(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المجالس الفقهية القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: المجالس الفقهية
المؤلف: هيثم بن فهد الرومي
الناشر: تكوين للدراسات والأبحاث - الرياض، السعودية
الطبعة: الأولى، 1437 هـ - 2016 م
عدد الصفحات: 272
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 ربيع الأول 1443
আল-মাজালিস আল-ফিকহিয়্যাহ বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ
গ্রন্থ: আল-মাজালিস আল-ফিকহিয়্যাহ
লেখক: হাইসাম বিন ফাহাদ আল-রুমি
প্রকাশক: তাকউইন ফর স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ - রিয়াদ, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৭ হিজরি - ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
إهداءإلى السمع والبصر:
{رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا}
উৎসর্গআমার শ্রবণ ও দৃষ্টির সমতুল্য (পিতামাতা)-র প্রতি:
{হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন, যেভাবে তাঁরা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন।}
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
استفتاح (اللَّهُمَّ إني أسألك الإيمان وحقائقه ووثائقه، وكريم ما مننت به عليَّ من الأعمال التي يُنال بها منك حسن الثواب، واجعلنا ممن يتقيك ويخافك ويرجوك ويستحييك، اللهم استرنا بالعافية). أيوب السختياني.
(حلية الأولياء، أبو نعيم/3/ 8)
(اللَّهُمَّ إني أسألك علم الخائفين لك، وخوف العالمين بك، ويقين المتوكلين عليك، وتوكل المؤمنين بك، وإنابة المخبتين إليك، وإخبات المنيبين إليك، وشكر الصابرين لك، وصبر الشاكرين لك، ونجاة الأحباء المرزوقين عندك). طلق بن حبيب.
(حلية الأولياء، أبو نعيم/3/ 63)
(اللَّهُمَّ اجعلنا من الذين غسلوا أوعية الجهل بصفو ماء الحياة في مسالك النعيم، حتى جالت في مجالس الذكر مع رطوبة ألسنة الذاكرين). ذو النون المصري.
(حلية الأولياء، أبو نعيم/9/ 358)
প্রারম্ভিকা (হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ঈমান, এর হাকীকত ও এর সুদৃঢ় ভিত্তি প্রার্থনা করছি; এবং আপনার পক্ষ থেকে প্রদানকৃত ঐ সকল আমলের শ্রেষ্ঠত্ব কামনা করছি যার মাধ্যমে আপনার নিকট থেকে উত্তম প্রতিদান লাভ করা যায়। আর আমাদের এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা আপনাকে ভয় করে, আপনাকে শঙ্কা করে, আপনার রহমতের আশা রাখে এবং আপনাকে লজ্জা পায়। হে আল্লাহ! আমাদের নিরাপত্তার চাদরে আবৃত রাখুন)। আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি।
(হিলয়াতুল আউলিয়া, আবু নুআইম/৩/ ৮)
(হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনাকে ভয়কারীদের জ্ঞান, আপনার সম্পর্কে প্রাজ্ঞদের ভয়, আপনার ওপর ভরসাকারীদের দৃঢ় বিশ্বাস, মুমিনদের আপনার প্রতি নির্ভরতা, বিনীতদের প্রত্যাবর্তন, প্রত্যাবর্তনকারীদের বিনয়, ধৈর্যশীলদের কৃতজ্ঞতা, কৃতজ্ঞদের ধৈর্য এবং আপনার নিকট রিজিকপ্রাপ্ত প্রিয় বান্দাদের মুক্তি প্রার্থনা করছি)। তালক ইবনে হাবিব।
(হিলয়াতুল আউলিয়া, আবু নুআইম/৩/ ৬৩)
(হে আল্লাহ! আমাদের সেই সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা জান্নাতের পথে জীবনের নির্মল পানি দিয়ে অজ্ঞতার পাত্রসমূহ ধৌত করেছে, এমনকি তা জিকিরকারীদের জিহ্বার আর্দ্রতার সাথে জিকিরের মজলিসসমূহে বিচরণ করেছে)। যুন-নুন আল-মিসরি।
(হিলয়াতুল আউলিয়া, আবু নুআইম/৯/ ৩৫৮)
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المقدمةالحمد لله الأكرم، الذي علم بالقلم، علَّم الإنسان ما لم يعلم، والصلاة والسلام على النبي الأعظم، والمعلم الأقدم، وعلى آله وصحبه وسلم، وبعد:
فإن في حفظ تاريخ أي علَّم عصمة له من الضياع، وصيانة له من أن تذهب رسومه وآدابه وتدرس مناهجه، ولعلوم الشريعة من ذلك الحظ الأوفى؛ لشدة ارتباطها بالهدي الأول وما كانت عليه القرون الفاضلة من الأحوال الكاملة في العلم والعمل والتربية والتعليم. وهذه الأحوال لم تزل تتناقص بمرور الأزمان وحلول الحوادث العظيمة التي تُذهل الكثير من الناس عن معاناتها وتكبد مشاقَّها، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((العبادة في الهرج كهجرة إلي))
(1). وقد عرض للأمة في تاريخها من الكوارث والنوازل الفادحة ما كان بقاء العلم معه كرامة من الله تعالى وآية على صدق الرسول صلى الله عليه وسلم. فحملات النصارى على الشام ومصر وفادحة التتار والاحتلال الأوروبي البغيض، وما صاحب ذلك من قتل للعلماء وتخريب للجوامع والمدارس والمكتبات وإتلاف للكتب ونهب للثروات العلمية وإخفائها، كلُّ ذلك كان له الأثر البالغ في مسيرة الحركة العلمية عند المسلمين.
ومن الجوانب التي نالها نصيب من هذا التأثر ما كانت عليه مجالس أهل العلم في هيئتها ورسومها واختلاف مقاماتها وأخلاق أهلها، وما يتبع
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিখিয়েছেন যা সে জানত না। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মহান নবী এবং আদি শিক্ষকের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর। অতপর:
বস্তুত যেকোনো বিদ্যার (علم) ইতিহাস সংরক্ষণ করা তাকে হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এবং তার ঐতিহ্য ও আদব বিলীন হওয়া কিংবা তার পদ্ধতিসমূহ মুছে যাওয়া থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। আর শরিয়াহর জ্ঞানসমূহের (علوم الشريعة) ক্ষেত্রে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে; কারণ ইসলামের আদি হেদায়েত এবং জ্ঞান, আমল, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা-দীক্ষায় পূর্ণতাপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ যুগগুলোর (القرون الفاضلة) অবস্থার সাথে এর গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। সময়ের আবর্তনে এবং বড় বড় ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই অবস্থাগুলো ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে, যা অনেক মানুষকে এর প্রতিকূলতা ও শ্রমসাধ্য সাধনা থেকে বিমুখ করে দেয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "বিশৃঙ্খলা বা ফিতনা-ফাসাদের (الهرج) সময় ইবাদত করা আমার দিকে হিজরত করার সমতুল্য"
(১)। উম্মতের ইতিহাসে এমন সব ভয়াবহ বিপর্যয় ও দুর্যোগ নেমে এসেছে যে, সেই পরিস্থিতিতেও জ্ঞানের (علم) টিকে থাকা ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ অনুগ্রহ এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্যতার এক নিদর্শন। শাম ও মিশরে খ্রিস্টানদের অভিযান, তাতারদের ভয়াবহতা এবং ঘৃণ্য ইউরোপীয় উপনিবেশ—আর এর সাথে সাথে আলেমদের হত্যা, মসজিদ, মাদ্রাসা ও লাইব্রেরি ধ্বংস করা, কিতাবপত্র নষ্ট করা এবং ইলমি সম্পদ লুণ্ঠন ও তা গোপন করে ফেলা—এই সবকিছুরই মুসলমানদের ইলমি আন্দোলনের অগ্রযাত্রায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল।
এর ফলে প্রভাবিত হওয়া দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আলেমদের মজলিসের রূপরেখা, বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন স্তরের মর্যাদা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শিষ্টাচার, আর যা এর অনুগামী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ذلك من طرائق نقل العلم وفهمه والمباحثة حوله والمناظرة فيه، فإن تلك المناهج كانت قريبة من أفهام المتقدمين لتلبسهم بها وكثرة مخالطتهم لأهلها، غير أن إلف المرء لعادته وعرف زمانه كثيرًا ما يذهله عن نقل ذلك لغيره. وقد أشار إمام الحرمين الجويني (ت 478 هـ) إلى هذا المعنى فقال: (ومعظم العمايات في مسائل الفقه من ترك الأولين تفصيل أمور كانت بيّنة عندهم).
(1) غير أن المتقدمين إن لم يصرّحوا بما كان جليًّا معلومًا فيهم، فإنه كثير وظاهر لمن استقرأ سيرهم وأخبارهم، وقد أبلت الأمة البلاء الحسن في حفظ تاريخ رجالها وأيامها ومدنها ودولها، مما لو جهد المتأخرون في دراسته وفهمه واستخراج ما فيه من العمق المعرفي والمنهجي لجاءوا بالشيء الكثير.
ولو نظرنا في المدونات العظيمة التي حفظ فيها العلماء تاريخ الأمة لألفيناها ملأي بما لم يبلغ المتأخرون بعده حدَّ النصيحة في استخراج مخبَّآته ومكنوناته. فكتاب كتاريخ دمشق للحافظ ابن عساكر (ت 571 هـ) الذي قال فيه الحافظ المنذري (ت 656 هـ): (ما أظن هذا الرجل إلا عزم على وضع هذا التاريخ من يوم عقل على نفسه، وشرع في الجمع من ذلك الوقت، وإلا فالعمر يقصر عن أن يجمع فيه الإنسان مثل هذا الكتاب بعد الاشتغال والتنبه)
(2)، فلو اجتمع النفر الجمُّ من الباحثين النابهين على استنطاق (نصوصه) الصامتة لطال حديثها، ولو تعاضد أهل التخصصات العلمية المختلفة وتعاونوا فيما بينهم على هذا الغرض لاختصروا الجهد والزمان، ولعادوا على العلم بما هو خير وأعظم نفعًا، فكم في تواريخ البلدان وطبقات العلماء من ذخائر لا يكاد الباحث في تاريخ العلم والفقه يهتدي إليها إلا بدلالة متخصص وإرشاد خبير. وواقع الدراسات الشرعية في الفقه وغيره شاهد بأن الغفلة عن مناهج الأوائل في رواية العلم ودراسته وتداوله وتدوينه، مما يستزل الباحث إلى طائفة من الأغلاط التي ما كان له أن يلابسها لو عرف مخارج الكلام ومداخله.
--------------------------------------------
এটি ইলম বা জ্ঞান স্থানান্তর, অনুধাবন এবং এ নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের অন্যতম একটি পদ্ধতি। কেননা সেই পদ্ধতিগুলো পূর্ববর্তীদের (المتقدمين) বোধগম্যের কাছাকাছি ছিল, কারণ তারা এগুলোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন এবং এগুলোর চর্চাকারীদের সাথে তাদের অধিক মেলামেশা ছিল। তবে একজন মানুষের নিজ অভ্যাস এবং নিজ সময়ের প্রথা ও রীতির সাথে অভ্যস্ততা অনেক সময় তাকে অন্যদের কাছে তা স্থানান্তর করা থেকে বিমুখ করে দেয়। ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনি (মৃ. ৪৭৮ হি.) এই অর্থের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: (ফিকহ শাস্ত্রের মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে অধিকাংশ অস্পষ্টতার কারণ হলো, পূর্ববর্তীরা এমন সব বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা ছেড়ে দিয়েছেন যা তাদের নিকট সুস্পষ্ট ছিল।)
(1) তবে পূর্ববর্তীরা (المتقدمين) যদি তাদের নিকট সুস্পষ্ট ও পরিচিত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ নাও করে থাকেন, তবুও যারা তাদের জীবনী ও ঘটনাবলি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন তাদের জন্য তা প্রচুর ও সুস্পষ্ট। আর এই উম্মত তার বর্ণনাকারীদের ইতিহাস, উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি, শহর এবং রাষ্ট্রগুলোর ইতিহাস সংরক্ষণে অত্যন্ত প্রশংসনীয় অবদান রেখেছে। যদি পরবর্তীরা (المتأخرون) সেই ইতিহাস অধ্যয়ন, অনুধাবন এবং তাতে বিদ্যমান জ্ঞানতাত্ত্বিক ও পদ্ধতিগত গভীরতা বের করে আনার জন্য পরিশ্রম করতেন, তবে তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে পারতেন।
আলেমগণ উম্মতের ইতিহাস সংরক্ষণে যে বিশাল সংকলনগুলো রচনা করেছেন, আমরা যদি সেগুলোর দিকে তাকাই, তবে আমরা সেগুলোকে এমন সব উপাদানে ভরপুর পাব যার গোপন ও সুপ্ত বিষয়গুলো উদ্ঘাটনের ক্ষেত্রে পরবর্তীরা (المتأخرون) এখনও পর্যন্ত পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে সবটুকু বের করে আনতে পারেননি। হাফেজ ইবনে আসাকির (মৃ. ৫৭১ হি.) রচিত 'তারিখে দামেস্ক' গ্রন্থের মতো একটি বই—যা সম্পর্কে হাফেজ আল-মুনজিরি (মৃ. ৬৫৬ হি.) বলেছেন: (আমার ধারণা, এই ব্যক্তি যখন থেকে নিজের বিচারবুদ্ধি লাভ করেছেন তখন থেকেই এই ইতিহাস রচনার সংকল্প করেছিলেন এবং সেই সময় থেকেই তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছিলেন; অন্যথায় জ্ঞানার্জন ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ততার পর একজন মানুষের জীবনের পরিধি এই প্রকারের একটি গ্রন্থ সংকলন করার জন্য অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত)
(2)। যদি একদল সচেতন গবেষক এর নীরব মূল পাঠ্যসমূহের (نصوص) রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করতেন, তবে তাদের আলোচনা দীর্ঘ হতো। আর যদি বিভিন্ন শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞরা এই উদ্দেশ্যে একে অপরের সাথে একতাবদ্ধ হতেন এবং পরস্পরকে সহযোগিতা করতেন, তবে তারা শ্রম ও সময় সাশ্রয় করতে পারতেন এবং জ্ঞানের জগতে আরও কল্যাণকর ও অধিকতর উপকারী অবদান রাখতে পারতেন। কারণ বিভিন্ন অঞ্চলের ইতিহাস এবং আলেমদের স্তরভিত্তিক জীবনীগ্রন্থে (طبقات) এমন সব অমূল্য সম্পদ রয়েছে যা একজন জ্ঞান ও ফিকহ শাস্ত্রের ইতিহাস অনুসন্ধানকারী বিশেষজ্ঞের দিকনির্দেশনা ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ ছাড়া খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ফিকহ ও অন্যান্য বিষয়ের শরয়ী গবেষণার বাস্তব চিত্র এই সাক্ষ্য দেয় যে, জ্ঞান বর্ণনা (رواية), অধ্যয়ন, প্রচার ও সংকলনের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের পদ্ধতি সম্পর্কে অসতর্কতা গবেষককে এমন কিছু ভুলের দিকে ঠেলে দেয়, যার সাথে তার লিপ্ত হওয়ার কথা ছিল না যদি তিনি বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও প্রয়োগক্ষেত্র সম্পর্কে জানতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وفي هذه الفصول حديث عن طائفة من الرسوم والآداب التي كان عليها واقع الحال في مجالس العلماء الفقهية في أمصار المسلمين المختلفة، وما كان لهم فيها من العادات والأعراف العلمية والعملية؛ لما في معرفة ذلك واستحضاره من المنفعة الكبيرة في التعامل مع كلام أهل العلم وحسن تفهمه وحمله على وجهه.
ثم إن الكلام سيجري في تمهيدين وستة فصول، فأما التمهيدان ففي مقصدين رئيسين هما مدار هذه الفصول وما بعدهما شارح لهما، فأما الأول منهما فما كانت عليه مجالس الفقه من الشأن العظيم في الأمة، وما كان للخاصة والعامة بها من العناية التامة والرعاية البالغة، وأما المقصد الثاني ففي تحصيل الفرق بين مجالس الفقه ومقاماته واختلاف أحوال الفقهاء في كل واحد منها، ولزوم مراعاة ذلك أثناء المجلس وبعده. وأما الفصول الستة ففي ستة مجالس، وهي مجلس التعليم، ومجلس القضاء، ومجلس الإفتاء، ومجلس المباحثة والمذاكرة، ومجلس المناظرة، ومجلس الوعظ، والكلام في كل مجلس منها يجري على ثلاثة أنحاء: طبيعة المجلس وغرضه، ثم وصفه، ثم فائدته وثمرته. وقد اجتهدت في اختصاره، إذ لم يكن الغرض في استيعاب الحديث عن هذه المجالس وأحوالها فلذلك شأن يطول، والحق أن كل واحد منها حقيق بالإفراد والاستقلال لاستيفاء الكلام فيه واستقصاء معانيه.
وبعد، فالحمد لله عدد ما ينعم علينا فنغفل عن ذكره وشكره، فله الفضل والمنة والمجد والثناء، وهو المسؤول أن يجعل نهمتنا في العلم كنهمتنا في الدنيا، وأن يصرف همتنا إلى ما هو خير لنا في عاقبة أمرنا.
ثم الشكر بعد موصول لأهل بيتي، ولكلَّ من أفادني بفائدة، أو انتفعت منه بنافعة، وأخصُّ منهم الشيخين الفاضلين والأخوين الكريمين: الدكتور خالد بن عبد العزيز السعيد، والدكتور حمد بن عثمان الجميل، فجزى الله الجميع عني كل خير، وأولاهم المثوبة والكرامة السابغة في الدنيا والآخرة.
এই অধ্যায়গুলোতে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন জনপদে আলেমদের ফিকহি (فقهي) মজলিসসমূহের রীতিনীতি ও শিষ্টাচারের বাস্তবতা এবং তাঁদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক অভ্যাস ও ঐতিহ্যের বর্ণনা রয়েছে। কেননা এ বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগতি ও যথাযথ ধারণা আলেমদের কথা ও বক্তব্যের সঠিক অনুধাবন এবং তা যথাযথ ক্ষেত্রে প্রয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
এরপর আলোচনাটি দুটি ভূমিকা এবং ছয়টি অধ্যায়ে পরিচালিত হবে। দুটি ভূমিকার উদ্দেশ্য মূলত দুটি প্রধান বিষয়কে কেন্দ্র করে, যা এই অধ্যায়গুলোর মূল ভিত্তি এবং পরবর্তী অংশ এর ব্যাখ্যাস্বরূপ। এর মধ্যে প্রথমটি হলো, উম্মাহর নিকট ফিকহি (فقهي) মজলিসসমূহের সুমহান মর্যাদা এবং বিশেষ ও সাধারণ উভয় শ্রেণির মানুষের কাছে এর প্রতি গভীর মনোযোগ ও গুরুত্ব। দ্বিতীয় উদ্দেশ্যটি হলো, ফিকহি (فقهي) মজলিস ও এর ধাপসমূহের মধ্যকার পার্থক্য এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে ফকিহদের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা, সেইসাথে মজলিস চলাকালীন ও তার পরবর্তী সময়ে এই ভিন্নতার প্রতি লক্ষ্য রাখার আবশ্যকতা। আর ছয়টি অধ্যায় ছয়টি মজলিস সংক্রান্ত; সেগুলো হলো: শিক্ষাদান (تعليم) মজলিস, বিচারিক (قضاء) মজলিস, ইফতা (إفتاء) মজলিস, মুবাহাসা (مباحثة) ও মুজাকারা (مذاكرة) মজলিস, মুনাজারা (مناظرة) মজলিস এবং ওয়ায-নসিহতের মজলিস। প্রতিটি মজলিস নিয়ে আলোচনা তিনটি দিক থেকে করা হয়েছে: মজলিসের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য, তার বর্ণনা এবং তার উপকারিতা ও ফলাফল। আমি তা সংক্ষেপ করার চেষ্টা করেছি, কারণ এই মজলিস ও এর অবস্থা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করা এখানে উদ্দেশ্য ছিল না, অন্যথায় বিষয়টি অনেক দীর্ঘ হয়ে যেত। বাস্তব কথা হলো, এই মজলিসগুলোর প্রতিটিই এর উপর পরিপূর্ণ ও বিস্তারিত আলোচনার জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ বা আলোচনার দাবি রাখে।
পরিশেষে, মহান আল্লাহর অগণিত শুকরিয়া, তিনি আমাদের প্রতি এতো নিয়ামত বর্ষণ করেন যা আমরা গণনা করে শেষ করতে পারি না এবং অনেক সময় তাঁর জিকির ও শুকরিয়া আদায়ে গাফেল থাকি। সকল অনুগ্রহ, মহিমা ও প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। তাঁর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন ইলমের প্রতি আমাদের আগ্রহকে দুনিয়াবি স্বার্থের আগ্রহের ন্যায় তীব্র করে দেন এবং আমাদের যাবতীয় প্রচেষ্টাকে পরকালের কল্যাণের দিকে ধাবিত করেন।
এরপর আমার কৃতজ্ঞতা আমার পরিবারের প্রতি এবং প্রত্যেকের প্রতি যারা আমাকে কোনোভাবে উপকৃত করেছেন বা যাদের নিকট থেকে আমি লাভবান হয়েছি। বিশেষভাবে উল্লেখ করছি দুই ফজিলতপূর্ণ শায়খ ও সম্মানিত দুই ভাই: ডক্টর খালিদ বিন আব্দুল আজিজ আস-সাঈদ এবং ডক্টর হামাদ বিন উসমান আল-জামিল। আল্লাহ তায়ালা তাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের অফুরন্ত সওয়াব ও পূর্ণ মর্যাদা দান করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تمهيد أولفي فضل مجالس الفقهقال الله جل جلاله: {وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ} [الكهف: 28].
روى الأوزاعي عن يحيي بن أبي كثير: مجالس الفقه.
(رياضة المتعلمين، ابن السني/191)
عن ابن عمر رضي الله عنه أنه قال: (مجلس فقه خير من عبادة ستين سنة).
(تذكرة السامع والمتكلم، ابن جماعة/ 36)
عن عبد الله بن أبي موسى التستري قال: قيل لي: (حيثما كنت فكن قرب فقيه).
(التاريخ الكبير، ابن أبي خيثمة/3/ 250)
قال سهل بن عبد الله: (من أراد أن ينظر إلى مجالس الأنبياء، فلينظر إلى مجالس العلماء).
(صفة الصفوة، ابن الجوزي/4/ 65)
عن سلمة بن سعيد قال: كان يقال: (العلماء سُرُجُ الأزمنة).
(الإبانة الكبرى، ابن بطة/1/ 57)
(وكان مجلسه-يعني: نظام الملك-عامرًا بالفقهاء والعلماء، بحيث يقضي معهم عامة أوقاته، فقيل له: إن هؤلاء قد شغلوك عن كثير من المصالح، فقال: هؤلاء جمال الدنيا والآخرة، ولو أجلستهم على رأسي ما استكثرت ذلك).
(البداية والنهاية، ابن كثير/16/ 126)
প্রথম উপক্রমনিকাফিকহ (فقه)-এর মজলিসসমূহের ফযিলত প্রসঙ্গেমহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে ধৈর্যশীল রাখুন, যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে।} [আল-কাহফ: ২৮]।
আওযায়ী ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির থেকে বর্ণনা করেছেন (روى): [এর দ্বারা উদ্দেশ্য] ফিকহ (فقه)-এর মজলিসসমূহ।
(রিয়াদাতুল মুতাআল্লিমিন, ইবনুস সুন্নি/১৯১)
ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: (ফিকহ (فقه)-এর একটি মজলিস ষাট বছরের ইবাদতের চেয়ে উত্তম)।
(তাজকিরাতুস সামি ওয়াল মুতাকাল্লিম, ইবনে জামাআহ/ ৩৬)
আবদুল্লাহ বিন আবি মুসা আত-তুস্তারি থেকে বর্ণিত (عن) তিনি বলেন, আমাকে বলা হয়েছে: (তুমি যেখানেই থাকো না কেন, কোনো ফকিহ (فقيه)-এর নিকটবর্তী থেকো)।
(আত-তারিখুল কাবির, ইবনে আবি খাইসামা/৩/ ২৫০)
সাহল বিন আবদুল্লাহ বলেন: (যে ব্যক্তি নবীদের মজলিস দেখতে চায়, সে যেন আলিমদের (علماء) মজলিসের দিকে তাকায়)।
(সিফাতুস সাফওয়া, ইবনুল জাওযি/৪/ ৬৫)
সালামা বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: বলা হতো: (আলিমগণ (علماء) হলেন যুগের প্রদীপ)।
(আল-ইবানাতুল কুবরা, ইবনে বাত্তাহ/১/ ৫৭)
(এবং তাঁর মজলিস—অর্থাৎ নিযামুল মুলকের মজলিস—ফকিহ (فقهاء) ও আলিমদের (علماء) দ্বারা পরিপূর্ণ থাকত, ফলে তিনি তাঁদের সাথে তাঁর সময়ের অধিকাংশ ব্যয় করতেন। তাঁকে বলা হলো: তাঁরা তো আপনাকে অনেক জনকল্যাণমূলক কাজ থেকে বিমুখ করে রাখছে। তিনি বললেন: তাঁরা দুনিয়া ও আখিরাতের সৌন্দর্য। আমি যদি তাঁদেরকে আমার মাথার ওপর বসাতাম, তবুও আমি সেটাকে যথেষ্ট মনে করতাম না)।
(আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির/১৬/ ১২৬)
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
تعظيم مجالس العلم واحتفال عامة الناس بها وعمارتهم لها أمارة على حياة الأمة واشتعال الروح فيها، وعند استقراء كلام أهل التاريخ والأخبار في وصف حلقات العلم في المساجد والمجالس المختلفة يتعجب المرء من ذلك، حتى لكأن الأمة كلها معنية بالعلم ومشتغلة به. حتى لقد قال الأحنف بن قيس (ت 67 هـ): (كاد العلماء أن يكونوا أربابًا)، قالها في قوم تشاجروا في مسجد البصرة، والمسجد مشحون برجالات العرب، فرضوا بالحسن البصري (ت 110 هـ) وتحاكموا إليه
(1). ومرَّ الحسن بأبي عمرو بن العلاء (ت 154 هـ)، وحلقته متوافرة والناس عكوف، فقال: من هذا؟ قالوا: أبو عمرو بن العلاء، فقال: (لا إله إلا الله، كاد العلماء أن يكونوا أربابًا)
(2).
من أجل ذلك كثرت الوصية بمجالسة العلماء ومزاحمة الناس عليهم وثني الركب بين أيديهم، وبيان أثر هذه المجالسة في صلاح العلم والعمل. وقد روى الشيخان عن أبي واقد الليثي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بينما هو جالس في المسجد والناس معه، إذ أقبل ثلاثة نفر، فأقبل اثنان إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وذهب واحد، قال: فوقفا على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأما أحدهما فرأى فرجة في الحلقة فجلس فيها، وأما الآخر فجلس خلفهم، وأما الثالث فأدبر ذاهبًا، فلما فرغ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((ألا أخبركم عن النفر الثلاثة؟ أما أحدهم فأوى إلى الله فآواه الله، وأما الآخر فاستحيا فاستحيا الله منه، وأما الآخر فأعرض فأعرض الله عنه))
(3).
وجاء في "موطأ الإمام مالك" من وصية لقمان الحكيم لابنه: (يا بني
--------------------------------------------
ইলম বা জ্ঞান মজলিসসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, সাধারণ মানুষের তাতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং এসব মজলিসকে প্রাণবন্ত রাখা উম্মাহর সজীবতা ও এতে আধ্যাত্মিক স্পৃহা জাগ্রত হওয়ার এক নিদর্শন। যখন মসজিদ ও বিভিন্ন মজলিসের ইলমি হালকাসমূহের (জ্ঞানের আসর) বিবরণে ইতিহাস ও সংবাদবেত্তাদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়, তখন যে কেউ এতে আশ্চর্যান্বিত হন; এমনকি মনে হয় যেন পুরো উম্মাহই ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তা নিয়েই ব্যাপৃত। এমনকি আহনাফ বিন কায়েস (মৃত্যু ৬৭ হিজরি) বলেছেন: "আলেমগণ যেন প্রায় রবের আসনে সমাসীন হতে চলেছেন"। তিনি এটি এমন এক দল লোক সম্পর্কে বলেছিলেন যারা বসরার মসজিদে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল, আর মসজিদটি তখন আরবদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গে পূর্ণ ছিল; তারা হাসান বসরীর (মৃত্যু ১১০ হিজরি) ওপর সন্তুষ্ট হয়েছিল এবং তাঁর নিকট ফয়সালা প্রার্থনা করেছিল
(১)। হাসান বসরী যখন আবু আমর ইবনে আল-আলা (মৃত্যু ১৫৪ হিজরি)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর হালকায় প্রচুর লোক ছিল এবং তারা নিবিষ্ট মনে নিবদ্ধ ছিল; তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "ইনি কে?" তারা বলল: "আবু আমর ইবনে আল-আলা"। তখন তিনি বললেন: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আলেমগণ যেন প্রায় রবের আসনে সমাসীন হতে চলেছেন"
(২)।
এ কারণেই আলেমদের সাহচর্যে বসা, মানুষের ভিড়ের মাঝেও তাঁদের নিকটবর্তী হওয়া এবং তাঁদের সামনে হাঁটু গেড়ে বসার ব্যাপারে প্রচুর অসিয়ত করা হয়েছে। সেই সাথে ইলম ও আমলের সংশোধনে এই সাহচর্যের প্রভাবও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) আবু ওয়াকিদ আল-লাইসি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মসজিদে উপবিষ্ট ছিলেন এবং মানুষ তাঁর সাথে ছিল, এমতাবস্থায় তিনজন ব্যক্তি সেখানে আগমন করল। তাদের দুইজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে এগিয়ে এলেন এবং একজন চলে গেল। বর্ণনাকারী বলেন: তারা দুইজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে এসে দাঁড়ালেন। তাদের একজন মজলিসে একটি ফাঁকা স্থান দেখতে পেয়ে সেখানে বসে পড়লেন। অন্যজন তাঁদের পেছনে বসলেন। আর তৃতীয়জন পিঠ ঘুরিয়ে চলে গেল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আলোচনা শেষ করলেন, তখন বললেন: ((আমি কি তোমাদের এই তিন ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তাদের একজন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইল, ফলে আল্লাহ তাকে আশ্রয় দান করলেন। দ্বিতীয়জন লজ্জাবোধ করল, ফলে আল্লাহও তার প্রতি লজ্জা (করুণা) প্রকাশ করলেন। আর তৃতীয়জন বিমুখ হলো, ফলে আল্লাহও তার থেকে বিমুখ হলেন))
(৩)।
ইমাম মালিকের মুয়াত্তায় লোকমান হাকীমের তাঁর পুত্রের প্রতি করা এক অসিয়তে এসেছে: (হে বৎস
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
جالس العلماء وزاحمهم بركبتيك، فإن الله تعالى يحيي القلوب بنور الحكمة، كما يحيي الأرض الميتة بوابل السماء)
(1)، وقال ابن مسعود رضي الله عنه: (المتقون سادة، والفقهاء قادة، ومجالستهم زيادة)
(2)، وقال أيضًا رضي الله عنه: (ثلاث من كن فيه ملأ الله قلبه إيمانًا: صحبة الفقيه، وتلاوة القرآن، والصيام)
(3)، ولما حضرت معاذًا رضي الله عنه الوفاة قال: (اللَّهُمَّ إنك تعلم أني لم أكن أحب الدنيا وطول البقاء فيها لجري الأنهار، ولا لغرس الأشجار، ولكن لظمأ الهواجر ومكابدة الساعات، ومزاحمة العلماء بالركب عند حلق الذكر)
(4)، وقال عمر بن عبد العزيز (ت 101 هـ): (لأن يكون لي مجلس من عبيد الله-يعني: ابن عبد الله بن عتبة-أحبُّ إليَّ من الدنيا)
(5).
ومن ثمَّ كانت هذه المجالس مهيبة معظمة، وكان لها رهبة وجلالة في بلاد الإسلام بأسرها، وكانت المدائن تزدان بها كما تزدان السماء بكواكبها السيارة وبنجومها، حتى غدت لأصحابها مناقبَ ولبلدانهم مفاخرَ فلكأن عين الشمس ما دارت على مثلها، وكثر في الناس وصفها وشرح هيئتها والسعادة بها والافتخار بشهودها والاشتياق إليها والتحسر على فقدها.
كان قاضي البصرة عبيد الله بن الحسن العنبري (ت 168 هـ) إذا جلس في مجلس القضاء يقضي بين الناس تمثَّل
(6):
لنا مجلس طيِّبٌ ريحه
… به الجلُّ والآس والياسمين
وقال أبو الفرج ابن الجوزي (ت 597 هـ) في وصف مجالسه ببغداد:
كم كان لي من مجلس لو شُبِّهت
… حالاته لتشبَّهت بالجنَّةِ
كم كان لي من مجلس لو شُبِّهت
… حالاته لتشبَّهت بالجنَّةِ
أشتاقه لما مضت أيامه
… عُطلًا وتُعذر ناقة إن حنَّتِ
--------------------------------------------
আলেমদের মজলিসে বসো এবং তোমার হাঁটু দিয়ে তাঁদের ভিড়ের মধ্যে প্রবেশ করো; কেননা আল্লাহ তাআলা হিকমতের নূর দিয়ে অন্তরসমূহকে জীবিত করেন, যেমন তিনি আকাশের প্রবল বৃষ্টি দিয়ে মৃত জমিনকে জীবিত করেন)
(১), এবং ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: (মুত্তাকিরা হলেন নেতা, আর ফকিহগণ হলেন পথপ্রদর্শক এবং তাঁদের মজলিসে বসা হলো এক বিশেষ পাওনা)
(২), তিনি (রা.) আরও বলেন: (তিনটি বিষয় যার মধ্যে থাকবে, আল্লাহ তার অন্তরকে ঈমান দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেবেন: ফকিহর সাহচর্য, কুরআন তিলাওয়াত এবং রোজা)
(৩), আর যখন মুয়াজ (রা.)-এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তিনি বললেন: (হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে, আমি দুনিয়াকে এবং এখানে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকাকে নদী প্রবাহিত করার জন্য বা বৃক্ষ রোপণের জন্য পছন্দ করিনি; বরং আমি তা পছন্দ করেছি দুপুরের প্রচণ্ড তৃষ্ণা সহ্য করার জন্য, ইবাদতে সময়ের কঠোর সাধনার জন্য এবং জিকিরের মজলিসে আলেমদের সাথে হাঁটু মিলিয়ে ভিড় করার জন্য)
(৪), এবং উমর বিন আব্দুল আজিজ (ওফাত ১০১ হিজরি) বলেন: (উবায়দুল্লাহ - অর্থাৎ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা - এর একটি মজলিসে উপস্থিত থাকতে পারা আমার কাছে দুনিয়ার চেয়েও বেশি প্রিয়)
(৫)।
ফলশ্রুতিতে এই মজলিসগুলো ছিল অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ ও সুমহান। সমগ্র ইসলামি ভূখণ্ডে এগুলোর এক বিশেষ প্রতাপ ও মাহাত্ম্য ছিল। আকাশ যেমন তার বিচরণশীল গ্রহ ও নক্ষত্ররাজি দিয়ে সুশোভিত হয়, নগরগুলোও এই মজলিসগুলোর মাধ্যমে সেভাবেই সৌন্দর্যমণ্ডিত হতো। এমনকি এগুলো এই মজলিস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য যেমন প্রশংসার কারণ হয়ে দাঁড়াল, তেমনি তাঁদের দেশগুলোর জন্যও গৌরবের বিষয়ে পরিণত হলো; মনে হয় যেন সূর্যের চোখ এর মতো আর কিছু দেখেনি। মানুষের মধ্যে এর গুণগান, এর অবস্থার বর্ণনা, এতে অংশগ্রহণের ফলে অর্জিত সুখ, উপস্থিতির জন্য গর্ব করা, এর প্রতি ব্যাকুল হওয়া এবং তা হারিয়ে যাওয়ায় আক্ষেপ করার ঘটনা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বসরার বিচারক উবায়দুল্লাহ বিন হাসান আল-আনবারি (ওফাত ১৬৮ হিজরি) যখন বিচারালয়ে মানুষের মাঝে বিচার করতে বসতেন, তখন তিনি কাব্য আবৃত্তি করতেন
(৬):
আমাদের একটি মজলিস রয়েছে যার ঘ্রাণ অতি উত্তম
… তাতে রয়েছে গোলাপ, সুগন্ধি লতা এবং জুঁই ফুল
এবং আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি (ওফাত ৫৯৭ হিজরি) বাগদাদে তাঁর মজলিসগুলোর বর্ণনায় বলেন:
আমার কত শত মজলিস ছিল যার অবস্থাকে যদি কারো সাথে তুলনা করা হতো
… তবে তা জান্নাতের সাথেই হতো
আমার কত শত মজলিস ছিল যার অবস্থাকে যদি কারো সাথে তুলনা করা হতো
… তবে তা জান্নাতের সাথেই হতো
দিনগুলো অতিবাহিত হওয়ার পর আমি সেগুলোর শূন্যতায় ব্যাকুল হই
… আর একটি উটনী যখন বিচ্ছেদে কাতর হয়ে রোদন করে, তখন তাকে ক্ষমা করাই সংগত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قال أبو شامة (ت 665 هـ): (أظن هذه الأبيات نظمها في أيام محنته إذ كان محبوسًا بواسط، فمعانيها دالة على ذلك).
ولما مات الموفق بن قدامة (ت 620 هـ) رثاه موسى بن خلف (ت 643 هـ) فقال:
وتعطَّلت تلك المجالس وانقضت
… تلك المحافل ليتها لو ترجع
(1) ولك أن تتصور مثلًا في نيسابور مجلسًا تدور دارته على كرسيٍّ عليه مثل أبي المعالي الجويني (ت 478 هـ)، وبين يديه من المعيدين أبو حامد الغزالي (ت 505 هـ) والكيا الهراسي (ت 504 هـ) وأمثالهما، فإذا تفهمت ذلك وتأملت الأثر الذي يحدثه مثل هذا المجلس، علمت سبب اشتهار قرى صغيرة حول نيسابور لكثرة من ينتسب من الفقهاء والعلماء إليها
(2). فلقد كان هؤلاء العلماء كالغيث الذي تحيا به البلاد، وكانت الأمصار تنتظم بهم، وتختل لفقدهم، وقد قال عمر رضي الله عنه لما خرج معاذ رضي الله عنه إلى الشام: (لقد أخلَّ خروجه بالمدينة وأهلها في الفقه وما كان يفتيهم به، ولقد كنت كلمت أبا بكر رحمه الله أن يحبسه لحاجة الناس إليه، فأبى عليَّ وقال: رجل أراد وجهًا يريد الشهادة فلا أحبسه، فقلت: والله إن الرجل ليرزق الشهادة وهو على فراشه وفي بيته، عظيم الغنى عن مصره)
(3)، وقال علي رضي الله عنه في أصحاب ابن مسعود رضي الله عليه في الكوفة: (أصحاب عبد الله سرج هذه القرية)
(4). ولما زار الأمير الموفق بالله العباسي (ت 278 هـ) الإمام الحافظ أبا داود صاحب السنن (ت 275 هـ) بعد إخماده لفتنة الزنج، سأله الانتقال إلى البصرة بعد خرابها، وقال له: (تنتقل إلى البصرة فتتخذها وطنًا؛ ليرحل إليك طلبة العلم من أقطار الأرض فتعمر بك، فإنها قد خربت وانقطع عنها الناس لما جرى من محنة الزنج)
(5). ولما
--------------------------------------------
আবু শামা (মৃত্যু ৬৬৫ হিজরি) বলেছেন: (আমি মনে করি এই পঙক্তিগুলো তিনি তাঁর পরীক্ষার দিনগুলোতে রচনা করেছিলেন যখন তিনি ওয়াসিতে বন্দি ছিলেন, কারণ এর অর্থগুলো সেই দিকেই ইঙ্গিত করে)।
যখন মুওয়াফ্ফাক বিন কুদামা (মৃত্যু ৬২০ হিজরি) ইন্তেকাল করেন, তখন মুসা বিন খালাফ (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি) তাঁর শোকগাথা গেয়ে বলেছিলেন:
সেই মজলিসগুলো অচল হয়ে গেছে এবং সেই সভাগুলো সমাপ্ত হয়েছে
… সেই আসরগুলো, আক্ষেপ! যদি সেগুলো ফিরে আসত
(১) আর আপনি উদাহরণস্বরূপ নিশাপুরে এমন একটি মজলিসের কথা কল্পনা করতে পারেন যার পরিধি আবর্তিত হতো এমন এক আসনের চারধারে যেখানে বসতেন আবুল মাআলি আল-জুওয়াইনি (মৃত্যু ৪৭৮ হিজরি)-র মতো ব্যক্তিত্ব, আর তাঁর সামনে পাঠ পুনরাবৃত্তিকারীদের মধ্যে থাকতেন আবু হামিদ আল-গাজালি (মৃত্যু ৫০৫ হিজরি), আল-কিয়া আল-হাররাসি (মৃত্যু ৫০৪ হিজরি) এবং তাঁদের সমগোত্রীয় ব্যক্তিবর্গ। আপনি যদি তা অনুধাবন করেন এবং এই ধরনের মজলিস যে প্রভাব সৃষ্টি করে তা চিন্তা করেন, তবে আপনি নিশাপুরের চারপাশের ছোট ছোট গ্রামগুলোর প্রসিদ্ধির কারণ জানতে পারবেন, যা সেখান থেকে আগত অসংখ্য ফকিহ ও আলেমদের সম্পর্কের কারণে হয়েছে
(২)। বস্তুত এই আলেমগণ ছিলেন সেই বৃষ্টির ন্যায় যার মাধ্যমে দেশ সজীবতা লাভ করে, আর শহরগুলো তাঁদের উপস্থিতিতে সুশৃঙ্খল থাকত এবং তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত। উমর (রা.) যখন মুয়াজ (রা.) সিরিয়ার অভিমুখে রওয়ানা হলেন তখন বলেছিলেন: (তাঁর চলে যাওয়া মদিনা ও এর অধিবাসীদের ফিকহ এবং তিনি তাদের যে ফতোয়া দিতেন তাতে শূন্যতা তৈরি করেছে। আমি আবু বকর (রহ.)-এর সাথে কথা বলেছিলাম যাতে মানুষের প্রয়োজনে তাঁকে আটকে রাখা হয়, কিন্তু তিনি আমার কথা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন: এমন একজন ব্যক্তি যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও শাহাদাত কামনা করেন, আমি তাঁকে আটকে রাখব না। তখন আমি বলেছিলাম: আল্লাহর কসম, একজন ব্যক্তি নিজের বিছানায় এবং নিজের ঘরে থেকেও শাহাদাত লাভে ধন্য হতে পারেন, অথচ তিনি নিজের শহরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিলেন)
(৩)। আলী (রা.) কুফায় ইবনে মাসউদ (রা.)-এর সঙ্গীদের সম্পর্কে বলেছিলেন: (আবদুল্লাহর সঙ্গীরা এই জনপদের প্রদীপ)
(৪)। যখন আব্বাসীয় আমির আল-মুওয়াফ্ফাক বিল্লাহ (মৃত্যু ২৭৮ হিজরি) জাঞ্জ বিদ্রোহ দমনের পর সুনান রচয়িতা ইমাম হাফেজ (حافظ) আবু দাউদ (মৃত্যু ২৭৫ হিজরি)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন, তখন তিনি তাঁকে ধ্বংসপ্রাপ্ত বসরায় চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং তাঁকে বলেন: (আপনি বসরায় স্থানান্তরিত হন এবং এটিকে নিজের আবাসস্থল বানিয়ে নিন; যাতে পৃথিবীর প্রান্তসমূহ থেকে ইলম অন্বেষণকারীরা আপনার কাছে আসতে পারে এবং আপনার মাধ্যমে এটি আবাদ হয়। কেননা জাঞ্জ বিদ্রোহের ফলে যা ঘটেছিল তাতে এটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মানুষ এখান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে)
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
همَّ عبد الله بن عضيب الناصري النجدي الحنبلي (ت 1161 هـ) بالخروج من عُنيزة لسبب اقتضى ذلك، قال له أميرها: (كُنَّا أمواتًا فأحيانا الله بك، ونحن محتاجون لعلمك وتعليمك، فكيف تفارقنا؟)
(1).
ولأجل هذا المعنى رأينا طوائف من أهل الضلال ممن قصدوا إلى اختلال أمور المسلمين يعمدون إلى فقهائهم وعلمائهم، فينالونهم بالأذى والقتل والتشريد، كما جرى من العبيديين لما ظهروا في بلاد المغرب فقتلوا ما لا يحصى من العلماء والفقهاء، ثم كانت تلك عادتهم في البلدان التي يتغلبون عليها، قال القاضي أبو بكر الباقلاني (ت 403 هـ) عن رئيسهم الباطني عبيد الله المتسمِّي بالمهدي (ت 322 هـ): (وكان باطنيًّا خبيثًا، حريصًا على إزالة ملة الإسلام. أعدم العلماء والفقهاء ليتمكن من إغواء الخلق)
(2)، وقال فيه أبو شامة (ت 665 هـ): (وكان زنديقًا خبيثًا عدوًّا للإسلام، متظاهرًا بالتشيع متسترًا به، حريصًا على إزالة الملة الإسلامية، قتل من الفقهاء والمحدثين والصالحين جماعة كثيرة، وكان قصده إعدامهم من الوجود)
(3)، وقال: (وكان يرسل إلى الفقهاء والعلماء فيذبحون في فرشهم)
(4)، بل ذكر أبو الحسن القابسي (ت 403 هـ) أن عبيد الله هذا وبنيه من بعده قتلوا في المهدية أربعة آلاف في
--------------------------------------------
আব্দুল্লাহ বিন উদাইব আন-নাসিরি আন-নাজদি আল-হাম্বলি (মৃ. ১১৬১ হি.) কোনো এক বিশেষ কারণে উনাইযা থেকে বের হওয়ার সংকল্প করলেন। তখন সেখানকার আমির তাকে বললেন: "আমরা মৃত ছিলাম, আল্লাহ আপনার মাধ্যমে আমাদের জীবিত করেছেন। আমরা আপনার জ্ঞান ও শিক্ষার মুখাপেক্ষী, সুতরাং আপনি কীভাবে আমাদের ছেড়ে যাবেন?"
(১)।
আর এই কারণেই আমরা পথভ্রষ্টদের এমন অনেক দলকে দেখি, যারা মুসলিমদের বিষয়াবলিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাদের ফকিহ ও আলেমদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। অতঃপর তারা তাদের কষ্ট দিয়ে, হত্যা করে এবং দেশান্তরিত করে আক্রমণ চালায়। যেমনটি উবাইদিদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল যখন তারা মাগরেব (উত্তর আফ্রিকা) অঞ্চলে আবির্ভূত হয়েছিল; তারা অসংখ্য আলেম ও ফকিহকে হত্যা করেছিল। অতঃপর যেসব জনপদ তারা জয় করত, সেখানে এটিই তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। কাজি আবু বকর আল-বাকিলানি (মৃ. ৪০৩ হি.) তাদের বাতিনি (باطني) প্রধান উবায়দুল্লাহ—যে নিজেকে মাহদি (মৃ. ৩২২ হি.) বলে পরিচয় দিত—তার সম্পর্কে বলেন: "সে ছিল এক পঙ্কিল বাতিনি (باطني), যে ইসলামি মিল্লাত মিটিয়ে দিতে উন্মুখ ছিল। সে আলেম ও ফকিহদের নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল যেন সৃষ্টিজগতকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায়"
(২)। আবু শামা (মৃ. ৬৬৫ হি.) তার সম্পর্কে বলেন: "সে ছিল এক পঙ্কিল যিনদিক (زنديق) এবং ইসলামের শত্রু। সে শিয়াতন্ত্রের আবরণে নিজেকে আড়াল করে তা প্রকাশ করত এবং ইসলামি মিল্লাতকে মিটিয়ে দিতে উন্মুখ ছিল। সে ফকিহ, মুহাদ্দিস (محدث) এবং পুণ্যবানদের এক বিশাল দলকে হত্যা করেছিল; তার উদ্দেশ্য ছিল তাদেরকে অস্তিত্বহীন করে দেওয়া"
(৩)। তিনি আরও বলেন: "সে ফকিহ ও আলেমদের কাছে লোক পাঠাত, অতঃপর তাদেরকে তাদের বিছানায় জবেহ করা হতো"
(৪)। এমনকি আবুল হাসান আল-কাবেসি (মৃ. ৪০৩ হি.) উল্লেখ করেছেন যে, এই উবায়দুল্লাহ এবং তার পরবর্তী বংশধরেরা মাহদিয়াতে চার হাজার মানুষকে হত্যা করেছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
العذاب من عالم وعابد ليردوهم عن الترضي عن الصحابة فاختاروا الموت
(1).
والمراد بيانه من مثل هذا أن هؤلاء الفقهاء والعلماء كان لهم الأثر الكبير في بقاء الإسلام ونشره، وأن مجالسهم العامرة في بث العلم وإحيائه وتعليم الناس وإفتائهم، كان لها بلاؤها في تثبيت الناس وحفظ أصول الديانة، ولذا فقد كانت تلك المجالس معظمة عند الخاصة والعامة، وكان يحضرها الفقهاء والأكابر، فكان ابن عمر رضي الله عنه يحضر مجلس عبيد بن عمير (ت 74 هـ)
(2)، وكان عمر بن عبد العزيز (ت 101 هـ) يجلس إلى قاصِّ العامة بعد الصلاة
(3)، وكان يحضر مجلس أبي حامد الإسفراييني (ت 406 هـ) ثلاثمائة فقيه
(4)، وكان الفقهاء يحضرون مجالس الموفق بن قدامة (ت 620 هـ)
(5)، وكان هو نفسه يحضر مجالس سبط ابن الجوزي (ت 654)
(6)، وحضر أبو إسحاق الشيرازي (ت 476 هـ) مجلس الوعظ لأبي القاسم القشيري (ت 514 هـ)
(7)، وكان لأبي عثمان الصابوني (ت 449 هـ) مجالس في التذكير يحضرها أبو إسحاق الإسفراييني (ت 418 هـ) وابن فورك (ت 406 هـ) وأبو الطيب الصعلوكي (ت 404 هـ)
(8)، وهذا أمر معروف مشهور.
وربما حضر الأكابر مجالس من هم في طبقة تلامذتهم، أو ألزموهم الدرس بحضرتهم على جهة الامتحان، كحضور جماعة من الفقهاء الكبار لأول مجلس لأبي الفرج بن الجوزي (ت 597 هـ) بعد أن أُذن له في الجلوس في جامع المنصور ببغداد
(9)، وكمُعمَّر بن يحيي السراج (ت 897 هـ) الذي ألزمه شيخه أن يدرس المنهاج بحضرته
(10)، والأمثلة في هذا ونحوه كثيرة يطول شرحها.
--------------------------------------------
আলিম ও আবিদগণের ওপর এমন নির্যাতন চালানো হয়েছিল যাতে তারা সাহাবায়ে কিরামের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ থেকে বিরত থাকেন, কিন্তু তারা মৃত্যুকে বেছে নিয়েছিলেন
(১)।
এ জাতীয় বর্ণনার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এটা স্পষ্ট করা যে, ইসলাম টিকে থাকা এবং এর প্রসারে এই ফকিহ ও আলিমগণের এক বিশাল ভূমিকা ছিল। জ্ঞান প্রচার, তা পুনরুজ্জীবিত করা, মানুষকে শিক্ষা প্রদান এবং ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের জনাকীর্ণ মজলিসগুলোর মানুষকে (দীনের ওপর) অবিচল রাখতে এবং ধর্মের মূলনীতিসমূহ সংরক্ষণে এক পরীক্ষিত অবদান ছিল। এ কারণেই সেই মজলিসগুলো বিশিষ্ট ও সাধারণ সকল শ্রেণির নিকট অত্যন্ত সম্মানিত ছিল। সেখানে ফকিহ ও বড় বড় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হতেন। ইবনে উমর (রা.) উবায়েদ বিন উমাইর (মৃত্যু: ৭৪ হি.)-এর মজলিসে উপস্থিত হতেন
(২)। উমর বিন আব্দুল আজিজ (মৃত্যু: ১০১ হি.) সালাতের পর সাধারণ ওয়ায়েজদের সাথে বসতেন
(৩)। আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনী (মৃত্যু: ৪০৬ হি.)-এর মজলিসে তিনশ জন ফকিহ উপস্থিত হতেন
(৪)। আল-মুওয়াফফাক ইবনে কুদামা (মৃত্যু: ৬২০ হি.)-এর মজলিসে ফকিহগণ উপস্থিত হতেন
(৫)। তিনি নিজেও সিবত ইবনুল জাওজি (মৃত্যু: ৬৫৪ হি.)-এর মজলিসে উপস্থিত হতেন
(৬)। আবু ইসহাক আল-শিরাজি (মৃত্যু: ৪৭৬ হি.) আবু কাসিম আল-কুশাইরি (মৃত্যু: ৫১৪ হি.)-এর ওয়ায মাহফিলে উপস্থিত হয়েছিলেন
(৭)। আবু উসমান আল-সাবউনি (মৃত্যু: ৪৪৯ হি.)-এর নসিহতের মজলিস ছিল, যেখানে আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনী (মৃত্যু: ৪১৮ হি.), ইবনে ফুরাক (মৃত্যু: ৪০৬ হি.) এবং আবু তাইয়্যিব আল-সালুকি (মৃত্যু: ৪০৪ হি.) উপস্থিত হতেন
(৮)। এটি একটি সুবিদিত ও প্রসিদ্ধ বিষয়।
কখনও কখনও প্রবীণ আলিমগণ তাদের ছাত্র পর্যায়ের স্তর (طبقة)-এর ব্যক্তিদের মজলিসে উপস্থিত হতেন, অথবা পরীক্ষার ছলে তাদের উপস্থিতিতে পাঠদানের নির্দেশ দিতেন। যেমন বাগদাদের জামে মানসুরে বসার অনুমতি পাওয়ার পর আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি (মৃত্যু: ৫৯৭ হি.)-এর প্রথম মজলিসে একদল প্রবীণ ফকিহ উপস্থিত হয়েছিলেন
(৯)। আবার মুয়াম্মার বিন ইয়াহিয়া আল-সাররাজ (মৃত্যু: ৮৯৭ হি.), যাকে তার উস্তাদ তার উপস্থিতিতেই ‘আল-মিনহাজ’ পড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন
(১০)। এই জাতীয় উদাহরণ আরও অনেক রয়েছে যা ব্যাখ্যা করতে গেলে দীর্ঘ হয়ে যাবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وكان الفقهاء يعظمون هذه المجالس بالطهارة لها والتطيب وأخذ الزينة.
قال الإمام مالك (ت 179 هـ): (ما أدركت فقهاء بلدنا إلا وهم يلبسون الثياب الحسان)
(1)، وقال إسماعيل بن أبي أويس (ت 226 هـ): سألت خالي مالكًا عن مسألة، فقال لي: قِرَّ، ثم توضأ، ثم جلس على السرير، ثم قال: لا حول ولا قوة إلا بالله. وكان لا يفتي حتى يقولها
(2). وكان البغوي (ت 516 هـ) لا يلقي الدرس إلا على طهارة
(3)، وما رويت الحديث، ولا عقدت المجلس، ولا قعدت للتدريس قط، إلا على الطهارة)
(4). وقال ابن جماعة (ت 733 هـ): (إذا عزم على مجلس التدريس تطهر من الحدث والخبث، وتنظف وتطيب، ولبس من أحسن ثيابه اللائقة به بين أهل زمانه، قاصدًا بذلك تعظيم العلم وتبجيل الشريعة)
(5).
وما كان لهذه المجالس أن يكون لها في الناس مثل هذا التعظيم والإجلال لولا ما عاينوا من آثارها الجميلة وثمارها، فلقد كان مثلها كمثل شجرة طيبة تؤتي أكلها كل حين بإذن ربها. وإذا كان لنا أن نجمل هذه الآثار فيمكن تلخيصها في أمور ثلاثة: بث العلم ونشره، وتربية الناس وتزكية أخلاقهم الظاهرة والباطنة، وحراسة الشريعة مما ليس منها، وبيان ذلك فيما يأتي وصفه:
1 - كانت هذه المجالس مراكز لبث علم الشريعة ونشره في الناس وتجديده والتذكير به، وتعاهد تلامذته، بحيث يتصل سند آخر هذه الأمة
--------------------------------------------
ফকিহগণ পবিত্রতা অর্জন, সুগন্ধি ব্যবহার এবং সৌন্দর্য ধারণের মাধ্যমে এই মজলিসগুলোকে অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করতেন।
ইমাম মালিক (মৃত্যু ১৭৯ হি.) বলেন: (আমি আমাদের শহরের ফকিহদের কেবল সুন্দর পোশাক পরিহিত অবস্থাতেই পেয়েছি)
(১), এবং ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস (মৃত্যু ২২৬ হি.) বলেন: আমি আমার মামা মালিককে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে বললেন: স্থির হয়ে বসো। এরপর তিনি অজু করলেন, তারপর খাটের ওপর বসলেন এবং বললেন: "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।" তিনি এটি না বলে কোনো ফতোয়া দিতেন না
(২)। ইমাম বাগাভি (মৃত্যু ৫১৬ হি.) পবিত্রতা ব্যতীত পাঠদান করতেন না
(৩), (আমি কখনো পবিত্রতা ছাড়া কোনো হাদিস বর্ণনা (رواية) করিনি, কোনো মজলিস পরিচালনা করিনি এবং পাঠদানের জন্য কখনো বসিনি)
(৪)। ইবনে জামাআ (মৃত্যু ৭৩৩ হি.) বলেন: (যখন তিনি পাঠদানের মজলিসের সংকল্প করতেন, তখন অপবিত্রতা ও নাপাকি থেকে পবিত্র হতেন, পরিচ্ছন্ন হতেন ও সুগন্ধি মাখতেন এবং তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে তাঁর মর্যাদার উপযোগী সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন। এর মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ইলমকে সম্মান করা এবং শরিয়তকে মহিমান্বিত করা)
(৫)।
মানুষের মাঝে এই মজলিসগুলোর এমন সম্মান ও মর্যাদা থাকতো না, যদি না তারা এর সুন্দর প্রভাব ও ফলাফল প্রত্যক্ষ করত। এর দৃষ্টান্ত ছিল একটি পবিত্র বৃক্ষের ন্যায় যা তার রবের নির্দেশে সর্বদা ফল দান করে। আমরা যদি এই প্রভাবগুলোকে সংক্ষেপে বলতে চাই, তবে তিনটি বিষয়ে সারসংক্ষেপ করা যায়: ইলমের প্রচার ও প্রসার, মানুষের লালন-পালন ও তাদের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ চরিত্রের পরিশোধন এবং শরিয়তকে বহির্ভূত বিষয় থেকে সুরক্ষা প্রদান। নিম্নে এর বিবরণ দেওয়া হলো:
১ - এই মজলিসগুলো ছিল মানুষের মাঝে শরিয়তের ইলম প্রচার, প্রসার, পুনর্জাগরণ এবং তা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার কেন্দ্র। এছাড়া ছাত্রদের তদারকি করার স্থান, যাতে এই উম্মতের শেষ ভাগের সনদ (سند) [পূর্ববর্তীদের সাথে] সংযুক্ত থাকে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
بأولها، ويتلقى كل قرن من قرون هذه الأمة عمن قبله العلم والعمل والإيمان، فالأمة لم ترث علم الشريعة بأفرادها بل بمجموعها، وما من جيل من أجيالها إلا وعلم الشريعة ظاهر فيه بمجموعه، ولا تخلو الأرض من قائم لله بحجة.
أرأيت كيف حفظ الله كتابه الكريم بعموم الأمة دون أفرادها حتى لم يختلَّ منه حرف؟ فكذلك حفظت الشريعة فلم يضع منها شيء.
فمجالس العلم ومجامعه كالينابيع التي يغترف منها الناس فيستقلون ويستكثرون، ثم يعود الوالدان بالتعليم والتربية على أولادهما، وذو الفضل على أهل فضله، وحامل الفقه إلى من هو أفقه منه، فيأخذ الناس العلم بالتعلم أو المحاكاة، قال ابن خلدون (ت 808 هـ): (البشر يأخذون معارفهم وأخلاقهم وما ينتحلونه من المذاهب والفضائل تارة علمًا وتعليمًا وإلقاءً، وتارة محاكاة وتلقينًا بالمباشرة)
(1).
ولما قال صاحب الشريعة صلى الله عليه وسلم: ((وصلوا كما رأيتموني أصلي))
(2)، فإن أصحابه رضي الله عنهم تلقوا عنه علم الصلاة قيامها وركوعها وسجودها وخشوعها وتعظيمها، وتلقى عنهم من بعدهم ذلك. حتى روى الإمام أحمد (ت 241 هـ) في مسنده فقال: (حدثنا عبد الرزاق، قال: أهل مكة يقولون: أخذ ابن جريج الصلاة من عطاء، وأخذها عطاء من ابن الزبير رضي الله عنه، وأخذها ابن الزبير رضي الله عنه من أبي بكر رضي الله عنه، وأخذها أبو بكر رضي الله عنه من النبي صلى الله عليه وسلم. ما رأيت أحدًا أحسن صلاة من ابن جريج)
(3). ولما سئل أبو المثنى رياح بن الحارث النخعي الكوفي: أليس قد رأيت عبد الله رضي الله عنه؟ قال: (بلى، وحججت مع عمر رضي الله عنه أمير المؤمنين ثلاث حجات وأنا رجل، قال: وكان عبد الله رضي الله عنه وعلقمة يصفَّان الناس صفين عند أبواب كندة، فيقرئ عبد الله رجلًا ويقرئ علقمة رجلًا، فإذا فرغا تذاكرا أبواب المناسك وأبواب الحلال والحرام، فإذا رأيت علقمة فلا يضرك ألَّا ترى عبد الله، أشبه الناس به سمتًا وهديًا، وإذا رأيت
--------------------------------------------
এর সূচনা থেকেই এবং এই উম্মাহর প্রতিটি প্রজন্ম (قرن) তার পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছ থেকে জ্ঞান, আমল ও ঈমান গ্রহণ করে আসছে। সুতরাং উম্মাহ এককভাবে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে শরিয়তের ইলমের উত্তরাধিকার লাভ করেছে। এর এমন কোনো প্রজন্ম নেই যেখানে সামগ্রিকভাবে শরিয়তের ইলম স্পষ্টরূপে বিদ্যমান ছিল না। আর পৃথিবী কখনো আল্লাহর পক্ষে প্রমাণ প্রতিষ্ঠাকারীর (قائم لله بحجة) শূন্য হয় না।
আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে, কীভাবে আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবকে ব্যক্তি বিশেষের পরিবর্তে সমগ্র উম্মাহর মাধ্যমে এমনভাবে সংরক্ষণ করেছেন যে, এর একটি হরফও বিকৃত হয়নি? একইভাবে শরিয়তকেও সংরক্ষণ করা হয়েছে, যার ফলে এর কিছুই হারিয়ে যায়নি।
ইলমের মজলিস ও কেন্দ্রসমূহ হলো প্রস্রবণের মতো, যেখান থেকে মানুষ জ্ঞান আহরণ করে; কেউ অল্প আবার কেউ প্রচুর। এরপর পিতামাতা তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও তারবিয়াহর মাধ্যমে তা প্রদান করেন, গুণীজনরা তাদের সান্নিধ্যে থাকা ব্যক্তিদের কাছে তা পৌঁছান এবং ফিকহ বহনকারী ব্যক্তি তার চেয়ে অধিকতর ফকিহ ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেন। ফলে মানুষ জ্ঞানার্জন বা অনুকরণের মাধ্যমে ইলম গ্রহণ করে। ইবনে খালদুন (মৃত্যু ৮০৮ হিজরি) বলেছেন: (মানুষ তাদের জ্ঞান, আখলাক এবং যেসব মাযহাব ও গুণাবলি তারা গ্রহণ করে, তা কখনো শিক্ষা, পাঠদান ও উপস্থাপনার মাধ্যমে গ্রহণ করে, আবার কখনো সরাসরি সাহচর্য ও অনুকরণের মাধ্যমে অর্জন করে)
(1)।
শরিয়তের প্রবর্তক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বলেছেন: ((তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ))
(2), তখন তাঁর সাহাবীগণ রাযিয়াল্লাহু আনহুম তাঁর কাছ থেকে সালাতের জ্ঞান তথা এর কিয়াম, রুকু, সিজদা, খুশু ও এর মাহাত্ম্য গ্রহণ করেছেন; এবং তাঁদের পরবর্তীগণও তাঁদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করেছেন। এমনকি ইমাম আহমাদ (মৃত্যু ২৪১ হিজরি) তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (আমাদের কাছে আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মক্কাবাসীরা বলতেন: ইবনে জুরাইজ আতা থেকে সালাত শিখেছেন, আতা ইবনে যুবায়ের রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে তা গ্রহণ করেছেন, ইবনে যুবায়ের রাযিয়াল্লাহু আনহু তা আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে গ্রহণ করেছেন এবং আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে গ্রহণ করেছেন। আমি ইবনে জুরাইজের চেয়ে সুন্দর সালাত আদায়কারী আর কাউকেও দেখিনি)
(3)। যখন আবু আল-মুসান্না রিয়াহ ইবনুল হারিস আন-নাখয়ী আল-কুফিকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কি আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুকে দেখেননি? তিনি বললেন: (হ্যাঁ দেখেছি, এবং আমি আমীরুল মুমিনীন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ হিসেবে তিনবার হজ করেছি। তিনি বললেন: আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু এবং আলকামাহ কিন্দার দরজায় মানুষকে দুই কাতারে সারিবদ্ধ করতেন; আব্দুল্লাহ একজনকে পাঠ দান করতেন এবং আলকামাহ একজনকে পাঠ দান করতেন। যখন তাঁরা অবসর হতেন, তখন তাঁরা হজের নিয়মকানুন এবং হালাল ও হারামের অধ্যায়গুলো নিয়ে আলোচনা বা মুজাকারা (تذاكر) করতেন। সুতরাং আপনি যদি আলকামাহকে দেখেন, তবে আব্দুল্লাহকে দেখতে না পাওয়া আপনার জন্য কোনো ক্ষতির কারণ হবে না; কেননা চলাফেরা ও আদর্শের দিক থেকে তিনিই ছিলেন আব্দুল্লাহর সবচেয়ে সদৃশ ব্যক্তি, আর যখন আপনি দেখবেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
إبراهيم النخعي فلا يضرك ألا ترى علقمة، أشبه الناس به سمتًا وهديًا)
(1).
فالعلم كالغيث الذي يصيب الأرض فيحيا به نباتها وأشجارها، فيخضر عودها، ويطيب ريحها، وتزهو ثمارها، فلا يختص بالخير منها ناحية دون غيرها، فكذلك العلم يُبذل للناس كافة. قال جعفر بن برقان: كتب إلينا عمر بن عبد العزيز (ت 101 هـ): (أما بعد، مر أهل العلم والفقه من جندك، فلينشروا ما علمهم الله عز وجل في مجالسهم ومساجدهم)
(2)، فبذل العلم والتصدي لنشره والصبر على ما ينال الإنسان في سبيل ذلك من اللأواء والنصب من أعظم الوسائل إلى الله وأقربها إليه زلفى، وما أعده الله جل جلاله في دار كرامته للعلماء الذين يعلمون الناس الخير من الأجر العظيم ليس ينال بالعزلة وطول الشكاية من قلة الطلبة وانصراف الناس وفساد الزمان، بل ينال بجدٍّ في بذله يشبه الجِدَّ في طلبه، وقد قال ابن شهاب الزهري (ت 124 هـ): (ما صبر أحد على العلم صبري، ولا نشره أحد نشري)
(3)، وكان ربما خرج إلى الأعراب يفقههم
(4)، وقال البخاري (ت 256 هـ) في صحيحه: (باب كيف يقبض العلم، وكتب عمر بن عبد العزيز إلى أبي بكر بن حزم: انظر ما كان من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فاكتبه، فإني خفت دروس العلم وذهاب العلماء، ولا تقبل إلا حديث النبي صلى الله عليه وسمل، ولْتُفشوا العلم ولْتَجلسوا حتى يُعَلَّمَ من لا يعلم؛ فإن العلم لا يهلك حتى يكون سرًّا)
(5)، وقد تمثل عمر بن عبد العزيز ذلك فكان يرسل الفقهاء إلى الأمصار يعلمون أهلها ويفقهونهم، كما أرسل عشرة من التابعين يفقِّهون أهل إفريقية ويعلمونهم أمر دينهم وقد فشا الجهل فيهم، حتى ذُكر أن الخمر كانت حلالًا عندهم حتى جاءهم الفقهاء الذين بعثهم عمر فعرفوهم من ذلك ما كانوا يجهلون
(6). وقال فقيه الشام سعيد بن
--------------------------------------------
ইব্রাহিম আন-নাখায়ি। সুতরাং আলকামা-কে না দেখা তোমার কোনো ক্ষতি করবে না, (কেননা) তিনি স্বভাব-চরিত্র ও চাল-চলনে তাঁর সাথে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ)
(১)।
ইলম (জ্ঞান) হলো সেই বৃষ্টির মতো যা জমিনে পতিত হয়, ফলে তার দ্বারা উদ্ভিদ ও বৃক্ষরাজি জীবন লাভ করে, তাদের ডালপালা সবুজ হয়, ঘ্রাণ সুগন্ধযুক্ত হয় এবং ফলসমূহ বিকশিত হয়। এর কল্যাণ কোনো বিশেষ অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, তেমনি ইলমও সকল মানুষের জন্য অকাতরে বিলিয়ে দেওয়া হয়। জাফর ইবনে বুরকান বলেন: উমর ইবনে আবদুল আজিজ (ওফাত ১০১ হিজরি) আমাদের নিকট লিখে পাঠালেন: (অতঃপর, আপনার সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ইলম ও ফিকহ (فقه) অর্জনকারীদের নির্দেশ দিন, তারা যেন তাদের মজলিস ও মসজিদসমূহে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তা প্রচার করেন)
(২)। সুতরাং ইলম বিলিয়ে দেওয়া, তা প্রসারে আত্মনিয়োগ করা এবং এই পথে মানুষের ওপর আপতিত দুঃখ-কষ্ট ও ক্লান্তিতে ধৈর্য ধারণ করা আল্লাহর নিকট পৌঁছানোর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম এবং তাঁর নৈকট্য লাভের নিকটতম উপায়। আর আল্লাহ جل جلاله তাঁর সম্মান ও মর্যাদার আলয়ে (জান্নাতে) সেই আলেমদের জন্য যে মহান প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন যারা মানুষকে কল্যাণের শিক্ষা দেন, তা নির্জনবাস বা ছাত্রের স্বল্পতা, মানুষের বিমুখতা এবং সময়ের কলুষতা নিয়ে দীর্ঘ অভিযোগের মাধ্যমে অর্জিত হয় না; বরং তা অর্জিত হয় ইলম বিতরণে সেই রূপ প্রচেষ্টার মাধ্যমে, যেরূপ প্রচেষ্টা ছিল তা অন্বেষণে। ইবনে শিহাব আজ-জুহরি (ওফাত ১২৪ হিজরি) বলেছেন: (ইলম অন্বেষণে আমার মতো ধৈর্য কেউ ধরেনি এবং আমার মতো তা কেউ প্রচার করেনি)
(৩)। তিনি মাঝেমধ্যে মরুচারী আরবদের নিকট যেতেন তাদের ফিকহ (فقه) শিক্ষা দিতে
(৪)। ইমাম বুখারি (ওফাত ২৫৬ হিজরি) তাঁর সহিহ-তে বলেন: (পরিচ্ছেদ: কীভাবে ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে। উমর ইবনে আবদুল আজিজ আবু বকর ইবনে হাজম-এর নিকট লিখেছিলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যেসকল হাদিস রয়েছে তা অন্বেষণ করুন এবং তা লিখে রাখুন, কেননা আমি ইলমের বিলুপ্তি এবং আলেমদের বিদায়ের আশঙ্কা করছি। আর আপনি কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস গ্রহণ করবেন। আপনারা ইলম প্রচার করুন এবং (শিক্ষার আসরে) বসুন যাতে যে জানে না তাকে শেখানো যায়; কেননা ইলম ততক্ষণ পর্যন্ত বিলুপ্ত হয় না যতক্ষণ তা গোপন রাখা না হয়)
(৫)। উমর ইবনে আবদুল আজিজ তা বাস্তবে রূপদান করেছিলেন এবং তিনি বিভিন্ন জনপদে ফকিহ (فقيه) পাঠাতেন যাতে তারা অধিবাসীদের শিক্ষা দান করেন ও দ্বীন বুঝান, যেমন তিনি দশজন তাবেয়ি (تابعين) প্রেরণ করেছিলেন আফ্রিকার অধিবাসীদের ফিকহ (فقه) শিক্ষা দেওয়ার জন্য এবং তাদের দ্বীনি বিষয়াবলি অবগত করার জন্য, কারণ তাদের মধ্যে মূর্খতা ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি বর্ণিত আছে যে, সেখানে মদ হালাল ছিল, যে পর্যন্ত না উমর কর্তৃক প্রেরিত ফকিহ (فقيه) গণ সেখানে পৌঁছালেন এবং তারা যা জানত না সে সম্পর্কে তাদের অবগত করলেন
(৬)। শামের ফকিহ (فقيه) সাঈদ বিন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
عبد العزيز (ت 167 هـ): (لم يكن عندنا أعلم بالقضاء من يزيد بن أبي مالك، لا مكحول ولا غيره، وقد بعثه عمر بن عبد العزيز إلى بني نمير، يفقههم ويقرئهم)
(1).
فالخلوص إلى عامة الناس وبث العلم والفقه فيهم من هدي الأنبياء، وليس مما يترفع عنه الفقهاء والأئمة فضلًا عمن دونهم، بل كان من هدي أئمة الهدى والفقه في الدين تعليم الصغير والكبير، والذكر والأنثى، والحر والعبد، والأصم والأبكم والأعمى، وقد روى الإمام أحمد بإسناده عن أبي ذرٍّ رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم في بيان أبواب الصدقة: ((وتَهدي الأعمى، وتُسمع الأصم والأبكم حتى يفقه))
(2)، قال ابن السُنِّي (ت 364 هـ): (وإن كان فيهم أصم لا يسمع فليسمعوه.. وإن حضرهم ضرير فليكتب له بعضهم.. وكذلك إن كان فيهم أبكم أفهموه)
(3).
وكذلك الصبيان فلا يترفع العالم عن تعليمهم وقد علَّمهم من هو خير منه صلى الله عليه وسلم، بل يعلمهم ويبلوهم فيما أخذوه عنه، وقد روى الإمام أحمد (ت 241 هـ) وغيره عن أبي الحوراء السعدي قال: قلت للحسن بن علي رضي الله عنه: ما تذكر من رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: أذكر أني أخذت تمرة من تمر الصدقة، فألقيتها في فمي، فانتزعها رسول الله صلى الله عليه وسلم بلعابها، فألقاها في التمر، فقال له رجل: ما عليك لو أكل هذه التمرة؟ قال: ((إنا لا نأكل الصدقة))، قال: وكان يقول: ((دع ما يريبك إلى ما لا يريبك، فإن الصدق طمأنينة، وإن الكذب ريبة))، قال: وكان يعلمنا هذا الدعاء: ((اللَّهُمَّ اهدني فيمن هديت، وعافني فيمن عافيت، وتولني فيمن توليت، وبارك لي فيما أعطيت، وقني شر ما قضيت، إنه لا يذل من واليت))، وربما قال: ((تباركت ربنا وتعاليت))
(4).
وكذلك كان علماء المسلمين وأئمتهم لا يترفعون عن تعليم الكبير والصغير.
--------------------------------------------
আবদুল আজিজ (মৃত্যু ১৬৭ হিজরি) বলেন: (আমাদের কাছে ইয়াজিদ বিন আবু মালিকের চেয়ে বিচারকার্য সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী আর কেউ ছিলেন না, মাকহুল কিংবা অন্য কেউ নয়। ওমর বিন আবদুল আজিজ তাকে বনু নুমাইর গোত্রের নিকট প্রেরণ করেছিলেন, যাতে তিনি তাদের ফিকহ (فقه) শিক্ষা দেন এবং কুরআন পাঠ করান)
(১)।
সাধারণ মানুষের সান্নিধ্যে যাওয়া এবং তাদের মাঝে ইলম ও ফিকহ (فقه) ছড়িয়ে দেওয়া নবীদের আদর্শের অন্তর্ভুক্ত; এটি এমন কোনো কাজ নয় যা থেকে ফকিহ ও ইমামগণ বিমুখ থাকবেন, বরং তাদের নিচের স্তরের লোকদের জন্যও এটি মর্যাদাহানিকর নয়। বরং হেদায়েতের ইমাম ও দ্বীনের ফিকহ (فقه) শাস্ত্রের পণ্ডিতদের আদর্শ ছিল ছোট ও বড়, পুরুষ ও নারী, স্বাধীন ও দাস এবং বধির, বোবা ও অন্ধদের শিক্ষা প্রদান করা। ইমাম আহমাদ তাঁর সনদ (إسناد) যোগে আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) সদকার বিভিন্ন খাত বর্ণনায় বলেছেন: ((তুমি অন্ধকে পথ দেখাবে, বধির ও বোবাকে কথা শোনাবে যাতে সে বিষয়টি বুঝতে (فقه) পারে))
(২)। ইবনুন সুন্নি (মৃত্যু ৩৬৪ হিজরি) বলেন: (যদি তাদের মধ্যে এমন কোনো বধির থাকে যে শুনতে পায় না, তবে তারা যেন তাকে শোনানোর ব্যবস্থা করে... আর যদি তাদের মজলিসে কোনো দৃষ্টিহীন ব্যক্তি উপস্থিত হয়, তবে তাদের কেউ যেন তার জন্য লিখে দেয়... একইভাবে যদি তাদের মাঝে কোনো বোবা থাকে, তবে তারা যেন তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে দেয়)
(৩)।
অনুরূপভাবে শিশুদের ক্ষেত্রেও; কোনো আলেম তাদের শিক্ষা প্রদান থেকে বিরত থাকবেন না, কারণ তাঁর চেয়ে যিনি শ্রেষ্ঠ অর্থাৎ নবী (সা.) তাদের শিক্ষা দিয়েছেন। বরং তিনি তাদের শিক্ষা দিতেন এবং তাঁর নিকট থেকে তারা যা গ্রহণ করেছে সে বিষয়ে তাদের পরীক্ষা নিতেন। ইমাম আহমাদ (মৃত্যু ২৪১ হিজরি) ও অন্যান্যরা আবু আল-হাওরা আস-সা’দি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাসান বিন আলী (রা.)-কে বললাম: রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে আপনার কী মনে আছে? তিনি বললেন: আমার মনে আছে যে, আমি সদকার খেজুর থেকে একটি খেজুর নিয়ে মুখে দিয়েছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) সেটি লালাসহ বের করে নিলেন এবং খেজুরের স্তূপে ফিরিয়ে দিলেন। এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: আপনার কী ক্ষতি হতো যদি সে এই একটি খেজুর খেয়ে ফেলত? তিনি বললেন: ((নিশ্চয়ই আমরা সদকা ভক্ষণ করি না))। তিনি আরও বলতেন: ((সন্দেহযুক্ত বিষয় পরিত্যাগ করে যাতে সন্দেহ নেই সেদিকে ধাবিত হও, কারণ সত্য হলো প্রশান্তি আর মিথ্যা হলো সংশয়))। তিনি আরও বলেন: তিনি আমাদের এই দোয়াটি শিক্ষা দিতেন: ((হে আল্লাহ! আপনি যাদের হেদায়েত দিয়েছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করে আমাকে হেদায়েত দিন, যাদের আপনি নিরাপত্তা দিয়েছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করে আমাকে নিরাপত্তা দিন, যাদের আপনি অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন তাদের সাথে আমারও অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন, আপনি যা দান করেছেন তাতে বরকত দিন এবং আপনি যা ফয়সালা করেছেন তার অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করুন। নিশ্চয়ই আপনি যার সাথে বন্ধুত্ব করেন সে লাঞ্ছিত হয় না))। কখনো কখনো তিনি বলতেন: ((হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ))
(৪)।
ঠিক এভাবেই মুসলিম আলেম ও ইমামগণ বড় এবং ছোটদের শিক্ষা প্রদান করা থেকে বিমুখ হতেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية (ت 728 هـ): (وكان جماعة من علماء المسلمين يؤدبون، منهم أبو صالح صاحب الكلبي كان يعلم الصبيان، وأبو عبد الرحمن السلمي وكان من خواص أصحاب علي رضي الله عنه، وقال سفيان بن عيينة: كان الضحاك بن مزاحم وعبد الله بن الحارث يعلمان الصبيان فلا يأخذان أجرًا، ومنهم قيس بن سعد، وعطاء بن أبي رباح، وعبد الكريم أبو أمية، وحسين المعلم وهو ابن ذكوان، والقاسم بن عمير الهمداني، وحبيب المعلم مولى معقل بن يسار، ومنهم علقمة بن أبي علقمة وكان يروي عنه مالك بن أنس، وكان له مكتب يعلم فيه، ومنهم أبو عبيد القاسم بن سلَّام الإمام المجمع على إمامته وفضله)
(1). وقال الحافظ عبد القادر الرهاوي الحنبلي (ت 612 هـ) عن الإمام الحافظ الكبير أبي موسي المديني الشافعي (ت 581 هـ): (وكان فيه من التواضع بحيث إنه يقرئ الصغير والكبير، ويُرشد المبتدئ، رأيته يُحفِّفظ الصبيان القرآن في الألواح)
(2).
فهذه المجالس نفعها عام للخاص والعام، سواء كان الذي يحضرها فقيهًا أو متفقِّهًا أو عاميًّا يتعلم الشيء فالشيء من أمر دينه، وقد قال أبو الوليد الباجي (ت 474 هـ): (والمجالسة للعلماء إذا كانت قربة فإنما تكون على وجهين: أحدهما لمن ليس في قدرته تعلم العلم، فإنه يجالسهم تبركًا بمجالستهم وانحيازًا إليهم ومحبة فيهم، وربما جرى من أقوالهم ما يحتاج إليه، فتحمله حاجته إليه على أن يعيه ويحفظه، أو يستثبت فيه حتى يفهمه، وربما سألهم عن مسألة مما لا يسعه جهله فيأخذها عنهم، وأما من كان في قوَّته تعلم العلم ورزق عونًا عليه ورغبة في تعلمه، فيجالسهم ليأخذ عنهم ويتعلم من علمهم)
(3).
2 - كان لهذه المجالس الفقهية الشريفة دورها في تزكية أخلاق المسلمين وتربيتهم على حسن التأله لله جل جلاله وحسن المعاملة مع الناس، لم
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (ওফাত: ৭২৮ হিজরী) বলেছেন: "মুসলিম আলেমদের একটি দল শিক্ষকতা ও শিষ্টাচার প্রদান করতেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন আবু সালিহ—যিনি কালবীর সঙ্গী ছিলেন এবং শিশুদের পড়াতেন; আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী—যিনি আলী (রা.)-এর ঘনিষ্ঠ সাহচরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ বলেন: যাহহাক ইবনে মুজাহিম এবং আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস শিশুদের শিক্ষা দিতেন এবং বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন না। তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন কায়েস ইবনে সাদ, আতা ইবনে আবি রাবাহ, আব্দুল কারীম আবু উমাইয়া, হুসাইন আল-মুয়াল্লিম—যিনি জাকওয়ানের পুত্র, কাসিম ইবনে উমায়ের আল-হামদানি এবং হাবিব আল-মুয়াল্লিম—যিনি মাকিল ইবনে ইয়াসারের মুক্তদাস (مولى)। তাঁদের মধ্যে আলকামা ইবনে আবি আলকামা-ও ছিলেন, যাঁর নিকট থেকে মালেক ইবনে আনাস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর একটি মক্তব ছিল যেখানে তিনি শিক্ষা দিতেন। তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম—যিনি এমন একজন ইমাম (إمام) যাঁর ইমামত (إمامة) ও শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"
(1) আল-হাফেজ (حافظ) আব্দুল কাদির আল-রুহাভি আল-হাম্বলি (ওফাত: ৬১২ হিজরী), মহান ইমাম (إمام) হাফেজ (حافظ) আবু মুসা আল-মাদিনি আল-শাফিঈ (ওফাত: ৫৮১ হিজরী) সম্পর্কে বলেন: "তাঁর মধ্যে এমন বিনয় ছিল যে, তিনি ছোট-বড় সকলকেই পাঠদান করতেন এবং নতুন শিক্ষার্থীদের (مبتدئ) পথপ্রদর্শন করতেন। আমি তাঁকে তখতির মাধ্যমে শিশুদের কুরআন মুখস্থ করাতে দেখেছি।"
(2) এই মজলিসগুলোর উপকারিতা বিশিষ্ট ও সাধারণ সকলের জন্যই ব্যাপক, সেখানে উপস্থিত ব্যক্তি ফকিহ (فقيه) হোন কিংবা ফিকহ শিক্ষার্থী (متفقه) অথবা কোনো সাধারণ মানুষ (عامي) হোন যে দ্বীনি বিষয়ে সামান্য কিছু শিখতে চায়। আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি (ওফাত: ৪৭৪ হিজরী) বলেছেন: "আলেমদের মজলিসে বসা যদি ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়, তবে তা দুইভাবে হতে পারে: এক—যার ইলম অর্জন করার সক্ষমতা নেই, সে তাঁদের মজলিসে বরকত লাভের আশায়, তাঁদের সঙ্গ পাওয়ার জন্য এবং তাঁদের প্রতি ভালোবাসা থেকে অংশগ্রহণ করে। কখনও কখনও তাঁদের কথা থেকে তার প্রয়োজনীয় কোনো বিষয় সামনে আসে, তখন প্রয়োজনের তাগিদে সে তা আয়ত্ত করে ও মুখস্থ রাখে অথবা তা বোঝার জন্য দৃঢ়তা অবলম্বন করে। কখনও কখনও সে তাঁদের এমন কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করে যা অজানা থাকা তার জন্য সমীচীন নয়, অতঃপর সে তাঁদের নিকট থেকে তা গ্রহণ করে। আর দুই—যার ইলম অর্জনের সক্ষমতা আছে এবং এই পথে সাহায্য ও আগ্রহ লাভ করেছে, সে তাঁদের নিকট থেকে গ্রহণ করতে এবং তাঁদের ইলম থেকে শিখতে মজলিসে বসে।"
(3) 2 - এই সম্মানিত ফিকহী মজলিসগুলোর ভূমিকা ছিল মুসলিমদের চরিত্র সংশোধন এবং মহান আল্লাহর প্রতি উত্তম দাসত্ব ও মানুষের সাথে উত্তম আচরণের ওপর তাঁদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
تكن مجالس تنظير مجرَّد لرمي المسائل والمواعظ والفتاوى على الناس، دون تعاهد لهم بحسن التخلق والتأدب بآداب الديانة في الظاهر والباطن، والخاص والعام. والتأثر بما يعاينه المرء من الأخلاق الفاضلة ويراه واقعًا أمامه لا مجرد خيالات تحكي، من أعظم ما يحمل الإنسان على التخلق بالأخلاق الكريمة والتطبع بها، ولقد كانت هذه الأخلاق مما يتلقاه الناس من أكابرهم وأهل الفضل فيهم كما يتلقون العلم عن علمائهم. قال الأحنف بن قيس (ت 67 هـ): (لقد اختلفنا إلى قيس بن عاصم رضي الله عنه في الحلم كما نختلف إلى الفقهاء في الفقه)
(1)، وقال ابن سيرين (ت 110 هـ): (كانوا يتعلمون الهدي كما يتعلمون العلم)
(2)، وقال حبيب بن الشهيد (ت 145 هـ) لابنه: (يا بني، إيت الفقهاء والعلماء وتعلم منهم، وخذ من أدبهم وأخلاقهم وهديهم، فإن ذاك أحب إلى لك من كثير من الحديث)
(3). بل لقد كانوا يرحلون فيها كما يرحلون في مسائل العلم، فهذا رجل جاء إلى قاضي البصرة سوَّار بن عبد الله (ت 156 هـ) فقال له: رجل جاء من خراسان يسألك عن مسألة ليس من حلال ولا حرام، فأذن له فدخل، فقال: اختلفنا في المروءة ما هي ونحن بخراسان، فقالوا لي: أنت تريد الحج فاجعل طريقك بالبصرة، وائت سوار بن عبد الله فاسأله. فقال له سوار: قد سألت، فإذا أردت الخروج فأتني. فأتاه حين أراد الخروج، فقال له سوار: (يا فتي أتعييني؟ المروءة إنصافك الناس من نفسك)
(4).
والآثار مستفيضة مشهورة عن السلف والأئمة في بيان التلازم بين العلم والعمل، وفي بيان الطبيعة الأخلاقية للفقه، وأن الفقيه الحقيقي هو من يستبين الناس أثر علمه في عمله وهديه ودلِّه وسمته، وقد قال علي رضي الله عنه: (ألا أنبئكم بالفقيه حق الفقيه؟ من لم يقنط الناس من رحمة الله، ولم يرخص لهم في
--------------------------------------------
মজলিসগুলো কেবল মানুষের ওপর মাসআলা, উপদেশ এবং ফতোয়া ছুঁড়ে দেওয়ার কোনো তাত্ত্বিক আসর যেন না হয়; বরং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক—উভয় দিক থেকে দ্বীনি আদব ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে তাদের পরিচর্যা করা প্রয়োজন। কেবল কাল্পনিক কাহিনী বর্ণনা নয়, বরং নিজের চোখের সামনে বাস্তব চরিত্রে মহৎ গুণাবলি প্রত্যক্ষ করা এবং তার দ্বারা প্রভাবিত হওয়া একজন মানুষকে উন্নত চরিত্র অর্জনে এবং তা নিজের মধ্যে গেঁথে নিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বুদ্ধ করে। এই চরিত্রগুলো মানুষেরা তাঁদের বড়দের এবং গুণী ব্যক্তিদের থেকে সেভাবেই গ্রহণ করতেন, যেভাবে তাঁরা আলেমদের থেকে ইলম গ্রহণ করতেন। আহনাফ ইবনে কাইস (মৃত্যু ৬৭ হিজরি) বলেন: "আমরা ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা (حلم) শেখার জন্য কাইস ইবনে আসিম (রা.)-এর কাছে সেভাবেই যাতায়াত করতাম, যেভাবে আমরা ফকিহদের কাছে ফিকহ শেখার জন্য যেতাম"
(১)। ইবনে সিরিন (মৃত্যু ১১০ হিজরি) বলেন: "তাঁরা ইলম শেখার মতোই আদব-আখলাকও শিখতেন"
(২)। হাবিব ইবনে শাহীদ (মৃত্যু ১৪৫ হিজরি) তাঁর ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বলেন: "হে বৎস, তুমি ফকিহ ও আলেমদের নিকট যাও এবং তাঁদের থেকে ইলম অর্জন করো। তাঁদের আদব, আখলাক ও চালচলন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো; কারণ তা আমার কাছে অনেক হাদিসের চেয়েও বেশি প্রিয়"
(৩)। এমনকি ইলমের মাসআলার জন্য তাঁরা যেমন সফর করতেন, নৈতিকতা ও চরিত্রের জন্যও তাঁরা সেভাবেই সফর করতেন। বসরার বিচারক সাওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহ (মৃত্যু ১৫৬ হিজরি)-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললেন: খুরাসান থেকে এক ব্যক্তি আপনার কাছে একটি মাসআলা নিয়ে এসেছেন, যা হালাল বা হারাম সংক্রান্ত কোনো বিষয় নয়। তাঁকে অনুমতি দেওয়া হলে তিনি প্রবেশ করে বললেন: আমরা খুরাসানে থাকাকালীন 'মুরুওয়াত' আসলে কী, তা নিয়ে মতপার্থক্যে লিপ্ত হয়েছিলাম। তখন লোকেরা আমাকে বলল: তুমি যেহেতু হজের সংকল্প করেছ, তাই তোমার পথ যেন বসরার ওপর দিয়ে হয় এবং সেখানে গিয়ে সাওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো। সাওয়ার তাঁকে বললেন: তুমি তো জিজ্ঞাসা করলে, এখন যখন তুমি প্রস্থান করতে চাইবে তখন আমার কাছে এসো। প্রস্থানকালে তিনি এলে সাওয়ার তাঁকে বললেন: "হে যুবক, তুমি কি আমায় অক্ষম করতে চাও? নিজের পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি ইনসাফ করাই হলো মুরুওয়াত (مروءة)"
(৪)।
ইলম ও আমলের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের বর্ণনায় এবং ফিকহের নৈতিক বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলতে সালাফ ও ইমামদের থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাসমূহ (آثار) অত্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ ও বহুল বর্ণিত (مستفيضة)। প্রকৃত ফকিহ সেই ব্যক্তি, যার আমলে, হেদায়েতে এবং চালচলনে তার অর্জিত ইলমের প্রভাব মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আলী (রা.) বলেছেন: "আমি কি তোমাদেরকে প্রকৃত ফকিহ কে, তা বলব না? সে হলো ওই ব্যক্তি যে মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে না এবং তাদের জন্য শিথিলতা প্রদর্শন করে না..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
معاصي الله، ولم يؤمنهم مكر الله، ولم يترك القرآن إلى غيره)
(1)، ولما سئل ابن المبارك (ت 181 هـ): هل للعلماء علامة يعرفون بها؟ قال: (علامة العالم من عمل بعلمه، واستقلَّ كثير العلم من نفسه، ورغب في علم غيره، وقبل الحق من كل من أتاه به، وأخذ العلم حيث وجده، فهذه علامة العالم وصفته). قال أبو بكر المروذي (ت 275 هـ): فذكرت ذلك لأبي عبد الله-يعني: أحمد بن حنبل-فقال: هكذا هو
(2). وقال داود الطائي (ت 162 هـ): (أرأيت المحارب إذا أراد أن يلقي الحرب، أليس يجمع آلته؟ فإذا أفني عمره في الآلة فمتى يحارب؟ إن العلم آلة العمل، فإذا أفني عمره في جمعه فمتى يعمل؟)
(3).
وقال أبو تمام حبيب بن أوس (ت 231 هـ)
(4):
ولم يحمدوا من عالم غير عاملٍ
… خلاقًا ولا من عامل غير عالم
رأوا طرقات العجز عُوجًا قطيعةً
… وأقطع عجز عندهم عجز حازم
ولأجل هذا فقد كان أثر مجالسة العلماء ظاهرًا في الأخلاق والسلوك والإيمان، وليس مقصورًا على المعرفة الذهنية المجردة. قال ميمون بن مهران (ت 117 هـ): (بنفسي العلماء، هم ضالتي في كل بلدة، وهم بغيتي إذا لم أجدهم، وجدت صلاح قلبي في مجالسة العلماء)
(5).
ولك أن تتصور صبيًّا بلغ سنَّ الجدِّ في الطلب، فشهد مجالس الفقهاء وعاين أثر العلم فيهم، فرأى شيخًا له لا يفتر في مجلسه عن ذكر الله جل جلاله، كما جاء في وصف عطاء بن أبي رباح (ت 114 هـ)، فقد قال محمد بن عبد الله بن عمرو بن عثمان بن عفان: (ما رأيت مفتيَّا خيرًا من عطاء بن أبي رباح إنما كان مجلسه ذكر الله لا يفتر وهم يخوضون، فإن تكلم أو سئل عن
--------------------------------------------
...আল্লাহর অবাধ্যতা, আর আল্লাহর কৌশল থেকে তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না এবং তারা কুরআন ছেড়ে অন্য কিছুর দিকে ধাবিত হন না।)
(১) যখন ইবনুল মুবারক (মৃত্যু ১৮১ হি.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো: আলেমদের কি কোনো নিদর্শন আছে যা দিয়ে তাদের চেনা যায়? তিনি বললেন: (আলেমের নিদর্শন হলো যে নিজের ইলম অনুযায়ী আমল করে, নিজের অধিক ইলমকেও তুচ্ছ জ্ঞান করে, অন্যের ইলমের প্রতি আগ্রহী হয়, যে সত্য নিয়ে আসে তার থেকেই তা গ্রহণ করে এবং ইলম যেখানেই পায় তা গ্রহণ করে; এটাই হলো আলেমের নিদর্শন ও বৈশিষ্ট্য)। আবু বকর আল-মাররুযী (মৃত্যু ২৭৫ হি.) বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহর—অর্থাৎ আহমদ ইবনে হাম্বল—নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: বিষয়টি এমনই।
(২) দাউদ আত-তাঈ (মৃত্যু ১৬২ হি.) বলেছেন: (তুমি কি সেই যোদ্ধাকে দেখেছ যে যুদ্ধ করতে চায়, সে কি তার সরঞ্জাম সংগ্রহ করে না? অতঃপর সে যদি সরঞ্জাম সংগ্রহেই তার আয়ু শেষ করে ফেলে, তবে সে যুদ্ধ করবে কখন? নিশ্চয়ই ইলম হলো আমলের সরঞ্জাম, সুতরাং যদি কেউ তা সংগ্রহেই সারা জীবন কাটিয়ে দেয়, তবে সে আমল করবে কখন?)
(৩)।
আবু তাম্মাম হাবিব ইবনে আওস (মৃত্যু ২৩১ হি.) বলেছেন
(৪):
তারা আমলহীন আলেমের কোনো চরিত্রের প্রশংসা করেনি... আর না ইলমহীন আমলকারীর।
তারা অক্ষমতার পথগুলোকে বক্র ও বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখেছে... আর তাদের নিকট সবচেয়ে বড় অক্ষমতা হলো দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ব্যক্তির অক্ষমতা।
আর এই কারণেই আলেমদের সাহচর্যের প্রভাব চরিত্র, আচরণ ও ঈমানের ওপর প্রকাশ পেত, এবং তা কেবল বিমূর্ত বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। মাইমুন ইবনে মিহরান (মৃত্যু ১১৭ হি.) বলেন: (আলেমগণ আমার প্রাণের তুল্য, প্রতিটি জনপদে তারাই আমার কাম্য, আর যখন তাদের পাই না তখন তারাই আমার অন্বেষার বস্তু; আমি আলেমদের মজলিসে বসার মাধ্যমেই অন্তরের সংশোধন খুঁজে পেয়েছি)
(৫)।
আপনি সেই বালকের কথা কল্পনা করতে পারেন যে ইলম অর্জনে সিরিয়াস হওয়ার বয়সে পৌঁছেছে, অতঃপর সে ফকিহদের মজলিসে উপস্থিত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ইলমের প্রভাব প্রত্যক্ষ করেছে। সেখানে সে এমন একজন শাইখকে দেখেছে যিনি তার মজলিসে মহান আল্লাহর জিকির থেকে কখনো বিরত হতেন না, যেমনটি আতা ইবনে আবি রাবাহ (মৃত্যু ১১৪ হি.)-এর বর্ণনায় এসেছে। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে উসমান ইবনে আফফান বলেছেন: (আমি আতা ইবনে আবি রাবাহর চেয়ে উত্তম কোনো মুফতি দেখিনি। তাঁর মজলিস ছিল কেবলই আল্লাহর জিকির, লোকজন যখন অন্য আলোচনায় মগ্ন থাকত তখনও তিনি জিকিরে অবিচল থাকতেন। অতঃপর তিনি যদি কথা বলতেন বা কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
شيء أجاب وأحسن الجواب)
(1). أو رأي شيخًا له يتج لله البكاء من خشية الله أثناء درسه، كما قال القاضي الحسين (ت 462 هـ) في ذلك: (كان القفال (ت 417 هـ) في كثير من الأوقات في الدرس يقع عليه البكاء ثم يرفع رأسه ويقول: ما أغفلنا عما يراد بنا)
(2). أو يرى شيخًا له إذا عظمت حلقته قام كراهية الشهرة كما كان يفعل خالد بن معدان (ت 103 هـ)
(3). أو يفتقد شيخه ذات صباح فإذا به قد انتقل من مقاعد التدريس إلى مقاعد الرباط، كما جرى من ابن شاس (ت 610 هـ) لما دخل الفرنجة دمياط، فانتقل إليها وتوفي مرابطًا فيها
(4). أو يرى من شيخه أخلاق التواضع واطراح التكبر، كما جرى من قاضي القيروان أبي العباس بن طالب (ت 275 هـ) حين يذكر تنازع فقهاء المالكية في المسائل، فربما ذكر في المسألة خمسة أقوال أو ستة، ثم تسيل دموعه ويضع خده على الأرض ويقول: (يا فتى، أردت أن يقال فقيه! فهل معك عمل صالح تنجو به من عذاب الله؟ وإلا فما يغني هذا عنك؟)
(5). وكان أحمد بن عبد الله ناضرين المكي الشافعي (ت 1370 هـ) ربما قال لطلبته: (هذه مسألة ما فهمتها، اسألوا فيها غيري)
(6).
فما بالك بهذا الفتى الذي يسلك طريق العلم عند هؤلاء الشيوخ وأمثالهم، فيرى العلم والعمل والخشية والأدب في سياق واحد، كيف سيكون أثر العلم فيه؟ ومن ثمَّ كان العلماء يؤكدون أن التأثر بالقدوة أعظم من التأثر بالقول المجرد، بل يرد الكلام من مثل هؤلاء فيقع في نفوس الناس مواقعه.
ولما وصف ابن النجار (ت 643 هـ) الموفق بن قدامة (ت 620 هـ) قال في وصفه: (وكان ثقة حجة نبيلًا غزير الفضل كامل العقل شديد التثبت دائم السكوت حسن السمت نزهًا ورعًا عابدًا على قانون السلف، على وجهه النور
--------------------------------------------
...কিছু হলে তিনি উত্তর দিতেন এবং অত্যন্ত চমৎকার উত্তর দিতেন)
(১)। অথবা তিনি তাঁর কোনো উস্তাদকে দেখতেন যে, পাঠদানকালে আল্লাহর ভয়ে তাঁর চোখ থেকে অশ্রু ঝরছে। যেমনটি কাজী আল-হুসাইন (মৃ. ৪৬২ হি.) এ সম্পর্কে বলেছেন: (আল-কাফফাল (মৃ. ৪১৭ হি.) পাঠদানকালে অধিকাংশ সময় কান্নায় ভেঙে পড়তেন, এরপর মাথা তুলে বলতেন: আমাদের থেকে যা চাওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে আমরা কতই না উদাসীন!)
(২)। অথবা তিনি তার উস্তাদকে দেখতেন যে, যখন তাঁর ইলমি মজলিস অনেক বড় হয়ে যেত, তখন তিনি প্রসিদ্ধি পাওয়ার অপছন্দ থেকে মজলিস ছেড়ে উঠে যেতেন; যেমনটি খালিদ বিন মাদআন (মৃ. ১০৩ হি.) করতেন
(৩)। অথবা কোনো একদিন সকালে তিনি তার উস্তাদকে অনুপস্থিত পেতেন এবং দেখতেন যে তিনি পাঠদানের আসন ছেড়ে সীমান্ত পাহারার (رباط) আসনে চলে গেছেন। যেমনটি ইবনুল শাস (মৃ. ৬১০ হি.)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল; যখন ক্রুসেডাররা দমিয়াতে প্রবেশ করল, তখন তিনি সেখানে চলে যান এবং সীমান্ত রক্ষী (مرابط) হিসেবে তথায় মৃত্যুবরণ করেন
(৪)। অথবা তিনি তাঁর উস্তাদের মধ্যে বিনয় এবং অহংকার বর্জনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখতেন। যেমনটি কাইরাওয়ানের কাজী আবু আব্বাস বিন তালিব (মৃ. ২৭৫ হি.)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল। যখন তিনি মালিকি ফকিহদের বিভিন্ন মাসআলার মতপার্থক্য নিয়ে আলোচনা করতেন, তখন হয়তো একটি মাসআলায় পাঁচটি বা ছয়টি মত বর্ণনা করতেন, এরপর তাঁর অশ্রু গড়িয়ে পড়ত এবং তিনি মাটিতে কপাল ঠেকিয়ে বলতেন: (হে যুবক, তুমি চেয়েছিলে তোমাকে ফকিহ বলা হোক! কিন্তু তোমার কাছে কি এমন কোনো নেক আমল আছে যা দিয়ে তুমি আল্লাহর আজাব থেকে মুক্তি পাবে? অন্যথায় এই ইলম তোমার কী উপকারে আসবে?)
(৫)। আহমদ বিন আব্দুল্লাহ নাদরিন আল-মক্কি আশ-শাফিয়ি (মৃ. ১৩৭০ হি.) কখনো কখনো তাঁর ছাত্রদের বলতেন: (এই মাসআলাটি আমি বুঝিনি, এ বিষয়ে অন্য কাউকে জিজ্ঞেস করো)
(৬)।
সুতরাং সেই যুবকের অবস্থা কেমন হবে যে এই সব মহান উস্তাদ এবং তাঁদের সমমনাদের সান্নিধ্যে ইলম অর্জনের পথে চলে? যে ইলম, আমল, আল্লাহর ভীতি এবং আদবকে একই সূত্রে গেঁথে থাকতে দেখে, তার ওপর ইলমের প্রভাব কেমন হবে? এজন্যই উলামায়ে কেরাম জোর দিয়ে বলতেন যে, কেবল উপদেশের চেয়ে আদর্শের (قدوة) দ্বারা প্রভাবিত হওয়া অনেক বেশি কার্যকর। বরং এমন ব্যক্তিদের কথা মানুষের হৃদয়ে যথাযথভাবে গেঁথে যায়।
ইবনুল নাজ্জার (মৃ. ৬৪৩ হি.) যখন আল-মুওয়াফফাক ইবনে কুদামা (মৃ. ৬২০ হি.)-এর গুণাবলী বর্ণনা করছিলেন, তখন তিনি বলেন: (তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য (ثقة), অকাট্য প্রমাণ (حجة), উন্নতচরিত্রের অধিকারী এবং অগাধ মর্যাদাসম্পন্ন; প্রজ্ঞায় পূর্ণ, বর্ণনার ক্ষেত্রে অতিশয় সতর্ক (تثبت), সর্বদা নীরবতাপ্রিয়, সচ্চরিত্রবান, নিষ্কলুষ, মুত্তাকী এবং সালাফদের রীতি অনুযায়ী ইবাদতগুজার; তাঁর চেহারায় নূর উদ্ভাসিত হতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وعليه الوقار والهيبة، ينتفع الرجل برؤيته قبل أن يسمع كلامه)
(1). فما يتلقاه المتفقه من مثل أولئك يكون أثره راسخًا في نفسه، ظاهرًا في أخلاقه. قال سفيان الثوري (ت 161 هـ) واصفًا شيخه عمرو بن قيس: (هو الذي أدبني وعلمني قراءة القرآن وعلمني الفرائض، فكنت أطلبه في سوقه فإن لم أجده في سوقه وجدته في بيته إما يصلي وإما يقرأ في المصحف كأنه يبادر أمورًا تفوته، فإن لم أجده في بيته وجدته في بعض مساجد الكوفة في زاوية من بعض زوايا المسجد كأنه سارق قاعدًا يبكي، فإن لم أجده وجدته في المقبرة قاعدًا ينوح على نفسه)
(2). وقال أبو الفرج بن الجوزي (ت 597 هـ) في استحضار مهيب لسمت أشياخه: (ولقيت عبد الوهاب الأنماطيَّ (ت 538 هـ) فكان على قانون السلف، لم يُسمع في مجلسه غيبةٌ، ولا كان يطلب أجرًا على سماع الحديث، وكنت إذا قرأت عليه أحاديث الرقائق بكى واتصل بكاؤه، فكان وأنا صغير السن حينئذ يعمل بكاؤه في قلبي ويبني قواعد، وكان على سمت المشايخ الذين سمعنا أوصافهم في النقل. ولقيت الشيخ أبا منصور الجواليقي (ت 540 هـ) فكان كثير الصمت، شديد التحري فيما يقول، متقنًا محققًا، وربما سئل المسألة الظاهرة التي يبادر بجوابها بعض غلمانه، فيتوقف فيها حتى يتيقن، وكان كثير الصوم والصمت. فانتفعت برؤية هذين الرجلين أكثر من انتفاعي بغيرهما، ففهمت من هذه الحالة أن الدليل بالفعل أرشد من الدليل بالقول)
(3).
فهذه المجالس التي هي بهذه الشاكلة من العلم والدين والأدب مجالس فضل وخير، وآثارها في الناس عظيمة جليلة، ولما نزل الحافظ عبد الغني المقدسي (ت 600 هـ) مصر كان الناس يبكون في مجلسه، حتى قال بعض المصريين: ما كنا إلا مثل الأموات حتى جاء الحافظ فأخرجنا من القبور
(4).
وقال أبو حازم الأعرج (ت 133 هـ): (لقد رأيتُنا في مجلس زيد بن أسلم
--------------------------------------------
তাঁর উপর গাম্ভীর্য ও মর্যাদা বিরাজ করত; একজন ব্যক্তি তাঁর কথা শোনার আগেই কেবল তাঁকে দেখেই উপকৃত হতো
(১)। সুতরাং ফিকহ অন্বেষণকারী এ ধরনের ব্যক্তিদের থেকে যা গ্রহণ করে, তার প্রভাব তার অন্তরে সুদৃঢ় হয় এবং তার চরিত্রে প্রকাশ পায়। সুফিয়ান আস-সাওরি (মৃত্যু ১৬১ হিজরি) তাঁর উস্তাদ আমর ইবনুল কায়স সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: (তিনিই আমাকে শিষ্টাচার শিখিয়েছেন, আমাকে কুরআন পাঠ শিখিয়েছেন এবং আমাকে উত্তরাধিকার আইন (الفرائض) শিখিয়েছেন। আমি তাঁকে তাঁর বাজারে খুঁজতাম; যদি বাজারে না পেতাম, তবে তাঁর বাড়িতে পেতাম। সেখানে তিনি হয় সালাত আদায় করতেন অথবা মাসহাফ দেখে তিলাওয়াত করতেন—যেন তিনি এমন কিছুর দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছেন যা তাঁর হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। যদি তাঁকে বাড়িতে না পেতাম, তবে কুফার কোনো এক মসজিদের কোণে পেতাম, যেখানে তিনি একজন চোরের মতো বসে কাঁদতেন। আর যদি সেখানেও না পেতাম, তবে তাঁকে কবরস্থানে নিজের জন্য বিলাপ করতে দেখতাম)
(২)। আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি) তাঁর উস্তাদদের বৈশিষ্ট্যের এক গাম্ভীর্যপূর্ণ স্মৃতিচারণে বলেন: (আমি আব্দুল ওয়াহহাব আল-আনমাতির (মৃত্যু ৫৩৮ হিজরি) সাক্ষাৎ পেয়েছি; তিনি সালাফদের নীতিতে অটল ছিলেন। তাঁর মজলিসে কোনো গিবত শোনা যেত না, আর তিনি হাদিস শ্রবণের (سماع الحديث) জন্য কোনো পারিশ্রমিক চাইতেন না। আমি যখন তাঁর সামনে কোমল হৃদয়ের হাদিসগুলো পড়তাম, তখন তিনি কাঁদতেন এবং তাঁর কান্না দীর্ঘায়িত হতো। আমি তখন অল্পবয়সী ছিলাম, তাঁর কান্না আমার হৃদয়ে প্রভাব ফেলত এবং চারিত্রিক ভিত্তি গড়ে দিত। বর্ণনার (النقل) মাধ্যমে আমরা যে সব শায়খদের গুণাবলি শুনেছিলাম, তিনি তেমনই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ছিলেন। আমি শায়খ আবু মনসুর আল-জাওয়ালিকির (মৃত্যু ৫৪০ হিজরি) সাথেও সাক্ষাৎ করেছি; তিনি দীর্ঘ নীরবতা পালন করতেন এবং যা বলতেন সে ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকতেন। তিনি অত্যন্ত সুনিপুণ (متقن) ও গবেষক (محقق) ছিলেন। অনেক সময় তাঁকে এমন কোনো প্রকাশ্য মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করা হতো যার উত্তর তাঁর কোনো কোনো ছাত্রও দিয়ে দিতে পারত, কিন্তু তিনি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাতে থেমে যেতেন। তিনি অধিক পরিমাণে রোজা রাখতেন এবং নীরব থাকতেন। এই দুই ব্যক্তিকে দেখেই আমি অন্যান্যের তুলনায় বেশি উপকৃত হয়েছি। এই অবস্থা থেকে আমি বুঝতে পেরেছি যে, কর্মের মাধ্যমে পথপ্রদর্শন কথার মাধ্যমে উপদেশের চেয়ে বেশি কার্যকরী)
(৩)।
জ্ঞান, দ্বীন ও শিষ্টাচারের এই ধরনের মজলিসগুলো হলো ফযিলত ও কল্যাণের মজলিস এবং মানুষের মাঝে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী ও মহান। হাফিজ (الحافظ) আব্দুল গনি আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬০০ হিজরি) যখন মিশরে অবস্থান করছিলেন, তখন মানুষ তাঁর মজলিসে কাঁদত। এমনকি জনৈক মিশরীয় বলেছিলেন: আমরা মৃতদের মতোই ছিলাম, যতক্ষণ না এই হাফিজ (الحافظ) আসলেন এবং আমাদের কবর থেকে বের করে আনলেন
(৪)।
আবু হাজিম আল-আরাজ (মৃত্যু ১৩৩ হিজরি) বলেন: (আমি আমাদেরকে যায়েদ ইবনে আসলামের মজলিসে দেখেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
(ت 136 هـ) أربعين فقيهًا، أدنى خصلة فينا التواسي بما في أيدينا، وما رأيت فيه متماريين ولا متنازعين في حديث لا ينفعنا)
(1).
وأخلاق الخشية هذه إنما حمل الفقهاء عليها فضل علمهم ومعرفتهم بالله جل جلاله وأنه سائلهم عن علمهم. قال أبو بكر الآجري (ت 360 هـ): (فإن قال قائل: ولم داخل العلماء هذا الإشفاق الشديد، وخافوا من علمهم هذا الخوف كله؟ قيل له: علموا أن الله عز وجل يسألهم عن علمهم ما عملوا فيه؟ فجعلوا مساءلة الله نصب أعينهم، فألزموا أنفسهم شدة الحذر، وأخذوا بالثقة في كل أمرهم)
(2).
3 - كانت هذه المجالس دواوين لحراسة الشريعة وصيانتها من كل زيف دخيل، فالعلم إذا فشا ارتفع الجهل، وإذا فتر العلم نجم الجهل وفشا، حتى يتخذ الناس رؤوسًا جهالًا فيَضلُّون ويُضلُّون. ومن أعظم وجوه البلايا التي تدخل على الناس أن ينحازوا عن عالم مقصِّر في العمل إلى جاهل غرَّهم منه نسكه وصلاحه فيأخذوا علم الشريعة منه، فيختل بذلك نظام الشريعة، فيقدمون ما أخرته الشريعة ويؤخرون ما قدمته، حتى يظن الجاهل أنه على شيء وليس هو على شيء. قال ضرار بن عمرو (ت 200 هـ): (إن قومًا تركوا العلم ومجالسة أهل العلم، واتخذوا محاريب فصاموا وصلوا، حتى بلي جلد أحدهم على عظمه، وخالفوا السُّنَّة فهلكوا، فلا والذي لا إله غيره ما عمل عامل قط على جهل إلا كان ما يفسد أكثر مما يصلح)
(3). وقال الخطيب البغدادي (ت 463 هـ) في شكاية عارف: (وما شيء أضعف من عالم ترك الناس علمه لفساد طريقته، وجاهل أخذ الناس بجهله لنظرهم إلى عبادته)
(4). فعلاج الجهل إنما يكون بإفشاء العلم، وجهاد البدع إنما يتهيأ بإظهار السنن.
--------------------------------------------
(মৃত্যু ১৩৬ হিজরি) চল্লিশজন ফকিহ (আইনবিদ), আমাদের মধ্যে নূন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আমাদের যা আছে তা দিয়ে পরস্পরকে সাহায্য করা, আর আমি সেখানে এমন কোনো হাদিস নিয়ে বিতর্ক বা বিবাদ করতে দেখিনি যা আমাদের কোনো উপকারে আসে না।
(১).
আর খোদাভীতির এই চরিত্র ফকিহগণ অর্জন করেছিলেন তাদের ইলমের মর্যাদা এবং মহান আল্লাহ সম্পর্কে তাদের মারেফাত বা পরিচয়ের কারণে, আর এই অনুভূতির কারণে যে তিনি তাদের ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। আবু بকর আল-আজুররি (মৃত্যু ৩৬০ হিজরি) বলেছেন: (যদি কেউ প্রশ্ন করে: কেন আলেমদের মধ্যে এই তীব্র উৎকণ্ঠা দানা বাঁধল এবং কেন তারা তাদের ইলমের ব্যাপারে এতোটা ভীত হলেন? তাকে বলা হবে: তারা জানতেন যে মহান আল্লাহ তাদের জিজ্ঞাসা করবেন যে তারা তাদের অর্জিত ইলম অনুযায়ী কী আমল করেছেন? তাই তারা আল্লাহর নিকট জিজ্ঞাসিত হওয়াকে নিজেদের চোখের সামনে রাখতেন, ফলে তারা নিজেদের ওপর কঠোর সতর্কতা আরোপ করেছিলেন এবং তাদের প্রতিটি বিষয়ে নির্ভরযোগ্য (الثقة) পন্থা অবলম্বন করেছিলেন)
(২).
৩ - এই মজলিসগুলো ছিল শরিয়তকে পাহারা দেওয়ার এবং সব ধরণের অনুপ্রবেশিত কৃত্রিমতা থেকে একে রক্ষা করার দফতর স্বরূপ। কারণ ইলম যখন বিস্তার লাভ করে তখন মূর্খতা দূর হয়, আর ইলম যখন স্থিমিত হয়ে যায় তখন মূর্খতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে এবং ছড়িয়ে পড়ে, শেষ পর্যন্ত মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করে; ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয় এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করে। মানুষের ওপর আসা অন্যতম বড় মুসিবত হলো তারা আমলের ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকা একজন আলেমের থেকে বিমুখ হয়ে এমন একজন মূর্খ ব্যক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, যার ইবাদত ও নেক আমল দেখে তারা প্রতারিত হয়। ফলে তারা তার কাছ থেকে শরিয়তের জ্ঞান গ্রহণ করে, যার ফলে শরিয়তের শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটে। তারা শরিয়ত যা পেছনে রেখেছে তা আগে নিয়ে আসে এবং যা আগে রেখেছে তা পেছনে নিয়ে যায়, এমনকি সেই মূর্খ ব্যক্তি ধারণা করে যে সে সঠিক পথে আছে, অথচ সে কোনো সঠিক পথের ওপর নেই। দিরার বিন আমর (মৃত্যু ২০০ হিজরি) বলেছেন: (নিশ্চয়ই এক সম্প্রদায় ইলম অর্জন ও আলেমদের মজলিস বর্জন করেছে এবং তারা ইবাদতখানা বানিয়ে রোজা ও নামাজে মগ্ন হয়েছে, এমনকি তাদের হাড়ের ওপর চামড়া শুকিয়ে গেছে; কিন্তু তারা সুন্নাহ (السنة) এর বিরোধিতা করেছে এবং ফলে তারা ধ্বংস হয়েছে। সেই সত্তার কসম যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, মূর্খতার সাথে আমলকারী ব্যক্তি সংশোধনের চেয়ে অনিষ্টই বেশি করে)
(৩). আর খতিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি) একজন মারেফাত অর্জনকারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলেছেন: (ওই আলেমের চেয়ে দুর্বল (ضعيف) আর কিছু নেই যার কর্মপন্থা নষ্ট হওয়ার কারণে মানুষ তার ইলম বর্জন করেছে, আর ওই মূর্খের চেয়েও নিকৃষ্ট কেউ নেই যার ইবাদত দেখে মানুষ তার মূর্খতাকে গ্রহণ করে নিয়েছে)
(৪). সুতরাং মূর্খতার চিকিৎসা হলো ইলমের বিস্তার ঘটানো, আর বিদআত (البدع) এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম হলো সুন্নাহ (السنة) সমুন্নত করার মাধ্যমে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال الحافظ الذهبي (ت 748 هـ): (فوالله لولا الحفاظ الأكابر، لخطبت الزنادقة على المنابر، ولئن خطب خاطب من أهل البدع، فإنما هو بسيف الإسلام وبلسان الشريعة وبجاه السُّنَّة، وبإظهار متابعة ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم
(1).
وأكمل أحوال الناس التي تُفتح لهم فيها أبواب التوفيق، أن يقيض الله جل جلاله لهم عالمًا عاملًا ربانيًّا يأخذهم بالعلم والعمل، فتنتظم أمورهم في ذلك كله على السداد، ثم لا تكون بهم حاجة إلى غيره ممن انتقص علمه أو عمله.
وقد روى القاضي أبو الوليد بن رشد الجد (ت 520 هـ) في ذلك حكاية عن فقيه الأندلس يحيي بن يحيي الليثي (ت 234 هـ) حيث قال: خرج معنا فتى من طرابلس، فكنا لا ننزل منزلًا إلا وعظنا فيه، حتى بلغنا المدينة، فكنا نعجب بذلك منه، فلما أتينا المدينة إذا هو قد أراد أن يفعل بهم ما كان يفعل بنا، فرأيته في سماط أصحاب السقط وهو قائم يحدثهم وقد لهوا عنه، والصبيان يحصبونه ويقولون له: اسكت يا جاهل، فوقفت معجبًا لما رأيت. فدخلنا على مالك (ت 179 هـ) فكان أول شيء سألناه عنه بعد ما سلمنا عليه ما رأينا من الفتي، فقال مالك: أصاب الرجال إذ لهوا عنه، وأصاب الصبيان إذ ذكروا عليه باطله. قال يحيي: وسمعت مالكًا يكره القصص، فقيل له: يا أبا محمد، فإذ تكره مثل هذا فعلى ما كان يجتمع من مضى؟ فقال: على الفقه. وكان يأمرهم وينهاهم
(2). وقال أبو بكر المرّوذي (ت 275 هـ): سمعت أبا عبد الله-يعني: الإمام أحمد- يقول: جاءني الأرمينيون بكتاب ذكر الوسواس والخطرات وغيره. قلت: فأي شيء قلت لهم؟ قال: قلت: هذا كله مكروه.
وقال في موضع آخر للمروذي: عليك بالعلم عليك بالفقه
(3).
فالوظائف الدينية من تعليم وإفتاء وقضاء وخطابة ووعظ تستقيم مع الفقه وتختل بفقده ونقصه، وقد روى الإمام مالك (ت 179 هـ) في الموطأ أن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال لإنسان: (إنك في زمان كثير فقهاؤه قليل قراؤه،
--------------------------------------------
হাফিজ আয-যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হি.) বলেন: (আল্লাহর কসম! যদি মহান হাফিজগণ (الحفاظ) না থাকতেন, তবে যিনদিকরা (الزنادقة) মিম্বরগুলোতে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিত। আর যদি বিদআতিদের (أهل البدع) মধ্য থেকে কেউ ভাষণ দেয়ও, তবে তা কেবল ইসলামের তরবারি, শরয়ি ভাষা ও সুন্নাহর মর্যাদাকে পুঁজি করে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর মাধ্যমেই সম্ভব হয়।
(১) মানুষের জন্য তাওফিকের দ্বার উন্মোচিত হওয়ার সর্বোত্তম অবস্থা হলো যখন আল্লাহ জাল্লা জালালুহু তাদের জন্য এমন একজন আমলকারী রব্বানি আলেম নির্দিষ্ট করে দেন, যিনি তাদের ইলম ও আমলের সাথে পরিচালনা করেন। ফলে তাদের যাবতীয় বিষয় সঠিক পথে সুশৃঙ্খল হয়ে যায় এবং এরপর তাদের এমন কারো মুখাপেক্ষী হতে হয় না যার ইলম বা আমলে কোনো ত্রুটি রয়েছে।
কাজি আবু আল-ওয়ালিদ ইবনে রুশদ আল-জাদ্দ (মৃত্যু ৫২০ হি.) এ প্রসঙ্গে আন্দালুসের ফকিহ (فقيه) ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-লাইছি (মৃত্যু ২৩৪ হি.) থেকে একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ‘ত্রিপোলি থেকে এক যুবক আমাদের সাথে বের হলো। আমরা যেখানেই যাত্রা বিরতি করতাম, সেখানেই সে আমাদের নসিহত করত। মদিনায় পৌঁছা পর্যন্ত আমরা তার এই কাজে অবাক হতাম। যখন আমরা মদিনায় পৌঁছালাম, তখন সে আমাদের সাথে যা করেছিল, মদিনাবাসীদের সাথেও তা করতে চাইল। আমি তাকে বিক্রেতাদের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম; সে দাঁড়িয়ে তাদের কাছে বক্তব্য দিচ্ছিল আর তারা তাকে উপেক্ষা করছিল। এমনকি শিশুরা তাকে পাথর ছুড়ে মারছিল এবং বলছিল: চুপ কর ওহে মূর্খ। আমি যা দেখলাম তাতে বিস্মিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। এরপর আমরা ইমাম মালিক (মৃত্যু ১৭৯ হি.)-এর কাছে গেলাম। তাকে সালাম দেওয়ার পর সর্বপ্রথম আমরা সেই যুবকের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। ইমাম মালিক বললেন: পুরুষরা সঠিক কাজই করেছে যে তারা তাকে উপেক্ষা করেছে, আর শিশুরাও সঠিক কাজ করেছে যখন তারা তার বাতিল (باطل) বিষয়কে চিহ্নিত করেছে।’ ইয়াহইয়া বলেন: ‘আমি ইমাম মালিককে কিচ্ছাকাহিনি (القصص) অপছন্দ করতে শুনেছি।’ তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: ‘হে আবু মুহাম্মদ, আপনি যদি এ জাতীয় বিষয় অপছন্দ করেন, তবে পূর্বসূরিরা কিসের ওপর সমবেত হতেন?’ তিনি বললেন: ‘ফিকহ (الفقه)-এর ওপর। তিনি তাদের আদেশ দিতেন এবং নিষেধ করতেন।’
(২) আবু বকর আল-মাররুযি (মৃত্যু ২৭৫ হি.) বলেন: ‘আমি আবু আব্দুল্লাহ—অর্থাৎ ইমাম আহমাদকে—বলতে শুনেছি: আর্মেনীয়রা আমার কাছে একটি কিতাব নিয়ে এল যাতে কুমন্ত্রণা, কুচিন্তা এবং আরও অন্যান্য বিষয় উল্লেখ রয়েছে। আমি বললাম: আপনি তাদের কী বললেন? তিনি বললেন: আমি বলেছি, এসবই অপছন্দনীয় (مكروه)।’
তিনি অন্য এক স্থানে মাররুযিকে উদ্দেশ্য করে বলেন: ‘তুমি ইলম (العلم) অর্জন করো, ফিকহ (الفقه) চর্চা করো।’
(৩) সুতরাং শিক্ষা দান, ইফতা, বিচারকার্য, খুতবা ও ওয়াজ-নসিহতের মতো দ্বীনি দায়িত্বসমূহ ফিকহ (الفقه)-এর মাধ্যমেই সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে এবং এর অনুপস্থিতি বা ঘাটতির কারণে তা ব্যাহত হয়। ইমাম মালিক (মৃত্যু ১৭৯ হি.) মুয়াত্তায় বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন: ‘নিশ্চয়ই তুমি এমন এক যুগে আছ যেখানে ফকিহদের (فقهاؤه) সংখ্যা অনেক বেশি এবং কারিদের (قراؤه) সংখ্যা কম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
تحفظ فيه حدود القرآن وتضيع حروفه، قليل من يسأل كثير من يعطي، يطيلون فيه الصلاة ويقصرون الخطبة، يُبَدُّون أعمالهم قبل أهوائهم، وسيأتي على الناس زمان قليل فقهاؤه كثير قراؤه، تحفظ فيه حروف القرآن وتُضيَّع حدوده، كثير من يسأل قليل من يعطي، يطيلون فيه الخطبة ويقصرون الصلاة، يُبَدُّون فيه أهواءهم قبل أعمالهم)
(1).
وعلى أية حال فأثر هذه المجالس أمر يطول شرحه وبيانه، ولكنها لم تزل من وجوه الفخار التي تتجمل بها الأمصار الإسلامية وتتفاضل بها فيما بينها، وكان لها رهبة تدعو من يحل بالبلد من الفقهاء إلى التحرز والتوقي والحذر ليعرف منزلته من العلم في أهلها، ويروي ناصح الدين بن الحنبلي (ت 634 هـ) أنه سمع ابن نُجيَّة الأنصاري الدمشقي الحنبلي (ت 599 هـ) يقول: (أول مجلس جلسته في بغداد في جامع المنصور، فنزلت سحرًا إلى الجامع متنكرًا، حتى أرى هيئة المجلس وأسمع ما يقال، وإذا رجل أعمى قد جلس على درج المنبر، فذكر من الفصول من كلام التميمي (ت 488 هـ) وابن عقيل (ت 513 هـ) وغيرهما جميع ما قد حررته للمجلس وتعبت عليه! قال: فأصابني همٌّ وما بقي لي زمن أحفظ غير ذلك، فاستخرت الله تعالى، ثم جلست وتكلمت، وذكرت حكاية طاب بها المجلس)
(2). ويصف فقيه القيروان وعالمها أبو عمران الفاسي (ت 430 هـ) أول حضوره لمجلس القاضي أبي بكر الباقلاني (ت 403 هـ) فيقول: (رحلت إلى بغداد وكنت قد تفقهت بالمغرب والأندلس عند أبي الحسن القابسي (ت 403 هـ) وأبي محمد الأصيلي (ت 392 هـ) وكانا عالمين بالأصول. فلما حضرت مجلس القاضي أبي بكر، ورأيت كلامه في الأصول والفقه مع المؤلف والمخالف، حقرت نفسي وقلت: لا أعلم من العلم شيئًا، ورجعت عنده كالمبتدئ)
(3).
--------------------------------------------
যেখানে কুরআনের বিধানসমূহ (حدود) সংরক্ষণ করা হয় এবং এর শব্দসমূহ (حروف) উপেক্ষা করা হয়, যাঞ্চাকারীর সংখ্যা কম কিন্তু দানকারীর সংখ্যা বেশি, তারা সেখানে সালাত দীর্ঘ করে এবং খুতবা সংক্ষিপ্ত করে, তারা প্রবৃত্তির ওপর আমলকে অগ্রাধিকার দেয়। এবং মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে যখন ফকিহদের (فقهاء) সংখ্যা হবে কম এবং কারীদের সংখ্যা হবে বেশি, যেখানে কুরআনের শব্দসমূহ (حروف) সংরক্ষণ করা হবে এবং এর বিধানসমূহ (حدود) উপেক্ষা করা হবে, যাঞ্চাকারীর সংখ্যা হবে বেশি এবং দানকারীর সংখ্যা হবে কম, তারা খুতবা দীর্ঘ করবে এবং সালাত সংক্ষিপ্ত করবে এবং তারা তাদের আমলের ওপর প্রবৃত্তিকে অগ্রাধিকার দিবে)
(1).
যাহোক, এই মজলিসগুলোর প্রভাব ব্যাখ্যা ও বর্ণনা করা দীর্ঘসাধ্য বিষয়, তবে এগুলো সর্বদা গর্বের অন্যতম দিক হিসেবে রয়ে গেছে যার মাধ্যমে ইসলামি জনপদসমূহ সুশোভিত হয় এবং একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। এর এমন এক গাম্ভীর্য ছিল যা শহরে আগত ফকিহদের (فقهاء) সতর্ক ও সাবধান হতে বাধ্য করত, যাতে তারা সেখানকার অধিবাসীদের মধ্যে নিজের ইলমি অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। নাসিহ উদ্দিন ইবনুল হাম্বলি (মৃত্যু ৬৩৪ হিজরি) বর্ণনা করেন যে, তিনি ইবনে নুজিয়্যাহ আল-আনসারি আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলিকে (মৃত্যু ৫৯৯ হিজরি) বলতে শুনেছেন: (বাগদাদে আমার প্রথম মজলিস ছিল মানসুর জামে মসজিদে। আমি শেষ রাতে ছদ্মবেশে মসজিদে গেলাম যাতে মজলিসের অবস্থা দেখতে পারি এবং কী বলা হচ্ছে তা শুনতে পারি। হঠাৎ দেখলাম একজন অন্ধ ব্যক্তি মিম্বরের সিঁড়িতে বসে আছেন এবং তিনি আত-তামিমি (মৃত্যু ৪৮৮ হিজরি) ও ইবনে আকিল (মৃত্যু ৫১৩ হিজরি) এবং অন্যদের বক্তব্য থেকে এমন সব অধ্যায় (فصول) বর্ণনা করছেন যা আমি মজলিসের জন্য প্রস্তুত করেছিলাম এবং যার পেছনে আমি অনেক শ্রম দিয়েছিলাম! তিনি বলেন: এতে আমি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম কারণ সেই সময়টুকুতে মুখস্থ করার মতো আমার কাছে অন্য কিছু ছিল না। অতঃপর আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম, এরপর বসলাম ও কথা বললাম এবং এমন এক কাহিনী বর্ণনা করলাম যাতে মজলিসটি আনন্দমুখর হয়ে উঠল)
(2)। কায়রাওয়ানের ফকিহ (فقيه) এবং সেখানকার আলিম আবু ইমরান আল-ফাসি (মৃত্যু ৪৩০ হিজরি) কাজি আবু বকর আল-বাকিল্লানির (মৃত্যু ৪০৩ হিজরি) মজলিসে তাঁর প্রথম উপস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন: (আমি বাগদাদে সফর করেছিলাম অথচ আমি ইতোপূর্বেই মাগরিব ও আন্দালুসে আবু হাসান আল-কাবেসি (মৃত্যু ৪০৩ হিজরি) এবং আবু মুহাম্মদ আল-আসিলি (মৃত্যু ৩৯২ হিজরি) এর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিলাম এবং তাঁরা উভয়েই উসুল (أصول) শাস্ত্রে অভিজ্ঞ আলিম ছিলেন। যখন আমি কাজি আবু বকরের মজলিসে উপস্থিত হলাম এবং উসুল (أصول) ও ফিকহ বিষয়ে অনুসারী ও বিরোধীদের সাথে তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা দেখলাম, তখন আমি নিজেকে তুচ্ছ মনে করলাম এবং বললাম: আমি ইলমের কিছুই জানি না, আর আমি তাঁর কাছে একজন নবীন শিক্ষার্থীর (مبتدئ) মতো ফিরে এলাম)
(3).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
تمهيد ثانفي بيان أنواع المجالس الفقهية والفرق بينها (وقال الحكيم: القلب ميت وحياته العلم، والعلم ميت وحياته الطلب، والطلب ضعيف وقوَّته بالمدارسة، فإذا قوي بالمدارسة فهو محتجب وإظهاره بالمناظرة، وإذا ظهر بالمناظرة فهو عقيم ونتاجه بالعمل، فإذا زُوِّج العلم بالعمل توالد وتناسل ملكًا أبديًّا لا آخر له).
(منهج الثقات، ابن خير الله العمري/33)
(قل للذي دسَّك: القضاة لا تفتي). قاضي البصرة إسماعيل بن حماد بن أبي حنيفة.
(أخبار القضاة، وكيع/2/ 168)
(وقد ينصر الإنسان في المناظرة غير مذهبه).
(المجموع، النووي/2/ 502)
(وليس حد العالم بأن يكون حاذقًا بالجدل، فالعلم صناعة والجدل صناعة إلا أنه مادة الجدل، والمجادل يحتاج إلى العالم، والعالم لا يحتاج في علمه إلى المجادل كما يحتاج المجادل في جدله إلى العالم).
(الواضح، ابن عقيل/1/ 510)
(وإن استفتوك في المسائل فلا تناقشهم في المناظرة والمطارحات). من وصية أبي حنيفة لأبي يوسف.
(الأشباه والنظائر، ابن نجيم/518)
(العلماء يستنكفون من إيراد السؤالات في مجالس الوعظ). الفخر الرازي.
(مناظرات فخر الدين الرازي في بلاد ما وراء النهر/15)
দ্বিতীয় অবতরণিকাফিকহি মজলিসসমূহের প্রকারভেদ এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্যের বর্ণনায় (জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন: অন্তর মৃত, আর তার জীবন হলো জ্ঞান। জ্ঞান মৃত, আর তার জীবন হলো অন্বেষণ। অন্বেষণ হলো দুর্বল (ضعيف), আর তার শক্তি হলো মুদারাসা বা পারস্পরিক পাঠচর্চার মাধ্যমে। যখন তা মুদারাসার মাধ্যমে শক্তিশালী হয়, তখন তা প্রচ্ছন্ন থাকে এবং মুনাজারা বা তাত্ত্বিক বিতর্কের মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। যখন তা মুনাজারার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, তখন তা নিষ্ফল থাকে এবং আমলের মাধ্যমেই তার ফল অর্জিত হয়। আর যখন জ্ঞানের সাথে আমলের সমন্বয় ঘটে, তখন তা এমন এক চিরস্থায়ী রাজত্বের জন্ম দেয় যার কোনো শেষ নেই)।
(মানহাজুত থিকাত, ইবনে খাইরুল্লাহ আল-উমরি/৩৩)
(তোমাকে যে পাঠিয়েছে তাকে বলো: কাজীরা ফতোয়া প্রদান করেন না)। বসরার কাজী ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ ইবনে আবু হানিফা।
(আখবারুল কুদাত, ওয়াকি/২/ ১৬৮)
(কখনও কখনও মানুষ মুনাজারা বা বিতর্কের সময় নিজের মাযহাব ব্যতীত অন্য মতের পক্ষেও অবস্থান নেয়)।
(আল-মাজমু, আন-নববী/২/ ৫০২)
(আলেমের সংজ্ঞা এটি নয় যে, তাকে বিতর্কে পারদর্শী হতে হবে। কেননা জ্ঞান একটি শিল্প এবং বিতর্কও একটি শিল্প; তবে জ্ঞান হলো বিতর্কের মূল উপাদান। একজন বিতর্ককারীর আলেমের প্রয়োজন হয়, কিন্তু আলেম তার জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিতর্ককারীর মুখাপেক্ষী নন; যেভাবে একজন বিতর্ককারী তার বিতর্কের প্রয়োজনে আলেমের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন)।
(আল-ওয়াদিহ, ইবনে আকিল/১/ ৫১০)
(যদি তারা তোমার নিকট বিভিন্ন বিষয়ে ফতোয়া জানতে চায়, তবে তাদের সাথে মুনাজারা ও তাত্ত্বিক বাহাসে লিপ্ত হয়ো না)। আবু ইউসুফের প্রতি ইমাম আবু হানিফার অসিয়ত হতে সংগৃহীত।
(আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর, ইবনে নুজাইম/৫১৮)
(আলেমগণ ওয়াজ-নসীহতের মজলিসে প্রশ্ন উত্থাপন করাকে সমীচীন মনে করেন না)। ফখরুদ্দীন আল-রাজি।
(মুনাজারাতে ফখরুদ্দীন আল-রাজি ফি বিলাদি মা ওয়ারাআন নাহার/১৫)
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
العلم ميراث كميراث المال، وله خزنة وحفظة وكتبة وطلبة كخزنة المال وحفظته وكتبته وطلبته، فإن عدم المال ورثة يتطلبونه ويحصونه ويحوزونه ويتقاسمونه ضاع، فكذلك العلم إن لم يكن له ورثة ضاع، ومن أعظم ما يُدخل الحزن والأسف على صدر العالم ألا يجد حملة لعلمه. ولما كان سعيد بن جبير (ت 95 هـ) بفارس كان يتحزن ويقول: (ليس أحد يسألني عن شيء)
(1)، وكان يقول: (إن مما يهمني ما عندي من العلم، وددت أن الناس أخذوه)
(2). وقال زاذان (ت 82 هـ): (سألت ابن مسعود رضي الله عنه عن أشياء ما أحد يسألني عنها)
(3).
وقال الزهري (ت 124 هـ): (إن للعلم غوائل، فمن غوائله أن يُترك العالم حتى يذهب بعلمه)
(4). وسئل يحيي بن أكثم (ت 242 هـ): كيف رأيت عبد الملك-يعني: ابن عبد العزيز الماجشون (ت 213 هـ) - بالمدينة؟ فقال: رأيت بحرًا لا تكدره الدلاء، ولكني ما رأيت له سَأَلَةً. قيل له: وكيف ذلك؟ قال: لا يفهمون عنه
(5). وقال ابن الخشاب اللغوي الحنبلي (ت 567 هـ): (إني متقن في ثمانية علوم، ما يسألني أحد عن علم منها، ولا أجد لها أهلًا)
(6). وقال عالم الأحساء عبد العزيز بن حمد آل مبارك (ت 1359 هـ) لما أحسَّ بدنوِّ أجله: (ما أسفت على شيء أسفي على علم بين جنبيَّ لم أستطع أن أورِّثه غيري)
(7).
--------------------------------------------
জ্ঞান হলো সম্পদের উত্তরাধিকারের ন্যায় এক উত্তরাধিকার। সম্পদের যেমন কোষাধ্যক্ষ, সংরক্ষণকারী, লেখক ও অন্বেষণকারী থাকে, জ্ঞানেরও তেমনি কোষাধ্যক্ষ, সংরক্ষণকারী, লেখক ও অন্বেষণকারী রয়েছে। যদি সম্পদ এমন কোনো উত্তরাধিকারী না পায় যারা তা অন্বেষণ করবে, গণনা করবে, আয়ত্ত করবে এবং বণ্টন করবে, তবে তা হারিয়ে যায়। তদ্রূপ জ্ঞানও যদি কোনো উত্তরাধিকারী না পায়, তবে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। একজন আলেমের হৃদয়ে দুঃখ ও অনুশোচনা জাগানিয়া সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটি হলো—তার অর্জিত জ্ঞান বহন করার মতো কাউকে না পাওয়া। সাঈদ ইবনে জুবায়ের (মৃত্যু ৯৫ হিজরি) যখন পারস্যে ছিলেন, তখন তিনি ব্যথিত হতেন এবং বলতেন: "কেউ আমাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে না"
(১)। তিনি আরও বলতেন: "আমার কাছে যে জ্ঞান রয়েছে তা আমাকে উদ্বিগ্ন করে; আমার একান্ত আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষ যেন তা গ্রহণ করত"
(২)। জাযান (মৃত্যু ৮২ হিজরি) বলেন: "আমি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে এমন কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছি যা অন্য কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করে না"
(৩)।
ইমাম জুহরি (মৃত্যু ১২৪ হিজরি) বলেন: "জ্ঞানের কিছু আপদ রয়েছে। এর অন্যতম একটি আপদ হলো—আলেমকে বর্জন করা, যার ফলে তিনি তার জ্ঞানসহই বিদায় নেন"
(৪)। ইয়াহইয়া ইবনে আকসামকে (মৃত্যু ২৪২ হিজরি) জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি মদিনায় আব্দুল মালিককে—অর্থাৎ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-মাজিশুনকে (মৃত্যু ২১৩ হিজরি)—কেমন দেখলেন? তিনি বললেন: "আমি এমন এক সমুদ্র দেখেছি যাকে কোনো বালতিই ঘোলা করতে পারে না, কিন্তু আমি তার কোনো প্রশ্নকারী দেখলাম না।" তাকে বলা হলো: কেন এমন? তিনি বললেন: "তারা তার কথা বুঝতে সক্ষম নয়"
(৫)। ইবনুল খাশশব আল-লুগাভি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৫৬৭ হিজরি) বলেন: "আমি আটটি শাস্ত্রে সুনিপুণ (متقن), কিন্তু আমাকে সেগুলোর কোনোটি সম্পর্কেই কেউ প্রশ্ন করে না এবং আমি সেগুলোর যোগ্য পাত্রও খুঁজে পাচ্ছি না"
(৬)। আল-আহসার আলেম আব্দুল আজিজ ইবনে হামাদ আল-মুবারক (মৃত্যু ১৩৫৯ হিজরি) যখন নিজের মৃত্যু ঘনিয়ে আসার অনুভব করলেন তখন বললেন: "আমার অন্তরে থাকা যে জ্ঞান আমি অন্য কাউকে দিয়ে যেতে পারিনি, তার চেয়ে বেশি আফসোস আমি আর অন্য কোনো কিছুর জন্য করি না"
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ولم يزل طلبة علم الفقه في هذه الأمة يتوارثونه كابرًا عن كابر، ويتحمله الآخر منهم عن الأول في مجالس كريمة تختلف في أغراضها وتتكامل في وظائفها، ما بين مجلس درس، ومجلس إفتاء، ومجلس قضاء، ومجلس مباحثة، ومجلس مذاكرة ومدارسة، ومجلس مناظرة، ومجلس تذكير، ولكلِّ مجلس منها هيئته ونظامه ورسومه وتراتيبه، يعرف ذلك من مارس هذه المجالس وخالط أهلها، فلا يشتبه عنده مقام الدرس بمقام المناظرة، ولا فتيا المفتي بحكم القاضي، فإذا نقل ناقل أو كتب كاتب شيئًا من ذلك فاشتبه أمره على من لا يعلم ميَّز ذلك من يعلم. وربما جرى الغلط من بعض من لم يكن لم تمييز صالح بين هذه المقامات فنسب إلى بعض الأئمة قولًا لم يقل به، أو دليلًا لا يستدل به.
ولمَّا اشتبه اختلاف أقوال الشافعي (ت 204 هـ) على بعض الناس، ألَّف أبو العباس بن القاص (ت 335 هـ) كتابه ((نصرة القولين للإمام الشافعي)) فقال في أوَّله: (معاشر إخواني المتفقهين، فقد اتصل بي ما أنهيتم إلى من الرغبة، وذكرتم ما حلَّ بكم من الحاجة إلى الحجة فيما عيركم به الكوفيون، وثلبكم به المخالفون من اختلاف قولي الشافعي رضي الله عنه وتخريجه المسألة الواحدة على الأقاويل المختلفة، وزعم أن كثرة الأقوال على تباينها لا تكون إلا من مبتغي التلبيس. وهكذا من قلَّ علمه ضاق بكثرة الأقاويل ذرعه، إلا من تبحر في العلوم فلاحت له حكمة تغاير الوجوه)
(1). ثم شرح في الكتاب وجوه اختلاف أقوال الشافعي وأنه ربما ذكر القول على سبيل المحاجة، أو على طريق الحكاية، أو على جهة امتحان المتعلمين، أو على وجه التخيير، أو الاحتياط، وغير ذلك من الوجوه التي ساقها مع التمثيل لها من كلام الشافعي
(2). وهذه الوجوه إنما تلتبس على من يتسور العلم تسوُّرًا فلا يأتي البيوت من أبوابها، ثم يُخلِّط في فهمه ونسبته إلى الفقهاء وحكايته عنهم فيجني عليهم وعلى نفسه بذلك.
ومن أجل ذلك فقد حذَّر أهل العلم من مخاطبة العامة بخطاب الخاصة، وقد جاء في بعض كلام الجاحظ (ت 255 هـ): (لا تكلم العامة بكلام
--------------------------------------------
এই উম্মতের ফিকহ (فقه) শাস্ত্রের শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে একে অপরের কাছ থেকে এটি উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করে আসছেন এবং তাঁদের উত্তরসূরিরা তাঁদের পূর্বসূরিদের থেকে তা গ্রহণ করেছেন এমন সব সম্মানিত মজলিসে, যেগুলোর উদ্দেশ্য ভিন্ন ভিন্ন হলেও কার্যাবলির দিক থেকে একে অপরের পরিপূরক। এসবের মধ্যে রয়েছে পাঠদানের মজলিস, ফতোয়া প্রদানের (إفتاء) মজলিস, বিচার কার্যের (قضاء) মজলিস, তাত্ত্বিক আলোচনার (مباحثة) মজলিস, মুযাকারা (مذاكرة) ও মুদারাসার (مدارسة) মজলিস, মুনাযারার (مناظرة) মজলিস এবং নসিহতের মজলিস। এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র কাঠামো, নীতিমালা, প্রথা ও বিন্যাস। যারা এসব মজলিসে যাতায়াত করেছেন এবং এই বিদ্যার বিদগ্ধজনদের সংশ্রব লাভ করেছেন, তাঁরাই এটি অনুধাবন করতে পারেন। ফলে তাঁদের নিকট পাঠদানের প্রেক্ষাপট মুনাযারার (مناظرة) প্রেক্ষাপটের সাথে গুলিয়ে যায় না এবং একজন মুফতির (مفتي) ফতোয়া একজন বিচারকের রায়ের সাথে অস্পষ্ট থাকে না। সুতরাং যখন কোনো বর্ণনাকারী কিছু বর্ণনা করেন অথবা কোনো লেখক কিছু লেখেন এবং বিষয়টি অজ্ঞদের নিকট অস্পষ্ট হয়ে পড়ে, তখন বিজ্ঞ আলেমগণ তা সঠিকভাবে পৃথক করে দেন। অনেক সময় এমন ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে ভুল হয়ে থাকে যাদের এই বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের মধ্যে পার্থক্য করার মতো সঠিক যোগ্যতা নেই; ফলে তারা কোনো কোনো ইমামের দিকে এমন বক্তব্য নিসবত (نسبة) করে যা তিনি বলেননি, অথবা এমন কোনো দলিলের (دليل) দোহাই দেয় যা তিনি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেননি।
যখন ইমাম শাফেয়ী (মৃত্যু: ২০৪ হিজরি)-এর বিভিন্ন বক্তব্যের ভিন্নতা কিছু মানুষের নিকট অস্পষ্ট হয়ে পড়ল, তখন আবু আব্বাস ইবনুল কাস (মৃত্যু: ৩৩৫ হিজরি) তাঁর 'নুসরাতুল কাওলাইন লিল-ইমামিশ শাফেয়ী' কিতাবটি রচনা করেন। তিনি এর শুরুতে বলেন: (হে আমার ফিকহ (فقه) শিক্ষার্থী ভাইগণ, তোমাদের পক্ষ থেকে যে আগ্রহের কথা আমাকে জানানো হয়েছে তা আমার নিকট পৌঁছেছে। তোমরা কুফাবাসীদের বিদ্রূপ এবং বিরোধীদের সমালোচনার বিপরীতে নিজেদের যে হুজ্জত (حجة) বা প্রমাণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছ—যা ইমাম শাফেয়ী (রা.)-এর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য এবং একই মাসআলা (مسألة) নিয়ে বিভিন্ন মতের তাখরিজের (تخريج) কারণে তৈরি হয়েছে—সেটি আমি অবগত হয়েছি। তাদের দাবি হলো, বক্তব্যের এই বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা কেবল বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে। আসলে যাদের জ্ঞান অল্প, বক্তব্যের প্রাচুর্য তাদের জন্য অসহনীয় হয়ে পড়ে; তবে যারা ইলমের গভীরে অবগাহন করেছেন, তাঁদের নিকট এই বিভিন্নতার পেছনের হিকমত বা প্রজ্ঞা স্পষ্ট হয়ে ওঠে)
(১)। অতঃপর তিনি কিতাবটিতে ইমাম শাফেয়ীর বক্তব্যের ভিন্নতার দিকগুলো ব্যাখ্যা করেন এবং দেখান যে, তিনি হয়তো কোনো বক্তব্য বিতর্কের খাতিরে বলেছেন, অথবা বর্ণনাসূত্রে বলেছেন, কিংবা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বলেছেন, অথবা নির্বাচনের সুযোগ (تخيير) হিসেবে কিংবা সতর্কতা বা ইহতিয়াতের (احتياط) খাতিরে বলেছেন। এ জাতীয় আরও অনেক কারণ তিনি ইমাম শাফেয়ীর বক্তব্যের উদাহরণসহ উল্লেখ করেছেন
(২)। আর এই বিষয়গুলো কেবল তাদের নিকটই জটিল মনে হয় যারা ইলমের পথে সঠিক দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে অন্য পথে উঁকি দেয়; ফলে তারা তাদের বুঝের ক্ষেত্রে এবং ফকিহদের (فقهاء) দিকে কোনো কিছু নিসবত করার ও তাঁদের থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল করে বসে। এর মাধ্যমে তারা সংশ্লিষ্ট ইমামদের ওপর এবং নিজেদের ওপর জুলুম করে।
এই কারণেই বিজ্ঞ আলেমগণ সাধারণ মানুষের সাথে বিশিষ্টজনদের ভাষায় কথা বলার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। জাহিজ (মৃত্যু: ২৫৫ হিজরি)-এর কোনো এক উক্তিতে এসেছে: (সাধারণ মানুষের সাথে এমন ভাষায় কথা বলো না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الخاصة، ولا الخاصة بكلام العامة)
(1)؛ وذلك أن العامة ليس لهم من مفاتح العلم وأدواته ما يخوِّلهم فهم دقيق الفقه واختلاف أحواله. قال ابن الجوزي (ت 597 هـ): (لا يصلح لإيداع الأسرار كل أحد، ولا ينبغي لمن وقع بكنز أن يكتمه مطلقًا، فربما ذهب هو ولم ينتفع بالكنز، وكما أنه لا ينبغي للعالم أن يخاطب العوام بكل علم، فينبغي أن يخص الخواص بأسرار العلم؛ لاحتمال هؤلاء ما لا يحتمله أولئك، وقد علم تفاوت الأفهام)
(2). وفي البخاري وغيره قول عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه لعمر رضي الله عنه: (إن الموسم يجمع رعاع الناس وغوغاءهم، فإنهم هم الذين يغلبون على قربك حين تقوم في الناس، وأنا أخشى أن تقوم فتقول مقالة يُطيِّرها عنك كل مُطَيِّر، وأن لا يعوها وأن لا يضعوها على مواضعها، فأمهل حتى تقدم المدينة؛ فإنها دار الهجرة والسُّنَّة، فتخلص بأهل الفقه وأشراف الناس، فتقول ما قلت متمكنًا، فيعي أهل العلم مقالتك ويضعونها على مواضعها)، فقبل عمر رضي الله عنه مشورته ولم يتكلم بذلك حتى قدم المدينة
(3). قال الوزير ابن هبيرة (ت 560 هـ) في شرح الحديث: (وفيه أيضًا أن علم الفقه والدقيق من الأحكام ينبغي أن يُتوخى بنشره خواص الناس ووجوههم وأشرافهم، ممن تقدمت منه الدرجة، فيضع كل شيء منه على موضعه)
(4). ولذا فقد أفتى عز الدين بن عبد السلام (ت 660 هـ) بأنه لا يجوز إيراد الإشكالات القوية بحضرة العوام؛ لأنه سبب إلى إضلالهم وتشكيكهم.
قال: (وكذلك لا يتفوه بهذه العلوم الدقيقة عند من يقصر فهمه عنها فيؤدي ذلك إلى ضلالته)
(5). فمن المعلوم أن (تشكيك الضعفاء بأدنى خيال ممكن)
(6).
ومن عادة أهل العلم التفريق بين مجالس العامة ومجالس الخاصة،
--------------------------------------------
বিশিষ্টজনদের জ্ঞান, আর না কি সাধারণের ভাষায় বিশিষ্টদের বিষয়াবলি আলোচনা করা সমীচীন নয়)
(১); আর এর কারণ হলো, সাধারণ মানুষের কাছে ইলমের এমন কোনো চাবিকাঠি বা সরঞ্জাম নেই যা তাদেরকে ফিকহশাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিষয়াবলি এবং এর অবস্থার ভিন্নতা বুঝতে সক্ষম করে তোলে। ইবনুল জাওজি (মৃত্যু: ৫৯৭ হিজরি) বলেন: (গোপন রহস্য গচ্ছিত রাখার জন্য সবাই উপযুক্ত নয়, আর কারো কাছে কোনো ধনভাণ্ডার থাকলে তার জন্য তা সম্পূর্ণ গোপন রাখাও উচিত নয়, কারণ হয়তো সে মারা যাবে কিন্তু সেই ধনভাণ্ডার দ্বারা কেউ উপকৃত হবে না। আর ঠিক যেভাবে একজন আলেমের জন্য উচিত নয় সাধারণ মানুষের সামনে সব ধরনের ইলম নিয়ে আলোচনা করা, তেমনি উচিত ইলমের রহস্যগুলো কেবল বিশিষ্টজনদের জন্যই নির্দিষ্ট রাখা; কারণ তারা যা ধারণ করতে সক্ষম, অন্যরা তা পারে না। আর মানুষের মেধার ভিন্নতা তো সর্বজনবিদিত)
(২)। সহিহ বুখারি ও অন্যান্য কিতাবে আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি একটি উক্তি বর্ণিত আছে: (হজ মৌসুমের এই সমাবেশ সাধারণ ও নিচু শ্রেণির মানুষের ভিড় জমায়। আপনি যখন মানুষের মাঝে দাঁড়ান, তখন তারাই আপনার নিকটবর্তী স্থানে সংখ্যায় অধিক থাকে। আমি আশঙ্কা করছি যে, আপনি হয়তো এমন কোনো কথা বলবেন যা দ্রুত মানুষের মুখে ছড়িয়ে পড়বে, কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারবে না এবং সঠিক ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করতে পারবে না। সুতরাং আপনি মদিনায় পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন; কেননা মদিনা হলো হিজরত ও সুন্নাহর স্থান। সেখানে আপনি ফিকহবিদ ও বিশিষ্টজনদের একান্তে পাবেন এবং আপনি যা বলতে চান তা দৃঢ়তার সাথে বলতে পারবেন। ফলে ইলম অন্বেষণকারীগণ আপনার বক্তব্য সঠিকভাবে অনুধাবন করবেন এবং তা সঠিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করবেন)। ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করেন এবং মদিনায় পৌঁছানোর আগে সে বিষয়ে কোনো কথা বলেননি
(৩)। উজির ইবনে হুবাইরা (মৃত্যু: ৫৬০ হিজরি) হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: (এতে এই ইঙ্গিতও রয়েছে যে, ফিকহশাস্ত্রের জ্ঞান ও সূক্ষ্ম মাসআলাগুলো প্রচারের ক্ষেত্রে বিশিষ্টজন, নেতৃস্থানীয় ও মর্যাদাবান ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত, যাদের ইলমি যোগ্যতা রয়েছে, যাতে তারা প্রতিটি বিষয়কে তার সঠিক স্থানে প্রয়োগ করতে পারেন)
(৪)। এজন্যই ইজ্জুদ্দিন ইবনে আব্দুস সালাম (মৃত্যু: ৬৬০ হিজরি) ফতোয়া দিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জটিল সংশয়গুলো উত্থাপন করা জায়েজ নয়; কারণ এটি তাদের পথভ্রষ্টতা ও সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি বলেন: (অনুরূপভাবে, এসব সূক্ষ্ম জ্ঞান এমন ব্যক্তির সামনে উচ্চারণ করা যাবে না যার বোধশক্তি তা উপলব্ধি করতে অক্ষম, কারণ তা তার বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে)
(৫)। কেননা এটি সুবিদিত যে, (সামান্য কল্পনাপ্রসূত বিষয়েই দুর্বলদের (الضعفاء) মনে সংশয় সৃষ্টি হতে পারে)
(৬)।
আলেমদের একটি চিরাচরিত নিয়ম হলো সাধারণ ও বিশেষ মজলিসের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وأن يستعمل لكل نوع منها ما يلائمه من العلم والأدب، وأن يُخصَّ بأصول العلم وغوامضه من فرَّغ نفسه للعلم وقصد له
(1). ولما سأل المغيرة بن عبد الرحمن (ت 186 هـ) مالكًا (ت 179 هـ) في مجلسه عن بعض قوله من أين يقوله؟ لم يجبه جوابًا شافيًا، قال المغيرة: ثم رآني في مسجد الرسول صلى الله عليه وسلم فدعاني فقال لي: (يا أبا هاشم، إنك تكرم علي، ولي عليك من الحق ألا تسلني عن مثل ما سألتني عنه بالأمس؛ لأنك تفتح علي بابًا مغلقًا والمجلس محتفل، لكن اكتب ما تريد أن تسلني عنه ووجِّه به إلى تحت ختمك فإني أجيبك عنه)
(2). وبالجملة فالفرق بين المجالس العامة والخاصة أمر مشهور وحاصل في علم الفقه وغيره، وهو أمر لابد منه في معنى العلم نفسه، فإن من العلم ما تحتمله عقول الناس كافة، ومنه ما لا يحتمله إلا الخاص منهم ممن توفرت فيهم شروط علمية وعقلية وأخلاقية أخص من غيرهم، وهذا أمر متقرر شرعًا وعقلًا وعرفًا
(3).
والمراد بيانه ههنا أن طلبة العلم والفقه في الدين في طلبهم لهذا العلم وتطوافهم في مجالس الفقه ومجامعه لتحصيله والترقي في درجاته، فهم ينالون من ميراث العلماء علم الشريعة وآدابه وطرائق تلقيه والرسوم العلمية في مجالسه، فيفهمون الحديث على وجهه، ولا ينتزعونه من سياقه، ولا يضربون الكلام ببعضه، فإن عزبت أفهام بعضهم أو أفهام غيرهم عن درك ذلك فلا يجوز أن يغيب عن جميعهم، ولم يزل التحقيق في أهل العلم بالمكان الذي لا يجهل، ومتى خلط خالط بين مقام وآخر تصدى أهل العلم لبيان الغلط أو
--------------------------------------------
এবং প্রতিটি বিষয়ের জন্য তার উপযোগী জ্ঞান ও শিষ্টাচার প্রয়োগ করা বাঞ্ছনীয়। আর জ্ঞানের মূলনীতি (أصول) এবং এর নিগূঢ় রহস্যসমূহ কেবল তাদের জন্য নির্দিষ্ট রাখা উচিত যারা নিজেদের জ্ঞানের জন্য নিবেদিত করেছে এবং এরই সংকল্প করেছে
(১)। যখন মুগিরা ইবনে আবদুর রহমান (মৃত্যু ১৮৬ হিজরি) মালেক (মৃত্যু ১৭৯ হিজরি)-কে তাঁর মজলিসে তাঁর কোনো একটি বক্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তিনি এটি কোথা থেকে বলছেন? তিনি তাকে কোনো সন্তোষজনক উত্তর দেননি। মুগিরা বলেন: এরপর তিনি আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে দেখলেন এবং আমাকে ডাকলেন। তিনি আমাকে বললেন: (হে আবু হাশেম, আপনি আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানিত। আপনার ওপর আমার একটি হক বা অধিকার রয়েছে যে, গতকাল আপনি আমাকে যা জিজ্ঞাসা করেছিলেন সে সম্পর্কে আর জিজ্ঞাসা করবেন না; কারণ আপনি আমার ওপর একটি বন্ধ দরজা খুলে দিচ্ছেন অথচ মজলিসটি ছিল জনাকীর্ণ। তবে আপনি যা জিজ্ঞাসা করতে চান তা লিখে আপনার সীলমোহরযুক্ত করে আমার কাছে পাঠান, আমি আপনাকে সেটির উত্তর দেব)
(২)। সংক্ষেপে বলতে গেলে, সাধারণ ও বিশেষ মজলিসের মধ্যকার পার্থক্য একটি সুপরিচিত বিষয় এবং এটি ফিকহ শাস্ত্র ও অন্যান্য শাস্ত্রেও বিদ্যমান। এটি জ্ঞানের মর্মার্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রেও একটি অপরিহার্য বিষয়। কেননা জ্ঞানের কিছু অংশ এমন যা সকল স্তরের মানুষ ধারণ করতে পারে, আবার কিছু অংশ কেবল বিশেষ স্তরের মানুষ ছাড়া অন্যরা ধারণ করতে পারে না যাদের মধ্যে অন্যদের তুলনায় বিশেষ জ্ঞানতাত্ত্বিক, বুদ্ধিভিত্তিক ও নৈতিক শর্তাবলি বিদ্যমান। এটি শরীয়াহসম্মত, বুদ্ধিভিত্তিক এবং প্রথাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি বিষয়
(৩)।
এখানে যা স্পষ্ট করা উদ্দেশ্য তা হলো, দ্বীনের জ্ঞান ও ফিকহ অন্বেষণকারীগণ যখন এই জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং ফিকহের মজলিস ও সমাবেশগুলোতে বিচরণ করেন এবং এর স্তরসমূহে উন্নতি লাভ করেন, তখন তারা আলেমদের উত্তরাধিকার থেকে শরীয়াহর জ্ঞান, এর শিষ্টাচার, তা গ্রহণের পদ্ধতি এবং মজলিসসমূহের জ্ঞানতাত্ত্বিক রীতিনীতি লাভ করেন। ফলে তারা হাদিসকে তার সঠিক আঙ্গিকে বুঝতে পারেন, একে প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করেন না এবং এক কথার সাথে অন্য কথার সংঘাত ঘটান না। যদি তাদের কারো কারো বা অন্যদের বুঝ এটি অনুধাবনে অক্ষম হয়, তবে তা সকলের দৃষ্টির অগোচরে থাকা জায়েজ নয়। আলেমদের মাঝে গবেষণালব্ধ যাচাইকরণের (تحقيق) বিষয়টি সর্বদা এক অবিস্মরণীয় মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিল। আর যখনই কোনো সংমিশ্রণকারী এক ক্ষেত্রের সাথে অন্য ক্ষেত্রের সংমিশ্রণ ঘটায়, তখন আলেম সমাজ সেই ভুল স্পষ্ট করার জন্য সচেষ্ট হন অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাজালিসুল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
المغالطة في تخليطه. ولما أفتى فقيه تونس ومفتيها أبو القاسم البرزلي (ت 841 هـ) بجواز العقوبة بالمال في الجنايات بمجلس بعض السلاطين الحفصيين ردَّ عليه القاضي الشماع (ت 833 هـ) برسالة بيَّن فيها حرمة أخذ المال وأن هذا هو المشهور من مذهب مالك، وقال معلِّقًا على قول البرزلي إنه قال ذلك على سبيل المذاكرة والمباحثة في مجالس العلماء: (أقول: لو أنصف بصَّره الله لقال: فقلت على وجه الفتوى والإشارة، ولا سيما أنه وقع في غير هذه النسخة من الإملاء أن أمير المؤمنين استشار في هذه القضية.
قلت: وما يستشير إلا ليقف على الحق، وجواب المستفتي والمستشير إنما هو الفتوى والإشارة لا المذاكرة! وتبرِّيه من الواقع الذي هو الفتوى مشعر بأنه بيِّنٌ له ضعف ما فاه من الدعوى)
(1)، وقال في موضع آخر: (هذه مسألة لم تكن على المذاكرة، وإنما كانت على وجه الاستفتاء، وهو رئيس القوم وأكبرهم سنًّا والمصدر للفتوى)
(2).
وعلى أية حالٍ، فإن إدراك مثل هذه المعنى واستحضاره يعود على العلم والفقيه والمتفقه بفائدة عظيمة ظاهرة، ومن ذلك ما يأتي:
1 - اعتبار اختلاف المقامات بين المجالس الفقهية، وإيلاء كل مقام حظه والتزام رسومه وآدابه ومعرفة أخلاقه؛ لئلا يؤاخذ الفقيه والمتفقه بما لا يلزمهما مما قضت قوانين العلم أو جرت عوائده بالتسامح فيه في بعض المجالس مع التزامه في سائرها. ومن أمثلة ذلك ما يأتي بيانه:
أ- مقام التعليم مقام إجلال وتفخيم للأستاذ؛ لأن مقام المعلم مقام المؤدي والمبلغ لعلم الشريعة، ووصايا أهل العلم بتوقير الشيخ في مجلس الدرس مشهورة متواترة، وقد روي عن علي رضي الله عنه أنه قال: (من حق العالم عليك أن تسلم على القوم عامة وتخصه دونهم بالتحية، وأن تجلس أمامه، ولا
--------------------------------------------
তার সংমিশ্রণের বিভ্রান্তি। যখন তিউনিসিয়ার ফকিহ এবং সেখানকার মুফতি আবুল কাসিম আল-বারজালি (মৃত্যু ৮৪১ হিজরি) হাফসি সুলতানদের মজলিসে অপরাধের দণ্ড হিসেবে আর্থিক জরিমানা বৈধ হওয়ার ফতোয়া দিয়েছিলেন, তখন কাজি আশ-শাম্মা (মৃত্যু ৮৩৩ হিজরি) একটি পত্রের মাধ্যমে তার প্রতিবাদ করেন। সেখানে তিনি অর্থ গ্রহণ করার নিষিদ্ধতা বর্ণনা করেন এবং উল্লেখ করেন যে এটিই মালেকি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত। তিনি আল-বারজালির বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করে বলেন যে, তিনি (বারজালি) আলেমদের মজলিসে আলোচনা ও গবেষণার ছলে এ কথা বলেছিলেন: (আমি বলি: তিনি যদি ন্যায়পরায়ণ হতেন—আল্লাহ তাকে সত্য দেখার তৌফিক দান করুন—তবে বলতেন: আমি এটি ফতোয়া ও দিকনির্দেশনা হিসেবে বলেছি। বিশেষ করে যেহেতু শ্রুতিলিখনের এই পাণ্ডুলিপি ছাড়া অন্যগুলোতে বর্ণিত হয়েছে যে, আমিরুল মুমিনিন এই বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন।
আমি বলি: তিনি (আমিরুল মুমিনিন) তো সত্য উদঘাটনের জন্যই পরামর্শ চেয়েছিলেন। আর মাসয়ালা জিজ্ঞাসাকারী ও পরামর্শ প্রার্থীর উত্তর তো ফতোয়া ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমেই হয়, আলোচনার মাধ্যমে নয়! বাস্তব অবস্থা যা ফতোয়া ছিল, তা থেকে তার নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করা একথাই ইঙ্গিত করে যে, তিনি যে দাবি করেছেন তার দুর্বলতা (ضعيف) তার কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে)
(১)। তিনি অন্য স্থানে বলেন: (এটি আলোচনার কোনো বিষয় ছিল না, বরং এটি ছিল ফতোয়া জিজ্ঞাসার একটি পদ্ধতি। অথচ তিনি ছিলেন কাওমের প্রধান, বয়োজ্যেষ্ঠ এবং ফতোয়া প্রদানের মূল উৎস)
(২)।
যাই হোক, এই ধরনের অর্থ অনুধাবন ও উপলব্ধি করা ইলম, ফকিহ এবং শিক্ষার্থী বা ফকিহ হওয়ার জন্য ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য এক মহান ও স্পষ্ট উপকার বয়ে আনে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - ফিকহি মজলিসগুলোর মর্যাদার ভিন্নতা বিবেচনা করা এবং প্রতিটি মর্যাদাকে তার প্রাপ্য গুরুত্ব প্রদান করা, তার রীতিনীতি ও আদবসমূহ মেনে চলা এবং সেগুলোর শিষ্টাচার সম্পর্কে জ্ঞান রাখা; যাতে ফকিহ ও শিক্ষার্থীকে এমন বিষয়ের জন্য দায়ী করা না হয় যা তাদের ওপর আবশ্যক নয়, যা ইলমের নিয়ম অনুযায়ী বা প্রচলিত রীতি অনুযায়ী কোনো কোনো মজলিসে শিথিলযোগ্য, যদিও অন্যান্য মজলিসে তা কঠোরভাবে পালনীয়। এর উদাহরণ নিচে বর্ণিত হলো:
ক- শিক্ষাদানের ক্ষেত্র হলো উস্তাদের জন্য শ্রদ্ধা ও মহিমা প্রদর্শনের স্থান; কারণ শিক্ষকের মর্যাদা হলো শরিয়তের ইলম আদায়কারী এবং তা পৌঁছে দেওয়ার মর্যাদা। পাঠদান মজলিসে শায়খকে সম্মান করার ব্যাপারে আহলে ইলমদের অসিয়তগুলো প্রসিদ্ধ (مشهور) এবং অবিচ্ছিন্ন (متواتر)। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (আলিমের তোমার ওপর অধিকার হলো তুমি উপস্থিত সকলকে সাধারণভাবে সালাম দেবে এবং তাকে বিশেষভাবে অভিবাদন জানাবে, তার সামনে বসবে, আর
--------------------------------------------