(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: -)
الرحلة إلى إفريقيا   (محمد الأمين الشنقيطي)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: الرحلة إلى إفريقيا

[مشروع آثار الشيخ العلامة محمد الأمين الشنقيطي (9)]

المؤلف: محمد الأمين بن محمد المختار الجكني الشنقيطي (1325 - 1393 هـ)

المحقق: خالد بن عثمان السبت

الناشر: دار عطاءات العلم (الرياض) - دار ابن حزم (بيروت)

الطبعة: الخامسة، 1441 هـ - 2019 م (الأولى لدار ابن حزم)

عدد الصفحات: 157

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 شوّال 1442

আফ্রিকায় সফর   (মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকীতি)

বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী


বই: আফ্রিকায় সফর

[শাইখ আল্লামা মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকীতি এর রচনাবলী প্রকল্প (৯)]

লেখক: মুহাম্মদ আল-আমিন বিন মুহাম্মদ আল-মুখতার আল-জাকানি আশ-শানকীতি (১৩২৫ - ১৩৯৩ হিজরি)

গবেষক: খালিদ বিন উসমান আস-সাবত

প্রকাশক: দার আতাআত আল-ইলম (রিয়াদ) - দার ইবনে হাজম (বৈরুত)

সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪৪১ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ (দার ইবনে হাজমের জন্য প্রথম সংস্করণ)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৭

শামেলার জন্য উপস্থাপন করেছেন: ‘আতাআত আল-ইলম’ ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে মিল রেখে করা হয়েছে]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: -)
آثار الشيخ العلامة محمد الأمين الشنقيطي (9)

 

الرحلة إلى إفريقيا

 

تأليف

الشيخ العلامة محمد الأمين بن محمد المختار الجكني الشنقيطي (1325 هـ - 1393 هـ)

 

تحقيق

خالد بن عثمان السبت

 

إشراف

بكر بن عبد الله أبو زيد
শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকিতীর রচনাবলি (৯)

 

আফ্রিকা সফর

 

রচনায়

শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ আল-আমিন বিন মুহাম্মদ আল-মুখতার আল-জাকানি আশ-শানকিতী (১৩২৫ হি. - ১৩৯৩ হি.)

 

তাহকিক

খালিদ বিন উসমান আস-সাবত

 

তত্ত্বাবধানে

বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ২)
مؤسسة سُلَيْمَان بن عبد الْعَزِيز الراجحي الْخَيْرِيَّة

SULAIMAN BIN ABDUL AZIZ AL RAJHI CHARITABLE FOUNDATION

 

حُقُوق الطَّبْع مَحْفُوظَة

الطبعة الأولى 1426 هـ

 

دَار عَالم الْفَوَائِد للنشر والتوزيع

مَكَّة المكرمة ص. ب: 2928

هَاتِف: 5505305 - فاكس: 5542309

الصَّفّ والإخراج دَار عَالم الْفَوَائِد للنشر والتوزيع
সুলাইমান বিন আব্দুল আজিজ আল-রাজহি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন

সুলাইমান বিন আব্দুল আজিজ আল-রাজহি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন

 

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম প্রকাশ ১৪২৬ হিজরী

 

দার আলম আল-ফাওয়াইদ প্রকাশনী ও পরিবেশনী

মক্কা আল-মুকাররামা, পো: ব: ২৯২৮

ফোন: ৫৫০৫৩০৫ - ফ্যাক্স: ৫৫৪২৩০৯

টাইপসেটিং ও অঙ্গসজ্জা: দার আলম আল-ফাওয়াইদ প্রকাশনী ও পরিবেশনী
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ৩)
المقَدِّمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم النبيين، وعلى آله وصحبه وأتباعه إلى يوم الدين، وبعد:

فقد سافر الشَّيخ العلامة المفسر الأصولي محمَّد الأمين بن محمَّد المختار بن عبد القادر بن محمَّد بن أحمد نوح بن محمَّد بن سيدي أحمد بن المختار الشنقيطي الجَكَني رحمه الله المولود سنة (1325 هـ) من بلاده لسبع مضين من جمادى الآخرة، من سنة (1367 هـ) قاصدًا بيت الله الحرام لأداء فريضة الحج، ثم زيارة مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبعدها يرجع إلى بلاده، ولكن الله شاء للشَّيخ رحمه الله أن يستقر في المدينة النبوية، ويقيم دروسًا حافلة في المسجد النبوي وغيره، فانتفع منه القاصي والداني، وبعد تمام ثماني عشرة سنة كاملة (1) توجه الشَّيخ رحمه الله على رأس وفد يتألف من أربعة أفراد (ثلاثة من الجامعة الإسلامية وواحد من رابطة العالم الإسلامي) موفدين من الجامعة والرابطة.

 

‌‌أعضاء الوفد:

1 - العلامة محمَّد الأمين الشنقيطي رحمه الله رئيسًا.

--------------------------------------------

(1) كما صرح بذلك الشَّيخ عطية رحمه الله في كلمة للإذاعة الموريتانية، وهي ضمن محتويات الشريط السابع من أشرطة هذه الرحلة. كما جاء في تاريخ بعض اللقاءات بأنها كانت في اليوم الثامن من شهر جمادى الآخرة، وبعضها قبل ذلك. وهذا يعني أن تلك الرحلة كانت سنة (1385 هـ).
ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:

প্রখ্যাত আলেম, মুফাসসির ও উসূলবিদ মুহাম্মাদ আল-আমিন বিন মুহাম্মাদ আল-মুখতার বিন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ নূহ বিন মুহাম্মাদ বিন সিদি আহমাদ বিন আল-মুখতার আশ-শানকিতী আল-জাকানী (রাহিমাহুল্লাহ), যিনি ১৩২৫ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি নিজ দেশ থেকে ১৩৬৭ হিজরি সালের ৭ই জুমাদাল আখিরাত তারিখে হজ্জের ফরজ আদায় এবং এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদ যিয়ারতের উদ্দেশ্যে আল্লাহর পবিত্র ঘরের (বাইতুল্লাহর) দিকে যাত্রা করেন। এরপর তাঁর নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আল্লাহ চেয়েছিলেন যে শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) মদিনা মুনাওয়ারায় স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন এবং মসজিদে নববী ও অন্যান্য স্থানে জ্ঞানগর্ভ দরস প্রদান করবেন, যার ফলে নিকট ও দূর-দূরান্তের মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে। দীর্ঘ আঠারো বছর (১) পূর্ণ হওয়ার পর শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে যাত্রা শুরু করেন (তিনজন মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এবং একজন রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামীর পক্ষ থেকে), যাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় ও রাবেতার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।

 

‌‌প্রতিনিধি দলের সদস্যবৃন্দ:

১ - আল্লামা মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতী (রাহিমাহুল্লাহ) - প্রধান হিসেবে।

--------------------------------------------

(১) যেমনটি শাইখ আতিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) মৌরিতানিয়া রেডিওর এক ভাষণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যা এই সফরের সপ্তম অডিও ক্যাসেটের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও কিছু সাক্ষাতের তারিখ থেকে জানা যায় যে, তা জুমাদাল আখিরাত মাসের অষ্টম দিনে ছিল এবং কিছু তারও আগে। এর অর্থ হলো, এই সফরটি ১৩৮৫ হিজরি সালে হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ৪)
2 - الشَّيخ عطيه محمَّد سالم عضوًا.

3 - الشَّيخ محمَّد أمان الإثيوبي عضوًا.

(وهؤلاء الثلاثة من الجامعة الإسلامية).

4 - سيدي الأمين المامي الجكني عضوًا.

من الرابطة.

 

‌‌الدول التي زارها الوفد:

توجه الوفد إلى تسع دول إفريقية، وهي: السودان، نيجيريا، الداهومي (1)، النيجر، مالي، السنغال، موريتانيا، فولتا العليا، تشاد.

 

‌‌أهداف الوفد:

يمكن حصر الأهداف التي سافر الوفد من أجلها في ثلاثة أمور (2)، وهي:

1 - تقوية أواصر الرابطة الإيمانية بين المسلمين.

2 - بث الوعي بين أبناء المسلمين في تلك البلاد.

3 - التعرف على أحوال المسلمين.

--------------------------------------------

(1) هكذا سماها الشَّيخ عطية رحمه الله.

(2) وذلك بناءً على ما صرح به الشَّيخ عطية رحمه الله في عدد من المناسبات في تلك الرحلة كما هو مسجل في الأشرطة.
২ - শায়খ আতিয়্যাহ মুহাম্মদ সালিম, সদস্য হিসেবে।

৩ - শায়খ মুহাম্মদ আমান আল-ইথিওপি, সদস্য হিসেবে।

(এবং এই তিনজন ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে)।

৪ - সিদি আল-আমিন আল-মামী আল-জাকানি, সদস্য হিসেবে।

রাবিতা (মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ) থেকে।

 

‌‌প্রতিনিধি দলের সফরকৃত দেশসমূহ:

প্রতিনিধি দলটি নয়টি আফ্রিকান দেশের অভিমুখে যাত্রা করেছিল, সেগুলো হলো: সুদান, নাইজেরিয়া, দাহোমি (১), নাইজার, মালি, সেনেগাল, মৌরিতানিয়া, আপার ভোল্টা, চাদ।

 

‌‌প্রতিনিধি দলের লক্ষ্যসমূহ:

প্রতিনিধি দলটি যে উদ্দেশ্যে সফর করেছিল, সেই লক্ষ্যসমূহকে তিনটি বিষয়ের (২) মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, আর সেগুলো হলো:

১ - মুসলমানদের মাঝে ঈমানী ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা।

২ - ঐ সকল দেশের মুসলিম সন্তানদের মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া।

৩ - মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া।

--------------------------------------------

(১) শায়খ আতিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) দেশটিকে এভাবেই নামকরণ করেছেন।

(২) আর এটি ঐ সকল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যা শায়খ আতিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) সেই সফরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, যেমনটি অডিও রেকর্ডগুলোতে সংরক্ষিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الحفاوة التي قوبل بها الوفد:

لعل من أبرز ما يُلفت انتباه المستمع لأشرطة هذه الرحلة هو تلك البهجة الغامرة التي عبر عنها العلماء والأدباء والشعراء بكلماتهم وقصائدهم، إضافة إلى ما يصفه الشَّيخ عطية رحمه الله من تجمهر النَّاس وحضورهم محاضرات الشَّيخ الأمين رحمه الله، وقد التقى أعضاء الوفد بالعلماء، والقضاة، ورئيس الدولة، وعدد من الوزراء، كما شُكِّل وفد في موريتانيا لمرافقة الوفد في تنقلاته في البلاد شرقها وشمالها.

 

‌‌القدر الذي وصلنا عبر التسجيل الصوتي مما ألقي في هذه الرحلة:

إن مجموع ما وصل إلينا من الأشرطة المسجلة في هذه الرحلة عشرة أشرطة فحسب، وهو عدد قليل إذا تذكرنا أن الوفد قد زار تسع دول، إضافة إلى إحدى عشرة عاصمة من عواصم المديريات في شمال وشرق موريتانيا (1).

 

‌‌توصيف محتويات الأشرطة:

يمكن أن أُلخص مضمون هذه الأشرطة في الأمور الآتية:

1 - كلمات ومحاضرات للشَّيخ الأمين رحمه الله.

--------------------------------------------

(1) قام الوفد برحلتين في موريتانيا ابتداء من العاصمة وانتهاء إليها، الأولى: إلى شرق البلاد، وقد شملت: العيون، والنعمة، والمجرية، وكيفه، وقرو، وكيهيدي، وألاق، وأبو تلميت. والثانية إلى شمال البلاد وقد شملت: نواذيب، وزويرات، وأطار.
‌‌প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল:

এই সফরের অডিও টেপগুলোর শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো সম্ভবত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো সেই উপচে পড়া আনন্দ, যা আলেম, সাহিত্যিক এবং কবিরা তাঁদের বক্তব্য ও কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এর সাথে যোগ হয়েছে শায়খ আতিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক বর্ণিত মানুষের ভিড় এবং শায়খ আমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর লেকচারগুলোতে তাঁদের উপস্থিতির বিবরণ। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আলেম, বিচারক, রাষ্ট্রপ্রধান এবং বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়াও মৌরিতানিয়ার পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে সফরের সময় প্রতিনিধিদলকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য সেখানে একটি স্থানীয় প্রতিনিধিদল গঠন করা হয়েছিল।

 

‌‌অডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে এই সফরে যা প্রদান করা হয়েছে তার যে অংশটুকু আমাদের কাছে পৌঁছেছে:

এই সফরে রেকর্ড করা অডিও টেপগুলোর মধ্যে যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে তার মোট সংখ্যা মাত্র দশটি। এটি অত্যন্ত সামান্য সংখ্যা যদি আমরা মনে রাখি যে, প্রতিনিধিদলটি নয়টি দেশ সফর করেছিল, পাশাপাশি উত্তর ও পূর্ব মৌরিতানিয়ার জেলা শহরগুলোর এগারোটি প্রধান কেন্দ্রও তারা পরিদর্শন করেছিল (১)।

 

‌‌টেপগুলোর বিষয়বস্তুর বিবরণ:

এই টেপগুলোর বিষয়বস্তুকে আমি নিচের বিষয়গুলোতে সংক্ষেপ করতে পারি:

১ - শায়খ আমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য ও লেকচারসমূহ।

--------------------------------------------

(১) প্রতিনিধিদল মৌরিতানিয়ায় রাজধানী থেকে শুরু করে রাজধানীতেই শেষ হওয়া দুটি সফর সম্পন্ন করেছিল। প্রথমটি: দেশের পূর্বাঞ্চলে, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল: আইয়ুন, নেমা, মাগজারিয়া, কিফা, গুরু, কায়েদি, আলাগ এবং আবি তিলমিত। দ্বিতীয়টি: দেশের উত্তরাঞ্চলে, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল: নুয়াদিবু, জুইরাত এবং আতার।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ৬)
2 - أجوبة عن سؤالات وُجهت للشَّيخ رحمه الله.

3 - محاضرات (قليلة) لبعض أعضاء الوفد.

4 - كلمات ترحيبية وقصائد قيلت في بعض المناسبات التي قوبل فيها الوفد.

5 - ما يصاحب ذلك غالبًا من كلام للشَّيخ عطية رحمه الله يصف المقام والمناسبة، أو يُعرِّف بالوفد، أو يبين مهمته، أو غير ذلك مما يتصل بالجانب الإعلامي.

وأمَّا على سبيل التفصيل فعلى النحو الآتي:

الشريط الأوَّل: محاضرة للشَّيخ رحمه الله فسر فيها الآيات (21 - 24) من سورة البقرة وهي قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ} إلى قوله: {أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ}.

الشريط الثَّاني: كلمات ترحيبية، إضافة إلى سؤالات وُجهت للشَّيخ رحمه الله، ثم أجاب عنها.

الشريط الثالث: كلمة افتتاحية، وأسئلة وُجهت للشَّيخ رحمه الله وأجاب عنها، إضافة إلى بعض المداخلات والكلام للشَّيخ عطية رحمه الله.

الشريط الرابع: كلمة أو محاضرة للشَّيخ الأمين رحمه الله اشتملت على ثلاثة محاور:

الأوَّل: بيان المعتقد الصَّحيح في آيات الصفات.
২ - শেখের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) নিকট পেশকৃত প্রশ্নাবলির উত্তরসমূহ।

৩ - প্রতিনিধি দলের কয়েকজন সদস্যের পক্ষ থেকে (অল্প কিছু) আলোচনা।

৪ - প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রদত্ত অভিনন্দন বার্তা ও কবিতা।

৫ - এর সাথে সাধারণত শেখ আতিয়্যাহর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) কিছু কথা যুক্ত রয়েছে, যাতে তিনি স্থান ও অনুষ্ঠানের বর্ণনা দিয়েছেন, অথবা প্রতিনিধি দলের পরিচয় তুলে ধরেছেন, কিংবা তাদের মিশনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন অথবা প্রচার মাধ্যমের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি বর্ণনা করেছেন।

আর বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:

প্রথম ক্যাসেট: শেখের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) একটি লেকচার যাতে তিনি সূরা বাকারার ২১ থেকে ২৪ নম্বর আয়াতের তাফসীর করেছেন, যা মহান আল্লাহর এই বাণী: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো} থেকে {যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে} পর্যন্ত।

দ্বিতীয় ক্যাসেট: স্বাগত বক্তব্যসমূহ, সেই সাথে শেখের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) প্রতি করা কিছু প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর।

তৃতীয় ক্যাসেট: উদ্বোধনী বক্তব্য এবং শেখের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) নিকট পেশকৃত প্রশ্ন ও সেগুলোর উত্তর, এছাড়া শেখ আতিয়্যাহর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) পক্ষ থেকে কিছু সংযোজনী ও আলোচনা।

চতুর্থ ক্যাসেট: শেখ আল-আমীনের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) একটি বক্তব্য বা লেকচার যা তিনটি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়েছে:

প্রথম: সিফাত (গুণাবলি) সংক্রান্ত আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে সঠিক আকিদার বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ৭)
الثَّاني: بيان الموقف الصحيح من الحضارة الغربية.

الثالث: بيان أن الإسلام دين القوة والتقدم في جميع الميادين.

بعد ذلك وُجهت بعض الأسئلة للشَّيخ رحمه الله، وأجاب عنها.

الشريط الخامس: محاضرة لأحد أعضاء الوفد.

الشريط السادس: محاضرة للشَّيخ الأمين رحمه الله في موضوع الرابطة الإيمانية، وهي مترجمة إلى اللُّغة الهوساوية.

الشريط السابع: ويتضمن:

1 - بعض كلمة أو محاضرة للشَّيخ رحمه الله يبين فيها الإسلام دين القوة والتقدم في جميع الميادين.

2 - كلمة موجهة للنساء يبين فيها تكريم الإسلام للمرأة، إضافة إلى كلمة للشَّيخ عطية رحمه الله.

الشريط الثامن: محاضرة للشَّيخ الأمين رحمه الله تتضمن ستة محاور:

1 - الاعتقاد الصَّحيح في نصوص الصفات.

2 - مفهوم "لا إله إلَّا الله".

3 - بيان أن الإسلام دين القوة والتقدم في جميع الميادين.

4 - بيان الموقف الصحيح من الحضارة الغربية.

5 - بيان أن الإسلام ينظم جميع شؤون الحياة.
দ্বিতীয়: পাশ্চাত্য সভ্যতার বিষয়ে সঠিক অবস্থান স্পষ্ট করা।

তৃতীয়: ইসলাম যে সকল ক্ষেত্রে শক্তি ও অগ্রগতির ধর্ম, তা স্পষ্ট করা।

এরপর শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি কিছু প্রশ্ন পেশ করা হয় এবং তিনি সেগুলোর উত্তর প্রদান করেন।

পঞ্চম ক্যাসেট: প্রতিনিধি দলের জনৈক সদস্যের একটি বক্তৃতা।

ষষ্ঠ ক্যাসেট: ঈমানি বন্ধন বিষয়ে শাইখ আল-আমিন (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি বক্তৃতা; এটি হাউসা ভাষায় অনূদিত।

সপ্তম ক্যাসেট: এতে রয়েছে:

১ - শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তৃতার কিছু অংশ যাতে তিনি ইসলাম যে সকল ক্ষেত্রে শক্তি ও অগ্রগতির ধর্ম, তা স্পষ্ট করেছেন।

২ - নারীদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত একটি বক্তব্য যাতে ইসলামে নারীর মর্যাদার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে, এর সাথে শাইখ আতিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি বক্তব্যও যুক্ত রয়েছে।

অষ্টম ক্যাসেট: শাইখ আল-আমিন (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি বক্তৃতা যা ছয়টি মূল বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করে:

১ - আল্লাহর সিফাত (গুণাবলি) সংক্রান্ত নসসমূহের ক্ষেত্রে সঠিক আকিদাহ।

২ - "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর সঠিক মর্মার্থ।

৩ - ইসলাম যে সকল ক্ষেত্রে শক্তি ও অগ্রগতির ধর্ম, তা স্পষ্ট করা।

৪ - পাশ্চাত্য সভ্যতার বিষয়ে সঠিক অবস্থান স্পষ্ট করা।

৫ - ইসলাম যে জীবনের যাবতীয় বিষয়কে সুসংগঠিত করে, তার বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ৮)
6 - الكلام على الرابطة الإيمانية.

الشريط التاسع: مكرر مع الشريط الأوَّل.

الشريط العاشر: كلمة أو محاضرة للشَّيخ الأمين رحمه الله في موضوع الرابطة الإيمانية ألقاها في مالي (مترجمة). إضافة إلى بعض الكلمات الأخرى لغيره.

 

‌‌عَمَلُنا في هذه المادة:

1 - عهدت إلى بعض طلبة العلم فقاموا مشكورين بتفريغ محتويات الأشرطة.

2 - بعد مراجعة ما تمت كتابته، ومقابلة ذلك بالأشرطة المسجلة اقتصرت على المحاضرات والكلمات والفتاوى التي صدرت من الشَّيخ الأمين رحمه الله دون غيرها، ذلك أن الهدف من إخراج هذه الرحلة إنَّما هو إدخالها ضمن الفهرس الشامل لجميع آثار الشَّيخ العلمية.

3 - خرَّجتُ الأحاديث الواردة في هذه المحتويات وعزوت الأبيات والشواهد الشعرية، ولم أتتبع جميع المسائل العلمية من جهة التوثيق من المصادر، كما فعلت في دروس الشَّيخ رحمه الله في التفسير الذي ألقاه في المسجد النبوي، وذلك لأنَّ عامة المسائل المذكورة في هذه الرحلة موجودةٌ ضمن التفسير المشار إليه وقد وثقتها هناك، ويمكن الرجوع إليها عن طريق الفهرس المشار إليه.

4 - جعلت كل محاضرة على حدة، وأشرت في الحاشية إلى
৬ - ঈমানি ভ্রাতৃত্বের ওপর আলোচনা।

নবম ক্যাসেট: প্রথম ক্যাসেটের পুনরাবৃত্তি।

দশম ক্যাসেট: ঈমানি ভ্রাতৃত্বের বিষয়ে শায়খ আল-আমিন (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি বক্তব্য বা বক্তৃতা, যা তিনি মালিতে প্রদান করেছিলেন (অনূদিত)। এছাড়া অন্যদেরও কিছু বক্তব্য এতে রয়েছে।

 

‌‌এই পাণ্ডুলিপিতে আমাদের কাজ:

১ - আমি কয়েকজন ইলম অন্বেষীর ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছিলাম এবং তারা কৃতজ্ঞতার সাথে ক্যাসেটগুলোর বিষয়বস্তু অনুলিখন করেছেন।

২ - যা লেখা হয়েছে তা পর্যালোচনা করার পর এবং রেকর্ডকৃত ক্যাসেটগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখার পর, আমি কেবল শায়খ আল-আমিন (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত বক্তৃতা, বক্তব্য ও ফতোয়াগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি; অন্যদের বক্তব্যগুলো এতে রাখিনি। কারণ এই সফরনামাটি প্রকাশের মূল লক্ষ্য হলো শায়খের যাবতীয় ইলমি রচনার পূর্ণাঙ্গ সূচির অন্তর্ভুক্ত করা।

৩ - আমি এই বিষয়বস্তুতে বর্ণিত হাদিসসমূহের তাখরিজ (উৎস উল্লেখ) করেছি এবং কাব্যিক পঙক্তি ও সাক্ষ্যসমূহকে সংশ্লিষ্ট মূলের দিকে নিসবত করেছি। তবে আমি মূল উৎস থেকে প্রামাণ্যকরণের ক্ষেত্রে প্রতিটি ইলমি মাসআলা পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করিনি, যেমনটি আমি মসজিদে নববীতে প্রদত্ত শায়খ (রহিমাহুল্লাহ)-এর তাফসিরের দরসসমূহে করেছিলাম। এর কারণ হলো, এই সফরে উল্লিখিত অধিকাংশ মাসআলাই পূর্বোক্ত তাফসিরের মধ্যে বিদ্যমান এবং আমি সেখানে সেগুলো প্রামাণ্যকরণসহ উল্লেখ করেছি; তাই উল্লেখিত সূচির মাধ্যমে সেগুলো দেখে নেওয়া সম্ভব।

৪ - আমি প্রতিটি বক্তৃতাকে পৃথকভাবে বিন্যস্ত করেছি এবং পাদটীকায় নির্দেশ করেছি যে...
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ৯)
الشريط الذي وُجدت فيه، أما السؤالات فقد جمعتها مع أجوبتها، وجعلتها متسلسلة تالية المحاضرات، كما أشرت في الحاشية إلى مواضع وجودها من الأشرطة، وجعلت لها ترقيمًا متسلسلًا، وصدرت الإجابة بـ (الجواب). ولم ألتزم كتابة نص السؤال حرفيًّا، بل قد أختصر فيه بعض الشيء إذا دعت الحاجة إلى ذلك.

5 - أَثْبَتُّ كلام الشَّيخ رحمه الله بنصه (1)، وإذا وُجد مسح أو انقطاع في التسجيل أو جملة أو كلمة غير واضحة فإنّي أجعل مكان ذلك نقطًا مع الإشارة في الحاشية، ولربما أثبتُّ زيادة يتم بها المعنى، وأجعلها بين معقوفين مع الإشارة لذلك في الحاشية، كما حذفت الكلمات الزائدة التي تجري على لسان الشَّيخ رحمه الله في ثنايا الكلام، كقوله بين حين وآخر: "مثلًا"، وكذا بعض العبارات المكررة.

هذا وأسأل الله أن يرحم الشَّيخ ويعلي درجته في الجنَّة، وأن يجزي خير الجزاء كل من أعان على إخراج هذا العمل إنَّه سميع مجيب، وصلى الله وبارك على نبينا محمَّد وعلى الله وصحبه وسلم.

تم الفراغ من مراجعته ليلة الأوَّل من محرم من عام (1424 هـ).

وكتبه: خالد بن عثمان السبت

--------------------------------------------

(1) حتَّى الآيات التي تلاها الشَّيخ على قراءة نافع.
যে টেপটিতে তা পাওয়া গিয়েছে (সেটির সাপেক্ষে); আর প্রশ্নগুলোর ক্ষেত্রে আমি সেগুলোকে উত্তরসহ সংকলন করেছি এবং লেকচারগুলোর পরে ক্রমানুসারে সাজিয়েছি, যেমনটি আমি টীকায় টেপসমূহে সেগুলোর অবস্থানের প্রতি নির্দেশ করেছি। আমি সেগুলোর জন্য একটি ক্রমিক নম্বর নির্ধারণ করেছি এবং উত্তরের শুরুতে '(উত্তর)' শব্দ দিয়ে শুরু করেছি। আমি প্রশ্নের পাঠ্য হুবহু লিখে যাওয়ার ব্যাপারে সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী তাতে কিছুটা সংক্ষেপ করেছি।

৫ - আমি শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য হুবহু (১) লিপিবদ্ধ করেছি। আর রেকর্ডিংয়ে যদি কোনো মুছে যাওয়া অংশ বা বিচ্ছিন্নতা থাকে, অথবা কোনো বাক্য বা শব্দ অস্পষ্ট হয়, তবে আমি সে স্থানে ডট চিহ্ন ব্যবহার করেছি এবং টীকায় তার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছি। অনেক সময় আমি অর্থের পূর্ণতার জন্য কিছু বাড়তি অংশ যুক্ত করেছি এবং তা ব্র্যাকেটের মধ্যে রেখে টীকায় তার উল্লেখ করেছি। একইভাবে আমি শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য চলাকালে মুখনিসৃত অতিরিক্ত শব্দগুলো বাদ দিয়েছি, যেমন মাঝেমধ্যে তাঁর বলা: "উদাহরণস্বরূপ", এবং অনুরূপ কিছু পুনরাবৃত্তিমূলক শব্দগুচ্ছ।

পরিশেষে আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন শাইখকে রহম করেন এবং জান্নাতে তাঁর মর্যাদা উচ্চ করেন, আর যারা এই কাজটি প্রকাশে সহযোগিতা করেছেন আল্লাহ যেন তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও দুআ কবুলকারী। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও বরকত বর্ষণ করুন।

এর পর্যালোচনা সমাপ্ত হয়েছে ১৪২৪ হিজরি সনের পহেলা মহররমের রাতে।

লিখেছেন: খালিদ ইবনে উসমান আস-সাবত

--------------------------------------------

(১) এমনকি শাইখ নাফে'-এর কিরাআত অনুযায়ী যে আয়াতগুলো তিলাওয়াত করেছেন সেগুলোও।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌القسم الأول (المحاضرات والكلمات)
প্রথম অংশ (বক্তৃতা ও ভাষণসমূহ)
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌[1] تفسير الآيات (21 - 24) من سورة البقرة
[১] সূরা আল-বাকারাহর ২১ - ২৪ নম্বর আয়াতের তাফসীর
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ১৪)
(1) أعوذ بالله من الشَّيطان الرجيم، يقول الله جلَّ وعلا: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (21) الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ (22) وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (23) فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ (24)} [البقرة / 21 - 24].

تلونا عليكم هذه الآية الكريمة من أول سورة البقرة، وإن كان الكلام عليها لا يسعه يوم ولا بعض يوم، إلَّا أنا يزيد أن نذكر حولها نماذج يستبين بها النَّاس بعضًا من أضواء القرآن.

أولًا: ننبه إخواننا على فضل القرآن العظيم؛ لأنَّ فيه جميع خير الدُّنيا والآخرة، فعلينا جميعًا أن نتدارسه ونتعلمه، حتى نعتقد عقائده، ونحل حلاله، ونحرّم حرامه، ونتأدب بآدابه، وننزجر بزواجره، ونتربى بما فيه من مكارم الأخلاق، وأن نتعظ بما فيه من العبر، والمواعظ، والأمثال، وقصص الأمم الماضية.

الله -جل وعلا- في هذه السورة الكريمة -التي تلونا منها هذه الآيات- التي هي سنام القرآن، السورة العظيمة التي بين الله -جل وعلا- فيها ومهَّد فيها جميع دين الإسلام، ذكر فيها أخبار الأمم الماضين، وأخبار الجنَّة والنَّار، وأقام فيها براهين العقائد، ومناظرة

--------------------------------------------

(1) من الشريط الأوَّل.
(১) আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো, যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। (২১) যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা ও আকাশকে ছাদ বানিয়েছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর তা দিয়ে তোমাদের রিযিক হিসেবে ফলমূল উৎপন্ন করেছেন। সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর কোনো সমকক্ষ নির্ধারণ করো না। (২২) আর আমরা আমাদের বান্দার ওপর যা নাযিল করেছি, সে বিষয়ে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তার মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীগণকে ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (২৩) কিন্তু যদি তোমরা তা না করো—আর তোমরা কখনোই তা করতে পারবে না—তবে সেই আগুনকে ভয় করো যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। (২৪)} [আল-বাকারা / ২১ - ২৪]।

আমরা সূরা আল-বাকারার শুরু থেকে এই বরকতময় আয়াতগুলো আপনাদের সামনে তিলাওয়াত করেছি। যদিও এর ওপর আলোচনা করার জন্য একদিন বা দিনের কিছু অংশ যথেষ্ট নয়, তবুও আমি চাচ্ছি এ বিষয়ে এমন কিছু নমুনা উল্লেখ করতে যার মাধ্যমে মানুষ কুরআনের কিছু আলো প্রত্যক্ষ করতে পারে।

প্রথমত: আমরা আমাদের ভাইদের মহান কুরআনের ফযীলত সম্পর্কে সজাগ করতে চাই; কারণ এতে দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তাই আমাদের সকলের উচিত এটি নিয়ে তদারুস বা অধ্যয়ন করা এবং তা শেখা, যাতে আমরা এর আকিদাগুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করতে পারি, এর হালালকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করি, এর হারামকে হারাম হিসেবে বর্জন করি, এর শিষ্টাচার দ্বারা সুশোভিত হই, এর নিষেধগুলো থেকে বিরত থাকি, এর মধ্যে থাকা মহৎ চরিত্রের মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলি এবং এর শিক্ষা, উপদেশ, দৃষ্টান্ত ও অতীত জাতিসমূহের কাহিনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি।

মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ এই বরকতময় সূরায়—যা থেকে আমরা এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করেছি—যা কুরআনের চূড়া স্বরূপ, এটি এমন এক মহান সূরা যাতে মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ ইসলামের পূর্ণাঙ্গ দ্বীন বর্ণনা করেছেন এবং এর ভিত্তি স্থাপন করেছেন। এতে তিনি পূর্ববর্তী জাতিসমূহের সংবাদ এবং জান্নাত ও জাহান্নামের সংবাদ উল্লেখ করেছেন। তিনি এতে আকিদা বা বিশ্বাসের প্রমাণাদি এবং বিতর্ক উপস্থাপন করেছেন।

--------------------------------------------

(১) প্রথম অডিও ক্যাসেট থেকে।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ১৫)
الخصوم، وذكر فيها دعائم الإسلام من صلاة وصوم وزكاة وحج، وذكر فيها العمرة، وأكل الحلال، والأحوال الشخصية من نكاح وطلاق وخُلْع، والمعاملات كالديون والربويات والوثائق والشهادات والرهون، وما جرى مجرى ذلك.

نلفت أنظار إخواننا إلى التَّرتيب الغريب العجيب الذي فعله الله في هذه السورة:

أولًا ابتدأ الله هذه السورة الكريمة بحروف مقطعة {الم (1)} وهذه الحروف المقطعة لا شك أنَّها تُلفت نظر السامع إلى ما يُتكلم به بعدها وتجعله متعطشًا عليه.

والآن ليس مرادنا الكلام على الحروف المقطعة لأنَّه كلام يستغرق الوقت كله، ولكن لما ذكر الله هذه الحروف المقطعة وابتدأ بها هذه السورة العظيمة قال: {ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيبَ فِيهِ} فبين أن هذا الكتاب المشتمل على خير الدُّنيا والآخرة الذي هو النور المبين، والحبل المتين، الذي أوضح الله به العقائد، والحلال والحرام، وجميع خير الدُّنيا والآخرة لا تتطرقه الرِّيب ولا الشكوك؛ لأنَّ معجزته أوضح من أن يتطرق إليه شك.

ومعروف أن للسائل أن يقول: كيف يقول: {لَا رَيبَ فِيهِ} بـ "لا" التي لنفي الجنس، مع أن قومًا ارتابوا فيه وحصل منهم ريب، كقوله في قوم: {وَارْتَابَتْ قُلُوبُهُمْ فَهُمْ فِي رَيبِهِمْ يَتَرَدَّدُونَ (45)} [التوبة / 45]؟

ونحن نقول: الجواب: أن القرآن بالغ من كمال المعجزة وإيضاح
বিরোধীদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এতে ইসলামের স্তম্ভসমূহ যেমন সালাত, সাওম, জাকাত ও হজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উমরাহ, হালাল খাদ্য গ্রহণ, এবং ব্যক্তিগত বিষয়াদি যেমন বিবাহ, তালাক ও খুলা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া মুয়ামালাত (লেনদেন) যেমন ঋণ, সুদ, দলিলপত্র, সাক্ষ্য ও বন্ধক এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়ও এতে বর্ণিত হয়েছে।

আমরা আমাদের ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি সেই অদ্ভুত ও বিস্ময়কর বিন্যাসের প্রতি যা আল্লাহ এই সূরায় নির্ধারণ করেছেন:

প্রথমত, আল্লাহ এই সম্মানিত সূরাটি হুরুফে মুকাত্তাআত ‘আলিফ-লাম-মীম (১)’ দ্বারা শুরু করেছেন। নিঃসন্দেহে এই হুরুফে মুকাত্তাআতসমূহ শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণ করে সেই আলোচনার প্রতি যা এর পরে আসবে এবং তাকে তা শোনার জন্য উদগ্রীব করে তোলে।

বর্তমানে হুরুফে মুকাত্তাআত সম্পর্কে আলোচনা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, কারণ এতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু আল্লাহ যখন এই হুরুফে মুকাত্তাআতসমূহ উল্লেখ করে এই মহান সূরাটি শুরু করলেন, তখন তিনি বললেন: ‘এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই’। তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ সম্বলিত এই কিতাব—যা সুস্পষ্ট আলো এবং মজবুত রশি, যার মাধ্যমে আল্লাহ আকাইদ (বিশ্বাস), হালাল ও হারাম এবং দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ স্পষ্ট করেছেন—তাতে কোনো সংশয় বা সন্দেহ প্রবেশ করতে পারে না; কারণ এর অলৌকিকত্ব এতোই স্পষ্ট যে এতে কোনো সন্দেহ প্রবেশের অবকাশ নেই।

এটা জানা কথা যে কোনো প্রশ্নকারী বলতে পারেন: আল্লাহ কীভাবে ‘লা’ (সমুদয় অস্বীকারকারী অব্যয়) ব্যবহার করে বললেন ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই’, অথচ একদল লোক এটি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে এবং তাদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে? যেমন আল্লাহ একটি সম্প্রদায় সম্পর্কে বলেছেন: ‘তাদের অন্তরসমূহ সন্দেহে নিপতিত হয়েছে, ফলে তারা তাদের সংশয়ের মধ্যে দোদুল্যমান। (৪৫)’ [আত-তাওবাহ / ৪৫]

আমরা বলব: উত্তর হলো, কুরআন তার মুজিজার (অলৌকিকত্ব) পূর্ণতা এবং বিষয়বস্তু স্পষ্ট করার এমন এক চরম সীমায় পৌঁছেছে যে...
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ১৬)
المعجزة ما لا تتطرقه الرِّيب ولا الشكوك، وإنَّما ارتاب فيه المرتابون لعمى بصائرهم، كما نص الله على ذلك في سورة الرعد: {أَفَمَنْ يَعْلَمُ أَنَّمَا أُنْزِلَ إِلَيكَ مِنْ رَبِّكَ الْحَقُّ كَمَنْ هُوَ أَعْمَى إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ (19)} [الرعد / 19].

فصرح بأن من لم يعلم أنَّه الحق إنَّما منعه من ذلك عماه، ومعلوم أن عدم رؤية الأعمى للشمس لا تقدح في كون الشَّمس لا ريب فيها.

إذا لم يكن للمرء عين صحيحة … فلا غرو أن يرتاب والصبح مسفر (1)

ثم بعد أن بين أن هذا القرآن لا ريب فيه جعل جميع الأمة التي أنزل إليها هذا المحكم المنزَّل ثلاث طوائف.

جميع الأمة التي أنزل إليها هذا المحكم المنزَّل الذي هو مفتاح الجنَّة ومفتاح النَّار، لا يدخل أحد الجنَّة إلَّا عن طريق العمل بهذا القرآن، ولا يدخل أحد النَّار إلَّا عن طريق الإعراض عنه، قال جل وعلا في المعرضين عنه: {وَمَنْ يَكْفُرْ بِهِ مِنَ الْأَحْزَابِ} أي كائنًا ما كان {فَالنَّارُ مَوْعِدُهُ فَلَا تَكُ فِي مِرْيَةٍ مِنْهُ إِنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ (17)} [هود / 17].

وقال جل وعلا فيمن أُورثوه وعملوا به: {إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً يَرْجُونَ تِجَارَةً لَنْ تَبُورَ (29) لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُمْ مِنْ فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورٌ (30) وَالَّذِي أَوْحَينَا إِلَيكَ مِنَ الْكِتَابِ هُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقًا لِمَا بَينَ يَدَيهِ إِنَّ

--------------------------------------------

(1) البيت في نفح الطِّيب (1/ 68)، وأورده الشَّيخ رحمه الله في دفع إيهام الاضطراب ص 7، وهو في العذب النمير عند تفسير الآية (128) من سورة الأنعام.
মুজিযা (অলৌকিক ঘটনা) এমন বিষয় যাতে কোনো সংশয় বা সন্দেহ প্রবেশ করতে পারে না। সংশয়বাদীরা এতে সংশয় পোষণ করেছে কেবল তাদের অন্তর্দৃষ্টির অন্ধত্বের কারণে, যেমন আল্লাহ তাআলা সূরা আর-রা'দ-এ এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন: "তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যে ব্যক্তি সত্য বলে জানে, সে কি ওই ব্যক্তির মতো যে অন্ধ? কেবল বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে।" [আর-রা'দ / ১৯]।

সুতরাং তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি এটি সত্য বলে জানে না, মূলত তার অন্ধত্বই তাকে তা থেকে বিরত রেখেছে। আর এটি জানা কথা যে, অন্ধ ব্যক্তির সূর্যকে দেখতে না পারাটা সূর্যের নিঃসংশয় হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না।

যদি কোনো ব্যক্তির চোখ সুস্থ না থাকে … তবে সকালের আলো প্রকাশিত হওয়ার পরেও তার সংশয় পোষণ করার মাঝে আশ্চর্যের কিছু নেই (১)

অতঃপর, এই কুরআন যে নিঃসংশয়—তা বর্ণনা করার পর, তিনি এই অবতীর্ণ মুহকাম (সুস্পষ্ট) কিতাবটি যাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে সেই পুরো উম্মতকে তিনটি দলে বিভক্ত করেছেন।

সেই সমস্ত উম্মত যাদের প্রতি এই অবতীর্ণ মুহকাম গ্রন্থটি নাযিল করা হয়েছে, যা জান্নাতের চাবিকাঠি এবং জাহান্নামের চাবিকাঠি; এই কুরআনের ওপর আমল করা ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর এটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ছাড়া কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। যারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর বিভিন্ন দলের মধ্যে যারা তাকে অস্বীকার করে," অর্থাৎ তারা যেই হোক না কেন, "জাহান্নামই তাদের প্রতিশ্রুত স্থান। সুতরাং তুমি এর ব্যাপারে কোনো সন্দেহে থেকো না। নিশ্চয়ই এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনে না।" [হুদ / ১৭]।

আর যাদেরকে এর উত্তরাধিকারী করা হয়েছে এবং যারা এর ওপর আমল করেছে, তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামায কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনও ধ্বংস হবে না (২৯)। যাতে তিনি তাদের পুরস্কার পূর্ণভাবে দান করেন এবং আপন অনুগ্রহে আরও বৃদ্ধি করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী (৩০)। আর আমি তোমার প্রতি কিতাবের যা ওহী পাঠিয়েছি তা সত্য, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী। নিশ্চয়ই...

--------------------------------------------

(১) কবিতাটি নাফহুত তীব (১/৬৮) গ্রন্থে রয়েছে। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) 'দাফউ ইহামিল ইদতিরাব' (পৃষ্ঠা ৭) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এটি সূরা আল-আনআমের ১২৮ নম্বর আয়াতের তাফসীরে 'আল-আযবুন নামীর' গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ১৭)
اللَّهَ بِعِبَادِهِ لَخَبِيرٌ بَصِيرٌ (31) ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَينَا مِنْ عِبَادِنَا} [فاطر / 29 - 32]، فبين أن إيراثه علامة الاصطفاء، ثم قال: {فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيرَاتِ} [فاطر / 32] ثم بيّن أنّ هذا القرآن هو أعظم نعمة {ذَلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِيرُ (32)}.

ثم جاء بوعده الصادق: {جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاورَ مِنْ ذَهَبٍ وَلُؤْلُؤًا وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ (33)} [فاطر / 33] الواو في قوله: {يَدْخُلُونَهَا} شاملة للأصناف الثلاثة وعلى رأسهم الظالم لنفسه، وكان بعض العلماء يقول: "حُقَّ لهذه الواو أن تكتب بماء العينين" (1)؛ لأنَّ واو {يَدْخُلُونَهَا} فيها وعد صادق بالجنة للجميع وعلى رأسهم الظالم لنفسه.

وكان بعض العلماء يقول: "ما الحكمة في تقديم الظالم لنفسه قبل السابق والمقتصد، والله حكيم لا يقدِّم إلَّا لنكتة تستوجب التقديم"؟ ! (2).

كان بعض العلماء يقول: هذا مقام إظهار الكرم، فقدَّم الظالم لئلا يقنط، وأخّر السابق بالخيرات لئلا يعجب بعمله فيحبط.

وكان بعض العلماء يقول: أكثر أهل الجنَّة الظالمون لأنفسهم؛ لأنَّ الله يقول: {إلا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَقَلِيلٌ مَا هُمْ} [ص / 24].

--------------------------------------------

(1) انظر: الأضواء (6/ 165)، العذب النمير (تفسير الآية 47 من سورة البقرة).

(2) انظر: القرطبي (14/ 349)، الأضواء (6/ 165)، العذب النمير (تفسير الآية 47 من سورة البقرة).
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে সম্যক অবহিত ও সর্বদ্রষ্টা (৩১)। অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি তাদের, যাদের আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছি [ফাতির / ২৯-৩২]। সুতরাং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কিতাবের উত্তরাধিকার প্রদান করাই হলো মনোনয়নের চিহ্ন। অতঃপর তিনি বলেছেন: "অতঃপর তাদের কেউ নিজের প্রতি অবিচারকারী, কেউ মধ্যপন্থী এবং কেউ সৎকর্মে অগ্রগামী" [ফাতির / ৩২]। এরপর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই কুরআনই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত: "এটাই হলো মহা অনুগ্রহ (৩২)"।

অতঃপর তাঁর সত্য প্রতিশ্রুতি এসেছে: "তারা স্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেখানে তাদের স্বর্ণের কঙ্কণ ও মুক্তা দ্বারা অলঙ্কৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের (৩৩)" [ফাতির / ৩৩]। তাঁর বাণী: "তারা প্রবেশ করবে"-এর মধ্যে যে 'ওয়াও' (সর্বনাম) রয়েছে, তা এই তিন শ্রেণির মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তাদের শীর্ষে রয়েছে সেই ব্যক্তি যে নিজের প্রতি অবিচারকারী। কোনো কোনো আলেম বলতেন: "এই 'ওয়াও'-এর অধিকার রয়েছে চোখের পানি দিয়ে লিখিত হওয়ার" (১); কারণ "তারা প্রবেশ করবে"-এর এই 'ওয়াও'-এর মধ্যে সকলের জন্য জান্নাতের সত্য প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং তাদের শীর্ষে রয়েছে নিজের প্রতি অবিচারকারী ব্যক্তি।

কোনো কোনো আলেম বলতেন: "সৎকর্মে অগ্রগামী ও মধ্যপন্থীদের আগে নিজের প্রতি অবিচারকারীকে প্রথমে উল্লেখ করার হিকমত বা রহস্য কী? অথচ আল্লাহ প্রজ্ঞাবান, তিনি কোনো বিশেষ রহস্য ব্যতিরেকে কাউকে অগ্রগণ্য করেন না"! (২)।

কোনো কোনো আলেম বলতেন: এটি হলো মহানুভবতা প্রকাশের ক্ষেত্র। তাই তিনি নিজের প্রতি অবিচারকারীকে আগে উল্লেখ করেছেন যাতে সে নিরাশ না হয়, আর সৎকর্মে অগ্রগামীকে পরে উল্লেখ করেছেন যাতে সে নিজের আমল নিয়ে আত্মতৃপ্তিতে না ভোগে, যার ফলে তার আমল বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে।

কোনো কোনো আলেম বলতেন: জান্নাতবাসীদের অধিকাংশ হবে তারা যারা নিজের প্রতি অবিচারকারী; কারণ আল্লাহ বলছেন: "তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, আর তারা সংখ্যায় অতি সামান্য" [সোয়াদ / ২৪]।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-আদওয়া (৬/ ১৬৫), আল-আযবুল নামির (সূরা আল-বাকারার ৪৭ নম্বর আয়াতের তাফসির)।

(২) দেখুন: আল-কুরতুবি (১৪/ ৩৪৯), আল-আদওয়া (৬/ ১৬৫), আল-আযবুল নামির (সূরা আল-বাকারার ৪৭ নম্বর আয়াতের তাফসির)।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ১৮)
فبدأ بهم لأكثريتهم.

الشاهد أن الله بين في آيات البقرة التي تلوناها أن الأمّة بالنسبة إلى هذا الكتاب المنزل الذي هو أعظم نعمة أنزلها الله من السماء إلى الأرض، وعلمنا أن نحمده على إنزالها في غير ما آية، كقوله في أول سورة الكهف: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجًا (1)} [الكهف / 1]، أي: لم يجعل فيه اعوجاجًا كائنًا ما كان، لا من جهة الألفاظ، ولا من جهة المعاني، فألفاظه في غاية الإعجاز والسلامة من العيوب والوصمات، ومعانيه كلها في غاية الكمال، أخباره صدق، وأحكامه عدل {وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا} [الأنعام / 115] أي: صدقًا في الأخبار، وعدلًا في الأحكام = بين أن الأمة بالنسبة إليه ثلاث طوائف:

الطائفة الأولى -نسأل الله أن يجعلنا وإياكم منها-: طائفة آمنت به ظاهرًا وباطنًا، وأبصرت هذا النور، فاهتدت بهذا النور، واتصلت على ضوئه بخالق الكون، فرأت الحق حقًّا والباطل باطلًا، والنافع نافعًا والضار ضارًّا، والحسن حسنًا، والقبيح قبيحًا. قال في هذه الطائفة: {هُدًى لِلْمُتَّقِينَ (2) الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ (3) وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ} [البقرة / 2 - 4] ثم أثنى عليهم بقوله: {أُولَئِكَ عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (5)} [البقرة / 5].

ثم بين أن هناك طائفة أخرى من الطوائف الثلاث بالنسبة إلى هذا القرآن الذي لا ريب فيه أنَّها طائفة -والعياذ بالله- كفرت به ظاهرًا
তাই তিনি তাদের দিয়ে শুরু করেছেন কারণ তারা সংখ্যায় অধিক ছিল।

বিষয়টি হলো, আল্লাহ সূরা বাকারার সেই আয়াতগুলোতে স্পষ্ট করেছেন যা আমরা তিলাওয়াত করেছি যে, এই অবতীর্ণ কিতাব—যা আসমান থেকে জমিনে আল্লাহর নাজিল করা সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত—তার প্রতি উম্মাহর অবস্থান কী। আল্লাহ আমাদের শিখিয়েছেন যে একাধিক আয়াতে এর অবতরণের জন্য তাঁর প্রশংসা করতে হবে, যেমন সূরা কাহফের শুরুতে তাঁর বাণী: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি" [কাহফ: ১]। অর্থাৎ, এর মধ্যে কোনো প্রকার বক্রতাই রাখেননি, চাই তা শব্দের দিক থেকে হোক কিংবা অর্থের দিক থেকে। সুতরাং এর শব্দাবলি চূড়ান্ত পর্যায়ের অলৌকিকত্ব সম্পন্ন এবং দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত। আর এর অর্থসমূহ চূড়ান্ত পর্যায়ের পূর্ণতায় সমৃদ্ধ। এর সংবাদসমূহ সত্য এবং এর বিধানসমূহ ইনসাফপূর্ণ। "আপনার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক থেকে পূর্ণতা পেয়েছে" [আনআম: ১১৫]। অর্থাৎ সংবাদ প্রদানে সত্য এবং বিধানে ইনসাফপূর্ণ। এরপর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এই কিতাবের প্রতি উম্মাহ তিনটি দলে বিভক্ত:

প্রথম দল—আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের ও আপনাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন—যারা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে এর ওপর ঈমান এনেছে এবং এই নূর প্রত্যক্ষ করেছে। ফলে তারা এই নূরের মাধ্যমে হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে এবং এর আলোর সাহায্যে মহাবিশ্বের স্রষ্টার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। ফলে তারা সত্যকে সত্য হিসেবে এবং মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে দেখেছে; যা উপকারী তাকে উপকারী হিসেবে এবং যা ক্ষতিকর তাকে ক্ষতিকর হিসেবে দেখেছে; সুন্দরকে সুন্দর হিসেবে এবং কদর্যকে কদর্য হিসেবে দেখেছে। এই দল সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "এটি মুত্তাকীদের জন্য হেদায়েত। যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যা রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। আর যারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং পরকালের প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাস রাখে" [বাকারা: ২-৪]। অতঃপর তিনি তাদের প্রশংসা করে বলেছেন: "তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে আসা হেদায়েতের ওপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম" [বাকারা: ৫]।

এরপর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই সন্দেহাতীত কুরআনের প্রতি তিন দলের মাঝে অন্য একটি দল আছে যারা—আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—বাহ্যিকভাবে একে অস্বীকার করেছে।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ১৯)
وباطنًا، قال فيهم: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَوَاءٌ عَلَيهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ (6) خَتَمَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَعَلَى سَمْعِهِمْ وَعَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ (7)} [البقرة / 6 - 7] وهذه الطائفة -والعياذ بالله- إنَّما عميت من أنوار القرآن لأنَّها خفافيش البصائر، والخفاش لا يرى الشَّمس.

خفافيش أعماها النهار بضوئه … ووافقها قِطْع من الليل مظلم (1)

مثل النهار يزيد أبصار الورى … نورًا ويعمي أعين الخفاش (2)

كما بينا كما في قوله في سورة الرعد: {أَفَمَنْ يَعْلَمُ أَنَّمَا أُنْزِلَ إِلَيكَ مِنْ رَبِّكَ الْحَقُّ كَمَنْ هُوَ أَعْمَى إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ (19)} [الرعد / 19].

والطائفة الثَّالثة: وهي أخس الطوائف -هي طائفة آمنت به ظاهرًا، وكفرت به باطنًا فكانت من المذبذبين، لا إلى هؤلاء ولا إلى هؤلاء، وهي طائفة المنافقين، وهي أخس الطوائف، ذكرها الله في قوله: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ (8) يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إلا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ (9) فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ فَزَادَهُمُ اللَّهُ مَرَضًا وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ (10)} [البقرة / 8 - 10].

--------------------------------------------

(1) البيت لابن الرومي، وهو في ديوانه (1/ 157)، تحقيق حسين نصار، ولفظه هناك:

خفافيش أعشاها نهار بضوئه … ولاحمها قطع من الليل غيهب

(2) البيت في المغني لابن قدامة (13/ 323)، حياة الحيوان للدميري (1/ 296)، صبح الأعشى (2/ 88)، الأضواء (2/ 274).
এবং অভ্যন্তরীণভাবে; তাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {নিশ্চয় যারা কুফরি করেছে, আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের জন্য উভয়ই সমান, তারা ঈমান আনবে না (৬) আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহ ও তাদের শ্রবণশক্তির ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তাদের দৃষ্টিশক্তির ওপর আবরণ রয়েছে; আর তাদের জন্য রয়েছে মহা আজাব (৭)} [আল-বাকারাহ / ৬ - ৭]। আর এই দলটি—আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি—কেবল কুরআনের নূর থেকে অন্ধ হয়ে গেছে কারণ তারা হলো অন্তর্দৃষ্টির বাদুড় সদৃশ, আর বাদুড় সূর্য দেখতে পায় না।

বাদুড়রা, যাদের দিনের আলো তার জ্যোতির মাধ্যমে অন্ধ করে দিয়েছে … আর রাতের অন্ধকারের একটি অংশ তাদের জন্য অনুকূল হয়েছে (১)

দিনের আলোর ন্যায় যা সৃষ্টির দৃষ্টির … জ্যোতি বাড়িয়ে দেয় এবং বাদুড়ের চোখকে অন্ধ করে দেয় (২)

যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি সুরা আর-রা’দ-এ তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {তবে কি যে ব্যক্তি জানে যে, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা সত্য, সে কি ওই ব্যক্তির মতো যে অন্ধ? কেবল বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে (১৯)} [আর-রা’দ / ১৯]।

এবং তৃতীয় দলটি: এটি দলগুলোর মধ্যে নিকৃষ্টতম—তারা হলো সেই দল যারা বাহ্যিকভাবে এর ওপর ঈমান এনেছে এবং অভ্যন্তরীণভাবে কুফরি করেছে, ফলে তারা দোদুল্যমানদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তারা না এদের দিকে না ওদের দিকে; আর তারা হলো মুনাফিকদের দল, এবং তারা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। আল্লাহ তাদের কথা উল্লেখ করেছেন তাঁর এই বাণীতে: {আর মানুষের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান এনেছি’, অথচ তারা মুমিন নয় (৮) তারা আল্লাহ ও মুমিনদের ধোঁকা দিতে চায়, অথচ তারা কেবল নিজেদেরই ধোঁকা দিচ্ছে কিন্তু তারা তা বুঝতে পারছে না (৯) তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন; আর তাদের মিথ্যার দরুন তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব (১০)} [আল-বাকারাহ / ৮ - ১০]।

--------------------------------------------

(১) পঙ্ক্তিটি ইবনুর রুমির, এটি তাঁর দীওয়ানে (১/ ১৫৭) রয়েছে, তাহকিক: হুসাইন নাসসার, সেখানে এর পাঠ হলো:

বাদুড়রা, যাদের দিন তার আলো দিয়ে চোখে ধাঁধিয়ে দিয়েছে … আর রাতের নিকষ অন্ধকার তাদের সাথে মিশে গেছে

(২) পঙ্ক্তিটি ইবনে কুদামার আল-মুগনি (১৩/ ৩২৩), আদ-দামিরির হায়াতুল হাইওয়ান (১/ ২৯৬), সুবহুল আশা (২/ ৮৮) এবং আল-আদওয়া (২/ ২৭৪) গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ২০)
وأطال في كلامه في هذه الطائفة لأنَّها أخس الطوائف، فضرب لها الأمثال بمثل النَّار ومثل الماء {مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَارًا} [البقرة / 17] ومثل الماء في قوله: {أَوْ كَصَيِّبٍ مِنَ السَّمَاءِ فِيهِ ظُلُمَاتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ} [البقرة / 19].

ولا يسعنا المقام في أن نتكلم على المثلين لأنَّه يستغرق وقتًا طويلًا.

والشاهد أن الله لمَّا نوه بهذا القرآن العظيم، وبينَ أنَّه الكتاب الأعظم الذي لا ريب فيه، وبيّن أن النَّاس بالنسبة إليه ثلاث طوائف: طائفة طيبة، وطائفتان خبيثتان، ليس المقصود من القرآن في تقسيم هذه الطوائف مجرد تاريخ ولا إخبار، بل مجرد وعظ وإرشاد ليعلم خلقه ويبيِّن لهم أنهم يجب عليهم أن يُسارعوا إلى أن يكونوا من الطائفة الطيبة، ويتباعدوا كل التباعد من الطائفتين، المقصود تنبيه المسلمين على أن يكونوا من المتقين الذين يؤمنون بالغيب ومما رزقناهم ينفقون، وأن يتباعدوا كل التباعد أن يكونوا من طائفة الكافرين أو طائفة المنافقين.

لا شك أن المسلم إذا علم هذا التقسيم من خالق الكون -جل وعلا- أنَّه يتشوف بتعطش إلى الطَّريق التي يجتنب بها الكينونة مع الطائفتين الخبيثتين، والصيرورة مع الطائفة الطيبة، لا شك في هذا؛ لأجل هذا أتبع الله هذا التقسيم بإيضاح كلمتين عليهما مدار خير الدُّنيا والآخرة، وجميع الهدى، والصلة الكاملة بمن رفع هذه السماء ودحا هذه الأرض، وفتح هذه العيون في أوجهكم، ففرق أصابعكم وشدَّ رؤوسها بالأظفار، وأنتم في بطون أمهاتكم من غير أن يحتاج إلى أن
তিনি এই দল সম্পর্কে তাঁর আলোচনা দীর্ঘায়িত করেছেন কারণ এটি দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। তিনি তাদের জন্য আগুনের উদাহরণ এবং পানির উদাহরণ দিয়েছেন: "তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে আগুন জ্বালিয়েছে" [আল-বাকারা: ১৭] এবং পানির উদাহরণ দিয়েছেন তাঁর এই বাণীতে: "অথবা আকাশের বর্ষণমুখর মেঘের মতো, যাতে রয়েছে ঘোর অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎ" [আল-বাকারা: ১৯]।

এই দুই উদাহরণের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করার সুযোগ আমাদের নেই, কারণ এতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে।

সারকথা হলো, যখন আল্লাহ এই সুমহান কুরআনের কথা উল্লেখ করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে এটি সেই শ্রেষ্ঠ কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, এবং তিনি বর্ণনা করেছেন যে এর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী তারা তিন দলে বিভক্ত: একটি উত্তম দল এবং দুটি নিকৃষ্ট দল। এই দলসমূহের বিভাজনে কুরআনের উদ্দেশ্য কেবল ইতিহাস বর্ণনা বা সংবাদ প্রদান নয়; বরং এটি নিছক উপদেশ ও দিকনির্দেশনা, যাতে তিনি তাঁর সৃষ্টিজগতকে শিক্ষা দিতে পারেন এবং তাদের কাছে স্পষ্ট করতে পারেন যে, তাদের জন্য আবশ্যক হলো উত্তম দলের অন্তর্ভুক্ত হতে দ্রুত অগ্রসর হওয়া এবং অন্য দুটি দল থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকা। এর উদ্দেশ্য হলো মুসলিমদের সতর্ক করা যাতে তারা সেই মুত্তাকিদের অন্তর্ভুক্ত হয় যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে এবং তাদের যে রিজিক দেওয়া হয়েছে তা থেকে ব্যয় করে; আর তারা যেন কাফির ও মুনাফিকদের দলভুক্ত হওয়া থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকে।

নিঃসন্দেহে একজন মুসলিম যখন বিশ্বজগতের স্রষ্টা -যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ- তাঁর পক্ষ থেকে এই বিভাজন সম্পর্কে জানতে পারে, তখন সে অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত হয়ে সেই পথটি অনুসন্ধান করে যার মাধ্যমে সে দুটি নিকৃষ্ট দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকতে পারবে এবং উত্তম দলের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই; আর একারণেই আল্লাহ এই বিভাজনের পর এমন দুটি শব্দ সুস্পষ্ট করেছেন যার ওপর ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ, সকল হিদায়াত এবং সেই সত্তার সাথে পূর্ণ সম্পর্ক নিহিত রয়েছে যিনি এই আকাশকে সমুন্নত করেছেন এবং এই জমিনকে বিস্তৃত করেছেন, যিনি তোমাদের চেহারায় এই চোখগুলো উন্মোচিত করেছেন, তোমাদের আঙুলগুলোকে পৃথক করেছেন এবং তোমাদের মায়েদের উদরে থাকাকালীন কোনো প্রকার প্রয়োজন ছাড়াই সেগুলোর অগ্রভাগ নখ দ্বারা সুদৃঢ় করেছেন...
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ২১)
يشقها {يَخْلُقُكُمْ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ خَلْقًا مِنْ بَعْدِ خَلْقٍ فِي ظُلُمَاتٍ ثَلَاثٍ} [الزمر / 6]. هاتان الكلمتان هما: (لا إله إلَّا الله محمَّد رسول الله). فبدأ بالكلمة الأولى التي هي (لا إله إلَّا الله) وبينها لأنها مركبة من نفي وإثبات، (لَّا إله) نفي، (إلَّا الله) إثبات. ومعنى نفيها: خلع جميع أنواع المعبودات غير الله في جميع أنواع العبادات، ومعنى إثباتها: إفراد خالق هذا الكون -جل وعلا- بالعبادة.

وأصل العبادة في لغة العرب: الذل والخضوع، وهذا معنى معروف في كلام العرب، ومنه قول طرفة بن العبد في معلقته (1):

تُباري عتاقًا ناجيات وأتبعت … وظيفًا وظيفًا فوق مَوْرٍ مُعَبدِ

أي: مذلل لدوس الأقدام والأرجل.

أما العبادة في اصطلاح الشرع فهي: التقريب إلى خالق هذا الكون بما أمر أن يتقرب له به على الوجه الشرعي على لسان محمَّد صلى الله عليه وسلم مع الخضوع والذل والمحبة، فلا يكفي الذل والخضوع دون المحبة، ولا المحبة دون الذل والخضوع، لأنَّ المحبة إن لم يكن معها خوف كان صاحبها في إذلال وجراءة، فقد يقع في المقام الإلهي بما لا ينبغي إدلالًا بالحب وأمنًا من عدم الخوف، والخوف إذا كان منفردًا عن المحبة كان صاحبه مُبْغِضًا. وهذا كله لا يليق، لا بد من ذل وخضوع من جهة، ومن محبةٍ من جهة أخرى.

هذه الكلمة التي بيّنا معناها جاء الله بإثباتها منفردة في قوله:

--------------------------------------------

(1) شرح القصائد المشهورات (1/ 60).
তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেন তোমাদের মায়েদের পেটে, এক সৃষ্টির পর অন্য সৃষ্টিতে, তিনটি অন্ধকারের মধ্যে [আয-যুমার / ৬]। এই দুটি বাক্য হলো: (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল)। অতঃপর তিনি প্রথম বাক্যটি অর্থাৎ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) দ্বারা শুরু করলেন এবং এর ব্যাখ্যা প্রদান করলেন; কারণ এটি নেতিবাচক ও ইতিবাচক প্রসঙ্গের সমন্বয়ে গঠিত। (কোনো সত্য উপাস্য নেই) হলো নেতিবাচক, (আল্লাহ ছাড়া) হলো ইতিবাচক। এর নেতিবাচক অংশের অর্থ হলো: সকল প্রকার ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ ছাড়া অন্য সকল প্রকার উপাস্যকে বর্জন করা। আর এর ইতিবাচক অংশের অর্থ হলো: এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা —যিনি মহান ও উচ্চ— তাঁকে ইবাদতের ক্ষেত্রে একক করা।

আর আরবি ভাষায় ইবাদতের মূল অর্থ হলো: হীনতা ও আনুগত্য প্রকাশ করা। এটি আরবদের কথাবার্তায় একটি সুপরিচিত অর্থ। এর অন্যতম উদাহরণ হলো তাঁর মুয়াল্লাকায় তারাফাহ বিন আল-আবদ এর উক্তি (১):

সে দ্রুতগামী শ্রেষ্ঠ উটগুলোর সাথে পাল্লা দেয় এবং একের পর এক পা ফেলে সুগম পথের উপর …

অর্থাৎ: যা মানুষের পদচারণা ও পায়ের দ্বারা দমিত বা সুগম করা হয়েছে।

পক্ষান্তরে শরীয়তের পরিভাষায় ইবাদত হলো: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবানে বর্ণিত শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে, আল্লাহ যে সকল কাজ দ্বারা নৈকট্য অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলোর মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করা; আর তা হতে হবে আনুগত্য, হীনতা প্রকাশ এবং ভালোবাসার সাথে। কেননা ভালোবাসা ছাড়া কেবল আনুগত্য ও হীনতা প্রকাশ যথেষ্ট নয়, আবার আনুগত্য ও হীনতা প্রকাশ ছাড়া কেবল ভালোবাসাও যথেষ্ট নয়। কারণ ভালোবাসার সাথে যদি ভয় না থাকে, তবে তা ব্যক্তিকে প্রশ্রয় ও দুঃসাহসের দিকে নিয়ে যায়। ফলে সে ভালোবাসার আতিশয্যে এবং ভীতিহীনতার কারণে আল্লাহর শানে এমন কিছু করে বসতে পারে যা অনুচিত। আবার ভয় যদি ভালোবাসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তবে ব্যক্তি বিদ্বেষ পোষণকারী হয়ে পড়ে। আর এর কোনোটিই সমীচীন নয়; বরং একদিকে আনুগত্য ও হীনতা প্রকাশ এবং অন্যদিকে ভালোবাসা থাকা অপরিহার্য।

এই যে বাক্যটি যার অর্থ আমরা বর্ণনা করলাম, আল্লাহ তাআলা তাঁর নিম্নোক্ত বাণীতে একে এককভাবে সাব্যস্ত করেছেন:

--------------------------------------------

(১) শারহুল কাসায়েদ আল-মাশহুরাত (১/ ৬০)।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ২২)
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ} [البقرة / 21].

وجاء في نفيها في حدة في قوله: {فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ (22)} [البقرة / 22] وكان أول أمر في المصحف الكريم -إذا نظرت المصحف الكريم أول أمر فيه على التَّرتيب الذي هو عليه- قوله: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا} [البقرة / 21] في هذه الآية التي تلونا من أول سورة البقرة. وأول نهي فيه قوله: {فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا} [البقرة / 22]. فأول [أمر] (1) في المصحف يتضمن حظ الإثبات من: (لا إله إلَّا الله). وأول نهي منه يتضمن حظ النفي من: (لا إله إلَّا الله).

ثم إن الله لما بين هذه الكلمة الأولى وأوضحها جاء ببراهينها: بيَّن تفسير جزأيها، ثم ضمنها براهين البعث، وسنتكلم على هذا ونوضحه الآن.

ثم بعد ذلك أقام برهان (محمَّد رسول الله) بعد أن بين (لا إله إلَّا الله) وبراهينها العقلية المضمنة براهين البعث أتبع ذلك بقوله: {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ} [البقرة / 23] وهذا برهان الإعجاز؛ لأنَّ إعجاز جميع الخلائق عن أن يأتوا بسورة من مثل هذا القرآن برهان قاطع على أنَّه تنزيل رب العالمين، إذ لو كان من كلام العرب لقدر البشر على محاكاته؛ ولذا لما قال: {فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا} قال: {وَلَنْ تَفْعَلُوا} [البقرة / 24] لنفي المستقبل علّق ونفى الشرط المعلق عليه ليدل على أن المشروط لا يأتي أبدًا، ولذا قال: {فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا} لا يمكن أن تفعلوا، وهذا التعليق والنفي أسلوب بليغ من كلام

--------------------------------------------

(1) الأصل: نهي، وهو سبق لسان.
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো} [আল-বাকারা / ২১]।

আর এর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পৃথকভাবে এসেছে তাঁর এই বাণীতে: {অতএব তোমরা জেনেশুনে আল্লাহর জন্য কোনো সমকক্ষ স্থির করো না (২২)} [আল-বাকারা / ২২]। পবিত্র মাসহাফে প্রথম নির্দেশ হলো—আপনি যদি পবিত্র মাসহাফটি বর্তমানে যেভাবে সাজানো রয়েছে সেই ক্রম অনুসারে দেখেন, তবে তাতে প্রথম নির্দেশ হলো—তাঁর বাণী: {হে মানবজাতি! তোমরা ইবাদত করো} [আল-বাকারা / ২১], যা সূরা আল-বাকারার শুরুতে আমরা তিলাওয়াত করেছি সেই আয়াতে রয়েছে। আর এতে প্রথম নিষেধ হলো তাঁর বাণী: {অতএব তোমরা আল্লাহর জন্য কোনো সমকক্ষ স্থির করো না} [আল-বাকারা / ২২]। সুতরাং মাসহাফের প্রথম [নির্দেশ] (১) 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)-এর ইতিবাচক দিকটি (সাব্যস্তকরণ) অন্তর্ভুক্ত করে। আর এর প্রথম নিষেধটি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর নেতিবাচক দিকটি (নাকচ করা) অন্তর্ভুক্ত করে।

এরপর আল্লাহ যখন এই প্রথম বাক্যটি বর্ণনা করলেন এবং তা সুস্পষ্ট করলেন, তখন তিনি এর প্রমাণাদি উপস্থাপন করলেন: তিনি এর দুটি অংশের ব্যাখ্যা বর্ণনা করেছেন, অতঃপর এর মধ্যে পুনরুত্থানের প্রমাণসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আমরা এখন এ বিষয়ে আলোচনা করব এবং এটি স্পষ্ট করব।

তারপর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং এর সাথে পুনরুত্থানের প্রমাণ সম্বলিত যৌক্তিক প্রমাণাদি বর্ণনার পর তিনি 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল' হওয়ার প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি এর অনুগামী হিসেবে বর্ণনা করেছেন: {আর আমরা আমাদের বান্দার ওপর যা নাযিল করেছি, সে বিষয়ে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তোমরা তার মতো একটি সূরা নিয়ে এসো} [আল-বাকারা / ২৩]। আর এটি হলো অলৌকিকত্বের প্রমাণ; কেননা সমস্ত সৃষ্টির পক্ষ থেকে এই কুরআনের মতো একটি সূরা নিয়ে আসতে অক্ষম হওয়া এই কথার অকাট্য প্রমাণ যে, এটি রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। কারণ এটি যদি আরবদের কথা হতো, তবে মানুষ এর অনুরূপ রচনা করতে সক্ষম হতো। একারণেই যখন তিনি বললেন: {অতঃপর যদি তোমরা না করো}, তখন তিনি সাথে বললেন: {এবং তোমরা কখনোই করতে পারবে না} [আল-বাকারা / ২৪]। ভবিষ্যৎকালকে নাকচ করার জন্য তিনি এখানে শর্ত যুক্ত করেছেন এবং সেই শর্তের বিষয়টিকে অসম্ভব ঘোষণা করেছেন, যাতে এটি বুঝানো যায় যে, যার ওপর শর্তারোপ করা হয়েছে তা কখনোই ঘটবে না। আর একারণেই তিনি বলেছেন: {অতঃপর যদি তোমরা না করো এবং তোমরা কখনোই করতে পারবে না}—অর্থাৎ তোমাদের পক্ষে তা করা সম্ভব নয়। আর এই শর্তারোপ ও নাকচ করা বাণীর এক অলঙ্কারপূর্ণ পদ্ধতি...

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে রয়েছে: নিষেধ, যা অসাবধানতাবশত মুখ ফসকে বলা।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ২৩)
العرب، ونظيره من كلام العرب قول الخنساء الشاعرة السُّلَمية: (1)

هريقي من دموعك واستفيقي … وصبرًا إن أطَقْتِ ولن تُطيقي

ولذا لما قال: {فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا} قال: {فَاتَّقُوا النَّارَ} [البقرة: 24] يعني: فاعلموا أن حجة الله وبرهانه قام عليكم بصدق هذا النَّبيُّ الكريم، وأن هذا المحكم المنزل كلام رب العالمين -جل وعلا- وقد تحداهم هنا بسورة منه قال: {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ} [البقرة / 23] ثم تحدَّاهم في سورة يونس بسورة أيضًا قال: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِثْلِهِ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (38)} [يونس / 38] ثم تحدَّاهم في سورة هود بعشر سور قال: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (13)} [هود / 13]. ثم قال: {فَإِلَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكُمْ فَاعْلَمُوا} [هود: 14] أي: فتيقنوا علمًا يقينًا {أَنَّمَا أُنْزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ وَأَنْ لَا إِلَهَ إلا هُوَ فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (14)} [هود / 14] ثم تحدَّاهم في سورة الطور به كله قال: {فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِثْلِهِ إِنْ كَانُوا صَادِقِينَ (34)} [الطور / 34]. ثم بين في سورة بني إسرائيل -سورة الإسراء- أن جميع الخلائق عاجزون عن الإتيان بمثله قال: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا (88)} [الإسراء / 88] هذا برهان إعجاز ذكرنا منه نموذجًا خفيفًا ليستدل به السامع على غيره.

--------------------------------------------

(1) ديوان الخنساء (ص 103).
আরবদের মধ্যে, এবং আরবদের বাচনভঙ্গিতে এর অনুরূপ উদাহরণ হলো সুলামি গোত্রের মহিলা কবি আল-খানসার উক্তি: (১)

তোমার অশ্রু বিসর্জন দাও এবং সজাগ হও ... আর যদি পারো তবে ধৈর্য ধরো, যদিও তুমি তা পারবেই না

আর এজন্যই যখন তিনি বললেন: "যদি তোমরা তা না করো—আর তোমরা কখনও তা করতে পারবেও না", তখন তিনি বললেন: "তবে তোমরা সেই আগুনকে ভয় করো" [আল-বাকারাহ: ২৪]। অর্থাৎ: তোমরা জেনে রাখো যে, এই সম্মানিত নবীর সত্যতার সপক্ষে আল্লাহর দলিল ও প্রমাণ তোমাদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এই সুসংহত অবতীর্ণ বাণী বিশ্বজগতের প্রতিপালক—যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ—তাঁর কালাম। আর তিনি এখানে এর অনুরূপ একটি সূরার মাধ্যমে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তিনি বলেছেন: "আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি তাতে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে, তবে তোমরা তার মতো একটি সূরা নিয়ে এসো" [আল-বাকারাহ: ২৩]। এরপর তিনি সূরা ইউনুসেও একটি সূরার মাধ্যমে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তিনি বলেছেন: "নাকি তারা বলে যে, তিনি এটি রচনা করেছেন? বলো, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও" [ইউনুস: ৩৮]। এরপর তিনি সূরা হুদে দশটি সূরার মাধ্যমে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তিনি বলেছেন: "নাকি তারা বলে যে, তিনি এটি রচনা করেছেন? বলো, তবে তোমরা এর মতো দশটি মিথ্যা রচনা করা সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও" [হুদ: ১৩]। এরপর তিনি বললেন: "অতঃপর তারা যদি তোমাদের ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখো" [হুদ: ১৪]। অর্থাৎ: তোমরা নিশ্চিত জ্ঞানের সাথে নিশ্চিত হও যে, "এটি আল্লাহর জ্ঞান দ্বারাই অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) হবে?" [হুদ: ১৪]। এরপর তিনি সূরা তুরে এর সমগ্রটি নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তিনি বলেছেন: "যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে তারা এর মতো কোনো কথা নিয়ে আসুক" [আত-তূর: ৩৪]। এরপর তিনি সূরা বনী ইসরাঈলে—যা সূরা আল-ইসরা নামে পরিচিত—স্পষ্ট করেছেন যে, সমস্ত সৃষ্টিই এর মতো কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম। তিনি বলেছেন: "বলো, যদি এই কুরআনের মতো কিছু নিয়ে আসার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর মতো কিছু নিয়ে আসতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়" [আল-ইসরা: ৮৮]। এটি হচ্ছে মোজেজা বা অলৌকিকত্বের প্রমাণ, যার একটি সংক্ষিপ্ত নমুনা আমরা উল্লেখ করেছি যেন শ্রোতারা এর মাধ্যমে অন্যান্য প্রমাণগুলো অনুমান করে নিতে পারে।

--------------------------------------------

(১) দিওয়ান আল-খানসা (পৃষ্ঠা ১০৩)।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ২৪)
ثم أرْجعُ إلى بيان براهين (لا إله إلَّا الله) فالمشركون يقولون: كيف تجعل الآلهة إلها واحدًا؟ {أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيءٌ عُجَابٌ (5)} [ص / 5] ما البرهان على وحدانية هذا الإله الذي رفع هذا الكون؟ هذا البرهان كرره الله في هذه السورة الكريمة تكريرًا كثيرًا، منه ما قال: {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَا إِلَهَ إلا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ (163)} [البقرة / 163]. ثم أتبع هذا بالأدلة العقلية في هذه السورة حيث قال: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنْفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ مَاءٍ فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَينَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ (164)} [البقرة / 164]. وهنا قال: {اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ} [البقرة / 21]، يعني: من أعظم براهين عبادة الله وحده أنَّه خلقنا واخترعنا من العلم إلى الوجود، وخلقه لنا من غرائب وعجائب صنعه كما نبين منه نموذجا قليلًا هنا: أولًا: الله في القرآن يجعل الفرق والعلامة الفارقة بين من يستحق أن يُعبد ومن لا يستحق أن يُعبد هي الإبراز والاختراع والإبداء من العلم إلى الوجود، فمن يخترعك ويبرزك من العلم إلى الوجود عليك أن تعبده، ومن لا يخلقك فهو محتاج إلى خالق -مثلك- فأنت وهو ملزمان بأن تعبدا من خلقكما، ولذا قال هنا: {اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ} [البقرة / 21] وقال جل وعلا: {أَفَمَنْ يَخْلُقُ كَمَنْ لَا يَخْلُقُ} [النحل / 17] لا والله {أَمْ جَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَيهِمْ قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ (16)} [الرعد / 16] وخالق كل شيء هو معبود كل شيء، وهذه الحالة التي خلقنا عليها خالق الكون هي من غرائب وعجائب صنع مَنْ خلقنا، وقد أمرنا أمرًا
এরপর আমি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)-এর প্রমাণাদি বর্ণনার দিকে ফিরে আসছি। মুশরিকরা বলে: কীভাবে সে সকল উপাস্যকে এক উপাস্যে পরিণত করল? "সে কি বহু উপাস্যকে এক উপাস্যে পরিণত করেছে? নিশ্চয়ই এটি একটি অত্যন্ত বিস্ময়কর বিষয়।" [সোয়াদ / ৫]। এই মহাবিশ্বকে যিনি সমুন্নত করেছেন, সেই উপাস্যের একত্বের প্রমাণ কী? আল্লাহ এই সম্মানিত সূরাতে এই প্রমাণটির বারবার পুনরাবৃত্তি করেছেন, যার মধ্যে তিনি বলেছেন: "আর তোমাদের উপাস্য একমাত্র উপাস্য, তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।" [আল-বাকারাহ / ১৬৩]। এরপর তিনি এই সূরাতে যৌক্তিক দলিলাদি দ্বারা এর অনুগমন করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের আবর্তনে, সমুদ্রে চলাচলকারী নৌযানসমূহে যা মানুষের উপকারে আসে, আর আল্লাহ আকাশ থেকে যে পানি বর্ষণ করেছেন অতঃপর তার মাধ্যমে জমিনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেছেন এবং তাতে সব ধরনের প্রাণীকুল ছড়িয়ে দিয়েছেন, আর বায়ুর পরিবর্তনে এবং আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী নিয়ন্ত্রিত মেঘমালায় অবশ্যই জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।" [আল-বাকারাহ / ১৬৪]। আর এখানে তিনি বলেছেন: "তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত করো যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন।" [আল-বাকারাহ / ২১]। অর্থাৎ: একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার অন্যতম মহান প্রমাণ হলো এই যে, তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে নিয়ে এসেছেন। আমাদের প্রতি তাঁর এই সৃষ্টি হলো তাঁর এক অনন্য ও বিস্ময়কর কারুকার্য, যার একটি ক্ষুদ্র নমুনা আমরা এখানে বর্ণনা করছি: প্রথমত: আল্লাহ কুরআনে ইবাদত পাওয়ার যোগ্য এবং ইবাদত পাওয়ার অযোগ্যদের মধ্যে যে পার্থক্য ও সুস্পষ্ট চিহ্ন নির্ধারণ করেছেন, তা হলো অস্তিত্বদান, উদ্ভাবন এবং অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে প্রকাশ করা। সুতরাং যিনি আপনাকে উদ্ভাবন করেছেন এবং অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন, আপনার উচিত তাঁরই ইবাদত করা। আর যে আপনাকে সৃষ্টি করেনি, সে আপনার মতোই একজন স্রষ্টার মুখাপেক্ষী; তাই আপনি এবং সে—উভয়েই আপনাদের স্রষ্টার ইবাদত করতে বাধ্য। এই কারণেই তিনি এখানে বলেছেন: "তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত করো যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন" [আল-বাকারাহ / ২১]। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আরও বলেছেন: "তবে কি যিনি সৃষ্টি করেন তিনি কি তাঁর মতো যে সৃষ্টি করে না?" [আন-নাহল / ১৭]। আল্লাহর কসম, কখনোই নয়! "নাকি তারা আল্লাহর এমন সব অংশীদার সাব্যস্ত করেছে যারা তাঁর সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করেছে, ফলে সৃষ্টিসমূহ তাদের নিকট সদৃশ মনে হয়েছে? বলুন, আল্লাহই সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি অদ্বিতীয়, মহাপরাক্রমশালী।" [আর-রাদ / ১৬]। আর প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টাই হলো প্রতিটি জিনিসের উপাস্য। মহাবিশ্বের স্রষ্টা আমাদের যে অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন, তা আমাদের স্রষ্টার এক অনন্য ও বিস্ময়কর কারুকার্য, এবং তিনি আমাদের একটি বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ২৫)
واجبًا على كل إنسان منا أن ينظر فيها ويتأمل حيث قال: {فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ مِمَّ خُلِقَ (5)} [الطارق: 5] هذا أمر واجب من خالق الكون؛ لأنَّ المقرر في علوم المعاني وعلوم الأصول: أن صيغ الأمر الأربعة تدل على الوجوب حتمًا إلَّا إذا صرف عنه صارف، وهذا هو الحق. وصيغ الأمر الدّالة على الوجوب في اللُّغة العربيَّة معلوم أنَّها أربع صيغ:

أولها: فعل الأمر، نحو: {أَقِمِ الصَّلَاةَ}.

الثَّاني: الفعل المضارع المجزوم بلام الأمر، كقوله: {فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ إِلَى طَعَامِهِ (24)} [عبس / 24].

الثالث: اسم فعل الأمر، نحو: {عَلَيكُمْ أَنْفُسَكُمْ} [المائدة / 105].

الرابع: المصدر النائب عن فعله، نحو: {فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ} [محمد / 4] (فضرب الرقاب) يعني: اضربوا رقابهم.

هذه صيغ الأمر. وصيغة الأمر هنا في {فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ} هي تقتضي الوجوب الحتم، {مِمَّ خُلِقَ (5)}؟ والإنسان له رحلة يجب على المسكين أن يتأملها وينظر فيها ليعلم قدره ويعلم عظمة من خلقه، أمر الله بالنظر فيها في قوله: {فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ مِمَّ خُلِقَ (5)} [الطارق / 5] وبين للخلق ماخلقهم منه قال: {كَلَّا إِنَّا خَلَقْنَاهُمْ مِمَّا يَعْلَمُونَ} [المعارج / 39] ترى الذي خلقناكم منه هو الذي تعرفوه.

وقد أوضح الله -تعالى- رحلة الإنسان إيضاحًا يُعرَف الإنسان بنفسه ويُعرفه بربه، ذلك الإيضاح في سورة {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ (1)} وذلك أن هذا الإنسان الذي يطغى ويبغي ويغزو الفضاء ويحاول يتمرد
আমাদের প্রত্যেকের জন্য এতে দৃষ্টিপাত করা এবং চিন্তা-গবেষণা করা আবশ্যক, যেহেতু তিনি বলেছেন: "অতএব মানুষের দেখা উচিত তাকে কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।" [আত-তারিক: ৫]। এটি মহাবিশ্বের স্রষ্টার পক্ষ থেকে একটি আবশ্যকীয় নির্দেশ; কারণ অলঙ্কারশাস্ত্র ও মূলনীতিশাস্ত্রের স্বীকৃত নিয়ম হলো: নির্দেশের চারটি রূপ অনিবার্যভাবে কোনো কাজ আবশ্যক হওয়াকে নির্দেশ করে, যতক্ষণ না কোনো ভিন্ন প্রমাণ একে অন্য অর্থে সরিয়ে নেয়, আর এটাই সত্য। আরবি ভাষায় আবশ্যকীয়তা নির্দেশক নির্দেশের রূপগুলো চারটি হিসেবে পরিচিত:

প্রথমটি: নির্দেশের ক্রিয়া, যেমন: "সালাত কায়েম করো।"

দ্বিতীয়টি: নির্দেশের 'লাম' যুক্ত বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, যেমন তাঁর বাণী: "অতএব মানুষ যেন তার খাদ্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করে।" [আবাসা: ২৪]।

তৃতীয়টি: নির্দেশের ক্রিয়ার অর্থবোধক বিশেষ্য, যেমন: "তোমরা নিজেদের সংশোধনের ব্যাপারে যত্নবান হও।" [আল-মায়িদাহ: ১০৫]।

চতুর্থটি: ক্রিয়াপদের স্থলাভিষিক্ত মূল ধাতু, যেমন: "অতঃপর যখন তোমরা কাফিরদের মোকাবিলা করবে, তখন তাদের ঘাড়ে আঘাত করো।" [মুহাম্মদ: ৪]। (ঘাড়ে আঘাত করা) অর্থাৎ: তোমরা তাদের ঘাড়ে আঘাত করো।

এগুলোই হলো নির্দেশের রূপসমূহ। আর এখানে "অতএব মানুষের দেখা উচিত" বাক্যে নির্দেশের রূপটি অনিবার্যভাবে আবশ্যক হওয়াকে বোঝায়; "তাকে কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে?"। মানুষের একটি জীবন পরিক্রমা রয়েছে যা এই অসহায় মানুষের চিন্তা করা এবং তাতে দৃষ্টি দেওয়া আবশ্যক, যাতে সে নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে জানতে পারে এবং তার স্রষ্টার মহিমা উপলব্ধি করতে পারে। আল্লাহ এতে দৃষ্টি দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: "অতএব মানুষের দেখা উচিত তাকে কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।" [আত-তারিক: ৫]। আর তিনি সৃষ্টির সামনে স্পষ্ট করেছেন কী থেকে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, তিনি বলেন: "কখনোই নয়, নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি তা থেকে যা তারা জানে।" [আল-মাআরিজ: ৩৯]। লক্ষ্য করো, যা থেকে আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি তা তোমরা ভালো করেই জানো।

আল্লাহ তাআলা মানুষের এই জীবন পরিক্রমাকে এমন স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যা মানুষকে নিজের সম্পর্কে সচেতন করে এবং তার রবের পরিচয় দান করে। সেই বর্ণনাটি রয়েছে "অবশ্যই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে" সূরায় (সূরা আল-মুমিনুন)। আর তা এই কারণে যে, এই মানুষ যে কি না সীমালঙ্ঘন করে, বিদ্রোহ করে, মহাকাশ জয় করে এবং অবাধ্য হওয়ার চেষ্টা করে...
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ২৬)
على نظام السماء، ويعصي من خلق هذا الكون، ابتداء رحلته تراب وماء، أخذ الله ترابًا فبَلَّهُ بماءٍ فصار اسمه طينًا، ثم إن الله نقل هذا الطين من طور إلى طور خُمر حتَّى صار حمأَ مسنونًا، ويُبس حتَّى صار صلصالًا كالفخار، ثم خلق الله بقدرته منه رجلًا لحمًا ودمًا هو الأب آدم عليه صلوات الله وسلامه، فلما خلق هذا الإنسان من هذا التُّراب {إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَال لَهُ كُنْ} [آل عمران / 59]. لما خلق هذا الإنسان من هذا التُّراب خلق امرأته من ضلعه، وقد نص الله تعالى على أنَّه خلق حواء من آدم في ثلاث سور من كتابه: في أول سورة النساء في قوله: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا} [النساء / 1] النَّفس: آدم، وزوجها التي خُلقت منه: حواء. وقال في سور الأعراف: {خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا} [الأعراف / 189]. وقال في سورة الزمر: {خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا} [الزمر / 6].

ثم بعد أن صار هناك زوجان رجل وامرأة كان الطور الثَّاني للآدميين هي نطفة مَنِيٍّ تقع في رحم المرأة {مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ} [الإنسان / 2] أخلاط من ماء الرجل وماء المرأة، ثم تمكث هذه النطفة في الرحم ما شاء الله، ثم ينقلها الله -جل وعلا- علقة، أي: دمًا جامدًا، ثم ينقل الله هذا الدم إلى مضغة -قطعة لحم على نحو ما يقطعه آكل اللحم ليمضغه- ثم إن الله يحول هذا اللحم إلى هيكل عظام يركب فيه هذه العظام بعضها ببعض، هذه السُلاميات، وهذا البنان، وهذه المفاصل يُركب بعضها ببعض، هذا التركيب الدقيق والصنع الهائل العجيب في كل عضو منا، وهذا الذي ركبه ليس بأخرق كما قال: {نَحْنُ خَلَقْنَاهُمْ
আসমানের নিয়মের ওপর, এবং যে সত্তা এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন তাঁর অবাধ্য হওয়া সত্ত্বেও; মানুষের যাত্রার শুরু ছিল মাটি ও পানি দিয়ে। আল্লাহ মাটি নিলেন এবং তা পানি দিয়ে সিক্ত করলেন, ফলে তার নাম হলো কাদা। এরপর আল্লাহ এই কাদাকে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে স্থানান্তরিত করলেন এবং তা গাজন বা খামিরের মতো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হলো, যতক্ষণ না তা দুর্গন্ধযুক্ত কালো পলিমাটিতে পরিণত হলো। এরপর তা শুকিয়ে গেল যতক্ষণ না তা পোড়ামাটির মতো ঠনঠনে শব্দকারী মাটিতে পরিণত হলো। এরপর আল্লাহ তাঁর কুদরত দ্বারা তা থেকে রক্ত-মাংসের একজন মানুষ সৃষ্টি করলেন, তিনি হলেন আদি পিতা আদম—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। যখন তিনি এই মাটি থেকে এই মানুষকে সৃষ্টি করলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতোই, তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, এরপর তাকে বললেন: 'হও'} [আল ইমরান: ৫৯]। যখন তিনি এই মাটি থেকে এই মানুষকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁর পাঁজর থেকে তাঁর স্ত্রীকে সৃষ্টি করলেন। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের তিনটি সূরায় স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে তিনি আদম থেকে হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন: সূরা নিসার শুরুতে তাঁর এই বাণীতে: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন} [আন-নিসা: ১]। এখানে 'নফস' বা ব্যক্তি হলেন আদম, আর তাঁর স্ত্রী যাকে তাঁর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে তিনি হলেন হাওয়া। এবং তিনি সূরা আরাফে বলেছেন: {তিনিই তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া তৈরি করেছেন} [আল-আ’রাফ: ১৮৯]। এবং তিনি সূরা যুমারে বলেছেন: {তিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তার থেকে তার জোড়া তৈরি করেছেন} [আয-যুমার: ৬]।

এরপর যখন সেখানে এক জোড়া—পুরুষ ও নারী হলো, তখন আদমসন্তানদের জন্য দ্বিতীয় পর্যায় ছিল বীর্যবিন্দু, যা নারীর জরায়ুতে পতিত হয় {মিশ্রিত বীর্যবিন্দু থেকে} [আল-ইনসান: ২], যা মূলত পুরুষ ও নারীর বীর্যের মিশ্রণ। এরপর এই বীর্যবিন্দু জরায়ুতে অবস্থান করে যতক্ষণ আল্লাহ চান, তারপর আল্লাহ—যিনি অত্যন্ত মহিমান্বিত ও সুউচ্চ—তাকে 'আলাকা' অর্থাৎ জমাটবদ্ধ রক্তে রূপান্তরিত করেন। এরপর আল্লাহ এই রক্তকে 'মুদগাহ' বা মাংসপিণ্ডে রূপান্তরিত করেন—যা মাংস ভক্ষণকারীর চিবানো এক টুকরো মাংসের মতো। এরপর আল্লাহ এই মাংসকে হাড়ের কাঠামোতে রূপান্তরিত করেন এবং এই হাড়গুলোকে একে অপরের সাথে জোড়া দেন। এই যে আঙুলের জোড়গুলো, এই আঙুলের ডগা এবং এই গ্রন্থিগুলো—এগুলোকে একে অপরের সাথে জোড়া দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের এই সূক্ষ্ম বিন্যাস এবং এই বিশাল ও বিস্ময়কর নির্মাণশৈলী; আর যিনি এটি নির্মাণ করেছেন তিনি কোনো অদক্ষ বা আনাড়ি নন, যেমনটি তিনি বলেছেন: {আমিই তাদের সৃষ্টি করেছি...}
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَشَدَدْنَا أَسْرَهُمْ} [الإنسان / 28] الأسر: يعني الشد كما تقول للمرأة: "أَسَرَتْ اخْطيرها" (1) -يقولون بالحسانية- ومعناه: يعني ضم الشيء إلى الشيء وشدّه به شدًا محكمًا {وَشَدَدْنَا أَسْرَهُمْ} لو كان الذي شد اليد بالساعد والساعد بالمرفق والبنانة بالبنانة لو كان أخرقًا إذا تحرك الإنسان سقطت يده، أو سقط مرفقه، أو طاح رجله، بل الذي يشدها يشده شدًا محكمًا، ثم إن الله -جل وعلا- يكسو هذا الجسم هذا اللحم ويجعل فيه هذا الدم، ويُجري مجاري البول والغائط يفتحها لتنزل عنها الفضلات، ويفتح مجاري العروق والشرايين ليدير الدم، ويضع كل عضو في محله كالكبد والطحال والكليتين، ويُوَكِّل كلًّا بوظيفته في تدبير الجسم، ويفتح هاتين العينين، ويجعل فيهما هذا النور، ويصبغ بعض العينين بصبغ أسود، وبعضهما بصبغ أبيض، ويفتح هذا الفم ويجعل فيه اللسان، ويودعه هذه الفصاحة، ويُنبع عين الريق العذبة ليأكل بها الإنسان، إذ لو يبس ريقه لما ابتلع الزبد الذائب، ثم إنَّه إذا لم تكن له حاجة في الريق لم يجم لئلا يتعبه التفل [ … ] (2) يعني جُعلت له الأذنان ليسمع، وجعل على هذا التركيب الغريب الهائل [وجعل على هذه الهيئة بطنه، وشهدت] (3) العينان حول البطن، والظهر الذي ليس عنده عينان جُعل عظمًا لو ضربه شيء لا يكاد يضر، وجعل في الإنسان من الغرائب والعجائب شيء يكبر العقول، حتَّى إن

--------------------------------------------

(1) أي: شدَّت الهودج أو ما يشبهه مما يوضح على البعير تركبه المرأة.

(2) في هذا الموضع جملة غير واضحة، والكلام مستقيم بدونها.

(3) في الأصل جملة غير واضحة، وما بين المعقوفين زيادة يتم بها الكلام.
“আর আমরা তাদের গঠন সুদৃঢ় করেছি” [আল-ইনসান / ২৮]। ‘আসর’ অর্থ: মজবুতভাবে বাঁধা; যেমনটা নারীর ক্ষেত্রে বলা হয়: “সে তার হাওদা বেঁধেছে” (১) —হাসানিয়া উপভাষায় তারা এমনটি বলে থাকে— এর অর্থ হলো: কোনো বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে যুক্ত করা এবং তা অত্যন্ত সুদৃঢ়ভাবে বেঁধে দেওয়া। “আর আমরা তাদের গঠন সুদৃঢ় করেছি”, যদি হাতের সাথে কবজি, কবজির সাথে কনুই এবং এক আঙুলের ডগার সাথে অন্য আঙুলের ডগা যিনি বেঁধেছেন তিনি অদক্ষ হতেন, তবে মানুষ নড়াচড়া করলেই তার হাত পড়ে যেত, কিংবা তার কনুই খসে পড়ত, অথবা তার পা পড়ে যেত। বরং যিনি এগুলো বেঁধেছেন, তিনি অত্যন্ত সুদৃঢ়ভাবেই বেঁধেছেন। অতঃপর আল্লাহ —জল্লা ওয়া আলা— এই দেহকে গোশত দিয়ে আবৃত করেন এবং এতে রক্ত সঞ্চার করেন, আর প্রস্রাব ও পায়খানার পথ তৈরি করেন; সেগুলোকে উন্মুক্ত করেন যাতে বর্জ্য নির্গত হতে পারে। তিনি রক্ত সঞ্চালনের জন্য শিরা ও ধমনীর পথগুলো খুলে দেন এবং প্রতিটি অঙ্গকে তার নিজ নিজ স্থানে স্থাপন করেন, যেমন কলিজা, প্লীহা ও বৃক্ক; আর শরীরের ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি অঙ্গকে তার নিজ নিজ দায়িত্বে নিয়োজিত করেন। তিনি এই চোখ দুটি উন্মোচন করেন এবং তাতে জ্যোতি দান করেন, আর চোখের কিছু অংশ কালো রঙে এবং কিছু অংশ সাদা রঙে রঞ্জিত করেন। তিনি এই মুখ খুলে দেন এবং তাতে জিহ্বা স্থাপন করেন, আর তাকে দান করেন এই বাকপটুতা। তিনি লালার সুপেয় প্রস্রবণ প্রবাহিত করেন যাতে মানুষ এর সাহায্যে আহার করতে পারে; কেননা যদি লালা শুকিয়ে যেত, তবে সে গলিত মাখনও গিলতে পারত না। অতঃপর যখন তার লালার প্রয়োজন থাকে না, তখন তা জমা হয় না যাতে থুতু ফেলার কারণে সে ক্লান্ত হয়ে না পড়ে [ … ] (২) অর্থাৎ তার শোনার জন্য দুটি কান দেওয়া হয়েছে, আর এই অদ্ভুত ও বিশাল কাঠামোর ওপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে [আর তার পেটকে এই আকৃতিতে দেওয়া হয়েছে, এবং পেটের চারধারে চোখ দুটি পর্যবেক্ষণ করে] (৩) এবং পিঠ—যার কোনো চোখ নেই—তাকে এমন হাড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছে যে, কোনো কিছু আঘাত করলেও তা প্রায় কোনো ক্ষতি করতে পারে না। তিনি মানুষের মধ্যে এমন সব অদ্ভুত ও বিস্ময়কর বিষয় রেখেছেন যা বিবেককে স্তম্ভিত করে দেয়, এমনকি...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: সে হাওদা বা উটের পিঠে চড়ার জন্য নারীদের বসার অনুরূপ কিছু মজবুত করে বেঁধেছে।

(২) এই স্থানে বাক্যটি অস্পষ্ট, তবে এটি ছাড়াই বক্তব্যটি সঠিক ও সুশৃঙ্খল।

(৩) মূলে বাক্যটি অস্পষ্ট ছিল, আর বন্ধনীভুক্ত অংশটি অতিরিক্ত যা দ্বারা বক্তব্য পূর্ণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ২৮)
ما يحتاج إلى قصه دائمًا كشعره وأظافره نُزعت منه روح الحياة لئلا يتعِبَه عند القص. هذا من غرائب وعجائب خالق الكون -جل وعلا- خلقنا على هذا النحو الغريب، وصَور بني آدم على هذه الصورة، جعل الأنف هنا، والعينين هنا، ولم يشتبه اثنان، طبع كل إنسان على صورة مخالفة لصورة الآخر، وهذه الصورة التي وضع عليها كل واحد هي سابقة في العلم الأزلي، ووضع تنفيذًا على نحو ما سبق به العلم، ولو خُلق ملايين الملايين زائدًا على من خُلق لم يضق العلم، فكل واحد توجد له صورة مخالفة لصورة الآخر، حتَّى آثارهم في الأرض وأصوات نغماتهم وبصماتهم في الأوراق كلها مختلفة، هذه صنائع رب العالمين، وهذه أسرار قليلة من أسرار معنى {رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ} [البقرة / 21] يعني: فمن فعل فيكم هذا من الأفعال والغرائب والعجائب في كل عضو وكل مطرح إبره هو ربكم الذي يستحق أن تعبدوه. ولا يخفى عليكم أن ربنا فعل فينا هذا من الغرائب والعجائب ونحن في بطون أمهاتنا لم يحتج إلى أن يشق أم الواحد منا، ولا أن يبنجها، ولا ينومها في صحية، بل فعل كل هذه العمليات والمرأة لاهية تفرح وتمرح لا تدري عن شيء مما يُفعل في داخلها من غرائب صنع الله وعجائبه، ثم ييسر طريق الخروج. ونحن دائمًا نذكر هذا لأن الله يلفتنا إليه حيث يقول: {يَخْلُقُكُمْ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ خَلْقًا مِنْ بَعْدِ خَلْقٍ فِي ظُلُمَاتٍ ثَلَاثٍ} ظلمة البطن، وظلمة الرحم، وظلمة المشيمة. {ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَهُ الْمُلْكُ لَا إِلَهَ إلا هُوَ فَأَنَّى تُصْرَفُونَ (6)} [الزمر / 6] وهو محل الشاهد، فهذا الذي يفعل هذا الخلق والإيجاد هذا هو الذي يستحق أن يُعبد.

যেসব বস্তু নিয়মিত কাটার প্রয়োজন হয়, যেমন মানুষের চুল ও নখ, সেগুলো থেকে প্রাণের স্পন্দন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে যাতে কাটার সময় ব্যক্তিকে কষ্টের সম্মুখীন হতে না হয়। এটি মহাবিশ্বের স্রষ্টা—যিনি মহিমান্বিত ও সমুন্নত—তাঁর এক অনন্য ও বিস্ময়কর সৃষ্টিশৈলী। তিনি আমাদের এমন এক অদ্ভুত পন্থায় সৃষ্টি করেছেন এবং বনী আদমকে এই বিশেষ অবয়বে রূপ দান করেছেন। তিনি নাককে এখানে এবং চোখ দুটিকে এখানে স্থাপন করেছেন এবং কোনো দুজন মানুষ হুবহু একরকম হয় না। তিনি প্রত্যেক মানুষকে এমন এক অবয়বে অঙ্কিত করেছেন যা অন্যের চেয়ে ভিন্ন। প্রত্যেককে যে বিশেষ আকৃতি দান করা হয়েছে তা আল্লাহর অনাদি জ্ঞানে পূর্বনির্ধারিত ছিল এবং সেই জ্ঞান অনুযায়ীই তা বাস্তবায়িত হয়েছে। যদি বর্তমান সৃষ্টির চেয়ে আরও কোটি কোটি গুণ বেশি মানুষ সৃষ্টি করা হতো, তবুও আল্লাহর জ্ঞানে কোনো সংকীর্ণতা আসত না। সুতরাং প্রত্যেকের জন্যই এমন এক স্বতন্ত্র আকৃতি রয়েছে যা অন্যের চেয়ে আলাদা, এমনকি পৃথিবীতে তাদের পদচিহ্ন, কণ্ঠস্বরের লহরী এবং কাগজে তাদের আঙুলের ছাপ পর্যন্ত সব কিছুই ভিন্ন ভিন্ন। এগুলো রব্বুল আলামীনের নিপুণ কারুকার্য এবং "তোমাদের সেই রব যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন" [আল-বাকারা: ২১]—এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত নিগূঢ় রহস্যের সামান্য কিছু অংশ মাত্র। অর্থাৎ, যিনি তোমাদের প্রতিটি অঙ্গে এবং প্রতিটি সূচাগ্র পরিমাণ স্থানে এই সব বিস্ময়কর ও অলৌকিক কাজ সম্পাদন করেছেন, তিনিই তোমাদের সেই রব যিনি ইবাদত পাওয়ার যোগ্য। আপনাদের নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, আমাদের প্রতিপালক আমাদের মাঝে এসব বিস্ময়কর কাজ তখন সম্পন্ন করেছেন যখন আমরা আমাদের জননীদের গর্ভে ছিলাম। এর জন্য আমাদের কারো মায়ের পেট কাটার প্রয়োজন হয়নি, প্রয়োজন হয়নি তাঁকে অবশ করার কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনে ঘুম পাড়িয়ে রাখার। বরং তিনি এই সমস্ত প্রক্রিয়া এমন অবস্থায় সম্পন্ন করেছেন যখন নারীটি আপন খেয়ালে আনন্দ-উল্লাস করছিলেন; অথচ তাঁর উদর অভ্যন্তরে আল্লাহর সৃষ্টির কী সব অদ্ভুত ও বিস্ময়কর কাজ চলছিল সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। অতঃপর তিনি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পথ সহজ করে দেন। আমরা সর্বদা এই বিষয়টি স্মরণ করি কারণ আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদের সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন: "তিনি তোমাদের তোমাদের মায়েদের পেটে সৃষ্টি করেন, এক সৃষ্টির পর অন্য সৃষ্টিতে, তিনটি অন্ধকারের মধ্যে।" [আয-যুমার: ৬] অর্থাৎ পেটের অন্ধকার, জরায়ুর অন্ধকার এবং গর্ভফুলের অন্ধকার। "তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক; সার্বভৌমত্ব তাঁরই। তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। অতএব তোমরা মুখ ফিরিয়ে কোথায় যাচ্ছ?" [আয-যুমার: ৬] এটিই হলো মূল প্রমাণের স্থল। সুতরাং যিনি এইভাবে সৃষ্টি করেন এবং অস্তিত্ব দান করেন, তিনিই একমাত্র ইবাদত পাওয়ার যোগ্য।

(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ২৯)
ثم قال: {وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ} [البقرة / 21] أي: وخلق الذين من قبلكم. يعني: اعبدوه لأجل أن تتقوه، أي: أن تجعلوا بينكم وبين سخطه وعذابه وقاية، والوقاية: هي امتثال أمر الله واجتناب نهيه.

ثم زاد في البراهين العقلية: {الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا} يعني: هذا من غرائب صنعه وعجائب أمره التي تستدعي أن يُعبد وحده ويعلم أنه الرب وحده {الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا} [البقرة / 22] وهذا الذي فرش هذه الأرض ليس بأخرق {وَالْأَرْضَ فَرَشْنَاهَا فَنِعْمَ الْمَاهِدُونَ (48)} [الذاريات / 48] جعلها ليست شديدة الاستعداد في أخذ الحر زمن الحر، ولا لأخذ البرودة زمن البرودة، فلو جعل الأرض كلُّها من حديد أو من نحاس أو من رصاص أو قصدير هلك كل من عليها، جعلها رخوة لينة يعيش الخلق عليها، قابلة للزراعات، وأنواع الغراسات، وإجراء العيون والأنهار، وبناء البيوت، ومثبتة موطدة بالجبال، تدفن فيها الأموات كما قال: {أَلَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ كِفَاتًا (25) أَحْيَاءً وَأَمْوَاتًا (26)} [المرسلات / 25 - 26] وقوله: {كِفَاتًا (25)} مصدر كفته إذا ضمّه، أي: تكفتكم وتضمكم أحياء على ظهرها وأمواتًا في القبور في بطنها. وهذه الأرض التي فرشها هذا الفرش بث فيها -جل وعلا- من هذه الجبال، وعلى ألوان مختلفة {وَمِنَ الْجِبَالِ جُدَدٌ بِيضٌ وَحُمْرٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهَا وَغَرَابِيبُ سُودٌ (27) وَمِنَ النَّاسِ وَالدَّوَابِّ وَالْأَنْعَامِ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ كَذَلِكَ إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} [فاطر / 27 - 28] بث فيها من أنواع الحيوانات، والأشجار والثمار وأنواع الحبوب والزروع، والمعادن، والجبال مع اختلاف الألوان والأشكال والمنافع والأقدار والطعوم {وَفِي الْأَرْضِ قِطَعٌ مُتَجَاورَاتٌ وَجَنَّاتٌ مِنْ أَعْنَابٍ وَزَرْعٌ وَنَخِيلٌ صِنْوَانٌ وَغَيرُ صِنْوَانٍ يُسْقَى بِمَاءٍ
এরপর তিনি বলেন: "এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরও" [আল-বাকারা / ২১] অর্থাৎ: এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরও সৃষ্টি করেছেন। এর অর্থ হলো: তোমরা তাঁর ইবাদত করো যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো, অর্থাৎ: তোমরা যেন নিজেদের এবং তাঁর ক্রোধ ও আযাবের মাঝে একটি ঢাল তৈরি করতে পারো। আর তাকওয়া হলো: আল্লাহর আদেশ পালন করা এবং তাঁর নিষেধ বর্জন করা।

এরপর তিনি যৌক্তিক প্রমাণাদি বৃদ্ধি করে বলেন: "যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা স্বরূপ করেছেন।" অর্থাৎ: এটি তাঁর সৃষ্টির বিস্ময়কর নিপুণতা ও আশ্চর্যজনক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা কেবল তাঁরই ইবাদত করার দাবি রাখে এবং এই জ্ঞান দান করে যে, একমাত্র তিনিই রব। "যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা করেছেন" [আল-বাকারা / ২২]। আর যিনি এই জমিন বিছিয়েছেন তিনি নিপুণতাহীন নন। "আর জমিনকে আমি বিছিয়েছি, সুতরাং আমি কতই না সুন্দর প্রসারণকারী।" [আদ-যারিয়াত / ৪৮]। তিনি একে এমন করেননি যে গ্রীষ্মকালে অত্যধিক তাপ শোষণ করবে অথবা শীতকালে অত্যধিক শীতলতা গ্রহণ করবে। যদি তিনি সম্পূর্ণ জমিনকে লোহা, তামা, সিসা বা টিন দিয়ে তৈরি করতেন, তবে এর উপর অবস্থিত সকলেই ধ্বংস হয়ে যেত। তিনি একে নরম ও কোমল করেছেন যাতে সৃষ্টিজগত এর ওপর বসবাস করতে পারে। এটি চাষাবাদ ও বিভিন্ন প্রকার চারা রোপণের উপযোগী, ঝরনা ও নদী প্রবাহিত করার যোগ্য এবং ঘরবাড়ি নির্মাণের উপযোগী। একে পাহাড় দ্বারা সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল করেছেন এবং এতে মৃতদের দাফন করা হয়, যেমনটি তিনি বলেছেন: "আমি কি জমিনকে সমাবেশস্থল বানাইনি? জীবিত ও মৃতদের জন্য।" [আল-মুরসালাত / ২৫ - ২৬]। আর তাঁর বাণী: "সমাবেশস্থল" হলো 'কাফাতা' ক্রিয়ামূল থেকে উদ্ভূত যার অর্থ একত্রিত করা। অর্থাৎ: এটি তোমাদের একত্রিত করে এবং নিজের মধ্যে শামিল করে নেয়; জীবিত অবস্থায় এর পিঠের উপরে এবং মৃত অবস্থায় কবরে এর উদরের ভেতরে। আর এই জমিনকে তিনি যেভাবে বিছিয়েছেন, তাতে তিনি—মহান ও মহিমান্বিত—বিভিন্ন প্রকারের এবং বিভিন্ন রঙের পাহাড় ছড়িয়ে দিয়েছেন। "আর পাহাড়সমূহের মধ্যে রয়েছে সাদা ও লাল বিভিন্ন রঙের পথ এবং কুচকুচে কালো পাহাড়।" [ফাতির / ২৭]। "আর মানুষের মধ্যে, জীবজন্তু ও চতুষ্পদ প্রাণীর মধ্যেও অনুরূপ বিভিন্ন রঙ রয়েছে। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে।" [ফাতির / ২৭ - ২৮]। তিনি এতে বিভিন্ন প্রকারের প্রাণী, বৃক্ষলতা, ফলমূল, দানাশস্য, খনিজ পদার্থ এবং পাহাড় ছড়িয়ে দিয়েছেন; যেগুলোর রঙ, আকৃতি, উপকারিতা, পরিমাণ ও স্বাদ ভিন্ন ভিন্ন। "আর জমিনে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন ভূখণ্ড এবং আঙুরের বাগান, শস্যক্ষেত ও খেজুর গাছ—যার কিছু একমূল বিশিষ্ট এবং কিছু ভিন্ন ভিন্ন মূল বিশিষ্ট; যা একই পানি দ্বারা সেচিত হয়..." [আর-রাদ / ৪]
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَاحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ فِي الْأُكُلِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ (4)} [الرعد / 4].

ثم قال: {وَالسَّمَاءَ بِنَاءً} [البقرة / 22] أي وجعل هذه السماء بناءً سقفًا مرفوعًا لا يتفطر ولا يتشقق، ولا يحتاج إلى ترميم ولا إصلاح مع أنَّه تمر عليه آلاف السنين {فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَى مِنْ فُطُورٍ (3) ثُمَّ ارْجِعِ الْبَصَرَ كَرَّتَينِ يَنْقَلِبْ إِلَيكَ الْبَصَرُ خَاسِئًا وَهُوَ حَسِيرٌ (4)} [الملك / 3 - 4] أي: فاترًا ذليلًا من عظم ما رأى؛ ولذا قال: {وَالسَّمَاءَ بِنَاءً}.

ثم قال: {وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً} [البقرة / 22] إنزال السماء هذا الماء الإنسان -أيضًا- يجب عليه النظر فيه لأنَّ الله يقول: {فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ إِلَى طَعَامِهِ (24)} [عبس / 24] {فَلْيَنْظُرِ} واجبة كما ذكرنا في الأولى {فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ إِلَى طَعَامِهِ (24)} يجب على كل إنسان حتمًا أن ينظر إلى طعامه. ومعنى هذا وكأن ربه يقول: أيها الإنسان المسكين الذي تتنطع وتتمرد على نظام السماء انظر الخبز الذي تأكل منه -ولو لم تجده لمت- من هو الذي خلق الماء الذي شرب به وروي حتى نبت؛ أيمكن أن يخلقه غير الله؟ لا، هب أن الماء خُلق من يقدر على إنزاله على هذا الطَّريق والأسلوب الغريب العجيب -رشاش- حتَّى تروى الأرض من غير أن يضر بها الماء؟ فلو كان مُنزلهُ أخرقًا لجعل المطر كله قطعة واحدة، فترك البلاد أثرًا بعد عين! ! ينزله بغاية اللَّطافة {أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُزْجِي سَحَابًا ثُمَّ يُؤَلِّفُ بَينَهُ ثُمَّ يَجْعَلُهُ رُكَامًا فَتَرَى الْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلَالِهِ} [النور / 43].

هب أن الله -جل وعلا- خلق الماء وأبدعه بقدرته وإرادته ثم أنزله على هذا الأسلوب الغريب العجيب الهائل ورويت الأرض وشربت، من
(একই পানি দ্বারা পান করানো হয়) এবং আমি স্বাদে তাদের একটিকে অন্যটির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করি। নিশ্চয়ই এতে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে। [রা'দ / ৪]।

তারপর তিনি বললেন: {এবং আসমানকে করেছেন ছাদ} [বাকারা / ২২] অর্থাৎ তিনি এই আসমানকে একটি সুউচ্চ ছাদ হিসেবে নির্মাণ করেছেন যা ফেটে যায় না বা বিদীর্ণ হয় না এবং হাজার বছর অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও এর কোনো সংস্কার বা মেরামতের প্রয়োজন হয় না। {অতএব তুমি পুনরায় দৃষ্টিপাত করো, তুমি কি কোনো ফাটল দেখতে পাচ্ছ? (৩) তারপর তুমি বারবার দৃষ্টিপাত করো, সেই দৃষ্টি তোমার দিকে ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসবে (৪)} [মুলক / ৩ - ৪] অর্থাৎ: যা দেখেছে তার বিশালত্বের কারণে সে ক্লান্ত ও লাঞ্ছিত হয়ে ফিরে আসবে; এজন্যই তিনি বলেছেন: {এবং আসমানকে করেছেন ছাদ}।

এরপর তিনি বললেন: {এবং তিনি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেছেন} [বাকারা / ২২] আসমান থেকে এই পানি বর্ষণের বিষয়েও মানুষের চিন্তা করা উচিত, কারণ আল্লাহ বলেন: {অতএব মানুষের উচিত তার খাদ্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করা (২৪)} [আবাসা / ২৪]। {অতএব সে যেন দৃষ্টিপাত করে}—এটি করা যেমন আমরা প্রথম ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি আবশ্যক বা ওয়াজিব। {অতএব মানুষের উচিত তার খাদ্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করা (২৪)} প্রত্যেক মানুষের জন্য তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করা অবশ্যই কর্তব্য। এর অর্থ হলো, যেন তার রব বলছেন: হে নিঃস্ব মানুষ, যে আসমানি বিধানের অবাধ্যতা ও বিদ্রোহ করছ, তুমি যে রুটি খাচ্ছ তার দিকে তাকাও—যদি তুমি তা না পেতে তবে নিশ্চিত মারা যেতে—সেই পানি কে সৃষ্টি করেছেন যা পান করা হয়েছে এবং যা দ্বারা সিক্ত হয়ে উদ্ভিদ জন্মেছে? আল্লাহ ছাড়া কি আর কেউ তা সৃষ্টি করতে পারে? না, মনে করুন পানি সৃষ্টি করা হলো, কিন্তু কে সক্ষম এই অদ্ভুত ও বিস্ময়কর উপায়ে—ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি হিসেবে—তা বর্ষণ করতে, যাতে মাটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েই সিক্ত হয়? যদি এর বর্ষণকারী অদক্ষ হতেন, তবে তিনি পুরো বৃষ্টিকে একখণ্ড বিশাল জলরাশি হিসেবে বর্ষণ করতেন, ফলে জনপদগুলোর নামনিশানা মুছে যেত! তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও কোমলভাবে তা বর্ষণ করেন। {তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ মেঘমালাকে চালিত করেন, তারপর সেগুলোকে একত্রে জুড়ে দেন, তারপর সেগুলোকে স্তূপীকৃত করেন, অতঃপর তুমি দেখতে পাও যে তার মধ্য থেকে বৃষ্টির ধারা নির্গত হচ্ছে} [নূর / ৪৩]।

মনে করুন আল্লাহ—যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ—তাঁর ক্ষমতা ও ইচ্ছায় পানি সৃষ্টি করেছেন এবং উদ্ভাবন করেছেন, অতঃপর এই অদ্ভুত, বিস্ময়কর ও বিশাল পদ্ধতিতে তা বর্ষণ করেছেন এবং জমিন সিক্ত হয়েছে ও পানি পান করেছে, কে...
(খণ্ড: ১) আর-রিহলাতু ইলা ইফরিকিয়া (পৃষ্ঠা: ৩১)
هو الذي يقدر على أن يشق الأرض ويخرج منها بمسمار النبات؟ هب أن مسمار النبات خرج، من هو الذي يقدر على أن يخرج منه السنبلة؟ هب أن السنبلة خرجت، من هو الذي يقدر على أن ينبت فيها الحب؟ هب أن الحب خُلق، من الذي يقدر على أن ينميه وينقله من طور إلى طور حتَّى يكون تامًّا مدركًا صالحًا للأكل؟ {انْظُرُوا إِلَى ثَمَرِهِ إِذَا أَثْمَرَ وَيَنْعِهِ إِنَّ فِي ذَلِكُمْ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [الأنعام / 99]؛ ولذا قال جل وعلا: {فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ إِلَى طَعَامِهِ (24) أَنَّا صَبَبْنَا الْمَاءَ صَبًّا (25) ثُمَّ شَقَقْنَا الْأَرْضَ -يعني: عن النبات-شَقًّا (26) فَأَنْبَتْنَا فِيهَا حَبًّا (27) وَعِنَبًا وَقَضْبًا} [عبس / 24 - 28] هذا مِن غرائب وعجائب صنع رب العالمين -جل وعلا-؛ ولذا قال: {وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ} [البقرة / 22].

فإذا علمتم هذا وعرفتم أن خالق الكون هو الذي رفع هذه السماء، ودحا هذه الأرض، وأبرزكم من العلم إلى الوجود، وأنبت لكم الأرزاق= لا تعادلوا بهذا من لا يقدر على شيء، ولا تصرفوا شيئًا من حقوقه إلى عاجز ضعيف لا يقدر على شيء؛ ولذا قال: {فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا} [البقرة: 22] نظراء تصرفون لهم حقوقه في العبادة {وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ (22)} أنَّه الواحد الرب وحده، المحي المميت، القادر على كل شيء، الذي يستحق أن يُعبد وحده.

ثم إن ربنا في هذه الآية -التي تلوت عليكم من سورة البقرة وتكلمت لكم كلامًا قليلًا عليها- ضمنها ثلاثة براهين من براهين البعث السائدة في القرآن العظيم؛ لأنَّ المعارك في القرآن بين النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم وبين منكري البعث من أعظم المعارك، وإن كانت المعركة العظمى بين
কে তিনি যিনি জমিনকে বিদীর্ণ করতে এবং তা থেকে উদ্ভিদের অঙ্কুর বের করতে সক্ষম? মনে করো উদ্ভিদের অঙ্কুর বের হলো, কে তিনি যিনি তা থেকে শস্যের শীষ বের করতে সক্ষম? মনে করো শীষ বের হলো, কে তিনি যিনি তাতে দানা উৎপন্ন করতে সক্ষম? মনে করো দানা সৃষ্টি করা হলো, কে তিনি যিনি সেটাকে বৃদ্ধি করেন এবং এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে যান যতক্ষণ না সেটি পূর্ণাঙ্গ, পরিপক্ক ও ভক্ষণের উপযুক্ত হয়? {তোমরা যখন তা ফলবান হয় তার ফলের দিকে এবং তা পাকার সময়ের দিকে লক্ষ করো; নিশ্চয়ই এতে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে} [আল-আনআম: ৯৯]; আর এই কারণেই মহান ও সমুন্নত আল্লাহ বলেছেন: {অতএব মানুষ যেন তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ করে। (২৪) আমিই প্রচুর পানি বর্ষণ করি (২৫) অতঃপর আমি জমিনকে যথাযথভাবে বিদীর্ণ করি—অর্থাৎ উদ্ভিদের জন্য— (২৬) তারপর আমি তাতে উৎপন্ন করি শস্য (২৭) এবং আঙুর ও শাক-সবজি (২৮)} [আবাসা: ২৪-২৮]। এটি রাব্বুল আলামীনের—যিনি মহান ও সমুন্নত—সৃষ্টির এক বিস্ময়কর ও অদ্ভুত নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত; এজন্যই তিনি বলেছেন: {আর তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপন্ন করেন} [আল-বাকারাহ: ২২]।

সুতরাং তোমরা যখন এটি জানলে এবং অবগত হলে যে, মহাবিশ্বের স্রষ্টাই সেই সত্তা যিনি এই আকাশকে সমুন্নত করেছেন, এই জমিনকে বিস্তৃত করেছেন, তোমাদেরকে অস্তিত্বহীনতা থেকে অস্তিত্বে এনেছেন এবং তোমাদের জন্য জীবনোপকরণ উৎপন্ন করেছেন; তখন তোমরা তাঁর সমকক্ষ এমন কাউকে স্থির করো না যে কোনো কিছুর ক্ষমতা রাখে না, এবং তাঁর প্রাপ্য অধিকারসমূহের কোনো কিছুই এমন কোনো অক্ষম ও দুর্বলের প্রতি নিবেদন করো না যে কোনো কিছুরই সামর্থ্য রাখে না। এই কারণেই তিনি বলেছেন: {অতএব তোমরা আল্লাহর জন্য সমকক্ষ সাব্যস্ত করো না} [আল-বাকারাহ: ২২] অর্থাৎ এমন কোনো সাদৃশ্য স্থির করো না যাদের জন্য তোমরা ইবাদতে আল্লাহর অধিকারসমূহ নিবেদন করো, {অথচ তোমরা জানো} [আল-বাকারাহ: ২২] যে তিনিই একমাত্র রব, জীবনদাতা, মৃত্যুদানকারী এবং সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান, যিনি একাই ইবাদতের যোগ্য।

অতঃপর আমাদের রব এই আয়াতে—যা আমি সূরা আল-বাকারাহ থেকে আপনাদের সামনে তিলাওয়াত করেছি এবং এর ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছি—পুনরুত্থানের প্রমাণসমূহের মধ্য হতে তিনটি প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা মহান কুরআনে ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। কারণ কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের মধ্যে বিরোধ ছিল এক বিশাল বিরোধ, যদিও সবচেয়ে বড় বিরোধ ছিল...