(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح ألفية ابن مالك للشاطبي = المقاصد الشافية القسم: النحو والصرف
الكتاب: المقاصد الشافية في شرح الخلاصة الكافية (شرح ألفية ابن مالك)
المؤلف: أبو إسحق إبراهيم بن موسى الشاطبي (المتوفى 790 هـ)
المحقق: مجموعة محققين وهم:
• الجزء الأول/ د. عبد الرحمن بن سليمان العثيمين [ت 1436 هـ]
• الجزء الثاني/ د. محمد إبراهيم البنا.
• الجزء الثالث/ د. عياد بن عيد الثبيتي.
• الجزء الرابع/ د. محمد إبراهيم البنا/د. عبد المجيد قطامش.
• الجزء الخامس/ د. عبد المجيد قطامش.
• الجزء السادس/ د. عبد المجيد قطامش.
• الجزء السابع/ د. محمد إبراهيم البنا/د. سليمان بن إبراهيم العايد/د. السيد تقي.
• الجزء الثامن/ د. محمد إبراهيم البنا
• الجزء التاسع/د. محمد إبراهيم البنا
الناشر: معهد البحوث العلمية وإحياء التراث الإسلامي بجامعة أم القرى - مكة المكرمة
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م.
عدد الأجزاء: 10 (الأخير فهارس)
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 23 محرم 1438
আশ-শাতিবি কর্তৃক ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ-র ব্যাখ্যা = আল-মাকাসিদ আশ-শাফিয়াহ বিভাগ: নাহু (ব্যাকরণ) ও সরফ (রূপতত্ত্ব)
গ্রন্থ: আল-মাকাসিদ আশ-শাফিয়াহ ফি শারহিল খুলাসাতিল কাফিয়াহ (ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ-র ব্যাখ্যা)
লেখক: আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুসা আশ-শাতিবি (মৃত্যু ৭৯০ হিজরি)
সম্পাদক: একদল সম্পাদক, তাঁরা হলেন:
• প্রথম খণ্ড/ ড. আবদুর রহমান বিন সুলাইমান আল-উসাইমিন [মৃত্যু ১৪৩৬ হিজরি]
• দ্বিতীয় খণ্ড/ ড. মুহাম্মদ ইব্রাহিম আল-বান্না.
• তৃতীয় খণ্ড/ ড. আইয়াদ বিন ঈদ আস-সুবাইতি.
• চতুর্থ খণ্ড/ ড. মুহাম্মদ ইব্রাহিম আল-বান্না/ড. আবদুল মাজিদ কাতামিশ.
• পঞ্চম খণ্ড/ ড. আবদুল মাজিদ কাতামিশ.
• ষষ্ঠ খণ্ড/ ড. আবদুল মাজিদ কাতামিশ.
• সপ্তম খণ্ড/ ড. মুহাম্মদ ইব্রাহিম আল-বান্না/ড. সুলাইমান বিন ইব্রাহিম আল-আয়েদ/ড. আস-সৈয়দ তাকি.
• অষ্টম খণ্ড/ ড. মুহাম্মদ ইব্রাহিম আল-বান্না
• নবম খণ্ড/ড. মুহাম্মদ ইব্রাহিম আল-বান্না
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইসলামী ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ ইনস্টিটিউট, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় - মক্কা আল-মুকাররামা
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ.
খণ্ড সংখ্যা: ১০ (শেষটি নির্ঘণ্ট)
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতা আল-নুসসাখ দল, (মারকাজ আন-নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)-এর তত্ত্বাবধানে
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৩ মহররম ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وسلم
يقول عبيد الله إبراهيم بن موسى بن محمد بن موسى بن أحمد بن علي اللخمي (رحمه الله تعالى) ورضي عنه بمنه وكرمه.
اللهم إنا نحمدك على ما علمت ونشكرك على ما أنعمت، ونستوهب منك عالما نافعا يزلف إليك، وعملا صالحا نرجو به الخلاص بين يديك، فإنه لا حول ولا قوة إلا بك. ولا نجاة إلا لمعتصم بحبلك، لائذ بجنابك، ونسألك أن تصلي على خيرتك من خلقك القائم من تبليغ رسالتك بواجب حقك. الذي بعثته إلى جميع العالمين بلسان عربي مبين، محمد نبيك وعبدك، ورحمتك المهداة إلينا من عندك وعلى آله الذين أعانوا وآزروا، وآووا ونصروا من أجلك وفي ذاتك وابتغاء مرضاتك، حتى قام دينك دين الحق على ساق، واتسق شمله أي اتساق، وسلم تسليما.
أما بعد فإن بعض من يجب علي إسعافه، ولا يسعني خلافه، كان قد أشار على أن أقيد على أرجوزة الإمام العلامة أبي عبد الله بن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর।
উবাইদুল্লাহ ইব্রাহিম ইবন মুসা ইবন মুহাম্মদ ইবন মুসা ইবন আহমাদ ইবন আলি আল-লাখমি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন এবং আপন অনুগ্রহ ও করুণায় তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন।
হে আল্লাহ, আপনি যা শিক্ষা দিয়েছেন তার জন্য আমরা আপনার প্রশংসা করছি এবং আপনি যা নেয়ামত দান করেছেন তার জন্য আপনার শুকরিয়া আদায় করছি। আমরা আপনার নিকট এমন উপকারী জ্ঞান প্রার্থনা করছি যা আপনার সান্নিধ্য দান করবে এবং এমন নেক আমল যার মাধ্যমে আমরা আপনার দুই হাতের সামনে মুক্তির আশা করি। কেননা আপনার সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই। আর মুক্তি নেই সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আপনার রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছে এবং আপনার নিকট আশ্রয় গ্রহণ করেছে। আমরা আপনার নিকট প্রার্থনা করি যেন আপনি আপনার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তার ওপর রহমত বর্ষণ করেন, যিনি আপনার হকের আবশ্যকতা পালনার্থে আপনার রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছেন। যাঁকে আপনি সমস্ত বিশ্ববাসীর নিকট সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় প্রেরণ করেছেন—মুহাম্মদ আপনার নবী ও বান্দা এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি উপহারস্বরূপ প্রেরিত রহমত। আরও রহমত বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারের ওপর, যাঁরা কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্য এবং আপনার সত্তার তরে সাহায্য করেছেন, সহযোগিতা করেছেন, আশ্রয় দিয়েছেন এবং বিজয় দান করেছেন, যতক্ষণ না আপনার দ্বীন—সত্য দ্বীন—সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর বিন্যাস পূর্ণরূপে সংহত হয়েছে। আর তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর, যাঁদের সহায়তা করা আমার জন্য কর্তব্য এবং যাঁদের অনুরোধ রক্ষা না করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তাঁদের কেউ কেউ আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন আমি ইমাম আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ ইবন... এর অর্জুজার (কাব্যগ্রন্থ) ওপর কিছু টীকা লিপিবদ্ধ করি।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
مالك الصغرى وهي المسماة بـ (الخلاصة) شرحا يوضح مشكلها، ويفتح ويرفع على منصة البيان فوائدها، ويجلو في محك الاختيار فرائدها، ويشرح ما استبهم من مقاصدها، ويقف الناظر فيها على اغراضها من مراصدها، من غير اعتراض إلى ما سوى هذا الغرض، ولا اشتغال عن الجوهر بالعرض، فسمحت الأيام بما شاء الله أن تسمح وسرح القلم في ميدانه إلى ما قدر له أن يسرح، ثم عاق عن إتمامه بعض الأمور اللوازم، ودخلت على فِعلَي الحال فيه أدوات الجوازم، فثنت عنه عناني وأمسكت عن التفكير فيه جناني، وبعد بُعدٍ وانتزاح ثابت إلى نفسي، وتخلصت من تقييد تشخصي بالرجوع إلى أبناء جنسي، فقد بقي بعض من اعتمد على صفاء وده وإخلاصه، إلى تمام ذلك المقصد وخلاصه، وحين رفع عني حجاب العذر، انتدبت إلى الوفاء بذلك النذر، مستندا إلى منّ الله وطوله وخارجا من حولي إلى حوله، وهو المسئول أن يسنى مقاصدنا لديه، وأن يقف آمالنا عليه، فإنه لا ملجأ ولا منجأ منه إلا إليه، وأنا أعرف ان الناظر فيه أحد ثلاثة:
إما عالم طالب للمزيد في علمه، وأقف من أدب العلماء عنده مده ورسمه، موقن أن كل البشر سوى الأنبياء غير معصوم، آخذ بالعذر في المنطوق به من الخطأ والمفهوم، فلمثل هذا بثثت فيه ما بثثت، وإليه حثثت من خيل عزمي وركاب فهمي ما حثثت، فهو الأمين على إصلاح ما تبين فساده، حين تخلق بأخلاق أهل العلم والإفادة.
وإما متعلم يرغب في فهم ما حصل، ويسعى في بيان ما قصد وأشكل والنفوذ فيما قصد وامل، فلأجل هذا حالفت عناء الليل والأيام، واستبدلت التعب بالراحة والسهر بالمنام، رجاء أن أكون ممن أثر بما أسدي إليه،
‘মালিক আস-সুগরা’ যা ‘আল-খুলাসা’ নামে অভিহিত—তার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা এর জটিল বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করে, বর্ণনার মঞ্চে এর উপকারিতাসমূহ উন্মোচিত ও সমুন্নত করে, যাচাই-বাছাইয়ের মানদণ্ডে এর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহকে উজ্জ্বল করে, এর দুর্বোধ্য উদ্দেশ্যসমূহ ব্যাখ্যা করে এবং পাঠককে এর পর্যবেক্ষণস্থল থেকে এর লক্ষ্যসমূহ সম্পর্কে অবগত করে। এই উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ের মোহে পড়ে মূল সারবস্তু থেকে বিচ্যুত না হয়ে। অতঃপর আল্লাহ যা চেয়েছেন সে অনুযায়ী দিনগুলো অনুকূল হলো এবং কলম তার নির্ধারিত ময়দানে বিচরণ করল। অতঃপর কিছু অনিবার্য বিষয় এর পূর্ণতা দানে বাধা হয়ে দাঁড়াল এবং এর বর্তমান অবস্থার ওপর কর্তনকারী উপকরণসমূহ আপতিত হলো, যা আমার লাগামকে তা থেকে ফিরিয়ে দিল এবং আমার অন্তরকে সে বিষয়ে চিন্তা করা থেকে বিরত রাখল। দীর্ঘ দূরত্ব ও বিচ্ছেদের পর আমি নিজের সত্তায় স্থির হলাম এবং স্বগোত্রীয়দের সান্নিধ্যে ফিরে আসার মাধ্যমে আত্মকেন্দ্রিকতার সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেলাম। এমতাবস্থায় যাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও একনিষ্ঠতার ওপর আস্থা রাখা যায়, তাদের কেউ কেউ সেই লক্ষ্যের পূর্ণতা ও সমাপ্তির অপেক্ষায় রয়ে গিয়েছিল। যখন আমার ওজর বা অপারগতার পর্দা অপসারিত হলো, তখন আমি সেই অঙ্গীকার পূর্ণ করতে ব্রতী হলাম। আল্লাহর অনুগ্রহ ও বদান্যতার ওপর নির্ভর করে এবং নিজের শক্তি-সামর্থ্য ত্যাগ করে তাঁরই শক্তির দিকে ধাবিত হয়ে। তাঁর কাছেই প্রার্থনা যেন তিনি আমাদের উদ্দেশ্যসমূহকে তাঁর নিকট সহজতর করেন এবং আমাদের সকল আশা-আকাঙ্ক্ষাকে তাঁর প্রতি নিবদ্ধ রাখেন; কেননা তিনি ব্যতীত কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং তাঁর পাকড়াও থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। আর আমি জানি যে, এর পাঠকরা তিন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবেন:
হয় তিনি এমন একজন আলিম যিনি নিজ জ্ঞানে সমৃদ্ধি অন্বেষণকারী, যাঁর ক্ষেত্রে আমি উলামায়ে কেরামের শিষ্টাচারের সীমা ও রীতি মেনে চলি। তিনি এ বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাসী যে, আম্বিয়ায়ে কেরাম ব্যতীত সকল মানুষই ভ্রান্তির ঊর্ধ্বে নন। তিনি শব্দের ভুল ও অনুধাবনের ত্রুটির ক্ষেত্রে ওজর কবুল করেন। মূলত এই শ্রেণির জন্যই আমি এই গ্রন্থে যা কিছু বর্ণনা করার তা করেছি এবং আমার সংকল্পের অশ্ব ও বুঝ-জ্ঞানের সওয়ারিকে তাঁরই দিকে পরিচালিত করেছি। তিনি তখন কোনো ত্রুটি প্রকাশ পেলে তা সংশোধনের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত আমানতদারের ভূমিকা পালন করবেন, যখন তিনি জ্ঞান ও উপকারের অধিকারীদের উত্তম চরিত্রে ভূষিত হবেন।
অথবা তিনি এমন একজন শিক্ষার্থী, যিনি অর্জিত বিষয়গুলো বুঝতে আগ্রহী এবং যা উদ্দেশ্য ও যা জটিল—তা স্পষ্ট করার জন্য সচেষ্ট, আর যা আকাঙ্ক্ষিত ও প্রত্যাশিত—তাতে ব্যুৎপত্তি অর্জনে সচেষ্ট। এই লক্ষ্যেই আমি দিন-রাতের কঠোর পরিশ্রমকে বরণ করে নিয়েছি এবং বিশ্রামের পরিবর্তে ক্লান্তি আর ঘুমের পরিবর্তে জাগরণকে বেছে নিয়েছি; এই আশায় যেন আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি যারা তাদের প্রদানকৃত বা অর্জিত জ্ঞানের মাধ্যমে প্রভাব রেখে গেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
وشكر ما أنعم به عليه.
وإما طالب للعثرات، متبع للعورات، يضعف ويقبح، ويحسن ظنه بنفسه ويرجح، وفسد ظانا أنه يصلح، فمثل هذا لا اعتمد عليه، لا ألتفت في رد ولا قبول إليه، وإن كان أعرب من الخليل وسيبويه، لأنه ناطق عن الهوى سالك سبيل من ضل وغوى، ولم يتخلق بآداب العلماء، ولا أم طريق الفضلاء، والله هو الرقيب على القلوب، والعلم بسرائر الغيوب، ومن عمل صالحا فلنفسه، ومن غرس جنى ثمرة غرسه، " إنما العمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله فهجرته إلى الله ورسوله، ومن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها أو إلى امرأة ينكحها فهجرته إلى ماهاجر إليه"
قال الناظم -رحمة الله عليه-:
قال محمد هو ابن مالك
… أحمد ربي الله خير مالك
مصليا على الرسول المصطفى
… وآله المستكملين الشرفا
ابتدأ الناظم رحمه الله بأشياء ينبغي تقديمها في أوائل الأمور المعتنى بها.
এবং তিনি তাঁর ওপর যা নেয়ামত দান করেছেন তার শোকরিয়া আদায় করেন।
অথবা সে দোষত্রুটি তালাশকারী, ছিদ্রান্বেষী, যে দুর্বল করে এবং কুৎসিত দেখায়, অথচ নিজের ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করে ও নিজেকে অগ্রাধিকার দেয়। সে সংশোধন করছে মনে করে মূলত ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এমন ব্যক্তির ওপর আমি নির্ভর করি না এবং কোনো কিছু প্রত্যাখ্যান বা গ্রহণের ক্ষেত্রে তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করি না, যদিও সে খলীল ও সিবওয়াইহ থেকেও অধিক বিশুদ্ধভাষী হয়। কারণ সে কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলে এবং পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্তদের পথে চলে। সে উলামাদের আদব বা শিষ্টাচার দ্বারা অলংকৃত হয়নি এবং সজ্জনদের পথেও পরিচালিত হয়নি। আর আল্লাহই হচ্ছেন অন্তরসমূহের পর্যবেক্ষক এবং অদৃশ্যের গোপন রহস্য সম্পর্কে অবগত। যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে সে নিজের কল্যাণের জন্যই করে, আর যে চারা রোপণ করে সে তার রোপিত চারার ফল ভোগ করে। "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করবে। অতএব যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত পার্থিব কোনো স্বার্থ হাসিলের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য হবে, তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।"
গ্রন্থকার—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—বলেন:
মুহাম্মাদ—যিনি ইবনে মালিক—বলছেন
… আমি আমার রব আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি সর্বোত্তম মালিক।
মনোনীত রাসূলের ওপর দরুদ পাঠ করছি
… এবং তাঁর পরিজনদের ওপর যারা পূর্ণ মর্যাদার অধিকারী।
গ্রন্থকার—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এমন কিছু বিষয় দিয়ে শুরু করেছেন যা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের প্রারম্ভে উপস্থাপন করা উচিত।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
أحدها: التعريف بنفسه لئلا يجهل القائل، ثم الثناء على الله عز وجل الذي هو مقدم على كل امر ذي بال، ثم الصلاة على رسوله محمد صلى الله عليه وسلم التي هي الوسيلة لقبول الطاعات، وتعبيره عن القول بلفظ الفعل الماضي فيه السؤال، إذ يقال: إن صيغة الماضي حقيقة فيما وقع وانقطع، وهو بعد لم يقل شيئا، فكان من حقه أن يأتي بلفظ يقول، الذي صيغته موضوعة للاستقبل؟
والجواب: أن ذلك لا يصح حيث يكون المستقبل مظنون الوقوع كهذا الموضع، كما يصح حيث يكون معلوم الوقوع كقول الله تعالى- ((أَتَى أَمرُ الله)) - وليس بواقع بعد لقوله: ((فَلَا تَستَعجِلُوهُ)).
وقوله: قال محمد هو اسم الناظم رحمه الله.
وقوله: هو ابن مالك هي المعرفة التي اشتهر بها، وهو محمد بن عبدالله بن عبدالله بن مالك الطائي الجيّاني يكنى أبا عبدالله ويدعى جمال الدين، أحد أئمة الصناعة النحوية والعلوم العربية، صنف كتبا مفيدة في النحو والقراءات واللغة، ونظم رجزين في النحو.
أحدهما: يستعمله أهل البلاد المشرقية، وهو الذي نثره في كتابه
প্রথমটি হলো: নিজের পরিচয় প্রদান করা যাতে বক্তা অজ্ঞাত না থাকেন, অতঃপর মহান আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করা যা প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আগে করণীয়, এরপর তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা যা ইবাদত কবুলের মাধ্যম। আর কথা বলার বিষয়টিকে অতীতকালীন ক্রিয়ার (মাদি) শব্দে ব্যক্ত করার ব্যাপারে প্রশ্ন জাগে; কারণ বলা হয়ে থাকে যে, অতীতকালীন শব্দরূপ প্রকৃতপক্ষে সেই বিষয়ের জন্য যা ঘটে শেষ হয়ে গিয়েছে, অথচ তিনি তখনো কিছু বলেননি। এমতাবস্থায় তাঁর জন্য কি 'বলছেন' (বর্তমান/ভবিষ্যৎ কাল) শব্দটি আনা উচিত ছিল না, যার রূপটি ভবিষ্যৎকালের জন্য নির্ধারিত?
এর উত্তর হলো: এটি তখন শুদ্ধ হয় যখন ভবিষ্যৎ বিষয়টি ঘটা নিশ্চিত মনে করা হয় যেমনটি এই স্থানে হয়েছে; ঠিক যেভাবে এটি সেই ক্ষেত্রে শুদ্ধ হয় যেখানে বিষয়টি ঘটা সুনিশ্চিত, যেমন মহান আল্লাহর বাণী—"আল্লাহর নির্দেশ এসে পড়েছে"—অথচ তা তখনো ঘটেনি, যার প্রমাণ হলো আল্লাহর বাণী: "অতএব তোমরা তা ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না।"
আর তাঁর কথা: "মুহাম্মাদ বলেছেন" এটি হলো গ্রন্থকারের নাম, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
আর তাঁর কথা: "তিনি ইবনে মালিক" এটি হলো সেই পরিচিতি যার মাধ্যমে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক আত-তায়ী আল-জাইয়ানি। তাঁর উপনাম আবু আব্দুল্লাহ এবং তাঁকে জামালুদ্দীন নামে ডাকা হয়। তিনি ব্যাকরণ শাস্ত্র ও আরবি ভাষাতত্ত্বের অন্যতম ইমাম। তিনি ব্যাকরণ, কিরাত এবং ভাষা বিষয়ে বহু উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং ব্যাকরণ বিষয়ে 'রাজায' ছন্দে দুটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন।
এর মধ্যে একটি: যা প্রাচ্য দেশীয় অঞ্চলের অধিবাসীরা ব্যবহার করেন এবং এটিই তিনি তাঁর গ্রন্থে গদ্যাকারে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المسمى: بـ "الفوائد المحوية في المقاصد النحوية".
والثاني: هذا الذي شرع في الكلام عليه وهو عظيم الفائدة، استولى من علم النحو على جل القدر المحتاج إليه، موفّى الأقسام، محرر القوانين، خاليا من الحشو، قليل الألفاظ، كثير المعاني.
قال الإمام أبو عبدالله بن رشيد رحمه الله: أخبرني بتصانيفه في الجملة الإمام المقرئ نور الدين أبو الحسن علي بن محمد بن بركات،
নামকরণকৃত: "আল-ফাওয়ায়েদ আল-মাহউইয়্যাহ ফি আল-মাকাসিদ আন-নাহউইয়্যাহ"।
এবং দ্বিতীয়টি: এটি সেই গ্রন্থ যার আলোচনা এখানে শুরু করা হয়েছে এবং এটি অত্যন্ত উপকারী; এটি নাহু শাস্ত্রের প্রয়োজনীয় অধিকাংশ বিষয়কে আয়ত্ত করেছে, এর পরিচ্ছেদসমূহ সুবিন্যস্ত, নিয়মাবলী সুসংহত, বাহুল্যবর্জিত, স্বল্প কথায় অধিক অর্থবহ।
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ বিন রাশিদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ইমাম মুকরি নূরুদ্দিন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন বারাকাত আমাকে সামগ্রিকভাবে তাঁর রচনাবলী সম্পর্কে অবহিত করেছেন,
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
شُهر بالبديع، وقال لي: قرأت عليه بعض المفصل للزمخشري وبعض تسهيل الفوائد، وأجاز لي جميع رواياته ومصنفاته في النحو وغيره، توفي رحمه الله عام اثنين وسبعين وستمائة.
قال لنا شيخنا القاضي أبوعبدالله المقرئ رحمه الله وفي هذه السنة ولد شيخنا الوزير أبو محمد عبدالمهيمن بن محمد بن عبدالمهيمن / الحضرمي السبتي فكان يقال: مات فيها إمام نحو /4 وولد إمام نحو انتهى.
وقال الإمام أبو عبدالله بن النحاس الحلبي يرثي ابن مالك:
তিনি 'আল-বাদি' উপনামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন: আমি তাঁর নিকট জামাখশারির 'আল-মুফাসসাল'-এর কিছু অংশ এবং 'তাসহিলুল ফাওয়াইদ'-এর কিছু অংশ পাঠ করেছি। তিনি আমাকে তাঁর ব্যাকরণ ও অন্যান্য বিষয়ের সকল বর্ণনা ও রচনার অনুমতি প্রদান করেন। তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন—ছয়শত বাহাত্তর হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন।
আমাদের শায়খ কাজী আবু আব্দুল্লাহ আল-মুকারি—আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন—আমাদের বলেছেন: এই বছরই আমাদের শায়খ উজির আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুহায়মিন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুহায়মিন আল-হাদরামি আস-সাবতি জন্মগ্রহণ করেন। তখন বলা হতো: এই বছর ব্যাকরণের একজন ইমামের মৃত্যু হয়েছে এবং ব্যাকরণের একজন ইমামের জন্ম হয়েছে। সমাপ্ত।
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ ইবনুন নাহাস আল-হালাবি ইবনে মালিকের বিয়োগে শোকগাথা পাঠ করে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
قُل لابن مالكٍ ان جرت بك أدمُعي حُمرًا يحاكيها النّجيعُ القاني
فلقد جرحت القلب حين نعيتَ لي فتدفقت بدمائها أجفاني
لكن يسهل ما أُجنّ من الأسى عِلمِي بِنُقلَتِهِ إلى رضوان
فسقَى ضَريحًا ضمّه صَوبَ الحيَا
… يهمي له بالروح والريحان
وقول الناظم: "هو ابن مالك" بالقطع وإظهار المبتدأ، أتى به كذلك لأن الصفة التي هي ابن مالك، صفة بيان، وذلك جائز وإن كان قليلا، والأكثر الاتباع في نعوت البيان.
وقوله: "أحمد ربي الله خير مالك" أما الحمد فمعناه: الثناء على الله تعالى بصفات الكمال والإنعام والإفضال، وهو أعم من المدح والشكر، لأن المدح ثناء على ماهو عليه من أوصاف الكمال والجلال، والشكر ثناء على ما هو منه من أوصاف الإنعام والإفضال، فالحمد يشملهما.
وقيل: إن الحمد والمدح يجريان مجرى المترادفين، وكذلك قيل في الحمد والشكر: إنهما بمعنى واحد، والتحقيق ما تقدم.
و(الرب): هو السيد القائم على الأشياء المصلح لها، يقال: ربَّهُ يَرُبُّه ربًّا وربّاه يُرَبِّيه تَربِيةً، إذا قام بشئونه ومصالحه. و (الله): أصله الإله، ومعناه المعبود، والعرب تطلق الإله على كل معبود بحق أو باطل، إلا أنهم حذفوا الهمزة تخفيفا ونقلوا حركتها إلى لام المعرفة فصار اللّاه، فاجتمع عند ذلك مثلان، فاعتدُّوا بالعارض وأدغموا أحدهما في الآخر على غير قياس، فصار الله، وألزموا الكلمة الألف واللام عوضا مما حذف
ইবনে মালিককে বলো, যদি তোমার বিরহে আমার অশ্রু রক্তবর্ণে প্রবাহিত হয়, তবে জমাট লাল রক্তও তাকে অনুকরণ করে।
কারণ যখন তুমি আমাকে তোমার মৃত্যু সংবাদ দিলে, তখন তা আমার অন্তরকে ক্ষতবিক্ষত করে দিল এবং আমার চোখের পাতাগুলো রক্তে প্লাবিত হলো।
কিন্তু আমার গোপন শোককে যা সহজ করে দেয়, তা হলো তাঁর সন্তুষ্টির পানে তোমার প্রস্থান করার বিষয়ে আমার জ্ঞান।
বৃষ্টি যেন সেই কবরে সিঞ্চিত হয় যা তাকে ধারণ করে আছে... যা তার জন্য প্রশান্তি ও সুগন্ধি বর্ষণ করে।
লেখকের উক্তি: "তিনি ইবনে মালিক" — এখানে কর্তাকে দৃশ্যমান রেখে পূর্বের সাথে বাক্য বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তিনি এটি এভাবে এনেছেন কারণ "ইবনে মালিক" বিশেষণটি একটি ব্যাখ্যামূলক বিশেষণ। এটি বৈধ যদিও এর ব্যবহার কম, কারণ ব্যাখ্যামূলক বিশেষণের ক্ষেত্রে সাধারণত পূর্ববর্তী শব্দের ব্যাকরণগত অনুসরণ করা হয়।
এবং তাঁর উক্তি: "আমি আমার রব আল্লাহর প্রশংসা করি, যিনি সর্বোত্তম মালিক।" হামদ-এর অর্থ হলো: আল্লাহ তাআলার পূর্ণতা, নিয়ামত এবং অনুগ্রহের গুণাবলীর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করা। এটি গুণগান (মাদহ) এবং কৃতজ্ঞতা (শুকর) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। কারণ গুণগান হলো কোনো সত্তার পূর্ণতা ও মহত্ত্বের গুণাবলীর প্রশংসা, আর কৃতজ্ঞতা হলো তাঁর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নিয়ামত ও অনুগ্রহের প্রশংসা। সুতরাং 'হামদ' এই উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
বলা হয়ে থাকে যে, হামদ ও গুণগান সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একইভাবে হামদ ও কৃতজ্ঞতা সম্পর্কেও বলা হয়েছে যে তারা একই অর্থবোধক। তবে পূর্বোল্লিখিত বিশ্লেষণটিই অধিকতর সঠিক।
আর 'রব' হলেন সেই মালিক ও অভিভাবক যিনি সবকিছুর তত্ত্বাবধায়ক এবং সংশোধনকারী। বলা হয়: সে তাকে লালন-পালন বা সংশোধন করে, যখন কেউ কারও বিষয়াদি ও কল্যাণকর কার্যাবলী সম্পাদন করে। আর 'আল্লাহ': এর মূল হলো 'ইলাহ', যার অর্থ হলো উপাস্য। আরবরা সত্য বা মিথ্যা যেকোনো উপাস্যের ক্ষেত্রে 'ইলাহ' শব্দটির প্রয়োগ করত। তবে তারা উচ্চারণের সহজতার জন্য 'হামজাহ' বিলুপ্ত করেছে এবং এর স্বরচিহ্নকে পরবর্তী ল্যাম-এ স্থানান্তরিত করেছে, ফলে তা 'লাহ' হয়েছে। এরপর দুটি একই বর্ণ একত্রিত হওয়ায় তারা একটিকে অপরটির সাথে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সন্ধি করেছে এবং এটি 'আল্লাহ' শব্দে পরিণত হয়েছে। তারা বিলুপ্ত বর্ণের পরিবর্তে শব্দটিতে আলিফ ও লামকে অপরিহার্য করে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
منها، ثم فخموا اللام تعظيما للاسم، وفرقا بينه وبين اللات فصار مختصا بالإله المعبود بحق وهو رب العزة سبحانه. و (خير) بِنْيَة تفضيل من الخير ضد الشر، وأصل التفضيل بهما على أفعل فكان الصل أن يقال: فلان أخير من فلان وأشر منه، ومما يدل على ذلك قولهم: الخُورَى والشُرَّى تأنيث الأخيَر والأشرّ، إلا أنهم رفضوا الصل لكثرة الاستعمال فيهما وحذفوا الهمزة، وقد جاءوا بهما علىلأصل نادرا، وقال رؤبة
بلال خير الناس وابن الأخير
وقرأ أبو قلابة: ((منِ الكَذّابُ الأشرّ)). والمالك: الذي يملك الأشياء ويصرّفها تحت يده وقهره باستحقاق، وحقيقة الملك: احتواء على الشيء والقدرة على الاستبداد به، وإضافة خير إلى مالك هي من إضافة أفعل التفضيل إلى جنسه، وأصله في الإضافة خير المَالِكِين، إلا أنهم اختصروا وأضافوا المفرد، إذا كان يعطي من المعنى ما يعطيه من الأصل. ومعناه: أنه خير كل مالك قيس ملكه بملكه، وسيأتي في أفعل التفضيل حكمه مستوفى إن شاء الله. ولفظ (الله) هنا بدل من (ربي)، أو عطف بيان، و (خير مالك) بدل، أو منصوب على المدح، ولا يكون صفة، لأنه نكرة. وإنما أتى الناظم بفعل الحمد فقال: (أحمد ربي) ولم يقل الحمد لله مع أنه أبلغ، لأنه قصد إظهار ولاية ذلك بنفسه وعمله فيه، تحقيقا للعبودية بذكره، مضافا
সেখান থেকে, অতঃপর তারা এই নামের সম্মানার্থে এবং 'লাত' থেকে পার্থক্য করার জন্য 'লাম' অক্ষরটিকে মোটা করে পড়েছেন। ফলে এটি যথাযথভাবে ইবাদতযোগ্য মাবুদের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছে, আর তিনি হলেন প্রতাপশালী প্রতিপালক (সুবহানাহু)। আর 'খাইর' শব্দটি মন্দের বিপরীত 'খাইর' থেকে আধিক্যবোধক বিশেষ্য। এগুলোর ক্ষেত্রে আধিক্যবোধের মূল গঠন হলো 'আফআলু' ওজনে। তাই মূলত বলার কথা ছিল: 'অমুক ব্যক্তি অমুকের চেয়ে বেশি উত্তম' এবং 'তার চেয়ে বেশি মন্দ'। এর প্রমাণ হলো তাদের প্রয়োগ: 'আল-খুরা' এবং 'আশ-শুমরা', যা হলো 'আল-আখইয়ার' এবং 'আল-আশার'-এর স্ত্রীলিঙ্গ। তবে অতি ব্যবহারের কারণে তারা মূল রূপটি বর্জন করেছে এবং 'হামজা' বিলুপ্ত করেছে। তবে কদাচিৎ তারা মূল রূপেও এটি ব্যবহার করেছে। রুইবা বলেছেন:
বিলাল মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং শ্রেষ্ঠতমের সন্তান
আর আবু কিলাবা তিলাওয়াত করেছেন: "কে সেই চরম মিথ্যাবাদী ও দাম্ভিক?"। আর মালিক হলেন তিনি, যিনি সকল বস্তুর মালিকানা রাখেন এবং স্বীয় অধিকারবলে আল্লাহর হাত ও কর্তৃত্বের অধীনে সেগুলো পরিচালনা করেন। মালিকানার প্রকৃত অর্থ হলো: কোনো বস্তুর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও একচ্ছত্র ক্ষমতা রাখা। আর 'মালিক'-এর দিকে 'খাইর'-এর সম্বন্ধ হলো আধিক্যবোধক বিশেষ্যকে তার সমজাতীয়র দিকে সম্বন্ধ করার মতো। এর মূল সম্বন্ধ ছিল 'মালিকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ', তবে তারা সংক্ষিপ্ত করার জন্য একবচনের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, যেহেতু এটি মূলের ন্যায় একই অর্থ প্রদান করে। এর অর্থ হলো: তিনি সকল মালিকের তুলনায় শ্রেষ্ঠ, যাদের মালিকানাকে তাঁর মালিকানার সাথে তুলনা করা হয়। ইনশাআল্লাহ আধিক্যবোধক বিশেষ্যের অধ্যায়ে এর বিধান বিস্তারিত আসবে। আর এখানে 'আল্লাহ' শব্দটি 'আমার প্রতিপালক' শব্দ থেকে 'বাদাল' অথবা 'আতফে বায়ান' হিসেবে এসেছে। আর 'শ্রেষ্ঠ মালিক' শব্দটি 'বাদাল' অথবা প্রশংসার কারণে 'মানসুব' হয়েছে; এটি সিফাত বা বিশেষণ হবে না, কারণ এটি নাকেরা বা অনির্দিষ্ট। গ্রন্থকার এখানে প্রশংসার ক্রিয়াপদ ব্যবহার করে বলেছেন: 'আমি আমার প্রতিপালকের প্রশংসা করছি' এবং তিনি 'সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য' বলেননি, যদিও তা অধিক অর্থবহ। কারণ তিনি এর মাধ্যমে নিজের পক্ষ থেকে এই কাজের সম্পাদন প্রকাশ করতে চেয়েছেন, যাতে তাঁর জিকিরের মাধ্যমে দাসত্বকে বাস্তব রূপ দেওয়া যায়, তদুপরি...
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ذلك إلى قَصد الابتداء بالحمد لئلا يكون كلامه أجذم عن البركة والخير، على ما جاء في الحديث خرجه أبو داوود، عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " كل كلا لا يبدا فيه بحمد الله فهو أجذم". وفي لفظ النسائي: كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه بالحمد لله فهو أقطع.
وقوله: "خير مالك" قصد به المجانسة لقوله في القسم الأول: (هو ابن مالك) وليسا بمترادفين، لأن الأول معرفة والثاني نكرة، فهو سالم عن الإيطاء، إذا هذا عند أهل القافية مما يقع به الاختلاف، ونظيره ما أنشده أبو الحسن من قوله:
1 - يارب سلّم سَدْوَهُنَّ الليلة
… وليلة أخرى وكل ليلة
لأن النكرة والمعرفة مختلفان بالشياع والخصوص، بل الاختلاف في كلام الناظم أتمّ منه في الشاهد، لأن العلمية مخرجة للمسمى به عن أصل معناه، وإن كان ملحوظا من طرف خفيّ في مثل هذا، فيمكن أن يكون الجرمي موافقا هنا وإن خالف في نحو الشاهد، وفي
এটি প্রশংসার (হামদ) মাধ্যমে শুরু করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে যাতে তার কথা বরকত ও কল্যাণ থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়, যেমনটি আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে কথা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু হয় না, তা বিচ্ছিন্ন (বরকতহীন)।" আর নাসাঈ-এর বর্ণনায় রয়েছে: "যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু হয় না, তা অসম্পূর্ণ।"
এবং তাঁর বক্তব্য: "উত্তম মালিক" দ্বারা তিনি প্রথম অংশের বক্তব্য: (তিনি ইবনে মালিক) এর সাথে শব্দের মিল বা সামঞ্জস্য রক্ষা করতে চেয়েছেন। তবে শব্দ দুটি সমার্থক নয়, কারণ প্রথমটি নির্দিষ্ট (মারিফা) এবং দ্বিতীয়টি অনির্দিষ্ট (নাকিরা)। সুতরাং এটি 'ইতা' (একই শব্দের পুনরাবৃত্তিজনিত ছন্দদোষ) থেকে মুক্ত, কারণ ছন্দশাস্ত্রবিদদের মতে এর মাধ্যমে ভিন্নতা তৈরি হয়। আর এর সদৃশ হলো যা আবুল হাসান আবৃত্তি করেছেন:
১ - হে প্রতিপালক, রক্ষা করুন তাদের দ্রুত পথচলা এই রাতে
… এবং অন্য রাতে এবং প্রতিটি রাতে
কারণ অনির্দিষ্ট ও নির্দিষ্ট বিশেষ্যসমূহ ব্যাপকতা ও বিশেষত্বের দিক থেকে ভিন্ন। বরং গ্রন্থকারের বক্তব্যে এই পার্থক্য উদাহরণের তুলনায় অধিকতর পূর্ণাঙ্গ, কারণ নাম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া (আলমিয়াহ) শব্দটিকে তার মূল শাব্দিক অর্থ থেকে বের করে আনে, যদিও এ জাতীয় ক্ষেত্রে তা সূক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করা যায়। তাই হতে পারে আল-জারমি এখানে একমত হবেন, যদিও তিনি উদাহরণের ন্যায় ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। এবং
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
مثله حكي الخلاف عنه فيما أحسب، لا في مثل كلام الناظم، وقد حصل الناظم في مثل هذه المجانسة معنى لطيفا، وهو أن مالكا العلمَ إنما سمي بذلك ليكون ممن يملك وتحصل له رتبة المالكين، على عادة العربي في التسمية بالصفات كحارث وقاسم ونحوهما من قصد التفاؤل بالأسماء، فكأنه خطر للناظم في نسبته إلى مالك هذا المعنى، فصرف عنان الاعتناء به إلى الدخول في خفارة خير المالكين، الذي له الملك الصحيح والاستيلاء الحق، وهو المعتصم المانع والحصن الثابت بالأصل والاستحقاق والدوام، وأيضا فإنه قصد مع ذلك التنبيه على أنه عبد داخل تحت يد ذلك المالك فليحمده بلسان الافتقار والاضطرار الذي هو أقرب للنجاح وأحرى بالفلاح، ولذلك أيضا قال (أحمد ربي) بإضافة الرب إلى ضمير نفسه، إذا كان قصده تقييده بالعبودية التي هي مناط قيام الرب له بما يصلحه في جميع شئون وتصرفاته عموما، وفيما يحاوله من هذه الإفادة التي أخذ فيها خصوصا، وهذه كلها مقاصد حسنة مجدية بفضل الله.
وقوله: (مصليا على الرسول المصطفى) نصبَ (مصليا) على الحال من الضمير الفاعل في أحمد، أي أحمد الله في كل حال كوني مصليا، وأراد الجمع بين الثناء على الله عز وجل، والصلاة على رسوله لما في ذلك من البركة الموعود بها في الشرع، وذلك مرجو القبول والإجابة، كما جاء في
আমার মনে হয়, তাঁর থেকে এ জাতীয় বিষয়ে মতভেদ বর্ণিত হয়েছে, তবে তা কবির বাণীর মতো ক্ষেত্রে নয়। কবি এই ধরণের সমজাতীয় শব্দের ব্যবহারে এক সূক্ষ্ম অর্থ ফুটিয়ে তুলেছেন; আর তা হলো— ‘মালিক’ নাম প্রদান কেবল এই উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে যেন তিনি মালিকানা লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন এবং তাদের মর্যাদা প্রাপ্ত হন, যেভাবে আরবদের অভ্যাস হলো গুণের ভিত্তিতে নাম রাখা— যেমন ‘হারিস’ ও ‘কাসিম’ এবং এই জাতীয় নাম রাখা হয় নামের মাধ্যমে শুভকামনার উদ্দেশ্যে। কবির মনেও মালিকের সাথে নিজের নিসবত বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি উদিত হয়েছে, ফলে তিনি তাঁর মনোযোগের লাগাম সর্বোত্তম মালিকের আশ্রয়ে প্রবেশের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন, যাঁর জন্য রয়েছে প্রকৃত রাজত্ব ও যথার্থ কর্তৃত্ব। তিনি আশ্রয়দাতা, প্রতিরোধকারী এবং মূলগতভাবে, যোগ্যতার নিরিখে ও চিরস্থায়ীভাবে এক সুদৃঢ় দুর্গ। তদুপরি, তিনি এর মাধ্যমে একথার প্রতিও ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন যে, তিনি সেই মালিকের হাতের অধীনে থাকা একজন দাস; সুতরাং তিনি যেন তাঁর নিকট নিজের মুখাপেক্ষিতা ও নিরুপায় অবস্থার ভাষায় প্রশংসা করেন, যা সফলতার জন্য অধিক নিকটতর এবং কল্যান লাভের জন্য অধিকতর উপযোগী। আর এই কারণেই তিনি রবের দিকে নিজের সর্বনাম যুক্ত করে বলেছেন ‘আমি আমার রবের প্রশংসা করছি’; কেননা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল একে দাসত্বের সাথে আবদ্ধ করা, যা তাঁর সার্বিক সকল বিষয় ও কর্মকাণ্ডের সংশোধনের ক্ষেত্রে এবং বিশেষ করে তিনি যে জ্ঞান বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে রবের পক্ষ থেকে সহায়তার মূল ভিত্তি। আল্লাহর অনুগ্রহে এই সবগুলোই উত্তম ও ফলপ্রসূ উদ্দেশ্য।
এবং কবির উক্তি: (নির্বাচিত রাসূলের ওপর দরূদ পাঠরত অবস্থায়)। এখানে ‘দরূদ পাঠরত’ শব্দটি ‘আমি প্রশংসা করছি’ ক্রিয়ার অন্তর্গত কর্তাবাচক সর্বনাম থেকে ‘হাল’ বা অবস্থা হিসেবে নসবপ্রাপ্ত হয়েছে। অর্থাৎ, আমি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করছি এমতাবস্থায় যে আমি দরূদ পাঠ করছি। তিনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার প্রশংসা এবং তাঁর রাসূলের ওপর দরূদ পাঠের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে চেয়েছেন, যেহেতু শরীয়তে এতে বরকতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আর তা কবুল হওয়া ও দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে—
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
حديث فضالة بن عبيد أنه قال: بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم قاعد، إذ دخل رجل فصلى فقال: اللهم اغفر لي وارحمني، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: عجلت أيها المصلي، إذا صليت فقعدت، فاحمد الله بما هو أهله وصل عليه، ثم ادعه، قال: ثم صلى رجل آخر بعد ذلك، فحمد الله وصلى على النبي صلى الله عليه وسلم فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: أيها المصلي ادعُ تُجَب.
فإن قلت: إنما جاء هذا في السؤال، فأين السؤال، في هذا الكلام؟
فالجواب: أن في تنصله [تنفله] أولا بالثناء على الله تعالى وإدخاله نفسه نصا تحت الرق للمالك الحق، واعتصامه بإضافته إلى اسمه الرب تعرضا بباب مالكه القائم بمصالحه، وهو معنى السؤال بلسان الحال، وهو معروف عند العرب، وله أصل في الشرع، ذكر الرشاطي
ফাদালাহ ইবনে উবায়েদ (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন: একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসা ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি প্রবেশ করে সালাত আদায় করল এবং বলল: হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার ওপর রহম করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: হে সালাত আদায়কারী, তুমি তাড়াহুড়া করে ফেলেছ। তুমি যখন সালাত আদায় করে বসবে, তখন আল্লাহর এমন প্রশংসা করবে যার তিনি যোগ্য এবং তাঁর ওপর দরূদ পাঠ করবে, এরপর তাঁর কাছে দুআ করবে। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর অন্য এক ব্যক্তি সালাত আদায় করল, সে আল্লাহর প্রশংসা করল এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরূদ পাঠ করল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: হে সালাত আদায়কারী, দুআ করো, তোমার দুআ কবুল করা হবে।
যদি আপনি বলেন: এটি তো কেবল প্রার্থনার (সওয়াল) ক্ষেত্রে এসেছে, তবে এই কথার মধ্যে প্রার্থনা কোথায়?
উত্তর হলো: প্রথমে আল্লাহ তাআলার প্রশংসার মাধ্যমে নিজেকে নিবেদন করা এবং স্পষ্টভাবে নিজেকে প্রকৃত মালিকের দাসত্বের অধীনে দাখিল করা, এবং তাঁর 'রব' নামের সাথে নিজেকে সম্বন্ধিত করার মাধ্যমে আশ্রয় গ্রহণ করা—যা তাঁর স্বার্থ রক্ষাকারী মালিকের দ্বারে ধরণা দেওয়ার নামান্তর; আর এটিই হলো অবস্থার ভাষায় (লিসানুল হাল) প্রার্থনার অর্থ। এটি আরবদের নিকট সুপরিচিত এবং শরীয়তে এর ভিত্তি রয়েছে, যা রিশাতি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
في تاريخه عن الحسين بن الحسن المروزي قال: سألت سفيان بن عيينة فقلت: يا أبا محمد: ما تفسير قول النبي صلى الله عليه وسلم: كان من أكثر دعاء الأنبياء قبلي بعرفة: لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير، وليس فيه من الدعاء شيء؟ فقال لي: أعرفت حديث مالك بن الحارث؟ إذا شغل عبدي ثناؤه علي عن مسألتي أعطيته أفضل ما أعطي السائلين، ثم قال: أعلمت ما قال أمية بن أبي الصلت حين خرج إلى ابن جدعان يطلب نائله وفضله؟ قلت: لا أدري. قال: قال:
أأذكر حاجتي أم قد كفاني حياؤك إن شيمتك الحياء
إذا أثنى عليك المرء يوما كفاه من تعرضك الثناء
ثم قال سفيان: هذا مخلوق ينسب إلى الجود، قيل له: يكفينا من مسألتك أن نثني عليك ونسكت حتى تأتي على حاجتنا، فكيف الخالق؟
তাঁর ইতিহাসে হুসাইন ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহকে জিজ্ঞাসা করলাম: হে আবু মুহাম্মদ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর ব্যাখ্যা কী: "আরাফাতে আমার পূর্ববর্তী নবীদের অধিকাংশ দোয়াই ছিল: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য, আর তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান", অথচ এর মধ্যে দোয়ার (প্রার্থনার) কোনো কিছু নেই? তিনি আমাকে বললেন: তুমি কি মালিক ইবনুল হারিসের বর্ণিত হাদিসটি জানো? "যখন আমার বান্দার আমার প্রশংসা করা তাকে আমার কাছে কিছু চাওয়া থেকে বিরত রাখে, তখন আমি তাকে যা দান করি তা প্রার্থনাকারীদের দেওয়া বস্তুর চেয়েও শ্রেষ্ঠ।" এরপর তিনি বললেন: তুমি কি জানো উমাইয়্যাহ ইবনে আবিস সালত যখন ইবনে জুদআনের কাছে তার দান ও অনুগ্রহ পাওয়ার আশায় গিয়েছিল তখন সে কী বলেছিল? আমি বললাম: আমি জানি না। তিনি বললেন, সে বলেছিল:
আমি কি আমার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করব, নাকি আপনার লজ্জাবোধই আমার জন্য যথেষ্ট? নিশ্চয়ই আপনার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হলো লজ্জাশীলতা।
কোনো ব্যক্তি যদি কোনোদিন আপনার প্রশংসা করে, তবে আপনার করুণা লাভের প্রত্যাশায় সেই প্রশংসাই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়।
এরপর সুফিয়ান বললেন: এটি তো একজন সৃষ্টি যাকে দানশীলতার গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে; তাকেই বলা হয়েছে: আপনার কাছে চাওয়ার পরিবর্তে আমাদের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে আমরা আপনার প্রশংসা করব এবং নিবৃত্ত থাকব যতক্ষণ না আপনি আমাদের প্রয়োজন মিটিয়ে দেন, তাহলে স্রষ্টার ক্ষেত্রে বিষয়টি কেমন হতে পারে?
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وذكر ابن عبد البر هذه الحكاية في التمهيد على نحو آخر، والمقصد واحد، فأردف الناظم بالصلاة على الرسول صلى الله عليه (وسلم) لتحصل الإجابة؛ لأن الصلاة على الرسول صلى الله عليه وسلم مستجابة على القطع، فإذا اقترن بها السؤال شفعت بفضل الله فيه فقبل، وهذا المعنى مذكور عن بعض السلف الصالح، والصلاة أصلها الدعاء، أي داعيا له بالرحمة والبركة وزيادة التشريف والإكرام، والرسول هو الذي أرسله الملك ليبلغ الرعية، فالرسول صلى الله عليه وسلم مبعوث إلى الخلق المرسل إليهم بشيرا ونذيرا وداعيا إلى الله بإذنه وسراجا منيرا، و (النبي) هو المنبئ، أي المخبر عن الله تعالى، وهو أعم من الرسول والرسول أخص، لأن كل رسول نبي، وليس كل نبي رسولا، فقد يخبر النبي من غير أن يرسل، ولا يرسل الرسول من غير أن يخبر، فهو إذًا أمدح، فلأجل هذا أتى به الناظم، ولم يقل مصليا على النبي المصطفى.
و(المصطفى): مفتعل من صفو الشيء وصفوته، وهو خالصه، أي الذي اختصه الله واختاره من سائر الخلق صفوةً ولبابا منهم، وهو محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويعيِّنه أمران:
أحدهما: أنه أخص بهذه الأمة من سائر الرسل عليهم السلام.
والثانهي: أنه صفوة الصفوة الذين هم الأنبياء والرسل، فالمصطفون
ইবনে আবদুল বার এই বর্ণনাটি ‘আত-তামহীদ’ গ্রন্থে ভিন্নভাবে উল্লেখ করেছেন, তবে উভয়ের উদ্দেশ্য অভিন্ন। অতঃপর গ্রন্থকার রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি দরূদ পাঠের বিষয়টি অনুগামী করেছেন যাতে দুআ কবুল হয়; কারণ রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি দরূদ পাঠ নিশ্চিতভাবেই কবুলযোগ্য। সুতরাং যখন এর সাথে কোনো প্রার্থনা যুক্ত হয়, তখন আল্লাহর অনুগ্রহে তা সুপারিশকৃত হয় এবং কবুল করা হয়। এই বিষয়টি জনৈক সলফে সালেহীন থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর সালাত-এর মূল অর্থ হলো দুআ, অর্থাৎ তাঁর জন্য রহমত, বরকত এবং উত্তরোত্তর মর্যাদা ও সম্মানের প্রার্থনা করা। আর রাসূল হলেন তিনি যাকে বাদশাহ প্রজাদের নিকট বার্তা পৌঁছানোর জন্য প্রেরণ করেন। অতএব রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সৃষ্টির নিকট সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। আর ‘নবী’ হলেন সংবাদ প্রদানকারী, অর্থাৎ যিনি মহান আল্লাহ সম্পর্কে সংবাদ দেন। নবী শব্দটি রাসূল অপেক্ষা সাধারণ বা ব্যাপক এবং রাসূল শব্দটি নবী অপেক্ষা বিশেষ; কারণ প্রত্যেক রাসূলই নবী, কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল নন। কেননা নবী কখনো প্রেরিত হওয়া ছাড়াই সংবাদ দিতে পারেন, কিন্তু রাসূল সংবাদ প্রদান করা ব্যতিরেকে প্রেরিত হন না। সুতরাং এটি (রাসূল) অধিক প্রশংসাসূচক পদবী, আর একারণেই রচয়িতা এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন এবং ‘নির্বাচিত নবীর প্রতি দরূদ পাঠকারী’ বলেননি।
আর ‘মুস্তফা’ শব্দটি কোনো কিছুর স্বচ্ছতা ও নির্যাস থেকে গঠিত শব্দ, যার অর্থ হলো বিশুদ্ধতম অংশ। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা যাকে সমস্ত সৃষ্টির মধ্য থেকে সারবস্তু ও শ্রেষ্ঠ হিসেবে বিশেষভাবে মনোনীত ও নির্বাচিত করেছেন। তিনি হলেন আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম); এবং এটি দুটি বিষয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়:
প্রথমত: তিনি অন্যান্য সকল রাসূলের (আলাইহিমুস সালাম) তুলনায় এই উম্মতের সাথে অধিক নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট।
দ্বিতীয়ত: তিনি হলেন নবী ও রাসূলদের মতো মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্য থেকেও শ্রেষ্ঠতম। সুতরাং মনোনীত ব্যক্তিবর্গ
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
من الخلق هم الأنبياء والرسل، ومحمد صلى الله عليه وسلم مصطفى من أولئك المصطفين. ألا ترى إلى ما جاء من نحو قوله: " أنا سيد ولد آدم"، وما في معنى ذلك.
وقوله: (وآله) أصل آل عند سيبويه، أهل بدليل تصغيره على أهيل وعند الكسائي أَوَلُ، وحكي في تصغيره أُويل والأول أشهر، ولما كثر فيه التغيير قلّت إضافته إلى المضمر، فالكثير ان يقال: آل فلان، والقليل نحو قول عبدالمطلب:
2 - وانصر على آل الصيـ
… ـب وعابديه اليوم آلك
لكن جرت عادة المحدثين باستعمال الوجه القليل، فاتبعهم الناظم فيه وذلك يدل على جوازه عنده خلافا لمن منع ذلك، ولا يضاف "آل" إلا إلى مُعَظّم واختلف المراد بآل الرسول عليه السلام فقيل: هم رهطه الأقربون وعشيرته الأدنون.
فقوله: (المستكملين الشرفا) يعني باتباعه والإيمان به؛ لأن آله عليه السلام كانوا هم أهل ذروة الشرف غير مدافعين، ثم باتبعاه على مقدار الاقتداء به كمل لهم ذلك الشرف، كما قال عليه السلام "خياركم في الجاهلية خياركم في الإسلام إذا فقهوا" وقيل: آل الرسول صلى الله عليه وسلم من يؤول إليه في الدين -يعني أمته-
সৃষ্টির মধ্যে তাঁরা হলেন নবী ও রাসূলগণ, আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন সেই মনোনীতদের মধ্য হতে বিশেষভাবে মনোনীত। আপনি কি তাঁর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করেন না: "আমি আদম সন্তানের সরদার (সাইয়িদ)", এবং এর সমার্থবোধক অন্যান্য বর্ণনাগুলোর দিকে?
এবং তাঁর বাণী: (এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর), সিবওয়াইহ-এর মতে 'আল' শব্দের মূল উৎস হলো 'আহল', যার প্রমাণ হলো এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ 'উহাইল'। আর কিসায়ীর মতে এর মূল হলো 'আওয়াল', এবং এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ হিসেবে 'উওয়াইল' বর্ণিত হয়েছে, তবে প্রথমটিই অধিক প্রসিদ্ধ। যেহেতু এই শব্দে পরিবর্তনের আধিক্য ঘটেছে, তাই সর্বনামের (দমীর) দিকে এর সম্বন্ধ করা কমে গেছে। সুতরাং অধিক প্রচলিত ব্যবহার হলো 'অমুকের পরিবার' বলা, আর বিরল ব্যবহার হলো আবদুল মুত্তালিবের বাণীর ন্যায়:
২ - আর আজ ক্রুশের অনুসারীদের এবং তার পূজারীদের বিরুদ্ধে আপনার পরিবারকে সাহায্য করুন
তবে মুহাদ্দিসগণের রীতি হলো এই বিরল রূপটি ব্যবহার করা, তাই কাব্যকার (নাজিম) এক্ষেত্রে তাঁদের অনুসরণ করেছেন। এটি তাঁর নিকট এর বৈধতার প্রমাণ দেয়, যারা এটি নিষেধ করেছেন তাদের মতের বিপরীতে। আর 'আল' (পরিবার) শব্দটি কেবল মর্যাদাবান ব্যক্তির দিকেই সম্বন্ধ করা হয়। রাসূল (আলাইহিস সালাম)-এর 'আল' বা পরিবার দ্বারা উদ্দেশ্য কী, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে: তাঁরা হলেন তাঁর নিকটাত্মীয় এবং ঘনিষ্ঠ বংশধর।
সুতরাং তাঁর বাণী: (যারা পূর্ণ মর্যাদা লাভ করেছেন) এর অর্থ হলো তাঁর অনুসরণ এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নের মাধ্যমে; কারণ তাঁর (আলাইহিস সালাম) পরিবার-পরিজন ছিলেন বিনাতর্কে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। অতঃপর তাঁর অনুসরণের মাধ্যমে, তাঁকে অনুকরণের মাত্রা অনুযায়ী তাদের সেই মর্যাদা পূর্ণতা পেয়েছে, যেমনটি তিনি (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "জাহেলিয়াতের যুগে তোমাদের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠ ছিল, ইসলাম গ্রহণের পরও তারাই শ্রেষ্ঠ যদি তারা দ্বীনের সঠিক বুঝ লাভ করে।" এবং আরও বলা হয়েছে: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর 'আল' হলেন তারা যারা দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসারী—অর্থাৎ তাঁর উম্মত।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وهذا القول مبني على مذهب الكسائي في آل؛ لأن الاشتقاق من آل يؤول يدل عليه، بخلاف الأول: فإنه يصح على مذهبي سيبويه والكسائي، وعلى كل تقدير فقوله: "المستكملين الشرفا" يعني به الصحابه رضوان الله عليهم، فإن هذا الكلام يقتضي أنهم كانوا أهل شرف قبل الإسلام، ثم جاء الإسلام فاستكملوه به، ولا أحد من الأمة أعظم شرفا في الأصل منهم.
وقد جاء في الصحيح عن واثلة بن الأسقع أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله اصطفى من ولد آدم إسماعيل، واصطفى من ولد إسماعيل بني كنانة، واصطفى من بني كنانة قريشا، واصطفى من قريش بني هاشم، واصطفاني من بني هاشم"
وخرج الترمذي عن العباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن الله خلق الخلق، فجعلني في خيرهم فرقة، ثم جعلهم قبائل، فجعلني في خيرهم قبيلة، ثم جعلهم بيوتا، فجعلني في خيرهم بيتا، والشرف: الرفعة في نسب أو دين، وأصله من الشرف: وهو المرتفع من الأرض.
***
وأستعين الله في ألفية
… مقاصد النحو بها محوية
تقرب الأقصى بلفظ موجز
… وتبسط البذل بوعد منجز
এই উক্তিটি ‘আল’ শব্দের ক্ষেত্রে কিসায়ীর মতের ওপর ভিত্তি করে রচিত; কারণ ‘আল’ শব্দের ব্যুৎপত্তি ‘ইয়াউলু’ থেকে হওয়া এই মতেরই ইঙ্গিত দেয়। পক্ষান্তরে প্রথম মতটি সিবওয়াইহি এবং কিসায়ী উভয়ের মতানুসারেই সঠিক। যে কোনো বিচারেই হোক, তাঁর উক্তি: "সম্মান পূর্ণতাদানকারীগণ" দ্বারা তিনি সাহাবীগণকে (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বুঝিয়েছেন। কেননা এই বক্তব্যটি দাবি করে যে, তাঁরা ইসলামের পূর্বেই সম্মানিত ছিলেন, অতঃপর ইসলামের আগমনে তাঁরা এর মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করেছেন। আর এই উম্মতের মধ্যে বংশীয় আভিজাত্যের দিক থেকে তাঁদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মর্যাদাবান আর কেউ নেই।
সহীহ বর্ণনায় ওয়াসিলা ইবনুল আসকা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমের সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাইলকে মনোনীত করেছেন, ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে বনী কিনানাকে মনোনীত করেছেন, বনী কিনানা থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনী হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনী হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।"
তিরমিযী আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাদের উত্তম দলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর তাদের বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের সর্বোত্তম গোত্রে রেখেছেন। এরপর তাদের বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের সর্বোত্তম পরিবারে রেখেছেন।" আর ‘শরাফ’ (সম্মান) অর্থ হলো বংশ বা দ্বীনের উচ্চমর্যাদা; এর মূল উৎস ‘শরাফ’, যার অর্থ হলো জমিনের উঁচু স্থান।
***
এবং আমি আলফিয়্যাহ রচনায় আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি
… যাতে নাহু শাস্ত্রের মূল লক্ষ্যসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে
যা সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী বিষয়সমূহকে নিকটবর্তী করে
… এবং তাৎক্ষণিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে উদারভাবে জ্ঞান দান করে।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
هنا أخذ في بيان مقصده من هذا النظم، وذلك بعد ما قدم ما ينبغي من تقديمه من التعريف بنفسه، والثناء على الله تعالى، والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم. والاستعانة: طلب العون، وهو طلب بالتصريح بعد ما قدم الطلب بالتعريض، وأصل الاستفعال للطلب.
وقوله: (وأستعين الله) جملة معطوفة على قوله: (أحمد ربي الله) أي: أحمده على جميع نعمه وأستعينه في كذا، وحرف الجر متعلق بأستعين، وأتى الحرف الذي يقتضي الظرفية ليجعل هذه القصيدة محلا للاستعانة بالله، وكأنه على حذف مضاف، أي: في نظم ألفية، وفي هذا القول معنى الدعاء لله أن يعينه على ما قصد، وهو محل صادف فيه مَحَزَّ الدعاء؛ لأنه وقع له بعد الثناء على الله تعالى والصلاة على رسوله صلى الله عليه وسلم، وعلى هذا الترتيب حضّ الشارع كما تقدم، والألفية منسوبة إلى الألف، وهي صفة لموصوف محذوف، أي في قصيدةٍ ألفية، والقصيدة من الشعر من عشرة أبيات فما زاد.
وحكى القاضي ابن الطيب، عن الفراء بسند يرفعه إليه أن
এখানে তিনি এই কাব্যের মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে শুরু করেছেন, আর এটি করেছেন নিজের পরিচয় প্রদান, আল্লাহ তাআলার প্রশংসা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠের মতো প্রারম্ভিক বিষয়গুলো উপস্থাপনের পর। আর ইস্তি'আনা হলো সাহায্য প্রার্থনা করা; আর এটি হলো পরোক্ষ প্রার্থনার পর সরাসরি প্রার্থনা। মূলত 'ইস্তিফ'আল' (استفعال) রূপটি কামনার্থে ব্যবহৃত হয়।
তাঁর বক্তব্য: (আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি) বাক্যটি (আমি আমার রব আল্লাহর প্রশংসা করছি) বাক্যের ওপর সংযোজিত হয়েছে। অর্থাৎ: আমি তাঁর সকল নিআমতের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি এবং অমুক বিষয়ে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি। এখানে অব্যয়টি 'আস্তাইন' (সাহায্য প্রার্থনা করছি) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি আধারের (যরফিয়্যাহ) অর্থ প্রদানকারী অব্যয়টি ব্যবহার করেছেন যাতে এই কাসিদাহটি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনার ক্ষেত্র হিসেবে সাব্যস্ত হয়। এটি মূলত একটি উহ্য সম্বন্ধপদের (মুযাফ) স্থলাভিষিক্ত, অর্থাৎ: 'আলফিয়্যাহ রচনার ক্ষেত্রে'। এই বক্তব্যের মধ্যে আল্লাহর নিকট দুআর অর্থ নিহিত রয়েছে যাতে তিনি তাকে তাঁর উদ্দীষ্ট বিষয়ে সাহায্য করেন। আর এটি এমন একটি স্থান যেখানে দুআ কবুলের মোক্ষম সময় ও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে; কেননা এটি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠের পর সংঘটিত হয়েছে। আর শরীয়তপ্রণেতা এই ক্রমধারা অনুসরণের জন্যই উৎসাহিত করেছেন যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে। 'আলফিয়্যাহ' শব্দটি 'আলিফ' (এক হাজার)-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত। এটি একটি উহ্য বিশেষ্যের (মাউসুফ) বিশেষণ (সিফাত), অর্থাৎ: 'এক হাজার শ্লোকবিশিষ্ট একটি কাসিদাহ'। আর কাব্যের পরিভাষায় দশ বা তার অধিক পঙ্ক্তি বিশিষ্ট কবিতাকে কাসিদাহ বলা হয়।
কাযী ইবনে তাইয়্যিব আল-ফাররা থেকে এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যা তাঁর পর্যন্ত পৌঁছেছে যে, তাঁর বক্তব্য: (আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি) বাক্যটি (আমি আমার রব আল্লাহর প্রশংসা করছি) বাক্যের ওপর সংযোজিত হয়েছে। অর্থাৎ: আমি তাঁর সকল নিআমতের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি এবং অমুক বিষয়ে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি। এখানে অব্যয়টি 'আস্তাইন' (সাহায্য প্রার্থনা করছি) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি আধারের (যরফিয়্যাহ) অর্থ প্রদানকারী অব্যয়টি ব্যবহার করেছেন যাতে এই কাসিদাহটি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনার ক্ষেত্র হিসেবে সাব্যস্ত হয়। এটি মূলত একটি উহ্য সম্বন্ধপদের (মুযাফ) স্থলাভিষিক্ত, অর্থাৎ: 'আলফিয়্যাহ রচনার ক্ষেত্রে'। এই বক্তব্যের মধ্যে আল্লাহর নিকট দুআর অর্থ নিহিত রয়েছে যাতে তিনি তাকে তাঁর উদ্দীষ্ট বিষয়ে সাহায্য করেন। আর এটি এমন একটি স্থান যেখানে দুআ কবুলের মোক্ষম সময় ও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে; কেননা এটি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠের পর সংঘটিত হয়েছে। আর শরীয়তপ্রণেতা এই ক্রমধারা অনুসরণের জন্যই উৎসাহিত করেছেন যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে। 'আলফিয়্যাহ' শব্দটি 'আলিফ' (এক হাজার)-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত। এটি একটি উহ্য বিশেষ্যের (মাউসুফ) বিশেষণ (সিফাত), অর্থাৎ: 'এক হাজার শ্লোকবিশিষ্ট একটি কাসিদাহ'। আর কাব্যের পরিভাষায় দশ বা তার অধিক পঙ্ক্তি বিশিষ্ট কবিতাকে কাসিদাহ বলা হয়।
কাযী ইবনে তাইয়্যিব আল-ফাররা থেকে এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যা তাঁর পর্যন্ত পৌঁছেছে যে,
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
العرب تسمي البيت الواحد يتيما، ومن ذلك الدرة اليتيمة لانفرادها، فإذا بلغ الاثنين والثلاثة فهي نتفة، والعشرة تسمى قطعة، فإذا بلغ العشرين استحق أن يسمى قصيدا، والعرب تجعل القصيدة كلها تارة على روى واحد وهو المشهور في أشعارها، وتارة تجعله على حروف مختلفة، وتستعمله شطرين شطرين، أو أربعة أربعة، ولا يكون إلا مزدوجا.
وهذه القصيدة الألفية التي ابتدأها الناظم من هذا القسم، ويسمى المخمس ويكثر في الرجز والسريع، ومنه قول امرأة من جديس:
لا أحد أذل من جديس
… أهكذا يفعل بالعروس
يرضى بهذا يا لقومي حر
… أسدى وقد أعطى وسيق المهر
لأخذه الموت غدا بنفسه
… خير من أن يفعل ذا بعرسه
ويعني الناظم بقوله: (ألفية) النسبة إلى ألف مزدوج، لا إلى ألف بيت لأنها ألفا بيت من مشطور الرجز، ويبعد أن يكون قصده النسبة إلى الألفين وإن كان في اللفظ ممكنا.
وقوله: (مقاصد النحو بها محوية) معنى محوية: مجموعة محاط بها، يعني أن هذه القصيدة قد أحاطت بمقاصد النحو وجملتها مجموعة فيها.
وأصل النو في اللغة: القصد، وهو ضد اللحن الذي هو العدول عن القصد والصواب، والنحو قصد إليه وهو في الإصطلاح: علم بالأحوال والأشكال التي بها تدل ألفاظ العرب على المعاني ويعني بالأحوال وضع الألفاظ بعضها مع بعض في تركيبها للدلالة على المعاني المركبة، ويعني
আরবরা একটি মাত্র পঙক্তিকে 'এতিম' (একক) বলে অভিহিত করে, আর সেখান থেকেই এর অনন্যতার কারণে 'একক মুক্তা' কথাটি এসেছে। যখন এটি দুই বা তিন পঙক্তিতে পৌঁছায় তখন তাকে 'নাতফা' বলা হয়, আর দশ পঙক্তিকে বলা হয় 'কিতআহ'। যখন তা বিশ পঙক্তিতে পৌঁছায় তখন তাকে 'কাসিদা' (কবিতা) নামে অভিহিত করার উপযুক্ত হয়। আরবরা কখনো কখনো পুরো কাসিদাকে একটি মাত্র অন্ত্যমিলের (রওয়ি) ওপর ভিত্তি করে রচনা করে, যা তাদের কবিতায় অত্যন্ত প্রসিদ্ধ; আবার কখনো কখনো বিভিন্ন বর্ণের ওপর ভিত্তি করে তা রচনা করে এবং সেগুলোকে দুই পঙক্তি দুই পঙক্তি করে অথবা চার পঙক্তি চার পঙক্তি করে ব্যবহার করে, আর তা সাধারণত দ্বিপদী ছন্দেই হয়ে থাকে।
নাযেম (কবি) যে 'আলফিয়া' কাসিদাটি শুরু করেছেন তা এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, যাকে 'মুখাম্মাস' বলা হয় এবং এটি রাজায ও সারি' ছন্দে অধিক ব্যবহৃত হয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো জাদিস গোত্রের এক মহিলার উক্তি:
জাদিসের চেয়ে লাঞ্ছিত আর কেউ নেই
… কনের সাথে কি এমন আচরণ করা হয়?
হে আমার কওম! কোনো স্বাধীন ব্যক্তি কি এতে সন্তুষ্ট হতে পারে?
… যখন সে অনুগ্রহ করেছে, দান করেছে এবং মোহরও প্রদান করা হয়েছে।
আগামীকাল তার নিজের মৃত্যু হওয়া তার জন্য অনেক শ্রেয়
… তার স্ত্রীর সাথে এরূপ আচরণ করার চেয়ে।
নাযেম তাঁর 'আলফিয়া' উক্তিটি দ্বারা এক হাজার জোড়া পঙক্তির সাথে সম্বন্ধ বুঝিয়েছেন, এক হাজার একক পঙক্তির সাথে নয়। কারণ এটি 'মাশতুর রাজায' ছন্দের দুই হাজার পঙক্তির সমষ্টি। যদিও শাব্দিকভাবে দুই হাজারের সাথে সম্বন্ধ করা সম্ভব, তবুও তাঁর উদ্দেশ্য তা হওয়া সুদূরপরাহত।
এবং তাঁর উক্তি: (ব্যাকরণের উদ্দেশ্যসমূহ এতে পরিবেষ্টিত) 'মাহবিয়্যাহ' অর্থ হলো: সংগৃহীত ও পরিবেষ্টিত। অর্থাৎ এই কাসিদাটি ব্যাকরণের মূল উদ্দেশ্যগুলোকে বেষ্টন করে আছে এবং এর সারসংক্ষেপ এতে একত্রে সংকলিত হয়েছে।
আভিধানিক অর্থে 'নাহু' এর মূল হলো: সংকল্প বা উদ্দেশ্য। এটি 'লাহন' (ভাষাগত ভুল)-এর বিপরীত, যা সঠিক উদ্দেশ্য এবং শুদ্ধতা থেকে বিচ্যুত হওয়া। আর 'নাহু' মানে সেদিকে লক্ষ্য করা। পরিভাষায় এটি এমন এক বিদ্যা, যা সেই সকল অবস্থা ও রূপ নিয়ে আলোচনা করে যার মাধ্যমে আরবী শব্দাবলী অর্থের ওপর নির্দেশ করে। 'অবস্থাসমূহ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যৌগিক অর্থের ওপর নির্দেশ করার জন্য বাক্য গঠনে শব্দগুলোকে একে অপরের সাথে স্থাপন করা, এবং তিনি বুঝিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بالأشكال ما يعرض في أحد طرفي اللفظ أو وَسَطِهِ أو جملته من الآثار والتغييرات التي بها تدل ألفاظ العرب على المعاني، هذا حد بعض المتأخرين
وقال الفارسي: النحو علم بالمقاييس المستنبطة من استقراء كلام العرب يعني بالمقاييس القوانين الكلية الحاصلة في مَلَكَةِ الإنسان من تتبع كلام العرب.
ثم إن الناظم نص على أن قصيدته هذه محتوية من النحو على جميع مقاصده لقوله: (مقاصد النحو) وهذه صيغة عموم تفيد الاحتواء من المقاصد على جميعها، وعلى هذا فيه سؤال وهو أن يقال: إنه قد نص آخر النظم على أنه إنما احتوى الجُلَّ، لا على الجميع لقوله هنالك: (نظما على جُلّ المهمات اشتمل) ولم يقل: على المهمات اشتمل، ولا على جميع المهمات، ومهمات النحو ومقاصده بمعنى، فإما ان يكون نظمه مشتملا على الجميع، وإما على الجُلّ دون الجميع، وعلى كلا التقديرين يكون أحد الموضعين، غذ قد فاته أشياء من مقاصد النحو ومهماته كباب القسم، وباب التقاء الساكنين، وغير ذلك مما يتبين في موضعه إن شاء الله تعالى، فتخلص أن كلامه هنا غير صادق.
والجواب: أن الكلامين غير متنافرين، بل هما متوافقان؛ وذلك أن المهمات ليس بمرادف للمقاصد، لأن المقاصد أعم المهمات لانقسامها
আকৃতিসমূহের মাধ্যমে শব্দের এক প্রান্ত, তার মধ্যভাগ কিংবা সমগ্র শব্দে যে সকল প্রভাব ও পরিবর্তন প্রকাশ পায় যার দ্বারা আরবদের শব্দাবলি অর্থের ওপর দিকনির্দেশনা প্রদান করে, এটিই হলো পরবর্তীকালের কোনো কোনো আলিমের প্রদত্ত সংজ্ঞা।
ফারসি বলেছেন: নাহু হলো আরবদের কালাম বা কথাবার্তা পর্যালোচনার মাধ্যমে উদ্ভাবিত মূলনীতিসমূহের জ্ঞান। অর্থাৎ মূলনীতি বলতে সেই সকল সামগ্রিক নিয়মকে বোঝানো হয়েছে যা আরবদের কথাবার্তা অনুসরণের ফলে মানুষের দক্ষতায় অর্জিত হয়।
অতঃপর নাজিম (কাব্য রচয়িতা) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তার এই কাব্যটি নাহু শাস্ত্রের সকল উদ্দেশ্যকে বেষ্টন করে আছে। কারণ তিনি বলেছেন: (নাহুর উদ্দেশ্যসমূহ), আর এটি একটি ব্যাপকতাবোধক শব্দ যা সকল উদ্দেশ্যকে শামিল করার অর্থ প্রদান করে। এই বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, আর তা হলো: তিনি কাব্যের শেষে আবার উল্লেখ করেছেন যে এটি কেবল অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে শামিল করেছে, সবগুলোকে নয়। কারণ সেখানে তিনি বলেছেন: (এমন এক কাব্য যা অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে)। তিনি এটি বলেননি যে 'গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে' কিংবা 'সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে'। অথচ নাহুর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি এবং উদ্দেশ্যসমূহ মূলত একই অর্থবোধক। এমতাবস্থায় হয় তার কাব্যটি সবটুকুকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, নতুবা সবটুকু নয় বরং অধিকাংশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই উভয় দিক বিবেচনা করলে যেকোনো এক স্থানের বক্তব্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়; যেহেতু তিনি নাহুর কিছু উদ্দেশ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়েছেন, যেমন কসম বা শপথের অধ্যায়, দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার অধ্যায় এবং এ জাতীয় আরও অন্যান্য বিষয় যা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে স্পষ্ট হবে। ফলে এই সিদ্ধান্ত আসে যে, এখানে তার কথাটি সঠিক নয়।
এর উত্তর হলো: উক্ত কথা দুটির মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, বরং সেগুলো পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর কারণ হলো, 'গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি' শব্দটি 'উদ্দেশ্যসমূহ' শব্দের সমার্থক নয়। কেননা 'উদ্দেশ্যসমূহ' শব্দটি 'গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি' অপেক্ষা অধিক ব্যাপক, কারণ এর বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إلى المهم وغيره، فمن مقاصد النحو ما هو مهم كالذي ذكر في نظمه، ومنها ما ليس بمهم كباب التسمية، ومسألة الأمثلة الموزون بها في باب ما ينصرف، وفصل الاستثناء من الاستثناء وما أشبه ذلك، إلا أنه يبقى وجه إتيانه بلفظ العموم، مع أنه لم يتكلم إلا على الجُلّ من المقاصد، بل على جاءني أهل مصر، إذا جاءك جلُّهم أو رؤساؤهم، وأهل مصر صيغة العموم كمقاصد النحو، ومن هنا صح الاستثناء الاستثناء من العام على ما هو مبسوط في موضعه، فإذا كان كذلك سقط الاعتراض فإن قلت: فلم لمْ يبين هنا كما بين هناك؟
فالجواب: إن مقصده هنا ليس البيان عما احتوت عليه على الحقيقة، وإنما مقصده أمر آخر خلاف ما قصد هنالك، وذلك أنه أراد هنا التعريف بأن نظمه احتوى على الضروري من علم النحو، لأن علم النحو يحتوي على نوعين من الكلام:
أحدهما: إحراز اللفظ عند التركيب التخاطبي للإفادة عن التحريف والزيغ عن معتاد العرب في نطقها -وما وقع عليه كلامها، حتى لا يرفع ما وضعه في لسانهم أن ينصب أو يُخفض، ولا ينصب ما وضعه في لسانهم على أن يُرفع أو يُخفض، ولا أن يؤتى بما حقه أن يكون عندها على شكل وهيئةٍ على شكل آخر وهيئة أخرى، بل يجري في ذلك على مَهْيَع نُطقهم، ومعروف تواضعهم. فإن كان المتكلم فيه مما قد تقدمت العرب للتكلم به، وحفظ عنهم لم يحرفه عما نطقوا به وإن كان مما لم يحفظ عنهم من التركيب النطقي، إما لأنهم لم يتكلموا به، أو تكلموا به ولم يبلغنا، أو بلغ بعضا ولم يبلغ بعضا، أعملنا في ذلك المقاييس التي استقرأناها من كلامهم
গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যান্য বিষয়ের দিকে; সুতরাং নাহু শাস্ত্রের উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে কিছু বিষয় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ, যেমনটি তিনি তাঁর কাব্যে উল্লেখ করেছেন। আবার কিছু বিষয় রয়েছে যা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, যেমন নামকরণের পরিচ্ছেদ, এবং 'মামনু মিনাস সারফ' পরিচ্ছেদে ওজনি উদাহরণসমূহের মাসআলা, এবং 'ব্যতিক্রম হতে ব্যতিক্রম' অনুচ্ছেদ ও এ জাতীয় বিষয়াদি। তবে এখানে একটি প্রশ্ন থেকে যায় যে, কেন তিনি ব্যাপকবোধক শব্দ ব্যবহার করলেন, অথচ তিনি কেবল প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ নিয়েই আলোচনা করেছেন। বরং বিষয়টি 'মিশরবাসী আমার নিকট এসেছে' বলার মতো, যদিও বাস্তবে তাদের অধিকাংশ বা কেবল প্রধান ব্যক্তিবর্গ এসেছে। আর 'মিশরবাসী' শব্দটি ব্যাপকতা নির্দেশক শব্দ, যেমনটি 'নাহু শাস্ত্রের উদ্দেশ্যসমূহ' কথাটিও ব্যাপকতা নির্দেশক। এই প্রেক্ষিতেই ব্যাপকবোধক শব্দ থেকে সাধারণ নিয়মানুযায়ী ব্যতিক্রম করা সঠিক হয়, যা সংশ্লিষ্ট স্থানে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। এমতাবস্থায় আপত্তিটি অসার হয়ে যায়। এখন যদি আপনি বলেন: তবে তিনি কেন এখানে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি যেভাবে সেখানে করেছিলেন?
উত্তর হলো: এখানে তাঁর উদ্দেশ্য এটি নয় যে, এই কাব্যটি প্রকৃতপক্ষে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করা, বরং তাঁর উদ্দেশ্য সেখানে যা ছিল তার থেকে ভিন্ন। আর তা হলো, তিনি এখানে কেবল এটি জানাতে চেয়েছেন যে, তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি নাহু শাস্ত্রের অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলো ধারণ করেছে। কেননা নাহু শাস্ত্র দুই ধরনের আলোচনার সমষ্টি:
প্রথমটি হলো: কথোপকথনের সময় বাক্যের বিন্যাসে শব্দকে বিকৃতি ও আরবদের উচ্চারণরীতি থেকে বিচ্যুতি হতে রক্ষা করা, যাতে তাদের ভাষায় যা পেশ হওয়ার কথা তা যেন জবর বা জের না হয়ে যায়, এবং যা জবর হওয়ার কথা তা যেন পেশ বা জের না হয়। এবং যে বিষয়টি তাদের নিকট যে রূপ ও কাঠামোতে থাকার কথা, তা যেন অন্য কোনো রূপ ও কাঠামোতে প্রকাশিত না হয়; বরং তা যেন তাদের উচ্চারণের পথ ও সুবিদিত ব্যাকরণিক প্রথা অনুযায়ীই পরিচালিত হয়। সুতরাং আলোচিত বিষয়টি যদি এমন হয় যা আরবরা ইতিপূর্বেই বলে গিয়েছে এবং তাদের থেকে সংরক্ষিত রয়েছে, তবে তারা যেভাবে উচ্চারণ করেছে তা থেকে বিকৃত করা যাবে না। আর যদি তা এমন বাচনিক বিন্যাস হয় যা তাদের থেকে সংরক্ষিত নয়—হয়তো তারা তা বলেনি, অথবা তারা বলেছে কিন্তু আমাদের নিকট পৌঁছেনি, কিংবা কারও নিকট পৌঁছেছে আবার কারও নিকট পৌঁছেনি—সেক্ষেত্রে আমরা তাদের কালাম থেকে অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রাপ্ত ও প্রতিষ্ঠিত নিয়মাবলি প্রয়োগ করব।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
حتى توصلنا إلى موافقتهم، وحت نقطع أو يغلب على ظنوننا أنهم لو تكلموا بهذا لكان نطقهم كذا، فإذا تحصل لنا مجاراتهم في ذلك ومساواتهم كنا جديرين بأن نسمى مُعربين، واستحق المتصف منا بذلك أن يسمى نحويا، وهذا النوع هو المقصود من علم النحو، وهو الذي أراد الناظم أن يأتي به في هذا النظم، فلذلك قال: (مقاصد النحو بها محوية).
والنوع الثاني: التنبيه على أصول تلك القوانين وعلل تلك المقاييس والأنحاء التي نحت العرب في كلامها وتصرفاتها، مأخوذا ذلك كله من استقراء كلامها، وهذا النوع متمم وليس بواجب، ولا هو المقصود من علم النحو، فلذلك لم يتعرّض له الناظم. إذا لا يبنى عليه من حيث انتحاء سمت كلام العرب شيء، لكن لما كان هذا النوع لائقا بغرض الشرح لم أخل هذا الكتاب منه فيما استطعت، وعلى ما أعطيه الحال في شرح كلام الناظم والله المستعان.
وقوله: (تقرب الأقصى بلفظ موجز) له تفسيران:
أحدهما: أن يكون معنى الكلام أن هذه الأرجوزة تضم أطراف المعاني البعيدة عن التحصيل والضبط، فتضبطها بقوانين وجيزة مختصرة، حتى تجمعها سهلة الانقياد، لا تتعاصى على ذي فهم، ولا تشذ عن الضبط، ولعمري إنه لكما قال: إذا كان قد سهل فيها طريق التحصيل، ويسر الأمر على منتحلة، خلاف ما عليه كثير من التقدمين الذين لم يصلوا من الضبط والتنقيح إلى ما وصل إليه وعلى
যাতে আমরা তাদের সংগতির পর্যায়ে পৌঁছাতে পারি এবং আমরা নিশ্চিত হতে পারি অথবা আমাদের প্রবল ধারণা হয় যে, তারা যদি এই বিষয়ে কথা বলত তবে তাদের উচ্চারণ এমনটিই হতো। যখন আমাদের জন্য তাদের সাথে এই বিষয়ে তাল মিলিয়ে চলা এবং সমতা অর্জন সম্ভব হয়, তখন আমরা ‘মু’রিব’ (বিশুদ্ধভাবে ব্যক্তকারী) নাম ধারণের যোগ্য হই এবং আমাদের মধ্য থেকে যে এই গুণে গুণান্বিত হয় সে ‘নাহবী’ (ব্যাকরণবিদ) হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হয়। আর এই প্রকারটিই হলো নাহব বিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য এবং এটিই সেই বিষয় যা কাব্যকার এই কাব্যের মাধ্যমে নিয়ে আসার ইচ্ছা করেছেন। এই কারণেই তিনি বলেছেন: (নাহব বা ব্যাকরণের উদ্দেশ্যসমূহ এতে সংকলিত হয়েছে)।
দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: সেই সকল নিয়মের মূলভিত্তি এবং সেই সকল পরিমাপ ও পদ্ধতির কারণসমূহের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যা আরবরা তাদের কথাবার্তা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছে; আর এই সমস্ত কিছু তাদের বাচনভঙ্গির গভীর পর্যালোচনার মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে। এই প্রকারটি কেবল পরিপূরক মাত্র এবং এটি অপরিহার্য নয়, এমনকি এটি নাহব বিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্যও নয়। এই কারণে কাব্যকার একে আলোচনার বিষয়বস্তু করেননি। কারণ, আরবদের বাচনভঙ্গির পথ অনুসরণের ক্ষেত্রে এর ওপর কোনো কিছু ভিত্তি করে না। কিন্তু যেহেতু এই প্রকারটি ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ, তাই আমি আমার সাধ্যমতো এই গ্রন্থটিকে তা থেকে খালি রাখিনি এবং কাব্যকারের কথা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি যা দাবি করে সেই অনুযায়ী তা প্রদান করেছি। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
এবং তাঁর উক্তি: (এটি সুদূরপ্রসারী অর্থকে সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে নিকটবর্তী করে দেয়) এর দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে:
একটি হলো: কথার অর্থ এই যে, এই কাব্যটি এমন সব দূরবর্তী অর্থগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা আয়ত্ত করা এবং সুশৃঙ্খল করা কঠিন। অতঃপর এটি সেই অর্থগুলোকে সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ নিয়মের মাধ্যমে শৃঙ্খলিত করে দেয়, এমনকি সেগুলোকে সহজে অনুকরণযোগ্য করে একত্রিত করে, যা কোনো বুদ্ধিমানের কাছে দুর্বোধ্য হয় না এবং শৃঙ্খলা থেকে বিচ্যুতও হয় না। আমার জীবনের শপথ! এটি ঠিক তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন: যেহেতু তিনি এতে জ্ঞান অর্জনের পথ সহজ করে দিয়েছেন এবং এর অনুসারীদের জন্য বিষয়টিকে সুগম করেছেন; যা অনেক পূর্বসূরিদের অবস্থার বিপরীত, যারা বিন্যাস ও পরিমার্জনের ক্ষেত্রে সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেননি যে পর্যায়ে তিনি পৌঁছেছেন এবং...
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
هذا المعنى نبه في خطبة التسهيل بقوله: وإذا كانت العلوم منحا إلاهية ومواهب اختصاصية، فغير مستبعد أن يدخر لبعض المتأخرين ما عسر على كثير من المتقدمين.
والثاني: من التفسيرين أن يكون معنى قوله: (تقرب الأقصى) أي تجمع أشتات المعاني الكثيرة في الفظ اليسير، إشارة منه إلى الاختصار الذي نحاه مما بَعُدَ على غيره جمعه من المعاني الكثيرة قربه هو اللفظ الموجز، وإنه لكما قال: فإنه يأتي بالقانون الواحد في الألفاظ اليسيرة، يضبط به ما يأتي به الأقدمون من النحويين في ورقة أو ورقتين، وليس في هذه الأرجوزة في الغالب لفظةٌ لغير معنى، ولا لمجرد ضرورة وزن أو قافية، بل كل لفظ فيها تحته معنى أو معان، فقد أخلاها من الحشو إلا نادرا، حتى أنه كثيرا ما يشح بالألفاظ إذا فهم معناها كحروف العطف وغيرها، وقد يأتي بالمثال ليستقرئ منه شروط الباب أو قانونه حرصا على قلة الألفاظ وكثرة المعاني، وسترى ذلك في أثناء كلامه إن شاء الله تعالى، ويتعلق قوله: (بلفظ موجز) على هذا التفسير بالفعل المتقدم، وعلى الوجه الأول باسم فاعل حال: أي: تقرب الأقصى كائنا بلفظ موجز، وهذا الوجه أيضا مما يدخل تحت مقصود كلامه في خطبة "التسهيل" وكان التفسير الأول أولى: إذْ كان يتضمن الثاني بقوله (بلفظ موجز) ولا يتضمن الثاني الأول.
وقوله: (وتبسط البذل بوعد منجز) يحتمل وجهين أيضا:
أحدهما: أن يكون عبارة عن إتيانه بالقوانين والضوابط موفاةً،
এই বিষয়টি তিনি 'তাসহীল'-এর ভূমিকায় তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সজাগ করেছেন: "যেহেতু জ্ঞানসমূহ হলো ঐশী দান ও বিশেষ বিশেষ অনুগ্রহ, তাই পূর্ববর্তীদের অনেকের জন্য যা কঠিন ছিল, তা পরবর্তীদের কারো জন্য জমিয়ে রাখা অসম্ভব কিছু নয়।"
ব্যাখ্যাদ্বয়ের দ্বিতীয়টি হলো—তাঁর কথা "দূরবর্তীকে নিকটবর্তী করে"-এর অর্থ হলো: সামান্য শব্দের মধ্যে বহুবিধ অর্থের সমাবেশ ঘটানো। এর মাধ্যমে তিনি সেই সংক্ষিপ্তকরণের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যা তিনি অবলম্বন করেছেন; ফলে অন্যদের জন্য যা একত্রিত করা দুরূহ ছিল, তিনি তা সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে নিকটবর্তী করেছেন। আর বিষয়টি ঠিক তেমনই যেমন তিনি বলেছেন। কেননা, তিনি সামান্য শব্দে এমন একটি মূলনীতি নিয়ে আসেন, যার মাধ্যমে তিনি প্রাচীন নাহুবিদদের এক বা দুই পৃষ্ঠার আলোচনাকে আয়ত্ত করেন। এই কাব্যগ্রন্থে সাধারণত এমন কোনো শব্দ নেই যা অর্থহীন, কিংবা যা কেবল ছন্দ বা অন্ত্যমিলের প্রয়োজনে আনা হয়েছে; বরং এর প্রতিটি শব্দের নিচে একটি বা একাধিক অর্থ নিহিত রয়েছে। তিনি বিরল ক্ষেত্র ব্যতীত একে নিরর্থক বাহুল্য থেকে মুক্ত রেখেছেন। এমনকি প্রায়শই তিনি শব্দের ব্যবহারে কার্পণ্য করেন যদি তার অর্থ বোঝা যায়—যেমন সংযোজক অব্যয় ও অন্যান্য ক্ষেত্রে। শব্দের স্বল্পতা ও অর্থের আধিক্যের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তিনি কখনো কখনো কেবল উদাহরণ পেশ করেন যাতে তা থেকে সেই অধ্যায়ের শর্তাবলি বা মূলনীতি বের করে নেওয়া যায়। ইনশাআল্লাহ তাআলা তাঁর আলোচনার মাঝখানে আপনি তা দেখতে পাবেন। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী তাঁর বক্তব্য "সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে" পূর্ববর্তী ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর প্রথম মত অনুযায়ী এটি একটি অবস্থাজ্ঞাপক পদ (হাল) হিসেবে গণ্য হবে; অর্থাৎ: সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে সে দূরবর্তীকে নিকটবর্তী করে। এই মতটিও 'তাসহীল'-এর ভূমিকার বক্তব্যের উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত। তবে প্রথম ব্যাখ্যাটিই অধিকতর উত্তম; কেননা এতে "সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে" কথাটির দ্বারা দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, কিন্তু দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি প্রথমটিকে অন্তর্ভুক্ত করে না।
আর তাঁর বক্তব্য "এবং দ্রুত প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে দানকে প্রশস্ত করে"-এরও দুটি অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে:
একটি হলো, এটি তাঁর পক্ষ থেকে মূলনীতি ও নিয়মাবলি পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থাপন করার একটি অভিব্যক্তি।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وبالأبواب مكملة المقاصد. مضمومة الأطراف، بحسب ما يُحتاج إليه، لا ينقص ذلك عن المطلوب المقصود، ولا يختل له فيه قانون، فمتى طلبت منها -أعنى من الأرجوزة- مسألة أو بابا أو قانونا وجدته فيها موفى لا تفتقر إلى نظر في غيرها، فوعده فيها منجز لا تأخير فيه عن حال الْتماسك الفائدة، ليست كغيرها من الكتب التي تقع فيها المسائل ناقصة الأغراض والأبواب، مبتورة المقاصد، غير مستوفاة الأقسام.
والثاني: أن يكون المعنى مؤكدا لما تقدم في القسم الأول من أنها سهلة الملتمس لا يصعب فهمها على اللبيب، ولا يقف دون الوصول إلى حاجته منها لقربها من الأفهام، وإحكام ضبطها للقوانين والمسائل، وهذا المعنى غير بعيد أن يكون قصده.
و(الأقصى) ضد الأدنى، أي تقرب الأبعد على الطالب، و (البذل): العطاء ومعنى تبسط البذل، أي توسعه وتكثرة، ويقال: بسط يده بالعطاء، إذا وسعه وكثّر فيه، وهو إشارة إلى كثرة فوائد هذه القصيدة مع إيجاز لفظها، والوعد المنجز، معناه المُحْضَرُ. يقال: بعته ناجزا بناجز، أي حاضرا بحاضر لا نسيئة فيه.
***
وتقتضي رضا بغير سخط فائقة ألفية ابن معط
وهو بسبق حائز تفضيلا مستوجب ثنائيَ الجميلا
والله يقضي بهبات وافرة لي وله في درجات الآخرة
أصل قضى أن يكون بمعنى حَكَمَ، وعلى هذا الأصل جرت مُتصرَّفاتُها في الاشتقاق وقضى بمعنى أدى منه أيضا. ويقال: اقتضى دينه، إذا طلب قضاءه، وكلام فلان يقتضي كذا، أي يطلب الحكم به.
والرضا: مصدر رضى عنه يرضى رضا بالقصر، وقد
অধ্যায়গুলোর মাধ্যমে এটি উদ্দেশ্যসমূহকে পূর্ণকারী। এর পরিধিগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত হয়েছে যেমনটি প্রয়োজন। এটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র কম নয় এবং এর কোনো নিয়ম এতে বিঘ্নিত হয়নি। সুতরাং যখনই আপনি এর থেকে—অর্থাৎ এই আরজুযা থেকে—কোনো মাসআলা, অধ্যায় বা নিয়ম খুঁজবেন, তখনই আপনি তা এতে পরিপূর্ণ অবস্থায় পাবেন। এটি অন্য কোনো কিতাবের ওপর নির্ভর করার মুখাপেক্ষী করে না। এর মধ্যকার প্রতিজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়িত, উপকার লাভের ক্ষেত্রে এতে কোনো বিলম্ব নেই। এটি অন্য সকল কিতাবের মতো নয় যাতে মাসআলাগুলো অপূর্ণ উদ্দেশ্য ও অধ্যায় হিসেবে আসে, যার লক্ষ্যগুলো থাকে বিচ্ছিন্ন এবং ভাগগুলো অসম্পূর্ণ।
দ্বিতীয়ত: এর অর্থ যেন প্রথম অংশে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা নিশ্চিত করে যে, এর অন্বেষণ সহজ, একজন বুদ্ধিমানের জন্য এটি বোঝা কঠিন নয়। এর দ্বারা স্বীয় প্রয়োজনে পৌঁছাতে কোনো বাধা নেই, কারণ এটি বোধগম্যতার নিকটবর্তী এবং এতে নিয়ম ও মাসআলাগুলো সুদৃঢ়ভাবে বিন্যস্ত। আর এই অর্থটিই লেখকের উদ্দেশ্য হওয়া বিচিত্র নয়।
আর ‘সুদূর’ শব্দটি ‘নিকটবর্তী’ শব্দের বিপরীত, অর্থাৎ এটি অন্বেষণকারীর নিকট দূরবর্তী বিষয়কে নিকটবর্তী করে দেয়। আর ‘দান’ অর্থ প্রদান করা। ‘দান প্রসারিত করা’ এর অর্থ হলো—তা প্রশস্ত ও বৃদ্ধি করা। বলা হয়: সে দানের মাধ্যমে তার হাত প্রসারিত করেছে, যখন সে তা প্রশস্ত ও অধিক করেছে। এটি এই কাসিদার শব্দ সংক্ষিপ্ত হওয়ার সাথে সাথে এর উপকারের আধিক্যের প্রতি একটি ইঙ্গিত। আর ‘বাস্তবায়িত প্রতিজ্ঞা’ এর অর্থ হলো—উপস্থিত বা নগদ। বলা হয়: আমি তার কাছে নগদে নগদ বিক্রি করেছি, অর্থাৎ উপস্থিত বস্তুর বিনিময়ে উপস্থিত বস্তু, যাতে কোনো বাকি নেই।
***
আর এটি ক্রোধহীন সন্তুষ্টি দাবি করে, যা ইবনে মু’তির আলফিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি অগ্রবর্তী হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, তিনি আমার সুন্দর প্রশংসার দাবিদার।
আর আল্লাহ পরকালের উচ্চ মাকামে আমার জন্য এবং তাঁর জন্য প্রচুর দান মঞ্জুর করবেন।
‘মীমাংসা করা’ শব্দের মূল অর্থ হলো ‘হুকুম প্রদান করা’। এই মূলের ওপর ভিত্তি করেই এর ব্যুৎপত্তিগত সকল রূপান্তর আবর্তিত হয়। ‘মীমাংসা করা’ শব্দটি ‘আদায় করা’ অর্থ থেকেও আসে। বলা হয়: সে তার ঋণ পরিশোধের দাবি করেছে, যখন সে তা আদায়ের তলব করে। আর অমুকের কথা এমন কিছু দাবি করে, অর্থাৎ এর মাধ্যমে সেই হুকুমটি তলব করা হয়।
আর ‘সন্তুষ্টি’ শব্দটি ‘সে তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে’ ক্রিয়ামূল থেকে আগত একটি বিশেষ্য, যা হ্রস্ব ‘আলিফ’ যোগে গঠিত, আর নিশ্চয়ই এটি...
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يكون الاسم، وحكى الجوهري عن الأخفش المد في الاسم. والسُّخطُ والسَّخّطُ: خلاف الرضا.
ويقال: سخط عليه، إذا غضب عليه فهو ساخط، وأسخطه، أي أغضبه.
ويقال أيضا: رضيت عمل فلان وسخطته، وعلى هذا المعنى الثاني يجري كلام الناظم والله أعلم، والمعنى أنها تقتضي الرضا، أي الحكم به يعني برضا ناظمها، وليست بمقتضية سخطا أصلا، و (فائقة) حال من الضمير في تقتضي أي تقتضي الرضا بألفية ابن معط، حال كونها فائقة لها، وكأن الكلام جاء على الإعمال، لأن (ألفية) في البيت يطلبه المصدر الذي هو (رضا)، و (فائقة) في البيت الآخر.
وإن قلت: إن سخط يطلبه كذلك فهو صحيح، فيكون مما طلب: المعمول فيه ثلاثة عوامل، كقول الحطيئة:
سئلت فلم تبخل ولم تعط طائلا
على مذهب المؤلف وجماعة. ويقال: فاق الرجل أصحابه، إذا علاهم بالشرف أو غيره، ومراده أن ينبه على أن نظمه لهذه الأفية ليس معارضة لابن معط في ألفيته، ولا لسخط يتعلق بها منه، بل هو جار على سبيل الرضا بما صنع ابن معط وإن كانت هذه قد فاقتها بأوصاف حسان كتثقيف
ইসম বা নামের ক্ষেত্রে এটি হয়, আর আল-জাওহারী আল-আখফাশ থেকে 'ইসম' শব্দে 'মাদ' (দীর্ঘস্বর) হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন। আর 'আস-সুখত' এবং 'আস-সাখাত' হলো সন্তুষ্টির বিপরীত।
বলা হয়ে থাকে: 'সে তার ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছে', যখন সে তার ওপর রাগান্বিত হয় তখন সে 'সাখিত' (অসন্তুষ্ট), আর 'আসখাতাহু' অর্থ সে তাকে রাগান্বিত করেছে।
আরও বলা হয়: 'আমি অমুকের কাজে সন্তুষ্ট হয়েছি এবং তাতে অসন্তুষ্ট হয়েছি'। এই দ্বিতীয় অর্থের ওপর ভিত্তি করেই কাব্যকারের বক্তব্য পরিচালিত হয়েছে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। এর অর্থ হলো এটি সন্তুষ্টি দাবি করে, অর্থাৎ এর রচয়িতার সন্তুষ্টির মাধ্যমেই এর ফয়সালা নির্ধারিত হয়। এটি আদতে কোনো অসন্তুষ্টির দাবি রাখে না। আর 'ফাইকাহ' (শ্রেষ্ঠত্ব লাভকারী) শব্দটি 'তাকতাদি' ক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত সর্বনাম থেকে 'হাল' বা অবস্থা নির্দেশক হয়েছে; অর্থাৎ ইবনে মু'তির আলফিয়ার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশের অবস্থায় এটি তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভকারী। বিষয়টি এমনভাবে এসেছে যেন এখানে 'ই'মাল' (আমল প্রদান) এর নিয়ম প্রযুক্ত হয়েছে, কারণ কাব্যপংক্তিতে 'আলফিয়া' শব্দটিকে 'রিদা' নামক মাসদারটি (ক্রিয়ামূল) আমেল হিসেবে দাবি করছে, আবার পরবর্তী পংক্তিতে 'ফাইকাহ' শব্দটিও তাকে দাবি করছে।
আর আপনি যদি বলেন: 'সুখত' শব্দটিও একইভাবে একে দাবি করছে, তবে তাও সঠিক হবে। সেক্ষেত্রে এটি এমন উদাহরণ হবে যেখানে একটি 'মামউল'কে তিনটি 'আমেল' (ক্রিয়া বা প্রভাবক) দাবি করেছে, যেমন হুতাইয়াহ এর উক্তি:
তোমার কাছে যাচনা করা হয়েছে, ফলে তুমি কার্পণ্য করোনি এবং প্রচুর দানও করোনি
এটি গ্রন্থকার এবং একটি দলের মত অনুযায়ী। আর বলা হয়: 'ব্যক্তিটি তার সাথীদের ছাড়িয়ে গেছে', যখন সে মর্যাদা বা অন্য কিছুর মাধ্যমে তাদের ঊর্ধ্বে আরোহণ করে। তাঁর (গ্রন্থকারের) উদ্দেশ্য হলো এই বিষয়ে সচেতন করা যে, তাঁর এই আলফিয়া রচনা করা ইবনে মু'তির আলফিয়ার কোনো বিরোধিতা নয় এবং এর প্রতি তাঁর কোনো অসন্তুষ্টিও নেই; বরং ইবনে মু'তি যা করেছেন তার প্রতি সন্তুষ্ট থেকেই এটি রচিত হয়েছে, যদিও এই আলফিয়াটি কিছু সুন্দর বৈশিষ্ট্যের কারণে—যেমন সুবিন্যস্তকরণ—তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأبواب، وتصحيح القوانين والتوفية بشروطها، واختصار الألفاظ مع كثرة المعاني، إذا كل من نظر فيهما يعلم أنها قد فاقتها بهذه الأوصاف، فالناظم بين أنها حال شُفُوفها على ألفية ابن معط ليست بمقتضية لسخط، بل هي مقتضية للرضا المحض الذي لا يشوبه شيء، وهذا شأن العلماء والفضلاء، أن يأتوا بالفائدة مجردة من التنكيت والاستصغار لما جاء به غيرهم وإن كان ما يأتون به أتم وأكمل، وألفية ابن معط مشهورة بأيدي الناس، وهي ذات محاسن من تقريب المرام للأفهام وعذوبة المساق، وسهولة الحفظ، والبيان بالمثل مع قلة الحشو، مع أنها مؤذنة بفصاحة صاحبها، شاهدة له بجودة القريحة، وسعة العلم، وقد نظم في مدحها بعض من اعتنى بشرحها فقال:
الدرة المنظومة الألفية
… أجَلُّ ما في الكتب النحوية
لكونها في حجمها صغيرة
… جليلة في قدرها كبيرة
قد ضبطت أصل كلام العرب
… واختصرت ما في الطوال الكتب
من أجل ذاك لقبت بالدرة
… واشتهرت في الناس أي شهرة
نظمها الشيخ الإمام يحيى فذكره يبقى ويحيا
على ممر الدهر والأعصار
… وحيثما حلت من الأمصار
فرحمه الله مع السلام
… عليه من علّامة إمام
পরিচ্ছেদসমূহ বিন্যাস, নিয়মাবলি সংশোধন ও শর্তাবলি পূর্ণ করা এবং অর্থের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও শব্দের সংক্ষেপণের ক্ষেত্রে; কেননা যারা এই উভয়টির প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন তারা জানতে পারবেন যে, এটি এই গুণাবলির মাধ্যমে সেটিকে ছাড়িয়ে গেছে। সুতরাং রচয়িতা স্পষ্ট করেছেন যে, ইবনে মু'তির আলফিয়্যাহর ওপর এটির শ্রেষ্ঠত্ব কোনো অসন্তুষ্টির দাবি রাখে না; বরং এটি নিখাদ সন্তুষ্টিরই দাবি রাখে যাতে কোনো কিছুর মিশ্রণ নেই। আর এটিই হলো উলামায়ে কেরাম ও গুণীজনদের বৈশিষ্ট্য যে, তাঁরা অন্যের কাজের প্রতি বিদ্রূপ বা অবজ্ঞা না করে কেবল ফায়দাটুকু উপস্থাপন করেন, যদিও তাঁদের উপস্থাপিত বিষয়টি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত হয়ে থাকে। আর ইবনে মু'তির আলফিয়্যাহ মানুষের কাছে সুপরিচিত, এবং এটি উদ্দেশ্যসমূহকে বোধগম্য করে তোলা, সাবলীল বর্ণনাভঙ্গি, মুখস্থ করার সহজসাধ্যতা এবং বাহুল্যবর্জিত উদাহরণের মাধ্যমে বর্ণনার মতো অনেক সৌন্দর্যের অধিকারী। এর পাশাপাশি এটি রচয়িতার প্রাঞ্জল ভাষার পরিচায়ক এবং তাঁর চমৎকার মেধা ও জ্ঞানের প্রশস্ততার সাক্ষ্য বহন করে। এর কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার এর প্রশংসায় কাব্য রচনা করে বলেছেন:
এই ছন্দোবদ্ধ মুক্তাসদৃশ আলফিয়্যাহ
… নাহু শাস্ত্রের কিতাবসমূহের মাঝে অতি মহান
কেননা এটি আকারে ক্ষুদ্র হওয়া সত্ত্বেও
… এর মর্যাদা অতি উচ্চ ও সুমহান
এটি আরবদের বাক্যের মূলনীতিসমূহকে সুবিন্যস্ত করেছে
… এবং দীর্ঘ কিতাবসমূহের বিষয়বস্তুকে সংক্ষেপ করেছে
সেই কারণেই একে 'আল-দুররা' (মুক্তা) উপাধি দেওয়া হয়েছে
… এবং মানুষের মাঝে এটি পূর্ণ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে
এটি রচনা করেছেন শায়খ ইমাম ইয়াহইয়া, ফলে তাঁর স্মরণ চিরস্থায়ী ও জীবন্ত হয়ে থাকবে
যুগ ও কালের পরিক্রমায়
… এবং জনপদসমূহের যেখানেই এটি পৌঁছাবে
সুতরাং এই মহাজ্ঞানী ইমামের ওপর আল্লাহর রহমত
… এবং শান্তি বর্ষিত হোক
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وابن معط ناظم الألفية التي أشار إليها ابن مالك هو زين الدين أبو زكريا يحيى بن معط بن عبدالنور المغربي الأصل والمنشأ، الزواويُّ القبيلة الجزائري البلد، اشتغل بالعربية في المغرب على شيخه أبي موسى عيسى بن يلَلْبخْت الجُزُولِيّ فتهمر فيها، ثم رحل إلى بلاد المشرق فلقي المشايخ، وباحث العلماء وناظر الفضلاء، ثم أقام بدمشق فولّاه الملك المعظم النظر في مصالح المسجد، وفي ذلك الوقت نظم هذه الأرجوزة، وكان معاصرا لتاج الدين أبي اليمن زيد بن الحسن الكندي البغدادي، فكانا في عصرهما رئيسَىْ أهل الأدب في دمشق، فلما توفي الملك المعظم نقل الملك الكامل أبا زكريا إلى مصر، فأقام بها إلى أن توفي رحمه الله يوم الاثنين في آخر يوم من ذي القعدة، ودفن يوم الثلاثاء أول يوم من ذي الحجة بالقرافة، سنة ثمان وعشرين وستمائة، وكان رحمه الله مبرّزا في علم الأدب قادرا على النظم للعلوم، نظم هذه الأرجوزة ونطم العروض، وشرع في نظم للعلوم، نظم هذه الأرجوزة ونظم العروض، وشرع في نظم كتاب "الصحاح" للجوهري فتوفي قبل إتمامه، وله
ইবনে মু'তি, যিনি আলফিয়্যার রচয়িতা যেটির দিকে ইবনে মালিক ইশারা করেছেন, তিনি হলেন জাইন উদ্দীন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মু'তি ইবনে আবদুন নূর। তার মূল ও জন্ম মরক্কোতে, বংশীয়ভাবে তিনি যাওয়াবি গোত্রের এবং দেশীয়ভাবে আলজেরীয়। তিনি মরক্কোতে তার শায়খ আবু মুসা ঈসা ইবনে ইলালবাখত আল-জুজুলির নিকট আরবি ভাষা চর্চা করেন এবং তাতে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। অতঃপর তিনি প্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে সফর করেন এবং সেখানকার মাশায়েখদের সাথে সাক্ষাৎ করেন, আলেমদের সাথে গবেষণা করেন এবং বিজ্ঞজনদের সাথে জ্ঞানতাত্ত্বিক বিতর্কে লিপ্ত হন। এরপর তিনি দামেস্কে অবস্থান করেন এবং বাদশাহ আল-মুয়ায্যাম তাকে মসজিদের বিষয়াবলী দেখাশোনার দায়িত্ব অর্পণ করেন। সেই সময়েই তিনি এই আরজুযা (কবিতা) রচনা করেন। তিনি তাজ উদ্দীন আবু আল-ইয়ামান জাইদ ইবনে হাসান আল-কিন্দি আল-বাগদাদির সমসাময়িক ছিলেন। তারা উভয়েই তাদের যুগে দামেস্কের সাহিত্যিকদের প্রধান ছিলেন। যখন বাদশাহ আল-মুয়ায্যাম মৃত্যুবরণ করেন, তখন বাদশাহ আল-কামিল আবু জাকারিয়াকে মিশরে নিয়ে যান। তিনি সেখানে অবস্থান করেন এবং অবশেষে সোমবার যিলকদ মাসের শেষ দিনে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন)। তাকে মঙ্গলবার যিলহজ মাসের প্রথম দিনে কারাফায় দাফন করা হয়, বছরটি ছিল ৬২৮ হিজরি। তিনি (আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন) সাহিত্য শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন এবং বিভিন্ন জ্ঞানকে ছন্দোবদ্ধ করতে সক্ষম ছিলেন। তিনি এই আরজুযা এবং ছন্দশাস্ত্র (আরুজ) ছন্দোবদ্ধ করেছেন। তিনি জাওহারির "আস-সিহাহ" গ্রন্থটি ছন্দোবদ্ধ করতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু তা সম্পন্ন করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন। তার আরও রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
من التواليف غير المنظومة كتاب "الفصول" وهو كتاب حسن، وتعليقات على أبواب الجزولية وغير ذلك، ومن وقف على تصانيفه المذكورة علم غزارة علمه وقوة فهمه، وجودة طبعة، وفصاحة نظمه.
ثم قال: (وهو بسبق حائز تفضيلا) إلى آخره. الضمير عائد على ابن معط.
والسّبق: التقدم في الأمر، والحائز هو المستولي على الشيء. يقال: حاز الشيء، إذا ضمه إلى نفسه. والتفضيل: الحكم بالفضل للشيء على غيره أو تصييره صاحب فضل. يقال: فضلت فلانا على فلان: إذا حكمت له بالفضل عليه أو صيرته كذلك والفضل والفضيلة خلاف النقص والنقيصة، ونسب إليه حوز التفضيل، والتفضيل هو فعل المفضل، لا وصف للمفضل، وإنما وصْفُهُ الفضلُ، فكان الأولى أن يقول: وهو بسبق حائزٌ فضلا لكن لما حاز سببه وهو السبق في هذه المكرمة صار كأنه حاز المسبب، وهو التفضيل بحوزه للسبب الذي هو السبق، أو لأن التفضيل به يتعلق فنسب حوزه إليه لأجل ذلك. والمستوجب هو المستحق.
والثناء -بالمد وتقديم الثاء: هو ذكر الرجل بما فيه من الأوصاف الحسنة. يقال: أثنيت على أبي وعلى شيخي، أثنى عليه إثناءن والاسم الثناء
গদ্য রচনার মধ্যে রয়েছে 'আল-ফুসুল' নামক গ্রন্থ, যা একটি চমৎকার কিতাব; এছাড়াও জাযুলিয়্যাহ-এর অধ্যায়গুলোর উপর টীকা এবং আরও অন্যান্য রচনা। যে ব্যক্তি তার উল্লিখিত রচনাগুলো পর্যবেক্ষণ করবে, সে তার ইলমের গভীরতা, প্রজ্ঞার প্রখরতা, স্বভাবজাত উৎকর্ষ এবং কাব্যিক সাবলীলতা সম্পর্কে অবগত হবে।
অতঃপর তিনি বললেন: (এবং তিনি অগ্রবর্তী হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী) শেষ পর্যন্ত। এখানে সর্বনামটি ইবনে মু’তির দিকে ফিরেছে।
'সাবক' (অগ্রগামিতা) অর্থ কোনো বিষয়ে এগিয়ে থাকা। আর 'হায়েয' অর্থ কোনো বস্তুর অধিকার লাভকারী। বলা হয়: সে বস্তুটি করায়ত্ত করেছে, যখন সে তা নিজের সাথে যুক্ত করে নেয়। আর 'তাফদীল' (শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান) অর্থ হলো কোনো বস্তুকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্বের হুকুম দেওয়া অথবা তাকে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী করে তোলা। বলা হয়: আমি অমুককে অমুকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি—যখন আপনি তার জন্য শ্রেষ্ঠত্বের ফয়সালা করেন অথবা তাকে তেমনটি করে দেন। 'ফদল' (শ্রেষ্ঠত্ব) এবং 'ফযীলত' শব্দ দুটি 'নকস' (ত্রুটি) ও 'নকীসাহ'-এর বিপরীত। এখানে তার দিকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের সম্বন্ধ করা হয়েছে, অথচ 'তাফদীল' (শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান) হলো শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানকারীর কাজ, যাকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হচ্ছে তার গুণ নয়; বরং তার গুণ হলো 'ফদল' (শ্রেষ্ঠত্ব)। তাই অধিকতর সঙ্গত ছিল এ কথা বলা যে: 'তিনি অগ্রবর্তী হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন'। কিন্তু যেহেতু তিনি এর কারণ তথা এই মর্যাদাপূর্ণ কাজে অগ্রগামিতা অর্জন করেছেন, তাই মনে হচ্ছে যেন তিনি এর ফলাফল তথা শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করার বিষয়টি অর্জন করেছেন তার কারণ তথা অগ্রগামিতা অর্জনের মাধ্যমে। অথবা যেহেতু শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের বিষয়টি তার সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই সেই কারণে তার দিকে এটি অর্জনের সম্বন্ধ করা হয়েছে। আর 'মুস্তাওজিব' অর্থ হলো পাওনাদার বা যোগ্য ব্যক্তি।
আর 'সানা'—দীর্ঘস্বর যোগে এবং শুরুতে 'সা' বর্ণ দিয়ে—এর অর্থ হলো কোনো ব্যক্তির বিদ্যমান উত্তম গুণাবলি উল্লেখ করা। বলা হয়: আমি আমার পিতা ও আমার শিক্ষকের প্রশংসা করেছি। তিনি তার প্রশংসা করেছেন, আর এর বিশেষ্য পদ হলো প্রশংসা।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
هذا ما ذكره الجوهري والأعلم من أن الثناء المختص بالخير بخلاف النَّثَا -بتقديم النون والقصر- فإنه في الخير والشر.
وحكى غيرهما أن الثناء الممدود يكون في الخير والشر كالثنا المقصور وأنه يقال: أثنيت عليه خيرا وأثنيت عليه شرا، وإياه ذكر ابن القوطية، وإلى الأول مآل ابن السيد فذكر أن الغالب على الثناء الممدود أن يستعمل في الخير دون الشر، بخلاف النثا المقصور كما تقدم، قال: وقد جاء الثناء الممدود في الشر إلا أنه قليل، ومحمول على ضرب من التأويل، وأنشد أبو عمر المطرز عن ثعلب:
জাওহারী এবং আল-আ'লাম এই উল্লেখই করেছেন যে, দীর্ঘ স্বরের 'ছানা' কেবল কল্যাণের সাথেই সংশ্লিষ্ট, যা 'নাছা'-এর বিপরীত—যেখানে নূন অক্ষরটি শুরুতে আসে এবং স্বর হ্রস্ব হয়—কেননা 'নাছা' কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ বর্ণনা করেছেন যে, দীর্ঘ স্বরের 'ছানা' হ্রস্ব স্বরের 'ছানা'-র মতোই কল্যাণ এবং অকল্যাণ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হতে পারে। আর বলা হয়ে থাকে: "আমি তার কল্যাণকর ছানা করেছি" এবং "আমি তার অকল্যাণকর ছানা করেছি।" ইবনে আল-কুতিয়্যাহ এটিই উল্লেখ করেছেন। আর ইবনে আল-সাইয়িদের অভিমত প্রথমটির দিকেই ধাবিত হয়; তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘ স্বরের 'ছানা' সাধারণত কল্যাণের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, অকল্যাণের ক্ষেত্রে নয়; যা পূর্বে আলোচিত হ্রস্ব স্বরের 'নাছা'-এর বিপরীত। তিনি বলেন: অকল্যাণের অর্থেও দীর্ঘ স্বরের 'ছানা' প্রয়োগ হয়েছে, তবে তা খুব সামান্য এবং তা এক প্রকার ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল। আবু উমর আল-মুতাররিয ছা'লাব থেকে বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أثني عليَّ بما علمت فإنني
… أثني عليك بمثل ريح الجورب
ثم جوز أن يكون المعنى: إني أقيم لك الذم مقام الثناء، كما قال تعالى ((فبشرهم بعذاب أليم))، والعذاب ليس ببشارة، وإنما المعنى: إني أقيم لهم الانذار بالعذاب الأليم مقام البشارة. قال: فإذا حمل على هذا التأويل لم يكن في البيت حجة، ولما كان إطلاق لفظ الثناء محتملا بحسب هذا الخلاف، حرر الناظم رحمه الله عبارته وبين مراده وقصده، فوصف الثناء بالجمال فقال: "مستوجب ثنائي الجميلا" ليظهر للعيان شكره لما صنع ابن معط، ومدحه له. والجميل اسم فاعل من جمل الرجل -بالضم- جمالا فهو جميل، وامرأة جميلة، وجملاء -بالمد- والجَمَال: الحسنُ، وهذا كله إقرار منه لابن معط بفضل السَّبقية، وأن لابن معط الفضل عليه من جهة كونه تابعا له، ومقتفيا أثره، وسالكا على طريقه، وهكذا الأر في نفسه، فإن السابق له فضيلة ظاهرة على غيره من اللاحقين، إذا كان اللاحق مهتديا بناره، مقتديا بفعله، فكانا كالإمام والمأموم.
روى أن إسحاق بن إبراهيم لما صنع كتابه في "النغم واللحون"
আমার সে গুণাবলি দ্বারা প্রশংসা করো যা তুমি জানো, কেননা আমি
… মোজার দুর্গন্ধের ন্যায় তোমার প্রশংসা করছি।
অতঃপর তিনি সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছেন যে, এর অর্থ হতে পারে: আমি প্রশংসার স্থলে তোমার জন্য নিন্দাকে স্থলাভিষিক্ত করছি, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "সুতরাং তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন"। অথচ শাস্তি কোনো সুসংবাদ নয়, বরং এর অর্থ হলো: আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সতর্কবাণীকে সুসংবাদের স্থলাভিষিক্ত করছি। তিনি বলেন: যখন এই ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করা হবে, তখন এই পংক্তিতে কোনো প্রমাণ থাকবে না। আর যেহেতু 'ছানা' (প্রশংসা) শব্দের প্রয়োগ এই মতপার্থক্যের কারণে দ্ব্যর্থবোধক হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তাই নাযিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর শব্দচয়নকে সুনির্দিষ্ট করেছেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে স্পষ্ট করেছেন। ফলে তিনি প্রশংসাকে 'সুন্দর' বিশেষণে বিশেষিত করেছেন এবং বলেছেন: "আমার সুন্দর প্রশংসার দাবিদার", যাতে ইবনে মু'তি যা করেছেন তার প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা এবং তাঁর প্রশংসা মানুষের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর 'জামিল' শব্দটি 'জামুলা' (পেশ যোগে) থেকে সৌন্দর্য অর্থে ব্যবহৃত হয়; সুতরাং ব্যক্তিটি সুন্দর, আর নারীটি সুন্দরী এবং 'জামলা' (দীর্ঘস্বর যোগে)। 'জামাল' অর্থ হলো সৌন্দর্য। এসবই ইবনে মু'তির অগ্রগণ্য হওয়ার শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি তাঁর পক্ষ থেকে এক প্রকার স্বীকৃতি। আর ইবনে মু'তির শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর ওপর এই দিক থেকে যে, তিনি তাঁর অনুসারী, তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণকারী এবং তাঁর পথে বিচরণকারী। বিষয়টি আসলে এমনই; কেননা অগ্রবর্তীর শ্রেষ্ঠত্ব পরবর্তীগণের ওপর সুস্পষ্ট, যদি পরবর্তী ব্যক্তি তাঁর আলোয় পথ চলেন এবং তাঁর কর্মের অনুসরণ করেন। এমতাবস্থায় তাঁরা ইমাম এবং মুক্তাদীর ন্যায় হয়ে যান।
বর্ণিত আছে যে, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম যখন "সুর ও রাগিণী" বিষয়ে তাঁর গ্রন্থটি রচনা করেন...
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক লিশ-শাতিবী = আল-মাকাসিদুশ শাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
عرضه على إبراهيم بن المهدي فقال: لقد أحسنت يا أبا محمد وكثيرا ما تحسن، فقال إسحاق: بل أحسن الخليل، لأنه جعل السبيل إلى الإحسان، يعني بعلم العروض فقال إبراهيم: ما أحسن هذا الكلام! فممن أخذته؟ قال: من ابن مقبل، إذ سمع حمامة من المطوقات فاهتاج لمن يحب فقال:
فلو قبل مبكاها بكيت صبابة
… بليلى شفيتُ النفس قبل التندم
ولكن بكت قبلي فهاج لي البكا
… بُكاها فقلت الفضل للمتقدم
وهو فضلٌ عند الكافة مرعى، وينضاف هاهنا إلى فضل شرعي نبه عليه قوله صلى الله عليه وسلم: " من سن سنة حسنة كان له أجرها وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة"، ثم لما بين فضل السبقية عمل في ذلك بما يلزمه في مكارم الأخلاق من الثناء عليه والدعاء له، وأدى حق السابق
তিনি এটি ইব্রাহিম বিন আল-মাহদির নিকট পেশ করলেন। তখন তিনি বললেন: "হে আবু মুহাম্মদ, আপনি চমৎকার করেছেন এবং আপনি প্রায়শই চমৎকার করে থাকেন।" ইসহাক বললেন: "বরং আল-খলীলই চমৎকার করেছেন; কারণ তিনিই এই উৎকর্ষের পথ তৈরি করে দিয়েছেন," অর্থাৎ ইলমুল আরূজ (ছন্দবিজ্ঞান) প্রদানের মাধ্যমে। ইব্রাহিম বললেন: "এই কথাটি কতই না সুন্দর! এটি আপনি কার নিকট থেকে পেয়েছেন?" তিনি বললেন: "ইবনে মুকবিলের নিকট থেকে; যখন তিনি একটি কণ্ঠীধারী ঘুঘুর ডাক শুনলেন এবং তা তাঁর প্রিয়তমার প্রতি তাঁর আবেগকে উদ্বেলিত করল, তখন তিনি বললেন:
যদি তার কাঁদার আগে আমি অনুরাগে লায়লার বিরহে কাঁদতাম
… তবে অনুতাপ করার পূর্বেই আমি নিজের মনকে শান্ত করতে পারতাম।
কিন্তু সে আমার পূর্বেই কেঁদেছে, আর তার ক্রন্দন আমার কান্নাকে জাগিয়ে তুলেছে
… তাই আমি বললাম, শ্রেষ্ঠত্ব তো অগ্রবর্তীর জন্যই।
আর এই শ্রেষ্ঠত্ব সকলের নিকটই স্বীকৃত। এর সাথে এখানে একটি শরয়ী শ্রেষ্ঠত্বও যুক্ত হয়েছে যার প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী ইঙ্গিত করে: "যে ব্যক্তি কোনো ভালো রীতির সূচনা করবে, তার জন্য রয়েছে এর সওয়াব এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা এর ওপর আমল করবে তাদের সওয়াবও।" অতঃপর যখন তিনি অগ্রবর্তিতার মর্যাদা স্পষ্ট করলেন, তখন তিনি উন্নত চরিত্রের দাবি অনুযায়ী অগ্রবর্তীর প্রশংসা ও তাঁর জন্য দোয়া করার মাধ্যমে নিজ কর্তব্য পালন করলেন এবং পূর্ববর্তীদের প্রাপ্য অধিকার আদায় করলেন।