(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: -)
فقه الإنكار باليد   (ذياب الغامدي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: فقه الإنكار باليد

المؤلف: ذياد بن سعد آل حمدان الغامدي

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي):41

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হস্ত দ্বারা অন্যায় প্রতিরোধের ফিকহ   (দিয়াব আল-গামিদীয়)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি


গ্রন্থ: হস্ত দ্বারা অন্যায় প্রতিরোধের ফিকহ

লেখক: জিয়াদ বিন সাদ আল হামদান আল-গামিদীয়

প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত গ্রন্থ):৪১

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১)
فِقْهُ الإنْكَارِ باليَدِّ

دِرَاسَةٌ ونَقْدٌ

ذياد بن سعد آل حمدان الغامدي

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدُ لله رَبِّ العالمين، والصَّلاةُ والسَّلامُ على عَبدِه ورَسولِه الأمين. أمَّا بعدُ (1) :

--------------------------------------------

(1) هذا الموضوع عبارةٌ عن فصلٍ مُستلٍ من كتابنا الكبير «أحكام المجاهرين بالكبائر» ، علماً أننا اختصرناه طلباً للفائدة.
হস্তদ্বারা অন্যায়ের প্রতিবাদের ফিকহ (فقه الإنكار باليد)

গবেষণা ও পর্যালোচনা (دراسة ونقد)

যিয়াদ বিন সা’দ আল হামদান আল গামিদীয়

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও বিশ্বস্ত রাসূলের ওপর। অতঃপর (১):

--------------------------------------------

(১) এই বিষয়টি আমাদের বৃহৎ গ্রন্থ «আহকামুল মুজাহিদিন বিল কাবাইর» থেকে সংগৃহীত একটি পরিচ্ছেদ, উল্লেখ্য যে উপযোগিতার খাতিরে আমরা এটি সংক্ষিপ্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২)
فاعلم - رحمني الله وإيِّاك - أنَّ شعيرةَ " الأمرِ بالمعروفِ والنَّهي عن المُنْكرِ" من شَعَائرِ الإسلامِ العِظَامِ، ومن أوجبِ واجباتِ الدِّين؛ كما أنَّه عُنْوانُ الإسلامِ والإيمانِ، ودليلُ السَّعادةِ والأمانِ، والفوْزُ بِعزِّ الدُّنيا ودُولِ الجِنان، وما ذلك إلَاّ أنَّه من أشقِّ ما يحملُه المُكلَّفِ؛ لأنَّه مقامُ الرُّسُلِ، فمتى - لا قدَّر الله - تَهاوَنَ به المسلمون، أو تَخَاذلَ عنه العَالِمُون؛ فعندها يَعُمُّ العذابُ، ويَحِلُّ الهوانُ، ويَتَسلَّطُ الأعداءُ، وتتَغيَّرُ رسومُ الدِّين … إلى غير ذلك من الفتنِ والضَّلالاتِ والمُغالطات التي يكفي بعضُها لهدِمِ معالِمِ الإسلامِ العِظام.
সুতরাং জেনে রাখুন—আল্লাহ আমার ও আপনার ওপর রহম করুন—যে "সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ"-এর বিধানটি ইসলামের মহান নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং দ্বীনের অতি আবশ্যকীয় কর্তব্যসমূহের অন্যতম; যেমনটি এটি ইসলাম ও ঈমানের পরিচায়ক, সৌভাগ্য ও নিরাপত্তার প্রমাণ এবং দুনিয়ার সম্মান ও জান্নাতের নিআমত লাভের মাধ্যম। আর এর কারণ হলো এটি একজন মুকাল্লাফ (مكلف) বা শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তির বহনযোগ্য কঠিনতম দায়িত্বগুলোর একটি; কারণ এটি মূলত রাসূলগণেরই মর্যাদা ও অবস্থান। সুতরাং যখনই—আল্লাহ না করুন—মুসলিমরা এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করবে অথবা আলিমগণ এ থেকে বিমুখ হবে; তখনই আযাব বা শাস্তি ব্যাপক আকার ধারণ করবে, লাঞ্ছনা নেমে আসবে, শত্রুরা আধিপত্য বিস্তার করবে এবং দ্বীনের রীতিনীতিসমূহ পরিবর্তিত হয়ে যাবে … এছাড়াও আরও অনেক ফিতনা (فتنة), পথভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তি দেখা দেবে, যার সামান্য কিছু অংশই ইসলামের মহান নিদর্শনসমূহকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ৩)
وما هذه الشُّبُهاتُ والأدواءُ التي أحاطتْ بنا إحَاطَةَ السِّوارِ بالمَعْصمِ، وهذه الشَّهَواتُ والأهواءُ التي أظلمتْ علينا كقِطَعِ اللَّيلِ المُظْلِم؛ إلَاّ أنَّ "الأمرَ بالمعروفِ والنَّهي عن المُنكرِ" ضَعُفَ جانِبُه، وكَثُرَ في النَّاسِ مُجَانِبُه، حتى وَصَلَ الحالُ عند بعضِ من يُظنُّ بهم أنَّهم حُماةُ الإسلامِ، وأربابُ الدَّعوةِ أن تَرَاجَعُوا القَهْقَري عن مَيَادينِ الدَّعوةِ؛ ممَّا جعلَ العُصاةَ يَمْرحُون في ميادينِ شَهَواتِهم، ويَفْتَخِرُون بعصيانِهم دون حسيبٍ أو رقيبٍ … حتى أصبحَ "الإنكارُ" نسياً منسياً؛ إلَاّ بقِيَّةُ أثارةٍ من عِلمٍ، يَلُوكُونَ بها الألْسُنَ، ويُعطِّرُون بها المَجالِسَ، ولرُبَّما يَتَنَاظَرُون ويُصَنِّفون من أجْلِ تَشْقيقَاتٍ فَرْعيَّةٍ حَوْلَها، في حِينَ أنَّ أرضَ الواقِعِ خُلْوٌ منهم؛ نعم بَدَأ الإسْلامُ غَرِيباً وسَيَعُودُ غريباً!.

আর এই সংশয় ও ব্যাধিগুলো যা আমাদের কবজিতে কঙ্কনের ন্যায় পরিবেষ্টন করে আছে, এবং এই নফসানি লালসা ও কুপ্রবৃত্তি যা অন্ধকার রজনীর ন্যায় আমাদের আচ্ছন্ন করে ফেলেছে—তা কেবল এজন্যই যে, 'সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ'-এর দিকটি দুর্বল (ضعيف) হয়ে পড়েছে এবং মানুষের মাঝে এটি পরিহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যাদের ইসলামের রক্ষক ও দাওয়াতের কর্ণধার মনে করা হয়, তাদের কেউ কেউ দাওয়াতের ময়দান থেকে উল্টো পায়ে পিছু হটেছেন; যার ফলে পাপাচারীরা তাদের প্রবৃত্তির লালসার ময়দানে সদম্ভে বিচরণ করছে এবং কোনো প্রকার জবাবদিহিতা বা তদারকি ছাড়াই তাদের নাফরমানি নিয়ে গর্ববোধ করছে … এমনকি 'অসৎ কাজের প্রতিবাদ' আজ সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত বিষয়ে পরিণত হয়েছে; কেবল ইলমের সামান্য কিছু অবশিষ্টাংশ ছাড়া, যা দিয়ে মানুষ কেবল জিহ্বা নাড়ায় এবং মজলিসগুলোকে সুরভিত করে। সম্ভবত তারা এ সংক্রান্ত সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক ও শাখাগত বিশ্লেষণ নিয়ে বাহাস করেন এবং গ্রন্থ রচনা করেন, অথচ বাস্তব ময়দান তাদের থেকে শূন্য। হ্যাঁ, ইসলাম আগন্তুক (غريب) হিসেবে শুরু হয়েছিল এবং অচিরেই তা আগন্তুক (غريب) হিসেবে ফিরে আসবে!

(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ৪)
حتى إنَّ أحداً لو أرادَ في هذه الأزمنةِ أن يَعتمدَ على يديه لِينهضَ على قَدَميه: لِيُنْكِرَ ما وجب عليه، قال عنه النَّاسُ: ما أكثرَ فضوله، وما أسفه رأيه، وما أضعف عقله!. ومَنْ سَكَتَ عنهم، وأخْلَدَ إليهم، قالوا عنه: ما أكمل عقله، وما أقوى رأيه … !.

أخي: إنَّ الله تعالى قد أخَذَ عليكم مِيثاق هذا الدِّين بأن تُبَيِّنُوه للنَّاس بما أوجب عليكم من الأمرِ والنَّهي، والدَّعوةِ والإرْشادِ، والعِلْمِ والتَّعليمِ، والتَّحذيرِ والإنْذَارِ، وإبعادِ النَّاسِ عن المَرَاتِعِ الوخيمةِ، والأعمالِ السَّيئةِ الذَّميمةِ؛ فإنَّكم مَسْؤولون أمامَ الله تعالى عن ذلك، فأعِدُّوا للسُّؤَالِ جَوَاباً، وللجَوَابِ صَوَاباً؛ قبل {أَنْ تَقُولَ نَفْسٌ يَاحَسْرَتَا عَلَى مَا فَرَّطْتُ فِي جَنْبِ اللَّهِ وَإِنْ كُنْتُ لَمِنَ السَّاخِرِينَ} [الزمر56] .
এমনকী বর্তমান সময়ে যদি কোনো ব্যক্তি তার ওপর আবশ্যিক (واجب) হওয়া দায়িত্ব পালনার্থে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ (إنكار) করার জন্য উঠে দাঁড়াতে চায়, তবে মানুষ তার সম্পর্কে বলে: সে কতই না অনধিকারচর্চাকারী, তার মত কতই না নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ এবং তার বুদ্ধি কতই না দুর্বল! আর যে ব্যক্তি তাদের বিষয়ে নীরব থাকে এবং তাদের প্রতি অনুগত হয়ে পড়ে, তারা তার সম্পর্কে বলে: তার বুদ্ধি কতই না পরিপূর্ণ এবং তার মত কতই না সুদৃঢ় … !.

হে আমার ভাই! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এই দ্বীনের বিষয়ে আপনাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন যেন আপনারা মানুষের কাছে তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন সেই সব বিষয়ের মাধ্যমে যা তিনি আপনাদের ওপর আবশ্যিক (واجب) করেছেন—যেমন আদেশ (أمر) ও নিষেধ (نهي), দাওয়াত ও দিকনির্দেশনা, ইলম ও শিক্ষা প্রদান এবং সতর্কীকরণ ও হুঁশিয়ারি প্রদান করা; আর যেন মানুষকে ক্ষতিকর বিচরণভূমি এবং মন্দ ও নিন্দনীয় কাজ থেকে দূরে রাখা যায়। নিশ্চয়ই আপনারা মহান আল্লাহর দরবারে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবেন। অতএব, জিজ্ঞাসার জন্য উত্তর প্রস্তুত করুন এবং সেই উত্তরের জন্য সঠিকতা (صواب) নিশ্চিত করুন; সেই সময়ের পূর্বেই যখন {কোনো ব্যক্তি বলবে: হায় আক্ষেপ! আল্লাহর প্রতি আমার যে কর্তব্য ছিল তাতে আমি অবহেলা করেছি, আর আমি তো বিদ্রূপকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম} [সূরা যুমার: ৫৬] ।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ৫)
وإذا كانَتْ قِيمةُ العَمَلِ تُقَدَّرُ بأهدافِه في السُّمُوِّ أو خِلافِه؛ فإنَّ أهدافَ "الأمر بالمعروف والنهي عن المُنكر" هي مِنْ أنْبَلِ، وأسْمَى الأهدافِ!، ويكفي شَرَفاً لها وللقيامِ بِها بأنَّها المُهِمَّةُ التي أُرْسِلَ بها الرُّسُلُ من عند ربِّهم لِنَشْرِ الفضيلةِ، ومُحَاربةِ الرَّذيلةِ، وإلزامِ الناس طَرِيقَ الرَّحمن، وإبعادِهم عن طَريقِ الشَّيطانِ، فهل هناك أهدافٌ أعلى وأسْمى من هذه الأهدافِ؟ لا والله!.

وعن هذا الشُّمُولِ لأهدافِ الحسْبةِ؛ يقول أبو حامدٍ الغَزَّالي رحمه الله: " الحسبةُ وظيفةٌ دينيةٌ اجتماعيةٌ؛ قبل أنْ تكون وظيفةً حَكُوميةً؛ فقد شَمِلت جَوانِبَ الحياةِ كُلِّها؛ فقد دَخَلت في دواوينِ السَّلاطين، ومجالسِ القُضَاةِ، ومَدارسِ الفُقَهاءِ، وخَانَاتِ الأسواقِ، والشَّوارعِ، والحَمَّاماتِ والمَسَاجدِ، والبُيُوتِ، والمَارَسْتانات (المستشفى) ، والكَتَاتيب". (1)

--------------------------------------------

(1) انظر «إحياء علوم الدين» للغزالي (1 / 342) .
যদি কোনো কর্মের মূল্য তার লক্ষ্যের মহত্ত্ব কিংবা হীনতার নিরিখে নিরূপিত হয়, তবে "সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ"-এর লক্ষ্যসমূহ সর্বাপেক্ষা মহৎ ও উন্নত লক্ষ্যগুলোর অন্তর্ভুক্ত! এই কার্যের মর্যাদা ও আভিজাত্যের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এটি সেই মহান মিশন যা নিয়ে রাসূলগণ তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত হয়েছেন—সদাচার প্রচার, পাপাচার নির্মূল, মানুষকে রহমানের পথে অনুবর্তী করা এবং শয়তানের পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য। তবে কি এই লক্ষ্যগুলোর চেয়ে উচ্চতর ও মহত্তর কোনো লক্ষ্য থাকতে পারে? না, আল্লাহর কসম!

হিসবাহ-এর লক্ষ্যসমূহের এই ব্যাপকতা সম্পর্কে আবু হামিদ আল-গাজালি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "হিসবাহ একটি ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব; রাষ্ট্রীয় কার্যে রূপান্তরের পূর্বেই এটি এমন ছিল। এটি জীবনের সকল দিককে পরিবেষ্টন করে আছে। এটি সুলতানদের রাজদরবার, বিচারকদের এজলাস, ফকিহদের মাদরাসা, বাজারের দোকানসমূহ, রাজপথ, স্নানাগার, মসজিদ, বসতবাড়ি, চিকিৎসালয় এবং মক্তবসমূহের ভেতরেও প্রবেশ করেছে।" (১)

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: গাজালি রচিত ইহইয়া উলূমিদ্দীন (১ / ৩৪২)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ৬)
وبعد هذا؛ فلا تَحْسِبنَّ أخي المسلم أنَّ "الأمرَ بالمعروف والنَّهيَ عن المُنكر" له أعوانٌ وأنصارٌ؟ كلَاّ؛ بل ما زال هذه الأمرُ في تراجعٍ وتخاذلٍ من بعض المسلمين، فمرَّةً تراهم يعتذرون بالحكمةِ، ومرَّةً بالسَّلامةِ، ومرَّةً بالمصلحة … وهلمَّ جرّا.
অতঃপর; হে আমার মুসলিম ভাই, আপনি এমনটি মনে করবেন না যে "সৎকাজের আদেশ ও মন্দকাজের নিষেধ"-এর কোনো সাহায্যকারী ও সমর্থক রয়েছে? মোটেও না; বরং কতিপয় মুসলিমের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি ক্রমাগত পশ্চাদপসরণ ও অবহেলার শিকার হচ্ছে। কখনো আপনি তাদের প্রজ্ঞার অজুহাত দিতে দেখবেন, কখনো নিরাপত্তার, আবার কখনো বা জনস্বার্থের … এবং এভাবেই চলতে থাকে।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ৭)
ودونك أخي المسلم هذا الكلامَ الرَّبَّاني الذي كان لِزاماً على كلِّ طالبِ علمٍ أن يَقِفَ معه بتدبُّرٍ وتأمُّلٍ، وهو من كنوزِ الحِكَمِ للإمامِ الهُمامِ ابنِ القيم رحمه الله إذ يصفُ لنا حالَ أكثرِ المسلمين بقولِه: " وقد غرَّ إبليسُ أكْثَرَ الخلْقِ بأنْ حَسَّنَ لهم القِيامَ بِنَوْعٍ من الذِّكرِ، والقراءةِ، والصَّلاةِ، والصِّيامِ، والزُّهدِ في الدُّنيا والانقطاعِ، وعَطَّلُوا هذه العُبُودِيَّاتِ، فلم يُحَدِّثُوا قلوبَهم بالقيامِ بها، وهؤلاء عند ورثةِ الأنبياءِ من أقَلِّ الناسِ دِيناً؛ فإنَّ الدِّينَ هو القيامُ لله بما أمرَ به؛ فتاركُ حُقُوقِ الله التي تَجِبُ عليه أسْوأ حَالاً عند اللهِ ورسولِه مِنْ مُرْتكبِ المَعاصي؛ فإنَّ تَرْكَ الأمرِ أعظمُ من ارتِكَابِ النَّهي من أكثرِ مِنْ ثلاثين وجْهاً ذكرها شيخُنا رحمه الله (أي: ابن تيمية) في بعض تصانيفه. ومَنْ له خِبْرةٌ بما بَعَثَ الله به رسولَه صلى الله عليه وسلم، وبما كان عليه هو وأصحابُه؛ رأى أنَّ أكْثَرَ مَنْ يُشَارُ إليهم بالدِّينِ هم أقَلُّ الناس ديناً، والله المستعان.

হে মুসলিম ভ্রাতা, আপনার সম্মুখে রয়েছে সেই রব্বানি বাণী, যা নিয়ে গভীর চিন্তা ও অনুধাবনের সাথে নিমগ্ন হওয়া প্রত্যেক জ্ঞানান্বেষীর জন্য অপরিহার্য। এটি মহান ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ রত্নভাণ্ডারের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে তিনি অধিকাংশ মুসলিমের অবস্থা বর্ণনা করে বলেছেন: "ইবলিস অধিকাংশ সৃষ্টিকে এই বলে প্রলোভিত করেছে যে, সে তাদের নিকট নির্দিষ্ট কিছু জিকির, তিলাওয়াত, সালাত, সিয়াম, দুনিয়াবিমুখতা ও নির্জনবাসের বিষয়গুলোকে সুশোভিত করেছে; অথচ তারা প্রকৃত ইবাদতসমূহকে স্থগিত করে রেখেছে এবং সেগুলো পালনের ব্যাপারে নিজ অন্তরকে সংকল্পবদ্ধ করেনি। নবীদের উত্তরসূরিদের নিকট এরা সবচেয়ে কম দ্বীনদারদের অন্তর্ভুক্ত; কেননা দ্বীন হলো আল্লাহর নির্দেশিত বিষয়সমূহ তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য পালন করা। সুতরাং আল্লাহর যে হকসমূহ পালন করা আবশ্যক, তা বর্জনকারী ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট পাপাচারীর চেয়েও জঘন্য অবস্থায় রয়েছে। কারণ, আল্লাহর আদেশ পালন বর্জন করা তাঁর নিষেধ লঙ্খন করার চেয়েও ত্রিশটিরও অধিক কারণে গুরুতর—যা আমাদের শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) অর্থাৎ ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর কিছু গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন এবং তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ যে আদর্শের ওপর অটল ছিলেন, সে সম্পর্কে যার গভীর প্রজ্ঞা রয়েছে—সে দেখতে পাবে যে, যাদেরকে সাধারণত দ্বীনদার হিসেবে আঙুল দিয়ে নির্দেশ করা হয়, তাদের অধিকাংশই আসলে সবচেয়ে কম দ্বীনদার। আল্লাহর সাহায্যই একমাত্র কাম্য।"

(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ৮)
وأيُّ دِينٍ، وأيُّ خَيْرٍ فِيمن يرى: مَحَارمَ الله تُنْتَهك، وحُدُودَه تُضَاعُ، ودِينَه يُتْرك، وسُنَّةَ رسولِه صلى الله عليه وسلم يُرْغبُ عنها؛ وهو بارِدُ القَلْبِ، سَاكِتُ اللِّسانِ، شَيْطانٌ أخْرسٌ؛ كما أنَّ المُتَكلِّمَ بالباطلِ شيطانٌ ناطقٌ؟ ا.

وهل بَلِيَّةُ الدِّينِ إلَاّ مِنْ هؤلاءِ الذين إذا سَلِمتْ لهم مآكلُهم ورياساتُهم؛ فلا مُبَالاةٍ بما جرى على الدِّينِ؟ ا.

وخِيارُهم المُتَحَزِّنُ المُتَلَمِّظُ، ولو نُوزِعَ في بعضِ ما فيه غَضَاضةٌ عليه في جاهِهِ أو مالِه؛ بَذَلَ وتَبَذَّل، وجَدَّ واجْتَهد، واستعملَ مَرَاتبَ الإنكارِ الثلاثةِ حسب وُسْعِه.

وهؤلاء - مع سُقُوطِهم من عينِ الله ومقتِ الله لهم - قد بُلُوا في الدُّنيا بأعْظَمِ بَلِيَّةٍ تكون وهم لا يَشْعرون، وهو مَوْتُ القُلُوبِ؛ فإنَّ القلبَ كلَّما كانت حياتُه أتَمَّ؛ كان غَضَبُه لله ورسولِه أقوى، وانْتِصَارُه للدِّينِ أكمل" (1) .

--------------------------------------------

(1) ـ انظر «إعلام الموقعين» لابن القيم (2 / 176-177) .

আর সে ব্যক্তির মাঝে কোন দ্বীন বা কীইবা কল্যাণ অবশিষ্ট আছে, যে দেখে যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো লঙ্ঘিত হচ্ছে, তাঁর নির্ধারিত সীমানাগুলো বিনষ্ট হচ্ছে, তাঁর দ্বীন পরিত্যক্ত হচ্ছে এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ থেকে বিমুখতা প্রদর্শন করা হচ্ছে; অথচ সে নির্বিকার চিত্তে ও মৌন মুখে তা দেখে যায়? সে তো এক বোবা শয়তান; যেমনটি বাতিল বা অসত্য উচ্চারণকারী হলো একজন কথা বলা শয়তান।

আর দ্বীনের বিপর্যয় কি তাদের মাধ্যমেই ঘটে না, যাদের যখন নিজেদের পানাহার এবং পদমর্যাদা নিরাপদ থাকে, তখন দ্বীনের ওপর দিয়ে যা-ই বয়ে যাক না কেন, তাতে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ থাকে না?

তাদের মধ্যে যারা উত্তম বলে বিবেচিত, তারা বড়জোর ব্যথিত হওয়ার ভান করে বা আক্ষেপ প্রকাশ করে। অথচ যদি তার সম্মান বা সম্পদের সামান্যতম অমর্যাদা হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হতো, তবে সে সর্বস্ব বিলিয়ে দিত, জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করত এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিবাদের তিনটি স্তরই ব্যবহার করত।

এসব লোক—আল্লাহর দৃষ্টি থেকে পড়ে যাওয়া এবং তাঁর ক্রোধের শিকার হওয়ার পাশাপাশি—দুনিয়াতে এমন এক চরম বিপদে আক্রান্ত হয়েছে যা তারা অনুভবও করতে পারছে না, আর তা হলো অন্তরের মৃত্যু। কেননা, অন্তরের জীবন বা প্রাণশক্তি যত বেশি পূর্ণাঙ্গ হয়, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির নিমিত্তে তার ক্রোধ তত বেশি প্রবল হয় এবং দ্বীনের পক্ষে তার সহযোগিতা তত বেশি সুদৃঢ় ও নিখুঁত হয়।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ইবনুল কায়্যিম রচিত 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' (২ / ১৭৬-১৭৭)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ৯)
والذين يُؤْثِرُون السَّلامَةَ في أديانِهم - فيما زعموا - وفي أبدانِهم، ويَتْرُكُون الأمرَ والنَّهيَ الواجبَ عليهم - مع القُدْرةِ عليه - لهذا السبب: هم كالمُسْتجيرِ مِنَ الرَّمْضاءِ بالنَّارِ؛ (1) إذْ صُورَةُ حَالِهم أنَّهم يَهْرُبُون من ضَرَرٍ مُتَوقَّعٍ إلى ضَررٍ واقعٍ؛ كما قال الله تعالى عن المنافقين: {وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ ائْذَنْ لِي وَلَا تَفْتِنِّي أَلَا فِي الْفِتْنَةِ سَقَطُوا وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِيطَةٌ بِالْكَافِرِينَ} [التوبة49] .

وفي هذا يقول شيخ الإسلامِ ابنُ تيمية: " ولَمَّا كان في الأمرِ بالمعروفِ والنهي عن المُنكرِ، والجهادِ في سبيلِ الله مِنَ الابتلاءِ والمِحَنِ ما يَتَعرَّضُ به المَرْءُ للفِتْنةِ؛ صَارَ في النَّاسِ مَنْ يَتَعلَّلُ لتركِ ما وجب عليه من ذلك بأنْ يَطْلُبَ السَّلامةَ من الفتنةِ؛ كما قال تعالى عن المنافقين: {وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ ائْذَنْ لِي وَلَا تَفْتِنِّي أَلَا فِي الْفِتْنَةِ سَقَطُوا} [التوبة49] .

--------------------------------------------

(1) ـ انظر «مجمع الأمثال» للميداني (2 / 149) .
আর যারা তাদের দ্বীন—যেমনটি তারা দাবি করে—এবং তাদের জীবনের নিরাপত্তা লাভকে প্রাধান্য দেয় এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এই কারণে তাদের ওপর অর্পিত আবশ্যিক (واجب) সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ বর্জন করে, তারা যেন উত্তপ্ত মরুবালু থেকে বাঁচতে আগুনের আশ্রয় গ্রহণকারী; কেননা তাদের প্রকৃত অবস্থা এই যে, তারা একটি সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে বাঁচতে গিয়ে একটি বাস্তব ক্ষতির দিকেই ধাবিত হচ্ছে। যেমনটি মহান আল্লাহ মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেছেন: {আর তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে বলে, 'আমাকে (অব্যাহতি পাওয়ার) অনুমতি দিন এবং আমাকে ফিতনা (فتنة) বা পরীক্ষার মুখে ফেলবেন না।' জেনে রেখো, তারা তো ফিতনার (فتنة) মধ্যেই নিপতিত হয়েছে। আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করে থাকবে।} [আত-তাওবাহ: ৪৯]।

এ বিষয়ে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ এবং আল্লাহর পথে জিহাদের মধ্যে যেহেতু এমন কিছু পরীক্ষা ও ক্লেশ রয়েছে যার মাধ্যমে মানুষ ফিতনার (فتنة) সম্মুখীন হয়; তাই মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা ফিতনা (فتنة) থেকে নিরাপদ থাকার অজুহাতে তাদের ওপর অর্পিত আবশ্যিক (واجب) দায়িত্ব বর্জনের বাহানা তালাশ করে। যেমনটি মহান আল্লাহ মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেছেন: {আর তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে বলে, 'আমাকে অনুমতি দিন এবং আমাকে ফিতনার (فتنة) মুখে ফেলবেন না।' জেনে রেখো, তারা তো ফিতনার (فتنة) মধ্যেই নিপতিত হয়েছে।} [আত-তাওবাহ: ৪৯]।

--------------------------------------------

(১) দেখুন আল-মায়দানীর মাজমাউল আমসাল (২ / ১৪৯)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১০)
ثمَّ قال: إنَّ نَفْسَ إعْرَاضِه عن الجهادِ الواجبِ، ونُكُولَه عنه، وضَعْفَ إيمانِه، ومَرَضَ قلبِه الذي زَيَّنَ له تَرْكَ الجهاد: فِتْنةٌ عظيمةٌ قد سَقَطَ فيها، فكيف يَطْلُبُ التَّخَلُّصَ مِنْ فِتْنةٍ صَغيرةٍ لم تُصِبْه بِوُقُوعِه في فتنةٍ عظيمةٍ قد أصَابَتْهُ؟!.

ثمَّ قال: فَمَنْ تَرَكَ القِتَالَ الذي أمَرَ الله به؛ لئلا تكون فتنةٌ؛ فهو في الفتنةِ سَاقطٌ؛ لِمَا وقع فيه مِنْ رَيْبِ قَلْبِه، ومَرَضِ فؤادِه، وتَرْكِ ما أمَرَهُ الله به من الجهاد". (1) ويقولُ أيضاً: " وإذا كان كذلك فمعلومٌ أنَّ الأمرَ بالمعروفِ والنَّهيَ عن المُنكرِ، وإتْمَامَه، والجهادَ هو من أعظمِ المعروفِ الذي أُمِرْنا به … وإذا كان هو أعظمُ الواجباتِ والمُستحبَّاتِ، فالواجباتُ والمستحبَّاتُ لا بُدَّ أنْ تكون المصلحةُ فيها راجحةً على المفسدةِ؛ إذ بهذا بُعِثَتِ الرُّسُلُ، وأُنْزِلتِ الكُتُبُ والله لا يُحِبُّ الفسادَ". (2)

--------------------------------------------

(1) ـ انظر «الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر» لابن تيمية ص (76 - 77) .

(2) ـ انظر «الحسبة» لابن تيمية ص (3) .
অতঃপর তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই ওয়াজিব (واجب) জিহাদ থেকে তার বিমুখতা, তা থেকে তার পিছুটান দেওয়া, তার ঈমানের দুর্বলতা এবং তার অন্তরের সেই ব্যাধি যা তার নিকট জিহাদ বর্জনকে সুশোভিত করেছে—তা এক মহা ফিতনা (فتنة) যার মধ্যে সে নিপতিত হয়েছে। তবে সে কীভাবে এমন এক ক্ষুদ্র ফিতনা (فتنة) থেকে বাঁচার পথ খুঁজতে পারে যা তাকে স্পর্শই করেনি, অথচ সে এক মহা ফিতনার (فتنة) মধ্যে নিপতিত হয়েছে যা ইতিপূর্বেই তাকে গ্রাস করেছে?!"

অতঃপর তিনি বলেন: "সুতরাং আল্লাহ যে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তা কেউ যদি এই ভয়ে বর্জন করে যাতে ফিতনা সৃষ্টি না হয়; তবে সে ফিতনার (فتنة) মধ্যেই নিপতিত; কারণ তার অন্তরের সংশয়, হৃদয়ের ব্যাধি এবং আল্লাহর নির্দেশিত জিহাদ বর্জনের কারণেই সে তাতে নিপতিত হয়েছে।" (১) তিনি আরও বলেন: "আর যখন বিষয়টি এমনই, তখন এটি সুবিদিত যে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা, তা পূর্ণাঙ্গ করা এবং জিহাদ হলো সেই মহান সৎকাজের অন্তর্ভুক্ত যার নির্দেশ আমাদের দেওয়া হয়েছে … আর যেহেতু এটি মহান আবশ্যকীয় (واجبات) ও পছন্দনীয় (مستحبات) আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তাই আবশ্যকীয় ও পছন্দনীয় কার্যাবলীর ক্ষেত্রে অবশ্যই জনকল্যাণের (مصلحة) বিষয়টি ক্ষতির (مفسدة) ওপর প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجحة) হতে হবে; কারণ এই উদ্দেশ্যেই রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে, আর আল্লাহ ফাসাদ বা বিপর্যয় পছন্দ করেন না।" (২)

--------------------------------------------

(১) দেখুন ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত ‘আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার’, পৃষ্ঠা (৭৬ - ৭৭)।

(২) দেখুন ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত ‘আল-হিসবাহ’, পৃষ্ঠা (৩)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১১)
كما أنَّني هنا لم أقْصِدْ الكلامَ عن "الأمرِ بالمعروف والنهي عن المُنكر" بكُلِّ ما له من مسائلَ ودلائلَ … إلى غيرِ ذلك من مباحثِه العِظام؛ كلَاّ لم أقْصِدْ شيئاً من ذلك؛ وما هذا إلَاّ أنَّ (المسألةَ) قد بُحثتْ عند كثيرٍ من أهلِ العلمِ - السَّلفِ منهم والخلفِ - في مُصنَّفاتٍ مُستقِلَّةٍ، وكلٌّ منهم بحسبِه، إلَاّ أنَّها في مَجْمُوعِها قد أخذتْ بمجامعِ مسألتِنا جملةً وتفصيلاً، والحمدُ لله ربِّ العالمين. لأجلِ هذا؛ كان من الحكمةِ أن اختصرَ الطريقَ، وأقفَ على مواقعَ الدَّاء التي أحسبُها من جادَّةِ بحثنا، مع بيانِ ما شابها من الْتِبَاسٍ وشُبهٍ عند بعضِ طلبةِ العلمِ من أهلِ زماننا، ناهيك عمَّن سواهم.

أقولُ: لقد جَاءتِ النُّصوصُ الشَّرعيةُ من الكتابِ، والسنةِ، والإجماعِ، وأقوالِ السَّلفِ بوجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المُنكر، وهي كثيرةٌ جداً لا يحيطُ بها مثلُ هذا المقامِ؛ لذا سنقتصر هنا على ما فيه مَقْنَعٌ وغُنْيةٌ.
তদ্রূপ, আমি এখানে 'সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ' সংক্রান্ত যাবতীয় মাসআলা ও দলীলসমূহ … এবং এর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনার সংকল্প করিনি; না, আমি এর কোনো কিছুই উদ্দেশ্য করিনি। এর কারণ কেবল এটাই যে, এই (বিষয়টি) অনেক বিজ্ঞ আলেম — যাঁদের মধ্যে পূর্বসূরি (سلف) এবং উত্তরসূরি (خلف) উভয়ই রয়েছেন — স্বতন্ত্র কিতাবসমূহে আলোচনা করেছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে তা সম্পাদন করেছেন। তবে সামষ্টিকভাবে তাঁদের সেই আলোচনা আমাদের আলোচ্য বিষয়ের সামগ্রিক ও বিস্তারিত দিকসমূহকে পরিপূর্ণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে, আর সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। একারণেই সংক্ষিপ্ত পথ অবলম্বন করা এবং ব্যাধির সেই স্থানসমূহ চিহ্নিত করা আমি প্রজ্ঞাপ্রসূত মনে করেছি যা আমাদের গবেষণার মূলপথ বলে আমি মনে করি। সেই সাথে আমাদের সমসাময়িক কিছু ইলম অন্বেষী বা তালিবে ইলমের মাঝে এ সংক্রান্ত যে অস্পষ্টতা ও সংশয় পরিলক্ষিত হয় তা নিরসন করাও আমার লক্ষ্য, আর অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য।

আমি বলছি: কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা (إجماع) এবং পূর্বসূরিদের (سلف) বক্তব্যের আলোকে 'সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ' আবশ্যক (واجب) হওয়ার ব্যাপারে অসংখ্য শরয়ি নস (نصوص) বিদ্যমান, যা এ ধরণের সংক্ষিপ্ত পরিসরে পরিপূর্ণভাবে বেষ্টন করা সম্ভব নয়। তাই আমরা এখানে কেবল ঐটুকুর ওপরই সীমাবদ্ধ থাকব যা সন্তোষজনক ও পর্যাপ্ত।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১২)
يقول الله تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [آل عمران 104] . وقال تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} [آل عمران 110] ، ولذا نجدُ عُمَرَ بنَ الخطاب رضي الله عنه يقول بعد أن قرأ الآية السَّابقةَ: " يا أيها الناس مَنْ أراد أن يكون من هذه الأمَّةِ فليُؤَدِّ شَرْطَ الله فيها ". (1)

وفي حديث أبي سعيد الخُدْري رضي الله عنه قال: سمعتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من رأى منكم منكرا فليغيره بيده، فإن لم يستطع فبلسانِه، فإن لم يستطع فبقلبِه وذلك أضعفُ الإيمان» (2) مسلم.

--------------------------------------------

(1) انظر «الدر المنثور» للسيوطي (2 / 63) .

(2) ـ أخرجه مسلم (1 / 69) .
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের মধ্যে এমন একটি উম্মত থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই হলো সফলকাম} [আল ইমরান ১০৪]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে মানবজাতির জন্য; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করো} [আল ইমরান ১১০]। এ কারণেই উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) পূর্বোক্ত আয়াতটি পাঠ করার পর বলতেন: "হে লোকসকল! যে ব্যক্তি এই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হতে চায়, সে যেন এর ব্যাপারে আল্লাহর শর্ত পূরণ করে।" (১)

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: «তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো গর্হিত কাজ (منكر) দেখে তবে সে যেন তা নিজ হাতে পরিবর্তন করে দেয়; যদি সে সক্ষম না হয় তবে যেন তার জিহ্বা দিয়ে (প্রতিবাদ করে); আর যদি সে সক্ষম না হয় তবে যেন তার অন্তর দিয়ে (তা ঘৃণা করে), আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর।» (২) মুসলিম।

--------------------------------------------

(১) দেখুন সুয়ুতির «আদ-দুররুল মানসুর» (২ / ৬৩)।

(২) — এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১ / ৬৯)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وهذه بعضُ أقوالِ أهلِ العلمِ في شرحِ هذا الحديثِ، يقولُ أبو الفضل عياض رحمه الله: " هذا الحديث أصلٌ في صفةِ التَّغيير فحقُّ المُغيِّر أن يُغيِّرَه بكلِّ وجهٍ أمكن زوالُه به، قولاً كان أو فعلاً، فيكسر آلات الباطل، أو يُريق المُسكر بنفسه، أو يأمرُ من يفعله، وينزعَ المغصُوب ويردها إلى أصحابها بنفسه أو بأمرِه إذا أمكنه". (1)

أمَّا ما أُثِرَ عن بعضِ السَّلفِ رضي الله عنهم -فقد رُوِيَ عن أبي بكر رضي الله عنه قوله: " يا أيها الناس ائْتَمِرُوا بالمعروفِ وانْهَوْا عن المنكرِ، تَعيشُوا بخيرٍ". (2) وقال علي رضي الله عنه: " من أمر بالمعروفِ شَدَّ ظَهْرَ المؤمنين، ومن نَهَى عن المنكرِ رَغَّمَ أنْفَ المنافقين" (3) . وقال حذيفة بن اليمان رضي الله عنه حين سُئلَ عن ميتِ الأحياءِ؟ فقال: " الذي لا يُنْكرُ المُنْكرَ بيدِه ولا بلسانِه ولا بقلبِه". (4)

كما دلَّ على وُجُوبِ الأمرِ بالمعروفِ والنهي عن المنكرِ إجماعُ الأمَّةِ، كما نقل ذلك الإمامُ النَّوويُّ، وابنُ عبد البرِّ، والقرطبي وغيرهم (5) كما سيأتي بيانه إن شاء الله.

--------------------------------------------

(1) ـ انظر «شرح مسلم» للنووي (2 / 25) .

(2) ـ انظر «تفسير الرازي» (8 / 179) .

(3) ـ انظر «نصاب الاحتساب» لعمر السنامي (97) .

(4) ـ انظر «إحياء علوم الدين» للغزالي (2 / 311) .

(5) ـ انظر «شرح مسلم» للنووي (1 / 22) ، و «الكنز الأكبر» لعبد الرحمن الحنبلي ص (113) ، و «الجامع لأحكام القرآن» للقرطبي (4 / 48) .
এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বিদগ্ধ আলেমদের কিছু বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো। আবু আল-ফজল ইয়াদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এই হাদিসটি পরিবর্তনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে একটি মূল ভিত্তি (أصل); সুতরাং পরিবর্তনকারীর জন্য কর্তব্য হলো একে এমন প্রতিটি উপায়ে পরিবর্তন করা যার মাধ্যমে তা দূর করা সম্ভব হয়, তা কথার মাধ্যমে হোক বা কাজের মাধ্যমে। ফলে সে বাতিলের সরঞ্জামসমূহ ভেঙে ফেলবে, অথবা নিজেই মাদকদ্রব্য ঢেলে ফেলে দেবে কিংবা অন্য কাউকে তা করার নির্দেশ দেবে, এবং অন্যায়ভাবে দখলকৃত বস্তু উদ্ধার করবে এবং নিজে অথবা তার নির্দেশের মাধ্যমে সম্ভব হলে তা প্রকৃত মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেবে।" (১)

সালাফদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে—আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: "হে লোকসকল! তোমরা সৎ কাজের আদেশ (أمر بالمعروف) দাও এবং অসৎ কাজের নিষেধ (نهي عن المنكر) করো, তবেই তোমরা কল্যাণে জীবনযাপন করতে পারবে।" (২) আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "যে ব্যক্তি সৎ কাজের আদেশ (أمر بالمعروف) দেয়, সে মুমিনদের কোমর শক্তিশালী করে, আর যে ব্যক্তি অসৎ কাজের নিষেধ (نهي عن المنكر) করে, সে মুনাফিকদের নাক ধূলিমলিন করে।" (৩) হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে যখন 'জীবিত মৃত' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "সেই ব্যক্তি, যে তার হাত, জবান কিংবা অন্তর দিয়ে অসৎ কাজের প্রতিবাদ (ينكر المنكر) করে না।" (৪)

তেমনিভাবে সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে উম্মাহর সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) প্রমাণ বহন করে, যা ইমাম নববী, ইবনে আবদিল বারর, কুরতুবী এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন, যা ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত আলোচিত হবে।

--------------------------------------------

(১) ـ দেখুন: নববীর শারহু মুসলিম (২/২৫)।

(২) ـ দেখুন: তাফসিরে রাজি (৮/১৭৯)।

(৩) ـ দেখুন: ওমর আস-সানামির নিসাবুল ইহতিসাব (৯৭)।

(৪) ـ দেখুন: গাজালির ইহিয়াউ উলুমিদ্দিন (২/৩১১)।

(৫) ـ দেখুন: নববীর শারহু মুসলিম (১/২২), আবদুর রহমান আল-হাম্বলির আল-কানজুল আকবার পৃষ্ঠা (১১৩), এবং কুরতুবীর আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (৪/৪৮)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وبعد أن ذكرْنا الأدلَّةَ القاطعةَ على وجوبِ "الأمر بالمعروف والنهي عن المُنكر"؛ كان من المُناسبِ أن نَذْكُرَ شُرُوطَ الآمرِ بالمعروفِ والنَّاهي عن المُنكر على وجه الاختصار، وهي كما يلي: (شروطٌ مُتَّفقٌ عليها، وشروطٌ مُختلفٌ فيها) .

فأمَّا الشُّروطُ المُتَّفقُ عليها؛ فهي: الإسلامُ، والتَّكليفُ، والاستطاعة.

أمَّا الشُّروطُ المُختلفُ فيها؛ فهي: العدالةُ، وإذنُ الوالي.

وهذا ما قاله ابنُ النَّحَّاسِ رحمه الله: " يُشترطُ لإيجابِ الأمرِ بالمعروفِ والنَّهي عن المُنكرِ؛ ثلاثةُ شُرُوطٍ: الإسلامُ، والتَّكليفُ، والاستطاعةُ. واخْتُلِفَ في العدالةِ، والإذْنِ من الإمام". (1)

وبعد هذا؛ أحببنا أنْ نَقِفَ مع بعضِ الأحكامِ المُختلفِ فيها التي فُهِمتْ على غيرِ وجهِهَا الشَّرعي، لا سيما عند بعضِ طلبةِ العلمِ!. وذلك من خلالِ مسائلَ مُهمَّةٍ:

--------------------------------------------

(1) انظر «تنبيه الغافلين» للنحاس ص (33) .
সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ ওয়াজিব বা আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য প্রমাণাদি উল্লেখ করার পর, এখন সংক্ষেপে সৎ কাজের আদেশদাতা এবং অসৎ কাজের নিষেধকারীর শর্তাবলি উল্লেখ করা সংগত মনে করছি। সেগুলো হলো: (সর্বসম্মত শর্তাবলি (شروط متفق عليها) এবং মতভেদপূর্ণ শর্তাবলি (شروط مختلف فيها))।

সর্বসম্মত শর্তাবলি (شروط متفق عليها) হলো: ইসলাম (الإسلام), শরয়ি দায়িত্বভার (التكليف) এবং সামর্থ্য (الاستطاعة)।

আর মতভেদপূর্ণ শর্তাবলি (شروط مختلف فيها) হলো: ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) এবং শাসকের অনুমতি।

এ বিষয়ে ইবনুন নাহহাস রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ ওয়াজিব হওয়ার জন্য তিনটি শর্তারোপ করা হয়: ইসলাম (الإسلام), শরয়ি দায়িত্বভার (التكليف) এবং সামর্থ্য (الاستطاعة)। তবে ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) এবং ইমামের অনুমতির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।" (১)

এরপর আমরা এমন কিছু মতভেদপূর্ণ (مختلف فيها) বিধানাবলি নিয়ে আলোচনা করতে চাই, যা সেগুলোর সঠিক শরয়ি পন্থায় বোঝা হয়নি, বিশেষ করে কিছু ইলম অন্বেষণকারীর নিকট! আর তা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: নাহহাস রচিত তানবিহুল গাফিলিন, পৃষ্ঠা (৩৩)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌القولُ الأولُ: من قال إنَّه خاصٌ بالسُّلطان (بنفسِه، أو أهلِ الحسْبةِ) واستدلُّوا بما يلي:

أولاً: أنَّ الإنكارَ باليدِ إذا فعله آحادُ الرَّعيَّةِ، سوف يترتَّبُ عليه فتنٌ وفوضى.

ثانياً: أنَّ فيه افْتِئاتاً على وَليِّ الأمْرِ!.

ثالثاً: أنَّ تغيرَ المنكر باليدِّ يحتاجُ إلى قُوَّةٍ، والقوَّةُ من شأنِ السُّلطان. إلى غير ذلك من التعليلاتِ.

علماً أن أكثرَ هذه التَّعليلاتِ للأسفِ لم تكن نابعةً من بَسْطةٍ في العِلْمِ، أو تأصيلٍ شرعي، أو اسْتِنَادٍ على آيةٍ مُحْكَمةٍ، أو سُنَّةٍ ناطقةٍ، أو قولِ صَحَابي، أو قياسٍ صحيحٍ؛ كلَاّ!.
‌‌প্রথম মত: যারা বলেন যে, এটি শাসকের (নিজেই, অথবা হিসবাহ বা জনশৃঙ্খলা রক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের) জন্য নির্দিষ্ট এবং তারা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:

প্রথমত: হাত দ্বারা মন্দ প্রতিহত করা (الإنكار) যদি সাধারণ প্রজারা সম্পাদন করে, তবে এর ফলে ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

দ্বিতীয়ত: এতে উলিল আমরের (কর্তৃপক্ষের) ওপর অনধিকার হস্তক্ষেপ করা হয়!

তৃতীয়ত: হাত দ্বারা মন্দ পরিবর্তন করার জন্য শক্তির প্রয়োজন, আর শক্তি প্রয়োগ করা শাসকেরই কাজ। এই জাতীয় আরও অন্যান্য কারণসমূহ।

উল্লেখ্য যে, পরিতাপের বিষয় হলো, এই অধিকাংশ যুক্তিগুলো অগাধ জ্ঞান, শরয়ি মূলনীতি (تأصيل), কোনো সুস্পষ্ট (محكمة) আয়াত, বাণীরূপ সুন্নাহ, সাহাবীর বক্তব্য কিংবা সঠিক কিয়াসের (قياس صحيح) ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়নি; মোটেও না!
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
إنَّ أكثرَ هذه التعليلاتِ - للأسفِ - كانت نتيجةَ الضُّغوطِ المشحونةِ بالاستبدادِ الجائرِ، والظُّلمِ الغاشِمِ، والجهلِ السَّائدِ، والأذى المقيت، وغير ذلك من الاعتداءات الذي انتحلتْها سِلْسِلَةُ تسَلُّطِ الحُكَّامِ الجائرين على رِقابِ أكثرِ بلادِ المسلمين !، فكان من سَوَالِب هذه التَّهديدات أنَّ طائفةً من أهلِ العلمِ تَخَلَّوْا عن القيامِ بوظيفةِ "الأمر بالمعروف والنهي عن المُنكر"، لا سيما إذا عَلِمْتَ أنَّ أسْمَى وأفضلَ مَرَاتِبِ الإنكارِ ما كان باليَدِ، فعند ذلك كان الإنكارُ باليدِ عندهم محلَّ نظرٍ ومُحاسبةٍ، أو قُلْ: مَظِنَّةَ حَبْسٍ وإيذاءٍ، وربَّما قتلٍ!.

وعند هذا؛ كان على العاقلِ أن يَعْلمَ أنَّ أصحابَ هذا القولِ؛ كانوا حصادَ هذه الاعتداءات الغاشِمةِ التي اخْتَطَّتها سياسةُ أكثرِ حُكَّامِ المسلمين، إلَاّ أنَّنا مع هذا (الاعتذار) لا نُقِرُّهُم على هذه التَّعليلاتِ (المَعْلُولةِ) ؛ فضلاً أن يجعلوها دليلاً مُستقِلاً تُبنى عليه أحكامٌ شرعيَّةٌ، أو تكون تخصيصاً لعمومِ الأدلَّةِ، أو قيداً لمُطلقِها!.
আফসোস যে—এই ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণগুলোর (التعليلات) অধিকাংশ ছিল জালেম স্বৈরাচারদের চাপ, চরম জুলুম, বিদ্যমান অজ্ঞতা এবং ঘৃণ্য হয়রানির ফসল; আর এটি ছিল সেই সব অত্যাচার ও আগ্রাসনের ধারাবাহিকতা যা জালেম শাসকদের আধিপত্যের শৃঙ্খল অধিকাংশ মুসলিম ভূখণ্ডের জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছিল! এই হুমকিগুলোর নেতিবাচক প্রভাবের ফলে একদল আলিম ‘সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ (المنكر)’ করার দায়িত্ব পালন থেকে বিমুখ হয়েছিলেন; বিশেষত যখন আপনি জানবেন যে, প্রতিবাদের সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠ স্তর হলো হাতের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা। এমতাবস্থায় তাদের নিকট হাতের মাধ্যমে প্রতিবাদ করাটা ছিল পর্যালোচনার বিষয় ও জবাবদিহিতার ভয়, অথবা বলা যায়: কারাবরণ ও নির্যাতনের আশঙ্কা, এমনকি হয়তো হত্যার শিকার হওয়া!

এমতাবস্থায় একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির জানা উচিত যে, এই মতের প্রবক্তারা ছিলেন সেই চরম আগ্রাসনের শিকার যা অধিকাংশ মুসলিম শাসকের রাজনীতি কর্তৃক নির্ধারিত হয়েছিল। তবে এই (অজুহাত) থাকা সত্ত্বেও আমরা তাদের এই ত্রুটিযুক্ত (المعلولة) ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণগুলোকে (التعليلات) সমর্থন করি না; আর এগুলোকে স্বতন্ত্র দলিল হিসেবে গ্রহণ করে তার ওপর শরয়ি বিধানের ভিত্তি স্থাপন করা, কিংবা সাধারণ (عام) দলিলের বিশেষায়ন (تخصيص) করা অথবা নিঃশর্ত (مطلق) বিধানকে শর্তযুক্ত (تقييد) করার তো প্রশ্নই আসে না!
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
كما أنَّني لا أشكُّ أنَّ أكثرَ أصحابِ هذا القولِ قد دخلَ عليهم الرَّوعُ والخوْفُ، أو حُبُّ السَّلامةِ بطريقٍ أو آخر!؛ فعند هذا أضحت مسألةُ (الإنكارِ باليَدِ) عندهم مُعلَّقةً بخاصَّةِ السُّلطان، أو من ولَاّهُ من أهلِ الحسبةِ، مع علمهم (القطعي) أنَّ أهلَ الحسبةِ في زماننا ليس لهم في قانونِ حُكَّامِ أكثرِ بلادِ المُسلمين من الأمرِ شيءٌ!؛ اللهم صلاحيات نِظامية، وترتيبات إدارية، ومعاملات رقابية، حيث سُحِبتْ منهم أكثرُ الصَّلاحيات الشَّرعية، وحاصلُ الأمرِ؛ بل حقيقة الأمرِ: لا (إنكارَ باليدِ) !، فلا السُّلطان يُغَيِّر بيدِه، ولا أهلُ الحسبةِ يجرؤن على التَّغيير باليدِّ، ولا أهلُ المعاصي المُجاهرون ينتهون!؛ بل لم يَزَلِ الفسادُ يَتَفاقَم أمرُه، ويتطاير شَررُه، اللهم رُحماك، اللهم رُحماك!.

একইসাথে আমি এ বিষয়ে কোনো সংশয় পোষণ করি না যে, এই মতের প্রবক্তাদের অধিকাংশের হৃদয়ে কোনো না কোনোভাবে শঙ্কাবোধ ও ভীতি অথবা নিরাপদ থাকার আকাঙ্ক্ষা প্রবেশ করেছে! ফলে এমতাবস্থায় তাঁদের নিকট ‘হাত দ্বারা অন্যায় প্রতিরোধ (الإنكار باليد)’ করার বিষয়টি কেবল শাসকের বিশেষ এখতিয়ার কিংবা তাঁর পক্ষ থেকে নিয়োজিত হিসবাহ কর্তৃপক্ষের (أهل الحسبة) বিষয়ের সাথে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে; যদিও তাঁরা নিশ্চিতভাবে (القطعي) জানেন যে, আমাদের বর্তমান যুগে অধিকাংশ মুসলিম দেশের শাসকদের আইনে হিসবাহ কর্তৃপক্ষের (أهل الحسبة) কোনো কার্যকর ক্ষমতা অবশিষ্ট নেই! বড়জোর কিছু নিয়মমাফিক এখতিয়ার, প্রশাসনিক বিন্যাস ও তদারকিমূলক কার্যক্রম রয়েছে; কারণ তাঁদের থেকে অধিকাংশ শারয়ি (الشرعية) ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আর সারকথা, বরং প্রকৃত বাস্তবতা হলো: কার্যত কোনো ‘হাত দ্বারা অন্যায় প্রতিরোধ (الإنكار باليد)’ নেই! কেননা, না শাসক নিজ হাতে পরিবর্তন করেন, না হিসবাহ কর্তৃপক্ষ (أهل الحسبة) হাত দ্বারা পরিবর্তনের সাহস করেন, আর না প্রকাশ্য পাপাচারীরা বিরত থাকে! বরং ফিতনা-ফাসাদের প্রকোপ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে এবং তার স্ফুলিঙ্গ চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। হে আল্লাহ! আপনি দয়া করুন, হে আল্লাহ! আপনি রহম করুন!

(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
لذا؛ كان ينبغي أنْ نعلمَ أنَّ أصحابَ هذا القولِ ليس لهم مِنَ الدَّليلِ الشَّرعي نصيبٌ يُؤثر، اللَّهم إلَاّ مُتَشَابهاتٌ، وتعليلاتٌ ما أنْزَلَ الله بها مِنْ سُلطان!. في حين أنَّ كثيراً من العلماءِ من أهل التَّحقيقِ قد غَلَّطوا من قال: إنَّ إذْنَ السُّلطانِ مُعتبرٌ في آحَادِ الرَّعيَّةِ!. وعلى رأسهم الإمامُ الغَزَّاليُّ رحمه الله حيثُ وَصفَ هذا الشَّرطَ بالفسادِ، بقوله: " هذا الشَّرطُ فاسدٌ؛ فإنَّ الآياتِ والأخبارَ التي أوْرَدْنَاها تَدُلُّ على أنَّ كُلَّ مَنْ رأى مُنْكراً؛ فَسَكتَ عليه عَصَى، إذْ يَجِبُ نَهْيُهُ أيْنَما رآه، وكيفما رآه على العمومِ، فالتَّخْصِيصُ بشرطِ التَّفْويضِ من الإمامِ تَحَكُّمٌ لا أصْلَ له". وقال أيضاً: " بل «أفضلُ الدَّرجاتِ كلمةُ حقٍّ عند سُلْطانٍ جائرٍ،» كما وَرَد في الحديثِ، (1) فإذا جازَ الحُكْمُ على الإمامِ على مُرَاغَمَتِه؛ فكيف يَحْتَاجُ إلى إذْنِه؟ ". وقال أيضاً: " واستمرارُ عاداتِ السَّلفِ على الحسبةِ على الوُلاةِ قاطعٌ بإجماعِهم على الاستغْناءِ عن التَّفويضِ؛ بل كُلُّ مَنْ أمَرَ بمعروفٍ، فإن كان الوالي راضياً فذاك، وإن كان ساخطاً له فَسُخْطُه

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد (3 / 19) ، وأبو داود (4344) ، والحاكم (4 / 505، 506) وصححه الحاكم، وسنده صحيح.
তাই; আমাদের জানা উচিত যে, যারা এ মত পোষণ করেন তাদের শরয়ি দলিলের কোনো উল্লেখযোগ্য অংশ নেই; কেবল কিছু অস্পষ্ট বিষয় (متشابهات) এবং এমন কিছু যুক্তি ছাড়া, যার সপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি! অথচ বহু গবেষক আলেম ওই ব্যক্তিকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন যে বলে: সাধারণ জনগণের ক্ষেত্রে শাসকের অনুমতি বিবেচ্য! তাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন ইমাম গাযালী (রহ.), যেখানে তিনি এই শর্তটিকে অসার হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন: "এই শর্তটি অসার; কেননা আমরা যেসকল আয়াত ও বর্ণনা (أخبار) উপস্থাপন করেছি, তা প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তিই কোনো মন্দ কাজ (منكر) দেখবে এবং তা দেখে চুপ থাকবে, সে পাপে লিপ্ত হবে। কেননা, যেখানেই এবং যেভাবেই তা দেখা যাক না কেন, সাধারণভাবে তা থেকে নিষেধ করা ওয়াজিব। সুতরাং ইমামের পক্ষ থেকে দায়িত্ব প্রদানের শর্তারোপ করা একটি স্বেচ্ছাচারিতা, যার কোনো ভিত্তি নেই।" তিনি আরও বলেন: "বরং ‘জালিম শাসকের সামনে হকের কথা বলাই হচ্ছে সর্বোত্তম মর্যাদা,’ যেমনটি হাদিসে এসেছে। (১) সুতরাং যদি ইমামের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁর ওপর হুকুম আরোপ করা বৈধ হয়, তবে তাঁর অনুমতির প্রয়োজন হবে কীভাবে?" তিনি আরও বলেন: "শাসকদের ওপর জবাবদিহিতা (حسبة) পরিচালনার ক্ষেত্রে সালাফদের অনুসৃত পদ্ধতি তাদের এই ঐকমত্যের (إجماع) ওপর অকাট্য দলিল যে, দায়িত্ব অর্পণের কোনো প্রয়োজন নেই। বরং যে ব্যক্তিই সৎকাজের আদেশ করবে, শাসক যদি তাতে সন্তুষ্ট থাকেন তবে তো ভালো, আর যদি অসন্তুষ্ট হন তবে তাঁর অসন্তুষ্টি..."

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৩/১৯), আবু দাউদ (৪৩৪৪) এবং হাকেম (৪/৫০৫, ৫০৬)। হাকেম এটিকে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
له مُنكرٌ يجبُ الإنكارُ عليه، فكيف يحتاج إلى إذنِه في الإنكارِ عليه". وقال أيضاً بعد كلامٍ له في عَدَمِ وُجُوبِ استئذانِ الإمامِ في التَّغيير: " وكذلك كَسْرُ الملاهي، وإراقَةُ الخُمُورِ فإنَّه تَعَاطى ما يُعْرفُ كونُه حقاً من غيرِ اجتهادٍ، فلم يَفْتقِرْ إلى الإمامِ، وأمَّا جَمْعُ الأعْوانِ، وشَهْرُ الأسْلِحةِ فذلك قد يَجُرُّ إلى فِتْنَةٍ عامَّةٍ؛ ففيه نَظَرٌ سيأتي … ". (1) وهذا أيضاً ابنُ دقيق العيد رحمه الله يقول: " قالوا: ولا يَخْتَصُّ الأمْرُ بالمعروفِ والنَّهي عن المُنكرِ بأصْحَابِ الوِلايةِ؛ بل ذلك ثَابِتٌ لآحادِ المسلمين". (2)

أمَّا قولُهم: إنَّ في إنكارِ آحادِ الرَّعيَّةِ إثارةً للفتنِ والفوضى، فردُّه كما يلي:

--------------------------------------------

(1) ـ انظر «إحياء علوم الدين» للغزالي (2 / 315) .

(2) ـ انظر «شرح الأربعين النووية» لابن دقيق العيد، ص (137) .
"তার একটি অসৎকাজ (منكر) রয়েছে যা প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক; সুতরাং তা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে তার অনুমতির প্রয়োজন কীভাবে হতে পারে?" পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইমামের (শাসকের) অনুমতি গ্রহণ ওয়াজিব না হওয়া প্রসঙ্গে আলোচনার পর তিনি আরও বলেন: "অনুরূপভাবে বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলা এবং মদ ঢেলে ফেলে দেওয়া; কারণ সে এমন একটি কাজ করছে যা কোনো ব্যক্তিগত গবেষণা (اجتهاد) ছাড়াই সত্য বলে সুপরিচিত, ফলে সে ইমামের মুখাপেক্ষী নয়। তবে সাহায্যকারী একত্রিত করা এবং অস্ত্র প্রদর্শন করা ব্যাপক বিশৃঙ্খলার (فتنة) দিকে নিয়ে যেতে পারে; এ বিষয়ে সামনে একটি পর্যালোচনা (نظر) আসবে...।" (১) এবং ইবনু দাকীকুল ঈদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: "তারা বলেছেন: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের (منكر) নিষেধ কেবল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারীদের জন্য নির্দিষ্ট নয়; বরং এটি সাধারণ মুসলিমদের জন্যও সাব্যস্ত।" (২)

আর তাদের এ দাবি: "সাধারণ প্রজাদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ বা প্রত্যাখ্যান করার মধ্যে ফিতনা (فتن) ও বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়ার অবকাশ রয়েছে", এর উত্তর নিম্নরূপ:

--------------------------------------------

(১) দেখুন গাযালীর 'ইহয়াউ উলুমিদ দীন' (২ / ৩১৫)।

(২) দেখুন ইবনু দাকীকুল ঈদের 'শারহুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ', পৃষ্ঠা (১৩৭)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২০)
قلتُ: في هذا تحكُّمٌ عقليٌ منكم في مُوَاجهةِ نُصُوصٍ صريحةٍ مِنَ السُّنَّةِ، وأفعالِ الصحابةِ، وأقوالِ العلماء المُحقِّقين على اختلافِ مذاهبِهم، وبعد هذا فلا يَحِقُّ لأحَدٍ كائناً من كان أن يقولَ برأيِه قولاً مُخَالفاً لما دلَّتْ عليه النُّصُوص الشَّرعيةُ؛ لأنَّ في هذا - عياذاً بالله - اتِّهاماً ضِمنياً للنبيِّ صلى الله عليه وسلم بأنَّه يأمُرُ بما يُثِيرُ الفوضى والفِتَن (1) !.

--------------------------------------------

(1) ـ انظر «حكم تغيير المنكر» لعبد الآخر الغنيمي، ص (54) .
আমি বললাম: সুন্নাহ (السنة)-এর সুস্পষ্ট ভাষ্য (نصوص صريحة), সাহাবীগণের কর্মপন্থা এবং বিভিন্ন মাযহাবের বিজ্ঞ গবেষক (محققون) আলেমগণের বক্তব্যের বিপরীতে এটি আপনাদের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক স্বেচ্ছাচারিতা। এমতাবস্থায় শরয়ি ভাষ্য (نصوص شرعية) যা নির্দেশ করে, তার বিপরীতে কোনো ব্যক্তির জন্যই—তিনি যে-ই হোন না কেন—ব্যক্তিগত মত (رأي) ব্যক্ত করা বৈধ নয়; কেননা এতে—আল্লাহর কাছে পানাহ চাই—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি পরোক্ষভাবে এই অপবাদ আরোপ করা হয় যে, তিনি এমন বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছেন যা বিশৃঙ্খলা ও ফিতনা (فتن) সৃষ্টি করে (১)!

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আবদুল আখির আল-গুনাইমি রচিত ‘হুকমু তাগয়ীরিল মুনকার’, পৃষ্ঠা (৫৪)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২১)
ويحسنُ بنا أن نَسُوقَ لهؤلاءِ شيئاً مِنْ دُرَرِ كلامِ الإمامِ أبي بكرٍ الجَصَّاصِ رحمه الله حيث شَخَّصَ الدَّاءَ، ووَصَفَ لنا الدَّواءَ، إذا يقول: " لم يَدْفعْ أحدٌ من علماءِ الأمَّةِ، وفقهائِها - سلفهم وخلفهم - وجوبَ ذلك إلَاّ قومٌ من الحَشْوِ، وجُهَّالِ أصحابِ الحديثِ؛ فإنَّهم أنكروا قتالَ الفِئَةِ الباغِيةِ، والأمْرَ بالمعروفِ والنَّهي عن المنكرِ بالسِّلاحِ، وسَمُّوا الأمرَ بالمعروفِ والنهيَ عن المنكرِ فِتْنَةً إذا احْتِيجَ فيه إلى السِّلاحِ، وقِتَالُ الفئةِ الباغيةِ مع ما قد سَمِعُوا فيه من قَوْلِ الله عز وجل: {فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ} [الحجرات 9] ، وما يقتضيه اللَّفظُ مِنْ وُجُوبِ قتالِها بالسَّيفِ وغيرِه، وزعموا مع ذلك أنَّ السُّلطانَ لا يُنْكَرُ عليه الظُّلْمُ، والجَوْرُ، وقَتْلُ النَّفْسِ التي حَرَّمَ الله، وإنَّما يُنْكَرُ على غيرِ السُّلطانِ بالقولِ، أو باليدِ بغيرِ سلاحٍ، فصاروا شَراً على الأمَّةِ من أعدائِها المُخَالفين لها؛ لأنَّهم أقْعَدُوا النَّاسَ عن قِتَالِ الفئةِ الباغيةِ، وعن الإنكارِ على السُّلطانِ الظُّلمَ

এদের উদ্দেশ্যে ইমাম আবু বকর আল-জাসসাস (রহিমাহুল্লাহ)-এর মুক্তাতুল্য কিছু বাণী উদ্ধৃত করা আমাদের জন্য সমীচীন হবে, যেখানে তিনি রোগ নির্ণয় করেছেন এবং আমাদের জন্য দাওয়াই বাতলে দিয়েছেন। তিনি বলেন: "উম্মতের আলেম ও ফকিহগণের মধ্যে—সালাফ ও খালাফ নির্বিশেষে—কেউই এর আবশ্যকতা অস্বীকার করেননি; কেবল হাশবিয়া শ্রেণির একদল লোক এবং হাদিসের মূর্খ অনুসারী (أصحاب الحديث) ব্যতীত। তারা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই এবং অস্ত্র দ্বারা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধকে অস্বীকার করেছে। তারা অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধকে 'ফিতনা' বলে আখ্যায়িত করেছে। অথচ তারা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী শুনেছে: {তবে তোমরা সেই বিদ্রোহী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর আদেশের দিকে ফিরে আসে} [আল-হুজুরাত: ৯]। এ আয়াতের শব্দসমূহ তলোয়ার বা অন্য কিছুর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার আবশ্যকতাকেই দাবি করে। তা সত্ত্বেও তারা দাবি করেছে যে, শাসকের জুলুম, অন্যায় এবং আল্লাহর হারাম করা প্রাণ হত্যার প্রতিবাদ করা যাবে না। প্রতিবাদ কেবল শাসক ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে কথা দ্বারা অথবা অস্ত্র ছাড়াই হাত দ্বারা করা যাবে। ফলে তারা উম্মতের জন্য তাদের বিরোধী শত্রুদের চেয়েও অধিক ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে; কারণ তারা মানুষকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং শাসকের জুলুমের প্রতিবাদ করা থেকে বিরত রেখেছে।"

(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২২)
والجَوْرَ؛ حتى أدَّى ذلك إلى تَغَلُّبِ الفُجَّارِ؛ بل المجوسِ وأعداءِ الإسلامِ حتى ذهبتِ الثُّغُورِ، وشاعَ الظُّلمُ، وخُرِّبتِ البِلادُ، وذهبَ الدِّينُ والدُّنيا، وظهرتِ الزَّندقةُ والغُلُوُّ، ومذاهبُ الثَّنويةِ والخُرَّميَّةِ والمزْدَكيَّةِ، والذي جَلَبَ ذلك عليه: تَرْكُ الأمرِ بالمعروفِ والنهي عن المُنْكَرِ، والإنكارِ على السُّلطانِ الجائرِ". (1)

ومن خلالِ هذا؛ كانت حقيقةُ الفوضى والفِتَنِ المزعومةِ مُتحَقِّقةً في تركِ تغييرِ المُنْكَرِ ليس إلَاّ؛ فعندها كان تركُ "الأمرِ بالمعروفِ والنهي عن المنكرِ" أصْلَ كُلِّ فِتْنةٍ وفوضى، ولا بُدَّ. وذلك ماثلٌ في زماننا؛ فُخُذْ مثلاً: انتشارُ المسَارحِ الغنائيةِ والملاهي المُحرَّمةِ (باسم السِّياحة!) ، واختلاطُ الرِّجالِ بالنساءِ (باسم المُسَاواة!) ، وظُهُورُ الزِّنا (باسم الحُرِّيَّةِ الشَّخصيَّة!) ، وانتحالُ الكفرِ والرِّدَّةِ (باسم حرِّيَّةِ الفِكْر!) ، والاستهزاءُ بأحكامِ الإسلامِ وأهلِه (باسم الفُكاهةِ والمِزَاح!) … الخ، كُلُّ هذا يوم تركنا الإنكارَ باليدِ (باسم السُّلطانِ وأهلِ الحسبة!) .

--------------------------------------------

(1) ـ انظر «أحكام القرآن» لأبي بكر الجصاص (2 / 34) .
...এবং জুলুম; যা শেষ পর্যন্ত পাপাচারীদের, বরং অগ্নিপূজক ও ইসলামের শত্রুদের আধিপত্য পর্যন্ত নিয়ে যায়; ফলে সীমান্তসমূহ বিলীন হয়ে যায়, অন্যায় ছড়িয়ে পড়ে, দেশসমূহ ধ্বংস হয়, দ্বীন ও দুনিয়া বিলুপ্ত হয় এবং ধর্মদ্রোহিতা (زندقة) ও অতিরঞ্জন (غلو) সহ দ্বৈতবাদ, খুররামিয়া ও মাজদাকীয় মতবাদের প্রাদুর্ভাব ঘটে। আর যা এই পরিস্থিতি ডেকে এনেছে তা হলো: সৎ কাজের আদেশ প্রদান ও মন্দ (منكر) কাজ থেকে নিষেধ বর্জন করা এবং জালিম শাসকের প্রতিবাদ না করা।" (১)

এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, তথাকথিত বিশৃঙ্খলা ও ফিতনার প্রকৃত রূপ কেবল মন্দ (منكر) বিষয় পরিবর্তনের অনীহার মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়েছিল; ফলে তখন ‘সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ (منكر) কাজ থেকে নিষেধ’ বর্জন করাই ছিল অনিবার্যভাবে সকল ফিতনা ও বিশৃঙ্খলার মূল উৎস। আর এটি আমাদের বর্তমান সময়েও দৃশ্যমান; উদাহরণস্বরূপ: সংগীতালয় ও হারাম বিনোদন কেন্দ্রের বিস্তার (পর্যটনের নামে!), নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশা (সমতার নামে!), ব্যভিচারের প্রকাশ (ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নামে!), কুফর ও ধর্মত্যাগ গ্রহণ (চিন্তার স্বাধীনতার নামে!) এবং ইসলামের বিধান ও এর অনুসারীদের নিয়ে উপহাস (কৌতুক ও তামাশার নামে!) … ইত্যাদি; এই সবকিছুর মূলে রয়েছে সেই দিনটি, যখন থেকে আমরা হাতের মাধ্যমে প্রতিবাদ করা ছেড়ে দিয়েছি (শাসক ও হিসবাহ তথা তদারকি কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে!)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন ‘আহকামুল কুরআন’, আবু বকর আল-জাসসাস (২/৩৪)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
أمَّا قولُهم: إنَّ في إنكارِ آحادِ الرَّعيَّةِ افتئاتاً على الحاكمِ، فردُّه كما يلي:

قلتُ: لا بدَّ أن نُفرِّقَ بين تغييرِ المنكر، وإقامةِ الحُدُود، فمن فرَّقَ بينهما تبيَّنَ وظهرَ له جَليَّةُ الأمرِ على الحقيقةِ. فهذا الغَزالي رحمه الله يُبيِّنُ لنا الفرقَ بينهما بقوله: " ليس لآحادِ الرَّعيَّةِ إلَاّ الدَّفعُ، وهو إعدامُ المُنكرِ فما زادَ على قَدْرِ الإعدامِ، فهو إمَّا عقوبةٌ على جريمةٍ سابقةٍ، أو زَجْرٌ عن لاحِقٍ، وذلك إلى الوُلاةِ لا إلى الرَّعيَّةِ". (1)

ومن خلالِ هذا؛ نفهم أنَّ هنالك فرقاً واضحاً بين إزالةِ المنكرِ أياً كان، وبين إقامةِ الحُدُودِ؛ لذا كانت عمليةُ التَّغييرِ هي مجرَّدُ إزالةٍ للمنكرِ، أو دَفْعٍ له، وهذه يقومُ بها الحاكمُ وغيرُه، وهذا بيِّنٌ واضحٌ كما أوضحناه آنفاً من خلالِ الأدلَّةِ الشَّرعية، وأقوالِ أهلِ العلمِ، والله المُوفِّقُ والهادي إلى سواءِ السَّبيل.

--------------------------------------------

(1) ـ انظر «إحياء علوم الدين» للغزالي (2 / 331) .
সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা শাসকের অধিকার খর্ব করার শামিল—তাদের এই বক্তব্যের উত্তর নিম্নরূপ:

আমি বলি: অন্যায় (منكر) পরিবর্তন করা এবং দণ্ডবিধি (حدود) কার্যকর করার মধ্যে আমাদের অবশ্যই পার্থক্য করতে হবে। যে ব্যক্তি এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করবে, তার কাছে বিষয়টি প্রকৃতরূপে সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে। ইমাম গাজালি (রহিমাহুল্লাহ) তাদের মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "সাধারণ জনগণের দায়িত্ব কেবল প্রতিরোধ করা, আর তা হলো অন্যায়কে (منكر) মিটিয়ে দেওয়া। অন্যায় (منكر) মিটিয়ে দেওয়ার অতিরিক্ত যা কিছু আছে, তা হয় পূর্ববর্তী অপরাধের শাস্তি অথবা পরবর্তী অপরাধের জন্য সতর্কতা; আর এই দায়িত্ব শাসকদের ওপর ন্যস্ত, সাধারণ জনগণের ওপর নয়।" (১)

এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে, যেকোনো ধরণের অন্যায় (منكر) নির্মূল করা এবং দণ্ডবিধি (حدود) কার্যকর করার মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। অতএব, পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি হলো কেবল অন্যায় (منكر) নির্মূল করা বা তা প্রতিরোধ করা, যা শাসক এবং অন্যরা পালন করতে পারে। বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে শরয়ি দলীল এবং আলেমদের বক্তব্যের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছি। আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: গাজালির ইহয়াউ উলুমিদ্দিন (২ / ৩৩১)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
تنبيه: وما ذكرناه هنا: مِنْ أنَّ إقامةَ الحُدُودِ من اختصاصِ الحَاكمِ ليس على إطلاقِه؛ بل هذا في حَالةِ ما إذا كان الحَاكمُ قائماً بذلك، أمَّا إذا قَصَّرَ الحاكمُ في إقامةِ الحُدُودِ فإنَّه يَجُوزُ للجماعةِ المُحْتَسِبةِ مِنْ آحادِ الرَّعيةِ أن تقومَ بذلك بعد النَّظرِ في قاعِدةِ " المصالح والمفاسد" لأنَّ "الأمرَ بالمعروف والنَّهيَ عن المُنكر" واجبٌ على الأمَّةِ، ويَنُوبُ عنها الحاكمُ في ذلك، فإن قَصَّرَ الحاكمُ رجعَ الأمرُ للأمَّةِ، وهذا ما قرَّرَه شيخُ الإسلامِ ابنُ تيميةَ بقولِه: " وكذلك الأميرُ إذا كان مُضَيِّعاً للحُدُودِ، أو عاجزاً عنها، لم يَجِبْ تفويضُها إليه مع إمكانِ إقامتِها بِدُونِه، والأصْلُ أنَّ هذه الواجباتِ تُقَامُ على أحسنِ الوُجُوه، فمتى أمكن إقامتُها من أميرٍ لم يحتجْ إلى اثنين، ومتى لم تُقَمْ إلَاّ بعددٍ ومن غيرِ سُلطانٍ أُقيمت إن لم يكن في إقامتِها فسادٌ يزيدُ على إضاعتِها، فإنَّها من بابِ الأمرِ بالمعروفِ والنهي عن المنكر … ". (1) وهذا الإمامُ الشَّوكاني رحمه الله يُقرِّرُ ما نحنُ بصددِه، وذلك عند تعليقِه على صاحبِ "حدائق الأزهار" عند قولِه: " وتجبُ إقامتُها

--------------------------------------------

(1) ـ انظر «مجموع الفتاوى» لابن تيمية (34 / 176) .
সতর্কবার্তা: আমরা এখানে যা উল্লেখ করেছি যে, দণ্ডবিধি (হদ) কার্যকর করা শাসকের বিশেষ এখতিয়ারভুক্ত—তা ঢালাওভাবে বা সর্বাবস্থায় প্রযোজ্য নয়; বরং এটি সেই পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য যখন শাসক নিজেই তা পালনে সচেষ্ট থাকেন। তবে শাসক যদি দণ্ডবিধি কার্যকর করার ক্ষেত্রে অবহেলা করেন, তবে জনসাধারণের মধ্য থেকে একদল দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য 'মাসালিহ ও মাফাসিদ' (কল্যাণ ও অকল্যাণ) এর মূলনীতি বিবেচনা করে তা সম্পাদন করা বৈধ। কেননা 'সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ' উম্মাহর ওপর একটি অপরিহার্য দায়িত্ব (ওয়াজিব), আর শাসক এই দায়িত্ব পালনে উম্মাহর পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন। সুতরাং শাসক যদি এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন, তবে বিষয়টি পুনরায় উম্মাহর ওপরই বর্তাবে। আর এটিই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে সাব্যস্ত করেছেন: "অনুরূপভাবে আমির (শাসক) যদি দণ্ডবিধি বিনষ্টকারী হন অথবা তা কার্যকর করতে অক্ষম হন, তবে তাকে ছাড়াই যদি তা কার্যকর করা সম্ভব হয়, তবে তার ওপর তা ন্যস্ত করা ওয়াজিব নয়। মূলনীতি হলো—এই ওয়াজিবসমূহ সম্ভাব্য সর্বোত্তম উপায়ে সম্পন্ন করতে হবে। সুতরাং যখন কোনো আমিরের পক্ষেই তা কার্যকর করা সম্ভব হয়, তখন অন্য কারও প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু যখন শাসক ব্যতীত এবং একাধিক ব্যক্তি ছাড়া তা কার্যকর করা সম্ভব হয় না, তখন তা কার্যকর করা হবে—যদি না তা কার্যকর করার মধ্যে এমন কোনো বিপর্যয় বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় যা তা বর্জন করার চেয়েও গুরুতর। কেননা এটি 'সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ' এর অন্তর্ভুক্ত … "। (১) আর ইমাম শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ)-ও এই বিষয়টিই সাব্যস্ত করেছেন, যখন তিনি 'হদাইকুল আযহার' প্রণেতার এই উক্তির ওপর মন্তব্য করছিলেন: "এবং তা কার্যকর করা ওয়াজিব"

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে তাইমিয়াহর 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (৩৪ / ১৭৬)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
(الحُدُود) في غيرِ المسجدِ على الإمامِ وواليه، إنْ وقع سببها في زمان ومكان يليه"، قال الشوكاني بعد هذا: " هذا مبنيٌ على أنَّ الحُدُودَ إلى الأئمةِ، وأنَّه لا يُقيمُها غيرُهم على مَنْ وجبتْ عليه، وليس على هذا أثارةٌ مِنْ علمٍ. ولا شكَّ أنَّ الإمامَ ومَنْ يَلي مِنْ جهتِه هم أولى مِنْ غيرِهم كما قدمنا، وأمَّا أنَّه لا يُقِيمُها إلَاّ الأئمةُ، وأنَّها ساقطةٌ إذا وقعت في غيرِ زَمَنِ إمامٍ، أو في غيرِ مكانٍ يليه فباطلٌ وإسقاطٌ لما أوجبه الله مِنَ الحُدُودِ في كتابِه، والإسلامُ موجودٌ، والكتابُ والسنةُ موجودان، وأهلُ العلمِ والصَّلاحِ موجودون؛ فكيف تُهْمَلُ حُدُودُ الشَّرعِ بمجردِ عدمِ وُجُودِ واحدٍ من المسلمين؟! ". (1) وهذا شيخُ الإسلام ابن تيمية كان يُعزِّرُ، ويُقِيمُ الحُدودَ؛ لمَّا قصَّرَ السَّلاطينُ في زمانِه من إقامةِ الحُدُود آنذاك، وهذا منه رحمه الله ليس بخافٍ لِمنْ قرأَ سيرتَه. (2)

أمَّا قولهم: إنَّ الإنكارَ باليدِ يحتاجُ إلى قُوَّةٍ، والقُوَّةُ من شأنِ السلطان، فردُّه كما يلي:

--------------------------------------------

(1) ـ انظر «السيل الجرار» للشوكاني (4 / 311) .

(2) ـ انظر «البداية والنهاية» لابن كثير (14 / 12) .
(শরিয়ত নির্ধারিত দণ্ডবিধি (الحدود)) মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে ইমাম এবং তাঁর প্রতিনিধির ওপর বর্তায়, যদি তা তাঁর শাসনাধীন কোনো সময়ে এবং স্থানে সংঘটিত হয়।" ইমাম শাওকানী এরপর বলেন: "এটি এ ধারণার ওপর ভিত্তি করে যে, দণ্ডবিধি (الحدود) প্রয়োগের দায়িত্ব কেবল ইমামদের ওপর এবং যাদের ওপর এটি প্রযোজ্য তাদের ওপর ইমাম ব্যতীত অন্য কেউ এটি কার্যকর করতে পারবে না। অথচ এর স্বপক্ষে কোনো ইলমী দলিল নেই। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইমাম এবং তাঁর পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরাই অন্যদের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য, যেমনটি আমরা ইতঃপূর্বে উল্লেখ করেছি। তবে কেবল ইমামরাই তা কার্যকর করবেন এবং ইমামের অনুপস্থিতিতে বা তাঁর শাসনাধীন এলাকার বাইরে তা কার্যকর হবে না বা রহিত হয়ে যাবে—এমন ধারণা বাতিল। এটি আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে যে সকল দণ্ডবিধি (الحدود) অবধারিত করেছেন, তা বাতিল করার নামান্তর। অথচ ইসলাম বিদ্যমান রয়েছে, কুরআন ও সুন্নাহ বিদ্যমান রয়েছে এবং আলেম ও নেককার ব্যক্তিবর্গও বিদ্যমান রয়েছেন; এমতাবস্থায় মুসলমানদের মধ্য থেকে কেবল একজনের (ইমামের) অনুপস্থিতির কারণে কীভাবে শরিয়তের দণ্ডবিধিগুলোকে (حدود الشرع) অবহেলা করা যেতে পারে?!" (১) আর শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর সময়কালে যখন সুলতানগণ দণ্ডবিধি কায়েমে অবহেলা করতেন, তখন তিনি নিজেই তায়জির (تعزير) তথা সংশোধনমূলক শাস্তি প্রদান করতেন এবং দণ্ডবিধি (الحدود) কার্যকর করতেন। তাঁর জীবনী পাঠকারীদের কাছে তাঁর এই অবস্থান রহমাহুল্লাহ অজানা নয়। (২)

আর তাদের এই বক্তব্য যে: হাত দিয়ে অন্যায় প্রতিহত করার জন্য শক্তির প্রয়োজন, আর শক্তি কেবল সুলতানেরই বৈশিষ্ট্য—এর উত্তর নিম্নরূপ:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শাওকানী রচিত আস-সায়লুল জাররার (৪/৩১১)।

(২) দেখুন: ইবনে কাসীর রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৪/১২)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
قلتُ: ليس الأمرُ كما ذُكِر؛ بل ليس من شرطِ تغيير المُنكرِ وجودُ القوَّةِ!، كما أنَّه ليس من شرطِ المُغَيِّرِ أن يعلمَ أنَّ في قُدرتِه أنْ يُغَيِّرَ المُنكرَ!، لذا كانت القُدرةُ في جادَّةِ أهلِ العلمِ المحقِّقين شرطاً في الوجوب، لا شرطاً في الصِّحَّةِ.

والدَّليلُ على أنَّ القدرةَ شَرطٌ في وجوبِ تغييرِ المنكرِ، قولُه صلى الله عليه وسلم في حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه: " … «فإن لم يستطع فبلسانِه، فإن لم يستطع فبقلبِه» … "، فقوله: فإن لم يستطعْ " دليلٌ على أنَّ مَنَاطَ الوُجُوبِ القُدْرةُ، فمنْ فَقَدَ القُدرةَ سَقَطَ عنه الوُجوبُ.

وأمَّا الأدلَّةُ على أنَّ القُدرةَ ليست شرطاً في صِحَّةِ التَّغييرِ فكثيرةٌ منها:

1ـ قولُه صلى الله عليه وسلم: «سَيِّدُ الشُّهداءِ حمزةُ بنُ عبدِ المطلب، ورجلٌ قامَ إلى إمامٍ جائرٍ فأمرَه ونهاهُ فقتلَه» (1) الحاكم. فلا شك أنَّ هذا الرَّجلَ لم تَبْلُغْ قدرتُه أن يُغَيِّرَ مُنْكرَ ذلك الحاكمِ الجائرِ، ومع ذلك أنكرَ عليه، فكان من نتيجةِ ذلك أنْ قُتِلَ في سبيلِ الله، فعدَّهُ النبيُّ صلى الله عليه وسلم سيدَ الشُّهداءِ مع حمزةَ رضي الله عنه.

--------------------------------------------

(1) ـ أخرجه الحاكم (3 / 195) ، والطبراني في «المعجم الكبير» (1 / 300) ، وقال عنه الحاكم: صحيح الإسناد، وصححه الألباني في «صحيح الترغيب» (2 / 574) .
আমি বলছি: বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে; বরং মন্দ কাজ (منكر) পরিবর্তনের জন্য শক্তির উপস্থিতি কোনো শর্ত নয়! ঠিক যেমন পরিবর্তনকারীর জন্য এটি জানা শর্ত নয় যে, মন্দ কাজ (منكر) পরিবর্তন করার সামর্থ্য তার আছে! তাই প্রাজ্ঞ ও গবেষক আলেমদের কর্মপন্থা অনুযায়ী সামর্থ্য হলো আবশ্যকতা (وجوب) হওয়ার শর্ত, সঠিক (صحة) হওয়ার শর্ত নয়।

আর মন্দ কাজ (منكر) পরিবর্তন করা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার ক্ষেত্রে সামর্থ্য যে একটি শর্ত, তার প্রমাণ হলো আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: “ … «যদি সে সক্ষম না হয় তবে তার জিহ্বা দ্বারা, আর যদি তাতেও সক্ষম না হয় তবে তার অন্তর দ্বারা» … ”। সুতরাং তাঁর বাণী: “যদি সে সক্ষম না হয়” এটি প্রমাণ করে যে, ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার ভিত্তি হলো সামর্থ্য। অতএব, যার সামর্থ্য নেই তার ওপর থেকে সেই আবশ্যকতা (وجوب) রহিত হয়ে যায়।

পক্ষান্তরে মন্দ কাজ (منكر) পরিবর্তন সঠিক (صحة) হওয়ার জন্য যে সামর্থ্য শর্ত নয়, তার প্রমাণ অনেক। তন্মধ্যে একটি হলো:

১- রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: «শহীদদের সরদার হলেন হামজা বিন আব্দুল মুত্তালিব এবং ওই ব্যক্তি যে কোনো অত্যাচারী শাসকের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে সৎ কাজের আদেশ দিল ও মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করল, অতঃপর সে তাকে হত্যা করল» (১) হাকেম। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ওই ব্যক্তির সামর্থ্য ওই অত্যাচারী শাসকের মন্দ কাজ (منكر) পরিবর্তন করার পর্যায়ে ছিল না, তা সত্ত্বেও সে তার প্রতিবাদ করেছে। এর ফলশ্রুতিতে তাকে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হতে হয়েছে। তাই নবী (সা.) তাকে হামজা (রা.)-এর সাথে শহীদদের সরদার হিসেবে গণ্য করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন হাকেম (৩/১৯৫), এবং তাবারানি তার মুজামুল কাবীর (১/৩০০) গ্রন্থে। হাকেম এটি সম্পর্কে বলেছেন: এটি সহিহ সনদ (صحيح الإسناد) বিশিষ্ট, এবং আলবানি একে সহিহ আত-তারগিব (২/৫৭৪) গ্রন্থে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
2ـ فمنها ما جاء في قِصَّةِ عاصمِ بنِ ثابتٍ لما بعثه رسولُ الله صلى الله عليه وسلم على رأسِ نَفَرٍ من أصحابه إلى عضل والقارة، فخرج عليهم قرابةُ مائة رَامٍ، فأحاطوا بهم فقالوا: لكم العهدُ والميثاقُ إن نزلتم إلينا أن لا نقتل منكم رجلاً، فقال عاصم: أمَّا أنا فلا أنزلُ في ذِمَّةِ كافرٍ … فقاتلُوهم حتى قتلوا عاصما في سبعةِ نفرٍ بالنَّبٍلِ. (1) قال الشَّوكاني تعليقاً على هذا الحديث: " يجوزُ لمن لا طاقةَ له بالعَدُوِّ أن يتمنعَ مِنَ الأسْرِ، وأن يُسْتَأسَرَ". (2)

--------------------------------------------

(1) ـ أخرجه البخاري (3045) .

(2) ـ انظر «نيل الأوطار» للشوكاني (7 / 255) .
2ـ তন্মধ্যে একটি হলো আসিম ইবনে সাবিত-এর ঘটনার বর্ণনা, যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে তাঁর একদল সাহাবীর নেতৃত্বে 'আদাল' ও 'আল-কারাহ' গোত্রের দিকে প্রেরণ করেছিলেন। তখন তাদের মোকাবিলায় প্রায় একশত তীরন্দাজ বেরিয়ে এল এবং তাদেরকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলল। তারা বলল: "তোমাদের জন্য অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি রইল যে, তোমরা যদি আমাদের কাছে নেমে আসো (আত্মসমর্পণ করো), তবে আমরা তোমাদের একজনকেও হত্যা করব না।" আসিম বললেন: "আমি অন্তত কোনো কাফিরের জিম্মায় অবতরণ করব না … " অতঃপর তারা তাদের সাথে যুদ্ধ করল এবং তীরের আঘাতে আসিমসহ সাতজনকে শহীদ করল। (১) শাওকানি এই হাদিস প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "শত্রুর মোকাবিলা করার শক্তি যার নেই, তার জন্য বন্দিত্ব বরণ করতে অস্বীকার করা এবং বন্দি হওয়া—উভয়ই বৈধ।" (২)

--------------------------------------------

(১) ـ এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (৩০৪৫)।

(২) ـ দেখুন: শাওকানি বিরচিত ‘নাইলুল আওতার’ (৭/২৫৫)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
3ـ ومنها ما وردَ في قصة عمرو بن الجموح الذي كان رجلاً أعرجَ شديدَ العرجِ، وكان له بَنُون أربعة مثل الأسدِ يشهدون مع رسول الله صلى الله عليه وسلم المشاهدَ، فلما كان يوم أُحد أرادوا حَبْسَه، وقالوا له: إنَّ الله عز وجل قد عَذَرَك، فأتى رسولَ الله صلى الله عليه وسلم فقال: «إنَّ بَنِيَّ يُريدون أنْ يَحْبِسوني عن هذا الوَجْهِ والخُرُوجِ معك فيه، فوالله إنِّي لأرجو أنْ أطأَ بعرجَتِي هذه في الجنةِ، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " أمَّا أنت فقد عَذَرَك الله فلا جهادَ عليك، وقال لبنيه: ما عليكم ألَاّ تَمْنَعُوه لَعَلَّ الله أن يَرْزُقَه الشَّهادةَ" فخرج معه فَقُتلَ يوم أحد» . (1)

ومن هذا يُعلم أنَّ انْدِفاعَ الرجلِ المسلمِ مُضَحياً بنفسِه في سبيلِ الله جائزٌ في الجهادِ، وفي الحسْبةِ، وإن عَلِمَ أنَّه يُقْتل، وإن علمَ أنَّ المُنكرَ لا يزولُ ما دام في ذلك مصلحةٌ شرعيةٌ، ككَسْرِ قلوبِ الكُفَّارِ والفُسَّاقِ بما يَرَوْنَه مِنْ قُوَّةِ المسلمين وجُرْأتِهم، أو تَقْوِيةِ المسلمين الآخرين، وحملهم على التَّضحيةِ كذلك.

--------------------------------------------

(1) ـ انظر «سيرة ابن هشام» (3 / 96) ، قال الألباني: وهذا سندٌ حسنٌ إن كان الأشياخُ من الصحابةِ، وإلا فهو مرسلٌ، وبعضه من المسندِ، وسندهُ صحيحٌ، انظر «فقه السنة» ص (282) .
৩ـ এর মধ্যে একটি হলো আমর ইবনুল জামুহ-এর ঘটনায় বর্ণিত কাহিনী, যিনি ছিলেন অত্যন্ত ল্যাংড়া একজন মানুষ। তাঁর সিংহের মতো তেজস্বী চারজন পুত্র ছিল যারা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সাথে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন। যখন উহুদ যুদ্ধের দিন উপস্থিত হলো, তখন তারা তাঁকে ঘরে আটকে রাখতে চাইলেন এবং তাঁকে বললেন: ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আপনাকে অব্যাহতি দিয়েছেন’। তখন তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর কাছে এসে বললেন: ‘আমার পুত্ররা আমাকে আপনার সাথে এই অভিযানে বের হতে বাধা দিচ্ছে। আল্লাহর কসম! আমি আশা করি যে, আমার এই পঙ্গুত্ব নিয়েই আমি জান্নাতে বিচরণ করব’। তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন: “তোমার কথা ভিন্ন, আল্লাহ তোমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন, তাই তোমার ওপর জিহাদ আবশ্যক নয়।” আর তাঁর পুত্রদের উদ্দেশ্য করে বললেন: “তোমাদের কোনো দোষ নেই যদি তোমরা তাঁকে বাধা না দাও, হতে পারে আল্লাহ তাঁকে শাহাদাত নসিব করবেন।” অতঃপর তিনি তাঁর সাথে বের হলেন এবং উহুদ যুদ্ধে শহীদ হলেন। (১)

এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর পথে নিজের জীবন উৎসর্গ করে একজন মুসলিম ব্যক্তির ঝাঁপিয়ে পড়া জিহাদের ক্ষেত্রে এবং হিসবাহর (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ) ক্ষেত্রে বৈধ; এমনকি যদি তিনি নিশ্চিত হন যে তিনি নিহত হবেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত এতে শরয়ি কোনো কল্যাণ নিহিত থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত অপছন্দনীয় বিষয় বা মুনকার (منكر) দূরীভূত না হলেও তা বৈধ। যেমন—কাফির ও ফাসিকদের হৃদয়ে ভীতি সঞ্চার করা সেই শক্তির মাধ্যমে যা তারা মুসলমানদের সাহস ও বীরত্বের মাঝে দেখতে পায়, অথবা অন্যান্য মুসলমানদের মনোবল বৃদ্ধি করা এবং তাদেরকে অনুরূপ আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করা।

--------------------------------------------

(১) দেখুন ‘সীরাত ইবনে হিশাম’ (৩ / ৯৬)। আলবানী বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) সনদ যদি এর শায়খগণ সাহাবী হয়ে থাকেন, অন্যথায় এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل)। আর এর কিয়দংশ মুসনাদ (مسند) পর্যায়ের এবং এর সনদটি সহীহ (صحيح)। দেখুন ‘ফিকহুস সুন্নাহ’, পৃষ্ঠা (২৮২)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইনকার বিল ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال القرطبيُّ رحمه الله: " قال محمدُ بنُ الحسن: لو حملَ رجلٌ واحدٌ على أَلْفِ رجلٍ من المشركين وحدَه لم يكن بذلك بأسٌ إذا كان يَطْمَعُ في نَجَاةٍ، أو نِكايةٍ في العَدُوِّ، فإن لم يكن كذلك فهو مكروهٌ؛ لأنَّه عَرَّضَ نَفْسَه لِلتَّلفِ في غيرِ منفعةٍ للمسلمين، فإن كان قصدُه تَجْرئة المسلمين عليهم حتى يصنعوا مثلَ صَنِيعهِ فلا يَبْعُدُ جوازُه، ولأنَّ فيه منفعةً للمسلمين على بعضِ الوُجُوه، وإن كان قصدُه إرهابَ العدوِّ ليعلم صلابةَ المسلمين في الدِّين، فلا يبعدُ جوازُه، وإذا كان فيه نفعٌ للمسلمين فتلفَتِ النَّفسُ لإعزازِ دينِ الله وتوهينِ الكُفْرِ فهو المقامُ الشَّريفُ الذي مدح الله سبحانه وتعالى به المؤمنين في قوله: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ} على غيرها من آياتِ المدحِ التي مدحَ الله بها من بذلَ نفسَه، وعلى ذلك ينبغي أن يكون حُكمُ الأمرِ بالمعروفِ والنهيِّ عن المنكرِ". (1)

--------------------------------------------

(1) ـ انظر «الجامع لأحكام القرآن» للقرطبي (2 / 364) .
ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মুহাম্মদ ইবনে হাসান বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি একাকী এক হাজার মুশরিকের ওপর আক্রমণ করে, তবে তাতে কোনো দোষ নেই যদি সে মুক্তি পাওয়ার আশা রাখে অথবা শত্রুর কোনো ক্ষতি করতে পারে। আর যদি বিষয়টি এমন না হয়, তবে তা অপছন্দনীয় (مكروه); কারণ সে মুসলিমদের কোনো উপকার ছাড়াই নিজেকে ধ্বংসের সম্মুখীন করেছে। তবে যদি তার উদ্দেশ্য হয় মুসলিমদের শত্রুর ওপর আক্রমণ করতে সাহসী করে তোলা যাতে তারাও তার মতো কাজ করে, তবে এর বৈধতা (جواز) অসম্ভব নয়। কারণ এতে কোনো না কোনোভাবে মুসলিমদের কল্যাণ রয়েছে। আর যদি তার উদ্দেশ্য হয় শত্রুকে আতঙ্কিত করা যাতে তারা দ্বীনের ক্ষেত্রে মুসলিমদের কঠোরতা সম্পর্কে জানতে পারে, তবে এর বৈধতা (جواز) সুদূরপরাহত নয়। আর যখন এতে মুসলিমদের উপকার থাকে এবং আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করতে ও কুফরকে হীনবল করতে গিয়ে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়, তবে তা সেই সম্মানিত অবস্থান যার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুমিনদের প্রশংসা করেছেন এই বাণীতে: {নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জানসমূহ ক্রয় করে নিয়েছেন} এবং প্রশংসামূলক অন্যান্য আয়াতের মাধ্যমে যার দ্বারা আল্লাহ জীবন উৎসর্গকারীদের প্রশংসা করেছেন। আর এভাবেই সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের বিধান হওয়া উচিত।" (১)

--------------------------------------------

(১) দেখুন কুরতুবী কৃত আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (২/৩৬৪)।