(খণ্ড: ১) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: -)
بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة   (-)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة

المؤلف: بعض طلبة العلم

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সমকালীন কতিপয় ফিকহি নাওয়াজিল সংক্রান্ত গবেষণা   (-)

বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল


গ্রন্থ: সমকালীন কতিপয় ফিকহি নাওয়াজিল সংক্রান্ত গবেষণা

লেখক: কতিপয় জ্ঞানান্বেষী শিক্ষার্থী

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة

كتبها: أحد طلبة العلم
সমকালীন কতিপয় ফেকহী নবোদদ্ভূত সমস্যার ওপর গবেষণাপত্র

রচনা করেছেন: একজন ইলমে দ্বীনের ছাত্র
(খণ্ড: ১) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: -)
بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة   (-)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة

المؤلف: بعض طلبة العلم

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সমসাময়িক কিছু ফিকহি নাওয়াজিলের ওপর গবেষণা   (-)

বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল


বই: সমসাময়িক কিছু ফিকহি নাওয়াজিলের ওপর গবেষণা

লেখক: কতিপয় ইলম অন্বেষণকারী

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরী

(খণ্ড: ২) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله (صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم) أما بعد:

فإن دين الإسلام هو خاتم الرسالات أتم الله بكماله النعمة على عباده ولما كان الأمر كذلك فإنه دون أدنى شك صالح لأن يعمل به في كل زمانٍ ومكان، ومما يجعله كذلك اتسام تشريعاته باليسر والسهولة ودرئه للمفاسد ومراعاة المصالح وتقديم العامة منها على الخاصة، وجمعه في وقتٍ واحدٍ بين التمسك بالمباديء والقيم وبين الواقعية والمراد بالواقعية هنا أنه يمكن تطبيقه على أرض الواقع بلا حرجٍ ومشقة، لا بمعنى الخضوع للواقع كما يحلو للبعض أن يفسر به الواقعية، والمسلم يؤمن بذلك على كل حال لكنه حينما يدرس عن قرب ما استجد من أمور (1) ليرى هل يجد لها في الإسلام حكماً ينبهر حينما يجد أن علماء الإسلام قديماً وحديثاً كتبوا في مسائل كثيرة دقيقة ومتنوعة ومما ساعدهم على ذلك عملهم بالقياس وتطبيقهم للقواعد الفقهية التي يمكن أن يندرج تحتها كثيرٌ من المسائل بل لقد ألف بعض العلماء قديماً كتباً في النوازل خاصة، وفي العصر الحاضر أقيمت المجامع الفقهية لبحث النوازل المستجدة، وقد من الله علينا بدراسة مقرر (فقه النوازل) بمرحلة الدكتوراة فشعرنا حينها بشعورين متناقضين شعور بالفرح والسرور وشعور بالأسى والحزن فالسرور اسشعاراً بنعمة الله علينا بهذا الدين وانتسابنا إليه، والأسى لأن كثيراً من المسلمين في بلادٍ كثيرةٍ

--------------------------------------------

(1) - وقد استجدت أمور كثيرة وخاصةً في النواحي المالية والطبية، وقد تكون بعض النوازل مما عمت به البلوى واحتاج إليه الناس، وبعضها بسبب تساهلهم في الحرام وتقليدهم للكفار، وقد قال عمر بن عبد العزيز رحمه الله: تحدث للناس أقضية بقدر ما أحدثوا من الفجور.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল (তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)। অতপর:

নিশ্চয়ই ইসলাম ধর্ম হলো সর্বশেষ আসমানী বার্তা। আল্লাহ এর পূর্ণতার মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের প্রতি নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন। বিষয়টি যেহেতু এমন, তাই এটি নিঃসন্দেহে প্রতিটি সময় ও স্থানে আমল করার জন্য উপযোগী। একে এমন করার পেছনে যে বিষয়গুলো কাজ করে তা হলো এর বিধানসমূহের সহজসাধ্যতা ও সাবলীলতা, অনিষ্টতা দূরীকরণ, জনকল্যাণ বিবেচনা করা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সামষ্টিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার প্রদান। একই সাথে এটি আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকা এবং বাস্তববাদিতার মাঝে সমন্বয় সাধন করেছে। এখানে বাস্তববাদিতা বলতে উদ্দেশ্য হলো কোনো প্রকার সংকীর্ণতা ও কষ্ট ছাড়াই বাস্তব ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ সম্ভব; বাস্তবতার সামনে নতিস্বীকার করা—এমন অর্থে নয়, যেমনটি কেউ কেউ বাস্তববাদিতাকে ব্যাখ্যা করতে পছন্দ করেন। একজন মুসলিম সর্বাবস্থায় এতে বিশ্বাস করেন। কিন্তু তিনি যখন নতুন উদ্ভূত বিষয়গুলো (১) নিকট থেকে পর্যবেক্ষণ করেন যে ইসলামে এর কোনো বিধান পাওয়া যায় কি না, তখন তিনি অভিভূত হন যখন দেখেন যে প্রাচীন ও আধুনিককালের মুসলিম আলিমগণ বহু সূক্ষ্ম ও বৈচিত্র্যময় মাসআলা নিয়ে লিখেছেন। কিয়াসের ব্যবহার এবং এমন সব ফিকহি মূলনীতির প্রয়োগ তাঁদের এই কাজে সহায়তা করেছে যার অধীনে অনেক মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এমনকি প্রাচীনকালের কোনো কোনো আলিম বিশেষভাবে 'নাওয়াযিল' (সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যা) নিয়ে বই রচনা করেছেন। আর বর্তমান যুগে নতুন উদ্ভূত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য ফিকহি একাডেমিগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা পিএইচডি পর্যায়ে আমাদের 'ফিকহুন নাওয়াযিল' (সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যার ফিকহ) বিষয়টি অধ্যয়ন করার তাওফিক দান করেছেন। তখন আমরা দুটি পরস্পরবিরোধী অনুভূতি অনুভব করেছি: আনন্দ ও খুশির অনুভূতি এবং বেদনা ও দুঃখের অনুভূতি। আনন্দ ছিল এই দ্বীনের নেয়ামত এবং এর প্রতি আমাদের সম্পৃক্ততা অনুধাবন করার কারণে। আর দুঃখ ছিল কারণ অনেক দেশের বহু মুসলিম...

--------------------------------------------

(১) - অনেক নতুন বিষয় উদ্ভূত হয়েছে, বিশেষ করে আর্থিক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে। কিছু সমসাময়িক সমস্যা এমন হতে পারে যা সর্বব্যাপী সমস্যায় পরিণত হয়েছে এবং মানুষের সেগুলোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। আবার কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে হারামের ব্যাপারে মানুষের শিথিলতা এবং কাফেরদের অনুকরণের কারণে। উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: মানুষ যেভাবে নতুন নতুন পাপাচারে লিপ্ত হবে, তাদের জন্য সে অনুপাতে নতুন নতুন বিচারিক ফয়সালা তৈরি হবে।।
(খণ্ড: ২) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২)
أعرضوا عنه واستبدلوه بآراء البشر وأفكارهم، ومما حبب إلينا هذا المقرر أسلوب شيخنا الدكتور/ عبد الله بن محمد الطريقي (حفظه الله) حيث كان يطرح المسائل للنقاش ويكلفنا بالبحث فيها لنقف على مصادر بحثها عن كثب، فنسأل الله تعالى أن يجعل ذلك في ميزان حسناته وأن ينفعنا بما تعلمنا وأن يجعله حجةً لنا لا علينا.
তারা তা থেকে বিমুখ হয়েছে এবং একে মানুষের মতামত ও চিন্তাধারা দ্বারা প্রতিস্থাপিত করেছে। আর আমাদের নিকট এই পাঠ্যক্রমটিকে যা প্রিয় করে তুলেছে তা হলো আমাদের শাইখ ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আত-তারীকি (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন)-এর পাঠদান পদ্ধতি; যেখানে তিনি মাসয়ালাসমূহ আলোচনার জন্য উত্থাপন করতেন এবং আমাদের সে বিষয়ে গবেষণার দায়িত্ব প্রদান করতেন যাতে আমরা এর গবেষণার উৎসসমূহ নিবিড়ভাবে অবগত হতে পারি। অতএব, আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় শামিল করেন এবং আমরা যা শিক্ষা লাভ করেছি তার মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করেন এবং একে আমাদের স্বপক্ষে দলিল হিসেবে কবুল করেন, আমাদের বিপক্ষে নয়।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: -)
بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة   (-)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة

المؤلف: بعض طلبة العلم

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সমসাময়িক কিছু ফিকহী নবউদ্ভূত সমস্যার গবেষণা   (-)

বিভাগ: ফিকহী মাসায়েল


কিতাব: সমসাময়িক কিছু ফিকহী নবউদ্ভূত সমস্যার গবেষণা

লেখক: কতিপয় ইলম অন্বেষী

[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ৩) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌بعض النوازل في العبادات
ইবাদত সংক্রান্ত কতিপয় সমসাময়িক মাসআলা
(খণ্ড: ১) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: -)
بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة   (-)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة

المؤلف: بعض طلبة العلم

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কতিপয় সমসাময়িক ফিকহি সমস্যাবলির ওপর গবেষণাপত্র   (-)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


কিতাব: কতিপয় সমসাময়িক ফিকহি সমস্যাবলির ওপর গবেষণাপত্র

লেখক: কতিপয় ইলম অন্বেষী

[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরকৃত]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ই জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ৪) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌استعمال مياه الصرف الصحي

 

التمهيد: مياه الصرف الصحي بعد أن يتم تنقيتها وإزالة ما علق بها من أوساخ هل تصبح طاهرة باعتبار ما آلت إليه أم أنها تبقى نجسة باعتبار حالها الأول.

هذا يتطلب منا الرجوع إلى أقوال العلماء في كيفية تطهير الماء.

أقوال العلماء في تطهير الماء:

1- قال الجمهور: تطهير المياه إما بصب ماءٍ طهور عليها، أو نزح بعضها، أو زوال التغير بنفسه. إلاّ أن الشافعية والحنابلة يشترطون فيما نزح بعضها بان يبقى بعد النزح قلتان فأكثر، وللمالكية في النزح قولان.

2- وقال الحنفية: يطهر الماء النجس بنزح مقدار منه، لكن يختلف مقدار ما ينزح لتحصل به الطهارة للباقي باختلاف نوع النجاسة واختلاف أحوالها.

ومما سبق يتضح لنا أن الجمهور يرون تغير الماء بنفسه إما بالشمس أو غيرها سبباً في طهارته، لأنه استحال إلى شيءٍ طاهر.

وقد اختلف العلماء في الاستحالة.

1- فقال الحنفية والشافعية وهي رواية عن أحمد اختارها ابن تيمية (1) : يطهر الشيء باستحالته عن النجاسة، واستدلوا بما يلي:

1- أن عين النجاسة قد زالت واستحالت فلم يبق لها أثر فينبغي أن ينتفي حكمها، لأنها صارت من الطيبات، والله تعالى يقول: (ويحل لهم الطيبات ويحرم عليهم الخبائث (. قال ابن حزم: (إذا استحالت صفات عين النجس أو الحرام فبطل عنه الاسم الذي به ورد ذلك الحكم وانتقل إلى اسمٍ آخر وارد على حلالٍ طاهر فليس هو ذلك النجس ولا ذلك الحرام، بل قد صار شيئاً آخر ذا حكم آخر) .

--------------------------------------------

(1) - وفرق الشافعية بين ما هو نجس لعينه أو لمعنى فيه، وفي الفتاوى الهندية عد المطهرات فذكر منها الاستحالة.
পয়ঃনিষ্কাশনের পানির ব্যবহার

 

ভূমিকা: পয়ঃনিষ্কাশনের পানিকে পরিশোধন করার পর এবং তাতে মিশে থাকা ময়লা-আবর্জনা দূর করার পর, তার বর্তমান অবস্থার বিচারে তা কি পবিত্র হয়ে যাবে, নাকি তার আদি অবস্থার বিচারে তা নাপাকই থেকে যাবে?

এটি পানি পবিত্র করার পদ্ধতি সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের মতামতের দিকে ফিরে যাওয়া আমাদের জন্য আবশ্যক করে।

পানি পবিত্র করার বিষয়ে আলেমদের মতামত:

১- জমহুর (অধিকাংশ আলেম) বলেন: পানি পবিত্র করা যায় হয় তাতে পবিত্র পানি ঢেলে দেওয়ার মাধ্যমে, অথবা তার কিছু অংশ সেচে ফেলার মাধ্যমে, অথবা নিজে নিজেই পরিবর্তন (রঙ, স্বাদ বা গন্ধ) দূর হওয়ার মাধ্যমে। তবে শাফেঈ ও হাম্বলীগণ পানি সেচে ফেলার ক্ষেত্রে শর্ত দিয়েছেন যে, পানি সেচার পর যেন দুই কুল্লা বা তার বেশি অবশিষ্ট থাকে। আর মালিকী মাযহাবে পানি সেচে ফেলার বিষয়ে দুটি মত রয়েছে।

২- হানাফীগণ বলেন: নাপাক পানি তার থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি সেচে ফেলার মাধ্যমে পবিত্র হয়, তবে অবশিষ্ট পানি পবিত্র হওয়ার জন্য কতটুকু সেচতে হবে তা নাপাকির ধরন এবং অবস্থার ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, জমহুর ওলামায়ে কেরাম সূর্যের আলো বা অন্য কিছুর মাধ্যমে পানির পরিবর্তন নিজে নিজে দূর হওয়াকে তা পবিত্র হওয়ার কারণ হিসেবে গণ্য করেন; কারণ তা একটি পবিত্র বস্তুতে রূপান্তরিত হয়েছে।

রূপান্তরিত হওয়া (ইস্তিহালাহ) সম্পর্কে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে।

১- হানাফী ও শাফেঈগণ এবং এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত যা ইবনে তাইমিয়্যাহ (১) পছন্দ করেছেন, তারা বলেন: নাপাকি থেকে রূপান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে বস্তু পবিত্র হয়ে যায়। তারা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দিয়ে দলিল পেশ করেছেন:

১- নাপাকির মূল সত্তা দূরীভূত ও রূপান্তরিত হয়েছে, ফলে তার কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই, তাই এর হুকুমও রহিত হওয়া উচিত। কেননা এটি এখন পবিত্র ও উত্তম বস্তুসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলা বলেন: (এবং তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন)। ইবনে হাযম বলেন: (যখন নাপাক বা হারাম বস্তুর মূল গুণাবলী রূপান্তরিত হয়ে যায়, তখন যে নামের কারণে উক্ত হুকুমটি এসেছিল তা বাতিল হয়ে যায় এবং তা এমন এক নামে স্থানান্তরিত হয় যা হালাল ও পবিত্র বস্তুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এমতাবস্থায় তা আর সেই নাপাক বা হারাম বস্তু থাকে না, বরং তা অন্য এক বস্তুতে পরিণত হয় যার হুকুমও ভিন্ন হয়)।

--------------------------------------------

(১) - শাফেঈগণ সত্তাগতভাবে নাপাক এবং অন্য কারণে নাপাক হওয়ার মধ্যে পার্থক্য করেছেন। আর ফাতাওয়া আলমগিরিতে পবিত্রকারী বিষয়সমূহ গণনার সময় রূপান্তরিত হওয়াকেও (ইস্তিহালাহ) উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ৪) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২)
2- القياس على ما يطهر بالاستحالة كالمسك فإنه طاهر مع أنه من الدم، لأنه استحال عن جميع صفات الدم، والخمرة تطهر إذا انقلبت بنفسها خلاً، والدم يصبح منياً، والعلقة تصبح مضغة، ولحم الجلالة الخبيث يصبح طيباً إذا علف الطيب، وما سقي بنجس إذا سقي بالماء الطاهر، والجلد يصبح طاهراً بعد الدبغ. قال ابن تيمية رحمه الله : وتنازعوا فيما إذا صارت النجاسة ملحاً في الملاحة أو صارت رماداً، أو صارت الميتة والدم والصديد تراباً كتراب المقبرة فهذا فيه خلاف، ثم قال: والصواب أن ذلك كله طاهر إذ لم يبق شئ من النجاسة لا طعمها ولا لونها ولا ريحها. وقال ابن قدامة رحمه الله : يتخرج أن تطهر النجاسات كلها بالاستحالة.

اعتراض ودفعه: أن الخمر إذا انقلبت خلاً بنفسها طهرت، وإذا خللت لم تطهر فيقاس عليها غيرها. والجواب: أن الخمرة إنما لم تطهر لأنه يحرم تخليلها، ولأن اقتناء الخمر حرام فمتى قصد باقتنائها التخليل كان قد فعل محرماً، والله أعلم.

2- وقيل بأن النجاسات لا تطهر بالاستحالة وهي وراية عن أحمد وقول لمالك، وللشافعي فيما نجاسته عينية كالميتة، واستدلوا بما يلي:

1- أن النجاسة لم تحصل بالاستحالة فلم تطهر بها كالدم إذا صار قيحاً وصديداً.

2- واحتياطاً للشك في النجاسة. 3- ولأن الأجزاء الجديدة هي تلك الأجزاء السابقة للنجاسة. 4- قياساً على الجلالة فمع أن النجاسة استحالت لم يحكم بطهارتها.

ونوقش بأن النجاسة قد زالت، وأما الجلالة فإنها تطهر بإطعامها الطاهر.

الترجيح: الراجح هو طهارة مياه الصرف الصحي إذا زالت النجاسة تماماً لزوال أوصافها وهي اللون والطعم والرائحة فتعود المياه إلى أصلها وهو الطهورية وإن كان ينبغي للمسلمين اجتنابها اكتفاءً بالمياه الأخرى ما وجدوا إلى ذلك سبيلاً احتياطاً، ولأن النفس قد تعاف تلك المياه وتستقذرها، وهذا ما أفتتنت به اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء.

 

المراجع:
২- রূপান্তরের (ইসতিহালাহ) মাধ্যমে যা পবিত্র হয় তার ওপর কিয়াস বা তুলনা করা, যেমন মৃগনাভি; এটি পবিত্র অথচ এটি রক্ত থেকে উৎপন্ন, কারণ এটি রক্তের সকল বৈশিষ্ট্য থেকে রূপান্তরিত হয়ে গিয়েছে। তদ্রূপ মদ যখন নিজে নিজে সিরকায় পরিণত হয় তখন তা পবিত্র হয়ে যায়। রক্ত বীর্যে পরিণত হয়, রক্তপিণ্ড মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়, এবং নাপাকি ভক্ষণকারী পশুর (জালালাহ) অপবিত্র গোশত পবিত্র হয়ে যায় যখন তাকে পবিত্র খাদ্য খাওয়ানো হয়। আবার যে জমিতে অপবিত্র পানি দিয়ে সেচন করা হয়েছিল, তা পবিত্র পানি দিয়ে সেচন করলে পবিত্র হয়ে যায়। আর চামড়া ট্যানিং বা প্রক্রিয়াজাত করার পর পবিত্র হয়ে যায়। ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "উলামাগণ মতভেদ করেছেন যখন অপবিত্রতা লবণাক্ত ভূমিতে লবণে পরিণত হয় অথবা ছাইয়ে পরিণত হয়, কিংবা মৃতদেহ, রক্ত ও পুঁজ কবরের মাটির ন্যায় মাটিতে পরিণত হয়; এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।" অতঃপর তিনি বলেন: "সঠিক মত হলো এই যে, এসবই পবিত্র; যেহেতু অপবিত্রতার কোনো কিছু অর্থাৎ তার স্বাদ, রঙ বা গন্ধ অবশিষ্ট নেই।" ইবনে কুদামাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এটি সাব্যস্ত করা যায় যে, সকল অপবিত্র বস্তু রূপান্তরের মাধ্যমে পবিত্র হয়ে যায়।"

আপত্তি ও তার খণ্ডন: মদ যখন নিজে নিজে সিরকায় রূপান্তরিত হয় তখন তা পবিত্র হয়, কিন্তু যখন কৃত্রিমভাবে সিরকা বানানো হয় তখন তা পবিত্র হয় না; সুতরাং এর ওপর ভিত্তি করে অন্য বস্তুগুলোকেও কিয়াস করা উচিত (অর্থাৎ সেগুলো পবিত্র হবে না)। এর উত্তর হলো: মদ (কৃত্রিমভাবে সিরকা বানালে) পবিত্র না হওয়ার কারণ হলো এটিকে সিরকায় রূপান্তর করা হারাম। যেহেতু মদ সংরক্ষণ করা হারাম, তাই যখন কেউ তা সিরকা তৈরির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করে, তখন সে একটি হারাম কাজ লিপ্ত হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

২- এবং বলা হয়েছে যে, রূপান্তরের মাধ্যমে অপবিত্রতা পবিত্র হয় না; এটি ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা এবং মালিকি মাজহাবের একটি মত। ইমাম শাফেয়ি এই মত পোষণ করেছেন ঐসব বস্তুর ক্ষেত্রে যেগুলোর নাপাকি বা অপবিত্রতা সত্তাগত (আইনি), যেমন মৃতদেহ। তারা নিম্নোক্ত দলীলসমূহ পেশ করেছেন:

১- রূপান্তরের কারণে অপবিত্রতা সৃষ্টি হয়নি, তাই এর দ্বারা তা পবিত্রও হবে না; যেমন রক্ত যখন পুঁজ বা রক্ত-পুঁজে পরিণত হয় (তখন তা অপবিত্রই থাকে)।

২- অপবিত্রতার বিষয়ে সন্দেহের কারণে সতর্কতা অবলম্বন। ৩- কারণ (রূপান্তরের পর সৃষ্ট) নতুন অংশগুলো মূলত পূর্বের সেই অপবিত্র অংশগুলোই। ৪- জালালাহ (নাপাকি ভক্ষণকারী পশু) এর ওপর কিয়াস করে; কারণ সেখানে নাপাকি রূপান্তরিত হওয়া সত্ত্বেও তার পবিত্রতার বিধান দেওয়া হয়নি।

এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, (রূপান্তরের ফলে) অপবিত্রতা দূরীভূত হয়ে গেছে। আর জালালাহ পশুর ক্ষেত্রে তা পবিত্র খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমেই পবিত্র হয়।

প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত (তারজীহ): অধিকতর সঠিক ও প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো, পয়ঃনিষ্কাশনের পানি পবিত্র বলে গণ্য হবে যদি অপবিত্রতা সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হয়; অর্থাৎ যখন এর বৈশিষ্ট্যসমূহ—রঙ, স্বাদ ও গন্ধ বিলুপ্ত হয়। তখন পানি তার মূল অবস্থায় ফিরে যায় আর তা হলো পবিত্রতা। যদিও সতর্কতা স্বরূপ মুসলমানদের উচিত অন্য পানি পাওয়া পর্যন্ত এই পানি পরিহার করা; কারণ মন স্বাভাবিকভাবে এই জাতীয় পানির প্রতি অনীহা পোষণ করতে পারে এবং একে নোংরা মনে করতে পারে। এটিই বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ) ফতোয়া প্রদান করেছে।

 

তথ্যসূত্র:
(খণ্ড: ৪) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
مجلة البحوث الإسلامية. العدد 35، الصفحة 35. وذكر بها عدد من المراجع الفقهية وغيرها.
ইসলামী গবেষণা সাময়িকী। সংখ্যা ৩৫, পৃষ্ঠা ৩৫। এতে বেশ কিছু ফিকহশাস্ত্রীয় ও অন্যান্য তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: -)
بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة   (-)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة

المؤلف: بعض طلبة العلم

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সমকালীন কতিপয় ফিকহী নবউদ্ভূত সমস্যার ওপর গবেষণা   (-)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


কিতাব: সমকালীন কতিপয় ফিকহী নবউদ্ভূত সমস্যার ওপর গবেষণা

লেখক: কতিপয় ইলম অন্বেষী

[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ৫) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌زكاة الأسهم والسندات

تعريف الأسهم والسندات:

السهم: صك يمثل حصة في رأس مال شركة مساهمة.

أو نقول الأسهم: صكوك متساوية القيمة، غير قابلة للتجزئة وقابلة للتداول بالطرق التجارية، وتمثل حقوق المساهمين في الشركات التي أسمهوا في رأس مالها.

السندات: جمع سند، والسند: صك مالي قابل للتداول، يمنح للمكتتب لقاء المبالغ التي أقرضها، ويخوله استعادة مبلغ القرض، علاوة على الفوائد المستحقة، وذلك بحلول أجله. أو نقول: تعهد مكتوب بملبغ من الدين (القرض) لحامله في تاريخ معين نظير فائدة مقدرة.

الفرق بين السهم والسند:

1- السهم يمثل جزءً من رأس مال الشركة، وأما السند فيمثل جزءً من قرض على الشركة أو الحكومة. 2- السهم تتغير قيمته.

3- حامل السند يعتبر مقرضاً أما حامل السهم فيعتبر مالكاً لجزء من الشركة، ولذلك فإن السهم يعطي حامله حق التدخل في الشركة.

4- للسند وقت محدد لسداده أما السهم فلا يسدد إلاّ بعد تصفية الشركة.

5- السند عند الإفلاس يوزع بالحصص، أما السهم فيأخذ مالكه نصيبه بعد سداد الديون.

حكم الأسهم والسندات:

الأسهم هي أجزاء تمثل رأس مال لشركة قد تكون صناعية أو زراعية، فهي جائزة شرعاً إذا كان النشاط مباحاً، ومما يدل على جوازها القياس على ما حدث مع تماضر الأشجعية في عهد عثمان بن عفان (() بعد استشارة الصحابة حيث أعطيت مقابل سهمها من التركة 80 ألف دينار، وكانت التركة أنواعاً من المال النقدي والعيني.

… وكون الأسهم تحتوي على نقود فهذا لا يمنع من حلها ولا يكون بيع نقدٍ بنقدٍ لأن النقد تابع لغيره والقاعدة تقول: يثبت تبعاً ما لا يثبت استقلالاً، وفي الحديث عن ابن عمر رضي الله عنه أن النبي (() قال: من باع عبداً وله ما ل فماله للبائع إلاّ أن يشترطه المبتاع. رواه مسلم.

وأما السندات فمحرمة لأنها مبنية على الربا.

زكاة الأسهم والسندات:

سنبدأ بالسندات لأن الأسهم تحتاج إلى تفصيل.
শেয়ার ও বন্ডের জাকাত

শেয়ার ও বন্ডের সংজ্ঞা:

শেয়ার: এমন একটি সনদ যা কোনো অংশীদারি কোম্পানির মূলধনের একটি অংশকে প্রতিনিধিত্ব করে।

অথবা আমরা বলতে পারি শেয়ার হলো: সমান মূল্যের কতগুলো সনদ, যা অবিভাজ্য এবং বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে লেনদেনযোগ্য, এবং এটি সেই কোম্পানিগুলোতে শেয়ারহোল্ডারদের অধিকারের প্রতিনিধিত্ব করে যাদের মূলধনে তারা অংশগ্রহণ করেছে।

বন্ডসমূহ: এটি ‘সানাদ’ (সনদ) শব্দের বহুবচন, আর বন্ড হলো: একটি লেনদেনযোগ্য আর্থিক দলিল, যা গ্রাহককে তার প্রদানকৃত ঋণের বিনিময়ে দেওয়া হয় এবং এটি তাকে ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মূল অর্থের পাশাপাশি প্রাপ্য সুদ ফেরত পাওয়ার অধিকার দান করে। অথবা আমরা বলতে পারি: একটি নির্দিষ্ট সুদের বিনিময়ে নির্দিষ্ট তারিখে বাহককে ঋণের অর্থ প্রদানের একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা।

শেয়ার ও বন্ডের মধ্যে পার্থক্য:

১- শেয়ার কোম্পানির মূলধনের একটি অংশকে প্রতিনিধিত্ব করে, আর বন্ড কোম্পানি বা সরকারের ওপর একটি ঋণের অংশকে প্রতিনিধিত্ব করে। ২- শেয়ারের মূল্য পরিবর্তিত হয়।

৩- বন্ড গ্রহীতাকে ঋণদাতা হিসেবে গণ্য করা হয়, কিন্তু শেয়ার হোল্ডারকে কোম্পানির একটি অংশের মালিক হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই শেয়ার তার মালিককে কোম্পানিতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার দান করে।

৪- বন্ড পরিশোধের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে, কিন্তু শেয়ার কোম্পানি অবসায়ন না হওয়া পর্যন্ত পরিশোধ করা হয় না।

৫- দেউলিয়া হওয়ার ক্ষেত্রে বন্ডের অর্থ আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়, আর শেয়ারের ক্ষেত্রে ঋণের দায় পরিশোধের পর মালিক তার অংশ পায়।

শেয়ার ও বন্ডের বিধান:

শেয়ার হলো এমন অংশ যা শিল্প বা কৃষিভিত্তিক কোনো কোম্পানির মূলধনের প্রতিনিধিত্ব করে, তাই কোম্পানির কার্যক্রম বৈধ হলে শরয়িভাবে এটি জায়েজ। এর বৈধতার একটি প্রমাণ হলো উসমান বিন আফফানের (রা.) যুগে সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শের পর তমাযুর আল-আশজাঈয়্যাহর সাথে যা ঘটেছিল তার ওপর কিয়াস করা; যেখানে তাকে উত্তরাধিকার থেকে তার শেয়ারের বিপরীতে ৮০ হাজার দিনার দেওয়া হয়েছিল, আর উত্তরাধিকার সম্পদটি নগদ এবং বস্তুগত বিভিন্ন ধরনের ছিল।

… এবং শেয়ারের মধ্যে নগদ অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকা এর বৈধতাকে বাধাগ্রস্ত করে না এবং এটি মুদ্রার বিনিময়ে মুদ্রা বিক্রয় হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ এখানে নগদ অর্থ অন্য কিছুর অনুগামী। আর ফিকহি মূলনীতি হলো: যা স্বতন্ত্রভাবে সাব্যস্ত হয় না, তা অনুগামী হিসেবে সাব্যস্ত হতে পারে। ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো দাস বিক্রয় করল যার কোনো সম্পদ রয়েছে, তবে সেই সম্পদ বিক্রেতারই প্রাপ্য, যদি না ক্রেতা তা শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে।" (মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত)।

আর বন্ডসমূহ হারাম, কারণ এগুলো সুদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

শেয়ার ও বন্ডের জাকাত:

আমরা বন্ড দিয়ে শুরু করব কারণ শেয়ারের আলোচনার জন্য বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।
(খণ্ড: ৫) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২)
1- السندات محرمة لما سبق ولكن هل تزكى؟ ما يأخذه من الربا يجب عليه أن يتخلص منه بإعادته إلى صاحبه وإذا لم يعلم صاحبه فيتصدق به جميعه بنية جعل الثواب لصاحبه. وقال الشيخ الزحيلي: بالرغم من تحريم السندات فإنها تجب زكاتها لأنها تمثل ديناً لصاحبها، وتؤدى زكاتها عن كل عام عملاً برأي جمهور الفقهاء غير المالكية، لأن الدين المرجو (وهو ما كان على مقرٍ موسرٍ) تجب زكاته في كل عام، وشهادات الاستثمار أو سندات الاستثمار هي في الحقيقية سندات وتجب فيها الزكاة وإن كان عائدها خبيثاً وكسبها حراماً، وتزكى السندات كزكاة النقود… وذلك لأن تحريم التعامل بالسندات لا يمنع من وجود التملك التام فيجب فيها الزكاة، أما المال الحرام غير المملوك كالمغصوب والمسروق ومال الرشوة… والربا ونحوها فلا زكاة فيه لأنه غير مملوك لحائزه ويجب رده لصاحبه الحقيقي منعاً من أكل أموال الناس بالباطل فإن بقي في حوزة حائزه وحال عليه الحول ولم يرد لصاحبه فيجب فيه زكاته رعاية لمصلحة الفقراء. أ.هـ وذكر ابن تيمية رحمه الله أن المال إن كان أهله غير معروفين ولا معينين كالأعراب المتناهبين تجب فيه الزكاة.

2- الأسهم: تنقسم الأسهم إلى ثلاثة أنواع:

1- الأسهم في شركة زراعية فتخرج زكاتها كما في زكاة الزروع والثمار.

2- أسهم في شركات تجارية فتجب زكاة الأسهم جميعها كعروض التجارة، وتقدر فيها الأسهم بقيمتها في السوق وقت وجوب الزكاة

3- أسهم في الشركات الصناعية فهذه اختلف في زكاتها:

أ- فقيل: تجب الزكاة في صافي الربح لا في المعدات والمباني ونحوها، اختار هذا القول الشيخ عبد الرحمن عيسى في كتابه المعاملات الحديثة وأحكامها.

ب ـ وقيل: لا فرق بين الأسهم في شركاتٍ صناعية أو تجارية ما دامت معدة للتجارة ولما في التفريق بينهما من المشقة، واختار هذا القول الشيخ يوسف القرضاوي.
১- পূর্ববর্তী আলোচনার প্রেক্ষিতে বন্ড (সন্দাত) হারাম, কিন্তু এগুলোর কি যাকাত দিতে হবে? সুদ থেকে যা গ্রহণ করা হয়, তা তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া ওয়াজিব। আর যদি মালিকের পরিচয় জানা না থাকে, তবে সওয়াব মালিকের হবে এই নিয়তে তার পুরো অংশ দান করে দিতে হবে। শেখ জুহাইলি বলেছেন: বন্ড হারাম হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোর যাকাত প্রদান করা ওয়াজিব; কারণ এটি তার মালিকের জন্য একটি ঋণের সমতুল্য। মালিকি মাজহাব ব্যতীত জুমহুর ফকিহদের মতানুসারে প্রতি বছর এর যাকাত আদায় করতে হবে। কারণ যে ঋণ আদায়ের আশা থাকে (যা কোনো সচ্ছল ও ঋণ স্বীকারকারীর নিকট থাকে) তার যাকাত প্রতি বছর দিতে হয়। বিনিয়োগ সার্টিফিকেট বা বিনিয়োগ বন্ডগুলো মূলত বন্ড-ই এবং এগুলোর ওপর যাকাত ওয়াজিব, যদিও এর লভ্যাংশ অপবিত্র এবং এর উপার্জন হারাম। বন্ডের যাকাত নগদ অর্থের যাকাতের ন্যায় প্রদান করতে হবে… এর কারণ হলো বন্ডের মাধ্যমে লেনদেন হারাম হওয়া পূর্ণ মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ার পথে বাধা নয়, তাই এতে যাকাত ওয়াজিব হবে। তবে যে হারাম মালের ওপর মালিকানা নেই, যেমন জবরদখলকৃত, চুরি করা এবং ঘুষের মাল… এবং সুদ ও এই জাতীয় সম্পদ, তাতে যাকাত নেই। কারণ এটি দখলকারীর মালিকানাধীন নয় এবং মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা থেকে বিরত থাকতে এটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। তবে যদি এটি দখলকারীর হস্তগত থাকে এবং তার ওপর এক বছর অতিক্রান্ত হয় অথচ মালিকের নিকট ফেরত না দেওয়া হয়, তবে দরিদ্রদের কল্যাণের স্বার্থে এতে যাকাত প্রদান করা ওয়াজিব। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, সম্পদের মালিক যদি অজ্ঞাত হয় বা নির্দিষ্ট না থাকে, যেমন লুণ্ঠনকারী বেদুইনদের ক্ষেত্রে, তবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে।

২- শেয়ার: শেয়ার তিন ভাগে বিভক্ত:

১- কৃষিভিত্তিক কোম্পানির শেয়ার; এর যাকাত শস্য ও ফলের যাকাতের ন্যায় আদায় করা হবে।

২- বাণিজ্যিক কোম্পানির শেয়ার; এক্ষেত্রে সকল শেয়ারের ওপর ব্যবসায়িক পণ্যের ন্যায় যাকাত ওয়াজিব হবে। যাকাত ওয়াজিব হওয়ার সময় শেয়ারের যে বাজারমূল্য থাকবে, সেই অনুযায়ী শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

৩- শিল্পভিত্তিক কোম্পানির শেয়ার; এগুলোর যাকাত সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে:

ক- বলা হয়েছে: যাকাত কেবল নিট মুনাফার ওপর ওয়াজিব হবে, যন্ত্রপাতি, ভবন বা এই জাতীয় স্থায়ী সম্পদের ওপর নয়। শেখ আবদুর রহমান ঈসা তাঁর 'আল-মুয়ামালাতুল হাদিসাহ ওয়া আহকামুহা' গ্রন্থে এই মতটি পছন্দ করেছেন।

খ- আবার বলা হয়েছে: শিল্পভিত্তিক বা বাণিজ্যিক কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই যতক্ষণ না সেগুলো ব্যবসার উদ্দেশ্যে রাখা হয় এবং উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে কষ্টসাধ্যতা বিদ্যমান থাকে। শেখ ইউসুফ আল-কারজাভি এই মতটি গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ৫) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
3- وفرق بعض العلماء بينها بحسب النية فإن كان المساهم يقصد الاستمرار في تملك حصةٍ شائعة في الشركة وأخذ العائد الدوري فلا يزكي الأصول، وإن كان تملكه على سبيل المتاجرة فيزكيها باعتبار قيمتها السوقية، وهذا قول الشيخ: عبد الله بن منيع.

ونوقش هذا القول بأنه تفريق بين المتماثلين.

وأجيب بأن النية لها دور في تغيير الزكاة كما في التملك للقنية والسكنى، والتملك للتجارة، ولأن من لا يقصد المتاجرة قد تمضي عليه فترة طويلة لا يبيع فيها ثم قد تنخفض الأسعار بخلاف الأول فإنه يبيع ويشتري دوماً.

الترجيح:

الراجح والله أعلم هو القول الأول لما تقرر لدى الفقهاء من أن آلات الصناعة والمباني ونحوها لا زكاة فيها إذا لم تكن هي ذاتها معدة للتجارة.

 

المراجع:

1ـ مجلة مجمع الفقه الإسلامي. العدد (4) ، ج (1) ص 707.

2ـ بحوث في الاقتصاد الإسلامي، لعبد الله بن سليمان بن منيع ص (67) .

3- مجموع رسائل الشيخ/ عبد الله المحمود. 4- زكاة الأسهم والسندات للشيخ/ صالح السلان. 5- أبحاث فقهية في قضايا الزكاة المعاصرة.
৩- কতিপয় আলেম নিয়তের ভিত্তিতে এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। যদি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানির সাধারণ শেয়ারের মালিকানা অব্যাহত রাখা এবং পর্যায়ক্রমিক লভ্যাংশ গ্রহণের সংকল্প করেন, তবে তিনি মূল সম্পদের (স্থাবর সম্পত্তি) যাকাত প্রদান করবেন না। আর যদি তাঁর মালিকানা ব্যবসার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তিনি বাজারমূল্য অনুযায়ী সেটির যাকাত প্রদান করবেন। এটি শাইখ আব্দুল্লাহ বিন মানী-এর অভিমত।

এই মতের ওপর সমালোচনা করা হয়েছে যে, এটি দুটি সদৃশ বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করার নামান্তর।

এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, যাকাতের বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিয়তের ভূমিকা রয়েছে; যেমনটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের সম্পদ এবং ব্যবসার সম্পদের মালিকানার ক্ষেত্রে দেখা যায়। তদুপরি, যাঁর লক্ষ্য ব্যবসা করা নয়, তাঁর কাছে বিক্রয় ছাড়াই দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হতে পারে এবং পরবর্তীতে মূল্য কমে যেতে পারে; যা প্রথম ব্যক্তির বিপরীত, কারণ তিনি সর্বদা ক্রয়-বিক্রয় করে থাকেন।

প্রধান্যপ্রাপ্ত মত:

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন, প্রথম মতটিই প্রধান্যপ্রাপ্ত। কারণ ফকীহগণের নিকট এটি প্রতিষ্ঠিত যে, শিল্পের যন্ত্রপাতি, ভবন এবং এই জাতীয় জিনিসের ওপর যাকাত নেই, যদি সেগুলো স্বয়ং ব্যবসার পণ্য হিসেবে প্রস্তুত করা না হয়ে থাকে।

 

তথ্যসূত্র:

১- মাজাল্লাতু মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী (ইসলামী ফিকহ একাডেমি সাময়িকী)। সংখ্যা (৪), খণ্ড (১), পৃষ্ঠা ৭০৭।

২- বুহুস ফিল ইক্কতিসাদিল ইসলামী (ইসলামী অর্থনীতি বিষয়ক গবেষণা), আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মানী, পৃষ্ঠা (৬৭)।

৩- শাইখ আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদের পত্রসমষ্টি। ৪- শেয়ার ও বন্ডের যাকাত, শাইখ সালিহ আস-সাল্লান। ৫- সমকালীন যাকাত বিষয়ক ফিকহী গবেষণা।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: -)
بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة   (-)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة

المؤلف: بعض طلبة العلم

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সমসাময়িক কিছু ফিকহি নাওয়াজিল (উদ্ভূত সমস্যা) সংক্রান্ত গবেষণা   (-)

বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল


গ্রন্থ: সমসাময়িক কিছু ফিকহি নাওয়াজিল সংক্রান্ত গবেষণা

লেখক: কতিপয় ইলম অন্বেষী

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ৬) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌إثبات رؤية الهلال بالمنظار

اتفق العلماء على أنه لا يثبت دخول شهر رمضان بحساب الفلكيين، ويثبت دخوله برؤية الهلال، لقول الرسول الكريم (( (: صوموا لرؤيته وأفطروا لرؤيته. ولكن هل هذه الرؤية مقصورة على الرؤية بالعين المجردة؟.

يقول سماحة الشيخ عبد العزيز بن باز رحمه الله : ذكر شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في رسالة صنفها في هذه المسألة (1) كما جاء في المجلد (25) من الفتاوى صفحة (132) إجماع العلماء على أنه لا يجوز العمل بالحساب في إثبات الأهلة وهو رحمه الله من أعلم الناس بمسائل الإجماع والخلاف. ونقل الحافظ في الفتح ج4 صفحة (127) عن أبي الوليد الباجي: إجماع السلف على عدم الاعتداد بالحساب، وأن إجماعهم حجة على من بعدهم. والأحاديث الصحيحة عن النبي (( (كلها تدل على ما دل عليه الإجماع المذكور. ولست أقصد من هذا منع الاستعانة بالمراصد والنظارات على رؤية الهلال، ولكني أقصد منع الاعتماد عليها أو جعلها معياراً للرؤية لا تثبت إلاّ إذا شهدت لها المراصد بالصحة، أو بأن الهلال قد ولد، فهذا كله باطل.

--------------------------------------------

(1) قصد مسألة إثبات دخول الشهر بالحساب، وسيأتي الكلام عن الرؤية.
দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে চাঁদ দেখার প্রমাণ

ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী রমজান মাস শুরু হওয়া প্রমাণিত হয় না; বরং তা চাঁদ দেখার মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। কারণ মহান রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা সম্পন্ন করো।" তবে এই দেখা কি কেবল খালি চোখে দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ?

পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এই বিষয়ে রচিত তাঁর একটি রিসালায় (১) উল্লেখ করেছেন—যেটি ফাতাওয়া সংকলনের ২৫তম খণ্ডের ১৩২ পৃষ্ঠায় এসেছে—যে, নতুন চাঁদ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিদ্যার হিসাবের ওপর আমল করা নাজায়েজ হওয়ার ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন। আর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ইজমা ও ইখতিলাফ (মতভেদ) সংক্রান্ত মাসআলাগুলোতে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ব্যক্তিদের একজন। হাফেজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ডের ১২৭ পৃষ্ঠায় আবুল ওয়ালিদ আল-বাজি থেকে বর্ণনা করেছেন: হিসাবকে গণ্য না করার ব্যাপারে সালাফদের ঐক্যমত রয়েছে এবং তাঁদের এই ঐক্যমত পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি অকাট্য দলিল। নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসসমূহ সেই বিষয়েরই প্রমাণ দেয় যার ওপর উক্ত ঐক্যমত সংঘটিত হয়েছে। এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য এই নয় যে, চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে মানমন্দির ও দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সহযোগিতা নেওয়া নিষিদ্ধ; বরং আমার উদ্দেশ্য হলো এগুলোর ওপর পূর্ণ নির্ভর করা বা এগুলোকে চাঁদ দেখার এমন মানদণ্ড বানানো থেকে নিষেধ করা—যেখানে মানমন্দিরগুলো সঠিক হওয়ার সাক্ষ্য না দিলে বা চাঁদ জন্ম নিয়েছে বলে সাক্ষ্য না দিলে তা সাব্যস্ত হবে না বলে গণ্য করা হয়। আর এই ধারণাটি সম্পূর্ণ বাতিল।

--------------------------------------------

(১) এখানে হিসাবের মাধ্যমে মাস শুরু হওয়ার মাসআলাটি বুঝানো হয়েছে, আর দেখা সংক্রান্ত আলোচনা সামনে আসবে।
(খণ্ড: ৬) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২)
وقال الشيخ محمد بن عثيمين رحمه الله : لا يجوز اعتماد حساب المراصد الفلكية إذا لم يكن رؤية، فإذا كان هناك رؤية ولو عن طريق المراصد الفلكية فإنها معتبرة لعموم قول النبي (( (: إذا رأيتموه فصوموا، وإذا رأيتموه فأفطروا. أما الحساب فإنه لا يجوز العمل به ولا الاعتماد عليه، وأما استعمال ما يسمى (بالدربيل) وهو المنظار المقرب في رؤية الهلال فلا بأس به ولكن ليس بواجب، لأن السنة أن الإعتماد على الرؤية المعتادة لا على غيرها. ولكن لو استعمل فرآه من يوثق به فإنه يعمل بهذه الرؤية، وقد كان الناس قديماً يستعملون ذلك لما كانوا يصعدون (المناثر) في ليلة الثلاثين من شعبان أو ليلة الثلاثين من رمضان فيتراءونه بواسطة هذا المنظار، على كل حال من ثبتت رؤيته بأي وسيلة فإنه يجب العمل بمقتضى هذه الرؤية لعموم قوله (( (: إذا رأيتموه فصوموا، وإذا رأيتموه فأفطروا. أهـ.

ضوابط استخدام المنظار والمراصد:

1- الاستعانة بها لا الاعتماد عليها وجعلها معياراً للرؤية لا تثبت الرؤية إلاّ إذا شهدت لها المراصد.

2- عدم التكلُّف والتمحل في استخدامها.

3- تحقق الرؤية البصرية من خلالها.

4- أن تكون بأيدي إسلامية عدْلة.

5- أن تعطي الصورة للموقع نفسه إذ لو لم تكن كذلك فقد تعطى صورة لموقع سابق فلا يكون الهلال ولد في نفس البلد.

المراجع:

1- مجلة البحوث الإسلامية. صفحة (276) .

2- من فتاوى أئمة الإسلام في الصيام. إعداد: أحمد بن عبد الله العلان صفحة (448) .

3- مجلة مجمع الفقه الإسلامي. عدد 3 ج2.

4- فتاوى اللجنة الدائمة. 10/98.
এবং শায়খ মুহাম্মাদ বিন উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: যদি চাঁদ দেখা না যায় তবে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক মানমন্দিরের হিসাবের ওপর নির্ভর করা বৈধ নয়। আর যদি চাঁদ দেখা যায়, এমনকি তা যদি মানমন্দিরের মাধ্যমেও হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাধারণ বাণী হলো: "যখন তোমরা তা (চাঁদ) দেখবে তখন রোজা রাখো এবং যখন তোমরা তা দেখবে তখন রোজা ভঙ্গ করো।" আর হিসাবের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, এর ওপর আমল করা বা নির্ভর করা জায়েজ নয়। তবে যাকে 'দরবীন' বলা হয়, অর্থাৎ নতুন চাঁদ দেখার জন্য ব্যবহৃত দূরবীন, তা ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এটি আবশ্যক নয়, কারণ সুন্নাহ হলো সাধারণ দৃষ্টির ওপর নির্ভর করা, অন্য কিছুর ওপর নয়। তবে যদি এটি ব্যবহার করা হয় এবং এমন কেউ তা দেখেন যিনি নির্ভরযোগ্য, তবে সেই দেখা অনুযায়ী আমল করা হবে। মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই এটি ব্যবহার করে আসছিল যখন তারা শাবানের ত্রিশতম রাতে বা রমজানের ত্রিশতম রাতে উঁচু মিনারগুলোতে উঠতেন এবং এই দূরবীনের সাহায্যে চাঁদ দেখার চেষ্টা করতেন। যা-ই হোক, যে কারো মাধ্যমে যে কোনো উপায়ে চাঁদ দেখা প্রমাণিত হবে, সেই দেখা অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হবে; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাধারণ বাণী হলো: "যখন তোমরা তা দেখবে তখন রোজা রাখো এবং যখন তোমরা তা দেখবে তখন রোজা ভঙ্গ করো।" সমাপ্ত।

দূরবীন ও মানমন্দির ব্যবহারের নীতিমালা:

১- এগুলোর সাহায্য নেওয়া যাবে কিন্তু এগুলোর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়া যাবে না এবং একে চাঁদ দেখার একমাত্র মানদণ্ড বানানো যাবে না যে, মানমন্দির সাক্ষ্য না দিলে চাঁদ দেখা সাব্যস্ত হবে না।

২- এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অহেতুক কষ্টকল্পনা বা কৃত্রিমতা অবলম্বন না করা।

৩- এর মাধ্যমে চাক্ষুষ দর্শন নিশ্চিত হওয়া।

৪- এটি যেন ন্যায়পরায়ণ মুসলিমদের তত্ত্বাবধানে থাকে।

৫- এটি যেন সংশ্লিষ্ট স্থানেরই দৃশ্য প্রদান করে; কারণ যদি এমন না হয়, তবে হয়তো পূর্ববর্তী কোনো স্থানের দৃশ্য দিতে পারে যেখানে চাঁদ দেখা গেলেও সংশ্লিষ্ট দেশে তা উদিত নাও হতে পারে।

তথ্যসূত্র:

১- মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ২৭৬।

২- মিন ফাতাওয়্যা আইম্মাতিল ইসলাম ফিস সিয়াম, সংকলনে: আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আল্লান, পৃষ্ঠা: ৪৪৮।

৩- মাজাল্লাতু মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী, সংখ্যা ৩, খণ্ড ২।

৪- ফাতাওয়্যা আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ১০/৯৮।
(খণ্ড: ৬) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
5- - توضيح الأحكام، للشيخ: عبد الله البسام (1)

--------------------------------------------

(1) - ومن النوازل في العبادات أيضاً: معرفة أوقات الصلوات في الأماكن التي لا تغيب فيها الشمس أو لا تطلع لمدةٍ طويلة كستة أشهر، مثلاً ففي مثل هذه الحال إذا لم يكن الشفقان (شفق الغروب والشروق) يتمايزان فلا يتميز الليل والنهار في خلال أربعةٍ وعشرين ساعة فإنه يقدر الوقت بالنظر لأقرب البلدان إليها (وقال بعضهم بالنسبة لمكة والمدينة والأول أصح) ودليل التقدير القياس على ما ورد في حديث النواس بن سمعان رضي الله عنه الذي ذكر فيه الدجال، وفيه: قالوا: يا رسول الله:: مالبثه في الأرض؟ قال: أربعون يوماً: يومٌ كسنة، ويوم كشهر، ويومٌ كجمعة، وسائر أيامه كأيامكم قالوا: يا رسول الله فذاك اليوم كسنة، أتكفينا فيه صلاة يوم؟ قال: لا، اقدروا له قدره. فكذلك الحال هنا، وبالنسبة للصيام كذلك. وأما إذا لم يزد مجموع الليل والنهار عن أربعٍ وعشرين ساعة فيبقى الحال على الأصل ولو طال النهار عملاً بأحاديث التوقيت.

المراجع: قرارات مجلس المجمع الفقهي الإسلامي ص89.

مجلة البحوث الفقهية المعاصرة 1/222.

ومن النوازل في الصيام: بعض المواد المختلف في تفطيرها للصائم كبخاخ الربو فقد قيل لا يفطر لأنه يصل للرئتين، وقيل: يفطر لأن به بعض المواد التي تصل للمعدة. وانظر مجلة الحكمة عدد14 ص97.

وانظر في علاج الأسنان في نهار رمضان مجلة البحوث الإسلامية 58/113.

 

ومن النوازل في الحج: الطواف والسعي ورمي الجمار من الطابق العلوي، وقد ذكرت مسألة الطواف في مواهب الجليل 3/75 عند ذكره لاشتراط الطواف داخل المسجد حيث قال: ومثله والله أعلم من طاف على سطح المسجد، وهذا ظاهر ولم أره منصوصاً وصرح الشافعية والحنفية بأنه يجوز الطواف على سطح المسجد ولم يتعرض لذلك الحنابلة والله أعلم أ. هـ. ودليل الجواز أن الهواء له حكم القرار وقياساً على الصلاة على سطح المسجد فإنه يجوز لكن بشرط ألا يخلو الأسفل من المصلين. وانظر: مجلة البحوث الإسلامية 1/182.

ومنها: إذا ضاقت منى عن الحجاج كما يحدث في هذه الأزمان لكثرة الحجاج بسبب سهولة السفر، فقيل: يسقط عنه المبيت لأن الواجب المبيت في منى فلو بات خارجها لم يجزه فيسقط عند العذر للعجز عنه وهذا القول للشيخ/ عبد العزيز بن باز رحمه الله . وقيل: بل يبيت بالقرب من منى إلى أقرب خيمة، ولا بأس بذلك إذا اتصلت الخيام قياساً على الصلاة خارج المسجد إذا اتصلت الصفوف وقال به الشيخ/ محمد بن عثيمين رحمه الله .

ومن النوازل في الجهاد: العمليات الفدائية، أو الانتحارية، أو الاستشهادية، وإنما اختلف في تسميتها بحسب النظرة لها.

وصورتها: أن يقوم شخصٌ بتفجير نفسه وسط الأعداء فيحدث ذلك ضرراً فيهم ولكنه يكون هو أيضاً من جملة القتلى، وقد يقود سيارة ممتلئة بالمتفجرات فيصطدم بالأعداء ونحو ذلك.

الحكم الشرعي: قال أكثر العلماء المعاصرين بجوازها إذا ترتب عليها مصلحة كبيرة للإسلام والمسلمين، وممن قال بالجواز الشيخ/ عبد الله بن حميد رحمه الله، والشيخ/ عبد الله بن منيع، والشيخ الدكتور/ وهبة الزحيلي، والشيخ الدكتور/ يوسف القرضاوي، وبه صدرت الفتوى من مجموعة من علماء الأردن، ومن الأدلة على الجواز ما يلي:

1- قوله تعالى (إن الله اشترى من المؤمنين أنفسهم وأموالهم بأن لهم الجنة، يقاتلون في سبيل الله فيقتلون ويقتلون) الآية. ووجه الدلالة: أن الله اشترى من العباد إتلاف أنفسهم وأموالهم في طاعته، وهلاكها في مرضاته.

2- قصة الغلام الذي دل الملِك على كيفية قتله بأن يقول: باسم الله رب الغلام، وهذا بيانٌ منه للصفة التي تؤدي إلى قتله ولكنه من أجل الدين فجاز قال ابن تيمية: إن الغلام أمر بقتل نفسه من أجل مصحة الدين أ. هـ وكونه لم يباشر القتل بنفسه لا يؤثر فالمباشرة لا أثر لها في تغيير الحكم.

3- حديث أبي هريرة رضي الله عنه : من خير معاش الناس رجلٌ ممسكٌ بعنان فرسه كلما سمع هيعةً أو فزعةً طار إليها يبتغي الموت من مظانه رواه مسلم. فهذه العمليات المراد بها: طلب الشهادة والنكاية بالعدو فهي جائزة. وإنما يحرم قتل النفس وإلقاؤها في التهلكة لا لغرضٍ شرعي.

4- القياس على الانغماس في العدو الجائز، ومما يدل على جوازه " فعل البراء بن مالك رضي الله عنه في حرب المرتدين حيث طلب من الصحابة أن يضعوه في ترس فيلقوه على الأعداء مع أنه يغلب على الظن الهلاك بمثل هذا العمل". وأيضاَ إنكار أبي أيوب رضي الله عنه على من عابوا على من ألقى بنفسه وسط الأعداء، واحتجوا بقوله تعالى (وأنفقوا في سبيل الله ولا تلقوا بأيديكم للتهلكة) فرد عليهم وذكر أنها نزلت في الصحابة لما قال بعضهم: هلم نقيم في أموالنا ونصلحها وندع الجهاد. وأيضاً قصة عمير بن الحمام –رضي الله عنه قال النووي تعليقاً على الحديث: فيه جواز الانغمار في الكفار والتعرض للشهادة، وهو جائزٌ بلا كراهة عند جماهير العلماء. وقال الأبي: حمل الواحد على الجماعة وإن علم أنه يقتل في حملته أجازه عمر وأبو هريرة وفعله كثيرٌ من السلف، وليس من الإلقاء باليد إلى التهلكة، وتلو في ذلك (ومن الناس من يشري نفسه ابتغاء مرضاة الله) قال محمد بن الحسن: يجوز، حتى لو حمل واحد على ألف إذا طمع الفجأة، أو نكاية، أو يقتدي به غيره، أو يرهب العدو مما يريهم من صلابة المسلمين في دينهم، وإلا فهو مكروه) . وذكر ابن حجر من الفوائد في قصة أنس بن النضر: (جواز بذل النفس في الجهاد،..وأن طلب الشهادة في الجهاد لا يتناوله النهي عن الإلقاء إلى التهلكة) .

وأما التفريق بكون العمليات الاستشهادية الموت فيها محقق بخلاف الانغماس في العدو فيجاب بأن غلبة الظن تنزل منزلة اليقين، فقد جاء في القواعد للمقري قوله: قاعدة: المشهور من مذهب مالك أن الغالب مساوٍ للمحقق في الحكم. وقال الشاطبي في الاعتصام 2/14: الحكم بغلبة الظن أصل الأحكام.

واشترط الشيخ/ محمد ناصر الدين الألباني –رحمه الله للجواز وجود الأمير والجيش والحكم الإسلامي، ليكون ذلك أنكى للعدو ولاختيار الوقت المناسب، ولئلا يعود أثرها بالضرر على الأمة.

وأما الشيخ/ محمد بن صالح بن عثيمين –رحمه الله فقال كما في اللقاء الشهري ص74: هذا الشاب الذي وضع على نفسه اللباس الذي يقتل أول ما يقتل نفسه، فلا شك انه هو الذي تسبب في قتل نفسه، ولا يجوز مثل هذه الحال إلا إذا كان في ذلك مصلحة كبيرة، ونفع عظيم للإسلام كان ذلك جائزاً. وفي شرحه لرياض الصالحين 1/165 ذكر أنه من قتل النفس المحرم وفاعله ليس بشهيد، لأنه لم ينتفع بذلك الإسلام بل ربما يتعنت العدو أكثر ويوغر صدره هذا العمل فيفتك بالمسلمين، وإن كان إذا فعله متأولاً نرجو أن يسلم من الإثم.

وقال الدكتور/ محمد خليل هيكل بجوازها عند الضرورة فقط قياساً على ما إذا تترس العدو بالمسلمين، والله أعلم.

المراجع:

1- تفسير القرطبي للآية (195) من سورة البقرة.

2- مشارع الأشواق إلى مصارع العشاق، لابن النحاس.

3- العمليات الاستشهادية في الميزان الفقهي، لنواف هايل التكروري ط2/1418هـ.

4- العمليات الاستشهادية وآراء الفقهاء فيها لمحمد سعيد غيبة الناشر دار المكتبي دمشق 1417هـ.

5- أحكام الشهيد في الفقه الإسلامي، رسالة ماجستير لعبد الرحمن بن غرمان العمري.
৫- - তাওদীহুল আহকাম, শাইখ আব্দুল্লাহ আল-বাসসাম কর্তৃক (১)

--------------------------------------------

(১) - ইবাদতের ক্ষেত্রে আধুনিক মাসয়ালাসমূহের (নাওয়াযিল) মধ্যে আরও রয়েছে: এমন সব স্থানে নামাজের ওয়াক্ত জানা যেখানে সূর্য অস্ত যায় না অথবা দীর্ঘ সময় উদিত হয় না যেমন ছয় মাস। উদাহরণস্বরূপ, এমন অবস্থায় যদি দুই শফক (সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের লালিমা) আলাদা করা না যায় এবং চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে রাত ও দিন পৃথক না হয়, তবে সবচেয়ে কাছের দেশের সময় অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করতে হবে (কেউ কেউ মক্কা ও মদিনার সময়ের কথা বলেছেন, তবে প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ)। এই সময় অনুমানের দলিল হলো নাওয়াস বিন সামআন (রা.)-এর হাদিসের ওপর কিয়াস, যাতে দাজ্জাল সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে: সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! সে পৃথিবীতে কতদিন অবস্থান করবে? তিনি বললেন: চল্লিশ দিন: একদিন এক বছরের মতো, একদিন এক মাসের মতো, একদিন এক জুমার (সপ্তাহের) মতো এবং তার বাকি দিনগুলো তোমাদের সাধারণ দিনের মতো। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! সেই দিনটি যা এক বছরের মতো হবে, সেখানে কি আমাদের জন্য একদিনের নামাজ যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন: না, তোমরা তার জন্য যথাযথ সময় নির্ধারণ করো। এখানেও অবস্থা একই রূপ, এবং রোজার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাই। তবে যদি দিন ও রাতের মোট সময় চব্বিশ ঘণ্টার বেশি না হয়, তবে সময়ের হাদিসসমূহ অনুযায়ী দিন দীর্ঘ হলেও তা মূল নিয়মেই বহাল থাকবে।

উৎসসমূহ: ইসলামি ফিকহ একাডেমি পরিষদের সিদ্ধান্তসমূহ, পৃষ্ঠা ৮৯।

ফিকহি গবেষণা সাময়িকী ১/২২২।

রোজার আধুনিক মাসয়ালাসমূহের মধ্যে রয়েছে: এমন কিছু দ্রব্য যা রোজাদারের রোজা ভঙ্গ করবে কিনা সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, যেমন অ্যাজমার স্প্রে। কেউ বলেছেন এটি রোজা ভঙ্গ করে না কারণ এটি ফুসফুসে পৌঁছায়, আবার কেউ বলেছেন এটি রোজা ভঙ্গ করে কারণ এতে এমন কিছু উপাদান থাকে যা পাকস্থলীতে পৌঁছায়। দেখুন: আল-হিকমাহ সাময়িকী, সংখ্যা ১৪, পৃষ্ঠা ৯৭।

রমজান মাসে দিনের বেলা দাঁতের চিকিৎসার ক্ষেত্রে দেখুন: ইসলামি গবেষণা সাময়িকী ৫৮/১১৩।

 

হজের আধুনিক মাসয়ালাসমূহের মধ্যে রয়েছে: ওপর তলা থেকে তাওয়াফ, সাঈ এবং কঙ্কর নিক্ষেপ। মাওয়াহিবুল জলীল ৩/৭৫-এ মসজিদের ভেতরে তাওয়াফ করার শর্ত উল্লেখ করতে গিয়ে তাওয়াফের মাসয়ালাটি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে: আল্লাহর কসম, একই হুকুম তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যে মসজিদের ছাদের ওপর তাওয়াফ করে। এটি স্পষ্ট, যদিও আমি এর সরাসরি কোনো বর্ণনা দেখিনি। শাফেয়ী ও হানাফী মাযহাবের আলেমগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, মসজিদের ছাদের ওপর তাওয়াফ করা জায়েজ। হাম্বলীগণ এ বিষয়ে কিছু বলেননি, আল্লাহই ভালো জানেন। সমাপ্ত। জায়েজ হওয়ার দলিল হলো—বাতাস বা শূন্যস্থান নিচের স্থানের হুকুম রাখে, এবং মসজিদের ছাদে নামাজ পড়ার ওপর কিয়াস করে এটি জায়েজ হবে, তবে শর্ত হলো নিচের অংশ মুসল্লি শূন্য হতে পারবে না। দেখুন: ইসলামি গবেষণা সাময়িকী ১/১৮২।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি মিনায় হাজীদের জায়গা সংকুলান না হয়, যেমনটি যাতায়াত সহজ হওয়ার কারণে বর্তমান সময়ে হাজীদের আধিক্যের ফলে ঘটছে। কেউ বলেছেন: তার ওপর থেকে রাত্রিযাপন (মাবীত) বাদ যাবে, কারণ ওয়াজিব হলো মিনায় রাত্রিযাপন করা। তাই যদি কেউ মিনার বাইরে রাত কাটায় তবে তা যথেষ্ট হবে না, ফলে অপারগতার কারণে অক্ষমতার দরুন তা রহিত হয়ে যাবে। এটি শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বায (রহ.)-এর মত। আবার কেউ বলেছেন: বরং সে মিনার নিকটবর্তী কোনো তাঁবুর পাশে রাত কাটাবে। যদি তাঁবুগুলো সংযুক্ত থাকে তবে এতে কোনো অসুবিধা নেই, মসজিদের বাইরে নামাজ পড়ার সাথে তুলনা করে যখন কাতারগুলো সংযুক্ত থাকে। এটি শাইখ মুহাম্মাদ বিন উসাইমীন (রহ.)-এর মত।

জিহাদের আধুনিক মাসয়ালাসমূহের মধ্যে রয়েছে: ফিদায়ী হামলা, বা আত্মঘাতী হামলা, বা শাহাদতকামী অভিযান। দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারণে এর নামকরণে ভিন্নতা রয়েছে।

এর ধরণ হলো: কোনো ব্যক্তি শত্রুদের মাঝে নিজেকে বিস্ফোরিত করবে যার ফলে তাদের ক্ষতি হবে কিন্তু সে নিজেও নিহতদের অন্তর্ভুক্ত হবে। অথবা সে বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি চালিয়ে শত্রুদের সাথে ধাক্কা লাগাবে ইত্যাদি।

শরয়ি বিধান: সমসাময়িক অধিকাংশ আলেম এটি জায়েজ বলেছেন যদি এতে ইসলাম ও মুসলমানদের বড় কোনো কল্যাণ নিহিত থাকে। যারা জায়েজ বলেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শাইখ আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ (রহ.), শাইখ আব্দুল্লাহ বিন মানী', শাইখ ড. ওয়াহবা আয-জুহাইলি, শাইখ ড. ইউসুফ আল-কারযাভী এবং জর্ডানের একদল আলেমের ফতোয়াও এর স্বপক্ষেই এসেছে। জায়েজ হওয়ার দলিলসমূহ নিম্নরূপ:

১- আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন এই বিনিময়ে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, ফলে তারা হত্যা করে এবং নিহত হয়" (আয়াত)। দলিলের দিক হলো: আল্লাহ বান্দাদের থেকে তার আনুগত্যে নিজেদের জীবন ও সম্পদ বিলিয়ে দেওয়া এবং তার সন্তুষ্টির জন্য ধ্বংস হওয়া ক্রয় করে নিয়েছেন।

২- সেই বালকের গল্প যে বাদশাহকে তাকে হত্যার পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছিল এই বলে যে: "বালকের রব আল্লাহর নামে"। এটি তার পক্ষ থেকে নিজেকে হত্যার পদ্ধতির বর্ণনা ছিল কিন্তু তা ছিল দ্বীনের স্বার্থে, তাই এটি জায়েজ হয়েছে। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: বালকটি দ্বীনের কল্যাণে নিজেকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল। সমাপ্ত। সে নিজে সরাসরি হত্যায় লিপ্ত না হওয়া কোনো প্রভাব ফেলে না, কারণ সরাসরি হত্যায় লিপ্ত হওয়া হুকুম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব রাখে না।

৩- আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস: "মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে সর্বোত্তম হলো সেই ব্যক্তি যে তার ঘোড়ার লাগাম ধরে থাকে, যখনই সে কোনো আর্তনাদ বা ভয়ের খবর পায়, সে মৃত্যুর সন্ধানে সেদিকে ছুটে যায়" (মুসলিম বর্ণিত)। এই অপারেশনগুলোর উদ্দেশ্য হলো শাহাদত অন্বেষণ এবং শত্রুর ক্ষতি সাধন, তাই এটি জায়েজ। আর কেবল শরয়ি উদ্দেশ্য ছাড়া আত্মহত্যা করা এবং নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হারাম।

৪- শত্রুবাহিনীর ভেতরে ঢুকে পড়ার (ইনগিমাস) বৈধতার ওপর কিয়াস। এটি জায়েজ হওয়ার প্রমাণ হলো মুরতাদদের যুদ্ধের সময় বারা ইবনে মালিক (রা.)-এর আমল, যেখানে তিনি সাহাবীদের বলেছিলেন তাকে যেন একটি ঢালের ওপর রেখে শত্রুদের মাঝে নিক্ষেপ করা হয়, যদিও এই কাজে মৃত্যুর প্রবল আশঙ্কা ছিল। এছাড়া আবু আইয়ুব (রা.) ঐ ব্যক্তিদের প্রতিবাদ করেছিলেন যারা শত্রুর মাঝে নিজেকে নিক্ষেপকারীকে দোষারোপ করত এবং আল্লাহর বাণী "তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না" দ্বারা দলিল দিত। তিনি তাদের প্রতিবাদ করে উল্লেখ করেন যে, এই আয়াত সাহাবীদের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে যখন তাদের কেউ কেউ বলেছিল: চলো আমরা আমাদের সম্পদ দেখাশোনা করি এবং জিহাদ ছেড়ে দেই। উমাইর বিন হুমাম (রা.)-এর ঘটনাও এর অন্তর্ভুক্ত। ইমাম নববী হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: এতে কাফেরদের মাঝে ঢুকে পড়া এবং শাহাদত বরণ করার সুযোগ খোঁজার বৈধতা রয়েছে এবং জমহুর ওলামাদের মতে এটি কোনো অপছন্দনীয়তা ছাড়াই জায়েজ। আল-আব্বী বলেন: একজনের পক্ষে দলের ওপর হামলা চালানো জায়েজ যদি সে জানে যে সে এই হামলায় নিহত হবে, ওমর ও আবু হুরায়রা (রা.) এটি জায়েজ বলেছেন এবং অনেক সালাফ এটি করেছেন। এটি 'নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া' নয়। তারা এর স্বপক্ষে তিলাওয়াত করতেন: "আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টির সন্ধানে নিজের জীবন বিক্রি করে দেয়"। মুহাম্মাদ বিন হাসান বলেন: জায়েজ, এমনকি যদি একজন লোক এক হাজারের ওপর হামলা করে যদি সে অতর্কিত আক্রমণ বা ক্ষতির আশা রাখে অথবা অন্য কেউ তাকে অনুসরণ করবে এমন আশা রাখে অথবা মুসলমানদের কঠোরতা দেখিয়ে শত্রুকে আতঙ্কিত করতে চায়। অন্যথায় এটি মাকরুহ। ইবনে হাজার আনাস বিন নাযর-এর কাহিনী থেকে প্রাপ্ত উপকারের বর্ণনায় বলেন: জিহাদে জীবন উৎসর্গ করা জায়েজ... এবং জিহাদে শাহাদত অন্বেষণ করা ধ্বংসের মুখে নিজেকে ঠেলে দেওয়ার নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়।

আর শাহাদতকামী অভিযানে মৃত্যু নিশ্চিত—এই পার্থক্যের উত্তরে বলা যায় যে, প্রবল ধারণা নিশ্চিত বিশ্বাসের স্থলাভিষিক্ত হয়। আল-মাক্বরী তার 'কাওয়ায়েদ' গ্রন্থে বলেন: মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো, অধিকাংশ সময় যা ঘটে তা হুকুমের ক্ষেত্রে নিশ্চিত বিষয়ের সমান। শাত্বেবী 'আল-ইতিসাম' ২/১৪-এ বলেন: প্রবল ধারণার ভিত্তিতে হুকুম দেওয়া আহকামের মূল ভিত্তি।

শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (রহ.) এটি জায়েজ হওয়ার জন্য একজন আমির, সেনাবাহিনী এবং ইসলামি শাসনের শর্তারোপ করেছেন, যাতে এটি শত্রুর জন্য বেশি ক্ষতিকর হয় এবং উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা যায়, আর যাতে এর প্রভাব উম্মতের ক্ষতির কারণ না হয়।

শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রহ.) 'আল-লিকাউশ শাহরি' পৃষ্ঠা ৭৪-এ বলেন: এই যুবক যে নিজের শরীরে এমন পোশাক পরেছে যা সবার আগে তাকেই হত্যা করবে, কোনো সন্দেহ নেই যে সে নিজেই নিজের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। এমন পরিস্থিতি জায়েজ নয় যদি না এতে ইসলামের জন্য বড় কোনো কল্যাণ এবং মহান উপকার থাকে, তবেই এটি জায়েজ হতে পারে। রিয়াদুস সালেহীনের শারহ ১/১৬৫-এ তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি নিষিদ্ধ আত্মহত্যার অন্তর্ভুক্ত এবং এর সম্পাদনকারী শহীদ নন, কারণ এতে ইসলামের কোনো উপকার হয়নি বরং শত্রু হয়তো আরও কঠোর হবে এবং এই কাজ তাদের অন্তরে ঘৃণা সৃষ্টি করবে ফলে তারা মুসলমানদের ওপর চড়াও হবে। তবে সে যদি এটি ভুল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে করে থাকে তবে আশা করা যায় সে গুনাহ থেকে বেঁচে যাবে।

ড. মুহাম্মাদ খলিল হাইকাল এটি কেবল বিশেষ প্রয়োজনের (জরুরত) সময় জায়েজ বলেছেন, যখন শত্রু মুসলমানদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সেই অবস্থার ওপর কিয়াস করে। আল্লাহই ভালো জানেন।

তথ্যসূত্র:

১- সূরা বাকারার ১৯৫ নম্বর আয়াতের তাফসীরে কুরতুবী।

২- মাশারীউল আশওয়াক্ব ইলা মাসারিউল উশশাক্ব, ইবনুন নাহহাস।

৩- আল-আমালিয়্যাত আল-ইসতিশহাদিয়্যাহ ফীল মীযানিল ফিক্বহী, নাওয়াফ হাইল তাকরূরী, ২য় সংস্করণ/১৪১৮ হিজরী।

৪- আল-আমালিয়্যাত আল-ইসতিশহাদিয়্যাহ ওয়া আরাউল ফুক্বাহা ফীহা, মুহাম্মাদ সাঈদ গাইবাহ, প্রকাশনা: দারুল মাকতাবি দামেস্ক ১৪১৭ হিজরী।

৫- আহকামুশ শাহীদ ফিল ফিক্বহিল ইসলামী, মাস্টার্স থিসিস, আব্দুর রহমান বিন গুরমান আল-আমরী।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: -)
بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة   (-)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة

المؤلف: بعض طلبة العلم

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কতিপয় সমসাময়িক ফিকহী সমস্যার ওপর গবেষণাপত্র   (-)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: কতিপয় সমসাময়িক ফিকহী সমস্যার ওপর গবেষণাপত্র

লেখক: কতিপয় ইলম অন্বেষী

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরকৃত]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ৭) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌النوازل المالية
সমসাময়িক আর্থিক সমস্যাবলি
(খণ্ড: ১) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: -)
بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة   (-)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة

المؤلف: بعض طلبة العلم

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সমকালীন কতিপয় ফিকহী সমস্যার ওপর গবেষণা   (-)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: সমকালীন কতিপয় ফিকহী সমস্যার ওপর গবেষণা

লেখক: কতিপয় ইলম অন্বেষী

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরী

(খণ্ড: ৮) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌الأوراق النقدية ـ زكاتها وجريان الربا فيها

تعريف النقد:

النقد لغة: تمييز الشيء وتقدير قيمته، ولهذا كان من خصائص الثمن أنه مقياسٌ للقيم.

والنقد هو: الثمن، وهو: ما يصح أن تجعل الباء في مقابلته فتقول مثلاً: بعت ثوباً بعشرة إلاّ أنه إن كان نقوداً فهو الثمن دائماً.

والنقد اصطلاحاً: هو كل شئ يلقى قبولاً عاماً كوسيطٍ للتبادل مهما كان ذلك الشيء وعلى أي حالٍ يكون.

ومن خصائصه: أنه مستودعٌ للقيمة فمن ملك النقد فكأنه ملك كل شئ لأنه يستطيع أن يشتري به ما يشاء، ولذلك لا ينبغي كنزه ومنعه من التداول أو الاقتصار على مبادلته ببعضه وجعله غايةً لا وسيلة، لأنه في ذاته لا غرض فيه كما ذكر ذلك الغزالي رحمه الله . وقد منع الإسلام من مبادلة الذهب بالذهب والفضة بالفضة إلاّ مثلاً بمثل، لأن ذلك يؤدي إلى العزوف عن الأعمال بالضرب في الأرض، كما أن دورانه يؤدي إلى تكثير الاستفادة منه بخلاف تكدسه في أيدي فئةٍ قليلة.

نبذة عن تاريخ النقد:

كانت المقايضة أولاً وذلك بتبادل السلع، ثم الذهب والفضة كأساسٍ للتقييم، ثم ظهرت النقود من الذهب والفضة، ثم العملات المعدنية من غيرهما، ثم الورقية بعد أن كانت سنداً بدينٍ من الذهب لدى الصيارفة، وظهر أيضاً ما يشبه العملات مثل: الشيك وبطاقات الائتمان.

حكم العملات الورقية:

إن الحكم عليها مبني على النظر إليها وقد نظر إليها بعدة اعتبارات:

1- فقيل: هي سندات بدين على جهة إصدارها: وممن قال بهذا الشيخ/ أحمد الحسيني رحمه الله . ودليل هذا القول: التعهد المسجل عليها بتسليم قيمتها لحاملها عند طلبه، وبدليل تغطيتها بالذهب والفضة، ولأنها ليست لها قيمة في ذاتها.
কাগজের মুদ্রা — এর জাকাত এবং তাতে সুদের বিধান

মুদ্রার সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে মুদ্রা (নাকদ) হলো: কোনো বস্তুকে পৃথক করা এবং তার মূল্য নিরূপণ করা। একারণেই মূল্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো যে, এটি মানের পরিমাপক।

আর মুদ্রা হলো: মূল্য। এটি এমন বিষয় যার বিপরীতে 'বা' বর্ণটি যুক্ত করা সঠিক হয়। উদাহরণস্বরূপ আপনি বলেন: আমি একটি কাপড় দশের বিনিময়ে বিক্রি করেছি। তবে এটি যদি মুদ্রা হয়, তবে তা সর্বদাই মূল্য হিসেবে গণ্য হবে।

পারিভাষিক অর্থে মুদ্রা হলো: এমন প্রতিটি বস্তু যা বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে, সেই বস্তুটি যা-ই হোক না কেন এবং যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন।

এর বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে: এটি মূল্যের ভাণ্ডার। সুতরাং যে ব্যক্তি মুদ্রার মালিক হলো, সে যেন সবকিছুরই মালিক হলো; কারণ সে এর মাধ্যমে যা ইচ্ছা ক্রয় করতে পারে। এই কারণে মুদ্রা কুক্ষিগত করে রাখা, এর প্রচলন বন্ধ করা অথবা একে কেবল একে-অপরের সাথে বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে একে উদ্দেশ্য বানিয়ে ফেলা উচিত নয়; বরং এটি একটি মাধ্যম মাত্র। কারণ মুদ্রার নিজস্ব সত্তার কোনো উদ্দেশ্য নেই, যেমনটি ইমাম গাজালি (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন। আর ইসলাম স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ এবং রুপার বিনিময়ে রুপার লেনদেনকে সমপরিমাণ ব্যতীত নিষিদ্ধ করেছে। কারণ এটি মানুষকে জমিনে বিচরণ করে কর্মতৎপর হওয়া থেকে বিমুখ করে দেয়। তদুপরি, মুদ্রার আবর্তন এর উপযোগিতাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে, যা অল্প কিছু লোকের হাতে তা পুঞ্জীভূত হওয়ার বিপরীত ফল দেয়।

মুদ্রার ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

শুরুতে পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে লেনদেন হতো, এরপর মূল্যায়নের ভিত্তি হিসেবে স্বর্ণ ও রৌপ্য ব্যবহৃত হতো। পরবর্তীতে স্বর্ণ ও রৌপ্যের মুদ্রার উদ্ভব ঘটে। এরপর স্বর্ণ-রৌপ্য ব্যতীত অন্য ধাতুর মুদ্রার প্রচলন হয়। এরপর কাগজের মুদ্রার উদ্ভব হয়, যা শুরুতে মুদ্রা বিনিময়কারীদের নিকট জমাকৃত স্বর্ণের ঋণের রসিদ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এছাড়াও মুদ্রার সদৃশ অন্যান্য জিনিসেরও উদ্ভব হয়েছে যেমন: চেক এবং ক্রেডিট কার্ড।

কাগজের মুদ্রার বিধান:

কাগজের মুদ্রার বিধানটি এর স্বরূপ বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল, আর একে কয়েকটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়েছে:

১- বলা হয়েছে: এগুলো হলো ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের নিকট ঋণের রসিদ। যারা এই মতটি পোষণ করেছেন তাদের মধ্যে শায়খ আহমাদ আল-হুসাইনী (রহিমাহুল্লাহ) অন্যতম। এই মতের দলিল হলো: মুদ্রার ওপর লিখিত এই অঙ্গীকার যে, বাহক দাবি করলে তাকে এর সমপরিমাণ মূল্য প্রদান করা হবে। এছাড়া এর বিপরীতে স্বর্ণ ও রৌপ্যের মজুদ থাকা এবং মুদ্রার নিজস্ব কোনো সত্তাগত মূল্য না থাকাও এর স্বপক্ষে দলিল।
(খণ্ড: ৮) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২)
ويلزم على هذا القول عدم جواز السلم، أو صرف نقد الذهب بالفضة لاشتراط التقابض وهو غير متحقق هنا لأنها سندات بدينٍ كما سبق، ويحرم البيع في الذمة لأنه يكون بيع دينٍ بدين، ثم إنها إذا كانت سنداً بدين فيجري فيها الخلاف في زكاة الدين.

مناقشة هذه القول: هذا القول بُني على التعهد المكتوب، وهذا التعهد هو في مرحلة من مراحل تطور النقد كان تعهداً حقيقياً، وأما الآن فهو تعهد اسمي.

وأما كونها مغطاةً بالذهب والفضة فهذا أيضاً إحدى المراحل فيها والتي لم تعد الدول تلتزم بها، فقد تغطى بالذهب وقد يكون الغطاء عقاراً أو غيره وقد يكون جزئياً. وأما أنها ليست لها قيمة في ذاتها فهذا حق فقيمتها اعتبارية، لأن السلطات تضمن في حال إبطالها قيمتها مما يجعل الثقة بتمولها وتداولها قوية، ثم إن هذا القول فيه من الحرج الشئ الكثير والله تعالى قد وضع الحرج عن هذه الأمة.

2- النظر إليها باعتبارها عرضٌ من عروض التجارة، وممن قال بهذا الشيخ: عبد الرحمن السعدي رحمه الله :

لأنها مالٌ متقومٌ مرغوب فيه ومدخر يباع ويشترى، ومخالفٌ في ذاته ومعدنه للذهب والفضة، ثم أنه ليس بمكيل ولا موزون فليس من الأجناس الربوية حتى يلحق بها. وأما التعهد المكتوب فلا يخرجها عن حقيقتها ولا يجعلها كالذهب والفضة.

ويلزم على هذا القول أن تعامل كعروض تجارية فلا تجب فيها الزكاة مالم تعد للتجارة، ولا يجري الربا فيها.

مناقشة هذا القول: أنها وإن كانت عرضاً إلاّ أنها انتقلت عن جنسها إلى جنس ثمني بدليل أنه لو أبطل السلطان التعامل بها لفقدت قيمتها وهذا يلحقها بالذهب والفضة، وأما اختلاف ذاتها ومعدنها عن الذهب والفضة فلا تأثير لهذه المخالفة. فالعبرة بكونها أثماناً في نظر الناس.

3- النظر إليها على أنها بديل عن الذهب والفضة:
এই মতের ভিত্তিতে সলম (অগ্রিম ক্রয়) বৈধ না হওয়া, অথবা সোনা ও রূপার মুদ্রার বিনিময় (সারফ) জায়েয না হওয়া আবশ্যক হয়; কারণ এতে পারস্পরিক হস্তান্তরের (তাকাবুদ) শর্ত রয়েছে, যা এখানে অর্জিত হয় না। যেহেতু পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে এগুলো ঋণের দলিল। এছাড়া বাকিতে কেনাবেচা করা হারাম হয়ে যায়, কারণ তা হবে ঋণের বদলে ঋণের বিক্রয়। অতঃপর এগুলো যদি ঋণের দলিল হয়, তবে ঋণের যাকাতের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মতভেদ এখানেও প্রযোজ্য হবে।

এই মতের পর্যালোচনা: এই অভিমতটি লিখিত অঙ্গীকারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আর এই অঙ্গীকার মুদ্রার বিবর্তনের একটি পর্যায়ে প্রকৃত অঙ্গীকার ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা কেবল নামমাত্র অঙ্গীকার।

আর এগুলো সোনা ও রূপা দ্বারা সংরক্ষিত হওয়ার বিষয়টিও মুদ্রার বিবর্তনের একটি পর্যায় ছিল, যা বর্তমানে রাষ্ট্রসমূহ আর মেনে চলে না। কখনো তা সোনা দিয়ে সংরক্ষিত হয়, আবার কখনো স্থাবর সম্পত্তি বা অন্য কিছুর মাধ্যমে সংরক্ষিত হতে পারে, আবার কখনো তা হতে পারে আংশিক। আর এগুলোর নিজস্ব কোনো মূল্য নেই—একথাটি সত্য; এর মূল্য হচ্ছে আইনগত বা স্বীকৃত। কারণ কর্তৃপক্ষ এর কার্যকারিতা বাতিলের ক্ষেত্রে এর মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা দেয়, যা এর অর্থ হিসেবে গণ্য হওয়া এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে আস্থাকে শক্তিশালী করে। অধিকন্তু, এই মতটিতে অনেক বেশি সংকীর্ণতা রয়েছে, অথচ মহান আল্লাহ এই উম্মত থেকে সংকীর্ণতা দূর করে দিয়েছেন।

২- এগুলোকে ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে গণ্য করা; যারা এই মত পোষণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ আব্দুর রহমান আস-সা’দী (রাহিমাহুল্লাহ):

কারণ এটি এমন একটি মূল্যবান সম্পদ যা কাঙ্ক্ষিত এবং সঞ্চয়যোগ্য, যা ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। এর সত্তা এবং উপাদান সোনা ও রূপা থেকে ভিন্ন। তদুপরি, এটি পরিমাপযোগ্য (মাকিল) বা ওজনযোগ্য (মাওজুন) নয়, ফলে এটি সুদী পণ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয় যে সেগুলোর সাথে একে যুক্ত করা হবে। আর লিখিত অঙ্গীকার একে তার প্রকৃত স্বরূপ থেকে বিচ্যুত করে না এবং একে সোনা ও রূপার সমতুল্যও করে না।

এই মতানুসারে এগুলোকে ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে গণ্য করা আবশ্যক হয়; ফলে ব্যবসার জন্য প্রস্তুত করা না হলে এতে যাকাত ওয়াজিব হবে না এবং এতে সুদও কার্যকর হবে না।

এই মতের পর্যালোচনা: এগুলো যদিও পণ্য, তবে তা নিজ শ্রেণি থেকে বেরিয়ে মুদ্রার শ্রেণিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এর প্রমাণ হলো, শাসক যদি এর লেনদেন বাতিল করে দেন তবে এর মূল্য বিলুপ্ত হবে এবং এটি একে সোনা ও রূপার সমপর্যায়ে নিয়ে আসে। আর এর সত্তা ও উপাদান সোনা ও রূপা থেকে ভিন্ন হওয়াতে কোনো প্রভাব নেই। কারণ মানুষের দৃষ্টিতে এগুলো বিনিময় মূল্য হওয়াই মূল বিবেচ্য বিষয়।

৩- এগুলোকে সোনা ও রূপার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা:
(খণ্ড: ৮) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
ويلزم على هذا القول أن تأخذ حكم الذهب والفضة، لأنها حالة محلها جارية مجراها بدليل أنها لا قيمة لها في ذاتها. وبناءً على هذا فما كان بديلاً عن الذهب فله حكم الذهب وما كان بديلاً عن الفضة فله حكم الفضة (1) .

مناقشة هذا القول: أن هذا مخالف للواقع فإن الغطاء لا يلزم أن يكون ذهباً أو فضة بل ولا يلزم تغطيتها بالكامل والعبرة بسن الدولة للتعامل بها وثقة الناس بها.

4- أنها تأخذ صفة الثمنية وتسري عليها أحكام النقدين وهذا قول أكثر العلماء المعاصرين ومنهم: الشيخ: ابن باز، والشيخ: ابن عثيمين، والشيخ: القرضاوي وغيرهم.

وقيل: هي نقدٌ قائمٌ بذاته: وممن قال بهذا الشيخان: محمد رشيد رضا، وعبد الله بن منيع.

--------------------------------------------

(1) - فعند استبدال ما تفرع عن فضةٍ مثلاً بما تفرع عن ذهب يشترط التقابض فقط. وإذا استبدل ما تفرع عنها بمثله اشترط التساوي والتقابض. لأن عدم وجود الغطاء لا يعني إلغاءه لأن روح العملة وسر الثقة بها هو الغطاء ذهباً أو غيره، وهذا قول الشيخ عبد الرزاق عفيفي رحمه الله .
এই মত অনুযায়ী এটি স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিধান গ্রহণ করবে, কারণ এটি সেগুলোর স্থলাভিষিক্ত এবং সেগুলোর মতোই কার্যকর। এর প্রমাণ হলো, এর নিজস্ব কোনো মূল্য নেই। এর ভিত্তিতে, যা স্বর্ণের বিকল্প তা স্বর্ণের বিধান পাবে এবং যা রৌপ্যের বিকল্প তা রৌপ্যের বিধান পাবে (১)।

এই মতের পর্যালোচনা: এটি বাস্তবতাবিরোধী; কারণ জামানত স্বর্ণ বা রৌপ্য হওয়া আবশ্যক নয়, এমনকি মুদ্রার বিপরীতে সম্পূর্ণ জামানত থাকাও জরুরি নয়। মূল বিষয় হলো লেনদেনের জন্য রাষ্ট্রের নির্ধারণ এবং এর ওপর জনগণের আস্থা।

৪- এটি মুদ্রার বৈশিষ্ট্য গ্রহণ করবে এবং এর ওপর স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে। এটি অধিকাংশ সমসাময়িক আলেমদের অভিমত, যাদের মধ্যে রয়েছেন: শেখ বিন বাজ, শেখ ইবনে উসাইমীন, শেখ আল-কারযাভী এবং আরও অনেকে।

এবং বলা হয়েছে: এটি একটি স্বতন্ত্র মুদ্রা। যারা এই মত ব্যক্ত করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন দুই শেখ: মুহাম্মাদ রশিদ রিদা এবং আব্দুল্লাহ বিন মানি।

--------------------------------------------

(১) - সুতরাং উদাহরণস্বরূপ, রৌপ্য থেকে উদ্ভূত মুদ্রার সাথে স্বর্ণ থেকে উদ্ভূত মুদ্রার বিনিময়ের ক্ষেত্রে কেবল হাতে হাতে লেনদেন শর্ত। আর যদি একই জাতীয় মুদ্রার সাথে বিনিময় করা হয়, তবে সমতা এবং হাতে হাতে লেনদেন উভয়ই শর্ত। কারণ জামানত বা গ্যারান্টি না থাকা মানে একে বাতিল করা নয়, বরং মুদ্রার প্রাণ এবং এর প্রতি আস্থার মূল ভিত্তি হলো স্বর্ণ বা অন্য কোনো জামানত। এটি শেখ আব্দুর রাজ্জাক আফীফি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অভিমত।
(খণ্ড: ৮) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
لأنها تقوم مقام النقدية فلا يصح أن تكون سلعاً تباع وتشترى، ولأنها تقوّم بها الأشياء والناس تثق بها كقوة شرائية ومستودعاً للادخار وتتمول وتبرأ بها الذمم فقامت مقام النقود، ولهذا أفتى ابن الصلاح بأنه يجوز العقد على الفلوس بعد أن منع من ذلك وقال: لأن جميع ذلك يروج رواجاً واحداً وهو المقصود بها، وهي في حالة كونها مضروبة لا التفات فيها إلى مقدار الجرم لأنه لا يقصد فيها غير غرض النقدية والرواج. أ. هـ. وجاء في المدونة أن الإمام مالك رحمه الله قال: ولو أن الناس أجازوا بينهم الجلود حتى يكون لها سكة وعين لكرهتها أن تباع بالذهب والورق نظرة أ. هـ. وقال ابن تيمية رحمه الله : وأما الدرهم والدينار فلا يُعرف له حد طبيعي ولا شرعي بل مرجعه إلى العادة والاصطلاح، وذلك لأنه في الأصل لا يتعلق الغرض المقصود به بل الغرض أن يكون معياراً لما يتعاملون به، والدراهم والدنانير لا تقصد لنفسها بل هي وسيلة إلى التعامل بها، ولهذا كانت أثماناً…والوسيلة المحضة التي لا يتعلق بها غرض بمادتها ولا بصورتها يحصل بها المقصود كيف ما كانت. أ. هـ وقال ابن القيم رحمه الله : فإن الدراهم والدنانير أثمان المبيعات والثمن هو المعيار الذي به يعرف تقويم الأموال فيجب أن يكون محدوداً مضبوطاً لا يرتفع ولا ينخفض… فالأثمان لا تقصد لأعيانها بل تقصد للتوسل بها إلى السلع فإذا صارت في أنفسها سلعاً تقصد لأعيانها فسد أمر الناس وهذا معنى معقول يختص بالنقود ولا يتعدى إلى سائر الموزونات. أهـ

فعلى هذا تكون علة الربا في الذهب والفضة مطلق الثمنية وهي قاصرةٌ عليهما (أي: في السابق، قبل ظهور النقود من غيرهما) .

الترجيح: الراجح هو القول الأخير وهو أنها ثمن قائمٌ بذاته كقيام الثمنية في الذهب والفضة وغيرها من النقود المعدنية وينبني على هذا القول ما يلي:
যেহেতু এগুলো মুদ্রার স্থলাভিষিক্ত হয়, তাই এগুলোকে ক্রয়-বিক্রয়যোগ্য পণ্য হওয়া সঠিক নয়। আর যেহেতু এগুলোর মাধ্যমে জিনিসের মূল্যায়ন করা হয় এবং মানুষ ক্রয়ক্ষমতা ও সঞ্চয়ের মাধ্যম হিসেবে এগুলোর ওপর আস্থা রাখে, এবং এর দ্বারা সম্পদ আহরণ করা হয় ও দায়মুক্তি ঘটে, তাই এগুলো মুদ্রার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। এই কারণেই ইবনুল সালাহ ফতওয়া দিয়েছেন যে, ইতিপূর্বে নিষেধ করার পর এখন 'ফুলুস' (তাম্রমুদ্রা)-এর ওপর চুক্তি করা বৈধ। তিনি বলেছেন: কারণ এ সবই একইভাবে প্রচলিত হয় এবং এটাই এর উদ্দেশ্য। এগুলো যখন মুদ্রা হিসেবে তৈরি করা হয়, তখন এর ওজনের পরিমাণের দিকে ভ্রুক্ষেপ করা হয় না; কারণ মুদ্রা হিসেবে এর ব্যবহার ও প্রচলন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য এখানে থাকে না। (সমাপ্ত)। 'আল-মুদাওওয়ানা' গ্রন্থে এসেছে যে, ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মানুষ যদি নিজেদের মধ্যে চামড়াকে মুদ্রা হিসেবে গ্রহণ করত, এমনকি তা যদি প্রচলিত মুদ্রা বা মুদ্রামান হিসেবে গণ্য হতো, তবে আমি স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিনিময়ে বাকিতে তা বিক্রয় করা অপছন্দ করতাম।" (সমাপ্ত)। ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "দিরহাম ও দিনারের কোনো প্রাকৃতিক বা শরয়ি সীমারেখা জানা নেই, বরং এর ভিত্তি হলো প্রথা ও পরিভাষা। এর কারণ হলো, মূলগতভাবে এগুলোর নিজস্ব কোনো উদ্দেশ্য নেই, বরং উদ্দেশ্য হলো লেনদেনের ক্ষেত্রে এগুলো একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। দিরহাম ও দিনার নিজস্ব সত্তার কারণে উদ্দেশ্য নয়, বরং এগুলো হলো লেনদেনের মাধ্যম। এই কারণেই এগুলোকে মূল্য হিসেবে গণ্য করা হয়…আর যা কেবলই মাধ্যম, যার উপাদানে বা আকৃতিতে কোনো উদ্দেশ্য নেই, তা যেমনই হোক না কেন তার দ্বারা উদ্দেশ্য সাধিত হয়।" (সমাপ্ত)। ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নিশ্চয় দিরহাম ও দিনার হলো বিক্রিত পণ্যের মূল্য। আর মূল্য হলো সেই মানদণ্ড যার মাধ্যমে সম্পদের মূল্যায়ন করা হয়। তাই এটি সুনির্দিষ্ট ও সুসংহত হওয়া আবশ্যক, যাতে এর মান উঠানামা না করে…সুতরাং মূল্য বা মুদ্রামান তার নিজস্ব সত্তার কারণে উদ্দেশ্য নয়, বরং পণ্যের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে তা উদ্দেশ্য। যখন এগুলো নিজেই পণ্য হিসেবে পরিণত হয় এবং নিজস্ব সত্তার জন্য কাম্য হয়, তখন মানুষের যাবতীয় বিষয় বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। এটি একটি যৌক্তিক অর্থ যা কেবল মুদ্রার সাথেই খাস এবং ওজনযোগ্য অন্য কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।" (সমাপ্ত)

এর ভিত্তিতে, স্বর্ণ ও রৌপ্যের মধ্যে সুদের কারণ হলো নিরঙ্কুশ মূল্য হওয়া (ছামানিয়্যাহ), যা কেবল এই দুটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল (অর্থাৎ: অতীতে, এই দুটি ছাড়া অন্য মুদ্রার আবির্ভাবের পূর্বে)।

প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত: প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো সর্বশেষ বক্তব্যটি। আর তা হলো, এটি একটি স্বতন্ত্র মূল্যমান, ঠিক যেমন স্বর্ণ, রৌপ্য এবং অন্যান্য ধাতব মুদ্রার মধ্যে মূল্যমান কার্যকর থাকে। এই মতের ওপর ভিত্তি করে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো সাব্যস্ত হয়:
(খণ্ড: ৮) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
1- جريان الربا فيها كما يجري في النقدين، وتعتبر كل منها جنس قائم بذاته لاختلاف قيمته وجهة إصداره (1) ، فعند استبدال عملةٍ بعملة يشترط التساوي والتقابض، وعند استبدال عملة بغيرها يشترط التقابض فقط، واعتبارها أجناس لاختلافها في القوة والقيمة وجهة الإصدار.

2ـ تجب زكاتها إذا بلغت أدنى نصابين من ذهب أو فضة (2) إذا كانت مملوكة لأهل وجوبها.

3ـ جواز جعلها رأس مال في السلم والشركات.

وبهذا أفتى المجمع الفقهي في قراره رقم 21 (9/3) وكذلك هيئة كبار العلماء.

 

المراجع:

1ـ مجلة البحوث الإسلامية. 31/373 ـ 39/239.

2ـ مجلة البحوث الفقهية المعاصرة. 10/7.

3- مجلة المجمع الفقهي ع3 ج3 ص1650.

4ـ مجلة الاقتصاد الإسلامي. 88/30 ـ 14/162.

5ـ الورق النقدي: حقيقته، تاريخه، قميته، حكمه ـ للشيخ عبد الله بن منيع.

6ـ أحكام الأوراق النقدية والتجارية في الفقه الإسلامي ـ للشيخ ستر الجعيد.

--------------------------------------------

(1) - ويرى بعض العلماء أنها جميعها جنسٌ واحد إذا كانت عملة حكومية واحدة وهو رأي الشيخ مصطفى الزرقاء رحمه الله .

(2) - لأنه الأحظ للفقراء.
১- এগুলোর ক্ষেত্রে সুদ কার্যকর হবে যেভাবে স্বর্ণ ও রৌপ্যের (নকদাইন) ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। এদের প্রত্যেকটিকে একটি স্বতন্ত্র শ্রেণি হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ এদের মূল্য এবং ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ ভিন্ন (১)। সুতরাং, যখন একটি মুদ্রার বিনিময়ে একই মুদ্রা পরিবর্তন করা হয়, তখন সমতা এবং হাতে হাতে আদান-প্রদান শর্ত। আর যখন একটি মুদ্রার বিনিময়ে অন্য কোনো মুদ্রা পরিবর্তন করা হয়, তখন শুধুমাত্র হাতে হাতে আদান-প্রদান শর্ত। শক্তি, মূল্য এবং ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের পার্থক্যের কারণে এদের ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২- যদি এটি যাকাত ওয়াজিব হওয়ার মতো ব্যক্তির মালিকানাধীন হয় এবং স্বর্ণ বা রৌপ্যের দুই নিসাবের মধ্যে যেটি সর্বনিম্ন, সেই পরিমাণে পৌঁছে (২), তবে এর যাকাত প্রদান করা ওয়াজিব।

৩- 'সালাম' (অগ্রিম ক্রয়) এবং অংশীদারিত্বের কারবারে (শিরকাত) একে মূলধন হিসেবে নির্ধারণ করা জায়েজ।

ফিকহ একাডেমি তাদের ২১ (৩/৯) নম্বর সিদ্ধান্তে এই ফতোয়া প্রদান করেছে এবং 'হায়আতু কিবারিল উলামা'ও (সিনিয়র উলামা পরিষদ) অনুরূপ ফতোয়া দিয়েছে।

 

তথ্যসূত্র:

১- মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ। ৩১/৩৭৩ — ৩৯/২৩৯।

২- মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ফিকহিয়্যাহ আল-মুয়াসিরাহ। ১০/৭।

৩- মাজাল্লাতুল মাজমাউল ফিকহি, সংখ্যা ৩, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৬৫০।

৪- মাজাল্লাতুল ইক্তিয়াদ আল-ইসলামি। ৮৮/৩০ — ১৪/১৬২।

৫- আল-ওয়ারাকুন নাকদি: হাকিকাতুহু, তারিখুহু, কিমাতুহু, হুকমুহু — শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মানী'।

৬- আহকামুল আওরাকুন নাকদিয়্যাহ ওয়াত তিজারিয়্যাহ ফিল ফিকহিল ইসলামি — শায়খ সিতর আল-জুয়াইদ।

--------------------------------------------

(১) - কোনো কোনো আলেম মনে করেন যে, যদি সেগুলো একই সরকারি মুদ্রা হয় তবে সবগুলিই একই শ্রেণিভুক্ত। এটি শায়খ মুস্তফা আয-যারকা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মত।

(২) - কারণ এটিই দরিদ্রদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: -)
بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة   (-)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: بحوث لبعض النوازل الفقهية المعاصرة

المؤلف: بعض طلبة العلم

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সমকালীন কিছু ফিকহি সমস্যার গবেষণা   (-)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


বই: সমকালীন কিছু ফিকহি সমস্যার গবেষণা

লেখক: কয়েকজন ইলম অন্বেষী

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ৯) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌تغير قيمة العملة وأثره في التعامل والديون

التمهيد: إذا اقترض أو اشترى شخص شيئاً بمبلغٍ ما ولم يسلم الثمن فلما حان وقت السداد أبطل السلطان تلك العملة التي اتفق عليها البائع والمشتري أو نقصت قيمتها فما الحكم، هذا ما سنبحثه خلال هذا المبحث ويستوي في ذلك الشراء والقرض وغيره.

المسألة الأولى: إذا حرم السلطان العملة وأبطلها أو بطلت قيمتها لأي سبب.

أقوال العلماء:

قال الجمهور: يلزم برد القيمة أشبه كسرها أو تلف أجزائها. وهذا قول المالكية والحنابلة في القرض والثمن المعين وأوجبه ابن تيمية في سائر الديون.

وقال أبو حنيفة رحمه الله : ينفسخ العقد ويرد المبيع إن كان قائماً أو قيمته أو مثله إن كان هالكاً وأما صاحبا أبي حنيفة رحمه الله فوافقا الجمهور.

وقال الشافعية: يلزم برد المثل لأن ذلك ليس بعيب حدث فيها وقياساً على نقص سعرها.

والراجح في هذه المسألة والعلم عند الله تعالى هو قول الجمهور لأن إلزامه بقبول المثل يعني أخذه لما لا قيمة له، وهذا ظلم تأباه نصوص الشرع.

المسألة الثانية: تغير قيمة العملة.

اتفق الأئِمة الأربعة على أنه يلزم رد المثل في النقدين (الدرهم والدينار) .

أما إذا نقص سعر الفلوس فقد قال أكثر العلماء يلزمه رد المثل، وفي المبسوط 22/34 أنه يرد المثل في المضاربة.

وقال أبو يوسف رحمه الله : يلزم برد القيمة في الفلوس، وذكر الراهوني قولاً لبعض المالكية برد القيمة فيما إذا نقصت كثيراً حتى كان القابض لها كالقابض لما لا كبير منفعة فيه. واختار هذا القول ابن تيمية وابن القيم (رحمهما الله) وذكره ابن تيمية رحمه الله منصوص أحمد.

أدلة القول الأول: أن القول برد القيمة يفتح باباً للربا يصعب غلقه.

أدلة القول الثاني: قياساً على تحريم السلطان للعملة لما في كل منهما من الضرر، ولأن هذا هو مقتضى العدل، وقياساً على الجائحة التي أمر الشرع بوضعها.
মুদ্রার মানের পরিবর্তন এবং লেনদেন ও ঋণের ক্ষেত্রে এর প্রভাব

ভূমিকা: যদি কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে কিছু ঋণ নেয় অথবা ক্রয় করে এবং মূল্য পরিশোধ না করে থাকে, অতঃপর পরিশোধের সময় উপস্থিত হলে শাসক সেই মুদ্রাকে বাতিল করে দেন যার ওপর ক্রেতা ও বিক্রেতা একমত হয়েছিল অথবা সেটির মান কমে যায়, তবে এর বিধান কী? এই পরিচ্ছেদে আমরা তা নিয়েই আলোচনা করব। আর এ ক্ষেত্রে ক্রয়, ঋণ বা অন্যান্য বিষয় সমান বিবেচিত হবে।

প্রথম মাসআলা: যদি শাসক মুদ্রাকে নিষিদ্ধ ও বাতিল ঘোষণা করেন অথবা অন্য কোনো কারণে সেটির মান সমূলে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

ওলামায়ে কেরামের অভিমতসমূহ:

জমহুর (অধিকাংশ আলেম) বলেছেন: এর মূল্য ফেরত দেওয়া আবশ্যক হবে, যেমনটি মুদ্রা ভেঙে ফেলা বা তার অংশবিশেষ নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এটি ঋণ এবং নির্ধারিত মূল্যের ক্ষেত্রে মালিকি ও হাম্বলি মাযহাবের অভিমত এবং ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ একে সকল প্রকার ঋণের ক্ষেত্রে আবশ্যক করেছেন।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন: এ ক্ষেত্রে চুক্তিটি বাতিল হয়ে যাবে এবং বিক্রিত পণ্য বিদ্যমান থাকলে তা ফেরত দিতে হবে, নতুবা তার মূল্য অথবা পণ্যটি ধ্বংস হয়ে গেলে তার অনুরূপ পণ্য ফেরত দিতে হবে। আর ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর দুই শিষ্য জমহুর ওলামাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন।

শাফেয়ি মাযহাবের আলেমগণ বলেন: অনুরূপ মুদ্রাই ফেরত দেওয়া আবশ্যক, কারণ এটি মুদ্রার কোনো অর্জিত ত্রুটি নয় এবং মুদ্রার দাম কমে যাওয়ার ওপর কিয়াস করে তারা এই মত দিয়েছেন।

এই মাসআলায় অগ্রগণ্য মত—আর সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআলার নিকট—হলো জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের অভিমত। কারণ, তাকে অনুরূপ মুদ্রা গ্রহণে বাধ্য করার অর্থ হলো এমন কিছু গ্রহণ করা যার কোনো মূল্য নেই। আর এটি একটি জুলুম, যা শরয়ি দলীলসমূহ প্রত্যাখ্যান করে।

দ্বিতীয় মাসআলা: মুদ্রার মানের পরিবর্তন।

চার ইমাম এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, দিরহাম ও দিনারের ক্ষেত্রে অনুরূপ পরিমাণই ফেরত দেওয়া আবশ্যক।

তবে যদি খুচরা মুদ্রার (ফুলুস) মান কমে যায়, তবে অধিকাংশ আলেম বলেছেন যে, তাকে অনুরূপ পরিমাণই ফেরত দিতে হবে। আল-মাবসুত (২২/৩৪) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, মুদারাবার ক্ষেত্রে অনুরূপ মুদ্রা ফেরত দেওয়া হবে।

ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) বলেন: খুচরা মুদ্রার ক্ষেত্রে তার মান বা মূল্য পরিশোধ করা আবশ্যক। আল-রাহুনি মালিকি মাযহাবের কোনো কোনো আলেমের একটি অভিমত উল্লেখ করেছেন যে, যদি মুদ্রার মান অনেক বেশি কমে যায়—এমনকি তা গ্রহণকারীর কাছে বড় কোনো উপকারহীন বস্তু গ্রহণের মতো হয়ে দাঁড়ায়—তবে তার মূল্য পরিশোধ করতে হবে। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইমাম ইবনে কায়্যিম (রহ.) এই মতটি পছন্দ করেছেন এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) একে ইমাম আহমাদের সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রথম মতের দলিলসমূহ: মূল্য পরিশোধের নির্দেশ দিলে সুদের এমন একটি দ্বার উন্মোচিত হবে যা বন্ধ করা কঠিন।

দ্বিতীয় মতের দলিলসমূহ: এটি শাসকের মুদ্রা নিষিদ্ধকরণের ওপর কিয়াস করা হয়েছে, যেহেতু উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষতি বিদ্যমান। তদুপরি, এটিই ইনসাফের দাবি এবং একে সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের (জাইহা) ওপর কিয়াস করা হয়েছে যার ক্ষেত্রে শরয়ি বিধানে ক্ষতিপূরণ বা দায় মওকুফের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ৯) বুহুসুন লি বাদিল নাওয়াযিলিল ফিকহিয়্যাহ আল মুয়াসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২)
وهذا الخلاف في الفلوس (وهي المكسرة) يمكن إجراؤه في العملات الحديثة.

 

المناقشة:

نوقش القول الأول: بأن المماثلة إنما تكون مع استواء القيمة، وأما مع اختلاف القيمة فلا تماثل. وأما التحرز من الربا فإنه ممكن بأن يعطى من غير الجنس الذي له في ذمة الآخر جاء في الروض: وتكون القيمة من غير جنس الدراهم وكذلك المغشوشة إذا حرمها السلطان. أ. هـ فنقول ذلك أيضاً في حال نقص القيمة.

الترجيح: الراجح والله أعلم في حالة كساد العملة إذا كان كبيراً أنه يكون كالجائحة التي أمر النبي (( (بوضعها، وحد الكثير إما بالعرف أو بالثلث كما يشير إليه حديث النبي (( (: الثلث والثلث كثير. وهذا ظاهر فيما إذا نقصت بسبب من المدين كأن يماطل لأن النقص بسببه، ولأن المماطلة ظلم فهي كالغصب. وفي الروض المربع: وإن نقصت القيمة في المغصوب ضمنها الغاصب لتعديه أ. هـ وأما عند الكساد الذي لا يد للمدين فيه فهو محل نظرٍ كما سبق.

وقد صدر قرار مجمع الفقه الإسلامي (1) بالإلزام برد المثل، وهذا القول مبني على سد الذرائع للربا إلاّ أنه في بعض الحالات التي يكون فيها الكساد كبيراً يكون القول بالقيمة أقوى ولكن يرد على هذا القول أنه قد يجر للربا، ثم إنه لا ينضبط وإذا انخفضت القيمة فإن الانخفاض يكون عاماً.

 

المراجع:

رد المحتار ج4/24.

مجلة البحوث الإسلامية. 23/111. ومجلة المجمع ع5 ج3 ص1609.

بحوث في الاقتصاد الإسلامي للشيخ/ عبد الله بن منيع. ص 431.

المدخل الفقهي العام، للشيخ / مصطفى الزرقا ص174.

نزهة النفوس في بيان حكم التعامل بالفلوس، لأحمد بن الهائم.

--------------------------------------------

(1) - مجلة المجمع. عدد 5. ج3، ص 1609.
ফুলুস (যা ভগ্ন মুদ্রা) সংক্রান্ত এই মতপার্থক্য আধুনিক মুদ্রার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে।

 

আলোচনা:

প্রথম মতটির ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে যে: অনুরূপতা কেবল মূল্যের সমতার মাধ্যমেই অর্জিত হয়, কিন্তু মূল্যের পার্থক্য থাকলে কোনো সমতা থাকে না। আর সুদ থেকে বেঁচে থাকা এভাবে সম্ভব যে, অপর ব্যক্তির জিম্মায় থাকা সমজাতীয় মুদ্রার পরিবর্তে ভিন্ন জাতীয় মুদ্রার মাধ্যমে তা পরিশোধ করা হবে। ‘আর-রওদ’ গ্রন্থে এসেছে: “আর মূল্য দিরহামের ভিন্ন জাতীয় মুদ্রা থেকে পরিশোধ করতে হবে। অনুরূপভাবে ভেজালযুক্ত মুদ্রার ক্ষেত্রেও একই বিধান হবে যখন শাসক তা ব্যবহার নিষিদ্ধ করবেন।” উদ্ধৃতি শেষ। সুতরাং আমরা মুদ্রার মান কমে যাওয়ার ক্ষেত্রেও একই কথা বলব।

প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত: আল্লাহই সর্বজ্ঞ, মুদ্রার মান কমে যাওয়ার বা অচল হওয়ার বিষয়টি যদি ব্যাপক হয়, তবে তা এমন একটি বিপর্যয়ের (জাইহা) মতো গণ্য হবে যা মওকুফ করার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন। আর ‘অধিক’ হওয়ার সীমা হয় প্রথা (উরফ) দ্বারা নির্ধারিত হবে অথবা এক-তৃতীয়াংশ দ্বারা, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসে ইঙ্গিত পাওয়া যায়: “এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক।” এটি সেই ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে প্রযোজ্য হবে যখন দেনাদারের কারণে মুদ্রার মান কমে যায়, যেমন সে পরিশোধে গড়িমসি করে; কারণ এই হ্রাস পাওয়াটা তারই কারণে হয়েছে এবং পরিশোধে গড়িমসি করা একটি জুলুম, যা জবরদখলের (গসব) মতো। ‘আর-রওদ আল-মুরবি’ গ্রন্থে রয়েছে: “যদি জবরদখলকৃত বস্তুর মূল্য কমে যায়, তবে জবরদখলকারী তার সীমালঙ্ঘনের কারণে তা পূরণ করতে বাধ্য থাকবে।” উদ্ধৃতি শেষ। তবে মুদ্রা অচল হওয়ার ক্ষেত্রে যদি দেনাদারের কোনো হাত না থাকে, তবে বিষয়টি পর্যালোচনার অবকাশ রাখে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

ইসলামি ফিকহ একাডেমি (১) থেকে অনুরূপ পরিমাণ (মিসল) ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জারি হয়েছে। এই মতটি সুদের পথ রুদ্ধ করার (সাদ্দুদ যারাই) নীতির ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে যেখানে মুদ্রার মান ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়, সেখানে সমমূল্য (কিমা) প্রদানের মতটি অধিক শক্তিশালী হয়। কিন্তু এই মতের ওপর আপত্তি এই যে, এটি সুদের দিকে ধাবিত করতে পারে; এছাড়া এটি সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন এবং মুদ্রার মান যখন হ্রাস পায়, তখন তা সাধারণত সবার জন্যই হ্রাস পায়।

 

তথ্যসূত্র:

রাদ্দুল মুহতার, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪।

মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ, ২৩/১১১। এবং মাজাল্লাতুল মাজমা, সংখ্যা ৫, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬০৯।

বুহুস ফিল ইক্কতিসাদ আল-ইসলামি, শাইখ আবদুল্লাহ বিন মানী, পৃষ্ঠা ৪৩১।

আল-মাদখালুল ফিকহিল আম, শাইখ মুস্তফা আজ-যারকা, পৃষ্ঠা ১৭৪।

নুজহাতুন নুফূস ফী বায়ানিল হুকমিত তা'আমুলি বিল ফুলুস, আহমদ বিন আল-হাইম।

--------------------------------------------

(১) - মাজাল্লাতুল মাজমা, সংখ্যা ৫, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬০৯।