(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: -)
فقه تغيير المنكر القسم: كتب عامة
الكتاب: فقه تغيير المنكر
المؤلف: د. محمود توفيق محمد سعد [ت 1446 هـ]
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي): 96
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 167
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
অসৎকর্ম (منكر) পরিবর্তনের ফিকহ বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: অসৎকর্ম (منكر) পরিবর্তনের ফিকহ
লেখক: ড. মাহমুদ তাওফিক মুহাম্মদ সাদ [মৃ. ১৪৪৬ হি.]
প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের আওকাফ (ধর্ম বিষয়ক) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই): ৯৬
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরকৃত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৭
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১)
فقه تغيير المنكر
د / محمود توفيق محمد سعد
تقديم بقلم: عمر عبيد حسنة
الحمد لله القائل: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} .. (آل عمران: 110) ، الذي جعل خيرية هذه الأمة وتميزها، وقوامها، وكيانها، وخلودها، واستمراريتها، منوطا بقيامها بالحق، والدعوة إليه، والنشر له، والإغراء به، واستمرار حراسته، والدفاع عنه، حيث لم يرض الله لها ـ وهي أمة الرسالة الخاتمة ـ أن تكون صالحة بذاتها، بل لا بد أن تكون صالحة بذاتها، مصلحة لغيرها، مضحية في سبيل تمكين الحق، مدافعة للباطل، حتى تستحق صفة الخيرية، والتميز، والفضل.
قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} (المائدة: 8) .
মন্দ (منكر) পরিবর্তনের ফিকহ
ড. মাহমুদ তাওফিক মুহাম্মদ সাদ
উপস্থাপনা লিখেছেন: উমর উবাইদ হাসানা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বলেন: {তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং মন্দ (منكر) কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করো} .. (আল ইমরান: ১১০), যিনি এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব, অনন্যতা, ভিত্তি, অস্তিত্ব, অমরত্ব এবং নিরবচ্ছিন্নতাকে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা, সত্যের দিকে দাওয়াত দেওয়া, তা প্রচার করা, সত্যের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করা এবং সর্বদা তার সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষার সাথে যুক্ত করেছেন; যেহেতু আল্লাহ এই উম্মতের জন্য—যা সর্বশেষ বার্তার উম্মত—কেবল নিজেরা নেককার হওয়া পছন্দ করেননি, বরং আবশ্যক করেছেন যেন তারা নিজেরা নেককার হওয়ার পাশাপাশি অন্যের সংশোধনকারী হয়, সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে আত্মত্যাগী হয় এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়াই করে, যাতে তারা শ্রেষ্ঠত্ব, স্বাতন্ত্র্য এবং মর্যাদার গুণের অধিকারী হতে পারে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাক্ষ্যদানে অবিচল থাকো এবং কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদের ইনসাফ না করার ব্যাপারে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটিই তাকওয়ার নিকটতর} (আল মায়িদাহ: ৮)।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২)
ذلك أن الخاتمية تعني فيما تعني: توقف النبوات: وتوقف النبوة، يعني: توقف التصويب من السماء، لأي منكر وخروج وانحراف ـ لذلك لا بد من أن تكون القوامة على الحق ويكون التصويب مستمرا، لأن الشر من لوازم الخير، والمنكر من لوازم المعروف، والتدافع بين الخير والشر، والمعروف والمنكر، من سنن الله الاجتماعية في الخلق، قال تعالى: {كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْحَقَّ وَالْبَاطِلَ فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً وَأَمَّا مَا يَنْفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ} (الرعد: 17) . وقال: {وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا} .. (الحج: 40) .
এর কারণ হলো নবুওয়াতের পরিসমাপ্তি অন্যান্য বিষয়ের সাথে যা বোঝায় তা হলো: নবুওয়াতের ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়ে যাওয়া; আর নবুওয়াত বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো: যেকোনো বর্জনীয় (منكر), বিদ্রোহ ও বিচ্যুতির ক্ষেত্রে আসমান থেকে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা আসা বন্ধ হওয়া। এ কারণেই হকের ওপর অভিভাবকত্ব থাকা এবং সংশোধন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকা অপরিহার্য, কেননা মন্দ যেমন ভালোর অনুষঙ্গ, তেমনি বর্জনীয় (منكر) কর্মও সৎকাজের অনুষঙ্গ। আর ভালো ও মন্দের মধ্যে এবং সৎ ও বর্জনীয় (منكر) কাজের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টিজগতে আল্লাহর সামাজিক বিধানসমূহের অন্যতম। মহান আল্লাহ বলেন: {এভাবেই আল্লাহ সত্য ও মিথ্যার দৃষ্টান্ত প্রদান করেন; যা ফেনা তা তো নিঃশেষ হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিনে স্থায়ী হয়} (সূরা আর-রাদ: ১৭)। তিনি আরও বলেন: {আল্লাহ যদি মানবজাতির একদলকে অন্যদলের মাধ্যমে প্রতিহত না করতেন, তবে বিধ্বস্ত হতো খ্রিষ্টান সন্ন্যাসীদের মঠ, গির্জা, উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ, যেখানে আল্লাহর নাম অধিক পরিমাণে স্মরণ করা হয়} (সূরা আল-হাজ: ৪০)।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৩)
ولولا هذا الضرب، بين الحق والباطل، وهذا التدافع، بين الخير والشر، لتوقف التاريخ، وانتهت الحياة، وتوقف الاختيار، ولم يبق أي معنى للتكليف وأي مدلول للابتلاء، لذلك جعل الله التصويب في الرسالة الخاتمة، وفي أمة الرسالة الخاتمة ذاتياً، يمارس في ضوء قيم وهدايات وثوابت الوحي، وجعله تكليفاً شرعياً، يتحدد بمقدار الاستطاعة، وسبيلاً لاستمرار الأمة، ومناط خيريتها، وتميزها، كما أسلفنا.
ذلك أنه لا معنى لخلود الرسالة، الذي يعني استمرار الحق، واستمرار حراسته، والقيام به، وتقديم النماذج التي تجسدها في كل زمان ومكان، إِذا لم يستمر التصويب ويستمر التجديد وإنتاج النماذج وتستمر الأمة القائمة به.
সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব এবং কল্যাণ ও অকল্যাণের এই পারস্পরিক সংঘাত যদি না থাকত, তবে ইতিহাসের গতি রুদ্ধ হয়ে যেত, জীবনের অবসান ঘটত এবং কর্ম নির্বাচনের স্বাধীনতা স্তব্ধ হয়ে পড়ত। ফলে শরয়ি বিধান পালনের দায়বদ্ধতা কিংবা পরীক্ষার কোনো তাৎপর্যই অবশিষ্ট থাকত না। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা সর্বশেষ রিসালাত এবং এই রিসালাত বহনকারী উম্মাহর মধ্যে একটি স্বয়ংক্রিয় সংশোধন প্রক্রিয়া নিহিত রেখেছেন, যা ওহীর মূল্যবোধ, হিদায়াত এবং শাশ্বত মূলনীতিসমূহের আলোকে পরিচালিত হয়। তিনি একে একটি শরয়ি দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যা সামর্থ্যের নিরিখে আবর্তিত হয়। আমরা ইতিপূর্বে যেমনটি আলোচনা করেছি, এটিই উম্মাহর স্থায়িত্বের পথ এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব ও অনন্যতার মূল ভিত্তি।
বস্তুত রিসালাতের শাশ্বত হওয়ার কোনো সার্থকতা থাকে না—যার দাবি হলো সত্যের ধারা অব্যাহত রাখা, তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তার ওপর অটল থাকা এবং প্রতি যুগে ও স্থানে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটানো—যদি নিরন্তর সংশোধন ও সংস্কারের ধারা অব্যাহত না থাকে, যোগ্য আদর্শের সৃষ্টি না হয় এবং এই দায়িত্ব আঞ্জামদানকারী উম্মাহর অস্তিত্ব বজায় না থাকে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৪)
والصلاة والسلام علي الذي بُعث في الأمة رسولاً منها، يتلو عليها، آيات الله، ويزكيها، ويعلمها الكتاب والحكمة، ويضع عنها إِصرها والأغلال التي كانت عليها، يشهد عليها، ويصوب مسارها لتتحقق لها صفة الخيرية، وتتأهل بشهادة الرسول صلى الله عليه وسلم عليها، لتكون شهيدة على الناس إلى قيام الساعة، فهي أمة القيادة بما أورثها الله من الكتاب، واصطفاها له، لأنها وحدها التي تمتلك الإمكان الحضاري، إمكان التصويب، بما اختصت من قيم السماء الصحيحة، وتمتلك الشهادة على الناس، ولهم، بما تحقق لها من شهادة الرسول صلى الله عليه وسلم، قال تعالى: {وَفِي هَذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ}
… (الحج: 78) .
وبعد:
দরুদ ও সালাম সেই মহান সত্তার প্রতি যাকে এই উম্মতের মধ্য থেকেই একজন রসূল হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে, যিনি তাদের নিকট আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন। আর তিনি তাদের ওপর চেপে থাকা গুরুভার ও শৃঙ্খলসমূহ অপসারিত করেন। তিনি তাদের ওপর সাক্ষ্য প্রদান করেন এবং তাদের গতিপথ সংশোধন করেন যাতে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয় এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষ্যের মাধ্যমে তারা কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির ওপর সাক্ষী হওয়ার যোগ্যতা লাভ করে। মূলত এটি এক নেতৃত্বের উম্মত, যেহেতু আল্লাহ তাদের কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছেন এবং নিজের জন্য মনোনীত করেছেন। কেননা কেবল এই উম্মতই সেই তামাদ্দুনিক সক্ষমতা এবং সংশোধনের যোগ্যতা রাখে যা আসমানি সঠিক (صحيح) মূল্যবোধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। আর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষ্য লাভের মাধ্যমে তারা মানুষের ওপর এবং মানুষের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার অধিকার লাভ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: “যাতে রসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন এবং তোমরা মানবজাতির ওপর সাক্ষী হতে পারো।”
… (আল-হজ: ৭৮) ।
অতঃপর:
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৫)
فهذا كتاب الأمة الحادي والأربعون: ((فقه تغيير المنكر)) للدكتور محمود توفيق محمد سعد، الأستاذ في جامعة الأزهر، في سلسلة كتاب الأمة، التي يصدرها مركز البحوث والدراسات، بوزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية بدولة قطر، مساهمة منه في استرداد شخصية المسلم المعاصر المتوازن الذي يعيش التوحيد الحقيقي والانسجام العملي، بين معارف وهدايات الوحي المعصوم في الكتاب والسنة، ومدارك ومكتسبات العقل، أو بين صحيح المنقول، وصريح المعقول، كما يقول الإمام ابن تيمية رحمه الله ويتخلص من الثنائية وألوان الشرك الذي يؤدي إلى الانشطار الثقافي والمعرفي، الذي كان ولا يزال وراء التمزق والضلال الثقافي، للوصول إلى إعادة إخراج الأمة المسلمة، وتحقيق شهادة الرسول صلى الله عليه وسلم عليها، وبناء خيريتها، لتكون مؤهلة للشهادة على الناس والقيادة لهم، هذه الخيرية التي تجيء ثمرة لتكليف، ومجاهدة، ومعاناة، وتضحيات في سبيل التصويب والمناصحة، التي تحققها حسبة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، لتقويم سلوك المجتمع المسلم بشرع الله، وحمل الرحمة للإنسانية جمعاء، وإيقاف تسلط الإنسان على الإنسان الذي هو مصدر الشر
এটি ‘কিতাবুল উম্মাহ’ সিরিজের একচল্লিশতম গ্রন্থ: ‘ফেকহু তাগয়ীরিল মুনকার’ (মন্দ নিরসনের ফিকহ)। গ্রন্থটি রচনা করেছেন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর মাহমুদ তাওফীক মুহাম্মাদ সাদ। কাতার রাষ্ট্রের আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্র এটি প্রকাশ করেছে। সমকালীন ভারসাম্যপূর্ণ মুসলিম ব্যক্তিত্ব পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় এটি লেখকের একটি বিশেষ অবদান; এমন এক ব্যক্তিত্ব যে কিতাব ও সুন্নাহর অভ্রান্ত ওহির জ্ঞান ও হিদায়াত এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অর্জনের মাঝে, অথবা ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ভাষায়— সহিহ (صحيح) বর্ণিত বিষয় এবং স্পষ্ট যৌক্তিক বিষয়ের মধ্যে প্রকৃত তাওহিদ ও ব্যবহারিক সংহতি নিয়ে জীবন অতিবাহিত করে। এর মাধ্যমে সে এমন দ্বিমুখী নীতি ও শিরকের নানাবিধ রূপ থেকে মুক্তি পায় যা সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক বিভাজনের জন্ম দেয়; যা সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা ও পথভ্রষ্টতার পশ্চাতে অতীতেও ছিল এবং বর্তমানেও বিদ্যমান। এর লক্ষ্য হলো মুসলিম উম্মাহকে পুনরায় শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে পুনর্গঠিত করা, তাদের ওপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়টি বাস্তবায়ন করা এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বিনির্মাণ করা, যেন তারা মানবজাতির ওপর সাক্ষ্য প্রদান ও তাদের নেতৃত্বের যোগ্য হতে পারে। এই শ্রেষ্ঠত্ব মূলত অর্পিত দায়িত্ব পালন, মুজাহাদা, ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং সংশোধন ও নসিহতের পথে আত্মত্যাগের ফসল; যা ‘সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ’-এর (হিসবাহ) মাধ্যমে অর্জিত হয়। এর উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর শরিয়তের আলোকে মুসলিম সমাজের আচরণ সংশোধন করা, সমগ্র মানবতার জন্য রহমত বয়ে আনা এবং মানুষের ওপর মানুষের আধিপত্যের অবসান ঘটানো, যা মূলত সকল মন্দের উৎস।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৬)
والشرك في العالم، وتأمين حرية الإنسان في الاختيار، وتحقيق عبوديته لله، وتحريره من سائر العبوديات، وفي ذلك استرداد لإنسانيته، وتحقيق لكرامته، التي تميزه عن سائر المخلوقات.
এবং বিশ্বে শিরক, মানুষের নির্বাচনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আল্লাহর প্রতি তাঁর দাসত্ব সুনিশ্চিত করা এবং তাঁকে অন্য সকল প্রকার দাসত্ব থেকে মুক্ত করা; আর এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে তাঁর মনুষ্যত্বের পুনরুদ্ধার এবং তাঁর সেই মর্যাদা অর্জন, যা তাঁকে সৃষ্টিজগতের অন্যান্য সকল কিছু থেকে স্বতন্ত্র করে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৭)
الفصل الأول
التغيير ضرورة وغايةًبيان السنة ضرورة التغيير
إن منهج الإسلام في بناء المسلم عقيدةً وسلوكا لا يرمي إلى أن يجعله صالحاً في نفسه فحسب، بل يتجاوز ذلك إلى أن يجعله الصالح المصلح، فيه يتحقق الوجود المتمكن للأمة المسلمة، وبه ترتقي الأمة من طور الاتصاف (بالإسلامية) انتساباً إلى أفق (المسلمة) سلوكا ووجودا.
المسلم الصالح في نفسه فحسب، به تكون الأمةُ الإسلامية، ولا تقوم به الأمة المسلمة، فإنَّ المسلمة أمة صالحة في نفسها مصلحة ما حولها. ومن ثمَّ كانت دعوة الإٍسلام رامية دائماً إلى الصلاح والإصلاح معاً، ولن يكون إصلاح البتة إلا بتحقق الصلاح الذاتي وتمكنه.
يقول الله تعالى: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} (التوبة: 71) .
{وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا} (طه: 132) .
প্রথম অধ্যায়
পরিবর্তন: প্রয়োজনীয়তা ও লক্ষ্যপরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে সুন্নাহর বর্ণনা
আকিদা ও আচরণের ক্ষেত্রে একজন মুসলিমকে গড়ে তোলার ইসলামি পদ্ধতি কেবল তাকে নিজের সত্তায় যোগ্য (صالح) হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে না, বরং এর গণ্ডি পেরিয়ে তাকে একজন যোগ্য সংস্কারক হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এর মাধ্যমেই মুসলিম উম্মাহর সুদৃঢ় অস্তিত্ব বাস্তবায়িত হয় এবং এর মাধ্যমেই উম্মাহ কেবল পরিচয়ের সূত্রে 'ইসলামি' হওয়ার স্তর থেকে আচরণ ও অস্তিত্বের দিক থেকে 'মুসলিম' হওয়ার দিগন্তে উন্নীত হয়।
যে মুসলিম কেবল নিজের সত্তায় যোগ্য (صالح), তাকে দিয়ে ইসলামি উম্মাহ গঠিত হতে পারে, কিন্তু তার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ প্রতিষ্ঠিত হয় না। কেননা মুসলিম উম্মাহ হলো এমন এক জাতি যারা নিজেরা যোগ্য (صالح) এবং তাদের চারপাশকেও সংস্কার করে। ফলে ইসলামের দাওয়াত সর্বদা ব্যক্তিগত সংশোধন ও সংস্কার—উভয়টিরই লক্ষ্যস্থির করেছে; আর ব্যক্তিগত যোগ্যতা অর্জন ও তা সুদৃঢ় হওয়া ব্যতীত কোনোভাবেই সংস্কার সম্ভব নয়।
মহান আল্লাহ বলেন: {আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং মন্দ (منكر) কাজ থেকে নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে; আল্লাহ শীঘ্রই তাদের প্রতি দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} (আত-তাওবা: ৭১) ।
{আর আপনার পরিবারকে সালাতের আদেশ দিন এবং তার ওপর অবিচল থাকুন।} (ত্বহা: ১৩২) ।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৮)
{وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ} {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ} (الحج:40ـ 41) .
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا} (التحريم: 6)
في تلك الآيات وغيرها يمتزج الصالح بالمصلح ليشكل كنه المسلم الذي به تقوم الأمة المسلمة، التي لا تستقيم حركة الحياة بغير قيادتها وريادتها.
وفي السنة أحاديث كثيرة، يمتزج فيها الصلاح بالإصلاح:
{আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে সাহায্য করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাশক্তিশালী, পরাক্রমশালী।} {তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে প্রতিষ্ঠিত করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ দিবে ও অসৎ কাজ (المنكر) থেকে নিষেধ করবে; আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহরই ইখতিয়ারে।} (আল-হাজ্জ: ৪০-৪১) ।
{হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।} (আত-তাহরিম: ৬)
এই আয়াতগুলো এবং অন্যান্য আয়াতে ব্যক্তিগত সদাচার ও সমাজ সংস্কারের গুণাবলি একীভূত হয়ে একজন মুসলিমের এমন এক মৌলিক সত্তা গঠন করে যার মাধ্যমে সেই মুসলিম উম্মাহ গড়ে ওঠে, যাদের নেতৃত্ব ও অগ্রযাত্রা ব্যতীত জীবনপ্রবাহের গতিধারা সুশৃঙ্খল হতে পারে না।
এবং সুন্নাহর মধ্যে এমন অনেক হাদিস রয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত নেক আমল এবং সামাজিক সংস্কারের সমন্বয় ঘটেছে:
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৯)
عن درة بنت أبي لهب، قالت: «قام رجُلٌ إلى النبيَّ صلى الله عليه وسلم وهو على المنبر فقال: يا رسول الله! أيَّ الإسلام خير؟ فقال صلى الله عليه وسلم: خير الناس أقرؤهم وأتقاهم وآمرهم بالمعروف وأنهاهم عن المنكر وأوصلهم للرحم» . امتزج الصلاح الذَّاتي (أقرؤهم وأتقاهم) بالإصلاح الجمعي (آمرهم بالمعروف وأنهاهم عن المنكر، وأوصلهم للرحم) ، فليس (الإقراء) حسن التلاوة والحفظ فحسب، بل هو إلى ذلك أيضا: حسن فقه ما يقرأ، وحسن تطبيقه وطاعة ما به أمر وعنه نهي.
فالأمة المسلمة لا يكون المرء فيها صالحاً في نفسه، منصرفا عن غيره، مشتغلا بحاله، بل هو صالح في نفسه، ومصلح لما حوله ثانيا: إنسانا وكونا.
والحق عز وجل جعل هذه الأمة خير أمة أخرجت للناس بصلاحها وإصلاحها معاً: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} (آل عمران: 110) .
দুররাহ বিনতে আবি লাহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট দাঁড়ালেন যখন তিনি মিম্বরে ছিলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! ইসলামের কোন বিষয়টি সর্বোত্তম? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে তাদের মধ্যে কুরআন পাঠে অধিক পারদর্শী (أقرؤهم), অধিক তাকওয়াবান (أتقاهم), সৎ কাজের আদেশ দানকারী (آمرهم بالمعروف), অসৎ কাজ থেকে নিষেধকারী (أنهاهم عن المنكر) এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক অধিক বজায় রক্ষাকারী (أوصلهم للرحم)।" এখানে ব্যক্তিগত পুণ্য (الصلاح الذاتي) — (কুরআন পাঠে পারদর্শিতা ও তাকওয়া) — এবং সামষ্টিক সংশোধন (الإصلاح الجمعي) — (সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা) — এর সংমিশ্রণ ঘটেছে। সুতরাং কুরআন পাঠ বা শিক্ষা (الإقراء) কেবল সুন্দর তিলাওয়াত ও মুখস্থ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সাথে যা পাঠ করা হয় তার সঠিক বুঝ বা প্রজ্ঞা (فقه) অর্জন করা এবং তার যথাযথ প্রয়োগ ও যা আদেশ করা হয়েছে তার আনুগত্য এবং যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা বর্জন করার নামও এটি।
কেননা মুসলিম উম্মাহর কোনো ব্যক্তি কেবল নিজের সত্তায় পুণ্যবান (صالح) হবে, অন্যের থেকে বিমুখ থাকবে এবং কেবল নিজের অবস্থা নিয়ে মগ্ন থাকবে — বিষয়টি এমন নয়; বরং সে যেমন নিজে পুণ্যবান (صالح), তেমনি সে তার চারপাশের মানুষ ও জগতের জন্য দ্বিতীয়ত একজন সংশোধনকারীও (مصلح)।
আর মহান সত্য আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন তাদের ব্যক্তিগত পুণ্য (صلاح) এবং সামষ্টিক সংশোধন (إصلاح) — উভয়েরই কারণে: "তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভূত করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো।" (আল-ইমরান: ১১০)।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১০)
فهي أمة أخرجت للناس، أي لما فيه صالحهم، وقد جعل قوله: {تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ}
… إلخ شرط هذه الخيرية، وبيان كونها أخرجت للناس ولمصلحتهم. وقد فقه الصحابة رضي الله عنهم ذلك فقها بالغاً، فتحققت بهم فقها وسلوكاً الأمة المسلمة، كما يحبها الله تعالى: عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: لو شاء الله لقال (أنتم خير أمة) فكنا كلنا ولكن قال (كنتم) فهي خاصة لأصحاب محمد صلى الله عليه وسلم ومن صنع صنيعهم، قوله (من صنع صنيعهم) : بيان أن من تحقق فيه كما تحقق في أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم من الصلاح والإصلاح في القرون التالية إلى يوم القيامة، فهو منهم.
وقد فسرها أبو هريرة أيضا تفسيرا كاشفا عن حقيقة هذه السِّمة الرافعة للأمة من طور (الإسلامية) ، إلى أفق (المسلمة) :
روى البخاري عن أبي هريرة رضي الله عنه: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} قال: خير الناس للناس: تأتون بهم في السلاسل في أعناقهم، حتى يدخلوا في الإسلام.
এটি এমন এক উম্মত যা মানুষের কল্যাণের জন্য আবির্ভূত হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা সৎ কাজের আদেশ দেবে}
… ইত্যাদিকে এই শ্রেষ্ঠত্বের শর্ত এবং মানবজাতির মঙ্গলের নিমিত্তে এই উম্মতকে আবির্ভূত করার প্রেক্ষাপট হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এ বিষয়টি অত্যন্ত গভীর প্রজ্ঞার সাথে অনুধাবন করেছিলেন। ফলে তাঁদের জ্ঞান ও আচরণের মাধ্যমে সেই মুসলিম উম্মত বাস্তবে রূপ লাভ করেছিল, যেমনটি আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যদি আল্লাহ চাইতেন তবে বলতেন (তোমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত), তবে আমরা সকলেই এর অন্তর্ভুক্ত হতাম; কিন্তু তিনি বলেছেন (তোমরা হয়েছ), তাই এটি মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবী এবং যারা তাঁদের ন্যায় আমল করবে তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট (خاصة)।" তাঁর উক্তি (যারা তাঁদের ন্যায় আমল করবে): এটি এই বিষয়ের বর্ণনা যে, পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে কিয়ামত পর্যন্ত যার মধ্যে নবী (সা.)-এর সাহাবীদের মতো সততা ও সংস্কারের গুণাবলি প্রতিফলিত হবে, সে তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত।
আবু হুরায়রা (রা.)-ও এই বৈশিষ্ট্যের স্বরূপ উন্মোচন করে এমন এক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন যা উম্মতকে কেবল 'ইসলামী' পর্যায় থেকে প্রকৃত 'মুসলিম' উম্মতের দিগন্তে উন্নীত করে:
বুখারি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন: {তোমরা হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে}। তিনি বলেন: "তোমরা মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ মানুষ; তোমরা তাদের গলায় শিকল পরিয়ে নিয়ে আসো, যতক্ষণ না তারা ইসলামে প্রবেশ করে।"
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১১)
ليس في هذا دعوة إلى إكراه الناس على الإسلام، وقسرهم عليه، فإن سيدنا أبا هريرة أفقه وأحكم من أن يفسرها تفسيراً يصطدم مع قول الله تعالى:
{لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ} (البقرة: 256) .
ولكنه فسرها تفسير أهل الحكمة والبلاغة العالية: إنه يريد، إنكم تكونون خير الناس للناس، إذا ما دعوتموهم إلى الإسلام بالحكمة والقدوة والأسوة والسلوك الملتزم هدي الله تعالى في كل حال، وبالحلم والأناة والصبر والمصابرة فتأسرونهم وتأخذون بمجامع قلوبهم وعقولهم فقهاً وسلوكاً، فينقادون لكم وللدخول في الإسلام إعجاباً واقتناعاً، كانقياد الأسير المغلول في السلاسل، فهو أسر دعوة وقدوة وأسوة، لا أسر أغلال وأصفاد، فسيدنا أبو هريرة عليم بأن قسر امرئ على عقيدة ما، لا يكون خيراً له، ولو أنه أراد ظاهر عبارته لكان صدرها متناقضاً مع عجزها، كما لا يخفى، وأبو هريرة، أحكم من أن يختلط عليه ما يقول.
এর মধ্যে মানুষকে ইসলামের প্রতি জবরদস্তি কিংবা বাধ্য করার কোনো আহ্বান নেই। কারণ আমাদের নেতা আবু হুরায়রা (রা.) এর এমন কোনো ব্যাখ্যা প্রদানের চেয়ে অনেক বেশি বিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান ছিলেন যা মহান আল্লাহর এই বাণীর সাথে সাংঘর্ষিক হয়:
{দ্বীনের পথে কোনো জবরদস্তি নেই; সত্য পথ ভ্রান্ত পথ হতে সুস্পষ্ট হয়েছে।} (আল-বাকারা: ২৫৬) ।
বরং তিনি এর ব্যাখ্যা করেছেন প্রজ্ঞা ও উচ্চমার্গের অলঙ্কারশাস্ত্রের অধিকারীদের ন্যায়: তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, তোমরা মানুষের জন্য সর্বোত্তম মানুষ হবে তখন, যখন তোমরা তাদের ইসলামের দিকে আহ্বান করবে হিকমত, উত্তম আদর্শ এবং সকল অবস্থায় মহান আল্লাহর হিদায়াত মেনে চলার ন্যায়নিষ্ঠ আচরণের মাধ্যমে। আর সহনশীলতা, ধৈর্য ও অবিচলতার মাধ্যমে তোমরা তাদের জয় করবে এবং তাদের অন্তর ও মনকে সঠিক উপলব্ধি ও আচরণের দ্বারা বশীভূত করে নেবে। ফলে তারা মুগ্ধতা ও বিশ্বাসের সাথে তোমাদের প্রতি এবং ইসলামে প্রবেশের ব্যাপারে অনুগত হয়ে পড়বে, ঠিক যেমন শিকলবদ্ধ বন্দি অনুগত হয়। সুতরাং এটি হলো দাওয়াত ও উত্তম আদর্শের মাধ্যমে জয় করা, শিকল বা হাতকড়ার মাধ্যমে বন্দি করা নয়। আমাদের নেতা আবু হুরায়রা (রা.) অবগত ছিলেন যে, কোনো ব্যক্তিকে কোনো বিশ্বাসের (عقيدة) ওপর বাধ্য করা তার জন্য কল্যাণকর নয়। যদি তিনি কেবল তাঁর বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থই উদ্দেশ্য করতেন, তবে এর শুরু ও শেষ অংশ পরস্পরবিরোধী হয়ে যেত, যা অস্পষ্ট নয়। আর আবু হুরায়রা (রা.) তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি প্রজ্ঞাবান ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১২)
ففي الآية بيان حقيقة الأمة المسلمة، وقوامها: فعل الخير والدعوة إليه والإعانة عليه، وترك الشرِّ والنهي عنه، حتى تستقيم حركة الحياة، فإن بذلك بقاء الحياة وصلاحها، ولذلك جعل النبي صلى الله عليه وسلم الحياة في هذه الأرض كمثل الحياة في سفينة تمخر عباب البحر، لا نجاة لها، ولمن فيها، إلا بالدعوة إلى الخير، والأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر، والأخذ على أيدي المفسدين.
উক্ত আয়াতে মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত স্বরূপ এবং এর স্থায়িত্বের ভিত্তির বর্ণনা রয়েছে; আর তা হলো: কল্যাণকর কাজ সম্পাদন করা, তার প্রতি আহ্বান জানানো ও তাতে সহযোগিতা করা এবং মন্দ কাজ বর্জন করা ও তা থেকে নিষেধ করা, যাতে জীবনের গতিধারা সুসংহত হয়। কেননা এর মাধ্যমেই জীবনের স্থায়িত্ব ও কল্যাণ সাধিত হয়। এ কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই পৃথিবীতে জীবনকে সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গমালা চিরে অগ্রসরমান একটি জাহাজের জীবনের সাথে তুলনা করেছেন; সেই জাহাজ এবং তাতে আরোহণকারীদের জন্য কল্যাণের দিকে আহ্বান, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের হাত রুখে দেওয়া ব্যতীত কোনো মুক্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بيان السنة ضرورة التغييرعن النعمان بن بشير رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مثل القائم على حدود الله والواقع فيها، كمثل قوم استهموا على سفينة، فأصاب بعضهم أعلاها، وبعضهم أسفلها، فكان الذين في أسفلها، إذا استقوا من الماء مرّوا على من فوقهم، فقالوا: لو أنا خرقنا في نصيبنا خرقا، ولم نؤذِ من فوقنا، فإن يتركوهم وما أرادُوا هلكُوا جميعا، وإن يأخذوا على أيديهم، نجوا ونجوا جميعا» .
الصورة التي يقدمها النبي صلى الله عليه وسلم لواقع الحياة على هذه الأرض، وعلائق الناس فيها، ببعضهم، ومسؤوليتهم في الحفاظ على بقائها وصلاحها صورة منتزعة من واقع مشاهد، لا يتأتى لأحد أن يجادل، أو يتوقف فيه البتة، فلن يكون منه إلا التسليم بما ينتهي إليه التصوير والمقارنة والموازنة، من هدي يأخذ بأيدي الناس إلى التي هي أهدى وأقوم، اقتناعا واطمئنانا، فينقادون إليه انقياد ذي الأغلال، إلى خير، يرمى به إليه.
সুন্নাহর ভাষ্য: পরিবর্তনের অপরিহার্যতানু'মান ইবনে বশীর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখায় অটল ব্যক্তি এবং তাতে লিপ্ত হওয়া ব্যক্তির উদাহরণ সেই একদল লোকের মতো, যারা একটি জাহাজে লটারী করল। ফলে তাদের কেউ উপরের তলায় এবং কেউ নিচের তলায় স্থান পেল। নিচের তলার মানুষগুলো যখন পানির প্রয়োজন বোধ করত, তখন তারা উপরের তলার মানুষদের পাশ দিয়ে যাতায়াত করত। এক পর্যায়ে তারা বলল: 'আমরা যদি আমাদের অংশে (জাহাজের নিচের তলায়) একটি ছিদ্র করে নেই, তবে আমাদের উপরের লোকদের কষ্ট হবে না।' এমতাবস্থায় তারা (উপরের তলার লোকেরা) যদি তাদেরকে তাদের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয়, তবে তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তারা তাদের হাত ধরে (বাধা প্রদান করে), তবে তারা নিজেরাও রক্ষা পাবে এবং সবাই রক্ষা পাবে»।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ধরণীতে জীবনের বাস্তবতা, মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক এবং পৃথিবীর স্থায়িত্ব ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে যে চিত্রকল্প উপস্থাপন করেছেন, তা এক প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণলব্ধ বাস্তবতা থেকে আহরিত। এ বিষয়ে কারো পক্ষে বিতর্ক করা বা থমকে দাঁড়ানো মোটেও সম্ভব নয়। বরং উপমা, তুলনা ও ভারসাম্যের ভিত্তিতে এর থেকে প্রাপ্ত যে হিদায়েত বা নির্দেশনা মানুষকে অধিকতর সঠিক ও সুদৃঢ় পথের দিকে পরিচালিত করে, তার কাছে নিঃসংকোচে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ফলে তারা পূর্ণ উপলব্ধি ও মানসিক প্রশান্তির সাথে এর অনুগামী হয়, যেমনটি কোনো শৃঙ্খলিত ব্যক্তি তাকে দেওয়া কল্যাণের দিকে ধাবিত হয়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يشبه الرسول صلى الله عليه وسلم، القائم على حدود الله تعالى، المراقب لها، الواقف عند حماها في جميع شأنه، والواقع فيها، الراتع المنهمك المستمر في انتهاكها، فلا يرعوى، يشبه هذين الصنفين ـ وفي رواية لأحمد يضيف إليهم المداهن في حدود الله. المصانع المنافق، المزين لانتهاك الحرمات، الساكت عن ذلك. الانتهاك، تحت ستار الحرية ـ يشبه هذه الأصناف الثلاثة وعلائقهم ببعضهم على ظهر هذه الأرض، بقوم شاءوا السفر في سفينة تمخر عباب البحر، فكان بينهم استهام المنازل واقتسامها، فكان لبعضهم أعلاها، وكان لبعضهم أسفلها، وهو أوعرها وشرها كما في رواية لأحمد ـ وكذلك منازل الناس في الحياة على هذه الأرض ـ وكان الذين في أسفلها في حاجة إلى أن يستقوا ماءً، فإذا استقوا مرّوا على من فوقهم، النازلين اقتراعاً أعلى السفينة، فكان ضرورة أن يَصُبّّ الأسفلون عند مرورهم على الأعلين، فتأذى الأعلون، وفي رواية للترمذي وأحمد «فقال الذين في أعلاها: لا ندعكم تصعدون فتؤذوننا» فثقل ذلك على الأسفلين: كما في رواية لأحمد «فقال الأسفلون: لو أنا خرقنا في نصيبنا خرقا فاستقينا منه ولم نمرَّ على أصحابنا فنؤذيهم» ،
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর নির্ধারিত সীমার ওপর প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি—যিনি এর পর্যবেক্ষক এবং নিজের জীবনের সকল ক্ষেত্রে এর রক্ষক—এবং আল্লাহর সীমার লঙ্ঘনকারী—যিনি এর ভেতরে লিপ্ত হয়ে অবিরতভাবে সীমা লঙ্ঘনে মত্ত থাকেন এবং বিরত হন না—তাদের উভয়ের তুলনা করেছেন। ইমাম আহমাদ বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী, তিনি তাদের সাথে আল্লাহর সীমার ব্যাপারে তোষামোদকারী (المداهن)—অর্থাৎ সেই কপট ব্যক্তি যে অন্যের তুষ্টি কামনায় লিপ্ত, যে হারামের লঙ্ঘনসমূহকে সুশোভিত করে দেখায় এবং স্বাধীনতার আবরণে সেই সীমা লঙ্ঘনের ব্যাপারে নীরব থাকে—তাকে যুক্ত করেছেন। তিনি এই তিন শ্রেণির মানুষ এবং এই পৃথিবীতে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে তুলনা করেছেন, যারা উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দেওয়া এক জাহাজে ভ্রমণ করার ইচ্ছা করেছিল। অতঃপর তাদের মাঝে কামরাগুলো নির্ধারণ ও বণ্টনের জন্য লটারি (استهام) হলো। ফলে তাদের কেউ ওপরের তলা পেল এবং কেউ নিচের তলা পেল। আহমাদ বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী, নিচের তলাটি ছিল সবচেয়ে সংকীর্ণ ও নিকৃষ্ট। আর এই পৃথিবীর জীবনে মানুষের অবস্থানগুলোও ঠিক এমনই। যারা নিচতলায় ছিল তাদের পানির প্রয়োজন হতো। তাই যখন তারা পানি সংগ্রহ করতে যেত, তখন তাদের লটারির (اقتراع) মাধ্যমে জাহাজের ওপরের অংশে অবস্থান নেওয়া লোকদের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হতো। নিচতলার লোকদের চলাচলের সময় ওপরতলার লোকদের ওপর পানির ফোঁটা পড়া ছিল অবধারিত, ফলে ওপরতলার লোকেরা কষ্ট পেতে লাগল। তিরমিযী ও আহমাদ বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী, ওপরতলার লোকেরা বলল: "আমরা তোমাদের ওপর উঠতে দেব না, কারণ তোমরা আমাদের কষ্ট দাও।" বিষয়টি নিচতলার লোকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়াল। যেমন আহমাদ বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)-তে এসেছে, "তখন নিচতলার লোকেরা বলল: যদি আমরা আমাদের জন্য নির্ধারিত অংশে একটি ছিদ্র করে নিতাম এবং সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করতাম, তবে আমাদের সাথীদের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে তাদের কষ্ট দিতে হতো না।"
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وفي رواية للبخاري: «فأخذ فأساً فجعل ينقر أسفل السفينة فأتوه فقالوا: ما لك؟ فقال: تأذيتم بي ولابد لي من الماء» وهنا برز صنيع المداهنين المصانعين، الذين يبغون الفتنة في الأرض، تحت شعار الحرية الشخصية، فقال بعضهم كما في رواية للإمام أحمد: «إنما يخرق في نصيبه» ، وقال الآخرون: لا، فإن أخذوا على يدي ذلك الخارق، ولم ينخدعوا بمقاله المداهن، الرافع شعار ((الحرية الشخصية)) نجا الجميع، وإِن تركوه يخرق في نصيبه خرقاً هلكوا جميعاً.
هذا التفصيل لوقائع الأحداث في المشبه به (أصحاب السفينة) يشير إلى وقائع مثلها في حياة الناس، في هذه الأرض.
والرسول صلى الله عليه وسلم اختار موقع أحداث المشبه به سفينة، وهو مكان دال على عظيم تعرضه للمخاطر الجسام، التي لا تخفى، ليهدي الناس إلى أنَّ هذه الأرض، وما عليها، لا تقل تعرضاَ للمخاطر الجسام عما تتعرض له السفينة في بحر لجيَّ، قد تكون خطايا بعض ساكنيها سببا لهلاك جميعهم حين لا يأخذون على أيديهم.
বুখারির একটি বর্ণনায় (رواية): "অতঃপর সে একটি কুড়াল নিল এবং জাহাজের তলদেশে ছিদ্র করতে শুরু করল। তখন লোকজন তার কাছে এসে বলল: তোমার কী হয়েছে? সে বলল: তোমরা আমার কারণে কষ্ট পাচ্ছ, অথচ আমার পানির প্রয়োজন।" আর এখানেই সেই চাটুকার ও তৈলমর্দনকারীদের কার্যকলাপ প্রকাশ পেয়েছে, যারা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার আড়ালে পৃথিবীতে ফিতনা সৃষ্টি করতে চায়। তাদের কেউ কেউ ইমাম আহমদের একটি বর্ণনায় (رواية) যেমনটি এসেছে—বলল: "সে তো কেবল নিজের অংশেই ছিদ্র করছে।" কিন্তু অন্যরা বলল: না। যদি তারা সেই ছিদ্রকারীর হাত চেপে ধরে এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার স্লোগান তোলা সেই চাটুকারের কথায় বিভ্রান্ত না হয়, তবে সবাই রক্ষা পাবে। আর যদি তারা তাকে তার অংশে ছিদ্র করতে দেয়, তবে তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে।
উপমাস্বরূপ (জাহাজের আরোহীগণ) উল্লিখিত এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ মানুষের বাস্তব জীবনে এবং এই পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া অনুরূপ ঘটনাবলির দিকেই ইঙ্গিত করে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপমার স্থান হিসেবে একটি জাহাজকে বেছে নিয়েছেন, যা এমন এক স্থান যা বড় ধরণের বিপদের সম্মুখীন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা নির্দেশ করে, যা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। এর মাধ্যমে তিনি মানুষকে এই পথনির্দেশ দিতে চেয়েছেন যে, এই পৃথিবী এবং এর ওপর যা কিছু আছে, তা গভীর সমুদ্রে থাকা কোনো জাহাজের তুলনায় কোনো অংশেই কম ঝুঁকিপূর্ণ নয়; যখন মানুষ পাপাচারীর হাত চেপে ধরবে না, তখন অধিবাসীদের কারো কারো অপরাধ সবার ধ্বংসের কারণ হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ} {وَاتَّقُوا فِتْنَةً لَا تُصِيبَنَّ الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْكُمْ خَاصَّةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} (الأنفال: 24 ـ 25) .
মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আহ্বানে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদেরকে জীবন দান করে। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে যান এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।} {আর তোমরা এমন বিপর্যয়কে ভয় করো যা বিশেষভাবে কেবল তোমাদের মধ্যকার জালেমদের ওপরই আপতিত হবে না এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।} (আল-আনফাল: ২৪-২৫)।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
هذه الصورة الكلية التي رسمها النبي صلى الله عليه وسلم، ببيانه الحكيم تجمع بين واقعين متشابهين متماثلين: واقع ممتد عبر الحياة زماناً ومكانا، هو واقع القائمين على حدود الله، الآمرين بالمعروف والناهين عن المنكر، وواقع الواقعين فيها، التاركين للمعروف، المرتكبين للمنكر، وواقع المداهنين المصانعين في الحق، الساكتين على الشر، يقابل ذلك الواقع واقع قريب إلى الأذهان والأبصار لا يكاد يغفل عنه، أو يجهله أحد من الناس، هو صورة المشبه به: صورة تجعل المتلقي كأنه يرى الأحداث تجري أمام عينيه: يرى سفينة في بحر لجيّ، يقبل قوم على الإبحار فيها، ويرى تقاسم القوم، واستهامهم مواقع فيها، فإذا قوم في أعلاها، وقوم في أسفلها. هكذا تبدأ الأحداث، دون أن يكون فيها ما يخرجها عن سنن العدالة، وكذلك تبدو الحياة على الأرض، ثم تأتي ضرورات الحياة وحاجاتها، وأثرها في مجرياتها، وعلائق الناس بعضهم ببعض وفقا لمناهجهم في التعامل مع تلك الضرورات والحاجات ومن تكون عندهم، فالأعلون ممتعون بالاستقاء دونما حاجة إلى مرور على غيرهم، فتتحقق ضروراتهم وحاجاتهم دونما اصطدام بالآخرين وكذلك طائفة من الناس في هذه
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ বর্ণনার মাধ্যমে যে সামগ্রিক চিত্রটি অঙ্কন করেছেন, তা দুটি সদৃশ ও অভিন্ন বাস্তবতাকে একত্রিত করে: একটি হলো জীবনজুড়ে সময় ও স্থানের ব্যাপ্তিতে বিস্তৃত বাস্তবতা, যা মূলত আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখার ওপর অটল (القائمون على حدود الله) ব্যক্তিগণ, অর্থাৎ সৎকাজের আদেশকারী (الآمرون بالمعروف) ও অসৎকাজে নিষেধকারী (الناهون عن المنكر) ব্যক্তিদের বাস্তবতা; এবং যারা সেই সীমালঙ্ঘনে নিপতিত হয়েছে, অর্থাৎ যারা সৎকাজ বর্জনকারী ও অসৎকাজে লিপ্ত তাদের বাস্তবতা; আর সত্যের ব্যাপারে আপসকারী (المداهنون), তোষামোদকারী ও মন্দের বিষয়ে নীরবতা অবলম্বনকারীদের বাস্তবতা। এই বাস্তবতার সমান্তরালে এমন এক বাস্তবতা রয়েছে যা মানুষের বোধ ও দৃষ্টির অত্যন্ত নিকটবর্তী, যা সম্পর্কে কেউ উদাসীন থাকতে পারে না বা যা কারো নিকট অজ্ঞাত নয়; আর তা হলো উপমান (المشبه به) এর চিত্র। এটি এমন এক চিত্র যা শ্রোতার নিকট ঘটনাপ্রবাহকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন তা তার চোখের সামনেই ঘটছে: সে এক গভীর সমুদ্রে একটি জাহাজ দেখতে পায় যেখানে একদল লোক আরোহণ করছে, এবং সে দেখে যে তারা নিজেদের মধ্যে স্থান ভাগ করে নিচ্ছে এবং লটারির মাধ্যমে (استهام) নিজেদের জায়গা নির্ধারণ করছে; ফলে একদল জাহাজের উপরের অংশে এবং অন্য দল নিচের অংশে স্থান পায়। এভাবেই ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয়, যাতে ন্যায়বিচারের নীতিমালার (سنن العدالة) পরিপন্থী কিছুই থাকে না; এবং পৃথিবীর জীবনও ঠিক এভাবেই প্রতিভাত হয়। এরপর জীবনের অপরিহার্যতা ও প্রয়োজনীয়তা এবং ঘটনাপ্রবাহে সেগুলোর প্রভাব ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক সেই সব অপরিহার্যতা ও প্রয়োজনীয়তা মোকাবেলার কর্মপদ্ধতি এবং কার নিকট সেগুলো প্রাপ্য তার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। এমতাবস্থায় উপরের স্তরের লোকেরা অন্যদের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়াই পানি সংগ্রহের সুবিধা ভোগ করে, ফলে অন্যদের সাথে কোনো সংঘাত ছাড়াই তাদের প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণ হয়; একইভাবে সমাজের একদল লোকও এই...
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الحياة.
والأسفلون يقتضي تحقيقهم ضرورات حياتهم ومصالحهم المرور على غيرهم والاصطدام بهم، فإذا هم أمام أمرين عظيمين:
· ضرورة تحقيق ضروراتهم وحاجاتهم.
· ضرورة الاتصال بالآخرين والاحتكاك ببعض شؤونهم.
وتلك حال الجمهرة الكاثرة من الناس في هذه الحياة، وهنا تكون الحكمة والحنكة، وتقدير الأمور بمقاديرها، وفقاً لما يقضي به حسن البصيرة والفراسة، واستبصار العواقب من الأسفلين، ومن شاكلهم، وهنا يكون الإيثار والصبر الجميل، والاحتساب والفضل من الأعلين، ومن شاكلهم.
الرسول صلى الله عليه وسلم في هديه هذا يرسم لنا صورة لما هو الغالب على الطائفتين في الحياة: الأعلين والأسفلين، فلا أيثار ولا احتساب ولا فضل من الأعلين، ولا حكمة ولا حسن بصيرة من الأسفلين. فيصور لنا الأعلين، وقد تأذوا من مرور الأسفلين عليهم، والمرور حقهم وضرورة من ضروراتهم، فكان هذا من الأعلين غير حميد.
জীবনের।
নিম্নস্তরের (الأسفلون) লোকদের জীবনযাত্রার অপরিহার্যতা ও স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অন্যদের ওপর দিয়ে যাতায়াত করা এবং তাদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। ফলে তারা দুটি বড় বিষয়ের সম্মুখীন হয়:
· তাদের প্রয়োজনীয়তা ও অভাবসমূহ পূরণের অপরিহার্যতা।
· অন্যদের সাথে যোগাযোগ এবং তাদের কিছু বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার আবশ্যকতা।
এই পার্থিব জীবনে অধিকাংশ মানুষের অবস্থা এমনই। আর এখানেই নিম্নস্তরের লোক ও তাদের সমগোত্রীয়দের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞা (حكمة), বিচক্ষণতা (حنكة), বিষয়ের গুরুত্ব যথাযথভাবে অনুধাবন, প্রখর অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) ও দূরদর্শিতা (فراسة) অনুযায়ী কাজ করা এবং পরিণাম চিন্তা করার আবশ্যকতা দেখা দেয়। অন্যদিকে, উচ্চস্তরের (الأعلون) লোক ও তাদের সমগোত্রীয়দের পক্ষ থেকে আত্মত্যাগ (إيثار), সুন্দর ধৈর্য (صبر جميل), সওয়াবের আশা (احتساب) ও বদান্যতা (فضل) প্রদর্শনের ক্ষেত্র তৈরি হয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই আদর্শের (هدي) মাধ্যমে আমাদের সামনে জীবনে বিদ্যমান দুটি শ্রেণির—উচ্চস্তর ও নিম্নস্তর—সাধারণত যে রূপ দেখা যায় তার একটি চিত্র অঙ্কন করেছেন: যেখানে উচ্চস্তরের লোকদের পক্ষ থেকে কোনো আত্মত্যাগ (إيثار), সওয়াবের আশা (احتساب) বা বদান্যতা (فضل) নেই; আর নিম্নস্তরের লোকদের পক্ষ থেকে নেই কোনো প্রজ্ঞা (حكمة) বা উত্তম অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة)। তিনি আমাদের সামনে উচ্চস্তরের লোকদের এমনভাবে চিত্রিত করেছেন যে, তারা নিম্নস্তরের লোকদের যাতায়াতের কারণে কষ্ট পাচ্ছিল, অথচ এই যাতায়াত ছিল তাদের অধিকার এবং জীবনযাত্রার অন্যতম অপরিহার্যতা। উচ্চস্তরের লোকদের পক্ষ থেকে এই আচরণ প্রশংসনীয় (حميد) ছিল না।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إِنَّ اقتسام الأشياء عدالة وارتضاء، لا ينفي أن يكون للآخرين بها بعض الحق ولو من وجه خفي، فليس الذي يملكه هذا، بِخال من حق الآخرين فيه، فكل أمر الإنسان وشأنه وماله من الموجودات حساً، ومعنى، لغيره فيه بعض الحق: جسده وعقله وقلبه، ماله وولده وعلمه، تقواه وقدره وجاهه
… إلخ.
وما يكون لأحد، ولا ينبغي له أن يتبرم من أن يستعمل الآخرون ما لهم من حق، فيما ملكت يده بفضل الله تعالى. وغير قليل من الناس تضيق نفوسهم حين يطلب الآخرون حقوقهم عندهم، فترتسم آيات الضجر على الوجوه، وقد تلفظ الأفواه كلماتٍ طاعنات، وقد تمتد الأيدي، بما يؤذي الطالبين حقاً لهم، وما ذلك بالمنهج الأمثل في الإسلام.
الأمثل إسلاماً، إظهار البشاشة والرضا، حين يطلب الآخرون حقوقهم، بل من حقهم على من تكون حقوقهم في أيديهم، أن يبثوا في نفوسهم رضاهم باستخدام حقهم المتعلق بما ملكت أيديهم، ويوحون إليهم، أن أخذه منهم أحبُّ إليهم، أو كمثل حبهم هم، أن يأخذوا ما لهم عند غيرهم، فقد هدى النبي صلى الله عليه وسلم إلى ذلك بقوله: «لا يؤمن أحدكم حتى يُحبَّ لأخيه ما يحب لنفسه» .
বস্তুসামগ্রীর বণ্টন হলো ন্যায়বিচার (عدالة) ও পারস্পরিক সন্তুষ্টির পরিচায়ক; তবে এটি অন্যের গূঢ় কোনো অধিকারকে নাকচ করে দেয় না। অতএব, একজন ব্যক্তি যা কিছুর মালিকানা লাভ করে, তা অন্যের অধিকার থেকে রিক্ত নয়। মানুষের প্রতিটি বিষয়, অবস্থা এবং তার দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান যা কিছু রয়েছে, তাতে অন্যের অধিকার বিদ্যমান: তার দেহ, বুদ্ধি, অন্তর, সম্পদ, সন্তান, জ্ঞান, তাকওয়া, মর্যাদা ও প্রতিপত্তি
… ইত্যাদি।
আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে যা কারো হস্তগত হয়েছে, তাতে অন্যেরা যখন তাদের প্রাপ্য অধিকার প্রয়োগ করে, তখন কারো জন্য বিরক্ত হওয়া সমীচীন নয়। অনেক মানুষের অন্তর তখন সংকুচিত হয়ে যায় যখন অন্যেরা তাদের নিকট নিজেদের হক দাবি করে; ফলে চেহারায় বিরক্তির চিহ্ন ফুটে ওঠে, মুখ থেকে বিদ্ধকারী শব্দ উচ্চারিত হয় এবং হক অন্বেষণকারীদের কষ্ট দিতে হাত প্রসারিত হয়। এটি ইসলামের আদর্শ পদ্ধতি নয়।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বোত্তম হলো—অন্যেরা যখন তাদের হক দাবি করে, তখন প্রসন্নতা ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করা। বরং যাদের নিকট হক পাওনা থাকে, পাওনাদারদের প্রতি তাদের অন্যতম দায়িত্ব হলো তারা যেন তাদের মনে এই বিশ্বাস সঞ্চার করে যে, তারা তাদের হক আদায়ে সন্তুষ্ট। তারা যেন তাদের প্রতি এই ইঙ্গিত প্রদান করে যে, তাদের নিকট থেকে পাওনা গ্রহণ করা তাদের কাছে ততটাই প্রিয় যেমনটি তারা অন্যের নিকট থেকে নিজেদের হক গ্রহণ করা পছন্দ করে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বাণীর মাধ্যমে এই পথনির্দেশ দিয়েছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।"
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২০)
وفيما ذكره النبي صلى الله عليه وسلم من حال الأعلين، تصوير لما يكون من بعض الأمة من دافعات إلى الخطايا، وإن كثيراً مما يقترفه الجاهلون، يحمل جمع من غيرهم أوزار حملهم عليه واضطرارهم للتردي فيه، بما يكون منهم، من أساليب حاملة على ذلك. منها ما هو مقصود، ومنها ما هو عن غفلة وجهالة.
من مسؤولية الأعلين ومن ضارعهم في الأمة، أن يعتصموا من حمل غيرهم على التردي في الخطايا.
الغني حين يمتنع عن أداء زكاة ماله، أو يتأخر في إخارجها، يحمل بعض الفقراء على التردي في بعض الخطايا: سرقة، أو استجداءً أو احتيالاً، فتُخرَقُ السفينة.
الزوج حين يحرم زوجه من بعض حقوقها الحسية والمعنوية، يحملها على أن تسقط في مستنقع النشوز أو الخيانة، فتُخرقُ السفينة.
الأب حين يحرم بنيه بعض حقوقهم، يحملهم، على التردي في هاوية العقوق، فتُخرقُ السفينة.
المعلم حين يحرم تلاميذه بعض حقوقهم، فلا يحسن إعداد نفسه علماً وصنعة، ولا يخلص في تعليمهم، يحمل بعضهم على أن يختلس العلم، أو يسرقه عند اختباره، فتُخَرقُ السفينة.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উচ্চবিত্তদের যে অবস্থা বর্ণনা করেছেন, তা উম্মতের একাংশের মাঝে বিদ্যমান এমন কিছু তাড়নার প্রতিচ্ছবি যা গুনাহের দিকে ধাবিত করে। অজ্ঞ ব্যক্তিরা যে সকল পাপাচার করে, তার অনেকগুলোর দায়ভার অন্য একটি গোষ্ঠী বহন করে; কারণ তাদের অনুসৃত পন্থাই অন্যদেরকে সেই পাপে প্ররোচিত করে কিংবা তাতে নিপতিত হতে বাধ্য করে। এর কোনোটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, আবার কোনোটি অসতর্কতা ও অজ্ঞতাপ্রসূত।
উম্মতের উচ্চবিত্ত এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের দায়িত্ব হলো অন্যদেরকে পাপের গহ্বরে নিপতিত করা থেকে বিরত থাকা।
ধনী ব্যক্তি যখন তার সম্পদের জাকাত আদায়ে বিরত থাকে অথবা তা আদায়ে বিলম্ব করে, তখন সে কিছু দরিদ্র মানুষকে কতিপয় পাপে লিপ্ত হতে বাধ্য করে: যেমন চুরি, ভিক্ষাবৃত্তি অথবা প্রতারণা; যার ফলে সমাজরূপ নৌকাটি ছিদ্র হয়ে যায়।
স্বামী যখন তার স্ত্রীকে তার শারীরিক ও মানসিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তখন সে তাকে অবাধ্যতা অথবা বিশ্বাসঘাতকতার পঙ্কিলতায় নিপতিত হতে প্ররোচিত করে; ফলে নৌকাটি ছিদ্র হয়ে যায়।
পিতা যখন তার সন্তানদের তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন, তখন তিনি তাদেরকে অবাধ্যতার অতল গহ্বরে নিপতিত হতে পরিচালিত করেন; ফলে নৌকাটি ছিদ্র হয়ে যায়।
শিক্ষক যখন তার ছাত্রদের অধিকার খর্ব করেন—অর্থাৎ তিনি যখন জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতায় নিজেকে যথাযথভাবে প্রস্তুত করেন না এবং তাদের পাঠদানে আন্তরিক হন না—তখন তিনি তাদের কাউকে জ্ঞান আত্মসাৎ করতে অথবা পরীক্ষার সময় তা চুরি করতে প্ররোচিত করেন; ফলে নৌকাটি ছিদ্র হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২১)
ولي الأمر الأعلى حيث يحرم شعبه حقه عليه، في أن يحكمهم بما شرع خالقهم، لا بما شرعه هو، وبطانته، يحملُ شعبه أو بعضه على أن يخرق السفينة خرقاً لا يكاد يصلح: يسقط حبه وهيبته والثقة فيه من نفوسهم، وتمتلئ القلوب والعقول كرهاً وادعاء خيانة، فيسهل على الدهماء الخروج عليه، فيفسدون في الأرض، فتُخرَقُ السفينة. والمسؤول عن ذلك هو ولي الأمر وبطانته، إذ منع شعبه حقه.. وإذا ما كان الدال على الخير كفاعله فإن الحامل لغيره على الشر كفاعله.. وما خرجت أمة قط على إمام عدل، فالعدل أساس الملك، ولا يكون عدل البتة إذا لم يك وفقاً لما أنزل الله عز وجل.
إن الحكمة لتقتضي بأن ليس الصلاح أن لا تفعل الشر، بل وألا تحمل الآخرين عليه، بل وأن تعينهم على الاعتصام من التردي في خباله.
والرسول صلى الله عليه وسلم يصور لنا حال الأسفلين في السفينة بين شقي الرحى: حاجتهم إلى الماء، وهو ضرورة الضرورات، وتأذي الآخرين من المرور عليهم.
فإذا بالبصائر تغشى فلا تقدر الأمور قدرها، ولا تتفرس في الواقعات عواقبها، فينظرون في أخف الضررين فيحتملونه.
সর্বোচ্চ রাষ্ট্রপ্রধান (ولي الأمر) যখন তার জনগণকে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন—যা হলো তাদের স্রষ্টা প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী শাসন করা, তার নিজের বা তার পারিষদবর্গের তৈরি করা বিধান দিয়ে নয়—তখন তিনি তার জনগণকে বা তাদের একাংশকে সমাজরূপী এই নৌকায় এমন এক ছিদ্র করতে বাধ্য করেন যা মেরামত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে তাদের অন্তর থেকে তার প্রতি ভালোবাসা, মর্যাদা ও নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) লোপ পায়; হৃদয় ও মস্তিষ্ক ঘৃণা ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে পূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে সাধারণ জনগণের জন্য তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা সহজ হয়ে যায়, ফলে তারা জনপদে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং নৌকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জন্য দায়ী স্বয়ং রাষ্ট্রপ্রধান (ولي الأمر) এবং তার পারিষদবর্গ, যেহেতু তিনি জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। কল্যাণের পথপ্রদর্শক যেমন কল্যাণকারীর অনুরূপ, তেমনি অন্যকে মন্দের দিকে ধাবিতকারী ব্যক্তিও মন্দকর্ম সম্পাদনকারীর অনুরূপ। কোনো জাতি কখনোই কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেনি, কেননা ন্যায়বিচারই হলো রাজত্বের মূল ভিত্তি; আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সেই অনুযায়ী না হলে তাকে আদৌ ন্যায়বিচার বলা চলে না。
প্রজ্ঞা এ কথাই দাবি করে যে, কেবল নিজে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকাই পুণ্য নয়, বরং অন্যকে মন্দ কাজে প্ররোচিত না করা এবং মন্দের অতল গহ্বরে নিপতিত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে তাদের সাহায্য করাও পুণ্যের অন্তর্ভুক্ত।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নৌকার নিচের তলার আরোহীদের অবস্থা আমাদের সামনে চিত্রিত করেছেন, যারা দুই সংকটের আবর্তে পিষ্ট হচ্ছিল: পানির প্রয়োজনীয়তা—যা জীবনধারণের অপরিহার্য অনুষঙ্গ—এবং তাদের যাতায়াতের কারণে ওপরের তলার লোকদের কষ্ট হওয়া।
অতঃপর যখন অন্তর্দৃষ্টি আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন বিষয়ের গুরুত্ব সঠিকভাবে অনুধাবন করা সম্ভব হয় না এবং ঘটনার পরিণাম সম্পর্কে দূরদর্শিতা কাজ করে না। এমতাবস্থায় তারা অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতি (أخف الضررين) বিবেচনা করে এবং তা গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقد كشف لنا النبي صلى الله عليه وسلم ما هو غالب على الدهماء حينذاك: الافتتان بحق الملكية والحرية الشخصية، التي يظن أنها المطلقة اليد، تفعل فيما تملك ما تشاء، فيرين على الألباب، ما يطمس نورها، فتهتف الضلالة فيهم: «لو خرقنا في نصيبنا خرقاً ولم نؤذ من فوقنا» .
كلمات تقال، تحمل في ظواهرها طيب المقاصد، وحسن الدوافع (في نصيبنا) (لم نؤذ من فوقنا) كلما فاتنة، تلقي بالغشاوة على البصائر فلا تنفذ في عقبى الأشياء، ولكن من تحت تلك الكلمات الطامة، التي لا تبقي ولا تذر.
كلمات هي أصل الداء، وجرثومة الفساد، في كثير من الحياة. كلمات يغشى بريقها البصائر فلا تفقه كنهها، ولا يفقه قائلوها فلسفة الامتلاك في الإسلام: ليس المرء بمطلق اليد فيما يملك بفضل الله تعالى. ثم يزعم أنه يفعلها لكيلا يؤذي غيره، وهو في حقيقة فعله لا يؤذي فحسب، بل هو يدمر ويمحق.
حين يستقيم تصور الإنسان حقائق الامتلاك في الإسلام، تستقيم حركته وسلوكه فيما يملك، فيعلم أن لحرية التصرف فيما ملكه الله تعالى، حداً يقف عنده، لا يتعداه، لأن في تعديه ضربا من الاعتداء على الآخرين.
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে স্পষ্ট করেছেন যে তৎকালীন সাধারণ মানুষের মধ্যে কোন বিষয়টি প্রবল ছিল: মালিকানা স্বত্ব ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মোহে মত্ত হওয়া। মানুষ ধারণা করে যে, এতে সে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী এবং নিজের মালিকানাধীন বস্তুর ওপর যা ইচ্ছা করার অধিকার রাখে। এই ধারণাটি অন্তরে মরিচা ধরিয়ে দেয় এবং হৃদয়ের আলো নির্বাপিত করে দেয়। ফলে তাদের মধ্যে পথভ্রষ্টতা এই বলে আওয়াজ দেয়: 'যদি আমরা আমাদের অংশে একটি ছিদ্র করি এবং আমাদের উপরের স্তরের লোকদের কোনো কষ্ট না দিই!'
এমন কথা বলা হয় যার বাহ্যিক রূপটি উত্তম উদ্দেশ্য এবং সুন্দর অভিপ্রায় বহন করে (যেমন: আমাদের অংশে, আমরা আমাদের উপরের লোকদের কষ্ট দেব না)। এগুলো মনোমুগ্ধকর শব্দ যা প্রজ্ঞার ওপর পর্দা টেনে দেয়, ফলে কোনো বিষয়ের পরিণাম পর্যন্ত দৃষ্টি পৌঁছাতে পারে না। কিন্তু এই কথাগুলোর নিচেই সুপ্ত রয়েছে এমন ভয়াবহ বিপদ, যা কোনো কিছুকে অবশিষ্ট রাখে না বা ছাড় দেয় না।
এই কথাগুলোই জীবনের অনেক ক্ষেত্রে ব্যাধির মূল এবং অনিষ্টের বীজ। এর চাকচিক্য মানুষের দূরদৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, ফলে তারা এর গূঢ় রহস্য বুঝতে পারে না। এমনকি এর বক্তারাও ইসলামে মালিকানার দর্শন অনুধাবন করতে পারে না যে—আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে মানুষ যা কিছুর মালিকানা লাভ করেছে, তাতে সে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী নয়। এরপর সে দাবি করে যে, সে এটি করছে যাতে অন্যের ক্ষতি না হয়; অথচ তার এই কাজের প্রকৃত রূপ শুধু কষ্টদায়কই নয়, বরং তা ধ্বংসাত্মক ও নির্মূলকারী।
যখন ইসলামে মালিকানার প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধি সঠিক হয়, তখন তার মালিকানাধীন বস্তুর ব্যবহার ও আচরণও সঠিক হয়ে যায়। তখন সে জানতে পারে যে, আল্লাহ তাআলা তাকে যা দান করেছেন তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট সীমা রয়েছে, যেখানে তাকে থেমে যেতে হয় এবং তা অতিক্রম করা বৈধ নয়। কারণ এই সীমা লঙ্ঘন করা মানেই অন্যের ওপর এক প্রকার আক্রমণ বা সীমালঙ্ঘন।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
«عن سمرة بن جندب أنه كانت له عضدُ من نخله في حائط رجلٍ من الأنصار، قال ومع الرجل أهله. قال فكان سمرة يدخل إلى نخله فيتأذى به ويشق عليه، فطلب إليه أن يبيعه، فأبى، فطلب إليه أن يناقله، فأبى، فأتى النبي صلى الله عليه وسلم، فذكر له، فطلب إليه النبي صلى الله عليه وسلم أن يبيعه فأبى، فطلب إليه أن يناقله، فأبى، قال: ((فهبه له، ولك كذا وكذا)) أمراً رغبة فيه فأبى، فقال: ((أنت مضار)) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم للأنصاري: ((اذهب فاقلع نخله» .
فهدى النبي صلى الله عليه وسلم إلى أنَّ حرية تصرف المرء فيما يملك غير مطلقة، بل تحكمها ترك المضارة، سواء ما كان منها جهالة، وما كان منها عمداً.
«সামুরা বিন জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক আনসারী ব্যক্তির বাগানের প্রাচীরের ভেতরে তার একটি খেজুর গাছ ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, ওই ব্যক্তির সাথে তার পরিবারও সেখানে বসবাস করত। সামুরা যখনই তার খেজুর গাছের কাছে যেতেন, তখন তিনি (আনসারী) কষ্ট পেতেন এবং তা তার জন্য বিব্রতকর হতো। তাই তিনি তাকে গাছটি বিক্রি করার অনুরোধ করলেন, কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন। এরপর তিনি তাকে গাছটি বিনিময় করার অনুরোধ করলেন, তিনি তাও অস্বীকার করলেন। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বিষয়টি বর্ণনা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গাছটি বিক্রি করার অনুরোধ করলেন, কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন। তিনি তাকে গাছটি বিনিময় করার প্রস্তাব দিলেন, তিনি তাও অস্বীকার করলেন। নবীজি বললেন: ((তবে এটি তাকে দান করে দাও, বিনিময়ে তোমার জন্য অমুক অমুক পুরস্কার থাকবে)), তিনি তাকে উৎসাহিত করার জন্য এ কথা বলেছিলেন, কিন্তু তিনি তাও অস্বীকার করলেন। তখন নবীজি বললেন: ((তুমি একজন ক্ষতিসাধনকারী (مضار)))। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারীকে বললেন: ((যাও এবং তার খেজুর গাছটি উপড়ে ফেলো))।» .
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নির্দেশনা প্রদান করেছেন যে, নিজের মালিকানাধীন সম্পত্তিতে কোনো ব্যক্তির হস্তক্ষেপের স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ নয়; বরং তা অন্যের ক্ষতি না করার শর্তের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। চাই সেই ক্ষতিটি অজ্ঞতাবশত হোক কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
إن حال أهل السفينة كما صوره الرسول صلى الله عليه وسلم من الجلاء والبديهة العقلية والمسلمة الفطرية ما يجعله بعيداً عن الجدال، أو التوقف فيه، وهذا ما يجعل إقامته مقام المشبه به حال الدنيا ومن فيها: علائق ومسؤولية، حقاً وواجباً، أمراً يستوجب التسليم المطلق، بأن حكم العقل في حال الدنيا، ومن فيها، حكم السفينة وأهلها: علائق ومسؤولية، وحقاً واجباً، وأن التوقف في ذلك خطيئة عقلية تقذف بصاحبها خارج أفق الإنسانية، فإذا بالرسول صلى الله عليه وسلم من بعد أن أبان علاقة القائمين على حدود الله في الدنيا، بالواقعين فيها، وبالمداهنين، قد أقام الحجة على كل ذي عقل، أنَّ صلاح المرء في نفسه غير كاف، بل فريضة عليه أن يكون صالحاً، وأن يكون مصلحاً ما حوله، قائماً بالاحتساب والرقابة الراشدة على ما حوله، فلا يدع أيدي العابثين ممتدة بالشر.
জাহাজের আরোহীদের অবস্থা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, তার স্বচ্ছতা, বুদ্ধিবৃত্তিক স্বতঃসিদ্ধতা এবং স্বভাবজাত ধ্রুবসত্য একে বিতর্ক কিংবা সংশয়ের ঊর্ধ্বে স্থাপন করেছে। এই বিষয়টিই দুনিয়া এবং এতে বসবাসকারীদের অবস্থা—তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও দায়িত্ব এবং অধিকার ও কর্তব্য—বোঝানোর ক্ষেত্রে একে একটি 'উপমান' হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। এটি এমন এক বাস্তবতা যা পূর্ণ আত্মসমর্পণের দাবি রাখে। পার্থিব জীবন ও এর বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে বিবেকের সিদ্ধান্ত ঠিক জাহাজের আরোহীদের বিধানের মতোই: অর্থাৎ পারস্পরিক সম্পর্ক, দায়িত্ব এবং অধিকার ও কর্তব্য। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার দ্বিধা বা সংশয় পোষণ করা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিচ্যুতি, যা ব্যক্তিকে মানবতার দিগন্ত থেকে দূরে ঠেলে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন দুনিয়াতে আল্লাহর সীমারেখা রক্ষাকারী, পাপে লিপ্ত ব্যক্তি এবং তোষামোদকারীদের মধ্যকার সম্পর্ক স্পষ্ট করেছেন, তখন তিনি প্রত্যেক বিবেকবান ব্যক্তির নিকট অকাট্য দলিল (حجة) পেশ করেছেন। আর তা হলো, কোনো ব্যক্তির কেবল স্বীয় সংশোধনই যথেষ্ট নয়, বরং নিজে সৎ হওয়ার পাশাপাশি চারপাশের সংস্কার করা এবং সঠিক তদারকি ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা তার জন্য এক অপরিহার্য কর্তব্য (فريضة)। যাতে সে বিশৃঙ্খলাকারীদের অনিষ্টের হাতকে প্রসারিত হতে না দেয়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فأقام الإنسانية أمام فريضة تغيير المنكر، ومنع أهله منه، والأخذ على أيديهم أيَّا كانت نياتهم ومقاصدهم، قياماً لا تستطيع الفكاك منه، والتخلي عنه، أو التوقف فيه؛ لأن في هذا التوقف والتخلي إخراجاً لها من أفق الإنسانية المسلمة وقذفا بها في حمأة الجاهلية وخبالها.
وهو صلى الله عليه وسلم باختياره عناصر المشبه به على هذا النحو، أبلغ في هدي الأمة إلى أنَّ فريضة تغيير المنكر ضرورة حياة، لا ينظر فيها إلى دوافع فعل المنكر ونوازعه، فإن كثيراً من الماحقات قد يكون مبعثها حسن نوايا الجاهلين الحمقى.
إن حسن النية وحده، لا يثمر خيراً ولا يهدي إليه، إلا إذا كان هذا الحسن ثمرة علم وفقه، وحكمه وبصيرة، فأغلق بذلك البيان الباب، في وجه من يتوانى عن تغيير المنكر الواقع اغتراراً بحسن نوايا فاعليه.
وأغلقه في وجه من يتوانى عن التغيير، اغتراراً بالحرية الشخصية، التي بدت في قول المداهنين ((إنما يخرق في نصيبه)) .
তিনি মানবতাকে অন্যায় (منكر) পরিবর্তনের এক আবশ্যিক কর্তব্যের সামনে দাঁড় করিয়েছেন, এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের সেই অন্যায় থেকে বিরত রাখা ও তাদের হাত শক্তভাবে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন—তাদের নিয়ত ও উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন। এটি এমন এক অবিচ্ছেদ্য দায়বদ্ধতা যা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া, একে বর্জন করা কিংবা এতে স্থবিরতা আনা সম্ভব নয়; কারণ এই স্থবিরতা ও বর্জন মানবতাকে মুসলিম মানবতার পরিমণ্ডল থেকে বিচ্যুত করে এবং তাকে জাহিলিয়াতের পঙ্কিলতা ও বিভ্রান্তির গহ্বরে নিক্ষেপ করে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) উপমার উপাদানসমূহকে এভাবে চয়ন করার মাধ্যমে উম্মাহর দিকনির্দেশনায় এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে, অন্যায় (منكر) পরিবর্তনের বিধানটি জীবনের এক অপরিহার্য প্রয়োজন। এতে অন্যায় (منكر) সংঘটনের পশ্চাতে বিদ্যমান প্রেষণা ও প্রবণতার দিকে দৃষ্টিপাত করা হবে না; কেননা অনেক ধ্বংসাত্মক কাজের উৎস হতে পারে অজ্ঞ মূর্খদের তথাকথিত সদিচ্ছা।
নিছক সদিচ্ছা কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না এবং কল্যাণের পথও দেখায় না, যতক্ষণ না সেই সদিচ্ছা জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং হিকমত ও দূরদর্শিতার ফসল হয়। সুতরাং এই বর্ণনার মাধ্যমে তিনি সেই সব লোকের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন, যারা কেবল সম্পাদনকারীর সদিচ্ছার মোহে পড়ে সঙ্ঘটিত অন্যায় (منكر) পরিবর্তনে গড়িমসি করে।
আর তিনি তাদের সামনেও এই পথ বন্ধ করে দিয়েছেন যারা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ধোঁকায় পড়ে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করে—যা সেই সব আপসকামী ব্যক্তির বক্তব্যে ফুটে উঠেছে যে, “সে তো কেবল তার নিজের অংশেই ছিদ্র করছে।”
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
هذه المقابلة الإبليسية (إنما يخرق في نصيبه) إنما يرفعها لواءاً جمهرة من المداهنين المرجفين في المدينة، يدلسون بهذه الأغلوطة الإبليسية (الحرية الشخصية) على الدهماء، الذين يلهثون خلف كل ناعق، بما يرفع عنهم تكاليف الصلاح والإصلاح، ويبهرج لهم أغلوطاته، بما تشتهيه نوازع الحيوانية فيهم. فما من مذهب فلسفي أو سياسي أو اجتماعي أو فني، أراد أن يضرب في الأمة المسلمة فيوهي بنيانها، فيصرف الناس عن الاستمساك بالهدي، إِلا رفع شعاراً (أغلوطة) الحرية الشخصية: إنما يخرق في نصيبه.
هذه المذاهب وإن تغايرت وتناحرت فيما بينها، منهجاً وحركة، فالذي يوحد بينها الرغبة الجموح، في صرف الناس عن التعاون على تحقيق الوجود المتمكن للأمة المسلمة، فلا تجد فتنة في الناس أسرع وأنكى من أغلوطة الحرية الشخصية.
جاء في ميثاق إِبليس: بروتوكولات حكماء صهيون:
এই ইবলিসি প্রপঞ্চ (সে কেবল তার নিজের অংশেই ছিদ্র করছে) মূলত একদল তোষামোদকারী ও মদীনার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরাই উচ্চকিত করছে। তারা এই ইবলিসি ভ্রান্তির (ব্যক্তিগত স্বাধীনতা) মাধ্যমে সাধারণ জনগণের নিকট প্রতারণা (تدليس) করছে; যারা প্রতিটি হট্টগোলকারীর পেছনে ছুটে বেড়ায়, যা তাদের ওপর থেকে সততা ও সংশোধনের দায়ভার সরিয়ে দেয় এবং তাদের মধ্যকার পাশবিক প্রবৃত্তির কামনা অনুযায়ী ভ্রান্তিগুলোকে সুশোভিত করে। সুতরাং এমন কোনো দার্শনিক, রাজনৈতিক, সামাজিক বা শৈল্পিক মতবাদ নেই, যা মুসলিম উম্মাহর ওপর আঘাত হেনে তার ভিত্তি দুর্বল করতে এবং মানুষকে হিদায়াতের ওপর অটল থাকা থেকে বিচ্যুত করতে চেয়েছে, অথচ তারা 'ব্যক্তিগত স্বাধীনতা'র এই স্লোগান (ভ্রান্তি) তোলেনি: সে কেবল তার নিজের অংশেই ছিদ্র করছে।
এই মতবাদগুলো পদ্ধতি এবং আন্দোলনের দিক থেকে পরস্পরের মধ্যে ভিন্নতর ও বিবাদমান হওয়া সত্ত্বেও, যে বিষয়টি তাদের ঐক্যবদ্ধ করে তা হলো মুসলিম উম্মাহর সুদৃঢ় অস্তিত্ব অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা থেকে মানুষকে বিমুখ করার এক প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষা। সুতরাং মানুষের মধ্যে 'ব্যক্তিগত স্বাধীনতা'র ভ্রান্তির চেয়ে দ্রুততর এবং ধ্বংসাত্মক কোনো ফিতনা আপনি খুঁজে পাবেন না।
ইবলিসের অশুভ দলিলে এসেছে: প্রটোকলস অব দ্য এল্ডার্স অব জায়ন:
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
((كذلك كنا قديماً، أول من صاح في الناس: ((الحرية والمساواة والإخاء)) ، كلمات ما انفكت ترددها منذ ذلك الحين ببغاوات جاهلة، متجمهرة من كل مكان حول هذه الشعائر، وقد حرمت بترددها العالم من نجاحه، وحرمت الفرد من حريته الشخصية الحقيقية، التي كانت من قبل في حمى يحفظها من أن يخنقها السفلة)) .
((إن كلمة (الحرية) تزج بالمجتمع في نزاع مع كل القوى حتى قوى الطبيعة وقوة الله)) .
وإذا ما كان النبي صلى الله علي وسلم قد هدى حين أخبر أنه ستكون فتنةُُ، فسأله الصحابة: فما المخرج منها يا رسول الله؟ قال: «كتاب الله فيه نبأ ما قبلكم، وخبر ما بعدكم، وحكم ما بينكم، هو الفصل ليس بالهزل، من تركه من جبار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى من غيره أضله الله» ، وهو ما استند إليه وإلى غيره من آيات الله والحكمة، أهل العلم والدعوة فتنادوا مخلصين: الإٍسلام هو الحل، إذا ما كان ذلك فإن المرجفين في الأمة الساعين في الأرض فساداً يرفعون شعاراً ((الليبرالية هي الحل)) على الرغم من أن ((الليبرالية قد اتخذت الحرية المطلقة الأساس شبه المقدس لها)) ، ومن الحرية اشتق لها اسمها الكاشف عن حقيقتها وكنهها.
((এভাবেই আমরা প্রাচীনকালে ছিলাম; যারা মানুষের মাঝে সর্বপ্রথম এই আওয়াজ তুলেছিল: ((স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব)), এই শব্দগুলো সেই সময় থেকে একদল মূর্খ তোতাপাখি প্রতিনিয়ত আওড়ে যাচ্ছে, যারা এই রীতিনীতিগুলোর চারপাশে সর্বত্র সমবেত হয়েছে। তারা এগুলো বারবার উচ্চারণের মাধ্যমে বিশ্বকে তার সাফল্য থেকে বঞ্চিত করেছে এবং ব্যক্তিকে তার প্রকৃত ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করেছে, যা পূর্বে এমন এক সংরক্ষিত আশ্রয়ে ছিল যা তাকে নীচ শ্রেণীর মানুষের শ্বাসরোধ থেকে রক্ষা করত।))
((নিশ্চয়ই ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি সমাজকে সকল শক্তির বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বে লিপ্ত করে, এমনকি প্রাকৃতিক শক্তি এবং আল্লাহর শক্তির বিরুদ্ধেও।))
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন পথনির্দেশ দান করেছিলেন এই সংবাদ দিয়ে যে, অচিরেই ফিতনা (فتنة) দেখা দেবে, তখন সাহাবীগণ প্রশ্ন করেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? তিনি বললেন: «আল্লাহর কিতাব; এতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিষয়ের ফয়সালা রয়েছে। এটি চূড়ান্ত ফয়সালা (فصل), এটি কোনো নিরর্থক বিষয় নয়। কোনো স্বৈরাচারী একে বর্জন করলে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন, আর যে ব্যক্তি এটি ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত (هدى) সন্ধান করবে আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন।» আর এটি এবং আল্লাহর অন্যান্য আয়াত ও হিকমতের (حكمة) ওপর ভিত্তি করেই উলামায়ে কেরাম ও দাঈগণ একনিষ্ঠভাবে এই আহ্বান জানিয়েছিলেন যে: ইসলামই সমাধান। এমতাবস্থায় উম্মাহর মধ্যে যারা সংশয়বাদী ও পৃথিবীতে বিপর্যয় (فساد) সৃষ্টিকারী, তারা একটি শ্লোগান তুলছে যে: ((লিবারেলিজম বা উদারবাদই সমাধান)), যদিও ((লিবারেলিজম নিরঙ্কুশ স্বাধীনতাকে তার এক প্রকার পবিত্র ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে)), আর এই স্বাধীনতা থেকেই এর এমন নাম উদ্ভূত হয়েছে যা তার বাস্তবতা ও প্রকৃত স্বরূপকে উন্মোচিত করে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ما ((الليبرالية)) في حقيقتها إلا رفض سلطة الدين في شؤون الحياة عقيدة وشريعة ومنهج حياة سياسية واقتصادية واجتماعية وثقافية، وإن حاول بعض دهاقنتها، خداع الدهماء، في بيان حقيقتها، بما لا ينفرهم منها، فيبهرجونها في بادئ الأمر لهم ولا يقدمون لهم، في مفتتح دعوتهم لها، ما يمكن أن تنتبه له بعض عقول الدهماء فينصرفوا عنها.
يزعم دهاقين ((الليبرالية)) الخارجة من عباءة ((الماسونية)) ، أن ((الليبرالية)) دعوة إعلاء شأن الفرد وحريته في الاختيار، والانتماء، والملكية، والقرار، وحقه في المشاركة في عقد اجتماعي، يرتضيه في ظل مجتمع، يوفر كافة ضمانات الحرية بأشكالها الديمقراطية والتوازن الطبيعي في المجتمع)) .
প্রকৃতপক্ষে ‘লিবারেলিজম’ (উদারতাবাদ) হলো আকিদাহ (عقيدة), শরিয়াহ (شريعة) এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনপদ্ধতিসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে দ্বীনের কর্তৃত্বকে অস্বীকার করা। যদিও এর কতিপয় চতুর প্রবক্তা সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার জন্য এর স্বরূপ এমনভাবে বর্ণনা করার চেষ্টা করে যাতে তারা এ থেকে দূরে সরে না যায়; ফলে তারা শুরুতে বিষয়টিকে তাদের সামনে চাকচিক্যময় করে উপস্থাপন করে এবং তাদের দাওয়াতের প্রারম্ভে এমন কিছু পেশ করে না যা সাধারণ মানুষের বোধগম্য হয়ে উঠতে পারে এবং তারা তা থেকে বিমুখ হয়ে যেতে পারে।
‘ফ্রিম্যাসোনারি’ (الماسونية)-র আবরণ থেকে বেরিয়ে আসা ‘লিবারেলিজম’-এর প্রবক্তারা দাবি করে যে, ‘লিবারেলিজম’ হলো ব্যক্তির মর্যাদা সমুন্নত করার এবং পছন্দ, সংশ্লিষ্টতা, মালিকানা ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তার স্বাধীনতার আহ্বান। সেই সঙ্গে এটি এমন এক সামাজিক চুক্তিতে (عقد اجتماعي) অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি করে, যা ব্যক্তি এমন এক সমাজের অধীনে পছন্দ করে নেয় যেখানে গণতন্ত্রের আদলে স্বাধীনতার সকল নিশ্চয়তা এবং সমাজের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহু তাগয়ীরিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
كلمات يغشون بها على عقول كثير من الدهماء، فيتمكنون منهم ويسعون بهم إلى تقويض الوجود المتمكن للأمة المسلمة، ومن خلال تبني سياستهم القائمة على ((إطلاق الحرية الدينية كاملة، وعادلة، ومتساوية، وبلا انحياز، وأن الدولة مهمتها توفير الحرية لكل الأفراد، وحماية مصالحهم المدنية (كذا) وملكياتهم الخاصة، وعلى السلطة عدم التدخل في الشؤون الدينية إلا إِذا كانت بعض الأعمال التي يقوم بها أصحابها بدعوى الدين، تعد محرمة أو مجرمة أصلاً لأسباب غير دينية)) .
এগুলো এমন কিছু শব্দ যার দ্বারা তারা বহু সাধারণ মানুষের (الدهماء) বিবেককে বিভ্রান্ত করে ফেলে; ফলে তারা তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে এবং মুসলিম উম্মাহর সুদৃঢ় অস্তিত্ব বিনাশের অপপ্রয়াস চালায়। আর এটি সম্ভব হয় তাদের গৃহীত সেই নীতিমালার মাধ্যমে যা নিম্নোক্ত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত: ((পূর্ণাঙ্গ, ন্যায়সংগত, সাম্যভিত্তিক এবং কোনো পক্ষপাতহীন ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করা; রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো প্রতিটি ব্যক্তির স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং তাদের নাগরিক স্বার্থ ও ব্যক্তিগত মালিকানা রক্ষা করা—[এভাবেই মূল পাঠে আছে (كذا)]—আর কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হলো ধর্মীয় বিষয়ে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করা; তবে যদি ধর্মের দোহাই দিয়ে ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক সম্পাদিত কোনো কর্মকাণ্ড মূলত অ-ধর্মীয় কোনো কারণে নিষিদ্ধ (محرمة) বা অপরাধ (مجرمة) হিসেবে গণ্য হয়, তবে তা ভিন্ন কথা।))।