(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مجتمع الدعاة   (عبد الرحمن الهرفي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: سلسلة مجتمع الدعاة

المؤلف: عبد الرحمن بن محمد بن على الهرفي

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 20

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 32

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দাঈদের সমাজ ধারাবাহিক   (আবদুর রহমান আল-হারফি)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী


গ্রন্থ: দাঈদের সমাজ ধারাবাহিক

লেখক: আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-হারফি

প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠাসংখ্যা (মুদ্রণ সংস্করণ) : ২০

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৩২

আল-শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১)
سلسلة مجتمع الدعاة

كتبه: عبد الرحمن بن محمد بن علي الهرفي

الداعية بمركز الدعوة والإرشاد بفرع الوزارة

بالمنطقة الشرقية

1421هـ

‌‌مقدمة الْحَمْدُ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ:

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}
দাঈদের সমাজ সিরিজ

লিখেছেন: আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-হারফি

মন্ত্রণালয়ের শাখা কার্যালয়ের দাওয়াহ ও ইরশাদ কেন্দ্রের দাঈ

পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে

১৪২১ হিজরি

‌‌ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল:

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় হতে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন (অক্ষুণ্ণ রাখার) ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।}
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২)
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} {يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} أما بعد:

فإن أحسن الحديث كلام الله وخير الهدي هدي محمد ــ صلى الله عليه وآله وسلم وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار.

فإسهاما مني في هذه السلسلة المباركة والتي يراد منها إعداد مجتمع الدعوة إلى الله جل وعلا اخترت العنوان الأول وهو كيف يكون المعلم والمعلمة من الدعاة إلى الله تعالى وقبل أن أبدأ البحث آثرت عرض الموضوع على عدد من المعلمين للإفادة من خبراتهم خلال عملهم في مجال التدرس والدعوة إلى الله تعالى خلال تلك الفترة فخرجت بجملة من التجارب العملية والتي قد أعرض لبعضها أثناء هذا البحث المختصر والذي سأتحدث فيه عن الآتي:

الفصل الأول: مقدمة في وجوب الدعوة:

المطلب الأول: وجوب الدعوة على كل مسلم.

المطلب الثاني: المعلم راعي فيجب أن يحفظ رعيته.

الفصل الثاني: الدعوة الذاتية: وتنقسم إلى قسمين

المطلب الأول: الدعوة بالقدوة الحسنة.
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।} {তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।} অতঃপর:

নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة), আর প্রতিটি পথভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।

মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতের জন্য একটি সমাজ প্রস্তুত করার লক্ষ্যে পরিচালিত এই বরকতময় ধারায় আমার একটি অবদান হিসেবে আমি প্রথম শিরোনামটি নির্বাচন করেছি—তা হলো: শিক্ষক ও শিক্ষিকা কীভাবে আল্লাহর পথে দাঈ হবেন। গবেষণাটি শুরু করার আগে আমি শিক্ষকতা এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন শিক্ষকের অভিজ্ঞতার সুফল পেতে তাঁদের নিকট বিষয়টি উপস্থাপন করাকে শ্রেয় মনে করেছি। এর ফলে আমি বেশ কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করেছি, যার কিছু অংশ আমি এই সংক্ষিপ্ত গবেষণায় তুলে ধরব। এতে আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব:

প্রথম অধ্যায়: দাওয়াতের আবশ্যকতা প্রসঙ্গে ভূমিকা:

প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রত্যেক মুসলিমের ওপর দাওয়াতের আবশ্যকতা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিক্ষক একজন দায়িত্বশীল, তাই তাঁর ওপর তাঁর অধীনস্থদের হেফাযত করা আবশ্যক।

দ্বিতীয় অধ্যায়: ব্যক্তিগত দাওয়াত: এটি দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: উত্তম আদর্শের মাধ্যমে দাওয়াত।
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ৩)
المطلب الثاني: الدعوة من خلال عرض المادة العلمية الجيدة الشيقة.

الفصل الثالث: الدعوة العملية: وتنقسم إلى الأقسم التالية:

المطلب الأول: احترام الطالب

المطلب الثاني: تقديم المساعدة للطالب عند حاجته لها

المطلب الثالث: زيارة الطالب عند المصائب

المطلب الرابع: زيارة الطالب في الأفراح

المطلب الخامس: محاولة الوصول لجوهر قلبه

المطلب السادس: يجب أن لا ينسى المعلم الداعية هدفه

المطلب السابع: الرفق خير كله

الفصل الرابع معوقات الدعوة:

المطلب الأول: معوقات نفسية:

المطلب الثاني: معوقات خارجية:

هذا ما تيسر جمعه في هذا البحث والله الموفق لكل خير وبر.

وكتبه عبد الرحمن بن محمد بن علي الهرفي

الدمام
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উৎকৃষ্ট ও আকর্ষণীয় জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়বস্তু উপস্থাপনের মাধ্যমে দাওয়াত।

তৃতীয় অধ্যায়: ব্যবহারিক দাওয়াত: এটি নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহে বিভক্ত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: শিক্ষার্থীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিক্ষার্থীর প্রয়োজনে তাকে সহায়তা প্রদান

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিপদ-আপদে শিক্ষার্থীকে দেখতে যাওয়া

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আনন্দ-উৎসবে শিক্ষার্থীকে দেখতে যাওয়া

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তার হৃদয়ের অন্তস্তলে পৌঁছানোর চেষ্টা করা

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: দাঈ শিক্ষকের উচিত তার মূল লক্ষ্য বিস্মৃত না হওয়া

সপ্তম পরিচ্ছেদ: নম্রতা সামগ্রিকভাবেই কল্যাণকর

চতুর্থ অধ্যায়: দাওয়াতের প্রতিবন্ধকাসমূহ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবন্ধকতা:

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বাহ্যিক প্রতিবন্ধকতা:

এই গবেষণায় যা কিছু সংকলন করা সম্ভব হয়েছে তা-ই এখানে বিধৃত হলো; আল্লাহই সকল কল্যাণ ও পুণ্যকর্মের তৌফিকদাতা।

এটি লিখেছেন: আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-হারফি

দাম্মাম
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌الفصل الأول: مقدمة في وجوب الدعوة

المطلب الأول: وجوب الدعوة على كل مسلم

‌‌الآيات الدالة على وجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وهو من الدعوة:

{وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [104آل عمران]

{كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ} [سورة آل عمران 110]

{لَيْسُوا سَوَاءً مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ أُمَّةٌ قَائِمَةٌ يَتْلُونَ آيَاتِ اللَّهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَهُمْ يَسْجُدُونَ} {يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَأُولَئِكَ مِنَ الصَّالِحِينَ} [113ـ 114 آل عمران]
প্রথম অধ্যায়: দাওয়াতের আবশ্যকতা সংক্রান্ত ভূমিকা

প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রত্যেক মুসলমানের ওপর দাওয়াতের আবশ্যকতা

সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের আবশ্যকতা প্রমাণকারী আয়াতসমূহ, যা দাওয়াতেরই অন্তর্ভুক্ত:

“আর তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ দিবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই হলো সফলকাম।” [১০৪ আল-ইমরান]

“তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত যাদের মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো। আর আহলে কিতাবগণ যদি ঈমান আনত তবে তা অবশ্যই তাদের জন্য কল্যাণকর হতো। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মুমিন রয়েছে, তবে তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।” [সুরা আল-ইমরান: ১১০]

“তারা সবাই সমান নয়। আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন একনিষ্ঠ দল রয়েছে যারা রাতের প্রহরে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং তারা সিজদাবনত হয়।” “তারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সৎ কাজের আদেশ দেয় ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে এবং সৎকর্মে দ্রুত ধাবিত হয়; আর তারাই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।” [১১৩-১১৪ আল-ইমরান]
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
{الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [157 الأعراف]

{وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} [71 التوبة]

{التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ} [112 التوبة]
{যারা সেই রাসূলের অনুসরণ করে, যিনি উম্মী নবী, যাঁর উল্লেখ তারা তাদের নিকট রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়; যিনি তাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ দেন ও অসৎকাজ (المنكر) হতে নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ বৈধ করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ অবৈধ করেন এবং তাদের ওপর থেকে তাদের সেই বোঝা ও শৃঙ্খলসমূহ অপসারিত করেন যা তাদের ওপর ছিল। সুতরাং যারা তাঁর প্রতি ঈমান আনে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর সাথে অবতীর্ণ নূরের অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম।} [১৫৭ আল-আরাফ]

{আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় ও অসৎকাজ (المنكر) হতে নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। এদের ওপর আল্লাহ শীঘ্রই রহমত বর্ষণ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [৭১ আত-তাওবা]

{তারা তাওবাকারী, ইবাদতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, বিচরণকারী (বা সিয়াম পালনকারী), রুকুকারী, সিজদাকারী, সৎকাজের নির্দেশদানকারী ও অসৎকাজ (المنكر) হতে নিষেধকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমানাসমূহ হিফাযতকারী। আর মুমিনদেরকে আপনি সুসংবাদ প্রদান করুন।} [১১২ আত-তাওবা]
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ৬)
{إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} [90 النحل]

{الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ} [41 الحج]

{يَابُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ} [17 لقمان]
{নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা (عدل), ইহসান এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং তিনি অশ্লীলতা, মন্দ কাজ (منكر) ও সীমালঙ্ঘন হতে নিষেধ করছেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পার।} [নাহল: ৯০]

{তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে প্রতিষ্ঠা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ দিবে ও মন্দ কাজ (منكر) হতে নিষেধ করবে; আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহরই নিকট।} [হাজ্জ: ৪১]

{হে বৎস! সালাত কায়েম করো, সৎ কাজের আদেশ দাও এবং মন্দ কাজ (منكر) হতে নিষেধ করো আর তোমার ওপর যে বিপদ আপতিত হয় তাতে ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয়ই এগুলো দৃঢ় সংকল্পের অন্তর্ভুক্ত কাজ।} [লুকমান: ১৭]
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الآيات الدالة على أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم منذر، والإنذار هو الدعوة:

{أَكَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا أَنْ أَوْحَيْنَا إِلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ أَنْ أَنْذِرِ النَّاسَ وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِنْدَ رَبِّهِمْ قَالَ الْكَافِرُونَ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ مُبِينٌ} [2 يونس]

{وَأَنْذِرِ النَّاسَ يَوْمَ يَأْتِيهِمُ الْعَذَابُ فَيَقُولُ الَّذِينَ ظَلَمُوا رَبَّنَا أَخِّرْنَا إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ نُجِبْ دَعْوَتَكَ وَنَتَّبِعِ الرُّسُلَ أَوَلَمْ تَكُونُوا أَقْسَمْتُمْ مِنْ قَبْلُ مَا لَكُمْ مِنْ زَوَالٍ} [44 إبراهيم]

{وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} [214 الشعراء]

{وَاذْكُرْ أَخَا عَادٍ إِذْ أَنْذَرَ قَوْمَهُ بِالْأَحْقَافِ وَقَدْ خَلَتِ النُّذُرُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ} [21 الأحقاف]

{إِنَّا أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ أَنْ أَنْذِرْ قَوْمَكَ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [1 نوح]
‌‌নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যে একজন সতর্ককারী এবং সতর্ক করা যে দাওয়াতেরই অন্তর্ভুক্ত, তা নির্দেশকারী আয়াতসমূহ:

{মানুষের জন্য কি এটি বিস্ময়কর যে, আমি তাদেরই মধ্য থেকে একজনের নিকট ওহি প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, আপনি মানুষকে সতর্ক করুন এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ দিন যে, তাদের প্রতিপালকের নিকট তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদা। কাফিররা বলল, ‘নিশ্চয়ই এ ব্যক্তি একজন প্রকাশ্য জাদুকর’} [২ ইউনুস]

{আর আপনি মানুষকে সেই দিন সম্পর্কে সতর্ক করুন, যেদিন তাদের নিকট আযাব আসবে; তখন যালিমরা বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের কিছুকালের জন্য অবকাশ দিন, আমরা আপনার দাওয়াতে সাড়া দেব এবং রাসূলগণের অনুসরণ করব।’ (তখন তাদের বলা হবে,) ‘তোমরা কি ইতিপূর্বে শপথ করতে না যে, তোমাদের কোনো পতন নেই?’} [৪৪ ইবরাহীম]

{আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} [২১৪ আশ-শুআরা]

{আর আদ জাতির ভাইয়ের কথা স্মরণ করুন, যখন তিনি আহকাফ অঞ্চলে তাঁর সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিলেন; আর তাঁর আগেও এবং পরেও অনেক সতর্ককারী অতিক্রান্ত হয়েছে এই মর্মে যে, ‘তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক মহাদিবসের আযাবের আশঙ্কা করছি’} [২১ আল-আহকাফ]

{নিশ্চয়ই আমি নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট পাঠিয়েছিলাম এই নির্দেশ দিয়ে যে, ‘আপনি আপনার সম্প্রদায়কে সতর্ক করুন তাদের নিকট যন্ত্রণাদায়ক আযাব আসার পূর্বেই’} [১ নূহ]
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ৮)
{يَاأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ} {قُمْ فَأَنْذِرْ} [1 ـ 2 المدثر]

التصريح بوجوب الدعوة:

{فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ} [94 الحجر]

{قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [108 يوسف]

{وَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَفْرَحُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمِنَ الْأَحْزَابِ مَنْ يُنْكِرُ بَعْضَهُ قُلْ إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ وَلَا أُشْرِكَ بِهِ إِلَيْهِ أَدْعُو وَإِلَيْهِ مَآبِ} [36 الرعد]
{হে বস্ত্রাবৃত!} {উঠুন, অতঃপর সতর্ক করুন!} [১-২ আল-মুদ্দাসসির]

দাওয়াতের আবশ্যকতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ঘোষণা:

{অতএব আপনি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছেন তা স্পষ্টভাবে প্রচার করুন এবং মুশরিকদের এড়িয়ে চলুন।} [৯৪ আল-হিজর]

{বলুন, এটিই আমার পথ। আমি এবং আমার অনুসারীগণ সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} [১০৮ ইউসুফ]

{আর যাদেরকে আমি কিতাব দান করেছি, তারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে আনন্দিত হয়। আর বিভিন্ন দলগুলোর মধ্যে এমন কেউ আছে যারা এর কিছু অংশ অস্বীকার করে। বলুন, আমি কেবল আল্লাহর ইবাদত করার এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আমি তাঁর দিকেই আহ্বান করি এবং তাঁর নিকটই আমার প্রত্যাবর্তন।} [৩৬ আর-রাদ]
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الأحاديث الدالة على وجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر:

أخرج مسلم عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا مِنْ نَبِيٍّ بَعَثَهُ اللَّهُ فِي أُمَّةٍ قَبْلِي إِلا كَانَ لَهُ مِنْ أُمَّتِهِ حَوَارِيُّونَ وَأَصْحَابٌ يَأْخُذُونَ بِسُنَّتِهِ وَيَقْتَدُونَ بِأَمْرِهِ ثُمَّ إِنَّهَا تَخْلُفُ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوفٌ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنْ الْإِيمَانِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ» .

أخرج مسلم عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الدِّينُ النَّصِيحَةُ قُلْنَا لِمَنْ قَالَ لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ» .
সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের আবশ্যকতা নির্দেশকারী হাদিসসমূহ:

ইমাম মুসলিম আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “আমার পূর্বে আল্লাহ কোনো উম্মতের মাঝে এমন কোনো নবী প্রেরণ করেননি যাঁর উম্মতের মধ্যে তাঁর কিছু ঘনিষ্ঠ সহচর ও সঙ্গী ছিল না, যারা তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করত এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলত। অতঃপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের আবির্ভাব ঘটে যারা এমন কথা বলে যা তারা করে না এবং এমন কাজ করে যার নির্দেশ তাদের দেওয়া হয়নি। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের হাত দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে সে মুমিন, যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বা দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে সে মুমিন এবং যে ব্যক্তি নিজের অন্তর দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে সে মুমিন; আর এর বাইরে সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট নেই।”

ইমাম মুসলিম তামীম আদ-দারী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: “দীন হলো কল্যাণকামিতা।” আমরা আরজ করলাম, “কার জন্য?” তিনি বললেন, “আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য এবং মুসলিমদের ইমামদের জন্য।”
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
أخرج مسلم عن أَبي سَعِيدٍ قال سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ» .

أخرج البخاري عن النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ رضي الله عنهما عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَثَلُ الْقَائِمِ عَلَى حُدُودِ اللَّهِ وَالْوَاقِعِ فِيهَا كَمَثَلِ قَوْمٍ اسْتَهَمُوا عَلَى سَفِينَةٍ فَأَصَابَ بَعْضُهُمْ أَعْلَاهَا وَبَعْضُهُمْ أَسْفَلَهَا فَكَانَ الَّذِينَ فِي أَسْفَلِهَا إِذَا اسْتَقَوْا مِنَ الْمَاءِ مَرُّوا عَلَى مَنْ فَوْقَهُمْ فَقَالُوا لَوْ أَنَّا خَرَقْنَا فِي نَصِيبِنَا خَرْقًا وَلَمْ نُؤْذِ مَنْ فَوْقَنَا فَإِنْ يَتْرُكُوهُمْ وَمَا أَرَادُوا هَلَكُوا جَمِيعًا وَإِنْ أَخَذُوا عَلَى أَيْدِيهِمْ نَجَوْا وَنَجَوْا جَمِيعًا»
মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ (রা.) থেকে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো অন্যায় বা মন্দ (منكر) বিষয় দেখবে, সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়। যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে তার জিহ্বা দ্বারা; আর যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তবে তার অন্তর দ্বারা। আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর।» .

বুখারি বর্ণনা করেছেন নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখায় অটল থাকা ব্যক্তি এবং তাতে লিপ্ত হওয়া ব্যক্তির উদাহরণ সেই কওমের মতো যারা একটি নৌকার আরোহী হওয়ার ব্যাপারে লটারি করল। ফলে তাদের কেউ ওপরতলায় এবং কেউ নিচতলায় স্থান পেল। যারা নিচতলায় ছিল তারা যখন পানির প্রয়োজন বোধ করত, তখন ওপরতলার লোকদের ওপর দিয়ে যাতায়াত করত। তখন তারা বলল, 'আমরা যদি আমাদের অংশে (নিচতলায়) একটি ছিদ্র করে নিতাম, তবে আমাদের ওপরের লোকদের কষ্ট দিতাম না।' এমতাবস্থায় ওপরতলার লোকেরা যদি তাদের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করতে ছেড়ে দেয়, তবে তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তারা তাদের হাত ধরে (বাধা দেয়), তবে তারা নিজেরাও রক্ষা পাবে এবং সকলেই মুক্তি পাবে।»
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
أخرج البخاري عن عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ الْإِمَامُ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي أَهْلِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْئُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا وَالْخَادِمُ رَاعٍ فِي مَالِ سَيِّدِهِ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ قَالَ وَحَسِبْتُ أَنْ قَدْ قَالَ وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي مَالِ أَبِيهِ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ»
ইমাম বুখারি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, "তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। ইমাম হলেন একজন দায়িত্বশীল এবং তিনি তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। পুরুষ তার পরিবারের জন্য দায়িত্বশীল এবং সে তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। নারী তার স্বামীর গৃহের দায়িত্বশীল এবং সে তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। ভৃত্য তার মনিবের সম্পদের দায়িত্বশীল এবং সে তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আমার ধারণা যে তিনি ইহাও বলেছিলেন, "ব্যক্তি তার পিতার সম্পদের দায়িত্বশীল এবং সে তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।"
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌المطلب الثاني: المعلم راع

المعلم راع فهو مسئول عن رعيته، رعيته ابني وابنك وأخي وأخوك، رعيته أولاد المسلمين فهؤلاء من أعظم الرعايا فيجب عليه حفظهم بتعليمهم أمور الدين وتربيتهم التربية الإسلامية الصحيحة وتعليمهم ما أوكل إليه من المواد النافعة لهم في أمور أخراهم ودنياهم.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিক্ষক হলেন একজন অভিভাবক

শিক্ষক একজন অভিভাবক, তাই তিনি তাঁর অধীনস্থদের সম্পর্কে দায়বদ্ধ। তাঁর অধীনস্থরা হলো আমার ও আপনার সন্তান এবং আমার ও আপনার ভাই। তাঁর অভিভাবকত্বের অন্তর্ভুক্ত হলো মুসলিমদের সন্তানরা; আর তারা হলো অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমানত। অতএব, দ্বীনি বিষয়াবলি শিক্ষা দান এবং সঠিক ইসলামী তরবিয়ত বা লালন-পালনের মাধ্যমে তাদের সুরক্ষা করা তাঁর ওপর আবশ্যক। সেই সঙ্গে তাঁর নিকট অর্পিত যে সকল ফলপ্রসূ বিষয় তাদের পরকালীন ও পার্থিব জীবনে কল্যাণকর, তা শিক্ষা দেওয়াও তাঁর কর্তব্য।
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الثاني: الدعوة الذاتية

‌‌المطلب الأول: الدعوة بالقدوة الحسنة

في هذا المطلب لا يحتاج المعلم أن يقول أو يأمر بل يفعل، وهنا يكمن المحك الحقيقي لأن القول سهل ميسر ولكن العمل شاق على النفس، قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ} {كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ} وهنا المعلم محاسب على كل أفعاله التي يأمر بها ثم لا يأتيها.

قَالَ صلى الله عليه وآله وسلم: «يُجَاءُ بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُلْقَى فِي النَّارِ فَتَنْدَلِقُ أَقْتَابُهُ فِي النَّارِ فَيَدُورُ كَمَا يَدُورُ الْحِمَارُ بِرَحَاهُ فَيَجْتَمِعُ أَهْلُ النَّارِ عَلَيْهِ فَيَقُولُونَ أَيْ فُلَانُ مَا شَأْنُكَ أَلَيْسَ كُنْتَ تَأْمُرُنَا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَانَا عَنْ الْمُنْكَرِ قَالَ كُنْتُ آمُرُكُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَلَا آتِيهِ وَأَنْهَاكُمْ عَنْ الْمُنْكَرِ وَآتِيهِ» فهذا حال من أمر الناس بالخير ولم يفعل ما أمرهم به.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আত্ম-দাওয়াত

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: উত্তম আদর্শের মাধ্যমে দাওয়াত

এই অনুচ্ছেদে শিক্ষকের বলার বা আদেশ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, বরং তিনি তা করে দেখান। আর এখানেই প্রকৃত পরীক্ষা নিহিত, কারণ কথা বলা সহজ ও সাবলীল হলেও আমল করা নফসের জন্য অত্যন্ত কঠিন। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না, তা কেন বলো?} {তোমরা যা করো না, তা বলা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত ক্রোধের বিষয়।} এখানে শিক্ষক তার সেই সকল কর্মের জন্য জিজ্ঞাসিত হবেন যেগুলোর তিনি আদেশ প্রদান করেন অথচ নিজে তা পালন করেন না।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «কিয়ামত দিবসে এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এতে তার নাড়িভুঁড়ি আগুনের মধ্যে বের হয়ে পড়বে এবং সে তা নিয়ে এমনভাবে ঘুরতে থাকবে যেমন গাধা তার যাতা নিয়ে আবর্তিত হয়। তখন জাহান্নামবাসীরা তার নিকট সমবেত হয়ে বলবে, হে অমুক! তোমার এ কী দশা? তুমি কি আমাদের সৎ কাজের (معروف) আদেশ দিতে না এবং অসৎ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করতে না? সে বলবে, আমি তোমাদের সৎ কাজের (معروف) আদেশ দিতাম কিন্তু নিজে তা করতাম না, আর তোমাদের অসৎ কাজ (منكر) থেকে বারণ করতাম কিন্তু নিজেই তা করতাম।» সুতরাং এটিই হলো সেই ব্যক্তির অবস্থা যে মানুষকে কল্যাণের আদেশ দেয় অথচ নিজে যা আদেশ করে তা আমল করে না।
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌المطلب الثاني: الدعوة من خلال عرض المادة العلمية الجيدة:

وهنا يكمن فن من فنون الدعوة، فهذا معلم الفنية يرسم زهرة جميلة ثم يشرح للتلاميذ كيف صورها ربها ونفخ فيها هذه الرائحة الجميلة، حتى يقولوا سبحان الله ما أعظم الله.

وهذا معلم العلوم يشرح لهم إعجاز القرآن أو السنة في درس من دروسهم مر عليهم حتى يقولوا سبحان الله ما أعظم الله.

وهذا معلم النحو يعرب آية من كتاب الله ثم يسأل لم جاءت هذه الكلمة هنا، وبين شيئا من إعجاز كلام الله، حتى يقولوا سبحان الله ما أعظم الله.

وهو متقن لمادته لا يضيع شيئا منها بل مبدع في شرحها وقد تحصل على احترام طلابه له.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মানসম্মত জ্ঞানগর্ভ বিষয়বস্তু উপস্থাপনের মাধ্যমে দাওয়াত:

আর এখানেই দাওয়াতের অন্যতম একটি শিল্প নিহিত রয়েছে। যেমন এই চারুকলার শিক্ষক একটি সুন্দর ফুল আঁকেন, অতঃপর শিক্ষার্থীদের কাছে ব্যাখ্যা করেন কীভাবে তাদের প্রতিপালক এটিকে চিত্রিত করেছেন এবং এতে এই চমৎকার সুগন্ধি সঞ্চার করেছেন, যাতে তারা বলে ওঠে—'সুবহানাল্লাহ, আল্লাহ কতই না মহান!'।

আর এই বিজ্ঞানের শিক্ষক তাদের পাঠ্যবইয়ের কোনো একটি পাঠের মাধ্যমে কুরআন কিংবা সুন্নাহর (السنة) অলৌকিকত্ব ব্যাখ্যা করেন, যাতে তারা বলে ওঠে—'সুবহানাল্লাহ, আল্লাহ কতই না মহান!'।

আর এই নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষক আল্লাহর কিতাবের কোনো একটি আয়াতের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ করেন, অতঃপর প্রশ্ন করেন কেন এই শব্দটি এখানে এসেছে এবং আল্লাহর বাণীর অলৌকিকত্বের কিছু দিক স্পষ্ট করেন, যাতে তারা বলে ওঠে—'সুবহানাল্লাহ, আল্লাহ কতই না মহান!'।

তিনি তার পাঠ্যবিষয়ে সুদক্ষ (متقن), এর কোনো অংশই তিনি অবহেলা করেন না; বরং এর ব্যাখ্যা প্রদানে তিনি সৃজনশীল এবং তিনি তার ছাত্রদের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الفصل الثالث: الدعوة العملية

‌‌المطلب الأول: احترام الطالب

لا يمكن لأي إنسان أن يقبل منك وأنت تهينه أو تنتقص من قدره هل سمعت أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أهان أحدا من مشركي مكة ابتداءً؟

بل كان مثالا للداعية الحريص على نجاة الناس.
তৃতীয় অধ্যায়: কর্মমুখী দাওয়াত

প্রথম পরিচ্ছেদ: শিক্ষার্থীর প্রতি সম্মান

কোনো মানুষের পক্ষেই আপনার দাওয়াত গ্রহণ করা সম্ভব নয় যখন আপনি তাকে অপমান করছেন কিংবা তার মর্যাদাহানি করছেন। আপনি কি কখনো শুনেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম) মক্কার মুশরিকদের কাউকেও প্রারম্ভিকভাবে অপমান করেছেন?

বরং তিনি ছিলেন মানুষের মুক্তির ব্যাপারে পরম হিতৈষী দাওয়াতদানকারীর এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وهذا الكريم ابن الكريم ابن الكريم يوسف بن يعقوب بن إبراهيم يسأله كافرون عن رؤى رأوها فقال لهما: {لَا يَأْتِيكُمَا طَعَامٌ تُرْزَقَانِهِ إِلَّا نَبَّأْتُكُمَا بِتَأْوِيلِهِ قَبْلَ أَنْ يَأْتِيَكُمَا ذَلِكُمَا مِمَّا عَلَّمَنِي رَبِّي إِنِّي تَرَكْتُ مِلَّةَ قَوْمٍ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ} {وَاتَّبَعْتُ مِلَّةَ آبَائِي إِبْرَاهِيمَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ مَا كَانَ لَنَا أَنْ نُشْرِكَ بِاللَّهِ مِنْ شَيْءٍ ذَلِكَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ عَلَيْنَا وَعَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ} {يَاصَاحِبَيِ السِّجْنِ أَأَرْبَابٌ مُتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ} {مَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} {يَاصَاحِبَيِ السِّجْنِ أَمَّا أَحَدُكُمَا فَيَسْقِي رَبَّهُ خَمْرًا وَأَمَّا
ইনি হলেন সেই সম্মানিত, যাঁর পিতা সম্মানিত এবং যাঁর পিতাও ছিলেন সম্মানিত—ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম। কাফিররা তাঁর নিকট তাঁদের দেখা স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি তাঁদের উভয়কে বললেন: {তোমাদেরকে যে খাবার প্রদান করা হয়, তা তোমাদের নিকট আসার পূর্বেই আমি তোমাদেরকে তার ব্যাখ্যা জানিয়ে দেব। এটি সেই ইলমের অন্তর্ভুক্ত যা আমার রব আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আমি এমন এক কওমের আদর্শ বর্জন করেছি যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে না এবং তারা পরকালকে অস্বীকারকারী।} {আর আমি আমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবের আদর্শ অনুসরণ করেছি। আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করা আমাদের জন্য সংগত নয়। এটি আমাদের প্রতি এবং সকল মানুষের প্রতি আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।} {হে কারাগারের সঙ্গীদ্বয়! ভিন্ন ভিন্ন বহু প্রতিপালক কি উত্তম, নাকি এক ও পরাক্রমশালী আল্লাহ?} {তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে কেবল কতগুলো নামের ইবাদত করছ, যা তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষরা নামকরণ করেছ; এ ব্যাপারে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। বিধান দেওয়ার অধিকার কেবল আল্লাহরই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত ধর্ম, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।} {হে কারাগারের সঙ্গীদ্বয়! তোমাদের একজন তার মনিবকে মদ্যপান করাবে, আর অন্যজন...}
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الْآخَرُ فَيُصْلَبُ فَتَأْكُلُ الطَّيْرُ مِنْ رَأْسِهِ قُضِيَ الْأَمْرُ الَّذِي فِيهِ تَسْتَفْتِيَانِ} انظر له وهو يقول لهما يا صاحبي السجن ولم يقل يا مساجين أو نحو تلك العبرات مع أنه سبب سجنه غير سبب سجنهما فهو نبي مظلوم رغبت به زوج الوزير وكبار نساء الملأ وهما ليسا كذلك مع هذا جعلهما مثله.
...অপরজনকে ক্রুশবিদ্ধ করা হবে, ফলে পক্ষীকুল তার মস্তক হতে আহার করবে। যে বিষয়ে তোমরা জানতে চেয়েছিলে তার ফয়সালা হয়ে গেছে।} তাঁর প্রতি লক্ষ্য করুন, তিনি যখন তাঁদেরকে বলছেন 'হে আমার কারাগারের দুই সাথী'; তিনি 'হে কয়েদিরা' বা অনুরূপ কোনো শব্দ ব্যবহার করেননি। অথচ তাঁর কারাবরণের কারণ আর তাঁদের কারাবরণের কারণ এক ছিল না। তিনি ছিলেন একজন নির্যাতিত নবী, যাঁকে মন্ত্রীর স্ত্রী এবং অভিজাত শ্রেণীর নারীরা কামনা করেছিল, অথচ তাঁরা তেমন ছিলেন না। তা সত্ত্বেও তিনি তাঁদেরকে নিজের সমমর্যাদায় আসীন করে (সম্বোধন) করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌المطلب الثاني: تقديم المساعدة للطالب عند حاجته لها

قد تمر بالطالب ظروف معينة يحتاج معها للمساعدة وهي الشفاعة قال تعالى: {مَنْ يَشْفَعْ شَفَاعَةً حَسَنَةً يَكُنْ لَهُ نَصِيبٌ مِنْهَا وَمَنْ يَشْفَعْ شَفَاعَةً سَيِّئَةً يَكُنْ لَهُ كِفْلٌ مِنْهَا وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ مُقِيتًا} أو ما نسميه بتعبيرنا (الفزعة) وعندها يحسن بالمعلم أن يتدخل وقد ذكر لي أحد المعلمين أن طالبا كاد أن يطرد بسبب الشك فيه أن أفسد أحد أجهزة المدرسة وكان خارج حجرة المدير فلما رآه المعلم قال رأيت وجه ليس بوجه كذاب سألته فصدقني فشفعت له عند المدير فقبل شفاعتي فهداه الله بهذه الشفاعة ولله الحمد.

وقد يحسن كذلك السكوت عن خطأ قام به بعض الطلاب إذا علم أن السكوت سيؤثر عليه ومن ذلك أن أحد المرسيين شاهد طالبا يغش في أحد الاختبارات بأسلوب بدائي (هكذا قال) ويظهر منه أنه غير متقن لهذه الحرفة فدخل عليه في القاعة وقال: هات الورق الذي عندك، فأخرجها الطالب وقلبه يكاد يخرج من بين ضلوعه، فأخذها المعلم ولم يتكلم ولما رآه بعد الاختبار قال له: أنت من عائلة محترمة فعليك بالصراط المستقيم ولا تنحرف.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিক্ষার্থীর প্রয়োজনে তাকে সহায়তা প্রদান করা

কখনো কখনো শিক্ষার্থীর এমন কিছু পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় যখন তার সহায়তার প্রয়োজন পড়ে, আর তা হলো সুপারিশ। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: "যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের সুপারিশ করবে, তার জন্য তাতে অংশ থাকবে। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজের সুপারিশ করবে, তার জন্য তাতে অংশ থাকবে। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।" অথবা যাকে আমরা আমাদের পরিভাষায় (ফাযআ) বলে থাকি। এমতাবস্থায় শিক্ষকের পক্ষে মধ্যস্থতা করা উত্তম। একজন শিক্ষক আমাকে জানিয়েছেন যে, একটি স্কুলের সরঞ্জাম নষ্ট করার সন্দেহে এক ছাত্রকে প্রায় বহিষ্কার করা হচ্ছিল। ছাত্রটি তখন প্রধান শিক্ষকের কক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। শিক্ষক যখন তাকে দেখলেন, তখন তিনি বললেন, আমি তার চেহারার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম যে এটি কোনো মিথ্যাবাদী (كذاب)-এর চেহারা নয়। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম এবং সে আমার কাছে সত্য কথা বলল। অতঃপর আমি প্রধান শিক্ষকের কাছে তার জন্য সুপারিশ করলাম এবং তিনি আমার সুপারিশ গ্রহণ করলেন। আলহামদুলিল্লাহ, এই সুপারিশের উসিলায় আল্লাহ তাকে হেদায়েত দান করলেন।

একইভাবে কোনো শিক্ষার্থীর ভুল সম্পর্কে নীরব থাকাটাও সংগত হতে পারে যদি জানা যায় যে, এই নীরবতা তার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর একটি উদাহরণ হলো, জনৈক শিক্ষক এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার হলে অত্যন্ত আদিম বা সাধারণ পদ্ধতিতে (তিনি এভাবেই বলেছেন) নকল করতে দেখলেন এবং তা দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে সে এই কাজে পারদর্শী নয়। শিক্ষক হলের ভেতর প্রবেশ করে তাকে বললেন: তোমার কাছে যে কাগজগুলো আছে তা আমাকে দাও। শিক্ষার্থীটি তা বের করে দিল এবং আতঙ্কে তার কলিজা যেন পাঁজরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। শিক্ষক সেটি নিয়ে নিলেন কিন্তু কোনো কথা বললেন না। পরীক্ষার পর যখন তার সাথে দেখা হলো, তখন তিনি তাকে বললেন: তুমি একটি সম্মানিত পরিবারের সন্তান, তাই তোমার সর্বদা সঠিক পথে চলা উচিত এবং কক্ষচ্যুত হওয়া উচিত নয়।
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
فكم أثرت فيه هذه الكلمات وبقي سنين يذكرها لهذا المعلم.

وقال الآخر: أنه دخل على جملة من الصفوف لتفتيشهم والبحث عمن يحمل الدخان أو سكاكين ونحوها فرأيت أحدهم في جيبه سكين وهو من الطلبة الهادئين فنظرت له وكأني أكلمه حتى لا يراني المدير وقلت له: ترى شفتها، وهي آخر مرة؟ فقال: وعد آخر مرة.

فبقي هذا الطالب يحفظ للمعلم بل لكل المتدينين هذا الفضل.
এই কথাগুলো তাঁর ওপর কী গভীর প্রভাব ফেলেছিল যে, তিনি বহু বছর ধরে এই শিক্ষকের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করতেন।

অপর একজন বললেন: তিনি শিক্ষার্থীদের তল্লাশি করার জন্য এবং তাদের মধ্যে কেউ ধূমপান সামগ্রী বা ছুরি ইত্যাদি বহন করছে কি না তা দেখার জন্য বেশ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেছিলেন। তখন আমি শান্ত স্বভাবের একজন ছাত্রের পকেটে একটি ছুরি দেখতে পেলাম। আমি তার দিকে তাকালাম এবং এমনভাবে কথা বললাম যেন প্রধান শিক্ষক আমাকে দেখতে না পান। আমি তাকে বললাম: "দেখো, আমি এটি দেখে ফেলেছি; এটাই যেন শেষবার হয়।" সে বলল: "ওয়াদা করছি, এটিই শেষবার।"

ফলে সেই ছাত্রটি শিক্ষকের প্রতি—বরং সকল দ্বীনদার মানুষের প্রতি—এই অনুগ্রহের কথা আজীবন স্মরণে রেখেছিল।
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المطلب الثالث: زيارة الطالب عند المصائب

الطالب كغيره من الناس تمر به المصيبة وهو بحاجة للمواساة.

وقد تكون مصائب بعض الطلاب دائمة بسبب أبٍ قاسٍ أو أمٍ زاهدة فيه أو أب ضال فاجر، فهو بحاجة للحنان من أي أحد من الناس وبدلا من أن يلتف عليه الفسقة المفسدين يتلقفه هذا المعلم الداعية، وينجيه من براثن أهل الفساد. ويكن الخطر كل الخطر لو كانت هذه المبتلاة بنت لأنها ستبحث عمن تسرى عن همها؛وهنا يكمن الخطر لأن الذي يستمع لها بإنصات في الغالب سيكون ذئبا جبانا فاسقا يريد جسدها لينهشه.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিপদের সময় শিক্ষার্থীর সাথে সাক্ষাৎ

একজন শিক্ষার্থী অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতোই বিপদের সম্মুখীন হয় এবং তার সহমর্মিতার প্রয়োজন পড়ে।

কিছু শিক্ষার্থীর বিপদ হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী; যেমন কোনো নিষ্ঠুর পিতা, অথবা তার প্রতি বিমুখ মাতা, কিংবা কোনো পথভ্রষ্ট ও পাপাচারী (فاجر) পিতার কারণে। এমতাবস্থায় সে যেকোনো মানুষের নিকট থেকে মমতার মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে। ফলে পাপাচারী (فاسق) ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীরা তাকে ঘিরে ধরার আগেই এই শিক্ষক ও দাঈর উচিত তাকে সাদরে গ্রহণ করা এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের থাবা থেকে তাকে রক্ষা করা। বিপদটি তখন চরম আকার ধারণ করে, যখন এই বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি কোনো কন্যা হয়; কারণ সে তখন এমন কাউকে খুঁজবে যে তার দুশ্চিন্তা লাঘব করবে। আর এখানেই মূল বিপদটি নিহিত, কারণ যে ব্যক্তি খুব মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনবে, সে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হবে কোনো পাপাচারী (فاسق) ও কাপুরুষ নেকড়ে, যে তাকে ছিঁড়ে খাওয়ার জন্য কেবল তার শরীরটাই কামনা করে।
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المطلب الرابع: زيارة الطالب في الأفراح

لا يمنع أن يزور المعلم الطالب في الأفراح ويقدم التبريكات ولكن بقدر، ولو لم يتمكن من الزيارة اكتفى بالتبريك ولو في قاعة الدرس أمام الطلاب فإن هذا سيدخل السعادة والسرور على نفس الطالب.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আনন্দের মুহূর্তে ছাত্রের সাথে সাক্ষাৎ

আনন্দের উপলক্ষগুলোতে শিক্ষক ছাত্রের সাথে সাক্ষাৎ করবেন এবং তাকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করবেন—এতে কোনো বাধা নেই, তবে তা পরিমিত হতে হবে। আর যদি সশরীরে সাক্ষাৎ করা সম্ভব না হয়, তবে কেবল অভিনন্দন জানানোই যথেষ্ট হবে, এমনকি তা শ্রেণিকক্ষে অন্য ছাত্রদের সামনে হলেও; কারণ এটি ছাত্রের মনে অনাবিল আনন্দ ও প্রশান্তি বয়ে আনবে।
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المطلب الخامس: محاولة الوصول لجوهر قلبه

قال سيد قطب رحمه الله: عندما نلمس الجانب الطيب في نفوس الناس، نجد أن هناك خيرا كثيرا قد لا تراه العيون أول وهلة! …

لقد جربت ذلك. جربته مع الكثيرين … حتى الذين يبدو في أول الأمر أنهم شريرون أو فقراء الشعور …
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর অন্তরের মর্মস্থলে পৌঁছানোর প্রয়াস

সাইয়্যেদ কুতুব (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: যখন আমরা মানুষের আত্মার কল্যাণময় দিকটি স্পর্শ করি, তখন আমরা দেখতে পাই যে সেখানে প্রচুর কল্যাণ রয়েছে যা হয়তো প্রথম দৃষ্টিতে দৃষ্টিগোচর হয় না! …

আমি এটি পরীক্ষা করেছি। অনেকের সঙ্গেই আমি এটি পরীক্ষা করে দেখেছি … এমনকি তাদের ক্ষেত্রেও, যাদেরকে শুরুতে মন্দ স্বভাবের অথবা অনুভূতিহীন মনে হয়েছিল …
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
شيء من العطف على أخطائهم، وحماقتهم، شيء من الود الحقيقي لهم، شيء من العناية - غير المتصنعة - باهتماماتهم وهمومهم … ثم ينكشف لك النبع الخير في نفوسهم، حين يمنحونك حبهم ومودتهم وثقتهم، في مقابل القليل الذي أعطيتهم إياه من نفسك، متى أعطيتهم إياه في صدق وصفاء وإخلاص. إن الشر ليس عميقا في النفس الإنسانية إلى الحد الذي نتصوره أحيانا. إنه في تلك القشرة الصلبة التي يواجهون بها كفاح الحياة للبقاء … فإذا آمنوا تكشفت تلك القشرة الصلبة عن ثمرة حلوة شهية … هذه الثمرة الحلوة، إنما تتكشف لمن يستطيع أن يشعر من الناس بالأمن من جانبه، بالثقة في مودته، بالعطف الحقيقي على كفاحهم وآلامهم، وعلى أخطائهم وعلى حماقتهم كذلك … وشيء من سعة الصدر في أول الأمر كفيل بتحقيق ذلك كله، أقرب مما يتوقع الكثيرون لقد جربت ذلك، جربته بنفسي. فلست أطلقها مجرد كلمات مجنحة وليدة أحلام وأوهام! …
তাদের ভুল-ভ্রান্তি ও মূর্খতার প্রতি কিঞ্চিৎ অনুকম্পা, তাদের প্রতি কিঞ্চিৎ অকৃত্রিম হৃদ্যতা, তাদের আগ্রহ ও উদ্বেগসমূহের প্রতি—কোনো প্রকার কৃত্রিমতা ব্যতিরেকেই—সামান্য মনোযোগ … অতঃপর আপনার নিকট তাদের অন্তরের কল্যাণের উৎসধারা উন্মোচিত হবে; যখন তারা আপনাকে তাদের ভালোবাসা, সখ্যতা ও আস্থা প্রদান করবে—আপনার পক্ষ থেকে তাদের প্রতি নিবেদিত যৎসামান্য সদিচ্ছার বিনিময়ে, যা আপনি সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে তাদের প্রদান করেছেন। বস্তুত মানুষের অন্তরে মন্দের ব্যাপ্তি ততটা গভীর নয় যতটা আমরা মাঝেমধ্যে ধারণা করি। এটি মূলত সেই কঠিন আবরণ মাত্র, যার মাধ্যমে তারা অস্তিত্ব রক্ষার জীবনসংগ্রামের মোকাবিলা করে … অতঃপর যখন তারা নিরাপদ বোধ করে, তখন সেই কঠিন আবরণ ভেদ করে একটি সুমিষ্ট ও সুস্বাদু ফল প্রকাশিত হয় … এই সুমিষ্ট ফলটি কেবল তার নিকটই উন্মোচিত হয়, যে মানুষকে নিজের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা দান করতে পারে, যার হৃদ্যতার ওপর মানুষ আস্থা রাখতে পারে এবং মানুষের সংগ্রাম, বেদনা, ভুল-ভ্রান্তি ও এমনকি তাদের মূর্খতার প্রতিও যার অকৃত্রিম সহানুভূতি রয়েছে … প্রারম্ভিক পর্যায়ে সামান্য প্রশস্ত হৃদয়ের পরিচয় দিলেই এই সবকিছু অর্জন করা সম্ভব, যা অনেকের ধারণার চেয়েও দ্রুত ঘটে থাকে। আমি এটি পরীক্ষা করেছি, আমি নিজে এটি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করেছি। সুতরাং আমি কেবল অলীক স্বপ্ন বা কল্পনাপ্রসূত কোনো চটকদার কথা বলছি না! …
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌المطلب السادس: محاولة الثناء عليهم بما فيهم من الخير

ومنطلقنا هنا قول النبي صلى الله عليه وآله وسلم: «نِعْمَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللَّهِ لَوْ كَانَ يُصَلِّي مِنْ اللَّيْلِ» فما ترك ابن عمر رضي الله عنهما قيام الليل حتى مات.

فهذه بضع كلمات فيها ثناء صادق حثت ابن عمر رضي الله عنهما على قيام الليل.

فكذا الطالب يحتاج منك إلى تشجيع وهو شيء من الثناء وفيه نصيحة طيبة.

قال سيد قطب رحمه الله: عندما تنمو في نفوسنا بذور الحب والعطف والخير نعفي أنفسنا من أعباء ومشقات كثيرة. إننا لن نكون في حاجة إلى أن نتملق الآخرين؛ لأننا سنكون يومئذ صادقين مخلصين إذ نزجي إليهم الثناء. إننا سنكشف في نفوسهم عن كنوز من الخير وسنجد لهم مزايا طيبة نثني عليها حين نثني ونحن صادقون؛ ولن يعدم إنسان ناحية خيرة أو مزية حسنة تؤهله لكلمة طيبة … ولكننا لا نطلع عليها ولا نراها إلا حين تنمو في نفوسنا بذرة الحب! …
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাদের মধ্যে বিদ্যমান কল্যাণের কারণে তাদের প্রশংসা করার প্রচেষ্টা

এখানে আমাদের মূল ভিত্তি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: «আবদুল্লাহ কতই না উত্তম মানুষ, যদি সে রাতে সালাত আদায় করত»; ফলে ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা আমৃত্যু রাতের কিয়াম বর্জন করেননি।

এগুলো ছিল সামান্য কয়েকটি শব্দ যাতে ছিল অকৃত্রিম প্রশংসা, যা ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-কে রাতের কিয়ামের প্রতি উৎসাহিত করেছিল।

অনুরূপভাবে শিক্ষার্থীর আপনার পক্ষ থেকে উৎসাহ প্রয়োজন, যা এক প্রকার প্রশংসা এবং এর মধ্যে উত্তম নসিহত নিহিত থাকে।

সাইয়্যেদ কুতুব রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: যখন আমাদের অন্তরে ভালোবাসা, মমতা ও কল্যাণের বীজ অঙ্কুরিত হয়, তখন আমরা নিজেদের বহু বোঝা ও কষ্ট থেকে রেহাই দিই। তখন আমাদের অন্যকে তোষামোদ করার প্রয়োজন হবে না; কারণ তখন আমরা তাদের প্রশংসা করার ক্ষেত্রে সত্যবাদী ও নিষ্ঠাবান হব। আমরা তাদের সত্তার গভীরে কল্যাণের ভাণ্ডার উন্মোচন করব এবং তাদের মাঝে এমন সব চমৎকার বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাব, যার প্রশংসা আমরা সত্যনিষ্ঠ হয়েই করব। কোনো মানুষই এমন কোনো কল্যাণকর দিক বা মহৎ গুণ থেকে বঞ্চিত নয় যা একটি ভালো কথার দাবি রাখে না … কিন্তু আমরা তা অনুধাবন করি না বা দেখি না যতক্ষণ না আমাদের অন্তরে ভালোবাসার বীজ প্রস্ফুটিত হয়! …
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
كذلك لن نكون في حاجة لأن نحمل أنفسنا مؤونة التضايق منهم ولا حتى مؤونة الصبر على أخطائهم وحماقاتهم لأننا سنعطف على مواضع الضعف والنقص ولن نفتش عليها لنراها يوم تنمو في نفوسنا بذرة الحب! وبطبيعة الحال لن نجشم أنفسنا عناء الحقد عليهم أو عبء الحذر منهم فإنما نحقد على الآخرين لأن بذرة الخير لم تنم في نفوسنا نموا كافيا ونتخوف منهم لأن عنصر الثقة في الخير ينقصنا!

كم نمنح أنفسنا من الطمأنينة والراحة والسعادة، حين نمنح الآخرين عطفنا وحبنا وثقتنا، يوم تنمو في نفوسنا بذرة الحب والعطف والخير!
একইভাবে, আমাদের নিজেদের তাদের প্রতি বিরক্ত হওয়ার বোঝা বহন করার প্রয়োজন হবে না, এমনকি তাদের ভুলভ্রান্তি ও মূর্খতার ওপর ধৈর্য ধারণের কষ্টও পোহাতে হবে না; কারণ যেদিন আমাদের অন্তরে ভালোবাসার বীজ অঙ্কুরিত হবে, সেদিন আমরা তাদের দুর্বলতা (ضعيف) ও ত্রুটিবিচ্যুতির প্রতি সদয় হব এবং সেগুলো দেখার জন্য অন্বেষণ করব না! আর স্বাভাবিকভাবেই, আমরা তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণের ক্লেশ কিংবা তাদের থেকে সতর্ক থাকার ভার নিজেদের ওপর চাপিয়ে দেব না; কেননা আমরা অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করি কেবল এজন্য যে, আমাদের অন্তরে কল্যাণের বীজ পর্যাপ্তভাবে বিকশিত হয়নি, আর আমরা তাদের নিয়ে শঙ্কিত থাকি কারণ কল্যাণের প্রতি আমাদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة)-এর উপাদানের ঘাটতি রয়েছে!

আমরা নিজেদের কতই না প্রশান্তি, স্বস্তি ও সুখ দান করি, যখন আমরা অন্যদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি, ভালোবাসা ও নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) জ্ঞাপন করি; যেদিন আমাদের অন্তরে ভালোবাসা, দয়া ও কল্যাণের বীজ প্রস্ফুটিত হয়!
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المطلب السابع: يجب أن لا ينسى المعلم الداعية هدفه

قال لي كثير من المعلمين دخلنا التعليم من أجل هدف واضح وهو الدعوة إلى الله تعالى؛ ولكن بعد مضي عام يتلوه عام تركنا هذا الهدف واشتغلنا بأمور دنيوية تنافسنا عليها!! .

فيجب على المعلم الداعية أن لا ينسى هدفه الأكبر وهو الدعوة، وأن يطرح قضيته الكبرى في كل درس بحسبه.
সপ্তম দাবি: দাঈ শিক্ষকের উচিত নয় তার লক্ষ্য ভুলে যাওয়া

অনেক শিক্ষক আমাকে বলেছেন, "আমরা একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশ করেছিলাম, আর তা হলো মহান আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদান করা; কিন্তু বছরের পর বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আমরা সেই লক্ষ্য পরিত্যাগ করেছি এবং এমন সব পার্থিব বিষয়ে লিপ্ত হয়েছি যা নিয়ে আমরা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করি!!" ।

সুতরাং দাঈ শিক্ষকের ওপর আবশ্যক হলো তিনি যেন তার সুমহান লক্ষ্য অর্থাৎ দাওয়াতের কথা ভুলে না যান এবং প্রতিটি পাঠে প্রাসঙ্গিকভাবে তার এই মহান উদ্দেশ্যটি উপস্থাপন করেন।
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المطلب الثامن: الرفق خير كله

أخرج البخاري عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَسِّرُوا وَلَا تُعَسِّرُوا وَبَشِّرُوا وَلَا تُنَفِّرُوا»

وأخرج مسلم عن عَائِشَةَ قالت سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي بَيْتِي هَذَا: «اللَّهُمَّ مَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ أُمَّتِي شَيْئًا فَشَقَّ عَلَيْهِمْ فَاشْقُقْ عَلَيْهِ وَمَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ أُمَّتِي شَيْئًا فَرَفَقَ بِهِمْ فَارْفُقْ بِهِ» والمعلم له ولاية على هؤلاء الطلاب.

وأخرج مسلم عَنْ جَرِيرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ يُحْرَمْ الرِّفْقَ يُحْرَمْ الْخَيْرَ»

وأخرج مسلم عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ الرِّفْقَ لَا يَكُونُ فِي شَيْءٍ إِلَّا زَانَهُ وَلَا يُنْزَعُ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا شَانَهُ» .

فهلا سمع المعلمون هذا الحديث.
অষ্টম পরিচ্ছেদ: কোমলতা সর্বতোভাবে কল্যাণকর

বুখারি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: «তোমরা সহজ করো এবং কঠিন করো না; সুসংবাদ প্রদান করো এবং বিতশ্রদ্ধ করো না»

মুসলিম আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে আমার এই ঘরে বলতে শুনেছি: «হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কোনো বিষয়ের দায়িত্ব লাভ করল এবং তাদের জন্য কষ্টদায়ক হলো, আপনিও তার জন্য কঠোরতা অবলম্বন করুন। আর যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কোনো বিষয়ের দায়িত্ব লাভ করল এবং তাদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করল, আপনিও তার প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করুন»। আর শিক্ষকদেরও এই শিক্ষার্থীদের ওপর তদ্রূপ দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব রয়েছে।

মুসলিম জারির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোমলতা থেকে বঞ্চিত হলো, সে মূলত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো»

মুসলিম নবী (সা.)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: «কোমলতা যে বিষয়ের সঙ্গেই থাকে, তা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে; আর যে বিষয় থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তা তাকে কলঙ্কিত করে»।

শিক্ষকগণ কি তবে এই হাদিসটি শ্রবণ করবেন না?
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وأخرج مسلم عن أَنَسٌ «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ خُلُقًا فَأَرْسَلَنِي يَوْمًا لِحَاجَةٍ فَقُلْتُ: وَاللَّهِ لا أَذْهَبُ؛ وَفِي نَفْسِي أَنْ أَذْهَبَ لِمَا أَمَرَنِي بِهِ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجْتُ حَتَّى أَمُرَّ عَلَى صِبْيَانٍ وَهُمْ يَلْعَبُونَ فِي السُّوقِ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ قَبَضَ بِقَفَايَ مِنْ وَرَائِي؛ قَالَ فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ وَهُوَ يَضْحَكُ، فَقَالَ: يَا أُنَيْسُ أَذَهَبْتَ حَيْثُ أَمَرْتُكَ؟ قَالَ قُلْتُ: نَعَمْ أَنَا أَذْهَبُ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ أَنَسٌ وَاللَّهِ لَقَدْ خَدَمْتُهُ تِسْعَ سِنِينَ مَا عَلِمْتُهُ قَالَ لِشَيْءٍ صَنَعْتُهُ لِمَ فَعَلْتَ كَذَا وَكَذَا أَوْ لِشَيْءٍ تَرَكْتُهُ هَلَّا فَعَلْتَ كَذَا وَكَذَا» .

ইমাম মুসলিম আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। একদা তিনি আমাকে একটি প্রয়োজনে পাঠালেন, তখন আমি বললাম: আল্লাহর শপথ! আমি যাব না; অথচ আমার মনে মনে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ পালনের ইচ্ছা ছিল। অতঃপর আমি বের হলাম এবং বাজারে খেলারত একদল বালকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। এমতাবস্থায় হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছন থেকে আমার ঘাড় ধরে ফেললেন। আনাস (রা.) বলেন: আমি তাঁর দিকে তাকালাম এবং দেখলাম তিনি হাসছেন। এরপর তিনি বললেন: হে উনাইস! আমি তোমাকে যেখানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম, সেখানে কি গিয়েছিলে? তিনি (আনাস) বলেন, আমি বললাম: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এখনই যাচ্ছি। আনাস (রা.) বলেন: আল্লাহর শপথ! আমি নয় বছর তাঁর খেদমত করেছি, আমি কোনো কাজ করলে তিনি কখনো বলেননি: কেন তুমি এমন করলে? কিংবা কোনো কাজ না করলে তিনি বলেননি: তুমি কেন এমন করলে না?

(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মুজতামাইদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الفصل الرابع: معوقات الدعوة

‌‌المطلب الأول: معوقات نفسية

الفهم الخاطئ لقوة الشخصية:

حين يفهم المعلم قوة الشخصية فهما خاطئا فيسيطر عليه هذا الهاجس؛ فسيؤثر هذا الفهم على أدائه الدور المنتظر منه.

ويبدأ هذا المعلم بتطبيق النظريات التي أخذها ممن سبقه في هذا المجال، فالابتسامة ممنوعة والكلام حرام والضرب بالعصا حتم واجب.

وكل هذا يبعد بين الطالب والمعلم.

الحواجز المصطنعة:

يضع المعلم حاجزا نفسيا بينه وبين الطلاب فهو لا يتحدث ولا يدعو إلا الطلاب المتدينين فقط، وقد يزيد الأمر سوء إن كان لا يحدث ولا يدعو إلا فئة معينة من المتدينين، وأما باقي الطلاب أي المئات الآخرين فهو صاد عنهم وعابس في وجوههم.

النظرة المتشائمة أو هلك الطلاب:

قال الشيخ محمد الدويش: لا جدل أن واقع الشباب اليوم لا يسر مسلما وأن شقة الانحراف قد اتسعت لتشمل رقعة واسعة من خارطة حياة الشباب المعاصرة، ولا جدال أن المسافة بين واقع الشباب اليوم وبين ما يجب أن يكون عليه ليست قريبة بحال.

ولكن أيعني ذلك أن الخير قد أفل نجمه؟ وأن الشر قد استبد بالناس أليست هناك صفحات أخرى من حياة أولئك المعرضين غير هذه الصفحات الكالحات؟ .
‌‌চতুর্থ অধ্যায়: দাওয়াহর পথে অন্তরায়সমূহ

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: মনস্তাত্ত্বিক অন্তরায়সমূহ

ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা সম্পর্কে ভুল ধারণা:

যখন একজন শিক্ষক ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করেন এবং এই ভ্রান্ত চিন্তা তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তখন এই ধারণা তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তখন সেই শিক্ষক এই ক্ষেত্রে তার পূর্বসূরিদের থেকে প্রাপ্ত থিওরি বা মতবাদগুলো প্রয়োগ করতে শুরু করেন; যার ফলে তার কাছে হাসি নিষিদ্ধ, কথা বলা বারণ এবং লাঠি দিয়ে প্রহার করা একটি অপরিহার্য কর্তব্যে পরিণত হয়।

আর এসব কিছুই ছাত্র ও শিক্ষকের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করে।

কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা:

শিক্ষক নিজের এবং ছাত্রদের মাঝে একটি মনস্তাত্ত্বিক দেয়াল তৈরি করেন। তিনি কেবল ধর্মপ্রাণ ছাত্রদের সাথেই কথা বলেন এবং দাওয়াহ দেন। বিষয়টি আরও প্রকট হয় যখন তিনি কেবল একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির ধর্মপ্রাণ ছাত্রদের সাথেই যোগাযোগ সীমাবদ্ধ রাখেন। অন্যদিকে বাকি শত শত ছাত্রের দিক থেকে তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন এবং তাদের সামনে ভ্রুকুটি করে থাকেন।

হতাশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি অথবা "ছাত্ররা ধ্বংস হয়ে গেছে" এমন ধারণা:

শাইখ মুহাম্মদ আদ-দুওয়াইশ বলেছেন: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বর্তমান যুবসমাজের বাস্তবতা কোনো মুসলিমকে আনন্দিত করে না। বিপথগামিতার পরিধি সমকালীন যুবসমাজের জীবনের এক বিশাল অংশ জুড়ে বিস্তৃত হয়েছে। যুবসমাজের বর্তমান অবস্থা এবং তাদের যেমনটি হওয়া উচিত ছিল—এই দুইয়ের মাঝখানের ব্যবধান মোটেও সামান্য নয়।

তবে এর অর্থ কি এই যে, কল্যাণের নক্ষত্র অস্তমিত হয়ে গেছে? এবং মন্দের দাপটে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে? এই বিমুখ ছাত্রদের জীবনে কি এই অন্ধকারাচ্ছন্ন দিকগুলো ছাড়া আর কোনো উজ্জ্বল দিক অবশিষ্ট নেই? .