(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: -)
رسالة عاجلة للدعاة   (خالد بن ثامر السبيعي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: رسالة عاجلة للدعاة

المؤلف: خالد بن ثامر السبيعي

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 40

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 49

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দাওয়াতদানকারীদের জন্য একটি জরুরি বার্তা   (খালিদ বিন থামের আল-সুবাইয়ি)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


গ্রন্থ: দাওয়াতদানকারীদের জন্য একটি জরুরি বার্তা

লেখক: খালিদ বিন থামের আল-সুবাইয়ি

প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য বিবরণী ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৪০

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১)
رسالة عاجلة للدعاة

تأليف

خالد بن ثامر السبيعي

بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين القائل في كتابه {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} (1) ، والصلاة والسلام على سيد ولد آدم محمدٍ الأمين، القائل: «عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي» ، وبعد:

في قرون مضت قدنا العالم كله، وكانت لنا السيادة والريادة، وفي صحراء الجزيرة المنقطعة عن الحضارات كلها صنع محمدٌ عليه الصلاة والسلام أمة عجبًا، قال العدو في وصف أهلها: (إنهم رهبانٌ بالليل فرسان بالنهار) ..

(فإذا بالصحاري المتسعرات المقفرات التي لبثت دهورًا لا تسقى بغير الدم، ولا تنبت غير الأحقاد والثارات، تنبت رمالها الدوحة الباسقة التي ظللت الشام ذات الأعناب، والعراق ذات النخيل، ومصر ذات النيل، والقسطنطينية ذات الأبراج والقباب، وما شرَّق من الأرض وما غرَّب دوحة العدل والحضارة والخير) (2) .

--------------------------------------------

(1) آل عمران.

(2) علي الطنطاوي، رجال من التاريخ، 45.
দাঈদের প্রতি একটি জরুরি বার্তা

রচনা

খালিদ বিন থামির আস-সুবাইয়ি

পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর কিতাবে বলেছেন, {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে আর আল্লাহর ওপর ঈমান রাখবে} (১)। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আদম-সন্তানদের সরদার বিশ্বস্ত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি বলেছেন: «তোমাদের ওপর আবশ্যিক হলো আমার সুন্নাহ (سنة) এবং আমার পরবর্তী হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ (سنة) অনুসরণ করা», অতঃপর:

বিগত শতাব্দীগুলোতে আমরা গোটা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছি, এবং সার্বভৌমত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব ছিল আমাদেরই। সকল সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন আরব উপদ্বীপের মরুপ্রান্তরে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক বিস্ময়কর জাতি গঠন করেছিলেন, যার অধিবাসীদের বর্ণনায় শত্রুও বলেছিল: (তারা রাতে ইবাদতগুজার আবেদ এবং দিনে বীর অশ্বারোহী যোদ্ধা) ..

(অতঃপর সেই উত্তপ্ত ধূসর মরুভূমি যা যুগের পর যুগ রক্ত ছাড়া অন্য কিছুতে সিক্ত হয়নি এবং হিংসা-বিদ্বেষ ও প্রতিশোধ ছাড়া আর কিছুই জন্ম দেয়নি, সেই মরুভূমির বালুরাশি থেকে এমন এক সুউচ্চ বৃক্ষ জন্ম নিল যা আঙুর সমৃদ্ধ সিরিয়া, খেজুর সমৃদ্ধ ইরাক, নীল নদ সমৃদ্ধ মিসর, গম্বুজ ও সুউচ্চ মিনারবেষ্টিত কনস্টান্টিনোপল এবং পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত বিস্তৃত ইনসাফ, সভ্যতা ও কল্যাণের এক বিশাল মহীরুহ হিসেবে ছায়া দান করল) (২)।

--------------------------------------------

(১) আলে ইমরান।

(২) আলী তানতাবি, রিজালুম মিনাত তারিখ, ৪৫।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২)
وما زالت الأمة في خير عظيم منذ بزوغ شمس الإسلام على يد الحبيب صلى الله عليه وسلم تنهل من المعين الصافي وتستمد قوتها من فيض رحمة الله حتى تنكبت الطريق وزلت بها القدم وأخذت بأخذ الأمم من قبل فانتشر الفسوق والعصيان ودب اليأس والقلق وصال الشيطان وجال حتى أصبحت الأمة في ذيل القافلة، فتداعت علينا أمم الكفر كما تداعى الأكلة إلى قصعتها، فحل البلاء وسالت الدماء وقطعت الأشلاء ودنَّس المسجد الأقصى بأيدي أحفاد القردة والخنازير وانتهكت أعراض العفيفات ظلمًا وعدوانًا.

وطفلة ما رأتها الشمس إذ بزغت … كأنما هي ياقوت ومرجان

يقودها العلج للمكروه مكرهة … والعين باكية والقلب حيران

والعالم كله قد أصيب بالشلل التام، لا حراك، ولا نصير إلا الله سبحانه وتعالى، عندها تذكرت قول ابن الأثير وهو يصف المجازر التي حلت بالمسلمين على يد التتار والتي ختم وصفها بقوله: (يا ليت أمي لم تلدني، يا ليتني كنت شجرة تعضد) ..

ولكن هذا الكلام يحكي واقعًا ولا يقودنا إلى اليأس {إِنَّهُ لَا يَيْئَسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ} (1) .

--------------------------------------------

(1) يوسف.
প্রিয়নবী (সা.)-এর পবিত্র হাতে ইসলামের সূর্য উদিত হওয়ার পর থেকে এই উম্মাহ এক মহান কল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তারা স্বচ্ছ প্রস্রবণ থেকে জীবনসুধা পান করত এবং আল্লাহর রহমতের প্রাচুর্য থেকে নিজেদের শক্তি সঞ্চয় করত। অবশেষে তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হলো এবং তাদের পদস্খলন ঘটল; তারা পূর্ববর্তী জাতিসমূহের পদাঙ্ক অনুসরণ করল। ফলে পাপাচার ও অবাধ্যতা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল, নিরাশা ও অস্থিরতা দানা বাঁধল এবং শয়তান তার প্রভাব বিস্তার করল, এমনকি উম্মাহ কাফেলার পশ্চাৎভাগে এসে উপনীত হলো। অতঃপর কুফরি শক্তিগুলো আমাদের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ল, যেভাবে ভক্ষণকারীরা দস্তরখানের পাত্রের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে বিপদ-আপদ আপতিত হলো, রক্ত প্রবাহিত হলো, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিন্নভিন্ন হলো এবং বানর ও শূকরের বংশধরদের দ্বারা মসজিদুল আকসা অপবিত্র হলো। অন্যায় ও জবরদস্তিমূলকভাবে সতী-সাধ্বী নারীদের সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হলো।

এমন এক বালিকা যাকে উদিত সূর্যও কখনো অবলোকন করেনি … সে যেন এক জীবন্ত ইয়াকুত ও মারজান

বর্বর কাফের তাকে জবরদস্তি লাঞ্ছনার দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে … এমতাবস্থায় তার চোখ অশ্রুসিক্ত এবং অন্তর দিশেহারা

আজ সমগ্র বিশ্ব পূর্ণ স্থবিরতায় আক্রান্ত, কোনো স্পন্দন নেই; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত কোনো সাহায্যকারী নেই। এই মুহূর্তে ইবনুল আসীরের সেই উক্তিটি স্মরণ হয়, যেখানে তিনি তাতারীদের হাতে মুসলিমদের ওপর সংঘটিত গণহত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে শেষে আক্ষেপ করে বলেছিলেন: (হায়! যদি আমার জননী আমাকে জন্ম না দিতেন, হায়! যদি আমি কোনো বৃক্ষ হতাম যা সমূলে কর্তন করা হয়!) ..

তবে এই কথাগুলো বাস্তব পরিস্থিতির চিত্রায়ন করে, এটি আমাদের নিরাশার দিকে পরিচালিত করে না। {নিশ্চয়ই কাফের সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য কেউ আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয় না} (১)।

--------------------------------------------

(১) ইউসুফ।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ৩)
ويشاء الله العلي القدير أن يُظهر ما تكن صدور الأعداء تجاه الإسلام والمسلمين، فإذا بهم يعلنون في تحدٍّ سافر مصداقًا لما أخبر الله تعالى به: {وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ} وأصبح الأعداء لا يرضون بأنصاف الحلول، وإنما هو الاجتثاث الكامل للإسلام وأهله!!

وكشر العدو عن أنيابه، ورمانا من قوس واحدة، بل أحاط بنا إحاطة السوار بالمعصم، ولا حول ولا قوة إلا بالله، عندها يكون من أولى المهمات وأسمى الغايات توحيد الأمة الإسلامية ونبذ الفرقة والخلاف، ويتأكد ذلك بشكل كبير في حق الدعاة والقيادات في العالم أجمع؛ إذ لا مجال للتخاذل أو المماطلة في هذا الوقت تحديدًا.

لذا أعددت هذا العمل المتواضع والذي أسميته (رسالة عاجلة للدعاة) وأردفت (بمعالم في طريق الأمة الواحدة) إسهامًا مني في إعادة ترميم جسد هذه الأمة المتمزق علَّ وعسى أن تكون خطوة في طريق وحدة الأمة وعودتها إلى موقع الصدارة في هذا العالم والذي ينبغي ألا يكون إلا لها.
মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ চান ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি শত্রুদের অন্তরে যা লুকায়িত আছে তা প্রকাশ করতে। ফলে তারা প্রকাশ্য স্পর্ধার সাথে তা ঘোষণা করছে, যা মহান আল্লাহ তাআলার বাণীরই প্রতিফলন: "আর ইহুদি ও খ্রিস্টানরা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের আদর্শ অনুসরণ করেন।" এখন শত্রুরা আর কোনো আংশিক সমাধানে সন্তুষ্ট নয়, বরং তাদের উদ্দেশ্য হলো ইসলাম ও মুসলিমদের সমূলে উৎপাটন করা!!

শত্রু তার নখদন্ত উন্মোচিত করেছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আক্রমণাত্মক হয়েছে, এমনকি তারা আমাদের এমনভাবে পরিবেষ্টন করেছে যেমন হাতের কব্জিকে চুড়ি বেষ্টন করে থাকে। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই। এমতাবস্থায় উম্মতে ইসলামিয়ার ঐক্য সাধন এবং বিভেদ ও অনৈক্য বর্জন করা অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ও মহান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাবিশ্বের দাঈ ও নেতৃবৃন্দের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ; কারণ বর্তমানের এই সংকটময় সময়ে অবহেলা বা গড়িমসি করার কোনো অবকাশ নেই।

তাই আমি এই নগণ্য কর্মটি প্রস্তুত করেছি যার নামকরণ করেছি (দাঈদের প্রতি জরুরি বার্তা) এবং এর সাথে যুক্ত করেছি (এক উম্মাহর পথের নির্দেশিকা), যা এই উম্মাহর ক্ষতবিক্ষত দেহ পুনর্গঠনে আমার একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। হতে পারে এটি উম্মাহর ঐক্য এবং এই বিশ্বে পুনরায় তার শ্রেষ্ঠত্বের আসনে ফিরে আসার পথে একটি পদক্ষেপ হবে, যা মূলত কেবল তারই প্রাপ্য।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ৪)
أخي الحبيب، إن ما ستقرأه في هذه الورقات ليس رجمًا بالغيب ولا ضربًا من الخيال، بل هي رؤية من الداخل عايشتها ما يقارب عقدًا من الزمان ونيِّفًا أسجلها اليوم بمحض إرادتي شهادة لله ثم للتاريخ ثم للأجيال.

فإن صادفت كفؤًا كريمًا لها لن تعدم منه إمساكًا بمعروف أو تسريحًا بإحسان، وإن صادفت غيره فالله تعالى المستعان وعليه التكلان (1) .

وختامًا.. كل ما أصبو إليه أن نعود أيها الإخوة إلى (الأمة الواحدة) حتى نعد الصفوف ونحفظ الحقوق ونرفع راية الإسلام، فإما النصر أو الشهادة.

أسأل الله سبحانه وتعالى أن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم وأن ينفع به المسلمين، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على عبده ورسوله محمد وعلى آله وصحبه أجمعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أخوكم

خالد بن ثامر السبيعي

--------------------------------------------

(1) ابن القيم، روضة المحبين، 14.
প্রিয় ভাই আমার, এই পত্রগুলোতে আপনি যা পাঠ করবেন তা কোনো অদৃশ্যের অনুমান নয় কিংবা নিছক কল্পনাপ্রসূত কিছু নয়। বরং এটি ভেতর থেকে দেখা এক দৃষ্টিভঙ্গি যা আমি প্রায় এক দশকেরও অধিক সময় ধরে প্রত্যক্ষ করেছি। আজ আমি আমার পূর্ণ ইচ্ছায় আল্লাহ্র জন্য, অতঃপর ইতিহাসের জন্য এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সাক্ষ্য (شهادة) হিসেবে এটি লিপিবদ্ধ করছি।

যদি এটি কোনো যোগ্য ও মহৎ ব্যক্তির হস্তগত হয়, তবে তাঁর নিকট থেকে সদাচারের সাথে গ্রহণ অথবা সৌজন্যের সাথে বর্জনের কোনো অভাব হবে না। আর যদি অন্য কারো কাছে পৌঁছায়, তবে আল্লাহ তাআলাই একমাত্র সাহায্যস্থল এবং তাঁর ওপরই সকল নির্ভরতা (১)।

পরিশেষে.. হে ভ্রাতৃবৃন্দ, আমার একমাত্র লক্ষ্য হলো আমরা যেন সেই 'একক উম্মাহ' (الأمة الواحدة)-র দিকে ফিরে যাই, যাতে আমরা আমাদের কাতারসমূহ সুসংগঠিত করতে পারি, অধিকারসমূহ রক্ষা করতে পারি এবং ইসলামের বিজয় নিশান সমুন্নত করতে পারি; অতঃপর হয় বিজয় নতুবা শাহাদাত (الشهادة)।

আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই আমলটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির (خالصاً لوجهه) জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন। আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ্র জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার (إحسان) সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর।

আপনার ভাই

খালিদ বিন থামের আল-সুবাইয়ি

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কাইয়্যিম, রওজাতুল মুহিব্বীন, ১৪।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر:

إن من أعظم المصائب التي حلت بالأمة في هذا الزمان تركها لشعيرة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وهذه الشعيرة التي هي صمام الأمان لهذه الأمة ومفتاح وحدتها وسعادتها في الدارين كما قال تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} ، يقول ابن عثيمين رحمه الله معلقًا على آخر الآية: (وهذه الجملة تفيد عند أهل العلم باللغة العربية الحصر، أي الفلاح إنما يكون لهؤلاء الذين يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر ويدعون إلى الخير) (1) .

وعن حذيفة رضي الله عنه عن النبي، قال: «والذي نفسي بيده؛ لتأمرن بالمعروف ولتنهون عن المنكر أو ليوشكن الله أن يبعث عليكم عقابًا منه ثم تدعونه فلا يستجاب لكم» (2) .

إن ترك الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر يوجب على الأمة عقوبات ربانية ويورث فسادًا اجتماعيًّا واقتصاديًّا خطيرًا فضلًا عن تسلط الأعداء على رقاب المسلمين.

--------------------------------------------

(1) محمد بن صالح العثيمين، شرح رياض الصالحين، 498.

(2) رواه الترمذي، وقال: حديث حسن. وفي كتاب وسائل دفع الغربة للشيخ سلمان العودة حفظه الله زيادة المستزيد في هذا الباب فقد أجاد وأفاد سدده الله ووفقه.
‌সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر):

বর্তমান যুগে এই উম্মাহর ওপর আপতিত হওয়া অন্যতম ভয়াবহ বিপর্যয় হলো সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) বিধান (شعيرة) পরিত্যাগ করা। অথচ এই বিধানটি (شعيرة) হলো এই উম্মাহর জন্য নিরাপত্তা কবচ এবং ইহকাল ও পরকালে তাদের ঐক্য ও সৌভাগ্যের চাবিকাঠি; যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই হলো সফলকাম}। ইবনে উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) আয়াতের শেষাংশের ব্যাখ্যায় বলেন: (আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞদের নিকট এই বাক্যটি ‘সীমাবদ্ধকরণ’ (الحصر) নির্দেশ করে; অর্থাৎ, সফলতা কেবল তাদের জন্যই নির্ধারিত যারা সৎকাজের আদেশ দেয়, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে এবং কল্যাণের দিকে আহ্বান জানায়।) (১)।

হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ প্রদান করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; অন্যথায় আল্লাহ শীঘ্রই তোমাদের ওপর তাঁর পক্ষ থেকে শাস্তি প্রেরণ করবেন, অতঃপর তোমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করবে কিন্তু তোমাদের প্রার্থনা কবুল করা হবে না» (২)।

সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) বর্জন করা উম্মাহর ওপর ঐশী শাস্তি অনিবার্য করে তোলে এবং মুসলিমদের ওপর শত্রুদের আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি মারাত্মক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন, শারহু রিয়াদিস সলিহীন, ৪৯৮।

(২) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি হাসান (حسن) হাদিস। শায়খ সালমান আল-আওদাহ (হাফিযাহুল্লাহ)-এর ‘ওয়াসাইলু দাফইল গুরবাহ’ গ্রন্থে এই বিষয়ে অধিক আলোচনা রয়েছে; তিনি অত্যন্ত চমৎকার ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেছেন, আল্লাহ তাঁকে সঠিক পথে রাখুন এবং তাওফিক দান করুন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ৬)
(إن من أنكى العقوبات التي تنزل بالمجتمع المهمل للأمر بالمعروف والنهي عن المنكر أن يتحول المجتمع إلى فرق وشيع تتنازعها الأهواء فيقع الاختلاف والتناحر {قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِنْ فَوْقِكُمْ أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ} ، وذلك التناحر يجعل المجتمع عرضة للانهيار والانهزام أمام العدو الخارجي المتربص) (1) .

ويقول الشيخ ابن عثيمين رحمه الله بعد إيراد قوله تعالى: {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ} : (والنهي عن التفرق بعد ذكر الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر يدل على أن ترك الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر سببٌ للتفرق) (2) .

وبعد.. فإن الواجب على طلبة العلم والدعاة أن ينتبهوا إلى أهمية هذا الأمر، وأن يربوا الأجيال على هذا الأمر العظيم وأن يوجدوا برامج عملية لإحياء هذه الشعيرة في القلوب وترجمتها على الواقع بالوسائل المتاحة.

--------------------------------------------

(1) سلمان العودة، وسائل دفع الغربة، 106.

(2) محمد بن صالح العثيمين، شرح رياض الصالحين، 4/498.
(সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধের (المنكر) ব্যাপারে উদাসীন সমাজের ওপর আপতিত কঠিনতম শাস্তিসমূহের মধ্যে একটি হলো সমাজ বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হয়ে যাওয়া, যাদের ওপর কুপ্রবৃত্তি আধিপত্য বিস্তার করে; ফলে তাদের মধ্যে অনৈক্য ও পারস্পরিক হানাহানি সৃষ্টি হয়। {বলুন: তিনিই সক্ষম তোমাদের ওপর তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ থেকে কিংবা তোমাদের পদতল থেকে আজাব পাঠাতে অথবা তোমাদেরকে দল-উপদলে বিভক্ত করে দিতে এবং তোমাদের এক পক্ষকে অন্য পক্ষের হিংস্রতার স্বাদ আস্বাদন করাতে}। আর এই হানাহানি সমাজকে ওঁত পেতে থাকা বহিঃশত্রুর সামনে ভেঙে পড়া এবং পরাজয়ের মুখে ঠেলে দেয়।) (১) ।

শাইখ ইবনে উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর তারা মতভেদ করেছে} উল্লেখ করার পর বলেন: (সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধের (المنكر) আলোচনার পর বিচ্ছিন্নতা থেকে নিষেধ করা একথারই প্রমাণ দেয় যে, সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ (المنكر) বর্জন করা বিচ্ছিন্নতার অন্যতম কারণ।) (২) ।

অতঃপর... ইলম অন্বেষণকারী এবং দাঈদের কর্তব্য হলো তারা যেন এই বিষয়টির গুরুত্বের প্রতি সজাগ দৃষ্টি দেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই মহান বিষয়ের ওপর গড়ে তোলেন। সেই সাথে মানুষের অন্তরে এই মহান বিধানটিকে জাগ্রত করার জন্য বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং বিদ্যমান উপায়-উপকরণের মাধ্যমে বাস্তব ক্ষেত্রে তার প্রয়োগ ঘটান।

--------------------------------------------

(১) সালমান আল-আওদাহ, ওয়াসাইলু দাফয়িল গুরবাহ, ১০৬।

(২) মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন, শারহু রিয়াদিস সালিহীন, ৪/৪৯৮।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
إنَّ مما يؤسف له أن تجد بعض الدعاة ينظِّر في الدعوة في المساجد والمجالس ويجمع الشباب حوله في المنتديات وكثير من اللقاءات، وربما يتحدث عن كل شيء وينسى تربية الشباب على الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بالحكمة والموعظة الحسنة.

بل إن البعض يُبدع في إيجاد برامج تربوية وبرامج إدارية، ولم يضع في قاموسه يومًا من الأيام إيجاد برنامج لإحياء هذه العبادة العظيمة، وربما يخرج الداعية أو طالب العلم من دورته أو من درسه ويرى شبابًا أمام أحد المساجد لا يصلون فيتركهم ويذهب يسارع الخطى لأداء الصلاة متجاهلًا الموقف ومتناسيًا دوره في المجتمع.. فأين القلوب الحية؟!

فهل تعود الأمة إلى منهج السلف في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بالحكمة والموعظة الحسنة، وذلك عن طريق نصح الناس في الطرقات والأسواق والمؤسسات، وإيجاد برامج لنشر الخير ودفع المنكرات، وما تزال المكاتبة والمناصحة الشفهية والهدايا والأشرطة وغيرها متاحة أمامنا فضلًا عن الثورات الحديثة في الاتصالات والمواصلات، لكننا هجرناها وانشغل بعضنا ببعض، فانحسر الخير في واقع الناس، وانتشر الفساد انتشار النار في الهشيم.
এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আপনি এমন কিছু দাঈকে দেখতে পাবেন যারা মসজিদ ও মজলিসসমূহে দাওয়াতের তাত্ত্বিক রূপরেখা প্রদান করেন এবং বিভিন্ন সভা ও মিলনমেলায় যুবকদের একত্রিত করেন; তাঁরা হয়তো সব বিষয়েই কথা বলেন, কিন্তু প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করার বিষয়ে যুবকদের গড়ে তোলার কথা ভুলে যান।

এমনকি কেউ কেউ শিক্ষামূলক ও প্রশাসনিক কর্মসূচি প্রণয়নে উদ্ভাবনী দক্ষতা দেখান, অথচ এই মহান ইবাদতটিকে পুনরুজ্জীবিত করার কোনো কর্মসূচি কোনোদিন তাঁদের তালিকায় স্থান পায়নি। অনেক সময় দেখা যায় কোনো দাঈ অথবা ইলম অন্বেষণকারী (طالب العلم) তাঁর কোর্স বা পাঠদান শেষ করে বের হয়ে মসজিদের সামনে কিছু যুবককে সালাত আদায় না করা অবস্থায় দেখেন, এমতাবস্থায় তিনি সেই পরিস্থিতি উপেক্ষা করে এবং সমাজে নিজের ভূমিকার কথা বিস্মৃত হয়ে সালাত আদায়ের জন্য দ্রুত পায়ে চলে যান। জীবিত হৃদয়গুলো আজ কোথায়?!

উম্মাহ কি তবে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করার ক্ষেত্রে সালাফ বা পূর্বসূরিদের (السلف) মানহাজ বা কর্মপদ্ধতির (المنهج) দিকে ফিরে আসবে? আর তা হতে পারে রাস্তাঘাট, বাজার ও প্রতিষ্ঠানসমূহে মানুষকে নসিহত করার মাধ্যমে এবং কল্যাণ প্রচার ও অপকর্মসমূহ (المنكرات) প্রতিহত করার কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে। চিঠিপত্র আদান-প্রদান, মৌখিক নসিহত, উপহার ও অডিও টেপ ইত্যাদি মাধ্যমগুলো তো আমাদের সামনে এখনো বিদ্যমান, সেই সাথে যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিক বিপ্লব তো রয়েছেই। কিন্তু আমরা এগুলোকে পরিত্যাগ করেছি এবং আমরা একে অপরকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি; ফলে মানুষের বাস্তব জীবনে কল্যাণ সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং পাপাচার শুকনো ঘাসে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ৮)
أيها الأخوة؛ لقد قامت الحجة على الأمة بعدما استطاع الأعداء اختراق مجتمعات المسلمين، بل الأعظم من ذلك أنهم تمكنوا من مداهمة الأسر في بيوتها فحولوا المجالس والغرف قاعات للسينما يُعرض فيها مشاهد تشيب منها رؤوس الولدان، أما استباحة الحرام والغزو الثقافي فقد أصبحت أولوية لأعداء الإسلام خصوصًا في ظل العولمة والمتغيرات العالمية، فهل يدرك الدعاة خطورة الأمر فيهبوا لنصرة الدين وحماية شرع رب العالمين؟ أرجو ذلك.

كيف تطيب لنا الحياة ونتمتع بالدنيا ونحن نرى الأمة تنحر أمام أعيننا والأخلاق تذبح بسكين الأعداء، قال علي رضي الله عنه: (أما والذي فلق الحبة وبرأ النسمة؛ لولا حضور الحاضر وقيام الحجة بوجود الناصر وما أخذ الله على العلماء ألا يقارُّوا على كظة ظالم ولا سغب مظلوم؛ لألقيت حبلها على غاربها ولسقيت آخرها بكأس أولها ولألفيتم دنياكم هذه أزهد عندي من عفطة عنز) . انتهى
হে ভ্রাতৃমণ্ডলী; উম্মাহর ওপর প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যখন শত্রুরা মুসলিম সমাজগুলোতে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে, এমনকি তার চেয়েও গুরুতর বিষয় হলো তারা পরিবারগুলোর ঘরে হানা দিতে সক্ষম হয়েছে এবং বৈঠকখানা ও কক্ষগুলোকে সিনেমা হলে রূপান্তরিত করেছে যেখানে এমন সব দৃশ্য প্রদর্শিত হয় যা দেখে শিশুদের চুল পেকে যায়। আর হারামকে বৈধ ঘোষণা করা এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ইসলামবিদ্বেষীদের কাছে অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে বিশ্বায়ন ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের এই যুগে। দ্বীনের দাঈগণ কি এই বিষয়ের ভয়াবহতা অনুধাবন করবেন এবং দ্বীনের বিজয় ও রাব্বুল আলামীনের শরীয়ত রক্ষায় এগিয়ে আসবেন? আমি তাই আশা করি।

কীভাবে আমাদের জীবন আনন্দময় হতে পারে এবং আমরা দুনিয়াকে উপভোগ করতে পারি, যখন আমরা দেখছি উম্মাহকে আমাদের চোখের সামনে জবাই করা হচ্ছে এবং নৈতিকতাকে শত্রুদের ছুরি দিয়ে হত্যা করা হচ্ছে? আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: (সাবধান! সেই সত্তার শপথ যিনি শস্যদানা বিদীর্ণ করেছেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেছেন; যদি সাহায্যকারীদের উপস্থিতি না থাকত এবং সাহায্যকারীর উপস্থিতিতে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত না হতো, আর জালেমের অতিভোজন ও মজলুমের ক্ষুধার যন্ত্রণায় আলেমদের নীরব না থাকার যে অঙ্গীকার আল্লাহ গ্রহণ করেছেন তা যদি না থাকত; তবে আমি এই খেলাফতের লাগাম তার পিঠের ওপরই ফেলে রাখতাম এবং এর শেষাংশকে প্রথমাংশের পেয়ালা দিয়েই তৃপ্ত করতাম। আর তোমরা দেখতে পেতে যে তোমাদের এই দুনিয়া আমার কাছে একটি ছাগলের হাঁচি অপেক্ষাও অধিক তুচ্ছ।) সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌اختزال الأمة.. لمصلحة من:

هذا العنوان اقتبسته من مقال (الأمة الواحدة) للشيخ سلمان العودة حفظه الله، فوافق شيئًا في نفسي كنت أعددته للطرح والتبيين. يقول الشيخ: (إن من أسباب طرقي لموضوع الأمة الواحدة هو مثل هذه المعاني التي تنتشر أحيانًا عند بعض الشباب وتجعلهم يختزلون الأمة في طائفة أو مجموعة أو فرقة أو فئة، ويبتعدون عن سواد الأمة وعامتها ودهمائها وإن كان فيهم ما فيهم؛ إلا أنه فرق بين من يشفق على الأمة وينصح لها ويحرص على إصلاحها ويشعر بأنه فرد منها، يؤلمه ما يؤلمها، ويسعده ما يسعده، وبين من يبتعد عن هذه الأمة فيرميها بالعظائم من التكفير أو التبديع أو التفسيق أو التضليل أو غير ذلك) (1) .

أرى أن سبب هذا الاختزال ـ في وجهة نظري القاصرة ـ والابتعاد عن عامة الناس وسواد الأمة والتركيز على بعض الفئات هو تغير الأهداف.

لا شك أن المقصود من الدعوة قد تغير عند البعض في خضم العمل الدعوي حتى ابتعدوا عن الغاية والمقصود، يقول الشيخ ابن باز رحمه الله: (فالمقصود والهدف ـ من الدعوة ـ إخراج الناس من الظلمات إلى النور وإرشادهم إلى الحق حتى يأخذوا به وينجو من النار وينجو من غضب الله) (2) .

--------------------------------------------

(1) سلمان العودة، الأمة الواحدة.

(2) عبد العزيز بن عبد الله بن باز، الدعوة إلى الله وأخلاق الدعاة، 54.
উম্মাহকে সংকুচিত করা... কার স্বার্থে:

এই শিরোনামটি আমি শাইখ সালমান আল-আওদাহ (আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন)-এর ‘আল-উম্মাহ আল-ওয়াহিদাহ’ (একক উম্মাহ) নিবন্ধ থেকে গ্রহণ করেছি। এটি আমার মনের একটি বিষয়ের সাথে মিলে গেছে যা আমি উপস্থাপন ও ব্যাখ্যা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। শাইখ বলেন: "আমার একক উম্মাহর বিষয়টি নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ হলো এমন কিছু ধারণা যা মাঝে মাঝে কিছু তরুণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা তাদেরকে উম্মাহকে কোনো একটি গোষ্ঠী (طائفة), দল (مجموعة), উপদল (فرقة) বা শ্রেণির (فئة) মধ্যে সংকুচিত করে ফেলতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে তারা উম্মাহর বৃহত্তর জনগোষ্ঠী (سواد الأمة), সাধারণ মানুষ এবং জনসাধারণের থেকে দূরে সরে যায়, যদিও তাদের মধ্যে ত্রুটি-বিচ্যুতি বিদ্যমান থাকে। তবে যে ব্যক্তি উম্মাহর প্রতি দয়াশীল হয়, উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে, তার সংশোধনের ব্যাপারে আগ্রহী থাকে এবং নিজেকে উম্মাহরই একজন সদস্য মনে করে—উম্মাহর ব্যথায় সে ব্যথিত হয় এবং উম্মাহর সুখে সে আনন্দিত হয়; তার মাঝে আর ঐ ব্যক্তির মাঝে পার্থক্য রয়েছে যে এই উম্মাহ থেকে দূরে সরে যায় এবং তাদের ওপর কাফির সাব্যস্ত করা (تكفير), বিদআতি হিসেবে আখ্যায়িত করা (تبديع), ফাসিক সাব্যস্ত করা (تفسيق) অথবা গোমরাহ সাব্যস্ত করা (تضليل) ইত্যাদি গুরুতর অপবাদ আরোপ করে।" (১)।

আমার সীমিত দৃষ্টিভঙ্গিতে আমি মনে করি, সাধারণ মানুষ ও উম্মাহর বৃহত্তর জনগোষ্ঠী (سواد الأمة) থেকে দূরে সরে গিয়ে এই সংকুচিত করার প্রবণতা এবং নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির ওপর মনোনিবেশ করার মূল কারণ হলো লক্ষ্যের পরিবর্তন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দাওয়াতের কাজের ভিড়ে কারো কারো কাছে দাওয়াতের উদ্দেশ্য পরিবর্তিত হয়ে গেছে, ফলে তারা মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে গেছে। শাইখ ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "দাওয়াতের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হলো—মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের করে আনা এবং তাদেরকে সত্যের দিকে পরিচালিত করা, যাতে তারা তা গ্রহণ করে এবং জাহান্নাম ও আল্লাহর গজব থেকে মুক্তি পায়।" (২)।

--------------------------------------------

(১) সালমান আল-আওদাহ, আল-উম্মাহ আল-ওয়াহিদাহ।

(২) আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ, আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ ওয়া আখলাকু আদ-দুয়াত, ৫৪।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
قال تعالى: {اتَّبِعُوا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ} (1) .

هذا هو المحك والمعيار، فمن أخذ به واستوعبه بارك الله في دعوته ووفقه، ويكون بذلك قد نقى ساحة دعوته من الشوائب والأمراض التي تمحق بركة الدعوات.

فإخراج الناس من الظلمات إلى النور هو الهدف الأول، ثم يأتي التمكين بعد ذلك، أما إذا اختلف الترتيب المنطقي للدعوة، كتجميع الناس حول فكرة ثم يأتي الإنقاذ من النار بعد ذلك؛ فهذا هو الاختزال المذموم.

ولنتأمل معًا هذه الأمثلة:

الغلام الذي أشار على الملك وقال له: ((إنك لست بقاتلي حتى تفعل ما آمرك به..)) إلى أن قال: ((قل بسم الله رب الغلام ثم ارمني؛ فإنك إذا فعلت ذلك قتلتني)) (2) .. ماذا حقق! أنقذ الناس من النار ومات شهيدًا في سبيل الله.

الغلام اليهودي الذي نطق الشهادة وهو يحتضر والرسول، يحاول معه حتى النهاية، فحينما نطق الشهادة قال الرسول: ((الحمد لله الذي أنقذه بي من النار)) (3) .

ترى ماذا تستفيد الدعوة من غلام يهودي ينازع الموت، إنها الشفقة على الناس وإخراجهم من الظلمات إلى النور.

الفتوحات الإسلامية بلغت ذروتها بعد وفاة الرسول.

--------------------------------------------

(1) يس.

(2) رواه مسلم.

(3) رواه أبو داود.
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা তাদের অনুসরণ করো যারা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চায় না এবং তারা সৎপথপ্রাপ্ত} (১)।

এটিই হলো কষ্টিপাথর ও মানদণ্ড; সুতরাং যে ব্যক্তি একে গ্রহণ করল এবং অনুধাবন করল, আল্লাহ তার দাওয়াতে বরকত দান করবেন এবং তাকে তাওফিক দান করবেন। এর মাধ্যমে সে তার দাওয়াতের ক্ষেত্রকে এমন সব কলুষতা ও ব্যাধি থেকে পবিত্র রাখবে যা দাওয়াতের বরকতকে নস্যাৎ করে দেয়।

মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের করে আনাই হলো প্রধান লক্ষ্য, আর সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা আসে এর পরে। কিন্তু দাওয়াতের এই যৌক্তিক ক্রমধারা যদি বদলে যায়—যেমন কোনো নির্দিষ্ট চিন্তাধারার ওপর ভিত্তি করে মানুষকে সমবেত করা এবং এরপর জাহান্নাম থেকে উদ্ধারের বিষয়টিকে রাখা—তবে এটিই হলো সেই নিন্দনীয় সংক্ষিপ্তকরণ।

আসুন আমরা এই উদাহরণগুলো নিয়ে একত্রে চিন্তা করি:

সেই কিশোর যে রাজাকে পরামর্শ দিয়েছিল এবং বলেছিল: ((তুমি আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত হত্যা করতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি আমার নির্দেশিত বিষয়টি পালন করবে...)) এক পর্যায়ে সে বলল: ((বলো: এই কিশোরের প্রতিপালকের নামে, এরপর আমাকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করো; তুমি যদি তা করো তবেই আমাকে হত্যা করতে পারবে)) (২).. সে কী অর্জন করেছিল! সে মানুষকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেছিল এবং আল্লাহর পথে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছিল।

সেই ইহুদি কিশোর যে মুমূর্ষু অবস্থায় শাহাদাত পাঠ করেছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন; যখন সে শাহাদাত পাঠ করল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ((সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাকে আমার মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেছেন)) (৩)।

আপনি কি মনে করেন মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতর একজন ইহুদি কিশোরের থেকে দাওয়াতের কী জাগতিক ফায়দা হতে পারে? আসলে এটি হলো মানুষের প্রতি দয়া ও মমতা এবং তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের করে আনা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর ইসলামী বিজয়গুলো তার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছিল।

--------------------------------------------

(১) ইয়াসিন।

(২) বর্ণনা করেছেন (رواه) মুসলিম।

(৩) বর্ণনা করেছেন (رواه) আবু দাউদ।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
يقول الشافعي: (وددت أن هذا العلم بين الناس، وأني في شعب من الشعاب لا يدري بي أحد) .

ومع هذا كلُّه فلا ننسَ الأخذ بالأسباب والإعداد والجهاد بشتى صوره الذي يقود الأمة إلى التمكين ولكن كمرحلة ثانية بعد ابتغاء الأجر في أعمالنا ومحاولة إنقاذ الناس من النار.

إن تلك الأهداف الجزئية وذلك الترتيب غير المنطقي أفرزا في الواقع بعض المظاهر التي مزقت الأمة الواحدة وانعكست سلبًا على مجتمعات المسلمين مولدة عدة عيوب منها:
ইমাম শাফিঈ বলেন: (আমি আকাঙ্ক্ষা করি যে, এই ইলম মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এবং আমি কোনো এক নিভৃত গিরিপথে অবস্থান করি যেখানে কেউ আমার সম্পর্কে অবগত হবে না)।

এতদসত্ত্বেও, জাগতিক উপায়-উপকরণ গ্রহণ, প্রস্তুতি এবং নানামুখী জিহাদের বিষয়সমূহ ভুলে যাওয়া উচিত নয় যা উম্মাহর ক্ষমতায়ন ও সুদৃঢ় অবস্থানের দিকে নিয়ে যায়; তবে তা হবে কর্মে সওয়াব অন্বেষণ এবং মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর প্রচেষ্টার পরবর্তী দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে।

মূলত সেই আংশিক লক্ষ্যসমূহ এবং সেই অযৌক্তিক বিন্যাস বাস্তবে এমন কিছু পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে যা ঐক্যবদ্ধ উম্মাহকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে এবং মুসলিম সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে বেশ কিছু ত্রুটির উদ্ভব হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
1- الانتقائية: لقد أصبحت هناك معايير لدعوة الناس، مثل التركيز على فئة دون أخرى، وأفراد دون آخرين، فهذا لا يدعو إلا الأذكياء، أما غيرهم فلا مكان لهم في دعوته، وآخر لا يدعو إلا التجار، وأما الفقراء فلا مولى لهم، وثالث يبحث عن المصلين، وأما المجرمين أو المدمنين أو حتى المطربين؛ فهؤلاء قد حكم عليهم بأنهم حثالة المجتمع، فلا يحق لهم البقاء بيننا فضلًا عن دعوتهم، كم سُمعت عبارات (فلان ساذج، فلان بسيط، فلان فاسق) !! فكم من مدمن صار شهيدًا في سبيل الله، وكم من مطرب صار إمامًا حافظًا لكتاب الله، وكم من بسيط على حد زعم البعض صار يدًا حانية على الفقراء والمساكين واليتامى! ولم يعاتب الله سبحانه النبي صلى الله عليه وسلم في سورة عبس ـ إلا لنبذ فكرة الانتقائية في الدعوة.

إن الرسول قد جاء بشريعة كاملة ودين عظيم، {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} (1) .

إنه مشروع إسلامي لجميع الفئات، فلماذا نجزئ مشروع الإسلام ثم نتنازع بعد ذلك؟!

--------------------------------------------

(1) المائدة.
১- নির্বাচনমুখিতা: বর্তমানে মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট মাপকাঠি তৈরি হয়েছে, যেমন এক শ্রেণীর ওপর মনোযোগ দেওয়া আর অন্য শ্রেণীকে উপেক্ষা করা, কিংবা বিশেষ কিছু ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া আর অন্যদের বাদ দেওয়া। কেউ কেবল মেধাবীদের দাওয়াত দেন, তার দাওয়াতের ক্ষেত্রে অন্যদের কোনো স্থান নেই। আবার অন্য কেউ কেবল ব্যবসায়ীদের দাওয়াত দেন, অথচ দরিদ্রদের জন্য কোনো অভিভাবক নেই। তৃতীয় কেউ কেবল মুসল্লিদের খোঁজেন; আর অপরাধী, মাদকাসক্ত কিংবা গায়ক—তাদের ব্যাপারে ফয়সালা দিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তারা সমাজের আবর্জনা; ফলে তাদের দাওয়াত দেওয়া তো দূরের কথা, আমাদের মাঝে বেঁচে থাকার অধিকারও যেন তাদের নেই। কতবার শোনা গিয়েছে এমন উক্তি— "অমুক নির্বোধ, অমুক অতি সাধারণ, অমুক পাপাচারী (فاسق)"!! অথচ কত মাদকাসক্ত আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছে, কত গায়ক ইমাম এবং আল্লাহর কিতাবের হাফেজ (حافظ) হয়েছে, আর কারো কারো দাবি অনুযায়ী কত সাধারণ মানুষ দরিদ্র, মিসকিন ও এতিমদের প্রতি অতি দয়ালু ও মমতাশীল ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছে! মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা আবাসা-তে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এই নির্বাচনমুখিতার চিন্তাধারা পরিহার করার জন্যই সতর্ক করেছেন।

নিশ্চয়ই রাসূল এক পূর্ণাঙ্গ শরীয়ত ও মহান দ্বীন নিয়ে এসেছেন, {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} (১)।

এটি সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য এক ইসলামী জীবনবিধান, তবে কেন আমরা ইসলামের এই আদর্শকে খণ্ডিত করছি এবং পরবর্তীতে বিবাদে লিপ্ত হচ্ছি?!

--------------------------------------------

(১) আল-মায়িদাহ।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ومع ذلك فإننا لا نذم هذه الطريقة إن نحن وضعنا الهدف الأساسي نصب أعيننا؛ ألا وهو إخراج الناس من الظلمات إلى النور وإنقاذهم من النار، بل نسعى لإيجاد الرواحل، والداعية الذي [يشفيك إن قال وإن قلت وعى] ، وتجهيز الرامي قبل السهم والداعية قبل الخطة، وكلهم يخدمون الهدف الكبير ألا وهو [إخراج الناس من الظلمات إلى النور] .

ولنا عبرة في موقف عمر مع المسبل إزاره حينما نصحه، وابن مسعود مع المغني زاذان كيف نصحه فأقلع عن الغناء وأقبل إلى الله.

2- التزاحم على السيادة والريادة في الدعوة {كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} :

لقد أفرز الخلل في ترتيب الأهداف واقعًا مرًّا عند بعض الشباب، فظهر في المجتمع الإسلامي ما يُعرف بالتزاحم على السيادة الدعوية وأصبح هناك سباق محموم على المناصب، والمواقع الدعوية مما جعل البعض يدخل في غيبوبة مؤقتة تدفعه لأن يضحي بالمبادئ والثوابت إذا كان ذلك يوصله إلى مبتغاه، وفي الجانب الآخر يترك المجتمع يهيم في ظلام دامس وفتن تجعل الحليم حيرانًا.
তা সত্ত্বেও আমরা এই পদ্ধতির নিন্দা করি না যদি আমরা মূল লক্ষ্যকে আমাদের চোখের সামনে রাখি; আর তা হলো মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনা এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করা। বরং আমরা যোগ্য ব্যক্তিত্ব (رواحل) তৈরির চেষ্টা করি এবং এমন দাঈর সন্ধান করি যে [কথা বললে তোমাকে তুষ্ট করবে এবং তুমি বললে সে তা অনুধাবন করবে], আর তীরের আগে তিরন্দাজ এবং পরিকল্পনার আগে দাঈ প্রস্তুত করা; এবং তারা সবাই সেই মহান লক্ষ্য অর্জনে কাজ করবে যা হলো [মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনা] ।

আর আমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে রাখা ব্যক্তির (مسبل) প্রতি উমর (রা.)-এর অবস্থানের মধ্যে যখন তিনি তাকে উপদেশ দিয়েছিলেন, এবং গায়ক জাযানের প্রতি ইবনে মাসউদ (রা.)-এর আচরণের মধ্যে—কিভাবে তিনি তাকে উপদেশ দিয়েছিলেন যার ফলে সে গান ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে এসেছিল।

২- দাওয়াতের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াই {প্রত্যেক দল তাদের কাছে যা আছে তা নিয়েই আনন্দিত} :

লক্ষ্য নির্ধারণের বিন্যাসে এই ত্রুটি কিছু যুবকের মধ্যে এক তিক্ত বাস্তবতা তৈরি করেছে। ফলে ইসলামি সমাজে 'দাওয়াতের ময়দানে নেতৃত্বের লড়াই' হিসেবে পরিচিত বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে এবং পদ-পদবি ও দাওয়াতি অবস্থানের জন্য একটি উন্মাদনাময় প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এটি কাউকে কাউকে এক সাময়িক অচেতনতার মধ্যে ঠেলে দেয় যা তাকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য মূলনীতি (مبادئ) এবং অটল আদর্শসমূহ (ثوابت) বিসর্জন দিতে প্ররোচিত করে। অন্যদিকে, এটি সমাজকে ঘোর অন্ধকার এবং এমন ফিতনার (فتن) মধ্যে লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দেয়, যা প্রাজ্ঞ ব্যক্তিকেও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয়।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
أيها السادة؛ إن نتائج سنوات من الدعوة على مستوى عامة الناس وشرائح المجتمع مخيِّبة للآمال فضلًا عن الآثار الجانبية الأخرى، وخذ على سبيل المثال لا الحصر:

انتشر الفساد انتشارًا رهيبًا في غفلة من المصلحين الذين شُغلوا بالريادة والبحث عن السيادة في الواقع.

خسارة عدد غير قليل من الشباب الطموح المضحي، بين متساقط، وآخر قد أصيب بالفتور، وثالث انتكس بعد أن كان شمعة تضيء للآخرين الطريق.

لقد اهتزت ثقة الناس ببعض الشباب والدعاة حينما شاهدوا الضريبة المحزنة لهذا التزاحم كالفُرقة والحقد وسوء الظن، وأحيانًا تُطرق أبواب الكذب والخداع كالذي يرعى حول الحمى يوشك أن يقع فيها، فماذا بقي لعامة الناس.

الاستعراض الدعوي، إن إلقاء نظرة عامة على واقع العمل الدعوي تولد لدى المتأمل إحساسًا بتعاظم المظهر على حساب الجوهر.

فالصخب الإعلامي لبعض الأنشطة يتناسب تناسبًا عكسيًا مع أبجديات الدعوة من تربية إيمانية وعلمية وسلوكية، ومن مظاهر ذلك الاستعراض المبالغة في الثناء والمديح لبعض الأسماء بقصد جعلها رموزًا لمنهج معين لا تقبل المنافس.
হে সুধীবৃন্দ; সাধারণ মানুষ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে দীর্ঘ বছরের দাওয়াতি কার্যক্রমের ফলাফল আশাব্যঞ্জক নয় বরং হতাশাজনক, সেইসাথে এর অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ (তবে কেবল এগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়):

সংস্কারকদের অসতর্কতা (غفلة) এর সুযোগে দুর্নীতি ও অবক্ষয় ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যারা মূলত বাস্তব ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও আধিপত্য লাভের নেশায় মগ্ন ছিলেন।

এক বিশাল সংখ্যক উচ্চাভিলাষী ও ত্যাগী যুবকদের হারানো; যাদের কেউ ঝরে পড়েছে, কেউ স্থবিরতায় আক্রান্ত হয়েছে, আবার কেউ অন্যদের পথ দেখানো প্রদীপ হওয়ার পর পুনরায় সত্যবিচ্যুত হয়েছে।

কিছু যুবক ও দাঈদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা টলে গেছে, যখন তারা এই পারস্পরিক প্রতিযোগিতার করুণ পরিণতি প্রত্যক্ষ করেছে—যেমন বিভেদ, বিদ্বেষ এবং কুধারণা (سوء الظن)। কখনও কখনও মিথ্যা (الكذب) ও প্রতারণার পথও অবলম্বন করা হয়, ঠিক সেই ব্যক্তির মতো যে নিষিদ্ধ সীমানার আশেপাশে পশু চরায় এবং যেকোনো মুহূর্তে তাতে পতিত হওয়ার উপক্রম হয়। এমতাবস্থায় সাধারণ মানুষের জন্য আর কী অবশিষ্ট থাকে?

দাওয়াতি প্রদর্শনী; দাওয়াতি কাজের বাস্তবতার ওপর একটি সাধারণ দৃষ্টিপাত করলে একজন চিন্তাশীল ব্যক্তির মনে এই অনুভূতির জন্ম দেয় যে, এর সারবস্তুর তুলনায় বাহ্যিক চাকচিক্য অধিক বৃদ্ধি পেয়েছে।

কিছু কর্মকাণ্ডের প্রচার-প্রচারণার শোরগোল দাওয়াতের মৌলিক নীতিমালা—যেমন ঈমানি, ইলমি ও চারিত্রিক তরবিয়তের সাথে বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে। এই প্রদর্শনীর অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির প্রশংসায় অতিরঞ্জন করা, যাতে তাদের এমন এক বিশেষ কর্মপদ্ধতির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় যা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গ্রহণ করে না।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فما عسى أن تكون هذه المظاهر من الاستعراض الدعوي إلا نتيجة للتزاحم على السيادة في ميدان الدعوة! فهل نسي الدعاة في خضم هذا السباق المحموم على الريادة الشرط البدهي لقبول العمل وهو الإخلاص، قال تعالى: {فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ} (1) ، فقل لمن لا يخلص لا يتعنَّى.

(وقد كان السلف يسترون أعمالهم الصالحة ويبالغون في ذلك خوفًا من الرياء، ويلاحظ اليوم أن الطلب اشتد على المديح والثناء، وهذا يعكر صفاء النيَّات، ويعرض الأعمال الصالحة لخطر الرفض، واستجابة لذلك الطلب نجد الكثير من الدعاة يبالغون في المديح والثناء لبعضهم بعضًا ولغيرهم، وهذه المبالغة في المديح تتخذ أحيانًا نوعًا من التألِّي على الله سبحانه وتعالى، وفيها من صنوف الخضوع وإذلال النفس وإدخال الغرور على الممدوح!! إذا كان الصواب شرطًا أساسيًا للنجاح فإن الإخلاص شرط أساسي للثواب والقبول، ولا غنى للداعية عن هذا وذاك) (2) .

وما زال حديث أول من تسعر بهم النار يوم القيامة واعظًا لنا ومقومًا لتصحيح عملنا الدعوي.

--------------------------------------------

(1) الزمر.

(2) عبد الكريم بكار، مقدمات للنهوض بالعمل الدعوي، 121.
দাওয়াতী প্রচারের এই বহিঃপ্রকাশগুলো দাওয়াতী ময়দানে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতারই ফল ছাড়া আর কী হতে পারে! নেতৃত্বের এই উন্মত্ত প্রতিযোগিতার ভিড়ে কি দাঈগণ আমল কবুল হওয়ার সেই স্বতঃসিদ্ধ শর্ত অর্থাৎ একনিষ্ঠতা (الإخلاص)-এর কথা ভুলে গিয়েছেন? মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব আল্লাহর ইবাদত করুন তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে} (১)। সুতরাং যে ব্যক্তি একনিষ্ঠতা অবলম্বন করে না, তাকে বলুন যে সে যেন বৃথা পরিশ্রম না করে।

(পূর্বসূরিগণ (السلف) তাদের নেক আমলসমূহ গোপন রাখতেন এবং লোকদেখানো ইবাদত (الرياء)-এর ভয়ে এ ব্যাপারে অত্যন্ত অতিরঞ্জন বা কঠোরতা অবলম্বন করতেন। বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, প্রশংসা ও স্তুতির আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর হয়েছে, যা নিয়তের স্বচ্ছতাকে কলুষিত করে এবং নেক আমলসমূহকে প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। সেই আকাঙ্ক্ষার প্রেক্ষিতে আমরা দেখি যে, অনেক দাঈ একে অপরের এবং অন্যদের প্রশংসায় অত্যধিক অতিরঞ্জন করেন। প্রশংসার এই অতিরঞ্জন কখনো কখনো মহান আল্লাহর ওপর ধৃষ্টতা প্রদর্শনের (التألي) রূপ পরিগ্রহ করে এবং এর মধ্যে নানাবিধ পদানত হওয়া, আত্মমর্যাদা বিসর্জন এবং প্রশংসিত ব্যক্তির মনে অহমিকা প্রবেশের পথ তৈরি হয়!! যদি সঠিকতা (الصواب) সাফল্যের জন্য অপরিহার্য শর্ত হয়, তবে একনিষ্ঠতা (الإخلاص) হলো সওয়াব ও কবুলিয়তের মৌলিক শর্ত; আর দাঈর জন্য এই উভয়টিই অপরিহার্য) (২) ।

কিয়ামতের দিন যাদের মাধ্যমে সর্বপ্রথম জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে, তাদের সংক্রান্ত হাদিসটি আজও আমাদের জন্য নসিহতকারী এবং আমাদের দাওয়াতী কার্যক্রম সংশোধনের দিশারি হিসেবে বিদ্যমান।

--------------------------------------------

(১) আজ-জুমার।

(২) আব্দুল কারিম বাক্কার, মুকাদ্দিমাত লিন-নুহুদ বিল আমালিদ দাওয়ি, ১২১।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ورد عن الشاعر المشهور الطرماح بن حكيم الطائي (أنه قعد للناس وقال: اسألوني عن الغريب وقد أحكمته كلّه، أي غريب اللغة، وكان صادقًا فقال له رجل: ما معنى الطرماح؟ فلم يعرفه، فهو قد ذهب إلى البعيد وتعنَّى له وترك القريب وانصرف عنه ولم يعرف اللفظة الأولى التي تعنيه هو قبل غيره. ولا بد أن ندرك أن أهم أركان أي خطة عندنا هو الرجوع إلى أحكام الابتداء وألفاظ الدعوة الأولى التي يقوم بها اسمها وإلى بديهيَّات الدعوة وإصلاح النفس وتربية قطاعات من الشعب على الأخلاق والتعبد وترك الحرام، ثم يأتي التحدي الإسلامي بعد ذلك لا قبله) (1) .

وإني أعود إلى ما ابتدأت به:

اختزال الأمة.. لمصلحة من؟!

--------------------------------------------

(1) الراشد، المسار، 68.
বিখ্যাত কবি তিরিম্মাহ ইবন হাকিম আত-তাঈ থেকে বর্ণিত আছে যে, (তিনি মানুষের জন্য মজলিসে বসতেন এবং বলতেন: তোমরা আমাকে দুর্লভ শব্দাবলি (غريب) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো, আমি এর সবকিছু আয়ত্ত করেছি; অর্থাৎ ভাষার বিরল ও কঠিন শব্দাবলি। তিনি সত্যবাদী (صادق) ছিলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করল: "তিরিম্মাহ" শব্দের অর্থ কী? তিনি তা জানতেন না। তিনি মূলত দূরের বিষয়ের সন্ধানে ব্যাপৃত ছিলেন এবং সে জন্য পরিশ্রম করেছেন, অথচ নিকটবর্তী বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছেন এবং তা থেকে বিমুখ হয়েছেন। তিনি সেই প্রথম শব্দটিই জানতেন না যা অন্য কারও আগে তার নিজের সাথেই সংশ্লিষ্ট। এবং আমাদের অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে যে, আমাদের যে কোনো পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন বা স্তম্ভ হলো সূচনালগ্নের বিধানসমূহ এবং দাওয়াতের সেই প্রাথমিক শব্দাবলির দিকে ফিরে যাওয়া যার ওপর এর নাম ও পরিচিতি প্রতিষ্ঠিত। পাশাপাশি দাওয়াতের স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহ, আত্মশুদ্ধি এবং জনসাধারণের বিভিন্ন স্তরকে নৈতিকতা, ইবাদত ও হারাম বর্জনের ওপর গড়ে তোলা অপরিহার্য। এরপরই আসবে ইসলামি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার বিষয়টি, তার আগে নয়) (১)।

এবং আমি যা দিয়ে শুরু করেছিলাম সেদিকেই ফিরে যাচ্ছি:

উম্মাহকে সংকীর্ণ করা... কার স্বার্থে?!

--------------------------------------------

(১) আর-রাশিদ, আল-মাসার, ৬৮।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌إخوان العلانية أعداء السريرة:

ظاهرة خطيرة وداء عضال ضرب أسمى علاقة ربانية في مقتل، وأظنها أصابت الهدف، وذلك بعد أن يئس الشيطان أن يُعبد في جزيرة العرب، ولكن في التحريش بينهم {لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَلَّفَ بَيْنَهُمْ} (1) .

نعم إخوة في العلانية يضحك بعضهم مع بعض ويتبادلون أطراف الحديث كما لو أنهم يعيشون حالة من الصفاء التي ليس لها نظير، وحينما يتوارى البعض عن الآخر تبدأ بعض الممارسات التي لا تليق بعامة الناس فضلًا عن أناس يحملون رسالة سامية، وسبب هذه العداوة أو هدفها تجيير الجهود أو طلب التفوق على الغير في ميدان الدعوة أو..؟!! الله تعالى عليم بذات الصدور.

لقد أصبح البعض للأسف يطبق قواعد ميكافيلية ذات أهداف ضبابية حتى وإن كان شعاره بالخط العريض نصرة الإسلام، ومن تلك القواعد:

اضرب الراعي تتفرق الرعية.

العب دور المغفل لتمسك بمغفل.

اتخذ وضع الصديق واعمل كجاسوس.

العب دور رجل الحاشية الأمثل.

اخف أخطاءك واحتفظ بكبش فداء قريب ليتلقى اللوم.

--------------------------------------------

(1) الأنفال.
‌‌প্রকাশ্যে ভ্রাতৃত্ব (العلانية) ও গোপনীয় শত্রুতা (السريرة):

এটি একটি ভয়াবহ প্রপঞ্চ এবং এক দুঃসাধ্য ব্যাধি যা সর্বোত্তম রব্বানী সম্পর্ককে মরণাঘাত করেছে; আমার ধারণা এটি তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। এটি মূলত শয়তান যখন আরব উপদ্বীপে তার ইবাদত করানোর ব্যাপারে নিরাশ হয়ে তাদের মধ্যে পারস্পরিক উস্কানি প্রদানের (التحريش) পথে অগ্রসর হয়েছে— "যদি আপনি পৃথিবীর যাবতীয় সম্পদ ব্যয় করতেন, তবুও তাদের অন্তরে প্রীতি সৃষ্টি করতে পারতেন না, কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে হৃদ্যতা সৃষ্টি করে দিয়েছেন" (১)।

হ্যাঁ, প্রকাশ্যে তারা ভাই ভাই, একে অপরের সাথে হাসাহাসি করে এবং আলাপচারিতায় এমনভাবে মগ্ন থাকে যেন তারা এক অতুলনীয় নির্মল বন্ধুত্বের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু যখনই তারা একে অপরের আড়ালে যায়, তখন এমন সব আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে যা সাধারণ মানুষের জন্যও শোভনীয় নয়, বিশেষ করে যারা এক সুমহান বার্তার (رسالة) ঝাণ্ডা বহন করেন। এই শত্রুতার কারণ বা লক্ষ্য হলো অন্যের প্রচেষ্টাগুলো নস্যাৎ করা অথবা দাওয়াতের (الدعوة) ময়দানে অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষা করা অথবা অন্য কিছু...!! আল্লাহ তাআলা অন্তরের গোপন রহস্য (ذات الصدور) সম্পর্কে সম্যক অবগত।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমানে কেউ কেউ অস্পষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মেকিয়াভেলীয় মূলনীতি প্রয়োগ করছেন, যদিও তাদের প্রকাশ্য স্লোগান হলো ইসলামের বিজয়। সেই মূলনীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

রাখালকে আঘাত করো, তবেই পালে ভাঙন ধরবে।

নির্বোধকে কবজা করার জন্য নির্বোধের ভূমিকা পালন করো।

বন্ধুর বেশ ধারণ করো এবং গোয়েন্দার মতো কাজ করো।

একজন আদর্শ অনুচরের ভূমিকা পালন করো।

নিজের ভুলগুলো গোপন করো এবং দোষারোপের দায় চাপানোর জন্য হাতের কাছে একটি বলির পাঁঠা প্রস্তুত রাখো।

--------------------------------------------

(১) আল-আনফাল।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
يا سبحان الله! ماذا دهانا في هذا الزمان؟ وما هذه المناورات؟ لماذا هذه الأساليب؟ هل نحن أمام اليهود والنصارى؟ يا حملة المبادئ أفيقوا من غفلتكم قبل أن تدفعوا الجزية!!

(لقد نهانا الله سبحانه وتعالى عن التشبه باليهود والنصارى في أمور كثيرة، ومنها التشبه بهم في الخلاف، ولهذا قال الله سبحانه وتعالى لما ذكر اليهود وما جرى لهم ـ {تَحْسَبُهُمْ جَمِيعًا وَقُلُوبُهُمْ شَتَّى ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَعْقِلُونَ} (1) ، فأشار إلى أن الخلاف الذي يصل إلى هذا الحد لا يقع إلا من قوم ضعف عليهم الدين وضعف عليهم العقل أيضًا؛ لأن العقل يقتضي أن يكون بينهم نوع من التناصر والتلاحم والتقارب يستطيعون أن يتغلبوا به على مشكلاتهم وعلى ما يواجههم)) (2) .

وإني أقول أيها الإخوة إن أبسط مقومات التمكين في الأرض معدومة في واقعنا، فأين الذين يعقلون؟ أليس منا رجل رشيد؟!

لقد كانت بداية النبي في المدينة تهدف إلى إرساء مقومات المجتمع الإسلامي ويمثل ذلك:

(1) بناء المسجد:

وفيه إشارة إلى العبادة والمنهج النبوي الكريم؛ فهل طبقناه في واقعنا؟!

(2) المؤاخاة:

--------------------------------------------

(1) الأنفال.

(2) الأمة الواحدة.
সুবহানাল্লাহ! এ যুগে আমাদের কী দশা হলো? এই কৌশলগত চালগুলো কীসের? কেন এই হীনপন্থা? আমরা কি ইহুদি ও নাসারাদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি? হে আদর্শের ধারকগণ! জিজিয়া (الجزية) প্রদানের সময় আসার আগেই নিজেদের উদাসীনতা থেকে জাগ্রত হোন!

(আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের অনেক বিষয়ে ইহুদি ও নাসারাদের অনুকরণ (التشبه) করতে নিষেধ করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো মতভেদের ক্ষেত্রে তাদের সদৃশ হওয়া। একারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন ইহুদিদের কথা এবং তাদের যা ঘটেছিল তা উল্লেখ করেছেন, তখন বলেছেন— {তুমি তাদের ঐক্যবদ্ধ মনে করবে, অথচ তাদের অন্তরসমূহ পরস্পর বিচ্ছিন্ন। এটি এজন্য যে, তারা এক নির্বোধ জাতি} (১)। তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, যে মতভেদ এই পর্যায়ে পৌঁছায়, তা কেবল এমন কওমের মধ্যেই ঘটে যাদের দ্বীন এবং বুদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়েছে; কেননা বুদ্ধি দাবি করে যে, তাদের মধ্যে এক প্রকার পারস্পরিক সহযোগিতা, সংহতি ও নৈকট্য বজায় থাকবে, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের সমস্যা ও প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে) (২)।

হে ভ্রাতৃমণ্ডলী! আমি বলছি যে, পৃথিবীতে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার (التمكين) নূন্যতম মৌলিক উপাদানগুলো আমাদের বাস্তবতায় আজ অনুপস্থিত। তাহলে যারা বুদ্ধিমান তারা কোথায়? আমাদের মাঝে কি কোনো বিবেকবান ব্যক্তি নেই?!

মদিনায় নবীজির সূচনালগ্নের লক্ষ্য ছিল ইসলামি সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা প্রতিফলিত হয়:

(১) মসজিদ নির্মাণ:

এতে ইবাদত এবং সম্মানিত নববী মানহাজ (المنهج)-এর প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে; কিন্তু আমরা কি আমাদের বাস্তব জীবনে এর প্রতিফলন ঘটিয়েছি?!

(২) ভ্রাতৃত্ব বন্ধন (المؤاخاة):

--------------------------------------------

(১) আল-আনফাল।

(২) আল-উম্মাহ আল-ওয়াহিদা।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وفيه إشارة إلى صفاء القلوب والسرائر ((لتسوون بين صفوفكم أو ليباعدن الله بين وجوهكم)) (1) ، إن الإيثار الذي حصل بين المهاجرين والأنصار وما فيه من تضحيات سيبقى شامة في جبين التاريخ ومرجعًا نقيس به صدق إخوتنا ومعيارًا دقيقًا للدعوات الصادقة، إنهم جيل اختارهم الله لنصرة دينه، جيل الفتوحات وجيل قصم الله به ظهور القياصرة والأكاسرة والملوك.

فأين نحن من منهج الرسول في العبادة؟ ومنهج السلف الصالح، ثم أين نحن من أبجديات الأخوة؟ وهل وصلنا إلى درجة الإيثار والتضحية؟! أترك الإجابة لمن يعرفون الواقع ويملكون الأدلة والشواهد، اللهم ألف بين قلوبنا وأصلح ذات بيننا واهدنا سبل السلام.. آمين.

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم.
এতে হৃদয়ের স্বচ্ছতা ও অভ্যন্তরীণ সংকল্পের শুভ্রতার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে: ((অবশ্যই তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করবে, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের চেহারাসমূহের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দেবেন)) (১)। মুহাজির ও আনসারদের মাঝে যে পরার্থপরতা ও ত্যাগ সংঘটিত হয়েছিল, তা ইতিহাসের ললাটে এক উজ্জ্বল তিলক হয়ে থাকবে এবং আমাদের ভ্রাতৃত্বের সত্যতা পরিমাপের একটি চিরন্তন মানদণ্ড ও সত্যনিষ্ঠ দাওয়াতসমূহের জন্য এক সূক্ষ্ম মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে। তাঁরা ছিলেন এমন এক প্রজন্ম যাঁদের আল্লাহ তাঁর দ্বীনের সাহায্যের জন্য মনোনীত করেছিলেন; তাঁরা বিজয়ের প্রজন্ম এবং এমন এক প্রজন্ম যাঁদের মাধ্যমে আল্লাহ কায়সার, কিসরা ও রাজন্যবর্গের দম্ভ চূর্ণ করেছিলেন।

ইবাদতের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহর অনুসৃত পদ্ধতি এবং সালফে সালেহীনদের আদর্শ থেকে আমরা আজ কোথায়? আর ভ্রাতৃত্বের প্রাথমিক পাঠ থেকেই বা আমরা কত দূরে? আমরা কি পরার্থপরতা ও ত্যাগের সেই স্তরে পৌঁছাতে পেরেছি?! আমি এর উত্তর তাদের জন্যই ছেড়ে দিচ্ছি যারা বাস্তবতাকে জানেন এবং যাদের নিকট দলিল ও সাক্ষ্যসমূহ (شواهد) বিদ্যমান। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের অন্তরসমূহের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করুন, আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করুন এবং আমাদের শান্তির পথে পরিচালিত করুন... আমীন।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা (رواه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌ناصحوا ولاة الأمر وادعوا لهم بالصلاح:

أثر عن أحد السلف أنه قال: (لو كان لي دعوة صالحة لصرفتها للسلطان) ، وإن الله ليزع بالسلطان ما لا يزع بالقرآن.

إننا أيها الإخوة نمر بمرحلة حرجة في تاريخ الأمة الإسلامية تحتاج منا إلى وقفة صادقة ومنهجية واضحة في التعامل مع هذه الأحداث التي تخرج الأمة من عنق الزجاجة، ومن هذه المحنة وهي أصلب عودًا وأشد تماسكًا، وإن أهم أركان هذا التماسك هم الحكام والعلماء والشعوب، وإن المنهج الشرعي مع الحكام حتى وإن جاروا: الصبر؛ (ما لم نرَ كفرًا بواحًا عندنا من الله فيه برهان) ، {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} (1) ، وفي الحديث عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال نبي الله: «من رأى منكم من أميره شيئًا فكرهه فليصبر فإنه ليس أحد يفارق الجماعة شبرًا فيموت إلا مات ميتة جاهلية» (2) .

ولنا في هذا وقفات:

1- لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق:

قال أبو بكر رضي الله عنه حين تولى الخلافة (أطيعوني ما أطعت الله فيكم، فإذا عصيت الله ورسوله فلا طاعة لي عليكم) .

--------------------------------------------

(1) النساء.

(2) رواه البخاري.
শাসকদের কল্যাণকামনা করুন এবং তাদের সংশোধনের জন্য দোয়া করুন:

জনৈক সালাফ (পূর্বসূরি) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: (যদি আমার কবুলযোগ্য কোনো একটি দোয়া থাকত, তবে আমি তা সুলতানের (শাসকের) জন্য নিবেদন করতাম)। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সুলতানের মাধ্যমে এমন সব বিশৃঙ্খলা দূর করেন যা কোরআনের মাধ্যমে করেন না।

হে ভ্রাতৃবৃন্দ, আমরা ইসলামি উম্মাহর ইতিহাসে এমন এক সংকটময় মুহূর্ত অতিক্রম করছি, যেখানে এসব ঘটনার মোকাবিলায় আমাদের সত্যনিষ্ঠ অবস্থান এবং একটি স্বচ্ছ কর্মপন্থা (منهج) প্রয়োজন; যা এই উম্মাহকে ঘোর সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাবে এবং এই ফিতনা ও পরীক্ষা থেকে আরও দৃঢ় ও সুসংহত অবস্থায় বের করে আনবে। আর এই সংহতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলেন শাসকবর্গ, ওলামায়ে কেরাম এবং জনগণ। আর শাসকদের সাথে শরয়ি কর্মপন্থা—এমনকি যদি তারা জুলুমও করে—তা হলো: ধৈর্য (الصبر); (যতক্ষণ না আমরা প্রকাশ্য কুফরি (كفراً بواحاً) প্রত্যক্ষ করি, যে বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে সুষ্পষ্ট দলিল রয়েছে)। “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসুলের আনুগত্য কর আর তোমাদের মধ্যকার উলিল আমর (কর্তৃত্বশীলদের)।” (১), এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার আমিরের (নেতার) পক্ষ থেকে এমন কিছু দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। কারণ যে ব্যক্তি জামাত (الجماعة) থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হবে এবং ঐ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল» (২)।

এ বিষয়ে আমাদের কিছু বিবেচ্য বিষয় রয়েছে:

১- স্রষ্টার অবাধ্য হয়ে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না:

আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন বলেছিলেন: (যতক্ষণ আমি তোমাদের মাঝে আল্লাহর আনুগত্য করব ততক্ষণ তোমরা আমার আনুগত্য করো, আর যখন আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্য হব তখন আমার প্রতি তোমাদের আনুগত্যের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই)।

--------------------------------------------

(১) আন-নিসা।

(২) বুখারি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
قال ابن عثيمين رحمه الله: (فإذا أمر ولي الأمر بمعصية من المعاصي فإنه لا يجوز لأحد أن يسمع له ويطيع؛ لأن ملك الملوك رب العالمين عز وجل، ولا يمكن أن يعصى رب العالمين لطاعة من هو مملوك مربوب) (1) .

2- لا ننازع الأمر أهله:

يقول ابن عثيمين رحمه الله: (لا ننازع ولاة الأمور ما ولَاّهم الله علينا لنأخذ الإمرة منهم؛ فإن هذه المنازعة توجب شرًّا كثيرًا وفتنًا عظيمة وتفرقًا بين المسلمين، ولم يدم للأمة الإسلامية إلا منازعة الأمر أهله من عهد عثمان رضي الله عنه إلى يومنا هذا، ما أفسد الناس إلا منازعة الأمر أهله) (2) .

3- نقول كلمة الحق ولا نخاف في الله لومة لائم:

نعم؛ نقول كلمة الحق أينما كنَّا ولا يتنافى ذلك مع النصح لولاة الأمر والدعاء لهم، فلقد كان هذا ديدن العلماء قديمًا وحديثًا كالإمام أحمد بن حنبل وشيخ الإسلام ابن تيمية وابن باز وغيرهم مع مراعاة القواعد الشرعية المعتبرة كالأخذ بأخف الضررين وغيرها.

4- نكف ألسنتنا عن أعراض الأمراء والعلماء في المجالس:

--------------------------------------------

(1) شرح رياض الصالحين، 512.

(2) محمد بن صالح العثيمين، شرح رياض الصالحين، 512.
ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (যদি শাসক (ولي الأمر) কোনো পাপ কাজের আদেশ দেন, তবে কারো জন্য তার কথা শোনা ও আনুগত্য (طاعة) করা বৈধ নয়; কারণ রাজাধিরাজ হলেন বিশ্বজগতের প্রতিপালক (رب العالمين) মহান আল্লাহ, আর মহান প্রতিপালকের অবাধ্য হয়ে এমন কারো আনুগত্য করা সম্ভব নয় যে নিজেও সৃষ্টি এবং অন্যের মালিকানাধীন) (১) ।

২- আমরা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সাথে ক্ষমতা নিয়ে বিবাদ করব না:

ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আল্লাহ শাসকদের (ولاة الأمور) আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তা ছিনিয়ে নেয়ার জন্য আমরা তাদের সাথে বিবাদ করব না; কারণ এই বিবাদ বহু অনিষ্ট, ভয়াবহ ফিতনা (فتن) এবং মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে। উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর যা কিছু ক্ষতি হয়েছে, তা কেবল উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণেই হয়েছে; মানুষকে কেবল ক্ষমতার বিবাদই ধ্বংস করেছে) (২) ।

৩- আমরা সত্য কথা বলব এবং আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করব না:

হ্যাঁ; আমরা যেখানেই থাকি না কেন সত্য কথা বলব, আর এটি শাসকদের প্রতি সদুপদেশ (النصح) প্রদান এবং তাদের জন্য দোয়া করার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। প্রাচীন ও আধুনিক যুগের আলেমদের এটাই ছিল চিরন্তন রীতি, যেমন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনে বায এবং অন্যান্যরা। এক্ষেত্রে তাঁরা স্বীকৃত শরয়ি মূলনীতিসমূহ (القواعد الشرعية) অনুসরণ করতেন, যেমন তুলনামূলক কম ক্ষতি (أخف الضررين) গ্রহণ করা ইত্যাদি।

৪- মজলিসগুলোতে আমরা উমারা (শাসক) ও আলেমদের সম্মানহানি থেকে আমাদের জিহ্বাকে সংযত রাখব:

--------------------------------------------

(১) শারহু রিয়াদিস সালিহীন, ৫১২।

(২) মুহাম্মাদ বিন সলিহ আল-উসাইমীন, শারহু রিয়াদিস সালিহীন, ৫১২।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
يقول ابن عثيمين رحمه الله: (تجد بعض الناس همُّه إذا جلس في المجلس ما يستأنس إلا إذا أمسك عالمًا من العلماء أو وزيرًا من الوزراء أو أميرًا من الأمراء أو من فوقه ليتكلم في عرضه، وهذا غير صحيح، ولو كان هذا الكلام يجدي لكنا أول من يشجع عليه … ) إلى أن قال رحمه الله: (.. ولكنه لا يجدي، إنما يوغر الصدور ويكرِّه ولاة الأمور إلى الناس ويكرِّه العلماء إلى الناس ولا يحصل فائدة) (1) .

قلت: والبعض عفا الله عنه يجرح الولاة في المجالس حتى إذا قابلهم فإذا به يقبل الأيادي ويظهر الولاء!! فلمَ هذه الازدواجية، أما العلماء المشهود لهم بالفضل فلحومهم مسمومة، ومن اجتهد فأصاب فله أجران، ومن اجتهد فأخطأ فله أجر، والماء إذا بلغ القلتين لم يحمل الخبث.

ومع ذلك كلِّه فإن الأمة بحاجة إلى علماء يفتح الله عليهم في أيام المحن وانتشار الفتن، يقولون كلمة الحق ولا يخافون في الله لومة لائم حتى ولو جلدت ظهورهم وصارت منازلهم في غياهب السجون؛ فلهم أسوة حسنة بالإمام أحمد رحمه الله.

--------------------------------------------

(1) محمد بن صالح العثيمين، شرح رياض الصالحين، 520.
ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আপনি কিছু মানুষকে দেখবেন যে, যখন তারা কোনো মজলিসে বসে, তখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে কোনো আলেম, কোনো মন্ত্রী, কোনো আমির বা উচ্চপদস্থ কাউকে নিয়ে আলোচনা করে আনন্দ লাভ করা যাতে তারা তাদের সম্মানহানি করতে পারে। এটি সঠিক নয়। যদি এই ধরনের কথার কোনো সুফল থাকত, তবে আমরাই সর্বপ্রথম একে উৎসাহিত করতাম...) অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (...কিন্তু এটি কোনো সুফল বয়ে আনে না; বরং এটি অন্তরগুলোকে কলুষিত করে এবং জনগণের অন্তরে শাসকবর্গ ও আলেমদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে এবং এতে কোনো কল্যাণ সাধিত হয় না) (১)।

আমি বলছি: কেউ কেউ—আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন—মজলিসগুলোতে শাসকবর্গের সমালোচনা (جرح) করেন, অথচ যখন তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন তখন তাদের হাত চুম্বন করেন এবং আনুগত্য প্রকাশ করেন!! কেন এই দ্বিচারিতা? আর যেসব আলেমদের শ্রেষ্ঠত্ব সর্বজনস্বীকৃত, তাদের গোশত বিষাক্ত। যে ব্যক্তি ইজতিহাদ (اجتهاد) করে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব এবং যিনি ইজতিহাদ (اجتهاد) করে ভুল করেন, তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব। আর পানি যখন দুই কুল্লা (قلتين) পরিমাণ হয়, তখন তা অপবিত্রতা ধারণ করে না।

এতদসত্ত্বেও, উম্মাহর এমন আলেমদের প্রয়োজন যাদেরকে আল্লাহ পরীক্ষা ও ফিতনা (فتن) ছড়িয়ে পড়ার দিনগুলোতে সত্য প্রকাশের তৌফিক দান করেন। তারা সত্য কথা বলেন এবং আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করেন না; এমনকি যদি তাদের পিঠে বেত্রাঘাত করা হয় এবং অন্ধকার কারাপ্রকোষ্ঠে তাদের আবাস হয়। ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনে তাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন, শারহু রিয়াদিস সালিহীন, ৫২০।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌النخبة.. خطر يهدد الأجيال:

النخبة المعنية في هذا المقال ليست النخبة المجرمة المنحرفة، ولكنها النخبة الخيرة التي تبتغي ما عند الله عز وجل.

ودعونا نبدأ بقصة عمر مع الأعرابي حينما قال لعمر وهو على المنبر: (من أين لك هذا يا عمر؟!) ، أعرابي يقف في المسجد أمام الجموع يخاطب أمير المؤمنين ويسأله عن بردة كان يلبسها، فيجيب عمر بكل تواضع ويبين له قصة البردة.

إنه لا حياة للأمة إلا حينما يتساوى الناس في حقوقهم، ودور النخبة في كل مجتمع يزداد خطورةً وسوءً كلما استأثروا لأنفسهم بالحظوظ الشخصية أو الدعوية وإن كانت مغلّفة بمصالح شرعية.

لقد ظهر في واقع الدعاة اليوم داء النخبة الخطير الذي يتناسب عكسيًا مع الفتوحات الربانية.

يبدو أن هذه النخبة قد انحرفت عن أهدافها شيئًا يسيرًا فضلت السبيل، ربما غرتها بيّنات الطريق فذهبت تتخبط وهي تريد أن تجمع بين الدنيا والآخرة بتوازن غير معقول حتى لو تخلت عن شيء من مبادئها وثوابتها، والضحية هم الأجيال.
‌অভিজাত শ্রেণি... প্রজন্মের জন্য এক হুমকিস্বরূপ বিপদ:

এই প্রবন্ধে যে অভিজাত শ্রেণির কথা বলা হয়েছে, তারা কোনো অপরাধী বা পথভ্রষ্ট গোষ্ঠী নয়; বরং তারা সেই সৎ ও নেককার অভিজাত শ্রেণি, যারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন প্রতিদান কামনা করেন।

আসুন, আমরা ওমর (রা.) এবং এক মরুবাসীর ঘটনা দিয়ে শুরু করি, যখন তিনি মিম্বরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সেই ব্যক্তিটি তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন: "হে ওমর! আপনি এটি কোথায় পেলেন?" এক সাধারণ মরুবাসী লোক মসজিদের বিশাল জনসমক্ষে দাঁড়িয়ে আমিরুল মুমিনীনকে সম্বোধন করছেন এবং তাঁর পরিহিত একটি চাদর সম্পর্কে কৈফিয়ত চাচ্ছেন; আর ওমর (রা.) অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এর উত্তর দিচ্ছেন এবং চাদরটির প্রেক্ষাপট বর্ণনা করছেন।

প্রকৃতপক্ষে, একটি উম্মাহর প্রাণশক্তি তখনই বজায় থাকে যখন মানুষের মাঝে অধিকারের সমতা নিশ্চিত হয়। কোনো সমাজে অভিজাত শ্রেণির ভূমিকা ততক্ষণ পর্যন্ত ভয়ংকর ও ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, যতক্ষণ তারা নিজেদের জন্য ব্যক্তিগত কিংবা দাওয়াহ সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধার একচ্ছত্র অধিকার দাবি করে—হোক তা শরিয়তসম্মত স্বার্থের আবরণে ঢাকা।

আজকের দিনের দাঈদের বাস্তবতায় অভিজাততন্ত্রের সেই বিপজ্জনক ব্যাধি প্রকাশ পেয়েছে, যা খোদায়ী সাহায্য ও বিজয়ের পথে সরাসরি বিপরীতভাবে প্রভাব ফেলছে।

মনে হচ্ছে, এই অভিজাত শ্রেণি তাদের লক্ষ্যচ্যুত হয়ে কিছুটা পথ হারিয়ে ফেলেছে। সম্ভবত পথের বাহ্যিক নিদর্শনাদি তাদের প্রলুব্ধ করেছে, ফলে তারা এক অযৌক্তিক ভারসাম্য বজায় রাখার নামে দুনিয়া ও আখিরাতকে একত্রিত করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়ে বিভ্রান্তিতে হাবুডুবু খাচ্ছে; এমনকি এজন্য তারা তাদের কিছু মূলনীতি এবং অবিচল আদর্শ (ثوابت) বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না। আর এর চূড়ান্ত শিকার হচ্ছে আগামী প্রজন্ম।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
يقول محمد الراشد حاسمًا هذا الخلط بين الأهداف: (فالاختيار إنما هو اختيار واحد، وقد تجنح النفس إلى اختيارات هابطة تزاحم هدفها السامي، إلا أن التقاء الهدفين محال، وسد الشاعر طريق التقائهما لما أخبر أن:

الهوى الدنيوي والهدف العلوي … في النفس ليس يلتقيان

وهذه الحقيقة تدعونا إلى تجديد السير وتمحيص الإخلاص في نفوس العاملين، وأن يتحرروا من كل الأطماع والشوائب، وأن يظل هذا التجرد يتعاظم فيه حتى يصل إلى التبتل في أداء العمل للدعوة الإسلامية المباركة، ويصيرون (كأن مادتهم من السحب، فيها لغيرهم الظل الماء والنسيم، وفيها لأنفسهم الطهارة، والعلو والجمال، يثبتون للضعفاء أن غير الممكن ممكن بالفعل، إذ لا يرى الناس في تركيبهم طباعهم إلا الإخلاص وإن كان حرمانًا، وإلا المروءة وإن كانت مشقة) ، إن طريق الدعوة واحد لا يحتمل الشركة (1) .

وإن من أبرز العيوب التي أفرزتها تلك الطبقة في واقعنا:

أصبح للدعاة امتيازات دنيوية وفرص دعوية ورحلات مجانية ودورات إدارية لا تتوفر إلا للنخبة وللنخبة فقط.

--------------------------------------------

(1) المسار، 319.
মুহাম্মাদ আর-রাশিদ লক্ষ্যসমূহের মধ্যকার এই বিভ্রান্তির চূড়ান্ত নিরসন করে বলেন: (নিশ্চয়ই পছন্দ কেবল একটিই হয়। নফসের ঝোঁক কখনো কোনো নিম্নস্তরের পছন্দের দিকে চলে যেতে পারে যা তার সুউচ্চ লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করে। তবে এই দুই লক্ষ্যের মিলন অসম্ভব। কবি এই দুইয়ের মিলনের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন যখন তিনি জানিয়েছেন যে:

পার্থিব লালসা এবং মহৎ লক্ষ্য ... অন্তরে কখনো একত্রিত হয় না।

আর এই বাস্তবতা আমাদের কর্মীদের অন্তরে কর্মস্পৃহা নবায়ন করতে এবং নিষ্ঠা (إخلاص) যাচাই করতে আহ্বান জানায়। তারা যেন নিজেদের সমস্ত লোভ ও কলুষতা থেকে মুক্ত করে নেয়। এই নির্লিপ্ততা যেন তাদের মাঝে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়, যতক্ষণ না তা বরকতময় ইসলামী দাওয়াতের কাজে পূর্ণ একাগ্রতা (تبتل) পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারা যেন এমন হয়ে যায় যে (যেন তাদের উপাদান মেঘমালা থেকে তৈরি; যাতে অন্যদের জন্য রয়েছে ছায়া, পানি ও মলয় সমীরণ, আর তাদের নিজেদের জন্য রয়েছে পবিত্রতা, শ্রেষ্ঠত্ব ও সৌন্দর্য। তারা দুর্বলদের কাছে প্রমাণ করে দেয় যে, অসম্ভবও বাস্তবে সম্ভব হতে পারে। কেননা মানুষ তাদের প্রকৃতি ও চারিত্রিক গঠনে নিষ্ঠা (إخلاص) ছাড়া আর কিছুই দেখে না, যদিও তা পার্থিব বঞ্চনার নামান্তর হয়; আর মহানুভবতা (مروءة) ছাড়া কিছুই দেখে না, যদিও তা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়)। নিশ্চয়ই দাওয়াতের পথ একটিই, যা অংশীদারিত্ব সহ্য করে না (১)।

আমাদের বাস্তবতায় সেই বিশেষ শ্রেণিটি যেসব বড় ধরনের ত্রুটি উৎপন্ন করেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো:

দায়ীগণের জন্য এমন কিছু পার্থিব সুযোগ-সুবিধা, দাওয়াতী সুযোগ, বিনামূল্যে ভ্রমণ এবং প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে যা কেবল একটি বিশেষ অভিজাত শ্রেণির জন্যই সহজলভ্য।

--------------------------------------------

(১) আল-মাসার, ৩১৯।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ادعاء الفرادة في توجيه المدعوين وتعليمهم كل ما ينفعهم في أمور دينهم ودنياهم، (إن من الأخطاء الفادحة أن نزرع في حس الناس أننا نمثل الإسلام تمثيلًا صادقًا، وأن تجربتنا الخاصة هي الأكثر نضجًا أو الأعم نفعًا، فالواحد من الدعاة مهما سما سيظل غير معصوم ولا مكتمل، ومهما نضجت خبرته فإن ما لا يعرفه أكثر مما عرفه (1) .

التعالي عن ممارسة أي واجب دعوي عملي أو ميداني بحجة الانشغال بما هو أهم.

زيادة تحقير الدهماء وفائدتها.

وعليه؛ فإنه يتوجب علينا أن نصحح المسار، وأن نعود إلى سيرة سلفنا الصالح حتى نرى النخبة في ذلك الزمان، ثم نقارن فيتبين لنا الحق. إن النخبة في تاريخ سلفنا الصالح ومن سار على نهجهم هم إما:

عالم نذر نفسه لله يعقد الدروس وينهل من العلم وينشر الخير بين الناس في يومه وليلته كما قال أحدهم: (من المحبرة إلى المقبرة) .

أو عابد قد تفطرت قدماه من طول القيام وظهر على وجنتيه خطان أسودان من كثرة البكاء حتى إذا أصبح كان وجهه نورًا يعقل به من يراه.

أو مجاهد تكسرت في يده أسياف ودروع ليس في جسده موضع شبر إلا وفيه طعنة أو إصابة في سبيل الله (فلا نامت أعين الجبناء) .

--------------------------------------------

(1) عبد الكريم بكار، مقدمات للنهضة بالعمل الدعوي، 122.
দ্বীনি দাওয়াতপ্রাপ্তদের দিকনির্দেশনা প্রদান এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার সকল উপকারী বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনন্যতার দাবি করা; (এটি একটি মারাত্মক ভুল যে আমরা মানুষের মনে এই ধারণা গেঁথে দিই যে, আমরাই ইসলামের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করছি এবং আমাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি পরিপক্ক বা অধিকতর উপকারী। একজন দাঈ যত উচ্চ মর্যাদা সম্পন্নই হোন না কেন, তিনি সর্বদাই অভ্রান্ত (معصوم) বা ত্রুটিমুক্ত নন; তার অভিজ্ঞতা যতই পরিপক্ক হোক না কেন, তিনি যা জানেন না তা তার জানার চেয়ে অনেক বেশি (১)।

আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকার অজুহাতে যেকোনো ব্যবহারিক বা মাঠ পর্যায়ের দাওয়াতি দায়িত্ব পালন থেকে নিজেকে ঊর্ধ্বে মনে করা।

সাধারণ মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং তাদের উপযোগিতাকে অবজ্ঞা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া।

এমতাবস্থায়, আমাদের পথ সংশোধন করা এবং আমাদের সৎ পূর্বসূরিদের (سلفنا الصالح) জীবনীর দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক, যাতে আমরা সেই সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের দেখতে পাই এবং এরপর তুলনা করলে আমাদের কাছে সত্য স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আমাদের সৎ পূর্বসূরিদের ইতিহাসে এবং যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছেন, তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা হলেন:

এমন একজন আলিম যিনি নিজেকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করেছেন, পাঠদান পরিচালনা করেন, জ্ঞান আহরণ করেন এবং দিন-রাত মানুষের মাঝে কল্যাণ ছড়িয়ে দেন, যেমনটি তাদের কেউ একজন বলেছিলেন: (দোয়াত থেকে কবর পর্যন্ত)।

অথবা এমন এক ইবাদতকারী যার দীর্ঘ সময় দণ্ডায়মান (قيام) থাকার কারণে পা ফেটে গিয়েছে এবং অধিক কান্নার কারণে যার দুই গালে দুটি কালো রেখা ফুটে উঠেছে, এমনকি যখন ভোর হয় তখন তার চেহারা নূরে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে যা দেখে যে কেউ তাকে চিনতে পারে।

অথবা এমন এক মুজাহিদ যার হাতে তলোয়ার ও ঢাল ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে, যার শরীরে এক বিঘত পরিমাণ জায়গাও অবশিষ্ট নেই যেখানে আল্লাহর পথে কোনো আঘাত বা জখম লাগেনি (ভীরুদের চোখ যেন কখনও না ঘুমায়)।

--------------------------------------------

(১) আব্দুল কারীম বাক্কার, মুকাদ্দিমাত লিন-নাহদাহ বিল-আমাল আদ-দাওয়ি, ১২২।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
أو متصدق قد بذل ماله في سبيل الله فهو يعطي عطاء من لا يخشى الفقر.

وإما داعية يجوب البلاد شرقًا وغربًا؛ فهو مبارك أينما حلَّ، يدعو الناس إلى الإسلام والإيمان، فكم هدى الله به من البشر.

ولنا في رسولنا الكريم وسلفنا الصالح أسوة حسنة، فلماذا نستبدل الذي هو أدنى بالذي هو خير.

يقول عبد الكريم بكَّار: (وإذا كنا ننهى أنفسنا عن التعصب للفكرة فإننا نرى أن الصفوة التي تتمتع بالحد الأدنى من الرجولة للدفاع عن الأفكار والمبادئ التي تؤمن بها ـ هي صفوة منحطَّة ـ وستظل جاهزة لخدمة مصالحها الخاصة، وتوظيف ثقافتها في بناء مجدها الذاتي، ولو كان الثمن هو عناء أمة بأكملها!! إن قيمة الصفوة بل طبيعة وجودها لا تنبع من القدر المعرفي الذي تحمله، وإنما من مقدار ما تحملها للهم العام ومشاركتها في إصلاح الشأن العام، أي على قدر تعدي نفعها للأمة، وعلى قدر تجاوزها لمصالحها الشخصية) (1) .

--------------------------------------------

(1) مقدمات للنهوض بالعمل الدعوي، 3/107.
অথবা এমন এক দানবীর, যিনি আল্লাহর পথে নিজের সম্পদ ব্যয় করেছেন; তিনি এমনভাবে দান করেন, যেমনটি করে থাকেন সেই ব্যক্তি যিনি দারিদ্র্যের আশঙ্কা করেন না।

অথবা এমন এক দাঈ, যিনি প্রাচ্য থেকে প্রতীচ্যে দেশ-বিদেশে পরিভ্রমণ করেন; তিনি যেখানেই পদার্পণ করেন, সেখানেই বরকতময় হন। তিনি মানুষকে ইসলাম ও ঈমানের দিকে আহ্বান করেন; আল্লাহ তাআলা তার মাধ্যমে কত মানুষকে হিদায়াত দান করেছেন!

আমাদের জন্য আমাদের সম্মানিত রাসুল এবং নেককার পূর্বসূরিদের মাঝে উত্তম আদর্শ রয়েছে। তবে কেন আমরা উত্তমের পরিবর্তে নিকৃষ্ট কিছুকে গ্রহণ করব?

আব্দুল কারীম বাক্কার বলেন: (যদি আমরা নিজেদের কোনো নির্দিষ্ট চিন্তাধারার প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্ব থেকে বিরত রাখি, তবে আমরা দেখতে পাই যে—সেই অভিজাত শ্রেণী যারা তাদের বিশ্বাসযোগ্য চিন্তাধারা ও মূলনীতিগুলো রক্ষায় ন্যূনতম পৌরুষটুকুও ধারণ করে না—তারা মূলত এক হীন ও অধঃপতিত শ্রেণী। তারা সর্বদা তাদের ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারে এবং নিজেদের আভিজাত্য নির্মাণে নিজেদের সংস্কৃতিকে নিয়োজিত করতে উন্মুখ থাকে, যদিও তার বিনিময় হয় একটি পুরো উম্মাহর চরম দুর্ভোগ!! মূলত অভিজাত শ্রেণীর মূল্য বা তাদের অস্তিত্বের প্রকৃতি কেবল তাদের ধারণকৃত জ্ঞানের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না; বরং তা নির্ভর করে উম্মাহর সাধারণ দুঃখ-দুর্দশাকে তারা কতটা হৃদয়ে ধারণ করে এবং জনকল্যাণমূলক সংস্কারে কতটা অংশগ্রহণ করে তার ওপর। অর্থাৎ, জাতির প্রতি তাদের উপকারের ব্যাপ্তি এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগের সক্ষমতার ওপরই তাদের মর্যাদা নির্ধারিত হয়।) (১) ।

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমাতুন লিন-নুহুদ বিল-আমালিদ দাওয়ি, ৩/১০৭।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وما أجمل ما قاله الراشد وهو يؤكد على أهم صفة من صفات النخبة وهو يصف أحدهم: (أن يكون صاحب فؤاد ملذوع يتحرق، بحيث تكون خطة تطوير النشاط وتربية الثقات شغلًا قلبيًا له، وليس هو ممن أعطيت له الصدارة تبركًا بورعه الذي لا يسنده حزم، ولا لشهادته العالية التي تجعله وجهًا اجتماعيًا، ولا لكتاباته التي جعلت اسمه ذائعًا، ولا لصرامته الزائدة الجافة التي لا يربطها طول عكوفه مع تفسير القرآن الكريم ومتون الحديث النبوي الشريف وتراث الفقه المبارك) (1) .

أحبتي في الله؛ إذا كنا نعيب على النخب المجرمة سيرها الذميم وطريقتها البشعة وآثارها السيئة على الأمة فلنحذر من انتقال المرض إلى واقع الدعاة؛ فإن الثمن سيكون باهظًا؛ إنه ضعف الدين والوهن الذي دب في المسلمين.

لقد عانت الأمة الإسلامية منذ زمن طويل من ويلات النخبة؛ سواءً في السياسة أو في الاقتصاد أو غير ذلك، وفي كل مرة يتساقط الضحايا تحت أرجلهم، تسحق الشعوب لأجل مجموعة من البشر، وتدمر الديار لاسترضاء عصابة من الطغاة، والضحية هم الشعوب والأجيال.

--------------------------------------------

(1) المسار، 352.
আর-রাশিদ কতই না চমৎকার কথা বলেছেন যখন তিনি অভিজাত শ্রেণির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের একজনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন: "তাকে হতে হবে দগ্ধ ও ব্যাকুল হৃদয়ের অধিকারী, যাতে কর্মতৎপরতা উন্নয়নের পরিকল্পনা এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তিদের গড়ে তোলা তার অন্তরের প্রধান নিমগ্নতা হয়। তিনি এমন কেউ হবেন না যাকে কেবল তার তাকওয়ার বরকত হাসিলের জন্য অগ্রগণ্য করা হয়েছে অথচ তার কোনো দৃঢ়তা নেই, কিংবা তার উচ্চতর ডিগ্রির কারণে নয় যা তাকে কেবল একটি সামাজিক পরিচিতি দান করে, কিংবা তার সেই লেখালেখির কারণেও নয় যা তার নামকে চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে, আর না তার সেই অতিরিক্ত ও শুষ্ক কঠোরতার জন্য যার সাথে পবিত্র কুরআনের তাফসির, নববী হাদিসের মূল পাঠ এবং বরকতময় ফিকহ শাস্ত্রের ঐতিহ্যের দীর্ঘ সান্নিধ্যের কোনো যোগসূত্র নেই।" (১) ।

আল্লাহর পথে আমার প্রিয় ভাইয়েরা; আমরা যদি অপরাধী অভিজাত শ্রেণির নিন্দনীয় পথচলা, তাদের জঘন্য পদ্ধতি এবং উম্মাহর ওপর তাদের মন্দ প্রভাবের সমালোচনা করি, তবে দাঈদের বাস্তব জীবনেও এই ব্যাধি যেন সংক্রমিত না হয় সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে; অন্যথায় এর বিনিময় হবে অত্যন্ত চড়া; আর তা হলো দ্বীনের দুর্বলতা এবং সেই হীনম্মন্যতা যা মুসলিমদের মাঝে দানা বেঁধেছে।

মুসলিম উম্মাহ দীর্ঘকাল ধরে অভিজাত শ্রেণির দুর্যোগে ভুগছে; তা রাজনীতিতে হোক কিংবা অর্থনীতিতে বা অন্য কিছুতে। প্রতিবারই তাদের পায়ের নিচে সাধারণ মানুষ বলি হচ্ছে, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের স্বার্থে জাতিসমূহকে পিষ্ট করা হচ্ছে এবং একদল স্বৈরাচারকে সন্তুষ্ট করতে জনপদগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে; আর এর প্রকৃত শিকার হচ্ছে সাধারণ জনগণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

--------------------------------------------

(১) আল-মাসার, ৩৫২।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
هذا الكلام شواهده منقوشة في جبين التاريخ، وأدلته مسطَّرة بمداد من دماء الأبرياء والمساكين التي تعلن للملأ قديمًا وحديثًا أن التهمة ثابتة في حق المجرمين من هذه النخبة مع سبق الإصرار والترصد.
এই বাণীর সাক্ষ্যপ্রমাণসমূহ (شواهد) ইতিহাসের ললাটে খোদাই করা রয়েছে এবং এর প্রমাণাদি সেই সকল নিরপরাধ ও নিঃস্বদের রক্তের কালিতে লিপিবদ্ধ, যা প্রাচীন ও আধুনিক উভয় যুগে জনসমক্ষে ঘোষণা করে যে, এই বিশেষ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগটি পূর্বপরিকল্পনা ও সংকল্পের সাথে সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابتة)।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন আজিলাতুন লিদ দুআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الاستلاب الفكري:

ليس أضر على الأمة الإسلامية من تأجير العقول وتجيير الأفهام، ولقد ذم الله سبحانه وتعالى قوم فرعون بقوله: {فَاسْتَخَفَّ قَوْمَهُ فَأَطَاعُوهُ} (1) .

وهذا الاستخفاف نوع من أنواع الاستلاب الذي قاده إلى القول: {مَا أُرِيكُمْ إِلَّا مَا أَرَى وَمَا أَهْدِيكُمْ إِلَّا سَبِيلَ الرَّشَادِ} (2) .

أيها الإخوة؛ لا غرابة في هذه المقدمة ـ وإن كانت قاسية ـ فالقرآن كلُّه فوائد وعبر، ولقد قال الرسول لصحابته الأخيار عند موته: «لا تطروني كما أطرت النصارى عيسى ابن مريم؛ فإنما أنا عبد الله ورسوله» رواه البخاري، هذا هو خطاب الناصحين المشفقين حتى لو كان قاسيًا.

وإننا في هذا الزمان الذي كثرت فيه الفتن وضلت فيه الأفهام، وزلت فيه الأقدام، بدأنا نشم رائحة الاستلاب تزكم الأنوف وترهق الأجيال في زمن قل فيه الرجال.

وإليكم بعض الممارسات الاستلابية:

أصبح كثير من الشباب لا يفكر بعقله بل بعقل غيره، ويطبق ما يراه الغير لا ما يدين الله به.

بعض المربين يمارس الاستلاب عن طريق توجيه الأوامر غير القابلة للنقاش.

البعض ليس له حق الانتقاد ولا حتى المشاركة في تحقيق واقع أفضل فهذا محرم عليه.

--------------------------------------------

(1) الزخرف.

(2) غافر.
বুদ্ধিবৃত্তিক হরণ:

মুসলিম উম্মাহর জন্য বুদ্ধি ভাড়া দেওয়া এবং অনুধাবন ক্ষমতাকে অন্যের নিকট সঁপে দেওয়ার চেয়ে ক্ষতিকর আর কিছু নেই। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ফেরাউনের কওম সম্পর্কে নিন্দা জ্ঞাপন করে বলেছেন: {সে তার কওমকে তুচ্ছ জ্ঞান করল, ফলে তারা তার আনুগত্য করল} (১)।

আর এই তুচ্ছ জ্ঞান করা হলো এক প্রকার বুদ্ধিবৃত্তিক হরণ যা তাকে এই কথা বলার দিকে ধাবিত করেছিল: {আমি যা প্রত্যক্ষ করি আমি তোমাদের কেবল তাই দেখাই এবং আমি তোমাদের কেবল সঠিক পথই প্রদর্শন করি} (২)।

হে ভ্রাতৃবৃন্দ; এই ভূমিকাটি রূঢ় মনে হলেও এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই—কেননা পুরো কুরআনই হলো শিক্ষা ও উপদেশে ভরপুর। রাসুলুল্লাহ তাঁর শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের উদ্দেশ্যে তাঁর অন্তিম সময়ে বলেছিলেন: «তোমরা আমার অতিপ্রশংসা করো না যেমনটি খ্রিস্টানরা মারইয়াম তনয় ঈসার ক্ষেত্রে করেছিল; আমি তো কেবল আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল» এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। এটি হলো হিতাকাঙ্ক্ষী ও পরম স্নেহশীলদের বার্তা, যদিও তা রূঢ় হতে পারে।

আমরা বর্তমানে ফিতনার এমন এক সময়ে অবস্থান করছি যেখানে অনুধাবন শক্তি বিভ্রান্ত হয়েছে এবং মানুষের পদস্খলন ঘটছে। আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক হরণের এমন এক দুর্গন্ধ পাচ্ছি যা নাসিকাকে অবশ করে দিচ্ছে এবং এই যোগ্য লোকবলহীন সময়ে বর্তমান প্রজন্মকে পর্যুদস্ত করে তুলছে।

নিম্নে বুদ্ধিবৃত্তিক হরণের কিছু নমুনা দেওয়া হলো:

বর্তমানে অনেক যুবক নিজের মস্তিষ্ক দিয়ে চিন্তা না করে অন্যের মস্তিষ্ক দিয়ে চিন্তা করতে শুরু করেছে এবং সে আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আনুগত্যের পরিবর্তে অন্যের প্রদর্শিত মতাদর্শকে বাস্তবায়ন করছে।

কিছু শিক্ষক ও সংস্কারক আলোচনার কোনো সুযোগ না দিয়ে কেবল অখণ্ডনীয় নির্দেশ প্রদানের মাধ্যমে এই বুদ্ধিবৃত্তিক হরণ চর্চা করছেন।

কারো সমালোচনা করার অধিকার নেই, এমনকি বাস্তবতাকে অধিকতর কল্যাণের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অংশ নেওয়ারও সুযোগ নেই, যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আজ-জুখরুফ।

(২) গাফির।