(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
التبيان في آداب حملة القرآن   (النووي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: التبيان في آداب حملة القرآن

المؤلف: أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي (ت 676هـ)

حققه وعلق عليه: محمد الحجار

الطبعة: الثالثة مزيدة ومنقحة، 1414 هـ - 1994 م

الناشر: دار ابن حزم للطباعة والنشر والتوزيع - بيروت - لبنان - ص ب: 6366 / 14 - تلفون: 831331

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 230

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আত-তিবিয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন   (আল-নববী)

বিভাগ: কুরআনের জ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি


গ্রন্থ: আত-তিবিয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন

লেখক: আবু জাকারিয়া মুহিউদ্দিন ইয়াহইয়া ইবন শারফ আল-নববী (মৃত্যু ৬৭৬ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা প্রদান: মুহাম্মাদ আল-হাজ্জার

সংস্করণ: তৃতীয় পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ، ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ

প্রকাশক: দার ইবন হাযম মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ - বৈরুত - লেবানন - পি.ও. বক্স: ৬৩৬৬ / ১৪ - টেলিফোন: ৮৩১৩৩১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩০

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

حمدا لله على نعمائه، وشكرا له على مزيد الائمة، وصلاة وسلاما على سيدنا وحبيبنا محمد القائل: أدبني ربي فأحسن تأديبي، ورضي الله

عن الصحابة الكرام، الذين لم يألوا جهدا في خدمتة القرآن، بل بذلوا وسعهم في تحقيق ما أمروا به، فجمعوه بعد شتات ونقلوه من الصدور إلى السطور، وهذا أمر ليس بالميسور، فجزا هم الله عن هذه الامة خيرا.

وبعد، فقد أكرميني الله تعالى الكرامة الثالثة حيث سخرني لخدمة بعض مؤلفات هذا العالم الفاضل.

1 - فالاولى: بستان العارفين، الباحث عن نفائس النفائس من قصص وحكم وأحكام.

2 - الثانية: كتاب الفتاوى، المتعلق بحقوق الله، وحقوق العباد: من عبادات ومعاملات.

3 - الثالثة: وهذه - والحمد لله - الخدمة الثالثة التي تكشف للمريد آدابا دقيقة، وفوائد مفيدة: تتعلق بحامل القرآن: فالله أسأل أن يحقق أمنيتي في خدمة هذا الكتاب، الصغير حجمه، العظيم قدره، فينال المكانة القصوى في القلوب، ومقربا من علام الغيوب.

تزيل المدينة المنورة الفقير إليه تعالى محمد الحجار
ভূমিকা

আল্লাহর নেয়ামতসমূহের জন্য সকল প্রশংসা এবং তাঁর উত্তরোত্তর অনুগ্রহের জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা। আর আমাদের নেতা ও প্রিয়তম মুহাম্মাদের প্রতি সালাত ও সালাম, যিনি বলেছেন: "আমার প্রতিপালক আমাকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন এবং তিনি আমার শিষ্টাচারকে অত্যন্ত সুন্দর করেছেন।" এবং আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন

সম্মানিত সাহাবীগণের প্রতি, যাঁরা কুরআনের খিদমতে কোনো প্রচেষ্টায় ত্রুটি করেননি; বরং তাঁরা যা আদিষ্ট হয়েছিলেন তা বাস্তবায়নে নিজেদের সর্বাত্মক শক্তি ব্যয় করেছেন। অতঃপর তাঁরা কুরআনকে বিক্ষিপ্ত অবস্থা থেকে একত্রিত করেছেন এবং তা মানুষের বক্ষসমূহ হতে লিখিত পাণ্ডুলিপিতে স্থানান্তর করেছেন, আর এ কাজটি মোটেও সহজসাধ্য ছিল না। সুতরাং আল্লাহ এই উম্মতের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

অতঃপর, আল্লাহ তাআলা আমাকে তৃতীয় এক বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছেন, যেহেতু তিনি আমাকে এই গুণী আলেমের কিছু রচনার খিদমতে নিয়োজিত করেছেন।

১ - প্রথমটি হলো: বুস্তানুল আরেফীন, যা বিভিন্ন কিসসা, হিকমত ও বিধানের মধ্য থেকে অতীব মূল্যবান রত্নতুল্য বিষয়সমূহের অনুসন্ধানকারী।

২ - দ্বিতীয়টি হলো: কিতাবুল ফাতাওয়া, যা আল্লাহর হক ও বান্দার হকের সাথে সংশ্লিষ্ট: ইবাদত ও লেনদেন বিষয়ক।

৩ - তৃতীয়টি: আর এটি—আলহামদুলিল্লাহ—সেই তৃতীয় খিদমত যা জ্ঞানান্বেষীর নিকট সূক্ষ্ম আদব ও উপকারী ফায়দাহসমূহ উন্মোচন করে: যা মূলত কুরআন বহনকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কিতাবটির খিদমতে আমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন, যার কলেবর ক্ষুদ্র হলেও মর্যাদা অতি মহান। যেন এটি মানুষের হৃদয়ে সর্বোচ্চ স্থান লাভ করে এবং অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত মহান রবের নৈকট্য লাভের মাধ্যম হয়।

মদীনা মুনাওয়ারা নিবাসী, মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী মুহাম্মাদ আল-হাজ্জার।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
(ثم أورثنا الكتاب الذين أصطفينا من عبادنا) (1) .

(قرآن كريم) بسم الله الرحمن الرحيم قال الشيخ (2) الفقيه (3) الإمام العالم الورع الزاهد (4) الضابط

--------------------------------------------

(1) من سورة فاطر: آية 32.

(2) الشيخ في اللغة: من طعن في السن، أو من جاوز الاربعين أو الخمسين،

ولو كافرا.

وذلك أن الشخص قبل الولادة، يقال له: جنين من الاجتنان أي الاستتار.

* وبعدها، يقال له: طفل، وصغير، ذرية، وصبي.

* ومنه إلى الثلاثين يقال له: فتى.

* ومنها إلى الاربعين: كهل.

* وبعد الاربعين: الرجل: شيخ، والمرأة: شيخة.

* وفي العرف: من بلغ رتبة أهل الفضل، وهو: المراد هنا.

اه - انظر حاشية الشرقاوي على التحرير.

(3) الفقه: الفهم، وقد فقه - بالكسر - الرجل فقها، وفيه تلميح لقوله عليه الصلاة والسلام: " من يرد الله به خيرا يفقهه في الدين ".

(4) الورع: التقي، وتورع: تحرج.

والزهد: ضد الرغبة، تقول: زهد فيه، وزهد عنه.

وحد الزهد: أن يزهد في الحلال الموجود.

اه - مختار
(অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি) (১)।

(পবিত্র কুরআন) পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। শায়খ (الشيخ) (২), ফকিহ (الفقيه) (৩), ইমাম, আলিম, পরহেজগার (الورع), দুনিয়াবিমুখ (الزاهد) (৪) এবং প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) ব্যক্তি বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) সূরা ফাতির: আয়াত ৩২ থেকে।

(২) শায়খ (الشيخ) আভিধানিকভাবে: যার বয়স অনেক হয়েছে, অথবা যে ব্যক্তি চল্লিশ বা পঞ্চাশ বছর অতিক্রম করেছে, যদিও সে কাফের হয়।

আর এর কারণ হলো, জন্মের পূর্বে ব্যক্তিকে 'ভ্রুণ' বলা হয়, যা 'ইজতিনান' শব্দ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ প্রচ্ছন্ন থাকা।

* এবং জন্মের পর তাকে শিশু, ছোট, বংশধর ও বালক বলা হয়।

* এরপর থেকে ত্রিশ বছর পর্যন্ত তাকে যুবক বলা হয়।

* সেখান থেকে চল্লিশ পর্যন্ত: প্রৌঢ়।

* আর চল্লিশের পর: পুরুষকে শায়খ (شيخ) এবং নারীকে শায়খাহ (شيخة) বলা হয়।

* আর প্রচলিত পরিভাষায়: যে ব্যক্তি মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ববানদের স্তরে পৌঁছেছেন; আর এখানে এটিই উদ্দেশ্য।

সমাপ্ত - আত-তাহরির-এর ওপর শারকাওয়ি-র টিকা দেখুন।

(৩) ফিকহ (الفقه): গভীর সমঝ বা প্রজ্ঞা। আর কোনো ব্যক্তি প্রজ্ঞা অর্জন করলে বলা হয় 'ফাক্বিহা'। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা (الفقه) দান করেন।"

(৪) ওরা' (الورع): খোদাভীরু বা মুত্তাকী। আর 'তাওয়াররাআ' অর্থ হলো গুনাহ ও সংশয় থেকে বেঁচে থাকা।

যুহদ (الزهد): এটি আসক্তির বিপরীত। বলা হয়: সে এতে অনাসক্ত হয়েছে কিংবা এ থেকে বিমুখ হয়েছে।

আর যুহদ-এর সংজ্ঞা হলো: বিদ্যমান হালাল বস্তুর প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করা।

সমাপ্ত - মুখতার।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
المتقن (1) أبو زكريا يحيى محيى الدين بن شرف بن حزام النوي - رحمه الله تعالى - (2) .

الحمد لله (3) الكريم.

المنان ذي الطول (4) ، الفضل، والإحسان، الذي هدانا للإيمان، وفضل ديننا على سائر الاديان، ومن علينا بإرساه إلينا أكرم خلقه عليه، وأفضلهم لديه، حبيبه وخليله، وعبده ورسوله، محمدا صلى الله عليه وسلم فمحا به عبادة الاوثان، وأكرمه صلى الله عليه وسلم بالقرآن المعجزة المستمرة على تعاقب الأزمان، التي يتحدى (5) بها الإنس والجان بأجمعهم، وأفحم (6) بها جميع

أهل الزيغ والطغيان (7) ، وجعله ربيعا لقلوب أهل البصائر والعرفان، لا

--------------------------------------------

(1) ضبطه ضبطا: من باب ضرب، حفظا بليغا.

إتقان الامر: إحكامه، فالضبط والاتقان: هما لفظان مترادفان، وهما أعلى من الحفط فالحافظ: قد يخطئ، وأما المتقن خطؤه أقل والله أعلم.

(2) هذه الجملة: خبرية لفظا إنشائية معنى.

(3) الحمد لغة: الثناء بالكلام على جميل اختياري على جهة التعظيم، سواء كان في مقابلة نعمة أم لا، وسواء كان جميلا شرعا كالعلم، أو في زعم الحامد كنهب الاموال.

* واصطلاحا: فعل ينبئ عن تعظيم المنعم، من حيث كونه منعما على الحامد أو غيره، وقرن الحمد بالجلالة إشارة إلى أنه تعالى مستحقه لذاته.

وآثر الحمد على الشكر، لانه يعم الفضائل والفواضل، أي الصفات التي لا يلزم تعديها إلى الغير: كالعلم، والتي يلزم تعديها إليه: كالكرم.

اه - بشرى الكريم 1 / 3.

(4) الطول: الغنى، والمن.

يقال: تطول عليه أي امتن عليه.

راجع المصباح والمختار.

(5) تحديت فلانا إذا باريته في فعل.

اه - مختار.

(6) أفحمه: أسكته في خصومة أو غيرها.

اه - مختار.

(7) " ملا حظة " (لقد تعرض المؤلف رحمه الله في آخر كتابه لذكر معاني الالفاظ اللغوية التي وقعت في هذا الكتاب فعد إليها تزدد إيضاحا.

كتبه محمد.
একনিষ্ঠ সুসংরক্ষক (المتقن) (১) আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া মুহিউদ্দিন বিন শরফ বিন হিযাম আন-নাওয়াবী - আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতি রহম করুন - (২) ।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য (৩), যিনি পরম দয়ালু।

যিনি মহান দাতা, প্রাচুর্যের অধিকারী (৪), অনুগ্রহ ও ইহসানের মালিক; যিনি আমাদের ঈমানের দিকে পরিচালিত করেছেন, আমাদের দ্বীনকে অন্য সকল ধর্মের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত, তাঁর নিকট সর্বাধিক মর্যাদাবান, তাঁর হাবিব ও খলিল, তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আমাদের নিকট প্রেরণের মাধ্যমে আমাদের ধন্য করেছেন। অতঃপর তাঁর মাধ্যমে তিনি মূর্তিপূজা মিটিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআনের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, যা কালের পরিক্রমায় এক চিরস্থায়ী মুজিজা। যার মাধ্যমে তিনি সমস্ত মানব ও জিন জাতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন (৫) এবং এর দ্বারা সকল পথভ্রষ্ট ও অবাধ্যদের নির্বাক করে দিয়েছেন (৬)। আর তিনি একে (কুরআনকে) প্রজ্ঞা ও মা'রিফাতের অধিকারীদের হৃদয়ের বসন্ত বানিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) 'যথার্থভাবে সংরক্ষণ' (ضبطه ضبطا): এটি 'দরবা' (ضرب) বাব থেকে আগত, যার অর্থ সুনিপুণভাবে মুখস্থ করা (الحفظ)।

কোনো কাজ নিখুঁত করা (إتقان): তা সুদৃঢ় করা। সুতরাং যথাযথভাবে সংরক্ষণ (الضبط) এবং নিখুঁত করা (الإتقان) শব্দ দুটি সমার্থক। এই শব্দ দুটি কেবল মুখস্থ করা (الحفظ) অপেক্ষা উচ্চতর। কেননা একজন মুখস্থকারী (الحافظ) ভুল করতে পারেন, তবে একনিষ্ঠ সুসংরক্ষক (المتقن) এর ভুলের পরিমাণ অত্যন্ত কম, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

(২) এই বাক্যটি: শাব্দিক বিচারে বর্ণনামূলক হলেও অর্থগতভাবে দুআ সূচক।

(৩) আভিধানিক অর্থে হামদ: সম্মানের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় করা কোনো সুন্দরের মৌখিক প্রশংসা করা, চাই তা কোনো নি'য়ামতের বিনিময়ে হোক বা না হোক। আর তা শরীয়ত সমর্থিত সুন্দর গুণ হোক যেমন ইলম (জ্ঞান), অথবা প্রশংসাকারীর ধারণায় সুন্দর হোক যেমন ধন-সম্পদ লুণ্ঠন।

* পারিভাষিক অর্থে: এমন কাজ যা নি'য়ামতদাতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, এ কারণে যে তিনি প্রশংসাকারী বা অন্য কারো প্রতি নি'য়ামত দান করেছেন। 'হামদ' শব্দটিকে 'আল্লাহ' শব্দের সাথে যুক্ত করা হয়েছে এ সংকেত দিতে যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সত্তাগতভাবেই প্রশংসার হকদার।

শুকর বা কৃতজ্ঞতার পরিবর্তে হামদ শব্দটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কারণ এটি মানুষের মৌলিক গুণাবলী ও অন্যদের প্রতি বিস্তৃত অনুগ্রহ—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। অর্থাৎ এমন গুণাবলী যা অন্যের মাঝে সঞ্চালিত হওয়া আবশ্যক নয় (যেমন ইলম), এবং এমন গুণাবলী যা অন্যের মাঝে সঞ্চালিত হওয়া আবশ্যক (যেমন দানশীলতা)।

দ্রষ্টব্য: বুশরা আল-কারিম ১/৩।

(৪) الطول (তাউল): প্রাচুর্য ও অনুগ্রহ।

বলা হয়: ‘তাতাউওয়ালা আলাইহি’ অর্থাৎ তিনি তার ওপর অনুগ্রহ করেছেন।

দেখুন: আল-মিসবাহ ও আল-মুখতার।

(৫) আমি অমুককে চ্যালেঞ্জ জানালাম (তাহাদ্দাইতু): যখন আমি কোনো কাজে তার সাথে পাল্লা দিলাম।

দ্রষ্টব্য: মুখতার।

(৬) أفحمه (আফহামাহু): তাকে তর্কে বা অন্য কোনো বিষয়ে নির্বাক করে দেওয়া।

দ্রষ্টব্য: মুখতার।

(৭) "দ্রষ্টব্য": লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাবের শেষে এই কিতাবে ব্যবহৃত শব্দগুলোর আভিধানিক অর্থ উল্লেখ করেছেন, অধিকতর স্পষ্টতার জন্য সেখানে ফিরে যান।

এটি মুহাম্মাদ কর্তৃক লিখিত।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
يخلق (1) على كثرة التردد وتغاير الأحيان (2) ، ويسره للذكر حتى استظهره (3) صغار الولدان، وضمن حفظه من تطرق التغير إلى والحدثان (4) ، وهو محفوظ بحمد الله وفضله ما اختلف الملوان (5) ، ووفق للإعتناء بعلومه من اصطفاه من أهل الحذق والإتقان، فجمعوا فيها من كل فن ما ينشرح له صدر أهل الإيقان، أحمده على ذلك وغيره من نعمه التي لا تحصى خصوصا على نعمة الايمان، وأسأله المنة علي وعلى سائر أحبابي وسائر المسلمين بالرضوان، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة محصلة للغفران، منقذة صاحبها من النيران، موصلة له إلى سكنى الجنان (6) .

[أما بعد] فإن الله سبحانه وتعالى من على هذه الأمة - زادها الله تعالى شرفا (7) - بالدين الذي ارتضاه دين الإسلام (8) ، وأرسل إليها محمدا خير الأنام، عليه منه أفضل الصلاة والبركات والسلام، وأكرمها بكتابه

--------------------------------------------

(1) خلق الثوب، بلي، وثوب خلق: أي بال.

(2) الحين: الوقت والزمن.

والجمع: أحيان.

(3) يقال: استظهرت به استعنت، واستظهرت في طلب الشئ، تحريت وأخذت بالاحتياط.

اه - مصباح.

ومعناه هنا: أي حفظه الولدان عن ظهر قلب.

(4) الحدوث، والحدث، والحادثة، والحدثان: بمعنى واحد كله.

وهو: كون الشئ بعد أن لم يكن، وهو مرادف لما قبله وهو التغير.

أي لا يتطرق عليه شئ من هذا.

(5) الملوان: هو الليل والنهار.

(6) لا يخفى عليك مما قدمه المؤلف في مقدمة كتابه هذا - رحمه الله تعالى - من السجع اللطيف البعيد عن التكلف والتعقيد، وهو: المحمود في علم البلاغة.

(7) الجملة التي وقعت بين السهمين هي جملة معترضة فتنبه لها.

(8) فأشار المؤلف - رحمه الله تعالى - إلى قوله سبحانه: (وأتممت عليكم نعمتي

ورضيت لكم الاسلام دينا) المائدة: آية 5.

(*)
বারবার পাঠ এবং যুগের (أحيان) (২) আবর্তনেও যা পুরনো (يخلق) (১) হয় না, এবং তিনি একে স্মরণের জন্য সহজ করে দিয়েছেন যাতে ছোট শিশুরাও তা মুখস্থ (استظهره) (৩) করতে পারে। আর তিনি একে পরিবর্তন ও বিবর্তন (الحدثان) (৪) থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে এটি সংরক্ষিত থাকবে যতক্ষণ দিন ও রাত্রি (الملوان) (৫) আবর্তিত হবে। যারা দক্ষতা ও নিপুণতার (الحذق والإتقান) অধিকারী, তাদের মধ্য থেকে যাদের তিনি মনোনীত করেছেন, তাদেরকে এর শাস্ত্রসমূহ নিয়ে যত্নশীল হওয়ার তৌফিক দান করেছেন। ফলে তারা এতে প্রতিটি শাখা (فن) থেকে এমন বিষয়সমূহ সংকলন করেছেন যা দৃঢ় বিশ্বাসীদের (أهل الإيقان) অন্তরকে প্রশস্ত করে দেয়। আমি এজন্য এবং তাঁর অন্যান্য অগণিত নিয়ামতের জন্য তাঁর প্রশংসা করি, বিশেষ করে ঈমানের নিয়ামতের জন্য। আমি আমার নিজের জন্য, আমার সকল প্রিয়জন এবং সকল মুসলিমের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টির (الرضوان) অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন এক সাক্ষ্য যা ক্ষমা অর্জনে সহায়ক, এর প্রদানকারীকে জাহান্নাম থেকে মুক্তিদানকারী এবং জান্নাতের আবাসে পৌঁছে দেয় (৬)।

[অতঃপর] আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই উম্মতকে—আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করুন (৭)—তাঁর মনোনীত দ্বীন ইসলাম (৮) দিয়ে ধন্য করেছেন। তাদের নিকট প্রেরণ করেছেন সৃষ্টির সেরা মুহাম্মদকে, তাঁর ওপর আল্লাহর সর্বোত্তম সালাত, বরকত ও সালাম বর্ষিত হোক। আর আল্লাহ তাদের সম্মানিত করেছেন তাঁর কিতাব দিয়ে।

--------------------------------------------

(১) কাপড় পুরনো হওয়া বা জীর্ণ হওয়া।

(২) হীন (الحين): সময় ও কাল।

এর বহুবচন হলো: অইয়ান (أحيان)।

(৩) বলা হয়ে থাকে: ‘আমি তাঁর সাহায্য নিয়েছি’, আবার কোনো কিছু অনুসন্ধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সতর্কতা অবলম্বনের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়।

— মিসবাহ।

এখানে এর অর্থ হলো: শিশুরা এটি মুখস্থ করেছে।

(৪) উৎপত্তি (الحدوث), ঘটনা (الحدث), দুর্ঘটনা (الحادثة) এবং বিবর্তন (الحدثان): এই সবগুলোই একই অর্থবোধক।

আর তা হলো: কোনো কিছু অস্তিত্বহীন থাকার পর অস্তিত্ব লাভ করা, যা তার পূর্ববর্তী শব্দ 'পরিবর্তন'-এর সমার্থক।

অর্থাৎ, এতে এজাতীয় কোনো কিছুর প্রবেশ ঘটবে না।

(৫) মালাওয়ান (الملوان) হলো রাত ও দিন।

(৬) লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই গ্রন্থের ভূমিকায় যে সাবলীল ও কৃত্রিমতা ও জটিলতামুক্ত অন্ত্যমিল (السجع) ব্যবহার করেছেন তা আপনার নিকট অস্পষ্ট নয়; অলঙ্কারশাস্ত্রে এটি প্রশংসনীয়।

(৭) তীরের মাঝে অবস্থিত বাক্যটি একটি বিযুক্ত বাক্য (جملة معترضة), সেদিকে লক্ষ রাখুন।

(৮) লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এখানে মহান আল্লাহর এই বাণীর দিকে ইঙ্গিত করেছেন: (আমি তোমাদের জন্য আমার নেয়ামত পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম) সূরা আল-মায়েদাহ: আয়াত ৫।

(*)
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
أفضل الكلام، وجمع فيه سبحانه وتعالى جميع ما يحتاج إليه من أخبار الاولين والاخرين، والمواعظ والأمثال، والآداب، وضروب الأحكام، والحجج القاطعات الظاهرات، في الدلالة على وحدانيته، وغير ذلك مما جاءت به رسله صلوات الله عليهم وسلامه الدامغات (1) لأهل الإلحاد الضلال الطغام (2) ، وضاعف الأجر في تلاوته، وأمرنا بالإعتناء به والإعظام، وملازمة الآداب معه، وبذل الوسع في الاحترام.

وقد صنف في فضل تلاوته جماعة من الاماثل (3) والأعلام، كتبا معروفة عند أولي النهي والأحلام (4) ، لكن ضعفت الهممن عن حفظها، بل عن مطالعتها، فصار لا ينتفع بها إلا أفراد من أولي الإفهام، ورأيت أهل بلدتنا دمشق - حماها الله تعالى وصانها وسائر بلاد الإسلام - مكثرين من الإعتناء بتلاوة القرآن العزيز: تعلما وتعليما، وعرضا ودراسة، في جماعات وفرادى، مجتهدين في ذلك بالليالي والأيام، زادهم الله حرصا عليه، وعلى جميع أنواع الطاعات، مريدين وجه الله ذي الجلال والإكرام، فدعاني ذلك إلى جمع مختصر في آداب حملته، وأوصاف حفاظه وطلبته، فقد أوجب الله سبحانه وتعالى النصح لكتابه، ومن النصيحة له بيان آداب حملته وطلابه، وإرشادهم إليها، وتنبيههم عليها، وأوثر فيه الاختصار، وأحاذر التطويل والإكثار، وأقتصر في كل باب على طرف من أطرافه،

--------------------------------------------

(1) الدامغات: صفة لما قبلها فتنبه لها.

(2) هم أوغاد الناس، والدغد: الرجل الدنئ الذي يخدم بطعام بطنه.

اه - مختار.

(3) يقال: هؤلاء أماثل القوم أي خيارهم.

(4) العقل: الحجر، لانه يحجر صاحبه عما لا يستحسن، والنهى: العقول لانها تنهى عن القبيح، والاحلام: كذلك فهي ألفاظ مترادفة.

(*)
এটি সর্বোত্তম বাণী, যাতে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের সংবাদ, উপদেশ, উপমা, আদব, বিভিন্ন প্রকার বিধান (أحكام), এবং তাঁর একত্ববাদের সুষ্পষ্ট ও অকাট্য দলিল-প্রমাণসমূহসহ যা কিছু প্রয়োজন—সবই একত্রিত করেছেন। আরও রয়েছে তাঁর রাসুলগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) আনীত সেসব বিষয় যা বিচ্যুত নাস্তিক ও ইতর লোকদের যুক্তিকে চূর্ণকারী (دامغات)। তিনি এর তিলাওয়াতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করেছেন এবং আমাদের এর প্রতি যত্নবান হতে, একে মহিমান্বিত করতে, এর আদবসমূহ আঁকড়ে ধরতে এবং একে সম্মান জানাতে সাধ্যমতো চেষ্টা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে একদল শ্রেষ্ঠ (أماثل) ও প্রথিতযশা আলেম এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যা প্রজ্ঞাবান ও বুদ্ধিমানদের (أولي النهي والأحلام) নিকট সুপরিচিত। কিন্তু সেগুলো মুখস্থ করা, এমনকি পাঠ করার ক্ষেত্রেও মানুষের আগ্রহ ও স্পৃহা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে কেবল বিশেষ কিছু প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি ছাড়া এ থেকে কেউ উপকৃত হতে পারছে না। আমি আমাদের দামেস্ক শহরের অধিবাসীদের দেখেছি—আল্লাহ তাআলা একে এবং সকল মুসলিম ভূখণ্ডকে হেফাযত করুন—তারা মহাগ্রন্থ আল-কুরআন তিলাওয়াতের প্রতি অত্যন্ত যত্নবান: তারা তা শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদান, পাঠ ও অনুশীলনে লিপ্ত থাকেন দলবদ্ধভাবে এবং এককভাবে। তারা দিনরাত এতে কঠোর পরিশ্রম করেন। আল্লাহ তাআলা এর প্রতি এবং সকল প্রকার ইবাদতের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিন; তারা মহান ও দয়ালু আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রত্যাশী। আর এটাই আমাকে কুরআন বহনকারীদের আদব এবং এর হাফেজ ও শিক্ষার্থীদের বৈশিষ্ট্যের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত (مختصر) গ্রন্থ সংকলন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। কেননা মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের প্রতি শুভকামনা (نصح) পোষণ করাকে অপরিহার্য করেছেন। আর এই শুভকামনারই একটি অংশ হলো কুরআন বহনকারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এর আদবসমূহ বর্ণনা করা, সেগুলোর প্রতি তাদের পথনির্দেশ করা এবং তাদের এ বিষয়ে সচেতন করা। আমি এতে সংক্ষেপণকে (اختصار) প্রাধান্য দিয়েছি এবং দীর্ঘসূত্রিতা ও বাহুল্য পরিহার করেছি। প্রতিটি অধ্যায়ে আমি এর সারসংক্ষেপেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।

--------------------------------------------

(১) আদ-দামিগাত (الدامغات): এটি পূর্ববর্তী শব্দের একটি বিশেষণ, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

(২) তারা হলো সমাজের ইতর বা নিচু স্তরের মানুষ। 'আদ-দাগাদ' হলো সেই নিচু শ্রেণির লোক যে কেবল পেটের অন্নের বিনিময়ে সেবা করে।

সমাপ্ত - মুখতার।

(৩) বলা হয়ে থাকে: এরা হলো সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠ বা সর্বোত্তম (أماثل) ব্যক্তি।

(৪) বুদ্ধি (العقل): একে 'হিজর' (الحجر) বলা হয়, কারণ এটি তার অধিকারীকে অনুপযুক্ত কাজ থেকে বিরত (হাজর) রাখে। 'আন-নুহা' (النهى) মানেও বুদ্ধি, কারণ এটি মন্দ কাজ থেকে নিষেধ (নাহি) করে। 'আল-আহলাম' (الأحلام) শব্দটিও একই অর্থবোধক। অর্থাৎ এগুলো সমার্থক শব্দ।

(*)
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
وأرمز (1) من كل ضرب من آدابه إلى بعض أصنافه، فلذلك أكثر ما أذكره بحذف أسانيده.

وإن كانت أسانيده بحمد الله عندي من الحاضرة العتيدة (2) ، فإن مقصودي التنبيه على أصل ذلك، والإشارة بما أذكره إلى ما حذفته مما هنالك.

والسبب في إيثار اختصاره، إيثاري حفظه وكثرة الإنتفاع به وانتشاره.

ثم ما وقع من غريب الاسماء واللغات في باب في آخر الكتاب، ليكمل انتفاع صاحبه، ويزول الشك عن طالبه، ويندرج في ضمن ذلك، وفي خلال الأبواب جمل من القواعد، ونفائس من مهمات الفوائد، وبين الأحاديث الصحيحة والضعيفة مضافات إلى من رواها من الأئمة الأثبات (3) .

وقد ذهلوا عن نادر من ذلك في بعض الحالات.

وأعلم أن العلماء من الحديث وغيرهم جوزوا العمل بالضعيف في فضائل الأعمال (4) ومع هذا، فإني أقتصر على الصحيح، فلا أذكر

--------------------------------------------

(1) أصل الرمز: هو الاشارة بعين، أو حاجب، أو شفة، ثم استعمل في الكتاب تجوزا.

(2) عتد الشئ بالضم عتادا بالفتح بمعنى حضر.

اه - مختار (3) ورجل ثبت، ساكن الباء متثبت في أموره، والجمع أثبات كسبب وأسباب.

اهـ - مصباح.

(4) وقال في شرح التقريب للامام السيوطي: ويجوز عند أهل الحديث وغيرهم، التساهل في الاسانيد، ورواية ما سوى الموضوع من الضعيف، والعمل به من غير بيان ضعفه في غير صفات الله تعالى والاحكام: الحلال والحرام وغيرهما.

اهـ -.

وذلك كالقصص، وفضائل الاعمال والمواعظ وغيرهما مما لا تعلق له بالعقائد والاحكام، وقد بسطت هذا البحث في تعليقي على كتاب المؤلف " الفتاوي " ص 266 ط الخامسة مفيدا فارجع إليه تجد ما يسرك.

كتبه محمد.

(*)
আমি এর আদবসমূহের প্রতিটি প্রকার থেকে তার কিছু নির্দশনের প্রতি সংকেত প্রদান করব, তাই আমি যা উল্লেখ করব তার অধিকাংশই সূত্রসমূহ (أسانيد) বাদ দিয়ে বর্ণনা করব।

যদিও সেগুলোর সূত্রসমূহ (أسانيد), আল্লাহর প্রশংসায়, আমার নিকট উপস্থিত ও প্রস্তুত রয়েছে, তবুও আমার উদ্দেশ্য হলো সেগুলোর মূল বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং আমি যা উল্লেখ করব তার মাধ্যমে বাদ পড়া বিষয়গুলোর দিকে ইঙ্গিত করা।

এই সংক্ষেপণকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হলো, আমি এটি মুখস্থ করা, এর থেকে অধিক উপকার লাভ করা এবং এর প্রচার হওয়াকে পছন্দ করি।

এরপর কিতাবের শেষে একটি অধ্যায়ে দুষ্পাপ্য নাম এবং ভাষাতাত্ত্বিক কঠিন শব্দগুলো স্থান পাবে, যাতে এর ব্যবহারকারীর উপকার পূর্ণতা পায় এবং অন্বেষণকারীর সংশয় দূর হয়। এরই মাঝে এবং বিভিন্ন অধ্যায়ের অভ্যন্তরে কিছু মূলনীতি এবং গুরুত্বপূর্ণ বহু মূল্যবান শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত হবে। আরও থাকবে সহিহ (صحيح) এবং দুর্বল (ضعيف) হাদিসগুলোর মধ্যকার পার্থক্য, যা সেই সকল নির্ভরযোগ্য (أثبات) ইমামগণের বর্ণনার সাথে সম্পৃক্ত করা হবে যারা সেগুলো বর্ণনা করেছেন।

আর তারা কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগুলোর বিরল কিছু অংশ সম্পর্কে বিস্মৃত হয়েছেন।

জেনে রাখুন যে, হাদিস বিশারদ এবং অন্যান্য আলেমগণ আমলের ফজিলাত সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করা বৈধ মনে করেছেন। তা সত্ত্বেও আমি কেবল সহিহ (صحيح) হাদিসের ওপর সীমাবদ্ধ থাকব, তাই আমি উল্লেখ করব না

--------------------------------------------

(১) 'রাময' এর মূল অর্থ হলো: চোখ, ভ্রু বা ঠোঁটের মাধ্যমে ইশারা করা, পরবর্তীতে তা রূপক অর্থে লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে।

(২) কোনো কিছু 'আতুদা' হওয়ার অর্থ হলো উপস্থিত হওয়া।

— মুখতার (৩) একজন ব্যক্তি 'সাবত' হওয়া মানে সে তার কার্যাবলিতে অত্যন্ত দৃঢ় ও অবিচল। এর বহুবচন হলো নির্ভরযোগ্য (أثبات)।

— মিসবাহ।

(৪) ইমাম সুয়ূতী রচিত শারহুত তাকরিব-এ বলা হয়েছে: হাদিস বিশারদ এবং অন্যদের মতে, মহান আল্লাহর গুণাবলি এবং হালাল-হারাম সংক্রান্ত বিধান ছাড়া সূত্রসমূহের (أسانيد) ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করা এবং জাল (موضوع) ব্যতীত অন্য কোনো দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণনা করা এবং তার দুর্বলতা (ضعف) বর্ণনা না করেই তার ওপর আমল করা জায়েজ।

—।

যেমন: কিচ্ছা-কাহিনী, আমলের ফজিলাত, নসিহত এবং আকিদা ও বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন অন্যান্য বিষয়। আমি এই আলোচনাটি গ্রন্থকারের কিতাব "আল-ফাতাওয়া" এর আমার টিকায় (৫ম সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২৬৬) বিস্তারিতভাবে লিখেছি, যা অত্যন্ত উপকারী। আপনি চাইলে সেখানে দেখে নিতে পারেন, যা আপনাকে আনন্দিত করবে।

এটি লিখেছেন মুহাম্মদ।

(*)
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
الضعيف إلا في بعض الأحوال، وعلى الله الكريم توكلي واعتمادي، وإليه تفويضي واستنادي، وأسأله سلوك سبيل الرشاد، والعصمة من أهل الزيغ والعناد، والدوام على ذلك وغيره من الخير في ازدياد، وأبتهل إليه - سبحانه - أن يوفقني لمرضاته، وأن يجعلني ممن يخشاه ويتقيه حق تقاته، وأن يهديني بحسن النيات، وييسر لي جميع أنواع الخيرات، ويعينني على أنواع المكرمات، ويديمني على ذلك حتى الممات، وأن يفعل ذلك كله بجيمع أحبابي، وسائر المسلمين والمسلمات، وحسبي الله ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم اه -.

ويشتمل هذا الكتاب على عشرة أبواب:

الفهرس الاجمالي:

13 - الباب الأول: في أطراف من فضيلة تلاوة القرآن وحملته.

23 - الباب الثاني: في ترجيح القرآن والقاري على غيرهما.

26 - الباب الثالث: في إكرام أهل القرآن، والنهي عنه أذاهم.

31 - الباب الرابع: في آداب معلم القرآن ومتعلمه.

54 - الباب الخامس: في آداب حامل القرآن.

70 - الباب السادس: في آداب القرآن، وهو معظم الكتاب ومقصوده.

163 - الباب السابع: في آداب الناس كلهم مع القرآن.

176 - الباب الثامن: في الآيات والسور المستحبة في أوقات وأحوال مخصوصة.

185 - الباب التاسع: في كتابة القرآن وإكرام المصحف.

199 - الباب العاشر: فط ضبط ألفاظ هذا الكتاب.
দুর্বল (ضعيف) কেবল বিশেষ কিছু অবস্থা ব্যতীত। মহান আল্লাহর ওপরই আমার তাওয়াক্কুল ও ভরসা, তাঁরই নিকট আমার সকল কাজের সমর্পণ ও নির্ভরতা। আমি তাঁর নিকট হেদায়েতের পথে চলার তাওফিক কামনা করছি, এবং বিচ্যুতি ও একগুঁয়েমিপূর্ণ লোকদের থেকে নিরাপত্তা চাইছি। আর সেই সাথে কল্যাণ বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার প্রার্থনা করছি। তাঁর—যিনি মহাপবিত্র—নিকট আকুতি জানাচ্ছি যেন তিনি আমাকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে চলার তাওফিক দান করেন, এবং আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা তাঁকে যথাযথভাবে ভয় করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে। তিনি যেন আমাকে নেক নিয়তের মাধ্যমে হেদায়েত দান করেন, আমার জন্য সকল প্রকার কল্যাণ সহজ করে দেন, আমাকে সকল প্রকার মহৎ কাজে সাহায্য করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত আমাকে এর ওপর অটল রাখেন। তিনি যেন আমার সকল প্রিয়জন এবং সকল মুসলিম নর-নারীর ক্ষেত্রেও অনুরূপ করেন। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক। মহান ও শ্রেষ্ঠ আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। সমাপ্ত—

এই কিতাবটি দশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত:

সারসংক্ষেপ সূচীপত্র:

১৩ - প্রথম অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াত ও এর বাহকদের ফজিলতের কিয়দংশ প্রসঙ্গে।

২৩ - দ্বিতীয় অধ্যায়: অন্য সবার ওপর কুরআন ও এর ক্বারীর শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে।

২৬ - তৃতীয় অধ্যায়: কুরআনওয়ালাদের সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের কষ্ট দিতে নিষেধ করা প্রসঙ্গে।

৩১ - চতুর্থ অধ্যায়: কুরআনের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর আদব বা শিষ্টাচার প্রসঙ্গে।

৫৪ - পঞ্চম অধ্যায়: কুরআনের বাহকের আদব প্রসঙ্গে।

৭০ - ষষ্ঠ অধ্যায়: কুরআনের আদব বা শিষ্টাচার প্রসঙ্গে; এটিই কিতাবের মূল অংশ ও উদ্দেশ্য।

১৬৩ - সপ্তম অধ্যায়: কুরআনের ব্যাপারে সকল মানুষের আদব প্রসঙ্গে।

১৭৬ - অষ্টম অধ্যায়: বিশেষ সময় ও অবস্থায় পাঠযোগ্য মুস্তাহাব আয়াত ও সূরাসমূহ প্রসঙ্গে।

185 - নবম অধ্যায়: কুরআন লিখন ও মুসহাফের সম্মান রক্ষা প্রসঙ্গে।

১৯৯ - দশম অধ্যায়: এই কিতাবের শব্দাবলির সঠিক উচ্চারণ বিন্যাস প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الباب الأول في أطراف من فضيلة تلاوة القرآن وحملته

قال الله عز وجل إن الذين يتلون كتاب الله وأقاموا الصلاة وأنفقوا مما رزقناهم سرا وعلانية يرجون تجارة لن تبور ليوفيهم أجورهم ويزيدهم من فضله إنه غفور شكور (30) وروينا عن عثمان بن عفان رضي الله عنه قال قال رسول الله ص: خيركم من تعلم القرآن وعلمه
প্রথম অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াত এবং এর ধারকদের ফযীলত সংক্রান্ত কিছু পরিচ্ছেদ প্রসঙ্গে

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "নিশ্চয় যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনো ধ্বংস হবে না। যাতে তিনি তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে প্রদান করেন এবং আপন অনুগ্রহে আরও বৃদ্ধি করে দেন; নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও গুণগ্রাহী।" (৩০) এবং আমরা উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা (رواية) করেছি, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা শিক্ষা দেয়।"
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
رواه أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم البخاري في صحيحه الذي هو أصح الكتب بعد القرآن وعن عائشة رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الذي يقرأ القرآن وهو ماهر به مع السفرة الكرام البررة والذي يقرأ القرآن وهو يتتعتع فيه وهو عليه شاق له أجران رواه البخاري وأبو الحسين مسلم بن مسلم القشيري

النيسابوري في صحيحهما
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আল-বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, যা কুরআনের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) গ্রন্থ। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং সে তাতে দক্ষ (ماهر), সে উচ্চমর্যাদাবান ও পুণ্যবান ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তাতে সে তোতলায় ও তা তার জন্য কষ্টসাধ্য (شاق) হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব। এটি বুখারি এবং আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনে মুসলিম আল-কুশায়রি

আন-নিশাপুরি তাঁদের সহিহদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
وعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: * مثل المؤمن الذي يقرأ القرآن مثل الأترجة ريحها طيب وطعمها طيب ومثل المؤمن الذي لا يقرأ القرآن مثل التمرة لا ريح لها وطعمها طيب حلو
আবু মুসা আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: * যে মুমিন কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো বাতাবি লেবুর মতো, যার ঘ্রাণ চমৎকার এবং স্বাদও চমৎকার। আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো খেজুরের মতো, যার কোনো ঘ্রাণ নেই কিন্তু স্বাদ মিষ্টি ও সুস্বাদু।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومثل المنافق الذي يقرأ القرآن مثل الريحانة ريحها طيب وطعمها مر ومثل المنافق الذي لا يقرأ القرآن كمثل الحنظلة ليس لها ريح وطعمها مر
আর যে মুনাফিক (منافق) কুরআন তিলাওয়াত করে তার উদাহরণ রায়হানা (সুগন্ধি লতা) সদৃশ, যার সুবাস চমৎকার কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক (منافق) কুরআন তিলাওয়াত করে না তার উদাহরণ হলো হানজালা (মাকাল ফল) সদৃশ, যার কোনো সুবাস নেই এবং স্বাদ তিক্ত।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
رواه البخاري ومسلم وعن عمر بن الخطاب رضي الله تعالى عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم: قال إن الله تعالى يرفع بهذا الكلام أقواما ويضع به آخرين رواه مسلم وعن أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه قال سمعت رسول صلى الله عليه وسلم: يقول
বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই বাণীর মাধ্যমে অনেক জাতিকে সমুন্নত করেন এবং এর মাধ্যমেই অন্যদের অবনমিত করেন।” ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। আবু উমামা আল-বাহিলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
اقرؤوا القرآن فإنه يأتي يوم القيامة شفيعا لأصحابه رواه مسلم

وعن ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم: قال لا حسد إلا في اثنتين 1 - رجل آتاه الله القرآن فهو يقوم به آناء الليل وآناء النهار 2 - ورجل آتاه الله مالا فهو ينفقه آناء الليل وآناء النهار رواه البخاري ومسلم وروينا أيضا من رواية عبد الله بن مسعود رضي الله عنه بلفظ لا حسد إلا في اثنتين 1 - رجل آتاه الله مالا فسلطه على هلكته في الحق 2 - ورجل آتاه الله حكمة فهو يقضي بها ويعلمها وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قرأ حرفا من كتاب الله تعالى فله حسنة والحسنة بعشر أمثالها لا أقول ألم حرف ولكن ألف حرف ولام حرف وميم حرف
তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করো, কেননা কিয়ামতের দিন তা তার সাথীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: দুই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো প্রতি ঈর্ষা পোষণ করা বৈধ নয়। ১. সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন এবং সে দিবা-রাত্রির বিভিন্ন প্রহরে তা নিয়ে (সালাতে) দণ্ডায়মান থাকে। ২. সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং সে তা দিবা-রাত্রির বিভিন্ন প্রহরে ব্যয় করে। এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর বর্ণনা (رواية) হতে এই পাঠেও (لفظ) বর্ণনা করেছি যে: দুই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো প্রতি ঈর্ষা করা যায় না। ১. সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং তাকে তা সত্যের পথে ব্যয় করার পূর্ণ সামর্থ্য দিয়েছেন। ২. সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ হিকমত বা প্রজ্ঞা দান করেছেন, যার মাধ্যমে সে বিচার-ফয়সালা করে এবং তা শিক্ষা দেয়। আর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফ পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে; আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ সওয়াবের সমান। আমি বলছি না যে, ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি হরফ; বরং ‘আলিফ’ একটি হরফ, ‘লাম’ একটি হরফ এবং ‘মীম’ একটি হরফ।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
رواه أبو عيسى محمد بن عيسى الترمذي وقال حديث حسن صحيح وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: قال يقول سبحانه وتعالى (من شغله القرآن وذكري عن مسألتي أعطيته أفضل ما أعطي السائلين وفضل كلام الله سبحانه وتعالى عن سائر الكلام كفضل الله تعالى على خلقه رواه الترمذي وقال حديث حسن غريب.

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

إن الذي ليس في جوفه شئ من القرآن كالبيت الخرب رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: قال
এটি আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন এটি একটি গ্রহণযোগ্য (حسن) সঠিক (صحيح) হাদিস। আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেছেন যে, মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, "যাকে কুরআন এবং আমার জিকির আমার কাছে কিছু যাচনা করা থেকে বিরত রেখেছে, আমি তাকে সাহায্যপ্রার্থীদের যা দান করি তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ কিছু দান করি। আর সমস্ত বাণীর ওপর মহান আল্লাহর বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, যেমন তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব।" তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি একটি গ্রহণযোগ্য (حسن) অনন্য (غريب) হাদিস।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

নিশ্চয়ই যার অভ্যন্তরে কুরআনের কোনো অংশ নেই, সে একটি উজাড় ঘরের মতো। তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি একটি গ্রহণযোগ্য (حسن) সঠিক (صحيح) হাদিস। আর আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
يقال لصاحب القرآن اقرأ وارق ورتل كما كنت ترتل في الدنيا فإن منزلتك عند آخر آية تقرؤها رواه أبو داود والترمذي والنسائي وقال الترمذي حديث حسن صحيح وعن معاذ بن أنس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم: قال من قرأ القرآن وعمل بما فيه ألبس الله والديه تاجا يوم القيامة ضوؤه أحسن من ضوء الشمس في بيوت الدنيا فما ظنكم بالذي عمل بهذا رواه أبو داود وروى الدارمي بإسناده أن عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: قال اقرؤوا القرآن فإن الله تعالى لا يعذب قلبا وعى القرآن وإن هذا القرآن مأدبة الله فمن دخل فيه فهو آمن ومن أحب القرآن فليبشر

কুরআন পাঠকারীকে বলা হবে, 'তুমি পাঠ করো এবং আরোহণ করো, আর ধীরস্থিরভাবে তিলাওয়াত করো যেমনটি তুমি দুনিয়াতে তিলাওয়াত করতে; নিশ্চয় তোমার মর্যাদা হবে তোমার পঠিত শেষ আয়াতের নিকট।' এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসাঈ এবং ইমাম তিরমিজি একে হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস বলেছেন। মুয়াজ ইবনে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবে এবং তাতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার পিতামাতাকে এমন একটি মুকুট পরিধান করাবেন যার আলো দুনিয়ার ঘরসমূহে সূর্যের আলোর চেয়েও অধিক উজ্জ্বল হবে। তাহলে যে ব্যক্তি নিজে এর ওপর আমল করেছে তার ব্যাপারে তোমাদের কী ধারণা?' এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ। এবং ইমাম দারিমি তাঁর সনদ (إسناد) সহকারে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে এবং তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: 'তোমরা কুরআন পাঠ করো, কারণ মহান আল্লাহ এমন কোনো অন্তরকে আজাব দেবেন না যা কুরআনকে ধারণ করেছে। আর নিশ্চয় এই কুরআন আল্লাহর এক ভোজসভা; সুতরাং যে এতে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ থাকবে এবং যে কুরআনকে ভালোবাসবে সে যেন সুসংবাদ গ্রহণ করে।'

(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
وعن الحميدي الجمالي قال سألت سفيان الثوري عن الرجل يغزو أحب إليك أو يقرأ القرآن فقال يقرأ القرآن لأن النبي صلى الله عليه وسلم: قال خيركم من تعلم القرآن وعلمه
আল-হুমাইদী আল-জামালী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সুফিয়ান আস-সাওরীকে জনৈক ব্যক্তির যুদ্ধাভিযানে অংশগ্রহণ করা আপনার নিকট অধিক প্রিয় নাকি কুরআন পাঠ করা—সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, সে যেন কুরআন পাঠ করে; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা অন্যকে শিক্ষা দেয়।”
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
[ … ]
…
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الباب الثاني في ترجيح القراءة والقارئ على غيرهما

ثبت عن ابن مسعود الأنصاري البدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: قال: يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله تعالى رواه مسلم
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিরাত এবং কারিকে অন্যদের ওপর অগ্রাধিকার প্রদান প্রসঙ্গে

ইবনে মাসউদ আল-আনসারী আল-বদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত (ثبت) যে, তিনি বলেছেন: “লোকদের ইমামতি করবে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর কিতাব পাঠে সবচেয়ে পারদর্শী।” এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال كان القراء أصحاب مجلس عمر رضي الله عنه ومشاورته كهولا وشبابا رواه البخاري في صحيحه وسيأتي في الباب بعد هذا أحاديث تدخل في هذا الباب واعلم أن المذهب الصحيح المختار الذي عليه من يعتمد من العلماء أن قراءة القرآن أفضل من التسبيح والتهليل وغيرهما من الأذكار وقد تظاهرت الأدلة على ذلك والله أعلم
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: কুরআন পাঠকারীগণই (ক্বারী) ছিলেন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মজলিস এবং পরামর্শ সভার সদস্য, তারা প্রৌঢ় হোন কিংবা যুবক। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। অচিরেই এই পরিচ্ছেদের পরবর্তী অংশে এমন কিছু হাদিস আসবে যা এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। জেনে রাখুন যে, বরেণ্য আলেমগণ যে মতের ওপর নির্ভর করেন, সেই সঠিক (صحيح) ও মনোনীত (مختار) মতটি হলো—কুরআন তিলাওয়াত করা তাসবীহ, তাহলীল এবং অন্যান্য যিকিরের তুলনায় অধিক উত্তম। এই বিষয়ে সুষ্পষ্ট অসংখ্য দলিল বিদ্যমান। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
[ … ]
…
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الباب الثالث في إكرام أهل القرآن والنهي عن أذاهم

قال الله عز وجل (ذلك ومن يعظم شعائر الله فإنها من تقوى القلوب) وقال الله تعالى (ذلك ومن يعظم حرمات الله فهو خير له عند ربه وقال تعالى (واخفض جناحك لمن اتبعك من المؤمنين وقال تعالى (والذين يؤذون المؤمنين والمؤمنا ت بغير ما اكتسبوا فقد احتملوا بهتانا وإثما مبينا
তৃতীয় অধ্যায়: কুরআনের ধারকদের সম্মান করা এবং তাদের কষ্ট প্রদান নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেছেন, "এটাই আল্লাহর বিধান; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে সম্মান করে, তা তো তার হৃদয়ের তাকওয়া থেকেই উৎসারিত।" আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন, "এটাই বিধান; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পবিত্র বিষয়সমূহকে সম্মান করে, তার প্রতিপালকের নিকট তা-ই তার জন্য কল্যাণকর।" আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন, "আর মুমিনদের মধ্য থেকে যারা আপনার অনুসরণ করে, তাদের প্রতি আপনি নম্র ও সদয় হোন।" আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন, "আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের কোনো কৃতকর্ম ছাড়াই কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।"
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
وفي الباب حديث أبي مسعود الأنصاري وحديث ابن عباس المتقدمان في الباب الثاني وعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن من إجلال الله تعالى إكرام ذي الشيبة المسلم وحامل القرآن غير الغالي فيه والجافي عنه وإكرام ذي السلطان المقسط رواه أبو داود وهو حديث حسن وعن عائشة رضي الله عنها قالت
এই পরিচ্ছেদে আবু মাসুদ আল-আনসারি এবং ইবনে আব্বাসের সেই হাদিস দুটি রয়েছে যা দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবু মুসা আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “নিশ্চয়ই বয়োজ্যেষ্ঠ মুসলিমকে সম্মান করা, কুরআনের এমন বাহককে সম্মান করা যে তাতে অতিরঞ্জন করে না এবং তা থেকে বিমুখ থাকে না, এবং ন্যায়পরায়ণ শাসককে সম্মান করা মহান আল্লাহর মহত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।” এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
[ … ]
...
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: أن ننزل الناس منازلهم رواه أبو داود في سننه والبزار في مسنده قال الحاكم أبو عبد الله

في علوم الحديث هو حديث صحيح وعن جابر بن عبد الله رضي الله عنه أن النبي ص: كان يجمع بين الرجلين من قتلى أحد ثم يقول أيهما أكثر أخذا للقرآن فإن أشير إلى أحدهما قدمه في اللحد رواه البخاري وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي ص: إن الله عز وجل قال من آذى لي وليا فقد آذنته بالحرب رواه البخاري وثبت في الصحيحين عنه صلى الله عليه وسلم: أنه قال من صلى الصبح فهو في ذمة الله تعالى فلا يطلبنكم الله بشئ من ذمته وعن الإمامين الجليلين أبي حنيفة والشافعي رضي الله عنهما قالا إن لم يكن العلماء أولياء الله فليس لله ولي قال الإمام الحافظ أبو القاسم بن عساكر رحمه الله اعلم يا أخي وفقنا الله وإياك لمرضاته وجعلنا ممن يغشاه ويتقيه حق تقاته أن لحوم العلماء مسمومة وعادة الله في هتك أستار
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন: আমরা যেন মানুষকে তাদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করি। এটি আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে এবং বাজজার তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ

তাঁর উলুমুল হাদিস গ্রন্থে বলেছেন যে, এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদদের মধ্য থেকে দুজনকে একত্রে সমাহিত করতেন, অতঃপর বলতেন: "তাদের মধ্যে কে কুরআনের অধিক হাফিজ?" যখন তাদের একজনের দিকে ইঙ্গিত করা হতো, তিনি তাকে কবরের লাদ-এ অগ্রভাগে রাখতেন। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির (ولي) সাথে শত্রুতা করবে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছি।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। সহিহাইন গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল, সে আল্লাহর নিরাপত্তায় থাকল। সুতরাং আল্লাহ যেন তাঁর এই নিরাপত্তার বিষয়ে তোমাদের পাকড়াও না করেন।" দুই মহান ইমাম আবু হানিফা ও শাফিঈ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন: "যদি আলেমগণ আল্লাহর ওলি (ولي) না হন, তবে আল্লাহর আর কোনো ওলি (ولي) নেই।" ইমাম হাফিজ (حافظ) আবুল কাসিম ইবনে আসাকির রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: "হে আমার ভাই, জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে তাঁর সন্তুষ্টির তৌফিক দান করুন এবং আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা তাঁকে যথাযথভাবে ভয় করে—নিশ্চয়ই আলেমদের গোশত বিষাক্ত এবং যারা তাঁদের অবমাননা করে তাদের পর্দা উন্মোচন করে দেওয়া আল্লাহর চিরন্তন রীতি।"
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
منتقصيهم معلومة وأن من أطلق لسانه في العلماء بالثلب ابتلاه الله تعالى قبل موته بموت القلب فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم
তাদের মর্যাদাহানিকারীদের (منتقصيهم) বিষয়টি সুপরিচিত। আর নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আলেমদের নিন্দা বা দোষারোপের (ثلب) মাধ্যমে স্বীয় জিহ্বাকে প্রসারিত করে, আল্লাহ তাআলা তার মৃত্যুর পূর্বেই তাকে অন্তরের মৃত্যু দ্বারা পরীক্ষায় নিপতিত করেন। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, পাছে তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় (فتنة) নেমে আসে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব আপতিত হয়।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الباب الرابع في آداب معلم القرآن ومتعلمه

قال هذا الباب مع البابين بعده مقصود الكتاب وهو طويل منتشر جدا فإني أشير إلى مقاصده مختصرة في فصول ليسهل حفظه وضبطه إن شاء الله تعالى [فضل] أول ما ينبغي للمقرئ والقارئ أن يقصدا بذلك رضا الله تعالى قال الله تعالى وما أمروا إلا ليعبدوا الله مخلصين له الدين حنفاء ويقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة وذلك دين القيمة أي الملة المستقيمة وفي الصحيحين عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى وهذا الحديث من أصول الإسلام
চতুর্থ অধ্যায়: কুরআন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর শিষ্টাচার প্রসঙ্গে

তিনি বলেন, পরবর্তী দুই অধ্যায়সহ এই অধ্যায়টিই হলো এই গ্রন্থের মূল লক্ষ্য। এটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও বিস্তৃত; তাই ইনশাআল্লাহ তাআলা আমি এর মূল বিষয়বস্তুসমূহ বিভিন্ন পরিচ্ছেদে সংক্ষেপে তুলে ধরব, যাতে তা মুখস্থ রাখা ও আয়ত্ত (ضبط) করা সহজ হয়। [ফজিলত] কুরআন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জন্য সর্বপ্রথম যা করণীয় তা হলো, এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির সংকল্প করা। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: "তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে এবং নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। আর এটাই সঠিক দ্বীন।" অর্থাৎ সুপ্রতিষ্ঠিত আদর্শ। সহীহাইন-এ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই পাবে।" এই হাদিসটি ইসলামের অন্যতম মূল ভিত্তি।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩২)
وروينا عن ابن عباس رضي الله عنهما قال إنما يعطى الرجل على قدر نيته وعن غيره إنما يعطى الناس على قدر نياتهم وروينا عن الأستاذ أبي القاسم القشيري رحمه الله تعالى قال الإخلاص إفراد الحق في الطاعة بالقصد وهو أن يريد بطاعته التقرب الى الله تعالى دون شئ آخر من تصنع لمخلوق أو اكتساب محمدة عند الناس أو محبة أو مدح من الخلق أو معنى من المعاني سوى التقرب إلى الله تعالى قال ويصح أن يقال

الإخلاص تصفية الفعل عن ملاحظة المخلوقين وعن حذيفة المرعشي رحمه الله تعالى الإخلاص استواء أفعال العبد في الظاهر والباطن وعن ذي النون رحمه الله تعالى قال ثلاث من علامات الإخلاص 1 - استواء المدح والذم من العامة 2 - ونسيان رؤية العمل في الأعمال 3 - واقتضاء ثواب الأعمال في الآخرة وعن الفضيل بن عياض رضي الله عنه قال ترك العمل لأجل الناس رياء والعمل لأجل الناس شرك والإخلاص أن يعافيك الله منهما وعن سهل التستري رحمه الله تعالى قال نظر الأكياس في تفسير الإخلاص فلم يجدوا غير هذا أن تكون
আমরা ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: "মানুষকে কেবল তার নিয়তের পরিমাণ অনুযায়ী প্রতিদান দেওয়া হয়।" এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে: "মানুষকে তাদের নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান দেওয়া হয়।" আমরা উস্তাদ আবুল কাসেম আল-কুশাইরি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: "ইখলাস হলো আনুগত্যের সংকল্পের ক্ষেত্রে কেবল আল্লাহকেই উদ্দেশ্য করা। আর তা হলো—ব্যক্তি তার আনুগত্যের মাধ্যমে একমাত্র মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের ইচ্ছা করবে; সেখানে কোনো সৃষ্টির প্রতি লৌকিকতা প্রদর্শন, মানুষের নিকট প্রশংসা অর্জন, সৃষ্টির ভালোবাসা বা প্রশংসা লাভ অথবা আল্লাহর নৈকট্য লাভ ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকবে না।" তিনি আরও বলেন: "এটি বলাও সঠিক যে,

ইখলাস হলো আমলকে সৃষ্টির অবলোকন থেকে পরিচ্ছন্ন রাখা।" হুজাইফা আল-মারআশি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণিত, "ইখলাস হলো বান্দার প্রকাশ্য ও গোপন আমল সমান হওয়া।" জুন নুন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ইখলাসের তিনটি আলামত রয়েছে: ১. সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে প্রশংসা ও নিন্দা সমান হওয়া; ২. আমল করার সময় নিজ আমল অবলোকনের বিষয়টি ভুলে যাওয়া; ৩. এবং পরকালে আমলের সওয়াব প্রত্যাশা করা।" ফুদাইল ইবনে ইয়াদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "মানুষের কারণে আমল বর্জন করা হলো লোকদেখানো (رياء), আর মানুষের জন্য আমল করা হলো শিরক (شرك), এবং ইখলাস হলো আল্লাহ আপনাকে এ দুটি বিষয় থেকে মুক্ত রাখা।" সাহল আত-তুস্তারি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "বিচক্ষণ ব্যক্তিগণ ইখলাসের সংজ্ঞার ব্যাপারে পর্যালোচনা করেছেন, কিন্তু তাঁরা এটি ছাড়া অন্য কিছু পাননি যে, তা হলো এই যে..."
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
حركته وسكونه في سره وعلانيته لله تعالى وحده لا يمازجه شئ لا نفس ولا هوى ولا دنيا وعن السري رضي الله عنه قال لا تعمل للناس شيئا ولا تترك لهم شيئا ولا تغط لهم شيئا ولا تكشف لهم شيئا وعن القشيري قال أفضل الصدق استواء الصدق والعلانية وعن الحارث المحاسبي رحمه الله تعالى قال الصادق هو الذي لا يبالي ولو خرج عن كل قدر له في قلوب

الخلائق من أجل صلاح قلبه ولا يحب اطلاع الناس على مثاقيل الذر من حسن عمله ولا يكره إطلاع الناس على السئ من عمله فإن كراهته لذلك دليل على أنه يحب الزيادة عندهم وليس هذا من أخلاق الصديقين وعن غيره إذا طلبت الله تعالى بالصدق أعطاك الله مرآة تبصر فيها كل شئ من عجائب الدنيا والآخرة وأقاويل السلف في هذا كثيرة أشرنا إلى هذه الأحرف منها تنبيها على المطلوب وقد ذكرت جملا من عن ذلك مع شرحها في أول شرح المهذب
তাঁর প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতা, তাঁর নির্জনতা ও প্রকাশ্যতা—সবই একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য, যাতে নফস, প্রবৃত্তি কিংবা দুনিয়ার কোনো কিছুর মিশ্রণ নেই। আস-সাররি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, "লোকদের জন্য কোনো কাজ করো না, তাদের কারণে কোনো কাজ ছেড়ে দিও না, তাদের জন্য কোনো কিছু গোপন করো না এবং তাদের কাছে কোনো কিছু প্রকাশ করো না।" আল-কুশায়রি বলেছেন, "সর্বোত্তম সত্যবাদিতা (الصدق) হলো গোপন ও প্রকাশ্য অবস্থার সমতা।" হারিস আল-মুহাসিবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, "সত্যবাদী (الصادق) তিনিই, যিনি নিজের অন্তরের সংশোধনের জন্য সৃষ্টির অন্তরে (قلوب)

তাঁর (الخلائق) সমস্ত মর্যাদা হারানোকেও পরোয়া করেন না। তিনি তাঁর নেক আমলের অণু পরিমাণও মানুষকে জানানো পছন্দ করেন না, আবার তাঁর মন্দ আমল মানুষ জেনে ফেললে অপছন্দও করেন না। কেননা তা অপছন্দ করা এই কথার প্রমাণ যে, তিনি তাদের নিকট নিজের মর্যাদা বৃদ্ধি পেতে ভালোবাসেন, আর এটি সিদ্দীকগণের (الصديقين) স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য নয়।" অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, "তুমি যদি সত্যবাদিতার (الصدق) সাথে মহান আল্লাহর অন্বেষণ করো, তবে তিনি তোমাকে এমন এক আয়না দান করবেন যাতে তুমি দুনিয়া ও আখিরাতের সকল বিস্ময়কর বিষয়াবলি দেখতে পাবে।" এ বিষয়ে সালাফগণের অনেক উক্তি রয়েছে, কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের প্রতি সতর্ক করার জন্য আমরা তার মধ্য থেকে সামান্য কিছু অংশ উল্লেখ করেছি। আমি শারহুল মুহাজ্জাব-এর শুরুতে এর ব্যাখ্যাসহ এ সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وضممت إليها من آداب العالم والمتعلم والفقيه والمتفقه ما لا يستغني عنه طالب العلم والله أعلم

 

‌‌[فصل] وينبغي أن لا يقصد به توصلا إلى غرض من أغراض الدنيا من مال أو رياسة أو وجاهة أو ارتفاع على أقرانه أو ثناء عند الناس أو صرف وجوه الناس إليه أو نحو ذلك * ولا يشوب المقرئ إقراءه بطمع في رفق يحصل له من بعض من يقرأ عليه سواء كان الرفق مالا أو خدمة وإن قل ولو كان على صورة الهدية التي لولا قراءته عليه لما أهداها إليه قال تعالى (من كان يريد حرث الآخرة نزد له في حرثه ومن كان يريد حرث الدنيا نؤته منها وما له في الآخرة من نصيب) وقال تعالى (من كان يريد العاجلة عجلنا له فيها ما نشاء لمن نريد) الآية وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من تعلم علما يبتغي به وجه الله تعالى لا يتعلمه إلا ليصيب به غرضا من الدنيا لم يجد عرف الجنة يوم القيامة رواه أبو داود بإسناد صحيح ومثله أحاديث كثيرة وعن أنس وحذيفة وكعب بن مالك رضي الله عنهم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم: قال
আর আমি এতে আলেম ও শিক্ষার্থী এবং ফকিহ ও উচ্চতর দ্বীনি জ্ঞান অন্বেষণকারীদের এমন কিছু শিষ্টাচার যুক্ত করেছি যা একজন ইলম অন্বেষণকারীর জন্য অপরিহার্য। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌[পরিচ্ছেদ] আর উচিত হলো এর মাধ্যমে পার্থিব কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের সংকল্প না করা, চাই তা ধন-সম্পদ, নেতৃত্ব, পদমর্যাদা, সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন, মানুষের প্রশংসা লাভ, মানুষের মনোযোগ নিজের দিকে আকর্ষণ করা কিংবা এই জাতীয় কিছু হোক। আর ক্বারী (শিক্ষক) যেন তার পাঠদানকে এমন কোনো পার্থিব সুযোগ-সুবিধার লালসা দ্বারা কলুষিত না করেন যা তার কোনো ছাত্রের কাছ থেকে অর্জিত হতে পারে; চাই সেই সুবিধা অর্থসম্পদ হোক বা সেবা, এমনকি তা পরিমাণে সামান্য হলেও। এমনকি তা যদি উপহারের আকৃতিতেও হয়, যা তার কাছে পাঠ গ্রহণ না করলে ছাত্র তাকে প্রদান করত না। আল্লাহ তাআলা বলেন, "যে ব্যক্তি আখেরাতের ফসল কামনা করে, আমি তার ফসলে প্রবৃদ্ধি দান করি; আর যে দুনিয়ার ফসল কামনা করে, আমি তাকে তা থেকেই কিছু দান করি, কিন্তু আখেরাতে তার কোনো অংশ নেই।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, "যে ব্যক্তি এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া কামনা করে, আমি তাকে এখানে যা ইচ্ছা এবং যাকে ইচ্ছা দ্রুত প্রদান করি..." (আয়াতাংশ)। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি এমন ইলম অর্জন করল যার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা হয়, কিন্তু সে তা কেবল দুনিয়াবি কোনো স্বার্থ লাভের উদ্দেশ্যে শিখল, সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।" আবু দাউদ এটি একটি সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন এবং এই বিষয়ে আরও অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আনাস, হুযাইফা ও কাব ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: