0/0
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: -)
كلمة للدعاة والمصلحين   (-)

القسم: كتب عامة


الكتاب: كلمة للدعاة والمصلحين

المؤلف: -

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 35

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 37

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দাওয়াতকর্মী ও সংস্কারকদের প্রতি একটি বাণী   (-)

বিভাগ: সাধারণ কিতাবসমূহ


কিতাব: দাওয়াতকর্মী ও সংস্কারকদের প্রতি একটি বাণী

লেখক: -

প্রকাশক: কিতাবটি কোনো তথ্য ছাড়াই সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠাসংখ্যা (মুদ্রিত কিতাব) : ৩৫

[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৩৭

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ১)
كلمة للدعاة والمصلحين

بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.

وبعد … فإن هذا الكتيب يحوي مقالين كتبا في فترتين سابقتين، أذكر بهما نفسي المقصرة وإخواني، سائلا الله أن يكتب بهما النفع، فما أصبت فيه ووفقت فمن الله وبفضله، وما أخطأت فيه فمن نفسي والشيطان.

المقال الأول يعرض -على شكل نقاط- عددا من الإشكالات التي لوحظت في العديد من الخطابات الدعوية التي حدثت تفاعلا مع مآسي أمتنا (وتخبطاتها) الكثيرة المتنوعة المتكررة في عصرنا الحالي الذي نعيشه، والمقال الثاني يُذَكِّر ببعض الواجبات والمستوى الذي يؤمل أن يكون عليه الدعاة إلى الله خاصة في وقتنا هذا الذي كثرت فيها آلامنا واستبيحت دماؤنا وأذللنا أيما إذلال.
দায়ী ও সংস্কারকদের প্রতি একটি বাণী

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

অতঃপর … এই পুস্তিকাটিতে দুটি নিবন্ধ রয়েছে যা ইতিপূর্বে দুটি ভিন্ন সময়ে রচিত হয়েছে। এর মাধ্যমে আমি আমার ত্রুটিপূর্ণ সত্তাকে এবং আমার ভাইদেরকে উপদেশ দিচ্ছি; আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে কল্যাণ দান করেন। এতে আমি যেটুকু সঠিক লিখেছি এবং তাওফিকপ্রাপ্ত হয়েছি তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাঁর অনুগ্রহে; আর যা কিছু ভুল হয়েছে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে।

প্রথম নিবন্ধটি বর্তমান সময়ে আমাদের উম্মতের বহুমুখী ও পুনরাবৃত্তিমূলক বিয়োগান্তক ঘটনা (এবং বিভ্রান্তি)-সমূহের প্রতিক্রিয়ায় পরিলক্ষিত দাওয়াহ বিষয়ক বিভিন্ন বক্তব্যের বেশ কিছু সমস্যার কথা পয়েন্ট আকারে উপস্থাপন করছে। আর দ্বিতীয় নিবন্ধটি এমন কিছু দায়িত্ব ও প্রত্যাশিত মানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যা আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের (দায়ী) মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়; বিশেষত বর্তমানের এই সংকটকালে যখন আমাদের দুঃখ-কষ্ট বহুগুণ বেড়েছে, আমাদের রক্তকে বৈধ সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং আমাদেরকে চরমভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ২)
وقد ذيل المقالان بهوامش بها نقاط تذكيرية هامة أتمنى الالتفات لها، خاصة هوامش المقال الثاني والتي منذ سنوات وأنا أتمنى نشرها في كتيب مستقل وأتت الآن فرصة لأضعها باختصار في هذه الهوامش، فأسأل الله أن ينفع بها. وأتقدم بالشكر والدعاء لكل من أعانني في إخراج هذا الكتيب وتنقيحه.

اللهم عجل بفضلك وكرمك هداية أمتنا، وأعنا على أداء واجباتنا، وارزقنا الإخلاص وصدق محبتك، واكتب لنا يا عظيم النصر على الأعداء، وأفرحنا بكرمك بنيل رضاك، وبدخول فردوسك، وبلذة النظر إلى وجهك الكريم يوم لقاك.

4 / 6 / 1424هـ
নিবন্ধ দুটির শেষে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্মারক পয়েন্ট সম্বলিত পাদটীকা যুক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর প্রতি আমি দৃষ্টি আকর্ষণের আশা রাখি। বিশেষ করে দ্বিতীয় নিবন্ধের পাদটীকাগুলো, যা বহু বছর ধরে আমি একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা হিসেবে প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করছিলাম। এখন এই পাদটীকাগুলোতে সংক্ষেপে সেগুলো তুলে ধরার সুযোগ হয়েছে; আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে উপকার দান করেন। এই পুস্তিকাটি প্রকাশ ও পরিমার্জনে যারা আমাকে সাহায্য করেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং তাদের কল্যাণের জন্য দোয়া করছি।

হে আল্লাহ, আপনার অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদের উম্মাহর হেদায়েত ত্বরান্বিত করুন, আমাদের দায়িত্ব পালনে সাহায্য করুন, আমাদের নিষ্ঠা ও আপনার প্রতি সত্যকার ভালোবাসা নসিব করুন। হে মহান সত্তা, শত্রুদের বিরুদ্ধে আমাদের বিজয় দান করুন এবং আপনার সন্তুষ্টি অর্জন, জান্নাতুল ফিরদাউসে প্রবেশ এবং আপনার সাথে সাক্ষাতের দিনে আপনার মহান সত্তার পানে তাকানোর পরম তৃপ্তি দিয়ে আমাদের আনন্দিত করুন।

৪ / ৬ / ১৪২৪ হিজরি
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الخطاب الدعوي ومآسي المسلمين

هذه الكلمات في الفقرات التالية موجهةٌ لروح الأمة، وحاملي همها من الدعاة والمصلحين، وأصحاب الأقلام الطيبة، وإن كان الأصل أن كل الأمة تكون كذلك، فالدعوة إلى الله مسؤولية الجميع.

أولا: إشكالات في الخطاب:

1- يحز في النفس كثيرًا أن العديد من الخطباء والمحاضرين والكتاب والشعراء في وقتنا الحاضر وبالذات في مآسينا (وأيضا تخبطاتنا) الأخيرة الرهيبة، لا يقومون في خطبهم ودعائهم وتوجيهاتهم -عند الحديث عن هذه المآسي- بتذكير المسلمين بواجب العودة إلى الله، وواجب كل مسلم في تحقيقها بالشكل الواضح والكافي ، والمؤثر الحار ، الذي يوصل هذه الحقيقة إلى كل المسلمين، مبينًا لهم بوضوح أن هذا هو الحل،..... ومشعرًا لهم بأن مسؤولية تحقيقه تقع على كل فرد مسلم ،

مع أن هذا هو الحل الحقيقي الجذري (1) الموصل لتحقيق النصر، وإيقاف المآسي، وردع أعداء الدين.

قال تعالى: {إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ} ..الآية (محمد:7) ،

وقال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ} ..الآية (الرعد:11) ،

--------------------------------------------

(1) قد يخطر في فكر بعض المسلمين شبهة أن السبب الأساس لعجز الأمة هو تأخرها التقني والعسكري وتفرقها، والحقيقة أنه سبب هام بلا شك ولكنه ليس السبب الرئيس، لأن سنة الله اقتضت أن النصر الحقيقي التام لا يتحقق لأمتنا بدون عودة صادقة إليه واستقامة على أوامره حتى لو تقدمت ماديا وعسكريًّا واتحدت. ومن المعروف على مدى العصور أن أمتنا كانت ذات شأن في القوة بل وفي التقدم المادي عندما كانت مطبقة لدينها، وأن بداية تأخرها وضعفها وذهاب عزها تحصل عندما تنحرف عن دينها وشريعة ربها، لذا فالتخلف التقني والعسكري والتفرق في الأمة الإسلامية لاشك أنه من أسباب ضعفها (ويجب على الأمة أن تجتهد في تقويته) ولكنه متعلق وناتج بالدرجة الأولى من بُعدها عن الله وحقيقة منهج الإسلام. وهو بالدرجة الأولى عرضٌ للمرض الأساس للأمة وليس هو المرض نفسه،..... ثم إن الأمة الإسلامية إذا صدقت في العودة إلى الله والاستقامة على شرعه ثم جاهدت أعداءها- في الوقت والظرف المناسبين- فهي منصورة بإذن الله ولو لم تصل في العدة والعتاد والاستعداد إلى مثل مستوى أعدائها، فقط هي مطالبة بأن تعد ما تستطيعه من القوة وقتئذٍ. وتاريخنا الإسلامي شاهد على انتصارات المسلمين الكثيرة على أعداء لهم فاقوهم كثيرا في استعداداتهم المادية. وحبذا الرجوع إلى رسالة قيمة (من نشر دار ابن المبارك) تتحدث عن هذا الموضوع عنوانها (ما هو سبب تخلف المسلمين) . ولنتذكر أيضًا أن تقصير أمتنا في الأخذ بأسباب القوة المادية اللازمة هو أحد ذنوبها.
দাওয়াহর বয়ান এবং মুসলিমদের বিপর্যয়

পরবর্তী অনুচ্ছেদগুলোর এই কথাগুলো উম্মাহর প্রাণশক্তি এবং সেই সব দায়ী ও সংস্কারকদের প্রতি নিবেদিত, যারা উম্মাহর চিন্তায় নিমগ্ন এবং যারা কলম সৈনিক; যদিও মূল কথা হলো পুরো উম্মাহরই এমন হওয়া উচিত, কারণ আল্লাহর দিকে দাওয়াহ দেওয়া প্রত্যেকের দায়িত্ব।

প্রথমত: বয়ানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতাসমূহ:

১- এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বর্তমান সময়ের অনেক খতিব, বক্তা, লেখক ও কবি—বিশেষ করে আমাদের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বিপর্যয় (এবং আমাদের বিভ্রান্তিগুলোর) সময়ে—তাদের ভাষণ, দোয়া ও দিকনির্দেশনায় এই বিপর্যয়গুলো নিয়ে আলোচনার সময় মুসলিমদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আবশ্যকতা এবং এটি অর্জনে প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্যের কথা যথাযথভাবে স্মরণ করিয়ে দেন না। তারা এই বিষয়টি এমনভাবে স্পষ্ট, পর্যাপ্ত এবং অন্তরস্পর্শীভাবে উপস্থাপন করেন না যা সমস্ত মুসলিমের কাছে এই সত্যটি পৌঁছে দিতে পারে যে, এটিই একমাত্র সমাধান; এবং তারা প্রতিটি মুসলিমকে এটি অনুভব করান না যে, এই সমাধান বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রতিটি ব্যক্তির ওপরই ন্যস্ত।

অথচ এটিই হলো বিজয় অর্জনের, বিপর্যয় রোধের এবং দ্বীনের শত্রুদের প্রতিহত করার প্রকৃত ও মৌলিক (১) সমাধান।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন...} আয়াত (মুহাম্মদ: ৭)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে...} আয়াত (আর-রাদ: ১১)।

--------------------------------------------

(১) কোনো কোনো মুসলিমের মনে এই সংশয় জাগতে পারে যে, উম্মাহর অক্ষমতার মূল কারণ হলো প্রযুক্তিগত ও সামরিক অনগ্রসরতা এবং অনৈক্য। সত্য হলো, এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, তবে এটি প্রধান কারণ নয়। কারণ আল্লাহর সুন্নাহ বা নীতি হলো, আমাদের উম্মাহর জন্য প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ বিজয় ততক্ষণ অর্জিত হবে না যতক্ষণ না আল্লাহর দিকে একনিষ্ঠ প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর আদেশের ওপর অবিচল থাকা নিশ্চিত হবে—চাই তারা পার্থিব ও সামরিকভাবে উন্নত এবং ঐক্যবদ্ধই হোক না কেন। যুগে যুগে এটি স্বীকৃত যে, আমাদের উম্মাহ শক্তির অধিকারী ছিল এবং পার্থিব উন্নতিতেও অগ্রগামী ছিল যখন তারা তাদের দ্বীন পালন করত। আর তাদের অনগ্রসরতা, দুর্বলতা এবং সম্মানহানির সূচনা তখনই হয়েছে যখন তারা তাদের দ্বীন ও রবের শরিয়ত থেকে বিচ্যুত হয়েছে। অতএব, মুসলিম উম্মাহর প্রযুক্তিগত ও সামরিক পশ্চাৎপদতা এবং অনৈক্য নিশ্চিতভাবেই তাদের দুর্বলতার অন্যতম কারণ (এবং উম্মাহর উচিত এ ক্ষেত্রে শক্তি অর্জনে সচেষ্ট হওয়া), তবে এটি মূলত আল্লাহর থেকে দূরত্ব এবং ইসলামের প্রকৃত মানহাজের অনুকরণের অভাবজনিত ফলাফল। এটি মূলত উম্মাহর মূল রোগের একটি উপসর্গ মাত্র, মূল রোগ নয়।... অতঃপর মুসলিম উম্মাহ যদি সত্যনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং তাঁর শরিয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, তারপর শত্রুদের বিরুদ্ধে—সঠিক সময়ে ও সঠিক পরিস্থিতিতে—জিহাদ করে, তবে আল্লাহর ইচ্ছায় তারা বিজয়ী হবেই; যদিও তারা যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রস্তুতির দিক থেকে শত্রুদের সমপর্যায়ের না হয়। তাদের প্রতি নির্দেশ কেবল এতটুকুই যে, সেই সময়ে তারা তাদের সাধ্যমতো শক্তি অর্জন করবে। আমাদের ইসলামী ইতিহাস শত্রুদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের অসংখ্য বিজয়ের সাক্ষী, যেখানে শত্রুরা পার্থিব প্রস্তুতির দিক থেকে তাদের চেয়ে অনেক অগ্রগামী ছিল। এই বিষয়ে (দার ইবনুল মুবারক থেকে প্রকাশিত) একটি মূল্যবান পুস্তিকা দেখা যেতে পারে যার শিরোনাম "মুসলিমদের অনগ্রসরতার কারণ কী"। আমাদের আরও মনে রাখা উচিত যে, প্রয়োজনীয় পার্থিব শক্তির উপকরণ গ্রহণে উম্মাহর অবহেলাও তাদের অন্যতম গুনাহ।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ৪)
وقال صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح عن ابن عمر «إذا تبايعتم بالعينة، وأخذتم أذناب البقر، ورضيتم بالزرع، وتركتم الجهاد، سلط الله عليكم ذلًّا لا يرفعه عنكم حتى ترجعوا إلى دينكم» (سلسلة الأحاديث الصحيحة للألباني) .

ويبدو أن عدم وضوح بعض الأسس الإسلامية، إضافة إلى الضياع الفكري والتوجهي الذي تعيشه أمتنا حاليا، قد أثرا أيضا حتى على العديد من الدعاة والمصلحين؛ فرأينا البعض يتكلم ويكتب عن مآسي ومذابح الأمة بنظرة سمتها التركيز على الحلول الجزئية بما فيها الإكثار من نقد التوجه العالمي، والتحدث عن الأسباب السياسية والمادية أكثر من النظر للخلفيات الشرعية (1) المتعلقة بهذه الأحداث.

والأهم من ذلك عدم التركيز بدقة، وإيضاح تام كافٍ على الحل الحقيقي لكل هذه المآسي بالشكل الذي يصل إلى قلب ويقين كل مسلم (وليس إلى فكره فقط) ، مشعرا له بواجبه في التغيير (2) والعودة والدعوة إلى الله.

--------------------------------------------

(1) للشيخ ابن عثيمين رحمه الله رسالة صغيرة هامة جدًّا تتحدث عن مشكلة عدم النظر للأسباب والخلفيات الشرعية في الأحداث عنوانها: (أثر المعاصي على الفرد والمجتمع) . وحقيقة أننا نستغرب من كلمات بعض الدعاة والكتاب الذين لا نكاد نرى أو أصبح نادرًا في كلماتهم تذكير للأمة بالتوبة وتقوى الله وآثار المعاصي عند الحديث عن آلامنا ومشاكلنا وأزماتنا في أي جانب

(2) لا شك في أن الدعاة يذكرون الأمة بالتوبة والصلاح وهذا أساس دعوتهم، ولكن الجانب الذي لوحظ فيه النقص عند العديد هو التذكير بالتوبة والصلاح بتركيز عند الحديث عن مآسي الأمة وتخبطاتها
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত সহীহ (صحيح) হাদিসে বলেছেন: "যখন তোমরা 'ঈনাহ' (এক প্রকার সুদী কারবার) পদ্ধতিতে কেনাবেচা করবে, গরুর লেজ ধরবে (কৃষিকাজে মগ্ন হবে), চাষাবাদ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে এবং জিহাদ ত্যাগ করবে, তখন আল্লাহ তোমাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেবেন, যা তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত তুলে নেবেন না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের দ্বীনের দিকে ফিরে আসো।" (সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহীহা লিল আলবানী) ।

মনে হচ্ছে যে, কিছু ইসলামি মূলনীতির অস্পষ্টতা এবং বর্তমানে আমাদের উম্মাহ যে বুদ্ধিবৃত্তিক ও আদর্শিক দিশেহীনতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে, তা অনেক দাঈ এবং সংস্কারকদের ওপরও প্রভাব ফেলেছে; ফলে আমরা কাউকে কাউকে উম্মাহর ট্র্যাজেডি ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে এমন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কথা বলতে বা লিখতে দেখি যার বৈশিষ্ট্য হলো আংশিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যবস্থার ব্যাপক সমালোচনা করা এবং এই ঘটনাপ্রবাহের সাথে সংশ্লিষ্ট শরয়ী (شرعية) প্রেক্ষাপট (১) বিবেচনার চেয়ে রাজনৈতিক ও বস্তুগত কারণগুলো নিয়ে অধিক আলোচনা করা।

আর এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সমস্ত ট্র্যাজেডির প্রকৃত সমাধানের ওপর সূক্ষ্মভাবে এবং পর্যাপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ স্পষ্টতার সাথে আলোকপাত না করা—এমনভাবে যা প্রতিটি মুসলিমের হৃদয় ও দৃঢ় বিশ্বাসের (يقين) স্তরে পৌঁছাবে (কেবল তার চিন্তা বা মস্তিস্কে নয়), এবং তাকে পরিবর্তনের (২) প্রয়োজনীয়তা, প্রত্যাবর্তন ও আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদানের ক্ষেত্রে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করবে।

--------------------------------------------

(১) শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছোট পুস্তিকা রয়েছে যা ঘটনাপ্রবাহের শরয়ী (شرعية) কারণ ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে, যার শিরোনাম হলো: 'ব্যক্তি ও সমাজের ওপর পাপের প্রভাব'। প্রকৃতপক্ষে আমরা কিছু দাঈ এবং লেখকের বক্তব্যে বিস্মিত হই যাদের কথায় উম্মাহকে তওবা ও আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন এবং পাপের কুফল সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রায় দেখাই যায় না অথবা বিরল হয়ে পড়েছে, যখন তারা আমাদের যে কোনো দিকের বেদনা, সমস্যা ও সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।

(২) এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দাঈগণ উম্মাহকে তওবা ও সংশোধনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং এটিই তাদের দাওয়াতের মূল ভিত্তি, তবে অনেকের ক্ষেত্রে যে দিকটিতে ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে তা হলো উম্মাহর বিপর্যয় ও অস্থিরতা নিয়ে আলোচনার সময় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তওবা ও সংশোধনের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ৫)
وفي بعض الخطابات والبيانات المتعلقة بالمآسي وكثير من المشكلات التي تعيشها الأمة ذكر موضوع التوبة وعودة الأمة والحذر من المعاصي ولكنه كان يذكر عَرَضًا ، أو باختصار شديد قد لا ينتبه له ، أو فقط كنقطة من النقاط ضمن نقاط أخرى عديدة وبدون التركيز الكافي عليه، مع أنه أس قضايانا وكما يقال قضية القضايا.
উম্মাহ যে সকল বিয়োগান্তক পরিস্থিতি ও নানাবিধ সমস্যার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, সে সংক্রান্ত কিছু ভাষণ ও বিবৃতিতে তওবা, উম্মাহর প্রত্যাবর্তন এবং পাপাচার থেকে সতর্ক থাকার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। তবে তা কেবল প্রাসঙ্গিকভাবে অথবা এমন অতি সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে যা অনেক সময় দৃষ্টিগোচর হয় না; অথবা পর্যাপ্ত গুরুত্ব প্রদান ব্যতিরেকে বহুবিধ বিষয়ের মধ্যে নিছক একটি পয়েন্ট হিসেবে স্থান পেয়েছে। অথচ এটিই আমাদের সকল বিষয়ের মূল ভিত্তি এবং যেমনটি বলা হয়ে থাকে—সকল সমস্যার মূল উৎস।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ৬)
2- أيضًا وعلى الرغم من سرور قلوبنا بما نقرؤه ونسمعه من العديد من الصادقين من تألم على الواقع والجراح، إلا أننا من كثرة المآسي والجراح، وفي غياب التذكير بالحل الحقيقي بوضوح، أصبحنا نمل أحيانا من‌‌ كثرة البكاء والتباكي على واقع الأمة المتكرر،

فهل الهدف هو البكاء للبكاء؟

أم هل الهدف هو البكاء والتألم فقط لجمع المال للمنكوبين والمشردين؟ والذي لا شك في أهميته إلا أنه حل جزئي ووقتي، خاصة إذا لم يربط بالحل الحقيقي، …

فالأصل أن يكون الهدف والمؤمل الأكبر من البكاء والتألم هو

جعل ذلك شعلة (1) للأمة للانطلاقة نحو التغيير في واقعها، والعودة إلى الله، والدعوة إليه، التي -بإذن الله- بها وبنتائجها وثمراتها تعز الأمة، ويعود مجدها، وينطلق بقوة جهادها، وتنتصر وتحل كل مشكلاتها (وتخبطاتها) .

--------------------------------------------

(1) لقد مرت أمتنا وبالذات في السنوات الأخيرة بمآسٍ مؤلمة مبكية وأحداث عظيمة، وشاهدتها الأمة - خاصة مع إمكانيات وسائل الإعلام الحديثة - رأي العين، وتأثرت بها كثيرا، وأظن لو أنه تم تذكير الأمة بعمق بحقيقة وواجب الرجوع إلى الله وأنها هي الحل لحصل بإذن الله توجه كبير في الأمة نحو ذلك ولحدث بإذنه تعالى تصحيح طيب في وضع الأمة وتوجهاتها
2- একইভাবে এবং বাস্তবতা ও ক্ষত নিয়ে অনেক সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তির বেদনা অনুভব করার বিষয়টি আমাদের হৃদয়ে আনন্দ জোগালেও, ট্র্যাজেডি ও ক্ষতের আধিক্য এবং প্রকৃত সমাধানের কথা স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার অভাবে, আমরা কখনও কখনও উম্মাহর পৌনঃপুনিক বাস্তবতার ওপর এই মাত্রাতিরিক্ত রোদন ও বিলাপের কারণে বিরক্ত হয়ে পড়ছি,

তবে লক্ষ্য কি কেবল কান্নার জন্যই কান্না?

নাকি লক্ষ্য হলো কেবল দুর্গত ও গৃহহীনদের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রোদন ও বেদনা প্রকাশ করা? যার গুরুত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তবে তা একটি আংশিক ও সাময়িক সমাধান, বিশেষ করে যদি একে প্রকৃত সমাধানের সাথে সম্পৃক্ত করা না হয়, …

মূলত রোদন ও বেদনার লক্ষ্য এবং সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হওয়া উচিত

এটিকে উম্মাহর জন্য একটি স্ফুলিঙ্গ (১) হিসেবে নির্ধারণ করা, যাতে তারা নিজেদের বাস্তব অবস্থার পরিবর্তনের দিকে অগ্রসর হতে পারে, আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে পারে এবং তাঁর দিকে দাওয়াত দিতে পারে; যার মাধ্যমে এবং যার ফলাফল ও ফলের দ্বারা—আল্লাহর ইচ্ছায়—উম্মাহ সম্মানিত হবে, তার হারানো গৌরব ফিরে আসবে, তার জিহাদের শক্তি প্রবলভাবে সূচিত হবে, উম্মাহ জয়ী হবে এবং তার সকল সমস্যা (ও লক্ষ্যহীনতা) দূরীভূত হবে।

--------------------------------------------

(১) আমাদের উম্মাহ বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অত্যন্ত বেদনাদায়ক, অশ্রুসজল ট্র্যাজেডি এবং বড় বড় ঘটনার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, যা উম্মাহ—বিশেষ করে আধুনিক গণমাধ্যমের বদৌলতে—স্বচক্ষে অবলোকন করেছে এবং এর দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছে। আমার ধারণা, যদি উম্মাহকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার বাস্তবতা ও আবশ্যকতা সম্পর্কে এবং এটিই যে প্রকৃত সমাধান তা নিয়ে গভীরভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হতো, তবে আল্লাহর ইচ্ছায় উম্মাহর মাঝে সেদিকে এক বিশাল ঝোঁক তৈরি হতো এবং মহান আল্লাহর অনুগ্রহে উম্মাহর অবস্থা ও গতিপথের এক উত্তম সংশোধন সাধিত হতো।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ৭)
3- أيضًا يلاحظ في الكثير من المآسي‌‌ التركيز على الدعاء والدعم المالي مع الضعف في تذكير الأمة بواجب التوبة والعودة وإصلاح المسار،.... والدعاء والدعم المالي على الرغم من أهميتهما وضرورتهما إلا أنهما ليسا الواجب الوحيد والأهم، وقد أصبح هذا المظهر أي مواجهة المذابح فقط بالدعاء والدعم المالي سمة لأمة الإسلام في العقود الأخيرة ، وهل يعقل أن يستمر حال أمة الإسلام في كل مذبحة لأبنائها بهذا الشكل، بل إن أي أمة لا ترضى أن يستمر حالها هكذا في كل مذبحة ومأساة تتعرض لها، فكيف بنا أمة الإسلام ونحن مَنْ مِنَ المفترض أننا ندرك قيمة الدم المسلم عند خالقنا العظيم سبحانه وتعالى.

لذا فبالإضافة إلى تذكير الأمة بواجب الدعاء والدعم المالي وقت حدوث المآسي، فلا بد من التذكير والتركيز في ذات الوقت على واجب التوبة والعودة وإصلاح المسار، لأنها الطريق الذي سيقود الأمة بإذن الله إلى العزة والجهاد والنصر، حتى يأتي اليوم الذي توقف هذه المذابح والمآسي حال حدوثها، ولا نكتفي عندها فقط بالدعاء وتضميد الجراح، بينما السفاحون يقتلون ويبيدون!!.
৩- এছাড়া অনেক বিয়োগান্তক ঘটনার ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় যে, উম্মাহকে তওবা, প্রত্যাবর্তন এবং পথ সংশোধনের আবশ্যিক (واجب) কর্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বলতা (ضعف) বজায় রেখেই কেবল দোয়া এবং আর্থিক সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, এবং পথ সংশোধন,.... দোয়া এবং আর্থিক সহায়তা তাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও একমাত্র এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবশ্যিক (واجب) কর্তব্য নয়। আর সাম্প্রতিক দশকগুলোতে কেবল দোয়া ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে গণহত্যার মোকাবিলা করা—এই রূপটিই মুসলিম উম্মাহর একটি বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। এটা কি বিবেকগ্রাহ্য যে, নিজ সন্তানদের প্রতিটি গণহত্যার সময় মুসলিম উম্মাহর অবস্থা এভাবেই চলতে থাকবে? বরং যেকোনো জাতিই তাদের ওপর নেমে আসা প্রতিটি গণহত্যা ও বিয়োগান্তক পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থা এমন অপরিবর্তিত থাকুক তা পছন্দ করবে না। তাহলে মুসলিম উম্মাহ হিসেবে আমাদের অবস্থা কেমন হওয়া উচিত, যেখানে আমাদেরই তো মহান স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট একজন মুসলিমের রক্তের মর্যাদা অনুধাবন করার কথা!

তাই বিয়োগান্তক পরিস্থিতির সময় উম্মাহকে দোয়া ও আর্থিক সহায়তার আবশ্যিক (واجب) কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি, একই সাথে তওবা, প্রত্যাবর্তন ও পথ সংশোধনের আবশ্যিক (واجب) কর্তব্যের ওপর গুরুত্বারোপ করা ও স্মরণ করিয়ে দেওয়া অপরিহার্য। কারণ এটাই সেই পথ যা আল্লাহর ইচ্ছায় উম্মাহকে মর্যাদা, জিহাদ ও বিজয়ের দিকে নিয়ে যাবে; যাতে এমন একদিন আসে যখন এই গণহত্যা ও বিয়োগান্তক ঘটনাগুলো ঘটার সাথে সাথেই তা বন্ধ করা সম্ভব হয়, এবং তখন আমরা কেবল দোয়া করা আর ক্ষত উপশম করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকি, যখন কি না রক্তপিপাসু খুনিরা হত্যা ও নিধনযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে!!
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ৮)
بل في ذلك الوقت أي عندما تسترجع الأمة عزتها لن يتجرأ عليها بإذن الله أعداء الدين، ويستبيحون كرامتها في كل حين، كما هو حاصل الآن حتى أننا أصبحنا أذل أمة على وجه الأرض.

خاصة أن الأمة في أيام الأحداث تكون متأثرة ومتفاعلة، وخسارة عظيمة أن لا تذكر بواجب التوبة وإصلاح المسار وهي في قمة تفاعلها.

وإن من سلبيات التركيز على الدعاء المقتصر على الدعاء للمنكوبين، وعلى الدعم المالي لهم مع ضعف التركيز على تذكير الأمة بالتوبة والإصلاح أن يحدث تخدير للمسلمين، فيشعرون أنهم - بعمل ذلك فقط - يكونون قد أدوا ما عليهم، بينما هم مستمرون ويستمرون في الغفلة واقتراف المنكرات والإصرار على المعاصي التي هي مصيبتنا العظمى (1) ، وأساس ذلنا وضعفنا وهواننا، واستئساد الكفار علينا وتمكنهم منا، وعجزنا عن إنقاذ إخواننا ، كما بين ذلك لنا كتاب ربنا العظيم وأحاديث رسوله صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) إن أكبر مأساة تعيشها الأمة هي بعدها عن حقيقة دينها، والالتزام بكل شرائعه، وصدق التمسك به
বরং সেই সময়ে, অর্থাৎ উম্মাহ যখন তার সম্মান ও মর্যাদা ফিরে পাবে, তখন আল্লাহর ইচ্ছায় দ্বীনের শত্রুরা তাদের ওপর চড়াও হওয়ার দুঃসাহস পাবে না এবং প্রতিনিয়ত তাদের মর্যাদাকে পদদলিত করতে পারবে না, যেমনটি এখন ঘটছে—এমনকি আমরা পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে লাঞ্ছিত জাতিতে পরিণত হয়েছি।

বিশেষত, বিভিন্ন দুর্যোগ ও ঘটনার প্রেক্ষাপটে উম্মাহ যখন প্রভাবিত ও সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে, তখন তাদের সেই চরম সংবেদনশীলতার মুহূর্তে তওবা এবং পথ সংশোধনের আবশ্যকতা স্মরণ করিয়ে না দেওয়া একটি বিরাট লোকসান।

দুর্গতদের জন্য কেবল দোয়ার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এবং তাদের আর্থিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা—সেই সাথে উম্মাহকে তওবা ও আত্মসংশোধনের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনের একটি নেতিবাচক দিক হলো, এর ফলে মুসলমানদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক অসাড়তা তৈরি হয়। তারা মনে করে যে—কেবল এই কাজটুকুর মাধ্যমেই—তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে ফেলেছে। অথচ তারা উদাসীনতা, নিন্দিত বিষয় (منكرات) লিপ্ত হওয়া এবং পাপাচারের ওপর অবিচল থাকার মধ্যেই নিমজ্জিত থাকে, যা আমাদের সবচেয়ে বড় বিপদ (১); আর এটিই আমাদের লাঞ্ছনা, দুর্বলতা ও হীনম্মন্যতার মূল কারণ, আমাদের ওপর কাফেরদের হিংস্রভাবে চড়াও হওয়া ও আধিপত্য বিস্তারের উৎস এবং আমাদের ভাইদের উদ্ধারে আমাদের অক্ষমতার ভিত্তি। যেমনটি আমাদের মহান রবের কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসসমূহ আমাদের নিকট সুস্পষ্ট করেছে।

--------------------------------------------

(১) উম্মাহ বর্তমানে যে চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন, তার প্রধান কারণ হলো দ্বীনের প্রকৃত স্বরূপ থেকে দূরে সরে যাওয়া, এর সকল শরয়ি বিধানের পূর্ণ অনুসরণ না করা এবং দ্বীনকে আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে একনিষ্ঠতার অভাব।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ৯)
4- يتكلم العديد من المحاضرين والشعراء والكتاب وتصدر توجيهات من بعض الدعاة بعد العديد من المآسي والمحن عن الجهاد وعزة الأمة ووحدتها ونخوتها، ولاشك أن هذا تذكير نحتاجه وأن هذه أسس هامة جدا ونحن بأمس الحاجة إليها وبها بإذن الله يتحقق النصر ولكن......

كيف السبيل إليها؟

وهل وُضِّح للناس‌‌ كيف نصل لطريق الجهاد؟ وكيف يتحقق النصر فيه؟

وكيف تحدث العزة والوحدة؟

هل نريد من المسلمين أن يثبوا فجأة للجهاد، رغم كل العوائق وأهمها الذنوب والمعاصي؟ ،.. ونتمنى أن يحدث ذلك ولكن المخدر بشكل عام عادة لا يقوم فضلا من أن يثب وثوبا حقيقيا.

ثم لو حصل الجهاد من أمتنا بدون تركها المعاصي ومجاهرة الجبار بها فلن يحصل النصر الحقيقي التام. (1)

وحتى لو حصل نصر مؤقت فهل يكفينا حدوثه بينما أمتنا مستمرة في بعدها، وأين نضع هذا بالنسبة لأهداف الجهاد العظيمة وغاياته؟ !! وهل هدف الجهاد في الإسلام هو فقط إنقاذ المسلمين؟! فعلى الرغم من أهمية وضرورة هذا الهدف، إلا أن الهدف الأعلى والأعظم للجهاد هو حفظ الدين وإقامته وتعبيد الناس لله رب العالمين {وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ} (البقرة:193، الأنفال:39) .

--------------------------------------------

(1) قال العلامة ابن عثيمين رحمه الله كلمة مسجلة له تعتبر بالغة الأهمية، فقد قالها وسط غمرة أحداث الانتفاضة الفلسطينية المباركة الأخيرة وبالضبط يوم الاثنين 19رجب 1421هـ، فقال رحمه الله معلقا على الأحداث: ((كيف نؤمل النصر ونحن هذه أفعالنا ونياتنا. إذن لنرجع لأنفسنا لا تأخذنا العاطفة!.......المسجد الأقصى لا يمكن أن يرجع إلا إلى أصحابه ومن هم أصحابه … اسمع قول الله عز وجل ولقد كتبنا في الزبور من بعد الذكر أن الأرض يرثها عبادي الصالحون.. (إن الأرض لله يورثها من يشاء من عباده والعاقبة للمتقين...... لن يرجع المسجد الأقصى إلا إذا قاتل المسلمون لله عز وجل، لكي تكون كلمة الله هي العليا مهما عمل الناس......... أرجو ألا تأخذنا العاطفة.. ألا تأخذنا العاطفة! وأن نغفل عن الأشياء الأساسية!........ نحن لا نرضى أن يقوم طاغية من طغاة اليهود كشارون يطوف ببيت المقدس لإهانة المسلمين ولكي يرتفع عند قومه من وجه آخر … لا نرضى بهذا أبدا ولن يرضى بذلك أي مسلم … ولكن علينا أولا أن نصلح أنفسنا … أنفسنا ما صلحت إلا ما شاء الله … فكروا بهذه الأمور..لا تأخذكم العاطفة ((.* هذه الكلمة ملحقة في نهاية شريط قيم للشيخ عبد المحسن القاضي عن الأقصى وقد قامت تسجيلات الاستقامة في القصيم بإضافتها نظراً لأهميتها.
4- অনেক বক্তা, কবি ও লেখক কথা বলেন এবং অনেক শোকাবহ ঘটনা ও পরীক্ষার পর কিছু দাঈ (داعي)-দের পক্ষ থেকে জিহাদ, উম্মাহর মর্যাদা, ঐক্য ও বীরত্ব সম্পর্কে দিকনির্দেশনা আসে। নিঃসন্দেহে এটি একটি প্রয়োজনীয় স্মরণিকা এবং এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, যার আমাদের একান্ত প্রয়োজন। আল্লাহর ইচ্ছায় এগুলোর মাধ্যমেই বিজয় অর্জিত হবে, কিন্তু......

সেখানে পৌঁছানোর পথ কী?

আর মানুষের সামনে কি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কীভাবে আমরা জিহাদের পথে পৌঁছাব? এবং কীভাবে তাতে বিজয় অর্জিত হবে?

এবং কীভাবে মর্যাদা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে?

আমরা কি চাই যে সমস্ত বাধা-বিপত্তি থাকা সত্ত্বেও—যার মধ্যে প্রধান হলো গুনাহ ও অবাধ্যতা—মুসলিমরা হঠাৎ জিহাদের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ুক? আমরা আকাঙ্ক্ষা করি যে এটি ঘটুক, কিন্তু সাধারণত একজন মোহগ্রস্ত ব্যক্তি দাঁড়াতেই পারে না, প্রকৃতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া তো দূরের কথা।

অতঃপর, আমাদের উম্মাহর পক্ষ থেকে যদি গুনাহ বর্জন করা এবং পরাক্রমশালী আল্লাহর সামনে প্রকাশ্যে অবাধ্যতা ত্যাগ করা ছাড়াই জিহাদ সংঘটিত হয়, তবে প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ বিজয় অর্জিত হবে না। (১)

এমনকি যদি সাময়িক বিজয় অর্জিত হয়ও, তবে উম্মাহ যখন আল্লাহর থেকে দূরে অবস্থান করছে, তখন কি সেই বিজয় আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? জিহাদের সুমহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের তুলনায় আমরা একে কোথায় স্থান দেব? ইসলামে জিহাদের উদ্দেশ্য কি কেবল মুসলিমদের উদ্ধার করা? এই লক্ষ্যের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও জিহাদের সর্বোচ্চ ও সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য হলো দ্বীন রক্ষা করা, তা প্রতিষ্ঠা করা এবং মানুষকে রাব্বুল আলামীন আল্লাহর ইবাদতে অনুগত করা। {যাতে দ্বীন কেবল আল্লাহর জন্যই হয়} (আল-বাকারা: ১৯৩, আল-আনফাল: ৩৯)।

--------------------------------------------

(১) আল্লামা ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রেকর্ডকৃত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি এটি ফিলিস্তিনের সর্বশেষ বরকতময় ইন্তিফাদার ঘটনাপ্রবাহের মাঝে, ঠিক ১৯ রজব ১৪২১ হিজরী সোমবার প্রদান করেছিলেন। তিনি ঘটনার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: “কীভাবে আমরা বিজয়ের আশা করি যখন আমাদের কাজ এবং নিয়ত এরূপ? সুতরাং আসুন আমরা নিজেদের দিকে ফিরে তাকাই, আবেগ যেন আমাদের গ্রাস না করে!... মসজিদুল আকসা কেবল তার মালিকদের কাছেই ফিরে আসা সম্ভব, আর কারা এর মালিক? ... মহান আল্লাহর বাণী শ্রবণ করুন: ‘আমি যিকরের পর যবুরে লিখে দিয়েছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারাই যমীনের উত্তরাধিকারী হবে।’ (নিশ্চয়ই যমীন আল্লাহর, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী করেন এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য)... মসজিদুল আকসা ততক্ষণ ফিরে আসবে না যতক্ষণ না মুসলিমরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য লড়াই করবে, যাতে আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ হয়, মানুষ যা-ই করুক না কেন... আমি আশা করি আবেগ যেন আমাদের তাড়িত না করে... আবেগ যেন আমাদের তাড়িত না করে! এবং আমরা যেন মৌলিক বিষয়গুলো ভুলে না যাই!... ইয়াহুদীদের কোনো এক স্বৈরাচারী যেমন শারন যখন মুসলিমদের অপমান করতে এবং তার স্বজাতির কাছে মর্যাদা বাড়াতে বায়তুল মাকদিসে ঘুরে বেড়ায়, তখন আমরা তা মেনে নেই না... আমরা এটি কখনোই মেনে নেব না এবং কোনো মুসলিম তা মেনে নেবে না... কিন্তু আমাদের আগে নিজেদের সংশোধন করতে হবে... আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া আমাদের নফসের সংশোধন সম্ভব নয়... এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করুন... আবেগ যেন আপনাদের গ্রাস না করে।” এই বক্তব্যটি শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-কাদীর আকসা বিষয়ক একটি মূল্যবান ক্যাসেটের শেষে যুক্ত করা হয়েছে এবং কাসিমের তাসজিলাতুল ইস্তিকামাহ এর গুরুত্ব বিবেচনা করে এটি সংযুক্ত করেছে।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ১০)
ولا يخفى على الدعاة والمصلحين ما حصل في أمتنا من بعد كبير عن حقيقة دينها، ولا يخفى أيضا ما يفعله المفسدون في الأمة، حتى وصل الأمر إلى حد محاربة أوامر الله وتحكيم غير ما يرضاه.

وليتنا نرجع إلى كتب التفسير ونتأمل بعض الحكم المستفادة من قوله تعالى في سورة محمد [سورة القتال] : {طَاعَةٌ وَقَوْلٌ مَعْرُوفٌ فَإِذَا عَزَمَ الْأَمْرُ فَلَوْ صَدَقُوا اللَّهَ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ} (محمد:21) .

ومسألة أخرى هامة تجدر الإشارة إليها هنا وهي: أن تذكيرنا للأمة بالجهاد بدون توجيهها للتوبة والعودة قد يؤدي إلى حدوث اتكالية وتأخر في التغيير والإصلاح - الذي هو الطريق الذي يقود الأمة بفاعلية للجهاد ويحقق لها النصر فيه بإذن الله- بين أفراد الأمة، بحجة أن الجهاد لم يقم وأننا ننتظر اليوم الذي يبدأ فيه حتى ننصر إخواننا بمشاركتنا فيه، فتنسى الأمة وتغفل عن أن استمرارها في الذنوب والغفلة وعدم تحقيق العودة الصادقة إلى الله هو أحد أهم أسباب تأخر الجهاد في الأمة وتأخر تحقيق النصر فيه.
দাওয়াতকর্মী ও সংস্কারকদের নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, আমাদের উম্মাহর মাঝে তাদের দ্বীনের প্রকৃত বাস্তবতা থেকে এক বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে। উম্মাহর মধ্যে অনিষ্টকারীরা যা করছে তাও গোপন নয়, এমনকি বিষয়টি আল্লাহর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ এবং তিনি যা অপছন্দ করেন তার দ্বারা বিচার-ফায়সালা করার পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে।

আমরা যদি তাফসিরের গ্রন্থসমূহের দিকে ফিরে যেতাম এবং সূরা মুহাম্মাদ [সূরা আল-কিতাল]-এ মহান আল্লাহর বাণী থেকে লব্ধ কিছু হিকমত নিয়ে গভীর চিন্তা করতাম: {আনুগত্য ও উত্তম কথা। অতঃপর যখন সংকল্প গ্রহণ করা হয়, তখন তারা যদি আল্লাহর প্রতি সত্যনিষ্ঠ হতো, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো} (মুহাম্মাদ: ২১)।

এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা প্রয়োজন, তা হলো: তওবা এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের সঠিক দিকনির্দেশনা ব্যতিরেকে উম্মাহকে জিহাদের কথা স্মরণ করানো উম্মাহর সদস্যদের মাঝে পরনির্ভরশীলতা এবং পরিবর্তন ও সংস্কারের ক্ষেত্রে বিলম্ব ঘটাতে পারে—যে সংস্কারই মূলত উম্মাহকে কার্যকরভাবে জিহাদের দিকে ধাবিত করে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তাতে বিজয় সুনিশ্চিত করে। এক্ষেত্রে অজুহাত দেওয়া হয় যে, জিহাদ যেহেতু এখনো শুরু হয়নি, তাই আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি যখন এটি শুরু হবে এবং আমরা তাতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের ভাইদের সাহায্য করব। এর ফলে উম্মাহ এই বিষয়টি ভুলে যায় এবং উদাসীন থাকে যে, পাপাচার ও গাফিলতির ধারাবাহিকতা এবং আল্লাহর দিকে একনিষ্ঠভাবে ফিরে না আসা হলো উম্মাহর মাঝে জিহাদ বিলম্বিত হওয়া এবং তাতে বিজয় অর্জিত না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ১১)
وكم واجهنا من المسلمين الذين عندما نذكرهم بترك اللهو والمعاصي غِيرةً على الأقل على واقع الأمة نجدهم يحتجون بحجة عدم وجود الجهاد الآن، وأنه لو كان موجوداً لتفاعلوا معه في إنقاذ إخوانهم، ونَسوا أنهم بأعمالهم هذه ولهوهم يكونون من أهم أسباب تأخر بدء وحصول الجهاد في الأمة.

وأبو بكر وعمر رضي الله عنهما وسلفنا الصالح كانوا عندما يرسلون جيوشهم التي حوت خيار الصحابة والتابعين رضوان الله عليهم كانوا يوصونهم بتقوى الله والحذر من الذنوب وأنها أهم العدة على الأعداء (1) ...... فكيف يُنسى هذا -أو يذكر بدون إعطائه حقه- عندما نذكر أمتنا بالجهاد، وهي على ما هي عليه من الغفلة والبعد وتضليل المضلين وإفساد المفسدين.

--------------------------------------------

(1) كتب أبو بكر الصديق رضي الله عنه إلى عمرو بن العاص عندما أخبره عن كثافة جيش هرقل بإزاء جيش المسلمين: (إنكم لا تغلبون بقلة عددكم وإنما تغلبون بالمعاصي على كثرة عددكم فاحترسوا منها) «نقلاً من كتاب أسباب سعادة المسلمين وشقائهم للعلامة محمد الكاندهلوي» .ومما كتبه عمر بن الخطاب رضي الله عنه لسعد بن أبي وقاص عندما أرسله لفتح فارس: (أما بعد، فإني آمرك ومن معك من الأجناد بتقوى الله على كل حال، فإن تقوى الله أفضل العدة على العدو، وأقوى المكيدة في الحرب وآمرك ومن معك بأن تكونوا أشد احتراساً من المعاصي منكم من عدوكم، فإن ذنوب الجيش أخوف عليهم من عدوهم) «نقلا عن كتاب توجيهات إسلامية لإصلاح الفرد والمجتمع للشيخ محمد جميل زينو. .
আমরা এমন কতই না মুসলিমের সম্মুখীন হয়েছি, যারা অন্তত উম্মাহর বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি ঈমানী আত্মমর্যাদাবোধ থেকে যখনই আমরা তাদেরকে অহেতুক কাজ ও পাপাচার বর্জনের কথা স্মরণ করিয়ে দিই, তখনই তারা বর্তমানে জিহাদ অনুপস্থিত থাকার অজুহাত পেশ করে; এবং বলে যে, জিহাদ বিদ্যমান থাকলে তারা অবশ্যই তাদের ভাইদের রক্ষায় জিহাদে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করত। তারা ভুলে যায় যে, তাদের এই কর্মকাণ্ড ও অহেতুক ভোগ-বিলাসই উম্মাহর মাঝে জিহাদ শুরু ও তা বাস্তবায়িত হওয়ার বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ।

আবু বকর ও উমর (রা.) এবং আমাদের সালাফে সালেহীন (سلفنا الصالح) যখন তাঁদের সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করতেন—যাতে শ্রেষ্ঠ সাহাবী (الصحابة) ও তাবেয়ি (التابعين) (রা.) অন্তর্ভুক্ত থাকতেন—তখন তাঁরা তাঁদেরকে আল্লাহভীতি এবং পাপাচার থেকে সতর্ক থাকার উপদেশ দিতেন এবং বলতেন যে, এটিই শত্রুদের বিরুদ্ধে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রস্তুতি (১)... অতএব, এই বিষয়টি কীভাবে বিস্মৃত হওয়া সম্ভব—অথবা এর যথাযোগ্য গুরুত্ব না দিয়ে উল্লেখ করা হয়—যখন আমরা আমাদের উম্মাহকে জিহাদ সম্পর্কে স্মরণ করাই, অথচ উম্মাহ বর্তমানে গাফিলতি, আল্লাহর পথ থেকে দূরত্ব, বিভ্রান্তকারীদের পথভ্রষ্টতা এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের নষ্টামিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আবু বকর সিদ্দিক (রা.) যখন আমর ইবনুল আস (রা.)-কে হিরাক্লিয়াসের বিশাল বাহিনীর বিপরীতে মুসলিম বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন, তখন তিনি লিখেছিলেন: “তোমরা তোমাদের সংখ্যার স্বল্পতার কারণে পরাজিত হবে না, বরং তোমরা তোমাদের পাপাচারের আধিক্যের কারণেই পরাজিত হবে; সুতরাং তা থেকে বেঁচে থাকো।” (আল্লামা মুহাম্মদ কান্ধলভী রচিত আসবাবু সাআদাতিল মুসলিমিন ওয়া শাক্বয়িহিম গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত)। আর উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) পারস্য বিজয়ের উদ্দেশ্যে প্রেরণের সময় সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-কে যা লিখেছিলেন: “অতঃপর, আমি তোমাকে ও তোমার সাথে থাকা সৈন্যদেরকে সর্বাবস্থায় আল্লাহভীতি অবলম্বনের নির্দেশ দিচ্ছি। কেননা আল্লাহভীতিই শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বোত্তম প্রস্তুতি এবং যুদ্ধের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশল। আমি তোমাকে ও তোমার সঙ্গীদের নির্দেশ দিচ্ছি যেন তোমরা তোমাদের শত্রুর চেয়েও পাপাচার থেকে বেঁচে থাকার বিষয়ে অধিক সজাগ থাকো। কারণ সৈন্যবাহিনীর জন্য তাদের নিজেদের গুনাহ শত্রুর চেয়েও বেশি আশঙ্কাজনক।” (শেখ মুহাম্মদ জামিল জিনো রচিত তাওজিহাত ইসলামিয়া লি-ইসলাহিল ফারদি ওয়াল মুজতামাউ গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত)।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ১২)
بل ويبدو أن تذكير الأمة بالجهاد بدون تذكيرها بالتوبة والرجوع ومساعدتها على تحقيقه، قد يؤدي إلى نشوء شوائب الحمية في إخلاص الأمة عند حماسها للجهاد، مما قد يجعل توجه البعض للجهاد تشوبه نية الحمية ، التي تضعف تحقق العبودية فيه. وفي الحديث المتفق عليه عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: «سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الرجل يقاتل شجاعة ويقاتل حمية ويقاتل رياءً أي ذلك في سبيل الله؟ فقال صلى الله عليه وسلم: (من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا فهو في سبيل الله» . وصفاء النية من شوائب الإخلاص تحتاج إلى أفرادٍ تربوا على الصدق مع الله، والتزام أوامره، والحرص على ما يرضيه.

বস্তুত এটি প্রতীয়মান হয় যে, উম্মাহকে তাওবা ও প্রত্যাবর্তনের কথা স্মরণ না করিয়ে এবং তা অর্জনে সহায়তা না করে কেবল জিহাদের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া জিহাদের উদ্দীপনার সময় উম্মাহর ইখলাসের মধ্যে আভিজাত্যের কলুষতা সৃষ্টির কারণ হতে পারে। এর ফলে জিহাদের প্রতি কারো কারো সংকল্পে আভিজাত্যের নিয়ত মিশ্রিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা ইবাদতের প্রকৃত দাসত্ব অর্জনকে দুর্বল করে দেয়। আর সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিসে আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, আভিজাত্যের জন্য যুদ্ধ করে এবং লোক দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে—এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে যুদ্ধ করে, সে-ই আল্লাহর পথে'।" আর ইখলাসকে সকল কলুষতামুক্ত করে নিয়তের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য এমন একদল ব্যক্তির প্রয়োজন যারা আল্লাহর প্রতি সত্যনিষ্ঠা, তাঁর আদেশ পালন এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে যত্নবান হওয়ার ওপর লালিত-পালিত হয়েছেন।

(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
5- وبالنسبة لجانب تفرق الأمة ووحدتها فمن الإشكالات في الخطاب الدعوي والإصلاحي أن تُوْهَم الأمة أن السبب الأساس لتخبط الأمة وتأخر النصر هو عدم وحدة الأمة وإتحاد صفها وتلاحمها، فليس الأساس كذلك، بل نحتاج في الخطاب الدعوي إلى أن نؤكد للمسلمين بأن أمتنا لن تنتصر النصر الحقيقي وتحفظ حتى ولو اتحدت وتلاحم أبناؤها طالما أنها لم تطبق شرع الله وتحترم أوامره.

وذلك حتى لا تعتقد الأمة أن أساس دائها هو التفرق (ولا خلاف في أنه مشكلة هامة) ، ولتدرك في واقعنا الحالي أنه ليس إلا عرضا من أعراض مأساتها الكبيرة، ألا وهي بعدها عن حقيقة الدين، وعن التمسك الكامل به في كل أمور وجوانب الحياة. قال تعالى: {أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ} الآية (الأنعام:65) .

ورجوع الأمة إلى دينها وتمسكها به سيكون أقوى دافع لاتحاد الأمة ولحمتها، بل هو جزء أساس من معاني الرجوع إلى الدين وصدق التمسك به وبتعاليمه.
৫- এবং উম্মাহর বিভাজন ও ঐক্যের প্রসঙ্গের ক্ষেত্রে দাওয়াহ (دعوي) ও সংস্কারমূলক (إصلاحي) বক্তব্যের একটি অন্যতম সমস্যা হলো উম্মাহকে এই ভ্রান্ত ধারণা দেওয়া যে, উম্মাহর লক্ষ্যহীনতা এবং বিজয় বিলম্বিত হওয়ার মূল কারণ হলো উম্মাহর অনৈক্য, কাতারবদ্ধ হতে না পারা এবং সংহতির অভাব। মূলত বিষয়টি এমন নয়; বরং দাওয়াহর ক্ষেত্রে আমাদের মুসলিমদের নিকট এটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে, আমাদের উম্মাহ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত বিজয় লাভ করবে না এবং নিরাপদ থাকবে না—এমনকি যদি তার সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ ও সংহতিবদ্ধও হয়—যতক্ষণ না তারা আল্লাহর বিধান (شرع الله) বাস্তবায়ন করছে এবং তাঁর আদেশসমূহের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হচ্ছে।

এটি এই জন্য যাতে উম্মাহ মনে না করে যে তাদের মূল ব্যাধি হলো অনৈক্য (যদিও এটি যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই), এবং তারা যেন বর্তমান বাস্তবতায় উপলব্ধি করতে পারে যে এটি তাদের বৃহৎ ট্র্যাজেডির একটি উপসর্গ (عرض) মাত্র। আর সেই ট্র্যাজেডি হলো দ্বীনের প্রকৃত রূপ থেকে দূরে থাকা এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে ও বিষয়ে দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গভাবে আঁকড়ে ধরার অভাব। মহান আল্লাহ বলেন: {কিংবা তিনি তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে (شيعًا) বিভক্ত করে দেন এবং একদলকে অন্যদলের শক্তি আস্বাদন করান} (সূরা আল-আনআম: ৬৫)।

উম্মাহর স্বীয় দ্বীনের দিকে প্রত্যাবর্তন এবং একে আঁকড়ে ধরাই হবে উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির সবচেয়ে শক্তিশালী চালিকাশক্তি; বরং এটি দ্বীনের দিকে ফিরে আসা এবং এর শিক্ষার প্রতি একনিষ্ঠভাবে অনুগত হওয়ার মৌলিক অর্থের একটি অংশ।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
6- أيضا يلاحظ في أحيانٍ عديدة التركيز على كيد الكافرين ومؤامراتهم وخططهم وخطورتهم والسبل المادية لمواجهتهم أكثر من التركيز على الإصلاح وعودة الأمة، مع أن صلاح الأمة هو الأساس لردنا أي كيد وأي اعتداء، وخالقنا العظيم العليم أخبرنا سبحانه بأن كيدهم لن يضرنا إذا صبرنا واتقينا {وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا} (آل عمران:120) .

ولا شك أن أقوى ما نواجه به الكافرين هو صدقنا مع الله والتزامنا بأوامره، وأن أهم أسباب هزيمتنا وذلنا هو المعاصي، وبعدنا عن الله وعن التطبيق الحقيقي الكامل لشرعه وأوامره، ولا رد حقيقي لكيد الأعداء ونحن نقويه بذنوبنا ومعصيتنا.
৬- এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় যে, উম্মাহর সংশোধন এবং এর প্রত্যাবর্তনের ওপর গুরুত্ব প্রদানের পরিবর্তে কাফিরদের কূটকৌশল, ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, তাদের ভয়াবহতা এবং তাদের মোকাবিলার বস্তুগত উপায়সমূহের ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়; অথচ যেকোনো ষড়যন্ত্র ও আগ্রাসন প্রতিহত করার মূল ভিত্তি হলো উম্মাহর আত্মশুদ্ধি। আমাদের মহান ও সর্বজ্ঞ স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের জানিয়েছেন যে, আমরা যদি ধৈর্য ধারণ করি এবং তাকওয়া অবলম্বন করি, তবে তাদের ষড়যন্ত্র আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না: "আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না।" (আল-ইমরান: ১২০)।

নিঃসন্দেহে কাফিরদের মোকাবিলায় আমাদের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী মাধ্যম হলো আল্লাহর প্রতি আমাদের নিষ্ঠা ও তাঁর নির্দেশাবলির অনুকরণ। আর আমাদের পরাজয় ও লাঞ্ছনার প্রধান কারণ হলো পাপাচার এবং আল্লাহ ও তাঁর শরয়ি বিধান ও নির্দেশাবলির প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন থেকে আমাদের বিচ্যুতি। শত্রুদের ষড়যন্ত্রের কোনো কার্যকর প্রতিরোধ সম্ভব নয় যতক্ষণ আমরা আমাদের গুনাহ ও নাফরমানির মাধ্যমে তাদের শক্তিশালী করতে থাকব।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
بل وإن التركيز على كيد الأعداء (الذي من المُسَلّمْ بأنه لا خلاف في الأصل على أهميته) بطريقة تُشْعِر بأنه الأساس في مصائبنا وبدون تذكير الأمة بأمراضها التي كانت السبب في ذلها واستئساد الأعداء عليها وتمكنهم منها، قد يكون أيضا عاملاً آخراً يضعف التفات الأمة لمرضها الأساس، ودائها الأهم، وأولوياتها في طريق إنقاذ نفسها من الأخطار المحيطة بها؛ قال تعالى: {أَوَلَمَّا أَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةٌ قَدْ أَصَبْتُمْ مِثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّى هَذَا قُلْ هُوَ مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِكُمْ} (آل عمران: 165) .
বস্তুত শত্রুদের ষড়যন্ত্রের ওপর এমনভাবে গুরুত্বারোপ করা (যার গুরুত্বের বিষয়ে মূলগতভাবে (الأصل) কোনো দ্বিমত নেই এবং যা স্বীকৃত (المسلم)), যা এমন অনুভূতির জন্ম দেয় যে এটিই আমাদের বিপদাপদের মূল ভিত্তি; এবং উম্মাহকে তাদের সেই অভ্যন্তরীণ ব্যাধিগুলো স্মরণ করিয়ে না দিয়ে—যা ছিল তাদের লাঞ্ছনা, তাদের ওপর শত্রুদের আস্ফালন এবং তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের প্রকৃত কারণ—তা উম্মাহর প্রধান রোগ ও মূল ব্যাধির প্রতি মনোযোগকে এবং পারিপার্শ্বিক বিপদ থেকে নিজেদের উদ্ধারের পথে অগ্রাধিকারসমূহ নির্ধারণের বিষয়টিকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে আরেকটি কারণ হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "যখন তোমাদের ওপর কোনো মুসিবত আসলো, অথচ তোমরা এর দ্বিগুণ (বিপর্যয় শত্রুদের ওপর) ঘটিয়েছিলে, তখন তোমরা বললে, 'এটা কোত্থেকে আসলো?' বলুন, 'এটা তোমাদের নিজেদের পক্ষ থেকেই'।" (আল-ইমরান: ১৬৫)।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
7- يكثر بعض الدعاة أحيانا من ذكر " صلاح الدين " وغيره من أبطال الأمة خاصة في الأشعار والأناشيد عند كلامهم عن مآسينا، ولاشك في أن أمتنا تحتاج إلى أمثالهم وبشدة، ولكن.......

أن نجعل أن كل مشاكل الأمة وكل مآسينا بسبب عدم وجود أمثال " صلاح الدين " يعتبر فهماً خاطئاً، وله خطورته من حيث إنه يصرف أنظار الأمة عن أمراضها الحقيقية التي تنخر في جسدها، كما وضح ذلك صاحب كتاب " هكذا ظهر جيل صلاح الدين وهكذا عادت القدس" الدكتور ماجد الكيلاني.

ثم كيف يخرج لنا مثل " صلاح الدين "؟! ، هل ننتظر أن يوجد بيننا حتى ونحن على ما نحن عليه!!!!

إن العودة إلى الله ومناهج الإصلاح هي التي تخرج لنا" صلاحاً" -بإذن الله-!!. و" صلاح الدين " نفسه كان أحد ثمار المنهج الإصلاحي الذي عاصره وسبقه.

ولا شك أن ذكر" صلاح الدين " والأبطال مهم ونحتاجه، ولكن ليكن وسيلة لتحفيز الأمة للعودة إلى الدين، والنخوة له، والجهاد الصادق في سبيله، وليكن حافزا لنا لنكون على مثل ما كان عليه " صلاح الدين " من صلاح (1) وتقوى، سبقت بطولته وإنجازاته.

--------------------------------------------

(1) كلمة معبرة للشيخ جميل عقاد (من سوريا) رحمه الله عن القدس يستشهد بها هنا وهي:) لن تعود حتى نعود (.
৭- কিছু দায়ী (প্রচারক) অনেক সময় আমাদের দুর্দশা ও বিপর্যয় সম্পর্কে আলোচনার সময় বিশেষ করে কবিতা ও নাশিদে "সালাহউদ্দিন" এবং উম্মাহর অন্যান্য বীরদের কথা প্রচুর পরিমাণে উল্লেখ করে থাকেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমাদের উম্মাহর তাদের মতো ব্যক্তিদের অত্যন্ত প্রয়োজন, কিন্তু......

উম্মাহর সকল সমস্যা এবং আমাদের সকল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে "সালাহউদ্দিন"-এর মতো নেতৃত্বের অনুপস্থিতিকে দায়ী করা একটি ভুল ধারণা হিসেবে বিবেচিত হয়। এর একটি ঝুঁকি রয়েছে, কারণ এটি উম্মাহর দৃষ্টিকে তার দেহের অভ্যন্তরে জেঁকে বসা প্রকৃত ব্যাধিগুলো থেকে সরিয়ে দেয়; যেমনটি "হাকাজা জাহারা জিলু সালাহউদ্দিন ওয়া হাকাজা আদাত আল-কুদস" গ্রন্থের লেখক ডক্টর মাজেদ আল-কিলানি স্পষ্ট করেছেন।

অতঃপর, কীভাবে আমাদের মধ্য থেকে "সালাহউদ্দিন"-এর মতো কেউ আবির্ভূত হবেন?! আমরা কি বর্তমানে যে অবস্থায় আছি, সেই অবস্থায় থেকেই আমাদের মাঝে তাঁর উপস্থিতির অপেক্ষা করব?!!!!

নিশ্চয়ই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন এবং সংস্কারের পদ্ধতিসমূহ (মানহাজ) আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের জন্য নতুন "সালাহ" (যোগ্য বা সৎ নেতৃত্ব) তৈরি করবে!! খোদ "সালাহউদ্দিন" ছিলেন সেই সংস্কারমুখী পদ্ধতির অন্যতম ফসল, যা তাঁর সমসাময়িক ছিল এবং তাঁর পূর্ব থেকেই চলে আসছিল।

নিঃসন্দেহে "সালাহউদ্দিন" ও বীরদের স্মরণ করা গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের এর প্রয়োজন রয়েছে। তবে এটি যেন হয় উম্মাহকে দ্বীনের দিকে ফিরে আসা, দ্বীনের প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ এবং আল্লাহর পথে সত্যনিষ্ঠ জিহাদের প্রতি অনুপ্রাণিত করার একটি মাধ্যম। এটি যেন আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয় যাতে আমরা সালাহউদ্দিনের মতো যোগ্যতা ও নিষ্ঠা (صلاح) এবং তাকওয়ার (تقوى) অধিকারী হতে পারি, যা তাঁর বীরত্ব ও অর্জনের পূর্বশর্ত ছিল।

--------------------------------------------

(১) কুদস সম্পর্কে সিরিয়ার শায়খ জামিল আক্কাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর একটি তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি এখানে উদ্ধৃত করা হয়েছে, তা হলো: "ততক্ষণ পর্যন্ত তা ফিরে আসবে না, যতক্ষণ না আমরা ফিরে আসছি।"
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
وذلك حتى يكون ذكره حافزا لنا في معرفة واجباتنا ومسؤوليتنا في الإصلاح، لا أن يكون ذكره وذكر عدم وجود أمثاله شماعة!!!! يستغلها الشيطان لكي تُلقي الأمة عليها أخطاءها بينما هي سادرة في غفلتها ولهوها وذنوبها، والتي هي أساس مأساتها وتخبطها وتفرقها وضياعها وهوانها.

এটি এই জন্য যাতে তাঁর আলোচনা আমাদের সংশোধনের ক্ষেত্রে আমাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার প্রেরণা হিসেবে কাজ করে; এমনটি নয় যে, তাঁর আলোচনা এবং তাঁর মতো গুণীজনদের অভাবকে কেবল একটি অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করা হবে!!!! শয়তান একে এমন এক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যার মাধ্যমে উম্মাহ তাদের যাবতীয় ভুলত্রুটি এর ওপর চাপিয়ে দিতে চায়, অথচ তারা নিজেরা তাদের উদাসীনতা, খেল-তামাশা এবং পাপাচারের মধ্যে নিমগ্ন থাকে; যা মূলত তাদের বিপর্যয়, কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা, অনৈক্য, ধ্বংস এবং হীনম্মন্যতার মূল কারণ।

(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
8- يبدو أيضا أن كثرة استخدام الدعاة والمصلحين والشعراء مصطلح العودة إلى الدين بالشكل الذي يخاطب الأمة بشكل عام لا بشكل فردي مثل عبارة "عودي إلى الله" التي تخاطب الأمه وعبارة "الحل في عودتنا لما كنا عليه سابقا" قد لا تشعر الفرد المسلم بواجبه في التغيير، خاصة مع وجود الغبش الكبير في فكر وسلوك أمتنا الديني، فقد يعتقد الكثير من أبناء الأمة أنهم ليسوا هم المقصودين بهذه العودة، خاصة مع وجود عدو الإنسان الكبير الشيطان الرجيم وشياطين الإنس، الذين يلبسون على المسلم أحكام دينه ويجعلونه يرضى بواقعه، على الرغم من وجود التقصير الكبير في تطبيقه والتزامه بالدين وأحكامه. وأيضا قد لا يكون واضحا للفرد أن بداية تغيير واقع الأمة وعودتها إلى الله تبدأ بالفرد نفسه، بالتزامه الصادق الكامل وبدعوته غيره من أفراد المجتمع (عودة ودعوة) . (1)

--------------------------------------------

(1) هاتان الكلمتان تعبران باختصار عن دور المسلم في الإصلاح بتغييره نفسه ودعوته غيره، ويمكن أن يستفاد منها كشعار عملي يرمز لهذا الواجب. والشعارات لها أثرها الطيب الذي لا ينكر في التذكير والتحفيز
৮- আরও প্রতীয়মান হয় যে, দাঈ (দ্বীনের প্রচারক), সংস্কারক এবং কবিদের পক্ষ থেকে 'দ্বীনের দিকে প্রত্যাবর্তন' পরিভাষাটির অত্যধিক ব্যবহার, যা কোনো ব্যক্তিকে এককভাবে সম্বোধন না করে বরং উম্মাহকে সামগ্রিকভাবে সম্বোধন করে—যেমন "হে উম্মাহ, আল্লাহর দিকে ফিরে এসো" কিংবা "আমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ার মধ্যেই সমাধান নিহিত"—এই জাতীয় বাক্যগুলো একজন মুসলিম ব্যক্তিকে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তার নিজ কর্তব্যের ব্যাপারে সচেতন না-ও করতে পারে। বিশেষ করে আমাদের উম্মাহর ধর্মীয় চিন্তা ও আচরণের মাঝে বিদ্যমান চরম অস্পষ্টতার কারণে উম্মাহর অনেক সদস্য মনে করতে পারেন যে, এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য করা হয়নি; বিশেষত মানুষের প্রধান শত্রু অভিশপ্ত শয়তান এবং মানুষরূপী শয়তানদের উপস্থিতির কারণে, যারা মুসলিমদের নিকট তাদের দ্বীনি বিধিবিধানগুলোকে অস্পষ্ট ও গোলমেলে করে তোলে এবং তাকে তার বর্তমান অবস্থার ওপর সন্তুষ্ট থাকতে প্ররোচিত করে, যদিও দ্বীন ও এর বিধিবিধান পালন এবং অনুসরণের ক্ষেত্রে তার বড় ধরনের অবহেলা ও ত্রুটি বিদ্যমান থাকে। এছাড়া একজন ব্যক্তির কাছে এটি স্পষ্ট না-ও হতে পারে যে, উম্মাহর অবস্থার পরিবর্তন এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের সূচনা হয় ব্যক্তির নিজের মাধ্যমেই—তার পূর্ণাঙ্গ ও নিষ্ঠাপূর্ণ আনুগত্য এবং সমাজের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের নিকট তার দাওয়াত প্রদানের (প্রত্যাবর্তন ও দাওয়াত) মাধ্যমে। (১)

--------------------------------------------

(১) এই শব্দ দুটি সংস্কারের ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের ভূমিকা অর্থাৎ নিজের পরিবর্তন এবং অন্যদের কাছে দাওয়াত পৌঁছানোর বিষয়টি সংক্ষেপে প্রকাশ করে। এই দায়িত্বের প্রতীক হিসেবে একে একটি বাস্তবমুখী স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। আর স্মরণ করিয়ে দেওয়া ও উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে স্লোগানের অনস্বীকার্য ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
9- مما يدل أيضا على أن خطابنا الدعوي كان ناقصاً هو ما نلاحظه من البرود والانتكاس العاطفي والعملي السريع ، والعودة للضلال واللهو الذي يحدث للأمة بعد فترة وجيزة من انتهاء إحدى نكبات المسلمين. بل حتى أنه مع استمراء الواقع وكثرة المذابح أصبح الكثير من الأمة يلهو ويغني، وينشغل بالدنيا، والمعاصي التي يؤخر بها نصر أمته في نفس الوقت الذي يرى أمامه يوميا إخوانه وهم يذبح أطفالهم، وتهدم منازلهم، وينكل بهم أشد تنكيل.
9- আমাদের দাওয়াতি সম্বোধন যে অপূর্ণ ছিল, তার অন্যতম প্রমাণ হলো উম্মাহর কোনো একটি মহাবিপর্যয় সমাপ্ত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের মাঝে পরিলক্ষিত আবেগীয় ও ব্যবহারিক শীতলতা, দ্রুত অধঃপতন এবং পথভ্রষ্টতা ও অনর্থক আমোদ-প্রমোদে ফিরে যাওয়া। এমনকি বর্তমান পরিস্থিতির সাথে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া এবং ব্যাপক গণহত্যার কারণে উম্মাহর একটি বড় অংশ এখন খেল-তামাশা ও গান-বাজনায় লিপ্ত হচ্ছে। তারা পার্থিব ব্যস্ততা এবং এমন সব পাপাচারে নিমগ্ন যা তাদের জাতির বিজয়কে বিলম্বিত করছে; অথচ একই সময়ে তারা প্রতিদিন তাদের চোখের সামনে দেখছে যে তাদের ভাইদের সন্তানদের জবাই করা হচ্ছে, তাদের ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের ওপর চরমতম উৎপীড়ন চালানো হচ্ছে।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ২০)
10- يبدو أن من آثار عدم تركيز الدعاة وغيرهم من المصلحين والغيورين على طريق النصر الحقيقي-بالقدر الكافي- في خطابهم الدعوي أننا أصبحنا نرى العديد من الإنتاجات الطيبة التي كانت ردة فعل للمحن من مقالات وأشعار وكتابات، وإصدارات إعلامية متنوعة، وتوجهات شعوبية (1) ، كلها طيبة لكن الكثير منها يتسم بعدم تلمس طريق النصر الحقيقي بإيضاح جيد لا بكلمات رنانة عامة، وأفعال حماسية غير دقيقة في توجهها لأساس الداء والدواء.

بل إن بعض ردود الفعل تجاه المحن سواء كانت نثراً أو شعراً أو خطابةً أو مظاهرات أو غير ذلك كانت تتكلم عن المحن بالطريقة التي يتكلم بها أي إنسان يضيع عليه مجده أو وطنه أو ينتهك عرضه ودمه، فبعضها جاف من المعاني الإسلامية، ومعاني العبودية، وفي بعضها سمة الحمية أظهر من سمة العبودية والإخلاص والتجرد والعمل من اجل إرضاء الله.

--------------------------------------------

(1) إننا نأمل أن تصبح شعارات وكلمات الرجوع والعودة إلى الدين، والتحفيز للتوبة والصلاح هي السمة الأساس التي لا تفتقد في أي تفاعل طيب يحدث من الشعوب المسلمة بعد الآلام التي تراها … فهذا هو الطريق الحق لعزنا ونصرنا وفلاحنا في الدنيا والآخرة.
১০- মনে হচ্ছে যে, দাঈ এবং অন্যান্য সংস্কারক ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের তাদের দাওয়াতি বক্তব্যে প্রকৃত বিজয়ের পথের ওপর—পর্যাপ্ত মাত্রায়—গুরুত্বারোপ না করার একটি প্রভাব হলো এই যে, বর্তমানে আমরা বিপদ-আপদ বা পরীক্ষার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ অনেক উত্তম কাজ দেখতে পাচ্ছি; যেমন বিভিন্ন নিবন্ধ, কবিতা, লেখালেখি, বৈচিত্র্যময় গণমাধ্যম প্রকাশনা এবং জনমুখী প্রবণতা (১)। এগুলোর সবই প্রশংসনীয়, কিন্তু এর অনেকগুলোর মধ্যেই কেবল গালভরা বুলি বা সাধারণ কথার পরিবর্তে সুন্দর ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রকৃত বিজয়ের পথ অন্বেষণ করার অভাব রয়েছে। এছাড়া ব্যাধি ও তার প্রতিকারের মূল কারণের দিকে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে এসব আবেগপ্রসূত কর্মকাণ্ডে সূক্ষ্মতার ঘাটতি রয়েছে।

বরং বিপদ-আপদ বা পরীক্ষার প্রতি কিছু প্রতিক্রিয়া—তা গদ্য, কবিতা, বক্তৃতা, বিক্ষোভ বা অন্য যা-ই হোক না কেন—বিপদ সম্পর্কে এমনভাবে আলোচনা করে যেভাবে একজন সাধারণ মানুষ তার হারানো গৌরব বা মাতৃভূমি নিয়ে কথা বলে, কিংবা তার সম্মান ও রক্ত লঙ্ঘিত হলে প্রতিবাদ করে। এর মধ্যে কিছু প্রতিক্রিয়া ইসলামি ভাবধারা এবং দাসত্বের চেতনা বিবর্জিত হওয়ার কারণে শুষ্ক। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করা, একনিষ্ঠতা, নিঃস্বার্থতা ও দাসত্বের বৈশিষ্ট্যের চেয়ে আবেগপ্রসূত আতিশয্যই বেশি প্রকাশ পায়।

--------------------------------------------

(১) আমরা আশা করি যে, মুসলিম উম্মাহ বর্তমানে যে যাতনা প্রত্যক্ষ করছে, এরপর তাদের মধ্য থেকে উদ্ভূত প্রতিটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে দ্বীনের পথে প্রত্যাবর্তন এবং তাওবাহ ও সংশোধনের প্রেরণা জোগানোই হবে মূল বৈশিষ্ট্য, যা যেন কখনোই হারিয়ে না যায় … কারণ এটিই ইহকাল ও পরকালে আমাদের মর্যাদা, বিজয় এবং সফলতার একমাত্র সত্য পথ।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ২১)
11- ومن الإشكالات التي لوحظت ما يمكن أن نسميه التخدير بالنصر والتفاؤل الذي يحدث عندما يحرص بعض الأفاضل الكرام الغيورين من الدعاة والمصلحين في خطاباتهم -كلمات كانت أو شعرا أو توجيهات- على طمأنة الأمة بأن النصر قادم، وبث روح التفاؤل فيها بدون أن ُتذَكَّر الأمة بأهمية أن تصحح مسارها، وتتوب من المعاصي التي وقعت فيها، وتعلن وتبدأ بجدية في العودة الصادقة إلى الله، وإلى حقيقة دينها وتطبيقه الكامل، والدعوة والبذل والتضحية من أجله، فنكون بذلك كمن يطمئن الطالب الكسول المحبط بأن عليه ألا ييأس وأنه سينجح بدون أن يذكره بأن عليه أن يثابر ويجتهد.

ولا يعني هذا عدم التشجيع على بث روح الأمل والتفاؤل، فهو أمر مطلوب محمود، ولكن القصد أن يكون معه تذكير واضح بالعمل والسعي للتغيير، حتى تُتَلافى سلبية الركون واستمراء الواقع.

((إن أمتنا تحتاج إلى التفاؤل ولكنها.....

تحتاج أكثر ما تحتاج إلى من يهزها بقوة لتستيقظ من نومها العميق وبُعدها،

تحتاج أكثر من التفاؤل إلى من يحذرها من حدوث مآسٍ وعقوبات أخرى من الجبار سبحانه لها فهي:

لم تفق وترجع إلى الله وهي في أشد مآسيها وذلها وهوانها،
১১- পরিলক্ষিত সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো যাকে আমরা বিজয় ও আশাবাদের মাধ্যমে মোহগ্রস্ত করা বলতে পারি। এটি তখনই ঘটে যখন অনেক সম্মানিত ও একনিষ্ঠ দাঈ এবং সংস্কারক তাদের বক্তব্যে—সেটি কথা হোক, কবিতা হোক বা দিকনির্দেশনা—উম্মাহকে এই বলে আশ্বস্ত করতে অতি সচেষ্ট হন যে বিজয় আসন্ন, এবং তাদের মধ্যে আশাবাদের সঞ্চার করেন, কিন্তু উম্মাহকে তার পথ সংশোধন করা, লিপ্ত হওয়া পাপসমূহ থেকে তওবা করা এবং আল্লাহর দিকে ঐকান্তিক প্রত্যাবর্তন, দীনের প্রকৃত রূপ অনুধাবন ও তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং এর জন্য দাওয়াত, শ্রম ও আত্মত্যাগের গুরুত্ব সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেন না। এর ফলে আমাদের অবস্থা সেই ব্যক্তির মতো হয় যে একজন অলস ও হতাশ ছাত্রকে এই বলে আশ্বস্ত করে যে তাকে নিরাশ হওয়া চলবে না এবং সে সফল হবে, অথচ তাকে এ কথা মনে করিয়ে দেয় না যে তাকে অধ্যবসায় ও পরিশ্রম করতে হবে।

এর অর্থ এই নয় যে আশা ও আশাবাদের সঞ্চার করতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে, কারণ এটি একটি কাম্য ও প্রশংসনীয় বিষয়। বরং উদ্দেশ্য হলো এর সাথে কর্মতৎপরতা এবং পরিবর্তনের প্রচেষ্টার ব্যাপারে সুস্পষ্ট স্মারক থাকা প্রয়োজন, যাতে পরিস্থিতির কাছে নতিস্বীকার এবং বর্তমান অবস্থার সাথে আপস করে নেওয়ার নেতিবাচক প্রভাব এড়িয়ে চলা যায়।

((নিশ্চয়ই আমাদের উম্মাহর আশাবাদের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু.....

তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন কাউকে যে তাকে তার গভীর তন্দ্রা এবং উদাসীনতা থেকে জাগ্রত করার জন্য সজোরে নাড়া দেবে,

আশাবাদের চেয়েও বেশি প্রয়োজন এমন কাউকে যে তাকে প্রবল পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা আরও বিপর্যয় ও শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করবে; কারণ সে:

তার চরম বিপর্যয়, লাঞ্ছনা ও অবমাননার মধ্যেও সচেতন হয়নি এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসেনি,
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ২২)
لم تعد ولم تتب من المعاصي (1) وهي ترى المسلمين يذبحون ذبح النعاج بما فيهم أطفالهم!!! الأبرياء،

لم تعد (2) وهي تسمع بآلافٍ!!!! من أخواتهن يغتصبن!!!! .

لم تعد ولم تتب وهي ترى الأعداء يتربصون بها من كل جانب!!

لم تعد ولم تتب وهي ترى العالم يعيش في قمم من الضياع والتعاسة والكفر

والضلال، وهي المسؤولة عن تبليغه طريق النجاة … أولاً:بتمثلها هي نفسها الإسلام

حقيقة وصدقاً (فهو الأهم لنشر الدين) ، وثانياً: بتبليغها الإسلام بكل عزم وهمة.

إن أمتنا التي لم تفق (3) ولم تعد وهي ترى كل هذه البلايا.... تحتاج أكثر ما تحتاج إلى من يخوفها من حصول مثل ما حصل لإخوانهم عليهم.

وإذا أردنا أن نخفف بعض إحباطاتها فليُصاحب ذلك تذكيرٌ بالطريق والوسيلة التي بحصولها وبالبدء بتحقيقها نتفاءل التفاؤل الحقيقي الذي يكون تفاؤلا مفيداًً لا أماني قد تضر أكثر مما تفيد ((. (4)

--------------------------------------------

(1) أمثلة المعاصي والانحرافات التي وقعت فيها الأمة وجاهرت الجبار بها واستمرأتها (وكأنها حلال) وأصرت عليها وانتشرت فيها كثيرة وفي جوانب متنوعة عديدة،....ولكن لا أجد مثلاً أوضح على ذلك -كما يبدو لي- مثل قضية إصرار الأمة -سواءً المنفذين أو المشاهدين- على قبول واستمراء المنكرات التي تأتي بها القنوات ووسائل الإعلام وتساهلها بعرضها ورؤيتها (خاصةً مع معرفة الكثير بحرمتها) وإن كان ذلك مجرد النظر إلى المرأة المتبرجة مذيعةً كانت أو غير ذلك (وهذا من باب ضرب المثل بالأقل وإلا فإن هذه الوسائل يعرض فيها أكثر من ذلك بكثير، ويعرض في كثير منها ما يشيب له الرأس مما يفسد المجتمع دينياً وأخلاقياً) . وعلينا أن لا نستهين بهذا الجانب فخطر وأثر الانحراف في هذه الوسائل عظيم الأثر على فكر وقيم وسلوك وتوجهات واهتمامات وتربية أي مجتمع حتى لو غض الطرف عن جانب المعاصي المباشرة المتحققة بالنظر لها. وهي -بتعويدها الأمة على استسهال المعصية- تهيؤها للتمادي في معاصٍ أخرى في شتى المجالات.

(2) لا يخلو المسلم من الذنوب فهذا من طبيعة النفس البشرية، ولكن الخطورة على الفرد والأمة تكمن في الإصرار عليها والمجاهرة بها،.. وخطر الذنوب وأثرها على الفرد والمجتمعات والأمة بشكل عام فصله علماء ودعاة الأمة في السابق والحاضر. ومن أفضل الكتب الحديثة - حسب إطلاعي- التي كتبت عن الذنوب وأثرها كتاب «المعاصي وأثرها على الفرد والمجتمع» للشيخ حامد المصلح

(3) لا تعني هذه العبارات فقدان الأمل في الأمة، بل إن الأمل في الخير الكامن فيها هو ما يدفع لكتابة مثل هذه الكلمات، ولا يُنكر أن الأحداث غيرت العديد من المسلمين،.. ولكن بشكل عام فإن الغفلة لا زالت مستمرة والاستيقاظ المأمول لم يحصل حتى الآن

(4) جزء من مقال يتحدث عن هذا الجانب من موقع «مأساتنا والحل: عودة ودعوة» ، وهو موقع يركز على التذكير بواجب العودة وإصلاح المسار www.awda-dawa.com
(উম্মাহ) ফিরে আসেনি এবং পাপসমূহ (المعاصي) থেকে তওবা করেনি (১), অথচ তারা দেখছে যে মুসলমানদেরকে ভেড়ার মতো জবেহ করা হচ্ছে, এমনকি তাদের নিষ্পাপ শিশুদেরকেও!!!

তারা ফিরে আসেনি (২), অথচ তারা হাজার হাজার!!!! বোনদের ধর্ষিতা হওয়ার সংবাদ শুনছে!!!!।

তারা ফিরে আসেনি এবং তওবা করেনি, অথচ তারা দেখছে যে শত্রুরা তাদের চারপাশ থেকে ওঁত পেতে আছে!!

তারা ফিরে আসেনি এবং তওবা করেনি, অথচ তারা দেখছে যে পৃথিবী চরম বিভ্রান্তি, দুর্দশা, কুফরি ও পথভ্রষ্টতার চূড়ায় বাস করছে। অথচ এই পৃথিবীকে মুক্তির পথ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তাদেরই ওপর… প্রথমত: নিজের মাঝে ইসলামের বাস্তব ও সত্য প্রতিফলন ঘটানোর মাধ্যমে (যা দ্বীন প্রচারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ), এবং দ্বিতীয়ত: পূর্ণ দৃঢ়তা ও সংকল্পের সাথে ইসলাম প্রচারের মাধ্যমে।

আমাদের এই উম্মাহ যারা সজাগ হয়নি (৩) এবং ফিরে আসেনি যদিও তারা এসব মুসিবত দেখছে.... তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন কাউকে যে তাদেরকে সেই পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করবে যা তাদের ভাইদের ওপর আপতিত হয়েছে।

আর আমরা যদি তাদের হতাশা কিছুটা লাঘব করতে চাই, তবে তার সাথে সেই পথ ও পদ্ধতির কথাও স্মরণ করিয়ে দিতে হবে, যা অর্জনের মাধ্যমে এবং যা বাস্তবায়নের সূচনার মাধ্যমে আমরা প্রকৃত আশাবাদ ব্যক্ত করতে পারি। এমন এক আশাবাদ যা হবে ফলপ্রসূ, কেবল অলীক কল্পনা নয় যা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করতে পারে। (৪)

--------------------------------------------

(১) উম্মাহ যে সমস্ত পাপ (المعاصي) ও বিচ্যুতিতে লিপ্ত হয়েছে, প্রতাপশালী আল্লাহর সামনে যা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে এবং যা তারা সহজভাবে গ্রহণ করে নিয়েছে (যেন তা হালাল) এবং যাতে তারা অবিচল রয়েছে—এমন উদাহরণ বহুবিধ এবং অসংখ্য দিকে বিস্তৃত... তবে আমার কাছে এর চেয়ে স্পষ্ট কোনো উদাহরণ নেই—যেমনটি আমার কাছে প্রতীয়মান হয়—উম্মাহর পক্ষ থেকে (হোক সে বাস্তবায়নকারী বা দর্শক) মিডিয়া ও চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে আগত অপকর্ম (منكرات) সমূহকে গ্রহণ ও হজম করে নেওয়ার বিষয়টি। এসব চ্যানেল যা প্রদর্শন করে তা দেখার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন (বিশেষ করে অনেকের কাছে এর নিষিদ্ধতা পরিষ্কার হওয়া সত্ত্বেও), এমনকি তা কেবল কোনো নারী উপস্থাপিকা বা অন্য কারো বেপর্দা অবয়বের দিকে তাকানো হলেও (এটি কেবল ক্ষুদ্রতম উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, অন্যথায় এসব মাধ্যমে এর চেয়েও ভয়াবহ অনেক কিছু দেখানো হয় যা মানুষের চুল পাকিয়ে দেওয়ার মতো এবং যা ধর্মীয় ও নৈতিকভাবে সমাজকে ধ্বংস করে দেয়)। আমাদের উচিত হবে না এই বিষয়টিকে তুচ্ছ মনে করা; কেননা কোনো সমাজের চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ, আচরণ ও লালন-পালনের ক্ষেত্রে এসব মাধ্যমের বিচ্যুতির প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী, এমনকি সরাসরি পাপের (المعاصي) বিষয়টি উপেক্ষা করলেও। আর উম্মাহকে পাপের প্রতি অভ্যস্ত করার মাধ্যমে এটি তাদের অন্যান্য ক্ষেত্রেও পাপে নিমজ্জিত হওয়ার পথ সুগম করে দেয়।

(২) কোনো মুসলিমই গুনাহমুক্ত নয়, কারণ এটি মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। তবে ব্যক্তি ও উম্মাহর জন্য বড় বিপদ হলো পাপে অবিচল থাকা এবং তা প্রকাশ্যভাবে করা... গুনাহের ঝুঁকি এবং ব্যক্তি, সমাজ ও উম্মাহর ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে অতীত ও বর্তমানের আলেম (علماء) ও দাঈ (دعاة) বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আমার জানামতে গুনাহ ও এর কুফল সম্পর্কে রচিত আধুনিক বইগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বই হলো শায়খ হামিদ আল-মুসলিহ রচিত 'আল-মাআসি ওয়া আসারুহা আলাল ফারদি ওয়াল মুজতামা' (পাপ এবং ব্যক্তি ও সমাজের ওপর এর প্রভাব)।

(৩) এই কথাগুলোর অর্থ এই নয় যে উম্মাহর ব্যাপারে আশাহত হওয়া হয়েছে, বরং উম্মাহর মাঝে সুপ্ত যে কল্যাণের আশা রয়েছে, সেটিই এ ধরনের লেখা লিখতে উদ্বুদ্ধ করে। এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে চলমান ঘটনাবলি অনেক মুসলিমকে পরিবর্তিত করেছে... তবে সামগ্রিকভাবে উদাসীনতা এখনো রয়ে গেছে এবং কাঙ্ক্ষিত জাগরণ এখনো ঘটেনি।

(৪) 'মাসাতুনা ওয়াল হাল: আওদাহ ওয়া দাওয়াহ' ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া একটি প্রবন্ধের অংশবিশেষ। এটি এমন একটি ওয়েবসাইট যা (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসা এবং পথ সংশোধনের আবশ্যকতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব প্রদান করে। www.awda-dawa.com
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
12- ومن سلبيات بعض الألفاظ التي تستخدم للتعبير عن بعض مآسي ومحن الأمة ووصفها مثلاً بأنها القضية الأخطر التي تواجهنا ونعيشها أو بأنها مشكلة المسلمين وقضيتهم الكبرى - وذلك في غياب أو ضعف تذكير الأمة بواجبها في الصلاح والإصلاح عند الحديث عن هذه الأحداث- أن تصرف الأمة عن التركيز على قضيتها الكبرى ومأساتها الأكبر ألا وهي بعدها عن حقيقة الدين، والالتزام بأوامره، والتي نتجت واستمرت بسببها شتى المآسي التي تعيشها الأمة من ضعف وتفرق وتخبط، وذل وهوان، وضياع للمقدسات والأوطان،..... فتعتقد الأمة أن المأساة هي فقط فيما حصل من فقدان للأراضي والبلاد، … وكأنه يرضي الله وتتحقق رسالتنا في الأرض فقط باسترداد ما فقد منا، وبأن ننتصر على الأعداء، وإن استمررنا على مداومة المعاصي والبعد عن حقيقة الدين.
12- উম্মাহর কতিপয় বিপর্যয় ও সংকটের কথা ব্যক্ত করার জন্য এবং সেগুলোকে উদাহরণস্বরূপ আমাদের মোকাবিলা করা ও যাপিত জীবনের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় অথবা মুসলিমদের সর্ববৃহৎ সমস্যা ও ইস্যু হিসেবে অভিহিত করার জন্য ব্যবহৃত কিছু শব্দের নেতিবাচক দিকগুলোর একটি হলো—এই ঘটনাগুলো আলোচনার সময় উম্মাহকে তার আত্মসংশোধন ও সংস্কারের দায়িত্ব সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার অনুপস্থিতি বা শিথিলতার কারণে—উম্মাহর মনোযোগকে তার আসল বড় সমস্যা ও বৃহত্তর ট্র্যাজেডি থেকে বিচ্যুত করে দেওয়া। আর সেই ট্র্যাজেডি হলো দীনের প্রকৃত স্বরূপ ও এর বিধিবিধান অনুসরণের বাধ্যবাধকতা থেকে দূরে সরে যাওয়া। যার ফলশ্রুতিতে এবং যে কারণে উম্মাহ বর্তমানে দুর্বলতা, অনৈক্য, কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা, লাঞ্ছনা ও অবমাননা এবং পবিত্র স্থান ও মাতৃভূমি হারানোর মতো নানাবিধ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ও তা অব্যাহত রয়েছে। ফলে উম্মাহ মনে করে যে, ট্র্যাজেডি কেবল ভূমি ও দেশ হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ, … যেন কেবল আমাদের থেকে যা হারিয়ে গেছে তা পুনরুদ্ধার করা এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পৃথিবীতে আমাদের মিশনের সার্থকতা অর্জিত হবে, যদিও আমরা পাপাচার অব্যাহত রাখি এবং দীনের প্রকৃত স্বরূপ থেকে দূরে থাকি।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
13- وختاماً فمن بعض النقاط السابقة يلمس المرء أن بعض أحبتنا من الدعاة والمصلحين في حديثهم عمّا يتعلق بالمآسي التي نعيشها يخاطبون (في أحيانٍ قليلة أو كثيرة) الأمة أو بعض فئاتها وكأنها بشكل عام الأمة المستقيمة على ما يرضي الله والمطبقة لشرعه والسائرة على هداه، والتي لم يبق لها إلا توجيه لقضية معينة قصرت فيها، أو مسألة واحدة أخطأت في فهمها، أو فقط اجتماع كلمتها على حُكمٍ في مسألة،..... ولكن القضية أكبر وأشمل من ذلك،.... إنها قضية إحياء أمتنا التي قتلها الأعداء والمفسدون والشيطان والهوى منذ عقود عديدة بإبعادها عن أساس حياتها، ومقتضيات رسالتها، وسر سعادتها في الدنيا والآخرة.
13- পরিশেষে, পূর্বোক্ত কিছু বিষয় থেকে একজন ব্যক্তি অনুভব করতে পারেন যে, আমাদের প্রিয় দায়ী ও সংস্কারকদের কেউ কেউ বর্তমানে আমরা যে দুঃখ-দুর্দশার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছি সে সম্পর্কিত আলোচনায় (কখনও কম বা কখনও বেশি) উম্মাহ অথবা এর কোনো কোনো গোষ্ঠীকে এমনভাবে সম্বোধন করেন যেন তারা সাধারণভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে অবিচল, তাঁর শরিয়ত বাস্তবায়নকারী এবং তাঁর হেদায়াতের ওপর পরিচালিত একটি উম্মাহ; যাদের কেবল একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের দিকেই দিকনির্দেশনা দেওয়া বাকি আছে যাতে তারা ত্রুটি করেছে, অথবা কেবল একটি মাসআলা যা তারা বুঝতে ভুল করেছে, কিংবা কেবল কোনো একটি বিষয়ের বিধান (حكم) সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন...। কিন্তু বিষয়টি এর চেয়েও বড় এবং আরও ব্যাপক...। এটি হলো আমাদের উম্মাহকে পুনর্জীবিত করার বিষয়, যাকে কয়েক দশক ধরে শত্রু, অনিষ্টকারী, শয়তান এবং কুপ্রবৃত্তি ধ্বংস করে ফেলেছে—তাদের জীবনের মূল ভিত্তি, রিসালাতের দাবি এবং দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্যের রহস্য থেকে উম্মাহকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
ثانياً: ما نتمناه في خطابنا الدعوي عن المآسي:

1- نتمنى من الخطاب الدعوي والإصلاحي عن مآسي أمتنا وتخبطاتها أن يكون مركزا على الحل الأساس الأهم حسبما عرفنا من السنن الربانية التي عرَّفنا بها قرآننا العظيم، ونبينا صلى الله عليه وسلم، وعلماء الأمة وسلفها الصالح، ألا وهو رجوع الأمة إلى دينها، وتطبيقه الكامل، وابتعادها عن المعاصي والذنوب التي هي أساس المصائب والفتن والنكبات والشرور.

وأن يركز على علاج مرض أمتنا أكثر من التركيز على علاج أعراضه، (1)

وأن يكون مستمرا لا منقطعا، حتى لا يكون فقط ردة فعل تأخذ وقتها ثم تبرد وتنتهي.

--------------------------------------------

(1) أيضاً لوحظ التركيز على الأعراض أكثر من المرض نفسه في كلمات بعض المصلحين بعد ما أصاب الأمة من أخطاء أو انحرافات، أو أزمات حادة أو مصائب أو نكبات، أو فتن أو تخبطات معينه، فكنا نجد التركيز على الفتاوى والأحكام والتوجيهات والنظرات الخاصة بذلك الحدث مع ضعف الاستفادة من الحدث لتذكير الأمة بوضوح وتركيز بدائها الأساس الذي تسبب في هذا الواقع وانحرافاته، فبذلك النهج نكون قد توجهنا لعلاج العرض ونسينا الأصل المتسبب في ظهوره. ولا شك أننا نحتاج بشدة إلى الفتاوى والتوجيهات التي تبين لنا الحكم الشرعي والنظرة الصحيحة في حدث مؤلم أو انحراف معين، وينبغي علينا توضيحها للأمة، ولكن الأهم هو علاج المرض الضخم الكبير الأساس الذي نتجت عنه تخبطات الأمة وانحرافاتها ، وتفرقها واختلافها ، وتشتت آرائها وتوجهاتها ، وقلة البركة في رزقها ، وضعفها وذلها، وتسلط الطغاة عليها، وتمكن الأعداء منها، ووضعها المأساوي الذي تعيشه،....ألا وهو عدم استقامتها على الإسلام كاملا، وبعدها عن صدق التمسك بالدين، واستمراؤها الذنوب والمعاصي وإصرارها عليها، وعدم عيشها للدين حقيقةً لا خيالاً. قال تعالى وما أصابكم من مصيبة فبما كسبت أيديكم ويعفو عن كثير (الشورى 30) .
দ্বিতীয়ত: বিপর্যয় সম্পর্কে আমাদের দাওয়াতি বক্তব্যে আমরা যা প্রত্যাশা করি:

১- আমরা প্রত্যাশা করি যে, আমাদের উম্মাহর বিপর্যয় এবং বিভ্রান্তিগুলো নিয়ে দাওয়াতি ও সংস্কারমূলক বক্তব্য যেন সেই মৌলিক ও অতি গুরুত্বপূর্ণ সমাধানের ওপর নিবদ্ধ হয়, যা আমরা আমাদের মহান কুরআন, আমাদের নবী (সা.), উম্মাহর আলেমগণ এবং সালাফে সালেহীন থেকে প্রাপ্ত খোদায়ী রীতির মাধ্যমে জানতে পেরেছি; আর তা হলো উম্মাহর তার দ্বীনের দিকে প্রত্যাবর্তন, এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং পাপাচার ও গুনাহ থেকে দূরে থাকা, যা যাবতীয় বিপদ-আপদ, ফিতনা (فتن), দুর্যোগ ও অনিষ্টের মূল উৎস।

এবং এটি যেন উম্মাহর রোগের উপসর্গ নিরাময়ের চেয়ে রোগের মূল চিকিৎসার ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করে, (১)

এবং তা যেন বিচ্ছিন্ন (منقطع) না হয়ে নিরবচ্ছিন্ন হয়, যাতে এটি কেবল এমন কোনো সাময়িক প্রতিক্রিয়া না হয় যা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে পরে স্তিমিত ও সমাপ্ত হয়ে যায়।

--------------------------------------------

(১) উম্মাহর কোনো ভুলভ্রান্তি বা বিচ্যুতি, কিংবা তীব্র সংকট, বিপদ-আপদ, দুর্যোগ, ফিতনা (فتن) বা সুনির্দিষ্ট কোনো বিভ্রান্তি দেখা দেওয়ার পর কিছু সংস্কারকের বক্তব্যে রোগের চেয়ে উপসর্গের ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে দেখা গেছে। আমরা দেখতে পাই যে, সংশ্লিষ্ট ঘটনার ফতোয়া, বিধান, নির্দেশনা ও দৃষ্টিভঙ্গির ওপরই বেশি জোর দেওয়া হয়, অথচ সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে উম্মাহকে স্পষ্টভাবে ও গুরুত্বের সাথে সেই মূল ব্যাধি সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয় যা এই বর্তমান পরিস্থিতি ও বিচ্যুতির কারণ। এই পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা উপসর্গের চিকিৎসার দিকে অগ্রসর হই এবং এর আবির্ভাবের মূল কারণটি ভুলে যাই। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো বেদনাদায়ক ঘটনা বা সুনির্দিষ্ট বিচ্যুতির ক্ষেত্রে শারঈ বিধান এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টকারী ফতোয়া ও নির্দেশনার আমাদের বিশেষ প্রয়োজন এবং উম্মাহর সামনে তা স্পষ্ট করা আমাদের কর্তব্য। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই বিশাল ও মৌলিক রোগের চিকিৎসা করা যার ফলে উম্মাহর বিভ্রান্তি, বিচ্যুতি, বিভক্তি, মতভেদ, চিন্তা ও লক্ষ্যের বিক্ষিপ্ততা, রিজিকের বরকত হ্রাস, দুর্বলতা, লাঞ্ছনা, স্বৈরশাসকদের আধিপত্য, শত্রুদের কবলে পড়া এবং বর্তমান শোচনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে; আর তা হলো পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত না থাকা, দ্বীনকে একনিষ্ঠভাবে আঁকড়ে ধরা থেকে দূরে থাকা, গুনাহ ও পাপাচারকে সহজভাবে গ্রহণ করা ও তাতে অটল থাকা এবং কল্পনা নয় বরং বাস্তবে দ্বীনের ওপর জীবন অতিবাহিত না করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়, তা তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল এবং তিনি অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন।" (আশ-শুরা: ৩০)
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
2- نتمنى أيضا من الخطاب الدعوي - عندما يوضح أن نصرنا بالعودة (1) إلى ديننا-‌‌ أن يكون خطابه معروضاً بطريقة مفصلة دقيقة، تبين لكل فرد كيف يكون دوره في العودة والتغيير، لا أن يكون الخطاب بكلمة عامه فقط لا تُشعر الفرد بدوره ومسؤوليته في تحقيقها، بل وتؤدي أحيانا إلى أن نَجْعَل الفرد ممن يقول ما لا يفعل، فهو قد يتغنى بأن الحل في العودة ولكنه بعيد عن تحقيقها وعن معانيها وواجباتها.

فنحن نتمنى أن تكثر الكلمات القوية والأشعار المؤثرة التي تجعل الفرد المسلم يخرج منها بخطوات عمليه عمَّا ينبغي أن يفعله هو بنفسه لتغيير واقع أمته، لا أن يخرج فقط بحماس وانفعال قد يبرد سريعا، فأمتنا تريد عملا وعاملين.

--------------------------------------------

(1) أرجو ألا يُعْتَقَد بأن التركيز على العودة يعني تقليل أهمية الجهاد،....فأولا: بلا أي شك فإن جزءاً هاماَ وأساسياً مما ينبغي أن تعود إليه الأمة هو الجهاد في سبيل الله،....وثانياً: علينا ألا ننسى وأن نتذكر أن أقوى ما يُعِدْ وتستعد به الأمة للجهاد هو عودتها إلى الله والتزامها أوامره،....وثالثاً: أن نصر الله لأمتنا مرتبط بنصرها له سبحانه وتعالى (العودة مَوْقِدُ شُعْلَةِ الجهاد وَسِرُّ انتصاره)
২- আমরা দাওয়াতি সম্বোধন থেকেও প্রত্যাশা করি যে—যখন এটি স্পষ্ট করে যে আমাদের বিজয় দ্বীনের দিকে ফিরে আসার (১) মাধ্যমেই সম্ভব—সেই সম্বোধন যেন বিস্তারিত ও সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা প্রতিটি ব্যক্তির নিকট স্পষ্ট করে দেবে যে, এই প্রত্যাবর্তন ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা কী হবে। সম্বোধনটি যেন কেবল সাধারণ কোনো বুলি না হয় যা ব্যক্তিকে তার ভূমিকা ও তা অর্জনে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে না; বরং তা মাঝে মাঝে ব্যক্তিকে এমন লোকদের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলে যারা যা বলে তা নিজে করে না। ফলে সে হয়তো উচ্চস্বরে প্রচার করে যে সমাধান কেবল ফিরে আসার মধ্যেই নিহিত, অথচ সে নিজে তা বাস্তবায়ন করা এবং এর অর্থ ও আবশ্যিক কর্তব্যসমূহ পালন থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করে।

আমরা প্রত্যাশা করি যে, এমন শক্তিশালী বক্তব্য ও প্রভাবশালী কবিতার প্রাচুর্য ঘটবে যা একজন মুসলিম ব্যক্তিকে নিজের উম্মাহর বাস্তব অবস্থার পরিবর্তনের জন্য তার নিজের করণীয় সম্পর্কে কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করবে; কেবল এমন আবেগ ও উত্তেজনা নিয়ে বের হওয়া নয় যা দ্রুতই স্তিমিত হয়ে পড়ে। কেননা আমাদের উম্মাহ কর্ম এবং কর্মঠ লোক চায়।

--------------------------------------------

(১) আমি আশা করি এটি মনে করা হবে না যে, ফিরে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করার অর্থ জিহাদের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া। কারণ প্রথমত: কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই উম্মাহর যে বিষয়গুলোর দিকে ফিরে আসা উচিত তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক অংশ হলো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ। দ্বিতীয়ত: আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় এবং এটি স্মরণে রাখা উচিত যে, জিহাদের জন্য উম্মাহর প্রস্তুতির সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং তাঁর নির্দেশাবলি মেনে চলা। তৃতীয়ত: আমাদের উম্মাহর প্রতি আল্লাহর সাহায্য তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করার সাথে সম্পৃক্ত—তিনি পবিত্র ও সুউচ্চ—(প্রত্যাবর্তনই হলো জিহাদের শিখার প্রজ্বলক এবং এর বিজয়ের রহস্য)।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
3- حبذا أيضا لو كان في خطابنا الدعوي- نثرا كان أو شعرا أو خطابة - تبيين وتذكير ببعض المنكرات التي انتشرت في الأمة وخاصةً التي استمرأها المسلمون ، وهذا أفضل من العموميات في الكلام عن العودة والذنوب، لكي يتضح للفرد المسلم نقاط خلله وتقصيره (1) ، ومن ثم يكون خطابنا أقوى في النتيجة العملية الناتجة منه بإذن الله.

وليت خطابنا الدعوي لا يُغفل تذكير الفرد والمجتمع بخطر المعاصي كلها بشتى أنواعها، بما فيها خطر الإصرار على الصغائر (2) ، الذي تساهل به حتى الكثير من الأفاضل والطيبين، نسياناً منهم لبعض الحقائق والأسس المتعلقة بهذا الموضوع، ومنها تحول الصغائر إلى كبائر بأمور عديدة منها الإصرار والمجاهرة وعدم الحياء والخجل من الله في عملها كما وضح هذه الحقائق علماء الأمة وسلفها الصالح.

فنحتاج في خطابنا إلى تبصير الأمة بهذه الحقيقة التي نُسيت، وخاصة وأننا نرى الانتشار الضخم في الإصرار على كثير من الصغائر في واقع أمتنا الحاضر، والذي لا شك في أن إفساد المفسدين وتضليل المضلين دعمه وقوَّاه في قضايا كثيرة.

--------------------------------------------

(1) من أمثلة العموميات في الخطاب وبغض النظر عن مسألة المآسي وواجب العودة أن تكثر الكلمات المتحدثة عن التوبة بدون أن توضح هذه الكلمات من ماذا تكون التوبة؟ بذِكر بعض الأمثلة (وليس شرطاً أن تذكر الأمثلة في كل كلمة) ، فالسامع للكلمة قد يكون واقعا في العديد من المنكرات (سواءً في أمر العقيدة أو الفكر أو السلوك) ولكن ضعف التصور وهوى النفس قد تجعله يرى أنه ليس هو من المقصودين بالتوبة، وأن المقصود بها غيره من الواقعين في الكبائر الظاهرة مثل شرب الخمر والزنا وغيرها. بل أحيانا يُذكَر مثلٌ ولكنه مثل عام يحتاج إلى توضيح وتحديد، فيشارك أيضا الهوى وضعف التصور في إيهام المستمع بأنه ليس المقصود؛.... فمثلا الكلام عن النظر الحرام قد يتصور البعض أن المقصود به هو رؤية الأفلام الفاحشة والشديدة التبذل وأما أن يرى المرأة المتبرجة (بل أحيانا الكاسية العارية من شدة تبرجها) فلبس هذا من النظر الحرام في تصوره، … خاصة مع الاستمراء الكبير للعديد من المنكرات في مجتمعات المسلمين في عصرنا الحاضر.

(2) إن التنبيه على خطورة الإصرار على الصغائر لا يعني أبداً أنها أهم انحرافات الأمة، فحتى الإصرار على الكبائر إنتشر في الأمة،...... ففي الأمة الكثير من الشرك والانحرافات العقدية، وضعف تحقيق التوحيد وتمثل معانيه! ، والبدع، وتحكيم غير شرع الله، والخلل في الولاء والبراء، ومحاربة المصلحين، والاستهزاء والتهاون بقيم الدين، وترك الصلاة، والتعامل بالربا، والظلم والغش وتضييع الأمانات، والغيبة، … وغير ذلك، ولكن نبه على الصغائر لأن التذكير بها وبخطرها قد يغفل وينسى.
৩- আমাদের দাওয়াতি ভাষণে—তা গদ্যে হোক, কবিতায় হোক কিংবা বক্তৃতায়—যদি উম্মাহর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া কিছু গর্হিত বিষয় (منكرات)-এর স্পষ্ট বর্ণনা ও সে সম্পর্কে সতর্কবার্তা থাকত, তবে তা অত্যন্ত উত্তম হতো; বিশেষ করে যেগুলোকে মুসলমানরা খুব সাধারণ মনে করতে শুরু করেছে। দ্বীনের পথে প্রত্যাবর্তন এবং পাপ (ذنوب) সম্পর্কে সাধারণ ও অস্পষ্ট কথা বলার চেয়ে এটি অধিকতর শ্রেয়, যাতে একজন মুসলিম ব্যক্তির কাছে তার ত্রুটিবিচ্যুতি এবং অবহেলার জায়গাগুলো স্পষ্ট হয় (১), আর এর ফলে ইনশাআল্লাহ আমাদের দাওয়াতি ভাষণের বাস্তব ফলাফল আরও শক্তিশালী হবে।

আর আমাদের দাওয়াতি ভাষণ যেন ব্যক্তি ও সমাজকে সকল প্রকার পাপের ভয়াবহতা সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিতে ভুলে না যায়, যার মধ্যে ছোট গুনাহে অবিচল থাকা (الإصرار على الصغائر) (২)-এর বিপদও অন্তর্ভুক্ত। এমনকি অনেক নেককার ও ভালো মানুষও একে হালকাভাবে গ্রহণ করেছেন, কারণ তারা এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু সত্য ও মূলনীতি বিস্মৃত হয়েছেন। তার মধ্যে একটি হলো—বিভিন্ন কারণে সগিরা গুনাহ (الصغائر) কবিরা গুনাহ (الكبائر)-তে রূপান্তরিত হওয়া; যেমন- বারংবার করা বা অবিচল থাকা (الإصرار), প্রকাশ্য গুনাহ (المجاهرة) এবং তা করার সময় আল্লাহর প্রতি লজ্জাবোধ না থাকা। যেমনটি উম্মাহর আলেমগণ এবং সালাফে সালেহীন (সৎ পূর্বসূরিগণ) এই সত্যগুলো স্পষ্ট করেছেন।

সুতরাং আমাদের ভাষণে উম্মাহকে এই বিস্মৃত সত্যটি সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আমরা যখন বর্তমানে আমাদের উম্মাহর বাস্তবতায় অসংখ্য সগিরা গুনাহ (الصغائر)-এর ওপর অবিচল থাকার এক বিশাল প্রসার দেখতে পাচ্ছি, যা নিঃসন্দেহে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের অনিষ্ট এবং পথভ্রষ্টকারীদের বিভ্রান্তি অনেক ক্ষেত্রেই সহায়তা ও শক্তিশালী করেছে।

--------------------------------------------

(১) দাওয়াতি ভাষণে সাধারণ ও অস্পষ্ট কথার একটি উদাহরণ হলো—বিপর্যয়ের মাসআলা এবং প্রত্যাবর্তনের আবশ্যকতা নির্বিশেষে—তাওবাহ (توبة) সম্পর্কে প্রচুর কথা বলা, কিন্তু তাওবাহ আসলে কী থেকে হবে তা স্পষ্ট না করা; কিছু উদাহরণের মাধ্যমে (তবে প্রতিটি কথাতেই উদাহরণ দেওয়া জরুরি নয়)। কারণ শ্রবণকারী ব্যক্তি হয়তো অনেক গর্হিত বিষয় (منكرات)-এর মধ্যে লিপ্ত থাকতে পারে (তা আকীদা, চিন্তা বা আচরণের ক্ষেত্রেই হোক না কেন), কিন্তু সঠিক উপলব্ধির অভাব এবং নফসের খাহেশ বা প্রবৃত্তির তাড়না তাকে ভাবাতে পারে যে, তাওবাহ করার জন্য তাকে উদ্দেশ্য করা হয়নি; বরং যারা মদ্যপান, যিনা বা এই জাতীয় প্রকাশ্য কবিরা গুনাহ (الكبائر)-এ লিপ্ত রয়েছে, তাদেরই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এমনকি কখনও কখনও কোনো উদাহরণ দেওয়া হলেও তা অস্পষ্ট থাকে, যার ব্যাখ্যা ও সুনির্দিষ্টীকরণের প্রয়োজন হয়। ফলে প্রবৃত্তির তাড়না ও উপলব্ধির দুর্বলতা শ্রবণকারীকে এই ভ্রান্ত ধারণায় লিপ্ত করে যে তাকে উদ্দেশ্য করা হয়নি;... উদাহরণস্বরূপ, হারামের দিকে তাকানোর বিষয়ে আলোচনার সময় কেউ কেউ মনে করতে পারে যে, এর দ্বারা কেবল অত্যন্ত অশ্লীল ও নগ্ন চলচ্চিত্র দেখা বোঝানো হয়েছে; আর বেপর্দা নারী দেখা (এমনকি উগ্র সজ্জার কারণে যারা কাপড় পরেও উলঙ্গ থাকে) হারামের অন্তর্ভুক্ত নয়—এমনটিই তার ধারণা,... বিশেষ করে বর্তমান যুগে মুসলিম সমাজে অনেক গর্হিত বিষয় (منكرات) সাধারণ বিষয়ে পরিণত হওয়ার কারণে।

(২) সগিরা গুনাহ (الصغائر)-এ অবিচল থাকার ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করার অর্থ এই নয় যে, এটিই উম্মাহর সবচেয়ে বড় বিচ্যুতি। কারণ কবিরা গুনাহ (الكبائر)-এ অবিচল থাকাও উম্মাহর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে... কেননা উম্মাহর মাঝে অনেক শিরক (شرك), আকিদাগত বিচ্যুতি, তাওহীদ (توحيد) বাস্তবায়নে ও এর মর্মার্থ অনুসরণে দুর্বলতা, বিদআত (البدع), আল্লাহর শরীয়ত ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে বিচার ফয়সালা করা, বন্ধুত্ব ও শত্রুতা (الولاء والبراء)-এর নীতিতে ত্রুটি, সংস্কারকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা, দ্বীনি মূল্যবোধ নিয়ে উপহাস ও অবহেলা করা, সালাত ত্যাগ করা, সুদি কারবার, জুলুম, প্রতারণা ও আমানতের খেয়ানত করা, গীবত (غيبة)... ইত্যাদি বিদ্যমান রয়েছে। তবে সগিরা গুনাহ (الصغائر) সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে কারণ এগুলোর কথা এবং এগুলোর ভয়াবহতার কথা মানুষ প্রায়ই ভুলে যায় বা এ নিয়ে গাফেল থাকে।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
وعلينا أن لا ننسى أن كثيراً من الكبائر التي انتشرت في الأمة كان مبدؤها التساهل بصغائر متعلقة بها وتؤدي إليها. كما أن التهاون والإصرار على الصغائر يُجَرِّئ المسلم على غشيان غيرها من المعاصي ولو لم تكن متعلقة بها.
আমাদের বিস্মৃত হওয়া উচিত নয় যে, উম্মাহর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া বহু বড় গুনাহের (الكبائر) সূচনা হয়েছিল সেই সংশ্লিষ্ট ছোট গুনাহগুলোর (صغائر) প্রতি শিথিলতা প্রদর্শনের মাধ্যমে, যা মূলত সেগুলোর দিকেই ধাবিত করে। তদ্রূপ, ছোট গুনাহের (الصغائر) ব্যাপারে উদাসীনতা এবং তাতে অটল থাকা (الإصرار) একজন মুসলিমকে অন্যান্য পাপে লিপ্ত হতে সাহসী করে তোলে, যদিও সেগুলো সেই পূর্বোক্ত পাপের সাথে সংশ্লিষ্ট না-ও হয়।
(খণ্ড: ১) কালিমাতুল লিদ্দুয়াত ওয়াল মুসলিহীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
4- نتمنى أن يُشْعِر الخطاب الدعوي والإصلاحي المسلمين بفاعلية بالتحديات الخطيرة التي تواجه الأمة، ويربطها بضرورة تصحيح المسار والإصلاح، … حتى يكون الشعور بالتحدي فعالا في إيقاظ المسلمين وعودتهم.

وقد كان الشعور بالتحدي فعالا في تغيير حياة كثير من شعوب العالم بعد نكبات ألمت بهم (اليابان أحد هذه الأمثلة) .
৪- আমরা প্রত্যাশা করি যে, দাওয়াহ ও সংস্কারমূলক বয়ান উম্মাহর সম্মুখীন হওয়া গুরুতর চ্যালেঞ্জসমূহ সম্পর্কে মুসলিমদের কার্যকরভাবে সচেতন করবে এবং সেগুলোকে সঠিক পথ সংশোধন ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার সাথে সম্পৃক্ত করবে, … যাতে চ্যালেঞ্জের এই অনুভূতি মুসলিমদের জাগরণ ও প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়।

বিভিন্ন জাতির ওপর বিপর্যয় নেমে আসার পর এই চ্যালেঞ্জের অনুভূতি তাদের জীবন পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে (জাপান এর অন্যতম একটি উদাহরণ)।