(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: -)
خمسون وصية ووصية لتكون خطيبا ناجحا   (أمير بن محمد المدري)

القسم: كتب عامة


الكتاب: خمسون وصية ووصية لتكون خطيبا ناجحا

المؤلف: أمير بن محمد المدري

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) :49

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 94

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

একজন সফল খতিব হওয়ার জন্য একান্নটি উপদেশ   (আমীর বিন মুহাম্মদ আল-মাদরি)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: একজন সফল খতিব হওয়ার জন্য একান্নটি উপদেশ

লেখক: আমীর বিন মুহাম্মদ আল-মাদরি

প্রকাশক: বইটি কোনো তথ্য ছাড়াই সৌদি আরবের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৪৯

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ১)
أمير بن محمد المدري

إمام وخطيب مسجد الإيمان -عمران

بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المقدمة

الحمد لله وكفى وصلاة وسلاما على عبده المصطفى وعلى آله وصحبه ومن اقتفى وبعد: -

إن الدعوة إلى الله تعالى على بصيرة وهدى ضرورة من ضرورات هذه الحياة لا تقل أهمية عن حاجة الإنسان إلى الطعام والشراب، بل هي من أعظم الضرورات على الإطلاق والعموم؛ إذ تتوقف عليها سعادة البشرية ونيل مكانتها وريادتها، بل يتوقف على تركها ذل الأبد وحزن الدهر.

"إن الله بعثنا لنخرج من شاء من عبادة العباد إلى عبادة رب العباد، ومن جور الأديان إلى عدل الإسلام، ومن ضيق الدنيا إلى سعة الدنيا والآخرة"

ولكن لن تجد الدعوة إلى الله أثرها أو تحقق مقصدها على هذا النحو إلا إذا وجد الداعية الناجح الذي يحملها ويعيش بها ولها، ويحمل لها في قلبه المكان الأسنى والمطلب الأسمى.

والخطبة من أكثر أنواع الدعوة تأثيرًا ووصولًا للقلوب والأسماع إن أحسن الخطيب وتميز.

والخطابة مسئولية عظمى لا يعلم حجم خطورتها إلا من يعلم أهميتها ، فهي منبر التوجيه والدعوة وإحياء السنن وقول الحق وقمع البدع.
আমির বিন মুহাম্মদ আল-মাদারি

আল-ইমান মসজিদের ইমাম ও খতিব (خطيب) - আমরান

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনিই যথেষ্ট এবং তাঁর মনোনীত বান্দার প্রতি সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সঙ্গী-সাথী ও যারা তাঁদের অনুসরণ করেছে সবার ওপর। অতঃপর: -

প্রজ্ঞা ও হিদায়াতের (هدى) ওপর ভিত্তি করে আল্লাহর পথে দাওয়াত (دعوة) প্রদান করা এই জীবনের অন্যতম অপরিহার্য প্রয়োজন, যা মানুষের খাদ্য ও পানীয়ের প্রয়োজনের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়; বরং এটি সামগ্রিকভাবে মহানতম প্রয়োজনগুলোর অন্তর্ভুক্ত। কেননা এর ওপরই মানবজাতির সৌভাগ্য এবং তাদের মর্যাদা ও নেতৃত্ব অর্জন নির্ভরশীল। এমনকি দাওয়াত (دعوة) বর্জনের ওপর অনন্তকালের লাঞ্ছনা ও যুগের চিরস্থায়ী দুঃখ-দুর্দশা নির্ভর করে।

"নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের প্রেরণ করেছেন যাতে আমরা যাকে তিনি ইচ্ছা করেন তাকে সৃষ্টির ইবাদত থেকে বের করে স্রষ্টার ইবাদতের দিকে, বিভিন্ন ধর্মের অবিচার থেকে ইসলামের ইনসাফের দিকে এবং দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রশস্ততার দিকে নিয়ে আসতে পারি।"

কিন্তু আল্লাহর পথে দাওয়াত (دعوة) তার কাঙ্ক্ষিত প্রভাব বা লক্ষ্য ততক্ষণ অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না একজন সফল দাঈর (داعية) আবির্ভাব ঘটে যিনি একে ধারণ করবেন এবং এর জন্য নিবেদিতপ্রাণ হবেন। পাশাপাশি তিনি স্বীয় হৃদয়ে এই দাওয়াতের (دعوة) জন্য সর্বোচ্চ স্থান ও মহান লক্ষ্য লালন করবেন।

খুতবা (خطبة) হলো দাওয়াতের (دعوة) এমন এক প্রকার যা অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং মানুষের হৃদয় ও শ্রবণে দ্রুত পৌঁছায়, যদি খতিব (خطيب) দক্ষ ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হন।

বক্তৃতা প্রদান বা খুতবা এক মহান দায়িত্ব, যার গুরুত্ব কেবল সেই উপলব্ধি করতে পারে যে এর মাহাত্ম্য সম্পর্কে অবগত। এটি হলো দিকনির্দেশনা, দাওয়াত (دعوة), সুন্নাতসমূহ (سنن) পুনর্জীবিতকরণ, সত্য কথা বলা এবং বিদআত (بدع) দমনের মিম্বর।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ২)
من هنا وجب أن تكون لنا وقفة مع الخطيب وصفاته، نحاول التعرف على جوانب ثقافته ومصادر أفكاره وأهم المكونات التي تؤثر في إفرازه وإيجاده.

ولهذا فقد قمت متوكلا على الله مستعينا به جل وعلا بالاطلاع على معظم المطولات في هذا الفن وأخرجت منها بتصرف واختصار سمات وصفات الخطيب الناجح والمؤثر مع بعض الإضافات وأتمنى أن يجد كل خطيب مطلبه في هذا العمل.

والله أسأل أن يتقبل هذا العمل وأن يجعله صالحا ولوجهه خالصا وأن يسد الخلل إنه نعم المولى ونعم المصير.

أمير بن محمد المدري
এখান থেকেই খতিব এবং তাঁর গুণাবলি নিয়ে আমাদের পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে; যেখানে আমরা তাঁর পাণ্ডিত্য, চিন্তার উৎস এবং তাঁর কর্মতৎপরতা ও উপস্থাপনাকে প্রভাবিতকারী গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো জানার চেষ্টা করব।

আর এই কারণেই আমি মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করে এই বিষয়ের অধিকাংশ বিশদ গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করেছি। সেখান থেকে পরিমার্জন ও সংক্ষেপণের মাধ্যমে একজন সফল ও প্রভাবশালী খতিবের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি বের করে এনেছি এবং সাথে কিছু সংযোজনও করেছি। আমি আশা করি প্রত্যেক খতিব এই কর্মের মাঝে তাঁর কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পাবেন।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই আমলকে কবুল করেন, একে নেক আমলে পরিণত করেন এবং শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন; আর এর ভুল-ত্রুটিগুলো সংশোধন করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম গন্তব্য।

আমির বিন মুহাম্মদ আল-মাদরি
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة لا بد منها للخطيب

أخي خطيب الجمعة: تحية إليك أيها الأخ الموفق يا من جعل الله لكلماتك أذانًا صاغية، بل يا من أمر النبي صلى الله عليه وسلم بالإنصات لك، ويا من تقوم على الناس خطيبًا كل جمعة، لتبين لهم أمر دينهم ولترشد ضالهم، وتهدي عاصيهم، أبعث إليك هذه الرسالة المخضبة بالحب والتقدير علها تكون معينًا لك على أداء مهمتك …

أخي الخطيب قبل أي شيء أوصيك أن تجدد نيتك وتتفقد إخلاصك حتى يكون لكلماتك وخطبك أثر في قلوب الناس إذ النائحة الثكلى ليست كالمستأجرة، ثم تأمل معي كم لك من الأجور والحسنات وأن تقوم في مسجدك خطيبًا كل جمعة، وكم هو النفع الذي ينتشر بين الناس بسبب كلماتك ونصائحك عبر الخطبة، إن استشعارك أخي لهذه الفضائل يدفعك إن شاء الله إلى السعي الجاد للرقي بخطبتك قالبًا ومضمونا. فلا بد أخي أن توقظ في نفسك حس الدعوة إلى الله وتتلمس حاجة مجتمعك وأمتك إلى نصحك ووعظك وتغييرك....
‌খতিবের জন্য একটি অপরিহার্য ভূমিকা

আমার ভাই জুমার খতিব: আপনার প্রতি সালাম, হে আল্লাহর তাওফিকপ্রাপ্ত ভাই, যার কথার প্রতি আল্লাহ তাআলা মানুষের কানকে মনোযোগী করেছেন; বরং নবী (শান্তি ও আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার নির্দেশ দিয়েছেন। আপনি প্রতি জুমায় মানুষের সামনে খতিব হিসেবে দণ্ডায়মান হন তাদের দ্বীনি বিষয়াবলি স্পষ্ট করার জন্য, পথভ্রষ্টদের সঠিক পথ দেখানোর জন্য এবং পাপাচারীদের সুপথে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমি আপনার নিকট ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাসিক্ত এই পত্রটি পাঠাচ্ছি, যাতে এটি আপনার দায়িত্ব পালনে সহায়ক হতে পারে …

হে খতিব ভাই, অন্য সবকিছুর আগে আমি আপনাকে আপনার নিয়ত নবায়ন করার এবং আপনার একনিষ্ঠতা যাচাই করার উপদেশ দিচ্ছি, যাতে আপনার কথা ও খুতবা মানুষের হৃদয়ে প্রভাব ফেলতে পারে; কারণ শোকাতুর বিলাপকারিনী আর ভাড়াটে বিলাপকারিনী কখনো সমান নয়। তারপর আমার সাথে চিন্তা করে দেখুন, আপনার মসজিদে প্রতি জুমায় খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কারণে আপনি কত বিপুল প্রতিদান ও সওয়াব লাভ করছেন। আর খুতবার মাধ্যমে আপনার কথা ও উপদেশের কারণে মানুষের মাঝে কতই না কল্যাণ ছড়িয়ে পড়ছে। হে ভাই, এই ফজিলতগুলোর অনুভূতি ইনশাআল্লাহ আপনাকে আপনার খুতবার কাঠামো ও বিষয়বস্তু—উভয় দিক থেকে মানোন্নয়নের জন্য ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উদ্বুদ্ধ করবে। তাই হে ভাই, আপনার নিজের মধ্যে আল্লাহর পথে দাওয়াতের চেতনা জাগ্রত করা এবং সমাজ ও উম্মাহর জন্য আপনার উপদেশ, ওয়াজ ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা অপরিহার্য....
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ৪)
أخي الخطيب اعلم أن الإخلاص لله روح الدين ولباب العبادة وأساس أي داع إلى الله وهو في حقيقته قوة إيمانية، وصراع نفسي، يدفع صاحبه - بعد جذب وشد - إلى أن يتجرد من المصالح الشخصية، وأن يترفع عن الغايات الذاتية، وأن يقصد من عمله وجه الله لا يبغي من ورائه جزاءً ولا شكورًا

فالمخلصون "أعمالهم كلها لله، وأقوالهم لله، وعطاؤهم لله، ومنعهم لله، وحبهم لله، وبغضهم لله، فمعاملتهم ظاهرًا وباطنًا لوجه الله وحده"

والإخلاص للخطيب ألزم له من كل أحد وأهميته تفوق كل أمر، وهو استجابة لأمر الله {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} البينة: 5

وقال تعالى {مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَنْ نُرِيدُ ثُمَّ جَعَلْنَا لَهُ جَهَنَّمَ يَصْلَاهَا مَذْمُومًا مَدْحُورًا} الإسراء: 18

من كان طلبه الدنيا العاجلة، وسعى لها وحدها، ولم يصدِّق بالآخرة، ولم يعمل لها، عجَّل الله له فيها ما يشاؤه الله ويريده مما كتبه له في اللوح المحفوظ، ثم يجعل الله له في الآخرة جهنم، يدخلها ملومًا مطرودًا من رحمته عز وجل؛ وذلك بسبب إرادته الدنيا وسعيه لها دون الآخرة.
হে খতিব ভাই, জেনে রাখুন যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠতা (إخلاص) হলো দ্বীনের প্রাণ, ইবাদতের সারমর্ম এবং আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী যে কোনো ব্যক্তির মূল ভিত্তি। এটি মূলত একটি ঈমানি শক্তি ও আত্মিক সংগ্রাম, যা এর অধিকারীকে—টানা-পোড়েন ও কঠোর সাধনার পর—ব্যক্তিগত স্বার্থ থেকে বিমুক্ত হতে, আত্মকেন্দ্রিক লক্ষ্যসমূহ থেকে ঊর্ধ্বে উঠতে এবং নিজের আমলের মাধ্যমে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির সংকল্প করতে উদ্বুদ্ধ করে; যার বিনিময়ে সে পরকালে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা কামনা করে না।

সুতরাং একনিষ্ঠ (مخلص) ব্যক্তিদের "সমস্ত আমল আল্লাহর জন্য, তাদের কথা আল্লাহর জন্য, তাদের দান আল্লাহর জন্য, তাদের বিরত থাকা আল্লাহর জন্য, তাদের ভালোবাসা আল্লাহর জন্য এবং তাদের ঘৃণা আল্লাহর জন্য; ফলে তাদের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সকল লেনদেন কেবল একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই নিবেদিত।"

আর খতিবের জন্য একনিষ্ঠতা (إخلاص) অন্য যে কারো তুলনায় অধিক অপরিহার্য এবং এর গুরুত্ব অন্য যেকোনো বিষয়ের ঊর্ধ্বে। এটি মূলত আল্লাহর নির্দেশেরই প্রতিফলন: {আর তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল কেবল আল্লাহর ইবাদত করতে, তাঁরই আনুগত্যে একনিষ্ঠ (مخلص) হয়ে।} (সূরা আল-বায়্যিনাহ: ৫)

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যে ব্যক্তি এই নশ্বর দুনিয়া কামনা করে, আমি যাকে ইচ্ছা যা খুশি দ্রুত প্রদান করি। অতঃপর তার জন্য জাহান্নাম নির্ধারণ করি, যেখানে সে নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় প্রবেশ করবে।} (সূরা আল-ইসরা: ১৮)

যে ব্যক্তি নশ্বর দুনিয়া অন্বেষণ করে এবং শুধুমাত্র এর জন্যই সচেষ্ট হয়, আর পরকালকে বিশ্বাস করে না এবং এর জন্য আমল করে না, আল্লাহ তাকে দুনিয়াতে লওহে মাহফুজে তার জন্য যা পূর্বনির্ধারিত করে রেখেছেন তা থেকে যা ইচ্ছা তাকে দ্রুত প্রদান করেন। অতঃপর আল্লাহ পরকালে তার জন্য জাহান্নাম নির্ধারণ করেন, যেখানে সে মহান আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত ও নিন্দিত অবস্থায় প্রবেশ করবে; আর এটি কেবল দুনিয়া লাভের আকাঙ্ক্ষা এবং পরকালের পরিবর্তে দুনিয়ার পেছনে তার প্রচেষ্টার কারণেই ঘটবে।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ৫)
وفي ترك الاخلاص خوف من الحرمان ِبرّد الأعمال ومنع التوفيق؛ لأن الله جل وعلا قال في الحديث القدسي

«أنا أغنى الشركاء عن الشرك من عمل عملًا أشرك فيه معي غيري تركته وشركه» أخرجه مسلم

وفيه وقاية من عذاب الآخرة الذي توعد به الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم من عمل بلا إخلاص عندما ذكر أول ثلاثة تسعّر بهم النار وهم قارئ وغني ومجاهد لم يقصدوا بأعمالهم وجه الله في الحديث الذي أخرجه مسلم.

وكيف يتصور هذا الأمر رجل يقاتل تحت راية الإسلام وباسم الدين فكيف يكون من أهل النار وأكثر من ذلك العالم الفقيه الذي تعلّم وسهر الليالي وأصبح عالما وخطيبا يشار إليه بالبنان فكيف يكون من أهل النار وآخر يحفظ كتاب الله تلاوة وتجويدًا وتفسيرًا هؤلاء الثلاثة أول الداخلين إلى النار لماذا ضياع الإخلاص كل ذلك ليقال عنهم أنهم كذلك.

فلا بد والأمر كذلك من تحري الإخلاص والحذر مما يضاده فإنه " لا يجتمع الإخلاص في القلب ومحبة المدح والثناء والطمع فيما عند الناس إلا كما يجتمع الماء والنار والضب والحوت.
ইখলাস (একনিষ্ঠতা) ত্যাগের মধ্যে আমল প্রত্যাখ্যাত হওয়া এবং তাওফিক থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে; কারণ আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা হাদিসে কুদসি (قدسي)-তে বলেছেন:

«অংশীদারিত্বের (শিরকের) ক্ষেত্রে আমি সকল অংশীদারের চেয়ে বেশি অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে সে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করেছে, আমি তাকে এবং তার শিরককে বর্জন করি»। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আর এতে পরকালের সেই আজাব থেকে সুরক্ষা রয়েছে, যার ধমক দয়ালু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তির জন্য দিয়েছেন যে ইখলাস ছাড়া আমল করে, যখন তিনি প্রথম তিন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন যাদের দিয়ে জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে; তারা হলেন—একজন ক্বারী, একজন ধনী এবং একজন মুজাহিদ। তারা তাদের আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির সংকল্প করেনি; যা মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে এসেছে।

বিষয়টি কীভাবে কল্পনা করা যায় যে, একজন ব্যক্তি ইসলামের পতাকাতলে এবং দ্বীনের নামে যুদ্ধ করছে, তবুও সে কীভাবে জাহান্নামী হতে পারে? তার চেয়েও বড় বিষয় হলো সেই আলেম ও ফকিহ (فقيه), যিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন, রাত জেগে পড়াশোনা করেছেন এবং এমন আলেম ও বাগ্মী হয়েছেন যার দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করা হয়; তিনিও কীভাবে জাহান্নামী হতে পারেন? এবং অন্য একজন যে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত, তাজবিদ ও তাফসিরসহ মুখস্থ করেছে। এই তিন ব্যক্তিই প্রথম জাহান্নামে প্রবেশকারী হবে। কেন? ইখলাস হারিয়ে ফেলার কারণে। আর এই সব কিছু করা হয়েছিল যাতে তাদের সম্পর্কে (প্রশংসা করে) বলা হয় যে তারা এমনই ছিল।

সুতরাং বাস্তবতা যখন এই, তখন ইখলাস অন্বেষণ করা এবং এর পরিপন্থী বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থাকা অপরিহার্য। কেননা, "অন্তরে ইখলাস এবং প্রশংসা ও স্তুতির মোহ আর মানুষের নিকট যা আছে তার প্রতি লালসা একত্রে থাকতে পারে না, যেমন পানি ও আগুন অথবা সান্ডা ও মাছ একত্রে থাকতে পারে না।"
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ৬)
وحين فهم الاوائل هذا المعنى أوضحوا لجيلهم معانيه فأيقظوا النفوس الغفلة ليستقر فيها مفهوم النية قال ابن المبارك (رب عمل صغير تعظمه النية ورب عمل كبير تصغره النية)

وقال الكيلاني (كن صحيحا في السر تكن فصيحا في العلانية)

وأعلم أخي الخطيب أنه لا يشرح الصدر مثل الكلام الصادق، والبيان الناطق، واللفظ الدافق، والأسلوب السامق، أما كلام الحاكة، وألفاظ أهل الركاكة، فهو حُمّى الأرواح، في الصدور رماح، وفي القلوب جراح.

والمفروض أن الخطيب العارف بالله قد بلغ من منازل الإيمان منزلة تجعل رجاءه في الله وحده يسبق كل رغبة إلى مخلوق، والإخلاص يجعل للكلمات حيوية مؤثرة، وللدعوة قولًا سريعًا.

وهاهو ابن الجوزي يصف لنا المخلصين فيقول (إنهم رجال مؤمنون ونساء مؤمنات يحفظ الله بهم الأرض بواطنهم كظواهرهم بل أجلى وسرائرهم كعلانيتهم بل أحلى وهمهم عند الثريا بل أعلى) صيد الخاطر

فأنطلق أخي الخطيب على بركة الله بالإخلاص لله في طريق الله لتصل إلى الله وقد رضي عنك فأجزل لك العطاء وأسبغ عليك النعم وأكرمك أفضل إكرام وإذ بالحسنات قد تضاعفت وبالسيئات قد محيت وإذ بك تستمع
যখন পূর্বসূরিগণ এই মর্ম অনুধাবন করলেন, তখন তাঁরা তাঁদের প্রজন্মের নিকট এর অর্থসমূহ স্পষ্ট করে দিলেন; ফলে তাঁরা উদাসীন নফসগুলোকে জাগ্রত করলেন যাতে সেখানে নিয়তের ধারণাটি বদ্ধমূল হয়। ইবনুল মুবারক বলেন, (অনেক ক্ষুদ্র কাজ নিয়তের কারণে মহান হয়ে যায়, আবার অনেক বিশাল কাজ নিয়তের কারণে তুচ্ছ হয়ে যায়।)

আল-কিলানি বলেন, (গোপনে বিশুদ্ধ (صحيح) হও, তবেই প্রকাশ্যে প্রাঞ্জল হতে পারবে।)

হে খতিব ভ্রাতা, জেনে রাখুন যে, সত্যবাদী কথা, প্রজ্ঞাময় বর্ণনা, সাবলীল শব্দ এবং সুউচ্চ শৈলীর মতো আর কোনো কিছুই বক্ষকে প্রশান্ত করে না। পক্ষান্তরে অসার কথকদের কথা এবং দুর্বল রুচির লোকদের শব্দাবলী হলো রুহের জন্য জ্বরস্বরূপ, বক্ষের জন্য বর্শাসম এবং হৃদয়ের জন্য ক্ষতস্বরূপ।

আর এটিই কাম্য যে, আল্লাহ সম্পর্কে সম্যক অবগত খতিব ঈমানের স্তরের এমন এক পর্যায়ে উপনীত হবেন, যা তাঁর একমাত্র আল্লাহর প্রতি আশাকে সৃষ্টিজীবের প্রতি যেকোনো আকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে স্থান দেবে। আর একনিষ্ঠতা কথার মাঝে এক প্রভাবশালী প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে এবং দাওয়াতের বাণীর দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা দান করে।

এই তো ইবনুল জাওজি আমাদের নিকট একনিষ্ঠদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, (তাঁরা এমন মুমিন পুরুষ ও নারী যাদের মাধ্যমে আল্লাহ এই জমিনকে রক্ষা করেন; তাঁদের অভ্যন্তর তাঁদের প্রকাশ্য অবস্থার মতোই, বরং তার চেয়েও উজ্জ্বল; তাঁদের গোপন বিষয় তাঁদের প্রকাশ্য বিষয়ের মতোই, বরং তার চেয়েও মধুর; আর তাঁদের লক্ষ্য-উদেশ্য সুরাইয়া নক্ষত্রসম, বরং তার চেয়েও সমুন্নত।) সাঈদুল খাতির

সুতরাং হে খতিব ভ্রাতা, আল্লাহর বরকতে, আল্লাহর পথে এবং আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতার সাথে যাত্রা শুরু করুন যাতে আপনি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারেন এমতাবস্থায় যে তিনি আপনার ওপর সন্তুষ্ট। অতঃপর তিনি আপনাকে প্রচুর দান করবেন, আপনার ওপর নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করে দেবেন এবং আপনাকে সর্বোত্তম পন্থায় সম্মানিত করবেন; আর হঠাৎ দেখবেন যে নেকিগুলো বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পাপসমূহ মোচন করা হয়েছে, আর আপনি শ্রবণ করছেন...
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ৭)
{سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ} الزمر73.

واليك أخي الخطيب
{তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা পবিত্র হয়েছ, সুতরাং এতে চিরস্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য প্রবেশ করো} যুমার: ৭৩।

আর হে খতিব ভ্রাতা, আপনার প্রতি (পেশ করছি)-
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌صفات الخطيب المؤثر، أو العوامل التي تجعل الخطيب نافعا لأمته ولمجتمعه ولنفسه أولا، وهي كالتالي: -

‌‌أولًا: الشعور بالمسؤولية: -

يجب أن يشعر الخطيب بأنه صاحب رسالة يؤديها، ويقصد من خلالها وجه الله، حتى ولو كانت تلك وظيفته التي يقتات منها، وذلك لأن صاحب الرسالة يستفرغ كل طاقته في محاولة إيصالها إلى الناس، لا يكل ولا يمل.

. والحقيقة إذا ما توفر هذا الشعور في نفس الخطيب فإن النجاح سيكون حليفه، وسيكون من أحسن الناس قولًا.

قال الله تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} فصلت33 فلا أحد أحسن قولًا ممن حمل مشعل الدعوة إلى الله وإلى اتباع منهجه والالتزام بأحكامه وتعاليمه، والواجب على الداعية أو الخطيب أن يعلن هويته وانتماءه بقوله: إنه من المسلمين بعيدًا عن الفئوية الضيقة، والنظرة المحدودة. لأن الإسلام هو الأصل وهو الأعم والأشمل.

والخطيب الناجح والمؤثر هو خطيب يتخذ الإخلاص مطية، تصل به إلى دربه ومبتغاه، ويحزم متاعه برباط الخوف من قيوم السماوات والأرض.
একজন প্রভাবশালী খতিবের বৈশিষ্ট্যসমূহ, অথবা সেই প্রভাবকসমূহ যা একজন খতিবকে তার উম্মাহর জন্য, তার সমাজের জন্য এবং সর্বপ্রথম নিজের জন্য কল্যাণকর করে তোলে; আর সেগুলো নিম্নরূপ: -

প্রথমত: দায়িত্ববোধের অনুভূতি: -

খতিবকে অবশ্যই অনুভব করতে হবে যে, তিনি একটি মহান বার্তার বাহক যা তিনি আঞ্জাম দিচ্ছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টিই কামনা করেন; এমনকি এটি যদি তার জীবিকা নির্বাহের পেশাও হয়। কারণ একজন বার্তার বাহক তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টায় তার সর্বশক্তি ব্যয় করেন, তিনি কখনো ক্লান্ত হন না এবং বিরক্তিও বোধ করেন না।

. আর বাস্তবতা হলো, যদি খতিবের অন্তরে এই অনুভূতি জাগ্রত হয়, তবে সফলতা তার সঙ্গী হবে এবং তিনি কথার দিক থেকে সর্বোত্তম মানুষের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর ঐ ব্যক্তির চেয়ে কার কথা উত্তম হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, নেক আমল করে এবং বলে যে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত} ফুসসিলাত: ৩৩। সুতরাং সেই ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কথার অধিকারী আর কেউ নেই, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের মশাল বহন করে এবং তাঁর প্রদর্শিত আদর্শের অনুসরণ ও তাঁর বিধিবিধান ও শিক্ষার প্রতি আনুগত্যের আহ্বান জানায়। একজন দাঈ বা খতিবের কর্তব্য হলো কোনো সংকীর্ণ দলাদলি ও সীমাবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে থেকে নিজের পরিচয় ও সম্পৃক্ততা এভাবে ঘোষণা করা যে: তিনি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। কেননা ইসলামই হলো মূল ভিত্তি এবং এটিই সর্বাধিক ব্যাপক ও সর্বজনীন।

একজন সফল ও প্রভাবশালী খতিব হলেন তিনি, যিনি নিষ্ঠাকে নিজের বাহন হিসেবে গ্রহণ করেন যা তাকে তার লক্ষ্য ও গন্তব্যে পৌঁছে দেয় এবং যিনি আসমান ও জমিনের চিরঞ্জীব নিয়ন্ত্রকের ভয়ের বন্ধনীতে নিজের পাথেয় মজবুত করেন।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ৯)
ثم اعلم أخي الخطيب أنه قد اصطفاك الله لحمل دعوته، ورعاية أمانته، وصيانة عهده، وتحقيق وعده فعلم الناس دين الله وابسطه بين أيديهم

{ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا} فاطر32 {وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ} آل عمران79

فيا أيها الخطيب أري الله من نفسك خيرًا، واعلم أنك من ورثة الأنبياء.
অতঃপর হে খতিব ভ্রাতা, জেনে রাখুন যে, আল্লাহ আপনাকে তাঁর দাওয়াত বহন, তাঁর আমানত রক্ষা, তাঁর অঙ্গীকারের সুরক্ষা এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য মনোনীত করেছেন। অতএব আপনি মানুষকে আল্লাহর দ্বীন শিক্ষা দিন এবং তা তাদের সামনে সহজভাবে উপস্থাপন করুন।

“অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে, যাদের আমি মনোনীত করেছি।” [ফাতির: ৩২] “বরং তোমরা রব্বানি হও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তোমরা তা অধ্যয়ন করতে।” [আল ইমরান: ৭৯]

হে খতিব! আপনি নিজের পক্ষ থেকে আল্লাহকে কল্যাণকর কিছু প্রদর্শন করুন এবং জেনে রাখুন যে, আপনি নবীদের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌ثانيًا: الموهبة: -

الخطابة فن، ولذا ينبغي لمن يتصدى لها أن يكون ذا موهبة، يثقلها بالعلوم والمعارف المختلفة، ذات الصلة الوثيقة بعلم الخطابة، فسعة الاطلاع خير معين للخطيب في أداء خطبته بقوة وتأثير.
দ্বিতীয়ত: প্রতিভা: -

বাগ্মিতা একটি শিল্প, তাই যে ব্যক্তি এর দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন, তার প্রতিভা থাকা আবশ্যক; যা তিনি বাগ্মিতা শাস্ত্রের সাথে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জ্ঞান ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে পরিশীলিত করবেন। কেননা, ব্যাপক অধ্যয়ন একজন বাগ্মীকে তার ভাষণ শক্তিশালী ও প্রভাবশালীভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম সহায়তা প্রদান করে।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أولًا: حفظ كتاب الله حفظًا مكينًا بحيث تصير الآيات له كما لو كان يقرؤها وينظر فيها، أو على الأقل قدر كبير منه فلا شك أن حافظ القرآن عن ظهر قلب أقدر على استحضار الآيات والاستشهاد بها وأن هذه الصفة من صفات الكمال للخطيب، ولكن لا شك أن هناك قدرًا ضروريًّا لا غنى للخطيب عنه، هذا القدر يتعلق أولًا بالقدرة على التلاوة الصحيحة السليمة لكتاب الله عز وجل بغير لحن، ثم القدرة على استحضار الآيات المتعلقة بموضوع خطبته ومعرفة أقوال أهل العلم في تفسيرها والتمييز بين الصحيح والسقيم، والإسرائيليات والموضوعات وغيرها. وليحذر الخطيب في أن يقحم الآيات في غير محلها أو يصرفها عن غير وجهها أو يخضعها للنظريات العلمية والاكتشافات العصرية أو يخضعها لواقعه الزمني أو المكاني إذا كان مخالفًا لدين الله
প্রথমত: আল্লাহর কিতাব সুদৃঢ়ভাবে হিফজ করা যাতে আয়াতগুলো তাঁর নিকট এমন হয়ে যায় যেন তিনি সেগুলো দেখছেন এবং পাঠ করছেন, অথবা কমপক্ষে এর একটি বড় অংশ হিফজ থাকা; কারণ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুখস্থ কুরআন হিফজকারী ব্যক্তি আয়াতসমূহ উপস্থাপন করতে এবং সেগুলো দ্বারা দলিল পেশ করতে অধিক সক্ষম এবং এই গুণটি একজন খতিবের জন্য পূর্ণতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, খতিবের জন্য ন্যূনতম একটি অপরিহার্য স্তর রয়েছে যা ছাড়া তাঁর গত্যন্তর নেই। এই বিষয়টি প্রথমত মহান আল্লাহর কিতাব কোনো প্রকার ভুল ছাড়াই সহীহ-শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করার সক্ষমতার সাথে সংশ্লিষ্ট। অতঃপর তাঁর খুতবার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ উপস্থিত করার সক্ষমতা এবং সেগুলোর তাফসীর বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণের বক্তব্য জানা এবং বিশুদ্ধ (صحيح) ও ত্রুটিপূর্ণ (سقيم), ইসরাঈলী বর্ণনা ও জাল (موضوعات) প্রভৃতি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করার যোগ্যতা অর্জন করা। আর খতিবকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে যেন তিনি আয়াতসমূহকে অপ্রাসঙ্গিক স্থানে প্রয়োগ না করেন, অথবা সেগুলোর সঠিক উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত না করেন, কিংবা সেগুলোকে বৈজ্ঞানিক মতবাদ ও আধুনিক আবিষ্কারের অনুগামী না করেন, অথবা তাঁর সমসাময়িক কাল ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার বশবর্তী না করেন যদি তা আল্লাহর দ্বীনের পরিপন্থী হয়।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌ثانيًا: حفظ قدر كبير من أحاديث المصطفى صلى الله عليه وسلم، وبخاصة كتاب "رياض الصالحين" للخطيب المبتدئ؛ لما يتسم به هذا الكتاب من سهولة العبارة، وقلة الألفاظ، وحسن التبويب، ودقة العرض بتجميع موضوعات الباب، كل على حدة.
দ্বিতীয়ত: নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসসমূহের একটি বড় অংশ মুখস্থ করা, বিশেষ করে শিক্ষানবিশ খতিবদের জন্য "রিয়াদুস সালেহীন" গ্রন্থটি; কারণ এই গ্রন্থটি সহজ সাবলীল ভাষা, সংক্ষিপ্ত শব্দচয়ন, চমৎকার অধ্যায় বিন্যাস (التبويب) এবং প্রতিটি অধ্যায়ের বিষয়সমূহকে পৃথক পৃথকভাবে সুনিপুণ উপস্থাপনার জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌ثالثًا: النظر في القصص القرآني الكريم؛ إذ فيه مادة لطيفة لاستخلاص العبرة وربط الفكرة، خاصة أن الناس يحبون هذا اللون من الأداء.
তৃতীয়ত: পবিত্র কুরআনের ঘটনাবলির প্রতি দৃষ্টিপাত করা; কেননা এতে শিক্ষা গ্রহণ এবং চিন্তাধারাকে সুসংবদ্ধ করার চমৎকার উপাদান রয়েছে, বিশেষত মানুষ উপস্থাপনার এই রীতিটি পছন্দ করে।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌رابعًا: شحن الذهن بغزوات الرسول صلى الله عليه وسلم وربطها بالواقع المعيش.
চতুর্থত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুদ্ধাভিযানগুলোর মাধ্যমে মনকে শাণিত করা এবং সেগুলোকে বিদ্যমান বাস্তবতার সাথে সম্পৃক্ত করা।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌خامسًا: النظر في حياة الصحابة أولئك الصفوة والفئة المنتقاة، وأخذ الأسوة عنهم وربطها بحياة الناس.
পঞ্চমতঃ সাহাবীগণের (صحابة) জীবন পর্যালোচনা করা তাঁরা হলেন সেই মনোনীত ও নির্বাচিত গোষ্ঠী, তাঁদের নিকট থেকে আদর্শ গ্রহণ করা এবং মানুষের জীবনের সাথে তার সমন্বয় ঘটানো।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌سادسًا: العلم بالأحكام الشرعية المتعلقة بالإمامة والصلاة: وهذه الصفة فرع عن الصفة الأولى ولكن أفردناها لأهميتها والتنبيه عليها، فينبغي أن يكون عالمًا بأحكام الخطبة والصلاة وشرائطهما ومصححاتهما ومبطلاتهما وجوابرهما وكيفياتهما وتكميلاتهما. ولا يشترط أن يكون عالمًا مجتهدًا مطلقًا ولا مقيدًا، ولا أن يكون مفتيًا في جميع الأحكام ولا حبرًا لجميع الأنام، فإن ذلك من صفات الكمال، لا من صفات الصحة والإبطال
ষষ্ঠত: ইমামত ও সালাত সংশ্লিষ্ট শরয়ী বিধানাবলি (أحكام شرعية) সম্পর্কে জ্ঞান: এই বৈশিষ্ট্যটি প্রথম বৈশিষ্ট্যের একটি শাখা (فرع); তবে এর গুরুত্ব এবং এ সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য আমরা এটিকে পৃথকভাবে উল্লেখ করেছি। সুতরাং (ইমামের জন্য) খুতবা ও সালাতের বিধানাবলি (أحكام), এগুলোর শর্তাবলি (شرائط), শুদ্ধকারী বিষয়াবলি (مصححات), বাতিলকারী বিষয়াবলি (مبطلات), ক্ষতিপূরণমূলক আমলসমূহ (جوابر), পদ্ধতিসমূহ (كيفيات) এবং এর পূর্ণতাদানকারী বিষয়সমূহ (تكميلات) সম্পর্কে আলেম হওয়া আবশ্যক। এক্ষেত্রে তার জন্য মুজতাহিদ মুতলাক (مجتهد مطلق) কিংবা মুজতাহিদ মুকাইয়্যাদ (مجتهد مقيد) স্তরের আলেম হওয়া শর্ত নয়। তদুপরি সমস্ত বিধানের ক্ষেত্রে মুফতি (مفتي) হওয়া কিংবা সকল মানুষের জন্য বিজ্ঞ আলেম (حبر) হওয়াও আবশ্যক নয়; কেননা এগুলো হলো পূর্ণতার গুণাবলি (صفات الكمال), শুদ্ধতা (صحة) বা বাতিল (إبطال) সংক্রান্ত বিষয় নয়।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌سابعا: علم التاريخ: فالتاريخ ودراسته يوسع آفاق الخطيب ويطلعه على أحوال الأمم وسير الرجال وتقلب الأيام بها وبهم، وفيه يرى سنن الله الكونية وعاقبة الأمم والمجتمعات والحضارات، وانتصار أو انهزام الدعوات، فالتاريخ مرآة مصقولة تتجلى فيها عاقبة الإيمان والتقوى ونهاية الكفر والفجور، فهو أصدق شاهد على دعوة الرسل وأتباعهم، وقد لفت الله عز وجل في كتابه إلى أهمية القصص والاتعاظ بأحوال السابقين فقال {قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلُ} الروم: 42 وقال: {وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنْ قَرْنٍ هُمْ أَشَدُّ مِنْهُمْ بَطْشًا} ق: 36 وقال {لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِأُولِي الْأَلْبَابِ} يوسف: 111. والخطيب والداعية إذا أحسن دراسة التاريخ والإفادة منه كان أعون له في تثبيت المعاني والقيم التي يدعو إليها لا سيما إذا تماثلت الظروف وتشابهت الدوافع.
সপ্তম: ইতিহাস বিজ্ঞান: বস্তুত ইতিহাস এবং এর পাঠ খতিবের জ্ঞানের পরিধিকে বিস্তৃত করে এবং তাকে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবস্থা, মনীষীদের জীবনী (سير الرجال) এবং সময়ের আবর্তনে তাদের উত্থান-পতন সম্পর্কে অবহিত করে। এর মধ্যেই খতিব আল্লাহর শাশ্বত নিয়ম, বিভিন্ন জাতি, সমাজ ও সভ্যতার পরিণতি এবং দাওয়াতের জয়-পরাজয় প্রত্যক্ষ করেন। ইতিহাস হলো এক স্বচ্ছ দর্পণ, যেখানে ঈমান ও তাকওয়ার শুভ পরিণাম এবং কুফর ও পাপাচারের অশুভ সমাপ্তি ফুটে ওঠে। এটি রাসুলগণের দাওয়াত ও তাঁদের অনুসারীদের সত্যতার ওপর একনিষ্ঠ সাক্ষী। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে পূর্ববর্তীদের কাহিনী এবং তাঁদের অবস্থা থেকে শিক্ষা গ্রহণের গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, "বলুন, তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো এবং দেখো তোমাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হয়েছিল।" (সুরা আর-রূম: ৪২)। তিনি আরও বলেছেন, "আমি তাদের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি, যারা শক্তিতে তাদের চেয়ে অনেক বেশি প্রবল ছিল।" (সুরা ক্বফ: ৩৬)। তিনি আরও বলেছেন, "অবশ্যই তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।" (সুরা ইউসুফ: ১১১)। একজন খতিব ও দাঈ যদি ইতিহাস যথাযথভাবে অধ্যয়ন করেন এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন, তবে তা তাঁর দাওয়াতের লক্ষ্য ও মূল্যবোধসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে বিশেষভাবে সহায়ক হবে; বিশেষ করে যখন বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট অতীতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌ثامنا: الرغبة في معايشة بعض الكتب الأدبية والفكرية لطلاقة اللسان، وسلاسة وسلامة العبارة وجزالة اللفظ، وأخص بالذكر هنا كتب الرافعي، وبخاصة كتاب "من وحي القلم"، وهو كتاب قوي في مادته، عذب جزل في عبارته رصين في ألفاظه، قوي في بنائه، مشوق في عرضه، شهي في فكرته مع متابعة ما كتبه شعراء الإسلام قديمًا وحديثًا وبخاصة شعراء "الدعوة الإسلامية".. وبذلك يتمكن الخطيب من حضور الشاهد في زمانه وإيقاعه في مكانه ذلك هو جزء من مكونات الخطيب، مع ملاحظة أن الشرطين الأولين لا غنى عنهما البتة لأي خطيب كائنًا من كان.
অষ্টম: কিছু সাহিত্যিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বইয়ের সান্নিধ্যে থাকার আকাঙ্ক্ষা বাচনভঙ্গির সাবলীলতা, বাক্যরীতির প্রাঞ্জলতা ও শুদ্ধতা এবং শব্দচয়নের গাম্ভীর্যের নিমিত্তে; আমি এখানে বিশেষভাবে রাফেয়ী-এর রচনাবলির কথা উল্লেখ করছি, বিশেষ করে "মিন ওয়াহয়িল কলম" গ্রন্থটি। এটি এমন এক গ্রন্থ যা এর বিষয়বস্তুতে শক্তিশালী, বাক্যরীতিতে মধুর ও বলিষ্ঠ, শব্দচয়নে গাম্ভীর্যপূর্ণ, কাঠামোর দিক থেকে সুদৃঢ়, উপস্থাপনায় চিত্তাকর্ষক এবং চিন্তাধারায় চমৎকার। এর সাথে প্রাচীন ও আধুনিক যুগের ইসলামি কবিদের, বিশেষ করে "ইসলামি দাওয়াত"-এর কবিদের রচনাবলি নিয়মিত অনুসরণ করা—এর মাধ্যমে একজন খতিব সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে উপযুক্ত উদ্ধৃতি (شاهد) উপস্থিত করতে এবং যথাস্থানে তা প্রয়োগ করতে সক্ষম হন; এটি একজন খতিবের যোগ্যতার অন্যতম অংশ। তবে লক্ষ্যণীয় যে, প্রথমোক্ত শর্তদ্বয় যেকোনো খতিবের জন্যই একেবারে অপরিহার্য, তিনি যে-ই হোন না কেন।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌تاسعا: واقع العالم الإسلامي: فما أقبح بالخطيب أن يجهل أحوال أمته وواقع عالمه، وإلا فأين الجسد الواحد، ومن أين تستقي الجماهير أخبار إخوانهم وكيف يمكنهم مد العون لهم أو على الأقل المشاركة بالدعاء والدعم المعنوي لقضاياهم وأزماتهم؟! ولا بد أيضا أن يدرك الخطيب واقع القوى العالمية المعادية للإسلام: فإن تكالب أعداء الإسلام على الإسلام ودعاته أمر لا ينكره إلا مكابر، وتنوع أساليب الأعداء وتبادلهم الأدوار، فهذا اليوم يقدم بدور الحمائم، وغدًا يكون هو الصقر الذي ينقض على فريسته، ومع غفلة الأمة عن إدراك حقيقة الصراع وطبيعته يصبح دور الدعاة وخطباء الأمر أمرًا لازمًا لتبصير الأمة بهؤلاء الأعداء وأساليبهم ومؤامراتهم، ولكن للأسف الشديد الناظر في أحوال الأمة اليوم يدرك غياب هذا الدور تمامًا، ولا زالت تلهث وراء أعدائها وتتعلق آمالها بهم غافلة عن تاريخهم وعدائهم ومكرهم، وما ذاك إلا لأنهم اليوم يقومون بدور الحمائم، ومن ذلك تعلق المسلمين اليوم بروسيا أو فرنسا ليعيدوا إليهم حقوقهم السليبة وكرامتهم المفقودة وأرضهم المغتصبة ناسية أو متناسية دورهم القبيح وأفعالهم الشنيعة مع الشعوب المسلمة. فإدراك الخطيب بهذا
নবম: মুসলিম বিশ্বের বাস্তবতা: একজন খতিবের জন্য স্বীয় উম্মাহর অবস্থা এবং বৈশ্বিক বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। অন্যথায় ‘এক দেহ’-এর চেতনা কোথায় ফলপ্রসূ হবে? জনমানুষ তাদের ভাইদের সংবাদ কোথা থেকে আহরণ করবে এবং কীভাবে তারা তাদের সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করবে, কিংবা অন্ততপক্ষে তাদের সমস্যা ও সংকটে দোয়া এবং নৈতিক সমর্থনের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করবে? খতিবকে অবশ্যই ইসলাম-বিদ্বেষী বিশ্বশক্তিগুলোর বাস্তবতা সম্পর্কেও সজাগ থাকতে হবে। কেননা ইসলাম ও এর দাঈদের বিরুদ্ধে শত্রুদের সঙ্ঘবদ্ধ হওয়া এমন এক ধ্রুব সত্য যা কেবল একজন হঠকারী ব্যক্তিই অস্বীকার করতে পারে। শত্রুদের কৌশল ও ভূমিকার বৈচিত্র্য এবং তাদের ভূমিকা পরিবর্তন লক্ষণীয়; আজ যারা শান্তিকামী কবুতরের বেশে আবির্ভূত হচ্ছে, আগামীকাল তারাই আবার শিকারি বাজপাখির মতো তার শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। উম্মাহ যখন এই দ্বন্দ্বের স্বরূপ ও প্রকৃতি অনুধাবনে উদাসীন, তখন দাঈ ও খতিবদের অপরিহার্য দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় উম্মাহকে এই শত্রু, তাদের কর্মপন্থা ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ করা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে উম্মাহর অবস্থার পর্যবেক্ষক মাত্রই এই ভূমিকার পূর্ণ অনুপস্থিতি উপলব্ধি করতে পারেন। উম্মাহ আজও তার শত্রুদের পেছনে ছুটছে এবং তাদের ওপরই ভরসা রাখছে, অথচ তাদের ইতিহাস, শত্রুতা ও চক্রান্ত সম্পর্কে তারা গাফেল। আর এর কারণ কেবল এটাই যে, বর্তমানে তারা শান্তিকামী কবুতরের ভূমিকা পালন করছে। এরই দৃষ্টান্ত হলো বর্তমানে মুসলমানদের রাশিয়া বা ফ্রান্সের ওপর এই আশায় নির্ভর করা যে, তারা তাদের অপহৃত অধিকার, হৃত মর্যাদা এবং জবরদখলকৃত ভূমি ফিরিয়ে দেবে; অথচ মুসলিম জাতিগুলোর বিরুদ্ধে তাদের সেই কুৎসিত ভূমিকা ও জঘন্য কার্যকলাপের কথা তারা বিস্মৃত হয়েছে বা বিস্মৃত হওয়ার ভান করছে। সুতরাং খতিবের এই বিষয়টি অনুধাবন করা...
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ২০)
الواقع وأساليب الأعداء من اقتصادية وسياسية وفكرية وتنوع صورها من مؤسسات تنصيرية أو تبشيرية أو استشراقية، أو ماسونية، وتحذيره الأمة وتبصيرها بذلك من شأنه أن يقيها ضربات موجعة مؤلمة، ولكن يجب الانتباه إلى أمرين:

الأول: عدم التهويل والمبالغة في شأنها، الأمر الذي ربما سبب اليأس والقعود، كما أن التهوين يسبب الاستهانة وعدم الأخذ بالأسباب.

الثاني: إدراك طبيعة العلاقة بين هذه القوى المعادية، وأنهم تحسبهم جميعًا، وقلوبهم شتى.

فما قوة الخطيب إذن إن لم يستطع أن يحفظ من كل باب دوحة من الأحاديث التي تنمي ملكته وتعضد فكرته وتشبع وتقوم لسانه وتهيج مشاعره؟
বর্তমান বাস্তবতা এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে শত্রুদের বিভিন্ন কর্মপন্থা এবং খ্রিস্টীয় মিশনারি, প্রাচ্যতত্ত্ববাদী কিংবা ফ্রিম্যাসনারি প্রতিষ্ঠানের মতো তাদের বিচিত্র রূপ সম্পর্কে উম্মাহকে সতর্ক করা এবং সচেতন করা তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক ও বেদনাদায়ক আঘাত থেকে রক্ষা করবে। তবে এক্ষেত্রে দুটি বিষয়ে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে:

প্রথমত: এ বিষয়ে অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি না করা, যা সম্ভবত হতাশা ও স্থবিরতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়; আবার একে তুচ্ছজ্ঞান করাও অনুচিত, কারণ তা উদাসীনতা এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

দ্বিতীয়ত: এই শত্রু শক্তিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের প্রকৃতি অনুধাবন করা; অর্থাৎ আপনি তাদের ঐক্যবদ্ধ মনে করলেও মূলত তাদের অন্তরসমূহ ভিন্ন ভিন্ন।

এমতাবস্থায় একজন খতিবের শক্তিমত্তাই বা কোথায় থাকবে, যদি তিনি প্রতিটি বিষয় থেকে হাদিসের এমন এক বিশাল ভাণ্ডার আয়ত্ত করতে না পারেন যা তার প্রতিভাকে বিকশিত করবে, তার চিন্তাধারাকে সুসংহত করবে, তার ভাষাকে সমৃদ্ধ ও সংশোধন করবে এবং তার অনুভূতিকে আন্দোলিত করবে?
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌رابعا: الاستعانة بالله: -

تذكر أنك إنما تخطب وتتكلم بحول الله تعالى وقوته، فإن شاء الله تعالى أطلق لسانك، وإن شاء عقده، ولو وكلك الله إلى نفسك لعييت وعجزت.

إن حنجرتك التي هي وعاء خروج الأصوات، ولسانك وشفتيك وأسنانك التي تصوغ الحروف والنغمات، إنما هي خلق من خلق الله تعالى {الَّذِي أَنْطَقَ كُلَّ شَيْءٍ} .

واعلم أن الله معك.. شاهد ومطلع عليك.. نظره أسبق من نظر المخاطبين إليك.

فاعتصم بالله، وليكن لك في نبي الله موسى عليه السلام أسوة حسنة حيث {قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي} {وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي} {وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي} {يَفْقَهُوا قَوْلِي} طه: 25- 28

وأنبه إلى ضرورة تجنب الخطيب الغرور والإعجاب بالنفس، فإن ذلك محبط للعمل والأجر والثواب.
চতুর্থত: আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা: -

স্মরণ রাখবেন যে, আপনি মহান আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমেই কেবল ভাষণ প্রদান করেন ও কথা বলেন। আল্লাহ তাআলা চাইলে আপনার জিহ্বাকে সাবলীল করে দেন, আর চাইলে তিনি তাতে জড়তা সৃষ্টি করেন। যদি আল্লাহ আপনাকে আপনার নিজের ওপর সোপর্দ করতেন, তবে আপনি বাকরুদ্ধ ও অক্ষম হয়ে পড়তেন।

আপনার কণ্ঠনালি যা শব্দ নির্গত হওয়ার আধার, এবং আপনার জিহ্বা, ওষ্ঠ ও দন্তরাজি যা অক্ষর ও সুরের রূপদান করে, তা মহান আল্লাহর সৃষ্টিরই অন্তর্ভুক্ত {যিনি প্রতিটি বস্তুকে বাকশক্তি দান করেছেন}।

জেনে রাখুন যে, আল্লাহ আপনার সাথে আছেন.. তিনি প্রত্যক্ষকারী ও আপনার অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত.. আপনার প্রতি শ্রোতাদের দৃষ্টির চেয়ে তাঁর দৃষ্টি অগ্রগামী।

কাজেই আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করুন এবং আল্লাহর নবী মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর মধ্যে আপনার জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে, যখন তিনি {বলেছিলেন: হে আমার পালনকর্তা! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজ সহজ করে দিন এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।} তোয়া-হা: ২৫-২৮

আমি খতিবকে অহংকার ও আত্মমুগ্ধতা পরিহার করার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে সতর্ক করছি, কারণ তা আমল, প্রতিদান ও সওয়াবকে বিনষ্টকারী।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌خامسا: الله الله في القدوة: -

فالناس ينظرون إلى سلوك الخطيب، ويدققون النظر فيه، ولذا ينبغي أن تتطابق أفعاله مع أقواله، فالتزام الخطيب بأحكام الإسلام بوجه عام، وتطبيق ما يدعو إليه في خطبته، يجعل كلامه مقبولًا عند المستمعين، أما مخالفة العمل للقول، فإنه يجعل المستمعين لا يثقون به ولا بكلامه.

قال الله تعالى: {أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ وَأَنْتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ} البقرة: 44

ويقول أيضًا: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ} {كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ} الصف: 2، 3
‌পঞ্চম: আদর্শ হওয়ার বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করুন: -

বস্তুত মানুষ খতিবের আচরণের দিকে লক্ষ্য রাখে এবং তা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করে। তাই তাঁর কর্মের সাথে তাঁর কথার মিল থাকা বাঞ্ছনীয়। সাধারণভাবে খতিবের ইসলামের বিধানসমূহ মেনে চলা এবং তিনি তাঁর খুতবায় যে বিষয়ের দিকে আহ্বান জানান তা নিজে বাস্তবায়ন করা তাঁর কথাকে শ্রোতাদের নিকট গ্রহণযোগ্য (مقبول) করে তোলে। পক্ষান্তরে, কর্মের সাথে কথার বৈপরীত্য শ্রোতাদেরকে তাঁর প্রতি এবং তাঁর কথার প্রতি আস্থাহীন করে তোলে।

মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেদের কথা ভুলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব পাঠ করো; তবে কি তোমরা অনুধাবন করো না?} (আল-বাকারা: ৪৪)

তিনি আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না, তা কেন বলো?} {তোমরা যা করো না, তা বলা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত ক্রোধের বিষয়।} (আস-সাফ: ২, ৩)
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ২৩)
الخطيب القدوة الذي يعامل الناس ويدعوهم بالقول والعمل فيصبح مؤثرًا أشد التأثير تلتف حوله القلوب وتحوم حوله الأفئدة وفي صورة مثيرة رهيبة ومخيفة يبين فيها النبي صلى الله عليه وسلم حال من خالف عمله قوله فيقول «يؤتى بالرجل يوم القيامة فيلقى في النار فتندلق أقتاب بطنه فيدور بها كما يدور الحمار في الرحى فيجتمع عليه أهل النار ويقولون يا فلان ألم تكن تأمر بالمعروف وتنهى عن المنكر؟ فيقول نعم كنت آمر بالمعروف ولا آتيه وأنهى عن المنكر وآتيه» رواه البخاري

فأين الدعاة من هذا الحديث العظيم أسال الله العظيم رب العرش الكريم أن يجعلنا ممن توافق أقوالهم أفعالهم.
সেই আদর্শস্থানীয় খতিব, যিনি মানুষের সাথে আচার-আচরণে এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে দাওয়াত প্রদান করেন, তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন; ফলে মানুষের অন্তরসমূহ তাঁকে বেষ্টন করে রাখে এবং হৃদয়সমূহ তাঁর প্রতি ধাবিত হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অত্যন্ত রোমহর্ষক ও ভয়াবহ এক চিত্রের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির অবস্থা বর্ণনা করেছেন যার কর্ম তার কথার পরিপন্থী। তিনি বলেন: «কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তখন তার পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসবে এবং সে তা নিয়ে ওইভাবে চক্কর দিতে থাকবে যেভাবে গাধা যাঁতাকলে চক্কর দেয়। তখন জাহান্নামবাসীরা তার কাছে সমবেত হয়ে বলবে, হে অমুক! তুমি কি সৎ কাজের আদেশ দিতে না এবং অসৎ কাজে নিষেধ করতে না? সে বলবে, হ্যাঁ, আমি সৎ কাজের আদেশ দিতাম কিন্তু নিজে তা করতাম না, আর অসৎ কাজে নিষেধ করতাম অথচ নিজে তা করতাম»। এটি ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন।

এই মহান হাদিস থেকে বর্তমানের দাঈদের অনেক কিছু শেখার আছে। আমি মহান আল্লাহ, যিনি মহিমান্বিত আরশের রব, তাঁর কাছে প্রার্থনা করি—তিনি যেন আমাদের সেই সব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাদের কথার সাথে কাজের পূর্ণ সংগতি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌سادسا: الشجاعة: -

أن يكون الخطيب شجاعًا في قول الحق، مع التحلي بالحكمة وحسن التقدير للموقف، بعيدًا عن التهور والاندفاع غير المحسوب، فالشجاعة في قول الحق صفة أساسية لا بد وأن يتحلَّى بها الخطيب؛ لأنه سيتعرض لأمور كثيرة فإن لم تكن عنده الشجاعة الكافية فلن يستطيع الوصول إلى الهدف والغاية المرجوة، وكما نطالب الخطباء بالشجاعة، فعلى الحكومات والوزارات المعنية أن توفر جانبًا من الحرية للخطباء، كما توفر هامشًا -قل أو كثر- للصحافة وأجهزة الإعلام.
ষষ্ঠত: সাহস: -

খতিবকে সত্য কথা বলার ক্ষেত্রে সাহসী হতে হবে, সেই সাথে প্রজ্ঞা ও পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়নের গুণাবলীতে ভূষিত হতে হবে এবং হঠকারিতা ও অবিবেচনাপ্রসূত আবেগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। কেননা সত্য বলার ক্ষেত্রে সাহস একটি মৌলিক গুণ যা খতিবকে অবশ্যই ধারণ করতে হবে; কারণ তিনি নানাবিধ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন, এমতাবস্থায় তাঁর যদি পর্যাপ্ত সাহস না থাকে তবে তিনি অভীষ্ট লক্ষ্য ও গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন না। আর আমরা যেমন খতিবদের নিকট সাহসিকতা দাবি করি, তেমনি সংশ্লিষ্ট সরকার ও মন্ত্রণালয়গুলোর উচিত খতিবদের জন্য স্বাধীনতার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেমনটি তারা সংবাদমাধ্যম ও গণমাধ্যমগুলোর জন্য কমবেশি সুযোগ দিয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌سابعا: الصلة مع الجماهير: -

أن يكون وثيق الصلة بجمهوره، أقصد مستمعيه، وأن يحدث تقاربًا بينه وبينهم، فيعود مرضاهم، ويسأل عن غائبهم، ويشارك في وضع الحلول لمشكلاتهم، وكلما اقترب من المدعوين ووقف بجانبهم في أزماتهم، كلما كان ذلك أدعى إلى التفافهم حوله، والقرب منه. مع ملاحظة أن يعف نفسه عما في أيدي الناس، وكما ورد في الحديث الشريف:

«ازهد في الدنيا يحبك الله وازهد فيما في أيدي الناس يحبوك» .
সপ্তম: জনসাধারণের সাথে সম্পর্ক:-

তাকে তার শ্রোতৃমণ্ডলীর সাথে সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে—আমি তার শ্রোতাদের উদ্দেশ্য করছি—এবং তাকে নিজের ও তাদের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করতে হবে; ফলে সে তাদের অসুস্থদের দেখতে যাবে, অনুপস্থিতদের খোঁজ নেবে এবং তাদের সমস্যাবলির সমাধানে অংশগ্রহণ করবে। সে দাওয়াতপ্রাপ্তদের যত কাছাকাছি যাবে এবং তাদের সংকটকালে পাশে দাঁড়াবে, তা তাদের তার চারপাশে সমবেত হতে এবং তার নিকটবর্তী হতে তত বেশি উদ্বুদ্ধ করবে। এর পাশাপাশি লক্ষ্য রাখতে হবে যেন মানুষের কাছে যা রয়েছে তা থেকে সে নিজেকে নির্লোভ রাখে। যেমনটি হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে:

«দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি (زهد) প্রদর্শন করো, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন; এবং মানুষের কাছে যা আছে তা থেকে নিস্পৃহ (زهد) থাকো, তবে মানুষ তোমাকে ভালোবাসবে।»
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌ثامنا: القناعة بما يدعو إليه: -

أن يكون على قناعة تامة بما يدعو إليه، حتى يكون قادرًا على الإقناع والتأثير، فالإيمان بقضية ما يجعل صاحبها يدافع عنها بكل ما يملك، فإذا لم يكن الخطيب على قناعة بما يدعو إليه، فلا يستطيع إقناع الآخرين بذلك، فإذا دعا الخطيب في خطبته الناس إلى دفع زكاة أموالهم أو الصدقة وهو في نفس الوقت لا يدفع زكاة أمواله ولا يتصدق، أو دعاهم إلى ترك الغيبة وهو يفعل ذلك، أو دعاهم إلى إلزام بناتهم وزوجاتهم باللباس الشرعي، وبناته وزوجته لا يلتزمن بذلك، إلى غير ذلك، فإن الكثير من الناس سوف لا يلتفتون إلى أقواله ولا إلى خطبه.
অষ্টম: তিনি যে বিষয়ের প্রতি দাওয়াত দিচ্ছেন সে বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস থাকা: -

তিনি যে বিষয়ের প্রতি দাওয়াত দিচ্ছেন সে বিষয়ে তাঁর পূর্ণ দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে, যাতে তিনি অন্যকে আশ্বস্ত করতে এবং প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। কারণ কোনো আদর্শের প্রতি বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার সর্বস্ব দিয়ে তা রক্ষা করতে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং খতিব যদি নিজে যা প্রচার করছেন সে বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাসী না হন, তবে তিনি অন্যদের সে বিষয়ে আশ্বস্ত করতে পারবেন না। যদি খতিব তাঁর খুতবায় মানুষকে তাঁদের সম্পদের জাকাত বা সদকা প্রদানের আহ্বান জানান, অথচ একই সময়ে তিনি নিজে জাকাত প্রদান করেন না এবং দান-সদকা করেন না; কিংবা তিনি তাঁদের গিবত (পরনিন্দা) ত্যাগ করার আহ্বান জানান অথচ তিনি নিজেই তা করেন; অথবা তিনি তাঁদের নিজ কন্যা ও স্ত্রীদের শরয়ী পোশাক পরিধানে বাধ্য করার আহ্বান জানান অথচ তাঁর নিজের কন্যা ও স্ত্রী তা মেনে চলে না— এই জাতীয় ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ তাঁর কথা কিংবা তাঁর খুতবার প্রতি কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপ করবে না।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌تاسعا: اختيار مواضيع من واقع الحياة: -

فعلى الخطيب اختيار موضوع الخطبة من واقع الحياة التي يحياها الناس، ومناقشة المشكلات الاجتماعية المتعددة، ومحاولة طرح الحلول لها، أما الموضوعات السلبية التي لا تعالج أمراض المجتمع وعلله المختلفة، فإن الاستفادة منها تكون قليلة.

فالخطيب الناجح هو الذي ينظر إلى واقع الناس ليتحدث عنه، فليس من الحكمة عدم مراعاة واقع الناس، فمثلا إذا ما حصلت حادثة وفاة فليس من المناسب أن يذهب الخطيب فيتحدث عن الزواج، إذ المناسب التحدث عن الموت من حيث كونه حقًا لا مفر منه ومن حيث أخذ العبرة منه، ودعوة الناس إلى الاستعداد له، وبيان أن الإنسان لا يدري متى يأتيه الأجل وهكذا. كما يتوجب عليه أن يكون مطلعًا على ما يجري في العالم من أحداث ومتغيرات ومستجدات، ليطلع جمهوره على ذلك مع بيان حكم الإسلام في ذلك.
নবম: জীবনঘনিষ্ঠ বিষয় নির্বাচন করা: -

খতিবের উচিত জনজীবনের বাস্তবতা থেকে খুতবার বিষয়বস্তু নির্বাচন করা, বিবিধ সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা এবং সেগুলোর সমাধান উপস্থাপনের প্রয়াস পাওয়া। পক্ষান্তরে, যেসব নেতিবাচক বিষয় সমাজের ব্যাধি ও বিভিন্ন সমস্যার প্রতিকার করে না, সেগুলো থেকে প্রাপ্ত উপকারিতা যৎসামান্যই হয়ে থাকে।

একজন সফল খতিব তিনিই, যিনি মানুষের বাস্তব অবস্থার প্রতি লক্ষ রেখে আলোচনা করেন। মানুষের বিদ্যমান পরিস্থিতির প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা প্রজ্ঞার পরিপন্থী। উদাহরণস্বরূপ, কোনো মৃত্যুর ঘটনায় খতিবের জন্য বিবাহ সংক্রান্ত আলোচনা করা সমীচীন নয়; বরং সে সময় মৃত্যু নিয়ে আলোচনা করাই প্রাসঙ্গিক—যেহেতু এটি একটি ধ্রুব সত্য এবং এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি মানুষকে পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানো এবং মানুষ জানে না কখন তার নির্ধারিত সময় চলে আসবে—এসব বিষয়ে আলোকপাত করা প্রয়োজন। তদুপরি, বিশ্বে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা, পরিবর্তন ও সমসাময়িক বিষয়াবলি সম্পর্কেও তাকে সজাগ থাকতে হবে, যাতে তিনি সে বিষয়ে ইসলামের বিধান (حكم) স্পষ্ট করার পাশাপাশি তার শ্রোতামণ্ডলীকে অবহিত করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌عاشرا: فصاحة اللسان وجودة النطق: -

إن فصاحة اللسان وسلامة مخارج الحروف أمر مهم للخطيب وكذلك مراعاة حسن الإلقاء، قوةً ولينًا، فلا يكون الإلقاء على وتيرة واحدة، حتى لا يمل السامع، أو يعتمد أسلوب السجع الممقوت، فإن من شأن ذلك إضاعة المعنى، والتركيز على اللفظ مع ضرورة مراعاة قواعد اللغة العربية؛ لأن عدم مراعاتها يحدث خللًا في المعنى.

فمع الأسف كثيرًا ما نشاهد بعض الخطباء أو المتحدثين لا يراعون في خطبهم أو كلماتهم قواعد اللغة العربية، ولا يقيمون لها وزنًا، ويظنون أن ذلك ليس من الضرورة بمكان، وهذا خطأ كبير وجهل فاضح، فتغيير حركة واحدة في الكلمة من شأنه أن يقلب المعنى رأسًا على عقب، والأمثلة على ذلك كثيرة.

والخطيب الناجح والمؤثر يمتلك من الألفاظ أعذبها وأشوقها وأقربها إلى القلوب والشعور، يأسرك بكلماته التي هي واحة المتعبين وأنس السامرين، ودليل الحائرين، يربطهم بالمسجد ربط الطائر بعشه وأفراخه
দশম: বাগ্মিতা ও উচ্চারণশৈলীর উৎকর্ষ: -

রসনার বাগ্মিতা এবং বর্ণের উচ্চারণস্থলের বিশুদ্ধতা একজন খতিবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর পাশাপাশি বক্তৃতার শৈল্পিক উপস্থাপন, তাতে কণ্ঠস্বরের দৃঢ়তা ও কোমলতার প্রতিও লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। বক্তৃতা যেন সবসময় একই সুরে বা একঘেয়ে না হয়, যাতে শ্রোতা ক্লান্তিবোধ না করে। এছাড়া শ্রুতিকটু বা কৃত্রিম অন্ত্যমিল (سجع) ব্যবহারের নীতি পরিহার করা উচিত, কারণ এর ফলে মূল অর্থের হানি ঘটে এবং শুধুমাত্র শব্দের বাহুল্যের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এর পাশাপাশি আরবি ব্যাকরণের নিয়মাবলী অনুসরণ করাও অপরিহার্য; কারণ তা অনুসরণ না করলে অর্থের বিকৃতি ঘটে।

পরিতাপের বিষয় এই যে, আমরা প্রায়ই অনেক খতিব বা বক্তাকে দেখি যারা তাদের খুতবা বা বক্তব্যে আরবি ব্যাকরণের নিয়মাবলী মেনে চলেন না এবং একে কোনো গুরুত্বই দেন না। তারা মনে করেন যে এটি তেমন প্রয়োজনীয় বিষয় নয়; অথচ এটি একটি বড় ভুল এবং সুস্পষ্ট মূর্খতা। কারণ শব্দের একটি মাত্র হরকত বা স্বরচিহ্নের পরিবর্তন সম্পূর্ণ অর্থকে আমূল বদলে দিতে পারে এবং এর উদাহরণ অনেক।

একজন সফল ও প্রভাবশালী খতিব এমন সব শব্দ চয়ন করেন যা অত্যন্ত মধুর, আকর্ষণীয় এবং হৃদয় ও অনুভূতির অতি নিকটবর্তী। তিনি আপনাকে তাঁর এমন সব কথার মাধ্যমে মোহাচ্ছন্ন করবেন যা ক্লান্তদের জন্য এক প্রশান্তির মরূদ্যান, নৈশকালীন আলাপচারীদের জন্য আনন্দের উৎস এবং পথহারাদের জন্য দিকনির্দেশক। তিনি মানুষকে মসজিদের সাথে এমনভাবে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করেন, যেমনভাবে একটি পাখি তার বাসা ও শাবকদের সাথে মিশে থাকে।
(খণ্ড: ১) খামসূনা ওয়াসিয়্যাতান ওয়া ওয়াসিয়্যাহ লিতাকূনা খাতীবান নাজিহান (পৃষ্ঠা: ২৯)
(وقد نرى بعض الخطباء إذا تكلم لا يكاد يبين، كأنه من الأعجمين، ينطق بالحرف مقلوبًا، ويجعل المرفوع منصوبًا، ملأ خطبته عيوبًا، وندوبًا، وثقوبًا، غضب منه في النحو سيبويه، وفي اللغة نفطويه، وفي الحديث راهويه، وفي الشعر مُتَنَبِّيوَيْه.

الخطيب البارع يأسر القلوب أسرًا، ويسري بالأرواح، فسبحان من أسرى، ويسترق الضمائر فإما منًّا بعد وإما فداء، وله على مستعمرات النفوس احتلال واستيلاء.

الخطيب الملهم يكتب على صفحات القلوب رسائل من التأثير، في العقول صورًا من براعة التعبير، ويبني في الأفئدة خيامًا من جلال التصوير، هل تمل من الروضة الغنّاء إذا غنى فيها العندليب، وحل بها الحبيب، وأطفأ نسيمها اللهيب، وكذلك الخطيب النجيب، في خطبه روضات من الجمال، وبساتين من الجلال، ودواوين من الكمال) المسك والعنبر
আমরা কখনো কখনো এমন কিছু বক্তাকে দেখি যারা কথা বললে তা প্রায় অস্পষ্ট থাকে, যেন তারা কোনো অনারব; তারা বর্ণকে বিকৃতভাবে উচ্চারণ করে এবং মারফু (المرفوع) শব্দকে মানসুব (المنصوب) করে ফেলে। সে তার খুতবাকে ত্রুটি, বিচ্যুতি ও রন্ধ্রে পরিপূর্ণ করে দেয়। তার প্রতি ব্যাকরণ শাস্ত্রে সিবওয়াইহি, ভাষাতত্ত্বে নিফতাওয়াইহি, হাদিস শাস্ত্রে রাহওয়াইহি এবং কাব্যশাস্ত্রে মুতানাব্বিওয়াইহি রাগান্বিত হন।

নিপুণ বক্তা অন্তরসমূহকে প্রবলভাবে জয় করে নেন এবং রূহসমূহে বিচরণ করেন; অতএব পবিত্র সেই সত্তা যিনি (নিশিকালে) পরিভ্রমণ করিয়েছেন। তিনি বিবেকসমূহকে বশীভূত করেন, ফলে এরপর হয় অনুগ্রহ করেন নতুবা মুক্তিপণ গ্রহণ করেন। নফসের উপনিবেশগুলোর ওপর তার দখল ও আধিপত্য রয়েছে।

অনুপ্রাণিত বক্তা হৃদয়ের পাতায় প্রভাবের বার্তা লিপিবদ্ধ করেন, বুদ্ধিবৃত্তিতে অভিব্যক্তির নৈপুণ্যের চিত্র ফুটিয়ে তোলেন এবং অন্তঃকরণে মহিমাম্বিত রূপায়ণের তাবু স্থাপন করেন। আপনি কি সেই সুশোভিত উদ্যান দেখে ক্লান্ত হবেন যখন সেখানে বুলবুলি গান গায়, সেখানে প্রিয়জনের আগমন ঘটে এবং যার সমীরণ আগুনের শিখা নির্বাপিত করে? তদ্রূপ মেধাবী বক্তাও; তার খুতবাগুলোতে রয়েছে সৌন্দর্যের কানন, গাম্ভীর্যের উদ্যান এবং পূর্ণতার কাব্যসমগ্র। (আল-মিসক ওয়াল আম্বার)