(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
من وسائل الدعوة   (محمد الثويني)

القسم: كتب عامة


الكتاب: من وسائل الدعوة

المؤلف: د. محمد بن عبد العزيز الثويني

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 25

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 36

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দাওয়াহর মাধ্যমসমূহ   (মুহাম্মদ আস-সুওয়াইনি)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: দাওয়াহর মাধ্যমসমূহ

লেখক: ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আস-সুওয়াইনি

প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের ধর্ম বিষয়ক (আওকাফ) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত কপি) : ২৫

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১)
من وسائل الدعوة

د. محمد بن عبد العزيز الثويني

بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌[مقدمة] الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين أما بعد:

فإن الوسائل الدعوية من الأحوال التي لا يمكن الاستغناء عنها البتة إذ لا يتصور عند العقلاء الوصول إلى هدف دون استخدام الوسائل أو الوسيلة الموصلة إليه وقد استخدم رسول الله صلى الله عليه وسلم وسائل متاحة في وقته فصدع بالحق على الصفا، وصرخ بقريش واصباحاه، وكان يعرض دعوته في ملتقيات الناس وأسواقهم، كما كان يطوف بمشاعر الحج ويلقى القبائل ويبلغ الرسالة، ويستنصر للدين. والمادة التي بين يديك أيها القارئ الكريم في الأصل محاضرة ألقِيتْ ضمن دورة إعداد الدعاة.
দাওয়াহর মাধ্যমসমূহ

ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-থুওয়াইনি

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

‌‌[ভূমিকা] সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই দাওয়াহর মাধ্যমসমূহ এমন এক অপরিহার্য বিষয় যা কোনোভাবেই বর্জন করা সম্ভব নয়; কেননা বিবেকবান মানুষের নিকট কোনো উপায় বা মাধ্যম অবলম্বন করা ব্যতীত লক্ষ্যে পৌঁছানোর বিষয়টি অকল্পনীয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সমসাময়িককালে বিদ্যমান মাধ্যমসমূহ ব্যবহার করেছেন; ফলে তিনি সাফা পাহাড়ে সত্যের বাণী উচ্চকিত করেছেন, কুরাইশদের বিপদবার্তা দিয়ে সতর্ক করেছেন এবং মানুষের সমাবেশ ও বাজারগুলোতে নিজের দাওয়াহ পেশ করেছেন। একইভাবে তিনি হজের স্থানগুলোতে যাতায়াত করতেন, বিভিন্ন গোত্রের সাথে সাক্ষাৎ করতেন, রিসালাত পৌঁছে দিতেন এবং দ্বীনের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করতেন। হে সম্মানিত পাঠক, আপনার সম্মুখে বিদ্যমান এই পাঠ্যটি মূলত দাঈ বা দাওয়াত প্রদানকারীদের প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রদত্ত একটি বক্তৃতার অনুলিখন।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২)
وقد رأى بعض الإخوة تفريغها وجعلها مادة مقروءة كما هي مسموعة ولإدراكي بوعيك التام بالتفريق بين الملقى والمكتوب تأليفا وافقت على طلبهم مع تزامنه مع الامتحانات ومشاغلها، وحاولت على عجل إلغاء ما يصلح إلقاءً ولا يصلح كتابة وكذا تعديل وإضافة ما تستقيم به العبارة مع توثيق النصوص والنقولات ولظني الحسن بتجردك وإنصافك فلن أعدم منك دعوة صالحة، وتصويبا لخطأ يرد في ثنايا هذه المادة واستدراكا لما يحسن ذكره فيها.
কিছু ভাই এটি অনুলিখন করে শ্রব্য মাধ্যমের ন্যায় একটি পঠনযোগ্য উপাদানে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মৌখিক ভাষণ এবং লিখিত রচনার মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে আপনার পূর্ণ সচেতনতা সম্পর্কে আমি অবগত, তাই পরীক্ষার ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও আমি তাদের অনুরোধে সম্মতি জানিয়েছি। আমি দ্রুততার সাথে এমন বিষয়গুলো বর্জন করার চেষ্টা করেছি যা মৌখিক আলোচনার জন্য উপযোগী হলেও লেখার জন্য নয়; সেই সাথে ভাষাশৈলী ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন ও সংযোজন করেছি এবং মূল পাঠ ও উদ্ধৃতিসমূহের প্রামাণ্যতা (توثيق) নিশ্চিত করেছি। আপনার নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রতি আমার সুধারণা রয়েছে, তাই আমি আপনার নেক দুআ, এই বিষয়ের কোনো ভুল-ভ্রান্তির সংশোধন এবং যা উল্লেখ করা সমীচীন তার পরিপূরক সংযোজন (استدراك) থেকে বঞ্চিত হব না বলে আশা করি।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تمهيد

إن من اللوازم المتعينة على الداعية تحديد ما يدعو إليه وكذا استخدامه الوسيلة (1) التي يوصل من خلالها إلى المدعو دعوته؛ إذ لا يتصور البتة الدعوة بدون وسيلة قال شيخ الإسلام ابن تيمية " إن الداعي الذي يدعو غيره إلى أمر، لا بد فيما يدعو إليه من أمرين:

أحدهما: المقصود والمراد.

والثاني:الوسيلة والطريق الموصل إلى المقصود:

فلهذا يذكر الدعوة تارة إلى الله وتارة إلى سبيله، فإنه سبحانه هو المعبود المراد المقصود بالدعوة ". (2)

والداعية إلى الله مطالب عقلا وشرعا باستخدام الوسيلة الشرعية المناسبة التي يوصل دعوته إلى المدعوين عن طريقها وبخاصة إذا علم الداعية أن الدين قسمان:

1-عبادات يصلح بها أمر الآخرة والأصل فيها التوقيف في جنسها، وصفتها، وعددها وسببها ووقتها … ودليلها قوله تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} . (3)

--------------------------------------------

(1) الوسيلة: قال الجوهري: الوسيلة ما يتقرب به إلى الغير، والجمع الوُسُل والوسائل.. «الصحاح مادة (وسل) 5 / 1841، قال ابن كثير:» الوسيلة هي التي يتوصل بها إلى تحصي المقصود «تفسير القرآن العظيم 2 / 55.

(2) الفتاوى 15 / 162.

(3) سورة الشورى آية 21.
ভূমিকা

একজন দাঈর জন্য অপরিহার্য বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো তিনি কিসের দিকে দাওয়াত দিচ্ছেন তা নির্ধারণ করা এবং সেই সাথে এমন একটি মাধ্যম (১) ব্যবহার করা যার মাধ্যমে তিনি দাওয়াত গ্রহণকারীর কাছে তার দাওয়াত পৌঁছে দেবেন; কেননা মাধ্যম ব্যতীত দাওয়াতের কথা মোটেও কল্পনা করা যায় না। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন, "নিশ্চয়ই যে আহ্বানকারী অন্যকে কোনো বিষয়ের দিকে দাওয়াত দেন, তার দাওয়াতের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় অপরিহার্য:

প্রথমটি: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

এবং দ্বিতীয়টি: মাধ্যম এবং লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথ:

এজন্য দাওয়াতের কথা কখনো আল্লাহর দিকে, আবার কখনো তাঁর পথের দিকে উল্লেখ করা হয়। কেননা মহান আল্লাহই হলেন সেই মাবুদ যার সন্তুষ্টিই দাওয়াতের একমাত্র উদ্দেশ্য।" (২)

আল্লাহর পথে আহ্বানকারী ব্যক্তি বিবেক ও শরিয়ত উভয় দিক থেকেই উপযুক্ত শরয়ী মাধ্যম ব্যবহারের দাবি রাখেন, যার মাধ্যমে তিনি দাওয়াত গ্রহণকারীদের কাছে তার দাওয়াত পৌঁছে দেবেন; বিশেষ করে যখন দাঈ অবগত হন যে দ্বীন দুই ভাগে বিভক্ত:

১-ইবাদতসমূহ, যার মাধ্যমে আখেরাতের বিষয়গুলো সংশোধিত হয়; আর এর মূলনীতি হলো এর ধরন, বৈশিষ্ট্য, সংখ্যা, কারণ এবং সময়ের ক্ষেত্রে দলিল-প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল (توقيف) হওয়া … এবং এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের কি এমন সব অংশীদার আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?" (৩)

--------------------------------------------

(১) মাধ্যম: আল-জাওহারী বলেন: মাধ্যম (الوسيلة) হলো এমন কিছু যার মাধ্যমে অন্যের সান্নিধ্য লাভ করা যায়, এর বহুবচন হলো উসুল এবং ওয়াসাইল... 'আস-সিহাহ', শব্দমূল (وسل) ৫/১৮৪১। ইবনে কাসীর বলেন: "মাধ্যম হলো তা-ই যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা যায়।" তাফসীরুল কুরআনিল আজিম ২/৫৫।

(২) আল-ফাতাওয়া ১৫/১৬২।

(৩) সূরা আশ-শূরা, আয়াত ২১।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪)
2-عادات: أو معاملات يصلح بها أمر الدنيا، والأصل فيها الحل والإذن مثل العقود، والشروط، والوسائل.. ودليلها قوله تعالى: {قُلْ أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ رِزْقٍ فَجَعَلْتُمْ مِنْهُ حَرَامًا وَحَلَالًا قُلْ آللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى اللَّهِ تَفْتَرُونَ} . (1)

وبناء على هذا فمن ادعى عبادة فعليه الدليل، ومن منع عادة أو معاملة فعليه الدليل أيضا، ولعل ما مثّل به شيخ الإسلام يتوافق مع ما ذكر إذ قال: " ولو سئل العالم عمن يعدوا بين جبلين: هل يباح له ذلك قال: نعم. فإذا قيل: إنه على وجه العبادة كما يسعى بين الصفا والمروة قال: إن فعله على هذا الوجه حرام منكر، يستتاب فاعله، فإن تاب وإلا قُتل.

ولو سئل: عن كشف الرأس، ولبس الإزار، والرداء، أفتى بأن هذا جائز، فإذا قيل: إنه يفعله على وجه الإحرام. كما يحرم الحاج.قال: إن هذا حرام منكر … (2) .

" والخلاصة أن مقصود الدعوة الإسلامية هداية الناس وتحقيق المصالح لهم، فكل وسيلة عادية تؤدي إلى هذا المقصود، وتحققه دون أن يعارضها نهي شرعي فإنها تكون في دائرة المشروعية والاعتبار.. . (3)

--------------------------------------------

(1) سورة يونس آية 59.

(2) مجموع الفتاوى 11 / 632.

(3) قواعد الوسائل في الشريعة الإسلامية للدكتور مصطفى بن كرامة الله مخدوم. ص 343
২-অভ্যাস বা প্রথা (عادات): অথবা লেনদেন (معاملات), যার মাধ্যমে পার্থিব বিষয়াদি সংশোধিত হয়। এগুলোর ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো বৈধতা (الحل) এবং অনুমতি (الإذن), যেমন চুক্তি (العقود), শর্তাবলি (الشروط) এবং উপায়-উপকরণ (الوسائل)। এর দলিল মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ যে রিজিক আল্লাহ তোমাদের জন্য অবতীর্ণ করেছেন, অতঃপর তোমরা তার কিছু অংশ হারাম এবং কিছু অংশ হালাল করেছ? বলুন, আল্লাহ কি তোমাদের অনুমতি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করছ?}। (১)

এর ওপর ভিত্তি করে, যে ব্যক্তি কোনো ইবাদতের (عبادة) দাবি করবে, তাকেই দলিল পেশ করতে হবে। আর যে ব্যক্তি কোনো অভ্যাস (عادة) বা লেনদেনকে (معاملة) নিষিদ্ধ করবে, তাকেও দলিল পেশ করতে হবে। সম্ভবত শাইখুল ইসলাম যে উদাহরণ পেশ করেছেন তা পূর্বোক্ত আলোচনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন: "যদি কোনো আলিমকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় যে দুই পাহাড়ের মাঝে দৌড়াচ্ছে: তার জন্য কি তা বৈধ (يباح)? তিনি বলবেন: হ্যাঁ। তবে যদি বলা হয়: সে এটি ইবাদতের (العبادة) উদ্দেশ্যে করছে যেমন সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী (يسعى) করা হয়, তবে তিনি বলবেন: এই পন্থায় তা করা হারাম (حرام) এবং গর্হিত (منكر)। কর্তাকে তওবা করতে বলা হবে; যদি সে তওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে।

আর যদি তাকে মাথা খোলা রাখা, লুঙ্গি এবং চাদর পরিধান করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, তবে তিনি ফতোয়া দেবেন যে এটি বৈধ (جائز)। কিন্তু যদি বলা হয়: সে এটি ইহরামের (الإحرام) উদ্দেশ্যে করছে, যেভাবে হাজিগণ ইহরাম (يحرم) বাঁধেন। তবে তিনি বলবেন: এটি হারাম (حرام) এবং গর্হিত (منكر) … (২)।

"সারকথা হলো, ইসলামি দাওয়াতের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে হিদায়াত করা এবং তাদের কল্যাণ (المصالح) নিশ্চিত করা। সুতরাং প্রত্যেক অভ্যাসগত উপায় (وسيلة عادية) যা এই উদ্দেশ্য পূরণ করে এবং শরয়ি কোনো নিষেধাজ্ঞার (نهي شرعي) সাথে সাংঘর্ষিক না হয়ে তা বাস্তবায়ন করে, তবে তা বৈধতা (المشروعية) এবং গ্রহণযোগ্যতার (الاعتبار) গণ্ডভুক্ত হবে..." (৩)

--------------------------------------------

(১) সূরা ইউনুস, আয়াত ৫৯।

(২) মাজমুউল ফাতাওয়া ১১ / ৬৩২।

(৩) ড. মুস্তফা বিন কারামাতুল্লাহ মাখদুম রচিত কাওয়াইদুল ওয়াসাইল ফিশ শারিয়াতিল ইসলামিয়া। পৃষ্ঠা ৩৪৩
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫)
فإذا كان المعنى العام للوسائل هو ما يتحصل به المقصود خيرا كان أو شرا فإن المعنى الخاص - وهو ما نعنيه في هذا المقام - هو ما يتوصل به الداعية إلى الله إلى دعوة المدعوين، ومن هنا جاءت الأهمية إذ الوسائل ليست حكرا على أحد دون أحد فالأمر في هذا مشاع، ولهذا نلحظ أن أعداء الأمة وهم يسعون إلى إفساد الأمة المسلمة، أو إلى إبعاد غير المسلمين عن الإسلام إما بدخولهم فيما يدعون إليه، أو ببقائهم على ما هم عليه. نجد أنهم يسلكون مسائل شتى من أجل تحقيق أو الوصول إلى مقصدهم وأذكر مثالا واحدا على وسيلة من وسائل هؤلاء، هذه الوسيلة عند النصارى وهي وسيلة تأليف الأذهان من خلال أسماء المحلات أو الأسماء الشخصية، كالأسماء التي يسمى بها بعض الناس أبناءهم ذكورا أو إناثا، فالاسم الأجنبي الذي تجده في ذلك الشارع قد تجده بنفس الاسم في تلك البلاد الكافرة وكذلك مسألة التسمية بأسماء الكفار وبخاصة تسمية البنات مما يجعل هذا الاسم مألوفا عند المسلمين مع أنه من الأسماء الخاصة بغيرهم فيصعب معه التمييز بمجرد الاسم (1) ومع قولنا إن الوسائل مشاعة إلا أن عندهم الغاية تبرر الوسيلة وعندنا الوسائل لها حكم الغايات أو المقاصد.

--------------------------------------------

(1) ينظر، التنصير مفهومه وأهدافه وسبل مواجهته لمعالي الأستاذ الدكتور علي بن إبراهيم النملة.
যদি উপায়ের (وسيلة) সাধারণ অর্থ হয় এমন কিছু যার মাধ্যমে উদ্দেশ্য অর্জিত হয়, তা ভালো হোক বা মন্দ; তবে এর বিশেষ অর্থ—যা আমরা এই স্থানে বুঝাতে চাচ্ছি—তা হলো এমন মাধ্যম যার মাধ্যমে আল্লাহর পথে আহ্বানকারী (داعية) দাওয়াত গ্রহণকারীদের (مدعوين) নিকট দাওয়াত পৌঁছে দেন। এখান থেকেই এর গুরুত্ব স্পষ্ট হয়; কারণ উপায়সমূহ (وسائل) কারও একচেটিয়া অধিকার নয়, বরং এ বিষয়টি সবার জন্য উন্মুক্ত। এ কারণেই আমরা লক্ষ্য করি যে, উম্মাহর শত্রুরা যখন মুসলিম উম্মাহকে কলুষিত করার চেষ্টা করে, অথবা অমুসলিমদের ইসলাম থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে—হয় তাদের সেই মতাদর্শে প্রবেশের মাধ্যমে যার দিকে তারা আহ্বান করে, অথবা তারা যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় বহাল রাখার মাধ্যমে; তখন আমরা দেখতে পাই যে তারা তাদের উদ্দেশ্য সাধন বা লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য নানাবিধ পন্থা অবলম্বন করে। আমি তাদের অবলম্বিত উপায়গুলোর (وسائل) একটি উদাহরণ দিচ্ছি: খ্রিস্টানদের নিকট একটি উপায় (وسيلة) হলো দোকানপাটের নাম বা ব্যক্তিগত নামের মাধ্যমে মনস্তাত্ত্বিক ঘনিষ্ঠতা (تأليف الأذهان) তৈরি করা; যেমন কিছু মানুষ তাদের পুত্র বা কন্যা সন্তানদের জন্য যে ধরণের নাম রাখেন। কোনো রাস্তায় আপনি যে বিদেশী নামটি দেখছেন, হয়তো সেই একই নাম কোনো কাফির দেশেও দেখতে পাবেন। একইভাবে কাফিরদের নামে নামকরণের বিষয়টিও, বিশেষ করে কন্যা সন্তানদের ক্ষেত্রে; যা এই নামগুলোকে মুসলিমদের কাছে পরিচিত করে তোলে, যদিও এগুলি অন্যদের জন্য নির্দিষ্ট নাম। ফলে শুধুমাত্র নাম দেখে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে (১)। যদিও আমরা বলছি যে উপায়সমূহ (وسائل) সবার জন্য উন্মুক্ত, তবে তাদের নিকট 'উদ্দেশ্যই উপায়কে বৈধ করে', আর আমাদের নিকট উপায়ের (وسائل) বিধান হলো লক্ষ্যসমূহের (غايات) বা উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد) বিধানের অনুরূপ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আত-তানসির: মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতিহি, লেখক: প্রফেসর ড. আলী বিন ইব্রাহিম আন-নামলাহ।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬)
واختيار الوسيلة المناسبة سبب في تحقيق المقصود، ولذلك يلحظ أن من الأفكار ما كتب لها الانتشار بسبب الوسائل المستخدمة لنشرها ولو كانت في حقيقتها باطلة، وبينما نجد أن هناك دعاة في بعض الأماكن قد يصيب دعوتهم فتور، أو ضعف مع قابلية الإسلام للانتشار لموافقته للزمان، والمكان، والفطر التي فطر الله الناس عليها، إلا أن الانتشار في ذلك يكون قليلا، ولو أرجعت السبب لوجدت أن سوء استخدام الوسائل له دور في ذلك.

وانطلاقا من القاعدة الشرعية: الوسائل لها أحكام المقاصد فلا بد من معرفة ضوابط الوسائل التي تصونها مع مستخدمها من الخلل والاضطراب فهاهنا ضابطان لا بد من مراعاتهما وهما:

أولا: الإذن بمعنى أن تكون مأذونا بها سواء إذن تنصيص أي جاءت منصوصا عليها أو بدخولها تحت قاعدة عامة كالمباح وهو أحد الأحكام الخمسة التكليفية الشرعية، ولا يكون المباح حراما بمجرد أن ينوي به الإنسان النية الصالحة مع التفريق بين النية الصالحة العامة ونية التقرب والتعبد المحضة.

ثانيا: المصلحة ويشمل ذلك مناسبة المقام، واختيار الوسيلة ورجحان المصلحة على المفسدة، مما يحتاج معه على إمعان نظر وسلامة قلب.
উপযুক্ত মাধ্যম নির্বাচন করা উদ্দীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম কারণ। একারণেই লক্ষ্য করা যায় যে, কিছু আদর্শ কেবল তা প্রচারের জন্য ব্যবহৃত মাধ্যমগুলোর কারণে ছড়িয়ে পড়ে, যদিও তা সারবত্তার দিক থেকে বাতিল (باطل)। অন্যদিকে আমরা দেখি যে, কিছু কিছু স্থানে দাঈদের দাওয়াতি কার্যক্রমে স্থবিরতা কিংবা দুর্বলতা (ضعيف) দেখা দেয়; যদিও ইসলাম কাল, পাত্র এবং মানুষের সেই সহজাত স্বভাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কারণে প্রসারিত হওয়ার ব্যাপক যোগ্যতা রাখে যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তা সত্ত্বেও সেখানে ইসলামের প্রসার খুব সামান্য হয়। আপনি যদি এর কারণ অনুসন্ধান করেন, তবে দেখবেন যে মাধ্যমের অপব্যবহার এক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করে।

শরয়ি মূলনীতি—'মাধ্যমসমূহের বিধান উদ্দেশ্যের বিধানের অনুগামী'—এর আলোকে মাধ্যমগুলোর এমন কিছু নিয়মনীতি জানা আবশ্যক যা মাধ্যম ও এর ব্যবহারকারীকে বিচ্যুতি ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করবে। এখানে দুটি মানদণ্ড বা মূলনীতি রয়েছে যা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে:

প্রথমত: অনুমতি। অর্থাৎ মাধ্যমটি শরয়িভাবে অনুমোদিত হতে হবে; চাই তা সরাসরি কোনো সুস্পষ্ট ভাষ্যের মাধ্যমে বর্ণিত হোক অথবা কোনো সাধারণ মূলনীতির অধীনে আসার কারণে মুবাহ বা বৈধ হোক। মুবাহ হলো শরয়ি পঞ্চবিধ বিধানের অন্যতম। কেবল সৎ নিয়ত করলেই কোনো মুবাহ কাজ হারাম হয়ে যায় না। তবে এক্ষেত্রে সাধারণ সৎ নিয়ত এবং কেবল আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও নিছক ইবাদতের নিয়তের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে।

দ্বিতীয়ত: মাসলাহাত বা জনকল্যাণ। এর অন্তর্ভুক্ত হলো পরিস্থিতির উপযোগিতা, সঠিক মাধ্যম নির্বাচন এবং অপকারের চেয়ে উপকারের প্রাধান্য থাকা। আর এজন্য গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও হৃদয়ের নির্মলতা প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وبعد بيان الأهمية والضوابط الشرعية للوسائل الدعوية التي هي في حقيقتها أوعية للأساليب الدعوية أيضا
দাওয়াতি মাধ্যমসমূহের গুরুত্ব এবং শরয়ী নীতিমালা বর্ণনার পর, যা প্রকৃতপক্ষে দাওয়াতি পদ্ধতিসমূহেরও আধার।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৮)
نبدأ بذكر بعض‌‌ الوسائل الدعوية التي يمكن تقسيمها إلى ثلاثة أقسام:

‌‌القسم الأول: الوسيلة المعنوية:

وهي التي تتعلق بالداعية ذاته بصبره أو تخطيطه واحتسابه وحبه الخير للآخرين «اللهم اغفر لقومي فإنهم لا يعلمون» (1) وغير ذلك لما يعود في غالبه إلى الفطرة ثم الاكتساب في مسائل أخرى.

--------------------------------------------

(1) حديث رواه البخاري في الفتح، كتاب الأنبياء باب 54 / ج 6 / 14 / حديث رقم 3477 ومسلم بلفظ رب.. الحديث كتاب الجهاد والسير، باب غزوة أحد، جـ 3 / 1417 حديث رقم 1702.
আমরা দাওয়াতের কিছু মাধ্যম উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করছি, যেগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে:

প্রথম অংশ: আত্মিক বা গুণগত মাধ্যম:

এটি মূলত আহ্বানকারী (দাঈ)-এর নিজ সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন: তাঁর ধৈর্য, পরিকল্পনা, সওয়াবের প্রত্যাশা এবং অন্যদের জন্য কল্যাণকামিতা— “হে আল্লাহ! আপনি আমার কওমকে ক্ষমা করুন, কারণ তারা জানে না” (১) এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়াদি, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বভাবজাত ফিতরাত এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অর্জিত গুণের ওপর নির্ভর করে।

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ফাতহুল বারিতে, আম্বিয়া অধ্যায়, পরিচ্ছেদ ৫৪ / খণ্ড ৬ / ১৪ / হাদিস নং ৩৪৭৭ এবং মুসলিম ‘রব...’ শব্দে, জিহাদ ও সিয়ার অধ্যায়, উহুদ যুদ্ধের পরিচ্ছেদ, খণ্ড ৩ / ১৪১৭, হাদিস নং ১৭০২।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৯)
القسم الثاني: (1) الوسيلة الخاصة.

--------------------------------------------

(1) القسمان الأول والثاني آثرت عدم الاستطراد فيهما لوجود محاضرات ضمن دورة إعداد الدعاة تناولتهما بالتفصيل فلتراجع؟
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: (১) বিশেষ মাধ্যম।

--------------------------------------------

(১) প্রথম ও দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের ক্ষেত্রে আমি বিস্তারিত আলোচনা না করাকে প্রাধান্য দিয়েছি, কারণ ‘দাঈ প্রশিক্ষণ কোর্স’-এর অন্তর্ভুক্ত লেকচারসমূহে এ দুটি বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে; সুতরাং সেগুলো দেখে নেওয়া যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وهذه لا تصلح لعامة الناس بل هي منوطة بالدولة الإسلامية، وولي أمر المسلمين القائم على أمره، فإن من مهامه حماية حوزة الدين أو الدعوة إليه. وهذا يتمثل بالجهاد في سبيل الله فهو وسيلة من وسائل نشر هذا الدين، وكذلك الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وسيلة دعوية إذ هو من مهام الأنبياء عليهم الصلاة والسلام فالأمر بتوحيد الله أمرٌ بمعروف، والنهي عن الشرك بالله والكفر نهيٌ عن منكر قال تعالى واصفا نبيه صلى الله عليه وسلم {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ} (1) والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر يجب أن يكون وفق الترتيب الذي جاء في حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه حيث قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من رأى منكم منكرا فليغيره بيده، فإن لم يستطع فبلسانه، فإن لم يستطع فبقلبه، وذلك أضعف الإيمان» . (2) ومن هذا التقسيم نعلم أن منه قسما لا يصلح لعامة الأمة وإلا لكان الأمر محل فوضى ونزاع، وهو ما يتعلق باليد، فالمحتسب المولىَّ غير المحتسب

--------------------------------------------

(1) سورة الأعراف آية 175.

(2) رواه مسلم، كتاب الإيمان، باب كون النهي عن المنكر من الإيمان. جـ 1 / 69حديث رقم 49.
আর এগুলো সাধারণ জনগণের জন্য প্রযোজ্য নয়, বরং তা ইসলামি রাষ্ট্র এবং মুসলিম উম্মাহর শাসকের ওপর ন্যস্ত, যিনি তাদের বিষয়াবলি পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। কেননা দ্বীনের গণ্ডি রক্ষা করা অথবা এর দিকে দাওয়াত দেওয়া তাঁর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আর এটি আল্লাহর পথে জিহাদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়, যা এই দ্বীন প্রচারের অন্যতম মাধ্যম। অনুরূপভাবে সৎ কাজের আদেশ (معروف) এবং অসৎ কাজের নিষেধ (منكر) একটি দাওয়াহমূলক পদ্ধতি, কেননা এটি নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) অন্যতম কাজ ছিল। অতএব, আল্লাহর তাওহীদের আদেশ দেওয়া হলো সৎ কাজের (معروف) নির্দেশ এবং আল্লাহর সাথে শিরক ও কুফরি হতে বারণ করা হলো অসৎ কাজ (منكر) হতে নিষেধ করা। মহান আল্লাহ তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গুণাবলি বর্ণনা করে বলেন, {যারা অনুসরণ করে সেই রাসুলের, যিনি উম্মি নবী, যাঁর উল্লেখ তারা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়। তিনি তাদেরকে সৎ কাজের (معروف) নির্দেশ দেন এবং অসৎ কাজ (منكر) থেকে বারণ করেন।} (১) আর সৎ কাজের আদেশ (معروف) এবং অসৎ কাজের নিষেধ (منكر) অবশ্যই সেই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী হওয়া আবশ্যক যা আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে। যেখানে তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি: “তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অসৎ কাজ (منكر) দেখে, তবে সে যেন তা নিজ হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়; যদি সে তাতে সক্ষম না হয় তবে যেন নিজের জিহ্বা দিয়ে (প্রতিবাদ করে), আর যদি তাতেও সক্ষম না হয় তবে যেন নিজের অন্তর দিয়ে (তা ঘৃণা করে); আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম (أضعف) স্তর।” (২) আর এই বিভাজন থেকে আমরা জানতে পারি যে, এর মধ্যে এমন একটি অংশ রয়েছে যা উম্মাহর সাধারণ মানুষের জন্য প্রযোজ্য নয়, অন্যথায় বিষয়টি বিশৃঙ্খলা ও বিবাদের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়াত। আর সেটি হলো হাতের ব্যবহারের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি। কেননা রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত তদারককারী (মুহতাসিব) এবং সাধারণ তদারককারী এক নয়।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৭৫।

(২) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়: অসৎ কাজের নিষেধ করা ঈমানের অংশ। খণ্ড ১ / ৬৯, হাদিস নং ৪৯।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১১)
المتطوع وكل بحسبه، وللولي من السلطة على من تحت يده ما ليس لغيره وقد أشار النووي إلى هذه المسألة عند شرحه لهذا الحديث. (1)

--------------------------------------------

(1) ينظر شرح النووي لصحيح مسلم ص / 25.
স্বেচ্ছাসেবী এবং প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী; আর অভিভাবকের তার অধীনস্থদের ওপর এমন কর্তৃত্ব রয়েছে যা অন্য কারো নেই। ইমাম নববী এই হাদিসটি ব্যাখ্যা করার সময় এই মাসআলার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। (১)

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: সহিহ মুসলিমের শারহু নববী, পৃষ্ঠা: ২৫।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌التأليف:
রচনা:
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
يجب أن لا يكون الهدف هو ذات التأليف أو لمجرد المزاحمة بل يجب أن تكون الحاجة للمؤلَّف هي الداعية للتأليف والحاجة قال عنها حاجي خليفة … (ثم إن التأليف على سبعة أقسام لا يؤلِف عالم عاقل إلا فيها وهي إما شيء لم يسبق إليه فيخترعه أو شيء ناقص يتممه أو شيء مغلق يشرحه أو شيء طويل يختصره دون أن يخل بشيء من معانيه أو شيء متفرق يجمعه أو شيء مختلط يرتبه أو شيء أخطأ فيه مصنف فيصلحه. وينبغي لكل مؤلف كتاب في فن قد سبق إليه أن لا يخلو كتابه من خمس فوائد استنباط شيء كان معضلا أو جمعه إن كان مفرقا أو شرحه إن كان غامضا أو حسن نظم وتأليف أو إسقاط حشو وتطويل) (1) فالعمل الدعوي تجارة مع الله ليست تجارة مادية بالدرهم والدينار، فالتجارة المادية الحرة مبناها على المنافسة فالبقاء للأقوى. أما العمل الدعوي فإنه يختلف فإذا رأى الداعية أن غيره قد قام بما يرى أنه يريد القيام به فليحمد الله على أن قد قام بالمهمة عنه غيره والمجال واسع فليبحث عن مجال آخر، بمعنى أنه ليس من أهداف الدعاة تحطيم الذوات والتقليل من الشأن بل يشد بعضهم بعضا، فيؤيدون، ويناصرون، ويسددون، ويقاربون، ويوجهون، وينصحون، ولا يفضحون.

--------------------------------------------

(1) كشف الظنون عن أسامي الكتب والفنون 1 / 36 ن 35.
রচনার উদ্দেশ্য কেবল গ্রন্থ প্রণয়ন কিংবা স্রেফ প্রতিযোগিতার খাতিরে হওয়া উচিত নয়, বরং রচনার প্রয়োজনীয়তাই যেন রচনার মূল চালিকাশক্তি হয়। এই প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে হাজি খলিফা বলেন … (অতঃপর গ্রন্থ রচনা সাতটি ভাগে বিভক্ত; কোনো প্রাজ্ঞ আলেম এই সাতটি ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন না। সেগুলো হলো: হয় এমন কিছু যা ইতিপূর্বে করা হয়নি, ফলে তিনি তা উদ্ভাবন করবেন; অথবা কোনো অসম্পূর্ণ বিষয় যা তিনি পূর্ণতা দান করবেন; অথবা কোনো দুর্বোধ্য বিষয় যা তিনি ব্যাখ্যা করবেন; অথবা কোনো দীর্ঘ বিষয় যা মূল অর্থের হানি না ঘটিয়ে তিনি সংক্ষিপ্ত করবেন; অথবা কোনো বিক্ষিপ্ত বিষয় যা তিনি একত্রিত করবেন; অথবা কোনো অগোছালো (مختلط) বিষয় যা তিনি বিন্যস্ত করবেন; কিংবা কোনো লেখকের ভুল যা তিনি সংশোধন করবেন। ইতিপূর্বে রচিত হয়েছে এমন কোনো শাস্ত্রের বিষয়ে যে কেউ গ্রন্থ রচনা করবেন, তাঁর গ্রন্থ যেন পাঁচটি উপকারিতা থেকে খালি না থাকে: কোনো জটিল (معضل) বিষয়ের সমাধান উদ্ঘাটন করা, অথবা বিক্ষিপ্ত বিষয়কে সংকলন করা, অথবা অস্পষ্ট বিষয় ব্যাখ্যা করা, কিংবা চমৎকার বিন্যাস ও রচনাশৈলী অথবা অনাবশ্যক দীর্ঘ অংশ বর্জন করা)। (১) দাওয়াহর কর্মতৎপরতা হলো আল্লাহর সাথে এক মহান ব্যবসা, এটি দিরহাম ও দিনারের কোনো পার্থিব ব্যবসা নয়। অবাধ পার্থিব ব্যবসার মূলভিত্তি হলো প্রতিযোগিতা, যেখানে শক্তিশালীরাই টিকে থাকে। কিন্তু দাওয়াহর কাজের বিষয়টি ভিন্ন; যদি কোনো দাঈ লক্ষ্য করেন যে, অন্য কেউ তাঁর কাঙ্ক্ষিত দায়িত্বটি সম্পাদন করেছেন, তবে তাঁর আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত যে, অন্য কেউ তাঁর পক্ষ থেকে সেই দায়িত্বটি পালন করেছেন। দাওয়াহর ক্ষেত্রটি অত্যন্ত বিশাল, তাই তিনি অন্য কোনো ক্ষেত্রে কাজের সন্ধান করবেন। এর অর্থ হলো, দাঈদের লক্ষ্য ব্যক্তিত্ব হরণ করা বা কাউকে অবজ্ঞা করা নয়, বরং একে অপরের হাতকে শক্তিশালী করা; ফলে তারা একে অপরকে সমর্থন করবেন, সাহায্য করবেন, সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন, ভারসাম্য বজায় রাখবেন, দিকনির্দেশনা দেবেন এবং সদুপদেশ দেবেন; কিন্তু কাউকে অপদস্থ করবেন না।

--------------------------------------------

(১) কাশফুল জুনুন আন আসামিল কুতুবি ওয়াল ফুনুন ১ / ৩৬, নং ৩৫।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الرسائل:

والرسائل فيما يظهر تنقسم إلى قسمين:

النوع الأول رسائل خاصة على غرار ما تقوم به بعض المؤسسات الدعوية وقد يقوم به بعض الأفراد بمراسلة هواة المراسلة الذين يشيرون إلى هذه الهواية ببعض الصحف والمجلات، أو الرسالة إلى صديق داعيها المحبة والإخاء.

النوع الثاني من الرسائل، الرسائل الخاصة في مسائل متفرقة في العقيدة، أو الفقه، أو الأخلاق والآداب أو غير ذلك، وهذا الرسائل الخاصة هي الأكثر اليوم، وهي من جانب ظاهرة صحية، ومن جانب آخر قد يكون فيها على البعض ضرر وبخاصة إذا كان القارئ أو المطلع من أهل القراءة فقد يقتصر على قراءة هذه الرسائل ويترك الأمهات والكبار من المؤلفات التي أخذت منها هذه الرسائل إما نصا أو مقاربة.

ومن الرسائل الطريفة الجديدة رسائل الجوال إن أحسن استخدامها واستغلالها فإن لها أثرا عظيما.
পত্রাবলী (الرسائل):

প্রকাশ্যত পত্রাবলী দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: বিশেষ ব্যক্তিগত পত্রাবলি, যা বিভিন্ন দাওয়াতি প্রতিষ্ঠান করে থাকে অথবা কোনো ব্যক্তি ঐসব পত্র-মিতালি অনুরাগী ব্যক্তিদের কাছে লিখে থাকেন যারা বিভিন্ন সংবাদপত্র বা সাময়িকীতে এই শখের কথা উল্লেখ করেন; অথবা বন্ধুর নিকট প্রেরিত পত্র যার প্রেরণা হলো ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব।

দ্বিতীয় প্রকারের পত্রাবলী হলো: আকিদাহ (عقيدة), ফিকহ (فقه), আখলাক (أخلاق) ও আদাব (آدাব) অথবা এ জাতীয় বিবিধ মাসআলা বা বিষয়ে বিশেষ পুস্তিকা। বর্তমানে এই ধরণের বিশেষ পত্রসমূহ সংখ্যায় অধিক। এটি একদিকে যেমন একটি ইতিবাচক দিক, অন্যদিকে কারও কারও জন্য এতে ক্ষতির কারণও থাকতে পারে; বিশেষত পাঠক যদি পড়াশোনার অনুরাগী হয়ে থাকেন, তবে তিনি হয়তো কেবল এই ক্ষুদ্র পুস্তিকাগুলো পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বেন এবং সেই মৌলিক ও বৃহৎ গ্রন্থাবলি (أمهات الكتب) বর্জন করবেন যেখান থেকে এই ক্ষুদ্র পুস্তিকাগুলো সরাসরি বা কাছাকাছি ভাবার্থ অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন ও চমৎকার পত্রাবলীর মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোনের বার্তা, যদি সেগুলোর সঠিক ব্যবহার ও উপযোগিতা নিশ্চিত করা যায় তবে এর এক বিশাল প্রভাব রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المقدمات لمؤلفات الآخرين:

وهي تطلب عادة من إنسان له مكانة علمية أو اجتماعية على حسب المؤلّف، فيجمل بمن يُقدِّم لكتاب خاصة إذا كان كتابا في علم الشريعة بصفة عامة أن يضمنه دعوة إلى الله مع البعد عن الثناء على المؤلّف إلا بمقدار يسير يحفظ الحق والود بينهما. (1)

--------------------------------------------

(1) يقرأ الإنسان أحيانا تقريضا لبعض الكتب فيجد أن التقريض أنصب على المؤلفِ تعريفا وثناءًا مطلقا وغير مقيد بما يقرض له، وهذه تعني تزكية مطلقاة للمؤلفِ علما أن الكتاب قد يكتب في يوم من الأيام كتابة لا تصلح ولا تناسب من أعطاه تزكية مطلقة بمؤلف سابق وبخاصة إذا كان من أهل العلم المعروفين، فالأصل بالتعامل مع المكتوب التعامل مع المقولة دون القائل، حتى القائل الذي عنده انحراف إذا لم تناقش مقولته المنحرفة وركز عليه هو دونها فربما في يوم من الأيام يعود إلى رشده ويتوب إلى ربه وما ذلك على الله بعزيز ويتوب الله على من تاب لكن يبقى الأهم وهي المقولة التي ستبقى في المكتبات العامة والخاصة فلهذا لا بد من البعد عن الذم المطلق للأشخاص وكذا التزكية المطلقة للأشخاص إلا بالضوابط الشرعية خاتما إياها بقوله هكذا أحسبه والله حسيبه ولا أزكي على الله أحدا …
অন্যদের রচনার ভূমিকা:

এগুলো সাধারণত লেখকের অবস্থা অনুযায়ী এমন ব্যক্তির নিকট থেকে চাওয়া হয়, যাঁর ইলমি বা সামাজিক মর্যাদা রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো বইয়ের ভূমিকা লিখছেন, বিশেষত যদি তা সাধারণভাবে শরিয়াহ বিজ্ঞানের কোনো বই হয়, তবে তাঁর জন্য এটি শোভনীয় যে তিনি তাতে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং লেখকের প্রশংসা করা থেকে বিরত থাকবেন; কেবল সেই সামান্য পরিমাণ ছাড়া যা তাদের মধ্যকার পারস্পরিক অধিকার ও হৃদ্যতা বজায় রাখে। (১)

--------------------------------------------

(১) মানুষ কখনো কখনো কিছু বইয়ের প্রশংসামূলক ভূমিকা (تقريض) পড়ে এবং দেখে যে, সেই প্রশংসার বিষয়বস্তু লেখকের পরিচিতি এবং তাঁর এমন নিঃশর্ত প্রশংসার ওপর নিবদ্ধ যা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের সাথে সীমাবদ্ধ নয়। এর অর্থ হলো লেখককে নিরঙ্কুশ সুপারিশ (تزكية) প্রদান করা। অথচ এটি জানা থাকা প্রয়োজন যে, লেখক কোনো একদিন এমন কিছু লিখে ফেলতে পারেন যা তাঁর পূর্ববর্তী কোনো রচনার ভিত্তিতে তাঁকে দেওয়া নিরঙ্কুশ সুপারিশের (تزكية) সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বা উপযুক্ত নয়, বিশেষত যদি তিনি সুপরিচিত আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হন। মূলত কোনো রচনার ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো বক্তার চেয়ে তাঁর বক্তব্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। এমনকি যে বক্তার মধ্যে বিচ্যুতি রয়েছে, যদি তাঁর বিচ্যুত বক্তব্যের সমালোচনা না করে শুধু ব্যক্তির ওপরই দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়, তবে হতে পারে কোনো একদিন তিনি সুপথে ফিরে আসবেন এবং তাঁর রবের কাছে তওবা করবেন; আর এটি আল্লাহর জন্য কঠিন কিছু নয় এবং আল্লাহ তওবাকারীর তওবা কবুল করেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেই বক্তব্য যা সরকারি ও ব্যক্তিগত লাইব্রেরিগুলোতে সংরক্ষিত থাকবে। এই কারণে ব্যক্তিদের নিরঙ্কুশ নিন্দা এবং তেমনিভাবে ব্যক্তিদের নিরঙ্কুশ সুপারিশ (تزكية) প্রদান থেকে দূরে থাকা আবশ্যক, কেবল শরিয়াহর নীতিমালা অনুসরণ ব্যতীত। পরিশেষে এই কথা বলে শেষ করা উচিত: "আমি তাকে এমনই মনে করি, আর আল্লাহই তাঁর হিসাব গ্রহণকারী এবং আল্লাহর মুকাবিলায় আমি কাউকে পবিত্র বলে সুপারিশ (تزكية) করি না" …
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الصحف والمجلات:

وهذه تنقسم إلى قسمين صحف ومجلات متخصصة بالعلوم الشرعية وهذه قد تكون المشاركة فيها مما لا إشكال فيه، وأخرى عامة، مواضيعها متنوعة. والمشاركة فيها أمر يُستحسن ومطلوب، إلا أنه ينبغي أن يكون للمشارك - سيما إذا كان مؤثرا مشهورا - دور في تحديد أمور منها:

- تحديد مكان نشر المشاركة، فكما هو معلوم الصحف المتنوعة متنوعة صفحاتها، فما دام أنه يريد أن يشارك فيها فلا بد أن يضع شروطا يشترطها لتحدد مكان نشر المشاركة الذي يبعدها عما لا يناسبها من وجوه متعددة.

- اشتراط عدم التدخل الذي يغير المعنى وبالتالي يتغير الموضوع الذي يكتب فيه.

وعلى الكاتب الذي يدعو إلى الله من خلال مشاركته أن تكون كتابته حيَّة، فإن الملاحظ أن كتابة بعضهم فيها شيء من الضعف مع أنها قد تكون مدعمة بالدليل من الكتاب والسنة، لكن قوة النص من الكتاب والسنة يحتاج لأن يكون الاستدلال بهما قويا بحيث يكون وجه الاستدلال بينا واضحا إذ الفرق كبير بين الدليل والمدلول، فالقراء يعرفون الكتاب ويعرفون السنة غالبا فبين أيدهم كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، لكن كيف يُفتّح الكاتب أذهانهم على النصوص.
সংবাদপত্র ও সাময়িকী:

এগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: এক প্রকার হলো শরয়ী বিজ্ঞানসমূহে (ইসলামী জ্ঞান) বিশেষায়িত সংবাদপত্র ও সাময়িকী, যেগুলোতে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো সংশয় নেই। অন্যটি হলো সাধারণ সংবাদপত্র ও সাময়িকী, যেগুলোর বিষয়বস্তু বৈচিত্র্যপূর্ণ। এগুলোতে অংশগ্রহণ করা একটি প্রশংসনীয় এবং কাঙ্ক্ষিত বিষয়; তবে অংশগ্রহণকারীর জন্য—বিশেষ করে তিনি যদি প্রভাবশালী ও প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব হন—কতিপয় বিষয় নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা উচিত, যার মধ্যে রয়েছে:

- লেখাটি প্রকাশের স্থান নির্ধারণ করা; কারণ এটি সর্বজনবিদিত যে, বিভিন্ন ধরণের সংবাদপত্রের পাতাসমূহও বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়ে থাকে। সুতরাং লেখক যতক্ষণ এতে অংশগ্রহণ করতে চাইবেন, তাকে অবশ্যই এমন কিছু শর্তারোপ করতে হবে যা লেখাটি প্রকাশের স্থান সুনির্দিষ্ট করবে এবং একে বিভিন্ন দিক থেকে অনুপযুক্ত বিষয়াদি থেকে দূরে রাখবে।

- এমন কোনো হস্তক্ষেপ না করার শর্তারোপ করা যা লেখার অর্থ পরিবর্তন করে দেয় এবং ফলশ্রুতিতে যে বিষয়ে লেখা হচ্ছে তা-ই বদলে যায়।

যে লেখক তার এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেন, তার লেখনী হতে হবে প্রাণবন্ত। কেননা এটি লক্ষণীয় যে, কারো কারো লেখায় কিছুটা দুর্বলতা (ضعيف) পরিলক্ষিত হয়, যদিও তা কুরআন ও সুন্নাহর দলিল দ্বারা সমর্থিত হতে পারে। কিন্তু কুরআন ও সুন্নাহর নস-এর শক্তি দাবি করে যে, সেগুলোর মাধ্যমে দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি শক্তিশালী হতে হবে, যাতে দলিল উপস্থাপনের ভঙ্গি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও প্রতীয়মান হয়; কারণ দলিল এবং যা দ্বারা দলিল পেশ করা হচ্ছে—এ দুয়ের মধ্যে ব্যবধান অনেক। পাঠকরা সাধারণত কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে জানেন এবং তাদের সামনে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ বিদ্যমান থাকে; কিন্তু লেখক কীভাবে সেই নসগুলোর প্রতি তাদের চিন্তাজগতকে উন্মোচিত করবেন, সেটিই মূল বিবেচ্য।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ومما يشترطه الكاتب أن لا ينشر ما يكتب في وقت ميت إما لكون القراء عامة يعيشون انشغالا عاما أو أحداثا مستجدة تنصب اهتماماتهم على قراءة أخبارها أو أسبابها وتداعياتها وغير ذلك.

একজন লেখকের জন্য যে সকল শর্তাবলি পরিপালন করা আবশ্যক, তন্মধ্যে অন্যতম হলো তিনি যা রচনা করছেন তা যেন কোনো নিস্তেজ সময়ে প্রকাশ না করেন; হয় সাধারণ পাঠকবর্গ কোনো ব্যাপক ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করার কারণে, অথবা এমন কোনো নবতর পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ার ফলে যা তাদের যাবতীয় মনোযোগকে সেই সংবাদের পঠন, তার কারণ ও পরিণতির দিকে নিবদ্ধ করে রাখে এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।

(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الإنترنت:

وإن من الوسائل العصرية وهي مع كونها مسموعة إلا أن القراءة فيها أكثر من السماع، وسيلة الإنترنت ف (لم يعد من الممكن تجاوز (إنترنت) وتجاهلها أو اعتبارها شيئا شريرا اخترعه الغرب لإفساد المسلمين وإغوائهم..لماذا؟! لسبب بسيط هو أن التجارب العملية أثبتت أن (إنترنت) كائن يمكن السيطرة عليه وتطويعه حسب ما نشاء) ، (1) فعلى هذا يكون العزوف عنه في هذا الوقت تضييع لأفضل الفرص في مجال الدعوة إلى الله سبحانه، والمشارك فيها يجمل به أن يكون على قدر من العلم الشرعي، وكذا عنده قدرة على الحوار والإقناع، ومجالاته واسعة من كتابات مطولة وحوارات جادة وأحاديث خفيفة أو ما يسمى (بالدردشة) وما على الداعية إلا أن يستعين بالله ويساهم بهذه الوسيلة بما يحقق الاستغلال الأمثل والمساهمة الفاعلة.

--------------------------------------------

(1) الإنترنت في خدمة الإسلام لعبد المنعم حسن النهدي ص 10.
ইন্টারনেট:

আধুনিক মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ইন্টারনেট। যদিও এটি শ্রবণযোগ্য একটি মাধ্যম, তবুও এতে শ্রবণের চেয়ে পাঠের পরিধিই বেশি। কেননা (ইন্টারনেটকে এড়িয়ে যাওয়া, উপেক্ষা করা কিংবা একে মুসলিমদের চরিত্র নষ্ট ও বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে পশ্চিমাদের আবিষ্কৃত কোনো অশুভ বস্তু হিসেবে গণ্য করার সুযোগ এখন আর নেই। কেন?! তার সহজ কারণ হলো, বাস্তব অভিজ্ঞতা এটি প্রমাণ করেছে যে, ইন্টারনেট এমন এক সত্তা যাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী একে বশীভূত করা যায়।) (১) এমতাবস্থায়, বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট থেকে বিমুখ থাকা মানে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম সুযোগগুলো নষ্ট করা। এতে অংশগ্রহণকারীর জন্য পর্যাপ্ত শরয়ি জ্ঞানের অধিকারী হওয়া কাম্য, সেই সাথে তার মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা ও অন্যকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। এর ক্ষেত্রসমূহ অত্যন্ত বিস্তৃত; দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখন, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থেকে শুরু করে সাধারণ আলাপচারিতা বা যেটিকে ‘চ্যাটিং’ বলা হয়—সবই এর অন্তর্ভুক্ত। একজন দায়ীর কর্তব্য হলো আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং এই মাধ্যমের সাহায্যে এমনভাবে অবদান রাখা, যা এর সর্বোত্তম ব্যবহার ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।

--------------------------------------------

(১) আল-ইন্টারনেট ফি খিদমাতিল ইসলাম, আব্দুল মুনিম হাসান আন-নাহদি, পৃষ্ঠা: ১০।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌التعليم:

لتعليم بأنواعه سواء في الدراسة النظامية أو حلقات القرآن، أو الدروس العلمية الأخرى في المساجد، والمعلم أيا كان طلابه فإنه إن راعى الحال والمقام وخاطبهم بما يعرفون كان لخطابه الدعوي أثر عليهم تربية واجتهادا حتى ولو كانوا طلاب صفوف أولية.

قال عمرو بن العاص لحلقة قد جلسوا إلى جانب الكعبة، بعد أن قضى طوافه وجلس إليهم وقد نحّوا الفتيان عن مجلسهم: " لا تفعلوا! أوسعوا لهم، وأدنوهم وألهموهم، فإنهم اليوم صغار قوم يوشك أن يكونوا كبار قوم آخرين، قد كنا صغار قومٍ أصبحنا كبارَ آخرين ".وقد علق الإمام ابن مُفلح رحمه الله على هذه العبارة قائلا:

- (وهذا صحيح لا شك فيه، والعلم في الصغر أثبت، فينبغي الاعتناء بصغار الطلبة لا سيما الأذكياء المتيقظين الحريصين على أخذ العلم، فلا ينبغي أن يجعل على ذلك صغرهم أو فقرهم وضعفهم مانعا من مراعاتهم والاعتناء بهم) . (1)

--------------------------------------------

(1) الآداب الشرعية والمنح المرعية 1 / 244
শিক্ষা:

শিক্ষা সব প্রকারের হতে পারে, তা আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা হোক কিংবা কুরআনের হালাকা, অথবা মসজিদের অন্যান্য জ্ঞানতাত্ত্বিক পাঠ। শিক্ষক, তার ছাত্ররা যে-ই হোক না কেন, যদি তিনি অবস্থা ও প্রেক্ষিত বিবেচনা করেন এবং তাদের বোধগম্য ভাষায় সম্বোধন করেন, তবে তার দাওয়াতি বার্তার প্রভাব তাদের নৈতিক চরিত্র গঠন ও অধ্যবসায়ের ওপর পড়বে, এমনকি তারা প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী হলেও।

আমর ইবনুল আস (রা.) তওয়াফ সম্পন্ন করার পর কাবার পাশে বসা একটি দলের কাছে গিয়ে বসলেন। তারা কিশোরদের মজলিস থেকে সরিয়ে দিচ্ছিল। তিনি বললেন: "এমন করো না! তাদের জন্য জায়গা প্রশস্ত করো, তাদের কাছে টেনে নাও এবং তাদের জ্ঞান দান করো। কারণ তারা আজ কোনো সম্প্রদায়ের ছোট, অচিরেই তারা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের বড় হয়ে উঠবে। আমরাও এক সময় কোনো এক কওমের ছোট ছিলাম এবং আজ অন্যদের বড় হয়েছি।" ইমাম ইবনে মুফলিহ (রহ.) এই বাণীর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন:

- "(এটি সহিহ (صحيح), এতে কোনো সন্দেহ নেই। শৈশবে অর্জিত জ্ঞান অধিকতর দীর্ঘস্থায়ী হয়। তাই কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত, বিশেষ করে যারা মেধাবী, সজাগ এবং জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী। তাদের অল্প বয়স, দারিদ্র্য কিংবা দুর্বলতাকে তাদের প্রতি খেয়াল রাখা বা যত্ন নেওয়ার পথে প্রতিবন্ধক করা উচিত নয়।)" (১)

--------------------------------------------

(১) আল-আদাব আল-শারইয়্যাহ ওয়াল মিনাহ আল-মারইয়্যাহ ১ / ২৪৪
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২০)
والمعلم الناجح هو الذي يسعى لفتح أذهان الطلاب وربطهم بخالقهم عن طريق أي مناسبة تعرضُ له في شرحه وتقريره أيا كانت مادته، وهذا من أساسيات التعليم وأهدافه كما أن هذا من بركة الرجل إن وفق إليه قال ابن القيم رحمه الله ( … فإن بركة الرجل تعليمه للخير حيث حل، ونصحه لكل من اجتمع به، قال تعالى إخبارا عن المسيح عليه السلام: {وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنْتُ} (1) أي معلما للخير داعيا إلى الله مذكرا به، مرغبا في طاعته، فهذا من بركة الرجل ومن خلا من هذا فقد خلا من البركة وسحقت بركة لقائه والاجتماع به … ) . (2)

--------------------------------------------

(1) سورة مريم آية 31.

(2) رسالة إلى كل مسلم ص 5، 6.
একজন সফল শিক্ষক হলেন তিনিই, যিনি শিক্ষার্থীদের মেধা উন্মুক্ত করতে সচেষ্ট হন এবং তাঁর পাঠদান ও আলোচনার মাঝে যেকোনো অনুকূল মুহূর্তে তাদেরকে তাদের স্রষ্টার সাথে সম্পৃক্ত করেন, তাঁর পাঠ্যবিষয় যাই হোক না কেন। এটি শিক্ষার অন্যতম মৌলিক বিষয় ও লক্ষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত; তদুপরি কোনো ব্যক্তি যদি এর তাওফিকপ্রাপ্ত হন, তবে এটি তাঁর বরকতের পরিচায়ক। ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন ( … কেননা কোনো ব্যক্তির বরকত হলো সে যেখানেই অবস্থান করুক না কেন কল্যাণের শিক্ষা দেওয়া এবং যার সাথেই তার সাক্ষাৎ হয় তাকে নসিহত করা। মহান আল্লাহ মাসীহ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে এরশাদ করেছেন: {আর তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন আমি যেখানেই থাকি না কেন} (১); অর্থাৎ কল্যাণের শিক্ষক হিসেবে, আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী হিসেবে, তাঁর কথা স্মরণ করিয়ে দানকারী হিসেবে এবং তাঁর আনুগত্যে উৎসাহিতকারী হিসেবে। সুতরাং এটিই হলো কোনো ব্যক্তির বরকত। আর যার মধ্যে এর অভাব রয়েছে, সে বরকত থেকে বঞ্চিত এবং তার সাথে সাক্ষাৎ ও সমাবেশের বরকত বিলুপ্ত হয়েছে … ) । (২)

--------------------------------------------

(১) সুরা মারইয়াম, আয়াত ৩১।

(২) রিসালা ইলা কুল্লি মুসলিম, পৃষ্ঠা ৫, ৬।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الخطبة:

الخطب قديمة قدم الزمان، إذ الحاجة إلى مخاطبة الناس وتبليغهم بما لهم أو عليهم سواء كان مصدرها علمائهم أو ولاتهم، فكل من أراد من الناس شيئا خطبهم بما يريد [قال الجاحظ: ثم اعلم بعد ذلك أن جميع خطب العرب] من أهل المدر والوبر والبدو والحضر على ضربين: منها الطوال، ومنها القصار، ولكل ذلك مكان يليق به وموضع يحسن به) . (1)

وجاء الإسلام فزاد الخطب قوة وأهمية، فأما القوة فجمال الأسلوب وانتقاء العبارات وتحليتها بالآيات والأحاديث وشيء من أخبار العرب وأشعارهم فتأثر الخطباء بالقرآن وبكلام رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأما الأهمية فلجعلها عبادة، أداء واستماعا.كما في الحديث (.. ومن مس الحصى فقد لغا) . (2)

ولهذا فإن من حق المستمعين على الخطيب أن يراعي حقهم وقد ألزموا بالاستماع إليه فلا بد من الاعتناء بالموضوع، والتوقيت، والطول، والقصر، ومراعاة الحال، ومواكبة الظروف والأحوال بيانا وتوجيها.

--------------------------------------------

(1) البيان والتبيين 2 / 7.

(2) رواه مسلم، كتاب الجمعة، باب فضل من استمع وأنصت في الخطبة 2 / 588 حديث رقم 157 / 27.
খুতবা (ভাষণ):

খুতবা বা ভাষণ সময়ের মতোই প্রাচীন, কারণ মানুষকে সম্বোধন করার এবং তাদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে অবহিত করার প্রয়োজনীয়তা সবসময়ই বিদ্যমান ছিল, চাই তার উৎস তাঁদের আলিমগণ হোন বা শাসকগণ। যে কেউ মানুষের কাছে কিছু প্রত্যাশা করত, সে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি নিয়ে তাঁদের সামনে ভাষণ দিত। [আল-জাহিজ বলেছেন: অতঃপর জেনে রাখুন যে, আরবদের সকল খুতবা], চাই তারা স্থায়ী ঘরবাড়িতে বসবাসকারী হোক বা পশুপশমের তাঁবুতে, মরুবাসী হোক বা শহরবাসী, দুই প্রকারের হয়ে থাকে: দীর্ঘ এবং সংক্ষিপ্ত। এর প্রত্যেকটির জন্য রয়েছে উপযুক্ত স্থান এবং মানানসই ক্ষেত্র। (১)

অতঃপর ইসলামের আগমন খুতবাকে আরও শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। শক্তির বিষয়টি হলো—শৈল্পিক উপস্থাপনা, শব্দচয়ন এবং পবিত্র কুরআনের আয়াত, হাদিস ও আরবদের সংবাদ ও কবিতাসমূহ দ্বারা তাকে অলঙ্কৃত করা। ফলে খতিবগণ কুরআন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। আর গুরুত্বের বিষয়টি হলো—একে ইবাদত হিসেবে গণ্য করা, প্রদান করা এবং শ্রবণ করা উভয় দিক থেকেই। যেমনটি হাদিসে এসেছে: (...আর যে ব্যক্তি পাথরকুচি স্পর্শ করল, সে অনর্থক কাজ করল)। (২)

এই কারণে খতিবের ওপর শ্রোতাদের অধিকার হলো তাঁদের হকের প্রতি লক্ষ্য রাখা, যেহেতু তাঁরা তাঁর কথা শোনার জন্য দায়বদ্ধ। তাই বিষয়বস্তু, সময়জ্ঞান, দীর্ঘতা, সংক্ষিপ্ততা এবং পরিস্থিতির প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও ঘটনাবলির আলোকে দিকনির্দেশনা ও ব্যাখ্যা প্রদান করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত যত্নবান হওয়া আবশ্যক।

--------------------------------------------

(১) আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন ২/৭।

(২) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল জুমুআ, খুতবা চলাকালীন মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নীরব থাকার শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক পরিচ্ছেদ ২/৫৮৮, হাদিস নং ১৫৭/২৭।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الموعظة:

وهذه وسيلة كلامية يسعى الواعظ من خلالها إلى التأثير في المدعوين بالأسلوب المناسب للحال والمقام، وكم وعظ رسول الله صلى الله عليه وسلم أصحابه بمواعظ متناسبة مع الحال والزمان ومنها ما رواه العرباض بن سارية رضي الله عنه قال: «وعظنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما بعد صلاة الغداة موعظة بليغة ذرفت منها العيون ووجلت منها القلوب فقال رجل ٌ: إن هذه موعظة مودع، فماذا تعهد إلينا يا رسول الله» ....) (1) الحديث

والموعظة عادة ما يكون الناس على غير استعداد لها سواء كانت بعد صلاة مفروضة أو في مناسبة اجتماعية فلا بد من مراعاة أحوال الناس وعدم إملالهم

--------------------------------------------

(1) رواه الترمذي واللفظ له، كتاب العلم، باب ما جاء في الأخذ بالسنة واجتناب البدع 5 / 43 حديث رقم 7676 وقال حديث حسن صحيح، وأبو داود كتاب السنة باب في لزوم السنة 5 / 13 رقم 4607.
নসিহত (উপদেশ):

এটি একটি বাচনিক মাধ্যম, যার মাধ্যমে একজন নসিহতকারী অবস্থা ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী উপযুক্ত পদ্ধতিতে শ্রোতৃমণ্ডলীর ওপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীগণকে অবস্থা ও সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নসিহতের মাধ্যমে কতই না উপদেশ দিয়েছেন! সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যা ইরবায বিন সারিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ফজরের সালাতের পর এক মর্মস্পর্শী নসিহত প্রদান করলেন, যাতে চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। তখন এক ব্যক্তি বললেন: এটি তো বিদায়ী ব্যক্তির নসিহতের মতো মনে হচ্ছে; অতএব হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের কী আদেশ দিচ্ছেন?» ....) (১) হাদিস

সাধারণত মানুষ নসিহত শোনার জন্য পূর্বপ্রস্তুত থাকে না, চাই তা ফরয সালাতের পরে হোক কিংবা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে। তাই মানুষের অবস্থার প্রতি লক্ষ রাখা এবং তাদেরকে বিরক্ত না করা আবশ্যক।

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি তাঁরই, কিতাবুল ইলম, সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা এবং বিদআত বর্জন পরিচ্ছেদ, ৫/৪৩, হাদিস নং ৭৬৭৬ এবং তিনি বলেছেন: এটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস; এবং আবু দাউদ, কিতাবুস সুন্নাহ, সুন্নাহর আবশ্যকতা পরিচ্ছেদ, ৫/১৩, নং ৪৬০৭।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المحاضرة:

وهذه تختلف عن الموعظة، لان الناس جاءوا مستعدين، وكذلك تبنى على حقائق علمية مع طول وقتها وإشباع موضوعها وما قد يصاحبها من مداخلات وأسئلة في الغالب تطرح في آخرها مما يتطلب من المحاضر استعدادا علميا وذهنيا ونفسيا يجعله يجيب بما يحضره ويعتذر عما غاب عن ذهنه أو يجهله.
লেকচার (المحاضرة):

এটি নসিহত (الموعظة) থেকে ভিন্ন; কারণ মানুষ এখানে প্রস্তুতি নিয়ে আসে। একইভাবে, এটি তাত্ত্বিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, এর সময়কাল দীর্ঘ হয় এবং এতে বিষয়বস্তুর ওপর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করা হয়। সাধারণত এর শেষে বিভিন্ন সম্পূরক আলোচনা ও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, যার জন্য আলোচকের জ্ঞানতাত্ত্বিক, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। এর ফলে তিনি উপস্থিত জ্ঞান থেকে উত্তর প্রদান করেন এবং যা তার স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে বা যা তার অজানা সে বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করেন।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الندوة:

وهذه تمتاز بأن المشارك فهي أكثر من واحد مع ما فيها من إبعادٍ للسآمة والملل بسبب نقل الحديث من مشارك لآخر مع تنوع محاورها التي يتناولوها هذا إن سلمت من استئثار مديرها بالحديث أكثر من ضيوفه.
সেমিনার:

এর বৈশিষ্ট্য হলো এতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা একের অধিক থাকে। এতে আলোচ্য বিষয়সমূহের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি একজনের থেকে অন্যজনের নিকট আলোচনার স্থানান্তরের কারণে একঘেয়েমি ও ক্লান্তি দূর হয়; তবে শর্ত হলো এটি যেন সঞ্চালক কর্তৃক অতিথিদের তুলনায় অধিক সময় আলোচনা কুক্ষিগত করে রাখা থেকে মুক্ত থাকে।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الإذاعة:

وهذه يقال فهيا ما يقال في الصحف والمجلات من جهة التقسيم فمتى ما رأى الداعية أهمية المشاركة في البرنامج العام للإذاعة فإن عليه أن يلتمس الإصلاح والمحقق للتأثير الأكبر على المستمعين، وكل داعية بحسبه والأمور نسبية.
বেতার মাধ্যম:

শ্রেণিবিভাগের দিক থেকে সংবাদপত্র ও সাময়িকী সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, বেতারের ক্ষেত্রেও তা-ই প্রযোজ্য। সুতরাং যখনই কোনো দাঈ বেতারের সাধারণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের গুরুত্ব উপলব্ধি করেন, তখন তাঁর কর্তব্য হলো সংশোধনের পথ অন্বেষণ করা এবং শ্রোতাদের ওপর সর্বাধিক প্রভাব নিশ্চিত করা। প্রত্যেক দাঈর বিষয়টি তাঁর নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বিবেচিত হবে এবং এ বিষয়গুলো আপেক্ষিক।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌التلفزيون والقنوات الفضائية:

لم تعد المشاركة الدعوية في هذه الوسيلة المسموعة المرئية - شرا محضا فوصول صوت الداعية إلى ملايين البشر مع المزاحمة الجادة من قبل المخالفين دينا، وعقيدة، وأخلاقا، يتطلب من الدعاة القادرين دراسة جادة تصل إلى الكيفية المناسبة لاستخدام هذه الوسيلة بما يحقق الخير أو بعضه ويدفع الشر أو بعضه.
টেলিভিশন ও স্যাটেলাইট চ্যানেলসমূহ:

এই শ্রব্য-দৃশ্য মাধ্যমে দাওয়াতি কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এখন আর নিছক অকল্যাণকর রয়ে যায়নি। কেননা দ্বীন, আকিদাহ (عقيدة) ও নৈতিকতার বিরোধীদের পক্ষ থেকে আসা তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে একজন দাঈর কণ্ঠ পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি সক্ষম দাঈদের নিকট থেকে এমন এক গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে, যার মাধ্যমে এই মাধ্যমটি ব্যবহারের এমন এক উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়, যা কল্যাণ বা এর অংশবিশেষ অর্জন নিশ্চিত করবে এবং অকল্যাণ বা এর অংশবিশেষ প্রতিহত করবে।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الشريط الإسلامي:

الشريط الإسلامي قديم متجدد ومما زاد تجدده قيام مؤسسات إسلامية خاصة تُعنى بالمادة والإخراج وفي النشر في كل مكان مع تنوع مادته ما بين مادة عملية، وكلمات وعظية، وإنشاد حسن، وأخبار ماضية تربط الجيل الحضر بماضيه كل هذه الأشياء تجعل من الشريط وسيلةً دعوية يسهل الاستماع إليها وتداولها، فما على المهتمين بذلك من أصحاب المؤسسات إلا الحرص الجاد بالمتابعة للجديد الحسن وتيسير نشره واقتنائه.
‌‌ইসলামিক ক্যাসেট:

ইসলামিক ক্যাসেট একটি প্রাচীন অথচ চিরনবীন মাধ্যম। এর এই আধুনিকায়নের মূলে রয়েছে এমন কিছু বিশেষায়িত বেসরকারি ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের আবির্ভাব, যারা এর বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনার মানোন্নয়ন এবং সর্বত্র এর প্রসারের ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এর বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য—যেমন ব্যবহারিক বিষয়াবলি, উপদেশমূলক বক্তব্য, উত্তম (حسن) নাশিদ এবং অতীত ইতিহাস যা বর্তমান প্রজন্মকে তাদের ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত করে—এই সবকিছুই ক্যাসেটকে দাওয়াহর এমন একটি সহজলভ্য মাধ্যমে পরিণত করেছে যা সহজেই শোনা ও বিনিময় করা যায়। এমতাবস্থায়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো নতুন ও উত্তম (حسن) বিষয়বস্তু অনুসরণে সচেষ্ট হওয়া এবং এর প্রচার ও সংগ্রহের পথ সুগম করা।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌ثالثا: وسيلة المؤسسات العلمية والدعوية:

يمتاز العمل المؤسسي بجماعيته، حيث العدد الأكبر المساهم في ذلك العمل، فتكثر الآراء والأفكار الخادمة، مع توظيف طاقة كل عضو فيما يناسبها من أجل النهوض بالعمل واستمراره حيث الاستثمار الأفضل لعقول الرجال، ويضاف إلى هذا عدم ارتباط هذا العمل بشخص واحد ينتهي بتغير رغبته أو موته.

كما أن مثل هذا العمل يمتاز بالتنظيم والدقة والبعد به عن الارتجالية، حيث النظم المتفق عليها والتي يسير العمل من خلالها، ومعرفة كل عضو ما له وما عليه داخل هذا الصرح، وكذا وجود مجلس تصدر القرارات من خلاله لا تسمح لكل أحد بأن يصدر القرار لوحده، كل هذا وغيره يجعل أعمال هذه المؤسسات أقل خطأً وأكثر صوابا ونفعا.

وما هذه المؤسسات الدعوية والخيرة في بلادنا المباركة إلا نموذج يحتذى في ذلك. ومما يلحق بهذه؛ المراكز الصيفية والأنشطة المدرسية التي تحفظ على الشاب وقته مع ما فيه من تدريب على الإلقاء والمخاطبة، وما يستفيده من خبرات علمية وعملية تساعده على بناء شخصيته ومستقبله، وتنير له طريقه للمشاركة المثلى في خدمة مجتمعه وأمته.
তৃতীয়ত: শিক্ষা ও দাওয়াহমূলক প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যম:

প্রাতিষ্ঠানিক কর্মতৎপরতা তার সামষ্টিক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত হয়, যেখানে এই কাজে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে। ফলে সেবামূলক মতামত ও চিন্তাধারার প্রাচুর্য ঘটে এবং কাজের উন্নতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য প্রত্যেক সদস্যের সামর্থ্যকে যথোপযুক্ত স্থানে নিয়োগ করা হয়, যাতে মানুষের মেধার সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হয়। এর সাথে আরও যুক্ত হয় এই বিষয়টি যে, এ ধরনের কাজ কোনো একক ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না, যা তার ইচ্ছার পরিবর্তন বা মৃত্যুর সাথে সাথে সমাপ্ত হয়ে যায়।

তদুপরি, এ ধরনের কাজ সুশৃঙ্খলতা, নিপুণতা এবং খামখেয়ালিপনা থেকে মুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়; যেখানে সর্বসম্মত নিয়মতান্ত্রিকতার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভ্যন্তরে প্রত্যেক সদস্য তার অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকে। তেমনিভাবে এখানে একটি পরিষদ থাকে যার মাধ্যমে সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়, যা এককভাবে কাউকে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ দেয় না। এই সমস্ত বিষয় এবং অন্যান্য কারণসমূহ এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজকে ভুলমুক্ত এবং অধিকতর সঠিক ও কল্যাণকর করে তোলে।

আমাদের এই বরকতময় দেশের দাওয়াহমূলক ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠানসমূহ এক্ষেত্রে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এর অন্তর্ভুক্ত হলো গ্রীষ্মকালীন কেন্দ্রসমূহ এবং স্কুলভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, যা তরুণদের সময়কে হেফাজত করে। পাশাপাশি এতে থাকে বক্তব্য প্রদান ও বাগ্মিতার প্রশিক্ষণ এবং যা থেকে তারা এমন জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন করে যা তাদের ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা করে। এটি সমাজ ও উম্মাহর সেবায় তাদের সর্বোত্তম অংশগ্রহণের পথকে আলোকিত করে।
(খণ্ড: ১) মিন ওয়াসাইলিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
رابعا: وسائل أخرى:

وهذه في عمومها طابعها الاتصال المباشر بالمدعو ومن ذلك:

-‌‌الذهاب إلى أماكن المدعوين:

فالداعية الحريص على إيصال الحق إلى الخلق مطالب باستخدام هذه الوسيلة فنبينا محمد صلى الله عليه وسلم ذهب إلى عكاظ وذي المجاز وغيرهما وغشى أندية قريش واجتماعاتهم ولكن لا بد للذاهب أن يكنون متسلحا بالعلم وقوة الإيمان والأسلوب الأمثل للمدعوين زمانا ومكانا وتأهيلا.
চতুর্থত: অন্যান্য মাধ্যম:

এগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

-‌‌দাওয়াতপ্রাপ্তদের নিকট গমনের স্থানসমূহ:

সৃষ্টির কাছে সত্য পৌঁছে দিতে আগ্রহী একজন দ্বীন প্রচারকারীর জন্য এই মাধ্যমটি ব্যবহার করা আবশ্যক। কেননা আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উকাস, যিল-মাজায ও অন্যান্য স্থানে গমন করতেন এবং কুরাইশদের মজলিস ও সমাবেশগুলোতে উপস্থিত হতেন। তবে সেখানে গমনকারী ব্যক্তিকে অবশ্যই জ্ঞান, ঈমানের শক্তি এবং সময়, স্থান ও যোগ্যতার বিচারে দাওয়াতপ্রাপ্তদের জন্য সর্বোত্তম কর্মপন্থা দ্বারা সুসজ্জিত হতে হবে।