(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: -)
آداب الحوار وقواعد الاختلاف   (عمر عبد الله كامل)

القسم: كتب عامة


الكتاب: آداب الحوار وقواعد الاختلاف

المؤلف: عمر بن عبد الله كامل

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي): 31

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 54

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সংলাপের আদব ও মতবিরোধের নীতিমালা   (উমর আবদুল্লাহ কামিল)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: সংলাপের আদব ও মতবিরোধের নীতিমালা

লেখক: উমর বিন আবদুল্লাহ কামিল

প্রকাশক: বইটি কোনো তথ্য ছাড়াই সৌদি আরবের ধর্ম বিষয়ক (আওকাফ) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠাসংখ্যা (মুদ্রিত বই): ৩১

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত, মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৫৪

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ১)
آداب الحوار وقواعد الاختلاف إعداد

د. عمر بن عبد الله كامل

بسم الله الرحمن الرحيم‌‌ مقدمة ابتلي العالم الإسلامي بفتن كثيرة، وتعددت مسمياتها، وأطلقوا عليها الأسماء الآتية: (أصولية - تطرف - إرهاب. . . وغيرها) .

إلا أنها كلها تعبر عن مفهوم واحد هو: الغلو والتفسير الناقص للنصوص، وإطلاق هذه التسميات على المؤمنين دون بصيرة وروية، فاستسهل أقوام قذف المسلمين بالبدعة والكفر والشرك والجهل في أمور خلافية ليست محلًّا لأي من هذه الأوصاف، بل ليست محلًّا للتخطئة والتجهيل، فكيف بالتبديع والتكفير؟!! .

إذ إن الكثير من هذه الأمور الخلافية سبقهم إليها أئمة من ذوي الرواية والروية، ولا ينبغي أن يعيب مقلد على مقلد ولا مجتهد على مجتهد.

ذلك أن سر خلود الإسلام هو الاختلاف المحمود الذي سيرد تفصيله.

وإن الداء الأكبر الذي استشرى في زماننا، وأدى إلى ظهور كل هذه التناقضات هو غياب سنة الحوار التي أرى أنها أولى الأولويات وأهم المهمات.

فقواعد الحوار والاختلاف وضوابطه هي العاصم للمتحاورين من الغلو وشتم الآخرين إن كان الحق هو الرائد والمطلوب.
সংলাপের আদব (آداب الحوار) এবং মতভেদের মূলনীতিসমূহ (قواعد الاختلاف) উপস্থাপনায়

ড. উমর বিন আবদুল্লাহ কামিল

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।‌‌ ভূমিকা (مقدمة) মুসলিম বিশ্ব আজ বহু ফিতনার (فتنة) শিকার হয়েছে এবং সেগুলোর নামকরণও করা হয়েছে বহুমুখী। তারা এগুলোকে নিম্নোক্ত নামে অভিহিত করেছে: (মৌলবাদ - চরমপন্থা - সন্ত্রাসবাদ... ইত্যাদি)।

তবে এ সকল শব্দই মূলত একটি ধারণাকে ব্যক্ত করে, আর তা হলো: বাড়াবাড়ি (الغلو) এবং মূলপাঠ (نصوص) সমূহের অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান এবং কোনো প্রকার অন্তর্দৃষ্টি ও বিচার-বিবেচনা ছাড়াই মুমিনদের ওপর এসব উপাধি প্রয়োগ করা। ফলে একদল লোক মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোতে — যা এসব বিশেষণের কোনোটিরই ক্ষেত্র নয় — মুসলিমদের বিদআত (بدعة), কুফর (كفر), শিরক (شرك) ও অজ্ঞতার অপবাদ দেওয়াকে সহজসাধ্য করে নিয়েছে। অথচ সেসব বিষয় ভুল সাব্যস্ত করা কিংবা মূর্খ বলারও অবকাশ রাখে না; এমতাবস্থায় বিদআতী আখ্যা দেওয়া (تبديع) কিংবা কাফির আখ্যা দেওয়া (تكفير) তো বহু দূরের কথা!

কেননা এসব মতভেদপূর্ণ বিষয়ের অনেকগুলোতেই এমন সব ইমামগণ ইতিপূর্বে অভিমত ব্যক্ত করেছেন যারা বর্ণনা (رواية) ও প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন। এমতাবস্থায় কোনো অনুসারীর (مقلد) জন্য অন্য কোনো অনুসারীর (مقلد) নিন্দা করা উচিত নয় এবং কোনো মুজতাহিদের (مجتهد) পক্ষেও অন্য কোনো মুজতাহিদের (مجتهد) দোষত্রুটি অন্বেষণ করা সমীচীন নয়।

মূলত ইসলামের শাশ্বত হওয়ার রহস্যই হলো সেই প্রশংসনীয় মতভেদ (الاختلاف المحمود) যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।

বর্তমান সময়ে যে ভয়াবহ ব্যাধিটি বিস্তার লাভ করেছে এবং যার ফলে এই সকল বৈপরীত্যের উদ্ভব ঘটেছে, তা হলো সংলাপের রীতির (سنة الحوار) অনুপস্থিতি; যা আমার দৃষ্টিতে বর্তমানে সর্বাধিক অগ্রাধিকারযোগ্য বিষয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

সুতরাং সংলাপ ও মতভেদের নিয়ম এবং এর নীতিমালা (ضوابط) গুলোই আলাপকারীদের বাড়াবাড়ি (الغلو) এবং অন্যদের গালিগালাজ করা থেকে রক্ষা করার উপায়, যদি সত্যই হয় মূল লক্ষ্য ও অন্বেষিত বিষয়।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ২)
أما إذا كان الخلاف انتصارًا لأهواء سياسية وتعصبًا أعمى، فهذا أمر لا ينفع معه قواعد ولا ضوابط، إذ إن الهوى ليس له ضوابط ولا موازين، ولذلك حذرنا المولى عز وجل من اتباع الهوى فقال سبحانه وتعالى: {وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنَ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ} [القصص: 50] .

إن البناء الفقهي الإسلامي العظيم لم ينشأ من فراغ، وإنما نشأ عن مناهج وأسس وضوابط وموازين علمية دقيقة اتبعها أصحاب المذاهب في الاستنباط والاستخراج.

لذلك فإن غياب هذه الأسس والمناهج في الحوار والاختلاف أوقعنا فيما نحن فيه.
কিন্তু যদি মতবিরোধ (الخلاف) রাজনৈতিক প্রবৃত্তি ও অন্ধ গোঁড়ামির বহিঃপ্রকাশ হয়, তবে এমন ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম-নীতি (قواعد) কিংবা নীতিমালা (ضوابط) কাজে আসে না; কারণ প্রবৃত্তির কোনো শৃঙ্খলা বা মানদণ্ড (موازين) থাকে না। এ কারণেই মহান রব আমাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে সতর্ক করে বলেছেন: "আর তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা হিদায়াত ব্যতিরেকে নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে?" [আল-কাসাস: ৫০]।

ইসলামি ফিকহশাস্ত্রের এই সুমহান সৌধ শূন্য থেকে গড়ে ওঠেনি; বরং এটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতি (مناهج), ভিত্তি (أسس), নীতিমালা (ضوابط) এবং সূক্ষ্ম ইলমি মানদণ্ডের (موازين) সমন্বয়ে গঠিত, যা মাযহাবের ইমামগণ ইস্তিম্বাত (استنباط) ও বিধান আহরণের (استخراج) ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছেন।

অতএব, সংলাপ ও মতবিরোধের (الاختلاف) ক্ষেত্রে এই সকল মূল ভিত্তি ও কর্মপদ্ধতির অনুপস্থিতিই আমাদের বর্তমান শোচনীয় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ৩)
ولا أحسب أن هذه الموضوعات نالت حظًّا وافرًا من الاهتمام والتعليم سواء في المدارس أو الجامعات، مما جعل حوار المتعالمين كحوار الطرشان، ونشأ عن ذلك ما نراه اليوم من فتن وتيارات مختلفة متنافرة، فقد يختلفون حيث لا اختلاف، وقد ينزلقون وهم يعتقدون أنهم مصلحون، وإنما هم في الواقع مفسدون، كما قال الله -تعالى- في أمثالهم: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ} {أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَكِنْ لَا يَشْعُرُونَ} [البقرة: 11، 12] .

سدد الله القول، وأصلح النية، وحقق الآمال، والحمد لله في البدء والختام، وصلى الله على سيد الأنام وعلى آله وصحبه وسلم.

د: عمر عبد الله كامل
আমি মনে করি না যে এই বানোয়াট (موضوع) বিষয়সমূহ মাদরাসা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব ও শিক্ষা লাভ করেছে, যার ফলে তথাকথিত জ্ঞানপাপীদের পারস্পরিক সংলাপ বধিরদের সংলাপে পর্যবসিত হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে আমরা বিভিন্ন ফেতনা এবং পরস্পরবিরোধী নানা মতাদর্শের প্রাদুর্ভাব দেখতে পাচ্ছি; তারা এমন বিষয়েও মতভেদ করে যেখানে কোনো মতভেদের অবকাশ নেই। তারা ভ্রান্তিতে নিপতিত হয় অথচ মনে করে যে তারা সংশোধনকারী, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা বিপর্যয় সৃষ্টিকারী। যেমন মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন: {আর যখন তাদের বলা হয়, তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না, তারা বলে, আমরা তো কেবল সংশোধনকারী।} {জেনে রেখো, তারাই মূলত বিপর্যয় সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা বুঝতে পারে না।} [আল-বাকারাহ: ১১, ১২] .

আল্লাহ কথাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, নিয়তকে শুদ্ধ করুন এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করুন। শুরুতে ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের প্রতি আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

ড: উমর আবদুল্লাহ কামিল
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌أهداف الحوار ومقاصده 1 - إقامة الحجة: الغاية من الحوار إقامة الحجة ودفع الشبهة والفاسد من القول والرأي. والسير بطرق الاستدلال الصحيح للوصول إلى الحق.

2 - الدعوة: الحوار الهادئ مفتاح للقلوب وطريق إلى النفوس قال تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [النحل: 125] .

3 - تقريب وجهات النظر: من ثمرات الحوار تضييق هوة الخلاف، وتقريب وجهات النظر، وإيجاد حل وسط يرضي الأطراف في زمن كثر فيه التباغض والتناحر.

4 - كشف الشبهات والرد على الأباطيل، لإظهار الحق وإزهاق الباطل، كما قال تعالى: {وَكَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ وَلِتَسْتَبِينَ سَبِيلُ الْمُجْرِمِينَ} [الأنعام:55] .
সংলাপের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ ১ - প্রমাণ উপস্থাপন (إقامة الحجة): সংলাপের উদ্দেশ্য হলো প্রমাণ উপস্থাপন (إقامة الحجة) এবং সংশয় (شبهة) ও ভ্রান্ত বক্তব্য ও মতামতের নিরসন। আর সত্যে (حق) পৌঁছানোর জন্য সঠিক যুক্তি প্রদর্শনের (استدلال) পদ্ধতি অনুসরণ করা।

২ - দাওয়াত (دعوة): শান্ত ও নম্র সংলাপ হৃদয়ের চাবিকাঠি এবং অন্তরে পৌঁছানোর পথ। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং তাদের সাথে উত্তম পন্থায় বিতর্ক করো।" [আন-নাহল: ১২৫]।

৩ - দৃষ্টিভঙ্গির নৈকট্য অর্জন: সংলাপের অন্যতম সুফল হলো মতভেদের (خلاف) দূরত্ব কমিয়ে আনা, দৃষ্টিভঙ্গির ব্যবধান ঘুচিয়ে দেওয়া এবং পারস্পরিক বিদ্বেষ ও হানাহানির এই যুগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য সন্তোষজনক একটি মধ্যপন্থা খুঁজে বের করা।

৪ - সংশয়সমূহ (شبهات) উন্মোচন এবং বাতিল বিষয়সমূহের (أباطيل) খণ্ডন, সত্যকে (حق) প্রকাশ এবং মিথ্যাকে (باطل) বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যে; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর এভাবেই আমি আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে যায়।" [আল-আন'আম: ৫৫]।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الأصول والقواعد الرئيسة التي تضبط مسار الحوار الأصل الأول: الوصول إلى الحق: فلا بد من التجرد في طلب الحق، والحذر من التعصب والهوى، وإظهار الغلبة والمجادلة بالباطل.

يقول الإمام الغزالي عند ذكره لعلامات طلب الحق: "أن يكون في طلب الحق كناشد ضالة، لا يفرّق بين أن تظهر الضالة على يده، أو على يد من يعاونه، ويرى رفيقه معينًا لا خصمًا، ويشكره إذا عرفه الخطأ وأظهر له الحق" (1) .

الأصل الثاني: تحديد الهدف والقضية التي يدور حولها الحوار، فإن كثيرًا من الحوارات تتحول إلى جدل عقيم سائب ليس له نقطة محددة ينتهي إليها.

الأصل الثالث: الاتفاق على أصل يرجع إليه، والمرجعية العليا عند كل مسلم هي: الكتاب والسنة، والضوابط المنهجية في فهم الكتاب والسنة. وقد أمر الله بالرد إليهما فقال سبحانه: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء: 59] .

فالاتفاق على منهج النظر والاستدلال قبل البدء في أي نقاش علمي يضبط مسار الحوار ويوجهه نحو النجاح، إذ إن الاختلاف في المنهج سيؤدي إلى الدوران في حلقة مفرغة لا حصر لها ولا ضابط.

--------------------------------------------

(1) إحياء علوم الدين 1 / 57.
সংলাপের গতিপথ নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান মূলনীতি ও নিয়মাবলি প্রথম মূলনীতি: সত্যে উপনীত হওয়া: সত্য অন্বেষণের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিরপেক্ষতা অবলম্বন করতে হবে এবং গোঁড়ামি, প্রবৃত্তি, শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা ও অন্যায়ের মাধ্যমে বিতর্ক করা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

সত্য অন্বেষণের লক্ষণসমূহ উল্লেখকালে ইমাম গাজালি বলেন: "সত্য অন্বেষণে তাকে হতে হবে হারানো বস্তু অনুসন্ধানকারীর মতো, যে এই পার্থক্য করে না যে বস্তুটি কি তার নিজের মাধ্যমে প্রকাশ পেল, নাকি তার সাহায্যকারীর মাধ্যমে; সে তার সঙ্গীকে একজন সাহায্যকারী হিসেবে গণ্য করে, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, এবং তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে যদি সে তার ভুল ধরিয়ে দেয় এবং তার সামনে সত্যকে উন্মোচিত করে" (১)।

দ্বিতীয় মূলনীতি: সংলাপের লক্ষ্য ও আলোচ্য বিষয় নির্ধারণ করা; কেননা অনেক সংলাপই এমন এক নিষ্ফল ও লক্ষ্যহীন বিতর্কে রূপ নেয় যার সমাপ্তির কোনো সুনির্দিষ্ট বিন্দু থাকে না।

তৃতীয় মূলনীতি: এমন একটি মূল ভিত্তির ওপর একমত হওয়া যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা যায়; আর প্রত্যেক মুসলিমের নিকট সর্বোচ্চ মানদণ্ড হলো: কিতাব ও সুন্নাহ (السنة), এবং কিতাব ও সুন্নাহ (السنة) অনুধাবনের পদ্ধতিগত নীতিমালা। আল্লাহ তাআলা এই দুটির দিকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: "অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ করো, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও" [আন-নিসা: ৫৯]।

কাজেই যেকোনো তাত্ত্বিক আলোচনা শুরু করার আগে পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণ উপস্থাপন (استدلال)-এর পদ্ধতির ওপর ঐকমত্য পোষণ সংলাপের গতিপথকে সুসংহত করে এবং একে সাফল্যের দিকে পরিচালিত করে। কারণ পদ্ধতিগত ভিন্নতা এমন এক অন্তহীন ও নিয়ন্ত্রণহীন আবর্তে নিমজ্জিত করবে যার কোনো কূলকিনারা নেই।

--------------------------------------------

(১) ইহয়াউ উলুমিদ্দিন ১/৫৭।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ৬)
الأصل الرابع: عدم مناقشة الفرع قبل الاتفاق على الأصل فلا بد من البدء بالأهم من الأصول وضبطها والاتفاق عليها، ومن ثم الانطلاق منها لمناقشة الفروع والحوار حولها.
চতুর্থ মূলনীতি (الأصل): মূলনীতির (أصل) বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর পূর্বে শাখা (فرع) নিয়ে আলোচনা না করা। অতএব মূলনীতিসমূহের (أصول) মধ্যে যেগুলো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো দিয়ে শুরু করা, সেগুলো সুসংহত (ضبط) করা এবং সেগুলোর ওপর একমত হওয়া আবশ্যক; অতঃপর সেখান থেকেই শাখাগুলো (فروع) নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার সূত্রপাত করতে হবে।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌آدابُ الحوار النفسية هناك آداب تتعلق بنفسية المحاور وشخصه، وهناك ظروف نفسية قد تطرأ على الحوار فتؤثر فيه تأثيرًا سلبيًّا، فينبغي مراعاة ذلك حتى يحقق الحوار غاياته ويؤتي ثمراته.

وأهم هذه الآداب النفسية:

‌‌أولًا: تهيئة الجو المناسب للحوار

فلا بد من الابتعاد عن الأجواء الجماعية والغوغائية، لأن الحق قد يضيع في مثل هذه الأجواء. كما ينبغي اختيار المكان الهادئ وإتاحة الزمن الكافي للحوار.

كما ينبغي مراعاة الظرف النفسي والاجتماعي للطرف الآخر، فلا يصلح أبدًا أن يتم الحوار مع شخص يعاني من الإرهاق الجسدي أو النفسي، لأن هذه الأمور ستؤثر في الحوار.

ومن الوسائل في تهيئة الجو المناسب للحوار:

1 - التعارف بين الطرفين.

2 - طرح أسئلة في غير موضوع الحوار لتهيئة نفسية الطرف الآخر.

3 - التقديم للحوار بكلمات مناسبة ومقدمات لطيفة تلفت انتباه الطرف الآخر (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر: الحوار: آدابه وضوابطه، للزمزمي، ص 117 - 130.
সংলাপের মনস্তাত্ত্বিক শিষ্টাচার সংলাপকারীর মনস্তত্ত্ব এবং তার ব্যক্তিত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু শিষ্টাচার রয়েছে। আবার এমন কিছু মনস্তাত্ত্বিক পরিস্থিতিও রয়েছে যা সংলাপ চলাকালীন উদ্ভূত হতে পারে এবং এতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সংলাপের লক্ষ্য অর্জন এবং এর ফল লাভের জন্য এই বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখা আবশ্যক।

এই মনস্তাত্ত্বিক শিষ্টাচারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

প্রথমত: সংলাপের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা

তাই গণজমায়েত এবং শোরগোলপূর্ণ পরিবেশ থেকে দূরে থাকা অপরিহার্য; কারণ এই ধরনের পরিবেশে সত্য হারিয়ে যেতে পারে। তেমনিভাবে, একটি শান্ত স্থান নির্বাচন করা এবং সংলাপের জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করা উচিত।

পাশাপাশি প্রতিপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক অবস্থার প্রতিও লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্লান্ত কোনো ব্যক্তির সাথে সংলাপে বসা মোটেও সমীচীন নয়, কারণ এসব বিষয় সংলাপে প্রভাব ফেলবে।

সংলাপের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির কিছু মাধ্যম হলো:

১ - উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়।

২ - প্রতিপক্ষের মানসিক প্রস্তুতির জন্য সংলাপের মূল বিষয়ের বাইরে অন্য প্রশ্ন উত্থাপন করা।

৩ - উপযুক্ত শব্দ এবং সুন্দর ভূমিকার মাধ্যমে সংলাপ শুরু করা, যা প্রতিপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে (১) ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-হিওয়ার: আদাবুহু ওয়া দাওয়াবিতুহু, আজ-জামজামি, পৃষ্ঠা ১১৭ - ১৩০।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌ثانيًا: الإخلاص وصدق النية

لا بد من توفر الإخلاص لله وحسن النية وسلامة القصد في الحوار والمناظرة، وأن يبتعد المناظر عن قصد الرياء والسمعة، والظهور على الخصم والتفوق على الآخرين، والانتصار للنفس، وانتزاع الإعجاب والثناء.

ومن دلائل الإخلاص لله والتجرد لطلب الحق أن يفرح المحاور إذا ظهر الصواب على لسان مخالفه، كما قال الشافعي: "ما ناظرت أحدًا إلا تمنيت لو أن الله أظهر الحق على لسانه".

ويعينه على ذلك أن يستيقن أن الآراء والأفكار ومسالك الحق ليست ملكًا لواحد أو طائفة، والصواب ليس حكرًا على واحد بعينه.
দ্বিতীয়ত: ইখলাস (নিষ্ঠা) ও নিয়তের সততা

সংলাপ ও বিতর্কের ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি ইখলাস (নিষ্ঠা), উত্তম নিয়ত এবং সংকল্পের শুদ্ধতা থাকা অপরিহার্য। বিতর্ককারীকে অবশ্যই রিয়া (লোকদেখানো) ও সুখ্যাতি অর্জনের ইচ্ছা, প্রতিপক্ষের ওপর জয়লাভ ও অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন, আত্মপূজা এবং প্রশংসা ও সাধুবাদ কুড়ানোর মানসিকতা থেকে দূরে থাকতে হবে।

আল্লাহর প্রতি ইখলাস (নিষ্ঠা) এবং সত্য অনুসন্ধানে একাগ্রতার অন্যতম নিদর্শন হলো, আলোচক তখন আনন্দিত হবেন যখন সত্য তার প্রতিপক্ষের মুখ দিয়ে প্রকাশিত হবে। যেমনটি ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: "আমি যার সঙ্গেই বিতর্ক করেছি, মনে মনে এই কামনাই করেছি যে—আল্লাহ যেন সত্যকে তার মুখ দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন।"

এই কাজে তাকে যা সাহায্য করবে তা হলো এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তা-চেতনা এবং সত্যের পথ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একচ্ছত্র মালিকানাধীন নয় এবং সঠিক বিষয়টি কোনো বিশেষ ব্যক্তির জন্য একচেটিয়া নয়।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ثالثًا: الإنصاف والعدل

من المبادئ الأساسية في الحوار: العدل والإنصاف، ومن تمام الإنصاف قبول الحق من الخصم، والتفريق بين الفكرة وقائلها، وأن يبدي المحاور إعجابه بالأفكار الصحيحة والأدلة الجيدة، ومن نماذج الإنصاف ما ذكره الله - سبحانه - في وصف أهل الكتاب: {لَيْسُوا سَوَاءً مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ أُمَّةٌ قَائِمَةٌ يَتْلُونَ آيَاتِ اللَّهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَهُمْ يَسْجُدُونَ} [آل عمران:113] .
তৃতীয়ত: নিরপেক্ষতা (إنصاف) ও ন্যায়পরায়ণতা (عدل)

সংলাপের মৌলিক নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত হলো: ন্যায়পরায়ণতা (عدل) ও নিরপেক্ষতা (إنصاف)। নিরপেক্ষতার (إنصاف) পূর্ণতা হলো প্রতিপক্ষের নিকট থেকে সত্য গ্রহণ করা এবং কোনো মতাদর্শ ও তার প্রবক্তার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা। এছাড়া আলোচক যেন সঠিক (صحيح) চিন্তাধারা ও উত্তম দলিলের প্রতি নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। নিরপেক্ষতার (إنصاف) অন্যতম দৃষ্টান্ত হলো মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আহলে কিতাবদের বর্ণনায় যা উল্লেখ করেছেন: {তারা সবাই সমান নয়। আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন একটি দল রয়েছে যারা (হকের ওপর) দণ্ডায়মান; তারা রাতের প্রহরে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে এবং তারা সেজদাবনত হয়।} [আল ইমরান: ১১৩]
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌رابعًا: التواضع وحسن الخلق

إن التزام الأدب وحسن الخلق عمومًا، والتواضع على وجه الخصوص له دور كبير في إقناع الطرف الآخر، وقبوله للحق وإذعانه للصواب، فكل من يرى من محاوره توقيرًا وتواضعًا، ويلمس خلقًا كريمًا، ويسمع كلامًا طيبًا، فإنه لا يملك إلا أن يحترم محاوره، ويفتح قلبه لاستماع رأيه.

وفي الحديث الصحيح: «وما تواضع أحدٌ لله إلا رفعه الله» (1) . أي يرفع منزلته في الدنيا عند الناس، وكذلك يرفعه في الآخرة ويزيد من ثوابه فيها بتواضعه في الدنيا.

ومما ينافي التواضع: العجب والغرور والكبر.

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم 4 / 2001.
চতুর্থত: বিনয় ও সচ্চরিত্রতা

শিষ্টাচার রক্ষা করা এবং সাধারণভাবে সচ্চরিত্রতা, আর বিশেষ করে বিনয়—অপর পক্ষকে আশ্বস্ত করতে এবং সত্য গ্রহণ ও সঠিকের নিকট নতি স্বীকারে এক বিশাল ভূমিকা পালন করে। যে ব্যক্তিই তার আলোচকের পক্ষ থেকে সম্মান ও বিনয় দেখতে পায় এবং মহৎ চরিত্রের স্পর্শ অনুভব করে ও উত্তম কথা শোনে, সে অবধারিতভাবেই তার আলোচককে সম্মান করে এবং তার মতামত শ্রবণের জন্য নিজ হৃদয় উন্মুক্ত করে দেয়।

এবং সহিহ (صحيح) হাদিসে এসেছে: "আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে কেউ বিনয় অবলম্বন করে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই উচ্চাসীন করেন" (১)। অর্থাৎ, দুনিয়াতে মানুষের কাছে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং একইভাবে পরকালেও তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং দুনিয়াতে বিনয় প্রদর্শনের কারণে পরকালে তার সওয়াব বৃদ্ধি করেন।

আর যা বিনয়ের পরিপন্থী তা হলো: আত্মমুগ্ধতা, দম্ভ ও অহংকার।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত ৪ / ২০০১।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌خامسًا: الحلم والصبر

يجب على المحاور أن يكون حليمًا صبورًا، لا يغضب لأتفه سبب، ولا ينفر لأدنى أمر، ولا يستفز بأصغر كلمة.

فقد أمر -سبحانه- نبيه بأخذ العفو وإعذار الناس وترك الإغلاظ عليهم كما في قوله تعالى: {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ} [الأعراف: 199] .

والصفح والعفو أبلغ من كظم الغيظ ورد الغضب، لأن العفو ترك المؤاخذة، وطهارة القلب، والسماحة عن المسيء، ومغفرة خطيئته.

وأعظم من ذلك وأكبر هو دفع السيئة بالحسنة، ومقابلة فحش الكلام بلينه، والشدة بالرفق، ورد الكلمة الجارحة بالكلمة الطيبة العذبة، والسخرية والاحتقار بالتوقير والاحترام، وهذه منزلة لا يصل إليها إلا من صبر وكان ذا حظ عظيم: {وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ} {وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا ذُو حَظٍّ عَظِيمٍ} [فصلت: 34-35] .
পঞ্চম: সহনশীলতা ও ধৈর্য

একজন আলোচনাকারীকে অবশ্যই সহনশীল ও ধৈর্যশীল হতে হবে। তাকে তুচ্ছ কোনো কারণে ক্রুদ্ধ হওয়া চলবে না, সামান্য বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করা যাবে না এবং সামান্য কোনো কথায় উত্তেজিত হওয়া যাবে না।

মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে ক্ষমা প্রদর্শন করতে, মানুষের ওজর গ্রহণ করতে এবং তাদের প্রতি কঠোরতা বর্জন করতে নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি তিনি তাঁর বাণীতে বলেছেন: "আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন, সৎকাজের আদেশ দিন এবং মূর্খদের এড়িয়ে চলুন।" [আল-আরাফ: ১৯৯]।

উদারতা ও ক্ষমা প্রদর্শন করা রাগ সংবরণ ও ক্রোধ দমন করার চেয়েও বেশি কার্যকর। কেননা ক্ষমা মানে হলো প্রতিশোধ গ্রহণ না করা, অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা করা, অপরাধীর প্রতি মহানুভবতা দেখানো এবং তার ভুল ক্ষমা করে দেওয়া।

এর চেয়েও বড় ও মহত্তর বিষয় হলো মন্দের মোকাবিলা ভালোর মাধ্যমে করা, কটু কথার উত্তর কোমলভাবে দেওয়া, কঠোরতার বদলে নম্রতা প্রদর্শন করা, আঘাতদায়ক শব্দের পরিবর্তে মিষ্ট ও সুন্দর কথা বলা এবং উপহাস ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যের জবাবে শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা। এটি এমন এক উচ্চতর স্তর যেখানে কেবল তারাই পৌঁছাতে পারে যারা ধৈর্য ধারণ করেছে এবং যারা মহাসৌভাগ্যের অধিকারী: "ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। আপনি মন্দকে প্রতিহত করুন উৎকৃষ্টতর পদ্ধতি দ্বারা; ফলে আপনার ও যার মধ্যে শত্রুতা ছিল, সে আপনার অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যাবে। আর এ গুণের অধিকারী কেবল তারাই হয় যারা ধৈর্য ধারণ করে এবং কেবল তারাই এর অধিকারী হয় যারা মহাসৌভাগ্যের অধিকারী।" [ফুসসিলাত: ৩৪-৩৫]।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌سادسًا: الرحمة والشفقة

إن المحاور المسلم المخلص الصادق يحرص على ظهور الحق، ويشفق على خصمه الذي يناظره من الضلال، ويخاف عليه من الإعراض والمكابرة والتولي عن الحق.

فالرحمة والشفقة أدب مهم جدًّا في الحوار، لأن المحاور يسعى لهداية الآخرين واستقامتهم فلذلك يبتعد عن كل معاني القسوة والغلظة والفظاظة والشدة. فلا يكون الحوار فرصة للكيد والانتقام، أو وسيلة لتنفيس الأحقاد، وطريقة لإظهار الغل والحسد، ونشر العداوة والبغضاء.

والرحمة جسر بين المحاور والطرف الآخر، ومفتاح لقلبه وعقله، وكلما اتضحت معالم الرحمة على المحاور كلما انشرح صدر الخصم، واقترب من محاوره، وأذعن له واقتنع بكلامه. يقول - سبحانه - مخاطبًا نبيه: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ} [آل عمران: 159] .

ولذلك كان الأنبياء في حوارهم مع أقوامهم يصرحون بالخوف والحرص والشفقة عليهم.
ষষ্ঠত: দয়া ও মমত্ববোধ

নিশ্চয়ই একজন একনিষ্ঠ ও সত্যবাদী মুসলিম আলোচক সত্যের বহিঃপ্রকাশের ব্যাপারে যত্নশীল থাকেন এবং তিনি তার সেই প্রতিপক্ষের প্রতি মমত্ববোধ পোষণ করেন যার সাথে তিনি বিতর্ক করছেন যেন সে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পায়। তিনি তার সত্য বিমুখতা, অহংকার এবং সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করেন।

সংলাপ বা আলোচনার ক্ষেত্রে দয়া ও মমত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিষ্টাচার; কারণ আলোচক অন্যের হিদায়াত ও সঠিক পথে অটল থাকার প্রয়াস চালান। এ কারণে তিনি কঠোরতা, রুক্ষতা, রূঢ়তা এবং উগ্রতার সমস্ত দিক থেকে দূরে থাকেন। ফলে সংলাপ যেন ষড়যন্ত্র ও প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ না হয়, কিংবা অন্তরের ক্ষোভ ঝাড়ার উপায়, হিংসা-বিদ্বেষ প্রকাশের পথ এবং শত্রুতা ও ঘৃণা ছড়ানোর মাধ্যম না হয়ে দাঁড়ায়।

দয়া হচ্ছে আলোচক ও অপর পক্ষের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন এবং তার হৃদয় ও মস্তিষ্কের চাবিকাঠি। আলোচকের মাঝে দয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহ যত বেশি স্পষ্ট হবে, প্রতিপক্ষের অন্তর তত বেশি প্রশান্ত হবে, সে আলোচকের নিকটবর্তী হবে এবং তার বশ্যতা স্বীকার করে তার কথায় আশ্বস্ত হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবীকে সম্বোধন করে বলেন: {আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন। যদি আপনি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।} [আলে ইমরান: ১৫৯]।

আর একারণেই নবীগণ তাঁদের জাতির সাথে আলোচনার সময় তাদের প্রতি নিজেদের আশঙ্কা, ব্যাকুলতা ও মমত্ববোধের কথা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতেন।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ومن نماذج ذلك تصريح مؤمن آل فرعون لقومه بالرحمة والشفقة والخوف عليهم في أكثر من موضع. قال تعالى: {وَقَالَ الَّذِي آمَنَ يَاقَوْمِ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ مِثْلَ يَوْمِ الْأَحْزَابِ} {مِثْلَ دَأْبِ قَوْمِ نُوحٍ وَعَادٍ وَثَمُودَ وَالَّذِينَ مِنْ بَعْدِهِمْ وَمَا اللَّهُ يُرِيدُ ظُلْمًا لِلْعِبَادِ} {وَيَا قَوْمِ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ يَوْمَ التَّنَادِ} [غافر: 30 - 32] .
এর একটি উদাহরণ হলো ফেরাউনের পরিবারের সেই মুমিন ব্যক্তির তাঁর সম্প্রদায়ের প্রতি দয়া, মমতা এবং তাদের জন্য আশঙ্কার সুস্পষ্ট প্রকাশ, যা একাধিক স্থানে বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল সে বলল, হে আমার কওম! নিশ্চয় আমি তোমাদের ওপর (বিগত) বিভিন্ন দলের (পরিণতির) দিনের মতো এক ভয়াবহ দিনের আশঙ্কা করছি।} {যেমন নূহের কওম, আদ, সামুদ এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের অবস্থা হয়েছিল; আর আল্লাহ বান্দাদের ওপর কোনো জুলুম করতে চান না।} {হে আমার কওম! নিশ্চয় আমি তোমাদের ওপর চিৎকার ও হাহাকারের দিনের (কিয়ামতের দিনের) ভয় করছি।} [গাফির: ৩০ - ৩২] ।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌سابعًا: العزة والثبات على الحق

إن المحاور المسلم يستمد قوته من قوة الدين، وعظمة الإيمان، فلا يجوز أن يؤدي الحوار بالمسلم إلى الذلة والمهانة. والعزة الإيمانية ليست عنادًا يستكبر على الحق، وليست طغيانًا وبغيًا، وإنما هي خضوع لله وخشوع، وخشية وتقوى، ومراقبة لله سبحانه.
সপ্তম: আত্মমর্যাদা এবং সত্যের ওপর অবিচলতা

নিশ্চয়ই একজন মুসলিম আলোচক তার শক্তি দ্বীনের শক্তি এবং ঈমানের মহিমা থেকে আহরণ করেন। অতএব, সংলাপ যেন একজন মুসলিমকে হীনম্মন্যতা ও লাঞ্ছনার দিকে পরিচালিত না করে। আর ঈমানি মর্যাদা কোনো এমন একগুঁয়েমি নয় যা সত্যের বিরুদ্ধে অহংকার প্রদর্শন করে, এবং এটি কোনো সীমালঙ্ঘন ও অবিচারও নয়; বরং এটি হলো আল্লাহর সমীপে আত্মসমর্পণ ও বিনয়, এবং তাঁর ভয়, তাকওয়া ও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার প্রতি সদা জাগ্রত অনুভূতিরই বহিঃপ্রকাশ।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ثامنًا: حسن الاستماع

لا بد للمحاور الناجح أن يتقن فن الاستماع (1) ، فكما أن للكلام فنًّا وأدبًا، فكذلك للاستماع، وليس الحوار من حق طرف واحد يستأثر فيه بالكلام دون محاوره، ففرق بين الحوار الذي فيه تبادل الآراء وبين الاستماع إلى خطبة أو محاضرة.

ومما ينافي حسن الاستماع: مقاطعة كلام الطرف الآخر، فإنه طريق سريع لتنفير الخصم إضافة إلى ما فيه من سوء أدب، كما أنه سبب في قطع الفكرة مما يؤثر في تسلسل الأفكار وترابطها، ويؤدي إلى اضطرابها ونسيانها. وقد ذكر العلماء في آداب المتناظرين: ألا يتعرض أحدهما لكلام الآخر حتى يفهم مراده من كلامه تمامًا، وأن ينتظر كل واحد منهما صاحبه حتى يفرغ من كلامه، ولا يقطع عليه كلامه من قبل أن يتمه.

والاستماع إلى الطرف الآخر وحسن الإنصات، تهيئ الطرف الآخر لقبول الحق، وتمهد نفسه للرجوع عن الخطأ.

--------------------------------------------

(1) انظر: الحوار: آدابه وضوابطه، ص 236 - 246.
অষ্টম: উত্তম শ্রবণ

একজন সফল আলোচকের জন্য শ্রবণশৈলীতে (১) পারদর্শী হওয়া অপরিহার্য। কথা বলার যেমন শিল্প ও আদব রয়েছে, তেমনি শ্রবণেরও শিল্প ও আদব রয়েছে। সংলাপ কেবল কোনো এক পক্ষের একচ্ছত্র অধিকার নয় যেখানে সে তার প্রতিপক্ষকে বাদ দিয়ে কেবল নিজেই কথা বলবে। কারণ, পারস্পরিক মতামত বিনিময়ের সংলাপ এবং কোনো খুতবা বা বক্তৃতা শোনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

উত্তম শ্রবণের পরিপন্থী বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: অপর পক্ষের কথায় বাধা দেওয়া। এটি প্রতিপক্ষকে বিতশ্রদ্ধ করার একটি দ্রুত পথ, সেই সাথে এটি শিষ্টাচার পরিপন্থী কাজ। এছাড়া এটি চিন্তার সূত্র ছিঁড়ে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা চিন্তার ধারাবাহিকতা ও সংযোগকে প্রভাবিত করে এবং অসংলগ্নতা ও বিস্মৃতির দিকে ধাবিত করে। উলামায়ে কেরাম বিতার্কিকদের আদব সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন: তাদের কেউ যেন অপরজনের কথায় হস্তক্ষেপ না করে যতক্ষণ না সে তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য পুরোপুরি বুঝতে সক্ষম হয় এবং প্রত্যেকেই যেন তার সঙ্গীর কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে, কথা পূর্ণ করার আগে কেউ যেন তাতে বাধা না দেয়।

অপর পক্ষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং উত্তম শ্রবণ তাকে সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করে এবং ভুল থেকে ফিরে আসার পথ সুগম করে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-হিওয়ার: আদাবুহু ওয়া দাওয়া বিতুহু, পৃ. ২৩৬ - ২৪৬।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌تاسعًا: الاحترام والمحبة على رغم الخلاف

الخلاف أمرٌ واقع لا محالة (1) ، ولكن لا يجوز أن يؤدي الخلاف بين المتناظرين الصادقين في طلب الحق إلى تباغض وتقاطع وتهاجر، أو تشاحن وتدابر.

فأخوة الدين، وصفاء القلوب، وطهارة النفوس فوق الخلافات الجزئية، والمسائل الفرعية، واختلاف وجهات النظر، لا ينبغي أن يقطع حبال المودة، ومهما طالت المناظرة، أو تكرر الحوار، فلا ينبغي أن تؤثر في القلوب، أو تكدر الخواطر، أو تثير الضغائن.

لقد اختلف السلف فيما بينهم، وبقيت بينهم روابط الأخوة الدينية.

فهذان الخليفتان الراشدان، أبو بكر وعمر، يختلفان في أمور كثيرة، وقضايا متعددة، مع بقاء الألفة والمحبة، ودوام الأخوة والمودة.

ومع هذا الخلاف بينهما إلا أن كل واحد منهما كان يحمل الحب والتقدير والاحترام للآخر، ويظهر ذلك من ثناء كل واحد منهما على صاحبه.

--------------------------------------------

(1) انظر: الحوار: آدابه وضوابطه، ص 247 - 258.
নবম: মতভেদ সত্ত্বেও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা

মতভেদ একটি অনিবার্য বাস্তবতা (১), কিন্তু সত্য অন্বেষণে একনিষ্ঠ দুই আলোচনাকারীর মধ্যকার মতভেদ যেন পারস্পরিক ঘৃণা, সম্পর্কচ্ছেদ ও বর্জন কিংবা বিদ্বেষ ও বিমুখতার দিকে ধাবিত না হয়।

কেননা দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব, হৃদয়ের নির্মলতা এবং আত্মার পবিত্রতা আংশিক মতভেদ (خلافات جزئية), শাখা-প্রশাখাগত মাসআলা (مسائل فرعية) এবং দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের ঊর্ধ্বে; এগুলো যেন ভালোবাসার বন্ধন ছিন্ন না করে। বিতর্ক যতই দীর্ঘ হোক কিংবা আলোচনা যতই পুনারাবৃত্ত হোক না কেন, তা যেন অন্তরে প্রভাব না ফেলে, মনে কষ্ট না দেয় কিংবা কোনো প্রকার বিদ্বেষের উদ্রেক না করে।

সালাফ (سلف) গণ নিজেদের মধ্যে মতভেদ করেছেন, তা সত্ত্বেও তাঁদের মাঝে দ্বীনি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট ছিল।

এই দুই খুলাফায়ে রাশিদিন, আবু বকর ও ওমর, বহু বিষয় ও নানাবিধ সমস্যায় একে অপরের সাথে ভিন্নমত পোষণ করতেন, অথচ তাঁদের মাঝে হৃদ্যতা ও ভালোবাসা এবং ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য অটুট ছিল।

তাঁদের মাঝে এই মতভেদ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের প্রত্যেকেই অন্যের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান পোষণ করতেন এবং তাঁদের একে অপরের প্রতি প্রশংসা থেকেই তা প্রতিভাত হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-হিওয়ার: আদাবুহু ওয়া দাওয়াবিতুহু, পৃষ্ঠা ২৪৭ - ২৫৮।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌آدابُ الحوار العِلمية أولًا - العلم

العلم شرط أساس لنجاح الحوار وتحقيق غايته، وبدونه لا ينجح حوار، ويهدر الوقت ويضيع الجهد.

فيجب على المحاور ألا يناقش في موضوع لا يعرفه، ولا يدافع عن فكرة لم يقتنع بها، فإنه بذلك يسيء إلى الفكرة والقضية التي يدافع عنها، ويعرض نفسه للإحراج وعدم التقدير والاحترام.

يقول الشيخ ابن تيمية في التأكيد على ضرورة العلم وأهميته لمن يتصدى للحوار: "وقد ينهون عن المجادلة والمناظرة، إذا كان المناظر ضعيف العلم بالحجة وجواب الشبهة، فيخاف عليه أن يفسده ذلك المضل، كما ينهى الضعيف في المقاتلة أن يقاتل علجًا قويًا من علوج الكفار، فإن ذلك يضره ويضر المسلمين بلا منفعة" (1) .

--------------------------------------------

(1) درء تعارض العقل والنقل 7 / 173 - 174.
বৈজ্ঞানিক আলোচনার শিষ্টাচার প্রথমত - জ্ঞান

আলোচনার সাফল্য এবং এর উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য জ্ঞান একটি অপরিহার্য শর্ত; জ্ঞান ব্যতীত কোনো আলোচনা সফল হয় না, এতে সময়ের অপচয় ঘটে এবং শ্রম পণ্ড হয়।

কাজেই একজন আলোচকের এমন কোনো বিষয়ে আলোচনা করা উচিত নয় যা সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং এমন কোনো ধারণার পক্ষাবলম্বন করা উচিত নয় যাতে তিনি নিজে আশ্বস্ত নন। কারণ, এর মাধ্যমে তিনি যে ধারণা বা বিষয়ের পক্ষে কথা বলছেন তার ক্ষতি করেন এবং নিজেকে বিব্রতকর পরিস্থিতি ও অসম্মানের সম্মুখীন করেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে শায়খ ইবনে তাইমিয়া বলেন: "কখনো কখনো বিতর্ক ও বাহাস থেকে নিষেধ করা হয়, যখন তার্কিক দলীল এবং সংশয় নিরসনের ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف) জ্ঞানের অধিকারী হয়। এমতাবস্থায় আশঙ্কা করা হয় যে সেই বিভ্রান্ত ব্যক্তি তাকে পথভ্রষ্ট করে দিতে পারে; যেমন যুদ্ধে কোনো দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তিকে কাফেরদের শক্তিশালী যোদ্ধার মোকাবিলা করতে নিষেধ করা হয়, কারণ এটি কোনো উপকার ছাড়াই তার এবং মুসলিমদের ক্ষতিসাধন করে।" (১) ।

--------------------------------------------

(১) দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি ৭ / ১৭৩ - ১৭৪।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌ثانيًا - البدء بالنقاط المشتركة وتحديد مواضع الاتفاق

بين كل متناظرين مختلفين حد مشترك من النقاط المتفق عليها بينهما والتي يسلم بها الطرفان، والمحاور الناجح هو الذي يظهر مواطن الاتفاق. والبدء بالأمور المتفق عليها يساعد على تقليل الفجوة، ويوثق الصلة بين الطرفين، ويعيد الحوار هادئًا هادفًا.

أما إذا كان البدء بذكر مواضع الخلاف وموارد النزاع فإن فرص التلاقي تقل، وفجوة الخلاف تتسع، كما أنه يغير القلوب، ويثير النفوس للغلبة دون النظر إلى صحة الفكرة.

فالبدء بالنقاط المشتركة يساعد على تحرير محل النزاع، وتحديد نقطة الخلاف، ويفيد في حسن ترتيب القضايا والتدرج في معالجتها.
‌দ্বিতীয়ত - অভিন্ন বিষয়গুলো দিয়ে শুরু করা এবং ঐকমত্যের স্থানসমূহ চিহ্নিত করা

প্রত্যেক ভিন্নমতাবলম্বী দুই বিতর্ককারীর মধ্যে কিছু অভিন্ন ও সর্বসম্মত বিষয় থাকে যা উভয় পক্ষই মেনে নেয়। আর সফল আলাপকারী তিনিই, যিনি ঐকমত্যের স্থানগুলো ফুটিয়ে তোলেন। ঐকমত্যের বিষয়গুলো দিয়ে শুরু করা দূরত্বের ব্যবধান কমাতে সাহায্য করে, উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করে এবং আলোচনাকে শান্ত ও লক্ষ্যনির্ভর ধারায় ফিরিয়ে আনে।

পক্ষান্তরে, যদি মতভেদের ক্ষেত্র ও বিবাদের বিষয়গুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করা হয়, তবে মিল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় এবং মতভেদের ব্যবধান আরও প্রশস্ত হয়। তদুপরি এটি অন্তরকে বিষিয়ে তোলে এবং বিষয়ের সঠিকতা (صحة) বিবেচনার পরিবর্তে জয়ী হওয়ার জন্য মনে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

সুতরাং অভিন্ন বিষয়গুলো দিয়ে শুরু করা বিবাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু স্পষ্ট করতে সহায়তা করে, মতভেদের স্থান চিহ্নিত করে এবং বিষয়গুলোর যথাযথ বিন্যাস ও সেগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক ধারা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌ثالثًا - التدرج والبدء بالأهم

إن المحاور الناجح هو الذي يصل إلى هدفه بأقرب طريق، ولا يضيع وقته فيما لا فائدة منه، ولا علاقة له بأصل الموضوع، فمعرفة الأهم والبدء به يختصر الطريق.

وأوضح الأمثلة على ذلك بدء الأنبياء - صلوات الله عليهم وسلامه - بأهم قضية وأكبر غاية، وهي الدعوة إلى عبادة الله وحده لا شريك له: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف: 95، 65، 73، 85] . قالها نوح وهود وصالح وشعيب عليهم السلام.

ومع التأكيد على هذا الأدب - البدء بالأهم - فقد يحتاج المحاور إلى أن يتدرج ويتنازل مع خصمه، ويسلم له ببعض الأمور تسليمًا مؤقتًا حتى يصل إلى القضية الأم والمسألة الأهم.

ومن نماذج هذا الأسلوب ما اتبعه إبراهيم مع قومه ليصل بهم إلى التوحيد وإبطال الشرك، كما قال سبحانه: {فَلَمَّا جَنَّ عَلَيْهِ اللَّيْلُ رَأَى كَوْكَبًا قَالَ هَذَا رَبِّي} وهذا على وجه التنزل مع الخصم، أي ربي -بزعمكم- {فَلَمَّا أَفَلَ قَالَ لَا أُحِبُّ الْآفِلِينَ} فبطلت عبادة الكواكب، ثم فعل مثل ذلك لما رأى القمر ولما رأى الشمس حتى وصل بهم إلى حد إبطال ما هم عليه من الشرك (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر: الحوار: آدابه وضوابطه، ص 296 - 308.
‌‌তৃতীয় - পর্যায়ক্রমিক ধারা অনুসরণ এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি দিয়ে শুরু করা

নিশ্চয়ই একজন সফল আলোচক তিনিই, যিনি নিকটতম পথে স্বীয় লক্ষ্যে পৌঁছান এবং নিরর্থক কিংবা মূল বিষয়ের সাথে সম্পর্কহীন কাজে সময় নষ্ট করেন না। সুতরাং অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অনুধাবন করা এবং তা দিয়ে আলোচনা শুরু করা গন্তব্যের পথকে সংক্ষিপ্ত করে দেয়।

এর সবচেয়ে সুস্পষ্ট উদাহরণ হলো নবীগণের—তাঁদের প্রতি আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও মহত্তম লক্ষ্য দিয়ে দাওয়াতের কাজ শুরু করা, আর তা হলো অংশীদারহীন একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানানো: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই} [আল-আরাফ: ৯৫, ৬৫, ৭৩, ৮৫]। নূহ, হূদ, সালিহ ও শুআইব (আলাইহিমুস সালাম) এই কথাটিই বলেছিলেন।

অধিক গুরুত্বপূর্ণ দিয়ে শুরু করার এই শিষ্টাচারের ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি একজন আলোচকের কখনো পর্যায়ক্রমিক ধারা অবলম্বন করার এবং প্রতিপক্ষের সাথে যুক্তির খাতিরে কিছুটা ছাড় দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ফলে মূল বিষয় ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ মাসআলায় পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে তিনি সাময়িকভাবে কিছু বিষয় মেনে নেন।

এই পদ্ধতির অন্যতম দৃষ্টান্ত হলো ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তাঁর কওমের সাথে যা অনুসরণ করেছিলেন, যাতে তিনি তাদের তাওহীদের দিকে নিয়ে আসতে পারেন এবং শিরক বাতিল করতে পারেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর যখন রাত তাকে আচ্ছন্ন করল, তখন তিনি একটি নক্ষত্র দেখতে পেলেন এবং বললেন, ‘এটি আমার রব’}। এটি ছিল মূলত প্রতিপক্ষের যুক্তির সাথে একমত হওয়ার ছলে বা ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে, অর্থাৎ—তোমাদের দাবি অনুযায়ী এটি আমার রব—। {অতঃপর যখন তা অস্তমিত হলো, তখন তিনি বললেন, ‘আমি অস্তগামীদের ভালোবাসি না’}। ফলে নক্ষত্র পূজা বাতিল সাব্যস্ত হলো। এরপর তিনি চন্দ্র ও সূর্যের ক্ষেত্রেও একই রূপ করলেন, যতক্ষণ না তিনি তাদের শিরককে বাতিল সাব্যস্ত করার চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেলেন (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-হিওয়ার: আদাবুহু ওয়া দাওয়াবিতুহু, পৃষ্ঠা ২৯৬ - ৩০৮।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ২০)
رابعًا - الدليل

إن أهم ما ينجح الحوار: الدليل، ولا بد من إثبات صحة الدليل، كما قيل: "إن كنت ناقلًا فالصحة، أو مدعيًا فالدليل". ولا يحسن بالمحاور أن يستدل بأدلة ضعيفة أو حجج واهية. فدليلان قويان لا يمكن الرد عليهما أفضل من سوقهما مع ثلاثة أدلة أخرى يمكن الأخذ والرد فيها، إذ ربما يستغلها الطرف الآخر، فيضعف الفكرة ويسيء إلى موقف صاحبها بسبب الأدلة الضعيفة.

ومتى وجد الدليل وثبتت صحته، فلا بد من صحة دلالته على المطلوب، ولا بد من ترتيب الأدلة حسب قوتها وصراحتها في الدلالة على المقصود.
চতুর্থত - প্রমাণ (الدليل)

সংলাপকে সফল করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রমাণ (الدليل); আর প্রমাণের বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণ করা অপরিহার্য। যেমন বলা হয়েছে: "যদি তুমি উদ্ধৃতিদানকারী হও তবে বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত করো, আর যদি দাবিদার হও তবে প্রমাণ (الدليل) পেশ করো।" আলোচনা বা বিতর্কে অংশগ্রহণকারীর জন্য দুর্বল (ضعيف) প্রমাণ বা অসার যুক্তি উপস্থাপন করা সমীচীন নয়। কারণ, এমন দুটি শক্তিশালী প্রমাণ যা খণ্ডন করা সম্ভব নয়, তা এমন আরও তিনটি প্রমাণের সাথে পেশ করার চেয়ে উত্তম যেগুলোর ব্যাপারে গ্রহণ বা বর্জনের সুযোগ থাকে। কেননা অন্য পক্ষ হয়তো সেই দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে, ফলে দুর্বল (ضعيف) প্রমাণের কারণে মূল বিষয়টি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বক্তার অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

যখন প্রমাণ (الدليل) পাওয়া যায় এবং তার বিশুদ্ধতা (صحة) সাব্যস্ত হয়, তখন উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর তার নির্দেশনার সঠিকতা (صحة الدلالة) থাকাও জরুরি। আর দলিলের শক্তি এবং উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশে তার স্পষ্টতা অনুযায়ী সেগুলোকে বিন্যস্ত করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌خامسًا - ضرب الأمثلة:

إن المحاور الناجح هو الذي يحسن ضرب الأمثلة، ويتخذها وسيلة لإقناع محاوره، إذ إن الأمثلة الجيدة تزيد المعنى وضوحًا وبيانًا.

ولما للأمثلة من دور كبير في تقريب المعاني والإقناع بها، فقد اعتنى القرآن بها كثيرًا، وأشار إلى أهميتها وبيان هدفها: {وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [الحشر:21] . {وَيَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ} [إبراهيم: 25] .
পঞ্চমতঃ - উদাহরণ পেশ করা:

একজন সফল আলোচক হলেন তিনি, যিনি নিপুণভাবে উদাহরণ পেশ করতে পারেন এবং একে তাঁর প্রতিপক্ষকে আশ্বস্ত করার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেন; কেননা উত্তম উদাহরণ অর্থকে আরও স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল করে তোলে।

অর্থকে সহজবোধ্য করা এবং এর মাধ্যমে কাউকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে উদাহরণ প্রদানের যেহেতু একটি বড় ভূমিকা রয়েছে, তাই কুরআন এ বিষয়ে ব্যাপক গুরুত্বারোপ করেছে এবং এগুলোর গুরুত্ব ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করে ইঙ্গিত প্রদান করেছে: "আমি এসব উদাহরণ মানুষের জন্য পেশ করি যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।" [সূরা আল-হাশর: ২১]। "আর আল্লাহ মানুষের জন্য উদাহরণ পেশ করেন যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।" [সূরা ইবরাহীম: ২৫]।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌سادسًا - العدول عن الإجابة

إن الأصل في الحوار الناجح أن يبنى على الإخلاص والتجرد للحق والصدق والوضوح، ولكن قد تتعذر هذه الصفات في الخصوم، فقد يكون الخصم يهوى الجدال والمراء، ويقصد إضاعة الوقت والتهرب من الحوار الجاد، وقد يلقي أسئلة لا قيمة لها ولا تفيد شيئًا بالحوار.

ففي مثل هذه الأحوال يعدل المحاور الناجح عن الجواب المباشر للسؤال المطروح، إلى جواب مفيد مهم.
ষষ্ঠত - উত্তর প্রদান পরিহার করা

একটি সফল সংলাপের মূল ভিত্তি হলো তা একনিষ্ঠতা (إخلاص), সত্যের প্রতি একাগ্রতা, সততা এবং স্বচ্ছতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া। কিন্তু প্রতিপক্ষের মাঝে এই গুণাবলি পাওয়া দুষ্কর হতে পারে; কেননা প্রতিপক্ষ হয়তো বিতর্ক (جدال) ও বাকবিতণ্ডা (مراء) প্রিয় হতে পারে এবং তার উদ্দেশ্য হতে পারে সময়ক্ষেপণ ও গঠনমূলক সংলাপ থেকে এড়িয়ে যাওয়া। এমনকি সে এমন কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে যার কোনো মূল্য নেই এবং যা সংলাপের ক্ষেত্রে কোনো ফলপ্রসূ অবদান রাখে না।

এমতাবস্থায় একজন সফল আলোচক উত্থাপিত প্রশ্নের সরাসরি উত্তর প্রদান থেকে সরে এসে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী বিষয়ের অবতারণা করেন।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌سابعًا - الرجوع إلى الحق والتسليم بالخطأ

إن من أهم الآداب والصفات التي يتميز بها المحاور الصادق أن يكون الحق ضالته، فحيثما وجده أخذه، والعاقل هو الذي يسلم بخطئه، ويعود إلى الصواب إذا تبين له، ويفرح بظهوره، ويشكر لصاحبه إرشاده ودلالته إليه.

والتسليم بالخطأ صعب على النفس، خاصة إذا كان في مجمع من الناس، فهو يحتاج إلى تجرد لله وصدق وإخلاص، وقوة وشجاعة.
সপ্তম - সত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন এবং ভুল স্বীকার করে নেওয়া

একজন সত্যনিষ্ঠ (صادق) আলোচকের অন্যতম প্রধান শিষ্টাচার ও বৈশিষ্ট্য হলো সত্যকে নিজের হারানো লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা; ফলে যেখানেই তিনি তা খুঁজে পান, তা গ্রহণ করেন। বুদ্ধিমান ব্যক্তি তিনিই, যিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর সঠিক (صواب) বিষয়ের দিকে ফিরে আসেন। সত্যের প্রকাশে তিনি আনন্দিত হন এবং তাকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা ও সত্য প্রদর্শনের জন্য সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ভুল স্বীকার করা মানুষের প্রবৃত্তির জন্য কঠিন কাজ, বিশেষ করে তা যদি কোনো সমাবেশে হয়। তাই এর জন্য প্রয়োজন আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে ঐকান্তিকতা, সত্যবাদিতা, নিষ্ঠা (إخلاص) এবং শক্তি ও সাহস।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌ثامنًا - التحدي والإفحام وإقامة الحجة على الخصم

إن الهدف من الحوار هو الوصول إلى الحق، فعلى المحاور أن يتجنب أسلوب الإفحام والإسكات، لأنه يترك في نفس المحاور حقدًا وغيظًا وكراهية.

ولكن يلجأ المحاور إلى التحدي والإفحام مع من استطال وتجاوز حدود الأدب، وطغى وظلم وعادى الحق وكابر مكابرة بينة ولجأ إلى الاستهزاء والسخرية، ونحو ذلك.

وفي مثل هؤلاء جاءت الآية الكريمة: {لَا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَنْ ظُلِمَ} [النساء: 148] .

ولما أمر الله - سبحانه - بالتلطف في المناقشة - حتى مع الكفار - استثنى حالة إذا ما ظلموا وبغوا، فلا ينفع معهم الرفق واللين، بل يستعمل معهم الغلظة والشدة: {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ} [العنكبوت:46] .
‌‌অষ্টম - চ্যালেঞ্জ প্রদান, নিরুত্তর করা এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দলিল (حجة) উপস্থাপন

সংলাপের লক্ষ্য হলো সত্যে উপনীত হওয়া। সুতরাং সংলাপকারীর উচিত নিরুত্তর করা ও স্তব্ধ করে দেওয়ার পদ্ধতি পরিহার করা; কারণ এটি প্রতিপক্ষের মনে বিদ্বেষ, ক্ষোভ ও ঘৃণা সৃষ্টি করে।

তবে সংলাপকারী কেবল তখনই চ্যালেঞ্জ প্রদান এবং নিরুত্তর করার আশ্রয় নেবেন, যখন প্রতিপক্ষ দম্ভ প্রকাশ করে, শিষ্টাচারের সীমা লঙ্ঘন করে, ঔদ্ধত্য ও জুলুম করে, সত্যের বিরোধিতা করে, স্পষ্ট হঠকারিতা প্রদর্শন করে এবং বিদ্রূপ ও উপহাসের পথ বেছে নেয় অথবা এই জাতীয় আচরণ করে।

এ ধরনের লোকদের বিষয়েই পবিত্র আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে: {আল্লাহ মন্দ কথা উচ্চস্বরে বলা পছন্দ করেন না, তবে যার ওপর জুলুম করা হয়েছে তার কথা ভিন্ন} [আন-নিসা: ১৪৮]।

মহান আল্লাহ যখন আলোচনার ক্ষেত্রে নম্রতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন—এমনকি কাফিরদের সাথেও—তখন তিনি সেই অবস্থাকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন যখন তারা জুলুম ও সীমালঙ্ঘন করে। এমতাবস্থায় তাদের ক্ষেত্রে কোমলতা ও নম্রতা কোনো কাজে আসে না, বরং তাদের সাথে কঠোরতা ও কঠোর ভাষা প্রয়োগ করতে হয়: {তোমরা উত্তম পন্থা ব্যতীত আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করো না; তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছে তাদের কথা ভিন্ন} [আল-আনকাবুত: ৪৬]।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌أولًا - الكلمة الطيبة والقول الحسن

لقد أمر الله عز وجل بدعوة الناس بالحكمة والموعظة الحسنة، فقال سبحانه: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [النحل: 125] .

ومن القول الحسن أيضًا: حسن المناداة للطرف الآخر، واختيار أحب الأسماء إليه، وقد تأدب الأنبياء بهذا الأدب في خطابهم لأقوامهم، فقد كان يقول الرسول لخصومه المعاندين: (يا قوم) في تودد وسماحة وتذكير بالروابط التي تجمعهم، ليستثير مشاعرهم، ويطمئنهم فيما يدعوهم إليه.
প্রথমত - মিষ্ট কথা ও উত্তম বচন

আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা মানুষকে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আপনার রবের পথের দিকে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পন্থায়।} [আন-নাহল: ১২৫]।

উত্তম বচনের অন্তর্ভুক্ত হলো: অপর পক্ষকে সুন্দরভাবে সম্বোধন করা এবং তাদের নিকট সবচেয়ে প্রিয় নামগুলো চয়ন করা। নবীগণ তাঁদের সম্প্রদায়ের সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে এই শিষ্টাচার অবলম্বন করেছেন। রাসূল তাঁর হঠকারী প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত হৃদ্যতা ও উদারতার সাথে এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধনসমূহ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতেন: (হে আমার জাতি), যাতে তাদের অনুভূতি জাগ্রত হয় এবং তিনি যার দিকে তাদের আহ্বান করছেন সে বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করা যায়।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌ثانيًا - التعريض والتلميح بدلًا عن التصريح

إن لفت النظر إلى الأخطاء من طرف خفي، وتجنب اللوم المباشر، وعدم تخطئة الطرف الآخر بعبارة صريحة، كل ذلك له أثره في تسليم الخصم للحق والرجوع عن الخطأ، فالنفوس غالبًا لا تتحمل أن تواجه بقوة وصرامة، وهناك من الألفاظ الموحية والكلمات اللطيفة والتي تؤدي الغرض نفسه، دون جرح لمشاعر الآخرين، أو إشعارهم بالذل والهزيمة.
দ্বিতীয়ত - সরাসরি ভাষণের পরিবর্তে পরোক্ষ ইঙ্গিত ও ইশারা প্রদান

গোপনে বা সূক্ষ্মভাবে ভুলের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা, সরাসরি ভর্ৎসনা পরিহার করা এবং স্পষ্ট বাক্যে অপর পক্ষকে ভুল সাব্যস্ত না করা—এই সবকিছুরই প্রতিপক্ষের সত্য মেনে নেওয়া এবং ভুল থেকে ফিরে আসার ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব রয়েছে। কেননা মানবমন সাধারণত কঠোরতা ও রুক্ষতার সাথে মোকাবিলা করা সহ্য করতে পারে না। এমন অনেক ব্যঞ্জনাময় শব্দ ও কোমল বাক্য রয়েছে যা অন্যের অনুভূতিতে আঘাত না দিয়ে অথবা তাদেরকে লাঞ্ছনা ও পরাজয় অনুভব না করিয়ে একই উদ্দেশ্য সাধন করতে পারে।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌ثالثًا - ثناء المحاور على نفسه أو على خصمه بالحق

إن الكلام عن النفس ومدحها والثناء عليها مذموم غالبًا، ولا يحب الناس أن يسمعوا ممن يملأ آذانهم بمناقبه وسيرته وأحواله وتقلباته، بل إن من يفعل ذلك ويفرح به ويكثر منه يعد ناقصًا في عقله، أو ربما فاسدًا في نيته وقصده.

وكما قال الإمام مالك: " إن الرجل إذا ذهب يمدح نفسه ذهب بهاؤه" (1) .

وقد نهى الله عز وجل عن تزكية النفس والتمدح بطهارتها فقال سبحانه: {فَلَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى} [النجم: 32] ، وعاب أناسًا فعلوا ذلك فقال فيهم: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يُزَكُّونَ أَنْفُسَهُمْ بَلِ اللَّهُ يُزَكِّي مَنْ يَشَاءُ وَلَا يُظْلَمُونَ فَتِيلًا} [النساء: 49] .

وفي المقابل فإن مدح الآخرين وإطراءهم والثناء عليهم بما ليس فيهم، وتجاوز الحد في ذلك، كل هذا مذموم ممقوت أيضًا.

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء: 8 / 109.
তৃতীয়ত - সংলাপকারীর নিজের সম্পর্কে অথবা তার প্রতিপক্ষের যথাযথ প্রশংসা করা

নিজের সম্পর্কে কথা বলা, নিজের গুণগান গাওয়া এবং নিজের প্রশংসা করা সাধারণত নিন্দনীয়। মানুষ এমন ব্যক্তির কথা শুনতে পছন্দ করে না যে তাদের কান নিজের মর্যাদা, জীবনী, অবস্থা এবং বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনায় ভরিয়ে দেয়। বরং যে ব্যক্তি এমনটি করে, তাতে আনন্দ পায় এবং এটি অধিক পরিমাণে করে, তাকে বিবেকবুদ্ধিতে ত্রুটিপূর্ণ মনে করা হয়, অথবা সম্ভবত তার নিয়ত ও উদ্দেশ্য কলুষিত।

ইমাম মালিক যেমনটি বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি যখন নিজের প্রশংসা করতে শুরু করে, তখন তার সৌন্দর্য বিলীন হয়ে যায়" (১)।

আল্লাহ তা'আলা নিজের পবিত্রতা বর্ণনা (تزكية) এবং নিজের বিশুদ্ধতা নিয়ে বড়াই করতে নিষেধ করেছেন। তিনি সুবহানাহু ওয়া তা'আলা ইরশাদ করেছেন: {অতএব তোমরা নিজেদের পবিত্রতা বর্ণনা (تزكية) করো না, তিনি ভাল জানেন কে তাকওয়া অবলম্বনকারী।} [আন-নাজম: ৩২]। তিনি ঐসব লোকদের নিন্দা করেছেন যারা এমনটি করে; তাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {তুমি কি তাদের দেখনি যারা নিজেদের পবিত্রতা বর্ণনা (تزكية) করে? বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন এবং তাদের ওপর সুতোর পরিমাণও জুলুম করা হবে না।} [আন-নিসা: ৪৯]।

অন্যদিকে, অন্যের প্রশংসা করা, তাদের গুণকীর্তন করা এবং তাদের মধ্যে নেই এমন গুণাবলি দিয়ে স্তুতি করা এবং এক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করা—এসবই সমানভাবে নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য কাজ।

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৮ / ১০৯।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ولكن قد تكون هناك حالات يحتاج فيها المحاور إلى أن يثني على نفسه بالحق، لتحقيق غرض معين، كأن يشعر خصمه بمقدار علمه في موضوع الحوار أو في مسألة من مسائله، أو لينفي عن نفسه تهمة أو طعنًا في صدقه وأمانته أو نحو ذلك، فهنا قد يسوغ ذكر شيء من محاسن النفس بقدر وبحق.

وكذا قد يحتاج المحاور إلى أن يثني على الطرف الآخر - بالحق - لتحقيق غرض معين، كأن يكون القصد إشعاره بالتقدير والاحترام، والاعتراف بفضله أو علمه.
কিন্তু এমন কিছু পরিস্থিতি থাকতে পারে যেখানে আলোচনারত ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে সত্যের ভিত্তিতে নিজের প্রশংসা করার প্রয়োজন বোধ করেন। যেমন, তার প্রতিপক্ষকে আলোচনার বিষয়বস্তু বা এর কোনো মাসআলা সম্পর্কে নিজের ইলমের গভীরতা উপলব্ধি করানো, কিংবা নিজের উপর আরোপিত কোনো অভিযোগ অথবা নিজের সত্যবাদিতা (صدق) ও আমানতদারিতার (أمانة) ক্ষেত্রে করা কোনো সমালোচনা (طعن) বা এ জাতীয় কিছু খণ্ডন করা। এমতাবস্থায় পরিমিতভাবে এবং সত্যের নিরিখে নিজের কিছু প্রশংসনীয় গুণাবলি উল্লেখ করা বৈধ হতে পারে।

একইভাবে, আলোচনারত ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে অপর পক্ষেরও—সত্যের ভিত্তিতে—প্রশংসা করার প্রয়োজন বোধ করতে পারেন; যেমন উদ্দেশ্য হতে পারে তাকে মূল্যায়ন ও সম্মান প্রদর্শন করা এবং তার শ্রেষ্ঠত্ব বা ইলমের স্বীকৃতি প্রদান করা।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার ওয়া কাওয়াইদুল ইখতিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
رابعًا - محذورات لفظية

إن للسان سقطات، وللكلام زلات، والمسلم مأمور بحفظ لسانه، كما أنه مأمور بطيب الكلام، وأن يقول خيرًا فيغنم، أو يسكت فيسلم، ويسلم الآخرون منه، وهناك أمور قد يقع فيها اللسان فتورد صاحبها الموارد، وقد تهوي بالحوار وتعطل سيره أو تحوله إلى جدل عقيم، أو تبادل سباب وشتائم، ولذلك ينبغي للمحاور أن يحذرها، فمن هذه المحذورات:

1 - اختيار الألفاظ والمعاني التي تقود إلى الجدل، أو تستثير الفتن والمشكلات.

2 - إظهار التفاصح والتشدق في الكلام تيهًا على الآخرين واستعلاء.

3 - الغيبة: فإن المناظر لا ينفك عن حكاية كلام خصمه ومذمته، فيحكي عنه ما يدل على قصور كلامه وعجزه ونقصان فضله، وهو الغيبة.

4 - الكذب: ربما لا يقدر المناظر على محاورة خصمه، فيلجأ إلى الكذب عليه، فينسبه إلى الجهل والحماقة وقلة الفهم، تغطية لعجزه فيقع في الكذب.

5 - تزكية النفس والثناء عليها بالقوة والغلبة والتقدم على الأقران، كقوله: لست ممن يخفى عليه أمثال هذه الأمور ونحو ذلك مما يتمدح به على سبيل الادعاء.
চতুর্থ - শাব্দিক সতর্কতা বা বর্জনীয় বিষয়সমূহ

নিশ্চয়ই জিহ্বার পদস্খলন আছে এবং কথারও ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে। একজন মুসলিমকে তার জিহ্বা হিফাজত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেমন তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উত্তম কথা বলার, যাতে সে ভালো কথা বলে পুণ্য অর্জন করে অথবা চুপ থেকে নিরাপদ থাকে এবং অন্যরা তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে। জিহ্বা এমন কিছু বিষয়ে পতিত হতে পারে যা তার অধিকারীকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়, যা আলোচনাকে নিম্নমুখী করতে পারে এবং এর গতি রুদ্ধ করে দিতে পারে অথবা একে নিষ্ফল বিতর্ক কিংবা পারস্পরিক গালিগালাজ ও অপবাদে রূপান্তর করতে পারে। তাই আলোচনা বা বিতর্কে অংশগ্রহণকারীর উচিত এই বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থাকা। এই বর্জনীয় বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:

1 - এমন শব্দ বা অর্থ চয়ন করা যা বিতর্কের দিকে নিয়ে যায় অথবা ফিতনা (فتنة) ও সমস্যার উদ্রেক করে।

2 - অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব ও অহংকার প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বাচনভঙ্গিতে কৃত্রিম পাণ্ডিত্য ও বাগাড়ম্বর প্রকাশ করা।

3 - পরনিন্দা (غيبة): কেননা তার্কিক অনেক সময় তার প্রতিপক্ষের কথা বর্ণনা করা ও তার নিন্দা করা থেকে বিরত থাকতে পারে না। ফলে সে তার প্রতিপক্ষের কথা থেকে এমন কিছু বর্ণনা করে যা তার কথার অসারতা, অক্ষমতা ও মর্যাদার অভাব প্রকাশ করে; আর এটাই হলো পরনিন্দা (غيبة)।

4 - মিথ্যাচার (كذب): অনেক সময় তার্কিক তার প্রতিপক্ষের সাথে তর্কে পেরে ওঠে না, তখন সে তার ওপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার আশ্রয় নেয়। নিজের অক্ষমতা ঢাকতে সে প্রতিপক্ষকে অজ্ঞতা, মূর্খতা ও বুঝের স্বল্পতার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে, ফলে সে মিথ্যাচার (كذب)-এ লিপ্ত হয়।

5 - আত্মপ্রশংসা ও নিজের শক্তি, বিজয় এবং সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের গুণগান করা। যেমন তার একথা বলা: "আমি এমন ব্যক্তি নই যার কাছে এই জাতীয় বিষয়গুলো অস্পষ্ট থাকে" এবং এ জাতীয় অন্যান্য কথাবার্তা যা দাবির ছলে অহংকারবশত বলা হয়।