(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: -)
الإيمان الأوسط - ط ابن الجوزي   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح حديث جبريل - عليه السلام - في الإسلام والإيمان والإحسان المعروف باسم كتاب «الإيمان الأوسط»

المؤلف: أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية

دراسة وتحقيق: الدكتور علي بن بخيت الزهراني

أصل التحقيق: أطروحة دكتوراه - قسم الدراسات العليا الشرعية فرع العقيدة بجامعة أم القرى

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

عام النشر: 1423 هـ

عدد الصفحات: 670

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 3 رمضان 1440

আল-ঈমান আল-আওসাত - ইবনুল জাওযী সংস্করণ   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: ইসলাম, ঈমান ও ইহসান বিষয়ক জিবরীল - আলাইহিস সালাম - এর হাদিসের ব্যাখ্যা, যা «আল-ঈমান আল-আওসাত» নামে পরিচিত

লেখক: আহমাদ বিন আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ

গবেষণা ও সম্পাদনা: ডক্টর আলী বিন বাখীত আয-যাহরানী

সম্পাদনার উৎস: পিএইচডি থিসিস - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ উচ্চশিক্ষা বিভাগ, আকিদাহ শাখা

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযী প্রকাশনা ও বিতরণ, সৌদি আরব রাজত্ব

প্রকাশের বছর: ১৪২৩ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৩ রমজান ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: -)
شرح حديث جبريل عليه السلام في الإسلام والإيمان والإحسان

المعروف باسم كتاب «الإيمان الأوسط»

 

تأليف

شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية

 

دراسة وتحقيق

الدكتور علي بن بخيت الزهراني
ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান বিষয়ে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর হাদীসের ব্যাখ্যা

যা ‘কিতাবুল ঈমান আল-আওসাত’ নামে পরিচিত

 

রচনা

শায়খুল ইসলাম আহমদ বিন আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ

 

গবেষণা ও সম্পাদনা

ডক্টর আলী বিন বাখীত আয-যাহরানী
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৩)
[أصل هَذَا الْكتاب رِسَالَة علمية تقدَّم بهَا مؤلفها إِلَى قسم الدراسات الْعليا الشَّرْعِيَّة فرع العقيدة بجامعة أم الْقرى، وتمَّت مناقشتها بتاريخ 17/ 2/ 1420 هـ، ونال الْمُؤلف بهَا دَرَجَة الدكتوراه فِي الشَّرِيعَة الإسلامية فرع العقيدة بِتَقْدِير ممتاز مَعَ التوصية بطبع الرسَالَة]
[এই গ্রন্থের মূল ভিত্তি হলো একটি গবেষণাপত্র যা এর লেখক উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শরীয়াহ শিক্ষা বিভাগের আকীদা শাখায় পেশ করেছেন। ১৭/০২/১৪২০ হিজরি তারিখে এটি পর্যালোচিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে লেখক ইসলামী শরীয়াহর আকীদা শাখায় 'মুমতাজ' ফলাফলসহ ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন, সাথে গবেষণাপত্রটি মুদ্রণের সুপারিশও করা হয়েছে।]
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة

الحمد لله الذي جعل في كل زمان فترة من الرسل بقايا من أهل العلم، يدعون من ضل إلى الهدى، ويصبرون منهم على الأذى، يحيون بكتاب الله الموتى، ويبصرون بنور الله أهل العمى، فكم من قتيل لإبليس قد أحيوه، وكما من ضال تائه قد هدوه، فما أحسن أثرهم على الناس، وأقبح أثر الناس عليهم، ينفون عن كتاب الله تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين.

والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين، وعلى آله وصحبه ومن تبعهم إلى يوم الدين، أما بعد: فإن خير ما صرفت فيه الأوقات، وبذلت فيه الجهود العناية بكتب العلماء المحققين من أهل السنّة والجماعة، لا سيما المتقدمين منهم، كشيخ الإسلام ابن تيمية يرحمه الله، والعكوف على مؤلفاتهم دراسة وتحقيقًا وتوضيحًا، والعمل الدؤوب لإحياء تراثهم العظيم، وتقديمه للأمة لتستنير به في طريق عودتها.

وقد منّ الله عز وجل في أثناء البحث عن موضوع، لتقديمه للحصول على درجة الدكتوراه، بالعثور على نسخة نادرة لكتاب عظيم من كتب شيخ الإسلام ابن تيمية الذي أثرى المكتبة الإسلامية -كما هو معروف- بحظ وافر من المصنفات القيمة، ومجموعة من المؤلفات النافعة، والتي لم تتأت إلا لقلة قليلة من العلماء، وهذا الكتاب هو كتاب "الإيمان الأوسط"، وبعد أن استخرت الله عز وجل، رغبت في تحقيق ودراسة هذا الكتاب الهام، لنيل درجة الدكتوراه من قسم العقيدة، وجعلت عنوان البحث هو: "كتاب الإيمان الأوسط" لشيخ الإسلام ابن تيمية: دراسة وتحقيق.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রত্যেক রাসূল প্রেরণের মধ্যবর্তী বিরতিকালীন সময়ে এমন কিছু অবশিষ্ট ইলমধারী ব্যক্তিকে রেখেছেন, যারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করেন। তারা আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে (আধ্যাত্মিকভাবে) মৃতদের সঞ্জীবিত করেন এবং আল্লাহর নূরের মাধ্যমে অন্ধদের দৃষ্টি দান করেন। ইবলিসের হাতে কত নিহত ব্যক্তিকে তারা জীবিত করেছেন এবং কত লক্ষ্যভ্রষ্ট পথহারা ব্যক্তিকে তারা সুপথ দেখিয়েছেন। মানুষের ওপর তাদের প্রভাব কতই না উত্তম, আর তাদের প্রতি মানুষের আচরণ কতই না নিকৃষ্ট! তারা আল্লাহর কিতাব থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং জাহিলদের অপব্যাখ্যা দূর করেন।

দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও বিচার দিবস পর্যন্ত যারা তাদের অনুসরণ করবেন তাদের সবার ওপর। অতঃপর: সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং প্রচেষ্টার সর্বোত্তম প্রয়োগ হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মুহাক্কিক (গবেষক) আলেমদের কিতাবসমূহের প্রতি যত্নশীল হওয়া, বিশেষ করে পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহের প্রতি—যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)। তাঁদের রচনাবলির অধ্যয়ন, তাহকীক (সম্পাদনা) ও ব্যাখ্যার কাজে আত্মনিয়োগ করা এবং তাঁদের মহান ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে নিরলস পরিশ্রম করা এবং উম্মাহর নিকট তা উপস্থাপন করা, যাতে উম্মাহ এর মাধ্যমে সঠিক পথে ফেরার আলো পেতে পারে।

পিএইচডি ডিগ্রির জন্য একটি বিষয় গবেষণার কাজ চলাকালীন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা অনুগ্রহ করেছেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর একটি মহান কিতাবের একটি বিরল পাণ্ডুলিপি পাওয়ার মাধ্যমে। শাইখুল ইসলাম—যেমনটি সর্বজনবিদিত—ইসলামী পাঠাগারকে অনেক মূল্যবান ও উপকারী রচনাবলির মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছেন, যা খুব অল্প সংখ্যক আলেমের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। এই কিতাবটি হলো "কিতাবুল ঈমান আল-আওসাত"। আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করার পর, আমি আকিদাহ বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ কিতাবটির তাহকীক ও গবেষণার ইচ্ছা পোষণ করি এবং গবেষণার শিরোনাম নির্ধারণ করি: "শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর কিতাবুল ঈমান আল-আওসাত: একটি গবেষণা ও সম্পাদনা।"
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৬)
ثم رأيت من خلال الدراسة أن اسم الكتاب الذي يترجح على غيره هو كتاب "شرح حديث جبريل عليه السلام في الإسلام والإيمان والإحسان" فاستدلته بالعنوان المشهور "الإيمان الأوسط" وذلك لأسباب عدة موضحة في المبحث الأخير من مباحث الدراسة.

أما الأسباب التي دعت إلى اختيار هذا الكتاب فهي على قسمين: أسباب عامة، وأسباب خاصة.

 

‌‌أما الأسباب العامة فهي:

أولًا: نفاسة المؤلفات التي خطتها يراعة شيخ الإسلام ابن تيمية، إذ كانت وما زالت مؤلفاته محط أنظار الباحثين، ومنتهى آمال الدارسين، بالإضافة أن ما كتبه شيخ الإسلام في موضوع الإيمان خصوصًا يتصدر قمة هذه المؤلفات أهمية ومكانة.

ثانيًا: أهمية موضوع الإيمان بين موضوعات العقيدة، وخطورته، وضلال كثير من الفرق في بابه، مما يجعل من الأهمية بمكان إبراز منهج السلف الصالح في هذا الموضوع، وتحديد معالم ذلك المنهج، وهو ما نجده مكنوزًا بين دفتي هذا السفر النفيس "شرح حديث جبريل".

ثالثًا: ضرورة تحديد كثير من المصطلحات المهمة المتصلة بالعقيدة، كمصطلح: الإيمان، والإسلام، والإحسان، والكفر، والنفاق، والزندقة، والفاسق وغيرها، والتي كثيرًا ما وقع اللبس وسوء الفهم فيها.

 

‌‌أما الأسباب الخاصة فهي:

أولًا: العثور على نسخة جديدة نسخت بعد موت المؤلف رحمه الله بخمسة عشر عامًا فقط، أي في عام (743 هـ).

ثانيًا: أن النسخة المطبوعة الموجودة في مجموع الفتاوى نسخة ناقصة ومخرومة من نهايتها، كما أشار إلى ذلك الشيخ عبد الرحمن بن قاسم رحمه الله (1).

--------------------------------------------

(1) الإيمان الأوسط (7/ 622)، ضمن مجموع الفتاوى.
অতঃপর আমি অধ্যয়নের মাধ্যমে দেখেছি যে, বইটির যে নামটি অন্যগুলোর ওপর প্রাধান্য পায় তা হলো "ইসলাম, ঈমান ও ইহসান বিষয়ে জিবরীল আলাইহিস সালামের হাদিসের ব্যাখ্যা" গ্রন্থ; তাই আমি একে প্রসিদ্ধ শিরোনাম "আল-ঈমান আল-আওসাত" দ্বারা নির্দেশ করেছি, আর তা অধ্যয়নের গবেষণার শেষ পরিচ্ছেদে বর্ণিত বেশ কিছু কারণে।

আর এই বইটি নির্বাচনের কারণসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত: সাধারণ কারণ এবং বিশেষ কারণ।

 

সাধারণ কারণসমূহ হলো:

প্রথমত: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার লেখনী থেকে নিঃসৃত রচনাবলির শ্রেষ্ঠত্ব; কেননা তাঁর রচনাবলি গবেষকদের দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু এবং শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষার স্থান ছিল এবং এখনো আছে। এর পাশাপাশি শাইখুল ইসলাম বিশেষ করে ঈমান বিষয়ে যা লিখেছেন, তা গুরুত্ব ও মর্যাদার দিক থেকে এই রচনাবলির শীর্ষে অবস্থান করে।

দ্বিতীয়ত: আকীদার বিষয়সমূহের মধ্যে ঈমান বিষয়ের গুরুত্ব ও এর স্পর্শকাতরতা এবং এ বিষয়ে বহু ফিরকার পথভ্রষ্টতা; যার ফলে এই বিষয়ে সালাফে সালেহীনের মানহাজকে ফুটিয়ে তোলা এবং সেই মানহাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। আর এটিই আমরা এই মূল্যবান গ্রন্থ "শারহু হাদিসি জিবরীল"-এর দুই মলাটের মাঝে পুঞ্জীভূত অবস্থায় পাই।

তৃতীয়ত: আকীদা সংশ্লিষ্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা সুনির্দিষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা, যেমন: ঈমান, ইসলাম, ইহসান, কুফর, নিফাক, যিনদাকাহ, ফাসিক এবং অন্যান্য পরিভাষা, যেগুলোতে প্রায়ই অস্পষ্টতা ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।

 

আর বিশেষ কারণসমূহ হলো:

প্রথমত: এমন একটি নতুন পাণ্ডুলিপি পাওয়া যাওয়া যা লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) মৃত্যুর মাত্র পনের বছর পর, অর্থাৎ ৭৪৩ হিজরি সালে অনুলিপি করা হয়েছিল।

দ্বিতীয়ত: মাজমুউল ফাতাওয়া-তে বিদ্যমান মুদ্রিত সংস্করণটি একটি অপূর্ণাঙ্গ সংস্করণ এবং এর শেষ দিকটি ত্রুটিযুক্ত, যেমনটি শাইখ আব্দুর রহমান বিন কাসিম রহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেছেন (১)।

--------------------------------------------

(১) আল-ঈমান আল-আওসাত (৭/৬২২), মাজমুউল ফাতাওয়া-এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭)
وبالمقارنة بين النسختين، وُجد أن هناك خرمًا كبيرًا، ونقصًا كثيرًا، يبلغ تسع لوحات من الموضع الذي أشار إليه ابن قاسم حتى نهاية الكتاب، وبهذا النقص فإن كلام المصنف عن الإحسان يكتمل، وبالتالي يكون الكتاب كاملًا.

وتمثل كل لوحة من المخطوط ثلاث صفحات من المطبوع، تكون هذه الزيادة في الكتاب على هذا الحساب (27) صفحة طباعية.

ثالثًا: كثرة الفروق بين المطبوع والمخطوط، فبالإضافة إلى هذه الزيادة النادرة في آخر الكتاب، فإن هناك فروقًا كثيرة مختلفة، حيت يوجد سقط في المطبوع، يصل في بعض الأحيان إلى أربعة أسطر متتابعة، هذا عدا التحريفات في المطبوع.

ويتكون البحث من مقدمة وقسمين:

المقدمة: وفيها أهمية الموضوع، وأسباب اختياره، ومنهج التحقيق.

القسم الأول: الدراسة، وتشتمل على تمهيد وعدة مباحث: التمهيد: موضوع الإيمان ومذاهب الطوائف فيه، وبيان الراجح منها، وقد تم فيه تعريف الإيمان في اللغة، وذكر مذاهب الناس فيه.

المبحث الأول: دراسة موجزة عن المؤلف، وقد قمت بترجمة مختصرة للمؤلف، وحاولت التركيز فيها على جوانب لم تلق حظها من العناية -حسب علمي- ومن ذلك التركيز على أسرته العلمية، وتلامذته الكثيرين.

المبحث الثاني: دراسة تحليلية وتفصيلية عن الكتاب، وهذا المبحث هو أهم مباحث الدراسة على الإطلاق، وقد جاء في سبع مسائل أصلية، وعدة مسائل فرعية.

أما المسائل الأصلية فقد رتبت على النحو التالي:

المسألة الأولى: أقسام الناس في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، وهم المؤمنون والكافرون والمنافقون.
দুইটি পাণ্ডুলিপির মধ্যে তুলনা করার মাধ্যমে এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, সেখানে একটি বড় ধরনের বিচ্যুতি এবং প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। ইবনে কাসিম যে স্থানের দিকে ইঙ্গিত করেছেন সেখান থেকে শুরু করে বইয়ের শেষ পর্যন্ত এই ঘাটতির পরিমাণ নয়টি পৃষ্ঠা। এই সংযোজনটির মাধ্যমে ইহসান সম্পর্কে লেখকের আলোচনা পূর্ণতা পায় এবং এর ফলে বইটি একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে।

পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পৃষ্ঠা মুদ্রিত সংস্করণের তিন পৃষ্ঠার সমান, সেই হিসেবে বইটিতে এই পরিবর্ধন মুদ্রিত আকারে ২৭ পৃষ্ঠা হবে।

তৃতীয়ত: মুদ্রিত সংস্করণ ও পাণ্ডুলিপির মধ্যে প্রচুর পার্থক্য বিদ্যমান। বইয়ের শেষে এই বিরল সংযোজনটি ছাড়াও সেখানে আরও অনেক বৈচিত্র্যময় পার্থক্য রয়েছে; যেখানে মুদ্রিত সংস্করণে অনেক ক্ষেত্রে বাদ পড়া অংশ দেখা যায়, যা কোনো কোনো স্থানে টানা চার লাইন পর্যন্ত পৌঁছেছে। মুদ্রিত সংস্করণের বিকৃতিগুলো তো এর বাইরে।

গবেষণাটি একটি ভূমিকা এবং দুটি খণ্ডে বিভক্ত:

ভূমিকা: এতে বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণ এবং সম্পাদনা পদ্ধতি আলোচিত হয়েছে।

প্রথম খণ্ড: গবেষণা; এটি একটি উপক্রমণিকা ও কয়েকটি পরিচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত। উপক্রমণিকা: ঈমানের বিষয়বস্তু এবং এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মতবাদ এবং তার মধ্য থেকে সঠিকটি স্পষ্টকরণ। এতে ঈমানের আভিধানিক সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে মানুষের বিভিন্ন মতবাদ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখক সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। আমি লেখকের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী উপস্থাপন করেছি এবং এতে এমন কিছু দিকের ওপর আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি যা—আমার জানামতে—যথেষ্ট মনোযোগ পায়নি। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর ইলমি পরিবার এবং তাঁর অসংখ্য ছাত্রের বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থটি সম্পর্কে একটি বিশ্লেষণাত্মক ও বিস্তারিত আলোচনা। এই পরিচ্ছেদটি এই গবেষণার সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি সাতটি মূল মাসআলা এবং কয়েকটি উপ-মাসআলা নিয়ে গঠিত।

মূল মাসআলাগুলো নিম্নোক্ত ক্রমে বিন্যস্ত করা হয়েছে:

প্রথম মাসআলা: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে মানুষের প্রকারভেদ; আর তারা হলো মুমিন, কাফির এবং মুনাফিক।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৮)
المسألة الثانية: تعريف النفاق والكلام عليه.

المسألة الثالثة: وجوب التفريق بين أحكام الظاهر وأحكام الباطن.

المسألة الرابعة: الخلاف في الإيمان، وكانت هذه المسألة أبرز المسائل الواردة في الكتاب، وقد تبلورت في تسعة موضوعات هي:

أولًا: أصل الخلاف في الإيمان.

ثانيًا: تقرير شبهات المخالفين في الإيمان.

ثالثًا: تفنيد تلك الشبهات.

رابعًا: الرد التفصيلي على آراء الفرق المخالفة في الإيمان.

خامسًا: مناقشة تحليلية لمذاهب المرجئة الذين أخرجوا الأعمال من الإيمان.

سادسًا: الرد على من قال بالمجاز في الإيمان.

سابعًا: حكم ترك جنس الأعمال.

ثامنًا: موقف المصنف من الخلاف بين السلف وبين مرجئة الفقهاء في الإيمان.

تاسعًا: الآثار المترتبة على الخلاف في الإيمان، وأبرز هذه الآثار: زيادة الإيمان ونقصانه، والاستثناء في الإيمان.

المسألة الخامسة: تقرير مذهب السلف في الإيمان.

المسألة السادسة: الفرق بين الإسلام والإيمان.

المسألة السابعة: الكلام على الإحسان.

وأما المسائل الفرعية (الاستطرادية) فهي عبارة عن مسألتين:

الأولى: تضمنت بعض الردود على الملاحدة من المتفلسفة وغلاة المتصوفة.

الثانية: كلام المصنف عن الأحاديث التي ذكر فيها الإسلام والإيمان، وتأصيل فهمها.
দ্বিতীয় মাসআলা: নিফাকের সংজ্ঞা এবং এর ওপর আলোচনা।

তৃতীয় মাসআলা: প্রকাশ্য বিধান ও অভ্যন্তরীণ বিধানের মাঝে পার্থক্য করার আবশ্যকতা।

চতুর্থ মাসআলা: ঈমান বিষয়ে মতভেদ। এই মাসআলাটি ছিল কিতাবে বর্ণিত বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, যা নয়টি প্রসঙ্গের ওপর ভিত্তি করে সুবিন্যস্ত হয়েছে, সেগুলো হলো:

প্রথমত: ঈমান বিষয়ে মতভেদের মূল ভিত্তি।

দ্বিতীয়ত: ঈমান বিষয়ে বিরোধীদের সংশয়সমূহ উপস্থাপন।

তৃতীয়ত: সেই সংশয়গুলোর খণ্ডন।

চতুর্থত: ঈমান বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর মতামতের বিস্তারিত জবাব।

পঞ্চমত: মুরজিয়াদের মাযহাবসমূহের ওপর বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা, যারা আমলকে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয় বলে গণ্য করেছে।

ষষ্ঠত: যারা ঈমানের ক্ষেত্রে রূপক হওয়ার কথা বলেছেন তাদের জবাব।

সপ্তমত: আমলের মূল প্রকার বর্জনের বিধান।

অষ্টমত: ঈমান বিষয়ে সালাফ এবং ফুক্বাহা মুরজিয়াদের মধ্যকার বিরোধের ব্যাপারে গ্রন্থকারের অবস্থান।

নবমত: ঈমান সংক্রান্ত মতভেদের ফলশ্রুতিতে উদ্ভূত বিষয়াদি; আর এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো: ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়া এবং ঈমানের ক্ষেত্রে ইস্তিসনা (ইনশাআল্লাহ বলা)।

পঞ্চম মাসআলা: ঈমান বিষয়ে সালাফদের মাযহাব উপস্থাপন।

ষষ্ঠ মাসআলা: ইসলাম ও ঈমানের মধ্যে পার্থক্য।

সপ্তম মাসআলা: ইহসান সম্পর্কে আলোচনা।

আর আনুষঙ্গিক (প্রাসঙ্গিক) মাসআলাসমূহ দুটি বিষয়ের সমষ্টি:

প্রথমটি: দার্শনিকদের মধ্য হতে নাস্তিকদের এবং চরমপন্থী সূফীদের ওপর কিছু জবাব অন্তর্ভুক্ত করেছে।

দ্বিতীয়টি: ঐ সকল হাদীস সম্পর্কে গ্রন্থকারের আলোচনা যেগুলোতে ইসলাম ও ঈমানের উল্লেখ এসেছে এবং সেগুলো অনুধাবনের মূলনীতি নির্ধারণ।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الثالث: المقارنة بين الكتاب، وبين كتاب "الإيمان الكبير"، وقد دارت معالم هذه المقارنة، حول الأسبق تأليفًا من الكتابين، وعرض المسائل فيهما، وما تميز به كتاب "شرح حديث جبريل" (الإيمان الأوسط) عن كتاب "الإيمان الكبير"، وختمت هذا المبحث بجواب على تساؤل يقول: هل هناك كتاب في الإيمان للمصنف يسمى "الإيمان الصغير"؟ .

المبحث الرابع: دراسة عن نسخ الكتاب المطبوع منها والمخطوط.

القسم الثاني: نص الكتاب.

وستكون هذه النسخة الجديدة هي النسخة الأصلية في البحث، بالإضافة إلى نسخة المكتبة المحمودية، هذا مع النسخة المطبوعة التي اعتمد عليها الشيخ عبد الرحمن بن قاسم في مجموع فتاوى شيخ الإسلام رحمه الله.

وهناك أيضًا نسخة تمثل "مختصر الكتاب" لم أتمكن من معرفة مؤلفها، استفدت منها في بعض الأحيان.

وقد رمزت للنسخ بالرموز التالية: النسخة المحمودية: "م"، والنسخة المطبوع: "ط"، والنسخة المختصرة: "ص".

أما عملي في المخطوط فقد كان على النحو التالي:

1 - عزو الآيات، وتخريج الأحاديث من مصادرها الأصلية، والحكم عليها من خلال أقوال أهل العلم.

2 - إثبات الفروق بين المطبوع ونسخ المخطوط؛ وإكمال الناقص في المطبوع.

3 - تصحيح بعض الكلمات، وحل بعض العبارات المشكلة.

4 - التعليق الموجز على أصول المسائل المهمة الواردة في الكتاب.

5 - ترجمة الأعلام غير المشهورين الذين ورد ذكرهم في الكتاب، والتعريف ببعض الفرق والنحل والعقائد الباطلة الواردة كذلك.

6 - عمل الفهارس العلمية.

وفي الختام: فلا يسعني إلا أن أرفع أكف الابتهال والحمد والشكر
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বর্তমান গ্রন্থ এবং 'আল-ঈমান আল-কাবীর' গ্রন্থের মধ্যে তুলনা। এই তুলনার মূল বিষয়বস্তু আবর্তিত হয়েছে গ্রন্থদ্বয়ের মধ্যে কোনটি আগে রচিত হয়েছে, সেগুলোতে মাসআলাসমূহের উপস্থাপনা এবং 'শারহু হাদিস জিবরীল' (আল-ঈমান আল-আওসাত) গ্রন্থটি 'আল-ঈমান আল-কাবীর' গ্রন্থ থেকে কোন কোন দিক দিয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত তার ওপর। আমি এই পরিচ্ছেদটি একটি প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি: লেখকের ঈমান বিষয়ক 'আল-ঈমান আস-সাগীর' নামে কি কোনো গ্রন্থ আছে? .

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি সংস্করণসমূহের ওপর একটি পর্যালোচনা।

দ্বিতীয় অংশ: গ্রন্থের মূল পাঠ।

গবেষণায় এই নতুন সংস্করণটিই হবে মূল পাঠ্য, যার পাশাপাশি মাকতাবাহ মাহমুদিয়াহ-এর পাণ্ডুলিপি ব্যবহার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মুদ্রিত সংস্করণটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যার ওপর শাইখ আবদুর রহমান ইবনে কাসিম 'মাজমুউ ফাতাওয়া শাইখিল ইসলাম' (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) সংকলনে নির্ভর করেছেন।

এখানে একটি 'সংক্ষিপ্ত সংস্করণও' রয়েছে যার লেখকের পরিচয় আমি জানতে পারিনি, তবে মাঝে মাঝে তা থেকে উপকৃত হয়েছি।

আমি সংস্করণগুলোকে নিম্নোক্ত প্রতীকের মাধ্যমে চিহ্নিত করেছি: মাহমুদিয়াহ সংস্করণ: 'মীম', মুদ্রিত সংস্করণ: 'ত্বা' এবং সংক্ষিপ্ত সংস্করণ: 'সা'দ'।

পাণ্ডুলিপি সম্পাদনায় আমার কাজের পদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ:

১ - আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান, হাদিসসমূহকে তাদের মূল উৎস থেকে তাখরীজ করা এবং আলিমগণের বক্তব্যের আলোকে সেগুলোর ওপর হুকুম বর্ণনা করা।

২ - মুদ্রিত এবং পাণ্ডুলিপি সংস্করণসমূহের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা এবং মুদ্রিত সংস্করণের অসম্পূর্ণ অংশগুলো পূর্ণ করা।

৩ - কিছু শব্দের সংশোধন এবং জটিল বাক্যসমূহের জট খোলা।

৪ - গ্রন্থে বর্ণিত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহের মূলনীতির ওপর সংক্ষিপ্ত টীকা প্রদান।

৫ - গ্রন্থে উল্লিখিত অপরিচিত ব্যক্তিদের জীবনী প্রদান এবং একইভাবে গ্রন্থে আসা বিভিন্ন ফিরকা, দল ও বাতিল আকিদা বা মতবাদগুলোর পরিচয় তুলে ধরা।

৬ - ইলমি নির্ঘণ্ট তৈরি করা।

উপসংহারে: আমি বিনম্র প্রার্থনা, প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার হাত উত্তোলন করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ১০)
إلى الله عز وجل الذي وفقني لخدمة كتاب هام، في موضوع هو رأس الموضوعات، ولمؤلف يتسابق الدارسون إلى دراسة كتبه، وخدمة تراثه، هو شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله.

كما أدعو الله عز وجل للوالدين الحبيبين اللذين كان دعاؤهما -بعد توفيق الله عز وجل خير معين لي في فترة إعداد هذا البحث، أن يمد الله في عمرهما، وأن يبارك فيهما، وأن يكتب لهما موفور الصحة والعافية والسلامة، وأن يعينني على برهما، وأن يختم بالصالحات أعمالهما. كما أن الشكر والتقدير والعرفان في هذا البحث، لأستاذي وشيخي ومشرفي الفاضل الأستاذ الدكتور أحمدَ بنِ سعدٍ بنِ حمدانَ الغامدي حفظه الله ورعاه، الذي كانت توجيهاته وملاحظاته واستدراكاته تقود البحث إثراءً وفائدةً وتصحيحًا وتكملًا، فجزاه الله خير الجزاء، ورزقه الله الصحة والعافية، ونفع بعلمه الأمة، إنه سميع قريب.

كلما أنني لا أنسى أبدًا الذين كان لهم سعي مشكور، في الحصول على النسخة الأصلية من المتحف التركي باستانبول فى تركيا، والذين ذللوا الصعوبات، وبذلوا الجهود، حتى وصلت إليّ، وعلى رأس هؤلاء أستاذنا الكبير محمد قطب، والشيخ أمين سراج، والدكتور حمدي أرسلان، فجزى الله الجميع أفضل الجزاء.

كما لا يفوتني أن أشكر أيضًا أستاذنا الدكتور علي بن عباس الحكمي الذي تقضل مشكورًا غير مرة، بإعطائي بعض المراجع الهامة في البحث، ووفر لي صعوبة الحصول عليها، ولكل من مدَّ يد المساعدة والنصح.

كما أشكر لِلشيخين الفاضلين، والأستاذين الكريمين تفضلهما مشكورين -مأجورين إن شاء الله تعالى- بقبول مناقشة هذه الرسالة مع كثرة الأعمال التي يقومان بها، وهما:

فضيلة شيخنا: الأستاذ الدكتور علي بن نفيع العلياني، أستاذ العقيدة الإسلامية في جامعة أم القرى.

وفضيلة الأستاذ الدكتور: عطية بن عتيق الزهراني، أستاذ العقيدة
সেই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাকে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের খিদমতে তাওফিক দান করেছেন যা এমন এক বিষয়ে রচিত যা সকল বিষয়ের মূল, এবং এমন এক লেখকের কিতাব যা অধ্যয়ন ও যার ঐতিহ্য সংরক্ষণে গবেষকগণ প্রতিযোগিতা করেন; তিনি হলেন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)।

সেই সাথে আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট আমার প্রিয় পিতামাতার জন্য দোয়া করি, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক লাভের পর এই গবেষণাটি প্রস্তুতির সময়ে যাদের দোয়া ছিল আমার জন্য সর্বোত্তম সহায়ক; আল্লাহ যেন তাদের দীর্ঘায়ু দান করেন, তাদের জীবনে বরকত দেন, তাদের জন্য পূর্ণ স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সুস্থতা নির্ধারণ করেন, আমাকে তাদের প্রতি সদাচরণে সাহায্য করেন এবং তাদের নেক আমলের মাধ্যমে জীবনের সমাপ্তি দান করেন। আরও কৃতজ্ঞতা, প্রশংসা ও স্বীকৃতি জানাচ্ছি আমার সম্মানিত উস্তাদ, শায়খ এবং শ্রদ্ধেয় তত্ত্বাবধায়ক প্রফেসর ডক্টর আহমদ বিন সাদ বিন হামদান আল-গামিদীর প্রতি (আল্লাহ তাকে হিফাজত ও রক্ষা করুন), যাঁর দিকনির্দেশনা, পর্যবেক্ষণ ও সংশোধনীসমূহ এই গবেষণাকে সমৃদ্ধি, উপকারিতা, পরিশোধন ও পূর্ণতার পথে পরিচালিত করেছে। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাকে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা দান করুন এবং তাঁর ইলমের মাধ্যমে উম্মাহকে উপকৃত করুন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও নিকটবর্তী।

আমি কখনও তাদের কথা ভুলব না যারা তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত তুর্কি জাদুঘর থেকে মূল পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং যারা সকল বাধা দূর করেছেন ও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন যতক্ষণ না এটি আমার হাতে পৌঁছেছে। তাদের মাঝে অগ্রগণ্য হলেন আমাদের বড় উস্তাদ মুহাম্মদ কুতুব, শায়খ আমিন সিরাজ এবং ডক্টর হামদি আরসলান। আল্লাহ তাদের সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন।

আরও ধন্যবাদ জানাতে ভুলছি না আমাদের উস্তাদ ডক্টর আলী বিন আব্বাস আল-হাকামীকে, যিনি অনুগ্রহপূর্বক বারবার আমাকে গবেষণার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছেন এবং সেগুলো সংগ্রহের কষ্ট লাঘব করেছেন। এছাড়া যারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ও নসিহত করেছেন, তাদের সকলকেও ধন্যবাদ।

সেই সাথে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি দুই সম্মানিত শায়খ এবং শ্রদ্ধেয় উস্তাদকে—ইনশাআল্লাহ তারা সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন—যারা নিজেদের অত্যধিক ব্যস্ততা সত্ত্বেও এই গবেষণাপত্রটি (রিসালাহ) পর্যালোচনার দায়িত্ব গ্রহণ করার সদয় সম্মতি দিয়েছেন। তাঁরা হলেন:

আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ: প্রফেসর ডক্টর আলী বিন নাফি আল-উলয়ানী, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী আকীদার অধ্যাপক।

এবং শ্রদ্ধেয় প্রফেসর ডক্টর আতিয়্যাহ বিন আতিক আল-জাহরানী, আকীদার অধ্যাপক।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ১১)
الإسلامية في الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، على صاحبها أفضل الصلاة وأتم السلام.

كما أشكر كل من تكرَّم بحضور المناقشة، وأخص بالذكر منهم عمي الأستاذ خضران الزهراني الذي حببني في العلم منذ الصغر، فجزاه الله خير الجزاء.

والشكر أخيرًا لجامعة أم القرى -تلك الجامعة العريقة- التي يسرت للباحثين أيسر الوسائل للبحت والدراسة ممثلة في ذلك الصرح الشامخ، كلية الدعوة وأصول الدين، هذه الكلية المباركة التي خرَّجت وما زالت تخرج عشرات من الدعاة والدارسين والمتخصصين في الكتاب والسنّة والدعوة والعقيدة والقراءات والإعلام، ولكل من ائتمن عليها، وقام بخدمتها.

اللهم أرنا الحق حقًا وارزقنا اتباعه، وأرنا الباطل باطلًا وارزقنا اجتنابه.

اللهم اهدنا لما اختلف فيه من الحق بإذنك إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم.

اللهم علمنا ما ينفعنا وانفعنا بما علمتنا وزدنا علمًا إنك أنت العليم الحكيم.

اللهم إنا نسألك الإخلاص في القول والعمل.

اللهم إنا نعوذ بك أن نشرك بك ونحن نعلم ونعوذ بك أن نشرك بك ونحن لا نعلم.

سبحان ربك رب العزة عما يصفون، وسلام على المرسلين، والحمد لله رب العالمين.
মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি [শিক্ষা/বিভাগ], যার অধিপতির প্রতি বর্ষিত হোক সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম।

অনুরূপভাবে, আমি সেই সকল ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানাই যারা এই আলোচনা সভায় উপস্থিত হয়ে আমাকে ধন্য করেছেন। তাদের মধ্যে আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি আমার চাচা উস্তাদ খুদরান আল-যাহরানিকে, যিনি শৈশব থেকেই আমার মধ্যে ইলমের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

অবশেষে ধন্যবাদ জানাই উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়কে—সেই সুপ্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়—যা গবেষকদের জন্য গবেষণা ও অধ্যয়নের সহজতর উপায়সমূহ সুগম করে দিয়েছে, যার প্রতিনিধিত্ব করছে সেই সুউচ্চ প্রাসাদ 'দাওয়াহ ও ধর্মতত্ত্ব অনুষদ'। এটি সেই বরকতময় অনুষদ যা কুরআন, সুন্নাহ, দাওয়াহ, আকিদাহ, কিরাত ও গণমাধ্যম বিষয়ে অসংখ্য দাঈ, শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞ তৈরি করেছে এবং এখনও করে যাচ্ছে। এছাড়া ধন্যবাদ জানাই তাদের সকলকে, যাদের হাতে এর আমানত ন্যস্ত এবং যারা এর সেবায় নিয়োজিত।

হে আল্লাহ! আমাদের নিকট সত্যকে সত্য হিসেবে স্পষ্ট করে দিন এবং আমাদের তা অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আর মিথ্যাকে আমাদের নিকট মিথ্যা হিসেবে স্পষ্ট করে দিন এবং আমাদের তা থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন।

হে আল্লাহ! আপনার অনুমতিক্রমে সত্যের যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন।

হে আল্লাহ! আমাদের এমন ইলম শিক্ষা দিন যা আমাদের উপকারে আসবে এবং আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন এবং আমাদের ইলম বৃদ্ধি করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।

হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট কথা ও কাজে একনিষ্ঠতা প্রার্থনা করছি।

হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জেনে-শুনে আপনার সাথে শিরক করা থেকে এবং আমরা আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি সেই শিরক থেকে যা আমাদের অজানা।

আপনার প্রতিপালক, যিনি সম্মানের অধিপতি, তারা যা আরোপ করে তা থেকে তিনি পবিত্র। আর রাসুলদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌تمهيد

مسألة الإيمان، ومذاهب الطوائف فيها، وبيان الراجح منها:

تعد مسألة الإيمان من أهم مسائل العقيدة الإسلامية على الإطلاق، ولا ريب أن أول خلاف وقع في الأمة كان فيها، وكان الخلاف فيها محورًا رئيسيًا تبلورت حوله آراء عدة فرق، وصار معلمًا بارزًا لكل منها.

ومسألة الإيمان هي الأصل العظيم، الذي يخرج به الناس من الظلمات إلى النور، وبه يتميز السعداء من الأشقياء، وأولياء الله من أعدائه، وبه تنال الحياة الطيبة في الدنيا، والجزاء الحسن، والأجر العظيم في جنات النعيم {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (97)} [النحل: 97].

ولقد أفسد الخلاف فيها بين الفرق المحدثة على المسلمين كثيرًا من معانيها العظيمة، وأحالوها في كثير من الأحيان إلى مجرد قضية عقلية باهتة، لا علاقة لها بالحياة، وعظم الخطب حين نادت بعض هذه الفرق بفصلها -فعلًا- عن الحياة، وذلك يوم أصرَّت على إخراج الأعمال من الإيمان.

وإننا لنريد أن تعود هذه القضية الكبرى رائدةً للقضايا الإسلامية المعاصرة، على منهج خير القرون، وأن تكون هي الأصل الأصيل الذي نعتمد عليه في بعث الأمة من جديد.

وقبل معرفة مذاهب الطوائف والفرق في مسألة الإيمان، لا بد من إطلالة موجزة على معنى هذه الكلمة في اللغة فنقول:

 

الإيمان لغة:

يقول الأزهرى: "اتفق أهل العلم من اللغويين وغيرهم أن الإيمان
ভূমিকা

ঈমানের বিষয়, এতে বিভিন্ন দলের মাযহাব এবং এগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধ মতের বর্ণনা:

ঈমানের বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইসলামি আকিদার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উম্মতের মধ্যে প্রথম যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল তা ছিল একে কেন্দ্র করেই। এই মতবিরোধটি ছিল একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু, যার চারপাশ ঘিরে বিভিন্ন ফেরকার মতাদর্শ দানা বেঁধেছে এবং এটি প্রতিটি ফেরকার জন্য একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে।

ঈমানের বিষয়টি হলো সেই মহান মূলনীতি, যার মাধ্যমে মানুষ অন্ধকার থেকে আলোর পথে বেরিয়ে আসে। এর মাধ্যমেই সৌভাগ্যবান ও দুর্ভাগাদের মধ্যে এবং আল্লাহর বন্ধু ও তাঁর শত্রুদের মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয়। এর মাধ্যমেই দুনিয়াতে পবিত্র জীবন এবং জান্নাতুন নাঈমে উত্তম প্রতিদান ও মহান পুরস্কার লাভ করা সম্ভব হয়। {যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, আমি অবশ্যই তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং আমি অবশ্যই তাদের কৃতকর্মের চেয়েও শ্রেষ্ঠ প্রতিদান দান করব। (৯৭)} [আন-নাহল: ৯৭]।

নতুন উদ্ভূত ফেরকাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান এই মতবিরোধ মুসলমানদের কাছে এর অনেক মহান অর্থকে কলুষিত করেছে। তারা অনেক ক্ষেত্রে একে স্রেফ একটি নিষ্প্রাণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে পরিণত করেছে, যার সাথে জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই। বিপদ তখন আরও ঘনীভূত হয়েছিল যখন এই ফেরকাগুলোর কেউ কেউ একে জীবন থেকে প্রকৃতপক্ষে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানায়; আর সেটি ছিল সেই দিন যখন তারা আমল বা কর্মকে ঈমান থেকে বের করে দেওয়ার ব্যাপারে জেদ ধরেছিল।

আমরা চাই এই বৃহত্তর বিষয়টি যেন সর্বোত্তম প্রজন্মের (খাইরুল কুরুন) মানহাজের ওপর ভিত্তি করে সমসাময়িক ইসলামি বিষয়াবলির পথপ্রদর্শক হিসেবে ফিরে আসে এবং এটিই যেন সেই মৌলিক ভিত্তি হয় যার ওপর নির্ভর করে আমরা উম্মতকে নতুন করে জাগিয়ে তুলব।

ঈমানের বিষয়ে বিভিন্ন দল ও ফেরকার মাযহাবগুলো জানার আগে, এই শব্দের আভিধানিক অর্থের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা প্রয়োজন। সুতরাং আমরা বলি:

 

আভিধানিক অর্থে ঈমান:

আল-আজহারী বলেন: "ভাষাবিদ ও অন্যান্য আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, ঈমান হলো...
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ১৪)
معناه التصديق، قال تعالى حكاية عن إخوة يوسف: {وَمَا أَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَنَا} لم يختلف أهل التفسير أن معناه: وما أنت بمصدق لنا" (1).

ويقول الجوهري في باب النون، فصل الألف، عن معنى كلمة أمن: "الأمان والأمانة بمعنى، وقد أمِنْتُ فأنا آمن، وآمنت غيري، من الأمن والأمان، والإيمان: التصديق، والله تعالى المؤمن، لأنه آمن عباده من أن يظلمهم" (2).

ويقول الراغب الأصفهاني: "آمن إنما يقال على وجهين: أحدهما: متعديًا بنفسه، يقال: آمنته، أي جعلت له الأمن، ومنه قيل لله مؤمن، الثاني: غير متعدٍ، ومعناه صار ذا أمن، قال تعالى: {وَمَا أَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَنَا وَلَوْ كُنَّا صَادِقِينَ} قيل معناه: بمصدق لنا، إلا أن الإيمان هو التصديق الذي معه أمن" (3).

ويقول صاحب القاموس المحيط: "آمن به إيمانًا، صدقه، والإيمان الثقة، وإظهار الخضوع، وقبول الشريعة" (4).

وذكر ابن فارس، وابن منظور، قريبًا من هذا الكلام (5).

وعلى هذا نجد أن من معاني هذه الكلمة في اللغة الأمن، والتصديق.

وإلى ذلك أشار القاضي أبو بكر بن العربي، واستدل على المعنى الأول بقول النابغة:

والمؤمن العائذات الطير يمسحها. . . ركبان مكة بين الغَيل والسند (6)

ويرى شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، أن هناك من يقول: إن معنى الإيمان في اللغة هو الإقرار (7).

--------------------------------------------

(1) تهذيب اللغة (15/ 513).

(2) الصحاح (5/ 2071).

(3) المفردات في غريب القرآن (26).

(4) القاموس المحيط (1518).

(5) لسان العرب (13/ 21)، مجمل اللغة (1/ 102).

(6) أحكام القرآن 21/ 506).

(7) الإيمان الكبير (101).
এর অর্থ হলো সত্যায়ন করা। মহান আল্লাহ ইউসুফ (আ.)-এর ভাইদের কথা বর্ণনা করে বলেন: {আর আপনি আমাদের বিশ্বাস করবেন না}। মুফাসসিরগণ এ বিষয়ে দ্বিমত করেননি যে এর অর্থ হলো: "আপনি আমাদের সত্যায়ন করবেন না" (১)।

আল-জাওহারী ‘নুন’ অধ্যায়ে, ‘আলিফ’ পরিচ্ছেদে ‘আমান’ শব্দের অর্থ সম্পর্কে বলেন: "আমান এবং আমানাহ একই অর্থবোধক। আমি নিরাপদ বোধ করেছি ফলে আমি নিরাপদ, আর আমি অন্যকে নিরাপদ করেছি—আমন এবং আমান থেকে। আর ঈমান হলো সত্যায়ন করা। আর মহান আল্লাহ হলেন মুমিন, কারণ তিনি তাঁর বান্দাদের জুলুম করা থেকে নিরাপদ রেখেছেন" (২)।

রাغب আল-আসফাহানী বলেন: "আমানা শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: প্রথমত: সকর্মক হিসেবে, যেমন বলা হয়: আমি তাকে নিরাপদ করেছি, অর্থাৎ আমি তাকে নিরাপত্তা প্রদান করেছি। আর এখান থেকেই আল্লাহকে মুমিন বলা হয়। দ্বিতীয়ত: অকর্মক হিসেবে, যার অর্থ হলো নিরাপত্তা লাভ করা। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আপনি আমাদের বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই}। বলা হয়েছে এর অর্থ হলো: আমাদের সত্যায়নকারী নন, তবে ঈমান হলো এমন সত্যায়ন যার সাথে নিরাপত্তা বিদ্যমান থাকে" (৩)।

আল-কামুস আল-মুহিতের লেখক বলেন: "সে তার প্রতি ঈমান এনেছে অর্থাৎ তাকে সত্যায়ন করেছে। আর ঈমান হলো আস্থা, আনুগত্য প্রকাশ করা এবং শরীয়ত গ্রহণ করা" (৪)।

ইবনে ফারিস এবং ইবনে মানযুরও অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন (৫)।

এর ভিত্তিতে আমরা দেখতে পাই যে, আভিধানিক অর্থে এই শব্দটির অন্যতম অর্থ হলো নিরাপত্তা এবং সত্যায়ন।

কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবী সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন এবং নাবিকার এই উক্তি দ্বারা প্রথম অর্থের পক্ষে দলিল পেশ করেছেন:

তিনি (আল্লাহ) সেই সত্তা যিনি আশ্রয়প্রার্থী পাখিদের নিরাপত্তা দান করেন, মক্কার আরোহীরা গায়িল এবং সানাদের মধ্যবর্তী স্থানে সেগুলো স্পর্শ করে (৬)

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) মনে করেন যে, কেউ কেউ বলেন: আভিধানিক অর্থে ঈমানের অর্থ হলো স্বীকৃতি প্রদান করা (৭)।

--------------------------------------------

(১) তাহযীবুল লুগাহ (১৫/ ৫১৩)।

(২) আস-সিহাহ (৫/ ২০৭১)।

(৩) আল-মুফরাদাত ফি গারিবিল কুরআন (২৬)।

(৪) আল-কামুস আল-মুহিত (১৫১৮)।

(৫) লিসানুল আরব (১৩/ ২১), মুজমালুল লুগাহ (১/ ১০২)।

(৬) আহকামুল কুরআন (২১/ ৫০৬)।

(৭) আল-ইমান আল-কাবির (১০১)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ১৫)
بل إن شيخ الإسلام ليذهب في الكتاب الذي نقوم بتحقيقه إلى أن الإيمان "مأخوذ من الأمن، الذي هو الطمأنينة، كما أن لفظ الإقرار مأخوذ من قر يقر، وهو قريب من آمن يأمن. . . فالمؤمن داخل في الأمن" (1).

وذكر صاحب لوامع الأنوار هذه الأقوال الثلاثة (2).

على أن بعض علماء اللغة ذكر الاتفاق على أن الإيمان في اللغة هو التصديق (3)، وادعى بعض المتكلمين -كالباقلاني- الإجماع على ذلك (4)، ودعوى الاتفاق ومن باب أولى دعوى الإجماع محل نظر، فقد رأينا أن بعض علماء اللغة ذكروا أن من معاني كلمة الإيمان في اللغة الأمن.

على أن هناك مسألة هامة ينبغي التنبيه لها في أثناء الخوض في هذه القضية، وهي أن كثيرًا من علماء اللغة -خصوصًا المتأخرين منهم- متأثرون بعلم الكلام واصطلاحات المتكلمين، ومن هنا وجب الحذر في النظر فيما يتكلمون في من ألفاظ ومعانٍ تعلق بمصطلحات العقيدة.

 

وأما الإيمان في الاصطلاح:

فقد تعددت الأقوال فيه (5):

1 - فأهل السنّة والجماعة الذين هم الفرقة الناجية والطائفة المنصورة يقولون: الإيمان قول وعمل، فالقول يشمل قول القلب وقول اللسان، والعمل يشمل عمل القلب وعمل الجوارح، أو هو: اعتقاد بالقلب، وقول باللسان، وعمل بالجوارح.

2 - والخوارج والمعتزلة يقولون كظاهر قول السلف: الإيمان اعتقاد بالقلب، وقول باللسان، وعمل بالجوارح.

--------------------------------------------

(1) شرح حديث جبريل (414).

(2) لوامع الأنوار البهية للشيخ محمد بن أحمد السفاريني (1/ 404).

(3) كما ذكر ذلك ابن منظور على سبيل المثال في لسان العرب (13/ 21).

(4) سيأتي الكلام عن الرد على هذه القضية عند التعرض لمناقشة المذاهب في الإيمان.

(5) نود التنبيه إلى أن توثيق هذه الأقوال من مصادرها قد تم خلال تحقيق متن الكتاب.
প্রকৃতপক্ষে শাইখুল ইসলাম আমরা যে বইটি সম্পাদনা করছি তাতে এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, ঈমান শব্দটি "আমান (নিরাপত্তা) থেকে গৃহীত, যা মূলত প্রশান্তি; যেমন 'ইকরার' (স্বীকৃতি) শব্দটি 'কাররা-ইয়াকিররু' থেকে গৃহীত, যা 'আমান-ইয়ামানুর' কাছাকাছি... সুতরাং মুমিন ব্যক্তি নিরাপত্তার মধ্যে প্রবিষ্ট হয়" (১)।

'লাওয়ামিউল আনওয়ার' গ্রন্থের লেখক এই তিনটি অভিমত উল্লেখ করেছেন (২)।

যদিও কোনো কোনো ভাষাবিদ ভাষাগতভাবে ঈমান বলতে 'তাসদিক' (সত্যয়ন) হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করেছেন (৩), এবং কোনো কোনো কালামশাস্ত্রবিদ—যেমন আল-বাকিল্লানি—এ বিষয়ে ইজমা বা সর্বসম্মত মতের দাবি করেছেন (৪)। তবে এই ঐকমত্যের দাবি, এবং বিশেষভাবে ইজমার দাবিটি পর্যালোচনার দাবি রাখে; কেননা আমরা দেখেছি যে কোনো কোনো ভাষাবিদ উল্লেখ করেছেন যে, ভাষাগত দিক থেকে ঈমান শব্দের অন্যতম অর্থ হলো নিরাপত্তা।

তবে এই বিষয়ের গভীরে যাওয়ার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করা প্রয়োজন, তা হলো—অনেক ভাষাবিদ, বিশেষ করে তাদের মধ্যে যারা পরবর্তীকালের, তারা ইলমুল কালাম এবং মুতাকাল্লিমদের পরিভাষা দ্বারা প্রভাবিত। তাই আকিদার পরিভাষাগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট শব্দ ও অর্থের ব্যাপারে তারা যা বলেন, তা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা আবশ্যক।

 

আর পারিভাষিক অর্থে ঈমান:

এতে বিভিন্ন মত রয়েছে (৫):

১ - আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত, যারা নাজাতপ্রাপ্ত দল ও সাহায্যপ্রাপ্ত দল, তারা বলেন: ঈমান হলো কথা ও কাজ। কথা বলতে অন্তরের কথা ও জিহ্বার কথাকে বোঝায় এবং কাজ বলতে অন্তরের কাজ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজকে বোঝায়; অথবা ঈমান হলো: অন্তরে বিশ্বাস, জিহ্বায় স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা।

২ - খাওয়ারিজ ও মুতাজিলাগণ সালাফদের প্রকাশ্য বক্তব্যের মতোই বলেন যে: ঈমান হলো অন্তরে বিশ্বাস, জিহ্বায় স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা।

--------------------------------------------

(১) শারহু হাদিসি জিবরিল (৪১৪)।

(২) শাইখ মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সাফফারিনি রচিত লাওয়ামিউল আনওয়ার আল-বাহিয়্যাহ (১/ ৪০৪)।

(৩) উদাহরণস্বরূপ ইবনে মানজুর 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে (১৩/ ২১) এটি উল্লেখ করেছেন।

(৪) ঈমান প্রসঙ্গে বিভিন্ন মাযহাবের আলোচনার সময় এই বিষয়ের উত্তর বা খণ্ডন সামনে আসবে।

(৫) আমরা সতর্ক করতে চাই যে, কিতাবের মূল পাঠ সম্পাদনার সময় এই উক্তিগুলোর সূত্রগুলো মূল উৎস থেকে যাচাই করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ১৬)
غير أنهم يحبطون الإيمان بالكبيرة، ويكفرون صاحبها -كما فعلت الخوارج- أو ينزلونه في منزلة بين المنزلتين -كما صنعت المعتزلة- مع اتفاق الفريقين على خلود صاحبها في النار.

وهناك المرجئة على اختلاف طوائفها التي اتفقت على إخراج الأعمال من مسمى الإيمان.

3 - فمرجئة الفقهاء يقولون: الإيمان تصديق بالقلب، وإقرار باللسان.

4 - والكرامية يقولون: الإيمان قول باللسان.

5 - والجهمية يقولون: الإيمان هو المعرفة فقط.

6 - والأشاعرة والماتريدية يقولون: الإيمان هو التصديق (1).

وسنعرض أثناء دراسة مسائل الكتاب -إن شاء الله- لآراء هذه الفرق بالتفصيل ومآخذها، ليظهر لنا جليًا أن مذهب السلف الذي عليه أهل السنّة والجماعة هو المذهب الحق لا ريب فيه، وأن ما سواه هو الباطل الذي لا شك في بطلانه.

وأننا ما إن نقوم ببيان مذهب السلف وإظهاره حتى تتهاوى المذاهب الأخرى، فإذا هي زاهقة، قال تعالى: {بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ (18)} [الأنبياء: 18].

--------------------------------------------

(1) الإيمان لأبي عبيد (53)، الإيمان لابن منده (1/ 331)، التبصير في معالم الدين لأبي جعفر الطبري (188/ 189)، الانتصار في الرد على المعتزلة الأشرار للعمراني (3/ 736)، شرح العقيدة الطحاوية لابن أبي العز (2/ 459)، شرح الأصول الخمسة للقاضي عبد الجبار المعتزلي (708 - 709)، شرح العقائد النسفية (156)، فتح الباري (1/ 46)، لوامع الأنوار (1/ 405).
তবে তারা কবিরা গুনাহের কারণে ঈমানকে বাতিল করে দেয় এবং কবিরা গুনাহকারীকে কাফির আখ্যায়িত করে—যেমনটি খারিজিরা করেছে—অথবা তাকে দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী এক অবস্থানে (মানযিলাত বাইনাল মানযিলাতাইন) স্থান দেয়—যেমনটি মুতাজিলারা করেছে—যদিও উভয় দলই উক্ত গুনাহকারী জাহান্নামে চিরকাল থাকার ব্যাপারে একমত।

আর এখানে রয়েছে মুরজিআ সম্প্রদায়, যাদের বিভিন্ন উপদল থাকলেও তারা আমলকে ঈমানের সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারে একমত।

৩ - ফুকাহায়ে মুরজিআগণ বলেন: ঈমান হলো অন্তরের সত্যায়ন এবং মুখে স্বীকারোক্তি।

৪ - কাররামিয়্যাহরা বলে: ঈমান হলো কেবল মুখে বলা।

৫ - জাহমিয়্যাহরা বলে: ঈমান হলো কেবল জ্ঞান (মারেফাত)।

৬ - আশআরী ও মাতুরিদীগণ বলেন: ঈমান হলো সত্যায়ন (১)।

আর আমরা এই বইয়ের মাসআলাগুলো অধ্যয়ন করার সময়—ইনশাআল্লাহ—এই দলগুলোর মতামত ও তাদের উৎসসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব, যাতে আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় যে, সালাফদের মাযহাব—যার ওপর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত প্রতিষ্ঠিত—তা-ই হলো নিঃসন্দিগ্ধ সত্য মাযহাব, আর তা ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা বাতিল এবং এর অসারতায় কোনো সন্দেহ নেই।

এবং আমরা যখনই সালাফদের মাযহাব বর্ণনা ও প্রকাশ করব তখনই অন্যান্য মাযহাবগুলো চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে এবং সেগুলো বিলুপ্ত হবে। মহান আল্লাহ বলেন: “বরং আমি সত্য দিয়ে মিথ্যার ওপর আঘাত হানি, ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর তোমরা যা বর্ণনা করছ তার জন্য তোমাদের দুর্ভোগ।” [আম্বিয়া: ১৮]।

--------------------------------------------

(১) আবু উবাইদ প্রণীত আল-ঈমান (৫৩), ইবনে মান্দাহ প্রণীত আল-ঈমান (১/ ৩৩১), আবু জাফর তাবারী প্রণীত আত-তাবসির ফি মাআলিমিত দিন (১৮৮/ ১৮৯), আল-ইমরানি প্রণীত আল-ইনতিসার ফির রদ্দি আলাল মুতাজিলাতিল আশরার (৩/ ৭৩৬), ইবনে আবিল ইযয প্রণীত শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ (২/ ৪৫৯), কাজী আব্দুল জাব্বার মুতাজিলি প্রণীত শারহুল উসুলিল খামসাহ (৭০৮ - ৭০৯), শারহুল আকাইদিন নাসাফিয়্যাহ (১৫৬), ফাতহুল বারী (১/ ৪৬), লাওয়ামিউল আনোয়ার (১/ ৪০৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المبحث الأول ترجمة المؤلف رحمه الله

قلة من العلماء هم الذين لقوا عناية وافرة في حياتهم، وبعد مماتِهم، من قبل أهل العلم والرأي والفكر، ولعل من أبرز هؤلاء العلماء بلا منازع شيخ الإسلام ابن تيمية رحمة الله، وإن الباحث -فضلًا عن القارئ- يكاد يعجز عن أن يحيط بمؤلفات هذا العالم وبما كتب عنه، ومع كيد أعداء شيخ الإسلام له، واجتماعهم على النيل منه، واستماتتهم في طمس آثاره، ومصادرة دعوته، أو الحجر عليها، إلا أن الله عز وجل قد جعل له لسان صدق في الآخرين، ورد كيدهم في نحورهم، وضاعت أسماء لامعة في زمانها كانت تناصب شيخ الإسلام العداء، واعتلت في زمنه مناصب التدريس والفتوى والقضاء، ضاعت في مجاهيل التاريخ، وبقي علمه وآثاره شاهدة على أن الله عز وجل يبعث لهذه الأمة على رأس كل مائة عام من يجدد لها أمر دينها، وإن لم يكن شيخ الإسلام ابن تيمية مجدد القرن الثامن الهجري، فمن يكون (1)؟ .

ولن تطول بنا الترجمة، فقد ترجم للشيخ الكثيرون (2)، ولكن يكفي

--------------------------------------------

(1) الأعلام العلية (9).

(2) وممن كتب عن شيخ الإسلام من الأقدمين ترجمة مستقلة: الحافظ عمر بن علي البزار في كتابه: "الأعلام العلية في مناقب شيخ الإسلام ابن تيمية"، والحافظ ابن عبد الهادي في كتابه: (العقود الدرية من مناقب شيخ الإسلام ابن تيمية"، وهما من تلاميذه، والشيخ مرعي بن يوسف الكرمي الحنبلي في كتابيه: "الكواكب الدرية في مناقب المجتهد ابن تيمية"، و "الشهادة الزكية في ثناء الأئمة على ابن تيمية"، وابن ناصر الدين الدمشقي في كتابه "الرد الوافر"، وأما التراجم غير المستقلة فكثيرة منها، ما ترجمه الذهبي له في عدد من كتبه، منها: "ذيول العبر" =
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের জীবনী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)

খুব অল্প সংখ্যক আলেমই তাঁদের জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে ব্যাপক মনোযোগ লাভ করেছেন। সম্ভবত এই আলেমদের মধ্যে নিসন্দেহে সবচেয়ে বিশিষ্ট হলেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)। একজন গবেষক—এমনকি একজন সাধারণ পাঠকের জন্যেও—এই আলেমের রচনাবলি এবং তাঁকে নিয়ে যা লেখা হয়েছে তা পুরোপুরি আয়ত্ত করা প্রায় অসম্ভব। শাইখুল ইসলামের শত্রুরা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা, তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো মুছে ফেলা ও তাঁর দাওয়াতকে বাজেয়াপ্ত বা অবরুদ্ধ করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা সত্ত্বেও, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা পরবর্তীদের মাঝে তাঁর সুখ্যাতি বজায় রেখেছেন এবং তাদের ষড়যন্ত্র তাদের দিকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর সমসাময়িক অনেক উজ্জ্বল নাম, যারা শাইখুল ইসলামের ঘোর বিরোধিতা করত এবং তাঁর সময়ে শিক্ষকতা, ফতোয়া ও বিচারকার্যের উচ্চপদে আসীন ছিল, তারা ইতিহাসের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে। পক্ষান্তরে তাঁর ইলম ও নিদর্শনসমূহ এই সাক্ষ্য বহন করে টিকে আছে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এই উম্মতের জন্য প্রতি একশ বছরের মাথায় এমন কাউকে প্রেরণ করেন যিনি তাদের দ্বীনের সংস্কার করেন। আর শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া যদি অষ্টম হিজরি শতাব্দীর মুজাদ্দিদ (সংস্কারক) না হন, তবে আর কে হবেন (১)?।

আমাদের এই জীবনী আলোচনা দীর্ঘ হবে না, কারণ অনেকেই শাইখের জীবনী লিখেছেন (২), কিন্তু এতটুকুই যথেষ্ট

--------------------------------------------

(১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ (৯)।

(২) প্রাচীনদের মধ্যে যারা শাইখুল ইসলাম সম্পর্কে স্বতন্ত্র জীবনী লিখেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: হাফেজ উমর ইবনে আলী আল-বাযযার তাঁর গ্রন্থ: "আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফি মানাকিবি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া"-তে; এবং হাফেজ ইবনে আবদিল হাদী তাঁর গ্রন্থ: "আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ মিন মানাকিবি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া"-তে—আর তাঁরা উভয়ই ছিলেন তাঁর ছাত্র; এবং শাইখ মারঈ ইবনে ইউসুফ আল-কারমি আল-হাম্বলি তাঁর দুটি গ্রন্থে: "আল-কাওয়াকিব উদ-দুররিয়্যাহ ফি মানাকিবিল মুজতাহিদ ইবনে তাইমিয়া" এবং "আশ-শাহাদাতুয যাকিইয়্যাহ ফি ছানাউল আইম্মাহ আলা ইবনে তাইমিয়া"-তে; এবং ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি তাঁর "আর-রাদ্দুল ওয়াফির" গ্রন্থে। আর যেগুলো স্বতন্ত্র জীবনী নয়, এমন লেখার সংখ্যা অনেক; তন্মধ্যে ইমাম যাহাবি তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: "যিয়ুলুল ইবার" =
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ১৮)
من ذلك ما أوجز وعرَّف، وقل ودل، وأبان وأوضح، فمعالم حياته الكبرى واضحة للعيان، وكثير من تفصيلات جهوده ودعوته ماثلة في الأذهان.

وسيكون الحديث عن ترجمة شيخ الإسلام حسب العناوين التالية بمشيئة الله تعالى:

 

‌‌أولًا: اسمه ونسبه:

هو شيخ الإسلام تقي الدين أبو العباس أحمد بن الشيخ العلامة شهاب الدين أبي المحاسن عبد الحليم بن الشيخ الإمام العلامة شيخ الإسلام مجد الدين أبي البركات عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم الخضر بن محمد بن الخضر بن علي بن عبد الله بن تيمية النميري الحراني (1)، نزيل دمشق.

--------------------------------------------

= (157)، و "المعجم المختص" (25 - 28)، و "معجم الشيوخ" (1/ 55 - 57)، و "دول الإسلام" (2/ 237)، و "ذيل تاريخ الإسلام" (324 - 330) وتذكرة الحفاظ (4/ 228)، وترجمته في البداية والنهاية (14/ 141 - 145)، وقد أورد الحافظ ابن كثير رحمه الله أحد تلاميذه كثيرًا من أخبار شيخ الإسلام المتفرقة في تاريخه على فترة زمنية استغرقت قرابة خمسة وثلاثين عامًا، وترجمته ني: "الوافي بالوفيات" (7/ 15 - 33)، و"فوات الوفيات" (1/ 74 - 80)، وذيل طبقات الحنابلة (2/ 387 - 408)، والدرر الكامنة (1/ 144)، والنجوم الزاهرة لابن تغري بردي (9/ 271)، وطبقات الحفاظ للسيوطي (516)، وشذرات الذهب (8/ 142 - 150)، والبدر الطالع (1/ 63)، وجلاء العينين للألوسي (5 - 14). وقد كتب المحاصرون عن شيخ الإسلام كثيرًا، ومنهم الشيخ أبو زهرة، ومحمد كرد علي، ود. عمر فروخ، ود. محمد خليل هراس، والشيخ أبو الحسن الندوي، وغيرهم وقد أقيمت ندرة عالمية فى الجامعة السلفية ببنارس في الهند، عن شيخ الإسلام ابن تيمية، (3/ 18 - 2/ 4 - 1408 هـ)، وقدم فيها أكثر من أربعين بحثًا، تناولت جوانب رئيسية من حياته رحمه الله، لمجموعة من العلماء والباحثين.

(1) الحرَّاني نسبة إلى حرَّان الواقعة في ديار بكر بين دجلة والفرات (وهي اليوم في كردستان تركيا) معجم البلدان (2/ 235).

وأود التنبيه إلى أن أكثر المؤرخين -بل جلّهم- لم يذكروا القبيلة التي ينتسب إليها شيخ الإسلام ابن تيمية؛ وإنما نسب إلى حرَّان وإلى دمشق، وقد ذكر بعضهم -وهذا هو الصحيح- أنه عربي النسب، وذكروا في نسبته النميري من قبيلة بني =
এর মধ্যে রয়েছে সেই সব বর্ণনা যা সংক্ষিপ্ত ও পরিচয়মূলক, স্বল্প কিন্তু অর্থবহ, এবং যা সুস্পষ্ট ও প্রকাশিত; ফলে তাঁর জীবনের প্রধান দিকগুলো সবার নিকট সুস্পষ্ট এবং তাঁর প্রচেষ্টা ও দাওয়াতের অনেক বিস্তারিত বিবরণ মানুষের হৃদয়ে বিদ্যমান।

মহান আল্লাহর ইচ্ছায় শায়খুল ইসলামের জীবনী সম্পর্কে আলোচনা নিম্নোক্ত শিরোনাম অনুযায়ী হবে:

 

‌‌প্রথমত: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে শায়খ আল-আল্লামাহ শিহাবুদ্দীন আবুল মাহাসিন আব্দুল হালীম ইবনে শায়খ আল-ইমাম আল-আল্লামাহ শায়খুল ইসলাম মাজদুদ্দীন আবুল বারাকাত আব্দুস সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল কাসিম আল-খিজির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-খিজির ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে তাইমিয়্যাহ আন-নুমাইরী আল-হাররানী (১), দামেশক নিবাসী।

--------------------------------------------

= (১৫৭), এবং "আল-মু'জাম আল-মুখতাস" (২৫ - ২৮), "মু'জাম আশ-শুয়ুখ" (১/ ৫৫ - ৫৭), "দুওয়ালুল ইসলাম" (২/ ২৩৭), "যাইলু তারিখিল ইসলাম" (৩২৪ - ৩৩০), "তাযকিরাতুল হুফফায" (৪/ ২২৮)। হাফেজ ইবনে কাসির (রহিমাহুল্লাহ)—যিনি তাঁর অন্যতম ছাত্র ছিলেন—তাঁর ইতিহাসে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া) প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর সময়কাল জুড়ে শায়খুল ইসলামের খণ্ড খণ্ড অনেক সংবাদ উল্লেখ করেছেন (১৪/ ১৪১ - ১৪৫)। তাঁর জীবনী আরও দেখুন: "আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত" (৭/ ১৫ - ৩৩), "ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত" (১/ ৭৪ - ৮০), "যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ" (২/ ৩৮৭ - ৪০৮), "আদ-দুরারুল কামিনাহ" (১/ ১৪৪), ইবনে তাগরি বিরদির "আন-নুজুম আয-যাহিরাহ" (৯/ ২৭১), সুয়ুতির "তাবাকাতুল হুফফায" (৫১৬), "শাযারাতুয যাহাব" (৮/ ১৪২ - ১৫০), "আল-বাদরুত তালি" (১/ ৬৩), এবং আলুসীর "জালাউল আইনাইন" (৫ - ১৪)। সমসাময়িক লেখকরাও শায়খুল ইসলাম সম্পর্কে অনেক লিখেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ আবু জাহরাহ, মুহাম্মদ কুরদ আলী, ড. উমর ফাররুখ, ড. মুহাম্মদ খলিল হাররাস, শায়খ আবুল হাসান নদভী প্রমুখ। ভারতের বেনারসের জামিয়া সালাফিয়্যাহতে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ সম্পর্কে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছিল (৩/ ১৮ - ২/ ৪ - ১৪০৮ হিজরি), যাতে একদল আলিম ও গবেষক তাঁর জীবনের প্রধান দিকগুলো নিয়ে চল্লিশটিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছিলেন।

(১) আল-হাররানী: দজলা ও ফোরাত নদীর মধ্যবর্তী দিয়ার বকর অঞ্চলে অবস্থিত 'হাররান' এর দিকে সম্বন্ধ করে (বর্তমানে এটি তুরস্কের কুর্দিস্তানে অবস্থিত), দ্রষ্টব্য: মু'জামুল বুলদান (২/ ২৩৫)।

আমি এ বিষয়ে সতর্ক করতে চাই যে, অধিকাংশ ঐতিহাসিক—বরং তাদের প্রায় সকলেই—সেই গোত্রের নাম উল্লেখ করেননি যার দিকে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর বংশধারা সম্পর্কিত; বরং তাকে হাররান ও দামেশকের দিকেই সম্পর্কিত করা হয়েছে। তবে তাদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন—এবং এটিই সঠিক—যে তিনি বংশগতভাবে আরব ছিলেন, এবং তারা তাঁর নুমাইরী নিসবত বা সম্পর্ক বনু... গোত্রের দিকে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وأما السبب في انتساب الأسرة إلى اسم (تيمية) فقد ذكر المؤرخون في ذلك سببين اثنين:

الأول: أن جده محمد بن الخضر حج على درب تيماء، فرأى هناك طفلة في طريقه، فلما رجع وجد امرأته قد ولدت له بنتًا، فقال: يا تيمية، يا تيمية، فلقبت بذلك، وانتسب إليها بنوها.

الثاني: أن جده المذكور كانت أمه تسمى تيمية، وكانت واعظة فنسب إليها وعرف بها (1)، والله أعلم بحقيقة الحال.

 

‌‌ثانيًا: مكانة أسرته العلمية والاجتماعية:

ليس من الضرورة أن يكون النابغون من العلماء قد تربوا في أحضان أسر مشهورة بالعلم والفضل والمكانة والدين، فكم من أهل العلم الذين صاروا نابغين مشهورين قد ولدوا لآباء أميين، وأسلاف مغمورين، ولكن العلم رفع من شأنهم، وأعلى من قدرهم بين العالمين، ولكن حين يولد النبوغ في أسر الفضلاء، وتظهر العبقرية في بيوتات العلماء، فتلك مزية -لعمر الله- لا تعدلها مزية.

--------------------------------------------

= نمير، وقد مال بعض المعاصرين -كالشيخ أبي زهرة رحمه الله في كتابه ابن تيمية (18) - إلى احتمال أن يكون أصله كرديًا، لأن ديار بكر موطن الأكراد -عشيرة السلطان العادل المجاهد الإمام الملك صلاح الدين الأيوبي رحمه الله وممن ذكر من المعاصرين أنه نميري النسب المؤرخ الكبير خير الدين الزركلي في الأعلام (1/ 144).

وقد صرَّح من الأقدمين بتلك النسبة العلامة ابن ناصر الدين الدمشقي في كتابه "تراجم الأعيان المنظومين في بديعة الزمان" (وهو مخطوط في مركز البحث العلمي في جامعة أم القرى برقم (176)، وقد ذكر هذه النسبة عند ترجمة جده مجد الدين عبد السلام ابن تيمية، كما ذكرها عند ترجمة شيخ الإسلام في الطبقة الحادية والعشرين، وهي شرح لمنظومة اسمها "بديعة الزمان عن موت الأعيان"، وفيها قال عن شيخ الإسلام لما جاء إلى ترجمه: ثم فتى تيمية حرَّاني ذكرهم كلامه المعاني.

(1) سير أعلام النبلاء (22/ 289)، العقود الدرية (4)، وجاء في ذيل طبقات الحنابلة (2/ 161) للحافظ ابن رجب رحمه الله أن الحافظ المنذري ذكر أن الفخر ابن تيمية سئل عن سبب تسميتهم بذلك، فذكر القصة السابقة عن جده.
পরিবারটি (তৈমিয়া) নামের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণ দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন:

প্রথমত: তাঁর দাদা মুহাম্মদ বিন আল-খিজর তাইমা পথ দিয়ে হজ পালন করতে যাচ্ছিলেন। সেখানে পথে তিনি একটি ছোট মেয়েকে দেখতে পান। তিনি যখন ফিরে আসলেন, তখন দেখলেন যে তাঁর স্ত্রীর একটি কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তখন তিনি বললেন: হে তাইমিয়া, হে তাইমিয়া! অতঃপর তাকে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং তাঁর সন্তানরা এই নামের সাথে সম্পৃক্ত হয়।

দ্বিতীয়ত: উক্ত দাদার মায়ের নাম ছিল তাইমিয়া এবং তিনি একজন ধর্মোপদেশিকা ছিলেন। ফলে তাঁর দিকেই বংশধারা সম্বন্ধযুক্ত করা হয় এবং তিনি এ নামেই পরিচিতি লাভ করেন (১)। আর আল্লাহ তাআলাই প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: তাঁর পরিবারের ইলমী ও সামাজিক মর্যাদা:

এটা আবশ্যক নয় যে, প্রতিভাধর আলেমগণ ইলম, ফযীলত, মর্যাদা ও দ্বীনদারিতে প্রসিদ্ধ পরিবারের কোল ঘেষেই বেড়ে উঠবেন। কতই না ইলমের অধিকারী ব্যক্তি রয়েছেন যারা প্রসিদ্ধ প্রতিভাধর ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন অথচ তারা জন্মগ্রহণ করেছিলেন নিরক্ষর পিতা ও অখ্যাত পূর্বপুরুষদের ঘরে। কিন্তু ইলম তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং বিশ্ববাসীর নিকট তাদের সম্মানকে সমুন্নত করেছে। তবে যখন কোনো ফযীলতপূর্ণ পরিবারে প্রতিভা জন্ম নেয় এবং আলেমদের ঘরে বিচক্ষণতা প্রকাশ পায়, তবে তা—আল্লাহর কসম—এমন এক বৈশিষ্ট্য যার সমকক্ষ আর কোনো বৈশিষ্ট্য নেই।

--------------------------------------------

= নুমাইর। সমসাময়িকদের কেউ কেউ—যেমন শায়খ আবু যাহরা (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'ইবনে তাইমিয়া' (১৮) গ্রন্থে—এই সম্ভাবনার দিকে ঝুঁকেছেন যে, তাঁর মূল উৎস কুর্দি হতে পারে। কারণ দিয়ার বকর হলো কুর্দিদের আবাসস্থল—যা ন্যায়পরায়ণ সুলতান, মুজাহিদ ইমাম আল-মালিক সালাহউদ্দিন আল-আইয়ুবী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর গোত্র। সমসাময়িকদের মধ্যে যিনি তাঁকে নুমাইরী বংশোদ্ভূত বলে উল্লেখ করেছেন তিনি হলেন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক খাইরুদ্দিন আল-যিরিকলী তাঁর 'আল-আ'লাম' (১/১৪৪) গ্রন্থে।

প্রাচীনদের মধ্যে আল্লামা ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি তাঁর 'তারাজিমুল আ'ইয়ানিল মানযুমিনা ফি বাদিইয যামান' কিতাবে (এটি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রে ১৭৬ নম্বর পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত) স্পষ্টভাবে এই বংশপরম্পরা উল্লেখ করেছেন। তিনি এই বংশপরম্পরাটি তাঁর দাদা মাজদুদ্দিন আবদুস সালাম ইবনে তাইমিয়ার জীবনচরিত আলোচনার সময় উল্লেখ করেছেন। তদ্রূপ তিনি একুশতম স্তরে শাইখুল ইসলামের জীবনী আলোচনার সময়ও এটি উল্লেখ করেছেন। এটি 'বাদিউয যামান আন মাওতিল আ'ইয়ান' নামক একটি কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এতে তিনি শাইখুল ইসলামের জীবনীতে লিখেছেন: তারপর হাররানের যুবক তাইমিয়া, যাঁর কালাম (কথা) সূক্ষ্ম অর্থসমূহ স্মরণ করিয়ে দেয়।

(১) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (২২/২৮৯), আল-উকূদ আদ-দুররিয়াহ (৪)। হাফিজ ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর 'যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ' (২/১৬১)-তে এসেছে যে, হাফিজ আল-মুনযিরি উল্লেখ করেছেন যে, ফখর ইবনে তাইমিয়াকে তাদের এই নামকরণের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি তাঁর দাদা সম্পর্কে পূর্বোক্ত ঘটনাটি বর্ণনা করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ২০)
وقد كان لشيخ الإسلام من تلك المزية الفائقة أوفر الحظ والنصيب، فذكاء مفرط، ونبوغ باكر، وعبقرية عجيبة تألفت منها شخصية شيخ الإسلام، لتلقى الرعاية والعناية والاهتمام من رجالات هذه الأسرة العلمية النبيلة ونسائها على حد سواء.

وما الظن حين يرعى الموهوبون، ويتعاهد بالعناية والتشجيع النابغون، وهذا حال شيخ الإسلام رحمه الله في أسرته.

ولعل من المناسب أن أذكر طرفًا ميسورًا ونبذة موجزة عن بعض فروع هذه الدوحة الطيبة والشجرة المباركة من آل تيمية رحمهم الله تعالى، ليدرك المطالع سرًا من أسرار بعض ما ناله شيخ الإسلام -في حياته وبعد مماته- من رفعة وعلو وقبول ومكانة.

ولئن نالت دمشق ومصر -وغيرهما من البلدان- حظهما من علم شيخ الإسلام ودعوته، فلقد كانت حران -موطن أجداده- مهدًا لنشاط أسلافه من آل تيمية، ومركزًا بارزًا لعلومهم.

* فمن آل تيمية رحمهم الله فخر الدين أبو عبد الله محمد بن أبي القاسم الخضر بن محمد بن الخضر (ت سنة 622 هـ) الذي نعته الإمام الذهبي بالشيخ الإمام العلامة المفتي المفسر الخطيب البارع عالم حران وخطيبها وواعظها، صاحب الديوان في الخطب، والتفسير الكبير الذي يبلغ ثلاثين مجلدًا، وله مختصر في مذهب الحنابلة -الذي درجت عليه هذه الأسرة- ولازم الإمام ابن الجوزي وقرأ عليه كثيرًا من مصنفاته، وهو عم المجد أبي البركات جد شيخ الإسلام، ووالده أبو القاسم كان من أهل العلم الصالحين وعليه قرأ القرآن، وقد أطال الحافظ ابن رجب في ترجمته (1)، وذكر أنه كانت بينه وبين الإمام موفق الدين ابن قدامة رحمه الله

--------------------------------------------

(1) وقد بلغت هذه الترجمة إحدى عشرة صفحة، وما التراجم المطولة في الذيل إلا لمشاهير علماء الحنابلة؛ والفخر ابن تيمية واحد من أبرزهم، وإن كان ليُؤخذ على ترجمة الفخر أن ثلاث صفحات منها قد سيقت في حال المرائي التي قيل إنها رؤيت له بعد موته، ولو خلت الترجمة منها لما أضر بها شيء، ولو اقتصر فيها على قصة أو قصتين لكفى، والله أعلم.
শাইখুল ইসলামের সেই অনন্য বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত চমৎকার এবং পূর্ণ মাত্রায় ভাগ্য ও অংশ লাভ করেছিলেন। তাঁর প্রখর বুদ্ধিমত্তা, অকাল-পরিণতি এবং বিস্ময়কর প্রতিভার সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল শাইখুল ইসলামের ব্যক্তিত্ব, যা এই মহৎ ইলমি পরিবারের পুরুষ ও মহিলা উভয়ের পক্ষ থেকে সমানভাবে যত্ন, তত্ত্বাবধান ও গুরুত্ব লাভ করেছিল।

যখন প্রতিভাবানদের যত্ন নেওয়া হয় এবং উদীয়মান মেধাবীদের পরিচর্যা ও উৎসাহের মাধ্যমে লালন-পালন করা হয়, তখন তা কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়; আর তাঁর পরিবারের মধ্যে শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থা ছিল ঠিক এমনই।

সম্ভবত তায়মিয়্যাহ পরিবারের (আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি দয়া করুন) এই উত্তম বৃক্ষ এবং বরকতময় বংশের কিছু শাখা সম্পর্কে সংক্ষেপে এবং সহজভাবে আলোচনা করা সমীচীন হবে, যাতে পাঠক শাইখুল ইসলাম তাঁর জীবনে ও মৃত্যুর পর যে মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব, গ্রহণযোগ্যতা এবং অবস্থান লাভ করেছেন, তার কিছু রহস্য অনুধাবন করতে পারেন।

যদিও দামেস্ক এবং মিসর—পাশাপাশি অন্যান্য দেশ—শাইখুল ইসলামের ইলম ও দাওয়াতের অংশ লাভ করেছে, তবুও হাররান—যা ছিল তাঁর পূর্বপুরুষদের আবাসস্থল—ছিল তায়মিয়্যাহ পরিবারের পূর্বসূরিদের কর্মকাণ্ডের পাদপীঠ এবং তাঁদের ইলম বা জ্ঞানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

তায়মিয়্যাহ পরিবারের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) অন্তর্ভুক্ত হলেন ফখরুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবিল কাসেম আল-খিদর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল-খিদর (মৃত্যু ৬২২ হিজরি), যাকে ইমাম যাহাবী শাইখ, ইমাম, আল্লামা, মুফতি, মুফাসসির, সুদক্ষ খতিব, হাররানের আলেম, খতিব ও ওয়ায়েজ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি খুতবা সংকলন এবং ত্রিশ খণ্ড বিশিষ্ট বৃহৎ তাফসিরের রচয়িতা। হাম্বলি মাযহাবের—যা এই পরিবার অনুসরণ করত—উপর তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ইমাম ইবনুল জাওযীর সান্নিধ্যে দীর্ঘকাল ছিলেন এবং তাঁর কাছে তাঁর অনেক কিতাব পাঠ করেছেন। তিনি হলেন আল-মাজদ আবুল বারাকাত-এর চাচা, যিনি ছিলেন শাইখুল ইসলামের দাদা। তাঁর পিতা আবুল কাসেম ছিলেন নেককার আলেমদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর কাছেই তিনি কুরআন পাঠ করেছিলেন। হাফেজ ইবনে রজব তাঁর জীবনী (১) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর এবং ইমাম মুয়াফফাকুদ্দীন ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ)-এর মধ্যে...

--------------------------------------------

(১) এই জীবনী এগারো পৃষ্ঠা পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে। আর 'যাইল' গ্রন্থে বিস্তারিত জীবনী কেবল প্রখ্যাত হাম্বলি আলেমদের জন্যই সংরক্ষিত; ফখর ইবনে তায়মিয়্যাহ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তবে ফখরের জীবনীর ওপর একটি সমালোচনা হতে পারে যে, এর মধ্যে তিন পৃষ্ঠা ব্যয় করা হয়েছে তাঁর মৃত্যুর পর দেখা হয়েছে এমন স্বপ্নের বর্ণনায়। যদি জীবনীটি এই অংশ থেকে মুক্ত থাকত তবে তা কোনো ক্ষতি করত না, আর যদি এতে একটি বা দুটি গল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা হতো তবেই যথেষ্ট হতো। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ২১)
مراسلات ومكاتبات، ووقوع نوع خلاف في بعض المسائل بينهما -وذلك دأب العلماء في كل زمان ومكان- وقد أورد بعضها، وتظهر مكانة الفخر ابن تيمية رحمه الله في عبارات المدح والثناء من الحافظ ابن قدامة عليه، فهو يطلق عليه فيها: الأخ الإمام الكبير جمال الإسلام ناصر السنّة، الذي يرجع إليه في جميع العلوم (1)! ! .

* ومن آل تيمية أبو محمد عبد الحليم بن محمد بن أبي القاسم الخضر، وهو ابن الشيخ فخر الدين -المتقدم ذكره- (المولود سنة 573 هـ)، وأقام ببغداد مدة طويلة يتلقى الحديث وسائر العلوم، حتى برع في ذلك كله، وقد سمع منه الحافظ ضياء الدين بعض الأجزاء في الحديث، ولكن الأجل لم يمهله طويلًا، ومات في حياة أبيه عن عمر يناهز الثلاثين عامًا (سنة 603 هـ).

وقد ذكر والده -كما يقول الحافظ ابن رجب- أن ابنه عبد الحليم هذا له كتاب سماه "الذخيرة" فيه مسائل دقيقة، وأخرى عويصة (2).

* ومن آل تيمية أبو محمد سيف الدين عد الغني بن فخر الدين أبي عبد الله بن تيمية خطيب حرَّان وابن خطيبها فخر الدين، وأخو عبد الحليم السالف الذكر، وقد ولد (سنة 581 هـ) وقام مقام أبيه بعد وفاته، فكان يخطب ويعظ ويدرِّس ويلقي التفسير في الجامع على الكرسي، ومن مصنفاته "الزوائد على تفسير الوالد" و "إهداء القرب إلى ساكني الترب"، ومات رحمه الله بحران (سنة 639 هـ) (3).

--------------------------------------------

(1) وفيات الأعيان (4/ 386)، ذيل تاريخ بغداد (15/ 26)، سير أعلام النبلاء (22/ 289)، الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 151 - 161) شذرات الذهب (7/ 179)، مختصر طبقات الحنابلة لمحمد جميل الشطي (54).

(2) الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 39).

(3) الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 222)، شذرات الذهب (7/ 354)، جلاء العينين في محاكمة الأحمدين للشيخ نعمان خير الدين ابن الألوسي (29)، مختصر طبقات الحنابلة (55).
পত্রালাপ ও পত্রবিনিময়, এবং তাদের উভয়ের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল—যা সর্বকালে ও সর্বস্থানে আলেমদের চিরাচরিত স্বভাব—এবং এর কিছু অংশ উদ্ধৃত হয়েছে। হাফেজ ইবন কুদামাহ কর্তৃক তাঁর প্রতি যে প্রশংসা ও গুণকীর্তন করা হয়েছে, তাতে ফখর ইবন তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মর্যাদা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে; তিনি সেখানে তাঁকে সম্বোধন করে বলেন: মহান ইমাম ভ্রাতা, ইসলামের সৌন্দর্য, সুন্নাহর সাহায্যকারী, যাঁর নিকট সমস্ত ইলমের ক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তন করা হয় (১)! ! ।

* ইবন তাইমিয়্যাহ পরিবারের সদস্যগণের মধ্যে রয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল হালিম বিন মুহাম্মদ বিন আবিল কাসেম আল-খিজির, যিনি শায়খ ফখর উদ্দিন—যাঁর কথা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে—এর পুত্র (জন্ম ৫৭৩ হিজরি)। তিনি দীর্ঘকাল বাগদাদে অবস্থান করে হাদিস ও অন্যান্য ইলম অর্জন করেন, এমনকি তিনি এ সবগুলোতে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। হাফেজ দিয়াউদ্দিন তাঁর নিকট থেকে হাদিসের কিছু অংশ শ্রবণ করেছেন, কিন্তু মৃত্যু তাঁকে খুব বেশি অবকাশ দেয়নি এবং তিনি তাঁর পিতার জীবিত থাকাবস্থায় প্রায় ত্রিশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন (৬০৩ হিজরি)।

তাঁর পিতা উল্লেখ করেছেন—যেমনটি হাফেজ ইবন রাজাব বলেন—যে, তাঁর পুত্র আবদুল হালিমের "আয-যাখিরা" নামক একটি কিতাব রয়েছে, যাতে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিল মাসয়ালাসমূহ রয়েছে (২)।

* ইবন তাইমিয়্যাহ পরিবারের অন্য সদস্য হলেন আবু মুহাম্মদ সাইফ উদ্দিন আবদুল গনি বিন ফখর উদ্দিন আবি আবদুল্লাহ বিন তাইমিয়্যাহ, যিনি হাররানের খতিব এবং এর খতিব ফখর উদ্দিনের পুত্র এবং পূর্বে উল্লিখিত আবদুল হালিমের ভাই। তিনি জন্মগ্রহণ করেন (৫৮১ হিজরিতে) এবং তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি মিম্বরে বসে খুতবা প্রদান করতেন, ওয়াজ-নসিহত করতেন, দরস দিতেন এবং জামে মসজিদে তাফসির পেশ করতেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে "আয-যাওয়ায়েদ আলা তাফসিরিল ওয়ালিদ" এবং "ইহদাউল কুরুব ইলা সাকিনিত তুরুব"। তিনি হাররানে ইন্তেকাল করেন (রাহিমাহুল্লাহ) (৬৩৯ হিজরিতে) (৩)।

--------------------------------------------

(১) ওয়াফায়াতুল আ-ইয়ান (৪/৩৮৬), জাইলু তারিখি বাগদাদ (১৫/২৬), সিয়ারু আলামিন নুবালা (২২/২৮৯), আজ-জাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/১৫১-১৬১), শাজারাতুজ জাহাব (৭/১৭৯), মুহাম্মদ জামিল আশ-শাত্তি রচিত মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৫৪)।

(২) আজ-জাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/৩৯)।

(৩) আজ-জাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/২২২), শাজারাতুজ জাহাব (৭/৩৫৪), শায়খ নুমান খাইরুদ্দিন ইবনুল আলুসি রচিত জালাউল আইনাইন ফি মুহাকামাতি আল-আহমাদাইন (২৯), মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৫৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ২২)
* ومن آل تيمية الكرام شيخ الإسلام ابن تيمية مجد الدين أبو البركات عبد السلام بن عبد الله بن الخضر، وصفه الحافظ الذهبي بالشيخ الإمام العلامة فقيه العصر شيخ الحنابلة، تفقه على عمه فخر الدين الخطيب، ورحل مع ابن عمه سيف الدين وهو صغير إلى بغداد، وتفقه وبرع وصنف التصانيف وانتهت إليه الإمامة في الفقه.

ويقول عنه الشيخ جمال الدين ابن مالك (الإمام في النحو وصاحب الألفية الذائعة الصيت): أُلين للشيخ المجد الفقه، كما ألين لداود الحديد.

وحين حج ومر ببغداد انبهر علماؤها بذكائه وعلمه وفضله، والتمس منه أستاذ دار الخلافة محيي الدين ابن الجوزي الإقامة عندهم، فتعلل بالأهل والوطن، وما زال المجد يصنف ويدرس وينشر العلم حتى قبضه الله عز وجل (سنة 652 هـ)، ومن مصنفاته "المنتقى من أحاديث الأحكام" وهو كتاب مشهور، و "المحرر" و "منتهى الغاية في شرح الهداية" (1).

* ومنهم أبو الفرج فخر الدين عبد القاهر بن سيف الدين عبد الغني (الذي سبقت ترجمته) ابن الشيخ فخر الدين بن تيمية (المولود بحرَّان سنة 612 هـ) سمع من جده الفخر ابن تيمية، وخطب بحرَّان، وحدث بدمشق، ومات بها (سنة 671 هـ)، وجاء في ترجمته: أن جد شيخ الإسلام المجد ابن تيمية لما مات رحمه الله، جاء أبو الفرج هذا -وهو ابن ابن عمه- فغلبهم على الصلاة عليه (2).

* ومنهم أخو أبي الفرج (المتقدم ذكره) علاء الدين علي بن عبد الغني بن الفخر بن تيمية، ومات (سنة 701 هـ) بمصر عن اثنتين وثمانين سنة، وممن روى عنه الحافظ الذهبي (3).

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء (23/ 291)، البداية والنهاية (13/ 198)، الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 249)، شذرات الذهب (7/ 443)، جلاء العينين (28)، مختصر طبقات الحنابلة (56).

(2) الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 282)، شذرات الذهب (7/ 583).

(3) شذرات الذهب (8/ 6).
* সম্মানিত তাইমিয়া বংশের অন্তর্ভুক্ত হলেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া মাজদুদ্দিন আবুল বারাকাত আবদুস সালাম বিন আবদুল্লাহ বিন আল-খিজর। হাফেজ যাহাবী তাকে শাইখ, ইমাম, আল্লামা, যুগের ফকিহ এবং হাম্বলিদের শাইখ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি তার চাচা ফখরুদ্দিন আল-খতিবের কাছে ফিকহ শিক্ষা করেন এবং শৈশবে তার চাচাতো ভাই সাইফুদ্দিনের সাথে বাগদাদ সফর করেন। সেখানে তিনি ফিকহ শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন, কিতাব রচনা করেন এবং ফিকহ শাস্ত্রে ইমামতের সুউচ্চ শিখরে আরোহণ করেন।

শাইখ জামালুদ্দিন ইবনে মালিক (যিনি নাহু শাস্ত্রের ইমাম এবং বিশ্বখ্যাত আলফিয়্যাহর রচয়িতা) তার সম্পর্কে বলেন: শাইখ মাজদের জন্য ফিকহকে তেমন সহজ ও কোমল করে দেওয়া হয়েছিল, যেমন দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য লোহাকে কোমল করে দেওয়া হয়েছিল।

যখন তিনি হজ পালন করার পথে বাগদাদ অতিক্রম করেন, তখন সেখানকার আলেমরা তার প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্ব দেখে বিমুগ্ধ হন। খেলাফত দপ্তরের প্রধান উস্তাদ মুহিউদ্দিন ইবনে আল-জাওজি তাকে সেখানে অবস্থানের অনুরোধ করেন, কিন্তু তিনি পরিবার ও স্বদেশের দোহাই দিয়ে অপারগতা প্রকাশ করেন। মাজদ ক্রমাগত কিতাব রচনা, পাঠদান ও ইলম প্রচারের কাজ করে যান যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা (৬৫২ হিজরি সালে) তাকে তুলে নেন। তার প্রসিদ্ধ কিতাবগুলোর মধ্যে রয়েছে "আল-মুন্তাকা মিন আহাদিসিল আহকাম", "আল-মুহাররার" এবং "মুনতাহাল গায়াহ ফি শারহিল হিদায়াহ" (১)।

* তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আবুল ফারাজ ফখরুদ্দিন আবদুল কাহের বিন সাইফুদ্দিন আবদুল গনি (যার জীবনী পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে) বিন শাইখ ফখরুদ্দিন ইবনে তাইমিয়া (যিনি হিরানে ৬১২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন)। তিনি তার দাদা ফখর ইবনে তাইমিয়া থেকে হাদীস শ্রবণ করেন এবং হিরানে খুতবা প্রদান করেন। তিনি দামেস্কে হাদীস বর্ণনা করেন ও সেখানেই (৬৭১ হিজরিতে) ইন্তেকাল করেন। তার জীবনীতে বর্ণিত আছে যে: শাইখুল ইসলামের দাদা মাজদ ইবনে তাইমিয়া যখন ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন), তখন এই আবুল ফারাজ—যিনি তার চাচাতো ভাইয়ের পুত্র ছিলেন—এসে তাদের উপস্থিতিতে জানাযার নামাযে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন (২)।

* তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আবুল ফারাজের ভাই (যিনি পূর্বে উল্লিখিত হয়েছেন) আলাউদ্দীন আলী বিন আবদুল গনি বিন আল-ফখর ইবনে তাইমিয়া। তিনি (৭০১ হিজরিতে) মিশরে বিরাশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং হাফেজ যাহাবী তার থেকে বর্ণনা করেছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা (২৩/২৯১), আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৩/১৯৮), আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলা (২/২৪৯), শাযারাতুয যাহাব (৭/৪৪৩), জালাউল আইনাইন (২৮), মুখতাসার তাবাকাতিল হানাবিলা (৫৬)।

(২) আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলা (২/২৮২), শাযারাতুয যাহাব (৭/৫৮৩)।

(৩) শাযারাতুয যাহাব (৮/৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ২৩)
* ومن آل تيمية والد شيخ الإسلام عبد الحليم شهاب الدين أبو المحاسن بن عبد السلام بن عبد الله بن تيمية (المولود سنة 627 هـ) تفقه على والده وأكثر عنه، وصار شيخ البلد بعد أبيه وخطيبه، وله اليد الطولى في كثير من الفنون، وكان -كما يقول الذهبي- من أنجم الهدى، وإنما اختفى بين نور القمر وضوء الشمس، يشير إلى أبيه وابنه، وقد عرفت دمشق له فضله لما قدمها مع أهله، وتولى المشيخة والتدريس في إحدى معاهدها العريقة، وهي دار الحديث السُّكَّرية، هذا عدا دروسه بالجامع، وقد خلفه فيهما بعد وفاته ابنه شيخ الإسلام، وقد مات رحمه الله (سنة 682 هـ) (1).

* ومنهم شرف الدين أبو البركات عبد الأحد بن أبي القاسم بن عبد الغني ابن خطيب حرَّان فخر الدين ابن تيمية، كان تاجرًا، وروى عن جماعة من أهل العلم، وحدث زمانًا، وكان من خيار عباد الله، كما يقول الذهبي (2).

* ولئن كان شيخ الإسلام ابن تيمية هو سليل تلك الأسرة الماجدة، وأشهرها على الإطلاق، فقد كان منها فى فروع معاصرون لشيخ الإسلام أو جاؤوا بعده، ليظل اسم هذه الأسرة المباركة حيًا في عقل الأمة وفؤادها.

* ومن هؤلاء شقيقا شيخ الإسلام عبد الرحمن وعبد الله، فأما الأول فهو زين الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن عبد الحليم (المولود سنة 663 هـ) والمتوفى (سنة 747 هـ)، أخذ العلم والحديث على جماعة من العلماء، وذكر المؤرخ الحافظ علم الدين البرزالي له ستة وثمانين شيخًا، وكان تاجرًا خيرًا دينًا، وقد حبس نفسه مع أخيه شيخ الإسلام محبة له وإيثارًا لخدمته (3).

--------------------------------------------

(1) العبر (5/ 337)، البداية والنهاية (13/ 320)، الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 310)، شذرات الذهب (7/ 656)، مختصر طبقات الحنابلة (59).

(2) ذيل تاريخ الإسلام (140)، شذرات الذهب (9/ 54).

(3) البداية والنهاية (14/ 232)، الدرر الكامنة (2/ 330)، شذرات الذهب (8/ 262).
আল তাইমিয়্যাহ পরিবারের সদস্যগণের মধ্যে অন্যতম হলেন শাইখুল ইসলামের পিতা আবদুল হালীম শিহাবুদ্দীন আবুল মাহাসিন বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন তাইমিয়্যাহ (জন্ম ৬২৭ হিজরী)। তিনি তার পিতার নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং তার নিকট থেকেই অধিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি তার পিতার পর শহরের শাইখ এবং খতীব নিযুক্ত হন। বহু শাস্ত্রে তার অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। আয-যাহাবী যেমনটি বলেছেন—তিনি ছিলেন হিদায়াতের নক্ষত্রদের অন্যতম, তবে তিনি চন্দ্রের জ্যোতি এবং সূর্যের আলোর মাঝে প্রচ্ছন্ন ছিলেন; এখানে তিনি তার পিতা ও তার পুত্রের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। দামেস্কবাসী তার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবগত হয় যখন তিনি তার পরিবারসহ সেখানে আগমন করেন এবং সেখানকার অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 'দারুল হাদীস আস-সুক্কারিয়্যাহ'-তে প্রধান শাইখ ও শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও জামে মসজিদে তার পাঠদান কার্যক্রম ছিল। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র শাইখুল ইসলাম উভয় স্থানে তার স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি—আল্লাহ তার উপর রহম করুন—(৬৮২ হিজরীতে) ইন্তেকাল করেন (১)।

তাদের মধ্যে রয়েছেন শারফুদ্দীন আবুল বারাকাত আব্দুল আহাদ বিন আবিল কাসিম বিন আব্দুল গনী বিন খতীব হাররান ফখরুদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ। তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং একদল আহলে ইলমের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এবং দীর্ঘকাল হাদীস বর্ণনা করেছেন। আয-যাহাবী যেমনটি বলেছেন, তিনি ছিলেন আল্লাহর নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত (২)।

যদিও শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ সেই মহান পরিবারেরই উত্তরসূরি এবং তাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ, তবুও শাইখুল ইসলামের সমসাময়িক বা তার পরবর্তী বংশধরদের মধ্যেও এমন অনেকে ছিলেন যারা এই বরকতময় পরিবারের নাম উম্মাহর চিন্তা ও হৃদয়ে জীবন্ত করে রেখেছিলেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন শাইখুল ইসলামের দুই সহোদর ভাই আবদুর রহমান ও আবদুল্লাহ। প্রথমজন হলেন যাইনুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আবদুল হালীম (জন্ম ৬৬৩ হিজরী এবং মৃত্যু ৭৪৭ হিজরী)। তিনি উলামাদের একটি দলের নিকট থেকে ইলম ও হাদীস গ্রহণ করেন। ইতিহাসবিদ হাফিজ আলমুদ্দীন আল-বিরযালী তার জন্য ছেয়াশি জন শাইখের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি একজন নেককার ও পরহেজগার ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তার ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা ও তার খেদমতের মায়ায় তিনি শাইখুল ইসলামের সাথে নিজেকেও কারাবন্দী রেখেছিলেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইবার (৫/ ৩৩৭), আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (১৩/ ৩২০), আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/ ৩১০), শাযারাতুয যাহাব (৭/ ৬৫৬), মুখতাসার তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৫৯)।

(২) যাইল তারিখিল ইসলাম (১৪০), শাযারাতুয যাহাব (৯/ ৫৪)।

(৩) আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (১৪/ ২৩২), আদ-দুরারুল কামিনাহ (২/ ৩৩০), শাযারাতুয যাহাব (৮/ ২৬২)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ২৪)
* وأما الثاني فهو أبو محمد شرف الدين عبد الله بن عبد الحليم بن عبد السلام ابن تيمية (المولود سنة 666 هـ) سمع خلقًا من العلماء، وتفقه في المذهب حتى برع، وبرع أيضًا في الفرائض والحساب وعلم الهيئة وفي الأصلين والعربية، وكان إمامًا في التاريخ، ودرَّس في دار الحنبلية مدة، وكان رحمه الله ذا زهد وتأله وخوف، وقد ناظر بعض خصوم الشيخ في مصر فأفحمهم وقطع حجتهم، وكان قوالًا بالحق أمَّارًا بالمعروف، وكان أخوه شيخ الإسلام يتأدب معه ويحترمه، توفي بدمشق (سنة 727 هـ) (1).

* ومن آل تيمية المتأخرين ناصر الدين محمد بن عبد الله (ت سنة 837 هـ) وقد كان تاجرًا عارفًا بالطب، وولي قضاء الإسكندرية مدة من الزمن (2).

* وأما النساء من تلك الأسرة الماجدة، فقد مر من قبل أن والدة جد شيخ الإسلام الأعلى محمد بن الخضر كانت واعظة (3)، ومن هذه الأسرة العالمة بدرة بنت الشيخ فخر الدين ابن تيمية، جدة شيخ الإسلام، وزوجة جده المجد، وهي ابنة عمه، وماتت قبله بيوم واحد (سنة 652 هـ) وروت بالإجازة عن بعض المحدثين، وكانت تكنى أم البدر (4).

ومنها كذلك عمة شيخ الإسلام ست الدار بنت عبد السلام ابن تيمية، وقد روى عنها شيخ الإسلام (5).

ومنها بنت أخي شيخ الإسلام زينب بنت عبد الله بن عبد الحليم ابن تيمية الحنبلية، روت الحديث عن بعض أهل العلم، وحدَّثت، وأجازت الحافظ ابن حجر رحمه الله، وماتت سنة (799 هـ).

--------------------------------------------

(1) ذيل تاريخ الإسلام (309)، العقود الدرية (241)، الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 382)، شذرات الذهب (8/ 136).

(2) الضوء اللامع للسخاوي (9/ 124)، شذرات الذهب (9/ 327).

(3) ممن ذكر هذا العلامة ابن ناصر الدين عند ترجمته لشيخ الإسلام في كتابه "تراجم الأعيان المنظومين في بديعة الزمان" في الطبقة الحادية والعشرين.

(4) الذيل على طبقات الحنابلة (253)، شذرات الذهب (7/ 446).

(5) تاريخ الإسلام للذهبي، نقلًا عن أعلام النساء لعمر رضا كحالة (2/ 154).

আর দ্বিতীয়জন হলেন আবু মুহাম্মদ শরফ উদ্দিন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল হালিম ইবন আবদুস সালাম ইবন তাইমিয়্যাহ (জন্ম ৬৬৬ হিজরি)। তিনি বহু সংখ্যক আলেমের নিকট ইলম অর্জন করেছেন এবং মাযহাবে পারদর্শিতা অর্জন করা পর্যন্ত ফিকহ চর্চা করেছেন। এছাড়া তিনি ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন), গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, উসুলাইন (উসুলে দীন ও উসুলে ফিকহ) এবং আরবি ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করেছিলেন। তিনি ইতিহাসের ইমাম ছিলেন এবং দীর্ঘকাল দারুল হানবালিয়্যাহ-তে অধ্যাপনা করেছেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ, ইবাদতগুজার ও আল্লাহভীরু। তিনি মিশরে শাইখের (ইবন তাইমিয়্যাহর) কিছু বিরোধীর সাথে বিতর্ক করেন এবং তাদের নিরুত্তর করে তাদের প্রমাণ খণ্ডন করেন। তিনি ছিলেন হকের বিষয়ে স্পষ্টভাষী এবং সৎ কাজের আদেশদাতা। তাঁর ভাই শাইখুল ইসলাম তাঁর সাথে অত্যন্ত শিষ্টাচারপূর্ণ আচরণ করতেন এবং তাঁকে সম্মান করতেন। তিনি (৭২৭ হিজরিতে) দামেস্কে ইন্তেকাল করেন (১)।

আর পরবর্তী যুগের তাইমিয়্যাহ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নাসির উদ্দিন মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (মৃত্যু ৮৩৭ হিজরি)। তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং চিকিৎসাবিদ্যায় দক্ষ ছিলেন। তিনি কিছুকাল ইস্কান্দারিয়ার কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (২)।

আর সেই মহৎ পরিবারের মহীয়সী নারীদের প্রসঙ্গে ইতিপূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, শাইখুল ইসলামের প্রপিতামহ মুহাম্মদ ইবনুল খিদরের মাতা একজন ধর্মোপদেশিকা ছিলেন (৩)। এই জ্ঞানী পরিবারটির মধ্যে আরও ছিলেন শাইখ ফখরুদ্দিন ইবন তাইমিয়্যাহর কন্যা বাদরাহ, যিনি শাইখুল ইসলামের দাদি এবং তাঁর দাদা মাজদ-এর স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাঁর (মাজদ-এর) চাচাতো বোন ছিলেন এবং তাঁর একদিন পূর্বে (৬৫২ হিজরিতে) ইন্তেকাল করেন। তিনি কয়েকজন মুহাদ্দিসের নিকট থেকে ইজাজতের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর উপনাম ছিল উম্মুল বদর (৪)।

তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন শাইখুল ইসলামের ফুফু সিত্তুদ দার বিনতে আবদুস সালাম ইবন তাইমিয়্যাহ। শাইখুল ইসলাম তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন (৫)।

তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন শাইখুল ইসলামের ভ্রাতুষ্পুত্রী যায়নব বিনতে আবদুল্লাহ ইবন আবদুল হালিম ইবন তাইমিয়্যাহ আল-হানবালি। তিনি কিছু আহলে ইলমের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, নিজেও হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং হাফেয ইবন হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-কে ইজাজত প্রদান করেছিলেন। তিনি ৭৯৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

(১) যাইলু তারিখিল ইসলাম (৩০৯), আল-উকুদুদ দুরিইয়্যাহ (২৪১), আয-যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/ ৩৮২), শাযারাতুয যাহাব (৮/ ১৩৬)।

(২) সাখাওয়ি প্রণীত আদ-দউউল লামি (৯/ ১২৪), শাযারাতুয যাহাব (৯/ ৩২৭)।

(৩) আল্লামা ইবনু নাসির উদ্দিন তাঁর "তরাজিমুল আয়ানিল মানযুমিনা ফি বাদিইয যামান" গ্রন্থের একবিংশ স্তরে শাইখুল ইসলামের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে এটি উল্লেখ করেছেন।

(৪) আয-যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২৫৩), শাযারাতুয যাহাব (৭/ ৪৪৬)।

(৫) যাহাবি প্রণীত তারিখুল ইসলাম, উমর রেদা কাহহালাহ প্রণীত আলামুন নিসা (২/ ১৫৪) থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌ثالثًا: مولده ونشأته وشيوخه ومكانته العلمية في نظر معاصريه:

في هذه الأجواء الأسرية العلمية ولد شيخ الإسلام رحمه الله (سنة 661 هـ) بحرَّان في العاشر من شهر ربيع الأول، وفي (سنة 667 هـ) ارتحل به أبوه وأهله وأقاربه خوفًا من جور التتار، يحملون الذرية والكتب على عجلة تجرها البقر، وقد كلَّت البقر من ثقل العجلة، وتوقفت عن السير، وكاد يدركهم العدو، ولجأوا إلى الله عز وجل، فسارت البقر، وأنقذهم الله عز وجل من عدوهم، ووصلوا إلى دمشق آمنين (1).

وقد مر أن والده الشيخ عبد الحليم ابن تيمية لما وصلوا إلى دمشق عرف الناس وأهل العلم فضله ومكانته، وأنه تولى مشيخة دار الحديث السُّكرية، وكان يلقي دروسًا في الجامع.

وفي دمشق الفيحاء نشأ شيخ الإسلام في حجر والده، مكبًا على التعلم، وأخذ عنه كثيرًا، وقد كان والده حريصًا على تشجيعه، ورصد المكافآت المالية له في صغره، لترغيبه في الحفظ والعلم (2)، وأخذ عن جمع كبير من العلماء في عصره، وقد ذكر أن عدد شيوخه الذين أخذ عنهم يربو على مائتي شيخ (3)، ومن هؤلاء الشيوخ:

1 - والده الشيح عبد الحليم بن عبد السلام ابن تيمية.

2 - زين الدين أحمد بن عبد الدائم المقدسي (ت 688 هـ).

3 - تقي الدين إسماعيل بن إبراهيم بن أبي اليسر التنوخي (ت 672 هـ).

4 - شمس الدين عبد الرحمن بن قدامة المقدسي الجماعيلي الحنبلي (ت 682 هـ).

5 - شمس الدين عبد لله بن محمد بن عطاء الحنفي (ت 673 هـ).

6 - شرف الدين محمد بن عبد المنعم بن القواس (ت 683 هـ) (4).

--------------------------------------------

(1) ذيل تاريخ الإسلام (324).

(2) ذكر البزار في الإعلام العلية (21) قصة حول ذلك المعنى.

(3) العقود الدرية (4).

(4) ذيل تاريخ الإسلام (325)، فوات الوفيات (1/ 74)، البداية والنهاية (14/

142)، العقود الدرية (4، 248)، الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 387).
তৃতীয়ত: তাঁর জন্ম, লালন-পালন, তাঁর শিক্ষকগণ এবং সমসাময়িকদের দৃষ্টিতে তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা:

এই ইলমি পারিবারিক পরিবেশে শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) ৬৬১ হিজরী সনের ১০ই রবিউল আউয়াল হাররানে জন্মগ্রহণ করেন। ৬৬৭ হিজরী সনে তাতারীদের অত্যাচারের ভয়ে তাঁর পিতা তাঁর পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে দেশত্যাগ করেন। তাঁরা তাঁদের সন্তান-সন্ততি ও বইপত্র গরুর গাড়িতে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়ির ভারে গরুগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়লে চলা বন্ধ করে দেয় এবং শত্রু তাঁদের ধরে ফেলার উপক্রম হয়। তখন তাঁরা মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন, ফলে গরুগুলো চলতে শুরু করে এবং আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করেন। অবশেষে তাঁরা নিরাপদে দামেস্কে পৌঁছান (১)।

ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, তাঁর পিতা শাইখ আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ যখন দামেস্কে পৌঁছালেন, তখন মানুষ এবং আলেম সমাজ তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে অবগত হলেন। তিনি 'দারুল হাদীস আস-সুক্কারিয়্যাহ'-এর প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন এবং জামে মসজিদে দরস প্রদান করতেন।

সেই সুজলা-সুফলা দামেস্কে শাইখুল ইসলাম তাঁর পিতার ছায়াতলে লালিত-পালিত হন এবং জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকে প্রচুর শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা তাঁকে উৎসাহিত করতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং শৈশবে মুখস্থ ও ইলম অর্জনে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তাঁর জন্য আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা করতেন (২)। তিনি তাঁর সময়ের এক বিশাল আলেম সমাজের কাছ থেকে জ্ঞান লাভ করেন। উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর শিক্ষকের সংখ্যা যাদের কাছ থেকে তিনি জ্ঞান নিয়েছেন তাঁরা দুইশ জনেরও বেশি (৩)। সেই সকল শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - তাঁর পিতা শাইখ আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ।

২ - জাইন উদ্দীন আহমাদ বিন আব্দুল দায়িম আল-মাকদিসী (মৃত্যু ৬৮৮ হি.)।

৩ - তাকী উদ্দীন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বিন আবিল ইউসর আত-তানূখী (মৃত্যু ৬৭২ হি.)।

৪ - শামস উদ্দীন আব্দুর রহমান বিন কুদামা আল-মাকদিসী আল-জামাঈলী আল-হানবালী (মৃত্যু ৬৮২ হি.)।

৫ - শামস উদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আতা আল-হানাফী (মৃত্যু ৬৭৩ হি.)।

৬ - শরাফ উদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মুনঈম বিন আল-কাওয়াস (মৃত্যু ৬৮৩ হি.) (৪)।

--------------------------------------------

(১) জাইলু তারিখিল ইসলাম (৩২৪)।

(২) আল-বাযযার আল-আ'লামুল আলিয়্যাহ (২১) গ্রন্থে এই সংক্রান্ত একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

(৩) আল-উকূদুদ দুররিয়্যাহ (৪)।

(৪) জাইলু তারিখিল ইসলাম (৩২৫), ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত (১/ ৭৪), আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৪/

১৪২), আল-উকূদুদ দুররিয়্যাহ (৪, ২৪৮), আয-জাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/ ৩৮৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ২৬)
ولم يكتف شيخ الإسلام بشيوخ عصره، بل أخذ عن الشيوخ المتقدمين، والعلماء السالفين، الذين لم يدركهم، فطالع مصنفاتهم، واستظهر مؤلفاتهم.

ويبدو للناظر أن سرَّ عظمة شيخ الإسلام وبلوغه في العلم والمكانة شأوًا لا يكاد يلحق فيه، ليس بسبب شيوخه ومعلميه، بقدر ما هو نبوغه وذكاؤه المفرطين اللذين كان يرعاهما توفيق الله عز وجل وعنايته.

وقد أعطى الله هذا الإمام ذاكرة قد بلغت في الحفظ والقوة والإتقان غاية لم يكد يصل إليها أحد من الناس -إلا قليلًا- وزاد من ذلك حرص عجيب على التحصيل، وصرف الوقت والجهد في الطلب، ومتى اجتمع هذان الأمران في شخص كان من أكابر العلماء البارزين.

يقول الإمام الذهبي رحمه الله: "وبرع في الحديث وحفظه، فقلَّ من يحفظ ما يحفظه من الحديث .. " (1).

وقال أيضًا صلى الله عليه وسلم: "وكانت له خبرة تامة بالرجال وجرحهم وتعديلهم وطبقاتهم، ومعرفة بفنون الحديث مع حفظه لمتونه الذي انفرد به، وهو عجيب في استحضاره واستخراج الحجج منه، وإليه المنتهى في عزوه إلى الكتب الستة والمسند، بحيث يصدق عليه أن يقال: كل حديث لا يعرفه ابن تيمية فليس بحديث .. " (2).

ويقول عه تلميذه الحافظ البزار رحمه الله: "وأمده الله بكثرة الكتب وسرعة الحفظ، وقوة الإدراك والفهم، وبطء النسيان .. " (3).

وقال الحافظ ابن رجب رحمه الله بعد أن ساق عبارة قريبة من عبارة الحفاظ البزار: "حتى قال غير واحد: إنه لم يكن يحفظ شيئًا فينساه .. " (4).

--------------------------------------------

(1) شذرات الذهب (8/ 144).

(2) الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 391)، وقال بها ابن الوردي كما ذكر صاحب جلاء العينين (10)، وقال ابن عبد الهادي مثل هذا في العقود الدرية (20).

(3) الأعلام العلية (9).

(4) الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 388).
শাইখুল ইসলাম কেবল তাঁর সমসাময়িক শিক্ষকদের ওপরই তুষ্ট থাকেননি, বরং তিনি পূর্ববর্তী শায়খ এবং অতীত আলেমদের থেকেও জ্ঞান অর্জন করেছেন যাঁদের তিনি সরাসরি পাননি। ফলে তিনি তাঁদের সংকলনসমূহ পাঠ করেছেন এবং তাঁদের রচনাবলি মুখস্থ করেছেন।

পর্যবেক্ষকের কাছে এটি প্রতীয়মান হয় যে, শাইখুল ইসলামের মহত্ত্ব এবং জ্ঞান ও মর্যাদার এমন এক উচ্চশিখরে পৌঁছানো—যেখানে অন্য কেউ প্রায় পৌঁছাতে পারে না—তার কারণ তাঁর শিক্ষক ও ওস্তাদগণ যতটা না ছিলেন, তার চেয়ে বেশি ছিল তাঁর অসামান্য মেধা ও প্রখর বুদ্ধিমত্তা, যা মহান আল্লাহর তাওফিক ও বিশেষ যত্নে পরিপুষ্ট হয়েছিল।

আল্লাহ তাআলা এই ইমামকে এমন এক স্মৃতিশক্তি দান করেছিলেন যা মুখস্থ করার শক্তি ও নিখুঁত হওয়ার ক্ষেত্রে এমন এক চরম সীমায় পৌঁছেছিল যেখানে মানুষের মধ্যে খুব কম ব্যক্তিই পৌঁছাতে পেরেছেন। এর সাথে আরও যুক্ত হয়েছিল জ্ঞান অন্বেষণে এক বিস্ময়কর আগ্রহ এবং অন্বেষার পথে সময় ও শ্রম ব্যয় করা। আর যখন কোনো ব্যক্তির মধ্যে এই দুটি গুণের সমন্বয় ঘটে, তখন তিনি প্রথিতযশা মহান আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হন।

ইমাম যাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তিনি হাদিস এবং তা মুখস্থ করার ক্ষেত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন, ফলে তিনি যা মুখস্থ রেখেছেন তা মুখস্থ রাখার মতো লোক খুব কমই আছে..." (১)।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেন: "বর্ণনাকারীদের অবস্থা, তাদের জারহ-তাদিল (দোষ-গুণ বিচার) এবং তাদের স্তর সম্পর্কে তাঁর পূর্ণ অভিজ্ঞতা ছিল। হাদিসের মতন (মূল পাঠ) মুখস্থ রাখার পাশাপাশি হাদিসের বিভিন্ন বিদ্যায় তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল, যাতে তিনি অনন্য ছিলেন। হাদিস উপস্থাপন এবং তা থেকে দলিল উদঘাটনে তিনি ছিলেন বিস্ময়কর। কুতুবে সিত্তা ও মুসনাদ গ্রন্থের দিকে হাদিসের উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন চূড়ান্ত পর্যায়ের দক্ষ, এমনকি তাঁর ব্যাপারে এ কথা বলা সত্য বলে গণ্য হয় যে: যে হাদিস ইবনে তাইমিয়্যাহ জানেন না, তা হাদিসই নয়..." (২)।

তাঁর ছাত্র হাফিজ আল-বাযযার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল্লাহ তাঁকে প্রচুর কিতাবাদি, দ্রুত মুখস্থ করার শক্তি, প্রখর বোধশক্তি ও উপলব্ধি এবং বিস্মৃতি থেকে সুরক্ষা দিয়ে সাহায্য করেছিলেন..." (৩)।

হাফিজ ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ) হাফিজ আল-বাযযারের বক্তব্যের কাছাকাছি একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর বলেন: "এমনকি একাধিক ব্যক্তি বলেছেন যে: তিনি এমন কিছুই মুখস্থ করেননি যা পরবর্তীতে ভুলে গেছেন..." (৪)।

--------------------------------------------

(১) শাযারাতুয যাহাব (৮/ ১৪৪)।

(২) আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/ ৩৯১), এবং এটি ইবনুল ওয়ারদীও বলেছেন যেমনটি 'জালাউল আইনাইন' (১০)-এর লেখক উল্লেখ করেছেন, আর ইবনে আবদিল হাদি 'আল-উকূদ আদ-দুররিয়্যাহ' (২০)-তে এর অনুরুপ কথা বলেছেন।

(৩) আল-আ'লামুল আলিয়্যাহ (৯)।

(৪) আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/ ৩৮৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقد ظهرت مخايل الذكاء والنجابة والعبقرية على الشيخ وهو صغير، فقد ذكر أن أحد علماء حلب قدم دمشق لاستطلاع حال هذا الفتى الصغير الذي وصلت شهرته في الحفظ إلى خارج دمشق، وأجرى له امتحانًا عسيرًا في الحفظ، وأعاد الامتحان، وكانت النتيجة ذكاءًا مفرطًا وحفظًا عجيبًا وذاكرة نادرة، ثم تُوِّج ذلك الامتحان بشهادة زكية حين قال: إن عاش هذا الصبي ليكونن له شأن عظيم، فإن هذا لم ير مثله (1)! ! ! .

وقد تحققت توقعات هذا الشيخ -وتوقعات كثيرين معه في هذا المجال- وصار لذلك الفتي الصغير شأن وأي شأن، وصدق الله حيث يقول: {نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَنْ نَشَاءُ وَفَوْقَ كُلِّ ذِي عِلْمٍ عَلِيمٌ} [يوسف: 76].

ولقد عرف شيخ الإسلام وهو صغير الدعوة إلى الله عز وجل، ومن ذلك ما ذكر من إسلام يهودي على يديه، حيث كان يمر به ويثير عليه أسئلة وشبهات، وكان شيخ الإسلام يجيب عنها مع صغر سنه (2).

ولقد برع شيخ الإسلام في كافة العلوم كالفقه والأصول، والتفسير وعلوم القرآن، والتوحيد والفرق والأديان والنحل، والحديث وعلومه، واللغة والبلاغة والأدب والشعر، والفلسفة والمنطق وعلم الكلام، والتاريخ وأيام الناس، بل إنه ليضرب بنصيب وافر في علم الحساب، والهندسة، والجبر والمقابلة، والفلك، والطب، والكيمياء، والجغرافيا، وغيرها من العلوم (3).

--------------------------------------------

(1) العقود الدرية (5).

(2) الأعلام العلية (17).

(3) العقود الدرية (4، 7)، الأعلام العلية (18)، الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 388)، شذرات الذهب (8/ 143)، ومن ذلك على جل المثال إجابته رحمه الله شعرًا على اللغز الذي نظمه الشيخ رشيد الفارقي في عشرين بيتًا، حيث أجاب بنحو مائة بيت -وهو في العشرين من العمر- وجاء في هذه الإجابة ما يلي:

العلم لفظ ذو ثلاثة أحرف … وهجاء كلٍ مثلُ ما مجموعه

فإذا يكون مركبًا من تسعة … جذرًا لها فانظر إلى تربيعه

ومربعًا ساواه جذر حسابه … ومثلثًا بحدوده وضلوعه

إلى أن قال: =
শাইখের শৈশবকালেই তাঁর মধ্যে মেধা, আভিজাত্য এবং প্রতিভার লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেয়েছিল। বর্ণিত আছে যে, হালবের (Aleppo) একজন আলেম দামেস্কে এসেছিলেন এই ছোট বালকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে, যার মুখস্থ করার ক্ষমতার খ্যাতি দামেস্কের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি তাকে মুখস্থ করার বিষয়ে একটি কঠিন পরীক্ষা করেন এবং পুনরায় পরীক্ষাটি গ্রহণ করেন। ফলাফল ছিল অত্যন্ত প্রখর বুদ্ধিমত্তা, বিস্ময়কর মুখস্থ শক্তি এবং বিরল স্মৃতিশক্তি। অতঃপর সেই পরীক্ষাটি একটি উৎকৃষ্ট প্রশংসাপত্রের মাধ্যমে পূর্ণতা পায় যখন তিনি বলেছিলেন: "যদি এই বালকটি বেঁচে থাকে, তবে অবশ্যই তার এক মহান মর্যাদা হবে; কারণ এর মতো আর কাউকে দেখা যায়নি" (১)! ! ! .

এই শাইখের প্রত্যাশা—এবং এই ক্ষেত্রে তাঁর সাথে আরও অনেকের প্রত্যাশা—সত্য প্রমাণিত হয়েছে, এবং সেই ছোট বালকটি এক সুমহান মর্যাদার অধিকারী হয়েছিলেন। আর আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি এবং প্রত্যেক জ্ঞানীর উপর রয়েছেন এক সর্বজ্ঞানী} [ইউসুফ: ৭৬]।

শাইখুল ইসলাম শৈশব থেকেই মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতের সাথে পরিচিত ছিলেন। এর একটি উদাহরণ হলো তাঁর হাতে একজন ইহুদির ইসলাম গ্রহণ করার ঘটনা; বালকটি যখন তার পাশ দিয়ে যেতেন, সে তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সংশয় ছুড়ে দিত, আর শাইখুল ইসলাম তাঁর অল্প বয়স সত্ত্বেও সেগুলোর উত্তর দিতেন (২)।

শাইখুল ইসলাম ফিকহ, উসুল, তাফসীর, কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহ, তাওহীদ, বিভিন্ন ফিরকা, ধর্ম ও মতবাদ, হাদীস ও হাদীস শাস্ত্র, ভাষা, অলঙ্কারশাস্ত্র, সাহিত্য ও কাব্য, দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, ইলমুল কালাম, ইতিহাস এবং বিভিন্ন জাতির কাহিনীসহ সকল বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। এমনকি তিনি গণিত, জ্যামিতি, বীজগণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসা বিজ্ঞান, রসায়ন, ভূগোল এবং অন্যান্য বিজ্ঞানেও প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-উকূদ আদ-দুরিইয়াহ (৫)।

(২) আল-আ’লাম আল-আলিইয়াহ (১৭)।

(৩) আল-উকূদ আদ-দুরিইয়াহ (৪, ৭), আল-আ’লাম আল-আলিইয়াহ (১৮), আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/৩৮৮), শাযারাতুয যাহাব (৮/১৪৩)। এর একটি উদাহরণ হলো, শাইখ রশীদ আল-ফারেকী বিশটি চরণে যে ধাঁধাটি রচনা করেছিলেন, রহিমাহুল্লাহ কাব্যের মাধ্যমে তার উত্তর দিয়েছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র বিশ বছর এবং তিনি প্রায় একশ চরণে এর উত্তর দিয়েছিলেন—সেই উত্তরের মধ্যে নিম্নোক্ত কথাগুলো ছিল:

ইলম (জ্ঞান) এমন একটি শব্দ যা তিনটি বর্ণ বিশিষ্ট … আর প্রতিটি বর্ণের বানান তার সমষ্টির মতো

যখন তা নয় থেকে গঠিত হয় … তবে এর বর্গমূলের দিকে তাকাও

একটি বর্গক্ষেত্র যার হিসাব তার মূলের সমান … এবং তার সীমা ও বাহু বিশিষ্ট একটি ত্রিভুজ

যতক্ষণ না তিনি বললেন: =
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ২৮)
ولكي ندرك شيئًا من المكانة العلمية التي وهبها الله عز وجل لشيخ الإسلام، فلا بأس بفسح المجال لرأي ثلة من علماء الأمة في علم شيخ الإسلام وتبحره في كافة العلوم على حد سواء.

يقول الشيخ الحافظ العلامة تقي الدين بن دقيق العيد لما سئل عن ابن تيمية؛ وكاد قد اجتمع به: "رأيت رجلًا سائر العلوم بين عينيه، يأخذ ما شاء منها، ويترك ما شاء .. " (1).

ويقول عنه شيخ المحدثين في عصره؛ وأستاذ أئمة الجرح والتعديل في زمانه أبو الحجاج المزي: "ما رأيت مثله، ولا أرى هو مثل نفسه، ما رأيت أحدًا أعلم بكتاب الله وسنّة رسوله، ولا أتبعه لهما منه" (2).

--------------------------------------------

= ثلثاه حرفا العين والميم هما … في اللفظ من عدمٍ وفي تنويعه

لو إذ جمعت حسابه في أكثر … وأضفت خمسيه إلى مجموعه

فمربعًا يضحي ويضحي جذره … مع أربع عشرًا لذي تربيعه

وكلمات المربع والأضلاع والمثلث والجذر والتربيع كلها مصطلحات رئيسية في الهندسة والحساب والجبر والمقابلة.

وأود أن أشير بهذه المناسبة إلى أن شيخ الإسلام كان له نظم قليل وسط كما قال الحافظ ابن رجب في الذيل (2/ 395)، وقوله: وسط أي ليس بالفائق، دون القوي وفوق الضعيف، وهكذا نظم كثير الفقهاء والعلماء، ومن آخر نظمه ما قاله في السجن الأخير الذي مات فيه:

أنا الفقير إلى رب السموات … أنا المسكين في مجموع حالاتي

أنا الظلوم لنفس وهي ظالمتي … والخير إن جاءنا من عنده يأتي

لا أستطيع لنفسي جلب منفعة … ولا عن النفس في دفع المضرات

وليس لي دونه مولى يدبرني … ولا شفيع إلى رب البريات

إلا بإذن من الرحمن خالقنا … .......................

وقد بالغ بعض الباحثين في إطراء نظم شيخ الإسلام ووصفه بأنه من أقوى الشعر، وأبلغ النظم والتصوير، وشيخ الإسلام لم يكن شاعرًا، وهو بحمد الله في غنى عن مثل هذا الإطراء الفجّ، ولو قيل بعض ذلك في تلميذه ابن القيم لكان الأمر قريبًا، ورحم الله الجميع.

(1) الرد الوافر على من زعم من أن من أطلق على ابن تيمية شيخ الإسلام كافر لابن ناصر الدين الدمشقي (107).

(2) العقود الدرية (7) شذرات الذهب (8/ 147).
শাইখুল ইসলামকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যে ইলমী মর্যাদা দান করেছেন, তা কিছুটা অনুধাবনের জন্য উম্মাহর একদল উলামার মতামত তুলে ধরায় কোনো বাধা নেই, যারা শাইখুল ইসলামের ইলম এবং সকল বিদ্যায় তাঁর সমান পারদর্শিতার বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

শাইখ হাফেজ আল্লামা তাকিউদ্দীন ইবনু দাকীকিল ঈদ, যিনি ইবনু তাইমিয়্যাহর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, তাঁকে যখন তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো তখন তিনি বলেন: "আমি এমন একজন ব্যক্তিকে দেখেছি যাঁর চোখের সামনে সমস্ত ইলম বিদ্যমান ছিল, তিনি সেখান থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করতেন আর যা ইচ্ছা বর্জন করতেন..." (১)।

তাঁর সম্পর্কে তাঁর যুগের শাইখুল মুহাদ্দিসীন এবং তাঁর সময়ের জারাহ ও তা’দীল শাস্ত্রের ইমামদের উস্তাদ আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযী বলেন: "আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি, আর তিনিও নিজের মতো কাউকে দেখেননি। আমি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর চেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং তাঁর চেয়ে বেশি এ দুটির অনুসারী আর কাউকে দেখিনি" (২)।

--------------------------------------------

= এর দুই-তৃতীয়াংশ হলো 'আইন' এবং 'মীম' অক্ষর দুটি … অস্তিত্বহীনতা হতে উচ্চারণের ক্ষেত্রে এবং এর বৈচিত্র্যে।

যদি আপনি এর হিসাবের অধিকাংশ একত্র করেন … এবং এর দুই-পঞ্চমাংশ মোটের সাথে যোগ করেন।

তবে তা একটি বর্গক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং এর বর্গমূলও হয়ে যায় … তাঁর বর্গীকরণের জন্য চতুর্দশ সহ।

বর্গ, বাহু, ত্রিভুজ, বর্গমূল এবং বর্গীকরণ শব্দগুলো জ্যামিতি, গণিত, বীজগণিত ও মুকাবিলা শাস্ত্রের প্রধান পরিভাষাসমূহ।

আমি এই সুযোগে উল্লেখ করতে চাই যে, হাফেজ ইবনু রজব যেমনটা 'যাইল' (২/৩৯৫) গ্রন্থে বলেছেন, শাইখুল ইসলামের কিছু মধ্যম মানের কবিতা ছিল। তাঁর কথা 'মধ্যম' মানে হলো যা অত্যন্ত উঁচু মানেরও নয়, আবার শক্তিশালীর নিচে এবং দুর্বলের উপরে। অধিকাংশ ফকিহ এবং আলেমদের কবিতা এমনই হয়ে থাকে। তাঁর শেষ কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে যা তিনি তাঁর শেষ কারাবাসে লিখেছিলেন যাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন:

আমি আসমানসমূহের রবের মুখাপেক্ষী অভাবী … আমি আমার সকল অবস্থায় নিঃস্ব।

আমি নিজের ওপর জুলুমকারী এবং নফসও আমার প্রতি জুলুমকারী … আর কল্যাণ যদি আমাদের কাছে আসে তবে তা তাঁর পক্ষ থেকেই আসে।

আমি নিজের জন্য কোনো উপকার বয়ে আনতে সক্ষম নই … আর না পারি নফস থেকে কোনো অপকার দূর করতে।

তিনি ছাড়া আমার কোনো অভিভাবক নেই যিনি আমার বিষয়াদি পরিচালনা করবেন … আর না আছে সৃষ্টিকুলের রবের কাছে কোনো সুপারিশকারী।

কেবল আমাদের স্রষ্টা দয়াময় আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে … .......................

কিছু গবেষক শাইখুল ইসলামের কবিতার অতিশয় প্রশংসা করেছেন এবং একে অত্যন্ত শক্তিশালী কবিতা ও অত্যন্ত প্রাঞ্জল ছন্দ ও চিত্রায়ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু শাইখুল ইসলাম কবি ছিলেন না, আর আল্লাহর প্রশংসায় তিনি এই ধরণের স্থূল প্রশংসার ঊর্ধ্বে। যদি এই কথাগুলোর কিছু তাঁর ছাত্র ইবনু কায়্যিম সম্পর্কে বলা হতো তবে তা বাস্তবসম্মত হতো। আল্লাহ সকলের ওপর রহম করুন।

(১) আল-রাদ্দ আল-ওয়াফির আলা মান যা’আমা আন্না মান আতলাকা আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ শাইখুল ইসলাম কাফির - ইবনু নাসিরুদ্দীন দিমাস্কি (১০৭)।

(২) আল-উকুূদ আদ-দুররিয়্যাহ (৭), শাযারাতুয যাহাব (৮/১৪৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ২৯)
ويقول الشيخ كمال الدين ابن الزملكاني: "كان إذا سئل عن فنٍّ من العلم ظن الرائي والسامع أنه لا يعرف غير ذلك الفن، وحكم أن أحدًا لا يعرفه مثله، وكان الفقهاء من سائر الطوائف إذا جالسوه استفادوا في مذاهبهم منه أشياء، ولا يُعرف أنه ناظر أحدًا فانقطع معه، ولا يتكلم في علم من العلوم سواء كان من علوم الشرع أو غيرها إلا فاق فيه أهله، واجتمعت فيه شروط الاجتهاد على وجهها .. " (1).

ويقول الحافظ ابن سيد الناس: "ألفيته ممن أدرك من العلوم حظًا، وكاد يستوعب السنن والآثار حفظًا، إن تكلم في التفسير فهو حامل رايته، وإن أفتى في الفقه فهو مدرك غايته، أو ذاكر بالحديث فهو صاحب علمه، وذو روايته، أو حاضر بالنحل والملل لم يُر أوسع من نحلته، ولا أرفع من درايته.

برز في كل فنٍّ على أباء جنسه، ولم تر عين من رآه مثله، ولا رأت عينه مثل نفسه .. " (2).

وقال الشيخ عماد الدين الواسطي، وقد تُوفي قبل الشيخ: "فوالله، ثم والله، لم ير تحت أديم السماء، مثل شيخكم ابن تيمية، علمًا، وعملًا، وحالًا، وخلقًا، واتباعًا … " (3).

ويقول عنه تلميذه شيخ المؤرخين الإمام الذهبي: "كان آية في الذكاء وسرعة الإدراك، رأسًا في معرفة الكتاب والسنّة والاختلاف، بحرًا في النقليات، وهو في زمانه فريد عصره علمًا وزهدًا وشجاعة وسخاءً، وأمرًا بالمعروف ونهيًا عن المنكر، وكثرة تصانيف، وقرأ وحصل، وبرع في

--------------------------------------------

(1) العقود الدرية (7)، الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 390)، شذرات الذهب (8/ 144).

(2) العقود الدرية (9)، الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 391)، شذرات الذهب (8/ 145).

(3) العقود الدرية (205)، الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 393)، شذرات الذهب (8/ 146).
শায়খ কামালুদ্দীন ইবনুল যামলাকানি বলেন: "তাকে যখন ইলমের কোনো শাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন দর্শক ও শ্রোতা মনে করতেন যে তিনি সেই শাখাটি ছাড়া অন্য কিছু জানেন না, এবং তারা এই রায় দিতেন যে তার মতো এই বিষয়টি অন্য কেউ জানে না। বিভিন্ন মাযহাবের ফকীহগণ যখন তার সাথে বসতেন, তখন তারা নিজেদের মাযহাবের বিষয়েও তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতেন। এমনটি জানা নেই যে তিনি কারো সাথে বিতর্ক করেছেন আর তাতে পরাজিত হয়েছেন। শরয়ী ইলম হোক বা অন্য কিছু, তিনি যখনই কোনো ইলম নিয়ে কথা বলতেন, সেই ইলমের পণ্ডিতদের তিনি ছাড়িয়ে যেতেন। তার মাঝে ইজতিহাদের সকল শর্ত যথাযথভাবে বিদ্যমান ছিল..." (১)।

হাফেজ ইবনু সাইয়্যিদিন নাস বলেন: "আমি তাকে এমন একজন হিসেবে পেয়েছি যিনি ইলমসমূহের একটি বড় অংশ অর্জন করেছেন, এবং সুন্নাহ ও আসার (সাহাবীদের বাণী) মুখস্থ করার ক্ষেত্রে প্রায় সবটুকুই আয়ত্ত করেছেন। তিনি যদি তাফসীর নিয়ে কথা বলেন, তবে তিনিই এর পতাকাবাহী। যদি ফিকহের বিষয়ে ফতোয়া দেন, তবে তিনি এর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো ব্যক্তি। যদি হাদীস আলোচনা করেন, তবে তিনি এর ইলমের অধিকারী ও বর্ণনাকারী। যদি বিভিন্ন দল ও মতাদর্শ নিয়ে উপস্থিত হন, তবে তার মতাদর্শের চেয়ে প্রশস্ত এবং তার প্রজ্ঞার চেয়ে উচ্চতর আর কাউকে দেখা যায়নি।

তিনি তার সমসাময়িকদের তুলনায় প্রতিটি বিদ্যায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। যারা তাকে দেখেছেন তাদের চোখ তার মতো আর কাউকে দেখেনি, আর তিনিও নিজের মতো কাউকে দেখেননি..." (২)।

শায়খ ইমাদুদ্দীন আল-ওয়াসিতি বলেন—যিনি শায়খের পূর্বেই ইন্তেকাল করেছিলেন—: "আল্লাহর কসম, অতঃপর আল্লাহর কসম! আসমানের নিচে তোমাদের শায়খ ইবনে তাইমিয়্যাহর মতো ইলম, আমল, আধ্যাত্মিক অবস্থা, চরিত্র এবং অনুসরণের ক্ষেত্রে আর কাউকে দেখা যায়নি … " (৩)।

তার ছাত্র ঐতিহাসিকদের শায়খ ইমাম আয-যাহাবী তার সম্পর্কে বলেন: "তিনি মেধা এবং দ্রুত উপলব্ধির ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর নিদর্শন ছিলেন। কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ এবং (উলামাদের) মতপার্থক্য নিরসনে তিনি ছিলেন শীর্ষস্থানীয়, বর্ণিত ইলমসমূহের ক্ষেত্রে এক বিশাল সমুদ্র। তিনি তার সময়ে ইলম, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), বীরত্ব, দানশীলতা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এবং প্রচুর গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে ছিলেন অদ্বিতীয়। তিনি বিস্তারিত পড়াশোনা করেছেন, ইলম অর্জন করেছেন এবং পারদর্শিতা লাভ করেছেন..."

--------------------------------------------

(১) আল-উকূদ আদ-দুররিয়্যাহ (৭), আদ-যায়লু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/ ৩৯০), শাযারাতুয যাহাব (৮/ ১৪৪)।

(২) আল-উকূদ আদ-দুররিয়্যাহ (৯), আদ-যায়লু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/ ৩৯১), শাযারাতুয যাহাব (৮/ ১৪৫)।

(৩) আল-উকূদ আদ-দুররিয়্যাহ (২০৫), আদ-যায়লু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/ ৩৯৩), শাযারাতুয যাহাব (৮/ ১৪৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৩০)
الحديث والفقه، وتأهل للتدريس والفتوى، وهو ابن سبع عشرة سنة، وتقدم في علم التفسير والأصول، وجميع علوم الإسلام: أصولها وفروعها، ودقها وجلها سوى علم القراءات (1)، فإن ذكر التفسير فهو حامل لوائه،

--------------------------------------------

(1) فهم بعض ضعاف النظر من تلك العبارة للإمام الذهبي أن شيخ الإسلام لم يكن على معرفة بعلم القراءات، وذلك فهم مردود على صاحبه، وشيخ الإسلام أجل قدرًا وأعظم مكانة من أن يجهل علوم القراءات، كيف يجهلها وهي من العلوم الدينية، وقد اطلع وألمَّ بغالب العلوم الدنيوية من طب وهندسة وحساب وجبر ومقابلة وفلك وهيئة وكيمياء وجغرافيا، ولكن مقصود الإمام الذهبي أنه لم يكن متبحرًا للغاية في علم القراءات كبقية علوم أهل الإسلام، ولم يكن -كحاله في بقية العلوم- متقدمًا يها على أصحابها، ومعلوم أن الإمام الذهبي كان من أئمة القراءات في زمانه، وقد أخذ علم القراءات عن خلق من المقرئين في عصره؛ والمتتبع لما يكتبه في تراجمه يرى اهتمامه الفائق بذلك العلم، وإفاضته في تراجم القرَّاء على اختلاف طبقاتهم.

أما شيخ الإسلام فلا يشك مطلع أنه قد درس علوم القراءات، وألم بها، وكان ذلك في أول حياته، كما جرت عادة. أهل العلم أن يبدأوا بحفظ القرآن الكريم وتجويده، ثم يُلموا بالقراءات المتواترة، وعلوم القراءات والتجويد ليست غاية في نفسها، بل هي من علوم الوسائل، والمراد منها إقامة اللسان في تلاوة القرآن، ومعرفة وجوه القراءات المختلفة، والاستفادة من ذلك في تفسير القرآن وبيان معانيه وإعجازه، وإظهار يسر القرآن وسهولته.

يقول رحمه الله في مجموع الفتاوى (16/ 50): "ولا يجعل همته فبما حجب به أكثر الناس من العلوم عن حقائق القرآن، إما بالوسوسة في خروج حروفه، وترقيقها، وتفخيمها، وإمالتها، والنطق بالمد الطويل، والقصير، والمتوسط، وغير ذلك، فإن هذا حائل للقلوب قاطع لها عن فهم مراد الرب من كلامه، وكذلك شغل النطق بـ {أَأَنْذَرْتَهُمْ}، وضم الميم من {عَلَيْهِمْ} ووصلها بالواو، وكسر الهاء أو ضمها ونحو ذلك، وكذلك مراعاة النغم وتحسين الصوت! ! .. ".

ولكنه لم ينصرف لهذا العلم بالكلية، بل عبر منه إلى غيره، وهو عنده بمثابة علم النحو يتوصل به إلى غيره، وليس مقصودًا في نفسه.

وقد سئل رحمه الله في مجموع الفتاوى (13/ 389 - 403) عن حديث إنزال القرآن على سبعة أحرف، وما معنى ذلك؟ فأجاب رحمه الله إجابة مطولة بلغت أربع عشرة صفحة، تحدث فيها عن القراءات السبع، أو القراءات العشر، أو القراءات الإحدى عشرة، وذكر أمثلة عديدة على اختلاف هذه القراءات، وحكم القراءة بها، وتحدث كذلك عن القراءة الشاذة وحكم القراءة بها.

ومما جاء في جوابه رحمه الله؛ "ولا نزاع بين المسلمين أن الحروف السبعة التي =
হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের চর্চা এবং সতেরো বছর বয়সেই তিনি শিক্ষকতা ও ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতা অর্জন করেন। তিনি তাফসীর, উসূল এবং ইসলামের সকল বিদ্যায়—তা এর মূলনীতি হোক বা শাখা-প্রশাখা, সূক্ষ্ম হোক বা স্থূল—প্রভূত উন্নতি লাভ করেন, কেবল কিরাআত শাস্ত্র (১) ব্যতীত। যখনই তাফসীর শাস্ত্রের আলোচনা হয়, তখন তিনিই এর পতাকাবাহী...

--------------------------------------------

(১) ইমাম যাহাবীর এই উক্তি থেকে স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন কিছু লোক মনে করেছেন যে, শাইখুল ইসলাম কিরাআত শাস্ত্র সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এটি একটি প্রত্যাখ্যাত ধারণা। শাইখুল ইসলাম এমন উচ্চমর্যাদার অধিকারী ছিলেন যে তাঁর পক্ষে কিরাআত শাস্ত্র সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা অসম্ভব। কারণ এটি দ্বীনি ইলমের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি তিনি চিকিৎসা, প্রকৌশল, গণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিদ্যা, রসায়ন ও ভূগোলের মতো অধিকাংশ জাগতিক বিদ্যায়ও পারদর্শী ছিলেন। তবে ইমাম যাহাবীর উদ্দেশ্য হলো, তিনি কিরাআত শাস্ত্রে ইসলামের অন্যান্য ইলমের মতো অতটা চরম ব্যুৎপত্তি সম্পন্ন বা ওই শাস্ত্রের বিশেষ ইমামদের চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন না। এটা সুবিদিত যে ইমাম যাহাবী নিজ যুগে কিরাআতের ইমাম ছিলেন এবং তিনি তাঁর সময়ের বহু সংখ্যক ক্বারীগণের নিকট থেকে কিরাআত শিক্ষা করেছিলেন। যারা তাঁর লিখিত জীবনীগ্রন্থগুলো পাঠ করেন, তারা এই শাস্ত্রের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ এবং বিভিন্ন স্তরের ক্বারীগণের জীবনী বর্ণনায় তাঁর বিস্তারিত আলোচনা দেখতে পান।

পক্ষান্তরে শাইখুল ইসলাম সম্পর্কে যে কোনো সচেতন ব্যক্তিই জানেন যে তিনি অবশ্যই কিরাআত শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন এবং এ সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতেন। আর এটি তাঁর জীবনের শুরুর দিকেই ছিল, যেমনটি আলেমদের রীতি যে তারা কুরআন হিফয ও তাজবীদের মাধ্যমেই ইলম অন্বেষণ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে মুতাওয়াতির কিরাআতসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। কিরাআত ও তাজবীদ শাস্ত্র মূলত লক্ষ্য নয়, বরং তা হলো মাধ্যম। এর উদ্দেশ্য হলো কুরআন তিলাওয়াতের সময় জিহ্বাকে সঠিক রাখা, কিরাআতের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানা এবং কুরআনের তাফসীর, অর্থ ও অলৌকিকত্ব প্রকাশে তা থেকে উপকৃত হওয়া এবং কুরআনের সহজবোধ্যতা ফুটিয়ে তোলা।

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) মাজমুউল ফাতাওয়াতে (১৬/৫০) বলেন: "অধিকাংশ মানুষ যেসব বিষয়ের কারণে কুরআনের হাকীকত থেকে বিমুখ হয়ে আছে, সেগুলোকে যেন লক্ষ্যবস্তু না বানানো হয়। যেমন মাখরাজ, তারকীক (পাতলা করা), তাফখীম (মোটা করা), ইমালাহ, মদ্দ বা স্বর দীর্ঘ করা—তা দীর্ঘ হোক, ছোট হোক কিংবা মধ্যম হোক—ইত্যাদি নিয়ে অতিমাত্রায় ব্যস্ত থাকা। কারণ এটি রব-এর কালাম থেকে তাঁর উদ্দেশ্য বোঝার পথে অন্তরের জন্য অন্তরায় ও প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। অনুরূপভাবে 'আ-আংযারতাহুম' উচ্চারণ করা, 'আলাইহিম'-এর মীম-কে পেশ দিয়ে পড়া ও একে ওয়াও-এর সাথে মিলিয়ে পড়া, এবং হা-বর্ণে যের বা পেশ প্রদান ইত্যাদি নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ব্যতিব্যস্ত থাকা, এবং সুর ও কণ্ঠ সৌন্দর্যমন্ডিত করার পেছনে পড়ে থাকা...!"

কিন্তু তিনি এই ইলমের পেছনেই পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেননি, বরং একে অতিক্রম করে অন্যান্য ইলমে মনোনিবেশ করেছেন। তাঁর নিকট এটি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের মতো ছিল, যা অন্য ইলম অর্জনের মাধ্যম মাত্র, নিজে কোনো লক্ষ্য নয়।

তাঁকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) মাজমুউল ফাতাওয়াতে (১৩/৩৮৯-৪০৩) সাত হরফে কুরআন নাযিলের হাদীস ও তার অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি অত্যন্ত দীর্ঘ উত্তর দেন যা চৌদ্দ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পৌঁছেছে। সেখানে তিনি সাত কিরাআত, দশ কিরাআত ও এগারো কিরাআত সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং কিরাআতের বিভিন্ন পার্থক্যের বহু উদাহরণ ও তার কিরাআত পাঠের বিধান উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি শায কিরাআত এবং তা পাঠ করার বিধান নিয়েও আলোচনা করেন।

তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) উত্তরের একাংশ হলো; "আর মুসলমানদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো বিরোধ নেই যে, সেই সাতটি হরফ যা ="
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৩১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= أنزل القرآن عليها لا تتضمن تناقض المعنى وتضاده، بل قد يكون معناها متفقًا أو متقاربًا.

وقد يكون معنى أحدهما ليس هو معنى الآخر، لكن كلا المعنيين حق، وهذا اختلاف تنوع وتغاير لا اختلاف تضاد وتناقض .. وهذا كما في القراءات المشهورة: {ربنا باعِد وباعَد}، {إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا}، و {إِلَّا أَنْ يُخَافَا أَلَّا يُقِيمَا}، {وإن كان مكرهم لتزول منه الجبال * وليزول منه الجبال}، و {بل عجبتَ * وبل عجبتُ} ونحو ذلك ..

ومن القراءات ما يكون المعنى فيها متفقًا من وجه متباينًا من وجه آخر، كقوله: {يخدعون ويخادعون} و {يكذِبون ويكذِّبون} و {لمستم ولامستم} و {حتى يطْهُرْن ويطَّهرَن} ونحو ذلك، فهذه القراءات التي يتغاير فيها المعنى كلها حق، وكل قراءة منها مع القراءة الأخرى بمنزلة الآية مع الآية يجب الإيمان بها كلها .. وأما ما اتحد لفظه ومعناه، وإنما يتنوع صفة النطق به كالهمزات، والمدات، والإمالات، ونقل الحركات، والإظهار، والإدغام، والاختلاس، وترقيق اللامات والراءات، أو تغليظها ونحو ذلك مما يسمى القراء عامته الأصول، فهذا أظهر وأبين في أنه ليس فيه تناقض ولا تضاد مما تنوع فيه اللفظ والمعنى، إذ هذه الصفات المتنوعة في أداه اللفظ لا تخرجه عن أن يكون لفظًا واحدًا.

ولهذا دخل في معنى قوله: "خيركم من تعلم القرآن وعلمه" تعليم حروفه ومعانيه جميعًا، بل تعلم معانيه هو المقصود الأول بتعليم حروفه، وذلك هو الذي يزيد الإيمان ".

ولشيخ الإسلام أيضًا في مجموع الفتاوى (16/ 222 - 225) كلام عن مخارج الحروف وصفاتها يدل على دراية وعلم كبيرين بالتجويد والقراءات.

وجد شيخ الإسلام المجد ابن تيمية رحمه الله كان من أئمة القراءات، وله اليد الطولى فيها كما قال الحافظ الذهبي في كتابه "معرفة القراء الكبار على الطبقات والأعصار" (2/ 654)، وقد ورد في ترجمته في السير (23/ 292) أنه كان على دراية تامة بعلم القراءات، وأنه صنف فيها أرجوزة؛ ومن المؤكد أن حفيده شيخ الإسلام قد سمع بذلك، أو اطلع عليها، ومما يقوي ذلك أن شيخ الإسلام رحمه الله في مجموع الفتاوى (13/ 398) حين تكلم عن حكم القراءة بالقراءة الشاذة الخارجة عن رسم المصحف العثماني مثل قراءة ابن مسعود الثابتة، وذكر قولين في المسألة، وهما القول بالجواز، والقول بالمنع، ذكر قولًا ثالثًا قال فيه: "ولهذا كان في المسألة قول ثالث، وهو اختيار جدي أبي البركات، أنه إن قرأ بهذه القراءات في القراءة الواجبة -وهي الفاتحة عند القدرة عليها- لم تصح صلاته، لأنه لم يتيقن أنه أدى الواجب من القراءة، لعدم ثبوت القرآن بذلك، وإن =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= যার ওপর কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে তা অর্থের বৈপরীত্য ও বিরোধকে অন্তর্ভুক্ত করে না, বরং এর অর্থ কখনো এক হয় বা কাছাকাছি হয়।

আবার কখনো কোনোটির অর্থ অন্যটির অর্থ থেকে ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু উভয় অর্থই সত্য। এটি হলো বৈচিত্র্য ও রূপান্তরের ভিন্নতা (ইখতিলাফে তানাওয়ু), বৈপরীত্য ও বিরোধের ভিন্নতা (ইখতিলাফে তাদাদ্দ) নয়। এটি যেমন প্রসিদ্ধ কিরাআতসমূহে রয়েছে: {রব্বানা বা-ইদ এবং বা-আদা}, {ইল্লা আই ইয়াখাফা আল্লা ইউকিমা} এবং {ইল্লা আই ইয়াখাফা আল্লা ইউকিমা}, {ওয়াইন কানা মাকরুহুম লিতাজুলা মিনহুল জিবাল এবং লিয়াজুলা মিনহুল জিবাল}, এবং {বাল আজিবতা এবং বাল আজিবতু} এবং এই জাতীয় অন্যান্যগুলো।

কিরাআতসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যাতে অর্থ এক দিক থেকে অভিন্ন কিন্তু অন্য দিক থেকে ভিন্ন, যেমন আল্লাহর বাণী: {ইউখাদিউনা এবং ইয়াহদাউনা} এবং {ইয়াকজিবুনা এবং ইউকাজজিবুনা} এবং {লামাস্তুম এবং লামাস্তুম} এবং {হাত্তা ইয়াতহুরনা এবং ইয়াত্তাহহারনা} এবং এই জাতীয়। সুতরাং এই কিরাআতগুলো যাতে অর্থের পরিবর্তন ঘটে তার সবটুকুই সত্য, এবং এর প্রতিটি কিরাআত অন্য কিরাআতের সাথে একটি আয়াত ও অপর একটি আয়াতের মর্যাদায় থাকে, যার সবগুলোর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব। আর যার শব্দ এবং অর্থ এক, কেবল তা উচ্চারণের পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য রয়েছে—যেমন হামযাহসমূহ, মাদসমূহ, ইমালাহসমূহ, হারাকাত স্থানান্তর, ইজহার, ইদগাম, ইখতিলাস, এবং লাম ও র-কে পাতলা বা মোটা করা এবং এই জাতীয় যা কিরাআত বিশেষজ্ঞগণ সাধারণভাবে 'উসুল' বলে অভিহিত করেন—তবে এটি শব্দ ও অর্থে বৈচিত্র্য থাকার চেয়েও বেশি স্পষ্ট যে এতে কোনো বৈপরীত্য বা বিরোধ নেই। যেহেতু উচ্চারণের এই বৈচিত্র্যময় বৈশিষ্ট্যগুলো শব্দটিকে একটি একক শব্দ হওয়া থেকে বের করে দেয় না।

এই কারণেই তাঁর এই বাণীর অর্থের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে যে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়", যাতে এর অক্ষর এবং অর্থ উভয়ই শেখানো অন্তর্ভুক্ত। বরং অক্ষর শেখানোর মাধ্যমে এর অর্থ শেখাই প্রথম উদ্দেশ্য, আর সেটিই ঈমান বৃদ্ধি করে।

মাজমুউল ফাতাওয়াতেও (১৬/২২২-২২৫) শায়খুল ইসলামের হরফের মাখরাজ এবং তার সিফাত সম্পর্কে এমন আলোচনা রয়েছে যা তাজবীদ এবং কিরাআত শাস্ত্রে তাঁর বিশাল অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের পরিচয় দেয়।

শায়খুল ইসলামের দাদা আল-মাজদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) কিরাআত শাস্ত্রের ইমামদের একজন ছিলেন এবং এই শাস্ত্রে তাঁর সুদীর্ঘ হাত ছিল যেমনটি হাফেজ জাহাবী তাঁর 'মা'রিফাতুল কুররা আল-কিবার আলাত তাবাকাত ওয়াল আসার' (২/৬৫৪) গ্রন্থে বলেছেন। 'আস-সিয়ার' (২৩/২৯২) গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কিরাআত শাস্ত্রে পূর্ণ অভিজ্ঞ ছিলেন এবং তিনি এতে একটি আরজুযাহ (পদ্য) রচনা করেছিলেন। এটা নিশ্চিত যে তাঁর নাতি শায়খুল ইসলাম সে সম্পর্কে শুনেছিলেন বা তা দেখেছিলেন। আর এই বিষয়টিকে যা জোরালো করে তা হলো, শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) মাজমুউল ফাতাওয়াতে (১৩/৩৯৮) যখন ওসমানী মুসহাফের লিখন পদ্ধতির বাইরের শায কিরাআত দিয়ে পাঠ করার বিধান সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন (যেমন ইবনে মাসউদের প্রমাণিত কিরাআত) এবং এই মাসআলায় দুটি মত উল্লেখ করেছিলেন—একটি হলো বৈধতা এবং অন্যটি হলো নিষেধাজ্ঞা—তখন তিনি একটি তৃতীয় মত উল্লেখ করেন যেখানে তিনি বলেন: "এই কারণে এই মাসআলায় একটি তৃতীয় মত রয়েছে, আর তা হলো আমার দাদা আবুল বারাকাতের পছন্দ; তা হলো যদি কেউ ওয়াজিব তিলাওয়াতে—যা হলো সক্ষমতা থাকলে সূরা ফাতিহা—এই কিরাআতগুলো পাঠ করে, তবে তার সালাত সহীহ হবে না। কারণ সে নিশ্চিত হতে পারেনি যে সে তিলাওয়াতের ওয়াজিব আদায় করেছে, যেহেতু এর মাধ্যমে কুরআন প্রমাণিত নয়, যদিও...
(খণ্ড: ১) আল-ঈমানুল আওসাত - তাবা ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৩২)
وإن عبد في الفقهاء فهو مجتهدهم المطلق، وإن حضر الحفاظ نطق وخرسوا، وسرد وأبلسوا، استغنى وأفلسوا، وإن سُمي المتكلمون فهو فردهم، وإليه مرجعهم، وإن لاح ابن سينا يقدم الفلاسفة فلَّهم وتيَّسهم، وهتك أستارهم، وكشف عوراهم، وله يد طولى في معرفة العربية والصرف واللغة، وهو أعظم من أن يصف كلمي، أو ينبه على شأوه قلمي .. " (1).

وقد أنشد فيه الشيخ الحافظ كمال الدين ابن الزملكاني قوله:

ماذا يقول الواصفون له … وصفاته جلت عن الحصر

هو حجة لله قاهرة … هو بيننا أعجوبة الدهر

هو آية للخلق ظاهرة … أنوراها أربت على الفجر (2)

ولإمام النحاة في عصره الشيخ أبو حيان الأندلسي النحوي، شعر فائق يمتدح فيه شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، لما دخل الشيخ مصر واجتمع به، ومنه:

لما رأينا تقي الدين لاح لنا … داعٍ إلى الله فردًا ما له وزر

على محياه من سيما الأُلَى صحبوا … خير البرية نور دونه القمر

حبر تسربل منه دهره حِبَرًا … بحر تقاذف من أمواجه الدرر

قام ابن تيمية في نصر شرعتنا … مقام سيد تيم إذ عصت مضر

فأظهر الدين إذ آثاره درست … وأخمد الشرك إذ طارت له شرر

يا من تحدث عن علم الكتاب أصح … هذا الإمام الذي قد كان ينتظر (3)

--------------------------------------------

= قرأ بها فيما لا يجب لم تبطل صلاته". فكيف يقال بعد كل هذا: إن شيخ الإسلام لم يكن على علم بالقراءات؟ ! ! سبحانك هذا بهتان عظيم.

وما أظن يقول مثل هذا إلا جاهل أو حاقد، والله أعلم.

(1) العقود الدرية (19).

(2) البداية والنهاية (14/ 143)، العقود الدرية (8)، الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 392)، شذرات الذهب (8/ 145).

(3) الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 392)، شذرات الذهب (8/ 145)، ولكن ذُكر أن أبا حيان وقعت بينه وبين شيخ الإسلام جفوة، وقيل في ذكر السبب: إن شيخ الإسلام خطَّأ إمام النحاة سيبويه، وأغلظ القول فيه، وقال عنه: إنه لم يكن نبيًا =
আর যদি তাঁকে ফকিহদের মধ্যে গণ্য করা হয়, তবে তিনি তাদের মুজতাহিদে মুতলাক; যদি হাদিস বিশারদগণ উপস্থিত হন, তবে তিনি কথা বলেন আর তারা নিস্তব্ধ হয়ে যান, তিনি গড়গড় করে বর্ণনা করে যান আর তারা হতভম্ব হয়ে যান, তিনি সচ্ছল সাব্যস্ত হন আর তারা রিক্তহস্ত হয়ে পড়েন। যদি কালাম শাস্ত্রবিদদের নাম নেওয়া হয়, তবে তিনি তাদের মাঝে অদ্বিতীয় এবং তাঁদের মূল আশ্রয়স্থল। আর যদি ইবনে সিনা দার্শনিকদের নেতৃত্ব দিতে অবতীর্ণ হন, তবে তিনি তাদের চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন এবং তাদের তুচ্ছ করেন, তাদের গোপনীয়তা উন্মোচন করেন এবং তাদের ত্রুটিসমূহ প্রকাশ করে দেন। আরবি ভাষা, সরফ এবং ভাষাবিজ্ঞানে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও বিশেষ বুৎপত্তি রয়েছে। তিনি আমার শব্দের বর্ণনার চেয়েও মহান এবং আমার কলম তাঁর সুউচ্চ মাকাম বা উচ্চতা সম্পর্কে অবগত করতে অক্ষম।" (১)।

তাঁর সম্পর্কে হাফেজ শায়খ কামালুদ্দীন ইবনে আয-যামলাকানি তাঁর এই কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন:

বর্ণনাকারীরা তাঁর সম্পর্কে কী-ই বা বলবে … যেখানে তাঁর গুণাবলি গণনার অতীত

তিনি আল্লাহর এক অকাট্য ও পরাক্রমশালী দলিল … তিনি আমাদের মাঝে এই জামানার এক বিস্ময়

তিনি সৃষ্টির জন্য এক প্রকাশ্য নিদর্শন … যাঁর নূর ঊষার আলোকেও অতিক্রম করে গেছে (২)

তাঁর যুগের ব্যাকরণবিদদের ইমাম শায়খ আবু হাইয়্যান আল-আন্দালুসি আন-নাহবি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রশংসায় চমৎকার কিছু কাব্য রচনা করেছেন, যখন শায়খ মিসরে প্রবেশ করেন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন। তার কিছু অংশ নিম্নরূপ:

যখন আমরা তাকিউদ্দীনকে দেখলাম, আমাদের সামনে এক অনন্য … আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী প্রকাশিত হলেন যার কোনো সমকক্ষ নেই

তাঁর চেহারায় সেই অগ্রবর্তীদের ছাপ রয়েছে যারা … সর্বশ্রেষ্ঠ মানবের সাহচর্য পেয়েছিলেন, যা এমন এক নূর যার কাছে চাঁদও ম্লান

তিনি এমন এক আলিম যাঁর দ্বারা তাঁর যুগ অলংকৃত হয়েছে … তিনি এক বিশাল সমুদ্র যাঁর তরঙ্গমালা থেকে মুক্তা উৎসারিত হয়

ইবনে তাইমিয়্যাহ আমাদের শরিয়তের সাহায্যে সেভাবেই দাঁড়িয়েছেন … যেভাবে তায়ম গোত্রের নেতা (আবু বকর রা.) দাঁড়িয়েছিলেন যখন মুদার গোত্র অবাধ্য হয়েছিল

তিনি দ্বীনকে প্রকাশ করেছেন যখন এর চিহ্নসমূহ মুছে যাচ্ছিল … এবং শিরককে নির্বাপিত করেছেন যখন এর স্ফুলিঙ্গ উড়ছিল

হে ঐ ব্যক্তি, যে কিতাবের ইলম সম্পর্কে বিশুদ্ধতম সংবাদ দিতে চাও … শোনো, ইনিই সেই ইমাম যাঁর প্রতীক্ষা করা হচ্ছিল (৩)

--------------------------------------------

= তিনি সেই কিরাআতের মাধ্যমে সালাত আদায় করেছেন যা ওয়াজিব নয়, এতে তাঁর সালাত বাতিল হবে না।" এই সবের পরে কীভাবে বলা যেতে পারে যে: শায়খুল ইসলামের কিরাআত সম্পর্কে জ্ঞান ছিল না? ! ! হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র! এটি তো এক গুরুতর অপবাদ।

আমার মনে হয় মূর্খ বা বিদ্বেষী ব্যক্তি ছাড়া কেউ এমন কথা বলবে না, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

(১) আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ (১৯)।

(২) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৪/১৪৩), আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ (৮), আয-যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/৩৯২), শাযারাতুয যাহাব (৮/১৪৫)।

(৩) আয-যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/৩৯২), শাযারাতুয যাহাব (৮/১৪৫); তবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবু হাইয়্যান এবং শায়খুল ইসলামের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে: শায়খুল ইসলাম ব্যাকরণবিদদের ইমাম সিবওয়াইহ-কে ভুল সাব্যস্ত করেছিলেন এবং তাঁর সম্পর্কে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে, তিনি কোনো নবী ছিলেন না। =