(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: -)
كيف تكسب الناس   (مازن الفريح)

القسم: كتب عامة


الكتاب: كيف تكسب الناس

المؤلف: مازن بن عبد الكريم الفريح

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 27

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 35

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মানুষের মন জয় করবেন কীভাবে   (মাজিন আল-ফুরাইহ)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


গ্রন্থ: মানুষের মন জয় করবেন কীভাবে

লেখক: মাজিন বিন আব্দুল কারিম আল-ফুরাইহ

প্রকাশক: বইটি কোনো প্রকাশনা তথ্য ব্যতীত সৌদি আরবের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠাসংখ্যা (মুদ্রিত সংস্করণ) : ২৭

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরকৃত যা মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ নয়]

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৩৫

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ১)
كيف تكسب الناس

بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌التقديم

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على الرسول الأمين، وعلى آله وصحبه أجمعين، وعلى التابعين لهم بإحسان.

أما بعد:

فقد اطلعت على هذه الرسالة الموجزة للشيخ الفاضل مازن بن عبد الكريم الفريح فوجدتها دراسة نفيسة وتحفة تربوية منطلقها القرآن ودليلها السنة وغايتها بذر الإيمان في القلوب ونشر الوئام والسلام لصلاح الحياة.

ولاشك أن الدعاة أحوج الناس إلى معرفة طرق ووسائل رد القلوب الشاردة إلى حياض الهدى ومناهل التقوى فشكر الله له سعيه ورزقنا وإياه الإخلاص والتقوى ونفع بعمله هذا جميع المسلمين.
মানুষের মন জয় করবেন কীভাবে

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

‌‌উপস্থাপনা

যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বস্ত রাসুলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সকল সাহাবী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন অর্থাৎ তাবেয়ীগণের (التابعين) ওপর।

অতঃপর:

আমি শেখ ফাদিল মাজিন বিন আব্দুল কারিম আল-ফুরাইহের এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকাটি পাঠ করেছি এবং এটিকে একটি মূল্যবান গবেষণা ও শিক্ষামূলক অনন্য উপহার হিসেবে পেয়েছি; যার উৎস হলো কুরআন এবং যার দলিল হলো সুন্নাহ (السنة), আর যার লক্ষ্য হলো অন্তরে ঈমান বপন করা এবং জীবন সংশোধনের জন্য সম্প্রীতি ও শান্তি ছড়িয়ে দেওয়া।

নিঃসন্দেহে পথহারা হৃদয়গুলোকে হিদায়াতের জলাধারে এবং তাকওয়ার ফল্গুধারায় ফিরিয়ে আনার পথ ও পদ্ধতিগুলো জানার প্রয়োজনীয়তা দাঈদের জন্য সবচেয়ে বেশি। আল্লাহ তাআলা তাঁর এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন, আমাদের ও তাঁকে ইখলাস ও তাকওয়া দান করুন এবং তাঁর এই কর্মের মাধ্যমে সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له.

وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا …

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} آل عمران الآية 102.

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} النساء الآية: 1.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} {يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} الأحزاب، الآيتان 70، 71

أما بعد:
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন …

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} আলে ইমরান, আয়াত: ১০২।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন} আন-নিসা, আয়াত: ১।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো} {তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল} আল-আহজাব, আয়াত: ৭০, ৭১।

অতঃপর:
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ৩)
فإن كسب قلوب الناس ليكونوا بعد ذلك للدعوة محبين وإليها مقبلين ولجندها مناصرين من الموضوعات المهمة التي ينبغي أن يوليها الدعاة عنايتهم واهتمامهم.. وأن يكون لها نصيب كبير من تفكيرهم وتخطيطهم..

وتأتي أهمية هذا الموضوع من جوانب عدة منها:

أولًا: أن كسب قلوب الناس طريق ووسيلة إلى تقبلهم الحق وبعض الناس معرض عن دعوة الله لعدم انسجامه مع الداعية نتيجة لبعض تصرفاته الخاطئة وقد ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال «يا أيها الناس إن منكم منفرين»

ثانيًا: صنف من الدعاة لا يهتم بمعاملة الناس ولا يبالي بموقف الناس منه ولهذا نشأت بينه وبينهم هوة كبيرة حالت دون تبليغ دعوة الله في الوقت الذي نجد فيه بعضًا من أصحاب الأفكار المنحرفة أوجدوا لأفكارهم أتباعًا ولمبادئهم جنودًا وأنصارًا لأنهم عرفوا كيف يتعاملون مع الناس فكسبوا قلوبهم وحركوا نفوسهم إلى ما لديهم من باطل.
মানুষের অন্তর জয় করা—যাতে পরবর্তী সময়ে তারা দাওয়াতের প্রতি অনুরাগী হয়, এর প্রতি ধাবিত হয় এবং এর কর্মীদের সাহায্যকারী হয়—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার প্রতি দায়ীদের বিশেষ গুরুত্ব ও মনোযোগ দেওয়া উচিত। এটি তাদের চিন্তা ও পরিকল্পনার একটি বড় অংশ জুড়ে থাকা আবশ্যক।

এই বিষয়ের গুরুত্ব বিভিন্ন দিক থেকে পরিলক্ষিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত: মানুষের হৃদয় জয় করা হলো সত্য গ্রহণের একটি পথ ও মাধ্যম। কিছু মানুষ আল্লাহর দাওয়াত থেকে বিমুখ হয় দায়ীর সাথে তাদের সামঞ্জস্যহীনতার কারণে, যা মূলত দায়ীর কিছু ভুল আচরণেরই ফল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে তিনি বলেছেন, "হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা (মানুষকে দ্বীন থেকে) দূরে সরিয়ে দেয়।"

দ্বিতীয়ত: দায়ীদের মধ্যে এমন এক শ্রেণী রয়েছে যারা মানুষের সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয় না এবং তাদের বিষয়ে মানুষের মনোভাবের পরোয়া করে না। ফলে তাদের ও সাধারণ মানুষের মাঝে এক বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়, যা আল্লাহর দাওয়াত প্রচারের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অথচ আমরা দেখতে পাই, কিছু বিভ্রান্ত চিন্তাধারার অনুসারীরা তাদের ভ্রান্ত মতবাদের জন্য অনুসারী ও সাহায্যকারী তৈরি করে নিয়েছে; কারণ তারা জানত কীভাবে মানুষের সাথে আচরণ করতে হয়। ফলে তারা মানুষের মন জয় করেছে এবং তাদের অন্তরকে নিজেদের বাতিল মতাদর্শের দিকে ধাবিত করতে সক্ষম হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ৪)
ثالثًا: أن كسب الدعاة لقلوب الناس يبدد الجهود المضنية لأعداء الدين على اختلاف مشاربهم وتباين نحلهم والتي يبذلونها في تشويه صورة دعاة الحق بما يبثونه من إشاعات وافتراءات كاذبة عبر وسائل الإعلام المختلفة.. فمعاملة الداعية للناس معاملة الأب الشفيق الرحيم الذي يحرص عليهم كما يحرص على نفسه ويحب لهم ما يحب لها يسد الأبواب أمام أهل الباطل فلا يستطيعون النيل منه أو إثارة الشبهات حوله..

رابعًا: حاجة الدعوة للتفاعل مع الناس، وهذا التفاعل لن يثمر الثمار المرجوة منه إلا إذا أخذنا بأساليب كسب القلوب التي سنها لنا الرسول صلى الله عليه وسلم وفي حديث ابن عمر رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «المؤمن الذي يخالط الناس ويصبر على أذاهم خير من المؤمن الذي لا يخالط الناس ولا يصبر على أذاهم»

خامسًا: أن قيام الدعاة بكسب قلوب الناس من حولهم يزيد في ترابط أفراد المجتمع المسلم، ويجعلهم أفرادًا متراحمين متعاطفين وهذا مطلب شرعي في حد ذاته: «مثل المؤمنين في توادهم وتراحمهم وتعاطفهم مثل الجسد، إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالسهر والحمى» .
তৃতীয়ত: দাঈদের মানুষের হৃদয় জয় করার বিষয়টি দ্বীনের শত্রুদের সেই কঠোর শ্রম ও প্রচেষ্টাকে ধূলিসাৎ করে দেয়—তাদের মতাদর্শ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও—যা তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে অপপ্রচার ও মিথ্যা অপবাদের দ্বারা সত্যের দাঈদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য ব্যয় করে। দাঈ যখন মানুষের সাথে এমন একজন স্নেহশীল ও দয়ালু পিতার ন্যায় আচরণ করেন, যিনি নিজের কল্যাণের মতো তাদের কল্যাণের ব্যাপারেও সমান আগ্রহী এবং নিজের জন্য যা পছন্দ করেন তাদের জন্যও তাই পছন্দ করেন, তখন তা বাতিলপন্থীদের সামনে সমস্ত পথ রুদ্ধ করে দেয়। ফলে তারা তার মর্যাদা হানি করতে বা তাকে নিয়ে কোনো সংশয় সৃষ্টি করতে সক্ষম হয় না।

চতুর্থত: দাওয়াতের প্রয়োজনে মানুষের সাথে মেলামেশা করা অপরিহার্য। আর এই মেলামেশা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যাশিত সুফল বয়ে আনবে না, যতক্ষণ না আমরা হৃদয় জয়ের সেই পদ্ধতিসমূহ অনুসরণ করি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের শিখিয়েছেন। ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে মুমিন মানুষের সাথে মেলামেশা করে এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টে ধৈর্য ধারণ করে, সে ওই মুমিনের চেয়ে উত্তম যে মানুষের সাথে মেলামেশা করে না এবং তাদের কষ্টে ধৈর্য ধারণ করে না»

পঞ্চমত: দাঈদের পক্ষ থেকে তাদের চারপাশের মানুষের মন জয় করা মুসলিম সমাজের সদস্যদের মাঝে পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় করে এবং তাদের একে অপরের প্রতি দয়াময় ও সহমর্মী হিসেবে গড়ে তোলে। এটি স্বয়ং একটি শারয়ি দাবি বা উদ্দেশ্য: «মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার উদাহরণ একটি দেহের ন্যায়; যখন তার কোনো একটি অঙ্গ অসুস্থ হয়, তখন শরীরের অবশিষ্টাংশ অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তাতে সাড়া দেয়»।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ৫)
كل هذه الأمور وغيرها تجعل الحديث عن موضوع" كيف تكسب الناس" في غاية الأهمية.. وقد تناولنا الموضوع من خلال استعراض بعض الوسائل النبوية في كسب قلوب البرية ثم أتبعناها بذكر بعض المنفرات التي تنفر الناس من الداعية وتمنع استجابتهم له.

أسأل الله، عز وجل، أن يجعل عملي هذا خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفع به إنه ولي ذلك والقادر عليه وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

كتبه:

مازن بن عبد الكريم الفريح

20 / 12 / 1412هجرية
এই সকল বিষয় এবং অন্যান্য কারণসমূহ "কীভাবে মানুষের মন জয় করা যায়" এই বিষয়ের আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। আমরা সৃষ্টিজীবের হৃদয় জয় করার ক্ষেত্রে কিছু নববী পন্থা পর্যালোচনার মাধ্যমে এই বিষয়টি আলোচনা করেছি এবং পরবর্তীতে এমন কিছু বিষয়ের উল্লেখ করেছি যা দাঈর থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং তাঁর আহবানে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

আমি মহামহিম আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এই কাজটিকে একনিষ্ঠভাবে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এতে পূর্ণ ক্ষমতাবান। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

লিখেছেন:

মাজেন বিন আব্দুল কারিম আল-ফুরাইহ

২০ / ১২ / ১৪১২ হিজরি
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌الوسائل النبوية في كسب قلوب البرية

‌‌الوسيلة الأولى: خدمة الناس وقضاء حوائجهم

جبلت النفوس على حب من أحسن إليها، والميل إلى من يسعى في قضاء حاجاتها؛ ولذلك قيل:

أحسن إلى الناس تستعبد قلوبهم … فطالما استعبد الإنسان إحسان

وأولى الناس بالكسب هم أهلك وأقرباؤك؛ ولذلك قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «خيركم خيركم لأهله وأنا خيركم لأهلي» . وعندما سئلت عائشة رضي الله عنها ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم : يفعل قالت «كان يكون في مهنة أهله، فإذا حضرت الصلاة يتوضأ ويخرج إلى الصلاة» .
সৃষ্টির অন্তর জয়ের নববী মাধ্যমসমূহ

প্রথম মাধ্যম: মানুষের সেবা এবং তাদের প্রয়োজন পূরণ করা

মানুষের মন স্বভাবজাতভাবেই তাকে ভালোবাসে যে তার প্রতি অনুগ্রহ করে, এবং তার প্রতি অনুরাগী হয় যে তার প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট থাকে; আর এ কারণেই বলা হয়েছে:

মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করো, তুমি তাদের অন্তরকে বশীভূত করতে পারবে … কেননা দীর্ঘকাল যাবৎ অনুগ্রহই মানুষকে অনুগত করে আসছে।

আর মানুষের অন্তর জয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি হকদার হলো তোমার পরিবার ও নিকটাত্মীয়রা; এ জন্যই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম, আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তম।" যখন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (ঘরে) কী করতেন, তখন তিনি বললেন, "তিনি পরিবারের গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিত থাকতেন, আর যখন নামাজের সময় হতো তখন অজু করতেন এবং নামাজের জন্য বেরিয়ে যেতেন।"
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ৭)
ومنا من لا يبالي بكسب قلوب أقرب الناس إليه كوالديه وزوجته وأقربائه فتجد قلوبهم مثخنة بالكره أو بالضغينة عليه لتقصيره في حقهم، وانشغاله عن أداء واجباته تجاههم. ومن أصناف الناس الذين نحتاج لكسبهم ولهم الأفضلية على غيرهم الجيران لقوله صلى الله عليه وسلم «من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليكرم جاره» . وأي إكرام أكبر من دعوتهم إلى الهدى والتقى؛ بل قال عليه أفضل الصلاة والسلام-: «لا يؤمن أحدكم حتى يحب لأخيه أو قال لجاره ما يحب لنفسه» . ولذلك ينبغي أن نتحبب إلى الجار فنبدأه بالسلام ونعوده في المرض، ونعزيه في المصيبة، ونهنئه في الفرح ونصفح عن زلته، ولا نتطلع إلى عورته، ونستر ما انكشف منها، ونهتم بالإهداء إليه وزيارته، وصنع المعروف معه، وعدم إيذائه.. وقد نفى الرسول صلى الله عليه وسلم الإيمان الكامل عن الذي يؤذي جاره فقال: «والله لا يؤمن، والله لا يؤمن، والله لا يؤمن، قال قائل من هو يا رسول الله؟ قال: الذي لا يأمن جاره بوائقه» .

والبوائق هي الشرور والأذى.
আমাদের মধ্যে এমন এক শ্রেণি রয়েছে যারা তাদের নিকটতম ব্যক্তিদের—যেমন পিতা-মাতা, স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজন—মন জয় করার ব্যাপারে কোনো গুরুত্বারোপ করেন না। ফলে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা এবং তাদের প্রতি যথাযথ কর্তব্য পালনে উদাসীনতার দরুন তাদের অন্তর ঘৃণা কিংবা বিদ্বেষে পূর্ণ থাকে। মানুষের যে সকল শ্রেণির মন জয় করা আমাদের জন্য আবশ্যক এবং অন্যদের তুলনায় যাদের অগ্রাধিকার অনস্বীকার্য, তারা হলেন প্রতিবেশী। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে।" আর প্রতিবেশীকে হিদায়েত ও তাকওয়ার পথে আহ্বান করার চেয়ে বড় সম্মান আর কী হতে পারে? বরং তিনি (সা.) বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য—কিংবা বলেছেন তার প্রতিবেশীর জন্য—তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।" এই লক্ষ্যে প্রতিবেশীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করা বাঞ্ছনীয়। সুতরাং আমরা তাকে সালাম প্রদানের মাধ্যমে শুরু করব, অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাব, বিপদে সমবেদনা জানাব, আনন্দের মুহূর্তে তাকে অভিনন্দন জানাব এবং তার পদস্খলন ক্ষমা করব। আমরা তার গোপনীয়তা (عورة) অন্বেষণ করব না এবং যা প্রকাশিত হয়ে পড়ে তা গোপন রাখব। তাকে উপহার প্রদান, তার সাথে সাক্ষাৎ, সদাচরণ এবং তাকে কষ্ট না দেওয়ার বিষয়ে যত্নশীল হব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই ব্যক্তির পূর্ণ ঈমান অস্বীকার করেছেন যে তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়। তিনি ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহর কসম, সে মুমিন নয়; আল্লাহর কসম, সে মুমিন নয়; আল্লাহর কসম, সে মুমিন নয়।" এক ব্যক্তি আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে কে? তিনি বললেন: "যার অনিষ্ট (بوائق) থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না।"

আর 'বাওয়াইক' (بوائق) হলো মন্দ বা অনিষ্ট এবং কষ্ট।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ৮)
ومن أصناف الناس الذين ينبغي أن نكسبهم إلى صف الدعوة- أخي الحبيب- من تقابلهم في العمل ممن هم بحاجة إليك.. فإذا كنت طبيبًا فالمرضى، وإذا كنت مدرسًا فالطلاب، وإذا كنت موظفًا فالمراجعون. فلا بد من كسب قلوبهم من خلال تقديمك لأقصى ما تستطيعه من جهد في خدمتهم وإنجاز معاملاتهم وعدم تأخيرها.. وكم منا من يسمع من يدعو على موظف لم يكلف نفسه في تأدية ما عليه من واجبات في عمله ويؤخر معاملات الناس. وعند الترمذي وأبي داود - بإسناد صحيح -عنه صلى الله عليه وسلم «من ولاه الله شيئا من أمور المسلمين فاحتجب دون حاجتهم وخلتهم وفقرهم احتجب الله دون حاجته وخلته وفقره يوم القيامة» .

হে প্রিয় ভাই, দাওয়াতের সারিতে আমাদের যাদেরকে শামিল করা উচিত, তাদের মধ্যে অন্যতম একটি শ্রেণি হলো কর্মক্ষেত্রে আপনার সাথে সাক্ষাৎ হওয়া সেই ব্যক্তিবর্গ যারা আপনার মুখাপেক্ষী। আপনি যদি চিকিৎসক হন তবে আপনার রোগীরা, শিক্ষক হলে ছাত্ররা এবং চাকরিজীবী হলে সেবাপ্রার্থীরা (এর অন্তর্ভুক্ত)। তাদের সেবায় আপনার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করে এবং তাদের কার্যাদি সম্পন্ন করার মাধ্যমে ও তাতে বিলম্ব না করে তাদের অন্তর জয় করা আবশ্যক। আমাদের মধ্যে অনেকেই এমন ব্যক্তিদের কথা শোনেন যারা সেই সব চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করে, যারা নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করে এবং মানুষের কাজকর্মে বিলম্ব ঘটায়। তিরমিযি ও আবু দাউদ-এ একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রে (بإسناد) রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "যাকে আল্লাহ মুসলিমদের কোনো বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, অতঃপর সে তাদের প্রয়োজন, অভাব ও দারিদ্র্যের সামনে অন্তরাল হয়ে থাকে (অর্থাৎ বিমুখ থাকে), কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলাও তার প্রয়োজন, অভাব ও দারিদ্র্যের সামনে অন্তরাল হয়ে থাকবেন।"

(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ৯)
وبالجملة فإن الوظيفة مجال خصب لكسب قلوب الناس وتبليغهم دعوة الله.. وإنما خصصت هذه الأصناف الثلاثة من الناس بالذكر وهم الأهل أو الأقرباء والجيران ومن نلقاهم في وظائفنا لسببين هما: كثرة اللقاء بهم، والثاني كثرة التقصير أو الإهمال لحقوقهم مما له الأثر السلبي في تقبلهم لما ندعوهم إليه؛ إذن فالمسلم فضلا عن الداعية ينبغي أن يسع الناس كلهم بخلقه وتضحيته ولذلك وصفت خديجة الرسول صلى الله عليه وسلم فقالت: «إنك لتصل الرحم وتحمل الكل وتكسب المعدوم وتقري الضيف وتعين على نوائب الحق» .
সারকথা হলো, কর্মক্ষেত্র মানুষের হৃদয় জয় করার এবং তাদের নিকট আল্লাহর দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার এক উর্বর ময়দান। মূলত এই তিন শ্রেণীর মানুষের কথা—যথা পরিবার বা আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং কর্মস্থলে যাদের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়—বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ দুটি: প্রথমত, তাদের সাথে সাক্ষাতের আধিক্য; এবং দ্বিতীয়ত, তাদের প্রাপ্য অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবহেলা বা শিথিলতা, যা আমাদের দাওয়াতের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অতএব, একজন দ্বীনের আহ্বায়কের পাশাপাশি প্রত্যেক মুসলিমের উচিত স্বীয় সচ্চরিত্র ও ত্যাগের মহিমায় সকল মানুষকে আপন করে নেওয়া। এই কারণেই খাদিজা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেন, অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, অতিথিসেবা করেন এবং সত্যের পথে আপতিত বিপদসমূহে সহায়তা করেন।"
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الوسيلة الثانية: الحلم وكظم الغيظ

يخطئ بعض الناس- أحيانًا - في حقك.. يوعد فيخلف أو يتأخر أو يجرحك بلسانه فلا بد لكسبه من حلم وكظم للغيظ لأنك صاحب هدف وغاية تريد أن تصل إليها؛ ولذا لا بد من حسن تصرفك والله عز وجل يمتدح هذا الصنف من الدعاة فيقول: {وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} آل عمران، الآية: 134. وعن أنس رضي الله عنه -قال: «كنت أمشي مع رسول الله وعليه برد غليظ الحاشية، فأدركه أعرابي فجذبه جذبة شديدة حتى أزالت الرداء إلى صفحة عاتق رسول (الله صلى الله عليه وسلم وقد أثرت بها حاشية الرداء من شدة جذبته ثم قال: يا محمد مر لي من مال الله الذي عندك.. فالتفت إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وضحك، وأمر له بعطاء» . وهذا الموقف من سيد الخلق -عليه أفضل الصلاة والسلام - لا يحتاج منا إلى تعليق سوى أن نقول: ما قاله الحق عز وجل في وصف نبيه {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} القلم، الآية: 4.
দ্বিতীয় মাধ্যম: সহনশীলতা ও ক্রোধ সংবরণ

মাঝে মাঝে কিছু মানুষ আপনার অধিকারের ক্ষেত্রে ভুল করে থাকে। কেউ প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করে অথবা তা রক্ষায় বিলম্ব করে, কিংবা তার জিহ্বা দ্বারা আপনাকে আঘাত করে। এমতাবস্থায় তাকে আপন করে নেওয়ার জন্য সহনশীলতা ও ক্রোধ সংবরণ করা অপরিহার্য; কারণ আপনার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে যেখানে আপনি পৌঁছাতে চান। আর এ কারণেই আপনার আচরণ উত্তম হওয়া আবশ্যক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই শ্রেণির দাঈদের প্রশংসা করে বলেন: {যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে এবং মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে; আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।} (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৩৪)। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে হাঁটছিলাম এবং তাঁর পরিধানে মোটা পাড়বিশিষ্ট একটি চাদর ছিল। তখন জনৈক বেদুইন এসে তাঁকে অত্যন্ত জোরে টান দিল, এমনকি সেই প্রবল টানের কারণে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাঁধের পার্শ্বদেশে চাদরের পাড়ের দাগ বসে গেল। অতঃপর সে বলল: হে মুহাম্মদ! আপনার কাছে আল্লাহর যে সম্পদ আছে তা থেকে আমাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তার দিকে ফিরে তাকালেন এবং হাসলেন; এরপর তাকে কিছু দান করার আদেশ দিলেন।» সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব —তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক— তাঁর এই আচরণের বিষয়ে আমাদের নতুন করে কোনো মন্তব্যের অবকাশ নেই, কেবল মহান আল্লাহ তাঁর নবীর গুণ বর্ণনায় যা বলেছেন তা ব্যতীত: {নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।} (সূরা আল-কালাম, আয়াত: ৪)।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الوسيلة الثالثة: السماحة في المعاملة

يوجز الرسول صلى الله عليه وسلم أصول المعاملة التي يدخل فيها المسلم إلى قلوب الناس ويكسب ودهم وحبهم فيقول: «رحم الله رجلًا سمحًا إذا باع وإذا اشترى وإذا اقتضى» وفي رواية «وإذا قضى» . فالسماحة في البيع: ألا يكون البائع شحيحًا بسلعته، مغاليًا في الربح، فظًا في معاملة الناس.
তৃতীয় মাধ্যম: লেনদেনে উদারতা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লেনদেনের সেই মূলনীতিগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন যার মাধ্যমে একজন মুসলিম মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করে এবং তাদের ভালোবাসা ও হৃদ্যতা অর্জন করে। তিনি বলেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যে বিক্রয়ের সময়, ক্রয়ের সময় এবং পাওনা তলব করার সময় উদার (سمحًا) হয়।» অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: «এবং যখন সে ঋণ পরিশোধ করে।» সুতরাং বিক্রয়ের ক্ষেত্রে উদারতা হলো: বিক্রেতা তার পণ্যের ব্যাপারে কৃপণ হবে না, মুনাফার ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করবে না এবং মানুষের সাথে লেনদেনে রূঢ় হবে না।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ১২)
والسماحة في الشراء أن يكون المشتري سهلا مع البائع فلا يكثر من المساومة؛ بل يكون كريم النفس وبالأخص إذا كان المشتري غنيا والبائع فقيرًا معدمًا. والسماحة في الاقتضاء: أي عند طلب الرجل حقه أو دينه فإنه يطلبه برفق ولين.. وربما تجاوز عن المعسر أو أنظره كما في حديث أبي هريرة مرفوعا: «كان رجل يداين الناس فإذا رأى معسرا قال لفتيانه تجاوزوا عنه لعل الله أن يتجاوز عنا فتجاوز الله عنه» والسماحة في القضاء: هو الوفاء بكل ما عليه من دين أو حقوق على أحسن وجه في الوقت الموعود وانظر كيف دخل الرسول صلى الله عليه وسلم إلى قلب هذا الرجل الذي روى قصته الإمام البخاري في صحيحه عن أبى هريرة قال: «أن رجلًا أتى النبي صلى الله عليه وسلم فتقاضاه فأغلظ فهمّ به أصحابه فقال النبي صلى الله عليه وسلم دعوه فإن لصاحب الحق مقالًا ثم قال أعطوه سنًا مثل سنه قالوا يا رسول الله لا نجد إلا أفضل من سنه فقال أعطوه فإن خيركم أحسنكم قضاء» فقال الرجل «أوفيتني أوفى الله بك» .

ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে উদারতা হলো ক্রেতা বিক্রেতার সাথে সহজ আচরণ করবেন এবং অধিক দরদাম করবেন না; বরং তিনি উদারচিত্ত হবেন, বিশেষ করে যদি ক্রেতা ধনী এবং বিক্রেতা দরিদ্র ও নিঃস্ব হয়। পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে উদারতা: অর্থাৎ যখন কোনো ব্যক্তি তার হক বা ঋণ দাবি করে, তখন সে তা নম্রতা ও কোমলতার সাথে দাবি করবে। ক্ষেত্রবিশেষে সে অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেবে অথবা তাকে অবকাশ দেবে; যেমন আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিসে এসেছে: "এক ব্যক্তি মানুষকে ঋণ দিত। সে যখন কোনো অভাবগ্রস্তকে দেখত, তখন তার সেবকদের বলত, 'তোমরা তাকে ক্ষমা করে দাও, হয়তো আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করবেন।' অতঃপর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন।" আর ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে উদারতা হলো: তার ওপর অর্পিত সকল ঋণ বা পাওনা নির্ধারিত সময়ে সর্বোত্তম পন্থায় আদায় করা। লক্ষ্য করুন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে সেই ব্যক্তির অন্তরে প্রবেশ করেছিলেন যার ঘটনা ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাঁর পাওনা কঠোরভাবে দাবি করল। সাহাবায়ে কেরাম তার ওপর চড়াও হতে চাইলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তাকে ছেড়ে দাও, কারণ পাওনাদারের কথা বলার অধিকার আছে।' এরপর তিনি বললেন, 'তাকে তার উটের সমবয়সী একটি উট দিয়ে দাও।' তাঁরা বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো তার উটের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বয়সের উট ছাড়া অন্য কিছু পাচ্ছি না।' তিনি বললেন, 'তা-ই তাকে দিয়ে দাও; কারণ তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে ঋণ পরিশোধে সবচাইতে সুন্দর।' তখন লোকটি বলল, 'আপনি আমাকে পূর্ণ প্রতিদান দিয়েছেন, আল্লাহ আপনাকেও পূর্ণ প্রতিদান দান করুন'।"

(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ১৩)
ومن السماحة في المعاملة: عدم التشديد في محاسبة من قصر في حقك. فعن أنس قال «خدمت رسول الله صلى الله عليه وسلم عشر سنين والله ما قال لي: أف قط ولا قال لشيء فعلته لم فعلت كذا وهلا فعلت كذا»
লেনদেনের ক্ষেত্রে সহনশীলতার অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো: আপনার প্রাপ্য অধিকার আদায়ে যে ব্যক্তি ত্রুটি করেছে, তার হিসাব গ্রহণে কঠোরতা পরিহার করা। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি দশ বছর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমত করেছি। আল্লাহর কসম, তিনি আমাকে কখনো ‘উফ’ শব্দটিও বলেননি এবং আমি যা করেছি সে সম্পর্কে কখনো বলেননি, ‘কেন তুমি এমন করলে?’ কিংবা (যা করিনি সে সম্পর্কে বলেননি) ‘কেন তুমি এটি করলে না?’»
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الوسيلة الرابعة: المداراة

المداراة وليست المداهنة.. والمداراة هي لين الكلام والبشاشة وحسن العشرة لأناس عندهم شيء من الفجور والفسق لمصلحة شرعية. روى البخاري في صحيحه عن عائشة رضي الله عنها: «أن رجلا استأذن على النبي صلى الله عليه وسلم فلما رآه قال بئس أخو العشيرة.. فلما جلس تطلق له وجه النبي صلى الله عليه وسلم وانبسط إليه فلما انطلق الرجل قالت له عائشة يا رسول الله رأيت الرجل قلت كذا وكذا ثم تطلقت في وجهه وانبسطت إليه فقال الرسول صلى الله عليه وسلم يا عائشة متى عهدتني فاحشا، إن شر الناس عند الله منزلة يوم القيامة من تركه الناس اتقاء فحشه» .
চতুর্থ মাধ্যম: সদয় আচরণ (المداراة)

সদয় আচরণ (المداراة), তোষামোদ (المداهنة) নয়। আর সদয় আচরণ (المداراة) হলো কোনো শরয়ি কল্যাণের (المصلحة الشرعية) উদ্দেশ্যে এমন ব্যক্তিদের সাথে নম্র কথা, প্রফুল্লতা এবং সুন্দর সাহচর্য বজায় রাখা, যাদের মাঝে পাপাচার ও অবাধ্যতা (الفسق) বিদ্যমান। বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন: ‘এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইল। তাকে দেখে তিনি বললেন, সে তার গোত্রের কতই না মন্দ ভ্রাতা! এরপর যখন সে বসল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সামনে প্রফুল্লচিত্ত হলেন এবং তার সাথে আন্তরিকভাবে মিশলেন। লোকটি চলে যাওয়ার পর আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাকে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি লোকটিকে দেখে এই এই কথা বলেছিলেন, অথচ পরে তার সামনে প্রফুল্লতা প্রকাশ করলেন এবং আন্তরিকভাবে মিশলেন! তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে আয়েশা! তুমি আমাকে কখন অশ্লীল ভাষী হিসেবে পেয়েছ? কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক থেকে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে, যার অশ্লীলতা বা অনিষ্টের (الفحش) ভয়ে মানুষ তাকে বর্জন করে।’
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ১৫)
قال ابن حجر رحمه الله نقلا عن القرطبي (وفي الحديث جواز غيبة المعلن بالفسق أو الفحش ونحو ذلك من الجور في الحكم والدعاء إلى البدعة مع جواز مداراتهم اتقاء شرهم ما لم يؤد ذلك إلى المداهنة في دين الله تعالى.. ثم قال - لا زال الكلام للقرطبي تبعا لعياض: والفرق بين المداراة والمداهنة أن المداراة بذل الدنيا لصلاح الدنيا أو الدين أو هما معا وهي مباحة وربما استحبت والمداهنة ترك الدين لصلاح الدنيا والعياذ بالله إذن فنحن بحاجة إلى كسب قلوب الفسقة أيضا بلين الكلام والقيام بحسن العشرة لهدايتهم إلى الصواب - أو على الأقل - لاتقاء شرهم) ..

وبعض الفسقة اليوم أدوات بيد أهل العلمانية يجولون بهم ويصولون بسبب بعد أهل الخير عنهم أو عدم مداراتهم كما فعل الرسول صلى الله عليه وسلم
ইবনে হাজার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আল-কুরতুবীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, (হাদিসে এমন ব্যক্তির গীবত বা পরচর্চা করা বৈধ বলা হয়েছে যে প্রকাশ্যে পাপাচার (فسق) বা অশ্লীলতা (فحش) এবং এ জাতীয় কাজ যেমন বিচারে জুলুম করা কিংবা বিদআতের (بدعة) দিকে আহ্বানে লিপ্ত। এর পাশাপাশি তাদের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য তাদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ (مداراة) করাও বৈধ, যতক্ষণ না তা মহান আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে তোষামোদ বা আপস (مداهنة) পর্যন্ত গড়ায়... এরপর তিনি বলেন — আল-কুরতুবী এখানে আল-আইয়াজের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বলছেন: সৌজন্যমূলক আচরণ (مداراة) এবং তোষামোদের (مداهنة) মধ্যে পার্থক্য হলো, সৌজন্যমূলক আচরণ হলো দুনিয়াবি কোনো সুবিধা বিসর্জন দেওয়া দুনিয়া বা দ্বীনের সংশোধন অথবা উভয়টির উদ্দেশ্যে, আর এটি বৈধ (مباح) এবং কখনো কখনো তা পছন্দনীয় (مستحب)। অন্যদিকে তোষামোদ হলো দুনিয়াবি স্বার্থে দ্বীন বিসর্জন দেওয়া, আমরা আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। সুতরাং পাপাচারীদের মন জয় করার জন্যও আমাদের কোমল বাক্য এবং উত্তম ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে যাতে তাদের সত্যের দিকে পরিচালিত করা যায় — অথবা অন্তত — তাদের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকা যায়)।..

বর্তমানে কিছু পাপাচারী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের হাতের অস্ত্রে পরিণত হয়েছে, যারা তাদের মাধ্যমে সমাজে আস্ফালন করছে। এর কারণ হলো নেককার ও ভালো মানুষদের তাদের থেকে দূরে থাকা অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ন্যায় তাদের প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ (مداراة) প্রদর্শন না করা।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الوسيلة الخامسة:إدخال السرور على الآخرين

وهي من أهم الوسائل في تقوية الروابط وامتزاج القلوب وائتلافها.. كما إن إدخال السرور على المسلم يعد من أفضل القربات وأعظم الطاعات التي تقرب العبد إلى رب الأرض والسماوات.. ولإدخال السرور إلى القلوب المسلمة طرق كثيرة وأبواب عديدة منها ما ورد في حديث ابن عمر:
পঞ্চম মাধ্যম: অন্যদের আনন্দিত করা

এটি পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ়করণ এবং হৃদয়সমূহের মেলবন্ধন ও সম্প্রীতি স্থাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। তদুপরি, একজন মুসলিমের মনে আনন্দ দেওয়া শ্রেষ্ঠ ইবাদত এবং মহান আনুগত্যের কাজসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা বান্দাকে আসমান ও জমিনের রবের নিকটবর্তী করে দেয়। মুসলিম মানসে আনন্দ সঞ্চারের বহুবিধ পন্থা ও উপায় রয়েছে, যার মধ্য থেকে কিছু বিষয় ইবনে উমরের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ১৭)
«أحب الناس إلى الله أنفعهم وأحب الأعمال إلى الله سرور تدخله على مؤمن!! ولكن كيف تدخله؟! قال: تكشف عنه كربًا أو تقضي عنه دينًا أو تطرد عنه جوعًا. ولئن أمشي مع أخي المسلم في حاجة أحب إلي من أن أعتكف شهرًا في المسجد ومن كف غضبه ستر الله عورته ومن كظم غيظه ولو شاء الله أن يمضيه أمضاه ملأ الله في قلبه رجاء يوم القيامة ومن مشى مع أخيه المسلم في حاجة حتى يثبتها له ثبت الله قدمه يوم تزل فيه الأقدام» وإن سوء الخلق ليفسد الأعمال فلا أقل من الابتسامة والبشاشة فابتسامتك بوجه من تلقاه من المسلمين لها أثر في كسب قلوبهم؛ولذلك قال عليه الصلاة والسلام «لا تحقرن من المعروف شيئًا ولو أن تلقى أخاك بوجه طلق» والوجه الطلق هو الذي تظهر على محياه البشاشة والسرور.. قال عبد الله بن الحارث «ما رأيت أحدًا أكثر تبسمًا من رسول الله صلى الله عليه وسلم» وقال جرير «ما حجبني رسول الله صلى الله صلى الله عليه وسلم منذ أسلمت ولا رآني إلا تبسم» .

كما كان صلى الله عليه وسلم ينبسط مع الصغير والكبير يلاطفهم ويداعبهم وكان لا يقول إلا حقا وإليك هاتين الصورتين من صور مداعبته صلى الله عليه وسلم وكسبه لقلوب صحابته.
«আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো কোনো মুমিনের অন্তরে আনন্দ প্রবেশ করানো!! কিন্তু কীভাবে তা প্রবেশ করাবেন? তিনি বললেন: আপনি তার কোনো কষ্ট দূর করে দেবেন অথবা তার ঋণ পরিশোধ করে দেবেন কিংবা তার ক্ষুধা নিবারণ করবেন। আর আমি আমার কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজনে তার সাথে চলাফেরা করাকে মসজিদে এক মাস ইতিকাফ করার চেয়েও বেশি পছন্দ করি। যে ব্যক্তি নিজের রাগ সংবরণ করবে, আল্লাহ তার দোষত্রুটি ঢেকে রাখবেন। আর যে ব্যক্তি নিজের ক্রোধ দমন করবে—অথচ আল্লাহ চাইলে তা কার্যকর করতে পারতেন—কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার অন্তরকে আশায় পরিপূর্ণ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তার সাথে হাঁটবে, আল্লাহ সেই দিন তার পা স্থির রাখবেন যেদিন পাগুলো পিছলে যাবে»। আর নিশ্চয়ই দুশ্চরিত্র আমলসমূহকে নষ্ট করে দেয়; তাই অন্তত হাসি ও প্রফুল্লতা প্রকাশ করা উচিত। কেননা আপনি যখন কোনো মুসলিমের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করেন, তখন তা তাদের হৃদয় জয় করতে প্রভাব ফেলে; এই কারণেই রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, «তুমি কোনো ভালো কাজকেই তুচ্ছ জ্ঞান করো না, এমনকি তা তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা হলেও» আর হাস্যোজ্জ্বল চেহারা বলতে সেই চেহারাকে বোঝায় যার অবয়বে প্রফুল্লতা ও আনন্দ ফুটে ওঠে... আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস (রা.) বলেন, «আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে বেশি হাস্যোজ্জ্বল আর কাউকে দেখিনি» এবং জারির (রা.) বলেন, «আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে কখনো (তাঁর দরবারে প্রবেশে) বাধা দেননি এবং যখনই তিনি আমাকে দেখতেন, তখনই মুচকি হাসতেন»।

তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) ছোট-বড় সবার সাথে মেলামেশা করতেন, তাদের সাথে কোমল আচরণ ও কৌতুক করতেন; তবে তিনি সত্য ছাড়া আর কিছু বলতেন না। নিচে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কৌতুক করার এবং সাহাবায়ে কেরামের হৃদয় জয় করার দুটি চিত্র তুলে ধরা হলো।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ১৮)
الأولى - مع كبار السن:

أخرج أحمد عن أنس رضي الله عنه «أن رجلًا من أهل البادية كان اسمه زاهرًا وكان رسول الله يحبه وكان دميمًا (قبيحًا) فأتاه رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يبيع متاعه فاحتضنه من خلفه ولا يبصره الرجل فقال: أرسلني.. من هذا؟ فالتفت فعرف النبي صلى الله عليه وسلم فجعل يلصق ظهره بصدر النبي صلى الله عليه وسلم حين عرفه وجعل النبي صلى الله عليه وسلم يقول (من يشتري العبد؟) فقال: يا رسول الله - إذن - والله تجدني كاسدا فقال رسول الله لكن عند الله لست بكاسد أو قال عند الله غال» .

أما الصورة الثانية: فهي ملاطفته للأطفال وإدخال السرور عليهم.. فعند البخاري من حديث أنس «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس خلقًا وكان لي أخ فطيم يسمى أبا عمير لديه عصفور مريض اسمه النغير فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يلاطف الطفل الصغير ويقول (يا أبا عمير ما فعل النغير» .

وهكذا أخي الداعية ما ترك رسول الله صلى الله عليه وسلم سبيلًا إلى قلوب الناس إلا وسلكه ما لم يكن حرامًا، فإذا كان كذلك كان أبعد الناس عنه صلى الله عليه وسلم .
প্রথমত - বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে:

আহমদ বর্ণনা করেছেন (أخرج) আনাস (রা.) থেকে যে, «মরুচারীদের মধ্য হতে জনৈক ব্যক্তি ছিলেন যার নাম ছিল যাহির। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে ভালোবাসতেন, অথচ তিনি কুৎসিত চেহারার ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর নিকট আসলেন এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর পণ্যসামগ্রী বিক্রয় করছিলেন। নবীজি (সা.) তাঁকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলেন, অথচ সেই ব্যক্তি তাঁকে দেখতে পাচ্ছিলেন না। তিনি বললেন: আমাকে ছেড়ে দাও... কে এটি? অতঃপর তিনি যখন ঘুরে তাকালেন এবং নবী (সা.)-কে চিনতে পারলেন, তখন তিনি তাঁর পিঠ নবী (সা.)-এর বক্ষের সাথে মিশিয়ে দিতে লাগলেন যখন তিনি তাঁকে চিনতে পারলেন। আর নবী (সা.) বলতে লাগলেন, 'কে এই গোলামকে ক্রয় করবে?' তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে তো আল্লাহর কসম, আপনি আমাকে অচল বা মূল্যহীন হিসেবে পাবেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: কিন্তু আল্লাহর কাছে তুমি অচল নও, অথবা বললেন: আল্লাহর কাছে তুমি অতি মূল্যবান»।

আর দ্বিতীয় চিত্রটি হলো: শিশুদের প্রতি তাঁর কোমলতা এবং তাদের আনন্দ দান। বুখারিতে আনাস (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে এসেছে, «রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। আমার একজন ছোট ভাই ছিল যাকে আবু উমাইর বলে ডাকা হতো। তার একটি নুগাইর (ছোট পাখি) ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) সেই ছোট শিশুটির সাথে রসিকতা করতেন এবং বলতেন: হে আবু উমাইর! নুগাইর কী করছে?»

হে দাঈ ভাই! এভাবেই রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষের অন্তরে পৌঁছানোর এমন কোনো পথ বাকি রাখেননি যা তিনি অনুসরণ করেননি—যতক্ষণ না তা হারাম হতো। আর যখন বিষয়টি হারামের অন্তর্ভুক্ত হতো, তখন তিনি (সা.) তা থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করতেন।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الوسيلة السادسة:

احترام المسلمين وتقديرهم والتأدب معهم وتبجيلهم وإجلالهم
فقد كان صلى الله عليه وسلم يجل من يدخل عليه ويكرمه وربما بسط له ثوبه ويؤثره بالوسادة التي تحته ويعزم عليه في الجلوس عليها إن أبى وينزل الناس منازلهم ويعرف فضل أولي الفضل وقال عليه أفضل الصلاة والسلام يوم الفتح «من دخل دار أبى سفيان فهو آمن» وقال صلى الله عليه وسلم «ليس منا من لم يجل كبيرنا ويرحم صغيرنا ويعرف لعالمنا حقه» ومما ينبغي أن نذكرك به - أخي الداعية - في هذا المقام:

احترام من خالفك في الرأي مما فيه مجال للاختلاف ومتسع للنظر.. وعدم انتقاصه ورميه بالجهل وقلة الفقه وسوء الظن به ما دام ظاهره السلامة.

احترام المتحدث وعدم مقاطعته. قال ابن كثير رحمه الله وكان صلى الله عليه وسلم إذا حدثه أحد التفت إليه بوجهه وجسمه وأصغى إليه تمام الإصغاء ولا يقطع الحديث حتى يكون المتكلم هو الذي يقطعه.
ষষ্ঠ উপায়:

মুসলিমদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, মূল্যায়ন, তাদের সাথে শিষ্টাচার বজায় রাখা এবং তাদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা।
কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট আগমনকারীকে সম্মান করতেন এবং তাকে মর্যাদা দিতেন। অনেক সময় তিনি তার জন্য নিজের পরিধেয় চাদর বিছিয়ে দিতেন এবং নিজের নিচের তকিয়াটি তাকে দিয়ে দিতেন। সে যদি বসতে অস্বীকার করত, তবে তিনি তাকে সেটির ওপর বসার জন্য পীড়াপীড়ি করতেন। তিনি মানুষকে তাদের যথাযথ মর্যাদার আসনে আসীন করতেন এবং গুণীজনদের শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবন করতেন। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছিলেন, "যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন, "সে আমাদের আদর্শের অন্তর্ভুক্ত নয় যে আমাদের বড়দের সম্মান করে না, আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের আলেম (عالم)-এর প্রাপ্য অধিকার চেনে না।" হে দাঈ ভাই, এই প্রেক্ষাপটে আপনার নিকট যা স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন তা হলো:

মতভেদ ও পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে এমন বিষয়ে আপনার ভিন্নমত পোষণকারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা... এবং তাকে হেয় প্রতিপন্ন না করা কিংবা তাকে মূর্খতা ও বুঝের স্বল্পতা বা অল্প ফিকহ (فقه) সম্পন্ন বলে অভিযুক্ত না করা এবং তার প্রতি কুধারণা পোষণ না করা, যতক্ষণ পর্যন্ত বাহ্যিকভাবে সে সঠিক থাকে।

বক্তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং কথা চলাকালীন তাকে বাধা না দেওয়া। ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে যখন কেউ কথা বলত, তখন তিনি স্বীয় মুখমণ্ডল ও শরীর নিয়ে তার দিকে পূর্ণ নিবিষ্ট হতেন এবং অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তার কথা শ্রবণ করতেন। কথা বলা ব্যক্তি নিজে কথা শেষ না করা পর্যন্ত তিনি তার কথা বিচ্ছিন্ন করতেন না।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الوسيلة السابعة: حسن الكلام

لقد حث النبي صلى الله عليه وسلم على طيب القول وحسن الكلام، كما في قوله صلى الله عليه وسلم «الكلمة الطيبة صدقة» لما لها من أثر في تأليف القلوب وتطييب النفوس إنه ليس من المهم توصيل الحقيقة إلى الناس فقط ولكن الأهم هو الوعاء الذي سيحمل تلك الحقيقة بها.. فإذا كان الرسول صلى الله عليه وسلم يقول «زينوا القرآن بأصواتكم فإن الصوت الحسن يزيد القرآن حسنا» فمن باب أولى أن نقول للدعاة زينوا الدعوة بحسن كلامكم فان الكلام الحسن يزيد الدعوة حسنا وجاذبية.. وخاصة عند النصح.. أن النصح علاج مر فليصحبه شئ من حلو الكلام فكن من الذين يعملون الحق ويرحمون الخلق واسمع إلى يحيى بن معاذ يقول: ((أحسن شئ كلام رقيق يستخرج من بحر عميق على لسان رجل رقيق)) وكم من كلمة سوء نابية ألقاها صاحبها ولم يبال بنتائجها وبتبعاتها فرقت بين القلوب ومزقت الصفوف وزرعت الحقد والبغضاء والكراهية والشحناء في النفوس؛ ولذلك ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال «إن العبد ليتكلم بالكلمة ما يتبين ما فيها يهوي بها في النار أبعد مما بين المشرق والمغرب» .
সপ্তম মাধ্যম: উত্তম কথা

নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তম বাক্য ও সুন্দর কথা বলার প্রতি উৎসাহিত করেছেন, যেমনটি তাঁর এই বাণীতে রয়েছে: "উত্তম কথা একটি সদকা।" কারণ অন্তরসমূহকে জয় করতে এবং আত্মাকে প্রশান্ত করতে এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। মানুষের কাছে কেবল সত্য পৌঁছে দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং সেই সত্যটি যে আধারে (উপস্থাপনায়) পেশ করা হচ্ছে সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে থাকেন, "তোমরা তোমাদের কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে কুরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো, কারণ সুন্দর কণ্ঠ কুরআনের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়", তবে দাঈদের উদ্দেশ্যে এটি বলা আরও বেশি সঙ্গত যে, আপনারা আপনাদের সুন্দর কথার মাধ্যমে দাওয়াতকে সুশোভিত করুন। কারণ উত্তম কথা দাওয়াতের সৌন্দর্য ও আকর্ষণকে বৃদ্ধি করে, বিশেষ করে উপদেশের ক্ষেত্রে। উপদেশ হলো একটি তিক্ত ওষুধের মতো, তাই এর সাথে কিছুটা মিষ্ট ভাষা যুক্ত হওয়া উচিত। সুতরাং আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হোন যারা সত্যের ওপর আমল করে এবং সৃষ্টির প্রতি দয়া প্রদর্শন করে। ইয়াহইয়া ইবনে মুআয-এর উক্তিটি লক্ষ্য করুন, তিনি বলেছেন: "সবচেয়ে সুন্দর জিনিস হলো এক কোমল হৃদয়ের মানুষের জবান থেকে নিঃসৃত সূক্ষ্ম কথা, যা যেন এক গভীর সমুদ্র থেকে আহরণ করা হয়েছে।" কত এমন মন্দ ও রূঢ় শব্দ রয়েছে যা উচ্চারণকারী তার পরিণাম ও প্রভাবের তোয়াক্কা না করেই বলে ফেলে, যা অন্তরসমূহের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায়, কাতারসমূহকে ছিন্নভিন্ন করে এবং মানুষের মনে বিদ্বেষ, ঘৃণা ও শত্রুতার বীজ বপন করে। আর একারণেই তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই বান্দা কখনও কখনও এমন কথা বলে ফেলে যার পরিণাম সম্পর্কে সে চিন্তা করে না, অথচ সেই একটি কথার কারণে সে জাহান্নামের এত গভীরে গিয়ে পড়ে যা পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্বের চেয়েও বেশি।"
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ২১)
أيها الأخ الكريم.. وأختم هذه الوسيلة بهذا الموقف التربوي الذي دار فيه الحوار بين الرسول صلى الله عليه وسلم وعائشة رضي الله عنها قالت عائشة رضي الله عنها: «دخل رهط من اليهود على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا السام عليكم قالت عائشة ففهمتها فقلت:عليكم السام واللعنة قالت: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم مهلًا يا عائشة فقلت يا رسول الله أو لم تسمع ما قالوا؟ قالت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم قد قلت وعليكم» فكلام الرسول صلى الله عليه وسلم مع أهل الفجور والفسوق والكفر يحتاج منا إلى دراسة متأنية ففيه البصيرة النافذة والحكمة البالغة.
হে সম্মানিত ভাই... আমি এই উপায়ের (বা প্রসঙ্গের) সমাপ্তি টানছি এমন একটি শিক্ষামূলক ঘটনার মাধ্যমে, যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-র মাঝে একটি কথোপকথন হয়েছিল। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন: «একদল ইহুদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, 'আস-সামু আলাইকুম' (আপনার মৃত্যু হোক)। আয়েশা বলেন, আমি বিষয়টি বুঝতে পেরে বললাম: 'বরং তোমাদের ওপরই মৃত্যু এবং অভিশাপ বর্ষিত হোক'। তিনি (আয়েশা) বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: 'হে আয়েশা, শান্ত হও'। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি শোনেননি তারা কী বলেছে?' আয়েশা বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: 'আমি তো বলেছি—এবং তোমাদের ওপরও'»। সুতরাং পাপাচারী, পাপাচার (فسوق) ও কুফর (كفر)-এ লিপ্ত ব্যক্তিদের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাক্যালাপ আমাদের নিবিড় পর্যালোচনার দাবি রাখে; কারণ এর মধ্যে নিহিত রয়েছে সুতীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি ও পরম প্রজ্ঞা।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الوسيلة الثامنة: التواضع ولين الجانب

لقد كسب رسول الله صلى الله عليه وسلم بتواضعه ولين جانبه قلوب الناس من حوله.ذكر أنس رضي الله عنه صورة من صور تواضعه عليه الصلاة والسلام فقال «إن امرأة كان في عقلها شئ جاءته فقالت إن لي إليك حاجة قال اجلسي يا أم فلان في أي طرق المدينة شئت أجلس إليك حتى أقضي حاجتك قال فجلست فجلس النبي صلى الله عليه وسلم إليها حتى فرغت من حاجتها» وعند البخاري: «إن كانت الأمة من إماء أهل المدينة لتأخذ بيد رسول الله صلى الله عليه وسلم فتنطلق به حيث شاءت حتى يقضي حاجتها ودخل عليه رجل فأصابته من هيبته رعدة فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((هون عليك فإني لست بملك إنما أنا ابن امرأة من قريش كانت تأكل القديد» وبهذا الأسلوب والتواضع ولين الجانب دخل الرسول صلى الله عليه وسلم إلى شغاف قلوب الناس من حوله.
অষ্টম মাধ্যম: বিনয় (التواضع) ও নম্রতা (لين الجانب)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিনয় (التواضع) এবং নম্র ব্যবহারের (لين الجانب) মাধ্যমে তাঁর চারপাশের মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর বিনয়ের (التواضع) একটি চিত্র বর্ণনা করে বলেন, «এক মহিলার মস্তিস্কে কিছুটা সমস্যা ছিল। সে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আপনার কাছে আমার একটি প্রয়োজন আছে। তিনি বললেন, হে অমুকের মা! মদিনার যে কোনো পথে তুমি চাও বসো, আমি তোমার সাথে বসব যতক্ষণ না তোমার প্রয়োজন পূরণ হয়। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সে বসল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে বসলেন যতক্ষণ না সে তার প্রয়োজন শেষ করল।» এবং বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে: «মদিনার দাসীদের মধ্যে কোনো দাসী যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ধরত, তবে সে তাঁকে যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যেত যতক্ষণ না তার প্রয়োজন পূরণ হতো। একবার এক ব্যক্তি তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁর প্রভাবে থরথর করে কাঁপতে লাগলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: সহজ হও, আমি কোনো রাজা নই; আমি তো কুরাইশ বংশের এমন এক মহিলার পুত্র, যিনি শুকনা মাংস (القديد) খেতেন।» এই পদ্ধতি, বিনয় (التواضع) এবং নম্রতার (لين الجانب) মাধ্যমেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চারপাশের মানুষের হৃদয়ের গভীরতম স্থানে প্রবেশ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ২৩)
أما الظهور بمظهر الأستاذية والنظر إلى المسلمين نظرة دونية فهي صفة شيطانية لا تورث إلا البغض والقطيعة. {قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ} ص، الآية:76.وقد قال صلى الله عليه وسلم «من كان هينًا لينًا سهلًا حرمه الله على النار»
পক্ষান্তরে, পাণ্ডিত্য জাহির করা এবং মুসলিমদের অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখা একটি শয়তানি বৈশিষ্ট্য, যা কেবল বিদ্বেষ ও সম্পর্কচ্ছেদই বয়ে আনে। {সে বলেছিল: ‘আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদা থেকে’} — সুরা সাদ, আয়াত: ৭৬। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বিনয়ী, কোমল ও সহজ প্রকৃতির হয়, আল্লাহ তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الوسيلة التاسعة: الجود والكرم

إليك - أخي الحبيب - هذا السخاء وذلك الجود يأسر القلوب ويطيب النفوس … فعن أنس رضي الله عنه قال: «إن رجلا سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم فأعطاه غنمًا بين جبلين فرجع إلى بلده وقال:أسلموا فإن محمدًا يعطي عطاء من لا يخشى فاقة» فانظر وفقك الله كيف أثر هذا السخاء النبوي على قلب هذا الرجل وجعل منه - بإذن الله - بعد أن كان حربًا على الإسلام أصبح داعية إليه.

وعن جابر رضي الله عنه قال «ما سئل النبي صلى الله عليه وسلم عن شيء قط فقال لا» ومن الجود الهدية وقد قال صلى الله عليه وسلم «تهادوا تحابوا» فالهدية باب من أبواب كسب القلوب وتنمية التآلف بينها.
‌‌নবম মাধ্যম: দানশীলতা ও উদারতা

হে প্রিয় ভ্রাতা—আপনার সামনে এই মহানুভবতা ও দানশীলতা উপস্থাপন করছি যা হৃদয়সমূহকে জয় করে এবং আত্মাকে প্রশান্ত করে … আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: «এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কিছু চাইলে তিনি তাকে দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী একপাল বকরি দান করলেন। এরপর সে নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে গিয়ে বলল: তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো, কেননা মুহাম্মাদ এমনভাবে দান করেন যে তিনি দারিদ্র্যের ভয় করেন না»। আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন, দেখুন এই নববী দানশীলতা কীভাবে সেই ব্যক্তির হৃদয়ে প্রভাব বিস্তার করল এবং আল্লাহর ইচ্ছায় ইসলামের শত্রু হওয়ার পর তাকে ইসলামের একজন দাঈ বা আহ্বায়কে পরিণত করল।

জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কোনো কিছু চাওয়া হলে তিনি কখনো ‘না’ বলেননি»। দানশীলতার একটি রূপ হলো উপহার প্রদান, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা একে অপরকে উপহার দাও, তবেই তোমাদের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে»। সুতরাং উপহার হলো হৃদয় জয় করার এবং অন্তরসমূহের মাঝে হৃদ্যতা বৃদ্ধির অন্যতম একটি দ্বার।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الوسيلة العاشرة: الرفق

فعن عائشة رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله رفيق يحب الرفق في الأمر كله» بل الرفق مفضل على كثير من الأخلاق؛ لذا كان ما يعطيه الله لصاحبه من الثناء الحسن في الدنيا والأجر الجزيل في الآخرة أكثر مما يعطيه على غيره.. لقوله عليه أفضل الصلاة والسلام «إن الله رفيق يحب الرفق ويعطي بالرفق ما لا يعطي على العنف وما لا يعطي على سواه» .

ومن المواطن التي يتأكد فيها الرفق عند تقويم خطأ الجاهل. وانظر الي هذه الصورة المعبرة في تقويم الأشخاص عند خطئهم والتي يملؤها الرفق والرحمة.
দশম মাধ্যম: কোমলতা (الرفق)

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ কোমল (رفيق) এবং তিনি সকল বিষয়ে কোমলতা (الرفق) পছন্দ করেন।” বস্তুত কোমলতা (الرفق) অনেক চরিত্রের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ; তাই আল্লাহ তাআলা কোমল স্বভাবের অধিকারীকে দুনিয়াতে উত্তম প্রশংসা এবং আখিরাতে যে বিপুল প্রতিদান দান করেন, তা অন্য কোনো গুণের কারণে দান করেন না। এর সপক্ষে নবিজি (সা.)-এর বাণী হলো: “নিশ্চয়ই আল্লাহ কোমল (رفيق), তিনি কোমলতা (الرفق) পছন্দ করেন এবং কোমলতার (الرفق) বিনিময়ে তিনি যা দান করেন, কঠোরতা (العنف) কিংবা অন্য কোনো কিছুর বিনিময়ে তা দান করেন না।”

আর অজ্ঞ ব্যক্তির ভুল সংশোধনের সময় কোমলতা (الرفق) অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। ভুল করার সময় ব্যক্তিদের মূল্যায়ন ও সংশোধনের এমন এক তাৎপর্যপূর্ণ চিত্র দেখুন, যা কোমলতা (الرفق) এবং দয়া (الرحمة) দ্বারা পরিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ২৬)
فعن معاوية بن الحكم السلمي رضي الله عنه قال «بينما أنا أُصلي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ عطس رجل من القوم فقلت يرحمك الله فرماني القوم بأبصارهم فقلت واثكل أمياه ما شأنكم تنظرون إلي؟ فجعلوا يضربون بأيديهم على أفخاذهم فما رأيتهم يصمتونني لكني سكت فلما صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فبأبي هو وأمي ما رأيت معلمًا قبله ولا بعده أحسن تعليمًا منه فوالله ما نهرني ولا ضربني ولا شتمني قال ((إن هذه الصلاة لا يصلح فيها شيء من كلام الناس إنما هي التسبيح والتكبير وقراءة القران)) أو كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت يا رسول الله إني حديث عهد بجاهلية وقد جاء الله بالإسلام وإن منا رجالا يأتون الكهان قال ((فلا تأتهم)) قلت ومنا رجال يتطيرون قال ((ذلك شيء يجدونه في صدورهم فلا يصدنهم» .

والأمثلة على ذلك كثيرة كحديث الأعرابي الذي بال في المسجد ومعاملة الرسول صلى الله عليه وسلم للشاب الذي استأذنه بالزنا وحسن تصرفه عليه الصلاة والسلام معه.
মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "একদা আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করছিলাম। এমন সময় উপস্থিত লোকদের মধ্যে এক ব্যক্তি হাঁচি দিলেন। আমি বললাম: 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' (আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন)। তখন উপস্থিত লোকজন আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে লাগলেন। আমি বললাম: 'হায় আফসোস! তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা আমার দিকে তাকাচ্ছ?' তখন তারা তাদের উরুর ওপর হাত চাপড়াতে শুরু করলেন। আমি যখন দেখলাম তারা আমাকে নীরব করতে চাচ্ছেন, তখন আমি চুপ হয়ে গেলাম। যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত শেষ করলেন—আমার পিতা ও মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গিত হোক—আমি তাঁর আগে বা পরে তাঁর চেয়ে উত্তম কোনো শিক্ষক দেখিনি। আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে ধমক দেননি, প্রহার করেননি এবং গালিও দেননি। তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই এই সালাতে মানুষের সাধারণ কথাবার্তা বলা সমীচীন নয়; এটি কেবল তাসবিহ, তাকবির এবং কুরআন তিলাওয়াতের জন্য।' অথবা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেমনটি বলেছেন। আমি বললাম: 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহিলিয়াতের যুগ থেকে নতুন এসেছি এবং আল্লাহ ইসলাম দান করেছেন। আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা গণকদের কাছে যায়।' তিনি বললেন: 'তুমি তাদের কাছে যেও না।' আমি বললাম: 'আমাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা কুলক্ষণ গ্রহণ করে।' তিনি বললেন: 'এটি এমন এক বিষয় যা তারা তাদের অন্তরে অনুভব করে, সুতরাং এটি যেন তাদের (কোনো কাজ থেকে) বিরত না রাখে।'"

এ বিষয়ের উদাহরণ অনেক, যেমন সেই গ্রাম্য ব্যক্তির হাদিস যে মসজিদে প্রস্রাব করেছিল এবং সেই যুবকের প্রতি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সদাচরণ, যে তাঁর কাছে ব্যভিচারের অনুমতি চেয়েছিল এবং তার সাথে তাঁর চমৎকার ব্যবহারের দৃষ্টান্ত।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ২৭)
وفي الجملة؛ فإن الذي ينظر إلى هذه الوسائل يجد أنها لا تكاد تخرج عن دائرة الأخلاق، فالتزامها إنما هو التزام بالخلق الحسن الذي قال عنه صلى الله عليه وسلم «أكمل المؤمنين إيمانًا أحسنهم خلقا»

وقبل هذا وكله وبعده لا بد أن نذكرك بملاك ذلك كله وهو الإقبال على الله الإقبال على رب القلوب ونيل محبته لحديث أبى هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال «إذا أحب الله عبدًا نادى جبريل إن الله يحب فلانًا فأحبه فيحبه جبريل فينادي جبريل في أهل السماء إن الله يحب فلانا فأحبوه فيحبه أهل السماء ثم يوضع له القبول في أهل الأرض» وحسبك بداعية قد وضع الله له القبول في أهل الأرض قال ابن حجر رحمه الله ((والمراد بالقبول: قبول القلوب له بالمحبة والميل إليه بالرضا عنه))

وزاد الإمام مسلم رحمه الله «وإذا أبغض عبدًا دعا جبريل إني أبغض فلانًا فأبغضه فيبغضه جبريل فينادي جبريل في أهل السماء: إن الله يبغض فلانا فأبغضوه فيبغضه أهل السماء ثم توضع له البغضاء في الأرض» والعياذ بالله.
সংক্ষেপে; যে ব্যক্তি এই মাধ্যমগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করবে সে দেখতে পাবে যে, এগুলো নৈতিকতার পরিমণ্ডল থেকে প্রায় বের হয় না। সুতরাং এগুলোর অনুসরণ মূলত উত্তম চরিত্রের অনুসরণ যার সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিনদের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে সেই সবচেয়ে পরিপূর্ণ, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।"

আর এই সবকিছুর আগে ও পরে, আমাদের অবশ্যই আপনাকে এই সবকিছুর মূল ভিত্তি সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে; আর তা হলো আল্লাহর অভিমুখী হওয়া, অন্তরের প্রতিপালকের অভিমুখী হওয়া এবং তাঁর ভালোবাসা অর্জন করা। এর সপক্ষে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস রয়েছে, তিনি বলেছেন: "যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাঈলকে ডেকে বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাসো। ফলে জিবরাঈল তাকে ভালোবাসেন। এরপর জিবরাঈল আকাশবাসীদের মাঝে ঘোষণা করে দেন যে: নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ভালোবাসো। তখন আকাশবাসীরা তাকে ভালোবাসেন। এরপর জমিনবাসীদের মাঝে তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা (قبول) স্থাপন করা হয়।" আর একজন দাঈর জন্য এটাই যথেষ্ট যে, আল্লাহ জমিনবাসীদের মাঝে তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা (قبول) দান করেছেন। ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "গ্রহণযোগ্যতা (قبول) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ভালোবাসার মাধ্যমে অন্তরের তাকে গ্রহণ করে নেওয়া এবং সন্তুষ্টির সাথে তার প্রতি অনুরাগী হওয়া।"

ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) আরও বর্ণনা করেছেন: "আর আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ঘৃণা করেন, তখন জিবরাঈলকে ডেকে বলেন: আমি অমুককে ঘৃণা করি, সুতরাং তুমিও তাকে ঘৃণা করো। ফলে জিবরাঈল তাকে ঘৃণা করেন। এরপর জিবরাঈল আকাশবাসীদের মাঝে ঘোষণা করেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুককে ঘৃণা করেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ঘৃণা করো। ফলে আকাশবাসীরা তাকে ঘৃণা করেন। এরপর জমিনবাসীদের মাঝে তার প্রতি ঘৃণা স্থাপন করা হয়।" আল্লাহর কাছে আমরা এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌أولا عدم مراعاة أحوال الناس وظروفهم.. وقد نبه الرسول صلى الله عليه وسلم إلى الأمر فقال لمعشر الدعاة «إذا صلى أحدكم بالناس فليخفف فإن فيهم الضعيف والسقيم والكبير وإذا صلى أحدكم لنفسه فليطول ما شاء» فهي وصية من داعية هذه الأمة عليه أفضل الصلاة والسلام لجميع الدعاة بضرورة مراعاة أحوال الناس في ركن من أهم أركان هذا الدين؛ لذا فمراعاة الناس فيما دون ذلك مرتبة من العبادات والمعاملات من باب أولى.

وإليك هذه الحادثة التي تدل على أن إغفال هذه الوصية يؤدي إلى نفرة الناس وربما يسبب تركهم للعمل الصالح أو تأخرهم عنه.
প্রথমত, মানুষের অবস্থা ও পরিস্থিতির প্রতি লক্ষ্য না রাখা.. এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন; তিনি দায়ীদের জামাতকে লক্ষ্য করে বলেছেন, "তোমাদের কেউ যখন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করবে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কেননা তাদের মধ্যে দুর্বল (الضعيف), অসুস্থ ও বৃদ্ধ ব্যক্তি থাকে। আর যখন তোমাদের কেউ একাকী সালাত আদায় করবে, তখন সে যত ইচ্ছা দীর্ঘ করতে পারে।" এটি এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ দাঈ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে সকল দায়ীদের প্রতি একটি অসিয়ত যে, এই দ্বীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুকনের ক্ষেত্রে মানুষের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। তাই ইবাদত ও মুয়ামালাতের অন্যান্য ক্ষেত্রে মানুষের প্রতি লক্ষ্য রাখা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত।

এখানে এমন একটি ঘটনার উল্লেখ করা হলো যা প্রমাণ করে যে, এই অসিয়ত উপেক্ষা করা মানুষের মনে অনীহা সৃষ্টি করে এবং সম্ভবত এটি তাদের নেক আমল ত্যাগ করার অথবা তা থেকে পিছিয়ে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাকসিবুন নাস (পৃষ্ঠা: ২৯)
«كان معاذ يصلي مع النبي صلى الله عليه وسلم ثم يأتي فيؤم قومه فصلى ليلة مع النبي صلى الله عليه وسلم العشاء ثم أتى قومه فأمهم فافتتح بسورة البقرة فانحرف رجل فسلم ثم صلى وحده وانصرف فقالوا له أنافقت يا فلان؟ قال لا والله ولآتين رسول الله صلى الله عليه فلأخبرنه فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله إنا أصحاب نواضح نعمل بالنهار وإن معاذًا صلى معك العشاء ثم أتى فافتتح بسورة البقرة فأقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم على معاذ فقال: ((أفتان أنت؟ اقرأ بكذا اقرأ بكذا (وفي رواية: أفتان أنت ثلاثا؟! اقرأ الشمس وضحاها وسبح اسم ربك الأعلى ونحوهما»

«মুয়াজ (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে নামাজ পড়তেন, অতঃপর তিনি ফিরে এসে নিজ কওমের ইমামতি করতেন। এক রাতে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এশার নামাজ পড়লেন, তারপর নিজ কওমের নিকট ফিরে গিয়ে তাদের ইমামতি শুরু করলেন এবং সূরা আল-বাকারাহ তিলাওয়াত আরম্ভ করলেন। তখন এক ব্যক্তি জামাত ত্যাগ করে পৃথক হয়ে গেলেন এবং সালাম ফিরিয়ে একা নামাজ আদায় করে চলে গেলেন। লোকেরা তাকে বলল: 'হে অমুক! তুমি কি মুনাফিক হয়ে গেছ?' তিনি বললেন: 'না, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করব।' অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল! আমরা পানি সেচকারী উটের মালিক এবং দিনে কাজ করি। আর মুয়াজ আপনার সাথে এশার নামাজ পড়ে এসে সূরা আল-বাকারাহ দিয়ে তিলাওয়াত শুরু করেছেন।' তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুয়াজের দিকে অভিমুখ করে বললেন: 'তুমি কি ফিতনাহ সৃষ্টিকারী (فتان)? তুমি অমুক অমুক সূরা পড়ো, অমুক অমুক সূরা পড়ো (অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: তুমি কি ফিতনাহ সৃষ্টিকারী (فتان)? — কথাটি তিনি তিনবার বললেন — তুমি ‘ওয়াশ-শামসি ওয়া দুহাহা’ এবং ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা’ ও এই জাতীয় সূরাসমূহ পাঠ করো)।'»