(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
قصة البشرية القسم: كتب عامة
الكتاب: قصة البشرية
المؤلف: الشيخ محمد إبراهيم الحمد
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 80
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 113
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মানবজাতির ইতিহাস বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি
বই: মানবজাতির ইতিহাস
লেখক: শায়খ মুহাম্মাদ ইবরাহিম আল-হামাদ
প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো বিস্তারিত তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত সংস্করণ) : ৮০
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত যা মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৩
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১ হিজরী
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهداه.
أما بعد:
فإن السعادة هدف منشود، ومطلب مُلِح، وغاية مبتغاة.
وكل إنسان يعيش على وجه الأرض يسعى لإسعاد نفسه، وطرد الهم عنها.
ولقد حرص الكتاب، والمفكرون، والفلاسفة، والأدباء، والأطباء على البحث في أسباب جلب السعادة، وطرد الهم؛ ولكل وجهة هو موليها، وقد علم كل أناس مشربهم.
ومع ذلك فإن السعادة التي يصل إليها أكثرهم سعادة مبتورة، أو ناقصة، أو وهمية أشبه ما تكون بالمخدر يتناوله متعاطيه، فيشعر بنشوة أول وهلة، حتى إذا ذهب أثره رجعت إليه الأحزان أضعافاً مضاعفة.
والسبب أن أولئك يغفلون أصل الأصول في جلب السعادة الحقة، ألا وهو الإيمان بالله عز وجل فذلك سر السعادة وطريقها الأقوم؛ فلا يجد السعادة الحقة الدائمة إلا من آمن بالله، واهتدى بهداه؛ فهناك يسعد في دنياه وأخراه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর হেদায়েত অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সুখ হলো একটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য, একটি জরুরি চাহিদা এবং একটি অন্বেষিত গন্তব্য।
ভূপৃষ্ঠে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষ নিজেকে সুখী করতে এবং নিজের থেকে দুশ্চিন্তা দূর করতে সচেষ্ট থাকে।
লেখক, চিন্তাবিদ, দার্শনিক, সাহিত্যিক ও চিকিৎসকগণ সুখ আনয়নের উপকরণ এবং দুশ্চিন্তা দূর করার উপায়সমূহ অনুসন্ধানে সচেষ্ট হয়েছেন; প্রত্যেকেরই একটি নির্দিষ্ট দিক রয়েছে যেদিকে সে ধাবিত হয় এবং প্রতিটি দলই তাদের তৃষ্ণানিবারণের স্থান চিনে নিয়েছে।
তা সত্ত্বেও, তাদের অধিকাংশ যে সুখে উপনীত হয় তা হলো বিচ্ছিন্ন, অসম্পূর্ণ অথবা কাল্পনিক; যা অনেকটা মাদকদ্রব্যের ন্যায়, যা সেবনকারী প্রথম পর্যায়ে এক প্রকার উন্মাদনা অনুভব করে, কিন্তু যখনই এর প্রভাব কেটে যায়, তখন তার নিকট দুঃখ-কষ্ট বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়ে ফিরে আসে।
এর কারণ হলো, তারা প্রকৃত সুখ অর্জনের প্রধানতম ভিত্তি সম্পর্কে গাফেল, আর তা হলো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান। এটাই সুখের রহস্য এবং এর সুদৃঢ়তম পথ। সুতরাং, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে এবং তাঁর হেদায়েত অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে, সে ব্যতীত আর কেউ প্রকৃত ও স্থায়ী সুখ লাভ করতে পারে না; এর মাধ্যমেই সে তার দুনিয়া ও আখিরাতে সুখী হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
وهذا الكتاب (1) الذي بين يديك يدعوك إلى السعادة العظمى؛ لأنه يهديك إلى الإيمان بربك الذي خلقك، ويدلك على الاعتقاد الحق الذي يؤيده عقلك السليم، وفطرتك السوية، والذي تعرف من خلاله بداية خلق الإنسان ونهايته، والحكمة من إيجاده، وغير ذلك مما ستجده في الصفحات التالية.
فهذا الكتاب يعرفك بدين الإسلام الذي ختم الله به الأديان، وارتضاه لجميع عباده، وأمرهم بالدخول فيه.
وسيتضح لك من خلاله عظمة هذا الدين، وصحة ما جاء به، وصلاحه لكل زمان، ومكان، وأمة.
وإذا أردت التفصيل بعد ذلك فما عليك إلا أن تبحث بنفسك، وأن تسأل عما يشكل عليك؛ فالإسلام دين مفتوح لا يغلق في وجه أحد، ولا يضيق بالأسئلة مهما كثرت وتنوعت؛ فلكل سؤال في دين الإسلام جواب، ولكل قضية حكم.
فإلى موضوعات الكتاب، والله المستعان، وعليه التكلان، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.
محمد بن إبراهيم الحمد
الزلفي 11932 - ص. ب: 460
5 / 4 / 14120 هـ.
--------------------------------------------
আপনার হাতে থাকা এই গ্রন্থটি (১) আপনাকে পরম সৌভাগ্যের দিকে আহ্বান করছে; কারণ এটি আপনাকে আপনার রবের প্রতি ঈমানের পথ প্রদর্শন করে যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন, এবং আপনাকে সেই সত্য বিশ্বাসের দিশা প্রদান করে যা আপনার সুস্থ বিবেক ও সুষম স্বভাবজাত প্রবৃত্তি দ্বারা সমর্থিত। এর মাধ্যমে আপনি মানুষের সৃষ্টির আদি ও অন্ত, সৃষ্টির গূঢ় রহস্য এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে যা পাবেন সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবেন।
এই গ্রন্থটি আপনাকে ইসলাম ধর্মের সাথে পরিচিত করবে, যার মাধ্যমে আল্লাহ সকল আসমানি দ্বীনের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন, একে তাঁর সমস্ত বান্দাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং এতে প্রবেশের নির্দেশ দিয়েছেন।
এর মাধ্যমে আপনার নিকট এই দ্বীনের মাহাত্ম্য, এর আনীত বার্তার বিশুদ্ধতা (صحة) এবং সর্বকাল, স্থান ও জাতির জন্য এর উপযোগিতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
যদি আপনি এরপর বিস্তারিত জানতে চান, তবে আপনার দায়িত্ব হলো স্বয়ং অনুসন্ধান করা এবং যা আপনার নিকট অস্পষ্ট মনে হয় সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা; কেননা ইসলাম একটি উন্মুক্ত দ্বীন যা কারো সম্মুখে রুদ্ধ হয় না, এবং যত বেশি ও বৈচিত্র্যময় প্রশ্নই হোক না কেন এটি তাতে সংকুচিত হয় না। ইসলাম ধর্মে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর আছে এবং প্রতিটি বিষয়ের বিধান বিদ্যমান।
এখন আমরা গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তুর দিকে অগ্রসর হই। আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর ওপরই ভরসা রাখি। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম আল-হামাদ
আল-জুলফি ১১৯৩২ - পি.ও. বক্স: ৪৬০
৫ / ৪ / ১৪১২০ হিজরি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
قصة البشرية
تبدأ قصة البشرية منذ أن خلق الله أبا البشر آدم عليه السلام حيث خلقه الله بيده الكريمة من طين، ونفخ فيه من روحه، وعَلَّمَهُ أسماء الأشياء كلها من الطيور، والدواب، وغير ذلك، وأمر الملائكة أن يسجدوا لآدم؛ زيادة في التكريم والتشريف؛ فسجدوا كلهم إلا إبليس أبى واستكبر، فأهبطه الله من ملكوت السماوات، وأخرجه ذليلا مدحورا، وقضى عليه باللعنة، والشقاء، والنار.
وبعد ذلك سأل إبليس ربَّه أن يُنظِرَه إلى يوم القيامة، فقال الله: {إِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ} فقال إبليس: {فَبِعِزَّتِكَ لأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ} {إِلا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ} ، وقال: {فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ} {ثُمَّ لَآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ}
فقال الله عز وجل {اخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُومًا مَدْحُورًا لَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكُمْ أَجْمَعِينَ}
মানবজাতির কাহিনী
মানবজাতির কাহিনী শুরু হয় তখন থেকে যখন আল্লাহ মানবজাতির আদি পিতা আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেন। আল্লাহ তাঁকে তাঁর সম্মানিত হাত দিয়ে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর মধ্যে স্বীয় রুহ ফুঁকে দিয়েছেন। তিনি তাঁকে পাখি, চতুষ্পদ জন্তু এবং অপরাপর সকল জিনিসের নাম শিক্ষা দিয়েছেন। আর তিনি ফেরেশতাদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা আদমকে সিজদাহ করে; এটি ছিল তাঁর সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধির বহিঃপ্রকাশ। ফলে ইবলিস ব্যতীত তারা সকলেই সিজদাহ করল; সে তা করতে অস্বীকৃতি জানাল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। অতঃপর আল্লাহ তাকে আসমানের রাজত্ব থেকে নিচে নামিয়ে দিলেন এবং তাকে লাঞ্ছিত ও বিতাড়িত অবস্থায় বের করে দিলেন। আর তার ওপর অভিশাপ, দুর্গতি এবং জাহান্নামের অগ্নি অবধারিত করলেন।
এরপর ইবলিস তার রবের নিকট কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ প্রার্থনা করল। তখন আল্লাহ বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।" তখন ইবলিস বলল: "আপনার মহিমার কসম, আমি তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব—তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দারা ব্যতীত।" সে আরও বলল: "যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সেহেতু আমিও তাদের জন্য আপনার সরল সঠিক পথে ওত পেতে বসে থাকব। এরপর আমি তাদের সামনে থেকে, তাদের পেছন থেকে, তাদের ডান দিক থেকে এবং তাদের বাম দিক থেকে তাদের নিকট আসব। আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ হিসেবে পাবেন না।"
অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বললেন: "এখান থেকে লাঞ্ছিত ও বিতাড়িত অবস্থায় বের হয়ে যাও। তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, আমি অবশ্যই তোমাদের সকলকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করব।"
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
فأخرجه الله من الجنة، وأعطاه القدرة على الوسوسة والإغواء، وأمهله إلى يوم القيامة؛ ليزداد إثما، فتعظم عقوبته، ويتضاعف عذابه، وليجعله الله محكا يتميز به الخبيث من الطيب.
ثم بعد ذلك خلق الله من آدم زوجه حواء؛ ليسكن إليها، ويأنس بها، وأمرهما أن يسكنا دار النعيم الجنة التي فيها ما لا عين رأت، ولا أذن سمعت، ولا خطر على قلب بشر، وأخبرهما عز وجل بعداوة إبليس لهما، ونهاهما عن الأكل من شجرة من أشجار الجنة؛ ابتلاءاً وامتحاناً؛ فوسوس لهما الشيطان، وزين لهما الأكل من تلك الشجرة، وأقسم لهما أنه لهما من الناصحين، وقال: ((إن أكلتما من هذا الشجرة كنتما من الخالدين))
فلم يزل بهما حتى أغواهما، فأكلا من الشجرة، وعصيا ربهما؛ فندما على ما فعلا أشد الندم، وتابا إلى ربهما، فتاب عليهما، واجتباهما، لكنه أهبطهما من الجنة دار النعيم إلى الدنيا دار النصب والتعب، وسكن آدم الأرض، ورزقه الله الذرية التي تكاثرت، وتشعبت إلى يومنا الحاضر، ثم توفاه الله، وأدخله الجنة.
ومنذ أن أهبط الله آدم وزوجته إلى الأرض والعداوة قائمة مستمرة بين بني آدم من جهة، وبين إبليس وذريته من جهة.
আল্লাহ তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দিলেন এবং তাঁকে কুমন্ত্রণা ও পথভ্রষ্ট করার ক্ষমতা দান করলেন। তিনি তাঁকে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দিলেন যেন তাঁর পাপ বৃদ্ধি পায়, ফলে তাঁর শাস্তি কঠোর হয় এবং আযাব বহুগুণ হয়ে যায়। আল্লাহ তাঁকে একটি কষ্টিপাথর হিসেবে নির্ধারণ করলেন যার মাধ্যমে অপবিত্রকে পবিত্র থেকে পৃথক করা যায়।
এরপর আল্লাহ আদম থেকে তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টি করলেন যেন তিনি তাঁর নিকট প্রশান্তি লাভ করেন এবং তাঁর মাধ্যমে হৃদ্যতা অনুভব করেন। তিনি তাঁদের উভয়কে নিআমতে ভরপুর জান্নাতে বসবাসের নির্দেশ দিলেন, যেখানে এমন সব বিষয় রয়েছে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরে যা কখনও উদিত হয়নি। মহান আল্লাহ তাঁদেরকে ইবলিসের শত্রুতা সম্পর্কে অবহিত করলেন এবং পরীক্ষা ও যাচাইস্বরূপ জান্নাতের একটি নির্দিষ্ট গাছ থেকে ফল খেতে নিষেধ করলেন। অতঃপর শয়তান তাঁদের কুমন্ত্রণা দিল এবং তাঁদের নিকট সেই গাছ থেকে ফল খাওয়াকে সুশোভিত করে তুলল। সে তাঁদের নিকট শপথ করে বলল যে, সে তাঁদের হিতাকাঙ্ক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত। সে বলল: "যদি তোমরা এই গাছ থেকে আহার করো, তবে তোমরা চিরঞ্জীবদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।"
সে অনবরত তাঁদের প্ররোচিত করতে থাকল যতক্ষণ না সে তাঁদের পথভ্রষ্ট করল। ফলে তাঁরা সেই গাছ থেকে আহার করলেন এবং তাঁদের রবের অবাধ্য হলেন। এরপর তাঁরা যা করেছেন তার জন্য চরম অনুতপ্ত হলেন এবং তাঁদের রবের নিকট তাওবা করলেন। আল্লাহ তাঁদের তাওবা কবুল করলেন এবং তাঁদেরকে মনোনীত করলেন। তবে তিনি তাঁদেরকে নিআমতের ঘর জান্নাত থেকে দুঃখ-কষ্টের আবাস দুনিয়াতে নামিয়ে দিলেন। আদম পৃথিবীতে বসবাস শুরু করলেন এবং আল্লাহ তাঁকে বংশধর দান করলেন, যা বর্তমান সময় পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়েছে। এরপর আল্লাহ তাঁর মৃত্যু দান করলেন এবং তাঁকে জান্নাতে দাখিল করলেন।
যখন থেকে আল্লাহ আদম ও তাঁর স্ত্রীকে পৃথিবীতে নামিয়ে দিয়েছেন, তখন থেকেই একপক্ষে আদম সন্তান এবং অন্যপক্ষে ইবলিস ও তার বংশধরদের মধ্যে শত্রুতা বিদ্যমান ও অব্যাহত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
ومنذ ذلك الحين وإبليس وذريته في صراع دائم مع بني آدم؛ لصدهم عن الهدى، وحرمانهم من الخير، وتزيين الشر لهم، وإبعادهم عما يرضي الله؛ حرصا على شقائهم في الدنيا، ودخولهم النار في الآخرة.
ولكن الله عز وجل لم يخلق خلقه سدى، ولم يتركهم هملا، بل أرسل إليهم الرسل الذين يبينون لهم عبادة ربهم، وينيروا لهم دروب الحياة، ويوصلوهم إلى سعادة الدنيا والآخرة، فأخبر - سبحانه - الجن والإنس أنه إذا أتاكم مني كتاب، أو رسول يهديكم لما يقربكم مني، ويدنيكم من مرضاتي فاتبعوه؛ لأن من اتبع هدى الله، وآمن بكتبه ورسله، وما جاء في الكتب، وما أمرت به الرسل فإنه لا يخاف، ولا يضل، ولا يشقى، بل تحصل له السعادة في الدنيا والآخرة.
وهكذا بدأت قصة البشرية، فعاش آدم ومن بعده ذريته عشرة قرون وهم على طاعة الله، وتوحيده، ثم حصل الشرك، وعُبِد غير الله مع الله؛ فبعث الله أول رسله وهو نوح عليه السلام يدعو الناس إلى عبادة الله، ونبذ الشرك.
সেই সময় থেকে ইবলিস এবং তার বংশধররা আদম সন্তানদের সাথে নিরন্তর দ্বন্দ্বে লিপ্ত রয়েছে; তাদের হিদায়াত থেকে বিচ্যুত করতে, কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রাখতে, মন্দ কাজকে তাদের সামনে সুশোভিত করে তুলতে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে—যাতে তারা দুনিয়াতে দুর্ভাগ্যের শিকার হয় এবং আখিরাতে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়।
কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর সৃষ্টিজগতকে অনর্থক সৃষ্টি করেননি এবং তাদের লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি। বরং তিনি তাদের নিকট রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন যারা তাদের প্রতিপালকের ইবাদতকে তাদের সামনে সুস্পষ্ট করে তুলে ধরেন, তাদের জন্য জীবনের পথসমূহকে আলোকিত করেন এবং তাদের ইহকালীন ও পরকালীন সৌভাগ্যের দ্বারে পৌঁছে দেন। সুবহানাহু ওয়া তাআলা জিন ও মানবজাতিকে জানিয়েছেন যে, যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এমন কোনো কিতাব বা রাসূল আসে যিনি তোমাদেরকে আমার নৈকট্যদানকারী ও আমার সন্তুষ্টির নিকটবর্তীকারী বিষয়ের দিকে পথপ্রদর্শন করেন, তবে তোমরা তাঁর অনুসরণ করো। কেননা যারা আল্লাহর হিদায়াতের অনুসরণ করবে, তাঁর কিতাবসমূহ ও রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনবে এবং কিতাবসমূহে যা অবতীর্ণ হয়েছে ও রাসূলগণ যা নির্দেশ দিয়েছেন তা অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় থাকবে না, তারা পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না; বরং ইহকাল ও পরকালে তাদের জন্য সৌভাগ্য নিশ্চিত হবে।
এভাবেই মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল। আদম এবং তাঁর পরবর্তী বংশধরগণ দশ শতাব্দীকাল আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর একত্ববাদের ওপর সুদৃঢ় ছিলেন। অতঃপর শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটে এবং আল্লাহর সাথে অন্যের উপাসনা শুরু হয়। এমতাবস্থায় আল্লাহ তাঁর রাসূলগণের মধ্যে প্রথম রাসূল নূহ আলাইহিস সালাম-কে প্রেরণ করেন, যিনি মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের দিকে এবং শিরক বর্জনের দিকে আহ্বান জানান।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ثم تتابع الأنبياء والرسل من بعده على اختلاف بينهم في الأزمنة، والأمكنة، وبعض الشرائع، وتفاصيلها مع الاتفاق في الأصل وهو الدعوة إلى الإسلام، وعبادة الله وحده، ونبذ ما يعبد من دونه.
إلى أن جاء إبراهيم عليه السلام فدعا قومه إلى ترك عبادة الأصنام وإفراد الله بالعبادة، ثم كانت النبوة في ذريته من بعده في إسماعيل وإسحاق ثم كانت في ذرية إسحاق.
ومن أعظم الأنبياء من ذرية إسحاق، يعقوب، ويوسف، وموسى، وداود، وسليمان، وعيسى عليهم السلام.
ولم يكن بعد عيسى نبي من بني إسرائيل.
وبعد ذلك انتقلت النبوة إلى فرع إسماعيل؛ فكان أن اصطفى الله عز وجل محمدا صلى الله عليه وسلم ليكون خاتما للأنبياء، والمرسلين، ولتكون رسالته هي الخاتمة، وكتابه الذي أنزل إليه وهو القرآن هو رسالة الله الأخيرة للبشرية.
ولهذا جاءت رسالته شاملة، كاملة، عامة للإنس والجن، العرب وغير العرب، صالحة لكل زمان، ومكان، وأمة وحال؛ فلا خير إلا دلت عليه، ولا شر إلا حذرت منه، ولا يقبل الله من أحد دينا سوى ما جاء به محمد صلى الله عليه وسلم.
অতঃপর তাঁর পরবর্তীকাল থেকে কাল ও স্থানের ভিন্নতা এবং শরীয়তের (شريعة) বিভিন্ন আহকাম ও খুঁটিনাটি বিষয়ের বৈচিত্র্য সত্ত্বেও নবী ও রাসূলগণের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে; তবে মূলনীতির ক্ষেত্রে তাঁরা সকলে একমত ছিলেন, আর তা হলো ইসলামের (إسلام) দিকে আহ্বান জানানো, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং আল্লাহ ব্যতিরেকে অন্য সব উপাস্যকে বর্জন করা।
অবশেষে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের আগমন ঘটে। তিনি তাঁর কওমকে মূর্তিপূজা পরিত্যাগ করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করার আহ্বান জানান। পরবর্তীতে তাঁর বংশধরদের মধ্যে নবুওয়াত (نبوة) জারি থাকে—প্রথমে ইসমাইল ও ইসহাকের মাঝে এবং এরপর ইসহাকের বংশধরের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
ইসহাকের বংশোদ্ভূত মহান নবীদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইয়াকুব, ইউসুফ, মুসা, দাউদ, সুলাইমান ও ঈসা আলাইহিমুস সালাম।
ঈসা আলাইহিস সালামের পর বনী ইসরাইলের মধ্যে আর কোনো নবী আবির্ভূত হননি।
এরপর নবুওয়াত (نبوة) ইসমাইলের শাখায় স্থানান্তরিত হয়। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশেষ নবী ও রাসূল হিসেবে মনোনীত করেন, যাতে তাঁর রিসালাত (رسالة) হয় চূড়ান্ত এবং তাঁর ওপর অবতীর্ণ কিতাব—কুরআন—হয় মানবজাতির জন্য আল্লাহর সর্বশেষ বার্তা।
একই কারণে তাঁর রিসালাত (رسالة) হয়েছে ব্যাপক, পূর্ণাঙ্গ এবং মানুষ ও জিন, আরব ও অনারব—সবার জন্য সর্বজনীন। এটি সর্বকাল, সর্বস্থান, সকল জাতি ও পরিস্থিতির জন্য উপযোগী। এমন কোনো কল্যাণ নেই যা তিনি নির্দেশ করেননি এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি সতর্ক করেননি। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন, তা ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম আল্লাহ কারো নিকট থেকে গ্রহণ করবেন না।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
1- دعوة إبراهيم، وبشرى عيسى عليهما السلام ورؤيا أمه آمنة: يقول النبي صلى الله عليه وسلم عن نفسه: «أنا دعوة إبراهيم، وبشرى عيسى، ورأت أمي حين حملت بي كأنه خرج منها نور أضاءت له بصرى من أرض الشام»
ومعنى الحديث أن النبي صلى الله عليه وسلم يقول: أنا مصداق دعوة إبراهيم الخليل عليه السلام لأن إبراهيم لما كان يرفع القواعد من الكعبة في مكة ومعه ابنه إسماعيل كان يقول - كما أخبرنا الله عنه في القرآن -: {رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} {رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} {رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} .
فاستجاب الله دعوة إبراهيم وإسماعيل فكان النبي الخاتم محمدا عليه الصلاة والسلام من ذريتهما.
1- ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর দোয়া, ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর সুসংবাদ এবং তাঁর মাতা আমিনাহ-এর স্বপ্ন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের সম্পর্কে বলেন: «আমি ইব্রাহিমের দোয়া, ঈসার সুসংবাদ এবং আমার মা যখন আমাকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন তখন তিনি দেখেছিলেন যে তাঁর থেকে এমন এক নূর (আলো) নির্গত হয়েছে যাতে শাম দেশের বুসরা আলোকিত হয়ে গিয়েছিল»
আর এই হাদিসের মর্মার্থ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছেন: আমি ইব্রাহিম খলিল (আলাইহিস সালাম)-এর দোয়ার বাস্তব প্রতিফলন, কারণ ইব্রাহিম যখন মক্কায় কাবার ভিত্তি উত্তোলন করছিলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর পুত্র ইসমাইল ছিলেন, তখন তিনি বলছিলেন—যেমনটি আল্লাহ আমাদের কুরআনে সংবাদ দিয়েছেন—: {হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} {হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে আপনার অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে আপনার এক অনুগত উম্মত (জাতি) তৈরি করুন। আমাদের ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন; নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।} {হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের মধ্য থেকেই তাদের নিকট এমন একজন রসূল প্রেরণ করুন যিনি তাদের নিকট আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবেন, তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন। নিশ্চয়ই আপনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।}
অতঃপর আল্লাহ ইব্রাহিম ও ইসমাইলের দোয়া কবুল করলেন, ফলে সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁদেরই বংশধারায় আবির্ভূত হলেন।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أما قوله: «وبشرى عيسى» فإن نبي الله عيسى عليه السلام قد بشر بالنبي محمد صلى الله عليه وسلم كما أخبر الله عنه في القرآن فقال: {وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَابَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ}
فعيسى عليه السلام هو آخر نبي من أنبياء بني إسرائيل، وليس بينه وبين محمد صلى الله عليه وسلم نبي.
فعيسى بَشَّر بنبي يأتي من بعده اسمه أحمد، وأحمد من أسماء النبي محمد صلى الله عليه وسلم.
أما رؤيا أمه فقد رأت رؤيا صادقة؛ ذلك أن أمه لما أخذها المخاض، فوضعته تَمَثَّل لعينيها ذلك النور الذي أضاءت له بصرى من أرض الشام.
তাঁর উক্তি: «এবং ঈসার সুসংবাদ» প্রসঙ্গে বলা যায় যে, আল্লাহর নবী ঈসা (আলাইহিস সালাম) নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়েছিলেন, যেভাবে আল্লাহ কুরআনে তাঁর সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করে বলেছেন: {এবং যখন মারইয়াম-পুত্র ঈসা বলেছিল: হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আগমনকারী একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা, যাঁর নাম হবে আহমাদ।}
ঈসা (আলাইহিস সালাম) ছিলেন বনী ইসরাঈলের নবীদের মধ্যে সর্বশেষ নবী এবং তাঁর ও মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে আর কোনো নবী নেই।
ঈসা তাঁর পরবর্তী সময়ে আগমনকারী আহমাদ নামক এক নবীর সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং আহমাদ হলো নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্যতম নাম।
আর তাঁর মাতার স্বপ্নের বিষয়ে কথা হলো যে, তিনি একটি সত্য স্বপ্ন দেখেছিলেন; তা এই কারণে যে, যখন তাঁর প্রসব বেদনা শুরু হয়েছিল এবং তিনি তাঁকে প্রসব করেছিলেন, তখন তাঁর দৃষ্টির সামনে সেই নূর প্রতিভাত হয়েছিল যার দ্বারা শাম দেশের বুসরা নগরী আলোকিত হয়ে উঠেছিল।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
2-
كون النبي صلى الله عليه وسلم خرج في أمة العرب: تلك الأمة التي فُضِّلَتْ على غيرها من الأمم أنذاك، حتى استعدت لهذا الإصلاح الروحي المدني العام، الذي اشتمل عليه دين الإسلام، بالرغم مما طرأ عليها من الأمية، وعبادة الأصنام، وما أحدثت فيها غلبة البداوة من التفرق والانقسام.
ومع ذلك فقد كانت أمة العرب متميزة باستقلال الفكر، وسعة الحرية الشخصية، في الوقت الذي كانت الأمم الأخرى ترسف في عبودية الرياستين الدينية والدنيوية، محظورا عليها أن تفهم غير ما يلقنها الكهنة، ورجال الدين من الأحكام الدينية، أو أن تخالفهم في مسألة عقلية، أو كونية، كما حظرت عليها التصرفات المدنية والمالية.
وكانت أمة العرب - أيضا - متميزة باستقلال الإرادة في جميع الأعمال أيام كانت الأمم مُذَلَّلَةً مُسَخَّرة للملوك والنبلاء، المالكين للرقاب والأموال بحيث يستخدمونهم كما يستخدمون البهائم؛ فلا رأي لهم في سلم، ولا حرب، ولا إرادة لها دونهم في عمل ولا كسب.
2-
আরব জাতির মধ্য থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আবির্ভাব: সেই জাতি, যাকে তৎকালীন অন্যান্য জাতির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছিল, এমনকি তারা সেই ব্যাপক আধ্যাত্মিক ও নাগরিক সংস্কারের জন্য প্রস্তুত হয়েছিল যা ইসলাম ধর্মের অন্তর্ভুক্ত ছিল; যদিও তাদের মধ্যে নিরক্ষরতা ও মূর্তিপূজা বিদ্যমান ছিল এবং যাযাবর জীবনের প্রাবল্যের কারণে তাদের মাঝে অনৈক্য ও বিভেদ সৃষ্টি হয়েছিল।
তা সত্ত্বেও আরব জাতি চিন্তার স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ব্যাপকতায় স্বতন্ত্র ছিল; এমন এক সময়ে যখন অন্যান্য জাতি ধর্মীয় ও পার্থিব—উভয় নেতৃত্বের দাসত্বে শৃঙ্খলিত ছিল। পুরোহিত ও ধর্মযাজকরা ধর্মীয় বিধানের নামে যা শেখাতেন, তার বাইরে অন্য কিছু বোঝার অধিকার তাদের ছিল না। বুদ্ধিবৃত্তিক বা মহাজাগতিক কোনো বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করা তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল, যেমনটি তাদের ওপর নাগরিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
আরব জাতি সমস্ত কর্মতৎপরতায় স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির ক্ষেত্রেও অনন্য ছিল, যখন অন্যান্য জাতি রাজা ও অভিজাত শ্রেণির কাছে বশীভূত ও অনুগত ছিল। তারা (রাজা-বাদশাহরা) মানুষের জীবন ও সম্পদের মালিক হয়ে তাদের গবাদিপশুর মতো ব্যবহার করত। সন্ধি কিংবা বিগ্রহ—কোনো কিছুতেই তাদের মতামতের গুরুত্ব ছিল না এবং কর্ম বা উপার্জনের ক্ষেত্রে তাদের কোনো নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি ছিল না।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وكانت أمة العرب ممتازة بعزة النفس، وشدة البأس، وقوة الأبدان والقلوب، أيام كانت الأمم مؤلفة من رؤساء أفسدهم الإسراف والترف، ومرؤوسين أضعفهم البؤس والشظف، وسادة أبطرهم بغي الاستبداد، ومُسَوَّدين أذلَّهم قَهْرُ الاستعباد.
وكانت أمة العرب أقرب إلى العدل بين الأفراد، وكانت ممتازة بالذكاء، وكثير من الفضائل الموروثة والمكتسبة كإكرام الضيف، وإغاثة الملهوف، والنجدة، والإباء، وعلو الهمة، والسخاء، والرحمة، وحماية اللاجىء، وحرمة الجار - أيام كانت الأمم مرهقة بالأثرة، والأنانية، والأنين من ثقل الضرائب والأتاوى الأميرية.
وكانت أمة العرب قد بلغت أوج الكمال في فصاحة اللسان، وبلاغة المقال مما جعلها مستعدة للتأثر، والتأثير بالبراهين العقلية، والمعاني الخطابية، والشعرية، وللتعبير عن جميع العلوم الإلهية والشرعية، والفنون العقلية، والكونية - أيام كانت الأمم الأخرى تنفصم عرى وحدتها بالتعصبات الدينية والمذهبية، والعداوات العرقية.
وأعظم مزية امتاز بها العرب أنهم كانوا أسلم الناس فطرة بالرغم من أن أمم الحضارة كانت أرقى منهم في كل فن وصناعة.
আর আরব জাতি তখন আত্মমর্যাদা, বীরত্ব এবং শারীরিক ও মানসিক শক্তির দিক দিয়ে অনন্য ছিল; এমন এক সময়ে যখন অন্যান্য জাতিগুলো এমন সব নেতাদের দ্বারা গঠিত ছিল যাদের অপব্যয় ও বিলাসিতা কলুষিত করেছিল, এবং এমন সব অধীনস্থদের দ্বারা যাদের চরম দারিদ্র্য ও অভাব-অনটন দুর্বল করে দিয়েছিল; আর এমন সব প্রভুদের দ্বারা যাদের স্বৈরশাসন ও দম্ভ উদ্ধত করেছিল এবং এমন সব শাসিতদের দ্বারা যাদের দাসত্বের পীড়ন লাঞ্ছিত করেছিল।
আর আরব জাতি ব্যক্তিদের মধ্যে ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে নিকটতর ছিল এবং তারা মেধা ও অনেক উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ও অর্জিত সদ্গুণাবলির দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল, যেমন—অতিথি পরায়ণতা, আর্তের আর্তনাদে সাড়া দেওয়া, সাহায্য দান, আত্মসম্মানবোধ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, বদান্যতা, দয়া, আশ্রয়প্রার্থীর সুরক্ষা এবং প্রতিবেশীর মর্যাদা রক্ষা করা—এমন এক সময়ে যখন অন্যান্য জাতিগুলো স্বার্থপরতা, আত্মকেন্দ্রিকতা এবং রাজকীয় কর ও শুল্কের ভারে জর্জরিত হয়ে আর্তনাদ করছিল।
আর আরব জাতি বাচনভঙ্গির প্রাঞ্জলতা এবং বক্তব্যের অলঙ্কারশাস্ত্রে পূর্ণতার শিখরে পৌঁছেছিল, যা তাদেরকে বুদ্ধিভিত্তিক দলিল, তাত্ত্বিক ও কাব্যিক অর্থের দ্বারা প্রভাবিত হতে এবং অন্যকে প্রভাবিত করতে সক্ষম করে তুলেছিল; এবং যা তাদেরকে সমস্ত ইলাহি ও শরয়ি জ্ঞান, এবং বুদ্ধিভিত্তিক ও বৈশ্বিক কলা ব্যক্ত করার উপযোগী করে তুলেছিল—এমন এক সময়ে যখন অন্যান্য জাতিগুলোর ঐক্যের বন্ধন ধর্মীয় ও মাযহাবি গোঁড়ামি এবং জাতিগত শত্রুতার কারণে ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল।
আর আরবদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল যে, তারা স্বভাবজাত প্রকৃতির দিক থেকে সর্বাধিক পরিশুদ্ধ ছিল, যদিও তৎকালীন সভ্য জাতিগুলো শিল্প ও কারুশিল্পের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের চেয়ে উন্নত ছিল।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
والإصلاح الإسلامي مبني على تقديم إصلاح النفس باستقلال العقل، والإرادة، وتهذيب الأخلاق على إصلاح ما في الأرض من معدن، ونبات، وحيوان.
وبهذا كان الله عز وجل يعد هذه الأمة للإصلاح العظيم الذي جاء به محمد صلى الله عليه وسلم.
আর ইসলামি সংস্কার (إصلاح) মূলত বুদ্ধিবৃত্তি ও ইচ্ছাশক্তির স্বকীয়তা এবং চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধিকে পৃথিবীর খনিজ, উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের বস্তুগত সংশোধনের (إصلاح) ওপর প্রাধান্য প্রদানের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আর এভাবেই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এই উম্মতকে সেই মহান সংস্কারের (إصلاح) জন্য প্রস্তুত করেছিলেন, যা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিয়ে এসেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
3-
شرف النسب: فقد كان نسبه عليه الصلاة والسلام أشرف الأنساب، وأصرحها.
قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى آدَمَ وَنُوحًا وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ}
فالله عز وجل اصطفى هؤلاء إذ جعل فيهم النبوة والهداية للمتقدمين، واصطفى قريشا من كنانة، واصطفى من قريش بني هاشم، واصطفى من بني هاشم سيد ولد آدم محمدا صلى الله عليه وسلم فكان آل إسماعيل أفضل الأولين والآخرين، كما كان بنو إسحاق أفضل المتوسطين.
أما اصطفاء الله لقبيلة قريش فقد كان بما آتاهم الله من المناقب العظام، ولا سيما بعد سُكنى مكة، وخدمة المسجد الحرام؛ إذ كانوا أصرح ولد إسماعيل أنسابا، وأشرفهم أحسابا، وأعلاهم آدابا، وأفصحهم ألسنة، وهم الممهدون لجمع الكلمة.
أما اصطفاء الله لبني هاشم فقد كان لما امتازوا به من الفضائل والمكارم؛ فكانوا أصلح الناس عند الفتن، وخيرهم لمسكين ويتيم.
وإنما أطلق لقب هاشم على عَمْرو بن عبد مناف؛ لأنه أول من هشم الثريد - وهو طعام لذيذ - للذين أصابهم القحط، وكان يشبع منه كلَّ عامٍ أهلُ الموسم كافة، ومائدته منصوبة لا ترفع في السراء ولا في الضراء.
৩-
বংশমর্যাদা: তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বংশধারা ছিল বংশসমূহের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ এবং সুস্পষ্টতম।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম, নূহ, ইবরাহীমের পরিবার এবং ইমরানের পরিবারকে বিশ্বজগতের ওপর মনোনীত করেছেন।}
অতঃপর মহান আল্লাহ এদের মনোনীত করেছেন; কারণ তিনি তাদের মধ্যে পূর্ববর্তীদের জন্য নবুওয়াত ও হিদায়াত স্থাপন করেছেন। তিনি কিনানা থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আদম সন্তানদের সর্দার মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মনোনীত করেছেন। ফলে ইসমাইল (আ.)-এর বংশধরগণ পূর্বাপর সকলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হয়েছেন, যেমনটি ইসহাক (আ.)-এর বংশধরগণ মধ্যবর্তী সময়ের জন্য শ্রেষ্ঠ ছিলেন।
কুরাইশ গোত্রকে আল্লাহর মনোনীত করার কারণ ছিল মহান আল্লাহ তাদের যে সুমহান গুণাবলী দান করেছিলেন, বিশেষ করে মক্কায় বসবাস এবং মসজিদুল হারামের খেদমতের সুযোগ পাওয়ার পর। কেননা তারা ছিল ইসমাইল (আ.)-এর সন্তানদের মধ্যে বংশগতভাবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ, আভিজাত্যে শ্রেষ্ঠ, শিষ্টাচারে উন্নত এবং ভাষায় সর্বাধিক প্রাঞ্জল। আর তারাই ছিল ঐক্য ও সংহতির পথপ্রদর্শক।
আর বনু হাশিমকে আল্লাহর মনোনীত করার কারণ ছিল তাদের সেই শ্রেষ্ঠত্ব ও মহানুভবতা যার মাধ্যমে তারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছিল। তারা ছিল ফিতনার সময় মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সংশোধনকারী এবং মিসকিন ও এতিমদের জন্য সর্বোত্তম আশ্রয়।
মূলত আমর বিন আবদে মানাফকে 'হাশিম' উপাধি দেওয়া হয়েছিল; কারণ তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি দুর্ভিক্ষের কবলে পড়া লোকদের জন্য ছারিদ (এক প্রকার সুস্বাদু খাবার) ভেঙে টুকরো করেছিলেন। প্রতি বছর হজের মৌসুমে আগত সকল মানুষ তা থেকে তৃপ্তিসহকারে আহার করত এবং তাঁর দস্তরখান সর্বদা প্রস্তুত থাকত, সুসময় বা দুঃসময় কোনো অবস্থাতেই তা সরিয়ে নেওয়া হতো না।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وزاد على هاشمٍ ولَدُه عبدُ المطلب جدُّ الرسول صلى الله عليه وسلم فكان يطعم الوحش، وطير السماء، وكان أول من تعبد بغار حراء، وروي أنه حرم الخمر على نفسه.
وبالجملة فقد امتاز آل النبي صلى الله عليه وسلم على سائر قومه بالأخلاق العلية، والفواضل العملية، والفضائل النفسية.
ثم اصطفى الله عز وجل محمدا صلى الله عليه وسلم من بني هاشم؛ فكان خير ولد آدم، وسيدهم.
হাশেমের বংশীয় মর্যাদার ওপর তাঁর পুত্র এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব আরও বিশেষত্ব যোগ করেছিলেন। তিনি বন্যপ্রাণী ও আকাশের পাখিদের অন্নদান করতেন এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি হেরা গুহায় নির্জন সাধনা বা ইবাদত শুরু করেছিলেন। বর্ণিত (روي) আছে যে, তিনি নিজের ওপর মদ্যপান হারাম করেছিলেন।
সারসংক্ষেপে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার তাঁদের সুউচ্চ নৈতিক চরিত্র, কর্মগত শ্রেষ্ঠত্ব এবং আত্মিক গুণাবলির মাধ্যমে তাঁদের গোত্রের অন্য সকলের ওপর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন।
অতঃপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বনু হাশেম থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মনোনীত করেন; ফলে তিনি আদম সন্তানদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং তাঁদের নেতা (سيد) হলেন।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
4 -
بلوغه صلى الله عليه وسلم الذروة في مكارم الأخلاق: فقد جبله الله عز وجل على كريم الخلال، وحميد الخصال، فكان قبل النبوة أرقى قومه، بل أرقى البشرية في زكاء نفسه، وسلامة فطرته، وحسن خلقه.
نشأ يتيما شريفا، وشب فقيرا عفيفا، ثم تزوج محبا لزوجته مخلصا لها.
لم يتولَّ هو ولا والده شيئا من أعمال قريش في دينها ولا دنياها، ولا كان يعبد عبادتهم، ولا يحضر سامرهم، ولا ندواتهم، ولم يؤثر عنه قول ولا عمل يدل على حب الرياسة، أو التطلع إليها.
كان يُعرفُ بالتزام الصدق، والأمانة، وعلو الآداب؛ فبذلك كان له المقام الأرفع قبل النبوة؛ حتى لقبوه بالأمين.
وعلى هذه الحال كان صلى الله عليه وسلم حتى بلغ أشده، واستوى، وكملت في جسده الطاهر، ونفسه الزكية جميع القوى، لا طمع في مال، ولا سمعة، ولا تطلع إلى جاه ولا شهرة، حتى أتاه الوحي من رب العالمين - كما سيأتي بيانه بعد قليل -.
4 -
মহান চরিত্রের উচ্চ শিখরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অবস্থান: বস্তুত আল্লাহ তাআলা তাঁকে মহৎ গুণাবলি ও প্রশংসনীয় আচরণের ওপর সৃষ্টি করেছেন। নবুওয়াত লাভের পূর্বেই তিনি তাঁর কওমের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত ছিলেন; বরং আত্মার পবিত্রতা, স্বভাবের নিষ্কলুষতা এবং সচ্চরিত্রের দিক থেকে তিনি ছিলেন সমগ্র মানবতার মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
তিনি এক সম্মানিত এতিম হিসেবে লালিত-পালিত হন এবং দারিদ্র্য সত্ত্বেও একজন পবিত্র ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন যুবক হিসেবে বেড়ে ওঠেন। এরপর তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং নিজ স্ত্রীর প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও একনিষ্ঠ ছিলেন।
কুরাইশদের ধর্মীয় বা পার্থিব কোনো কর্মকাণ্ডে তিনি বা তাঁর পিতা কখনোই লিপ্ত হননি। তিনি তাদের ইবাদত পদ্ধতিতে উপাসনা করতেন না এবং তাদের নৈশ আড্ডা বা সভা-সেমিনারেও উপস্থিত হতেন না। তাঁর থেকে এমন কোনো কথা বা কাজ বর্ণিত হয়নি যা নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা বা পদমর্যাদার প্রতি লালসা নির্দেশ করে।
তিনি সত্যবাদিতা, আমানতদারি এবং উন্নত শিষ্টাচারের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। এ কারণেই নবুওয়াত লাভের পূর্বেই তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন; এমনকি তারা তাঁকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই অবস্থাতেই ছিলেন যতক্ষণ না তিনি পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপক্কতা লাভ করেন। তাঁর পবিত্র দেহ ও পরিশুদ্ধ আত্মায় সকল শক্তি পূর্ণতা লাভ করেছিল। ধন-সম্পদ বা সুখ্যাতির প্রতি তাঁর কোনো লোভ ছিল না এবং পদমর্যাদা বা খ্যাতির প্রতিও কোনো আকাঙ্ক্ষা ছিল না। পরিশেষে রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে তাঁর নিকট ওহী আসলো—যেটির বর্ণনা শীঘ্রই সামনে আসছে।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
5-
كونه صلى الله عليه وسلم أميا لا يقرأ ولا يكتب: فهذا من أعظم المهيئات والدلائل على صدق نبوته؛ فهذا الرجل الأمي الذي لم يقرأ كتابا، ولم يكتب سطرا، ولم يقل شعرا، ولم يرتجل نثرا، الناشئ في تلك الأمة الأمية - يأتي بدعوة عظيمة، وبشريعة سماوية عادلة تستأصل الفوضى الاجتماعية، وتكفل لمعتنقيها السعادة الإنسانية الأبدية، وتعتقهم من رق العبودية لغير ربهم - جل وعلا -.
كل ذلك من مهيئات النبوة، ومن دلائل صدقها.
৫-
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিরক্ষর (أمي) হওয়া, যিনি পড়তে বা লিখতে জানতেন না: এটি তাঁর নবুয়তের সত্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুকূল প্রেক্ষাপট ও প্রমাণস্বরূপ; কেননা এই নিরক্ষর (أمي) ব্যক্তি—যিনি কোনো কিতাব পাঠ করেননি, একটি পংক্তিও লেখেননি, কখনো কবিতা আবৃত্তি করেননি এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গদ্যও রচনা করেননি, যিনি সেই নিরক্ষর (أمي) উম্মতের মাঝে বেড়ে উঠেছেন—তিনি এক মহান দাওয়াত এবং এমন এক ন্যায়নিষ্ঠ আসমানি শরিয়ত নিয়ে এসেছেন যা সামাজিক বিশৃঙ্খলা সমূলে উৎপাটন করে, এর অনুসারীদের জন্য শাশ্বত মানবীয় সুখ নিশ্চিত করে এবং তাদের মহান প্রতিপালক—যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ—ব্যতীত অন্য সব কিছুর দাসত্ব থেকে মুক্ত করে।
এসবই হলো নবুয়তের অনুকূল প্রেক্ষাপট এবং তাঁর সত্যতার নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ثانيا: نبذة عن نسبه، وحياته:
هو محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم، بن عبد مناف، بن قصي، بن حكيم، بن مرة، بن كعب، بن لؤي، بن غالب، بن فهر، بن مالك، بن النضر، بن كنانة، بن خزيمة، بن مدركة، بن إلياس، بن مضر، بن نزار، بن معد، بن عدنان، وعدنان من العرب، والعرب من ذرية إسماعيل بن إبراهيم عليه السلام.
وأم النبي صلى الله عليه وسلم هي آمنة بنت وهب بن عبد مناف بن زهرة، وزهرة أخو جد النبي صلى الله عليه وسلم.
وقد تزوج بها عبد الله والد النبي صلى الله عليه وسلم وأقام معها في بيت أهلها ثلاثة أيام، فلم تلبث أن حملت بالنبي صلى الله عليه وسلم ولم تجد في حمله ثقلا، ولا وحما كما هو شأن المحصنات الصحيحات الأجسام.
وقد رأت أمه رؤيا لما حملت به، وقد مر ذكر الرؤيا في كلام سابق.
وقد ولدته أمه سوي الخلق، جميل الصورة، صحيح الجسم، وكانت ولادته عام الفيل الموافق للحادي والسبعين بعد الخمسمائة للميلاد.
وقد توفي والده وهو حمل في بطن أمه، فكفله جده عبد المطلب، وأرضعته أمه ثلاثة أيام ثم عهد جده بإرضاعه إلى امرأة يقال لها حليمة السعدية.
দ্বিতীয়ত: তাঁর বংশপরিচয় ও জীবনীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম, বিন আবদ মানাফ, বিন কুসাই, বিন হাকিম, বিন মুররাহ, বিন কাব, বিন লুয়াই, বিন গালিব, বিন ফিহর, বিন মালিক, বিন নাদর, বিন কিনানাহ, বিন খুযাইমাহ, বিন মুদ্রিকাহ, বিন ইলিয়াস, বিন মুদার, বিন নিযার, বিন মা'আদ, বিন আদনান। আর আদনান আরবদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, আর আরবরা হলো ইসমাইল বিন ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর বংশধর।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা হলেন আমিনা বিনতে ওয়াহাব বিন আবদ মানাফ বিন যুহরাহ। আর যুহরাহ ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাদার ভাই।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিতা আবদুল্লাহ তাঁকে বিবাহ করেন এবং তাঁর পিত্রালয়ে তিন দিন অবস্থান করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গর্ভে ধারণ করেন। তিনি গর্ভাবস্থায় কোনো ভারবোধ করেননি এবং সুস্থ ও সুঠাম দেহের অধিকারী নারীদের যেমনটা হয়ে থাকে, তেমন কোনো শারীরিক অসুস্থতাও অনুভব করেননি।
তাঁকে গর্ভে ধারণ করার সময় তাঁর মাতা একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন, যার বর্ণনা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
তাঁর মাতা তাঁকে সুঠাম গঠন, সুন্দর চেহারা এবং সুস্থ শরীরে জন্ম দিয়েছেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল হস্তিবর্ষে, যা ছিল ঈসায়ী ৫৭১ সালের সমসাময়িক।
তিনি যখন মাতৃগর্ভে ছিলেন তখনই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। ফলে তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর মাতা তাঁকে তিন দিন স্তন্যদান করেন, অতঃপর তাঁর দাদা হালিমা সাদিয়া নাম্নী এক মহিলার কাছে তাঁকে স্তন্যদানের দায়িত্ব অর্পণ করেন।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وكان من عادة العرب أن يسترضعوا لأولادهم في البوادي؛ حيث تتوافر أسباب النشأة البدنية السليمة.
ولقد رأت حليمة السعدية من أمر هذا الرضيع عجباً، ومن ذلك أنها أتت مع زوجها إلى مكة على أتان هزيلة بطيئة السير، وفي طريق العودة من مكة، وهي تضع الرضيع في حجرها كانت الأتان تعدو عَدْوَا سريعا، وتُخَلف وراءها كل الدواب؛ مما جعل رفاق الطريق كلهم يتعجبون.
وتحدث حليمة بأن ثديها لم يكن يدر شيئا من الحليب، وأن طفلها الرضيع كان دائم البكاء من شدة الجوع، فلما ألقمت الثدي رسول الله صلى الله عليه وسلم در غزيرا، فأصبحت ترضعه وترضع طفلها حتى يشبعا.
وتحدث حليمة عن جدب أرض قومها ديار بني سعد، فلما حظيت بشرف رضاعة هذا الطفل أنتجت أرضها، وماشيتها، وتَبَدَّلت حالها من بؤس وفقر، إلى هناء ويسر.
وبعد سنتين عادت به حليمة إلى أمه وجده في مكة، لكن حليمة ألحت على أمه أن توافق على بقائه عندها مرة ثانية؛ لما رأت من بركته عليها؛ فوافقت أمه آمنة، فعادت حليمة بالطفل مرة أخرى إلى ديارها والفرحة تملأ قلبها.
আরবদের রীতি ছিল তাদের সন্তানদের মরুভূমিতে স্তন্যদানের জন্য পাঠানো; যেখানে সুস্থ শারীরিক বিকাশের অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান থাকে।
হালিমা সাদিয়া এই দুগ্ধপোষ্য শিশুর বিষয়ে বিস্ময়কর সব বিষয় প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তার মধ্যে একটি ছিল এই যে, তিনি যখন তাঁর স্বামীর সাথে মক্কায় আসছিলেন, তখন তাঁর গাধাটি ছিল অত্যন্ত দুর্বল ও মন্থর গতির। কিন্তু মক্কা থেকে ফেরার পথে, যখন তিনি শিশুটিকে তাঁর কোলে নিলেন, তখন গাধাটি দ্রুতবেগে ছুটতে লাগল এবং অন্যান্য সকল পশুকে পেছনে ফেলে দিল; যা দেখে তাঁর সফরসঙ্গীরা অত্যন্ত বিস্মিত হলেন।
হালিমা বর্ণনা করেন যে, তাঁর স্তনে দুগ্ধের লেশমাত্র ছিল না এবং তাঁর নিজের শিশুটি ক্ষুধার তীব্রতায় সর্বদা ক্রন্দন করত। অতঃপর যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্তন্যদান করালেন, তখন তা দুধে পরিপূর্ণ হয়ে উঠল। ফলে তিনি তাঁকে এবং তাঁর নিজ সন্তান উভয়কেই তৃপ্তিসহকারে দুধ পান করাতে লাগলেন।
হালিমা তাঁর সম্প্রদায়ের ভূমি তথা বনী সা’দ গোত্রের জনপদের অনাবৃষ্টির কথা উল্লেখ করেন। অতঃপর যখন তিনি এই শিশুকে স্তন্যদানের সৌভাগ্য লাভ করলেন, তখন তাঁর ভূমি ও গবাদিপশু উর্বর হয়ে উঠল এবং তাঁর অবস্থা দুঃখ-কষ্ট ও দারিদ্র্য থেকে সুখ ও সচ্ছলতায় পরিবর্তিত হয়ে গেল।
দুই বছর পর হালিমা তাঁকে মক্কায় তাঁর মাতা ও পিতামহের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে এলেন। কিন্তু শিশুটির বরকত প্রত্যক্ষ করার কারণে হালিমা তাঁর মাতার কাছে পুনরায় শিশুটিকে নিজের কাছে রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করলেন। এতে তাঁর মাতা আমিনা সম্মতি দিলেন। অতঃপর হালিমা অত্যন্ত আনন্দিত চিত্তে শিশুটিকে নিয়ে পুনরায় তাঁর নিজ এলাকায় ফিরে এলেন।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وبعد سنتين عادت به حليمة إلى أمه، وعمره آنذاك أربع سنوات، فحضنته أمه إلى أن توفيت، وكان له من العمر ست سنين، فكفله جده عبد المطلب سنتين ثم توفي، فأوصى به إلى ابنه أبا طالب عم النبي صلى الله عليه وسلم فحاطه بعنايته كما يحوط أهله وولده.
إلا أنه كان لفقره يعيش عيش الشظف؛ فلم يتعود صلى الله عليه وسلم نعيم الترف.
ولعل ذلك من عناية الله بهذا النبي الكريم.
وكان صلى الله عليه وسلم قد ألف رعي الغنم مع إخوانه من الرضاع لما كان في بادية بني سعد، فصار يرعى الغنم لأهل مكة؛ فيوفر على عمه أبي طالب بما يأخذه على ذلك من الأجر.
ثم سافر مع عمه أبي طالب في تجارة إلى الشام، وله من العمر اثنتا عشرة سنة، وشهران، وعشرة أيام، وهناك رآه بحيرا الراهب، وبشر به عمه أبا طالب، وحذره من اليهود عليه بعد أن رأى خاتم النبوة بين كتفيه.
ثم إنه سافر مرة أخرى مُتَّجرا بمالٍ لخديجة بنت خويلد، فأعطته أفضل مما كانت تعطي غيره؛ إذ جاءت تلك التجارة بأرباح مضاعفة، بل جاءت بسعادة الدنيا والآخرة.
দুই বছর পর হালিমা তাঁকে তাঁর মাতার কাছে ফিরিয়ে আনলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল চার বছর। অতঃপর তাঁর মাতা তাঁকে মৃত্যু পর্যন্ত নিজের স্নেহে লালন-পালন করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর। এরপর তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব দুই বছর তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন এবং তিনিও ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর পুত্র তথা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চাচা আবু তালিবকে তাঁর ব্যাপারে অসিয়ত করেন। অতঃপর আবু তালিব তাঁকে নিজের পরিবার ও সন্তানের ন্যায় পরম যত্নে আগলে রাখেন।
তবে দরিদ্রতার কারণে তাঁকে অত্যন্ত কৃচ্ছ্রতাপূর্ণ জীবন যাপন করতে হতো; ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলাসিতার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে অভ্যস্ত ছিলেন না।
আর সম্ভবত এটিই ছিল এই মহান নবীর প্রতি আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধান।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন বনু সাদ গোত্রের পল্লীতে ছিলেন, তখনই তাঁর দুগ্ধভাইদের সাথে ছাগল চরাতে অভ্যস্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মক্কাবাসীদের ছাগল চরাতেন; এর বিনিময়ে প্রাপ্ত পারিশ্রমিক দিয়ে তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের অভাব লাঘবে সহায়তা করতেন।
এরপর বারো বছর দুই মাস দশ দিন বয়সে তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে ব্যবসায়িক সফরে সিরিয়া গমন করেন। সেখানে বাহিরা নামক জনৈক পাদ্রি তাঁকে দেখেন এবং তাঁর চাচা আবু তালিবকে তাঁর ব্যাপারে সুসংবাদ দেন। তাঁর দুই কাঁধের মধ্যস্থলে নবুয়তের মোহর (خاتم النبوة) প্রত্যক্ষ করার পর তিনি তাঁকে ইহুদিদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করেন।
অতঃপর তিনি পুনরায় খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের অর্থ নিয়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সফর করেন। তিনি (খাদিজা) তাঁকে অন্যদের তুলনায় অধিক লভ্যাংশ প্রদান করেছিলেন; কারণ সেই ব্যবসায় দ্বিগুণ মুনাফা অর্জিত হয়েছিল, বরং তা দুনিয়া ও আখিরাতের পরম সৌভাগ্য বয়ে এনেছিল।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وكانت خديجة هذه أعقل وأكمل امرأة في قريش، حتى كانت تدعى في الجاهلية: الطاهرة؛ لما لها من الصيانة، والعفة، والفضائل الظاهرة.
ولما حدثها غلامها ميسرة بما رأى من النبي صلى الله عليه وسلم في رحلته معه إلى الشام، من الأخلاق العالية، والفضائل السامية، وما قاله بحيرا الراهب لعمه أبي طالب في رحلته الأولى إلى الشام - تعلقت رغبتها به، وبأن تتخذه زوجا لها، وكانت قد تزوجت من قبل، وتوفي عنها زوجها؛ فتم ذلك الزواج الميمون، وكان عمره آنذاك خمسة وعشرين سنة، وعمرها قريبا من أربعين سنة.
ولم يتزوج عليها طيلة حياتها، ولا أحب مثلها، وتوفيت بعد البعثة النبوية بعشر سنين، فكان كثيرًا ما يذكرها، ويتصدق عنها، ويهدي لصاحباتها، وهي الزوجة التي رزق منها جميع أبنائه عدا إبراهيم فإنه من زوجته ماريا القبطية.
هذه بعض أخباره وسيرته قبل النبوة، وبدء الوحي على سبيل الإجمال.
এই খাদিজা ছিলেন কুরাইশ বংশের সর্বাধিক বুদ্ধিমতী ও মহীয়সী নারী, এমনকি তাঁর আত্মমর্যাদা, সতীত্ব ও প্রকাশ্য গুণাবলির কারণে জাহেলি যুগে তাঁকে 'তাহিরা' (পবিত্রা) বলে সম্বোধন করা হতো।
যখন তাঁর গোলাম মাইসারা সিরিয়া সফরের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে প্রত্যক্ষ করা সুউচ্চ চরিত্র ও মহান গুণাবলি এবং প্রথম সিরিয়া সফরে পাদ্রী বাহিরা তাঁর চাচা আবু তালিবকে যা বলেছিলেন—তা বর্ণনা করলেন, তখন তাঁর প্রতি খাদিজার আগ্রহ সৃষ্টি হলো এবং তাঁকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন। তিনি ইতিপূর্বে বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর স্বামী মারা গিয়েছিলেন; অতঃপর এই বরকতময় বিবাহ সম্পন্ন হলো। তখন তাঁর (নবীজির) বয়স ছিল পঁচিশ বছর এবং খাদিজার বয়স ছিল প্রায় চল্লিশ বছর।
তাঁর জীবদ্দশায় তিনি আর কোনো বিবাহ করেননি এবং তাঁর মতো কাউকে ভালোবাসেননি। নবুয়ত প্রাপ্তির দশ বছর পর তিনি ইন্তেকাল করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রায়ই তাঁকে স্মরণ করতেন, তাঁর পক্ষ থেকে দান-সদকা করতেন এবং তাঁর বান্ধবীদের নিকট উপহার পাঠাতেন। তিনি ছিলেন সেই স্ত্রী যাঁর গর্ভ থেকে ইব্রাহিম ব্যতীত তাঁর সকল সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলেন; কারণ ইব্রাহিম ছিলেন তাঁর স্ত্রী মারিয়া আল-কিবতিয়াহর গর্ভজাত।
এগুলো হলো নবুয়ত এবং ওহি শুরুর প্রাক্কালের তাঁর অবস্থা ও জীবনীর (سيرة) কিছু সংক্ষিপ্ত বিবরণ (أخبار)।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ثالثا: بدء الوحي:بلغ النبي صلى الله عليه وسلم أشده وقَرُب من الأربعين، واكتملت قواه العقلية والبدنية، وكان أول ما بدأ به من الوحي الرؤيا الصالحة، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح واضحة كما رآها في منامه.
ثم بعد ذلك حُبِبَ إليه الخلاء، فكان يخلو بنفسه في غار حراء في مكة، فيتعبد الله الليالي ذوات العدد، ثم يرجع إلى خديجة فيتزود بالطعام والشراب، حتى جاءه الحق، وهو على هذا الشأن بنزول القرآن عليه في شهر رمضان، وذلك بأن تمثل له المَلَكُ جبريل، ولقنه عن ربه أول ما نزل من القرآن، فقال: {اقرأ} فقال ((ما أنا بقارىء)) فقال له: {اقرأ} فقال: ((ما أنا بقارىء)) فقال: {اقرأ} فقال: ((ما أنا بقارىء)) وكان جبريل بعد كل جواب من الأجوبة الثلاثة يضمه على صدره، ويعصره حتى يبلغ منه الجهد.
ولما تركه جبريل في المرة الثالثة ألقى عليه أول آيات أنزلت من القرآن، وهي: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} {خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ} {اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ} {الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ} {عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ}
তৃতীয়ত: ওহী (وحي) এর সূচনা:নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করলেন এবং চল্লিশ বছরের কাছাকাছি পৌঁছালেন; তাঁর মানসিক ও শারীরিক শক্তি পূর্ণতা লাভ করল। ওহী (وحي) এর সূচনায় যা দিয়ে তাঁর শুরু হয়েছিল তা ছিল সত্য স্বপ্ন (الرؤيا الصالحة)। তিনি এমন কোনো স্বপ্ন দেখতেন না যা সুবহে সাদিকের মতো স্পষ্ট হয়ে প্রকাশ পেত না, ঠিক যেমনটি তিনি তাঁর ঘুমে দেখেছিলেন।
এরপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় করে দেওয়া হলো। তিনি মক্কার হেরা গুহায় একাকী অবস্থান করতেন এবং সেখানে কয়েক রাত একাদিক্রমে আল্লাহর ইবাদত করতেন। এরপর তিনি খাদিজার নিকট ফিরে আসতেন এবং খাবার ও পানীয়ের রসদ নিয়ে যেতেন। পরিশেষে এই অবস্থায় তাঁর কাছে সত্যের (ওহীর) আগমন ঘটল, যখন রমজান মাসে তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হলো। আর তা এভাবে যে, ফেরেশতা জিবরাঈল তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করলেন এবং তাঁর রবের পক্ষ থেকে কুরআনের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ অংশ তাঁকে পাঠ করালেন। তিনি বললেন: {পাঠ করুন}, প্রতিউত্তরে তিনি বললেন: ((আমি পাঠ করতে জানি না))। তিনি পুনরায় তাঁকে বললেন: {পাঠ করুন}, তিনি বললেন: ((আমি পাঠ করতে জানি না))। জিবরাঈল আবারও বললেন: {পাঠ করুন}, তিনি বললেন: ((আমি পাঠ করতে জানি না))। জিবরাঈল এই তিনটি উত্তরের প্রত্যেকটির পর তাঁকে নিজ বুকের সাথে জড়িয়ে ধরছিলেন এবং প্রবলভাবে চাপ দিচ্ছিলেন, যাতে তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
যখন জিবরাঈল তাঁকে তৃতীয়বার ছেড়ে দিলেন, তখন তাঁর ওপর কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ আয়াতসমূহ পাঠ করলেন, আর তা হলো: {পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন} {সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে} {পাঠ করুন এবং আপনার রব মহামহিম} {যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন} {শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না}।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
بهذه الآيات العظيمة التي تأمر بالعلم، وتبين بداية خلق الإنسان - بدأ نزول الوحي على النبي صلى الله عليه وسلم فرجع النبي إلى خديجة - يرجف فؤاده، ولكنه حفظ رشاده، فقال: «زملوني، زملوني» يعني لففوني بالثياب، ففعلوا، حتى إذا ذهب عنه الروع أخبر خديجة الخبر وقال: «لقد خشيت على نفسي»
فقالت خديجة رضي الله عنها: ((كلا والله لا يخزيك الله أبدا؛ إنك لتصل الرحم، وتحمل الكل، وتكسب المعدوم، وتقوي الضعيف، وتعين على نوائب الحق))
وهكذا استدلت هذه المرأة العاقلة على أن من كان هذا شأنه في محبة الخير للناس فلن يخذله الله؛ فسنة الله تقتضي بأن الجزاء من جنس العمل.
ثم انطلقت بعد ذلك خديجة بالنبي صلى الله عليه وسلم حتى أتت ابن عمها ورقة بن نوفل، وكان قد تنصر في الجاهلية، ويكتب الإنجيل بالعبرانية، وكان شيخاً كبيراً قد عمي، فقالت خديجة له: اسمع من محمد ما يقول، فقال ورقة يا ابن أخي ماذا ترى؟ فأخبره صلى الله عليه وسلم خبر ما رأى، فقال ورقة: هذا الناموس الذي أنزل على موسى، ياليتني فيها جذعاً، أي شاباً، ليتني أكون حياً إذ يخرجك قومك.
জ্ঞান অর্জনের আদেশ সম্বলিত এবং মানব সৃষ্টির সূচনার বর্ণনাকারী এই মহান আয়াতগুলোর মাধ্যমেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত কম্পিত হৃদয়ে খাদিজার নিকট ফিরে এলেন, তবে তিনি স্বীয় প্রজ্ঞা ও ধৈর্য অটুট রেখেছিলেন। তিনি বললেন: "তোমরা আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, তোমরা আমাকে বস্ত্রাবৃত করো।" অর্থাৎ আমাকে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে দাও। তারা তাই করল, অবশেষে যখন তাঁর মধ্য থেকে ভীতি দূর হয়ে গেল, তখন তিনি খাদিজাকে বিষয়টি অবহিত করলেন এবং বললেন: "আমি নিজের জীবনের ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করছি।"
তখন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন: "কখনোই নয়, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেন, অক্ষমের বোঝা বহন করেন, নিঃস্ব ব্যক্তির সংস্থান করেন, দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তিকে শক্তিশালী করেন এবং সত্যের পথে আপতিত বিপদসমূহে সাহায্য করেন।"
এভাবেই এই বুদ্ধিমতী নারী এ বিষয়ে প্রমাণ পেশ করলেন যে, যাঁর স্বভাব মানুষের প্রতি কল্যাণকামিতার এমন অনন্য বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত, আল্লাহ তাঁকে কখনোই অপদস্থ করবেন না; কেননা আল্লাহর শাশ্বত নিয়ম হলো—প্রতিদান সর্বদা কর্মের ধরন অনুযায়ী হয়ে থাকে।
অতঃপর খাদিজা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওরাকা ইবনে নওফলের নিকট গেলেন। তিনি জাহেলি যুগে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং হিব্রু ভাষায় ইনজিল লিখতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বৃদ্ধ এবং দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছিলেন। খাদিজা তাঁকে বললেন: "মুহাম্মাদ যা বলেন তা শুনুন।" ওরাকা বললেন: "হে ভ্রাতুষ্পুত্র, আপনি কী দেখছেন?" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন তা তাঁকে জানালেন। ওরাকা বললেন: "ইনি তো সেই বার্তাবাহক (নামুস), যাঁকে মুসা আলাইহিস সালাম-এর নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল। হায়! আমি যদি সেই সময় যুবক থাকতাম! হায়! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম যেদিন আপনার কওম আপনাকে দেশ থেকে বের করে দেবে!"
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فقال له الرسول صلى الله عليه وسلم: ((أو مخرجي هم؟)) قال: نعم؛ لم يأت رجل قط بمثل ما جئت به إلا عودي، وإن يدركني يومك أنصرك نصرا مؤزرا، ثم توفي ورقة، وفتر الوحي.
واستمرت فترة الوحي ثلاث سنين، قوي فيها استعداد النبي، واشتد شوقه وحنينه.
قال صلى الله عليه وسلم: «بينما أنا أمشي سمعت صوتا من السماء، فرفعت بصري، فإذا الملك الذي جاءني في حراء» .
وذكر أنه رعب منه، ولكن ذلك دون الرعبة الأولى، فرجع إلى أهله فتزمل، وتدثر (أي تغطى بالثياب) .
ثم أنزل الله عليه قوله - تعالى -: {يَاأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ} {قُمْ فَأَنْذِرْ} {وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ} {وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ} {وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ}
أي قم يا أيها الذي تدثر بثيابه، فأنذر الناس بالقرآن، وبلغهم دعوة الله، وطهر ثيابك من أدران الشرك، واهجر الأصنام.
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বললেন: "তারা কি আমাকে বের করে দেবে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ; আপনি যা নিয়ে এসেছেন, সেরূপ বিষয় নিয়ে ইতিপূর্বে কোনো ব্যক্তিই আসেনি যার সাথে শত্রুতা করা হয়নি। যদি আমি আপনার সেই (আহ্বানের) দিনটি পাই, তবে আমি আপনাকে বলিষ্ঠ সাহায্য করব।" এরপর ওরাকা ইন্তেকাল করেন এবং ওহি (وحي) স্থগিত (فترة) হয়ে যায়।
ওহি (وحي) স্থগিত থাকার এই সময়কাল (فترة الوحي) তিন বছর স্থায়ী ছিল, যার মাধ্যমে নবীর প্রস্তুতি সুদৃঢ় হয়েছিল এবং তাঁর ব্যাকুলতা ও আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর হয়েছিল।
তিনি (সা.) বলেছেন: "আমি যখন হাঁটছিলাম, হঠাৎ আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। আমি আমার দৃষ্টি উপরে তুললাম এবং দেখলাম হেরা গুহায় আমার কাছে আসা সেই ফেরেশতাকেই।"
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁকে দেখে ভীত হয়েছিলেন, তবে তা প্রথম বারের ভয়ের তুলনায় কম ছিল। এরপর তিনি তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে এলেন এবং নিজেকে বস্ত্রে আবৃত করলেন (অর্থাৎ কাপড় দিয়ে শরীর ঢেকে নিলেন)।
অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর তাঁর এই বাণী অবতীর্ণ করলেন— "হে চাদরাবৃত! ওঠুন এবং সতর্ক করুন। আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন। এবং অপবিত্রতা বর্জন করুন।"
অর্থাৎ হে চাদরাবৃত ব্যক্তি, ওঠুন এবং কুরআনের মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করুন, তাদের নিকট আল্লাহর দাওয়াত পৌঁছে দিন, শিরকের কলুষতা থেকে আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন এবং প্রতিমা বর্জন করুন।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثم حمي الوحي بعد ذلك، وتتابع، وبلَّغ صلى الله عليه وسلم دعوة ربه، حيث أمره وأوحى إليه بأن يدعو الناس إلى عباده وحده، وإلى دين الإسلام الذي ارتضاه الله، وختم به الأديان؛ فقام النبي صلى الله عليه وسلم يدعو إلى سبيل ربه بالحكمة، والموعظة الحسنة، والمجادلة بالتي هي أحسن.
فاستجاب له أو من استجاب له خديجة من النساء، وأبو بكر الصديق من الرجال، وعلى بن أبي طالب من الصبيان، ثم توالى دخول الناس في دين الله، فاشتد عليه أذى المشركين، وأخرجوه من مكة، وآذوا أصحابه أشد الأذى، فهاجر إلى المدينة، وتتابع عليه نزول الوحي، واستمر في دعوته، وجهاده، وفتوحاته، حتى عاد إلى مكة ظافرا فاتحا.
وبعد ذلك أكمل الله له الدين وأقر عينه بعز الإسلام وظهور المسلمين، ثم توفاه الله وعمره ثلاث وستون سنة، أربعون منها قبل النبوة، وثلاث وعشرون نبيا رسولا.
وبه ختم الله الرسالات السماوية، وأوجب طاعته على الجن والإنس؛ فمن أطاعه سعد في الدنيا، ودخل الجنة في الآخرة، ومن عصاه شقي في الدنيا، ودخل النار في الآخرة.
এরপর ওহি (وحي) তীব্রতর ও ধারাবাহিক হতে থাকে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রতিপালকের দাওয়াত পৌঁছে দেন, কারণ আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ প্রদান করেন এবং তাঁর প্রতি ওহি (وحي) প্রেরণ করেন যেন তিনি মানুষকে কেবলমাত্র আল্লাহর ইবাদত এবং ইসলাম ধর্মের দিকে আহ্বান করেন—যে ধর্মকে আল্লাহ মনোনীত করেছেন এবং যার মাধ্যমে সকল আসমানি ধর্মের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিকমত (حكمة), উত্তম নসিহত (موعظة) এবং সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্কের মাধ্যমে তাঁর প্রতিপালকের পথে দাওয়াত দিতে শুরু করেন।
অতঃপর নারীদের মধ্যে খাদিজা, পুরুষদের মধ্যে আবু বকর সিদ্দীক এবং বালকদের মধ্যে আলী ইবনে আবি তালিব তাঁর আহবানে সাড়া দেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে মানুষ আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে থাকে, ফলে তাঁর ওপর মুশরিকদের নির্যাতন বৃদ্ধি পায় এবং তারা তাঁকে মক্কা থেকে বের করে দেয়। তারা তাঁর সাহাবীদের ওপরও কঠোর নির্যাতন চালায়। অতঃপর তিনি মদিনায় হিজরত করেন এবং তাঁর ওপর ওহি (وحي) অবতীর্ণ হওয়া অব্যাহত থাকে। তিনি তাঁর দাওয়াত, জিহাদ ও বিজয় অভিযান চালিয়ে যান, যতক্ষণ না তিনি বিজয়ী ও বিজেতা হিসেবে মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন।
এরপর আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেন এবং ইসলামের মর্যাদা ও মুসলিমদের প্রসারের মাধ্যমে তাঁর চক্ষু শীতল করেন। অতঃপর তেষট্টি বছর বয়সে আল্লাহ তাঁকে ওফাত দান করেন; যার মধ্যে চল্লিশ বছর ছিল নবুয়তের পূর্বের এবং তেইশ বছর ছিল নবী ও রাসূল (رسول) হিসেবে।
তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ আসমানি রিসালাতের (رسالة) সমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং জিন ও মানুষের ওপর তাঁর আনুগত্য আবশ্যক করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করবে সে দুনিয়ায় সৌভাগ্যবান হবে এবং পরকালে জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর যে তাঁর অবাধ্য হবে সে দুনিয়ায় হতভাগ্য হবে এবং পরকালে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وبعدما توفاه الله عز وجل تابع أصحابه مسيرته، وبلغوا دعوته، وفتحوا البلدان بالإسلام، ونشروا الدين الحق حتى بلغ ما بلغ الليل والنهار.
ودينه عليه الصلاة والسلام باق إلى يوم القيامة؛ فما القول في أمي نشأ بين أميين، قام بذلك الإصلاح الذي تغير به تاريخ البشر أجمعين، في الشرائع، والسياسات، وسائر أمور الدنيا والدين؟ وامتد مع لغته في قرن واحد من الحجاز إلى آخر حدود أوربا وأفريقيا من الغرب، وإلى حدود الصين من جهة الشرق حتى خضعت له الأمم، ودالت له الدول، وأقبلت إليه الأرواح قبل الأشباح، وكانت تتبعه في كل فتوحه الحضارة والمدنية، والعدل والرحمة، والعلوم العقلية والكونية على أيدي تلك الأمة الحديثة العهد بالأمية، التي زكاها القرآن، وعلمها أن إصلاح الإنسان يتبعه إصلاح الأكوان؛ فهل يمكن أن يكون هذا إلا بوحي من لدن حكيم عليم، وتأييد سماوي من الإله العزيز القدير الرحيم؟
মহান আল্লাহ তাঁর ওফাত দান করার পর তাঁর সাহাবীগণ তাঁর পথ অনুসরণ করেন; তাঁরা তাঁর দাওয়াত পৌঁছে দেন, ইসলামের ছায়াতলে বিভিন্ন ভূখণ্ড জয় করেন এবং সত্য দ্বীনকে এমনভাবে প্রচার করেন যা আজ দিন ও রাতের বিচরণস্থল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
তাঁর (সা.) প্রবর্তিত দ্বীন কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। এমতাবস্থায় সেই নিরক্ষর ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলার আছে যিনি নিরক্ষরদের মাঝে বেড়ে উঠেছেন, অথচ তিনি এমন এক সংস্কার সাধন করেছেন যার মাধ্যমে শরিয়ত, রাজনীতি এবং দুনিয়া ও দ্বীনের অপরাপর সকল ক্ষেত্রে সমগ্র মানবজাতির ইতিহাস পরিবর্তিত হয়ে গেছে? মাত্র এক শতাব্দীর ব্যবধানে হিজাজ থেকে শুরু করে পশ্চিমে ইউরোপ ও আফ্রিকার শেষ সীমানা পর্যন্ত এবং পূর্বে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত তাঁর ভাষা বিস্তৃত হয়েছিল; ফলে বিভিন্ন জাতি তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেছিল, রাষ্ট্রসমূহ তাঁর পদানত হয়েছিল এবং মানুষের দেহের আগে তাদের আত্মা তাঁর প্রতি ধাবিত হয়েছিল। তাঁর প্রতিটি বিজয়ের অনুগামী হয়েছিল সেই উম্মতের হাতের সভ্যতা, সংস্কৃতি, ন্যায়বিচার, করুণা এবং বুদ্ধিভিত্তিক ও মহাজাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, যারা অতি সম্প্রতি নিরক্ষরতার যুগে নিমজ্জিত ছিল। আল-কুরআন তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেছে এবং শিক্ষা দিয়েছে যে, মানুষের সংশোধনই বিশ্বজগতের সংশোধনের পথ প্রশস্ত করে। প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে আসা ঐশীবাণী এবং পরাক্রমশালী, সর্বশক্তিমান ও পরম দয়ালু ইলাহ-র আসমানি সাহায্য ব্যতিরেকে কি এটি সম্ভব ছিল?
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
شهادة فيلسوف نصراني على صدق رسالة النبي صلى الله عليه وسلمكل عاقل منصف لا يسعه إلا التصديق برسالة النبي صلى الله عليه وسلم ذلك أن الأمارات الكثيرة شاهدة ناطقة.
ولا ريب أن شهادة المخالف لها مكانتها؛ فالفضل-كما قيل-ما شهدت به الأعداء.
وفيما يلي شهادة للفيلسوف الإنجليزي الشهير " توماس كارليل " حيث قال في كتابه (الأبطال) كلاما طويلا عن النبي صلى الله عليه وسلم يخاطب به قومه النصارى، ومن ذلك قوله: ((لقد أصبح من أكبر العار على أي فرد متحدث هذا العصر أن يصغي إلى ما يقال من أن دين الإسلام كذب، وأن محمدا خدّاع مزوِّر.
وإن لنا أن نحارب ما يشاع من مثل هذه الأقوال السخيفة المخجلة، فإن الرسالة التي أداها ذلك الرسول مازالت السراج المنير مدة اثني عشر قرنا لنحو مائتي مليون من الناس، أفكان أحدكم يظن أن هذه الرسالة التي عاش بها ومات عليها هذه الملايين الفائقة الحصر والإحصاء أكذوبةٌ وخدعة؟!
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের সত্যতার ওপর একজন খ্রিস্টান দার্শনিকের সাক্ষ্যপ্রত্যেক বুদ্ধিমান ও ইনসাফকারী ব্যক্তির পক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতকে সত্য বলে স্বীকার করা ছাড়া কোনো উপায় নেই; কারণ অগণিত নিদর্শনাবলি এর সপক্ষে সপ্রমাণ সাক্ষ্য দিচ্ছে।
নিঃসন্দেহে বিরুদ্ধবাদীর সাক্ষ্য বিশেষ মর্যাদার অধিকারী; কেননা শ্রেষ্ঠত্ব তো সেটিই—যেমনটি বলা হয়ে থাকে—যার সাক্ষ্য শত্রুরাও প্রদান করে।
নিচে প্রখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক "টমাস কার্লাইল"-এর একটি সাক্ষ্য তুলে ধরা হলো, যেখানে তিনি তাঁর "অন হিরোস" গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে নিজ জাতি খ্রিস্টানদের সম্বোধন করে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের একাংশ হলো: "বর্তমান সময়ের কোনো সচেতন ব্যক্তির জন্য এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, সে এমন কথা কানে নেবে যেখানে বলা হয় যে ইসলাম ধর্ম মিথ্যা (كذب), আর মুহাম্মদ একজন প্রতারক ও জালিয়াত (مزوّر)।
আমাদের উচিত এই ধরনের হাস্যকর ও লজ্জাজনক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা। কেননা সেই রাসূল যে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন, তা বারো শতাব্দী ধরে প্রায় বিশ কোটি মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল প্রদীপ হয়ে আছে। আপনাদের মধ্যে কেউ কি এমনটি ভাবতে পারেন যে, যে বার্তার ওপর ভিত্তি করে এই অগণিত মানুষ জীবন অতিবাহিত করেছে এবং মৃত্যুবরণ করেছে, তা একটি মিথ্যা (أكذوبة) ও প্রতারণা ছিল?"
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أما أنا فلا أستطيع أن أرى هذا الرأي أبدا، ولو أن الكذب، والغش يروجان عند خلق الله هذا الرواج، ويصادفان منهم مثل هذه القبول، فما الناس إلا بُلْهٌ مجانين، فوا أسفا! ما أسوأ هذا الزعم، وما أضعف أهله، وأحقهم بالرثاء والرحمة.
وبعد، فعلى من أراد أن يبلغ منزلة ما في علوم الكائنات أن لا يصدّق شيئا البتة من أقوال أولئك السفهاء؛ فإنها نتائج جيل كفر، وعصر جحود وإلحاد، وهي دليل على خبث القلوب، وفساد الضمائر، وموت الأرواح في حياة الأبدان.
ولعل العالم لم ير قط رأياً أكفر من هذا وألأم، وهل رأيتم قط معشر الإخوان، أن رجلاً كاذباً يستطيع أن يوجد ديناً؟ وينشرها علناً؟
والله إن الرجل الكاذب لا يقدر أن يبني بيتاً من الطوب، فهو إذا لم يكن عليماً بخصائص الجير، والجص، والتراب، وما شاكل ذلك- فما ذلك الذي يبنيه ببيت، وإنما هو تل من الأنفاق، وكثيب من أخلاط المواد، نعم، وليس جديرا أن يبقى على دعائمه اثني عشر قرنا يسكنه مائتا مليون من الأنفس، ولكنه جدير أن تنهار أركانه، فينهدم؛ فكأنه لم يكن))
পক্ষান্তরে আমি কখনোই এই মত পোষণ করতে পারি না; আর যদি আল্লাহর সৃষ্টির নিকট মিথ্যা ও প্রতারণা এভাবে প্রসার লাভ করত এবং তাদের নিকট থেকে এমন গ্রহণযোগ্যতা পেত, তবে মানুষ নির্বোধ পাগল ছাড়া আর কিছুই হতো না। হায় আফসোস! এই দাবিটি কতই না মন্দ, এর প্রবক্তারা কতই না দুর্বল এবং তারা বিলাপ ও করুণার কতই না যোগ্য।
অতঃপর, বিশ্বজগতের জ্ঞানরাজ্যে যে ব্যক্তি কোনো স্তরে পৌঁছাতে চায়, তার উচিত ওই সকল নির্বোধদের কোনো কথাকেই মোটেও বিশ্বাস না করা; কারণ এগুলো হলো এক কুফরি প্রজন্মের ফসল এবং অস্বীকার ও নাস্তিকতার যুগের পরিণাম। এগুলো হৃদয়ের কলুষতা, বিবেকের বিপর্যয় এবং জীবিত দেহের অভ্যন্তরে আত্মার মৃত্যুরই প্রমাণ।
সম্ভবত পৃথিবী এর চেয়ে অধিক কুফরি ও হীন কোনো মতবাদ কখনোই দেখেনি। হে ভ্রাতৃসমাজ! আপনারা কি কখনো দেখেছেন যে, একজন মিথ্যাবাদী (كذاب) ব্যক্তি কোনো দ্বীন প্রবর্তন করতে পারে? এবং তা প্রকাশ্যে প্রচার করতে পারে?
আল্লাহর শপথ! একজন মিথ্যাবাদী (كذاب) লোক ইটের একটি ঘরও নির্মাণ করতে সক্ষম নয়। সে যদি চুন, সুরকি, মাটি এবং অনুরূপ বিষয়াদির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অভিজ্ঞ না হয়—তবে সে যা নির্মাণ করবে তা কোনো ঘর হবে না; বরং তা হবে ছিদ্রযুক্ত একটি স্তূপ এবং বিবিধ উপাদানের বিশৃঙ্খল ঢিবি মাত্র। হ্যাঁ, আর তা বারোটি শতাব্দী ধরে আপন ভিত্তির ওপর টিকে থাকার যোগ্য নয় যেখানে বিশ কোটি মানুষ বসবাস করবে; বরং সেটি এর স্তম্ভগুলো ধসে পড়ে বিলীন হয়ে যাওয়ারই উপযুক্ত; যেন তার কোনো অস্তিত্বই ছিল না।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
إلى أن قال: ((وعلى ذلك فلسنا نعد محمدا هذا قط رجلا كاذبا متصنعا، يتذرع بالحيل، والوسائل إلى بغيته، ويطمح إلى درجة ملك أو سلطان، أو إلى ذلك من الحقائر.
وما الرسالة التي أداها إلا حق صراح، وما كلمته إلا قول صادق، صادر من العالم المجهول.
كلا، ما محمد بالكاذب، ولا المُلفِّق، وإنما هو قطعة من الحياة قد تفطر عنها قلب الطبيعة؛ فإذا هي شهاب قد أضاء العالم أجمع، ذلك أمر الله، و (( {ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ} )) .
وهذه حقيقة تدفع كل باطل، وتدحض حجة القوم الكافرين.
ثم لا ننسى شيئا آخر، وهو أنه لم يتلق دروسا على أستاذ أبدا، وكانت صناعة الخط حديثة العهد إذ ذاك في بلاد العرب-وعجيب وأيم الله أمية العرب- ولم يقتبس محمد من نور أي إنسان آخر، ولم يغترف من مناهل غيره، ولم يكن إلا كجميع أشباهه من الأنبياء والعظماء، أولئك الذين أشبِّههم بالمصابيح الهادية في ظلمات الدهور.
এ পর্যন্ত তিনি বলেন: ((সেই ভিত্তিতে, আমরা কখনোই এই মুহাম্মদকে একজন মিথ্যাবাদী (كاذب) বা কৃত্রিম ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করি না, যিনি নিজের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিভিন্ন ছলচাতুরি ও উপায়ের আশ্রয় নেন এবং কোনো রাজত্ব বা ক্ষমতার উচ্চাসনে আরোহণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন, অথবা এ জাতীয় কোনো তুচ্ছ বিষয়ের প্রত্যাশা করেন।
তিনি যে রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন তা সুস্পষ্ট সত্য বৈ কিছু নয় এবং তাঁর কথা সত্য বাণী (قول صادق) ছাড়া আর কিছুই নয়, যা এক অদৃশ জগত থেকে উৎসারিত।
কখনোই না, মুহাম্মদ কোনো মিথ্যাবাদী (كاذب) নন এবং কোনো জালিয়াতকারী (ملفق) নন; বরং তিনি জীবনের এমন এক অংশ যার জন্য প্রকৃতির হৃদয় বিদীর্ণ হয়েছে। ফলে তিনি এক উজ্জ্বল উল্কাপিণ্ড হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন যা সমগ্র বিশ্বকে আলোকিত করেছে। এটি আল্লাহর নির্দেশ এবং (( {এ আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা এটি দান করেন; আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল} ))।
এটি এমন এক ধ্রুব সত্য যা সকল বাতিলকে প্রতিহত করে এবং কাফির সম্প্রদায়ের যুক্তিকে খণ্ডন করে।
অতঃপর আমরা অন্য একটি বিষয় ভুলে যাই না যে, তিনি কখনও কোনো শিক্ষকের নিকট পাঠ গ্রহণ করেননি। সে সময় আরব ভূখণ্ডে লিখনশৈলী ছিল একেবারেই নতুন—আর আল্লাহর কসম, আরবদের নিরক্ষরতা ছিল এক বিস্ময়কর বিষয়—মুহাম্মদ অন্য কোনো মানুষের আলো থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করেননি এবং অন্য কারো উৎস থেকেও কিছু আহরণ করেননি। তিনি ছিলেন কেবল তাঁর সমপর্যায়ের নবী ও মহাপুরুষদের মতো, যাঁদেরকে আমি মহাকালের অন্ধকারে পথপ্রদর্শক প্রদীপের সাথে তুলনা করি।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقد رأيناه طول حياته راسخ المبدإ، صادق العزم بعيدا، كريما، برا، رؤوفا، تقيا، فاضلا، حرا، رجلا، شديد الجد، مخلصا، وهو مع ذلك سهل الجانب، ليِّن العريكة، جم البشر والطلاقة، حميد العشرة، حلو الإيناس، بل ربما مازح وداعب، وكان على العموم تضيء وجهه ابتسامةٌ مشرقة من فؤاد صادق؛ لأن من الناس من تكون ابتسامته كاذبة ككذب أعماله وأقواله))
إلى أن قال: ((كان عادلا، صادق النية، كان ذكي اللب، شهم الفؤاد، لوذعيا كأنما بين جنبيه مصابيح كل ليلٍ بهيم، ممتلئا نورا، رجلا عظيما بفطرته، لم تثقفه مدرسة، ولا هذبه معلم، وهو غني عن ذلك.
ويزعم المتعصبون من النصارى، والملحدين أن محمدا لم يكن يريد بقيامه إلا الشهرة الشخصية، ومفاخر الجاه والسلطان.
আমরা তাঁকে তাঁর সমগ্র জীবনব্যাপী অটল আদর্শবান, সুদূরপ্রসারী সুদৃঢ় সংকল্পবদ্ধ (صادق العزم), মহানুভব, পুণ্যবান, দয়ালু, আল্লাহভীরু (تقي), গুণী, স্বাধীনচেতা, পৌরুষদীপ্ত, অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং একনিষ্ঠ (مخلص) হিসেবে দেখেছি। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন অমায়িক, কোমল স্বভাবের, অত্যন্ত প্রফুল্ল ও প্রদীপ্ত চেহারার অধিকারী, চমৎকার সচ্চরিত্রবান এবং মনোমুগ্ধকর সঙ্গী; এমনকি কখনো কখনো তিনি কৌতুক ও রসিকতাও করতেন। সাধারণভাবে তাঁর চেহারায় সর্বদা একটি উজ্জ্বল হাসি শোভা পেত যা এক সত্যবাদী (صادق) অন্তর থেকে উৎসারিত হতো; কেননা কিছু মানুষ এমনও আছে যাদের হাসি তাদের কর্ম ও বাণীর মতোই মিথ্যা হয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন: “তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ (عادل), তাঁর নিয়ত ছিল সত্যনিষ্ঠ (صادق)। তিনি ছিলেন প্রখর প্রজ্ঞার অধিকারী, তেজস্বী হৃদয়ের মানুষ এবং এমন এক প্রদীপ্ত মেধাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব যেন তাঁর পাঁজরের মাঝে ঘুটঘুটে অন্ধকার রজনীর আলোকবর্তিকা প্রজ্জ্বলিত ছিল, যা নূরে পরিপূর্ণ। তিনি তাঁর স্বভাবজাত গুণেই এক মহান ব্যক্তি ছিলেন; কোনো প্রথাগত বিদ্যালয় তাঁকে শিক্ষিত করেনি এবং কোনো শিক্ষক তাঁকে শিষ্টাচার শেখাননি, বরং তিনি এসবের মুখাপেক্ষী ছিলেন না।
খ্রিস্টানদের মধ্যকার গোঁড়া ধর্মান্ধরা এবং নাস্তিকরা দাবি করে যে, মুহাম্মদ তাঁর এই দাওয়াতের মাধ্যমে কেবল ব্যক্তিগত খ্যাতি এবং পদমর্যাদা ও রাজকীয় ক্ষমতার গৌরব কামনা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
কিসসাতুল বাশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
كلا -وأيم الله- لقد كان في فؤاد ذلك الرجل ابن القفار والفلوات، المتوقد المقلتين، العظيم النفس، المملوء رحمة وخيرا وحكمة، وحِجى-أفكار غير الطمع الدنيوي، ونوايا خلاف طلب السلطة والجاه، وكيف لا، وتلك نفس صامتهٌ كبيرة، ورجل من الذين لا يمكنهم إلا أن يكون مخلصين جادين؛ فبينما ترى آخرين يرضون الاصطلاحات الكاذبة، ويسيرون طبق الاعتبارات الباطلة إذ ترى محمدا لم يرض أن يتلفع بمألوف الأكاذيب، ويتوشح بمبتدع الأباطيل.
لقد كان منفردا بنفسه العظيمة، وبحقائق الأمور والكائنات، لقد كان سر الوجود يسطع لعينيه-كما قلت- بأهواله، ومخاوفه، وروانقه، ومباهره، ولم يكن هناك من الأباطيل ما يحجب ذلك عنه، فكان لسان حال ذلك السر الهائل يناجيه: ها أنا ذا، فمثل هذا الإخلاص لا يخلو من معنى إلهي مقدس، وما كلمة مثل هذا الرجل إلا صوت خارج من صميم قلب الطبيعة، فإذا تكلم فكل الآذان برغمها صاغية، وكل القلوب واعية، وكل كلام ماعدا ذلك هباء، وكل قول جفاء))
إلى أن قال: ((إذا فلنضرب صفحا عن مذهب الجائرين أن محمدا كاذب، ونعد موافقتهم عارا، وسبة، وسخافة، وحمقا؛ فلنربأ بأنفسنا عنه))
না—আল্লাহর কসম—সেই মরুচারী ও প্রান্তরবাসী, প্রোজ্জ্বল নেত্রদ্বয় এবং মহৎ প্রাণের অধিকারী মানুষটির হৃদয়ে—যিনি রহমত, কল্যাণ, হিকমত ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ ছিলেন—পার্থিব লোভ-লালসা ভিন্ন অন্য চিন্তার উদয় হয়েছিল এবং তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা ও পতিপত্তি লাভের আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। আর কেনই বা হবে না? কারণ সেটি ছিল এক নিভৃতচারী মহান আত্মা। তিনি ছিলেন সেই শ্রেণির ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত, যাদের পক্ষে একনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ হওয়া ছাড়া অন্য কিছু হওয়া সম্ভব নয়। যখন আপনি অন্যদের মিথ্যা পরিভাষা গ্রহণ করতে এবং ভ্রান্ত মানদণ্ডের অনুসারী হতে দেখেন, তখন আপনি দেখতে পাবেন যে মুহাম্মদ (সা.) প্রচলিত মিথ্যাচারে নিজেকে আবৃত করতে কিংবা উদ্ভাবিত অসারতায় নিজেকে সুসজ্জিত করতে রাজি হননি।
তিনি তাঁর মহান সত্তা এবং বিশ্বচরাচরের নিগুঢ় সত্য নিয়ে নিভৃতচারী ছিলেন। যেমনটি আমি বলেছি, অস্তিত্বের গূঢ় রহস্য এর সমস্ত ভয়াবহতা, ভীতি, রূপ ও লাবণ্য নিয়ে তাঁর চোখের সামনে উদ্ভাসিত হয়েছিল। কোনো অসারতা বা বাতিল সেখানে এমন ছিল না যা সেই সত্যকে তাঁর দৃষ্টি থেকে আড়াল করতে পারে। সেই বিশাল রহস্যের অব্যক্ত ভাষা যেন তাঁর সাথে সংলাপে রত ছিল: "এই তো আমি!" মূলত এই পর্যায়ের একনিষ্ঠতা কোনো পবিত্র ঐশ্বরিক তাৎপর্য থেকে মুক্ত নয়। এই মহান ব্যক্তির বাণী প্রকৃতির গভীরতম মূল থেকে উৎসারিত একটি আওয়ায ছাড়া আর কিছু নয়। যখন তিনি কথা বলেন, তখন সকল কর্ণ অনিচ্ছাসত্ত্বেও তা শ্রবণে উন্মুখ হয় এবং সকল অন্তর তা ধারণ করে। এছাড়া বাকি সব কথাই ধূলিকণাসম অসার এবং সকল উক্তিই নিরর্থক।
অতঃপর তিনি বলেন: "সুতরাং, মুহাম্মদ একজন মিথ্যাবাদী (كاذب)—অবিচারীদের এই ভ্রান্ত মতবাদটি আমাদের বর্জন করা উচিত। তাদের সাথে একমত হওয়াকে আমাদের কলঙ্ক, অপমান, মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতা বলে গণ্য করা উচিত। আমাদের নিজেদেরকে এসব হীনতা থেকে ঊর্ধ্বে রাখা আবশ্যক।"