রচিত, যিনি 'আল-মিইয়ার আল-মু'রাব' নামক প্রসিদ্ধ বিশ্বকোষের লেখক।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ৭)
وقد جمع الونشريسي في كتاب الفروق أكثر من ألف ومائة فرق في أبواب الفقه المختلفة، وسماه "عدة البروق في جمع ما في المذهب من الجموع والفروق"، حققت منه قسم العبادات، أي من أول الكتاب إلى كتاب الأيمان، في نطاق الماجستير من قسم الدراسات الإِسلامية بجامعة الفاتح بطرابلس، ثم أنهيت بقية الكتاب بحمد الله فيما بعد.

ولا يفوتني في نهاية هذا التقديم أن أقدم شكري لكل من ساعدني في تصوير النسخ، وفي الطباعة على الآلة الكاتبة أو في أي مساعدة أخرى وأخص بالشكر أستاذي الدكتور عبد السلام أبو ناجي الذي قام بمراجعة الكتاب كاملًا حيث أخذ من وقته جزءًا كبيرًا. كما أدعو الله أن يتغمد فقيدنا الأستاذ عبد الله الهوني برحمته الواسعة وأن يجزيه عما قدمه للعربية والدراسات الإِسلامية من خدمة خير الجزاء إنه سميع قريب.

ولابد لي أيضًا أن أشكر الأستاذ الحبيب اللمسي الذي قبل نشر هذا الكتاب، ولا عجب في قبوله فهو معروف بسبقه في مضمار إخراج التراث النافع أينما وجد.

وقد قسمت البحث إلى قسمين: قسم دراسي وقسم حققت فيه النص.

القسم الدراسي:

ويتكون من مقدمة وأربعة فصول وخاتمة.

المقدمة: تحدثت فيها عن الظاهرة السياسية والعلمية والاجتماعية في المغربين الأوسط والأقصى بعامة، وفي تلمسان وفاس بالخصوص.

الفصل الأول: في بيان نسب المؤلف ونشأته.

الفصل الثاني: في بيان شيوخه.

الفصل الثالث: في مكانته العلمية وتلاميذه.

الفصل الرابع: في آثاره.

الخاتمة: دراسة مختصرة لكتاب عدة البروق ووصف النسخ التي اعتمدتها في التحقيق وعملي فيه.
আল-ওয়ানশারিসি ফিকহের বিভিন্ন অধ্যায়ে এক হাজার একশ’রও বেশি পার্থক্য 'কিতাবুল ফুরুক'-এ সংকলন করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন "উদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাব মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরূক"। আমি ত্রিপোলির আল-ফাতিহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি শিক্ষা বিভাগ থেকে মাস্টার্স গবেষণার অংশ হিসেবে এর ইবাদত অংশটি অর্থাৎ বইয়ের শুরু থেকে শপথ অধ্যায় পর্যন্ত সম্পাদনা করেছি। এরপর আল্লাহর প্রশংসায় আমি পরবর্তীতে বইটির বাকি অংশ সম্পন্ন করেছি।

এই মুখবন্ধের শেষে আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই যারা আমাকে পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করতে, টাইপরাইটারে টাইপ করতে বা অন্য কোনোভাবে সাহায্য করেছেন। আমি বিশেষভাবে আমার উস্তাদ ড. আবদুস সালাম আবু নাজীকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি সম্পূর্ণ বইটি পুনঃনিরীক্ষণ করেছেন এবং এর জন্য নিজের সময়ের একটি বড় অংশ ব্যয় করেছেন। সেই সাথে আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের মরহুম উস্তাদ আব্দুল্লাহ আল-হুনীকে তাঁর প্রশস্ত রহমতে আবৃত করেন এবং আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী।

আমার জন্য আল-হাবীব আল-লামাসীকেও ধন্যবাদ জানানো আবশ্যক, যিনি এই বইটি প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই গ্রহণে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ যেখানেই উপকারী ঐতিহ্য (তুরাস) পাওয়া যায় তা জনসমক্ষে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা সর্বজনবিদিত।

আমি গবেষণাকে দুই ভাগে ভাগ করেছি: একটি গবেষণাধর্মী অংশ এবং অন্যটি মূল পাঠ্য সম্পাদনার অংশ।

গবেষণাধর্মী অংশ:

এটি একটি ভূমিকা, চারটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারের সমন্বয়ে গঠিত।

ভূমিকা: এখানে আমি সাধারণভাবে মধ্য ও দূরবর্তী মাগরেব (মরক্কো অঞ্চল) এবং বিশেষভাবে তিলিমসান ও ফাস অঞ্চলের রাজনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেছি।

প্রথম অধ্যায়: লেখকের বংশপরিচয় এবং তাঁর বেড়ে ওঠা সম্পর্কে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর উস্তাদগণের বর্ণনায়।

তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর বৈজ্ঞানিক মর্যাদা এবং তাঁর ছাত্রবৃন্দের বর্ণনায়।

চতুর্থ অধ্যায়: তাঁর রচনাবলী সম্পর্কে।

উপসংহার: 'উদ্দাতুল বুরুক' গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা এবং সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি যে পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করেছি তার বিবরণ ও আমার কাজের পদ্ধতির বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ৯)
القِسْم الدِّراسي
অধ্যয়নমূলক অংশ
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌رموز استعملتها أثناء الدراسة والتحقيق:

ط: طبعة

(و) أو (أ): وجه.

(ظ) أو (ب): ظهر.

جـ /: جزء وما بعد الخط رقم الصفحة.

ص: صفحة.

هـ: هجرية.

مخط: مخطوط.

م و: المكتبة الوطنية بتونس.
অধ্যয়ন ও সম্পাদনা (তাহকীক) চলাকালীন আমি যে সকল প্রতীক ব্যবহার করেছি:

ত: সংস্করণ

(ও) অথবা (আ): সম্মুখভাগ।

(জ) অথবা (ব): উল্টোভাগ।

খণ্ড /: খণ্ড এবং দাগের পরের সংখ্যাটি পৃষ্ঠা নম্বর।

পৃ: পৃষ্ঠা।

হি: হিজরী।

পাণ্ডু: পাণ্ডুলিপি।

জা.গ্র.: তিউনিসিয়ার জাতীয় গ্রন্থাগার।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المقَدِّمَة

وسأتحدث فيها بإِيجاز غير مخل عن الظاهرة السياسية والعلمية والاجتماعية في العصر والمكان الذي عاش فيه الونشريسي، باعتبار أن الحديث عن ذلك حديث عن عامل من العوامل التي أثرت في تكوينه العلمي، فأقول وبالله التوفيق:

الحديث عن عصر الونشريسي يستدعي الحديث عن الحالة في الجزائر والحالة في المغرب في القرن التاسع وبداية العاشر الهجري؛ ذلك لأن صاحبنا قد عاش من عمره فترة في تلمسان إحدى مدن القطر الجزائري، والفترة الأخرى في مدينة فاس من مدن المغرب الأقصى.

ومن غريب الأقدار أن يمضي المؤلف نصف عمره الطويل في تلمسان، والنصف الآخر في فاس (1).

 

‌‌الحالة السياسية في المغربين الأوسط والأقصى (الجزائر والمغرب):

لا نريد أن نتوسع في الكلام على الحالة السياسية في الجزائر إذ محل ذلك كتب التاريخ، وإنما نحن ذاكرون إن شاء الله ما لا بد منه لمعرفة البيئة والتيارات التي كان لها الأثر -ولا شك- على تحصيله وسيرته ورحلته عن بلاده. وذلك أولًا لأن أصحاب تراجمه لم يتعرضوا لتأثير الجو السياسي عليه إلا لمامًا، رغم شهرته ومكانته، وثانيًا، لأن ما كتبه هؤلاء نقله بالكامل تقريبًا من تعرض لدراسة هذا

--------------------------------------------

(1) عاش حوالي أربعين سنة (834 - 874) في الجزاثر (ونشريس وتلمسان) وأربعين أخرى في فاس (874 - 914 هـ).
ভূমিকা

আমি এতে কোনো প্রকার অসম্পূর্ণতা না রেখে অতিসংক্ষেপে আল-ওয়ানশারীসী যে সময় ও স্থানে বসবাস করেছিলেন সেখানকার রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করব। কেননা এই আলোচনাটি তার ইলমী গঠন ও বিকাশে প্রভাব বিস্তারকারী অন্যতম একটি অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। আমি আল্লাহর তাওফিক কামনায় বলতে শুরু করছি:

আল-ওয়ানশারীসীর যুগ নিয়ে আলোচনার দাবি হলো হিজরি নবম এবং দশম শতাব্দীর শুরুর দিকে আলজেরিয়া ও মরক্কোর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা; কারণ আমাদের আলোচ্য ব্যক্তিত্ব তার জীবনের একটি অংশ আলজেরিয়ার অন্যতম শহর তিলিমসানে এবং অন্য অংশটি সুদূর মরক্কোর ফাস শহরে অতিবাহিত করেছেন।

এটি ভাগ্যের এক বিস্ময়কর লিখন যে, লেখক তার দীর্ঘ জীবনের অর্ধেক সময় তিলিমসানে এবং বাকি অর্ধেক সময় ফাস শহরে কাটিয়েছেন (১)।

 

মধ্য ও দূর মাগরিবের (আলজেরিয়া ও মরক্কো) রাজনৈতিক পরিস্থিতি:

আমরা আলজেরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চাই না, কারণ সেটি ইতিহাসের কিতাবসমূহের আলোচ্য বিষয়। তবে ইনশাআল্লাহ আমরা কেবল সেই আবশ্যকীয় বিষয়গুলোই উল্লেখ করব যা ওই পরিবেশ ও চিন্তাধারা সম্পর্কে জানার জন্য জরুরি, যা নিঃসন্দেহে তার শিক্ষা অর্জন, জীবন চরিত এবং স্বদেশ থেকে হিজরতের ওপর প্রভাব ফেলেছিল। এর প্রথম কারণ হলো, যারা তার জীবনী রচনা করেছেন তারা তার খ্যাতি ও সুউচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও তার ওপর রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে যৎসামান্যই আলোকপাত করেছেন। দ্বিতীয়ত, যারা এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন তারা পূর্ববর্তীদের লেখা প্রায় পুরোপুরিই নকল করেছেন...

--------------------------------------------

(১) তিনি প্রায় চল্লিশ বছর (৮৩৪ - ৮৭৪ হিজরি) আলজেরিয়ায় (ওয়ানশারীস ও তিলিমসান) এবং আরও চল্লিশ বছর ফাস শহরে (৮৭৪ - ৯১৪ হিজরি) বসবাস করেন।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ১৪)
الشيخ (1)، فليس لي أن أعيد إلا ما لا بد منه.

ولد أبو العباس الونشريسي في عهد الدولة الزيانية (بني عبد الواد)، وشاء الله أن يكون ميلاده في تاريخ استلام أبي العباس أحمد الزياني (المعتصم بالله) الملك سنة 834 - 866 هـ، وهو عهد فتن وحروب، إذ أن الجزائر (المغرب الأوسط) يحكمها سلاطين تبع للحفصيين، غير أنهم بين فترة وأخرى يحاولون الاستقلال فيؤدبون، هذا إلى جانب المحاولات المستمرة للسيطرة عليها من قبلِ ملوك بني مرين في المغرب الأقصى، والتي كان آخرها سنة 827 هـ. عندما تَخَلَّوْا عنها نهائيًّا.

لنرجع إلى السلطان أبي العباس أحمد الزياني (المعتصم بالله) الذي ارتقى السلطة باسم الحفصيين سنة 834 هـ. كما سبق لنا أن قلنا، لم يلبث هذا أن حاول الاستقلال عنهم، لكن أبا فارس الحفصي أسرع بجيشه قاصدًا تلمسان للقضاء على هذا الانفصال، غير أنه توفي في الطريق، فرجع الجيش (2). ومع ذلك لم يستقر الأمر لأبي العباس، فقد فاجأته الأقدار من جهة أخرى، هذه المرة فوجئ بعصيان أخيه أبي يحيى، تسانده بعض القبائل، فحاصر تلمسان، ولما صعبت عليه، ذهب إلى وهران فاحتلها سنة 840 هـ (3) بغير قتال. وحاول أخوه أبو العباس ردعه ففشل بادئ الأمر، خصوصًا عند انشغاله بإِخماد ثورة أخرى قام بها أبو زيان محمد (المستعين بالله) الذي ساعده الحفصيون، وكاد يحتل أغلبية البلاد لولا تدخل أبي يحيى صاحب وهران، فقضي على أبي زيان، فزاد خوف أبي العباس من أخيه، فقرر القضاء عليه، فدارت بينهما حروب انتصر في آخرها أبو العباس على أخيه، حيث خرج الأخير إلى تونس فبقي بها إلى وفاته (4).

ولم يستتب الأمر لأبي العباس طويلًا حتى ثار ضده حفيد أخيه (أبو ثابت)، فاحتل تلمسان، وعزل عم أبيه أبا العباس، الذي انتقل إلى ضاحية العباد، ثم أبعد

--------------------------------------------

(1) انظر القسم الدراسي في كتاب إيضاح المسالك، تحقيق أحمد أبي طاهر الخطابي الرباط 1400 هـ- 1980 م من صفحة 7 على صفحة 41.

(2) تاريخ الجزائر العام 2/ 197 دار الثقافة بيروت 1980 عبد الرحمن محمد الجيلاني.

(3) نفس المصدر: 2/ 197.

(4) نفس المصدر 2/ 197، 198.
শায়খ (১), তাই আমার পক্ষে অপরিহার্য বিষয়গুলো ছাড়া পুনরাবৃত্তি করার কিছু নেই।

আবু আল-আব্বাস আল-ওয়ানশারিসি জাইয়ানি (বনু আবদ আল-ওয়াদ) রাষ্ট্রের যুগে জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহর ইচ্ছা ছিল যে, তার জন্ম হবে আবু আল-আব্বাস আহমদ আল-জাইয়ানি (আল-মুতাসিম বিল্লাহ) এর ক্ষমতা গ্রহণের সময়কালে, ৮৩৪ - ৮৬৬ হিজরি সনে। এটি ছিল ফিতনা ও যুদ্ধের এক যুগ, কারণ আলজেরিয়া (মধ্য মাগরিব) হাফসীয়দের অনুগত সুলতানদের দ্বারা শাসিত হচ্ছিল। তবে তারা মাঝেমধ্যেই স্বাধীন হওয়ার চেষ্টা করত এবং তার ফলে শাস্তির সম্মুখীন হতো। এর পাশাপাশি দূর মাগরিবের (মরক্কো) বনু মারিন রাজাদের পক্ষ থেকেও একে আধিপত্যে নেওয়ার নিরন্তর প্রচেষ্টা ছিল, যার সর্বশেষটি ছিল ৮২৭ হিজরি সনে, যখন তারা চূড়ান্তভাবে এটি ছেড়ে দেয়।

আমরা সুলতান আবু আল-আব্বাস আহমদ আল-জাইয়ানি (আল-মুতাসিম বিল্লাহ) এর প্রসঙ্গে ফিরে যাই, যিনি ৮৩৪ হিজরি সনে হাফসীয়দের নামে ক্ষমতায় আরোহণ করেছিলেন। যেমনটি আমরা আগেই বলেছি, তিনি শীঘ্রই তাদের থেকে স্বাধীন হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আবু ফারিস আল-হাফসি এই বিচ্ছিন্নতা দমনের উদ্দেশ্যে তিলিমসানের দিকে দ্রুত তার সেনাবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হন, তবে পথিমধ্যেই তিনি মারা যান এবং সেনাবাহিনী ফিরে আসে (২)। তা সত্ত্বেও আবু আল-আব্বাসের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি; ভাগ্য তাকে অন্য দিক থেকে আঘাত হানে। এবার তিনি তার ভাই আবু ইয়াহিয়ার অবাধ্যতার সম্মুখীন হন, যাকে কিছু গোত্র সমর্থন দিচ্ছিল। তিনি তিলিমসান অবরোধ করেন, কিন্তু তা কঠিন হয়ে পড়লে তিনি ওরানে যান এবং ৮৪০ হিজরি সনে (৩) যুদ্ধ ছাড়াই সেটি দখল করেন। তার ভাই আবু আল-আব্বাস তাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন কিন্তু শুরুতে ব্যর্থ হন, বিশেষ করে যখন তিনি আবু জিয়ান মুহাম্মদ (আল-মুস্তাইন বিল্লাহ) এর শুরু করা আরেকটি বিদ্রোহ দমনে ব্যস্ত ছিলেন। আবু জিয়ানকে হাফসীয়রা সহায়তা করছিল এবং তিনি দেশের অধিকাংশ এলাকা দখল করে ফেলতেন যদি না ওরানের অধিপতি আবু ইয়াহিয়া হস্তক্ষেপ করতেন। ফলে আবু জিয়ান নিশ্চিহ্ন হয়ে যান। এতে আবু আল-আব্বাসের মনে তার ভাইয়ের প্রতি ভয় বেড়ে যায় এবং তিনি তাকে নির্মূল করার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের মধ্যে যুদ্ধ চলতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত আবু আল-আব্বাস তার ভাইয়ের ওপর বিজয়ী হন। এরপর তার ভাই তিউনিসিয়ায় চলে যান এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন (৪)।

আবু আল-আব্বাসের জন্য পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল থাকেনি; তার ভাইয়ের নাতি (আবু সাবিত) তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি তিলিমসান দখল করেন এবং তার পিতার চাচা আবু আল-আব্বাসকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। আবু আল-আব্বাস তখন আল-উব্বাদ শহরতলীতে চলে যান, তারপর তাকে দূরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

--------------------------------------------

(১) ইদাহুল মাসালিক কিতাবের গবেষণা অংশ দেখুন, সম্পাদনা: আহমদ আবু তাহের আল-খাত্তাবি, রাবাত ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা ৭ হতে ৪১।

(২) তারিখুল জাজায়ের আল-আম ২/ ১৯৭, দারুস সাকাফাহ বৈরুত ১৯৮০, আবদুর রহমান মুহাম্মদ আল-জিলানি।

(৩) একই উৎস: ২/ ১৯৭।

(৪) একই উৎস ২/ ১৯৭, ১৯৮।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ১৫)
عنها إلى الأندلس، ثم حاول الاستيلاء مرة أخرى على تلمسان، فلم يستطع ذلك، ثم كانت وفاته سنة 867 هـ (1).

ولما رأى الحفصيون الخلاف والشقاق بين بني زيان، تحرك السلطان أبو عمرو عثمان الحفصي، فاحتل المدن الجزائرية، فاستقبل من قبل أهلها بالترحاب، فلجأ أبو ثابت إلى الاستشفاع بالعلماء لدى سلطان الحفصيين، فقبل منهم، ورجع إلى تونس (2).

ولم يمض كثير وقت على ذلك حتى عاود أبو ثابت رفض الدعوة الحفصية مرة أخرى سنة 868 هـ. فعاد الحفصيون إلى مداهمته، واضطر على أثر ذلك إلى بيعتهم كتابة هذه المرة مصحوبة بإِهداء ابنته لأبي زكرياء يحيى بن المولى المسعود، فقفل السلطان الحفصي راجعًا إلى تونس وبقي أبو ثابت على عرشه إلى وفاته سنة 890 هـ (3).

وأثناء ذلك نجد الإِسبان والبرتغاليين يخططون لاحتلال مدن السواحل المغربية ليعرقلوا النجدة من قبل سكانها لإِخوانهم في الأندلس التي تلفظ أنفاسها الأخيرة. فاحتل الاسبان مدينة بونة (عنابة)، واستعد البرتغال للانقضاض على وهران. كل ذلك والحكام لاهيتهم أنفسهم وأموالهم، لا يعيرون ما حولهم اهتمامًا.

وفعلًا سقطت وهران في السنة التي توفي فيها الونشريسي (4).

في هذا الجو السياسي الهائج، وهذه الحروب والفتن والقتل الذي يقع بين الأقارب تارة وبين الجيران تارة أخرى؛ ولد صاحبنا وترعرع.

 

‌‌رحلته إلى فاس وسببها:

وفي أول محرم 874 هـ. (5) رحل إلى فاس ولرحلته هذه قصة لم تفسرها لنا

--------------------------------------------

(1) نفس المصدر: 2/ 198.

(2) المصدر السابق: 2/ 198 - 199.

(3) المصدر السابق: 2/ 200.

(4) المصدر السابق: 3/ 78.

(5) أجمع الذين تحدثوا عن ذهاب الونشريسي إلى فاس على هذا التاريخ، وقد تحدث هو نفسه عن ذلك تضمينًا أثناء كلامه عن فتواه في تضمين الرعاة، إذ قال (وسئلت في عام أربعة وسبعين وثمانمائة إثر ورودي فاس. . إلخ) انظر المعيار 8/ 341.
সেখান থেকে আন্দালুসে চলে যান, এরপর তিনি আবারও তলেমসেন দখল করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাতে সফল হতে পারেননি। অতঃপর ৮৬৭ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু হয় (১)।

যখন হাফসিরা বনু জিয়ানের মধ্যে মতভেদ ও কলহ দেখতে পেল, তখন সুলতান আবু আমর উসমান আল-হাফসি অগ্রসর হলেন এবং আলজেরীয় শহরগুলো দখল করে নিলেন। সেখানকার অধিবাসীরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। এরপর আবু সাবিত হাফসি সুলতানের কাছে আলেমদের মাধ্যমে মধ্যস্থতা কামনা করেন; সুলতান তাদের আবেদন গ্রহণ করেন এবং তিউনিসিয়ায় ফিরে যান (২)।

এর বেশি সময় পার হয়নি, এরই মধ্যে ৮৬৮ হিজরিতে আবু সাবিত আবারও হাফসিদের আনুগত্য প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে হাফসিরা আবারও তাঁকে আক্রমণ করে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এবার লিখিতভাবে তাদের আনুগত্যের শপথ নিতে বাধ্য হন। সাথে সাথে তাঁর কন্যাকে আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনুল মাওলা মাসউদের নিকট উপহারস্বরূপ (বিবাহে) প্রদান করেন। এরপর হাফসি সুলতান তিউনিসিয়ায় ফিরে যান এবং আবু সাবিত ৮৯০ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সিংহাসনে বহাল থাকেন (৩)।

এই সময়ে আমরা দেখি যে, স্পেনীয় এবং পর্তুগিজরা মরক্কোর উপকূলীয় শহরগুলো দখলের পরিকল্পনা করছিল, যাতে তারা আন্দালুসে তাদের মুমূর্ষু ভাইদের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে প্রেরিত সাহায্যে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে স্পেনীয়রা বুনা (আন্নাবা) শহর দখল করে নেয় এবং পর্তুগিজরা ওরান আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এসবের মাঝে শাসকরা নিজেদের ভোগবিলাস ও অর্থ-সম্পদে মগ্ন ছিল এবং তাদের চারপাশে কী ঘটছে সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপই করছিল না।

বস্তুত যে বছর আল-ওয়ানশারিসি মৃত্যুবরণ করেন, সেই বছরই ওরান-এর পতন ঘটে (৪)।

এই উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে চলমান যুদ্ধ, ফিতনা ও হত্যাকাণ্ডের মাঝেই আমাদের লেখক জন্মগ্রহণ করেন এবং বেড়ে ওঠেন।

 

‌‌তাঁর ফাস যাত্রা এবং এর কারণ:

৮৭৪ হিজরির পহেলা মহররম (৫) তিনি ফাস অভিমুখে যাত্রা করেন। তাঁর এই যাত্রার পেছনে একটি কাহিনী রয়েছে যা আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করা হয়নি...

--------------------------------------------

(১) একই উৎস: ২/ ১৯৮।

(২) পূর্বোক্ত উৎস: ২/ ১৯৮ - ১৯৯।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস: ২/ ২০০।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস: ৩/ ৭৮।

(৫) যারা আল-ওয়ানশারিসির ফাস গমনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন, তারা এই তারিখের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। তিনি নিজেও রাখালদের দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত তাঁর ফতোয়া প্রদানের সময় পরোক্ষভাবে এই কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছিলেন: (আর আটশত চুয়াত্তর হিজরিতে ফাসে পৌঁছানোর পরপরই আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল... ইত্যাদি)। দেখুন: আল-মিয়ার ৮/ ৩৪১।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ১৬)
الكتب التي ترجمت له، ولكنها أجمعت على أنه حصلت له كائنة مع السلطان الذي سلط عليه بعض الهمج، فانتهبت داره، وفر هاربًا إلى فاس (1)، ولا يزيدون على ذلك. وقد عبر صاحب الأعلام عنها بقوله: "ونقمت عليه حكومتها (تلمسان) أمرًا فانتهبت داره وفر إلى فاس سنة 874 هـ" (2).

أما الدكتور حجي فيقول: ولما بلغ أحمد الونشريسي أشده وبلغ، أربعين سنة، وهو يومئذٍ قوال للحق، لا تأخذه في الله لومة لائم، غضب عليه السلطان أبو ثابت الزياني وأمر بنهب داره فخرج إلى فاس (3). وقال صاحب السلوة: وكان شديد الشكيمة في دين الله لا تأخذه في الله لومة لائم، ولذلك لم يكن له مع أمراء وقته كبير اتصال، ونزل رضي الله عنه فاسًا انتقالًا إليها من تلمسان لما حصل له فيها من جهة السلطان، وانتهبت داره سنة 874 هـ (4).

وقد حاولت الدكتورة وداد القاضي أن تفسرها، فقالت: "ولعل لها علاقة بالوضع المحتل لسلطة بني زيان بتلمسان زمن سلطانها المتوكل أبي عبد الله محمد (الرابع) بن محمد الثابتي" (5).

أما الأستاذ أحمد طاهر الخطابي فقد فسرها باحتمالين، أحدهما: أن يكون الونشريسي غضب واستنكر على سلطان تلمسان استسلامه للأحداث ومواقفه المزرية تجاه العدو الصليبي الذي يأخذ المدن الإِسلامية واحدة بعد أخرى، والسلطان لا يهمه إلا كيف ينفصل عن الحفصيين، وكيف يواجههم، فربما جهر بذلك، فكانت الحادثة سبب ذلك، أو أن الونشريسي كان متهما بمشايعة الحفصيين

--------------------------------------------

(1) جذوة الاقتباس لأحمد بن القاضي، الرباط 1973 و 157؛ تاريخ الجزائر العام 3/ 76؛ البستان لابن مربم ص 53؛ عادل نويهض: معجم أعلام الجزائر ص 49؛ أحمد بابًا السوداني: كفاية المحتاج مخط بالمكتبة الوطنية بتونس رقم 14597 ورقة 21 (ظ) 22 (و)؛ ونيل الابتهاج ص 87؛ ص 87؛ L. Amar / La P. de Touche VI.

(2) انظر خير الدين الزركلي: الأعلام جـ 1/ 269 دار العلم للملايين ط. الخامسة 1980 م.

(3) انظر مقدمة المعيار جـ 1 / ج، نشر وزارة الأوقاف والشؤون الإِسلامية بالمغرب 1981 م.

(4) سلوة الأنفاس لمحمد بن جعفر الكتاني ط. فاس الحجرية 2/ 154.

(5) انظر مقال: المدرسة في المغرب حتى أواخر الفرن التاسع الهجري في ضوء كتاب المعيار للونشريسي. مجلة الفكر التربوي الإسلامي (الكتاب الثاني) بيروت 1981 م ص 120.
যেসব কিতাবে তার জীবনী বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো এ বিষয়ে একমত যে, সুলতানের সাথে তার একটি ঘটনা ঘটেছিল, যিনি তার ওপর কিছু বর্বর লোককে লেলিয়ে দিয়েছিলেন, ফলে তার ঘরবাড়ি লুণ্ঠিত হয় এবং তিনি পালিয়ে ফেসে (১) চলে যান। তারা এর চেয়ে বেশি কিছু উল্লেখ করেননি। ‘আল-আলাম’ গ্রন্থের রচয়িতা বিষয়টি এভাবে ব্যক্ত করেছেন: "তিলেমসান সরকার কোনো একটি কারণে তার ওপর অসন্তুষ্ট হয়, ফলে তার ঘরবাড়ি লুণ্ঠিত হয় এবং তিনি ৮৭৪ হিজরি সনে ফেসে পালিয়ে যান" (২)।

পক্ষান্তরে ডক্টর হাজ্জি বলেন: আহমদ আল-ওয়ানশারিসি যখন পূর্ণ যৌবনে ও চল্লিশ বছর বয়সে পদার্পণ করেন, তখন তিনি সত্যের সপক্ষে জোরালো বক্তা ছিলেন। আল্লাহর পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করতেন না। এমতাবস্থায় সুলতান আবু সাবিত আল-যায়ানি তার ওপর রাগান্বিত হন এবং তার ঘরবাড়ি লুণ্ঠনের নির্দেশ দেন, ফলে তিনি ফেসে চলে যান (৩)। ‘আস-সালওয়া’ গ্রন্থের লেখক বলেন: তিনি আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন এবং আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করতেন না। একারণে সমসাময়িক আমিরদের সাথে তার তেমন কোনো যোগাযোগ ছিল না। তিনি তিলেমসান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ফেসে অবতরণ করেন (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন), কারণ সুলতানের পক্ষ থেকে সেখানে তার ওপর বিপর্যয় নেমে এসেছিল এবং ৮৭৪ হিজরি সনে তার ঘরবাড়ি লুণ্ঠিত হয়েছিল (৪)।

ডক্টর উইদাদ আল-কাদি এর ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন: "সম্ভবত এর সম্পর্ক রয়েছে তিলেমসানের সুলতান আল-মুতাওয়াক্কিল আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ (চতুর্থ) বিন মুহাম্মদ আস-সাবিতির আমলে বনু যায়ানের শাসনব্যবস্থার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সাথে" (৫)।

উস্তাদ আহমদ তাহের আল-খাত্তাবি এর দুটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রথমটি হলো: ওয়ানশারিসি হয়তো তিলেমসানের সুলতানের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং বিভিন্ন পরিস্থিতির সামনে তার আত্মসমর্পণ ও ক্রুসেডার শত্রুদের প্রতি তার শোচনীয় অবস্থানের নিন্দা জানিয়েছিলেন, যারা একের পর এক মুসলিম শহর দখল করে নিচ্ছিল; অথচ সুলতানের নিকট হাফসিদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং তাদের মোকাবিলা করা ছাড়া অন্য কোনো চিন্তাই ছিল না। সম্ভবত তিনি প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন, যা এই ঘটনার কারণ হতে পারে। অথবা ওয়ানশারিসি হাফসিদের সমর্থক হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) আহমদ বিন আল-কাদি রচিত ‘জাযওয়াতুল ইকতিবাস’, রিবাত ১৯৭৩ পৃ. ১৫৭; তারিখুল জাযাইর আল-আম ৩/৭৬; ইবনে মারইয়াম রচিত ‘আল-বুস্তান’ পৃ. ৫৩; আদিল নুওয়াইহিদ: মু’জামু আলামিল জাযাইর পৃ. ৪৯; আহমদ বাবা আস-সুদানি: কিফায়াতুল মুহتاج, তিউনিসিয়ার জাতীয় লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি নং ১৪৫৯৭, পত্র ২১(খ), ২২(ক); নাইলুল ইবতিহাজ পৃ. ৮৭; ৮৭; এল. আমার / লা পি. দ্য তুশ ৬।

(২) দেখুন খাইরুদ্দিন আয-যিরিকলি: আল-আলাম ১/২৬৯, দারুল ইলম লিল-মালাঈন, ৫ম সংস্করণ ১৯৮০ খ্রি.।

(৩) দেখুন ‘আল-মি’য়ার’-এর ভূমিকা ১/জ, মরক্কোর আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত ১৯৮১ খ্রি.।

(৪) মুহাম্মদ বিন জাফর আল-কাত্তানি রচিত ‘সালওয়াতুল আনফাস’, ফেস লিথোগ্রাফ সংস্করণ ২/১৫৪।

(৫) নিবন্ধটি দেখুন: ‘আল-মাদরাসাহ ফিল মাগরিব হাত্তা আওয়াখিরিল কারনিত তাসি আল-হিজরি ফি দাউই কিতাবিল মি’য়ার লিল ওয়ানশারিসি’। মাজাল্লাতুল ফিকর আত-তারবাবি আল-ইসলামি (দ্বিতীয় গ্রন্থ), বৈরুত ১৯৮১ খ্রি. পৃ. ১২০।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ১৭)
ومبايعتهم، وربما كان أحد الذين رحبوا بالسلطان الحفصي عند قيامه بالحملة التأديبية عاقدين عليه الأمل أن يعمل على طرد العدو من شواطئهم بعد أن يئسوا وتيقنوا من عجز أبي ثابت وسلبيته إزاء الأندلس بل حتى إزاء بلاده (1).

ويرى المهدي البوعبدلي أن الونشريسي لم يفارق بلاده إلا مكرهًا، وهو شيء متفق عليه، إلا أنه يضيف قائلًا: وذلك أن ملكها أبا عبد الله محمد بن أبي ثابت المتوكل على الله الذي اشتهر بتشجيعه للعلماء ورعايتهم؛ إذ في عهده (866 - 888 هـ) ظهرت تآليف قيمة. . (إلى أن يقول) ورغم ما اشتهر به فقد حاول إخضاع أحمد بن يحيى الونشريسي فصادر أمواله، واقتحم عليه داره فهدمها؛ وكان أمكنه التسلل منها فمر عليه الخطر بسلام حيث وصل إلى مدينة فاس (2).

ولنستمع الآن إلى المؤلف نفسه يتكلم عن القصة بتلميح في مقدمة كتابه الذي نحن بصدد تحقيقه: أما بعد فإِني قد كنت وضعت في الجموع والفروق مجموعًا مطبوعًا وسميته بعدة البروق في جمع ما في المذهب من الجموع والفروق، ويستعان به على حل كثير من المناقضات الواقعة في المدونة وغيرها من أمهات الروايات. ثم إن بعض الهمج ممن له جرأة وتسلط على الأموال والمهج انتهبه في جملة الأسباب مني، وغاب به عني، فأدركني من ذلك غاية المشقة والحرج (3).

ونخلص من هذا كله إلى أن المترجمين أجمعوا على أنه ترك تلمسان مكرهًا، وأنه حصلت له كائنة من جهة السلطان، فانتهبت داره ونجا بنفسه إلى فاس سنة 874 هـ.

أما سبب هذه الكائنة فلم يذكرها هو، وسكت عنها المترجمون، رغم أن

--------------------------------------------

(1) انظر القسم الدراسي من كتاب إيضاح المسالك طبعة الرباط 1400 هـ 1980 م ص 13.

(2) المهدي البوعبدلي: الجوانب المجهولة من ترجمة حياة الإمام أحمد بن يحيى الونشريسي. مجلة الأصالة الجزائرية ملحق خاص بالملتقى الرابع عشر للفكر الإسلامي، شعبان رمضان 1400 هـ يوليو- غسطس 1980 م العدد 83/ 84.

(3) مقدمة عدة البروق ص 79.
...এবং তাদের আনুগত্যের শপথ, এবং সম্ভবত তিনি সেই ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছিলেন যারা হাফসি সুলতানকে স্বাগত জানিয়েছিলেন যখন তিনি শাস্তিমূলক অভিযান পরিচালনা করেছিলেন, এই আশায় যে তিনি তাদের উপকূল থেকে শত্রুদের বিতাড়িত করার কাজ করবেন; বিশেষ করে যখন তারা আবু সাবিত-এর অক্ষমতা এবং আন্দালুসের প্রতি এমনকি নিজের দেশের প্রতিও তার নেতিবাচক ভূমিকার ব্যাপারে হতাশ ও নিশ্চিত হয়েছিল (১)।

মাহদী আল-বুআবদালি মনে করেন যে, ওয়ানশারিসি বাধ্য হয়েই তার দেশ ত্যাগ করেছিলেন, যা একটি সর্বসম্মত বিষয়; তবে তিনি আরও যোগ করেন: আর তা এই কারণে যে, সেখানকার রাজা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবি সাবিত আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ—যিনি আলেমদের উৎসাহ প্রদান ও পৃষ্ঠপোষকতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন, কেননা তার শাসনামলে (৮৬৬ - ৮৮৮ হিজরি) মূল্যবান রচনাবলি প্রকাশিত হয়েছিল— (এটুকু বলে তিনি আরও বলেন) তিনি সুপরিচিত হওয়া সত্ত্বেও আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-ওয়ানশারিসিকে বশীভূত করার চেষ্টা করেছিলেন, ফলে তিনি তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন এবং তার ঘরে চড়াও হয়ে তা ধ্বংস করে দেন; তবে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং বিপদ কাটিয়ে নিরাপদে ফাস শহরে পৌঁছান (২)।

এখন আমরা স্বয়ং লেখকের বক্তব্য শুনব, যেখানে তিনি তার সম্পাদিতব্য এই গ্রন্থের ভূমিকায় ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন: "অতঃপর, আমি ইতিপূর্বে 'আল-জুমু' ওয়াল-ফুরূক' বিষয়ে একটি সংকলন রচনা করেছিলাম এবং মাযহাবের জুমু' ও ফুরূক বিষয়ক মাসআলাসমূহ একত্রিত করে এর নাম রেখেছিলাম 'ইদ্দাতুল বুরূক'। এটি 'আল-মুদাওওয়ানা' এবং অন্যান্য মূল বর্ণনাগ্রন্থগুলোতে বিদ্যমান অনেক বিরোধপূর্ণ বিষয়ের সমাধানে সহায়তা করে। এরপর একদল মূর্খ লোক, যাদের সম্পদ ও প্রাণের ওপর দুঃসাহস ও আধিপত্য ছিল, তারা আমার অন্যান্য আসবাবপত্রের সাথে এটিও লুট করে নিয়ে যায় এবং তা আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর ফলে আমি চরম কষ্ট ও সংকটে পতিত হই (৩)।"

এই সব কিছু থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, জীবনীকারগণ এ বিষয়ে একমত যে তিনি বাধ্য হয়ে তিলিমসান ত্যাগ করেছিলেন এবং সুলতানের পক্ষ থেকে তার ওপর একটি বিপদ আপতিত হয়েছিল, যার ফলে তার ঘরবাড়ি লুণ্ঠিত হয় এবং তিনি ৮৭৪ হিজরিতে নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে ফাস শহরে চলে যান।

তবে এই ঘটনার মূল কারণ তিনি উল্লেখ করেননি এবং জীবনীকারগণও এ বিষয়ে নিশ্চুপ থেকেছেন, যদিও...

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ইদাহুল মাসালিক গ্রন্থের অধ্যয়ন অংশ, রাবাত সংস্করণ ১৪০০ হিজরি, ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা ১৩।

(২) মাহদী আল-বুআবদালি: আল-জাওয়ানিিব আল-মাজহুলা মিন তারজামাতি হায়াতি আল-ইমাম আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-ওয়ানশারিসি। আল-আসালা আল-জাজায়িরিয়া ম্যাগাজিন, ইসলামিক চিন্তাধারার চতুর্দশ সেমিনারের বিশেষ ক্রোড়পত্র, শাবান-রমজান ১৪০০ হিজরি, জুলাই-আগস্ট ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ, সংখ্যা ৮৩/৮৪।

(৩) ইদ্দাতুল বুরূকের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৭৯।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ১৮)
أبا العباس شخصية مشهورة آنذاك بدليل استقباله في فاس والاحتفاء به (1). فلا ندري لماذا؟

وقد ذكرنا سابقًا بعض من حاول الاهتداء إلى السبب ولكنها تبقى تخمينات قد تكون صحيحة، وقد يكون السبب غيرها فالله أعلم.

 

‌‌الحالة السياسية بالمغرب الأقصى:

انتقل صاحبنا إلى فاس سنة 874 هـ، أي بعد قتل سلطانها عبد الحق (2) بن أبي سعيد بخمس سنين، أي في عهد أبي عبد الله الحفيد محمد بن علي الإِدريسي الجوطي الذي عزل سنة 875 هـ، وبقيت فاس في يد أخت أبي الحجاج يوسف بن منصور بن زيان الوطاسي إلى أن تولى الأمر أبو عبد الله محمد الشيخ الوطاسي (3) سنة ست وسبعين وثمانمائة (4)، وأصبح المغرب الأقصى في غاية الاضطراب والانتكاس، حتى طمع في ملكه كل من كانت توسوس له نفسه بذلك، فقد استولى البرتغال على أصيلا، وكانوا قد استولوا على سبتة وقصر المجاز، وتم احتلال طنجة سنة 869 هـ، وآنفا بعد ذلك بقليل (5)، وكثرت الفتن الداخلية والانحرافات والهرج والمرج. ومع هذا كله فقد حاول محمد الشيخ الوطاسي تدارك الأمر، فقد قاد بعض المعارك ضد المستعمرين إلى أن توفي سنة 910 هـ (6).

وتولى بعده ابنه محمد البرتغالي، وكان نصارى سبتة وأصيلا قد احتلوا بلاد الهبط وضايقوا المسلمين، فعني محمد البرتغالي هذا بالجهاد والاجلاب على الكفرة، فشغل بذلك عن البلاد المراكشية، فكان ذلك سببًا لظهور الدولة السعدية بها سنة 915 هـ (7).

--------------------------------------------

(1) ذكر ذلك أغلب من تعرض لترجمته فانظر المراجع السابقة.

(2) الاستقصاء 4/ 100 ط دار الكتاب / الدار البيضاء 1955 م.

(3) المرجع السابق 4/ 117 وجذوة الاقتباس 1/ 211.

(4) المرجع السابق: 4/ 120.

(5) المرجع السابق: 4/ 110، 116.

(6) المرجع السابق: 4/ 140، لقط الفرائد ص 278 وجذوة الاقتباس: 1/ 211.

(7) الاستقصاء: 4/ 140.
আবুল আব্বাস তৎকালীন সময়ে এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যার প্রমাণ হলো ফেজ শহরে তাঁকে বরণ করে নেওয়া এবং তাঁকে নিয়ে উৎসব উদযাপন করা (১)। আমরা জানি না এর কারণ কী?

ইতিপূর্বে আমরা এমন কিছু লোকের কথা উল্লেখ করেছি যারা এর কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেগুলো নিছক অনুমান হিসেবেই থেকে গেছে যা সঠিকও হতে পারে, আবার কারণটি অন্য কিছুও হতে পারে; আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌সুদূর মরক্কোর (মাগরিব আল-আকসা) রাজনৈতিক পরিস্থিতি:

আমাদের আলোচ্য ব্যক্তি ৮৭৪ হিজরিতে ফেজ শহরে স্থানান্তরিত হন, অর্থাৎ এর সুলতান আবদুল হক (২) ইবনে আবি সাঈদের হত্যার পাঁচ বছর পর, যা ছিল আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিদ মুহাম্মদ ইবনে আলি আল-ইদ্রিসি আল-জওতির শাসনামল, যাকে ৮৭৫ হিজরিতে অপসারিত করা হয়েছিল। ফেজ শহরটি আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে মনসুর ইবনে জিয়ান আল-ওয়াত্তাসির বোনের অধীনে ছিল যতক্ষণ না আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আল-শাইখ আল-ওয়াত্তাসি (৩) আটশ ছিয়াত্তর হিজরিতে (৪) ক্ষমতা গ্রহণ করেন। সে সময় সুদূর মরক্কো চরম বিশৃঙ্খলা ও পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, এমনকি যাদের মনে রাজ্য জয়ের কুমন্ত্রণা ছিল তারাও এর প্রতি লালায়িত হয়ে উঠেছিল। পর্তুগিজরা আসিলা দখল করে নিয়েছিল, ইতিপূর্বেই তারা সেউতা ও কসর আল-মাজাজ দখল করেছিল। ৮৬৯ হিজরিতে তানজিয়ার দখল করা হয় এবং তার অল্প কিছুকাল পরে আরও এলাকা (৫) অধিকৃত হয়। অভ্যন্তরীণ ফিতনা-ফাসাদ, বিচ্যুতি এবং বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাত ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। এ সত্ত্বেও মুহাম্মদ আল-শাইখ আল-ওয়াত্তাসি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি দখলদারদের বিরুদ্ধে কিছু যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন যতক্ষণ না ৯১০ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (৬)।

তাঁর পর তাঁর পুত্র মুহাম্মদ আল-পর্তুগালি ক্ষমতা গ্রহণ করেন। সেউতা ও আসিলা শহরের খ্রিস্টানরা হাবত অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল এবং মুসলিমদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। এই মুহাম্মদ আল-পর্তুগালি জিহাদ এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে অভিযানে মনোনিবেশ করেন, যার ফলে তিনি মারাকেশের অঞ্চলগুলো থেকে বিমুখ হয়ে পড়েন। এটাই ছিল সেখানে ৯১৫ হিজরিতে সাদীয় বংশের উত্থানের কারণ (৭)।

--------------------------------------------

(১) যারা তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন তাদের অধিকাংশই এ কথা উল্লেখ করেছেন, অতএব পূর্ববর্তী তথ্যসূত্রগুলো দেখুন।

(২) আল-ইসতিকসা ৪/ ১০০, দার আল-কিতাব সংস্করণ / কাসাব্লাঙ্কা ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দ।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস ৪/ ১১৭ এবং জাযওয়াতুল ইকতিবাস ১/ ২১১।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস: ৪/ ১২০।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস: ৪/ ১১০, ১১৬।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস: ৪/ ১৪০, লাকতুল ফাওয়াইদ পৃষ্ঠা ২৭৮ এবং জাযওয়াতুল ইকতিবাস: ১/ ২১১।

(৭) আল-ইসতিকসা: ৪/ ১৪০।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الحالة الاجتماعية والثقافية في تلمسان وفاس في عصر المؤلف وما قاربه:

كانت الحالة في البلدين متشابهة إلى حدٍ ما إذ كثيرًا ما كانتا تحت حكم واحد، إما مباشر أو غير مباشر كما مر بنا في الحالة السياسية، ورغم أن هذا العصر كان عصر فتن واضطرابات وحروب بين الأقرباء وأحيانًا بين الإِخوة مما سبب ضعف الدولة وانحلالها، فأسرعت إسبانيا والبرتغال إلى ضرب السواحل الإِسلامية بل إلى احتلال بعضها كما عرفناه، رغم كل ذلك، فإِن الحركة الحضارية بما فيها العلمية كانت على أشدها في كلتا المدينتين، وذلك راجع إلى أمور كثيرة متشاكبة منها:

1) أن كلتا المدينتين كانت عاصمة سياسية يسكنها السلطان وحاشيته، وينفق الأموال الباهظة على حصونها وأسوارها، ويقيم المصانع والمزارع ليكتفي بها، ويشجع على العمران والتنافس فيه.

2) الهجرات المستمرة من الأندلس، إذ حمل القوم معهم حضارتهم.

3) استقرار كثير من العلماء في هاتين المدينتين، لأنهما تمثلان عواصم العلم بالمنطقة.

4) أراد المهاجرون من الأندلس أن يعوضوا الفردوس المفقود فبدأوا في تشييد العمارة المشابهة (1).

5) تشجيع كثير من السلاطين للعلم والعلماء حتى في أحلك الظروف (2) واتخاذهم العلماء كمستشارين، وسأتعرض بشيء من الإِيجاز لوصف الحالة الاجتماعية والثقافية في كلتا المدينتين.

 

‌‌أولًا- تلمسان:

انتشرت المدارس بتلمسان، فمن هذه المدارس مدرسة منشر الجلد، ومدرسة ولدي الإِمام، والمدرسة التاشفينية، والمدرسة اليعقوبية، ومدرسة أبي حمو الثاني وغيرها. وكانت الدراسة فيها مجانًا، وإلى هذه المدينة كانت تشد الرحال في

--------------------------------------------

(1) انظر جامع القرويين د / عبد الهادي التازي 2/ 562 فقد تعرض لمقارنة التصميم بين الأندلس وفاس.

(2) انظر الجوانب المجهولة في حياة الونشريسي للأستاذ المهدي البوعبدلي، مجلة الأصالة ع 83، 84.
লেখকের যুগ ও তার সমসাময়িক সময়ে তিলিমসান ও ফেজের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা:

উভয় শহরের অবস্থা অনেকাংশেই একই রকম ছিল, কারণ প্রায়ই উভয় শহরই একক শাসনের অধীনে থাকত—তা সরাসরি হোক বা পরোক্ষভাবে, যেমনটি আমরা রাজনৈতিক পরিস্থিতির বর্ণনায় দেখেছি। যদিও এই যুগটি ছিল ফিতনা, অস্থিরতা এবং আত্মীয়দের ও কখনো কখনো ভাইদের মধ্যে যুদ্ধের যুগ, যা রাষ্ট্রকে দুর্বল ও ভেঙে পড়ার দিকে ধাবিত করেছিল; ফলে স্পেন ও পর্তুগাল দ্রুতই ইসলামী উপকূলগুলোতে আঘাত হানতে শুরু করে, এমনকি তার কিছু অংশ দখলও করে নেয় যেমনটি আমরা জেনেছি। এসব সত্ত্বেও, উভয় শহরে জ্ঞান-বিজ্ঞানসহ সভ্যতা বিকাশের ধারা ছিল অত্যন্ত বেগবান। এটি অনেকগুলো আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়ের দিকে ফিরে যায়, যার মধ্যে রয়েছে:

১) উভয় শহরই ছিল রাজনৈতিক রাজধানী যেখানে সুলতান ও তাঁর পারিষদরা বসবাস করতেন। তিনি এর দুর্গ ও প্রাচীর নির্মাণের পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতেন এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য কারখানা ও খামার গড়ে তুলতেন। এছাড়াও তিনি নগর উন্নয়নের উৎসাহ দিতেন ও তাতে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতেন।

২) আন্দালুস থেকে অবিরাম হিজরত, কারণ সেই জনগোষ্ঠী তাদের সাথে তাদের সভ্যতাকেও বহন করে নিয়ে এসেছিল।

৩) এই দুই শহরে অনেক আলেমের স্থায়ী বসবাস, কারণ এই অঞ্চলগুলোতে এই শহরগুলো ছিল ইলমের প্রধান কেন্দ্র।

৪) আন্দালুস থেকে আগত হিজরতকারীরা তাদের 'হারানো জান্নাত' (আন্দালুস)-এর অভাব পূরণ করতে চেয়েছিল, ফলে তারা সেখানে অনুরূপ স্থাপত্য নির্মাণ শুরু করে (১)।

৫) অনেক সুলতান কর্তৃক অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতেও ইলম ও আলেমদের প্রতি উৎসাহ প্রদান (২) এবং আলেমদেরকে পরামর্শদাতা হিসেবে গ্রহণ করা। এখন আমি অতি সংক্ষেপে উভয় শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থার বর্ণনা তুলে ধরব।

 

প্রথমত- তিলিমসান:

তিলিমসানে বহু মাদরাসা ছড়িয়ে ছিল। এসব মাদরাসার মধ্যে রয়েছে মাদরাসাতু মানশারিল জিলদ, মাদরাসাতু ওয়ালাদাইল ইমাম, আল-মাদরাসাতুত তাশফিনিয়্যাহ, আল-মাদরাসাতুল ইয়াকুবিয়্যাহ, মাদরাসাতু আবি হাম্মু আস-সানি এবং আরও অন্যান্য। সেখানে শিক্ষা ছিল অবৈতনিক। এই শহরের দিকেই জ্ঞানপিপাসু কাফেলাগুলো যাত্রা করত...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: জামে আল-কারউইয়্যিন, ড. আব্দুল হাদি আত-তাজি, ২/৫৬২। তিনি সেখানে আন্দালুস ও ফেজের নকশার মাঝে তুলনামূলক আলোচনা করেছেন।

(২) দেখুন: আল-জাওয়ানিবুল মাজহুলাহ ফি হায়াতি আল-ওয়ানশারিসি, উস্তাদ আল-মাহদি আল-বুআবদাল্লি, আল-আসালাহ ম্যাগাজিন, সংখ্যা ৮৩, ৮৪।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ২০)
طلب علوم الطب والفلسفة وغيرها (1).

واشتهر خلال القرن الثامن والتاسع والعاشر فطاحل من العلماء طبقت شهرتهم الآفاق وبلغ رتبة الاجتهاد منهم في مختلف العلوم (2):

ابنا الإِمام التلمساني (3) والشريف التلمساني (4) صاحب مفتاح الوصول، وقاسم العقباني (5)، وابن مرزوق الحفيد، وابن مرزوق الخطيب، وابن مرزوق الكفيف (6)، ومحمد بن يوسف السنوسي (7) وغيرهم. وأما الناحية العمرانية فإِن تلمسان، عاصمة المملكة الجزائرية كانت مملوءة بالقصور الشامخة والمدارس المؤنقة والمساجد القيمة والمنتزهات الجميلة والحصون الرفيعة وغير ذلك مما بقي بعضه إلى الآن (8).

ولنستمع الآن قليلًا إِلى ابن خلدون يحدثنا عن تلمسان، ومعلوم أن ابن خلدون توفي في أوائل القرن التاسع:

"ولم يزل عمران تلمسان يتزايد وخطتها تتسع، الصروح بها بالأجر والفهر تعلى وتشاد، إلى أن نزلها آل زيان واتخذوها دارًا لملكهم وكرسيًّا لسلطانهم فاختطوا بها القصور المؤنقة والمنازل الجميلة، واغترسوا الرياض والبساتين وأجروا خلالها المياه، فأصبحت أعظم أمصار الغرب، ورحل إِليها الناس من القاصية، ونفقت بها أسواق العلوم والصنائع، فنشأ بها العلماء واشتهر فيها الأعلام وضاهت أمصار الدول الإِسلامية والقواعد الخلافية" (9) اهـ.

--------------------------------------------

(1) عبد الرحمن الجيلاني: تاريخ الجزائر العام 2/ 249.

(2) المقري: أزهار الرياض 5/ 25.

(3) هما أبو زيد عبد الرحمن بن محمد بن عبد الله التلمساني توفي سنة 743 هـ، وأبو موسى عيسى بن محمد التلمساني توفي سنة 749 هـ. تعريف الخلف 2/ 209 - 221.

(4) أبو عبد الله محمد بن أحمد الشريف التلمساني توفي سنة 771 هـ. تعريف الخلف 2/ 352.

(5) قاسم بن سعيد العقباني التلمساني توفي سنة 854 هـ. تعريف الخلف 1/ 95 - 92.

(6) انظر تراجمهم في تعريف الخلف 1/ 128 - 150.

(7) دوحة الناشر ص 121.

(8) عبد الرحمن الجيلاني: تاريخ الجزائر العام 2/ 251.

(9) تاريخ ابن خلدون 7/ 78.
চিকিৎসা বিজ্ঞান, দর্শন এবং অন্যান্য শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন (১)।

অষ্টম, নবম এবং দশম শতাব্দীতে এমন প্রথিতযশা আলেমগণ প্রসিদ্ধি লাভ করেন, যাদের খ্যাতি দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত ছিল এবং তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন বিজ্ঞানে ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছেছিলেন (২):

ইমাম তিলিমসানির দুই পুত্র (৩), মিফতাহুল উসুলের রচয়িতা শরীফ তিলিমসানি (৪), কাসেম আল-উকবানি (৫), ইবনে মারজুক আল-হাফিদ, ইবনে মারজুক আল-খতিব, ইবনে মারজুক আল-কাফিফ (৬), মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আস-সানুসি (৭) এবং আরও অনেকে। স্থাপত্য ও নগরায়নের ক্ষেত্রে আলজেরীয় সালতানাতের রাজধানী তিলিমসান বিশাল প্রাসাদ, সুশোভিত মাদ্রাসা, মূল্যবান মসজিদ, সুন্দর উদ্যান, সুউচ্চ দুর্গ এবং আরও অনেক কিছুতে পরিপূর্ণ ছিল, যার কিছু অংশ আজও অবশিষ্ট রয়েছে (৮)।

এখন আমরা ইবনে খালদুনের কাছে তিলিমসান সম্পর্কে কিছু শুনি; উল্লেখ্য যে, ইবনে খালদুন নবম শতাব্দীর শুরুর দিকে ইন্তেকাল করেছেন:

"তিলিমসানির নগরায়ন ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং এর সীমানা প্রশস্ত হতে থাকে, সেখানে ইট ও পাথর দ্বারা অট্টালিকাগুলো আকাশচুম্বী ও সুদৃঢ় করা হচ্ছিল, যতক্ষণ না সেখানে বনু জিয়ান অবতরণ করে এবং একে তাদের রাজত্বের আবাস ও সুলতানি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গ্রহণ করে। তারা সেখানে সুশোভিত প্রাসাদ ও মনোরম বাসস্থান নির্মাণ করে, বাগান ও উদ্যান রোপণ করে এবং তার মধ্য দিয়ে জলধারা প্রবাহিত করে। ফলে এটি মাগরিবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নগরীতে পরিণত হয়। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসতে শুরু করে, সেখানে জ্ঞান ও শিল্পের বাজার জমজমাট হয়। এর ফলে সেখানে আলেমদের উদ্ভব ঘটে এবং মহৎ ব্যক্তিত্বগণ প্রসিদ্ধি লাভ করেন, এবং এটি ইসলামি বিশ্বের বড় বড় শহর ও খেলাফতের কেন্দ্রগুলোর সমতুল্য হয়ে ওঠে" (৯) সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) আবদুর রহমান আল-জিলানি: তারিখ আল-জাজাইর আল-আম ২/ ২৪৯।

(২) আল-মাক্কারি: আজহারুর রিয়াদ ৫/ ২৫।

(৩) তারা হলেন আবু যায়েদ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ তিলিমসানি (মৃত্যু ৭৪৩ হিজরি), এবং আবু মুসা ঈসা ইবনে মুহাম্মদ তিলিমসানি (মৃত্যু ৭৪৯ হিজরি)। তারিফুল খালাফ ২/ ২০৯ - ২২১।

(৪) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ শরীফ তিলিমসানি (মৃত্যু ৭৭১ হিজরি)। তারিফুল খালাফ ২/ ৩৫২।

(৫) কাসেম ইবনে সাঈদ আল-উকবানি তিলিমসানি (মৃত্যু ৮৫৪ হিজরি)। তারিফুল খালাফ ১/ ৯২ - ৯৫।

(৬) তারিফুল খালাফ ১/ ১২৮ - ১৫০ এ তাদের জীবনী দেখুন।

(৭) দাওহাতুন নাশির পৃষ্ঠা ১২১।

(৮) আবদুর রহমান আল-জিলানি: তারিখ আল-জাজাইর আল-আম ২/ ২৫১।

(৯) তারিখ ইবনে খালদুন ৭/ ৭৮।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ২১)
ونشطت حركة الجهاد والدعوة إليه من قبل العلماء وكانوا السابقين إليه وإلى المرابطة بالثغور الإسلامية التي هي عرضة للإِحتلال، لحمايتها.

 

‌‌ثانيًا- في فاس:

لا تختلف الحالة في فاس عنها في تلمسان إلا في أسماء العلماء، فقد انتشرت المدارس، وخصصت الكراسي لأشهر الكتب، فهذا كرسي للتفسير، وهذا آخر لفتح الباري، وهذا ثالث للمدونة. . إلخ وكل ذلك تبعًا لنصوص حبسية ورواتب جارية (1)، فاشتهر ثلة من العلماء، منهم أبو عبد الله محمد الفشتالي (2)، والقاضي ابن رضوان (3)، المتوفى سنة 783 هـ، والقاضي المكناسي (4)، والونشريسي، وزروق، وابن غازي (5) وأبو عبد الله بن يجيش التازي (6)، الذي عرف بحبه للجهاد في سبيل الله والحث عليه وتحريض السلطان على ذلك (7)، والزقاق (8)، وعبد الواحد الونشريسي (9) وغيرهم.

وفي هذا العصر ظهر بعض أئمة التصوف كما ظهر بعض الأدعياء، فتصدى لهم علماء عاملون (10). ومن الناحية المعمارية نجد أنه في عهد الدولة المرينية والوطاسية رممت الأسوار، وجلبت المياه، وأقيمت الساعات للتوقيت حتى في الأماكن العامة. وأقيمت كذلك الأبراج، وأنيرت المساجد بالثريات، وكثر نسخ الكتب وتحبيسها على القرويين حتى من قبل السلاطين، وبذلك نشأت المكتبات ليستعين بها الطلبة والأساتذة (11).

--------------------------------------------

(1) انظر تفصيل ذلك في بحث الدكتور التازي جامع القرويين 2/ 364 - 403.

(2) انظر فهرس المنجور ص 57، 58.

(3) انظر ألف سنة من الوفيات ص 155 وجذوة الاقتباس 2/ 435 وما بعدها.

(4) انظر الفكر السامي جـ 2/ 265 ترجمة رقم 651.

(5) انظر جذوة الاقتباس: 1/ 320.

(6) انظر دوحة الناشر ص 66 - 71.

(7) انظر الاستقصاء 4/ 112، 113.

(8) انظر دوحة الناشر: ص 55.

(9) انظر فهرس المنجور 52، 53.

(10) انظر الاستقصاء 163، 164.

(11) جامع القرويين 2/ 322 - 332.
আলেমদের পক্ষ থেকে জিহাদের আন্দোলন এবং এর প্রতি আহ্বান জোরদার হয়েছিল। তাঁরা জিহাদের ময়দানে এবং দখলদারিত্বের ঝুঁকিতে থাকা ইসলামী সীমান্ত রক্ষায় (মুরবাতা) সেগুলোর সুরক্ষার্থে অগ্রগামী ছিলেন।

 

‌‌দ্বিতীয়ত- ফেজ নগরীতে:

ফেজের অবস্থা তিলিমসানের চেয়ে আলাদা ছিল না, কেবল আলেমদের নাম ছাড়া। সেখানে মাদরাসাগুলো ছড়িয়ে পড়েছিল এবং প্রসিদ্ধ কিতাবগুলোর জন্য নির্দিষ্ট আসন (দরস প্রদানের স্থান) বরাদ্দ করা হয়েছিল। এটি তাফসীরের জন্য একটি আসন, এটি ফাতহুল বারীর জন্য অন্যটি এবং এটি মুদাওয়ানার জন্য তৃতীয়টি... ইত্যাদি। এই সব কিছুই ছিল ওয়াকফনামার শর্তাবলি এবং চলমান বেতনের অধীনে (১)। একদল আলেম প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আল-ফাশতালি (২), কাজি ইবনে রিজওয়ান (৩), যিনি ৭৮৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, কাজি আল-মিকনাসি (৪), আল-ওয়ানশারিসি, যাররুক, ইবনে গাজি (৫) এবং আবু আবদুল্লাহ বিন ইয়াজিশ আত-তাজি (৬), যিনি আল্লাহর পথে জিহাদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, এর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং সুলতানকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করার জন্য পরিচিত ছিলেন (৭), আজ-জাক্কাক (৮), আবদুল ওয়াহিদ আল-ওয়ানশারিসি (৯) এবং আরও অনেকে।

এই যুগে তাসাউফের কিছু ইমামের আবির্ভাব ঘটেছিল যেমনটি কিছু ভণ্ডদেরও আবির্ভাব ঘটেছিল, ফলে আমলদার আলেমরা তাঁদের প্রতিরোধ করেছিলেন (১০)। স্থাপত্যের দিক থেকে আমরা দেখতে পাই যে, মারিনি ও ওয়াতাসি রাষ্ট্রের শাসনামলে প্রাচীরগুলো মেরামত করা হয়েছিল, পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং এমনকি সাধারণ স্থানগুলোতেও সময় নির্ধারণের জন্য ঘড়ি স্থাপন করা হয়েছিল। একইভাবে মিনারসমূহ নির্মাণ করা হয়েছিল, ঝাড়বাতি দিয়ে মসজিদগুলোকে আলোকিত করা হয়েছিল এবং কিতাব অনুলিপি করা ও কায়রাওয়ানিদের জন্য সেগুলো ওয়াকফ করার হার বৃদ্ধি পেয়েছিল, এমনকি সুলতানদের পক্ষ থেকেও। এর ফলে গ্রন্থাগারগুলো গড়ে উঠেছিল যাতে ছাত্র ও শিক্ষকরা তা থেকে সাহায্য নিতে পারেন (১১)।

--------------------------------------------

(১) ড. তাজি-র গবেষণা 'জামে আল-কারাউইন' ২/৩৬৪ - ৪০৩-এ এর বিস্তারিত দেখুন।

(২) ফেহরাসুল মানজুর পৃ. ৫৭, ৫৮ দেখুন।

(৩) আলফু সানাতিন মিনাল ওয়াফিয়াত পৃ. ১৫৫ এবং জাযওয়াতুল ইক্তিাবাস ২/৪৩৫ ও পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো দেখুন।

(৪) আল-ফিকরুস সামি খণ্ড ২/২৬৫, জীবনী নং ৬৫১ দেখুন।

(৫) জাযওয়াতুল ইক্তিবাস: ১/৩২০ দেখুন।

(৬) দাওহাতুন নাশির পৃ. ৬৬ - ৭১ দেখুন।

(৭) আল-ইসতিকসা ৪/১১২, ১১৩ দেখুন।

(৮) দাওহাতুন নাশির: পৃ. ৫৫ দেখুন।

(৯) ফেহরাসুল মানজুর ৫২, ৫৩ দেখুন।

(১০) আল-ইসতিকসা ১৬৩, ১৬৪ দেখুন।

(১১) জামে আল-কারাউইন ২/৩২২ - ৩৩২।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الفصْل الأوّل

في بيان نسبه ونشأته:

‌‌اسمه: أبو العباس أحمد بن يحيى بن محمد (1) بن عبد الواحد بن علي الونشريسي الأصل، التلمساني المنشأ، والفاسي الدار والإِقبار. وبلدة ونشريس بواو مفتوحة ونون ساكنة وشين معجمة مفتوحة وراء مكسورة بعدها ياء وسين مهملة (2).

وقد ورد عند ياقوت بالألف بعد الواو وسينين معجمتين (3)، أطلق عليه اسم الجبل التي تقع عليه، وهو جبل عال ما زال يعرف بهذا الاسم حتى اليوم، وهي تقع بناحية بجاية، بين باجة وقسطنطينة. وقد أطلق هذا الاسم على إمارة بني توجين التي تكونت في أواخر القرن الرابع الهجري (4).

--------------------------------------------

(1) هكذا ورد اسمه في كثير من المصادر التي ترجمت له وبعضها يقتصر على أحمد بن يحيى، وبعضها يضيف بعد يحيى محمد، والبعض الآخر يضع عبد الواحد مباشرة بعد يحيى، ومنها من يحذف محمدًا. ولم أجد في فهرس الفهارس ما أشار إليه الأستاذ أحمد طاهر الخطابي من أن الكتاني قد كرر محمدًا مرتين هكذا أحمد بن يحيى بن محمد بن محمد، فلعل محقق فهرس الفهارس قد حذف المكرر، والله أعلم.

انظر فهرس الفهارس جـ 2، ص 1122، 1123 ترجمة رقم 633.

(2) وقد أورد الدكتور حسين مؤنس أنه يطلق عليها أيضًا ونشريس وورنسيس نقلًا عن رينيه ياسيه. انظر أسنى المتاجر تحقيق الدكتور حسين مؤنس: صحيفة الدراسات الإِسلامية بمدريد لسنة 1957 م 5، ص 131 الحاشية رقم 2.

(3) معجم البلدان 5/ 355 طبعة دار صادر بيروت 1399 هـ 1979 م.

(4) انظر المهدي البوعبدلي الجوانب المجهولة من ترجمة حياة الإِمام الونشريسي مجلة الأصالة عدد 83، 84 ص 20 شعبان رمضان 1400 هـ يوليو أغسطس 1980 م ملحق خاص.
প্রথম পরিচ্ছেদ

তাঁর বংশপরিচয় ও বেড়ে ওঠার বর্ণনায়:

‌‌তাঁর নাম: আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ (১) বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী আল-ওয়ানশারিসী তাঁর মূল নিসবত, তিলিমসান তাঁর বেড়ে ওঠার স্থান এবং ফাস (ফেজ) তাঁর আবাসস্থল ও সমাধিস্থল। ওয়ানশারিস শহরটি 'ওয়াও' এর ওপর জবর, 'নূন' সাকিন, ফাতহাযুক্ত 'শীন', যেরযুক্ত 'রা' এবং এর পরে একটি 'ইয়া' ও একটি 'সীন' সহকারে গঠিত (২)।

ইয়াকুত হামাভীর বর্ণনায় এটি 'ওয়াও'-এর পরে একটি 'আলিফ' এবং দুটি 'শীন' সহকারে এসেছে (৩)। এটি যে পাহাড়ের ওপর অবস্থিত সেই পাহাড়ের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। এটি একটি সুউচ্চ পাহাড় যা আজও এই নামেই পরিচিত এবং এটি বিজায়া অঞ্চলে, বাজা ও কন্সটানটিনের (কুসতুনতীনাহ) মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এই নামটি বনী তুজীন আমিরাতের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়েছিল যা হিজরী চতুর্থ শতাব্দীর শেষভাগে গঠিত হয়েছিল (৪)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর ওপর রচিত অনেক উৎসগ্রন্থে তাঁর নাম এভাবেই এসেছে। কোনো কোনোটিতে আহমদ বিন ইয়াহইয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, আবার কেউ ইয়াহইয়ার পরে মুহাম্মদ যুক্ত করেছেন। কেউ আবার ইয়াহইয়ার পরেই সরাসরি আব্দুল ওয়াহিদকে উল্লেখ করেছেন এবং মুহাম্মদ নামটি বাদ দিয়েছেন। অধ্যাপক আহমদ তাহের আল-খাত্তাবী যে উল্লেখ করেছেন— কাত্তানী 'মুহাম্মদ' নামটি দুইবার পুনরাবৃত্তি করেছেন (আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ), ফাহরাস আল-ফাহারিস-এর নির্ঘণ্টে আমি তা পাইনি। সম্ভবত ফাহরাস আল-ফাহারিস-এর মুহাক্কিক (সম্পাদক) পুনরাবৃত্তিটি বাদ দিয়েছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

দেখুন: ফাহরাস আল-ফাহারিস, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১১২২, ১১২৩, জীবনী নম্বর ৬৩৩।

(২) ডক্টর হুসাইন মুনিস রেনে বাসেত-এর বরাতে উল্লেখ করেছেন যে, একে ওয়ানশারিস ও ওয়ারনসিস-ও বলা হয়। দেখুন: আসনা আল-মাতাঝির, ডক্টর হুসাইন মুনিসের সম্পাদনায়; মাদ্রিদ ইসলামিক স্টাডিজ সাময়িকী, ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৩১, টীকা ২।

(৩) মু'জামুল বুলদান ৫/৩৫৫, দার সাদির বৈরুত মুদ্রণ, ১৩৯৯ হিজরী/১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ।

(৪) দেখুন: আল-মাহদী আল-বুআবদালী রচিত 'ইমাম ওয়ানশারিসীর জীবনীর অজানা দিক', মাজাল্লাতুল আসলাহ (আসলাহ পত্রিকা), সংখ্যা ৮৩, ৮৪, পৃষ্ঠা ২০, শাবান-রমজান ১৪০০ হিজরী/জুলাই-আগস্ট ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ, বিশেষ ক্রোড়পত্র।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ২৩)
ومعنى هذه اللفظة، ليس هناك أعلى منه، وفعلًا ليس هناك أعلى من هذا الجبل في تلك المنطقة؛ إذ تصل أعلى قمة منه كاف عمار إلى 1980 مترًا (1). وقد نسب إلى هذه البلدة كثير من العلماء. والذي تكاد تجمع عليه مصادر ترجمته أن أصله من ونشريس البلدة السابقة، وهو الذي تؤيده النسبة، خصوصًا وأنه صرح بها المؤلف في مقدمة كتابه الفائق (2). وذهب البغدادي في هدية العارفين (3) والناصري في الاستقصاء (4) وكحالة في معجم المؤلفين (5) إلى أنه تلمساني الأصل (6)، وتلمسان بكسر التاء واللام ثم ميم ساكنة وسين مهملة وألف ونون، وبعضهم يقول تنمسان بالنون عوض اللام (7).

 

‌‌مولده:

كتب الذين ترجموا للونشريسي عن مكان مولده، ولم يصرح به (8) أحد -فيما أعلم- إلا المقري في أزهار الرياض وصاحب السلوة فإِنهما قالا: "الونشريسي المولد. إلخ" (9)، أو إميل عمار فإنه قال: "ولد في تلمسان سنة إلخ" (10)، وقد تابعه الأستاذ حجي في مقدمة كتابه "ألف سنة من الوفيات" (11) فقال: (ولد بتلمسان)، ثم رجع عن ذلك في مقدمة المعيار (12).

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق د / صابر الجيلاني: الونشريسي مهد كفاح بعيد وقريب ص 29 وانظر أيضًا أسنى المتاجر ص 131 الحاشية الثانية.

(2) سيأتي التعريف بهذا الكتاب عندما نتعرض لمؤلفاته.

(3) جـ 1/ 138.

(4) 4/ 165.

(5) 2/ 205.

(6) وتبعهم محمد الزاهي في تحقيق فهرس بن غازي انظر ص 28 حاشية رقم 5.

(7) معجم البلدان (ياقوت الحموي) 2/ 44، 45.

(8) بالنسبة للذين نسبوا أصله إلى تلمسان لا شك أنهم يعنون أنه ولد فيها.

(9) أزهار الرياض للمقري 3/ 65، سلوة الأنفاس للكتاني 2/ 153.

(10) E. AMAR: La Pierre de Touche (Archives marocaines) V. XII، page: VI.

(11) محمد حجي ألف سنة من الوفيات ص 4.

(12) وقال أنه ولد بجبال ونشريس. انظر مقدمة المعيار جـ 1 ص (أ).
এবং এই শব্দটির অর্থ হলো, এর চেয়ে উচ্চতর আর কিছুই নেই। প্রকৃতপক্ষে ওই অঞ্চলে এই পাহাড়ের চেয়ে উচ্চতর আর কিছু নেই; কারণ এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ 'কাফ আম্মার' ১৯৮০ মিটারে পৌঁছেছে (১)। এই জনপদের দিকে অনেক আলিমকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে। তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ প্রায় ঐকমত্য পোষণ করে যে, তাঁর আদি নিবাস হলো পূর্বোক্ত ওনশারিস জনপদ। এই বিষয়টিই তাঁর নিসবত (নামের সাথে সম্বন্ধ) সমর্থন করে, বিশেষ করে লেখক নিজেই তাঁর 'আল-ফায়িক' গ্রন্থের ভূমিকায় এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন (২)। বাগদাদী তাঁর 'হাদিয়্যাতুল আরিফীন' (৩) গ্রন্থে, নাসিরী তাঁর 'আল-ইসতিকসা' (৪) গ্রন্থে এবং কাহহালা তাঁর 'মু'জামুল মুআল্লিফীন' (৫) গ্রন্থে অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, তিনি মূলে তিলিমসানি (৬)। তিলিমসান (শব্দটি) তা এবং লাম বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে, এরপর মিম সাকিন, সীন মুহমালা, আলিফ এবং নুন সহযোগে গঠিত। কেউ কেউ লামের পরিবর্তে নুন দিয়ে তনিমসান-ও বলে থাকেন (৭)।

 

‌‌তাঁর জন্ম:

ওনশারিসির জীবনীকারগণ তাঁর জন্মস্থান সম্পর্কে লিখেছেন। আমার জানামতে আল-মাক্কারি তাঁর 'আযহারুর রিয়াদ' গ্রন্থে এবং 'আস-সালওয়া' গ্রন্থের লেখক ব্যতীত অন্য কেউ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তাঁরা দুজনেই বলেছেন: "ওনশারিসিতে জন্মগ্রহণকারী... ইত্যাদি" (৯)। অথবা এমিল আম্মার; কারণ তিনি বলেছেন: "তিনি তিলিমসানে অমুক সালে জন্মগ্রহণ করেছেন... ইত্যাদি" (১০)। উস্তাদ হাজ্জি তাঁর 'আলফু সানাতিন মিনাল ওয়াফায়াত' (১১) গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁকে অনুসরণ করে বলেছেন: (তিনি তিলিমসানে জন্মগ্রহণ করেন), তবে পরবর্তীতে 'আল-মি'ইয়ার' (১২) গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি এই মত থেকে ফিরে এসেছেন।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, ড. সাবের আল-জিলানি: আল-ওনশারিসি মাহদু কিফাহিন বা'ইদ ওয়া কারিব, পৃ. ২৯। আরও দেখুন 'আসনা আল-মাতাঝির', পৃ. ১৩১, দ্বিতীয় টীকা।

(২) যখন আমরা তাঁর রচনাবলি নিয়ে আলোচনা করব, তখন এই গ্রন্থটি সম্পর্কে পরিচিতি দেওয়া হবে।

(৩) খণ্ড ১, পৃ. ১৩৮।

(৪) ৪/ ১৬৫।

(৫) ২/ ২০৫।

(৬) মুহাম্মাদ আয-যাহি 'ফিহরিস ইবনে গাজি'-এর সম্পাদনায় তাঁদের অনুসরণ করেছেন; দেখুন পৃ. ২৮, টীকা নং ৫।

(৭) মু'জামুল বুলদান (ইয়াকুত আল-হামাউয়ি), ২/ ৪৪, ৪৫।

(৮) যাঁরা তাঁর মূল তিলিমসানের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তাঁরা এটিই বুঝিয়েছেন যে তিনি সেখানে জন্মগ্রহণ করেছেন।

(৯) মাক্কারির 'আযহারুর রিয়াদ', ৩/ ৬৫; কাত্তানির 'সালওয়াতুল আনফাস', ২/ ১৫৩।

(১০) ই. আম্মার: লা পিয়ের দে তুচ (আর্কাইভস মারোকাইনস), খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা: ৬।

(১১) মুহাম্মাদ হাজ্জি, 'আলফু সানাতিন মিনাল ওয়াফায়াত', পৃ. ৪।

(১২) এবং তিনি বলেছেন যে তিনি ওনশারিস পাহাড়ে জন্মগ্রহণ করেছেন। দেখুন 'আল-মি'ইয়ার'-এর ভূমিকা, খণ্ড ১, পৃ. (আলিফ)।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ২৪)
هذا بالنسبة للمكان، أما بالنسبة لسنة المولد فهي مجهولة، ولكن يمكن تحديدها بحوالي سنة أربع وثلاثين وثمانماثة 834 هـ، يؤخذ ذلك من أخبار محمد بن قاسم القصار مفتي فاس بأن الونشريسي توفي سنة 914 هـ وعمره نحو ثمانين عامًا على ما نقله صاحب البستان (1) ونيل الابتهاج (2).

 

‌‌نشأته وتعليمه:

نشأ صاحبنا في تلمسان، وإذا قلنا بأنه ولد في ونشريس فلا بد أنه انتقل مع أسرته في طفولته المبكرة، يؤخذ ذلك من أنهم لم يذكروا أنه ابتدأ أخذ العلم عن غير شيوخ تلمسان. ولا نعرف شيئًا عن سبب مغادرة هذه الأسرة سواء قبل مولد المؤلف أو بعده لبلدهم الأصلي ونشريس، وقد حاول الأستاذ أحمد الخطابي أن يفسر لنا ذلك (3) ولكنها تخرصات اجتهادية أما الحقيقة فتبقى مختفية، كما أننا لا نعرف شيئًا عن أسرته إذ لم يذكر المؤرخون فيما وصل إلينا شيئًا عن والده أو جده.

ويؤخذ من ذلك أنهما لم يكونا من العلماء كما أن المصنف نفسه لم يتعرض لهما.

تفقه أبو العباس الونشريسي على كبار فقهاء وقته (4) في تلمسان، وألَمَّ بكل العلوم التي كانت تدرس آنذاك، ثم تزوج، ولكننا لا نعرف شيئًا عن زواجه بمن؟ وأين؟ ومتى؟ إلا أنهم أجمعوا على أن مولد ابنه كان في فاس، بعد رحيل والده عن تلمسان ولكنهم لم يحددوا لنا تاريخ مولده بالضبط فمنهم من يقول: إنه ولد سنة 874 هـ (5)، أي نفس السنة التي وصل فيها والده إلى فاس، لكن صاحبي النيل والسلوة يقولان إنه ولد بعد الثمانين والثمانمئة (6).

--------------------------------------------

(1) البستان ص 54.

(2) أحمد بابا: نيل الابتهاج ص 88.

(3) أحمد بو طاهر الخطابي: إيضاح المسالك القسم الدراسي ص 43.

(4) سنتعرض بالتفصيل بعد قليل لشيوخه.

(5) ابن القاضي: لقط الفرائد ص 264.

(6) الكتاني: سلوة الأنفاس 2/ 147، أحمد بابا: نيل الابتهاج ص 189، وقد تبعهما الأستاذ أحمد الخطابي في تحقيقه لإِيضاح المسالك ص 45، والأستاذ عبد الرحمن الجيلاني في مقال له بعنوان: الشهيد عبد الواحد الونشريسي، مجلة الأصالة عدد رقم 82/ 84 ص 41، وقد قال الأستاذ الخطابي =
এটি স্থানের বিষয়, আর জন্ম সালের কথা বলতে গেলে তা অজানা, তবে এটি আনুমানিক ৮৩৪ হিজরির কাছাকাছি সময় বলে নির্ধারণ করা যেতে পারে। ফাসের মুফতি মুহাম্মাদ বিন কাসিম আল-কাসসারের সংবাদ থেকে এটি গৃহীত হয়েছে যে, আল-ওয়ানশারিসি ৯১৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় আশি বছর; যেমনটি 'আল-বুস্তান' (১) এবং 'নাইলুল ইবতিহাজ' (২) গ্রন্থের লেখকদ্বয় বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌তাঁর লালন-পালন ও শিক্ষা:

আমাদের এই ব্যক্তিত্ব তিলিমসানে বেড়ে ওঠেন। যদি আমরা বলি যে তিনি ওয়ানশারিসে জন্মগ্রহণ করেছেন, তবে অবশ্যই তিনি তাঁর শৈশবের শুরুতে পরিবারের সাথে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। এটি এই তথ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ঐতিহাসিকগণ তিলিমসানের শায়খগণ ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে তাঁর জ্ঞান অর্জনের শুরুর কথা উল্লেখ করেননি। তাঁর পরিবারের এই আদি ভূমি ওয়ানশারিস ত্যাগ করার কারণ সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না, তা লেখকের জন্মের আগে হোক বা পরে। উস্তাদ আহমদ আল-খাত্তাবি এটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন (৩), তবে সেগুলো গবেষণামূলক অনুমান মাত্র, প্রকৃত সত্য অজানাই রয়ে গেছে। এছাড়া আমরা তাঁর পরিবার সম্পর্কেও কিছু জানি না, কারণ আমাদের কাছে পৌঁছানো তথ্যানুযায়ী ঐতিহাসিকগণ তাঁর পিতা বা দাদা সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি।

এ থেকে বোঝা যায় যে তাঁরা আলেম ছিলেন না, যেমনটি লেখক নিজেও তাঁদের সম্পর্কে কোনো আলোচনা করেননি।

আবু আব্বাস আল-ওয়ানশারিসি তিলিমসানে তাঁর সময়ের প্রথিতযশা ফকিহদের (৪) কাছে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং তৎকালীন সময়ে পঠিত সকল বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেন। এরপর তিনি বিবাহ করেন, তবে আমরা তাঁর বিবাহ সম্পর্কে কিছুই জানি না—কাকে? কোথায়? এবং কখন? তবে তাঁরা এই বিষয়ে একমত যে, তাঁর পুত্রের জন্ম হয়েছিল ফাসে, তাঁর পিতার তিলিমসান থেকে চলে যাওয়ার পর। কিন্তু তাঁরা তাঁর জন্মের সঠিক তারিখ নির্ধারণ করেননি; তাঁদের মধ্যে কেউ বলেন: তিনি ৮৭৪ হিজরিতে (৫) জন্মগ্রহণ করেছেন, অর্থাৎ যে বছর তাঁর পিতা ফাসে পৌঁছেছিলেন। তবে 'নাইল' ও 'সালোয়া' গ্রন্থের লেখকদ্বয় বলেন যে, তিনি ৮৮০ হিজরির পরে জন্মগ্রহণ করেছেন (৬)।

--------------------------------------------

(১) আল-বুস্তান, পৃষ্ঠা ৫৪।

(২) আহমদ বাবা: নাইলুল ইবতিহাজ, পৃষ্ঠা ৮৮।

(৩) আহমদ বু তাহের আল-খাত্তাবি: ঈদাহুল মাসালিক, অধ্যয়ন বিভাগ, পৃষ্ঠা ৪৩।

(৪) আমরা শীঘ্রই তাঁর শায়খদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

(৫) ইবনুল কাদি: লাকাতুল ফারাইদ, পৃষ্ঠা ২৬৪।

(৬) আল-কাত্তানি: সালাওয়াতুল আনফাস ২/১৪৭, আহমদ বাবা: নাইলুল ইবতিহাজ, পৃষ্ঠা ১৮৯; উস্তাদ আহমদ আল-খাত্তাবি তাঁর ঈদাহুল মাসালিকের তাহকিকে (পৃষ্ঠা ৪৫) এবং উস্তাদ আবদুর রহমান আল-জিলানি তাঁর 'শহীদ আব্দুল ওয়াহিদ আল-ওয়ানশারিসি' নামক প্রবন্ধে (আল-আসলাহ পত্রিকা, সংখ্যা ৮২/৮৪, পৃষ্ঠা ৪১) তাঁদের অনুসরণ করেছেন এবং উস্তাদ আল-খাত্তাবি বলেছেন =
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ২৫)
وأورد لنا صاحب السلوة تاريخًا مدققًا لوفاة عبد الواحد الونشريسي فقال إنه توفي قتيلًا وذلك ليلة الاثنين سابع عشر ذي الحجة الحرام سنة خمس وخمسين وتسعمائة هـ (1)، عن نحو سبعين سنة. وهذا يدل على أنه ولد حوالي سنة خمس وثمانين وثمانمائة (2).

ولا نعرف للونشريسي ولدًا إلا عبد الواحد هذا، ولا بد لنا من أن نلقي نظرة سريعة على حياته إذ أنه الوحيد الذي عرّفنا المترجمون به من عائلة أبي العباس الونشريسي فنقول: لم يكن في حياة أبيه في جد طلب، بل كان يؤثر الراحة، وزوجه أبوه سنة عشر أو إحدى عشرة فلما أعرس أطلق الفقيه القاضي المفتي أبو عبد الله بن محمد بن عبد الله اليفرني المكناسي يده على الشهادة، وقال لأبيه أبي العباس هذه هديتي لهذا العرس، يعني الشهادة، وكانت عند هذا القاضي الشهادة بمزية كبيرة (3).

أخذ العلم عن أبيه وعن ابن غازي والهبطي والحباك وغيرهم، وكان رائق الخط يجيد الإِنشاء والشعر وعقد الشروط والوثائق. تولى بعد وفاة أبيه تدريس المدونة، كما درس ابن الحاجب الفرعي وكان يحضر درسه بعض كبار الفقهاء، منهم الزقاق وابن مجبر والمنجور واليستيني. ومن تآليفه شرح ابن الحاجب الفرعي في أربعة أسفار ونظم قواعد أبيه وغير ذلك (4).

--------------------------------------------

= ص 45 حاشية رقم 11: واضطرب قول المنجور في فهرسته، فذكر أولًا في ص 55 أنه ولد بفاس بعد انتقال والده إليها سنة 874 هـ، وعاد مرة أخرى فقال ص 54: ولا أعلم عام ولادته غير أن الغالب على ظني أنه في سن السبعين أو ما يقرب منها أي سنة 870 هـ. . إلخ. وهنا يجب التنبيه على أن المنجور لم يضطرب قوله، بل إن الأستاذ الخطابي لم يدقق النظر في عبارة المنجور، إذ أنه لما تحدث عن الولادة للمرة الأولى لم يحدد تاريخها، إنما قال بعد انتقال والده، ولما قال: غير أن الغالب على ظني أنه في سن السبعين أو ما يقرب منها، فإِنه يتحدث عن سنه لما توفي وذلك واضح جدًّا، ففهم الأستاذ الخطابي أنه يتحدث عن سنة 870 هـ فسبحان من لا يسهو.

(1) 2/ 147 - المنجور: الفهرس ص 54

(2) انظر عادل نويهض: معجم أعلام الجزائر ص 108.

(3) انظر أحمد المنجور الفهرس ص 52، 53.

(4) المصدر السابق ص 52، 55 ونيل الابتهاج لأحمد بابا ص 189 والكتاني: سلوة الأنفاس ص 146، 147.
'সালওয়াতুল আনফাস' গ্রন্থের লেখক আমাদের কাছে আব্দুল ওয়াহিদ আল-ওয়ানশারিসীর মৃত্যুর একটি সঠিক তারিখ পেশ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, তিনি নিহত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এটি ছিল সোমবার রাতে, ৯৫৫ হিজরি সনের ১৭ই জিলহজ (১), তাঁর বয়স ছিল প্রায় সত্তর বছর। এটি নির্দেশ করে যে, তিনি আনুমানিক ৮৮৫ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন (২)।

আমরা ওয়ানশারিসীর এই আব্দুল ওয়াহিদ ছাড়া অন্য কোনো সন্তানের কথা জানি না। আমাদের জন্য তাঁর জীবনের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত নজর বুলানো আবশ্যক, কারণ জীবনীকারগণ আবুল আব্বাস আল-ওয়ানশারিসীর পরিবারের মধ্যে একমাত্র তাঁর সাথেই আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। আমরা বলছি: তিনি তাঁর পিতার জীবদ্দশায় জ্ঞান অন্বেষণে খুব একটা সচেষ্ট ছিলেন না, বরং তিনি আরাম-আয়েশকে প্রাধান্য দিতেন। তাঁর পিতা তাঁকে ৯১০ বা ৯১১ হিজরি সালে বিয়ে করান। যখন তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন, তখন ফকিহ, কাজি ও মুফতি আবু আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইফরানি আল-মিকনাসি তাঁকে সাক্ষ্যদানের অনুমতি প্রদান করেন। তিনি তাঁর পিতা আবুল আব্বাসকে বললেন, "এই বিবাহের জন্য এটিই আমার উপহার"—অর্থাৎ সাক্ষ্যদানের অনুমতি। আর এই কাজির নিকট সাক্ষ্যদানের অনুমতির বিশেষ মর্যাদা ছিল (৩)।

তিনি তাঁর পিতা, ইবনে গাজি, আল-হাবতি, আল-হাব্বাক এবং অন্যদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁর হাতের লেখা ছিল অত্যন্ত সুন্দর; তিনি সাহিত্য রচনা, কবিতা এবং আইনি শর্ত ও দলিলপত্র প্রণয়নে পারদর্শী ছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি 'আল-মুদাওওয়ানা'র পাঠদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি ইবনে হাজিবের 'আল-ফুরূ' পাঠদান করতেন। তাঁর পাঠচক্রে বিশিষ্ট ফকিহদের কেউ কেউ উপস্থিত থাকতেন, যাদের মধ্যে আল-যাক্বাক্ব, ইবনে মুজবার, আল-মানজুর এবং আল-ইয়াসতিনি অন্যতম। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে চার খণ্ডে ইবনে হাজিবের 'আল-ফুরূ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, তাঁর পিতার 'কাওয়ায়িদ' (মূলনীতি) গ্রন্থের কাব্যানুবাদ এবং আরও অনেক কিছু (৪)।

--------------------------------------------

= ৪৫ পৃষ্ঠা, টিকা নম্বর ১১: আল-মানজুর তাঁর 'ফিহরিস্ট' গ্রন্থে দ্বিধান্বিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি প্রথমে ৫৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর পিতা ফাসে চলে যাওয়ার পর ৮৭৪ হিজরি সালে তিনি সেখানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পুনরায় ৫৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "আমি তাঁর জন্মসাল সম্পর্কে নিশ্চিত নই, তবে আমার প্রবল ধারণা যে তাঁর বয়স সত্তর বছর বা তার কাছাকাছি ছিল", অর্থাৎ ৮৭০ হিজরি সাল... ইত্যাদি। এখানে এটি সতর্ক করা আবশ্যক যে, আল-মানজুরের বক্তব্যে কোনো দ্বিধা নেই; বরং উস্তাদ আল-খাত্তাবি আল-মানজুরের বক্তব্যের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করেননি। কারণ তিনি যখন প্রথমবার জন্ম নিয়ে আলোচনা করেছেন, তখন কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করেননি, বরং বলেছেন তাঁর পিতার স্থানান্তরের পর। আর যখন তিনি বলেছেন: "আমার প্রবল ধারণা যে তাঁর বয়স সত্তর বছর বা তার কাছাকাছি ছিল", তখন তিনি তাঁর মৃত্যুর সময়ের বয়সের কথা বলছিলেন, যা অত্যন্ত স্পষ্ট। উস্তাদ আল-খাত্তাবি ভুলবশত মনে করেছেন যে তিনি ৮৭০ হিজরি সালের কথা বলছেন। সুতরাং সেই সত্তা পবিত্র যিনি কখনো ভুল করেন না।

(১) ২/ ১৪৭ - আল-মানজুর: আল-ফিহরিস্ট, পৃষ্ঠা ৫৪।

(২) দেখুন আদিল নুওয়াইহিদ: মু'জামু আ'লামিল জাযাইর, পৃষ্ঠা ১০৮।

(৩) দেখুন আহমদ আল-মানজুর: আল-ফিহরিস্ট, পৃষ্ঠা ৫২, ৫৩।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৫২, ৫৫ এবং আহমদ বাবা রচিত 'নাইলুল ইবতিহাজ', পৃষ্ঠা ১৮৯ এবং আল-কাত্তানি রচিত 'সালওয়াতুল আনফাস', পৃষ্ঠা ১৪৬, ১৪৭।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ২৬)
تولى القضاء ثم الفتيا بعد وفاة ابن هارون، وكان قوالًا للحق غير هياب لا تأخذه في الله لومة لائم (1).

وسبب وفاته أنه لما حاصر أبو عبد الله محمد الشيخ السعدي فاسًا، ولم يستطع فتحها، أشير عليه بأن يحصل على مبايعة ابن الونشريسي فأرسل إليه سرًّا ووعده ومنَّاه، فأبي الونشريسي، فأرسل إليه جمعًا من المتلصصة لإِحضاره مرغمًا، وبعد أن أنهى درسه لصحيح البخاري في جامع القرويين باغتته تلك الجماعة، فأبى أن يطاوعهم فقتلوه في أحد الأبواب بجامع القرويين (2). وقيل إن ابنه، قبل الدرس قال له: إني سمعت أن جماعة من اللصوص يتربصون بك الليلة فلا تذهب إلى الدرس، فقال له الشيخ عبد الواحد: أين وقفنا البارحة؟ قال على كتاب القدر. قال: فكيف نفر من القدر؟ إذهب بنا إلى المجلس (3).

 

‌‌عودة إلى الكلام عن أبي العباس:

نرجع الآن إلى الكلام عن حياة أبي العباس أحمد الونشريسي بعد أن كدنا نبتعد عنه.

ولا تحدثنا المصادر التي اطلعنا عليها عن شيء من طفولته ولا عن أوائل دراسته، بل ينتقلون من اسمه مباشرة إلى كبار مشائخه، ثم إلى الحديث عن الكائنة التي حدثت له من جهة السلطان وإلى فراره إلى فاس.

 

‌‌صفاته الخُلُقية والجسمية:

لذلك لا نكاد نجد من تعرض لصفات الونشريسي الجسمية إذا استثنينا ما أشار إليه صاحب الدوحة أثناء وصفه لطريقة تأليف الونشريسي لكتبه من أنه كان أصلع الرأس إذ كان يكشفه (4).

--------------------------------------------

(1) ابن عسكر: دوحة الناشر 52، 53.

(2) محمد بن عسكر: دوحة الناشر 54، 53.

(3) عبد الرحمن الجيلاني: الشهيد عبد الواحد الونشريسي مجلة الأصالة عدد 83، 84، ملحق خاص ص 42، 43.

(4) دوحة الناشر 47، 48.
তিনি ইবনে হারুনের মৃত্যুর পর বিচার বিভাগ এবং এরপর ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সত্যের বিষয়ে অকুতোভয় বক্তা, আল্লাহর পথে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কার তাঁকে দমাতে পারত না (১)।

তাঁর মৃত্যুর কারণ ছিল এই যে, যখন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আশ-শাইখ আস-সা'দি ফাস শহর অবরোধ করেন এবং তা জয় করতে সক্ষম হননি, তখন তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয় যেন তিনি ইবনুল ওয়ানশারিসির আনুগত্য (বায়াত) লাভ করেন। ফলে তিনি গোপনে তাঁর নিকট লোক পাঠান এবং তাঁকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভন দেখান। কিন্তু ওয়ানশারিসি তা প্রত্যাখ্যান করেন। অতঃপর তিনি তাঁকে জোরপূর্বক উপস্থিত করার জন্য একদল দস্যু প্রেরণ করেন। জামে আল-কারাউইয়িনে সহিহ বুখারির পাঠদান সমাপ্ত করার পর সেই দলটি তাঁকে অতর্কিত আক্রমণ করে। তিনি তাদের আনুগত্য করতে অস্বীকার করলে তারা তাঁকে জামে আল-কারাউইয়িনের একটি দরজার নিকট হত্যা করে (২)। বলা হয় যে, তাঁর পুত্র পাঠ শুরু হওয়ার পূর্বে তাঁকে বলেছিলেন: আমি শুনেছি যে একদল দস্যু আজ রাতে আপনার জন্য ওত পেতে আছে, সুতরাং আপনি আজ পাঠে যাবেন না। তখন শায়খ আব্দুল ওয়াহেদ তাঁকে বললেন: গতকাল আমরা কোথায় থেমেছিলাম? তিনি বললেন: কিতাবুল কদর (তাকদির অধ্যায়) এ। তিনি বললেন: তবে আমরা কীভাবে তাকদির থেকে পলায়ন করব? আমাদের মজলিসে নিয়ে চলো (৩)।

 

‌‌আবু আব্বাস সম্পর্কে আলোচনায় প্রত্যাবর্তন:

আবু আব্বাস আহমদ আল-ওয়ানশারিসির আলোচনা থেকে আমরা প্রায় দূরে সরে যাচ্ছিলাম, এখন পুনরায় তাঁর জীবনবৃত্তান্তের আলোচনায় ফিরে আসছি।

আমরা যে সকল উৎসের সন্ধান পেয়েছি সেগুলোতে তাঁর শৈশব বা প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কে কোনো কিছুই বর্ণিত হয়নি। বরং তারা তাঁর নামের পর সরাসরি তাঁর প্রধান শিক্ষকদের আলোচনায় চলে যান, অতঃপর সুলতানের পক্ষ থেকে তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং ফাস শহরে তাঁর পলায়নের বর্ণনায় উপনীত হন।

 

‌‌তাঁর চারিত্রিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

একারণেই আমরা ওয়ানশারিসির শারীরিক গঠন বর্ণনা করেছেন এমন কাউকে প্রায় পাই না, কেবল 'আদ-দাওহা' গ্রন্থের লেখকের সেই ইঙ্গিতটুকু ছাড়া, যেখানে তিনি ওয়ানশারিসির গ্রন্থ রচনার পদ্ধতির বর্ণনা দিতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি টেকো মাথার অধিকারী ছিলেন কারণ তিনি তা অনাবৃত রাখতেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আসকার: দাওহাতুন নাশির ৫২, ৫৩।

(২) মুহাম্মদ বিন আসকার: দাওহাতুন নাশির ৫৪, ৫৩।

(৩) আব্দুর রহমান আল-জিলানি: আশ-শাহিদ আব্দুল ওয়াহেদ আল-ওয়ানশারিসি, মাজাল্লাতুল আসলাহ সংখ্যা ৮৩, ৮৪, বিশেষ ক্রোড়পত্র পৃষ্ঠা ৪২, ৪৩।

(৪) দাওহাতুন নাশির ৪৭, ৪৮।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ২৭)
أما بالنسبة لصفاته الخُلُقية فقد صرح بها مترجموه هنا وهناك، فوصف بأنه شديد الشكيمة في دين الله، لا تأخذه في الله لومة لائم، ولذلك لم يكن له مع أمراء وقته كثير اتصال (1)، كما وصف بالورع والدين المتين (2).

وكان جم التواضع فهو "مع جلالة قدره لما قدم مدينة فاس يحضر مجلس القاضي المكناسي" (3). وكان رحمه الله متقشفًا يعيش عيشة الكفاف، فقد كان يحمل أوراقه عند الذهاب إلى عرصته (4) على حمار، فإِذا دخل العرصة جرد ثيابه وبقي في قشابة صوف يحزم عليها بمضمة من جلد (5).

ومما يؤكد لنا فقره أنه كان يسكن دارًا للحبس حتى وفاته، وقد سكنها ابنه من بعده إلى أن تحسنت أحواله (6)، فبنى بيتًا بالعقبة الزرقاء (7).

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق 47 وانظر سلوة الأنفاس نقلًا عن الدوحة 2/ 154.

(2) شجرة النور 1/ 274 - 273.

(3) جذوة الاقتباس: 1/ 156.

(4) العرصة القطعة من الأرض ليس عليها بناء. المصباح.

(5) دوحة الناشر: 47.

(6) قلت: إلى أن تحسنت أحواله، لأن صاحب الدوحة بين لنا أن عبد الواحد هذا دعا ربه أن تحصل له ثلاثة أشياء، منها وفرة المال وقد حصلت له. وهذا بدل على أنه لم يرث عن أبيه مالًا ذا بال. انظر الدوحة: ص 54.

(7) فهرس المنجور ص 50، وسلوة الأنفاس (نقلًا عن المنجور) 2/ 154.
তাঁর চারিত্রিক গুণাবলির কথা তাঁর জীবনীকারগণ এখানে-সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তাঁকে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে আপসহীন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না। একারণেই তাঁর সমসাময়িক আমিরদের সাথে তাঁর খুব একটা যোগাযোগ ছিল না (১), তেমনি তাঁকে পরহেজগার এবং সুদৃঢ় দ্বীনদার হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে (২)।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী; "নিজের মহান মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও যখন তিনি ফাস শহরে আসতেন, তখন কাজী আল-মিকনাসির মজলিসে উপস্থিত হতেন" (৩)। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি ছিলেন মিতব্যয়ী এবং স্বল্পাহারে জীবনযাপনকারী। তিনি যখন তাঁর আবাদি জমির (৪) দিকে যেতেন, তখন একটি গাধার পিঠে তাঁর কাগজপত্র বহন করতেন। জমিতে প্রবেশ করার পর তিনি তাঁর (বাহ্যিক) পোশাক খুলে ফেলতেন এবং একটি পশমি জামা পরে থাকতেন যা চামড়ার ফিতা দিয়ে কোমরে বেঁধে নিতেন (৫)।

তাঁর দরিদ্রতার একটি নিশ্চিত প্রমাণ হলো যে, তিনি মৃত্যু পর্যন্ত একটি ওয়াকফকৃত বাড়িতে বসবাস করতেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেও সেখানে বসবাস করেছিলেন যতক্ষণ না তাঁর আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয় (৬)। পরবর্তীতে তিনি ‘আকাবা যারকা’ নামক স্থানে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন (৭)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস ৪৭ এবং দেখুন সালওয়াতুল আনফাস, যা আদ-দাওহা ২/ ১৫৪ থেকে উদ্ধৃত।

(২) শাজারাতুন নূর ১/ ২৭৩ - ২৭৪।

(৩) জাযওয়াতুল ইকতিবাস: ১/ ১৫৬।

(৪) আরসাহ হলো ভূমির সেই অংশ যেখানে কোনো দালানকোঠা নেই। আল-মিসবাহ।

(৫) দাওহাতুন নাশির: ৪৭।

(৬) আমি বলছি: যতক্ষণ না তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়; কারণ আদ-দাওহার লেখক আমাদের কাছে স্পষ্ট করেছেন যে, এই আব্দুল ওয়াহিদ তাঁর রবের কাছে তিনটি জিনিস পাওয়ার জন্য দুআ করেছিলেন, যার মধ্যে একটি ছিল প্রচুর ধন-সম্পদ এবং তিনি তা লাভ করেছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ উত্তরাধিকারসূত্রে পাননি। দেখুন আদ-দাওহা: পৃ. ৫৪।

(৭) ফিহরিসুল মানজুর পৃ. ৫০, এবং সালওয়াতুল আনফাস (মানজুর থেকে উদ্ধৃত) ২/ ১৫৪।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الفصْل الثاني

شيوخه:

أخذ أبو العباس الونشريسي عن شيوخ تلمسان وسأذكر بعضهم معرفًا بهم باختصار؛ لأن التلميذ في الغالب أثر من آثار أستاذه وقد ضمنهم فهرسته في إجازته لابن عبد الجبار فمنهم: -

1) أبو الفضل قاسم بن سعيد بن محمد العقباني (1)، أحد الشيوخ المحققين النقاد، أخذ عن والده الإمام أبي عثمان وغيره. حصل له درجة الاجتهاد ولي قضاء تلمسان، وعنه أخذ خلق كثير، منهم ابنه أبو سالم وابن زكري وابن مرزوق الكفيف والونشريسي الذي يصفه بشيخنا وشيخ شيوخنا، له تعليق على ابن الحاجب الفرعي، ومختصر في أصول الدين. توفي سنة 854 هـ.

2) أبو سالم إِبراهيم بن قاسم العقباني، وهو ابن الإِمام قاسم السابق، وصفه الونشريسي بقوله: شيخنا الإِمام القاضي الفاضل. أخذ عن والده وغيره وتولى قضاء تلمسان توفي سنة 880 هـ (2).

--------------------------------------------

(1) له ترجمة في: أحمد بابا: نيل الابتهاج 223، 224.

الونشريسي: الوفيات: 144.

الحفناوي: تعريف الخلف 1/ 90، 91.

محمد بن مخلوف: شجرة النور 1/ 255.

ابن القاضي: لقط الفرائد 253.

(2) الونشريسي: الوفيات ص 150.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

তাঁর শিক্ষকগণ:

আবু আল-আব্বাস আল-ওয়ানশারীসী তিলিমসানের শায়খদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। আমি তাদের কয়েকজনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি উল্লেখ করব; কারণ ছাত্র সাধারণত তার শিক্ষকেরই প্রভাবের প্রতিফলন হয়ে থাকে। ইবনে আবদ আল-জাব্বারকে প্রদানকৃত তাঁর ইজাজতনামা বা সনদের নির্ঘণ্টে তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:-

১) আবু আল-ফাদল কাসিম বিন সাঈদ বিন মুহাম্মাদ আল-উকবানী (১), তিনি অন্যতম অভিজ্ঞ গবেষক ও সমালোচক শায়খ ছিলেন। তিনি তাঁর পিতা ইমাম আবু উসমান এবং অন্যদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি ইজতিহাদের স্তরে উপনীত হয়েছিলেন এবং তিলিমসানের বিচারকের (কাজী) দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নিকট থেকে অসংখ্য লোক জ্ঞান অর্জন করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর পুত্র আবু সালিম, ইবনে যাকারি, ইবনে মারযুক আল-কাফীফ এবং আল-ওয়ানশারীসী; যিনি তাঁকে "আমাদের শায়খ এবং আমাদের শায়খদের শায়খ" হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইবনে আল-হাজিবের ফিকহী গ্রন্থের (আল-ফারয়ী) উপর তাঁর একটি টীকা এবং উসুল আদ-দীনের উপর একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ (মুখতাসার) রয়েছে। তিনি ৮৫৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

২) আবু সালিম ইবরাহীম বিন কাসিম আল-উকবানী, তিনি পূর্বোল্লিখিত ইমাম কাসিমের পুত্র। আল-ওয়ানশারীসী তাঁর বর্ণনায় বলেছেন: "আমাদের শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ বিচারক"। তিনি তাঁর পিতা ও অন্যদের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন এবং তিলিমসানের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৮৮০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (২)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে: আহমাদ বাবা: নায়লুল ইবতিহাজ ২২৩, ২২৪।

আল-ওয়ানশারীসী: আল-ওয়াফায়াত: ১৪৪।

আল-হাফনাওয়ী: তারিফুল খালাফ ১/ ৯০, ৯১।

মুহাম্মাদ বিন মাখলুফ: শাজরাতুন নূর ১/ ২৫৫।

ইবনুল কাজী: লাকতুল ফারাঈদ ২৫৩।

(২) আল-ওয়ানশারীসী: আল-ওয়াফায়াত পৃষ্ঠা ১৫০।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ২৯)
3) أبو عبد الله محمد بن أحمد بن قاسم العقباني حفيد الإمام أبي الفضل.

أخذ عن جده الإمام قاسم وغيره، تولى قضاء مدينة تلمسان. توفي سنة 871 هـ (1).

4) أبو عبد الله محمد بن العباس بن محمد بن عيسى العبادي (2)، شهر بابن العباس (3)، من أكابر علماء تلمسان. أخذ عن ابن مرزوق الحفيد، وقاسم العقباني وغيرهما، وعنه خلق، منهم: المازوني وابن زكري والتنسيي والكفيف وغيرهم، وصفه الونشريسي في وفياته بـ (شيخ المفسرين والنحاة العالم على الإِطلاق شيخ شيوخنا) (4). توفي سنة 871 هـ (5).

5) أبو عبد الله محمد بن علي بن قاسم الأنصاري شهر بالمري، وصفه الونشريسي بـ "شيخنا ومفيدنا المقدم" توفي سنة 864 (6).

6) أبو عبد الله محمد بن قاسم بن محمد بن أحمد بن محمد القوري، شيخ الجماعة بفاس، أندلسي الأصل. أخذ عن أبي موسى عمران الجاناتي، وابن جابر الغساني، روى عنه البخاريَّ بسنده لمؤلفه، وأبي عبد الله الحاج عزوز وغيرهم، وعنه ابن غازي وأبو الحسن الزقاق والقاضي المكناسي والونشريسي مكاتبة (7) توفي سنة 872 هـ (8).

--------------------------------------------

(1) له ترجمة في: أحمد بابا: نيل الابتهاج 57، ابن القاضي: لقط الفرائد 266 وقد ورد خطأ ص 224 أنه من وفيات 808 والصحيح أن هذا تاريخ مولده. الحفناوي: تعريف الخلف 2/ 10، محمد بن مخلوف: شجرة النور 1/ 265.

(2) له ترجمة في: أحمد بابا: نيل الابنهاج 318، ابن القاضي: لقط الفرائد ص 262، الونشريسي: الوفيات ص 148.

(3) انظر المنجور الفهرس ص 12، 50 والكتاني فهرس الفهارس جـ 2/ 1122، ترجمة رقم 633.

(4) لا تثير هذه العبارة قلقًا بالنسبة لأخذ الونشريسي عنه، إذ قد صرح بمشيخته في مواضع من المعيار كما أن مترجميه كلهم تقريبًا يذكرونه من مشائخه.

(5) له ترجمة في: الونشريسي: الوفيات 148، محمد مخلوف: شجرة النور 1/ 264.

(6) انظر الونشريسي: الوفيات ص 145 وابن القاضي لقط الفرائد ص 258.

(7) سأله عن مسائل فأجابه عنها أثبت بعضها في المعيار فانظره 3/ 372، 377.

(8) له ترجمة في: الونشريسي: الوفيات 149.

ابن القاضي: درة الحجال 2/ 295، 296 جذوة الاقتباس 1/ 319.

أحمد بابا: نيل الابتهاج 318، 320.

محمد مخلوف: شجرة النور 1/ 261. =
৩) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন কাসিম আল-উকবানি, ইমাম আবুল ফদলের নাতি।

তিনি তাঁর দাদা ইমাম কাসিম ও অন্যদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তিলিমসান নগরের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৮৭১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন (১)।

৪) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-আব্বাদি (২), যিনি ইবনুল আব্বাস নামে পরিচিত (৩), তিনি তিলিমসানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন। তিনি ইবনে মারজুক আল-হাফিদ, কাসিম আল-উকবানি ও অন্যদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর নিকট থেকে একদল আলেম জ্ঞান অর্জন করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: আল-মাযূনি, ইবনে যাকরি, আত-তানাসি, আল-কাফিফ প্রমুখ। আল-ওয়ানশারিসি তাঁর ওফাতনামায় তাঁকে "মুফাসসির ও ব্যাকরণবিদদের শায়খ, নিরঙ্কুশভাবে সমকালীন শ্রেষ্ঠ আলেম এবং আমাদের শায়খদের শায়খ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন (৪)। তিনি ৮৭১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন (৫)।

৫) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন কাসিম আল-আনসারি, যিনি আল-মাররি নামে পরিচিত। আল-ওয়ানশারিসি তাঁকে "আমাদের শায়খ ও অগ্রগণ্য উপকারী উস্তাদ" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ৮৬৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (৬)।

৬) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-কুরি, ফাস নগরীর আল-জামাআ-এর শায়খ, বংশগতভাবে তিনি আন্দালুসীয়। তিনি আবু মুসা ইমরান আল-জানতি এবং ইবনে জাবির আল-গাসসানি-এর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর সনদে বুখারি বর্ণনা করেছেন এর মূল লেখকের ধারা পর্যন্ত, আরও বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাজ্জ আজ্জুজ ও অন্যদের নিকট থেকে। তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন ইবনে গাজী, আবুল হাসান আয-যাক্কাক, কাযী আল-মিকনাসি এবং পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে আল-ওয়ানশারিসি (৭)। তিনি ৮৭২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (৮)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে: আহমদ বাবা: নাইলুল ইবতিহাজ ৫৭, ইবনুল কাদি: লাকতুল ফারাঈদ ২৬৬। উল্লেখ্য যে, ২২৪ পৃষ্ঠায় ভুলবশত তাঁকে ৮০৮ সনে মৃত্যুবরণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু সঠিক তথ্য হলো এটি তাঁর জন্ম সাল। হাফনাভি: তারিফুল খালাফ ২/১০, মুহাম্মদ বিন মাখলুফ: শাজারাতুন নূর ১/২৬৫।

(২) তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে: আহমদ বাবা: নাইলুল ইবতিহাজ ৩১৮, ইবনুল কাদি: লাকতুল ফারাঈদ ২৬২, আল-ওয়ানশারিসি: আল-ওয়াফায়াত ১৪৮।

(৩) দেখুন: আল-মানজুর আল-ফিহরিস ১২, ৫০ এবং আল-কাত্তানি ফিহরিসুল ফাহারিস ২য় খণ্ড/১১২২, জীবনী নং ৬৩৩।

(৪) এই উক্তিটি আল-ওয়ানশারিসির তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের বিষয়ে কোনো সংশয় সৃষ্টি করে না, কারণ তিনি আল-মি'য়ার-এর বিভিন্ন স্থানে তাঁর শায়খ হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর প্রায় সকল জীবনীকারই তাঁকে তাঁর শায়খদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

(৫) তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে: আল-ওয়ানশারিসি: আল-ওয়াফায়াত ১৪৮, মুহাম্মদ মাখলুফ: শাজারাতুন নূর ১/২৬৪।

(৬) দেখুন: আল-ওয়ানশারিসি: আল-ওয়াফায়াত ১৪৫ এবং ইবনুল কাদি: লাকতুল ফারাঈদ ২৫৮।

(৭) তিনি তাঁকে কিছু মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং তিনি তার উত্তর দিয়েছিলেন, যার কিছু অংশ তিনি আল-মি'য়ার-এ নথিভুক্ত করেছেন; দেখুন ৩/৩৭২, ৩৭৭।

(৮) তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে: আল-ওয়ানশারিসি: আল-ওয়াফায়াত ১৪৯।

ইবনুল কাদি: দুররাতুল হিজাল ২/২৯৫, ২৯৬; জাযওয়াতুল ইক্তিাবাস ১/৩১৯।

আহমদ বাবা: নাইলুল ইবতিহাজ ৩১৮, ৩২০।

মুহাম্মদ মাখলুফ: শাজারাতুন নূর ১/২৬১। =
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ৩০)
7) أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عيسى شهر بالجلاب، أخذ عنه جماعة منهم السنوسي. وصفه الونشريسي في وفياته بـ (شيخنا المحصل الحافظ) توفي سنة 875 هـ (1).

8) أبو عبد الله محمد بن محمد بن أحمد بن مرزوق عرف بالكفيف، ولد سنة 824 هـ. أخذ العلم عن جماعة منهم أبوه ابن مرزوق الحفيد، وعليه تفقه، وأبو الفضل ابن الإِمام، والإِمام قاسم العقباني، وعبد الرحمن الثعالبي، وأبو عبد الله محمد بن قاسم المشذالي وغيرهم. وأخذ عنه جماعة. وصفه الونشريسي في وفياته بـ (شيخنا الفقيه الحافظ الخطيب المصقع). توفي سنة 901 هـ (2).

9) أبو العباس أحمد بن محمد بن زكري المانوي التلمساني. أخذ عن الإِمام ابن مرزوق وقاسم العقباني وأحمد زاغو. وعنه جماعة منهم: أحمد زروق، وابن مرزوق حفيد الحفيد، وابن العباس وغيرهم. من تآليفه، بغية الطالب في شرح عقيدة ابن الحاجب ومنظومة طويلة في علم الكلام. توفي سنة 899 هـ (3).

10) أبو عبد الله محمد بن محمد بن حرزوزة من آل عبد القيس يصفه الونشريسي بـ (شيخنا الفقيه الأصولي الخطيب الأكمل) (4). توفي سنة 883 هـ (5).

11) أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عبد الله اليفرني، شهر بالمكناسي، قاضي الجماعة بفاس. نقلت إلينا كتب التراجم أن الونشريسي بعد وصوله إلى فاس، كان على الرغم من علمه، يحضر مجالسه. أخذ عن القوري وغيره. له

--------------------------------------------

= محمد الكتاني: سلوة الأنفاس 2/ 116 / 118.

(1) له ترجمة في: الونشريسي: الوفيات ص 149، أحمد بابا: نيل الابتهاج ص 321، محمد بن مخلوف: شجرة النور 1/ 264، الحفناوي: تعريف الخلف 1/ 127 / 128.

(2) له ترجمة في: الونشريسي: الوفيات ص 154، أحمد بابا: نيل الابتهاج ص 330، ابن القاضي: لقط الفرائد ص 275، محمد بن مخلوف: شجرة النور 1/ 268، الحفناوي: تعريف الخلف 1/ 149.

(3) له ترجمة في: الونشريسي: الوفيات ص 153، أحمد بابا: نيل الابتهاج ص 84، الحفناوي تعريف الخلف: 1/ 42 - 45.

(4) لم يذكر أحد ممن ترجم للونشريسي، فيما أعلم، أن ابن حرزوزة من شيوخه إلا أنه يصرح في وفياته بأنه شيخه.

(5) انظر الونشريسي: الوفيات ص 151، ابن القاضي: لقط الفرائد ص 267.
৭) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ঈসা, যিনি আল-জাল্লাব নামে পরিচিত। একদল আলেম তার নিকট হতে জ্ঞান গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে আস-সানুসী অন্যতম। আল-ওয়ানশারীসী তার 'ওফাইয়াত' গ্রন্থে তাকে "আমাদের শায়খ, গবেষক ও হাফেজ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৮৭৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (১)।

৮) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মারজুক, যিনি আল-কাফীফ নামে পরিচিত। তিনি ৮২৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার পিতা ইবনে মারজুক আল-হাফিদ (যার নিকট তিনি ফিকহ শাস্ত্র অধ্যায়ন করেছেন), আবুল ফজল ইবনুল ইমাম, ইমাম কাসেম আল-উকবানী, আবদুর রহমান আস-সাআলিবি, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে কাসেম আল-মাশজালীসহ আরও অনেকের নিকট হতে শিক্ষা লাভ করেছেন। তার নিকট হতে একদল শিক্ষার্থী জ্ঞান অর্জন করেছেন। আল-ওয়ানশারীসী তার 'ওফাইয়াত' গ্রন্থে তাকে "আমাদের শায়খ, ফকিহ, হাফেজ ও সুনিপুণ বাগ্মী খতিব" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৯০১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (২)।

৯) আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আল-মানাউয়ি আত-তিলিমসানি। তিনি ইমাম ইবনে মারজুক, কাসেম আল-উকবানী এবং আহমদ যাগু-এর নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন। তার নিকট হতে শিক্ষা গ্রহণকারীদের মধ্যে আহমদ যাররুক, ইবনে মারজুক হাফিদ আল-হাফিদ এবং ইবনুল আব্বাসসহ আরও অনেকে রয়েছেন। তার রচনাবলির মধ্যে রয়েছে 'আকিদাতু ইবনিল হাজিব'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'বুগইয়াতুত তালিব' এবং ইলমুল কালামের ওপর রচিত একটি দীর্ঘ কাব্যগ্রন্থ। তিনি ৮৯৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৩)।

১০) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হারজুযা, যিনি আব্দুল কায়েস গোত্রের বংশোদ্ভূত। আল-ওয়ানশারীসী তাকে "আমাদের শায়খ, ফকিহ, উসূলবিদ ও পূর্ণাঙ্গ খতিব" হিসেবে বর্ণনা করেছেন (৪)। তিনি ৮৮৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৫)।

১১) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ইফরানি, যিনি আল-মিকনাসি নামে পরিচিত, ফাসের প্রধান বিচারপতি (কাজি আল-জামাআ)। জীবনীগ্রন্থসমূহ হতে আমরা জানতে পারি যে, আল-ওয়ানশারীসী ফাসে পৌঁছানোর পর, তার অগাধ পাণ্ডিত্য থাকা সত্ত্বেও, তার জ্ঞানগর্ভ মজলিসসমূহে উপস্থিত হতেন। তিনি আল-কুরি ও অন্যদের নিকট হতে শিক্ষা লাভ করেছেন। তার

--------------------------------------------

= মুহাম্মদ আল-কাত্তানি: সালওয়াতুল আনফাস ২/১১৬/১১৮।

(১) তার জীবনী দ্রষ্টব্য: আল-ওয়ানশারীসী: আল-ওফাইয়াত পৃ. ১৪৯, আহমদ বাবা: নাইলুল ইবতিহাজ পৃ. ৩২১, মুহাম্মদ ইবনে মাখলুফ: শাজারাতুন নূর ১/২৬৪, আল-হাফনাউয়ি: তারিফুল খালাফ ১/১২৭/১২৮।

(২) তার জীবনী দ্রষ্টব্য: আল-ওয়ানশারীসী: আল-ওফাইয়াত পৃ. ১৫৪, আহমদ বাবা: নাইলুল ইবতিহাজ পৃ. ৩৩০, ইবনুল কাজি: লাকাতুল ফারাঈদ পৃ. ২৭৫, মুহাম্মদ ইবনে মাখলুফ: শাজারাতুন নূর ১/২৬৮, আল-হাফনাউয়ি: তারিফুল খালাফ ১/১৪৯।

(৩) তার জীবনী দ্রষ্টব্য: আল-ওয়ানশারীসী: আল-ওফাইয়াত পৃ. ১৫৩, আহমদ বাবা: নাইলুল ইবতিহাজ পৃ. ৮৪, আল-হাফনাউয়ি: তারিফুল খালাফ ১/৪২-৪৫।

(৪) আমার জানামতে, আল-ওয়ানশারীসীর জীবনীকারদের মধ্যে কেউ ইবনে হারজুযাকে তার শায়খদের অন্তর্ভুক্ত করেননি, তবে তিনি (ওয়ানশারীসী) স্বয়ং তার 'ওফাইয়াত' গ্রন্থে তাকে তার শায়খ হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

(৫) দেখুন আল-ওয়ানশারীসী: আল-ওফাইয়াত পৃ. ১৫১, ইবনুল কাজি: লাকাতুল ফারাঈদ পৃ. ২৬৭।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ৩১)
تأليف في القضاء. توفي بفاس سنة 917 هـ أو 918 هـ (1).

12) الغرابلي، ذكره كثير من مترجمي الونشريسي في عداد شيوخه (2) ولم أقف على ترجمته.

13) وقد ذكر الإِمام ابن غازي في فهرسته أن أبا العباس زروق (3) قد استجاز أبا عمرو عثمان بن محمد بن عثمان الديمي المصري له ولولده ولجماعة، ذكر من بينهم الونشريسي (4).

14) وانفرد صاحب الجذوة عن بقية المترجمين للونشريسي، فيما رأيت، فذكر أنه أخذ عن عيسى بن محمد بن محمد بن عبد الله بن الإِمام، وهذا وهم من ابن القاضي إذ أن عيسى هذا توفي سنة 750 هـ (5).

هؤلاء هم شيوخه الذين وقفت على أسمائهم وكلهم من بلده الذي نشأ فيه إلا عالمين، عدا من أجازه، وهما أبو عبد الله القوري، الذي كاتبه في فاس، حينما كان الونشريسي في تلمسان، والقاضي المكناسي، الذي حضر له مجالس بعد وصوله إلى فاس (6).

--------------------------------------------

(1) له ترجمة في: أحمد بابا: نيل الابتهاج 333، ابن القاضي: لقط الفرائد 282، محمد بن مخلوف: شجرة النور 1/ 275.

(2) انظر جذوة الاقتباس 1/ 157، البستان ص 53، وفهرس الفجور 50، ونيل الابتهاج ص 88، وسلوة الأنفاس 2/ 154، وتاريخ الجزائر العام 3/ 76. ولم يذكره من شيوخه صاحب شجرة النور، كما ذهب إلى ذلك سَهوًا الأستاذ أحمد الخطابي في حاشية رقم 38 ص 53 من إيضاح المسالك.

(3) أبو العباس أحمد زروق البرنسي الفاسي. توفي في مصراته سنة 889 هـ. انظر ترجمته في درة الحجال 1/ 90 - 91 نيل الابتهاج ص 84 - 87، شجرة النور: 1/ 267، وجذوة الاقتباس 1/ 128 - 131.

(4) انظر فهرس ابن غازي ص 128 تحقيق محمد الزاهي ط. دار المغرب- الدار البيضاء 1399 هـ - 1979 م.

(5) انظر جذوة الاقتباس ص 156. وانظر ترجمة عيسى ابن الإمام في نيل الابتهاج ص 166، 167.

(6) ذهبت الدكتورة وداد القاضي إلى أنه أخذ عن السنوسي ونسبت مصدر ذلك إلى فهرس المنجور والحقيقة أن المنجور يتحدث عن أحد تلاميذ الونشريسي وهو ابن عبد الجبار الورتد غيري فقال: إنه انفصل عنه (أي عن الونشريسي) قبل تمام التاسعة وأخذ عن أهل تلمسان أيضًا كالسنوسي وابن زكري فظنت أن الضمير في وأخذ يرجع إلى الونشريسي فقالت: إن الونشريسي أخذ عن السنوسي ولم يقل ذلك أحد فيما أعلم.

انظر المدرسة في المغرب ص 119، وفهرس المنجور ص 51. ثم أحالت على صفحة 74 من =
বিচারব্যবস্থা (কাজা) বিষয়ক রচনা। তিনি ৯১৭ হিজরি অথবা ৯১৮ হিজরিতে ফেজে মৃত্যুবরণ করেন (১)।

১২) আল-গুরাবিলি, ওয়ানশারিসির জীবনীকারদের মধ্যে অনেকেই তাকে ওয়ানশারিসির শিক্ষকদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন (২), তবে আমি তার কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি।

১৩) ইমাম ইবনে গাজি তার 'ফিহরিস' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আবুল আব্বাস জাররুক (৩) আবু আমর উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান আদ-দাইমি আল-মিসরির নিকট নিজের জন্য, তার সন্তানের জন্য এবং একদলের জন্য ইজাজত চেয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ওয়ানশারিসির (৪) নামও তিনি উল্লেখ করেছেন।

১৪) আমার দেখা মতে, 'আল-জাজওয়া' গ্রন্থের লেখক ওয়ানশারিসির অন্যান্য জীবনীকারদের থেকে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন; তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ওয়ানশারিসি ঈসা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল ইমামের নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন। এটি ইবনুল কাজির একটি বিভ্রান্তি, কারণ এই ঈসা ৭৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন (৫)।

এরা হলেন সেই সকল শিক্ষক যাদের নাম আমি জানতে পেরেছি। যারা তাকে ইজাজত দিয়েছেন তারা ব্যতীত বাকি সবাই তার নিজ শহরের যেখানে তিনি বেড়ে উঠেছেন। তবে দুইজন আলেম এর ব্যতিক্রম; একজন আবু আব্দুল্লাহ আল-কাওরি, যার সাথে তিনি ফেজ থেকে পত্রালাপ করতেন যখন ওয়ানশারিসি তিলিমসানে ছিলেন। আর অন্যজন হলেন কাজি আল-মিকনাসি, যার মজলিসে তিনি ফেজে পৌঁছানোর পর উপস্থিত হতেন (৬)।

--------------------------------------------

(১) তার জীবনী দ্রষ্টব্য: আহমদ বাবা: নাইলুল ইবতিহাজ ৩৩৩, ইবনুল কাজি: লাকতুল ফাওয়াইদ ২৮২, মুহাম্মদ বিন মাখলুফ: শাজারাতুন নূর ১/ ২৭৫।

(২) দেখুন: জাজওয়াতুল ইক্তিবাস ১/ ১৫৭, আল-বুস্তান পৃষ্ঠা ৫৩, ফিহরিসুল ফুজুর ৫০, নাইলুল ইবতিহাজ পৃষ্ঠা ৮৮, সালওয়াতুল আনফাস ২/ ১৫৪ এবং তারিখুল জাজায়ির আল-আম ৩/ ৭৬। 'শাজারাতুন নূর' গ্রন্থের লেখক তাকে ওয়ানশারিসির শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করেননি, যেমনটি অধ্যাপক আহমদ আল-খাত্তাবি 'ইদাহুল মাসালিক'-এর ৫৩ পৃষ্ঠার ৩৮ নম্বর টীকায় ভুলবশত উল্লেখ করেছেন।

(৩) আবুল আব্বাস আহমদ জাররুক আল-বুরনুসি আল-ফাসি। তিনি ৮৮৯ হিজরিতে মিসরাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তার জীবনী দ্রষ্টব্য: দুররাতুল হিজাল ১/ ৯০-৯১, নাইলুল ইবতিহাজ পৃষ্ঠা ৮৪-৮৭, শাজারাতুন নূর: ১/ ২৬৭ এবং জাজওয়াতুল ইক্তিবাস ১/ ১২৮-১৩১।

(৪) দেখুন: ফিহরিসু ইবনে গাজি পৃষ্ঠা ১২৮, তাহকিক: মুহাম্মদ আজ-জাহি, প্রকাশনা: দারুল মাগরিব- কাসাব্লাঙ্কা, ১৩৯৯ হি. - ১৯৭৯ খ্রি.।

(৫) দেখুন: জাজওয়াতুল ইক্তিবাস পৃষ্ঠা ১৫৬। আর ঈসা ইবনুল ইমামের জীবনী দেখুন নাইলুল ইবতিহাজ পৃষ্ঠা ১৬৬, ১৬৭।

(৬) ডক্টর উইদাদ আল-কাজি এই মত পোষণ করেছেন যে, ওয়ানশারিসি সানুসির নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং এর উৎস হিসেবে তিনি 'ফিহরিসুল মানজুর'-এর কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, আল-মানজুর ওয়ানশারিসির একজন ছাত্র ইবনে আব্দুল জাব্বার আল-ওয়ারতাদগিরি সম্পর্কে কথা বলছিলেন; তিনি বলেন যে, তিনি (অর্থাৎ ইবনে আব্দুল জাব্বার) নয় বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তার (ওয়ানশারিসির) কাছ থেকে পৃথক হয়ে যান এবং তিলিমসানের অধিবাসীদের কাছ থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেন, যেমন সানুসি এবং ইবনে জাকারি। ফলে তিনি (উইদাদ আল-কাজি) ধারণা করেছেন যে, 'শিক্ষা গ্রহণ করেন' ক্রিয়াটির সর্বনাম ওয়ানশারিসির দিকে ফিরেছে। তাই তিনি বলেছেন যে, ওয়ানশারিসি সানুসির নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, অথচ আমার জানামতে অন্য কেউ এ কথা বলেননি।

দেখুন: আল-মাদরাসাতু ফিল মাগরিব পৃষ্ঠা ১১৯ এবং ফিহরিসুল মানজুর পৃষ্ঠা ৫১। এরপর তিনি পৃষ্ঠা ৭৪-এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন...
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ৩২)
ووُجِدَتْ حديثًا وثيقة (1) نقلت من خط الونشريسي، وهي عبارة عن تقريض ومدح للدرر المكنونة في نوازل مازونة مكتوبة على نسخة من هذا الكتاب يقول ناسخه: إنه نقله من خط الونشريسي، وفي هذا التقريض يصف الونشريسي أبا زكريا يحيى المازوني بشيخنا ومفيدنا وملاذنا إلى آخره. ولم يذكره أحد في عداد شيوخه فيما علمت.

--------------------------------------------

= فهرس المنجور وليس فيها أي شيء يتعلق بارتباط السنوسي بالونشريسي إلا قوله ووفاته قريبة من وفاة شيخنا أبي محمد الونشريسي، وهو يتحدث عن ابن جيدة، ولم يستطع تحديد وفاته بالضبط، فقال عبارته السابقة. والشيخ أبو محمد هو عبد الواحد بن أحمد الونشريسي كما هو معروف.

(1) كان ذلك سنة 1964 م بعد استقلال الجزائر اكتشفها المرحوم الشيخ نعيم النعيمي، إذ استعار نسخة من هذه النوازل من خزانة الشيخ عبد القادر بن يسعد بقرية الدية ناحية قلعة بني راشد. انظر مجلة الأصالة 83، 84، المهدي البوعبدلي: الجوانب المجهولة في ترجمة الونشريسي صفحة 26، 27.
সম্প্রতি আল-ওয়ানশারিসির হস্তলিপি থেকে অনুলিপি করা একটি দলিল (১) পাওয়া গিয়েছে, যা মূলত এই কিতাবের একটি পাণ্ডুলিপির ওপর লিখিত 'আদ-দুরার আল-মাকনুনাহ ফি নাওয়াযিল মাযুনাহ' গ্রন্থের একটি প্রশংসাপত্র ও স্তুতিবাক্য। এর লিপিকার বলেন: তিনি এটি আল-ওয়ানশারিসির হস্তলিপি থেকে নকল করেছেন। এই প্রশংসাপত্রে আল-ওয়ানশারিসি আবু যাকারিয়া ইয়াহিয়া আল-মাযুনিকে 'আমাদের শায়খ, আমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী এবং আমাদের আশ্রয়স্থল' ইত্যাদি বিশেষণে বর্ণনা করেছেন। আমার জানামতে কেউই তাকে তাঁর শায়খদের তালিকায় উল্লেখ করেননি।

--------------------------------------------

= আল-মানজুর-এর সূচিপত্র; এতে আল-ওয়ানশারিসির সাথে আস-সানুসির সম্পর্কের ব্যাপারে তেমন কিছুই নেই, কেবল তাঁর এই উক্তিটি ছাড়া যে, 'তাঁর মৃত্যু আমাদের শায়খ আবু মুহাম্মদ আল-ওয়ানশারিসির মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে'। তিনি মূলত ইবনে জাইদাহ সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর সঠিক সময় নির্ধারণ করতে না পেরে পূর্বোক্ত বাক্যটি বলেছিলেন। আর শায়খ আবু মুহাম্মদ হলেন আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমদ আল-ওয়ানশারিসি, যেমনটি সুপরিচিত।

(১) এটি ১৯৬৪ সালে আলজেরিয়ার স্বাধীনতার পরবর্তী ঘটনা, যা মরহুম শায়খ নাইম আল-নুয়াইমি আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি কায়লাত বনী রাশিদ অঞ্চলের আদ-দিয়াহ গ্রামের শায়খ আব্দুল কাদির বিন ইয়াসআদ-এর ব্যক্তিগত কুতুবখানা থেকে এই 'নাওয়াযিল'-এর একটি পাণ্ডুলিপি ধার নিয়েছিলেন। দেখুন: আল-আসালাহ ম্যাগাজিন ৮৩, ৮৪; আল-মাহদী আল-বুআবদালী: 'আল-জাওয়ানিিব আল-মাজহুলাহ ফি তারজামাতি আল-ওয়ানশারিসি', পৃষ্ঠা ২৬, ২৭।
(খণ্ড: ১) ইদ্দাতুল বুরুক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাবি মিনাল জুমূয়ি ওয়াল ফুরুক (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الفصْل الثالث

مكَانته العِلميّة وتلَاميذه:

في هذا الفصل سأحاول أن أجيب عن ثلاثة أسئلة: كيف كان الونشريسي يقضي وقته بعد وصوله إلى فاس؟ ما هي العلوم التي كان يدرّسها؟ كيف كانت مكانته عند علماء عصره؟

سبق أن تحدثت -أثناء الكلام عن الحالة السياسية في الجزائر- عن رحيله إلى فاس، ولا نعلم سبب اختياره لهذه المدينة كمقر جديد، والذي يظهر كسبب معقول هو أن فاسًا تتوفر له فيها ثلاثة أشياء: أولها قرب المسافة من تلمسان، خصوصًا وأنه في ذلك الوقت كانت تنتشر الاضطرابات والفتن هنا وهناك، ولا أقول إن بلدة فاس مطمئنة هادئة، ولكنها قريبة، فهي أقرب مدينة علم من تلمسان.

ثانيها: كثرة العلماء بها (1) إذ يمكنه تعويض -ولو إلى حد ما- جو بلده تلمسان.

ثالثها: أن شهرته هناك سبقته (2) إذ قد سبق أن كاتب بعض علمائها عندما كان في تلمسان (3)، ولذا لما وصل مدينة فاس كانت ضيافته جاهزة (4).

--------------------------------------------

(1) ويكفي أن نذكر منهم ابن غازي والقاضي المكناس وزروق.

(2) انظر المعيار 3/ 372، 377.

(3) أبو عبد الله القوري. راجع قائمة شيوخه في الفصل السابق.

(4) يذكر لنا ابن القاضي عن شيخه أبي راشد "أنه لما قدم (الونشريسي) مدينة فاس نزل على الأستاذ محمد الصغير وعمل له في القرى مخفية من الكسكسو عليها الموز وهو السلوى على قول". جذوة الاقتباس القسم الأول ص 156 - 157.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

তাঁর ইলমি মর্যাদা ও তাঁর ছাত্রগণ:

এই পরিচ্ছেদে আমি তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব: ফেজে পৌঁছানোর পর আল-ওয়ানশারিসি কীভাবে তাঁর সময় অতিবাহিত করতেন? তিনি কোন কোন শাস্ত্র শিক্ষা দিতেন? তাঁর যুগের আলেমদের নিকট তাঁর মর্যাদা কেমন ছিল?

ইতিপূর্বে আলজেরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনার সময় আমি তাঁর ফেজে গমনের বিষয়ে কথা বলেছি। কেন তিনি এই শহরকে নতুন আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তার সঠিক কারণ আমাদের জানা নেই। তবে একটি যুক্তিসঙ্গত কারণ হিসেবে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, ফেজ শহরে তাঁর জন্য তিনটি বিষয় বিদ্যমান ছিল: প্রথমত, তিলিমসান থেকে এর দূরত্ব নিকটবর্তী হওয়া। বিশেষ করে সেই সময়ে এখানে-সেখানে অস্থিরতা ও ফিতনা ছড়িয়ে পড়েছিল। আমি বলছি না যে ফেজ শহরটি একদম শান্ত ও স্থিতিশীল ছিল, তবে এটি তিলিমসানের সবচেয়ে কাছের ইলমি শহর হিসেবে নিকটবর্তী ছিল।

দ্বিতীয়ত: সেখানে আলেমদের আধিক্য (১), যার ফলে তিনি তাঁর নিজ দেশ তিলিমসানের ইলমি পরিবেশের অভাব—অন্তত কিছুটা হলেও—পূরণ করতে পারতেন।

তৃতীয়ত: সেখানে পৌঁছানোর পূর্বেই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল (২), কারণ তিনি যখন তিলিমসানে ছিলেন তখনই সেখানের কিছু আলেমের সাথে পত্রালাপ করেছিলেন (৩)। আর এই কারণেই তিনি যখন ফেজ শহরে পৌঁছান, তখন তাঁর জন্য আতিথেয়তা প্রস্তুত ছিল (৪)।

--------------------------------------------

(১) তাঁদের মধ্যে ইবনে গাজী, কাযী মিকনাসি এবং যাররুক-এর নাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট।

(২) দেখুন: আল-মিইয়ার ৩/৩৭২, ৩৭৭।

(৩) আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরি। পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে তাঁর উস্তাদদের তালিকাটি পুনরায় দেখুন।

(৪) ইবনুল কাযী তাঁর উস্তাদ আবু রাশিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, “যখন (আল-ওয়ানশারিসি) ফেজ শহরে আগমন করেন, তখন তিনি উস্তাদ মুহাম্মদ আস-সাগীরের মেহমান হন। তিনি তাঁর আতিথেয়তায় কলা দেওয়া কুসকুসুর একটি বিশেষ খাবার প্রস্তুত করেন, যা একটি মতানুসারে আস-সালওয়া।” জাযওয়াতুল ইকতিবাস, প্রথম অংশ, পৃষ্ঠা ১৫৬ - ১৫৭।