(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: -)
الخلاف أسبابه وآدابه   (عائض القرني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الخلاف أسبابه وآدابه

المؤلف: عائض بن عبد الله القرني

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 42

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 61

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মতপার্থক্য: এর কারণ ও আদবসমূহ   (আয়েজ আল-কারনি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: মতপার্থক্য: এর কারণ ও আদবসমূহ

লেখক: আয়েজ বিন আব্দুল্লাহ আল-কারনি

প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের ধর্ম বিষয়ক (আওকাফ) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৪২

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১)
الخلاف أسبابه وآدابه إعداد

د. عائض القرني

بسم الله الرحمن الرحيم‌‌ المقدمة إن الحمد لله ، نحمده ونستعينه، ونستغفره، ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله ، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه، وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد. . .
মতভেদ: এর কারণ ও শিষ্টাচার, প্রস্তুতিতে

ড. আইদ আল-কারনি

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে‌‌ ভূমিকা নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট হেদায়াত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতপর...
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২)
فيقول سبحانه: {وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ} {إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ} هود (118-119) .

قال بعض العلماء: أي للاختلاف خلقهم.

والصحيح أن الله سبحانه وتعالى خلق الخلق للعبادة؛ لأن الله -تعالى- يقول: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} الذاريات (56) . فخلقهم سبحانه للعبادة لا للاختلاف، لكن من سنته سبحانه وتعالى في الكون أنه ميز بين كل شيء، فميز بين الأطعمة والأمزجة والألوان والأفكار.

فجعل الحلو والحامض، وجعل الظلمة والنور، وجعل الليل والنهار، وجعل الحار والبارد.

وجعل سبحانه وتعالى من آياته التي تثبت تدبيره للكون سبحانه وتعالى وخلقه له، وبديع صنعه فيه: اختلاف الألسنة والألوان، فقال سبحانه: {وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ} الروم (22) فتبارك الله أحسن الخالقين، وسبحان الذي يُغير ولا يتغير.
মহান আল্লাহ বলেন: “আর তারা সর্বদা মতভেদ করতে থাকবে; তবে তারা নয়, যাদের প্রতি তোমার রব দয়া করেছেন। আর এজন্যই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমার রবের কথা পূর্ণ হয়েছে যে, ‘আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব’।” সূরা হুদ (১১৮-১১৯)।

কোনো কোনো আলিম বলেন: অর্থাৎ তিনি তাদেরকে মতভেদের জন্যই সৃষ্টি করেছেন।

আর সঠিক (الصحيح) মত হলো এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সৃষ্টিজগতকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: “আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।” সূরা আয-যারিয়াত (৫৬)। সুতরাং তিনি তাদের ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন, মতভেদের জন্য নয়। তবে মহাবিশ্বে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার রীতি হলো এই যে, তিনি প্রতিটি জিনিসের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখেছেন; ফলে তিনি খাদ্যদ্রব্য, মেজাজ-প্রকৃতি, বর্ণ এবং চিন্তাধারার মাঝে বৈচিত্র্য দান করেছেন।

তিনি মিষ্টি ও টক তৈরি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন অন্ধকার ও আলো, রাত ও দিন এবং উষ্ণতা ও শীতলতা।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মহাবিশ্ব পরিচালনায় তাঁর সক্ষমতা, সৃষ্টিতত্ত্ব এবং তাঁর নিপুণ কারুকার্য প্রমাণের জন্য ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্যকে তাঁর নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি বলেন: “আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য।” সূরা আর-রূম (২২)। সুতরাং আল্লাহ অতীব বরকতময়, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা। পবিত্র সেই সত্তা, যিনি পরিবর্তন সাধন করেন কিন্তু নিজে অপরিবর্তিত থাকেন।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ৩)
وكما أن الخلاف يقع في الكون بأكمله ، فهو لا شك واقع في المجتمع الصغير بدءا بالأسرة ، ثم القرية ، ثم المدينة ، ثم الشعب ، ثم الأمة ، ثم المعمورة.

فلا بد أن يقف الإنسان بتعقل أمام سنة الله سبحانه وتعالى في الاختلاف.
যেভাবে সমগ্র মহাবিশ্বে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়, তা নিঃসন্দেহে ক্ষুদ্র সমাজেও বিদ্যমান; যার সূচনা হয় পরিবার থেকে, অতঃপর পর্যায়ক্রমে গ্রাম, শহর, জাতি, উম্মাহ এবং পরিশেষে সমগ্র পৃথিবীতে তা পরিব্যাপ্ত।

কাজেই মতভেদ সংক্রান্ত মহান আল্লাহর সুন্নাহর সামনে মানুষকে অবশ্যই বিচারবুদ্ধি ও প্রজ্ঞার সাথে দণ্ডায়মান হতে হবে।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ৪)
وقد اخترت الحديث عن هذا الموضوع (الاختلاف) لأنه قد كثر في عالم الشباب، وانتشر مع التنابز والفرقة والخوض في الأعراض والنيل من الفضلاء. فكان لا بد لعلماء الإسلام ودعاته أن يتصدوا لهذه الظاهرة المتفشية.

ولقد تأملت الخلاف بأنواعه واستعرضته أمام خاطري فرأيت أن سبب الخلاف العام هو وجود الخطأ، فهو (أي الخطأ) بوابة الخلاف الرئيسة حتى وإن كان هناك - حقيقة - أبواب رئيسة أخرى تكبر بوابة الخطأ قد تكون هي سبب الخلاف الحاصل؛ مثل: بوابة الحسد أو البغض أو غير ذلك من الأسباب، ولكن يظل الخطأ هو السبب المتفق عليه سواء كان ذلك حقيقة أو تلبيسا لإخفاء حقيقة لا يحب المخالف أن يظهرها، فيفرغ ما بداخله بحجة أن فلانا أخطأ أو انحرف عن الطريق، والله وحده هو الذي يعلم السرائر، ولكن يجب أن نذكر أنفسنا بقوله صلى الله عليه وسلم: «إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله فهجرته إلى الله ورسوله ومن كان هجرته إلى دنيا يصيبها أو امرأة يتزوجها فهجرته إلى ما هاجر إليه» (1) ، والأجر والحساب عند الله علام الغيوب.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (1) ، ومسلم (1907) ،وأخرجه أبو داود (2201) والترمذي (1647) والنسائي1 / 59-60. انظر كتاب الجمع بين الصحيحين للموصلي رقم (2857) .
আমি এই বিষয়টি অর্থাৎ মতপার্থক্য (الاختلاف) নিয়ে আলোচনা করা বেছে নিয়েছি কারণ এটি যুবসমাজের মাঝে ব্যাপকতা লাভ করেছে এবং তা ছড়িয়ে পড়েছে পারস্পরিক উপহাস, বিভেদ, সম্মানহানি এবং গুণীজনদের মর্যাদাহানির সাথে। তাই ইসলামের আলেম ও দাঈদের জন্য এই ছড়িয়ে পড়া প্রবণতাটির মোকাবিলা করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমি মতপার্থক্যের (الاختلاف) বিভিন্ন প্রকার নিয়ে চিন্তা করেছি এবং তা আমার মনের পর্দায় উপস্থাপন করেছি, অতঃপর আমি দেখেছি যে সাধারণ মতপার্থক্যের মূল কারণ হলো ভুল (الخطأ) সংঘটিত হওয়া। সুতরাং এটিই (অর্থাৎ ভুল) হলো মতপার্থক্যের প্রধান তোরণ; যদিও বাস্তবে অন্যান্য বড় তোরণও থাকতে পারে যা ভুলের তোরণের চেয়েও বড় এবং উদ্ভূত মতপার্থক্যের মূল কারণ হতে পারে; যেমন: হিংসা, বিদ্বেষ বা অন্যান্য কারণসমূহ। তবে ভুলই (الخطأ) সর্বসম্মত কারণ হিসেবে গণ্য হয়, চাই তা বাস্তব হোক অথবা এমন কোনো সত্য গোপনের আবরণ হোক যা বিরোধিতাকারী প্রকাশ করতে চায় না। ফলে সে তার মনের ক্ষোভ উগড়ে দেয় এই অজুহাতে যে, অমুক ব্যক্তি ভুল করেছে অথবা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত (انحرف) হয়েছে। অথচ একমাত্র আল্লাহই অন্তরের রহস্যসমূহ সম্পর্কে অবগত। তবে আমাদের নিজেদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত: “নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া হাসিল করা অথবা কোনো মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।” (১) আর পুরস্কার ও হিসাব প্রদান অদৃশ্য সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত আল্লাহর নিকটই ন্যস্ত।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (১), মুসলিম (১৯০৭), আবু দাউদ (২২০১), তিরমিজি (১৬৪৭) এবং নাসাঈ ১/৫৯-৬০। দেখুন: মুসিলির কিতাব জামউ বাইনাস সাহিহাইন, নম্বর (২৮৫৭)।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ৫)
فأقول: ما دام أن الخطأ والوقوع فيه هو البوابة الأم لوقوع الخلاف، لذلك كان لازما على من أراد أن يتكلم عن ردة الفعل أن يدرس ويسأل عن الفعل أصله. وهنا نقول بأن الخلاف ردة فعل لفعل أو لسبب الوقوع في الخطأ. إذا لا بد أن نقدم بين يدي هذا الموضوع (الخلاف أسبابه وآدابه) كلمةً عن الخطأ تمهيدا فقط، حتى لا يطغى على موضوع الكتاب.

إن الخطأ أمر متوقع ومأخوذ في الحسبان في إمكانية حدوثه بكل أشكاله وصوره ودرجاته من بني آدم إلا من عصمه الله تعالى، وقد جاءت السنة المطهرة بتحقيق ذلك في قوله صلى الله عليه وسلم: «كل ابن آدم خطاء وخير الخطائين التوابون» (1) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي (كتاب صفة القيام رقم 2499) وقال: حديث غريب. تحقيق كمال الحوت، وابن ماجة (كتاب الزهد رقم 4251) تحقيق خليل مأمون شيحا، وأحمد (3 / 198) .
আমি বলছি: যতক্ষণ পর্যন্ত ভুল এবং তাতে নিপতিত হওয়া মতভেদ সৃষ্টির মূল প্রবেশদ্বার, তাই যে ব্যক্তি এর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করতে চান, তার জন্য মূল বিষয়টি নিয়ে গবেষণা ও অনুসন্ধান করা আবশ্যক। আর এখানে আমরা বলতে পারি যে, মতভেদ হলো কোনো কাজ বা ভুল সংগঠনের কারণের একটি প্রতিক্রিয়া। সুতরাং, এই বিষয়ের (মতভেদ: এর কারণ ও আদবসমূহ) শুরুতে ভূমিকা হিসেবে ভুল সম্পর্কে কিছু কথা উপস্থাপন করা প্রয়োজন, যাতে তা গ্রন্থের মূল বিষয়ের ওপর প্রাধান্য বিস্তার না করে।

নিশ্চয়ই ভুল হওয়া একটি প্রত্যাশিত বিষয় এবং বনী আদমের পক্ষ থেকে এর সকল রূপ ও স্তরে এটি ঘটার সম্ভাবনা ধর্তব্য, তবে তারা ব্যতীত যাদের আল্লাহ তাআলা রক্ষা করেছেন। পবিত্র সুন্নাহয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে: "প্রত্যেক বনী আদমই ভুলকারী, আর ভুলকারীদের মধ্যে তওবাকারীরাই সর্বোত্তম" (১)।

--------------------------------------------

(১) এটি তিরমিজি (কিতাব সিফাতুল কিয়ামাহ, নং ২৪৯৯) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি অপরিচিত (غريب) হাদিস। তাহকিক: কামাল আল-হুত। এবং ইবনে মাজাহ (কিতাবুজ জুহদ, নং ৪২৫১) বর্ণনা করেছেন, তাহকিক: খলিল মামুন শিহা এবং আহমাদ (৩/১৯৮)।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ৬)
وهذا الحديث لو شرحناه شرحا وافيا لكان كافيا لتوضيح الخطأ من حيث واقعية حدوثه، ومن حيث إنه الضابط العظيم الذي يربط بإذن الله المرجئة والجبرية وأشباههم أو حتى من كان على غير ملة الرسول صلى الله عليه وسلم، وهو قوله صلى الله عليه وسلم: «خير الخطائين التوابون» حتى لا يفهم أن حتمية الخطأ على ابن آدم ذريعة للوقوع في مخالفات شرعية على مختلف أشكالها أو على الأقل الاستمرارية في ممارسة الأخطاء، وحتى لا يفهم الحديث خطأ فإن الحديث الشريف لا يعني تساهل الإنسان بالوقوع في الأخطاء بحجة أنه خطّاء، فلم يفهم الصحابة والسلف الصالح رضي الله عنهم هذا الفهم الغريب، بل كانوا يسعون في الأرض إصلاحاً وطاعةً لرب العباد، وإذا أخطؤوا تابوا، ولكن من رحمة الله - تعالى - على الإنسان أنه إذا أخطأ رجع وتاب، فإن خير الخطائين التوابون، وبالتالي فإن حصول الخطأ من الناس وارد؛ فهم ليسوا بمعصومين وإنما المعصوم هم الأنبياء والرسل عليهم أفضل الصلاة والسلام.

এই হাদিসটির যদি আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রদান করি, তবে তা ভুল সংঘটিত হওয়ার বাস্তবতা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে এবং এটি সেই মহান নিয়ন্ত্রক মূলনীতি হিসেবে যথেষ্ট হবে যা আল্লাহর ইচ্ছায় মুরজিয়া, জাবরিয়া ও তাদের সমমনাদের অথবা এমনকি যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শের ওপর নেই তাদের ভ্রান্তিকে সংযত করে। আর তা হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: “সর্বোত্তম ভুলকারী হলো তওবাকারীরা।” যাতে করে আদম সন্তানের জন্য ভুল করা অনিবার্য হওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন ধরণের শরয়ি বিধি-বিধান লঙ্ঘনের অজুহাত হিসেবে অথবা অন্ততপক্ষে ভুল কাজে লিপ্ত থাকার কারণ হিসেবে গণ্য না হয়। আর হাদিসটি যেন ভুলভাবে বোঝা না হয়, কারণ এই সম্মানিত হাদিসের অর্থ এই নয় যে, মানুষ ভুলকারী হওয়ার দোহাই দিয়ে ভুল কাজে লিপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করবে। সাহাবীগণ এবং সালাফে সালেহীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই অদ্ভুত অর্থ গ্রহণ করেননি; বরং তাঁরা পৃথিবীতে সংশোধন এবং বান্দাদের রবের আনুগত্যে সচেষ্ট থাকতেন। আর যখনই তাঁরা ভুল করতেন, তখনই তওবা করতেন। তবে মানুষের প্রতি মহান আল্লাহর রহমত হলো এই যে, মানুষ যখন ভুল করে তখন সে ফিরে আসে এবং তওবা করে; কেননা সর্বোত্তম ভুলকারী হলো তওবাকারীরা। ফলস্বরূপ, মানুষের মাধ্যমে ভুল সংঘটিত হওয়া স্বাভাবিক; তারা নিষ্পাপ (معصوم) নন, বরং কেবল নবী ও রাসূলগণই নিষ্পাপ (معصوم), তাঁদের ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌أولا- المرحلة القبلية للخطأ

وأقصد بذلك المرحلة التي تسبق الحكم بخطأ الشيء:

1- التحري والتبين والتثبت من الخبر:

وقد أمرنا الله - تعالى - بضرورة التبين والتثبت من الأخبار لقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} الحجرات (6) . ولقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَتَبَيَّنُوا وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا} النساء (94) .

ولقوله تعالى: {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا} الإسراء (36)

ولقوله صلى الله عليه وسلم: «كفى بالمرء كذبا أن يحدث بكل ما سمع» (1) .

وقد ذكر الإمام النووي - رحمه الله تعالى - في كتابه رياض الصالحين باب الحث على التثبت فيما يقوله ويحكيه حديثا عن سمرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من حدَّث عني بحديث يرى أنه كذب فهو أحد الكاذبين» (2) .

--------------------------------------------

(1) مسلم 1 / 10 (5) ؛ كتاب الجمع بين الصحيحين للموصلي تحقيق د. علي حسين البواب 2 / 340.

(2) مسلم:المقدمة 1 / 9 ، كتاب الجمع بين الصحيحين السابق ، ج2 ، ص341.
প্রথমত- ভুলের পূর্ববর্তী পর্যায়

এর মাধ্যমে আমি সেই পর্যায়কে উদ্দেশ্য করছি, যা কোনো বিষয়কে ভুল হিসেবে চিহ্নিত করার পূর্ববর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচিত:

১- সংবাদের অনুসন্ধান, যাচাইকরণ (التبين) এবং সত্যতা নিরূপণ (التثبت):

আল্লাহ তাআলা আমাদের সংবাদ যাচাইকরণ (التبين) এবং সত্যতা নিরূপণের (التثبت) প্রয়োজনীয়তার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: “হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও (التبين); পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও।” (সুরা আল-হুজুরাত: ৬)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: “হে মুমিনগণ! তোমরা যখন আল্লাহর পথে অভিযানে বের হবে, তখন যাচাই করে নেবে (التبين) এবং যে তোমাদের সালাম দেয় তাকে বলো না যে, ‘তুমি মুমিন নও’।” (সুরা আন-নিসা: ৯৪)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: “যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পেছনে পড়ো না; নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তঃকরণ—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” (সুরা আল-ইসরা: ৩৬)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: “কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী (كذبا) হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বর্ণনা করে।” (১)।

ইমাম নববী (রহ.) তাঁর রিয়াদুস সালেহীন কিতাবে ‘ব্যক্তির বক্তব্য ও বর্ণনার সত্যতা নিরূপণে (التثبت) উৎসাহ প্রদান’ শীর্ষক অনুচ্ছেদে সামুরা (রা.) থেকে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করল যাকে সে মিথ্যা (كذب) বলে মনে করে, তবে সেও মিথ্যাবাদীদের (الكاذبين) একজন।” (২)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম ১/১০ (৫); আল-মাওসিলী রচিত কিতাবুল জাম‘ বাইনাস সহীহাইন, তাহকীক: ড. আলী হুসাইন আল-বাওয়াব ২/৩৪০।

(২) মুসলিম: মুকাদ্দিমা ১/৯, প্রাগুক্ত কিতাবুল জাম‘ বাইনাস সহীহাইন, ২য় খণ্ড, ৩৪১ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ৮)
ومن التثبت طلب سند الكلام؛ أي تقول للناقل: من أخبرك بهذا الكلام؟ أو ما مستندك؟ وهذه الخصيصة من أهم خصائص أمة محمد صلى الله عليه وسلم، فتجدها في العلاقات الاجتماعية بين الناس، وتجدها في طلب العلم بكل فنونه، فهم على سبيل المثال لا يقبلون قول أي إنسان في علم الحديث ما لم يعرف عند علماء الرجال وهذا نوع من التثبت والتحقق.

قال عبد الله بن المبارك رحمه الله تعالى:" الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء فإذا قيل له من حدثك بقي " (1) أي اتضح وانكشف.

2 - معرفة حال الناقل:

وهنا يتأتى وزن ناقل الخبر من حيث القبول أو الرد، ومن ذلك الصدق والعدالة والضبط والإتقان والأمانة والاحتياط من مرض التحاسد بين الأقران والمعاصرين، وفي ذلك يقول الإمام الذهبي - رحمه الله تعالى - في ترجمة عفان الصفار: (كلام النظير والأقران ينبغي أن يتأمل ويتأنى فيه) (2) .

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم.

(2) ميزان الاعتدال (ج3، ص 81) انظر: فقه التعامل مع الأخطاء، د. عبد الرحمن مدخلي، ص 33- 39.
তথ্য যাচাইয়ের (التثبت) একটি দিক হলো কোনো বক্তব্যের সনদ (سند) তলব করা; অর্থাৎ বর্ণনাকারীকে (الناقل) জিজ্ঞাসা করা: এই কথাটি আপনাকে কে বলেছে? অথবা আপনার ভিত্তি কী? এই বিশেষত্বটি উম্মতে মুহাম্মাদীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এটি মানুষের পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেমন বিদ্যমান, তেমনি ইলমের সকল শাখায় জ্ঞান অন্বেষণের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, তারা হাদিস শাস্ত্রের বিষয়ে কোনো ব্যক্তির কথা গ্রহণ করেন না, যতক্ষণ না তিনি রিজাল শাস্ত্রের পণ্ডিতদের (علماء الرجال) নিকট পরিচিত হন। এটিও এক প্রকার তথ্য যাচাই (التثبت) ও নিশ্চিতকরণের (التحقق) অন্তর্ভুক্ত।

আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেছেন: "সনদ পরম্পরা (الإسناد) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। যদি সনদ পরম্পরা (الإسنাদ) না থাকত, তবে যার যা ইচ্ছা সে তা-ই বলত। কিন্তু যখন তাকে প্রশ্ন করা হয় যে, আপনাকে কে বর্ণনা করেছে, তখন সে নিরুত্তর হয়ে যায়" (১); অর্থাৎ বিষয়টি স্পষ্ট ও উন্মোচিত হয়ে যায়।

২ - বর্ণনাকারীর অবস্থা (حال الناقل) সম্পর্কে অবগত হওয়া:

এখানেই সংবাদের বর্ণনাকারীকে (الناقل) গ্রহণযোগ্যতা (القبول) বা প্রত্যাখ্যানের (الرد) মানদণ্ডে যাচাই করার বিষয়টি আসে। এর মধ্যে রয়েছে সত্যবাদিতা (الصدق), ন্যায়পরায়ণতা (العدالة), নির্ভুলতা (الضبط), নিখুঁত দক্ষতা (الإتقان), বিশ্বস্ততা (الأمانة) এবং সমপর্যায়ভুক্ত (الأقرান) ও সমসাময়িকদের (المعاصرين) মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক ঈর্ষার ব্যাধি সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা। এ বিষয়ে ইমাম আয-যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) আফফান আস-সাফফারের জীবনীতে বলেন: "সমকক্ষ (النظير) ও সমপর্যায়ভুক্ত ব্যক্তিদের (الأقرান) মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ ও বিচার-বিশ্লেষণ করা উচিত" (২)।

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিম।

(২) মিযানুল ইতিদাল (৩য় খণ্ড, ৮১ পৃষ্ঠা)। দেখুন: ফিকহুত তা’আমুল মা’আল আখতা, ড. আবদুর রহমান মাদখালি, পৃষ্ঠা ৩৩-৩৯।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ৯)
وكما مر معنا في النقطة السابقة فإن معرفة حال الناقل ضرورة لا بد منها في تلقي الأخبار سواء الشرعية وهي الأصل والأهم، أو حتى الأخبار الاجتماعية التي تدور داخل المجتمعات؛ وذلك لأن المعرفة التامة بحال القائلين تخرج - بإذن الله تعالى- أولئك الكاذبين المرجفين قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} الحجرات (6) . كذلك من معرفة حال الناقل ومعرفة ظروفه المحيطة سواء النفسية الداخلية أو الخارجية فربما يكون سبب نقل هذه المعلومة الخاطئة من هذا الثقة أمراً خارجاً عن إرادته وأهليته قال تعالى: {إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ} النحل (106) . ولا أريد أن أطيل كثيراً لعل الصورة وضحت، ولكن المهم هنا معرفة حال الناقل سواء كان فرداً أو جماعة معرفة تامة.

3- عرض هذا الأمر على الأصول:
পূর্ববর্তী পয়েন্টে যেমনটি আলোচিত হয়েছে, সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর (الناقل) অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া একটি অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা। এটি শরয়ি সংবাদের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য—যা মূল এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ—তেমনি সামাজিকভাবে প্রচলিত বিভিন্ন সংবাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; কারণ বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান থাকলে—আল্লাহ তাআলা-র ইচ্ছায়—সেই সকল মিথ্যাবাদী (الكاذبين) ও গুজব রটনাকারীদের বর্জন করা সম্ভব হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, যেন অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়কে আঘাত না করো, ফলে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে হয়।" (আল-হুজুরাত: ৬)। অনুরূপভাবে বর্ণনাকারীর (الناقل) অবস্থা এবং তার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি—চাই তা অভ্যন্তরীণ মানসিক হোক বা বাহ্যিক—তা অবগত হওয়াও জরুরি; কেননা হতে পারে এই নির্ভরযোগ্য (الثقة) ব্যক্তির পক্ষ থেকে ভুল তথ্য প্রদানের কারণটি তার নিয়ন্ত্রণ বা যোগ্যতার (أهلية) বাইরের কোনো বিষয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "সে ব্যক্তি ছাড়া যাকে বাধ্য করা হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানে অবিচলিত।" (আন-নাহল: ১০৬)। আমি আলোচনা দীর্ঘ করতে চাই না, আশা করি বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো বর্ণনাকারী (الناقل) একক ব্যক্তি হোক বা সমষ্টি, তাদের অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখা।

৩- মূলনীতির (الأصول) আলোকে বিষয়টি উপস্থাপন করা:
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১০)
الخطوة الثانية - بعد التثبت أن هذا الأمر حصل فعلاً - ينبغي عرض هذا الأمر الذي أرى أنه خطأ على الأصول (كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم بالفهم النبوي الشريف وفهم الصحابة الكرام ، فإنه سوف يتضح هذا الأمر فإن كان صحيحاً أقر وإن كان خطأ رفض أو صُحح.

يقول تبارك وتعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} النساء (59) . والرد إلى لله - تعالى - هو الردُّ لكتابه الكريم، والرد للرسول صلى الله عليه وسلم هو الرد لسنته المطهرة صلى الله عليه وسلم.

ومن لوازم معرفة الأصول المعرفة الصحيحة العرض على العلماء لأنهم (ورثة الأنبياء) ، وهم أهل الذكر الذين أمرنا الله - تعالى - بسؤالهم لقوله سبحانه: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} النحل (43) وبالتالي يتضح الأمر جلياً بإذن الله تعالى.

4- الروية وعدم التسرع في الحكم:
দ্বিতীয় পদক্ষেপ—বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে ঘটেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার পর—আমার দৃষ্টিতে যে বিষয়টি ভুল বলে মনে হচ্ছে, তা মূলনীতির (আল্লাহ তাআলার কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ যা মহান নবুওয়তি প্রজ্ঞা এবং সম্মানিত সাহাবীগণের বুঝ অনুযায়ী হবে) আলোকে যাচাই করা আবশ্যক। এর ফলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। যদি তা সঠিক (صحيح) প্রমাণিত হয় তবে তা বহাল রাখা হবে, আর যদি ভুল হয় তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে অথবা সংশোধন করা হবে।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: "অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ এবং রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।" [আন-নিসা (৫৯)]। আল্লাহর প্রতি ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর সম্মানিত কিতাবের প্রতি প্রত্যাবর্তন করা, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর পবিত্র সুন্নাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন করা।

সঠিক পন্থায় মূলনীতিগুলো অনুধাবন করার জন্য আলেমদের শরণাপন্ন হওয়া অপরিহার্য। কারণ তাঁরা হলেন 'নবীদের উত্তরসূরি'। তাঁরাই সেই জিকিরের আহল বা জ্ঞানী যাদের কাছে জিজ্ঞাসা করার জন্য আল্লাহ তাআলা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন: "যদি তোমরা না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো।" [আন-নাহল (৪৩)]। ফলে আল্লাহর ইচ্ছায় বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে।

৪- দূরদর্শিতা অবলম্বন এবং হুকুম (حكم) প্রদানে তড়িঘড়ি না করা:
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১১)
ينبغي عدم التسرع في إطلاق الأحكام على الناس حتى نرى الحقيقة جلية ونسلك المسالك الشرعية في معالجة الأخطاء، ولا نتعجل النتائج فقد دعا الأنبياء والرسل - عليهم الصلاة والسلام - أقوامهم سنين طويلة، وذلك لأن التسرع في إطلاق الأحكام وبخاصة غير المحببة ربما يكون فيه ظلمٌ وتعدٍّ على الآخرين؛ لأن بناء الحكم ينبغي له التأني والمرور بخطوات سابقة تجعلك بإذن الله - تعالى - قوي الموقف في هذه القضية، حتى وإن كان هذا القائل كافرا، يقول شيخ الإسلام: " والظلم محرم في كل حال فلا يحل لأحد أن يظلم أحداً ولو كان كافرا " (1) .

5- معرفة حال الفاعل وظروفه:

ومن ذلك أن يسأل الشخص المقصود بالأمر بما وصل إلينا عنه، ويأخذ رأيه، ويقول له: يا فلان، وصلنا عنكم كذا ولم نصدق، فنحن نعرف منهجكم ونعرف فضلكم في سبيل الخير، وكل ذلك بلين ورحمة وتواضع وابتسامة، قال - تعالى - في رسوله صلى الله عليه وسلم: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ} آل عمران (159) .

--------------------------------------------

(1) الفتاوى ، ج19 ، ص: 440.
মানুষের ওপর হুকুম (حكم) আরোপের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা উচিত নয় যতক্ষণ না আমরা সত্যকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাই এবং ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে শরয়ি পদ্ধতি অনুসরণ করি। আমাদের ফলাফলের জন্য তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়, কারণ নবী ও রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) তাদের কওমকে দীর্ঘ বছর দাওয়াত দিয়েছেন। কেননা হুকুম (حكم) আরোপে, বিশেষ করে অপ্রিয় কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করার মধ্যে অন্যের ওপর জুলুম ও সীমা লঙ্ঘন হতে পারে; কারণ হুকুম (حكم) গঠনের জন্য প্রয়োজন ধীরস্থিরতা এবং এমন কিছু পূর্ববর্তী ধাপ অতিক্রম করা যা আল্লাহর ইচ্ছায় আপনাকে এই বিষয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দেবে, যদিও সেই বক্তা একজন অবিশ্বাসী (كافر) হয়। শায়খুল ইসলাম বলেন: "জুলুম সর্বাবস্থায় হারাম, তাই কারো জন্য অন্য কারো ওপর জুলুম করা বৈধ নয়, যদিও সে অবিশ্বাসী (كافر) হয়।" (১) ।

৫- কর্ম সম্পাদনকারীর অবস্থা ও তার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়া:

এর অন্তর্ভুক্ত হলো যে ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো সংবাদ আমাদের কাছে পৌঁছেছে তাকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা, তার মতামত গ্রহণ করা এবং তাকে বলা: হে অমুক, আপনার সম্পর্কে আমাদের কাছে এমন সংবাদ পৌঁছেছে যা আমরা বিশ্বাস করিনি; কেননা আমরা আপনার কর্মপন্থা ও কল্যাণের পথে আপনার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবগত। আর এ সবকিছুই হতে হবে নম্রতা, দয়া, বিনয় ও হাসিমুখে। মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে বলেন: {অতঃপর আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন। যদি আপনি রূঢ় ও কঠোর চিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত} আলে ইমরান (১৫৯) ।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতাওয়া, ১৯ খণ্ড, পৃ: ৪৪০।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১২)
وهذا منهج سلوكي يجب أن نتبعه ما دمنا مسلمين متابعين لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فإنه بعد ذلك سوف يوضح لك هذا الشخص وجهة نظره ورؤيته للأمر، أو ينفي علاقته بتلك المخالفة، أو حتى يقلع عن المخالفة فوراً بلا حوار، فلعل الرجل لديه شبهة أو قرأ فكرة منحرفة خدشت سلوكه ومبادئه، أو طرأ عليه طارئ لا تعلمه فوق استطاعته كان سبباً فيما سمعتَ أو نُقل إليك من خلاف عنه، وفي قصة حاطب رضي الله عنه عندما كتب إلى أهل مكة يخبرهم بخطة الرسول صلى الله عليه وسلم: (وهذا فعل خطير) ، وأراد عمر رضي الله عنه قتله لأنه رأى أن هذا العمل نفاق، ولكن الرسول صلى الله عليه وسلم قال لحاطب: «ما هذا يا حاطب؟) ، قال: لا تعجل عليَّ يا رسول الله، إني كنت امرءاً من قريش ولم أكن من أنفَسِهم، وكان من معك من المهاجرين لهم قرابات يحمون بها أهليهم وأموالهم بمكة، فأحببت إذ فاتني من النسب فيهم أن أصطنع إليهم يداً يحمون قرابتي. وما فعلت ذلك كفراً ولا ارتداداً عن ديني، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (إنه قد صدقكم) ، فقال عمر: دعني يا رسول الله فأضرب عنقه. فقال صلى الله عليه وسلم: إنه شهد بدرًا وما يدريك لعل
এটি একটি আচরণগত কর্মপন্থা (منهج) যা অনুসরণ করা আমাদের জন্য আবশ্যক যতক্ষণ আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী মুসলিম হিসেবে রয়েছি। কেননা এর ফলে পরবর্তীতে সেই ব্যক্তি আপনার নিকট তার দৃষ্টিভঙ্গি ও বিষয়টি সম্পর্কে তার মতামত স্পষ্ট করবে, অথবা উক্ত লঙ্ঘনের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করবে, কিংবা কোনো আলোচনা ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে সেই লঙ্ঘন থেকে ফিরে আসবে। হতে পারে লোকটির মনে কোনো সংশয় (شبهة) রয়েছে অথবা সে কোনো ভ্রান্ত ধারণা পাঠ করেছে যা তার আচরণ ও আদর্শকে ক্ষুণ্ণ করেছে, অথবা তার ওপর এমন কোনো আকস্মিক পরিস্থিতি আপতিত হয়েছে যা আপনার জানা নেই এবং যা তার সামর্থ্যের বাইরে ছিল, যা তার পক্ষ থেকে ঘটা বা আপনার নিকট পৌঁছানো সেই বিচ্যুতি বা বিরোধের কারণ হয়েছে। হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাহিনীতে, যখন তিনি মক্কাবাসীদের নিকট রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিকল্পনা জানিয়ে পত্র লিখেছিলেন: (আর এটি ছিল একটি গুরুতর কাজ), এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন কারণ তিনি এই কাজটিকে কপটতা (نفاق) হিসেবে গণ্য করেছিলেন। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতিবকে বললেন: 'হে হাতিব, এটি কী?' তিনি বললেন: 'হে আল্লাহর রসূল, আমার বিষয়ে তাড়াহুড়ো করবেন না। আমি কুরাইশদের সাথে সম্পৃক্ত একজন ব্যক্তি ছিলাম কিন্তু তাদের মূল বংশের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। আপনার সাথে থাকা মুহাজিরদের মক্কায় এমন আত্মীয়-স্বজন ছিল যাদের মাধ্যমে তারা তাদের পরিবার ও ধন-সম্পদ রক্ষা করত। তাই আমি চেয়েছিলাম যে, যেহেতু তাদের মাঝে আমার কোনো বংশীয় আভিজাত্য নেই, তাই তাদের প্রতি এমন কোনো অনুগ্রহ করি যেন তারা আমার আত্মীয়-স্বজনকে সুরক্ষা প্রদান করে। আমি এটি কুফরি (كفر) হিসেবে বা আমার দ্বীন থেকে ধর্মত্যাগ (ردة) করার উদ্দেশ্যে করিনি।' তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'সে তোমাদের নিকট সত্য বলেছে।' উমর বললেন: 'হে আল্লাহর রসূল, আমাকে অনুমতি দিন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিই।' তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'নিশ্চয়ই সে বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিল, আর আপনি কী জানেন, হয়তো...'
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১৩)
الله عز وجل اطلع على أهل بدر، فقال: اعملوا ما شئتم فقد غفرت لكم» (1) .

إذاً لا بد من معرفة رأي المخالف ومعرفة تصوره حتى يكون حوارنا على أسس سليمة ومتينة.

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري عناية الشيخ محمد علي القطب والشيخ هشام البخاري ج3 ، ومختصر صحيح مسلم للمنذري في فضائل الصحابة رضي الله عنهم (1720) بلفظ أقرب جدًّا.
মহান আল্লাহ বদরবাসীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং বলেছেন: "তোমরা যা ইচ্ছা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি" (১)।

সুতরাং, ভিন্নমতাবলম্বীদের অভিমত এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা আবশ্যক, যাতে আমাদের সংলাপ সঠিক ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি, শাইখ মুহাম্মদ আলি আল-কুতুব ও শাইখ হিশাম আল-বুখারি সম্পাদিত, ৩য় খণ্ড; এবং আল-মুনজিরি সংকলিত মুখতাসার সহিহ মুসলিম, সাহাবিগণের (রা.) মর্যাদা অধ্যায় (১৭২০), অতি নিকটবর্তী শব্দবিন্যাসে।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌ثانيًا - المرحلة البعدية للخطأ

وهذه المرحلة تأتي بعد مشوار طويل من التحقق والرجوع والتأصيل والنظر، فإذا ثبت أن الأمر المنقول كان خطأ فإنه يجب تصحيحه بالطرق الشرعية، وتنحصر هذه المرحلة في ضرورة الوصول للمخالف وتصحيح الأمر إلى الصواب سواء بطريق مباشر أو غير مباشر، ولنعلم أن صاحب هذا الخطأ يعد مخالفاً وإن كان الخلاف يسيرا، فإننا نتكلم عن مبادئ وبالتالي دخلنا في دائرة الخلاف سواء كان الخلاف سائغاً أو غير سائغ ، وينتقل الأمر إلى مواجه تتطلب آداباً سيأتي ذكرها لاحقاً بمشيئة الله تعالى.

وقبل الشروع في الحديث عن الخلاف أود الإشارة إلى أنني تركت التقسيمات والتنويعات سواء للأخطاء أو للخلاف فإن الأخطاء فيها ما هو كبير جداً يدخل في المعتقدات، ومنها ما يدخل في العبادة والسلوك وما إلى ذلك.

وكذلك الخلاف منه ما هو سائغ كالخلاف بين المذاهب السنية في مسألة فرعية في الفقه مثلاً، ومن الخلاف ما هو غير سائغ بل محرم كخلاف الكفار والمبتدعة ونحو ذلك (1) .

--------------------------------------------

(1) للتوسع في أقسام الخلاف انظر: فقه الخلاف. د / عوض القرني.
দ্বিতীয়ত - ভুলের পরবর্তী পর্যায়

এই পর্যায়টি দীর্ঘ সময়ের যাচাই-বাছাই, পর্যালোচনা, মূলনীতি নির্ধারণ এবং পর্যবেক্ষণের পর আসে। সুতরাং যদি প্রমাণিত হয় যে বর্ণিত বিষয়টি ভুল ছিল, তবে শরয়ি পদ্ধতিতে তা সংশোধন করা আবশ্যক। এই পর্যায়টি বিরোধিতাকারীর (مخالف) নিকট পৌঁছানো এবং বিষয়টি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সঠিকভাবে সংশোধন করার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের জেনে রাখা উচিত যে, এই ভুলকারী ব্যক্তি একজন বিরোধিতাকারী (مخالف) হিসেবে গণ্য হবেন, যদিও সেই বিরোধ সামান্য হয়। যেহেতু আমরা মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করছি, তাই আমরা মতভেদের (خلاف) বৃত্তে প্রবেশ করেছি; চাই সেই মতভেদ গ্রহণযোগ্য (سائغ) হোক বা অগ্রহণযোগ্য (غير سائغ)। এরপর বিষয়টি এমন এক পরিস্থিতির দিকে মোড় নেয় যার জন্য নির্দিষ্ট শিষ্টাচার প্রয়োজন, যা আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে।

মতভেদ সম্পর্কে আলোচনা শুরু করার আগে আমি উল্লেখ করতে চাই যে, আমি ভুল কিংবা মতভেদের প্রকারভেদ ও বৈচিত্র্যসমূহ আলোচনা করা থেকে বিরত থেকেছি। কারণ ভুলের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা অত্যন্ত গুরুতর এবং আকিদাহ বা বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত, আবার কিছু ইবাদত ও আচরণের অন্তর্ভুক্ত ইত্যাদি।

অনুরূপভাবে মতভেদের মধ্যেও কিছু রয়েছে গ্রহণযোগ্য (سائغ), যেমন উদাহরণস্বরূপ ফিকহ শাস্ত্রের কোনো গৌণ বিষয়ে সুন্নি মাজহাবসমূহের মধ্যকার মতভেদ। আবার কিছু মতভেদ রয়েছে যা অগ্রহণযোগ্য (غير سائغ), বরং তা নিষিদ্ধ; যেমন কাফির এবং বিদআতিদের (مبتدعة) মতভেদ (১)।

--------------------------------------------

(১) মতভেদের প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন: ফিকহুল খিলাফ, ড. আওয়াদ আল-কারনি।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
وذلك حتى لا أطيل المقام وحتى لا أكرر كثيرا مما كتب، وإنما يستطيع القارئ - إن شاء الله تعالى - أن يعرف النوع والدرجة عند حديثي عن الأسباب والآداب للخلاف، فليس من المعقول أن يفهم القارئ عند حديثي عن أسباب الخلاف أن الحسد من أسباب الخلاف المحمود أو المساغ لا، بل أحسبه يفهم أن هذا من أسباب الخلاف المحرم ونحو هذا. والله أعلم.
আর এটি একারণেই যাতে আমি আলোচনা দীর্ঘ না করি এবং যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে তার অধিকাংশের পুনরাবৃত্তি না করি; বরং পাঠক—ইনশাআল্লাহ তায়ালা—মতপার্থক্যের কারণ ও আদবসমূহ সম্পর্কে আমার আলোচনার সময় তার ধরন (النوع) ও স্তর (الدرجة) সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। কারণ এটি কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয় যে, মতপার্থক্যের কারণসমূহ নিয়ে আমার আলোচনার প্রেক্ষাপটে পাঠক মনে করবেন যে, হিংসা হলো প্রশংসনীয় (المحمود) কিংবা বৈধ (المساغ) মতপার্থক্যের অন্যতম কারণ। না, বরং আমি মনে করি তিনি বুঝতে পারবেন যে, এটি নিষিদ্ধ (المحرم) মতভেদের কারণসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এই জাতীয় বিষয়। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌أسباب الخلاف ‌‌أولا - وجود الخطأ أصلا

إن وجود الخطأ كما ذكرنا آنفا سبب قوي في نشوء الخلاف، يكبر الخلاف معه ويصغر، وهو يشكل علاقةً مطردةً، لذلك أهل السنة والجماعة على خلاف مع الفِرَق المبتدعة سواءً الأشاعرة أو المعتزلة أو القدرية أو الجبرية أو الرافضة أو الخوارج أو الصوفية، وذلك بسبب أخطاء تلك الفرق المبتدعة، والخلاف معهم ليس بدرجة الخلاف الذي يكون مع الزنادقة والكفرة والملاحدة، كما أن الخلاف هنا مع ضخامته ضد أهل الضلال والزيغ، فإنك تجده محجماً بين المذاهب السنية الأربعة المالكية والأحناف والشافعية والحنابلة، وذلك لأن الأخطاء الواقعة كانت في مسائل فقهية فرعية، فهم لم يختلفوا بحمد الله في مسائل عقدية كالمبتدعة، وبالتالي كان الخلاف بينهم صغيراً وبسيطاً، يتحقق فيهم قوله صلى الله عليه وسلم: «إذا حكم الحاكم فاجتهد ثم أصاب فله أجران وإذا حكم فاجتهد ثم أخطأ فله أجر» (1) . ولكن يظل خلافاً يجب رده للكتاب والسنة.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (7352) ومسلم (1716) عن عمرو بن العاص رضي الله عنه.
‌মতভেদের কারণসমূহ ‌‌প্রথমত - মূলত ভুলের উপস্থিতি

নিশ্চয়ই ভুলের উপস্থিতি, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি, মতভেদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী কারণ। এর সাথে সাথে মতভেদ বৃদ্ধি পায় বা হ্রাস পায়, এবং এটি একটি নিয়মিত সম্পর্ক গঠন করে। এই কারণেই বিদআতী (مبتدعة) দলগুলোর সাথে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মতভেদ রয়েছে, চাই তারা আশআরি, মুতাযিলা, কাদারিয়া, জাবরিয়া, রাফেযি, খারেজি কিংবা সুফি হোক না কেন। আর তা ঐ সকল বিদআতী (مبتدعة) দলের ভুলসমূহের কারণেই। তাদের সাথে এই মতভেদ যিনদিক (زنادقة), কাফির (كفرة) এবং নাস্তিকদের (ملاحدة) সাথে হওয়া মতভেদের পর্যায়ের নয়। যেমনটি গোমরাহি (ضلال) ও বিচ্যুতিতে (زيغ) নিমজ্জিতদের বিরুদ্ধে এখানে মতভেদ বিশাল হওয়া সত্ত্বেও, আপনি সুন্নি চার মাযহাব—মালিকি, হানাফি, শাফেয়ি এবং হাম্বলিদের মাঝে একে সংকুচিত বা সীমিত দেখতে পাবেন। কেননা যে ভুলগুলো সংঘটিত হয়েছে তা ছিল শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত ফিকহী (فقهية) মাসআলাসমূহে; আল্লাহর প্রশংসায়, তারা বিদআতীদের (مبتدعة) ন্যায় আকিদাগত (عقدية) বিষয়ে মতভেদ করেননি। ফলে তাদের মধ্যকার মতভেদ ছিল ক্ষুদ্র ও সাধারণ; তাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি বাস্তবায়িত হয়: «যখন কোনো বিচারক বিচার করেন এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তখন তার জন্য রয়েছে দুটি সওয়াব। আর যখন তিনি বিচার করেন এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) করে ভুল করেন, তখন তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব» (১)। তবে এটি এমন একটি মতভেদ হিসেবেই গণ্য হবে যা কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়া আবশ্যক।

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৭৩৫২) ও মুসলিম (১৭১৬) হাদিসটি আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌ثانياً - البغي والعدوان

البغي بغير علم وبغير هدي، فإنك تجد بعض الناس يحب أن يبغي على الآخرين، لأن من طبيعته العدوان، فهو كبعض الحيات التي تحتوي على السم، فإذا لم تلدغ في السنة مرة ماتت. فتجد بعض الناس كهذه الفصيلة مع الآخرين.

فهو كما يقول زهير بن أبي سلمى:

ومن لم يذد عن حوضه بسلاحه … يُهدَّم ومن لا يظلم الناس يُظلمِ

وهذا البيت أوله صواب، ولكن آخره خطأ؛ لأنه يدعو إلى الظلم والعدوان.

والذي يخالف دائماً بهوى، وبدون حق يبغضه الخالق. والذي يحب أن يخالف بحق فله مكانته ورأيه.

قال سبحانه وتعالى: {وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ} آل عمران (19) .

وقال سبحانه: {جَاءَهُمْ مَا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْكَافِرِينَ} البقرة (89)

فاليهود يشهدون أن محمدا عليه الصلاة والسلام رسول من عند الله، فلما جاءهم بالعلم كفروا بغياً وعدواناً.
দ্বিতীয়ত - বিদ্রোহ (البغي) ও সীমালঙ্ঘন (العدوان)

জ্ঞান (علم) ও হেদায়েত (هدي) ব্যতীত বিদ্রোহ (البغي)। কেননা আপনি এমন কিছু লোক পাবেন যারা অন্যদের ওপর বিদ্রোহ (البغي) করতে ভালোবাসে, কারণ তাদের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যই হলো সীমালঙ্ঘন (العدوان)। সে যেন সেই কিছু বিষধর সাপের মতো, যারা বছরে অন্তত একবার দংশন না করলে মারা যায়। আপনি মানুষের মধ্যে এমন কিছু প্রজাতি পাবেন যারা অন্যদের সাথে এরূপ আচরণ করে।

যেমনটি জুহাইর ইবনে আবি সুলমা বলেছেন:

যে ব্যক্তি নিজের অস্ত্র দ্বারা তার হাউজ রক্ষা করে না … তা বিধ্বস্ত হয়; আর যে মানুষের ওপর জুলুম (يظلم) করে না, সে নিজেই জুলুমের শিকার হয়।

এই কবিতার চরণের প্রথমাংশ সঠিক, কিন্তু শেষাংশ ভুল; কারণ এটি জুলুম (الظلم) ও সীমালঙ্ঘনের (العدوان) দিকে আহ্বান জানায়।

যে ব্যক্তি সর্বদা প্রবৃত্তির (هوى) বশবর্তী হয়ে এবং সত্য ব্যতিরেকে বিরোধিতা করে, স্রষ্টা তাকে ঘৃণা করেন। আর যে ব্যক্তি হকের (حق) সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পছন্দ করেন, তার একটি বিশেষ মর্যাদা ও নিজস্ব অভিমত রয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেছেন: {যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের নিকট জ্ঞান (العلم) আসার পর কেবল পরস্পর বিদ্রোহ (بغياً) বশত তারা মতভেদ করেছিল} আল ইমরান (১৯)।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {তাদের নিকট যখন তা এলো যা তারা চিনত, তখন তারা তা অস্বীকার করল; সুতরাং কাফিরদের (الكافرين) ওপর আল্লাহর লানত} আল-বাকারা (৮৯)।

ইহুদিরা সাক্ষ্য প্রদান করত যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূল। কিন্তু যখন তাঁর মাধ্যমে তাদের নিকট জ্ঞান (العلم) আসলো, তখন তারা বিদ্রোহ (بغياً) ও সীমালঙ্ঘন (عدواناً) বশত তা অস্বীকার করল।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌ثالثًا - الحسد

قال سبحانه وتعالى: {حَسَدًا مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ} (البقرة (109)

والحسد يسري في أهل المهن المتشابهة ،والمتقاربين في السن، والزملاء والأقران، إلا من رحم الله، فتجد الشيخ يخالف الشيخ، والطالب يخالف الطالب، والمهندس يخالف المهندس، والطبيب يخالف الطبيب، والشاعر يخالف الشاعر. .

وكثير من الأشياء لها أضداد تخالفها حتى الحديد وهو أقوى الأشياء.

قيل لأحد الحكماء: ما أقوى شيء خلقه الله؟

قال: أقوى شيء خلقه الله سبحانه وتعالى هو الجبال.

قالوا: وما أقوى من الجبال؟

قال: الحديد.

قالوا: وما أقوى من الحديد؟

قال: الريح.

ولذلك يقول سبحانه وتعالى: {تُدَمِّرُ كُلَّ شَيْءٍ بِأَمْرِ رَبِّهَا} الأحقاف (25)

وأثبت ذلك العلم الحديث.

قالوا: فما أقوى من الريح؟ قال: الصمت.

فالصمت أقوى من الريح، ولذلك يقول (البردوني) يُحيي الرسول عليه الصلاة والسلام ويحيي دعوته:

بُشرى من الغيب ألقت في فم الغارِ … وحيًا وأفضتْ إلى الدنيا بأسرارِ

بشرى النبوة طافت كالشذا سحرًا … وأعلنت في الدنا ميلادَ أنوارِ
তৃতীয়ত - হিংসা (الحسد)

মহান আল্লাহ বলেন: {নিজেদের পক্ষ থেকে হিংসাবশত (الحسد), তাদের কাছে সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও} (আল-বাকারা: ১০৯)

হিংসা (الحسد) সমজাতীয় পেশার মানুষ, সমবয়সী, সহকর্মী এবং সমসাময়িকদের (الأقران) মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তবে আল্লাহ যাকে রহম করেছেন সে ব্যতীরেকে। ফলে আপনি দেখতে পাবেন একজন শাইখ (الشيخ) অন্য শাইখের (الشيخ) বিরোধিতা করছেন, একজন ছাত্র অন্য ছাত্রের বিরোধিতা করছেন, একজন প্রকৌশলী অন্য প্রকৌশলীর বিরোধিতা করছেন, একজন চিকিৎসক অন্য চিকিৎসকের বিরোধিতা করছেন এবং একজন কবি অন্য কবির বিরোধিতা করছেন।

অনেক জিনিসেরই এমন বিপরীত বস্তু রয়েছে যা তার বিরোধিতা করে, এমনকি লোহাও, যা কিনা সবচেয়ে শক্তিশালী বস্তুগুলোর একটি।

জনৈক প্রাজ্ঞ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আল্লাহর সৃষ্টি করা সবচেয়ে শক্তিশালী বস্তু কোনটি?

তিনি বললেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যা সৃষ্টি করেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো পাহাড়।

তারা জিজ্ঞেস করল: পাহাড়ের চেয়েও শক্তিশালী কী?

তিনি বললেন: লোহা।

তারা জিজ্ঞেস করল: লোহার চেয়েও শক্তিশালী কী?

তিনি বললেন: বায়ু।

আর একারণেই মহান আল্লাহ বলেন: {তা তার রবের নির্দেশে সবকিছুকে ধ্বংস করে দেয়} (আল-আহকাফ: ২৫)

আধুনিক বিজ্ঞানও তা প্রমাণ করেছে।

তারা বলল: তবে বায়ুর চেয়েও শক্তিশালী কী? তিনি বললেন: নীরবতা।

সুতরাং নীরবতা বায়ুর চেয়েও শক্তিশালী, তাই (আল-বারাদুনি) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর দাওয়াতকে অভিবাদন জানিয়ে বলেন:

অদৃশ্য থেকে আসা এক সুসংবাদ যা গুহার মুখে অর্পণ করেছিল … ওহী (وحي) এবং যা জগতের কাছে উন্মোচন করেছিল নিগূঢ় রহস্য

নবুওয়াতের সুসংবাদ যা শেষ রাতের সুবাসের মতো বিচরণ করছিল … এবং পৃথিবীতে ঘোষণা করেছিল নূরের আবির্ভাবের বার্তা
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
وشقَّت الصمتَ والأنسامُ تحملها … تحت السكينة من دارٍ إلى دارِ

فالمقصود: أن الحسد يحمل بعض الناس إلى أن يخالف غيره، ولو كان الحق مع المخالف. وهذا مذهب بني إسرائيل، والعياذ بالله ، فهم يحسدون الناس كما قال سبحانه وتعالى: {أَمْ يَحْسُدُونَ النَّاسَ عَلَى مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ فَقَدْ آتَيْنَا آلَ إِبْرَاهِيمَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَآتَيْنَاهُمْ مُلْكًا عَظِيمًا} النساء (54) .

وبنو الإسلام يقع فيهم الحسد كما يقع في غيرهم ، ولو كانوا مؤمنين.

وكثيرًا ما يقع الحسد بين الأقران:

إن العرانيين تلقاها محسدةً … ولا ترى لِلِئام الناس حُسَّادا

وكتب ابن الوزير العالم اليمني لعمه رسالةً يشكو فيها من حسد الأقران، فرد عليه عمُّه وقال:

وشكوت من ظلم الوشاة ولن تجد … ذا سؤددٍ إلا أصيب بحسَّدِ

لا زلت يا ابن الكرام محسَّدًا … والتافه المسكين غير محسَّدِ

وقيل للحسن البصري: أيحسد المؤمن؟

قال: ويلك!! أنسيت قصة أبناء يعقوب لما حسدوا يوسف عليه السلام؟

قال: فماذا أفعل؟

قال: إذا حسدت فلا تبغ.
নিস্তব্ধতা খানখান হয়ে গেল আর মৃদু বাতাস তা বয়ে নিয়ে চলল … প্রশান্তির আবহে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে।

মূল উদ্দেশ্য হলো: হিংসা কিছু মানুষকে অন্যের বিরোধিতা করতে প্ররোচিত করে, যদিও সত্য সেই বিরোধিতাকারীর সাথেই থাকে। আর এটি বনী ইসরাঈলের নীতি, আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। তারা মানুষকে হিংসা করে যেমনটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {নাকি তারা মানুষকে হিংসা করে আল্লাহ তাদের নিজ অনুগ্রহে যা দিয়েছেন তার জন্য? অবশ্যই আমি ইব্রাহীমের বংশধরদের কিতাব ও হিকমত দান করেছি এবং তাদের এক বিশাল রাজ্য দান করেছি।} (আন-নিসা: ৫৪)।

আর মুসলিমদের মধ্যেও হিংসার প্রভাব পরিলক্ষিত হয় যেমনটি অন্যদের মধ্যে ঘটে, যদিও তারা মুমিন হন।

আর সমসাময়িক ব্যক্তিদের (الأقران) মধ্যে প্রায়শই হিংসা ঘটে থাকে:

নিশ্চয়ই তুমি উচ্চবংশীয় অভিজাতদের দেখবে যে তাদের হিংসা করা হচ্ছে … কিন্তু নীচ ও অধম লোকদের কাউকে হিংসা করতে দেখবে না।

ইয়েমেনি আলেম ইবনুল ওয়াজির তাঁর চাচার কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন যাতে তিনি সমসাময়িক (الأقران) ব্যক্তিদের হিংসার অভিযোগ করেছিলেন, তখন তাঁর চাচা উত্তরে বললেন:

তুমি চোগলখোরদের জুলুমের অভিযোগ করেছ, অথচ তুমি এমন কোনো শ্রেষ্ঠত্ব বা মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তিকে পাবে না যে হিংসুকদের দ্বারা আক্রান্ত হয়নি। …

হে সম্মানীদের সন্তান! তুমি সর্বদা হিংসার পাত্র হয়েই থাকো … কেননা তুচ্ছ ও অভাগা ব্যক্তি হিংসার পাত্র হয় না।

হাসান বসরীকে জিজ্ঞাসা করা হলো: মুমিন কি হিংসা করতে পারে?

তিনি বললেন: তোমার দুর্ভোগ হোক!! তুমি কি ইয়াকুবের পুত্রদের কাহিনী ভুলে গেছো যখন তারা ইউসুফ আলাইহিস সালামকে হিংসা করেছিল?

তিনি বললেন: তাহলে আমি কী করব?

তিনি বললেন: যখন তোমার মনে হিংসা জাগবে, তখন সীমালঙ্ঘন করো না।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌رابعًا - الكبر

وهذا أوضحه، وقد عرفه النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: «الكبر بطر الحق وغمط الناس» (1) بطر الحق أي ردّه، وغمط الناس: أي احتقارهم.

فتجد بعض الناس ، لا ينظر إلى الآخرين لأجل هذا الكبر.

تقول له: السلام عليكم ورحمة الله. . . فلا يرد لأنه من فصيلةٍ أخرى ، فدمه دم آخر. فإذا نصحته غضب عليك ، وأخذته العزة بالإثم؛ لأنه يرى أن مثله لا ينصح.

فهذا هو رد الحق وبطره.

وما حمل أبا جهل على رد دعوة الرسول صلى الله عليه وسلم إلا الكبر، وكذلك الوليد بن المغيرة ، وكذلك الطغاة من قبلهما كفرعون وقارون وهامان.

لقد كان أبو جهل يعلم أن محمدًا صلى الله عليه وسلم صادق ورسولٌ من عند الله عز وجل، لكنه كان يقول: إذا قال بنو هاشم: عندنا النبوة فماذا نقول؟ فانظر إلى الكبر والعياذ بالله.

قال سبحانه وتعالى: {فَإِنَّهُمْ لَا يُكَذِّبُونَكَ وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ} الأنعام (33) .

وقال تعالى: {سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ} الأعراف (146) .

--------------------------------------------

(1) جزء من حديث عند مسلم برقم (91) بشرح النووي ج2، وأخرجه أبو داود برقم (4091) ، والترمذي برقم (1999) ، بتحقيق كمال الحوت بلفظ قريب جدًّا.
চতুর্থত - অহংকার (الكبر)

এটি অত্যন্ত স্পষ্ট, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: «অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা» (১); সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা মানে তা রদ করে দেওয়া, আর মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা মানে তাদের হেয় প্রতিপন্ন করা।

ফলে আপনি কিছু মানুষকে পাবেন, যারা এই অহংকারের কারণে অন্যের দিকে তাকায় না।

আপনি তাকে বললেন: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ... কিন্তু সে উত্তর দেয় না কারণ সে অন্য কোনো প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত, যেন তার রক্ত ভিন্ন ধাঁচের। আপনি যখন তাকে নসিহত করেন, সে আপনার ওপর রাগান্বিত হয় এবং পাপের মাধ্যমে তার অহমিকা তাকে গ্রাস করে; কারণ সে মনে করে যে, তার মতো ব্যক্তিকে নসিহত করা যায় না।

এটাই হলো সত্যকে রদ করা এবং প্রত্যাখ্যান করা।

আবু জাহলকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করতে অহংকার ব্যতিত অন্য কিছু প্ররোচিত করেনি। একইভাবে ওয়ালিদ বিন মুগীরা এবং তাদের পূর্ববর্তী ফেরাউন, কারুন ও হামানের মতো অবাধ্য ব্যক্তিরা এই অহংকারের কারণেই সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল।

আবু জাহল জানতেন যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যবাদী এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল, কিন্তু সে বলত: যদি বনু হাশেম বলে যে আমাদের কাছে নবুওয়াত আছে, তবে আমরা কী বলব? সুতরাং অহংকারের ভয়াবহতা লক্ষ্য করুন, আমরা আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই।

মহান আল্লাহ বলেন: {বস্তুত তারা আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না, বরং জালিমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করে} আল-আনআম (৩৩)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আমি আমার নিদর্শনসমূহ থেকে তাদের বিমুখ করে দেব যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করে} আল-আরাফ (১৪৬)।

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম-এর একটি হাদিসের অংশ, নং (৯১), নববী-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) ২য় খণ্ড; এছাড়া এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ নং (৪০৯১) এবং তিরমিজি নং (১৯৯৯), কামাল আল-হুত-এর তাহকিক (تحقيق) অনুযায়ী অত্যন্ত নিকটবর্তী শব্দে।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২১)
فالمتكبر يرد الحق ويخالفه لأنه يرى أنه ليس بإمكانه أن يتنازل لك ليسمع منك الحوار، ويسمع منك المناظرة لحاجة في نفسه.

في حين أنه ينبغي للإنسان أن يقرر في نفسه للناس مبدأ التواضع للآخرين ، وقبول الحق منهم، ولو كانوا أقل منه علمًا أو تقوى.
অহংকারী ব্যক্তি সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং তার বিরুদ্ধাচরণ করে; কেননা সে মনে করে যে, স্বীয় নফসের কোনো অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে সংলাপ শোনার জন্য আপনার নিকট বিনত হওয়া কিংবা আপনার বিতর্ক শ্রবণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

অথচ মানুষের জন্য এটিই সমীচীন যে, সে অন্যের প্রতি বিনয় প্রদর্শন এবং তাদের নিকট থেকে সত্য গ্রহণ করার মূলনীতিটি নিজের অন্তরে প্রতিষ্ঠিত করবে, যদিও তারা ইলম কিংবা তাকওয়ার বিচারে তার চেয়ে নিম্নস্তরের হয়।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌خامسًا - التعصب للأشخاص والمناهج

فبعض الناس إذا أحب شخصًا تولع به ، فلا يكاد يبصر إلا رأيه أو اجتهاداته ، ولو كانت خاطئة.

وهذا المنهج غير صحيح؛ لأن المعصوم هو محمد صلى الله عليه وسلم، وكل أحد منا يرد من قوله ويؤخذ إلا محمدًا صلى الله عليه وسلم.

والكتب كلها يقع فيها اختلاف إلا القرآن الكريم: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} النساء (82) .

وبعض الناس يرى أن منهجه ووسيلته وطريقته هي الصائبة فقط، ولا أصوب منها، أما غيرها فخطأ، وأنه يجب على الناس أن يمضوا على منهجه ، وأن يسلموا لطريقته ، وأن يسلِّموا لما يقول.

وهذا ليس بصحيح. ولذلك يقول أهل هذا المبدأ كما وصفهم الله تعالى: {وَيَقُولُونَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا هَؤُلَاءِ أَهْدَى مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا سَبِيلًا} النساء (51) . وكما قال - تعالى - عن الكافرين المتعصبين لآبائهم بالباطل: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ} البقرة (170) .
পঞ্চম - ব্যক্তি ও মানহাজের (منهج) প্রতি অন্ধ গোঁড়ামি

কিছু মানুষ যখন কোনো ব্যক্তিকে ভালোবাসে, তখন তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। ফলে সে তার মতামত বা গবেষণালব্ধ ইজতিহাদ (اجتهاد) ব্যতীত আর কিছুই দেখতে পায় না, যদিও তা ভুল হয়ে থাকে।

আর এই মানহাজ (منهج) সঠিক (صحيح) নয়; কারণ একমাত্র মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই হলেন নিষ্পাপ (معصوم)। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত আমাদের প্রত্যেকের কথাই গ্রহণ বা বর্জন করা যেতে পারে।

আল-কুরআন ব্যতীত সকল কিতাব বা গ্রন্থেই মতভেদ (اختلاف) পরিলক্ষিত হয়: {আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে অবশ্যই তারা তাতে অনেক মতভেদ (اختلاف) দেখতে পেত।} সূরা আন-নিসা (৮২)।

আবার কিছু লোক মনে করে যে কেবল তাদের মানহাজ (منهج), মাধ্যম ও পদ্ধতিই সঠিক এবং এর চেয়ে সঠিক আর কিছুই নেই। পক্ষান্তরে অন্য সব কিছুই ভুল। তাদের মতে, মানুষের উচিত তাদের মানহাজের (منهج) ওপর চলা, তাদের পদ্ধতির কাছে আত্মসমর্পণ করা এবং তারা যা বলে তা মেনে নেওয়া।

আর এটি সঠিক (صحيح) নয়। তাই এই মূলনীতির অনুসারীরা তেমনটিই বলে, যেমনটি মহান আল্লাহ তাদের বর্ণনায় বলেছেন: {আর তারা কাফিরদের সম্পর্কে বলে যে, এরা মুমিনদের তুলনায় অধিকতর সঠিক পথে রয়েছে।} সূরা আন-নিসা (৫১)। তেমনিভাবে মহান আল্লাহ সেইসব কাফিরদের সম্পর্কে বলেছেন যারা তাদের পিতৃপুরুষদের বাতিলের ওপর অন্ধ অনুসারী ছিল: {আর যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তোমরা তার অনুসরণ করো, তারা বলে, বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যে বিষয়ের ওপর পেয়েছি তারই অনুসরণ করব। যদিও তাদের পিতৃপুরুষগণ কিছুই বুঝত না এবং তারা হেদায়াতপ্রাপ্তও ছিল না।} সূরা আল-বাকারা (১৭০)।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
فأبو جهل مثلا يقول: كيف يكون الحق مع بلال ومع صهيب ومع ابن مسعود وهم ضعفاء الناس في نظره، وما علم الجاهل أنهم من سادات الأمة رضي الله عنهم وعن الصحابة أجمعين.

قال رجل لعلي بن أبي طالب رضي الله عنه وأرضاه: يا علي، أتظن أن الحق معك والباطل مع طلحة والزبير وعائشة؟ يعني في معركة الجمل.

قال: ويلك!! اعرف الحق تعرف أهله ، ولا تعرف الحق بالرجال.

فالتعصب للأشخاص والمناهج مصيبة ، وقد أضرت بالأمة الإسلامية وأخرت ركبها وأشغلتها بالخلافات والردود، حتى أحاط بنا الأعداء من كل جانب ،يستثنى من ذلك إذا كان هذا التعصب لأمر كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم، فهو حق لا بد من التمسك به.
উদাহরণস্বরূপ আবু জাহেল বলত: সত্য কীভাবে বিলাল, সুহাইব এবং ইবনে মাসউদের সাথে থাকতে পারে, অথচ তার দৃষ্টিতে তারা ছিল মানুষের মাঝে দুর্বল (ضعفاء)? সেই মূর্খ ব্যক্তিটি জানত না যে, তারা এই উম্মতের মহান নেতাদের অন্তর্ভুক্ত, আল্লাহ তাদের ওপর এবং সকল সাহাবীর ওপর সন্তুষ্ট হোন।

জনৈক ব্যক্তি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন: হে আলী, আপনি কি মনে করেন যে সত্য আপনার সাথে আর মিথ্যা তালহা, যুবাইর এবং আয়েশার সাথে? অর্থাৎ জঙ্গে জামালের যুদ্ধে।

তিনি বললেন: তোমার দুর্ভোগ! সত্যকে জানো, তাহলে সত্যের অনুসারীদের চিনতে পারবে; ব্যক্তিদের দ্বারা সত্যকে নিরূপণ করো না।

ব্যক্তি এবং মতাদর্শের প্রতি অন্ধত্ব বা গোঁড়ামি একটি মুসিবত, যা মুসলিম উম্মাহর ক্ষতি সাধন করেছে, এর অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করেছে এবং একে পারস্পরিক মতভেদ ও খণ্ডন-প্রত্যুত্তরে লিপ্ত রেখেছে, এমনকি শত্রুরা আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেছে। তবে এর ব্যতিক্রম হলো, যদি এই অবিচলতা সেই বিষয়ের ওপর হয় যার ওপর নবী (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) প্রতিষ্ঠিত ছিলেন; তবে তা হলো সত্য যা অবশ্যই দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌سادساً - ضيق الأفق

فبعض الناس ضيق الأفق ، لا يتسع صدره للمحاورة ولا للنقاش، فهو يغلق عليك الطريق منذ أول وهلة مقرراً رأيه ومسفها لما سواه.

يقول الله سبحانه وتعالى: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ} التوبة (6) ، أي: اتركه حتى يسمع النور ، واتركه حتى يسمع الوحي ، واجعل له فرصة حتى يظهر لك ما في صدره.

ولا يفوتنا هنا: قصة «عتبة بن ربيعة وهو من رؤساء الشرك في قريش، عندما ذهب إلى النبي صلى الله عليه وسلم ليحاوره ، فتركه صلى الله عليه وسلم حتى انتهى وفرغ من قوله وهو يعلم أنه باطل وإفك وزور.

ثم قال صلى الله عليه وسلم: أفرغت يا أبا الوليد» .

وكأنه صلى الله عليه وسلم مستعد لسماع محاضرة ودرس أطول من هذا المشرك.

لأنه صلى الله عليه وسلم يريد هداية الناس، فلا بد أن يسمع منهم ليعرف عللهم فيعالجهم بموجبها.

فما بالك إذا كان المحاور لك أخا من إخوانك المؤمنين؟ أفلا يكون أحق بالسماع من ذلك المشرك؟

يقول الشافعي: قولنا صواب يحتمل الخطأ، وقول غيرنا خطأ يحتمل الصواب.
‌ষষ্ঠত - সংকীর্ণমনা হওয়া

কিছু মানুষ সংকীর্ণমনা হয়ে থাকে, আলাপ-আলোচনা কিংবা বিতর্কের জন্য তাদের হৃদয় প্রশস্ত হয় না; ফলে তারা প্রথম মুহূর্ত থেকেই আপনার পথ রুদ্ধ করে দেয়, নিজের মতকে চূড়ান্ত বলে সাব্যস্ত করে এবং অন্য সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আর যদি মুশরিকদের মধ্যে কেউ আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দিন যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়} আত-তাওবাহ (৬), অর্থাৎ: তাকে ছেড়ে দিন যাতে সে নূর শ্রবণ করতে পারে, তাকে সুযোগ দিন যাতে সে ওহি শ্রবণ করতে পারে এবং তাকে অবকাশ দিন যাতে সে তার অন্তরের কথাগুলো আপনার কাছে প্রকাশ করতে পারে।

এখানে আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়: কুরাইশদের অন্যতম মুশরিক নেতা উতবাহ ইবনে রাবিয়ার কাহিনী; যখন সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আলোচনার উদ্দেশ্যে আসলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সুযোগ দিলেন যতক্ষণ না সে তার কথা শেষ করল; যদিও তিনি জানতেন যে তার কথাগুলো ছিল বাতিল (باطل), মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।

অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আবুল ওয়ালিদ, আপনার কথা কি শেষ হয়েছে?"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন সেই মুশরিকের কাছ থেকে এর চেয়েও দীর্ঘ কোনো আলোচনা বা সবক শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

কেননা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের হেদায়েত কামনা করতেন; তাই তাদের কথা শোনা অপরিহার্য ছিল যেন তিনি তাদের ত্রুটি (علة) সম্পর্কে অবগত হতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী তাদের প্রতিকার করতে পারেন।

তাহলে আপনার সাথে আলোচনাকারী ব্যক্তিটি যদি আপনার কোনো মুমিন ভাই হন, তবে বিষয়টি কেমন দাঁড়ায়? তিনি কি সেই মুশরিকের চেয়ে বেশি মনোযোগ পাওয়ার দাবিদার নন?

ইমাম শাফিঈ বলেন: আমাদের বক্তব্য সঠিক তবে তাতে ভুলের সম্ভাবনা আছে, আর অন্যদের বক্তব্য ভুল তবে তাতে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২৫)
ويقول: والله ما ناظرت أحداً إلا وددت أن يصيب وخفت عليه أن يخطئ، أو كما قال.

وكان إذا ناظر أحداً يدعو ويقول: اللهم سدده ، اللهم ثبته.

ولذلك رفع الله الشافعي وأمثاله.
এবং তিনি বলতেন: "আল্লাহর শপথ! আমি যখনই কারো সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছি, তখনই আমি মনেপ্রাণে কামনা করেছি যেন সত্য তার মাধ্যমেই প্রকাশিত হয় এবং আমি তার ভুল করার ব্যাপারে শঙ্কিত থেকেছি," অথবা তিনি যেরূপ বলেছিলেন।

আর তিনি যখনই কারো সাথে বিতর্ক করতেন, তখন দোয়া করতেন এবং বলতেন: "হে আল্লাহ! তাকে সঠিক দিশা দিন, হে আল্লাহ! তাকে অবিচল রাখুন।"

আর একারণেই আল্লাহ তাআলা শাফিঈ এবং তাঁর অনুরূপ ব্যক্তিদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌سابعاً - فساد التصور وضعفه

فإن بعض الناس عنده فساد في تصور الأمور وإدراكها، فمثلاً: هو يجعل الصغائر من المعاصي كبائر.

فإسبال الثياب مثلاً يعدها بعض العلماء كبائر لقوله صلى الله عليه وسلم: «ما أسفل من الكعبين من الإزار في النار» (1) ، لكنها ليست من الموبقات السبع التي عدها صلى الله عليه وسلم ، ثم إن صاحبها لا يكفر بها ، فتجد بعض الناس يكبر هذه المسألة ، ويضخمها لفساد تصوره ، وينسى غيرها مما هو أهم منها ، كمسائل العقيدة وأمور التوحيد ، وإن كان الإسبال محرماً شرعاً.

أو أنه يحمل الآيات والنصوص على غير محملها كما فعل الخوارج ، فهم يحملون آيات الكفار على المؤمنين فيستحلون دماء المسلمين عياذاً بالله.

وأما أهل السنة فإنهم يحملون آيات الكفار على الكفار وآيات المؤمنين على المؤمنين، وينزلون الأمور منزلها الشرعي من غير إفراط ولا تفريط ومن غير غلو ولا جفاء.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (5887) ، انظر كتاب الجمع بين الصحيحين للموصلي تحقيق د. علي حسين البواب ج2 ص347.
সপ্তম - ধারণা বা অনুধাবনের বিকৃতি ও দুর্বলতা

নিশ্চয়ই কিছু মানুষের মাঝে বিষয়াবলি অনুধাবন ও উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে বিকৃতি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: তারা পাপের অন্তর্ভুক্ত ছোট গুনাহসমূহকে (الصغائر) বড় গুনাহ (كبائر) বানিয়ে ফেলে।

যেমন কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরাকে কোনো কোনো আলেম বড় গুনাহ (كبائر) বলে গণ্য করেছেন, যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "লুঙ্গির যে অংশ টাখনুর নিচে থাকবে তা জাহান্নামে যাবে।" (১) কিন্তু এটি রাসুলুল্লাহ (সা.) বর্ণিত সেই সাতটি ধ্বংসাত্মক গুনাহের (الموبقات) অন্তর্ভুক্ত নয়। তদুপরি, এই কাজে লিপ্ত ব্যক্তি এর কারণে কাফির হয়ে যায় না। কিন্তু আপনি দেখবেন যে, কিছু মানুষ তাদের ধারণার বিকৃতির কারণে এই বিষয়টিকে অনেক বড় করে দেখে এবং অতিরঞ্জিত করে ফেলে। অথচ তারা এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ ভুলে যায়, যেমন আকিদাহ বা তাওহিদের বিষয়াবলি; যদিও ইসবাল শরিয়তগতভাবে নিষিদ্ধ (محرم شرعاً)।

অথবা তারা আয়াত ও দলীলসমূহকে (النصوص) ভুল অর্থে প্রয়োগ করে, যেমনটি খারিজিরা করেছিল। তারা কাফিরদের শানে নাযিল হওয়া আয়াতসমূহ মুমিনদের ওপর প্রয়োগ করত, ফলে তারা মুসলমানদের রক্ত হালাল মনে করত; আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই।

আর আহলুস সুন্নাহর অনুসারীরা কাফিরদের আয়াতসমূহ কাফিরদের ওপর এবং মুমিনদের আয়াতসমূহ মুমিনদের ওপরই প্রয়োগ করেন। তারা প্রতিটি বিষয়কে তার সঠিক শরয়ি অবস্থানে রাখেন; যেখানে কোনো বাড়াবাড়ি (إفراط) নেই, আবার কোনো শিথিলতাও (تفريط) নেই; কোনো চরমপন্থা (غلو) নেই, আবার কোনো অবজ্ঞাও (جفاء) নেই।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (৫৮৮৭), দেখুন: আল-মাওসিলির আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন গ্রন্থ, ড. আলী হোসেন বাওয়াব এর তাহকীক, ২য় খণ্ড, ৩৪৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌ثامناً - إلزام ما لا يلزم

فتجد بعض المخالفين يقول: قال العالم الفلاني كذا وكذا ، ومعنى كلامه كذا وكذا ، إذا فهو كذا وكذا.

فمثلاً: وجد من الناس من يستمع الغناء في هذا الزمن. فيقول بعضهم: من سمع الغناء ورضي به فهو فاسد.

ومن كان فاسداً ، ورضي بالفساد في بيته فهو ديوث. . .

ومن كان ديوثاً فهو لا يدخل الجنة ، لأن الرسول صلى الله عليه وسلم يقول: «ثلاثة لا ينظر الله عز وجل إليهم يوم القيامة: العاق لوالديه ، والمرأة المترجلة ، والديوث» (1) .

فانظر كيف بنى، وقرر، وألزم، وأدخل الناس النار، لأنه بنى على قواعد واحتمالات لم يتبينها من المحكوم عليه، مع العلم بأن الغناء محرم شرعاً.

تقول: له رحمة الله واسعة ، والله غفور لذنوب العباد.

فيقول في نفسه: المرجئة يقولون: إن الله غفور بالعباد ، والمرجئة يسهِّلون المعاصي ، إذا فهذا مرجئ ، فهو إذا مبتدع أو زنديق.

--------------------------------------------

(1) جزء من حديث من سنن النسائي (2562) عن ابن عمر رضي الله عنهما ، اعتناء عبد الفتاح أبو غدة.
অষ্টম - যা অপরিহার্য নয় তাকে অপরিহার্য করা

আপনি কিছু বিরোধীকে এমন বলতে দেখবেন: অমুক আলেম এমন এমন কথা বলেছেন, আর তার কথার অর্থ হলো এই এই, সুতরাং তিনি হলেন এমন এমন।

উদাহরণস্বরূপ: বর্তমান যুগে এমন কিছু মানুষ পাওয়া যায় যারা গান শোনে। তখন তাদের কেউ কেউ বলে: যে ব্যক্তি গান শোনে এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকে, সে হলো পাপাচারী (فاسد)।

আর যে ব্যক্তি পাপাচারী (فاسد) এবং নিজের ঘরে পাপাচার (فساد) মনোনীত করে, সে হলো দাইয়ুস (ديوث)...

আর যে ব্যক্তি দাইয়ুস (ديوث), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তিন শ্রেণীর মানুষের দিকে মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না: পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষের বেশধারী নারী এবং দাইয়ুস (ديوث)» (১)।

লক্ষ্য করুন, সে কীভাবে (সিদ্ধান্ত) নির্মাণ করল, সাব্যস্ত করল, অপরিহার্য করল এবং মানুষকে জাহান্নামে প্রবেশ করাল; কেননা সে এমন সব মূলনীতি এবং সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সে অভিযুক্ত ব্যক্তির থেকে স্পষ্ট করেনি, যদিও গান শোনা শরীয়ত অনুযায়ী নিষিদ্ধ।

আপনি হয়ত তাকে বললেন: আল্লাহর রহমত অত্যন্ত প্রশস্ত এবং আল্লাহ বান্দাদের গুনাহের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।

তখন সে মনে মনে বলে: মুরজিয়ারা (المرجئة) বলে থাকে যে আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, আর মুরজিয়ারা (المرجئة) পাপাচারকে সহজ করে দেখায়; সুতরাং এই ব্যক্তি একজন মুরজিয়াপন্থী (مرجئ), অতএব সে একজন বিদআতি (مبتدع) অথবা জিন্দিক (زنديق)।

--------------------------------------------

(১) সুনান নাসায়ি-র (২৫৬২) একটি হাদিসের অংশ, যা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত; আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ-র সম্পাদনায়।
(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২৮)
وكذلك في مسألة التكفير تجد الغلاة المكفرة كفروا بعض المسلمين واتجهوا بعد ذلك إلي من لم يكفرهم من المسلمين فكفروهم ويحتجون بالقاعدة الشرعية: "من لم يكفر الكافر فهو كافر". والقاعدة صحيحة لكن الفهم الخارج عن فهم السلف كان سبباً في وقوعهم في تكفير أهل الإسلام نسأل الله السلامة.

অনুরূপভাবে তাকফির সংক্রান্ত বিষয়ে আপনি চরমপন্থী তাকফিরি গোষ্ঠীকে দেখতে পাবেন যারা কিছু মুসলিমকে কাফির সাব্যস্ত করেছে এবং পরবর্তীতে তারা ওই সকল মুসলিমদের দিকে ঝুঁকেছে যারা তাদেরকে কাফির বলেনি, ফলে তারা তাদেরও কাফির গণ্য করেছে। তারা এই শারয়ি মূলনীতি দ্বারা দলিল পেশ করে যে: "যে ব্যক্তি কাফিরকে কাফির মনে করে না, সে নিজেও কাফির।" এই মূলনীতিটি সঠিক (صحيحة), কিন্তু সালাফদের বুঝের বহির্ভূত অনুধাবনই তাদের মুসলিমদের কাফির সাব্যস্ত করার বিপর্যয়ে নিপতিত হওয়ার কারণ হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।

(খণ্ড: ১) আল খিলাফ আসবাবুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌تاسعاً - غلبة العاطفة على العقل

خاصة في سن الشباب الذي ما بين العشرين إلى الثلاثين. فتجد الشباب يندفع بعاطفته الجياشة وكلامه الناري ، مستخدماً العبارات الثقيلة التي تجنح به عن قبول الحق ، لأنه لم يتدبر فيه بعقله بل بعاطفته.

ونحن نريد عاطفة الشباب، وعقول الشيوخ ، لأن عاطفة الشيوخ بعقول الشباب تموت ، فلا ترى فيها من يأمر ، أو ينهى أو يدعو إلا من رحم الله.

فمثلاً: يخطئ بعض الناس في محاضرة ما في الحكم على حديث ، فيقول أحد الشباب: لماذا يقول بأن هذا الحديث صحيح ، وهو ضعيف ، فهذا يدل على عدم معرفته بسنة الرسول صلى الله عليه وسلم ، وهجره للسنة ، وعدم اهتمامه بالأثر الشريف.

وهذا حماس وعاطفة لا داعي لها. بل الواجب: أن يبين بأنه قد أخطأ في الحديث ، عارضاً وجهة نظره بحب وود وهدوء.

بل يقع أكبر من ذلك في مسائل عقدية بسبب الحماس المندفع وغير المؤهل شرعاً، والعقل يأتي تبعاً للشرع لأن الإسلام - ولله الحمد - جاء لأهل العقول، فإن المجنون مرفوع عنه القلم والتكاليف، قال تعالى: {وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ} العنكبوت (43) .
নবম - বিবেকের ওপর আবেগের আধিপত্য

বিশেষ করে বিশ থেকে ত্রিশ বছর বয়সের যুবকদের ক্ষেত্রে এটি লক্ষ্য করা যায়। আপনি দেখবেন যে, যুবকরা তাদের প্রবল আবেগ এবং জ্বালাময়ী বক্তব্যের মাধ্যমে তাড়িত হয়; তারা এমন সব গুরুগম্ভীর শব্দ ব্যবহার করে যা তাদের সত্য গ্রহণ থেকে বিচ্যুত করে দেয়। কারণ সে তখন বিবেক দিয়ে নয়, বরং আবেগ দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করে।

আমরা যুবকদের আবেগ এবং প্রাজ্ঞজনদের প্রজ্ঞার সমন্বয় চাই। কারণ যুবকদের মতো অপরিপক্ব বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন প্রাজ্ঞজনদের আবেগ মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে। ফলে আল্লাহ যাদের ওপর রহমত করেছেন তারা ব্যতীত আপনি সেখানে এমন কাউকে পাবেন না যে সৎ কাজের আদেশ দিবে, অসৎ কাজে নিষেধ করবে কিংবা দ্বীনের দাওয়াত দিবে।

উদাহরণস্বরূপ: কোনো এক আলোচনায় কোনো ব্যক্তি একটি হাদিসের হুকুম বা মান নির্ধারণে ভুল করলেন। তখন কোনো যুবক বলে ওঠে: "তিনি কেন এই হাদিসটিকে সহিহ (صحيح) বলছেন, অথচ এটি দুর্বল (ضعيف)? এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ সম্পর্কে তার অজ্ঞতা, সুন্নাহ পরিহার এবং সম্মানিত আছারের (الأثر) প্রতি গুরুত্বহীনতার পরিচয় বহন করে।"

এটি একটি অপ্রয়োজনীয় উদ্দীপনা ও আবেগ। বরং উচিত হলো: ভালোবাসা, হৃদ্যতা এবং ধীরস্থিরভাবে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে হাদিসটির বিষয়ে তার ভুলটি স্পষ্ট করে দেওয়া।

বরং যথাযথ শরয়ি যোগ্যতা ছাড়া আবেগতাড়িত হওয়ার কারণে আকিদাগত মাসআলাগুলোতে এর চেয়েও বড় বিচ্যুতি ঘটে। অথচ বিবেক সর্বদা শরয়ি বিধানের অনুগামী হয়; কারণ ইসলাম—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—বিবেকবানদের জন্যই অবতীর্ণ হয়েছে। কেননা পাগল ব্যক্তির ওপর থেকে কলম এবং শরয়ি বিধিবিধানের দায়ভার তুলে নেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর কেবল জ্ঞানীগণই তা বুঝতে পারে।" (সূরা আনকাবুত: ৪৩)।