(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: -)
بهجة الناظرين إلى تراجم المتأخرين من الشافعية البارعين   (الرضي الغزي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: بهجة الناظرين إلى تراجم المتأخرين من الشافعية البارعين

المؤلف: رضي الدين أبو البركات محمد بن أحمد بن عبد الله الغزي العامري الشافعي (ت 864 هـ)

ضبط النص وعلق عليه: أبو يحيى عبد الله الكندري

الناشر: دار ابن حزم للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 254

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 صفر 1440

দক্ষ পরবর্তী শাফিয়ী আলেমদের জীবনীর প্রতি দর্শকদের আনন্দ   (রাদীয়ুদ্দীন আল-গাজ্জী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: দক্ষ পরবর্তী শাফিয়ী আলেমদের জীবনীর প্রতি দর্শকদের আনন্দ

লেখক: রাদীয়ুদ্দীন আবু আল-বারাকাত মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-গাজ্জী আল-আমিরী আল-শাফিয়ী (মৃত্যু ৮৬৪ হিজরী)

সম্পাদনা ও টীকা প্রদান: আবু ইয়াহইয়া আবদুল্লাহ আল-কান্দারী

প্রকাশক: দার ইবনে হাযম মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২১ হিজরী - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৪

শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: রাবিতা আন-নুসসাখ، বাস্তবায়নে (ইলমী এলিট সেন্টার)، এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দাহইয়ান চ্যারিটেবল ওয়াকফ)

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ সফর ১৪৪০

(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: -)
كتاب

بهجة الناظرين إلى تراجم المتأخرين من الشافعية البارعين

 

تصنيف

الإمام رضي الدين أبي البركات محمد بن أحمد بن عبد الله الغزي العامري الشافعي

(المتوفى سنة 864 هـ)

 

ضبط النص وعلق عليه

أبو يحيى عبد الله الكندري

 

دار ابن حزم
বই

দক্ষ পরবর্তী শাফিঈ আলেমদের জীবনবৃত্তান্ত দর্শনে দর্শকদের আনন্দ

 

রচনা

ইমাম রাযিউদ্দীন আবুল বারাকাত মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-গাযযী আল-আমিরী আশ-শাফিঈ

(মৃত্যু ৮৬৪ হিজরি)

 

মূলপাঠের পরিমার্জন ও টীকা প্রদান করেছেন

আবু ইয়াহইয়া আব্দুল্লাহ আল-কানদারী

 

দার ইবনে হাযম
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ২)
جَميع الحقُوق مَحْفُوظَة

الطّبعَة الأولى

1421 هـ - 2000 م

 

الْكتب والدراسات الَّتِي تصدرها الدَّار تعبر عَن آراء واجتهادات أَصْحَابهَا

 

دَار ابْن حزم للطّبَاعة وَالنشر وَالتَوزيع

بَيْروت - لبنان - صَ ب: 6366/ 14 - تليفون: 701974
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

 

এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত গ্রন্থ ও গবেষণাসমূহ এর রচয়িতাদের নিজস্ব মতামত ও ইজতিহাদ প্রকাশ করে

 

দার ইবনে হাজম মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ

বৈরুত - লেবানন - পো.ব.: ১৪/৬৩৬৬ - টেলিফোন: ৭০১৯৭৪
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ৩)
كِتَابُ

بَهْجَة النَّاظِرِينَ إلى تراجمْ المتأخرين مِن الشَّافعيّة البَارعين
গ্রন্থ

সুদক্ষ শাফেঈ পরবর্তী আলেমদের জীবনীর প্রতি পাঠকদের প্রফুল্লতা
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ৫)
المقَدّمَة

الحمد لله الذي أشرقت بنور وجهه السموات والأرض وصلح أمر الدنيا والآخرة، وأُصلي وأُسلم على النبي الأميّ محمد وعلى آله وصحبه أجمعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد.

فيروق لكثيرين أن يُسمي الفترة التي تمتد منذ القرن التاسع الهجري وما بعدها فترة "انحطاط" بالنسبة لحركة البحث والتصنيف والدراسة والاطلاع والعلم في جميع مجالاته، ويضيف آخرون أن فترة العهد المملوكي -في مصر والشام والحجاز- عانت من الانهيار في كثير من مجالات العلوم والفنون.

والمُراجع لهذه الفترة والمُتحقق لنوعية ووفرة العلماء والمصنفات فيها يصل إلى حقيقة مشرقة وهي أن فترات الركود ربما مرت على الحضارة الإسلامية لكنها لا تلبث أن تتجدد وربما عانت من نوع من التراجع لكنها تعاود النشاط بهمة جديدة وعقليات متطورة.

وأما الفترة التي عاشها المصنف رحمه الله 811 - 864 هـ فقد عاصر فيها عدد من مشاهير سلاطين المماليك مثل المؤيد شيخ -823 هـ والأشرف برسباي- 841 هـ، والظاهر جقمق -856 هـ، والأشرف اينال - 864 هـ.

ومن أشهر الوقائع التي أثرت في سير الأحداث وتأثر بها الواقع السياسي والعلمي في تلك الفترة الاجتياح العسكري الذي قام به تيمورلنك سلطان المغول عام 803 هـ وبقيت آثاره ممتدة عدة عقود، ولا يزال المصنف
উপক্রমণিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর চেহারার আলোতে আসমানসমূহ ও জমিন উদ্ভাসিত হয়েছে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সকল বিষয় সংশোধিত হয়েছে। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি উম্মী নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের সবার ওপর। অতঃপর...

অনেকের কাছেই নবম হিজরী শতাব্দী থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়কালকে গবেষণা, সংকলন, অধ্যয়ন, পর্যবেক্ষণ এবং জ্ঞানের সকল ক্ষেত্রে "অধঃপতনের" যুগ হিসেবে অভিহিত করা পছন্দনীয়। অন্য অনেকে যোগ করেন যে, মিসর, শাম ও হিজাজের মামলুক শাসন আমল বিজ্ঞান ও কলার বহু ক্ষেত্রে ধসের শিকার হয়েছিল।

তবে এই সময়কাল যিনি পর্যালোচনা করবেন এবং সে সময়ের আলেম ও গ্রন্থরাজির মান ও প্রাচুর্য যাচাই করবেন, তিনি এক উজ্জ্বল সত্যে উপনীত হবেন; আর তা হলো, ইসলামী সভ্যতায় হয়তো স্থবিরতার সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু তা দ্রুতই নবপ্রাণে উজ্জীবিত হয়। হয়তো তা কোনো ধরনের পশ্চাৎপদতার শিকার হয়েছিল, কিন্তু তা আবার নতুন উদ্যম ও উন্নত মননশীলতার মাধ্যমে পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে।

গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) যে সময়ে জীবিত ছিলেন (৮১১ - ৮৬৪ হিজরী), তাতে তিনি বেশ কয়েকজন বিখ্যাত মামলুক সুলতানের শাসনকাল প্রত্যক্ষ করেছেন; যেমন: আল-মুয়াইয়্যাদ শাইখ (মৃত্যু ৮২৩ হি.), আল-আশরাফ বারসবাই (মৃত্যু ৮৪১ হি.), আয-যাহির জাকমাক (মৃত্যু ৮৫৬ হি.) এবং আল-আশরাফ ইনাল (মৃত্যু ৮৬৪ হি.)।

ওই সময়ের ঘটনাবলিকে প্রভাবিত করেছে এবং রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক বাস্তবতাকে নাড়া দিয়েছে এমন একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো ৮০৩ হিজরীতে মঙ্গোল সুলতান তৈমুর লঙের সামরিক অভিযান, যার প্রভাব পরবর্তী কয়েক দশক পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আর গ্রন্থকার...
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ৬)
-رحمه الله يكرر لفظ "الفتنة التمرية" أو "اللنكية" كما يسجلها ويجعلها تاريخاً يصنف الأحداث قبلها وبعدها فيقول أن ابن بهادر كان "كاتب السر قبل الفتنة" وابن كثير "عُدم في الفتنة" والمُناوي "مات في أسر تيمورلنك" وابن ركن الدين "مات في الفتنة".

وقد فصّلت كتب التواريخ والسير هذه الحركة العسكرية التي قام بها تيمورلنك حيث اجتاحت الأقاليم وأطاحت بالدول من أواسط آسيا إلى أطراف آسيا الصغرى مروراً بالشام والعراق.

والكتاب الذي بين أيدينا عبارة عن صور ولقطات لمن عاصرهم المصنف رحمه الله وعايشهم وتعامل معهم في الحجاز والشام والقاهرة، درس عليهم وقرأ مصنفاتهم ونظروا في كتبه وعلقوا عليها، فترجم لهم ما يراه وسجل عنهم ما شاركهم فيه من مجالات العلم والتعليم والقضاء والإفتاء.

فهو يقول في مقدمة كتابه "فهذا مختصر لطيف قصدت به ترجمة الأئمة من أصحابنا الشافعية المتأخرين وأعني بهم من أدركتهم واجتمعت بهم من العلماء البارعين وبعضهم مشايخي الذين أخذت عنهم العلم من أهل الفضل والعلم".

ثم يبين خطة عمله في الكتاب فيقول: "ثم اعلم أنني لا أُترجم إلا لمن تأخرت وفاته إلى هذا القرن التاسع ولو في أول سنة منه وقد أُترجم بعض من تُوفي قبله استطراداً في ترجمة ابنه أو أبيه أو قريبه أو بلديه وقد أترك ذلك لمعنى لا يخفى على الحاذق، وقد أترجم بعض رفقتي ممن مات في زمني".

ومن أشهر الكتب التي دونت هذه المرحلة من التاريخ كتاب "إنباء الغمر بأبناء العمر" لابن حجر العسقلاني رحمه الله 852 هـ -المعاصر للمؤلف- فكثيراً ما كان يكرر أقوال ابن حجر ويرددها وينقل نصوصه، والكتاب الآخر والذي جاء بعد المؤلف هو كتاب "الضوء اللامع لأهل القرن التاسع" للسخاوي رحمه الله 902 هـ. فقد شارك المصنف في ذكر كثير من تراجمه.
আল্লাহ তাঁকে রহম করুন, তিনি বারবার "তৈমুরি ফিতনা" বা "লঙ্কীয় ফিতনা" শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যেভাবে তিনি তা লিপিবদ্ধ করেছেন এবং একে একটি ঐতিহাসিক মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যার মাধ্যমে তিনি এর পূর্বের ও পরের ঘটনাবলিকে বিন্যস্ত করেছেন। তিনি বলেন যে, ইবনে বাহাদুর ছিলেন "ফিতনার পূর্বের গোপন লিপিকার", ইবনে কাসীর "ফিতনার সময় নিখোঁজ হন", আল-মুনাউয়ি "তৈমুর লঙের বন্দিদশায় মারা যান" এবং ইবনে রুকনুদ্দীন "ফিতনার সময় মারা যান"।

ইতিহাস ও জীবনীর গ্রন্থসমূহ তৈমুর লঙের পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে, যা মধ্য এশিয়া থেকে সিরিয়া ও ইরাক হয়ে এশিয়া মাইনরের প্রান্তসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলকে গ্রাস করেছিল এবং রাষ্ট্রসমূহকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল।

আমাদের সামনে বিদ্যমান এই গ্রন্থটি মূলত লেখকের (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গের কিছু চিত্র ও খণ্ডচিত্রের সমষ্টি, যাঁদের সাথে তিনি হিজাজ, সিরিয়া ও কায়রোতে বসবাস করেছেন এবং লেনদেন করেছেন। তিনি তাঁদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন, তাঁদের রচনাবলি পাঠ করেছেন এবং তাঁরাও তাঁর কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করেছেন ও সেগুলোর ওপর টীকা প্রদান করেছেন। তিনি তাঁদের জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং জ্ঞানার্জন, শিক্ষাদান, বিচারকার্য ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদের সাথে নিজের সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করেছেন।

তিনি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: "এটি একটি সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত সংকলন, যার মাধ্যমে আমি আমাদের শাফেঈ মাযহাবের পরবর্তী যুগের ইমামদের জীবনী রচনার সংকল্প করেছি। আমি তাঁদের কথা বলছি, যাঁদের আমি পেয়েছি এবং সেই সব প্রাজ্ঞ আলেমদের সাথে একত্রিত হয়েছি, যাঁদের কেউ কেউ আমার শায়খ ছিলেন যাঁর নিকট থেকে আমি জ্ঞান অর্জন করেছি এবং তাঁরা ছিলেন জ্ঞান ও মর্যাদার অধিকারী।"

এরপর তিনি কিতাবটি রচনার কার্যপদ্ধতি বর্ণনা করে বলেন: "অতঃপর জেনে রাখুন যে, আমি কেবল তাঁদের জীবনীই রচনা করছি যাঁদের মৃত্যু এই নবম শতাব্দী পর্যন্ত বিলম্বিত হয়েছে, যদিও তা এই শতাব্দীর প্রথম বছরেই হোক না কেন। তবে ক্ষেত্রবিশেষে তাঁর পুত্র, পিতা, নিকটাত্মীয় বা দেশীয় ব্যক্তির জীবনী আলোচনার প্রাসঙ্গিকভাবে তার পূর্বে মৃত্যুবরণকারী কারও জীবনীও বর্ণনা করতে পারি। আবার কোনো বিশেষ কারণে আমি তা বর্জনও করতে পারি যা বুদ্ধিমানদের কাছে অস্পষ্ট নয়। এছাড়া আমার সহকর্মীদের মধ্যে যাঁরা আমার জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের কারও জীবনীও আমি উল্লেখ করতে পারি।"

ইতিহাসের এই পর্যায়টি লিপিবদ্ধকারী প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো লেখকের সমসাময়িক ইবনে হাজার আল-আসকালানী (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন, মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) রচিত "ইনবাউল গুমর বি আবনাউল উমর" কিতাবটি। লেখক প্রায়শই ইবনে হাজারের উক্তিগুলো পুনরাবৃত্তি করতেন এবং তাঁর মূল পাঠসমূহ উদ্ধৃত করতেন। অন্য যে গ্রন্থটি লেখকের পরে সংকলিত হয়েছে তা হলো সাখাবী (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন, মৃত্যু ৯০২ হিজরি) রচিত "আদ-দাওউল লামে লি আহলিল কারনিত তাসে"। তিনি লেখকের বর্ণনাকৃত অনেক জীবনীর ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ৭)
ورغم شهرة آل الغزي وتكرر ذكرهم في كتب التراجم والتواريخ إلا أن مصنف الكتاب -رضي الدين الغزي- رحمه الله لم يُسبق تحقيق كتاب من مؤلفاته، وسبب آخر أكد العزيمة بالعمل في هذا الكتاب أن مجموعة من التراجم الذين ذكرهم المصنف رحمه الله في كتابه هذا لم تذكر في أي مصادر أخرى حسب علمي والله أعلم مما يجعل هذا الكتاب المصدر الوحيد لهم. والله المستعان.

المحقق

 

‌‌وصف النسخ المخطوطة:

‌‌أولاً: نسخة الظاهرية:

تقع هذه النسخة في (151) ورقة من القطع المتوسط في كل ورقة صفحتان. يقع في كل صفحة 16 سطر تقريباً -ورقمها في الظاهرية 3420 - تاريخ 55.

وقد اعتمدت هذه النسخة لقربها من حياة المؤلف ومنقولة من نسخته.

وبطلب من ولد المصنف فالناسخ يقول في نهاية المخطوط "وهذا آخر ما وجدته بخطه من هذا الديون العظيم رحمه الله تعالى ونفعنا بعلومه وجمع بيننا وبينه في مستقر رحمته وقد كتبت ذلك جميعه من خطه بحمد الله وبإشارة ولده سيدنا الإمام العالم الفاضل القاضي شهاب الدين أحمد".

والمؤلف يقول في ختام عمله "وقد انتهى ما قصدناه من تراجم أصحابنا المتأخرين رحمهم الله أجمعين- وقد فرغت من هذه المبيضة في يوم الأربعاء بعد العصر حادي عشر شهر رمضان المعظم قدره سنة اثنين وأربعين وثمان مائة أحسن الله عقباها وذلك بمنزلي الجديد جوار جامع دمشق كلأها الله تعالى وسائر بلاد الإسلام وكان ابتداء جمع هذا المختصر من أوائل سنة تسع وثلاثين والحمد لله أولاً وآخراً. . .".

وهذا يبين لنا أنه استمر في تأليفه الكتاب خلال أربع سنوات، ويلاحظ أن في بعض الأوراق تعليقات وهوامش وفي بعضها الآخر شطب
আল-গাজ্জী পরিবারের খ্যাতি এবং জীবনী ও ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে তাঁদের বারবার উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও, গ্রন্থের সংকলক -রাজিউদ্দীন আল-গাজ্জী- (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর কোনো পাণ্ডুলিপি ইতিপূর্বে সম্পাদিত হওয়ার নজির পাওয়া যায় না। এই কিতাবটি নিয়ে কাজ করার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করার পেছনে অন্য একটি কারণ হলো, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এখানে এমন একদল ব্যক্তির জীবনী উল্লেখ করেছেন, যা আমার জানামতে অন্য কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি, আর আল্লাহই ভালো জানেন। ফলে এটিই তাঁদের সম্পর্কে জানার একমাত্র উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

সম্পাদক

 

‌‌পাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনা:

‌‌প্রথমত: জাহিরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপি:

এই পাণ্ডুলিপিটি (১৫১) পত্র বিশিষ্ট, যা মাঝারি আকারের। প্রতিটি পত্রে দুটি পৃষ্ঠা রয়েছে। প্রতি পৃষ্ঠায় প্রায় ১৬টি করে লাইন রয়েছে। জাহিরিয়্যাহ গ্রন্থাগারে এর নম্বর হলো ৩৪২০ - তারিখ ৫৫।

লেখকের জীবদ্দশার সমসাময়িক হওয়ায় এবং সরাসরি তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হওয়ায় আমি এই পাণ্ডুলিপিটির ওপর নির্ভর করেছি।

লেখকের সন্তানের অনুরোধে অনুলিপিকারক পাণ্ডুলিপির শেষে বলেন, "এটিই লেখকের (আল্লাহ তায়ালা তাঁকে রহমত দান করুন এবং তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন এবং তাঁর করুণার আলয়ে আমাদের ও তাঁর মিলন ঘটান) স্বহস্তে লেখা এই মহান সংকলনের শেষ অংশ যা আমি খুঁজে পেয়েছি। আল্লাহর প্রশংসার সাথে আমি এ সবই তাঁর হাতের লেখা থেকে অনুলিপি করেছি এবং আমাদের সায়্যিদ, ইমাম, আলিম, ফাজিল, কাজী শিহাবুদ্দীন আহমদের (লেখকের পুত্র) নির্দেশনায় এটি সম্পন্ন হয়েছে।"

লেখক তাঁর কাজের শেষে বলেন, "আমাদের পরবর্তী যুগের সঙ্গীসাথীদের জীবনী নিয়ে যা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল তা সমাপ্ত হয়েছে - আল্লাহ তাঁদের সবর প্রতি দয়া করুন। আমি ৮৪২ হিজরীর মহিমান্বিত রমজান মাসের এগারো তারিখ বুধবার আসরের পর এই পাণ্ডুলিপিটি পরিচ্ছন্নভাবে লিখে শেষ করেছি - আল্লাহ এর পরিণাম ভালো করুন। এটি দামেস্ক জামে মসজিদের পাশে আমার নতুন বাসভবনে সম্পন্ন হয়েছে - আল্লাহ তায়ালা এই শহর এবং মুসলিম উম্মাহর বাকি শহরগুলোকে হেফাজত করুন। এই সংক্ষিপ্তসারটি সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছিল ৮৩৯ হিজরীর প্রথম দিকে। শুরু এবং শেষে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর..."

এটি আমাদের কাছে স্পষ্ট করে দেয় যে, তিনি চার বছর ধরে এই কিতাবটি রচনা করেছেন। লক্ষ্য করা যায় যে, কোনো কোনো পাতায় টীকা ও পার্শ্বটীকা রয়েছে এবং কিছু জায়গায় কাটাকাটি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ৮)
على بعض الأسطر، وهناك عدد من الحروف قد سجلت ولم يذكر فيها أي ترجمة، وبعض التراجم لم تكتمل، أو ذُكر فقط اسم صاحب الترجمة ولم يفصل فيها شيئاً، بالرغم أن المصنف رحمه الله قال في نهاية الكتاب أنه فرغ من تأليفه إلا أنه ربما كان يود المعاودة واستكمال ما بقي والله أعلم بالصواب.

وفي النسخة بعض الإضافات أضافها الناسخ خاصة في ذكر التراجم الذين تأخرت وفاتهم بعد المصنف رحمه الله مثل تقي الدين القلقشندي -867 هـ وماهر المصري - 877 هـ، وقد تكررت ترجمة الشيخ شمس الدين محمد بن الحسن الأسيوطي 808 هـ.

جاء على ورقة الغلاف ترجمة مختصرة للمصنف رحمه الله بخط مغاير جاء فيه "مؤلف هذا الكتاب هو العلامة المحقق والفهّامة المدقق شيخ مشايخ الإسلام سيد المدققين الأعلام، المرحوم العلامة القاضي رضي الدين محمد أبو البركات القرشي العامري الدمشقي الشهير كأسلافه بابن الغزي، أعاد الله تعالى علينا وعلى المسلمين من بركاته وبركات أسلافه".

وقيد وقف جاء فيه "أوقف هذا الكتاب الدستور الوقور المكرم الحاج محمد باشا والي الشام حالاً دام فضله على طلبة العلم وشرط أن لا يخرج من مكانه إلا لمراجعة وذلك سنة 1190 هـ" وعليها خاتم الواقف.

والنسخة مختومة بخاتم دار الكتب الظاهرية بدمشق. ومنها نسخة مصورة ومحفوظة بمكتبة المخطوطات بجامعة الكويت تحت رقم: 2119، وقد تفضل الأستاذ الكريم والأخ المفضال أبو عايض صلاح الشلاحي بإهدائي هذه النسخة من محفوظات مكتبته الزاهرة.

 

‌‌ثانياً: نسخة الرباط:

وتقع هذه النسخة في 79 ورقة من القطع الكبير في كل ورقة صفحتان في كل صفحة 25 سطراً تقريباً والنسخة الأصلية محفوظة بالخزانة العامة بالرباط -المغرب- تحت رقم: 1834 - د ومنها نسخة مصورة محفوظة بمركز جمعة الماجد للثقافة والتراث - دبي، وقد تفضل الأخ الكريم
কিছু লাইনের ক্ষেত্রে, সেখানে বেশ কিছু অক্ষর লিপিবদ্ধ করা হয়েছে কিন্তু সে সম্পর্কে কোনো জীবনী উল্লেখ করা হয়নি। কিছু জীবনী অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে, অথবা কেবল জীবনীকারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়নি। যদিও গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) কিতাবের শেষে উল্লেখ করেছেন যে তিনি এর রচনা সমাপ্ত করেছেন, তবে সম্ভবত তিনি পুনরায় এটি পর্যালোচনা করতে এবং যা অবশিষ্ট ছিল তা পূর্ণ করতে চেয়েছিলেন। আর আল্লাহই সঠিক বিষয়ে অধিক পরিজ্ঞাত।

পাণ্ডুলিপিটিতে অনুলিপিকার পক্ষ থেকে কিছু সংযোজন করা হয়েছে, বিশেষ করে এমন ব্যক্তিদের জীবনীর ক্ষেত্রে যাদের মৃত্যু গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইনতিকালের পরে হয়েছে, যেমন তাকিউদ্দীন আল-কালকাশান্দি (৮৬৭ হিজরি) এবং মাহের আল-মিসরি (৮৭৭ হিজরি)। এছাড়া শায়খ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-আসয়ুতি (৮০৮ হিজরি)-এর জীবনীটি পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।

মলাটের পৃষ্ঠায় ভিন্ন হাতের লেখায় গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী পাওয়া যায়, যেখানে উল্লেখ আছে: "এই কিতাবের লেখক হলেন আল্লামা, গবেষক, সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিত, শায়খ মাশায়েখিল ইসলাম, প্রাজ্ঞ গবেষকদের শিরোমণি, মরহুম আল্লামা কাযী রযীউদ্দীন মুহাম্মদ আবু আল-বারাকাত আল-কুরাশি আল-আমিরি আদ-দিমাশকি, যিনি তার পূর্বপুরুষদের ন্যায় 'ইবনুল গাযযি' নামে প্রসিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর এবং মুসলিমদের ওপর তার ও তার পূর্বপুরুষদের বরকত অব্যাহত রাখুন।"

একটি ওয়াকফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে: "এই কিতাবটি ওয়াকফ করেছেন সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় হাজি মুহাম্মদ পাশা—যিনি বর্তমানে শামের গভর্নর, তার মর্যাদা দীর্ঘস্থায়ী হোক—ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য। তিনি শর্তারোপ করেছেন যে, পর্যালোচনার প্রয়োজন ব্যতীত এটি তার নির্দিষ্ট স্থান থেকে বের করা যাবে না। এটি ১১৯০ হিজরি সালের ঘটনা।" এবং এর ওপর ওয়াকফকারীর সিলমোহর রয়েছে।

পাণ্ডুলিপিটিতে দামেস্কের 'দারুল কুতুব আজ-জাহিরিয়্যাহ'-এর সিলমোহর রয়েছে। এর একটি ছায়ালিপি কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে যার নম্বর: ২১১৯। পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ এবং সম্মানিত ভ্রাতা আবু আয়েয সালাহ আশ-শালাহি তার সমৃদ্ধ ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার থেকে এই পাণ্ডুলিপিটি আমাকে উপহার দিয়ে ধন্য করেছেন।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: রিবাত পাণ্ডুলিপি:

এই পাণ্ডুলিপিটি বড় আকারের ৭৯টি পত্র বিশিষ্ট। প্রতি পত্রে দুটি করে পৃষ্ঠা এবং প্রতি পৃষ্ঠায় প্রায় ২৫টি করে লাইন রয়েছে। মূল পাণ্ডুলিপিটি মরক্কোর রিবাতের 'আল-খিজানাতুল আম্মাহ' (পাবলিক লাইব্রেরি)-তে ১৮৩৪ - দাল নম্বরে সংরক্ষিত। এর একটি ছায়ালিপি দুবাইয়ের 'জুমুআ আল-মাজিদ সেন্টার ফর কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ'-এ সংরক্ষিত আছে। আর সম্মানিত ভ্রাতা...
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ৯)
أبو عمر أوس سميح أبو زيد مشكوراً بتسهيل الحصول عليها من المركز.

وقد كُتبت النسخة بخط نسخ جميل وواضح، ورغم جماله فالناسخ متساهل في ضبط أسماء الأعلام والأماكن، وهي نسخة حديثة الكتابة يقول ناسخها "نسخه بقلمه الفقير إلى المولى وجوده عبد العزيز عطية خطاب حمودة، طالب بالقسم العالي للأزهر الشريف 15 جمادى أول 1343 هـ - 12 ديسمبر 1924 م.

وقد تميزت النسخة بالترتيب وتوزيع التراجم بصورة واضحة، وإدماج الهوامش والتعليقات في نسخة الظاهرية وكأنه اطلع عليها والله أعلم.

وقد جاء على غلاف النسخة قول الناسخ واصفاً الكتاب "وهو تراجم علماء القرن التاسع رتبه على حروف المعجم، وبدأ فيه بترجمة السراج البلقيني ثم بالمحمدين ثم بالأحمدين وبعد ذلك من حروف الهجاء من الألف إلى الياء".

وملاحظة قال فيها: "تنبيه لشيخ الإسلام الشيخ عبد الله الشرقاوي الشافعي شيخ الجامع الأزهر "طبقات الشافعية" مسماة ببهجة الناظرين أيضاً محفوظة بمكتبة رواق الشوام بالجامع الأزهر".

والنسخة عبارة عن مجموع أوله الكتاب الذي بين أيدينا والثاني كما يذكر الناسخ على الغلاف "ويليه مختصر طبقات الشافعية العلّامة أحمد بن محمد الأسدي وهي أكبر من التي قبلها والأسدي المذكور - توفي سنة 1066 هـ" [وللأسدي المذكور ترجمة في الأعلام للزركلي 1/ 238] وعلى النسخة خاتم الخزانة العامة بالرباط.

ملاحظة: توجد نسخة مصورة عن نسخة الظاهرية محفوظة بدار الكتب المصرية.

 

‌‌نسبة الكتاب للمصنف رحمه الله-:

ورد اسم الكتاب في معظم الكتب التي ترجمت المصنف -رحمه الله
আবু উমর আওস সামিহ আবু যাইদ কেন্দ্র থেকে এটি সংগ্রহের পথ সুগম করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদের পাত্র।

পাণ্ডুলিপিটি অত্যন্ত সুন্দর এবং স্পষ্ট নাসখ লিপিতে লেখা হয়েছে। এর সৌন্দর্য সত্ত্বেও লিপিকার ব্যক্তি ও স্থানের নামসমূহ সঠিকভাবে নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। এটি একটি আধুনিক কালের প্রতিলিপি। এর লিপিকার বলেন: "এটি তাঁর কলমে অনুলিপি করেছেন মওলার দয়া ও অস্তিত্বের মুখাপেক্ষী আব্দুল আজিজ আতিয়্যাহ খাত্তাব হাম্মুদাহ, তিনি আজহার শরীফের উচ্চতর বিভাগের ছাত্র; ১৫ই জুমাদাল উলা ১৩৪৩ হিজরি - ১২ই ডিসেম্বর ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ।"

পাণ্ডুলিপিটি সুশৃঙ্খল বিন্যাস এবং জীবনীসমূহের স্পষ্ট বণ্টনের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে। জাহিরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপির টীকা ও ব্যাখ্যাসমূহ এতে এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেন তিনি (লিপিকার) সেটি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

পাণ্ডুলিপিটির প্রচ্ছদে লিপিকার বইটির বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছেন: "এটি নবম শতাব্দীর আলেমদের জীবনীগ্রন্থ যা বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে। তিনি এতে সিরাজ আল-বুলকিনীর জীবনী দিয়ে শুরু করেছেন, এরপর 'মুহাম্মদ' নামধারী ব্যক্তিবর্গ, এরপর 'আহমদ' নামধারী ব্যক্তিবর্গ এবং এর পরে বর্ণমালার আলিফ থেকে ইয়া পর্যন্ত অন্যান্যদের জীবনী উল্লেখ করেছেন।"

একটি নোটে তিনি বলেছেন: "সতর্কবার্তা: শায়খুল ইসলাম শায়খ আব্দুল্লাহ আল-শারকাওয়ী আল-শাফিঈ, যিনি জামে আজহারের শায়খ ছিলেন, তাঁর 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' গ্রন্থটি 'বাহজাতুন নাজিরিন' নামেও পরিচিত; এটি জামে আজহারের রিওয়াকুশ শাওয়াম লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।"

পাণ্ডুলিপিটি একটি সংকলন বিশেষ, যার শুরুতে আমাদের হাতে থাকা এই বইটি রয়েছে এবং দ্বিতীয়টি হলো—প্রচ্ছদে লিপিকারের উল্লেখ অনুযায়ী— "এর পরেই রয়েছে আল্লামা আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আসাদির 'মুখতাসারু তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ', যা পূর্বোক্তটির চেয়ে বড়। উল্লিখিত আসাদি ১০৬৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।" [উল্লিখিত আসাদির জীবনী যিরিকলির 'আল-আলাম' গ্রন্থের ১/২৩৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে]। এই পাণ্ডুলিপিতে রাবাতের আল-খাজানাহ আল-আম্মাহ (পাবলিক লাইব্রেরি)-এর সিলমোহর রয়েছে।

দ্রষ্টব্য: জাহিরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপির একটি ছায়ালিপি মিসরের দারুল কুতুবে সংরক্ষিত আছে।

 

‌‌লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) প্রতি বইটির সম্বন্ধকরণ-:

লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) জীবনী আলোচনা করা হয়েছে এমন অধিকাংশ বইয়ে এই কিতাবটির নাম এসেছে।
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ১০)
- فالسخاوي رحمه الله: 902 هـ يقول في الضوء اللامع "وعمل كتاباً سماه بهجة الناظرين إلى تراجم المتأخرين من الشافعية المعتبرين، أوقفني عليه بدمشق". وذكره بروكلمان -في النسخة المترجمة 6/ 125، والزركلي في الأعلام 5/ 333، وكحاله في معجم المؤلفين 8/ 279، ومجلة معهد المخطوطات العربية- المجلد الثاني - الجزء الأول: ص /127 (42).

 

‌‌شكر وتقدير:

ويجب علينا في الختام أن نرد الفضل إلى أهله وننسب الخير إلى فاعليه، وإلى كل يد بيضاء شاركت في إبراز هذا العمل إلى النور وإيصاله إلى يدي القارئ، فأحق الناس بالدعاء من صنف هذا الكتاب - الإمام رضي الدين الغزي رحمه الله مصنف هذا الكتاب ثم الناسخين رحمهم الله جميعاً وأجزل لهم المثوبة ملء السموات والأرض وما بينهما. اللهم آمين.

ثم أخص بالثناء والشكر أستاذنا الكريم وأخانا الفاضل أبا عايض صلاح الشلاحي الذي دل على المخطوط بداية ثم أهدى النسخة الظاهرية من مكتبته الزاهرة، والأخ المفضال أبا عمر أوس سميح أبو زيد الذي تكرم مشكوراً بإرسال نسخة الرباط المحفوظة بمركز جمعة الماجد للثقافة والتراث - دبي، وكل من الأخوين الفاضلين جلال الدين غازي وأبو خالد ياسر الأُومري اللذين تكرما متفضلين بمراجعة النص ومقابلة النسخ.

كما لا يسعني إلا أن أشكر الأُخوة الأفاضل بمكتبة المخطوطات بجامعة الكويت بما كانوا يقدمونه من خدمة علمية وخاصة الأُستاذ الفاضل: أحمد دورماز -أخصائي المخطوطات بمكتبة الجامعة- وما يتميز به من سعة صدر ودماثة خلق وحب لخدمة الباحثين والرواد للمكتبة.

ويسرني أن أذكر بالشكر الجزيل والثناء والتقدير الأخوة الأفاضل بمركز جمعة الماجد للثقافة والتراث -دبي- لما يلاقيه كل باحث من ترحيب وتقديم كل خدمة في سبيل خدمة التراث.
আস-সাখাভী (রহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু: ৯০২ হিজরী) 'আদ-দাও আল-লামি' গ্রন্থে বলেন: "তিনি একটি কিতাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন 'বাহজাতুন নাজিরিন ইলা তরাজিমিল মুতাআখখিরিনা মিনাশ শাফিইয়্যাহ আল-মুতাবারিন', তিনি দামেস্কে আমাকে এটি দেখিয়েছেন।" ব্রোকলম্যান—অনুদিত সংস্করণের ৬/১২৫ পৃষ্ঠায়, আয-যিরিকলী 'আল-আলাম' গ্রন্থের ৫/৩৩৩ পৃষ্ঠায়, কাহহালা 'মুজামুল মুআল্লিফিন' গ্রন্থের ৮/২৭৯ পৃষ্ঠায় এবং আরবি পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট সাময়িকীর দ্বিতীয় ভলিউম, প্রথম খণ্ডের ১২৭ (৪২) পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন:

পরিশেষে আমাদের ওপর কর্তব্য হলো শ্রেষ্ঠত্বকে তার অধিকারীদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া এবং কল্যাণকে তার সম্পাদনকারীদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা, আর সেই সমস্ত শুভ্র হস্তের (ব্যক্তিদের) প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যারা এই কাজটিকে আলোর মুখ দেখাতে এবং পাঠকের হাতে পৌঁছে দিতে অংশগ্রহণ করেছেন। দোয়ার ক্ষেত্রে সর্বাধিক হকদার হলেন এই কিতাবের সংকলক—ইমাম রাযিউদ্দিন আল-গাজ্জী (রহিমাহুল্লাহ), অতঃপর পাণ্ডুলিপি নকলকারীগণ—আল্লাহ তাদের সকলের ওপর রহম করুন এবং তাদের আসমান ও জমিন এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণকারী মহা প্রতিদান দান করুন। হে আল্লাহ! কবুল করুন।

অতঃপর আমি বিশেষভাবে প্রশংসা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি আমাদের সম্মানিত উস্তাদ ও বিশিষ্ট ভাই আবু আয়িয সালাহ আশ-শালাহী-কে, যিনি শুরুতে এই পাণ্ডুলিপির সন্ধান দিয়েছেন এবং এরপর তার সমৃদ্ধ লাইব্রেরি থেকে 'জাহিরিয়্যাহ' পাণ্ডুলিপিটি উপহার দিয়েছেন। আরও ধন্যবাদ জানাই মহানুভব ভাই আবু উমর আউস সামীহ আবু যায়েদ-কে, যিনি দুবাইয়ের জুমুআ আল-মাজিদ কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ সেন্টারে সংরক্ষিত রাবাত পাণ্ডুলিপির অনুলিপি পাঠিয়ে আমাদের কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন। সেই সাথে দুই শ্রদ্ধেয় ভাই জালালুদ্দিন গাজী এবং আবু খালিদ ইয়াসির আল-উমারি-কেও ধন্যবাদ জানাই, যারা অত্যন্ত সদয়ভাবে মূল পাঠ্য সংশোধন এবং অনুলিপিগুলোর পারস্পরিক মিলকরণের কাজে সহযোগিতা করেছেন।

কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি লাইব্রেরির সম্মানিত ভাইদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাদের বৈজ্ঞানিক সেবার জন্য; বিশেষ করে শ্রদ্ধেয় উস্তাদ আহমদ দোরমায—বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি বিশেষজ্ঞ—যার উদারতা, অমায়িক আচরণ এবং গবেষক ও লাইব্রেরিতে আগতদের সেবা করার আগ্রহ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

আমি দুবাইয়ের জুমুআ আল-মাজিদ কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ সেন্টারের শ্রদ্ধেয় ভাইদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ, প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি; ঐতিহ্য সংরক্ষণের পথে প্রতিটি গবেষক সেখানে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সেবা লাভ করেন তার জন্য।
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ১১)
فشكر الله للجميع وجعل ذلك في ميزان حسناتهم يوم القيامة اللهم آمين.

وأختم بالقول: ما كان من صواب وتوفيق وسداد فمن فضل الله عز وجل ومنّه وكرمه، وما كان من تقصير وخلل فمن نفسي المقصرة ومن الشيطان. وصلى الله على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، سبحان ربك رب العزة عما يصفون وسلام على المرسلين والحمد لله رب العالمين.

وكتب: أبو يحيى عبد الله الكندري

الكويت - الفحاحيل الزاهرة

الاثنين: ختام شهر صفر/ 1420 هـ

الموافق 14/يونيو/ 1999 م
সুতরাং আল্লাহ সকলের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং কিয়ামতের দিন একে তাদের নেক আমলের পাল্লায় শামিল করুন। হে আল্লাহ, কবুল করুন।

পরিশেষে আমি বলছি: যা কিছু সঠিক, তাওফিকপ্রাপ্ত ও নির্ভুল হয়েছে তা মহান আল্লাহর অনুগ্রহ, দান ও বদান্যতা। আর যা কিছু ত্রুটি ও বিচ্যুতি হয়েছে তা আমার নিজের ত্রুটিপূর্ণ নফস এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর। আপনার প্রতিপালক, যিনি সম্মানের অধিপতি, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র। আর রাসুলগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

লিখেছেন: আবু ইয়াহইয়া আবদুল্লাহ আল-কানদারি

কুয়েত - আল-ফাহাহিল আল-যাহিরাহ

সোমবার: সফর মাসের সমাপ্তি/ ১৪২০ হিজরি

১৪ জুন ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ অনুযায়ী
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌ترجمة المصنف -رضي الدين الغزي-

رحمه الله 811 - 864 ه
ـ

‌‌اسمه وكنيته و‌‌مولده:

هو رضي الدين أبو البركات محمد بن شهاب الدين أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن بدر بن مفرج العامري الغزي ثم الدمشقي الشافعي.

 

مولده: ولد في السادس عشر من رمضان سنة إحدى عشرة وثمان مائة للهجرة بدمشق الشام.

 

‌‌آل بيت الغزي:

المتابع للحركة العلمية في التراث الإسلامي يقف عند كثير من مميزاته ويلاحظ العديد من رسومه وفنونه المشرقة وصوره وأشكاله المتألقة التي فاقت العدّ والحصر والإحصاء والذكر.

ومن هذه المظاهر والمعالم الاهتمام الواضح بالعلم والعلماء والذي تبدى في عدة هيئات منها المدارس التي انتشرت في أنحاء العالم الإسلامي من أقصاه إلى أقصاه، والمصنفات التي زخرت بها المكتبات في شتى أنواع الفنون والعلوم والآداب.

وصورة أُخرى مشرقة تميزت بها هذه الحركة العلمية التراثية ألا وهي تتابع العلماء جيلاً بعد جيل في أسرة واحدة - آباء وأبناء وحفدة وربما
গ্রন্থকারের জীবনী -রাযিউদ্দিন আল-গাযযী-

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন ৮১১ - ৮৬৪ হিজরি

তাঁর নাম, উপনাম (কুনিয়াত) ও জন্ম:

তিনি হলেন রাযিউদ্দিন আবুল বারাকাত মুহাম্মাদ বিন শিহাবুদ্দিন আবু নুআইম আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বদর বিন মুফারিরাজ আল-আমিরী আল-গাযযী, অতঃপর আদ-দামিশকী আশ-শাফিয়ী।

 

তাঁর জন্ম: তিনি ৮১১ হিজরি সনের ১৬ই রমজান সিরিয়ার দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন।

 

আল-গাযযী পরিবার:

ইসলামি ঐতিহ্যের জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের কোনো পর্যবেক্ষক যখন এর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করেন, তখন তিনি এর অনেক বৈশিষ্ট্যের সম্মুখীন হন এবং এর অসংখ্য উজ্জ্বল পদ্ধতি ও শৈলী এবং এর আলোকোজ্জ্বল রূপ ও বৈচিত্র্য লক্ষ্য করেন, যা গণনা, সীমাবদ্ধতা, পরিসংখ্যান এবং বর্ণনার ঊর্ধ্বে।

এই সকল প্রকাশ ও নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে জ্ঞান ও জ্ঞানীদের প্রতি সুস্পষ্ট গুরুত্বারোপ, যা বিভিন্নরূপে প্রকাশিত হয়েছে; যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সেই সকল মাদরাসা যা মুসলিম বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেই সকল রচনাবলি যা দ্বারা বিভিন্ন প্রকার শাস্ত্র, বিজ্ঞান ও সাহিত্যের লাইব্রেরিগুলো সমৃদ্ধ হয়েছিল।

এই ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের আরেকটি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত উজ্জ্বল চিত্র হলো একই পরিবারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আলেমদের ধারাবাহিকতা—পিতা, পুত্র ও পৌত্রগণ এবং সম্ভবত সমাপ্তিহীনভাবে।
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ১৪)
الأعمام والأخوال ولا تخلو من مشاركة المرأة في هذه الحياة العلمية -تستمر قرناً وقرنين وثلاثة، والأمثلة على ذلك كثيرة أمثال آل المقدسي والسبكي وبني عبد الهادي وآل القلقشندي وسواهم كثير. . . ومنهم أُسرة مؤلف هذا الكتاب الذي بين أيدينا -آل الغزي- فقد استمر عطاء هذه الأسرة من أواخر القرن الثامن الهجري إلى النصف الثاني من القرن الحادي عشر الهجري متميزه بالعلم والتعليم وتولي التدريس والإفتاء ومناصب القضاء بالإضافة إلى عدد وافر من المصنفات في شتى أنواع الفنون، وهذه نبذة مختصرة عن هذه الأسرة المباركة.

 

‌‌ترجمة الأب شهاب الدين الغزي: 770 - 822 هـ رحمه الله-:

أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن بدر العامري الغزي ثم الدمشقي -ولد ونشأ بغزة وتحول إلى دمشق واستوطنها وأخذ بها عن جماعة من فضلائها وتولى إفتاء دار العدل والتدريس في عدة أماكن واشتهر برئاسة الفتوى ثم جاور بمكة ومات بها وله عدة مصنفات- وقد فصّل المصنف -ولده- ترجمته في الكتاب الذي بين أيدينا.

طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 4/ 78 (760) -العقد الثمين للفاسي 3/ 55 (566) - إنباء الغمر لابن حجر 7/ 363 - الضوء اللامع للسخاوي 1/ 356 - شذرات الذهب لابن العماد 9/ 224 - البدر الطالع للشوكاني 1/ 75 (42) - الأعلام للزركلي 1/ 159 - معجم المؤلفين - كحالة 1/ 285.

 

‌‌ترجمة الابن -رضي الدين بن رضي الدين الغزي- 862 - 935 هـ رحمه الله-:

أبو الفضل محمد بن محمد بن أحمد بن عبد الله بن بدر العامري الغزي ثم الدمشقي، ولد بدمشق ونشأ تحت وصاية شيخ الإسلام زين الدين خطاب بن عمر بن مهنا الغزاوي شيخ الشافعية بدمشق بوصاية من والده الذي توفي بعد ولادته بسنتين، فنشأ محباً للعلم مجتهداً في طلبه حتى بلغ الفتيا والتدريس وولاية القضاء وله عدة مصنفات منها - جامع فرائد الملاحة
চাচা ও মামারা এবং এই জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনে নারীর অংশগ্রহণ থেকেও এটি মুক্ত নয়—যা এক, দুই বা তিন শতাব্দী ধরে চলতে থাকে। এর উদাহরণ অনেক, যেমন আল-মাকদিসি পরিবার, আস-সুবকি পরিবার, বনু আব্দুল হাদি, আল-কালকাশান্দি পরিবার এবং আরও অনেকে। তাদের মধ্যে আমাদের সামনে থাকা এই গ্রন্থের লেখকের পরিবারও অন্তর্ভুক্ত—আল-গাজ্জি পরিবার। এই পরিবারের অবদান হিজরি অষ্টম শতাব্দীর শেষভাগ থেকে একাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তারা জ্ঞানার্জন, শিক্ষাদান, শিক্ষকতা ও ফতোয়া প্রদান এবং বিচার বিভাগীয় (কাজি) পদে অধিষ্ঠিত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন শাস্ত্রীয় বিদ্যায় প্রচুর সংখ্যক গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে বিশিষ্টতা অর্জন করেছিলেন। এই বরকতময় পরিবার সম্পর্কে এটি একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ।

 

‌‌পিতা শিহাবুদ্দিন আল-গাজ্জির জীবনী: ৭৭০ - ৮২২ হিজরি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-:

আবু নুয়াইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বদর আল-আমেরি আল-গাজ্জি, অতঃপর আদ-দিমাশকি। তিনি গাজায় জন্মগ্রহণ করেন ও বেড়ে ওঠেন, এরপর দামেস্কে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি একদল বিদগ্ধ পণ্ডিতের নিকট জ্ঞানার্জন করেন এবং দারুল আদলের ফতোয়া প্রদান ও বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ফতোয়া বিভাগের প্রধান হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। অতঃপর তিনি মক্কায় অবস্থান করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে। গ্রন্থকার—যিনি তাঁর পুত্র—আমাদের সামনে থাকা এই গ্রন্থে তাঁর জীবনীর বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।

ইবনে কাজি শুহবার তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ৪/ ৭৮ (৭৬০) - আল-ফাসির আল-ইকদুত সামিন ৩/ ৫৫ (৫৬৬) - ইবনে হাজারের ইনবাউল গুমর ৭/ ৩৬৩ - আস-সাখাউয়ির আদ-দউউল লামি ১/ ৩৫৬ - ইবনুল ইমাদের শাজারাতুজ জাহাব ৯/ ২২৪ - আশ-শাওকানির আল-বদরুত তালি ১/ ৭৫ (৪২) - আয-যিরিকলির আল-আলাম ১/ ১৫৯ - কাহহালার মুজামুল মুয়াল্লিফিন ১/ ২৮৫।

 

‌পুত্রের জীবনী -রাদিউদ্দীন ইবনে রাদিউদ্দীন আল-গাজ্জি- ৮৬২ - ৯৩৫ হিজরি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-:

আবুুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বদর আল-আমেরি আল-গাজ্জি, অতঃপর আদ-দিমাশকি। তিনি দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং শাইখুল ইসলাম যিনুদ্দীন খাত্তাব ইবনে উমর ইবনে মুহান্না আল-গাজ্জাউয়ির তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন, যিনি ছিলেন দামেস্কে শাফিয়্যিদের প্রধান শায়খ। এটি তাঁর পিতার অসিয়ত বা নির্দেশে হয়েছিল, যিনি তাঁর জন্মের দুই বছর পর ইন্তেকাল করেন। ফলে তিনি জ্ঞানানুরাগী হয়ে বেড়ে ওঠেন এবং জ্ঞানার্জনে কঠোর পরিশ্রম করেন, এমনকি ফতোয়া প্রদান, শিক্ষকতা ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব পালনের স্তরে উন্নীত হন। তাঁর অনেকগুলো রচনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো - জামেউ ফারাইদিল মিলাহাহ।
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ১৫)
في جوامع فوائد الفلاحة- في الزراعة والدرر اللوامع نظم جمع الجوامع وألفية في اللغة وأخرى في علم الهيئة، وثالثة في الطب ومنظومة في علم الخط وأُرجوزة في الظاآت.

شذرات الذهب لابن العماد 10/ 292 - الكواكب السائرة 2/ 3 الأعلام للزركلي 7/ 56.

 

‌‌ترجمة الحفيد: بدر الدين الغزي 904 - 984 هـ رحمه الله-:

أبو البركات محمد بن محمد بن محمد بن أحمد بن عبد الله بن بدر العامري الغزي ثم الدمشقي، مولده ونشأته ووفاته بدمشق، اعتنى به والده مبكراً وأحضره على مشايخ عصره في الشام ومصر فبرع ودرس وأفتى ومشايخه أحياء وتصدر للتدريس والإفتاء وهو في السابعة عشر من عمره عام 921 هـ وبعدها تولى القضاء وأكثر من التصنيف حتى بلغت مؤلفاته أكثر من مائة مصنف من شتى أنواع الفنون والعلوم.

شذرات الذهب لابن العماد 10/ 593 - الكواكب السائرة 3/ 3.

الأعلام للزركلي- 7/ 59 - معجم المؤلفين - كحالة 11/ 270.

 

‌‌ترجمه ابن الحفيد -نجم الدين الغزي- 977 - 1061 هـ رحمه الله-:

أبو المكارم محمد بن محمد بن محمد بن محمد بن أحمد بن عبد الله بن بدر العامري الغزي ثم الدمشقي -مؤرخ باحث أديب مولده ووفاته في دمشق، من مشاهير كتبه- الكواكب السائرة في تراجم أعيان المائة العاشرة، وحسن التنبه لما ورد في التشبه، وعقد الشواهد، وإتقان ما يحسن من بيان الأخبار الدائرة على الألسن.

خلاصة الأثر 4/ 189 - الأعلام للزركلي 7/ 63 معجم المؤلفين - كحالة - 11/ 288.
'জাওয়ামিউ ফাওয়ায়েদিল ফিলাহা' নামক গ্রন্থে কৃষি বিষয়ক আলোচনা, এবং 'আদ-দুরারুল লাওয়ামি' যা 'জামউল জাওয়ামি' গ্রন্থের পদ্যানুবাদ, ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ে একটি আলফিয়া (সহস্র শ্লোকবিশিষ্ট কাব্য), জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে আরেকটি, চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ে তৃতীয়টি, হস্তলিপি বিদ্যা বা ক্যালিগ্রাফি বিষয়ে একটি কাব্যগ্রন্থ এবং 'জা' (ظ) বর্ণসংক্রান্ত একটি উরজুজা (কাব্য) রয়েছে।

ইবনুল ইমাদের শাযারাতুয যাহাব ১০/২৯২ - আল-কাওয়াকিবুস সাইয়িরা ২/৩ - যিরিকলির আল-আলাম ৭/৫৬।

 

‌‌নাতির জীবনী: বদরুদ্দিন আল-গাযযী ৯০৪ - ৯৮৪ হিজরি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-:

আবুল বারাকাত মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বদর আল-আমিরি আল-গাযযী, অতঃপর আদ-দিমাশকি। তাঁর জন্ম, লালন-পালন ও মৃত্যু দামেস্কে। তাঁর পিতা শৈশব থেকেই তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন নেন এবং সিরিয়া ও মিশরের সমকালীন শায়খদের মজলিসে তাঁকে উপস্থিত করেন। তিনি পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং তাঁর উস্তাদগণ জীবিত থাকাবস্থাই তিনি শিক্ষাদান ও ফতোয়া প্রদান শুরু করেন। ৯২১ হিজরিতে মাত্র সতেরো বছর বয়সে তিনি শিক্ষকতা ও ফতোয়া প্রদানের আসনে আসীন হন। এরপর তিনি বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং এত অধিক গ্রন্থ রচনা করেন যে, তাঁর রচনাবলি বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিজ্ঞানে একশোরও অধিক ছাড়িয়ে যায়।

ইবনুল ইমাদের শাযারাতুয যাহাব ১০/৫৯৩ - আল-কাওয়াকিবুস সাইয়িরা ৩/৩।

যিরিকলির আল-আলাম ৭/৫৯ - কাহহালার মুজামুল মুআল্লিফিন ১১/২৭০।

 

‌‌নাতির ছেলের জীবনী - নাজমুদ্দিন আল-গাযযী - ৯৭৭ - ১০৬১ হিজরি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-:

আবুল মাকারিম মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বদর আল-আমিরি আল-গাযযী, অতঃপর আদ-দিমাশকি। তিনি ছিলেন একজন ইতিহাসবিদ, গবেষক ও সাহিত্যিক। তাঁর জন্ম ও মৃত্যু দামেস্কে। তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে— 'আল-কাওয়াকিবুস সাইয়িরা ফি তারাজিমিল আয়ানিল মিআতিল আশিরা', 'হুসুনুত তানাব্বুহ লিমা ওয়ারাদা ফিত তাশাব্বুহ', 'আকদুশ শাওয়াাহিদ' এবং 'ইতকানু মা ইয়াহসুনু মিন বায়ানেল আখবারিদ দাইরাতি আলাল আলসুন'।

খুলাসাতুল আসার ৪/১৮৯ - যিরিকলির আল-আলাম ৭/৬৩ - কাহহালার মুজামুল মুআল্লিফিন ১১/২৮৮।
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌مشايخه وأقرانه:

الكتاب الذي بين أيدينا عبارة عن موسوعة تفصيلية لمشايخ المصنف ومعاصريه وأقرانه - الذين أخذ عنهم وأخذوا عنه وقرأ عليهم ونظروا في كتبه وعلقوا عليها وراسلهم وكتبوا إليه، فهو يقول في مقدمة الكتاب ". . . وبعد فهذا مختصر لطيف قصدت به ترجمة الأئمة من أصحابنا الشافعية المتأخرين وأعني بهم من أدركتهم واجتمعت بهم من العلماء البارعين، وبعضهم مشايخي الذين أخذت عنهم العلم من أهل الفضل والحلم. . . ".

وقد بدأ المصنف رحمه الله كتابه بترجمة شيخ الإسلام سراج الدين البلقيني 805 هـ باعتباره أُستاذ العصر وإمام القرن وكل من جاء بعده فهم تلاميذه وطلابه والآخذين عنه فهو يقول في مقدمة الكتاب: "وصدرتهم بالإمام العلامة شيخ الإسلام سراج الدين. . . البلقيني. . . تغمده الله بالرحمة والرضوان، إذ هم على الحقيقة في العلم أولاده وبه افتخروا وسادوا، فهو في هذا العصر بالنسبة إلينا كالشافعي وهم أصحابه، واعلم أني إذا أطلقت في هذا المختصر الشيخ فمرادي الشيخ سراج الدين البلقيني المذكور وإن أردت غيره قيدته. . . ".

ومن مشاهير مشايخه الذين أخذ عنهم وصحبهم وترجم لهم في هذا المصنف الإمام شهاب الدين ابن حجر العسقلاني 852 هـ فقد اعتمد في كثير من تراجمه على أقواله وهو يكثر من قوله "قال شيخنا ابن حجر".

ومن مشايخه أيضاً الذين ترجم لهم محيي الدين المصري وهو من تلاميذ الإمام البلقيني ويقول عنه ". . . وممن تخرج عليه أيضاً من علماء دمشق شيخنا العلامة محيي الدين المصري. . . " ومنهم ابن قاضي شهبة 851 هـ وولي الدين أبو زرعة العراقي 826 هـ والشيخ العلامة شمس الدين البرماوي.

أما عن أقرانه وأصحابه ومعاصريه فيذكر منهم الشيخ شمس الدين المكيسي 840 هـ ويقول عنه ". . . كان كثير التودد والتردد والمحبة لي وبيننا من قديم صحبة أكيدة. . . "، ويقول عند ذكر ابن ناصر الدين 843 هـ
তাঁর উস্তাদ ও সমসাময়িকগণ:

আমাদের সামনে বিদ্যমান গ্রন্থটি গ্রন্থকারের উস্তাদ, সমসাময়িক এবং সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের একটি বিস্তারিত বিশ্বকোষ স্বরূপ—যাঁদের কাছ থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন এবং তাঁরাও তাঁর কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন, যাঁদের কাছে তিনি পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁরা তাঁর গ্রন্থসমূহ পাঠ করেছেন ও তাতে টীকা প্রদান করেছেন, এবং যাঁদের সাথে তিনি পত্রালাপ করেছেন ও তাঁরাও তাঁর নিকট পত্র লিখেছেন। তিনি গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন, "...অতঃপর এটি একটি সুন্দর সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ, যার মাধ্যমে আমি আমাদের পরবর্তীকালের শাফেয়ী মাযহাবের ইমামগণের জীবনী রচনার সংকল্প করেছি; এর মাধ্যমে আমি তাঁদেরকেই উদ্দেশ্য করেছি যাঁদের সান্নিধ্য আমি পেয়েছি এবং সেই সব প্রাজ্ঞ আলেমদের সাথে আমি মিলিত হয়েছি, যাঁদের কেউ কেউ আমার উস্তাদ যাঁদের নিকট থেকে আমি জ্ঞান ও সহনশীলতার অধিকারীদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছি...।"

গ্রন্থকার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর গ্রন্থটি শাইখুল ইসলাম সিরাজুদ্দীন আল-বুলকিনি (৮০৫ হি.)-এর জীবনী দিয়ে শুরু করেছেন। তাঁকে এই যুগের শিক্ষক এবং এই শতাব্দীর ইমাম হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে আগত সকলেই তাঁর শিষ্য, ছাত্র এবং তাঁর কাছ থেকে ইলম গ্রহণকারী। তিনি গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: "আমি তাঁদের শুরুতে ইমাম আল্লামা শাইখুল ইসলাম সিরাজুদ্দীন... আল-বুলকিনি... (আল্লাহ তাঁকে রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা আবৃত করুন)-এর কথা উল্লেখ করেছি; কেননা ইলমের বিচারে তাঁরা প্রকৃতপক্ষে তাঁর সন্তানতুল্য এবং তাঁর মাধ্যমেই তাঁরা গর্বিত ও নেতৃত্বশীল হয়েছেন। এই যুগে আমাদের নিকট তাঁর অবস্থান ইমাম শাফেয়ীর মতো এবং তাঁরা তাঁর সাথীবর্গের মতো। আর জেনে রাখুন যে, আমি যখন এই সংক্ষেপে 'আশ-শাইখ' শব্দটি এককভাবে ব্যবহার করব, তখন এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হবে উল্লিখিত শাইখ সিরাজুদ্দীন আল-বুলকিনি; আর যদি অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করি তবে আমি তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করব...।"

তাঁর প্রখ্যাত উস্তাদগণের মধ্যে যাঁদের নিকট থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন, সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং এই গ্রন্থে যাঁদের জীবনী বর্ণনা করেছেন, তাঁদের একজন হলেন ইমাম শিহাবুদ্দীন ইবনে হাজার আল-আসকালানি (৮৫২ হি.)। তিনি তাঁর জীবনী সংক্রান্ত অনেক বর্ণনায় ইবনে হাজারের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছেন এবং তিনি অধিকহারে "আমাদের শাইখ ইবনে হাজার বলেছেন" কথাটি উল্লেখ করেন।

তাঁর উস্তাদগণের মধ্যে যাঁদের জীবনী তিনি উল্লেখ করেছেন তাঁদের মধ্যে মুহিউদ্দীন আল-মিসরিও রয়েছেন, যিনি ইমাম আল-বুলকিনির অন্যতম ছাত্র। তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন, "...এবং দামেস্কের আলেমদের মধ্যে যাঁরা তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন তাঁদের একজন হলেন আমাদের শাইখ আল্লামা মুহিউদ্দীন আল-মিসরি...।" তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন ইবনে কাযি শুহবা (৮৫১ হি.), ওয়ালিউদ্দীন আবু যুরআ আল-ইরাকি (৮২৬ হি.) এবং শাইখ আল্লামা শামসুদ্দীন আল-বারমাউই।

আর তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তি, সাথী এবং সমসাময়িকদের মধ্যে তিনি শাইখ শামসুদ্দীন আল-মাকিসি (৮৪০ হি.)-এর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, "...তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও অনুরক্ত ছিলেন এবং আমার প্রতি তাঁর প্রগাঢ় ভালোবাসা ছিল, আমাদের মাঝে দীর্ঘদিনের দৃঢ় বন্ধুত্ব ছিল...।" আর তিনি ইবনে নাসিরুদ্দীন (৮৪৩ হি.)-এর বর্ণনার সময় বলেন...
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ১৭)
"وذاكرته في أنواع العلوم فوجدته كما وُصف وأبلغ. . . واجتمعنا هناك مرات في القلعة في قراءة الحديث. . . وزادت المودة بيننا. . . " وسوى هؤلاء وهؤلاء كثير ذكرهم في هذا المصنف رحمه الله.

 

‌‌مؤلفاته:

1 - أدب القضاء -ذكره بروكلمان- مخطوط في برلين رقم 972.

2 - بهجة الناظرين إلى تراجم المتأخرين من الشافعية البارعين - الكتاب الذي بين أيدينا.

3 - سيرة الملك الظاهر جقمق 856 هـ ذكره صاحب كشف الظنون وكحالة في معجمه.

4 - مناسك الحج - ذكره كحالة في معجمه.

 

‌‌وفاته:

قال السخاوي رحمه الله في الضوء اللامع في ذكر وفاة المصنف رحمه الله:

"مات في يوم الخميس مستهل ربيع الأول سنة أربع وستين وصلى عليه عقب الظهر بجامع دمشق ثم بجامع تنكز ودفن بمقبرة الصوفية عند رجلي الشهاب ابن نشوان بوصية منه -رحمهما الله وإيانا".

 

‌‌مصادر ترجمة المصنف رحمه الله-:

الضوء اللامع للسخاوي 6/ 324 (1060) -كشف الظنون 34 - بروكلمان -مترجم- 6/ 125 - مجلة معهد المخطوطات العربية المجلد الثاني -الجزء الأول- سنة 1956 م - ص / 127 ترجمة رقم (42).

الأعلام للزركلي 5/ 333 - معجم المؤلفين- كحالة - 8/ 279.

* * *
"আমি তাঁর সাথে বিভিন্ন জ্ঞানশাখা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং তাকে বর্ণনার চেয়েও উন্নত পেয়েছি... হাদীস পাঠের জন্য দুর্গে আমাদের বহুবার সাক্ষাৎ হয়েছে... এবং আমাদের মাঝে হৃদ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে..." আর এরা এবং তারা ছাড়াও আরও অনেকের কথা এই কিতাবের লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

১ - আদাবুল কাযা -ব্রোকলম্যান একে উল্লেখ করেছেন- বার্লিনে পাণ্ডুলিপি নং ৯৭২ হিসেবে সংরক্ষিত।

২ - বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিঈয়্যাহ আল-বারিয়ীন - এটিই সেই কিতাব যা বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে।

৩ - সিরাতুল মালিকিয যাহির জাকমাক ৮৫৬ হিজরি - কাশফুয যুনুন এর লেখক এবং কাহহালা তাঁর অভিধানে একে উল্লেখ করেছেন।

৪ - মানাসিকুল হাজ্জ - কাহহালা তাঁর অভিধানে একে উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

আস-সাখাভী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) আদ-দাওউল লামি' গ্রন্থে লেখকের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) মৃত্যু প্রসঙ্গে বলেছেন:

"তিনি চৌষট্টি হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করেন। দামেস্কের জামে মসজিদে যোহরের পর তাঁর জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়, অতঃপর তানকিয মসজিদে। তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী সুফিয়া কবরস্থানে শিহাব ইবনে নাশওয়ানের পায়ের নিকট তাঁকে দাফন করা হয় - আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি এবং আমাদের প্রতি রহম করুন।"

 

‌‌লেখকের জীবনীর উৎসসমূহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-:

আস-সাখাভী কৃত আদ-দাওউল লামি' ৬/ ৩২৪ (১০৬০) - কাশফুয যুনুন ৩৪ - ব্রোকলম্যান (অনূদিত) ৬/ ১২৫ - মাজাল্লাতু মা'হাদিল মাখতুতাতিল আরাবিয়্যাহ, ২য় ভলিউম - ১ম অংশ - ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দ - পৃষ্ঠা ১২৭, জীবনী নং (৪২)।

আয-যিরিকলী কৃত আল-আ'লাম ৫/ ৩৩৩ - মু'জামুল মুআল্লিফীন (কাহহালা) ৮/ ২৭৯।

* * *
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ১৯)
كِتَابُ

بَهْجَة النَّاظِرِينَ

إلى تراجم المتأخرين

مِن الشَّافعيّة البَارعين

تصنيف

الإمَام رضيّ الدّين أبي البَركَات محمَّد بن أحمَد بن عَبد الله

الغزّي العَامِري الشَّافِعي "ت 864 هـ"

ضَبط النّص وعَلّق عَلَيه

أبو يحيى عَبد الله الكندري
কিতাব

বাহজাতুন নাজিরিন (পর্যবেক্ষকদের আনন্দ)

পরবর্তী যুগের মনীষীদের জীবনী প্রসঙ্গে

প্রাজ্ঞ শাফিঈ আলেমগণের মধ্য হতে

সংকলন

ইমাম রাদিউদ্দীন আবুল বারাকাত মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ

আল-গাজ্জি আল-আমিরি আল-শাফিঈ (মৃত্যু ৮৬৪ হিজরি)

পাঠ্য বিন্যাস ও টীকা সংযোজন করেছেন

আবু ইয়াহইয়া আব্দুল্লাহ আল-কানদারি
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ২১)
ورقة الغلاف - نسخة الخزانة العامة بالرباط - المغرب
প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা - রাবাত সাধারণ গ্রন্থাগার সংস্করণ - মরক্কো
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ২২)
الورقة الأولى - نسخة الخزانة العامة بالرباط - المغرب
প্রথম পত্র - রাবাতের আল-খাজানা আল-আম্মাহ (সাধারণ গ্রন্থাগার) সংস্করণ - মরক্কো
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ২৩)
الورقة الأخيرة - نسخة الخزانة العامة بالرباط - المغرب
সর্বশেষ পৃষ্ঠা - আল-খিজানা আল-আম্মা সংস্করণ, রাবাত - মরক্কো
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ২৪)
ورقة الغلاف - نسخة الظاهرية- سوريا
প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা - জাহিরিয়্যাহ সংস্করণ - সিরিয়া
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ২৫)
الورقة الأولى- نسخة الظاهرية - سوريا
প্রথম পৃষ্ঠা - জাহিরিয়া সংস্করণ - সিরিয়া
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ২৬)
الورقة الأخيرة - نسخة لظاهرية - سوريا
সর্বশেষ পৃষ্ঠা - জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপি - সিরিয়া
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

* رب أعن *

قال العبدُ الفقيرُ إلى الله تعالى، شيخنا وسيدنا، الإمام العلامة والبحر الفهّامة، رضيُّ الدين، مفتي المسلمين رحلةُ الطالبين، أوحد المجتهدين، محمد بن الشيخ الإمام شيخ الإسلام، بَقِيةُ العلماء الأعلام، شهاب الدين قامع المبتدعين أبي نعيم أحمد بن الشيخ الصالح العلّامة جمال الدين عبد الله العامري الغَزِّي الشافعي تغمده الله تعالى برحمته وأسكنه فسيح جنته. آمين.

الحمد لله مدبر الأمور، مميت الأحياء وباعث من في القبور، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له العزيز الغفور، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله الذي هو بالرعب منصور، صلى الله وسلم عليه وعلى إخوانه من النبيين والمرسلين عدد الأيام والدهور، ورضي الله تعالى عن أصحابه وتابعيهم إلى يوم البعث والنشور.

وبعد فهذا مختصرٌ لطيفٌ قصدت به ترجمة الأئمة من أصحابنا الشافعية المتأخرين، وأعني بهم من أدركتهم واجتمعت بهم من العلماء البارعين، وبعضهم مشايخي الذين أخذت عنهم العلم، من أهل الفضل والحلم، وصدّرتهم بالإمام العلّامة شيخ الإسلام سراج الدّين أبي حفص عمر بن رسلان البلقيني المصري الشافعي، تغمده الله بالرحمة والرضوان، إذ هم على الحقيقة في العلم أولاده وبه افتخروا وسادوا، فهو في هذا العصر بالنسبة إلينا كالشافعي وهم أصحابه - واعلم أني إذا أطلقت في هذا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

* হে প্রতিপালক, সাহায্য করুন *

মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী নিঃস্ব বান্দা, আমাদের শায়খ ও সরদার, ইমাম, আল্লামা ও প্রজ্ঞার সমুদ্র, রাদীয়ুদ্দীন, মুসলিমদের মুফতি, জ্ঞানান্বেষীদের গন্তব্যস্থল, অনন্য মুজতাহিদ, শায়খুল ইসলাম ইমামের পুত্র মুহাম্মাদ, যিনি প্রখ্যাত আলেমদের উত্তরসূরি, শিহাবুদ্দীন, বিদআতীদের দমনকারী, আবু নাঈম আহমাদ ইবনে নেককার শায়খ আল্লামা জামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ আল-আমিরী আল-গাজ্জী আশ-শাফেয়ী—আল্লাহ তায়ালা তাঁকে তাঁর রহমত দ্বারা আচ্ছাদিত করুন এবং তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে বসবাস করতে দিন। আমিন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল বিষয়ের পরিচালক, জীবিতদের মৃত্যুদানকারী এবং যারা কবরে আছে তাদের পুনরুত্থানকারী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি মহাপরাক্রমশালী ও পরম ক্ষমাশীল। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁকে ভীতি প্রদানের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে। তাঁর ওপর এবং তাঁর ভাই সকল নবী ও রাসূলগণের ওপর দিন এবং মহাকালের সমপরিমাণ সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। আল্লাহ তায়ালা তাঁর সাহাবী ও তাঁদের অনুসারীদের (তাবেয়ীগণ) প্রতি কিয়ামত ও পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত সন্তুষ্ট হোন।

অতঃপর, এটি একটি সংক্ষিপ্ত ও প্রাঞ্জল সংকলন, যার মাধ্যমে আমি আমাদের শাফেয়ী মাযহাবের পরবর্তী যুগের ইমামদের জীবনী বর্ণনা করার সংকল্প করেছি। আমার উদ্দেশ্য হলো ঐ সকল দক্ষ আলেমগণ, যাঁদের আমি পেয়েছি এবং যাঁদের সান্নিধ্য লাভ করেছি; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আমার শিক্ষক, যাঁদের কাছ থেকে আমি জ্ঞান অর্জন করেছি এবং যাঁরা ছিলেন ফযিলত ও সহনশীলতার অধিকারী। আমি এই কিতাবটি শুরু করেছি ইমাম, আল্লামা, শায়খুল ইসলাম সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর ইবনে রুসলান আল-বুলকিনী আল-মিসরী আশ-শাফেয়ীর জীবনী দ্বারা, আল্লাহ তাঁকে রহমত ও সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করুন। কেননা তাঁরা প্রকৃত অর্থে জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁরই সন্তান এবং তাঁর মাধ্যমেই তাঁরা গর্বিত হয়েছেন ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। ফলে এই যুগে আমাদের নিকট তিনি ইমাম শাফেয়ীর ন্যায় এবং তাঁরা হলেন তাঁর সহচর সদৃশ। জেনে রাখুন, আমি যদি এই কিতাবে...
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ২৮)
المختصر "الشيخ" فمرادي الشيخ سراج الدين البلقيني المذكور، وإن أردت غيره قيدته.

ثم بعد ترجمة الشيخ ذكرت "المحمدين" ثم "الأحمدين" ثم سردتهم على حروف الهجاء من الألف إلى الياء - ليسهل الكشف على مُطالعه والضبط لطالبه، اقتداءً بالقاضي العلّامة تاج الدين أبي نصر ابن السبكي في طبقاته، فإنها من أحسن المصنفات في هذا المعنى ومنه استقر من صنّف في زمنه وبعده في هذا الأُسلوب المعتنى، وإن اصطنع كل واحدٍ اصطناع فلا مشاححة في الاصطلاح.

ثم اعلم أني لا أُترجم إلا من تأخرت وفاته إلى هذا القرن التاسع ولو في أول سنة منه، وقد أُترجم بعض من تُوفي قبله استطراداً في ترجمة ابنه أو أبيه أو قريبه أو بلديِّه، وقد أترك ذلك لمعنى لا يخفى على الحاذق، وقد أترجم بعض رفقتي ممن مات في زمني.

وأما المتقدمون من أئمتنا وأعني بهم من الشافعين إلى آخر القرن الثامن، فقد اعتنى بتراجمهم أئمةٌ كثرةٌ ودوّنوا في ذلك دواوين عديدة ولله الحمدُ على ذلك وعلى سائر نعمه التي لا تحصى.

وهذا حين أشرع في المقصود والله المستعان وعليه التكلان ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، اعتصمت بالله، فوضت أمري إلى الله، ما شاء الله كان وهو حسبي ونعم الوكيل، وإياه أسأل أن ينفع به إنه قريب مجيب.

* * *
সংক্ষেপে "শাইখ" বলতে আমার উদ্দেশ্য হলো উল্লিখিত শাইখ সিরাজুদ্দীন আল-বুলকিনি। যদি আমি অন্য কাউকে বোঝাতে চাই, তবে আমি তাকে নির্দিষ্ট করে দেব।

অতঃপর শাইখের জীবনী আলোচনার পর আমি "মুহাম্মদ" নামধারীদের কথা উল্লেখ করেছি, এরপর "আহমদ" নামধারীদের, অতঃপর তাদের নাম বর্ণানুক্রমিকভাবে আলিফ থেকে ইয়া পর্যন্ত বিন্যস্ত করেছি—যাতে পাঠকের জন্য অনুসন্ধান এবং শিক্ষার্থীর জন্য তা আয়ত্ত করা সহজ হয়। এক্ষেত্রে আমি আল্লামা কাজী তাজউদ্দীন আবু নাসর ইবনে সুবকির অনুসরণ করেছি তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে, কারণ এটি এই বিষয়ে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংকলন এবং তাঁর সময় ও পরবর্তী সময়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তারা এই বিশেষ শৈলীর ওপরই স্থির হয়েছেন। তবে প্রত্যেকে যদি স্বতন্ত্র পরিভাষা গ্রহণ করে তবে পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই।

অতঃপর জেনে রাখুন যে, আমি কেবল তাদের জীবনীই উল্লেখ করেছি যাদের মৃত্যু এই নবম হিজরি শতাব্দী পর্যন্ত বিলম্বিত হয়েছে, এমনকি তা যদি এই শতাব্দীর প্রথম বছরও হয়। আর আমি প্রাসঙ্গিকভাবে কারো কারো জীবনী উল্লেখ করতে পারি যারা এর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন, যেমন তাদের পুত্র, পিতা, নিকটাত্মীয় বা স্বগোত্রীয় কারো জীবনী আলোচনার সূত্রে। বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট অস্পষ্ট নয় এমন কোনো কারণে কখনো আমি তা বর্জনও করতে পারি। আবার আমার সমসাময়িক সাথীদের মধ্যে যারা আমার জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণ করেছেন, আমি তাদের কারো কারো জীবনীও উল্লেখ করতে পারি।

আর আমাদের পূর্ববর্তী ইমামগণ—যাদের দ্বারা আমি শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারীদের থেকে শুরু করে অষ্টম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত সময়কালকে বোঝাচ্ছি—তাদের জীবনী সংরক্ষণে বহু ইমাম যত্নবান হয়েছেন এবং এ বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ সংকলন করেছেন। এজন্য আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর অন্যান্য অগণিত নিআমতের জন্যও শুকরিয়া।

আর এখন আমি মূল বিষয়ের অবতারণা করছি, আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর ওপরই ভরসা করছি। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আমি আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করলাম, আমার সকল বিষয় আল্লাহর নিকট সোপর্দ করলাম। আল্লাহ যা চান তাই হয় এবং তিনি আমার জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক। আমি তাঁরই নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর দ্বারা উপকার সাধন করেন; নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে ও প্রার্থনা কবুলকারী।

(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ২৯)
ترجمة الشيخ رحمه الله تعالى

شيخ الإسلام سراج الدين البلقيني

عفا الله عنه

هو أبو حفص (1) عمر بن رسلان بن نصير بن صالح بن شهاب بن عبد الخالق بن عبد الحق البلقيني ثم المصري، الإمام العلم الحافظ الفقيه الأُصولي النحوي المفسر المتكلم النظّار، شيخ الإسلام بقية المجتهدين الأعلام منقطع القرين سراج الدين الكناني، العسقلاني الأصل البلقيني المولد، ولد بها في ليلة الجمعة ثاني عشر شعبان المكرم سنة أربع وعشرين وسبعمائة.

وبلقينةُ (2) بُليدةٌ بالغربية من أعمال الديار المصرية.

حفظ القرآن ببلده وهو ابن سبع سنين، وحفظ الشاطبية والمحرر للرافعي والكافية الشافية لابن مالك ومختصر ابن الحاجب الأصولي.

ثم قدم القاهرة سنة ست وثلاثين واجتمع إذ ذاك بالشيخ تقي الدين السبكي والقاضي جلال الدين القزويني، وأثنى كل منهما عليه مع صغر سنه ثم رجع إلى بلده.

ثم قدم إلى القاهرة أيضاً في سنة ثمان وثلاثين، وقد ناهز الاحتلام مستوطناً بها، وحج بالموسم مع والده سنة أربعين وَدَرَسَ الفقه على الشيخ نجم الدين الأسواني وابن عدلان وزين الدين التلمساني وشمس الدين ابن

--------------------------------------------

(1) طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 4/ 36 (737)، إنباء الغمر لابن حجر 5/ 107، لحظ الألحاظ لابن فهد 206، النجوم الزاهرة لابن تغري بردي 13/ 29، الضوء اللامع للسخاوي، 6/ 85 (286)، ذيل طبقات الحفاظ للسيوطي 369، شذرات الذهب لابن العماد 9/ 80، البدر الطالع للشوكاني 1/ 506 (254)، الأعلام للزركلي 7/ 284، معجم المؤلفين - كحالة 7/ 284.

(2) بلقينة: معجم البلدان - ياقوت الحموي 1/ 580 (2123).
শায়খের জীবনী, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

শায়খুল ইসলাম সিরাজুদ্দিন আল-বুলকিনি

আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন

তিনি হলেন আবু হাফস (১) ওমর ইবনে রুসলান ইবনে নুসায়ের ইবনে সালিহ ইবনে শিহাব ইবনে আব্দুল খালিক ইবনে আব্দুল হক আল-বুলকিনি, অতঃপর আল-মিসরি। তিনি সুপ্রসিদ্ধ ইমাম, হাফেজ, ফকিহ, উসুলবিদ, ব্যাকরণবিদ, মুফাসসির, কালামশাস্ত্রবিদ ও অনন্য তার্কিক; শায়খুল ইসলাম, বরেণ্য মুজতাহিদগণের উত্তরসূরি, সমকালীনদের মাঝে অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সিরাজুদ্দিন আল-কিনানি। তিনি মূলগতভাবে আসকালানি এবং জন্মগতভাবে বুলকিনি। তিনি সেখানে ৭২৪ হিজরির ১২ই শাবান মুকাররম জুমাবার রাতে জন্মগ্রহণ করেন।

বুলকিনা হলো মিসরীয় অঞ্চলের আল-গারবিয়া প্রদেশের একটি ছোট শহর।

সাত বছর বয়সে তিনি নিজ এলাকায় কুরআন মুখস্থ করেন এবং শাতবিয়াহ, রাফেয়ি-র আল-মুহাররার, ইবনে মালিকের আল-কাফিয়া আশ-শাফিয়া এবং ইবনুল হাজিবের উসুলে মুখতাসার মুখস্থ করেন।

অতঃপর তিনি ৭৩৬ হিজরিতে কায়রোতে আগমন করেন এবং সেই সময় শায়খ তাকিউদ্দিন আস-সুবকি ও কাজি জালালুদ্দিন আল-কাজউইনির সাথে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা উভয়েই তাঁর অল্প বয়স সত্ত্বেও তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন। এরপর তিনি নিজ এলাকায় ফিরে যান।

পুনরায় ৭৩৮ হিজরিতে তিনি কায়রোতে আসেন, তখন তিনি সাবালকত্বের কাছাকাছি এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি ৭৪০ হিজরির মৌসুমে তাঁর পিতার সাথে হজ্জ পালন করেন এবং শায়খ নাজমুদ্দিন আল-আসওয়ানি, ইবনে আদলান, জাইনুদ্দিন আত-তিলিমসানি এবং শামসুদ্দিন ইবনে... এর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাজি শুহবাহ প্রণীত তবাকাতুশ শাফিইয়াহ ৪/৩৬ (৭৩৭), ইবনে হাজার প্রণীত ইনবাউল গুমর ৫/১০৭, ইবনে ফাহদ প্রণীত লাহজুল আলহাজ ২০৬, ইবনে তাগরি বারদি প্রণীত আন-নুজুমুজ জাহেরাহ ১৩/২৯, সাখাভি প্রণীত আদ-দউউল লামি' ৬/৮৫ (২৮৬), সুয়ুতি প্রণীত জাইলু তবাকাতিল হুফফাজ ৩৬৯, ইবনুল ইমাদ প্রণীত শাজারাতুজ জাহাব ৯/৮০, শাওকানি প্রণীত আল-বাদরুত তালি' ১/৫০৬ (২৫৪), জিরিকলি প্রণীত আল-আলাম ৭/২৮৪, কাহহালা প্রণীত মুজামুল মুআল্লিফিন ৭/২৮৪।

(২) বুলকিনা: ইয়াকুত আল-হামাভি প্রণীত মুজামুল বুলদান ১/৫৮০ (২১২৩)।
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ৩০)
القماح والأصول على الشمس الأصفهاني وأجازه بالإفتاء، وأخذ النحو والأدب على أبي حيان، وسمع البخاري من الشيخ جمال الدين بن شاهد الجيش، ومسلم من العلامة شمس الدين بن القمّاح، وسمع بقية الكتب الستة وغيرها من المسانيد من جماعة، وتخرج بغيرهم من مشايخ العصر، ولزم الاشتغال وحضر عند الشيخ تقي الدين السبكي وبحث معه في الفقه، وأجاز له من دمشق الحافظان المزي والذهبي وغيرهما كابن الحربي وابن نباتة وابن الخباز وغيرهم.

واشتُهر اسمه وعلا ذكره وظهرت فضائله وبهرت فوائده، ثم انتصب للاشتغال فاجتمعت الطلبة عليه بكرةً وعشية.

قال ولده القاضي جلال الدين: وكان يلقي الحاوي في الأيام اليسيرة، ووصل في ذلك حتى ألقاه في جامع الأزهر في ثمانية أيام.

وكان ممن يحضره في جامع الأزهر الشيخ فخر الدين بن جوشن، وهو من كبار أولياء الله الصالحين فجاء يوماً وأخبر الجماعة في الدرس: أنه رأى الليلة قائلاً يقول له:

فإن يك زين الدين ظن بعلمه … فبحر سراج الدين وردٌ لمن وَرَد

يشير إلى الشيخ زين الدين بن الكتاني تغمده الله برحمته.

ثم حجّ بعد ذلك في سنة تسع وأربعين ورحل إلى القدس واجتمع فيها بالشيخ صلاح الدين العلائي وحضر حلقته وبحث معه وعظّمه وقال له: أنت الذي يقال لك البلقيني وعامله بما يليق به، ثم صاهره الشيخ بهاء الدين بن عقيل في سنة اثنين وخمسين خطبه لابنته وغبّطه به الشيخ تقي الدين السبكي، وناب عنه لما ولي الشيخ بهاء الدين القضاء في سنة تسع وخمسين تلك المدة اليسيرة -وهي نحو ثمانين يوماً، ثم ولي تدريس الزاوية بعد وفاة ابن عقيل في سنة تسع وستين واستمرت بيده إلى حين وفاته ستة وثلاثين سنة يقرِّر فيها مذهب الشافعي على أعظم وجه وأكمله، وكان قبل ذلك قد ولي تدريس
আল-কাম্মাহ এবং শামস আল-আসফাহানির নিকট উসুল অধ্যয়ন করেছেন এবং তিনি তাঁকে ইফতা (ফতোয়া প্রদানের) অনুমতি প্রদান করেছেন। তিনি আবু হাইয়ানের নিকট নাহু ও আদব গ্রহণ করেছেন। তিনি শেখ জামাল উদ্দিন ইবনে শাহিদ আল-জাইশ-এর নিকট বুখারি এবং আল্লামা শামস উদ্দিন ইবনে আল-কাম্মাহ-এর নিকট মুসলিম শ্রবণ করেছেন। এছাড়া একদল আলেমের নিকট সিহাহ সিত্তাহর বাকি কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য মুসনাদ গ্রন্থ শ্রবণ করেছেন। যুগের অন্যান্য মাশায়েখদের কাছেও তিনি শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন। তিনি জ্ঞানচর্চায় নিবিষ্ট থাকতেন এবং শেখ তাকি উদ্দিন আস-সুবকির মজলিসে উপস্থিত হতেন ও তাঁর সাথে ফিকহ বিষয়ে আলোচনা করতেন। দামেস্ক থেকে হাফেজ আল-মিযযি, আল-যাহাবি এবং ইবনুল হারবি, ইবনু নাবাতা, ইবনুল খাব্বাযসহ অন্যরা তাঁকে (বর্ণনার) অনুমতি প্রদান করেছিলেন।

তাঁর নাম সুপ্রসিদ্ধ হলো, তাঁর আলোচনা উচ্চকিত হলো, তাঁর গুণাবলি প্রকাশিত হলো এবং তাঁর ইলমি ফায়েদাগুলো বিস্ময়করভাবে প্রকাশ পেল। অতঃপর তিনি পাঠদানের জন্য নিবিষ্ট হলেন, ফলে সকাল-সন্ধ্যা তাঁর কাছে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ হতে লাগল।

তাঁর পুত্র কাজী জালাল উদ্দিন বলেন: তিনি অল্প কয়েক দিনে 'আল-হাউয়ি' (গ্রন্থটি) পড়িয়ে শেষ করতেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি জামে আজহারে মাত্র আট দিনে এটি সমাপ্ত করেছিলেন।

জামে আজহারে তাঁর মজলিসে যারা উপস্থিত থাকতেন, তাঁদের মধ্যে শেখ ফখর উদ্দিন ইবনে জাওশান ছিলেন অন্যতম, যিনি আল্লাহর মহান নেককার ওলিদের একজন ছিলেন। তিনি একদিন এসে দরসের জামায়াতকে অবহিত করলেন যে, তিনি গত রাতে স্বপ্নে একজনকে বলতে শুনেছেন:

যদি যয়নুদ্দিন তাঁর জ্ঞান নিয়ে ধারণা পোষণ করেন … তবে সিরাজ উদ্দিনের সাগর তো সেই অভিলক্ষ্যকারীর জন্য সুপেয় ঘাট যে সেখানে উপস্থিত হয়েছে।

তিনি শেখ যয়নুদ্দিন ইবনে আল-কাত্তানি-এর দিকে ইঙ্গিত করছিলেন, আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন।

অতঃপর তিনি সাতশ ঊনপঞ্চাশ সালে হজ পালন করেন এবং জেরুজালেমে সফর করেন। সেখানে তিনি শেখ সালাহ উদ্দিন আল-আলাঈর সাথে সাক্ষাৎ করেন, তাঁর হালকায় উপস্থিত হন এবং তাঁর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। শেখ আল-আলাঈ তাঁকে সম্মান করেন এবং তাঁকে বলেন: 'আপনিই সেই ব্যক্তি যাঁকে আল-বুলকিনি বলা হয়?' এবং তাঁর সাথে যথাযোগ্য মার্জিত আচরণ করেন। অতঃপর সাতশ বাহান্ন সালে শেখ বাহাউদ্দিন ইবনে আকিল তাঁকে স্বীয় কন্যা প্রদানের মাধ্যমে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ করেন এবং তাঁর জন্য বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। শেখ তাকি উদ্দিন আস-সুবকি এ কারণে তাঁকে সৌভাগ্যবান জ্ঞান করতেন। সাতশ উনষাট সালে শেখ বাহাউদ্দিন যখন কাজীর পদে আসীন হন, তখন তিনি অল্প সময়ের জন্য (যা প্রায় আশি দিনের মতো) তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর সাতশ ঊনসত্তর সালে ইবনে আকিলের মৃত্যুর পর তিনি ‘যাওয়িয়া’র শিক্ষকতার দায়িত্ব লাভ করেন এবং তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত দীর্ঘ ছত্রিশ বছর তা তাঁর অধীনেই ছিল। সেখানে তিনি শাফেয়ী মাযহাবের অত্যন্ত চমৎকার ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রদান করতেন। এর আগে তিনি শিক্ষকতার দায়িত্বে ছিলেন...
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ৩১)
الحجازية فإن واقِفَتَها عمَّرتها لأجله، وولي قضاء الشام سنة تسع وستين فباشره مدةً يسيرةً ثم استعفى، وعاد إلى القاهرة.

ثم ولي تدريس الملكية بعد وفاة الشيخ جمال الدين الأسنوي وتدريس جامع طولون وقضاء العسكر بعد وفاة أبي حامد بن السبكي، وكان قد ولي قضاء الشام وإفتاء دار العدل في سنة خمس وستين رفيقاً لبهاء الدين السبكي من يَلبُغا الخاصكي مدبر المملكة إذ ذاك، ودرس بالصلاحية جوار الشافعي وبالظاهرية الجديدة التفسير وله ميعاد فيها بعد صلاة الجمعة وليها مِن واقِفِها الظاهر برقوق الجركسي ودرس أيضاً بالبدرية والبيبرسية والأشرفية ثم نزل بعد ذلك عن وظائفه لِوَلَدَيه بدر الدين وجلال الدين، واستقر بيده الظاهرية الجديدة والزاوية إلى حين موته.

وصار هو الإمام المشار إليه والمعول في المشكلات والفتاوى عليه، وأتته الفتاوى من الأقطار البعيدة، ورحل الناس من الآفاق النائية للقراءة عليه، والحضور بين يديه.

وخرّج له تلميذه شيخنا الحافظ ابن حجر أربعين حديثاً عن أربعين شيخاً، وخرّج له تلميذه شيخنا العلامة الحافظ ولي الدين العراقي مائة حديث من عواليه وأبداله.

وقد أثنى عليه علماء عصره طبقة بعد طبقة من قبل الخمسين إلى حين وفاته، وكان الشيخ شمس الدين الأصفهاني كثير التعظيم له، وأجازه الشيخ أبو حيان وكتب له في إجازته ما لم يكتب لأحد قبله وسِنُّه إذ ذاك دون العشرين، وكان الشيخ عز الدين بن جماعة يعظمه ويبالغ في تعظيمه جداً، وكتب له ابن عقيل على بعض تصانيفه: أحق الناس بالفتوى في زمانه، وقال له أيضاً: لِمَ لا تكتب على سِيبَويه شرحاً هذا مع اتفاق الناس في ذلك الزمان على أن ابن عقيل هو المرجوع إليه في علم النحو.

وذكر له ولده القاضي جلال الدين ترجمة في مجلدةٍ مشتملةٍ على مناقبه وفوائده وأنشد قول القائل:
হিজাজিয়া; কারণ তার প্রতিষ্ঠাত্রী এটি তার জন্যই নির্মাণ করেছিলেন। তিনি উনসত্তর হিজরি সনে শামের বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং অল্প কিছুকাল তা পালন করার পর অব্যাহতি চান এবং পুনরায় কায়রোতে ফিরে আসেন।

অতঃপর শেখ জামালুদ্দিন আল-আসনাবীর মৃত্যুর পর তিনি ‘আল-মালিকিয়্যাহ’ মাদরাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব এবং শেখ আবু হামিদ বিন আস-সুবকীর মৃত্যুর পর তুলুন মসজিদ ও সামরিক বিচারপতির দায়িত্ব লাভ করেন। ইতঃপূর্বে পঁয়ষট্টি হিজরি সনে তৎকালীন রাজ্যের পরিচালক ইয়ালবুগা আল-খাসকির মাধ্যমে তিনি বাহাউদ্দিন আস-সুবকীর সহযোগী হিসেবে শামের বিচার বিভাগ ও ‘দারুল আদল’-এর ইফতা বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ইমাম শাফিঈর মাকবারার পার্শ্ববর্তী ‘আস-সালাহিয়্যাহ’ মাদরাসায় এবং ‘আজ-জাহিরিয়্যাহ আল-জাদিদাহ’ মাদরাসায় তাফসিরের পাঠ দান করেন। সেখানে জুমআর নামাজের পর তার একটি পাঠদান আসর বসত। জাহেরী সুলতান বারকুক আল-জারকাসি তাকে এ দায়িত্বে নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি ‘আল-বাদরিয়্যাহ’, ‘আল-বাইবাসিয়্যাহ’ এবং ‘আল-আশরাফিয়্যাহ’ মাদরাসায়ও পাঠদান করেন। অতঃপর তিনি তার পদসমূহ থেকে স্বীয় দুই পুত্র বদরুদ্দিন ও জালালুদ্দিনের অনুকূলে ইস্তফা দেন। তবে আমৃত্যু ‘আজ-জাহিরিয়্যাহ আল-জাদিদাহ’ ও ‘আয-যাওয়িয়া’র দায়িত্ব তার হাতেই ছিল।

তিনি এমন এক ইমামে পরিণত হন যার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করা হতো এবং জটিল বিষয় ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে যার ওপর নির্ভর করা হতো। সুদূরপ্রসারী ভূখণ্ডসমূহ থেকে তার নিকট ফতোয়া আসত এবং দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার নিকট জ্ঞানার্জন ও তার সান্নিধ্য লাভের জন্য সফর করে আসত।

তার ছাত্র আমাদের শায়খ আল-হাফেজ ইবনে হাজার তার জন্য চল্লিশ জন শায়খ থেকে সংগৃহীত ‘চল্লিশ হাদিস’ সংকলন করেছেন এবং তার অন্য ছাত্র আমাদের শায়খ আল্লামা আল-হাফেজ ওয়ালিউদ্দিন আল-ইরাকি তার উচ্চ সনদভুক্ত হাদিসসমূহ থেকে একশত হাদিস সংকলন করেছেন।

তার সমসাময়িক আলেমগণ পঞ্চাশ হিজরির পূর্ব থেকে শুরু করে তার মৃত্যু পর্যন্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার প্রশংসা করেছেন। শেখ শামসুদ্দিন আল-আসফাহানি তাকে অত্যন্ত সম্মান করতেন। শেখ আবু হাইয়ান তাকে ‘ইজাজাহ’ (অনুমতিপত্র) প্রদান করেন এবং সেখানে তার সম্পর্কে এমন কথা লেখেন যা তার পূর্বে আর কারো জন্য লেখেননি, অথচ তখন তার বয়স বিশ বছরেরও কম ছিল। শেখ ইজ্জুদ্দিন বিন জামাআহ তাকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করতেন। ইবনে আকিল তার কিছু রচনার ওপর লিখেছিলেন: “তিনি বর্তমান সময়ের ফতোয়া প্রদানের সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি।” এছাড়া তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: “আপনি কেন সিবওয়াইহ-এর ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখছেন না?” অথচ সে যুগে সর্বসম্মতভাবে ইবনে আকিলই ছিলেন ইলমে নাহুর প্রধান অবলম্বন।

তার পুত্র কাজী জালালুদ্দিন তার জীবনী, গুণাবলী ও শিক্ষার উপকারিতা সম্বলিত একটি পৃথক খণ্ড রচনা করেছেন এবং সেখানে জনৈক কবির এই পঙ্ক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন:
(খণ্ড: ১) বাহজাতুন নাযিরীন ইলা তারাজিমিল মুতাআখখিরীন মিনাশ শাফিইয়্যাতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা: ৩২)
وليس يصح في الأذهان شيء … إذا احتاج النهار إلى دليل

وقال في أولها: هو شيخ الإسلام، والعلم الفرد المستغني عن الألقاب والأعلام، ذو الفضائل التي لا تساما ولا تسام، والمآثر والمحامد الجسام، الذابِّ عن شريعة المصطفى عليه أفضل الصلاة والسلام بالقلم واللسان، والمجاهد في الله حق جهاده بالعلم والعمل وإن لم يكن بالسيف والسنان، قمع المبتدعة فلم يظهر لهم رؤوس وكف المبطلين فهم في حال عبوس وأبطل ما قدر على إبطاله من المنكرات والمكوس، جمع الله فيه بين صفتي الاجتهاد من الإطلاق والتقييد، فهو المتمكن من استخراج العلم بالاستنباط من الدليل بالرأي السديد، والمتمكن من تخريج الفروع على قواعد الإمام الشافعي بالعلو والتوليد، كم له من مولدات أُلين له حديدها ففاقت مولدات ابن الحداد بالتفصيل والإجمال، وتخريجات فتح بها أقفال الإشكالات التي أعْيت القفال، وخطابة اعترف له فيها إمام الحرمين بالإمامة، وتقسيمات قلده الغزالي فيها الزعامة، وفصاحة أنست سحبان وائل، وغريبة جاء في حلبة سباقها مع الأوائل.

وقد شهد له في حداثة سنه منصفو أئمة عصره بالتقدم في الفتوى والأولوية، واعترفوا له في ذلك بالأحقية، وسلموا له الفتوى من ستين سنة إلى حين وفاته، وانعكفت عليه الطلبة واستغرق باشتغالهم غالب أوقاته.

تجاوزت فتاواه الآلاف الكثيرة، وطبّقت طلبته الأرض بعلومهم الغزيرة، لم يسمع عمن مضى من الأئمة أنه أفتى كفتواه، ولا انفرد كتفرده، وليس من ناوأه، وانتهت فتاواه، وطار اسمه إلى أقصى البلاد.

وركن الناس إليه وجعلوا على فتواه الاعتماد، يود ملوك أقطار الأرض أن يتملوا برؤية وجهه المبارك الميمون، وإذا سمعوا عن أحد أنه من أصحابه وتلامذته فبه يتبركون، وصل من طلبته إلى بلاد خراسان من صار له فيها المكانة والإمكان، وقُصد من أطراف الأرض للاشتغال من الحجاز واليمن، ومن بلاد العراق والعجم فضلاً عن الشام ومن بها سكن، وفاقت طلبته عن الحصر وهذا
আর মানুষের মস্তিষ্কে কোনো কিছুই সঠিক থাকে না … যদি দিনের আলোর জন্যও প্রমাণের প্রয়োজন পড়ে।

এবং তিনি এর প্রারম্ভে বলেছেন: তিনি হলেন শাইখুল ইসলাম, সেই অনন্য জ্ঞানতিলক যিনি লকব ও উপাধির মুখাপেক্ষী নন। তিনি এমন অসংখ্য ফযীলত ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী যা অতিক্রম করা বা যার নাগাল পাওয়া সম্ভব নয়। তিনি এমন মহান কীর্তি ও প্রশংসনীয় গুণাবলির আধার, যিনি কলম ও যবানের মাধ্যমে মুস্তফা (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর শরীয়তকে রক্ষা করেছেন। তিনি ইলম ও আমলের মাধ্যমে আল্লাহর পথে প্রকৃত জিহাদ করেছেন, যদিও তা তলোয়ার ও বল্লমের মাধ্যমে ছিল না। তিনি বিদআতীদের অবদমিত করেছেন যার ফলে তাদের কোনো মাথা উঁচিয়ে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল না এবং বাতিলপন্থীদের রুখে দিয়েছেন যার ফলে তারা বিমর্ষ অবস্থায় রয়েছে। তিনি যে সকল অন্যায় ও অবৈধ কর বাতিল করার সামর্থ্য রাখতেন তা বাতিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর মধ্যে ইজতিহাদের মুতলাক (স্বতন্ত্র) ও মুকাইয়্যাদ (আবদ্ধ)—উভয় বৈশিষ্ট্য একত্রিত করেছেন। ফলে তিনি সঠিক মতামতের ভিত্তিতে দলীল থেকে উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইলম আহরণে সক্ষম। আর তিনি উচ্চাঙ্গের ও নব নব উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইমাম শাফেয়ীর মূলনীতির আলোকে ফুরুঈ মাসয়ালাসমূহ বের করতে পারদর্শী। তাঁর কতই না নব উদ্ভাবিত মাসয়ালা রয়েছে যার জন্য কঠিন বিষয়ও সহজ হয়ে গিয়েছিল, ফলে তা বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত আলোচনার বিচারে ইবনুল হাদ্দাদের মাসয়ালাসমূহকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। তিনি এমন সব সমাধান বের করেছেন যার মাধ্যমে সেসব জটিলতার তালাগুলো খুলে গিয়েছে যা ইমাম আল-কাফফালকেও অক্ষম করে দিয়েছিল। এমন বাগ্মিতা যার কারণে ইমামুল হারামাইন তাঁর ইমামত স্বীকার করে নিয়েছেন। এমন সব বিন্যাস যাতে ইমাম গাযালী তাঁকে নেতৃত্বের আসনে আসীন করেছেন। এমন বিশুদ্ধ ভাষাশৈলী যা সাহবান ওয়াইলকেও ভুলিয়ে দেয়। তিনি এক বিস্ময়কর প্রতিভা যিনি অগ্রবর্তীদের দৌড় প্রতিযোগিতার ময়দানে শামিল হয়েছেন।

তাঁর সমসাময়িক ইমামদের মধ্য থেকে ইনসাফপ্রিয় ব্যক্তিগণ তাঁর অল্প বয়সেই ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগণ্যতা স্বীকার করেছেন। তাঁরা এ বিষয়ে তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি দিয়েছেন। ষাট বছর বয়স থেকে শুরু করে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁরা ফতোয়া প্রদানের বিষয়টি তাঁর ওপরই সোপর্দ করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা তাঁর চারপাশ ঘিরে থাকতো এবং তাদের শিক্ষাদানেই তাঁর অধিকাংশ সময় ব্যয় হতো।

তাঁর ফতোয়া সংখ্যায় কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং তাঁর ছাত্ররা তাঁদের গভীর ইলম নিয়ে সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছেন। পূর্ববর্তী ইমামদের সম্পর্কে এমনটি শোনা যায়নি যে, কেউ তাঁর মতো বিপুল পরিমাণ ফতোয়া প্রদান করেছেন, কিংবা তাঁর মতো এককভাবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তাঁর কোনো প্রতিপক্ষও তাঁর সমতুল্য ছিল না। তাঁর ফতোয়ার ধারা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং তাঁর নাম দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল।

মানুষ তাঁর ওপর ভরসা করতো এবং তাঁর ফতোয়ার ওপরই নির্ভর করতো। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের রাজা-বাদশাহগণ তাঁর বরকতময় ও কল্যাণময় চেহারা দেখে তৃপ্ত হতে আকাঙ্ক্ষা করতেন। যখন তাঁরা কারো সম্পর্কে শুনতেন যে সে তাঁর সঙ্গী বা ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত, তখন তাঁরা তাকে নিয়ে বরকত হাসিল করতেন। তাঁর ছাত্রদের মধ্য থেকে যারা খোরাসান অঞ্চলে পৌঁছেছিলেন, সেখানে তাঁদের বিশেষ মর্যাদা ও অবস্থান তৈরি হয়েছিল। হিজাজ, ইয়ামেন, ইরাক এবং পারস্যসহ পৃথিবীর প্রান্তসমূহ থেকে তাঁর কাছে শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে মানুষ আসতো। তদুপরি শাম ও সেখানকার বাসিন্দাদের কথা তো বলাই বাহুল্য। তাঁর ছাত্রদের সংখ্যা গণনার বাইরে চলে গিয়েছিল এবং এটি