(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
المعتصر من شرح مختصر الأصول من علم الأصول القسم: أصول الفقه
الكتاب: المعتصر من شرح مختصر الأصول من علم الأصول
المؤلف: أبو المنذر محمود بن محمد بن مصطفى بن عبد اللطيف المنياوي
الناشر: المكتبة الشاملة، مصر
الطبعة: الثانية، 1432 هـ - 2011 م
عدد الصفحات: 252
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع (الطبعة الورقية)]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 ذو الحجة 1432
উসুল শাস্ত্রের সারসংক্ষেপের ব্যাখ্যার নির্যাস বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি)
কিতাব: উসুল শাস্ত্রের সারসংক্ষেপের ব্যাখ্যার নির্যাস
লেখক: আবু আল-মুনজির মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা বিন আব্দুল লতিফ আল-মিনইয়াউই
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুশ শামিলাহ, মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৩২ হিজরী - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫২
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের (কাগজে মুদ্রিত কপি)] সাথে মিল রাখা হয়েছে
শামিলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ২৯ জিলহজ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[المعتصر من شرح مختصر الأصول من علم الأصول]ـ
المؤلف: أبو المنذر محمود بن محمد بن مصطفى بن عبد اللطيف المنياوي
الناشر: المكتبة الشاملة، مصر
الطبعة: الثانية، 1432 هـ - 2011 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع (الطبعة الورقية)]
ـ[ইলমুল উসূল শাস্ত্রের ‘মুখতাসার আল-উসূল’ ব্যাখ্যার সারসংক্ষেপ]ـ
লেখক: আবু আল-মুনযির মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা বিন আব্দুল লতিফ আল-মিনিয়াওয়ি
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুশ শামিলা, মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৩২ হিজরী - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির (কাগজ সংস্করণ) অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
الطبعة الأولى
1431 هـ / 2010 م
رقم الإيداع بالمكتبة الشاملة 1/ 2010
সকল স্বত্ব গ্রন্থকার কর্তৃক সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪৩১ হিজরী / ২০১০ খ্রিস্টাব্দ
আল-মাকতাবাতুশ শামিলায় জমাদান নম্বর ১/ ২০১০
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২)
إهداءالحمد لله وكفى، وصلاة وسلامًا على عباده الذين اصطفى
…وبعد
…أهدي هذا الكتاب وهو (المعتصر من شرح مختصر الأصول من علم الأصول) في طبعته الأولى للمكتبة الشاملة جزى الله القائمين عليها خير الجزاء، وأيضا لإخواني طلاب العلم، سائلا المولى عز وجل أن يسدَّ هذا الكتاب ثغرة في علم أصول الفقه، وأن يكون حلقة وصل بين طلاب العلم ودراسة أصول المذهب الحنبلي، وأن ينفع به وبأصله إنه ولي ذلك وهو القادر عليه.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين
أبو المنذر محمود بن محمد بن مصطفى المنياوي
غفر الله له ولوالديه
مصر - المنيا في 2 من ذي القعدة 1431 هـ
للتواصل
osualosual@gmail.com
উৎসর্গসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনিই যথেষ্ট, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর
...অতঃপর
...আমি এই গ্রন্থটি—যা হলো ‘আল-মু’তাসার মিন শারহ মুখতাসার আল-উসুল মিন ইলমিল উসুল’—এর প্রথম সংস্করণটি মাকতাবা শামিলার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি, আল্লাহ এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন; এবং আমার ইলম অন্বেষী ভাইদের জন্যও এটি উৎসর্গ করছি। আমি মহান রব্বুল আলামীনের নিকট প্রার্থনা করছি যেন এই গ্রন্থটি উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের কোনো অপূর্ণতা পূরণ করে এবং এটি যেন ইলম অন্বেষী শিক্ষার্থী ও হাম্বলী মাযহাবের উসুল অধ্যয়নের মাঝে একটি সংযোগসূত্র হিসেবে কাজ করে। আর আল্লাহ যেন এই গ্রন্থ ও এর মূল কিতাব দ্বারা উপকার দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং তিনি এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আবু আল-মুনজির মাহমুদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মুস্তফা আল-মিনিয়াওয়ী
আল্লাহ তাঁকে ও তাঁর পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন
মিশর - মিনিয়া, ২ যিলকদ ১৪৩১ হিজরী
যোগাযোগের জন্য
osualosual@gmail.com
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلفإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبدُه ورسولُه.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}.
أما بعد
…فبعد أن أنهيت - بفضل الله ومنته - شرحي لما اختصرته من رسالة "الأصول من علم الأصول" للشيخ العثيمين رحمه الله طلب مني بعض الإخوة أن اختصر هذا الشرح وذلك نظرا لأنه قد طال بعض الشيء، وخاصة على المبتدئين في دراسة هذا العلم، مما قد تتقاصر همم بعضهم عن إتمامه، فطلبوا مني أن اختصر الشرح اختصارا غير مخل ويكون كالتوطئة بين يدي دراسة الشرح الأصلي، فاستخرت الله العظيم في ذلك، فانشرح صدري، وشرعت في التلخيص مراعيا الآتي:
1 - الاكتفاء بما تم شرحه من مسائل الكتاب الأصلي دون الزيادة عليها، بل قد أحذف بعض المسائل والتي لا أراها مناسبة لهذا المختصر - كمسألة: ما يمتنع نسخه، وذلك لطول النقاش فيها وكثرة فروعها -، وذلك بما لا يؤثر على تسلسل وترابط مواضيع المختصر.
2 - الاقتصار على النقاط الرئيسة دون الفرعية.
3 - المحافظة على ترتيب الرسالة الأصل.
4 - الاقتصار على القول الراجح سواء أكان في التعاريف، أو المسائل دون
الدخول في عرض الخلاف إلا نادرا فيما يشتهر فيه الخلاف ويحسن عدم السكوت
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের মন্দ কাজ ও আমাদের আমলের পাপাচার থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শক হওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।}
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।}
অতঃপর
…আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় শেখ উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "আল-উসুল মিন ইলমিল উসুল" রিসালাহ-এর যে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা আমি সম্পন্ন করেছিলাম, তা শেষ করার পর কিছু ভাই আমাকে অনুরোধ করেন যেন আমি এই ব্যাখ্যাটিকে আরও সংক্ষিপ্ত করি। কারণ এটি কিছুটা দীর্ঘ হয়ে গিয়েছিল, বিশেষ করে যারা এই শাস্ত্রের প্রাথমিক শিক্ষার্থী, তাদের অনেকের জন্য এটি সম্পন্ন করার আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই তারা আমার কাছে আবেদন করেন যেন আমি ব্যাখ্যাটিকে এমনভাবে সংক্ষেপ করি যাতে কোনো মূল বিষয় বাদ না পড়ে এবং এটি মূল ব্যাখ্যাটি অধ্যয়নের আগে একটি ভূমিকা স্বরূপ হয়। এরপর আমি মহান আল্লাহর কাছে এ ব্যাপারে ইস্তিখারা করি, তাতে আমার বক্ষ প্রশস্ত হয় এবং আমি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য রেখে সারসংক্ষেপ শুরু করি:
১ - মূল বইয়ের যে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে তার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা এবং তাতে অতিরিক্ত কিছু যোগ না করা। বরং আমি এমন কিছু বিষয় বাদ দিতে পারি যা এই সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপের জন্য উপযোগী মনে করি না— যেমন: ‘নাসখ হওয়া যা অসম্ভব’ সংক্রান্ত মাসআলাটি, কারণ এতে দীর্ঘ আলোচনা এবং অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে— তবে এই বর্জন যেন সারসংক্ষেপের বিষয়বস্তুর ধারাবাহিকতা ও সংযোগে প্রভাব না ফেলে।
২ - গৌণ পয়েন্টগুলো বাদ দিয়ে শুধুমাত্র প্রধান পয়েন্টগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকা।
৩ - মূল রিসালাহ-এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
৪ - সংজ্ঞা বা মাসআলা—উভয় ক্ষেত্রেই কেবল বিশুদ্ধ (রাজীহ) মতের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা; মতভেদ বর্ণনায় প্রবেশ না করা, কেবল কদাচিৎ সেই সব বিষয়ে ছাড়া যেখানে মতভেদ অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং সে বিষয়ে নীরব না থাকাই শ্রেয়।
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪)
عن الجواب على شبه المخالف.
5 - الاكتفاء بذكر ما انتهيت إليه من تعاريف، أو ترجيحات مع عدم التقيد بذكر عبارات الشيخ العثيمين رحمه الله في غالب الأحيان، مما قد لا يلحظ به البعض وجه التشابه بين هذا المختصر وبين رسالة الشيخ العثيمين رحمه الله اللهم إلا في الترتيب وعناوين المواضيع، مع الأخذ في الاعتبار أنني قد أزيد، أو أحذف بعض العناوين أحيانا، وقد أعدل فيها بما يخدم موضوع المختصر ويحافظ على تسلسل مواضيعه.
وسميته المعتصر من شرح مختصر الأصول من علم الأصول.
منهجي:
والناظر في رسالة الشيخ العثيمين رحمه الله يجد أن صياغتها كانت حنبلية يخرج فيها الشيخ عما يراه مخالفا للأدلة، وقد سلكت نفس مسلك الشيخ رحمه الله فكنت اهتم بذكر مذهب الحنابلة وأحرره في غالب المسائل، إلا أنني عند الترجيح لا أتقيد بمذهب؛ بل أرجح ما يرجحه الدليل.
وهذا أوان الشروع في المقصود، سائلا المولى عز وجل أن ينفع بهذا المختصر وبأصله، وأن يتقبل مني هذا العمل، ويجعله خالصا لوجهه الكريم، وأن يدخر لي أجره يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم.
والله المستعان، وعليه التكلان، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
المؤلف
غفر الله له ولوالديه
বিরোধীদের সংশয়ের উত্তর প্রদান থেকে (বিরত থাকা)।
৫ - আমি যেসব সংজ্ঞা বা দালিলিক অগ্রাধিকারের সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি সেগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হওয়া; এক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় শায়খ উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর হুবহু শব্দাবলী উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। যার ফলে এই সংক্ষিপ্তসার এবং শায়খ উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর মূল রিসালার মধ্যে বিন্যাস ও বিষয়ভিত্তিক শিরোনাম ছাড়া অন্য কোনো সাদৃশ্য কেউ কেউ লক্ষ্য না-ও করতে পারেন। তবে আমি ক্ষেত্রবিশেষে কিছু শিরোনাম বৃদ্ধি করেছি অথবা বাদ দিয়েছি, এবং কখনো কখনো শিরোনামে এমন পরিবর্তন এনেছি যা এই সংক্ষিপ্তসারের বিষয়বস্তুর জন্য সহায়ক হয় এবং এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।
আমি এর নামকরণ করেছি: 'আল-মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসূল মিন ইলমিল উসূল'।
আমার কর্মপদ্ধতি:
শায়খ উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর রিসালাটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, এর বিন্যাস ছিল হাম্বলী মাযহাব ভিত্তিক, যেখানে শায়খ দলীলের পরিপন্থী বিষয়গুলো থেকে সরে এসেছেন। আমিও শায়খ (রহিমাহুল্লাহ)-এর সেই একই পথ অনুসরণ করেছি; ফলে আমি অধিকাংশ মাসআলায় হাম্বলী মাযহাবের মতামত উল্লেখ ও তা বিশ্লেষণ করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি। তবে দালিলিক অগ্রাধিকার (তারজীহ) প্রদানের ক্ষেত্রে আমি কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের অনুবর্তী হইনি, বরং দলীল যা সমর্থন করে আমি তাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি।
আর এটিই মূল লক্ষ্য শুরু করার উপযুক্ত সময়। আমি মহান প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন এই সংক্ষিপ্তসার এবং এর মূল গ্রন্থ দ্বারা উপকৃত করেন, এবং আমার এই আমল কবুল করেন ও তা শুধুমাত্র তাঁর মহান চেহারার (সন্তুষ্টির) জন্য একনিষ্ঠ করেন। আর তিনি যেন এর প্রতিদান আমার জন্য সেই দিনের জন্য জমা রাখেন, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে আল্লাহর নিকট পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।
আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর ওপরই পূর্ণ ভরসা। আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।
লেখক
আল্লাহ তাকে ও তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫)
أصُولُ الفِقْه
تعريف أصول الفقه كمركب إضافي:
تعريف الأصول لغة:الأصول جمع أصل واختلفت عبارات الأصوليين في حد الأصل لغة قال السمعاني في " قواطع الأدلة" (1/ 21): (ويقال في حد الأصل ما ابتنى عليه غيره والفرع ما ابتنى على غيره. وقيل الأصل ما يقع التوصل به إلى معرفة ما وراءه، والعبارتان مدخولتان؛ لأن من أصول الشرع ما هو عقيم لا يقبل الفرع، ولا يقع به التوصل إلى ما وراءه بحال مثل: ما ورد به الشرع من دية الجنين والقسامة (1) وتحمل العقل (2) فهذه أصول ليست لها فروع، فالأولى أن يقال: إن الأصل: كل ما يثبت دليلا في إيجاد حكم من أحكام الدين. وإذا حد هذا فيتناول ما جلب فرعا، أو لم يجلبه) ونقله عنه الزركشي في البحر المحيط (1/ 11) فقال: (كل ما ثبت دليلا في إيجاب حكم من الأحكام) فعممه، وهو أولى طالما أننا نتكلم عن التعريف اللغوي.
ولما كان الأصل يستعمل في الاصطلاح بمعنى الدليل، وبمعنى القاعدة، والراجح، وغير ذلك كان الأصل كالجنس والدليل كأحد أنواعه، وعليه فتعريف الأصل بالدليل فيه نوع دور، والأولى عندي في تعريف الأصل لغة أنه: (ما كان سببا في إيجاد حكم من الأحكام)، والأحكام هنا عامة تشمل الأحكام الشرعية، والعادية، والعقلية.
--------------------------------------------
উসুলুল ফিকহ
ইদাফি বা সমাসবদ্ধ পদ হিসেবে উসুলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞা:
আভিধানিক অর্থে উসুল-এর সংজ্ঞা:‘উসুল’ শব্দটি ‘আসল’ (মূল)-এর বহুবচন। আভিধানিক অর্থে আসলের সংজ্ঞায় উসুলবিদগণের বর্ণনা ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। সামআনি তাঁর ‘কাওয়াতিউল আদিল্লাহ’ (১/২১) গ্রন্থে বলেন: (আসলের সংজ্ঞায় বলা হয়—যার ওপর অন্য কিছু ভিত্তি করে থাকে; আর ‘ফারা’ বা শাখা হলো যা অন্য কিছুর ওপর ভিত্তি করে থাকে। কেউ কেউ বলেছেন: আসল হলো যার মাধ্যমে পরবর্তী কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। তবে এই উভয় সংজ্ঞাই ত্রুটিযুক্ত; কারণ শরীয়তের এমন কিছু মূল বা আসল রয়েছে যা অনুর্বর এবং কোনো শাখাকে গ্রহণ করে না, আর সেগুলোর মাধ্যমে কোনো অবস্থাতেই পরবর্তী অন্য কিছু জানা সম্ভব হয় না। যেমন: ভ্রূণের রক্তপণ, কাসামাহ (১) এবং আকিলা কর্তৃক রক্তপণ বহনের (২) যে বিধান শরীয়তে এসেছে। এগুলো এমন কিছু আসল যার কোনো শাখা নেই। সুতরাং সর্বোত্তম হলো এভাবে বলা: ‘আসল’ হলো এমন প্রত্যেক বিষয় যা দ্বীনের কোনো বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে প্রমাণিত হয়। যদি এই সংজ্ঞাটি গ্রহণ করা হয়, তবে তা এমন বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করবে যা শাখা তৈরি করে এবং যা শাখা তৈরি করে না উভয়কেই।) যাররাকশি আল-বাহরুল মুহিত (১/১১) গ্রন্থে তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করে বলেন: (বিধানসমূহের মধ্যে কোনো বিধান আবশ্যক করার ক্ষেত্রে যা দলিল হিসেবে সাব্যস্ত হয়।) তিনি একে ব্যাপক করেছেন, আর আভিধানিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এটিই অধিকতর উত্তম।
যেহেতু আসল শব্দটি পারিভাষিক অর্থে দলিল, মূলনীতি, প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত এবং এ জাতীয় অন্যান্য অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাই ‘আসল’ হলো একটি সাধারণ শ্রেণি এবং ‘দলিল’ হলো তার অন্যতম প্রকার। সে অনুযায়ী, দলিল দ্বারা আসলের সংজ্ঞা প্রদান করার মধ্যে এক প্রকার চক্রকার ত্রুটি (দওর) পরিলক্ষিত হয়। আমার মতে আভিধানিক অর্থে আসলের সর্বোত্তম সংজ্ঞা হলো: (যা কোনো বিধান সাব্যস্ত হওয়ার কারণ হয়)। আর এখানে ‘বিধানসমূহ’ শব্দটি ব্যাপক, যা শরয়ী, প্রথাগত এবং যৌক্তিক সকল বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬)
ويدخل في هذا التعريف ما له فرع، كالشجرة فهي أصل لفروعها؛ لأنها سببا في إيجادها، وكالأب فهو أصل لابنه؛ لأنه كان سببا في إيجاده.
ويشمل أيضا ما ليس له فرع، كالقسامة فهي أصل للأيمان التي تقسم على أولياء القتيل إذا ادعوا الدم، وذلك لأنها سبب في إيجاد الأيمان.
ويدخل فيه ما يبنى عليه غيره، كالأساس فهو أصل للجدار؛ لأنه كان سببا في إيجاده.
ويدخل فيه ما لا يبني عليه غيره، كالأب أصل لابنه، ولا يقال: إن الولد يبنى على الوالد، والوالد سبب في إيجاد ابنه، وهكذا.
تعريف الفقهلغة:
الفقه لغة: الفهم. سواء أكان لما ظهر وبان، أو لما دق وخفي، والدليل على ذلك مجيئه في الشرع مرادا به مطلق الفهم كما في قوله تعالى: (وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي. يَفْقَهُوا قَوْلِي) [طه: 27، 28] فقوله: (قَوْلِي) معرف بالإضافة فيشمل ما ظهر وما خفي من قوله (1)، وقوله الله تعالى: (فَمَالِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا) [النساء: 78]، (وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ) [الإسراء: 44]، (مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِمَّا تَقُولُ) [هود: 91]، أي: لا يكادون يفهمون، ولكن لا تفهمون، وما نفهم كثيراً مما تقول. وأما من قيده بالفهم الدقيق، وعلله بأنه يقال: فقهت معنى الكلام وفهمته، ولا يقال: فقهت السماء والأرض، وهذا مردود بما قاله أئمة اللغة: إن الفقه هو مطلق الفهم، وامتناع قولهم فقهت السماء والأرض إنما هو من ناحية أن الفقه يتعلق بالمعاني
لا بالمحسوسات، والسماء والأرض من قبيل المحسوسات (2).
تعريف الفقه اصطلاحا:
الفقه اصطلاحا هو: (الأحكام الشرعية العملية المكتسبة بأدلتها التفصيلية).
والمراد بقولنا:" الأحكام الشرعية " الأحكام المتلقاة من الشرع كالوجوب والتحريم
--------------------------------------------
এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত এমন বিষয় যার শাখা রয়েছে, যেমন বৃক্ষ; কারণ তা তার শাখাগুলোর মূল এবং তাদের অস্তিত্বের কারণ। তদ্রূপ পিতা তার সন্তানের মূল; কারণ তিনি তার অস্তিত্বের কারণ ছিলেন।
এটি এমন বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে যার কোনো শাখা নেই, যেমন কাসামাহ (রক্তপণ নির্ধারণে শপথ); কারণ তা সেই শপথগুলোর মূল যা নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের ওপর বণ্টন করা হয় যখন তারা রক্তের দাবি করে। আর তা এই শপথগুলোর উৎপত্তির কারণ।
এর মধ্যে এমন বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত যার ওপর অন্য কিছু নির্মিত হয়, যেমন ভিত্তি; এটি দেয়ালের মূল, কারণ তা দেয়ালটির অস্তিত্বের কারণ।
এর মধ্যে এমন বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত যার ওপর অন্য কিছু নির্মিত হয় না, যেমন পিতা তার সন্তানের মূল; তবে এমনটি বলা হয় না যে সন্তান পিতার ওপর নির্মিত হয়েছে, অথচ পিতা সন্তানের অস্তিত্বের কারণ, অনুরূপভাবে অন্যান্য বিষয়ও।
ফিকহ-এর সংজ্ঞাশাব্দিক অর্থ:
আভিধানিক অর্থে ফিকহ হলো: উপলব্ধি বা বোধগম্যতা। চাই তা স্পষ্ট ও প্রকাশ্য বিষয় হোক কিংবা সূক্ষ্ম ও গোপন বিষয়। শরিয়তে ফিকহ বলতে সাধারণ উপলব্ধি বা বোধগম্যতাকে বোঝানোর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: (এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে) [ত্বহা: ২৭, ২৮]। এখানে তাঁর উক্তি: (আমার কথা) শব্দটি সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে তা তাঁর কথার স্পষ্ট ও গোপন উভয় অংশকেই অন্তর্ভুক্ত করে (১), এবং মহান আল্লাহর বাণী: (এই কওমের কী হলো যে, তারা কোনো কথা বুঝতেই চায় না) [নিসা: ৭৮], (কিন্তু তোমরা তাদের তসবিহ বুঝতে পারো না) [ইসরা: ৪৪], (আপনি যা বলছেন তার অনেক কিছুই আমরা বুঝতে পারছি না) [হুদ: ৯১]। অর্থাৎ: তারা বুঝতে পারছে না, কিংবা তোমরা বুঝতে পারছ না, অথবা আপনি যা বলছেন তার অনেক কিছুই আমরা বুঝতে পারছি না। আর যারা ফিকহ-কে কেবল সূক্ষ্ম উপলব্ধির সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন এবং যুক্তি দেখিয়েছেন যে—বলা হয় 'আমি কথার অর্থ ফিকহ করেছি (বুঝেছি)', কিন্তু বলা হয় না 'আমি আকাশ ও পৃথিবী ফিকহ করেছি'—তাদের এই দাবি ভাষাবিদ ইমামদের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত। কারণ ফিকহ হলো সাধারণ উপলব্ধি, আর 'আকাশ ও পৃথিবী ফিকহ করেছি'—এমনটা না বলার কারণ হলো ফিকহ মূলত অর্থের (বিমূর্ত বিষয়) সাথে সংশ্লিষ্ট,
ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর সাথে নয়, আর আকাশ ও পৃথিবী ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত (২)।
পারিভাষিক অর্থে ফিকহ-এর সংজ্ঞা:
পারিভাষিক অর্থে ফিকহ হলো: (বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ হতে অর্জিত আমলযোগ্য শরয়ী বিধানসমূহ)।
আমাদের উক্তি "শরয়ী বিধানসমূহ" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শরিয়ত হতে প্রাপ্ত বিধানসমূহ যেমন ওয়াজিব হওয়া এবং হারাম হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭)
، فخرج به الأحكام العقلية كمعرفة أن الكل أكبر من الجزء والأحكام العادية كمعرفة نزول الطل في الليلية الشاتية إذا كان الجو صحواً، والأحكام الوضعية كمعرفة أن كان وأخواتها ترفع المبتدأ وتنصب الخبر، ويخرج أيضا الأحكام الحسية كالعلم أن النار محرقة، وأيضا يخرج الأحكام التجريبية (الثابتة بالتجربة) كالعلم بأن السم قاتل وقد تتداخل هذه الأحكام إلا أن الغرض بيان معنى الشرعية وهو خلاف كل ما سبق.
والمراد بقولنا: " العملية " المتعلقة بعمل المكلف كالصلاة والزكاة، والصوم، والبيع فخرج به ما يتعلق بالاعتقاد (وتسمى العلمية) كتوحيد الله ومعرفة أسمائه وصفاته فلا يسمى ذلك فقهًا في الاصطلاح، ويخرج أيضا علم التصوف أو السلوك كحرمة الكذب والغيبة ووجوب الصدق، وهكذا فهذا في الاصطلاح لا يدخل في الفقه، ولم يدونه غالب الفقهاء في كتب الفقه.
والمراد بقولنا: "المكتسبة" أي: المستنبطة عن طريق النظر والاستدلال ليخرج علم الله عزوجل فهو علم لازم لذاته لم يكتسبه.
وليخرج علم الرسول صلى الله عليه وسلم فهو علم مستفاد من الوحي غير مكتسب عن طريق النظر والاستدلال.
ويخرج علم الملائكة فهو علم مستفاد من وحي الله إليهم، أو عن طريق النظر في اللوح المحفوظ، أو غير ذلك، فهو غير مكتسب عن طريق النظر والاستدلال.
ويخرج أيضا علم المقلد؛ لأنه لم يكتسبه عن طريق النظر والاستدلال.
والمراد بقولنا: "بأدلتها التفصيلية " أدلة الفقه المقرونة بمسائل الفقه التفصيلية
فخرج به أصول الفقه لأن البحث فيه إنما يكون في أدلة الفقه الإجمالية. والأدلة التفصيلية وهي الجزئية كقوله تعالى (وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا) [الإسراء: 32] فهذا دليل جزئي يخص مسألة واحدة معينة وهي الزني ويبين حكمها وهو تحريم الزنى.
وأما الأدلة الإجمالية فهي كالقواعد الكلية ويندرج تحت كل واحدة منها أحكاما كثيرة وسوف يأتي بإذن الله الكلام عنها قريبا.
تنبيه - الفقه هو نفس الأحكام لا معرفتها ولا العلم بها:
عرف البعض الفقه بأنه: معرفة، والبعض بأنه: العلم بالأحكام الشرعية العملية
এর মাধ্যমে বুদ্ধিভিত্তিক হুকুম বা বিধানসমূহ বাদ পড়ে যায়, যেমন—এটি জানা যে সমষ্টি তার অংশের চেয়ে বড়; এবং অভ্যাসগত বিধানসমূহও বাদ পড়ে যায়, যেমন—আকাশ পরিষ্কার থাকলে শীতের রাতে কুয়াশা পড়ার বিষয়টি জানা; এবং পারিভাষিক বিধানসমূহও বাদ পড়ে যায়, যেমন—এটি জানা যে 'কানা' (كان) এবং এর সমগোত্রীয় শব্দসমূহ মুবতাদাকে রাফা দেয় এবং খবরকে নাসাব দেয়। এছাড়া ইন্দ্রিয়জাত বিধানসমূহও বাদ পড়ে যায়, যেমন—আগুন দহনকারী হওয়ার জ্ঞান। আবার পরীক্ষামূলক বিধানসমূহও (যা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রমাণিত) বাদ পড়ে যায়, যেমন—বিষ যে প্রাণঘাতী তা জানা। যদিও এই বিধানগুলো কখনো একে অপরের সাথে মিলে যেতে পারে, তবে উদ্দেশ্য হলো 'শরয়ি' বা শরিয়তসম্মত অর্থের ব্যাখ্যা করা, যা পূর্বোক্ত সবকিছুর বিপরীত।
আমাদের বক্তব্য "আমলিয়া" (ব্যবহারিক) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুকাল্লাফ বা শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির আমল বা কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ, যেমন—সালাত, জাকাত, সাওম এবং ক্রয়-বিক্রয়। এর মাধ্যমে বিশ্বাসগত (যাকে ইলমিয়া বা তাত্ত্বিক বলা হয়) বিষয়সমূহ বাদ পড়ে যায়, যেমন—আল্লাহর তাওহিদ এবং তাঁর নাম ও গুণাবলি (সিফাত) সম্পর্কে জানা; পরিভাষায় একে ফিকহ বলা হয় না। এছাড়া তাসাউউফ বা সুলুক (আচার-আচরণ) বিষয়ক জ্ঞানও বাদ পড়ে যায়, যেমন—মিথ্যা বলা ও গিবত করা হারাম হওয়া এবং সত্য বলার আবশ্যকতা। পরিভাষায় এসব বিষয় ফিকহের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং অধিকাংশ ফকিহগণ তাদের ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে এগুলো লিপিবদ্ধ করেননি।
আমাদের বক্তব্য "মুকতাসাবাহ" (অর্জিত) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: যা গবেষণা ও দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে আহরিত হয়। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর জ্ঞান বাদ পড়ে যায়, কারণ তা তাঁর সত্তার জন্য অপরিহার্য বা আবশ্যিক জ্ঞান, যা তিনি অর্জন করেননি।
এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জ্ঞানও বাদ পড়ে যায়, কেননা তা ওহি থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান, যা গবেষণা ও দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে অর্জিত নয়।
ফিরিশতাদের জ্ঞানও এর থেকে বাদ পড়ে যায়, কারণ তা তাদের প্রতি আল্লাহর ওহির মাধ্যমে প্রাপ্ত অথবা লাওহে মাহফুজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে প্রাপ্ত; এটি গবেষণা ও দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে অর্জিত নয়।
এছাড়া মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারীর জ্ঞানও বাদ পড়ে যায়; কারণ সে গবেষণা ও দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে তা অর্জন করেনি।
আমাদের বক্তব্য "বিস্তারিত দলিলসমূহ" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফিকহের ওইসব দলিল যা ফিকহের বিস্তারিত মাসআলাসমূহের সাথে যুক্ত।
এর মাধ্যমে উসূলুল ফিকহ বাদ পড়ে যায়, কারণ সেখানে মূলত ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়। আর বিস্তারিত দলিল হলো আংশিক বা বিশেষ দলিল, যেমন আল্লাহর বাণী: "তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেও না" [আল-ইসরা: ৩২]। এটি একটি আংশিক বা বিশেষ দলিল যা কেবল একটি নির্দিষ্ট বিষয় অর্থাৎ ব্যভিচারের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এর বিধান বর্ণনা করছে, যা হলো ব্যভিচার হারাম হওয়া।
আর সামগ্রিক দলিলসমূহ হলো মৌলিক মূলনীতিমালার মতো, যার প্রতিটির অধীনে অনেক বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকে। অচিরেই ইনশাআল্লাহ এ সম্পর্কে আলোচনা আসবে।
সতর্কবার্তা - ফিকহ হলো স্বয়ং বিধানসমূহ, বিধানগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া বা জ্ঞান রাখা নয়:
কেউ কেউ ফিকহের সংজ্ঞা দিয়েছেন যে এটি হলো 'পরিচয় বা জানা', আবার কেউ বলেছেন এটি হলো 'ব্যবহারিক শরয়ি বিধানসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা'।
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮)
المكتسبة بأدلتها التفصيلية. والصواب تعريف الفقه بأنه نفس الأحكام لا معرفتها ولا العلم بها؛ لأن الأحكام الثابتة في نفسها تسمى فقها سواء وجد من يعرفها أو لم يوجد فالمعرفة ليست هي الفقه.
قال المرداوي في "التحبير" (1/ 163) وهو يستعرض الأقوال في تعرف الفقه: (القول الثاني -: إنه نفس الأحكام الشرعية الفرعية، وهو أظهر، واختاره ابن مفلح، وابن قاضي الجبل، والعسقلاني شارح ' الطوفي '، وجمع كثير، لا معرفتها ولا العلم بها، إذ العلم أو المعرفة بالفقه غير الفقه، فلا يكون داخلاً في ماهيته (1)، وما ليس داخلاً في الماهية لا يكون جنساً في حده).
تعريف أصول الفقه كلقبأصول الفقه هو: (أدلة الفقه الإجمالية وطرق استفادة جزئياتها وحال مستفيدها) (2).
قال المرداوي في "التحبير" (1/ 177): (الأصح أن أصول الفقه: الأدلة، لا معرفتها). وقال أيضا: (إذ العلم والمعرفة بأصول الفقه غير أصول الفقه، فلا يكون
داخلاً في ماهيتها) (3).
وخرج بقولنا: "أدلة الفقه": أدلة غير الفقه، كأدلة الكلام.
ومعنى قولنا: " الإجمالية " أي غير المعينة، تسمى أيضا الكلية وهي كالقواعد العامة مثل قولهم: الأمر للوجوب والنهي للتحريم، وكالعام والخاص، والمطلق والمقيد، وكالكتاب والسنة، ونحو ذلك، والأدلة الإجمالية خلاف التفصيلية التي سبق وأن تكلمنا عنها في تعريف الفقه.
--------------------------------------------
বিস্তারিত দলিলসমূহের মাধ্যমে অর্জিত। সঠিক মত হলো ফিকহ-এর সংজ্ঞা হলো স্বয়ং বিধানসমূহ, সেগুলোর পরিচয় বা জ্ঞান নয়; কারণ নিজের সত্তায় সাব্যস্ত বিধানসমূহকে ফিকহ বলা হয়, চাই তা জানার মতো কেউ থাকুক বা না থাকুক। সুতরাং জ্ঞান ফিকহ নয়।
আল-মারদাউয়ি 'আত-তাহবীর' (১/ ১৬৩) গ্রন্থে ফিকহ-এর সংজ্ঞায় বিভিন্ন মত পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলেন: (দ্বিতীয় মত -: এটি হলো স্বয়ং শরীয়তের শাখাগত বিধানসমূহ, আর এটিই অধিকতর স্পষ্ট মত। ইবনে মুফলিহ, ইবনুল কাযী আল-জাবাল, তুফির ব্যাখ্যাকারী আসকালানি এবং এক বিশাল জামাত এই মতটি গ্রহণ করেছেন। এটি বিধানের পরিচয় বা জ্ঞান নয়; কেননা ফিকহ বিষয়ক জ্ঞান বা পরিচয় ফিকহ থেকে ভিন্ন বিষয়। ফলে এটি তার প্রকৃত সত্তার (১) অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর যা প্রকৃত সত্তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মৌলিক শ্রেণি হিসেবে গণ্য হয় না)।
পারিভাষিক নাম হিসেবে উসূলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞাউসূলুল ফিকহ হলো: (ফিকহ-এর সামগ্রিক দলিলসমূহ, সেগুলো থেকে আংশিক বিধানসমূহ আহরণের পদ্ধতি এবং আহরণকারীর অবস্থা) (২)।
আল-মারদাউয়ি 'আত-তাহবীর' (১/ ১৭৭) গ্রন্থে বলেন: (বিশুদ্ধতম মত হলো উসূলুল ফিকহ হলো দলিলসমূহ, সেগুলোর জ্ঞান নয়)। তিনি আরও বলেন: (যেহেতু উসূলুল ফিকহ সংক্রান্ত জ্ঞান ও পরিচয় উসূলুল ফিকহ থেকে ভিন্ন, তাই এটি তার প্রকৃত সত্তার অন্তর্ভুক্ত হবে না) (৩)।
আমাদের বক্তব্য "ফিকহ-এর দলিলসমূহ" দ্বারা ফিকহ ছাড়া অন্য বিষয়ের দলিলসমূহ যেমন ইলমুল কালামের দলিলসমূহ বাদ পড়ে গেছে।
আমাদের বক্তব্য "সামগ্রিক" এর অর্থ হলো যা অনির্ধারিত। একে কুল্লিয়া বা ব্যাপক নীতিও বলা হয়, যা সাধারণ নীতিমালার মতো। যেমন পণ্ডিতগণের উক্তি: আদেশ ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ এবং নিষেধ হারাম হওয়ার প্রমাণ। এছাড়াও আম ও খাস, মুতলাক ও মুকাইয়্যাদ, কিতাব ও সুন্নাহ এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। সামগ্রিক দলিলসমূহ বিস্তারিত দলিলসমূহের বিপরীত, যা সম্পর্কে আমরা ইতিপূর্বে ফিকহ-এর সংজ্ঞায় আলোচনা করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৯)
فعلم الأصول إنما يبحث في هذه الأدلة الإجمالية، كمطلق الأمر، وكالإجماع والقياس فيبحث عن الأول بأنه للوجوب حقيقة أم للاستحباب، وعن الأخيرين بأنهما حجة أم لا، ويبين أقسامهما.
ومعنى قولنا: " طرق استفادة " طرق أي مرجحات. قال البناني في "حاشيته على جمع الجوامع" (1/ 35): "حقيقة الطرق هي المسالك وقد أريد بها المرجحات تشبيها لها بالمسالك بجامع التوصل بكل إلى المقصود ". والمقصود معرفة الترجيح عند التعارض مثلا.
ومعنى قولنا: " وحال مستفيدها " معرفة حال المستفيد وهو المجتهد سمى مستفيداً لأنه يستفيد بنفسه الأحكام من أدلتها دون المقلد لبلوغه مرتبة الاجتهاد فمعرفة المجتهد وشروط الاجتهاد وحكمه ونحو ذلك يبحث في أصول الفقه.
فائدة أصول الفقهذكر الأصوليون له من الفوائدِ ما لا يستطيع أحد إحصاءه ومن ذلك:
- أنه السبيل القويم للاجتهاد وذلك أن الاجتهاد في الإسلام محكوم بموازين دقيقة يجب اتباعها وإلا كان الاجتهاد بلا ضوابط لوناً من العبث.
- ومن فوائده أنه أظهر مزايا التشريع الإسلامي وحيويته ومرونته وبه حفظ الله القرآن العظيم من العبث والتأول وحفظ الأحكام من الفوضى.
- ومن فوائده أنه يظهر مناهج الأئمة في استنباط الأحكام وبذلك ترتفع الشحناء من النفوس ويعذر المسلم إخوانه من المسلمين فيما اختاروه من مذاهب فقهية.
- إن القواعد التي أَصَّلها العلماء للاستنباط هي أيضا منهج دقيق للتفكير السليم حيث توضع العبارات في موازين دقيقة تستنبط منها الأحكام الشرعية وهكذا فإنَّ علم الأصول يكسب الطالب ملكة التفكير الصحيح السليم.
- فالقواعدُ الأصولية وحدها هي الكفيلة باستنباط أحكام شرعية لكل ما يستجد من القضايا خلال تطور الحياة وتنوع العقود والمعاملات والاكتشافات.
- إن علم أصول الفقه يضبط الفروع الفقهية ويردها إلى أصولها ويجمع المبادئ
উসুল শাস্ত্র মূলত এই সামগ্রিক দলিলগুলো নিয়ে আলোচনা করে, যেমন সাধারণ আদেশ (আমর), এবং ইজমা ও কিয়াস। ফলে এটি প্রথমটি সম্পর্কে আলোচনা করে যে তা কি প্রকৃতপক্ষে ওয়াজিব হওয়ার জন্য নাকি মুস্তাহাব হওয়ার জন্য; আর শেষোক্ত দুটি সম্পর্কে আলোচনা করে যে সেগুলো দলিল হিসেবে গণ্য কি না, এবং এগুলোর প্রকারভেদ বর্ণনা করে।
এবং আমাদের উক্তি: "উপকারিতা গ্রহণের পদ্ধতিসমূহ" এর অর্থ হলো পদ্ধতিসমূহ অর্থাৎ অগ্রাধিকার প্রদানের মানদণ্ডসমূহ। আল-বানানি তাঁর "হাশিয়া আলা জামউল জাওয়ামি" (১/৩৫) গ্রন্থে বলেন: "পদ্ধতি (তুরুক) এর প্রকৃত অর্থ হলো রাস্তা বা পথ, আর এখানে এর দ্বারা অগ্রাধিকার প্রদানের মানদণ্ডসমূহকে (মুরজিহাত) উদ্দেশ্য করা হয়েছে, সেগুলোকে রাস্তার সাথে তুলনা করার মাধ্যমে। কারণ উভয়ের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।" আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যেমন বিরোধের সময় অগ্রাধিকারের বিষয়টি অবগত হওয়া।
আর আমাদের উক্তি: "এবং এটি ব্যবহারকারীর অবস্থা" এর অর্থ হলো বিধান আহরণকারীর অবস্থা জানা, আর তিনি হলেন মুজতাহিদ। তাঁকে 'বিধান আহরণকারী' বা 'মুস্তাফিদ' বলা হয়েছে কারণ তিনি ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানোর কারণে মুকাল্লিদ বা অনুসারীর বিপরীতে নিজেই দলিল থেকে বিধিবিধান আহরণ করেন। সুতরাং মুজতাহিদ সম্পর্কে জানা, ইজতিহাদের শর্তাবলি, এর বিধান এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো উসুলে ফিকহ-এ আলোচিত হয়।
উসুলে ফিকহ-এর উপকারিতাউসুলবিদগণ এর এমন সব উপকারিতা উল্লেখ করেছেন যা কারো পক্ষে গণনা করা সম্ভব নয়, তার মধ্যে রয়েছে:
- এটি হলো ইজতিহাদের সঠিক পথ। কারণ ইসলামে ইজতিহাদ সূক্ষ্ম মানদণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যা অনুসরণ করা আবশ্যক, অন্যথায় নীতিমালাহীন ইজতিহাদ হবে এক প্রকার তামাশা।
- এর অন্যতম উপকারিতা হলো এটি ইসলামি শরিয়তের শ্রেষ্ঠত্ব, প্রাণবন্ততা এবং নমনীয়তাকে ফুটিয়ে তুলেছে। এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদকে অনর্থক ব্যাখ্যা ও অপব্যাখ্যা থেকে রক্ষা করেছেন এবং বিধিবিধানকে বিশৃঙ্খলা থেকে হিফাজত করেছেন।
- এর আরও একটি ফায়দা হলো এটি বিধিবিধান আহরণে ইমামগণের কর্মপদ্ধতিকে প্রকাশ করে। এর ফলে অন্তর থেকে পারস্পরিক বিদ্বেষ দূর হয় এবং একজন মুসলিম তার অন্যান্য মুসলিম ভাইদের মনোনীত ফিকহি মাযহাবের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে পায়।
- বিধিবিধান আহরণের জন্য ওলামায়ে কেরাম যে সব মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন, তা সঠিক চিন্তাধারারও একটি সূক্ষ্ম পদ্ধতি। যেখানে শব্দাবলিকে সূক্ষ্ম মানদণ্ডে রাখা হয় যেখান থেকে শরয়ি বিধান আহরণ করা হয়। এভাবে উসুল শাস্ত্র শিক্ষার্থীকে সঠিক ও সুস্থ চিন্তার সক্ষমতা দান করে।
- শুধুমাত্র উসুলী মূলনীতিগুলোই জীবনের বিবর্তন এবং বিভিন্ন প্রকার চুক্তি, লেনদেন ও নতুন উদ্ভাবনের ফলে সৃষ্ট প্রতিটি নতুন বিষয়ের শরয়ি বিধান আহরণের সক্ষমতা রাখে।
- উসুলে ফিকহ শাস্ত্র ফিকহের শাখা-প্রশাখাগুলোকে সুশৃঙ্খল করে এবং সেগুলোকে মূলনীতির সাথে সম্পৃক্ত করে এবং মূলনীতিগুলোকে একত্রিত করে।
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১০)
المشتركة ويبين أسباب التباين بينها ويظهر مبررات الاختلاف وهكذا فإنه يكون فيصلاً واضحاً يعتمده الفقيه والمجتهد في تقرير الأحكام.
- ومن فوائده أنه يعتبر العماد الرئيس لمن يدرس المذاهب الإسلامية بقصد المقارنة والإفادة من اجتهاد الجميع.
- وثامن هذه الفوائد هي أن يستبصر طالب العلم في اختلاف الأئمة في الفروع وما يعود به هذا الاختلاف على الفقه الإسلامي من ثراء ووفرة.
أول من صنف فيهالمشهور أن أول من جمع أصول الفقه كفن مستقل هو الإمام الشافعي (204 هـ) رحمه الله. وقد صنف عدة رسائل في ذلك، فصنف الرسالة قال الحبش: وهو عبارة عن محاولة أولى لتحديد طرق الاستنباط ومصادر التشريع وقد كتبه الإمام الشافعي أساساً رداً على جماعة منكري السنة الذين ظهروا في عصره فأثبت فيه حجية السنة ثم توسع فبين مصادر التشريع تفصيلاً ومناهج الاستدلال بها.
وكذلك صنف الشافعي كتباً أخرى في الأصول منها: جماع العلم وهو كتاب قصد منه إثبات وجوب إتباع خبر الآحاد الصحيح وأقام الأدلة على ذلك.
ثم كتب الإمام الشافعيُّ كتابين آخرين وهما: إبطال الاستحسان وكتاب اختلاف الحديث وكلاهما من الكتب المبكرة في علم أصول الفقه).
- وقيل إن أبا يوسف (182 هـ) صاحب أبي حنيفة سبق الشافعي في ذلك فقال ابن خلكان في "وفيات الأعيان": " وقال طلحة بن محمد بن جعفر: أبو يوسف مشهور الأمر ظاهر الفضل، وهو صاحب أبي حنيفة، وأفقه أهل عصره، ولم يتقدمه أحد في زمانه، وكان النهاية في العلم والحكم والرياسة والقدر، وأول من وضع الكتب في أصول الفقه على مذهب أبي حنيفة، وأملى المسائل ونشرها، وبث علم أبي حنيفة في أقطار الأرض".
- وقيل أن أول من صنف هو محمد بن الحسن الشيباني (189 هـ) وقد صرح
ابن النديم في «الفهرست» بان للشيباني من مؤلفاته الكثيرة تأليف يسمى ب «أصول
সাধারণ বিষয়সমূহ এবং সেগুলোর মধ্যে পার্থক্যের কারণসমূহ বর্ণনা করে এবং মতভেদের যৌক্তিকতা তুলে ধরে। এভাবে এটি একটি স্পষ্ট মানদণ্ড হিসেবে গণ্য হয় যা ফকিহ ও মুজতাহিদগণ বিধিবিধান নির্ধারণে ব্যবহার করেন।
- এর আরও একটি উপকারিতা হলো, যারা তুলনামূলক অধ্যয়ন এবং সবার ইজতিহাদ থেকে উপকৃত হওয়ার উদ্দেশ্যে ইসলামি মাযহাবসমূহ নিয়ে গবেষণা করেন, এটি তাদের জন্য প্রধান অবলম্বন হিসেবে বিবেচিত হয়।
- অষ্টম উপকারিতা হলো, এর মাধ্যমে ইলম অন্বেষণকারী আলেমদের শাখা-প্রশাখাগত মতভেদ এবং এই মতভেদের ফলে ইসলামি ফিকহশাস্ত্রে যে সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্য এসেছে সে সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করতে পারে।
এই শাস্ত্রের প্রথম গ্রন্থকারপ্রসিদ্ধ মতানুসারে, উসুলুল ফিকহকে একটি স্বতন্ত্র শিল্প হিসেবে সর্বপ্রথম সংকলন করেন ইমাম শাফিঈ (২০৪ হিজরি) রাহিমাহুল্লাহ। তিনি এই বিষয়ে বেশ কয়েকটি পুস্তিকা রচনা করেছেন। তিনি 'আর-রিসালাহ' রচনা করেন; আল-হাবাশ বলেন: এটি মূলত বিধান আহরণ পদ্ধতি এবং শরিয়তের উৎসসমূহ নির্ধারণের প্রথম প্রচেষ্টা। ইমাম শাফিঈ এটি মূলত তাঁর যুগে আত্মপ্রকাশকারী সুন্নাহ অস্বীকারকারী দলের জবাব হিসেবে লিখেছিলেন। এতে তিনি সুন্নাহর প্রামাণিকতা সাব্যস্ত করেন এবং পরবর্তীতে বিস্তারিতভাবে শরিয়তের উৎসসমূহ এবং সেগুলো থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতিসমূহ বর্ণনা করে এর পরিধি বিস্তৃত করেন।
অনুরূপভাবে ইমাম শাফিঈ উসুল শাস্ত্রের ওপর আরও কিছু কিতাব রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: 'জিমউল ইলম'। এটি এমন একটি কিতাব যার মাধ্যমে তিনি সহিহ খবরে ওয়াহিদ (একক বর্ণনা) অনুসরণ করার আবশ্যকতা প্রমাণ করেছেন এবং এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন।
এরপর ইমাম শাফিঈ আরও দুটি কিতাব লিখেন, সেগুলো হলো: 'ইবতালুল ইসতিহসান' এবং 'ইখতিলাফুল হাদিস'। এই উভয় কিতাবই উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের প্রাথমিক যুগের কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
- বলা হয়ে থাকে যে, ইমাম আবু হানিফার সঙ্গী আবু ইউসুফ (১৮২ হিজরি) এই ক্ষেত্রে ইমাম শাফিঈর অগ্রবর্তী ছিলেন। ইবনে খাল্লিকান তাঁর "ওয়াফায়াতুল আইয়ান" গ্রন্থে বলেছেন: "তালহা বিন মুহাম্মদ বিন জাফর বলেছেন: আবু ইউসুফ একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব এবং সুস্পষ্ট মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তিনি আবু হানিফার সঙ্গী এবং তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফকিহ ছিলেন। তাঁর যুগে ইলম, বিচারকার্য, নেতৃত্ব ও পদমর্যাদায় কেউ তাঁকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। তিনি ইমাম আবু হানিফার মাযহাব অনুযায়ী উসুলুল ফিকহের ওপর সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেন, মাসআলাসমূহ বর্ণনা ও প্রচার করেন এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইমাম আবু হানিফার ইলম ছড়িয়ে দেন।"
- আবার কেউ কেউ বলেন যে, সর্বপ্রথম গ্রন্থকার হলেন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানি (১৮৯ হিজরি)। ইবনে নাদিম তাঁর "আল-ফিহরিস্ত" গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আশ-শায়বানির অসংখ্য রচনার মধ্যে "উসুল" নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفقه» وتأليف سماه «كتاب الاستحسان» وتأليف «كتاب اجتهاد الرأي».
- وقيل أن أول من صنف هشام بن الحكم الرافضي توفي (179، وقيل 187، وقيل 198 - 199 هـ) وينسب إليه كتاب الألفاظ.
ومن الملاحظ أن الشافعي تتلمذ على الشيباني والشيباني تتلمذ على أبي يوسف.
আল-ফিকহ" এবং একটি রচনা যার নাম তিনি রেখেছেন "কিতাবুল ইসতিহসান" এবং "কিতাবু ইজতিহাদিল রাই" নামক একটি রচনা।
- এবং বলা হয় যে, সর্বপ্রথম যিনি গ্রন্থ সংকলন করেছেন তিনি হলেন হিশাম ইবনে হাকাম আল-রাফেযী, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন (১৭৯ হি., মতান্তরে ১৮৭ হি., আবার মতান্তরে ১৯৮-১৯৯ হিজরি) এবং তাঁর প্রতি "কিতাবুল আলফাজ" গ্রন্থটি নিসবত করা হয়।
আর এটি লক্ষ্যণীয় যে, শাফেয়ী শায়বানীর নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন এবং শায়বানী আবু ইউসুফের নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১২)
الأحكام
تعريف الحكم لغة:الأحكام: جمع حكم وهو لغة القضاء.
قال الفيومي: (الْحُكْمُ الْقَضَاءُ وَأَصْلُهُ الْمَنْعُ يُقَالُ حَكَمْتُ عَلَيْهِ بِكَذَا إذَا مَنَعْته مِنْ خِلَافِهِ فَلَمْ يَقْدِرْ عَلَى الْخُرُوجِ مِنْ ذَلِكَ وَحَكَمْتُ بَيْنَ الْقَوْمِ فَصَلْتُ بَيْنَهُمْ فَأَنَا حَاكِمٌ وَحَكَمٌ بِفَتْحَتَيْنِ وَالْجَمْعُ حُكَّامٌ وَيَجُوزُ بِالْوَاوِ وَالنُّونِ
… ) (1).
قال المرداوي في "التحبير" (2/ 789): (اعلم أن الحكم مصدر قولك: حكم بينهم يحكم حكماً، إذا قضى، ومعناه في اللغة: المنع، وإليه ترجع تراكيب مادة: ح، ك، م، أو أكثرها، فمن ذلك: حكمت الرجل تحكيماً، إذا منعته مما أراد. وحكمت السفيه بالتخفيف -، وأحكمت، إذا أخذت على يده. وسمي القاضي: حاكماً؛ لمنعه الخصوم من التظالم).
تعريف الحكم اصطلاحاً:الحكم اصطلاحاً هو: (خطاب الله المتعلق بفعل المكلف بالاقتضاء، أو التخيير).
شرح التعريف:
قولنا: "خطاب الله" إما أن يكون مباشرا، أو غير مباشر، فالأول الكتاب والثاني السنة.
وقولنا: "فعل" أي عمل سواء أكان قولا أم فعلا أم إيجادا أم تركا، فخرج به ما تعلق بالاعتقاد فلا يسمى حكماً بهذا الاصطلاح.
وقولنا: "المكلف" أولى مما عبر به البعض بصيغة الجمع، حتى يدخل فيه بعض الأفعال الخاصة بمكلف واحد كشهادة خزيمة وخصائص النبي صلى الله عليه وسلم ونحو ذلك.
قال ابن النجار في "شرح الكوكب المنير" (1/ 337): (وقلنا: "المكلف" بالإفراد ليشمل ما يتعلق بفعل الواحد، كخصائص النبي صلى الله عليه وسلم، وكالحكم بشهادة
--------------------------------------------
বিধানসমূহ
শাব্দিক অর্থে হুকুমের সংজ্ঞা:আহকাম (বিধানসমূহ) হলো হুকুম শব্দের বহুবচন, আর শাব্দিক অর্থে এটি হলো ফয়সালা।
আল-ফাইয়ুমি বলেন: (আল-হুকুম হলো ফয়সালা করা, এর মূল অর্থ হলো নিবৃত্ত করা। বলা হয়: আমি তার ওপর এমন ফয়সালা করেছি যখন আমি তাকে তার বিপরীত কাজ থেকে নিবৃত্ত করেছি, ফলে সে তা থেকে বের হতে সক্ষম হয়নি। আর আমি লোকদের মাঝে বিচার করেছি অর্থাৎ তাদের মধ্যকার বিবাদ মীমাংসা করেছি। সুতরাং আমি হলাম হাকেম এবং হাকাম (বিচারক), আর এর বহুবচন হলো হুক্কাম। এটি ওয়াও এবং নুন যোগেও হওয়া সম্ভব
... ) (১)।
আল-মারদাউয়ি "আত-তাহবীর" (২/৭৮৯) গ্রন্থে বলেন: (জেনে রাখুন যে, হুকুম হলো আপনার এই কথার মাসদার (ক্রিয়ামূল): 'সে তাদের মাঝে বিচার করেছে, সে বিচার করে, বিচার করা', যখন সে ফয়সালা করে। অভিধানে এর অর্থ হলো: নিবৃত্ত করা। "হা, কা, মিম" মূলধাতুর গঠনসমূহ বা এর অধিকাংশ এই অর্থেই ফিরে আসে। এর উদাহরণ হলো: আমি লোকটিকে 'তাহকিম' করেছি, যখন আমি তাকে তার কাঙ্ক্ষিত কাজ থেকে নিবৃত্ত করেছি। আর আমি নির্বোধকে শাসন করেছি এবং সুসংহত করেছি, যখন আমি তার হাত চেপে ধরেছি। আর বিচারককে 'হাকেম' বলা হয়; কারণ তিনি বিবাদমান পক্ষগুলোকে একে অপরের ওপর জুলুম করা থেকে নিবৃত্ত করেন।)
পারিভাষিক অর্থে হুকুমের সংজ্ঞা:পারিভাষিক অর্থে হুকুম হলো: (আল্লাহর সেই সম্বোধন যা দাবি অথবা ঐচ্ছিকতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে মুকাল্লাফের (শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট)।
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
আমাদের কথা: "আল্লাহর সম্বোধন" হয় সরাসরি হবে অথবা পরোক্ষ হবে। প্রথমটি হলো কিতাব (কুরআন) এবং দ্বিতীয়টি হলো সুন্নাহ।
আমাদের কথা: "কাজ" অর্থাৎ যে কোনো কর্ম, চাই তা কথা হোক বা কাজ হোক, কিংবা কোনো কিছু সম্পাদন করা বা বর্জন করা হোক। এর মাধ্যমে যা বিশ্বাসের (আকিদা) সাথে সংশ্লিষ্ট তা বাদ পড়ে যায়, ফলে সেটিকে এই পারিভাষিক অর্থে হুকুম বলা হয় না।
আমাদের কথা: "মুকাল্লাফ" শব্দটি কেউ কেউ বহুবচন আকারে প্রকাশ করেছেন, তার চেয়ে একবচন হিসেবে বলা অধিক উত্তম; যাতে এটি একক কোনো মুকাল্লাফের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন খুযায়মার সাক্ষ্য এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ ইত্যাদি।
ইবনুন নাজ্জার "শারহুল কাওকাবিল মুনীর" (১/৩৩৭) গ্রন্থে বলেন: (আমরা "মুকাল্লাফ" শব্দটি একবচনে বলেছি যাতে এটি একক ব্যক্তির কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং সাক্ষ্যের মাধ্যমে ফয়সালা প্রদান
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
خزيمة، وإجزاء العناق في الأضحية لأبي بردة
… ).
وقال أيضا في (1/ 335): " وخرج بقوله: "المتعلق بفعل المكلف" خمسة أشياء: الخطاب المتعلق بذات الله وصفته وفعله. وبذات المكلفين والجماد.
فالأول: ما تعلق بذاته، نحو قوله تعالى: (شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ) [آل عمران: 18].
والثاني: ما تعلق بصفته، نحو قوله تعالى: (اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ) [البقرة: 255].
الثالث: ما تعلق بفعله، نحو قوله تعالى: (اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ) [الرعد: 16].
الرابع: ما تعلق بذات المكلفين، نحو قوله تعالى: (وَلَقَدْ خَلَقْنَاكُمْ ثُمَّ صَوَّرْنَاكُمْ) [الأعراف: 11]، وقوله تعالى: (خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ) [النساء: 1].
الخامس: ما تعلق بالجماد. نحو قوله تعالى: (وَيَوْمَ نُسَيِّرُ الْجِبَالَ) [الكهف: 47]، ونحوها".
وقولنا: (بالاقتضاء) أي الطلب، قال المرداوي في "التحبير" (2/ 798): (الاقتضاء: هو الطلب للفعل جزماً، أو غير جزم، أو الترك جزماً، أو غير جزم)
وقولنا: "أو التخيير" يعني أن المكلف مخير بين الفعل والترك.
والمدقق في الأقسام الخمسة السابقة المذكورة في التعريف يلاحظ أن الأول هو الواجب إذ أن طلبه من للشارع للمكلف على سبيل الإلزام، والثاني هو المندوب، والثالث هو المحرم، والرابع هو المكروه، والخامس هو المباح، وهذه تسمى الأحكام الطلبية أو التكليفية.
تنبيه:ينبغي التفريق بين طريقة جمهور الأصوليين وطريقة الفقهاء وبعض الأصوليين في تعريف الحكم الشرعي.
قال الشيخ عياض السلمي في " أصول الفقه الذي لا يسع الفقيه جهله" (ص/24): (الحكم في اصطلاح جمهور الأصوليين: «خطاب الله المتعلق بأفعال المكلفين بالاقتضاء أو التخيير أو الوضع». وعند الفقهاء: هو مقتضى خطاب الله المتعلق
খুজাইমা, এবং আবু বুরদার জন্য কুরবানিতে ছাগল ছানার যথেষ্ট হওয়া
… )।
তিনি (১/৩৩৫) পৃষ্ঠায় আরও বলেন: "তাঁর উক্তি: 'মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট'—এর দ্বারা পাঁচটি বিষয় বাদ পড়েছে: আল্লাহর সত্তা, তাঁর গুণাবলি ও তাঁর কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্বোধন। আর মুকাল্লাফগণের সত্তা এবং জড় পদার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্বোধন।
প্রথমটি: যা তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) [আল-ইমরান: ১৮]।
দ্বিতীয়টি: যা তাঁর গুণের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক) [আল-বাকারাহ: ২৫৫]।
তৃতীয়টি: যা তাঁর কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আল্লাহ সকল কিছুর স্রষ্টা) [আর-রাদ: ১৬]।
চতুর্থটি: যা মুকাল্লাফগণের সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আর অবশ্যই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তোমাদের আকৃতি দান করেছি) [আল-আরাফ: ১১], এবং মহান আল্লাহর বাণী: (তিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন) [আন-নিসা: ১]।
পঞ্চমটি: যা জড় পদার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আর যেদিন আমি পাহাড়সমূহকে চালিত করব) [আল-কাহফ: ৪৭], এবং এর সদৃশ আয়াতসমূহ।"
আর আমাদের উক্তি: (চাহিদা বা তলবের মাধ্যমে) অর্থাৎ তলব (চাওয়া)। আল-মারদাভি 'আত-তাহবীর' (২/৭৯৮) গ্রন্থে বলেন: (ইকতিদা বা দাবি হলো—কোনো কাজ করার জন্য দৃঢ়ভাবে বা শিথিলভাবে তলব করা, অথবা কোনো কাজ ত্যাগ করার জন্য দৃঢ়ভাবে বা শিথিলভাবে তলব করা।)
আর আমাদের উক্তি: "অথবা ইখতিয়ার (ঐচ্ছিকতা)" এর অর্থ হলো—মুকাল্লাফ ব্যক্তি কাজটি করা বা না করার মধ্যে ইখতিয়ার বা স্বাধীনতাপ্রাপ্ত।
সংজ্ঞায় উল্লিখিত পূর্ববর্তী পাঁচটি প্রকারের প্রতি সূক্ষ্ম দৃষ্টিপাতকারী লক্ষ্য করবেন যে, প্রথমটি হলো ওয়াজিব (আবশ্যক), কেননা শারিয়াত প্রণেতা কর্তৃক মুকাল্লাফের নিকট এর তলবটি বাধ্যতামূলক। দ্বিতীয়টি হলো মানদুব (পছন্দনীয়), তৃতীয়টি হারাম (নিষিদ্ধ), চতুর্থটি মাকরূহ (অপছন্দনীয়) এবং পঞ্চমটি মুবাহ (বৈধ)। এগুলিকে আহকাম তলাবিয়্যাহ (তলব সংক্রান্ত বিধান) বা আহকাম তাকলিফিয়্যাহ (শরীয়তের অর্পিত বিধান) বলা হয়।
সতর্কবার্তা:হুকুম শারয়ি-এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে জুমহুর (অধিকাংশ) উসুলবিদগণের পদ্ধতি এবং ফকিহগণ ও কিছু উসুলবিদগণের পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য করা উচিত।
শায়খ ইয়াদ আস-সুলামি 'উসুলুল ফিকহ আল্লাজি লা ইয়াসাউল ফকিহা জাহলুহু' (পৃ. ২৪) গ্রন্থে বলেন: (অধিকাংশ উসুলবিদগণের পরিভাষায় হুকুম হলো: «মুকাল্লাফগণের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সেই সম্বোধন যা দাবি, ঐচ্ছিকতা বা পরিস্থিতি সৃষ্টির সাথে সম্পৃক্ত»। আর ফকিহগণের নিকট এটি হলো আল্লাহর সম্বোধনের দাবি যা সংশ্লিষ্ট...)
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بأفعال المكلفين الخ، أو مدلول خطاب الله الخ. ومال بعض الأصوليين إلى اختيار هذا التعريف
… ).
وقال صاحب "البيان المأمول": (الفقهاء وعلماء الفروع يعنون بالحكم الشرعي في لغتهم الأثر الذي يترتب على الدليل كالوجوب والحرمة والإباحة، وأما علماء الأصول فيعنون دليل الحكم الذي هو الآية أو الحديث أو نص الإجماع وهكذا، فمثلاً قوله تعالى: (وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ) (البقرة:43) هذا هو الحكم نفسه عند الأصوليين، وأما عند الفقهاء فيعنون ما يترتب على هذا النص وهو وجوب الصلاة).
وقال ابن النجار في "شرح الكوكب المنير" (1/ 333): ("الحكم الشرعي" في اصطلاح الفقهاء: "مدلول خطاب الشرع". قال الإمام أحمد رضي الله عنه: الحكم الشرعي خطاب الشرع وقوله. قال في "شرح التحرير": والظاهر أن الإمام أحمد أراد بزيادة: "وقوله" على خطاب الشرع: التأكيد، من باب عطف العام على الخاص؛ لأن كل خطاب قول، وليس كل قول خطابا. انتهى).
وسبب الاختلاف بين الطريقتين أن الأصولي يبحث في الأدلة ذاتها - التي هي موضوع علم الأصول - فيكون نظره لذات الدليل، وأما الفقيه فيبحث في متعلق الأدلة - إذ أن موضوع الفقه أفعال المكلف - فيكون نظره لمتعلق الأدلة ومدلول الخطاب وأثره المترتب عليه.
والأولى اعتماد طريقة جمهور الأصوليين، إذ أننا نتكلم في علم الأصول لا فروعها.
মুখাল্লাফদের (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) কার্যাবলি ইত্যাদির সাথে, অথবা আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ ইত্যাদি। কতিপয় উসুলবিদ এই সংজ্ঞাটি গ্রহণ করার দিকে ঝুঁকেছেন
… )।
“বায়ানুল মা’মূল” গ্রন্থের লেখক বলেছেন: (ফকিহগণ এবং ফুরু বা শাখা শাস্ত্রের আলেমগণ তাদের পরিভাষায় ‘হুকুম শরয়ী’ বা শরীয়তের বিধান বলতে সেই প্রভাবকে বোঝান যা দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়, যেমন: ওয়াজিব হওয়া, হারাম হওয়া এবং মুবাহ বা বৈধ হওয়া। অন্যদিকে উসুলবিদ বা মূলনীতি শাস্ত্রের আলেমগণ ‘হুকুম’ বলতে বিধানের দলিলকেই বোঝান, যা হলো আয়াত, হাদিস কিংবা ইজমার টেক্সট বা ভাষ্য ইত্যাদি। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমরা সালাত কায়েম করো" (বাকারা: ৪৩); উসুলবিদদের নিকট এটিই হলো খোদ ‘হুকুম’। কিন্তু ফকিহদের নিকট এটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এই ভাষ্যের মাধ্যমে যা সাব্যস্ত হয়, আর তা হলো সালাত ওয়াজিব হওয়া)।
ইবনুন নাজ্জার তাঁর "শারহুল কাওকাবিল মুনীর" (১/৩৩৩) গ্রন্থে বলেছেন: (ফকিহদের পরিভাষায় "হুকুম শরয়ী" হলো: "শরীয়তের সম্বোধনের অর্থ"। ইমাম আহমদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: হুকুম শরয়ী হলো শরীয়তের সম্বোধন এবং তাঁর কথা। "শারহুত তাহরীর" গ্রন্থে বলা হয়েছে: দৃশ্যত ইমাম আহমদ ‘শরীয়তের সম্বোধন’-এর সাথে "এবং তাঁর কথা" অংশটুকু যুক্ত করার মাধ্যমে গুরুত্ব বা তাকীদ প্রদান করতে চেয়েছেন; যা মূলত সাধারণকে বিশেষের ওপর সংযুক্ত (আতফ) করার অন্তর্ভুক্ত। কেননা প্রতিটি সম্বোধনই কথা, কিন্তু প্রতিটি কথাই সম্বোধন নয়। সমাপ্ত)।
এই দুই পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্যের কারণ হলো, উসুলবিদ মূলত দলিলের সত্তা বা মূল দলিল নিয়ে আলোচনা করেন—যা উসুল শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়—ফলে তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে খোদ দলিলের দিকে। অন্যদিকে, ফকিহ দলিলের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেন—যেহেতু ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো মুখাল্লাফের কার্যাবলি—তাই তাঁর দৃষ্টি থাকে দলিলের সংশ্লিষ্ট বিষয়, সম্বোধনের মর্মার্থ এবং এর ফলে সাব্যস্ত হওয়া প্রভাবের দিকে।
আর জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ উসুলবিদদের পদ্ধতি অবলম্বন করাই অধিকতর উত্তম, যেহেতু আমরা উসুল শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করছি, এর শাখা (ফুরু) নিয়ে নয়।
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أقسام الأحكام الشرعيةتنقسم الأحكام الشرعية إلى قسمين: تكليفية ووضعية.
فالتكليفية خمسة:
الإيجاب، والتحريم، والاستحباب (الندب)، والكراهة، والإباحة، والوضعية هي: السبب، والشرط، والمانع، والصحيح، والفاسد،
…الإيجاب
الإيجاب لغة:الإيجاب لغة: السقوط واللزوم.
سقوط الشيء لازما محله، ومنه قوله تعالى: (فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا) [الحج: 36] أي سقطت ميتة لازمة محلها، وقوله صلى الله عليه وسلم في الميت: (فإذا وجب فلا تبكين باكية) (1).
ومنه قول قيس بن الخطيم
أَطاعَتْ بنُو عَوْفٍ أَمِيراً نَهَاهُمُ
… عن السِّلْمِ، حَتَّى كانَ أَوّلَ وَاجِبِ (2)
واللزوم، قال الفيومي: وَجَبَ الْبَيْعُ وَالْحَقُّ يَجِبُ وُجُوبًا وَجِبَةً لَزِمَ وَثَبَتَ (3).
الإيجاب اصطلاحا:الإيجاب اصطلاحا هو: (أمر الشارع على وجه اللزوم).
شرح التعريف:
وهو واضح بحمد الله، (أمر) ليخرج غير المأمور به كالمحرم والمكروه، والمباح لذاته، بقي المندوب يشمله التعريف ولذلك قيده بقوله (على وجه اللزوم)؛ لأن
المندوب وإن كان مأمورا به إلا أنه ليس على وجه اللزوم بل الأفضلية.
--------------------------------------------
শরয়ী বিধানের প্রকারভেদশরয়ী বিধান বা আহকাম দুই ভাগে বিভক্ত: তাকলিফী (কর্তব্যমূলক) এবং ওয়াদয়ী (সাঙ্কেতিক বা আনুষঙ্গিক)।
তাকলিফী বিধান পাঁচটি:
ইজাব (ওয়াজিব করা), তাহরীম (হারাম করা), ইস্তিহবাব বা মানদুব (মুস্তাহাব করা), কারাহাত (অপছন্দনীয় করা) এবং ইবাহাত (বৈধ করা)। আর ওয়াদয়ী বিধানগুলো হলো: সাবাব (কারণ), শর্ত, মানি' (প্রতিবন্ধক), সহীহ (সঠিক) এবং ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ/বাতিল),
...ইজাব (ওয়াজিব করা)
আভিধানিক অর্থে ইজাব:ইজাবের আভিধানিক অর্থ হলো: পতিত হওয়া এবং অপরিহার্য হওয়া।
কোনো বস্তু তার নির্ধারিত স্থানে স্থিরভাবে পতিত হওয়া; এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর যখন তারা পার্শ্বে ঢলে পড়ে [অর্থাৎ মারা যায়]) [সূরা হজ: ৩৬] অর্থাৎ মৃত অবস্থায় নিজ স্থানে স্থির হয়ে পড়ে যায়। এবং মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (অতঃপর যখন সে স্থির হয়ে যায় [মারা যায়], তখন যেন কোনো ক্রন্দনকারিণী আর না কাঁদে) (১)।
এ থেকেই কায়েস ইবনে আল-খাতীমের উক্তি:
বনু আওফ এমন এক আমিরের আনুগত্য করল যিনি তাদের সন্ধি করতে নিষেধ করেছিলেন... শেষ পর্যন্ত তিনিই হলেন প্রথম ভূপাতিত [নিহত] (২)।
আর অপরিহার্যতা অর্থে ফাইয়ুমি বলেন: ক্রয়-বিক্রয় এবং হক ওয়াজিব হয়েছে—এর অর্থ হলো তা অপরিহার্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে (৩)।
পারিভাষিক অর্থে ইজাব:পরিভাষার পরিভাষায় ইজাব হলো: (শরীয়তদাতার পক্ষ থেকে কোনো কাজের জন্য অপরিহার্য আদেশ)।
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
আল্লাহর প্রশংসায় এটি স্পষ্ট, (আদেশ) শব্দটির মাধ্যমে আদেশ বহির্ভূত বিষয়গুলো বাদ পড়েছে, যেমন—হারাম, মাকরূহ এবং সত্তাগতভাবে মুবাহ (বৈধ) কাজ। অবশিষ্ট থাকে মানদুব (মুস্তাহাব), যা এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে, তাই তিনি (অপরিহার্যতার ভিত্তিতে) কথাটি যুক্ত করে একে সীমাবদ্ধ করেছেন; কারণ মানদুব যদিও আদেশকৃত বিষয়, তবুও তা অপরিহার্যতার ভিত্তিতে নয় বরং উত্তম হওয়ার ভিত্তিতে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
تنبيه:الشارع المقصود به الله - عزو جل - ولكن الحنابلة تطلق لفظ الشارع أيضا على النبي صلى الله عليه وسلم، وهم يقولون بمسألة التفويض ويرون أن النبي صلى الله عليه وسلم له أن يحكم بما شاء فيما شاء، ولا يكون رأيه إلا موافقا للصواب في حكم الله.
قال ابن النجار في "شرح الكوكب" (4/ 519): (يجوز أن يقال لنبي أو مجتهد: احكم بما شئت فهو صواب ويكون) ذلك (مدركا شرعيا ويسمى: التفويض) عند الأكثر؛ لأن طريق معرفة الأحكام الشرعية:
إما التبليغ عن الله سبحانه وتعالى بإخبار رسله عنه بها، وهو ما سبق من كتاب الله سبحانه وتعالى وثبت بسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وما تفرع عن ذلك، من إجماع وقياس وغيرهما من الاستدلالات، وطرقها بالاجتهاد، ولو من النبي صلى الله عليه وسلم.
وإما أن يكون طريق معرفة الحكم: التفويض إلى رأي نبي أو عالم، فيجوز أن يقال لنبي أو لمجتهد غير نبي: احكم بما شئت فهو صواب عند بعض العلماء، ويؤخذ ذلك من كلام القاضي وابن عقيل، وصرحا بجوازه للنبي صلى الله عليه وسلم، وقاله الشافعي وأكثر أصحابه، وجمهور أهل الحديث، فيكون حكمه من جملة المدارك الشرعية
… وتردد الشافعي، أي في جوازه، كما قال إمام الحرمين، وقال: الجمهور في وقوعه، ولكنه قاطع بجوازه. والمنع: إنما هو منقول عن جمهور المعتزلة، قاله ابن مفلح، ومنعه السرخسي وجماعة من المعتزلة؛ واختاره أبو الخطاب، وذكره عن أكثر الفقهاء، وأنه أشبه بمذهبنا؛ لأن الحق عليه أمارة، فكيف يحكم بغير طلبها؟
وقيل: يجوز ذلك في النبي دون غيره.
(و) على القول بالجواز (لم يقع) في الأصح، قال ابن الحاجب: المختار أنه لم يقع، واحتج القاضي وابن عقيل وغيرهما للقول الأول: بقوله سبحانه وتعالى: (إِلَّا مَا حَرَّمَ إِسْرَائِيلُ عَلَى نَفْسِهِ) [آل عمران: 93] لأنه لا يمكن أن يحرم على نفسه
সতর্কবাণী:শারী' (বিধানদাতা) দ্বারা মূলত আল্লাহ—মহা মহিমান্বিত ও সুউচ্চ—উদ্দেশ্য, তবে হাম্বলীগণ শারী' শব্দটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেন। তাঁরা 'তাফভীজ' (ক্ষমতা অর্পণ) মাসআলাটি পোষণ করেন এবং মনে করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যেকোনো বিষয়ে যা ইচ্ছা বিধান দেওয়ার ইখতিয়ার রয়েছে, এবং তাঁর রায় আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সঠিক বিষয়ের অনুকূল ছাড়া অন্য কিছু হবে না।
ইবনুন নাজ্জার "শারহুল কাওকাব" (৪/৫১৯) গ্রন্থে বলেন: (কোনো নবী বা মুজতাহিদকে বলা জায়েজ যে: আপনি যা ইচ্ছা বিধান দিন, তা-ই সঠিক হবে; এবং) তা (শরয়ী উৎস হিসেবে গণ্য হবে এবং একে অধিকাংশের নিকট 'তাফভীজ' বলা হয়); কারণ শরয়ী আহকাম বা বিধান জানার পদ্ধতি হলো:
হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূলগণের মাধ্যমে সংবাদ প্রদানের মাধ্যমে পৌঁছানো, যা ইতিপূর্বে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, এবং যা তা থেকে শাখা হিসেবে নির্গত হয়েছে যেমন—ইজমা, কিয়াস ও অন্যান্য দলিলসমূহ এবং ইজতিহাদের মাধ্যমসমূহ, যদিও তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে হয়।
অথবা বিধান জানার পদ্ধতি হবে: কোনো নবী বা আলেমের রায়ের প্রতি তাফভীজ (ক্ষমতা অর্পণ) করা। সুতরাং কোনো নবী বা নবী ব্যতীত অন্য কোনো মুজতাহিদের ক্ষেত্রে বলা জায়েজ যে: আপনি যা ইচ্ছা বিধান দিন, তা-ই সঠিক; এটি কিছু উলামার নিকট স্বীকৃত। এটি কাযী ও ইবনে আকীলের কথা থেকে গৃহীত হয়েছে এবং তাঁরা উভয়েই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য এটি জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট মত দিয়েছেন। ইমাম শাফেয়ী ও তাঁর অধিকাংশ অনুসারী এবং জমহুর আহলে হাদিসও এই কথা বলেছেন। ফলে তাঁর প্রদত্ত বিধান শরয়ী উৎসসমূহের অন্তর্ভুক্ত হবে
... তবে ইমাম শাফেয়ী এর বৈধতার ব্যাপারে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন, যেমনটি ইমামুল হারামাইন বলেছেন। জমহুর বলেছেন এটি বাস্তবে ঘটার ব্যাপারে, তবে তিনি (ইমামুল হারামাইন) এর বৈধতার ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন। আর এর নিষেধাজ্ঞাটি জমহুর মুতাযিলাদের থেকে বর্ণিত হয়েছে, যা ইবনে মুফলিহ উল্লেখ করেছেন। সারাখসী এবং মুতাযিলাদের একটি দলও এটি নিষেধ করেছেন; আবু আল-খাত্তাব এই নিষেধাজ্ঞাকে পছন্দ করেছেন এবং অধিকাংশ ফকীহদের থেকে এটি উল্লেখ করেছেন যে, এটিই আমাদের মাযহাবের অধিক সদৃশ; কারণ সত্যের জন্য কিছু নিদর্শন থাকে, সুতরাং তা অনুসন্ধান করা ছাড়া কীভাবে বিধান দেওয়া হবে?
কেউ কেউ বলেছেন: এটি কেবল নবীর ক্ষেত্রে জায়েজ, অন্য কারো জন্য নয়।
(এবং) বৈধতার মতানুসারেও (তা বাস্তবে ঘটেনি) বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী। ইবনুল হাজিব বলেন: পছন্দনীয় মত হলো এটি ঘটেনি। আর কাযী, ইবনে আকীল এবং অন্যরা প্রথম মতের পক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: (ইসরাঈল নিজের উপর যা হারাম করেছিলেন তা ব্যতীত) [আল-ইমরান: ৯৩]; কারণ নিজের ওপর তা হারাম করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হতো না (যদি না তাঁকে সেই ক্ষমতা দেওয়া হতো)।
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إلا بتفويض الله سبحانه وتعالى الأمر إليه لا أنه بإبلاغه ذلك الحكم؛ لتخصيص هذا التحريم بنسبته إليه، وإلا فكل محرم فهو بتحريم الله سبحانه وتعالى، إما بالتبليغ، وإما
بالتفويض (1).
واستدل له أيضا بما في مسلم (فرض عليكم الحج، فحجوا، فقال رجل: أكل عام؟ فقال: لو قلت: نعم، لوجبت، ولما استطعتم) (2)
… ).
والصواب أنه صلى الله عليه وسلم ليس مُشرِّعاً بل هو مبلغ ومطبق وناقل ومبيِّن للتشريع، وأنه كان يجتهد (3) فإن اخطأ نزل الوحي بتصويبه (4)، كما في أسارى بدر (مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ) [الأنفال: 67] وكما عوتب في ابن أم مكتوم وتحريمه صلى الله عليه وسلم العسل ومارية القبطية على نفسه، ولما رجع عن قوله في مسألة التأبير، ونحو ذلك (5).
الواجب يثاب فاعله امتثالًا، ويستحق العقاب تاركه.
امتثالًا أي يفعله على وجه الطاعة والقربة، فمن نوى التبرد فغسل أعضاء الوضوء لا يعد متوضئا وهكذا.
وأما قولنا (ويستحق) فهو أولى من قول: (ويعاقب تاركه)؛ لأنه من الجائز أن الله
--------------------------------------------
কেবলমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর ওপর বিষয়টি অর্পণ করার মাধ্যমেই (তা হতে পারে), কেবল তাঁর সেই বিধান পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে নয়; যেন এই হারামের বিধানটিকে তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা যায়। অন্যথায় প্রতিটি হারামই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে হারামকৃত, হয় বিধান পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে অথবা ক্ষমতা অর্পণের মাধ্যমে (১)।
এর পক্ষে মুসলিমে বর্ণিত হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করা হয়েছে: (তোমাদের ওপর হজ ফরজ করা হয়েছে, সুতরাং তোমরা হজ করো। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসুল, প্রতি বছর কি? তিনি বললেন: আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তবে তা আবশ্যক হয়ে যেত এবং তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হতে না) (২)
… )।
সঠিক মত হলো, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বয়ং বিধানদাতা নন, বরং তিনি বিধানের প্রচারকারী, বাস্তবায়নকারী, বাহক ও বর্ণনাকারী। আর তিনি ইজতিহাদ করতেন (৩), যদি তিনি ভুল করতেন তবে ওহি অবতীর্ণ হয়ে তাকে সংশোধন করে দিত (৪); যেমনটি বদরের বন্দীদের ক্ষেত্রে হয়েছিল (কোনো নবীর জন্য সংগত নয় যে তাঁর হাতে যুদ্ধবন্দী থাকবে, যতক্ষণ না তিনি জমিনে শত্রুদের পূর্ণরূপে পর্যুদস্ত করেন) [আল-আনফাল: ৬৭]। তেমনিভাবে ইবনে উম্মে মাকতূমের বিষয়ে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল, এবং তিনি নিজের ওপর মধু ও মারিয়া আল-কিবতিয়াকে হারাম করার ক্ষেত্রেও, এবং যখন তিনি খেজুর গাছের পরাগায়নের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য থেকে ফিরে এসেছিলেন, এবং এই জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে (৫)।
ওয়াজিব হলো তা-ই যার সম্পাদনকারী আনুগত্যের উদ্দেশ্যে পালন করলে সওয়াব পায় এবং বর্জনকারী শাস্তির যোগ্য হয়।.
আনুগত্যের উদ্দেশ্যে অর্থাৎ সে কাজটি করে আনুগত্য ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে। সুতরাং কেউ যদি শরীর ঠাণ্ডা করার নিয়তে ওজুর অঙ্গগুলো ধৌত করে, তবে সে ওজুকারী হিসেবে গণ্য হবে না—এভাবেই অন্যান্য বিষয়।
আর আমাদের উক্তি (যোগ্য হয়) এটি (বর্জনকারী শাস্তি পায়) বলার চেয়ে উত্তম; কারণ এটি সম্ভব যে আল্লাহ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قد يعفو عنه، فهو مستحق للعقاب، لكن قد يعاقب وقد لا يعاقب.
نكتة:يجزم بإثابة فاعل الثواب، وكذا تارك الحرام؛ لأنه وعد كما قال تعالى: (مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا) [الأنعام: 160]، ولكن لابد من تقييده بالامتثال. وذلك بخلاف الوعيد على ترك الواجب، وفعل الحرام فلا يجزم بلحوق العقاب؛ لأنه من الجائز أن الله قد يعفو عنه، فهو مستحق للعقاب، لكن قد يعاقب وقد لا يعاقب.
أسماؤه:ويسمى: فرضاً على قول، وفريضة، وحتماً، ولازماً.
القول بعدم التفريق بين الفرض والواجب عند الحنابلة هو أحد الأقوال الثلاثة المنقولة عن الإمام أحمد في هذه المسألة.
قال مجد الدين في "المسودة" (ص/ 44): مسألة: الفرض والواجب سواء وهو الذي ذكره في مقدمة المجرد وبه قالت الشافعية وعنه الفرض آكد ونصرها الحلواني وبه قالت الحنفية وهو على قولهم وروايتنا هذه ما ثبت بدليل مقطوع به وقيل هو ما لا يسقط في عمد ولا سهو وحكى ابن عقيل رواية ثالثة أن الفرض ما لزم بالقرآن والواجب ما كان بالسنة وهذه هي ظاهر كلام أحمد في أكثر نصوصه وقد حكاها ابن شاقلا وهذا القول في الجملة اختيار القاضي وغيره).
ومن النتائج المترتبة على هذا الخلاف في ترادف، أو تباين الفرض والواجب:1 - مسائل عقدية وهو أن من أنكر الفرض كفر ومن أنكر الواجب لا يكفر وهذا
على رأي الحنفية (1) ومن وافقهم والصحيح أن من أنكر حجية ما ثبت من السنة فهو كافر، وإن كانت خبر آحاد.
--------------------------------------------
তিনি তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন, তাই সে শাস্তির যোগ্য, কিন্তু তাকে শাস্তি দেওয়া হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।
একটি সূক্ষ্ম বিষয়:সওয়াবের কাজ সম্পাদনকারীর প্রতিদান পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, তেমনি হারাম বর্জনকারীর ক্ষেত্রেও; কারণ এটি একটি ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি), যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (যে ব্যক্তি একটি নেক কাজ নিয়ে আসবে, তার জন্য তার দশগুণ প্রতিদান রয়েছে) [আল-আনআম: ১৬০], তবে একে আনুগত্যের সাথে সীমাবদ্ধ রাখা আবশ্যক। এটি ওয়াজিব বর্জন এবং হারাম কাজ করার শাস্তির হুমকির বিপরীত, তাই শাস্তি কার্যকর হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়া হয় না; কারণ এটি সম্ভব যে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন, ফলে সে শাস্তির যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে শাস্তি দেওয়া হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।
এর নামসমূহ:একে বলা হয়: একটি মতানুসারে ফরজ, ফরিদা, হাতম এবং লাজিম।
হাম্বলি মাযহাবে ফরজ এবং ওয়াজিবের মধ্যে পার্থক্য না করার মতটি এই বিষয়ে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত তিনটি মতের একটি।
মাজদুদ্দীন "আল-মুসাওয়াদ্দাহ" গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৪৪) বলেছেন: মাসআলা: ফরজ এবং ওয়াজিব একই, যা "আল-মুজাররাদ" এর ভূমিকায় উল্লেখ করা হয়েছে এবং শাফেয়ি মাযহাব এই মত পোষণ করে। তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য মতে ফরজ অধিক গুরুত্ববহ, আল-হালওয়ানি একে সমর্থন করেছেন এবং হানাফি মাযহাব এই মত পোষণ করে; তাদের মতানুসারে এবং আমাদের এই বর্ণনা মতে এটি (ফরজ) তা-ই যা অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত। আবার বলা হয়েছে, এটি তা-ই যা ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলে গেলেও রহিত হয় না। ইবন আকিল তৃতীয় একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যে, ফরজ হলো যা কুরআনের মাধ্যমে অবধারিত হয়েছে এবং ওয়াজিব হলো যা সুন্নাহর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে; ইমাম আহমাদের অধিকাংশ ভাষ্যের বাহ্যিক দিক এটাই এবং ইবন শাকলা এটি বর্ণনা করেছেন। সামগ্রিকভাবে এই মতটি আল-কাদি এবং অন্যদের পছন্দকৃত মত।
ফরজ এবং ওয়াজিব সমার্থক নাকি ভিন্নার্থক—এই মতভেদের ফলে সৃষ্ট ফলাফলগুলোর মধ্যে রয়েছে:১ - আকিদাগত বিষয়সমূহ: আর তা হলো যে ব্যক্তি ফরজ অস্বীকার করবে সে কাফির হয়ে যাবে, কিন্তু যে ব্যক্তি ওয়াজিব অস্বীকার করবে সে কাফির হবে না। এটি হানাফিদের (১) এবং তাদের সাথে একমত পোষণকারীদের মত। তবে সঠিক কথা হলো, সুন্নাহ দ্বারা যা প্রমাণিত তার প্রামাণ্যতা যে অস্বীকার করবে সে কাফির, যদিও তা একক বর্ণনা (খবর-এ-ওয়াহিদ) হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قال الشيخ العثيمين رحمه الله في "القول المفيد" (1/ 82): (أن القرآن ثبت
بالتواتر القطعي المفيد للعلم اليقيني، فلو أنكر منه حرفا أجمع القراء عليه، لكان كافرا، بخلاف الأحاديث القدسية، فإنه لو أنكر شيئا منها مدعيا أنه لم يثبت، لم يكفر، أما لو أنكره مع علمه أن النبي صلى الله عليه وسلم قاله، لكان كافرا لتكذيبه النبي صلى الله عليه وسلم.
قال السيوطي في "مفتاح الجنة" (ص/ 5): (اعلموا رحمكم الله أن من أنكر كون حديث النبي صلى الله عليه وسلم قولا كان أو فعلا بشرطه المعروف في الأصول حجة كفر وخرج عن دائرة الإسلام وحشر مع اليهود والنصارى أو مع من شاء الله من فرق الكفرة).
2 - ترتب أيضًا على الخلاف فيها مسائل أصولية منها أن الزيادة على النص نسخ وهذا لا يجوز عند الحنفية، ويعنون بالنص الكتاب والسنة المتواترة، والزيادة ما ثبت بخبر الآحاد إلا أنهم لم يلتزموا ذلك بل خالفوه في مسائل كثيرة جدا في أكثر من ثلاثمائة موضع كما قال ابن القيم في إعلام الموقعين، ومنها على سبيل التمثيل: قولهم بفرضية الوتر، وجواز الوضوء بنبيذ التمر، وكذلك إنهم اشترطوا في الصداق أن يكون أقله عشرة دراهم.
3 - كما ترتب على الخلاف في هذه المسألة الأصولية مسائل فقهية كثيرة جدًا ومن تتبع مذهب الحنابلة وجد أنهم تبعا لاختلاف الروايات والأقوال في هذه المسألة اختلفت التطبيقات عليها في المسائل الفقهية فأحيانا لا يفرقون بين الفرض والواجب وأحيانا يفرقون تبعا للمسلك المختار، وتتبع هذا يطول ويخرجنا عن المقصود، وقد ذكر طائفة من ذلك مجد الدين في المسودة (1).
--------------------------------------------
শায়খ উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-কাওলুল মুফিদ' (১/ ৮২)-এ বলেছেন: (নিশ্চয়ই কুরআন অকাট্য তাওয়াতুরের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। সুতরাং যদি কেউ এর এমন কোনো অক্ষর অস্বীকার করে যার ওপর ক্বারিগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তবে সে কাফির হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে হাদিসে কুদসির বিষয়টি ভিন্ন; কারণ যদি কেউ এটি সাব্যস্ত হয়নি দাবি করে এর কোনো কিছু অস্বীকার করে, তবে সে কাফির হবে না। কিন্তু যদি সে জানে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি বলেছেন এবং তারপরও তা অস্বীকার করে, তবে সে কাফির হবে কারণ সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।
সুয়ূতী 'মিফতাহুল জান্নাহ' (পৃষ্ঠা/ ৫)-এ বলেছেন: (আপনারা জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন—যে ব্যক্তি উসূলের সুপরিচিত শর্তানুসারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস—চাই তা কথা হোক বা কাজ—দলিল হওয়াকে অস্বীকার করবে, সে কুফরি করল এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে গেল। আর তার হাশর হবে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাথে অথবা কাফিরদের যে দলের সাথে আল্লাহ চান তাদের সাথে)।
২ - এই মতপার্থক্যের ফলে বেশ কিছু উসূলি (মূলনীতি সংক্রান্ত) মাসআলাও উদ্ভূত হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো—নসের (মূল পাঠ) ওপর অতিরিক্ত কিছু যোগ করাকে 'নাসখ' (রহিতকরণ) হিসেবে গণ্য করা এবং এটি হানাফিদের নিকট জায়েজ নয়। এখানে 'নস' বলতে তারা কিতাবুল্লাহ এবং সুন্নাতে মুতাওয়াতিরাকে বুঝিয়েছেন, আর 'অতিরিক্ত' বলতে যা খবরে ওয়াহেদ (একক বর্ণনা) দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে তা বুঝিয়েছেন। তবে তারা নিজেরাও এই মূলনীতির ওপর অটল থাকেননি, বরং তিনশরও বেশি ক্ষেত্রে এর বিরোধিতা করেছেন, যেমনটি ইবনুল কাইয়্যিম 'ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন'-এ উল্লেখ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ: বিতর সালাত ফরজ হওয়ার কথা বলা, খেজুরের নাবিদ (পানীয়) দিয়ে অজু জায়েজ হওয়া, এবং একইভাবে মহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ দশ দিরহাম হওয়াকে শর্ত করা।
৩ - তদ্রূপ এই উসূলি মাসআলার মতপার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে অসংখ্য ফিকহি মাসআলাও তৈরি হয়েছে। যারা হাম্বলি মাযহাব অনুসরণ করেন তারা দেখতে পাবেন যে, এই মাসআলায় বিভিন্ন বর্ণনা ও মতামতের কারণে ফিকহি মাসআলাগুলোতে এর প্রয়োগ ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। ফলে কখনো তারা 'ফরজ' এবং 'ওয়াজিব'-এর মধ্যে পার্থক্য করেন না, আবার কখনো পছন্দকৃত পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে পার্থক্য করেন। এগুলোর বিস্তারিত আলোচনা দীর্ঘ হবে এবং আমাদের মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে দেবে। মাজদুদ্দিন 'আল-মুসাওওয়াদা' (১)-এ এর একটি অংশ উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২০)
الاستحباب (الندب)
تعريف الندب لغة:الندب لغة: الدعاء لمهم، ويطلق أيضا على الطلب، والتأثير.
قال المرداوي في التحبير (2/ 976): {المندوب لغة: المدعو لمهم، من الندب وهو: الدعاء. قال الشاعر:
لا يَسْأَلُونَ أَخَاهُمْ حِينَ يَنْدُبُهُمْ
… فِي النَّائِبَاتِ عَلَى مَا قَالَ بُرْهَانَا
وهو الطلب، ومنه الحديث ' ' انتدب الله لمن يخرج في سبيله '، أي: أجاب له طلب مغفرة ذنوبه.
ويطلق أيضاً على التأثير، ومنه حديث موسى عليه السلام: ' وإن بالحجر ندَباً بفتح الدال ستة أو سبعة ضرب موسى ' وأصله: الجرح).
تعريف الندب اصطلاحاً:الندب هو: (أمر الشارع لا على وجه الإلزام).
شرح التعريف:
(أمر) ليخرج غير المأمور به كالمحرم والمكروه، والمباح لذاته، بقي الواجب يشمله التعريف ولذلك قيده بقوله (لا على وجه الإلزام) لأن الواجب مأمور به على وجه الإلزام.
وسوف يأتي في باب الأمر بإذن الله كيفية معرفة أنواع الأوامر ومتى يكون هذا الأمر لازما ومتى يكون على سبيل الفضيلة.
تنبيه: المندوب مأمور به حقيقة:قال ابن النجار في "شرح الكوكب" (1/ 405): ("وهو" أي المندوب "مأمور به حقيقة" عند أحمد والشافعي وأكثر أصحابهما. وحكاه ابن عقيل عن علماء الأصول والفقهاء، لدخوله في حد الأمر، لانقسام الأمر إليهما. وهو مستدعى ومطلوب. قال الله تعالى: (إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ) [النحل: 90]، وإطلاق الأمر عليه في الكتاب والسنة. والأصل: الحقيقة، ولأنه طاعة لامتثال الأمر).
মুস্তাহাব (মানদুব)
আভিধানিক অর্থে মানদুব-এর সংজ্ঞা:মানদুব-এর আভিধানিক অর্থ হলো: গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে আহ্বান করা। এটি চাওয়া এবং প্রভাব বিস্তার করার অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
আল-মারদাউয়ি 'আত-তাহবির' গ্রন্থে (২/৯৭৬) বলেন: {আভিধানিক অর্থে মানদুব হলো: গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাকে আহ্বান করা হয়েছে। এটি 'নাদব' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ: আহ্বান করা। কবি বলেন:
যখন বিপদে তাদের ভাই তাদের আহ্বান করে, তখন তারা তার কাছে কোনো প্রমাণের দাবি করে না
… এটি চাওয়া বা প্রার্থনা অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেমন হাদিসে এসেছে: 'যে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়, আল্লাহ তার জন্য সাড়া দেন', অর্থাৎ: তার পাপ মার্জনার প্রার্থনা তিনি কবুল করেন।
এটি প্রভাব বা চিহ্নের অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেমন মূসা আলাইহিস সালামের হাদিসে এসেছে: 'পাথরে ছয় বা সাতটি আঘাতের চিহ্ন ছিল যা মূসার আঘাতের ফলে হয়েছিল।' এর মূল অর্থ হলো ক্ষত বা জখম)।
পারিভাষিক অর্থে মানদুব-এর সংজ্ঞা:মানদুব হলো: (শরিয়ত প্রণেতার এমন নির্দেশ যা বাধ্যতামূলক নয়)।
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
(নির্দেশ) কথাটি দ্বারা ঐসব বিষয় বাদ পড়ে গেছে যা নির্দেশিত নয়, যেমন হারাম, মাকরুহ এবং নিজস্ব সত্তার বিচারে মুবাহ। এখন ওয়াজিব বিষয়টি এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাই তিনি একে (বাধ্যতামূলক নয়) শব্দ দ্বারা সীমাবদ্ধ করেছেন। কারণ ওয়াজিব হলো বাধ্যতামূলকভাবে নির্দেশিত বিষয়।
ইনশাআল্লাহ, 'নির্দেশ' (আমর) অধ্যায়ে নির্দেশের প্রকারভেদ জানার পদ্ধতি এবং কখন এই নির্দেশটি আবশ্যক হয় আর কখন তা ফজিলত বা উত্তম হিসেবে গণ্য হয়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
সতর্কীকরণ: মানদুব প্রকৃতপক্ষে নির্দেশিত বিষয়:ইবনুন নাজ্জার 'শারহুল কাওকাব' গ্রন্থে (১/৪০৫) বলেন: ("তা" অর্থাৎ মানদুব "প্রকৃতপক্ষেই নির্দেশিত বিষয়", যা ইমাম আহমদ, ইমাম শাফিঈ এবং তাঁদের অধিকাংশ অনুসারীদের অভিমত। ইবনে আকিল একে উসুলবিদ ও ফকিহগণের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন। কারণ এটি নির্দেশের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত এবং নির্দেশ এই দুই প্রকারেই (ওয়াজিব ও মানদুব) বিভক্ত হয়। এটি তলবকৃত ও কাঙ্ক্ষিত বিষয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: (নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়বিচার ও ইহসানের নির্দেশ দেন) [আন-নাহল: ৯০]। কুরআন ও সুন্নাহতে মানদুবের ক্ষেত্রে 'নির্দেশ' শব্দটির প্রয়োগ হয়েছে। আর শব্দের মূল হলো তা প্রকৃত অর্থে ব্যবহৃত হওয়া। তাছাড়া এটি নির্দেশের অনুগত্য করার কারণে একটি ইবাদত হিসেবে গণ্য)।
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২১)
قال الشنقيطي في "المذكرة" (ص/14): (والتحقيق أن المندوب مأمور به؛ لأن الأمر قسمان: أمر جازم أي في تركه العقاب وهو الواجب. وأمر غير جازم، أي لا عقاب في تركه وهو المندوب.
والدليل على شمول الأمر للمندوب قوله تعالى: (وَافْعَلُوا الْخَيْرَ) [الحج: 77] أي ومنه المندوب، (وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ) [لقمان: 17]، أي ومنه المندوب: (إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى) [النحل: 90]، أي ومن الإحسان وإيتاء ذي القربى ما هو مندوب، واحتج من قال أن الندب غير مأمور به بقوله: (فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ) [النور: 63] قالوا في الآية التوعد على مخالفة الأمر بالفتنة والعذاب الأليم، والندب لا يستلزم تركه شيئا من ذلك، والحديث: (لولا أن أشق على أمتي لأمرتهم بالسواك عند كل صلاة) مع أنه ندبهم إلى السواك قالوا فدل ذلك على أن الندب غبر مأمور به والجواب أن الأمر في الآية والحديث المذكورين يراد به الأمر الواجب، فلا ينافى أن يطلق الأمر أيضا على غير الواجب، فلا ينافى أن يطلق الأمر أيضا على غير الواجب، وقد قدمنا أن الأمر يطلق على هذا وهذا وزعم من قال أن الندب تخيير بدليل جواز تركه والأمر استدعاء وطلب. والتخيير والطلب متنافيان، زعم غير صحيح، لان الندب ليس تخييرا مطلقا بدليل أن الفعل فيه أرجح من الترك للثواب في فعله وعدم الثواب في تركه، ولان المندوب أيضا مطلوب الا أن طلبه غير جازم والندب في اللغة الدعاء إلى الفعل
… ).
المندوب يثاب فاعله امتثالاً ولا يعاقب تاركه.
ولا يعاقب تاركه في الدنيا ولا في الآخرة، ولكن أفاد الشيخ العثيمين- رحمه الله في "شرح الأصول" أن الإنسان قد يوبخ ويلام على ترك المستحب إذا كان هذا الترك يدل على زهده في الخير ورغبته عنه.
قال ابن النجار في "شرح الكوكب" (1/ 420): (وذكر القاضي وابن عقيل: يأثم بترك السنن أكثر عمره، لقوله عليه الصلاة والسلام (من رغب عن سنتي فليس مني) متفق عليه، ولأنه متهم أن يعتقده غير سنة، واحتجا بقول أحمد رضي الله عنه -
শানকিতী "আল-মুযাক্কিরাহ" (পৃষ্ঠা/১৪)-তে বলেছেন: (গবেষণালব্ধ সঠিক সিদ্ধান্ত হলো যে, মানদুব (পছন্দনীয় কাজ) আদিষ্ট বিষয়; কেননা 'আমর' বা নির্দেশ দুই প্রকার: একটি হলো চূড়ান্ত নির্দেশ, অর্থাৎ যা পরিত্যাগ করলে শাস্তি পেতে হয়—আর তা হলো 'ওয়াজিব'। অন্যটি হলো অ-চূড়ান্ত নির্দেশ, অর্থাৎ যা পরিত্যাগ করলে কোনো শাস্তি নেই—আর তা হলো 'মানদুব'।
নির্দেশের (আমর) মধ্যে যে মানদুব অন্তর্ভুক্ত তার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: (এবং তোমরা সৎকাজ করো) [হজ্জ: ৭৭] অর্থাৎ মানদুবও এর অন্তর্ভুক্ত, (এবং সৎকাজের আদেশ দাও) [লুকমান: ১৭], অর্থাৎ মানদুবও এর অন্তর্ভুক্ত: (নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, ইহসান এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দিচ্ছেন) [নাহল: ৯০], অর্থাৎ ইহসান এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার মধ্যে এমন অনেক কিছু আছে যা মানদুব। আর যারা বলেন যে মানদুব আদিষ্ট বিষয় নয়, তারা এই আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: (অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আসতে পারে) [নূর: ৬৩]। তারা বলেন, এই আয়াতে নির্দেশ লঙ্ঘনের ওপর ফিতনা ও যন্ত্রণাদায়ক আজাবের হুমকি দেওয়া হয়েছে, অথচ মানদুব পরিত্যাগ করলে এমন কিছুর আবশ্যকতা নেই। এবং হাদিস: (আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে তাদের প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম)। অথচ তিনি তাদের মেসওয়াক করার ব্যাপারে উৎসাহিত (মানদুব) করেছেন। তারা বলেন, এটি প্রমাণ করে যে মানদুব আদিষ্ট বিষয় নয়। এর উত্তর হলো, উক্ত আয়াত ও হাদিসে 'আমর' বা নির্দেশ দ্বারা ওয়াজিব নির্দেশ বোঝানো হয়েছে। এটি নির্দেশ শব্দটি ওয়াজিব ছাড়া অন্য ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হওয়ার পরিপন্থী নয়, এটি নির্দেশ শব্দটি ওয়াজিব ছাড়া অন্য ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হওয়ার পরিপন্থী নয়। আর আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, নির্দেশ শব্দটি উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। যারা দাবি করেন যে মানদুব হলো ইখতিয়ার বা পছন্দের বিষয় (যেহেতু এটি বর্জন করা জায়েজ) আর 'আমর' হলো তলব বা চাওয়া—এবং পছন্দ ও চাওয়া পরস্পরবিরোধী—তাদের এই দাবি সঠিক নয়। কারণ মানদুব নিরঙ্কুশ পছন্দের বিষয় নয়, এর প্রমাণ হলো যে এটি করার দিকটি বর্জন করার চেয়ে অগ্রগণ্য; কারণ এটি করলে সওয়াব আছে এবং বর্জন করলে সওয়াব নেই। এছাড়া মানদুবও কাঙ্ক্ষিত বিষয়, তবে তার চাওয়াটি চূড়ান্ত নয়। আর আভিধানিক অর্থে মানদুব হলো কোনো কাজের দিকে আহ্বান করা
... )।
মানদুব পালনকারী আনুগত্যের কারণে সওয়াব পান এবং বর্জনকারী শাস্তি পান না.
এর বর্জনকারী দুনিয়াতেও শাস্তি পাবে না এবং আখেরাতেও নয়। তবে শেখ উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) "শারহুল উসুল"-এ উল্লেখ করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় কাজ বর্জন করার কারণে তিরস্কৃত বা নিন্দিত হতে পারে যদি এই বর্জন কল্যাণের প্রতি তার অনীহা ও অনাগ্রহ প্রকাশ করে।
ইবনুন নাজ্জার "শারহুল কাওকাব" (১/৪২০)-এ বলেন: (কাযী এবং ইবনু আকিল উল্লেখ করেছেন: জীবনের অধিকাংশ সময় সুন্নাহ বর্জন করলে সে গুনাহগার হবে, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার সুন্নতের প্রতি বিরাগ পোষণ করল সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়" [মুত্তাফাকুন আলাইহি]। এছাড়া সে এ অপবাদের সম্মুখীন যে, সে হয়তো সুন্নাহকে সুন্নাহ বলে বিশ্বাস করে না। তারা ইমাম আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে—
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২২)
فيمن ترك الوتر -: رجل سوء، مع أنه سنة. قال في شرح التحرير: والذي يظهر: أن إطلاق الإمام أحمد: أنه رجل سوء، إنما مراده من اعتقد أنه غير سنة، وتركه لذلك. فيبقى كأنه اعتقد السنة التي سنها الرسول صلى الله عليه وسلم غير سنة، فهو مخالف للرسول صلى الله عليه وسلم ومعاند لما سنه، أو أنه تركه بالكلية، وتركه له كذلك يدل على أن في قلبه ما لا يريده الرسول صلى الله عليه وسلم.
أسماؤه:يسمى: سنة، وفضيلة، ونفلاً.
قال ابن النجار في شرح الكوكب (1/ 404): ("وأعلاه" أي أعلا المندوب "سنة، ثم فضيلة، ثم نافلة".
قال الشيخ أبو طالب - مدرس المستنصرية، من أئمة أصحابنا في "حاويه الكبير"-: إن المندوب ينقسم ثلاثة أقسام.
أحدها: ما يعظم أجره، فيسمى سنة.
والثاني: ما يقل أجره، فيسمى نافلة.
والثالث: ما يتوسط في الأجر بين هذين"، فيسمى فضيلة ورغيبة).
السنة في لسان الشرع أعم من السنة في اصطلاح الفقهاء:قال الشيخ العثيمين رحمه الله "في شرح الأصول" (ص/53): (عند الأصوليين إذا قال: هذا سنة: يعني ليس بواجب، وكذلك مسنونا وكذلك مستحبا، وكذلك نفلا
… لكن السنة في لسان الشارع أعم من المندوب، إذ قد تطلق على الشيء الواجب، ومنه قول ابن عباس حين قرأ الفاتحة وجهر بها في صلاة الجنازة قال: (لتعلموا أنها سنة)
… فالسنة في لسان الشرع أعم من السنة في اصطلاح الفقهاء لأنها تشمل الواجب والمستحب).
বিতর নামাজ ত্যাগকারীর সম্পর্কে: (তিনি একজন) মন্দ লোক, যদিও তা সুন্নাত। শারহুত তাহরীরে বলা হয়েছে: যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, ইমাম আহমাদ কর্তৃক তাকে 'মন্দ লোক' বলা দ্বারা কেবল এমন ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে যে এটাকে সুন্নাত নয় বলে বিশ্বাস করে এবং সেই কারণে তা বর্জন করে। ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যে, সে যেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সুন্নাত প্রবর্তন করেছেন সেটিকে সুন্নাত হিসেবে বিশ্বাস করল না; সুতরাং সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণকারী এবং তাঁর প্রবর্তিত বিধানের হঠকারী বিরোধিতাকারী। অথবা সে তা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করল, আর তার এভাবে বর্জন করা একথারই প্রমাণ বহন করে যে তার হৃদয়ে এমন কিছু রয়েছে যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চান না।
এর নামসমূহ:একে সুন্নাত, ফযিলত এবং নফল বলা হয়।
ইবনে নাজ্জার শারহুল কাওকাবে (১/৪০৪) বলেছেন: ("আর এর সর্বোচ্চ স্তর" অর্থাৎ মানদুব বা পছন্দনীয় কাজের সর্বোচ্চ স্তর হলো "সুন্নাত, তারপর ফযিলত, তারপর নফল"।
মুসতানসিরিয়ার শিক্ষক এবং আমাদের মাযহাবের ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত শেখ আবু তালিব তাঁর "হাউয়িল কাবীর" গ্রন্থে বলেছেন: মানদুব তিন ভাগে বিভক্ত।
প্রথমটি: যার সওয়াব অনেক বেশি, একে সুন্নাত বলা হয়।
দ্বিতীয়টি: যার সওয়াব তুলনামূলক কম, একে নফল বলা হয়।
আর তৃতীয়টি: সওয়াবের দিক থেকে যা এই দুইয়ের মাঝামাঝি, একে ফযিলত ও রাগীবাহ বলা হয়)।
শরিয়তের পরিভাষায় সুন্নাত শব্দটির অর্থ ফকিহদের পরিভাষার তুলনায় অধিক ব্যাপক:শেখ উসাইমিন রহিমাহুল্লাহ "শারহুল উসুল" গ্রন্থে (পৃষ্ঠা/৫৩) বলেছেন: (উসুলবিদগণের নিকট যখন বলা হয়: 'এটি সুন্নাত', তখন এর অর্থ হলো এটি ওয়াজিব নয়; অনুরূপভাবে 'মাসনুন', 'মুস্তাহাব' এবং 'নফল' শব্দগুলোও একই অর্থে ব্যবহৃত হয়... কিন্তু শরিয়ত প্রবর্তকের পরিভাষায় সুন্নাত শব্দটি 'মানদুব'-এর চেয়েও অধিক ব্যাপক। কেননা এটি অনেক সময় ওয়াজিব বিষয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। এর উদাহরণ হলো ইবনে আব্বাসের সেই কথা, যখন তিনি জানাজার নামাজে উচ্চস্বরে সুরা ফাতিহা পাঠ করে বলেছিলেন: 'যাতে তোমরা জানতে পারো যে এটি সুন্নাত'... সুতরাং শরিয়তের পরিভাষায় সুন্নাত শব্দটি ফকিহদের পরিভাষার তুলনায় অধিক ব্যাপক, কারণ এটি ওয়াজিব এবং মুস্তাহাব উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে)।
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
التحريم
تعريف التحريم لغة:التحريم لغة: المنع.
قال الجوهري في الصحاح مادة (ح ر م): "حَرَمَهُ الشَّيءَ يَحْرِمُهُ حَرِماً وحِرْمَةً وحَريمة وحِرْماناً، وأَحْرَمَهُ أيضاً، إذا منعَه إيَّاه".اهـ
ومن ذلك قوله تعالى: (وَحَرَّمْنَا عَلَيْهِ الْمَرَاضِعَ مِنْ قَبْلُ) أي منعناه منهن، وقال: (قَالَ فَإِنَّهَا مُحَرَّمَةٌ عَلَيْهِمْ أَرْبَعِينَ سَنَةً يَتِيهُونَ فِي الْأَرْضِ)، وقال: (إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ) والآيات في هذا المعنى كثيرة.
قال ابن عقيل في "الواضح" (1/ 28): (والحظر منع الشيء، فالمحظور: ما منع منه الشرع، وأصله المنع، ومنه سمى المُحتَظِر مُحتظرا؛ إذ جعل حول إبله أو متاعه - في الجملة - مانعا من العَوْسَج - (شجر من شجر الشوك) -. وسميت الحظيرة بذلك من المنع).
ومنه قوله صلى الله عليه وسلم فيما ورواه الشيخان من حديث النعمان بن بشير رضي الله عنه (وإن لكل ملك حمى ألا وإن حمى الله في أرضه محارمه) معناه أن ملوك العرب وغيرهم يكون لكل ملك منهم حمى يحميه عن الناس ويمنعهم دخوله فمن دخله أوقع به العقوبة ومن احتاط لنفسه لا يقارب ذلك الحمى خوفا من الوقوع فيه ولله تعالى أيضا حمى وهي محارمه أي المعاصي التي حرمها الله كالقتل والزنى والسرقة والقذف والخمر والكذب والغيبة والنميمة وأكل المال بالباطل وأشباه ذلك فكل هذا حمى الله تعالى من دخله بارتكابه شيئا من المعاصي استحق العقوبة ومن قاربه يوشك أن يقع فيه فمن احتاط لنفسه لم يقاربه ولم يتعلق بشيء يقربه من المعصية فلا يدخل في شيء من الشبهات.
تعريف التحريم اصطلاحاً:التحريم هو: (نهي الشارع على وجه الإلزام).
قولنا: (نهي) خرج ما أمر به كالمندوب والواجب، وما لا يتعلق به أمر ولا نهي
لذاته كالمباح.
তাহরীম (নিষিদ্ধকরণ)আভিধানিক অর্থে তাহরীমের সংজ্ঞা:আভিধানিক অর্থে তাহরীম হলো: বাধা প্রদান করা।
আল-জাওহারী তার ‘আস-সিহাহ’ গ্রন্থের ‘হা-রা-মিম’ পরিচ্ছেদে বলেছেন: “সে তাকে কোনো কিছু থেকে বঞ্চিত করেছে, যখন সে তাকে তা থেকে বাধা দেয়।” (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: (আর আমি আগে থেকেই তার জন্য ধাত্রীদের স্তন্যপান নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলাম) অর্থাৎ আমি তাকে তাদের থেকে বাধা দিয়েছিলাম। তিনি আরও বলেছেন: (তিনি বললেন, তবে চল্লিশ বছর তা তাদের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে, তারা পৃথিবীতে বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াবে)। তিনি আরও বলেছেন: (নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।) এই অর্থবোধক আয়াত অনেক রয়েছে।
ইবন আকীল ‘আল-ওয়াদিহ’ গ্রন্থে (১/ ২৮) বলেছেন: (আর ‘হাযর’ মানে কোনো কিছুতে বাধা দেওয়া। সুতরাং ‘মাহযুর’ হলো যা থেকে শরীয়ত বাধা দিয়েছে। এর মূল অর্থ হলো বাধা প্রদান। আর এই মূল থেকেই বেড়া দানকারীকে ‘মুহতাযির’ বলা হয়; যখন সে তার উট বা আসবাবপত্রের চারপাশে সাধারণভাবে কাঁটাযুক্ত ঝোপঝাড়—(এক প্রকার কাঁটাযুক্ত গাছ)—দিয়ে বেষ্টনী বা বাধা তৈরি করে। আর গোয়াল বা ঘেরাও করা স্থানকে এই বাধা প্রদানের অর্থ থেকেই ‘হাযীরাহ’ নামকরণ করা হয়েছে)।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই বাণী যা দুই ইমাম (বুখারী ও মুসলিম) নুমান বিন বশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন: (নিশ্চয়ই প্রত্যেক রাজার একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকে, আর জেনে রাখো যে, জমিনে আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ)। এর অর্থ হলো, আরবের রাজাগণ এবং অন্যদের প্রত্যেকেরই একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকত যা তারা সাধারণ মানুষের জন্য সংরক্ষিত রাখত এবং সেখানে প্রবেশ করতে বাধা দিত। সুতরাং যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করত, সে শাস্তির সম্মুখীন হত। আর যে ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত, সে তাতে পড়ে যাওয়ার ভয়ে সেই সংরক্ষিত এলাকার নিকটবর্তী হত না। আর মহান আল্লাহরও সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে, আর তা হলো তাঁর হারাম বা নিষিদ্ধকৃত বিষয়সমূহ; অর্থাৎ সেই সব পাপ যা আল্লাহ হারাম করেছেন। যেমন: হত্যা, ব্যভিচার, চুরি, সচ্চরিত্রবানকে অপবাদ দেওয়া, মদ্যপান, মিথ্যা বলা, গীবত (পরনিন্দা), চোগলখুরি, অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ করা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। এই সব কিছুই মহান আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা। যে ব্যক্তি কোনো পাপে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে এতে প্রবেশ করবে, সে শাস্তির যোগ্য হবে। আর যে এর ধারেকাছে যাবে, সম্ভাবনা রয়েছে যে সে তাতে লিপ্ত হয়ে যাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করবে, সে এর নিকটবর্তী হবে না এবং এমন কোনো কিছুর সাথে জড়াবে না যা তাকে গুনাহের দিকে নিয়ে যায়। ফলে সে কোনো প্রকার সন্দেহযুক্ত বিষয়ের মধ্যেও প্রবেশ করবে না।
পারিভাষিক অর্থে তাহরীমের সংজ্ঞা:তাহরীম হলো: (শারীআহ প্রবর্তকের পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ)।
আমাদের বক্তব্য: (বিরত থাকার নির্দেশ) দ্বারা ঐসব বিষয় বের হয়ে গেছে যার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যেমন—মানদুব (পছন্দনীয়) এবং ওয়াজিব (আবশ্যক)। আর যা স্বয়ং সত্তাগতভাবে কোনো আদেশ বা নিষেধের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় তা-ও বের হয়ে গেছে, যেমন—মুবাহ (বৈধ)।
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقولنا: (على وجه الإلزام) أخرج المكروه؛ لأن النهي عنه ليس على سبيل الحتم واللزوم كما سيأتي.
المحرم يثاب تاركه امتثالاً ويستحق العقاب فاعله.
التحريم لا يثاب تاركه مطلقا ولكن يثاب إن تركه امتثالا. ولا نجزم بعقاب فاعله فقد لا يعاقب ويغفر الله له إن شاء (إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ) [النساء: 48، 117].
فائدة.
قد يترك المكلف فعل المحرم ويعاقب، وقد يتركه ولا يثاب ولا يعاقب، وقد يتركه ويثاب:
أما الأول - فإن تركه عجزا كما قال النبي صلى الله عليه وسلم فيما رواه ابن ماجه وأحمد وغيرهما من حديث أبي كبشة الأنماري رضي الله عنه (مثل هذه الأمة مثل أربعة نفر رجل آتاه الله مالا وعلما فهو يعمل به في ماله فينفقه في حقه ورجل آتاه الله علما ولم يؤته مالا فهو يقول لو كان لي مثل ما لهذا عملت فيه مثل الذي يعمل قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فهما في الأجر سواء ورجل آتاه الله مالا ولم يؤته علما فهو يخبط فيه ينفقه في غير حقه ورجل لم يؤته الله مالا ولا علما فهو يقول لو كان لي مال مثل هذا عملت فيه مثل الذي يعمل قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فهما في الوزر سواء) (1) وأيضا كمن سعي في طريق المعصية ولكنه حال بينه وبين فعلها حائل وهكذا.
وأما الثاني - كمن ترك فعله غافلا فلم يطرأ على باله مطلقا كرجل مشغول في دنياه فما فكر في يوم أن يشرب الخمر، أو إنه ما يعرف شيئا عن هذه المعصية فلم تطرأ على باله فهذا لا يثاب ولا يعاقب.
وأما الثالث فهي الحالة العامة ويشترط أن يتركه امتثالا.
--------------------------------------------
এবং আমাদের কথা: (বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে) এটি মাকরূহকে বাদ দেয়; কারণ মাকরূহ থেকে নিষেধ করাটা আবশ্যকীয় বা অনিবার্য পন্থায় নয়, যেমনটা সামনে আসবে।
হারাম হলো যা বর্জনকারী আনুগত্যের উদ্দেশ্যে বর্জন করলে সওয়াব লাভ করে এবং সম্পাদনকারী শাস্তির যোগ্য হয়.
হারাম বর্জনকারী নিরঙ্কুশভাবে সওয়াব পায় না, বরং সে তখনই সওয়াব পায় যদি সে তা আনুগত্যের উদ্দেশ্যে বর্জন করে। আর আমরা এর সম্পাদনকারীর শাস্তির ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে কিছু বলি না, কেননা তাকে শাস্তি নাও দেওয়া হতে পারে এবং আল্লাহ চাইলে তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না এবং এছাড়া অন্যান্য গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন) [নিসা: ৪৮, ১১৭]।
বিশেষ জ্ঞাতব্য.
কখনো কখনো মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) হারাম কাজ বর্জন করা সত্ত্বেও শাস্তিপ্রাপ্ত হতে পারে; আবার কখনো তা বর্জন করে কিন্তু সওয়াবও পায় না, শাস্তিও পায় না; আবার কখনো তা বর্জন করে এবং সওয়াব পায়:
প্রথমটি হলো - যদি সে অক্ষমতার কারণে তা বর্জন করে। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে মাজাহ, আহমাদ এবং অন্যান্যদের বর্ণিত আবু কাবশাহ আল-আনমারি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে বলেছেন: (এই উম্মতের উদাহরণ হলো চার ব্যক্তির ন্যায়। এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ ও জ্ঞান দান করেছেন, সে তার সম্পদ অনুযায়ী আমল করে এবং তা হকের পথে ব্যয় করে। আরেক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ জ্ঞান দান করেছেন কিন্তু সম্পদ দেননি, সে বলে: যদি আমার কাছে অমুকের মতো সম্পদ থাকতো তবে আমি তার মতোই আমল করতাম। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সওয়াবের ক্ষেত্রে তারা উভয়ে সমান। আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু জ্ঞান দেননি, সে তার সম্পদে বিচার-বুদ্ধিহীনভাবে চলে এবং তা অন্যায্য পথে ব্যয় করে। আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ ও জ্ঞান কোনটিই দেননি, সে বলে: যদি আমার কাছে অমুকের মতো সম্পদ থাকতো তবে আমিও তার মতো আমল করতাম। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: গুনাহর ক্ষেত্রে তারা উভয়ে সমান।) (১) আর অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি পাপের পথে চেষ্টা করেছে কিন্তু কোনো প্রতিবন্ধক তার ও সেই পাপের কাজের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তার অবস্থাও এমন।
দ্বিতীয়টি হলো - যেমন যে ব্যক্তি উদাসীনতার কারণে তা বর্জন করেছে এবং বিষয়টি তার মনেই আসেনি। যেমন এক ব্যক্তি তার দুনিয়াবি কাজে এমন ব্যস্ত যে, সে কোনোদিন মদ পান করার কথা চিন্তাই করেনি; অথবা সে এই পাপ সম্পর্কে কিছুই জানে না, ফলে এটি তার মনেই আসেনি। এমন ব্যক্তি সওয়াবও পাবে না, শাস্তিও পাবে না।
তৃতীয়টি হলো সাধারণ অবস্থা এবং এতে শর্ত হলো যে, সে তা আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে বা আনুগত্যের উদ্দেশ্যে বর্জন করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أسماؤه:قال ابن النجار في "شرح الكوكب" (1/ 386): ("ويسمى" الحرام "محظورا وممنوعا ومزجورا ومعصية وذنبا وقبيحا وسيئة وفاحشة وإثما وحرجا وتحريجا وعقوبة". فتسميته محظورا من الحظر. وهو المنع. فيسمى الفعل بالحكم المتعلق به، وتسميته معصية للنهي عنه، وذنبا لتوقع المؤاخذة عليه، وباقي ذلك لترتبها على فعله).
وسوف يأتي - بإذن الله - في باب الفاسد، وباب النهي متعلقات كثيرة وهامة للمحرم.
তাঁর নামসমূহ:ইবনে আন-নাজ্জার "শারহুল কাওকাব" (১/ ৩৮৬) গ্রন্থে বলেন: ("হারাম"-কে নিষিদ্ধ, বারিত, প্রতিরুদ্ধ, নাফরমানি, গুনাহ, মন্দ, পাপ, অশ্লীলতা, অপরাধ, সংকীর্ণতা, কঠিনতা এবং শাস্তি বলা হয়। একে 'নিষিদ্ধ' বলা হয়েছে 'হাযর' থেকে, যার অর্থ হলো নিষেধ করা। সুতরাং সংশ্লিষ্ট বিধানের প্রেক্ষিতে কাজটির নামকরণ করা হয়েছে। একে 'নাফরমানি' বলা হয়েছে যেহেতু তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, আর 'গুনাহ' বলা হয়েছে যেহেতু এর কারণে জবাবদিহিতার আশঙ্কা থাকে; আর অবশিষ্ট নামগুলো কাজটির উপর সেগুলোর পরিণাম প্রতিফলিত হওয়ার কারণে রাখা হয়েছে)।
আল্লাহর ইচ্ছায়—বাতিল সংক্রান্ত অধ্যায় এবং নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত অধ্যায়ে হারাম সংশ্লিষ্ট আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الكراهة
تعريف الكراهة لغة:الكراهة لغة: البغض.
قال الشيخ الشنقيطي في " المذكرة" (ص / 18): (والمكروه في اللغة اسم مفعول كرهه إذا أبغضه ولم يحبه، فكل بغيض إلى النفوس فهو مكروه في اللغة، ومنه قوله تعالى: (كُلُّ ذَلِكَ كَانَ سَيِّئُهُ عِنْدَ رَبِّكَ مَكْرُوهًا) [الإسراء: 38] وقول عمرو بن الأطانبة:
واقدامى على المكروه نفسى
… وضربى هامة البطل المشيح).
قال الشيخ العثيمين رحمه الله في شرح الأصول (ص/61): (المكروه اسم مفعول من كره بمعنى أبغض، ومنه قوله تعالى: (وَلَكِنْ كَرِهَ اللَّهُ انْبِعَاثَهُمْ فَثَبَّطَهُمْ) يعني: أبغضهم، فهو إذا في اللغة: المبغض سواء كان عينا أو وصفا أو عملا، فأي شيء تبغضه فهو مكروه عندك).
تعريف الكراهة اصطلاحاً:الكراهة هي: (نهي الشارع لا على وجه الإلزام).
قولنا: (نهي) خرج ما أمر به كالمندوب والواجب، وما لا يتعلق به أمر ولا نهي لذاته كالمباح.
وقولنا: (لا على وجه الإلزام) أخرج المحرم؛ لأن النهي عنه على سبيل الحتم واللزوم.
المكروه يثاب تاركه امتثالاً، ولا يعاقب فاعله.
قال ابن النجار في "شرح الكوكب" (1/ 420) ما مختصره: ((ويقال لفاعله) أي فاعل المكروه (مخالف، ومسيء، وغير ممتثل) مع أنه لا يذم فاعله، ولا يأثم على الأصح. وظاهر كلام بعضهم: تختص الإساءة بالحرام. فلا يقال: أساء إلا لفعل محرم).
মাকরুহ
শাব্দিক অর্থে মাকরুহ-এর সংজ্ঞা:শাব্দিক অর্থে মাকরুহ হলো: ঘৃণা বা অপছন্দ করা।
শায়খ শানকীতি 'আল-মুযাক্কিরাহ' (পৃষ্ঠা: ১৮) গ্রন্থে বলেছেন: (শাব্দিক অর্থে মাকরুহ শব্দটি ইসমে মাফউল, যা ‘কারাহা’ ধাতু থেকে এসেছে যখন কেউ কিছুকে ঘৃণা করে এবং তা পছন্দ করে না। সুতরাং যা কিছু মনের কাছে ঘৃণ্য, আভিধানিক অর্থে তাই মাকরুহ। মহান আল্লাহর বাণী এর অন্তর্ভুক্ত: "এগুলোর মধ্যে যা মন্দ তা তোমার প্রতিপালকের নিকট ঘৃণ্য।" [সূরা বনী ইসরাঈল: ৩৮] এবং আমর ইবনুল আতানাবার উক্তি:
অপছন্দনীয় বিপদের মুখে আমার নফসকে ঠেলে দেওয়া
… এবং সাহসী বীরের মস্তকে আমার আঘাত করা)।
শায়খ উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) 'শারহুল উসুল' (পৃষ্ঠা: ৬১) গ্রন্থে বলেছেন: (মাকরুহ শব্দটি 'কারাহা' থেকে ইসমে মাফউল যার অর্থ ঘৃণা করা। মহান আল্লাহর বাণী এর অন্তর্ভুক্ত: "কিন্তু আল্লাহ তাদের অভিযানে বের হওয়া অপছন্দ করলেন, ফলে তিনি তাদের নিবৃত্ত করলেন" অর্থাৎ: তিনি তাদের অপছন্দ করলেন। সুতরাং আভিধানিক অর্থে মাকরুহ হলো: যা অপছন্দনীয়, চাই তা কোনো সত্তা হোক বা গুণ হোক কিংবা কাজ। অতএব তোমার কাছে যা কিছু অপছন্দনীয়, তাই তোমার নিকট মাকরুহ)।
পারিভাষিক অর্থে মাকরুহ-এর সংজ্ঞা:মাকরুহ হলো: (শরিয়ত প্রণেতা কর্তৃক কোনো কাজ থেকে এমন নিষেধ যা বাধ্যতামূলক নয়)।
আমাদের উক্তি: (নিষেধ) দ্বারা সেই সব বিষয় বের হয়ে গেছে যার আদেশ দেওয়া হয়েছে যেমন মানদুব এবং ওয়াজিব, এবং যাতে মূলত কোনো আদেশ বা নিষেধ সংশ্লিষ্ট নয় যেমন মুবাহ।
এবং আমাদের উক্তি: (বাধ্যতামূলক নয়) দ্বারা হারাম বের হয়ে গেছে; কারণ হারামের নিষেধ অমোঘ ও বাধ্যতামূলক পদ্ধতিতে হয়ে থাকে।
মাকরুহ এমন কাজ যা আনুগত্যের উদ্দেশ্যে বর্জনকারী সওয়াব পায়, কিন্তু সম্পাদনকারী শাস্তি পায় না।
ইবনু নাজ্জার 'শারহুল কাওকাব' (১/৪২০) গ্রন্থে সংক্ষেপে বলেছেন: ((এর সম্পাদনকারীকে বলা হয়) অর্থাৎ মাকরুহ সম্পাদনকারীকে (বিরুদ্ধাচরণকারী, অসদাচরণকারী এবং নির্দেশ অমান্যকারী) যদিও এর সম্পাদনকারী নিন্দিত হয় না এবং সঠিক মতানুসারে সে পাপীও হয় না। কারো কারো বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হলো: অসদাচরণ বিষয়টি হারামের সাথে নির্দিষ্ট। সুতরাং হারাম কাজ করা ব্যতীত কাউকে অসদাচরণকারী বলা যাবে না)।
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فائدة:قال ابن النجار في "شرح الكوكب" (1/ 418) ما مختصره: ((وهو) أي المكروه (في عرف المتأخرين: للتنزيه) يعني أن المتأخرين اصطلحوا على أنهم إذا أطلقوا الكراهة، فمرادهم التنزيه، لا التحريم، وإن كان عندهم لا يمتنع أن يطلق على الحرام، لكن قد جرت عادتهم وعرفهم: أنهم إذا أطلقوه أرادوا التنزيه لا التحريم. وهذا مصطلح لا مشاحة فيه.
(ويطلق) المكروه (على الحرام) وهو كثير في كلام الإمام أحمد رضي الله تعالى عنه وغيره من المتقدمين. - (وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَامٌ) [النحل: 116]-.
ومن كلامه " أكره المتعة، والصلاة في المقابر " وهما محرمان، لكن لو ورد عن الإمام أحمد الكراهة في شيء من غير أن يدل دليل من خارج على التحريم ولا على التنزيه: فللأصحاب فيها وجهان.
أحدهما - واختاره الخلال وصاحبه عبد العزيز وابن حامد وغيرهم - أن المراد التحريم.
والثاني - واختاره جماعة من الأصحاب - أن المراد التنزيه.
ومن كلام أحمد " أكره النفخ في الطعام، وإدمان اللحم والخبز الكبار " وكراهة ذلك للتنزيه.
وقد ورد المكروه بمعنى الحرام في قوله تعالى: (كُلُّ ذَلِكَ كَانَ سَيِّئُهُ عِنْدَ رَبِّكَ مَكْرُوهًا) [الإسراء: 38].
জ্ঞাতব্য:ইবনে আন-নাজ্জার "শারহুল কাওকাব" (১/৪১৮) গ্রন্থে সংক্ষিপ্তাকারে বলেন: ((এটি) অর্থাৎ মাকরূহ (পরবর্তী আলিমগণের পরিভাষায়: তানজিহী বা অপছন্দনীয়তার অর্থে ব্যবহৃত হয়)। অর্থাৎ পরবর্তী আলিমগণ এই পরিভাষার ওপর একমত হয়েছেন যে, যখন তাঁরা সাধারণভাবে 'মাকরূহ' শব্দ ব্যবহার করেন, তখন তাঁদের উদ্দেশ্য হয় তানজিহী (অপছন্দনীয়), তাহরীমী (হারাম) নয়। যদিও তাঁদের নিকট এটি হারামের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করাও অসম্ভব নয়, তবে তাঁদের অভ্যাস ও কর্মপদ্ধতি এমনভাবে প্রচলিত হয়েছে যে, যখন তাঁরা এটি সাধারণভাবে ব্যবহার করেন, তখন তার দ্বারা তানজিহী উদ্দেশ্য নেন, তাহরীমী নয়। আর এটি এমন একটি পরিভাষা যাতে কোনো বিবাদের অবকাশ নেই।
মাকরূহ শব্দটি (হারামের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়); আর ইমাম আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) এবং পূর্ববর্তী অন্যান্য আলিমগণের বক্তব্যে এর প্রয়োগ প্রচুর। - (তোমাদের জিহ্বা যে মিথ্যা বর্ণনা করে, তার ভিত্তিতে তোমরা বলো না যে—এটি হালাল এবং এটি হারাম) [আন-নাহল: ১১৬]-।
তাঁর বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত হলো, "আমি মুতআ এবং কবরস্থানে সালাত আদায় করা অপছন্দ করি।" অথচ এ দুটি বিষয়ই হারাম। তবে যদি ইমাম আহমাদ থেকে কোনো বিষয়ে 'মাকরূহ' শব্দ বর্ণিত হয় এবং সেখানে হারাম হওয়া বা তানজিহী (অপছন্দনীয়) হওয়ার ওপর বাহ্যিক কোনো দলীল না থাকে, তবে এ ক্ষেত্রে তাঁর অনুসারীগণের দুটি অভিমত রয়েছে।
প্রথমটি - যা আল-খাল্লাল, তাঁর সঙ্গী আব্দুল আজিজ, ইবনে হামিদ এবং অন্যান্যরা গ্রহণ করেছেন - তা হলো, এর দ্বারা হারাম হওয়া উদ্দেশ্য।
দ্বিতীয়টি - যা একদল আলিম পছন্দ করেছেন - তা হলো, এর দ্বারা তানজিহী বা অপছন্দনীয় হওয়া উদ্দেশ্য।
ইমাম আহমাদের বক্তব্যের আরও উদাহরণ হলো, "আমি খাবারে ফুঁ দেওয়া এবং সর্বদা গোশত খাওয়া ও বড় আকারের রুটি খাওয়া অপছন্দ করি।" আর এখানে অপছন্দনীয়তা দ্বারা তানজিহী উদ্দেশ্য।
মহান আল্লাহর বাণীতে 'মাকরূহ' শব্দটি হারামের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: (এসবের মধ্যে যা মন্দ, তা তোমার রবের নিকট ঘৃণ্য) [আল-ইসরা: ৩৮]।
(খণ্ড: ১)
আল মুতাসার মিন শারহি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الإباحة
تعريف الإباحة لغة:الإباحة لغة: الإعلان والإذن.
قال المرداوي في "التحبير" (3/ 1019): ({المباح لغة: المعلن والمأذون}. والإباحة مأخوذة من مادة (الاتساع)، ومنه: باحة الدار، أي: ساحتها. قال ابن قاضي الجبل: (المباح لغة: المعن والمأذون، أخذا من الإباحة، وهي الإظهار والإعلان، ومنه: باح بسره) انتهى. ومنه: أبحت له الشيء، أي: أطلقه له. وقال الطوفي في ' شرحه ': (هو مشتق من الإباحة، وهي: الإظهار، وقيل: من باحة الدار، وهي: ساحتها، وفيه معنى السعة وانتفاء العائق) انتهى) (1).
تعريف الإباحة اصطلاحاً:الإباحة اصطلاحاً هي: (خطاب الشارع بالتخيير بين الفعل والترك من غير بدل).
شرح التعريف:
صدرت التعريف بأنه خطاب الشارع لأمرين:
الأول- مشيا على طريقة الأصوليين في تعريف الحكم الشرعي بأنه نفس الخطاب.
الثاني - لإخراج الإباحة العقلية، فإنها غير منسوبة للشرع، والإباحة العقلية هي البراءة الأصلية، وهي الحكم قبل ورود الشرع، ورفعها لا يكون نسخا، فتحريم الربا لم يكن ناسخا لإباحته في أول الإسلام؛ لأنه إباحته كانت عقلية لا شرعية.
وقولنا: (من غير بدل) ليخرج الواجب الموسع (2) في أول الوقت، والواجب المخير (3).
--------------------------------------------
বৈধতা (ইবাহাহ)
শাব্দিক অর্থে ইবাহাহ-এর সংজ্ঞা:শাব্দিক অর্থে ইবাহাহ হলো: ঘোষণা করা এবং অনুমতি প্রদান করা।
আল-মারদাওয়ি "আত-তাহবীর" (৩/ ১০১৯) গ্রন্থে বলেন: ({শাব্দিক অর্থে মুবাহ হলো: যা ঘোষিত এবং অনুমতিপ্রাপ্ত}। ইবাহাহ শব্দটি (প্রশস্ততা) শব্দমূল থেকে গৃহীত, যা থেকে ‘বাহাতুদ দার’ বা বাড়ির প্রশস্ত চত্বর কথাটি এসেছে। ইবনে কাদি আল-জাবাল বলেন: (শাব্দিক অর্থে মুবাহ হলো: যা প্রকাশ করা হয়েছে এবং যার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটি ‘ইবাহাহ’ শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ হলো প্রকাশ করা ও ঘোষণা করা; এখান থেকেই বলা হয়: ‘সে তার গোপন বিষয় প্রকাশ (বাহা) করে দিয়েছে’)। এর থেকে আরও এসেছে: ‘আমি তার জন্য বিষয়টি মুবাহ (উন্মুক্ত) করে দিয়েছি’। আত-তুফি তার ‘শারহ’ গ্রন্থে বলেন: (এটি ‘ইবাহাহ’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ: প্রকাশ করা। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি ‘বাহাতুদ দার’ বা বাড়ির আঙিনা থেকে এসেছে। এর মাঝে প্রশস্ততা এবং প্রতিবন্ধকতা না থাকার অর্থ বিদ্যমান)) (১)।
পারিভাষিক অর্থে ইবাহাহ-এর সংজ্ঞা:পারিভাষিক অর্থে ইবাহাহ হলো: (শরীয়ত প্রণেতার এমন সম্বোধন যা কোনো বিনিময় ছাড়াই কোনো কাজ করা বা বর্জন করার ব্যাপারে ইচ্ছাধিকার প্রদান করে)।
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞার শুরুতে একে ‘শরীয়ত প্রণেতার সম্বোধন’ বলা হয়েছে দুটি কারণে:
প্রথম- উসুলবিদদের অনুসৃত পদ্ধতি অনুযায়ী শরয়ী বিধানের সংজ্ঞায় একে সরাসরি 'সম্বোধন' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
দ্বিতীয়- ‘যৌক্তিক বৈধতা’ (ইবাহাহ আকলিয়া)-কে এর থেকে বের করার জন্য; কারণ এটি শরীয়তের সাথে সম্পৃক্ত নয়। যৌক্তিক বৈধতা হলো ‘বারআত আসলিয়া’ (মূল দায়মুক্তি), যা শরীয়ত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের বিধান। আর এটি রহিত হওয়া ‘নাসখ’ (রহিতকরণ) হিসেবে গণ্য হয় না। ফলে ইসলামের শুরুতে সুদের যে বৈধতা ছিল, তার বিলোপ হওয়াকে নাসখ বলা হবে না; কারণ সেই বৈধতা ছিল যৌক্তিক, শরয়ী নয়।
এবং আমাদের বক্তব্য: (কোনো বিনিময় ছাড়াই) কথাটি সময়ের শুরুতে থাকা ‘ওয়াজিবে মুওয়াসসা’ (প্রশস্ত ওয়াজিব) এবং ‘ওয়াজিবে মুখাইয়ার’ (ঐচ্ছিক ওয়াজিব)-কে সংজ্ঞার বাইরে রাখার জন্য।
--------------------------------------------