(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: -)
شفاء العليل في مسائل القضاء والقدر والحكمة والتعليل - ط عطاءات العلم   (ابن القيم)

القسم: العقيدة


الكتاب: شفاء العليل في مسائل القضاء والقدر والحكمة والتعليل [آثار الإمام ابن قيم الجوزية وما لحقها من أعمال (32)]

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن أبي بكر بن أيوب ابن قيم الجوزية (659 - 751)

تحقيق: زاهر بن سالم بَلفقيه

راجعه: سليمان بن عبد الله العمير - أحمد حاج عثمان

الناشر: دار عطاءات العلم (الرياض) - دار ابن حزم (بيروت)

الطبعة: الثانية، 1441 هـ - 2019 م (الأولى لدار ابن حزم)

عدد الأجزاء: 2

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 شعبان 1442

তাকদির, ফয়সালা, হিকমত এবং কারণতত্ত্ব সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে রুগ্ণ ব্যক্তির আরোগ্য - আতাআতুল ইলম সংস্করণ   (ইবনুল কাইয়্যিম)

বিভাগ: আকিদাহ


কিতাব: শিফাউল আলীল ফি মাসাইলিল কাজা ওয়াল কদর ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীল [ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর রচনাবলি ও সংশ্লিষ্ট কর্মসমূহ (৩২)]

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (৬৫৯ - ৭৫১)

তাহকীক: জাহির বিন সালিম বালফাক্বীহ

পর্যবেক্ষণ: সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর - আহমাদ হাজ ওসমান

প্রকাশক: দারু আতাআতিল ইলম (রিয়াদ) - দারু ইবনে হাজম (বৈরুত)

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৪১ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ (দারু ইবনে হাজমের জন্য প্রথম)

খণ্ড সংখ্যা: ২

শামেলাতে উপস্থাপন করেছে: প্রতিষ্ঠান «আতাআতুল ইলম», আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিলপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ শাবান ১৪৪২

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ١)
آثار الإمام ابن قيم الجوزية وما لحقها من أعمال (32)

 

شفاء العليل في مسائل القضاء والقدر والحكمة والتعليل

 

تأليف

الإمام أبي عبد الله محمد بن أبي بكر بن أيوب ابن قيم الجوزية

(691 هـ - 751 هـ)

 

تحقيق

زاهر بن سالم بَلفقيه

 

وفق المنهج المعتمد من الشيخ العلامة

بكر بن عبد الله أبو زيد (رحمه الله تعالى)

 

دار عطاءات العلم - دار ابن حزم
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর রচনাবলি এবং তৎসংলগ্ন কর্মসমূহ (৩২)

 

শিফাউল আলীল: ফয়সালা ও তাকদির এবং হিকমত ও কারণতত্ত্বের মাসয়ালাসমূহ প্রসঙ্গে

 

রচনা

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আইয়ুব ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ

(৬৯১ হিজরি - ৭৫১ হিজরি)

 

সম্পাদনা

জাহির বিন সালিম বালফাকিহ

 

শাইখ আল্লামার অনুমোদিত পদ্ধতি অনুযায়ী

বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন)

 

দারু আতাআতিল ইলম - দারু ইবনে হাজম
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٣)
راجع هذا الجزء

 

سليمان بن عبد الله العمير

أحمد حاج عثمان
এই অংশটি পর্যালোচনা করুন

 

সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর

আহমাদ হাজ উসমান
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌مقدمة التحقيق

الحمد لله حمدًا يليق بجلال وجهه وعظيم سلطانه، وصلاةً وسلامًا دائمين على سيد الخلائق، وعلى آله وصحبه الطيبين الطاهرين.

أما بعد، فهذه مَعْلمة كبرى في سادس أركان الإيمان، ومصنَّف حافل في أصل عظيم من أصول العقيدة: القضاء والقدر، جمع فيه مؤلفه شمس الدين ابن قيِّم الجوزية رحمه الله ما تناثر من مباحث الباب، فلملم عيون مطالبه، وحرّر ما أشكلَ مِن مسائله، وجلّى ما خفي من غوامضه، وأجاب عما أُورِد فيه من شبهات، واستفرغ فيه جهده بما عُهِد عنه من التحقيق وطول النّفَس في تحرير دقائق المباحث وعويص المسائل.

ليجيء هذا السفر في ثلاثين بابًا، مشتملة على فصولٍ عديدة وأوجه ومقدمات، جامعة بين المنقول والمعقول، والبحث والتحرير، والمناقشة والترجيح، والمناظرة والتقرير، مشحونًا بالفوائد العزيزة، والاستطرادات النفيسة، على ما جرت به عادته رحمة الله عليه في عامة تواليفه.

حتى أضحى الكتاب من أوسع المصنفات في موضوعه ـ إن لم يكن أوسعها ــ، وأغزرها مادة، وأجمعها موردًا، وأكثرها نفعًا، ليصبح مرجعًا أصيلًا لا غنى عنه للباحثين، ويكون شفاء للعليل، ورواء للغليل، وبلاغًا لأهل السنة والدليل، وفي كلٍّ خير.

إن الكلام في مسائل القضاء والقدر مما نشأ مبكّرًا في التاريخ الإسلامي أواخر عصر الصحابة رضوان الله عليهم، ولم يزل شرخ الخلاف يتسع في الأمة شيئًا فشيئًا، حتى تعددت فيه الآراء، واضطربت الأفهام، وزلّت
সম্পাদকের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—এমন প্রশংসা যা তাঁর চেহারার মহিমা এবং তাঁর রাজত্বের বিশালত্বের জন্য উপযুক্ত। আর সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ সত্তার প্রতি এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ ও সঙ্গী-সাথীদের প্রতি সর্বদা রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর, এটি ঈমানের ষষ্ঠ রুকন বিষয়ক একটি সুমহান জ্ঞানকোষ এবং আকিদার একটি মহান মূলনীতি—কাজা ও কদর (ভাগ্য ও নির্ধারণ)—সংক্রান্ত এক বিস্তারিত সংকলন। এর লেখক শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এতে এই বিষয়ের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আলোচনাগুলো একত্রিত করেছেন, এর মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহ সুসংবদ্ধ করেছেন, এর জটিল মাসআলাসমূহ সমাধান করেছেন এবং এর অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করেছেন। এতে উত্থাপিত সংশয়গুলোর উত্তর দিয়েছেন এবং সূক্ষ্ম ও কঠিন মাসআলাসমূহের বিশ্লেষণে তাঁর সুপরিচিত পাণ্ডিত্য ও দীর্ঘ গবেষণার পূর্ণ প্রয়োগ ঘটিয়েছেন।

ফলে এই গ্রন্থটি ত্রিশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত হয়েছে, যা বহু পরিচ্ছেদ, দৃষ্টিকোণ ও ভূমিকা সংবলিত। এটি দলীল ও যুক্তি, গবেষণা ও বিশ্লেষণ, আলোচনা ও প্রাধান্য দান এবং বিতর্ক ও প্রমাণের এক অনন্য সমন্বয়। এটি মূল্যবান শিক্ষা এবং অমূল্য আনুষঙ্গিক আলোচনায় পরিপূর্ণ, যেমনটি তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) অধিকাংশ রচনার সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

এমনকি বইটি নিজ বিষয়ে অন্যতম বিস্তৃত সংকলনে পরিণত হয়েছে—যদি সর্বাপেক্ষা বিস্তৃত না-ও হয়—এবং এটি সর্বাধিক তথ্যসমৃদ্ধ, সর্বাপেক্ষা বৃহৎ উৎসের আধার এবং অত্যন্ত উপকারী। ফলে এটি গবেষকদের জন্য একটি অপরিহার্য মৌলিক দলিলে পরিণত হয়েছে এবং এটি রুগ্ণ হৃদয়ের আরোগ্য, পিপাসার্তের তৃপ্তি ও আহলে সুন্নাহ ও দলীলের অনুসারীদের জন্য এক অকাট্য বার্তা। আর সব কিছুর মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে।

নিশ্চয়ই কাজা ও কদরের মাসআলাসমূহের আলোচনা ইসলামের ইতিহাসের শুরুর দিকে সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) যুগের শেষভাগে সূচিত হয়েছিল। এরপর উম্মাহর মধ্যে মতভেদের ফাটল ক্রমে প্রশস্ত হতে থাকে, এমনকি এ বিষয়ে নানাবিধ মতের উদ্ভব হয়, বোধশক্তিতে বিভ্রান্তি দেখা দেয় এবং পদস্খলন ঘটে...
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٦)
الأقدام، ونبتت تلك الطوائف والفرق على اختلاف آرائها وتباين مشاربها، يوحي بعضهم إلى بعض زخرف القول غرورًا.

وقد وضع عدد من الأئمة المتقدمين في هذه المسألة الكبيرة مصنفات مفردة، كالإمام عبد الله بن وهب، والإمام البخاري، والإمام الفريابي وغيرهم.

وفي هذا العصر تزداد أهمية التحرير والبيان في أبواب القضاء والقدر ومدافعة ما يثار من شبهات؛ إذ باتت مسائل الإرادة والاختيار والحكمة والتعليل ووقوع الشر في الكون بوابةً للإلحاد، وذريعة للطعن في مقامات الربوبية، والتشكيك في وجود الخالق العظيم سبحانه، ولم يزل الملاحدة والمرجفون يدندنون حولها، ويقذفون بشبهاتهم بين ظَهْراني شباب المسلمين في وسائل التواصل الاجتماعي والفضاء الإلكتروني؛ ليُرْدوهم في دركات الشك ومهاوي الحيرة، والله المستعان(1).

وهذه مباحث بين يدي الكتاب مشتملة على:

- توثيق نسبة الكتاب

- عنوان الكتاب

- تاريخ تأليف الكتاب

- موضوع الكتاب ومباحثه

- منهج المؤلف في الكتاب

- أهمية الكتاب

--------------------------------------------

(1) ينظر: "مشكلة الشر" لسامي العامري (17 - 20).

...পদসমূহ বিচলিত হয়েছে, এবং বিভিন্ন মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা নিয়ে সেই সব দল ও উপদলগুলোর উদ্ভব ঘটেছে, যারা একে অপরকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে চটকদার কথা দিয়ে প্ররোচিত করে।

আর পূর্ববর্তী ইমামদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এই মহান বিষয়ে পৃথক পৃথক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন—ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, ইমাম বুখারি, ইমাম ফিরইয়াবি এবং অন্যান্যগণ।

বর্তমান যুগে ‘কাজা ও কদর’ (তকদির) অধ্যায়গুলোর পর্যালোচনা ও বিশদ ব্যাখ্যা এবং উত্থাপিত সংশয়গুলো নিরসনের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে; কেননা ইচ্ছা, স্বাধীনতা, হিকমত (প্রজ্ঞা), কারণিকতা এবং মহাবিশ্বে অকল্যাণের উপস্থিতির মতো বিষয়গুলো নাস্তিকতার প্রবেশদ্বার এবং রুবুবিয়্যতের মর্যাদায় আঘাত হানা ও মহান স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলার অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ সৃষ্টির উসিলায় পরিণত হয়েছে। নাস্তিক ও বিভ্রান্তি ছড়ানো ব্যক্তিরা সর্বদা এগুলো নিয়ে পড়ে আছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাইবার জগতের মাধ্যমে মুসলিম তরুণদের মাঝে তাদের সংশয়গুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে; যাতে করে তাদেরকে সন্দেহের অতল গহ্বরে ও দিশেহারা অবস্থায় ফেলে দেওয়া যায়। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়(১)।

বইটির প্রারম্ভিক এই আলোচনাগুলো নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

- বইটির সম্পৃক্ততার প্রামাণ্যতা

- বইটির শিরোনাম

- বইটির রচনা কাল

- বইটির বিষয়বস্তু ও অধ্যায়সমূহ

- বইটিতে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি

- বইটির গুরুত্ব

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সামি আল-আমিরি রচিত "মুশকিলাতুল শার" (১৭ - ২০)।

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٧)
- موارد الكتاب

- وصف مخطوطات الكتاب

- طبعات الكتاب

- منهج التحقيق

* * * *
- গ্রন্থের উৎসসমূহ

- গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহের বর্ণনা

- গ্রন্থের সংস্করণসমূহ

- সম্পাদনা পদ্ধতি

* * * *
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌توثيق نسبة الكتاب

تظافرت عدة أمور في إثبات نسبة الكتاب إلى مؤلفه شمس الدين ابن قيِّم الجوزية، نوجزها في الآتي:

* الإحالة فيه إلى كتبه:

جرت عادة المؤلفين ـ ومنهم ابن القيم ـ بإحالة القارئ إلى مؤلفاتهم الأخرى طلبًا للاختصار وعدم تكرار بعض المسائل والمناقشات؛ إذ كان المؤلف قد أشبعها بحثًا في الكتاب المحال إليه، أو كان العزم قد وقع على إفراد المسألة بمصنَّف مستقل، وقد أحال ابن القيم في هذا الكتاب إلى مؤلَّفين له صراحة هما: "مفتاح دار السعادة" و "أحكام أهل الملل"، واحتمالًا: "الصواعق المرسلة".

فمن الأول قوله في (1/ 415): "وقد بيّنا بطلانه من أكثر من خمسين وجهًا في كتاب "المفتاح"". وهذه الأوجه وزيادة في كتابه "مفتاح دار السعادة" (2/ 1017 - 1135).

ومنه أيضًا ما جاء في (2/ 441): "وليس المقصود ذكر هذه المسائل وما يصير به الطفل مسلمًا؛ فإنا قد استوفيناها في كتابنا في "أحكام أهل الملل""، وهو في المطبوع من "أحكام أهل الذمة" (2/ 893) وما بعدها.

ومن الضرب الثاني الإشارة إلى عزم المؤلف على إفراد كتاب يكشف فيه جناية المتأولين على الدنيا والدين في (1/ 273)، فهل يقصد بهذه الإحالة عزمه على إفراد هذا الباب بكتاب مستقل، أم هو وصف لما ضمّنه كتابه "الصواعق المرسلة في الرد على الجهمية والمعطلة" (2/ 384 - 417)
গ্রন্থের নিসবত (সংযুক্তি) নিশ্চিতকরণ

শামসুদ্দিন ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর প্রতি এই গ্রন্থটির নিসবত বা সম্বন্ধ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় একত্রিত হয়েছে, যা আমরা সংক্ষেপে নিম্নে তুলে ধরছি:

* এতে তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের হাওয়ালা (উদ্ধৃতি) প্রদান:

লেখকদের অভ্যাস হলো—যাঁদের মধ্যে ইবনুল কায়্যিমও রয়েছেন—সংক্ষেপণের উদ্দেশ্যে এবং কিছু মাসআলা ও আলোচনার পুনরাবৃত্তি না করার জন্য পাঠককে তাঁদের অন্য রচনার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া; কারণ লেখক হয় সেই বিষয়ে উদ্ধৃত গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা সম্পন্ন করেছেন, অথবা বিষয়টি নিয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার সংকল্প করেছেন। ইবনুল কায়্যিম এই গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে তাঁর দুটি গ্রন্থের হাওয়ালা দিয়েছেন, সেগুলো হলো: "মিফতাহু দারিস সা'আদাহ" এবং "আহকামু আহলিল মিলাল"; আর সম্ভবত "আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ" গ্রন্থের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন।

প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো (১/৪১৫) পৃষ্ঠায় তাঁর উক্তি: "এবং আমরা 'আল-মিফতাহ' গ্রন্থে পঞ্চাশটিরও বেশি দিক থেকে এর অসারতা বর্ণনা করেছি।" এই দিকগুলো এবং এর অতিরিক্ত অংশ তাঁর "মিফতাহু দারিস সা'আদাহ" (২/১০১৭ - ১১৩৫) গ্রন্থে বিদ্যমান।

অনুরূপভাবে (২/৪৪১) পৃষ্ঠায় যা এসেছে: "এই মাসআলাগুলো এবং শিশু কিসের মাধ্যমে মুসলিম হবে তা উল্লেখ করা এখানে উদ্দেশ্য নয়; কেননা আমরা আমাদের 'আহকামু আহলিল মিলাল' গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।" এটি "আহকামু আহলিয যিম্মাহ" (২/৮৯৩) এর মুদ্রিত সংস্করণে এবং তার পরবর্তী অংশে রয়েছে।

দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো (১/২৭৩) পৃষ্ঠায় লেখকের এমন একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার সংকল্পের দিকে ইঙ্গিত করা, যাতে তিনি দুনিয়া ও দ্বীনের ওপর অপব্যাখ্যাকারীদের অপরাধ উন্মোচন করবেন। এখন প্রশ্ন হলো, এই হাওয়ালার মাধ্যমে তিনি কি এই অধ্যায়টিকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে রূপ দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন, নাকি এটি তাঁর "আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ ফিত-রাদ্দি আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তি লাহ" (২/৩৮৪ - ৪১৭) গ্রন্থে যা অন্তর্ভুক্ত করেছেন তারই বর্ণনা?
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٩)
من فصول في جناية التأويل على أديان الرسل، وأن خراب العالم وفساد الدنيا والدين بسبب فتح باب التأويل؟

* الإحالة في كتبه إليه:

أحال ابن القيم إلى "شفاء العليل" في كتابين له:

الأول: "إغاثة اللهفان" (1/ 94)، وذلك بعد إشارته إلى طرف من مباحث الإرادة الدينية والكونية ولوازم كل منهما، حيث قال: "وقد أشبعنا الكلام في ذلك في كتابنا الكبير في القدر"، ولا ريب أن هذا الوصف مطابق لما في الكتاب من إشباع لذيول هذه المسألة في الباب التاسع والعشرين (2/ 377) عدا ما نثره في أبواب أخر.

والثاني: "الفوائد" (36)، إذ قال بعد ذكره لشيء من مسائل تقدير الله تعالى المعاصي على بعض العباد وعدله فيهم: "وقد استوفينا الكلام في هذا في كتابنا الكبير في القضاء والقدر".

* الإشارة إلى شيخه شيخ الإسلام ابن تيمية:

أشار إليه في أكثر من خمسة عشر موضعًا، منها ما وقع في (2/ 390): "قال شيخنا أبو العباس ابن تيمية: أحمد لم يذكر العهد الأول، وإنما قال: الفطرة الأولى التي فُطِر الناس عليها".

وقوله في مسألة فناء النار (2/ 327): "وكنت سألتُ عنها شيخ الإسلام ــ قدّس الله روحه ــ فقال لي: هذه مسألة عظيمة كبيرة، ولم يُجِب فيها بشيء".

وقوله (1/ 270): "قال شيخنا: ولما كان العبد في كل حال مفتقرًا إلى هذه الهداية في جميع ما يأتيه ويذره من أمور قد أتاها على غير الهداية، فهو
রাসুলগণের দ্বীনের ওপর অপব্যাখ্যার (তাউয়িল) অপরাধ এবং অপব্যাখ্যার দ্বার উন্মোচনের কারণেই বিশ্বের ধ্বংস ও দুনিয়া ও দ্বীনের বিপর্যয় ঘটার পরিচ্ছেদসমূহ থেকে।

* তাঁর কিতাবসমূহে এর উদ্ধৃতি:

ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর দুটি কিতাবে "শিফাউল আলীল"-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন:

প্রথমটি: "ইগাছাতুল লাহফান" (১/৯৪); সেখানে তিনি দ্বীনী ও মহাজাগতিক (কাওনী) ইচ্ছার কতিপয় মাসয়ালা এবং এদের উভয়ের আবশ্যকীয় বিষয়াবলির প্রতি ইঙ্গিত করার পর বলেন: "তাকদীর বিষয়ে আমাদের বৃহৎ গ্রন্থে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।" কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বর্ণনাটি আলোচ্য কিতাবের (শিফাউল আলীল) বৈশিষ্ট্যের সাথে সংগতিপূর্ণ; কারণ তিনি এই কিতাবের ঊনত্রিশতম অধ্যায়ে (২/৩৭৭) এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, এছাড়া অন্যান্য অধ্যায়েও বিক্ষিপ্তভাবে এর বর্ণনা রয়েছে।

দ্বিতীয়টি: "আল-ফাওয়াইদ" (৩৬); সেখানে তিনি কিছু বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পাপের নির্ধারণ ও তাদের প্রতি আল্লাহর ইনসাফ সম্পর্কিত কিছু মাসয়ালা উল্লেখ করার পর বলেন: "ফয়সালা ও তাকদীর (কাজ ও কদর) বিষয়ে আমাদের বৃহৎ গ্রন্থে আমরা এ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করেছি।"

* তাঁর উস্তাদ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার প্রতি ইঙ্গিত:

তিনি পনেরটিরও বেশি স্থানে তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যার মধ্যে একটি হলো (২/৩৯০): "আমাদের শাইখ আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: আহমাদ (ইবনে হাম্বল) প্রথম অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেননি, বরং তিনি বলেছেন: আদি ফিতরাত, যার ওপর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে।"

জাহান্নাম সমাপ্ত হওয়ার মাসয়ালা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য (২/৩২৭): "আমি এ বিষয়ে শাইখুল ইসলামকে—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন: এটি অত্যন্ত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি মাসয়ালা, এবং তিনি এ বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি।"

এবং তাঁর উক্তি (১/২৭০): "আমাদের শাইখ বলেছেন: যেহেতু বান্দা তার প্রতিটি অবস্থায় সে যা কিছু করে বা বর্জন করে এমন বিষয়াদিতে এই হেদায়েতের মুখাপেক্ষী যা সে হেদায়েত ব্যতিরেকে সম্পাদন করেছে, তাই সে..."
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ١٠)
محتاج إلى التوبة منها، انتهى كلامه" والنقل من "بيان الدليل على بطلان التحليل" لشيخ الإسلام (ص 15).

* اشتراك بعض مباحثه مع كتبه الأخرى:

وهو كثير جدًّا في كتب ابن القيم، ومن أمثلته هنا: الاشتراك في مباحث حديث "كل مولود يولد على الفطرة" كما تراه في كتابنا هذا (2/ 413)، و"أحكام أهل الذمة" (2/ 893) وما بعدها.

ومنه إيراده حكاية عن شيخ الإسلام ابن تيمية في كتابنا هذا (1/ 11)، وهي في "طريق الهجرتين" (185، 658) و "مدارج السالكين" (3/ 378).

ومثله ما وقع في قصة استقباح النمل للكذب بما تراه في (1/ 232) من الكتاب، والقصة بتمامها في "مفتاح دار السعادة" (2/ 690).

* النقل عنه:

وهو عزيز بحسب ما وسعه بحثي، فمنه ما جاء عند ابن حجر (852 هـ) في "فتح الباري" (3/ 349 - 350) عند شرح حديث "كل مولود يولد على الفطرة": "وقال ابن القيم: ليس المراد بقوله: "يولد على الفطرة" أنه خرج من بطن أمه يعلم الدين؛ لأن الله يقول: {قَدِيرٌ (77) وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا} [النحل: 78]، ولكن المراد أن فطرته مقتضية لمعرفة دين الإسلام ومحبته" الخ ما نقله بتصرف واختصار من "شفاء العليل" (2/ 407) فيما يظهر.

وأصرح منه ما أورده إبراهيم بن حسن الكوراني الشافعي (1101 هـ) في "شرح منظومة شيخه القشاشي" فيما نقله عنه السفاريني (1188 هـ) في "لوامع
সেগুলো থেকে তাওবা করা প্রয়োজন, তাঁর কথা শেষ হলো" এবং উদ্ধৃতিটি শাইখুল ইসলামের (পৃষ্ঠা ১৫) "বায়ানুদ দালীল আলা বুতলানিত তাহলীল" থেকে নেওয়া হয়েছে।

* তাঁর অন্যান্য কিতাবের সাথে এর কিছু বিষয়ের মিল:

ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাবসমূহে এটি অত্যন্ত বেশি, আর এখানে তার উদাহরণ হলো: "প্রত্যেক শিশু ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে" হাদিসের আলোচনাগুলোতে যে মিল রয়েছে, যেমনটি আপনি আমাদের এই কিতাবে (২/৪১৩) এবং "আহকামু আহলিয যিম্মাহ" (২/৮৯৩) ও তার পরবর্তী অংশে দেখতে পাবেন।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো আমাদের এই কিতাবে (১/১১) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে একটি কাহিনী বর্ণনা করা, যা "তারীকুল হিজরাতাইন" (১৮৫, ৬৫৮) এবং "মাদারিজুস সালিকীন" (৩/৩৭৮) কিতাবেও রয়েছে।

অনুরূপভাবে পিঁপড়ার মিথ্যাকে ঘৃণা করার যে কাহিনীটি কিতাবের (১/২৩২) পৃষ্ঠায় এসেছে, এবং পূর্ণ কাহিনীটি "মিফতাহু দারিস সা'আদাহ" (২/৬৯০) কিতাবে রয়েছে।

* তাঁর থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ:

আমার গবেষণা যতটুকু পৌঁছেছে সে অনুযায়ী এটি বিরল, তবে এর মধ্যে রয়েছে যা ইবনে হাজার (৮৫২ হি.) "ফাতহুল বারী" (৩/৩৪৯-৩৫০) কিতাবে "প্রত্যেক শিশু ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে" হাদিসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন: "ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: 'ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে' কথাটির অর্থ এটি নয় যে, সে তার মায়ের পেট থেকে দ্বীন সম্পর্কে জেনে বের হয়েছে; কারণ আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের গর্ভ থেকে বের করেছেন এমন অবস্থায় যে তোমরা কিছুই জানতে না} [নাহল: ৭৮], বরং এর অর্থ হলো তার ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতি ইসলাম ধর্মকে চেনা ও ভালোবাসার দাবি রাখে" ইত্যাদি, যা সম্ভবত তিনি "শিফাউল আলীল" (২/৪০৭) থেকে পরিমার্জন ও সংক্ষেপ করে বর্ণনা করেছেন।

এর চেয়েও স্পষ্ট হলো যা ইব্রাহিম বিন হাসান আল-কুরানি আশ-শাফিয়ী (১১০১ হি.) তাঁর শাইখ কুশাশি-র "মানজুমাহ"-র ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন, যা তাঁর থেকে আস-সাফারিনি (১১৮৮ হি.) "লাওয়ামি" গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ١١)
الأنوار" (1/ 315 - 319): "قال الكوراني: وهذا الكتاب الذي ذكر فيه [يعني الجويني] آخر قوليه هو كتابه المترجم "بالنظامية" فيما وقفت على كلامه منقولًا عنه بلفظه في كتاب "شفاء العليل في مسائل القضاء والقدر والحكمة والتعليل" للعلامة شمس الدين بن القيم في الباب السابع عشر منه، ولفظه … ".

ثم قال الكوراني: "ثم وقفنا على كتاب "شفاء العليل" لابن القيم المنقول فيه كلام إمام الحرمين في "النظامية" فأعجبه ذلك، وأمر بإلحاقه بآخر "اختصار الانتصار"".

وكلام الجويني المشار إليه في (1/ 401) من كتابنا هذا.

ثم كثر النقل عن الكتاب في القرن الرابع عشر الهجري كما هو مشاهد في مؤلفات محمود شكري الألوسي (1342 هـ)، وسليمان بن سحمان (1349 هـ)، ومحمد أنور الكشميري (1352 هـ)، ومحمد رشيد رضا (1354 هـ) وغيرهم.

* عدّه ضمن مؤلفاته عند المترجمين له:

نسبه إليه ابن حجر في "الدرر الكامنة" (3/ 402) باسم "القضاء والقدر"، ومثله الشوكاني في "البدر الطالع" (2/ 144)، وصرّح باسمه الصريح صاحب "كشف الظنون" (2/ 1051).

* التصريح بنسبته في الأصول الخطية:

جاءت هذه النسبة صريحة على غلاف النسخة العتيقة المحفوظة بجامع أبي العباس المرسي.
"আল-আনোয়ার" (১/ ৩১৫ - ৩১৯): "কুরানী বলেছেন: এই কিতাবটি যাতে তিনি [অর্থাৎ আল-জুওয়াইনী] তাঁর শেষোক্ত দুটি মতের উল্লেখ করেছেন, সেটি হলো তাঁর 'আন-নিযামিয়্যাহ' নামে পরিচিত কিতাবটি। আমি আল্লামা শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম-এর 'শিফাউল আলীল ফী মাসাইলিল কাজা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালী'ল' কিতাবের সপ্তদশ পরিচ্ছেদে তাঁর সেই বক্তব্যটি শব্দে শব্দে উদ্ধৃত পেয়েছি, যার পাঠ হলো ... "।

অতঃপর কুরানী বলেছেন: "এরপর আমরা ইবনুল কাইয়্যিমের 'শিফাউল আলীল' কিতাবটির সন্ধান পাই যেখানে 'নিযামিয়্যাহ' গ্রন্থ থেকে ইমামুল হারামাইনের বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে। বিষয়টি তাঁকে মুগ্ধ করে এবং তিনি একে 'ইখতিসারুল ইনতিসার'-এর শেষে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেন"।

আল-জুওয়াইনীর নির্দেশিত সেই বক্তব্যটি আমাদের এই কিতাবের (১/ ৪০১) পৃষ্ঠায় বিদ্যমান।

এরপর চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীতে এই কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার হার বৃদ্ধি পায়, যেমনটি মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি (১৩৪২ হি.), সুলায়মান বিন সাহমান (১৩৪৯ হি.), মুহাম্মদ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (১৩৫২ হি.), মুহাম্মদ রশিদ রিদা (১৩৫৪ হি.) এবং অন্যদের রচনায় পরিলক্ষিত হয়।

* জীবনীকারদের দৃষ্টিতে তাঁর রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত হওয়া:

ইবনে হাজার 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' (৩/ ৪০২) গ্রন্থে একে 'আল-কাজা ওয়াল কাদার' নামে তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। অনুরূপভাবে শাওকানী 'আল-বাদরুত তালি' (২/ ১৪৪) গ্রন্থে করেছেন এবং 'কাশফুয যুনুন' (২/ ১০৫১) এর প্রণেতা এর স্পষ্ট নাম উল্লেখ করেছেন।

* পাণ্ডুলিপিসমূহে এর সম্বন্ধের স্পষ্ট বর্ণনা:

আবি আব্বাস আল-মুরসি মসজিদে সংরক্ষিত প্রাচীন কপির প্রচ্ছদে এই সম্বন্ধটির স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌عنوان الكتاب

درج ابن قيِّم الجوزية على تسمية كثير من مؤلفاته في مقدماتها بعنوانات مسجوعة مركّبة، تنبئ عن موضوع الكتاب، وتفصح عن مضمونه، بما يقطع اجتهادات النساخ وظنون الناشرين، وذلك في غالب مصنفاته.

كذلك صنع في هذا الكتاب، حيث قال في (1/ 14) من تقدمته: "وسمّيتُه: شفاء العليل في مسائل القضاء والقدر والحكمة والتعليل".

وكذا جاء العنوان واضحًا على غلاف مخطوطتي جامع المرسي وتركيا.

وذكره كذلك صاحب "كشف الظنون" (2/ 1051)، والكوراني كما تقدمت الإشارة إليه.

بينما أورده ابن حجر والشوكاني في ترجمة المؤلف بعنوان موضوعه "القضاء والقدر"(1).

* * * *

--------------------------------------------

(1) ينظر: "ابن قيم الجوزية: حياته آثاره موارده" (266).

গ্রন্থের শিরোনাম

ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ তাঁর অধিকাংশ রচনার ভূমিকার শুরুতে ছন্দময় ও যৌগিক শিরোনাম ব্যবহার করার রীতি অনুসরণ করতেন, যা বইটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা দেয় এবং এর অন্তর্নিহিত ভাব ফুটিয়ে তোলে; যাতে করে অনুলিপিকারীদের ব্যাখ্যা এবং প্রকাশকদের অনুমানের কোনো সুযোগ না থাকে। এটি তাঁর অধিকাংশ রচনার ক্ষেত্রে দেখা যায়।

এই বইটির ক্ষেত্রেও তিনি অনুরূপ করেছেন, যেখানে তিনি তাঁর প্রারম্ভিকার (১/১৪) পৃষ্ঠায় বলেছেন: "এবং আমি এর নামকরণ করেছি: ‘শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাজা ওয়াল কদর ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীল’ (তথা ভাগ্য, নির্ধারণ, প্রজ্ঞা ও কারণতত্ত্ব সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে রুগ্ণ ব্যক্তির আরোগ্য)।"

একইভাবে জামে আল-মুরসি এবং তুরস্কের পাণ্ডুলিপি দুটির প্রচ্ছদে শিরোনামটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান।

গ্রন্থকার ‘কাশফুজ জুনুন’ (২/১০৫১) এবং আল-কুরানিও এটি একইভাবে উল্লেখ করেছেন যেমনটি পূর্বে নির্দেশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইবনে হাজার এবং আশ-শাওকানি লেখকের জীবনী আলোচনায় বইটির বিষয়বস্তু অনুযায়ী একে "আল-কাজা ওয়াল কদর" শিরোনামে উল্লেখ করেছেন(১)।

* * * *

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ: হায়াতুহু আসারুহু মাওয়ারিদুহু" (২৬৬)।

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌تاريخ تأليف الكتاب

لم يشر المؤلف إلى زمان تأليفه، ولم تسعفنا به الأصول الخطية، لكن ثمة علامات يُستأنس بها في ذلك.

ولعل أول إشارة يمكن أن تفيد في تاريخ تأليفه ما سطّره المؤلف في "تهذيب السنن" (3/ 205) ــ انتهى من تأليفه سنة 732 هـ ــ من عزمه على وضع مصنف في مسائل القدر، حيث قال: "وقد نظرت في أدلة إثبات القدر والرد على القدرية المجوسية فإذا هي تقارب خمسمائة دليل، وإن قدّر الله تعالى أفردتُ لها مصنفًا مستقلًّا"، فيمكن أن يكون الكتاب الذي بين أيدينا هو المصنف المفرد المشار إليه.

فيفيد هذا النص أن تأليفه لهذا الكتاب بعد سنة 732 هـ، وفيه ــ إن صح ــ دلالة على سبق اهتمامه بمسائل القضاء والقدر، وبكور نية التأليف فيها.

ومما يُستأنس به أيضًا أن "شفاء العليل" مسبوق بـ "مفتاح دار السعادة" و "أحكام أهل الملل"؛ إذ أحال المؤلف عليهما هنا كما سلف.

و "شفاء العليل" فيما يظهر ملحوق بـ "الصواعق المرسلة" و "إغاثة اللهفان" ــ وأقدم نسخه كُتِبت سنة (738 هـ) و "إغاثة اللهفان" مؤلَّف بعد "الصواعق"(1) ــ و "الفوائد"، كما تقدم بيانه.

فعلى هذه التقديرات يكون تأليف "شفاء العليل" بين الأعوام (733 - 738 هـ) ظنًّا، والعلم عند الله.

--------------------------------------------

(1) انظر: مقدمة تحقيق "إغاثة اللهفان" (1/ 8، 11).

গ্রন্থ রচনার ইতিহাস

লেখক গ্রন্থটি রচনার সময়কাল সম্পর্কে কোনো উল্লেখ করেননি এবং পাণ্ডুলিপিগুলো থেকেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে এ ক্ষেত্রে কিছু চিহ্ন বা সংকেত পাওয়া যায় যা থেকে এ বিষয়ে ধারণা লাভ করা যায়।

সম্ভবত এই গ্রন্থ রচনার ইতিহাস সম্পর্কে প্রথম যে ইঙ্গিতটি পাওয়া যায়, তা হলো লেখক তাঁর "তাহযীবুস সুনান" (৩/ ২০৫) গ্রন্থে যা লিপিবদ্ধ করেছেন—যার রচনা ৭৩২ হিজরীতে সমাপ্ত হয়েছে—তাকদীরের মাসআলাসমূহের ওপর একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার যে সংকল্প তিনি ব্যক্ত করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন: "আমি তাকদীর সাব্যস্ত করার দলিলসমূহ এবং মাজুসী কাদারিয়্যাহদের খণ্ডন নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছি, যার সংখ্যা প্রায় পাঁচশত দলিলের কাছাকাছি। আর আল্লাহ তাআলা যদি তাওফীক দান করেন তবে এগুলোর জন্য আমি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করব।" সুতরাং আমাদের হাতে থাকা বইটিই সম্ভবত সেই ইঙ্গিতকৃত স্বতন্ত্র গ্রন্থ।

এই পাঠ্যটি থেকে বোঝা যায় যে, তাঁর এই গ্রন্থটি রচনা ৭৩২ হিজরীর পরবর্তী সময়ে হয়েছে। আর এটি যদি সঠিক হয়, তবে এতে কাজা ও কদর সংক্রান্ত মাসআলাগুলোতে তাঁর পূর্ববর্তী গভীর মনোযোগ এবং এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনার আদি সংকল্পের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে আরও যা থেকে ধারণা পাওয়া যায় তা হলো, "শিফাউল আলীল" এর পূর্বে "মিফতাহু দারিস সা'আদাহ" এবং "আহকামু আহলিল মিলাল" রচিত হয়েছে; কারণ লেখক এখানে উক্ত গ্রন্থ দুটির উদ্ধৃতি দিয়েছেন যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর যা প্রকাশ পায় তা হলো, "শিফাউল আলীল" এর পরে "আস-সাওয়ািকুল মুরসালাহ" এবং "ইগাছাতুল লাহফান" রচিত হয়েছে—যার প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপি ৭৩৮ হিজরীতে অনুলিপি করা হয়েছে এবং "ইগাছাতুল লাহফান" গ্রন্থটি "আস-সাওয়ািক" এর পরে রচিত হয়েছে(১)—এবং "আল-ফাওয়ায়েদ", যেমনটি পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে।

এই অনুমান অনুসারে "শিফাউল আলীল" গ্রন্থের রচনাকাল সম্ভবত ৭৩৩ থেকে ৭৩৮ হিজরীর মধ্যবর্তী সময় হতে পারে, আর প্রকৃত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহরই আছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "ইগাছাতুল লাহফান" এর তাহকীককৃত সংস্করণের ভূমিকা (১/ ৮, ১১)।

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌موضوع الكتاب ومباحثه

قصد المؤلف بكتابه ــ كما هو ظاهر من عنوانه ــ جَمْع ما تفرق من مسائل القضاء والقدر، وما اتصل بها من مباحث حكمة الباري وتعليل أفعاله سبحانه، وبيان المذهب الحق في كل ذلك.

فاستهلّ كتابه بخطبة أبان فيها عن موضع الإيمان بالقضاء والقدر من الدين، وخطورة الانحراف عنه، مع إلماحة إلى نشأة الكلام في القدر، ومذاهب الناس فيه، واتساع الخُلْف بينهم، بين غالٍ في النفي وزائغٍ في الإثبات، خلا من اقتبس من مشكاة الوحيين وسلك طريق الأصحاب، ومن صلح من أسلافهم.

ليعرض بعدها إلى بواعث التأليف في الباب، والضرورة التي ألجأته إلى الخوض في هذا الميدان، في ثلاثين بابًا سرد عنواناتها تامة في هذه الخطبة.

وهذه الأبواب مختلفة في الطول والقصر، فبعضها لا يتجاوز الصفحتين كما تراه في الباب الخامس، وبعضها تربو على المائة كما في الباب الخامس عشر.

وقد خصص المؤلف الأبواب: الأول، والثاني، والرابع، والخامس، والسادس؛ في ذكر أنواع التقدير الإلهي، مُفْرِدًا كل نوع بباب مستقل، مستقصيًا ما جاء في هذا التقدير من أحاديث مرفوعة وآثار موقوفة، تارة يسوقها بإسنادها من مصادرها، وأخرى دون إسناد، مع حرصه الشديد على تتبع الألفاظ وتحريرها وإزالة التعارض بينها، وتوضيح وجه الدلالة منها، وربما تكلّم في طرقها تصحيحًا وتضعيفًا.
গ্রন্থের বিষয়বস্তু ও এর আলোচ্য বিষয়সমূহ

গ্রন্থকার তাঁর এই গ্রন্থের মাধ্যমে—যেমনটি এর শিরোনাম থেকে স্পষ্ট হয়—কাজা ও কদরের (তাকদীর) বিক্ষিপ্ত মাসআলাসমূহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট মহান স্রষ্টার হিকমত ও তাঁর কার্যাবলির যৌক্তিক কারণসমূহ একত্র করার এবং এ সকল বিষয়ে সঠিক মতাদর্শ স্পষ্ট করার সংকল্প করেছেন।

তিনি তাঁর গ্রন্থের সূচনা করেছেন এমন এক ভূমিকার মাধ্যমে যেখানে তিনি দ্বীনের মধ্যে কাজা ও কদরের ওপর ঈমান আনার গুরুত্ব এবং এ থেকে বিচ্যুত হওয়ার ভয়াবহতা বর্ণনা করেছেন। সেইসাথে কদর সংক্রান্ত আলোচনার উৎপত্তি, এ বিষয়ে মানুষের বিভিন্ন মতবাদ এবং তাদের মধ্যকার মতপার্থক্য—যারা অস্বীকারের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করেছে এবং যারা প্রমাণের ক্ষেত্রে বিচ্যুত হয়েছে—তাদের সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত প্রদান করেছেন। তবে তারা এই বিচ্যুতির বাইরে যারা ওহীদ্বয়ের (কুরআন ও সুন্নাহ) আলো থেকে হিদায়াত গ্রহণ করেছেন এবং সাহাবী ও তাঁদের পরবর্তী সৎ পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করেছেন।

এরপর তিনি এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনার প্রেক্ষাপট এবং এই ময়দানে অবতীর্ণ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন। তিনি ত্রিশটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত করেছেন, যার শিরোনামগুলো এই ভূমিকাতেই পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরেছেন।

এই অধ্যায়গুলো দৈর্ঘ্যের দিক থেকে বিভিন্ন মানের; কোনোটি দুই পৃষ্ঠার বেশি নয়, যেমনটি পঞ্চম অধ্যায়ে দেখা যায়, আবার কোনোটি একশ পৃষ্ঠারও বেশি, যেমনটি পঞ্চদশ অধ্যায়ে রয়েছে।

গ্রন্থকার প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ অধ্যায়কে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত তাকদীরের প্রকারভেদ আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। প্রতিটি প্রকারকে তিনি স্বতন্ত্র অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। তাকদীর প্রসঙ্গে বর্ণিত মারফু হাদীস ও মাওকুফ আছারসমূহ তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছেন। কখনো তিনি সেগুলো মূল উৎস থেকে সনদসহ বর্ণনা করেছেন, আবার কখনো সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তিনি শব্দসমূহ অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করা, সেগুলোর মধ্যকার আপাত বৈপরীত্য দূর করা এবং সেগুলোর তাৎপর্য স্পষ্ট করার ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি বর্ণনার সূত্রগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নিয়েও আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ١٥)
وقام بين ذلك بإفراد الباب الثالث في ذكر مرويات المحاجّة المشهورة في القدَر بين آدم وموسى عليهما السلام، وبيان اختلاف الناس في فهم الحديث وأوجه تفسيره، واستطرد في الدفاع عن صاحب "منازل السائرين" في كلام له موهِمٍ لباطل.

وفي الباب السابع ناقش المصنف أنّ سبق المقادير بالشقاوة والسعادة لا يقتضي ترك الأعمال، بل يقتضي الاجتهاد والحرص.

ودار الكلام في الباب الثامن حول تفسير قوله تعالى: {إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ} [الأنبياء: 98]، وفي التاسع حول قوله سبحانه: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} [القمر: 49]، وما يتعلق بهما من فوائد واستنباطات.

ثم أعاد الحديث مرة أخرى في الأبواب: العاشر، والحادي عشر، والثاني عشر، والثالث عشر، في مراتب القضاء والقدر، واستقصاء ما جاء فيها من حجج نقلية ــ لم يسبق له إيرادها فيما تقدم من أبواب ــ وبراهين عقلية، وأرخى للقلم العنان في البحث والمناقشة.

ففي العاشر بسط النقاش في المرتبة الأولى: علم الرب سبحانه بالأشياء قبل كونها، والمرويات في ذلك، ولم يخل من استطراد في رد بعض شبه القدرية، والحديث عن حكمة الله سبحانه ومظاهر لطفه وفوائد وثمرات ابتلائه أحباءه.

وفي الباب الذي يليه ساق بعض ما فاته من نصوص القرآن والسنة الصحيحة الصريحة في المرتبة الثانية وهي مرتبة الكتابة.
এর মাঝখানে তিনি আদম ও মুসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর মাঝে তাকদীর সংক্রান্ত সেই প্রসিদ্ধ বিতর্কের বর্ণনাগুলো উল্লেখ করার জন্য তৃতীয় অধ্যায়টিকে নির্দিষ্ট করেছেন এবং হাদীসটি অনুধাবনে মানুষের মতপার্থক্য ও এর ব্যাখ্যার দিকগুলো বর্ণনা করেছেন। আর তিনি 'মানাজিলুস সায়িরীন' গ্রন্থের লেখকের এমন কিছু কথার সমর্থনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন যা ভুল ধারণার উদ্রেক করে।

সপ্তম অধ্যায়ে গ্রন্থকার আলোচনা করেছেন যে, তাকদীরে পূর্বনির্ধারিত দুর্ভাগ্য বা সৌভাগ্য আমল বা কাজ ছেড়ে দেওয়ার দাবি রাখে না; বরং তা প্রচেষ্টা ও আগ্রহের দাবি রাখে।

অষ্টম অধ্যায়ের আলোচনা মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যার ওপর আবর্তিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত করো, তারা জাহান্নামের জ্বালানি।" [আল-আম্বিয়া: ৯৮]। আর নবম অধ্যায়ে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে: "নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছি তাকদীর (পূর্বনির্ধারিত পরিমাপ) অনুযায়ী।" [আল-কামার: ৪৯]। এছাড়া এই দুই আয়াত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপকারিতা ও মাসআলা উদ্ভাবন নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

এরপর তিনি দশম, একাদশ, দ্বাদশ এবং ত্রয়োদশ অধ্যায়গুলোতে আবারও কাযা ও কদরের (তাকদীরের) স্তরগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি এমন সব বর্ণিত প্রমাণাদি—যা তিনি পূর্ববর্তী অধ্যায়গুলোতে উল্লেখ করেননি—এবং যৌক্তিক প্রমাণগুলো বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান করেছেন; এবং গবেষণা ও আলোচনার ক্ষেত্রে নিজের লেখনীকে বিস্তৃত করেছেন।

দশম অধ্যায়ে তিনি প্রথম স্তরের ওপর বিস্তৃত আলোচনা করেছেন, আর তা হলো: বস্তুসমূহ অস্তিত্বে আসার পূর্বেই মহান রবের সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞান রাখা এবং এ বিষয়ক বর্ণনাগুলো। এছাড়া তিনি ক্বাদারিয়া সম্প্রদায়ের কিছু সংশয় নিরসনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং মহান আল্লাহর হিকমত (প্রজ্ঞা), তাঁর করুণার বহিঃপ্রকাশ এবং তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা করার উপকারিতা ও ফলাফল সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন।

আর এর পরবর্তী অধ্যায়ে তিনি দ্বিতীয় স্তর অর্থাৎ 'লিখন' (তাকদীর লিখে রাখা) সম্পর্কে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর এমন কিছু সুস্পষ্ট দলিল পেশ করেছেন যা আগে উল্লেখ করা বাকি ছিল।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ١٦)
وأما الباب الثاني عشر في المرتبة الثالثة من مراتب القضاء والقدر ــ وهي مرتبة المشيئة والإرادة ــ فقد حشد فيه رحمة الله عليه ما أمكنه من الآيات والأحاديث الدالة على هذه المرتبة بأصنافها وألفاظها، ثم عقد فصلًا بحث فيه علاقة المشيئة والإرادة بمحبة الله وأوامره.

وختم تلك المراتب في الباب الثالث عشر بذكر مرتبة خلق الله سبحانه الأعمال وتكوينه وإيجاده لها، وأطال النفس في تفنيد بعض أصول الأشاعرة وغيرهم في مسائل الجبر وتأثير القدرة وفروعها، والخلق والاختراع وذيولها، وبيان هدي القرآن والسنة فيها، وإيضاح سبيل المؤمنين، وقاده المقام للغوص في أسرار سورة الفاتحة المتعلقة بهذه المسائل العقدية.

ثم استكمل في الباب الرابع عشر مباحث الهدى والضلال ومراتبهما، وهذا الباب وصفه المصنّف بقوله: "هو قلب أبواب القدر ومسائله"، وعرض فيه مراتب الهدى والضلال في القرآن، كل مرتبة منها في فصل مستقلّ أشبع فيه الحديث حولها، واستطرد طويلًا في مرتبة التقدير والهداية بذكر نماذج من هداية الله تعالى لبعض المخلوقات كالنحلة والنملة والهدهد وغيرها، ثم استطرد مرة أخرى في المرتبة الثالثة من الهداية: هداية التوفيق والإلهام في توضيح جناية التأويل الفاسد على نصوص الوحيين لدى القدرية والجبرية.

وجمع المؤلف في الباب الخامس عشر الآيات الواردة في الطبع والختم والقفل ونحوها على وجه التفصيل، ثم ذكر أوجه ضلال القدرية والجبرية في تحريف هذه الآيات، وأطال النفس في الرد عليها آية آية، وهذا من أطول أبواب الكتاب.
আর দ্বাদশ পরিচ্ছেদটি হলো কাজা ও কদরের স্তরসমূহের মধ্য থেকে তৃতীয় স্তর প্রসঙ্গে—আর তা হলো ইচ্ছা ও সংকল্পের স্তর—এতে রহমতুল্লাহি আলাইহি এই স্তরের প্রমাণ স্বরূপ বিভিন্ন প্রকারের ও শব্দমালার যত সম্ভব আয়াত ও হাদিস সমবেত করেছেন। এরপর তিনি একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত করেছেন যেখানে আল্লাহর মহব্বত ও তাঁর আদেশের সাথে ইচ্ছা ও সংকল্পের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এবং তিনি ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদে মহান আল্লাহর বান্দাদের আমল সৃষ্টি করা এবং সেগুলোর অস্তিত্ব দান ও গঠন করার স্তরটি আলোচনার মাধ্যমে ওই স্তরগুলোর সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। তিনি এখানে জবর (বাধ্যবাধকতা), সক্ষমতার প্রভাব ও এর শাখাসমূহ এবং সৃষ্টি ও উদ্ভাবন এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়াবলীতে আশায়িরা ও অন্যদের কিছু মূলনীতি খণ্ডন করতে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। এছাড়া এ বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহর হিদায়াত বর্ণনা করেছেন এবং মুমিনদের পথ স্পষ্ট করেছেন। এই প্রসঙ্গের আলোচনা তাকে এই আকিদাগত বিষয়গুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট সূরা ফাতিহার রহস্যসমূহের গভীরে নিয়ে গেছে।

এরপর চতুর্দশ পরিচ্ছেদে তিনি হিদায়াত ও গোমরাহি এবং এ দুটির স্তরসমূহ নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন করেছেন। এই পরিচ্ছেদটি সম্পর্কে গ্রন্থকার বলেছেন: "এটি হলো কদরের অধ্যায় ও মাসয়ালাসমূহের হৃৎপিণ্ড।" এতে তিনি কুরআনে বর্ণিত হিদায়াত ও গোমরাহির স্তরগুলো তুলে ধরেছেন; প্রতিটি স্তরের জন্য আলাদা অনুচ্ছেদ করেছেন যেখানে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি নির্ধারণ ও হিদায়াতের স্তরের আলোচনায় দীর্ঘ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, যেখানে মৌমাছি, পিঁপড়া, হুদহুদসহ কিছু সৃষ্টির প্রতি মহান আল্লাহর হিদায়াতের উদাহরণ উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি হিদায়াতের তৃতীয় স্তরে অর্থাৎ তাওফিক ও ইলহামের হিদায়াতের আলোচনায় পুনরায় দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যেখানে কাদারিয়া ও জাবরিয়াদের নিকট ওহীদ্বয়ের দলিলাদির ওপর অপব্যাখ্যার অনিষ্টতা স্পষ্ট করেছেন।

লেখক পঞ্চদশ পরিচ্ছেদে অন্তরে মোহর মারা, ছাপ দেওয়া এবং তালাবদ্ধ হওয়া সংক্রান্ত আয়াতগুলো বিস্তারিতভাবে জমা করেছেন। অতঃপর এই আয়াতগুলোর বিকৃতির ক্ষেত্রে কাদারিয়া ও জাবরিয়াদের বিভ্রান্তির দিকগুলো উল্লেখ করেছেন এবং প্রতিটি আয়াত ধরে ধরে সেগুলোর খণ্ডনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। এটি এই কিতাবের দীর্ঘতম পরিচ্ছেদগুলোর একটি।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ١٧)
وفي الباب السادس عشر استقصى ما جاء في السنة النبوية من تفرد الرب تعالى بخلق أعمال العباد، فجمع أحاديث الباب وتكلم عليها وعلى معانيها، ثم عرض للكلام على التوبة والاستغفار، وفقر العباد إلى الجبّار.

ومع أن المؤلف ناقش طرفًا من مذهب الأشاعرة في الكسب والجبر ضمن مباحث الباب الثالث عشر عَرَضًا؛ إلا أنه أعاد وأفرد هذه المباحث ومتعلقاتها في البابين: السابع عشر والثامن عشر بمزيد عناية وتفصيل، ذكر خلاله ما وقع بين الأشاعرة من خلاف واضطراب في مسائل القدر، ونقل فيه عن كبار محققيهم، ثم ناقش مفردات الباب كلمة كلمة: فَعَل وأفعلَ، والفعل والانفعال، وبيّن ضلال الطائفتيَن: القدرية والجبرية، وختم الباب باستطراد في مسألة طلاق السكران والغضبان.

ثم ساق المصنف في البابين: التاسع عشر والعشرين مناظرة مفترضة في مهمات مسائل القدر بين جبريّ وسنّي في الباب الأول منهما، وفي الثاني بين بين قدري وسُنّي ناقش فيها أنواع التعطيل وآثاره، ومباحث التسلسل وأنواعه ولوازمه، وأعاد البحث مع القدرية والجبرية في مسائل المشيئة والإرادة والأسباب والحكمة والتعليل.

وفي الباب الحادي والعشرين عرض للعلاقة بين القدر ووقوع الشر في الكون، وأجاب عما أشكل ودقّ من أسئلة الباب، بعد أن أصّل القواعد، وشيّد أركان مذهب أهل السنة والجماعة في الحكمة والتعليل.

ولم يكتف ابن قيم الجوزية رحمه الله بما سلف في هذا المبحث ــ أعني الحكمة والتعليل ــ بل عقد بابين كاملين بعد ذلك من أجلهما، استوعب في أحدهما نصوص الوحيين في اثنين وعشرين نوعًا، كل نوع في فصل مستقل،
ষোড়শ অধ্যায়ে তিনি বান্দার কর্মসমূহ সৃষ্টিতে মহান রবের এককত্বের বিষয়ে সুন্নাহে যা বর্ণিত হয়েছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছেন। তিনি এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলোর মর্মার্থ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি তওবা, ইস্তিগফার এবং মহাপ্রতাপশালী রবের প্রতি বান্দার মুখাপেক্ষিতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

যদ্যপি লেখক ত্রয়োদশ অধ্যায়ের আলোচনার মধ্যে প্রাসঙ্গিকভাবে 'কাসব' (অর্জন) এবং 'জবর' (অনিবার্যতাবাদ) বিষয়ে আশআরি মতবাদের কিছু অংশ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন; তবুও তিনি সপ্তদশ এবং অষ্টাদশ অধ্যায়ে অধিকতর গুরুত্ব ও বিস্তারিত বিবরণের সাথে এই বিষয়গুলো এবং এর সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ পুনরায় ও পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন। এতে তিনি তাকদিরের মাসআলাসমূহে আশআরিদের মধ্যে বিদ্যমান মতভেদ ও অস্থিরতা উল্লেখ করেছেন এবং তাদের শীর্ষস্থানীয় গবেষকদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। এরপর তিনি এই অধ্যায়ের প্রতিটি শব্দ নিয়ে শব্দে শব্দে আলোচনা করেছেন: যেমন 'ফায়ালা' ও 'আফআলা', এবং ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া। একইসাথে তিনি 'কাদারিয়া' ও 'জাবরিয়া'—এই উভয় সম্প্রদায়ের পথভ্রষ্টতা স্পষ্ট করেছেন। পরিশেষে তিনি মাতাল এবং রাগান্বিত ব্যক্তির তালাকের মাসআলার দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে অধ্যায়টি সমাপ্ত করেছেন।

এরপর লেখক উনবিংশ এবং বিংশ অধ্যায়ে তাকদিরের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ নিয়ে একটি কাল্পনিক বিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। প্রথমটিতে একজন জাবরিয়া এবং সুন্নির মধ্যে, এবং দ্বিতীয়টিতে একজন কাদারিয়া ও সুন্নির মধ্যে বিতর্ক। এখানে তিনি 'তাতিল' (গুণাবলি অস্বীকার)-এর প্রকারভেদ ও তার কুপ্রভাব এবং 'তাসালসুল' (অবিচ্ছিন্ন পরম্পরা)-এর বিভিন্ন প্রকার ও এর আবশ্যিকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি পুনরায় কাদারিয়া ও জাবরিয়াদের সাথে আল্লাহর ইচ্ছা, অভিপ্রায়, কারণসমূহ, হিকমত এবং যৌক্তিক কারণ (তালিল) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

একুশতম অধ্যায়ে তিনি তাকদির এবং মহাবিশ্বে অনিষ্ট সংঘটিত হওয়ার মধ্যবর্তী সম্পর্কটি উপস্থাপন করেছেন। তিনি 'হিকমত' এবং 'তালিল' বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মাযহাবের ভিত্তি সুদৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত করার পর, এই অধ্যায়ের জটিল ও সূক্ষ্ম প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন।

ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) এই আলোচনায়—অর্থাৎ হিকমত ও তালিল-এর বিষয়ে—পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকেননি; বরং এরপর তিনি এ দুটির জন্য আরও দুটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় নিবদ্ধ করেছেন। যার একটিতে তিনি ওহীর উদ্ধৃতিসমূহকে বাইশটি প্রকারে বিন্যস্ত করেছেন এবং প্রতিটি প্রকারকে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ١٨)
وخصص الآخر لاستيفاء شُبَه النافين، وذِكْر الأجوبة عنها في عدة فصول وعشرات الأوجه، وحسبك أنه أجاب عن الحكمة في خلق الكفر والفسوق ونحوها من الشرور في أربعين وجهًا، ضمّن أحدها ما في الصلاة من حِكَم العبودية ومنازلها، وأورد في آخرَ شيئًا من أسرار الكون وغايات خلقه في المجرات والأفلاك، وعقد فصلًا مطوّلًا في المسألة الشهيرة: فناء الجنة والنار.

وهذا الباب الثالث والعشرون يعد أطول أبواب الكتاب، وقد استغرق نحوًا من مائة وثمانين صفحة من المطبوع.

وفي الباب الرابع والعشرين ــ وهو من أوجز الأبواب ــ بحث معنى قول السلف: "من أصول الإيمان: الإيمان بالقدر خيره وشرّه، حلوه ومرّه"، وجُلّ مسائله مما تقدمت مناقشته في الباب السابق.

وقريب منه في الإيجاز الباب الذي يليه: في امتناع إطلاق القول نفيًا وإثباتًا: "إن الربّ تعالى مريد للشرّ وفاعل له"، حيث أعاد المؤلف كثيرًا مما تقدم بسطه في الكتاب، كالكلام على المحبة والإرادة وأنواعهما.

وكذلك أوجز الحديث في البابين السادس والعشرين والسابع والعشرين، فشَرَح في الأول منهما قوله صلى الله عليه وسلم: "اللهم إني أعوذ برضاك من سخطك"، وفي الثاني قوله صلى الله عليه وسلم: "ماضٍ فيّ حكمك، عدلٌ فيّ قضاؤك"، وذَكَر ما تضمّنه كل منهما من قواعد وفوائد ولطائف.

أما البابان: الثامن والعشرون والتاسع والعشرون فقد عرض فيهما المصنف أحكام الرضا بالقضاء، واختلاف الناس في ذلك، وتحقيق القول فيه، وانقسام القضاء والحكم ونحوهما إلى كوني وديني، دون إسهاب.
তিনি অপর অংশটি অস্বীকারকারীদের সংশয়সমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে নিরসনের জন্য এবং বেশ কয়েকটি পরিচ্ছেদ ও কয়েক ডজন প্রেক্ষিতের মাধ্যমে সেগুলোর উত্তর প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। আপনার জানার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তিনি কুফর, পাপাচার এবং এ জাতীয় মন্দ বিষয়গুলো সৃষ্টির পেছনের প্রজ্ঞা সম্পর্কে চল্লিশটি প্রেক্ষিত থেকে উত্তর দিয়েছেন। এর একটির অন্তর্ভুক্ত করেছেন সালাতের মধ্যে নিহিত দাসত্বের নিগূঢ় রহস্য ও তার স্তরসমূহ। অন্য একটিতে তিনি মহাকাশ ও কক্ষপথসমূহে মহাবিশ্বের কিছু রহস্য এবং তা সৃষ্টির উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন। আর তিনি একটি দীর্ঘ পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন প্রসিদ্ধ মাসআলা: ‘জান্নাত ও জাহান্নামের বিলুপ্তি’ প্রসঙ্গে।

এই তেইশতম অধ্যায়টি বইটির দীর্ঘতম অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত, যা মুদ্রিত সংস্করণের প্রায় একশ আশি পৃষ্ঠা জুড়ে বিস্তৃত।

চব্বিশতম অধ্যায়টি—যা সংক্ষিপ্ততম অধ্যায়গুলোর অন্যতম—সেখানে তিনি সালাফদের এই বাণীর মর্ম নিয়ে আলোচনা করেছেন: "ঈমানের অন্যতম মূলনীতি হলো: ভাগ্যের ভালো-মন্দ এবং এর মিষ্টতা ও তিক্ততার প্রতি ঈমান রাখা।" এর অধিকাংশ বিষয়ই পূর্ববর্তী অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে।

সংক্ষিপ্ততার দিক থেকে এর পরবর্তী অধ্যায়টি এর কাছাকাছি, যা হলো: না-বোধক বা হ্যাঁ-বোধক কোনোভাবেই ঢালাওভাবে এই কথা বলার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে যে— "নিশ্চয়ই মহান রব মন্দের ইচ্ছাকারী এবং তা সম্পাদনকারী।" এখানে লেখক বইটিতে ইতিপূর্বে বিস্তারিতভাবে আলোচিত অনেক বিষয় পুনরায় উল্লেখ করেছেন, যেমন ভালোবাসা ও ইচ্ছা এবং এগুলোর প্রকারভেদ সংক্রান্ত আলোচনা।

একইভাবে তিনি ছাব্বিশতম ও সাতাশতম অধ্যায়েও আলোচনা সংক্ষিপ্ত রেখেছেন। এর প্রথমটিতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী ব্যাখ্যা করেছেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার অসন্তুষ্টি হতে আশ্রয় চাচ্ছি।" আর দ্বিতীয়টিতে তাঁর এই বাণী ব্যাখ্যা করেছেন: "আমার ওপর আপনার নির্দেশ কার্যকর, আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালা ন্যায়পূর্ণ।" তিনি এই দুটির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন মূলনীতি, উপকারিতা ও সূক্ষ্ম তত্ত্বসমূহ উল্লেখ করেছেন।

আটাশতম ও ঊনত্রিশতম অধ্যায় দুটির ক্ষেত্রে লেখক তাকদীরের ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকার বিধান, এ নিয়ে মানুষের মতভেদ এবং এ বিষয়ে সঠিক মতের বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন। এছাড়া ফয়সালা ও নির্দেশ ইত্যাদিকে মহাজাগতিক ও ধর্মীয়—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার বিষয়টিও কোনো দীর্ঘ আলোচনা ছাড়াই বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ١٩)
ثم كانت خاتمة أبواب الكتاب الثلاثين بالحديث عن الفطرة التي فطر الله الناسَ عليها، والخلاف في المراد بها، وشرح حديث: "كل مولود يولد على الفطرة" وتتبع ألفاظه بتوسّع.

* * * *
অতঃপর গ্রন্থটির ত্রিশটি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটেছে সেই ফিতরাত সম্পর্কিত আলোচনার মাধ্যমে যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, এবং এর দ্বারা উদ্দিষ্ট অর্থের ব্যাপারে বিদ্যমান মতপার্থক্য, আর "প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে"—এই হাদিসটির ব্যাখ্যা ও এর শব্দগত পাঠান্তরসমূহের বিস্তারিত পর্যালোচনার মাধ্যমে।

* * * *
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌منهج المؤلف في الكتاب

ثمة معالم رئيسة تشترك فيها سائر مصنفات ابن قيم الجوزية رحمه الله، وسمات متشابهة تنتظمها في عقد تأليفي واحد، لا تكاد تخطئها عين المطالع، وهذا الكتاب له منها نصيب وافر، يتجلّى في عامة أبوابه وطريقة سياقه، بناء ومحتوًى وأسلوبًا في العرض والصياغة، سنشير إلى بعضها في عجالة.

فمن تلك السمات التكوينية: تقسيمه الكتاب إلى أبواب، لكل باب مقصد مستقل وعنوان يضم مسائل من جنس واحد في عموم مباحثه، وربما دعته الحاجة إلى إبراز بعض المباحث داخل الباب بكلمة "فصل"، إما لأهمية المبحث، أو طوله، أو انفصاله عما قبله من حيث الفكرة، وليس هذا التقسيم بمطّرد.

وغالبًا ما يسوق الأجوبة على الشبهات والاعتراضات على هيئة أوجه متسلسلة الأرقام.

ومن أظهر سمات المصنف: انطلاقه في تقرير المسائل ومواطن الاستدلال من نصوص القرآن والسنة الصحيحة، فلا يكاد يخلو مبحث إلا وفيه احتجاج بآية أو حديث، وكثيرًا ما يحشد الآيات المتماثلة في موضع واحد، ويتتبع ألفاظ الرواية حرفًا حرفًا، وقد يسوق الطرق ويرفع الأسانيد، مع الكلام عليها؛ إذ شَرَط على نفسه أن لا يستدل إلا بما ثبت.

ويتصل بالأمر حرصه على تعضيد نصوص الوحيين بفهم السلف الصالح عليهم رحمة الله لهذه النصوص، وتعد كتبه مظنة لأقوال الصحابة في المسائل التي بسط القولَ في بحثها.
বইটিতে লেখকের পদ্ধতি

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর সকল রচনার কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এগুলো একই গ্রন্থনা-সূত্রে গাঁথা যা একজন পাঠকের দৃষ্টি এড়ায় না। এই কিতাবটিতেও সেই বৈশিষ্ট্যের এক বিশাল অংশ বিদ্যমান, যা এর প্রায় সকল অধ্যায়ে এবং উপস্থাপনার ভঙ্গি, গঠন, বিষয়বস্তু ও রচনার শৈলীতে ফুটে ওঠে। আমরা সংক্ষেপে সেগুলোর কয়েকটির প্রতি ইঙ্গিত করব।

সেই গাঠনিক বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে: কিতাবটিকে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিভক্ত করা, যেখানে প্রতিটি অধ্যায়ের স্বতন্ত্র উদ্দেশ্য এবং এমন শিরোনাম রয়েছে যা এর সাধারণ আলোচনার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করে। কখনো কখনো অধ্যায়ের ভেতরে কোনো বিশেষ আলোচনাকে আলাদাভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য ‘পরিচ্ছেদ’ শব্দের প্রয়োজন পড়েছে; হয়তো আলোচনার গুরুত্বের কারণে, দীর্ঘ হওয়ার কারণে অথবা পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের চেয়ে আলাদা কোনো চিন্তাধারার কারণে। তবে এই বিভাজন সবক্ষেত্রে একরকম নয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি সংশয় ও আপত্তিসমূহের উত্তর ক্রমানুসারে নম্বর দিয়ে বিভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেন।

গ্রন্থকারের সবচেয়ে স্পষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো: মাসয়ালা নির্ধারণ এবং দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর নস (পাঠ) থেকে যাত্রা শুরু করা। খুব কম আলোচনাই এমন পাওয়া যাবে যেখানে কোনো আয়াত বা হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়নি। অনেক সময় তিনি একই ধরনের আয়াতগুলোকে এক স্থানে সমবেত করেন এবং বর্ণনার শব্দাবলি বর্ণে বর্ণে অনুসরণ করেন। কখনও কখনও তিনি বর্ণনার বিভিন্ন পথ ও সনদ উল্লেখ করেন এবং সেগুলোর মান নিয়ে আলোচনা করেন; যেহেতু তিনি নিজের ওপর এই শর্তারোপ করেছেন যে, যা প্রমাণিত কেবল তা দিয়েই তিনি দলিল পেশ করবেন।

এর সাথে সংশ্লিষ্ট আরেকটি বিষয় হলো—ওহীর বক্তব্যসমূহকে সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর বুঝ ও অনুধাবনের মাধ্যমে শক্তিশালী করার ব্যাপারে তাঁর গভীর আগ্রহ। যে সকল মাসয়ালায় তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, সেখানে সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্য খুঁজে পাওয়ার জন্য তাঁর কিতাবগুলো নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٢١)
ومن سمات منهجه في هذا الكتاب ونظائره: استناده في حكاية أقوال الفرق وأرباب الطوائف على أصولهم المعتمدة مباشرة، قطعًا لدعوى التحريف والتصرّف في نصوص المخالفين، وكذلك الشأن في الإفادة من كتب الكلام دون واسطة في مواضع الحجاج واللجاج، وسيأتي تفصيل بعضه عند الحديث عن موارد الكتاب.

ومما يحسن ذكره هنا مقدرة المؤلف على توظيف الخلاف داخل المذهب الواحد، وإظهار اضطراب أصحابه، وعجز أتباعه؛ ليبين عواره وانحرافه، ويضرب حُجَجَهم بحُجَجِهم، ويبطل كلام المتكلمين بكلام المتكلمين.

ومن تلك المعالم البارزة: مراعاته لجنس الدليل في مقام الاحتجاج، ففي تأصيل القواعد يصدر عن الوحيين، وفي مواطن الجدال يقارع الحجة العقلية بمثلها، ويدفع الشبهة اللفظية بالمأثور من كلام الفصحاء وقريض الشعراء، وهكذا دواليك.

أما الإفادة من كتب شيخه شيخ الإسلام ابن تيمية والاقتباس منها والاتّكاء عليها في المهمات والمعضلات العلمية فكثير، كما هو معهود عنه في سائر كتبه.

وربما استعان المؤلف في تقرير بعض المباحث والغوص في أعماقها والكشف عن مكنوناتها بأسلوب المناظرة، وهي طريق سلكها المصنف في بعض كتبه، فمنه ما في "أعلام الموقعين" (3/ 470) حيث عقد مجلس مناظرة بين مقلِّد وصاحبِ حُجة، وفي "روضة المحبين" (167) أفرد بابًا في مناظرة بين القلب والعين ولوم كل منهما صاحبه والحكم بينهما، أما في
এই গ্রন্থ এবং এর সদৃশ গ্রন্থগুলোতে তাঁর পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: বিভিন্ন দল ও মতাদর্শের প্রবক্তাদের বক্তব্য বর্ণনার ক্ষেত্রে সরাসরি তাদের নির্ভরযোগ্য মূল উৎসগুলোর ওপর নির্ভর করা; যাতে বিরোধীদের ভাষ্যে কোনো প্রকার বিকৃতি বা পরিবর্তনের অভিযোগ সমূলে বিনাশ করা যায়। একইভাবে, যুক্তি-তর্ক ও বিতর্কের ক্ষেত্রে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি ইলমুল কালামের গ্রন্থসমূহ থেকে জ্ঞান আহরণ করা। গ্রন্থের উৎসসমূহ আলোচনার সময় এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা সামনে আসবে।

এখানে যা উল্লেখ করা সমীচীন তা হলো—একই মাযহাবের অভ্যন্তরীণ মতভেদকে কাজে লাগানো, এর প্রবক্তাদের বিভ্রান্তি এবং অনুসারীদের অক্ষমতা ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে লেখকের পারদর্শিতা; যাতে করে তিনি এর ত্রুটি ও বিচ্যুতি সুস্পষ্ট করতে পারেন। তিনি তাদেরই যুক্তি দিয়ে তাদের যুক্তিকে খণ্ডন করেন এবং মুতাকাল্লিমিনদের কথা দিয়ে মুতাকাল্লিমিনদের দাবিকে বাতিল করে দেন।

উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে আরও একটি হলো: দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে দলিলের প্রকৃতির প্রতি তাঁর সজাগ দৃষ্টি। যেমন—মূলনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি ওহিদ্বয় (কুরআন ও সুন্নাহ) থেকে প্রমাণ গ্রহণ করেন, আবার বিতর্কের ক্ষেত্রে যৌক্তিক প্রমাণের মোকাবিলা করেন অনুরূপ যুক্তি দিয়েই। একইভাবে ভাষাগত সংশয় নিরসন করেন সাবলীল ভাষাবিদদের উদ্ধৃতি এবং কবিদের কাব্যের মাধ্যমে। এভাবেই তাঁর ধারা অব্যাহত থাকে।

তাঁর উস্তাদ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া, সেখান থেকে উদ্ধৃতি প্রদান এবং গুরুত্বপূর্ণ ও তাত্ত্বিক জটিল বিষয়ে সেগুলোর ওপর নির্ভর করা ছিল অনেক বেশি, যেমনটি তাঁর অন্যান্য কিতাবসমূহেও সচরাচর দেখা যায়।

লেখক কখনও কখনও কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, তার গভীরে প্রবেশ এবং তার নিগূঢ় রহস্য উন্মোচনে বিতর্কের শৈলী অবলম্বন করেছেন। এটি এমন এক পদ্ধতি যা গ্রন্থকার তাঁর বেশ কিছু কিতাবে অনুসরণ করেছেন। এর উদাহরণ পাওয়া যায় ‘আলামুল মুওয়াক্কিয়িন’ (৩/৪৭০) গ্রন্থে, যেখানে তিনি একজন মুকাল্লিদ এবং একজন দলিলপন্থীর মধ্যে বিতর্কের আসর সাজিয়েছেন। আবার ‘রওজাতুল মুহিব্বিন’ (১৬৭) গ্রন্থে তিনি অন্তর ও চোখের মধ্যকার বিতর্কের জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন, যেখানে তারা একে অপরকে দোষারোপ করে এবং তাদের উভয়ের মাঝে ফয়সালা করা হয়। আর...
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٢٢)
كتابنا هذا فقد أفرد بابين للمناظرة، أحدهما بين جَبْري وسُنّي، والآخر بين قَدَري وسُنّي.

ثم إن المصنف على ما جرت به عادته قد يستطرد في فروع بعض المباحث وذيولها لأغراض مختلفة، كزيادة في التقرير، أو توسّع في التمثيل، ونحو ذلك.

وقريب من هذه السمة في صناعة التأليف لدى ابن قيم الجوزية رحمة الله عليه حرصه الشديد على الإحاطة بفروع المسائل، وعنايته البالغة باستيعاب النصوص والأقوال، وإطالة النفس في اشتقاق الأوجه، وتشقيق المجملات، وتفتيق الأجوبة، وتفتيت الشبهات، ولذا وقع التكرار في معالجة بعض مسائل الكتاب.

وهذه السمة الموسوعية قد ألمح إليها ابن حجر في "الدرر الكامنة" (3/ 402) بقوله: "وكل تصانيفه مرغوب فيها بين الطوائف، وهو طويل النفس فيها، يتعانى الإيضاح جهده فيسهب جدًّا".

ولأن مقام الربوية عظيم، والمتجرّئون في الكلام عليه كثير، والمتقحّمون في مسائله قد يغفلون عمّن يتحدثون، فربما استطالوا في التعبير، فافترضوا عليه الواجبات واللوازم والممتنعات، وأساؤوا الأدب مع الجبار القدير جل جلاله= من هنا ظهرت عناية المصنف رحمه الله في عدة مواضع بالتذكير بعظمة صاحب المقام، واستحضار قدسيته وجلاله، والالتفات إلى تعظيمه في النفوس، تبارك اسمه، وتقدّست أسماؤه.

* * * *
আমাদের এই কিতাবে বিতর্কের জন্য দুটি অধ্যায় নির্ধারিত করা হয়েছে, যার একটি জাবরি ও সুন্নির মধ্যে, এবং অন্যটি কাদারি ও সুন্নির মধ্যে।

এরপর গ্রন্থকার তাঁর চিরচেনা রীতি অনুযায়ী বিভিন্ন উদ্দেশ্যে কিছু আলোচনার শাখা-প্রশাখা ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, যেমন বর্ণনাকে আরও দৃঢ় করা, উদাহরণে সম্প্রসারণ ঘটানো এবং এ জাতীয় বিষয়াবলি।

ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর রচনাশৈলীতে এই বৈশিষ্ট্যের কাছাকাছি একটি বিষয় হলো মাসআলার শাখা-প্রশাখাগুলোকে পরিবেষ্টন করার ক্ষেত্রে তাঁর তীব্র আগ্রহ এবং দলীল ও উক্তিগুলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে আয়ত্ত করার ব্যাপারে তাঁর গভীর মনোযোগ। এছাড়া বিভিন্ন দিক উদ্ঘাটন করা, অস্পষ্ট বিষয়গুলোর বিশ্লেষণ করা, উত্তরগুলোকে বিস্তারিত করা এবং সংশয়গুলো নিরসন করার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘপ্রয়াস; যার ফলে কিতাবের কিছু মাসআলা বর্ণনার ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

এই বিশ্বকোষীয় বৈশিষ্ট্যের দিকে ইবনে হাজার 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' (৩/৪০২) গ্রন্থে ইঙ্গিত করে বলেছেন: "সকল ঘরানার মানুষের কাছেই তাঁর গ্রন্থগুলো অত্যন্ত সমাদৃত; তিনি এই রচনায় দীর্ঘপ্রয়াস চালান এবং বিষয়গুলো পরিষ্কার করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন, ফলে বর্ণনা অনেক দীর্ঘ হয়ে যায়।"

যেহেতু রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের মর্যাদা মহান, এবং এ বিষয়ে কথা বলার ধৃষ্টতা দেখানোর লোকও অনেক, আর যারা এর মাসআলাগুলোতে অনুপ্রবেশ করে তারা কার সম্পর্কে কথা বলছে সে বিষয়ে অনেক সময় গাফেল হয়ে যায়; ফলে তারা হয়তো ভাষায় বাড়াবাড়ি করে ফেলে এবং তাঁর ওপর নানা আবশ্যকতা, অনিবার্য বিষয় ও অসম্ভবতা আরোপ করে বসে। এতে তারা পরাক্রমশালী সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর প্রতি শিষ্টাচার লঙ্খন করে। ঠিক এখান থেকেই গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বিভিন্ন স্থানে এই মহান সত্তার মহত্ত্ব স্মরণের প্রতি যত্নশীল হয়েছেন এবং তাঁর পবিত্রতা ও মর্যাদা অন্তরে জাগ্রত করার মাধ্যমে আত্মায় তাঁর মহিমা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন; বরকতময় তাঁর নাম এবং পবিত্র তাঁর নামসমূহ।

* * * *
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌أهمية الكتاب

يستمد هذا الكتاب أهميته من جملة أمور، منها:

ما يتعلق بخطورة موضوعه: القضاء والقدر، وموضعه من أركان الدين، واتصال مباحثه بالحديث عن أفعال الرب جل شأنه، فضلًا عما أدخله عليه المتكلمون والمشّاؤون من دقائق علم المنطق والكلام، ومحارات العقول، مع شدة الحاجة إلى بيان الحق فيها، وتزييف الباطل، وهو ما عبّر عنه المؤلف في خطبة الكتاب: "ولما كانت معرفةُ الصواب في مسائل القضاء والقدر والحكمة والتعليل واقعةً في مرتبة الحاجة، بل في مرتبة الضرورة؛ اجتهدتُ في جمع هذا الكتاب وتهذيبه، وتحريره وتقريبه، فجاء فَرْدًا في معناه، بديعًا في مَغْزاه".

فإذا أضيف إلى ذلك قلة مصنفات أهل السنة والجماعة المفردة الجائية على هذا الطراز، الجامع بين الرواية والدراية، الحاوي للمنقول والمعقول= علت رتبة "الشفاء"، وتجلّت منزلته بين أضرابه، كـ "القدر" لابن وهب (197 هـ)، وأبي داود (275 هـ)، والفريابي (310 هـ)، والبيهقي (458 هـ)، وغيرها؛ إذ عامتها من كتب الرواية(1).

وهو مع هذه الخصّيصة من أبسط ما دوّن في بابه، وأغزره مادة، وأعزه فائدة، وأكثره تنوّعًا في أساليب العرض والمعالجة والرد على الشبهات، بما لا يكاد يوجد إلا فيه. وقد قصد المؤلف الاستيعاب ما وسعه ذلك، كما

--------------------------------------------

(1) ينظر في تواليف الباب المفردة: "معجم الموضوعات المطروقة في التأليف الإسلامي" للحبشي (1566 - 1568).

কিতাবটির গুরুত্ব

এই কিতাবটি বেশ কিছু কারণে গুরুত্ব বহন করে, যার মধ্যে রয়েছে:

এর বিষয়ের গুরুত্ব সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি: ক্বাযা ও ক্বদর (ভাগ্য ও নির্ধারণ), এবং দ্বীনের রুকনসমূহের মধ্যে এর স্থান; পাশাপাশি মহান রবের কার্যাবলীর আলোচনার সাথে এর বিষয়বস্তুর সংশ্লিষ্টতা। এছাড়া ইলমুল কালামের পণ্ডিত ও মাশশাঈনরা (প্যারিপ্যাটেটিক দার্শনিক) এতে যুক্তিবিদ্যা ও কালাম শাস্ত্রের যেসব সূক্ষ্ম বিষয় এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রান্তি অনুপ্রবেশ করিয়েছে, অথচ এসব বিষয়ে সত্য স্পষ্ট করা এবং বাতিলকে খণ্ডন করার তীব্র প্রয়োজন ছিল। যা লেখক কিতাবের ভূমিকায় এভাবে ব্যক্ত করেছেন: "যখন ক্বাযা ও ক্বদর, হিকমত এবং তালীলের (কারণ নির্দেশ) মাসআলাসমূহে সঠিক বিষয়টি জানা প্রয়োজনের স্তরে, বরং অপরিহার্যতার স্তরে পৌঁছাল; তখন আমি এই কিতাবটি সংকলন, পরিমার্জন, সম্পাদনা ও সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছি, ফলে এটি তার মর্মার্থের দিক থেকে অনন্য এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের দিক থেকে অপূর্ব হয়েছে।"

এর সাথে যদি এই শৈলীতে রচিত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের একক গ্রন্থসমূহের স্বল্পতার বিষয়টি যুক্ত করা হয়—যা রিওয়ায়াত (বর্ণনা) ও দিরায়াত (প্রজ্ঞা) এবং নক্বল (দলিল) ও আকলের (যুক্তি) সমন্বয়কারী—তবে ‘আশ-শিফা’র মর্যাদা অনেক উঁচুতে উঠে যায় এবং এর সমগোত্রীয় কিতাবগুলোর মাঝে এর শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেমন ইবনে ওয়াহাব (১৯৭ হি.), আবু দাউদ (২৭৫ হি.), আল-ফিরইয়াবি (৩১০ হি.), আল-বাইহাকী (৪৫৮ হি.) প্রমুখের ‘আল-ক্বদর’ সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ; কেননা এগুলোর অধিকাংশই বর্ণনানির্ভর কিতাব(১)।

এই বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি এটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে অত্যন্ত বিস্তারিত, তথ্যসমৃদ্ধ, অতীব উপকারী এবং উপস্থাপনা, বিশ্লেষণ ও সংশয় নিরসনের বৈচিত্র্যের দিক থেকেও অনন্য, যা অন্য কোথাও পাওয়া দুষ্কর। লেখক সাধ্যমতো সবকিছু এতে অন্তর্ভুক্ত করার সংকল্প করেছিলেন, যেমন

--------------------------------------------

(১) এই বিষয়ে রচিত একক গ্রন্থসমূহ দেখতে দেখুন: আল-হাবাশী রচিত "মুজামুল মাওদুআত আল-মাতরুকা ফিল তালিফ আল-ইসলামী" (১৫৬৬ - ১৫৬৮)।

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
سلف بيانه عند الحديث عن منهج الكتاب.

أشار إلى ذلك حاجي خليفة في "كشف الظنون" (2/ 1051) بقوله: "بسط الكلام فيه كل البسط، وأطال كما هو دأبه".

وقال محمد رشيد رضا "تفسير المنار" (8/ 54) في أثناء مناقشته لمذاهب الناس في القدر: "وأكبر أنصار مذهب السلف في القرون الوسطى وأقواهم حجة شيخا الإسلام أحمد تقي الدين ابن تيمية وشمس الدين محمد ابن قيِّم الجوزية، ومن أوسع كتب الأخير في هذا الموضوع الذي يخوض في أعضل مسائله كتاب "مفتاح دار السعادة" وكتاب "شفاء العليل في مسائل القضاء والقدر والحكمة والتعليل"".

وهذا الأمر أكّده المصنف عند إحالته للكتاب في "الفوائد" (36) بوصفه: "وقد استوفينا الكلام في هذا في كتابنا الكبير في القضاء والقدر".

وحُقّ لصاحب هذه الموسوعة العقدية أن يفخر بها في ديباجة الكتاب: "فيا أيُّها المتأمل له، الواقف عليه، لك غُنمه وعلى مؤلِّفه غُرمه، ولك فائدته وعليه عائدته، فلا تعجل بإنكار ما لم يتقدم لك أسباب معرفته، ولا يحملنّك شَنَآن مؤلفه وأصحابه على أن تُحرم ما فيه من الفوائد التي لعلك لا تظفر بها في كتاب، ولعل أكثر من تعظّمه ماتوا بحسرتها، ولم يصلوا إلى معرفتها، والله يقسم فضله بين خلقه بعلمه وحكمته، وهو العليم الحكيم، والفضل بيد الله يؤتيه مَن يشاء، والله ذو الفضل العظيم".

* * *
গ্রন্থের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনার সময় এর বর্ণনা গত হয়েছে।

হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' (২/ ১০৫১) গ্রন্থে এ সম্পর্কে ইঙ্গিত করে বলেছেন: "তিনি এতে অত্যন্ত বিস্তৃত আলোচনা করেছেন এবং তাঁর চিরচেনা স্বভাব অনুযায়ী দীর্ঘায়িত করেছেন" ।

মুহাম্মদ রাশিদ রিদা 'তাফসীরুল মানার' (৮/ ৫৪) গ্রন্থে তাকদীর সম্পর্কে মানুষের বিভিন্ন মতবাদ নিয়ে আলোচনাকালে বলেছেন: "মধ্যযুগে সালাফদের মানহাজের সর্ববৃহৎ সাহায্যকারী এবং প্রমাণের দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী হলেন দুই শায়খুল ইসলাম আহমদ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ। এই বিষয়ের জটিলতম মাসআলাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা ইবনুল কাইয়্যিমের গ্রন্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক হলো ‘মিফতাহু দারিস সাআদাহ’ এবং ‘শিফাউল আলীল ফি মাসাইলিল কাজা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমা ওয়াত তালী’ গ্রন্থদ্বয়" ।

গ্রন্থকার নিজে 'আল-ফাওয়াইদ' (৩৬) গ্রন্থে এই কিতাবটির উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় বিষয়টি নিশ্চিত করে একে এভাবে বর্ণনা করেছেন: "কাজা ও কদর বিষয়ক আমাদের বৃহৎ গ্রন্থে আমরা এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করেছি" ।

আকীদাহ বিষয়ক এই বিশ্বকোষের লেখকের জন্য গ্রন্থের ভূমিকায় এই বলে গর্ব করা যথার্থই হয়েছে: "হে এই কিতাবটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণকারী এবং এর ওপর দৃষ্টিপাতকারী! এর যা কিছু অর্জন তা তোমার জন্য, আর এর দায়ভার এর লেখকের ওপর। এর উপকারিতা তোমার জন্য, আর এর জবাবদিহিতা লেখকের ওপর। সুতরাং যে বিষয়ের জ্ঞানের উপকরণ তোমার কাছে আগে পৌঁছায়নি, তা অস্বীকার করতে তাড়াহুড়ো করো না। আর লেখক ও তাঁর সঙ্গীদের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাকে এমন সব উপকারিতা থেকে বঞ্চিত না করে যা সম্ভবত তুমি অন্য কোনো কিতাবে পাবে না। সম্ভবত তুমি যাদের বড় মনে করো, তাদের অনেকে এই জ্ঞানের আফসোস নিয়েই মৃত্যুবরণ করেছেন এবং এর পরিচয় লাভে সক্ষম হননি। আল্লাহ তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী তাঁর সৃষ্টির মাঝে তাঁর অনুগ্রহ বণ্টন করেন, আর তিনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। সকল অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে চান তা দান করেন এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী" ।

* * *
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌موارد الكتاب

من العسير في كتاب لمصنف في القرن الثامن تعيين جميع موارده، وما سيُذكر هاهنا لا يمثل جميع موارد المؤلف في كتابه.

والسمة الظاهرة في سائر مصنفات ابن قيم الجوزية وفي كتابنا هي كثرة الموارد وتنوعها في أصناف العلوم، وعلوّها وأصالتها في أبوابها.

ثم إنه رحمة الله عليه تارة ينقل مباشرة من المصدر، وأخرى ينقل بواسطة، يظهر هذا عند مقارنة الاقتباسات بمصادرها الأصيلة والوسيطة. وربما يسمّي الكتاب عند النقل، أو يكتفي باسم مؤلفه، أو يقتبس دون عزو، وقد يكتفي حينًا بالعزو في موضع واحد عند تعدده.

وفيما يأتي عرض مجمل لأبرز تلك الموارد بحسب مجيئها في كل فن، وتمامه في فهرست المصنفات والأعلام بملاحق الكتاب:

تقدمت الإشارة إلى اهتمام المؤلف بحشد الآيات القرآنية في مواطن الاستدلال وتأصيل القواعد، وكثيرًا ما يتبع تلك الآيات باقتباسات من تفسير الصحابة فمن بعدهم ومن بيان أهل اللسان؛ تعضيدًا لاستدلاله، ومورده الرئيس في علم التفسير هو كتاب "التفسير البسيط" لأبي الحسن الواحدي، ومع أن المصنف لم يصرّح باسم مؤلفه إلا مرتين فقط إلا أن مقابلة النقول المقتبسة وحكاية الأقوال، بل ومتابعته للواحدي في سياق الشواهد بحروفها تؤكد الأمر دون شك.

ولعل النقل من تفاسير مقاتل ومجاهد و "معاني القرآن" للفراء وابن
গ্রন্থের উৎসসমূহ

অষ্টম শতাব্দীর একজন লেখকের গ্রন্থের সমস্ত উৎস নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ, এবং এখানে যা উল্লেখ করা হবে তা লেখকের গ্রন্থে ব্যবহৃত সকল উৎসের প্রতিনিধিত্ব করে না।

ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর অন্যান্য রচনাবলি এবং আমাদের আলোচ্য এই গ্রন্থের একটি সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য হলো উৎসের প্রাচুর্য এবং বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় সেগুলোর বৈচিত্র্য, সেইসাথে নিজ নিজ অধ্যায়ে সেগুলোর উচ্চমান ও মৌলিকত্ব।

অতঃপর, তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) কখনো সরাসরি মূল উৎস থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন, আবার কখনো কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে উদ্ধৃত করেন; উদ্ধৃতিগুলোকে যখন তাদের মূল ও মধ্যবর্তী উৎসসমূহের সাথে তুলনা করা হয়, তখন এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় তিনি কখনো গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেন, আবার কখনো কেবল লেখকের নামেই সন্তুষ্ট থাকেন, অথবা সূত্র উল্লেখ না করেই উদ্ধৃতি দেন। আবার অনেক সময় উদ্ধৃতি একাধিক স্থানে থাকলেও তিনি কেবল এক স্থানেই সূত্র উল্লেখ করে ক্ষান্ত হন।

প্রতিটি শাস্ত্র অনুযায়ী সেই প্রধান উৎসগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা নিচে দেওয়া হলো, আর এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ গ্রন্থের পরিশিষ্টে থাকা গ্রন্থ ও ব্যক্তিবর্গের তালিকায় পাওয়া যাবে:

দলীল পেশ এবং মূলনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে লেখকের কুরআনের আয়াতসমূহ একত্রিত করার প্রতি বিশেষ আগ্রহের কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি প্রায়শই তাঁর দলীলের সমর্থনে সেই আয়াতগুলোর পর সাহাবীগণ ও তাঁদের পরবর্তীগণের তাফসীর এবং ভাষা বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন। তাফসীর শাস্ত্রে তাঁর প্রধান উৎস হলো আবুল হাসান আল-ওয়াহিদির "আত-তাফসীর আল-বাসীত" গ্রন্থটি। যদিও লেখক এর গ্রন্থকারের নাম মাত্র দুইবার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তবুও উদ্ধৃত বক্তব্যসমূহ ও বর্ণনার মিল এবং এমনকি দলীল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে হুবহু আল-ওয়াহিদির অনুসরণ নিঃসন্দেহে বিষয়টি নিশ্চিত করে।

সম্ভবত মুকাতিল, মুজাহিদ-এর তাফসীর এবং আল-ফাররা ও ইবন-এর "মা'আনিল কুরআন" থেকে উদ্ধৃতি...
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٢٦)
قتيبة في "تفسير الغريب القرآن" و"تهذيب اللغة" للأزهري ومن أبي علي الفارسي؛ كلها بواسطة الواحدي.

ويعد كتابا "معاني القرآن" للزجاج و "تفسير الطبري" من مصادره الرئيسة التي أكثر عنها مصرّحًا باسمي مؤلفيها.

ومن موارد التفسير التي ذكر أصحابها عند الاقتباس: "التحصيل لفوائد كتاب التفصيل" للمهدوي، و "الكشف والبيان" للثعلبي، و "معالم التنزيل" للبغوي، و "الكشاف" للزمخشري، و "زاد المسير" لابن الجوزي.

كما أن المصنف اقتبس كثيرًا في بيان المعاني وشرح الألفاظ من "الصحاح" للجوهري، تارة يسمي الكتاب وأخرى ينسبه إلى قائله.

وفي باب الرواية وسَوْق المرويات بأسانيدها وألفاظها عند الحاجة اعتمد المؤلف على أمّات كتب السنة المشهورة "مسند أحمد" و "إسحاق" والسنن الأربعة ــ وخاصة "الكبرى" للنسائي ــ وغيرها من دواوين الإسلام.

غير أنه في الأبواب الخمسة الأُوَل استند كثيرًا على كتابي "القدر" لابن وهب و "القدر" لأبي داود السجستاني ــ وهذا الأخير لم يصل إلينا ــ، و "القدر" و "الأسماء والصفات" كلاهما للبيهقي، وساق بعض المرويات بأسانيدها من كتابٍ لمحمد بن نصر المروزي، يظهر أنه كتاب خاص في القَدَر لم يصل إلينا، ونقل عددًا من الآثار من "تفسير ابن أبي حاتم" مصرّحًا باسمه.

وفي شروح السنة ومعاني الحديث استند على كتابي "الاستذكار" و"التمهيد" لابن عبد البر، مصدّرًا للنقل بقوله: "قال أبو عمر".
কুতাইবা তাঁর "তাফসিরুল গারিবিল কুরআন"-এ, আল-আজহারির "তাহজিবুল লুগাহ" এবং আবু আলি আল-ফারিসি থেকে; এই সবগুলি আল-ওয়াহিদির মাধ্যমে (গৃহীত)।

আজ-জাজ্জাজের "মাআ’নিল কুরআন" এবং "তাফসির আত-তাবারী" তাঁর প্রধান উৎসসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা থেকে তিনি লেখকদ্বয়ের নাম উল্লেখ করে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

তাফসিরের উৎসসমূহের মধ্যে যাদের নাম তিনি উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় উল্লেখ করেছেন: মাহদাবির "আত-তাহসিল লি-ফাওয়ায়িদি কিতাবিত তাফসির", সা’লাবির "আল-কাশফ ওয়াল বায়ান", বাগাউয়ির "মাআলিমুত তানজিল", যামাখশারির "আল-কাশশাফ" এবং ইবনুল জাওযির "যাদুল মাসির"।

গ্রন্থকার অর্থের ব্যাখ্যা এবং শব্দবিশ্লেষণে জাওহারির "আস-সিহাহ" থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন, কখনো তিনি কিতাবের নাম উল্লেখ করেছেন আবার কখনো তা লেখকের দিকে নিসবত করেছেন।

রিওয়ায়াত এবং প্রয়োজনবোধে সনদ ও শব্দসহ বর্ণনাগুলো উপস্থাপনের ক্ষেত্রে লেখক সুন্নাহর প্রসিদ্ধ মূল গ্রন্থসমূহ যেমন "মুসনাদে আহমাদ", "ইসহাক", সুনানে আরবাআ—বিশেষ করে নাসায়ির "আল-কুবরা"—এবং ইসলামের অন্যান্য সংকলনগুলোর ওপর নির্ভর করেছেন।

তবে প্রথম পাঁচটি অধ্যায়ে তিনি ইবনে ওয়াহাব-এর "আল-কাদর" এবং আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি-এর "আল-কাদর"—যা আমাদের নিকট পৌঁছায়নি—এবং বায়হাকির "আল-কাদর" ও "আল-আসমা ওয়াস সিফাত" গ্রন্থদ্বয়ের ওপর প্রচুর নির্ভর করেছেন। তিনি মুহাম্মাদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযির একটি গ্রন্থ থেকে সনদসহ কিছু বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন, যা প্রতীয়মান হয় যে এটি তাকদির বিষয়ক একটি বিশেষ গ্রন্থ ছিল যা আমাদের নিকট পৌঁছায়নি। এছাড়াও তিনি লেখকের নাম উল্লেখ করে "তাফসির ইবনে আবি হাতিম" থেকে বেশ কিছু আসার (বর্ণনা) নকল করেছেন।

সুন্নাহর ব্যাখ্যা এবং হাদিসের মর্মার্থ বর্ণনায় তিনি ইবনে আব্দুল বার-এর "আল-ইস্তিজকার" এবং "আত-তামহিদ" কিতাবদ্বয়ের ওপর নির্ভর করেছেন, উদ্ধৃতির শুরুতে তিনি বলেন: "আবু উমর বলেছেন"।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
على أنه ربما حكى أقوال أبي عمر وتحريراته بواسطة "درء التعارض"، كما صنع ذلك في عدة مواضع أثناء بحثه لحديث "كل مولود يولد على الفطرة" في الباب الثلاثين (2/ 404) وما بعدها، وقد نبهت عليها في محالها.

وحين استطرد في بيان مظاهر هداية الحيوانات (1/ 222) اقتبس الكثير من "الحيوان" للجاحظ مصرّحًا باسمه في موضعين، ويظهر أن أكثر مباحث الباب مقتبس منه.

ومثل ذلك وقع عند ذكر ما في الكون وأجرامه من أسرار وغايات دالة على وجود الصانع، فقد أفاد فيما يظهر من "الدلائل والاعتبار" المنسوب للجاحظ، بيد أنه لم يسمّه.

أما موارده التي صرّح بها في علم الكلام ــ ومذهب الأشاعرة خصوصًا ــ ففي مقدمتها مؤلفات الرازي "المباحث المشرقية" و "الأربعين"، إضافة إلى "مقالات الإسلاميين" للأشعري، وتجريدها لابن فورك، و "النظامية" للجويني، و "شرح الإرشاد" للأنصاري وغيرها.

وهنالك عدة مواضع في تعريف "الكسب" وأقوال الناس فيه لم يفصح فيها عن مورده، ويغلب على الظن أنها من "نهاية الإقدام" للشهرستاني، و"المطالب العالية" للرازي.

وليس بغريب على ابن قيم الجوزية أن يكون معتمده في مواطن عديدة على مصنفات شيخه شيخ الإسلام ابن تيمية رحمة الله عليهما إفادة واقتباسًا، "وهو الذي هذب كتبه ونشر علمه"(1).

--------------------------------------------

(1) "الدرر الكامنة" (3/ 401).

তিনি হয়ত আবু ওমরের মতামত এবং তাঁর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণগুলো 'দারউত তাআরুদ'-এর মাধ্যমে উদ্ধৃত করেছেন, যেমনটি তিনি ত্রিশতম অধ্যায়ে (২/ ৪০৪) এবং এর পরবর্তী অংশগুলোতে 'প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে' এই হাদীসটি আলোচনার সময় বেশ কয়েকটি স্থানে করেছেন; আমি যথাস্থানে সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি।

আর যখন তিনি পশু-পাখিদের হিদায়াতের বহিঃপ্রকাশ বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন (১/ ২২২), তখন তিনি জাহিজের 'আল-হাইওয়ান' থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং দুটি স্থানে তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন; আর এটা স্পষ্ট যে অধ্যায়টির অধিকাংশ আলোচনাই সেখান থেকে গৃহীত।

বিশ্বজগত এবং এর বস্তুপিণ্ডের মাঝে বিদ্যমান রহস্য ও লক্ষ্যসমূহ যা স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়, সেগুলো উল্লেখ করার ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটেছে; আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় তিনি জাহিজের প্রতি নিসবতকৃত 'আদ-দালাইল ওয়াল ইতিবার' থেকে উপকৃত হয়েছেন, তবে তিনি তার নাম উল্লেখ করেননি।

আর ইলমুল কালামে—বিশেষ করে আশআরি মাযহাব বিষয়ে—তার যেসব উৎসের কথা তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, তার শীর্ষে রয়েছে রাজির গ্রন্থ 'আল-মাবাহিছুল মাশরিকিয়্যাহ' এবং 'আল-আরবাঈন'। এর পাশাপাশি আশআরির 'মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন', ইবনে ফুরাকের তার তাজরীব (তাজরীদুল মাকালাত), জুওয়াইনির 'আন-নিজামিয়্যাহ', আনসারির 'শারহুল ইরশাদ' এবং অন্যান্য গ্রন্থ।

'কাসব' (অর্জন)-এর সংজ্ঞা এবং এ বিষয়ে মানুষের বক্তব্যের বর্ণনায় বেশ কিছু স্থান রয়েছে যেখানে তিনি তার উৎসের কথা প্রকাশ করেননি, তবে প্রবল ধারণা যে এগুলো শাহরাস্তানির 'নিহায়াতুল ইকদাম' এবং রাজির 'আল-মাতালিবুল আলিয়া' থেকে নেওয়া হয়েছে।

ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যার জন্য বহু স্থানে তাঁর উস্তাদ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন)-এর রচনাবলি থেকে উপকৃত হওয়া এবং উদ্ধৃতি নেওয়া মোটেও আশ্চর্যজনক নয়; "তিনিই তো তাঁর কিতাবসমূহ পরিমার্জন করেছেন এবং তাঁর জ্ঞান প্রচার করেছেন"(১)।

--------------------------------------------

(১) "আদ-দুরারুল কামিনাহ" (৩/ ৪০১)।

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وأكثر كتب شيخه التي ظهر لي اعتماده عليها هنا "درء تعارض العقل والنقل"، كما تراه في شرح حديث "فحج آدم موسى"، وحديث "كل مولود يولد على الفطرة" وغيرها، ونقل مباحث من رسالة "الرد على من قال بفناء الجنة والنار"، وفي بعض هذه المواضع جاء التصريح بنسبتها إلى شيخه بقوله: "قال شيخنا" ونحو ذلك.

وتبقى مواضع استفادة أخرى مبثوثة في ثنايا الكتاب لم يعزها المؤلف يظهر أنها مستفادة من كتب شيخ الإسلام، كـ "منهاج السنة" في (2/ 70)، وفي (2/ 33) من "فصل في قوله تعالى: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ} " ضمن "مجموع الفتاوى" (14/ 246 - 281)، وغيرها مما أمكن الوقوف عليه والتنبيه في حواشي الكتاب، والله أعلم.

* * *
তাঁর শাইখের যে সকল কিতাবের ওপর এখানে লেখকের নির্ভরতা আমার নিকট প্রতিভাত হয়েছে, তার অধিকাংশ হলো ‘দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকল’। যেমনটি লক্ষ্য করা যায় ‘আদম ও মূসার বিতর্ক’ হাদিসের ব্যাখ্যায় এবং ‘প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে’ হাদিসসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে। তদুপরি তিনি ‘জান্নাত ও জাহান্নাম বিলুপ্ত হওয়ার প্রবক্তাদের খণ্ডন’ নামক রিসালাহ থেকেও বিভিন্ন তাত্ত্বিক আলোচনা উদ্ধৃত করেছেন। এর কোনো কোনো স্থানে ‘আমাদের শাইখ বলেছেন’—এরূপ উক্তির মাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবে তা তাঁর শাইখের দিকে সম্বন্ধ করেছেন।

এছাড়া গ্রন্থের পরতে পরতে আরও এমন কিছু বিষয় নিহিত রয়েছে যেগুলোর উদ্ধৃতি লেখক প্রদান করেননি, কিন্তু সেগুলো শাইখুল ইসলামের কিতাবসমূহ থেকে চয়ন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। যেমন: (২/৭০) পৃষ্ঠায় ‘মিনহাজুস সুন্নাহ’ থেকে এবং (২/৩৩) পৃষ্ঠায় মহান আল্লাহর বাণী: “তোমার যে কল্যাণ হয় তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যে অকল্যাণ তোমাকে স্পর্শ করে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে”—এই আয়াতের ব্যাখ্যা সম্বলিত পরিচ্ছেদটি থেকে, যা ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’র (১৪/২৪৬-২৮১) অন্তর্ভুক্ত। এ জাতীয় আরও যা কিছু চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে সে সম্পর্কে কিতাবের টীকায় নির্দেশ করা হয়েছে। আর আল্লাহই সম্যক পরিজ্ঞাত।

* * *
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌وصف مخطوطات الكتاب

للكتاب خمس نسخ خطية في مكتبات العالم بحسب ما بلغه علمنا، يسّر الله تعالى الحصول على صور ثلاث منها، وهي الثلاث الأُول الآتي وصفها، وبقيت نسختان لم نتمكن من الحصول عليهما؛ لفقدان أصولهما من المكتبات التي تحتفظ بهما، وسنصفهما إجمالًا بالاعتماد على مَن وقف عليهما.

النسخة الأولى: نسخة جامع أبي العباس المرسي "م"

وهي محفوظة في مكتبة الجامع بالإسكندرية (المسمّاة بالمكتبة المركزية للمخطوطات الإسلامية بوزارة الأوقاف المصرية) برقم (عام: 3614 - خاص: 317)، عدد أوراقها (261)(1)، ومسطرتها (23) سطرًا.

والنسخة مخرومة الآخر، سقط منها نحو (80) ورقة من المطبوع، تمثّل جُلّ الباب الثلاثين مع الخاتمة، كما فُقِدت من مصوّرتها الملوّنة التي بين يدي الأوراق (79، 117) بترقيم المفهرس، وبها عدة بياضات يسيرة في أماكن متفرقة.

يطالعنا على الغلاف اسم الكتاب واسم مؤلفه بالمداد الأحمر، وتحته وقفية غير مقروءة بالمداد الأسود، ودون ذلك بأسفل الصفحة ختم وزارة الأوقاف المصرية.

--------------------------------------------

(1) وقع في بطاقة فهرسة الكتاب: (250) ورقة، وهو خطأ، منشؤه حدوث خلل في العدّ ابتداء من الورقة (98) حتى آخر الكتاب.

গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ

আমাদের জানা মতে বিশ্বের লাইব্রেরিগুলোতে এই গ্রন্থটির পাঁচটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ তাআলা এগুলোর মধ্য থেকে তিনটির প্রতিলিপি প্রাপ্তি সহজ করে দিয়েছেন, যা নিচে বর্ণিত প্রথম তিনটি সংস্করণ। অবশিষ্ট দুটি পাণ্ডুলিপি আমরা সংগ্রহ করতে সক্ষম হইনি; কারণ সংশ্লিষ্ট লাইব্রেরিগুলো থেকে এগুলোর মূল কপি হারিয়ে গেছে। যারা সেগুলো দেখেছেন, তাদের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে আমরা সংক্ষেপে সেগুলোর বিবরণ প্রদান করব।

প্রথম পাণ্ডুলিপি: জামে আবু আব্বাস আল-মুরসি সংস্করণ "মিম"

এটি আলেকজান্দ্রিয়ার জামে মসজিদের লাইব্রেরিতে (যা মিসরের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ইসলামি পাণ্ডুলিপি লাইব্রেরি নামে পরিচিত) সংরক্ষিত আছে। এর নম্বর হলো (সাধারণ: ৩৬১৪ - বিশেষ: ৩১৭)। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা (২৬১)(১) এবং প্রতি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা (২৩)টি।

পাণ্ডুলিপিটির শেষাংশ খণ্ডিত; মুদ্রিত সংস্করণের প্রায় (৮০)টি পৃষ্ঠা এখান থেকে বিচ্যুত হয়েছে, যা ৩০তম অধ্যায়ের অধিকাংশ এবং উপসংহারের অংশ। একইভাবে আমাদের কাছে থাকা রঙিন প্রতিলিপিতে সূচিপত্র অনুযায়ী (৭৯, ১১৭) নম্বর পৃষ্ঠা দুটি পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সামান্য কিছু জায়গা খালি রয়ে গেছে।

প্রচ্ছদে লাল কালিতে গ্রন্থের নাম ও লেখকের নাম পরিলক্ষিত হয়। এর নিচে কালো কালিতে একটি অস্পষ্ট ওয়াকফনামা রয়েছে এবং তার নিচে পৃষ্ঠার নিম্নভাগে মিসরের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের সিলমোহর রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) গ্রন্থের ইনডেক্স কার্ডে (২৫০) পৃষ্ঠা উল্লেখ করা হয়েছে, যা একটি ভুল। (৯৮) নম্বর পৃষ্ঠা থেকে গ্রন্থের শেষ পর্যন্ত গণনায় ত্রুটির কারণে এই ভুলের সৃষ্টি হয়েছে।

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٣٠)
استخدم الناسخ المداد الأسود في متن الكتاب، والأحمر في عناوين الأبواب والفصول ونحوها، خطها معتاد واضح في عامته، يغلب عليها الإهمال، التزم ناسخها تدوين التعقيبة، وتظهر فيها علامات المقابلة والتصحيح، ومع ذلك لم تسلم من الوهم والسقط.

وقد عاثت الرطوبة والأرضة فيها فسادًا، فأحدثت خرومًا كثيرة متفرقة متفاوتة المقدار، وربما ذهبت بثلث الورقة، كما تراه في الألواح (67، 68، 95 - 99)(1).

ولا نعلم عن تاريخ نسخها ولا اسم ناسخها شيئًا؛ لخرم آخرها كما تقدم، وإن كان مظهرها وخطّها يشير إلى أنها نسخة قديمة قريبة العهد من مؤلف الكتاب.

كما توجد عبارات متفرقة بخط الناسخ يظهر من خلالها أنها منقولة من أصل المصنف، أو من نسخة منقولة منه، كقوله في طرة (221/ب): "في أصل المصنف بياض بعد: لا تثاب ولا تعاقب"، وفي (241/أ): "في الأصل بياض".

وفي الحواشي تعليقات نادرة بخطوط مختلفة بعضها استدراكات وتعقبات ولطائف أثبتُّ النافع منها، وبعضها شتائم وردود من بعض مطالعي الكتاب من الأشاعرة، ومناقشات للمصنف في مسائل الكسب أغفلتها كاملة،

--------------------------------------------

(1) يشار إلى أن مجاورة هذه المكتبة للبحر جعل مخطوطاتها عرضة للتلف بسبب الرطوبة العالية بحسب ما جاء في "فهرس مخطوطات أبي العباس المرسي" (1/ 16)، ولم أعثر على مخطوطة كتابنا في المجلدين المطبوعين من الفهارس، والله أعلم.

অনুলিপিকার মূল পাঠে কালো কালি এবং অধ্যায় ও পরিচ্ছেদসমূহের শিরোনাম ও অনুরুপ ক্ষেত্রে লাল কালি ব্যবহার করেছেন। এর হস্তলিপি সাধারণত স্বাভাবিক ও স্পষ্ট, তবে এতে অবহেলার ছাপ লক্ষ্য করা যায়। অনুলিপিকার প্রতিটি পৃষ্ঠার শেষে পরবর্তী পৃষ্ঠার প্রথম শব্দ (তাক্কিবা) লিখে রাখার রীতি অনুসরণ করেছেন। এতে পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে দেখার ও সংশোধনের চিহ্ন বিদ্যমান, তাসত্ত্বেও এটি ভুলভ্রান্তি ও বিচ্যুতি থেকে মুক্ত নয়।

আর্দ্রতা ও উইপোকা এতে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে, যার ফলে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন আকারের অনেক ছিদ্র সৃষ্টি হয়েছে। কখনো কখনো কাগজের এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে গেছে, যা পাণ্ডুলিপি চিত্র (৬৭, ৬৮, ৯৫ - ৯৯)(১)-এ দেখা যায়।

আমরা এর অনুলিপি তৈরির তারিখ বা অনুলিপিকারের নাম সম্পর্কে কিছুই জানি না; কারণ পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে এর শেষাংশ ছিন্ন হয়ে গেছে। তবে এর অবয়ব ও হস্তলিপি ইঙ্গিত দেয় যে, এটি একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি এবং গ্রন্থকারের সময়ের কাছাকাছি সময়ের।

অনুলিপিকারের হস্তলিপিতে বিচ্ছিন্ন কিছু উক্তিও বিদ্যমান যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এটি গ্রন্থকারের মূল পাণ্ডুলিপি অথবা তা থেকে অনুলিপি করা অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে। যেমন ২২১/খ পৃষ্ঠার পার্শ্বটীকায় বলা হয়েছে: "গ্রন্থকারের মূল কপিতে 'সাওয়াব দেওয়া হবে না এবং শাস্তিও দেওয়া হবে না' কথাটির পরে শূন্যস্থান রয়েছে", এবং ২৪১/ক পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে: "মূল কপিতে শূন্যস্থান রয়েছে"।

এর পার্শ্বটীকায় বিভিন্ন হস্তলিপিতে বিরল কিছু মন্তব্য রয়েছে, যার মধ্যে কিছু সংশোধন, পর্যালোচনা ও সূক্ষ্ম তত্ত্ব বিদ্যমান, যার উপকারী অংশগুলো আমি অন্তর্ভুক্ত করেছি। আর কিছু ছিল আশায়েরা মতাদলম্বী কতিপয় পাঠকের পক্ষ থেকে গালিগালাজ ও প্রতিবাদ এবং 'কাসব' (উপার্জন) সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রন্থকারের সাথে বিতর্ক, যা আমি সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়েছি।

--------------------------------------------

(১) উল্লেখ্য যে, এই লাইব্রেরিটি সমুদ্রের সন্নিকটে হওয়ায় এর পাণ্ডুলিপিগুলো অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যেমনটি 'ফিহরিস মাখতুতাত আবি আল-আব্বাস আল-মুরসি' (১/১৬) গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। আর আমি এই কিতাবটির পাণ্ডুলিপি ক্যাটালগের মুদ্রিত দুই খণ্ডে খুঁজে পাইনি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ফী মাসায়িলিল কাযা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তালীলি - ত আতাআতিল ইলম (পৃষ্ঠা: ٣١)
وتقع في الأوراق (5/ب، 105 - 108، 248/أ)، وفي الورقة (247) اعتراض ومنازعة في مسألة الإرادة بأبيات في عقيدة الأشاعرة.

وعلى وجه الإجمال تعتبر هذه النسخة أجود نسخ الكتاب التي وقفت عليها، لولا وجود النقص في آخرها، ويغلب على الظن أنها أقدمها، والعلم عند الله.

النسخة الثانية: نسخة دار الكتب "د"

وهي مسجلة في دار الكتب المصرية برقم عام (452234) وخاص (323 علم كلام)، وتقع في (226) ورقة، في كل صفحة (23 - 25) سطرًا.

مخرومة الأول بنحو (4) صفحات من المطبوع، ذهب الخرم بجزء من مقدمة الكتاب، وثمة خروم أخرى في صفحات متفرقة ذهبت بأجزاء من الكتاب كما في يمين الصفحة الأولى، وآخر ورقتين، وقد خُرِم حَرْد المتن في الورقة الأخيرة.

تبتدئ النسخة بقول المصنف: "والإيمان به قُطْب رحا التوحيد … "، وفي أعلا هذه الصفحة ختمان مطموسان، وفي الطرة اليمنى قيد وقفية ذاهب بعضه، ونص ما بقي منه: "وقف هذا الكتاب فقير عفو الله ومغفرته أحمد الفوي على طلبة العلم الشريف، ينتفعون بذلك الانتفاع الشرعي، على الوجه الشرعي، وجعل مقره {فَمَنْ بَدَّلَهُ بَعْدَ مَا سَمِعَهُ فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى الَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [البقرة: 181]، حُرِّر في أواسط .....(1) ست وأربعين وألف"، وتحته ختم مطموس، بجانبه اسم لعله لصاحب الوقف

--------------------------------------------

(1) كلمة غير واضحة.

এটি ৫/খ, ১০৫ - ১০৮ এবং ২৪৮/ক পত্রগুলোতে অবস্থিত। আর ২৪৭ নম্বর পত্রে আশআরি আকিদা অনুযায়ী কিছু কবিতার মাধ্যমে ইচ্ছার (ইরাদা) মাসয়ালায় একটি আপত্তি ও বিতর্ক রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, আমার দৃষ্টিগোচর হওয়া এই কিতাবটির পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে এটিই সর্বোত্তম সংস্করণ, যদি এর শেষাংশে কিছু অসম্পূর্ণতা না থাকত। প্রবল ধারণা এই যে, এটিই সবচেয়ে প্রাচীন কপি; তবে প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর নিকট।

দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি: দারুল কুতুব-এর পাণ্ডুলিপি "দাল"

এটি মিসরীয় দারুল কুতুব-এ সাধারণ নম্বর (৪৫২২৩৪) এবং বিশেষ নম্বর (৩২৩ ইলমুল কালাম) অধীনে নিবন্ধিত। এটি ২২৬টি পত্রের সমন্বয়ে গঠিত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২৩ থেকে ২৫টি লাইন রয়েছে।

মুদ্রিত সংস্করণের হিসেবে এর শুরুর দিক থেকে প্রায় ৪ পৃষ্ঠা খণ্ডিত বা লুপ্ত রয়েছে। এই খণ্ডিত অংশে কিতাবের ভূমিকার কিছু অংশ হারিয়ে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত পৃষ্ঠায় আরও কিছু খণ্ডন রয়েছে যার ফলে কিতাবের কিছু অংশ হারিয়ে গেছে, যেমনটি প্রথম পৃষ্ঠার ডান দিকে এবং শেষ দুটি পত্রে দেখা যায়। শেষ পত্রে কিতাব সমাপ্তির বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্যসমূহও (হারদ আল-মাতন) খণ্ডিত হয়ে গেছে।

পাণ্ডুলিপিটি গ্রন্থকারের এই উক্তি দ্বারা শুরু হয়েছে: "এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন করাই হচ্ছে তাওহীদের মূল কেন্দ্রবিন্দু … "। এই পৃষ্ঠার উপরিভাগে দুটি অস্পষ্ট সিল রয়েছে। ডান পার্শ্বের মার্জিনে একটি ওয়াকফনামার লিপি রয়েছে যার কিছু অংশ মুছে গেছে; অবশিষ্ট অংশের পাঠ হলো: "আল্লাহর ক্ষমা ও মাগফিরাতের কাঙাল আহমদ আল-ফাউয়ি এই কিতাবটি ইলমে শরীয়তের অন্বেষণকারীদের জন্য ওয়াকফ করেছেন, যেন তারা তা থেকে শরয়ি পন্থায় এবং সঠিক উপায়ে উপকৃত হতে পারে। তিনি এর বিধান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন: {অতঃপর যে ব্যক্তি তা শোনার পর পরিবর্তন করবে, তার পাপ কেবল তাদের ওপরই বর্তাবে যারা তা পরিবর্তন করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} [আল-বাকারা: ১৮১]। এটি এক হাজার ছেচল্লিশ হিজরির ..... এর মাঝামাঝি সময়ে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।" এর নিচে একটি অস্পষ্ট সিল রয়েছে এবং তার পাশে একটি নাম রয়েছে যা সম্ভবত ওয়াকফকারীর।

--------------------------------------------

(1) শব্দটি অস্পষ্ট।