(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: -)
مع المعلمين القسم: كتب عامة
الكتاب: مع المعلمين
المؤلف: -
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 132
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 170
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শিক্ষকদের সাথে বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: শিক্ষকদের সাথে
লেখক: -
প্রকাশক: বইটি কোনো তথ্য ছাড়াই সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ১৩২
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত এবং তা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭০
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ১)
مع المعلمين
المقدمةالحمد لله الذي علَّم بالقلم، علَّم الإنسان ما لم يعلم، والصلاة والسلام على النبي الأكرم، الذي دلَّ الأمة على الخير وسلك بها الطريق الأمَمَ الأقوم.
أما بعد
فإن المعلمين هم حُماةُ الثُّغور، ومربو الأجيال، وسُقَاةُ الغرس، وعُمَّارُ المدارس، المستحقون لأجر الجهاد، وشكر العباد، والثواب من الله يوم المعاد.
ثم إن الحديث عن المعلمين ذو شجون؛ فلهم هموم وشؤون، ولهم آمال وآلام، وعليهم واجبات وتبعات.
ولقد يسر الله أن جمعت بعض الخواطر والنقول في هذا الشأن؛ فأحببت نشرها في صفحات؛ عسى أن تعم الفائدة بها.
وقد جاءت تلك الصفحات حاملةً المسمى الآتي:
مع المعلمين
فهي تدور مع المعلمين في شجونهم وشؤونهم، وفي أدبهم في أنفسهم، ومع زملائهم وطلابهم، إلى غير ذلك مما يدور في فلكهم.
فيا معاشر المعلمين سلامٌ من الله عليكم، وتحيات مباركاتٌ تُزجى إليكم، وثناء عليكم يَأْرَج كالمسك من محبٍّ لكم.
ثم إن هذه الصفحات مهداة إليكم فعسى أن تنال رضاكم، وتجد قبولًا عندكم.
فإلى تلك الصفحات، والله المستعان وعليه التكلان.
শিক্ষকদের সাথে
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিখিয়েছেন যা সে জানত না। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর ওপর, যিনি উম্মাহকে কল্যাণের পথ দেখিয়েছেন এবং তাদেরকে সত্য ও সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন।
অতঃপর
নিশ্চয়ই শিক্ষকরা হলেন সীমান্ত প্রহরী, প্রজন্মের লালনকারী, চারাগাছের সেচনকারী এবং বিদ্যাপীঠসমূহের আবাদকারী। তাঁরা জিহাদের সওয়াব, বান্দাদের কৃতজ্ঞতা এবং পরকালে আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার লাভের যোগ্য।
অতঃপর শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত বিস্তৃত; তাঁদের রয়েছে নানাবিধ উদ্বেগ ও বিষয়াদি, রয়েছে আশা ও আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ ও বেদনা, এবং তাঁদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে বহু দায়-দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আল্লাহ তাআলা এই বিষয়ে কিছু ভাবনা ও উদ্ধৃতি সংকলন করার তাওফিক দিয়েছেন; তাই আমি সেগুলো এই পৃষ্ঠাগুলোতে প্রকাশ করতে আগ্রহী হয়েছি, যাতে এর মাধ্যমে ব্যাপক উপকার সাধিত হয়।
আর এই পৃষ্ঠাগুলো নিম্নোক্ত শিরোনামে উপস্থাপিত হয়েছে:
শিক্ষকদের সাথে
এটি শিক্ষকদের জীবন সংশ্লিষ্ট নানাবিধ বিষয়, তাঁদের ব্যক্তিগত শিষ্টাচার, সহকর্মী ও ছাত্রদের সাথে তাঁদের আচরণ এবং তাঁদের পরিমণ্ডলে আবর্তিত অন্যান্য বিষয়াবলি নিয়ে রচিত।
হে শিক্ষক সমাজ! আপনাদের প্রতি আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক; আপনাদের তরে রইল বরকতময় সম্ভাষণ এবং আপনাদের একজন হিতৈষীর পক্ষ থেকে কস্তুরীর ন্যায় সুগন্ধিযুক্ত প্রশংসা।
অতঃপর এই পৃষ্ঠাগুলো আপনাদের প্রতি উৎসর্গ করা হলো; আশা করি এটি আপনাদের সন্তুষ্টি অর্জন করবে এবং আপনাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
অতএব, সেই পৃষ্ঠাগুলোর দিকে অগ্রসর হওয়া যাক। আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর ওপরই ভরসা করি।
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ২)
1 -
استحضار فضل العلم والتعليم:فللعلم شأن جلل، وفضل عظيم، ومكانة سامقة، فيحسن بالمعلمين أن يستحضروا هذا المعنى، ويضعوه نصب أعينهم وفي سويداء قلوبهم؛ فما يقدمونه في سبيل العلم يعلي ذكرهم، ويزكي علومهم، ويعود بالنفع عليهم وعلى أمتهم.
ولهذا فلا غرو أن تتظاهر آثار الشرع، وأقوال السلف، وكلمات الحكماء في بيان فضل العلم ونشره بين الناس.
قال -تعالى -: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} (المجادلة: 11) .
قال ابن عباس رضي الله عنهما: العلماء فوق المؤمنين مائة درجة، ما بين الدرجتين مائة عام. (1)
قال وهب ابن منبه: يتشعب من العلم الشرفُ وإن كان صاحبه دَنِيًّا، والعز وإن كان صاحبه مهينًا، والقرب وإن كان قصيًّا، والغنى وإن كان فقيرًا، والمهابة وإن كان وضيعًا. (2)
--------------------------------------------
1 -
ইলম এবং শিক্ষার মর্যাদাকে অন্তরে জাগ্রত রাখা:ইলমের গুরুত্ব অপরিসীম, এর ফযিলত মহান এবং এর অবস্থান অত্যন্ত সুউচ্চ। শিক্ষকদের জন্য সমীচীন হলো এই বিষয়টি সর্বদা স্মরণে রাখা এবং একে তাদের চোখের সামনে ও হৃদয়ের মণিকোঠায় গেঁথে নেওয়া; কেননা ইলমের পথে তারা যা কিছু নিবেদন করেন, তা তাদের মর্যাদাকে উচ্চকিত করে, তাদের জ্ঞানকে পরিশুদ্ধ করে এবং তাদের নিজেদের ও তাদের উম্মাহর জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।
আর এই কারণেই এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, শরয়ি বর্ণনাসমূহ (آثار), সালাফদের উক্তি এবং প্রজ্ঞাবানদের বাণীসমূহ ইলমের ফযিলত এবং মানুষের মাঝে তা প্রচার করার গুরুত্ব বর্ণনায় সুসংহতভাবে প্রতীয়মান হয়।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে ইলম দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বহু স্তরে বৃদ্ধি করবেন।” (আল-মুজাদালা: ১১)।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: আলেমদের মর্যাদা সাধারণ মুমিনদের উপরে একশ স্তর পর্যন্ত বেশি, আর প্রতিটি স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো একশ বছরের পথ। (১)
ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ বলেছেন: ইলম থেকে আভিজাত্য ও সম্মানের বহু শাখা নির্গত হয়, যদিও তার অধিকারী ব্যক্তি সামাজিকভাবে হীন হয়; এর মাধ্যমে প্রতাপ অর্জিত হয় যদিও ব্যক্তিটি তুচ্ছ হয়; এর মাধ্যমে নৈকট্য লাভ হয় যদিও সে দূরবর্তী হয়; এর মাধ্যমে সচ্ছলতা আসে যদিও সে দরিদ্র হয়; এবং এর দ্বারা গাম্ভীর্য অর্জিত হয় যদিও সে সাধারণ স্তরের মানুষ হয়। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ৩)
وقال أبو الوليد الباجي في وصيته لولديه: والعلم لا يفضي بصاحبه إلا إلى السعادة، ولا يقصر عن درجة الرفعة والكرامة، قليله ينفع، وكثيره يعلي ويرفع، كنز يزكو على كل حال، ويكثر مع الإنفاق، ولا يغصبه غاصب، ولا يُخاف عليه سارق ولا محارب؛ فاجتهدا في تحصيله، واستعذبا التعب في حفظه والسهر في درسه، والنصب الطويل في جمعه، وواظبا على تقييده وروايته، ثم انتقلا إلى فهمه ودرايته. (1)
وقال ابن حزم: لو لم يكن من فضل العلم إلا أن الجهال يهابونك، وأن العلماء يجلونك - لكان ذلك سببًا إلى وجوب طلبه، فكيف بسائر فضله في الدنيا والآخرة؟.
ولو لم يكن من نقص الجهل إلا أن صاحبه يحسد العلماء، ويغبط نظراءه من الجهال - لكان ذلك سببًا إلى وجوب الفرار عنه، فكيف بسائر رذائله في الدنيا والآخرة؟ . (2)
وعن سفيان الثوري والشافعي رضي الله عنهما: ليس بعد الفرائض أفضل من طلب العلم. (3)
--------------------------------------------
আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি তার দুই সন্তানের প্রতি তাঁর ওসিয়তনামায় বলেছেন: জ্ঞান তার অধিকারীকে কেবল সৌভাগ্যের দিকেই নিয়ে যায় এবং এটি উচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের স্তর থেকে মোটেও পিছিয়ে রাখে না। এর সামান্য অংশও উপকার দেয়, আর এর প্রাচুর্য ব্যক্তিকে উন্নত ও উচ্চাসীন করে। এটি এমন এক গুপ্তধন যা সর্বাবস্থায় বৃদ্ধি পায় এবং ব্যয়ের সাথে সাথে আরও বাড়ে। কোনো জবরদখলকারী তা ছিনিয়ে নিতে পারে না এবং চোর বা কোনো আক্রমণকারীর ভয়ও এতে নেই। অতএব তোমরা তা অর্জনে সচেষ্ট হও, তা মুখস্থ (حفظ) করার কষ্ট ও পাঠে রাত্রি জাগরণকে আনন্দদায়ক মনে করো এবং তা সংগ্রহের দীর্ঘ পরিশ্রমকে বরণ করে নাও। এর লিপিবদ্ধকরণ (تقييد) ও বর্ণনার (رواية) প্রতি মনোযোগী হও, অতঃপর এর অনুধাবন (فهم) ও গভীর উপলব্ধির (دراية) দিকে অগ্রসর হও। (১)
ইবনে হাজম বলেছেন: জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের যদি অন্য কোনো দিক নাও থাকতো কেবল এটি ছাড়া যে—অজ্ঞরা তোমাকে ভয় করবে এবং আলেমগণ তোমাকে সম্মান করবে—তবে জ্ঞান অন্বেষণ করা আবশ্যক হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট হতো। তাহলে দুনিয়া ও আখিরাতে এর অন্যান্য শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি কেমন হবে?
আর অজ্ঞতার হীনম্মন্যতার যদি অন্য কোনো দিক নাও থাকতো কেবল এটি ছাড়া যে—অজ্ঞ ব্যক্তি আলেমদের প্রতি হিংসা করে এবং তার সমমনা মূর্খদের প্রতি ঈর্ষা পোষণ করে—তবে তা থেকে পলায়ন করা আবশ্যক হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট হতো। তাহলে দুনিয়া ও আখিরাতে এর অন্যান্য অপকারিতার বিষয়টি কেমন হবে? (২)
সুফিয়ান আল-সাওরি ও শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: ফরজ ইবাদতসমূহের পর জ্ঞান অন্বেষণের চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই। (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ৪)
قال ابن جماعة بعد أن ساق جملة من الآثار عن السلف في فضل العلم: وقد ظهر بما ذكرنا أن الاشتغال بالعلم لله أفضل من نوال العبادات البدنية من صلاة، وصيام، وتسبيح، ودعاء، ونحو ذلك؛ لأن نفعَ العلم يعم صاحبه والناسَ، والنوافل البدنية مقصورةٌ على صاحبها، ولأن العلم مصحح لغيره من العبادات؛ فهي تفتقر إليه، وتتوقف عليه، لا يتوقف هو عليها، ولأن العلماء ورثة الأنبياء -عليهم الصلاة والتسليم - وليس ذلك للمتعبدين، ولأن طاعة العالم واجبة على غيره فيه، ولأن العلم يبقى أثره بعد موت صاحبه، وغيرُهُ من النوافل تنقطع بموت صاحبها، ولأن في بقاء العلم إحياءَ الشريعة، وحفظ معالم الملة. (1)
هذا شيء من فضل العلم، أما فضل نشر العلم وبثه بين الناس فيكفي في ذلك قول المصطفى ": «إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقةٍ جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له» . (2)
قال ابن جماعة في هذا الحديث: وأنا أقول: إذا نظرت وجدت معاني الثلاثة موجودة في معلم العلم؛ أما الصدقة فإقراؤه إياه العلم وإفادته إياه؛ ألا ترى إلى قوله في المصلي وحده: «من يتصدق على هذا» .
--------------------------------------------
ইবন জামাআহ ইলমের ফযিলত সম্পর্কে সলফদের (পূর্বসূরিদের) একগুচ্ছ আছার (أثر) উপস্থাপনের পর বলেন: আমরা যা উল্লেখ করেছি তা থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইলম অর্জনে লিপ্ত থাকা শারীরিক নফল (نفل) ইবাদত—যেমন সালাত, সিয়াম, তাসবিহ, দুআ এবং এজাতীয় আমলের চেয়েও উত্তম; কারণ ইলমের উপকারিতা ইলম অর্জনকারী এবং সাধারণ মানুষ সবার মাঝেই ব্যাপ্ত হয়, পক্ষান্তরে শারীরিক নফল (نفل) আমলসমূহ কেবল আমলকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। অধিকন্তু ইলম অন্যান্য ইবাদতসমূহকে সঠিক ও শুদ্ধ করে; ফলে ইবাদতসমূহ ইলমের মুখাপেক্ষী এবং ইলমের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু ইলম সেগুলোর ওপর নির্ভরশীল নয়। আর যেহেতু আলেমগণ হলেন নবিদের—তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—উত্তরাধিকারী, যা সাধারণ ইবাদতকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এবং যেহেতু ইলমের বিষয়ে আলেমের আনুগত্য করা অন্যদের জন্য আবশ্যক, এবং ইলম অর্জনকারীর মৃত্যুর পরও তার ইলমের প্রভাব বাকি থাকে, কিন্তু অন্যান্য নফল (نفل) আমলসমূহ আমলকারীর মৃত্যুর সাথে সাথে বিচ্ছিন্ন (انقطع) হয়ে যায়। এবং যেহেতু ইলম টিকে থাকার মধ্যেই শরিয়তের পুনর্জাগরণ এবং মিল্লাতের (দ্বীনের) নিদর্শনাবলির সুরক্ষা নিহিত। (১)
এটি ইলমের ফযিলতের সামান্য কিছু অংশ; আর ইলম প্রচার ও মানুষের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ফযিলত সম্পর্কে আল-মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীই যথেষ্ট: “যখন আদম সন্তান মারা যায়, তখন তিনটি বিষয় ছাড়া তার আমল বিচ্ছিন্ন (انقطع) হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন ইলম যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, অথবা এমন নেককার সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।” (২)
ইবন জামাআহ এই হাদিস সম্পর্কে বলেন: আমি বলি—আপনি যদি লক্ষ করেন তবে দেখবেন যে, এই তিনটি বিষয়ের অর্থই ইলম দানকারীর মাঝে বিদ্যমান; সদকার বিষয়টি হলো তার ইলম শিক্ষা দেওয়া এবং অন্যকে তা দ্বারা উপকৃত করা; আপনি কি একাকী সালাত আদায়কারী ব্যক্তি সম্পর্কে তাঁর এই বাণীটি দেখেননি: “কে আছে যে এর ওপর সদকা (দান) করবে?”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
أي بالصلاة معه؛ لتحصل فضيلة الجماعة، ومعلم العلم يحصل للطالب المنتفع به فضيلة العلم التي هي أفضل من صلاة في جماعة، وينال بها شرف الدنيا والآخرة.
وأما العلم المُنْتَفع به فظاهر؛ لأنه كان سببًا لإيصاله ذلك العلم إلى كل من انتفع به.
وأما الدعاء الصالح له فالمعتاد المستقر على ألسنة أهل العلم والحديث قاطبة من الدعاء لمشايخهم وأئمتهم.
وبعض أهل العلم يدعون لكل من يذكر عنه شيء من العلم، وربما قرأ بعضهم الحديث بسنده، فيدعو لجميع رجال السند؛ فسبحان من اختص من شاء من عباده بما شاء من جزيل عطائه. (1)
قال الشيخ عبد الرحمن ابن سعدي: فالمعلم مأجور على نفس تعليمه، سواء أفهم المتعلم أو لم يفهم؛ فإذا فهم ما علمه، وانتفع به بنفسه أو نفع به غيره - كان الأجر جاريًا للمعلم ما دام النفع متسلسلًا متصلًا.
وهذه تجارة بمثلها يتنافس المتنافسون؛ فعلى المعلم أن يسعى سعيًا شديدًا في إيجاد هذه التجارة؛ فهي من عمله وآثار عمله.
قال -تعالى -: {إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَى وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ} (يس: 12) .
--------------------------------------------
অর্থাৎ তার সাথে সালাত আদায়ের মাধ্যমে; যেন জামাতের (الجماعة) ফযিলত অর্জিত হয়। আর ইলমের শিক্ষক তার নিকট থেকে উপকৃত হওয়া ছাত্রের জন্য ইলমের ফযিলত অর্জন করে দেন, যা জামাতের (الجماعة) সালাত আদায়ের চেয়েও উত্তম এবং এর মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতের সম্মান লাভ হয়।
আর উপকৃত হওয়ার মতো ইলমের বিষয়টি তো স্পষ্ট; কারণ তিনি সেই ইলম পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হয়েছেন তাদের সবার কাছে যারা এর দ্বারা উপকৃত হয়েছে।
আর শিক্ষকের জন্য নেক দুআ করার বিষয়টি ইলম ও হাদিস বিশারদদের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত একটি নিয়ম, যেখানে তারা তাদের মাশায়েখ ও ইমামগণের জন্য দুআ করে থাকেন।
কোনো কোনো ইলম অন্বেষণকারী এমন প্রত্যেকের জন্য দুআ করেন যাদের থেকে ইলমের কোনো অংশ বর্ণিত হয়েছে। কখনো কখনো তাদের কেউ হাদিস তার সনদ (سند) সহ পাঠ করেন এবং সেই সনদের বর্ণনাকারীদের (رجال السند) সকলের জন্য দুআ করেন। সুতরাং মহিমা সেই সত্তার, যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তাঁর অঢেল দান দ্বারা বিশেষভাবে ধন্য করেন। (১)
শেখ আবদুর রহমান ইবনে সাদী বলেন: শিক্ষক তাঁর পাঠদানের কাজের জন্যই সওয়াবপ্রাপ্ত হন, শিক্ষার্থী তা বুঝুক বা না বুঝুক। কিন্তু যদি শিক্ষার্থী বিষয়টি বুঝতে পারে এবং নিজে এর দ্বারা উপকৃত হয় অথবা অন্যকে উপকৃত করে—তবে যতক্ষণ সেই উপকারিতা ধারাবাহিকভাবে ও অবিচ্ছিন্ন (متصل) ভাবে চলতে থাকে, ততক্ষণ শিক্ষকের সওয়াবও জারি থাকে।
এটি এমন এক ব্যবসা যার জন্য প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত। অতএব, শিক্ষকের কর্তব্য হলো এই ব্যবসা অর্জনে কঠোর প্রচেষ্টা চালানো; কারণ এটি তার আমল এবং তার আমলের নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমি মৃতদের জীবিত করি এবং তারা যা অগ্রিম পাঠিয়েছে ও তাদের পদচিহ্নসমূহ লিখে রাখি।" (ইয়াসিন: ১২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
فـ {مَا قَدَّمُوا} ما باشروا عمله، {وَآثَارَهُمْ} : ما ترتب على أعمالهم من المصالح والمنافع أو ضدها في حياتهم وبعد مماتهم. (1)
قال ابن جماعة: واعلم أن الطالب الصالح أعودُ على العالِم بخير الدنيا والآخرة من أعز الناس عليه، وأقرب أهله إليه.
ولذلك كان علماء السلف الناصحون لله ودينه يُلْقون شبك الاجتهاد لصيد طالب ينتفع الناس به في حياتهم ومِنْ بعدهم.
ولو لم يكن للعالم إلا طالب واحد ينفع الله بعلمه وهديه لكفاه ذلك الطالب عند الله -تعالى -؛ فإنه لا يتصل شيء من علمه إلى أحد فينتفع به إلا كان له نصيب من الأجر. (2)
فأكرم بالتعليم من مهنة، وأعظم به من شرف ومهمة.
أعَلِمْتَ أشرفَ أو أجلَّ من الذي
… يبني وينشئ أنفسًا وعقولا
(3)هذا وسيأتي مزيد بيان لفضل العلم والتعليم ضمنًا في الفقرات التالية.
--------------------------------------------
সুতরাং {তারা যা অগ্রিম পাঠিয়েছে} হলো যা তারা সরাসরি সম্পাদন করেছে, এবং {তাদের চিহ্নসমূহ} হলো তাদের কর্মের ফলে উদ্ভূত কল্যাণ ও উপকারসমূহ অথবা এর বিপরীত কিছু, যা তাদের জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর প্রকাশ পায়। (১)
ইবনে জামাআহ বলেছেন: জেনে রেখো যে, একজন সৎ (صالح) ছাত্র একজন আলেম (عالم)-এর জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের ক্ষেত্রে তার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি এবং তার নিকটতম আত্মীয়ের চেয়েও অধিক ফলদায়ক।
আর একারণেই আল্লাহ ও তাঁর দ্বীনের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী পূর্বসূরি (سلف) উলামায়ে কেরাম ইজতিহাদের (اجتهاد) জাল নিক্ষেপ করতেন এমন একজন ছাত্র অন্বেষণের জন্য, যার মাধ্যমে মানুষ তাদের জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর উপকৃত হবে।
যদি একজন আলেম (عالم)-এর কেবল একজন ছাত্রও থাকে যার ইলম (علم) ও হেদায়েতের (هدي) মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা (মানুষকে) উপকৃত করেন, তবে মহান আল্লাহর নিকট সেই একজন ছাত্রই তার জন্য যথেষ্ট হবে; কেননা তার ইলম (علم)-এর কোনো অংশ কারো নিকট পৌঁছানো এবং তার মাধ্যমে সে উপকৃত হওয়ার প্রতিটি ক্ষেত্রে ওই আলেমের জন্য সওয়াবের (أجر) একটি অংশ বরাদ্দ থাকে। (২)
শিক্ষকতা কতই না মহৎ পেশা এবং এটি কতই না মহান মর্যাদা ও দায়িত্ব!
আপনি কি এমন কারো চেয়ে অধিক সম্মানিত বা মহান কাউকে জানেন... যে আত্মা ও বুদ্ধিবৃত্তিকে নির্মাণ ও বিকশিত করে?
(৩)জ্ঞান ও শিক্ষকতার শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে আরও বিস্তারিত বিবরণ পরবর্তী অনুচ্ছেদগুলোতে আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
2 -
استشعار المسؤولية:فمسؤولية التعليم عظيمة، والأمانة الملقاة على عواتق أهله كبيرة؛ فما طريق المعلمين بلا حبةٍ، ولا مهمتهم بيسيرة؛ فلقد تحملوا الأمانة وهي ثقيلة، واستحقوا الإرث وهو ذو تبعات، وينتظر منهم ما ينتظره المدلج في الظلام من تباشير الصبح؛ فإن الأمة ترجو أن يبنى بهم جيل قوي الأسر، شديد العزائم، سديد الآراء، متين العلم، متماسك الأجزاء.
ولا يقال هذا الكلام؛ تهويلًا، وإنما يقال؛ ترويضا؛ فمن وطن نفسه على المكروه هانت عليه الشدائد، ووجد كل شيء باسما جميلًا محبوبًا.
ومن تخيل الراحة، وحكم أخيلتها في نفسه، ثم كذبته الآمال -كان بين عذابين، أمضَّهما كذب المخيلَة. (1)
قال ابن حزم: وطن نفسك على ما تكره يَقِلَّ هَمُّك إذا أتاك، ويعظمَ سرورُك ويتضاعف إذا آتاك ما تحب مما لم تكن قدَّرْتَه. (2)
فيا معاشر المعلمين، إنكم عاملون فمسؤولون عن أعمالكم، فمجزيون عنها من الله، ومن الأمة، ومن التاريخ، ومن الجيل الذي تقومون عليه كيلًا بكيل، ووزنًا بوزن؛ فإن أحسنتم أحسنتم لأنفسكم ولكم من الله فضل جزيل، ومن التاريخ والأمة ثناء جميل.
--------------------------------------------
2 -
দায়বদ্ধতা উপলব্ধি:শিক্ষাদানের দায়িত্ব অত্যন্ত মহান এবং এর ধারক-বাহকদের কাঁধে অর্পিত আমানত অতি বিশাল। শিক্ষকদের পথ কোনো পুষ্পশয্যা নয়, আর তাদের মিশনও সহজসাধ্য নয়। তারা এক ভারী আমানত বহন করেছেন এবং এমন এক উত্তরাধিকারের যোগ্য হয়েছেন যার দায়ভার অনেক বেশি। অন্ধকারে পথচলা পথিক যেমন ভোরের আলোর প্রতীক্ষায় থাকে, তাদের নিকট থেকেও তেমনই কিছু প্রত্যাশা করা হয়। কারণ উম্মাহ আশা করে যে, তাদের মাধ্যমে এমন এক সুদৃঢ় কাঠামোর অধিকারী, দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, সঠিক চিন্তাশীল, সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী এবং সুসংহত এক প্রজন্ম গড়ে উঠবে।
এই কথাগুলো আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বলা হচ্ছে না, বরং আত্মিক প্রস্তুতির জন্য বলা হচ্ছে। যে ব্যক্তি প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে, তার কাছে কঠিন বিপদসমূহও সহজ হয়ে যায় এবং সে প্রতিটি বিষয়ের মাঝে আনন্দ, সৌন্দর্য ও প্রিয় কিছু খুঁজে পায়।
আর যে ব্যক্তি কেবল আরাম-আয়েশের কল্পনা করে এবং নিজের মনে সেই অলীক কল্পনাকে স্থান দেয়, অতঃপর বাস্তব পরিস্থিতি যখন তার আশার বিপরীতে যায়—সে তখন দ্বিমুখী যন্ত্রণার শিকার হয়, যার মধ্যে কল্পনার অসারতা তাকে সবচেয়ে বেশি দগ্ধ করে। (১)
ইবন হাজম বলেছেন: "তুমি যা অপছন্দ করো তার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখো; তাহলে তা তোমার ওপর আপতিত হলে তোমার দুশ্চিন্তা কম হবে। আর যখন তুমি এমন কোনো প্রিয় বস্তু লাভ করবে যার প্রত্যাশা তুমি করোনি, তখন তোমার আনন্দ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।" (২)
অতএব হে শিক্ষক সমাজ! আপনারা কর্ম সম্পাদনকারী এবং আপনাদের কার্যাবলীর জন্য আপনারা দায়বদ্ধ। আল্লাহ্র পক্ষ থেকে, উম্মাহর পক্ষ থেকে, ইতিহাসের পাতায় এবং যে প্রজন্মের ওপর আপনারা নিয়োজিত আছেন তাদের নিকট থেকে আপনারা আপনাদের কর্মের প্রতিফল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লাভ করবেন। সুতরাং যদি আপনারা উত্তম কাজ করেন, তবে তা নিজেদের জন্যই করবেন এবং আপনাদের জন্য আল্লাহ্র নিকট রয়েছে মহা পুরস্কার, আর ইতিহাস ও উম্মাহর পক্ষ থেকে রয়েছে চমৎকার প্রশংসা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
وإن قصرتم فقد أسأتم لأنفسكم ولأمتكم، وإن لما يبوء به المقصرون من الندامة والمرارة ما يحلو معه بخع النفوس، وإتلاف المهج.
وتلك هي الحالة التي نعيذ أنفسنا - معاشر المعلمين - بالله من تسبيب أسبابها، وتقريب وسائلها.
كيف وقد نهى ديننا الحنيف عن التقصير في الواجبات، ونعى التفريط في الحقوق، وبين آثاره وعواقبه، وحض على الأعمال في مواقيتها، وقبح الكسل، والتواكل، والإضاعة، فشرع لنا بذلك كل شرائع الحزم والقوة وضبط الوقت والنفس مالم يشرعه قانون، ولم تأت به عقلية.
وما أخَذَنا بذلك إلا ليأخذ بِحُجَزِنا عن التَّهَوّي في الكسل والبطالة، ويقينا تَجَرُّعَ مرارة الندم، وحرارة الحسرة. (1)
قال الله - تعالى -: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا} (النساء: 58) .
وقال عز وجل: {إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَنْ يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا} (الأحزاب: 72) .
وقال النبي ": «كلكم راع وكلكم مسؤول عن رعيته» . (2)
--------------------------------------------
আর যদি আপনারা অবহেলা করেন তবে আপনারা নিজেদের এবং আপনাদের উম্মতের ক্ষতি করলেন। আর অবহেলাকারীরা যে অনুশোচনা ও তিক্ততার সম্মুখীন হবে, তাতে নিজের প্রাণ সংহার করা এবং জীবন বিনাশ করাও সহজ মনে হতে পারে।
আর এটিই সেই অবস্থা যা থেকে আমরা—শিক্ষক সমাজ—আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন আমরা এর কারণ সৃষ্টি না করি এবং এর উপায়গুলোর নিকটবর্তী না হই।
তা কীভাবে সম্ভব, যখন আমাদের সুমহান দ্বীন কর্তব্য পালনে অবহেলা করতে নিষেধ করেছে এবং অধিকারের বিষয়ে গাফিলতির নিন্দা জানিয়েছে? এটি এর প্রভাব ও পরিণাম বর্ণনা করেছে এবং সময়মতো আমল করার প্রতি উৎসাহিত করেছে। এটি অলসতা, পরনির্ভরশীলতা ও অপচয়কে কুৎসিত সাব্যস্ত করেছে। এর মাধ্যমে দ্বীন আমাদের জন্য দৃঢ়তা, শক্তি এবং সময় ও নফস নিয়ন্ত্রণের এমন সব বিধান প্রণয়ন করেছে যা কোনো মানবরচিত আইন করেনি এবং কোনো মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাধারা দিতে পারেনি।
আর আল্লাহ আমাদের এই নির্দেশ দিয়েছেন কেবল আমাদের অলসতা ও বেকারত্বের গহ্বরে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে এবং আমাদের অনুশোচনার তিক্ততা ও আক্ষেপের দহন থেকে বাঁচাতে। (১)
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা আমানতসমূহ তার প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও} (নিসা: ৫৮)।
তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আসমান, জমিন ও পাহাড়ের নিকট আমানত পেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে শঙ্কিত হলো, আর মানুষ তা বহন করল। নিশ্চয়ই সে অত্যন্ত জালেম ও অজ্ঞ} (আহজাব: ৭২)।
নবী বলেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।" (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
فيا معاشر المعلمين، إنكم رعاة ومسؤولون عن رعيتكم، وإنكم بناة وإن الباني لمسؤول عما يقع في البناء من زيغ أو انحراف.
وإذا كان في الأنابيب حيف
… وقع الطيش في صدور الصِّعَاد
فالتعليم هو التكوين الأول للناشئة، وعلى أساسها يبنى مستقبلهم في الحياة؛ فإن كان هذا التكوين صالحًا كانوا صالحين لأمتهم ولأنفسهم، وإن كان مختلًا ناقصًا زائغًا بنيت حياة الجيل كله على فساد، وساءت آثاره في الأمة وكانت الأمية أصلح لها، وأسلم عاقبة.
قال الحكيم العربي:
إذا ما الجرح رمَّ على فساد
… تَبَيَّن فيه تفريط الطبيب
وقال شوقي:
وإذا المعلم ساء لحظَ بصيرةٍ
… جاءت على يده البصائرُ حُولا
(1)إن تبعة ذلك تلقى على المعلمين الكرام؛ فلينظروا أي موقف أوقفتهم الأقدار فيه، وليشدوا الحيازيم لأداء الأمانة على وجهها، وليعلموا أنهم إنما يبنون للأمة من كل جيل ساقًا حتى يعلو البناء ويشمخ، وإن البناء لا يعلو قويًا، صحيحًا، متماسك الأجزاء، متعاصيًا على الهزات والزلازل - إلا إذا كان الأساس قويًا متينًا، متمكنًا ركينًا. (2)
--------------------------------------------
হে শিক্ষক সমাজ! নিশ্চয়ই আপনারা দায়িত্বশীল এবং আপনাদের অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবেন। নিশ্চয়ই আপনারা নির্মাতা, আর কোনো নির্মাণে বিচ্যুতি বা বক্রতা প্রকাশ পেলে নির্মাতাই তার জন্য দায়ী থাকেন।
যদি বর্শার নলে বক্রতা থাকে
… তবে বর্শার ফলকেও অস্থিরতা পরিলক্ষিত হয়।
শিক্ষা হলো নতুন প্রজন্মের জন্য প্রথম বুনিয়াদ, যার ওপর ভিত্তি করে তাদের জীবনের ভবিষ্যৎ নির্মিত হয়। যদি এই বুনিয়াদ সঠিক (صالح) হয়, তবে তারা তাদের জাতি ও নিজেদের জন্য কল্যাণকর হবে। আর যদি তা ত্রুটিপূর্ণ, অসম্পূর্ণ ও বিপথগামী হয়, তবে পুরো প্রজন্মের জীবনই দুর্নীতির ওপর গড়ে উঠবে এবং জাতির মধ্যে এর কুপ্রভাব ছড়িয়ে পড়বে। এমতাবস্থায় নিরক্ষরতা জাতির জন্য অধিকতর কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক থেকে নিরাপদ হতো।
আরব প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন:
যদি কোনো ক্ষত ভেতরে পচন রেখেই উপরে শুকিয়ে যায়
… তবে তাতে চিকিৎসকের অবহেলাই প্রকাশ পায়।
শাওকি বলেছেন:
যদি শিক্ষকের অন্তর্দৃষ্টির পর্যবেক্ষণ ত্রুটিপূর্ণ হয়
… তবে তার হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গিও হবে বক্র।
(1)এর দায়ভার সম্মানিত শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়। অতএব, ভাগ্য তাদের কোন উচ্চাসনে বসিয়েছে তা যেন তারা অনুধাবন করেন। আমানত যথাযথভাবে আদায়ের লক্ষ্যে তারা যেন কোমর বেঁধে নেমে পড়েন। তারা যেন জেনে রাখেন যে, তারা জাতির প্রতিটি প্রজন্মের মধ্য দিয়ে এক একটি স্তম্ভ নির্মাণ করছেন, যতক্ষণ না সেই অট্টালিকা সুউচ্চ ও মহিমান্বিত হয়। আর কোনো নির্মাণ শক্তিশালী, সহিহ (صحيح), সুসংবদ্ধ এবং কম্পন ও ভূমিকম্প সহনশীল হয়ে গড়ে ওঠে না—যদি না তার ভিত্তি শক্তিশালী, মজবুত ও সুদৃঢ় হয়। (2)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
إذا كان الأمر كذلك فإنه لا يحسن بنا - معاشر المعلمين - أن نتنصل عن المسؤولية، أو أن نلقي بالتبعات على غيرنا، فنلقي بها على البيت، وفساد الزمان، وقلة المعين وما إلى ذلك..
بل نقوم بما هو فرض علينا، ونؤدي الأمانة المنوطة بنا على أكمل وجه وأتمه.
قال العلامة محمد البشير الإبراهيمي في وصيته للمعلمين: إنكم تجلسون من كراسي التعليم على عروش ممالك، رعاياها أطفال الأمة؛ فسُوسُوهُمْ بالرفق والإحسان، وتَدَرَّجوا بهم من مرحلة كاملة في التربية إلى مرحلةٍ أكملَ منها.
إنهم أمانة الله عندكم، وودائع الأمة بين أيديكم، سلمتهم إليكم أطفالًا؛ لتردوها إليها رجالًا، وقدمتهم إليكم هياكل؛ لتنفخوا فيها الروح، وألفاظًا؛ لتعمروها بالمعاني، وأوعية؛ لتملؤها بالفضيلة والمعرفة. (1)
ومما يحسن التنبيه عليه في هذا الصدد أن مسؤولية التربية والتعليم لا تقتصر على معلمي الشريعة أو اللغة أو ما يدور في فلكهما.
--------------------------------------------
বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে আমাদের জন্য—হে শিক্ষক সমাজ—দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া অথবা অন্যদের ওপর দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া সমীচীন নয়; যেমন পরিবার, যুগের অবক্ষয় কিংবা সাহায্যকারীর অভাব ইত্যাদির ওপর দায় চাপানো।
বরং আমাদের উচিত আমাদের ওপর অর্পিত আবশ্যিক কর্তব্য পালন করা এবং আমাদের ওপর ন্যস্ত আমানত অত্যন্ত সুনিপুণ ও পরিপূর্ণভাবে আদায় করা।
আল্লামা মুহাম্মদ আল-বাশির আল-ইব্রাহিমি শিক্ষকদের প্রতি তাঁর অসিয়তনামায় বলেছেন: আপনারা পাঠদানের আসনে বসে মূলত বিভিন্ন রাজ্যের সিংহাসনে আসীন হয়েছেন, যার প্রজারা হলো এই উম্মাহর শিশুরা; অতএব আপনারা কোমলতা ও সদাচরণের মাধ্যমে তাদের পরিচালনা করুন এবং লালন-পালনের একটি পূর্ণাঙ্গ স্তর থেকে ক্রমান্বয়ে আরও অধিকতর পূর্ণাঙ্গ স্তরের দিকে তাদের উন্নীত করুন।
তারা আপনাদের নিকট আল্লাহর আমানত এবং আপনাদের হাতে থাকা উম্মাহর গচ্ছিত সম্পদ। জাতি তাদের আপনাদের নিকট শিশু হিসেবে সমর্পণ করেছে যাতে আপনারা তাদের পুরুষ হিসেবে ফিরিয়ে দেন; তাদের আপনাদের নিকট কাঠামো হিসেবে পেশ করেছে যাতে আপনারা তাতে প্রাণ সঞ্চার করেন, শব্দ হিসেবে দিয়েছে যাতে আপনারা সেগুলোকে অর্থে সমৃদ্ধ করেন এবং পাত্র হিসেবে দিয়েছে যাতে আপনারা সেগুলোকে সচ্চরিত্র ও জ্ঞান দ্বারা পূর্ণ করেন। (১)
এই প্রসঙ্গে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, শিক্ষা ও দীক্ষার দায়িত্ব কেবল শরিয়াহ বা ভাষা কিংবা এই সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকদের ওপরই সীমাবদ্ধ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
بل هي عامة، ومناطة بكل معلم ومرب؛ فالعلم النافع الذي دل عليه الكتاب والسنة هو كل علم أثمر الثمار النافعة، وأوصل إلى المطالب العالية، فكل ما زكى الأعمال، ورقى الأرواح وهدى إلى السبيل - فهو من العلم النافع، لا فرق في ذلك بين ما تعلق بالدنيا أو بالآخرة؛ فشرف الدين لازم لشرف الدنيا، وسعادة المعاش مقترنة بسعادة المعاد.
والشريعة بكمالها وشمولها أمرت بتعلم جميع العلوم النافعة من العلم بالتوحيد وأصول الدين، ومن علوم الفقه والأحكام، ومن العلوم العربية، والاجتماعية، والاقتصادية، والسياسية، والحربية، والطبية، إلى غير ذلك من العلوم التي يكون بها قوام الأمة، وصلاح الأفراد والمجتمعات. (1)
--------------------------------------------
বরং এটি সাধারণ এবং প্রতিটি শিক্ষক ও লালনকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট; কেননা উপকারী ইলম—কুরআন ও সুন্নাহ যার নির্দেশনা প্রদান করেছে—হলো সেই জ্ঞান যা উপকারী ফল দান করে এবং উচ্চতর লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। সুতরাং যা কিছু আমলকে পরিশুদ্ধ করে, আত্মাকে উন্নত করে এবং সঠিক পথের দিশা দেয়—তা-ই উপকারী ইলমের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে দুনিয়া বা আখিরাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই; কেননা দীনের মর্যাদা দুনিয়ার মর্যাদার জন্য অপরিহার্য এবং ইহলৌকিক জীবনের কল্যাণ পরলৌকিক জীবনের কল্যাণের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
আর শরিয়ত তার পূর্ণতা ও ব্যাপকতার মাধ্যমে সকল প্রকার উপকারী ইলম অর্জন করার নির্দেশ দিয়েছে; চাই তা তাওহিদ ও দীনের মৌলিক বিষয়াদির (أصول الدين) জ্ঞান হোক, কিংবা ফিকহ ও বিধিবিধানের (الأحكام) জ্ঞান, আর আরবি ভাষা, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাজনীতি, সমরবিদ্যা ও চিকিৎসা শাস্ত্রের জ্ঞান হোক, এ ছাড়াও এমন অন্যান্য জ্ঞান যার মাধ্যমে উম্মাহর ভিত্তি সুদৃঢ় হয় এবং ব্যক্তি ও সমাজের সংশোধন সাধিত হয়। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
3 -
لزوم التقوى بكل حال:فالتقوى هي العدة في الشدائد، والعون في الملمات، وهي مهبط الرَّوْح والطمأنينة، ومتنزل الصبر والسكينة، وهي مِرقاة العز، ومعراج السمو إلى السماء، وهي التي تُثبِّتُ الأقدام في المزالق، وتربط على القلوب في الفتن.
فما أحوجك أخي المعلم إلى تقوى الله عز وجل وما أجدرك بدوام مراقبة ربك في سرك وعلانيتك، وفي أقوالك وأعمالك؛ فإنك أمين على ما أودعك الله من العلوم، وما منحك من الحواس والفهوم.
ومن لزوم التقوى طهارةُ الباطن من الأخلاق الرديئة، والمحافظةُ على شعائر الإسلام كإقامة الصلاة في المساجد، وإفشاء السلام للخواص والعوام، وما يستتبع ذلك مما سيرد ذكره في ما سيأتي -إن شاء الله تعالى -. (1)
--------------------------------------------
3 -
সর্বাবস্থায় তাকওয়া অবলম্বন:তাকওয়াই হলো বিপদে পাথেয় এবং সংকটের সময় সাহায্যকারী; এটিই প্রশান্তি ও স্থিরতার অবতরণস্থল এবং ধৈর্য ও স্থৈর্যের আধার। এটি সম্মানের সোপান এবং উচ্চতায় আরোহণের মাধ্যম। এটিই পিচ্ছিল পথে পদযুগলকে অবিচল রাখে এবং ফিতনার সময় অন্তরকে সুদৃঢ় রাখে।
হে শিক্ষক ভ্রাতঃ! মহান আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা আপনার জন্য কতই না প্রয়োজন! আর গোপনে ও প্রকাশ্যে এবং আপনার কথা ও কাজে সর্বদা আপনার রবের পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা আপনার জন্য কতই না সমীচীন। কেননা আল্লাহ আপনাকে যে জ্ঞান আমানত হিসেবে দিয়েছেন এবং আপনাকে যে ইন্দ্রিয় ও বোধশক্তি দান করেছেন, তার জন্য আপনি একজন আমানতদার।
তাকওয়া অবলম্বনের একটি দিক হলো মন্দ চরিত্র থেকে অন্তরকে পবিত্র রাখা এবং ইসলামের নিদর্শনসমূহ রক্ষা করা; যেমন মসজিদে সালাত কায়েম করা, বিশিষ্ট ও সাধারণ সকলের মাঝে সালামের প্রসার ঘটানো এবং এর আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়সমূহ যা সামনে আলোচিত হবে—ইনশাআল্লাহ। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
4 -
الإقبال على القرآن وقراءته بتدبر وتعقل:فالقرآن هو الذي ربى الأمة وأدبها، فزكى منها النفوس، وصفى القرائح، وأذكى الفِطَن، وجلا المواهب، وأرهف العزائم، وأعلى الهمم، وصقل الملكات، وقوَّى الإرادات، ومكَّن للخير في النفوس، وغرس الإيمان في الأفئدة، وملأ القلوب بالرحمة، وحفز الأيدي للعمل النافع، والأرجل للسعي المثمر، ثم ساق هذه القوى على ما في الأرض من شر وباطل وفساد فَطهرها منه تطهيرًا، وعمرها بالحق والإصلاح تعميرًا.
والقرآن هو الذي جلا العقول على النور الإلهي فأصبحت كشافة عن الحقائق العليا، وطهر النفوس من أدران السقوط والإسفاف إلى الدنايا فأصبحت نزاعة إلى المعالي، مُقْدِمَةً على العظائم؛ فلم يزل بها هذا القرآن حتى أخرج من رعاة النَّعم رعاة الأمم، وأخرج من خمول الأمية أعلامَ العلمِ والحكمة.
وبهذه الروح القرآنية اندفعت تلك النفوسُ بأصحابها تفتح الآذانَ قبل البلدان، وتمتلك بالعدل والإحسانِ الأرواحَ قبل الأشباح. (1)
فحقيق علينا -معاشر المعلمين - أن نقبل على كتاب ربنا -جل وعلا - قراءةً، وتدبرًا، وفهمًا، وعقلًا، واهتداءً بهديه، وتخلقًا بأخلاقه؛ لنحظى بأجلِّ الخيرة، ونظفر بحميد العاقبة.
--------------------------------------------
৪ -
কুরআনের প্রতি মনোনিবেশ এবং অনুধাবন ও চিন্তাশীলতার সাথে তা তিলাওয়াত করা:কুরআনই সেই সত্তা যা এই উম্মাহকে গড়ে তুলেছে এবং একে শিষ্টাচার শিখিয়েছে; ফলে এটি তাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে, মেধা ও প্রতিভাকে নির্মল করেছে, বুদ্ধিবৃত্তিকে তীক্ষ্ণ করেছে, সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করেছে, সংকল্পকে দৃঢ় করেছে, হিম্মত বা আকাঙ্ক্ষাকে উচ্চতর করেছে, গুণাবলিকে মার্জিত করেছে, ইচ্ছাশক্তিকে শক্তিশালী করেছে, অন্তরে কল্যাণের পথ সুগম করেছে, হৃদয়ে ঈমান রোপণ করেছে, অন্তরকে দয়া ও করুণায় পরিপূর্ণ করেছে এবং হাতকে কল্যাণকর কাজে ও পা-কে ফলপ্রসূ প্রচেষ্টায় উজ্জীবিত করেছে। অতঃপর এই শক্তিগুলোকে পৃথিবীর বুক থেকে সব ধরনের মন্দ, বাতিল ও বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে পরিচালিত করে একে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করেছে এবং একে সত্য ও সংস্কারের মাধ্যমে আবাদ করেছে।
কুরআনই ঐশী নূরের মাধ্যমে বিবেক-বুদ্ধিকে উজ্জ্বল করেছে, যার ফলে তা উচ্চতর সত্যসমূহ উদঘাটনকারী হয়ে উঠেছে। এটি আত্মাকে হীনম্মন্যতা ও তুচ্ছ বিষয়ের পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করেছে, ফলে তা উচ্চমর্যাদার প্রতি আগ্রহী এবং মহৎ কর্মে অগ্রসর হয়ে উঠেছে। এই কুরআন নিরন্তরভাবে কাজ করে গবাদি পশুর রাখালদের মধ্য থেকে জাতিসমূহের পথপ্রদর্শক বের করে এনেছে এবং অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দিকপালদের বের করে এনেছে।
এই কুরআনিক চেতনার মাধ্যমেই সেই ব্যক্তিবর্গ কোনো ভূখণ্ড বিজয়ের পূর্বেই মানুষের কর্ণকুহর উন্মুক্ত করতে ধাবিত হয়েছিলেন এবং দেহের পূর্বে ন্যায়বিচার ও ইহসানের মাধ্যমে মানুষের আত্মাকে জয় করেছিলেন। (১)
সুতরাং শিক্ষক সমাজ হিসেবে আমাদের জন্য এটি একান্ত কর্তব্য যে, আমরা আমাদের মহান রবের কিতাবের প্রতি মনোনিবেশ করব—তা তিলাওয়াত, অনুধাবন, উপলব্ধি ও চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে এবং এর হিদায়াত গ্রহণ ও এর নৈতিকতায় ভূষিত হওয়ার মাধ্যমে; যাতে আমরা সর্বোত্তম কল্যাণ লাভ করতে পারি এবং প্রশংসনীয় পরিণাম অর্জন করতে পারি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
5 -
ملازمة ذكر الله عز وجل -:
فبذكر الله تطمئن القلوب، وتزكو النفوس، وتزول الهموم والغموم.
قال -تعالى -: {أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ} (الرعد: 28) .
ثم إن ذكر الله يهون الصعاب، ويزيد في القوة، قال ابن القيم في معرض حديثه عن فضائل الذكر: إن الذكر يعطي الذاكرة قوة، حتى إنه ليفعل مع الذكر ما لم يظن فعله بدونه.
وقد شاهدت من قوة شيخ الإسلام ابن تيمية في سننه، وكلامه، وإقدامه أمرًا عجيبًا، فكان يكتب في اليوم من التصنيف ما يكتبه الناسخ في جمعة وأكثر.
وقد شاهد العسكر من قوته في الحرب أمرًا عظيمًا. (1)
زيادة على ذلك فإن ملازمة الذكر يعد من أجل الأعمال إن لم يكن أجلها.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: مما هو كالإجماع بين العلماء بالله وأمره أن ملازمة ذكر الله دائمًا هو أفضل ما شغل العبد به نفسه في الجملة. (2)
وأفضل الذكر بعد القرآن تلك الكلمات الأربع: سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله، والله أكبر.
وكذلك لا حول ولا قوة إلا بالله؛ فهذه الكلمة لها تأثير عجيب في ثبات القلب، ومعاناة الأشغال، وركوب الأهوال. (3)
--------------------------------------------
৫ -
মহান আল্লাহর জিকিরে নিমগ্ন থাকা -:
আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে, আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-কষ্ট দূরীভূত হয়।
মহান আল্লাহ বলেন: "জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।" (আর-রাদ: ২৮) .
অতঃপর আল্লাহর জিকির কঠিন কাজকে সহজ করে দেয় এবং শক্তি বৃদ্ধি করে। ইবনুল কায়্যিম জিকিরের ফজিলত বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন: নিশ্চয়ই জিকির জিকিরকারীকে শক্তি দান করে, এমনকি সে জিকিরের সাথে এমন সব কাজ সম্পাদন করতে পারে যা জিকির ছাড়া করা সম্ভব বলে সে কল্পনাও করত না।
আমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার রুটিন, কথাবার্তা এবং সাহসিকতার মাঝে এক বিস্ময়কর শক্তি প্রত্যক্ষ করেছি। তিনি একদিনে এতো পরিমাণ রচনা করতেন যা একজন লিপিকার এক সপ্তাহ বা তার চেয়েও বেশি সময়ে লিখে শেষ করতে পারত।
সেনাবাহিনী যুদ্ধে তাঁর শক্তি থেকে এক অভাবনীয় বিষয় প্রত্যক্ষ করেছিল। (১)
এর অতিরিক্ত বিষয় হলো, সর্বদা জিকিরে নিমগ্ন থাকাকে সর্বোত্তম আমলগুলোর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়, যদি এটিই শ্রেষ্ঠ আমল না হয়ে থাকে।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: আল্লাহ এবং তাঁর দ্বীন সম্পর্কে প্রাজ্ঞ আলেমদের মাঝে যা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (إجماع) মতো তা হলো—সামগ্রিকভাবে একজন বান্দা নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারে এমন সবকিছুর মধ্যে সর্বদা আল্লাহর জিকিরে লিপ্ত থাকাই হলো শ্রেষ্ঠতম কাজ। (২)
কুরআনের পর শ্রেষ্ঠ জিকির হলো এই চারটি কালিমা: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার।
অনুরূপভাবে ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’; এই বাক্যটির অন্তরের স্থিরতা, কাজের কঠোরতা সহ্য করা এবং ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর প্রভাব রয়েছে। (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
6 -
وقل ربي زدني علمًا:فلا تستنكف من التعلم، ولا تقنع بما لديك من العلم، فالعلم أساس ترفع عليه قواعد السعادة، ولا تنفتح كنوزه إلا بتدقيق النظر ممن تصدى للإفادة والاستفادة.
فيا أيها المعلم المبارك أعيذك بالله من صنيع بعض المعلمين؛ فما أن ينال الشهادة التي تؤهله للتعليم إلا وينبذ العلم وراءه ظهريًا، إما اشتغالًا عن العلم، أو زهدًا به، أو ظنًا منه أنه قد استولى بالشهادة على الأمد، وأدرك بها الغاية القصوى من العلم.
وما هي إلا مدة ثم ينسى كثيرًا مما تلقاه من العلم أيام الطلب، وإذا تمادى به الأمر كاد أن يعدَّ من جملة العوام.
فما ذلك المسلك بسديد ولا رشيد؛ فلم يقض حق العلم، بل لم يدر ما شرف العلم ذلك الذي يطلبه لينال به رزقًا، أو ينافس به قرينًا، حتى إذا أدرك وظيفة، أو أنس من نفسه الفوز على القرين -أمسك عنانه ثانية، وتنحى عن الطلب جانبًا.
6 -
এবং বলুন: হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন:সুতরাং শিক্ষা গ্রহণে কোনো সংকোচ করবেন না এবং আপনার নিকট যে জ্ঞান রয়েছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবেন না। কেননা জ্ঞান হলো এমন এক ভিত্তি যার ওপর সৌভাগ্যের স্তম্ভসমূহ স্থাপিত হয়। আর জ্ঞানের গুপ্তভাণ্ডার কেবল তাদের সূক্ষ্ম পর্যালোচনার মাধ্যমেই উন্মোচিত হয়, যারা অন্যকে উপকৃত করতে এবং নিজে উপকৃত হতে সচেষ্ট হয়।
হে বরকতময় শিক্ষক! আমি আপনার জন্য আল্লাহর নিকট কতিপয় শিক্ষকের আচরণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি; যারা শিক্ষকতার যোগ্যতাসূচক সনদ লাভ করার সাথে সাথেই জ্ঞানকে তাদের পিঠের পেছনে নিক্ষেপ করে। হয় জ্ঞান থেকে বিমুখ হয়ে অন্য কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণে, অথবা এর প্রতি অনীহা বশত, কিংবা এই ধারণার বশবর্তী হয়ে যে, সে সনদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে গিয়েছে এবং এর দ্বারা জ্ঞানের চূড়ান্ত সীমা অর্জন করে ফেলেছে।
অল্পকাল অতিবাহিত হতেই সে ছাত্রজীবনের (طلب) অর্জিত জ্ঞানের অনেক কিছুই ভুলে যায়। আর যদি বিষয়টি এভাবে দীর্ঘায়িত হয়, তবে সে সাধারণ মানুষের (عوام) অন্তর্ভুক্ত গণ্য হওয়ার উপক্রম হয়।
এই পথ সঠিক বা সুপথ নয়; যে ব্যক্তি কেবল জীবিকা নির্বাহের জন্য কিংবা সমসাময়িকদের সাথে প্রতিযোগিতার জন্য জ্ঞান অন্বেষণ করে, সে জ্ঞানের হক আদায় করেনি, বরং সে জ্ঞানের মাহাত্ম্যই উপলব্ধি করতে পারেনি। এমনকি যখন সে কোনো কর্মসংস্থান লাভ করে অথবা প্রতিযোগিতায় জয়ের স্বাদ পায়, তখন সে পুনরায় নিজের রাশ টেনে ধরে এবং জ্ঞান অন্বেষণ থেকে দূরে সরে যায়।
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وإنما ترفع الأوطان رأسها، وتبرز في مظاهر عزتها بهمم أولئك الذين يقبلون على العلم بجد وثبات، ولا ينقطعون عنه إلا أن ينقطعوا عن الحياة، لا تحول بينهم وبين نفائس العلوم وعورةُ المسلك، ولا طول مسافة الطريق، بعزم يبلى الجديدان وهو صارم صقيل، وحرص لا يشفي غليله إلا أن يغترفوا من العلوم بأكواب طافحة. (1)
فالاشتغال بالعلم، والتزود منه -يثبته، ويزيده، ويفتح أبوابه.
ولو لم يأت من ذلك كله إلا أن الاشتغال بالعلم يقطع عن الرذائل، ويوصل إلى الفضائل.
قال ابن حزم: لو لم يكن من فائدة العلم والاشتغال به إلا أن يقطع المشتغل به عن الوساوس المضنية، ومطارح الآمال التي لا تفيد غير الهم، وكفاية الأفكار المؤلمة للنفس -لكان ذلك أعظمَ داعٍ إليه، فكيف وله من الفضائل ما يطول ذكره؟ . (2)
قال سعيد بن جبير: لا يزال الرجل عالمًا ما تَعَلَّم، فإذا ترك العلم وظن أنه قد استغنى واكتفى بما عنده -فهو أجهل ما يكون. (3)
كيف لا وهذا رسول الله " وهو المعلَّم والمزكَّى من الله عز وجل يأمره الله أن يقول: {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا} (طه: 114) .
قال الإمام الشافعي:
--------------------------------------------
স্বদেশসমূহ তখনই সগৌরবে মস্তক উত্তোলন করে এবং তাদের মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ ঘটে সেই সকল ব্যক্তিদের সুউচ্চ সংকল্পের মাধ্যমে, যারা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও অবিচলতার সাথে জ্ঞানার্জনে মনোনিবেশ করে। তারা জীবনাবসান না হওয়া পর্যন্ত জ্ঞানার্জন থেকে বিচ্যুত হয় না। পথের দুর্গমতা কিংবা দীর্ঘ দূরত্ব তাদের এবং জ্ঞানের অমূল্য রত্নরাজির মাঝে প্রতিবন্ধক হতে পারে না। তারা এমন এক সংকল্প নিয়ে অগ্রসর হয় যা মহাকালের আবর্তনেও জীর্ণ হয় না, বরং তীক্ষ্ণ ও উজ্জ্বল থাকে। তাদের জ্ঞানস্পৃহা এতটাই তীব্র যে, জ্ঞানের পরিপূর্ণ পাত্র থেকে আকণ্ঠ পান করা ব্যতীত তা নিবৃত্ত হয় না। (১)
বস্তুত জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ এবং তা থেকে পাথেয় সংগ্রহ করা জ্ঞানকে সুসংহত করে, একে বৃদ্ধি করে এবং এর নিগূঢ় রহস্যের দ্বারসমূহ উন্মোচন করে।
আর যদি এই সবকিছুর মধ্যে শুধু এই উপকারটিই থাকত যে, জ্ঞানচর্চা মানুষকে মন্দ স্বভাব থেকে বিরত রাখে এবং চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্বের দিকে নিয়ে যায় (তবেই তা যথেষ্ট হতো)।
ইবনে হাজম বলেন: যদি জ্ঞান এবং জ্ঞানচর্চার আর কোনো উপকারিতা না থেকে কেবল এটাই থাকত যে, তা জ্ঞানান্বেষীকে অবক্ষয়মূলক সংশয়, দুশ্চিন্তা উদ্রেককারী অলীক আকাঙ্ক্ষা এবং মানসিক যন্ত্রণাদায়ক ভাবনা থেকে মুক্ত রাখে, তবে জ্ঞানার্জনের পথে ধাবিত হওয়ার জন্য এটিই হতো সর্বশ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণা। সেখানে জ্ঞানের সেই সকল ফযিলত বা শ্রেষ্ঠত্বের কথা তো বলাই বাহুল্য যা বর্ণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। (২)
সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেন: একজন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত আলেম হিসেবে গণ্য থাকে যতক্ষণ সে শিক্ষা গ্রহণ করে। কিন্তু যখন সে জ্ঞানার্জন পরিত্যাগ করে এবং ধারণা করে যে সে অভাবমুক্ত হয়ে গেছে এবং তার কাছে যা আছে তা-ই যথেষ্ট, তখন সে চরম মূর্খতায় নিপতিত হয়। (৩)
এটি কেনই বা হবে না, যেখানে স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (সা.), যাঁকে আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং শিক্ষা দিয়েছেন এবং পরিশুদ্ধ করেছেন, তাঁকেই আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন এই প্রার্থনা করতে: {এবং আপনি বলুন, হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।} (ত্বহা: ১১৪)।
ইমাম শাফেয়ী বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إذا هجع النُّوَّام أسبلت عبرتي
… وَرَدَّدْتُ بيتًا وهو من ألطف الشعر
أليس من الخسران أن لياليًا
… تَمُرُّ بلا علمٍ وتحسب من عمري
(1) .
قال أبو إسحاق الإلبيري في فضل العلم والمواظبة على طلبه:
أبا بكرٍ دعوتُك لو أَجَبْتَا
… إلى ما فيه حَظُّك إنْ عقلتا
إلى علم تكون به إِمامًا
… مطاعًا إن نهيت وإن أمرتا
وتجلو ما بعينك من عَشَاها
… وتهديك السبيلَ إذا ضللتا
وتحمل منه في ناديك تاجًا
… ويكسوك الجمالَ إذا اغْتَرَبْتَا
ينالك نَفْعُهُ ما دمت حَيًّا
… ويبقى ذُخْرُه لك إن ذهبتا
هو العَضْبُ المُهَنَّدُ ليس ينبو
… تصيب به مقاتل من ضربتا
وكنز لا تخاف عليه لِصًّا
… خفيف الحمل يوجد حيث كنتا
فلو قد ذقت من حلواه طعمًا
… لآثرت التعلم واجتهدتا
ولم يشغلك عنه هوىً مطاعٌ
… ولا دنيا بزخرفها فُتنتا
ولا ألهاك عنه أنيقُ روضٍ
… ولا خِدْرٌ بِرَبْرَبِهِ (2) كَلِفتا
فَقُوتُ الروح أرواحُ المعاني
… وليس بأن طعمت وأن شربتا
فواظبْه وخذ بالجد فيه
… فإن أعطاكه الله أخذتا
(3)--------------------------------------------
যখন নিদ্রিতরা ঘুমে বিভোর হয়, তখন আমি অশ্রু বিসর্জন করি
… এবং এমন একটি পঙক্তি বারবার আওড়াই যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম কাব্যের অন্তর্ভুক্ত
এটা কি বড়ই ক্ষতির বিষয় নয় যে, রাতগুলো
… জ্ঞানার্জন ব্যতীত অতিবাহিত হচ্ছে, অথচ তা আমার আয়ুষ্কাল থেকে গণনা করা হচ্ছে!
(১) ।
আবু ইসহাক আল-ইলবিরি ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তা অর্জনে নিরন্তর লেগে থাকার বিষয়ে বলেছেন:
হে আবু বকর! আমি তোমাকে আহ্বান করছি, যদি তুমি সাড়া দিতে
… এমন কিছুর প্রতি যাতে তোমার কল্যাণ নিহিত রয়েছে, যদি তুমি তা অনুধাবন করতে
এমন এক ইলমের দিকে যার মাধ্যমে তুমি একজন ইমাম বা নেতা হবে
… যার নির্দেশ ও নিষেধের আনুগত্য করা হবে
তা তোমার চোখের অস্পষ্টতা দূর করে দিবে
… আর যখন তুমি পথভ্রষ্ট হবে তখন তোমাকে সঠিক পথের দিশা দেবে
তুমি তোমার মজলিসে তা থেকে সম্মানের মুকুট পরিধান করবে
… আর যখন তুমি প্রবাসে থাকবে তখন তা তোমাকে সৌন্দর্যের ভূষণে আবৃত করবে
যতদিন তুমি জীবিত থাকবে তার উপকারিতা লাভ করতে থাকবে
… আর যখন তুমি বিদায় নেবে তখন তা তোমার জন্য সঞ্চিত পাথেয় হয়ে থাকবে
তা হলো তীক্ষ্ণ ভারতীয় তরবারি যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না
… এর দ্বারা তুমি যাকে আঘাত করবে তার মরণস্থলেই আঘাত হানবে
তা এমন এক গুপ্তধন যার ব্যাপারে চোরের ভয় নেই
… তা বহনে অত্যন্ত হালকা এবং তুমি যেখানেই থাকো তা সেখানেই পাওয়া যায়
যদি তুমি এর মিষ্টতার কিছুটা স্বাদ পেতে
… তবে তুমি জ্ঞানার্জনকে অন্য সবকিছুর ওপর প্রাধান্য দিতে এবং তাতে কঠোর পরিশ্রমে ব্রতী হতে
কোনো বশীভূত কুপ্রবৃত্তি তোমাকে তা থেকে বিমুখ করতে পারত না
… আর না দুনিয়ার চাকচিক্য তোমাকে বিভ্রান্ত করতে পারত
কোনো মনোরম উদ্যান তোমাকে তা থেকে উদাসীন করতে পারত না
… আর না অন্তঃপুরের সুন্দরী রমণীদের প্রতি আসক্তি তোমাকে মত্ত রাখতে পারত
কেননা রুহের খোরাক হলো অর্থের নির্যাসসমূহ
… কেবল পানাহার করার নামই রুহের তৃপ্তি নয়
তাই এতে অবিচল থাকো এবং একনিষ্ঠতার সাথে তা গ্রহণ করো
… যদি আল্লাহ তোমাকে তা দান করেন তবেই তুমি সার্থকতা লাভ করলে
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
7 -
الإخلاصَ الإخلاصَ: (1)
فالإخلاص يرفع شأن الأعمال حتى تكون مراقي للفلاح، والإخلاص هو الذي يحمل على مواصلة عمل الخير، وهو الذي يجعل في عزم الرجل متانة، ويربط على قلبه إلى أن يبلغ الغاية.
وكثير من العقبات لا يساعدك على العمل لتذليلها إلا الإخلاص.
ولولا الإخلاص يضعه الله في قلوب زاكيات لحرم الناس من خيرات كثيرة تقف دونها عقبات.
ومدار الإخلاص على أن يكون الباعث على العمل أولًا امتثال أمر الله، وابتغاء وجهه عز وجل.
ولا حرج على من يطمح بعد ذلك إلى شيء آخر كالفوز بنعيم الآخرة، والنجاة من أليم عذابها.
بل لا يذهب بالإخلاص بعد ابتغاء وجه الله أن يخطر ببال الإنسان أن للعمل الصالح آثارًا طيبة في هذه الحياة الدنيا، كطمأنينة النفس، وأمنها من المخاوف، وصيانتها من مواقف الهون، إلى غير ذلك من الخيرات التي تعقب العمل الصالح، ويزداد بها إقبال النفوس على الطاعات قوة إلى قوة.
--------------------------------------------
৭ -
একনিষ্ঠতা, একনিষ্ঠতা: (১)
একনিষ্ঠতাই কর্মের মর্যাদাকে এমনভাবে উন্নীত করে যে, তা সফলতার সোপানে পরিণত হয়। একনিষ্ঠতাই মানুষকে সৎকর্ম অব্যাহত রাখতে উদ্বুদ্ধ করে, আর এটিই ব্যক্তির সংকল্পে দৃঢ়তা দান করে এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত তার অন্তরকে অবিচল রাখে।
এমন অনেক বাধা-বিপত্তি রয়েছে যা অতিক্রম করার ক্ষেত্রে একনিষ্ঠতা ব্যতীত অন্য কিছুই আপনাকে সাহায্য করবে না।
আল্লাহ যদি পবিত্র অন্তরসমূহে একনিষ্ঠতা দান না করতেন, তবে মানুষ এমন অনেক কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হতো যেগুলোর পথে বহু বাধা বিদ্যমান।
একনিষ্ঠতার মূল ভিত্তি হলো—কর্মের মূল প্রেরণা যেন হয় প্রথমত আল্লাহর আদেশের অনুগত্য এবং তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ।
এর পাশাপাশি কেউ যদি পরকালীন নেয়ামত লাভ এবং যন্ত্রণাদায়ক আজাব থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা করে, তবে তাতে কোনো দোষ নেই।
বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণের পাশাপাশি নেক আমলের ইহলৌকিক সুফল—যেমন মনের প্রশান্তি, ভয়ভীতি থেকে নিরাপত্তা এবং লাঞ্ছনাদায়ক পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষা, ইত্যাদি কল্যাণ যা নেক আমলের অনুগামী হয় এবং যার মাধ্যমে আনুগত্যের প্রতি মনের আগ্রহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়—সেসবের চিন্তা মনে উদিত হওয়া একনিষ্ঠতাকে ক্ষুণ্ণ করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والذي يرفع الشخص إلى أقصى درجات الفضل إنما هو الإخلاص الذي يجعله الإنسان حليف سيرته، فلا يقدم على عمل إلا وهو مستمسك بعروته الوثقى، ولا تبالغُ إذا قلت: إن النفس التي تتحرر من رق الأهواء ولا تسير إلا على ما يمليه عليها الإخلاص هي النفس المطمئنة بالإيمان، المؤدبة بحكمة الدين ومواعظه الحسنة؛ فذلك الإخلاص هو الذي يسمو سلطانهُ على كل سلطان، ويبلغ أن يكون مبدأً راسخًا تصدر عنه الأعمال بانتظام.
ثم إن العمل المثمر هو الذي ينبني على عقيدة؛ لئلا يتناقض، وما تدفعه إرادة؛ لئلا يتراجع، وما يحثه جهاد؛ لئلا يقف، وما يصحبه تجرد؛ لئلا يتهم، وما ينتشر؛ لئلا يضيق فيضيع، وما تكون غايته الخير؛ لئلا يكون فسادًا في الأرض.
وذلك إنما يكون بالإخلاص؛ فإن للإخلاص تأثيرًا عظيمًا في هذا الشأن؛ فمن تَعَكَّسَتْ عليه أمورُه، وتضايقت عليه مقاصده فليعلم أن بذنبه أصيب، وبقلة إخلاصه عوقب.
فإذا كان الإخلاص بهذه المثابة، وإذا كان له تلك المآثر فحقيق علينا -معاشر المعلمين - أن نضعه نصب أعيننا، وأن نجاهد أنفسنا على التحلي به، وأن نربي من تحت أيدينا عليه؛ لكي يتخرجوا رجالًا يقوم كل منهم بالعمل الذي يتولاه بحزم وإتقان.
একজন ব্যক্তিকে শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ সোপানে যা উন্নীত করে, তা হলো একনিষ্ঠতা (إخلاص), যা মানুষ তার জীবনপথের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী করে নেয়। ফলে সে কোনো কাজে অগ্রসর হয় না যতক্ষণ না সে এর মজবুত হাতল (عروة وثقى) আঁকড়ে ধরে। আপনি যদি বলেন যে, প্রবৃত্তি ও লালসার দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে কেবল একনিষ্ঠতা (إخلاص) যা নির্দেশ করে সেই পথে যে আত্মা চলে, সেটিই হলো ঈমানের মাধ্যমে প্রশান্ত আত্মা (النفس المطمئنة), যা দ্বীনের প্রজ্ঞা এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে শিষ্টাচারসম্পন্ন—তবে আপনি কোনো অতিরঞ্জন করবেন না। কারণ সেই একনিষ্ঠতা (إخلاص)-ই হলো এমন এক শক্তি যা সকল ক্ষমতার ঊর্ধ্বে অবস্থান করে এবং একটি সুদৃঢ় মূলনীতিতে পরিণত হয়, যেখান থেকে যাবতীয় কর্ম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পাদিত হয়।
অতঃপর, ফলপ্রসূ কর্ম কেবল তাই যা কোনো আকিদা বা বিশ্বাসের (عقيدة) ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে; যাতে তাতে কোনো বৈপরীত্য সৃষ্টি না হয়। আর যাকে সংকল্প পরিচালিত করে; যাতে তা পিছু না হটে। আর যাকে প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম (جهاد) অনুপ্রাণিত করে; যাতে তা থেমে না যায়। আর যার সাথে স্বার্থহীন একাগ্রতা (تجرد) মিশে থাকে; যাতে তা অভিযুক্ত না হয়। আর যা ব্যাপকতা লাভ করে; যাতে তা সংকীর্ণ হয়ে বিলীন না হয়ে যায়। আর যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হয় কল্যাণ; যাতে তা জমিনে বিপর্যয় (فساد) সৃষ্টি না করে।
আর এটি কেবল একনিষ্ঠতার (إخلاص) মাধ্যমেই সম্ভব; কারণ এই ক্ষেত্রে একনিষ্ঠতার (إخلاص) এক সুমহান প্রভাব রয়েছে। সুতরাং যার কাজকর্মে বিপর্যয় ঘটে এবং লক্ষ্যসমূহ বাধাগ্রস্ত হয়, সে যেন জেনে রাখে যে, সে তার নিজের পাপের কারণেই আক্রান্ত হয়েছে এবং তার একনিষ্ঠতার (إخلاص) অভাবের কারণেই সে দণ্ডিত হয়েছে।
একনিষ্ঠতা (إخلاص) যখন এই মর্যাদার অধিকারী এবং যখন এর এমন বিশেষ মাহাত্ম্য বিদ্যমান, তখন শিক্ষক সমাজ হিসেবে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো একে আমাদের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা, এর মাধ্যমে ভূষিত হওয়ার জন্য নফসের সাথে সংগ্রাম (جهاد) করা এবং আমাদের অধীনে যারা রয়েছে তাদেরকে এর ওপর গড়ে তোলা; যাতে তারা এমন যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে যারা প্রত্যেকেই তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব দৃঢ়তা ও নিপুণতার (إتقان) সাথে সম্পাদন করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
وإن مما يعين على التحلي بالإخلاص أن تعلم أخي المعلم أن الإخلاص يثمر لك أن تتمتع بما يتمتع به غيرك من مزايا مادية، وإجازات وترقيات، وتزيد عليهم أن تتذوق عملك، وتعشق مهمتك، وتقبل عليها بكل ارتياح وسرور، وأن جميع ساعاتك التي تقضيها في إعداد دروسك، وفي ذهابك إلى المدرسة وإيابك منها مدخرة لك عند الله عز وجل.
أما الآخرة -وهي المقصود الأعظم، والمطلب الأسمى -فهناك أي ثواب ستناله، وأي أجر ينتظرك؟ هذه أمور علمها عند ربي في كتاب لا يضل ربي ولا ينسى، والله يضاعف لمن يشاء.
ইখলাস বা একনিষ্ঠতার গুণে গুণান্বিত হতে যা সাহায্য করে তা হলো— হে শিক্ষক ভ্রাতা, আপনার এটি জানা প্রয়োজন যে, ইখলাস আপনার জন্য সেই সকল পার্থিব সুযোগ-সুবিধা, ছুটি এবং পদোন্নতি নিশ্চিত করে যা অন্যরাও ভোগ করে থাকে। তদুপরি আপনি তাদের চেয়ে অতিরিক্ত যা লাভ করবেন তা হলো নিজ কর্মের স্বাদ আস্বাদন করা, নিজ দায়িত্বকে ভালোবাসা এবং পূর্ণ প্রশান্তি ও আনন্দের সাথে তাতে আত্মনিয়োগ করা। আর পাঠ প্রস্তুতির পেছনে আপনার ব্যয়িত প্রতিটি মুহূর্ত এবং বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সকল সময় মহান আল্লাহর নিকট আপনার জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
আর পরকাল—যা হলো মহান উদ্দেশ্য এবং সর্বোচ্চ চাওয়া—সেখানে আপনি কী পরিমাণ সওয়াব লাভ করবেন এবং কী মহৎ প্রতিদান আপনার জন্য অপেক্ষা করছে? এসব বিষয়ের জ্ঞান আমার রবের নিকট একটি কিতাবে সংরক্ষিত আছে; আমার রব ভুল করেন না এবং বিস্মৃতও হন না। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন।
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
8 -
القدوة القدوة:فالمعلم كبير في عيون طلابه، والطلاب مولعون بمحاكاته والاقتداء به؛ لذلك كان لزامًا على المعلمين أن يتصفوا بما يدعو إليه العلمُ من الأخلاق والأعمال؛ فهم أحق الناس بذلك وأهلُه؛ لما تميزوا به من العلوم التي لم تحصل لغيرهم، ولأنهم قدوة للناس.
فإذا كانوا كذلك أثَّروا على طلابهم، وانطبع من تحت أيديهم على أخلاق متينة، وعزائم قوية، ودين صحيح.
وإن المعلم لا يستطيع أن يربي تلاميذه على الفضائل إلا إذا كان هو فاضلًا، ولا يستطيع إصلاحهم إلا إذا كان بنفسه صالحًا؛ لأنهم يأخذون عنه بالقدوة أكثر مما يأخذون عنه بالتلقين.
ولقد كان السلف الصالح رضي الله عنهم يستعينون بالعمل على العلم؛ لأن العلم إذا عُمِل به نما، واستقر، وكثرت بركته.
وإذا ترك العمل به ذهبت بركته، وربما صار وبالًا على صاحبه؛ فروح العلم، وحياته، وقوامه إنما هو بالقيام به عملًا، وتخلقًا، وتعليمًا، ونصحًا؛ فالشرف للعلم لا يثبت إلا إذا أنبت المحامد، وجلب السعادة، وأثمر عملًا نافعًا.
8 -
আদর্শ ও অনুকরণীয় হওয়া:শিক্ষক তাঁর ছাত্রদের দৃষ্টিতে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং ছাত্ররা তাঁর অনুকরণ ও অনুসরণে অত্যন্ত অনুরাগী। তাই শিক্ষকদের জন্য এটি আবশ্যক যে, ইলম বা জ্ঞান যে নৈতিক চরিত্র ও আমলের দিকে আহ্বান জানায়, তাঁরা যেন সেই গুণাবলিতে ভূষিত হন। তাঁরাই এর জন্য সর্বাধিক যোগ্য ও হকদার; কারণ তাঁরা এমন ইলম বা জ্ঞান অর্জন করেছেন যা অন্যরা লাভ করতে পারেনি এবং তাঁরা মানুষের জন্য আদর্শ স্বরূপ।
যখন তাঁরা এমন হবেন, তখন তাঁরা তাঁদের ছাত্রদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবেন এবং তাঁদের তত্ত্বাবধানে থাকা শিক্ষার্থীরা সুদৃঢ় নৈতিকতা, বলিষ্ঠ সংকল্প এবং সঠিক (صحيح) দ্বীনের ওপর গড়ে উঠবে।
একজন শিক্ষক তাঁর ছাত্রদের ততক্ষণ পর্যন্ত সচ্চরিত্রের ওপর গড়ে তুলতে পারেন না, যতক্ষণ না তিনি নিজে সচ্চরিত্রবান হন; এবং তিনি তাঁদের সংশোধন করতে পারেন না, যতক্ষণ না তিনি নিজে সৎ (صالح) হন। কারণ ছাত্ররা তাঁর মৌখিক পাঠদানের চেয়ে তাঁর বাস্তব আদর্শ থেকেই অধিক শিক্ষা গ্রহণ করে।
সালাফ আস-সালেহীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ইলম বা জ্ঞানকে আয়ত্ত করার জন্য আমলের সাহায্য নিতেন; কারণ ইলম অনুযায়ী আমল করা হলে তা বিকশিত হয়, সুসংহত হয় এবং তার বরকত বৃদ্ধি পায়।
আর যদি ইলম অনুযায়ী আমল বর্জন করা হয়, তবে তার বরকত বিলীন হয়ে যায় এবং সম্ভবত তা অর্জনকারীর জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বস্তুত ইলমের প্রাণশক্তি, তার জীবন এবং স্থায়িত্ব নিহিত রয়েছে আমল, নৈতিকতা অর্জন, শিক্ষাদান ও নসিহতের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের মধ্যে। ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব তখনই প্রমাণিত হয়, যখন তা প্রশংসনীয় গুণাবলি উৎপন্ন করে, সুখ বয়ে আনে এবং উপকারী আমলের ফল দান করে।
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
ومما يحقق ذلك قوله -تعالى -: {مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا} (الجمعة: 5) .
فانظر كيف ذم الله الذين درسوا التوراة، وأتوا عليها تلاوةً، ثم أحجموا عن العمل بموجبها -في أسلوب بليغ؛ فضرب في وصفهم مَثَلَ الحمار يحمل الأسفار؛ من حيث خلوهم عن المزية، وعدم استحقاقهم للحاق بزمرة العلماء؛ إذ لا ميزة بين من يحمل كتب الحكمة على غاربه وبين من يضعها داخل صدره أو دماغه إذا صدَّ وجهه عن العمل بها.
وتنسحب هذه المذمة على كل من حفظ علمًا طاشت به أهواؤه عن اقتفائه بصورة من العمل تطابقه. (1)
قال الإلبيري في العلم:
وإن أوتيت فيه طويلَ باعٍ
… وقال الناس إنك قد سبقت
فلا تأمنْ سؤالَ الله عنه
… بتوبيخٍ علمت فهل عملتا
فرأسُ العلم تقوى الله حقًّا
… وليس بأن يقال: لقد رأستا
إذا ما لم يُفِدْك العلم خيرًا
… فخيرٌ منه أنْ لَوْ قَدْ جهلتا
وإن ألقاك فَهْمُكَ في مهاوٍ
… فليتك ثم ليتك ما فهمتا
(2)قال الخطيب البغدادي: فإن العلم شجرة، والعمل ثمرة، وليس يعد عالمًا من لم يكن بعلمه عاملًا. (3)
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়: {যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল, অতঃপর তারা তা বহন করেনি, তাদের উদাহরণ সেই গাধার ন্যায় যে বৃহৎ কিতাবসমূহ বহন করে।} (জুমা: ৫)।
লক্ষ্য করুন, আল্লাহ কীভাবে সেই সব লোকেদের নিন্দা করেছেন যারা তাওরাত অধ্যয়ন করেছে এবং তা তিলাওয়াত করেছে, কিন্তু পরবর্তীতে এর দাবি অনুযায়ী আমল করা থেকে বিরত থেকেছে—তাও আবার এক অত্যন্ত অলঙ্কারপূর্ণ শৈলীতে; তিনি তাদের বর্ণনায় সেই গাধার উদাহরণ পেশ করেছেন যে কিতাব বহন করে। এর কারণ হলো তারা বিশেষ বৈশিষ্ট্য থেকে রিক্ত এবং আলেম (عالم) সমাজের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অযোগ্য। কেননা, যে ব্যক্তি তার পিঠে প্রজ্ঞার কিতাব বহন করে আর যে ব্যক্তি তা নিজের অন্তরে বা মস্তিস্কে ধারণ করে অথচ তার ওপর আমল করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই।
এই নিন্দা সেই প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর বর্তায় যে কোনো ইলম অর্জন করেছে অথচ তার প্রবৃত্তির তাড়নায় সে অনুযায়ী আমল করে তার অনুসরণ করা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। (১)
ইলম সম্পর্কে আল-ইলবিরি বলেছেন:
যদিও তোমাকে এতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সক্ষমতা দেওয়া হয়
… এবং মানুষ বলে যে তুমি সবাইকে ছাড়িয়ে গেছ
তথাপি এ সম্পর্কে আল্লাহর পক্ষ থেকে তিরস্কারমূলক জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নিরাপদ থেকো না
… যে—তুমি তো জানতে, তবে কি আমল করেছিলে?
ইলমের মূল হলো প্রকৃত আল্লাহভীতি (تقوى الله)
… কেবল এটা বলা নয় যে, তুমি নেতৃত্ব লাভ করেছ
ইলম যদি তোমাকে কল্যাণের পথ না দেখায়
… তবে তোমার অজ্ঞ থাকাই তার চেয়ে শ্রেয় ছিল
আর তোমার বোধশক্তি যদি তোমাকে ধ্বংসের গহ্বরে নিক্ষেপ করে
… তবে আফসোস! তুমি যদি বুঝতে না পারতে!
(২)আল-খতিব আল-বাগদাদি বলেন: নিশ্চয়ই ইলম হলো একটি বৃক্ষ এবং আমল হলো তার ফল। আর যে ব্যক্তি তার ইলম অনুযায়ী আমল করে না, তাকে আলেম (عالم) হিসেবে গণ্য করা হয় না। (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال: فلا تأنس بالعمل ما دمت مستوحشًا من العلم، ولا تأنس بالعلم ما كنت مقصرًا في العمل، ولكن اجمع بينهما وإن قلَّ نصيبُك منهما. (1)
قال الشيخ محمد البشير الإبراهيمي في وصيته للمعلمين: ثم احرصوا على أن ما تلقونه لتلامذتكم من الأقوال منطبقًا على ما يرونه ويشهدونه منكم من الأعمال؛ فإن الناشئ الصغير مرهفُ الحس، طُلَعَةٌ إلى مثل هذه الدقائق التي تغفلون عنها، ولا ينالها اهتمامكم، وإنه قوي الإدراك للمعايب والكمالات؛ فإذا زينتم له الصدق فكونوا صادقين، وإذا حسَّنتم له الصبر فكونوا من الصابرين.
واعلموا أن كل نقشٍ تنقشونه في نفوس تلامذتكم من غير أن يكون منقوشًا في نفوسكم فهو زائل، وأن كل صبغ تنفضونه على أرواحهم من قبل أن يكون متغلغلًا في أرواحكم - فهو لا محالة ناصل حائل، وأن كل سحر تنفثونه؛ لاستنزالهم غير الصدق -فهو باطل.
ألا إن رأس مال التلميذ هو ما يأخذه عنكم من الأخلاق الصالحة بالقدوة، وأما ما يأخذه عنكم بالتلقين من العلم والمعرفة فهو ربح وفائدة. (2)
--------------------------------------------
তিনি বলেন: যতক্ষণ আপনি জ্ঞান (علم) থেকে বিমুখ থাকবেন ততক্ষণ কর্ম (عمل) দ্বারা তৃপ্ত হবেন না, আর যতক্ষণ কর্মে ত্রুটি করবেন ততক্ষণ জ্ঞান দ্বারা তৃপ্ত হবেন না। বরং উভয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করুন, যদিও সেগুলোতে আপনার অংশ সামান্যই হয়। (১)
শেখ মুহাম্মদ আল-বাশির আল-ইবরাহিমি শিক্ষকদের প্রতি তাঁর উপদেশে বলেন: অতঃপর আপনারা এই বিষয়ে সচেষ্ট হোন যেন আপনাদের ছাত্রদের যা শিক্ষা দিচ্ছেন তা আপনাদের প্রত্যক্ষ কর্মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; কেননা ছোট শিশুরা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তারা এমন সব সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি সজাগ থাকে যা আপনারা উপেক্ষা করেন বা আপনাদের মনোযোগ পায় না। দোষ-ত্রুটি এবং পূর্ণতা অনুধাবনে তাদের প্রখর বোধশক্তি রয়েছে। সুতরাং যদি আপনারা তাদের কাছে সত্যবাদিতার (صدق) প্রশংসা করেন, তবে নিজেরাও সত্যবাদী (صادقين) হোন। আর যদি তাদের কাছে ধৈর্যের (صبر) মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন, তবে নিজেরাও ধৈর্যশীলদের (صابرين) অন্তর্ভুক্ত হোন।
জেনে রাখুন যে, আপনারা আপনাদের নিজেদের অন্তরে অঙ্কিত না করে ছাত্রদের অন্তরে যা কিছু অঙ্কন করবেন তা বিলীন হয়ে যাবে। আর তাদের রূহের ওপর যে রঙের প্রলেপ দেবেন—নিজেদের রূহে তা গভীরভাবে গেঁথে যাওয়ার আগে—তা অবশ্যই ফিকে হয়ে যাবে এবং মুছে যাবে। সত্য ছাড়া তাদের প্রভাবিত করার জন্য আপনারা যে মায়াজালই বিস্তার করবেন না কেন, তা অসার (باطل) প্রমাণিত হবে।
সাবধান! একজন ছাত্রের মূলধন হলো আদর্শের (قدوة) মাধ্যমে আপনাদের থেকে প্রাপ্ত সৎ চরিত্র (أخلاق صالحة)। আর মৌখিক শিক্ষার মাধ্যমে তারা আপনাদের থেকে যে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা লাভ করে তা হলো কেবল মুনাফা ও বাড়তি উপকার। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال في موطن آخر: وأعيذكم بالله يا أبنائي أن تجعلوا اعتمادكم في تربية الصغار للرجولة على البرامج والكتب؛ فإن النظم الآلية لا تبني عالمًا، ولا تكوُّن أمة، ولا تجدد حياة.
وإنما هي ضوابط وأعلام ترشد إلى الغاية، وتعين على الوصول إليها من طريق قاصد، وعلى نهج سويٍّ.
أما العمدة الحقيقية في الوصول إلى الغاية من التربية -فهي ما يفيض من نفوسكم على نفوس تلاميذكم الناشئين من أخلاق طاهرة قويمة يحتذونكم فيها، ويقتبسونها منكم، وما تبثونه في أرواحهم من قوة عزم، وفي أفكارهم من إصابة وتسديد، وفي نزعاتهم من إصلاح وتقويم، وفي ألسنتهم من إفصاح وإبانة.
وكل هذا مما لا تغني فيه البرامج غناء. (1)
وقال: كونوا لتلاميذكم قدوة صالحة في الأعمال، والأحوال، والأقوال، لا يرون منكم إلا الصالح من الأعمال والأحوال، ولا يسمعون منكم إلا الصادق من الأقوال.
وإن الكذب في الأحوال أضر على صاحبه وعلى الأمة من الكذب في الأقوال؛ فالأقوال الكاذبة قد يُحترز منها، أما الأحوال الكاذبة فلا يمكن منها الاحتراز. (2)
--------------------------------------------
তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: হে আমার সন্তানগণ! আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যাতে ছোটদের পুরুষোচিত গুণের লালন-পালনের ক্ষেত্রে তোমরা কেবল পাঠ্যক্রম ও বইপুস্তকের ওপর নির্ভরশীল না হও। কারণ, যান্ত্রিক নিয়ম-নীতি কোনো আলিম (عالم) গড়ে তুলতে পারে না, কোনো জাতি গঠন করতে পারে না এবং কোনো জীবনকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে না।
বরং এগুলো হলো কেবল কিছু নিয়ন্ত্রক ও দিকনির্দেশক যা লক্ষ্যের দিকে পথ দেখায় এবং সঠিক পথে ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
তবে লালন-পালনের মূল লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রকৃত অবলম্বন হলো তা—যা তোমাদের সত্তা থেকে তোমাদের নবীন শিক্ষার্থীদের সত্তায় পবিত্র ও ঋজু চরিত্র হিসেবে প্রবাহিত হয়, যে বিষয়ে তারা তোমাদের অনুসরণ করে এবং তোমাদের থেকে তা গ্রহণ করে। আর যা তোমরা তাদের রূহে সংকল্পের শক্তি হিসেবে, তাদের চিন্তাধারায় সঠিকতা ও নির্ভুলতা হিসেবে, তাদের প্রবণতায় সংশোধন ও সংস্কার হিসেবে এবং তাদের ভাষায় সাবলীলতা ও স্পষ্টতা হিসেবে সঞ্চার করো।
আর এই সবকিছুর ক্ষেত্রে কোনো পাঠ্যক্রমই যথেষ্ট হতে পারে না। (১)
তিনি বলেছেন: তোমরা তোমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মে, অবস্থায় এবং কথায় উত্তম আদর্শ হয়ে ওঠো। তারা যেন তোমাদের থেকে নেক আমল ও উত্তম অবস্থা ছাড়া আর কিছুই না দেখে এবং তোমাদের থেকে সত্যবাদী (صادق) কথা ছাড়া আর কিছুই না শোনে।
নিশ্চয়ই অবস্থার ক্ষেত্রে মিথ্যাচার করা ব্যক্তির নিজের ওপর এবং উম্মতের ওপর কথার মিথ্যাচারের চেয়েও অধিক ক্ষতিকর। কেননা মিথ্যা কথা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা সম্ভব হতে পারে, কিন্তু মিথ্যা অবস্থা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা সম্ভব নয়। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وبعد هذا قد تقول -أيها المعلم الكريم -: أنَّى لي أن أكون قدوةً وأنا مقصر في نفسي؟ وكيف وأنا أعاني من بعض النقائص ونفسي تميل بطبعها إلى بعض الأخلاق المرذولة؟
وكيف أنصح للطلاب وأنا لم أُكمِّلْ نفسي بعد؟ ألا أخشى أن أدخل في وعيد الله بقوله عز وجل: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ} {كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ} (الصف: 2 -3) .
أليس الحكيم العربي يقول:
يا أيها الرجلُ المعلم غيرَه
… هلا لنفسك كان ذا التعليمُ
تصف الدواء وأنت أولى بالدوا
… وتعالج المرضى وأنت سقيم
ابدأ بنفسك فانهها عن غيها
… فإذا انتهت عنه فأنت حكيم
فهناك تعدل إن وعظت ويقتدى
… بالقول منك ويُقبل التعليم
(1)والجواب عن ذلك أن يقال لك: ليس من شرط القدوةِ العصمةُ؛ فالعصمة إنما هي للأنبياء عليهم السلام فيما يبلغون به عن ربهم.
ولا يضيرك تقصيرك ما دمت مخلصًا في نصحك، حريصًا على تكميل نفسك وغيرك؛ فالسعي في التكميل كمال، ومن الذي يخلو من النقائص؟ فأي الرجال المهذب؟
ومن ذا الذي ترضى سجاياه كلها
… كفى المرء نبلًا أن تعد معايبه
(2)--------------------------------------------
এরপর হে সম্মানিত শিক্ষক! আপনি হয়তো বলতে পারেন: আমি নিজে যখন ত্রুটিপূর্ণ, তখন আমার পক্ষে কীভাবে আদর্শ (قدوة) হওয়া সম্ভব? আর যখন আমি নিজেই কিছু অসম্পূর্ণতায় ভুগছি এবং আমার নফস স্বভাবজাতভাবেই কিছু নিন্দনীয় চরিত্রের দিকে ধাবিত হয়, তখন তা কীভাবে হতে পারে?
আমি নিজেকে এখনও পূর্ণতা দান করতে পারিনি, এমতাবস্থায় আমি শিক্ষার্থীদের কীভাবে নসিহত করব? আমি কি মহান আল্লাহর এই বাণীর হুমকি (وعيد) এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ভয় করব না: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না, তা কেন বলো?} {তোমরা যা করো না, তা বলা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত ক্রোধের উদ্রেককারী।} (আস-সাফ: ২-৩)।
একজন আরব প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি কি বলেননি:
হে অন্যকে শিক্ষাদানকারী ব্যক্তি!
… এই শিক্ষা কি আপনার নিজের জন্য হওয়া উচিত ছিল না?
আপনি ওষুধের গুণাগুণ বর্ণনা করছেন অথচ আপনিই সেই ওষুধের অধিক মুখাপেক্ষী
… আর আপনি রোগীদের চিকিৎসা করছেন অথচ আপনি নিজেই অসুস্থ।
আপনি নিজের নফস দিয়ে শুরু করুন এবং তাকে তার বিভ্রান্তি থেকে বিরত রাখুন
… যখন সে বিরত হবে, তখন আপনি প্রজ্ঞাবান।
সেক্ষেত্রেই আপনার নসিহত ন্যায়সংগত হবে এবং আপনার কথা অনুসরণ (قدوة) করা হবে
… আর আপনার শিক্ষা গ্রহণ করা হবে।
(১)এর উত্তরে বলা হবে: আদর্শ (قدوة) হওয়ার জন্য নিস্পাপতা (عصمة) শর্ত নয়; কেননা নিস্পাপতা (عصمة) কেবল নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) জন্য সুনির্দিষ্ট, যা তাঁরা তাঁদের রবের পক্ষ থেকে প্রচার করেন।
আপনার ত্রুটি আপনার কোনো ক্ষতি করবে না যতক্ষণ আপনি আপনার উপদেশে একনিষ্ঠ থাকবেন এবং নিজের ও অন্যের পূর্ণতা সাধনে আগ্রহী হবেন। কেননা পূর্ণতা লাভের চেষ্টা করাই একটি পূর্ণতা। এমন কে আছে যার কোনো ত্রুটি নেই? আর কোন ব্যক্তিটি সম্পূর্ণ পরিমার্জিত?
এমন কে আছে যার সব স্বভাবই সন্তোষজনক?
… একজন মানুষের মহত্ত্বের জন্য এটিই যথেষ্ট যে তার দোষগুলো গণনা করা যায়।
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ولو ترك الناس النصح بحجة التقصير لما بقي ناصح على وجه الأرض، ولو كان من شرط القدرة العصمة لما بقي للناس قدوة بعد الأنبياء عليهم السلام.
إذا لم يعِظْ في الناس من هو مذنب
… فمن يعظ العاصين بعد محمد
قال ابن حزم فَرْضٌ على الناس تَعَلُّمُ الخير والعمل به؛ فمن جمع الأمرين فقد استوفى الفضيلتين معًا، ومن عَلِمَهُ ولم يعمل به فقد أحسن في التعليم وأساء في ترك العمل به، فخلط عملًا صالحًا وآخر سيئًا. (1)
وقال: ولو لم يَنْهَ عن الشر إلا من ليس فيه منه شيء، ولا أمر بالخير إلا من استوعبه -لما نهى أحدٌ عن شر، ولا أمر بخير بعد النبي " وحسبك بمن أدَّى رأيه إلى هذا فسادًا، وسوءَ طبعٍ، وذمَّ حال. (2)
وقال: وقد صح عن الحسن أنه سمع إنسانًا يقول: لا يجب أن ينهى عن الشر إلا من لا يفعله.
فقال الحسن: ودَّ إبليس لو ظفر منا بهذه؛ حتى لا ينهى أحد عن منكر، ولا يأمر بمعروف. (3)
ثم إن ميل الإنسان بطبعه إلى بعض النقائص لا ينافي التقوى إذا كان لا يغشى تلك النقائص، وكان يجاهد نفسه على بغضها.
قال ابن حزم: لا عيب على من مال بطبعه إلى بعض القبائح ولو أنه أشد العيوب، وأعظم الرذائل ما لم يظهره بقول أو فعل.
--------------------------------------------
যদি মানুষ নিজের ত্রুটির অজুহাতে নসিহত করা ছেড়ে দিত, তবে পৃথিবীর বুকে কোনো নসিহতকারী অবশিষ্ট থাকত না। আর যদি সামর্থ্যের শর্ত হতো নিষ্পাপ (عصمة) হওয়া, তবে নবীদের আলাইহিমুস সালাম-এর পর মানুষের জন্য কোনো আদর্শ অবশিষ্ট থাকত না।
যদি কোনো পাপী ব্যক্তি মানুষের মাঝে ওয়াজ না করে … তবে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর পাপাচারীদের কে নসিহত করবে?
ইবনে হাজম বলেন: মানুষের ওপর কল্যাণ শিক্ষা করা এবং সেই অনুযায়ী আমল করা আবশ্যিক (فرض); সুতরাং যে ব্যক্তি উভয় বিষয়ের সমন্বয় ঘটিয়েছে, সে একই সাথে উভয় ফজিলত পূর্ণ করেছে। আর যে ব্যক্তি তা জানল কিন্তু আমল করল না, সে শিক্ষার ক্ষেত্রে কল্যাণ করল এবং আমল না করার ক্ষেত্রে মন্দ করল; ফলে সে একটি সৎ আমল এবং অপর একটি মন্দ আমলের সংমিশ্রণ ঘটাল। (১)
তিনি আরও বলেন: যদি মন্দের সাথে বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই এমন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ মন্দ কাজ থেকে নিষেধ না করত, আর কল্যাণের সবটুকু অর্জনকারী ছাড়া অন্য কেউ কল্যাণের আদেশ না দিত—তবে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর আর কেউই মন্দ থেকে নিষেধ করত না এবং কল্যাণের আদেশ দিত না। যার চিন্তা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, তার জন্য এটাই বিপর্যয়, চারিত্রিক ত্রুটি এবং নিন্দনীয় অবস্থার প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট। (২)
তিনি বলেন: হাসান (বসরি) থেকে বিশুদ্ধভাবে (صح) বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি জনৈক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন: যে ব্যক্তি নিজে মন্দ কাজ করে না, সে ব্যতীত অন্য কারও জন্য মন্দ থেকে নিষেধ করা আবশ্যক (واجب) নয়।
তখন হাসান বললেন: ইবলিস কামনা করে যেন সে আমাদের থেকে এই সুযোগটি পায়; যাতে কেউ অন্যায় (منكر) থেকে নিষেধ না করে এবং ভালো কাজের (معروف) আদেশ না দেয়। (৩)
তদুপরি মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তির কোনো ত্রুটির প্রতি ঝোঁক থাকা তাকওয়ার (تقوى) পরিপন্থী নয়, যদি সে সেই ত্রুটিগুলোতে লিপ্ত না হয় এবং নিজের কুপ্রবৃত্তির সাথে তা ঘৃণা করার জন্য সংগ্রাম করতে থাকে।
ইবনে হাজম বলেন: যার স্বভাবজাত প্রবৃত্তি কিছু মন্দের দিকে ধাবিত হয়, তার ওপর কোনো দোষ নেই—এমনকি তা যদি অত্যন্ত বড় কোনো ত্রুটি বা নিকৃষ্টতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও হয়—যতক্ষণ না সে কথা বা কাজের মাধ্যমে তা প্রকাশ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بل يكاد يكون أحمد ممن أعانه طبعه على الفضائل.
ولا تكون مغالبة الطبع الفاسد إلا عن قوة عقل فاضل. (1)
ومع ذلك فكلما اقتربت من الكمال، وحرصت على التخلص من النقائص -عظم الاقتداء بك، وزاد الانتفاع بحكمتك؛ فلا يعني ما سبق أن تبقى على عيوبك دون سعي لعلاجها، ودون مجاهدة للترقي في مدارج الكمال.
--------------------------------------------
বস্তুত, আহমাদ এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাঁকে তাঁর স্বভাবজাত প্রকৃতিই শ্রেষ্ঠ গুণাবলি অর্জনে সহায়তা করেছিল।
আর কলুষিত স্বভাবকে পরাভূত করা কেবল একটি উৎকর্ষমণ্ডিত বিচারবুদ্ধির শক্তির মাধ্যমেই সম্ভব। (১)
তদসত্ত্বেও, আপনি যখনই পূর্ণতার নিকটবর্তী হবেন এবং ত্রুটিসমূহ থেকে মুক্ত হতে সচেষ্ট হবেন—তখনই আপনাকে অনুসরণের মাহাত্ম্য বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার প্রজ্ঞা থেকে লব্ধ উপকারিতা বৃদ্ধি পাবে; সুতরাং পূর্বোক্ত কথার অর্থ এই নয় যে, আপনি আপনার ত্রুটিগুলো সংশোধনের প্রচেষ্টা ব্যতিরেকে এবং পূর্ণতার সোপানে আরোহণের সাধনা ব্যতিরেকে সেগুলোর ওপর অবিচল থাকবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
هذا وإن في توقف الإنسان عما لا يعلم، ورجوعِه إلى الحق إذا تبين -فوائد كثيرة منها: (1)
أ -
أن هذا هو الواجب عليه: قال الله -تعالى -: {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا} (الإسراء: 36) .
ولهذا كانت
الأمانة العلمية هي التي تحمل كبار أهل العلم على أن يعلنوا في الناس رجوعهم عن كثير من الاجتهادات إذا تبينوا أنهم لم يقولوا فيها قولًا سديدًا.
وكذلك فإن العالم ذا الخُلُقِ العظيم يُسأل عما لا يعلم فلا يجد في صدره حرجًا أن يقول: لا أدري.
وهذه سيرة علمائنا الأجلاء؛ يلقى على الواحد منهم السؤالُ في العلم الذي علا فيه كعبه، فإن لم يحضره الجواب أطلق لسانه بكلمة لا أدري غير متسنكف ولا مبالٍ بما يكون لها من أثر في نفوس السامعين.
وذلك كمال لا تحرص عليه إلا نفوس زكية، قد ذللت لها سبل المكارم تذليلًا.
--------------------------------------------
বস্তুত মানুষের অজানা বিষয়ে বিরত থাকা এবং সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর তার দিকে ফিরে আসার মধ্যে অনেক উপকারিতা রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: (১)
ক -
এটিই তার ওপর ওয়াজিব (واجب) বা অপরিহার্য কর্তব্য: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তঃকরণ—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কেই (কিয়ামতের দিন) জিজ্ঞাসিত হতে হবে।" (আল-ইসরা: ৩৬)।
এই কারণেই ইলমি আমানতদারি (الأمانة العلمية) বড় বড় আলেমদেরকে এই অনুপ্রেরণা দেয় যে, যখন তারা বুঝতে পারেন কোনো বিষয়ে তাদের ইজতিহাদ (اجتهاد) বা গবেষণামূলক মতামত সঠিক ছিল না, তখন তারা লোকসমক্ষে তা থেকে ফিরে আসার ঘোষণা দেন।
একইভাবে, মহান চরিত্রের অধিকারী আলেমকে যখন কোনো অজানা বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি "আমি জানি না" বলতে অন্তরে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করেন না।
আর এটিই আমাদের মহান আলেমদের জীবন চরিত; তাদের কাউকে যখন এমন কোনো শাস্ত্র সম্পর্কে প্রশ্ন করা হতো যে বিষয়ে তিনি অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন, তখন উত্তর তাৎক্ষণিক উপস্থিত না থাকলে তিনি কোনো প্রকার সংকোচ ছাড়াই "আমি জানি না" শব্দটি উচ্চারণ করতেন এবং শ্রোতাদের মনে এর কী প্রভাব পড়বে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত হতেন না।
এটি এমন এক পূর্ণতা যা কেবল সেই সব পবিত্র আত্মাই অর্জন করতে উন্মুখ থাকে, যাদের জন্য উচ্চমর্যাদার পথগুলো সহজ ও সুগম করে দেওয়া হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআল মুয়াল্লিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ب - أن ذلك يفتح له باب العلم: فإذا توقف في المسألة أسرع إليه الجواب، إما مِنْ مُرَاجَعته هو، أو من مراجعة غيره؛ فإن المتعلم إذا رأى معلمه قد توقف في مسألة ما -جدَّ واجتهد في تحصيل علمها؛ لإتحاف معلمه بها، وما أحسن هذا الأثر.
খ - এটি তার জন্য ইলমের দরজা উন্মুক্ত করে দেয়: সুতরাং যখন তিনি কোনো মাসআলায় থমকে যান, তখন দ্রুতই তার কাছে উত্তর চলে আসে; হয় তার নিজস্ব পর্যালোচনার মাধ্যমে, অথবা অন্য কারও পর্যালোচনার মাধ্যমে। কারণ শিক্ষার্থী যখন দেখে যে তার শিক্ষক কোনো মাসআলায় থমকে গেছেন, তখন সে সেই মাসআলার জ্ঞান অর্জনে কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা করে; যেন সে তার শিক্ষককে তা উপহার দিতে পারে। আর এই প্রভাব (أثر) কতই না চমৎকার!