(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: -)
قواعد مهمة في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر القسم: كتب عامة
الكتاب: قواعد مهمة في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر على ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. حمود بن أحمد الرحيلي
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 59
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 75
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা
লেখক: ড. হামুদ বিন আহমদ আল-রুহাইলি
প্রকাশক: গ্রন্থটি কোনো বিবরণ ছাড়াই সৌদি আরবের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত গ্রন্থ) : ৫৯
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়]
মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৫
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১)
قواعد مهمة
في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر
على ضوء الكتاب والسنة
د. حمود بن أحمد الرحيلي
الأستاذ المشارك بكلية الدعوة وأصول الدين
بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
ملخص البحثيتضمن بحث " قواعد مهمة في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر على ضوء الكتاب والسنة " أهمية الموضوع وخطة البحث، ومنهجي في البحث، وسبع قواعد، وقد جاءت القواعد على النحو التالي:
القاعدة الأولى: الشرع هو الأصل في تقرير الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
القاعدة الثانية: العلم والبصيرة بحقيقة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
القاعدة الثالثة: معرفة شروط إنكار المنكر. وهذه الشروط هي:
1 - التحقق من كونه منكرا.
2 - أن يكون المنكر موجودا في الحال، وله ثلاث حالات، ولكل حالة ما يناسبها.
3 - أن يكون ظاهرا من غير تجسس ما لم يكن مجاهرا.
4 - أن يكون الإنكار في الأمور التي لا خلاف فيها.
القاعدة الرابعة: معرفة إنكار المنكر. وجاءت كما يلي:
المرتبة الأولى: الإنكار باليد وشروطه.
المرتبة الثانية: الإنكار باللسان وضوابطه.
المرتبة الثالثة: الإنكار بالقلب.
القاعدة الخامسة: تقديم الأهم على المهم.
গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহ
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) প্রসঙ্গে
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
ড. হামুদ বিন আহমদ আল-রুহায়লী
সহযোগী অধ্যাপক, দাওয়াহ ও উসুলুদ্দিন অনুষদ
মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
গবেষণার সারসংক্ষেপ"কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) এর গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহ" শীর্ষক গবেষণাটিতে বিষয়ের গুরুত্ব, গবেষণার পরিকল্পনা, গবেষণার পদ্ধতি এবং সাতটি মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মূলনীতিগুলো নিম্নরূপ:
প্রথম মূলনীতি: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) নির্ধারণের ক্ষেত্রে শরিয়ত (الشرع) হলো মূল ভিত্তি।
দ্বিতীয় মূলনীতি: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) এর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞান (العلم) ও অন্তর্দৃষ্টি (البصيرة) থাকা।
তৃতীয় মূলনীতি: অসৎকাজ প্রতিরোধের শর্তাবলি (شروط) সম্পর্কে অবগত হওয়া। এই শর্তগুলো হলো:
১ - বিষয়টি যে একটি অসৎকাজ (منكرا) তা নিশ্চিত হওয়া।
২ - অসৎকাজটি বর্তমানে বিদ্যমান থাকতে হবে; এর তিনটি অবস্থা রয়েছে এবং প্রতিটি অবস্থার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা রয়েছে।
৩ - গোয়েন্দাগিরি (تجسس) করা ছাড়াই বিষয়টি প্রকাশ্য হতে হবে, যতক্ষণ না ব্যক্তিটি প্রকাশ্যে পাপাচারী (مجاهرا) হয়।
৪ - প্রতিরোধ কেবল সেই সব বিষয়ে হতে হবে যেগুলোতে কোনো মতভেদ (خلاف) নেই।
চতুর্থ মূলনীতি: অসৎকাজ প্রতিরোধ সম্পর্কে জ্ঞান। এটি নিম্নরূপ:
প্রথম স্তর: হাত দ্বারা প্রতিরোধ এবং এর শর্তাবলি (شروط)।
দ্বিতীয় স্তর: জিহ্বা দ্বারা প্রতিরোধ এবং এর নীতিমালা (ضوابط)।
তৃতীয় স্তর: অন্তর দ্বারা ঘৃণা বা প্রতিরোধ করা।
পঞ্চম মূলনীতি: গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২)
القاعدة السادسة: اعتبار تحصيل المصالح وتكميلها، ودرء المفاسد وتعطيلها أو تقليلها.
القاعدة السابعة: التثبت في الأمور وعدم العجلة.
ثم خاتمة اشتملت على أهم نتائج البحث، بالإضافة إلى قائمة لأهم المصادر والمراجع العلمية، وفهرس بالموضوعات
علما أني لم أقف على من أفرد هذا البحث بهذا الاسم على حد علمي، وبالله التوفيق وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
• • •
ষষ্ঠ নীতি: জনকল্যাণ (المصالح) অর্জন ও তা পূর্ণতা দান এবং অপকারিতা (المفاسد) প্রতিহত করা ও তা রহিতকরণ অথবা হ্রাস করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা।
সপ্তম নীতি: বিষয়াদির ক্ষেত্রে যাঁচাই-বাছাই বা সুনিশ্চিত হওয়া (التثبت) এবং তাড়াহুড়ো না করা।
অতঃপর একটি উপসংহার যা গবেষণার প্রধান ফলাফলসমূহ সংবলিত, সেইসাথে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক উৎস ও সহায়ক তথ্যসূত্রসমূহের তালিকা এবং একটি বিষয়সূচি।
উল্লেখ্য যে, আমার জানামতে স্বতন্ত্রভাবে কেউ এই শিরোনামে এই গবেষণাটি সম্পাদন করেননি। আল্লাহ তাআলার কাছেই তাওফিক কামনা করছি এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহ তাআলার রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
• • •
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلَّ له ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهدُ أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهدُ أنَّ محمدا عبده ورسوله صلى الله وسلم وبارك عليه وعلى آله وصحبه أجمعين.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} . (1)
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (2) .
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} {يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} . (3)
--------------------------------------------
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল; আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম (مسلم) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} (১)
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} (২) .
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।} {তাহলে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।} (৩) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৪)
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
وبعد: فإن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر أصل عظيم من أصول الإسلام، ولا شك أن صلاح العباد في معاشهم ومعادهم متوقف على طاعة الله عز وجل وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم، وتمام الطاعة متوقف على الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وبه كانت هذه الأمة خير أمة أخرجت للناس، قال تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} (1) .
وقد أولى القرآن الكريم والسنة النبوية هذا الأمر أهمية بالغة، ففيه تحقيق الولاية بين المؤمنين. قال تعالى {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} (2) .
--------------------------------------------
অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্যবাণী হলো আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবিত বিষয় (محدثة), এবং প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة), এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামে যাবে।
এরপর: নিশ্চয়ই সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ ইসলামের মূলনীতিসমূহের (أصول) মধ্যে একটি মহান মূলনীতি (أصل)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বান্দাদের পার্থিব জীবন ও পরকালীন সংশোধন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল। আর পূর্ণাঙ্গ আনুগত্য সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ওপর নির্ভরশীল। এর মাধ্যমেই এই উম্মত মানুষের জন্য প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে গণ্য হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের (কল্যাণের) জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং অসৎকাজে নিষেধ করো এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখো।" (১)।
নিশ্চয়ই কুরআন মাজিদ এবং সুন্নাহ এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে; কারণ এর মাধ্যমেই মুমিনদের মধ্যে পারস্পরিক অভিভাবকত্ব বা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক (ولاية) বাস্তবায়িত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের বন্ধু; তারা সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। অচিরেই আল্লাহ তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৫)
وهو من أسباب النصر على الأعداء، والتمكين في الأرض. قال تعالى: {وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ} {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ} . (1)
وفيه الأمن من الهلاك، والمحافظة على صلاح المجتمعات، فعن النعمان بن بشير رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «مثل القائم على حدود الله والواقع فيها كمثل قوم استَهَموا على سفينة، فأصاب بعضهم أعلاها، وبعضهم أسفلها، فكان الذين في أسفلها إذا استقوا من الماء مروا على من فوقهم، فقالوا لو أنا خرقنا في نصيبنا خرقاً ولم نؤذ من فوقنا، فإن يتركوهم وما أرادوا هلكوا جميعاً، وإن أخذوا على أيديهم نجوا ونجوا جميعاً» . (2)
--------------------------------------------
আর এটি শত্রুদের ওপর বিজয় এবং জমিনে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অন্যতম কারণ। মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁর সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, মহাপراক্রমশালী।" "তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজের (المنكر) নিষেধ করে। আর সকল কাজের পরিণাম আল্লাহর হাতে।" (১)
এর মধ্যে রয়েছে ধ্বংস থেকে মুক্তি এবং সমাজের সংহতি রক্ষা। নুমান বিন বশির (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখায় অটল ব্যক্তি এবং তাতে লিপ্ত ব্যক্তির উদাহরণ সেই কওমের মতো যারা একটি নৌকার আরোহীদের মাঝে লটারি করল। ফলে তাদের কিছু লোক উপরের তলায় এবং কিছু লোক নিচের তলায় স্থান পেল। যারা নিচের তলায় ছিল, পানি সংগ্রহের সময় তাদের উপরের তলার লোকদের অতিক্রম করতে হতো। তখন তারা বলল: আমরা যদি আমাদের অংশে একটি ছিদ্র করে নেই, তবে আমরা উপরের লোকদের কষ্ট দেব না। এমতাবস্থায় তারা যদি তাদের আপন ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয়, তবে তারা সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তারা তাদের হাত ধরে (বাধা প্রদান করে), তবে তারা নিজেরাও রক্ষা পাবে এবং সবাই রক্ষা পাবে।" (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৬)
وفيه دفع العذاب عن العباد. قال تعالى {لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ} . {كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ} . (1)
وهو مطلب مهم لمن أراد النجاة لنفسه. قال تعالى: {وَإِذْ قَالَتْ أُمَّةٌ مِنْهُمْ لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا اللَّهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا قَالُوا مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ} (2) .
وفيه التوفيق للدعاء والاستجابة. فعن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «والذي نفسي بيده لتأمرنَّ بالمعروف ولتنهونَّ عن المنكر، أو ليوشكنَّ اللهُ أن يبعث عليكم عقاباً منه ثم تدعونه فلا يُستجاب لكم» . (3)
--------------------------------------------
এতে রয়েছে বান্দাদের থেকে আজাব প্রতিহত হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন, "বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল, তাদেরকে দাউদ ও মারয়াম-পুত্র ঈসার মুখে অভিশপ্ত করা হয়েছে। তা এই জন্য যে, তারা অবাধ্যতা করত এবং সীমালঙ্ঘন করত। তারা যেসব মন্দ কাজ (منكر) করত, তা থেকে একে অপরকে বাধা দিত না। তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট!" (১)
আর এটি তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য, যে নিজের মুক্তি চায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যখন তাদের মধ্যকার একদল বলল, 'আপনারা কেন সেই কওমকে নসিহত করছেন যাদের আল্লাহ ধ্বংস করবেন অথবা কঠিন শাস্তি দেবেন?' তারা বলল, 'তোমাদের রবের নিকট ওজর পেশ করার জন্য এবং যেন তারা তাকওয়া অবলম্বন করে।'" (২) .
আর এতে রয়েছে দুআ করার তাওফিক এবং তা কবুল হওয়া। হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অবশ্যই মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করবে, নতুবা আল্লাহ শীঘ্রই তোমাদের ওপর তাঁর পক্ষ থেকে শাস্তি পাঠাবেন, এরপর তোমরা তাঁর কাছে দুআ করবে কিন্তু তোমাদের দুআ কবুল করা হবে না।" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৭)
والقيام بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من مكفرات الذنوب والخطايا، ففي الحديث الصحيح عن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «فتنة الرجل في أهله، وماله، ونفسه، وولده، وجاره، يكفرها الصيام والصلاة والصدقة والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر» . (1)
والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من أسباب الظفر بعظيم الأجور، وتكثير الحسنات، قال تعالى: {لَا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ نَجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحٍ بَيْنَ النَّاسِ} (2) .
وبالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر تحيا السنن وتموت البدع، ويضعف أهل الباطل والأهواء، وهو من أبرز صفات المؤمنين وسماتهم، ومن أعظم الوسائل لقوتهم وتماسكهم، والغفلة عنه أو التهاون فيه، أو تركه، يجر من المفاسد الكثيرة، والأضرار الجسيمة. إلى غير ذلك من الفوائد والثمرات الكثيرة المترتبة على الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
--------------------------------------------
সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধের দায়িত্ব পালন করা হলো পাপ ও গুনাহ মোচনের অন্যতম মাধ্যম। হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত একটি সহিহ (صحيح) হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: «পরিবার, সম্পদ, জীবন, সন্তান ও প্রতিবেশীকে নিয়ে মানুষের যে পরীক্ষা, তা রোজা, নামাজ, সদকা এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের মাধ্যমে মোচন হয়»। (১)
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ হলো মহা পুরস্কার অর্জন এবং নেকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই, তবে যে দান-খয়রাত, সৎকাজ বা মানুষের মধ্যে সন্ধি স্থাপনের আদেশ দেয়, তার কথা ভিন্ন} (২)।
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের মাধ্যমেই সুন্নাতসমূহ পুনরুজ্জীবিত হয় এবং বিদআত (بدعة) বিলুপ্ত হয়। এর ফলে বাতিলপন্থী ও প্রবৃত্তি পূজারীরা দুর্বল হয়ে পড়ে। এটি মুমিনদের অন্যতম প্রধান গুণ ও বৈশিষ্ট্য এবং তাদের শক্তি ও সংহতির অন্যতম মহান মাধ্যম। এ ব্যাপারে উদাসীনতা, অবহেলা কিংবা এটি বর্জন করা অনেক অনিষ্ট ও গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়াও সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ওপর নির্ভরশীল আরও অনেক উপকারিতা ও সুফল রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৮)
وإنه على الرغم من كثرة الكتابات التي تناولت موضوع الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، فإن هناك جوانب - في نظري - تحتاج إلى المزيد من الدراسة والعناية، وفي مقدمتها القواعد والضوابط التي تحكم طريقة القيام بهذا الواجب كما بينها العلماء على ضوء ما جاء في الكتاب والسنة. لأن كثيراً ممن يريد القيام بهذا العمل لا يفقه أيسر الأسس التي يقوم عليها الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، فتجد بعضا من الدعاة يأمر وينهى بغير علم، ويفتي بدون دليل، وبعضا منهم يدعو إلى الفضائل والأخلاق، وهو يرى الشرك متأصلا في أفعال الناس وأقوالهم، فلا يحرك لذلك ساكنا، ولا يصحح عقيدتهم، مع أن البدء بإصلاح عقائد الناس هو الأولى والأهم.
وبعضا من الدعاة يريد تغيير المنكر بيده وهو ليس أهلا لذلك. وبعضا لا يتثبت في الأمور، أو يكون قليل الصبر والتحمل، فيستعجل النتائج.
فهؤلاء وأمثالهم -ممن خالف نهج النبي صلى الله عليه وسلم في دعوته وفي أمره ونهيه - يسيئون إلى الإسلام، وإلى الدعوة، وإلى الناس، وإلى أنفسهم أيضا. وبذلك يكون فسادهم أكثر من إصلاحهم.
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের বিষয়টি নিয়ে রচিত বিপুল সংখ্যক গ্রন্থ থাকা সত্ত্বেও, আমার দৃষ্টিতে এমন কিছু দিক রয়েছে যা অধিকতর অধ্যয়ন ও যত্নের দাবি রাখে। তন্মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে সেই সকল মূলনীতি ও নীতিমালা যা এই দায়িত্ব পালনের পদ্ধতিকে নিয়ন্ত্রণ করে, যেমনটি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ওলামায়ে কেরাম বর্ণনা করেছেন। কারণ, যারা এই কাজ সম্পাদন করতে চান তাদের অনেকেই সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ন্যূনতম ভিত্তিগুলো সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞান রাখেন না। ফলে আপনি এমন কিছু দাঈর দেখা পাবেন যারা জ্ঞান ছাড়াই আদেশ ও নিষেধ করছেন এবং কোনো প্রমাণ (دليل) ছাড়াই ফতোয়া দিচ্ছেন। আবার তাদের কেউ কেউ কেবল উন্নত চরিত্র ও গুণাবলীর দাওয়াত দিচ্ছেন, অথচ মানুষের কথা ও কাজে শিরক শিকড় গেড়ে থাকতে দেখলেও তারা নির্বিকার থাকছেন এবং তাদের আকিদা সংশোধন করছেন না; অথচ মানুষের আকিদা সংস্কারের মাধ্যমে কাজ শুরু করাই হলো প্রধান ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আবার কোনো কোনো দাঈ নিজ শক্তিতে মন্দের পরিবর্তন ঘটাতে চান, অথচ তারা তার উপযুক্ত নন। কেউ কেউ কোনো বিষয়ের সত্যতা যাচাই (تثبت) করেন না অথবা তাদের ধৈর্য ও সহনশীলতা কম থাকে, ফলে তারা অচিরেই ফলাফলের জন্য তাড়াহুড়ো করেন।
এই সকল ব্যক্তি এবং যারা তাদের মতো দাওয়াতের ক্ষেত্রে এবং আদেশ ও নিষেধের পদ্ধতিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের বিরোধিতা করে—তারা ইসলাম, দাওয়াত, মানুষ এবং এমনকি নিজেদেরও ক্ষতি সাধন করছে। এর ফলে তাদের দ্বারা সংস্কারের চেয়ে বিশৃঙ্খলাই বেশি সৃষ্টি হয়।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৯)
لذا فقد رغبت في تناول هذا الموضوع تحت مسمى ((قَوَاعِدُ مُهِمَّةٍ فَي الأمْرِ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهِيْ عَنِ المُنْكَرِ عَلى ضَوءِ الكِتَابِ والسُّنَةِ)) ، وإن كنت قصير الباع، قليل البضاعة في هذا الشأن، وإنما قصدت المشاركة، ولفت انتباه الدعاة إلى الله إلى العناية بهذا الأمر، والاهتمام به.
অতএব, আমি "কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের (منكر) নিষেধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহ (قواعد)" শিরোনামের অধীনে এই বিষয়টি আলোচনা করতে আগ্রহী হয়েছি; যদিও এ বিষয়ে আমার সক্ষমতা সীমিত এবং জ্ঞান যৎসামান্য। আমার উদ্দেশ্য কেবল (এই কাজে) অংশগ্রহণ করা এবং আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের দৃষ্টি এই বিষয়ের প্রতি যত্নশীল ও মনোযোগী হতে আকর্ষণ করা।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১০)
خطة البحث:وقد اشتمل البحث على مقدمة وسبع قواعد وخاتمة.
اشتملت المقدمة على أهمية الموضوع والخطة ومنهجي في البحث.
وجاءت القواعد على النحو التالي:
القاعدة الأولى: الشرع هو الأصل في تقرير الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
القاعدة الثانية: العلم والبصيرة بحقيقة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
القاعدة الثالثة: معرفة شروط إنكار المنكر.
القاعدة الرابعة: معرفة مراتب إنكار المنكر.
القاعدة الخامسة: تقديم الأهم على المهم.
القاعدة السادسة: اعتبار المصالح ودرء المفاسد.
القاعدة السابعة: التثبت في الأمور وعدم العجلة.
وأما الخاتمة فقد أوجزت فيها أهم نتائج البحث.
গবেষণা পরিকল্পনা:এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, সাতটি মূলনীতি এবং একটি উপসংহারের সমন্বয়ে গঠিত।
ভূমিকাটিতে বিষয়ের গুরুত্ব, পরিকল্পনা এবং গবেষণায় আমার অনুসৃত পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মূলনীতিগুলো নিম্নরূপ:
প্রথম মূলনীতি: সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ নির্ধারণের ক্ষেত্রে শরিয়তই হলো মূল ভিত্তি।
দ্বিতীয় মূলনীতি: সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি অর্জন।
তৃতীয় মূলনীতি: অসৎ কাজ প্রতিরোধের শর্তাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ।
চতুর্থ মূলনীতি: অসৎ কাজ প্রতিরোধের স্তরসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া।
পঞ্চম মূলনীতি: গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার প্রদান করা।
ষষ্ঠ মূলনীতি: কল্যাণ বিবেচনা করা এবং অকল্যাণ বা অনিষ্ট প্রতিরোধ করা।
সপ্তম মূলনীতি: সকল বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা এবং তাড়াহুড়ো না করা।
আর উপসংহারে আমি গবেষণার সারসংক্ষেপ ও প্রধান ফলাফলসমূহ তুলে ধরেছি।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১১)
منهجي في البحث:
هذا وقد عزوت الآيات الكريمة إلى السور مع ترقيمها، كما خرجت الأحاديث النبوية التي ذكرتها في البحث، وإذا كان الحديث في الصحيحين أو في أحدهما، فإني قد اكتفي بتخريجه منهما أو من أحدهما لتلقي الأمة لهما بالقبول.
وشرحت معاني الكلمات الغريبة - في نظري -. كما عزوت ما تناولته في البحث إلى المصادر والمراجع التي رجعت إليها. وقد حرصت على سهولة العبارة، ودقة التعبير، مع الاختصار، وعدم الإطالة ما أمكن.
ثم ألحقت بالبحث قائمة بأسماء المصادر والمراجع مرتبة حسب حروف الهجاء، مبينا اسم المؤلف، والطبعة وتاريخ النشر ما أمكن، وقائمة أخرى بالموضوعات.
وأسأل الله تعالى أن أكون قد وفقت فيما كتبت، وأن يتجاوز عن النقص والتقصير، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
وصلَّى اللهُ وسلَّم على نبينا محمد وعلى آلهِ وصحْبِهِ أجمَعِين.
• • •
আমার গবেষণা পদ্ধতি:
আমি পবিত্র আয়াতসমূহকে তাদের সুরা ও নম্বরসহ উল্লেখ করেছি। সেই সাথে গবেষণায় বর্ণিত হাদিসসমূহের উৎস উল্লেখ (تخريج) করেছি। হাদিসটি যদি সহিহাইন অথবা এ দুটির কোনো একটিতে বর্ণিত থাকে, তবে উম্মাহর নিকট কিতাবদ্বয়ের সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা (قبول) থাকায় আমি কেবল সেগুলোর উদ্ধৃতি প্রদানকেই যথেষ্ট মনে করেছি।
আমার দৃষ্টিতে যে শব্দগুলো অপ্রচলিত (غريب) মনে হয়েছে, আমি সেগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করেছি। গবেষণায় আলোচিত বিষয়সমূহ আমি যেসকল মূল উৎস ও তথ্যসূত্র থেকে গ্রহণ করেছি, সেগুলোর প্রতি নির্দেশ করেছি। আমি যথাসম্ভব সহজ ভাষা, সুক্ষ্ম প্রকাশভঙ্গি এবং সংক্ষেপনের প্রয়াস চালিয়েছি এবং অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করেছি।
অতঃপর গবেষণার শেষে বর্ণানুক্রমিকভাবে মূল উৎস ও তথ্যসূত্রের একটি তালিকা যুক্ত করেছি, যেখানে যথাসম্ভব লেখকের নাম, সংস্করণ ও প্রকাশের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাথে বিষয়বস্তুর একটি পৃথক তালিকাও যুক্ত করা হয়েছে।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমার এই লেখায় আমাকে তাওফিক দান করেন এবং আমার ভুল-ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সর্বশক্তিমান।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নবি মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবির ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
• • •
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১২)
القاعدة الأولى: الشرع هو الأصل في تقرير الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر:إن الميزان في كون الشيء معروفاً أو منكراً هو كتاب الله تعالى الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه وسنة رسوله الثابتة عنه صلى الله عليه وسلم، وما كان عليه السلف الصالح لهذه الأمة، وليس المراد ما يتعارف عليه الناس أو يصطلحون عليه مما يخالف الشريعة الإسلامية.
فما جاء الأمر به في الكتاب والسنة، أو الندب إليه والحث عليه، أو الثناء على أهله، أو الإخبار بأنه مما يحبه الله تعالى ويرضاه، ويكرم أهله بالثواب العاجل والآجل، فهو من المعروف الذي يؤمر به. وما ورد النهي عنه في الكتاب والسنة، والتحذير منه، وبيان عظيم ضرره، وكبير خطره في الدنيا والآخرة، أو جاء ذم أهله ووعيد فاعله بالسخط والعذاب والخزي والعار، ودخول النار ونحو ذلك فهو من المنكر الذي ينهى عنه. (1)
قال ابن منظور: (وقد تكرر ذكر المعروف في الحديث، وهو اسم جامع لكل ما عُرف من طاعة الله والتقرب إليه والإحسان إلى الناس، وكل ما ندب إليه الشرع) (2)
وقال ابن الأثير: (والمنكر ضد المعروف وهو كل ما قبحه الشرع وحرمه وكرهه فهو منكر) (3) .
--------------------------------------------
প্রথম মূলনীতি: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) নির্ধারণে শরিয়ত হলো ভিত্তি:নিশ্চয়ই কোনো কিছু সৎকাজ (معروف) অথবা অসৎকাজ (منكر) হওয়ার মানদণ্ড হলো মহান আল্লাহ তাআলার কিতাব—যার সম্মুখে বা পশ্চাতে কোনো দিক থেকেই মিথ্যার অনুপ্রবেশ সম্ভব নয়—এবং তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে বর্ণিত সাব্যস্ত (ثابتة) সুন্নাহ, আর এই উম্মতের সালাফে সালেহীন যে আদর্শের ওপর ছিলেন। এর দ্বারা এমন কিছু উদ্দেশ্য নয় যা মানুষ প্রথা হিসেবে গ্রহণ করে বা পরিভাষা হিসেবে নির্ধারণ করে অথচ তা ইসলামি শরিয়তের পরিপন্থী।
সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহতে যে কাজের আদেশ দেওয়া হয়েছে, অথবা যার প্রতি উৎসাহিত (ندب) ও অনুপ্রাণিত করা হয়েছে, কিংবা যা সম্পাদনকারীর প্রশংসা করা হয়েছে, অথবা যা আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন বলে সংবাদ দেওয়া হয়েছে এবং যার সম্পাদনকারীকে ইহকাল ও পরকালে সওয়াব প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করার কথা বলা হয়েছে, তা-ই হলো সেই সৎকাজ (معروف) যার আদেশ দেওয়া হয়। আর কুরআন ও সুন্নাহতে যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, যে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে, যার ভয়াবহ ক্ষতি ও দুনিয়া-আখিরাতে চরম বিপদের কথা বর্ণনা করা হয়েছে, অথবা যার সম্পাদনকারীর নিন্দা করা হয়েছে এবং তাকে আল্লাহর অসন্তুষ্টি, আজাব, অপমান, লাঞ্ছনা ও জাহান্নামে প্রবেশের ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে, তা-ই হলো সেই অসৎকাজ (منكر) যা থেকে নিষেধ করা হয়। (১)
ইবনে মানজুর বলেন: (হাদিসে 'মা'রুফ' (معروف) শব্দটির বারবার উল্লেখ এসেছে; এটি এমন একটি ব্যাপক শব্দ যা আল্লাহর আনুগত্য, তাঁর নৈকট্য লাভ এবং মানুষের প্রতি সৌজন্য প্রদর্শন হিসেবে পরিচিত সব কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর এমন প্রতিটি বিষয়কে শামিল করে যা শরিয়ত পছন্দনীয় (ندب) সাব্যস্ত করেছে)। (২)
ইবনুল আসির বলেন: (মুনকার (منكر) হলো মা'রুফের (معروف) বিপরীত; আর যা কিছু শরিয়ত মন্দ (قبحه) সাব্যস্ত করেছে, হারাম (حرمه) করেছে এবং অপছন্দ (كرهه) করেছে, তা-ই মুনকার)। (৩) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وذكر ابن حجر عن أبي جمرة (1) : (يطلق اسم المعروف على ما عرف بأدلة الشرع من أعمال البر، سواء جرت به العادة أم لا) (2) .
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: (الأمر والنهي من لوازم وجود بني آدم، فمن لم يأمر بالمعروف الذي أمر الله به ورسوله، وينه عن المنكر الذي نهى الله عنه ورسوله، ويُؤمر بالمعروف الذي أمر الله به.. ورسوله، ويُنهى عن المنكر الذي نهى الله عنه ورسوله، وإلا فلا بد أن يأمر وينهى، ويُؤمر ويُنهى، إما بما يضاد ذلك، وإما بما يشترك فيه الحق الذي أنزله الله بالباطل الذي لم ينزله الله، وإذا اتخذ ذلك دينا: كان مبتدعا ضالا باطلا) . (3)
وقال ابن حجر الهيثمي: (المراد بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، الأمر بواجب الشرع، والنهي عن محرماته) (4) .
ويصف الإمام الشوكاني رحمه الله أفراد الأمة الإسلامية بقوله:
إنهم يأمرون بما هو معروف في هذه الشريعة، وينهون عما هو منكر، فالدليل على كون ذلك الشيء معروفا أو منكرا هو الكتاب والسنة (5) .
--------------------------------------------
ইবনে হাজার আবু জামরা (১) থেকে উল্লেখ করেছেন: (শরীয়তের দলিলের মাধ্যমে নেক কাজ হিসেবে যা সুপরিচিত তাকেই সৎকাজ (المعروف) বলা হয়; তা মানুষের অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত হোক বা না হোক) (২)।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (আদেশ ও নিষেধ করা বনী আদমের অস্তিত্বের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যে সৎকাজের (المعروف) আদেশ দিয়েছেন তার নির্দেশ দেয় না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যে অসৎকাজ (المنكر) থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বারণ করে না, এবং যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যে সৎকাজের (المعروف) আদেশ দিয়েছেন তার নির্দেশ দেওয়া হয় না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা থেকে নিষেধ করেছেন সেই অসৎকাজ (المنكر) থেকে বারণ করা হয় না; তবে তাকে অবশ্যই অন্য কিছু আদেশ ও নিষেধ করতে হবে এবং অন্য কিছু দ্বারা আদিষ্ট ও নিষিদ্ধ হতে হবে। আর তা হবে হয় এর পরিপন্থী বিষয়ের মাধ্যমে, অথবা আল্লাহ যে সত্য নাযিল করেছেন তার সাথে আল্লাহ যা নাযিল করেননি এমন বাতিলের সংমিশ্রণের মাধ্যমে। আর যদি সে বিষয়টিকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে, তবে সে হবে একজন বিদআতি (مبتدع), পথভ্রষ্ট ও বাতিলপন্থী)। (৩)
ইবনে হাজার আল-হাইতামি বলেছেন: (সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ বলতে উদ্দেশ্য হলো শরীয়তের ওয়াজিব কাজের আদেশ দেওয়া এবং এর হারাম বিষয়সমূহ থেকে নিষেধ করা) (৪)।
ইমাম শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ) মুসলিম উম্মাহর সদস্যদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন:
তারা এই শরীয়তের মধ্যে যা সৎকাজ (معروف) তার নির্দেশ দেয় এবং যা অসৎকাজ (منكر) তা থেকে নিষেধ করে। কোনো বিষয় সৎকাজ (معروف) নাকি অসৎকাজ (منكر) হওয়ার মানদণ্ড হলো কিতাব ও সুন্নাহ (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن هذا يتبين لنا أن كون الشيء معروفا أو منكرا ليس من شأن الآمر والناهي، وإنما يعود ذلك إلى ما جاء في كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، على فهم السلف الصالح لهذه الأمة من اعتقاد أو قول أو فعل.
এর থেকে আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, কোনো বিষয় সুপরিচিত (معروف) অথবা বর্জনীয় (منكر) হওয়া আদেশদানকারী ও নিষেধকারীর ব্যক্তিগত এখতিয়ারভুক্ত নয়; বরং তা মহান আল্লাহ তাআলার কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة)-তে যা বর্ণিত হয়েছে তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, যা এই উম্মতের পুণ্যবান পূর্বসূরী (السلف الصالح)-গণের আকিদাহ, কথা বা কাজের বুঝের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
القاعدة الثانية: العلم والبصيرة بحقيقة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر:من القواعد العامة في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر: أن يكون الآمر بالمعروف الناهي عن المنكر عالما بما يأمر به وبما ينهى عنه،.. يعلم ما هو المنهي عنه شرعا حتى ينهى عنه، ويعلم ما هو المأمور به شرعا حتى يأمر الناس به، فإنه إن أمر ونهى بغير علم فإن ضرره يكون أكثر من نفعه، لأنه قد يأمر بما ليس بمشروع، وينهى عما كان مشروعا وقد يحلل الحرام ويحرم الحلال وهو لا يعلم (1) .
ولأهمية العلم النافع أمر الله به، وأوجبه قبل القول والعمل، فقال تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ} (2) .
وقد بوب الإمام البخاري رحمه الله لهذه الآية بقوله: (باب العلم قبل القول والعمل) (3) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মূলনীতি: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা:সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের সাধারণ মূলনীতিসমূহের মধ্যে একটি হলো: সৎকাজের আদেশকারী ও অসৎকাজের নিষেধকারী ব্যক্তি যা আদেশ করছেন এবং যা থেকে নিষেধ করছেন সে সম্পর্কে জ্ঞানবান হবেন;.. তিনি শরিয়ত অনুযায়ী নিষিদ্ধ বিষয় সম্পর্কে জানবেন যাতে তিনি তা থেকে নিষেধ করতে পারেন এবং শরিয়ত অনুযায়ী আদিষ্ট বিষয় সম্পর্কে জানবেন যাতে তিনি মানুষকে তা পালনের আদেশ দিতে পারেন। কেননা, যদি তিনি ইলম বা জ্ঞানহীনভাবে আদেশ ও নিষেধ করেন, তবে তার উপকারের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণই বেশি হবে; কারণ তিনি এমন বিষয়ের আদেশ দিতে পারেন যা শরিয়তসম্মত নয়, আবার এমন বিষয় থেকে নিষেধ করতে পারেন যা শরিয়তসম্মত ছিল। এমনকি তিনি অজান্তেই হারামকে হালাল এবং হালালকে হারাম করে ফেলতে পারেন (১)।
উপকারী ইলমের গুরুত্বের কারণে আল্লাহ তাআলা এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং কথা ও কাজের পূর্বে একে আবশ্যক করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: “অতএব জেনে নিন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) উপাস্য নেই এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার ও মুমিন নর-নারীদের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য। আল্লাহ তোমাদের দিবাভাগের বিচরণস্থল এবং রাত্রিবেলার অবস্থানস্থল সম্পর্কে অবগত আছেন” (২)।
ইমাম বুখারি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) এই আয়াতের প্রেক্ষাপটে শিরোনাম দিয়েছেন: (অনুচ্ছেদ: কথা ও কাজের পূর্বে জ্ঞান অর্জন) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وذلك أن الله أمر نبيه بأمرين: بالعلم، ثم بالعمل، والمبدوء به العلم في قوله تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ} ، ثم أعقبه بالعمل في قوله: {وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ} ، فدل ذلك على أن مرتبة العلم مقدمة على مرتبة العمل، وأن العمل شرط في صحة القول والعمل، فلا يعتبران إلا به، فهو مقدم عليهما، لأنه مصحح للنية المصححة للعمل (1) .
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله عند حديثه عن شروط الأمر والنهي: (ولا يكون عمله صالحا إن لم يكن بعلم وفقه.. وهذا ظاهر فإن العمل إن لم يكن بعلم كان جهلًا وضلالا، واتباعا للهوى وهذا هو الفرق بين أهل الجاهلية وأهل الإسلام فلا بد من العلم بالمعروف والمنكر والتمييز بينهما، ولا بد من العلم بحال المأمور وحال المنهي) (2) .
وأضاف يقول: وهذا كما جاء في الأثر عن بعض السلف ورووه مرفوعاً ذكره القاضي أبو يعلى في المعتمد (لا يأمر بالمعروف وينهى عن المنكر إلا من كان فقيها فيما يأمر به، فقيها فيما ينهى عنه، رفيقاً فيما يأمر به، رفيقا فيما ينهى عنه، حليما فيما يأمر به، حليما فيما ينهى عنه) (3) .
--------------------------------------------
এর কারণ হলো, আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে দুটি নির্দেশ দিয়েছেন: জ্ঞান অর্জন করা, অতঃপর আমল করা। মহান আল্লাহর এই বাণীতে জ্ঞান দিয়ে শুরু করা হয়েছে: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই}, অতঃপর তাঁর এই বাণীতে আমলকে এর অনুগামী করা হয়েছে: {এবং আপনার গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন}। এটি প্রমাণ করে যে, জ্ঞানের মর্যাদা আমলের মর্যাদার ওপর অগ্রগণ্য। আর কথা ও কাজের বিশুদ্ধতার (صحة) জন্য জ্ঞান একটি শর্ত, তাই জ্ঞান ব্যতীত এ দুটি গ্রহণযোগ্য হয় না। সুতরাং জ্ঞান এই দুটির ওপর অগ্রগামী, কেননা জ্ঞান নিয়তকে সংশোধন করে, আর নিয়ত আমলকে সংশোধন করে (১)।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধের শর্তাবলি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: (তার আমল ততক্ষণ পর্যন্ত নেক আমল হবে না যতক্ষণ না তা জ্ঞান ও ফিকহ (فقه) অনুযায়ী হয়... এটি সুস্পষ্ট, কেননা আমল যদি জ্ঞান অনুযায়ী না হয় তবে তা হবে অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতা এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ। আর জাহেলিয়াত ও ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে এটিই পার্থক্য। সুতরাং সৎকাজ ও অসৎকাজ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা এবং এই দুটির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা অপরিহার্য। একইভাবে যাকে আদেশ দেওয়া হচ্ছে এবং যাকে নিষেধ করা হচ্ছে তাদের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান রাখাও আবশ্যক) (২)।
তিনি আরও বলেন: এটি সালাফদের থেকে বর্ণিত কিছু বর্ণনার (الأثر) অনুরূপ এবং তাঁরা এটি মারফু (مرفوعاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কাজী আবু ইয়ালা 'আল-মুতামাদ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন: (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ কেবল সেই ব্যক্তিই করবেন যিনি যা আদেশ করছেন সে বিষয়ে ফকিহ (فقيها), যা থেকে নিষেধ করছেন সে বিষয়ে ফকিহ (فقيها), যা আদেশ করছেন সে বিষয়ে কোমল (رفيقاً), যা থেকে নিষেধ করছেন সে বিষয়ে কোমল (رفيقا), এবং যা আদেশ করছেন সে বিষয়ে সহনশীল (حليما) ও যা থেকে নিষেধ করছেন সে বিষয়ে সহনশীল (حليما)) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ويقول سماحة الشيخ عبد العزيز بن باز رحمه الله مخاطبا الداعية إلى الله الآمر بالمعروف والناهي عن المنكر: (أن تكون على بينة في دعوتك أي على علم، لا تكن جاهلا بما تدعو إليه {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ} (1) .
فلا بد من العلم، فالعلم فريضة، فإياك أن تدعو على جهالة، وإياك أن تتكلم فيما لا تعلم، فالجاهل يهدم ولا يبني ويفسد ولا يصلح، وإياك أن تقول على الله بغير علم، لا تدع إلى شئ إلا بعد العلم به، والبصيرة بما قاله الله ورسوله والبصيرة هي العلم، فعلى طالب العلم وعلى الداعية أن يتبصر فيما يدعو إليه، وأن ينظر فيما يدعو إليه ودليله، فإن ظهر له الحق وعرفه دعا إلى ذلك، سواء كان ذلك فعلا أو تركا، يدعو إلى الفعل إذا كان طاعة لله ورسوله، ويدعو إلى ترك ما نهى الله عنه ورسوله على بينة وبصيرة) (2) .
--------------------------------------------
মহামহিম শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর পথে আহ্বানকারী তথা সৎ কাজের আদেশ দানকারী এবং অসৎ কাজে নিষেধকারীর উদ্দেশে বলেন: (তোমার দাওয়াতের ক্ষেত্রে তোমাকে সুস্পষ্ট প্রমাণের (بينة) ওপর থাকতে হবে, অর্থাৎ জ্ঞানের ওপর। তুমি যে বিষয়ের দিকে দাওয়াত দিচ্ছো সে সম্পর্কে অজ্ঞ থেকো না {বলুন, এটাই আমার পথ; আমি ও আমার অনুসারীগণ আল্লাহর প্রতি আহ্বান জানাই চাক্ষুষ প্রমাণের (بصيرة) ভিত্তিতে} (১)।
সুতরাং জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য, কেননা জ্ঞান অর্জন করা একটি ফরজ। সুতরাং খবরদার! অজ্ঞতার ভিত্তিতে দাওয়াত দিও না এবং যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকো। কারণ, অজ্ঞ ব্যক্তি ধ্বংস করে কিন্তু নির্মাণ করে না, আর সে অনিষ্ট সাধন করে কিন্তু সংশোধন করে না। আর খবরদার! জ্ঞান ছাড়া আল্লাহর নামে কোনো কিছু বলো না। কোনো বিষয়ের দাওয়াত দিও না যতক্ষণ না তুমি সে সম্পর্কে জ্ঞান এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা বলেছেন সে সম্পর্কে চাক্ষুষ প্রমাণ (بصيرة) লাভ করো; আর চাক্ষুষ প্রমাণ (بصيرة) হলো জ্ঞান। অতএব, ইলম অন্বেষণকারী এবং দাঈর কর্তব্য হলো সে কিসের দিকে দাওয়াত দিচ্ছে তা স্পষ্টভাবে অনুধাবন করা এবং সে যা বলছে তা ও তার দলিলের প্রতি লক্ষ্য রাখা। এরপর যখন সত্য তার কাছে উদ্ভাসিত হবে এবং সে তা চিনতে পারবে, তখন সে তার দিকে দাওয়াত দেবে, চাই তা কোনো কাজ করা হোক বা বর্জন করা। যদি তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে তা করার আহ্বান জানাবে, আর যা থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নিষেধ করেছেন তা বর্জন করার আহ্বান জানাবে সুস্পষ্ট প্রমাণ (بينة) ও চাক্ষুষ প্রমাণের (بصيرة) ভিত্তিতে) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأكد فضيلة الشيخ محمد بن عثيمين - حفظه الله - على أهمية العلم والبصيرة للداعية إلى الله الآمر بالمعروف الناهي عن المنكر فقال: (وإن أول زاد يتزود به الداعية إلى الله عز وجل أن يكون على علم مستمد من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم الصحيحة المقبولة، وأما الدعوة بدون علم فإنها دعوة على جهل، والدعوة على جهل ضررها أكبر من نفعها، لأن الداعية قد نصب نفسه موجها ومرشدا، فإذا كان جاهلا، فإنه يكون ضالا مضلا، والعياذ بالله.
ثم قال: تأمل أيها الداعية إلى لله قول الله تعالى {عَلَى بَصِيرَةٍ} أي على بصيرة في ثلاثة أمور:
1-على بصيرة فيما يدعو إليه بأن يكون عالما بالحكم الشرعي فيما يدعو إليه، لأنه قد يدعو إلى شئ يظنه واجبا وهو في شرع الله غير واجب، فيلزم عباد الله بما لم يلزمهم الله به، وقد يدعو إلى ترك شئ يظنه محرما وهو في دين الله غير محرم، فيحرم على عباد الله ما أحل الله لهم.
2- على بصيرة من حالة المدعو، ولهذا لما بعث النبي صلى الله عليه وسلم معاذا إلى اليمن قال له: «إنك ستأتي قوما أهل كتاب» ..الحديث (1) .
--------------------------------------------
শ্রদ্ধেয় শায়খ মুহাম্মাদ বিন উসাইমীন -আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন- আল্লাহর পথে আহ্বানকারী, সৎকাজের আদেশ প্রদানকারী এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধকারীর জন্য ইলম ও দূরদৃষ্টির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন: "আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার পথে আহ্বানকারীর জন্য সর্বপ্রথম পাথেয় হলো—আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিশুদ্ধ (صحيحة) ও গ্রহণযোগ্য (مقبولة) সুন্নাহ থেকে সংগৃহীত ইলমের অধিকারী হওয়া। আর ইলম ছাড়া দাওয়াত হলো অজ্ঞতাপ্রসূত দাওয়াত। অজ্ঞতাপ্রসূত দাওয়াতের ক্ষতি এর উপকারের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ দাওয়াতদানকারী নিজেকে একজন পথপ্রদর্শক ও নির্দেশক হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন; এমতাবস্থায় তিনি যদি অজ্ঞ হন, তবে তিনি নিজে পথভ্রষ্ট হবেন এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবেন, আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই।
অতঃপর তিনি বলেন: হে আল্লাহর পথে আহ্বানকারী! মহান আল্লাহর বাণী {সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর} নিয়ে চিন্তা করুন, অর্থাৎ তিনটি বিষয়ে দূরদৃষ্টি ও স্বচ্ছ জ্ঞান থাকা:
১-যে বিষয়ের প্রতি দাওয়াত দিচ্ছেন সে বিষয়ে স্বচ্ছ জ্ঞান থাকা; অর্থাৎ তিনি যে বিষয়ের দিকে আহ্বান করছেন তার শরয়ী বিধান সম্পর্কে তাকে জ্ঞানী হতে হবে। কারণ এমন হতে পারে যে, তিনি এমন কোনো বিষয়ের দাওয়াত দিচ্ছেন যাকে তিনি ওয়াজিব মনে করছেন, অথচ আল্লাহর শরিয়তে তা ওয়াজিব নয়; ফলে তিনি আল্লাহর বান্দাদের ওপর এমন কিছু আবশ্যক করে দেবেন যা আল্লাহ তাদের ওপর আবশ্যক করেননি। আবার এমনও হতে পারে যে, তিনি এমন কিছু বর্জন করার আহ্বান জানাচ্ছেন যাকে তিনি হারাম মনে করছেন, অথচ আল্লাহর দ্বীনে তা হারাম নয়; ফলে তিনি আল্লাহর বান্দাদের জন্য এমন কিছু হারাম করে দেবেন যা আল্লাহ তাদের জন্য হালাল করেছেন।
২- যাঁর কাছে দাওয়াত পৌঁছানো হচ্ছে তার অবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মুআয (রাযি.)-কে ইয়ামেনে প্রেরণ করেছিলেন, তখন তাঁকে বলেছিলেন: 'নিশ্চয়ই আপনি কিতাবধারী এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছেন'—হাদিস (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
3- على بصيرة في كيفية الدعوة قال تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} (1) .
وإذا كان تزود الداعية بالعلم الصحيح المبني على كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم هو مدلول النصوص الشرعية، فإنه كذلك مدلول العقول الصريحة التي ليس فيها شبهات ولا شهوات، لأنك كيف تدعو إلى الله عز وجل وأنت لا تعلم الطريق الموصل إليه، وإذا كنت لا تعرف شريعته فكيف يصح أن تكون داعية؟
فإذا لم يكن الإنسان ذا علم فإن الأولى به أن يتعلم أولا ثم يدعو ثانيا، قد يقول قائل: هل قولك هذا يعارض قول الرسول صلى الله عليه وسلم «بلغوا عني ولو آية» (2) ؟
فالجواب: لا، لأن الرسول صلى الله عليه وسلم يقول: «بلغوا عني» إذا فلا بد أن يكون ما نبلغه قد صدر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، هذا ما نريده ولسنا عندما نقول إن الداعية محتاج إلى العلم لسنا نقول إنه لا بد أن يبلغ شوطا بعيداً في العلم، ولكننا نقول لا يدعو إلا بما يعلم فقط، ولا يتكلم بما لا يعلم أ. هـ (3) .
--------------------------------------------
৩- দাওয়াতের পদ্ধতির ক্ষেত্রে সঠিক জ্ঞান বা প্রজ্ঞার ওপর থাকা। মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দাও এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পন্থায়} (১)।
যদি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে সঠিক (صحيح) জ্ঞানে সজ্জিত হওয়া শরয়ি দলীলসমূহের দাবি হয়, তবে এটি সুস্থ বিবেকেরও দাবি, যার মধ্যে কোনো সংশয় বা কামনা-বাসনা নেই। কারণ, আপনি কীভাবে আল্লাহর দিকে আহ্বান করবেন অথচ আপনি তাঁর কাছে পৌঁছানোর পথই জানেন না? আর আপনি যদি তাঁর শরীয়ত সম্পর্কেই না জানেন, তবে আপনার দাঈ হওয়া কীভাবে সঠিক হতে পারে?
সুতরাং মানুষের যদি জ্ঞান না থাকে, তবে তার জন্য প্রথম কর্তব্য হলো শিক্ষা অর্জন করা এবং দ্বিতীয়ত দাওয়াত প্রদান করা। কেউ প্রশ্ন করতে পারেন: আপনার এই কথা কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর পরিপন্থী— "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়" (২)?
উত্তর হলো: না। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও"। সুতরাং আমরা যা প্রচার করছি, তা অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হতে হবে। এটাই আমাদের উদ্দেশ্য। আর আমরা যখন বলি যে একজন দাঈর জ্ঞানের প্রয়োজন, তখন আমরা এ কথা বলছি না যে তাকে ইলমের ক্ষেত্রে অনেক উচ্চ শিখরে পৌঁছাতে হবে; বরং আমরা বলছি যে, সে যা জানে কেবল তা-ই প্রচার করবে এবং যা জানে না সে বিষয়ে কথা বলবে না (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২০)
1)
التحقق من كونه منكرا:والمنكر كل ما نهى عنه الشارع سواء كان محرما أو مكروها، وكلمة المنكر في باب الحسبة (1) تطلق على كل فعل فيه مفسدة أو نهت عنه الشريعة، وإن كان لا يعتبر معصية في حق فاعله إما لصغر سنه أو لعدم عقله، ولهذا إذا زنا المجنون أو هم بفعل الزنا، وإذا شرب الصبي الخمر كان ما فعلاه منكرا يستحق الإنكار، وإن لم يعتبر معصية في حقهما لفوات شرطي التكليف وهما البلوغ والعقل (2) .
ويندرج في المنكر جميع المنكرات سواء من صغائر الذنوب أم من كبائرها، وسواء أكانت تتعلق بحق الله تعالى أم بحق خلقه. ولكن ما يجب معرفته أن الذي يملك الحكم على الشئ بأنه منكر أو غير منكر هو الشرع، فليس هناك مجال للأهواء أو العواطف، أو الأغراض الشخصية، ودور العلماء في ذلك إنما هو استنباط الأحكام الشرعية من القرآن الكريم والسنة النبوية، والأصول والقواعد المستوحاة منهما، ومن ثم الحكم على هذا الأمر بأنه منكر أو غير منكر بالدليل القاطع والحجة البينة.
--------------------------------------------
বর্জিত (منكر) হওয়ার বিষয়টি যাচাইকরণ:আর বর্জিত (منكر) হলো এমন প্রতিটি বিষয় যা শরীয়ত প্রণেতা নিষেধ করেছেন, তা হারাম হোক বা মাকরূহ হোক। হিসবাহ (১) এর অধ্যায়ে বর্জিত (منكر) শব্দটি এমন প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যাতে অনিষ্ট রয়েছে অথবা শরীয়ত যা থেকে নিষেধ করেছে; যদিও তা সম্পাদনকারীর ক্ষেত্রে অবাধ্যতা বা গুনাহ হিসেবে গণ্য না হয়—হয়তো তার অল্প বয়সের কারণে অথবা বোধশক্তির অভাবের কারণে। এ কারণেই যদি কোনো পাগল ব্যক্তি ব্যভিচার করে বা ব্যভিচারের সংকল্প করে, অথবা কোনো শিশু মদ পান করে, তবে তাদের করা এই কাজটি হবে একটি বর্জিত (منكر) বিষয় যা প্রতিরোধের দাবি রাখে; যদিও তাদের ক্ষেত্রে তা গুনাহ হিসেবে গণ্য হবে না, কারণ শরয়ী দায়বদ্ধতার (তাকলিফ) দুটি শর্ত—অর্থাৎ বালেগ হওয়া ও সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন হওয়া—তাদের মধ্যে অনুপস্থিত (২)।
সব ধরণের বর্জিত (منكر) বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হবে, চাই তা ছোট গুনাহ হোক কিংবা বড় গুনাহ, আর চাই তা আল্লাহ তাআলার হকের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক কিংবা তাঁর সৃষ্টির হকের সাথে। তবে যা জানা আবশ্যক তা হলো, কোনো বিষয় বর্জিত (منكر) কি না, সেই সিদ্ধান্ত দেওয়ার মালিক হলো কেবল শরীয়ত। এখানে প্রবৃত্তি, আবেগ কিংবা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যের কোনো অবকাশ নেই। এক্ষেত্রে আলেমদের ভূমিকা হলো পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ এবং এ দুটি থেকে গৃহীত মূলনীতি ও নিয়মাবলির আলোকে শরয়ী বিধানসমূহ উদ্ঘাটন করা। অতঃপর অকাট্য দলিল ও সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো বিষয় বর্জিত (منكر) নাকি বর্জিত নয়—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২১)
2)
أن يكون المنكر موجودا في الحال.
وله ثلاث حالات:
الحالة الأولى: أن يكون المنكر متوقعا كالذي يتردد مرارا على أسواق النساء، ويصوب النظر إلى واحدة بعينها، أو كشاب يقف كل يوم عند باب مدرسة بنات ويصوب النظر إليهن، أو كالذي يتحدث بهاتف الشارع بصوت مرتفع مع امرأة ويحاول أن يرتبط معها بموعد، أو يسأل بكثرة عن كيفية تصنيع الخمر وطريقة تركيبه. فعلى الآمر بالمعروف والناهي عن المنكر في هذه الحالات الوعظ، والنصح، والإرشاد، والتخويف بالله سبحانه وتعالى من عذابه وبطشه.
الحالة الثانية: أن يكون متلبسًا بالمنكر كمن هو جالس وأمامه كأس الخمر يشرب منه، أو كمن أدخل امرأة أجنبية إلى داره وأغلق الباب عليهما ونحو ذلك، ففي هذه الحال يجب على الآمر بالمعروف والناهي عن المنكر الإنكار عليه ونهيه من ذلك طالما أنه قادر على إزالة المنكر ولم يخف على نفسه ضررا أو أذى.
2)
অপছন্দনীয় বা অন্যায় কাজ (منكر) বর্তমানে বিদ্যমান থাকা.
এর তিনটি অবস্থা রয়েছে:
প্রথম অবস্থা: অন্যায় কাজটি (منكر) ঘটার প্রবল আশঙ্কা থাকা। যেমন এমন ব্যক্তি যে বারবার নারীদের বাজারের দিকে যাতায়াত করে এবং নির্দিষ্ট কোনো একজনের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে; অথবা এমন যুবক যে প্রতিদিন বালিকা বিদ্যালয়ের ফটকে দাঁড়িয়ে থাকে এবং তাদের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে; অথবা যে ব্যক্তি রাস্তার টেলিফোনে উচ্চস্বরে কোনো নারীর সাথে কথা বলে এবং তার সাথে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণের চেষ্টা করে; অথবা যে ব্যক্তি মদ্য প্রস্তুত প্রণালী ও এর উপাদান সম্পর্কে অতিমাত্রায় জিজ্ঞাসা করে। এই সকল ক্ষেত্রে সৎকাজের আদেশকারী এবং অসৎকাজের নিষেধকারীর (الآمر بالمعروف والناهي عن المنكر) কর্তব্য হলো তাকে সদুপদেশ প্রদান করা, নসিহত করা, সঠিক পথ প্রদর্শন করা এবং মহান আল্লাহ তাআলার শাস্তি ও তাঁর কঠোর পাকড়াও সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করা।
দ্বিতীয় অবস্থা: সরাসরি অন্যায় কাজে (منكر) লিপ্ত থাকা। যেমন কোনো ব্যক্তি বসে আছে এবং তার সম্মুখে মদের পেয়ালা রয়েছে যা থেকে সে পান করছে; অথবা কোনো ব্যক্তি কোনো পরনারী (أجنبية) কে নিজ গৃহে প্রবেশ করিয়েছে এবং তাদের উভয়ের জন্য দরজা বন্ধ করে দিয়েছে, কিংবা এই জাতীয় অন্য কিছু। এমতাবস্থায় সৎকাজের আদেশকারী এবং অসৎকাজের নিষেধকারীর (الآمر بالمعروف والناهي عن المنكر) ওপর অপরিহার্য কর্তব্য হলো তার সেই কাজের প্রতিবাদ করা এবং তাকে তা থেকে বিরত রাখা; যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি সেই অন্যায় কাজ (منكر) দূরীভূত করতে সক্ষম হন এবং নিজের জীবনের ওপর কোনো ক্ষতি বা লাঞ্ছনার আশঙ্কা না করেন।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২২)
الحالة الثالثة: أن يكون فاعل المنكر قد فعله وانتهى منه ولم يبق إلا آثاره، كمن شرب الخمر وبقيت آثاره عليه أو من عرف أنه ساكن أعزب وخرجت من عنده امرأة أجنبية عنه، ونحو ذلك. ففي هذه الحال فليس هناك وقت للنهي أو التغيير، وإنما هناك محل للعقاب والجزاء على فعل المعصية. وهذا الأمر ليس من شأن الآمر بالمعروف والناهي عن المنكر - المتطوع - وإنما هو من شأن ولي الأمر أو نائبه، فيرفع أمره للحاكم ليصدر فيه الحكم الموافق للشرع (1) .
--------------------------------------------
তৃতীয় অবস্থা: গর্হিত কাজ (منكر) সম্পাদনকারী ব্যক্তি তা ইতিপূর্বেই সম্পাদন করেছে এবং তা সমাপ্ত হয়েছে আর তার আলামতসমূহ ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই; যেমন কোনো ব্যক্তি মদ পান করল এবং তার চিহ্ন তার ওপর রয়ে গেল, অথবা এমন কোনো ব্যক্তি যাকে একক বা অবিবাহিত হিসেবে জানা যায় এবং তার নিকট থেকে কোনো পরনারী বের হয়ে এল—এই জাতীয় বিষয়সমূহ। এমতাবস্থায়, উক্ত কাজ হতে নিষেধ করার বা পরিবর্তনের আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই; বরং এটি কেবল পাপাচারের জন্য শাস্তি ও প্রতিফল প্রদানের ক্ষেত্র। আর এই বিষয়টি—স্বেচ্ছাসেবী—সৎকাজের আদেশদানকারী এবং গর্হিত কাজ (منكر) হতে নিষেধকারীর দায়িত্ব নয়, বরং এটি রাষ্ট্রপ্রধান বা তাঁর প্রতিনিধির দায়িত্ব। সুতরাং বিষয়টি বিচারকের নিকট উত্থাপন করা হবে যাতে তিনি এ ব্যাপারে শরিয়তসম্মত ফয়সালা প্রদান করতে পারেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد أشار الغزالى إلى هذه الحالات بقوله: (المعصية لها ثلاثة أحوال: أحدها: أن تكون متصرمة، فالعقوبة على ما تصرم منها حد أو تعزير، وهو إلى الولاة لا إلى الآحاد، الثانية: أن تكون المعصية راهنة، وصاحبها مباشر لها، كلبسه الحرير، وإمساك العود والخمر، فإبطال هذه المعصية واجب بكل ما يمكن ما لم تؤد إلى معصية أفحش منها أو مثلها، وذلك للآحاد والرعية، والثالثة: أن يكون المنكر متوقعا، كالذي يستعد بكنس المجلس وتزيينه وجمع الرياحين لشرب الخمر وبعد لم يحضر الخمر، فهذا مشكوك فيه، إذ ربما يعوق عنه عائق فلا يثبت للآحاد سلطة على العازم على الشرب إلا بطريق الوعظ والنصح، فأما التعنيف والضرب فلا يجوز.. إلا إذا كانت المعصية علمت منه بالعادة المستمرة، وقد أقدم على السبب المؤدي إليها، ولم يبق لحصول المعصية إلا ما ليس له فيه إلا الانتظار) (1) .
ويقول العلامة ابن نجيم في بحث التعزير: (قالوا لكل مسلم إقامته حال مباشرة المعصية، وأما بعد الفراغ منها - أي المعصبة - فليس ذلك لغير الحاكم) (2) .
--------------------------------------------
وقد أشار الغزالى إلى هذه الحالات بقوله: (المعصية لها ثلاثة أحوال: أحدها: أن تكون متصرمة، فالعقوبة على ما تصرم منها حد أو تعزير، وهو إلى الولاة لا إلى الآحاد، الثانية: أن تكون المعصية راهنة، وصاحبها مباشر لها، كلبسه الحرير، وإمساك العود والخمر، فإبطال هذه المعصية واجب بكل ما يمكن ما لم تؤد إلى معصية أفحش منها أو مثلها، وذلك للآحاد والرعية، والثالثة: أن يكون المنكر متوقعا، كالذي يستعد بكنس المجلس وتزيينه وجمع الرياحين لشرب الخمر وبعد لم يحضر الخمر، فهذا مشكوك فيه، إذ ربما يعوق عنه عائق فلا يثبت للآحاد سلطة على العازم على الشرب إلا بطريق الوعظ والنصح، فأما التعنيف والضرب فلا يجوز.. إلا إذا كانت المعصية علمت منه بالعادة المستمرة، وقد أقدم على السبب المؤدي إليها، ولم يبق لحصول المعصية إلا ما ليس له فيه إلا الانتظار) (1) .
ইমাম আল-গাজালি এই অবস্থাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: (গুনাহ বা নাফরমানির তিনটি অবস্থা রয়েছে: প্রথমটি: তা ইতিপূর্বেই ঘটে শেষ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় যা শেষ হয়ে গেছে তার শাস্তি হলো নির্ধারিত দণ্ড (حد) অথবা সংশোধনমূলক শাস্তি (تعزير), যা শাসক বা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব, কোনো সাধারণ ব্যক্তির নয়। দ্বিতীয়টি: গুনাহটি বর্তমানে চলমান এবং গুনাহগার ব্যক্তি সরাসরি তাতে লিপ্ত রয়েছে, যেমন রেশম পরিধান করা, বাদ্যযন্ত্র ধারণ করা কিংবা মদ রাখা। এমতাবস্থায় এই গুনাহ প্রতিহত করা সাধ্যানুযায়ী সকল উপায়ে আবশ্যিক (واجب), যতক্ষণ না তা তার চেয়ে বড় বা সমপর্যায়ের কোনো গুনাহর দিকে ধাবিত করে। আর এটি সাধারণ মানুষ ও প্রজাসাধারণের জন্য প্রযোজ্য। তৃতীয়টি: মন্দ কাজ (منكر) সংঘটিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকা, যেমন কেউ মদ পানের উদ্দেশ্যে মজলিস পরিষ্কার ও সজ্জিত করছে এবং সুগন্ধি ফুল সংগ্রহ করছে কিন্তু মদ এখনও সেখানে আসেনি। এটি সন্দেহযুক্ত বিষয়, কারণ কোনো প্রতিবন্ধকতা একে আটকে দিতে পারে। ফলে মদ্যপানে সংকল্পকারীর উপর উপদেশ ও নসিহত প্রদান ব্যতীত সাধারণ মানুষের কোনো কর্তৃত্ব সাব্যস্ত হয় না। আর কঠোরতা অবলম্বন বা প্রহার করা বৈধ (جائز) নয়... তবে যদি সেই ব্যক্তির নিরবচ্ছিন্ন অভ্যাসের কারণে গুনাহটি নিশ্চিতভাবে জানা যায় এবং সে তার দিকে পরিচালিত কারণসমূহের দিকে অগ্রসর হয়ে থাকে, আর গুনাহটি সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে কেবল সময়ের অপেক্ষা ব্যতীত আর কিছুই বাকি না থাকে।) (১)।
ويقول العلامة ابن نجيم في بحث التعزير: (قالوا لكل مسلم إقامته حال مباشرة المعصية، وأما بعد الفراغ منها - أي المعصبة - فليس ذلك لغير الحاكم) (2) .
এবং আল্লামা ইবনে নুজাইম সংশোধনমূলক শাস্তি (تعزير) বিষয়ক আলোচনায় বলেন: (ফকিহগণ বলেছেন: গুনাহে লিপ্ত থাকা অবস্থায় তা প্রতিহত করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। তবে তা থেকে অবসর হওয়ার পর—অর্থাৎ গুনাহটি সংঘটিত হয়ে যাওয়ার পর—শাসক বা বিচারক ব্যতীত অন্য কারো জন্য তা (শাস্তি প্রদান) সমীচীন নয়।) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
3)
أن يكون ظاهرا من غير تجسس ما لم يكن مجاهرا.
وذلك أن الإسلام ضمن للإنسان أن يعيش في المجتمع آمنا مطمئنا محترما موقرا طالما أنه سلك الطريق الصحيح المستقيم، أما إذا حاد عن الطريق فإن الإسلام جعل لكل أمر معوج ما يناسبه من الإصلاح والتقويم، ومن الأمور التي شرعها الإسلام لاحترام الإنسان وأمنه النهي عن التجسس عليه، فلا يجوز للآمر بالمعروف والناهي عن المنكر أن يتسور الجدران أو يكسر الأبواب ليطلع على بيوت الناس ويتجسس عليهم ما لم يظهر شئ من ذلك، إذ إن الله تعالى نهانا أن ندخل البيوت إلا بأذن من أصحابها، والأصل في هذا قول الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} (1) .
بل إن الإسلام حرم النظر إلى داخل البيوت من أحد الثقوب أو الفتحات، وأسقط الشارع الحكيم حد القصاص والدية عمن فعل ذلك، فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال أبو القاسم صلى الله عليه وسلم: «لو أنَّ امرأً اطلع عليك بغير إذن فحذفته بحصاة ففقأت عينه لم يكن عليك جناح» (2) .
--------------------------------------------
3)
গোপন অনুসন্ধান (تجسس) ব্যতিরেকে বিষয়টি প্রকাশ্য (ظاهر) হওয়া, যতক্ষণ না ব্যক্তিটি প্রকাশ্যে লিপ্ত (مجاهرا) হয়.
এর কারণ হলো, ইসলাম মানুষের জন্য সমাজে নিরাপদ, নিশ্চিন্ত, সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে সঠিক ও সরল পথে পরিচালিত হয়। তবে সে যদি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তবে ইসলাম প্রতিটি বক্র বিষয়ের জন্য তার উপযুক্ত সংশোধন ও সংস্কারের ব্যবস্থা রেখেছে। মানুষের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ইসলাম যেসব বিধান প্রণয়ন করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো তার বিরুদ্ধে গোপন অনুসন্ধান (تجسস) করা থেকে নিষেধ করা। সুতরাং সৎ কাজের আদেশদাতা ও অসৎ কাজের নিষেধকারীর জন্য এটি বৈধ নয় যে, মানুষের ঘরের সংবাদ নেওয়ার জন্য বা তাদের ওপর গোপন অনুসন্ধান (تجسস) করার জন্য দেয়াল টপকানো কিংবা দরজা ভেঙে ফেলা, যতক্ষণ না এর কোনো কিছু প্রকাশ্য (ظهر) হয়। কেননা মহান আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন মালিকের অনুমতি ছাড়া কারো ঘরে প্রবেশ না করি। এ বিষয়ে মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কারো ঘরে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি গ্রহণ করো এবং তার বাসিন্দাদের সালাম দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।} (১)।
বরং ইসলাম কোনো ছিদ্র বা ফাঁকফোকর দিয়ে ঘরের ভেতরের দিকে তাকানোকেও হারাম করেছে। প্রাজ্ঞ শরীয়ত প্রণেতা এমন কাজকারীর ওপর থেকে কিসাস (قصاص) এবং রক্তপণ (دية) এর বিধান রহিত করেছেন। আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যদি কোনো ব্যক্তি তোমার অনুমতি ছাড়া তোমার ঘরে উঁকি দেয় এবং তুমি তাকে কঙ্কর ছুড়ে মারো যার ফলে তার চোখ নষ্ট হয়ে যায়, তবে তোমার ওপর কোনো গুনাহ হবে না» (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وإذا كان الإسلام حرم الدخول إلى بيوت الناس والنظر إلى داخلها بغير إذن، فإنه - أيضا - حرم التجسس يقول سبحانه: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا} (1) .
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «إياكم والظن فإن الظن أكذب الحديث، ولا تجسسوا ولا تنافسوا ولا تحاسدوا، ولا تباغضوا، ولا تدابروا، وكونوا عباد الله إخوانا» (2) .
وعن معاوية رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إنك إن اتبعت عورات المسلمين أفسدتهم أو كدت أن تفسدهم» (3) .
أما إذا جاهر الشخص بمعصيته سواء كانت مرئية كأن يخرج عند بابه ويضع الفيديو إلى جواره وفيه أفلام خليعة.. أو كانت مسموعة كأن يضع بآلة التسجيل شريطا به غناء ماجن أو موسيقى وغير ذلك، أو كانت مشمومة كأن تظهر رائحة الخمر والمسكر بحيث يشمها من هو خارج المنزل أو قريبا منه، ويتكلم معه، فإنه إذا فعل ذلك يكون قد أضاع الحق الذي أعطاه الإسلام له، ويكون بذلك قد عرض نفسه للإهانة والردع (4) .
--------------------------------------------
ইসলাম যদি মানুষের ঘরে প্রবেশ করা এবং অনুমতি ব্যতীত ঘরের অভ্যন্তরে দৃষ্টিপাত করাকে হারাম করে থাকে, তবে এটি গোয়েন্দাগিরি করাকেও হারাম ঘোষণা করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক অনুমান হতে বিরত থাকো; নিশ্চয় কিছু অনুমান পাপ। আর তোমরা একে অপরের গোপনীয়তা সন্ধান করো না এবং একে অপরের গিবত করো না} (১)।
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা অনুমান থেকে বেঁচে থাকো, কারণ অনুমান হলো সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। তোমরা একে অপরের দোষ অনুসন্ধান করো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, একে অপরের সাথে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতা করো না, একে অপরকে হিংসা করো না, পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করো না এবং একে অপরের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করো না। বরং হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও» (২)।
মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «তুমি যদি মুসলিমদের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করো, তবে তুমি তাদেরকে কলুষিত করে ফেলবে অথবা তাদেরকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে» (৩)।
তবে যদি কোনো ব্যক্তি প্রকাশ্যে অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়, চাই তা দৃশ্যমান হোক—যেমন নিজের দরজার সামনে ভিডিও সেট রাখা যাতে অশ্লীল চলচ্চিত্র চলছে; অথবা শ্রবণযোগ্য হোক—যেমন টেপ রেকর্ডারে অশ্লীল গান বা বাদ্যযন্ত্রের ফিতা বাজানো; অথবা ঘ্রাণযোগ্য হোক—যেমন মদ বা মাদকদ্রব্যের গন্ধ এমনভাবে প্রকাশ পাওয়া যা ঘরের বাইরে থাকা বা নিকটবর্তী ব্যক্তি অনুভব করতে পারে এবং তার সাথে কথা বলতে পারে; তবে সে যদি এরূপ করে, তবে ইসলাম তাকে যে অধিকার প্রদান করেছিল তা সে নষ্ট করেছে এবং এর মাধ্যমে সে নিজেকে লাঞ্ছনা ও দণ্ডবিধিমূলক বাধার সম্মুখীন করেছে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث يقول: «كل أمتي معافى إلا المجاهرين (1) وإن من المجاهرة أن يعمل الرجل بالليل عملا ثم يصبح وقد ستره الله، فيقول يا فلان عملت البارحة كذا وكذا وقد بات يستره ربه ويصبح يكشف ستر الله عليه» (2) .
قال ابن بطال: (في الجهر بالمعصية استخفاف بحق الله ورسوله صلى الله عليه وسلم وبصالحي المؤمنين، وفيه ضرب من العناد لهم..) (3) .
ومن خلال ما تقدم من أدلة يبدو لي - والله أعلم- أن الأدلة الواردة في النهي عن التجسس إنما هي خاصة بمن لم يجاهر بالمعصية، أما من يعلن معصيته ويجاهر بها، فإنه يشرع للمحتسب الاحتساب عليه، وذلك لردعه وكف شره.
يؤيد ذلك ما رواه الإمام مالك بن أنس عن زيد بن أسلم رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «من أصاب من هذه القاذورات شيئا، فليستتر بستر الله، فإنه من يبدي لنا صفحته نقم عليه كتاب الله» (4) .
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "প্রকাশ্য পাপকারী (المجاهرين) ব্যতীত আমার উম্মতের সকলকে ক্ষমা করা হবে। আর এটিও এক প্রকার প্রকাশ্য পাপ যে, কোনো ব্যক্তি রাতে কোনো কাজ (পাপ) করে, অতঃপর ভোর হলে—অথচ আল্লাহ তা গোপন রেখেছিলেন—সে বলে, 'হে অমুক! আমি গত রাতে এই এই কাজ করেছি'। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত অতিবাহিত করেছিল যে তার প্রতিপালক তা গোপন রেখেছিলেন, আর সে ভোরে আল্লাহর সেই আবরণ উন্মোচন করে দেয়।" (২) ।
ইবনে বাত্তাল বলেন: (পাপ প্রকাশ করার মধ্যে আল্লাহ, তাঁর রাসুল (সা.) এবং নেককার মুমিনদের হকের প্রতি অবজ্ঞা রয়েছে এবং এটি তাদের প্রতি এক প্রকার অবাধ্যতা...) (৩) ।
উপরোল্লিখিত দলীলসমূহ থেকে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়—এবং আল্লাহই ভালো জানেন—যে, গোয়েন্দাগিরি (تجسس) নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে বর্ণিত দলীলসমূহ মূলত তাদের জন্য নির্দিষ্ট যারা প্রকাশ্যে পাপ করে না। কিন্তু যে ব্যক্তি তার পাপকে ঘোষণা করে এবং তা প্রকাশ করে দেয়, তবে মুহতাসিবের (حسبة পালনকারী) জন্য তার ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা শরয়িভাবে বৈধ হবে, যাতে তাকে নিবৃত্ত করা যায় এবং তার অনিষ্ট প্রতিহত করা যায়।
একে সমর্থন করে ইমাম মালিক ইবনে আনাস যায়েদ ইবনে আসলাম (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই নোংরা কাজগুলোর কোনো কিছু করে ফেলে, সে যেন আল্লাহর পর্দার মাধ্যমে তা গোপন রাখে। কারণ, যে ব্যক্তি আমাদের কাছে তার বিষয়টি প্রকাশ (إبداء الصفحة) করে দেবে, আমরা তার ওপর আল্লাহর কিতাবের বিধান কায়েম করব।" (৪) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
4)
أن يكون الإنكار في الأمور التي لا خلاف فيها.
من الأمور اللازمة لنجاح الآمر بالمعروف والناهي عن المنكر أن يتسع صدره لقبول الخلاف فيما يسوغ فيه الخلاف. وهناك مسائل فرعية ليست من الأصول يختلف فيها الناس كثيرا، وتتباين أقوالهم فيها، وهي في الحقيقة مما يجوز فيه الخلاف، فمثل هذه المسائل لا يكفر من خالف فيها، ولا يُنكر عليه، لأنها مما وسع الله فيها على عباده، قال تعالى {وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ} {إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ} (1)
يذكر الإمام الغزالى رحمه الله من شروط الحسبة (أن يكون كونه منكرًا معلوما بغير اجتهاد، فكل ما هو محل الاجتهاد فلا حسبة فيه) (2) .
وروى أبو نعيم بسنده عن الإمام سفيان الثوري رحمه الله قوله: (إذا رأيت الرجل يعمل العمل الذي اختلف فيه وأنت ترى غيره فلا تنهه) (3) .
ويستثني القاضي أبو يعلى من ذلك إذا كان الخلاف ضعيفاً في مسألة من المسائل، وقد يؤدي عدم الإنكار إلى محظور متفق عليه، إذ يقول: (ما ضُعف الخلاف فيه، وكان ذريعة إلى محظور متفق عليه كربا النقد.. فيدخل في إنكار المحتسب بحكم ولايته) (4) .
--------------------------------------------
4)
অননুমোদিত বিষয়ের প্রতিবাদ কেবল এমন বিষয়ে হওয়া উচিত যাতে কোনো মতভেদ নেই.
সৎকাজের আদেশদাতা এবং অসৎকাজের নিষেধকারীর সফলতার জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় বিষয় হলো, যেখানে মতপার্থক্যের অবকাশ রয়েছে সেই বিষয়ে ভিন্নমত গ্রহণ করার মতো উদারতা রাখা। এমন অনেক শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত মাসআলা রয়েছে যা মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়, যেগুলোতে মানুষ অনেক মতভেদ করে এবং তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সেই সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যাতে মতভেদ করা বৈধ। সুতরাং এই ধরণের বিষয়ে যারা ভিন্নমত পোষণ করে তাদের কাফির সাব্যস্ত করা যাবে না এবং তাদের প্রতিবাদও করা যাবে না; কারণ আল্লাহ তাআলা এই বিষয়গুলোতে তাঁর বান্দাদের জন্য প্রশস্ততা রেখেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তারা সর্বদা মতভেদ করতে থাকবে; তবে যাদের ওপর তোমার রব দয়া করেছেন তারা ছাড়া, আর এজন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন।" (১)
ইমাম গাজালি (রাহিমাহুল্লাহ) 'হিসবাহ' (বা প্রশাসনিক তদারকি)-এর শর্তাবলি প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, (অননুমোদিত (منكر) বিষয়টি এমন হওয়া আবশ্যক যা ইজতিহাদ বা গবেষণা ছাড়াই স্পষ্ট হিসেবে জানা যায়। সুতরাং যা কিছু ইজতিহাদের ক্ষেত্র, তাতে কোনো প্রশাসনিক প্রতিবাদ বা হিসবাহ নেই।) (২) .
আবু নুয়াইম তাঁর সনদে (سنده) ইমাম সুফিয়ান আস-সাওরি (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, তিনি বলেছেন: (যখন তুমি দেখবে যে কোনো ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করছে যা নিয়ে মতভেদ আছে, আর তুমি ভিন্ন মত পোষণ করো, তবে তাকে নিষেধ করো না।) (৩) .
কাজী আবু ইয়ালা এই নিয়ম থেকে সেই ক্ষেত্রকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন যেখানে কোনো মাসআলায় মতভেদটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف) এবং প্রতিবাদ না করলে এমন কোনো নিষিদ্ধ বিষয়ের দিকে ধাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে যা সর্বসম্মতভাবে নিষিদ্ধ। তিনি বলেন: (যে বিষয়ে মতভেদটি দুর্বল (ضعيف) হয়ে পড়েছে এবং তা সর্বসম্মত কোনো নিষিদ্ধ কাজের দিকে পরিচালিত করার মাধ্যম হয়—যেমন নগদ মুদ্রার সুদ—সেটি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (মুহতাসিব) প্রশাসনিক প্রতিবাদের আওতায় পড়বে।) (৪) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقال النووي في الروضة: (ثم إن العلماء إنما ينكرون ما أجمع على إنكاره، أما المختلف فيه فلا إنكار فيه، لأن كل مجتهد مصيب، أو المصيب واحد ولا نعلمه، ولم يزل الخلاف بين الصحابة والتابعين في الفروع ولا ينكر أحد على غيره وإنما ينكرون ما خالف نصا أو إجماعا أو قياسا جليا) (1) .
وبهذا يتبين لنا أن الخلاف على نوعين: إما أن يكون سائغا، وإما أن يكون غير سائغ، فالخلاف السائغ يمنع من الاحتساب على رأي بعض العلماء، وأما الخلاف غير السائغ، أو الشاذ، كمن يخالف ما جاء في كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، أو ما أجمعت عليه الأمة، أو ما عُلم من الدين بالضرورة، فهذا خلاف لا يُعتد به ولا يلتفت إليه لعدم قيامه على الدليل، ويُنكر على من أتى به.
فالإنكار إنما يكون فيما يكون فيه الحق واضحا، والأدلة بينة من الكتاب والسنة والإجماع، أما إذا خلت المسألة من ذلك، فإنه ليس للآمر بالمعروف والناهي عن المنكر الإنكار في المسائل المختلف فيها، كما أنه لا التفات إلى الخلاف الشاذ.
وأن الواجب في الأمور الاجتهادية لزوم البيان والمناصحة، من قبل من تبين له وجه الحق في شئ من تلك المسائل.
--------------------------------------------
ইমাম নববী 'রওজা' গ্রন্থে বলেছেন: (অতঃপর উলামায়ে কেরাম কেবল সেই সব বিষয়েরই প্রতিবাদ করেন যা নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে যে বিষয়ে মতভেদ (مختلف فيه) রয়েছে, তাতে কোনো প্রতিবাদ নেই। কারণ প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد) সঠিক পন্থী, অথবা সঠিক পন্থী একজনই কিন্তু আমরা তাকে জানি না। সাহাবী ও তাবিঈদের মধ্যে শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত (فروع) মাসআলায় মতবিরোধ সর্বদা বিদ্যমান ছিল এবং কেউ অন্যের ওপর আপত্তি করেননি। তারা কেবল তখনই প্রতিবাদ করতেন যখন তা কোনো অকাট্য দলিল (نص), ঐকমত্য (إجماع) অথবা সুস্পষ্ট অনুমান-লব্ধ প্রমাণের (قياس جلي) পরিপন্থী হতো) (১) .
এর মাধ্যমে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, মতভেদ দুই প্রকার: হয় তা গ্রহণযোগ্য (سائغ) হবে, অথবা অগ্রহণযোগ্য (غير سائغ) হবে। কিছু আলিমের মতে, গ্রহণযোগ্য মতভেদ (خلاف سائغ) প্রতিবাদ বা জবাবদিহিতা করতে বাধা প্রদান করে। আর অগ্রহণযোগ্য অথবা বিচ্ছিন্ন (شاذ) মতভেদ—যেমন কেউ যদি মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ, কিংবা উম্মাহর ঐকমত্য (إجماع), অথবা দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয়ভাবে জ্ঞাত (ما عُلم من الدين بالضرورة) বিষয়ের বিরোধিতা করে—তবে তা এমন মতভেদ যা গণ্য করা হবে না এবং এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে না। কারণ এটি দলিলের (دليل) ওপর প্রতিষ্ঠিত নয় এবং যে ব্যক্তি এটি করবে তার প্রতিবাদ করা হবে।
সুতরাং প্রতিবাদ কেবল সেই সব ক্ষেত্রেই হবে যেখানে সত্য সুস্পষ্ট এবং কিতাব, সুন্নাহ ও ঐকমত্য (إجماع) থেকে প্রাপ্ত প্রমাণাদি দিবালোকের মতো স্পষ্ট। পক্ষান্তরে, যদি কোনো মাসআলা এই মানদণ্ড থেকে মুক্ত থাকে, তবে সৎকাজের আদেশদাতা ও অসৎকাজের নিষেধকারীর জন্য মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه) মাসআলাগুলোতে প্রতিবাদ করার অধিকার নেই, যেমনটি বিচ্ছিন্ন (شاذ) মতভেদের প্রতিও কোনো ভ্রুক্ষেপ করা হয় না।
আর ইজতিহাদমূলক (اجتهادية) বিষয়গুলোতে অপরিহার্য কর্তব্য হলো সত্যের বর্ণনা ও সদুপদেশ প্রদান করা, সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকে যার নিকট উক্ত মাসআলাগুলোর কোনোটিতে সত্যের দিকটি সুস্পষ্ট হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু মুহিম্মাহ ফিল আমরি বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المرتبة الأولى: الإنكار باليد وشروطه:وهي أقوى مراتب الإنكار وأعلاها، وذلك كإراقة الخمر، وكسر الأصنام المعبودة من دون الله، ومنع من أراد الشر بالناس وظلمهم من تنفيذ مراده، وكإلزام الناس بالصلاة، وبحكم الله الواجب اتباعه ونحو ذلك.
وذلك لمن كان له ولاية على مرتكب المنكر كالسلطان أو من ينيبه عنه كوالي الحسبة وموظفيه كل بحسب اختصاصه وكذا المسلم مع أهله وولده، يلزمهم بأمر الله، ويمنعهم مما حرم الله، باليد إذا لم ينفع فيهم الكلام يقوم بهذا حسب الوسع والطاقة (1) .
وقد جاء في القرآن الكريم عن إبراهيم عليه السلام: {وَتَاللَّهِ لَأَكِيدَنَّ أَصْنَامَكُمْ بَعْدَ أَنْ تُوَلُّوا مُدْبِرِينَ} . {فَجَعَلَهُمْ جُذَاذًا إِلَّا كَبِيرًا لَهُمْ لَعَلَّهُمْ إِلَيْهِ يَرْجِعُونَ} (2) فإبراهيم عليه السلام كسر الأصنام بيده.
وقال تعالى: {وَانْظُرْ إِلَى إِلَهِكَ الَّذِي ظَلْتَ عَلَيْهِ عَاكِفًا لَنُحَرِّقَنَّهُ ثُمَّ لَنَنْسِفَنَّهُ فِي الْيَمِّ نَسْفًا} (3) ، فأخبر-سبحانه - عن كليمه موسى عليه السلام أنه أحرق العجل الذي عبد من دون الله ونسفه في اليم.
--------------------------------------------
প্রথম স্তর: হাতে বাধা প্রদান (الإنكار باليد) এবং এর শর্তাবলি:এটি হলো অসৎকর্ম (المنكر) প্রতিহত করার সবচেয়ে শক্তিশালী ও সর্বোচ্চ স্তর। যেমন- মদ ঢেলে ফেলে দেওয়া, আল্লাহ ব্যতীত অন্য যেসব মূর্তির উপাসনা করা হয় তা ভেঙে ফেলা, যারা মানুষের অনিষ্ট ও জুলুম করার অশুভ অভিপ্রায় রাখে তাদের তা বাস্তবায়ন থেকে বাধা দেওয়া, এবং মানুষকে সালাত ও অনুসরণযোগ্য আল্লাহর আবশ্যিক বিধান পালনে বাধ্য করা ইত্যাদি।
আর এটি তার জন্য প্রযোজ্য যার অপরাধীর ওপর কর্তৃত্ব (ولاية) রয়েছে; যেমন—শাসক (السلطان) বা তার পক্ষ থেকে নিয়োজিত প্রতিনিধি, যেমন হিসবাহ কর্মকর্তা (والي الحسبة) ও তার কর্মচারীবৃন্দ—প্রত্যেকেই নিজ নিজ কর্মপরিধি অনুযায়ী। অনুরূপভাবে একজন মুসলিম তার পরিবার ও সন্তানদের ক্ষেত্রেও এই দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি তাদের আল্লাহর নির্দেশের ওপর অবিচল রাখবেন এবং যা আল্লাহ হারাম করেছেন তা থেকে তাদের বাধা দেবেন। যদি তাদের ক্ষেত্রে মৌখিক উপদেশ কাজে না আসে, তবে সামর্থ্য ও শক্তি অনুযায়ী (حسب الوسع والطاقة) হাতের মাধ্যমে তা প্রতিহত করবেন (১)।
পবিত্র কুরআনে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে এসেছে: {আল্লাহর কসম! তোমরা পিঠ ফিরিয়ে চলে যাওয়ার পর আমি তোমাদের মূর্তিগুলো নিয়ে অবশ্যই একটি পরিকল্পনা করব।}। {অতঃপর তিনি সেগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন, তাদের বড়টি ছাড়া; যাতে তারা তার দিকে ফিরে আসে} (২)। অর্থাৎ ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম নিজ হাতে মূর্তিগুলো ভেঙেছিলেন।
মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি তোমার সেই ইলাহের দিকে তাকাও যার তুমি একনিষ্ঠভাবে পূজা করতে; আমরা অবশ্যই একে জ্বালিয়ে দেব, অতঃপর একে অবশ্যই বিক্ষিপ্ত করে সাগরে ছড়িয়ে দেব} (৩)। মহান আল্লাহ তাঁর সাথে বাক্যালাপকারী মুসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি সেই বাছুরটিকে পুড়িয়ে ফেলেছিলেন যেটির আল্লাহ ব্যতীত উপাসনা করা হয়েছিল এবং তা সাগরে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
--------------------------------------------