(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: -)
عوامل النصر والتمكين في دعوات المرسلين القسم: كتب عامة
الكتاب: عوامل النصر والتمكين في دعوات المرسلين
المؤلف: أحمد بن حمدان بن محمد الشهري
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 148
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 211
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রাসূলগণের দাওয়াতে বিজয় ও প্রতিষ্ঠার উপাদানসমূহ বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: রাসূলগণের দাওয়াতে বিজয় ও প্রতিষ্ঠার উপাদানসমূহ
লেখক: আহমদ বিন হামদান বিন মুহাম্মদ আল-শেহরি
প্রকাশক: বইটি সৌদি ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ১৪৮
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১১
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১)
دراسات في ضوء القرآن الكريم
عوامل النصر والتمكين
في
دعوات المرسلين
تأليف
أحمد بن حمدان بن محمد الشهري
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العزة رب العالمين، ولي التمكين للدين، الملك الحق المبين، خير الناصرين، وأحكم الحاكمين، لا إله إلا هو يقص الحق وهو خير الفاصلين، مجّدَ نفسه في كتابه بامتلاكه وحده لأسباب النصر والتمكين، فقال: {وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَكُمْ وَلَا أَنْفُسَهُمْ يَنْصُرُونَ} (1) وقال: {وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ} (2) وصلى الله وسلم على نبيه محمد إمام المرسلين، المقطوع بنصرهم من رب العالمين في قوله - سبحانه -: {وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ} {إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنْصُورُونَ} (3) ورضي عن الصحابة أنصارهم والمهاجرين، الذين تجردوا من العلائق جادين، فخرجوا من أهلهم وديارهم ينصرون الله ورسوله حتى سماهم الله بالصادقين، أما بعد:-
--------------------------------------------
আল-কুরআনের আলোকে গবেষণাসমূহ
বিজয় ও সুপ্রতিষ্ঠার উপাদানসমূহ
রাসূলগণের দাওয়াতের ক্ষেত্রে
রচনায়
আহমদ বিন হামদান বিন মুহাম্মদ আল-শেহরি
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সকল প্রশংসা মহান প্রতাপশালী বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি দ্বীনের সুপ্রতিষ্ঠার অভিভাবক, প্রকাশ্য চিরন্তন সত্য অধিপতি, সর্বোত্তম সাহায্যকারী এবং শ্রেষ্ঠ বিচারক। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই; তিনি সত্য বর্ণনা করেন এবং তিনি সর্বোত্তম ফয়সালাকারী। তিনি তাঁর কিতাবে একমাত্র বিজয় ও সুপ্রতিষ্ঠার উপায়সমূহের মালিকানা লাভের মাধ্যমে নিজের মহিমা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: {আর তোমরা তাঁকে ছাড়া যাদেরকে ডাকো, তারা তোমাদের সাহায্য করতে সক্ষম নয় এবং তারা নিজেদেরকেও সাহায্য করতে পারে না} (১)। তিনি আরও বলেছেন: {আর সাহায্য তো কেবল মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে} (২)। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি রাসূলগণের ইমাম, যাঁদের সাহায্যপ্রাপ্তির বিষয়টি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সুনিশ্চিত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আমার রাসূল বান্দাদের ব্যাপারে আমার এই কথা আগেই স্থির হয়েছে যে, অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে} (৩)। আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন আনসার ও মুহাজির সাহাবীগণের প্রতি, যারা ঐকান্তিকভাবে সর্বপ্রকার জাগতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এবং নিজেদের পরিবার-পরিজন ও ঘরবাড়ি ত্যাগ করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাহায্যার্থে বেরিয়ে পড়েছিলেন, যে পর্যন্ত না আল্লাহ তাঁদের 'সত্যবাদী' বলে অভিহিত করেছেন। অতপর:-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২)
فإن المؤمن إذا عظم إيمانه، وقوي يقينه، وصدقت محبته لخالقه صارت همته المؤكدة، ورغبته الشديدة، وأمنيته العزيزة نصرة هذا الدين ولقد بين ذلك - سبحانه - في كتابه المبين، فقال عن محبة المؤمنين للنصر: {وَأُخْرَى تُحِبُّونَهَا نَصْرٌ مِنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ} (1) بل إن السعي لنصرة الدين خصيصة في عظماء الخلق من الملائكة المقربين والأنبياء والمرسلين، وصفوة أتباعهم المؤمنين، ومن تأمل في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وجد على ذلك شواهد كثيرة من النصوص الظاهرة، وموضوع تلمس أسباب النصر والتمكين في كتاب الله موضوع نفيس بالغ النفاسة، ولكن أود أن أنبه في هذه المقدمة على نقاط مهمة قبل الشروع فيه:-
1- الموضوع موضوع قرآني بالدرجة الأولى فهو من المواضيع التي تولاها القرآن أكثر من السنة، فإن الله سبحانه وتعالى ما ذكر دعوة نبي إلا وبين عامل نصرها، وذكر من عادى الدعوة وبين أسباب سخطه عليهم حتى إذا استقصى المستقصي ذلك خرج بمنهج متكامل في أسباب النصر وموجبات الخذلان والعقاب. 2- عوامل التمكين في دعوات المرسلين:-
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই মুমিনের যখন ঈমান মহান হয়, তার সুদৃঢ় বিশ্বাস (يقين) শক্তিশালী হয় এবং তার স্রষ্টার প্রতি তার ভালোবাসা সত্য হয়, তখন তার দৃঢ় সংকল্প, তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং প্রিয় তামান্না হয় এই দ্বীনের বিজয়। মহান আল্লাহ তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে তা বর্ণনা করেছেন, মুমিনদের বিজয়ের প্রতি ভালোবাসার বিষয়ে তিনি বলেছেন: "এবং আরও একটি অনুগ্রহ যা তোমরা পছন্দ করো; আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও নিকটবর্তী বিজয়।" (১) বরং দ্বীনকে বিজয়ী করার প্রচেষ্টা সৃষ্টির মহান ব্যক্তিবর্গের একটি বৈশিষ্ট্য, যারা নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা, নবী ও রাসূলগণ (مرسلين) এবং তাঁদের মুমিন অনুসারীদের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ নিয়ে চিন্তা করবে, সে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দলীলসমূহের অনেক সাক্ষ্য খুঁজে পাবে। আল্লাহর কিতাবে বিজয়ের উপায় এবং প্রতিষ্ঠা অন্বেষণের বিষয়টি অত্যন্ত মূল্যবান ও অতিশয় মর্যাদাপূর্ণ বিষয়। তবে এই আলোচনায় প্রবেশের আগে এই ভূমিকায় আমি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই:-
১- বিষয়টি প্রাথমিকভাবে একটি কুরআনি বিষয়; এটি এমন একটি বিষয় যা সুন্নাহর চেয়ে কুরআনে অধিক গুরুত্ব পেয়েছে। মহান আল্লাহ কোনো নবীর দাওয়াতের কথা উল্লেখ করলেই তার বিজয়ের কারণও বর্ণনা করেছেন, এবং যারা সেই দাওয়াতের বিরোধিতা করেছে তাদের কথা উল্লেখ করেছেন ও তাদের ওপর তাঁর অসন্তুষ্টির কারণ স্পষ্ট করেছেন। এমনকি কোনো অনুসন্ধানকারী যখন এটি গভীরভাবে অনুসন্ধান করবে, তখন সে বিজয়ের কারণসমূহ এবং লাঞ্ছনা ও শাস্তির কারণগুলো সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি খুঁজে পাবে। ২- রাসূলদের (مرسلين) দাওয়াতে প্রতিষ্ঠা লাভের প্রভাবকসমূহ:-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ৩)
هذا العنوان فيه سجعة جميلة؛ ولكن ليس السبب في اختياره حلاوة السجع؛ ولكن لأن التمكين كلمة أعم وأشمل من النصر وسائر الألفاظ الدالة على الغلبة والقوة؛ لأنها كلمة تدل على التهيئة والتثبيت والقوة والغلبة والنصر العزيز الثابت الراسخ وهذا سر استعمال القرآن لها، أما "دعوات المرسلين" فلأن كل دعوة لرسول قد يظهر فيها عامل من عوامل النصر أكثر من غيره فدعوة نبي الله موسى - على نبينا وعليه الصلاة والسلام - ظهر فيها عامل الصبر أكثر من غيره، ولذا قال - سبحانه -: {وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ الْحُسْنَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ بِمَا صَبَرُوا} (1) ودعوة نبي الله سليمان - على نبينا وعليه الصلاة والسلام - جاء فيها عامل تجنيد الجند وتجييش الجيوش، في سبيل نصرة الدين أكثر من أي دعوة أخرى {ارْجِعْ إِلَيْهِمْ فَلَنَأْتِيَنَّهُمْ بِجُنُودٍ لَا قِبَلَ لَهُمْ بِهَا} (2) الآية وأما كلمة المرسلين فلأمرين:-
--------------------------------------------
এই শিরোনামটিতে একটি চমৎকার অলঙ্কারপূর্ণ অন্ত্যমিল রয়েছে; তবে এটি নির্বাচনের মূল কারণ কেবল ছন্দের মাধুর্য নয়; বরং এ কারণে যে, 'তামকিন' বা সুপ্রতিষ্ঠিত করা শব্দটি 'বিজয়' এবং শ্রেষ্ঠত্ব ও শক্তির পরিচায়ক অন্যান্য শব্দের তুলনায় অধিক ব্যাপক ও অর্থবহ। কারণ এটি এমন একটি শব্দ যা প্রস্তুতি, স্থায়িত্ব দান, শক্তি, শ্রেষ্ঠত্ব এবং এক সুদৃঢ়, অটল ও শক্তিশালী বিজয়ের অর্থ নির্দেশ করে; আর পবিত্র কুরআনে এই শব্দটি ব্যবহারের রহস্য এটাই। আর "রাসূলগণের দাওয়াত" বলার কারণ হলো—প্রত্যেক রাসূলের দাওয়াতের মধ্যে বিজয়ের কোনো একটি উপাদান অন্যান্য উপাদানের তুলনায় অধিক স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। যেমন আল্লাহর নবী মূসা—আমাদের নবী এবং তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—এর দাওয়াতের ক্ষেত্রে ধৈর্যের বিষয়টি অন্যান্য উপাদানের চেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়েছে। আর একারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর বনী ইসরাঈলদের ওপর তোমার প্রতিপালকের সেই উত্তম বাণী পূর্ণ হলো, যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল} (১)। অন্যদিকে আল্লাহর নবী সুলাইমান—আমাদের নবী এবং তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—এর দাওয়াতের ক্ষেত্রে দ্বীনের সাহায্যার্থে সৈন্য সংগ্রহ ও বাহিনী পরিচালনার বিষয়টি অন্য যেকোনো দাওয়াতের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে: {তুমি তাদের কাছে ফিরে যাও, আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে এমন এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে আসব যার মোকাবিলা করার শক্তি তাদের নেই} (২) - এই আয়াতটি। আর 'রাসূলগণ' শব্দটি ব্যবহারের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে:-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ৪)
الأمر الأول: أن الرسل مقطوع بنصرهم من الله - سبحانه - وعصمتهم من القتل بخلاف الأنبياء ومن تتبع تعبير القرآن رأى عجبًا فإن القرآن إذا قطع بالنصر عبر بلفظ الرسل كقوله: {كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي} (1) {وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ} (2) وإذا جاء ذكر القتل عبر بلفظ النبيين {وَيَقْتُلُونَ الْأَنْبِيَاءَ،} {وَقَتْلَهُمُ الْأَنْبِيَاءَ} والسبب - وعند الله العلم - أن رسول الأمة الأول لا يقتل أبدًا ولا بد من تمكينه ونصره في الدنيا فعلًا، ودليل ذلك قوله - تعالى - في سورة غافر: {وَهَمَّتْ كُلُّ أُمَّةٍ بِرَسُولِهِمْ لِيَأْخُذُوهُ وَجَادَلُوا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ فَأَخَذْتُهُمْ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ} (3) ، وقوله - جل ذكره - في سورة إبراهيم عليه السلام: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِرُسُلِهِمْ لَنُخْرِجَنَّكُمْ مِنْ أَرْضِنَا أَوْ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَا فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ رَبُّهُمْ لَنُهْلِكَنَّ الظَّالِمِينَ} {وَلَنُسْكِنَنَّكُمُ الْأَرْضَ مِنْ بَعْدِهِمْ ذَلِكَ لِمَنْ خَافَ مَقَامِي وَخَافَ وَعِيدِ} (4) ، وقوله في سورة
--------------------------------------------
প্রথম বিষয়টি হলো: রাসূলগণের ক্ষেত্রে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে সাহায্য এবং হত্যার হাত থেকে তাঁদের সুরক্ষাপ্রাপ্তি নিশ্চিত, যা নবীদের বিপরীত। আর যে ব্যক্তি কুরআনের প্রকাশভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করবেন, তিনি এক বিস্ময়কর বিষয় দেখতে পাবেন। কেননা কুরআন যখন সাহায্যের বিষয়ে অকাট্য সিদ্ধান্ত প্রদান করে, তখন ‘রাসূল’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে তা ব্যক্ত করে; যেমন আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ লিখে দিয়েছেন যে, অবশ্যই আমি এবং আমার রাসূলগণ বিজয়ী হব} (১), {এবং আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার এই কথাটি পূর্বেই স্থির হয়েছে} (২)। আর যখন হত্যার প্রসঙ্গ আসে, তখন ‘নবী’ শব্দ দ্বারা তা ব্যক্ত করা হয়েছে; যেমন: {এবং তারা নবীদের হত্যা করত}, {এবং তাদের নবীদের হত্যা করা}। এর কারণ—আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহরই নিকট—উম্মতের প্রধান রাসূল কখনো নিহত হন না এবং দুনিয়াতে অবশ্যই তাঁর ক্ষমতারূপ প্রতিষ্ঠা ও সাহায্য বাস্তবে রূপ লাভ করে। এর প্রমাণ হলো সূরা গাফিরে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং প্রত্যেক উম্মত তাদের রাসূলকে পাকড়াও করার সংকল্প করেছিল যাতে তাকে পরাভূত করতে পারে, আর তারা অসার তর্কের আশ্রয় নিয়েছিল তা দিয়ে সত্যকে বিলুপ্ত করার জন্য; অতঃপর আমি তাদের পাকড়াও করলাম, সুতরাং কেমন ছিল আমার শাস্তি} (৩)। এবং সূরা ইবরাহিম আলাইহিস সালামে মহান আল্লাহর বাণী: {আর কাফিররা তাদের রাসূলদের বলেছিল, আমরা অবশ্যই তোমাদের আমাদের ভূমি থেকে বহিষ্কার করব অথবা তোমাদের আমাদের মিল্লাতে ফিরে আসতে হবে। অতঃপর তাদের প্রতিপালক তাদের প্রতি ওহী পাঠালেন যে, আমি অবশ্যই যালিমদের ধ্বংস করে দেব।} {এবং তাদের পর আমি অবশ্যই তোমাদের এই জমিনে বসবাস করাব। এটি তার জন্য যে আমার সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং আমার সতর্কবার্তাকে ভয় করে} (৪)। এবং সূরা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
الأنبياء: {ثُمَّ صَدَقْنَاهُمُ الْوَعْدَ فَأَنْجَيْنَاهُمْ وَمَنْ نَشَاءُ وَأَهْلَكْنَا الْمُسْرِفِينَ} (1) .
أما الأنبياء الذين أرسلوا برسالة تجديدية لرسالة رسول الأمة الأول فإنهم قد يقتلون كرسل بني إسرائيل بعد موسى، وهذا ما يحمل عليه قوله - تعالى -: {أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَى أَنْفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقًا كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقًا تَقْتُلُونَ} (2) وإذا كان الأمر كذلك فإن من قدر الله أن تكتمل عوامل النصر والتمكين في دعوة رسول الأمة أكثر من النبي المجدد ومن هنا كان الاختيار للعنوان "عوامل التمكين في دعوات المرسلين"
--------------------------------------------
আল-আম্বিয়া: {অতঃপর আমি তাঁদেরকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলাম, ফলে আমি তাঁদেরকে ও যাঁদেরকে ইচ্ছা করলাম মুক্তি দিলাম এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের ধ্বংস করলাম} (১)।
পক্ষান্তরে সেই সকল নবীগণ (الأنبياء) যাঁদেরকে উম্মতের আদি রাসূলের বার্তার সংস্কারমূলক (تجديدية) দাওয়াত দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছিল, তাঁরা হয়তো নিহত হয়েছেন—যেমন মূসা (আ.)-এর পরবর্তী বনী ইসরাঈলের রাসূলগণের (رسل) ক্ষেত্রে ঘটেছিল। আর মহান আল্লাহর এই বাণীটি সে প্রসঙ্গের দিকেই ইঙ্গিত করে: {তবে কি যখনই তোমাদের নিকট কোনো রাসূল (رسول) এমন কিছু নিয়ে এসেছে যা তোমাদের প্রবৃত্তি পছন্দ করে না, তখনই তোমরা অহংকার করেছ? অতঃপর একদলকে তোমরা মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করেছ এবং একদলকে হত্যা করেছ} (২)। আর বিষয়টি যদি এমনই হয়ে থাকে, তবে আল্লাহর নির্ধারিত বিধান হলো এই যে, সংস্কারক নবীর (النبي المجدد) তুলনায় উম্মতের প্রধান রাসূলের দাওয়াতের ক্ষেত্রে বিজয় ও সুপ্রতিষ্ঠার (التمكين) উপকরণসমূহ অধিকতর পূর্ণতা লাভ করবে। এ কারণেই "রাসূলগণের দাওয়াতের ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠার (التمكين) উপকরণসমূহ" শিরোনামটি নির্বাচন করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
الأمر الثاني: أن الله سبحانه وتعالى يوجه رسوله صلى الله عليه وسلم إلى أن يترسم مسالك المرسلين قبله في نصرة الدين، ويحذره من المسالك التي عاتب عليها المرسلين قبله كقوله - تعالى -: {فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ} .. (1) الآية، وقوله سبحانه وتعالى: {فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تَكُنْ كَصَاحِبِ الْحُوتِ} .. (2) الآية، وقوله - تعالى -: في سورة القصص بعد أن ذكر قول نبي الله موسى: {قَالَ رَبِّ بِمَا أَنْعَمْتَ عَلَيَّ فَلَنْ أَكُونَ ظَهِيرًا لِلْمُجْرِمِينَ} (3) مخاطبًا نبيه محمدًا صلى الله عليه وسلم {فَلَا تَكُونَنَّ ظَهِيرًا لِلْكَافِرِينَ} (4) ، وقوله سبحانه وتعالى: {وَكُلًّا نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِ فُؤَادَكَ}
… (5) الآية.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় বিষয়: মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর পূর্ববর্তী রাসূলগণের দ্বীন বিজয়ের পথসমূহ অনুসরণ করার দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন এবং তাঁকে সেই সকল পথ ও পদ্ধতি অবলম্বন করা থেকে সতর্ক করছেন যেগুলোর কারণে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী রাসূলগণকে অনুযোগ করেছিলেন। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, যেমন ধৈর্য ধারণ করেছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ} .. (১) আয়াতাংশ, এবং মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বাণী: {অতএব আপনার পালনকর্তার নির্দেশের অপেক্ষায় ধৈর্য ধারণ করুন এবং আপনি মৎস্য-সহচরের ন্যায় হবেন না} .. (২) আয়াতাংশ, এবং সূরা আল-কাসাস-এ আল্লাহ তাআলার বাণী—যেখানে তিনি আল্লাহর নবী মূসার উক্তি উল্লেখ করেছেন: {তিনি বললেন: হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন, তার বিনিময়ে আমি কখনও অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না} (৩)—এরপর তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে (বলেছেন): {অতএব আপনি কখনও কাফিরদের সাহায্যকারী হবেন না} (৪), এবং মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বাণী: {আর আমি রাসূলগণের সংবাদের মধ্য হতে এমন সব সংবাদ আপনাকে শুনিয়েছি, যা দ্বারা আমি আপনার অন্তরকে দৃঢ় করি}
… (৫) আয়াতাংশ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
وبهذا يتبين لنا أن الله سبحانه وتعالى كان ينهج برسوله صلى الله عليه وسلم مناهج المرسلين قبله، ويحدد له معالم تمكين الدين في قصصهم ويأمره باتباعها، وكان صلى الله عليه وسلم يتحرى ذلك المنهج في دقائق الأمور من نصرته للدين، فقد قال لعلي بن أبي طالب رضي الله عنه حين تركه بالمدينة في أهله وخرج لغزوة تبوك: «أما ترضى أن تكون مني بمنزلة هارون من موسى إلا أنه لا نبي بعدي» ....) (1) مما يدل على أنه صلى الله عليه وسلم في تركه لعلي رضي الله عنه كان يترسم ما فعله موسى عليه السلام من استخلاف أخيه، وقوله له: {اخْلُفْنِي فِي قَوْمِي وَأَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيلَ الْمُفْسِدِينَ} (2) وقوله صلى الله عليه وسلم حين استشار أصحابه في شأن أسرى بدر: (
… «إن مثلك يا أبا بكر كمثل إبراهيم عليه السلام قال: {فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (3) ، ومثلك يا أبا بكر كمثل عيسى قال: {إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} (4) ، وإن مثلك يا عمر كمثل نوح، قال: {رَبِّ لَا تَذَرْ عَلَى
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর পূর্ববর্তী রাসূলগণের অনুসৃত পন্থায় পরিচালিত করতেন এবং তাঁদের ঘটনাবলির মাধ্যমে দ্বীন প্রতিষ্ঠার রূপরেখা নির্ধারণ করে দিতেন ও তাঁকে সেগুলো অনুসরণের নির্দেশ দিতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বীনের সাহায্যের ক্ষেত্রে অতি সূক্ষ্ম বিষয়েও সেই কর্মপন্থা অনুসরণের চেষ্টা করতেন। এ কারণেই তিনি যখন আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে মদিনায় তাঁর পরিবারের নিকট রেখে যাচ্ছিলেন এবং তাবুক যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছিলেন, তখন তাঁকে বলেছিলেন: «তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আমার কাছে তোমার মর্যাদা ঠিক তেমনি, যেমন ছিল মুসার কাছে হারুনের মর্যাদা? তবে পার্থক্য এই যে, আমার পরে আর কোনো নবী নেই» ....) (১) যা প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলীকে রেখে যাওয়ার ক্ষেত্রে মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সেই কর্মপদ্ধতিই অনুসরণ করেছিলেন যেখানে তিনি তাঁর ভাইকে স্থলাভিষিক্ত (استخلاف) করেছিলেন এবং তাঁকে বলেছিলেন: {আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে আমার প্রতিনিধিত্ব করো, সংস্কার করো এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করো না} (২) এবং বদর যুদ্ধের বন্দীদের বিষয়ে সাহাবিগণের সঙ্গে পরামর্শ করার সময় তাঁর বাণী: (
… «হে আবু বকর! তোমার উদাহরণ হলো ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর মতো, যিনি বলেছিলেন: {যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার দলভুক্ত, আর যে আমার অবাধ্য হবে, তবে নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু} (৩) , এবং হে আবু বকর! তোমার উদাহরণ ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর মতো, যিনি বলেছিলেন: {যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন তবে তারা আপনারই বান্দা, আর যদি তাদের ক্ষমা করেন তবে নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়} (৪) , আর হে উমর! তোমার উদাহরণ হলো নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর মতো, যিনি বলেছিলেন: {হে আমার প্রতিপালক! আপনি জমিনের ওপর (কাফিরদের কাউকে) অবশিষ্ট রাখবেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا} (1) ، وإن مثلك يا عمر كمثل موسى قال: {رَبَّنَا اطْمِسْ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَاشْدُدْ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُوا حَتَّى يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ} » (2) .....) (3)
3- في مدارسة موضوع النصر والتمكين من خلال نصوص القرآن روح أيما روح وجنة وارفة من السكينة والإيمان كيف وقد كان صلى الله عليه وسلم إذا دارس القرآن مع جبريل كان أجود بالخير من الريح المرسلة، ففي مدارسة موضوع تمكين من خلال نصوص القرآن شحذ لعزائم المؤمنين وحفز لأن يجودوا بالغالي والرخيص والنفس والنفيس وصدق الله حين قال: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا}
… (4) الآية.
فضلًا عما في مدارسة الموضوع من خلال القرآن من الهداية والتوفيق كما قال - تعالى -: {يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ} (5) إلا أنه ينبغي هنا أن ننبه إلى أن الدخول إلى القرآن من غير السنة ضلالة مهلكة كما قال الإمام مالك - رحمه الله تعالى -: (السنة سفينة نوح من ركبها نجا، ومن تخلف عنها غرق) (6) .
--------------------------------------------
পৃথিবীতে কাফিরদের মধ্য থেকে কোনো গৃহবাসীকে অবশিষ্ট রেখো না} (১) , আর হে ওমর! তোমার দৃষ্টান্ত মুসা (আ.)-এর মতো, যিনি বলেছিলেন: {হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দাও এবং তাদের অন্তর কঠোর করে দাও, ফলে তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি না দেখা পর্যন্ত ঈমান আনবে না} (২) .....) (৩)
৩- কুরআনের বর্ণনার আলোকে বিজয় ও প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অধ্যয়ন করার মধ্যে রয়েছে এক অনন্য আধ্যাত্মিকতা এবং প্রশান্তি ও ঈমানের এক সুবিস্তৃত জান্নাত। কেনই বা হবে না, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরাঈল (আ.)-এর সাথে কুরআন অধ্যয়ন করতেন, তখন তিনি কল্যাণ বিতরণে প্রবাহিত বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল হতেন। তাই কুরআনের বর্ণনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অধ্যয়ন করা মুমিনদের সংকল্পকে শাণিত করে এবং তাদেরকে মূল্যবান ও তুচ্ছ, এমনকি জান ও মাল বিলিয়ে দিতে উৎসাহিত করে। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {এভাবেই আমি আমার নির্দেশ থেকে তোমার নিকট রুহ (ওহি) পাঠিয়েছি}
… (৪) আয়াত।
এ ছাড়া কুরআনের মাধ্যমে এই বিষয়টি আলোচনার মাঝে রয়েছে হিদায়াত ও তাওফিক, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এর মাধ্যমে আল্লাহ সেসব ব্যক্তিকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন} (৫) তবে এখানে আমাদের সতর্ক করা উচিত যে, সুন্নাহর সাহায্য ছাড়া কুরআনের ব্যাখ্যায় প্রবেশ করা একটি ধ্বংসাত্মক ভ্রষ্টতা। যেমন ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: (সুন্নাহ হলো নূহ-এর নৌকার মতো, যে তাতে আরোহণ করল সে মুক্তি পেল, আর যে তা থেকে বিচ্যুত হলো সে নিমজ্জিত হলো) (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
4- ثمة عوامل تستحق الإفراد والتجريد أكثر وهي:
1. التوحيد.
2. القيادة الراشدة.
3. الثبات.
ولكن كل هذه العوامل داخلة في مباحث في هذا الكتاب فالتوحيد داخل في مبحث الإيمان الخالص لله.
والقيادة الراشدة داخلة في مباحث الحكمة في الدعوة والتواصي بالحق وأهمية الشورى.
والثبات داخل في مبحث الصبر، وإن كانت قناعتي الآن أن إفرادها بمباحث مستقلة هو الأولى ولكن لعل هذا يتحقق فيما بعد - إن شاء الله.
4- এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা ও বিশ্লেষণের অধিকতর দাবি রাখে, সেগুলো হলো:
1. তাওহিদ।
2. ন্যায়নিষ্ঠ নেতৃত্ব।
3. অবিচলতা।
তবে এই সকল উপাদানই এই গ্রন্থের বিভিন্ন আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে; যেমন তাওহিদ বিষয়টি আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ ঈমান বিষয়ক আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।
আর ন্যায়নিষ্ঠ নেতৃত্ব হলো দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা, সত্যের উপদেশ এবং পরামর্শের গুরুত্ব বিষয়ক আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।
আর অবিচলতা ধৈর্যের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত। যদিও বর্তমানে আমার সুদৃঢ় বিশ্বাস এই যে, এগুলোকে স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করাই ছিল অধিকতর উত্তম, তবে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে হয়তো তা সম্পন্ন হবে।
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
5- دعوة خاتم المرسلين صلى الله عليه وسلم دعوة خاتمة كاملة وعند دراسة موضوع النصر والتمكين فيها ومقارنتها بدعوات الرسل تجد أن دعوة نبينا صلى الله عليه وسلم اشتملت على كافة عوامل النصر والتمكين في جلاء ظاهر وحسن باهر فمن القيادة الراشدة إلى الدعوة الصادقة بيانًا للحق ورحمة بالخلق إلى الصبر والثبات والتهيئة والإعداد والتضحية والجهاد. وعجبًا لمن يسعى لنصرة دين الله دون أن يتأمل السيرة ويتتبع قبل ذلك نصوص القرآن عن غزواته صلى الله عليه وسلم ودعوته فقد أطال القرآن في ذلك كثيرًا، وأوسعته السنة تفصيلًا، ولا يتعامى عن هذا المنهج القويم إلا المحجوب بنفسه عن ربه، أو المقدم للعقل على النقل، والله المسؤول أن يهدينا سواء السبيل، وأن يعيذنا شرور أنفسنا وأن ينفعنا بالقرآن كل نفع، ويرفعنا به كل رفع، ويجعله لنا هدى وبشرى، وعظة وذكرى، وأن ينصر من نصر الدين، ويخذل من خذل الإسلام والمسلمين، والعاقبة للمتقين، وصلى الله على خاتم النبيين، المبعوث رحمة للعالمين، وعلى آله وصحبه أجمعين.
5- সর্বশেষ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াত হলো এক চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ দাওয়াত। এর মধ্যে বিজয় ও সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার (التمكين) বিষয়টি অধ্যয়ন করলে এবং অন্যান্য রাসুলগণের দাওয়াতের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় যে, আমাদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াত অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও চমৎকারভাবে বিজয় ও সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার (التمكين) সমস্ত উপাদানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সঠিক দিকনির্দেশনাপূর্ণ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সত্যের বর্ণনা এবং সৃষ্টির প্রতি রহমতস্বরূপ সত্যনিষ্ঠ দাওয়াত, আর ধৈর্য, অবিচলতা, প্রস্তুতি, আয়োজন, আত্মত্যাগ ও জিহাদ—সবই এতে বিদ্যমান। আর সেই ব্যক্তির জন্য বিস্ময়, যে সিরাত গভীরভাবে অনুধাবন না করে এবং তার পূর্বে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধ ও দাওয়াত সম্পর্কে কুরআনের বর্ণনাগুলো অনুসরণ না করেই আল্লাহর দ্বীনের বিজয়ের জন্য চেষ্টা করে। অথচ কুরআন এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছে এবং সুন্নাহ একে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছে। এই সঠিক পথ থেকে কেবল তারাই অন্ধ থাকে, যারা নিজ নফসের কারণে তার প্রতিপালক থেকে বিচ্ছিন্ন, অথবা যারা বর্ণনার (النقل) ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক বা যুক্তিনির্ভরতাকে (العقل) অগ্রাধিকার দেয়। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন, আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন এবং কুরআন দ্বারা আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে উপকৃত করেন, এর মাধ্যমে আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং একে আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক, সুসংবাদদাতা, উপদেশ ও স্মারক বানিয়ে দেন। আর তিনি যেন সেই ব্যক্তিকে সাহায্য করেন যে দ্বীনকে সাহায্য করে এবং তাকে লাঞ্ছিত করেন যে ইসলাম ও মুসলিমদের লাঞ্ছিত করে। শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকিদের জন্য। সর্বশেষ নবি, যিনি বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
دلالة التمكين1 - دلالته في اللغة.
2 - دلالته في اصطلاح القرآن.
دلالة التمكين في اللغة والقرآن
الدلالة اللغوية لكلمة "التمكين":
"التمكين" مصدر للفعل مكّن وهو من مزيد الثلاثي والأصل "مكَن" وقد وردت مادة "مكن" في كتب اللغة ولم تخرج عن أصل وضعها، قال الجوهري: ("مكن" مكنه الله من الشيء وأمكنه منه بمعنى، واستمكن الرجل من الشيء وتمكن منه بمعنى، وفلان لا يمكنه النهوض: أي لا يقدر عليه.
والمكْن: بيض الضب.. قال الكسائي: أمكنت الضبة جمعت بيضها في بطنها) (1) .
--------------------------------------------
'তামকিন' (التمكين)-এর তাৎপর্য১ - ভাষাতত্ত্বে এর তাৎপর্য।
২ - কুরআনের পরিভাষায় (اصطلاح) এর তাৎপর্য।
ভাষাতত্ত্ব ও কুরআনে 'তামকিন' (التمكين)-এর তাৎপর্য "তামকিন" (التمكين) শব্দের আভিধানিক তাৎপর্য (الدلالة اللغوية):
"তামকিন" (التمكين) শব্দটি "মাক্কানা" (مكّن) ক্রিয়ার ক্রিয়াপদ (مصدر), যা তিন অক্ষরের অতিরিক্ত (مزيد الثلاثي) রূপ এবং এর মূল রূপ (الأصل) হলো "মাকানা" (مكَن)। ভাষাতত্ত্বের গ্রন্থসমূহে "মাকানা" (مكن) ধাতুটি বর্ণিত হয়েছে এবং এটি তার মৌলিক ব্যবহারের বাইরে যায়নি। আল-জাওহারী বলেছেন: ("মাকানা" (مكن) - আল্লাহ তাকে কোনো বিষয়ে সামর্থ্য দান করেছেন (مكنه) এবং তাকে তার ওপর সক্ষম করেছেন (أمكنه) একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। অনুরূপভাবে, কোনো ব্যক্তি কোনো বিষয়ে সামর্থ্য অর্জন করেছে (استمكن) এবং তাতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে (تمكن) একই অর্থ বহন করে। আর বলা হয়, অমুক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াতে সক্ষম নয় (لا يمكنه): অর্থাৎ সে তার সামর্থ্য রাখে না।
আর 'আল-মাকন' (المكْن) হলো: ধব (الضب)-এর ডিম। আল-কিসায়ী বলেছেন: যখন স্ত্রী ধব (الضبة) তার পেটে ডিমগুলো একত্রিত করে তখন তাকে 'আমকানাত' (أمكنت) বলা হয়) (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقال صاحب اللسان: (وقد مكنت الضبة وهي مكون، وأمكنت وهي ممكن إذا جمعت البيض في جوفها.. وفي حديث أبي سعيد: "لقد كنا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يهدى لأحدنا الضبة المكون أحب إليه من أن يُهْدى إليه دجاجة سمينة"؛ المكون التي جمعت المكن وهو بيضها، وقيل: الضبة المكون التي على بيضها.. والمَكِنة التمكن؛ تقول العرب: إن بني فلان لذوو مَكِنة من السلطان أي تمكن.. وقال ابن سيده: والمكانة المنزلة عند الملك؛ والجمع مكانات ولا يجمع جمع تكسير وقد مَكُن مكانة فهو مكين، والجمع مكناء، وتمكَّن كَمَكن. وتمكن من الشيء واستمكن ظفر، والاسم من كل ذلك المكانة. قال أبو منصور: ويقال أمكنني الأمر، يمكنني فهو ممكن، ولا يقال: أنا أمكنه بمعنى أستطيعه) (1) .
--------------------------------------------
এবং লিসানুল আরব-এর লেখক বলেছেন: (স্ত্রী গুইসাপ যখন তার পেটে ডিম সংগ্রহ করে তখন তাকে 'মাকুনাত' (مكنت) বলা হয় এবং সে হলো 'মুকুন' (مكون); আবার 'আমকানাত' (أمكنت) বলা হয় এবং সেটি তখন 'মুমকিন' (ممكن)... আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসে এসেছে: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ছিলাম, আমাদের কাউকে একটি ডিম্ববতী গুইসাপ (الضبة المكون) উপহার দেওয়া হলে সেটি তার কাছে একটি হৃষ্টপুষ্ট মুরগি উপহার পাওয়ার চেয়েও অধিক প্রিয় ছিল"; এখানে 'মুকুন' (المكون) বলতে সেই গুইসাপকে বোঝানো হয়েছে যা 'মাকন' (المكن) অর্থাৎ তার ডিমসমূহ একত্রিত করেছে। আবার বলা হয়েছে: 'মুকুন' (المكون) হলো সেই গুইসাপ যা তার ডিমের ওপর অবস্থান করে... 'মাকিনাহ' (المكنة) অর্থ হলো সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া (التمكن); আরবরা বলে: অমুক গোত্র সুলতানের নিকট বিশেষ মর্যাদা ও প্রভাবের (مَكِنة) অধিকারী, অর্থাৎ তারা সুপ্রতিষ্ঠিত (تمكن)... ইবন সিদাহ বলেন: 'মাকানাহ' (المكانة) অর্থ হলো উচ্চ মর্যাদা (المنزلة) যা রাজার নিকট অর্জিত হয়; এর বহুবচন হলো 'মাকানাত' (مكانات), এর কোনো ভগ্ন বহুবচন (جمع تكسير) হয় না। যখন কেউ উচ্চ মর্যাদা লাভ করে (مَكُنَ) তখন সে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন (مكين), যার বহুবচন হলো 'মুকানা' (مكناء); আর 'তামাক্কানা' (تمكن) শব্দটি 'মাকানা' (مكن) এর অর্থেই ব্যবহৃত হয়। কোনো বিষয়ে সামর্থ্য লাভ করা বা তা আয়ত্তে করাকেও 'তামাক্কানা' (تمكن) বা 'ইস্তামাক্কানা' (استمكن) বলা হয় এবং এই সবকিছুর মূল বিশেষ্য হলো 'মাকানাহ' (المكانة)। আবু মনসুর বলেন: বলা হয়, বিষয়টি আমার অনুকূলে এসেছে (أمكنني الأمر), যা সম্ভব (ممكن) হিসেবে গণ্য; তবে সামর্থ্য বা সক্ষমতা অর্থে 'আমি এটি করতে পারি' (أنا أمكنه) বলা হয় না) (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقال صاحب المفردات عند مادة "مكن": (المكان عند أهل اللغة الموضع الحاوي للشيء، وعند بعض المتكلمين أنه عرض وهو اجتماع جسمين حاوٍ ومحويّ، وذلك أن يكون سطح الجسم الحاوي محيطًا بالمحوي، فالمكان عندهم هو المناسبة بين هذين الجسمين، قال: {مَكَانًا سُوًى} - {وَإِذَا أُلْقُوا مِنْهَا مَكَانًا ضَيِّقًا} ويقال: مَكَّنتُه ومكنت له فتمكن. قال: {وَلَقَدْ مَكَّنَّاكُمْ فِي الْأَرْضِ} - {وَلَقَدْ مَكَّنَّاهُمْ فِيمَا إِنْ مَكَّنَّاكُمْ فِيهِ} - {أَوَلَمْ نُمَكِّنْ لَهُمْ} - {وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ} .. وأمكنت فلانا من فلان ويقال: مكان ومكانة، قال - تعالى -: {اعْمَلُوا عَلَى مَكَانَتِكُمْ} .. وقرئ: "على مكاناتكم". وقوله: {ذِي قُوَّةٍ عِنْدَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ} أي متمكن ذي قدر ومنزلة، ومَكَنات الطير ومَكُناتها مقارُّه..) (1) .
ومما سبق نخلص إلى أن مادة الكلمة قد استعملت بمعانٍ عديدة متقاربة لا تخرج عن أصل الاستعمال فقد استعملت بمعنى القدرة على الشيء والظفر به، وكذلك بمعنى السلطان والقدر والمنزلة.
--------------------------------------------
মুফরাদাত (Al-Mufradat) গ্রন্থের লেখক 'মাকানা' (مكن) মূলশব্দের আলোচনায় বলেন: (ভাষাবিদদের (أهل اللغة) মতে স্থান (مكان) হলো কোনো বস্তুকে ধারণকারী জায়গা। আর কিছু কালামশাস্ত্রবিদের (المتكلمين) মতে এটি একটি আপতিত গুণ (عرض); যা মূলত ধারক ও ধৃত—এই দুই দেহের মিলনজাত অবস্থা। আর তা এভাবে যে, ধারক বস্তুর উপরিভাগ ধৃত বস্তুকে পরিবেষ্টন করে থাকবে। সুতরাং তাদের নিকট স্থান হলো এই দুই দেহের মধ্যবর্তী পারস্পরিক সম্পর্ক। তিনি বলেন: {একটি সমতল স্থান} - {আর যখন তাদেরকে সেখান থেকে কোনো সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে}। বলা হয়: 'মাক্কানতুহু' (আমি তাকে সামর্থ্য দিয়েছি) এবং 'মাক্কানতু লাহু' (আমি তার জন্য সুযোগ করে দিয়েছি), ফলে সে সামর্থ্য লাভ করল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি তোমাদের জমিনে সামর্থ্য ও প্রতিপত্তি (تمكين) দান করেছি} - {আমি তাদের এমন বিষয়ে সামর্থ্য দিয়েছি যে বিষয়ে তোমাদের সামর্থ্য দিইনি} - {আমি কি তাদের জন্য একটি নিরাপদ হারামের ব্যবস্থা করে দিইনি?} - {এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুদৃঢ় (تمكين) করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন}... 'আমি অমুককে অমুকের ওপর সক্ষমতা দিয়েছি'। আরও বলা হয়: স্থান (مكان) এবং মর্যাদা (مكانة)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে কাজ করো}... আর এটি 'মাকানাতুকুম' (مكاناتكم) হিসেবেও পঠিত হয়েছে। আর মহান আল্লাহর বাণী: {যিনি আরশের অধিপতির নিকট শক্তিশালী এবং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন (مكين)}; অর্থাৎ সামর্থ্যবান, প্রতিপত্তি ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। আর পাখিদের নীড় বা আবাসস্থলকেও 'মাকানাত' বলা হয়...।) (১)।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, শব্দটির মূল উপাদানসমূহ এমন সব নিকটবর্তী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যা এর মূল প্রয়োগশৈলীর বাইরে নয়। এটি মূলত কোনো বিষয়ের ওপর সক্ষমতা (قدرة) অর্জন ও তা লাভে সফল হওয়া, আবার কখনো কর্তৃত্ব (سلطان), মাহাত্ম্য (قدر) ও উচ্চ মর্যাদার (منزلة) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
التمكين في اصطلاح القرآن الكريم:-
وردت كلمة "التمكين" في القرآن الكريم باشتقاقاتها ثماني عشرة مرة، ولم يحدد لها القرآن اصطلاحًا خاصًّا بل استعملها في المعاني التي ذكرت معاجم اللغة، وباستقراء الآيات التي وردت فيها اشتقاقات الكلمة يتبين لنا أن القرآن استعمل الكلمة على سبعة معانٍ هي الآتي:-
أولًا: التمكين بمعنى الملك والسلطان:-
قال - جل ذكره - في شأن ذي القرنين: {إِنَّا مَكَّنَّا لَهُ فِي الْأَرْضِ} .. (1) قال ابن كثير رحمه الله: (أي أعطيناه ملكًا عظيمًا ممكنًا فيه من جميع ما يُعطى الملوك من التمكين والجنود..) (2) .
ومن هذا القبيل قوله - تعالى -: {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ} (3) ، قال الشيخ عبد الرحمن السعدي في تفسيره: (أي ملكناهم إياها وجعلناهم المتسلطين عليها، من غير منازع ينازعهم، ولا معارض) (4) .
ثانيًا: التمكين بمعنى المنزلة عند الملك:-
--------------------------------------------
কুরআনুল কারীমের পরিভাষায় প্রতিষ্ঠা (التمكين):-
কুরআনুল কারীমে 'তামকিন' শব্দটি এর বিভিন্ন রূপান্তরসহ আঠারো বার এসেছে। কুরআন এর জন্য কোনো বিশেষ পারিভাষিক (اصطلاحًا) সংজ্ঞা নির্ধারণ করেনি, বরং এটি অভিধানে বর্ণিত অর্থসমূহে ব্যবহার করা হয়েছে। যে আয়াতগুলোতে শব্দটির বিভিন্ন রূপান্তর এসেছে, সেগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, কুরআন এই শব্দটি সাতটি অর্থে ব্যবহার করেছে, যা নিম্নরূপ:-
প্রথমত: রাজত্ব (الملك) ও ক্ষমতা (السلطان) অর্থে প্রতিষ্ঠা (التمكين):-
মহান আল্লাহ যুল-কারনাইন সম্পর্কে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি তাকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা (مَكَّنَّا) দিয়েছিলাম} .. (১) ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন: (অর্থাৎ আমি তাকে এক বিশাল রাজত্ব দান করেছি এবং রাজাদের যা কিছু প্রদান করা হয়, তার সবকিছুই তাকে সামর্থ্য (التمكين) ও সৈন্যবাহিনীর মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে...) (২) ।
এ প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা (مَكَّنَّاهُمْ) দান করলে} (৩) , শায়খ আব্দুর রহমান আস-সাদী তাঁর তাফসিরে বলেছেন: (অর্থাৎ আমি তাদেরকে এর মালিক বানিয়েছি এবং কোনো প্রকার প্রতিদ্বন্দ্বী বা বিরোধিতাকারী ছাড়াই তাদেরকে এর ওপর কর্তৃত্বশীল করেছি) (৪) ।
দ্বিতীয়ত: বাদশাহর নিকট পদমর্যাদা অর্থে প্রতিষ্ঠা (التمكين):-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قال - تعالى - في شأن يوسف - على نبينا وعليه الصلاة والسلام -: {وَقَالَ الْمَلِكُ ائْتُونِي بِهِ أَسْتَخْلِصْهُ لِنَفْسِي فَلَمَّا كَلَّمَهُ قَالَ إِنَّكَ الْيَوْمَ لَدَيْنَا مَكِينٌ أَمِينٌ} (1) ، وقال - تعالى - في جبريل عليه السلام: {ذِي قُوَّةٍ عِنْدَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ} (2) ، وكذلك قال - تعالى - في شأن يوسف - على نبينا وعليه الصلاة والسلام -: {وَكَذَلِكَ مَكَّنَّا لِيُوسُفَ فِي الْأَرْضِ يَتَبَوَّأُ مِنْهَا حَيْثُ يَشَاءُ} .. (3) ، ويفسر هذا التمكين أنه نصيب من الملك ومنزلة ذات قدر عند الملك قوله - تعالى - في آخر السورة على لسان يوسف - على نبينا وعليه الصلاة والسلام -: {رَبِّ قَدْ آتَيْتَنِي مِنَ الْمُلْكِ} .. (4) .
ثالثًا: التمكين بمعنى التهيئة:-
قال - تعالى -: {أَوَلَمْ نُمَكِّنْ لَهُمْ حَرَمًا آمِنًا يُجْبَى إِلَيْهِ ثَمَرَاتُ كُلِّ شَيْءٍ} .. (5) أي ألم نجعل حرمًا ذا أمن (6) .
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ ইউসুফ আলাইহিস সালাম—আমাদের নবী এবং তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—এর মর্যাদা প্রসঙ্গে বলেছেন: {এবং রাজা বলল, ‘তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি তাকে আমার নিজের জন্য একান্ত সহচর হিসেবে মনোনীত করব।’ অতঃপর রাজা যখন তার সাথে কথা বলল, তখন সে বলল, ‘নিশ্চয়ই আজ আপনি আমাদের নিকট মর্যাদাশীল (مكين) ও বিশ্বস্ত (أمين)’} (১), এবং মহান আল্লাহ জিবরাঈল আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন: {যিনি শক্তিশালী এবং আরশের অধিপতির নিকট মর্যাদাশীল (مكين)} (২), অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ ইউসুফ আলাইহিস সালাম—আমাদের নবী এবং তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—এর ব্যাপারে বলেছেন: {আর এভাবেই আমি ইউসুফকে উক্ত ভূখণ্ডে সুপ্রতিষ্ঠিত (مكنا) করেছি; সে সেখানে যেখানে ইচ্ছা বসবাস করতে পারত...} (৩), আর এই সুপ্রতিষ্ঠিত করা (التمكين)-এর ব্যাখ্যা হলো যে, এটি রাজত্বের একটি অংশ এবং রাজার নিকট উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন অবস্থান; যা সূরার শেষে ইউসুফ আলাইহিস সালাম—আমাদের নবী এবং তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—এর জবানীতে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়: {হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে রাজত্ব দান করেছেন...} (৪)।
তৃতীয়ত: সুযোগ করে দেওয়া বা প্রস্তুত করা (التهيئة) অর্থে সুপ্রতিষ্ঠিত করা (التمكين):-
মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমি কি তাদের জন্য একটি নিরাপদ (آمن) হারাম সুপ্রতিষ্ঠিত (نمكن) করে দেইনি, যেখানে সর্বপ্রকার ফলমূল সংগৃহীত হয়?} (৫) অর্থাৎ, আমি কি একটি নিরাপদ (أمن) হারাম নির্ধারণ করিনি (৬) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال - تعالى - في شأن يوسف - على نبينا وعليه الصلاة والسلام -: {وَقَالَ الَّذِي اشْتَرَاهُ مِنْ مِصْرَ لِامْرَأَتِهِ أَكْرِمِي مَثْوَاهُ عَسَى أَنْ يَنْفَعَنَا أَوْ نَتَّخِذَهُ وَلَدًا} {وَكَذَلِكَ مَكَّنَّا لِيُوسُفَ فِي الْأَرْضِ وَلِنُعَلِّمَهُ مِنْ تَأْوِيلِ الْأَحَادِيثِ وَاللَّهُ غَالِبٌ عَلَى أَمْرِهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ} .. (1) ، أي جعلنا هذا مقدمة وتهيئة لتمكينه في الأرض من هذا الطريق (2) .
رابعًا: التمكين في نعم الدنيا ومعايشها:-
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ —তায়ালা— ইউসুফ —আমাদের নবী এবং তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক— এর মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন: {আর মিশরের যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করেছিল, সে তার স্ত্রীকে বলল, ‘তার আবাসন সম্মানজনক করো, হতে পারে সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ করে নেব।’ এভাবেই আমি ইউসুফকে সেই ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠিত করলাম এবং যেন আমি তাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিতে পারি। আর আল্লাহ নিজ কার্যে বিজয়ী, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ...} .. (১); অর্থাৎ আমি একে এই পন্থায় জমিনে তার প্রতিষ্ঠার এক ভূমিকা ও প্রস্তুতি স্বরূপ নির্ধারণ করেছি (২)।
চতুর্থত: পার্থিব নেয়ামত ও জীবনোপকরণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ:-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال - تعالى -: {أَلَمْ يَرَوْا كَمْ أَهْلَكْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ قَرْنٍ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ مَا لَمْ نُمَكِّنْ لَكُمْ وَأَرْسَلْنَا السَّمَاءَ عَلَيْهِمْ مِدْرَارًا وَجَعَلْنَا الْأَنْهَارَ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمْ فَأَهْلَكْنَاهُمْ بِذُنُوبِهِمْ وَأَنْشَأْنَا مِنْ بَعْدِهِمْ قَرْنًا آخَرِينَ} (1) . وقال - تعالى -: {وَلَقَدْ مَكَّنَّاهُمْ فِيمَا إِنْ مَكَّنَّاكُمْ فِيهِ وَجَعَلْنَا لَهُمْ سَمْعًا وَأَبْصَارًا وَأَفْئِدَةً} .. (2) ، الآية، قال ابن كثير: رحمه الله: (يقول - تعالى -: ولقد مكنا الأمم السالفة في الدنيا من الأموال والأولاد وأعطيناهم منها ما لم نعطكم مثله ولا قريبًا منه) (3) .
خامسًا: التمكين للدين:-
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা কি দেখেনি যে, তাদের আগে আমি কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি যাদেরকে আমি জমিনে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত (مكناهم) করেছিলাম যা তোমাদের জন্য করিনি? আমি তাদের ওপর আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত পাঠিয়েছিলাম এবং তাদের নিম্নদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত করেছিলাম। অতঃপর আমি তাদের পাপের কারণে তাদেরকে ধ্বংস করেছি এবং তাদের পরে অন্য এক প্রজন্ম গড়ে তুলেছি} (১)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আমি তাদেরকে এমন সব বিষয়ে সামর্থ্য ও প্রতিষ্ঠা (مكناهم) দিয়েছিলাম যে বিষয়ে তোমাদেরকে সামর্থ্য দিইনি; আর আমি তাদের জন্য কান, চোখ ও হৃদয় দিয়েছিলাম...} (২), আয়াতাংশ। ইবনে কাসির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আল্লাহ তাআলা বলছেন: আমি দুনিয়াতে পূর্ববর্তী উম্মতদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির এমন সামর্থ্য ও প্রতিষ্ঠা (مكنا) দিয়েছিলাম যার সমপরিমাণ বা তার কাছাকাছি কিছুও তোমাদেরকে দিইনি) (৩)।
পঞ্চম: দ্বীনের জন্য প্রতিষ্ঠা (التمكين):-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وهو يعني القدرة على مزاولة شعائره في أمن وإظهارها دون منازع أو مشوش، قال - تعالى - في سورة النور: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا} .. (1) .
سادسًا: التمكين بمعنى الظفر:-
قال - تعالى -: {وَإِنْ يُرِيدُوا خِيَانَتَكَ فَقَدْ خَانُوا اللَّهَ مِنْ قَبْلُ فَأَمْكَنَ مِنْهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} (2) ، فأمكن بمعنى أظفر وأقدر (3) .
سابعًا: التمكين بمعنى الثبوت والاستقرار:-
قال - تعالى -: {أَلَمْ نَخْلُقْكُمْ مِنْ مَاءٍ مَهِينٍ} {فَجَعَلْنَاهُ فِي قَرَارٍ مَكِينٍ} (4) . أي ثابت مستقر.
--------------------------------------------
এর অর্থ হলো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বা বিঘ্নকারী ছাড়াই নিরাপদে স্বীয় ধর্মীয় অনুশাসনসমূহ পালনের সামর্থ্য অর্জন ও তা প্রকাশ করা। মহান আল্লাহ সূরা আন-নূরে ইরশাদ করেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন; এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাদের ভয়ের পরিবর্তে অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা দান করবেন। তারা কেবল আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কাউকে শরিক করবে না।" .. (১) .
ষষ্ঠত: বিজয় (الظفر) অর্থে প্রতিষ্ঠা (التمكين):-
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "আর যদি তারা তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চায়, তবে তারা তো ইতিপূর্বেও আল্লাহর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, অতঃপর তিনি তাদের ওপর বিজয় (أمكن) দান করেছেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়" (২) , এখানে 'আমকানা' অর্থ হলো জয়যুক্ত করা (أظفر) ও সামর্থ্য দান করা (أقدر) (৩) .
সপ্তমত: স্থায়িত্ব (الثبوت) ও স্থিতিশীলতা (الاستقرار) অর্থে প্রতিষ্ঠা (التمكين):-
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "আমি কি তোমাদের তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করিনি? অতঃপর আমি তা এক সুরক্ষিত (مكين) আধারে রেখেছি" (৪) । অর্থাৎ সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وعد الرسل بالتمكين ومزاياه:-
لكننا نلحظ في القرآن مجيء الوعد بالنصر والغلبة والعاقبة والتمكين المذكور فيه الرسل أكثر وآكد - بمؤكدات لفظية ظاهرة ومعنوية - من الوعد بالتمكين والنصر المذكور فيه المؤمنون فقط، وما ذاك إلا أن دعوات الرسل خصوصًا من أمر منهم بقتال فلا يمكن أن يغلبه أعداؤه أبدًا ألبتة بل النصر مجزوم به له ولأتباعه وهم الغالبون القاهرون، قال - تعالى -: {كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ} (1)
وهنا أكد الله سبحانه وتعالى غلبة الرسل بمؤكد ما بعده مؤكد فقد عطف الرسل على ذاته العلية ((أنا)) فتأكدت الغلبة كل تأكيد فالله معهم وهو غالب لا يغلب - سبحانه -، والتحقيق أن الأنبياء الذين ذكر القرآن أن أقوامهم قتلوهم أنهم لم يكونوا في قتال (2) ، أما من قاتل منهم فإنه لا يتصور بحال ولا يليق بحال العزيز القهار ذي الانتقام أن يكلف ويرسل رسولًا ويأمره بقتال ثم يقتل وهو لم ير ما وُعد من نصر والآية المذكورة شاهدة في هذا المعنى بذلك.
--------------------------------------------
রাসূলগণের প্রতি সক্ষমতা (تمكين) প্রদানের প্রতিশ্রুতি ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:-
তবে আমরা কুরআনে লক্ষ্য করি যে, সাহায্য (نصر), বিজয় (غلبة), শুভ পরিণাম (عاقبة) এবং সক্ষমতা (تمكين) প্রদানের যে প্রতিশ্রুতি রাসূলগণের ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে, তা কেবল মুমিনদের ব্যাপারে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতির তুলনায় অধিক ও সুনিশ্চিত—যা প্রকাশ্য ও অন্তর্নিহিত বিভিন্ন শব্দগত নিশ্চয়তার মাধ্যমে ব্যক্ত হয়েছে। এর কারণ হলো, রাসূলগণের দাওয়াত—বিশেষত যাঁদেরকে যুদ্ধের আদেশ প্রদান করা হয়েছে—তাঁদেরকে শত্রুরা কখনোই পরাজিত করতে পারে না। বরং তাঁদের ও তাঁদের অনুসারীদের জন্য সাহায্য (نصر) সুনিশ্চিত এবং তাঁরাই বিজয়ী ও পরাক্রমশালী হয়ে থাকেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ লিখে রেখেছেন যে, আমি ও আমার রাসূলগণ অবশ্যই বিজয়ী হব। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিশালী, পরাক্রমশালী।} (১)
এখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা রাসূলগণের বিজয়কে (غلبة) এমন জোরালোভাবে নিশ্চিত করেছেন যার পরে আর কোনো নিশ্চয়তা হতে পারে না। কেননা তিনি তাঁর মহান সত্তার (আমি) সাথে রাসূলগণকে সংযুক্ত করেছেন, যার ফলে বিজয় (غلبة) পরিপূর্ণভাবে সুনিশ্চিত হয়েছে। আল্লাহ তাঁদের সাথে আছেন এবং তিনি এমন বিজয়ী যাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না—তিনি মহাপবিত্র। আর প্রকৃত সত্য (تحقيق) হলো, কুরআনে যেসব নবীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁদের জাতি তাঁদেরকে হত্যা করেছে, তাঁরা কোনো যুদ্ধের ময়দানে লিপ্ত ছিলেন না (২); পক্ষান্তরে, তাঁদের মধ্য থেকে যাঁরা যুদ্ধ করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি কোনোভাবেই কল্পনা করা যায় না এবং এটি সেই পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী মহান সত্তার মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় যে, তিনি একজন রাসূল প্রেরণ করবেন ও তাঁকে যুদ্ধের নির্দেশ দিবেন, অতঃপর সেই রাসূল যে সাহায্যের (نصر) প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা প্রত্যক্ষ করার পূর্বেই নিহত হবেন; আর উল্লেখিত আয়াতটি এই অর্থের পক্ষেই সাক্ষ্য প্রদান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
ومما يلحظ كذلك أن الآيات التي جاء فيها الوعد بالتمكين ونحوه وذُكِرَ لفظ الرسل فيها فهي في الغالب تجزم بالوعد دون تعليقه على أي عمل أو شرط أو تقديم يتقدم به الرسل لينالوا الوعد ويتحقق لهم؛ بينما الآيات التي يذكر فيها الوعد بالتمكين ونحوه للمؤمنين يعلق الوعد بالتمكين أو النصر أو نحوهما بأعمال وأحوال إذا هي تحققت تحقق لهم متعلقها من الموعود به من النصر والتمكين وذلك أن الرسل على صلة مباشرة بالوحي فلا حاجة لتنبيههم لحالة أو صفة ليتحلوا بها وهم قد تحلوا بالصفات المؤهلة لنيلهم النصر منذ تأهلوا واستحقوا أن يكونوا موضع رسالات الله سبحانه وتعالى، وكذلك فهم لصلتهم المباشرة بالوحي وعناية الإله ورعايته لدعوتهم لا يمكن أن يخطئوا الطريق أو يعشوا عن عوامل النصر وأسباب تحقق الوعد بالتمكين.
একইভাবে এটিও লক্ষ্যণীয় যে, যেসব আয়াতে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা (تمكين) ও অনুরূপ বিষয়ের প্রতিশ্রুতি এসেছে এবং যাতে রাসূল (رسل) শব্দটির উল্লেখ রয়েছে, সেগুলো সাধারণত কোনো বিশেষ আমল, শর্ত কিংবা রাসূলদের পক্ষ থেকে কোনো কিছু নিবেদন করার ওপর স্থগিত রাখা ছাড়াই প্রতিশ্রুতির নিশ্চয়তা প্রদান করে। পক্ষান্তরে, মুমিনদের জন্য যেখানে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা (تمكين) বা অনুরূপ প্রতিশ্রুতি বর্ণিত হয়েছে, সেখানে সেই ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা কিংবা সাহায্যকে (نصر) এমন কিছু আমল ও অবস্থার সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলেই কেবল প্রতিশ্রুত বিজয় ও ক্ষমতা লাভ সম্ভব হবে। এর কারণ হলো, রাসূলগণ ওহীর (وحي) সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত, তাই কোনো বিশেষ অবস্থা বা গুণ অর্জনের জন্য তাঁদের সতর্ক করার প্রয়োজন নেই; বরং তাঁরা যখন থেকে মহান আল্লাহর রিসালাত (رسالات) প্রাপ্তির যোগ্যতা ও উপযুক্ততা লাভ করেছেন, তখন থেকেই তাঁরা সাহায্য লাভের উপযোগী গুণাবলিতে ভূষিত। তদুপরি, ওহীর (وحي) সাথে সরাসরি সম্পর্ক এবং তাঁদের দাওয়াতের প্রতি মহান আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধান ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে তাঁদের পক্ষে পথ বিচ্যুত হওয়া কিংবা বিজয়ের উপাদান ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উপায়সমূহ থেকে বিমুখ হওয়া অসম্ভব।
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
وعد المؤمنين بالتمكين ومزاياه:-
أما أهل الإيمان من بعد الرسل فإنهم لا يلبثون بين فينة وأخرى حتى يقصروا عن أسباب النصر، وعوامل التمكين، أو يبحثون عنها أحيانًا، ويخطئون الطريق إليها أحيانًا، أو تفقد منهم صفات وأحوال هي حتمية لنيل النصر وإحقاق وعد الله لهم بالعاقبة، ولذلك جاء الوعد بالتمكين لهم معلقًا بصفات وأعمال وتقدمات يجب أن يحققها أهل الإيمان ليتحقق لهم وعد النصر والتمكين.
وإليك الآيات في ذلك فهي ظاهرة الدلالة واضحة في ترتيب الوعد لهم وتعلقه بأمور عدة بخلاف ما سبق سرده من آيات ذكر فيها الرسل، وذكر فيها الوعد لهم بالنصر والتمكين دون تعليق إلا نادرًا:
1- قال سبحانه وتعالى: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} (1) . فعلق الوعد بالتمكين هنا بأربعة أمور:-
--------------------------------------------
মুমিনদের জন্য ক্ষমতায়ন ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:-
রাসুলগণের পরবর্তী ঈমানদারদের অবস্থা এই যে, তারা সময়ের ব্যবধানে বিজয়ের উপকরণসমূহ এবং ক্ষমতায়ন বা প্রতিষ্ঠার উপাদানসমূহ অবলম্বনে পিছিয়ে পড়ে, অথবা কখনো সেগুলো অনুসন্ধান করে কিন্তু সেগুলোর সঠিক পথে পৌঁছাতে ভুল করে ফেলে, কিংবা তাদের মধ্য থেকে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ও অবস্থার অভাব দেখা দেয় যা বিজয় অর্জন এবং তাদের অনুকূলে আল্লাহর প্রতিশ্রুত শুভ পরিণাম বাস্তবায়নের জন্য অনিবার্য। আর এই কারণেই, মুমিনদের জন্য ক্ষমতায়নের সেই প্রতিশ্রুতিটি এমন কিছু গুণাবলী, আমল ও প্রস্তুতির সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে যা ঈমানদারদের অর্জন করা আবশ্যক, যাতে তাদের জন্য বিজয় ও ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়।
এ বিষয়ে আয়াতসমূহ আপনার সামনে উপস্থাপন করা হলো, যা তাদের প্রতি কৃত প্রতিশ্রুতির বিন্যাস এবং তা বিভিন্ন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। এটি পূর্বে বর্ণিত সেই আয়াতসমূহের বিপরীত যেখানে রাসুলগণের আলোচনা করা হয়েছে এবং যেখানে কোনো শর্তারোপ ছাড়াই (খুব সামান্য ক্ষেত্র ব্যতীত) তাদের জন্য বিজয় ও ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করা হয়েছে:
১- মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, আল্লাহ তাদেরকে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে স্থলাভিষিক্ত করবেন যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। আর এরপরও যারা কুফরি করবে, তারাই পাপাচারী (فاسقون)} (১)। এখানে ক্ষমতায়ন বা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিকে চারটি বিষয়ের সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে:-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
(أ) وجود الجماعة المؤمنة وتحقق الإيمان فيها.
(ب) عمل الصالحات: من القيام بشرائع الدين وتنفيذ أوامر الله عملًا وليس ادعاءً فقط.
(ج) التزام نهج الصحابة، لقوله: ((منكم)) فالخطاب لهم وينسحب على من نهج نهجهم.
(د) انتفاء الشرك في العبادة: {يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا} .
2- قال سبحانه وتعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} (1) . وهنا علَّق الله سبحانه وتعالى نصره للمؤمنين بقيامهم بنصرة دينه - سبحانه -.
--------------------------------------------
(ক) মুমিন জামাতের অস্তিত্ব এবং তাদের মাঝে ঈমানের প্রতিফলন নিশ্চিত হওয়া।
(খ) নেক আমল সম্পাদন: দীনের শরীয়তসমূহ প্রতিষ্ঠা এবং আল্লাহর নির্দেশনাবলির বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে, যা কেবল মৌখিক দাবি নয় বরং কর্মতৎপরতা।
(গ) সাহাবায়ে কেরামের কর্মপন্থা অনুসরণ করা; মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের মধ্য থেকে" এর প্রেক্ষিতে। এখানে সম্বোধনটি মূলত তাঁদের প্রতি এবং এটি তাঁদের পরবর্তী যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করবে তাদের সবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
(ঘ) ইবাদতে শিরকের অনুপস্থিতি: "তারা আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না।"
২- মহান আল্লাহ বলেন: "হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে (আল্লাহর দীনকে) সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদযুগল সুদৃঢ় করবেন।" (১)। এখানে মহান আল্লাহ মুমিনদের প্রতি তাঁর সাহায্য প্রদানের বিষয়টি তাদের দ্বারা তাঁর দীনের সাহায্য করার ওপর নির্ভরশীল করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
3- وقال سبحانه وتعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ} {تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ} {يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} {وَأُخْرَى تُحِبُّونَهَا نَصْرٌ مِنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ} . (1) فرتب النصر والفتح هنا على الإيمان بالله ورسوله، والجهاد في سبيله بالمال والنفس.
--------------------------------------------
৩- এবং মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে ঈমানদারগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হতে রক্ষা করবে?} {তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে!} {তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত এবং চিরস্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহসমূহে। এটাই হলো মহা সাফল্য।} {এবং আরও একটি (অনুগ্রহ) যা তোমরা পছন্দ কর; আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং নিকটবর্তী বিজয়। আর মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও।}। (১) সুতরাং তিনি এখানে সাহায্য এবং বিজয়কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এবং তাঁর পথে ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করার ওপর নির্ভরশীল করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
نتيجة تمايز الوعدين:-
ومن خلال امتياز وعد الرسل بالتمكين عن وعد المؤمنين في القرآن بالميزتين السابقتين وهما:-
1. كثرة المؤكدات اللفظية والمعنوية.
2. عدم تعليق الوعد بتمكينهم بشرط أو عمل كما في وعد المؤمنين.
من خلال ذلك نخرج بنتيجة هامة جدًّا وهي أن التزام منهج الرسل في نصرة الدين هو أعظم عوامل تمكين الجماعة المؤمنة من بعدهم، وذلك أن هذا الالتزام التزام لمنهج قد ضمن الله - سبحانه - له التمكين وكتبه على نفسه وأكده أعظم تأكيد، ولم يعلقه بشرط أو أمر، مما يدل أنه منهج شامل متكامل يضم كل عوامل النصر والتمكين ويضمنها، فالثبات عليه هو جماع الأمر في تمكين المؤمنين ودعوتهم والسبب الأول والأخير في سعادتهم في الدنيا والآخرة.
ولقد بين الله - جل وعلا - هذا أتم البيان وجعل ذلك سنة لا تتخلف في نصر المؤمنين إذا ثبتوا على مناهج المرسلين وسماهم بذلك "المحسنين" قال - تعالى - عن الجموع الغفيرة من المؤمنين الذين ثبتوا بعد قتل النبي:
দুইটি প্রতিশ্রুতির পার্থক্যের ফলাফল:-
কুরআনে বর্ণিত মুমিনদের প্রতি প্রতিশ্রুতির তুলনায় রাসুলদের প্রতি ক্ষমতায়ন (تمكين)-এর প্রতিশ্রুতির যে শ্রেষ্ঠত্ব পূর্বোক্ত দু’টি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে পরিলক্ষিত হয়, তা হলো:-
1. শাব্দিক ও অর্থগত তাকিদ (مؤكدات)-এর আধিক্য।
2. মুমিনদের প্রতি প্রতিশ্রুতির ন্যায় তাঁদের ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতিকে কোনো শর্ত বা আমলের সাথে ঝুলিয়ে না রাখা।
এর মাধ্যমে আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলে উপনীত হই, আর তা হলো: দ্বীনের বিজয়ে রাসুলদের মানহাজ (منهج)-এর অনুসরণই হলো তাঁদের পরবর্তী মুমিন জামাতের ক্ষমতায়ন (تمكين)-এর সবচেয়ে বড় উপকরণ। কেননা এই অনুসরণ মূলত এমন এক মানহাজ (منهج)-এর অনুসরণ যার ক্ষমতায়নের নিশ্চয়তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা স্বয়ং প্রদান করেছেন, যা তিনি নিজের ওপর অবধারিত করেছেন এবং একে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করেছেন; তিনি একে কোনো শর্ত বা বিষয়ের ওপর ঝুলিয়ে রাখেননি। এটি প্রমাণ করে যে, এটি একটি ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ মানহাজ (منهج) যা বিজয় ও ক্ষমতায়নের সকল উপকরণকে ধারণ ও নিশ্চিত করে। সুতরাং এর ওপর অবিচল থাকাই মুমিনদের ক্ষমতায়ন ও দাওয়াতের সারকথা এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁদের সৌভাগ্যের আদি ও অন্ত কারণ।
আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং একে মুমিনদের সাহায্যের ক্ষেত্রে একটি অপরিবর্তনীয় রীতি (سنة) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যদি তাঁরা রাসুলদের মানহাজ (منهج)-এর ওপর অটল থাকেন; এবং এই কারণে তিনি তাঁদের 'সৎকর্মশীল (محسنين)' নামে অভিহিত করেছেন। নবি-এর শাহাদাতের (বা মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার) পর যে বিশাল সংখ্যক মুমিন অবিচল ছিলেন, তাঁদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
(وكأين من نبي قُتِل (1) مَعَهُ رِبِّيُّونَ كَثِيرٌ فَمَا وَهَنُوا لِمَا أَصَابَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَا ضَعُفُوا وَمَا اسْتَكَانُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ * وَمَا كَانَ قَوْلَهُمْ إِلَّا أَنْ قَالُوا رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ * فَآتَاهُمُ اللَّهُ ثَوَابَ الدُّنْيَا وَحُسْنَ ثَوَابِ الْآخِرَةِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ) (2) .
فتأمل قوله - تعالى -: وكأين من نبي قتل معه ربيون.. أي كم من نبي قتل، فهذا ليس بحال نبي واحد ولا مجموعة بل كثرة، وهذا حال المؤمنين بعدهم وهذا حال نصر الله لهم فآتاهم الله ((ثواب الدنيا)) أي "النصر والظفر والعاقبة" (3) مع حسن ثواب الآخرة كذلك.
--------------------------------------------
(আর কত নবী নিহত হয়েছেন (১), যাঁর সাথে থেকে বহু আল্লাহওয়ালা লড়াই করেছেন; আল্লাহর পথে তাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়েছে তাতে তারা সাহস হারাননি, তারা দুর্বল হননি এবং দমে যাননি। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন। * আর তাদের কথা কেবল এটাই ছিল যে, তারা বলেছিল: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পাপসমূহ এবং আমাদের কর্মের সীমালঙ্ঘনগুলো ক্ষমা করে দিন, আমাদের পদযুগল অটল রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন। * অতঃপর আল্লাহ তাদের ইহলৌকিক প্রতিদান এবং পরলৌকিক উত্তম প্রতিদান দান করলেন। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।) (২)।
অতএব মহান আল্লাহর বাণী নিয়ে চিন্তা করুন— "আর কত নবী নিহত হয়েছেন, যাঁর সাথে বহু আল্লাহওয়ালা..." অর্থাৎ কত কত নবী নিহত হয়েছেন। এটি কেবল একজন নবী বা নির্দিষ্ট কোনো দলের অবস্থা নয়, বরং এক বিশাল সংখ্যক নবী ও তাঁদের সাথীদের অবস্থা। এটি তাঁদের পরবর্তী মুমিনদেরও অবস্থা এবং তাঁদের প্রতি আল্লাহর সাহায্যের নিদর্শন। ফলে আল্লাহ তাদের "দুনিয়ার প্রতিদান" দান করেছেন অর্থাৎ "বিজয়, সাফল্য ও শুভ পরিণাম" (৩), সেই সঙ্গে পরকালের উত্তম প্রতিদানও।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وجعل هذا - سبحانه - سنة ثابتة في سورة الصافات للمؤمنين إذا ترسموا مناهج النبيين، فعقب على نصر نوح وإبراهيم وموسى وهارون وإلياس عليهم صلوات الله وسلامه - كلٌّ على حدة - بقوله: {إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ} {إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ} أي نصر الله هذا لهم ليس خاصًّا بهم فقط، وإنما لكل جماعة مؤمنة أحسنت على نهج إحسانهم وعبدت الله على حقيقة إيمانهم.
আর তিনি—সুবহানাহু—এটিকে সূরা আস-সাফফাতে মুমিনদের জন্য একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যখন তারা নবীদের পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর নূহ, ইব্রাহিম, মুসা, হারুন এবং ইলিয়াস (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম)—তাঁদের প্রত্যেকের বিজয়ের আলোচনার পর—তিনি এই বলে মন্তব্য করেছেন: {নিশ্চয়ই আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি} {নিশ্চয়ই সে আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত}। অর্থাৎ, আল্লাহর এই সাহায্য কেবল তাঁদের জন্যই নির্দিষ্ট নয়; বরং এটি সেই প্রত্যেক মুমিন জামাতের জন্য যারা তাঁদের নিষ্ঠার পদ্ধতিতে নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছে এবং তাঁদের ঈমানের প্রকৃত রূপ অনুযায়ী আল্লাহর ইবাদত করেছে।
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن هنا نعلم مدى الحكمة عند الصحابة وعظيم الحرص على الثبات على الحال التي فارقهم عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى في بناياتهم ومقتنياتهم وحالتهم المادية - عند كثير منهم - فكيف بحرصهم على البقاء على الدين والمعتقد والإيمان والمنهج وهو سبيل النصر العظيم في الدنيا، وسبيل النجاة في الآخرة. ولقد قال شيخ الإسلام ابن تيمية - رحمه الله تعالى - في هذا المعنى كلاما لا أظن أن كلاما - بعد كلام الله ورسوله - أنفس منه ولا أجمل إذ قال: (
… ولهذا كل من كان متبعًا لرسول الله صلى الله عليه وسلم كان الله معه بحسب هذا الاتباع، قال الله - تعالى -: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} (1) أي حسبك وحسب من اتبعك، فكل من اتبع الرسول صلى الله عليه وسلم من جميع المؤمنين فالله حسبه، وهذا معنى كون الله معه، والكفاية المطلقة مع الاتباع المطلق، والناقصة مع الناقص، وإذا كان بعض المؤمنين به المتبعين له قد حصل له من يعاديه على ذلك فالله حسبه، وهو معه، وله نصيب من قوله - تعالى -: {إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا} (2) فإن هذا قلبه
--------------------------------------------
এখান থেকেই আমরা সাহাবীগণের (الصحابة) প্রজ্ঞা এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের যে অবস্থার ওপর রেখে বিদায় নিয়েছিলেন, এমনকি তাদের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র এবং বৈষয়িক অবস্থার ক্ষেত্রেও—তাদের অনেকের নিকট—সেই অবস্থার ওপর অটল থাকার সুমহান আগ্রহের গভীরতা সম্পর্কে জানতে পারি। তাহলে দ্বীন, আকিদাহ, ঈমান এবং মানহাজের ওপর অটল থাকার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ কেমন ছিল? অথচ এটিই হলো দুনিয়াতে সুমহান বিজয়ের পথ এবং আখেরাতে নাজাতের পথ। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) এ প্রসঙ্গে এমন কিছু কথা বলেছেন যা—আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বাণীর পর—আমার মতে সবচেয়ে মূল্যবান ও চমৎকার। তিনি বলেছেন: (
… আর এই কারণেই, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসারী হবে, এই অনুসরণের মাত্রা অনুযায়ী আল্লাহ তার সাথে থাকবেন। মহান আল্লাহ বলেন: {হে নবী! আপনার জন্য এবং আপনার অনুসারী মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট} (১) অর্থাৎ (আল্লাহ) আপনার জন্য যথেষ্ট এবং আপনার অনুসারীদের জন্য যথেষ্ট। সুতরাং সকল মুমিনের মধ্য থেকে যারা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করবে, আল্লাহই তাদের জন্য যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদের সাথে থাকার অর্থ এটাই। পূর্ণ পর্যাপ্ততা অর্জিত হয় পূর্ণ অনুসরণের মাধ্যমে, আর অপূর্ণতা আসে অপূর্ণ অনুসরণের ফলে। আর যখন তাঁর অনুসারী ঈমানদারদের কেউ এই অনুসরণের কারণে শত্রুতার শিকার হয়, তখন আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি তার সাথেই থাকেন। মহান আল্লাহর এই বাণীতে তারও অংশ রয়েছে: {যখন তিনি তাঁর সঙ্গীকে (لصاحبه) বলছিলেন, বিষণ্ণ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন} (২) কারণ এটি তাঁর অন্তর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
موافق للرسول صلى الله عليه وسلم وإن لم يكن صحبه ببدنه، والأصل في هذا القلب كما في الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن بالمدينة رجالًا ما سرتم مسيرًا ولا قطعتم واديًا إلا كانوا معكم؛ حبسهم العذر» (1) . فهؤلاء بقلوبهم كانوا مع النبي صلى الله عليه وسلم، فلهم معنى صحبته في الغزاة، فالله معهم بحسب تلك الصحبة المعنوية. (2)
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসারী, যদিও তিনি শারীরিকভাবে তাঁর সাহচর্য (صحبة) লাভ করেননি। আর এর মূল ভিত্তি হলো অন্তর, যেমনটি সহীহাইন-এ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "মদিনায় এমন কিছু লোক রয়েছে, তোমরা যখনই কোনো পথ চলেছ অথবা কোনো উপত্যকা অতিক্রম করেছ, তারা তোমাদের সাথেই ছিল; ওজর তাদের আটকে রেখেছিল।" (১)। সুতরাং তারা তাদের অন্তরের মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলেন। ফলে যুদ্ধের ময়দানে তাঁদের জন্য সাহচর্যের (صحبة) হাকিকত বা অর্থ সাব্যস্ত হয়; আর আল্লাহ তাআলা সেই আধ্যাত্মিক সাহচর্যের (صحبة) নিরিখে তাদের সাথে রয়েছেন। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওয়ামিলুন নাসরি ওয়াত তামকীন ফী দাওয়াতিল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الأولى: أنه
لم يقتل نبي من الأنبياء الذين أمروا بالقتال أبدًا:-
فلم يقتل نبي في قتال، وإنما قتل الأنبياء الذين ذكر الله أنهم قتلوا في غير جهاد ولا قتال، قال صاحب أضواء البيان رحمه الله تعالى -:
প্রথমত:
যুদ্ধের নির্দেশ প্রাপ্ত নবীগণের মধ্য থেকে কোনো নবী কখনোই নিহত হননি:-
সুতরাং কোনো নবীই যুদ্ধে নিহত হননি; বরং আল্লাহ যে সকল নবীদের নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, তাঁরা জিহাদ বা যুদ্ধাবস্থা ব্যতিরেকেই নিহত হয়েছিলেন। আদওয়াউল বায়ান গ্রন্থের রচয়িতা (আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: -