(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: -)
طل الربوة تربية الأستاذ الداعية لتلميذه (عبد الله قادري الأهدل)
القسم: كتب عامة
الكتاب: طل الربوة تربية الأستاذ الداعية لتلميذه
المؤلف: الدكتور عبد الله قادري الأهدل
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 36
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 43
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাল্লুর রাবওয়াহ: ছাত্রের প্রতি দাঈ উস্তাযের তারবিয়াহ (আবদুল্লাহ কাদরি আল-আহদাল)
বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি
গ্রন্থ: তাল্লুর রাবওয়াহ: ছাত্রের প্রতি দাঈ উস্তাযের তারবিয়াহ
লেখক: ডক্টর আবদুল্লাহ কাদরি আল-আহদাল
প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত গ্রন্থ) : ৩৬
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরী
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ১)
المقدمةالحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين …فإني أقدم هذه القطوف المفيدة، للأستاذ الذي جعل همه تعليم العلم والعمل به، وغرسهما في نفوس تلاميذه، وللتلاميذ الذين يهمهم التلقي السليم المفيد، الذي يثمر في نفوسهم العلم والعمل.أسأل الله أن ينفعني وإخواني المسلمين بها، إنه على كل شئ قدير وصلى الله وسلم على خير المعلمين، وعلى أهله وصحبه خير من تلقى عنه وطبق ما تعلمه في واقع الحياة.
ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর …আমি এই উপকারী চয়নিকাটি সেই শিক্ষকের উদ্দেশ্যে পেশ করছি, যিনি ইলম শিক্ষা দান ও সেই অনুযায়ী আমল করা এবং ছাত্রদের হৃদয়ে তা গেঁথে দেওয়াকেই নিজের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; আর সেইসব ছাত্রদের জন্য, যারা সঠিক ও ফলপ্রসূ শিক্ষা গ্রহণের (التلقي) বিষয়ে আগ্রহী, যা তাদের অন্তরে ইলম ও আমলের ফল উৎপন্ন করবে।আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর মাধ্যমে আমাকে ও আমার মুসলিম ভাইদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর, যারা তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণকারী এবং বাস্তব জীবনে অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ২)
(1) الإخلاص:والمراد بالإخلاص، تصفية العمل وتنقيته من شوائب الشرك بالله تعالى سواء كان شركًا أكبر، وهو الذي قال الله تعالى فيه: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء: 48] .أو شركًا أصغر، ومنه إرادة الإنسان بعمله الرياء، أي مراءاة الناس، كما قال تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} . [الكهف: 110] .وقال تعالى ـ في الحديث القدسي ـ: «أنا أغنى الشركاء عن الشرك، من عمل عملًا أشرك معي فيه غيري تركته وشركه» [مسلم (4 / 2289) ] .وقد أمر الله تعالى بالإخلاص في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم في نصوص كثيرة، منها قوله تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} [البينة: 5] .وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى» [البخاري (1 / 2) ومسلم (3 / 1515) ] .
(1) ইখলাস (নিষ্ঠা):ইখলাস বা নিষ্ঠার উদ্দেশ্য হলো আমলকে মহান আল্লাহর সাথে শিরকের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করা; চাই তা বড় শিরক হোক, যে সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না, তবে এ ছাড়া অন্য সবকিছু যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন।} [আন-নিসা: ৪৮]।অথবা তা ছোট শিরক হোক, যার অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষের নিজের আমলের মাধ্যমে রিয়া অর্থাৎ লোকদেখানো প্রদর্শন কামনা করা; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ প্রত্যাশা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে।} [আল-কাহফ: ১১০]।মহান আল্লাহ হাদিসে কুদসি (القدسي)-তে বলেছেন: «আমি অংশীদারদের শিরক (অংশীদারিত্ব) থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে সে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করেছে, আমি তাকে এবং তার শিরককে বর্জন করি» [মুসলিম (৪ / ২২৮৯)]।মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবানিতে বহু ভাষ্যে ইখলাসের নির্দেশ দিয়েছেন, যার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী হলো: {তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।} [আল-বাইয়্যিনাহ: ৫]।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে» [বুখারি (১ / ২) এবং মুসলিম (৩ / ১৫১৫)]।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ৩)
وقال صلى الله عليه وسلم في حديث جبريل: «الإحسان أن تعبد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك» [البخاري (6 / 20) ومسلم (1 / 37) ] .وقال صلى الله عليه وسلم: «اتق الله حيثما كنت» [الترمذي (4 / 355) وقال: حسن صحيح، والدارمي (2 / 231) ] .فعلى الأستاذ أن يحرص كل الحرص على الإخلاص ومحاربة الرياء في نفسه، وفي تلاميذه، وأن يذكروا أن المخلوقين مهما عظمت منزلتهم فهم مخلوقون، لا يقدرون أن ينفعوهم شيئا ولا يضروهم، وأن يتذكروا عظمة الله الخالق الذي إذا أراد شيئًا فإنما يقول له: {كُنْ فَيَكُونُ} .فإن تذكر الأمرين ضعف المخلوق وعجزه، وقوة الخالق وقدرته وعظمته، مما يعين على إخلاص الأعمال لله تعالى.
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর হাদিসে বলেছেন: "ইহসান হলো এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন।" [বুখারী (৬ / ২০) এবং মুসলিম (১ / ৩৭)]।এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তুমি যেখানেই থাকো না কেন আল্লাহকে ভয় করো।" [তিরমিজি (৪ / ৩৫৫) এবং তিনি বলেছেন: এটি উত্তম (حسن) সহীহ (صحيح), এবং দারেমি (২ / ২৩১)]।অতএব, শিক্ষকের উচিত ইখলাস বা একনিষ্ঠতা অর্জনে এবং নিজের ও নিজের ছাত্রদের মধ্যে রিয়া বা লোক-দেখানোর প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট হওয়া। আর তারা যেন মনে রাখে যে সৃষ্টিজগত—তাদের মর্যাদা যত বড়ই হোক না কেন—তারা কেবলই সৃষ্টি; তারা তাদের কোনো উপকার করার ক্ষমতা রাখে না এবং কোনো ক্ষতিও করতে পারে না। আর তারা যেন মহান স্রষ্টা আল্লাহর মহিমা স্মরণ করে, যিনি কোনো কিছু ইচ্ছা করলে কেবল তাকে বলেন: "হও", ফলে তা হয়ে যায়।সৃষ্টির দুর্বলতা ও অক্ষমতা এবং স্রষ্টার শক্তি, ক্ষমতা ও মহানুভবতা—এই দুটি বিষয় স্মরণে রাখা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমল একনিষ্ঠ করতে সহায়তা করে।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ৪)
(2) التلقي من أجل العمل بالعلم، لا من أجل الثقافة والترف العملي والفكري، وإن كانت الثقافة ستحصل تبعًا، وتتوسع آفاق فكر العامل، وهكذا كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فما كانوا يتجاوزون عشر آيات حتى يعلموهن ويعملوا بهن، وبفقد هذه الروح أو ضعفها في طلبة العلم، كثر المنتسبون للعلم وقلّ العمل، بل وأصبح الفساد الذي يأتي من قبل بعضهم أكثر من الفساد الآتي من عامة الناس.وقد قال الله تعالى عن اليهود الذين يعلمون ولا يعملون: {مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ} [الجمعة: 5] .وقال تعالى عمن لم يعمل بما علم في هذه الأمة معاتبًا ومنكرًا: {يا أيها الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ} {كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ} [الصف: 2-3] .فعلى الأستاذ أن يجتهد في تحقيق هذا المعنى في نفسه، وفي نفوس تلاميذه، حتى لا يكونوا نسخًا مكررة لغيرهم، من عامة المسلمين الذين مُنُوا بالجهل والهوى والبُعد عن الله.
(২) জ্ঞান অর্জন আমল করার উদ্দেশ্যে, সংস্কৃতি কিংবা কর্মতৎপরতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিলাসিতার জন্য নয়; যদিও আনুষঙ্গিকভাবে সংস্কৃতি অর্জিত হবে এবং আমলকারীর চিন্তার দিগন্ত বিস্তৃত হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ এমনই ছিলেন। তাঁরা দশটি আয়াতের বেশি অতিক্রম করতেন না যতক্ষণ না সেগুলো শিক্ষা করতেন এবং সে অনুযায়ী আমল করতেন। ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে এই স্পৃহার অনুপস্থিতি বা দুর্বলতার কারণে ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমল কমেছে। বরং তাদের কারো কারো পক্ষ থেকে সৃষ্ট ফাসাদ বা বিপর্যয় সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে সৃষ্ট বিপর্যয়ের চেয়েও মারাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে।আল্লাহ তাআলা সেই সব ইহুদিদের সম্পর্কে বলেছেন যারা জানত কিন্তু আমল করত না: {যাদেরকে তাওরাত বহন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তারা তা বহন করেনি, তাদের উদাহরণ সেই গাধার মতো যে কিতাবের বোঝা বহন করে। সেই সম্প্রদায়ের উদাহরণ কতই না নিকৃষ্ট} [জুমুআ: ৫]।আর এই উম্মতের মধ্যে যারা নিজেদের জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে না, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা তিরস্কার ও অসম্মতি জ্ঞাপন করে বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না, তা কেন বলো?} {তোমরা যা করো না, তা বলা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত ক্রোধের বিষয়} [সাফ: ২-৩]।অতএব, শিক্ষকের উচিত নিজের এবং ছাত্রদের অন্তরে এই বিষয়টি অর্জনে সচেষ্ট হওয়া, যাতে তারা সেই সব সাধারণ মুসলিমদের অনুরূপ প্রতিচ্ছবি না হয়ে যায় যারা মূর্খতা, কুপ্রবৃত্তি এবং আল্লাহ থেকে দূরত্বের ব্যাধিতে আক্রান্ত।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ৫)
(3) موافقة الفعل للشرع، وعدم الزيادة والنقصان فيه ـ أي اتباع الرسول صلى الله عليه وسلم والبعد عن البدع.قال تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} [آل عمران: 31] .قال تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} .. [الأحزاب: 36] .وقال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] .وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «من عمل عملًا ليس عليه أمرنا فهو رد» [البخاري (8 / 156) ومسلم (3 / 1343) ] .وقال صلى الله عليه وسلم: «صلوا كما رأيتموني أصلي» [البخاري (1 / 55) ] .وقال صلى الله عليه وسلم: «خذوا عني مناسككم فلعلي لا أحج بعد عامي هذا» [مسلم (2 / 943) ] .
(৩) কর্ম শরিয়তসম্মত হওয়া, এবং তাতে কোনো প্রকার বৃদ্ধি বা হ্রাস না করা—অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করা এবং বিদআত (بدعة) থেকে দূরে থাকা।আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।} [আল ইমরান: ৩১] ।আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য তাদের সে বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার থাকে না।} .. [আল-আহজাব: ৩৬] ।আল্লাহ তাআলা বলেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} [আল-হাশর: ৭] ।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)।» [সহিহ বুখারি (৮ / ১৫৬) এবং সহিহ মুসলিম (৩ / ১৩৪৩)] ।তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «তোমরা সেভাবেই নামাজ পড়ো যেভাবে আমাকে নামাজ পড়তে দেখেছ।» [সহিহ বুখারি (১ / ৫৫)] ।তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের হজের নিয়মকানুন (مناسك) শিখে নাও, কেননা সম্ভবত আমি এই বছরের পর আর হজ করতে পারব না।» [সহিহ মুসলিম (২ / ৯৪৩)] ।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقال العلماء في قوله تعالى: {لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا} [الملك: 2] : أخلصه وأصوبه ـ قيل ما معنى أخلصه وأصوبه؟ ـ قال: إن العمل لا يقبل حتى يكون خالصًا صوابًا، والخالص ما قصد به وجه الله، والصواب ما وافق سنة رسوله صلى الله عليه وسلم. [الفتاوى: (10 / 173) ] .
বিদ্বানগণ মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, আমলের দিক থেকে তোমাদের মধ্যে কে সর্বোত্তম} [মুলক: ২] সম্পর্কে বলেছেন: (এর অর্থ হলো) যা সর্বাধিক একনিষ্ঠ এবং সর্বাধিক সঠিক। জিজ্ঞেস করা হলো— সর্বাধিক একনিষ্ঠ ও সর্বাধিক সঠিক এর অর্থ কী? তিনি বললেন: আমল ততক্ষণ কবুল করা হয় না যতক্ষণ না তা একনিষ্ঠ ও সঠিক হয়। আর একনিষ্ঠ হলো যা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয় এবং সঠিক হলো যা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর অনুসারী হয়। [আল-ফাতাওয়া: (১০ / ১৭৩)]।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ৭)
(4) الإكثار من قراءة كتاب الله تعالى، مع تدبره وتفهم مراميه، وعرض الإنسان نفسه عليه، ليعلم من هو سائر في طريقه أي طريق القرآن ـ أم في طريق عدوه ـ الشيطان؟ وينبغي أن يحافظ على ورد معين منه يوميًا، لأن البعد عنه يورث القسوة في القلب والغفلة عن الله.
(৪) মহান আল্লাহর কিতাব অধিক পরিমাণে তিলাওয়াত করা, সাথে তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও এর উদ্দেশ্যসমূহ অনুধাবন করা এবং নিজেকে তার নিরিখে যাচাই করা; যাতে সে জানতে পারে যে, সে কার পথে চলছে—অর্থাৎ কুরআনের পথে, নাকি তার শত্রু শয়তানের পথে? আর প্রতিদিন এর একটি নির্দিষ্ট অংশের (অধ্যয়ন) ওপর অবিচল থাকা উচিত, কেননা তা থেকে দূরত্ব অন্তরে কঠোরতা এবং আল্লাহ সম্পর্কে উদাসীনতা তৈরি করে।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ৮)
(5) الإكثار من ذكر الله، المطلق منه والمقيد، والمراد بالمطلق ما لم يقيد بزمان ولا مكان ولا عدد {يا أيها الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا} [الأحزاب: 41] .«لا يزال لسانك رطبًا بذكر الله» [الترمذي (5 / 458) وقال: هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه] .والذكر المقيد ما قيد بزمان، كأذكار الصباح والمساء وأدبار الصلوات، أو بمكان كأذكار مناسك الحج المعينة، وغير ذلك، أو بعدد كالاستغفار مائة مرة، وتسبيح ثلاث وثلاثين.ويمكن الرجوع في هذا الباب، إلى الكلم الطيب لابن تيمية، وصحيحه للألباني، والوابل الصيب، لابن القيم، والأذكار للنووي ورياض الصالحين، وغيرها من كتب السنة.
(৫) আল্লাহ তাআলার জিকির অধিক পরিমাণে করা, চাই তা সাধারণ (مطلق) হোক কিংবা নির্দিষ্ট (مقيد), আর সাধারণ (مطلق) বলতে উদ্দেশ্য হলো যা কোনো সময়, স্থান বা সংখ্যার সাথে নির্দিষ্ট করা হয়নি— {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো} [আল-আহজাব: ৪১] ।«আল্লাহর জিকিরে তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা সজীব থাকে» [তিরমিজি (৫ / ৪৫৮) এবং তিনি বলেছেন: এই হাদিসটি এই সূত্রে হাসান (حسن) গরিব (غريب)] ।আর নির্দিষ্ট (مقيد) জিকির হলো যা সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ, যেমন সকাল-সন্ধ্যার জিকির ও সালাত পরবর্তী জিকিরসমূহ; অথবা স্থানের সাথে সীমাবদ্ধ, যেমন হজের নির্দিষ্ট মানাসিক বা রুকনসমূহের জিকির এবং অন্যান্য; অথবা সংখ্যার সাথে সীমাবদ্ধ, যেমন একশত বার ইস্তিগফার এবং তেত্রিশ বার তাসবিহ পাঠ করা।এ বিষয়ে ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত আল-কালিমুত তাইয়্যিব ও আলবানী সংকলিত এর সহিহ গ্রন্থ, ইবনুল কাইয়্যিম রচিত আল-ওয়াবিলুস সয়্যিব, নববী রচিত আল-আজকার ও রিয়াদুস সালিহিন এবং সুন্নাহর অন্যান্য কিতাবসমূহের শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ৯)
(6) القراءة المستمرة في كتب السنة، وسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، لأن السنة تفسر القرآن وتكمل ما أراد الله من عباده، والرسول صلى الله عليه وسلم هو القدوة العليا للمسلم.{لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} [الأحزاب: 21] .[يراجع في ذلك الأمهات الست، والترغيب والترهيب ورياض الصالحين ومشكاة المصابيح وسيرة ابن هشام، ومختصر السيرة لمحمد بن عبد الوهاب، ومختصر السيرة لابنه أيضًا وفقه السيرة للغزالي] .
(6) সুন্নাহ (السنة) ভিত্তিক গ্রন্থসমূহ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত বা জীবনচরিত নিরন্তর পাঠ করা; কেননা সুন্নাহ (السنة) কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের নিকট যা প্রত্যাশা করেন, তার পূর্ণতা দান করে। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন একজন মুসলিমের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।{তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।} [আল-আহজাব: ২১] ।[এ বিষয়ে উম্মাহাতুস সিত্তাহ, আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব, রিয়াদুস সালিহীন, মিশকাতুল মাসাবিহ, সীরাতে ইবনে হিশাম, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের মুখতাসারুস সীরাহ, তাঁর পুত্রের রচিত মুখতাসারুস সীরাহ এবং আল-গাজালীর ফিকহুস সীরাহ দেখা যেতে পারে] ।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ১০)
(7) قراءة سيرة أصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم، باعتبارهم النموذج البشري الذي طبق الاقتداء بالرسول صلى الله عليه وسلم، في أعلى صورة "جيل قرآني فريد".[يراجع في ذلك تاريخ ابن كثير، وغيرها كحياة الصحابة، وكذلك سيرة الدعاة العاملين في كل زمان ومكان] .
(7)রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ (أصحاب)-এর জীবনী পাঠ করা, যেহেতু তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের বিষয়টি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মানবীয় আদর্শের সর্বোচ্চ রূপ, যা ছিল এক "অনন্য কুরআনী প্রজন্ম"।[এক্ষেত্রে তারিখ ইবনে কাসীর এবং অন্যান্য গ্রন্থ যেমন হায়াতুস সাহাবা, সেইসাথে সর্বকালের ও সর্বস্থানের একনিষ্ঠ দাঈদের জীবনী পর্যালোচনা করা যেতে পারে]।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ১১)
(8) المحافظة على الفرائض المكتوبة، من صلاة وصيام وحج وزكاة وغيرها من الواجبات الأخرى، كبرِّ الوالدين وصلة الأرحام، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.كما قال تعالى: «ما تقرب إليّ عبدي بشيء أحب إليّ مما افترضته عليه» حديث قدسي [البخاري (7 / 190) ] .وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «وفرض فرائض فلا تضيعوها» . [الدارقطني. راجع جامع العلوم والحكم لابن رجب ص242] .
(৮) নির্ধারিত আবশ্যিক বিধানসমূহ (فرائض) যথাযথভাবে পালন করা, যেমন নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ও অন্যান্য আবশ্যিক কর্তব্য (واجبات); যেমন পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা।যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমার বান্দা আমার সবচেয়ে প্রিয় সেই বিষয়ের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করে, যা আমি তার ওপর আবশ্যিক (افترضت) করেছি।" হাদিসে কুদসি (قدسي) [বুখারি (৭ / ১৯০)]।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই তিনি কিছু আবশ্যিক বিধান (فرائض) নির্ধারণ করেছেন, সুতরাং তোমরা সেগুলো অবহেলা করো না।" [দারাকুতনি। দেখুন ইবনে রজব রচিত জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম, পৃষ্ঠা ২৪২]।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ১২)
(9) الإكثار من نوافل الطاعات، التي تعتبر حاجزًا منيعًا، يحول بين الشيطان وبين تثبيط المؤمن عن القيام بالواجبات، كما أنها تكمل النقص الذي قد يحصل في الفرائض.«ولا يزال عبدي يتقرب إليّ بالنوافل حتى أحبه، فإذا أحببته كنت سمعه الذي يسمع به، وبصره الذي يبصر به، ويده التي يبطش بها، ورجله التي يمشي بها» [البخاري (7 / 190) ] .أي أن الله يحيطه بعنايته وتوفيقه، فلا يستعمل نعم الله التي أنعم بها عليه، إلا في طاعته.ومن أعظم النوافل التي ينبغي الحرص عليها وعدم التقصير، فيها قيام الليل الذي حافظ عليه الرسول صلى الله عليه وسلم، وكان وقوده الذي يمده بالصبر على البلاء والامتحان..{يا أيها الْمُزَّمِّلُ} {قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا} {نِصْفَهُ أَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا} {أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا} {إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا} {إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا} [المزمل: 1ـ6] .
(৯) নফল (نوافل) ইবাদতসমূহের আধিক্য, যা একটি সুদৃঢ় প্রাচীর হিসেবে গণ্য হয়। এটি শয়তান এবং মুমিনের মধ্যে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় যাতে সে তাকে আবশ্যিক (واجبات) কার্যাবলি পালনে নিরুৎসাহিত করতে না পারে। তদুপরি এটি ফরজ (فرائض) ইবাদতে হয়ে যাওয়া ঘাটতিগুলো পূরণ করে।«আমার বান্দা নফল (نوافل) ইবাদতের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি। সুতরাং যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলাফেরা করে» [সহীহ বুখারী (৭ / ১৯০)] ।অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা তাকে তাঁর বিশেষ তত্ত্বাবধান ও তাওফিক দিয়ে বেষ্টন করে রাখেন, ফলে সে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতসমূহ কেবল তাঁর আনুগত্যের পথেই ব্যয় করে।নফল (نوافل) ইবাদতসমূহের মধ্যে অন্যতম মহান ইবাদত হলো রাতের সালাত (قيام الليل), যার প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল হওয়া এবং কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন না করা কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি নিয়মিত সম্পাদন করতেন এবং এটি ছিল তাঁর সেই পাথেয় যা তাঁকে পরীক্ষা ও বিপদে ধৈর্য ধারণের শক্তি যোগাত।{হে বস্ত্রাবৃত!} {রাতে দণ্ডায়মান হোন কিছু অংশ বাদে;} {অর্ধেক রাত কিংবা তার চেয়ে কিছু কম করুন,} {অথবা তার চেয়ে বৃদ্ধি করুন এবং কুরআন তিলাওয়াত করুন সুবিন্যস্ত ও স্পষ্টভাবে।} {আমি শীঘ্রই আপনার প্রতি অবতীর্ণ করব এক গুরুভার বাণী।} {নিশ্চয়ই রাতে ইবাদতের জন্য জাগ্রত হওয়া প্রবৃত্তি দমনে অধিক কার্যকর এবং তা স্পষ্টভাবে কথা বলার জন্য অধিকতর অনুকূল।} [সূরা আল-মুজ্জাম্মিল: ১-৬] ।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والأستاذ الداعية إلى الله، والطالب الذي يعد للدعوة إلى الله، في حاجة إلى تأمل هذه الآيات والعمل بهن، للقيام بأعباء الدعوة والتكليفات الإلهية..فالرسول صلى الله عليه وسلم الذي كان ينزل عليه جبريل من السماء صباحًا ومساءً، كان في حاجة إلى الاتصال المتكرر بالسند الذي يؤيده، لتثبيت صبره وقوة احتماله، فأمر بقيام الليل من أجل ذلك {قُمِ اللَّيْلَ} .... {إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا} .
আল্লাহর পথে আহ্বানকারী শিক্ষক এবং যে শিক্ষার্থী দাওয়াতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে, তাদের জন্য এই আয়াতগুলো নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা একান্ত প্রয়োজন, যেন তারা দাওয়াতের গুরুদায়িত্ব এবং ঐশী জিম্মাদারিগুলো পালন করতে পারে..রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যাঁর কাছে সকাল ও সন্ধ্যায় আসমান থেকে জিবরাঈল আসতেন, তিনিও তাঁর ধৈর্য ও সহনশীলতাকে দৃঢ় করার জন্য তাঁকে সাহায্যকারী সেই সনদ (السند) বা মূল আধারের সাথে অবিরত সম্পর্কের প্রয়োজন অনুভব করতেন; তাই এ লক্ষ্যেই তাঁকে রাত্রি জাগরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল— {আপনি রাতে দণ্ডায়মান হোন} .... {নিশ্চয়ই আমি আপনার ওপর এক ভারী বাণী অবতীর্ণ করব}।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
(10) مجاهدة النفس، للوصول إلى محبة الله تعالى ومحبة رسول صلى الله عليه وسلم، المحبة الصادقة التي أرادها الله، والتي عبر عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم في قوله: «ثلاث من كن فيه وجد حلاوة الإيمان، أن يكون الله ورسوله أحب إليه مما سواهما، وأن يحب المرء لا يحبه إلا لله، وأن يكره أن يعود في الكفر بعد أن أنقذه الله منه، كما يكره أن يلقى في النار» [البخاري (/ 9،10) ومسلم (1 / 66) ] .وقوله صلى الله عليه وسلم: «لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من نفسه وولده ووالده والناس أجمعين» [البخاري (1 / 9) ] .تظهر محبة الله ورسوله، ومحبة من يحبه الله ورسوله، عندما يقدم العبد رضا الله على سواه.كما قال تعالى: {قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ} [التوبة: 24] .
(১০) নফসের সাধনা, আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা অর্জনের লক্ষ্যে; সেই অকৃত্রিম ভালোবাসা যা আল্লাহ চেয়েছেন এবং যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এই বাণীতে ব্যক্ত করেছেন: «তিনটি গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে, সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করবে: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যেন তার নিকট অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হন; সে যেন কোনো ব্যক্তিকে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালোবাসে; এবং আল্লাহ তাকে কুফর থেকে উদ্ধার করার পর পুনরায় তাতে ফিরে যাওয়াকে সে যেন এমন অপছন্দ করে যেমন সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে» [বুখারি (/ ৯, ১০) এবং মুসলিম (১/ ৬৬)]।এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: «তোমাদের কেউ ততক্ষণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার নিজের জীবন, তার সন্তান, তার পিতা এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই» [বুখারি (১/ ৯)]।আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যাকে ভালোবাসেন তার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে তখন, যখন বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অন্য সবকিছুর ওপর অগ্রাধিকার দেয়।যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {বলুন, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের স্বজন, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের এমন ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার তোমরা আশঙ্কা করো এবং তোমাদের পছন্দনীয় ঘরবাড়ি আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদের চেয়ে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত; আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না} [তওবা: ২৪]।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} [آل عمران: 31] .
এবং মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, "যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।"} [আলে ইমরান: ৩১]।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
(11) مجالسة الصالحين، الذين يعينون على فعل الخير وترك الشر، فإن في مجالسة أهل الشر الخسران الذي يندم عليه صاحبه في الدنيا والآخرة …قال تعالى: {وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَا لَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلًا} {يَا وَيْلَتَى لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًا} {لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنْسَانِ خَذُولًا} [الفرقان: 27ـ29] .وفي حديث أبي موسى المتفق عليه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إنما مثل الجليس الصالح وجليس السوء كحامل المسك ونافخ الكير، فحامل المسك إما أن يحذيك، وإما أن تبتاع منه وإما أن تجد منه ريحًا طيبة، ونافخ الكير إما أن يحرق ثيابك وإما أن تجد منه ريحًا منتنة» [البخاري (3 / 16) ومسلم (4 / 2026) ] .وكم من أستاذ كان ظاهر الصلاح، ويعتبر مربيًا فصار ضحية لبعده عن الصالحين واقترابه من الفاسدين، وكم من شاب صالح يعتاد المساجد، ويؤمن بالله ورسوله والإسلام، ويجب ما يحبه الله ورسوله، هوى في حمأة الرذيلة والإلحاد بسبب جليس سوء.
(১১) নেককারদের সাহচর্য, যারা কল্যাণকর কাজ করতে এবং মন্দ কাজ বর্জন করতে সাহায্য করেন। কারণ মন্দ লোকদের সাথে উঠাবসা করার মধ্যে এমন ক্ষতি নিহিত রয়েছে, যার জন্য এর সঙ্গীকে দুনিয়া ও আখিরাতে অনুতপ্ত হতে হবে …মহান আল্লাহ বলেন: {সেদিন জালেম ব্যক্তি আক্ষেপে নিজের হাত কামড়াবে আর বলবে, হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে কোনো পথ অবলম্বন করতাম। হায় দুর্ভোগ আমার! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম। আমার কাছে উপদেশ পৌঁছানোর পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল। আর শয়তান তো মানুষের জন্য চরম প্রতারক} [আল-ফুরকান: ২৭-২৯]।আবু মুসা (রা.) বর্ণিত সর্বসম্মত (متفق عليه) এক হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হলো আতর বিক্রেতা ও কামারের হাপর চালনাকারীর মতো। আতর বিক্রেতা হয় তোমাকে কিছু দান করবে, অথবা তুমি তার থেকে ক্রয় করবে, নতুবা অন্তত তার থেকে সুঘ্রাণ পাবে। আর কামারের হাপর হয় তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে, নতুবা তুমি তার থেকে দুর্গন্ধ পাবে» [বুখারি (৩/১৬) ও মুসলিম (৪/২০২৬)]।এমন কত শিক্ষক ছিলেন যারা বাহ্যিকভাবে নেককার ছিলেন এবং মুরব্বি হিসেবে গণ্য হতেন, অথচ নেককারদের থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং পাপাচারীদের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে তারা ক্ষতির শিকার হয়েছেন। আবার কত এমন নেককার যুবক ছিল যারা মসজিদে নিয়মিত যাতায়াত করত, আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও ইসলামের প্রতি ঈমান রাখত এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা ভালোবাসেন তা পছন্দ করত; অথচ অসৎ সঙ্গীর কারণে তারা চারিত্রিক অবক্ষয় ও নাস্তিকতার পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فعلى الأستاذ والطالب معًا الحفاظ على مرافقة عباد الله الصالحين، والبعد عن صحبة أتباع الهوى والشيطان..وبذلك يمكن البُعد عن المحرمات، وفعل الطاعات، وعدم إضاعة الوقت فيما يضر، أو فيما لا ينفع، فقد خلق الله الليل والنهار، خلفة لمن أراد أن يذكّر أو أراد شكورًا.
সুতরাং শিক্ষক এবং ছাত্র—উভয়ের জন্যই আল্লাহর নেককার বান্দাদের সাহচর্য অবলম্বন করা এবং কুপ্রবৃত্তি ও শয়তানের অনুসারীদের সঙ্গ পরিহার করা কর্তব্য।এর মাধ্যমেই নিষিদ্ধ বিষয়াবলি থেকে দূরে থাকা, আনুগত্যমূলক আমলসমূহ সম্পাদন করা এবং ক্ষতিকর কিংবা অকেজো কাজে সময় অপচয় না করা সম্ভব। কেননা আল্লাহ তাআলা রাত ও দিনকে আবর্তনশীল হিসেবে সৃষ্টি করেছেন তাঁর জন্য, যে উপদেশ গ্রহণ করতে চায় অথবা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চায়।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
(12) الجد والمثابرة في طلب العلم، من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وكتب أهل العلم الذين يتمسكون بهما، ولا يقدمون عليهما قول أحد كائنًا من كان، والاجتهاد في كل علم نافع للطالب ولأمته.والتساهل في طلب العلم أو القعود عنه، دليل على الهبوط إلى الجهل، والقعود عن معالي الأمور التي لا تنال بدون العلم.
(১২) জ্ঞান অন্বেষণে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়, যা আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের সুন্নাহ এবং ঐ সকল বিদগ্ধ আলেমদের গ্রন্থাবলী থেকে অর্জিত হবে যারা এই দুইটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেন এবং এ দুটির ওপর অন্য কারো বক্তব্যকেই প্রাধান্য দেন না, তিনি যে স্তরেরই হোন না কেন; আর শিক্ষার্থী ও তার উম্মাহর জন্য উপকারী প্রতিটি বিদ্যায় কঠোর সাধনা (اجتهاد) করা।জ্ঞান অন্বেষণে শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শন করা অথবা তা থেকে বিমুখ থাকা মূর্খতার অতল গহ্বরে পতনের প্রমাণ এবং উচ্চমর্যাদাপূর্ণ বিষয়সমূহ থেকে পিছিয়ে থাকা যা ইলম ব্যতীত অর্জন করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
(13) زيارة القبور: لتذكر أصل الإنسان وقيمة الحياة الدنيا، والموت والبعث، والحساب، والدعاء للمؤمنين بالوارد.
(১৩) কবর যিয়ারত: মানুষের আদি উৎস, পার্থিব জীবনের মূল্য, মৃত্যু, পুনরুত্থান ও হাশরের হিসাব-নিকাশ স্মরণ করার উদ্দেশ্যে এবং বর্ণিত (الوارد) দোয়ার মাধ্যমে মুমিনদের জন্য প্রার্থনা করার জন্য।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ২০)
(14) الإكثار من قراءة كتب الترغيب والترهيب، وصفة الجنة والنار، ونعيم القبر وعذابه، وأحوال يوم القيامة، ومصائر الأمم كقوم نوح وعاد وثمود.
(14) উৎসাহ প্রদান (الترغيب) ও ভীতি প্রদর্শন (الترهيب) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ অধিক পরিমাণে পাঠ করা, জান্নাত ও জাহান্নামের বৈশিষ্ট্য, কবরের নিয়ামত ও আজাব, কিয়ামত দিবসের অবস্থাসমূহ এবং নূহ, আদ ও সামূদ সম্প্রদায়ের ন্যায় জাতিসমূহের পরিণতি সম্পর্কে অধ্যয়ন করা।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ২১)
(15) الإحساس القوي بالمسؤولية الفردية أمام الله، عن عمله في هذه الحياة، وعن أهله وأولاده وأقاربه، وجيرانه وأصدقائه، بل هو مسؤول عن تبليغ دين الله إلى كل من يحتاج إليه، قدر استطاعته.وذلك يحتم عليه أن يتحمل أعباء الدعوة إلى الله، مع استكمال أصولها من العلم والحكمة والبيان والصبر، وفي الحديث: «كلكم راعٍ ومسؤول عن رعيته» [البخاري (8 / 104) ومسلم (3 / 1459) ] .
(১৫) আল্লাহর সামনে ব্যক্তিগত জবাবদিহিতার প্রগাঢ় অনুভূতি, এই জীবনে তার কর্ম সম্পর্কে এবং তার পরিবার, সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধব সম্পর্কে; এমনকি সে তার সাধ্যানুযায়ী প্রত্যেক অভাবী ব্যক্তির কাছে আল্লাহর দ্বীন পৌঁছে দেওয়ার জন্যও দায়বদ্ধ।আর এটি তার জন্য আল্লাহর পথে দাওয়াতের ভার বহন করাকে অপরিহার্য করে তোলে, সাথে এর মূলনীতিসমূহ (أصول) যেমন—জ্ঞান, প্রজ্ঞা, প্রাঞ্জল বর্ণনা ও ধৈর্যের পূর্ণতা অর্জন করাও আবশ্যক। হাদিসে এসেছে: «তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে» [বুখারি (৮ / ১০৪) এবং মুসলিম (৩ / ১৪৫৯)]।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ২২)
خلاصة ما يجب أن يتحلى به الأستاذ:فلا بد للداعية إلى الله ـ والأستاذ من أوائل الدعاة ـ أن يتحلى بما يأتي:الإخلاص.الإيمان التام بما يدعو إليه.العلم بما يدعو إليه من الكتاب والسنة.العمل بما علم وكونه قدوة حسنة.لين الجانب وعدم الغلظة.الصبر على المحنة والابتلاء.
একজন শিক্ষকের মধ্যে যে সকল গুণাবলি থাকা আবশ্যক তার সারসংক্ষেপ:আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জন্য—আর শিক্ষকগণ তো প্রথম সারির দাঈদের অন্তর্ভুক্ত—নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জন করা অপরিহার্য:ইখলাস (নিষ্ঠা)।যে বিষয়ের প্রতি তিনি আহ্বান জানাচ্ছেন, সেটির প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখা।কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত যে বিষয়ের প্রতি তিনি দাওয়াত দিচ্ছেন, সে সম্পর্কে জ্ঞান রাখা।স্বীয় জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা এবং নিজেকে একজন উত্তম আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলা।কোমল স্বভাবের হওয়া এবং কঠোরতা বর্জন করা।বিপদ-আপদ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করা।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الأمور التي ينبغي للأستاذ أن يسعى لتحقيقها في نفوس طلابه.وعليه أن يجتهد في تحقيق الأمور الآتية في تلاميذه علاوة على ما مضى:غرس الإيمان بالغيب وتثبيته وتقويته، بالحجج والبراهين المقنعة ودحض الشبه التي يوردها أعداء الإسلام على ذلك.تقوية الجانب العبادي، على ضوء ما مر في تقوية الصلة بالله.تمرينهم على البدء بالأهم فالمهم، اقتداء بالرسول صلى الله عليه وسلم.اختيارهم الأسلوب السهل عند دعوة غيرهم أو تعليمهم، حسب المقام والأشخاص.مساعدة الطالب في نقله من البيئة الفاسدة إلى البيئة الصالحة، حتى يتمكن من السير في صراط الله ـ ويصبح هو أيضًا قادرًا على نقل غيره كما نقل هو.إقناعهم بالاعتصام بحبل الله، والتعاون مع إخوانهم المسلمين في كل أنحاء الأرض، من أجل رفع راية (لا إله إلا الله) والقضاء على رءوس الفتنة والضلال من أعداء الله مستعينًا بما يأتي:(أ) التذكير بالأوضاع الكافرة التي أحدثت للعالم كله القلق والاضطراب، ومكنت للظلم والظالمين.(ب) التذكير بحالة المسلمين التي يعيشونها.
একজন শিক্ষকের তাঁর ছাত্রদের অন্তরে যে বিষয়গুলো অর্জনের জন্য সচেষ্ট হওয়া উচিত.পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তার পাশাপাশি তাকে তার ছাত্রদের মাঝে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অর্জনেও সচেষ্ট হতে হবে:সন্তোষজনক যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস (الإيمان بالغيب) প্রোথিত করা, একে সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করা এবং ইসলামের শত্রুরা এ বিষয়ে যেসব সংশয় উত্থাপন করে তা খণ্ডন করা।আল্লাহর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে যা অতিবাহিত হয়েছে, তার আলোকে ইবাদতের (عبادة) দিকটিকে শক্তিশালী করা।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর প্রাধান্য দিয়ে শুরু করার অভ্যাস করানো।অন্যদের দাওয়াত (دعوة) প্রদান বা শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে স্থান ও ব্যক্তিভেদে সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করা।ছাত্রকে কলুষিত পরিবেশ থেকে পুণ্যময় (صالح) পরিবেশে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সহায়তা করা, যাতে সে আল্লাহর পথে চলতে সক্ষম হয় এবং সে নিজেও অন্যদের স্থানান্তরিত করতে সমর্থ হয় যেভাবে তাকে করা হয়েছিল।আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা এবং সারা বিশ্বের মুসলিম ভাইদের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যাপারে তাদের আশ্বস্ত করা, যাতে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর পতাকা সমুন্নত হয় এবং আল্লাহর শত্রুদের পক্ষ থেকে সৃষ্ট ফিতনা (فتنة) ও গোমরাহির (ضلال) মূল উৎপাটন করা যায়; আর এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে:(ক) সেই কুফরি (كفر) পরিস্থিতিগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া যা সমগ্র বিশ্বে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং জুলুম ও জালেমদের আধিপত্যের পথ সুগম করেছে।(খ) মুসলিমরা বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছে তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
(ج) التذكير بأمر الله ورسوله صلى الله عليه وسلم بـ "التمسك بالجماعة وأن «من شذّ شذّ في النار» . [البخاري (8 / 92ـ93) ومسلم (3 / 1475ـ1476) والترمذي (4 / 465ـ467) ] .(د) التذكير بصفات الطائفة المنصورة، التي تبدأ بالإيمان وتنتهي بالجهاد وطلب الشهادة، من أجل تحقيق رفع راية الإسلام.(هـ) التذكير بأخذ الرسول صلى الله عليه وسلم العهد على الجهاد، وينبغي أن يعينه بذكر الكتب والمراجع التي تفيده في هذا الباب وغيره، ليسير على النهج الصحيح.
(গ) আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত ‘জামাতের সাথে অটল থাকা’ এবং ‘যে বিচ্ছিন্ন (شذّ) হয়, সে বিচ্ছিন্ন (شذّ) হয়ে জাহান্নামে যায়’—এই বিষয়ের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়া। [বুখারি (৮ / ৯২-৯৩), মুসলিম (৩ / ১৪৭৫-১৪৭৬) এবং তিরমিজি (৪ / ৪৬৫-৪৬৭)]।(ঘ) সাহায্যপ্রাপ্ত দলের (الطائفة المنصورة) বৈশিষ্ট্যসমূহ স্মরণ করিয়ে দেওয়া, যা ইমানের মাধ্যমে শুরু হয় এবং ইসলামের পতাকা সমুন্নত করার লক্ষ্যে জিহাদ ও শাহাদাত অন্বেষণের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।(ঙ) জিহাদের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অঙ্গীকার গ্রহণের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া। তাকে এই অধ্যায় এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সহায়ক কিতাব ও তথ্যসূত্রগুলো উল্লেখ করে সহযোগিতা করা উচিত, যাতে সে সঠিক পদ্ধতির (النهج الصحيح) ওপর পরিচালিত হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ومما يحقق الإخاء والمحبة بين الأستاذ وطلبته وبين الطلبة بعضهم مع بعض الأمور الآتية:أولًا: التعارف: وهو من الآداب الإنسانية العامة، التي لا تستغني عنها الأمم والأفراد، ولا يمكن تحقيق العلاقات التعاملية بدونه، ولذلك كان التعارف من أهم الآداب الإسلامية التي أبرزها القرآن في سورة الحجرات.كما قال تعالى: {يا أيها النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} [الحجرات: 13] .والتعارف الإسلامي، لا بد أن يثمر الإخوة الإسلامية الحقة، والمحبة المتبادلة الصادقة، فعلى الأستاذ أن يحقق التعارف بينه وبين طلابه، ويتعرف على مشكلاتهم، ليحاول حل ما قدر عليه منها، ويعمل على إيجاد التعارف بين طلبته بعضهم مع بعض كذلك.
শিক্ষক ও তাঁর ছাত্রদের মাঝে এবং ছাত্রদের পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমসমূহের মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:প্রথমত: পরিচিতি লাভ: এটি সাধারণ মানবিক শিষ্টাচারসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে জাতি ও ব্যক্তিবর্গ অমুখাপেক্ষী হতে পারে না এবং এটি ছাড়া পারস্পরিক লেনদেনের সম্পর্ক বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ কারণেই পারস্পরিক পরিচিতি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিষ্টাচার, যা কুরআন মজিদের সূরা আল-হুজুরাতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।যেমনটি মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন: {হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই সর্বাধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াসম্পন্ন} [সূরা আল-হুজুরাত: ১৩]।আর ইসলামি পরিচিতি অবশ্যই প্রকৃত ইসলামি ভ্রাতৃত্ব এবং অকৃত্রিম পারস্পরিক ভালোবাসা ফলপ্রসূ করবে। সুতরাং শিক্ষকের দায়িত্ব হলো নিজের ও ছাত্রদের মাঝে পরিচিতি নিশ্চিত করা এবং তাদের সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া, যাতে তিনি সাধ্যমতো সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করতে পারেন। তদ্রূপ ছাত্রদের পরস্পরের মধ্যেও পরিচিতি গড়ে তোলার ব্যাপারে কাজ করা তাঁর কর্তব্য।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ثانيًا: التناصح:ومن العوامل التي تقوي الصلة بين الأستاذ وطلبته، أن يتواصى معهم بالحق، فلا يسكت عن منكر وخطأ يراه في طالب، بل يسرع في نصحه سرًا، فإذا اقتضى الأمر نصحه علنًا نصحه.ويدربهم أيضًا على أن يتناصحوا فيما بينهم بحكمة ولطف وتواضع؛ لأنهم إذا لم يحققوا التناصح فيما بينهم، وهم في ميدان التلقي والطلب، فسيكون الأمر كذلك عندما يدخلون في ميدان العمل والممارسة، وفي ذلك ما فيه من خطورة على مستقبل العمل للإسلام.وعلى الأستاذ أن يتقبل نصح طلبته له أيضًا، فهو بشر يخطئ ويصيب مثلهم، وإن كان المفروض أن يكون أقل خطأً وأكثر صوابًا، وعليهم أن ينصحوه ولا يترددوا في نصحه بأدب ولطف، والأفضل أن يكون نصح الطالب لأستاذه على سبيل الإشكال والاستفسار.وعلى الجميع أن يكون هدفهم من النصح، محبة الخير للمنصوح عن إخلاص وتواضع لا عن رياء وتكبر وتشهير.وبالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر يستقيم أمر المسلمين، وبدونهما تضطرب الأمور، وتنشر الفوضى والظلم، ويسيطر الفسقة والطغاة.[تراجع في هذا الموضوع الآيات والأحاديث المتعلقة بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر ـ ويراجع رياض الصالحين وغيره] .
দ্বিতীয়ত: পারস্পরিক নসিহত (التناصح):উস্তাদ ও ছাত্রদের মধ্যকার সম্পর্ক সুদৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম হলো একে অপরকে হকের ওসিয়ত করা। সুতরাং ছাত্রের মাঝে কোনো মন্দ বা ভুল দেখলে তিনি যেন তাতে চুপ না থাকেন, বরং অবিলম্বে তাকে গোপনে নসিহত করবেন। আর যদি পরিস্থিতি প্রকাশ্যে নসিহত করার দাবি রাখে, তবে তাকে প্রকাশ্যেই নসিহত করবেন।তিনি তাদের একে অপরকে হিকমত (حكمة), কোমলতা ও বিনয়ের সাথে নসিহত করার প্রশিক্ষণ দেবেন। কারণ, তারা যদি শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনের ময়দানে থাকা অবস্থায় নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক নসিহতের ধারা কায়েম না করে, তবে কর্মক্ষেত্রে পদার্পণের পরও বিষয়টি তেমনই থেকে যাবে; আর ইসলামের দাওয়াতের কাজের ভবিষ্যতের জন্য এতে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।আর উস্তাদের উচিত তার ছাত্রদের নসিহতও গ্রহণ করা। কেননা তিনি একজন মানুষ; তাদের মতোই তারও ভুল হতে পারে কিংবা তিনি সঠিক হতে পারেন। যদিও উস্তাদের ক্ষেত্রে এটিই কাম্য যে, তার ভুল হবে কম এবং সঠিক সিদ্ধান্ত হবে বেশি। ছাত্রদের দায়িত্ব হলো আদব ও বিনয়ের সাথে তাকে নসিহত করা এবং এক্ষেত্রে দ্বিধা না করা। তবে ছাত্রের পক্ষ থেকে উস্তাদকে নসিহত করার ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা নিরসন বা জিজ্ঞাসার ভঙ্গিতে হওয়া উত্তম।আর নসিহতের ক্ষেত্রে সকলের উদ্দেশ্য হতে হবে যাকে নসিহত করা হচ্ছে তার প্রতি কল্যাণকামনা, যা হবে ইখলাস (إخلاص) ও বিনয়ের সাথে; লোকদেখানো (رياء), অহংকার কিংবা মানহানি করার উদ্দেশ্যে নয়।সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎকাজের নিষেধের (النهي عن المنكر) মাধ্যমেই মুসলিম উম্মাহর যাবতীয় বিষয় সুসংহত হয়। এ দু’টি ছাড়া সব বিষয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, নৈরাজ্য ও জুলুম ছড়িয়ে পড়ে এবং পাপাচারী ও স্বৈরাচারীরা আধিপত্য বিস্তার করে।[এ বিষয়ে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ সংক্রান্ত আয়াত ও হাদিসসমূহ দেখে নেয়া যেতে পারে — দ্রষ্টব্য রিয়াদুস সালিহীন ও অন্যান্য গ্রন্থ]।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ثالثًا: التعاون على البر والتقوى وحل المشكلات التي تعترض الأستاذ وطلبته:وهذا يقتضي مكاشفة الطلاب الأستاذ، ومكاشفة بعضهم بعضًا بمشكلاتهم، حتى يتعاونوا على حلها، لأن الفرد الذي تعترضه المشكلات في حياته فيخفيها في نفسه، لا يتمكن إخوانه من معاونته على حلها لعدم معرفتهم إياها.وقد تكون تلك المشكلات معوقة للفرد عن السير في دراسته إذا استمر، ولذلك ينبغي أن يبدأ الأستاذ طلبته بالسؤال عن أحوالهم، تشجيعًا لهم على إبداء ما قد يترددون في إظهاره ابتداءً.وقد يعجز الأستاذ أو طلبته عن حل بعض المشكلات، ولكن ذلك لا يمنع من إبدائها، من أجل المواساة والتسلية والتواصي بالصبر.
তৃতীয়ত: নেকি ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করা এবং শিক্ষক ও তাঁর ছাত্রদের সামনে আসা সমস্যাবলি সমাধান করা:আর এটি শিক্ষক ও ছাত্রদের একে অপরের কাছে এবং ছাত্রদের নিজেদের মাঝে পারস্পরিক সমস্যাগুলো স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার দাবি রাখে, যাতে তারা সেগুলো সমাধানে একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে। কারণ, কোনো ব্যক্তি যখন তার জীবনে সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং তা নিজের মাঝে গোপন রাখে, তখন তার ভাইদের পক্ষে তা সমাধানে সহায়তা করা সম্ভব হয় না, যেহেতু তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়।আর এই সমস্যাগুলো যদি অব্যাহত থাকে তবে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পড়াশোনার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই শিক্ষকদের উচিত ছাত্রদের অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমে কথা শুরু করা, যাতে তারা শুরুতে যা প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করছিল তা ব্যক্ত করতে উৎসাহিত হয়।কখনও কখনও শিক্ষক বা ছাত্ররা কিছু সমস্যা সমাধানে অক্ষম হতে পারেন, তবে এটি তা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হওয়া উচিত নয়; বরং সহমর্মিতা, সান্ত্বনা এবং ধৈর্যের উপদেশের লক্ষ্যে তা ব্যক্ত করা সমীচীন।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
رابعًا: الإسراع في حل أي خلاف:قد يحدث بين الطلبة أو بينهم وبين الأستاذ خلاف، وعندئذٍ عليهم حله بالصلح مع التزام العدل، والابتعاد عن الإثارة والدعاوى الباطلة، أو التهم التي لا حقيقة لها، هربًا من الاتصاف بصفة المنافق «إذا خاصم فجر» [البخاري (1 / 14) ومسلم (1 / 78) ] .
চতুর্থত: যে কোনো বিরোধ নিষ্পত্তিতে দ্রুততা অবলম্বন করা:ছাত্রদের নিজেদের মধ্যে অথবা তাদের ও শিক্ষকের মধ্যে কোনো বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে; এমতাবস্থায় ন্যায়নিষ্ঠতা (عدل) বজায় রেখে আপস-নিষ্পত্তির মাধ্যমে তা সমাধান করা তাদের কর্তব্য। সেইসাথে উস্কানি প্রদান ও ভিত্তিহীন (باطل) দাবি কিংবা সত্যতা বিবর্জিত অপবাদ আরোপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, যাতে মুনাফিকের বৈশিষ্ট্যে গুণান্বিত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়; (যেমনটি হাদিসে এসেছে:) “যখন সে বিবাদে লিপ্ত হয়, তখন সীমা লঙ্ঘন করে অন্যায় আচরণ করে” [বুখারি (১/১৪) ও মুসলিম (১/৭৮)]।
(খণ্ড: ১)
তাল্লুর রাবওয়াহ তারবিয়াতুল উস্তাযিদ দায়িয়াহ লিতিলমীজিহি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
خامسًا: حفاظ الأستاذ على مواعيده.وعدم تأخره عنها، وكذلك حفاظ التلاميذ على مواعيدهم مع أستاذهم، أو مواعيد بعضهم مع بعض بكل عناية ودقة، وعدم التساهل في ذلك لما فيه من المحاذير الكثيرة ومنها:الاتصاف بصفات المنافقين التي حذر منها الرسول صلى الله عليه وسلم.تضييع الوقت على الآخرين.زعزعة ثقة زملائه فيه.تفويت فرص قد لا تعوض من الخير.فتح أبواب قد لا تغلق من الشر.وعلى الجميع مناصحة من تكرر منه ذلك حتى يتخلص من تلك الصفة الذميمة.
পঞ্চম: শিক্ষকের নিজ সময়সূচির প্রতি যত্নশীল হওয়া.এবং নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে বিলম্ব না করা; অনুরূপভাবে ছাত্রদেরও তাদের শিক্ষকের সাথে কিংবা একে অপরের সাথে নির্ধারিত সময়ের প্রতি অত্যন্ত সতর্কতা ও সূক্ষ্মতার সাথে যত্নশীল হওয়া এবং এই বিষয়ে কোনো শিথিলতা প্রদর্শন না করা; কারণ এতে অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে, যার কয়েকটি হলো:কপটদের (منافقين) সেইসব বৈশিষ্ট্যে গুণান্বিত হওয়া, যা থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করেছেন।অন্যদের সময় নষ্ট করা।তার প্রতি সহকর্মীদের আস্থা বা নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) ক্ষুণ্ণ করা।কল্যাণের এমন সুযোগ হাতছাড়া করা যা আর পুনরায় ফিরে পাওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে।মন্দের এমন সব দ্বার উন্মুক্ত হওয়া যা সহজে রুদ্ধ হয় না।যাদের নিকট থেকে এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, তাদের নসিহত করা সকলের দায়িত্ব, যাতে তারা এই নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্তি পেতে পারে।