(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: -)
السعادة والفلاح في فهم مقاصد النكاح القسم: كتب عامة
الكتاب: السعادة والفلاح في فهم مقاصد النكاح
المؤلف: عبد الرحيم بن حسين المالكي - أمين بن عبد الله الشقاوي
الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م
عدد الصفحات: 58
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 ربيع الأول 1443
বিবাহের উদ্দেশ্যসমূহ অনুধাবনে সৌভাগ্য ও সফলতা বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: বিবাহের উদ্দেশ্যসমূহ অনুধাবনে সৌভাগ্য ও সফলতা
লেখক: আব্দুর রহিম বিন হুসাইন আল-মালিকি - আমিন বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাক্বাউয়ি
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
আল-শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران، آية: 102]. {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء، آية: 1]. {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [سورة الأحزاب، آيتان: 71، 70].
أما بعد:
فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান, আয়াত: ১০২]। {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা, আয়াত: ১]। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।} [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭০, ৭১]।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম হাদিস হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ (محدثات), আর প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة), আর প্রতিটি ভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামের আগুনে।
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ثم أما بعد:
فإن بناء المجتمع المسلم لا يتم إلا ببناء الأسرة، والأصل في بناء الأسرة المسلمة الصالحة هما الزوجان؛ فهما اللبنتان اللتان تؤسس عليهما الأسر. وإن مما يحزن المسلم وخاصة في هذا الزمن ما يشاهد من تفكك في الأسر وهدم في كثير من البيوت، حتى أصبح ظاهرة كثرت لها الشكوى وعمت بها البلوى، ووجب على المصلحين معالجتها والتخفيف من مفاسدها، ولكن كيف ذلك؟
إننا نأمل أن نوفق في هذه الرسالة بالمساهمة في علاج هذه الظاهرة وذلك ببيان
مقاصد النكاح التي يجب على الزوجين فهمها، وعلى الوالدين بل على المجتمع كله؛ فنقول وبالله نستعين:
«مقاصد النكاح»:
مقاصد النكاح التي يريدها غالب البشر ثلاثة، وهي: الذرية، والخدمة، والمتعة.
وقبل أن نبدأ في شرح هذه المقاصد نجيب على هذا السؤال الذي يورده البعض باختصار، يقول: إنكم تحثون على الزواج، وتذكرون له فضائل وثمرات طيبة، فلما تزوجنا وجدنا مشاق، وحقوق، وواجبات، ومسئوليات، تذوب فيها تلك المتع!
ونقول: إن هذا سؤال وجيه والجواب: أن هذا يرجع إلى اختلاف الهمم لدى الرجال والنساء، فكما يوجد التفاوت بين الرجال كذلك يوجد بين النساء، فمنهم من يرى سعادته في التخلي عن المسئوليات وترك
অতঃপর:
কেননা মুসলিম সমাজ গঠন পরিবার গঠন ব্যতিরেকে সম্পন্ন হয় না, এবং একটি আদর্শ মুসলিম পরিবার গঠনের মূল ভিত্তি হলো স্বামী-স্ত্রী; কারণ তারাই হলো সেই দুটি ভিত্তিপ্রস্তর যার ওপর পরিবারসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমান সময়ে একজন মুসলিমকে যা বিশেষভাবে ব্যথিত করে তা হলো পরিবারের ভাঙন এবং বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার যে দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়, এমনকি এটি বর্তমানে এমন এক প্রপঞ্চে পরিণত হয়েছে যার অভিযোগ অনেক বেড়েছে এবং এর বিপদ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে সংস্কারকদের ওপর এর প্রতিকার করা এবং এর অনিষ্টতা লাঘব করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব?
আমরা আশা করি যে, এই বার্তার মাধ্যমে এই প্রপঞ্চের প্রতিকারে অবদান রাখতে সক্ষম হব, আর তা হলো
নিকাহর উদ্দেশ্যসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে, যা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের বোঝা আবশ্যক, এমনকি পিতামাতা তথা সমগ্র সমাজেরও; অতএব আমরা বলছি এবং আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি:
«নিকাহর উদ্দেশ্যসমূহ»:
নিকাহর যে উদ্দেশ্যসমূহ অধিকাংশ মানুষ কামনা করে তা তিনটি, আর সেগুলো হলো: সন্তানসন্ততি, সেবা এবং সুখ-সম্ভোগ।
এবং এই উদ্দেশ্যগুলোর ব্যাখ্যা শুরু করার আগে আমরা সংক্ষেপে সেই প্রশ্নের উত্তর দেব যা কেউ কেউ উত্থাপন করে থাকেন; তারা বলেন: আপনারা বিবাহের প্রতি উৎসাহিত করেন এবং এর বহু ফজিলত ও উত্তম ফলের কথা উল্লেখ করেন, কিন্তু যখন আমরা বিবাহ করলাম, তখন আমরা এমন সব কষ্ট, অধিকার, কর্তব্য ও দায়িত্ব খুঁজে পেলাম যাতে সেই আনন্দগুলো বিলীন হয়ে যায়!
উত্তরে আমরা বলব: এটি একটি যৌক্তিক প্রশ্ন এবং এর উত্তর হলো: এটি নারী ও পুরুষের সংকল্প ও মানসিকতার ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে; কারণ পুরুষদের মধ্যে যেমন তারতম্য বিদ্যমান, তেমনি নারীদের মধ্যেও রয়েছে। ফলে তাদের মধ্যে কেউ এমন আছে যে দায়িত্ব বর্জন এবং পলায়নের মাঝেই নিজের সুখ খুঁজে পায়...
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
النهوض بالواجبات.
على حد قول الشاعر:
دَعِ الْمَكَارِمَ لَا تَرْحَلْ لِبُغْيَتِهَا
… وَاقْعُدْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الطَّاعِمُ الْكَاسِي
ومنهم من يرى السعادة في القيام بهذه الحقوق وتحمل هذه المسئوليات والنهوض بتلك الأحمال ويجد في ذلك سعادته ومتعته لعلو همته وسمو نفسه، قال الشاعر:
لَوْلَا المَشَقّةُ سَادَ النَّاسُ كُلُّهُمُ
… الجُودُ يُفْقِرُ وَالإِقْدَامُ قَتَّالُ
وإلى بيان هذه المقاصد وفقنا الله وإياكم لفهمها والعمل بها.
المقصد الأول (الذرية): قال تعالى: {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً} [سورة الرعد، آية رقم: 38]، روى أبو داود في سننه من حديث معقل بن يسار رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «تَزَوَّجُوا الْوَدُودَ الْوَلُودَ، فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الْأُمَمَ»
(1). فالذرية مطلب صحيح وله منافع دنيوية وأُخروية، قال تعالى: {الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} [سورة الكهف، آية رقم: 46]، وقال تعالى: {وَوَهَبْنَا لِدَاوُودَ سُلَيْمَانَ نِعْمَ الْعَبْدُ إِنَّهُ أَوَّابٌ (30)} [سورة ص، آية رقم: 30]، وقال تعالى: {فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ (101)} [سورة الصافات، آية رقم: 101]، روى مسلم في صحيحه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِذَا مَاتَ
--------------------------------------------
দায়িত্বসমূহ পালন করা।
কবির উক্তি অনুযায়ী:
মহৎ কাজগুলো ছেড়ে দাও, সেসবের অন্বেষণে যাত্রা করো না… বরং বসে থাকো, কেননা তুমি তো ভোজনকারী ও পরিধানকারী।
আর তাদের মধ্যে এমন লোকও আছেন যারা এই অধিকারগুলো আদায় করা, এই দায়িত্বগুলো বহন করা এবং এই ভারগুলো পালনের মধ্যেই সুখ খুঁজে পান; স্বীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও আত্মার মহানুভবতার কারণে তিনি এতেই নিজের সুখ ও আনন্দ অনুভব করেন। কবি বলেছেন:
কষ্ট ও শ্রমের ভয় না থাকলে সকল মানুষই নেতা হতো… দানশীলতা দরিদ্র করে দেয় আর সাহস হয় প্রাণঘাতী।
আর এই উদ্দেশ্যগুলো বর্ণনার ক্ষেত্রে আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের তা বুঝার এবং সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন।
প্রথম উদ্দেশ্য (সন্তানসন্ততি): আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর অবশ্যই আমি আপনার পূর্বে অনেক রাসুল পাঠিয়েছিলাম এবং তাঁদের জন্য স্ত্রী ও সন্তানসন্ততি নির্ধারণ করেছিলাম} [সূরা আর-রাদ, আয়াত নং: ৩৮]। আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে মা'কিল বিন ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমরা এমন নারীকে বিয়ে করো যে অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান প্রসবকারিনী, কেননা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করব»
(1)। সুতরাং সন্তানসন্ততি লাভ করা একটি সঠিক চাওয়া এবং এর ইহকালীন ও পরকালীন উপকারিতা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {সম্পদ ও সন্তানসন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য} [সূরা আল-কাহফ, আয়াত নং: ৪৬]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর আমি দাউদকে সুলাইমান দান করেছি; সে কতই না চমৎকার বান্দা, নিশ্চয়ই সে ছিল অত্যন্ত আল্লাহ-অভিমুখী} [সূরা সোয়াদ, আয়াত নং: ৩০]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {অতঃপর আমি তাকে এক ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম} [সূরা আস-সাফফাত, আয়াত নং: ১০১]। মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যখন [মানুষ] মারা যায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ: إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ»
(1).
وهذا المقصد مشترك بين الزوجين على حد سواء، ومنافعه عائدة للزوجين كليهما.
وعليه فيجب على الزوجين أن يعلما أن كل واحد منهما له فضل على الآخر في إيجاد الذرية، ولا يحل لأي واحد منهما أن يرى له فضلًا في ذلك ليس للآخر، وبفهم هذه الحقيقة يحصل التعاون بينهما لحمل هذه المسئولية، ومن ثم يخف القيام بهذا الحمل الثقيل لتعاون الزوجين. وذلك بعكس ما لو تخلى أحدهما فإن الآخر سيقوم بحمله وحمل غيره، فيثقل عليه ذلك وربما عجز عنه فيقع الضرر ويحدث الفساد الذي نشاهد آثاره تزداد يومًا بعد يوم. وهذه الحقيقة هي التي فهمتها الصحابية الجليلة خولة بنت ثعلبة رضي الله عنها لما ظاهر منها زوجها وجاءت تشتكي إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: يَا رَسُولَ اللهِ! إِنَّ لِي مِنْهُ أَوْلَادًا؛ إِنْ ضُمَمْتُهُم إِلَيَّ جَاعُوا وِإِنْ ضَمَّهُم إِلَيْهِ ضَاعُوا
…(2).
ففهمت رضي الله عنها أن تربية الأولاد والقيام عليهم لا يتم إلا بتعاون الزوجين، وأنها بدون ذلك - لفراق أو شقاق - يقع الضرر على الأولاد بالجوع والضياع. فإذا كان هذا في الزمن الأول الصالح، فكيف بنا
--------------------------------------------
«মানুষের আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি বিষয় ব্যতীত: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, অথবা নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে»
(১)।
এই উদ্দেশ্যটি স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য এবং এর সুফল উভয়ের নিকটই ফিরে আসে।
এমতাবস্থায়, স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই জানা আবশ্যক যে, সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে একে অপরের প্রতি বিশেষ অবদান রয়েছে। তাদের কারোর জন্যই এটা মনে করা বৈধ নয় যে, এই ক্ষেত্রে তার এমন কোনো শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে যা অন্যজনের নেই। এই সত্যটি অনুধাবনের মাধ্যমেই এই দায়িত্ব পালনে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা তৈরি হয় এবং স্বামী-স্ত্রীর সহযোগিতার ফলে এই গুরুভার বহন করা সহজতর হয়। এর বিপরীতে যদি তাদের কোনো একজন দায়িত্ব ত্যাগ করে, তবে অন্যজনকে নিজের ও অন্যের উভয় বোঝা বহন করতে হয়; যা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় সে তা পালনে অক্ষম হয়ে যায়। ফলে ক্ষতি সাধিত হয় এবং এমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় যার প্রভাব আমরা দিন দিন বাড়তে দেখছি। এই ধ্রুব সত্যটিই মহান নারী সাহাবী খাওলা বিনতে সা'লাবা (রাদিআল্লাহু আনহা) বুঝতে পেরেছিলেন, যখন তাঁর স্বামী তাঁর সাথে যিহার করেছিলেন এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অভিযোগ নিয়ে এসে বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাঁর পক্ষ থেকে আমার সন্তানাদি রয়েছে; আমি যদি তাদের নিজের কাছে রাখি তবে তারা অনাহারে থাকবে, আর যদি তিনি তাদের নিজের কাছে রাখেন তবে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে...
(২)।
তিনি (রাদিআল্লাহু আনহা) বুঝতে পেরেছিলেন যে, সন্তানদের লালন-পালন ও তাদের তদারকি স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সহযোগিতা ব্যতীত সুচারুরূপে সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয় এবং এই সহযোগিতা না থাকলে—বিচ্ছেদ বা কলহের কারণে—সন্তানদের অনাহার ও বিনাশের আশঙ্কা থাকে। যদি পুণ্যময় আদি যুগে এই অবস্থা হয়, তবে আমাদের ক্ষেত্রে তা কেমন হবে!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
اليوم؟! وقد أنزل الله تعالى في خولة وشكواها قرآنًا يُتلى، قال تعالى: {قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَا إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ (1)} [سورة المجادلة، آية رقم: 1].
المقصد الثاني: (الخدمة): من مقاصد الرجل بالنكاح أن يتزوج امرأة تخدمه - والكلام على الغالب والحالات الخاصة لها أحكامها - سواء داخل المنزل أو خارجه؛ مثل صنع الطعام، وترتيب المنزل، وغسل الثياب، والاحتطاب، وسقي الماء، والعناية بالبهائم، وغير ذلك مما يختلف فيه مجتمع عن آخر.
وفي الصحيحين من حديث عائشة رضي الله عنها عندما سأل رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بريرة مولاة لعائشة فقال: «أَيْ بَرِيرَةُ، هَلْ رَأَيْتِ مِنْ شَيْءٍ يَرِيبُكِ؟» قَالَتْ بَرِيرَةُ: لَا وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالحَقِّ، إِنْ رَأَيْتُ عَلَيْهَا أَمْرًا أَغْمِصُهُ
(1) عَلَيْهَا، أَكْثَرَ مِنْ أَنَّهَا جَارِيَةٌ حَدِيثَةُ السِّنِّ، تَنَامُ عَنْ عَجِينِ أَهْلِهَا، فَتَأْتِي الدَّاجِنُ
(2) فَتَأْكُلُهُ
(3).
وروى مسلم في صحيحه من حديث أنس رضي الله عنه قال: لَمَّا انْقَضَتْ عِدَّةُ زَيْنَبَ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِزَيْدٍ: «فَاذْكُرْهَا عَلَيَّ»، قَالَ: فَانْطَلَقَ زَيْدٌ حَتَّى أَتَاهَا وَهِيَ تُخَمِّرُ عَجِينَهَا، قَالَ: فَلَمَّا رَأَيْتُهَا عَظُمَتْ فِي صَدْرِي
(4).
--------------------------------------------
আজ?! অথচ আল্লাহ তাআলা খাওলা এবং তাঁর অভিযোগ সম্পর্কে তিলাওয়াতযোগ্য কুরআন নাযিল করেছেন, মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ অবশ্যই সেই নারীর কথা শুনেছেন যে তাঁর স্বামীর ব্যাপারে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল এবং আল্লাহর কাছে অভিযোগ করছিল। আল্লাহ আপনাদের উভয়ের কথোপকথন শুনছেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা (১)} [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত নং: ১]।
দ্বিতীয় উদ্দেশ্য: (সেবা): নিকাহ বা বিবাহের মাধ্যমে পুরুষের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এমন এক নারীকে বিবাহ করা যে তাঁর সেবা করবে - আর এই আলোচনাটি অধিকাংশ অবস্থার ওপর ভিত্তি করে, আর বিশেষ ক্ষেত্রগুলোর জন্য পৃথক বিধান রয়েছে - চাই তা ঘরের অভ্যন্তরে হোক বা বাইরে; যেমন খাবার তৈরি করা, ঘর গুছানো, কাপড় ধোয়া, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করা, পানি পান করানো, গবাদি পশুর যত্ন নেওয়া এবং অন্যান্য বিষয় যা এক সমাজ থেকে অন্য সমাজে ভিন্নতর হয়ে থাকে।
সহীহাইন-এ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর মুক্তদাসী বারীরাহ-কে জিজ্ঞেস করলেন: «হে বারীরাহ, তুমি কি এমন কিছু দেখেছ যা তোমাকে সন্দিহান করে?» বারীরাহ বললেন: না, সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি তাঁর মধ্যে এমন কোনো বিষয় দেখিনি যা আমি ত্রুটি হিসেবে গণ্য করতে পারি
(১), কেবল এতটুকু যে, সে একজন অল্প বয়স্কা মেয়ে, সে পরিবারের আটার খামির রেখে ঘুমিয়ে পড়ে, এরপর গৃহপালিত পশু
(২) এসে তা খেয়ে ফেলে
(৩)।
ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন যয়নব-এর ইদ্দত শেষ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যায়েদ-কে বললেন: «তুমি আমার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে বিবাহের প্রস্তাব পেশ করো», তিনি বলেন: এরপর যায়েদ রওনা হলেন এবং তাঁর কাছে পৌঁছালেন এমতাবস্থায় যে তিনি আটার খামির তৈরি করছিলেন, তিনি বলেন: যখন আমি তাঁকে দেখলাম, তখন আমার অন্তরে তাঁর মর্যাদা বেড়ে গেল
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وروى مسلم في صحيحه من حديث أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنها قالت: تَزَوَّجَنِي الزُّبَيْرُ وَمَا لَهُ فِي الْأَرْضِ مِنْ مَالٍ وَلَا مَمْلُوكٍ وَلَا شَيْءٍ، غَيْرَ فَرَسِهِ، قَالَتْ: فَكُنْتُ أَعْلِفُ فَرَسَهُ، وَأَكْفِيهِ مَئُونَتَهُ وَأَسُوسُهُ وَأَدُقُّ النَّوَى لِنَاضِحِهِ، وَأَعْلِفُهُ، وَأَسْتَقِي الْمَاءَ وَأَخْرِزُ غَرْبَهُ وَأَعْجِنُ، وَلَمْ أَكُنْ أُحْسِنُ أَخْبِزُ، وَكَانَ يَخْبِزُ لِي جَارَاتٌ مِنَ الْأَنْصَارِ وَكُنَّ نِسْوَةَ صِدْقٍ، قَالَتْ: وَكُنْتُ أَنْقُلُ النَّوَى مِنْ أَرْضِ الزُّبَيْرِ الَّتِي أَقْطَعَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى رَأْسِي، وَهِيَ عَلَى ثُلُثَيْ فَرْسَخٍ. قَالَتْ: فَجِئْتُ يَوْمًا وَالنَّوَى عَلَى رَأْسِي، فَلَقِيتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِهِ، فَدَعَانِي، ثُمَّ قَالَ: «إِخْ إِخْ» لِيَحْمِلَنِي خَلْفَهُ، قَالَتْ: فَاسْتَحْيَيْتُ وَعَرَفْتُ غَيْرَتَكَ، فَقَالَ: واللهِ لَحَمْلُكِ النَّوَى عَلَى رَأْسِكِ أَشَدُّ مِنْ رُكُوبِكِ مَعَهُ، قَالَتْ: حَتَّى أَرْسَلَ إِلَيَّ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَ ذَلِكَ بِخَادِمٍ فَكَفَتْنِي سِيَاسَةَ الْفَرَسِ، فَكَأَنَّمَا أَعْتَقَتْنِي
(1).
وفي صحيح البخاري من حديث علي رضي الله عنه: أن فاطمة اشتكت ما تلقى من الرحى مما تطحن فبلغها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أُتي بسبي فأتته تسأله خادمًا فلم توافقه، فذكرت لعائشة فجاء النبي صلى الله عليه وسلم فذكرت ذلك عائشة له، فأتانا وقد دخلنا مضاجعنا فذهبنا لنقوم فقال: «عَلَى مَكَانِكُمُا» حتى وجدت برد قدميه على صدري، فقال: «أَلَا أَدُلُّكُمَا عَلَى خَيْرٍ مِمَّا سَأَلْتُمَاهُ؟ إِذَا أَخَذْتُمَا مَضَاجِعَكُمَا فَكَبِّرَا اللَّهَ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ، وَاحْمَدَا ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَسَبِّحَا ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، فَإِنَّ ذَلِكَ خَيْرٌ لَكُمَا مِمَّا سَأَلْتُمَاهُ»
(2).
فإن قيل: فما يقابل ذلك من الزوج، فالجواب: أن الزوج عليه النفقة
--------------------------------------------
ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুবাইর আমাকে বিয়ে করেছিলেন এমতাবস্থায় যে, পৃথিবীতে তাঁর কোনো ধন-সম্পদ ছিল না, কোনো দাস ছিল না এবং তাঁর ঘোড়াটি ছাড়া অন্য কিছুই ছিল না। তিনি বলেন: আমি তাঁর ঘোড়াকে ঘাস-পানি দিতাম, তার দেখাশোনা ও পরিচর্যা করতাম। আমি তাঁর পানিবাহী উটের জন্য খেজুরের আঁটি পিষতাম, তাকে খাবার দিতাম, পানি টেনে আনতাম, তাঁর চামড়ার বালতি সেলাই করতাম এবং আটা মাখতাম। আমি ভালো রুটি বানাতে পারতাম না, তাই আনসারদের কিছু প্রতিবেশী নারী আমার হয়ে রুটি বানিয়ে দিতেন; তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ (صدق) নারী। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) যুবাইরকে যে জমি বরাদ্দ দিয়েছিলেন, সেখান থেকে আমি মাথায় করে খেজুরের আঁটি বয়ে আনতাম, যা ছিল দুই-তৃতীয়াংশ ফারসাখ দূরত্বে। তিনি বলেন: একদিন আমি মাথায় করে আঁটি নিয়ে আসছিলাম, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে আমার দেখা হলো, তাঁর সাথে একদল সাহাবি ছিলেন। তিনি আমাকে ডাকলেন, এরপর উটকে বসানোর জন্য ‘ইখ ইখ’ শব্দ করলেন যাতে তিনি আমাকে তাঁর পিছনে সওয়ার করে নিতে পারেন। আসমা (রা.) বলেন: আমি লজ্জা পেলাম এবং আপনার (যুবাইরের) আত্মমর্যাদাবোধের কথা স্মরণ করলাম। অতঃপর তিনি (যুবাইর) বললেন: আল্লাহর কসম, তোমার মাথায় করে খেজুরের আঁটি বহন করা আমার কাছে তোমার তাঁর সাথে সওয়ার হওয়ার চেয়েও অধিক কষ্টদায়ক ছিল। আসমা (রা.) বলেন: পরবর্তীতে আবু বকর (রা.) আমার কাছে একজন খাদেম পাঠালেন, যিনি আমাকে ঘোড়ার পরিচর্যার কষ্ট থেকে রেহাই দিলেন; ফলে মনে হলো তিনি যেন আমাকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করলেন
(১).
এবং সহিহ বুখারিতে আলি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: ফাতিমা (রা.) জাঁতা ঘোরানোর পরিশ্রমে তাঁর হাতে যে কষ্ট হতো তা নিয়ে অভিযোগ করলেন। তাঁর কাছে খবর পৌঁছাল যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কিছু যুদ্ধবন্দী আনা হয়েছে। তিনি তাঁর কাছে একজন খাদেম চাইতে গেলেন কিন্তু তাঁকে পেলেন না। তাই তিনি বিষয়টি আয়েশা (রা.)-কে জানালেন। যখন নবী (সা.) আসলেন, তখন আয়েশা (রা.) তাঁকে বিষয়টি জানালেন। এরপর তিনি আমাদের কাছে আসলেন যখন আমরা বিছানায় শুয়ে পড়েছিলাম। আমরা উঠে দাঁড়াতে চাইলে তিনি বললেন: ‘তোমরা নিজ স্থানেই থাকো।’ এমনকি আমি আমার বুকে তাঁর দুই পায়ের শীতলতা অনুভব করলাম। এরপর তিনি বললেন: ‘আমি কি তোমাদের এমন কিছুর সন্ধান দেব না, যা তোমাদের চাওয়া জিনিসের চেয়েও উত্তম? যখন তোমরা বিছানায় যাবে, তখন চৌত্রিশ বার আল্লাহু আকবার, তেত্রিশ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ পাঠ করবে। এটি তোমাদের জন্য তোমাদের প্রার্থিত জিনিসের চেয়েও অধিক কল্যাণকর’
(২).
যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে স্ত্রীর এই শ্রমের বিপরীতে স্বামীর ওপর কী দায়িত্ব রয়েছে? উত্তর হলো: স্বামীর ওপর স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
فهو يكد ويكدح من أجل تحصيلها، قال تعالى: {لِيُنْفِقْ ذُو سَعَةٍ مِنْ سَعَتِهِ وَمَنْ قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنْفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللَّهُ لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا} [سورة الطلاق، آية رقم: 7]، وقال تعالى: {أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنْتُمْ مِنْ وُجْدِكُمْ} [سورة الطلاق، آية رقم: 6]، وقال صلى الله عليه وسلم: «كَفَى بِالْمَرْءِ إِثْمًا أَنْ يُضَيِّعَ مَنْ يَقُوتُ»
(1).
وروى أبو داود في سننه من حديث معاوية بن حيدة قال: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَقُّ زَوْجَةِ أَحَدِنَا عَلَيْهِ؟ قال صلى الله عليه وسلم: «أَنْ تُطْعِمَهَا إِذَا طَعِمْتَ، وتَكْسُوهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ..» الحديث
(2).
وروى البخاري ومسلم من حديث سعد رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له: «
… ولَسْتَ تُنْفِقُ نَفَقَةً تَبْتَغِي بها وجْهَ اللَّهِ إلَّا أُجِرْتَ بِهَا، حتَّى اللُّقْمَةَ تَجْعَلُها فِي فِي امْرَأَتِكَ»
(3).
ويلحق بذلك توفير الأمن للزوجة بجميع أنواعه؛ الأمن المنزلي، الأمن المعيشي، الأمن النفسي وغير ذلك. فهي مسئوليته وحده لكونه رجلًا، فكل واحد منهما خادم للآخر، غير أن موقع الزوجة أعز وأشرف من موقع الزوج في كثير من الحالات، فإن الزوج قد يخدم من لا يحبه ولا يكرمه بل يهينه ويذله بعكس المرأة، فإنها تجد من يشكرها ويثني عليها
--------------------------------------------
তিনি এটি উপার্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম ও মেহনত করেন। মহান আল্লাহ বলেন: {সামর্থ্যবান যেন তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে; আর যার রিযিক সংকীর্ণ করা হয়েছে, সে যেন আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা থেকে ব্যয় করে। আল্লাহ যাকে যা দান করেছেন, তার চেয়ে বেশি ভার তিনি তার ওপর চাপিয়ে দেন না।} [সূরা আত-ত্বলাক, আয়াত নং: ৭]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে নিজেরা বসবাস করো, সেখানে তাদেরকেও বাস করতে দাও।} [সূরা আত-ত্বলাক, আয়াত নং: ৬]। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “কোনো ব্যক্তির পাপী হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে যাদের লালন-পালন করার কথা, তাদের অবহেলা বা ধ্বংস করবে।”
(১).
আবু দাউদ তাঁর সুনানে মুয়াবিয়া ইবনে হাইদাহ থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো ওপর তার স্ত্রীর হক কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “তুমি যখন আহার করবে তখন তাকেও আহার করাবে এবং তুমি যখন পরিধান করবে তখন তাকেও পরাবে...” —হাদিস শেষ পর্যন্ত।
(২).
বুখারি ও মুসলিম সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বলেছিলেন: “...এবং তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যা-ই ব্যয় করবে, তোমাকে তার প্রতিদান দেওয়া হবে; এমনকি যে লোকমাটি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও তারও।”
(৩).
এর সাথে স্ত্রীকে সব ধরনের নিরাপত্তা প্রদান করাও অন্তর্ভুক্ত; যেমন আবাসন নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার নিরাপত্তা, মানসিক নিরাপত্তা ইত্যাদি। পুরুষ হওয়ার কারণে এটি কেবল তারই দায়িত্ব। তাদের প্রত্যেকেই একে অপরের সেবক, তবে অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রীর অবস্থান স্বামীর অবস্থানের চেয়েও অধিক সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ। কেননা স্বামী হয়তো এমন কারো সেবা করে যে তাকে ভালোবাসে না এবং সম্মান করে না, বরং তাকে তুচ্ছজ্ঞান ও অপমান করে; পক্ষান্তরে নারী এমন একজনকে পায় যে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং তার প্রশংসা করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ويدعو لها، فتكون خدمتها محل فرح وسعادة وفخر واعتزاز، فعلى النساء أن يتفطن لذلك ويقدرنه قدره.
ومعرفة هذه الحقيقة والعمل بها عن قناعة ورضا تدفع كل واحد منهما أن يقوم بما يجب عليه دون تذمر أو شعور بالجور أو الظلم، لعلم كل منهما أنه كما عليه واجب يلزمه القيام به فإن الآخر كذلك عليه واجب مثل الذي عليه وإن اختلفت الأنواع. فما يجب على أحدهما هو حق للآخر، وبالتالي ينقطع الإدلال والتمنن الذي يكون سببًا لتشتت الأسر وتفرقها، قال تعالى: {وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ} [سورة البقرة، آية رقم: 228].
المقصد الثالث: (المتعة) وهو أوسع هذه المقاصد وأكثرها نفعًا إذا أُحسن القيام به وأشدها ضررًا إذا أُهمل، وليس المقصود بالمتعة الفراش فقط بل هو أعم من ذلك، إذ يشمل جميع مناحي الحياة. وهو مطلوب من الزوجين كليهما مع شيء من الاختلاف في بعض ما يجب على كل واحد منهما، حسب ما تقتضيه طبيعة كل واحد منهما.
إن الزوجين حين يعيشان كنفس واحدة يفرح أحدهما لفرح الآخر ويحزن لحزنه ويهتم لهمه ويسعى كل واحد منهما لمتعة الآخر، حينها تُضمن لهما الحياة السعيدة الهانئة. ولكن ليعلم أنه لا يستقيم لهما ذلك إلا بعقد العزم على الحفاظ على هذا الرباط الوثيق بينهما حتى يلتقيا في جنات النعيم
(1).
--------------------------------------------
এবং তিনি তার জন্য দোয়া করেন; ফলে তার সেবা আনন্দ, সুখ, মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়ে পরিণত হয়। সুতরাং নারীদের উচিত এ বিষয়ে সজাগ হওয়া এবং এর যথাযথ মূল্যায়ন করা।
এই ধ্রুব সত্যটি অনুধাবন করা এবং সন্তুষ্টি ও খুশির সাথে তা আমল করা স্বামী-স্ত্রী উভয়কে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে উদ্বুদ্ধ করে; কোনো প্রকার অসন্তুষ্টি কিংবা অবিচার বা জুলুমের অনুভূতি ছাড়াই। কারণ তাদের প্রত্যেকেই জানে যে, তার ওপর যেমন কিছু আবশ্যকীয় কর্তব্য রয়েছে যা তাকে পালন করতে হবে, তেমনি অপর পক্ষের ওপরও অনুরূপ কর্তব্য রয়েছে, যদিও সেগুলোর ধরণ ভিন্ন হতে পারে। ফলে একজনের ওপর যা আবশ্যকীয় তা অন্যজনের অধিকার, আর এর ফলে সেই কর্তৃত্বপরায়ণতা ও অনুগ্রহ প্রদর্শনের (খোঁটা দেওয়া) মানসিকতা বিলুপ্ত হয় যা পরিবার ভেঙে যাওয়া ও বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর পুরুষদের ওপর নারীদের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি নারীদের ওপরও পুরুষদের অধিকার রয়েছে বিধিসম্মতভাবে} [সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং: ২২৮]।
তৃতীয় উদ্দেশ্য: (উপভোগ (المتعة)) এটি এই সকল উদ্দেশ্যের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক এবং সবচেয়ে বেশি উপকারী যদি তা সঠিকভাবে সম্পাদন করা হয়, আর যদি অবহেলা করা হয় তবে তা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক। এখানে উপভোগ (المتعة) বলতে কেবল শয্যাগত আনন্দই উদ্দেশ্য নয়, বরং এটি তার চেয়েও ব্যাপক; কারণ এটি জীবনের সকল দিককে শামিল করে। এটি স্বামী-স্ত্রী উভয়ের কাছেই কাম্য, তবে প্রত্যেকের প্রকৃতির চাহিদা অনুযায়ী উভয়ের ওপর অর্পিত কিছু কর্তব্যের মধ্যে সামান্য ভিন্নতা থাকতে পারে।
স্বামী-স্ত্রী যখন এক আত্মা হয়ে জীবনযাপন করে, তখন একজন অন্যজনের সুখে আনন্দিত হয়, তার দুঃখে ব্যথিত হয়, তার চিন্তায় চিন্তিত হয় এবং প্রত্যেকেই অন্যজনের উপভোগের (المتعة) জন্য সচেষ্ট থাকে; কেবল তখনই তাদের জন্য একটি সুখময় ও শান্তিময় জীবনের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। তবে জেনে রাখা উচিত যে, জান্নাতুন নাঈমে মিলিত হওয়া পর্যন্ত নিজেদের মধ্যকার এই সুদৃঢ় বন্ধন বজায় রাখার দৃঢ় সংকল্প করা ছাড়া তাদের জন্য এই বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تقدم فيما سبق أن المقصد الثالث من مقاصد النكاح بمعناه الأعم هو أوسع هذه المقاصد وأكثرها نفعاً إذا أُحسن القيام به وأشدها ضرراً إذا أُهمل.
ومن آثاره أنه يخدم المقاصد الأخرى إيجابًا وسلبًا، وهو مطلوب من الزوجين جميعًا غير أن الزوجة به أولى وعليه أقدر لما جبلها الله عليه من التراكيب الأنثوية الجذابة، والإشعارات الحلوة الجميلة، فَلَيْسَ فِي الدُّنْيَا أَلَذُّ وَلَا أَطْيَبُ وَلَا أَمْتَعُ مِنَ الْمَرْأَةِ الصَّالِحَةِ، فَكُلُّ مُتَعِ الْحَيَاةِ تَنْعَكِسُ عِنْدَ التَّقَلُّبَاتِ، أَمَّا الْمَرْأَةَ الصَّالِحَةِ فَتَبْقَى كَذَلِكَ، بَلْ إِنَّ السَّعَادَةَ بِهَا تزداد مَعَ اِشْتِدَادِ الْأَحْوَالِ وَمَصَاعِبِ الْحَيَاةِ.
بهذا نفهم قوله صلى الله عليه وسلم فيما رواه مسلم في صحيحه من حديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الدُّنْيَا مَتَاعٌ، وَخَيْرُ مَتَاعِ الدُّنْيَا الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ»
(1).
وسنورد فيما يأتي بعض الآيات القرآنية والأحاديث النبوية الشريفة المشتملة على تطبيق هذا المقصد لتكون عونًا على فهمه.
وليعلم أننا في هذا الفصل لا نريد منه بيان الحقوق والواجبات وإنما نريد إيضاح مجالات إمتاع كل من الزوجين للآخر فيما يخص الأخلاق الجميلة والآداب الرفيعة وأنه شامل لجميع مناحي الحياة.
1 - قال الله تعالى: {هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ} [سورة البقرة، آية رقم: 187]، من وسائل إسعاد كل واحد من الزوجين للآخر أن يكون
--------------------------------------------
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিবাহের ব্যাপক অর্থের ভিত্তিতে এর উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে তৃতীয় উদ্দেশ্যটি হলো সর্বাধিক বিস্তৃত এবং যথাযথভাবে পালিত হলে সবচেয়ে বেশি উপকারী, আর অবহেলিত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।
এর অন্যতম প্রভাব হলো এটি অন্যান্য উদ্দেশ্যগুলোকেও ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয়ভাবে প্রভাবিত করে। এটি স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের নিকট কাম্য, তবে স্ত্রী এর জন্য অধিক উপযুক্ত এবং এর ওপর অধিক সক্ষম; কারণ আল্লাহ তাকে আকর্ষণীয় নারীসুলভ শারীরিক গঠন এবং অত্যন্ত মাধুর্যপূর্ণ ও সুন্দর অনুভূতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীতে পুণ্যবতী (صالحة) নারীর চেয়ে অধিক তৃপ্তিদায়ক, উত্তম ও আনন্দদায়ক আর কিছু নেই। জীবনের সকল সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পরিস্থিতির পরিবর্তনে বদলে যেতে পারে, কিন্তু পুণ্যবতী (صالحة) নারী অপরিবর্তিত থাকেন; বরং কঠিন পরিস্থিতি ও জীবনের প্রতিকূলতায় তাঁকে ঘিরে সুখ আরও বৃদ্ধি পায়।
এর মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই বাণীর মর্ম বুঝতে পারি যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «পৃথিবী হলো ক্ষণস্থায়ী সম্পদ, আর পৃথিবীর সর্বোত্তম সম্পদ হলো পুণ্যবতী (صالحة) নারী»
(১)।
এই উদ্দেশ্যটি অনুধাবনে সহায়ক হওয়ার জন্য আমরা নিম্নে কিছু কুরআনের আয়াত ও মর্যাদাপূর্ণ নববী হাদিস উল্লেখ করব যেখানে এই উদ্দেশ্যের প্রায়োগিক রূপ বর্ণিত হয়েছে।
জেনে রাখা আবশ্যক যে, এই পরিচ্ছেদে আমাদের উদ্দেশ্য কেবল অধিকার ও কর্তব্য বর্ণনা করা নয়, বরং আমরা স্বামী-স্ত্রীর একে অপরকে আনন্দ প্রদানের সেই ক্ষেত্রগুলো স্পষ্ট করতে চাই যা সুন্দর চরিত্র ও উচ্চতর শিষ্টাচারের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং যা জীবনের সকল দিককে পরিব্যাপ্ত করে আছে।
১ - মহান আল্লাহ বলেন: {তারা তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাকস্বরূপ} [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নম্বর: ১৮৭]। স্বামী-স্ত্রীর একে অপরকে সুখী করার অন্যতম মাধ্যম হলো যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لباساً له يستره ويقيه ويتجمل به ويأتي مزيد تفصيل لذلك.
2 - قال الله تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا} [سورة الروم، آية رقم: 21]، فمن أعظم المتع التي يحصل عليها الزوج أن تكون زوجته بمثابة السكن الذي يأوي إليه ويهنأ به وسيأتي مزيد تفصيل لذلك.
3 - قال الله تعالى: {فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ} [سورة النساء، آية رقم: 34]، روى الإمام أحمد في مسنده من حديث سعد رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم لما سئل عن المرأة الصالحة قال: «الَّتِي تَسُرُّهُ إِذَا نَظَرَ، وَتُطِيعُهُ إِذَا أَمَرَ، وَلَا تُخَالِفُهُ فِيمَا يكْرَهُ فِي نَفْسِهَا وَمَالِهُ»
(1)،
إِنَّ القَلَقَ وَالْهَمَّ الَّذِي يُصِيبُ الزَّوْجَ بِسَبَبِ الشُّكُوكِ وَالْوَسَاوِسِ حَالَ غِيَابِهِ عَنْ زَوْجَتِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ تَزُولُ بِالْمَرْأَةِ الصَّالِحَةِ الْعَفِيفَةِ الشَّرِيفَةِ وَيَحُلُّ مَحَلَّهَا الطُّمَأْنِينَةُ وَالرَّاحَةُ.
4 - قال الله تعالى حاكيًا عن نبي الله موسى وهو يخاطب أهله: {فَلَمَّا قَضَى مُوسَى الْأَجَلَ وَسَارَ بِأَهْلِهِ آنَسَ مِنْ جَانِبِ الطُّورِ نَارًا قَالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا لَعَلِّي آتِيكُمْ مِنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ جَذْوَةٍ مِنَ النَّارِ لَعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ (29)} [سورة القصص، آية: 29].
من الأمور التي تظهر فيها مكانة الزوجة عند زوجها أن يجعلها تشاركه في بعض أموره العامة، فإنها بذلك تشعر بالتقدير والاحترام وأنها ليست من سقط المتاع، فهذا موسى عليه السلام يقول لزوجته:
--------------------------------------------
একটি পোশাক হিসেবে যা তাকে আবৃত করে, রক্ষা করে এবং যার মাধ্যমে সে সৌন্দর্য মণ্ডিত হয়; এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসছে।
২ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পার} [সূরা আর-রুম, আয়াত: ২১]। একজন স্বামী যে শ্রেষ্ঠতম নিয়ামতগুলো লাভ করে, তার মধ্যে একটি হলো তার স্ত্রী তার জন্য প্রশান্তির আবাসস্থল হিসেবে গণ্য হওয়া, যেখানে সে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং আনন্দিত হয়। এ বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসছে।
৩ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {সুতরাং পুণ্যময়ী নারীরা অনুগত এবং আল্লাহর সংরক্ষণে (স্বামীদের) অনুপস্থিতিতেও (নিজেদের সতীত্ব ও সম্পদ) হিফাজতকারী} [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৪]। ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে সাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে যখন পুণ্যময়ী নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন: «সেই নারী, যাকে দেখলে স্বামী আনন্দিত হয়, যাকে আদেশ করলে সে আনুগত্য করে এবং স্বামী নিজের জান বা সম্পদের ব্যাপারে যা অপছন্দ করে তাতে সে তার বিরোধিতা করে না»
(১)।
স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজের স্ত্রী, সম্পদ ও সন্তান সম্পর্কে সন্দেহ ও কুমন্ত্রণার কারণে তার মনে যে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হয়, তা একজন পুণ্যময়ী, সচ্চরিত্রা ও মহীয়সী নারীর মাধ্যমে দূরীভূত হয় এবং তার পরিবর্তে সেখানে প্রশান্তি ও স্বস্তি স্থলাভিষিক্ত হয়।
৪ - আল্লাহ তাআলা আল্লাহর নবী মূসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যখন তিনি তাঁর পরিবারকে সম্বোধন করছিলেন: {অতঃপর মূসা যখন মেয়াদ পূর্ণ করল এবং সপরিবারে যাত্রা করল, তখন সে তূরের দিক থেকে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিবারকে বলল, তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখেছি; সম্ভবত আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য কোনো সংবাদ নিয়ে আসতে পারব অথবা আগুনের কোনো মশাল আনতে পারব যাতে তোমরা তাপ নিতে পার (২৯)} [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ২৯]।
স্বামীর নিকট স্ত্রীর মর্যাদা যে বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রকাশ পায় তার মধ্যে একটি হলো, তাকে তার কিছু সাধারণ কাজে অংশীদার করা। এর মাধ্যমে স্ত্রী মূল্যায়ন ও সম্মান বোধ করে এবং সে বুঝতে পারে যে সে তুচ্ছ কোনো সামগ্রী নয়। এই তো মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর স্ত্রীকে বলছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
سآتيكم منها بخبر، ولم يقل: هذه الأمور تخص الرجال لا شأن لها به، فلينتبه الأزواج إلى ذلك.
5 - من أعظم المتع التي تنالها الزوجة أن تجد من زوجها الشكر والثناء والاعتراف بالجميل لقاء ما تقوم به من تبعل وحسن معشر، وهؤلاء أزواج رسول الله صلى الله عليه وسلم ورضي الله عنهن لما خُيرن بين الدنيا والآخرة فاخترن الله ورسوله كانت مكافأتهن ما أخبر به عز وجل بقوله: {لَا يَحِلُّ لَكَ النِّسَاءُ مِنْ بَعْدُ وَلَا أَنْ تَبَدَّلَ بِهِنَّ مِنْ أَزْوَاجٍ وَلَوْ أَعْجَبَكَ حُسْنُهُنَّ إِلَّا مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ} [سورة الأحزاب، آية رقم: 52].
6 - من أفضل وأحسن ما يهنأ به الزوج أن تكون زوجته حافظة لبصرها فإنها إذا كانت كذلك فهي لما سواه أحفظ، قال الله تعالى: {وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ} [سورة النور، آية رقم: 31]، فقد وصف الله نساء أهل الجنة، فقال تعالى: {فِيهِنَّ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ} [سورة الرحمن، آية رقم: 56]، كذلك فإن الزوجة تجد السعادة والراحة حين ترى زوجها حافظًا لبصره امتثالًا لقوله تعالى: {قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ} [سورة النور، آية رقم: 30]، لعلمها أنه إذا حفظ بصره فإنه لما سواه أحفظ.
7 - من أعظم ما يتمتع به الزوجان أن يرى كل منهما في الآخر هذا الخلق الجميل الذي هو شعبة من الإيمان وهو خلق الحياء، فإن الحياء إذا وجد لا يرقى معه شيء من الأخلاق الذميمة والصفات السقيمة، ولذلك قال صلى الله عليه وسلم: «الْحَيَاءُ كُلُّهُ خَيْرٌ»
(1). وفي التنزيل المبارك يقص علينا ربنا عز وجل قصة البنتين الصالحتين، فقد ذكر أعظم ما تحليا به وهو الحياء الذي
--------------------------------------------
আমি তোমাদের নিকট এ সম্পর্কিত সংবাদ নিয়ে আসব,” আর তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) এমনটি বলেননি যে: এই বিষয়গুলো কেবল পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট, এতে নারীদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই; অতএব স্বামীদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত।
৫ - একজন স্ত্রী যে সকল মহান আনন্দ লাভ করে থাকে, তার অন্যতম হলো তার স্বামীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা, প্রশংসা এবং তার সেবা ও উত্তম সাহচর্যের বিনিময়ে উপকারের স্বীকৃতি পাওয়া। আর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সহধর্মিণীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), যখন তাঁদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো, তখন তাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে বেছে নিয়েছিলেন। ফলে তাঁদের পুরস্কার ছিল তা-ই যা মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে জানিয়েছেন: {এরপর তোমার জন্য অন্য নারী বৈধ নয় এবং এদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করাও তোমার জন্য বৈধ নয়, যদিও তাদের রূপ-লাবণ্য তোমাকে মুগ্ধ করে; তবে তোমার অধিকারভুক্ত দাসীদের কথা ভিন্ন।} [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫২]।
৬ - একজন স্বামী যে সকল উত্তম ও কল্যাণকর বিষয় দ্বারা ধন্য হতে পারেন, তার একটি হলো তার স্ত্রীর দৃষ্টির হিফাযত করা। কেননা সে যদি তার দৃষ্টি সংযত রাখে, তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে সে আরও বেশি হিফাযতকারী হবে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে।} [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১]। আল্লাহ তাআলা জান্নাতি নারীদের বর্ণনা দিয়ে বলেন: {সেখানে থাকবে আনতনয়না (নারীরা)।} [সূরা আর-রহমান, আয়াত: ৫৬]। অনুরূপভাবে একজন স্ত্রীও সুখ ও প্রশান্তি লাভ করে যখন সে তার স্বামীকে আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে দৃষ্টি সংযত রাখতে দেখে। আল্লাহ বলেন: {মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে।} [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩০]। কেননা সে জানে যে, স্বামী যদি তার দৃষ্টির হিফাযত করে, তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে সে আরও বেশি হিফাযতকারী হবে।
৭ - দম্পতি উভয়েই যে শ্রেষ্ঠ বিষয়গুলো উপভোগ করে, তার অন্যতম হলো একে অপরের মাঝে এই সুন্দর চরিত্রের প্রতিফলন দেখা যা ঈমানের একটি শাখা; আর তা হলো লজ্জাশীলতা। কেননা যখন লজ্জাশীলতা বিদ্যমান থাকে, তখন তার সাথে কোনো প্রকার নিন্দনীয় চরিত্র বা মন্দ গুণাবলী স্থান পায় না। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «লজ্জাশীলতার পুরোটাই কল্যাণকর»
(১)। আর পবিত্র কুরআনে আমাদের প্রতিপালক মহান আল্লাহ দুই নেককার কন্যার কাহিনী বর্ণনা করেছেন; সেখানে তিনি তাঁদের শ্রেষ্ঠ ভূষণ লজ্জাশীলতার কথা উল্লেখ করেছেন যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
منعهما من مخالطة الرجال مع شدة الحاجة إلى سقي غنمهما، قال الله تعالى: {وَلَمَّا وَرَدَ مَاءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِنَ النَّاسِ يَسْقُونَ وَوَجَدَ مِنْ دُونِهِمُ امْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ قَالَ مَا خَطْبُكُمَا قَالَتَا لَا نَسْقِي حَتَّى يُصْدِرَ الرِّعَاءُ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ (23) فَسَقَى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّى إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ (24)} [سورة القصص، الآيتان: 23 - 24].
8 - إن مما يجمل المرأة ويرفع منزلتها في عيون الناس - ولاسيما الزوج- أن يكون الحياء حاكمًا على جميع تصرفاتها وحركاتها وسكناتها حتى في مشيها، وقد ذكر الله ذلك عن المرأة الصالحة بنت الرجل الصالح على سبيل الثناء والمدح، فقال تعالى: {فَجَاءَتْهُ إِحْدَاهُمَا تَمْشِي عَلَى اسْتِحْيَاءٍ} [سورة القصص، آية رقم: 25].
9 - من أعظم النعم على الرجل أن يرزقه الله زوجة عاقلة حصيفة شديدة الملاحظة لما فيه الخير، عارفة بالفضائل ومحاسن الصفات، قال الله تعالى عن المرأة الصالحة بنت الرجل الصالح: {قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَاأَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ (26)} [سورة القصص، آية رقم: 26].
10 - قال تعالى: {يَانِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا (32)} [سورة الأحزاب، آية رقم: 32].
من الأمور التي ترفع مكانة المرأة وتعلي منزلتها عند زوجها بل عند الناس جميعًا؛ أن تكون تصرفاتها قاطعة لأطماع أصحاب الهوى والفجور، فإذا اضطرت إلى الكلام مع الرجال كان كلامها غير رقيق ولا لين وأن
তাদের ছাগলগুলোকে পানি পান করানোর তীব্র প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও পুরুষদের সাথে মেলামেশা থেকে তাদের বিরত রাখা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যখন সে মাদইয়ানের কূপের কাছে পৌঁছল, সেখানে সে একদল মানুষকে পেল যারা (তাদের পশুদের) পানি পান করাচ্ছিল। আর তাদের পেছনে সে দুজন নারীকে দেখতে পেল যারা (নিজেদের পশুদের) আগলে রাখছিল। সে বলল, 'তোমাদের ব্যাপার কী?' তারা বলল, 'আমরা আমাদের পশুদের পানি পান করাতে পারি না যতক্ষণ না রাখালরা তাদের পশুদের সরিয়ে নেয়। আর আমাদের পিতা অতি বৃদ্ধ।' (২৩) তখন সে তাদের পক্ষ হয়ে (পশুদের) পানি পান করাল, তারপর ছায়ায় ফিরে গিয়ে বলল, 'হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণই নাযিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।' (২৪)} [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ২৩ - ২৪]।
8 - নিশ্চয়ই যে বিষয়টি একজন নারীকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে এবং মানুষের চোখে—বিশেষ করে স্বামীর কাছে—তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে, তা হলো তার প্রতিটি আচরণে, নড়াচড়ায় এবং প্রতিটি পদক্ষেপে লজ্জাশীলতার প্রভাব থাকা; এমনকি তার হাঁটাচলায়ও। আল্লাহ তাআলা সেই পুণ্যবতী নারী (সৎ পিতার কন্যা) সম্পর্কে প্রশংসা ও গুণগানস্বরূপ তা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর তাদের একজন অত্যন্ত লজ্জাশীলতার সাথে হেঁটে তার কাছে আসল।} [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ২৫]।
9 - একজন পুরুষের জন্য মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামতসমূহের অন্যতম হলো তাকে একজন বুদ্ধিমতী, বিচক্ষণ ও কল্যাণের প্রতি প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন স্ত্রী দান করা, যিনি গুণাবলী ও সচ্চরিত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত। সৎ পিতার পুণ্যবতী কন্যা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাদের একজন বলল, 'হে আমার পিতা, আপনি তাকে শ্রমিক হিসেবে নিযুক্ত করুন; কারণ আপনার নিযুক্ত শ্রমিকের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠ, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত (الأمين)।'} [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ২৬]।
10 - আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে নবী-পত্নীগণ, তোমরা অন্য কোনো নারীর মতো নও; যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে পরপুরুষের সাথে কথা বলার সময় কণ্ঠস্বরে কোমলতা অবলম্বন করো না, পাছে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা ন্যায়সংগত কথা বলো।} [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩২]।
যেসব বিষয় নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং তার স্বামীর কাছে বরং সকল মানুষের কাছে তার অবস্থানকে উন্নত করে, তার মধ্যে অন্যতম হলো তার আচরণ যেন প্রবৃত্তিপূজারী (أصحاب الهوى) ও পাপাচারীদের আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করে দেয়। তাই যদি তাকে পুরুষদের সাথে কথা বলতে হয়, তবে সেই কথা যেন কমনীয় বা নরম না হয় এবং যেন...
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تتجنب فيه الألفاظ والعبارات التي لا تنبغي إلا مع الأزواج {وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا (32)} [سورة الأحزاب، آية رقم: 32].
11 - إن إدخال السرور على النفوس مما يسعى إليه كل أحد وهو من نعيم أهل الجنة، ولذلك ينبغي للزوجين إدخال السرور على بعضهما وهذه صفة المرأة الصالحة، فروى الإمام أحمد في مسنده من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم سُئِلَ: أَيُّ النِّسَاءِ خَيْرٌ؟ قَالَ: «الَّتِي تَسُرُّهُ إِذَا نَظَرَ، وَتُطِيعُهُ إِذَا أَمَرَ، وَلَا تُخَالِفُهُ فِيمَا يَكْرَهُ فِي نَفْسِهَا وَمَالِهَ»
(1).
12 - روى الإمام أحمد في مسنده من حديث عائشة رضي الله عنها: أنها كانت مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر وهي جارية، فقال لأصحابه: «تَقَدَّمُوا»، فَتَقَدَّمُوا، ثُمَّ قَالَ: «تَعَالَيْ أُسَابِقُكِ»، فَسَبَقْتُهُ، فَلَبِثْنَا حَتَّى إِذَا رَهِقَنِي اللَّحْمُ سَابَقَنِي فَسَبَقَنِي، فَقَالَ: «هَذِهِ بِتِيكِ»
(2).
13 - روى الإمام أحمد في مسنده من حديث عائشة رضي الله عنها قالت: كُنْتُ أَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضٌ، فَيَأْخُذُهُ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم فَيَضَعُ فَمَهُ حَيْثُ كَانَ فَمِي، وَأَشْرَبُ مِنَ الْإِنَاءِ، فَيَأْخَذُهُ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم فَيَضَعُ فَمَهُ حَيْثُ كَانَ فَمِي، وَأَنَا حَائِضٌ
(3).
14 - روى البخاري ومسلم في صحيحيهما من حديث عائشة رضي الله عنها قالت: دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدِي جَارِيَتَانِ تُغَنِّيَانِ بِغِنَاءِ بُعَاثَ،
--------------------------------------------
সেখানে এমন শব্দ ও বাক্য পরিহার করতে হবে যা স্বামী-স্ত্রী ব্যতীত অন্যের সাথে শোভনীয় নয়। {আর তোমরা সদালাপ করো (৩২)} [সূরা আল-আহযাব, আয়াত নং: ৩২]।
১১ - অন্তরে আনন্দ প্রদান করা এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেকেই কামনা করে এবং এটি জান্নাতবাসীদের নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তাই স্বামী-স্ত্রীর উচিত একে অপরকে আনন্দ দেওয়া এবং এটি নেককার নারীর গুণ। ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোন নারী সর্বোত্তম? তিনি বললেন: «সেই নারী, যাকে দেখলে স্বামী আনন্দিত হয়, স্বামী নির্দেশ দিলে তা পালন করে এবং নিজের নফস ও সম্পদের ব্যাপারে স্বামীর অপছন্দনীয় কোনো বিষয়ে তার বিরোধিতা করে না»
(১)।
১২ - ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি এক সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলেন এবং তখন তিনি অল্পবয়স্কা ছিলেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের বললেন: «তোমরা এগিয়ে যাও», অতঃপর তাঁরা এগিয়ে গেলেন। এরপর তিনি আমাকে বললেন: «এসো, তোমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করি», তখন আমি তাঁর আগে চলে গেলাম। এরপর আমরা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করলাম, যখন আমার শরীর ভারী হলো, তখন তিনি পুনরায় আমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করলেন এবং তিনি আগে চলে গেলেন। এরপর তিনি বললেন: «এই জয় সেই পরাজয়ের বদলা»
(২)।
১৩ - ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ঋতুবতী অবস্থায় হাড়ের মাংস ছিঁড়ে খেতাম, এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটি নিতেন এবং আমি যেখানে মুখ রেখেছিলাম ঠিক সেখানে মুখ রেখে খেতেন। আবার আমি পাত্র থেকে পানি পান করতাম, এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটি নিতেন এবং আমি যেখানে মুখ রেখেছিলাম ঠিক সেখানে মুখ রেখে পান করতেন, অথচ তখন আমি ঋতুবতী ছিলাম
(৩)।
১৪ - বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহিহদ্বয়ে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট প্রবেশ করলেন যখন আমার নিকট দুটি বালিকা বুয়াস যুদ্ধের গান গাচ্ছিল,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فَاضْطَجَعَ عَلَى الفِرَاشِ، وَحَوَّلَ وَجْهَهُ، وَدَخَلَ أَبُو بَكْرٍ، فَانْتَهَرَنِي وَقَالَ: مِزْمَارَةُ الشَّيْطَانِ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ عليه السلام فَقَالَ: «دَعْهُمَا»، فَلَمَّا غَفَلَ غَمَزْتُهُمَا فَخَرَجَتَا، وَكَانَ يَوْمَ عِيدٍ، يَلْعَبُ السُّودَانُ بِالدَّرَقِ وَالحِرَابِ، فَإِمَّا سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَإِمَّا قَالَ: «تَشْتَهِينَ تَنْظُرِينَ؟» فَقُلْتُ: نَعَمْ، فَأَقَامَنِي وَرَاءَهُ، خَدِّي عَلَى خَدِّهِ، وَهُوَ يَقُولُ: «دُونَكُمْ يَا بَنِي أَرْفِدَةَ» حَتَّى إِذَا مَلِلْتُ، قَالَ: «حَسْبُكِ؟» قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: «فَاذْهَبِي»
(1).
15 - ضَرَبَتْ خَدِيجَةُ رضي الله عنها أَرَوْعَ الْأَمْثَالِ قَبْلَ الْإِسْلَامِ وَبَعْدَهُ، وَنَذكُرُ بَعْضَ مَوَاقِفِهَا وَمَوَاقِفِ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم مَعَهَا لِيَكُونَ ذَلِكَ مِثَالًا يُحْتَذَى لِكُلِّ زَوْجَيْنِ يُرِيدَانِ أَنْ تَكُونَ حَيَاتُهُمَا مَعَ بَعْضِهِمَا حَيَاةً سَعِيدَةً طِيبَةً.
روى البخاري في صحيحه من حديث عائشة رضي الله عنها أنها قالت: أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح، وجاء في آخر الحديث، فرجع بها رسول الله صلى الله عليه وسلم يرجف فؤاده، فدخل على خديجة بنت خويلد، فقال: «زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي» فَزَمَّلُوهُ حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ، ثُمَّ قَالَ لِخَدِيجَةَ: «أَيْ خَدِيجَةُ مَا لِي»، وَأَخْبَرَهَا الْخَبَرَ، قَالَ: «لَقَدْ خَشِيتُ عَلَى نَفْسِي»، فَقَالَتْ خَدِيجَةُ: كَلَّا وَاللَّهِ مَا يُخْزِيكَ اللهُ أَبَدًا، إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَحْمِلُ الكَلَّ، وَتَكْسِبُ المَعْدُومَ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الحَقِّ، فَانْطَلَقَتْ بِهِ خَدِيجَةُ حَتَّى أَتَتْ بِهِ وَرَقَةَ بْنَ نَوْفَلِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ العُزَّى ابْنَ عَمِّ خَدِيجَةَ وَكَانَ
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং তাঁর চেহারা ফিরিয়ে নিলেন। এমতাবস্থায় আবু বকর প্রবেশ করলেন এবং আমাকে ধমক দিয়ে বললেন: আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর নিকট শয়তানের বাদ্যযন্ত্র? তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর দিকে ফিরে বললেন: «ওদের ছেড়ে দাও»। এরপর যখন তিনি অন্যমনস্ক হলেন, তখন আমি তাদের ইশারা করলাম এবং তারা বেরিয়ে গেল। সেদিন ছিল ঈদের দিন, কৃষ্ণাঙ্গরা (السودان) ঢাল ও বর্শা নিয়ে খেলা করছিল। হয় আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর নিকট আবেদন করেছিলাম অথবা তিনি নিজেই বলেছিলেন: «তুমি কি দেখতে চাও?» আমি বললাম: হ্যাঁ। তখন তিনি আমাকে তাঁর পেছনে দাঁড় করালেন, আমার গাল ছিল তাঁর গালের ওপর। তিনি বলছিলেন: «হে বনু আরফিদা! চালিয়ে যাও»। শেষ পর্যন্ত যখন আমি ক্লান্ত হয়ে পড়লাম, তিনি বললেন: «তোমার জন্য কি যথেষ্ট হয়েছে?» আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «তবে যাও»
(১)।
১৫ - খাদিজা (রা.) ইসলামের পূর্বে ও পরে সর্বোত্তম আদর্শ স্থাপন করেছেন। আমরা তাঁর এবং তাঁর সাথে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কতিপয় আচরণের কথা উল্লেখ করব, যাতে তা প্রত্যেক ঐ দম্পতির জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয় যারা তাদের পারস্পরিক জীবনকে সুখী ও পবিত্র করতে চায়।
বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর প্রতি ওহী (الوحي)-এর সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের (الرؤيا الصالحة) মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা সুবহে সাদিকের আলোর ন্যায় স্পষ্ট হয়ে প্রকাশিত হতো। হাদিসের শেষাংশে এসেছে যে, আল্লাহর রাসূল ﷺ ভীত-সন্ত্রস্ত হৃদয়ে ফিরে আসলেন এবং খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ-এর নিকট প্রবেশ করে বললেন: «আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো, আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো»। তখন তাঁরা তাঁকে আবৃত করলেন যতক্ষণ না তাঁর থেকে আতঙ্ক দূর হলো। অতঃপর তিনি খাদিজাকে বললেন: «হে খাদিজা! আমার কী হলো?», এবং তিনি তাঁকে সকল সংবাদ জানালেন। তিনি বললেন: «আমি নিজের জীবনের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি»। তখন খাদিজা বললেন: কক্ষনো নয়, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেন, অসহায়ের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বকে স্বাবলম্বী করেন, মেহমানদারি করেন এবং হকের পথে আপদ-বিপদে সাহায্য করেন। অতঃপর খাদিজা তাঁকে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নওফাল ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযার নিকট গেলেন, যিনি ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
امْرَأً تَنَصَّرَ فِي الجَاهِلِيَّةِ، وَكَانَ يَكْتُبُ الكِتَابَ العِبْرَانِيَّ، فَيَكْتُبُ مِنَ الإِنْجِيلِ بِالعِبْرَانِيَّةِ مَا شَاء اللهُ أَنْ يَكْتُبَ، وَكَانَ شَيْخًا كَبِيرًا قَدْ عَمِيَ، فَقَالَتْ لَهُ خَدِيجَةُ: يَا ابْنَ عَمِّ، اسْمَعْ مِنِ ابْنِ أَخِيكَ، فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ: يَا ابْنَ أَخِي مَاذَا تَرَى؟ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَبَرَ مَا رَأَى، فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ: هَذَا النَّامُوسُ الَّذِي نَزَّلَ اللهُ عَلَى مُوسَى، يَا لَيْتَنِي فِيهَا جَذَعًا، يَا لَيْتَنِي أَكُونُ حَيًّا حِينَ يُخْرِجُكَ قَوْمُكَ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَوَمُخْرِجِيَّ هُمْ؟»، قَالَ وَرَقَةُ: نَعَمْ، لَمْ يَأْتِ رَجُلٌ قَطُّ بِمَا جِئْتَ بِهِ إِلَّا عُودِيَ، وَإِنْ يُدْرِكْنِي يَوْمُكَ أَنْصُرْكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا، ثُمَّ لَمْ يَنْشَبْ وَرَقَةُ أَنْ تُوُفِّيَ، وَفَتَرَ الوَحْيُ
(1).
فوقوفها مع النبي صلى الله عليه وسلم وتثبيتها له وتبشيرها من أعظم مواقف امرأة مع زوجها، مع الإحاطة والعلم بأن هذا كله وقع قبل إسلامها، وقد كافأها رسول الله صلى الله عليه وسلم بإظهار هذه المواقف النبيلة، فكان صلى الله عليه وسلم يردد: «إِنَّهَا كَانَتْ، وَكَانَتْ، وَكَانَ لِي مِنْهَا وَلَدٌ»
(2)، و «إِنِّي رُزِقْتُ حُبَّهَا»
(3)، و «مَا أَبْدَلَنِي اللَّهُ عز وجل خَيْرًا مِنْهَا، قَدْ آمَنَتْ بِي إِذْ كَفَرَ بِي النَّاسُ، وَصَدَّقَتْنِي إِذْ كَذَّبَنِي النَّاسُ، وَوَاسَتْنِي بِمَالِهَا إِذْ حَرَمَنِي النَّاسُ»
(4).
وكان صلى الله عليه وسلم بعد وفاتها رضي الله عنها يذكر لها هذه الفضائل العظيمة حتى قالت
--------------------------------------------
এমন একজন ব্যক্তি যিনি জাহিলিয়্যাতের যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি হিব্রু লিপি লিখতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী ইঞ্জিল থেকে হিব্রু ভাষায় অনুবাদ করে লিখতেন। তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। খাদিজা (রা.) তাঁকে বললেন: ‘হে চাচাতো ভাই, আপনার ভাতিজার কথা শুনুন’। ওরাকা তাঁকে বললেন: ‘হে ভাতিজা, তুমি কী দেখছ?’ অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন তার সংবাদ তাঁকে জানালেন। ওরাকা তাঁকে বললেন: ‘ইনি সেই গোপন বার্তাবাহক (নামুস), যাঁকে আল্লাহ মুসার নিকট অবতীর্ণ করেছিলেন। হায়, আমি যদি সেদিন যুবক থাকতাম! হায়, আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম যখন আপনার কওম আপনাকে বের করে দেবে!’ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘তারা কি আমাকে বের করে দেবে?’ ওরাকা বললেন: ‘হ্যাঁ, আপনি যা নিয়ে এসেছেন, অতীতে যে ব্যক্তিই তা নিয়ে এসেছেন তাঁর সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে। যদি আমি আপনার সেই দিনটি পাই, তবে আপনাকে জোরালোভাবে সাহায্য করব’। এরপর বেশিদিন অতিবাহিত হয়নি যে ওরাকা ইন্তেকাল করেন এবং ওহি (وحي) স্থগিত হয়ে যায়
(1).
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশে তাঁর এই অবস্থান, তাঁকে সাহস যোগানো এবং সুসংবাদ দান করা একজন স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীর প্রতি প্রদর্শিত শ্রেষ্ঠতম আচরণের অন্তর্ভুক্ত। এর সাথে সাথে এ বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞান থাকা আবশ্যক যে, এ সবই তাঁর ইসলাম গ্রহণের পূর্বে সংঘটিত হয়েছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মহৎ কাজগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে তাঁকে যথাযথ মূল্যায়ন করেছিলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার বলতেন: ‘তিনি এমন ছিলেন, এমন ছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমেই আমার সন্তান লাভ হয়েছে’
(2), এবং ‘নিশ্চয়ই আমাকে তাঁর ভালোবাসা দান করা হয়েছে’
(3), এবং ‘আল্লাহ عز وجল আমাকে তাঁর চেয়ে উত্তম কোনো বিনিময় দান করেননি। তিনি আমার প্রতি ঈমান এনেছিলেন যখন মানুষ আমাকে অস্বীকার করেছিল, তিনি আমাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছিলেন যখন মানুষ আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল এবং তিনি তাঁর সম্পদ দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করেছিলেন যখন মানুষ আমাকে বঞ্চিত করেছিল’
(4).
তাঁর ইন্তেকালের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই সুমহান গুণাবলির কথা স্মরণ করতেন, এমনকি আয়েশা (রা.) বলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
عائشة رضي الله عنها: كأنه لم يكن في الدنيا امرأة إلا خديجة
(1).
وقد نالت رضي الله عنها بحسن عشرتها ما لم ينله أحد، روى البخاري ومسلم في صحيحيهما من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: «أَتَى جِبْرِيلُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! هَذِهِ خَدِيجَةُ قَدْ أَتَتْ مَعَهَا إِنَاءٌ فِيهِ إِدَامٌ، أَوْ طَعَامٌ أَوْ شَرَابٌ، فَإِذَا هِيَ أَتَتْكَ فَاقْرَأْ عليها السلام مِنْ رَبِّهَا وَمِنِّي، وَبَشِّرْهَا بِبَيْتٍ فِي الجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ لَا صَخَبَ فِيهِ، وَلَا نَصَبَ
(2).
والقصب لؤلؤ مجوف واسع كالقصر المنيف، والصخب اختلاط الأصوات، والنصب: التعب، قال السهيلي: وإنما بشرها ببيت في الجنة من قصب - يعني قصب اللؤلؤ - لأنها حازت قصب السبق إلى الإيمان، لا صخب فيه ولا نصب، لأنها لم ترفع صوتها على النبي صلى الله عليه وسلم ولم تتعبه يومًا من الدهر، فلم تصخب عليه يومًا ولا آذته أبدًا
(3).
هذه بعض مواقفها رضي الله عنها وأرضاها ختمنا بها هذا الفصل والمسك خير ختام.
* * *
--------------------------------------------
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: "মনে হয় যেন পৃথিবীতে খাদিজা ছাড়া আর কোনো নারীই নেই"
(১)।
এবং তিনি রাযিয়াল্লাহু আনহা তাঁর উত্তম সাহচর্যের মাধ্যমে এমন মর্যাদা লাভ করেছেন যা অন্য কেউ লাভ করেনি। ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এই যে খাদিজা আপনার কাছে আসছেন, তাঁর সাথে একটি পাত্র আছে যাতে ব্যঞ্জন, খাদ্য অথবা পানীয় রয়েছে। তিনি যখন আপনার কাছে পৌঁছাবেন, তখন আপনি তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন। আর তাঁকে জান্নাতে মণি-মুক্তার তৈরি একটি প্রাসাদের সুসংবাদ দিন, যেখানে থাকবে না কোনো শোরগোল আর থাকবে না কোনো ক্লান্তি
(২)।
আর 'কাসাব' হলো ভেতরে ফাঁপা প্রশস্ত মুক্তা যা সুউচ্চ প্রাসাদের মতো; 'সাখাব' হলো শোরগোল; আর 'নাসাব' হলো ক্লান্তি। সুহায়লি বলেন: তাঁকে জান্নাতে 'কাসাব'—অর্থাৎ মুক্তার তৈরি—প্রাসাদের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে কারণ তিনি ঈমানের দিকে অগ্রগামী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন; সেখানে কোনো শোরগোল বা ক্লান্তি নেই, কারণ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে কখনো উচ্চস্বরে কথা বলেননি এবং কোনোদিন তাঁকে ক্লান্ত করেননি। ফলে তিনি কখনো তাঁর সাথে উচ্চবাচ্য করেননি এবং কখনো তাঁকে কষ্ট দেননি
(৩)।
এগুলো তাঁর রাযিয়াল্লাহু আনহা জীবনের কিছু উজ্জ্বল দিক যা দিয়ে আমরা এই পরিচ্ছেদটি শেষ করছি, আর কস্তুরীই হলো সর্বোত্তম সমাপ্তি।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
فصل منه: 16 - روى البخاري ومسلم في صحيحيهما من حديث أبي هريرة رضي الله عنه: أن رجلًا أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله؟ أصابني الجهد، فبعث إلى نسائه، فقلن: ما معنا إلا الماء، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ يَضُمُّ أَوْ يُضِيفُ هَذَا» [هَذِهِ اللَّيْلَةَ رحمه الله]؟ فقال رجل من الأنصار: أنا [يَا رَسُولَ اللهِ!] فانطلق به إلى امرأته فقال: أكرمي ضيف رسول الله صلى الله عليه وسلم [لَا تَدَّخِرِيهِ شَيئًا] فقالت [وَاللهِ] ما عندنا إلا قوت صبياني، فقال: هيئي طعامك وأصبحي سراجك، ونومي صبيانك، إذا أرادوا عشاء [وَتَعَالَي فَأَطْفِئِي السِّرَاجَ وَنَطْوِي بُطُونَنَا اللَّيْلَةَ]. فهيأت طعامها، وأصبحت سراجها، ونومت صبيانها، ثم قامت كأنها تصلح سراجها فأطفأته، فجعلا يريانه أنهما يأكلان فباتا طاويين، فلما أصبح غدا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «ضَحِكَ اللَّهُ اللَّيْلَةَ - أَوْ عَجِبَ - مِنْ فَعَالِكُمَا»، فأنزل الله: {وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (9)} [سورة الحشر، آية رقم: 9]
(1).
لقد عظم الإسلام مكانة المرأة وأشاد بمواقفها النبيلة وأنزل فيها قرآنًا يُتلى إلى يوم القيامة، فتبًّا ثم تبًّا لمن يسعون إلى إظهار الإسلام بغير ذلك.
--------------------------------------------
এর একটি অনুচ্ছেদ: 16 - ইমাম বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহিহদ্বয়ে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে: এক ব্যক্তি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি চরম দুর্দশাগ্রস্ত (ক্ষুধার্ত)। তখন তিনি তাঁর স্ত্রীদের নিকট (খাবারের খোঁজে) লোক পাঠালেন। তাঁরা বললেন: আমাদের নিকট পানি ব্যতীত আর কিছুই নেই। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «কে এই ব্যক্তিকে আজ রাতে মেহমান হিসেবে গ্রহণ করবে [আজ রাতে, আল্লাহ তার ওপর রহম করুন]»? তখন আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন: [হে আল্লাহর রাসুল!] আমি। অতঃপর তিনি মেহমানকে নিয়ে তাঁর স্ত্রীর নিকট গিয়ে বললেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেহমানের সম্মান করো [তার জন্য কোনো কিছু জমা করে রেখো না]। স্ত্রী বললেন: [আল্লাহর কসম] আমার নিকট আমার বাচ্চাদের খাবার ব্যতীত আর কিছুই নেই। তখন তিনি (স্বামী) বললেন: তোমার খাবার প্রস্তুত করো, প্রদীপটি জ্বালাও এবং তোমার বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও যখন তারা রাতের খাবার চাইবে। [আর তুমি এসে প্রদীপটি নিভিয়ে দিও এবং আজ রাতে আমরা না খেয়েই রাত কাটাব]। অতঃপর তিনি খাবার প্রস্তুত করলেন, প্রদীপ জ্বালালেন এবং বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দিলেন। তারপর তিনি প্রদীপটি ঠিক করার ভান করে তা নিভিয়ে দিলেন। তাঁরা উভয়ে এমন প্রদর্শন করতে লাগলেন যেন তাঁরা খাচ্ছেন, অথচ তাঁরা অভুক্ত অবস্থায় রাত কাটালেন। যখন ভোর হলো, তখন তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «আল্লাহ আজ রাতে তোমাদের উভয়ের কর্মকাণ্ডে হেসেছেন—অথবা আশ্চর্য হয়েছেন—», অতঃপর আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {আর তারা নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত থাকে। আর যারা নিজেদের মনের কার্পণ্য থেকে সুরক্ষা পায়, তারাই সফলকাম। (৯)} [সুরা আল-হাশর, আয়াত: ৯]
(1)।
নিশ্চয়ই ইসলাম নারীর মর্যাদাকে সুমহান করেছে এবং তার মহৎ অবস্থানের প্রশংসা করেছে। আর তার সম্পর্কে এমন কুরআন অবতীর্ণ করেছে যা কিয়ামত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে। সুতরাং ধ্বংস এবং আবারও ধ্বংস তাদের জন্য, যারা ইসলামকে এর বিপরীতরূপে উপস্থাপন করতে সচেষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ولبيان وجه إيراد هذه القصة تأمل الفقرات التالية:
(أ) هذا الضيف ليس ضيفًا كغيره بل ضيفًا مميزًا فهو ضيف رسول الله صلى الله عليه وسلم.
(ب) هذا الصحابي الجليل رضي الله عنه أخذ معه هذا الضيف إلى بيته ليقوم بضيافته لينال بذلك رضى الله تعالى ورضى رسول الله صلى الله عليه وسلم، ورجاء أن تصيبه دعوة الرسول صلى الله عليه وسلم، وليدخل السرور على نفسه فإنه من قوم يحبون إكرام الضيف.
(ج) أخبر امرأته أن هذا الضيف ضيفٌ مميزٌ لتشاركه في الأجر والفضل والحمد
(1)، ولم يقل لها: هذا لا يعنيك افعلي ما آمرك به.
(د) لم يجد الأنصاري رضي الله عنه في بيته من الطعام سوى ما يكفي لصبيته، وفي هذه الحالة البالغ فيها الحرج غايته وجد نفسه مضطرًا إلى من يعينه ويقف معه لينال هذه الفضائل وقد وجده، فيا ترى من يكون؟
(هـ) إنها زوجته الصالحة الكريمة العاقلة الذكية الصابرة الوفية.
(و) لو قالت لزوجها: قد اجتمع عليك حقان: حق الضيف وحق الأهل، وعليك أن تقدم أولاهما وهو هنا حق الأهل، لضاق صدره، وعظم حرجه. ولكنها رضي الله عنها لم تقل ذلك لكرم نفسها وطيب معشرها.
(ز) من كرم نفسها وحسن عشرتها بيتت النية وعقدت العزم على أن تؤثر على نفسها فتبيت خميصة البطن في سبيل أن ينال زوجها تلك الفضائل والشرف العظيم ولتجمله عند رسول الله صلى الله عليه وسلم وضيفه،
--------------------------------------------
এই কাহিনীটি উল্লেখ করার প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করার জন্য নিচের অনুচ্ছেদগুলোর প্রতি লক্ষ্য করুন:
(ক) এই মেহমান অন্য সাধারণ মেহমানদের মতো ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এক বিশেষ মেহমান; কেননা তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেহমান।
(খ) এই মহান সাহাবী (صحابي) রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই মেহমানকে আপ্যায়ন করার জন্য নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেন, যাতে এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেন। এছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়ার ভাগীদার হওয়ার আশা এবং মেহমানকে আনন্দিত করাও ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। কেননা তিনি এমন এক জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা মেহমানদারি করতে পছন্দ করেন।
(গ) তিনি তাঁর স্ত্রীকে জানালেন যে, এই মেহমান একজন বিশেষ মেহমান, যাতে তাঁর স্ত্রীও সওয়াব (أجر), মর্যাদা (فضل) ও প্রশংসার (حمد)
(১) অংশীদার হতে পারেন। তিনি তাঁকে এমনটা বলেননি যে: "এটি তোমার দেখার বিষয় নয়, আমি যা বলি তাই করো।"
(ঘ) আনসারী (أنصاري) রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর ঘরে সন্তানদের পর্যাপ্ত খাবার ছাড়া অন্য কিছুই পাননি। এই অত্যন্ত সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে তিনি এমন কাউকে খোঁজার প্রয়োজন বোধ করলেন, যিনি তাঁকে সাহায্য করবেন এবং এই ফজিলতসমূহ (فضائل) অর্জনে তাঁর পাশে দাঁড়াবেন। আর তিনি তাঁকে পেয়েও গেলেন; তবে দেখুন তো, তিনি কে হতে পারেন?
(ঙ) তিনি ছিলেন তাঁর নেককার, দানশীলা, বিদুষী, বুদ্ধিমতী, ধৈর্যশীলা ও একনিষ্ঠ স্ত্রী।
(চ) তিনি যদি তাঁর স্বামীকে বলতেন: "আপনার ওপর দুটি হক (حق) বা অধিকার এসে পড়েছে—মেহমানের হক (حق) এবং পরিবারের হক (حق)। আর আপনার উচিত প্রথমটিকে (পরিবারের হক) অগ্রাধিকার দেওয়া", তবে স্বামীর মন ছোট হয়ে যেত এবং তাঁর সংকট আরও বেড়ে যেত। কিন্তু তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁর নিজের মহানুভবতা এবং উত্তম আচরণের কারণে এমনটি বলেননি।
(ছ) তাঁর আত্মার বদান্যতা এবং উত্তম সহচর্য থেকে তিনি নিয়ত (نية) করলেন এবং দৃঢ় সংকল্প করলেন যে, তিনি নিজেকে কষ্ট দিয়ে হলেও অপরকে অগ্রাধিকার দেবেন। ফলে তিনি ক্ষুধার্ত পেটেই রাত কাটাবেন যাতে তাঁর স্বামী ঐ সকল ফজিলত (فضائل) ও মহান সম্মান লাভ করতে পারেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর মেহমানের কাছে তাঁকে মর্যাদাবান করতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فهي لم تقل: ما عندي إلا ما يكفيني بل تجاهلت نفسها وقالت: ما عندي إلا عشاء الصبية.
(ح) من ذكائها وخوفها ألا يكون تصرفها صحيحًا في تقديم حق الضيف على حق الصبية قالت ذلك لزوجها ليشتركا في القرار ولتحمل معه نتائجه، وكان بإمكانها أن تتهرب وتقول لزوجها: هذا الموجود أطعمه من شئت وتخلي مسؤوليتها، ولكنها رضي الله عنها لم تفعل ذلك لكرم نفسها وحسن عشرتها، فأنعم بها وأكرم من قدوة صالحة.
(ط) من أعظم ما يواجه الشخص فقه الأولويات وتقديم الواجبات والحقوق بعضها على بعض عند التزاحم، وفي هذه القصة مثال يحتذى، والموفق من وفقه الله، ومن يرد الله به خيرًا يفقهه في الدين.
(ي) في هذه القصة كانت الفكرة النظرية مشتركة بين الزوجين إلا أن المنفذ لها والحامل لأعبائها ورافع رايتها هي الزوجة المباركة، فاستحقت بذلك تخليد ذكرها وأن يعجب ربها من صنيعها وصنيع زوجها.
(ك) لم يقتصرا رضي الله عنهما في إكرام ضيف رسول الله صلى الله عليه وسلم على تهيئة عشائه فقط، بل زادا على ذلك إدخال السرور عليه. وذلك في إظهار أنه لم يلحقهما مشقة في إكرامه وأن ما قدماه له زائد عن حاجتهما، فأطفآ السراج وجعلا يوهمانه أنهما يأكلان.
هذا ما تيسر بيانه فيما يتعلق بموضوعنا، وفي القصة فوائد أخرى نذكر أظهرها على سبيل الاختصار:
তিনি এ কথা বলেননি যে: ‘আমার কাছে কেবল আমার নিজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই আছে’, বরং তিনি নিজের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করেছেন এবং বলেছেন: ‘আমার কাছে বাচ্চাদের রাতের খাবার ছাড়া আর কিছু নেই।’
(হ) তার বুদ্ধিমত্তা এবং সন্তানদের হকের ওপর মেহমানের হককে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তার আচরণটি সঠিক হচ্ছে কি না—সেই আশঙ্কা থেকে তিনি এটি তার স্বামীকে বলেছিলেন, যাতে তারা উভয়ে সিদ্ধান্তে শরিক হতে পারেন এবং এর পরিণামও যৌথভাবে বহন করতে পারেন। তার পক্ষে এটি সম্ভব ছিল যে, বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া এবং স্বামীকে বলা: ‘এই যা খাবার আছে তা যাকে ইচ্ছা খাওয়ান’ এবং এর মাধ্যমে নিজের দায়মুক্তি ঘটানো। কিন্তু তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তার হৃদয়ের মহানুভবতা এবং সুন্দর সাহচর্যের কারণে এমনটি করেননি। তিনি কতই না উত্তম এবং সম্মানিত এক আদর্শ!
(ত) একজন মানুষ যেসব বিষয়ের সম্মুখীন হয় তার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো অগ্রাধিকারের প্রজ্ঞা (فقه) এবং যখন একাধিক ওয়াজিব ও হকের মাঝে ভিড় বা সংঘর্ষ সৃষ্টি হয় তখন একটির ওপর অন্যটিকে প্রাধান্য দেওয়া। এই ঘটনায় এক অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। আর সফল সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তৌফিক দান করেছেন। আর আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা (يفقهه) দান করেন।
(য়) এই ঘটনায় তাত্ত্বিক পরিকল্পনাটি স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মাঝে অভিন্ন থাকলেও এর বাস্তবায়নকারী, এর কষ্টের ভার বহনকারী এবং এর ঝাণ্ডা উড্ডীনকারী ছিলেন সেই বরকতময় স্ত্রী। এর মাধ্যমেই তিনি তার স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করার এবং তার ও তার স্বামীর কর্মের প্রতি তার রবের আশ্চর্যান্বিত হওয়ার মর্যাদার উপযুক্ত হয়েছেন।
(ক) তারা উভয়ে (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মেহমানকে সম্মান জানাতে কেবল রাতের খাবার প্রস্তুত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং মেহমানের মনে আনন্দ সঞ্চার করার অতিরিক্ত কাজও করেছেন। আর তা ছিল এটি জাহির করার মাধ্যমে যে, তাকে মেহমানদারি করতে তাদের কোনো কষ্ট হয়নি এবং যা তারা পেশ করেছেন তা তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত। তাই তারা বাতি নিভিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাকে এটি অনুভব করিয়েছিলেন যে তারাও খাচ্ছেন।
আমাদের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট যা কিছু বর্ণনা করা সহজতর ছিল তা এখানেই সমাপ্ত। এই ঘটনায় আরও অনেক শিক্ষা রয়েছে, আমরা সংক্ষেপে তার মধ্যে অতি সুস্পষ্টগুলো উল্লেখ করছি:
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
1 - في هذه القصة بيان مكانته صلى الله عليه وسلم وعظيم منزلته عند ربه، فإن هذين الصحابيين لما قاما بضيافة ضيفه صلى الله عليه وسلم وأديا عنه الحق الذي عليه خلد الله ذكرهما الحسن في آيات تتلى إلى يوم القيامة، فيا ترى كم تكون منزلة من قام بدعوته ونشر سنته وذب عن دينه؟!
2 - وفيها: ما كان عليه صلى الله عليه وسلم من ضيق العيش وقلة ذات اليد اختيارًا منه لذلك، فإنه لو شاء لكان غير ذلك، ولكنه صلى الله عليه وسلم آثر الباقية على الفانية والأخرى على الأولى، وفضل أن يكون عبدًا رسولًا.
3 - وفيها: فضل أزواج الرسول صلى الله عليه وسلم، وعظيم صبرهن واختيارهن الله ورسوله على الحياة الدنيا وزينتها.
4 - وفيها: أن من الواجبات والفروض ما هو فرض كفاية، فإن حق هذا الضيف سقط عن النبي صلى الله عليه وسلم بقيام هذين الصحابيين به.
5 - وفيها: أن سؤال الرجل أن يقوم أحد إخوانه المسلمين بحق وجب عليه لا يستطيعه ليس من السؤال المذموم.
6 - وفيها: أن إكرام الضيف لا يكون بإطعام الطعام فقط، بل يشمل أمورًا أخرى من الترحيب به ومؤانسته بالحديث وغيرهما مما يختلف فيه الناس من مجتمع لآخر، قال الشاعر:
النَّارُ إِذَا شِبَّتْ فَنَصُّ الكَرَامَةِ
… وَالنَّصُّ الآخَرُ مَا تَيَسَّرَ مِنَ القُوتِ
7 - وفيها: أنه ينبغي أن يظهر المضيف لضيفه ما يجعل الضيف يطمئن أنه لم يشُق عليه وإن كان الأمر بعكس ذلك.
8 - وفيها: أن الإيثار من محاسن الأخلاق وفضائل الأعمال، وهو مع
1 - এই ঘটনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর রবের নিকট তাঁর মহান অবস্থানের বর্ণনা রয়েছে। কেননা যখন এই দুইজন সাহাবী তাঁর মেহমানের আতিথেয়তা করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে যে হক বা অধিকার ছিল তা আদায় করেছিলেন, তখন আল্লাহ তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত তিলাওয়াতযোগ্য আয়াতের মাধ্যমে তাঁদের সেই উত্তম প্রশংসা চিরস্থায়ী করে দিয়েছেন। তাহলে ভেবে দেখুন, যিনি তাঁর দাওয়াতের কাজ সম্পন্ন করেন, তাঁর সুন্নাহ প্রচার করেন এবং তাঁর দ্বীনকে রক্ষা করেন, তাঁর মর্যাদা কত সুমহান হবে?!
2 - এতে আরও রয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনযাপনের সংকীর্ণতা ও অভাব-অনটন যা তিনি স্বেচ্ছায় বেছে নিয়েছিলেন। কারণ তিনি চাইলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত; কিন্তু তিনি নশ্বর জগতের ওপর অবিনশ্বর পরকালকে এবং পার্থিব জীবনের ওপর আখিরাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন এবং একজন ‘বান্দা ও রাসূল’ হওয়াকেই শ্রেয় মনে করেছিলেন।
3 - এতে আরও রয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নীগণের শ্রেষ্ঠত্ব, তাঁদের সুমহান ধৈর্য এবং পার্থিব জীবন ও এর চাকচিক্যের বিপরীতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি।
4 - এতে আরও রয়েছে: ওয়াজিব ও ফরযসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা ফরযে কিফায়া (فرض كفاية)। কেননা এই মেহমানের হক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর থেকে রহিত হয়ে গিয়েছিল যখন এই দুইজন সাহাবী তা সম্পন্ন করেছিলেন।
5 - এতে আরও রয়েছে: কোনো ব্যক্তির নিজের ওপর অর্পিত কোনো হক বা দায়িত্ব যা পালনে সে অক্ষম, তা পালনের জন্য তার কোনো মুসলিম ভাইয়ের কাছে অনুরোধ করা নিন্দনীয় যাচনার অন্তর্ভুক্ত নয়।
6 - এতে আরও রয়েছে: মেহমানদারী কেবল খাবার খাওয়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি তাকে স্বাগত জানানো, কথাবার্তার মাধ্যমে তাকে সঙ্গ দেওয়া এবং অন্যান্য বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে যা সমাজভেদে ভিন্ন হতে পারে। কবি বলেছেন:
আগুন যখন প্রজ্বলিত হয় তখন তা সম্মানেরই নামান্তর
… আর অন্য অংশটি হলো যা কিছু আহার্য সহজলভ্য হয়।
7 - এতে আরও রয়েছে: মেজবানের উচিত মেহমানের সামনে এমনভাবে নিজেকে প্রকাশ করা যাতে মেহমান আশ্বস্ত হন যে তিনি কোনো কষ্টের কারণ হননি, যদিও প্রকৃত অবস্থা এর বিপরীত হয়ে থাকে।
8 - এতে আরও রয়েছে: পরোপকার বা আত্মত্যাগ (الإيثار) হলো সুন্দরতম চরিত্র এবং শ্রেষ্ঠ আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর এটি...
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الخصاصة أعظم وأجل.
9 - وفيها: أن الشخص قد تسمو نفسه إلى اكتساب الفضائل، ولكنه قد يحتاج في بعضها إلى المعين، فإذا وجده فليستمسك به ولا يفرط فيه فإن وجوده عزيز.
10 - وفيها: أن إظهار المرء أفعالًا تخالف الواقع لا يعد من الكذب المذموم إذا كان ذلك لمصلحة تقتضيه.
11 - وفيها: فضل الصبر وعظيم جزائه، فصبرهم على الجوع مع قدرتهم على الشبع وصبرهم على الألم الذي يعتصر قلوبهم حين يرون صبيانهم يبيتون جياعًا بل هم الذين ينومونهم، وصبر الزوجة على زوجها الذي جلب لها كل هذه التكاليف، وكل ذلك وهم لا يعلمون أن فعلهم هذا سيكون سببًا لتخليد ذكرهم في أحسن الكتب وعلى لسان خير الرسل، وما عند اللَّه خير وأبقى.
12 - وفيها: إثبات صفتين من صفات الله عز وجل: التعجب والضحك.
* * *
অভাব-অনটন অধিক মহান ও শ্রেষ্ঠতর।
৯ - এর মধ্যে আরও রয়েছে: কোনো ব্যক্তির মন সৎগুণাবলি অর্জনের প্রতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে পারে, তবে সেগুলোর কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার একজন সহায়কের প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং যদি সে তেমন কাউকে পেয়ে যায়, তবে যেন তাকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে এবং তাকে অবহেলা না করে; কেননা তেমন ব্যক্তির সান্নিধ্য পাওয়া দুষ্কর।
১০ - এর মধ্যে আরও রয়েছে: কোনো ব্যক্তির বাস্তবতার পরিপন্থী কোনো কাজ প্রকাশ করা নিন্দনীয় মিথ্যা (الكذب) হিসেবে গণ্য হবে না যদি তা কোনো সুনির্দিষ্ট কল্যাণের খাতিরে হয়ে থাকে।
১১ - এর মধ্যে আরও রয়েছে: ধৈর্য ধারণের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তার সুমহান প্রতিদান। তৃপ্ত হওয়ার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষুধার ওপর তাদের ধৈর্য ধারণ, এবং সন্তানদের ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত কাটাতে দেখে তাদের হৃদয়ে যে কষ্টের উদ্রেক হয় তার ওপর ধৈর্য ধারণ—বরং তারাই তাদের ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিল। আর সেই স্বামীর প্রতি স্ত্রীর ধৈর্য ধারণ যিনি তাকে এই সকল কষ্টের সম্মুখীন করেছিলেন। এ সবই তারা করেছিলেন অথচ তারা জানতেন না যে, তাদের এই কাজটি সর্বোত্তম কিতাবসমূহে এবং শ্রেষ্ঠ রাসুলের জবানিতে তাদের নাম চিরস্মরণীয় করার কারণ হবে। আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তা-ই সর্বোত্তম ও চিরস্থায়ী।
১২ - এর মধ্যে আরও রয়েছে: মহান আল্লাহর গুণাবলির (صفات) মধ্য হতে দুটি গুণ সাব্যস্ত করা: আশ্চর্য হওয়া (التعجب) এবং হাসা (الضحك)।
* * *
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فصل منه: 17 - من محاسن العشرة الزوجية أن يتبادل الزوجان الأحاديث المفيدة والقصص النافعة. فقد روى البخاري ومسلم في صحيحيهما عن عائشة رضي الله عنها قالت: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ، فَإِنْ كُنْتُ مُسْتَيْقِظَةً حَدَّثَنِي، وَإِلَّا اضْطَجَعَ
(1).
18 - وهذه أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها تقص على رسول الله صلى الله عليه وسلم خبرًا عجيبًا عن تقييم النساء لأزواجهن والرسول عليه الصلاة والسلام يستمع لها ويعقب على حديثها، روى البخاري ومسلم في صحيحيهما من حديث عائشة رضي الله عنها قالت: جَلَسَ إِحْدَى عَشْرَةَ امْرَأَةً، فَتَعَاهَدْنَ وَتَعَاقَدْنَ أَنْ لَا يَكْتُمْنَ مِنْ أَخْبَارِ أَزْوَاجِهِنَّ شَيْئًا:
قَالَتِ الْأُولَى: زَوْجِي لَحْمُ جَمَلٍ غَثٍّ
(2) عَلَى رَأْسِ جَبَلٍ لَا سَهْلٌ فَيُرْتَقَى، وَلَا سَمِينٌ فَيُنْتَقَلَ
(3).
--------------------------------------------
এ থেকে একটি পরিচ্ছেদ: ১৭ - দাম্পত্য জীবনের অন্যতম সৌন্দর্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কল্যাণকর আলোচনা ও উপকারী গল্পের আদান-প্রদান হওয়া। ইমাম বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজরের দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন, তখন আমি যদি জাগ্রত থাকতাম তবে তিনি আমার সাথে কথা বলতেন, অন্যথায় তিনি শুয়ে পড়তেন
(১)।
১৮ - আর ইনি হলেন উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা), তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে স্বামীদের সম্পর্কে নারীদের মূল্যায়নের একটি বিস্ময়কর সংবাদ বর্ণনা করছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন ও তার কথার প্রেক্ষিতে মন্তব্য করছেন। বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এগারোজন নারী একত্রে বসলেন এবং তারা এই মর্মে অঙ্গীকার ও চুক্তিবদ্ধ হলেন যে, তারা তাদের স্বামীদের কোনো সংবাদই গোপন করবেন না:
প্রথমজন বললেন: আমার স্বামী পাহাড়ের চূড়ায় থাকা একটি রুগ্ন
(২) উটের গোশতের মতো, যেখানে আরোহণ করা সহজ নয় এবং তা হৃষ্টপুষ্টও নয় যে তা বয়ে নিয়ে আসা হবে
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قَالَتِ الثَّانِيَةُ: زَوْجِي لَا أَبُثُّ خَبَرَهُ
(1)، إِنِّي أَخَافُ أَنْ لَا أَذَرَهُ
(2)، إِنْ أَذْكُرْهُ أَذْكُرْ عُجَرَهُ وَبُجَرَهُ
(3).
قَالَتِ الثَّالِثَةُ: زَوْجِي الْعَشَنَّقُ
(4)، إِنْ أَنْطِقْ أُطَلَّقْ
(5)، وَإِنْ أَسْكُتْ أُعَلَّقْ
(6).
قَالَتِ الرَّابِعَةُ: زَوْجِي كَلَيْلِ تِهَامَةَ
(7)، لَا حَرَّ وَلَا قُرَّ
(8)، وَلَا مَخَافَةَ وَلَا سَآمَةَ.
قَالَتِ الْخَامِسَةُ: زَوْجِي إِنْ دَخَلَ فَهِدَ
(9)، وَإِنْ خَرَجَ أَسِدَ
(10)، وَلَا يَسْأَلُ
--------------------------------------------
দ্বিতীয়জন বললেন: আমার স্বামীর সংবাদ আমি প্রচার করি না
(১); আমি আশঙ্কা করি যে আমি তাকে ছেড়ে থাকতে পারব না
(২)। যদি আমি তার কথা উল্লেখ করি তবে তার প্রকাশ্য ও গোপন সকল দোষ-ত্রুটিই উল্লেখ করে ফেলব
(৩)।
তৃতীয়জন বললেন: আমার স্বামী অতি দীর্ঘদেহী কিন্তু নির্বোধ
(৪); আমি যদি কথা বলি তবে তালাকপ্রাপ্তা হব
(৫), আর যদি চুপ থাকি তবে ঝুলন্ত (معلقة) অবস্থায় থাকব
(৬)।
চতুর্থজন বললেন: আমার স্বামী তিহামাহর রাতের ন্যায়
(৭); না আছে অতিরিক্ত গরম, না আছে অতিরিক্ত শীত
(৮), আর নেই কোনো ভয় বা একঘেয়েমি।
পঞ্চমজন বললেন: আমার স্বামী ঘরে প্রবেশ করলে চিতার ন্যায় (ক্ষিপ্র বা নিভৃতচারী) হয়ে যান
(৯), আর বাইরে বের হলে সিংহের ন্যায় (পরাক্রমশালী) হয়ে যান
(১০), আর তিনি কোনো কিছুর তল্লাশি করেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
عَمَّا عَهِدَ.
(1).
قَالَتِ السَّادِسَةُ: زَوْجِي إِنْ أَكَلَ لَفَّ
(2)، وَإِنْ شَرِبَ اشْتَفَّ
(3)، وَإِنِ اضْطَجَعَ الْتَفّ
(4)، وَلَا يُولِجُ الْكَفَّ لِيَعْلَمَ الْبَثَّ
(5).
قَالَتِ السَّابِعَةُ: زَوْجِي غَيَايَاءُ
(6)، أَوْ عَيَايَاءُ طَبَاقَاءُ، كُلُّ دَاءٍ لَهُ دَاءٌ
(7)، شَجَّكِ أَوْ فَلَّكِ أَوْ جَمَعَ كُلًّا لَكِ.
قَالَتِ الثَّامِنَةُ: زَوْجِي الرِّيحُ رِيحُ زَرْنَبٍ
(8)، وَالْمَسُّ مَسُّ أَرْنَبٍ
(9).
قَالَتِ التَّاسِعَةُ: زَوْجِي رَفِيعُ الْعِمَادِ طَوِيلُ النِّجَادِ عَظِيمُ الرَّمَادِ، قَرِيبُ
--------------------------------------------
যা প্রত্যক্ষ করেছেন সে বিষয়ে তিনি প্রশ্ন করেন না।
(১)।
ষষ্ঠজন বললেন: আমার স্বামী যখন আহার করেন তখন বহু পদের খাবার একত্রে গ্রহণ করেন
(২), যখন পান করেন তখন পাত্রের সবটুকু শুষে নেন
(৩), যখন শয়ন করেন তখন চাদর মুড়ি দিয়ে একাকী বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকেন
(৪), আর আমার দুঃখ-ব্যথার সংবাদ নেওয়ার জন্য তিনি কখনো সহানুভূতির হাত প্রসারিত করেন না
(৫)।
সপ্তমজন বললেন: আমার স্বামী অত্যন্ত বিভ্রান্ত
(৬), অথবা অক্ষম ও স্থূলবুদ্ধি, জগতের যাবতীয় ব্যাধিই তার মাঝে বিদ্যমান
(৭); সে হয় তোমার মাথা ফাটিয়ে দেবে, অথবা কোনো অঙ্গ ভেঙে ফেলবে, নতুবা তোমার জন্য এ দুটোরই সমাবেশ ঘটাবে।
অষ্টমজন বললেন: আমার স্বামীর সুঘ্রাণ ‘যারনাব’ নামক সুগন্ধি লতার ন্যায়
(৮), আর তার স্পর্শ খরগোশের স্পর্শের মতো কোমল
(৯)।
নবমজন বললেন: আমার স্বামীর স্তম্ভ সুউচ্চ, তরবারির ঝালর দীর্ঘ, চুলার ছাই প্রচুর, তিনি নিকটবর্তী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الْبَيْتِ مِنَ النَّادِ
(1).
قَالَتِ الْعَاشِرَةُ: زَوْجِي مَالِكٌ
(2)، وَمَا مَالِكٌ؟ مَالِكٌ خَيْرٌ مِنْ ذَلِكَ، لَهُ إِبِلٌ كَثِيرَاتُ الْمَبَارِكِ
(3)، قَلِيلَاتُ الْمَسَارِحِ
(4)، إِذَا سَمِعْنَ صَوْتَ الْمِزْهَرِ أَيْقَنَّ أَنَّهُنَّ هَوَالِكُ
(5).
قَالَتِ الْحَادِيَةَ عَشْرَةَ: زَوْجِي أَبُو زَرْعٍ
(6)، فَمَا أَبُو زَرْعٍ؟ أَنَاسَ
(7) مِنْ حُلِيٍّ أُذُنَيَّ
(8)، وَمَلَأَ مِنْ شَحْمٍ عَضُدَيَّ
(9)، وَبَجَّحَنِي فَبَجِحَتْ إِلَيَّ نَفْسِي
(10)،
--------------------------------------------
জনসভার সন্নিকটে তাঁর গৃহের অবস্থান
(১)।
দশম মহিলা বললেন: আমার স্বামী মালিক
(২); আর কে এই মালিক? মালিক (তাঁর গুণাবলি) তো এর চেয়েও শ্রেষ্ঠ। তাঁর এমন অনেক উট রয়েছে যেগুলোর বিশ্রামস্থল
(৩) অনেক, কিন্তু চারণভূমিতে বিচরণ
(৪) খুবই কম। যখনই উটগুলো বাদ্যযন্ত্রের শব্দ শোনে, তখনই তারা নিশ্চিত হয় যে তারা মেহমানদের জন্য যবেহ হতে যাচ্ছে
(五)।
একাদশ মহিলা বললেন: আমার স্বামী আবু যার'
(৬); আর কে এই আবু যার'? তিনি আমার কানে অলঙ্কার দুলিয়েছেন
(৭)(৮), আর আমার বাহুদ্বয়কে মেদ-চর্বিতে হৃষ্টপুষ্ট করেছেন
(৯)। তিনি আমাকে আনন্দিত করেছেন, ফলে আমার মনও প্রফুল্ল হয়েছে
(১০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وَجَدَنِي فِي أَهْلِ غُنَيْمَةٍ بِشِقٍّ
(1)، فَجَعَلَنِي فِي أَهْلِ صَهِيلٍ وَأَطِيطٍ وَدَائِسٍ وَمُنَقٍّ
(2)، فَعِنْدَهُ أَقُولُ فَلَا أُقَبَّحُ
(3)، وَأَرْقُدُ فَأَتَصَبَّحُ
(4)، وَأَشْرَبُ فَأَتَقَنَّحُ
(5). أُمُّ أَبِي زَرْعٍ، فَمَا أُمُّ أَبِي زَرْعٍ؟
(6): عُكُومُهَا رَدَاحٌ
(7)، وَبَيْتُهَا فَسَاحٌ
(8).
ابْنُ أَبِي زَرْعٍ، فَمَا ابْنُ أَبِي زَرْعٍ؟
(9): مَضْجَعُهُ كَمَسَلِّ شَطْبَةٍ
(10)، وَيُشْبِعُهُ
--------------------------------------------
তিনি আমাকে পেয়েছিলেন এক নগণ্য বকরী পালক পরিবারের নিকট যারা এক কষ্টসাধ্য স্থানে বসবাস করত
(১)। অতঃপর তিনি আমাকে নিয়ে এলেন এমন এক সমৃদ্ধ পরিবারে যেখানে ঘোড়ার চিঁহি রব, উটের ডাক, শস্য মাড়াই এবং তা ঝাড়াই করার ব্যবস্থা ছিল
(২)। সেখানে আমি কথা বললে আমাকে মন্দ বলা হয় না
(৩), আমি দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে সকাল করে দেই কিন্তু আমাকে জাগানো হয় না
(৪) এবং আমি পান করে তৃপ্ত হই
(৫)। আবু যার’র মা; আবু যার’র মা কেমন?
(৬) তাঁর খাদ্যভাণ্ডার বিশাল ও ভারি
(৭) এবং তাঁর গৃহ অত্যন্ত প্রশস্ত
(৮)।
আবু যার’র পুত্র; আবু যার’র পুত্র কেমন?
(৯) তাঁর শয্যা যেন কোষমুক্ত সরু তলোয়ারের ন্যায় (অর্থাৎ তিনি অত্যন্ত সুঠাম ও ছিপছিপে দেহের অধিকারী)
(১০) এবং তাকে তৃপ্ত করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ذِرَاعُ الْجَفْرَةِ
(1).
بِنْتُ أَبِي زَرْعٍ، فَمَا بِنْتُ أَبِي زَرْعٍ؟ طَوْعُ أَبِيهَا وَطَوْعُ أُمِّهَا
(2)، وَمِلْءُ كِسَائِهَا
(3)، وَغَيْظُ جَارَتِهَا
(4).
جَارِيَةُ أَبِي زَرْعٍ، فَمَا جَارِيَةُ
(5) أَبِي زَرْعٍ؟ لَا تَبُثُّ حَدِيثَنَا تَبْثِيثًا
(6)، وَلَا تُنَقِّثُ مِيرَتَنَا تَنْقِيثًا
(7)، وَلَا تَمْلَأُ بَيْتَنَا تَعْشِيشًا
(8).
قَالَتْ: خَرَجَ أَبُو زَرْعٍ
(9) وَالْأَوْطَابُ تُمْخَضُ
(10)، فَلَقِيَ امْرَأَةً مَعَهَا وَلَدَانِ
--------------------------------------------
ছাগলছানার বাহুর মতো
(১)।
আবু যার-এর কন্যা; আবু যার-এর কন্যা কেমন? সে তার পিতার অনুগত এবং তার মাতার অনুগত
(২), এবং সে তার পোশাকে পূর্ণ (সুঠামদেহী)
(৩), আর তার সতিনের জন্য ঈর্ষার কারণ
(৪)।
আবু যার-এর পরিচারিকা; আবু যার-এর পরিচারিকা
(৫) কেমন? সে আমাদের কথা (হাদিস) বাইরে ছড়িয়ে দেয় না
(৬), আমাদের খাদ্যসামগ্রী (ميرة) তছরুপ করে নষ্ট করে না
(৭) এবং ময়লা-আবর্জনা জমিয়ে আমাদের ঘরকে পাখির বাসার মতো অগোছালো করে রাখে না
(৮)।
তিনি (উম্মে যার) বললেন: একদিন আবু যার বের হলেন
(৯) যখন মশকে দুধ মন্থন করা হচ্ছিল
(১০), তখন তিনি এমন এক নারীর সাক্ষাৎ পেলেন যার সাথে দুটি সন্তান ছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
لَهَا كَالْفَهْدَيْنِ
(1)، يَلْعَبَانِ مِنْ تَحْتِ خَصْرِهَا بِرُمَّانَتَيْنِ
(2)، فَطَلَّقَنِي وَنَكَحَهَا، فَنَكَحْتُ بَعْدَهُ رَجُلًا سَرِيًّا
(3)، رَكِبَ شَرِيًّا
(4)، وَأَخَذَ خَطِّيًّا
(5)، وَأَرَاحَ (*) عَلَيَّ نَعَمًا ثَرِيًّا
(6)، وَأَعْطَانِي مِنْ كُلِّ رَائِحَةٍ زَوْجًا
(7)، قَالَ: كُلِي أُمَّ زَرْعٍ وَمِيرِي أَهْلَكِ
(8)، فَلَوْ جَمَعْتُ كُلَّ شَيْءٍ أَعْطَانِي مَا بَلَغَ أَصْغَرَ آنِيَةِ أَبِي زَرْعٍ.
قَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «كُنْتُ لَكِ كَأَبِي زَرْعٍ لِأُمِّ زَرْعٍ»
(9)(10).
قال ابن حجر رحمه الله: «وكأنه صلى الله عليه وسلم قال ذلك تطييبًا لها وطمأنينة لقلبها ودفعًا لإيهام عموم التشبيه بجملة أحوال أبي زرع إذ لم يكن فيه ما تذمه النساء سوى ذلك، وقد وقع الإفصاح بذلك، وأجابت هي عن ذلك جواب
--------------------------------------------
তাহার জন্য ছিল চিতা বাঘের শাবকের ন্যায় (দুটি সন্তান)
(১), যারা তাহার কোমরের নিচ থেকে দুটি ডালিমের ন্যায় (ছোট স্তন) নিয়ে খেলা করত
(২); অতঃপর তিনি (আবু যার) আমাকে তালাক দিলেন এবং তাকে বিবাহ করলেন। আমি তাহার পরে এক উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন
(৩) ব্যক্তিকে বিবাহ করলাম, যিনি তেজি ঘোড়ায়
(৪) চড়তেন, ‘খাত্তি’ নামক বল্লম
(৫) গ্রহণ করতেন এবং সায়ংকালে আমার নিকট প্রচুর গবাদিপশু
(৬) নিয়ে আসতেন। তিনি আমাকে প্রত্যেক প্রকারের প্রাণী থেকে এক জোড়া করে
(৭) দান করেছিলেন এবং বলেছিলেন: ‘হে উম্মে যার! তুমি খাও এবং তোমার পরিবারকেও খাদ্য প্রদান করো’
(৮)। কিন্তু তিনি আমাকে যা কিছু দিয়েছেন তা যদি আমি একত্রিত করি, তবে তা আবু যারের ক্ষুদ্রতম পাত্রটির সমানও হবে না।
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: «আমি তোমার জন্য তেমন, যেমন উম্মে যারের জন্য আবু যার ছিল»
(৯)(১০)।
ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «যেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে সন্তুষ্ট করতে এবং তার অন্তরকে আশ্বস্ত করতে কথাটি বলেছিলেন। এছাড়া আবু যারের সামগ্রিক অবস্থার সাথে এই উপমার সাধারণত্বের বিভ্রান্তি দূর করতেও এটি বলেছিলেন, কারণ নারীরা নিন্দা করে এমন কিছু (তালাক ব্যতীত) তাহার মধ্যে ছিল না। আর বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্তও হয়েছে, এবং তিনি (আয়েশা রা.) এর উত্তরে এমন জবাব দিয়েছিলেন যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাআদাতু ওয়াল ফালাহু ফী ফাহমি মাকাসিদিন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
مثلها في فضلها وعلمها»
(1)، وفي رواية الطبراني أنه قال: «يَا عَائِشَةُ كُنْتُ لَكِ كَأَبِي زَرْعٍ لِأُمِّ زَرْعٍ، إِلَّا أَنَّ أَبَا زَرْعٍ طَلَّقَ، وَأَنَا لَا أُطَلِّقُ»
(2).
وفي رواية أخرى فقلت: «يَا رَسُولَ اللهِ أَنْتَ خَيْرٌ لِي مِنْ أَبِي زَرْعٍ لِأُمِّ زَرْعٍ»
(3).
19 - مما يؤثر قولهم: وراء كل رجل عظيم امرأة، فهل هذا القول صحيح؟ وكيف يكون ذلك؟
الجواب: انظر إلى هذه القصة.
أعقل نساء العرب: قال الحارث بن عوف يومًا لخارجة بن سنان المري: أتراني أخطب إلى أحد فيردني؟ فقال له: نعم! قال: من ذاك؟ قال: أوس بن حارثة بن لام الطائي، فقال الحارث لغلامه: ارحل بنا، ففعل، وركبا حتى أتيا أوس بن حارثة بن لام الطائي فوجداه في فناء منزله، فلما أن رأى الحارث بن عوف قال: مرحبًا بك يا حارث.
قال: وبك، قال: ما جاء بك؟ قال: جئتك خاطبًا، قال: لست هناك. فانصرف ولم يكلمه ودخل أوس على امرأته مغضبًا، وكانت من عبس، فقالت: من رجل واقف عليك فلم يطل، ولم تكلمه؟ قال: ذاك سيد العرب الحارث بن عوف. قالت: فما بالك لم تستنزله؟ قال: إنه استحمق! قالت:
--------------------------------------------
মর্যাদা ও ইলমে সে তার মতোই»
(১), এবং তাবারানির এক বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি বলেছেন: «হে আয়েশা! আমি তোমার জন্য আবু যার' যেমন উম্মে যার'-এর জন্য ছিলেন তেমনই, তবে পার্থক্য এই যে আবু যার' তালাক দিয়েছিলেন কিন্তু আমি তোমাকে তালাক দেব না»
(২)।
অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে, আমি (আয়েশা রা.) বললাম: «হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার জন্য আবু যার' উম্মে যার'-এর জন্য যা ছিলেন তার চেয়েও উত্তম»
(৩)।
১৯ - লোকমুখে প্রচলিত একটি প্রবাদ রয়েছে: "প্রত্যেক মহান ব্যক্তির পেছনে একজন নারী থাকে", এই উক্তিটি কি সঠিক (صحيح)? এবং তা কীভাবে হতে পারে?
উত্তর: এই কাহিনীটির দিকে লক্ষ্য করুন।
আরবদের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমতী নারী: একদিন হারিস ইবনে আউফ খারিজা ইবনে সিনান আল-মুররিকে বললেন: "আপনি কি মনে করেন আমি যদি কারো কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেই তবে সে আমাকে ফিরিয়ে দেবে?" তিনি তাকে বললেন: "হ্যাঁ!" হারিস বললেন: "সে কে?" তিনি বললেন: "আউস ইবনে হারিসা ইবনে লাম আত-তায়ি।" হারিস তার গোলামকে বললেন: "আমাদের বাহন প্রস্তুত করো।" গোলাম তাই করল। তারা দুজনে সওয়ার হয়ে আউস ইবনে হারিসা ইবনে লাম আত-তায়ির কাছে আসলেন এবং তাকে তার বাড়ির আঙিনায় পেলেন। যখন আউস হারিস ইবনে আউফকে দেখলেন, বললেন: "স্বাগতম হে হারিস।"
হারিস বললেন: "আপনার প্রতিও স্বাগতম।" আউস জিজ্ঞেস করলেন: "আপনার আগমনের কারণ কী?" তিনি বললেন: "আমি আপনার কাছে বিয়ের পয়গাম নিয়ে এসেছি।" আউস বললেন: "আপনি সেই যোগ্য নন।" অতঃপর আউস ফিরে গেলেন এবং তার সাথে আর কোনো কথা না বলে রাগান্বিত অবস্থায় নিজের স্ত্রীর কাছে প্রবেশ করলেন। তার স্ত্রী ছিলেন আবস গোত্রের। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "আপনার কাছে কোন লোক দাঁড়িয়ে ছিল যে অল্পক্ষণ অবস্থান করল এবং আপনিও তার সাথে কথা বললেন না?" আউস বললেন: "উনি আরবদের সরদার হারিস ইবনে আউফ।" স্ত্রী বললেন: "তবে কেন আপনি তাকে নামার (আতিথেয়তা গ্রহণ করার) সুযোগ দিলেন না?" আউস বললেন: "সে বোকামি করেছে!" স্ত্রী বললেন:
--------------------------------------------