(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: -)
السيرة النبوية - دروس وعبر   (مصطفى السباعي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: السيرة النبوية - دروس وعبر

المؤلف: د مصطفى السباعي (ت 1384 هـ)

الناشر: المكتب الإسلامي، (بيروت - دمشق)

الطبعة: الثامنة، 1405 هـ - 1985 م

عدد الصفحات: 172

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 شوّال 1432

সীরাতুন্নবী - শিক্ষা ও উপদেশ   (মোস্তফা আস-সিবায়ী)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


বই: সীরাতুন্নবী - শিক্ষা ও উপদেশ

লেখক: ড. মোস্তফা আস-সিবায়ী (ওফাত ১৩৮৪ হি.)

প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামী، (বৈরুত - দামেস্ক)

সংস্করণ: অষ্টম، ১৪০৫ হি. - ১৯৮৫ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭২

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১১ শাওয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مقدمة المؤلف

الحمد لله الذي أرسل رسوله بالبينات والهدى، ليخرجوا الناس من الظلمات إلى النور، ويهدوهم إلىى صراط العزيز الحميد.

والصلاة والسلام على أفضل رسله، وأشرف دعاته، سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم الذي ختم الله به رسله، فجعل سيرته قدوة لكل مؤمن في جميع شؤون الحياة صغيرها وكبيرها، وختم بدينه الشرائع، فجعل رسالته أكمل الرسالات وأوفاها بحاجات الناس في مختلف بيئاتهم وعصورهم، صلى الله وسلم عليه وعلى أصحابه الهداة البررة الذين علم الله فيهم سلامة الفطرة، وصدق العقيدة، وعظيم التضحية، فشرفهم بحمل رسالة الإسلام إلى أمم الأرض، فأراقوا في سبيلها دماءهم، وفارقوا من أجلها ديارهم، حتى أدوا الأمانة، وبلغوا الرسالة، ونصحوا لله ورسوله، فكان لهم فضل على الإنسانية لا يعرف مداها، ودين في عنق كل مسلم حتى يرث الله الأرض ومن عليها، رضوان الله عليهم وعلى من أحبهم وحمل لواء الدعوة إلى الله من بعدهم حتى يوم الدين.

وبعد فهذه مذكرات كتبتها على عجل وشدة من المرض بعد أن ألقيتها محاضرة مفصلة على طلاب السنة الأولى في كلية الشريعة توخيت فيها أن أبرز أوضح مظاهر الأسوة في سيرة الرسول الكريم صلى
লেখকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াতসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তাঁরা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদেরকে মহাপরাক্রমশালী ও চিরপ্রশংসিত সত্তার পথের দিকে পরিচালিত করেন।

আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর শ্রেষ্ঠ রাসূল এবং তাঁর সবচেয়ে সম্মানিত আহ্বানকারী, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর রাসূলগণের পরম্পরা সমাপ্ত করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর সীরাতকে জীবনের ছোট-বড় সকল বিষয়ে প্রত্যেক মুমিনের জন্য আদর্শ বানিয়েছেন এবং তাঁর দ্বীনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল শরীয়তকে পূর্ণতা দান করেছেন। ফলে তিনি তাঁর রিসালাতকে করেছেন সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ এবং বিভিন্ন পরিবেশ ও যুগে মানুষের প্রয়োজনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। তাঁর ওপর এবং তাঁর পথপ্রদর্শক ও পুণ্যবান সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক, যাঁদের মাঝে আল্লাহ ফিতরাতের বিশুদ্ধতা, আকীদার সত্যতা এবং মহান আত্মত্যাগ প্রত্যক্ষ করেছেন। অতঃপর পৃথিবীর জাতিসমূহের নিকট ইসলামের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি তাঁদেরকে সম্মানিত করেছেন। তাঁরা এর পথে নিজেদের রক্ত প্রবাহিত করেছেন এবং এর জন্য নিজেদের ঘরবাড়ি ত্যাগ করেছেন, যতক্ষণ না তাঁরা আমানত আদায় করেছেন, রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য কল্যাণকামিতা প্রদর্শন করেছেন। ফলে মানবতার প্রতি তাঁদের এমন অনুগ্রহ রয়েছে যার সীমা নির্ণয় করা অসম্ভব এবং আল্লাহ যতদিন পর্যন্ত এই পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের মালিকানা গ্রহণ না করবেন (কিয়ামত পর্যন্ত), ততদিন প্রত্যেক মুসলিমের ঋণের দায় তাঁদের প্রতি রয়ে যাবে। আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদের ওপরও যাঁরা তাঁদের ভালোবাসেন এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁদের পরে আল্লাহর পথে দাওয়াতের ঝান্ডা বহন করেন।

অতঃপর, এগুলো হচ্ছে কিছু নোট যা আমি অসুস্থতার তীব্রতার মাঝে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে লিখেছি, যখন আমি এগুলো শরীয়াহ কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রদের নিকট বিস্তারিত লেকচার হিসেবে প্রদান করেছিলাম। এতে আমি মহান রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাতের মধ্যে আদর্শ গ্রহণের সবচেয়ে স্পষ্ট দিকগুলো ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ১২)
الله عليه وسلم، مما ينبغي على كل مسلم وداعية إلى الله عز وجل، وعالم بالشريعة، وحامل لفقهها، أن يتدبره ويجعله نصب عينيه، ليكون له شرف الاقتداء برسوله صلى الله عليه وسلم، وليفتح أمامه باب النجاح في دعوته بين الناس، وباب القبول والرضى من الله جل شأنه، وليكتب له شرف الخلود مع رسوله صلى الله عليه وسلم في جنات النعيم، فإن الله تعالى يقول: {وَمَن يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} [النساء: 13].

هذا وقد جعلت البحث وفق المنهج التالي:

أ- مقدمة وتشتمل على بحثين:

1 - في ميزة السيرة النبوية والفائدة من دراستها.

2 - في مصادر السيرة النبوية ومراجعها الصحيحة.

ب- في فقه سيرته صلى الله عليه وسلم ويشتمل على عشرة فصول.

الفصل الأول- في حياته صلى الله عليه وسلم قبل البعثة.

الفصل الثاني- في حياته بعد البعثة إلى الهجرة إلى الحبشة.

الفصل الثالث- في حياته بعد هجرة الحبشة إلى الهجرة للمدينة.

الفصل الرابع- في هجرته حتى استقراره بالمدينة.

الفصل الخامس- في معاركه الحربية منذ غزوة بدر حتى فتح مكة.

الفصل السادس- في انتشار الإسلام في جزيرة العرب بعد الفتح.

الفصل السابع- في حياته بعد الفتح إلى الوفاة.

الفصل الثامن- في خصائص التشريع الإسلامي في المدينة.
তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক; যা প্রত্যেক মুসলিম, আল্লাহর পথে আহ্বানকারী, শরীয়তের আলিম এবং ফিকহ শাস্ত্রের বাহকের জন্য উচিত যে, সে এটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে এবং একে নিজের চোখের সামনে রাখবে; যাতে সে তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসরণের গৌরব অর্জন করতে পারে, এবং যাতে মানুষের মাঝে তার দাওয়াতের ক্ষেত্রে সাফল্যের পথ এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কবুলিয়াত ও সন্তুষ্টির দ্বার উন্মোচিত হয়। আর যাতে তার জন্য জান্নাতুন নাঈমে তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে চিরস্থায়ী হওয়ার মর্যাদা লিপিবদ্ধ হয়। কেননা মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটিই মহা সাফল্য।} [আন-নিসা: ১৩]।

আমি এই গবেষণাটি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুযায়ী সাজিয়েছি:

ক- ভূমিকা, যা দুটি আলোচনার অন্তর্ভুক্ত:

১ - সীরাতুন নববীর বৈশিষ্ট্য এবং তা অধ্যয়নের উপকারিতা প্রসঙ্গে।

২ - সীরাতুন নববীর উৎসসমূহ এবং এর সহীহ সূত্রসমূহ প্রসঙ্গে।

খ- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সীরাতের ফিকহ প্রসঙ্গে, যা দশটি অধ্যায় সংবলিত।

প্রথম অধ্যায়- নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবন প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়- নবুওয়াত প্রাপ্তির পর থেকে হাবশায় হিজরত পর্যন্ত তাঁর জীবন প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়- হাবশায় হিজরতের পর থেকে মদীনায় হিজরত পর্যন্ত তাঁর জীবন প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অধ্যায়- তাঁর হিজরত এবং মদীনায় স্থিতি লাভ করা পর্যন্ত।

পঞ্চম অধ্যায়- বদর যুদ্ধ থেকে মক্কা বিজয় পর্যন্ত তাঁর যুদ্ধসমূহ প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ অধ্যায়- মক্কা বিজয়ের পর আরব উপদ্বীপে ইসলামের প্রসার প্রসঙ্গে।

সপ্তম অধ্যায়- মক্কা বিজয়ের পর থেকে ওফাত পর্যন্ত তাঁর জীবন প্রসঙ্গে।

অষ্টম অধ্যায়- মদীনায় ইসলামী শরীয়ত প্রণয়নের বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل التاسع- في أخلاقه وافتراءات المستشرقين والمبشرين.

الفصل العاشر- في أثره وأثر رسالته في العالم.

والله أسأل أن يوفقني في مثل هذه العجالة القصيرة المستعجلة إلى إمعان النظر في السيرة النبوية بما يؤدي إلى الغرض المتوخى من تدريس هذه المادة في كلية الشريعة بحيث يحمل طلابها وطالباتها على أن يتعشقوا دراسة سيرته الطاهرة، فيحملوا من معانيها ودروسها في نفوسهم ما يجعلهم قدوة للناس في استقامتهم وصلاح سيرتهم، وحسن هديهم في الدعوة إلى الإصلاح حتى يعود الرسول صلى الله عليه وسلم للمسلمين شمسا منيرة تبدد ظلمات حياتهم، وتمدهم بالحرارة والدفء في قلوبهم وعقولهم وسلوكهم فيعود للمجتمع الإسلامي صفاؤه واستقامته ومثاليته التي تجعله من جديد في مكان الصدارة والقيادة لشعوب العالم، ويتحقق بذلك قول الله فينا نحن المسلمين مرة أخرى: {كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللهِ} [آل عمران:111].

دمشق رمضان 1381هـ

مصطفى السباعي
নবম অধ্যায়- তাঁর চরিত্র এবং প্রাচ্যবিদ ও মিশনারিদের অপবাদ প্রসঙ্গে।

দশম অধ্যায়- বিশ্বে তাঁর এবং তাঁর রিসালাতের প্রভাব প্রসঙ্গে।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে এই সংক্ষিপ্ত ও ত্বরিত সংকলনে সীরাতে নববীর প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করার তাওফীক দান করেন, যা শরীয়াহ ফ্যাকাল্টিতে এই বিষয়টি পাঠদানের উদ্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে; যাতে এর ছাত্র-ছাত্রীরা তাঁর পবিত্র সীরাত অধ্যয়নকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ হয় এবং তাদের হৃদয়ে এর অর্থ ও শিক্ষাগুলো এমনভাবে ধারণ করে যা তাদের সততা, উন্নত চরিত্র এবং সংস্কারের দাওয়াতের ক্ষেত্রে মানুষের জন্য আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলে। এর ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের কাছে আবারও এক উজ্জ্বল সূর্য হিসেবে আবির্ভূত হবেন, যা তাদের জীবনের অন্ধকার দূর করবে এবং তাদের অন্তর, মস্তিষ্ক ও আচরণে উষ্ণতা ও উদ্দীপনা জোগাবে। এর মাধ্যমে মুসলিম সমাজ তার সেই পরিচ্ছন্নতা, একনিষ্ঠতা এবং আদর্শ ফিরে পাবে, যা তাকে আবারও বিশ্ববাসীর সামনে নেতৃত্বের আসনে আসীন করবে। আর এভাবেই আমাদের মুসলিমদের সম্পর্কে আল্লাহর এই বাণীর সার্থকতা পুনরায় প্রকাশ পাবে: "তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে বাধা প্রদান করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো।" [আল-ইমরান: ১১১]

দামেস্ক, রমজান ১৩৮১ হিজরি।

মুস্তফা আস-সিবায়ী
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المقدمة

‌‌ميزة السيرة النبوية

تجمع السيرة النبوية عدة مزايا تجعل دراستها متعة روحية وعقلية وتاريخية، كما تجعل هذه الدراسة ضرورية لعلماء الشريعة والدعاة إلى الله والمهتمين بالإصلاح الاجتماعي، ليضمنوا إبلاغ الشريعة إلى الناس بأسلوب يجعلهم يرون فيها المعتصم الذي يلوذون به عند اضطراب السبل واشتداد العواصف، ولتتفتح أمام الدعاة قلوب الناس وأفئدتهم، ويكون الإصلاح الذي يدعو إليه المصلحون، أقرب نجحا وأكثر سدادا. ونجمل فيما يلي أبرز مزايا السيرة النبوية.

أولا- إنها أصح سيرة لتاريخ نبي مرسل، أو عظيم مصلح فقد وصلت إلينا سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم عن أصح الطرق العلمية وأقواها ثبوتا- كما سنرى في بحث مصادر السيرة- مما لايترك مجالا للشك في وقائعها البارزة وأحداثها الكبرى، ومما ييسر لنا معرفة ما أضيف إليها في العصور المتأخرة من أحداث أو معجزات أو وقائع أوحى بها العقل الجاهل الراغب في إضفاء الصفة المدهشة على رسول الله صلى الله عليه وسلم أكثر مما أراد الله لرسوله أن يكون عليه من جلالة المقام وقدسية الرسالة، وعظمة السيرة.
ভূমিকা

সীরাতুন নববীর বৈশিষ্ট্য

সীরাতুন নববী এমন কতগুলো বৈশিষ্ট্যের সমাহার যা এর অধ্যয়নকে একটি আত্মিক, বুদ্ধিভিত্তিক ও ঐতিহাসিক আনন্দে পরিণত করে। তেমনি এই অধ্যয়ন শরীয়তবিদ, আল্লাহর পথে আহ্বানকারী এবং সমাজ সংস্কারে আগ্রহীদের জন্য অপরিহার্য, যাতে তারা মানুষের কাছে শরীয়তের বাণী এমনভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে পারেন, যা মানুষকে এতে এমন এক আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখতে উদ্বুদ্ধ করবে, যেখানে তারা নানা মতের বিশৃঙ্খলা ও ঝোড়ো প্রতিকূলতার সময়ে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে। আর যাতে দাঈদের সামনে মানুষের অন্তর ও হৃদয়সমূহ উন্মোচিত হয় এবং সংস্কারকরা যে সংস্কারের আহ্বান জানান তা যেন অধিকতর সফল ও সঠিক হয়। নিচে আমরা সীরাতুন নববীর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ সংক্ষেপে তুলে ধরছি।

প্রথমত- এটি কোনো প্রেরিত নবী বা মহান সংস্কারকের ইতিহাসের সর্বাধিক বিশুদ্ধ সীরাত। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত আমাদের কাছে সবচেয়ে বিশুদ্ধ বৈজ্ঞানিক ও সবচেয়ে শক্তিশালী প্রামাণ্য পদ্ধতিতে পৌঁছেছে—যেমনটি আমরা সীরাতের উৎস সংক্রান্ত আলোচনায় দেখতে পাব—যা এর প্রধান ও বড় ঘটনাবলির সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না। এর ফলে পরবর্তী যুগে যেসব ঘটনা, মুজিজা বা বিষয় সীরাতে যুক্ত করা হয়েছে তা শনাক্ত করা আমাদের জন্য সহজ হয়, যা মূলত এমন জাহেল মন-মানসিকতার ফসল ছিল যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিত্বে এমন সব অলৌকিক গুণাবলি আরোপ করতে চেয়েছিল, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের সুউচ্চ মর্যাদা, রিসালাতের পবিত্রতা ও সীরাতের মহত্ত্বের জন্য যা নির্ধারণ করেছিলেন তার চেয়েও অতিরিক্ত ছিল।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ১৬)
إن الميزة من صحة السيرة صحة لا يتطرق إليها شك لا توجد في سيرة رسول من رسل الله السابقين، فموسى عليه السلام قد اختلطت عندنا وقائع سيرته الصحيحة بما أدخل عليها اليهود من زيف وتحريف، ولا نستطيع أن نركن إلى التوراة الحاضرة لنستخرج منها سيرة صادقة لموسى عليه السلام، فقد أخذ كثير من النقاد الغربيين يشكون في بعض أسفارها وبعضهم يجزم بأن بعض أسفارها لم يكتب في حياة موسى عليه السلام ولا بعده بزمن قريب، وإنما كتب بعد زمن بعيد من غير أن يعرف كاتبها، وهذا وحده كاف للتشكيك في صحة سيرة موسى عليه السلام كما وردت في التوراة، ولذلك ليس أمام المسلم أن يؤمن بشيء من صحة سيرته إلا ما جاء في القرآن الكريم والسنة النبوية الصحيحة.

ومثل ذلك يقال في سيرة عيسى عليه السلام، فهذه الأناجيل المعترف بها رسميا لدى الكنائس المسيحية إنما أقرت في عهد متأخر عن السيد المسيح بمئات السنينن، وقد اختيرت - بدون مسوغ علمي - من بين مئات الأناجيل التي كانت منتشرة في أيدي المسيحيين يومئذ. ثم إن نسبة هذه الأناجيل لكاتبيها لم يثبت عن طريق علمي تطمئن النفس إليه، فهي لم ترو بسند متصل إلى كاتبيها، على أن الخلاف قد وقع أيضا بين النقاد الغربيين في أسماء بعض هؤلاء الكاتبين من يكونون؟ وفي أي عصر كانوا؟

وإذا كان هذا شأن سير الرسل أصحاب الديانات المنتشرة في العالم، كان الشك أقوى في سيرة أصحاب الديانات والفلاسفة الآخرين الذين يعد أتباعهم بمئات الملايين في العالم، كبوذا
সীরাতের নির্ভরযোগ্যতার যে বৈশিষ্ট্য ও সংশয়াতীত বিশুদ্ধতা রয়েছে, তা আল্লাহর পূর্ববর্তী কোনো রাসুলের সীরাতের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। মুসা আলাইহিস সালাম-এর ক্ষেত্রে তাঁর সীরাতের সঠিক ঘটনাবলি ইহুদিদের প্রবিষ্ট মিথ্যা ও বিকৃতির সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে গেছে। মুসা আলাইহিস সালাম-এর একটি সত্য সীরাত বের করে আনার জন্য আমরা বর্তমান তাওরাতের ওপর নির্ভর করতে পারি না। কারণ অনেক পশ্চিমা সমালোচক এর কিছু খণ্ডের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করতে শুরু করেছেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিশ্চিত করে বলেছেন যে, এর কিছু খণ্ড মুসা আলাইহিস সালাম-এর জীবদ্দশায় বা তাঁর পরবর্তী নিকটবর্তী কোনো সময়েও লেখা হয়নি। বরং তা দীর্ঘ সময় পর লেখা হয়েছে, যার লেখকের পরিচয়ও জানা নেই। তাওরাতে বর্ণিত মুসা আলাইহিস সালাম-এর সীরাতের বিশুদ্ধতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টির জন্য এটিই যথেষ্ট। এ কারণে একজন মুসলিমের পক্ষে তাঁর সীরাতের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে কুরআন কারিম এবং সহীহ সুন্নাহয় যা এসেছে তা ছাড়া অন্য কোনো তথ্যের ওপর বিশ্বাস করার সুযোগ নেই।

ঈসা আলাইহিস সালাম-এর সীরাতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। খ্রিস্টান গির্জাগুলোতে বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ইঞ্জিলগুলো মূলত ঈসা আলাইহিস সালাম-এর কয়েকশ বছর পরের এক যুগে অনুমোদিত হয়েছে। সে সময় খ্রিস্টানদের হাতে প্রচলিত শত শত ইঞ্জিলের মধ্য থেকে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়াই এগুলোকে নির্বাচন করা হয়েছিল। এরপর এই ইঞ্জিলগুলো তাদের লেখকদের দিকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও এমন কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রমাণিত নয় যা মনকে আশ্বস্ত করতে পারে। এগুলো তাদের লেখকদের পর্যন্ত কোনো নিরবচ্ছিন্ন সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়নি। তদুপরি, পশ্চিমা সমালোচকদের মধ্যেও এই লেখকদের কারো কারো নাম, পরিচয় এবং সময়কাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ধর্মসমূহের প্রবর্তক এই রাসুলগণের সীরাতের অবস্থাই যদি এমন হয়, তবে বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের প্রবর্তক এবং দার্শনিকদের সীরাত সম্পর্কে সন্দেহ আরও প্রবল হওয়া স্বাভাবিক, যাদের অনুসারী বিশ্বে কয়েকশ মিলিয়ন, যেমন বুদ্ধ।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ১৭)
وكونفوشيوس، فإن الروايات التي يتناقلها أتباعهم عن سيرتهم ليس لها أصل معتبر في نظر البحث العلمي، وإنما يتلقفها الكهان فيما بينهم، ويزيد فيها كل جيل عن سابقه بما هو من قبيل الأساطير والخرافات التي لا يصدقها العقل النير المتحرر الخالي من التعصب لتلك الديانات.

وهكذا نجد أن أصح سيرة وأقواها ثبوتا متواترا هي سيرة محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ثانيا- إن حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم واضحة كل الوضوح في جميع مراحلها، منذ زواج أبيه عبد الله بأمه آمنة إلى وفاته صلى الله عليه وسلم، فنحن نعرف الشيء الكثير عن ولادته، وطفولته وشبابه، ومكسبه قبل النبوة، ورحلاته خارج مكة، إلى أن بعثه الله رسولا كريما، ثم نعرف بشكل أدق واوضح وأكمل كل أحواله سنة فسنة، مما يجعل سيرته عليه الصلاة والسلام واضحة وضوح الشمس، كما قال بعض النقاد الغربيين: إن محمدا عليه الصلاة والسلام هو الوحيد الذي ولد على ضوء الشمس.

وهذا ما لم يتيسر مثله ولا قريب منه لرسول من رسل الله السابقين، فموسى عليه السلام لا نعرف شيئا قط عن طفولته وشبابه وطرق معيشته قبل النبوة، ونعرف الشيء القليل عن حياته بعد النبوة، مما لا يعطينا صورة مكتملة لشخصيته، ومثل ذلك يقال في عيسى عليه السلام، فنحن لا نعرف شيئا عن طفولته إلا ما تذكره الأناجيل الحاضرة، من أنه دخل هيكل اليهود، وناقش أحبارهم، فهذه هي الحادثة الوحيدة التي يذكرونها عن طفولته، ثم نحن لا نعلم من أحواله بعد النبوة إلا ما
এবং কনফুসিয়াস; তাঁদের অনুসারীরা তাঁদের জীবনী সম্পর্কে যে সব বর্ণনা আদান-প্রদান করে থাকে, বৈজ্ঞানিক গবেষণার দৃষ্টিতে সেগুলোর কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি নেই। বরং যাজক সম্প্রদায় এগুলো নিজেদের মধ্যে গ্রহণ করে এবং প্রতিটি প্রজন্ম তার পূর্ববর্তী প্রজন্মের বর্ণনার সাথে এমন সব উপকথা ও কুসংস্কার যোগ করে, যা ওই ধর্মগুলোর প্রতি পক্ষপাতমুক্ত কোনো আলোকিত ও মুক্ত বিবেক বিশ্বাস করতে পারে না।

এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, সবচাইতে বিশুদ্ধ এবং মুতাওয়াতির বা অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে সবচাইতে শক্তিশালী জীবনী হলো আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী।

দ্বিতীয়ত- আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন তাঁর প্রতিটি পর্যায়ে অত্যন্ত সুস্পষ্ট; তাঁর পিতা আবদুল্লাহর সাথে তাঁর মাতা আমিনার বিয়ে থেকে শুরু করে তাঁর মৃত্যু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত। আমরা তাঁর জন্ম, শৈশব, কৈশোর, নবুওয়াত-পূর্ব জীবিকা এবং মক্কার বাইরের সফরগুলো সম্পর্কে অনেক কিছুই জানি, যে পর্যন্ত না আল্লাহ তাঁকে একজন সম্মানিত রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। এরপর আমরা বছরওয়ারি অত্যন্ত সূক্ষ্ম, স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গভাবে তাঁর জীবনের যাবতীয় অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারি, যা তাঁর (সা.) জীবনীকে সূর্যের আলোর মতো স্পষ্ট করে দেয়। যেমনটি কিছু পাশ্চাত্য সমালোচক বলেছেন: নিশ্চয়ই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সূর্যের আলোতে জন্মগ্রহণ করেছেন।

পূর্ববর্তী আল্লাহর রাসূলগণের কারো ক্ষেত্রেই এমনটি বা এর কাছাকাছি কিছুও সম্ভব হয়নি। মুসা আলাইহিস সালামের শৈশব, কৈশোর এবং নবুওয়াত লাভের আগের জীবন যাপন সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না এবং নবুওয়াত পরবর্তী জীবন সম্পর্কেও আমরা খুব সামান্যই জানি, যা তাঁর ব্যক্তিত্বের কোনো পূর্ণাঙ্গ চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরে না। ঈসা আলাইহিস সালামের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য। তাঁর শৈশব সম্পর্কে আমরা বর্তমান ইঞ্জিলসমূহে যা উল্লেখ রয়েছে তা ছাড়া আর কিছুই জানি না; যেমন—তিনি ইহুদিদের উপাসনালয়ে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাদের ধর্মগুরুদের সাথে আলোচনা করেছিলেন। তাঁর শৈশব সম্পর্কে তারা কেবল এই একটি ঘটনাই উল্লেখ করে থাকে। অতঃপর নবুওয়াত প্রাপ্তির পর তাঁর অবস্থা সম্পর্কে আমরা কেবল ততটুকুই জানি যা...
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ১৮)
يتصل بدعوته، وقليلا من أسلوب معيشته، وما عدا ذلك فأمر يغطيه الضباب الكثير.

فأين هذا مما تذكره مصادر السيرة الصحيحة من أدق التفاصيل في حياة رسولنا الشخصية، كأكله، وقيامه، وقعوده، ولباسه، وشكله، وهيئته، ومنطقه، ومعاملته لأسرته، وتعبده، وصلاته، ومعاشرته لأصحابه، بل بلغت الدقة في رواة سيرته أن يذكروا لنا عدد الشعرات البيض في رأسه ولحيته صلى الله عليه وسلم.

ثالثا- إن سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم تحكي سيرة إنسان أكرمه الله بالرسالة، فلم تخرجه عن إنسانيته، ولم تلحق حياته بالأساطير، ولم تضف عليه الألوهية قليلا ولا كثيرا، وإذا قارنا هذا بما يرويه المسيحيون عن سيرة عيسى عليه السلام، وما يرويه البوذيون عن بوذا، والوثنيون عن آلهتهم المعبودة، اتضح لنا الفرق جليا بين سيرته عليه السلام وسيرة هؤلاء، ولذلك أثر بعيد المدى في السلوك الإنساني والاجتماعي لاتباعهم، فادعاء الألوهية لعيسى عليه السلام ولبوذا جعلهما أبعد منالا من أن يكونا قدوة نموذجية للإنسان في حياته الشخصية والاجتماعية، بينما ظل وسيظل محمد صلى الله عليه وسلم النثل النموذجي الإنساني الكامل لكل من أراد أن يعيش سعيدا كريما في نفسه وأسرته وبيئته، ومن هنا يقول الله تعالى في كتابه الكريم: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ} [الأحزاب:21].

رابعا- إن سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم شاملة لكل النواحي
তাঁর দাওয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তাঁর জীবনযাপনের পদ্ধতির সামান্য কিছু অংশ; এ ছাড়া বাকি সবকিছুই এমন এক বিষয় যা ঘন কুয়াশায় আবৃত।

সুতরাং এটি কোথায় আর আমাদের রাসূলের ব্যক্তিগত জীবনের সূক্ষ্মতম বিবরণসমূহ বর্ণনাকারী সীরাতের সহীহ উৎসসমূহ কোথায়? যেমন তাঁর আহার, দণ্ডায়মান হওয়া, উপবেশন, পোশাক-পরিচ্ছদ, অবয়ব, শারীরিক গঠন, কথা বলার ধরন, পরিবারের সাথে তাঁর আচরণ, ইবাদত-বন্দেগি, সালাত, সাহাবীগণের সাথে মেলামেশা; এমনকি সীরাত বর্ণনাকারীদের সূক্ষ্মতা এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাঁরা আমাদের কাছে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাথা ও দাড়ির সাদা চুলের সংখ্যাও উল্লেখ করেছেন।

তৃতীয়ত— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত এমন এক মানুষের জীবনকাহিনি বর্ণনা করে যাকে আল্লাহ রিসালাত দ্বারা সম্মানিত করেছেন, যা তাঁকে তাঁর মানবীয় বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত করেনি, তাঁর জীবনকে উপকথার সাথে যুক্ত করেনি এবং তাঁর ওপর সামান্যতম উপাস্য হওয়ার বৈশিষ্ট্য আরোপ করেনি। আমরা যদি একে খ্রিস্টানদের বর্ণিত ঈসা আলাইহিস সালামের জীবনী, বৌদ্ধদের বর্ণিত বুদ্ধের জীবনী এবং পৌত্তলিকদের বর্ণিত তাদের উপাস্যদের জীবনীর সাথে তুলনা করি, তবে আমাদের কাছে তাঁর (আলাইহিস সালাম) সীরাত এবং অন্যদের জীবনীর মধ্যেকার পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে। আর অনুসারীদের মানবিক ও সামাজিক আচরণের ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। কেননা ঈসা আলাইহিস সালাম এবং বুদ্ধের জন্য উপাস্য হওয়ার দাবি তাঁদের দুজনকে মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে অনুকরণীয় আদর্শ হওয়া থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিয়েছে। পক্ষান্তরে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই পূর্ণাঙ্গ মানবিক আদর্শ হিসেবেই ছিলেন এবং থাকবেন—সেই ব্যক্তির জন্য যে নিজের জীবনে, পরিবারে ও পরিবেশে সুখী ও সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকতে চায়। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: "অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে" [আল-আহযাব: ২১]।

চতুর্থত— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত সকল দিক দিয়ে ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ...
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ১৯)
الإنسانية في الإنسان، فهي تحكي لنا سيرة محمد الشاب الأمين المستقيم قبل أن يكرمه الله بالرسالة، كما تحكي لنا سيرة رسول الله الداعية إلى الله المتلمس أجدى الوسائل لقبول دعوته، الباذل منتهى طاقته وجهده في إبلاغ رسالته، كما تحكي لنا سيرته كرئيس دولة يضع لدولته أقوم النظم وأصحها، ويحميها بيقظته وإخلاصه وصدقه بما يكفل لها النجاح، كما تحكي لنا سيرة الرسول الزوج والأب في حنو العاطفة، وحسن المعاملة، والتمييز الواضح بين الحقوق والواجبات لكل من الزوج والزوجة والأولاد، كما تحكي لنا سيرة الرسول المربي المرشد الذي يشرف على تربية أصحابه تربية مثالية ينقل فيها من روحه إلى أرواحهم، ومن نفسه إلى نفوسهم، مما يجعلهم يحاولون الاقتداء به في دقيق الأمور وكبيرها، كما تحكي لنا سيرة الرسول الصديق الذي يقوم بواجبات الصحبة، ويفي بالتزاماتها وآدابها، مما يجعل أصحابه يحبونه كحبهم لأنفسهم وأكثر من حبهم لأهليهم وأقربائهم، وسيرته تحكي لنا سيرة المحارب الشجاع، والقائد المنتصر، والسياسي الناجح، والجار الأمين، والمعاهد الصادق.

وقصارى القول: إن سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم شاملة لجميع النواحي الإنسانية في المجتمع، مما يجعله القدوة الصالحة لكل داعية، وكل قائد، وكل أب، وكل زوج، وكل صديق، وكل مربي، وكل سياسي، وكل رئيس دولة، وهكذا ..

ونحن لا نجد مثل هذا الشمول ولا قريبا منه فيما بقي لنا من سير الرسل السابقين، ومؤسسي الديانات والفلاسفة المتقدمين والمتأخرين،
মানুষের মাঝে বিদ্যমান মানবিকতা; এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করে রিসালাতের মর্যাদায় ভূষিত হওয়ার পূর্বের সেই বিশ্বস্ত ও সত্যনিষ্ঠ যুবক মুহাম্মাদের জীবনচরিত। এটি আমাদের নিকট আরও বর্ণনা করে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী আল্লাহর রাসূলের সীরাত, যিনি তাঁর দাওয়াত কবুলের জন্য সর্বাধিক কার্যকর পন্থা অনুসন্ধান করতেন এবং তাঁর রিসালাত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নিজের সামর্থ্য ও প্রচেষ্টার সর্বোচ্চটুকু ব্যয় করতেন। একইভাবে এটি আমাদের নিকট তুলে ধরে একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর সীরাত, যিনি তাঁর রাষ্ট্রের জন্য সর্বাধিক সুসংগত ও সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন করেন এবং তাঁর সতর্কতা, একনিষ্ঠতা ও সততার মাধ্যমে একে এমনভাবে রক্ষা করেন যা এর সাফল্য নিশ্চিত করে। এটি আরও বর্ণনা করে স্বামী ও পিতা হিসেবে রাসূলের সীরাত—স্নেহপূর্ণ মমতা, সদ্ব্যবহার এবং স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের প্রত্যেকের অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যকার সুস্পষ্ট পার্থক্যের ক্ষেত্রে। এটি আমাদের নিকট আরও উপস্থাপন করে শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক রাসূলের সীরাত, যিনি তাঁর সাহাবীদের এক আদর্শিক লালন-পালন তদারকি করতেন, যার মাধ্যমে তিনি নিজ রুহ থেকে তাঁদের রুহে এবং নিজ সত্তা থেকে তাঁদের সত্তায় মহৎ গুণাবলি সঞ্চারিত করতেন; যা তাঁদেরকে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ—উভয় বিষয়েই তাঁর অনুসরণে সচেষ্ট করে তুলত। এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করে বন্ধু হিসেবে রাসূলের সীরাত, যিনি বন্ধুত্বের হক আদায় করতেন এবং এর দায়বদ্ধতা ও শিষ্টাচার পূর্ণ করতেন; যা তাঁর সাহাবীদেরকে নিজেদের প্রাণের চেয়েও বেশি এবং তাঁদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের চেয়েও অধিক তাঁকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ করত। তাঁর সীরাত আমাদের নিকট আরও বর্ণনা করে এক সাহসী যোদ্ধা, বিজয়ী সেনাপতি, সফল রাজনীতিবিদ, বিশ্বস্ত প্রতিবেশী এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী চুক্তিকারীর জীবনগাথা।

সারকথা হলো: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত সমাজের সকল মানবিক দিককে পরিবেষ্টন করে আছে, যা তাঁকে প্রত্যেক দাঈ, প্রত্যেক নেতা, প্রত্যেক পিতা, প্রত্যেক স্বামী, প্রত্যেক বন্ধু, প্রত্যেক শিক্ষক, প্রত্যেক রাজনীতিবিদ, প্রত্যেক রাষ্ট্রপ্রধান এবং এভাবেই সকল শ্রেণির মানুষের জন্য এক উত্তম আদর্শে পরিণত করেছে।

পূর্ববর্তী রাসূলগণ, বিভিন্ন ধর্মের প্রবর্তক এবং প্রাচীন ও আধুনিক দার্শনিকদের যে সমস্ত জীবনী আমাদের কাছে অবশিষ্ট আছে, তার মধ্যে আমরা এমন ব্যাপকতা কিংবা এর কাছাকাছি কিছু খুঁজে পাই না।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ২০)
فموسى يمثل زعيم الأمة الذي أنقذ أمته من العبودية، ووضع لها من القواعد والمبادئ ما يصلح لها وحدها، ولكننا لا نجد في سيرته ما يجعله قدوة للمحاربين، أو المربين أو السياسيين، أو رؤساء الدول أو الآباء، أو الأزواج مثلا، وعيسى عليه السلام يمثل الداعية الزاهد الذي غادر الدنيا وهو لا يملك مالا، ولا دارا، ولا متاعا، ولكنه في سيرته الموجودة بين أيدي المسيحيين، لا يمثل القائد المحارب، ولا رئيس الدولة، ولا الأب، ولا الزوج -لأنه لم يتزوج- ولا المشترع، ولا غير ذلك مما تمثله سيرة محمد صلى الله عليه وسلم. وقل مثل ذلك في بوذا، وكونفوشيوس، وأرسطو، وأفلاطون، ونابليون، وغيرهم من عظماء التاريخ، فإنهم لا يصلحون للقدوة -إن صلحوا- إلا لناحية واحدة من نواحي الحياة وبرزوا فيها واشتهروا بها، والإنسان الوحيد في التاريخ الذي يصلح أن يكون قدوة لجميع الفئات وجميع ذوي المواهب وجميع الناس هو محمد صلى الله عليه وسلم.

خامسا- إن سيرة محمد صلى الله عليه وسلم وحدها تعطينا الدليل الذي لا ريب فيه على صدق رسالته ونبوته، إنها سيرة إنسان كامل سار بدعوته من نصر إلى نصر لا عن طريق الخوارق والمعجزات، بل عن طريق طبيعي بحت، فلقجد دعا فأوذي، وبلغ فأصبح له الأنصار، واضطر إلى الحرب فحارب، وكان حكيما، موفقا في قيادته، فما أزفت ساعة وفاته إلا كانت دعوته تلف الجزيرة العربية كلها عن طريق الإيمان، لا عن طريق القهر والغلبة، ومن عرف ما كان عليه العرب من عادات وعقائد وما قاوموا به دعوته من شتى أنواع المقاومة حتى تدبير
মুসা (আলাইহিস সালাম) সেই জাতির নেতার প্রতিনিধিত্ব করেন যিনি তাঁর জাতিকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছিলেন এবং তাদের জন্য এমন কিছু নিয়ম ও মূলনীতি নির্ধারণ করেছিলেন যা কেবল তাদের জন্যই উপযোগী ছিল। কিন্তু আমরা তাঁর জীবনচরিত্রে এমন কিছু পাই না যা তাঁকে যোদ্ধা, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, রাষ্ট্রপ্রধান, পিতা কিংবা স্বামী হিসেবে আদর্শরূপে উপস্থাপন করে। আবার ঈসা (আলাইহিস সালাম) সেই নিরাসক্ত আহ্বানকারীর প্রতিনিধিত্ব করেন যিনি কোনো ধন-সম্পদ, ঘরবাড়ি কিংবা পার্থিব ভোগসামগ্রী ছাড়াই পৃথিবী ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু খ্রিস্টানদের নিকট বিদ্যমান তাঁর জীবনীতে তিনি কোনো যোদ্ধা নেতা, রাষ্ট্রপ্রধান, পিতা কিংবা স্বামী হিসেবে চিত্রিত হননি—কেননা তিনি বিবাহ করেননি—এবং তিনি কোনো বিধানদাতা বা এমন অন্য কোনো ভূমিকার অধিকারী ছিলেন না যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীতে প্রতিফলিত হয়েছে। একই কথা বুদ্ধ, কনফুসিয়াস, এরিস্টটল, প্লেটো, নেপোলিয়ন এবং ইতিহাসের অন্যান্য মহান ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; তাঁরা জীবনের কেবল একটি দিকের জন্যই আদর্শ হওয়ার যোগ্য—যদি যোগ্য হন—যে দিকে তাঁরা পারদর্শিতা দেখিয়েছেন এবং যার মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেছেন। ইতিহাসে একমাত্র মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই এমন একজন মানুষ, যিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, সকল প্রতিভাবান ব্যক্তি এবং সকল মানুষের জন্য আদর্শ হওয়ার যোগ্য।

পঞ্চমত— মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বা জীবনচরিতই কেবল আমাদের কাছে তাঁর রিসালাত ও নবুওয়াতের সত্যতার অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করে। এটি এমন এক পূর্ণাঙ্গ মানুষের জীবনী, যিনি অলৌকিকতা বা মোজেজার মাধ্যমে নয়, বরং সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পথ অবলম্বন করে তাঁর দাওয়াতকে একের পর এক বিজয়ের দিকে নিয়ে গেছেন। তিনি দাওয়াত দিয়েছেন এবং নির্যাতিত হয়েছেন; তাবলিগ করেছেন এবং তাঁর সাহায্যকারী তৈরি হয়েছে; তিনি যুদ্ধে বাধ্য হয়েছেন এবং যুদ্ধ করেছেন; তিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান এবং স্বীয় নেতৃত্বে সফল। ফলে তাঁর ইন্তেকালের সময় ঘনিয়ে আসার আগেই তাঁর দাওয়াত ঈমানের মাধ্যমে সমগ্র আরব উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়েছিল, কোনো জবরদস্তি বা জবরদখলের মাধ্যমে নয়। আর যারা আরবদের তৎকালীন আচার-আচরণ ও আকিদা-বিশ্বাস সম্পর্কে জানতেন এবং তাঁর দাওয়াতের বিরুদ্ধে তারা যে ধরনের বহুমুখী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল—এমনকি ষড়যন্ত্র পর্যন্ত—সে সম্পর্কে অবগত...
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ২১)
اغتياله، ومن عرف عدم التكافؤ بينه وبين محاربيه في كل معركة انتصر فيها، ومن عرف قصر المدة التي استغرقتها رسالته حتى وفاته، وهي ثلاث وعشرون سنة، أيقن أن محمدا رسول الله حقا، وأن ما كان يمنحه الله من قوة وثبات وتأثير ونصر ليس إلا لأنه نبي حقا، وما كان لله أن يؤيد من يكذب عليه هذا التأييد الفريد في التاريخ، فسيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم تثبت لنا صدق رسالته عن طريق عقلي بحت، وما وقع له صلى الله عليه وسلم من المعجزات لم يكن الأساس الأول في إيمان العرب بدعوته، بل إنا لا نجد له معجزه آمن معها الكفار المعاندون، على أن المعجزات المادية تكون حجة على من شاهدها، ومن المؤكد أن المسلمين الذين لم يروا النبي صلى الله عليه وسلم، ولم يشاهدوا معجزاته، إنما آمنوا بصدق رسالته للأدلة العقلية القاطعة على دعواه النبوة، ومن هذه الأدلة العقلية: القرآن الكريم، فإنه معجزة عقلية، تلزم كل عاقل منصف أن بصدق محمد صلى الله عليه وسلم في دعوى الرسالة.

وهذا يختلف تماما عن سير الأنبياء السابقين المحفوظة لدى أتباعهم، فهي تدلنا على أن الناس إنما آمنوا بهم لما رأوا على أيديهم من معجزات وخوارق، دون أن يحكموا عقولهم في مبادئ دعواتهم فتذعن لها، وأوضح مثل لذلك السيد المسيح عليه السلام، فإن الله حكى لنا في القرآن الكريم أنه جعل الدعامة الأولى في إقناع اليهود بصدق رسالته أنه يبرئ الأكمه والأبرص، ويشفي المرضى، ويحيي الموتى، وينبئهم بما يأكلون ويدخرون في بيوتهم، كل ذلك بإذن الله جل شأنه،
তাঁর বিরুদ্ধে চলা গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্রসমূহ, এবং যিনি প্রতিটি যুদ্ধে তাঁর ও তাঁর প্রতিপক্ষ যোদ্ধাদের মধ্যকার অসমতা সম্পর্কে জানেন যেগুলোতে তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন, আর যিনি তাঁর নবুয়ত প্রাপ্তি থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অতিবাহিত সময়ের স্বল্পতা সম্পর্কে জানেন—যা ছিল মাত্র তেইশ বছর—তিনি নিশ্চিতভাবেই উপলব্ধি করবেন যে মুহাম্মদ সত্যই আল্লাহর রাসূল। আর আল্লাহ তাঁকে যে শক্তি, দৃঢ়তা, প্রভাব ও বিজয় দান করেছিলেন, তা কেবল একারণেই ছিল যে তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন নবী। আল্লাহর পক্ষ হতে এটি কখনোই সম্ভব নয় যে, যে ব্যক্তি তাঁর নামে মিথ্যা বলবে, তাকে তিনি ইতিহাসের এমন অনন্য সমর্থন প্রদান করবেন। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত আমাদের কাছে সম্পূর্ণ যৌক্তিক পদ্ধতিতে তাঁর রিসালাতের সত্যতা প্রমাণ করে। আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাধ্যমে যে সকল মুজিযা প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলো তাঁর দাওয়াতের প্রতি আরবদের ঈমান আনার প্রাথমিক ভিত্তি ছিল না। বরং আমরা এমন কোনো মুজিযা পাই না যার কারণে হঠকারী কাফেররা ঈমান এনেছিল। অধিকন্তু, বস্তুগত মুজিযাসমূহ কেবল তাদের জন্যই প্রমাণ যারা তা প্রত্যক্ষ করেছে। এটি নিশ্চিত যে, যে সকল মুসলিম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেননি এবং তাঁর মুজিযাসমূহ প্রত্যক্ষ করেননি, তাঁরা মূলত তাঁর নবুয়তের দাবির স্বপক্ষে অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক দলীলসমূহের কারণেই তাঁর রিসালাতের সত্যতার ওপর ঈমান এনেছেন। এই বুদ্ধিবৃত্তিক দলীলসমূহের অন্যতম হলো পবিত্র কুরআন; কেননা এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মুজিযা, যা প্রত্যেক বিবেকবান ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে রিসালাতের দাবিতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করতে বাধ্য করে।

আর এটি তাদের অনুসারীদের কাছে সংরক্ষিত পূর্ববর্তী নবীদের জীবনীর চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই সীরাতসমূহ আমাদের নির্দেশ করে যে, মানুষ তাঁদের ওপর ঈমান এনেছিল কেবল তখনই যখন তারা তাঁদের হাতে মুজিযা ও অলৌকিক ঘটনাবলি দেখেছিল; তাদের দাওয়াতের মূলনীতিসমূহের ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক বিচার-বিশ্লেষণ করে সেগুলোর প্রতি অনুগত হওয়ার মাধ্যমে নয়। এর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হলো মাসীহ আলাইহিস সালাম। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইহুদিদেরকে তাঁর রিসালাতের সত্যতা সম্পর্কে আশ্বস্ত করার জন্য তিনি প্রথম ভিত্তি হিসেবে এটি নির্ধারণ করেছিলেন যে, তিনি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করবেন, অসুস্থদের সুস্থ করবেন, মৃতকে জীবিত করবেন এবং তারা যা ভক্ষণ করে ও যা তাদের ঘরে সঞ্চিত রাখে সে সম্পর্কে তাদের সংবাদ দেবেন। এই সবকিছুই ছিল মহান আল্লাহর অনুমতিক্রমে।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ২২)
والأناجيل الحاضرة تروي لنا أن هذه المعجزات هي وحدها التي كانت سببا في إيمان الجماهير دفعة واحدة به، لا على أنه رسول كما يحكي القرآن الكريم، بل على أنه إله وابن إله-حاشا لله من ذلك- والمسيحية بعد المسيح انتشرت بالمعجزات وخوارق العادات - وفي سفر أعمال الرسل أكبر دليل على ذلك - حتى ليصح لنا أن نطلق على المسيحية التي يؤمن بها أتباعها أنها دين قام على المعجزات والخوارق، لا على الإقناع العقلي ومن هنا نرى هذه الميزة الواضحة في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، أنه ما آمن به واحد عن طريق مشاهدته لمعجزة خارقة، بل عن اقتناع عقلي وجداني، وإذا كان الله قد أكرم رسوله بالمعجزات الخارقة، فما ذلك إلا إكرام له صلى الله عليه وسلم وإفحام لمعانديه المكابرين ومن تتبع القرآن الكريم وجد أنه اعتمد في الإقناع على المحاكمة العقلية، والمشاهدة المحسوسة لعظيم صنع الله، والمعرفة التامة بما كان عليه الرسول من أمية تجعل إتيانه بالقرآن الكريم دليلا على صدق رسالته صلى الله عليه وسلم، يقول الله تعالى في سورة العنكبوت: {وَقَالُوا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ آيَاتٌ مِّن رَّبِّهِ قُلْ إِنَّمَا الْآيَاتُ عِندَ اللَّهِ وَإِنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُّبِينٌ، أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ يُتْلَى عَلَيْهِمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَرَحْمَةً وَذِكْرَى لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [العنكبوت: 50،51]، ولما اشتط كفار قريش في طلب المعجزات من رسول الله صلى الله عليه وسلم كما كانت تفعل الأمم الماضية، أمره الله أن يجيبهم بقوله: {قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنتُ إَلَاّ بَشَرًا رَّسُولاً} [الإسراء: 93]. استمع إلى ذلك في قوله تعالى في سورة الإسراء: {وَقَالُواْ لَن نُّؤْمِنَ لَكَ
বর্তমান ইঞ্জিলসমূহ আমাদের বর্ণনা করে যে, কেবল এই অলৌকিক ঘটনাবলিই ছিল একযোগে বিশাল জনগোষ্ঠীর তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের একমাত্র কারণ। তবে তিনি যে একজন রাসূল ছিলেন—যেমনটি পবিত্র কুরআন বর্ণনা করে—সেভাবে নয়, বরং তিনি ঈশ্বর এবং ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে—আল্লাহ তা থেকে বহু ঊর্ধ্বে ও পবিত্র। আর মসীহের পরবর্তী সময়ে খ্রিষ্টধর্ম অলৌকিক কর্মকাণ্ড এবং অস্বাভাবিক ঘটনাবলির মাধ্যমেই প্রসারিত হয়েছিল—'রাসূলগণের কার্যাবলি' (অ্যাক্টস অফ দি অ্যাপোস্টলস) গ্রন্থটি এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এমনকি আমাদের পক্ষে এটি বলা যথার্থ হবে যে, অনুসারীরা যে খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাস করে, তা এমন এক ধর্ম যা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের চেয়ে অলৌকিকতা ও অস্বাভাবিক বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখান থেকেই আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত বা জীবনচরিতে এই সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্যটি দেখতে পাই যে, কোনো একজন ব্যক্তিও কেবল অলৌকিক মুজিজা প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে তাঁর প্রতি ঈমান আনেননি; বরং তা ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক ও আত্মিক দৃঢ় প্রত্যয়ের ফল। আর আল্লাহ যদি তাঁর রাসূলকে অলৌকিক মুজিজা দ্বারা সম্মানিত করে থাকেন, তবে তা ছিল কেবল তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর হঠকারী ও অহঙ্কারী বিরোধীদের নিরুত্তর করে দেওয়ার জন্য। যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, সে দেখতে পাবে যে, এটি মানুষকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক বিচার-বিশ্লেষণ, আল্লাহর মহান সৃষ্টিশৈলীর চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ এবং রাসূলের উম্মী (নিরক্ষর) হওয়া সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানের ওপর নির্ভর করেছে; যা পবিত্র কুরআন নিয়ে আসাকে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রিসালাতের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত করে। আল্লাহ তাআলা সূরা আল-আনকাবূতে বলেন: "এবং তারা বলে, ‘তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে কোনো নিদর্শন কেন নাযিল করা হলো না?’ বলুন, ‘নিদর্শন তো আল্লাহরই কাছে। আর আমি তো কেবল একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।’ এটা কি তাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার কাছে কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদের কাছে পাঠ করা হয়? মুমিন কওমের জন্য এতে অবশ্যই রহমত ও উপদেশ রয়েছে।" [আল-আনকাবূত: ৫০, ৫১]। আর কুরাইশ কাফেররা যখন পূর্ববর্তী উম্মতদের মতো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মুজিজা দাবি করার ব্যাপারে চরম সীমা লঙ্ঘন করল, তখন আল্লাহ তাঁকে এই বলে উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দিলেন: "বলুন, ‘পবিত্র মহিমাময় আমার রব! আমি কি একজন মানুষ রাসূল ছাড়া অন্য কিছু?’" [আল-ইসরা: ৯৩]। সূরা আল-ইসরা-তে আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে সেটি লক্ষ্য করুন: "এবং তারা বলল, ‘আমরা কখনোই আপনার প্রতি ঈমান আনব না যতক্ষণ না...’"
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ২৩)
حَتَّى تَفْجُرَ لَنَا مِنَ الأَرْضِ يَنبُوعًا، أَوْ تَكُونَ لَكَ جَنَّةٌ مِّن نَّخِيلٍ وَعِنَبٍ فَتُفَجِّرَ الأَنْهَارَ خِلالَهَا تَفْجِيرًا، أَوْ تُسْقِطَ السَّمَاء كَمَا زَعَمْتَ عَلَيْنَا كِسَفًا أَوْ تَأْتِيَ بِاللهِ وَالْمَلآئِكَةِ قَبِيلاً، أَوْ يَكُونَ لَكَ بَيْتٌ مِّن زُخْرُفٍ أَوْ تَرْقَى فِي السَّمَاء وَلَن نُّؤْمِنَ لِرُقِيِّكَ حَتَّى تُنَزِّلَ عَلَيْنَا كِتَابًا نَّقْرَؤُهُ قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنتُ إَلَاّ بَشَرًا رَّسُولاً} [الإسراء: 91 - 93].

هكذا يقرر القرآن بصراحة ووضوح أن محمدا صلى الله عليه وسلم إنسان رسول، وأنه لا يعتمد في دعوى الرسالة على الخوارق والمعجزات، وإنما يخاطب العقول والقلوب، {فَمَن يُرِدِ اللهُ أَن يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلإِسْلَامِ} [الأنعام: 125].
{যতক্ষণ না আপনি আমাদের জন্য ভূমি থেকে একটি প্রস্রবণ উৎসারিত করবেন, অথবা আপনার খেজুর ও আঙ্গুরের একটি বাগান হবে যার ফাঁকে ফাঁকে আপনি নদীসমূহ প্রবাহিত করে দেবেন, অথবা আপনি যেমনটি দাবি করেছেন সে অনুযায়ী আকাশের খণ্ডসমূহ আমাদের ওপর ফেলে দেবেন, অথবা আল্লাহ ও ফেরেশতাদেরকে সামনাসামনি নিয়ে আসবেন, অথবা আপনার স্বর্ণখচিত কোনো গৃহ হবে কিংবা আপনি আকাশে আরোহণ করবেন; আর আপনার আরোহণকেও আমরা কখনোই বিশ্বাস করব না যতক্ষণ না আপনি আমাদের নিকট এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করবেন যা আমরা পাঠ করতে পারব। আপনি বলুন, পবিত্র আমার পালনকর্তা! আমি তো কেবল একজন মানুষ রাসূল।} [আল-ইসরা: ৯১ - ৯৩]।

এভাবেই কুরআন সুস্পষ্ট ও স্পষ্টভাবে সাব্যস্ত করে যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন মানুষ রাসূল, এবং তিনি তাঁর রিসালাতের দাবিতে অলৌকিকতা বা মোজেজার ওপর নির্ভর করেন না, বরং তিনি জ্ঞান-বুদ্ধি ও হৃদয়ের নিকট সম্বোধন করেন, {অতঃপর আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করার ইচ্ছা করেন, ইসলামের জন্য তার বক্ষ উন্মোচন করে দেন} [আল-আনআম: ১২৫]।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ২৫)
المقدمة

 

‌‌مصادر السيرة النبوية

تنحصر المصادر الرئيسية المعتمدة للسيرة النبوية في أربعة مصادر:

 

‌‌1 - القرآن الكريم:

وهو مصدر أساسي نستمد منه ملامح السيرة النبوية، فقد تعرض القرآن الكريم لنشأته {أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًا فَآوَى، وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَى} [الضحى: 5 - 6] كما تعرض لأخلاقه الكريمة العالية {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم: 4]. وقد تحدث القرآن عما لقيه عليه الصلاة والسلام من أذى وعنت في سبيل دعوته، كما ذكر ما كان المشركون ينعتونه به من السحر والجنون صدا عن دين الله عز وجل، وقد تعرض القرآن لهجرة الرسول كما تعرض لأهم المعارك الحربية التي خاضها بعد هجرته، فتحدث عن معركة بدر، وأحد، والأحزاب، وصلح الحديبية، وفتح مكة، وغزوة حنين، وتحدث عن بعض معجزاته، كمعجزة الإسراء والمعراج.

وبالجملة فقد تحدث عن كثير من وقائع سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، ولما كان الكتاب الكريم أوثق كتاب على وجه الأرض، وكان
ভূমিকা

 

‌‌সীরাতুন নববীর উৎসসমূহ

সীরাতুন নববীর জন্য অনুমোদিত প্রধান উৎসসমূহ চারটি উৎসের মধ্যে সীমাবদ্ধ:

 

‌‌১ - পবিত্র কুরআন:

এটি একটি মৌলিক উৎস যা থেকে আমরা সীরাতুন নববীর রূপরেখা আহরণ করি। পবিত্র কুরআন তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠার বিষয়টিকে তুলে ধরেছে: {তিনি কি আপনাকে এতিম হিসেবে পাননি? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন। আর তিনি আপনাকে পথহারা অবস্থায় পেয়েছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন} [আদ-দুহা: ৫ - ৬]। তেমনি এটি তাঁর সুমহান ও উচ্চতর চরিত্রের বর্ণনা দিয়েছে: {আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত} [আল-কালাম: ৪]। কুরআন বর্ণনা করেছে তাঁর দাওয়াতের পথে তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) যে দুঃখ-কষ্ট ও নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছিলেন। একইভাবে মুশরিকরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর দীন থেকে মানুষকে বিরত রাখার জন্য তাঁকে জাদু ও উন্মাদনার যে অপবাদ দিত, তারও উল্লেখ করেছে। কুরআন রাসূলের হিজরতের বিষয়টিকে তুলে ধরেছে, যেমনটি হিজরতের পর তাঁর পরিচালিত গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধগুলোর বর্ণনা দিয়েছে। এটি বদর, উহুদ, আহযাব যুদ্ধ, হুদায়বিয়ার সন্ধি, মক্কা বিজয় এবং হুনায়নের যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করেছে। এছাড়াও তাঁর কিছু মুজিজা বা অলৌকিক ঘটনা সম্পর্কেও আলোচনা করেছে, যেমন ইসরা ও মিরাজের মুজিজা। মোদ্দাকথা, এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের বহু ঘটনা বর্ণনা করেছে। আর যেহেতু পবিত্র এই কিতাবটি পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কিতাব এবং যেহেতু...

(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ২৬)
من الثبوت المتواتر بما لا يفكر إنسان عاقل في التشكيك بنصوصه وثبوتها التاريخي، فإن ما تعرض له من وقائع السيرة يعتبر أصح مصدر للسيرة على الإطلاق.

ولكن من الملاحظ أن القرآن لم يتعرض لتفاصيل الوقائع النبوية، وإنما تعرض لها إجمالا، فهو حين يتحدث عن معركة لا يتحدث عن أسبابها، ولا عن عدد المسلمين والمشركين فيها، ولا عن عدد القتلى والأسرى من المشركين، وإنما يتحدث عن دروس المعركة وما فيها من عبر وعظات، وهذا شأن القرآن في كل ما أورده من قصص عن الأنبياء السابقين والأمم الماضية، ولذلك فنحن لا نستطيع أن نكتفي بنصوص القرآن المتعلقة بالسيرة النبوية لنخرج منها بصورة متكاملة عن حياة الرسول صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌2 - السنة النبوية الصحيحة:

السنة النبوية الصحيحة التي تضمنتها كتب أئمة الحديث المعترف بصدقهم والثقة بهم في العالم الإسلامي هي:

الكتب الستة: البخاري، ومسلم، وأبوداود، والنسائي، والترمذي، وابن ماجه. ويضاف إليها: موطأ الإمام مالك، ومسند الإمام أحمد، فهذه الكتب وخاصة البخاري ومسلم في الذروة العليا من الصحة والثقة والتحقيق، أما الكتب الأخرى، فقد تضمنت الصحيح والحسن، وفي بعضها الضعيف أيضا.

من هذه الكتب التي حوت القسم الأكبر من حياة النبي صلى الله
অকাট্য নির্ভরযোগ্যতা ও ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত হওয়ার কারণে কোনো বিবেকবান মানুষ এর পাঠসমূহ এবং ঐতিহাসিক নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ করার অবকাশ পায় না; তাই এতে সীরাতের যে সকল ঘটনাবলি আলোচিত হয়েছে, তা সীরাতের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা বিশুদ্ধ উৎস হিসেবে পরিগণিত।

কিন্তু লক্ষণীয় যে, কুরআন নববী জীবনের ঘটনাবলির খুঁটিনাটি বিবরণ দেয়নি, বরং তা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেছে। যেমন কুরআন যখন কোনো যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করে, তখন তা সেই যুদ্ধের কারণ, মুসলিম বা মুশরিকদের সংখ্যা, কিংবা মুশরিকদের কতজন নিহত বা বন্দি হয়েছে সে সম্পর্কে আলোচনা করে না; বরং যুদ্ধের শিক্ষা এবং তা থেকে প্রাপ্ত উপদেশ ও শিক্ষা সম্পর্কে আলোকপাত করে। পূর্ববর্তী নবীগণ এবং অতীত জাতিসমূহের কাহিনী বর্ণনার ক্ষেত্রেও কুরআনের সাধারণ নীতি এটাই। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র লাভের জন্য আমরা সীরাত সংশ্লিষ্ট কেবল কুরআনের বর্ণনার ওপর নির্ভর করতে পারি না।

 

‌‌২ - সহীহ সুন্নাহ:

মুসলিম বিশ্বে সত্যবাদিতা ও নির্ভরযোগ্যতার জন্য স্বীকৃত হাদীস বিশারদ ইমামগণের কিতাবসমূহে সংকলিত সহীহ সুন্নাহসমূহ হলো:

কুতুবুস সিত্তাহ (ছয়টি কিতাব): বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ। এগুলোর সাথে ইমাম মালিকের মুয়াত্তা এবং ইমাম আহমদের মুসনাদও যুক্ত করা হয়। এই কিতাবগুলো, বিশেষ করে বুখারী ও মুসলিম, বিশুদ্ধতা, নির্ভরযোগ্যতা ও সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করছে। অন্য কিতাবগুলোতে সহীহ ও হাসানের পাশাপাশি কিছু যয়ীফ হাদীসও স্থান পেয়েছে।

এই কিতাবসমূহ থেকে, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের অধিকাংশ অংশ ধারণ করে...
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ২৭)
عليه وسلم، ووقائعه وحروبه، وأعماله، نستطيع أن نكون فكرة شاملة - وإن كانت غير متكاملة أحيانا - عن سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، ومما يزيد الثقة بها والاطمئنان إليها أنها رويت بالسند المتصل إلى الصحابة رضوان الله عليهم، وهم الذين عاشروا الرسول ولازموه، ونصر الله بهم دينه، وقد رباهم رسول الله صلى الله عليه وسلم على عينه، فكانوا أكمل أجيال التاريخ استقامة أخلاق وقوة إيمان، وصدق حديث، وسمو أرواح، وكمال عقول، فكل ما رووه لنا عن الرسول بالسند الصحيح المتصل يجب أن نقبله كحقيقة تاريخية لا يخالجنا الشك فيها.

ويحاول المستشرقون المغرضون وأتباعهم من المسلمين الذين رق دينهم، وفتنوا بالغرب وعلمائه أن يشككوا في صحة ما بين أيدينا من كتب السنة المعتمدة، لينفذوا منها إلى هدم الشريعة، والتشكيك بوقائع السيرة، ولكن الله الذي تكفل بحفظ دينه قد هيأ لهم من يرد سهام باطلهم، وكيدهم إلى نحورهم وقد تعرضت في كتابي «السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي» إلى جهود علمائنا في تمحيص السنة النبوية، وسردت شبه المستشرقين ومن تابعهم، وناقشتها نقاشا علميا، أرجو الله أن يثيبني عليه، ويجعله في صفحات حسناتي يوم العرض عليه.

 

‌‌3 - الشعر العربي المعاصر لعهد الرسالة:

مما لا شك فيه أن المشركين قد هاجموا الرسول ودعوته على ألسنة
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর ঘটনাবলি, যুদ্ধবিগ্রহ এবং কার্যাবলির মাধ্যমে আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবনী সম্পর্কে একটি সামগ্রিক—যদিও তা কখনো কখনো অসম্পূর্ণ হতে পারে—ধারণা গঠন করতে সক্ষম হই। এই জীবনীর প্রতি আস্থা ও প্রশান্তি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ এই যে, এটি সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তাঁরাই সেই মহান ব্যক্তি যারা রাসুলের সাহচর্য পেয়েছিলেন, তাঁর সাথে থেকেছেন এবং আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদেরকে নিজের সরাসরি তত্ত্বাবধানে গড়ে তুলেছিলেন, ফলে তাঁরা ছিলেন ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম প্রজন্ম—চরিত্রের দৃঢ়তা, ঈমানের শক্তি, সত্যবাদিতা, আত্মার উচ্চতা এবং বিবেকের পূর্ণতায় তাঁরা ছিলেন অনন্য। সুতরাং, রাসুলুল্লাহর ব্যাপারে তাঁরা সহীহ ও অবিচ্ছিন্ন সনদে আমাদের কাছে যা কিছু বর্ণনা করেছেন, তা ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে আমাদের গ্রহণ করা উচিত এবং এ নিয়ে আমাদের মনে কোনো সংশয় থাকা উচিত নয়।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রাচ্যবিদ এবং মুসলিমদের মধ্যে তাদের অনুসারী যাদের দ্বীন দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যারা পশ্চিম ও তাদের পণ্ডিতদের দ্বারা মোহিত হয়েছে, তারা আমাদের হাতে থাকা নির্ভরযোগ্য সুন্নাহর কিতাবগুলোর বিশুদ্ধতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টির চেষ্টা করে। তাদের লক্ষ্য হলো এর মাধ্যমে শরীয়তকে ধ্বংস করা এবং সীরাতের ঘটনাবলি সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি করা। কিন্তু আল্লাহ, যিনি নিজ দ্বীন রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি তাদের বাতিলের তীর এবং তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্য একদল লোক প্রস্তুত করে দিয়েছেন। আমি আমার ‘সুন্নাহ ও ইসলামি বিধানে এর মর্যাদা’ কিতাবে নববী সুন্নাহ যাচাই-বাছাইয়ে আমাদের আলেমদের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারীদের সংশয়গুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে সেগুলোর তাত্ত্বিক আলোচনা করেছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে এর প্রতিদান দেন এবং কিয়ামতের দিন তাঁর সামনে পেশ করার সময় একে আমার নেক আমলের তালিকায় যুক্ত করেন।

 

‌‌৩ - রিসালাতের সমসাময়িক যুগের আরবি কবিতা:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুশরিকরা তাদের কবিদের জিহ্বার মাধ্যমে রাসুল এবং তাঁর দাওয়াতের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ২৮)
شعرائهم، مما اضطر المسلمين إلى الرد عليهم على ألسنة شعرائهم، كحسان بن ثابت، وعبد الله ابن رواحة، وغيرهما، وقد تضمنت كتب الأدب، وكتب السيرة التي صنفت فيما بعد قسطا كبيرا من هذه الأشعار التي نستطيع أن نستنتج منها حقائق كثيرة عن البيئة التي كان يعيش فيها الرسول صلى الله عليه وسلم، والتي ترعرعت فيها عقيدة الإسلام أول قيامها.

 

‌‌4 - كتب السيرة:

كانت وقائع السيرة النبوية روايات يرويها الصحابة رضوان الله عليهم إلى من بعدهم، وقد اختص بعضهم بتتبع دقائق السيرة وتفاصيلها، ثم تناقل التابعون هذه الأخبار ودونوها في صحائف عندهم، وقد اختص بعضهم بالعناية التامة بها، أمثال أبان بن عثمان بن عفان رضي الله عنه (32 - 105هـ) وعروة بن الزبير بن العوام (23 - 93هـ) ومن صغار التابعين عبد الله بن أبي بكر الأنصاري (توفي سنة 135هـ) ومحمد بن مسلم بن شهاب الزهري (50 - 124هـ) الذي جمع السنة في عهد عمر بن عبد العزيز بأمره، وعاصم بن عمر بن قتادة الأنصاري (توفي سنة 129هـ).

ثم انتقلت العناية بالسيرة إلى من بعدهم، حتى أفردوها بالتصنيف، ومن أشهر أوائل المصنفين في السيرة محمد بن إسحاق بن يسار (توفي سنة 152هـ) وقد اتفق جمهور العلماء والمحدثين على توثيقه، إلا ما روي عن مالك، وهشام بن عروة بن الزبير من تجريحه،
তাদের কবিগণ, যা মুসলমানদের তাদের কবিদের মাধ্যমে উত্তর দিতে বাধ্য করেছিল, যেমন হাসসান বিন সাবিত, আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা এবং অন্যান্য। পরবর্তী সময়ে সংকলিত সাহিত্য ও সিরাত গ্রন্থসমূহে এই কবিতাগুলোর একটি বড় অংশ স্থান পেয়েছে, যা থেকে আমরা সেই পরিবেশ সম্পর্কে অনেক তথ্য উদ্ঘাটন করতে পারি যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসবাস করতেন এবং যেখানে ইসলামের আকিদা তার সূচনালগ্নে লালিত-পালিত হয়েছিল।

 

‌‌৪ - সিরাত গ্রন্থসমূহ:

সিরাতে নববীর ঘটনাবলি ছিল সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম কর্তৃক পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বর্ণিত রেওয়ায়েত। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সিরাতের সূক্ষ্ম বিষয় ও বিস্তারিত তথ্যানুসন্ধানে বিশেষভাবে নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে তাবেয়িগণ এই সংবাদগুলো আদান-প্রদান করেন এবং নিজ নিজ পাণ্ডুলিপিতে তা লিপিবদ্ধ করেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এ বিষয়ে পূর্ণ মনোযোগ প্রদান করেন, যেমন—আবান বিন উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু (৩২-১০৫ হিজরি), উরওয়া বিন জুবায়ের বিন আওয়াম (২৩-৯৩ হিজরি)। আর কনিষ্ঠ তাবেয়িদের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর আল-আনসারি (মৃত্যু ১৩৫ হিজরি), মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আজ-জুহরি (৫০-১২৪ হিজরি), যিনি ওমর বিন আব্দুল আজিজের নির্দেশে তাঁর শাসনামলে সুন্নাহ সংকলন করেছিলেন এবং আসিম বিন ওমর বিন কাতাদা আল-আনসারি (মৃত্যু ১২৯ হিজরি)।

এরপর সিরাত চর্চার ধারা তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছায়, এমনকি তাঁরা একে স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে সংকলন করেন। সিরাত শাস্ত্রের প্রাথমিক যুগের প্রখ্যাত লেখকদের অন্যতম হলেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার (মৃত্যু ১৫২ হিজরি)। জমহুর উলামা ও মুহাদ্দিসগণ তাঁকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন; তবে ইমাম মালেক ও হিশাম বিন উরওয়া বিন জুবায়ের থেকে তাঁর সমালোচনাও বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقد حمل كثير من العلماء المحققين تجريح هذين العالمين الكبيرين له بعداوات شخصية كانت قائمة بينهما وبين ابن إسحاق.

ألف ابن إسحاق كتابه «المغازي» من أحاديث وروايات سمعها بنفسه في المدينة ومصر، ومن المؤسف أن هذا الكتاب لم يصل إلينا، فقد فُقِدَ فيما فُقِدَ من تراثنا العلمي الزاخر، ولكن مضمون الكتاب بقي محفوظا بما رواه عنه ابن هشام في سيرته عن طريق شيخه البكائي الذي كان من أشهر تلامذة ابن إسحاق.

 

‌‌سيرة ابن هشام:

هو أبو محمد عبد الملك بن أيوب الحميري، نشأ بالبصرة وتوفي سنة 213 أو 218 هـ على اختلاف الروايات، ألف ابن هشام كتابه «السيرة النبوية» مما رواه شيخه البكائي عن ابن إسحاق، ومما رواه هو شخصيا عن شيوخه، مما لم يذكره ابن إسحاق في سيرته، وأغفل ما رواه ابن إسحاق مما لم يتفق مع ذوقه العلمي وملكته النقدية، فجاء كتابا من أوفى مصادر السيرة النبوية، وأصحها، وأدقها، ولقي من القبول ما جعل الناس ينسبون كتابه إليه، فيقولون: سيرة ابن هشام وشرح كتابه هذا عالمان من الأندلس: السهيلي (508 - 581هـ) والخشني (535 - 604هـ).

 

‌‌طبقات ابن سعد:

هو محمد بن سعد بن منيع الزهري، ولد بالبصرة سنة 168هـ
অনেক গবেষক আলেম এই দুই মহান আলেমের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি করা সমালোচনাকে ইবনে ইসহাকের সাথে তাদের বিদ্যমান ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইবনে ইসহাক তাঁর ‘আল-মাগাজি’ বইটি মদিনা ও মিশরে সরাসরি শ্রবণ করা হাদিস ও বর্ণনা থেকে সংকলন করেছিলেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই বইটি আমাদের কাছে পৌঁছেনি; আমাদের বিশাল জ্ঞানভাণ্ডারের হারিয়ে যাওয়া অংশগুলোর সাথে এটিও হারিয়ে গেছে। তবে বইটির মূল বিষয়বস্তু ইবনে হিশাম তাঁর সীরাত গ্রন্থে তাঁর উস্তাদ আল-বুক্কায়ীর সূত্রে বর্ণনা করার মাধ্যমে সংরক্ষিত রয়েছে, যিনি ছিলেন ইবনে ইসহাকের অন্যতম প্রসিদ্ধ ছাত্র।

 

‌‌সীরাতে ইবনে হিশাম:

তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক ইবনে আইয়ুব আল-হিময়ারি। তিনি বসরায় লালিত-পালিত হন এবং বিভিন্ন বর্ণনা অনুসারে ২১৩ বা ২১৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। ইবনে হিশাম তাঁর ‘আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ’ গ্রন্থটি তাঁর উস্তাদ আল-বুক্কায়ীর মাধ্যমে ইবনে ইসহাক থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা এবং তাঁর নিজের উস্তাদদের কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে শোনা বিষয়গুলোর মাধ্যমে সংকলন করেছেন, যা ইবনে ইসহাক তাঁর সীরাত গ্রন্থে উল্লেখ করেননি। এছাড়া ইবনে ইসহাকের বর্ণনার মধ্যে যা তাঁর ইলমি রুচি ও সমালোচনামূলক প্রজ্ঞার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়নি, তা তিনি পরিহার করেছেন। ফলে এটি সীরাতে নববীর অন্যতম পূর্ণাঙ্গ, বিশুদ্ধ ও সূক্ষ্ম উৎস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং এটি এমন গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে যে মানুষ গ্রন্থটিকে তাঁর দিকেই নিসবত করে বলে: সীরাতে ইবনে হিশাম। আন্দালুসের দুজন আলেম এই গ্রন্থের ব্যাখ্যা লিখেছেন: আস-সুহাইলি (৫০৮-৫৮১ হি.) এবং আল-খুশানি (৫৩৫-৬০৪ হি.)।

 

‌‌তাবাকাতে ইবনে সাদ:

তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে সাদ ইবনে মানি আল-জুহরি, তিনি ১৬৮ হিজরিতে বসরায় জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ৩০)
وتوفي ببغداد سنة 230هكان كاتبا لمحمد بن عمر الواقدي المؤرخ الشهير في المغازي والسيرة (130 - 207هـ) سار ابن سعد في كتابه «الطبقات» على ذكر أسماء الصحابة والتابعين - بعد ذكر سيرة الرسول عليه السلام بحسب طبقاتهم، وقبائلهم، وأماكنهم، ويعتبر كتابه «الطبقات» من أوثق المصادر الأولى للسيرة، وأحفظها بذكر الصحابة والتابعين.

 

‌‌تاريخ الطبري:

هو أبو جعفر محمد بن جرير الطبري (224 - 310هـ) إمام، فقيه، محدث، صاحب مذهب في الفقه لم ينتشر كثيرا ألف كتابه في التاريخ غير مقتصر على سيرة الرسول عليه الصلاة والسلام، بل ذكر تاريخ الأمم قبله، وأفرد قسما خاصا لسيرته عليه السلام، ثم تابع الحديث عن تاريخ الدول الإسلامية حتى قرب وفاته.

يعتبر الطبري حجة ثقة فيما يروي، ولكنه كثيرا ما يذكر روايات ضعيفة أو باطلة، مكتفيا بإسنادها إلى رواتها الذين كان أمرهم معروفا في عصره، كما في رواياته عن أبي مخنف، فقد كان شيعيا متعصبا، ومع ذلك فقد أورد له الطبري كثيرا من أخباره بإسنادها إليه، كانه يتبرأ من عهدتها، ويلقي العبء على أبي مخنف.

 

‌‌تطور التأليف في السيرة:

ثم تطور التأليف في السيرة، فأفردت بعض نواحيها بالتأليف
তিনি ২৩০ হিজরিতে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মাগাজি ও সিরাত বিষয়ক বিখ্যাত ইতিহাসবিদ মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিদি (১৩০ - ২০৭ হিজরি)-এর লেখক ছিলেন। ইবনে সাদ তাঁর ‘আত-তাবাকাত’ গ্রন্থে রাসুলের—তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—সিরাত বর্ণনার পর সাহাবী ও তাবিঈদের নামসমূহ তাঁদের স্তর, গোত্র ও অবস্থান অনুযায়ী বর্ণনা করেছেন। তাঁর ‘আত-তাবাকাত’ গ্রন্থটি সিরাতের প্রাথমিক উৎসসমূহের মধ্যে অন্যতম নির্ভরযোগ্য এবং সাহাবী ও তাবিঈদের বর্ণনার ক্ষেত্রে সর্বাধিক তথ্যসমৃদ্ধ বিবেচনা করা হয়।

 

‌‌তারিখুত তবারি:

তিনি হলেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তবারি (২২৪ - ৩১০ হিজরি)। তিনি একজন ইমাম, ফকিহ, মুহাদ্দিস এবং ফিকহশাস্ত্রে একটি স্বতন্ত্র মাযহাবের প্রবর্তক ছিলেন যা খুব বেশি প্রসার লাভ করেনি। তিনি তাঁর ইতিহাসের গ্রন্থটি কেবল রাসুলের—তাঁর ওপর দরুদ ও শান্তি বর্ষিত হোক—সিরাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং তাঁর পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ইতিহাসও উল্লেখ করেছেন এবং রাসুলের—তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—সিরাতের জন্য একটি বিশেষ অংশ নির্দিষ্ট করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর মৃত্যুর নিকটবর্তী সময় পর্যন্ত ইসলামী রাষ্ট্রসমূহের ইতিহাসের বর্ণনা অব্যাহত রেখেছেন।

তবারি তাঁর বর্ণিত বর্ণনাসমূহের ক্ষেত্রে একজন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত, কিন্তু তিনি প্রায়ই দুর্বল বা বাতিল বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। তিনি কেবল সেসব বর্ণনাকারীদের দিকে সনদ বা সূত্র নির্দেশ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন যাদের অবস্থা তাঁর যুগে সুপরিচিত ছিল; যেমন আবু মিখনাফ থেকে তাঁর বর্ণিত বর্ণনাগুলো। তিনি (আবু মিখনাফ) ছিলেন একজন কট্টর শিয়া, তা সত্ত্বেও তবারি তাঁর অনেক সংবাদ সনদসহ তাঁর দিকে সম্বন্ধ করে উল্লেখ করেছেন, যেন তিনি এর দায়ভার থেকে মুক্ত থাকতে চান এবং সমস্ত বোঝা আবু মিখনাফের ওপর অর্পণ করেন।

 

‌‌সিরাত রচনার ক্রমবিকাশ:

অতঃপর সিরাত রচনার ক্ষেত্রে উন্নতি সাধিত হয় এবং এর নির্দিষ্ট কিছু দিক নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে গ্রন্থ রচিত হতে থাকে।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ৩১)
خاصة، كـ «دلائل النبوة» للأصبهاني، و «الشمائل المحمدية» للترمذي، و «زاد المعاد» لابن قيم الجوزية، و «الشفاء» للقاضي عياض، و «المواهب اللدنية» للقسطلاني وهي مشروحة في ثماني مجلدات بقلم الزرقاني المتوفى سنة 1122هـ.

هذا ولا يزال العلماء يؤلفون في سيرة الرسول عليه الصلاة والسلام بأسلوب حديث يتقبله ذوق أبناء العصر، ومن أشهر الكتب المؤلفة في العصر الحديث كتاب «نور اليقين في سيرة سيد المرسلين» للشيخ محمد الخضري رحمه الله، وقد لقي كتابه قبولا حسنا، وقررت دراسته في المعاهد الدينية في أكثر أنحاء العالم الإسلامي.
বিশেষভাবে, যেমন আসবাহানির ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’, তিরমিযীর ‘আশ-শামাইলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ’, ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযীয়ার ‘যাদুল মাআদ’, কাযী আয়াযের ‘আশ-শিফা’ এবং কাসতালানীর ‘আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ’; যা ১১২২ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী যুরকানী কর্তৃক আট খণ্ডে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

অধিকন্তু, আলেমগণ বর্তমান যুগের মানুষের রুচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিক পদ্ধতিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের ওপর গ্রন্থ রচনা অব্যাহত রেখেছেন। আধুনিক যুগে রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের মধ্যে শায়খ মুহাম্মাদ আল-খুদরী (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘নুরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সায়্যিদিল মুরসালীন’ অন্যতম। তাঁর এই বইটি বেশ গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে এবং বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এটি পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الفصل الأول - في حياته قبل البعثة

‌‌الوقائع التاريخية

تدلنا الأخبار الثابتة عن حياته صلى الله عليه وسلم قبل البعثة على الحقائق التالية:

1 - أنه ولد في أشرف بيت من بيوت العرب، فهو من أشرف فروع قريش، وهم بنو هاشم، وقريش أشرف قبيلة في العرب، وأزكاها نسبا وأعلاها مكانة، وقد روي عن العباس رضي الله عنه، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن الله خلق الخلق فجعلني من خيرهم من خير فرقهم، وخير الفريقين، ثم تخير القبائل، فجعلني من خير قبيلة، ثم تخير البيوت، فجعلني من خير بيوتهم، فأنا خيرهم نفسا، وخيرهم بيتا» (رواه الترمذي بسند صحيح).
প্রথম অধ্যায় - নবুয়ত পূর্ববর্তী তাঁর জীবন প্রসঙ্গে

ঐতিহাসিক ঘটনাবলি

নবুয়ত পূর্ববর্তী তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবন সম্পর্কে সুপ্রতিষ্ঠিত সংবাদসমূহ আমাদের নিচের বাস্তবতাসমূহ নির্দেশ করে:

১ - তিনি আরবদের ঘরসমূহের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ঘরে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি কুরাইশের সবচেয়ে অভিজাত শাখা থেকে এসেছেন, আর তারা হলো বনু হাশেম। কুরাইশ আরবদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত গোত্র, বংশীয় দিক থেকে সর্বাধিক পবিত্র এবং মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ। আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যকার সর্বোত্তম দলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর তিনি গোত্রসমূহ নির্বাচন করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এরপর তিনি ঘরসমূহ নির্বাচন করেছেন এবং আমাকে তাদের সর্বোত্তম ঘরের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুতরাং আমি সত্তাগতভাবে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং বংশের দিক থেকেও তাদের মধ্যে সর্বোত্তম» (তিরমিজি এটি সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন)।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ولمكانة هذا النسب الكريم في قريش لم نجدها فيما طعنت به على النبي صلى الله عليه وسلم لاتضاح نسبه بينهم، ولقد طعنت فيه بأشياء كثيرة مفتراة إلا هذا الأمر.

2 - أنه نشأ يتيما، فقد مات أبوه عبد الله وأمه حامل به لشهرين فحسب، ولما أصبح له من العمر ست سنوات ماتت أمه آمنة فذاق صلى الله عليه وسلم في صغره مرارة الحرمان من عطف الأبوين وحنانهما، وقد كفله بعد ذلك جده عبد المطلب، ثم توفي ورسول الله صلى الله عليه وسلم ابن ثمان سنوات، فكفله بعد ذلك عمه أبو طالب حتى نشأ واشتد ساعده، وإلى يتمه أشار القرآن الكريم بقوله: {أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًا فَآوَى} [الضحى:6].

3 - أمضى رسول الله صلى الله عليه وسلم السنوات الأربع الأولى من طفولته في الصحراء في بني سعد، فنشأ قوي البنية، سليم الجسم، فصيح اللسان، جريء الجنان، يحسن ركوب الخيل على صغر سنه قد تفتحت مواهبه على صفاء الصحراء وهدوئها، وإشراق شمسها ونقاوة هوائها.

4 - كانت تعرف فيه النجابة من صغره، وتلوح على محياه مخايل الذكاء الذي يحببه إلى كل من رآه، فكان إذا أتى الرسول وهو غلام جلس على فراش جده، وكان إذا جلس عليه لا يجلس معه على الفراش أحد من أولاده (أعمام الرسول)، فيحاول أعمامه انتزاعه عن الفراش، فيقول لهم عبد المطلب: دعوا ابني، فوالله إن له لشأنا.

5 - أنه عليه الصلاة والسلام كان يرعى في أوائل شبابه لأهل مكة
কুরাইশদের মাঝে এই উচ্চ বংশমর্যাদার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশ নিয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো সমালোচনা দেখা যায় না; কারণ তাদের মাঝে তাঁর বংশপরিচয় ছিল অত্যন্ত সুষ্পষ্ট। তারা তাঁর বিরুদ্ধে অনেক বানোয়াট অপবাদ দিলেও এই বিষয়টি ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে অপবাদ দিতে পারেনি।

2 - তিনি এতিম হিসেবে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন যখন তাঁর মা মাত্র দুই মাসের গর্ভবতী ছিলেন। তাঁর বয়স যখন ছয় বছর হলো, তখন তাঁর মা আমিনা ইন্তেকাল করেন। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৈশবে পিতামাতার স্নেহ-মমতা থেকে বঞ্চিত হওয়ার তিক্ততা আস্বাদন করেন। এরপর তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁর লালন-পালনের ভার গ্রহণ করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আট বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। এরপর তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন যতক্ষণ না তিনি বড় হলেন এবং স্বাবলম্বী হলেন। তাঁর এতিম হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে পবিত্র কুরআন বলছে: "তিনি কি আপনাকে এতিম হিসেবে পাননি, অতঃপর তিনি আপনাকে আশ্রয় দিয়েছেন?" [আদ-দুহা: ৬]।

3 - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শৈশবের প্রথম চার বছর বনী সা’দ গোত্রে মরুভূমিতে অতিবাহিত করেন। ফলে তিনি শক্তিশালী শারীরিক গঠন, সুস্থ শরীর, প্রাঞ্জল ভাষা ও সাহসী হৃদয়ের অধিকারী হয়ে গড়ে ওঠেন। শৈশব থেকেই তিনি ঘোড়সওয়ারিতে পারদর্শী ছিলেন। মরুভূমির স্বচ্ছতা, নিস্তব্ধতা, উজ্জ্বল রোদ এবং নির্মল বাতাসের মাঝে তাঁর মেধা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটেছিল।

4 - শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে আভিজাত্যের গুণাবলি প্রকাশ পেত এবং তাঁর চেহারায় বুদ্ধিমত্তার ছাপ পরিলক্ষিত হতো, যা তাঁকে দর্শনকারী প্রত্যেকের কাছে প্রিয় করে তুলত। তিনি যখন বালক ছিলেন, তখন এসে তাঁর দাদার বিছানায় বসতেন। যখন তিনি সেখানে বসতেন, তখন তাঁর চাচাদের কেউ সেখানে বসতেন না। চাচারা যখন তাঁকে বিছানা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন, তখন আবদুল মুত্তালিব তাঁদের বলতেন: "আমার এই পুত্রকে ছেড়ে দাও, আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই তার এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।"

5 - তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম তাঁর যৌবনের প্রারম্ভে মক্কাবাসীদের ছাগল চরাতেন।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ৩৫)
أغنامهم بقراريط يأخذها أجرا على ذلك، وقد ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «ما من نبي إلا قد رعى الغنم» قالوا: وأنت يا رسول الله؟ قال: «وأنا» وفي رواية أخرى أنه قال: «ما بعث الله نبيا إلا رعى الغنم» فقال له أصحابه: وأنت يا رسول الله؟ فأجاب: «وأنا رعيتها لأهل مكة على قراريط» ثم لما بلغ من عمره خمسا وعشرين، عمل لخديجة بنت خويلد في التجارة بما لها على أجر تؤديه إليه.

6 - لم يشارك عليه الصلاة والسلام أقرانه من شباب مكة في لهوهم ولا عبثهم، وقد عصمه الله من ذلك، فقد استفاض في كتب السيرة أنه سمع وهو في سن الشباب غناء من إحدى دور مكة في حفلة عرس، فأراد أن يشهدها، فألقى الله عليه النوم، فما أيقظه إلا حر الشمس، ولم يشارك قومه في عبادة الأوثان، ولا أكل شيئا مما ذبح لها، ولم يشرب خمرا، ولا لعب قمارا، ولا عرف عنه فحش في القول، أو هُجر [قبحٌ] في الكلام.

7 - وعرف عنه منذ إدراكه رجحان العقل، وأصالة الرأي، وفي حادثة وضع الحجر الأسود في مكانه من الكعبة دليل واضح على هذا، فقد أصاب الكعبة سيل أدى إلى تصدع جدرانها، فقرر أهل مكة هدمها وتجديد بنائها، وفعلوا، فلما وصلوا إلى مكان الحجر الأسود فيها اختلفوا اختلافا شديدا فيمن يكون له شرف وضع الحجر الأسود في مكانه، وأرادت كل قبيلة أن يكون لها هذا الشرف، واشتد النزاع حتى تواعدوا للقتال، ثم ارتضوا أن يحكم بينهم أول داخل من باب بني شيبة، فكان هو رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما رأوه قالوا: هذا
তাদের বকরি চরাতেন কিছু কিরাতের বিনিময়ে যা তিনি এর মজুরি হিসেবে গ্রহণ করতেন। এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: «এমন কোনো নবী নেই যিনি বকরি চরাননি» তারা বললেন: «আর আপনি, হে আল্লাহর রাসূল?» তিনি বললেন: «আমিও» অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে যে তিনি বলেছেন: «আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যিনি বকরি চরাননি» তখন তাঁর সাহাবীগণ তাঁকে বললেন: «আর আপনি, হে আল্লাহর রাসূল?» তিনি উত্তর দিলেন: «আমিও মক্কাবাসীদের জন্য কিছু কিরাতের বিনিময়ে বকরি চরাতাম» অতঃপর যখন তাঁর বয়স পঁচিশ বছর হলো, তখন তিনি খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের সম্পদ নিয়ে তাঁর দেওয়া মজুরির বিনিময়ে ব্যবসায়িক কাজ করলেন।

৬ - তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) মক্কার যুবকদের সাথে তাদের আমোদ-প্রমোদ বা অনর্থক কাজে অংশগ্রহণ করেননি। আল্লাহ তাঁকে তা থেকে রক্ষা করেছেন। সীরাত গ্রন্থসমূহে এটি প্রসিদ্ধ যে, যৌবনকালে তিনি মক্কার একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে গান শুনতে পেয়েছিলেন এবং সেখানে উপস্থিত হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আল্লাহ তাঁর ওপর ঘুম চাপিয়ে দিয়েছিলেন, ফলে সূর্যের তাপ ছাড়া আর কিছুই তাঁকে জাগাতে পারেনি। তিনি তাঁর কওমের সাথে মূর্তিপূজায় শরিক হননি, মূর্তির উদ্দেশ্যে যবেহ করা কোনো কিছু খাননি, মদ পান করেননি, জুয়া খেলেননি এবং তাঁর ব্যাপারে কোনো অশ্লীল কথা বা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের কথা জানা যায় না।

৭ - তাঁর বিচারবুদ্ধি জাগ্রত হওয়ার সময় থেকেই তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং মতামতের পরিপক্কতা সম্পর্কে জানা যায়। কাবার নির্দিষ্ট স্থানে হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের ঘটনায় এর স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। কাবাগৃহে এক প্রবল বন্যা হানা দেয় যার ফলে এর দেয়ালে ফাটল ধরে। তখন মক্কাবাসী এটি ভেঙে পুনরায় নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তারা তা-ই করল। যখন তারা হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের জায়গায় পৌঁছাল, তখন হাজরে আসওয়াদকে তার নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপনের সম্মান কে লাভ করবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হলো। প্রতিটি গোত্রই চাচ্ছিল যেন এই সম্মান তাদেরই হয়। বিবাদ এতটাই চরম আকার ধারণ করল যে তারা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিল। এরপর তারা এই সিদ্ধান্তে সম্মত হলো যে, বনু শায়বাহ দরজা দিয়ে যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রবেশ করবেন, তিনিই তাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন। আর তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। যখন তারা তাঁকে দেখল, তারা বলল: এই তো সেই...
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ৩৬)
الأمين، رضينا بحكمه، فلما أخبر بذلك، حل المشكلة بما رضي عنه جميع المتنازعين، فقد بسط رداءه ثم أخذ الحجر فوضعه فيه، ثم أمرهم أن تأخذ كل قبيلة بطرف من الرداء، فلما رفعوه وبلغ الحجر موضعه، أخذه ووضعه بيده، فرضوا جميعا، وصان الله بوفور عقله وحكمته دماء العرب من أن تسفك إلى مدى لا يعلمه إلا الله.

8 - عرف عليه الصلاة والسلام في شبابه بين قومه بالصادق الأمين، واشتهر بينهم بحسن المعاملة، والوفاء بالوعد، واستقامة السيرة، وحسن السمعة، مما رغب خديجة في أن تعرض عليه الاتجار بمالها في القافلة التي تذهب إلى مدينة (بصرى) كل عام على أن تعطيه ضعف ما تعطي رجلا من قومها، فلما عاد إلى مكة وأخبرها غلامها ميسرة بما كان من أمانته وإخلاصه، ورأت الربح الكثير في تلك الرحلة، أضعفت له من الأجر ضعف ما كانت أسمت له، ثم حملها ذلك على أن ترغب في الزواج منه، فقبل أن يتزوجها وهو أصغر منها بخمسة عشر عاما، وأفضل شهادة له بحسن خلقه قبل النبوة قول خديجة له بعد أن جاءه الوحي في غار حراء وعاد مرتعدا: كلا والله لا يخزيك الله أبدا، إنك لتصل الرحم، وتحمل الكل (الضعيف)، وتكسب المعدوم، وتقري الضيف، وتعين على نوائب الحق.

9 - سافر مرتين خارج مكة، أولاهما مع عمه أبي طالب حين كان عمره اثنتي عشرة سنة، وثانيتهما حين كان عمره خمسا وعشرين سنة، متاجرا لخديجة بمالها، وكانت كلتا الرحلتين إلى مدينة (بصرى) في
আল-আমিন (বিশ্বস্ত), আমরা তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট। যখন তাঁকে এ বিষয়ে জানানো হলো, তিনি এমনভাবে সমস্যার সমাধান করলেন যাতে সকল বিবাদমান পক্ষ সন্তুষ্ট হলো। তিনি তাঁর চাদর বিছিয়ে দিলেন, অতঃপর পাথরটি নিয়ে তার মধ্যে রাখলেন। এরপর তিনি তাদেরকে আদেশ দিলেন যেন প্রতিটি গোত্র চাদরের এক একটি প্রান্ত ধরে। যখন তারা এটিকে উপরে তুলল এবং পাথরটি তার যথাস্থানে পৌঁছাল, তখন তিনি নিজ হাতে সেটি নিয়ে যথাস্থানে স্থাপন করলেন। এতে তারা সকলেই সন্তুষ্ট হলো। আর আল্লাহ তাঁর প্রভূত বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে আরবদের রক্তপাত থেকে রক্ষা করলেন, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানত না কতদূর গড়াত।

৮ - তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর যৌবনকালে নিজ জাতির মধ্যে আস-সাদিক ও আল-আমিন (সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি তাদের মাঝে তাঁর উত্তম ব্যবহার, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, উন্নত চরিত্র এবং সুখ্যাতির জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে খাদিজা তাঁর নিকট প্রস্তাব দিলেন যেন তিনি তাঁর সম্পদ নিয়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর বুসরা শহরে গমনকারী কাফেলার সাথে যান। এর বিনিময়ে তিনি তাঁকে তাঁর স্বজাতির অন্য কোনো পুরুষকে যা দিতেন, তার দ্বিগুণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। যখন তিনি মক্কায় ফিরে এলেন এবং খাদিজার গোলাম মায়সারা তাঁকে তাঁর আমানতদারি ও একনিষ্ঠতা সম্পর্কে অবহিত করল এবং তিনি ওই সফরে প্রচুর মুনাফা দেখতে পেলেন, তখন তিনি তাঁর জন্য নির্ধারিত পারিশ্রমিক দ্বিগুণ করে দিলেন। অতঃপর এই বিষয়টিই তাঁকে তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে আগ্রহী করে তুলল। ফলে তিনি তাঁকে বিবাহ করতে সম্মত হলেন, যদিও তিনি তাঁর চেয়ে পনের বছরের ছোট ছিলেন। নবুওয়াতের পূর্বে তাঁর উন্নত চরিত্রের সর্বোত্তম সাক্ষ্য হলো হেরা গুহায় ওহি আসার পর যখন তিনি প্রকম্পিত হৃদয়ে ফিরে আসলেন, তখন খাদিজা তাঁকে বলেছিলেন: "কখনো নয়, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অক্ষমদের (দুর্বলদের) বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, মেহমানদারি করেন এবং সত্য পথের দুর্যোগে সাহায্য করেন।"

৯ - তিনি মক্কার বাইরে দুবার সফর করেছিলেন। প্রথমবার তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে যখন তাঁর বয়স ছিল বারো বছর। আর দ্বিতীয়বার যখন তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর, খাদিজার সম্পদ নিয়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে। উভয় সফরই ছিল বুসরা শহরের অভিমুখে যা...
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ৩৭)
الشام، وفي كلتيهما كان يسمع من التجار أحاديثهم، ويشاهد آثار البلاد التي مر بها، والعادات التي كان عليها سكانها.

10 - حبب الله إليه عليه الصلاة والسلام قبل البعثة بسنوات أن يخرج إلى غار حراء - وهو جبل يقع في الجانب الشمالي الغربي من مكة، على قرب منها- يخلو فيه لنفسه مقدار شهر - وكان في شهر رمضان- ليفكر في آلاء الله، وعظيم قدرته، واستمر على ذلك حتى جاءه الوحي، ونزل عليه القرآن الكريم.

 

الفصل الأول - في حياته قبل البعثة

 

‌‌الدروس والعظات

يستطيع الباحث أن يخرج من دراسة الوقائع السالفة بالدروس والنتائج التالية:

1 - أنه كلما كان الداعية إلى الله، أو المصلح الاجتماعي في شرف من قومه، كان ذلك أدعى إلى استماع الناس له، فإن من عادتهم أن يزدروا بالمصلحين والدعاة إذا كانوا من بيئة مغمورة، أو نسب وضيع، فإذا جاءهم من لا ينكرون شرف نسبه، ولا مكانة أسرته الاجتماعية بينهم، لم يجدوا ما يقولونه عنه إلا افتراءات يتحللون بها من الاستماع إلى دعوته، والإصغاء إلى كلامه، ولذلك كان أول ما سأل عنه هرقل أبا سفيان بعد أن أرسل الرسول إلى هرقل كتابا يدعوه فيه إلى الإسلام هو وقومه: كيف نسبه فيكم؟ فأجاب أبو سفيان وهو يومئذ على شركه: هو من أشرفنا نسبا، ولما انتهى هرقل من أسئلته لأبي سفيان، وسمع جوابه عنها، أخذ يشرح له سر الأسئلة التي توجه بها إليه حول محمد «رسول
সিরিয়া, এবং উভয় সফরেই তিনি বণিকদের নিকট থেকে তাদের কথা শুনতেন এবং যে জনপদগুলোর ওপর দিয়ে তিনি অতিক্রম করতেন সেগুলোর নিদর্শনাবলি এবং সেখানকার অধিবাসীদের রীতিনীতি প্রত্যক্ষ করতেন।

১০ - নবুয়ত প্রাপ্তির কয়েক বছর আগে আল্লাহ তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) নিকট হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করাকে প্রিয় করে দিয়েছিলেন। এটি মক্কার নিকটবর্তী উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত একটি পাহাড়। সেখানে তিনি প্রায় এক মাসকাল—যা ছিল রমজান মাসে—নিভৃতে কাটাতেন, যাতে আল্লাহর নিআমতরাজি এবং তাঁর মহান কুদরত নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। ওহী আসা এবং পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি এভাবেই অব্যাহত ছিলেন।

 

প্রথম অধ্যায় - নবুয়ত পূর্ব জীবন প্রসঙ্গে

 

‌‌শিক্ষা ও উপদেশসমূহ

পূর্বোক্ত ঘটনাবলি অধ্যয়ন করে একজন গবেষক নিম্নলিখিত শিক্ষা ও ফলাফলগুলো আহরণ করতে পারেন:

১ - আল্লাহর পথে আহ্বানকারী বা সমাজ সংস্কারক যদি নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হন, তবে সেটি মানুষের তাঁর কথা শোনার ক্ষেত্রে অধিকতর সহায়ক হয়। কেননা মানুষের সাধারণ স্বভাব হলো, সংস্কারক ও আহ্বানকারী যদি কোনো অখ্যাত পরিবেশ বা নিচু বংশের হন, তবে তারা তাদের তুচ্ছজ্ঞান করে। কিন্তু যখন তাদের কাছে এমন কেউ আসেন যার বংশমর্যাদা এবং সমাজে তাঁর পরিবারের সম্মানজনক অবস্থান তারা অস্বীকার করতে পারে না, তখন তাঁর বিরুদ্ধে অপবাদ রটানো ছাড়া তারা আর কিছু খুঁজে পায় না, যার মাধ্যমে তারা তাঁর দাওয়াত শোনা এবং তাঁর কথার প্রতি কর্ণপাত করা থেকে বিরত থাকার অজুহাত খোঁজে। এই কারণেই রাসূল যখন হেরাক্লিয়াসের নিকট তাকে ও তার সম্প্রদায়কে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে পত্র পাঠালেন, তখন হেরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ানকে সর্বপ্রথম যে প্রশ্নটি করেছিলেন তা হলো: "তোমাদের মধ্যে তার বংশমর্যাদা কেমন?" তখন আবু সুফিয়ান—যিনি সে সময় শির্কে লিপ্ত ছিলেন—উত্তর দিয়েছিলেন: "তিনি আমাদের মধ্যে অত্যন্ত উচ্চবংশীয়।" যখন হেরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ানকে করা তাঁর প্রশ্নাবলি শেষ করলেন এবং এগুলোর উত্তর শুনলেন, তখন তিনি মুহাম্মাদ (রাসূল) সম্পর্কে তাঁকে করা এই প্রশ্নগুলোর রহস্য ব্যাখ্যা করতে শুরু করলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ৩৮)
الله صلى الله عليه وسلم» فقال له هرقل: سألتك كيف نسبه فيكم؟ فزعمت أنه من أشرفكم نسبا، وكذلك لا يختار الله النبي إلا من كرام قومه، وأوسطهم نسبا.

صحيح أن الإسلام لا يقيم وزنا لشرف الأنساب تجاه الأعمال، ولكن هذا لا يمنع أن يكون الذي يجمع بين شرف النسب وشرف الفعل، أكرم وأعلى مكانا وأقرب نجاحا، كما قال صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح: «خياركم في الجاهلية خياركم في الإسلام إذا فقهوا».

2 - أن في تحمل الداعية آلام اليتم أو العيش، وهو في صغره ما يجعله أكثر إحساسا بالمعاني الإنسانية النبيلة، وامتلاءً بالعواطف الرحيمة نحو اليتامى أو الفقراء أو المعذبين، وأكثر عملا لإنصاف هذه الفئات والبر بها والرحمة لها، وكل داعية يحتاج لأن يكون لديه رصيد كبير من العواطف الإنسانية النبيلة التي تجعله يشعر بآلام الضعفاء والبائسين، ولا يوفر له هذا الرصيدَ شيءٌ مثلُ أن يعاني في حياته بعض ما يعانيه أولئك المستضعفون كاليتامى والفقراء والمساكين.

3 - كلما عاش الداعية في جو أقرب إلى الفطرة، وأبعد عن الحياة المعقدة، كان ذلك أدعى إلى صفاء ذهنه، وقوة عقله وجسمه ونفسه، وسلامة منطقه وتفكيره، ولذلك لم يختر الله العرب لأداء رسالة صدفة ولا عبثا، بل لأنهم كانوا بالنسبة إلى من يجاورهم من الأمم المتمدنة أصفى نفوسا، وأسلم تفكيرا، وأقوم أخلاقا، وأكثر احتمالا لمكاره الحروب في سبيل دعوة الله ونشر رسالته في أنحاء العالم.
...আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতঃপর হেরাক্লিয়াস তাকে বললেন: আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, আপনাদের মধ্যে তার বংশমর্যাদা কেমন? আপনি দাবি করলেন যে তিনি আপনাদের মধ্যে অতি উচ্চ বংশীয়। আর এভাবেই আল্লাহ নবীগণকে তাঁদের কওমের সম্মানিত ও উত্তম বংশেই মনোনীত করে থাকেন।

এটা সত্য যে, ইসলামের দৃষ্টিতে আমল বা কর্মের তুলনায় বংশমর্যাদার কোনো স্বতন্ত্র গুরুত্ব নেই, কিন্তু এটি এই বিষয়কে নাকচ করে না যে, যার মধ্যে বংশীয় মর্যাদা ও কর্মের শ্রেষ্ঠত্ব উভয়ই বিদ্যমান থাকবে, সে অধিক সম্মানিত, উচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং সফলতার অধিক নিকটবর্তী হবে। যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহীহ হাদীসে বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা জাহেলী যুগে শ্রেষ্ঠ ছিল, তারা ইসলামেও শ্রেষ্ঠ, যদি তারা দ্বীনি গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অর্জন করে।"

২ - একজন দাঈর শৈশবকালে পিতৃহীনতার বেদনা বা জীবন সংগ্রামের কষ্ট সহ্য করার মাঝে এমন কিছু নিহিত থাকে যা তাকে মহৎ মানবিক অনুভূতিগুলো অনুধাবনে অধিক সংবেদনশীল করে তোলে এবং এতিম, দরিদ্র ও নিপীড়িতদের প্রতি মমত্ববোধে পরিপূর্ণ করে তোলে। এটি তাকে এই শ্রেণীর মানুষের প্রতি ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং তাদের প্রতি সদাচরণ ও করুণা প্রদর্শনে অধিক সচেষ্ট করে। প্রত্যেক দাঈর জন্য হৃদয়ে এক বিশাল মানবিক সহমর্মিতার ভাণ্ডার থাকা প্রয়োজন, যা তাকে দুর্বল ও দুর্গতদের দুঃখ-বেদনা অনুভব করতে উদ্বুদ্ধ করে। আর এই যোগ্যতা অর্জনে সেই অভিজ্ঞতার মতো অন্য কিছু হতে পারে না, যেখানে তিনি নিজে নিজের জীবনে সেইসব অবহেলিত মানুষের মতো দুঃখকষ্ট ভোগ করেন, যেমনটি এতিম, দরিদ্র ও মিসকিনরা করে থাকে।

৩ - একজন দাঈ যত বেশি স্বভাবজাত প্রকৃতির কাছাকাছি এবং জটিলতামুক্ত পরিবেশে জীবন অতিবাহিত করেন, তা তার মেধার স্বচ্ছতা, বুদ্ধি, দেহ ও মনের শক্তি এবং যুক্তি ও চিন্তার সঠিকতার জন্য তত বেশি সহায়ক হয়। এই কারণেই আল্লাহ আরবদেরকে রিসালাতের দায়িত্ব পালনের জন্য আকস্মিকভাবে বা অনর্থক চয়ন করেননি; বরং এই জন্য করেছেন যে, তারা তাদের প্রতিবেশী তথাকথিত সভ্য জাতিগুলোর তুলনায় অধিকতর স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী, সুস্থ চিন্তাসম্পন্ন, উন্নত চরিত্রের অধিকারী এবং আল্লাহর দাওয়াতের পথে ও বিশ্বজুড়ে তাঁর বাণী পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে যুদ্ধের কঠোরতা সহ্য করতে অধিক সক্ষম ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ৩৯)
4 - لا يتأهل لمركز الدعوة وقيادتها إلا الذكي النبيه، فالأغبياء والمتوسطون في نجابتهم أبعد الناس عن جدارة القيادة الفكرية، أو الإصلاحية، أو الروحية، بل إن من سنن الحياة ألا يتمكن من القيادة في أي ناحية من نواحي الحياة عن جدارة واستحقاق الأغبياء والمضطربون في تفكيرهم، والشاذون في آرائهم، وإذا واتت الصدفة أو الظروف واحدا من هؤلاء، فحملته إلى مركز القيادة، فسرعان ما يهوي إلى الحضيض ويتخلى عنه قومه بعد أن تدلهم أفعاله على غباوته، أو شذوذه، أو اضطراب تفكيره.

5 - ينبغي للداعية أن يعتمد في معيشته على جهده الشخصي، أو مورد شريف لا استجداء فيه، ولا ذلة ولا مهانة.

إن الدعاة الصادقين الشرفاء يربؤون بأنفسهم أن يعيشوا من صدقات الناس وأعطياتهم، وأية كرامة تكون لهم في نفوس قومهم بعد أن يهينوا أنفسهم بذل السؤال والاستجداء ولو لم يكن صريحا مكشوفا. فإذا وجدنا من يدعي الدعوة والإرشاد، وهو يستكثر من أموال الناس بشتى أنواع الحيل، فإننا نجزم بمهانة نفسه في نفسه، فكيف في نفوس قومه وجيرانه؟ ومن ارتضى لنفسه المهانة، فكيف يستطيع أن يدعو إلى مكارم الأخلاق، ويقف في وجه الطغاة والمفسدين، ويحارب الشر والفساد، ويبعث في الأمة روح الكرامة والشرف والاستقامة؟

6 - إن استقامة الداعية في شبابه وحسن سيرته أدعى إلى نجاحه في دعوته إلى الله، وإصلاح الأخلاق، ومحاربة المنكرات، إذ لا يجد في
4 - দাওয়াতী কাজের কেন্দ্র ও তার নেতৃত্বের জন্য কেবল বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তিই যোগ্য বিবেচিত হন। নির্বোধ এবং সাধারণ মেধার অধিকারীরা বুদ্ধিবৃত্তিক, সংস্কারমূলক বা আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের যোগ্যতা থেকে সবচাইতে দূরে। বরং এটি জীবনের একটি অমোঘ নিয়ম যে, জীবনের কোনো বিভাগেই নির্বোধ, চিন্তাধারায় বিশৃঙ্খল এবং অস্বাভাবিক মত পোষণকারীরা যথাযথ যোগ্যতা ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয় না। আর যদি দৈবক্রমে বা পরিস্থিতির চাপে এদের মধ্যে কেউ নেতৃত্বের আসনে চলেও আসে, তবে অচিরেই সে অতল গহ্বরে পতিত হয় এবং তার জাতি তাকে পরিত্যাগ করে, যখন তার কর্মকাণ্ড তার নির্বুদ্ধিতা, বিচ্যুতি বা চিন্তার বিশৃঙ্খলার প্রমাণ দিতে শুরু করে।

5 - একজন দায়ীর উচিত তাঁর জীবনযাত্রায় স্বীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করা, অথবা এমন কোনো সম্মানজনক উপার্জনের উৎসের ওপর যা যাচ্ঞা, লাঞ্ছনা বা হীনতামুক্ত।

সত্যনিষ্ঠ ও মর্যাদাবান দায়ীরা মানুষের সদকা ও দানের ওপর জীবন ধারণ করা থেকে নিজেদের ঊর্ধ্বে রাখেন। ভিক্ষাবৃত্তি বা চাওয়ার লাঞ্ছনার মাধ্যমে নিজেদের অপমানিত করার পর তাঁদের জাতির অন্তরে তাঁদের জন্য আর কী সম্মান অবশিষ্ট থাকতে পারে? যদিও সেই চাওয়া সরাসরি প্রকাশ্য না-ও হয়। সুতরাং আমরা যদি কাউকে দাওয়াত ও ইরশাদের দাবি করতে দেখি, অথচ সে নানা কৌশলে মানুষের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি করার নেশায় মত্ত, তবে আমরা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি যে সে নিজের দৃষ্টিতেই অত্যন্ত হীন; তাহলে তার জাতি ও প্রতিবেশীদের দৃষ্টিতে সে কেমন হবে? আর যে ব্যক্তি নিজের জন্য হীনতা ও লাঞ্ছনা পছন্দ করে নিয়েছে, সে কীভাবে মহান চরিত্রের দিকে দাওয়াত দিতে পারে, স্বৈরশাসক ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের মোকাবিলায় রুখে দাঁড়াতে পারে, অশুভ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে এবং উম্মাহর অন্তরে মর্যাদা, সম্মান ও সততার চেতনা জাগ্রত করতে পারে?

6 - যৌবনকালে দায়ীর চারিত্রিক দৃঢ়তা ও তাঁর উত্তম জীবনধারা আল্লাহর পথে তাঁর দাওয়াত, চরিত্রের সংশোধন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সফলতার ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক। কেননা তিনি খুঁজে পান না...
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ৪০)
الناس من يغمزه في سلوكه الشخصي قبل قيامه بالدعوة، وكثيرا ما رأينا أناسا قاموا بدعوة الإصلاح، وبخاصة إصلاح الأخلاق، وكان من أكبر العوامل في إعراض الناس عنهم ما يذكرونه لهم من ماض ملوث، وخلق غير مستقيم، بل إن الماضي السيء يكون مدعاة للشك في صدق هؤلاء الدعاة، بحيث يتهمون بالتستر وراء دعوة الإصلاح لمآرب خاصة، أو يتهمون أنهم ما بدؤوا بالدعوة إلى الإصلاح إلا بعد أن قضوا لُبانتهم [حاجتهم] من ملذات الحياة وشهواتها، وأصبحوا في وضع أو عمر لا أمل لهم فيه بالاستمرار فيما كانوا يبلغون فيه من عرض أو مال أو شهرة أو جاه.

أما الداعية المستقيم في شبابه، فإنه يظل أبدا رافع الرأس ناصع الجبين، لا يجد أعداء الإصلاح سبيلا إلى غمزه بماض قريب أو بعيد، ولا يتخذون من هذا الماضي المنحرف تكأة للتشهير به، ودعوة الناس إلى الاستخفاف بشأنه.

نعم إن الله يقبل توبة التائب المقبل عليه بصدق وإخلاص، ويمحو بحسناته الحاضرة سيئاته المنصرمة، ولكن هذا شيء غير الداعية الذي ينتظر لدعوته النجاح إذا استقامت سيرته وحسنت سمعته.

7 - إن تجارب الداعية بالسفر، ومعاشرة الجماهير، والتعرف على عوائد الناس وأوضاعهم ومشكلاتهم، لها أثر كبير في نجاح دعوته، فالذين يخالطون الناس في الكتب والمقالات دون أن يختلطوا بهم على مختلف اتجاهاتهم، قوم مخفقون في دعوة الإصلاح، لا يستمع الناس إليهم، ولا تستجيب العقول لدعوتهم، لما يرى فيهم الناس من جهل
মানুষের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যাদের দাওয়াহর কাজ শুরু করার পূর্বের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে সমালোচনা করা হয়। আমরা প্রায়শই এমন অনেককে সংস্কারের ডাক দিতে দেখেছি, বিশেষ করে চারিত্রিক সংশোধনের ক্ষেত্রে; কিন্তু তাদের দাওয়াহ থেকে বিমুখ হওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের নিকট অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তাদের বর্ণিত কলুষিত অতীত এবং বক্র চরিত্র। এমনকি মন্দ অতীত এই দায়ীদের সততার বিষয়ে সন্দেহের উদ্রেক করে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় যে, তারা কোনো বিশেষ হীন উদ্দেশ্যে সংস্কারের ডাকের আড়ালে আত্মগোপন করছে, অথবা তারা তখনই সংস্কারের পথে পা বাড়িয়েছে যখন জীবনের স্বাদ ও কামনাবাসনা থেকে নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে ফেলেছে এবং এমন এক অবস্থা বা বয়সে পৌঁছেছে যেখান থেকে পার্থিব ধনসম্পদ, খ্যাতি বা প্রতিপত্তি অর্জনের কোনো আশা অবশিষ্ট নেই।

পক্ষান্তরে যে দায়ী যৌবনকাল থেকেই সৎপথে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকেন, তিনি সর্বদা উন্নত মস্তকে ও উজ্জ্বল ললাটে বিচরণ করেন। সংস্কারের শত্রুরা তার নিকটবর্তী বা দূরবর্তী কোনো অতীত নিয়ে সমালোচনা করার কোনো ছিদ্রপথ খুঁজে পায় না। তারা সেই বিপথগামী অতীতকে তার চরিত্র হনন কিংবা তার সম্মানকে তুচ্ছজ্ঞান করার কোনো অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করতে পারে না।

হ্যাঁ, আল্লাহ তাআলা একনিষ্ঠতা ও আন্তরিকতার সাথে প্রত্যাবর্তনকারী তওবাকারীর তওবা কবুল করেন এবং বর্তমানের নেক আমলের দ্বারা অতীতের গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেন। কিন্তু এই বিষয়টি সেই দায়ীর থেকে ভিন্ন, যিনি স্বীয় দাওয়াহর ক্ষেত্রে তখনই সফলতা প্রত্যাশা করেন যখন তার জীবনবৃত্তান্ত সঠিক থাকে এবং তার সুখ্যাতি বজায় থাকে।

৭ - ভ্রমণের মাধ্যমে অর্জিত দায়ীর অভিজ্ঞতা, জনসাধারণের সাথে মেলামেশা এবং মানুষের রীতিনীতি, অবস্থা ও সমস্যা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা তার দাওয়াহর সফলতায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। সুতরাং যারা মানুষের বিভিন্ন মতাদর্শের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত না হয়ে কেবল বইপত্র ও প্রবন্ধ-নিবন্ধের মাধ্যমে মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখেন, তারা সংস্কারের দাওয়াহর ক্ষেত্রে ব্যর্থ এক গোষ্ঠী। মানুষ তাদের কথা শোনে না এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক আহবানে সাড়াও দেয় না, কারণ মানুষ তাদের মধ্যে অজ্ঞতা দেখতে পায়।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ৪১)
بأوضاعهم ومشكلاتهم، فمن أراد أن يصلح المتدينين عليه أن يعيش معهم في مساجدهم، ومجالسهم، ومجتمعاتهم، ومن أراد أن يصلح حال العمال والفلاحين، عليه أن يعيش معهم في قراهم، ومصانعهم، ويؤاكلهم في بيوتهم، ويتحدث إليهم في مجتمعاتهم، ومن أراد أن يصلح المعاملات الجارية بين الناس، عليه أن يختلط بهم في أسواقهم، ومتاجرهم، ومصانعهم، وأنديتهم، ومجالسهم، ومن أراد أن يصلح الأوضاع السياسية، عليه أن يختلط بالسياسيين، ويتعرف إلى تنظيماتهم، ويستمع لخطبهم، ويقرأ لهم برامجهم وأحزابهم، ثم يتعرف إلى البيئة التي يعيشون فيها، والثقافة التي نهلوا من معينها، والاتجاه الذي يندفعون نحوه، ليعرف كيف يخاطبهم بما لا تنفر منه نفوسهم، وكيف يسلك في إصلاحه معهم بما لا يدعوهم إلى محاربته عن كره نفسي، واندفاع عاطفي.

وهكذا يجب أن يكون للداعية من تجاربه في الحياة، ومعرفته بشؤون الناس، ما يمكنه من أن يحقق قول الله تعالى: {ادْعُ إِلِى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} [النحل: 125]، وما أبدع القول المأثور: خاطبوا الناس على قدر عقولهم؛ أتريدون أن يكذب الله ورسوله؟

8 - يجب على الداعية إلى الله أن تكون له بين الفينة والفينة أوقات يخلو فيها بنفسه، تتصل فيها روحه بالله جل شأنه، وتصفو فيها نفسه
তাদের অবস্থা ও সমস্যাগুলো নিয়ে; সুতরাং যে ব্যক্তি ধর্মপ্রাণ লোকদের সংশোধন করতে চায়, তাকে তাদের সাথে তাদের মসজিদে, মজলিসে ও সমাজে বসবাস করতে হবে। আর যে ব্যক্তি শ্রমিক ও কৃষকদের অবস্থার সংশোধন করতে চায়, তাকে তাদের সাথে তাদের গ্রামে ও কারখানায় বসবাস করতে হবে, তাদের ঘরে তাদের সাথে আহার করতে হবে এবং তাদের সমাবেশে তাদের সাথে কথা বলতে হবে। আর যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে প্রচলিত লেনদেন ও কার্যাবলির সংশোধন করতে চায়, তাকে তাদের বাজার, বিপণি-বিতান, কারখানা, ক্লাব ও মজলিসগুলোতে তাদের সাথে মেলামেশা করতে হবে। আর যে ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিস্থিতির সংশোধন করতে চায়, তাকে রাজনীতিবিদদের সাথে মিশতে হবে, তাদের সংগঠনগুলো সম্পর্কে জানতে হবে, তাদের বক্তৃতা শুনতে হবে এবং তাদের কর্মসূচি ও দলগুলোর বিষয়ে পড়তে হবে। তারপর তারা যে পরিবেশে বাস করে, যে উৎস থেকে তারা সংস্কৃতি আহরণ করেছে এবং যে আদর্শের দিকে তারা ধাবিত হচ্ছে, তা অনুধাবন করতে হবে; যাতে সে জানতে পারে কীভাবে তাদের সাথে এমনভাবে কথা বলতে হয় যাতে তাদের মন বিতৃষ্ণ না হয়, এবং তাদের সংশোধনের ক্ষেত্রে এমন পথ অবলম্বন করতে পারে যা তাদের মনে ঘৃণা বা আবেগতাড়িত হয়ে তার সাথে শত্রুতা করতে প্ররোচিত না করে।

এভাবেই একজন দাঈর জীবনে এমন অভিজ্ঞতা এবং মানুষের বিষয়াদি সম্পর্কে এমন জ্ঞান থাকা আবশ্যক, যা তাকে মহান আল্লাহর এই বাণী বাস্তবায়ন করতে সক্ষম করবে: "তুমি তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো" [আন-নাহল: ১২৫]। আর এই প্রবাদটি কতই না চমৎকার: "মানুষের সাথে তাদের বুদ্ধি-বিবেচনা অনুযায়ী কথা বলো; তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক?"

৮ - আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জন্য আবশ্যক হলো মাঝেমধ্যে এমন কিছু সময় বের করা যখন সে নির্জনে থাকবে, যে সময়ে তার রূহ মহান আল্লাহর সাথে সংযুক্ত হবে এবং তার আত্মা পরিশুদ্ধ হবে।
(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ - দুরুস ওয়া ইবার (পৃষ্ঠা: ৪২)
من كدورات الأخلاق الذميمة، والحياة المضطربة من حوله، ومثل هذه الخلوات تدعوه إلى محاسبة نفسه إن قصرت في خير، أو زلت في اتجاه، أو جانبت سبيل الحكمة، أو أخطأت في سبيل ومنهج أو طريق، أو انغمست مع الناس في الجدال والنقاش حتى أنسته ذكر الله والأنس به وتذكر الآخرة، وجنتها ونارها، والموت وغصصه وآلامه، ولذلك كان التهجد وقيام الليل فرضا في حق النبي صلى الله عليه وسلم، مستحبا في حق غيره، وأحق الناس بالحرص على هذه النافلة هم الدعاة إلى الله وشريعته وجنته، وللخلوة والتهجد والقيام لله بالعبودية في أعقاب الليل لذة لا يدركها إلا من أكرمه الله بها، وقد كان إبراهيم بن أدهم رحمه الله يقول في أعقاب تهجده وعبادته: نحن في لذة لو عرفها الملوك لقاتلونا عليها.

وحسبنا قول الله تبارك وتعالى مخاطبا رسول الله صلى الله عليه وسلم: {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ، قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا، نِصْفَهُ أَوِ انقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا، أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا، إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا، إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْءًا وَأَقْوَمُ قِيلًا} [المزمل: 1 - 7].
নিন্দনীয় চরিত্রের পঙ্কিলতা এবং তার চারপাশের অস্থির জীবন হতে মুক্ত হয়ে এই ধরনের নির্জনতা তাকে আত্ম-সমালোচনার দিকে আহ্বান করে—যদি সে কোনো কল্যাণের কাজে অবহেলা করে থাকে, কিংবা কোনো পথে বিচ্যুত হয়ে থাকে, অথবা প্রজ্ঞার পথ পরিহার করে থাকে, কিংবা কোনো পথ, পন্থা বা পদ্ধতিতে ভুল করে থাকে, অথবা মানুষের সাথে এমনভাবে তর্ক-বিতর্কে নিমগ্ন হয়ে থাকে যা তাকে আল্লাহর স্মরণ, তাঁর নৈকট্যের স্বাদ এবং আখিরাত, জান্নাত-জাহান্নাম ও মৃত্যুর অসহ্য যন্ত্রণা ও কষ্টের কথা ভুলিয়ে দেয়। আর এ কারণেই তাহাজ্জুদ ও কিয়ামুল লাইল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ফরজ ছিল এবং অন্যদের জন্য মুস্তাহাব। আর এই নফল ইবাদতের প্রতি যত্নশীল হওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার হলেন তারা, যারা আল্লাহর পথে, তাঁর শরীয়ত ও জান্নাতের দিকে দাওয়াত দেন। রাতের শেষ প্রহরে নির্জনতা, তাহাজ্জুদ এবং আল্লাহর দাসত্বে দণ্ডায়মান হওয়ার মধ্যে এমন এক তৃপ্তি রয়েছে যা কেবল তিনিই অনুভব করতে পারেন যাকে আল্লাহ তা দান করে ধন্য করেছেন। ইব্রাহিম ইবনে আদহাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর তাহাজ্জুদ ও ইবাদত শেষে বলতেন: "আমরা এমন এক তৃপ্তির মাঝে রয়েছি যা যদি রাজন্যবর্গ জানতে পারত, তবে তারা এর জন্য আমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতো।"

আমাদের জন্য আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার বাণীই যথেষ্ট যেখানে তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে বলেছেন: {হে বস্ত্রাবৃত! রাতে দণ্ডায়মান হোন, তবে অল্প সময় ছাড়া। অর্ধেক রাত কিংবা তার চেয়ে কিছু কম। অথবা তার ওপর বাড়িয়ে দিন এবং কুরআন তিলাওয়াত করুন সুস্পষ্ঠ ও সুবিন্যস্তভাবে। নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করব এক গুরুভার বাণী। নিশ্চয়ই রাতে জেগে উঠা মনকে দমিত করতে অধিক কার্যকর এবং কথা বলার জন্য অধিক অনুকূল} [আল-মুয্যাম্মিল: ১ - ৭]।