(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: -)
الفتح الكبير في ضم الزيادة إلى الجامع الصغير (الجلال السيوطي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: الفتح الكبير في ضم الزيادة إلى الجامع الصغير
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
المحقق: يوسف النبهاني
الناشر: دار الفكر - بيروت / لبنان
الطبعة: الأولى، 1423هـ - 2003م
عدد الأجزاء: 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ফাতহুল কাবীর ফী দম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামি'ইস সগীর (জালালুদ্দীন সুয়ূতী)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-ফাতহুল কাবীর ফী দম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামি'ইস সগীর
লেখক: আবদুর রহমান বিন আবু বকর، জালালুদ্দীন সুয়ূতী (ওফাত ৯১১ হিজরি)
সম্পাদক: ইউসুফ আন-নাবহানী
প্রকাশক: দারুল ফিকর - বৈরুত / লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
(حرف الْهمزَة)(1) - إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لكل إمرئ مَا نوى: فَمن كَانَت هجرته إِلَى الله وَرَسُوله، فَهجرَته إِلَى الله وَرَسُوله وَمن كَانَت هجرته إِلَى دنيا يُصِيبهَا أَو امْرَأَة ينْكِحهَا فَهجرَته إِلَى مَا هَاجر إِلَيْهِ. (1) (ز) ((آتِي بَابَ الجَنَّةِ فَأَسْتَفْتِحُ فَيَقُولُ الخَازِنُ مَنْ أنْتَ فَأَقُولُ مُحمَّدٌ فَيَقُولُ بِكَ أُمِرْتُ أنْ لَا أَفْتَحَ لأَحَدٍ قَبْلَكَ)) (حم م) عَن أنَسٍ.(2) (ز) ((آتِي يَوْمَ القِيَامَةِ بَابَ الجَنَّةِ فَيُفْتَحُ لِي فَأَرَى رَبِّي وهُوَ على كُرْسِيّهِ فَيَتَجَلَّى فَأَخِرُّ ساجِداً)) (ابْن النجار) عَن ابْن عَبَّاس.(3) ((آجَرْتُ نَفْسِي مِنْ خَدِيجَةَ سَفْرَتَيْنِ بِقُلُوصٍ)) (هق) عَن جَابر.(4) ((آخِرُ أَرْبِعاءَ فِي الشَّهْرِ يَوْمُ نَحْسٍ مُسْتَمِرٍّ)) (وَكيعٌ) ((فِي الْغرَر وابنُ مردَوَيْه فِي التَّفْسِيرِ)) (خطّ) عَن ابْن عَبَّاس.(4) ((آخِرُ أَرْبِعاءَ فِي الشَّهْرِ يَوْمُ نَحْسٍ مُسْتَمِرٍّ)) (وَكيعٌ) ((فِي الْغرَر وابنُ مردَوَيْه فِي التَّفْسِيرِ)) (خطّ) عَن ابْن عَبَّاس.(5) ((آخِرُ قَرْيَةٍ مِنْ قُرَى الإِسْلَامِ خَرَاباً المَدِينةُ)) (ت) عَن أبي هُرَيْرَةَ.(6) ((آخِرُ مَا أدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلَامِ النُّبُوَّةِ الأولَى إِذا لَم تَسْتَحِ فاصْنَعْ مَا شِئْتَ)) (ابْن عَسَاكِر فِي تَارِيخه) عَن أبي مَسْعُود البدري.(7) ((آخِرُ مَا تَكَلَّمَ بِهِ إِبْرَاهِيمُ حِينَ أُلْقِيَ فِي النَّارِ حَسْبِيَ الله وَنِعْمَ الوَكِيلُ)) (خطّ) عَن أبي هُرَيْرَة وَقَالَ غَرِيب وَالْمَحْفُوظ عَن ابْن عَبَّاس مَوْقُوفا.(8) ((آخِرُ مَنْ يُحْشَرُ رَاعِيَانِ مِنْ مُزَيْنَةَ يُرِيدَانِ المَدِينَةَ يَنْعِقَانِ بِغَنَمِهِمَا فَيَجِدَانِهَا وَحُوشاً حَتَّى إِذا بَلَغَا ثَنِيَّةَ الوَدَاعِ خَرَّا على وُجُوهِهما)) (ك) عَن أبي هُرَيْرَة.
(হামযা বর্ণ)(১) - আমলসমূহ কেবল নিয়তের সঙ্গেই সম্পৃক্ত, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত পার্থিব কোনো সম্পদ অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেদিকেই গণ্য হবে যার উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে। (১) (য) ((আমি জান্নাতের দরজায় এসে তা খোলার অনুমতি চাইব, তখন দ্বাররক্ষী বলবেন, আপনি কে? আমি বলব, মুহাম্মদ। তখন তিনি বলবেন, আপনার ব্যাপারেই আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে যেন আপনার পূর্বে কারো জন্য দরজা না খুলি।)) (আহমাদ, মুসলিম) আনাস থেকে বর্ণিত।(২) (য) ((আমি কিয়ামতের দিন জান্নাতের দরজায় আসব, তখন আমার জন্য তা খোলা হবে এবং আমি আমার প্রতিপালককে দেখতে পাব, এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর কুরসীর উপর থাকবেন। অতঃপর তিনি জ্যোতি প্রকাশ করবেন এবং আমি সিজদায় লুটিয়ে পড়ব।)) (ইবনে নাজ্জার) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।(৩) ((আমি খাদিজার নিকট থেকে নিজেকে দুই সফরের জন্য একটি তরুণ উটের বিনিময়ে শ্রমদান করেছিলাম।)) (বায়হাকি) জাবির থেকে বর্ণিত।(৪) ((মাসের শেষ বুধবার হলো একটি দীর্ঘস্থায়ী অশুভ দিন।)) (ওয়াকি ‘আল-গুরার’ গ্রন্থে এবং ইবনে মারদুওয়াইহ ‘তাফসির’ গ্রন্থে) (খতিব) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।(৪) ((মাসের শেষ বুধবার হলো একটি দীর্ঘস্থায়ী অশুভ দিন।)) (ওয়াকি ‘আল-গুরার’ গ্রন্থে এবং ইবনে মারদুওয়াইহ ‘তাফসির’ গ্রন্থে) (খতিব) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।(৫) ((ইসলামি জনপদগুলোর মধ্যে মদিনাই সর্বশেষ ধ্বংস হবে।)) (তিরমিজি) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(৬) ((পূর্ববর্তী নবুওয়াতের বাণীসমূহ থেকে মানুষ যা লাভ করেছে তার সর্বশেষ হলো: যখন তোমার লজ্জা না থাকে, তখন যা ইচ্ছা তা-ই করো।)) (ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে) আবু মাসউদ আল-বাদরি থেকে বর্ণিত।(৭) ((আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার সময় ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের শেষ কথা ছিল: আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।)) (খতিব) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এটি গরিব বর্ণনা এবং ইবনে আব্বাস থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত হওয়াটাই সংরক্ষিত।(৮) ((সর্বশেষে যাদের হাশর করা হবে তারা হলো মুজায়না গোত্রের দুইজন রাখাল, যারা মদিনায় আসার ইচ্ছা করবে। তারা তাদের বকরিগুলোকে ডাকবে কিন্তু সেগুলোকে বন্য পশু হিসেবে দেখতে পাবে। পরিশেষে যখন তারা সানিয়াতুল বিদা নামক স্থানে পৌঁছাবে, তখন তারা নিজ নিজ মুখের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে যাবে।)) (হাকিম) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
(9) ((آخِرُ مَنْ يَدْخُلُ الجنَّةَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ جُهَيْنَةُ فَيَقُولُ أهْلُ الجَنَّةِ عِندَ جُهَيْنَةَ الخَبَرُ اليَقِينُ)) (خطّ) فِي رُوَاة مَالك عَن ابْن عمر.(10) (ز) ((آخِرُ مَنْ يَدْخُلُ الجَنَّةَ رَجُلٌ يَمْشِي على الصِّرَاطِ فَهُوَ يَمْشِي مَرَّةً وَيَكْبُو مَرَّةً وَتَسْفَعُهُ النَّارُ مَرَّةً فَإِذَا جَاوَزَهَا التَفَتَ إلَيْهَا فَقَالَ تَبَارَكَ الَّذِي نَجَّانِي مِنْكِ لَقَدْ أعْطانِي الله شَيْئاً مَا أعْطاهُ أحَداً مِنَ الأوَّلِينَ والآخِرِينَ فَتُرْفَعُ لَهُ شَجَرَةٌ فَيَقُولُ أيْ رَبّ أدْنِني مِنْ هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذِهِ الشَّجَرَةِ فَلأَسْتَظِلَّ بِظِلِّهَا وَأَشْرَبَ مِنْ مائِهَا فَيَقُولُ الله يَا ابْنَ آدَمَ لَعَلِّي إِنْ أعْطَيْتُكَهَا سَأَلْتَنِي غَيْرَها فَيَقُولَ لَا يَا رَبّ وَيُعاهِدُهُ أنْ لَا يَسْأَلَهُ غَيْرَها وَرَبُّهُ يَعْذُرُهُ لأنَّهُ يَرَى مَا لَا صَبْرَ لَهُ عَلَيْهِ فَيُدْنِيهِ مِنْها فَيَسْتَظِلَّ بِظِلِّهَا وَيَشْرَبَ مِنْ مائِها ثُمَّ تُرْفَعُ لَهُ شَجَرَةٌ أُخْرَى هِيَ أحْسَنُ مِنَ الأُولَى فَيَقُولُ أيْ رَبِّ أدْنِني مِنْ هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذِهِ لأَشْرَبَ مِنْ مائِها وأسْتَظِلَّ بِظِلِّهَا لَا أسْأَلُكَ غَيْرَها فَيَقُولُ يَا ابْنَ آدَمَ ألَمْ تُعَاهِدْنِي أنْ لَا تَسْأَلَنِي غَيْرَها فَيَقُولُ لَعَلِّي إِنْ أدْنَيْتُكَ مِنْهَا تَسْأَلنِي غَيْرَهَا فَيُعَاهِدَهُ أنْ لَا يَسْأَلَهُ غَيْرَهَا وَرَبُّهُ يَعْذُرُهُ لأَنَّهُ يَرى مَا لَا صَبْرَ لَهُ عَلَيْهِ فَيُدْنِيهِ مِنْهَا فَيَسْتَظِلَّ بِظِلِّهَا وَيَشْرَبَ مِنْ مائِهَا ثُمَّ تُرْفَعُ لَهُ شَجَرَةٌ عِنْدَ بابِ الجَنَّةِ هِيَ أحْسَنُ مِنَ الأُولَيَيْنِ فَيَقولُ أيْ رَبّ أدْنِنِي مِنْ هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذِهِ فَلأَسْتَظِلَّ بِظِلِّهَا وأشْرَبَ مِنْ مائِها لَا أسْأَلُكَ غَيْرَهَا فَيَقُولُ يَا ابْنَ آدَمَ ألَمْ تُعَاهِدْنِي أنْ لَا تَسْأَلَنِي غَيْرَهَا قالَ بَلَى يَا رَبِّ أَدْنِني مِنْ هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذِهِ لَا أسْأَلُكَ غَيْرَهَا وَرَبُّهُ يَعْذُرُهُ لأَنَّهُ يَرَى مَا لَا صَبْرَ لَهُ عَلَيْهِ فَيُدْنِيهِ مِنْهَا فَإِذَا أَدْنَاهُ مِنْهَا سَمِعَ أصْوَاتَ أهْلِ الجَنَّةِ فَيَقُولُ أيْ رَبِّ أدْخِلْنِيها فَيَقُولُ يَا ابْنَ آدَمَ مَا يُعْرِيني مِنْكَ أَيُرْضِيكَ أَنْ أُعْطِيَكَ الدُّنْيَا وَمِثْلَهَا مَعَها فَيَقولُ أَيْ رَبِّ أَتَسْتَهْزِىءُ مِنِّي وأَنْتَ رَبُّ العالَمِينَ فَيَقُولُ إِنِّي لَا أسْتَهْزِىءُ مِنْكَ وَل صلى الله عليه وسلم1648 - ; كِنِّي علَى مَا أَشَاءُ قادِرٌ)) (حم م) عَن ابْن مَسْعُود.(11) ((آدَمُ فِي السَّمَاءِ الدُّنْيَا تُعْرَضُ عَلَيْهِ أعْمَالُ ذُرِّيَّتِهِ وَيُوسُفُ فِي السَّمَاءِ الثَّانِيَةِ وَابْنا الخَالَةِ يَحْي صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى وَعِيسَى فِي السَّمَاءِ الثَّالِثَةِ وإِدْرِيسُ فِي السَّمَاءِ الرَّابِعَةِ وهارُونُ فِي السَّمَاءِ الخامِسَةِ ومُوس صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى فِي السَّماءِ السَّادِسَةِ وَإِبْرَاهِيمُ فِي السَّماءِ السَّابِعَةِ)) (ابْن مرْدَوَيْه عَن أَبي سعيد) .(12) ((آفَةُ الدِّينِ ثَلَاثَةٌ فَقيه فاجرٌ وَإِمَامٌ جائِرٌ وَمُجْتَهدٌ جاهلٌ)) (فر) عَن ابْن عَبَّاس.(13) ((آفَةُ الظَّرْفِ الصَّلَفُ وآفَةُ الشَّجَاعَةِ البَغْيُ وآفَةُ السَّمَاحَةِ المَنُّ وآفَةُ الجَمَالِ الخُيلاءُ وآفَةُ العبَادَةِ الفَتْرَةُ وآفَةُ الحَدِيثِ الكَذِبُ وآفَةُ العِلْمِ النِّسْيَانُ وآفَةُ الحِلْمِ السَّفَهُ وآفَةُ الحَسَبِ الفَخْرُ وآفَةُ الجُودِ السَّرَفُ)) (هَب) وَضَعفه عَن عَليّ. ((آفةُ العِلْمِ النِّسْيَانُ وَإِضَاعَتُهُ أنْ تُحَدِّثَ بِهِ غَيْرَ أَهْلِهِ)) (ش) عَن الأَعْمَشِ مَرْفوعاً معضلاً وَأخرج صَدره فَقَط عَن ابْن مَسْعُود مَوْقُوفا.(13) ((آفَةُ الظَّرْفِ الصَّلَفُ وآفَةُ الشَّجَاعَةِ البَغْيُ وآفَةُ السَّمَاحَةِ المَنُّ وآفَةُ الجَمَالِ الخُيلاءُ وآفَةُ العبَادَةِ الفَتْرَةُ وآفَةُ الحَدِيثِ الكَذِبُ وآفَةُ العِلْمِ النِّسْيَانُ وآفَةُ الحِلْمِ السَّفَهُ وآفَةُ الحَسَبِ الفَخْرُ وآفَةُ الجُودِ السَّرَفُ)) (هَب) وَضَعفه عَن عَليّ.
(৯) ((জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তি হলেন এমন এক ব্যক্তি যাকে জুহাইনা বলা হয়। তখন জান্নাতবাসীরা বলবে, জুহাইনার কাছেই নিশ্চিত সংবাদ রয়েছে।)) (খাতীব আল-বাগদাদী) ইবনে উমর হতে বর্ণিত ইমাম মালিকের বর্ণনাকারীদের সূত্রে।(১০) (য) ((জান্নাতে প্রবেশকারী শেষ ব্যক্তি হলো এমন এক ব্যক্তি যে পুলসিরাতের উপর দিয়ে চলবে; সে কখনও হাঁটবে, কখনও হোঁচট খাবে এবং কখনও আগুন তাকে ঝলসিয়ে দেবে। যখন সে তা পার হয়ে যাবে, তখন সে আগুনের দিকে ফিরে তাকাবে এবং বলবে: বরকতময় সেই সত্তা যিনি আমাকে তোমার থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আল্লাহ আমাকে এমন কিছু দান করেছেন যা তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের মধ্যে কাউকে দান করেননি। এরপর তার সামনে একটি গাছ তোলা হবে। সে বলবে: হে আমার রব! আমাকে এই গাছের নিকটবর্তী করে দিন১৬৪৮ - যাতে আমি এর ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারি এবং এর পানি পান করতে পারি। তখন আল্লাহ বলবেন: হে আদম সন্তান! সম্ভবত আমি যদি তোমাকে এটি দান করি, তবে তুমি আমার কাছে অন্য কিছু প্রার্থনা করবে। সে বলবে: না, হে আমার রব! এবং সে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করবে যে তিনি যেন তাকে এটি ছাড়া অন্য কিছু না দেন। তার রব তাকে মার্জনা করবেন কারণ তিনি এমন কিছু দেখছেন যার উপর ওই ব্যক্তির ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা নেই। অতঃপর আল্লাহ তাকে তার নিকটবর্তী করবেন, ফলে সে তার ছায়াতলে আশ্রয় নেবে এবং তার পানি পান করবে। এরপর তার সামনে অন্য একটি গাছ তোলা হবে যা প্রথমটির চেয়েও উত্তম। সে বলবে: হে আমার রব! আমাকে এর নিকটবর্তী করে দিন১৬৪৮ - যাতে আমি এর পানি পান করতে পারি এবং এর ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারি। আমি আপনার কাছে এটি ছাড়া অন্য কিছু প্রার্থনা করব না। আল্লাহ বলবেন: হে আদম সন্তান! তুমি কি আমার সাথে অঙ্গীকার করোনি যে তুমি অন্য কিছু প্রার্থনা করবে না? তিনি বলবেন: সম্ভবত আমি যদি তোমাকে এর নিকটবর্তী করে দেই, তবে তুমি অন্য কিছু প্রার্থনা করবে। তখন সে অঙ্গীকার করবে যে এটি ছাড়া অন্য কিছু প্রার্থনা করবে না। তার রব তাকে মার্জনা করবেন কারণ তিনি এমন কিছু দেখছেন যার উপর ওই ব্যক্তির ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা নেই। অতঃপর আল্লাহ তাকে তার নিকটবর্তী করবেন, ফলে সে তার ছায়াতলে আশ্রয় নেবে এবং তার পানি পান করবে। এরপর জান্নাতের দরজার কাছে তার জন্য আরেকটি গাছ তোলা হবে যা পূর্বের দুটি অপেক্ষা অনেক সুন্দর। সে বলবে: হে আমার রব! আমাকে এর নিকটবর্তী করে দিন১৬৪৮ - যাতে আমি এর ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারি এবং এর পানি পান করতে পারি। আমি আপনার কাছে এটি ছাড়া অন্য কিছু চাইব না। আল্লাহ বলবেন: হে আদম সন্তান! তুমি কি আমার সাথে অঙ্গীকার করোনি যে তুমি অন্য কিছু প্রার্থনা করবে না? সে বলবে: হ্যাঁ, হে আমার রব! আমাকে এর নিকটবর্তী করে দিন১৬৪৮ - আমি এটি ছাড়া আর অন্য কিছু চাইব না। তার রব তাকে মার্জনা করবেন কারণ তিনি এমন কিছু দেখছেন যার উপর ওই ব্যক্তির ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা নেই। অতঃপর আল্লাহ তাকে তার নিকটবর্তী করবেন। যখন তিনি তাকে তার নিকটবর্তী করবেন, তখন সে জান্নাতবাসীদের আওয়াজ শুনতে পাবে। সে বলবে: হে আমার রব! আমাকে এতে প্রবেশ করান। আল্লাহ বলবেন: হে আদম সন্তান! কিসে তোমার আবেদন শেষ হবে? তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে যে, আমি তোমাকে দুনিয়া এবং তার সমপরিমাণ আরও কিছু দান করি? সে বলবে: হে আমার রব! আপনি কি আমার সাথে উপহাস করছেন, অথচ আপনি তো সৃষ্টিকুলের রব? তখন আল্লাহ বলবেন: আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না, বরং১৬৪৮ - আমি যা ইচ্ছা তা করতে সক্ষম।)) (আহমাদ ও মুসলিম) ইবনে মাসউদ হতে বর্ণিত।(১১) ((আদম দুনিয়ার আকাশে অবস্থান করেন, তার কাছে তার সন্তানদের আমল পেশ করা হয়। ইউসুফ দ্বিতীয় আকাশে, দুই খালাতো ভাই ইয়াহইয়া এবং ঈসা তৃতীয় আকাশে, ইদরীস চতুর্থ আকাশে, হারুন পঞ্চম আকাশে, মুসা ষষ্ঠ আকাশে এবং ইবরাহীম সপ্তম আকাশে অবস্থান করেন।)) (ইবনে মারদুওয়াইহ, আবু সাঈদ হতে বর্ণিত)।(১২) ((দীনের আপদ তিনটি: পাপাচারী ফকীহ, জালেম শাসক এবং মূর্খ মুজতাহিদ।)) (দাইলামী, ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত।(১৩) ((মার্জিত আচরণের আপদ হলো অহঙ্কার, বীরত্বের আপদ হলো সীমালঙ্ঘন, উদারতার আপদ হলো খোটা দেওয়া, সৌন্দর্যের আপদ হলো গর্ব, ইবাদতের আপদ হলো ইবাদতে শৈথিল্য বা ক্লান্তি, কথার আপদ হলো মিথ্যা, জ্ঞানের আপদ হলো ভুলে যাওয়া, সহনশীলতার আপদ হলো মূর্খতা, বংশমর্যাদার আপদ হলো অহমিকা এবং দানশীলতার আপদ হলো অপচয়।)) (বায়হাকী, তিনি একে যঈফ বলেছেন, আলী হতে বর্ণিত। ((জ্ঞানের আপদ হলো ভুলে যাওয়া এবং এর অপচয় হলো অনুপযুক্ত ব্যক্তির কাছে তা বর্ণনা করা।)) (ইবনে আবি শায়বাহ, আমাশ হতে মারফু হিসেবে মু'দাল সূত্রে বর্ণিত; এর প্রথমাংশটি ইবনে মাসউদ হতে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।(১৩) ((মার্জিত আচরণের আপদ হলো অহঙ্কার, বীরত্বের আপদ হলো সীমালঙ্ঘন, উদারতার আপদ হলো খোটা দেওয়া, সৌন্দর্যের আপদ হলো গর্ব, ইবাদতের আপদ হলো ইবাদতে শৈথিল্য বা ক্লান্তি, কথার আপদ হলো মিথ্যা, জ্ঞানের আপদ হলো ভুলে যাওয়া, সহনশীলতার আপদ হলো মূর্খতা, বংশমর্যাদার আপদ হলো অহমিকা এবং দানশীলতার আপদ হলো অপচয়।)) (বায়হাকী, তিনি একে যঈফ বলেছেন, আলী হতে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
((آفةُ العِلْمِ النِّسْيَانُ وَإِضَاعَتُهُ أنْ تُحَدِّثَ بِهِ غَيْرَ أَهْلِهِ)) (ش) عَن الأَعْمَشِ مَرْفوعاً معضلاً وَأخرج صَدره فَقَط عَن ابْن مَسْعُود مَوْقُوفا.(14) ((آكِلُ الرِّبَا ومُوكِلُهُ وكاتِبُهُ وشاهِدَاهُ إذَا عَلِمُوا ذَلِكَ والواشِمَةُ والمَوْشُومَةُ للْحُسْنِ ولاوِي الصَّدَقَةِ والمُرْتَدُّ أعْرَابِياً بَعْدَ الهِجْرَةِ مَلْعُونونَ على لِسانِ مُحَمَّدٍ يَوْمَ القِيَامَةِ)) (ن) عَن ابْن مَسْعُود.(15) (ز) ((آكُلُ كَمَا يَأكُلُ العَبْدُ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ كَانَتِ الدُّنْيا تَزِنُ عِنْدَ الله جَنَاحَ بَعُوضَةٍ مَا سَق صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى مِنْهَا كافِراً كَأساً)) (هناد) فِي الزُّهْدِ عَن عَمْرو بن مرّة مُرْسلا.(16) ((آكُلُ كَما يَأْكُلُ العَبْدُ وأَجْلِسُ كَمَا يَجْلِسُ العبْدُ ابْن سعد)) (ع حب) عَن عَائِشَة.(17) ((آكُلُ كَمَا يَأْكُلُ العَبْدُ وأَجْلِسُ كَمَا يَجْلِسُ العَبْدُ فإِنَّمَا أَنَا عَبْدٌ. ابْن سعد)) (هَب) عَن يحيى بن أبي كثير مُرْسلا.(18) (ز) ((الفَقْرَ تَخَافُونَ والَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتُصَبَّنَّ عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا صَبّاً حَتَّى لَا يُزيغَ قَلْبَ أَحَدِكُمْ إِنْ أَزَاغَهُ إِلاَّ هِيَ وايْمُ الله لَقَدْ تَرَكْتُكُمْ على مِثْلِ البَيْضَاءِ لَيْلُهَا وَنَهَارُهَا سَوَاءٌ)) (هـ) عَن أبي الدَّرداء.(19) ((آلُ القُرْآنِ آلُ الله)) (خطّ) فِي رُوَاة مَالك عَن أنس.(20) ((آلُ مُحَمدٍ كُلُّ تَقِيٍّ)) (طس) عَن أنس.(21) (ز) ((آمُرُكَ بِالوَالِدَيْنِ خَيْراً)) (حم) عَن ابْن عمر.(ز) ((آمُرُكُمْ بأرْبَعٍ وأنْهاكُمْ عَنْ أرْبَعٍ آمُرُكُمْ بالإيمانِ بِاللَّه وَحْدَهُ أتَدْرُونَ مَا الإِيمانُ بِاللَّه وَحْدَهُ شَهَادَةُ أنْ لَا إل صلى الله عليه وسلم1648 - ; هَ إِلاَّ الله وأنَّ محمَّداً رَسُولُ الله وَإقَام الصَّلَاةِ وَإِيتاء الزَّكاةِ وَصِيَام رَمَضَانَ وأنْ تُؤدُّوا خُمْسَ مَا غَنِمْتُمْ وأنْهَاكُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ والنَّقِيرِ والحَنْتَمِ والمُزَفَّتِ احْفَظُوهُنَّ وأخْبِرُوا بِهِنَّ مَنْ وَرَاءَكُمْ)) (ق 3) عَن ابْن عَبَّاس.(21) (ز) ((آمُرُكَ بِالوَالِدَيْنِ خَيْراً)) (حم) عَن ابْن عمر.(ز) ((آمُرُكُمْ بأرْبَعٍ وأنْهاكُمْ عَنْ أرْبَعٍ آمُرُكُمْ بالإيمانِ بِاللَّه وَحْدَهُ أتَدْرُونَ مَا الإِيمانُ بِاللَّه وَحْدَهُ شَهَادَةُ أنْ لَا إل صلى الله عليه وسلم1648 - ; هَ إِلاَّ الله وأنَّ محمَّداً رَسُولُ الله وَإقَام الصَّلَاةِ وَإِيتاء الزَّكاةِ وَصِيَام رَمَضَانَ وأنْ تُؤدُّوا خُمْسَ مَا غَنِمْتُمْ وأنْهَاكُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ والنَّقِيرِ والحَنْتَمِ والمُزَفَّتِ احْفَظُوهُنَّ وأخْبِرُوا بِهِنَّ مَنْ وَرَاءَكُمْ)) (ق 3) عَن ابْن عَبَّاس.(22) ((آمُرُكُمْ بأرْبَعٍ وأنْهاكُمْ عَنْ أرْبَعٍ اعْبُدُوا الله وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وآتُوا الزَّكاةَ وصُومُوا رَمَضَانَ وأعْطُوا الخُمْسَ مِنَ الغَنائِمِ وأنْهاكُمْ عَنْ أرْبَعٍ عَن الدُّبَّاء والحَنْتَمِ والمُزَفَّتِ والنَّقِيرِ)) (حم م) عنْ أبِي سَعِيدٍ.
((জ্ঞানের আপদ হলো বিস্মৃতি এবং এর অপচয় হলো অপাত্রে তা আলোচনা করা)) (শ) আমাশ থেকে মারফু ও মু'দাল হিসেবে এবং ইবনে মাসউদ থেকে মাওকুফ হিসেবে শুধুমাত্র এর প্রথমাংশ বর্ণিত হয়েছে।(১৪) ((সুদখোর, সুদদাতা, এর লেখক এবং এর সাক্ষীদ্বয় যখন তারা এ সম্পর্কে অবগত থাকে; আর সৌন্দর্যের জন্য উল্কি অঙ্কনকারিণী ও উল্কি গ্রহণকারিণী; এবং সদকা প্রদানে টালবাহানাকারী; আর হিজরতের পর পুনরায় মরুবাসীতে রূপান্তরিত মুরতাদ—কিয়ামতের দিন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবানে অভিশপ্ত)) (ন) ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত।(১৫) (য) ((আমি আহার করি যেভাবে একজন দাস আহার করে। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, যদি আল্লাহর নিকট দুনিয়ার মূল্য একটি মশার ডানার সমানও হতো, তবে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম১৬৪৮ - ; কোনো কাফিরকে তা থেকে এক পেয়ালা পানিও পান করাতেন না)) (হান্নাদ) যুহদ গ্রন্থে আমর ইবনে মুররাহ থেকে মুরসাল হিসেবে।(১৬) ((আমি আহার করি যেভাবে একজন দাস আহার করে এবং আমি বসি যেভাবে একজন দাস বসে—ইবনে সাদ)) (আইন, হাব) আয়িশা থেকে বর্ণিত।(১৭) ((আমি আহার করি যেভাবে একজন দাস আহার করে এবং আমি বসি যেভাবে একজন দাস বসে; কারণ আমি তো একজন দাস মাত্র—ইবনে সাদ)) (হাব) ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে মুরসাল হিসেবে।(১৮) (য) ((তোমরা কি দারিদ্র্যের ভয় করো? সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের ওপর দুনিয়ার প্রাচুর্য প্রবলভাবে ঢেলে দেওয়া হবে, এমনকি তোমাদের কারো অন্তরকে যদি বিচ্যুত হতে হয় তবে তা এই দুনিয়ার কারণেই হবে। আল্লাহর কসম, আমি তোমাদেরকে এমন এক উজ্জ্বল শুভ্র দ্বীনের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাত ও দিন সমান)) (হা) আবু দারদা থেকে বর্ণিত।(১৯) ((কুরআন ওয়ালারা হলো আল্লাহর পরিজন)) (খাত) ইমাম মালিকের রাবীদের বর্ণনায় আনাস থেকে বর্ণিত।(২০) ((মুহাম্মাদের পরিবার হলো প্রত্যেক মুত্তাকী ব্যক্তি)) (তাস) আনাস থেকে বর্ণিত।(২১) (য) ((আমি তোমাকে পিতা-মাতার সাথে উত্তম আচরণের নির্দেশ দিচ্ছি)) (হাম) ইবনে উমর থেকে বর্ণিত।(য) ((আমি তোমাদেরকে চারটি জিনিসের আদেশ দিচ্ছি এবং চারটি জিনিস থেকে নিষেধ করছি। আমি তোমাদেরকে একমাত্র আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আদেশ দিচ্ছি। তোমরা কি জানো একমাত্র আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী? তা হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম১৬৪৮ - ; এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং গণিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা। আর আমি তোমাদেরকে দুব্বা, নাকীর, হানতাম ও মুজাফফাত থেকে নিষেধ করছি। এগুলো তোমরা সংরক্ষণ করো এবং তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদেরকে এ সম্পর্কে অবহিত করো)) (ক ৩) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।(২১) (য) ((আমি তোমাকে পিতা-মাতার সাথে উত্তম আচরণের নির্দেশ দিচ্ছি)) (হাম) ইবনে উমর থেকে বর্ণিত।(য) ((আমি তোমাদেরকে চারটি জিনিসের আদেশ দিচ্ছি এবং চারটি জিনিস থেকে নিষেধ করছি। আমি তোমাদেরকে একমাত্র আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আদেশ দিচ্ছি। তোমরা কি জানো একমাত্র আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী? তা হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম১৬৪৮ - ; এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং গণিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা। আর আমি তোমাদেরকে দুব্বা, নাকীর, হানতাম ও মুজাফফাত থেকে নিষেধ করছি। এগুলো তোমরা সংরক্ষণ করো এবং তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদেরকে এ সম্পর্কে অবহিত করো)) (ক ৩) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।(২২) ((আমি তোমাদেরকে চারটি জিনিসের আদেশ দিচ্ছি এবং চারটি জিনিস থেকে নিষেধ করছি। আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না, সালাত কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো, রমজানের রোজা রাখো এবং গণিমতের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করো। আর আমি তোমাদেরকে চারটি জিনিস থেকে নিষেধ করছি: দুব্বা, হানতাম, মুজাফফাত ও নাকীর)) (হাম, মিম) আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
(23) ((آمُرُكُمْ بِثَلَاثٍ وأنْهاكُمْ عَنْ ثَلَاثٍ. أُمُرُكُمْ أنْ تَعْبُدُوا الله وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً وأنْ تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ الله جَمِيعاً ولَا تَفَرَّقُوا وَتَسْمَعُوا وَتُطِيعُوا لِمَنْ وَلاَّهُ الله آمُرَكُمْ وأنْهاكُمْ عَنْ قِيلٍ وقَال وَكَثْرَةِ السُّؤالِ وإضَاعَةِ المَالِ)) (حل) عَنْ أبي هُرَيْرَةَ.(24) ((آمِرُوا النِّسَاءَ فِي أنْفُسِهِنَّ فإِنَّ الثَّيِّبَ تُعْرِبُ عَنْ نَفْسِهَا وإذْنُ البِكْرِ صَمْتُها)) (طب هق) عَن الْعرس بن عميرَة.(25) ((آمِرُوا النِّسَاءَ فِي بَناتِهِنَّ)) (دهق) عَن ابْن عمر.(26) ((آمرُوا اليَتِيمَةَ فِي نَفْسِهَا وإذْنُهَا صِمَاتُهَا)) (طب) عَن أبِي مُوسَى.(27) ((آمَنَ شِعْرُ أُمَيَّةَ بْنِ أبِي الصَّلْتِ وَكَفَرَ قَلْبُهُ)) (أَبُو بكرٍ) بن الْأَنْبَارِي فِي المَصَاحِفِ (خطّ) وَابْن عَسَاكِرَ عَن ابْن عَبَّاس.(28) ((آمينَ خاتَمُ رَبِّ العالَمِينَ على لِسانِ عِبَادِهِ المُؤمِنِينَ)) (عد طب فِي الدُّعاءِ) عَن أبي هُرَيْرَة.(29) (ز) ((آياتُ المُنافِقِ مَنْ إذَا حَدَّثَ كَذَبَ وإذَا ائْتُمِنَ خَانَ وإذَا وَعَدَ أخْلَفَ)) (طر) عَن أبي بكر.(30) ((آيتانِ هُما قُرْآنٌ وهُما يَشْفَعانِ وهُما مِمَّا يُحِبُّهُما الله الآيتانِ فِي آخِرِ سُورَةِ البَقَرَةِ)) (فر) عَن أبِي هُرَيْرَةَ.(31) ((آيَةُ الإيمانِ حُبُّ الأَنْصَارِ وآيَةُ النِّفاقِ بُغْضُ الأنْصارِ)) (حم ق ن) عَن أنس.(32) ((آيَةُ العِزِّ {الحَمْدُ لله الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَداً} الآيَةَ)) (حم طب) عَن مُعاذِ بن أنَسٍ.(33) ((آيَةُ الكُرْسي رُبْعُ القُرآنِ)) (أبُو الشَّيخ فِي الثَّوَابِ عَن أنس.(34) ((آيَةُ المُنافِقِ ثَلَاثٌ إذَا حَدَّثَ كَذَبَ وإذَا وعَدَ أخْلَفَ وإذَا ائْتُمِنَ خانَ)) (ق ت ن) عَن أبي هُرَيْرَة.(35) ((آيةٌ بَيْنَنا وَبَيْنَ المُنَافِقِينَ شُهُودُ العِشَاءِ والصُّبْحِ لَا يَسْتَطِيعُونَهُما)) (ص) عَن سعيد بن الْمسيب مُرْسَلاً.(36) ((آيَةُ مَا بَيْنَنا وَبَيْنَ المُنافِقِينَ أنَّهُمْ لَا يَتَضَلَّعُونَ مِنْ زَمْزَمَ)) (4 هـ ك) عَن ابْن عَبَّاس.
(২৩) ((আমি তোমাদের তিনটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি এবং তিনটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি। আমি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না, তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না, আর আল্লাহ যাকে তোমাদের বিষয়াবলির দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তার কথা শোনো ও আনুগত্য করো। আর আমি তোমাদের নিষেধ করছি অহেতুক বাকবিতণ্ডা (কিল-ও-কাল), অধিক প্রশ্ন করা এবং সম্পদ বিনষ্ট করা থেকে।)) (হিলইয়া) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(২৪) ((তোমরা নারীদের নিকট তাদের নিজেদের ব্যাপারে পরামর্শ গ্রহণ করো; কেননা বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারী নিজ মতামত স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করবে, আর কুমারী মেয়ের অনুমতি হলো তার নীরবতা।)) (তাবারানি, বাইহাকি) উরস বিন আমিরা থেকে বর্ণিত।(২৫) ((তোমরা কন্যাদের ব্যাপারে তাদের মায়েদের (নারীদের) সাথে পরামর্শ করো।)) (দাইলামি, বাইহাকি) ইবনে উমর থেকে বর্ণিত।(২৬) ((ইয়াতিম মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে তার পরামর্শ গ্রহণ করো, আর তার নীরবতাই হলো তার অনুমতি।)) (তাবারানি) আবু মুসা থেকে বর্ণিত।(২৭) ((উমাইয়্যা ইবনে আবিস সালতের কবিতা ইমান এনেছে, কিন্তু তার অন্তর কুফরি করেছে।)) (আবু বকর ইবনুল আনবারি ‘আল-মাসাহিফ’ গ্রন্থে, খাতিব বাগদাদি এবং ইবনে আসাকির) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।(২৮) ((‘আমিন’ হলো রব্বুল আলামিনের মোহর যা তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের জিহবায় রেখেছেন।)) (ইবনে আদি, তাবারানি ‘আদ-দুআ’ গ্রন্থে) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(২৯) (যা) ((মুনাফিকের নিদর্শন হলো: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন তাকে বিশ্বাস করে আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে এবং যখন সে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ভঙ্গ করে।)) (তাম্মাম) আবু বকর থেকে বর্ণিত।(৩০) ((দুটি আয়াত যা কুরআনের অন্তর্ভুক্ত, তারা সুপারিশ করবে এবং তারা আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয়; আয়াত দুটি হলো সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত।)) (দাইলামি) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(৩১) ((ইমানের নিদর্শন হলো আনসারদের প্রতি ভালোবাসা এবং নিফাকের নিদর্শন হলো আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা।)) (আহমাদ, বুখারি, মুসলিম, নাসায়ি) আনাস থেকে বর্ণিত।(৩২) ((সম্মানের আয়াত হলো: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি...’ (আয়াতটি শেষ পর্যন্ত)।)) (আহমাদ, তাবারানি) মুয়ায বিন আনাস থেকে বর্ণিত।(৩৩) ((আয়াতুল কুরসি কুরআনের এক-চতুর্থাংশ।)) (আবুশ শাইখ ‘আস-সাওয়াব’ গ্রন্থে) আনাস থেকে বর্ণিত।(৩৪) ((মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন সে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে।)) (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসায়ি) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(৩৫) ((আমাদের এবং মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্যকারী চিহ্ন হলো এশা ও ফজরের নামাজে উপস্থিত হওয়া; তারা এ দুটিতে উপস্থিত হতে সক্ষম হয় না।)) (সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত)।(৩৬) ((আমাদের এবং মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্যের নিদর্শন হলো যে, তারা পেট ভরে বা তৃপ্তি সহকারে যমজমের পানি পান করে না।)) (সুনানে আরবাআ, হাকেম) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
(37) ((إئتِ المَعْروفَ وَصلى الله عَلَيْهِ وَسلم1649 - ; جْتَنِبِ المُنْكَرَ وانْظُرْ مَا يُعْجِبُ أُذُنَكَ أنْ يَقُولَ لَكَ القَوْمُ إذَا قُمْتَ مِنْ عِنْدِهِمْ فَأْتِهِ وانْظُرُ الَّذِي تَكْرَهُ أنْ يَقُولَ لَكَ القَوْمَ إذَا قُمْتَ مِنْ عِنْدِهِمْ فاجْتَنِبْهُ)) (خد) وَابْن سَعْدٍ والبَغَوي فِي مُعْجَمه والباوَرْدي فِي المَعْرِفَةِ (هَب) عَن حَرْمَلَةَ بن عبد الله بن أوسٍ وَمَا لَهُ غَيره.(38) ((ائْتِ حَرْثَكَ أنَّى شِئْتَ وأطْعِمْها إِذا طَعِمْتَ واكْسُها إِذا اكْتَسَيْتَ ولَا تُقَبِّحِ الوَجْهَ ولَا تَضْرِبْ)) (د) عَن بَهْزِ بن حَكِيمٍ عَنْ أبِيهِ عَنْ جَدِّهِ.(39) ((ائْتَدِمُوا بالزَّيْتِ وادَّهِنُوا بِهِ فَإنَّهُ يَخْرُجُ منْ شَجَرَةٍ مُبارَكَةٍ)) (هـ ك هَب) عَن ابْن عمر.(40) ((ائْتَدِمُوا مِنْ هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذِهِ الشَّجَرَةِ يَعْنِي الزَّيْتَ وَمَنْ عُرِضَ عَلَيْهِ طَيّبٌ فَلْيُصِبْ مِنْهُ)) (طس) عَنْ ابْنِ عَبَّاس.(41) ((ائْتَدِمُوا ولوْ بالمَاءِ)) (طس) عَن ابْن عمر.(42) ((ائْتَزِرُوا كَمَا رأيْتُ المَلَائِكَةَ تَأتَزِرُ عِنْدَ رَبِّهَا إِلَى أنْصَافِ سُوقِهَا)) (فر) عَن عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده.(43) ((ائْتُوا الدَّعْوَةَ إِذا دُعِيتُمْ)) (م) عَن ابْن عمر.(44) ((ائْتُوا المَساجِدَ حُسَّراً ومُعَصَّبِينَ فإنَّ العَمائِمَ تِيجان المُسْلِمِين)) (عد) عَن عَليّ.(45) ((ائْذَنُوا للنِّسَاءِ أنْ يُصَلِّينَ باللَّيْلِ فِي المَسْجِدِ)) (ت والطَّيَالسي) عَن ابْن عمر.(46) ((ائْذَنُوا لِلنِساءِ باللَّيْلِ إِلَى المَساجِدِ)) (حم م د ت) عَن ابْن عمر.(47) ((أَبى الله أنْ يَجْعَلَ لِقَاتِلِ المُؤمِنِ تَوْبَةً)) (طب) والضياءُ فِي المختارة عَن أنَس.(48) ((أبَى الله أَن يَجْعَل لِلبلَاءِ سُلْطاناً على بَدَنِ عَبْدِهِ المؤمِنِ)) (فر) عَن أنس.(49) ((أَبى الله أنْ يَرْزقَ عَبْدَهُ المؤمِنَ إلاَّ من حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ)) (فر) عَن أبي هُرَيرةَ (هَب) عَن عَليّ.(50) ((أبَى الله أنْ يَقْبَلَ عَمَلَ صاحِبِ بِدْعَةٍ حَتَّى يَدَعَ بِدْعَتَهُ)) (هـ) وَابْن أبي عَاصِم فِي السّنة عَن ابْن عَبَّاس.
(৩৭) ((সৎকাজ সম্পাদন করো এবং আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন ১৬৪৯ - ; অসৎকাজ বর্জন করো এবং মানুষের মজলিস থেকে উঠে যাওয়ার পর তারা তোমার সম্পর্কে যা বলা তুমি পছন্দ করো তা পালন করো, আর তাদের নিকট থেকে উঠে যাওয়ার পর তারা তোমার সম্পর্কে যা বলা তুমি অপছন্দ করো তা বর্জন করো।)) (বুখারি তাঁর আল-আদাবুল মুফরাদে), ইবনে সাদ, বাগাউয়ি তাঁর মুজামে এবং বাওয়ারদি ‘আল-মারিফাহ’ গ্রন্থে (বাইহাকি তাঁর শুআবুল ইমানে) হারমালাহ বিন আবদুল্লাহ বিন আউস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে এছাড়া আর কোনো বর্ণনা নেই।(৩৮) ((তোমার শস্যক্ষেত্রে (স্ত্রীর নিকট) যেভাবে ইচ্ছা গমন করো; তুমি যখন আহার করো তাকেও আহার করাও, তুমি যখন পোশাক পরিধান করো তাকেও পোশাক দাও, আর তাকে কটু কথা বলো না এবং প্রহার করো না।)) (আবু দাউদ) বাহজ বিন হাকিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।(৩৯) ((তোমরা যয়তুন তেল দিয়ে সালন তৈরি করো এবং তা শরীরে মাখো; কারণ এটি এক বরকতময় বৃক্ষ থেকে উৎপন্ন হয়।)) (ইবনে মাজাহ, হাকেম, বাইহাকি তাঁর শুআবুল ইমানে) ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।(৪০) ((তোমরা এই বৃক্ষ অর্থাৎ যয়তুন থেকে সালন তৈরি করো; আর আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন ১৬৪৮ - ; যাকে সুগন্ধি পেশ করা হয় সে যেন তা গ্রহণ করে।)) (তাবারানি তাঁর আল-আওসাত গ্রন্থে) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।(৪১) ((তোমরা সালন হিসেবে ব্যবহার করো, এমনকি তা যদি কেবল পানি দিয়েও হয়।)) (তাবারানি তাঁর আল-আওসাত গ্রন্থে) ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।(৪২) ((তোমরা সেভাবে লুঙ্গি পরিধান করো যেভাবে আমি ফেরেশতাদের তাদের রবের নিকট হাঁটুর অর্ধভাগ পর্যন্ত লুঙ্গি পরিধান করতে দেখেছি।)) (দাইলামি তাঁর মুসনাদুল ফিরদাউসে) আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।(৪৩) ((যখন তোমাদের দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন তোমরা দাওয়াতে উপস্থিত হও।)) (মুসলিম) ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।(৪৪) ((তোমরা মসজিদে এসো অনাবৃত মস্তকে কিংবা পাগড়ি পরিহিত অবস্থায়; কেননা পাগড়ি হলো মুসলিমদের মুকুট।)) (ইবনে আদি) আলী থেকে বর্ণনা করেছেন।(৪৫) ((তোমরা নারীদের রাতে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায়ের অনুমতি দাও।)) (তিরমিজি ও তায়ালিসি) ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।(৪৬) ((তোমরা নারীদের রাতে মসজিদের দিকে যাওয়ার অনুমতি দাও।)) (আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ ও তিরমিজি) ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।(৪৭) ((আল্লাহ মুমিন হত্যাকারীর জন্য তাওবা কবুল করাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।)) (তাবারানি তাঁর আল-কাবির গ্রন্থে) এবং দিয়া আল-মাকদিসি তাঁর ‘আল-মুখতারাহ’ গ্রন্থে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।(৪৮) ((আল্লাহ কোনো মুমিন বান্দার দেহের ওপর বিপদের পূর্ণ কর্তৃত্ব অর্পণ করাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।)) (দাইলামি তাঁর মুসনাদুল ফিরদাউসে) আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।(৪৯) ((আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাকে অভাবনীয় উৎস ছাড়া রিজিক প্রদান করতে অস্বীকার করেছেন।)) (দাইলামি তাঁর মুসনাদুল ফিরদাউসে) আবু হুরায়রা থেকে এবং (বাইহাকি তাঁর শুআবুল ইমানে) আলী থেকে বর্ণনা করেছেন।(৫০) ((আল্লাহ কোনো বিদআতি ব্যক্তির আমল কবুল করতে অস্বীকার করেছেন যতক্ষণ না সে তার বিদআত পরিত্যাগ করে।)) (ইবনে মাজাহ) এবং ইবনে আবি আসিম তাঁর ‘আস-সুন্নাহ’ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
(51) (ز) ((أبَى الله والمُؤمِنُونَ أَن يُخْتَلَفَ عَلَيْكَ يَا أَبَا بَكْر)) (حم) عَن عَائِشَة.(52) (ز) ((أبايِعُكَ على أنْ تَعْبُدَ الله لَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئاً وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ المَكْتُوبَةَ وتُؤتِي الزَّكَاةَ وتَنْصَحُ لِكُلِّ مُسْلِم وتَبْرَأُ مِنَ الشِّرْكِ)) (حم ن) عَن جرير.(53) (ز) ((أبايِعُكمْ على أَن لَا تُشْرِكُوا بِاللَّه شَيْئاً وَلَا تَسْرِقُوا وَلَا تَزْنُوا وَلَا تَقْتُلُوا أوْلَادَكُمْ ولَا تَأتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أيْدِيكُمْ وأرْجُلِكُمْ ولَا تَعْصُوني فِي مَعْرُوف فَمَنْ وَفَّى مِنْكُمْ فَأجْرُهُ على الله وَمَنْ أصَاب مِنْ ذ صلى الله عليه وسلم1648 - ; لِكَ شَيْئاً فَأُخِذَ بِهِ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ لَهُ كَفَّارةٌ وَطَهُورٌ ومَنْ سَتَرَهُ الله فَذَلِكَ إِلَى الله عز وجل إِن شاءَ عَذَّبَهُ وإنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ)) (حم ق ت ن) عَن عبَادَة بن الصَّامِت.(54) ((ابْتَدِرُوا الأذَانَ وَلَا تَبْتَدِرُوا الإقَامَةَ)) (ش) عَن يحيى بن أبي كثير مُرْسلا.(55) ((ابْتَغُوا الخَيْرَ عِنْدَ حِسانِ الوُجُوهِ)) (قطّ) فِي الأَفرادِ عَن أبي هُرَيْرَة.(56) ((ابْتَغُوا الرِّفْعَةَ عِنْدَ الله تَحْلَمُ عَمَّنْ جَهِلَ عَلَيْكَ وتُعْطِي مَنْ حَرَمَكَ)) (عد) عَن ابْن عمر.(57) (ز) ((ابْتَغُوا فِي أمْوالِ اليَتامَى لَا تَسْتَهْلِكْها الصَّدَقَةُ)) (الشَّافِعِي) عَن يُوسُف بن مَاهك مُرْسلا.(58) ((ابْدِ المَوَدَّةَ لِمَنْ وَادَّكَ فَإنَّها أثْبَتُ)) (الْحَارِث طب) عَن أبي حميد السَّاعِدِيّ.(59) (( (ز) ابْدَأ بِأُمِّكَ وأبِيكَ وأُخْتِكَ وأخِيكَ والأدْنَى فالأدْنَى وَلَا تَنْسَوا الجِيرَانَ وذَا الحاجَةِ)) (طب) عَن معَاذ.(60) ((ابْدَأ بِمَنْ تعُولُ)) (طب) عَن حَكِيم بن حزَام.(61) ((ابدأْ بِنَفْسِكَ فَتَصَدَّقْ عَلَيْهَا فإنْ فَضَلَ شَيْءٌ فَلأهْلِكَ فَإنْ فَضَلَ شَيْءٌ عَنْ أهْلِكَ فَلِذِي قَرَابَتِكَ فَإنْ فَضَلَ عَنْ ذِي قَرَابَتِكَ شَيْءٌ فَه صلى الله عليه وسلم1648 - ; كَذَا وه صلى الله عليه وسلم1648 - ; كَذَا)) (ن) عَن جَابر.(62) ((ابْدَؤُوا بِمَا بَدَأ الله بِهِ)) (قطّ) عَن جَابر.(63) ((أبْرِدُوا بالطَّعَامِ فَإنَّ الحارَّ لَا بَرَكَةَ فِيه)) (فر) عَن ابْن عمر (ك) عَن جَابر وَعَن أَسمَاء (مُسَدّد) عَن أبي يحيى (طس) عَن أبي هُرَيْرَة (حل) عَن أنس.(64) (ز) ((أبْرِدُوا بالظُّهْرِ)) (هـ) عَن ابْن عمر (طب) عَن عبد الرَّحْمَن بن حَارِثَة.
(৫১) (যা) “আল্লাহ এবং মুমিনগণ আপনার বিষয়ে কোনো দ্বিমত করতে অস্বীকার করেন, হে আবু বকর।” (আহমদ) আয়েশা থেকে।(৫২) (যা) “আমি তোমার নিকট এই মর্মে বায়আত গ্রহণ করছি যে, তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক করবে না, ফরয নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা করবে এবং শিরক থেকে মুক্ত থাকবে।” (আহমদ, নাসাঈ) জারীর থেকে।(৫৩) (যা) “আমি তোমাদের থেকে এই মর্মে বায়আত নিচ্ছি যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, কোনো অপবাদ রটাবে না যা তোমরা তোমাদের হাত ও পায়ের মাঝখান থেকে (অর্থাৎ স্বেচ্ছায়) উদ্ভাবন করো এবং কোনো সৎ কাজে আমার অবাধ্য হবে না। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তা পূর্ণ করবে তার প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায়। আর যে ব্যক্তি এর কোনোটি করে ফেলবে এবং দুনিয়াতে তার সাজা হয়ে যাবে, তবে তা তার জন্য কাফফারা ও পবিত্রতা স্বরূপ। আর যাকে আল্লাহ গোপন রাখবেন, তা মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে আযাব দেবেন এবং চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন।” (আহমদ, বুখারী ও মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ) উবাদাহ ইবনে সামিত থেকে।(৫৪) “তোমরা আযানের ক্ষেত্রে দ্রুততা অবলম্বন করো এবং ইকামতের ক্ষেত্রে দ্রুততা করো না।” (ইবনে আবী শায়বাহ) ইয়াহইয়া ইবনে আবী কাসীর থেকে মুরসাল হিসেবে।(৫৫) “তোমরা সুন্দর চেহারার অধিকারী ব্যক্তিদের নিকট কল্যাণ অনুসন্ধান করো।” (দারাকুতনী) আল-আফরাদ গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে।(৫৬) “তোমরা আল্লাহর নিকট উচ্চমর্যাদা অনুসন্ধান করো; (তা হলো) যে তোমার সাথে মূর্খতা প্রদর্শন করে তার প্রতি ধৈর্য ধারণ করা এবং যে তোমাকে বঞ্চিত করে তাকে দান করা।” (ইবনে আদী) ইবনে উমর থেকে।(৫৭) (যা) “তোমরা ইয়াতীমদের সম্পদ দিয়ে ব্যবসা করো, যেন সাদাকাহ (যাকাত) তা নিঃশেষ করে না ফেলে।” (শাফেঈ) ইউসুফ ইবনে মাহিক থেকে মুরসাল হিসেবে।(৫৮) “যে তোমাকে ভালোবাসে তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করো, কারণ এটি সম্পর্ককে অধিক সুদৃঢ় করে।” (হারিস, তাবারানী) আবু হুমাইদ আস-সাঈদী থেকে।(৫৯) (যা) “তোমার মা, তোমার বাবা, তোমার বোন, তোমার ভাই এবং পর্যায়ক্রমে নিকটাত্মীয়দের থেকে শুরু করো। আর প্রতিবেশী ও অভাবগ্রস্তদের ভুলে যেয়ো না।” (তাবারানী) মুয়ায থেকে।(৬০) “যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তোমার ওপর, তাদের থেকে শুরু করো।” (তাবারানী) হাকীম ইবনে হিযাম থেকে।(৬১) “তুমি নিজেকে দিয়ে শুরু করো এবং নিজের ওপর সাদাকাহ করো। যদি কিছু অতিরিক্ত থাকে তবে তা তোমার পরিবারের জন্য। যদি পরিবারের প্রয়োজনের পর কিছু অতিরিক্ত থাকে তবে তা তোমার নিকটাত্মীয়দের জন্য। আর যদি নিকটাত্মীয়দের প্রয়োজনের পরেও কিছু উদ্বৃত্ত থাকে তবে তা এভাবে ও ওভাবে (বন্টন করো)।” (নাসাঈ) জাবির থেকে।(৬২) “আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন, তোমরাও তা দিয়ে শুরু করো।” (দারাকুতনী) জাবির থেকে।(৬৩) “তোমরা খাবার ঠান্ডা করে খাও, কারণ গরম খাবারে কোনো বরকত নেই।” (দাইলামী) ইবনে উমর থেকে, (হাকিম) জাবির ও আসমা থেকে, (মুসাদ্দাদ) আবু ইয়াহইয়া থেকে, (তাবারানী-আওসাত) আবু হুরায়রা থেকে এবং (আবু নুয়াইম-হিলয়াহ) আনাস থেকে।(৬৪) (যা) “তোমরা যোহরের নামায ঠান্ডা করে (অর্থাৎ গরমের তীব্রতা কমলে) পড়ো।” (ইবনে মাজাহ) ইবনে উমর থেকে এবং (তাবারানী) আবদুর রহমান ইবনে হারিসাহ থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
(65) ((أبْرِدُوا بالظُّهْرِ فَإنَّ شِدَّةِ الحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ)) (خَ هـ) عَن أبي سعيدٍ (حم ك) عَن صَفْوَان بن مخرمَة (ن) عَن أبي مُوسَى (طب) عَن ابْن مَسْعُود (عد) عَن جَابر (هـ) عَن الْمُغيرَة بن شُعْبَة.(66) (( (ز) أبْشِرْ عَمَّارُ تَقْتُلُكَ الفِئَةُ الباغِيَةُ)) (ت) عَن أبي هُرَيْرَة.(67) (( (ز) أبْشِرْ فَإنَّ الله تَعَالَى يَقُولُ هِيَ نَارِي أُسَلِّطُها على عَبْدِي المُؤمِنِ فِي الدُّنْيَا لِتَكُونَ حَظَّهُ مِنَ النَّار يَوْمَ القِيَامَةِ)) (حم هـ ك) عَن أبي هُرَيْرَة.(68) (( (ز) أبْشِرُوا إنَّ مِن نِعْمَةِ الله عَلَيْكُمْ أنَّهُ لَيْسَ أحَدٌ مِنَ النَّاسِ يُصَلِّي هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذِه السَّاعَةَ غَيْرَكُمْ)) (خَ) عَن أبي مُوسَى.(69) (ز) ((أَبْشِرُوا بالمَهْدِي رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ مِنْ عِتْرَتِي يَخْرُجُ فِي اخْتِلَافٍ مِنَ النَّاسِ وزَلْزَالٍ فَيَمْلأ الأرْضَ قِسْطاً وعَدْلاً كَمَا مُلِئَتْ ظُلْماً وجَوْراً وَيَرْض صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى عَنْهُ ساكِنُ السَّمَاءِ وساكِنُ الأرْضِ وَيَقْسِمُ المَالَ صِحاحاً بالسَّوِيَّةِ وَيَمْلأُ قُلُوبَ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ غِنًى وَيَسَعُهُمْ عَدْلُهُ حَتَّى أنَّهُ يَأمُرُ مُنادِياً فَيُنادِي مَنْ لَهُ حاجَةٌ إلَيَّ فَما يَأتِيهِ إلاَّ رَجُلٌ واحِدٌ يَأتِيِه فَيَسْأَلُهُ فَيَقُولُ ائْتِ السَّادِنَ حَتَّى يُعْطِيَكَ فَيَأتيهِ فَيَقُولُ أَنا رَسُولُ المَهْدِي إلَيْكَ لِتُعْطِيَنِي مَالا فَيَقُولُ احْثِ فَيَحْثِي ولَا يَسْتَطِيعُ أنْ يَحْمِلَهُ فَيُلْقِي حَتَّى يَكُونَ قَدْرَ مَا يَسْتَطِيعُ أنْ يَحْمِلَهُ فَيَخْرُجُ بِهِ فَيَنْدَمُ فَيَقُولُ أَنا كُنْتُ أجْشَعَ أمَّةِ محمَّدٍ نَفْساً كُلُّهُمْ دُعِيَ إِلَى هَذَا المَالِ فَتَرَكَهُ غَيْرِي فَيَرُدُّ عَلَيْهِ فَيَقُولُ إِنَّا لَا نَقْبَلُ شَيْئاً أعْطَيْنَاهُ فَيَلْبَثُ فِي ذَلِكَ سِتّاً أَو سَبْعاً أوْ ثَمانِياً أوْ تِسْعَ سِنِينَ ولَا خَيْرَ فِي الحَياةِ بعدَهُ)) (حم) والباوَرْدِيُّ عَن أبي سَعِيدٍ.(70) (ز) ((أبْشِرُوا فَإِن هَذَا القُرآنَ طَرَفُهُ بِيَدِ الله وطَرَفُهُ بِأيْدِيكُمْ فَتَمَسَّكُوا بِهِ فإِنَّكُمْ لَنْ تَهْلَكُوا ولَنْ تَضِلَّوا بعدَهُ أبَداً)) (طب) عَن جُبَيْرٍ.(71) (ز) ((أبْشِرُوا وبَشِّرُوا مَنْ وَرَاءَكُمْ أنَّهُ مَنْ شَهِدَ أنْ لَا إِل صلى الله عليه وسلم1648 - ; هَ إلاَّ الله صادِقاً بِها دَخَلَ الجَنَّةَ)) (حم طب) عَن أبي مُوسَى.(72) (( (ز) أبْشِرُوا هَذَا رَبُّكُمْ قد فَتَحَ بَابا مِنْ أبْوابِ السَّماءِ يُبَاهِي بِكُمُ المَلائِكَةَ يَقُولُ انْظرُوا إِلَى عِبادِي قد قَضَوْا فَرِيضَةً وهُمْ يَنْظرُونَ أُخْرَى)) (حم هـ) عَن ابْن عَمْرو.(73) (( (ز) أبْشِرُوا يَا أصْحابَ الصُّفَّةِ فَمن بَقِيَ مِنْ أمَّتِي على النَّعْتِ الذِي أنْتُمْ عَلَيْهِ رَاضِيا بِمَا هوَ فِيهِ فإنَّهُ مِنْ رُفَقائي يَوْمَ القِيَامَةِ)) (خطّ) عَن ابْن عَبَّاسٍ.
(৬৫) ((তোমরা জোহরের সালাত ঠান্ডা করে আদায় করো, কেননা গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের নিশ্বাসের অংশ।)) (বুখারি, ইবনে মাজাহ) আবু সাঈদ থেকে (আহমাদ, হাকিম) সাফওয়ান ইবনে মাখরামা থেকে (নাসায়ি) আবু মুসা থেকে (তাবারানি) ইবনে মাসউদ থেকে (ইবনে আদি) জাবির থেকে (ইবনে মাজাহ) মুগীরা ইবনে শু'বা থেকে।(৬৬) (( (য) সুসংবাদ গ্রহণ করো হে আম্মার, তোমাকে একটি বিদ্রোহী দল হত্যা করবে।)) (তিরমিজি) আবু হুরায়রা থেকে।(৬৭) (( (য) সুসংবাদ গ্রহণ করো, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: এটি আমার আগুন, যা আমি দুনিয়াতে আমার মুমিন বান্দার ওপর চাপিয়ে দেই, যেন তা কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনের পরিবর্তে তার অংশ হয়ে যায়।)) (আহমাদ, ইবনে মাজাহ, হাকিম) আবু হুরায়রা থেকে।(৬৮) (( (য) তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহর এক নেয়ামত তোমাদের ওপর এই যে, এই সময়ে তোমরা ছাড়া মানুষের মধ্যে আর কেউ সালাত আদায় করছে না।)) (বুখারি) আবু মুসা থেকে।(৬৯) (য) ((তোমরা মাহদীর সুসংবাদ গ্রহণ করো; তিনি কুরাইশ বংশের এবং আমার বংশধরদের একজন ব্যক্তি। মানুষের মধ্যে মতভেদ ও ভূমিকম্পের সময়ে তিনি আবির্ভূত হবেন। তিনি পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফ দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন যেমনভাবে তা জুলুম ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ হয়েছিল। আসমান ও জমিনের অধিবাসীরা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হবে। তিনি সম্পদ সঠিকভাবে ও সমতার ভিত্তিতে বণ্টন করবেন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের অন্তরসমূহকে ঐশ্বর্য দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন। তাঁর ন্যায়বিচার তাদেরকে পরিবেষ্টন করবে, এমনকি তিনি একজন আহ্বানকারীকে নির্দেশ দেবেন, যে ঘোষণা করবে: কার কোনো অভাব বা প্রয়োজন আছে? তখন একজন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ আসবে না। সে আসবে এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করবে, তখন তিনি বলবেন: তুমি রক্ষকের কাছে যাও যেন সে তোমাকে দান করে। সে তাঁর কাছে এসে বলবে: আমি মাহদীর দূত হিসেবে আপনার কাছে এসেছি যেন আপনি আমাকে সম্পদ দান করেন। রক্ষক বলবে: অঞ্জলি ভরে নাও। সে তা অঞ্জলি ভরে নেবে কিন্তু তা বহন করতে পারবে না। ফলে সে কিছু ফেলে দেবে যতক্ষণ না তা তার বহনযোগ্য হয়। এরপর সে তা নিয়ে বের হবে এবং লজ্জিত হয়ে বলবে: আমিই ছিলাম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোভী; তারা সবাই এই সম্পদের দিকে আমন্ত্রিত হয়েছিল কিন্তু আমি ছাড়া সবাই তা পরিত্যাগ করেছে। ফলে সে তা ফেরত দিতে চাইবে, কিন্তু বলা হবে: আমরা যা দান করি তা ফেরত গ্রহণ করি না। তিনি এই অবস্থায় ছয়, সাত, আট অথবা নয় বছর অবস্থান করবেন। তাঁর পরে জীবনে আর কোনো কল্যাণ থাকবে না।)) (আহমাদ) এবং বাওয়ার্দি আবু সাঈদ থেকে।(৭০) (য) ((সুসংবাদ গ্রহণ করো, কেননা এই কুরআনের এক প্রান্ত আল্লাহর হাতে এবং অন্য প্রান্ত তোমাদের হাতে। অতএব তোমরা একে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো; তাহলে তোমরা কখনোই ধ্বংস হবে না এবং এরপর কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না।)) (তাবারানি) জুবাইর থেকে।(৭১) (য) ((সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং তোমাদের পেছনে যারা আছে তাদেরকেও সুসংবাদ দাও যে, যে ব্যক্তি সত্য অন্তরে সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।)) (আহমাদ, তাবারানি) আবু মুসা থেকে।(৭২) (( (য) সুসংবাদ গ্রহণ করো, এই তোমাদের রব, তিনি আসমানের দরজাগুলোর মধ্য থেকে একটি দরজা খুলে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের কাছে তোমাদের নিয়ে গর্ব করছেন। তিনি বলছেন: আমার বান্দাদের দিকে তাকাও, তারা একটি ফরজ দায়িত্ব পালন করেছে এবং অন্যটির জন্য অপেক্ষা করছে।)) (আহমাদ, ইবনে মাজাহ) ইবনে আমর থেকে।(৭৩) (( (য) হে সুফফার অধিবাসীগণ, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। আমার উম্মতের মধ্যে যারা তোমাদের এই অবস্থার ওপর ধৈর্য ধরে থাকবে এবং নিজের অবস্থায় সন্তুষ্ট থাকবে, সে কিয়ামতের দিন আমার সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।)) (খতিব) ইবনে আব্বাস থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ২০)
(74) (( (ز) أبْشِرُوا يَا مَعْشَرَ صَعَالِيكِ المُهاجِرِينَ بالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ القِيامَةِ تَدْخُلُونَ قَبْلَ أغْنِياءِ النَّاس بِنِصْفِ يَوْمٍ وَذَلِكَ خَمْسُمائَةِ سَنةٍ)) (حم د) عَن أبي سعيد.(75) (( (ز) أبْشِرِي يَا أمَّ الْعَلَاء فإنَّ مَرَضَ المُسْلِمِ يُذْهِبُ خطَاياهُ كَمَا تُذْهِبُ النَّارُ خَبَثَ الحَدِيدِ)) (طب) عَن أُمِّ العلاءِ.(76) (ز) ((ابْشِرِي يَا عائِشَةُ أمَّا الله فقد بَرَّأكِ)) (ق) عَن عائشَةَ.(77) (ز) ((أَبْشِرِي يَا فاطِمَةُ المَهْدِيُّ مِنْكِ)) (ابنُ عَساكِرَ) عَن الحُسَيْنِ.(78) ((أبْعَدُ النَّاسِ مِنَ الله يَوْمَ القِيَامَةِ القاضِي الَّذِي يُخالِفُ إِلَى غَيْرِ مَا أُمِرَ بِهِ)) (فر) عَن أبي هُرَيْرَة.(79) (ز) ((أبْعِدُوا الآثارَ إِذا ذَهَبْتُمْ لِلْغائِطِ وأعِدُّوا النَّبْلَ واتَّقُوا المَلاعِنَ لَا يَتَغَوَّطْ أحَدُكُمْ تَحْتَ شَجَرَةٍ يَنْزِلُ تَحْتَها أحَدٌ وَلَا عندَ مَاء يُشْرَبُ منهُ فَيَدْعُونَ الله عَلَيْكُمْ)) (عب) عَن الشَّعْبِيِّ مُرْسَلاً.(80) ((أبْغَضُ الخَلْقِ إِلَى الله مَنْ آمَنَ ثُمَّ كَفَرَ)) (تَمام) عَن مُعاذٍ.(81) ((أبْغَضُ الحَلالِ إِلَى الله الطَّلاقُ)) (د هـ ك) عَن ابنِ عُمَرَ.(82) ((أبْغَضُ الرِّجَالِ إِلَى الله الألَدُّ الخَصِمُ)) (ق حم ت ن) عَن عائشَةَ.(83) ((أبْغضُ العِبادِ إِلَى الله مَنْ كانَ ثَوْباهُ خَيْراً مِنْ عَمَلِهِ أنْ تَكُونَ ثِيَابُهُ ثِيَابَ الأنْبِياءِ وعَمَلُهُ عَمَلَ الجَبَّارِينَ)) (عق فر) عَن عائشةَ.(84) ((أبْغَضُ النَّاسِ إِلَى الله ثلَاثةٌ مُلْحِدٌ فِي الحَرَمِ ومُبْتَغٍ فِي الإسْلَامِ سُنَّةَ الجَاهِلِيَّةِ ومُطَّلِبٌ دَمَ امرِىءٍ بَغيْرِ حَقَ لِيُهْرِيقَ دَمَهُ)) (خَ) عَن ابنِ عَبَّاسٍ.(85) ((ابْغُونِي الضُّعَفَاءَ فإِنَّما تُرْزَقُونَ وتُنْصَرُونَ بِضُعفائِكُمْ)) (حم م حب حد ك) عَن أبي الدَّرْداءِ.(86) (ز) ((إبْكِينَ وإِيَّاكُنَّ ونَعِيقَ الشَّيْطان فإِنّهُ مَهْما كانَ منَ العَيْنِ والقَلْبِ فَمِنَ الله وَمَا كانَ منَ اليَدِ واللّسانِ فَمِنَ الشَّيْطان)) (ابنُ سَعْدٍ) عَن ابنِ عَبَّاسٍ.(87) ((أبْلِغُوا حاجَةَ مَنْ لَا يَسْتَطِيعُ إِبْلاغَ حاجَتِهِ فَمَنْ أبْلَغَ سُلْطاناً حاجَةَ مَنْ لَا يَسْتَطيعُ إِبْلاغَها ثَبَّتَ الله قَدَمَيْهِ على الصِّرَاطِ يَوْمَ القِيامَةِ)) (طب) عَن أبي الدَّرْداءِ.
(৭৪) ((হে নিঃস্ব মুহাজির সম্প্রদায়! কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করো। তোমরা বিত্তবান মানুষদের পাঁচশত বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যা হলো অর্ধেক দিনের সমান।)) (আহমাদ, আবু দাউদ) আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত।(৭৫) ((হে উম্মুল আলা! সুসংবাদ গ্রহণ করো। কেননা মুসলিমের অসুস্থতা তার পাপসমূহকে সেভাবে দূর করে দেয়, যেভাবে আগুন লোহার মরিচা দূর করে দেয়।)) (তাবারানি) উম্মুল আলা থেকে বর্ণিত।(৭৬) ((হে আয়েশা! সুসংবাদ গ্রহণ করো। আল্লাহ তোমাকে অপবাদ থেকে মুক্ত করেছেন।)) (বুখারি ও মুসলিম) আয়েশা থেকে বর্ণিত।(৭৭) ((হে ফাতিমা! সুসংবাদ গ্রহণ করো। মাহদী তোমার বংশধর থেকেই আসবে।)) (ইবনে আসাকির) হুসাইন থেকে বর্ণিত।(৭৮) ((কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট থেকে সবচেয়ে দূরে থাকবে সেই বিচারক, যে তাকে দেওয়া নির্দেশের বিপরীতে ফয়সালা করে।)) (দাইলামি) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(৭৯) ((তোমরা যখন মলত্যাগের জন্য যাবে তখন লোকালয় থেকে দূরে চলে যাবে এবং ঢিলা প্রস্তুত রাখবে। অভিশাপের জায়গাগুলো পরিহার করো। তোমাদের কেউ যেন এমন গাছের নিচে মলত্যাগ না করে যেখানে মানুষ বিশ্রাম নেয় এবং এমন পানির উৎসস্থলেও নয় যেখান থেকে মানুষ পানি পান করে; কারণ তারা তোমাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বদদোয়া করবে।)) (আব্দুর রাজ্জাক) শাবী থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত।(৮০) ((আল্লাহর নিকট সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত সেই ব্যক্তি, যে ঈমান আনার পর পুনরায় কুফরি করে।)) (তামাম) মুয়াজ থেকে বর্ণিত।(৮১) ((আল্লাহর নিকট হালাল কাজসমূহের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রিয় হলো বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক)।)) (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, হাকেম) ইবনে উমর থেকে বর্ণিত।(৮২) ((আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি হলো সেই, যে অত্যন্ত ঝগড়াটে ও তর্কাভিলাষী।)) (বুখারি, আহমাদ, তিরমিজি, নাসায়ি) আয়েশা থেকে বর্ণিত।(৮৩) ((আল্লাহর নিকট বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত সেই, যার পোশাক তার কর্মের চেয়ে উত্তম; অর্থাৎ যার পোশাক হলো নবীদের পোশাকের ন্যায় কিন্তু কর্ম হলো অহংকারী অত্যাচারীদের কর্মের ন্যায়।)) (উকাইলি, দাইলামি) আয়েশা থেকে বর্ণিত।(৮৪) ((আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি হলো তিনজন: হারামে (মক্কায়) অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তি, ইসলামে জাহেলি যুগের প্রথার অনুসারী এবং যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো রক্ত প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করতে চায়।)) (বুখারি) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।(৮৫) ((তোমরা আমাকে দুর্বলদের মাঝে তালাশ করো, কেননা তোমাদের দুর্বলদের অসিলাতেই তোমরা রিজিক ও সাহায্য প্রাপ্ত হও।)) (আহমাদ, মুসলিম, ইবনে হিব্বান, হাকেম) আবু দারদা থেকে বর্ণিত।(৮৬) ((তোমরা কাঁদতে পারো, তবে শয়তানের চিৎকারের (বিলাপ) ব্যাপারে সতর্ক থেকো। কেননা চোখ ও অন্তর থেকে যা নির্গত হয় তা আল্লাহর পক্ষ থেকে (রহমত), আর যা হাত ও জিহ্বা থেকে প্রকাশ পায় তা শয়তানের পক্ষ থেকে।)) (ইবনে সাদ) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।(৮৭) ((যার নিজের প্রয়োজন (কর্তৃপক্ষের কাছে) পৌঁছানোর সামর্থ্য নেই, তার হয়ে তোমরা তা পৌঁছে দাও। কেননা যে ব্যক্তি কোনো শাসকের নিকট এমন ব্যক্তির প্রয়োজন পৌঁছে দেবে যে তা করতে সক্ষম নয়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ সিরাতের ওপর তার দুই পা স্থির রাখবেন।)) (তাবারানি) আবু দারদা থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ২১)
(88) ((ابنَ آدَمَ أطِعْ رَبَّكَ تُسَمَّى عاقِلاً وَلَا تعصِهِ فَتُسمَّى جاهِلاً)) (حل) عَن أبي هُرَيْرَةَ وَأبي سَعيدٍ.(89) (ز) ((ابنُ آدَمَ سِتُّونَ وثَلاثُمائَةِ مَفْصِلٍ على كُلِّ واحِدٍ مِنْهَا فِي كُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ فالكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ يَتَكَلَّمُ بِها الرَّجُلُ صَدَقةٌ وعوْنُ الرَّجُلِ أخَاهُ على الشَّيءِ صدقةٌ والشَّرْبَةُ مِنَ الماءِ يَسْقِيها صَدَقَةٌ وإِماطَةُ الأذَى عنِ الطَّريقِ صَدَقَةٌ)) (طب) عَن ابْن عَبَّاسٍ.(90) (ز) ((ابنَ آدَمَ عِنْدَكَ مَا يَكْفِيكَ وأنْتَ تَطْلُبُ مَا يُطْغِيكَ ابنَ آدَمَ لَا بِقَلِيلٍ تَقْنَعُ وَلَا بِكَثِيرٍ تَشْبَعُ ابنَ آدَمَ إِذا أصْبَحتَ مُعافى فِي جَسَدِكَ آمِناً فِي سِرْبِكَ عندَكَ قُوتُ يَوْمِكَ فَعَل صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى الدُّنْيا العفَاءُ)) (عد هَب) عَن ابنِ عُمَرَ.(91) ((ابنُ أُخْتِ القَوْمِ منهُمْ)) (حم ق ت ن) عنْ أنَسٍ (د) عَن أبي موس صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى (طب) عَن جبَيْرِ بْنِ مطعمٍ وَعَن ابنِ عَبَّاسٍ وَعَن أبي مالِكٍ الأشْعَرِي.(92) (ز) ((ابْنُ أُخْتِكُمْ مِنْكُمْ وَحَلِيفُكُمْ ومَوْلاكُمْ مِنْكُمْ إِنَّ قُرَيْشاً أهْلُ صِدْقٍ وأمانَةٍ فَمَنْ بَغاها العَوَاثِرَ كَبَّهُ الله تَعَالَى فِي النَّارِ على وَجْهِهِ. الشَّافِعِي)) (حم) عنْ رِفاعَةَ بن رافِعٍ الزُّرَقِي.(93) ((ابنُ السَّبيل أوَّلُ شاربٍ، يَعْنِي مِنْ زَمْزَمَ)) (طص) عَن أبي هُرَيْرَة.(94) (ز) ((ابْنا العَاصِي مُؤمِنانِ هِشامٌ وعمْرو)) (ابنُ سَعْدٍ حم ك طب) عَن أبي هرَيْرَةَ.(95) ((أبِنِ القَدَحَ عَنْ فِيكَ ثُمَّ تَنَفَّسْ)) (سِمَوَيْهِ فِي فَوَائِدِهِ) (هَب) عنْ أبي سَعِيد.(96) (ز) ((ابْنايَ هَذَانِ الحَسَنُ والحُسَيْنُ سَيِّدا شَبابِ أهْلِ الجَنَّةِ وأبُوهُما خَيْرٌ مِنْهُمَا)) (ابْن عَسَاكِر) عَن عَلِيَ وَعَن ابْن عمرَ.(97) (ز) ((ابْنُ سُمَيَّةَ مَا عُرِضَ عَلَيْهِ أمْرانِ قَطُّ إلاَّ اخْتارَ الأرْشَدَ مِنْهُما)) (حم ك) عَن ابْن مَسْعُودٍ.(98) ((ابْنُوا المَساجِدَ واتَّخِذُوهَا جَمّاً)) (ش هق) عَن أنَسٍ.(99) ((ابْنُوا المَساجِدَ وأخْرِجُوا القُمامَةَ مِنْها فَمَنْ بَن صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى لله بَيْتاً بَن صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى الله لَهُ بَيْتاً فِي الجَنَّةِ وإِخْراجُ القُمامَةِ مِنْها مُهُورُ الحُورِ الْعين)) (طب) والضياءُ فِي المختارة عَن أبي قرصافة.(100) ((ابْنُوا مَساجِدَكُمْ جمّاً وابْنُوا مَدائِنَكُم مُشْرِفَةً)) (ش) عَن ابْن عبَّاسٍ.
(৮৮) "হে আদম সন্তান! তোমার রবের আনুগত্য করো, তবেই তোমাকে বুদ্ধিমান বলা হবে। আর তাঁর অবাধ্য হয়ো না, অন্যথায় তোমাকে অজ্ঞ বলা হবে।" (হিলইয়াতুল আউলিয়া) আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত।(৮৯) (য) "আদম সন্তানের শরীরের জোড় তিনশত ষাটটি। প্রতিদিন এগুলোর প্রত্যেকটির পক্ষ থেকে সদকা দেওয়া আবশ্যক। কোনো ব্যক্তির বলা ভালো কথা সদকা, কোনো বিষয়ে তার ভাইকে সাহায্য করা সদকা, কাউকে পানি পান করানো সদকা এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়াও সদকা।" (তাবরানি কাবীর) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত।(৯০) (য) "হে আদম সন্তান! তোমার কাছে যা আছে তা তোমার জন্য যথেষ্ট, অথচ তুমি তা তালাশ করো যা তোমাকে উদ্ধত করে। হে আদম সন্তান! তুমি অল্পতে সন্তুষ্ট হও না এবং বেশিতেও তৃপ্ত হও না। হে আদম সন্তান! যখন তুমি সকালে সুস্থ শরীরে ও নিরাপদ অবস্থায় উপনীত হও আর তোমার কাছে একদিনের খাদ্য থাকে, তবে দুনিয়া তো তুচ্ছ (অর্থাৎ বাকি দুনিয়ার আর কোনো প্রয়োজন নেই)।" (ইবনুল আদি ও বায়হাকি) ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত।(৯১) "কোনো সম্প্রদায়ের ভাগ্নে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" (আহমাদ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি ও নাসায়ি) আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত; (আবু দাউদ) আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত; (তাবরানি কাবীর) জুবায়ের ইবনে মুতয়িম, ইবনে আব্বাস ও আবু মালিক আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত।(৯২) (য) "তোমাদের ভাগ্নে তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, তোমাদের মিত্র ও মুক্তদাসও তোমাদের অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই কুরাইশরা সত্যবাদিতা ও আমানতদারির অধিকারী; সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের ধ্বংস কামনা করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে উপুড় করে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।" ইমাম শাফিঈ ও (আহমাদ) রিফাআ ইবনে রাফে আজ-জুারাকি (রা.) থেকে বর্ণিত।(৯৩) "মুসাফির হচ্ছে প্রথম পানকারী, অর্থাৎ জমজমের পানি পান করার ক্ষেত্রে।" (তাবরানি আওসাত) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত।(৯৪) (য) "আস-এর দুই পুত্র হিশাম ও আমর উভয়ই মুমিন।" (ইবনে সাদ, আহমাদ, হাকিম ও তাবরানি কাবীর) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত।(৯৫) "তোমার মুখ থেকে পানির পাত্রটি সরিয়ে নাও, তারপর শ্বাস গ্রহণ করো।" (সিমাওয়াইহি ও বায়হাকি) আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত।(৯৬) (য) "আমার এই পুত্রদ্বয় হাসান ও হুসাইন জান্নাতবাসীদের যুবকদের সর্দার এবং তাদের পিতা তাদের উভয়ের চেয়েও উত্তম।" (ইবনে আসাকির) আলী ও ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত।(৯৭) (য) "সুমাইয়ার পুত্রের (আম্মার) সামনে যখনই দুটি বিষয় পেশ করা হয়েছে, সে সর্বদা তার মধ্যে অধিক সঠিক বিষয়টিই বেছে নিয়েছে।" (আহমাদ ও হাকিম) ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত।(৯৮) "তোমরা মসজিদ নির্মাণ করো এবং সেগুলোকে সাদাসিধে রাখো।" (ইবনে আবি শাইবা ও বায়হাকি) আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত।(৯৯) "তোমরা মসজিদ নির্মাণ করো এবং তা থেকে ময়লা-আবর্জনা দূর করো। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি ঘর নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। আর মসজিদ থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করা হলো হুরুলঈনদের মোহরানা।" (তাবরানি কাবীর ও দিয়া আল-মাকদিসি) আবু কুরসাফা (রা.) থেকে বর্ণিত।(১০০) "তোমরা তোমাদের মসজিদগুলোকে সাদাসিধে (জাঁকজমকহীন) করে নির্মাণ করো এবং তোমাদের শহরগুলোকে সুউচ্চ অট্টালিকা বিশিষ্ট করো।" (ইবনে আবি শাইবা) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ২২)
(101) ((أَبُو بَكْرٍ خَيْرُ النَّاس إلاَّ أنْ يَكُونَ نَبِيٌّ)) (طب عد) عَن سَلَمَةَ بنِ الأكْوَعِ.(102) ((أَبُو بكرٍ صاحِبِي ومؤنِسي فِي الْغَار سُدُّوا كُلَّ خَوْخَةٍ فِي المَسْجِدِ غَيْرَ خَوْخَةِ أبي بَكْرٍ)) (عَم) عَن ابْن عباَّس.(103) ((أَبُو بَكرٍ فِي الجَنَّةِ وعُمرُ فِي الجَنَّةِ وَعُثْمانُ فِي الجَنَّةِ وَعَلِيٌّ فِي الجَنَّةِ وطَلْحَةُ فِي الجَنَّةِ والزُّبَيْرُ فِي الجَنَّةِ وعَبْدُ الرَّحم صلى الله عليه وسلم1648 - ; نِ بْنُ عَوْفٍ فِي الجَنَّةِ وَسَعْدُبْنُ أبِي وَقَّاصٍ فِي الجَنَّةِ وَسَعِيدُبْنُ زَيْدٍ فِي الجَنَّةِ وأبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الجَرَّاح فِي الجَنَّةِ)) (حم) والضِّيَاءُ عَنْ سَعِيدِبْنِ زَيْدٍ (ت) عَن عَبْدِ الرَّحْم صلى الله عليه وسلم1648 - ; ن بن عَوْفٍ.(104) ((أَبُو بَكْرٍ مِنِّي وَأَنا مِنْهُ وأبُو بَكْرٍ أخِي فِي الدُّنْيا والآخِرَةِ)) (فر) عَن عائِشَةَ.(105) (ز) ((أَبُو بَكْرٍ وعمَرُ خَيْرُ الأوَّلِينَ وَخَيْرُ الآخِرِينَ وخَيْرُ أهْلِ السَّم صلى الله عليه وسلم1648 - ; واتِ وخَيْرُ أهْلِ الأرْضِ إلاَّ النَّبِيِّينَ والمُرْسَلينَ الْحَاكِم فِي الكنى)) (عد خطّ) عَن أبي هُرَيْرَة.(106) ((أَبُو بَكْرٍ وعمَرُ سَيِّدَا كُهُولِ أهْلِ الجنَّةِ مِنَ الأوَّلِينَ والآخِرِينَ إلاَّ النَّبِيِّينَ والمُرْسَلِينَ)) (حم ت هـ) عَن عَلِيَ (هـ) عَنْ أبي جُحَيْفَةَ (4) والضِّياءُ فِي المختارَةِ عَن أنَس (طص) عَن جابِرٍ وَعَن أبي سعيدٍ.(107) ((أَبُو بكْرٍ وعمَرُ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ السَّمَعِ والبَصَرِ مِنَ الرَّأسِ)) (4) عَن المُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ الله بن حنْطَب عَن أَبِيه عَن جَدِّهِ قَالَ ابنُ عبدِ البَرِّ وَمَا لَهُ غَيْرُهُ (حل) عَن ابنِ عَبَّاسٍ (خطّ) عَن جابِرٍ.(108) (ز) ((أَبُو سُفْيانَ بْنَ الحارِثِ خَيْرُ أهْلِي)) (طب ك) عَن أبي حَبَّةَ البَدْرِي.(109) ((أَبُو سُفيانَ بْنُ الحارِثِ سَيِّدُ فِتْيانِ أهْلِ الجَنَّةِ. ابنُ سَعْدٍ)) (ك) عَن عُرْوَة مُرْسلاً.(110) (ز) ((أَبُو هُرَيْرَةَ وِعاءُ العِلْمِ)) (ن) عَن كَذَا.(111) ((أبَنيَّ لَا تَرْمُوا جَمْرَةَ العَقَبَةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ)) (حم 4) عَن ابْن عباسٍ.(112) (ز) ((أت صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى سائِلٌ امْرَأةً وَفِي فَمِهَا لُقْمَةٌ فَأخْرَجَتِ اللُّقْمَةَ فَناوَلَتْهَا السَّائِلَ فَلَمْ تَلْبَثْ
(১০১) ((আবু বকর মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম, তবে কোনো নবী (যদি থাকে) ব্যতীত)) (তাবরানী, ইবনে আদি) সালামাহ ইবনুল আকওয়া থেকে বর্ণিত।(১০২) ((আবু বকর গুহায় আমার সঙ্গী এবং বন্ধু; মসজিদে (খোলার) প্রতিটি ছোট দরজা বন্ধ করে দাও, কেবল আবু বকরের দরজাটি ছাড়া)) (মুসনাদে আহমাদ-এর যিয়াদাত) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।(১০৩) ((আবু বকর জান্নাতি, উমর জান্নাতি, উসমান জান্নাতি, আলী জান্নাতি, তালহা জান্নাতি, যুবায়ের জান্নাতি, আবদুর রহমান১৬৪৮ - ইবনে আউফ জান্নাতি, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস জান্নাতি, সাঈদ বিন যায়েদ জান্নাতি এবং আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ জান্নাতি)) (আহমাদ) এবং যিয়া সাঈদ বিন যায়েদ থেকে; (তিরমিযী) আবদুর রহমান১৬৪৮ - ইবনে আউফ থেকে বর্ণিত।(১০৪) ((আবু বকর আমার পক্ষ থেকে এবং আমি তার পক্ষ থেকে; আবু বকর দুনিয়া ও আখিরাতে আমার ভাই)) (দাইলামী) আয়েশা থেকে বর্ণিত।(১০৫) (যাদ) ((আবু বকর ও উমর পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আসমানবাসী১৬৪৮ - ও জমিনবাসীদের মধ্যে সর্বোত্তম, তবে নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত; হাকিম 'আল-কুনা' গ্রন্থে)) (ইবনে আদি, খতিব বাগদাদী) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(১০৬) ((আবু বকর ও উমর নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জান্নাতবাসী প্রৌঢ়দের সরদার)) (আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ) আলী থেকে, (ইবনে মাজাহ) আবু জুহাইফা থেকে, (সুনান চতুষ্টয়) এবং যিয়া 'আল-মুখতারা' গ্রন্থে আনাস থেকে, (তাবরানী আওসাত) জাবির ও আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত।(১০৭) ((আবু বকর ও উমর আমার কাছে মাথার চোখ ও কানের সমতুল্য)) (সুনান চতুষ্টয়) মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। ইবনে আব্দুল বার বলেন: এটি ছাড়া তাঁর আর কোনো বর্ণনা নেই; (আবু নুয়াইম) ইবনে আব্বাস থেকে, (খতিব) জাবির থেকে বর্ণিত।(১০৮) (যাদ) ((আবু সুফিয়ান ইবনুল হারিস আমার পরিবারের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি)) (তাবরানী, হাকিম) আবু হাব্বা আল-বাদরি থেকে বর্ণিত।(১০৯) ((আবু সুফিয়ান ইবনুল হারিস জান্নাতী যুবকদের সরদার। ইবনে সাদ)) (হাকিম) উরওয়া থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত।(১১০) (যাদ) ((আবু হুরায়রা ইলমের আধার)) (নাসায়ী) জনৈক ব্যক্তি থেকে।(১১১) ((হে আমার পুত্ররা! সূর্য উদিত হওয়ার আগে তোমরা জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করো না)) (আহমাদ, সুনান চতুষ্টয়) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।(১১২) (যাদ) ((একজন ভিক্ষুক এক১৬৪৮ - মহিলার নিকট আসলো, তখন মহিলার মুখে এক লোকমা খাবার ছিল; তিনি সেই লোকমাটি (মুখ থেকে) বের করে ভিক্ষুককে দিয়ে দিলেন, এরপর বেশি সময় পার হয়নি...))
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أنْ رُزِقَتْ غُلاماً فَلَمَّا تَرَعْرَعَ جاءَ ذِئْبٌ فاحْتَمَلَهُ فَخَرَجَتْ تَعْدُو فِي أثَر الذِّئْبِ وَهِيَ تَقُولُ ابْنِي ابْنِي فَأمَرَ الله تَعَالَى مَلَكاً الْحقِ الذِّئْبَ فَخُذ الصَّبِيَّ مِنْ فِيهِ وَقُلْ لأُمِّهِ الله يُقْرِئُكِ السَّلامَ وقُلْ هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذِهِ لُقْمَةٌ بِلُقْمَةٍ)) (ابنُ صصرى) فِي أَمَالِيهِ عَن ابنِ عَبَّاسٍ.(113) ((أتاكُمْ أهْلُ اليَمَنِ هُمْ أرَقُّ أفْئِدَةً وألْيَنُ قُلُوباً الإيمَانُ يَمَانٍ والحِكْمَةُ يَمَانِيَّةٌ والفَخْرُ والخُيَلاءُ فِي أَصْحَاب الإبِلِ والسَّكِينةُ والوَقارُ فِي أهْلِ الغَنَمِ)) (ق) عنْ أبي هُرَيْرَةَ.(114) (ز) ((أتَاكُمْ أهْلُ اليَمَنِ هُمْ أضَعَفُ قُلُوباً وأرَقُّ أفْئِدَةً الفِقْهُ يَمَانٍ والحِكْمَةُ يَمَانِيَّةٌ)) (ق ت) عَن أبي هُرَيْرَةَ.(115) (ز) ((أتاكُمْ شَهْرُ رَمَضانَ شَهْرٌ مُبارَكٌ فَرَضَ الله عَلَيْكُمْ صِيامَهُ تُفْتَحُ فِيهِ أبْوابُ الجَنَّةِ وتُغْلَقُ فِيهِ أبوابُ الجَحِيمِ وتُغَلُّ فِيه مَرَدَةُ الشَّياطينِ وَفيهِ لَيْلَةٌ هِيَ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حُرِمَ خَيْرَها فَقَدْ حُرِمَ)) (حم ن هَب) عَن أبي هُرَيْرَة.(116) ((أتانِي آتٍ مِنْ عنْدِ رَبِّي فَخَيَّرَنِي بَيْنَ أنَ يُدْخِلَ نِصْفَ أمَّتِي الجَنَّة وَبَيْنَ الشَّفَاعَةِ فاخْتَرْتُ الشَّفَاعَةَ وهِيَ لِمَنْ ماتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّه شَيئاً)) (حم) عَن أبي مُوسَى (ن حب) عَن عَوْف بن مَالك الأشجَعي.(117) ((أَتَانِي آتٍ مِنْ عِنْدِ رَبِّي عز وجل فَقَالَ مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ مِنْ أُمَّتِكَ صَلَاةً كَتَبَ الله لَهُ بِهَا عَشْرَ حَسَنَاتِ ومَحَا عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئاتٍ ورَفَعَ لَهُ عَشْرَ دَرَجاتٍ وَرَدَّ عَلَيْهِ مِثْلها)) (حم) عَن أبِي طَلْحَةَ.(118) (( (ز) أَتَانِي اللَّيْلَةَ آتٍ مِنْ عِنْد رَبِّي فَقَالَ صَلِّ فِي هَذَا الوَادِي المُبَارَكِ يَعْنِي العَقِيقَ وقُلْ عُمْرَةٌ فِي حَجَّةٍ)) (حم خَ د) عَن عمَرَ.(119) (( (ز) أَتَانِي اللَّيْلَةَ ربِّي تبارك وتعالى فِي أحْسَنِ صُورَةٍ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ هَلْ تَدْرِي فِيمَ يَخْتَصِمُ المَلأ الأعْلَى قُلْتُ لَا فَوَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيَّ حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَهَا بَيْنَ ثَدْيَيَّ فَعَلِمْتُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأرْضِ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ هَلْ تَدْرِي فِيمَ يَخْتَصِمُ المَلأ الأعلَى قُلْتُ نَعَمْ فِي الكَفَّاراتِ والدَّرَجات والكَفَّاراتُ المكْثُ فِي المَساجِدِ بَعْدَ الصَّلَواتِ والمَشْيُ على الأقْدَامِ إِلَى الجَمَاعاتِ وإِسْباغُ الوُضُوءِ فِي المَكارِهِ قالَ صَدَقْتَ يَا مُحمَّدُ ومَنْ فَعَلَ ذلِكَ عاشَ بِخَيْرٍ وَمَاتَ بِخَيْرٍ وكَانَ مِنْ خَطِيئَتِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أمُّهُ وَقَالَ يَا محمَّدُ إِذا صَلَّيْتَ فَقُلْ
তিনি এক পুত্র সন্তান লাভ করেছিলেন। যখন সে কিছুটা বড় হলো, একটি নেকড়ে এসে তাকে তুলে নিয়ে গেল। তখন তিনি (মা) নেকড়ের পিছু পিছু দৌড়াতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, "আমার পুত্র! আমার পুত্র!" তখন মহান আল্লাহ এক ফেরেশতাকে নির্দেশ দিলেন, "নেকড়ের পিছু নাও, তার মুখ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করো এবং তার মাকে বলো, আল্লাহ আপনাকে সালাম জানাচ্ছেন এবং বলো— ১৬৪৮ - ; এই হলো লোকমার বদলে লোকমা।" (ইবনে সাসরি তার 'আমালি' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন)।(১১৩) "তোমাদের কাছে ইয়ামেনবাসী এসেছে, তারা অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের এবং তাদের অন্তর খুবই নরম। ঈমান হলো ইয়ামেনি এবং হিকমত হলো ইয়ামেনি। অহংকার ও দম্ভ উট পালনকারীদের মধ্যে আর প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য বকরি পালনকারীদের মধ্যে বিদ্যমান।" (বুখারি ও মুসলিম) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(১১৪) (যাইদ) "তোমাদের কাছে ইয়ামেনবাসী এসেছে, তারা অত্যন্ত নরম মনের এবং কোমল হৃদয়ের। দ্বীনি প্রজ্ঞা হলো ইয়ামেনি এবং হিকমত হলো ইয়ামেনি।" (বুখারি ও তিরমিজি) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(১১৫) (যাইদ) "তোমাদের কাছে বরকতময় মাস রমজান এসেছে। আল্লাহ তোমাদের ওপর এর রোজা ফরজ করেছেন। এতে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অবাধ্য শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়। এতে এমন এক রাত রয়েছে যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত হলো।" (আহমাদ, নাসায়ি ও বায়হাকি) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(১১৬) "আমার রবের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে দুটি বিষয়ের মধ্য থেকে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলেন: আমার অর্ধেক উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে অথবা আমি সুপারিশ (শাফায়াত) করব। আমি সুপারিশকেই বেছে নিয়েছি। আর এই সুপারিশ তাদের জন্য যারা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মৃত্যুবরণ করেছে।" (আহমাদ) আবু মুসা থেকে এবং (নাসায়ি ও ইবনে হিব্বান) আউফ ইবনে মালিক আশজায়ি থেকে বর্ণিত।(১১৭) "আমার মহান রবের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক আমার নিকট আসলেন এবং বললেন, আপনার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আপনার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার জন্য দশটি নেকি লিখে দেবেন, তার দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেবেন, তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেবেন এবং অনুরূপ প্রতিদান তাকে ফিরিয়ে দেবেন।" (আহমাদ) আবু তালহা থেকে বর্ণিত।(১১৮) (( (যাইদ) আজ রাতে আমার রবের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক আসলেন এবং বললেন, আপনি এই বরকতময় উপত্যকায় (অর্থাৎ আকিক উপত্যকায়) সালাত আদায় করুন এবং বলুন, হজের সাথে উমরাহ (অন্তর্ভুক্ত)।)) (আহমাদ, বুখারি ও আবু দাউদ) উমর থেকে বর্ণিত।(১১৯) (( (যাইদ) আজ রাতে আমার বরকতময় ও মহান রব সবচেয়ে সুন্দর আকৃতিতে আমার নিকট আসলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি কি জানেন উচ্চতর পরিষদের (ফেরেশতাদের) মধ্যে কী নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে? আমি বললাম, না। তখন তিনি তাঁর হাত আমার দুই কাঁধের মাঝে রাখলেন, এমনকি আমি আমার বুকের মাঝে তাঁর হাতের শীতলতা অনুভব করলাম। ফলে আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব আমি জেনে নিলাম। এরপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি কি জানেন উচ্চতর পরিষদের মধ্যে কী নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ, কাফফারা (গুনাহ মোচনকারী কাজ) এবং মর্যাদা বৃদ্ধি নিয়ে। কাফফারাগুলো হলো—সালাতের পর মসজিদে অবস্থান করা, পায়ে হেঁটে জামাতে উপস্থিত হওয়া এবং কষ্টকর মুহূর্তেও পরিপূর্ণভাবে অজু করা। তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি সত্য বলেছেন। যে ব্যক্তি এমনটি করবে, সে কল্যাণের সাথে বেঁচে থাকবে এবং কল্যাণের সাথে মৃত্যুবরণ করবে। আর সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে পবিত্র হয়ে যাবে, যেন তার মা তাকে আজই প্রসব করেছে। এরপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি যখন সালাত আদায় করবেন তখন বলুন...
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
اللَّهُمَّ إِنِّي أسْألُكَ فِعْلَ الخَيْراتِ وتَرْكَ المُنْكِراتِ وحُبَّ المَساكِينَ وأنْ تَغْفِرَ لي وَتَرْحَمَنِي وتَتُوبَ عَليَّ وإذَا أرَدْتَ بِعِبادِكَ فِتْنَةً فاقْبِضْنِي إلْيكَ غَيْرَ مَفْتُونٍ، والدَّرَجاتُ إِفْشاءُ السَّلامِ وإِطعامُ الطَّعَامِ والصَّلاةُ باللَّيْلِ والنَّاسُ نِيامٌ)) (عب حم) ((وَعبد بن حميد)) (ت) عَن ابْن عَبَّاس.(119) (( (ز) أَتَانِي اللَّيْلَةَ ربِّي تبارك وتعالى فِي أحْسَنِ صُورَةٍ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ هَلْ تَدْرِي فِيمَ يَخْتَصِمُ المَلأ الأعْلَى قُلْتُ لَا فَوَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيَّ حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَهَا بَيْنَ ثَدْيَيَّ فَعَلِمْتُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأرْضِ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ هَلْ تَدْرِي فِيمَ يَخْتَصِمُ المَلأ الأعلَى قُلْتُ نَعَمْ فِي الكَفَّاراتِ والدَّرَجات والكَفَّاراتُ المكْثُ فِي المَساجِدِ بَعْدَ الصَّلَواتِ والمَشْيُ على الأقْدَامِ إِلَى الجَمَاعاتِ وإِسْباغُ الوُضُوءِ فِي المَكارِهِ قالَ صَدَقْتَ يَا مُحمَّدُ ومَنْ فَعَلَ ذلِكَ عاشَ بِخَيْرٍ وَمَاتَ بِخَيْرٍ وكَانَ مِنْ خَطِيئَتِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أمُّهُ وَقَالَ يَا محمَّدُ إِذا صَلَّيْتَ فَقُلْ اللَّهُمَّ إِنِّي أسْألُكَ فِعْلَ الخَيْراتِ وتَرْكَ المُنْكِراتِ وحُبَّ المَساكِينَ وأنْ تَغْفِرَ لي وَتَرْحَمَنِي وتَتُوبَ عَليَّ وإذَا أرَدْتَ بِعِبادِكَ فِتْنَةً فاقْبِضْنِي إلْيكَ غَيْرَ مَفْتُونٍ، والدَّرَجاتُ إِفْشاءُ السَّلامِ وإِطعامُ الطَّعَامِ والصَّلاةُ باللَّيْلِ والنَّاسُ نِيامٌ)) (عب حم) ((وَعبد بن حميد)) (ت) عَن ابْن عَبَّاس.(120) ((أتانِي جِبْرِيلُ بالحُمَّى والطَّاعُونِ فأَمْسَكْتُ الحُمَّى فِي المَدينَةِ وأرْسَلْتُ الطَّاعُونَ إِلَى الشَّام فالطاعُونُ شَهادَةٌ لأمَّتِي ورَحْمَةٌ لَهُمْ ورِجْسٌ على الكافِرينَ)) (حم) وابنُ سعدٍ عَن أبي عسيب.(121) ((أَتَانِي جِبْرِيلُ بِقِدْرٍ فأكَلْتُ مِنْهَا فأُعْطيتُ قُوَّةَ أرْبَعِينَ رَجُلاً فِي الجماعِ)) (ابْن سعد) عَن صَفْوَان بن سليمٍ مُرْسلا.(122) (( (ز) أَتَانِي جِبْريلُ بِقِدْرٍ يُقَالُ لَهُ الكُفَيْتُ فأكَلْتُ مِنْهُ أكْلَةً فأعْطِيتُ قُوَّةَ أرْبَعِينَ رَجُلاً فِي الجِماع)) (حل) عَن صَفْوَان بن سليم عَن عطاءِ بن يسَار عَن أبي هُرَيْرَة.(123) (( (ز) أَتَانِي جِبْريلُ فأخْبَرَنِي أنَّ أمَّتِي سَتَقْتُلُ ابْنِي هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذَا يَعْني الحُسَيْنَ وأتانِي بِتُرْبَةٍ مِنْ تُرْبَتِهِ حَمْراءَ)) (ك) عَن أم الْفضل بنت الْحَارِث.(124) (( (ز) أَتَانِي جبريلُ فأَخَذَ بِيَدِي فأرانِي بابَ الجَنَّةِ الَّذِي يَدْخُلُ مِنْهُ أُمَّتِي قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَدِدْتُ أنِّي كُنْتُ مَعَكَ حَتَّى أنْظُرَ إلَيْهِ قالَ أما إنَّكَ يَا أَبَا بَكْرٍ أوَّلُ مَنْ يَدْخُلُ الجَنَّةَ مِنْ أمَّتِي)) (د ك) عَن أبي هُرَيْرَة.(125) ((أَتَانِي جِبْرِيلُ فأَمَرَنِي أنْ آمُرَ أصْحَابِي ومنْ مَعِي أنْ يَرْفَعُوا أصْواتَهُمْ بالتَّلْبِيَةِ)) (حم 4 حب ك هق) عَن السَّائِبِ بنِ خَلادٍ.(126) (( (ز) أَتَانِي جِبْرِيلُ فَأَمَرَنِي أنْ أضَعَ هَذِه الآيَةَ بِه صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذَا المَوْضِعِ مِنْ هَذِه السُّورةِ إِنَّ الله يَأمُرُ بالعَدْلِ والإحْسانِ)) (حم) عَن عُثْمَانَ بنِ أبي العاصِ.(127) ((أَتَانِي جِبْرِيلُ فَبَشَّرَني أنَّ الحَسَنَ والحُسَيْنَ سَيِّدَا شَبَابِ أهْلِ الجَنَّةِ)) (ابنُ سَعْدٍ) عَن حُذَيْفَةَ.(128) ((أَتَانِي جِبْرِيلُ فَبَشَّرَنِي أنَّهُ مَنْ ماتَ مِنْ أُمَّتِكَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّه شَيْئاً دَخَلَ الجَنَّةَ فَقُلْتُ وإِنْ زَن صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى وإنْ سَرَقَ فَقَالَ وإنْ زَن صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى وإنْ سَرَقَ)) (ق) عَن أبي ذرَ.
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি ভালো কাজ করার, মন্দ কাজ বর্জন করার এবং মিসকিনদের ভালোবাসার। আর প্রার্থনা করছি আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার ওপর দয়া করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। আর যখন আপনি আপনার বান্দাদের ফিতনার (পরীক্ষার) সংকল্প করেন, তখন আমাকে ফিতনামুক্ত অবস্থায় আপনার কাছে তুলে নিন। আর মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যম হলো সালাম প্রচার করা, খাদ্য দান করা এবং যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন রাতে সালাত আদায় করা। (আবদ বিন হুমাইদ, আহমদ, তিরমিযি, ইবনে আব্বাস থেকে)।(১১৯) (( (য) আজ রাতে আমার প্রতিপালক—বরকতময় ও সুউচ্চ—অতি সুন্দর আকৃতিতে আমার কাছে এলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি কি জানেন উচ্চতর পরিষদের (ফেরেশতাদের) মধ্যে কী নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে? আমি বললাম, না। তখন তিনি তাঁর হাত আমার দুই কাঁধের মাঝে রাখলেন, এমনকি আমি তাঁর হাতের শীতলতা আমার দুই স্তনের মাঝে অনুভব করলাম। ফলে আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব আমার জানা হয়ে গেল। অতঃপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি কি জানেন উচ্চতর পরিষদের মধ্যে কী নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ; কাফফারা (পাপ মোচনকারী কাজ) এবং মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়ে। কাফফারা হলো সালাতের পর মসজিদে অবস্থান করা, জামাতে সালাতের জন্য পায়ে হেঁটে যাওয়া এবং কষ্টকর অবস্থায়ও পূর্ণরূপে ওজু করা। তিনি বললেন, আপনি সত্য বলেছেন হে মুহাম্মদ! যে ব্যক্তি এমনটি করবে সে কল্যাণের সাথে বেঁচে থাকবে এবং কল্যাণের সাথে মৃত্যুবরণ করবে। আর সে তার পাপ থেকে এমনভাবে পবিত্র হয়ে যাবে যেন আজই তার মা তাকে প্রসব করেছে। তিনি আরও বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি যখন সালাত আদায় করবেন তখন বলবেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি ভালো কাজ করার, মন্দ কাজ বর্জন করার এবং মিসকিনদের ভালোবাসার। আর প্রার্থনা করছি আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার ওপর দয়া করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। আর যখন আপনি আপনার বান্দাদের ফিতনার সংকল্প করেন, তখন আমাকে ফিতনামুক্ত অবস্থায় আপনার কাছে তুলে নিন। আর মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যম হলো সালাম প্রচার করা, খাদ্য দান করা এবং যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন রাতে সালাত আদায় করা।)) (আহমদ, আবদ বিন হুমাইদ, তিরমিযি, ইবনে আব্বাস থেকে।(১২০) ((জিবরাঈল আমার কাছে জ্বর এবং প্লেগ নিয়ে এলেন। আমি জ্বরকে মদিনায় রেখে দিলাম এবং প্লেগকে শাম (সিরিয়া) অভিমুখে পাঠিয়ে দিলাম। সুতরাং প্লেগ আমার উম্মতের জন্য শাহাদাত ও রহমত এবং কাফেরদের জন্য শাস্তি।)) (আহমদ, ইবনে সাদ, আবু আসিব থেকে।(১২১) ((জিবরাঈল আমার কাছে একটি হাঁড়ি নিয়ে এলেন, আমি তা থেকে আহার করলাম। ফলে আমাকে সহবাসের ক্ষেত্রে চল্লিশ জন পুরুষের শক্তি দান করা হলো।)) (ইবনে সাদ, সাফওয়ান বিন সুলাইম থেকে মুরসাল হিসেবে।(১২২) (( (য) জিবরাঈল আমার কাছে একটি হাঁড়ি নিয়ে এলেন যাকে 'কুফায়ত' বলা হয়। আমি তা থেকে কিছু আহার করলাম, ফলে আমাকে সহবাসের ক্ষেত্রে চল্লিশ জন পুরুষের শক্তি দান করা হলো।)) (আবু নুয়াইম আল-হিলইয়াতে, সাফওয়ান বিন সুলাইম, আতা বিন ইয়াসার ও আবু হুরায়রা থেকে।(১২৩) (( (য) জিবরাঈল আমার কাছে এলেন এবং আমাকে খবর দিলেন যে, আমার উম্মত অচিরেই আমার এই পুত্রকে হত্যা করবে—অর্থাৎ হুসাইনকে। আর তিনি আমাকে তার শাহাদাতস্থলের কিছু লাল মাটি এনে দিলেন।)) (হাকেম, উম্মুল ফজল বিনতে হারিস থেকে।(১২৪) (( (য) জিবরাঈল আমার কাছে এলেন এবং আমার হাত ধরলেন। অতঃপর তিনি আমাকে জান্নাতের সেই দরজাটি দেখালেন যেখান দিয়ে আমার উম্মত প্রবেশ করবে। আবু বকর বললেন, আমার আকাঙ্ক্ষা হয় যদি আমি আপনার সাথে থাকতাম এবং তা দেখতে পেতাম! তিনি বললেন, হে আবু বকর! জেনে রাখুন, আমার উম্মতের মধ্যে আপনিই সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন।)) (আবু দাউদ, হাকেম, আবু হুরায়রা থেকে।(১২৫) ((জিবরাঈল আমার কাছে এলেন এবং আমাকে নির্দেশ দিলেন যেন আমি আমার সাহাবী ও আমার সাথে যারা আছে তাদের নির্দেশ দেই তারা যেন তালবিয়াহ পাঠকালে তাদের আওয়াজ উচ্চ করে।)) (আহমদ, চার সুনান গ্রন্থকার, ইবনে হিব্বান, হাকেম, বায়হাকি, সায়েব বিন খাল্লাদ থেকে।(১২৬) (( (য) জিবরাঈল আমার কাছে এলেন এবং আমাকে এই সূরার এই স্থানে এই আয়াতটি স্থাপন করার নির্দেশ দিলেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দিচ্ছেন...’ (সূরা আন-নাহল: ৯০)।)) (আহমদ, উসমান বিন আবুল আস থেকে।(১২৭) ((জিবরাঈল আমার কাছে এলেন এবং আমাকে সুসংবাদ দিলেন যে, হাসান ও হুসাইন জান্নাতবাসী যুবকদের সরদার।)) (ইবনে সাদ, হুজাইফা থেকে।(১২৮) ((জিবরাঈল আমার কাছে এলেন এবং আমাকে সুসংবাদ দিলেন যে, আপনার উম্মতের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।)) (বুখারি ও মুসলিম, আবু যার থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
(129) (( (ز) أَتَانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ إِذا أَنْت عَطَسْتَ فَقُلِ الحمدُ لله كَكَرَمِهِ والحمدُ لله كَعِزّ جَلَالِهِ فَإنَّ الله عز وجل يَقولُ صَدَقَ عَبْدِي صَدَقَ عَبْدِي مَغْفُورٌ لهُ)) (ابنُ السُّنِّي) فِي عَمَلِ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ عَن أبي رافِعٍ.(130) (( (ز) أَتَانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ إِذا تَوَضَّأتَ فَخَلِّلْ لِحْيَتَكَ)) (ش) عَن أنَسٍ.(131) ((أتانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ أَقْرِىءْ عُمَرَ السَّلامَ وقُلْ لَهُ إنَّ رِضاهُ حُكمٌ وإنَّ غَضَبَهُ عِزٌّ)) (الحَكيمُ فِي نَوادِرِ الْأُصُول) (طب) والضِّيَاءُ عَن ابنِ عَبَّاسٍ.(132) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ إنَّ الله عز وجل أمَرَكَ أنْ تَدْعُوَ بِه صلى الله عليه وسلم1648 - ; ؤلاءِ الكَلِمَاتِ فإنَّهُ يُعْطيكَ إِحْدَاهُنَّ اللَّهُمَّ إنِّي أسْألُكَ تَعْجيلَ عافِيَتِكَ وصَبْراً على بَلِيَّتِكَ وخُرُوجاً مِنَ الدُّنْيا إلَى رَحْمَتِكَ)) (حب ك) عَنْ عائِشَةَ.(133) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ إنَّ الله يَأمُرُكَ أنْ تُقْرِىءَ أُمَّتَكَ القُرآنَ على حَرْفٍ فَقُلْتُ أسْأَلُ الله مُعافاتَهُ وَمَغْفِرَتَهُ فَإِن أُمَّتِي لَا تُطيقُ ذَلِك ثمَّ أتانِي الثَّانِيَةَ فَقَالَ إنَّ الله يَأمُرُكَ أنْ تُقْرِىءَ أُمَّتَكَ القُرآنَ على حَرْفَيْنِ فَقُلْتُ أسْألُ الله مُعافاتَهُ ومغْفِرَتَهُ إِن أمَّتِي لَا تُطِيقُ ذَلِك ثمَّ جاءَني الثَّالِثَةَ فَقَالَ إنَّ الله يأمُرُكَ أنْ تُقْرِىءَ أُمَّتَكَ القُرآنَ على ثَلَاثَةِ أحْرُفٍ فَقُلْتُ أسْألُ الله مُعافاتَهُ وَمَغْفِرَتَهُ وإنَّ أمَّتِي لَا تُطيقُ ذَلِك ثمَّ جاءَنِي الرَّابِعَةَ فَقَالَ إِنَّ الله عز وجل يَأمُرُكَ أنْ تُقْرىءَ أُمَّتَكَ القُرْآنَ على سَبْعَةِ أحْرُفٍ فأَيَّمَا حَرْفٍ قَرَؤُوا عَلَيْهِ فقد أصابُوا)) (مدن) عَن أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ.(134) ((أتانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ إنَّ رَبِّي وَرَبَّكَ يقولُ لكَ: تَدْرِي كَيْفَ رَفَعْتُ لَك ذِكْرَكَ قُلْتُ الله أعْلَمُ قَالَ لَا أُذْكَرُ إلاَّ ذُكِرْتَ مَعي)) (4 حب) والضِّياءُ فِي المُخْتارَةِ عَن أبي سعيدٍ.(135) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ إِنَّ عِفْرِيتاً مِنَ الجِنَّ يَكِيدُكَ فَإِذا أوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فاقْرَأْ آيَةَ الكُرْسِيِّ)) (ابنُ أبي الدُّنْيا) فِي مَكَايِدِ الشَّيْطانِ عَن الحَسَنِ مُرْسَلاً.(136) ((أتانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ بَشِّرْ أُمَّتَكَ أنَّهُ مَنْ ماتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّه شَيْئاً دَخَلَ الجَنَّة قُلْتُ يَا جِبْرِيلُ وإنْ سَرَقَ وإنْ زَن صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى قَالَ نَعَمْ قُلْتُ وإنْ سَرَقَ وإنْ زَن صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى قَالَ نَعَمْ قُلْتُ وإنْ سَرَقَ وإنْ زَن صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى قَالَ نعم وإنْ شَرِبَ الخَمْرَ)) (حم ت ن حب) عَن أبي ذرّ.(137) ((أتانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ لي إنَّ الله يَأمُرُكَ أنْ تَأمُرَ أصْحابَكَ أنْ يَرْفَعُوا أصْواتَهُمْ بالتَّلْبِيَةِ فإنَّها مِنْ شَعائِرِ الحَجِّ)) (حم هـ حب ك) عَن زيدِ بن خالِدٍ.
(১২৯) (( (য) জিবরাঈল (আ.) আমার নিকট এসে বললেন: আপনি যখন হাঁচি দেবেন, তখন বলবেন— ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যেমনটি তাঁর করুণা এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যেমনটি তাঁর মহিমার মর্যাদা।’ তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: ‘আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমার বান্দা সত্য বলেছে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো।’)) (ইবনুস সুন্নি) ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে আবু রাফে থেকে।(১৩০) (( (য) জিবরাঈল (আ.) আমার নিকট এসে বললেন: আপনি যখন ওজু করবেন, তখন আপনার দাড়ি খিলাল করবেন।)) (ইবনে আবি শায়বাহ) আনাস থেকে।(১৩১) ((জিবরাঈল (আ.) আমার নিকট এসে বললেন: ওমরকে সালাম পৌঁছে দিন এবং তাকে বলুন যে, তার সন্তুষ্টি হলো প্রজ্ঞা এবং তার ক্রোধ হলো সম্মান।)) (আল-হাকিম আল-তিরমিজি ‘নাওয়াদিরুল উসুল’ গ্রন্থে, তাবারানি) এবং আল-জিয়া আল-মাকদিসি ইবনে আব্বাস থেকে।(১৩২) (( (য) জিবরাঈল (আ.) আমার নিকট এসে বললেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আপনাকে এই বাক্যগুলো দ্বারা প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ তিনি আপনাকে এর যেকোনো একটি অবশ্যই দান করবেন— ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি আপনার দ্রুত দানকৃত সুস্থতা, আপনার আপতিত বিপদে ধৈর্য এবং এই পৃথিবী থেকে আপনার রহমতের দিকে প্রস্থান।’)) (ইবনে হিব্বান ও হাকিম) আয়েশা থেকে।(১৩৩) (( (য) জিবরাঈল (আ.) আমার নিকট এসে বললেন: আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনি আপনার উম্মতকে এক পদ্ধতিতে (এক হারফ) কুরআন পাঠ করান। আমি বললাম: আমি আল্লাহর ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি, কারণ আমার উম্মত এতে সক্ষম হবে না। এরপর তিনি দ্বিতীয়বার আসলেন এবং বললেন: আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনি আপনার উম্মতকে দুই পদ্ধতিতে কুরআন পাঠ করান। আমি বললাম: আমি আল্লাহর ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি, কারণ আমার উম্মত এতে সক্ষম হবে না। এরপর তিনি তৃতীয়বার আসলেন এবং বললেন: আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনি আপনার উম্মতকে তিন পদ্ধতিতে কুরআন পাঠ করান। আমি বললাম: আমি আল্লাহর ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি, কারণ আমার উম্মত এতে সক্ষম হবে না। এরপর তিনি চতুর্থবার আসলেন এবং বললেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনি আপনার উম্মতকে সাত পদ্ধতিতে কুরআন পাঠ করান; সুতরাং তারা এর যে পদ্ধতিতেই পাঠ করুক না কেন, তারা সঠিক পাঠই করবে।)) (আবু উবায়দ ও ইবনে সাকান) উবাই ইবনে কাব থেকে।(১৩৪) ((জিবরাঈল (আ.) আমার নিকট এসে বললেন: আমার রব এবং আপনার রব আপনাকে বলছেন— আপনি কি জানেন আমি আপনার মর্যাদা কীভাবে সমুন্নত করেছি? আমি বললাম: আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি বললেন: (তা হলো এই যে) যখনই আমার কথা স্মরণ করা হবে, আমার সাথে আপনার কথাও স্মরণ করা হবে।)) (চার সুনান গ্রন্থকার ও ইবনে হিব্বান) এবং আল-জিয়া আল-মাকদিসি ‘আল-মুখতারা’ গ্রন্থে আবু সাঈদ থেকে।(১৩৫) (( (য) জিবরাঈল (আ.) আমার নিকট এসে বললেন: নিশ্চয়ই জিনদের মধ্য থেকে এক ইফ্রিত (শক্তিশালী অবাধ্য জিন) আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সুতরাং আপনি যখন বিছানায় শোয়ার জন্য যাবেন, তখন আয়াতুল কুরসি পাঠ করবেন।)) (ইবনে আবিদ দুনিয়া) ‘মাকায়িদুশ শয়তান’ গ্রন্থে হাসান থেকে মুরসাল সূত্রে।(১৩৬) ((জিবরাঈল (আ.) আমার নিকট এসে বললেন: আপনার উম্মতকে সুসংবাদ দিন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম: হে জিবরাঈল! যদিও সে চুরি করে এবং যদিও সে ব্যভিচার করে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: যদিও সে চুরি করে এবং যদিও সে ব্যভিচার করে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: যদিও সে চুরি করে এবং যদিও সে ব্যভিচার করে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এমনকি সে যদি মদ্যপান করে থাকে তবুও।)) (আহমাদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও ইবনে হিব্বান) আবু জার থেকে।(১৩৭) ((জিবরাঈল (আ.) আমার নিকট এসে বললেন: আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনি আপনার সাহাবীদের উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করার আদেশ দেন; কারণ তা হজের নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভুক্ত।)) (আহমাদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান ও হাকিম) জায়েদ ইবনে খালিদ থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(138) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ إنَّي كُنْتُ أتَيْتُكَ البارِحَة فَلَمْ يَمْنَعْنِي أنْ أكُونَ دَخَلْتُ عَلَيْكَ البَيْتَ الذِي كُنْتَ فِيهِ إلاَّ أنَّهُ كانَ على البابِ تَماثيلُ وكانَ فِي البَيْتِ قِرامُ سِتْرٍ فيهِ تماثِيلُ وكانَ فِي البَيْتِ كَلْبٌ فَمُرْ برَأْس التِّمْثالِ الَّذي فِي البَيْتِ فلْيُقْطَعْ فَيَصيرَ كَهَيْئَةِ الشَّجَرَةِ وَمُرْ بالسِّتْر فلْيُقْطَعْ فيُجْعَلَ وِسادَتَيْنِ مَنْبُوذَتَيْنِ تُوطَئانِ ومُرْ بالكَلْبِ فليُخْرَجْ)) (حم د ت هق) عَن أبي هُرَيْرَة.(139) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ فقالَ مُرِ ابنَ عَوْفٍ فَلْيُضِفِ الضَّيْفَ ولْيُطْعِمِ المِسْكِينَ ولْيُعطِ السَّائِلَ ويَبْدَأْ بِمَنْ يَعُولُ فإنَّهُ إِذا فَعلَ ذَلِكَ كانَ تَزْكِيَةَ مَا هُوَ فيهِ. ابْن سعد)) (طس ك هَب) عَن عبد الرَّحْمَن بن عَوْف.(140) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ يَا رَسُولَ الله هذِهِ خَدِيجَةُ قَد أتَتْكَ مَعَهَا إناءٌ فِيهِ إِدامٌ أوْ طَعامٌ أوْ شَرابٌ فَإِذا هِيَ أتَتْكَ فاقْرَأ عليها السلام مِنْ رَبِّها ومِنِّي وَبَشِّرْهَا بِبَيْتٍ فِي الجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ لَا صَخَبَ فِيهَا وَلَا نَصَبَ)) (م) عَن أبي هُرَيْرَة.(141) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ يَا محمَّدُ اشْتَكَيْتَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ بِسْمِ الله أَرْقيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ وَعَيْنِ حاسِدٍ بِسْمِ الله أرْقِيكَ وَالله يَشْفِيكَ)) (حم م ت هـ) عَن أبي سَعيدٍ (حم هـ حب ك) عَن عُبادَةَ بنِ الصَّامِتِ.(142) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ فقالَ يَا مُحَمَّدُ أما يُرْضِيكَ أنَّ رَبَّكَ عز وجل يَقُولُ إنَّهُ لَا يُصَلِّي عَلَيْكَ مِنْ أُمَّتِكَ أحدٌ صَلَاة إلاَّ صَلَّيْتُ عَلَيْهِ بهَا عَشْراً وَلَا يُسَلِّمُ عَلَيْكَ أحدٌ منْ أُمَّتِكَ تَسْلِيمَةً إلاَّ سَلَّمْتُ عَلَيْهِ عَشْراً فَقُلْتُ بَلَى أَي ربِّ)) (حم ن حب ك) والضياءُ عَن أبي طَلْحَة.(143) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ فقالَ يَا مُحَمَّدُ إنَّ الأُمَّةَ مَفْتُونَةٌ بَعْدَكَ قُلْتُ لَهُ فَمَا المَخْرَجُ يَا جِبْرِيلُ قالَ كِتابُ الله فيهِ نَبأُ مَا قَبْلَكُمْ وخَبَرُ مَا بَعْدَكُمْ وحُكْمُ مَا بَيْنَكُمْ وهُوَ حَبْلُ الله المَتِينُ وهُوَ الصِّراطُ المُسْتَقِيمُ وهُوَ قَوْلٌ فَصْلٌ لَيْسَ بالهَزْلِ إنَّ هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذَا القُرْآنَ لَا يَلِيهِ مِنْ جَبَّارٍ فَيَعْمَلُ بِغَيْرِهِ إلاَّ قَصَمَهُ الله وَلَا يَبْتَغي عِلْماً سِواهُ إلاَّ أضَلَّهُ الله وَلَا يَخْلُقُ عَنْ رَدِّهِ وهُوَ الَّذِي لَا تَفْنَى عَجائِبُهُ مَنْ يَقُلْ بِهِ يَصْدُقْ ومنْ يَحْكُمْ بِهِ يَعْدِلْ ومنْ يَعْمَلْ بِهِ يُؤجَرْ ومنْ يَقْسِمْ بِهِ يُقْسِطْ)) (حم) عَن عَليّ.(144) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ فقالَ يَا محمَّدُ إنَّ الله عز وجل لَعَنَ الخَمْرَ وعاصِرَها
(১৩৮) (( (য) জিবরীল আমার নিকট এসে বললেন, নিশ্চয়ই আমি গতরাতে আপনার নিকট এসেছিলাম, কিন্তু আপনার যে ঘরে ছিলেন তাতে প্রবেশ করতে আমাকে বাধা দিয়েছে ঘরের দরজায় থাকা প্রতিকৃতিগুলো, ঘরে থাকা নকশাদার পর্দা যাতে প্রতিকৃতি ছিল এবং ঘরে থাকা একটি কুকুর। সুতরাং আপনি ঘরের প্রতিকৃতিটির মাথা কেটে ফেলার নির্দেশ দিন যাতে সেটি একটি বৃক্ষের রূপ ধারণ করে, এবং পর্দার ব্যাপারে নির্দেশ দিন যেন তা কেটে দুটি বালিশ তৈরি করা হয় যা পদদলিত হবে এবং কুকুরের ব্যাপারে নির্দেশ দিন যেন তাকে বের করে দেওয়া হয়।)) (আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, বায়হাকী) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(১৩৯) (( (য) জিবরীল আমার নিকট এসে বললেন, ইবনে আওফকে নির্দেশ দিন সে যেন মেহমানের আতিথেয়তা করে, অভাবগ্রস্তকে অন্ন দান করে, যাচনাকারীকে সাহায্য করে এবং তার পরিবার-পরিজন থেকে দান শুরু করে। কেননা সে যখন এটি করবে, তখন তা তার অর্জিত সম্পদের জন্য পবিত্রতা হবে। ইবনে সাদ)) (তাবারানী ফিল আওসাত, হাকেম, বায়হাকী) আব্দুর রহমান ইবনে আওফ থেকে বর্ণিত।(১৪০) (( (য) জিবরীল আমার নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এই যে খাদিজা আপনার নিকট আসছেন, তাঁর সাথে একটি পাত্র রয়েছে যাতে সালন অথবা খাদ্য কিংবা পানীয় রয়েছে। তিনি যখন আপনার নিকট পৌঁছাবেন, তখন তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন। আর তাঁকে জান্নাতে মণি-মুক্তার তৈরি একটি প্রাসাদের সুসংবাদ দিন, যেখানে কোনো শোরগোল নেই এবং কোনো ক্লান্তি নেই।)) (মুসলিম) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(১৪১) (( (য) জিবরীল আমার নিকট এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি কি অসুস্থ বোধ করছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি এমন সব কিছু থেকে যা আপনাকে কষ্ট দেয়, প্রতিটি প্রাণের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের কুদৃষ্টি থেকে। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি এবং আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করবেন।)) (আহমাদ, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ) আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, (আহমাদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম) উবাদাহ বিন সামিত থেকে বর্ণিত।(১৪২) (( (য) জিবরীল আমার নিকট এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনার রব মহান ও পরাক্রমশালী যা বলছেন তাতে কি আপনি সন্তুষ্ট নন যে, আপনার উম্মতের যে কেউ আপনার প্রতি একবার রহমত কামনায় দরূদ পাঠ করবে, আমি তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করব, আর আপনার উম্মতের যে কেউ আপনার প্রতি একবার সালাম পেশ করবে, আমি তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার শান্তি বর্ষণ করব। আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আমার রব!)) (আহমাদ, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, হাকেম) এবং যিয়া আবু তালহা থেকে বর্ণনা করেছেন।(১৪৩) (( (য) জিবরীল আমার নিকট এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আপনার পরে উম্মত ফিতনায় পড়বে। আমি তাকে বললাম, হে জিবরীল! এর থেকে উত্তরণের পথ কী? তিনি বললেন, আল্লাহর কিতাব; এতে আপনাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, আপনাদের পরবর্তীদের খবর এবং আপনাদের মধ্যকার বিষয়াবলির মীমাংসা রয়েছে। এটি আল্লাহর সুদৃঢ় রশি, এটিই সরল পথ এবং এটি চূড়ান্ত ফয়সালা যা কোনো নিরর্থক বিষয় নয়। নিশ্চয়ই এটি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম১৬৪৮ - ; এই কুরআন এমন যে, কোনো স্বৈরাচারী একে উপেক্ষা করে অন্য অনুযায়ী আমল করলে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেবেন। যে ব্যক্তি এটি ছাড়া অন্য কোথাও জ্ঞান তালাশ করবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। বারবার পাঠেও এটি পুরাতন হয় না এবং এর বিস্ময়কর বিষয়গুলো শেষ হয় না। যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে কথা বলবে সে সত্য বলবে, যে এর মাধ্যমে বিচার করবে সে ন্যায়বিচার করবে, যে এর মাধ্যমে আমল করবে সে পুরস্কৃত হবে এবং যে এর মাধ্যমে বন্টন করবে সে ইনসাফ করবে।)) (আহমাদ) আলী থেকে বর্ণিত।(১৪৪) (( (য) জিবরীল আমার নিকট এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী মদকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং যে মদ নিংড়ায় তাকেও...
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومُعْتَصِرَها وشارِبَها وحامِلَها والمحْمُولَةَ إلَيْهِ وبائِعَها ومُبْتاعَها وساقيهَا ومُسْقِيهَا)) (طب ك هَب) والضياء عَن ابْن عَبَّاس.(145) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ فقالَ يَا مُحَمَّدُ رَبُّكَ يَقْرَأُ عَلَيْكَ السَّلَامَ ويَقُولُ لَكَ إنَّ مِنْ عِبادي منْ لَا يَصْلُحُ إيمانُهُ إلاَّ بالغِنَى ولوْ أفْقَرْتُهُ لَكَفَرَ وإنَّ منْ عَبَادِي منْ لَا يَصْلُحُ إيمانُهُ إلاَّ بالفَقْرِ ولَوْ أغْنَيْتُهُ لَكَفَرَ وإنَّ مِنْ عَبادِي مَنْ لَا يَصْلُحُ إيمانُهُ إلاَّ بالسُّقْمِ ولوْ أصْحَحْتُهُ لَكَفَرَ وإنَّ مِنْ عِبَادِي مَنْ لَا يَصْلُحُ إيمانُهُ إلاَّ بالصِّحَّةِ ولوْ أسْقَمْتُهُ لَكَفَرَ)) (خطّ) عنْ عُمَر.(146) ((أتانِي جِبْرِيلُ فقالَ يَا مُحَمَّدُ عِشْ مَا شِئْتَ فإنَّكَ مَيِّتٌ وأحْبِبْ مَنْ شِئْتَ فإنَّكَ مُفارِقُهُ واعْمَلْ مَا شِئْتَ فإنَّكَ مَجزِيٌّ بِهِ واعْلَمْ أنَّ شَرَفَ المُؤمِنِ قِيامُهُ باللَّيْلِ وعِزُّهُ اسْتَغناؤهُ عنِ النَّاسِ)) (الشِّيرَازِيّ) فِي الألقاب (ك هَب) عَن سهل بن سعد (هَب) عَن جَابر (حل) عَن عَلِيَ.(147) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ فقالَ يَا مُحمَّدُ قُلْ قُلْتُ وَمَا أقُولُ قَالَ قُلْ أعوذُ بِكَلِماتِ الله التَّامَّاتِ الَّتِي لَا يُجاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلَا فاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وزَرَأ وبَرَأ ومنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّماءِ ومنْ شَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيهَا وَمن شَرِّ مَا زَرَأ فِي الأرضِ وبَرأ ومنْ شَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْها ومِنْ شَرِّ فِتَنِ اللَّيْلِ والنَّهارِ ومِنْ شَرِّ كُلِّ طارقٍ يَطْرُقُ إلاَّ طارِقاً يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْم صلى الله عليه وسلم1648 - ; نُ)) (حم طب) عَن عبد الرَّحْمَن بن حنيش.(148) ((أتانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ يَا محمَّدُ كُنْ عَجَّاجاً بالتَّلْبِيَةِ ثَجَّاجاً بِنَحْرِ البُدْنِ)) (القَاضِي عبد الْجَبَّار فِي أَمَالِيهِ عَن ابْن عمر) .(149) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ فقالَ يَا مُحَمَّدُ كُنْ عَجَّاجاً ثَجَّاجاً)) (حم والضياءُ) عَن السَّائِب بن خَلاد.(150) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ يَا مُحمَّدُ مَنْ أدْرَكَ أحَدَ وَالِدَيْهِ فَماتَ فَدَخَلَ النَّارَ فأبْعَدَهُ الله قُلْ آمِينَ فَقُلْتُ آمِينَ قَالَ يَا مُحَمَّدُ مَنْ أدْرَكَ شَهْرَ رَمَضَانَ فَمَاتَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ فأُدْخِلَ النَّارَ فأَبْعَدَهُ الله قُلْ آمِينَ فَقُلْتُ آمِينَ قَالَ وَمَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ فَمَاتَ فَدَخَلَ النَّارَ فأبْعَدهُ الله قُلْ آمِينَ فَقُلْتُ آمِينَ)) (طب) عَن جابِرِ بن سَمُرَةَ.(151) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ يَا محمَّدُ مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ مِنْ أُمَّتِكَ صَلَاةً كَتَبَ الله لَهُ بِهَا عَشْرَ حَسَنَاتٍ ومَحَا عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتٍ وَرَفَعَهُ بِها عَشْرَ دَرَجَاتٍ وَقَالَ لَهُ الملَكُ مِثْلَ مَا قالَ
...এবং যে তা নিংড়ায়, যে তা পান করে, যে তা বহন করে, যার কাছে তা বহন করে নেওয়া হয়, যে তা বিক্রয় করে, যে তা ক্রয় করে, যে তা পরিবেশন করে এবং যাকে তা পান করানো হয়।)) (তাবারানি, হাকেম, বায়হাকি) এবং জিয়া, ইবনে আব্বাস থেকে।(১৪৫) (( (য) জিবরাঈল আমার কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনার প্রতিপালক আপনাকে সালাম জানাচ্ছেন এবং আপনার উদ্দেশে বলছেন: নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান সচ্ছলতা ছাড়া সঠিক থাকে না, আর যদি আমি তাকে দরিদ্র করে দিতাম তবে সে অবশ্যই কুফরি করত। নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান দারিদ্র্য ছাড়া সঠিক থাকে না, আর যদি আমি তাকে ধনী করে দিতাম তবে সে অবশ্যই কুফরি করত। নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান অসুস্থতা ছাড়া সঠিক থাকে না, আর যদি আমি তাকে সুস্থ করে দিতাম তবে সে অবশ্যই কুফরি করত। নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান সুস্থতা ছাড়া সঠিক থাকে না, আর যদি আমি তাকে অসুস্থ করে দিতাম তবে সে অবশ্যই কুফরি করত।)) (খতিব) উমর থেকে।(১৪৬) ((জিবরাঈল আমার কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি যতদিন ইচ্ছা জীবন যাপন করুন, নিশ্চয়ই আপনি মরণশীল। যাকে ইচ্ছা ভালোবাসুন, নিশ্চয়ই আপনি তার বিচ্ছেদ লাভ করবেন। যা ইচ্ছা আমল করুন, নিশ্চয়ই আপনি তার প্রতিদান পাবেন। আর জেনে রাখুন, মুমিনের মর্যাদা হলো তার রাতের সালাত এবং তার সম্মান হলো মানুষের নিকট থেকে অমুখাপেক্ষী থাকা।)) (শিরাজি) আল-আলকাব গ্রন্থে, (হাকেম, বায়হাকি) সাহল ইবনে সাদ থেকে, (বায়হাকি) জাবের থেকে, (হিলইয়াহ) আলি থেকে।(১৪৭) (( (য) জিবরাঈল আমার কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! পাঠ করুন। আমি বললাম, আমি কী পাঠ করব? তিনি বললেন, আপনি বলুন: আমি আল্লাহর ঐ সকল পরিপূর্ণ কালিমার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যা কোনো পুণ্যবান বা পাপাচারী ব্যক্তি অতিক্রম করতে পারে না—তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, অস্তিত্ব দিয়েছেন এবং উদ্ভাবন করেছেন তার অনিষ্ট হতে; আকাশ থেকে যা অবতীর্ণ হয় তার অনিষ্ট হতে এবং যা আকাশে আরোহণ করে তার অনিষ্ট হতে; জমিনে যা তিনি সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে এবং যা জমিন থেকে নির্গত হয় তার অনিষ্ট হতে; রাত ও দিনের ফিতনার অনিষ্ট হতে এবং রাতে আগমনকারী প্রতিটি অনিষ্ট হতে, তবে ঐ আগন্তুক ছাড়া যে কল্যাণ নিয়ে আসে, হে পরম দয়াময়। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।১৬৪৮ - ; নু)) (আহমদ, তাবারানি) আবদুর রহমান ইবনে হানিফ থেকে।(১৪৮) ((জিবরাঈল আমার কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠকারী (আজজাজ) এবং কুরবানির পশু জবেহ করার মাধ্যমে রক্ত প্রবাহিতকারী (সাজজাজ) হোন।)) (কাজি আব্দুল জব্বার তার আমালি গ্রন্থে ইবনে উমর থেকে)।(১৪৯) (( (য) জিবরাঈল আমার কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠকারী ও রক্ত প্রবাহিতকারী হোন।)) (আহমদ এবং জিয়া) সায়েব ইবনে খাল্লাদ থেকে।(১৫০) (( (য) জিবরাঈল আমার কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতার কোনো একজনকে পেল, অতঃপর মারা গেল এবং (তাদের খেদমত না করার কারণে) জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে দূর করে দিন। আপনি বলুন, আমিন। আমি বললাম, আমিন। তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল, অতঃপর মারা গেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না এবং সে জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে দূর করে দিন। আপনি বলুন, আমিন। আমি বললাম, আমিন। তিনি বললেন, যার নিকট আপনার আলোচনা করা হলো অথচ সে আপনার ওপর দরুদ পাঠ করল না, অতঃপর সে মারা গেল এবং জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে দূর করে দিন। আপনি বলুন, আমিন। আমি বললাম, আমিন।)) (তাবারানি) জাবের ইবনে সামুরা থেকে।(১৫১) (( (য) জিবরাঈল আমার কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আপনার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার জন্য দশটি নেকি লিখে দেবেন, তার দশটি গুনাহ মোচন করবেন এবং তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। আর ফেরেশতা তাকে তেমনই বলবে যেমনটি সে বলেছে...))
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لَكَ قُلْتُ يَا جِبْرِيلُ ومَا ذَاكَ المَلَكُ قَالَ إنَّ الله عز وجل وَكَّلَ بِكَ مَلَكاً مِنْ لَدُنْ خَلْقكَ إِلَى أنْ يَبْعَثَكَ لَا يُصَلِّي عَلَيْكَ أحَدٌ مِنْ أمَّتِكَ إلاَّ قالَ وأنْتَ صَلَّى الله عَلَيْكَ)) (طب) عَن أبي طَلْحَة.(152) ((أتانِي جِبْرِيلُ فِي أوَّلِ مَا أُوحِيَ إلَيَّ فَعَلَّمَنِي الوُضُوءَ والصَّلَاةَ فَلَمَّا فَرَغَ الوضُوءُ أخَذَ غَرْفَةً مِنَ الماءِ فَنَضَحَ بِها فَرْجَهُ)) (حم قطّ ك) عَن أُسَامَة بن زيد عَن أَبِيه زيدبن حَارِثَة.(153) ((أتانِي جِبْرِيلُ فِي ثلاثٍ بَقِينَ مِنْ ذِي القَعْدَةِ فَقَالَ دَخَلَتِ العُمْرَةُ فِي الحَجِّ إِلَى يَوْمِ القِيامَةِ)) (طب) عَن ابْن عَبَّاس قلت هَذَا أصل فِي التَّارِيخ.(154) ((أَتَانِي جِبْريلُ فِي خَضِرٍ تَعَلَّقَ بِهِ الدُّرُّ)) (قطّ) فِي الْأَفْرَاد عَن ابْن مَسْعُود.(155) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ مِنْ عِنْدِ الله تبارك وتعالى فَقال يَا مُحَمَّدُ إنَّ الله عز وجل يَقُولُ إنِّي قدْ فَرَضْتُ على أمَّتِكَ خَمْسَ صَلَواتٍ فَمَنْ وافي بِهِنَّ على وُضُوئِهِنَّ ومَواقِيتِهنَّ ورُكُوعِهِنَّ وَسُجُودِهِنَّ كانَ لَهُ عِنْدِي بِهِنَّ عَهْدٌ أنْ أُدْخِلَهُ بِهِنَّ الجَنَّةَ ومَنْ لَقِيَنِي قد انْتَقَصَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئاً فَلَيْسَ لَهُ عِنْدِي عَهْدٌ إنْ شِئْتُ عَذَّبْتُهُ وإنْ شِئْتُ رَحِمْتُهُ)) (الطَّيَالِسِيّ ومحمَّدُ بن نصر) فِي كِتابِ الصَّلَاة (طب) والضياء فِي المختارة عَن عبَادَة بن الصَّامِت.(156) (( (ز) أتانِي جِبْرِيلُ وميكائيلُ فَقَعَدَ جِبْرِيلُ عَنْ يَمِينِي وميكائِيلُ عَنْ يَسَاري فَقَالَ جبْرِيلُ يَا مُحَمَّدُ اقْرإِ القُرآنَ على حَرْفٍ فَقَالَ ميكائيلُ اسْتَزِدْهُ فَقُلْتُ زِدْنِي فَقَالَ اقْرَأْهُ على حَرْفَيْنِ فقالَ مِيكائِيلُ اسْتَزِدْهُ فَقُلْتُ زِدْنِي فَقَالَ اقْرَأهُ على ثَلَاثِ أحْرُف فَقَالَ ميكائِيلُ استَزِدْهُ فَقُلْتُ زِدْنِي كَذَلِكَ حَتَّى بَلَغَ سَبْعَةَ أحْرُفٍ فقالَ اقْرَأهُ على سَبْعَةِ أحْرُف كُلُّها شافٍ كافٍ)) (حم وعبدبن حميد ن) عَن أبي بن كَعْب (حم طب) عَن أبي بكرَة بن الضريس عَن عبَادَة بن الصَّامِتِ.(157) ((أتانِي مَلَكٌ بِرِسالَةٍ مِنَ الله عز وجل ثُمَّ رَفَعَ رِجْلَهُ فَوَضَعَهَا فَوْقَ السَّماءِ والأخْرَى فِي الأرْض لم يَرْفَعْها)) (طس) عَن أبي هُرَيْرَة.(158) ((أتانِي مَلَكٌ فَسَلَّمَ عَلَيَّ نَزَلَ مِنَ السَّماءِ لم يَنْزِلْ قَبْلَهَا فَبَشَّرَنِي أنَّ الحَسَنَ والحُسَيْنَ سَيِّدَا شَبَابِ أهْلِ الجَنَّة وأنَّ فاطِمَةَ سَيِّدَةُ نِساءِ أهْلِ الجَنَّةِ)) (ابنُ عساكِرَ) عَن حُذَيْفَةَ.
আমি বললাম, হে জিবরীল, সেই ফেরেশতাটি কে? তিনি বললেন, আল্লাহ পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আপনার সৃষ্টির সময় থেকে আপনাকে পুনরুত্থিত করা পর্যন্ত আপনার জন্য একজন ফেরেশতা নিয়োজিত করেছেন; আপনার উম্মতের কেউ আপনার ওপর দরুদ পাঠ করলে সে (ফেরেশতা) বলে: আর আপনার ওপরও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। (তাবারানি) আবু তালহা থেকে।(১৫২) আমার প্রতি প্রথম যা ওহি অবতীর্ণ হয়েছিল, তাতে জিবরীল আমার কাছে আসলেন এবং আমাকে অজু ও সালাত শিক্ষা দিলেন। যখন অজু শেষ হলো, তিনি এক আঁজলা পানি নিলেন এবং তা দ্বারা তাঁর লজ্জাস্থানে ছিটিয়ে দিলেন। (আহমাদ, দারুকুতনি, হাকেম) উসামা বিন যায়িদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা যায়িদ বিন হারিসা থেকে।(১৫৩) জিলকদ মাসের তিন দিন বাকি থাকতে জিবরীল আমার কাছে আসলেন এবং বললেন: কিয়ামত পর্যন্ত হজ্জের মধ্যে উমরা দাখিল হয়ে গেছে। (তাবারানি) ইবনে আব্বাস থেকে। আমি বলি, এটি ইতিহাসের একটি মূল ভিত্তি।(১৫৪) জিবরীল আমার কাছে সবুজ পোশাকে আসলেন যার সাথে মুক্তা ঝুলছিল। (দারুকুতনি) আল-আফরাদ গ্রন্থে ইবনে মাসউদ থেকে।(১৫৫) জিবরীল আল্লাহ বরকতময় ও সুউচ্চ-এর পক্ষ থেকে আমার কাছে আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ, নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত বলেন, আমি আপনার উম্মতের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছি। যে ব্যক্তি সেগুলোর অজু, সময়, রুকু ও সিজদাহ ঠিক রেখে সেগুলো আদায় করবে, আমার কাছে তার জন্য এই অঙ্গীকার রইল যে, আমি তাকে এর মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করাব। আর যে ব্যক্তি আমার সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে এর থেকে কিছু ঘাটতি করেছে, আমার কাছে তার জন্য কোনো অঙ্গীকার নেই; আমি চাইলে তাকে শাস্তি দেব এবং চাইলে তার প্রতি দয়া করব। (তায়ালিসি এবং মুহাম্মদ ইবনে নাসর ‘কিতাবুস সালাত’-এ, তাবারানি এবং দিয়া ‘আল-মুখতারা’-তে) উবাদা বিন সামিত থেকে।(১৫৬) জিবরীল ও মিকাইল আমার কাছে আসলেন। জিবরীল আমার ডান পাশে এবং মিকাইল আমার বাম পাশে বসলেন। জিবরীল বললেন: হে মুহাম্মদ, কুরআন এক পদ্ধতিতে পাঠ করুন। মিকাইল বললেন: তাঁর কাছে আরও বৃদ্ধি করতে বলুন। আমি বললাম: আমার জন্য বৃদ্ধি করুন। তিনি বললেন: দুই পদ্ধতিতে পাঠ করুন। মিকাইল বললেন: তাঁর কাছে আরও বৃদ্ধি করতে বলুন। আমি বললাম: আমার জন্য বৃদ্ধি করুন। তিনি বললেন: তিন পদ্ধতিতে পাঠ করুন। মিকাইল বললেন: তাঁর কাছে আরও বৃদ্ধি করতে বলুন। আমি বললাম: আমার জন্য বৃদ্ধি করুন। এভাবে সাত পদ্ধতি পর্যন্ত পৌঁছাল। অতঃপর তিনি বললেন: এটি সাত পদ্ধতিতে পাঠ করুন, যার প্রতিটিই যথেষ্ট ও আরোগ্যদানকারী। (আহমাদ, আবদ বিন হুমাইদ, নাসায়ি) উবাই বিন কাব থেকে। (আহমাদ, তাবারানি) আবু বাকরাহ থেকে, ইবনুল দুরাইস উবাদা বিন সামিত থেকে।(১৫৭) একজন ফেরেশতা আল্লাহ পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত-এর পক্ষ থেকে বার্তা নিয়ে আমার কাছে আসলেন। অতঃপর তিনি তাঁর পা তুললেন এবং তা আসমানের ওপর রাখলেন, আর অন্যটি জমিনে ছিল যা তিনি তোলেননি। (তাবারানি আল-আওসাত-এ) আবু হুরায়রা থেকে।(১৫৮) একজন ফেরেশতা আমার কাছে আসলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন; তিনি আসমান থেকে অবতরণ করেছেন যাঁর আগে তিনি কখনো নামেননি। তিনি আমাকে সুসংবাদ দিলেন যে, হাসান ও হুসাইন জান্নাতবাসীদের যুবকদের সরদার এবং ফাতিমা জান্নাতবাসীদের নারীদের নেত্রী। (ইবনে আসাকির) হুজাইফা থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
(159) ((اتَّبِعُوا العُلَماءَ فإنَّهُمْ سُرُجُ الدُّنْيا ومَصابِيحُ الآخِرَةِ)) (فر) عَن أنسٍ.(160) (( (ز) أتَتْكُمُ الأَزْدُ أحْسَنُ النَّاس وُجُوهاً وأعْذَبُهُ أفْواهاً وأصْدَقُهُ لِقاءً)) (طب) عنْ عبدِ الرَّحم صلى الله عليه وسلم1648 - ; نِ.(161) (( (ز) أتَتْكُمُ القُرَيْعاءُ فِتْنَةٌ يَكونُ فِيهَا مِثْلُ البَيْضَةِ)) (طب) عَن ابْن عَمْرو.(162) ((أتَتْكُمُ المَنِيَّةُ راتِبَةً لازِمَةً إمَّا بِشَقَاوَةٍ وإمَّا بِسَعادَةٍ)) (ابنُ أبي الدُّنْيا) فِي ذِكْرِ المَوْتِ (هَب) عَن زيدٍ السلميِّ مُرْسَلاً.(163) (( (ز) أتَتْكُمُ المُؤتةُ راتِبَةً لازِمَةً جاءَ المَوْتُ بِمَا جاءَ بِهِ جَاءَ بالرَّوحِ والرَّاحَةِ والكَرَّةِ المُبارَكَةِ لأوْلِياءِ الرَّحْم صلى الله عليه وسلم1648 - ; نِ مِنْ أهْلِ دَار الخُلودِ الَّذِينَ كَانَ سَعْيُهُمْ وَرَغْبَتُهُمْ فِيهَا لَهَا أَلا إنَّ لِكُلِّ ساعٍ غايَةً وغايَةُ كُلِّ ساعٍ الموَتُ سابِقٌ ومَسْبُوقٌ)) (هَب) عَن الوَضينِ بنِ عَطاء مُرْسَلاً.(164) ((اتَّجِرُوا فِي أمْوالِ اليَتَام صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى لَا تَأكُلُها الزَّكَاةُ)) (طس) عَن أنسٍ.(165) ((أتُحِبُّ أنْ يَلِينَ قَلْبُكَ وتُدْرِكَ حاجَتَكَ ارْحَمِ اليَتِيمَ وامْسَحْ رَأسَهُ وأطْعِمْهُ مِنْ طَعامِكَ يَلِنْ قَلْبُكَ وتُدْرِكْ حاجَتَكَ)) (طب) عَن أبي الدَّرْداءِ.(166) (( (ز) أتُحِبُّونَ أيُّها النَّاسُ أنْ تَجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ قُولُوا اللَّهمَّ أعِنَّا على شُكْرِكَ وذِكْرِكَ وحُسْنِ عَبَادَتِكَ)) (ك حل) عَن أبي هُرَيْرَة.(167) (( (ز) أتُحِبُّ يَا جُبَيْرُ إِذا خَرَجْتَ سَفَراً أنْ تَكُونَ مِنْ أمْثَلِ أصْحَابِكَ هَيْئَةً وأكْثرِهِمْ زاداً اقْرأ هذِ السُّوَرَ الخَمْسَ قُلْ يَا أيُّهَا الكافِرُونَ وَإِذا جاءَ نَصْرُ الله والفَتْحُ وقُلْ هُوَ الله أحَدٌ وقُلْ أعُوذُ بِرَبِّ الفَلَق وقُلْ أعوذُ بِرَبِّ النَّاس وافْتَحْ كلَّ سورةٍ بِبِسْمِ الله الرَّحْم صلى الله عليه وسلم1648 - ; ن الرَّحِيم واخْتِمْ بِبسمِ الله الرَّحْم صلى الله عليه وسلم1648 - ; نِ الرَّحيمِ)) (ع) والضِّيَاءُ عَن جُبَيْربْنِ مُطْعِمٍ.(168) (( (ز) أتَحْسَبُونَ الشِّدَّةَ فِي حَمْلِ الحِجَارةِ إنَّما الشِّدَّةُ فِي أنْ يَمْتَلِىءَ أحَدُكُمْ غَيْظاً ثُمَّ يَغْلِبُهُ)) (ابنُ أبي الدُّنْيا) فِي ذَمِّ الغَضَبِ عَن عامِرِ بن سعْد بْنِ أبِي وَقاص.(169) ((اتَّخَذَ الله إبْراهِيمَ خَلِيلاً ومُوسى نَجيّاً واتَّخَذَنِي حَبِيباً ثُمَّ قَالَ وعِزَّتِي وجَلالي لأُوثِرَنَّ حَبِيبي على خَلِيلي ونَجِيِّي)) (هَب) عَن أبي هُرَيرَةَ.
(১৫৯) ((তোমরা আলেমদের অনুসরণ করো, কারণ তারা দুনিয়ার প্রদীপ এবং আখেরাতের আলোকবর্তিকা।)) (ফার) আনাস থেকে বর্ণিত।(১৬০) (( (য) তোমাদের নিকট আজদ (গোত্র) এসেছে, যারা মানুষের মধ্যে চেহারায় সবচেয়ে সুন্দর, মিষ্টভাষী এবং যুদ্ধের ময়দানে সবচেয়ে বেশি সত্যনিষ্ঠ।)) (তব) আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত।১৬৪৮ - ; (১৬১) (( (য) তোমাদের নিকট কুরাইআ নামক এক ফিতনা এসেছে, যাতে ডিমের মতো (কিছু) থাকবে।)) (তব) ইবনে আমর থেকে বর্ণিত।(১৬২) ((তোমাদের নিকট মৃত্যু এক নির্ধারিত ও অনিবার্য বিষয় হিসেবে উপস্থিত হয়েছে, যা হয় দুর্ভাগ্যের কারণ হবে অথবা সৌভাগ্যের।)) (ইবনে আবিদ দুনিয়া - মৃত্যু আলোচনায়) (হাব) জায়েদ আস-সুলামি থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত।(১৬৩) (( (য) তোমাদের নিকট মৃত্যু নির্ধারিত ও অনিবার্য বিষয় হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। মৃত্যু যা নিয়ে আসার তা নিয়ে এসেছে; তা পরম করুণাময় আল্লাহর বন্ধুদের জন্য, যারা চিরস্থায়ী জান্নাতের অধিবাসী এবং যাদের প্রচেষ্টা ও আগ্রহ জান্নাতের জন্যই ছিল, তাদের জন্য প্রশান্তি, স্বাচ্ছন্দ্য এবং বরকতময় প্রত্যাবর্তন নিয়ে এসেছে। জেনে রেখো, প্রত্যেক প্রচেষ্টাকারীরই একটি লক্ষ্য থাকে এবং প্রত্যেক প্রচেষ্টাকারীর লক্ষ্য হলো মৃত্যু, যা কারো আগে আসে আবার কারো পরে।)) (হাব) ওয়াদিন বিন আতা থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত।(১৬৪) ((তোমরা এতিমদের ধন-সম্পদ দিয়ে ব্যবসা করো, যাতে জাকাত তা খেয়ে না ফেলে।)) (তস) আনাস থেকে বর্ণিত।(১৬৫) ((তুমি কি চাও যে তোমার অন্তর নরম হোক এবং তুমি তোমার প্রয়োজন পূরণ করো? তবে এতিমের প্রতি দয়া করো, তার মাথায় হাত বুলিয়ে দাও এবং তাকে তোমার খাবার থেকে খাওয়াও; এতে তোমার অন্তর নরম হবে এবং তুমি তোমার প্রয়োজন পূরণ করতে পারবে।)) (তব) আবু দারদা থেকে বর্ণিত।(১৬৬) (( (য) হে লোকসকল! তোমরা কি চাও যে তোমরা প্রার্থনায় খুব বেশি সচেষ্ট হও? তবে বলো: হে আল্লাহ! আপনার কৃতজ্ঞতা আদায়ে, আপনার স্মরণে এবং আপনার উত্তম ইবাদত পালনে আমাদের সাহায্য করুন।)) (কা, হল) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(১৬৭) (( (য) হে জুবায়ের! তুমি যখন সফরে বের হও, তখন কি তুমি পছন্দ করো যে তুমি তোমার সাথীদের মধ্যে বেশভূষায় সবচেয়ে সুন্দর এবং পাথেয় বা সরঞ্জামে সবচেয়ে সমৃদ্ধ হও? তবে তুমি এই পাঁচটি সূরা পাঠ করো: ‘কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন’, ‘ইজা জাআ নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহ্’, ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’, ‘কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক’ এবং ‘কুল আউজু বিরাব্বিন নাস’। প্রতিটি সূরা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়ে শুরু করবে এবং বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়ে শেষ করবে।)) (আ) এবং জিয়া, জুবায়ের বিন মুতঈম থেকে বর্ণনা করেছেন।(১৬৮) (( (য) তোমরা কি পাথর বহন করাকে শক্তি মনে করো? প্রকৃতপক্ষে শক্তি তো হলো তোমাদের কারো মধ্যে যখন প্রচণ্ড ক্রোধের সৃষ্টি হয়, অতঃপর সে তা দমন করে।)) (ইবনে আবিদ দুনিয়া - ক্রোধের নিন্দায়) আমির বিন সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত।(১৬৯) ((আল্লাহ ইব্রাহিমকে খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেছেন, মুসাকে নাজী (গোপন আলাপের সঙ্গী) হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং আমাকে হাবীব (প্রিয় বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: আমার মর্যাদা ও মহিমার কসম! আমি অবশ্যই আমার খলীল ও নাজীর ওপর আমার হাবীবকে প্রাধান্য দেব।)) (হাব) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
(170) ((اتَّخِذُوا الدِّيكَ الأبْيَضَ فإنَّ دَارا فِيهَا ديكٌ أبْيَضُ لَا يَقْرَبُهَا شَيْطانٌ وَلَا ساحِرٌ وَلَا الدُّوَيْراتُ حَوْلَها)) (طس) عَن أنسٍ.(171) ((اتخِذُوا السَّراوِيلاتِ فإِنَّها مِنْ أَسْتَرِ ثِيَابِكُمْ وَحصِّنُوا بِها نِساءَكُمْ إِذا خَرَجْنَ)) (عق عد) والبَيْهَقِي فِي الأدَبِ عَن عليَ.(172) ((اتَّخِذُوا السُّودانَ فإنَّ ثلاثَةً منهُمْ مِنْ ساداتِ أهْلِ الجَنَّةِ لُقْمان الحَكِيمُ والنَّجاشِيُّ وبلَالٌ المُؤذِّنُ)) (حب) فِي الضُّعَفاءِ (طب) عَن ابْن عَبَّاس.(173) ((اتَّخِذُوا الغَنَم فإنَّها بَرَكَةٌ)) (طب خطّ) عَن أُمِّ هانِىءٍ ورواهُ (هـ) بِلَفْظِ اتَّخِذِي غَنَماً فإنَّها بَرَكَةٌ.(174) ((اتَّخِذُوا عِنْدَ الفُقَراءِ أياديَ فإِنَّ لَهُمْ دَوْلَةً يَوْمَ القِيَامَةِ)) (حل) عَن الحُسَيْنِ عَن عليٍّ.(175) ((اتَّخِذُوا هَذِه الحَمامَ المَقاصيصَ فِي بُيُوتِكُمْ فإِنَّها تُلْهِي الجِنَّ عَنْ صِبْيانِكُمْ)) (الشِّيرازيُّ) فِي الألْقَابِ (خطّ فر) عَن ابْن عَبَّاس (عد) عَن أنسٍ.(176) ((اتَّخِذْهُ مِنْ وَرِقٍ وَلَا تُتِمَّهُ مِثْقالاً يَعْني الخاتَمَ)) (3) عنْ بُرَيدةَ.(177) (( (ز) اتَّخِذِي غَنَماً فإِنَّها تَرُوحُ بِخَيْرٍ وَتَغْدُوا بِخَيْرٍ)) (حم) عنْ أمِّ هانِىءٍ.(178) (( (ز) أتَخَوَّفُ على أُمَّتِي اثْنَتَيْنِ يَتَّبِعُونَ الأرْيافَ والشَّهَواتِ ويَتْرُكُونَ الصَّلَاةَ والقُرآنُ يَتَعَلَّمُهُ المُنافِقُونَ يُجَادِلونَ بِهِ أهْلَ العِلْمِ)) (طب) عَن عقبةَ بنِ عامِرٍ.(179) ((أتَخَوَّفُ عليكمْ هَذَا يَعْنِي اللِّسانَ رَحِمَ الله عَبْداً قَالَ خَيْراً فَغَنِمَ أوْ سَكَتَ عنْ سُوءٍ فَسَلِمَ)) (ابنُ المُبارَكِ) فِي الزُّهْدِ عَن خَالِد بن أبي عِمْرانَ مُرْسَلاً.(180) (( (ز) أتَدْرُونَ أيْنَ تَذْهَبُ هَذِه الشَّمْس؟ إنَّ هَذِه تَجْرِي حَتَّى تَنْتَهيَ إِلَى مُسْتَقَرِّها تحْتَ العَرْش فَتَخِرُّ ساجِدَةً فَلَا تَزالُ كَذَلِك حَتَّى يُقالَ لَهَا ارْتَفِعِي ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ فَتَرْجعُ فَتُصْبِحُ طالِعَةً مِنْ مَطْلَعِهَا ثمَّ تَجْرِي حَتَّى تَنْتَهي إِلَى مُسْتَقَرِّها تحَتْ العَرْشِ فَتَخِرُّ ساجِدَةً فَلَا تَزَالُ كَذَلِك حَتَّى يُقَالَ لَها ارْتَفِعِي ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ فَتَرْجِعُ فَتُصْبِحُ طالِعَةً مِنْ مَطْلَعِها ثُمَّ تَجْرِي لَا يَسْتنْكِرُ النَّاسُ مِنْهَا شَيْئاً حَتَّى تَنْتَهي إِلَى مُسْتَقَرِّها ذاكَ تَحْتَ العرْشِ فَيُقالُ لهَا ارْتَفِعي اصْبِحي طالعَةً مِنْ مَغْرِبِك فَتُصِبحُ طَالِعَةً مِنْ مَغْرِبها أتَدْرُونَ مَتى ذَاكُمْ؟ حِينَ لَا يَنْفَعُ نَفْساً إيمانُها لم تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَو كَسَبَتْ فِي إيمانِها خَيْراً)) (م) عَن أبي ذرَ.
(১৭০) ((তোমরা সাদা মোরগ পালন করো; কেননা যে ঘরে সাদা মোরগ থাকে, শয়তান, জাদুকর এবং তার আশপাশের ছোট ঘরগুলোর ধারেকাছেও শয়তান বা জাদুকর ঘেঁষতে পারে না।)) (তাবারানি আল-আওসাত) আনাস (রা.) হতে বর্ণিত।(১৭১) ((তোমরা পায়জামা পরিধান করো; কেননা তা তোমাদের পোশাকের মধ্যে অধিকতর আবরক এবং তোমাদের নারীরা যখন বাইরে বের হয়, তখন এর মাধ্যমে তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করো।)) (উকায়লি, ইবনে আদি) এবং বায়হাকি ‘আল-আদাব’ গ্রন্থে আলী (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন।(১৭২) ((তোমরা কৃষ্ণাঙ্গদের সাথে সুসম্পর্ক রাখো; কেননা তাদের মধ্যে তিনজন জান্নাতবাসীদের সরদারদের অন্তর্ভুক্ত: লোকমান হাকিম, নাজাসি এবং মুয়াজ্জিন বিলাল।)) (ইবনে হিব্বান ‘আদ-দুআফা’ গ্রন্থে, তাবারানি) ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত।(১৭৩) ((তোমরা বকরী পালন করো, কেননা তাতে বরকত রয়েছে।)) (তাবারানি, খতিব) উম্মে হানি (রা.) হতে বর্ণিত। ইবনে মাজাহ-তে এটি "তুমি বকরী পালন করো, কেননা তাতে বরকত রয়েছে" শব্দে বর্ণিত হয়েছে।(১৭৪) ((তোমরা দরিদ্রদের নিকট নিজেদের জন্য অনুগ্রহ জমা রাখো; কেননা কিয়ামতের দিন তাদের এক বিশেষ রাজত্ব ও প্রভাব থাকবে।)) (আবু নুআইম) হুসাইন হতে, তিনি আলী (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন।(১৭৫) ((তোমরা তোমাদের ঘরে এই ডানা ছাঁটা কবুতরগুলো পালন করো; কেননা এগুলো তোমাদের সন্তানদের থেকে জিনদের দূরে সরিয়ে রাখে।)) (শিরাজি ‘আল-আলকাব’ গ্রন্থে, খতিব, দাইলামি) ইবনে আব্বাস হতে এবং (ইবনে আদি) আনাস (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন।(১৭৬) ((তুমি এটি রূপা দিয়ে তৈরি করো এবং এর ওজন এক মিসকাল পূর্ণ করো না—অর্থাৎ আংটি।)) (সুনানে আরবাআর তিন ইমাম) বুরাইদাহ (রা.) হতে বর্ণিত।(১৭৭) ((তুমি বকরী পালন করো; কারণ এটি কল্যাণের সাথে ফিরে আসে এবং কল্যাণের সাথে সকালে চারণে বের হয়।)) (আহমদ) উম্মে হানি (রা.) হতে বর্ণিত।(১৭৮) ((আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে দুটি বিষয়ে আশঙ্কা করি—তারা পল্লী অঞ্চল ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করবে এবং নামাজ ছেড়ে দেবে; আর মুনাফিকরা কুরআন শিখবে এবং তা দিয়ে আলেমদের সাথে বিতর্ক করবে।)) (তাবারানি) উকবাহ বিন আমির (রা.) হতে বর্ণিত।(১৭৯) ((আমি তোমাদের ব্যাপারে এটার—অর্থাৎ জিহ্বার—আশঙ্কা করি। আল্লাহ সেই বান্দার ওপর রহম করুন যে ভালো কথা বলে সওয়াব অর্জন করেছে অথবা মন্দ কথা থেকে চুপ থেকে নিরাপদ রয়েছে।)) (ইবনুল মুবারক ‘আজ-জুহদ’ গ্রন্থে) খালিদ বিন আবি ইমরান হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত।(১৮০) ((তোমরা কি জানো এই সূর্য কোথায় যায়? নিশ্চয়ই এটি চলতে থাকে যতক্ষণ না আরশের নিচে তার অবস্থানস্থলে পৌঁছে সিজদাবনত হয়। সে এভাবেই থাকে যতক্ষণ না তাকে বলা হয়—ওঠো, যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে যায় এবং নিজ উদয়স্থল থেকে উদিত হয়। পুনরায় সে চলতে থাকে যতক্ষণ না আরশের নিচে তার অবস্থানস্থলে পৌঁছে সিজদাবনত হয়। সে এভাবেই থাকে যতক্ষণ না তাকে বলা হয়—ওঠো, যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে যায় এবং নিজ উদয়স্থল থেকে উদিত হয়। পুনরায় সে চলতে থাকে, মানুষ তার মাঝে অস্বাভাবিক কিছু দেখবে না, যতক্ষণ না সে আরশের নিচে সেই নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে। তখন তাকে বলা হবে—ওঠো, আজ তোমার পশ্চিম দিক থেকে উদিত হও। ফলে সে পশ্চিম দিক থেকেই উদিত হবে। তোমরা কি জানো তা কখন ঘটবে? তখন, যখন কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না যদি সে আগে ঈমান না এনে থাকে অথবা ঈমান থাকা অবস্থায় কোনো কল্যাণ অর্জন না করে থাকে।)) (মুসলিম) আবু যার (রা.) হতে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(181) (( (ز) أتَدْرونَ أيُّ الصَّدَقَةِ أفْضَلُ المَنيَحةُ أَن يَمْنَحَ أحَدُكُمُ الدِّرْهَمَ أوْ ظَهْرَ الدَّابَةِ أوْ لَبَنَ الشَّاةِ أوْ لَبَنَ البَقَرَةِ)) (حم) عَن ابْن مَسْعودٍ.(182) ((أتَدْرُونَ مَا العَضَهُ؟ نَقْلُ الحديثِ مِنْ بَعضِ النَّاسِ إِلَى بعضٍ لِيُفْسِدُوا بَيْنَهُمْ)) (خد هق) عَن أنس.(183) ((أتَدْرُونَ مَا الغِيبَةُ؟ ذِكْرُكَ أخاكَ بِمَا يَكْرَهُ إنْ كانَ فِيهِ مَا تقولُ فقد اغتَبْتَهُ وإنْ لم يَكُنْ فِيهِ فقد بَهتَّهُ)) (حم م د ت) عَن أبي هُرَيْرَة.(184) ((أتَدْرُونَ مَا المُفْلِسُ إنَّ المُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ يَأتِي يَوْمَ القِيامَةِ بِصَلاةٍ وصيامٍ وزَكاةٍ ويَأتِي قد شَتَمَ هَذَا وقَذَفَ هَذَا وأكَلَ مالَ هَذا وَسَفَكَ دَمَ هَذَا وَضَرَبَ هَذَا فَيُعْطِي هَذَا مِنْ حَسَناتِهِ وَهَذَا مِنْ حَسَناتِهِ فإنْ فَنِيَتْ حَسَناتُهُ قَبْلَ أنْ يُقْض صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطاياهُمْ فَطُرِحَتْ عَلَيهِ ثُمَّ طُرِحَ فِي النَّارِ)) (حم ت) عَن أبي هُرَيْرَة.(185) (( (ز) أتَدْرُونَ مَا خُرَافَةُ؟ إِن خُرَافَةَ كانَ رَجُلاً مِنْ عُذْرَةَ أسَرَتْهُ الجِنُّ فِي الجَاهِلِيَّةِ فَمَكَثَ فيهِمْ دَهْراً طَويلاً ثمَّ رَدَّتْهُ إِلَى الإنسِ فَكانَ يُحَدِّثُ النَّاس بِما رَأى فِيهِمْ من الأعاجِيبِ فقالَ النَّاسُ حديثُ خُرَافَةَ)) (حم ت) فِي الشَّمائِلِ عَنْ عائِشَةَ.(186) (( (ز) أتَدْرُونَ مَا هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذانِ الكِتابانِ؟ هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذَا كِتابٌ مِنْ رَبِّ العالَمينَ فِيه أسْماءُ أهْلِ الجَنَّةِ وأسْماءُ آبائهِمْ وقَبائِلِهِمْ ثُمَّ أُجْمِلَ على آخِرِهِمْ فَلَا يُزادُ فِيهمْ وَلَا يُنْقِصُ مِنْهُمْ أبَداً هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذَا كِتَابٌ مِنْ رَبِّ العالَمِينَ فيهِ أسْماءُ أهل النَّارِ وأسماءُ آبائِهمْ وقبائِلِهمْ ثُمَّ أُجْمِلَ على آخِرِهِمْ فَلَا يُزادُ فيهم وَلَا يُنْقَصُ مِنْهُمْ أبَداً سَدِّدُوا وقاربُوا فإِنَّ صاحِبَ الجَنَّةِ يُخْتَمُ لَهُ بِعَمَلِ أهْلِ الجَنَّةِ وإنْ عَمِلَ أيَّ عَمَلٍ وإِنَّ صاحبَ النَّارِ يُخْتَمُ لَهُ بِعَمَلِ أهْلِ النَّار وإنْ عَمِلَ أيَّ عَمَلٍ فَرَغَ رَبُّكُمْ مِنَ العِبَاد فَرِيقٌ فِي الجَنَّةِ وفَريقٌ فِي السَّعِيرِ)) (حم ق ن) عَن ابْن عَمْرو.(187) (( (ز) أتَدْرُونَ مَنِ السَّابِقُونَ إِلَى ظلِّ الله عز وجل؟ الَّذِينَ إِذا أُعْطُوا الحَقَّ قَبِلُوهُ وَإِذا سُئِلُوه بَذَلُوهُ وَحَكَمُوا لِلناسِ كحُكمِهِمْ لأنْفُسِهِمْ)) (حم حل) عنْ عائِشَة.(188) ((أتَرْضَوْنَ أنْ تَكُونُوا رُبُعَ أهْلِ الجَنَّةِ أتَرْضَوْنَ أنْ تَكُونُوا ثُلُثَ أهْلِ الجَنَّةِ أتَرْضَوْنَ أنْ تَكُونُوا شَطْرَ أهلِ الجَنَّة لَا يَدْخُلُها إلاَّ نَفْسٌ مُسْلِمَةٌ وَمَا أنْتُمْ فِي الشِّرْكِ إلاَّ كالشَّعْرَةِ البَيْضاءِ فِي جِلْدِ الثَّوْرِ الأَسْوَدِ أوْ كالشّعْرَةِ السَّوْداءِ فِي جِلْدِ الثّوْرِ الأحْمَرِ)) (حمته) عَن ابْن مَسْعُود.
(১৮১) ((তোমরা কি জানো সর্বোত্তম দান কোনটি? তা হলো 'মানিহা' (উপহারস্বরূপ বা ব্যবহারের জন্য প্রদান করা); তোমাদের কেউ দিরহাম দান করবে, অথবা সওয়ারির পিঠ (আরোহণের জন্য) দেবে, অথবা বকরির দুধ কিংবা গাভীর দুধ (পানের জন্য) দান করবে।)) (আহমাদ) ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত।(১৮২) ((তোমরা কি জানো ‘আদহ’ (বিভেদ সৃষ্টিকারী কথা) কী? মানুষের এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষের কাছে কথা পৌঁছে দেওয়া, যাতে তাদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়।)) (বুখারী - আদাবুল মুফরাদ, বায়হাকী) আনাস থেকে বর্ণিত।(১৮৩) ((তোমরা কি জানো গীবত (পরনিন্দা) কী? তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা সে অপছন্দ করে। যদি তার মধ্যে সেই দোষ থাকে যা তুমি বলছো, তবেই তুমি তার গীবত করলে; আর যদি তার মধ্যে তা না থাকে, তবে তুমি তাকে অপবাদ দিলে।)) (আহমাদ, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(১৮৪) ((তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে? নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে সেই ব্যক্তিই নিঃস্ব, যে কিয়ামতের দিন সালাত, সিয়াম ও যাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে; অথচ সে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে অপবাদ দিয়েছে, কারো সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কারো রক্তপাত করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। ফলে (হকদারদের) একে তার নেকি থেকে দেওয়া হবে এবং ওকে তার নেকি থেকে দেওয়া হবে। এরপর তার পাওনা পরিশোধ করার আগেই যদি তার নেকি শেষ হয়ে যায়, তবে তাদের (হকদারদের) গুনাহসমূহ গ্রহণ করা হবে এবং তার ওপর নিক্ষেপ করা হবে, অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।)) (আহমাদ, তিরমিযী) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(১৮৫) ((তোমরা কি জানো ‘খুরাফাহ’ কী? নিশ্চয়ই খুরাফাহ ছিল ‘উযরা’ গোত্রের এক ব্যক্তি, জাহেলি যুগে যাকে জিনরা অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল। সে দীর্ঘ সময় তাদের মধ্যে অবস্থান করে, তারপর তারা তাকে মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেয়। এরপর সে মানুষের কাছে জিনদের মাঝে দেখা আশ্চর্যজনক ঘটনাবলি বর্ণনা করত। তখন থেকেই মানুষ (অবিশ্বাস্য গল্পকে) ‘খুরাফার কাহিনী’ বলতে শুরু করে।)) (আহমাদ, তিরমিযী) শামাইল গ্রন্থে আয়েশা থেকে বর্ণিত।(১৮৬) ((তোমরা কি জানো এই কিতাব দুটি কী? এটি রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে একটি কিতাব, যাতে জান্নাতবাসীদের নাম, তাদের পিতৃপুরুষদের নাম ও তাদের গোত্রের নাম রয়েছে। এরপর তাদের সর্বশেষ ব্যক্তির হিসাব পূর্ণ করা হয়েছে; এতে আর কখনো বাড়ানো হবে না এবং কমানোও হবে না। আর এটি রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে একটি কিতাব, যাতে জাহান্নামীদের নাম, তাদের পিতৃপুরুষদের নাম ও তাদের গোত্রের নাম রয়েছে। এরপর তাদের সর্বশেষ ব্যক্তির হিসাব পূর্ণ করা হয়েছে; এতে আর কখনো বাড়ানো হবে না এবং কমানোও হবে না। সুতরাং তোমরা সঠিক পথে থাকো এবং সঠিক পথের নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা করো। কেননা জান্নাতবাসীর সমাপ্তি জান্নাতবাসীদের আমলের মাধ্যমেই ঘটবে, সে ইতিপূর্বে যা-ই আমল করুক না কেন। আর জাহান্নামীর সমাপ্তি জাহান্নামীদের আমলের মাধ্যমেই ঘটবে, সে যা-ই আমল করুক না কেন। তোমাদের রব বান্দাদের ফয়সালা থেকে অবসর হয়েছেন; এক দল জান্নাতে এবং এক দল প্রজ্বলিত অগ্নিতে (জাহান্নামে)।)) (আহমাদ, মুত্তাফাকুন আলাইহি, নাসায়ি) ইবনে আমর থেকে বর্ণিত।(১৮৭) ((তোমরা কি জানো মহান আল্লাহর ছায়ার দিকে কারা অগ্রগামী? তারা হলো সেই সব লোক, যাদেরকে যখন হক (পাওনা/অধিকার) দেওয়া হয় তারা তা গ্রহণ করে, আর যখন তাদের কাছে হক চাওয়া হয় তখন তারা তা প্রদান করে এবং মানুষের জন্য তেমন বিচারই করে যেমন বিচার তারা নিজেদের জন্য করে থাকে।)) (আহমাদ, আবু নুআইম - হিলয়াহ) আয়েশা থেকে বর্ণিত।(১৮৮) ((তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তোমরা জান্নাতবাসীদের এক-চতুর্থাংশ হবে? তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তোমরা জান্নাতবাসীদের এক-তৃতীয়াংশ হবে? তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তোমরা জান্নাতবাসীদের অর্ধেক হবে? মুসলিম সত্তা ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। মুশরিকদের তুলনায় তোমরা কালো ষাঁড়ের চামড়ায় একটি সাদা পশমের মতো অথবা লাল ষাঁড়ের চামড়ায় একটি কালো পশমের মতো।)) (আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ) ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ৩২)
(189) ((أتْرِعُوا الطُّسُوسَ وخالِفُوا المَجُوسَ)) (هَب خطّ فر) عَن ابْن عمر.(190) ((أتَرْعَونَ عنْ ذِكْرِ الفاجِرِ أنْ تَذْكُرُوهُ فاذْكُرُوهُ يَعْرِفْهُ النَّاس)) (خطّ) فِي رُوَاة مَالك عَن أبي هُرَيْرَة.(191) ((أتَرْعَونَ عَن ذِكْر الفاجِرِ مَتى يَعْرِفُهُ النَّاسُ أُذْكُرُوا الفاجرَ بِما فيهِ يَحْذَرْهُ النَّاسُ)) (ابْن أبي الدُّنْيا) ((فِي ذَمِّ الغِيبَةِ والحكيم فِي نَوادرِ الأصُولِ والحاكِمُ فِي الكنى والشيرازيُّ فِي الألقاب)) (عد طب هق خطّ) عَن بهز بن حَكِيم عَن أَبِيه عَن جده.(191) ((أتَرْعَونَ عَن ذِكْر الفاجِرِ مَتى يَعْرِفُهُ النَّاسُ أُذْكُرُوا الفاجرَ بِما فيهِ يَحْذَرْهُ النَّاسُ)) (ابْن أبي الدُّنْيا) ((فِي ذَمِّ الغِيبَةِ والحكيم فِي نَوادرِ الأصُولِ والحاكِمُ فِي الكنى والشيرازيُّ فِي الألقاب)) (عد طب هق خطّ) عَن بهز بن حَكِيم عَن أَبِيه عَن جده.(192) ((اتْرُكُوا التُّرْكَ مَا تَرَكُوكُمْ فإِنَّ أوَّلَ مَنْ يَسْلُبُ أمَّتِي مُلْكَهُمْ وَمَا خَوَّلُهُم الله بَنُو قَنْطُورَاءَ)) (طب) عَن ابْن مَسْعُود.(193) ((اتْرُكُوا الحَبَشَةَ مَا تَرَكُوكُمْ فإِنَّهُ لَا يَسْتَخْرجُ كَنْزَ الكَعْبَةِ إلاَّ ذُو السُّوَيْقَتَيْنِ مِنَ الحَبَشَةِ)) (د ك) عَن ابْن عمر.(194) ((اتْرُكُوا الدّنْيا لأهْلِهَا فإنَّهُ مَنْ أخَذَ مِنْهَا فَوْقَ مَا يَكْفيهِ أخَذَ مِنْ حتفِهِ وهُوَ لَا يَشْعُرُ)) (فر) عَن أنس.(195) (( (ز) اتْرُكُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ فإِذا حَدَّثْتُكُمْ فَخُذُوا عَنِّي فإنَّمَا هَلَكَ مَنْ كانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤالِهِمْ واخْتِلافِهِمْ على أنْبِيائِهِمْ)) (ت) عَن أبي هُرَيْرَة.(196) (( (ز) أتُرِيدُ أنْ تَكُونَ فَتَّاناً يَا مُعاذُ إِذا صَلَّيْتَ بالنَّاسِ فاقْرأْ بالشَّمْسِ وضُحاها وَسَبِّح اسْم رَبِّكَ الأعْلَى والليلِ إِذا يَغْش صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى واقْرأ باسمِ رَبِّكَ)) (هـ) عَن جَابر.(197) ((أتُرِيدُ أنْ تُميتَها موْتاتٍ هَلاَّ حَدَّدْتَ شَفْرَتَكَ قَبْلَ أنْ تُضْجِعَهَا)) (ك) عَن ابْن عَبَّاس.(198) (( (ز) أتَزْعُمُونَ أنِّي مِنْ آخِرِكُمْ وَفاةً أَلا وَإنِّي مِنْ أوَّلِكُمْ وَفَاةً وتَتَّبِعُونِي أفْناداً يَقْتُلُ بَعْضُكُمْ بَعْضاً)) (حم) عَن وَاثِلَة.(199) (( (ز) أتَسْمَعُونَ مَا أسْمَعُ؟ إنِّي لأسْمَعُ أطِيطَ السَّمَاءِ وَمَا تُلَامُ أَن تَئِطَّ وَمَا فِيهَا موضعُ شِبْرٍ إلاَّ وَعَلَيْهِ مَلَكٌ ساجدٌ أوْ قائِمُ)) (طب والضياء) عَن حَكِيم بن حزَام.(200) (( (ز) أتَعْلَمُ أوَّلُ زُمْرَةٍ تَدْخُلُ الجَنَّةَ مِنْ أمَّتِي فُقَراءُ المهاجِرِينَ يَأتُونَ يَوْمَ القِيامَةِ إِلَى بَاب الجَنَّةِ وَيَسْتَفْتِحُونَ فَيَقُولُ لَهُمُ الخَزَنَةُ أَو قَدْ حُوسِبْتُمْ قَالُوا بأيّ شَيْءٍ نُحَاسَبُ وإنَّمَا كانَتْ أسْيافُنا على عَوَاتِقِنَا فِي سَبِيلِ الله حَتَّى مُتْنَا على ذَلِكَ فَيُفْتَحُ لَهُمْ فَيَقِيلُونَ فِيها أرْبَعِينَ عَاما قَبْلَ أنْ يَدْخُلَها النَّاسُ)) (ك هَب) عَن ابْن عَمْرو.(201) ((إتَّقِ الله حَيْثُما كُنْتَ وأتَّبِعِ السَّيِّئَةَ الحَسَنَةَ تَمْحُها وخالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنِ)) (حم ت ك هَب) عَن أبي ذَر (حم ت هَب) عَن معَاذ (ابْن عَسَاكِر) عَن أنس. ((إتق الله فِي عسرك ويسرك)) (أَبُو قُرَّة الزبيدِيّ فِي سنَنه) عَن طليب بن عَرَفَة
(১৮৯) ((তোমরা পাত্রসমূহ পূর্ণ করো এবং অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো।)) (বাইহাকি, খাতীব, দাইলামি) ইবনে উমর থেকে বর্ণিত।(১৯০) ((তোমরা কি পাপাচারীর চর্চা করা থেকে বিরত থাকবে যে পাছে তার আলোচনা হয়ে যায়? তার আলোচনা করো যাতে মানুষ তাকে চিনতে পারে।)) (খাতীব) মালিকের বর্ণনাকারীদের সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(১৯১) ((তোমরা কি পাপাচারীর চর্চা করা থেকে বিরত থাকবে? মানুষ তাকে কখন চিনবে? পাপাচারীর মধ্যে যা (মন্দ গুণ) আছে তা উল্লেখ করো যাতে মানুষ তার থেকে সতর্ক হতে পারে।)) (ইবনুল আবিদ দুনিয়া 'গীবতের নিন্দা' অধ্যায়ে, হাকিম তিরমিজি 'নাওয়াদিরুল উসুল' গ্রন্থে, হাকিম 'আল-কুনা' গ্রন্থে এবং শিরাজী 'আল-আলকাব' গ্রন্থে; ইবনে আদি, তাবারানি, বাইহাকি, খাতীব) বাহজ বিন হাকিম তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।(১৯১) ((তোমরা কি পাপাচারীর চর্চা করা থেকে বিরত থাকবে? মানুষ তাকে কখন চিনবে? পাপাচারীর মধ্যে যা (মন্দ গুণ) আছে তা উল্লেখ করো যাতে মানুষ তার থেকে সতর্ক হতে পারে।)) (ইবনুল আবিদ দুনিয়া 'গীবতের নিন্দা' অধ্যায়ে, হাকিম তিরমিজি 'নাওয়adirুল উসুল' গ্রন্থে, হাকিম 'আল-কুনা' গ্রন্থে এবং শিরাজী 'আল-আলকাব' গ্রন্থে; ইবনে আদি, তাবারানি, বাইহাকি, খাতীব) বাহজ বিন হাকিম তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।(১৯২) ((তুর্কিরা যতক্ষণ তোমাদের ছেড়ে রাখে ততক্ষণ তোমরাও তাদের ছেড়ে দাও। কারণ আমার উম্মতের রাজত্ব এবং আল্লাহ তাদের যা কিছু দান করেছেন তা সর্বপ্রথম যারা ছিনিয়ে নেবে তারা হলো বনু কানতুরা।)) (তাবারানি) ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত।(১৯৩) ((হাবশিরা (আবিসিনীয়) যতক্ষণ তোমাদের ছেড়ে রাখে ততক্ষণ তোমরাও তাদের ছেড়ে দাও। কেননা হাবশিদের মধ্য থেকে চিকন দুই নলাবিশিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ কাবার গুপ্তধন বের করবে না।)) (আবু দাউদ, হাকিম) ইবনে উমর থেকে বর্ণিত।(১৯৪) ((তোমরা দুনিয়াকে দুনিয়াদারদের জন্য ছেড়ে দাও। কারণ যে ব্যক্তি দুনিয়া থেকে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করে, সে নিজের অজান্তেই নিজের ধ্বংসকে গ্রহণ করে।)) (দাইলামি) আনাস থেকে বর্ণিত।(১৯৫) ((আমি তোমাদের যে অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছি সে অবস্থায় আমাকে থাকতে দাও। আমি যখন তোমাদের নিকট কোনো কথা বর্ণনা করব তখন তা গ্রহণ করো। কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবীদের অধিক প্রশ্ন করা এবং নবীদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে।)) (তিরমিজি) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(১৯৬) ((হে মুয়াজ! তুমি কি ফিতনাকারী হতে চাও? তুমি যখন মানুষকে নিয়ে নামাজ পড়বে তখন সূরা আশ-শামস, সূরা আল-আলা, সূরা আল-লাইল এবং সূরা আল-আলাক পাঠ করবে।)) (ইবনে মাজাহ) জাবির থেকে বর্ণিত।(১৯৭) ((তুমি কি তাকে কয়েকবার মৃত্যু দিতে চাও? তাকে শোয়ানোর আগেই কেন তুমি তোমার ছুরি ধার করে নিলে না?)) (হাকিম) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।(১৯৮) ((তোমরা কি ধারণা করো যে, তোমাদের মধ্যে আমিই সবার শেষে মৃত্যুবরণ করব? জেনে রেখো, আমিই তোমাদের মধ্যে সবার আগে মৃত্যুবরণ করব এবং তোমরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে আমাকে অনুসরণ করবে, যেখানে তোমরা একে অপরকে হত্যা করবে।)) (আহমাদ) ওয়াসিলা থেকে বর্ণিত।(১৯৯) ((আমি যা শুনি তোমরা কি তা শুনতে পাও? আমি আসমানের ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ শুনতে পাচ্ছি এবং আসমানের জন্য এমন শব্দ করাটা স্বাভাবিক। আসমানে এক বিঘত পরিমাণ জায়গাও খালি নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা সিজদাবনত অথবা দণ্ডায়মান অবস্থায় নেই।)) (তাবারানি এবং আদ-দিয়া) হাকিম ইবনে হিযাম থেকে বর্ণিত।(২০০) ((তুমি কি জানো আমার উম্মতের মধ্যে কোন দলটি সবার আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে? তারা হলো দরিদ্র মুহাজিরগণ। কিয়ামতের দিন তারা জান্নাতের দরজায় এসে তা খোলার জন্য বলবে। তখন জান্নাতের রক্ষীরা তাদের বলবে, 'আপনাদের কি হিসাব হয়ে গেছে?' তারা বলবে, 'আমাদের কিসের হিসাব নেওয়া হবে? আমাদের তরবারিগুলো তো আল্লাহর রাস্তায় আমাদের কাঁধে ছিল যতক্ষণ না আমরা এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছি।' এরপর তাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং অন্যান্য মানুষ প্রবেশের চল্লিশ বছর আগেই তারা সেখানে বিশ্রাম নেবে।)) (হাকিম, বাইহাকি) ইবনে আমর থেকে বর্ণিত।(২০১) ((তুমি যেখানেই থাকো না কেন আল্লাহকে ভয় করো। কোনো মন্দ কাজের পর একটি ভালো কাজ করো, যা মন্দ কাজটিকে মুছে দেবে। আর মানুষের সাথে উত্তম আচরণের মাধ্যমে মেলামেশা করো।)) (আহমাদ, তিরমিজি, হাকিম, বাইহাকি) আবু যার থেকে বর্ণিত। (আহমাদ, তিরমিজি, বাইহাকি) মুয়াজ থেকে বর্ণিত। (ইবনে আসাকির) আনাস থেকে বর্ণিত। ((তোমার অভাব এবং সচ্ছলতা উভয় অবস্থায় আল্লাহকে ভয় করো।)) (আবু কুররাহ আজ-জুবাইদি তার সুনান গ্রন্থে) তুলাইব ইবনে আরাফাহ থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
(201) ((إتَّقِ الله حَيْثُما كُنْتَ وأتَّبِعِ السَّيِّئَةَ الحَسَنَةَ تَمْحُها وخالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنِ)) (حم ت ك هَب) عَن أبي ذَر (حم ت هَب) عَن معَاذ (ابْن عَسَاكِر) عَن أنس. ((إتق الله فِي عسرك ويسرك)) (أَبُو قُرَّة الزبيدِيّ فِي سنَنه) عَن طليب بن عَرَفَة(202) ((اتَّقِ الله فِيما تَعْلَمُ)) (تخ ت) عَن زيدبن سَلمَة الْجعْفِيّ.(203) (( (ز) اتَّقِ الله وأقِمِ الصَّلَاةَ وآتِ الزَّكَاةَ وحُجَّ البيتَ واعْتَمِر وَبِرَّ وَالِدَيْكَ وَصِلْ رَحِمَكَ واقْرِ الضَّيْفَ وأمُرْ بالمَعْرُوفِ وانْهَ عَن المُنْكَر وَزُلْ مَعَ الحَقِّ حَيْثُما زَالَ)) (طب) عَن مخول السّلمِيّ.(204) ((اتَّقِ الله وَلَا تَحْقِرَنَّ مِنَ المَعْرُوفِ شَيْئاً ولَوْ تُفْرِغَ مِنْ دَلْوِكَ فِي إناءِ المُسْتَسْقِي وأنْ تَلْق صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى أخاكَ وَوَجْهُكَ إلَيْهِ مُنْبَسِطٌ وإِيَّاكَ وإسْبالَ الإزارِ فإِنَّ إسْبالَ الإزَارِ مِنَ المَخِيلَةِ وَلَا يُحِبُّهَا الله وإنِ امْرُؤٌ شَتَمَكَ وعَيَّرَكَ بِأمْرٍ لَيْسَ هُوَ فِيكَ فَلَا تُعَيِّرْهُ بِأمْرٍ هُوَ فِيهِ ودَعْهُ يَكُونُ وَبَالُهُ عَلَيْه وأجْرُهُ لَكَ وَلَا تَسُبَّنَّ أحَداً)) (الطَّيَالِسِيّ حب) عَن جَابر بن سليم الهُجَيْمِي.(205) ((اتَّقِ الله يَا أَبَا الوَليدِ لَا تَأتِي يَوْمَ القِيامَةِ بِبَعيرٍ تَحْمِلُهُ وَلَهُ رُغَاءٌ أوْ بَقَرَةٍ لَها خُوَارٌ أوْ شاةٍ لَها ثُؤاجٌ)) (طب) عَن عبَادَة بن الصامِتِ.(206) ((اتَّقِ المَحَارِمَ تَكُنْ أعْبَدَ النَّاسِ وارْضَ بِمَا قَسَمَ الله لَكَ تَكُنْ أغْنى النَّاس وأحسِنْ إِلَى جَارك تَكُنْ مُؤمِناً وأحِبَّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ تَكُنْ مُسْلِماً وَلَا تُكْثِرِ الضَّحِك فإنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكَ تُميتُ القَلْبَ)) (حم ت هَب) عَن أبي هُرَيْرَة.(207) ((اتَّقِ دَعْوَةَ المَظْلُومِ فإنَّما يَسألُ الله تَعالَى حَقَّهُ وإنّ الله تَعَالَى لَنْ يَمْنَعَ ذَا حَقٍ حَقَّهُ)) (خطّ) عَن عَليّ.(208) (( (ز) اتَّقُوا أبْوابَ السُّلْطانِ وحَواشِيها فَإنَّ أقْرَبَ النَّاسِ منْها أبْعَدُهُمْ منَ الله ومنْ آثَرَ سُلْطاناً على الله جعَلَ الله الفِتْنَةَ فِي قَلْبِهِ ظاهِرَةً باطِنَةً وأذْهَبَ عَنْهُ الوَرَعَ وتَرَكه حَيْرانَ)) (الْحسن بن سُفْيَان فر) عَن ابْن عمر.(209) ((اتَّقُوا البَوْلَ فإنَّهُ أوَّلُ مَا يُحاسَبُ بِهِ العَبْدُ فِي القَبْرِ)) (طب) عَن أبي أُمَامَة.(210) ((إتَّقُوا الحَجَرَ الحَرَامَ فِي البُنْيانِ فإنَّهُ أساسُ الخَرَابِ)) (هَب) عَن ابْن عمر.(211) ((اتَّقُوا الحَدِيثَ عَنِّي إلاَّ مَا عَلِمْتُمْ فَمَنْ كَذَبَ عَليَّ متعمِّداً فليتَبَوَّأ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّار وَمن قَالَ فِي الْقُرْآن بِرَأْيهِ فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار)) (حم ت) عَن ابْن عَبَّاس.
(২০১) ((তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো, মন্দের পর ভালো কাজ করো যা তাকে মিটিয়ে দেবে এবং মানুষের সাথে উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে মেলামেশা করো।)) (আহমাদ, তিরমিযী, হাকীম, বায়হাকীর শুআবুল ঈমান) আবু যর থেকে বর্ণিত; (আহমাদ, তিরমিযী, বায়হাকীর শুআবুল ঈমান) মুআয থেকে বর্ণিত; (ইবনে আসাকির) আনাস থেকে বর্ণিত। ((তোমার স্বচ্ছলতা ও অস্বচ্ছলতা উভয় অবস্থায় আল্লাহকে ভয় করো।)) (আবু কুররাহ আয-যুবাইদী তাঁর সুনানে) ত্বলীব ইবনে আরাফাহ থেকে বর্ণিত।(২০২) ((তুমি যা জানো সে বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো।)) (আত-তারীখুল কাবীর, তিরমিযী) যায়দ ইবনে সালামাহ আল-জু’ফী থেকে বর্ণিত।(২০৩) ((আল্লাহকে ভয় করো, সালাত কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো, বাইতুল্লাহর হজ করো, উমরা করো, পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করো, মেহমানের আতিথেয়তা করো, সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজে নিষেধ করো এবং সত্য যেখানেই যায় তার সাথে থেকো।)) (তবারানী) মুখাওয়াল আস-সুলামী থেকে বর্ণিত।(২০৪) ((আল্লাহকে ভয় করো এবং কোনো ভালো কাজকেই তুচ্ছ জ্ঞান করো না, এমনকি তোমার বালতি থেকে পিপাসার্তের পাত্রে পানি ঢেলে দেওয়া হলেও। আর তোমার ভাইয়ের সাথে যখন দেখা হবে তখন হাস্যোজ্জ্বল মুখে মিলিত হওয়াও ভালো কাজ। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম১৬৪৮ - তোমার ভাইয়ের সাথে যখন দেখা হবে তখন তোমার চেহারা যেন হাস্যোজ্জ্বল থাকে। খবরদার! পরিধেয় বস্ত্র টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরো না, কারণ কাপড় ঝুলিয়ে পরা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত, আর আল্লাহ তা পছন্দ করেন না। যদি কোনো ব্যক্তি তোমাকে গালি দেয় বা এমন কোনো বিষয় নিয়ে লজ্জা দেয় যা তোমার মাঝে নেই, তবে তুমি তাকে এমন কোনো বিষয় নিয়ে লজ্জা দিও না যা তার মাঝে আছে; বরং তুমি তাকে ছেড়ে দাও, এর কুফল তার ওপরই বর্তাবে এবং এর সওয়াব তোমার হবে। আর কখনো কাউকে গালি দিও না।)) (ত্বায়ালিসী, ইবনে হিব্বান) জাবির ইবনে সুলাইম আল-হুজাইমী থেকে বর্ণিত।(২০৫) ((হে আবুল ওয়ালিদ! আল্লাহকে ভয় করো। কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হয়ো না যে, তুমি তোমার ঘাড়ে চিৎকাররত উট অথবা হাম্বা হাম্বা করা গরু অথবা ভ্যা ভ্যা করা বকরি বহন করছো।)) (তবারানী) উবাদাহ ইবনে সামিত থেকে বর্ণিত।(২০৬) ((নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, তাহলে তুমি হবে মানুষের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী। আল্লাহ তোমার জন্য যা বণ্টন করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকো, তাহলে তুমি হবে মানুষের মাঝে সবচেয়ে ধনী। প্রতিবেশীর প্রতি ইহসান করো, তাহলে তুমি মুমিন হতে পারবে। নিজের জন্য যা পছন্দ করো মানুষের জন্যও তাই পছন্দ করো, তাহলে তুমি মুসলিম হতে পারবে। আর অধিক হেসো না, কেননা অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে মৃত করে দেয়।)) (আহমাদ, তিরমিযী, বায়হাকীর শুআবুল ঈমান) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(২০৭) ((মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করো। কেননা সে আল্লাহর কাছে তার অধিকার প্রার্থনা করে, আর মহান আল্লাহ কোনো অধিকারবঞ্চিত ব্যক্তিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন না।)) (খাতীব আল-বাগদাদী) আলী থেকে বর্ণিত।(২০৮) ((তোমরা সুলতান বা শাসকদের দরবার এবং তার আশপাশ থেকে বেঁচে থাকো। কেননা যে ব্যক্তি এর যত নিকটবর্তী হবে সে আল্লাহর থেকে তত বেশি দূরবর্তী হবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর সুলতানকে প্রাধান্য দেবে, আল্লাহ তার অন্তরের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সবখানে ফিতনা সৃষ্টি করে দেবেন এবং তার থেকে পরহেজগারী ছিনিয়ে নেবেন এবং তাকে বিভ্রান্ত অবস্থায় ছেড়ে দেবেন।)) (হাসান ইবনে সুফিয়ান, দায়লামী) ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত।(২০৯) ((পেশাব থেকে বেঁচে থাকো (পবিত্রতা অর্জন করো), কেননা কবরে বান্দার সর্বপ্রথম এই বিষয়েই হিসাব নেওয়া হবে।)) (তবারানী) আবু উমামাহ থেকে বর্ণিত।(২১০) ((নির্মাণ কাজে হারাম পাথর ব্যবহার করা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ এটি ধ্বংসের ভিত্তি।)) (বায়হাকীর শুআবুল ঈমান) ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত।(২১১) ((তোমরা আমার পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো, কেবল সেটুকুই বলো যা তোমরা জানো। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি নিজের মতানুসারে কুরআনের ব্যাখ্যা দেবে সেও যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।)) (আহমাদ, তিরমিযী) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
(212) ((إتَّقُوا الدُّنْيا فَوالذي نَفْسِي بِيَدِهِ إنَّهَا لأسْحَرُ مِنَ هارُوتَ ومارُوتَ)) (الْحَكِيم) عَن عبد الله بن بسر الْمَازِني.(213) ((إتَّقُوا الدُّنْيا واتَّقُوا النِّساءَ فإنَّ إِبْلِيس طَلاَّعٌ رَصَّادٌ وَمَا هُوَ بِشَيءٍ مِنْ فخُوخهِ بأوثَقَ لِصَيْدِهِ فِي الأتْقِياءِ مِنَ النِّساءِ)) (فر) عَن معَاذ.(214) ((إتَّقُوا الظُّلْمَ فإنَّ الظُّلْمَ ظُلُماتٌ يَوْمَ القِيَامَةِ)) (حم طب هَب) عَن ابْن عمر.(215) ((اتَّقُوا الظُّلْمَ فإنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ القِيامَةِ واتَّقُوا الشُّحَّ فإِن الشُّحَّ أهْلَكَ مَنْ كانَ قَبْلَكُمْ وحَمَلَهُمْ على أَن سَفَكُوا دِماءَهُمْ واسْتَحَلُّوا مَحَارِمَهُمْ)) (حم خد م) عَن جَابر.(216) ((اتَّقُوا القَدَرَ فإِنَّهُ شُعْبَةٌ مِنَ النَّصْرَانِيةِ)) . ابْن أبي عَاصِم (طب عد) عَن ابْن عَبَّاس.(217) ((إتَّقُوا الله فإنَّ إخْوانَكُمْ عِنْدَنا منْ طَلَبَ العَمَلَ)) (طب) عَن أبي مُوسَى.(218) ((إتَّقُوا الله فِي البَهائِمِ المُعْجَمَةِ فارْكَبُوها صالِحَةً وَكُلُوهَا صالِحَةً)) (حم ر) وَابْن خُزَيْمَة (حب) عَن سهل بن الحَنْظَلِيَّةِ.(219) ((اتَّقُوا الله فِي الصَّلَاةِ اتَّقُوا الله فِي الصَّلَاةِ اتَّقُوا الله فِي الصّلاة اتّقُوا الله فِيما مَلَكَتْ أيمانُكُمْ اتَّقوا الله فِيما مَلَكَتْ أيمانُكُمْ. اتّقُوا الله فِي الضَّعِيفَيْنِ المَرْأةِ الأرْمَلَةِ والصَّبِيِّ اليَتِيمِ)) (هَب) عَن أنس.(220) ((إتَّقُوا الله فِي الصَّلَاةِ وَمَا مَلَكَتْ أيْمانُكُمْ)) (خطّ) عَن أم سَلمَة.(221) ((اتَّقُوا الله فِي الضَّعيفَينِ المَمْلُوكِ والمَرأةِ)) (ابْن عَسَاكِر) عَن ابْن عمر.(222) ((اتَّقُوا الله فِيمَا مَلَكَتْ أيْمانُكُمْ)) (خد) عَن عَلِيّ.(223) ((اتَّقُوا الله وأصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِكُمْ فإِنَّ الله تَعَالَى يُصْلِحُ بَيْنَ المُؤمِنِينَ يَومَ القيامَةِ)) (ع ك) عَن أنس.(224) ((اتَّقُوا الله واعدِلُوا بَيْنَ أوْلادكُمْ كَمَا تُحِبُّونَ أنْ يَبَرُّوكُمْ)) (طب) عَن النعْمان بن بَشيرٍ.(225) ((اتَّقوا الله واعدِلُوا فِي أولادِكُمْ)) (ق) عَن النُّعْمَان بن بشير.
(২১২) "তোমরা দুনিয়া থেকে বেঁচে থাকো; কারণ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি, নিশ্চয় এটি হারুত ও মারুতের চেয়েও বেশি জাদুকরী।" (আল-হাকিম আত-তিরমিজি) আবদুল্লাহ ইবনে বুসর আল-মাযিনি থেকে বর্ণিত।(২১৩) "তোমরা দুনিয়া থেকে বেঁচে থাকো এবং নারীদের (ফিতনা) থেকে বেঁচে থাকো। কেননা ইবলিস ওঁত পেতে পর্যবেক্ষণকারী; আর মুত্তাকীদের শিকার করার জন্য নারীদের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য তার অন্য কোনো ফাঁদ নেই।" (আদ-দাইলামি) মুয়ায থেকে বর্ণিত।(২১৪) "তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো, কেননা জুলুম কিয়ামতের দিন ঘোর অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে।" (আহমাদ, তাবারানি ও বায়হাকি) ইবনে উমর থেকে বর্ণিত।(২১৫) "তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো, কেননা জুলুম কিয়ামতের দিন ঘোর অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে। আর কৃপণতা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ কৃপণতা তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে এবং তাদের রক্তপাতে লিপ্ত হতে ও নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে হালাল করে নিতে প্ররোচিত করেছে।" (আহমাদ, বুখারি—আল-আদাবুল মুফরাদ ও মুসলিম) জাবির থেকে বর্ণিত।(২১৬) "তোমরা কদর (তাকদির অস্বীকার করা) থেকে বেঁচে থাকো, কেননা তা খ্রিস্টধর্মের একটি শাখা।" ইবনে আবি আসিম, (তাবারানি ও ইবনে আদি) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।(২১৭) "তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আমাদের কাছে তোমাদের সেই ভাইয়েরাই (গুরুত্বপূর্ণ) যারা দায়িত্ব প্রার্থনা করেছে।" (তাবারানি) আবু মুসা থেকে বর্ণিত।(২১৮) "তোমরা এই অবলা পশুদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো; সুস্থ অবস্থায় এগুলোতে আরোহণ করো এবং সুস্থ অবস্থায় এগুলোকে আহার করো।" (আহমাদ ও আবু দাউদ), ইবনে খুজাইমা ও (ইবনে হিব্বান) সাহল ইবনে হানজালিয়্যাহ থেকে বর্ণিত।(২১৯) "সালাতের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো, সালাতের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো, সালাতের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো। তোমাদের অধীনস্তদের (দাস-দাসী) বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো, তোমাদের অধীনস্তদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো। দুই দুর্বল শ্রেণির ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো: বিধবা নারী এবং এতিম শিশু।" (বায়হাকি) আনাস থেকে বর্ণিত।(২২০) "সালাত এবং তোমাদের অধীনস্তদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।" (খতিব বাগদাদী) উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত।(২২১) "দুই দুর্বল শ্রেণির ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো: অধীনস্ত (দাস) এবং নারী।" (ইবনে আসাকির) ইবনে উমর থেকে বর্ণিত।(২২২) "তোমাদের অধীনস্তদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।" (বুখারি—আল-আদাবুল মুফরাদ) আলী থেকে বর্ণিত।(২২৩) "তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যকার বিবাদ মীমাংসা করো; কেননা আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন মুমিনদের মাঝে মীমাংসা করে দেবেন।" (আবু ইয়ালা ও হাকিম) আনাস থেকে বর্ণিত।(২২৪) "তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করো, যেমন তোমরা পছন্দ করো যে তারা তোমাদের প্রতি সদাচরণ করুক।" (তাবারানি) নুমান ইবনে বাশির থেকে বর্ণিত।(২২৫) "তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করো।" (বুখারি ও মুসলিম) নুমান ইবনে বাশির থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
(226) ((اتَّقوا الله وَصِلُوا أرْحامَكُمْ)) (ابْن عَسَاكِر) عَن ابْن مَسْعُود.(227) (( (ز) اتَّقُوا الله وَصِلُوا الأرْحَام فإنَّهُ أبْق صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى لَكُمْ فِي الدُّنْيا وخَيْرٌ لَكُمْ فِي الآخِرةِ)) (عبد بن حميد وَابْن جرير فِي تفسيرهما) عَن قَتَادَة مُرْسلا.(228) ((اتَّقوا الله وَصَلُّوا خَمْسَكمْ وَصُومُوا شَهْرَكُمْ وأدُّوا زَكاةَ أمْوَالِكُمْ طَيِّبَةً بِها أنْفُسُكُمْ وأطِيعُوا ذَا أمْركُمْ تَدْخُلوا جَنَّةَ رَبِّكُمْ)) (ت حب ك) عَن أبي أُمَامَة.(229) ((اتَّقُوا اللاعِنينِ الَّذِي يَتَخَلَّى فِي طَريقِ النَّاسِ أوْ فِي ظِلِّهِمْ)) (حم م د) عَن أبي هُرَيْرَة.(230) ((إتَّقُوا المجْذُومَ كَمَا يُتَّق صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى الأسْدُ)) (تخ) عَن أبي هُرَيْرَة.(231) ((اتَّقُوا المَلاعِنَ الثَّلاثَ البِرَازَ فِي المَوارِدِ وقارِعَةِ الطَّرِيقِ والظِّلِّ)) (د هـ ك هق) عَن معَاذ.(232) ((اتَّقوا المَلاعِنَ الثَّلاثَ أنْ يَقْعُدَ أحدُكُمْ فِي ظِلَ يُسْتَظلُّ فِيهِ أوْ فِي طَريقٍ أوْ فِي نَقْعِ مَاء)) (حم) عَن ابْن عَبَّاس.(233) ((اتَّقُوا النَّارَ ولوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ)) (ق ن) عَن عدي بن حَاتِم (حم) عَن عَائِشَة (طس) والضياءُ عَن أنس (الْبَزَّار) عَن النُّعْمَان بن بشير وَعَن أبي هُرَيْرَة (طب) عَن ابْن عَبَّاس وَعَن أبي أُمَامَة.(234) ((اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ فإنْ لَمْ تَجِدُوا فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ)) (حم ق) عَن عدي.(235) (( (ز) اتَّقُوا النَّارَ ولَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ فإنَّهَا تُقِيمُ المُعْوَجَّ وتَقَعُ مِنَ الجائِعِ مَا تَقَعُ مِنَ الشَّبْعانِ)) (الْبَزَّار) عَن أبي بكر.(236) ((إتَّقُوا بَيْتاً يُقَالُ لَهُ الحَمَّامُ فَمَنْ دَخَلَهُ فَلْيَسْتَتِرْ)) (طب ك هَب) عَن ابْن عَبَّاس.(237) ((اتَّقُوا خُدَاجَ الصَّلاةِ إِذا رَكَعَ الإمامُ فاركَعُوا وَإِذا رَفَعَ فارفَعُوا)) (حم) عَن أبي سعيد (طس) عَن أبي هُرَيْرَة.(238) ((اتَّقُوا دَعْوَة المَظْلُومِ فَإنَّهَا تُحْمَلُ على الغَمامِ يَقُولُ الله وعزَّتِي وَجَلالِي لأنْصُرَنَّكِ وَلَوْ بَعْدَ حِينٍ)) (طب) والضياءُ عنْ خُزَيْمَة بن ثَابت.
(২২৬) ((তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো)) (ইবনে আসাকির) ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত।(২২৭) (( (য) তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো, কেননা তা তোমাদের জন্য দুনিয়ায় অধিক স্থায়িত্বকারী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১৬৪৮ - এবং আখেরাতে তোমাদের জন্য কল্যাণকর)) (আব্দ বিন হুমাইদ এবং ইবনে জারীর তাঁদের তাফসীর গ্রন্থে) কাতাদাহ থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত।(২২৮) ((তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তোমাদের পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করো, তোমাদের (রমজান) মাসে রোজা রাখো, তোমাদের সম্পদের জাকাত সানন্দ চিত্তে প্রদান করো এবং তোমাদের কর্তৃপক্ষের আনুগত্য করো; তবে তোমরা তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ করবে)) (তিরমিযী, ইবনে হিব্বান, হাকেম) আবু উমামাহ থেকে বর্ণিত।(২২৯) ((তোমরা সেই দুই অভিশাপ উদ্রেককারী কাজ থেকে বেঁচে থাকো: যে মানুষের চলাচলের পথে অথবা তাদের ছায়ায় মলত্যাগ করে)) (আহমাদ, মুসলিম, আবু দাউদ) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(২৩০) ((তোমরা কুষ্ঠরোগী থেকে এমনভাবে দূরে থাকো যেভাবে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১৬৪৮ - সিংহ থেকে দূরে থাকা হয়)) (বুখারীর আত-তারীখ) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(২৩১) ((তোমরা অভিশাপের তিনটি স্থান থেকে বেঁচে থাকো: পানির ঘাটে, রাস্তার মাঝখানে এবং ছায়ায় মলত্যাগ করা)) (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, হাকেম, বায়হাকী) মুয়াজ থেকে বর্ণিত।(২৩২) ((তোমরা অভিশাপের তিনটি কাজ থেকে বেঁচে থাকো: তোমাদের কারো এমন ছায়ায় বসা (মলত্যাগ করা) যা মানুষ ছায়া হিসেবে ব্যবহার করে, অথবা রাস্তায়, অথবা পানি জমা হওয়ার স্থানে)) (আহমাদ) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।(২৩৩) ((তোমরা জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকো, যদিও তা একটি খেজুরের অর্ধেক দিয়ে (সদকা করে) হয়)) (বুখারী ও মুসলিম, নাসায়ী) আদি ইবনে হাতিম থেকে, (আহমাদ) আয়েশা থেকে, (তাবরানী আল-আওসাত) ও যিয়া আল-মাকদিসী আনাস থেকে, (বাযযার) নুমান ইবনে বশীর ও আবু হুরায়রা থেকে, (তাবরানী আল-কাবীর) ইবনে আব্বাস ও আবু উমামাহ থেকে বর্ণিত।(২৩৪) ((তোমরা জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকো, যদিও তা খেজুরের একটি টুকরো দিয়ে হয়। আর যদি তা না পাও, তবে একটি উত্তম কথার মাধ্যমে)) (আহমাদ, বুখারী ও মুসলিম) আদি থেকে বর্ণিত।(২৩৫) (( (য) তোমরা জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকো, যদিও তা একটি খেজুরের অর্ধেক দিয়ে হয়। কেননা তা বক্রতাকে সোজা করে এবং ক্ষুধার্তের জন্য তা-ই করে যা তৃপ্ত ব্যক্তির জন্য করে)) (বাযযার) আবু বকর থেকে বর্ণিত।(২৩৬) ((তোমরা 'হামাম' (গণস্নানাগার) নামক ঘরটি থেকে বেঁচে থাকো। আর যে সেখানে প্রবেশ করে সে যেন অবশ্যই পর্দা অবলম্বন করে)) (তাবরানী আল-কাবীর, হাকেম, বায়হাকী শুয়াবুল ঈমান) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।(২৩৭) ((তোমরা সালাতের অসম্পূর্ণতা থেকে বেঁচে থাকো। যখন ইমাম রুকু করেন তখন তোমরা রুকু করো এবং যখন তিনি মাথা তোলেন তখন তোমরা মাথা তোলো)) (আহমাদ) আবু সাঈদ থেকে, (তাবরানী আল-আওসাত) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(২৩৮) ((তোমরা মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করো, কেননা তা মেঘমালার ওপর বহন করা হয়। আল্লাহ বলেন: 'আমার মর্যাদা ও প্রতাপের কসম! আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব, যদিও তা কিছুকাল পরে হয়')) (তাবরানী আল-কাবীর) ও যিয়া আল-মাকদিসী খুযাইমাহ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
(239) ((اتَّقوا دَعْوَةَ المَظْلُومِ فإنَّها تَصْعَدُ إِلَى السَّمَاءِ كأنَّها شَرَارَة)) (ك) عَن ابْن عمر.(240) ((اتَّقوا دَعْوَةَ المَظْلُومِ وإنْ كانَ كافِراً فإنَّهُ لَيْسَ دُونَها حِجابٌ)) (حم ع) والضياءُ عَن أنس.(241) ((اتَّقُوا زلَّةَ العَالِمِ وانْتَظِرُوا فَيْئَتَهُ)) (الْحلْوانِي عد هق) عَن كثير بن عبد اللهبن عَمْرو بن عَوْف عَن أَبِيه عَن جده.(242) ((اتَّقوا صاحِبَ الجُذامِ كَما يُتَّقى السَّبُعُ إِذا هَبَطَ وَاديا فاهبِطُوا غَيْرَهُ)) (ابْن سعد) عَن عبد الله بن جَعْفَر.(243) ((اتَّقُوا فِرَاسَةَ المُؤمِن فإنَّه يَنْظُرُ بِنُورِ الله عز وجل) (تخ ت) عَن أبي سعيد (الْحَكِيم وسمويه طب عد) عَن أبي أُمَامَة (ابْن جرير) عَن ابْن عمر.(244) ((اتَّقُوا مَحاشَّ النِّساءِ)) (سمويه عد) عَن جَابر.(245) ((اتَّقُوا هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذِهِ المَذَابِحَ يَعْنِي المَحَاريبَ)) (طب هق) عَن ابْن عَمْرو.(246) ((اتَّقي الله يَا فاطِمَةُ وأدِّي فرِيضَةَ رَبِّك واعْمَلِي عَمَلَ أهْلِكِ وإذَا أخَذْتِ مَضْجَعَكِ فَسَبِّحِي ثَلَاثًا وثلاثِينَ واحْمِدي ثَلاثاً وَثَلَاثِينَ وكَبِّرِي أرْبَعاً وثلاثِينَ فَتِلْكَ مائَةٌ فَهِيَ خَيْرٌ لَك من خادِمٍ)) (د) عَن عَليّ.(247) ((أتِمُّوا الرُّكُوعَ والسُّجُودَ فَوالَّذِي نَفْسي بِيَدِهِ إِنِّي لأرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي إِذا رَكَعْتُمْ وَإِذا سَجَدْتُمْ)) (حم ق ن) عنْ أنَسٍ.(248) ((أتِمُّوا الصَّفَّ المُقَدَّمُ ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ فَما كانَ مِنْ نَقْصٍ فَلْيَكُنْ منَ الصَّفِّ المُؤخَّرِ)) (حم د ن حب) وَابْن خُزَيْمَة والضياءُ عَن أنس.(249) ((أتِمُّوا الصُّفُوفَ فإنِّي أرَاكُمْ خَلْفَ ظَهْري)) (م) عنْ أنس.(250) ((أتِمُّوا الوُضُوءَ وَيْلٌ للأعْقَابِ مِنَ النَّارِ)) (هـ) عَن خَالِد بن الْوَلِيد وَيزِيد بن أبي سُفْيَان وشرحبيل بن حَسَنَة وعمروبن الْعَاصِ.(251) (( (ز) أُتِي الله عز وجل بِعَبْدٍ مِنْ عبادِهِ آتاهُ الله مَالا فَقَالَ لهُ مَاذَا عَملْتَ فِي الدُّنْيا فَقَالَ مَا عمِلْتُ مِنْ شَيْءٍ يَا رَبِّ إلاَّ أنَّكَ آتَيْتَنِي مَالا فَكُنْتُ أبايِعُ النَّاسَ وَكَانَ مِنْ خُلُقِي أنْ أُيَسِّرَ على المُوسِرِ وأُنْظِرَ المُعْسِرَ قالَ الله تَعَالَى أَنا أحَقُّ بِذَلِكَ مِنْكَ تجاوَزُوا عنْ عَبْدِي)) (ك) عَن حُذَيْفَة وَعقبَة بن عَامر وَأبي مَسْعُود الْأنْصَارِيّ.
(২৩৯) ((মজলুমের (অত্যাচারিতের) বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা আগুনের স্ফুলিঙ্গের মতো আকাশের দিকে উঠে যায়)) (হাকেম), ইবনে উমর থেকে বর্ণিত।(২৪০) ((মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো, যদিও সে কাফের হয়; কারণ এর মাঝে কোনো পর্দা নেই)) (আহমদ, আবু ইয়ালা) এবং জিয়া, আনাস থেকে বর্ণিত।(২৪১) ((তোমরা আলেমের পদস্খলন থেকে বেঁচে থাকো এবং তার (সত্যের দিকে) প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা করো)) (হালওয়ানি, ইবনে আদি, বায়হাকি), কাসীর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আউফ তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।(২৪২) ((কুষ্ঠরোগী থেকে এমনভাবে দূরে থাকো যেমনভাবে হিংস্র প্রাণী থেকে দূরে থাকা হয়; যদি সে কোনো উপত্যকায় নামে, তবে তোমরা অন্য উপত্যকায় নেমে পড়ো)) (ইবনে সাদ), আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে বর্ণিত।(২৪৩) ((তোমরা মুমিনের দূরদর্শিতা থেকে সতর্ক থাকো, কারণ সে মহান আল্লাহর নূর দিয়ে দেখে)) (বুখারি তাঁর তারিখে, তিরমিজি), আবু সাঈদ থেকে; (হাকিম তিরমিজি, সামুয়াইহ, তাবরানি, ইবনে আদি), আবু উমামা থেকে; (ইবনে জারীর), ইবনে উমর থেকে বর্ণিত।(২৪৪) ((তোমরা নারীদের মলদ্বার (ব্যবহার) থেকে বেঁচে থাকো)) (সামুয়াইহ, ইবনে আদি), জাবির থেকে বর্ণিত।(২৪৫) ((তোমরা এই সকল জবাইগাহ অর্থাৎ মিহরাবসমূহ থেকে বেঁচে থাকো)) (তাবরানি, বায়হাকি), ইবনে আমর থেকে বর্ণিত।১৬৪৮ - ; (২৪৬) ((হে ফাতেমা! তুমি আল্লাহকে ভয় করো, তোমার রবের ফরজসমূহ আদায় করো এবং তোমার পরিবারের কাজ করো। আর যখন তুমি বিছানায় যাবে, তখন তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং চৌত্রিশ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে—এ হলো পূর্ণ একশ; যা তোমার জন্য একজন খাদেমের চেয়েও উত্তম)) (আবু দাউদ), আলী থেকে বর্ণিত।(২৪৭) ((তোমরা রুকু ও সিজদা পূর্ণাঙ্গ করো। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতের মধ্যে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকে দেখতে পাই যখন তোমরা রুকু করো এবং যখন তোমরা সিজদা করো)) (আহমদ, বুখারি, মুসলিম, নাসায়ি), আনাস থেকে বর্ণিত।(২৪৮) ((তোমরা প্রথম কাতার পূর্ণ করো, তারপর তার পরেরটি। যদি কোনো অপূর্ণতা থাকে তবে তা যেন শেষ কাতারে থাকে)) (আহমদ, আবু দাউদ, নাসায়ি, ইবনে হিব্বান) এবং ইবনে খুজাইমা ও জিয়া, আনাস থেকে বর্ণিত।(২৪৯) ((তোমরা কাতারসমূহ পূর্ণ করো, কারণ নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকে দেখতে পাই)) (মুসলিম), আনাস থেকে বর্ণিত।(২৫০) ((তোমরা পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করো। (শুকনো থাকা) গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের আগুনের দুর্ভোগ রয়েছে)) (ইবনে মাজাহ), খালিদ ইবনে ওয়ালিদ, ইয়াজিদ ইবনে আবু সুফিয়ান, শুরাহবিল ইবনে হাসানা এবং আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত।(২৫১) ((আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে এমন এক বান্দাকে আনা হলো যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি দুনিয়াতে কী আমল করেছো? সে বলল: হে আমার রব! আমি তেমন কোনো আমল করিনি, তবে আপনি আমাকে সম্পদ দিয়েছিলেন আর আমি মানুষের সাথে ব্যবসা করতাম। আমার স্বভাব ছিল যে, আমি স্বচ্ছল ব্যক্তির প্রতি সহজ করতাম এবং অস্বচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ দিতাম। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: আমি তোমার চেয়েও এই গুণের অধিক হকদার; তোমরা আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দাও)) (হাকেম), হুজাইফা, উকবা ইবনে আমির এবং আবু মাসউদ আল-আনসারী থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
(252) (( (ز) إتيانُ النِّساءِ فِي أدْبارِهِنَّ حَرامٌ)) (ن) عَن خُزَيْمَة بن ثَابت.(253) (( (ز) أُتِي بإبراهيم يَوْمَ النارِ إِلَى النَّارِ فَلَمَّا أبْصَرَها قالَ حَسْبُنا الله وَنِعْمَ الوَكيلُ)) (حل) عَن أنس.(254) ((أُتِيتُ بالبُرَاقِ فَرَكِبْتُ أَنا وجِبْرِيلُ فسارَ بِنَا فَكَانَ إِذا أَتَى على جَبَلٍ ارتَفَعَتْ رِجْلاهُ وَإِذا هَبَطَ ارْتَفَعَتْ يَدَاهُ حَتَّى صارَ إِلَى أرْض غُمَّة مُنْتِنَةٍ ثُمَّ أفْضَيْنا إِلَى أرْضٍ فَيْحَاءَ طَيِّبَةٍ قُلْتُ يَا جِبْرِيلُ كُنَّا نَسِيرُ فِي أرْض غُمَّةٍ مُنْتِنَةٍ ثُمَّ إِلَى أرْضٍ فَيْحاءَ طَيِّبَةٍ فقالَ تِلْكَ أرْضُ النَّارِ وَه صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذِهِ أرْضُ الجَنَّةِ فأَتَيْتُ على رَجُلٍ وَهُوَ قائمٌ يُصَلِّي فَقَالَ مَنْ هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذَا مَعَكَ يَا جِبْرِيلُ قَالَ أخُوكَ مُحمَّدٌ فَرَحَّبَ وَدَعا لِي بالبَرَكَةِ وقالَ سَلْ لأُمَّتِكَ اليُسْرَ قُلْتُ مَنْ هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذَا يَا جِبْرِيلُ قالَ أخُوكَ مُوسى قُلْتُ على منْ كانَ صَوْتُهُ وتَذَمُّرُهُ أعَلَى رَبِّهِ قالَ نَعَمْ إنَّهُ يَعْرِفُ ذَلِكَ مِنْهُ وَحِدَّتَهُ ثُمَّ سِرْنا فَرَأيْنَا مَصَابِيحَ وضَوْءاً فَقُلْتُ مَا هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذَا يَا جِبْرِيلُ قالَ هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ذِهِ شَجَرَةُ أبِيكَ إبْراهِيمَ قُلْتُ أدْنُو منْها قالَ نَعَمْ فَدَنَوْنا مِنْهَا فَدَعا لِي بالبَرَكَةِ ورَحَّبَ بِي ثُمَّ مَضَيْنَا إِلَى بَيْتِ المَقْدِسِ فَرَبَطْتُ الدَّابَّةَ بالحَلْقَةِ الَّتي تَرْبِطُ بِها الأنْبِياءُ ثُمَّ دَخَلْتُ المَسْجِدَ ونُشِرَتْ لِيَ الأنْبِياءُ مَنْ سَمَّى الله فِي كِتابِه ومَنْ لَمْ يُسَمِّ فصَلَّيْتُ بِهِمْ إلاَّ هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ؤلاءِ النَّفَرَ الثَّلاثَةَ إبْراهِيمَ وَعيس صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى وموس صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى)) (البَزَّار طب ك) عَن ابْن مَسْعُود.(255) (( (ز) أُتِيتُ بالبُراق وهوَ دَابَّةٌ أبْيَضُ طَويلٌ فَوْقَ الحِمارِ ودونَ البَغْلِ يَضَعُ حافِرَهُ عندَ مُنْتَه صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى طَرْفِهِ فَرَكِبْتُهُ حَتَّى أتيتُ بَيْتَ المَقْدِسِ فَرَبَطْتُهُ بالحَلْقَةِ الَّتي ترْبِطُ بِها الأنْبِياءُ ثُمَّ دَخَلْتُ المَسْجِدَ فصَلَّيْتُ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثمَّ خَرَجْتُ فَجَاءَنِي جِبْرِيلُ بإناءٍ مِنْ خَمْرٍ وإِناءٍ مِنْ لَبَنٍ فاخْتَرْتُ اللَّبَنَ فَقَالَ جبْريلُ اخْتَرْتَ الفِطْرَةَ ثُمَّ عُرجَ بِنا إِلَى السَّماءِ فاسْتَفْتَحَ جبريلُ فقيلَ مَنْ أنْتَ قَالَ جِبْريلُ قيلَ ومَنْ مَعَكَ قَالَ محمَّدٌ قيلَ وَقد بُعِثَ إلَيه قَالَ قد بُعِثَ إِلَيْهِ فَفُتِحَ لَنَا فإذَا أَنا بآدَمَ فَرَحَّبَ بِي ودَعا لِي بخَيْرٍ ثُمَّ عُرِجَ بِنَا إِلَى السَّماءِ الثَّانِيَةِ فاسْتَفْتَحَ جبريلُ فَقيلَ مَنْ أنْتَ قَالَ جبريلُ قيلَ ومَنْ مَعَكَ قَالَ مُحمَّدٌ قيلَ وَقد بُعِثَ إِلَيْهِ قَالَ قد بُعِثَ إِلَيْهِ فَفُتِحَ لَنا فإذَا أَنا بابْنَي الخَالَةِ عيسَى ابْن مَرْيَمَ ويَحْيَى بنِ زَكَرِيَّا فَرَحَّبا بِي وَدَعوا لِي بَخَيْرٍ ثُمَّ عُرِجَ بِنا إِلَى السَّماءِ الثَّالِثَةِ فاسْتَفْتَحَ جِبْريلُ فَقيلَ مَنْ أنْتَ قَالَ جبريلُ قيلَ ومَنْ مَعَكَ قَالَ مُحمَّدٌ قيلَ وَقد بُعِثَ إليهِ قَالَ وَقد بعث إِلَيْهِ فَفُتِحَ لَنا فَإِذا أَنا بيُوسُفَ وَإِذا هوَ قد أُعْطيَ شَطْرَ الحُسْنِ فَرَحَّبَ بِي ودَعا لِي بِخَيْرٍ ثُمَّ عُرِجَ بِنا إِلَى السَّماءِ الرَّابِعَةِ فاسْتَفْتَحَ جبريلُ فقِيلَ مَنْ هَذَا قَالَ
(২৫২) (( (য) স্ত্রীদের পায়ুপথে মৈথুন করা হারাম)) (ন) খুজাইমাহ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণিত।(২৫৩) (( (য) অগ্নিকাণ্ডের দিনে ইবরাহিমকে যখন আগুনের কাছে আনা হলো, তিনি যখন তা দেখলেন তখন বললেন: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল (আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক))) (হি) আনাস থেকে বর্ণিত।(২৫৪) ((আমার কাছে বুরাক আনা হলো। আমি এবং জিবরাইল তাতে আরোহণ করলাম। সেটি আমাদের নিয়ে চলতে লাগল। যখন সেটি কোনো পাহাড়ের ওপর উঠত, তখন তার (পেছনের) দুই পা ওপরে উঠত এবং যখন নিচে নামত, তখন তার (সামনের) দুই হাত ওপরে উঠত। এমনকি আমরা এক দুর্গন্ধময় অন্ধকার ভূমিতে পৌঁছালাম। তারপর আমরা এক প্রশস্ত ও মনোরম ভূমিতে পৌঁছালাম। আমি বললাম, হে জিবরাইল! আমরা এক দুর্গন্ধময় অন্ধকার ভূমি দিয়ে আসলাম, এরপর এই প্রশস্ত মনোরম ভূমিতে আসলাম। তিনি বললেন, ওটি ছিল জাহান্নামের ভূমি এবং এটি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম১৬৪৮ - ; এটি জান্নাতের ভূমি। এরপর আমি এক ব্যক্তির কাছে আসলাম যিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তিনি বললেন, এই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম১৬৪৮ - ; ব্যক্তিটি আপনার সাথে কে, হে জিবরাইল? তিনি বললেন, ইনি আপনার ভাই মুহাম্মদ। তিনি আমাকে স্বাগত জানালেন এবং আমার জন্য বরকতের দোয়া করলেন। আর বললেন, আপনার উম্মতের জন্য সহজতা প্রার্থনা করুন। আমি বললাম, ইনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম১৬৪৮ - ; কে, হে জিবরাইল? তিনি বললেন, ইনি আপনার ভাই মুসা। আমি বললাম, কার উদ্দেশ্যে তাঁর এই উচ্চস্বর এবং অভিযোগ ছিল? তাঁর রবের ওপর? তিনি বললেন, হ্যাঁ; তিনি (আল্লাহ) তাঁর সেই স্বভাব এবং মেজাজের তীব্রতা সম্পর্কে অবগত। এরপর আমরা চললাম এবং কিছু প্রদীপ ও আলো দেখতে পেলাম। আমি বললাম, এগুলো সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম১৬৪৮ - ; কী, হে জিবরাইল? তিনি বললেন, এটি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম১৬৪৮ - ; আপনার পিতা ইবরাহিমের গাছ। আমি বললাম, আমি কি এর নিকটবর্তী হতে পারি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা সেটির নিকটবর্তী হলাম, তিনি আমার জন্য বরকতের দোয়া করলেন এবং আমাকে স্বাগত জানালেন। এরপর আমরা বায়তুল মাকদিসে গেলাম। আমি বাহনটিকে সেই কড়ার সাথে বাঁধলাম যার সাথে নবীগণ তাঁদের বাহন বাঁধতেন। এরপর আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং আমার জন্য সেই সব নবীদের সমবেত করা হলো যাদের নাম আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং যাদের নাম উল্লেখ করেননি। আমি তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করলাম, তবে এই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম১৬৪৮ - ; তিন ব্যক্তি ব্যতীত: ইবরাহিম, ঈসা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম১৬৪৮ - ; এবং মুসা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম১৬৪৮ - ; ।)) (বাযযার, তাবারানি, হাকেম) ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত।(২৫৫) (( (য) আমার কাছে বুরাক আনা হলো। সেটি সাদা রঙের একটি দীর্ঘাকৃতির জন্তু, গাধার চেয়ে বড় এবং খচ্চরের চেয়ে ছোট। সেটি তার দৃষ্টির শেষ সীমায় তার খুর ফেলে। আমি তাতে আরোহণ করলাম এবং বায়তুল মাকদিসে পৌঁছালাম। এরপর আমি সেটিকে সেই কড়ার সাথে বাঁধলাম যাতে নবীগণ তাঁদের বাহন বাঁধতেন। এরপর আমি মসজিদে প্রবেশ করে সেখানে দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম। তারপর বের হলাম। তখন জিবরাইল আমার কাছে একটি শরাবের পাত্র এবং একটি দুধের পাত্র নিয়ে এলেন। আমি দুধ বেছে নিলাম। জিবরাইল বললেন, আপনি ফিতরাত (স্বভাবজাত ধর্ম) বেছে নিয়েছেন। এরপর আমাদের আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো। জিবরাইল দরজা খোলার অনুরোধ করলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিবরাইল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হলো। সেখানে আমি আদমকে দেখতে পেলাম। তিনি আমাকে স্বাগত জানালেন এবং আমার জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন। এরপর আমাদের দ্বিতীয় আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো। জিবরাইল দরজা খোলার অনুরোধ করলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিবরাইল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হলো। সেখানে আমি দুই খালাতো ভাই ঈসা ইবনে মারইয়াম ও ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়াকে দেখতে পেলাম। তাঁরা আমাকে স্বাগত জানালেন এবং আমার জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন। এরপর আমাদের নিয়ে তৃতীয় আসমানে আরোহণ করা হলো। জিবরাইল দরজা খোলার অনুরোধ করলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিবরাইল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। আমাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হলো। সেখানে আমি ইউসুফকে দেখতে পেলাম। তাঁকে সৌন্দর্যের অর্ধেক দান করা হয়েছে। তিনি আমাকে স্বাগত জানালেন এবং আমার জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন। এরপর আমাদের নিয়ে চতুর্থ আসমানে আরোহণ করা হলো। জিবরাইল দরজা খোলার অনুরোধ করলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, ইনি কে? তিনি বললেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
جبريلُ قيلَ ومَنْ مَعَكَ قَالَ مُحمَّدٌ قيلَ وَقد بُعِثَ إِلَيْهِ قَالَ قد بُعِثَ إِلَيْهِ فَفُتِحَ لَنا فَإِذا أَنا بإِدْريسَ فَرَحَّبَ بِي ودَعا لِي بِخَيْرٍ قَالَ الله تَعَالَى {ورَفَعْناهُ مَكاناً عَلِيّاً} ثمَّ عُرِجَ بِنا إِلَى السَّماءِ الخَامِسَةِ فاسْتَفْتَحَ جبريلُ فقيلَ مَنْ هَذَا قَالَ جبريلُ قيلَ ومَنْ مَعَكَ قَالَ محمَّدٌ قيلَ وقدْ بُعِثَ إِلَيْهِ قَالَ قد بُعِثَ إِلَيْهِ فَفُتِحَ لَنا فَإِذا أَنا بهارُونَ فرَحَّبَ بِي ودَعا لِي بَخَيْرٍ ثمَّ عُرِجَ بِنا إِلَى السَّماءِ السّادِسَةِ فاسْتفْتَحَ جبريلُ فقِيلَ مَنْ هَذَا قَالَ جبريلُ قيلَ ومَنْ مَعَكَ قَالَ محمَّدٌ قيلَ قد بُعِثِ إِلَيْهِ قَالَ قد بُعِثَ إِلَيْهِ ففُتِحَ لنَا فَإِذا أَنا بمُوسَى فرَحَّبَ بِي ودَعا لي بِخَيْرٍ ثمَّ عُرِجَ بِنا إِلَى السَّماءِ السّابِعَةِ فاسْتَفْتَحَ جبريلُ فقِيلَ مَنْ هَذَا قَالَ جبريلُ قيلَ ومَنْ مَعَكَ قَالَ محمَّدٌ قيلَ وَقد بُعِثَ إِلَيْهِ قَالَ قد بُعِثَ إِلَيْهِ ففُتِحَ لَنا فَإِذا أَنا بإِبْراهيمَ مُسْنِداً ظهْرَهُ إِلَى البَيْتِ المَعْمُورِ وَإِذا هُوَ يَدْخُلُهُ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعُونَ ألْفَ مَلَك لَا يَعُودُونَ إِلَيْهِ ثُمَّ ذَهَبَ بِي إِلَى سِدْرَةِ المُنْتَه صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى وَإِذا وَرَقُهَا كآذانِ الفِيَلَةِ وَإِذا ثَمَرُها كالقِلَالِ فَلَمَّا غَشِيَها مِنْ أمْرِ الله مَا غَشِيَ تَغَيَّرتْ فَما أحَدٌ مِنْ خَلْق الله يَسْتَطِيعُ أنْ يَنْعَتَها مِنْ حُسْنِهَا فَأَوْح صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى الله إليَّ مَا أوْح صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى فَفَرَضَ عَلَيَّ خَمْسِينَ صَلَاةً فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَنَزَلْتُ إِلَى مُوس صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى فَقَالَ مَا فَرَضَ رَبُّكَ على أمَّتكَ قُلْتُ خَمْسِينَ صَلَاةً قَالَ ارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَسَلْهُ التَّخْفيفَ فإِنَّ أُمَّتكَ لَا تُطيقُ ذَلِك فإِنِّي قد بَلَوْتُ بَني اسْرائِيلَ وخَبَرْتُهُمْ فَرَجَعْتُ إِلَى رَبِّي فَقُلْتُ يَا رَبِّ خَفِّفْ عَنْ أُمَّتِي فَحَطَّ عَنِّي خَمْساً فَرَجَعْتُ إِلَى مُوس صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى فَقُلْتُ حَطَّ عَنِّي خَمْساً قَالَ إِنَّ أُمَّتكَ لَا يُطِيقُونَ ذَلِك فارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَسَلْهُ التَّخْفِيفَ فَلَمْ أزَلْ أرْجِعُ بَيْنَ رَبِّي وَبَيْنَ مُوس صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى حَتَّى قالَ يَا مُحَمَّدُ إنَّهُنَّ خَمْسُ صَلَوَاتٍ كُلَّ يَوْمٍ ولَيْلَةٍ لِكُلِّ صَلاةٍ عَشْرٌ فَذلك خَمْسُونَ صَلاةً ومَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْها كُتِبَتْ لَهُ حَسَنَةً فإِنْ عَمِلَها كُتِبَتْ لهُ عَشْراً ومَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْها لَمْ تُكْتَبْ شَيْئاً فإِنْ عَمِلَها كُتِبَتْ سَيِّئَةً واحِدَةً فَنَزَلْتُ حَتَّى انْتَهَيْتُ إِلَى مُوس صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى فأَخْبَرْتُهُ فَقَال ارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَسَلْهُ التَّخْفِيفَ فَقُلْتُ قد رَجَعْتُ إِلَى رَبِّي حَتَّى اسْتَحْيَيْتُ مِنْهُ)) (حم م) عَن أنسٍ.(256) (( (ز) أُتِيتُ بالبُراقِ وهوَ دَابَّةٌ أبْيَضُ طَويلٌ يَضَعُ حافِرَهُ عندَ مُنْتَه صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى طَرْفِهِ فَلَمْ نُزايِلْ ظَهْرَهُ أَنا وجبريلُ حَتَّى أتَيْتُ بَيْتَ المَقْدِس فَفُتِحَتْ لِي أبْوابُ السَّماءِ ورَأيْتُ الجَنَّةَ والنَّارَ)) (حم ع حب ك) والضِّيَاءُ عَن حُذَيْفَةَ.(257) ((أتِيتُ بِمَقالِيدِ الدُّنْيا على فَرَسٍ أبْلَقَ جاءَنِي بهِ جبريلُ عليه السلام عَلَيْهِ قَطِيفَةٌ مِنْ سُنْدُسٍ)) (حم حب) والضِّياءُ عَن جَابر.
জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দ্বার উন্মোচন করা হলো। সেখানে আমি ইদরিস (আলাইহিস সালাম)-কে দেখতে পেলাম। তিনি আমাকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দুআ করলেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আমি তাকে উচ্চস্থানে উন্নীত করেছি}। তারপর আমাদের নিয়ে পঞ্চম আসমানে আরোহণ করা হলো। জিবরাঈল দ্বার উন্মোচন করতে চাইলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, এ কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দ্বার উন্মোচন করা হলো। সেখানে আমি হারুন (আলাইহিস সালাম)-কে দেখতে পেলাম। তিনি আমাকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দুআ করলেন। তারপর আমাদের নিয়ে ষষ্ঠ আসমানে আরোহণ করা হলো। জিবরাঈল দ্বার উন্মোচন করতে চাইলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, এ কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দ্বার উন্মোচন করা হলো। সেখানে আমি মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে দেখতে পেলাম। তিনি আমাকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দুআ করলেন। তারপর আমাদের নিয়ে সপ্তম আসমানে আরোহণ করা হলো। জিবরাঈল দ্বার উন্মোচন করতে চাইলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, এ কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দ্বার উন্মোচন করা হলো। সেখানে আমি ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখতে পেলাম। তিনি বাইতুল মামুরে পিঠ হেলান দিয়ে বসে আছেন। প্রতিদিন সেখানে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন, যারা আর সেখানে পুনরায় ফিরে আসেন না। তারপর আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম1648 - ; -এ নিয়ে যাওয়া হলো। যার পাতাগুলো হাতির কানের মতো এবং ফলগুলো বড় মটকার মতো। যখন আল্লাহর নির্দেশে যা আচ্ছন্ন করার তা সিদরাতুল মুনতাহাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল, তখন সেটি পরিবর্তিত হয়ে গেল। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে এমন কেউ নেই যে তার সৌন্দর্যের বর্ণনা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এরপর আল্লাহ আমার প্রতি যা ওহি করার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম1648 - ; তা ওহি করলেন। তিনি আমার ওপর প্রতিদিন ও রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করলেন। এরপর আমি মুসা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম1648 - ; -এর কাছে নেমে আসলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনার রব আপনার উম্মতের ওপর কী ফরজ করেছেন? আমি বললাম, পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি বললেন, আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং তা সহজ করার আবেদন করুন; কারণ আপনার উম্মত তা পালন করতে সক্ষম হবে না। আমি বনী ইসরাইলকে পরীক্ষা করেছি এবং তাদের সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। আমি আমার রবের কাছে ফিরে গেলাম এবং বললাম, হে আমার রব! আমার উম্মতের জন্য সহজ করে দিন। তখন তিনি আমার থেকে পাঁচটি কমিয়ে দিলেন। আমি মুসা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম1648 - ; -এর কাছে ফিরে এসে বললাম, তিনি পাঁচটি কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন, আপনার উম্মত এতেও সক্ষম হবে না, সুতরাং আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আরও সহজ করার আবেদন করুন। এভাবে আমি আমার রব এবং মুসা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম1648 - ; -এর মাঝে যাতায়াত করতে থাকলাম। পরিশেষে আল্লাহ বললেন, হে মুহাম্মাদ! দিন ও রাতে এগুলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। প্রতি সালাতের বিনিময়ে দশ গুণ সওয়াব, সুতরাং তা পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের সমান হলো। আর যে ব্যক্তি কোনো নেক কাজের সংকল্প করে কিন্তু তা পালন করতে পারে না, তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়। আর যদি সে তা পালন করে, তবে তার জন্য দশটি নেকি লেখা হয়। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজের সংকল্প করে কিন্তু তা পালন করে না, তার জন্য কিছুই লেখা হয় না। আর যদি সে তা করে ফেলে, তবে কেবল একটি গুনাহ লেখা হয়। এরপর আমি নেমে মুসা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম1648 - ; -এর কাছে পৌঁছে তাঁকে এ খবর জানালাম। তিনি বললেন, আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আরও সহজ করার আবেদন করুন। আমি বললাম, আমি আমার রবের কাছে এতবার ফিরে গিয়েছি যে, এখন তাঁর কাছে পুনরায় যেতে আমি লজ্জা বোধ করছি। (আহমাদ, মুসলিম) আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত।(২৫৬) ((য) আমার কাছে বুরাক আনা হলো। এটি একটি সাদা রঙের দীর্ঘকায় জন্তু, যা তার দৃষ্টির শেষ সীমানায় তার পা ফেলে। আমি এবং জিবরাঈল তার পিঠ থেকে নামিনি যতক্ষণ না আমি বায়তুল মাকদিসে পৌঁছেছি। তারপর আমার জন্য আসমানের দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হলো এবং আমি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখতে পেলাম।) (আহমাদ, আবু ইয়ালা, ইবনে হিব্বান, হাকেম) এবং জিয়াউল মাকদিসি হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।(২৫৭) ((আমার নিকট একটি সাদা-কালো ঘোড়ায় চড়িয়ে পৃথিবীর চাবিকাঠি আনা হলো। জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তা নিয়ে এসেছিলেন, যার ওপর ছিল রেশমি চাদর।)) (আহমাদ, ইবনে হিব্বান) এবং জিয়াউল মাকদিসি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
(258) ((أَتَيْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي على قَوْمٍ بُطُونُهُمْ كالبُيُوتِ فِيهَا الحَيَّاتُ تُرَى مِنْ خارِجِ بُطُونِهِمْ فَقُلْتُ مَنْ هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ؤلاءِ يَا جبريلُ قَالَ هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ؤلاءِ أكَلَةُ الرِّبا)) (هـ) عَن أبي هُرَيْرَة.(259) ((أتَيْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بَي على قَوْمٍ تُقْرَضُ شِفَاهُهُمْ بِمَقاريضَ مِنْ نارٍ كُلَّما قُرِضَتْ وَفَتْ فَقُلْتُ يَا جبريلُ مَنْ هـ صلى الله عليه وسلم1648 - ; ؤلاءِ قَالَ خُطباءُ أُمَّتِكَ الذينَ يَقولونَ مَا لَا يَفْعَلونَ وَيَقْرَؤونَ كِتابَ الله وَلَا يَعْمَلُونَ بِهِ)) (هَب) عَن أنس.(260) (( (ز) أُتِيتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي فانْطُلِقَ بِي إِلَى زَمْزَمَ فَشُرِحَ عَن صَدْرِي ثُمَّ غُسِلَ بِماءِ زَمْزَمَ ثُمَّ أُنْزِلَ)) (م) عَن أنس.(261) (( (ز) اثْبُتْ أُحُدُ فإِنَّمَا عليْكَ نَبِيٌّ وصِدِّيقٌ وشَهِيدانِ)) (خَ د ت) عَن أنسٍ (ت) عَن عُثْمانَ (حم 4 حب) عَن سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ.(262) (( (ز) أثْبُتْ حِراءُ فإِنَّما عَلَيْك نَبِيٌّ أوْ صِدِّيقٌ أوْ شَهِيدٌ)) (حم د ت هـ) عَن سَعيدِ بنِ زَيدٍ (حم) عَن أنسٍ وَعَن بُرَيْدَةَ (طب) عَن ابْن عبَّاسٍ.(263) ((أثْبَتُكُمْ على الصِّراطِ أشَدُّكُمْ حُباً لأهْلِ بَيْتِي ولأصْحابِي)) (عد فر) عَن عليَ.(264) ((أَثْرِدُوا ولوْ بالماءِ)) (طس هَب) عَن أنس.(265) (( (ز) أثْقَلُ الصَّلاةِ على المُنافِقِينَ صَلَاةُ العِشاءِ وصَلاةُ الفَجْرِ ولوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهما لأتُوهُما ولوْ حَبْواً وَلَقَدْ هَمَمْتُ أنْ آمُرَ بالصَّلاةِ فَتُقَامَ ثُمَّ آمُرَ رَجُلاً فَيُصَلِّي بالنَّاسِ ثُمَّ أَنْطَلِقَ مَعِي بِرِجالٍ مَعَهُمْ حِزمٌ مِنْ حَطَبٍ إِلَى قَوْمٍ لَا يَشْهَدُونَ الصَّلَاةَ فأُحَرِّقَ عَلَيْهمْ بُيُوتَهُمْ بالنَّارِ)) (حم ق د هـ) عَن أبي هُرَيْرَةَ.(266) (( (ز) أثْقَلُ شَيْءٍ فِي المِيزَانِ الخُلُقُ الحَسَنُ)) (حب) عَن أبي الدرداءِ.(267) (( (ز) أثْقَلُ شَيْءٍ فِي مِيزَانِ المُؤمِنِ خُلُقٌ حَسَنٌ إنَّ الله يُبْغِضُ الفاحِشَ المُتَفَحِّشُ البَذِيَّ)) (هق) عَن أبي الدرداءِ.(268) ((اثْنَان خَيْرٌ مِنْ واحِدٍ وثلاثَةٌ خَيْرٌ مِنْ اثْنَيْنِ وأرْبَعَةٌ خَيْرٌ منْ ثلاثَةٍ فَعَلَيْكُمْ بالجماعَةِ فإنَّ الله لنْ يَجْمَعَ أُمَّتِي إلاَّ على هُدًى)) (حم) عَن أبي ذَر.(269) ((إثْنانِ فَما فَوْقَهُما جماعَةٌ)) (هـ عد) عَن أبي مُوسَى (حم طب عد) عَن أبي أُمَامَة (قطّ) عَن ابْن عَمْرو (ابْن سعد وَالْبَغوِيّ والباوردي) عَن الحكم بن عُمَيْر.
(২৫৮) ((আমি মিরাজের রাতে এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হলাম যাদের পেটগুলো ছিল ঘরের মতো, যার অভ্যন্তরে থাকা সাপগুলো পেটের বাহির থেকে দেখা যাচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাঈল! এরা কারা? তিনি বললেন: এরা হলো সুদখোর।)) (ইবনু মাজাহ) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।১৬৪৮ -(২৫৯) ((আমি মিরাজের রাতে এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম যাদের ঠোঁটগুলো আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছিল। যখনই তা কাটা হচ্ছিল, তখনই তা পুনরায় পূর্ণ হয়ে যাচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাঈল! এরা কারা? তিনি বললেন: এরা আপনার উম্মতের সেই সকল বক্তা, যারা যা বলত তা নিজেরা করত না এবং তারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করত অথচ নিজেরা সে অনুযায়ী আমল করত না।)) (বাইহাকী - শুআবুল ঈমান) আনাস থেকে বর্ণিত।(২৬০) ((মিরাজের রাতে আমার নিকট আসা হলো এবং আমাকে যমযমের নিকট নিয়ে যাওয়া হলো। অতঃপর আমার বক্ষ বিদীর্ণ করা হলো এবং যমযমের পানি দিয়ে তা ধৌত করা হলো, তারপর তা যথাস্থানে স্থাপন করা হলো।)) (মুসলিম) আনাস থেকে বর্ণিত।(২৬১) ((হে ওহুদ! স্থির হও, কারণ তোমার ওপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক এবং দুইজন শহীদ রয়েছেন।)) (বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী) আনাস থেকে বর্ণিত; (তিরমিযী) উসমান থেকে বর্ণিত; (আহমাদ, সুনানে আরবাআ, ইবনে হিব্বান) সাহল বিন সা'দ থেকে বর্ণিত।(২৬২) ((হে হেরা! স্থির হও, কারণ তোমার ওপর একজন নবী অথবা একজন সিদ্দীক অথবা একজন শহীদ রয়েছেন।)) (আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ) সাঈদ বিন যায়েদ থেকে বর্ণিত; (আহমাদ) আনাস ও বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত; (তাবারানী - কাবীর) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।(২৬৩) ((সিরাতের ওপর তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অধিক সুদৃঢ় থাকবে, যার ভালোবাসা আমার আহলে বাইত এবং আমার সাহাবীদের প্রতি সবচেয়ে বেশি হবে।)) (ইবনে আদী, দাইলামী) আলী থেকে বর্ণিত।(২৬৪) ((তোমরা সারিদ (ঝোলযুক্ত রুটি) তৈরি করো, যদিও তা কেবল পানি দিয়ে হয়।)) (তাবারানী - আওসাত, বাইহাকী - শুআবুল ঈমান) আনাস থেকে বর্ণিত।(২৬৫) ((মুনাফিকদের জন্য ইশা ও ফজরের সালাত অপেক্ষা অধিক ভারী অন্য কোনো সালাত নেই। যদি তারা জানত এই দুই সালাতের মধ্যে কী (নেকী) রয়েছে, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হতো। আমি সংকল্প করেছিলাম যে, সালাত শুরু করার আদেশ দেই এবং ইকামত বলা হোক, অতঃপর একজনকে নির্দেশ দেই যেন সে লোকদের সালাত পড়ায়। এরপর আমি একদল লোক নিয়ে বের হই যাদের সাথে থাকবে কাঠের বোঝা, আমি সেই সব লোকদের কাছে যাই যারা সালাতে উপস্থিত হয়নি, আর তাদের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেই।)) (আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(২৬৬) ((মিজানের পাল্লায় সবচেয়ে ভারী বস্তু হবে উত্তম চরিত্র।)) (ইবনে হিব্বান) আবু দারদা থেকে বর্ণিত।(২৬৭) ((মুমিনের মিজানের পাল্লায় সবচেয়ে ভারী বস্তু হবে উত্তম চরিত্র। নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীল ও কটুভাষী ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন।)) (বাইহাকী - সুনানুল কুবরা) আবু দারদা থেকে বর্ণিত।(২৬৮) ((একজনের চেয়ে দুজন উত্তম, দুজনের চেয়ে তিনজন উত্তম এবং তিনজনের চেয়ে চারজন উত্তম। সুতরাং তোমরা জামাতবদ্ধ থাকো; কারণ আল্লাহ আমার উম্মতকে হিদায়েত ছাড়া অন্য কিছুর ওপর একত্রিত করবেন না।)) (আহমাদ) আবু যার থেকে বর্ণিত।(২৬৯) ((দুইজন বা তদূর্ধ্ব ব্যক্তিই একটি জামাত।)) (ইবনু মাজাহ, ইবনে আদী) আবু মুসা থেকে বর্ণিত; (আহমাদ, তাবারানী, ইবনে আদী) আবু উমামা থেকে বর্ণিত; (দারাকুতনী) ইবনে আমর থেকে বর্ণিত; (ইবনে সা’দ, বাগভী, বাওয়ারদী) হাকাম বিন উমাইর থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ৪০)
(270) ((اثْنَان لَا تُجاوِزُ صلاتُهُما رُؤوسَهما عبْدٌ آبِقٌ مِنْ مَوالِيهِ حَتَّى يَرْجِعَ وامْرَأةٌ عَصَتْ زَوْجَها حَتَّى تَرجِعَ)) (ك) عَن ابْن عمر.(271) ((اثْنانِ لَا يَنْظُرُ الله إلَيْهِما يَوْمَ القِيامَةِ قاطِعُ الرَّحِمِ وجارُ السُّوءِ)) (فر) عنْ أنس.(272) ((اثْنانِ يُعَجِّلُهُما الله فِي الدُّنْيا البَغْيُ وعُقُوقُ الوَالِدَينْ)) (تخ طب) عَن أبي بكرَة.(273) ((اثْنتانِ فِي النَّاسِ هُما بِهِمْ كُفْرٌ الطَّعْنُ فِي الأنْسابِ والنِّيَاحَةُ على المَيِّتِ)) (حم م) عَن أبي هُرَيْرَة.(274) ((اثْنانِ يَكْرَهُهُما ابنُ آدَمَ يَكْرَهُ المَوْتَ والمَوْتُ خَيْرٌ لَهُ منَ الفِتْنَةِ وَيَكْرَهُ قِلَّةَ المالِ وقِلَّةُ المالِ أقَلُّ لِلْحِسابِ)) (ص حم) عَن مَحْمُود بن لبيد.(275) (( (ز) اثْنتانِ تُدْخِلانِ الجَنَّةَ مَنْ حَفِظَ مَا بَيْنَ لَحَيَيْهِ وَرِجْلَيْهِ دَخَلَ الجَنَّةَ)) (الخَرائِطِي) فِي مَكارِمِ الأخْلاقِ عَنْ عائِشَةَ.(276) ((أثِيبُوا أخاكُمْ ادْعُوا لَهُ بالبَرَكَةِ فإِنَّ الرَّجُلَ إِذا أُكِلَ طَعَامُهُ وَشُرِبَ شَرَابُهُ ثُمَّ دُعِيَ لَهُ بالبَركَةِ فَذَاكَ ثَوَابُهُ مِنْهُمْ)) (د هَب) عَن جَابر.(277) (( (ز) أجِبْ أخاكَ فإِنَّكَ مِنْهُ على اثْنَتَيْنِ إِمَّا خَيْرٍ فأَحَقُّ مَا شَهِدْتَهُ وإِمَّا غَيْرِهِ فَتَنْهاهُ عَنْهُ وتأْمُرُهُ بالخَيْرِ)) (طب) عَن يعلى بن مرّة.(278) (( (ز) اجْتَمَعَ إِحْدَى عَشَرَةَ امْرَأةً فِي الجَاهِلِيَّةِ فَتَعاقَدْنَ أنْ يَتَصادَقْنَ بَيْنَهُنَّ وَلَا يَكْتُمْنَ مِنْ أخْبارِ أزْوَاجِهِنَّ شَيْئاً فقَالَتِ الأولَى زَوْجِي لَحْمُ جَمَلٍ غَثٍّ على رَأْسِ جَبَلٍ وَعْرٍ لَا سَهْلٍ فَيُرْتَق صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى وَلَا سَمِينٍ فَيُنْتَقَلُ قَالَتِ الثَّانِيَةُ زَوْجِي لَا أبُثُّ خَبَرَهُ إِنِّي أخافُ أنْ لَا أذَرَهُ إِنْ أذْكُرْهُ أذْكُرْ عُجَرَه وبُجَرَهُ قالَتْ الثَّالِثَةُ زَوْجِي العَشَنّقُ إِنْ أَنْطِقْ أُطَلَّقْ وإنْ أَسْكُتْ أعَلَّقْ قالَتِ الرَّابِعَةُ زَوْجِي إنْ أكَلَ لَفَّ وإنْ شَرِبَ اشْتَفَّ وإِنْ اضْطَجَعَ الْتَفَّ وَلَا يُولِجُ الكفَّ لِيَعْلَمَ البَثَّ قالَتِ الخَامِسَةُ زَوْجِي عَياياءُ طَباقاءُ كُلُّ داءٍ لهُ داءٌ شَجَّكِ أوْ فَلَّكِ أوْ جَمَعَ كُلاًّ لَكِ قالَتْ السَّادِسَةُ زوجِي كَليْل تِهَامَةَ لَا حَرَ وَلَا قَرَ وَلَا مَخافَةٍ وَلَا سآمَةٍ قالتِ السَّابِعَةُ زَوجي إنْ دَخَلَ فهْدٌ وإنْ خَرَجَ أسَدٌ وَلَا يَسأَلُ عمَّا عَهِدَ قالَت الثَّامِنَةُ زَوجي ألْمَسُّ مَسُّ أرْنَبٍ والرِّيحُ رِيحُ زَرْنَبٍ وَأَنا أغْلِبُهُ والنَّاسَ يَغْلِبُ قالتِ التَّاسِعَةُ زَوجي رَفِيعُ العِمادِ طويلُ النَّجادِ عَظيمُ الرَّمادِ قرِيبُ البَيْتِ منَ النّادِ قالَتِ العاشِرَةُ زَوجي مالِكٌ وَمَا مالِكٌ مالِك خَيْرٌ مِنْ ذَلِكَ لهُ إِبِلٌ
(২৭০) ((দুই ব্যক্তি এমন যাদের সালাত তাদের মাথার উপরে উঠে না: এমন এক দাস যে তার মনিবদের থেকে পালিয়ে গিয়েছে যতক্ষণ না সে ফিরে আসে, এবং এমন এক স্ত্রী যে তার স্বামীর অবাধ্য হয়েছে যতক্ষণ না সে অনুগত হয়।)) (হাকিম) ইবনে উমর থেকে বর্ণিত।(২৭১) ((দুই ব্যক্তি এমন যাদের প্রতি কিয়ামতের দিন আল্লাহ দৃষ্টিপাত করবেন না: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী এবং মন্দ প্রতিবেশী।)) (দাইলামি) আনাস থেকে বর্ণিত।(২৭২) ((দুইটি পাপ এমন যেগুলোর শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করেন: বিদ্রোহ বা জুলুম এবং পিতামাতার অবাধ্যতা।)) (তিরমিজি, বুখারি 'তারিখ' গ্রন্থে, তাবারানি) আবু বাকরাহ থেকে বর্ণিত।(২৭৩) ((মানুষের মধ্যে বিদ্যমান দুইটি বিষয় এমন যা কুফরি হিসেবে গণ্য: বংশ মর্যাদায় আঘাত করা এবং মৃতের ওপর বিলাপ করা।)) (আহমাদ, মুসলিম) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।(২৭৪) ((আদম সন্তান দুটি জিনিস অপছন্দ করে: সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে অথচ ফিতনার চেয়ে মৃত্যু তার জন্য কল্যাণকর; এবং সে সম্পদের স্বল্পতাকে অপছন্দ করে অথচ সম্পদের স্বল্পতা হিসাবের জন্য সহজতর।)) (সাঈদ ইবনে মনসুর, আহমাদ) মাহমুদ ইবনে লাবিদ থেকে বর্ণিত।(২৭৫) ((দুইটি বিষয় জান্নাতে প্রবেশ করায়: যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী অংশ (জিহ্বা) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী অংশের (লজ্জাস্থান) হেফাজত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।)) (আল-খারাইতি 'মাকারিমুল আখলাক' গ্রন্থে) আয়েশা থেকে বর্ণিত।(২৭৬) ((তোমরা তোমাদের ভাইয়ের প্রতিদান দাও। তোমরা তার জন্য বরকতের দোয়া করো। কারণ কোনো ব্যক্তির খাবার ও পানীয় যখন গ্রহণ করা হয় এবং তারপর তার জন্য বরকতের দোয়া করা হয়, তখন সেটিই তাদের পক্ষ থেকে তার প্রতিদান হিসেবে গণ্য হয়।)) (আবু দাউদ, বায়হাকি) জাবির থেকে বর্ণিত।(২৭৭) ((তুমি তোমার ভাইয়ের ডাকে সাড়া দাও; কারণ এর মাধ্যমে তুমি তার সাথে দুটি অবস্থার একটিতে থাকবে: হয় সে কল্যাণের ওপর আছে, ফলে তুমি যা প্রত্যক্ষ করলে সেটির সে-ই অধিক হকদার; অন্যথায় সে অকল্যাণের ওপর আছে, তখন তুমি তাকে তা থেকে বিরত রাখবে এবং তাকে কল্যাণের আদেশ দেবে।)) (তাবারানি) ইয়ালা ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণিত।(২৭৮) ((জাহেলি যুগে এগারোজন নারী একত্রিত হলো এবং তারা একে অপরের সাথে এই মর্মে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলো যে, তারা সত্য কথা বলবে এবং তাদের স্বামীদের কোনো সংবাদ গোপন করবে না। প্রথমজন বলল: আমার স্বামী একটি চর্বিহীন উটের গোশতের মতো, যা কোনো দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় রাখা আছে; না সেখানে কোনো সহজ পথ আছে যে উপরে উঠা যাবে, আর না সেই গোশত পুষ্ট যে তা বহন করে নিয়ে আসা যাবে।১৬৪৮ - দ্বিতীয়জন বলল: আমি আমার স্বামীর সংবাদ প্রচার করি না, কারণ আমি ভয় করি যে আমি তা শেষ করতে পারব না। যদি আমি তা উল্লেখ করি, তবে তার সকল দোষ-ত্রুটিই উল্লেখ করতে হবে। তৃতীয়জন বলল: আমার স্বামী দীর্ঘদেহী (কিন্তু নির্বোধ); আমি কথা বললে আমাকে তালাক দেওয়া হবে, আর চুপ থাকলে আমাকে ঝুলিয়ে রাখা হবে (না পূর্ণ স্ত্রী, না তালাকপ্রাপ্তা)। চতুর্থজন বলল: আমার স্বামী খেলে সব সাবাড় করে দেয়, পান করলে পাত্র খালি করে ফেলে, আর যখন শোয় তখন একা কাপড় মুড়ি দিয়ে থাকে; সে আমার দুঃখ বোঝার জন্য আমার শরীরে হাত দিয়েও দেখে না। পঞ্চমজন বলল: আমার স্বামী শারীরিক ও মানসিকভাবে অক্ষম, পৃথিবীর সকল রোগ যেন তার মাঝেই বিদ্যমান; সে হয় তোমার মাথা ফাটিয়ে দেবে, না হয় তোমাকে জখম করবে, অথবা তোমার সাথে এই উভয় কাজই করবে। ষষ্ঠজন বলল: আমার স্বামী তিহামা অঞ্চলের রাতের মতো—না অতি গরম, না অতি ঠান্ডা; তার থেকে কোনো ভয়ের শঙ্কা নেই এবং তার প্রতি কোনো বিরক্তিও নেই। সপ্তমজন বলল: আমার স্বামী যখন ঘরে প্রবেশ করে তখন সে চিতাবাঘের মতো (শান্ত), আর যখন বের হয় তখন সিংহের মতো (সাহসী); আর সে কোনো কিছুর খোঁজ নেয় না যা সে বাড়িতে রেখে গেছে। অষ্টমজন বলল: তার স্পর্শ খরগোশের স্পর্শের মতো নরম এবং তার সুবাস জাফরানের সুবাসের মতো; অথচ আমি তার ওপর বিজয়ী থাকি আর অন্য মানুষের ওপর সে বিজয়ী হয়। নবমজন বলল: আমার স্বামীর খুঁটি অনেক উঁচুতে (মর্যাদাবান), তার তরবারির ফিতা অনেক দীর্ঘ (উচ্চদেহী), তার উনুনে প্রচুর ছাই থাকে (দানশীল) এবং তার ঘরটি মজলিসের খুব নিকটে। দশমজন বলল: আমার স্বামী মালিক; আর মালিক যে কী তা তোমরা জানো না! মালিক এদের সকলের চেয়ে উত্তম। তার অনেক উট রয়েছে...))
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাহ ইলাল জামিইস সগীর
(পৃষ্ঠা: ৪১)
قَليلاتُ المَسارِح كَثِيراتُ المَبارِكِ إِذا سَمِعْنَ صَوْتَ المَزاهِرِ أيْقَنَّ أنَّهُنَّ هَوَالِكُ قالَتِ الحادِيَةَ عَشَرَةَ زَوْجِي أَبُو زَرْعٍ وَمَا أَبُو زَرْعٍ أناسَ مِنْ حُلِيَ أُذُنيَّ وَمَلأ مِنْ شحْمٍ عَضُدَيَّ وَبَجَحَنِي فَبَجَّحَتْ إلَيَّ نَفْسِي وَجَدَنِي فِي أهْلِ غُنَيْمَةٍ بِشِقٍّ فَجَعَلَنِي فِي أهْلِ صَهِيلٍ وأطِيطٍ وَدَائِسٍ ومُنقٍّ فَعِنْدَهُ أقُولُ فَلَا أُقَبَّحُ وأرْقُدُ فَأَتَصَبَّحُ وأشْرَبُ فَأَتَقَمَّحُ أمُّ أبِي زَرْعٍ وَمَا أُمُّ أبي زَرْعٍ عُكُومُها رِدَاحٌ وَبَيْتُها فَساح ابنُ أبي زَرْعٍ وَمَا ابْنُ أبي زَرْعٍ مَضْجَعُهُ كَمَسَلِّ شَطْبَةٍ وتُشْبِعُهُ ذِرَاعُ الجَفَرَةِ بِنْتُ أبِي زَرْعٍ وَمَا بِنْتُ أبِي زَرْعٍ طَوْعُ أبِيها وطَوْعُ أُمِّها وَمِلءُ كِسائِهَا وَعَطْفُ رِدائِها وَزَيْنُ أهْلِهَا وغَيْظُ جارَتِها جارِيَةُ أبي زَرْعٍ وَمَا جارِيَةُ أبي زَرْعٍ لَا تَبُثُّ حَدِيثَنا تَبْثِيثاً وَلَا تَنْقُثُ مِيرتَنَا تَنْقِيثاً وَلَا تَمْلأُ بَيْتَنا تَعْثِيثاً خَرَجَ أَبُو زَرْعٍ والأوطابُ تُمْخَضُ فَمَرَّ بامْرَأةٍ مَعَها ابْنانِ لَها كالْفَهْدَيْنِ يَلْعَبانِ مِنْ تَحْتِ خَصْرِهَا بِرُمَّانَتَيْنِ فَطَلَّقَنِي ونَكَحَها فَنَكَحْتُ بَعْدَهُ رَجُلاً سَرِّيّاً شَرِياً وأخَذَ خطِّيّاً وأراحَ عَليَّ نَعماً سَرِيّاً وأعْطاني مِنْ كُلِّ رائِحَةٍ زَوْجاً فقالَ كُلي أمَّ زَرْعٍ وميري أهْلَكِ فَلَوْ جَمَعْتُ كُلَّ شَيْءِ أعْطانِيهِ مَا مَلأ أصْغَرَ إناءٍ من آنِيَةِ أبي زَرْعٍ فقالَ النَّبِيُّ يَا عائِشَةُ كُنْتُ لَكِ كأبِي زَرْعٍ لأمِّ زَرْعٍ إلاَّ أنَّ أَبَا زَرْعٍ طَلَّقَ وَأَنا لَا أطَلَّقُ)) (طب) عَن عائشَةَ ورواهُ (خَ ت) ((فِي الشَّمائِلِ موْقوفاً إلاَّ قَوْلُهُ كُنْتُ لَكَ كَأبي زَرْع لأم زرع فرفعه قَالُوا وَهُوَ يُؤَيّد رفع الحَدِيث كُله.))(278) (( (ز) اجْتَمَعَ إِحْدَى عَشَرَةَ امْرَأةً فِي الجَاهِلِيَّةِ فَتَعاقَدْنَ أنْ يَتَصادَقْنَ بَيْنَهُنَّ وَلَا يَكْتُمْنَ مِنْ أخْبارِ أزْوَاجِهِنَّ شَيْئاً فقَالَتِ الأولَى زَوْجِي لَحْمُ جَمَلٍ غَثٍّ على رَأْسِ جَبَلٍ وَعْرٍ لَا سَهْلٍ فَيُرْتَق صلى الله عليه وسلم1648 - ; ى وَلَا سَمِينٍ فَيُنْتَقَلُ قَالَتِ الثَّانِيَةُ زَوْجِي لَا أبُثُّ خَبَرَهُ إِنِّي أخافُ أنْ لَا أذَرَهُ إِنْ أذْكُرْهُ أذْكُرْ عُجَرَه وبُجَرَهُ قالَتْ الثَّالِثَةُ زَوْجِي العَشَنّقُ إِنْ أَنْطِقْ أُطَلَّقْ وإنْ أَسْكُتْ أعَلَّقْ قالَتِ الرَّابِعَةُ زَوْجِي إنْ أكَلَ لَفَّ وإنْ شَرِبَ اشْتَفَّ وإِنْ اضْطَجَعَ الْتَفَّ وَلَا يُولِجُ الكفَّ لِيَعْلَمَ البَثَّ قالَتِ الخَامِسَةُ زَوْجِي عَياياءُ طَباقاءُ كُلُّ داءٍ لهُ داءٌ شَجَّكِ أوْ فَلَّكِ أوْ جَمَعَ كُلاًّ لَكِ قالَتْ السَّادِسَةُ زوجِي كَليْل تِهَامَةَ لَا حَرَ وَلَا قَرَ وَلَا مَخافَةٍ وَلَا سآمَةٍ قالتِ السَّابِعَةُ زَوجي إنْ دَخَلَ فهْدٌ وإنْ خَرَجَ أسَدٌ وَلَا يَسأَلُ عمَّا عَهِدَ قالَت الثَّامِنَةُ زَوجي ألْمَسُّ مَسُّ أرْنَبٍ والرِّيحُ رِيحُ زَرْنَبٍ وَأَنا أغْلِبُهُ والنَّاسَ يَغْلِبُ قالتِ التَّاسِعَةُ زَوجي رَفِيعُ العِمادِ طويلُ النَّجادِ عَظيمُ الرَّمادِ قرِيبُ البَيْتِ منَ النّادِ قالَتِ العاشِرَةُ زَوجي مالِكٌ وَمَا مالِكٌ مالِك خَيْرٌ مِنْ ذَلِكَ لهُ إِبِلٌ قَليلاتُ المَسارِح كَثِيراتُ المَبارِكِ إِذا سَمِعْنَ صَوْتَ المَزاهِرِ أيْقَنَّ أنَّهُنَّ هَوَالِكُ قالَتِ الحادِيَةَ عَشَرَةَ زَوْجِي أَبُو زَرْعٍ وَمَا أَبُو زَرْعٍ أناسَ مِنْ حُلِيَ أُذُنيَّ وَمَلأ مِنْ شحْمٍ عَضُدَيَّ وَبَجَحَنِي فَبَجَّحَتْ إلَيَّ نَفْسِي وَجَدَنِي فِي أهْلِ غُنَيْمَةٍ بِشِقٍّ فَجَعَلَنِي فِي أهْلِ صَهِيلٍ وأطِيطٍ وَدَائِسٍ ومُنقٍّ فَعِنْدَهُ أقُولُ فَلَا أُقَبَّحُ وأرْقُدُ فَأَتَصَبَّحُ وأشْرَبُ فَأَتَقَمَّحُ أمُّ أبِي زَرْعٍ وَمَا أُمُّ أبي زَرْعٍ عُكُومُها رِدَاحٌ وَبَيْتُها فَساح ابنُ أبي زَرْعٍ وَمَا ابْنُ أبي زَرْعٍ مَضْجَعُهُ كَمَسَلِّ شَطْبَةٍ وتُشْبِعُهُ ذِرَاعُ الجَفَرَةِ بِنْتُ أبِي زَرْعٍ وَمَا بِنْتُ أبِي زَرْعٍ طَوْعُ أبِيها وطَوْعُ أُمِّها وَمِلءُ كِسائِهَا وَعَطْفُ رِدائِها وَزَيْنُ أهْلِهَا وغَيْظُ جارَتِها جارِيَةُ أبي زَرْعٍ وَمَا جارِيَةُ أبي زَرْعٍ لَا تَبُثُّ حَدِيثَنا تَبْثِيثاً وَلَا تَنْقُثُ مِيرتَنَا تَنْقِيثاً وَلَا تَمْلأُ بَيْتَنا تَعْثِيثاً خَرَجَ أَبُو زَرْعٍ والأوطابُ تُمْخَضُ فَمَرَّ بامْرَأةٍ مَعَها ابْنانِ لَها كالْفَهْدَيْنِ يَلْعَبانِ مِنْ تَحْتِ خَصْرِهَا بِرُمَّانَتَيْنِ فَطَلَّقَنِي ونَكَحَها فَنَكَحْتُ بَعْدَهُ رَجُلاً سَرِّيّاً شَرِياً وأخَذَ خطِّيّاً وأراحَ عَليَّ نَعماً سَرِيّاً وأعْطاني مِنْ كُلِّ رائِحَةٍ زَوْجاً فقالَ كُلي أمَّ زَرْعٍ وميري أهْلَكِ فَلَوْ جَمَعْتُ كُلَّ شَيْءِ أعْطانِيهِ مَا مَلأ أصْغَرَ إناءٍ من آنِيَةِ أبي زَرْعٍ فقالَ النَّبِيُّ يَا عائِشَةُ كُنْتُ لَكِ كأبِي زَرْعٍ لأمِّ زَرْعٍ إلاَّ أنَّ أَبَا زَرْعٍ طَلَّقَ وَأَنا لَا أطَلَّقُ)) (طب) عَن عائشَةَ ورواهُ (خَ ت) ((فِي الشَّمائِلِ موْقوفاً إلاَّ قَوْلُهُ كُنْتُ لَكَ كَأبي زَرْع لأم زرع فرفعه قَالُوا وَهُوَ يُؤَيّد رفع الحَدِيث كُله.))(279) ((اجتَمِعُوا على طَعامِكُمْ واذْكُرُوا اسْمَ الله يُبارِكْ لَكُمْ فيهِ)) (حم د هـ حب ك) عَن وَحشِي بن حَرْب.(280) ((اجْتَنِب الغَضَبَ)) (ابْن أبي الدُّنْيَا فِي ذمّ الْغَضَب وَابْن عَسَاكِر عَن رجل من الصَّحَابَة) .(281) ((اجْتَنِبِوا التَّكْبُّرَ فإنَّ العَبْدَ لَا يَزالُ يَتَكَبَّرُ حَتَّى يقولَ الله تَعَالَى اكْتُبُوا عبْدِي هَذَا فِي الجبَّارِينَ)) (أَبُو بكر بن لال فِي مَكَارِم الْأَخْلَاق وَعبد الْغَنِيّ بن سعيد فِي إِيضَاح الاشكال عد) عَن أبي أُمَامَة.(282) ((اجتنبوا الخَمْرَ فإنَّها مِفْتاحُ كُلِّ شَرَ)) (ك هَب) عَن ابْن عَبَّاس.(283) ((اجتنبوا السَّبْعَ المُوبِقاتِ الشِّرْكَ بِاللَّه والسِّحْرَ وقَتْلَ النَّفْسِ التَّي حَرَّمَ الله إلاَّ بالحَقِّ وأكْلَ الرِّبا وأكْلَ مالِ اليَتِيمِ والتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ وقَذْفَ المُحْصَناتِ المؤمِنَاتِ الغافلاتِ)) (ق د ن) عَن أبي هُرَيْرَة.
চারণভূমি কম কিন্তু বিশ্রামস্থল বেশি; যখন তারা বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ শোনে, তখন নিশ্চিত হয় যে তারা জবাই হতে যাচ্ছে। একাদশ নারী বলল: আমার স্বামী আবু যার; আবু যারের প্রশংসা কী আর করব! সে আমার দুই কান অলংকারে সাজিয়েছে এবং আমার দুই বাহুকে চর্বি দিয়ে পূর্ণ করেছে। সে আমাকে আনন্দিত করেছে, তাই আমি নিজেও নিজেকে নিয়ে গর্বিত। সে আমাকে এক সামান্য মেষপালক অভাবী পরিবারের মধ্যে পেয়েছিল, তারপর আমাকে ঘোড়ার হ্রেষাধ্বনি, উটের ডাক, শস্য মাড়াইকারী ও ঝাড়াইকারীদের অধিকারী সম্ভ্রান্ত পরিবারে নিয়ে এলো। তার কাছে আমি কথা বলি কিন্তু আমাকে মন্দ বলা হয় না। আমি ভোরে ঘুমালে সকালেও ঘুমিয়ে থাকতে পারি। আমি পান করলে তৃপ্তিসহকারে পান করি। আবু যারের মা; আবু যারের মা সম্পর্কে কী বলব! তার বড় বড় খাদ্যভাণ্ডার এবং তার ঘর অনেক প্রশস্ত। আবু যারের পুত্র; আবু যারের পুত্র সম্পর্কে কী বলব! তার শয্যা খাপ থেকে বের করা তলোয়ারের মতো সুঠাম এবং বকরীর চার মাসের বাচ্চার একটি বাহুতেই তার পেট ভরে যায়। আবু যারের কন্যা; আবু যারের কন্যা সম্পর্কে কী বলব! সে তার পিতার অনুগত, মায়ের অনুগত, তার পোশাকে সে পরিপূর্ণ এবং তার সতীন বা প্রতিবেশীদের জন্য ঈর্ষার কারণ। আবু যারের পরিচারিকা; আবু যারের পরিচারিকা সম্পর্কে কী বলব! সে আমাদের কথা ছড়িয়ে দেয় না, আমাদের খাবার নষ্ট করে না এবং আমাদের ঘর আবর্জনা দিয়ে পূর্ণ করে না। একদিন আবু যার বের হলো যখন দুধের পাত্রগুলো মন্থন করা হচ্ছিল, তখন সে এমন এক মহিলার পাশ দিয়ে গেল যার সাথে চিতার মতো চপল দুটি পুত্র ছিল, যারা তার কোমরের নিচ দিয়ে দুটি ডালিম নিয়ে খেলছিল। আবু যার আমাকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করল। এরপর আমি এক উচ্চমর্যাদাশীল ব্যক্তিকে বিয়ে করলাম যিনি উত্তম অশ্বারোহী এবং বর্শাধারী। সে আমাকে অনেক সম্পদ দিল এবং প্রত্যেক প্রকার গবাদি পশু থেকে এক জোড়া করে দিল। সে বলল: হে উম্মে যার, তুমি খাও এবং তোমার পরিবারকেও দাও। কিন্তু সে আমাকে যা কিছু দিয়েছে, তার সবকিছু একত্রিত করলেও তা আবু যারের ক্ষুদ্রতম পাত্রটিও পূর্ণ করতে পারবে না। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে আয়েশা, আমি তোমার জন্য আবু যারের মতো, উম্মে যারের প্রতি; তবে পার্থক্য হলো আবু যার তালাক দিয়েছিল কিন্তু আমি তোমাকে তালাক দেব না। (তবারানি আয়েশা থেকে। বুখারি ও তিরমিযি এটি শামাইলে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে 'আমি তোমার জন্য আবু যারের মতো...' বাক্যটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন, এটি পুরো হাদিসটিই মারফু হওয়ার স্বপক্ষে প্রমাণ দেয়।)(২৭৮) (য) জাহেলিয়াত যুগে এগারোজন নারী একত্রিত হলো। তারা আপোসে অঙ্গীকারবদ্ধ হলো যে, তারা সত্য কথা বলবে এবং তাদের স্বামীদের কোনো সংবাদ গোপন করবে না। প্রথমজন বলল: আমার স্বামী একটি দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় রাখা জীর্ণ উটের মাংসের মতো; যা সহজলভ্য নয় যে উপরে উঠা যাবে, আর না তা স্বাস্থ্যবান যে স্থানান্তর করা হবে।১৬৪৮ - দ্বিতীয়জন বলল: আমি আমার স্বামীর খবর প্রচার করব না, কারণ আমার ভয় হয় যে আমি তা শেষ করতে পারব না। আমি যদি তার কথা উল্লেখ করি, তবে তার প্রকাশ্য ও গোপন সকল দোষই উল্লেখ করতে হবে। তৃতীয়জন বলল: আমার স্বামী দীর্ঘদেহী; যদি আমি কথা বলি তবে তালাক দেওয়া হবে, আর যদি চুপ থাকি তবে ঝুলন্ত অবস্থায় রাখা হবে। চতুর্থজন বলল: আমার স্বামী খেলে সব সাবাড় করে দেয়, পান করলে শেষ বিন্দু পর্যন্ত চুষে নেয়, আর যখন শোয় তখন একা কাপড় মুড়িয়ে কুঁকড়ে থাকে। সে আমার ব্যথার খবর নিতে স্পর্শও করে না। পঞ্চমজন বলল: আমার স্বামী পুরুষত্বহীন ও মূর্খ। জগতের সব রোগ তার মাঝে বিদ্যমান। সে হয় তোমার মাথা ফাটিয়ে দেবে, না হয় অঙ্গহানি করবে, অথবা উভয়টিই করবে। ষষ্ঠজন বলল: আমার স্বামী তিহামার রাতের মতো; না গরম, না ঠান্ডা। তার কাছে ভয়ের কিছু নেই এবং বিরক্তিরও কিছু নেই। সপ্তমজন বলল: আমার স্বামী ঘরে প্রবেশ করলে চিতার মতো শান্ত আর বের হলে সিংহের মতো সাহসী। সে ঘরে কী রেখে গেছে সে বিষয়ে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করে না। অষ্টমজন বলল: তার স্পর্শ খরগোশের স্পর্শের মতো নরম এবং তার সুগন্ধি যরনাব ঘাসের সুগন্ধির মতো। আমিই তার ওপর বিজয়ী থাকি, আর মানুষ অন্য সবার ওপর বিজয়ী হয়। নবমজন বলল: আমার স্বামীর খুঁটি অনেক উঁচুতে, তার তলোয়ারের বেল্ট অনেক লম্বা, তার উনুনে ছাই অনেক বেশি এবং তার ঘর মজলিসের খুব কাছে। দশমজন বলল: আমার স্বামী মালিক; মালিকের প্রশংসা কী আর করব! মালিক এসবের চেয়েও উত্তম। তার অনেক উট আছে যেগুলোর চারণভূমি কম কিন্তু বিশ্রামস্থল বেশি। যখন উটগুলো বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ শোনে, তখন তারা নিশ্চিত হয় যে তারা জবাই হতে যাচ্ছে। একাদশজন বলল: আমার স্বামী আবু যার; আবু যারের প্রশংসা কী আর করব! সে আমার দুই কান অলংকারে সাজিয়েছে এবং আমার দুই বাহুকে চর্বি দিয়ে পূর্ণ করেছে। সে আমাকে আনন্দিত করেছে, তাই আমি নিজেও নিজেকে নিয়ে গর্বিত। সে আমাকে এক সামান্য মেষপালক অভাবী পরিবারের মধ্যে পেয়েছিল, তারপর আমাকে ঘোড়ার হ্রেষাধ্বনি, উটের ডাক, শস্য মাড়াইকারী ও ঝাড়াইকারীদের অধিকারী সম্ভ্রান্ত পরিবারে নিয়ে এলো। তার কাছে আমি কথা বলি কিন্তু আমাকে মন্দ বলা হয় না। আমি ভোরে ঘুমালে সকালেও ঘুমিয়ে থাকতে পারি। আমি পান করলে তৃপ্তিসহকারে পান করি। আবু যারের মা; আবু যারের মা সম্পর্কে কী বলব! তার বড় বড় খাদ্যভাণ্ডার এবং তার ঘর অনেক প্রশস্ত। আবু যারের পুত্র; আবু যারের পুত্র সম্পর্কে কী বলব! তার শয্যা খাপ থেকে বের করা ছড়ির মতো সূক্ষ্ম এবং বকরীর চার মাসের বাচ্চার একটি বাহুতেই তার পেট ভরে যায়। আবু যারের কন্যা; আবু যারের কন্যা সম্পর্কে কী বলব! সে তার পিতার অনুগত, মায়ের অনুগত, তার পোশাকে সে পরিপূর্ণ এবং তার সতীনদের জন্য ঈর্ষার কারণ। আবু যারের পরিচারিকা; আবু যারের পরিচারিকা সম্পর্কে কী বলব! সে আমাদের কথা ছড়িয়ে দেয় না, আমাদের খাবার নষ্ট করে না এবং আমাদের ঘর আবর্জনা দিয়ে পূর্ণ করে না। একদিন আবু যার বের হলো যখন দুধের পাত্রগুলো মন্থন করা হচ্ছিল, তখন সে এমন এক মহিলার পাশ দিয়ে গেল যার সাথে চিতার মতো দুটি পুত্র ছিল, যারা তার কোমরের নিচ দিয়ে দুটি ডালিম নিয়ে খেলছিল। আবু যার আমাকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করল। এরপর আমি এক উচ্চমর্যাদাশীল ব্যক্তিকে বিয়ে করলাম যিনি উত্তম অশ্বারোহী এবং বর্শাধারী। সে আমাকে অনেক উট ও সম্পদ দিল এবং প্রত্যেক প্রকার গবাদি পশু থেকে এক জোড়া করে দিল। সে বলল: হে উম্মে যার, তুমি খাও এবং তোমার পরিবারকেও দাও। কিন্তু সে আমাকে যা কিছু দিয়েছে, তার সবকিছু একত্রিত করলেও তা আবু যারের ক্ষুদ্রতম পাত্রটিও পূর্ণ করতে পারবে না। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে আয়েশা, আমি তোমার জন্য আবু যারের মতো, উম্মে যারের প্রতি; তবে আবু যার তালাক দিয়েছিল কিন্তু আমি তোমাকে তালাক দেব না। (তবারানি আয়েশা থেকে। বুখারি ও তিরমিযি এটি শামাইলে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে 'আমি তোমার জন্য আবু যারের মতো...' বাক্যটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন, এটি পুরো হাদিসটিই মারফু হওয়ার স্বপক্ষে প্রমাণ দেয়।)(২৭৯) তোমরা তোমাদের খাবারের ওপর একত্রিত হও এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করো, তবে তোমাদের খাবারে বরকত দেওয়া হবে। (আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম ওহশি বিন হারব থেকে।)(২৮০) ক্রোধ পরিহার করো। (ইবনুল আবিদ দুনিয়া যম্মুল গদব গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির জনৈক সাহাবী থেকে।)(২৮১) অহংকার থেকে বেঁচে থাকো। কারণ কোনো বান্দা যখন অহংকার করতে থাকে, তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার এই বান্দাকে দাম্ভিকদের তালিকায় লিখে দাও। (আবু বকর বিন লাল মাকারিমুল আখলাক গ্রন্থে, আব্দুল গনি বিন সাঈদ ঈযাহুল ইশকিল গ্রন্থে এবং ইবনে আদি আবু উমামা থেকে।)(২৮২) মদ পরিহার করো, কারণ তা সকল অনিষ্টের চাবিকাঠি। (হাকেম ও বায়হাকি ইবনে আব্বাস থেকে।)(২৮৩) তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাকো: আল্লাহর সাথে শিরক করা, যাদু করা, আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা হারাম করেছেন ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া তা হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের মাল ভক্ষণ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা এবং সতী-সাধ্বী মুমিন উদাসীন নারীদের প্রতি অপবাদ দেওয়া। (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসাঈ আবু হুরায়রা থেকে। )