0/0
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: -)
رؤية شرعية في الجدال والحوار مع أهل الكتاب   (الشريف محمد بن حسين الصمداني)

القسم: كتب عامة


الكتاب: رؤية شرعية في الجدال والحوار مع أهل الكتاب

المؤلف: الشريف محمد بن حسين الصمداني

راجعه وقدم له: الشيخ علوي بن عبد القادر السقاف

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) :50

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 67

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আহলুল কিতাবদের সাথে বিতর্ক ও সংলাপের ক্ষেত্রে একটি শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গি   (আশ-শরীফ মুহাম্মাদ ইবনে হুসাইন আস-সামদানি)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: আহলুল কিতাবদের সাথে বিতর্ক ও সংলাপের ক্ষেত্রে একটি শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গি

লেখক: আশ-শরীফ মুহাম্মাদ ইবনে হুসাইন আস-সামদানি

পর্যালোচনা ও ভূমিকা: শাইখ আলওয়ী ইবনে আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ

প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের আওকাফ (ধর্ম বিষয়ক) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) :৫০

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত এবং মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১)
رُؤْيَةٌ شَرْعِيَّةٌ

في الجِدَالِ والحِوارِ مع أهْلِ الكِتَابِ

راجعه وقدم له

الشيخ علوي بن عبد القادر السقاف

تأليف

الشريف محمد بن حسين الصمداني

‌‌تقديم
শরয়ি দৃষ্টিভঙ্গি

আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক ও সংলাপ প্রসঙ্গে

পর্যবেক্ষণ ও উপস্থাপনা

শায়খ আলওয়ী বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ

রচনা

আশ-শরীফ মুহাম্মদ বিন হুসাইন আস-সামদানি

‌‌উপস্থাপনা
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২)
الحمد لله الذي أمر وأوجب جدال الكفار ومحاورتهم بقوله: {وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [سورة النحل 16 / 125] والقائل: {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ} [سورة العنكبوت 29 / 46] والصلاة والسلام على نبي الهدى والرحمة الذي امتثل لأمر الله وجادلهم في مكة والمدينة وفي حال القوة والضعف وفي السلم والحرب وأمر بذلك وسماه جهادا فقال عليه الصلاة والسلام: ((جاهدوا المشركين بأموالكم وأنفسكم وألسنتكم)) رواه أحمد وغيره. قال ابن حزم رحمه الله ((وهذا حديث غاية في الصحة وفيه الأمر بالمناظرة وإيجابها كإيجاب الجهاد والنفقة في سبيل الله)) ، وهذا الواجب قد فرَّط فيه كثيرٌ من الدعاة والمصلحين، ففي الوقت الذي نجد فيه دعاة التقريب بين الأديان ودعاة العصرانية ينشطون لذلك ويعقدون الندوات والمؤتمرات تارة باسم التعاون وأخرى باسم التسامح والتعايش وثالثة لتحاشي النزاعات وصدام الحضارات -زعموا- وغير ذلك من التُرَّهات؛ في الوقت نفسه نجد تقاعسا كبيرا وعزوفا من دعاة الحق عن هذا النوع من الجهاد وأحسنهم حالا من اهتم بدعوة أهل الكتاب -وفي هذا
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে কাফিরদের সাথে বিতর্ক ও আলোচনার আদেশ দিয়েছেন এবং তা আবশ্যক করেছেন: {আর তাদের সাথে বিতর্ক করো উত্তম পন্থায়} [সূরা আন-নাহল ১৬ / ১২৫]। এবং যিনি বলেছেন: {তোমরা আহলে কিতাবদের সাথে উত্তম পন্থা ব্যতীত বিতর্ক করো না; তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছে তারা ছাড়া} [সূরা আল-আনকাবুত ২৯ / ৪৬]। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক হিদায়াত ও রহমতের নবীর ওপর, যিনি আল্লাহর আদেশ পালন করেছেন এবং মক্কা ও মদিনায়, শক্তি ও দুর্বলতার অবস্থায় এবং সন্ধি ও যুদ্ধের সময় তাদের সাথে বিতর্ক করেছেন। তিনি এর আদেশ দিয়েছেন এবং একে জিহাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: ((তোমরা তোমাদের সম্পদ, জান ও জবান দিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো)) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ও অন্যান্যগণ। ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((এই হাদিসটি চূড়ান্ত পর্যায়ের সহিহ (الصحة), এতে বিতর্ক করার আদেশ রয়েছে এবং একে জিহাদ ও আল্লাহর পথে ব্যয়ের মতোই আবশ্যক করা হয়েছে।)) এই আবশ্যিক কর্তব্যটি অনেক দাঈ ও সংস্কারক অবহেলা করেছেন। যেখানে আমরা ধর্মসমূহের মধ্যে সমন্বয় ও আধুনিকতাবাদের প্রবক্তাদের এ কাজে সক্রিয় হতে দেখি; তারা কখনও সহযোগিতার নামে, কখনও সহিষ্ণুতা ও সহাবস্থানের নামে, আবার কখনও দ্বন্দ্ব ও সভ্যতার সংঘাত পরিহারের নামে—যেমনটি তারা দাবি করে—সেমিনার ও সম্মেলন আয়োজন করে থাকে এবং এ জাতীয় আরও অনেক অসার কথাবার্তা বলে থাকে; ঠিক সেই সময়েই আমরা হকের দাঈদের পক্ষ থেকে এই প্রকারের জিহাদের ব্যাপারে বড় ধরনের স্থবিরতা ও বিমুখতা লক্ষ্য করি। তাদের মধ্যে যারা অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানে আছেন, তারা বড়জোর আহলে কিতাবদের দাওয়াতের ব্যাপারে গুরুত্ব দেন—আর এতে...
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৩)
خيرٌ كبير- مع أن دعوة أهل الكتاب والمشركين ليست هي جدالهم ومحاورتهم وما يُدرأ من المفاسد والشرور بالجدال لا يمكن درؤه بمجرد الدعوة بالحكمة والموعظة الحسنة التي أُمرنا بها، قال شيخ الإسلام رحمه الله ((أما الجدلُ فلا يدعى به، بل هو من باب دفع الصائل؛ فإذا عارض الحق معارض جودل بالتي هي أحسن)) والله عز وجل قد يدفع بالحجة واللسان ما لا يدفعه بالسنان قال العلامة ابن حزم رحمه الله: ((ولا غيظ أغيظ على الكفار والمبطلين من هتك أقوالهم بالحجة الصادعة وقد تهزم العساكر الكبار والحجة الصحيحة لا تغلب أبدا فهي أدعى إلى الحق وأنصر للدين من السلاح الشاكي والأعداد الجمة)) .

এটি একটি বড় কল্যাণ—যদিও আহলে কিতাব ও মুশরিকদের দাওয়াত প্রদান করা আর তাদের সাথে বিতর্ক ও আলোচনা করা এক নয়। বিতর্কের মাধ্যমে যে সকল ফাসাদ ও অনিষ্ট রোধ করা যায়, তা কেবল হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে দাওয়াতের দ্বারা সম্ভব নয়, যেটির নির্দেশ আমাদের দেওয়া হয়েছে। শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((আর বিতর্কের মাধ্যমে দাওয়াত দেওয়া হয় না, বরং এটি হলো আক্রমণকারীকে প্রতিহত করার অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং যখন কোনো বিরোধিতাকারী সত্যের বিরোধিতা করে, তখন তার সাথে সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক করতে হবে))। আর আল্লাহ তাআলা দলিল ও জিহ্বার মাধ্যমে এমন কিছু প্রতিহত করেন যা তলোয়ারের মাধ্যমে প্রতিহত হয় না। আল্লামা ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((কাফির ও বাতিলপন্থীদের জন্য অকাট্য দলিলের মাধ্যমে তাদের বক্তব্যকে খণ্ডন করার চেয়ে অধিক ক্ষোভের আর কিছু নেই। অনেক সময় বিশাল সৈন্যবাহিনী পরাজিত হতে পারে, কিন্তু সঠিক (الصحيحة) দলিল কখনোই পরাজিত হয় না; এটি সত্যের দিকে অধিক আহ্বানকারী এবং তীক্ষ্ণ অস্ত্র ও বিশাল জনবলের চেয়ে দ্বীনের জন্য অধিক সাহায্যকারী))।

(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৪)
وما أحوج من أراد أن يتصدى لهذا النوع من الجهاد أن تكون له رؤية شرعية يتسلح بها في جهاده لأعداء الله، هذا وقد تكفل أخونا الفاضل الشريف محمد بن حسين الصمداني بإيضاح هذه الرؤية من خلال كتابة هذا البحث الموسوم بـ ((رؤية شرعية في الجدال والحوار مع أهل الكتاب)) وقد قرأته ووجدته بحثا قيما يجدر بمن تصدى للحوار مع أهل الكتاب أن يستفيد منه وقد ذكر فيه مؤلفه -جزاه الله خيرا- مباحث مهمة استوقفني منها الشرط الأول من شروط المحاور المسلم ولوازمه وهو الأهلية وإعطاء الإسلام حقه من النصرة والبيان ومن لوازم هذا الشرط -كما ذكر-:

1- العلم والعدل.

2- معرفة ما ينكي وينجع في رد صيال الخصم وجداله.

3- الصدع بالحق والجهر به.

وقد علمت أنه أطلعه على عددٍ من المشايخ الفضلاء وطلاب العلم فاستحسنوه.

أسأل الله عز وجل أن يجزي الباحث خير الجزاء، وأن يرزقنا وإياه الإخلاص في أقوالنا وأعمالنا وأن ينصر جنده ويعلي كلمته إنه ولي ذلك والقادر عليه.

وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم

أقوال ابن تيمية وابن حزم منقولة من أصل البحث فليرجع إليها
যে ব্যক্তি এই প্রকারের জিহাদে অবতীর্ণ হতে চায়, তার জন্য একটি শরয়ি দৃষ্টিভঙ্গি থাকা কতই না প্রয়োজন, যা দিয়ে সে আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে তার জিহাদে সজ্জিত হবে। আমাদের সম্মানিত ও মহানুভব ভাই মুহাম্মদ বিন হুসাইন আল-সামদানি 'আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক ও সংলাপের বিষয়ে একটি শরয়ি দৃষ্টিভঙ্গি' শীর্ষক এই গবেষণাটি রচনার মাধ্যমে এই দৃষ্টিভঙ্গিটি স্পষ্ট করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আমি এটি পাঠ করেছি এবং একে একটি মূল্যবান গবেষণা হিসেবে পেয়েছি; আহলে কিতাবদের সাথে সংলাপে যারা লিপ্ত হন তাদের জন্য এখান থেকে উপকৃত হওয়া সমীচীন। এর লেখক —আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন— এতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোচনা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে মুসলিম সংলাপকারীর শর্তাবলি ও এর আবশ্যিক বিষয়সমূহ সংক্রান্ত প্রথম শর্তটি আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে; আর তা হলো ‘যোগ্যতা’ এবং ইসলামকে এর যথাযথ বিজয় ও সুস্পষ্ট বর্ণনার হক প্রদান করা। তার উল্লিখিত এই শর্তের আবশ্যিক বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:

1- জ্ঞান ও ন্যায়পরায়ণতা (عدل)।

2- প্রতিপক্ষের আক্রমণ ও বিতর্ক প্রতিহত করতে যা কার্যকর ও ফলপ্রসূ তা জানা।

3- সত্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা এবং তা উচ্চকণ্ঠে প্রচার করা।

আমি জানতে পেরেছি যে, তিনি এটি বেশ কয়েকজন বরেণ্য শায়খ এবং ইলম অন্বেষণকারীদের দেখিয়েছেন এবং তারা এর প্রশংসা করেছেন।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন গবেষককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন, আমাদের এবং তাকে আমাদের কথা ও কাজে ইখলাস দান করেন এবং তাঁর বাহিনীকে সাহায্য করেন ও তাঁর বাণীকে সমুন্নত করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।

আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইবনে হাজমের উক্তিগুলো মূল গবেষণা থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে, সুতরাং সেগুলোর জন্য যেন মূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين أمَّا بعد:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম সত্তার ওপর। অতঃপর:
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৬)
فإنَّ المواجهة مع أهل الكتاب قديمةٌ قِدمَ الإسلام بدءا بمظاهرة أهل الكتاب للمشركين بمكة على المؤمنين وقولهم: {هَؤُلَاءِ أَهْدَى مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا سَبِيلًا} [سورة النساء 4 / 51] ومرورا بالمعاهدات والمواثيق بعد الهجرة الشريفة وجدالهم بالمدينة النبوية وإقامة الحجة عليهم ودعوتهم للإسلام والتحاكم إلى القرآن ثم إجلاء بني النضير، ثم قتل أهل الغدر منهم كما في قصة بني قريظة بعد الأحزاب، ثم كانت خيبر، ثم إرسال الرسل وكتابة الكتب لملوكهم ودعوتهم للإسلام ثم كانت مؤتة ثم النفير لبني الأصفر في الشام فكانت تبوك حتى ((أنزل الله تعالى في ذلك أكثر سورة براءة وذمَّ الذين تخلفوا عن جهاد النصارى ذما عظيما. والذين لم يروا جهادهم طاعة جعلهم منافقين كافرين وقال لنبيه صلى الله عليه وسلم: {سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ} [سورة المنافقون 63 / 6] وقال تعالى: {وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ} [سورة التوبة 9 / 84] الآية. فإذا كان هذا حكم الله ورسوله فيمن تخلف عن جهادهم إذْ لم يره طاعة

বস্তুত আহলে কিতাবদের সাথে এই সংঘাত ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই প্রাচীন। মক্কায় মুমিনদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের প্রতি আহলে কিতাবদের প্রকাশ্য সমর্থন এবং তাদের এই উক্তি থেকে এর সূত্রপাত হয়: {এরা মুমিনদের তুলনায় অধিকতর সঠিক পথে পরিচালিত} [সূরা আন-নিসা ৪:৫১]। এরপর সম্মানিত হিজরতের পরবর্তী বিভিন্ন চুক্তি ও অঙ্গীকারনামা সম্পাদন, মদিনা নববীতে তাদের সাথে বিতর্ক, তাদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ (حجة) উপস্থাপন, তাদের ইসলামের প্রতি দাওয়াত এবং পবিত্র কোরআনের বিধানের দিকে আহ্বানের মধ্য দিয়ে তা চলতে থাকে। পরবর্তীতে বনু নাজির গোত্রকে বহিষ্কার এবং আহযাব (খন্দক) যুদ্ধের পর বনু কুরাইজা উপাখ্যানে বর্ণিত বিশ্বাসঘাতকদের দণ্ডদান করা হয়। এরপর খায়বার যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং তাদের রাজন্যবর্গের নিকট ইসলামের দাওয়াত দিয়ে দূত প্রেরণ ও পত্র লিখন শুরু হয়। এরপর মুতা যুদ্ধ এবং সিরিয়ায় বনু আসফারদের বিরুদ্ধে অভিযানের ডাক দিয়ে তাবুক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এমনকি মহান আল্লাহ এ প্রসঙ্গে সূরা বারাআহ-এর অধিকাংশ আয়াত নাজিল করেন এবং যারা খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে জিহাদে অংশগ্রহণ থেকে বিরত ছিল, তাদের কঠোর নিন্দা জ্ঞাপন করেন। আর যারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করাকে আনুগত্য (طاعة) বলে গণ্য করেনি, তিনি তাদের মুনাফিক ও কাফির হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: {আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা না করুন, উভয়ই তাদের জন্য সমান; আল্লাহ তাদের কখনোই ক্ষমা করবেন না} [সূরা আল-মুনাফিকুন ৬৩:৬]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তাদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার জন্য জানাজার সালাত পড়বেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না} [সূরা আত-তাওবাহ ৯:৮৪]। সুতরাং, যারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করাকে আনুগত্য (طاعة) মনে না করার কারণে তা থেকে পিছপা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে এই বিধান অবতীর্ণ হয়ে থাকে...

(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৭)
ولا رآه واجبا فكيف حكمه فيهم أنفسهم … )) (1) واستقبل بعد ذلك وفد نجران وطلب مباهلتهم فنكلوا ثم ختم جهاده صلى الله عليه وسلم مع أهل الكتاب قبل موته بعملين جليلين هما:

1- الأمر بإخراج اليهود والنصارى من جزيرة العرب.

2- إعداد العدة لجهاد النصارى.

وبعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم استخلف أبو بكر الصديق رضي الله عنه فكان أول عمل يعمله إمضاء غزو الروم وجهاد أهل الكتاب وتابعته الأمة على هذا العمل الجليل فكان الفاروق عمر وعثمان رضي الله عنهما فقامت سوق الإسلام ودخل الناس في دين الله أفواجا واستمر الأمر على ذلك مدة خلافة بني أمية وصدرا من خلافة بني العباس ثم خلفت خلوف تسلطت في زمنهم البدع على الرقاب وقامت سوق دولها.

--------------------------------------------

(1) الجواب الصحيح (1 / 301-302) . وانظر: الفتاوى (4 / 203-205) .
...এবং তিনি এটাকে আবশ্যক (واجب) মনে করেননি, তবে তাদের নিজেদের ব্যাপারে তাঁর হুকুম কেমন ছিল … )) (১) এরপর তিনি নাজরানের প্রতিনিধি দলকে গ্রহণ করেন এবং তাদের সাথে মুবাহালা (مباهلة) করার আহ্বান জানান, কিন্তু তারা তা হতে বিরত থাকল। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইন্তেকালের পূর্বে আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে তাঁর জিহাদকে দুটি মহান কাজের মাধ্যমে সমাপ্ত করেন, সেগুলো হলো:

১- আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বহিষ্কারের নির্দেশ।

২- খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে জিহাদের প্রস্তুতি গ্রহণ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খলিফা স্থলাভিষিক্ত হন। তাঁর সম্পাদিত প্রথম কাজ ছিল রোম অভিযান কার্যকর করা এবং আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনা করা। উম্মাহ এই মহান কাজে তাঁর অনুকরণ করে। এরপর ফারুক ওমর এবং উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর যুগ আসে, ফলে ইসলামের বাজার সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করে। উমাইয়া খিলাফতের পূর্ণ সময়কাল এবং আব্বাসীয় খিলাফতের শুরুর দিক পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত ছিল। এরপর এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরী প্রজন্মের উদ্ভব ঘটে যাদের সময়ে বিদআত (بدعة) জনজীবনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং বিদআতি রাষ্ট্রসমূহের দৌরাত্ম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

--------------------------------------------

(১) আল-জাওয়াবুস সহীহ (১ / ৩০১-৩০২)। এবং দেখুন: আল-ফাতাওয়া (৪ / ২০৩-২০৫)।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৮)
بنوبويه بدار الخلافة ببغداد والعبيدية القداحية اليهود ببلاد مصر وما حولها فتراجع حال أمة الإسلام في مواجهة أهل الكتاب واستمر الأمر في تراخٍ وإدبار حاشا ما كان من الطائفة المنصورة القائمة بحجة الله في أرضه. وقد صوَّرَ ابن السبكي حال العلماء في عصره - القرن الثامن - بقوله: (( … فقل لهؤلاء المتعصبين في الفروع: ويحكم ذروا التعصب ودعوا عنكم هذه الأهوية ودافعوا عن دين الإسلام وشمروا عن ساق الاجتهاد في حسم مادة من يسب الشيخين أبا بكر وعمر رضي الله عنهما ويقذف أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها التي نزل القرآن ببرائتها وغضب الرب تعالى لها حتى كادت السماء تقع على الأرض ومن يطعن في القرآن وصفات الرحمن فالجهاد في هؤلاء واجب فهلا شغلتم أنفسكم به!)) .

ثم قال: (( … ويا أيها الناس بينكم اليهود والنصارى قد ملأوا بقاع البلاد فمن الذي انتصب منكم للبحث معهم والاعتناء بإرشادهم بل هؤلاء أهل الذمة في البلاد الإسلامية تتركونهم هملا تستخدمونهم وتستطبونهم ولا نرى منكم فقيها يجلس مع ذمي ساعة واحدة يبحث معه في أصول الدين لعل الله تعالى يهديه على يديه.
বাগদাদে খিলাফতের কেন্দ্রে বনু বুওয়াইহ এবং মিশরের ভূখণ্ড ও তার আশপাশে উবাইদিয়া কাদ্দাহিয়্যাহ ইহুদিদের আধিপত্যের ফলে আহলে কিতাবদের মোকাবেলায় ইসলামি উম্মাহর অবস্থার অবনতি ঘটে। আল্লাহর যমীনে তাঁর দলিল (حجة الله) নিয়ে দণ্ডায়মান সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة) ব্যতীত সামগ্রিক বিষয়ে শিথিলতা ও পশ্চাদপসরণ অব্যাহত থাকে। ইবনে আল-সুবকি তাঁর সমসাময়িক—অষ্টম শতাব্দীর—আলেমদের অবস্থার চিত্রায়ন করে বলেছেন: (( … শাখাগত মাসায়েলের (الفروع) ক্ষেত্রে এই গোঁড়ামিতে লিপ্ত ব্যক্তিদের বলো: তোমাদের জন্য দুর্ভোগ! গোঁড়ামি বর্জন করো এবং এই খেয়ালখুশিগুলো পরিহার করো। ইসলাম ধর্মকে রক্ষা করো এবং শায়খাইন—আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)—কে গালি দেওয়া এবং উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)—যাঁর পবিত্রতার সাক্ষ্যে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং যাঁর সম্মানে মহান রব রাগান্বিত হয়েছেন এমনকি আকাশ জমিনের ওপর ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছিল—তাঁকে অপবাদ প্রদানকারীদের মূলোৎপাটন করার জন্য ইজতিহাদের (الاجتهاد) কোমর বেঁধে প্রস্তুত হও। আর যারা কুরআন এবং রহমানের গুণাবলি (صفات) নিয়ে কটাক্ষ করে, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা আবশ্যক (واجب); তোমরা কেন নিজেদের এই কাজে নিয়োজিত করছ না!)) .

অতঃপর তিনি বলেন: (( … হে লোকসকল! তোমাদের মাঝে ইহুদি ও নাসারারা অবস্থান করছে, তারা দেশের আনাচে-কানাচে পূর্ণ হয়ে আছে। তোমাদের মধ্যে কে আছে যে তাদের সাথে আলোচনার জন্য দণ্ডায়মান হয়েছে এবং তাদের পথপ্রদর্শনের ব্যাপারে যত্নবান হয়েছে? বরং এই জিম্মিরা (أهل الذمة) যারা ইসলামি জনপদে রয়েছে, তোমরা তাদের অবহেলায় ফেলে রেখেছ; তোমরা তাদের সেবক হিসেবে ব্যবহার করো এবং তাদের দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করো, অথচ আমরা তোমাদের মধ্য থেকে কোনো ফকিহকে (فقيه) দেখি না যে একজন জিম্মির (ذمي) সাথে এক ঘণ্টা বসে দীনের মূলনীতি (أصول الدين) নিয়ে আলোচনা করবে, যাতে সম্ভবত আল্লাহ তাআলা তোমাদের মাধ্যমে তাকে হিদায়েত দান করেন।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৯)
وكان من فروض الكفايات ومهمات الدين أن تصرفوا بعض هممكم إلى هذا النوع فمن القبائح أن بلادنا ملأى من علماء الإسلام ولا نرى فيها ذميا دعاه إلى الإسلام مناظرة عالم من علمائنا بل إنما يسلم من يسلم إما لأمر من الله تعالى لا مدخل لأحد فيه أو لغرض دنيوي … ثم ليت من يسلم من هؤلاء يرى فقيها يمسكه ويحدثه ويعرفه دين الإسلام لينشرح صدره لما دخل فيه بل والله يتركونه هملا لا يدرى ما باطنه: هل هو كما يظهر من الإسلام أو كما كان عليه من الكفر لأنهم لم يُرووه من الآيات والبراهين ما يشرح صدره فيا أيها العلماء في مثل هذا فاجتهدوا وتعصبوا … )) . (1)

وبهذا ومثله تكالب الأعداء وتسلط أهل الكتاب على رقاب المسلمين في ديارهم فكانوا هم الجباة والصيارفة وهم الوزراء والصيادلة وهم المتصرفون في الأموال والأبدان بالحساب والطب وهذا كثير في كتب التاريخ والسير. (2)

--------------------------------------------

(1) معيد النعم ومبيد النقم (ص 75- 76) .

(2) انظر على سبيل المثال: الحضارة الإسلامية في القرن الرابع الهجري لآدم ميتز (1 / 75-118) ، ومن روائع حضارتنا للسباعي (86 -91) ، والحوادث الجامعة المنسوب لابن الطوفي (38- 40) . وهذا الدردير الفقيه المالكي يقول عن ملوك مصر وتمكينهم للنصارى من إحداث ما يريدون: «..وملوك مصر لضعف إيمانهم قد مكنوهم من ذلك، ولم يقدر عالم على الإنكار إلا بقلبه أو بلسانه لا بيده، وزاد أمراء الزمان أن أعزوهم، وعلى المسلمين رفعوهم، ويا ليت المسلمين عندهم كمعشار أهل الذمة، وترى المسلمين كثيرا ما يقولون: ليت الأمراء يضربون علينا الجزية كالنصارى واليهود ويتركونا بعد ذلك كما تركوهم، و» سيعلم الذين ظلموا أي منقلب ينقلبون «..» أهـ. (الشرح الصغير على مختصر خليل مطبوع بحاشية بلغة السالك للصاوي: 1 / 369) . وقبله قال بعض شعراء مصر (حسن المحاضرة: 1 / 201) : يهودُ هذا الزمان قد بَلَغوا غايةَ آمالهم وقد ملكوا العِزُّ فيهم والمالُ عندهم ومنهم المستشارُ والملكُ يا أهلَ مصر إني نصحتُ لكم تهودوا قد تهودَ الفلكُ
এবং এটি সমষ্টিগত আবশ্যিক দায়িত্ব (فرض الكفاية) ও দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত ছিল যে, আপনারা আপনাদের সংকল্পের কিছু অংশ এই বিষয়ের প্রতি ব্যয় করবেন। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, আমাদের দেশসমূহ ইসলামী আলেমদের দ্বারা পরিপূর্ণ, অথচ আমরা সেখানে এমন কোনো জিম্মি (ذمي)-কে দেখি না যাকে আমাদের কোনো আলেমের তাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। বরং যারা ইসলাম গ্রহণ করে, তারা হয় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশের কারণে করে যাতে অন্য কারও কোনো হাত নেই, অথবা কোনো পার্থিব উদ্দেশ্যে করে … এরপর আফসোস! তাদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করে, তারা যদি এমন কোনো ফকিহ (فقيه)-কে পেত যিনি তাকে আগলে রাখতেন, তার সাথে কথা বলতেন এবং তাকে ইসলাম দ্বীন সম্পর্কে জানাতেন যাতে সে যে দ্বীনে প্রবেশ করেছে তার জন্য তার বক্ষ প্রশান্ত হয়। কিন্তু আল্লাহর কসম, তারা তাকে অবহেলিত অবস্থায় ছেড়ে দেয় এবং তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না: সে কি বাহ্যিকভাবে যেমন ইসলাম প্রকাশ করছে তেমনই আছে, নাকি আগের কুফরির ওপরই রয়ে গেছে? কারণ তারা তাকে এমন কোনো নিদর্শন বা প্রমাণাদি দেখায়নি যা তার বক্ষকে প্রশান্ত করে। সুতরাং হে আলেম সমাজ, এই জাতীয় বিষয়ে আপনারা সচেষ্ট হোন এবং একনিষ্ঠ হোন … ))। (১)

এর কারণে এবং এই জাতীয় পরিস্থিতির ফলেই শত্রুরা হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং আহলে কিতাব (أهل الكتاب)-রা মুসলিমদের ভূখণ্ডে তাদের ওপর কর্তৃত্বশীল হয়েছে। ফলে তারাই ছিল কর সংগ্রাহক ও মুদ্রা বিনিময়কারী, তারাই ছিল মন্ত্রী ও ঔষধ প্রস্তুতকারক, এবং তারাই ছিল হিসাবরক্ষণ ও চিকিৎসার মাধ্যমে অর্থ ও জানমালের পরিচালক। ইতিহাস ও সিরাত গ্রন্থসমূহে এমন ঘটনার প্রচুর বিবরণ রয়েছে। (২)

--------------------------------------------

(১) মুইদুন নিয়াম ওয়া মুবিদুন নিকাম (পৃ. ৭৫-৭৬)।

(২) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: আদাম মেজ রচিত আল-হাদারাতুল ইসলামিয়্যাহ ফিল কারনিল রাবে আল-হিজরি (১ / ৭৫-১১৮), সিবায়ি রচিত মিন রাওয়াই হাদারাতিনা (৮৬-৯১), এবং ইবনুল তূফী-র দিকে নিসবতকৃত আল-হাওয়াদিসুল জামিআহ (৩৮-৪০)। মালেকি ফকিহ (فقيه) আদ-দারদীর মিসরের বাদশাহদের সম্পর্কে এবং তারা খ্রিস্টানদেরকে তাদের ইচ্ছামতো কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন: «..মিসরের বাদশাহগণ তাদের ঈমানের দুর্বলতার কারণে তাদেরকে এই সুযোগ করে দিয়েছেন। কোনো আলেমই তার হাত দিয়ে এটি প্রতিরোধ করার সামর্থ্য রাখেননি, কেবল তার অন্তর দিয়ে বা জিহ্বা দিয়ে পেরেছেন। আর সমসাময়িক আমিরগণ তাদের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করেছেন এবং মুসলিমদের ওপর তাদেরকে প্রাধান্য দিয়েছেন। হায়! মুসলিমরা যদি তাদের কাছে জিম্মিদের দশভাগের একভাগ মর্যাদাও পেত! অনেক সময় মুসলিমদের বলতে দেখা যায়: হায়! আমিরগণ যদি খ্রিস্টান ও ইহুদিদের মতো আমাদের ওপরও জিজিয়া (جزية) ধার্য করতেন এবং এরপর আমাদেরকেও তাদের মতো স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিতেন। আর 'অচিরেই জালেমরা জানতে পারবে তারা কোন প্রত্যাবর্তনস্থলে ফিরে যাবে'..» সমাপ্ত। (সাউয়ির বুলগাতুস সালিক-এর হাশিয়া সহ মুদ্রিত মুখতাসার খলিল-এর ব্যাখ্যা আশ-শারহুস সাগির: ১ / ৩৬৯)। তার আগে মিসরের জনৈক কবি বলেছিলেন (হুসনুল মুহাদারা: ১ / ২০১): 'বর্তমান যুগের ইহুদিরা তাদের আকাঙ্ক্ষার চরম সীমায় পৌঁছেছে এবং তারা রাজত্ব লাভ করেছে। মর্যাদা তাদের মধ্যে এবং সম্পদ তাদের কাছেই বিদ্যমান, আর তাদের মধ্য থেকেই পরামর্শদাতা ও রাজা নিযুক্ত হয়। হে মিসরবাসী, আমি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি যে তোমরা ইহুদি হয়ে যাও, কারণ এই কালচক্রও এখন ইহুদি হয়ে গেছে।'
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১০)
وازداد المرض في أمة الإسلام واتسع الخرق على الراقع إلا بقايا من أهل العلم والذكر سجل التاريخ لنا ردودهم على أهل الكتاب. ولما كان المرض موجودا في بعض طبقات العلماء فإنَّ شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى لم يعدم أن يقال في ردوده على الرافضة في "منهاج السنة النبوية" وعلى النصارى في "الجواب الصحيح" أنها من قبيل تضييع الزمان!! … هذا خليل بن أيبك الصفدي يقول في شيخ الإسلام ابن تيمية: (( … وضيع الزمان في رده على النصارى والرافضة ومن عاند الدين وناقضه ولو تصدى لشرح البخاري أو لتفسير القرآن العظيم لقلد أعناق أهل العلوم بدر كلامه النظيم)) . (1)

--------------------------------------------

(1) الجامع لسيرة شيخ الإسلام ابن تيمية (ص 287) .
ইসলামি উম্মাহর মধ্যে ব্যাধি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিপর্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা মেরামত করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে; তবে আলেম এবং জিকিরকারীদের কিছু অবশিষ্টাংশ ব্যতীত, ইতিহাস যাদের আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে দেওয়া খণ্ডনমূলক জবাবগুলো আমাদের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছে। যেহেতু এই ব্যাধি আলেমদের কোনো কোনো স্তরের মধ্যেও বিদ্যমান ছিল, তাই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ)-এর ক্ষেত্রেও এ কথা বলা থেকে ক্ষান্ত হওয়া হয়নি যে, রাফেজিদের বিরুদ্ধে "মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববীয়া" গ্রন্থে এবং খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে "আল-জওয়াবুস সহিহ" গ্রন্থে তাঁর দেওয়া খণ্ডনগুলো ছিল সময়ের অপচয় মাত্র!! … এই তো খলিল ইবনে আইবাক আস-সাফাদি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া সম্পর্কে বলেন: (( … তিনি খ্রিস্টান, রাফেজি এবং যারা দ্বীনের বিরুদ্ধাচরণ ও বিরোধিতা করেছে তাদের জবাব দিতে গিয়ে সময় অপচয় করেছেন; অথচ তিনি যদি বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনায় কিংবা মহান কুরআনের তাফসিরে মনোনিবেশ করতেন, তবে তাঁর সুশৃঙ্খল বাক্যের মুক্তামালা দ্বারা বিদ্বানদের কণ্ঠদেশ অলঙ্কৃত হতো))। (১)

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি-সিরাত শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (পৃ. ২৮৭)।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১১)
ولما كان الحال كذلك منذ مدد متطاولة واستيقظ الناس على انحلال أمر الخلافة بسقوط دولة بني عثمان وتفرق الأمة وتنازعها ورأوا استيلاء النصارى على الديار والعباد تباين الناس في كيفية التعامل مع هذا الواقع المؤلم فمنهم من ساير خطاب ما يسمى بتيار الإصلاح الذي ظهر في أواخر عهد الدولة العثمانية كجمال الدين الأفغاني ومحمد عبده ومدرستهما ومنهم من اجتر الطريقة المغروسة في جسد الأمة والتي لا تحتاج إلى مزيد تعريف ولا كثير بيان وهي مواصلة الانغلاق على النفس وترك العدو والاشتغال به لا دعوة وإرشادا ولا ردا على شبهاته وجهادا (1) … ولهذا صحَّ أن يقال ( … كثير من علماء أهل السنة وطلبة العلم من محبي شيخ الإسلام لا يكادون يتجاوزون كلامه في الفقه والتفسير والحديث إلى ما كتبه في الرد على الفلاسفة والمناطقة وأهل الكتاب والمتكلمين وإنما ظهر الاهتمام بهذه المخالفات منذ زمن قريب على يد طلاب الدراسات العليا في الجامعات … )) . (2) وقال الشيخ العلامة محمد بن عثيمين رحمه الله تعالى مصورا لشيء من ذلك الحال: ( … وكنا قبل هذا الوقت نقول: لا حاجة لقراءة ((الجهاد)) ؛ لأنه لا يوجد جهاد ولا لقراءة أحكام أهل الذمة؛ لأنهم غير

--------------------------------------------

(1) لا يدعى إلى اشتغال سائر أهل العلم بذلك، فإنَّ هذا من المتعذر، و (لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا) ، ولكن لا بد من تقرر ذلك وأنَّه من دين الإسلام.

(2) من مقدمة الشيخ سفر الحوالي لكتاب (قدم العالم وتسلسل الحوادث لكاملة الكواري) (ص 19) حاشية رقم (2)
যহেতু দীর্ঘকাল ধরে পরিস্থিতি এমনই ছিল এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের ফলে খিলাফতের বিলুপ্তি, উম্মাহর বিচ্ছিন্নতা ও পারস্পরিক বিবাদের প্রেক্ষাপটে মানুষ সচেতন হলো এবং তারা ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর খ্রিস্টানদের আধিপত্য প্রত্যক্ষ করল, তখন এই বেদনাদায়ক বাস্তবতার মোকাবিলায় মানুষের কর্মপদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তথাকথিত ‘সংস্কারবাদী ধারা’র বক্তব্যের অনুসারী হলো, যা উসমানীয় শাসনের শেষ দিকে জামালুদ্দিন আফগানি, মুহাম্মদ আবদু এবং তাদের ঘরানার মাধ্যমে আবির্ভূত হয়েছিল। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ উম্মাহর দেহে প্রোথিত সেই পদ্ধতিই আঁকড়ে ধরল, যার নতুন করে কোনো পরিচিতি বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই; আর তা হলো—নিজেদের গুটিয়ে রাখা এবং শত্রুকে বর্জন করা; দাওয়াত ও নির্দেশনার মাধ্যমে কিংবা তাদের সংশয় নিরসন ও জিহাদের মাধ্যমে তাদের সাথে কোনো প্রকার সম্পৃক্ত না হওয়া (১) … একারণেই এটি বলা সঠিক (صح) যে, ( … আহলে সুন্নাহর অনেক আলেম এবং শায়খুল ইসলামের অনুরাগী ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্থীরা ফিকহ, তাফসির ও হাদিস শাস্ত্রে তাঁর আলোচনার বাইরে গিয়ে দার্শনিক, যুক্তিবিদ, আহলে কিতাব এবং কালামতাত্ত্বিকদের (متكلمين) খণ্ডনে তিনি যা লিখেছেন, সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না। মূলত সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষণারত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেই এই বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করা শুরু হয়েছে … ))। (২) এবং শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ বিন উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) সেই পরিস্থিতির কিছুটা চিত্রায়ন করে বলেছেন: ( … আমরা এই সময়ের আগে বলতাম: ‘জিহাদ’ অধ্যায় পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই; কারণ বর্তমানে কোনো জিহাদ নেই। এমনকি ‘আহলে জিম্মি’র বিধানাবলি পড়ারও প্রয়োজন নেই; কারণ তারা বিদ্যমান নেই...

--------------------------------------------

(১) সকল আলেমকে এর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে না, কারণ এটি দুঃসাধ্য, আর (আল্লাহ কোনো প্রাণ সত্তাকে তার সাধ্যের বাইরে কষ্ট দেন না); তবে এটি সুনিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন যে, এটি দ্বীন ইসলামেরই অংশ।

(২) কামিলা আল-কুওয়ারি রচিত ‘কাদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস’ গ্রন্থে শায়খ সাফার আল-হাওয়ালি প্রদত্ত ভূমিকা (পৃ. ১৯) থেকে সংগৃহীত, টীকা নং (২)।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১২)
موجودين عندنا. أما الآن فلا بد لطلبة العلم من أن يقرؤوا ويحققوا أحكام الجهاد وأحكام أهل الذمة وسائر الكفار لأنه في هذا الوقت انفتحت جبهات للجهاد - ولله الحمد - في سبيل الله وأما الكفار فقد ابتلينا بهم وكثروا بيننا لا كثَّرهم الله فالواجب أن نعرف كيف نعامل هؤلاء الكفار … ) . أهـ. (1)

وبقيت أمة من الناس تهدي بالحق وبه تعدل لا يضرها من خالفها ولا من خذلها وهم الذين سكبوا في أقلامهم مداد الوحي فنشروا حجج الله وبيناته في الخلق. وقد أثنى ابن القيم رحمه الله تعالى على ((قلمهم)) وسماه بـ ((القلم الجامع)) وقال فيه: ((القلم الثاني عشر: القلم الجامع وهو قلم الرد على المبطلين ورفع سنة المحقين وكشف أباطيل المبطلين على اختلاف أنواعها وأجناسها وبيان تناقضهم وتهافتهم وخروجهم عن الحق ودخولهم في الباطل. وهذا القلم في الأقلام نظير الملوك في الأنام وأصحابه أهل الحجة الناصرون لما جاءت به الرسل المحاربون لأعدائهم وهم الداعون إلى الله بالحكمة والموعظة الحسنة المجادلون لمن خرج عن سبيله بأنواع الجدال. وأصحاب هذا القلم حربٌ لكل مبطلٍ وعدو مخالف للرسل فهم في شأن وغيرهم من أصحاب الأقلام في شأن)) (2) أهـ.

--------------------------------------------

(1) الشرح الممتع (8 / 91-92)

(2) التبيان في أقسام القرآن (131-132) .
...আমাদের নিকট বিদ্যমান রয়েছেন। তবে বর্তমানে তালিবে ইলমদের জন্য জিহাদের বিধান, জিম্মিদের (أهل الذمة) বিধান এবং অন্যান্য কাফিরদের আহকামসমূহ পাঠ করা ও তা যাচাই-বাছাই করা অপরিহার্য; কারণ বর্তমানে আল্লাহর পথে জিহাদের বহু ময়দান উন্মোচিত হয়েছে—সকল প্রশংসা আল্লাহর—আর কাফিরদের দ্বারা আমরা পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছি এবং আমাদের মাঝে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে—আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি না করুন। সুতরাং এই কাফিরদের সাথে আমাদের আচরণ কেমন হবে তা জানা আবশ্যক … ) । সমাপ্ত। (১)

এবং মানুষের মাঝে এমন একটি দল অবশিষ্ট আছে যারা সত্যের পথ দেখায় এবং তার মাধ্যমেই ইনসাফ কায়েম করে। যারা তাদের বিরোধিতা করে কিংবা যারা তাদের পরিত্যাগ করে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে পারে না। তারাই সেই ব্যক্তি যারা তাদের কলমে ওহীর কালি ঢেলে দিয়েছেন এবং সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর দলিল ও নিদর্শনসমূহ প্রচার করেছেন। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাদের 'কলম' এর প্রশংসা করেছেন এবং একে 'সমন্বিত কলম' (القلم الجامع) নামে অভিহিত করেছেন। তিনি এ সম্পর্কে বলেছেন: "দ্বাদশ কলম: এটি হলো সমন্বিত কলম (القلم الجامع), যা বাতিলপন্থীদের খণ্ডন করার, সত্যপন্থীদের সুন্নাহ (سنة) সমুন্নত করার এবং বাতিলপন্থীদের সকল প্রকার ও ধরনের অসারতাকে উন্মোচন করার কলম। পাশাপাশি তাদের বৈপরীত্য, অসারতা এবং সত্য থেকে বিচ্যুতি ও বাতিলের মধ্যে নিমজ্জিত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করার কলম। কলমসমূহের মাঝে এই কলমটির উপমা হলো মানুষের মাঝে রাজাদের ন্যায়। আর এই কলমের অধিকারীরা হলেন দলিলের অনুসারী (أهل الحجة), যারা রাসুলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার সাহায্যকারী এবং তাঁদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সংগ্রামকারী। তারা হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এবং যারা তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের সাথে বিভিন্ন পদ্ধতিতে বিতর্ককারী। এই কলমের অধিকারীরা প্রত্যেক বাতিলপন্থীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং তারা রাসুলগণের বিরোধীদের শত্রু। সুতরাং তারা এক অনন্য মর্যাদায় আসীন, আর অন্যান্য কলমধারীদের অবস্থান ভিন্নতর।" (২) সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) আশ-শারহুল মুমতি (৮ / ৯১-৯২)

(২) আত-তিবইয়ান ফি আকসামিল কুরআন (১৩১-১৩২) ।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
ولما كانت الحاجة ماسة لبحث هذا الموضوع خاصة في مثل هذه الأزمان التي للكفر فيها جولة بالسنان وصولة بالحجج الباطلة والأدلة الفاسدة كان من المتعين التنبيه على ما يتعلق بأحكام ((الجدال والحوار مع أهل الكتاب)) وما يتعلق به من ألفاظ ومصطلحات حادثة وذلك بتقرير حكم الجدال مع أهل الكتاب في الشرع وما يتعلق به على وجه الاختصار.

وهو أمر سهل التحرير لوضوحه في الكتاب والسنة ومنهج الأئمة الأعلام لكنَّ البيئة التي ينشأ فيها المرء ربما جعلته يظن أن هذا ليس من دين الإسلام خاصة إذا غُذيَ ذلك بما يرى ويرى عن الدعوات المشبوهة لإقامة الحوارات الحضارية ودعوات التعايش والسلم المدني ونحو ذلك.

وقد اشتمل البحث - في اختصار - على: مقدمة وتمهيد وفصلين ثم خاتمة. وذلك على النحو الآتي:

المقدمة: اشتملت على عرض مختصر للموضوع والسبب الداعي للكتابة فيه.

أما التمهيد فتضمن أربعة مباحث:

المبحث الأول: تعريف الحوار والجدل في اللغة والاصطلاح.

المبحث الثاني: أنواع المنكرين لمجادلة أهل الكتاب.

المبحث الثالث: أنواع المجادِلين لأهل الكتاب.

المبحث الرابع: أنواع المجادَلين من أهل الكتاب.
যেহেতু এই বিষয়টির গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যেখানে কুফরের জন্য অস্ত্রের মাধ্যমে আস্ফালন এবং মিথ্যা যুক্তি ও অসার প্রমাণের মাধ্যমে দাপট প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তাই আহলুল কিতাব (أهل الكتاب)-দের সাথে বিতর্ক (جدل) ও সংলাপ (حوار) সংক্রান্ত বিধান এবং এ সংশ্লিষ্ট নতুন উদ্ভাবিত শব্দ ও পরিভাষাগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এটি শরিয়াহর আলোকে আহলুল কিতাব (أهل الكتاب)-দের সাথে বিতর্কের বিধান এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী সংক্ষেপে পর্যালোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে।

কুরআন, সুন্নাহ এবং বরেণ্য ইমামগণের মানহাজ (منهج) বা কর্মপদ্ধতিতে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট হওয়ার কারণে এর সংকলন ও বিন্যাস করা সহজ। তবে মানুষ যে পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তা সম্ভবত তাকে এমন ধারণা দিতে পারে যে এটি ইসলাম ধর্মের অংশ নয়; বিশেষ করে যখন সে সভ্যতাভিত্তিক সংলাপ, সহাবস্থান এবং নাগরিক শান্তির মতো নানা সন্দেহজনক আহ্বানের প্রচার-প্রচারণা দ্বারা প্রভাবিত হয়।

গবেষণাটি সংক্ষেপে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত। এটি নিম্নরূপ:

ভূমিকা: এতে বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত উপস্থাপন এবং এটি রচনার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে।

উপক্রমণিকাটি চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে সংলাপ (حوار) এবং বিতর্ক (جدل)-এর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যারা আহলুল কিতাব (أهل الكتاب)-দের সাথে বিতর্কের বিরোধিতা করে তাদের প্রকারভেদ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আহলুল কিতাব (أهل الكتاب)-দের সাথে যারা বিতর্ক (جدل) করে তাদের প্রকারভেদ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আহলুল কিতাব (أهل الكتاب)-দের মধ্যে যাদের সাথে বিতর্ক (جدل) করা হয় তাদের প্রকারভেদ।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
وأما الفصل الأول فكان في: مشروعية مجادلة أهل الكتاب من القرآن والسنة وفيه:

المبحث الأول: الأدلة من القرآن.

المبحث الثاني: الأدلة من السنة.

المبحث الثالث: حكم جدال وحوار أهل الكتاب.

ثم يأتي الفصل الثاني وجعلته في: شروط الحوار والجدال مع أهل الكتاب وتضمن ثلاثة مباحث هي: المبحث الأول: الشروط الواجب توفرها في المحاور المسلم.

المبحث الثاني: شروط المحاور الكتابي.

المبحث الثالث: موضوعات الحوار والجدال مع أهل الكتاب.

ثم كانت الخاتمة.

ونسأل الله أن يلهمنا الرشد ويرزقنا حسن القصد وأن يجعلنا من القائلين بعلم وعدل وأن يعصمنا بالورع وهو حسبنا ونعم الوكيل.
আর প্রথম পরিচ্ছেদটি ছিল: কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্কের বৈধতা প্রসঙ্গে এবং এতে রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: কুরআন থেকে প্রমাণাদি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সুন্নাহ থেকে প্রমাণাদি।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক ও সংলাপের বিধান (حكم)।

অতঃপর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ আসে এবং আমি একে নির্ধারণ করেছি: আহলে কিতাবদের সাথে সংলাপ ও বিতর্কের শর্তাবলী বিষয়ে, যা তিনটি অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে; সেগুলো হলো: প্রথম অনুচ্ছেদ: মুসলিম সংলাপকারীর মাঝে যে শর্তাবলী থাকা আবশ্যক।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কিতাবি সংলাপকারীর শর্তাবলী।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আহলে কিতাবদের সাথে সংলাপ ও বিতর্কের বিষয়বস্তুসমূহ।

অতঃপর ছিল উপসংহার।

আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, আমাদের উত্তম সংকল্প নসিব করেন, আমাদের জ্ঞান ও ন্যায়ের সাথে কথা বলা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং পরহেজগারি (ورع) দ্বারা আমাদের রক্ষা করেন; আর তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌التمهيد

المبحث الأول: الحوار والجدل في اللغة والاصطلاح:

‌‌أولا: الحوار والجدل في اللغة:

الحوار في اللغة ((تراجع الكلام)) . (1) وفي ((لسان العرب)) : ((وهم يتحاورون أي: يتراجعون الكلام. والمحاورة: مراجعة المنطق والكلام في المخاطبة)) . (2)

أما الجدل: فقال ابن فارس: ((الجيم والدال واللام أصل واحد وهو من باب استحكام الشيء في استرسال يكون فيه وامتداد الخصومة ومراجعة الكلام)) . (3)

--------------------------------------------

(1) انظر: تاج العروس (3 / 162) ، ومعجم مقاييس اللغة (2 / 117) .

(2) لسان العرب (4 / 218)

(3) معجم مقاييس اللغة (1 / 433) ، وصحَّحَ ابن فارس في «حلية الفقهاء» أنه مأخوذ من «جدلت الحبل» . (ص 12) .
‌‌প্রারম্ভিকা

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সংলাপ ও বিতর্ক:

‌‌প্রথমত: আভিধানিক অর্থে সংলাপ ও বিতর্ক:

আভিধানিক অর্থে সংলাপ হলো ‘কথার আদান-প্রদান’। (১) ‘লিসানুল আরব’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ‘তারা পরস্পর সংলাপ করছে অর্থাৎ তারা কথা বিনিময় করছে। আর মুহাওয়ারা হলো কথোপকথনের সময় যুক্তি ও বাক্যের আদান-প্রদান’। (২)

পক্ষান্তরে বিতর্ক প্রসঙ্গে ইবনে ফারিস বলেছেন: ‘জীম, দাল ও লাম—এই তিনটি বর্ণ একটি মূল অর্থ প্রদান করে; যা মূলত কোনো বিষয়ের সাবলীল প্রসারের মধ্যে দৃঢ়তা আনয়ন করা এবং বিবাদের দীর্ঘসূত্রতা ও বাদানুবাদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়’। (৩)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাজুল আরুস (৩/১৬২) এবং মুজাম মাকায়িস আল-লুগাহ (২/১১৭)।

(২) লিসানুল আরব (৪/২১৮)

(৩) মুজাম মাকায়িস আল-লুগাহ (১/৪৩৩)। ইবনে ফারিস ‘হিলইয়াতুল ফুকাহা’ গ্রন্থে একে সঠিক (صحَّحَ) হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, এটি ‘আমি রশিটি মজবুত করে পাকিয়েছি’ বাক্যটি থেকে গৃহীত। (পৃষ্ঠা ১২)।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌ثانيا: الحوار والجدل في الاصطلاح:

الحوار في الاصطلاح: هو بنفس المعنى اللغوي السابق فهو إذا: مراجعة للكلام بين طرفين أو أكثر دون وجود خصومة بينهم بالضرورة. (1)

أما الجدل: فكما يعرفه الجويني هو: ((إظهار المتنازعين مقتضى نظرتهما على التدافع والتنافي بالعبارة أو ما يقوم مقامهما من الإشارة والدلالة)) (2) أهـ.

وتوجد ألفاظ قريبة من الحوار والجدال منها: المحاجة والمناظرة والمناقشة والمباحثة.

وبحثنا سيدور حول الجدال مع أهل الكتاب لا مع عموم الكفار والمشركين.

--------------------------------------------

(1) أصول الحوار، نشر الندوة العالمية (ص 9) .

(2) الكافية في الجدل للجويني (ص 21) ، ولهم فيه تعاريف كثيرة، أدقها وأضبطها كما يقول الدكتور عثمان بن علي حسن تعريف الجويني. انظر: «منهج الجدل والمناظرة» (1 / 27) .
দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক সংজ্ঞায় (اصطلاح) সংলাপ (الحوار) ও বিতর্ক (الجدل):

পারিভাষিক সংজ্ঞায় (اصطلاح) সংলাপ (الحوار): এটি ইতিপূর্বে উল্লিখিত শাব্দিক অর্থের অনুরূপ। সুতরাং এটি হলো: দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক কথোপকথন, যেখানে তাদের মধ্যে আবশ্যিকভাবে কোনো শত্রুতা থাকা জরুরি নয়। (১)

আর বিতর্ক (الجدل) প্রসঙ্গে: ইমাম জুওয়াইনী এর যে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন তা হলো: ((কথ্য বাক্য কিংবা এর স্থলাভিষিক্ত ইঙ্গিত ও নির্দেশনার মাধ্যমে দুই বিবাদমান পক্ষের নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গির দাবি অনুযায়ী একে অপরকে প্রতিহত ও নাকচ করার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো)) (২) সমাপ্ত।

সংলাপ (الحوار) ও বিতর্ক (الجدال) এর নিকটবর্তী আরও কিছু শব্দ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: যুক্তিপ্রদর্শন (المحاجة), মুনাযারা (المناظرة), আলোচনা (المناقشة) এবং অনুসন্ধান (المباحثة)।

আমাদের এই আলোচনা আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্কের (الجدال) বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে, সাধারণ কাফির ও মুশরিকদের সাথে নয়।

--------------------------------------------

(১) উসুল আল-হাওয়ার, নাশর আন-নাদওয়াহ আল-আলামিয়্যাহ (পৃ. ৯)।

(২) আল-কাফিয়াহ ফি আল-জাদাল লি-জুওয়াইনী (পৃ. ২১); এ বিষয়ে আলেমদের আরও অনেক সংজ্ঞা রয়েছে, তবে ডক্টর উসমান বিন আলী হাসানের মতে ইমাম জুওয়াইনীর সংজ্ঞাটিই সবচেয়ে বেশি সূক্ষ্ম ও সুসংহত। দেখুন: 'মানহাজ আল-জাদাল ওয়া আল-মুনাযারা' (১ / ২৭)।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المبحث الثاني: أنواع المنكرين للجدال مع أهل الكتاب:

رأينا في المقدمة أن هناك إعراضا من بعض المنتسبين للعلم عن دعوة ومواجهة أهل الكتاب. ودعا إلى ذلك جملة أسباب منها:

1- الركون إلى انتشار الإسلام.

2- أن الأصل في ذلك أنه من باب فروض الكفاية.

3- الاشتغال بالفروع الفقهية والتعصبات المذهبية وحصر جانب الجدال في باب المذاهب الفقهية الأربعة أو بين المعتزلة والأشاعرة أو أهل الكلام والفلاسفة.

وقد مرت فترات بالأمة ظهر فيها اشتغال مجرد بالعلم من قبل الطلبة وأهل العلم وهو اشتغال على مستوى الكتب والدراسة دون معرفة الواقع الذي يحتاج في كثير من مسائله إلى تفصيل وقول بعلم وعدل.

ولئن كانت تلك جملة من الأسباب التي منعت طوائف من أمة الإسلام عن الاشتغال بالرد على أهل الكتاب أو الحوار معهم فإنَّ هناك طوائف رأتْ أنَّ الباب يجب أنْ يغلق والنافذة يجب أن تسد فأنكرت الاشتغال بالرد عليهم من باب الشرع الذي دعاهم للقيام بالجدال والدعوة للإسلام!

فما هي أهم شبه هؤلاء وما هي أهم مرتكزاتهم؟

الشبهة الأولى: منع الجدال مع أهل الكتاب بناءً على ظهور دلائل النبوة.
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্কের বিরোধিতাকারীদের প্রকারভেদ:

আমরা ভূমিকায় দেখেছি যে, ইলমের সাথে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তির মধ্যে আহলে কিতাবদের দাওয়াত দেওয়া এবং তাদের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে এক ধরনের বিমুখতা রয়েছে। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১- ইসলামের ব্যাপক প্রসারের ওপর নির্ভর করা।

২- মূলগতভাবে বিষয়টি ফরজে কেফায়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়া।

৩- ফিকহি শাখা-প্রশাখা ও মাযহাবি গোঁড়ামিতে লিপ্ত থাকা এবং বিতর্কের ক্ষেত্রটিকে কেবল চারটি ফিকহি মাযহাবের মধ্যে অথবা মুতাজিলা ও আশআরিদের মধ্যে, কিংবা ইলমুল কালামের পণ্ডিত ও দার্শনিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।

উম্মতের ওপর এমন কিছু সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন শিক্ষার্থী ও আলেমদের মাঝে নিছক ইলম চর্চার আধিক্য দেখা দিয়েছিল। এই চর্চা ছিল কেবল কিতাব ও অধ্যয়ন কেন্দ্রিক, যেখানে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো সম্যক ধারণা ছিল না। অথচ বাস্তবতার বহু মাসআলায় বিস্তারিত বিশ্লেষণ এবং ইলম ও ইনসাফ ভিত্তিক আলোচনার প্রয়োজন ছিল।

যদিও এগুলো ছিল সেই সকল কারণ যা উম্মতে মুসলিমার বিভিন্ন দলকে আহলে কিতাবদের খণ্ডন করা বা তাদের সাথে সংলাপে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রেখেছিল, তবুও এমন কিছু দল ছিল যারা মনে করত যে এই দরজা এবং জানালা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। ফলে তারা শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের জবাব দেওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করল, অথচ শরীয়তই তাদের বিতর্ক এবং ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল!

তাহলে এই শ্রেণির লোকদের প্রধান সংশয়সমূহ কী কী এবং তাদের মূল ভিত্তিগুলোই বা কী?

প্রথম সংশয়: নবুওয়াতের প্রমাণাদি সুস্পষ্ট হওয়ার ওপর ভিত্তি করে আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক নিষিদ্ধ মনে করা।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: (( … ومما يعجب منه أن بعض المنكرين لمجادلة الكفار بناءً على ظهور دلائل النبوة نجده هو ومن يعظمه من شيوخه الذين يعتمد في أصول النظر على نظرهم ومناظرتهم ويزعمون أنهم قرروا دلائل النبوة قد أوردوا من الشبهات والشكوك والمطاعن على دلائل النبوة ما يبلغ نحو ثمانين سؤالا وأجابوا عنه بأجوبة لا تصلح أن تكون جوابا في المسائل الظنية بل هي إلى تقرير شبه الطاعنين أقرب منها إلى تقرير أصول الدين … )) . (1)

الشبهة الثانية: منع الجدال مع أهل الكتاب بناءً على نسخ آيات الجدال معهم بآيات السيف وفرضية الجهاد.

ردَّ شيخ الإسلام على أصحاب هذا الاتجاه من تسعة أوجه حررها في كتابه العظيم ((الجواب الصحيح)) . يقول رحمه الله تعالى: ((فإنَّ من الناس من يقول: آيات المجادلة والمحاجة للكفار منسوخات بآية السيف لاعتقاده أن الأمر بالقتال المشروع ينافي المجادلة المشروعة وهذا غلط فإنَّ النسخ إنما يكون إذا كان الحكم الناسخ مناقضا للحكم المنسوخ كمناقضة الأمر باستقبال المسجد الحرام في الصلاة للأمر باستقبال بيت المقدس بالشام … ))

--------------------------------------------

(1) الجواب الصحيح (1 / 243) .
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: (( … আর বিস্ময়ের বিষয় হলো এই যে, নবুয়তের প্রমাণাদি সুস্পষ্ট হওয়ার ভিত্তিতে কাফিরদের সাথে বিতর্ক করার ব্যাপারে যারা আপত্তি জানায়, তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি এবং তার সেই সব সম্মানিত শিক্ষকদের আমরা দেখতে পাই—যাদের চিন্তার মূলনীতি (أصول النظر) সমূহের ওপর সে তার নিজের চিন্তা ও বিতর্কের ক্ষেত্রে নির্ভর করে এবং তারা দাবি করে যে তারা নবুয়তের প্রমাণাদি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে—অথচ তারাই নবুয়তের প্রমাণাদির বিরুদ্ধে প্রায় আশিটির মতো সংশয়, সন্দেহ ও আপত্তি উত্থাপন করেছে। আর তারা এগুলোর এমন সব উত্তর দিয়েছে যা ধারণাপ্রসূত বিষয়াবলি (المسائل الظنية)-র ক্ষেত্রেও উত্তর হিসেবে যোগ্য নয়। বরং দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) প্রতিষ্ঠা করার চেয়ে তাদের এই উত্তরগুলো আপত্তিকারীদের সংশয়গুলোকেই অধিকতর শক্তিশালী করে তোলে … ))। (১)

দ্বিতীয় সংশয়: আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্কের আয়াতসমূহ তরবারির আয়াত এবং জিহাদের আবশ্যকতা দ্বারা রহিতকরণ (نسخ)-এর ওপর ভিত্তি করে তাদের সাথে বিতর্ক করা নিষিদ্ধ মনে করা।

শাইখুল ইসলাম এই মত পোষণকারীদের নয়টি দিক থেকে উত্তর দিয়েছেন যা তিনি তাঁর মহান গ্রন্থ আল-জাওয়াব আস-সহীহ-তে সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা বলে: কাফিরদের সাথে বিতর্ক ও যুক্তিতর্কের আয়াতসমূহ তরবারির আয়াত দ্বারা রহিত (منسوخات); কারণ তারা মনে করে যে, শরয়ি যুদ্ধের আদেশ শরয়ি বিতর্কের পরিপন্থী। অথচ এটি একটি ভুল ধারণা। কারণ রহিতকরণ (النسخ) কেবল তখনই হয় যখন রহিতকারী বিধান (الحكم الناسخ) রহিতকৃত বিধান (الحكم المنسوخ)-এর সাথে সাংঘর্ষিক হয়; যেমন সালাতে মাসজিদুল হারামের দিকে মুখ করার নির্দেশ সিরিয়ার বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করার নির্দেশের পরিপন্থী … ))

--------------------------------------------

(১) আল-জাওয়াব আস-সহীহ (১/২৪৩)।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
ثم قال رحمه الله تعالى: (( … وقوله: {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ} [سورة العنكبوت 29 / 46] فهذا لا يناقض الأمر بجهاد من أمر بجهاده منهم ولكن الأمر بالقتال يناقض النهي عنه والاقتصار على المجادلة. فأما مع إمكان الجمع بين الجدال المأمور به والقتال المأمور به فلا منافاة بينهما وإذا لم يتنافيا بل أمكن الجمع لم يجز الحكم بالنسخ ومعلومٌ أن كلا منهما ينفع حيث لا ينفع الآخر وأن استعمالهما جميعا أبلغ في إظهار الهدى ودين الحق ومما يبين ذلك وجوه: … )) . (1)

ثم عدَّدَ رحمه الله تعالى تسعة أوجه للقول بذلك وكلامه نفيس للغاية. (2)

--------------------------------------------

(1) (1 / 218- 219) .

(2) (1 / 219-246) .
অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: (( … এবং তাঁর বাণী: {তোমরা উত্তম পন্থায় ব্যতীত আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করো না, তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছে তাদের কথা ভিন্ন} [সুরা আল-আনকাবুত ২৯ / ৪৬]। এটি তাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের সাথে জিহাদ করার নির্দেশের পরিপন্থী নয়। তবে যুদ্ধের নির্দেশটি যুদ্ধ নিষেধ করা এবং কেবল বিতর্কের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার পরিপন্থী। কিন্তু যখন নির্দেশিত বিতর্ক এবং নির্দেশিত যুদ্ধ—উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তখন তাদের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য থাকে না। আর যখন তারা পরস্পর বিরোধী নয় বরং সমন্বয় করা সম্ভব, তখন রহিতকরণের (النسخ) বিধান দেওয়া বৈধ নয়। এটি সুবিদিত যে, তাদের প্রতিটি সেখানেই কার্যকর হয় যেখানে অন্যটি হয় না এবং হিদায়াত ও সত্য দীন প্রকাশে উভয়ের একত্রে ব্যবহার অধিকতর প্রভাবশালী। আর এটি স্পষ্ট করার জন্য কয়েকটি দিক রয়েছে: … )) । (১)

অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এ বিষয়ের সপক্ষে নয়টি দিক উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর আলোচনা অত্যন্ত মূল্যবান। (২)

--------------------------------------------

(১) (১ / ২১৮- ২১৯) ।

(২) (১ / ২১৯-২৪৬) ।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌التيار الأول: دعاة التقريب بين الأديان: كروجيه جارودي (1) وأحمد كفتارو (2) وغيرهما. ويستند هؤلاء في الغالب على عقائد الباطنية وكلام ابن عربي وغيره من ملاحدة الصوفية الذين ينادون بصحة كل الأديان. يقول جارودي: ((إنني عندما أعلنت إسلامي لم أكن أعتقد بأني أتخلى عن مسيحيتي ولا عن ماركسيتي ولا أهتم بأن يبدو هذا متناقضا أو مبتدعا)) . ويقول: ((هذا النضال هو نضال كل أصحاب العقيدة أو المؤمنين بعقيدة مهما يكن نوع إيمانهم ولا يهمني ما يقوله الإنسان عن عقيدته: أنا مسلم أو: أنا مسيحي أو: أنا يهودي أو: أنا هندوسي)) . (3)

ولما انتشرت بعض آراءه الكفرية الإلحادية قيل: ((إنه ارتد عن الإسلام)) ! قال الشيخ عبد العزيز ابن باز رحمه الله تعالى: ((لا يحكم عليه بأنه مرتد عن دين الإسلام كما توهمه بعضهم وإنما هو كافر أصلي لم يدخل في الإسلام)) . (4) ولهذا قال العلَاّمة بكر أبوزيد فيه: (النصراني المتلصص إلى الإسلام) . (5)

--------------------------------------------

(1) هو روجيه جان شارل جارودي، ولد عام 1913 م، في مرسيليا، واعتنق البروتستانتية، ثم انضم إلى الحزب الشيوعي الفرنسي، وتحصل على عدة شهادات في الفلسفة، له مؤلفات كثيرة، أشيع نبأ إسلامه عام 1402، وهو من أكبر دعاة التقريب بين الأديان اليوم. انظر سيرته الذاتية مفصلة في: دعوة التقريب بين الأديان، للقاضي (2 / 841-857) .

(2) هو الشيخ أحمد بن الشيخ محمد أمين ابن الشيخ موسى الشهير بـ «كفتارو» ، ولد سنة 1915 بدمشق، صوفي، نقشبندي، أصله من الأكراد، يعمل مفتيا لسوريا، من دعاة التقريب بين الأديان. انظر: دعوة التقريب بين الأديان (3 / 1036-1069) .

(3) دعوة التقريب بين الأديان (2 / 935-937) ، والحوار مع أهل الكتاب، للقاسم (ص 128-132) .

(4) انظر: مجلة الدعوة: عدد 1583، عام 1416، الخميس 1 ذي الحجة، (ص 14 - 15) .

(5) انظر: الإبطال لنظرية الخلط بين الإسلام وغيره من الأديان، لبكر أبو زيد (32) .
প্রথম ধারা: ধর্মসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের আহ্বানকারীগণ: যেমন রজার গারোদি (১), আহমদ কাফতারো (২) এবং অন্যান্যরা। তারা সাধারণত বাতেনি (باطنية) মতবাদ এবং ইবনে আরবি ও অন্যান্য ধর্মদ্রোহী সুফিদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে, যারা সকল ধর্মের সঠিক হওয়ার দাবি জানায়। গারোদি বলেন: ((যখন আমি আমার ইসলাম গ্রহণ করার কথা ঘোষণা করি, তখন আমি মনে করিনি যে আমি আমার খ্রিস্টধর্ম বা মার্ক্সবাদ ত্যাগ করছি। আর এটি স্ববিরোধী বা অভিনব মনে হচ্ছে কি না তা নিয়ে আমি পরোয়া করি না))। তিনি আরও বলেন: ((এই সংগ্রাম হলো সকল আদর্শবাদী বা বিশ্বাসীদের সংগ্রাম, তাদের বিশ্বাসের ধরন যাই হোক না কেন। মানুষ তার ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে কী বলে তা আমার কাছে বিবেচ্য নয়: আমি মুসলিম, না কি আমি খ্রিস্টান, না কি আমি ইহুদি অথবা আমি হিন্দু))। (৩)

যখন তার কিছু কুফরি ও নাস্তিক্যবাদী মতামত ছড়িয়ে পড়ল, তখন বলা হলো: ((সে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছে))! শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((তাকে ইসলাম ধর্মত্যাগী (مرتد) হিসেবে বিচার করা যাবে না যেমনটি কেউ কেউ ধারণা করেছেন, বরং সে একজন জন্মগত কাফির (كافر أصلي) যে ইসলামে প্রবেশই করেনি))। (৪) একারণেই আল্লামা বকর আবু যাইদ তার সম্পর্কে বলেছেন: (ইসলামের ভেতরে সংগোপনে অনুপ্রবেশকারী খ্রিস্টান)। (৫)

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন রজার জিন চার্লস গারোদি, ১৯১৩ সালে মার্সেইতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রোটেস্ট্যান্ট মতবাদ গ্রহণ করেন, অতঃপর ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। তিনি দর্শনে বেশ কয়েকটি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং তার বহু গ্রন্থ রয়েছে। ১৪০২ হিজরিতে তার ইসলাম গ্রহণের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বর্তমান সময়ে ধর্মসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের অন্যতম বড় প্রবক্তা। তার বিস্তারিত জীবনী দেখুন: দাওয়াতুত তাকরীব বাইনাল আদইয়ান, আল-কাদি (২/৮৪১-৮৫৭)।

(২) তিনি হলেন শায়খ আহমদ বিন শায়খ মুহাম্মদ আমিন বিন শায়খ মুসা, যিনি ‘কাফতারো’ নামে পরিচিত। ১৯১৫ সালে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন সুফি এবং নকশবন্দি তরিকার অনুসারী, বংশগতভাবে তিনি কুর্দি। তিনি সিরিয়ার মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ধর্মসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের অন্যতম প্রবক্তা। দেখুন: দাওয়াতুত তাকরীব বাইনাল আদইয়ান (৩/১০৩৬-১০৬৯)।

(৩) দাওয়াতুত তাকরীব বাইনাল আদইয়ান (২/৯৩৫-৯৩৭) এবং আল-হিওয়ার মাআ আহলিল কিতাব, আল-কাসিম (পৃ. ১২৮-১৩২)।

(৪) দেখুন: মাজাল্লাতুদ দাওয়াহ: সংখ্যা ১৫৮৩, ১৪১৬ হিজরি, বৃহস্পতিবার ১লা জিলহজ, (পৃ. ১৪-১৫)।

(৫) দেখুন: আল-ইবতাল লি-নাজারিয়াতিল খালতি বাইনাল ইসলাম ওয়া গাইরিহি মিনাল আদইয়ান, বকর আবু যাইদ (৩২)।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌التيار الثاني: دعاة العصرانية: يجمع هذا التيار في طياته: ((الفقيه الذي أثقلت كاهله المتغيرات الحديثة..والصحفي الذي يفتقر إلى علوم الشريعة.. والعقلاني المغرق في عقلانيته)) . (1) .والمثقف الباحث عن موقع ثقافته الحضارية.. والقومي الذي يتخبط في خبال الجاهلية … وهم درجات بحسب ما يغلب عليهم من مواد. ومن أبرزهم: الدكتور حسن الترابي والدكتور يوسف الحسن والدكتور عبد العزيز بن عثمان التويجري والدكتور محمد عمارة وعبده سلَاّم وغيرهم.

ومن أهم الصيغ التي تحدد مباديء ((التعايش)) و ((الحوار)) بين ((المسلم)) و ((غير المسلم)) عند هؤلاء ما يلي:

أولا: الاتفاق على استبعاد كل كلمة تخدش عظمة الله.

ثانيا: الاتفاق على أن الله يختار رسله من أهل الصدق والأمانة.

ثالثا: ما وجدناه متوافقا في تراثنا نرد إليه ما اختلف فيه وبذلك يمكن وضع قاعدة مشتركة بين الأديان. (2)

ويقرر بعض هؤلاء أنهم لا يستطيعون التقريب بين الأديان أو تذويب أحدها في الآخر وأنَّ أيَّ محاولة لذلك إنما هي من قبيل الغش الثقافي والخداع الفكري وهي أشد خطرا من الغش الاقتصادي والتجاري.

--------------------------------------------

(1) انظر: دعوة التقريب (2 / 632- 634) .

(2) الحوار من أجل التعايش، لعبد العزيز بن عثمان التويجري (ص 91) ، وفي البناء الحضاري للعالم الإسلامي (3 / 209-210) .
দ্বিতীয় ধারা: আধুনিকতাবাদের প্রবক্তাগণ: এই ধারাটি তার অভ্যন্তরে ধারণ করে: ((এমন ফকিহ যার স্কন্ধে আধুনিক পরিবর্তনসমূহ বোঝা হয়ে চেপেছে... এবং এমন সাংবাদিক যার শরিয়াহ বিজ্ঞানের জ্ঞান নেই... এবং এমন যুক্তিবাদী যে তার যুক্তিবাদিতায় নিমজ্জিত))। (১)। এবং এমন বুদ্ধিজীবী যে তার সভ্যতাগত সংস্কৃতির অবস্থান খুঁজছে... এবং এমন জাতীয়তাবাদী যে জাহেলিয়াতের ভ্রান্তিতে বিভ্রান্ত … আর তাদের মাঝে বিদ্যমান উপাদানের আধিক্য অনুযায়ী তাদের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ড. হাসান আল-তুরাবি, ড. ইউসুফ আল-হাসান, ড. আব্দুল আজিজ বিন উসমান আল-তুওয়াইজরি, ড. মুহাম্মদ আম্মারা, আব্দু সালাম এবং অন্যান্য।

তাদের নিকট 'মুসলিম' ও 'অমুসলিমদের' মধ্যে 'সহাবস্থান' ও 'সংলাপ'-এর নীতিমালা নির্ধারণকারী প্রধান সূত্রসমূহ নিম্নরূপ:

প্রথমত: আল্লাহর মহিমাকে ক্ষুণ্ণ করে এমন প্রতিটি শব্দ বর্জন করার বিষয়ে একমত হওয়া।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার অধিকারীদের মধ্য থেকেই তাঁর রাসুলগণকে নির্বাচন করেন—এই বিষয়ে একমত হওয়া।

তৃতীয়ত: আমাদের ঐতিহ্যের মধ্যে যা কিছু সঙ্গতিপূর্ণ পাই, মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোকে আমরা সেদিকেই ফিরিয়ে দেব এবং এর মাধ্যমে ধর্মগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন ভিত্তি স্থাপন করা সম্ভব হবে। (২)

তাদের কেউ কেউ সিদ্ধান্ত দেন যে, তারা ধর্মগুলোর মধ্যে নৈকট্য তৈরি করতে বা একটিকে অন্যটির সাথে বিলীন করে দিতে সক্ষম নন। আর এর জন্য যেকোনো প্রচেষ্টা সাংস্কৃতিক প্রতারণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক ছলনা বৈ কিছু নয়; যা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতারণার চেয়েও অধিক বিপজ্জনক।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: দাওয়াতুত তাকরিব (২ / ৬৩২- ৬৩৪)।

(২) আল-হিওয়ার মিন আজলিল তাআয়ুশ, আব্দুল আজিজ বিন উসমান আত-তুওয়াইজরি (পৃ. ৯১), এবং আল-বিনা আল-হাদারি লিল-আলাম আল-ইসলামি (৩ / ২০৯-২১০)।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২২)
كما يدرك بعضهم أن النصارى لا يؤمنون بالتعايش ولا بالحوار ولا بالتعاون؛ وهم - أي النصارى - إذا نادوا بالتعايش أودعوا إلى الحوار قصدوا بذلك استغلالهما لفرض الهيمنة الدينية التي لا تكاد تختلف في شيء عن الهيمنة السياسية والاقتصادية. (1)

ويرون أن المسلمين لا يمنعهم مانع من أن يستجيبوا لدعوة ((التعايش)) مع غيرهم حتى وإنْ كان مفهوم ((التعايش)) عند غير المسلمين منافيا - جزئيا أوكليا - للمفهوم الإنساني المتحضر الذي يؤمن به المسلمون. (2)

ويتذرع هذا التيار في دعوته لإقامة الحوار مع أهل الكتاب بشبهات شتى منها: ((مواجهة الإلحاد المادي)) و ((التعاون والتسامح)) و ((التعارف)) و ((الدعوة إلى الله وإفهام الغرب تعاليم الإسلام)) و ((أنه ضرورة يفرضها النظام العالمي الجديد)) و ((أنَّ الحوار وسيلة لتحاشي النزاعات والحروب وصدام الحضارات)) وأن ((الإسلام يدعو العالم لأن يكون منتدى حضارات)) (3) و ((هو وسيلة لتحقيق الوحدة الوطنية بين مختلف طوائف الأمة)) و ((أنه وسيلة للمحافظة على الأقليات المسلمة في الغرب)) .

--------------------------------------------

(1) انظر: الحوار من أجل التعايش (ص 90) .

(2) انظر: الحوار من أجل التعايش (ص 90) .

(3) في البناء الحضاري للعالم الإسلامي، للتويجري (3 / 201-202) ، وهل الإسلام هو الحل، لعمارة (ص 189) .
এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটি উপলব্ধি করেন যে, খ্রিস্টানরা সহাবস্থান, সংলাপ কিংবা সহযোগিতায় বিশ্বাসী নয়; আর তারা—অর্থাৎ খ্রিস্টানরা—যখন সহাবস্থানের ডাক দেয় অথবা সংলাপের আহ্বান জানায়, তখন এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য থাকে এমন এক ধর্মীয় আধিপত্য আরোপের সুযোগ গ্রহণ করা, যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য থেকে খুব একটা ভিন্ন কিছু নয়। (১)

তারা মনে করেন যে, মুসলিমদের জন্য অন্যদের সাথে "সহাবস্থান"-এর ডাকে সাড়া দিতে কোনো বাধা নেই, এমনকি অমুসলিমদের নিকট "সহাবস্থান"-এর ধারণাটি যদি মুসলিমদের বিশ্বাসযোগ্য মানবিক ও উন্নত ধারণার সাথে—আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে—পরিপন্থীও হয়। (২)

এই ধারাটি আহলে কিতাবদের সাথে সংলাপ আয়োজনের আহ্বানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংশয় (شبهات) বা অজুহাতের অবতারণা করে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে: "বস্তুবাদী নাস্তিকতার মোকাবিলা করা", "সহযোগিতা ও সহনশীলতা", "পারস্পরিক জানাশোনা", "আল্লাহর পথে দাওয়াত এবং পশ্চিমা বিশ্বকে ইসলামের শিক্ষা প্রদান করা", "এটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার দাবি অনুযায়ী একটি প্রয়োজনীয়তা", "সংলাপ হলো সংঘাত, যুদ্ধ ও সভ্যতার দ্বন্দ্ব এড়ানোর মাধ্যম", "ইসলাম বিশ্বকে সভ্যতার মিলনকেন্দ্র হওয়ার আহ্বান জানায়" (৩), "এটি উম্মাহর বিভিন্ন দল-উপদলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য অর্জনের মাধ্যম" এবং "এটি পশ্চিমা বিশ্বে বসবাসরত মুসলিম সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার একটি পথ"।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-হিওয়ার মিন আযলিল তাআয়ুশ (পৃষ্ঠা ৯০)।

(২) দেখুন: আল-হিওয়ার মিন আযলিল তাআয়ুশ (পৃষ্ঠা ৯০)।

(৩) ফি আল-বিনা আল-হাদারি লিল-আলাম আল-ইসলামি, আল-তুওয়াইজারি (৩ / ২০১-২০২), এবং হাল আল-ইসলাম হুয়া আল-হাল, আম্মারা (পৃষ্ঠা ১৮৯)।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
ولا ريب أنَّ هذه قضايا متفاوتة في نفسها ومتباينة في قائليها ولا يمكنُ رؤيتها من منظار واحد بل إن بعضها ربما دعا إليها تيار آخر كتيار دعاة التقريب بين الأديان وربما شاركهم فيها بعض الدعاة والمفكرين والقول في جميع تلك القضايا يحتاج إلى تفصيل في كل مسألة منها وليس هذا محل بسطها أو نقدها. (1)

--------------------------------------------

(1) انظر في مناقشتها والرد عليها: دعوة التقريب بين الأديان (4 / 1513 - 1542) .
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বিষয়গুলো স্বকীয়ভাবে স্বতন্ত্র এবং এগুলোর প্রবক্তাদের ক্ষেত্রেও ভিন্ন ভিন্ন। এগুলোকে একই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা সম্ভব নয়; বরং এগুলোর কোনো কোনটি হয়তো এমন কোনো ভিন্ন মতাদর্শের মাধ্যমে প্রসার লাভ করেছে, যেমন—আন্তঃধর্মীয় ঐক্যের প্রচারকদের ধারা। সম্ভবত কিছু দাঈ ও চিন্তাবিদও এগুলোতে তাদের সাথে শামিল হয়েছেন। এই সকল বিষয়ে আলোচনা প্রতিটি মাসআলার ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যার দাবি রাখে, আর এটি সেসবের বিস্তারিত বর্ণনা বা পর্যালোচনার (نقد) উপযুক্ত স্থান নয়। (১)

--------------------------------------------

(১) এ সংক্রান্ত আলোচনা ও এর খণ্ডনের জন্য দেখুন: দাওয়াতুত তাকরিব বাইনাল আদইয়ান (৪ / ১৫১৩ - ১৫৪২)।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌التيار الثالث: بعض المتصدين للواقع من الدعاة والمفكرين.

ويمكن تصنيف هؤلاء على وجه الإجمال إلى فريقين:

الفريق الأول: من يلمس منه ضعف في التأصيل أو تذبذب في الموقف الشرعي. وربما اقترب هؤلاء من دعاة العصرانية في بعض المسائل والقضايا حتى لا يمكن التفريق بين أقوالهم.

والفريق الثاني: من يلمس منه وضوح في التأصيل الشرعي.

ومن أبرز من تصدى لبيان بطلان أديان النصارى والرد عليهم في العصور المتأخرة: الشيخ رحمة الله الدهلوي الهندي (1) والداعية أحمد ديدات.

--------------------------------------------

(1) هو رحمة الله بن خليل الرحمن الدهلوي، فقيه حنفي، عالم بمناظرة النصارى، جاور بمكة وتوفي بها سنة 1306، وقيل: سنة 1308، من أهم كتبه: «إظهار الحق» ، طبع عدة طبعات، أفضلها بتحقيق د. أحمد محمد ملكاوي. انظر: الأعلام للزركلي (3 / 18) ، وهدية العارفين (1 / 366) .
তৃতীয় ধারা: বাস্তবতা মোকাবিলায় নিয়োজিত কতিপয় দাঈ ও চিন্তাবিদ.

সামগ্রিকভাবে এদেরকে দুটি দলে বিভক্ত করা যেতে পারে:

প্রথম দল: যাদের মাঝে শাস্ত্রীয় মূলনীতি নির্ধারণে (تأصيل) দুর্বলতা অথবা শরয়ি অবস্থানের ক্ষেত্রে দ্বিধা পরিলক্ষিত হয়। সম্ভবত তারা কিছু মাসআলা ও বিষয়ের ক্ষেত্রে আধুনিকতাবাদীদের (العصرانية) এতোটাই কাছাকাছি চলে যান যে, তাদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হয় না।

দ্বিতীয় দল: যাদের মাঝে শরয়ি মূলনীতি নির্ধারণের (تأصيل) ক্ষেত্রে স্পষ্টতা পরিলক্ষিত হয়।

পরবর্তী যুগগুলোতে খ্রিস্টান ধর্মের অসারতা বর্ণনা এবং তাদের খণ্ডনে যারা বিশেষভাবে নিয়োজিত ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: শেখ রহমতুল্লাহ দেহলভি হিন্দি (১) এবং দাঈ আহমদ দিদাত।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন রহমতুল্লাহ বিন খলিলুর রহমান দেহলভি, একজন হানাফি ফকিহ এবং খ্রিস্টানদের সাথে বিতর্কে অভিজ্ঞ পণ্ডিত। তিনি মক্কায় বসবাস করতেন এবং সেখানেই ১৩০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; মতান্তরে ১৩০৮ হিজরিতে। তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো: 'ইজহারুল হক', যা বিভিন্ন সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে। এর মধ্যে ড. আহমদ মুহাম্মদ মালকাউয়ির সম্পাদিত (تحقيق) সংস্করণটি সর্বোত্তম। দেখুন: আল-আ'লাম লিয-যিরিকলি (৩/১৮) এবং হাদিয়াতুল আরিফিন (১/৩৬৬)।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الرابع: أنواع المجادَلين والمحاوَرين من أهل الكتاب:

من استقرأ القرآن والسنة وكلام الأئمة يجد أنه لا يُستثنى أحد من أهل الكتاب من أصل الجدال فهناك الجدال مع كل من: أهل الذمة وأهل الهدنة والأمان وأهل الحرب لرد صيالهم. قال شيخ الإسلام ابن تيمية: ((والمجادلة قد تكون مع أهل الذمة؛ والهدنة؛ والأمان؛ ومن لا يجوز قتاله بالسيف؛ وقد تكون في ابتداء الدعوة؛ كما كان النبي صلى الله عليه وسلم يجاهد الكفار بالقرآن؛ وقد تكون لبيان الحق وشفاء القلوب من الشبه مع من يطلب الاستهداء والبيان … )) . (1)

--------------------------------------------

(1) النبوات (2 / 621- 622) .
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে বিতর্ক ও সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের প্রকারভেদ:

যিনি কুরআন, সুন্নাহ এবং ইমামগণের বক্তব্যসমূহ গভীরভাবে পর্যালোচনা করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে, বিতর্কের মূল নীতি থেকে আহলে কিতাবদের কাউকেই বাদ দেওয়া হয়নি। ফলে তাদের প্রত্যেকের সাথেই বিতর্ক হতে পারে: জিম্মি (أهل الذمة), সন্ধিচুক্তিভুক্ত (أهل الهدنة), নিরাপত্তাপ্রাপ্ত (الأمان) এবং তাদের আগ্রাসন প্রতিহত করার লক্ষ্যে হারবি (أهل الحرب) সকলের সাথেই। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "বিতর্ক কখনও জিম্মি (أهل الذمة), সন্ধিচুক্তিভুক্ত (الهدنة), নিরাপত্তাপ্রাপ্ত (الأمان) এবং যাদের বিরুদ্ধে তরবারির মাধ্যমে যুদ্ধ করা বৈধ নয় তাদের সাথে হতে পারে। আবার কখনও দাওয়াতের সূচনালগ্নে হতে পারে, যেমনিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন দিয়ে কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতেন। আবার কখনও সত্যের বর্ণনা এবং যারা হিদায়াত ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা অন্বেষণ করে তাদের অন্তর থেকে সংশয় (الشبه) দূর করার জন্যও হতে পারে … "। (১)

--------------------------------------------

(১) আন-নুবুওয়াত (২/৬২১-৬২২)।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المبحث الأول: أدلة مشروعية مجادلة أهل الكتاب من القرآن:

1- قال تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} . قال ابن كثير في تفسيرها: ((وقوله: {وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [سورة النحل 16 / 125] أي: من احتاج منهم إلى مناظرة وجدال فليكن بالوجه الحسن برفق ولين وحسن خطاب..)) (1) اهـ. وقال الشيخ ابن سعدي رحمه الله: (( … فإنْ كان المدعو يرى أنَّ ما هو عليه الحق أو كان داعية إلى الباطل فيجادل بالتي هي أحسن وهي الطرق التي تكون أدعى لاستجابته عقلا ونقلا. ومن ذلك الاحتجاج عليه بالأدلة التي كان يعتقدها فإنَّه أقرب إلى حصول المقصود وأن لا تؤدي المجادلة إلى خصام أو مشاتمة تذهب بمقصودها ولا تحصل الفائدة منها بل يكون القصد منها هداية الخلق إلى الحق لا المغالبة ونحوها)) . أهـ. (2)

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن كثير (4 / 532) .

(2) تفسير ابن سعدي (3 / 93) .
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন থেকে আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্কের বৈধতার প্রমাণসমূহ:

১- মহান আল্লাহ বলেন: {আপনি আপনার প্রতিপালকের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পন্থায়।}। ইবনে কাসীর এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: ((এবং তাঁর বাণী: {এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পন্থায়} [সূরা আন-নাহল ১৬ / ১২৫] অর্থাৎ: তাদের মধ্যে যাদের বিতর্ক ও বাদানুবাদের প্রয়োজন হবে, তা যেন হয় নম্রতা, কোমলতা এবং উত্তম বাচনভঙ্গির মাধ্যমে সুন্দর পদ্ধতিতে...)) (১) সমাপ্ত। এবং শায়খ ইবনে সাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (( … যাকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে সে যদি মনে করে যে সে সত্যের ওপর আছে অথবা সে যদি বাতিলের দিকে আহ্বানকারী হয়, তবে তার সাথে সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক করতে হবে। আর এটি এমন একটি পদ্ধতি যা যুক্তি ও শাস্ত্রীয় প্রমাণের আলোকে তার সাড়া প্রদানের জন্য অধিক ফলপ্রসূ। এর অন্তর্ভুক্ত হলো তার বিরুদ্ধে এমন প্রমাণাদি দ্বারা দলিল উপস্থাপন করা যা সে বিশ্বাস করে, কারণ এটি উদ্দেশ্য হাসিলের অধিক নিকটবর্তী। আর বিতর্ক যেন ঝগড়া বা গালিগালাজ পর্যন্ত না পৌঁছায় যা বিতর্কের মূল উদ্দেশ্যকে নষ্ট করে দেয় এবং যার ফলে কোনো উপকার অর্জিত হয় না। বরং বিতর্কের উদ্দেশ্য হতে হবে সৃষ্টিজগতকে সত্যের দিকে হেদায়েত করা, কেবল জয়ী হওয়া বা এই জাতীয় কিছু নয়।))। সমাপ্ত। (২)

--------------------------------------------

(১) তাফসীর ইবনে কাসীর (৪ / ৫৩২)।

(২) তাফসীর ইবনে সাদী (৩ / ৯৩)।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
2- وقال تعالى: {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ وَقُولُوا آمَنَّا بِالَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَأُنْزِلَ إِلَيْكُمْ وَإِلَهُنَا وَإِلَهُكُمْ وَاحِدٌ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} [سورة العنكبوت 29 / 46] . قال الشوكاني رحمه الله: {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} أي: إلا بالخصلة التي هي أحسن وذلك على سبيل الدعاء لهم إلى الله عز وجل والتنبيه لهم على حججه وبراهينه رجاء إجابتهم إلى الإسلام لا على طريق الإغلاظ والمخاشنة. {إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ} بأن أفرطوا في المجادلة ولم يتأدبوا مع المسلمين فلا بأس بالإغلاظ عليهم والتخشين في مجادلتهم)) . (1)

والمتأمل في القرآن يجد أنَّ معظم القضايا التي جادل القرآن فيها أهل الكتاب تدور على محورين:

1- توحيد الله وعبادته.

2- إثبات نبوة محمد صلى الله عليه وسلم والإيمان به. (2)

والأمر بمجادلة أهل الكتاب في القرآن جاء مقرونا بالإحسان ومن الإحسان:

--------------------------------------------

(1) فتح القدير (4 / 205) .

(2) منهج الجدل والمناظرة (1 / 486) ، وسيأتي في الفصل الثاني (المبحث الثالث: موضوعات الجدال مع أهل الكتاب) مزيد بيان لهذا الأمر.
২- এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা আহলে কিতাবের সাথে বিতর্ক করবে না সর্বোত্তম পন্থা ছাড়া, তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছে তারা ব্যতীত। আর তোমরা বলো, আমরা ঈমান এনেছি তার প্রতি যা আমাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে এবং যা তোমাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে। আর আমাদের ইলাহ এবং তোমাদের ইলাহ তো এক, আর আমরা তাঁরই প্রতি অনুগত (মুসলিম)} [সূরা আল-আনকাবুত ২৯ / ৪৬]। শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: {আর তোমরা আহলে কিতাবের সাথে বিতর্ক করবে না সর্বোত্তম পন্থা ছাড়া} অর্থাৎ: কেবল সেই বৈশিষ্ট্যের দ্বারা যা সর্বোত্তম। আর তা হলো তাদের মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান করার পন্থায় এবং তাঁর প্রমাণ ও নিদর্শনসমূহের প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মাধ্যমে, এই আশায় যে তারা ইসলাম কবুল করবে; কঠোরতা বা রুক্ষতার মাধ্যমে নয়। {তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছে} অর্থাৎ বিতর্কে যারা সীমালঙ্ঘন করেছে এবং মুসলিমদের সাথে শিষ্টাচার বজায় রাখেনি, তাদের প্রতি কঠোর হওয়া এবং বিতর্কে কঠোরতা প্রকাশ করায় কোনো দোষ নেই। (১)

কুরআনে গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় যে, অধিকাংশ বিষয় যেগুলোতে কুরআন আহলে কিতাবের সাথে বিতর্ক করেছে তা দুটি মূল বিষয়ের ওপর আবর্তিত হয়:

১- আল্লাহর তাওহীদ এবং তাঁর ইবাদত।

২- মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রমাণ করা এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনা। (২)

আর কুরআনে আহলে কিতাবের সাথে বিতর্কের নির্দেশটি ইহসান বা সদাচরণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এসেছে, আর এই ইহসানের অন্তর্ভুক্ত হলো:

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল কাদির (৪ / ২০৫) ।

(২) মানহাজুল জাদাল ওয়াল মুনাজারা (১ / ৪৮৬) , আর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে (তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আহলে কিতাবের সাথে বিতর্কের বিষয়বস্তুসমূহ) এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
1- اتباع طريقة القرآن في جداله لأهل الكتاب ((والأصل في باب مجادلة أهل الكتاب بالتي هي أحسن هو آية آل عمران: {قُلْ يَاأَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} [سورة آل عمران 3 / 64] )) . (1) ولهذا امتثلها النبي صلى الله عليه وسلم فكتبها في رسالته إلى هرقل عظيم الروم يدعوه إلى الإسلام ونبذ الشرك. وقد حرَّفَ العصرانيون معنى ((الكلمة السواء)) إلى معانٍ فاسدة. (2)

2- عدم تكذيب ما عندهم تكذيبا عاما لمجرد كونه من كتبهم بل ينبغي السكوت عن ذلك فلا يصدقون ولا يكذبون. (3)

3- ومنه: عدم تفضيل نبينا محمد صلى الله عليه وسلم على أنبيائهم عليهم الصلاة والسلام على وجه الحمية والعصبية لحديث أبي هريرة عند البخاري: قال صلى الله عليه وسلم: ((لا تخيروني على موسى … )) . (4)

وفي رواية عند البخاري أيضا: ((لا تفضلوا بين أولياء الله)) . (5)

--------------------------------------------

(1) دعوة التقريب بين الأديان (2 / 725) ، وانظر: الإبطال لبكر أبوزيد (101) .

(2) دعوة التقريب بين الأديان (2 / 725-737) .

(3) هذا والذي يليه من «منهج الجدل والمناظرة» (1 / 326-327) .

(4) رواه البخاري رقم 3408. الفتح (6 / 441) . .

(5) رقم 3414. الفتح (6 / 450) .
১- আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্কের ক্ষেত্রে কুরআনের পদ্ধতি অনুসরণ করা ((আহলে কিতাবদের সাথে সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্কের মূল ভিত্তি হলো সূরা আল ইমরানের আয়াত: {বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; যেন আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত না করি এবং তাঁর সাথে অন্য কিছুকে শরীক না করি এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ব্যতীত রব হিসেবে গ্রহণ না করি। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলো যে, তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমরা মুসলিম} [সূরা আল ইমরান ৩ / ৬৪] ))। (১) এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি পালন করেছিলেন এবং রোমের মহান অধিপতি হিরাক্লিয়াসের কাছে প্রেরিত পত্রে এটি লিখেছিলেন, যেখানে তাকে ইসলামের দাওয়াত এবং শিরক বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। আধুনিকতাবাদীরা "কালিমাতুন সাওয়া" (অভিন্ন কথা)-এর অর্থকে বিকৃত করে ভ্রান্ত অর্থে রূপান্তর করেছে। (২)

২- তাদের কাছে যা রয়েছে তা কেবল তাদের কিতাব হওয়ার কারণে সাধারণভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন না করা; বরং এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করা উচিত। সুতরাং তাদেরকে সত্যবাদীও বলা হবে না, আবার মিথ্যাবাদীও বলা হবে না। (৩)

৩- এর অন্তর্ভুক্ত হলো: পক্ষপাতিত্ব বা গোঁড়ামির বশবর্তী হয়ে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁদের নবীদের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) ওপর শ্রেষ্ঠত্ব না দেওয়া; বুখারিতে বর্ণিত আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের কারণে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((তোমরা আমাকে মুসার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না...))। (৪)

বুখারির অপর এক বর্ণনা (رواية)-তেও রয়েছে: ((তোমরা আল্লাহর ওলিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য করো না))। (৫)

--------------------------------------------

(১) দাওয়াতুত তাক্বরিব বাইনাল আদইয়ান (২ / ৭২৫), এবং দেখুন: আল-ইবতাল, বকর আবু যায়েদ (১০১)।

(২) দাওয়াতুত তাক্বরিব বাইনাল আদইয়ান (২ / ৭২৫-৭৩৭)।

(৩) এটি এবং এর পরবর্তী অংশটি 'মানহাজুল জাদাল ওয়াল মুনাজারা' (১ / ৩২৬-৩২৭) থেকে নেওয়া।

(৪) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ৩৪০৮। আল-ফাতহ (৬ / ৪৪১)।

(৫) হাদিস নং ৩৪১৪। আল-ফাতহ (৬ / ৪৫০)।
(খণ্ড: ১) রুইয়াহ শারইয়্যাহ ফিল জিদালি ওয়াল হিওয়ারি মাআ আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
4- ومنه: أن تكون المجادلة:: ((بحسن خلق ولطف ولين كلام ودعوة إلى الحق وتحسينه ورد الباطل وتهجينه بأقرب طريق موصل لذلك وأن لا يكون القصد منها مجرد المجادلة والمغالبة وحب العلو بل يكون القصد بيان الحق وهداية الخلق)) . (1)

5- ومنه: أن ينزل خطاب كل طائفة منهم على ما يقتضيه فقه الواقع ومعرفة المجادل أوالمحاور بأحوالهم إذْ إنهم: {لَيْسُوا سَوَاءً} . وقد قال تعالى: {وَكَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ وَلِتَسْتَبِينَ سَبِيلُ الْمُجْرِمِينَ} [سورة الأنعام 6 / 55] فيفوت من الإحسان في جدالهم على قدر تفريط المجادل في:

1- العلم بالحق ومعرفة تفصيل الآيات.

2- ضعف استبانة سبيل المجرمين وما هم عليه من الضلال المبين.

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن سعدي (4 / 64) .
4- এর অন্তর্ভুক্ত হলো: বিতর্ক (المجادلة) হতে হবে: ((উত্তম চরিত্র, নম্রতা, কোমল ভাষা, সত্যের দিকে আহ্বান ও সত্যকে সুশোভিত করা এবং বাতিলকে খণ্ডন ও একে নিকৃষ্ট হিসেবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে—যা অর্জনে নিকটতম পথ অবলম্বন করতে হবে; আর এর উদ্দেশ্য কেবল বিতর্ক (المجادلة), বিজয় অর্জন (المغالبة) এবং শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার আকাঙ্ক্ষা হওয়া যাবে না, বরং উদ্দেশ্য হতে হবে সত্য স্পষ্ট করা এবং সৃষ্টির হিদায়াত।)) (১)

5- এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তাদের প্রতিটি দলের প্রতি সম্বোধনকে পরিস্থিতির চাহিদা (فقه الواقع) এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে বিতর্ককারী বা আলোচকের জ্ঞানের নিরিখে পরিচালনা করা; কেননা তারা: {সকলে সমান নয়}। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর এভাবেই আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি, যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে} [সূরা আল-আনআম ৬/৫৫]। সুতরাং তাদের সাথে বিতর্কের ক্ষেত্রে 'ইহসান' ততোটুকুই ব্যাহত হবে যতটুকু বিতর্ককারী নিম্নলিখিত বিষয়ে শিথিলতা করবে:

1- সত্যের জ্ঞান এবং আয়াতসমূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানা।

2- অপরাধীদের পথ এবং তাদের সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতা (الضلال المبين) উন্মোচনে দুর্বলতা।

--------------------------------------------

(১) তাফসির ইবনে সাদী (৪/৬৪)।