(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: -)
الحسام المسلول على منتقصي أصحاب الرسول القسم: العقيدة
الكتاب: الحسام المسلول على منتقصي أصحاب الرسول
المؤلف: محمد بن عمر بن مبارك الحميري الحضرمي الشافعي، الشهير بـ «بَحْرَق» (ت 930هـ)
المحقق: حسنين محمد مخلوف
الناشر: مطبعة المدني - مصر، 1386 هـ
عدد الصفحات: 121
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
(تنبيه): هوامش الكتاب الإلكتروني ليست هوامش المطبوع
تاريخ النشر بالشاملة: 26 ذو القعدة 1432
আল-হুসাম আল-মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসুল বিভাগ: আকিদাহ
বই: আল-হুসাম আল-মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসুল
লেখক: মুহাম্মদ বিন উমর বিন মুবারক আল-হিমইয়ারি আল-হাদরামি আশ-শাফিয়ি, যিনি «বাহরাক» নামে সুপরিচিত (মৃত্যু ৯৩০ হিজরি)
সম্পাদক: হাসনাইন মুহাম্মদ মাখলুফ
প্রকাশক: মাতবাআ আল-মাদানি - মিসর, ১৩৮৬ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২১
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(সতর্কবার্তা): ইলেকট্রনিক বইয়ের পাদটীকাগুলো মুদ্রিত কপির পাদটীকা নয়
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ জিলকদ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: -)
الحسام المسلول على منتقصي أصحاب الرسول لبحرق اليمني (1)
--------------------------------------------
বাহরাক আল-ইয়ামানি কৃত রাসুলের সাহাবীগণের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত তলোয়ার (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
- بسم الله الرحمن الرحيم -
وبه ثقتي
الحمد لله أفضل الحمد وأكمله وأشمله، حمدا يوافي نعمه ويكافئ مزيده، والشكر لمولى الحمد ومستحقه على ما من به من التوفيق والهداية إلى سواء الطريق، وأنعم به من العرفان والتحقيق، والاتباع والتصديق، لنبيه محمد صلى الله عليه وسلم الذي فضله على جميع الخلائق، وبعثه بخير الأديان والطرائق، وجعل أمته خير أمة أخرجت للناس، وأعاذ إجماعها المعصوم من كيد الخناس واتباع الوسواس، وحفظ فيها كتابه المبين وشرعه المتين، بقوله {إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون} وقوله صلى الله عليه وسلم: «لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق لا يضرهم من خالفهم حتى يأتي أمر الله». وقال صلى الله عليه وسلم: "ستفترق أمتي إلى اثنتين وسبعين فرقة كل فرقة منها تدعو إلى النار، والناجية منها فرقة واحدة، قيل: يا رسول الله من هم؟ قال: هم المتمسكون بما أنا عليه وأصحابي". والصلاة والسلام على أشرف خلقه سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين.
أما بعد، فقد وصلني كتاب كريم، من أخ في الله صديق حميم، وهو الفقيه الأجل الصالح الفاضل الكامل شرف الدين أبو القاسم بن سليمان الحرازي بلدا المنسوب إلى بيت الحاري، وهو يستغيث إلى الله عز وجل ثم إلى المملوك، يريد الجواب على ثلاثة عشر سؤالا مشتملة على شبه
- পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে -
এবং তাঁর ওপরই আমার ভরসা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য—সর্বোত্তম, পূর্ণতম ও ব্যাপকতম প্রশংসা; এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতসমূহের শুকরিয়া আদায় করে এবং তাঁর বর্ধিত অনুগ্রহের সমতুল্য হয়। আর কৃতজ্ঞতা প্রশংসার অধিপতি ও তার প্রকৃত হকদারের জন্য, সেই তাওফিক ও সঠিক পথের হিদায়াতের জন্য যা তিনি দান করেছেন; এবং সেই জ্ঞান, গবেষণা, অনুসরণ ও সত্যয়নের জন্য যা তিনি অনুগ্রহ করেছেন তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি, যাঁকে তিনি সমস্ত সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীন ও পথের সাথে প্রেরণ করেছেন। আর তিনি তাঁর উম্মতকে মানুষের জন্য বের করা শ্রেষ্ঠ উম্মত বানিয়েছেন এবং তাদের নিষ্পাপ ঐক্যমতকে বিতাড়িত শয়তানের চক্রান্ত ও কুমন্ত্রণার অনুসরণ থেকে রক্ষা করেছেন। এবং তিনি তাদের মধ্যে তাঁর সুস্পষ্ট কিতাব ও সুদৃঢ় শরিয়তকে সংরক্ষণ করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "নিশ্চয়ই আমিই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।" এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর মাধ্যমে: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয়।" এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: "অচিরেই আমার উম্মত বাহাত্তর দলে বিভক্ত হবে, যার প্রতিটি দল আগুনের দিকে আহ্বান করবে এবং তাদের মধ্যে কেবল একটি দলই মুক্তিপ্রাপ্ত হবে।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: "যারা আমি এবং আমার সাহাবীগণ যে বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি, তার ওপর দৃঢ় থাকবে।" আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর, আমার নিকট আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এক ভ্রাতা ও অন্তরঙ্গ বন্ধুর পক্ষ থেকে একটি সম্মানজনক পত্র পৌঁছেছে; তিনি হলেন অতিশয় সম্মানিত ফকিহ, সৎকর্মশীল, গুণী ও পূর্ণতাসম্পন্ন ব্যক্তি শরফুদ্দিন আবু কাসিম বিন সুলাইমান আল-হারাজি, যিনি বাইতুল হারি বংশের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি মহান আল্লাহর নিকট এবং অতঃপর এই অধমের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছেন; তিনি তেরটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চান যা বিভিন্ন সংশয় সংবলিত।
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
مضلة، وأوهام عند إشراق الحق مضمحلة، يستغوي داعي الإسماعيلية من حمقى الرجال وطغام الجهال من هو شبه المجانين في الدين، ومن الزنادقة الغاوين، الذين خدعهم الشيطان اللعين، الذين قال فيهم وفي أتباعهم أصدق القائلين: {فأما الذين في قلوبهم زيغ فيتبعون ما تشابه منه ابتغاء الفتنة وابتغاء تأويله وما يعلم تأويله إلا الله والراسخون في العلم يقولون آمنا به كل من عند ربنا وما يذكر إلا أولو الألباب}. فما خص به سيدي من السلام فعليه وعلى من حضر مقامه الكريم أضعاف أضعافه، وليعلم الأخ في الله تعالى أن الدعاء له ولهم مبذول، ومن الجميع مسؤول، والرجاء في الله حسن القبول.
ثم حاصل ما يشير إليه في المكاتبة والأسئلة أن قال السائل في مكاتبته: ويُنهى تعريف خاطركم الكريم أنه قد ظهر في جهاتنا فتنة عظيمة من رئيس الإسماعيلية عندنا، وصار يدعو من جاوره من أهل السنة إلى الدخول في مذهبه وبدعته، ويذكر لهم الأحاديث الواردة في فضل علي بن أبي طالب رضي الله تعالى عنه ويستدل بها على تعين خلافته كحديث «من كنت مولاه فعلي مولاه» وحديث «أنت مني بمنزلة هارون من موسى» وحديث المؤاخاة، إلى غير ذلك. ويحتج بها على أن عليا هو الوصي بالخلافة من رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأن خلافة الثلاثة قبله معصية غير مرضية، مخالفة لنص رسول الله صلى الله عليه وسلم. واستحل بذلك سب الصحابة رضي الله عنهم لتعاونهم على تقديم أبي بكر فمن بعده ظلما. وقد غر بهذه الشبهة خلقا كثيرا، وعظم ضرره على أهل السنة، ولم يقع
বিপথগামীকারী, এবং সত্যের উদ্ভাসে বিলীন হয়ে যাওয়া কল্পনামাত্র; ইসমাইলিয়াদের আহ্বানকারী নির্বোধ পুরুষদের মধ্য থেকে এবং দ্বীনের ব্যাপারে উন্মাদতুল্য অজ্ঞ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে বিভ্রান্ত করছে, আর সেই বিভ্রান্ত নাস্তিকদের মধ্য থেকে যাদেরকে অভিশপ্ত শয়তান ধোঁকা দিয়েছে। সেই মহান সত্তা, যাঁর বাণী সর্বাপেক্ষা সত্য, তিনি তাদের এবং তাদের অনুসারীদের সম্পর্কে বলেছেন: "অতঃপর যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে তারা ফিতনা সৃষ্টি এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে রূপক আয়াতের অনুসরণ করে। আর আল্লাহ ছাড়া এর সঠিক ব্যাখ্যা কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে, আমরা এর ওপর ঈমান এনেছি, সবকিছুই আমাদের রবের পক্ষ থেকে। আর বুদ্ধিমানগণ ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।" আমার সাইয়্যেদ যে সালাম পাঠিয়েছেন, তা তাঁর ওপর এবং তাঁর সম্মানিত দরবারে যারা উপস্থিত আছেন তাদের ওপর বহুগুণে বর্ষিত হোক। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে প্রিয় ভাই জেনে রাখুন যে, তাঁর এবং তাদের সকলের জন্য দুআ নিবেদিত, এবং সকলের পক্ষ থেকেই তা কাম্য, আর আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা এই যে তিনি তা উত্তমভাবে কবুল করবেন।
অতঃপর পত্রালাপ এবং প্রশ্নাবলীতে যা ইঙ্গিত করা হয়েছে তার সারসংক্ষেপ হলো এই যে, প্রশ্নকারী তার পত্রে বলেছেন: আপনার সম্মানিত অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমাদের অঞ্চলে ইসমাইলিয়াদের প্রধানের পক্ষ থেকে এক মহা ফিতনার উদ্ভব হয়েছে। সে তার পার্শ্ববর্তী আহলুস সুন্নাহর অনুসারীদের নিজের মাযহাব ও বিদআতে প্রবেশের দাওয়াত দিচ্ছে। সে তাদের সামনে আলী ইবন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু)-এর ফজিলত সংক্রান্ত হাদিসসমূহ বর্ণনা করছে এবং সেগুলোকে তাঁর খেলাফত সুনির্ধারিত হওয়ার স্বপক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করছে। যেমন: "আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা" হাদিসটি, এবং "তুমি আমার কাছে ঠিক তেমন, যেমন মূসার কাছে হারূন ছিলেন" হাদিসটি এবং ভ্রাতৃত্বের হাদিসসহ অন্যান্য হাদিসসমূহ। সে এগুলোর মাধ্যমে যুক্তি দিচ্ছে যে, আলীই হলেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে খেলাফতের জন্য মনোনীত উত্তরসূরি। আর তাঁর পূর্ববর্তী তিনজনের খেলাফত ছিল একটি অগ্রহণযোগ্য অবাধ্যতা, যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুস্পষ্ট নির্দেশের পরিপন্থী। এর মাধ্যমে সে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-কে গালি দেওয়া বৈধ মনে করছে, এই অভিযোগে যে তাঁরা অন্যায়ভাবে আবু বকর এবং তাঁর পরবর্তীগণকে অগ্রাধিকার দিতে সহযোগিতা করেছিলেন। এই সংশয়ের মাধ্যমে সে অসংখ্য মানুষকে ধোঁকায় ফেলেছে এবং আহলুস সুন্নাহর ওপর তার ক্ষতির প্রভাব প্রবল হয়েছে, এবং এর অবসান ঘটেনি।
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
من علماء تلك البلاد ما يدفع شبهته ويبطل حجته. وقد كتبت إليكم شبهته التي أغوى بها كثيرا من العوام، ولبس بها على الطغام، فتفضلوا بما يدفع شبهته من الحجج البالغة والبراهين الدامغة، والدلائل بالآيات القرآنية والأحاديث النبوية والآثار الصحابية والتابعية. فالغوث الغوث.
وقد علمتم أن الرد عليهم من فروض الكفاية {يريدون ليطفئوا نور الله بأفواههم ويأبى الله إلا أن يتم نوره ولو كره الكافرون} فالهمة الهمة، القيام القيام، وجاوبوا بجواب مبسوط شاف كاف مع المبادرة، فإن داعي الإسماعيلية قد كتب جوابا على ما يدعيه من الأحاديث التي كتبتها لكم مطولا ثم ختم بأبيات من شعره يمدح فيها مذهبه وأهله ويذم من خالفه فاجعلوا أيضا ختم جوابكم أبياتا من الشعر في فضل السنة وأهلها، وفضل الصحابة، وفضل الأئمة رضي الله تعالى عنهم أجمعين.
الأحاديث التي أوردها الإسماعيلي يؤيد بها مذهبهفمن الأحاديث التي أوردها الإسماعيلي ما في مسند الإمام أحمد أنه صلى الله عليه وسلم أخذ بيد علي رضي الله عنه بعد أن جمع الناس للصلاة بغدير يقال له غدير خم -بضم الخاء المعجمة وتشديد الميم- وقال: «ألستم تعلمون أني أولى بالمؤمنين من أنفسهم؟» قالوا: بلى، قال: «اللهم من كنت مولاه فعلي مولاه، اللهم وال من والاه وعاد من عاداه» وقال الإسماعيلي: إن المولى في الحديث بمعنى الأولى، وأنه إنما أراد لعلي من الولاء عليهم ما له صلى الله عليه وسلم من الولاء، قال وقوله قبل ذلك: "ألستم
সেই অঞ্চলের আলেমগণের মধ্য থেকে এমন কিছু রয়েছে যা তার সংশয় দূর করবে এবং তার যুক্তিকে বাতিল করবে। আমি আপনাদের নিকট সেই সংশয়গুলো লিখে পাঠিয়েছি যার মাধ্যমে সে অনেক সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে এবং অজ্ঞদের বিভ্রান্তিতে ফেলেছে। সুতরাং অনুগ্রহ করে এমন চূড়ান্ত প্রমাণ ও অকাট্য দলিলাদি প্রদান করুন যা তার সংশয় দূর করে—কুরআনের আয়াত, নববী হাদীস এবং সাহাবী ও তাবিঈদের বর্ণনার মাধ্যমে। সাহায্য করুন, সাহায্য করুন।
আপনারা জানেন যে, তাদের প্রতিবাদ করা ফরজে কেফায়া। {তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করা ছাড়া ক্ষান্ত হবেন না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।} সুতরাং আপনারা সচেষ্ট হোন, সচেষ্ট হোন; দণ্ডায়মান হোন, দণ্ডায়মান হোন। দ্রুততার সাথে একটি বিস্তারিত, নিরাময়কারী ও পর্যাপ্ত উত্তর দিন। কেননা ইসমাইলি দাঈ তার দাবিকৃত হাদীসগুলোর একটি দীর্ঘ উত্তর লিখেছে যা আমি আপনাদের লিখে পাঠিয়েছি। এরপর সে তার কবিতার পংক্তি দিয়ে তা শেষ করেছে যেখানে সে তার মাজহাব ও তার অনুসারীদের প্রশংসা করেছে এবং বিরোধীদের নিন্দা করেছে। তাই আপনারাও আপনাদের উত্তরের শেষে সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের মর্যাদা, সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা এবং ইমামগণের (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন) মর্যাদা সম্পর্কে কিছু কাব্যগাথা যুক্ত করবেন।
ইসমাইলি ব্যক্তি তার মাজহাবের সমর্থনে যে হাদীসগুলো উপস্থাপন করেছেইসমাইলি ব্যক্তি যেসব হাদীস উল্লেখ করেছে তার মধ্যে একটি হলো ইমাম আহমদের মুসনাদে বর্ণিত হাদীস: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গাদীরে খুম নামক স্থানে—যা 'খ' বর্ণে পেশ এবং 'ম' বর্ণে তাশদীদ সহযোগে উচ্চারিত—সালাতের জন্য মানুষকে একত্রিত করার পর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাত ধরলেন এবং বললেন: «তোমরা কি জানো না যে আমি মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ?» তারা বলল: «অবশ্যই», তিনি বললেন: «হে আল্লাহ! আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা। হে আল্লাহ! যে তাকে বন্ধু বানাবে আপনিও তাকে বন্ধু বানান, আর যে তার সাথে শত্রুতা করবে আপনিও তার সাথে শত্রুতা করুন।» সেই ইসমাইলি বলেছে: হাদীসে 'মাওলা' শব্দটি 'আওলা' (অধিক যোগ্য/নিকটতর) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং তিনি আলীর জন্য তাদের ওপর সেই অভিভাবকত্ব বা অধিকার চেয়েছেন যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিজের ছিল। সে বলেছে যে, এর আগে তাঁর এই উক্তি: "তোমরা কি..."
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
تعلمون أني أولى بالمؤمنين من أنفسهم" بيان لهذا وإلا لذهب ذلك سدى، وقال لو كان المولى بمعنى الناصر أو غيره لم يحتج إلى جمع المسلمين وإشهادهم ولا أن يأخذ بيد علي لأن ذلك يعرفه كل أحد، ولا كان يحتاج إلى أن يدعو بقوله «اللهم وال من والاه وعاد من عاداه» لأن مثل هذا لا يكون إلا لإمام مفترض الطاعة. وبهذا الحديث وغيره من نحو قوله صلى الله عليه وسلم: «علي ولي كل مؤمن ومؤمنة بعدي» وقوله: «أنت مني بمنزلة هارون من موسى إلا أنه لا نبي بعدي» ونحو حديث المؤاخاة احتج على ما ادعاه. فبينوا حل هذه الشبهة.
ومنها: أنه زعم أن عليا رضي الله عنه استنقذ أم ابنه محمد بن الحنفية من يد أبي بكر حين سباها في الردة ثم تزوجها علي من وليها بعقد صحيح، إذ كان يرى أن لا يحل لأبي بكر سبيها لأنها من قوم لم يجر منهم ما يوجب قتالهم، وإنما كان منهم منع الزكاة فقط، وذلك لا يوجب الردة. هذا كلامه، وأراد بذلك أن عليا كان يقدح في خلافة أبي بكر ولا يعتقد صحتها.
ومنها: أنه زعم أن عليا لم يصل صلاة خلف أبي بكر ولا غيره ولا تأمر عليه أبو بكر ولا غيره.
ومنها: سؤال من السائل نفسه: أخبرونا كم صلى أبو بكر بالناس من أيام في مدة مرض رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهل صلى النبي صلى الله عليه وسلم خلف أبي بكر رضي الله عنه في مرضه كما صح أنه صلى الله عليه وسلم صلى خلف عبد الرحمن بن عوف في صحته؟
"আপনারা জানেন যে আমি মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের জীবনের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ" - এটি তারই স্পষ্টীকরণ, নতুবা বিষয়টি নিরর্থক হয়ে যেত। তিনি বলেন, যদি 'মাওলা' শব্দটির অর্থ কেবল সাহায্যকারী বা অনুরূপ কিছু হতো, তবে মুসলিমদের সমবেত করার, তাদের সাক্ষী রাখার বা আলীর হাত ধারণ করার কোনো প্রয়োজন হতো না, কারণ বিষয়টি তো সর্বজনবিদিত। এমনকি তাঁর জন্য এই দুআ করারও প্রয়োজন হতো না যে, "হে আল্লাহ! যে তাকে বন্ধু বানাবে আপনিও তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন, আর যে তার সাথে শত্রুতা করবে আপনিও তার সাথে শত্রুতা পোষণ করুন।" কারণ এই ধরণের প্রার্থনা কেবল এমন ইমামের জন্যই হতে পারে যার আনুগত্য করা অবধারিত। এই হাদিস এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ জাতীয় অন্যান্য বাণী যেমন: "আমার পরে আলী সকল মুমিন নর-নারীর অভিভাবক" এবং তাঁর বাণী: "তুমি আমার নিকট হারুনের স্থলাভিষিক্ত মুসার নিকট যেমন ছিলে, তবে আমার পরে আর কোনো নবী নেই" এবং ভ্রাতৃত্বের হাদিসের ন্যায় দলিলসমূহ দিয়ে তিনি তাঁর দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। অতএব, এই সংশয় নিরসনের উপায় বর্ণনা করুন।
এর অন্তর্ভুক্ত আরেকটি বিষয় হলো: তিনি দাবি করেছেন যে, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়ার মাকে আবু বকরের হাত থেকে উদ্ধার করেছিলেন যখন তিনি তাকে রিদ্দার (স্বধর্মত্যাগ) যুদ্ধের সময় যুদ্ধবন্দিনী করেছিলেন। অতঃপর আলী তাকে তার অভিভাবকের মাধ্যমে সঠিক আকদ বা চুক্তির মাধ্যমে বিবাহ করেন; কেননা তিনি মনে করতেন আবু বকরের জন্য তাকে বন্দী করা বৈধ ছিল না। কারণ সে এমন এক কওমের অন্তর্ভুক্ত ছিল যাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ করার মতো কোনো কারণ সংঘটিত হয়নি, তারা কেবল জাকাত প্রদানে বিরত ছিল মাত্র, যা তাকে মুরতাদ বা স্বধর্মত্যাগী সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। এটিই তাঁর বক্তব্য এবং এর দ্বারা তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু বকরের খিলাফতের সমালোচনা করতেন এবং একে সঠিক বলে বিশ্বাস করতেন না।
এর অন্তর্ভুক্ত আরও রয়েছে: তিনি দাবি করেছেন যে, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কখনো আবু বকর বা অন্য কারো পেছনে সালাত আদায় করেননি এবং আবু বকর বা অন্য কেউ তাঁর উপর কোনো নেতৃত্ব দেননি।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো খোদ প্রশ্নকারীর একটি জিজ্ঞাসা: আমাদের অবহিত করুন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতার দিনগুলোতে আবু বকর কতদিন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন? এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাঁর অসুস্থতার সময় আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পেছনে সালাত আদায় করেছিলেন, যেমনটি সহিহ সূত্রে প্রমাণিত যে তিনি তাঁর সুস্থ অবস্থায় আব্দুর রহমান বিন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহুর পেছনে সালাত আদায় করেছিলেন?
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
ومنها: أنه زعم أن دفن أبي بكر وعمر عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ما كان عن إذن منه، ولا أمر أن يشق لأحد في بيته قبر، وقال الله تعالى: {لا تدخلوا بيوت النبي إلا أن يؤذن لكم}.
ومنها: أنه زعم أن لكل نبي وصيا، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يأمر بالوصية في الأولاد وقضاء الديون، فكيف ترك نفسه ولم يوص بالخلافة إلى أحد في زعمهم، ويترك الأمة يتيهون في الضلالة.
ومنها: أن المسلمين أجمعوا على تسمية علي رضي الله عنه وصي النبي صلى الله عليه وسلم، فوجب أن يكون وصيا بالخلافة.
ومنها: أن عثمان لما ولي قعد على المنبر في مقعد رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذروته مع أن أبا بكر رضي الله تعالى عنه نزل عن ذلك درجة وعمر درجتين. وأنه نفى أبا ذر، وآوى مروان، وأقطعه فدك، وهي صدقة النبي صلى الله عليه وسلم. إلى غير ذلك من الأمور التي من فعل بعضها لم يستحق الإمامة ووجوب الطاعة.
ومنها: أن عمر كسر سيف الزبير وضرب سعد بن عبادة، وذلك يقدح في إمامته.
ومنها: وهي من السائل أنه أشكل علينا ما ذكره الواحدي في تفسير قوله تعالى: {وإذ أسر النبي} الآية أنه قال لحفصة: "أبوك وأبو عائشة واليا أمر الناس بعدي فإياك أن تخبري أحدا" وقال: كره أن ينتشر ذلك في الناس فما سبب هذه الكراهة وهو مأمور بالتبليغ. وكذلك في الحديث الذي ذكر فيه الرؤيا أنه صلى الله عليه وسلم وزن هو وأبو بكر فرجح بأبي بكر، فوزن أبو بكر وعمر فرجح أبو بكر بعمر، ووزن
এর মধ্যে একটি হলো: সে দাবি করেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে আবু বকর ও উমরের দাফন তাঁর কোনো অনুমতি সাপেক্ষে হয়নি এবং তিনি তাঁর ঘরে কারও জন্য কবর খনন করার নির্দেশও দেননি। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা নবীর ঘরসমূহে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না তোমাদের অনুমতি দেওয়া হয়}।
এর মধ্যে আরও একটি হলো: সে দাবি করেছে যে, প্রত্যেক নবীর একজন ওয়াসি (স্থলাভিষিক্ত) থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তানদের ব্যাপারে এবং ঋণ পরিশোধের বিষয়ে অসিয়ত করার নির্দেশ দিতেন, তবে তাদের দাবি অনুযায়ী—তিনি কীভাবে নিজের ব্যাপারে কাউকে খেলাফতের অসিয়ত না করে ছেড়ে দিলেন? এবং উম্মতকে পথভ্রষ্টতার মধ্যে দিশেহারা অবস্থায় ফেলে গেলেন?
এর মধ্যে আরও একটি হলো: মুসলিমগণ আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘ওয়াসি’ হিসেবে অভিহিত করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তাই খেলাফতের ক্ষেত্রেও তাঁরই ওয়াসি হওয়া আবশ্যক ছিল।
এর মধ্যে একটি হলো: উসমান যখন শাসনভার গ্রহণ করেন, তখন তিনি মিম্বারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বসার স্থানে (একেবারে শীর্ষে) বসেন, অথচ আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু সেখান থেকে এক ধাপ এবং উমর দুই ধাপ নিচে নেমে বসেছিলেন। আর তিনি (উসমান) আবু যরকে নির্বাসিত করেছিলেন, মারওয়ানকে আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং তাকে ফাদাক দান করেছিলেন, যা ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সদকা। এছাড়া আরও এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলোর কোনো একটি করলে সে ইমামত এবং আনুগত্য পাওয়ার যোগ্য থাকে না।
এর মধ্যে একটি হলো: উমর যুবাইরের তলোয়ার ভেঙে ফেলেছিলেন এবং সা'দ ইবনে উবাদাকে প্রহার করেছিলেন, যা তাঁর ইমামতকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এর মধ্যে একটি—যা প্রশ্নকারীর পক্ষ থেকে এসেছে—যে আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যখন নবী গোপনে একটি কথা বলেছিলেন} এই আয়াতের তাফসিরে ওয়াহিদি যা উল্লেখ করেছেন তা আমাদের কাছে অস্পষ্ট মনে হয়েছে। তিনি (নবী) হাফসাকে বলেছিলেন: "তোমার পিতা এবং আয়েশার পিতা আমার পরে মানুষের শাসনভার গ্রহণ করবেন, খবরদার! এটি কাউকে বলো না।" তিনি বলেছেন যে, নবী এটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক তা অপছন্দ করেছিলেন; এখন এই অপছন্দের কারণ কী, অথচ তিনি তো সত্য প্রচারের জন্য আদিষ্ট ছিলেন? একইভাবে স্বপ্নের বর্ণনায় যে হাদিস রয়েছে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকরকে ওজন করা হলে তিনি আবু বকরের তুলনায় ভারী হলেন। অতঃপর আবু বকর ও উমরকে ওজন করা হলে আবু বকর উমরের তুলনায় ভারী হলেন, এবং ওজন করা হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৫০)
عمر بعثمان فوزن عمر بعثمان، ثم رفع الميزان فرأينا الكراهة في وجه النبي صلى الله عليه وسلم ما سبب هذه الكراهة. وكذلك حديث أنه صلى الله عليه وسلم قال للعباس: "إن الله فتح بي هذا الأمر وبذريتك يختمه". وقال العلماء: أراد بذلك بقاء الخلافة في أولاده إلى يوم القيامة، فأين خلافة بني العباس اليوم؟
ومنها: صح أن عليا زوج ابنته أم كلثوم التي أمها فاطمة من عمر رضي الله عنهم، فكيف صح هذا النكاح وغير الهاشمي ليس بكفء للهاشمي؟ وقال الشافعي رضي الله عنه: ليس للرجل أن يزوج ابنته الصغيرة من عبد ولا من غير كفؤ فلو فعل ذلك لم يصح النكاح لأنه خلاف الغبطة والمصلحة.
ومنها: ما روي أن فاطمة جاءت إلى أبي بكر رضي الله عنه وادعت أن النبي صلى الله عليه وسلم نحلها فدكا أو سهما من فدك، وأقامت عليا وأم أيمن يشهدان بذلك فلم يعطها شيئا وقامت مغضبة.
ومنها: أن داعي الإسماعيلية زعم أن الخلافة محصورة في آل النبي صلى الله عليه وسلم بما رواه البزار أنه صلى الله عليه وسلم قال: «إني مخلف فيكم ما إن تمسكتم به لن تضلوا كتاب الله وعترتي أهل بيتي، ولن يقترقا حتى يردا علي الحوض». فقرن العترة بكتاب الله والتمسك بكتاب الله واجب فكذلك العترة. انتهى كلامه.
فبينوا لنا ذلك بيانا شافيا متع الله بكم المسلمين.
ومن جملة شعره الذي ختم به احتجاجه على ما يدعيه من بدعته قوله:
وخذوا الجوابا مبينا ومبرهنا
… عني فإني عبد آل محمد
من فضلهم وعلومهم لي حجة
… كالشمس نورا واضحا للمهتدي
ولهم ولائي لا أريد سواهم
… ومتين حبلهم به وثقت يدي
উমরকে উসমানের সাথে ওজন করা হলো, অতঃপর দাড়ি পাল্লা উঠিয়ে নেওয়া হলো। এরপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারায় অপছন্দনীয়তার ছাপ দেখতে পেলাম। এই অপছন্দনীয়তার কারণ কী? অনুরূপভাবে সেই হাদিসটি যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্বাসকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার মাধ্যমে এই খিলাফতের বিষয়টি শুরু করেছেন এবং তোমার বংশধরদের মাধ্যমে তা সমাপ্ত করবেন।" ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: এর দ্বারা তিনি কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর সন্তানদের মধ্যে খিলাফত অবশিষ্ট থাকা বুঝিয়েছেন। তাহলে আজ বনু আব্বাসের খিলাফত কোথায়?
আর এর মধ্যে একটি হলো: এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে আলী তাঁর কন্যা উম্মে কুলসুমকে—যাঁর মা ফাতেমা—উমরের কাছে বিবাহ দিয়েছিলেন (তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন)। তাহলে এই বিবাহ কীভাবে সহীহ হলো, অথচ অ-হাশেমী ব্যক্তি হাশেমীর সমকক্ষ নয়? ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: কোনো ব্যক্তির জন্য তার নাবালিকা কন্যাকে কোনো দাসের সাথে কিংবা অসমকক্ষ কারো সাথে বিবাহ দেওয়া বৈধ নয়। যদি সে তা করে, তবে সেই বিবাহ সহীহ হবে না; কারণ এটি কল্যাণ ও স্বার্থের পরিপন্থী।
আর এর মধ্যে একটি হলো: যা বর্ণিত হয়েছে যে, ফাতেমা আবু বকরের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কাছে আসলেন এবং দাবি করলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে ফাদাক অথবা ফাদাকের একটি অংশ দান করেছেন। তিনি আলী ও উম্মে আয়মানকে এর সাক্ষী হিসেবে পেশ করলেন, কিন্তু তিনি তাঁকে কিছুই দিলেন না এবং তিনি রাগান্বিত হয়ে ফিরে গেলেন।
আর এর মধ্যে রয়েছে: ইসমাইলিয়া দাঈ দাবি করেছেন যে খিলাফত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশধরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এর সপক্ষে তিনি বাজ্জার বর্ণিত সেই হাদিসটি পেশ করেছেন যেখানে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না; আল্লাহর কিতাব এবং আমার বংশধর—আমার আহলে বাইত। আর এই দুটি হাউজে কাউসারে আমার কাছে আসার আগ পর্যন্ত কখনো একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।" এখানে আহলে বাইতকে আল্লাহর কিতাবের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। আর আল্লাহর কিতাব আঁকড়ে ধরা যেহেতু ওয়াজিব, তাই আহলে বাইতকেও আঁকড়ে ধরা ওয়াজিব। তাঁর কথা এখানেই শেষ।
সুতরাং আমাদের জন্য বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করুন, আল্লাহ মুসলিমদেরকে আপনাদের দ্বারা উপকৃত করুন।
তাঁর সেই কবিতাগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা দিয়ে তিনি তাঁর দাবিকৃত বিদআতের স্বপক্ষে যুক্তি শেষ করেছেন, তা হলো:
আমার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ও দলিলভিত্তিক উত্তর গ্রহণ করো
… কারণ আমি মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধরদের দাস
তাঁদের মর্যাদা ও ইলম আমার কাছে প্রমাণের মতো
… যা পথপ্রাপ্তদের জন্য সূর্যের আলোর মতো উজ্জ্বল ও স্পষ্ট
তাঁদের প্রতিই আমার আনুগত্য, আমি তাঁদের ছাড়া অন্য কাউকে চাই না
… এবং তাঁদের সুদৃঢ় রজ্জুকেই আমার হাত শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছে
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৫১)
قرنا كتاب الله جل جلاله
… لا افتراق إلى ورود المورد
سفن النجاة إذا طغى موج الهوى
… وأمده بدع كموج مزبد
وهم أولو الذكر المبين ومنهم
… أنوار صدق أصلها من أحمد
آل الرسول وحيدر من مثلهم
… في الخلق في شرف يجل وسؤدد
فهذه جملة أسئلته، وحاصل أبياته من جملة خمسة عشر بيتا، فالله الله، الغوث الغوث، الغارة الغارة. أيدكم الله، والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
فيسر الله الجواب بتصنيف يهدي إلى جادة الصواب، ويكشف عن تلك المشكلات النقاب، ويزيل عن الواقفين الوهم والشك والارتياب، ويبطل تلك الشبهة الزائغة، ويفضح تلك الدعاوى الفارغة أداء لفرض الكفاية وقياما بواجب النصح والرعاية، وسميته "الحسام المسلول على منتقصي أصحاب الرسول". وما توفيقي إلا بالله، عليه توكلت وإليه أنيب. وصلى الله على أشرف خلقه سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.
- بسم الله الرحمن الرحيم -
وله الحمد، الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، الذي من على المؤمنين، إذ بعث فيهم رسولا من أنفسهم يتلو عليهم آياته ويزكيهم ويعلمهم الكتاب والحكمة وإن كانوا من قبل لفي ضلال مبين، وأكرم عصابة السنة بحبله المتين، ونصرهم فكانوا هم الغالبين، وآتاهم الفهم في كتابه المستبين، وهداهم الصراط المستقيم، صراط الذين أنعم عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين، وجنبهم زيغ الضالين، وضلال الملحدين، ووفقهم للاقتداء بسيد المرسلين، وآله الأكرمين، وصحبه الهادين المهتدين،
আমরা আল্লাহর সুমহান কিতাবের সাথী হয়েছি
… হাউজে উপনীত হওয়া পর্যন্ত আমাদের মাঝে কোনো বিচ্ছেদ নেই।
যখন প্রবৃত্তির ঢেউ সীমা লঙ্ঘন করে তখন তারা হলো নাজাতের নৌকা
… আর যখন উত্তাল ঢেউয়ের ন্যায় বিদআত তাকে সাহায্য করে।
তারাই সুস্পষ্ট যিকিরের অধিকারী এবং তাদের মাঝেই রয়েছে
… সত্যের সেই নূরসমূহ যার মূল উৎস আহমদ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে।
রাসূলের পরিবারবর্গ এবং হায়দার (আলী), তাঁদের সমতুল্য আর কে আছে
… সৃষ্টিজগতে এমন মহান সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হিসেবে।
এগুলোই হলো তাঁর প্রশ্নগুলোর সমষ্টি, আর তাঁর পনেরটি পঙক্তির কবিতার সারমর্ম। সুতরাং আল্লাহর দোহাই, সাহায্য করুন, সাহায্য করুন, রক্ষা করুন, রক্ষা করুন। আল্লাহ আপনাদের শক্তিশালী করুন। আপনাদের ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
অতঃপর আল্লাহ এমন একটি রচনার মাধ্যমে উত্তর প্রদান সহজ করে দিয়েছেন যা সঠিক পথের দিশা দেয়, সেই সব জটিলতা থেকে আবরণ উন্মোচন করে, এবং সত্যানুসন্ধানীদের মন থেকে ভ্রম, সন্দেহ ও সংশয় দূর করে। এটি সেই পথভ্রষ্ট সংশয়কে বাতিল করে এবং সেই অন্তঃসারশূন্য দাবিগুলোকে জনসমক্ষে উন্মোচিত করে। এটি ফরজে কেফায়া পালন এবং নসীহত ও রক্ষণাবেক্ষণের আবশ্যিক দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আমি এর নামকরণ করেছি "রাসূলের সাহাবীদের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে কোষমুক্ত তলোয়ার"। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর।
- পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে -
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর প্রাপ্য, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক। যিনি মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের নিকট আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিল। আর তিনি সুন্নাহর জামাতকে তাঁর সুদৃঢ় রজ্জুর মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং তাদের সাহায্য করেছেন ফলে তারাই বিজয়ী হয়েছে। তিনি তাদেরকে তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবের সম্যক জ্ঞান দান করেছেন এবং তাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন—সেই সব লোকদের পথ যাদের ওপর তিনি অনুগ্রহ করেছেন; অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ ও নেককারগণ। তিনি তাদেরকে পথভ্রষ্টদের বিচ্যুতি এবং নাস্তিকদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করেছেন। আর তিনি তাদেরকে সকল রাসূলের নেতা, তাঁর সম্মানিত পরিবারবর্গ এবং হেদায়েত দানকারী ও হেদায়েতপ্রাপ্ত সাহাবীদের অনুসরণের তাওফিক দান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৫২)
صلى الله عليه وعليهم أجمعين.
أما بعد: فقد سمعت نداءك أيها الأخ المستنجد، وأجبت دعاءك أيها الصارخ المسترشد، سلك الله بنا وبك قصد الطريق، وأمدنا وإياك بالعصمة والتوفيق، بما يجب علي لك من حق الإخاء والوداد، ولله ورسوله من نصرة الدين والجهاد، ولأئمة المسلمين وعامتهم من النصح والإرشاد. فإنك ذكرت أنه قد انتشرت عندكم فتنة طار شررها، وشاعت لديكم محن عم ضررها، من شخص من رؤوساء الإسماعيلية الضلال، استحوذ على طائفة من العوام الجهال، لبس عليهم بدعته فاتبعوه، واستخفهم بشبهته فأطاعوه، استزلهم بما يورد من الأحاديث الواردة في فضل أمير المؤمنين علي كرم الله وجهه عن صحيح اعتقادهم، واستزلهم بزعمه موالاته ونصرته عن طريق رشادهم، حتى أدى بهم ذلك إلى القدح في خلافة الصديق ومن بعده من الخلفاء الراشدين، ثم سب سائر الصحابة ونسبتهم إلى الفسوق والمروق من الدين. وإنك تحب ما تستظهر به في دفع شبهته، وتستضيء به من السنة من ظلم بدعته، فاعلم أولا أن هذا دخان نار قد أوقد تقبل هذا الأوان، وغبار جدار قد وقع منذ دهور وأزمان، قد تبين فيها الرشد من الغي، واستبان فيها الصريح
আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁদের সকলের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর: হে সাহায্যপ্রার্থী ভাই! আমি তোমার ডাক শুনেছি এবং হে হেদায়েত অন্বেষী ফরিয়াদী! আমি তোমার আহবানে সাড়া দিয়েছি। আল্লাহ আমাদের ও তোমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং আমাদের ও তোমাকে পাপমুক্ত থাকার ক্ষমতা ও তাওফিক দান করুন। তোমার প্রতি ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার যে হক আমার ওপর ওয়াজিব, এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দ্বীনকে সাহায্য ও জিহাদের যে হক, আর মুসলিম উম্মাহর ইমাম ও সাধারণ জনগণের প্রতি নসিহত ও দিকনির্দেশনার যে হক—তারই দাবি হিসেবে আমি এটি করছি। তুমি উল্লেখ করেছ যে, তোমাদের সেখানে এমন এক ফিতনা ছড়িয়ে পড়েছে যার স্ফুলিঙ্গ চতুর্দিকে উড়ছে এবং এমন সব বিপদ ছেয়ে গেছে যার ক্ষতি সর্বব্যাপী হয়ে পড়েছে। এটি পথভ্রষ্ট ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের জনৈক নেতার পক্ষ থেকে সৃষ্টি হয়েছে, যে একদল মূর্খ সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। সে তার বিদআতকে তাদের সামনে সুশোভিত করেছে ফলে তারা তার অনুসরণ করছে এবং সে তার সংশয় দ্বারা তাদেরকে প্রলুব্ধ করেছে ফলে তারা তার আনুগত্য করছে। সে আমীরুল মুমিনীন আলী (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন)-এর ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলো উপস্থাপন করে তাদেরকে সঠিক আকিদা থেকে বিচ্যুত করেছে এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও সাহায্যের মিথ্যা দাবির মাধ্যমে তাদেরকে হেদায়েতের পথ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এমনকি পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা সিদ্দীক এবং তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের খিলাফত নিয়ে কটূক্তি করছে, অতঃপর অন্য সকল সাহাবীকে গালিগালাজ করছে এবং তাঁদেরকে পাপাচার ও দ্বীন থেকে বিচ্যুত হওয়ার অপবাদ দিচ্ছে। আর তুমি এমন কিছু চাচ্ছ যা দিয়ে তুমি তার সংশয়গুলো নিরসন করতে পারো এবং সুন্নাহর আলো দিয়ে তার বিদআতের অন্ধকার দূরীভূত করতে পারো। তবে প্রথমে জেনে রাখো যে, এটি এমন এক আগুনের ধোঁয়া যা বর্তমান সময়ের অনেক আগেই প্রজ্বলিত করা হয়েছিল এবং এমন এক দেয়ালের ধূলিকণা যা বহু যুগ আগেই ধসে পড়েছে। যার মাধ্যমে ইতিপূর্বেই সত্য পথ ভ্রষ্টতা থেকে পৃথক হয়ে গেছে এবং সুস্পষ্ট বিষয়াবলি প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
من اللي، وعرف فيها الحق من الباطل، والباطل من الهدى، فمن يهدي الله فهو المهتدي ومن يضلل فلن تجد له وليا مرشدا.
مقدمة فيما يتعلق بهذه المسألة من معتقد أهل السنة والجماعةوذلك في بيان خمسة أشياء:
وجوب الإمامة، ثم بيان شروطها، ثم بيان ما تثبت به، ثم بيان الإمام الحق، وترتيب الخلفاء في الفضل، ثم بيان ما يجب لهم ولسائر الصحابة من التعظيم.
وجوب الإمامة
الأول: قال أهل الحق: يجب على الأمة نصب إمام متبع في كل عصر وأوان، لأن به ينصر الدين، ويتمكن من قمع المفسدين، ويؤخذ ما يجب أخذه، ويدفع ما يجب دفعه {ولولا دفع الله الناسب عضهم ببعض لفسدت الأرض ولكن الله ذو فضل على العالمين}. والدليل على ذلك إجماع الصحابة رضي الله عنهم بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم على أنه لا يجوز خلو الوقت عن من يرجعون إليه بعده في أمر الدين والدنيا مع أنهم أعلم الناس وأورعهم وأتقاهم. بل لما خطبهم أبو بكر وقال: ألا إن محمدا قد مات، وإنه لا بد لهذا الدين ممن يقوم به؛ بادر الكل إلى قبول قوله، وتركوا أهم الأشياء وهو دفن رسول الله صلى الله عليه وسلم. ثم لم يزل المسلمون على ذلك.
... থেকে, এবং যার মাধ্যমে সত্যকে মিথ্যা থেকে এবং বাতিলকে হেদায়েত থেকে চেনা যায়। সুতরাং আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন সে-ই সঠিক পথপ্রাপ্ত, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তার জন্য আপনি কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবেন না।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা অনুযায়ী এই মাসআলা সংক্রান্ত ভূমিকাআর তা পাঁচটি বিষয় বর্ণনার ক্ষেত্রে:
ইমামতের আবশ্যকতা, অতঃপর এর শর্তাবলির বর্ণনা, অতঃপর তা যা দ্বারা সাব্যস্ত হয় তার বর্ণনা, অতঃপর সত্য ইমামের বর্ণনা এবং মর্যাদার দিক থেকে খলিফাদের ক্রমবিন্যাস, অতঃপর তাঁদের এবং অন্যান্য সকল সাহাবায়ে কিরামের প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করা ওয়াজিব তার বর্ণনা।
ইমামতের আবশ্যকতা
প্রথমত: সত্যের অনুসারীগণ বলেছেন: প্রত্যেক যুগে এবং সময়ে একজন অনুসরণযোগ্য ইমাম নিযুক্ত করা উম্মতের ওপর ওয়াজিব। কারণ তাঁর মাধ্যমেই দ্বীনকে সাহায্য করা হয়, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের দমন করা সম্ভব হয়, যা গ্রহণ করা আবশ্যক তা গ্রহণ করা হয় এবং যা প্রতিহত করা আবশ্যক তা প্রতিহত করা হয়। {আর আল্লাহ যদি মানুষের এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেত; কিন্তু আল্লাহ বিশ্বজগতের ওপর পরম করুণাময়।} আর এর দলিল হলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর সাহাবায়ে কিরাম (রাদিআল্লাহু আনহুম)-এর ঐকমত্য যে, দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে তাঁর পরে এমন একজন ব্যক্তি ছাড়া সময় অতিবাহিত হওয়া বৈধ নয় যার দিকে সকলে প্রত্যাবর্তন করবে; যদিও তাঁরা ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, সংযমী ও পরহেজগার। বরং আবু বকর (রা.) যখন তাঁদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: জেনে রেখো, মুহাম্মদ (সা.) ইন্তেকাল করেছেন, আর এই দ্বীনের জন্য এমন একজন থাকা অপরিহার্য যিনি এর দায়িত্ব পালন করবেন; তখন সকলেই তাঁর কথা মেনে নিতে অগ্রণী হলেন এবং তাঁরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ অর্থাৎ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাফনকার্যও (সাময়িকভাবে) স্থগিত রাখলেন। অতঃপর মুসলমানগণ সর্বদা এর ওপরই অটল রয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
هذا مع أنا نعلم أن مصالح العباد من أمر المعاش والمعاد لا تتم إلا بإمام يرجعون إليه، وإلا ربما أدى ذلك إلى هلاكهم جميعا، والتجربة تشهد لذلك مما يثور من الفتن ويهيج من المحن عند موت الولاة إلى استقلال وال آخر، بحيث لو تمادى ذلك لتعطلت المعايش وأدى إلى رفع الدين وهلاك المسلمين.
شروط الإمامةالثاني: يجب أن يكون الإمام (ذكرا) لأن النساء ناقصات عقل ودين، (بالغا) لقصور عقل الصبي واحتياجه إلى من يكفله، فضلا عن أن يكون كافلا للأمة كلها، (عاقلا) لما ذكر في الصبي، مسلما لقوله تعالى {ولن يجعل الله للكافرين على المسلمين سبيلا}، (عدلا) لئلا يجور، (حرا) لئلا تشغله خدمة السيد، (قرشيا) لقوله عليه الصلاة والسلام: «الأئمة من قريش»، ثم إن الصحابة أجمعوا على العمل بمقتضاه، (مجتهدا) في الأصول والفروع ليقوم بأمر الدين، (ذا رأي) ليقوم بأمر الملك، (شجاعا) ليقوى على الذب عما يجب عليه القيام بحفظه. فهذه عشر شرائط.
এ কথা অনস্বীকার্য যে, আমরা জানি যে ইহকাল ও পরকাল সংক্রান্ত বান্দাদের কল্যাণসমূহ একজন ইমাম ব্যতীত সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়, যার দিকে তারা প্রত্যাবর্তন করবে। অন্যথায় এটি তাদের সকলের ধ্বংসের কারণ হতে পারে। শাসকদের মৃত্যুর পর থেকে অন্য শাসকের স্থলাভিষিক্ত হওয়া পর্যন্ত যে সকল ফিতনা ও বিপদাপদ সৃষ্টি হয়, তা এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয়। যদি এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হতো, তবে জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ত এবং তা দ্বীন বিলুপ্ত হওয়া ও মুসলিমদের ধ্বংসের কারণ হতো।
ইমামতের শর্তাবলিদ্বিতীয়ত: ইমামকে অবশ্যই হতে হবে (পুরুষ), কারণ নারীরা বুদ্ধি ও দ্বীনের ক্ষেত্রে অপূর্ণাঙ্গ; (প্রাপ্তবয়স্ক), কেননা শিশুর বুদ্ধিবৃত্তি অপূর্ণ এবং সে নিজেই অন্যের তত্ত্বাবধানের মুখাপেক্ষী, এমতাবস্থায় তার পক্ষে পুরো উম্মাহর তত্ত্বাবধান করা তো সুদূরপরাহত; (সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন), শিশুর ক্ষেত্রে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেই একই কারণে; মুসলিম, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আর আল্লাহ কখনোই মুমিনদের বিরুদ্ধে কাফিরদের জন্য কোনো পথ রাখবেন না"; (ন্যায়পরায়ণ), যাতে সে জুলুম না করে; (স্বাধীন), যাতে তার মুনিবের খিদমত তাকে ব্যস্ত না রাখে; (কুরাইশ বংশোদ্ভূত), নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর কারণে: "ইমামগণ কুরাইশ থেকে হবে", অতঃপর সাহাবীগণ এর ওপর আমল করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন; (মুজতাহিদ), উসুল ও ফুরু’র (মৌলিক ও শাখা বিষয়) ক্ষেত্রে যাতে তিনি দ্বীনি বিষয়াদি পরিচালনা করতে পারেন; (সুচিন্তিত মতের অধিকারী), যাতে তিনি রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি পরিচালনা করতে পারেন; (সাহসী), যাতে তিনি যে বিষয়গুলো রক্ষা করতে আদিষ্ট তা রক্ষার সামর্থ্য রাখেন। এই হলো দশটি শর্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
ولا يشترط أن يكون هاشميا خلافا للشيعة للإجماع على صحة خلافة أبي بكر وعمر وعثمان، ولا يكون معصوما خلافا للإمامية، ولا عالما بجميع المسائل المتعلقة بالدين.
ما تثبت به الإمامةالثالث: تثبت الإمامة إما بالنص من الإمام السابق بالإجماع أو بأن يبايعه أهل الحل والعقد، خلافا للشيعة. ولا يشترط حضور جميع أهل الحل والعقد لأن الصحابة رضي الله عنهم مع صلابتهم في الدين اكتفوا بمجرد عقد بيعة عمر لأبي بكر، وعقد عبد الرحمن بن عوف لعثمان، فبايعوهما، ولم يتوقفوا في صحة إمامتهما إلى اجتماع أهل المدينة فضلا عن اجتماع أهل العصر.
الإمام الحقالرابع: الإمام الحق بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم أبو بكر ثم عمر ثم عثمان ثم علي رضي الله عنهم لما سبق أن طريق ثبوت الإمامة إما بالنص وإما بعقد البيعة. وقد انعقد الإجماع على أنه صلى الله عليه وسلم لم ينص لأمته على استخلاف أحد معين، وعلى انعقاد البيعة لأبي بكر، ثم نص أبو بكر على خلافة عمر، ثم عقدها المسلمون لعثمان، ثم لعلي رضي الله عنهم.
وأما ترتيبهم في الفضل فأجمع أهل السنة على ترتيبهم فيه على ترتيبهم
শিয়াদের মতের বিপরীতে হাশেমী হওয়া শর্ত নয়, কারণ আবু বকর, উমর এবং উসমানের খিলাফতের বৈধতার ওপর ইজমা (ঐক্যমত) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইমামিয়াদের মতের বিপরীতে, তিনি নিষ্পাপ হওয়াও শর্ত নয়, এবং দ্বীন সংক্রান্ত সকল বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞানী হওয়াও আবশ্যক নয়।
ইমামত যে সকল উপায়ে সাব্যস্ত হয়তৃতীয়: ইজমা অনুযায়ী ইমামত সাব্যস্ত হয় হয়তো পূর্ববর্তী ইমামের সুস্পষ্ট ঘোষণা দ্বারা, অথবা আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ (সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ) তাঁকে বায়আত প্রদানের মাধ্যমে, যা শিয়াদের মতের পরিপন্থী। আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ-এর সকলের উপস্থিতি শর্ত নয়। কারণ সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), দ্বীনের ব্যাপারে তাঁদের দৃঢ়তা থাকা সত্ত্বেও, কেবল উমরের পক্ষ হতে আবু বকরের বায়আত গ্রহণ এবং আব্দুর রহমান ইবনে আউফের পক্ষ হতে উসমানের বায়আত গ্রহণকেই যথেষ্ট মনে করেছিলেন এবং তাঁদেরকে বায়আত প্রদান করেছিলেন। তাঁদের ইমামতের বৈধতার জন্য তাঁরা মদিনাবাসীদের একত্রিত হওয়া, এমনকি সমসাময়িক সকলের একত্রিত হওয়ার অপেক্ষাও করেননি।
ন্যায়নিষ্ঠ ইমামচতুর্থ: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর ন্যায়নিষ্ঠ ইমাম হলেন আবু বকর, তারপর উমর, তারপর উসমান এবং তারপর আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)। কারণ ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমামত সাব্যস্ত হওয়ার পথ হলো হয় সুস্পষ্ট ঘোষণা অথবা বায়আত সম্পাদন। এই বিষয়ে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে স্থলাভিষিক্ত করার সুস্পষ্ট ঘোষণা দেননি। বরং আবু বকরের বায়আতের ওপর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরপর আবু বকর উমরের খিলাফতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রদান করেন, এরপর মুসলিমগণ উসমানের জন্য এবং তারপর আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) জন্য বায়আত সম্পাদন করেন।
আর তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের ক্রমের ব্যাপারে আহলে সুন্নাত তাঁদের খিলাফতের ক্রম অনুযায়ীই শ্রেষ্ঠত্বের ক্রমের ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
في الخلافة ما خلا طائفة من السلف فإنهم توقفوا في التفضيل بين علي وعثمان، ومنهم من فضل عليا عليه، ونقل ابن عبد البر أن إجماع الخلف انعقد على ما عليه جمهور السلف من الترتيب. هذا مع الاتفاق على أن عثمان إمام حق لأن من استكمل شروط الإمامة صحت إمامته وإن كان مفضولا، بل قد تجب تولية المفضول لكونه أصلح أو لكون نصب الأفضل مثيرا فتنة، إذ المعتبر في ولاية كل أمر معرفة مصالحه ومفاسده، ورب مفضول في علمه وعمله هو بالإمامة أعرف وبالرعية أشفق وأرأف.
يجب تعظيم كافة الصحابةالخامس: يجب تعظيم كافة الصحابة رضي الله عنهم، والكف عن القدح في منصبهم الجليل، وتطلب المحامل الحسنة والتأويلات اللائقة بقدرهم فيما ينقل عنهم بعد العلم بصحة ذلك عنهم، وعدم المسارعة إلى ما ينقله عنهم المؤرخون والأخباريون وأهل البدع المضلة المبطلون. وإنما المعتمد على ما يورده العلماء الراسخون في علم الحديث والسير بالأسانيد المعتمدة. فإذا صح ذلك وجب حمله على أحسن المحامل لأن تقريره يؤدي إلى مناقضة كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم؛ والخلف في قولهما محال، ثم يؤدي إلى هدم أركان الشرع من أصله والإزراء بشارعه وناقله وأهله، لأن الصحابة الذين نقلوا إلينا الشرع والتوحيد والنبوة والرسالة والإسلام والإيمان والصلاة والزكاة والصيام والحج والحلال والحرام إلى غير ذلك، ومتى تطرقت الأوهام إلى القدح فيهم انخرمت عدالتهم وردت روايتهم وشهادتهم، وصار هذا الدين الذي هو خير الأديان شر الأديان لكون حماله فسقة، وكان القرآن مفترى، وكان قوله فيهم {أولئك
খিলাফতের বিষয়ে সালাফদের একদল ব্যতীত অন্য সবাই একমত ছিলেন; কারণ তাঁরা আলী এবং উসমানের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বিরত থেকেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আলীকে উসমানের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। ইবনে আবদিল বার বর্ণনা করেছেন যে, পরবর্তী আলেমদের ঐক্যমত্য বা ইজমা সালাফদের সংখ্যাগরিষ্ঠদের সেই ক্রমধারার ওপরই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর পাশাপাশি এ বিষয়েও ঐকমত্য রয়েছে যে, উসমান একজন ন্যায়সংগত ইমাম ছিলেন। কেননা, যে ব্যক্তি ইমামতের শর্তাবলি পূর্ণ করে, তার ইমামত বৈধ হয়; যদিও সে অন্য কোনো শ্রেষ্ঠতর ব্যক্তির উপস্থিতিতে তুলনামূলক কম মর্যাদাবান হয়। এমনকি কখনও কখনও তুলনামূলক কম মর্যাদাবান ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে, যদি সে অধিক উপযুক্ত হয় অথবা অধিক মর্যাদাবান ব্যক্তিকে নিযুক্ত করা ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ প্রতিটি বিষয় পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য হলো এর কল্যাণ ও অকল্যাণ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা। অনেক সময় এমন ব্যক্তিও দেখা যায় যে ইলম ও আমলের দিক দিয়ে তুলনামূলক কম মর্যাদাবান হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে অধিক পারদর্শী এবং প্রজাদের প্রতি অধিক স্নেহশীল ও দয়ালু।
সমস্ত সাহাবীকে সম্মান করা ওয়াজিবপঞ্চম: সমস্ত সাহাবী (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন)-কে সম্মান করা ওয়াজিব এবং তাঁদের মহান মর্যাদার হানি ঘটে এমন সমালোচনা থেকে বিরত থাকা এবং তাঁদের সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে—সেগুলোর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হওয়ার পর—সেগুলোর উত্তম ব্যাখ্যা ও তাঁদের উচ্চ মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ অন্বেষণ করা আবশ্যক। ইতিহাসবিদ, সংবাদ-সংগ্রাহক এবং পথভ্রষ্ট ও বাতিলপন্থী বিদআতিরা তাঁদের সম্পর্কে যা কিছু বর্ণনা করে, তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা যাবে না। বরং কেবল সেই বর্ণনার ওপরই নির্ভর করা হবে যা ইলমে হাদিস এবং সীরাত শাস্ত্রে সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী আলেমগণ নির্ভরযোগ্য সনদের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন। যখন কোনো বিষয় বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হবে, তখন তাকে সর্বোত্তম পন্থায় ব্যাখ্যা করা ওয়াজিব। কারণ সাহাবীদের সমালোচনা গ্রহণ করা আল্লাহ তাআলার কিতাব এবং তাঁর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সুন্নাহর বিরোধিতার দিকে ধাবিত করে; অথচ এ দুয়ের বাণীর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য থাকা অসম্ভব। তদুপরি, এটি শরীয়তের রুকনসমূহকে এর মূল থেকে ধ্বংস করার এবং শরীয়ত প্রদাতা, এর বর্ণনাকারী ও এর অনুসারীদের অবমাননার দিকে নিয়ে যায়। কেননা সাহাবীগণই আমাদের কাছে শরীয়ত, তাওহীদ, নবুওয়াত, রিসালাত, ইসলাম, ঈমান, সালাত, যাকাত, সিয়াম, হজ, হালাল ও হারামসহ সবকিছু পৌঁছে দিয়েছেন। যখনই তাঁদের সমালোচনা করার মাধ্যমে কোনো সংশয় প্রবেশ করবে, তখনই তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা ক্ষুণ্ণ হবে এবং তাঁদের বর্ণনা ও সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যাত হবে। ফলে এই দ্বীন—যা সকল দ্বীনের শ্রেষ্ঠ—তা নিকৃষ্টতম দ্বীনে পরিণত হবে, কারণ এর বাহকগণ পাপাচারী হিসেবে সাব্যস্ত হবেন। এমতাবস্থায় কুরআনও অলীক সাব্যস্ত হবে এবং তাঁদের সম্পর্কে আল্লাহর বাণী—"তারাই সেই সব লোক যারা..."
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
هم الصادقون} و {التائبون العابدون} {رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه} إلى غير ذلك: زورا وبهتانا، وكان الرسول متقولا على الله. وقوله: "أصحابي كالنجوم"، (1) و «خيركم قرني»، و "يحمل هذا العلم" إلى غير ذلك إفكا وباطلا، وكان الخير كله والصدق والنزاهة مع أعداء الله القادحين فيهم الذين حدثوا بعدهم وأحدثوا بدعهم لا مع الله ورسوله وكتابه، وصار جميع الأنبياء والمرسلين المبشرين برسالة محمد صلى الله عليه وسلم كذبة، والكتب المنزلة عليهم من عند الله مختلقة، وصار جميع العلماء والأحبار والعارفين بالله الأخيار من أول الدهر إلى آخر الأعصار على باطل وضلال لاتفاقهم على تصديق الصحابة فيما نقلوه وعملهم بعلمهم الذي عنهم حملوه إلى ما لا يحصر من الكفر والضلال، تعالى الله عما يقول الظالمون علوا كبيرا.
وهذا في الحقيقة هو المقصود لهذه الفرقة الضال التي ظاهر مذهبها الرفض، وباطنها الكفر المحض. وإلا فكيف يخطر بقلب من يدعي الإيمان الإزراء بسادة المؤمنين وأركان الدين، أو يتطرق إليه القدح فيهم أخذا بقول {من اتخذ إلهه هواه وأضله الله على علم وختم على سمعه وقلبه وجعل على بصره غشاوة}، وعدولا عن ثناء الله عليهم في مواضع عديدة في كتاب عزيز {لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه تنزيل من حكيم حميد}.
فأين قول القادح فيهم المنتقص لهم المزري بهم من قول الله تعالى الذي لا يبدل القول لديه
--------------------------------------------
{তারা সত্যবাদী} এবং {তওবাকারী, ইবাদতকারী}, {এমন সব ব্যক্তি যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে} ইত্যাদি আয়াতসমূহ (তাদের দাবি অনুযায়ী) মিথ্যা ও অপবাদে পরিণত হয়; আর রাসূল আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপকারী সাব্যস্ত হন। এছাড়া তাঁর বাণী: "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য", (১) এবং "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ", এবং "এই ইলম বহন করবে..." ইত্যাদি কথাগুলো মিথ্যা ও অসার প্রতিপন্ন হয়। আর সমস্ত কল্যাণ, সত্যবাদিতা ও পবিত্রতা সাব্যস্ত হয় আল্লাহর সেই শত্রুদের জন্য যারা সাহাবীগণের সমালোচনা করে, যারা তাদের পরে আবির্ভূত হয়েছে এবং তাদের বিদআতসমূহ উদ্ভাবন করেছে—আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর কিতাবের পক্ষে নয়। এর ফলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের সুসংবাদ দানকারী সকল নবী ও রাসূল মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হন এবং তাঁদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত কিতাবসমূহ বানোয়াট প্রতিপন্ন হয়। এছাড়া সৃষ্টির শুরু থেকে শেষকাল পর্যন্ত সমস্ত আলিম, ধর্মতত্ত্ববিদ এবং আল্লাহকে চেনা নেককার ব্যক্তিগণ বাতিল ও গোমরাহীর ওপর অবস্থানকারী সাব্যস্ত হন; কারণ সাহাবীগণ যা বর্ণনা করেছেন তা সত্য বলে মেনে নেওয়ার ব্যাপারে এবং তাঁদের থেকে প্রাপ্ত ইলম অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে তাঁরা সকলেই একমত। এটি এমন এক কুফর ও গোমরাহী যার কোনো সীমা নেই। জালিমরা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি উচ্চ ও মহান।
প্রকৃতপক্ষে এটিই হলো সেই পথভ্রষ্ট দলের মূল উদ্দেশ্য, যাদের মতবাদের বহিঃপ্রকাশ হলো রাফয (সাহাবী বিদ্বেষ) আর অভ্যন্তরীণ রূপ হলো নিছক কুফর। অন্যথায়, ঈমানের দাবিদার কোনো ব্যক্তির হৃদয়ে মুমিনদের সরদার ও দ্বীনের স্তম্ভস্বরূপ ব্যক্তিদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের চিন্তা কীভাবে আসতে পারে? অথবা তাদের প্রতি কুৎসা রটনার পথ কীভাবে তৈরি হতে পারে—সেই ব্যক্তির কথা গ্রহণ করার মাধ্যমে {যে তার খেয়ালখুশিকে নিজের ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে, এবং আল্লাহ তাকে জেনে-বুঝে পথভ্রষ্ট করেছেন এবং তার কান ও হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন আর তার চোখের ওপর রেখেছেন পর্দা}? অথচ তারা বিমুখতা প্রদর্শন করছে সেই মহিমান্বিত কিতাবে বর্ণিত অসংখ্য স্থানে তাদের প্রতি আল্লাহর প্রশংসাবাণী থেকে, {যাতে কোনো মিথ্যা প্রবেশ করতে পারে না, না তার সামনে থেকে আর না তার পেছন থেকে; এটি প্রজ্ঞাময়, চির প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ}।
সাহাবীগণের সমালোচনাকারী, তাদের দোষ অন্বেষণকারী ও অবজ্ঞাকারীদের কথা মহান আল্লাহর বাণীর তুলনায় কোথায় টিকতে পারে, যাঁর কাছে কথা পরিবর্তিত হয় না?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
ولا يتصور أن ينعكس مدحه ذما ولا رضاه سخطا، {لكن الرسول والذين آمنوا معه جاهدوا بأموالهم وأنفسهم وأولئك لهم الخيرات وأولئك هم المفلحون. أعد الله لهم جنات تجري من تحتها الأنهار خالدين فيها ذلك الفوز العظيم}
فهذه الخيرات والفلاح والجنات المعدة لمن هي؟
{للفقراء المهاجرين الذين أخرجوا من ديارهم وأموالهم يبتغون فضلا من الله ورضوانا} الآيات.
{والسابقون الأولون من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان رضي الله عنهم ورضوا عنه}.
وهذا الرضا الأبدي من المراد به؟
{رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه فمنهم من قضى نحبه ومنهم من ينتظر وما بدلوا تبديلا}.
{إن الله اشترى من المؤمنين أنفسهم وأموالهم بأن لهم الجنة}.
وهذه البيعة الرابحة من تولى عقدها؟
{محمد رسول الله والذين معه أشداء على الكفار رحماء بينهم تراهم ركعا سجدا يبتغون فضلا من الله ورضوانا سيماهم في وجوههم من أثر السجود}.
وهذه الأوصاف الجميلة من هو الموصوف بها؟
এটা কল্পনাও করা যায় না যে, তাঁর প্রশংসা নিন্দায় অথবা তাঁর সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টিতে রূপান্তরিত হবে; {কিন্তু রাসুল এবং যারা তাঁর সাথে ঈমান এনেছে, তারা তাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করেছে; আর তাদের জন্যই রয়েছে কল্যাণসমূহ এবং তারাই সফলকাম। আল্লাহ তাদের জন্য এমন জান্নাতসমূহ প্রস্তুত করে রেখেছেন যার পাদদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে; এটাই মহাসাফল্য।}
অতএব এই কল্যাণসমূহ, সাফল্য এবং প্রস্তুতকৃত জান্নাতসমূহ কাদের জন্য?
{সেই অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও ধন-সম্পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে।} আয়াতসমূহ।
{আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।}
আর এই চিরন্তন সন্তুষ্টির দ্বারা কাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে?
{মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের প্রতিশ্রুতি সত্যে পরিণত করেছে; তাদের কেউ কেউ নিজের অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে, আর তারা তাদের প্রতিশ্রুতিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি।}
{নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জীবন ও ধন-সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন।}
আর এই লাভজনক চুক্তির দায়ভার কে গ্রহণ করেছেন?
{মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল এবং যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পর দয়াশীল; আপনি তাদের রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় দেখবেন, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন রয়েছে।}
আর এই চমৎকার গুণাবলীতে কে গুণান্বিত?
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
{الذين آمنوا وهاجروا وجاهدوا في سبيل الله بأموالهم وأنفسهم أعظم درجة عند الله}. {فأنزل الله سكينته على رسوله وعلى المؤمنين وألزمهم كلمة التقوى وكانوا أحق بها وأهلها وكان الله بكل شيء عليما}.
يا عجبا كيف تكون العصاة الفسقة بزعم الدعاة المرقة أحق بكلمة التقوى وأهلها، هلا كانوا هم أحق بها وأهلها لزعمهم أنهم على الحق لا الصحابة وأتباعهم. أغلطٌ صدر من البارئ جل وعلا حتى أعطى القوس غير باريها، أم سهو حصل ممن لا يضل ولا ينسى ويعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور حتى يقول فيهم ذلك مع علمه بما سيكون منهم من التبديل والتحريف! كلا والله بل كان الله بكل شيء عليما، وكانوا هم أحق بها وأهلها أزلا وأبدا، وعلم الله لا يتبدل، والله أعلم حيث يجعل رسالاته.
ثم كيف أطنب في مدحهم في كتابه وعلى لسان رسوله وهو يعلم ما يصدر منهم من التعاون على الظلم والعدوان وقول الزور والبهتان قبل أن يدفنوا نبيهم ويجهزوه، أغش منه لرسوله المحبوب مع ما له عنده من المكانة، أم عجزت قدرته النافذة عن أن يختار لرسوله من يصحبه بالصدق ويؤدي شرعه بالأمانة، أم أنزل كتابه وأرسل رسوله للإضلال لا للإرشاد حتى مدح فيه من هو مذموم عنده من العباد.
{যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ও প্রাণ দিয়ে জিহাদ করেছে, আল্লাহর নিকট তারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ।} {অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূলের ওপর এবং মুমিনদের ওপর তাঁর প্রশান্তি নাজিল করলেন এবং তাঁদের জন্য তাকওয়ার বাণী অপরিহার্য করে দিলেন; আর তাঁরাই ছিল এর অধিক হকদার ও যোগ্য। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।}
আশ্চর্য! সেই ধর্মত্যাগী দাওয়াতদানকারীদের দাবি অনুযায়ী পাপাচারী ফাসেকরা কীভাবে তাকওয়ার বাণীর অধিক হকদার ও এর যোগ্য হতে পারে? তবে কি তারাই এর অধিক হকদার ও যোগ্য ছিল—তাদের এই দাবি অনুযায়ী যে তারাই সত্যের ওপর আছে, সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের অনুসারীরা নয়? স্রষ্টা (যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ) তাঁর পক্ষ থেকে কি কোনো ভুল প্রকাশ পেয়েছে যে তিনি অযোগ্যকে মর্যাদা দিয়েছেন? নাকি এমন সত্তার পক্ষ থেকে কোনো বিস্মৃতি ঘটেছে যিনি পথভ্রষ্ট হন না এবং বিস্মৃতও হন না, এবং যিনি চোখের খিয়ানত ও অন্তরের গোপন রহস্য সম্পর্কে অবগত—যে তিনি তাঁদের সম্পর্কে এমন কথা বলবেন অথচ তিনি জানেন যে পরবর্তীতে তাঁদের মাধ্যমে দ্বীন পরিবর্তন ও বিকৃতির শিকার হবে! কখনোই নয়, আল্লাহর কসম! বরং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ ছিলেন। তাঁরাই অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত এর অধিক হকদার ও যোগ্য ছিলেন। আল্লাহর ইলম পরিবর্তিত হয় না। আল্লাহ ভালো জানেন কোথায় তাঁর রিসালাত অর্পণ করতে হবে।
অতঃপর তিনি কীভাবে তাঁর কিতাবে এবং রাসূলের জবানে তাঁদের প্রশংসায় এত বিস্তৃতি ঘটালেন, অথচ তিনি জানতেন যে তাঁর নবীকে দাফন ও কাফন সম্পন্ন করার পূর্বেই নাকি তাঁদের থেকে জুলুম-অবিচার ও মিথ্যা অপবাদের ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করার মতো বিষয় প্রকাশ পাবে? এটা কি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রিয় রাসূলের প্রতি ধোঁকা ছিল—অথচ আল্লাহর কাছে রাসূলের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে? নাকি আল্লাহর অমোঘ ক্ষমতা রাসূলের জন্য এমন সাথী নির্বাচন করতে অক্ষম ছিল যারা সততার সাথে তাঁর সাহচর্য দান করবে এবং আমানতদারিতার সাথে তাঁর শরীয়ত পৌঁছে দেবে? নাকি তিনি তাঁর কিতাব নাজিল করেছেন এবং রাসূল পাঠিয়েছেন পথভ্রষ্ট করার জন্য, হেদায়েতের জন্য নয়—যে কারণে তিনি এমন বান্দাদের প্রশংসা করেছেন যারা তাঁর নিকট নিন্দিত?
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৬০)
فاعتبروا يا أولي القلوب والأبصار، {وأن استغفروا ربكم ثم توبوا إليه يمتعكم متاعا حسنا إلى أجل مسمى ويؤت كل ذي فضل فضله وإن تولوا فإني أخاف عليكم عذاب يوم كبير. إلى الله مرجعكم وهو على كل شيء قدير}
فصلوما أورده الخصم من تعداد مناقب لسيدنا أمير المؤمنين علي كرم الله وجهه ففضل علي لا ينكر، وعلو منصبه وجلالة قدره أشهر، فوق ما ذكر بأضعاف كثيرة وأكثر، ولكن للصديق أيضا من الفضل ما هو أكبر، ونصيبه من عطاء الله أتم وأوفر، {كلا نمد هؤلاء وهؤلاء من عطاء ربك وما كان عطاء ربك محظورا. انظر كيف فضلنا بعضهم على بعض وللآخرة أكبر درجات وأكبر تفضيلا}. وكما أن الرسل فضل الله بعضهم على بعض ورفع بعضهم درجات، فكذلك أتباعهم وأتباع أتباعهم هم درجات عند الله، والله بصير بما يعملون.
ثم إن كلامنا هذا إنما هو تبصرة وذكرى لكل عبد منيب، وأما الخصم فإنه يلزمه على مذهبه الفاسد إبطال ما احتج به، ورد ما أورده، لأن هذه الأحاديث كلها وغيرها إنما رواها الصحابة الذين أبطل عدالتهم ورد شهادتهم، ونقلها عنهم أتباعهم القائلون بمعتقدهم. ورد شهادتهم على مذهبه أولى. فكيف احتج بروايتهم فيما وافق رأيه وهواه، وردها فيما هو أهم من ذلك من نقل أصل الدين وما سواه. وأيما أعظم: اعتقاد التفضيل، أم اعتقاد هدم قواعد الشرع والتعطيل.
হে অন্তর ও দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ, তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো। “আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তারপর তাঁর দিকে ফিরে আসো (তাওবাহ করো), তিনি তোমাদেরকে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উত্তম জীবনোপকরণ দান করবেন এবং প্রত্যেক গুণী ব্যক্তিকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা দান করবেন। আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে নিশ্চয় আমি তোমাদের ওপর এক মহা দিবসের শাস্তির ভয় করছি। আল্লাহর দিকেই তোমাদের ফিরে যাওয়া এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
পরিচ্ছেদপ্রতিপক্ষ আমাদের নেতা আমীরুল মুমিনীন আলী (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে মহিমান্বিত করুন)-এর যে সকল গুণাবলি উল্লেখ করেছে, আলীর সেই শ্রেষ্ঠত্ব অনস্বীকার্য। তাঁর উচ্চ মর্যাদা ও সুমহান সম্মান যা বর্ণনা করা হয়েছে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ও প্রসিদ্ধ। কিন্তু সিদ্দীক (আবু বকর)-এর জন্যও এমন শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে যা আরও বড়, এবং আল্লাহর দান থেকে তাঁর অংশ আরও পূর্ণাঙ্গ ও অধিক। “আমি এদেরকে এবং ওদেরকে—সবাইকে আপনার রবের দান থেকে সাহায্য করি এবং আপনার রবের দান কারো জন্য নিষিদ্ধ নয়। লক্ষ্য করুন, আমি তাদের একে অপরের ওপর কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। আর পরকাল তো মর্যাদায় অধিক বড় এবং শ্রেষ্ঠত্বেও অধিক বড়।” আর যেমনভাবে আল্লাহ রাসূলগণের মধ্যে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তাদের কাউকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন, তেমনিভাবে তাঁদের অনুসারী এবং তাঁদের অনুসারীদের অনুসারীগণও আল্লাহর কাছে বিভিন্ন স্তরের অধিকারী। আর তারা যা করে আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।
অতঃপর, আমাদের এই কথা তো কেবল প্রত্যেক আল্লাহ অভিমুখী বান্দার জন্য উপদেশ ও শিক্ষা। আর প্রতিপক্ষের ব্যাপারে কথা হলো—তার নিজের ভ্রান্ত মতবাদ অনুযায়ী তাকে সেসব কিছু বাতিল করতে হবে যা দিয়ে সে দলিল পেশ করেছে এবং যা সে উপস্থাপন করেছে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। কারণ, এই সকল হাদিস এবং অন্যান্য হাদিস তো সেই সাহাবীগণই বর্ণনা করেছেন যাদের ন্যায়পরায়ণতাকে সে বাতিল করে দিয়েছে এবং যাদের সাক্ষ্যকে সে প্রত্যাখ্যান করেছে। আর তাঁদের কাছ থেকে এই হাদিসগুলো সেসব অনুসারীরাই বর্ণনা করেছেন যারা তাঁদের আকিদাই পোষণ করেন। তার মতবাদ অনুযায়ী তাঁদের সাক্ষ্য বর্জন করাটাই তো অধিক যুক্তিযুক্ত। তাহলে সে কীভাবে তাঁদের বর্ণনা দিয়ে দলিল পেশ করে যখন তা তার নিজস্ব মতামত ও খেয়ালখুশির অনুকূলে যায়, অথচ তা প্রত্যাখ্যান করে যখন বিষয়টি তার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থাৎ দ্বীনের মূল বিষয় ও অন্যান্য বিষয় বর্ণনার ক্ষেত্রে আসে? আর কোনটি বেশি মারাত্মক: শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে বিশ্বাস পোষণ করা, নাকি শরীয়তের মূল ভিত্তিগুলো ধ্বংস করা এবং নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার বিশ্বাস রাখা?
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৬১)
{فإنها لا تعمى الأبصار ولكن تعمى القلوب التي في الصدور}.
جعلوا شغلهم الأهم مسألة التفضيل، وصرفوا همهم إلى غير ما أمروا به من القال والقيل، مع أنه مفروغ منه، و {تلك أمة قد خلت لها ما كسبت ولكم ما كسبتم ولا تسألون عما كانوا يعملون}. أولئك قوم قد لحقوا بالله، وعرف كل منهم منزلته عند الله، {في مقعد صدق عند مليك مقتدر}، {إخوانا على سرر متقابلين}، والواجب على من بعدهم لهم ما يجب على الأولاد لآبائهم من البر والإحسان والاستغفار المأمور به بنص القرآن: {والذين جاءوا من بعدهم يقولون ربنا اغفر لنا ولإخواننا الذين سبقونا بالإيمان ولا تجعل في قلوبنا غلا للذين آمنوا}. فإنهم آباء أهل الإسلام، إذ هم الذين آووه ونصروه، ثم مهدوه وقرروه، ثم أدوه كما سمعوه، فجزاهم الله عنا أفضل الجزاء. وكل ما ورد من الفضائل في حق علي وغيره فعنهم نقل ومنهم عرف. وكيف ينسب المبتدع نفسه إلى أنه أتقى منهم وأقوم بدين الله وأطوع لله وأعلم بمراد الله، وينسبهم إلى أنهم خالفوا رسول الله فيما سمعوا منه مشافهة وخالفوا الله ورسوله في تقديم مفضول على فاضل والتمادي على الباطل. {فلا تزكوا أنفسكم هو أعلم بمن اتقى}.
ثم لم يزل العلماء والأولياء والفقهاء والقراء وغيرهم يتناقلون هذه الأخبار وغيرها مما هو مشهور على مر الأعصار، ويودعونها في تصانيفهم ويتقربون إلى الله بذكرهم في تواليفهم، ولم يصل الموافق والمخالف إلى عملها إلا بواسطتهم، وهم معتقدون لما عليه الصحابة من ترتيب الخلفاء في التقديم وتوفية
{বস্তুত চক্ষু তো অন্ধ হয় না, বরং বক্ষস্থিত অন্তরসমূহ অন্ধ হয়ে যায়।}
তারা তাদের সবচেয়ে বড় ব্যস্ততা বানিয়ে নিয়েছে শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্ককে, এবং তাদের মনোযোগ নিবদ্ধ করেছে এমন সব বাকবিতণ্ডার প্রতি যার আদেশ তাদের দেওয়া হয়নি; অথচ বিষয়টি মিমাংসিত হয়ে গেছে। আর {তারা ছিল এমন এক জাতি যারা গত হয়ে গেছে; তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্য এবং তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্য; তারা যা করত সে সম্পর্কে তোমাদের প্রশ্ন করা হবে না।} তারা এমন এক কওম যারা আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে গেছেন এবং তাদের প্রত্যেকে আল্লাহর নিকট নিজ নিজ মর্যাদা জেনে নিয়েছেন, {এক সত্য অবস্থানে, সর্বশক্তিমান অধিপতির সান্নিধ্যে}, {তারা ভ্রাতৃরূপে একে অপরের মুখোমুখি আসনে আসীন থাকবে।} আর তাদের পরবর্তী প্রজন্মের উপর তাদের জন্য তা-ই করা কর্তব্য যা সন্তানদের উপর পিতামাতার জন্য ওয়াজিব; যেমন সদাচরণ, কল্যাণ কামনা এবং কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী আদিষ্ট ক্ষমা প্রার্থনা: {এবং যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের আগে গত হয়েছেন এবং মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না।} নিশ্চয়ই তারা ইসলামের অনুসারীদের পিতা স্বরূপ, কেননা তারাই ইসলামকে আশ্রয় দিয়েছেন ও একে সাহায্য করেছেন, অতঃপর একে সুবিন্যস্ত ও সুসংহত করেছেন এবং যেভাবে শুনেছেন সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছেন। অতএব আল্লাহ তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম পুরস্কার দান করুন। আলী (রা.) এবং অন্যদের মর্যদা সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা তাদের মাধ্যমেই বর্ণিত হয়েছে এবং তাদের মাধ্যমেই তা জানা গেছে। একজন বিদআতী কীভাবে নিজেকে তাদের চেয়ে অধিক মুত্তাকী, আল্লাহর দ্বীনের উপর অধিক সুপ্রতিষ্ঠিত, আল্লাহর অধিক অনুগত এবং আল্লাহর উদ্দেশ্য সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী মনে করতে পারে? অথচ সে তাদের দিকে এই অপবাদ আরোপ করে যে, তারা রাসূলুল্লাহর থেকে সরাসরি যা শুনেছিলেন সে বিষয়ে তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের হুকুম অমান্য করে ফজিলতপূর্ণ ব্যক্তির ওপর কম ফজিলতপূর্ণ ব্যক্তিকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং বাতিলের ওপর অনড় থেকেছেন। {অতএব তোমরা নিজেদের পবিত্রতা বর্ণনা করো না; কে মুত্তাকী সে সম্পর্কে তিনিই অধিক অবগত।}
অতঃপর যুগে যুগে আলেম, ওলী, ফকীহ, ক্বারী এবং অন্যান্যরা ধারাবাহিকভাবে এই সকল সংবাদ এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ বর্ণনা একে অপরের কাছে বর্ণনা করে আসছেন এবং তারা তাদের গ্রন্থসমূহে তা সংরক্ষণ করেছেন এবং তাদের রচনায় সাহাবীদের আলোচনার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য প্রার্থনা করেছেন। অনুকূল হোক বা প্রতিকূল, কেউই তাদের মাধ্যম ছাড়া এই জ্ঞান ও আমল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। আর তারা (পূর্বসূরিগণ) সাহাবায়ে কেরাম যে আদর্শের ওপর ছিলেন অর্থাৎ খলীফাগণের অগ্রাধিকারের ক্রমবিন্যাস এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা প্রদানের বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৬২)
كل منهم ومن سائر الصحابة ما هو له من الإجلال والتكريم. فلو علموا أن تلك الأحاديث مصادمة لما فعلوه ومضادة لما اعتقدوه، لكان كتمها وتبديلها بعكسها أهون إثما مما ارتكبوه من مخالفتها كفاحا والتمادي في الباطل إلى الموت وسن سنة قبيحة منسوبة إلى الله ورسوله كذبا يعمل بها من بعدهم إلى يوم القيامة. فأي مصيبة أعظم في دين الله من هذا الاعتقاد، وأي فساد في الدنيا والآخرة أشنع من هذا الفساد {سبحانك هذا بهتان عظيم. يعظكم الله أن تعودوا لمثله أبدا إن كنتم مؤمنين. ويبين الله لكم الآيات والله عليم حكيم} {ربنا آمنا بما أنزلت واتبعنا الرسول فاكتبنا مع الشاهدين}.
اللهم إنا كما نشهد لك بالوحدانية ولنبيك بالتبليغ فإنا نشهد لهم بالصدق فيما إلينا عنك أوصلوه، وعن نبيك نقلوه، وبأداء الأمانة فيما من أمر دينك تحملوه، ولا نتخذهم أربابا، ولا نجعل بعضهم على بعض أحزابا، بل هم عبيد لك مربوبون، سامعون لك مجيبون، دعاهم نبيك فتابعوه، وعلى نصر دينك بايعوه، فصدقوا كما سميتهم الصادقين، وما بدلوا تبديلا.
তাদের প্রত্যেকের জন্য এবং অন্যান্য সকল সাহাবীর জন্য রয়েছে যথাযোগ্য সম্মান ও মর্যাদা। যদি তারা জানতেন যে, ঐ হাদিসগুলো তাদের কর্মের সাথে সাংঘর্ষিক এবং তাদের আকিদার পরিপন্থী, তবে তা গোপন করা কিংবা এর বিপরীতে পরিবর্তন করা তাদের জন্য সেই পাপের তুলনায় অনেক সহজ হতো যা তারা সরাসরি বিরুদ্ধাচরণ করে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাতিলের ওপর অবিচল থেকে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি মিথ্যাচার করে একটি নিকৃষ্ট রীতি প্রবর্তন করার মাধ্যমে করেছেন, যা তাদের পরে কিয়ামত পর্যন্ত অনুসরণ করা হবে। সুতরাং আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে এই বিশ্বাসের চেয়ে বড় মুসিবত আর কী হতে পারে? আর দুনিয়া ও আখিরাতে এই ফাসাদের চেয়ে জঘন্য ফাসাদই বা আর কী আছে? {আপনি অতি পবিত্র, এটি এক গুরুতর অপবাদ। আল্লাহ তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যদি মুমিন হও তবে কখনোই আর এমন কাজ করো না। আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।} {হে আমাদের রব! আপনি যা নাযিল করেছেন আমরা তাতে ঈমান এনেছি এবং রাসূলের অনুসরণ করেছি, সুতরাং আমাদের সাক্ষ্যদাতাদের তালিকায় লিখে নিন।}
হে আল্লাহ! আমরা যেমন আপনার একত্ববাদের সাক্ষ্য দেই এবং আপনার নবীর পক্ষ থেকে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার সাক্ষ্য দেই, তেমনি আমরা তাদের সত্যবাদিতারও সাক্ষ্য দেই যা কিছু তারা আপনার পক্ষ থেকে আমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন এবং আপনার নবী থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আপনার দ্বীনের যে আমানত তারা বহন করেছেন, তা তারা নিষ্ঠার সাথে আদায় করেছেন। আমরা তাদেরকে রবরূপে গ্রহণ করি না এবং তাদের এক দলকে অন্য দলের বিরুদ্ধে উপদলে বিভক্ত করি না। বরং তারা আপনারই দাস ও আপনারই প্রতিপালিত, তারা আপনার নির্দেশ শ্রবণকারী ও বাস্তবায়নকারী। আপনার নবী তাদেরকে আহ্বান করেছেন আর তারা তাঁর অনুসরণ করেছেন, এবং আপনার দ্বীনকে সাহায্যের জন্য তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করেছেন। সুতরাং তারা সত্য প্রমাণ করেছেন যেমনটি আপনি তাদেরকে ‘সত্যবাদী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, এবং তারা আদর্শ বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
فصل في ذكر طرف من ثناء الرسول الصادق المصدوق الذي لا ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى وثناء أهل البيت الطيبين الطاهرين على السادة الأتقياء والبررة الأصفياء وحثه أمته على حبهم والتحذير عن سبهم وأمره باتباعهم والاقتداء بهم والكف عما شجر بينهمفمن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: «خيركم قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم» رواه البخاري ومسلم.
و «لا تسبوا أصحابي فلو أن أحدا أنفق مثل أحد ذهبا ما بلغ مد أحدهم ولا نصيفه» أخرجه البخاري ومسلم.
وقوله: "الله الله في أصحابي لا تتخذوهم غرضا بعدي فمن أحبهم فبحبي أحبهم، ومن أبغضهم فببغضي أبغضهم، ومن آذاهم فقد آذاني، ومن أذاني فقد آذى الله فيوشك أن يأخذه" أخرجه البخاري. (1)
"إذا رأيتم الذين يسبون أصحابي فقولوا لعنة الله على شركم" أخرجه الترمذي.
"سألت ربي عن اختلاف أصحابي من بعدي فأوحى إلي يا محمد: إن أصحابك عندي كالنجوم في السماء بعضهم أقوى من بعض ولكل نوره، فمن أخذ بشيء مما هم عليه فهو عندي على هدى" أخرجه رزين في جامعه.
"إن الله اختارني واختار لي أصحابا فجعل لي منهم وزراء وأنصارا وأصهارا، فمن سبهم فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله منه
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: সত্যবাদী এবং যার কথাকে সত্য বলে স্বীকার করা হয়, যিনি খেয়ালখুশি মতো কোনো কথা বলেন না, বরং তা কেবল প্রত্যাদেশ (ওহি) যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়—সেই রাসুলের পক্ষ থেকে এবং পবিত্র ও পুণ্যবান আহলে বাইতের পক্ষ থেকে সেইসব মুত্তাকি সর্দার ও পুণ্যবান মনোনীত ব্যক্তিবর্গের (সাহাবীদের) কিছু প্রশংসার উল্লেখ। এবং উম্মতকে তাঁদের ভালোবাসার প্রতি উৎসাহিত করা, তাঁদের গালি দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা, তাঁদের অনুসরণ ও অনুকরণের নির্দেশ প্রদান এবং তাঁদের মাঝে সংঘটিত বিবাদ সম্পর্কে নীরবতা পালনের নির্দেশ।এর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের মানুষ, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী।" বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
এবং (তাঁর বাণী): "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। কেননা তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবুও সে তাদের কারো এক ‘মুদ’ (অঞ্জলি) বা তার অর্ধেকের সমতুল্য মর্যাদায় পৌঁছাতে পারবে না।" বুখারি ও মুসলিম এটি উদ্ধৃত করেছেন।
এবং তাঁর বাণী: "আমার সাহাবীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো। আমার পরে তোমরা তাঁদেরকে সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানিও না। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁদের ভালোবাসল, সে মূলত আমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাঁদের ভালোবাসল; আর যে তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল, সে মূলত আমার প্রতি বিদ্বেষের কারণেই তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল। যে ব্যক্তি তাঁদের কষ্ট দিল, সে আমাকে কষ্ট দিল; আর যে আমাকে কষ্ট দিল, সে আল্লাহকে কষ্ট দিল। অচিরেই আল্লাহ তাকে পাকড়াও করবেন।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। (১)
"তোমরা যখন এমন লোকদের দেখবে যারা আমার সাহাবীদের গালি দিচ্ছে, তখন তোমরা বলো: তোমাদের মধ্যকার মন্দদের ওপর আল্লাহর লানত।" এটি তিরমিযী উদ্ধৃত করেছেন।
"আমি আমার রবের কাছে আমার পরবর্তী সময়ে আমার সাহাবীদের মতভেদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি আমার প্রতি ওহি পাঠালেন: হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই তোমার সাহাবীগণ আমার নিকট আকাশের নক্ষত্ররাজির মতো, তাদের কেউ কেউ অন্যের চেয়ে অধিক শক্তিশালী (উজ্জ্বল), তবে প্রত্যেকেরই নিজস্ব আলো রয়েছে। সুতরাং তারা যে আদর্শের ওপর রয়েছে, তা থেকে যে ব্যক্তি যা কিছু গ্রহণ করবে, সে আমার নিকট হিদায়াতের ওপর থাকবে।" এটি রযীন তাঁর জামে গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।
"নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে মনোনীত করেছেন এবং আমার জন্য সাহাবীদের মনোনীত করেছেন। অতঃপর তাঁদের মধ্য থেকে আমার জন্য উজির (সহযোগী), সাহায্যকারী ও আত্মীয় বানিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁদের গালি দেবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের লানত। আল্লাহ তার থেকে কোনো..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
صرفا ولا عدلا" أورده المحب الطبري في الرياض النضرة.
ومن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: «لعل الله اطلع على أهل بدر فقال اعلموا ما شئتم فقد غفرت لكم» أخرجه البخاري ومسلم.
«لا يدخل النار أحد ممن بايع تحت الشجرة» أخرجه الترمذي وصححه.
وشهد صلى الله عليه وسلم للعشرة بالجنة أبي بكر وعمر وعثمان وعلي وطلحة والزبير وسعد بن أبي وقاص وسعيد بن زيد وعبد الرحمن بن عوف وأبي عبيدة بن الجراح. أخرجه الترمذي وأبو داود.
ودخل حائطا للأنصار فاستأذن عليه أبو بكر فقال: «افتح له وبشره بالجنة» ثم عمر كذلك ثم عثمان كذلك وقال فيه: «بشره بالجنة على بلوى تصيبه» أخرجه البخاري ومسلم.
وكان على حراء ومعه أبو بكر وعثمان وعلي وطلحة والزبير وسعد بن أبي وقاص فتحرك بهم الجبل فركضه النبي صلى الله عليه وسلم برجله وقال: «اسكن حراء فما عليك إلا نبي أو صديق أو شهيد» أخرجه مسلم والترمذي. وأخرجه البخاري وأبو داود فذكرا ومعه أبو بكر وعمر وعثمان فقط.
وسمع سعيد بن زيد أحد العشرة رجلا يسب رجلا من الصحابة فغضب وقال: "والله لمشهد رجل منهم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم خير من عمل أحدكم ولو عمر عمر نوح" أخرجه الترمذي وأبو داود. زاد رزين: لا جرم لما انقطعت أعمارهم أراد الله أن لا يقطع الأجر عنهم
"...ফরজ বা নফল কোনো ইবাদতই [কবুল করা হবে না]।" এটি মুহিব্ব আল-তাবারী 'আর-রিয়াদ আন-নাদিরাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
এর মধ্যে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "হয়তো আল্লাহ বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং বলেছেন: তোমরা যা ইচ্ছা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
"গাছের নিচে যারা বায়আত গ্রহণ করেছিল, তাদের কেউই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।" এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশজনকে জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন: আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, তালহা, যুবায়ের, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, সাঈদ বিন যায়িদ, আবদুর রহমান বিন আউফ এবং আবু উবাইদাহ বিন জাররাহ। এটি তিরমিযী ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
তিনি আনসারদের একটি বাগানে প্রবেশ করলেন, অতঃপর আবু বকর সেখানে আসার অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন: "তার জন্য খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।" এরপর উমরের ক্ষেত্রেও অনুরূপ হলো, এরপর উসমানের ক্ষেত্রেও অনুরূপ হলো এবং তার সম্পর্কে বললেন: "তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও এমন এক বিপদের ওপর যা তাকে স্পর্শ করবে।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
তিনি হেরা পাহাড়ে ছিলেন এবং তার সাথে ছিলেন আবু বকর, উসমান, আলী, তালহা, যুবায়ের এবং সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস। তখন পাহাড়টি তাদের নিয়ে কম্পিত হলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পা দিয়ে সেটিকে আঘাত করলেন এবং বললেন: "হে হেরা, স্থির হও! কেননা তোমার উপরে একজন নবী অথবা একজন সিদ্দিক অথবা একজন শহীদ ব্যতীত আর কেউ নেই।" এটি মুসলিম ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। বুখারী ও আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তারা শুধু আবু বকর, উমর ও উসমানের নাম উল্লেখ করেছেন।
দশজনের একজন সাঈদ বিন যায়িদ এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে সে জনৈক সাহাবীকে গালি দিচ্ছে। তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন: "আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের কোনো একজনের উপস্থিত থাকা তোমাদের প্রত্যেকের আমলের চেয়ে উত্তম, এমনকি যদি তোমরা নূহের ন্যায় দীর্ঘ জীবনও পাও।" এটি তিরমিযী ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। রাযীন এতে আরও যোগ করেছেন: "নিঃসন্দেহে যখন তাদের জীবনকাল শেষ হয়ে গেল, তখন আল্লাহ চাইলেন যে তাদের পুরস্কারের ধারা যেন বিচ্ছিন্ন না হয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
إلى يوم القيامة، فالشقي من أبغضهم والسعيد من أحبهم.
ومن ذلك سئل صلى الله عليه وسلم أي الناس أحب إليك؟ فقال: «عائشة» قيل: من الرجال؟ قال: «أبوها» قيل: ثم من؟ قال: «عمر بن الخطاب» أخرجه البخاري ومسلم.
وقال لأبي بكر: "أبشر فإنك «عتيق الله من النار» " فسمي من يومئذ عتيقا. أخرجه الترمذي.
وقال: "أما أنك يا أبا بكر أول من يدخل الجنة من أمتي" أخرجه أبو داود.
وقال: "ما طلعت الشمس ولا غربت على أحد بعد النبيين والمرسلين أفضل من أبي بكر" وفي رواية: "أبو بكر وعمر خير الأولين والآخرين إلا النبيين والمرسلين" وفي أخرى: "أبو بكر وعمر في أمتي كالشمس والقمر في النجوم" وأوردها المحب الطبري.
وأوذي أبو بكر فغضب صلى الله عليه وسلم لذلك غضبا شديدا وقال: «هل أنتم تاركون لي أصحابي» كررها ثلاثا «إن الله بعثني إليكم فقلتم كذبت وقال أبو بكر صدقت، وواساني بنفسه وماله فهل أنتم تاركون ليصاحبي» أخرجه البخاري.
وقال: «إن من أمنّ الناس علي في صحبته وماله أبو بكر» أخرجه البخاري ومسلم وأحمد والترمذي.
وقال: «ما لأحد عندنا يدا إلا وقد كافأناه ما خلا أبا بكر فإن له عندنا يدا يكافئه الله بها يوم القيامة» أخرجه الترمذي. وفي تصديق ذلك نزل قوله تعالى {وسيجنبها الأتقى. الذي يؤتي ماله يتزكى. وما لأحد عنده من نعمة تجزى. إلا ابتغاء وجه ربه الأعلى. ولسوف يرضى} فوعده الله تعالى بالرضا مكافأة عن نبيه صلى الله عليه وسلم، وحكم له بأنه أتقى الأمة
কিয়ামত দিবস পর্যন্ত; ফলে দুর্ভাগা সেই যে তাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে এবং সৌভাগ্যবান সেই যে তাদের ভালোবাসে।
আর এরই অংশ হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মানুষের মধ্যে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কে? তিনি বললেন: "আয়েশা"। বলা হলো: পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন: "তার পিতা"। বলা হলো: তারপর কে? তিনি বললেন: "উমর ইবনুল খাত্তাব"। এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আর তিনি আবু বকরকে বলেছিলেন: "সুসংবাদ গ্রহণ করুন, নিশ্চয়ই আপনি জাহান্নাম থেকে আল্লাহর মুক্ত বান্দা।" সেদিন থেকে তাঁর নাম 'আতিক' রাখা হয়। এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
আর তিনি বলেছিলেন: "হে আবু বকর, জেনে রাখুন যে, আপনিই আমার উম্মতের মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
আর তিনি বলেছিলেন: "নবী ও রাসূলগণের পর এমন কোনো ব্যক্তির ওপর সূর্য উদিত বা অস্তমিত হয়নি, যে আবু বকরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।" অন্য বর্ণনায় এসেছে: "নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত আবু বকর ও উমর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।" অন্য আরেকটি বর্ণনায় আছে: "আমার উম্মতের মধ্যে আবু বকর ও উমরের মর্যাদা নক্ষত্ররাজির মাঝে সূর্য ও চন্দ্রের ন্যায়।" মুহিব্বুত তাবারী এটি উল্লেখ করেছেন।
একবার আবু বকরকে কষ্ট দেওয়া হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাতে অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: "তোমরা কি আমার জন্য আমার সাহাবীদের ছেড়ে দেবে না?" তিনি কথাটি তিনবার বললেন। "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন, তখন তোমরা বলেছিলে 'তুমি মিথ্যা বলছো', আর আবু বকর বলেছিল 'আপনি সত্য বলেছেন'। সে তার জীবন ও সম্পদ দিয়ে আমাকে সান্ত্বনা ও সহযোগিতা করেছে। তবে কি তোমরা আমার জন্য আমার সাথীকে ছেড়ে দেবে না?" এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।
আর তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে সাহচর্য ও সম্পদের দিক দিয়ে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা ব্যক্তি হলো আবু বকর।" এটি বুখারী, মুসলিম, আহমাদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
আর তিনি বলেছিলেন: "আমাদের কাছে এমন কারো কোনো অনুগ্রহ নেই যার প্রতিদান আমরা দিইনি, আবু বকর ব্যতীত। নিশ্চয়ই আমাদের প্রতি তার এমন অনুগ্রহ রয়েছে যার প্রতিদান আল্লাহ কিয়ামতের দিন প্রদান করবেন।" এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। আর এর সত্যতা নিশ্চিতকল্পে মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়: {অচিরেই তা থেকে দূরে রাখা হবে পরম মুত্তাকীকে, যে আত্মশুদ্ধির জন্য তার ধন-সম্পদ দান করে। এবং তার প্রতি কারো এমন কোনো অনুগ্রহ নেই যার প্রতিদান দিতে হবে, কেবল তার মহান রবের সন্তুষ্টি অন্বেষণ ব্যতীত। আর অচিরেই তিনি সন্তুষ্ট হবেন}। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পক্ষ থেকে প্রতিদানস্বরূপ তাঁকে সন্তুষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তাঁকে উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে বড় মুত্তাকী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
بعد حكمه بأن أكرمكم عند الله أتقاكم. فصار حكما منه بأن أبا بكر أكرم الأمة على الله وأفضلها. ومن هنا قال فيه صلى الله عليه وسلم: "لا ينبغي لقوم فيهم أبو بكر أن يؤمهم غيره" أخرجه الترمذي.
ولما ثقل النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مروا أبا بكر فليصل بالناس» وكان غائبا، فقدّم القوم عمر، فلما سمع صوت عمر تغيرت حالته وأطلع رأسه من الحجرة مغضبا وهو يقول: «يأبى الله ذلك والمسلمون، يأبى الله ذلك والمسلمون، يأبى الله ذلك والمسلمون، ليصل بالناس ابن أبي قحافة» ثم بعث إليه فجاء وصلى بالناس مدة مرضه صلى الله عليه وسلم.
ولما قال: «مروا أبا بكر فليصل بالناس» راجعته عائشة ثم حفصة أن أبا بكر إذا قام مقامك لم يسمع الناس من البكاء فمر عمر فليصل بالناس، فغضب وقال: «إنكن لأنتن صواحب يوسف» أخرجه البخاري ومسلم.
ووجد خفة في مرضه فخرج وأبو بكر يصلي بالناس فلما رآه أبو بكر استأخر فأومأ إليه أن مكانك إكراما له، فلم يستطع ذلك أبو بكر إجلالا لمنصب الرسالة فعاتبه النبي صلى الله عليه وسلم بعد ذلك، أخرجه البخاري ومسلم. زاد الترمذي: وقال ألست أحق بها، ألست أول من أسلم، ألست صاحب كذا، ألست صاحب كذا.
فلو قدم المسلمون غيره بعد موت النبي صلى الله عليه وسلم يؤمهم فهل وافقوا نبيهم أو خالفوه؟ وإذا ارتضاه الرسول لأمر دينهم فما بقي من أمر الخلافة،
আল্লাহর পক্ষ থেকে এই ফয়সালার পর যে, ‘তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান’, তাঁর পক্ষ থেকে এটি একটি ফয়সালায় পরিণত হয়েছে যে, আবু বকর হলেন আল্লাহর নিকট এই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত এবং শ্রেষ্ঠ। এই সূত্রেই তাঁর সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে কওমের মধ্যে আবু বকর বিদ্যমান রয়েছেন, তাদের জন্য এটি শোভনীয় নয় যে অন্য কেউ তাদের ইমামতি করবে।" এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থতায় ভারাক্রান্ত হলেন, তখন তিনি বললেন: "তোমরা আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে।" তিনি (আবু বকর) অনুপস্থিত ছিলেন, ফলে লোকজন উমরকে সামনে এগিয়ে দিল। যখন তিনি উমরের কণ্ঠস্বর শুনলেন, তখন তাঁর অবস্থার পরিবর্তন হলো এবং রাগান্বিত অবস্থায় কক্ষ থেকে মাথা বের করে বললেন: "আল্লাহ এবং মুমিনগণ তা অস্বীকার করছেন, আল্লাহ এবং মুমিনগণ তা অস্বীকার করছেন, আল্লাহ এবং মুমিনগণ তা অস্বীকার করছেন; ইবনে আবি কুহাফাকেই মানুষের ইমামতি করতে দাও।" অতঃপর তাঁর নিকট সংবাদ পাঠানো হলো, তিনি এলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতার সম্পূর্ণ সময়কাল মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন।
যখন তিনি বললেন: "আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে", তখন আয়েশা এবং অতঃপর হাফসা তাঁর নিকট বারবার আবেদন করলেন যে, আবু বকর যখন আপনার স্থলাভিষিক্ত হয়ে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার আধিক্যে মানুষ তাঁর কণ্ঠ শুনতে পাবে না; অতএব আপনি উমরকে নির্দেশ দিন যেন তিনি সালাত আদায় করান। তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন: "নিশ্চয়ই তোমরা ইউসুফের সেই নারী সঙ্গিনীদের ন্যায়।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
তিনি তাঁর অসুস্থতায় কিছুটা উপশম অনুভব করলেন এবং বের হলেন এমতাবস্থায় যে আবু বকর মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। যখন আবু বকর তাঁকে দেখলেন, তিনি পেছনে সরতে চাইলেন। তখন তিনি (রাসূল) তাঁকে সম্মান প্রদর্শনার্থে নিজ স্থানেই থাকার ইশারা করলেন। কিন্তু আবু বকর রিসালাতের সুউচ্চ মর্যাদার প্রতি পরম শ্রদ্ধাবোধ থেকে তা করতে পারলেন না। পরবর্তীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এ ব্যাপারে অনুযোগ করলেন। এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বর্ধিতভাবে বর্ণনা করেছেন: এবং তিনি বললেন, "আমি কি এর অধিক হকদার নই? আমি কি প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী নই? আমি কি অমুক অমুক গুণের অধিকারী নই? আমি কি অমুক অমুক গুণের অধিকারী নই?"
এখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর যদি মুসলমানগণ অন্য কাউকে তাদের ইমামতির জন্য এগিয়ে দিত, তবে কি তারা তাদের নবীর সাথে একমত হতো নাকি তাঁর বিরোধিতা করত? আর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দ্বীনি বিষয়ের জন্য তাঁকে মনোনীত করেছেন, তখন খিলাফতের বিষয়ের ক্ষেত্রে আর কী-ই বা বাকি থাকে?
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
أيحسن أن يكون خليفة غيره؟ لا يحسن له أن يتقدم بين يدي آحاد رعيته في أعظم شعائر الدين من الصلوات الخمس والجماعات والأعياد، فإن كانت الخلافة جباية الأموال وما هو دون ذلك فبئس بها. وأي شيء استفاده الصديق من عقد البيعة سوى أن ولاه المسلمون جباية الزكاة وصرفها في مصارفها. وهل كسب الصديق بولايته كنوز الأموال أو تنعم بالملابس الفاخرة أو اتخذ العبيد والخول أو شيد القصور وزخرفها. وإذا لم يكن شيء من ذلك فأي شيء عمله على الظلم والعدوان وخسران الآخرة والأولى بزعم أعداء الله تعالى، {ومن يرد الله فتنته فلن تملك له من الله شيئا أولئك الذين لم يرد الله أن يطهر قلوبهم لهم في الدنيا خزي ولهم في الآخرة عذاب عظيم}.
وقد كان فضله في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم مشهورا بين الصحابة يعلمه الخاص والعام، ولا يداخل أحد منهم شك ولا ريب في أنه أقدم الخليقة منزلة عنده، ولله در حسان حيث يقول مخاطبا للنبي صلى الله عليه وسلم، ويمدح أبا بكر بعد أن استدعى منه النبي صلى الله عليه وسلم ذلك فقال:
إذا تذكرت شجوا من أخي ثقة
… فاذكر أخاك أبا بكر بما فعلا
التالي الثاني المحمود سيرته
… وأول الناس طرا صدق الرسلا
وكان حب رسول الله قد علموا
… من البرية لم يعدل به رجلا
وعن ابن عمر رضي الله عنهما: كنا في زمن رسول الله صلى الله عليه وسلم -
অন্য কেউ খলিফা হওয়া কি সমীচীন হবে? সালাত, জামাত ও ঈদসমূহের মতো দ্বীনের মহান নিদর্শনসমূহে তাঁর জন্য নিজের প্রজাসাধারণের অগ্রবর্তী হওয়া সমীচীন নয়। আর যদি খিলাফত কেবল সম্পদ সংগ্রহ বা তার চেয়েও তুচ্ছ কোনো বিষয় হতো, তবে তা অত্যন্ত মন্দ বিষয় হতো। সিদ্দিক বায়আত বা আনুগত্যের অঙ্গীকার থেকে কী-ই বা লাভ করেছিলেন, এছাড়া যে মুসলিমগণ তাঁকে জাকাত সংগ্রহ ও তা নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সিদ্দিক কি তাঁর শাসনের মাধ্যমে ধন-ভাণ্ডার অর্জন করেছিলেন, কিংবা বিলাসজাত পোশাকে আমোদ করেছিলেন, অথবা দাস-দাসী ও চাকর-বাকর গ্রহণ করেছিলেন, অথবা রাজপ্রাসাদ নির্মাণ ও সুসজ্জিত করেছিলেন? আর যখন এর কিছুই ঘটেনি, তবে আল্লাহর শত্রুদের দাবি অনুযায়ী তিনি কেন জুলুম, সীমালঙ্ঘন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের ক্ষতির পথে কাজ করবেন? "আল্লাহ যার ফিতনা চান, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য তোমার কিছুই করার নেই। এরা তারাই, যাদের অন্তরসমূহকে আল্লাহ পবিত্র করতে চাননি। তাদের জন্য দুনিয়াতে রয়েছে লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে রয়েছে মহাশাস্তি।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সাহাবীগণের মাঝে সুপরিচিত ছিল, যা বিশিষ্ট ও সাধারণ সকলেই জানতেন। তাঁদের মধ্যে কারও মনে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ বা সংশয় ছিল না যে, তিনি সৃষ্টির মাঝে তাঁর (রাসূলের) নিকট মর্যাদায় অগ্রগণ্য ছিলেন। হাসান কতই না চমৎকার বলেছেন, যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সম্বোধন করে আবু বকরের প্রশংসা করছিলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে তা চেয়েছিলেন। তিনি বললেন:
যখন তুমি তোমার কোনো নির্ভরযোগ্য ভাইয়ের শোকের কথা স্মরণ করবে
… তখন তোমার ভাই আবু বকরের কথা ও তাঁর কার্যাবলীর কথা স্মরণ কোরো।
তিনি এমন অনুসারী ও দ্বিতীয় জন যাঁর জীবন চরিত প্রশংসিত
… এবং যিনি সকল মানুষের মধ্যে প্রথম রাসূলগণের সত্যয়ন করেছেন।
রাসূলুল্লাহর প্রতি তাঁর ভালোবাসা সম্পর্কে তাঁরা জানতেন
… সৃষ্টির মাঝে অন্য কোনো ব্যক্তিকে তাঁর সমতুল্য করা হয়নি।
ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে থাকাকালীন—
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
لم نعدل بأبي بكر أحدا ثم عمر ثم عثمان ثم نترك أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم لا نفاضل بينهم. أخرجه البخاري والترمذي وأبو داود.
كنا نقول ورسول الله صلى الله عليه وسلم حي أفضل أمة النبي صلى الله عليه وسلم بعده أبو بكر ثم عمر ثم عثمان.
ولما قال الأنصار: منا أمير ومنكم أمير، قال لهم عمر: أيكم تطيب نفسه أن يتقدم أبا بكر في الصلاة؟ فقالوا بأجمعهم: نعوذ بالله من ذلك. أخرجه النسائي. فعند ذلك بادروا ببيعته، وقالوا: رضيه رسول الله صلى الله عليه وسلم لديننا أفلا نرضاه لدنيانا.
ومن ذلك عن علي رضي الله عنه أنه قال يوم الجمل: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يعهد إلينا عهدا نأخذ به في إمارة ولكنه شيء رأيناه من أنفسنا فاستخلفنا أبا بكر ورحمة الله على أبي بكر فأقام واستقام، ثم استخلف عمر ورحمة الله على عمر فأقام واستقام حتى ضرب الدين بجرانه. (1) أخرجه أحمد وفي رواية: ثم حطمتنا فتنة يعفو الله منها عمن يشاء.
وعن محمد بن الحنفية ابن علي بن أبي طالب رضي الله عنهما قال: قلت لأبي: أي الناس أفضل بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقال: أبو بكر، قلت ثم من؟ قال: عمر، قلت وخشيت أن يقول ثم عثمان فقلت: ثم أنت؟ فقال: ما أنا إلا رجل مسلم. أخرجه البخاري وأحمد وأبو حاتم.
--------------------------------------------
আমরা আবু বকরের সমতুল্য কাউকে মনে করতাম না, তারপর উমর, তারপর উসমান। এরপর আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের বিষয়টি (কোনো মন্তব্য ছাড়াই) ছেড়ে দিতাম, তাদের একজনের ওপর অন্যজনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিতাম না। এটি বুখারী, তিরমিযী এবং আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
আমরা বলতাম—যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত ছিলেন—তাঁর পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন আবু বকর, তারপর উমর, তারপর উসমান।
যখন আনসারগণ বললেন, "আমাদের মধ্য থেকে একজন নেতা এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন নেতা (নির্বাচিত হোক)", তখন উমর তাদের বললেন, "সালাতের ক্ষেত্রে আবু বকরের আগে বেড়ে যেতে তোমাদের কার মন সায় দেবে?" তখন তারা সকলে বললেন, "আমরা আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। তখন তারা তাঁর আনুগত্যের বায়াত নিতে অগ্রসর হলেন এবং বললেন, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দ্বীনের জন্য যাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন, আমাদের পার্থিব বিষয়ের জন্য কি আমরা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হব না?"
এ সংক্রান্ত আরেকটি বর্ণনা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি জঙ্গে জামালের দিন বলেছিলেন, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেতৃত্বের ব্যাপারে আমাদের প্রতি এমন কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গীকার করে যাননি যা আমাদের পালন করতে হবে; বরং এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা আমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে (সিদ্ধান্ত হিসেবে) দেখেছি। অতঃপর আমরা আবু বকরকে খলিফা হিসেবে গ্রহণ করেছি। আবু বকরের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অবিচল থেকেছেন। এরপর উমর খলিফা হলেন, উমরের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, তিনিও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অবিচল থেকেছেন যতক্ষণ না দ্বীন স্বীয় ভিত্তির ওপর সুদৃঢ় হয়েছে। (১) এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে—'এরপর আমাদের ওপর এমন ফিতনা আপতিত হয়েছে, যা থেকে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন'।"
মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ ইবনে আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি আমার পিতাকে বললাম—আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে সর্বোত্তম মানুষ কে? তিনি বললেন, 'আবু বকর'। আমি বললাম—তারপর কে? তিনি বললেন, 'উমর'। আমি আশঙ্কা করলাম যে তিনি হয়তো এরপর উসমানের কথা বলবেন, তাই আমি বললাম—তারপর কি আপনি? তিনি বললেন, 'আমি তো কেবল একজন সাধারণ মুসলিম'।" এটি বুখারী, আহমাদ ও আবু হাতিম বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
وعن كثير بن عبد الله قال: قال رجل لعلي رضي الله عنه: يا خير الناس، فقال له: أرأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: لا، قال: فهل رأيت أبا بكر؟ قال: لا، قال: فهل رأيت عمر؟ قال لا، قال: لو قلت رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم لضربت عنقك، ولو قلت رأيت أبا بكر أو عمر لجلدتك. أخرجه الإمام أحمد.
وعن علي كرم الله وجهه قال: كنت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ طلع أبو بكر وعمر رضي الله عنهما فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هذان سيدا كهول أهل الجنة من الأولين والآخرين إلا النبيين والمرسلين، يا علي لا تخبرهما» أخرجه الإمام أحمد والترمذي وأبو حاتم وزاد: "سيدا كهول أهل الجنة وشبابها"، وفي رواية: قال علي: ما حدثت حتى ماتا.
وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: إني لواقف في قوم يدعون لعمر بن الخطاب رضي الله عنه ويترحمون عليه وقد وضع على سريره إذ رجل من خلفي قد وضع مرفقه على منكبي فالتفت فإذا هو علي رضي الله عنه وترحم على عمر ثم قال: رحمك الله إني كنت لأرجو أن أن يجعلك الله مع صاحبيك لأني كثيرا ما كنت أسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «كنت وأبو بكر وعمر، فعلت وأبو بكر وعمر، انطلقت وأبو بكر وعمر»، وما خلفت أحدا أحب إلي من أن ألقى الله بمثل عمله منك. أخرجه البخاري.
ومما أورده المحب الطبري عن علي رضي الله عنه قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم بعيني هاتين وإلا فعميتا وسمعته بأذني هاتين وإلا فصمتا وهو يقول: "ما ولد في الإسلام مولود أزكى ولا أطهر من أبي بكر ثم عمر".
কাছির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: হে সর্বোত্তম ব্যক্তি। তখন তিনি তাকে বললেন: তুমি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছ? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: তবে তুমি কি আবু বকরকে দেখেছ? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: তবে তুমি কি উমরকে দেখেছ? তিনি বললেন: না। তখন আলী বললেন: তুমি যদি বলতে যে তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছ (এবং আমাকে সর্বোত্তম বলতে), তবে আমি তোমার গর্দান উড়িয়ে দিতাম। আর যদি বলতে যে তুমি আবু বকর বা উমরকে দেখেছ, তবে আমি তোমাকে কশাঘাত করতাম। এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন।
আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম, এমতাবস্থায় আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা উপস্থিত হলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জান্নাতবাসীদের মধ্যে প্রৌঢ়দের এই দুইজন হলেন সরদার। হে আলী, তুমি তাঁদের এ কথা বলো না।" এটি ইমাম আহমাদ, তিরমিজি ও আবু হাতেম বর্ণনা করেছেন এবং আবু হাতেম বর্ধিত করেছেন: "জান্নাতের প্রৌঢ় ও যুবকদের সরদার।" অন্য এক বর্ণনায় আলী বলেন: তাঁরা মৃত্যুবরণ না করা পর্যন্ত আমি এ কথা কাউকে বলিনি।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি এক কওমের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলাম যারা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য দুআ ও তাঁর প্রতি রহমতের প্রার্থনা করছিলেন। তখন তাঁকে তাঁর খাটিয়ায় রাখা হয়েছিল। এমতাবস্থায় আমার পেছন থেকে এক ব্যক্তি তাঁর কনুই আমার কাঁধের ওপর রাখলেন। আমি ফিরে তাকিয়ে দেখি তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি উমরের জন্য রহমতের দুআ করলেন, অতঃপর বললেন: আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন। আমি আশা করতাম যে আল্লাহ আপনাকে আপনার দুই সঙ্গীর সাথেই রাখবেন; কারণ আমি প্রায়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনতাম: "আমি, আবু বকর ও উমর ছিলাম", "আমি, আবু বকর ও উমর করেছি", "আমি, আবু বকর ও উমর গিয়েছি"। আপনার চেয়ে প্রিয় এমন কাউকে আমি রেখে যাইনি যার আমলের মতো আমল নিয়ে আমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করতে পছন্দ করব। এটি ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন।
মুহিব্ব তাবারী আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তার মধ্যে রয়েছে যে, তিনি বলেন: আমি আমার এই দুই চোখ দিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি—অন্যথায় আমি অন্ধ হয়ে যাই—এবং আমার এই দুই কান দিয়ে তাঁকে বলতে শুনেছি—অন্যথায় আমি বধির হয়ে যাই—তিনি বলছিলেন: "ইসলামে আবু বকর এবং অতঃপর উমরের চেয়ে অধিক পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করেনি।"
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭০)
وعنه في قوله تعالى: {أم يحسدون الناس على ما آتاهم الله من فضله} قال: هم رسول الله وأبو بكر وعمر.
وعن الحسن بن علي رضي الله عنهما قال: نظر النبي صلى الله عليه وسلم إلى أبي بكر وعمر فقال: "والله إني لأحبكما ومن أحببته أحبه الله، والله تعالى أشد حبا لكما مني، وإن الملائكة لتحبكما بحب الله لكما فأحب الله من أحبكما، وأبغض من أبغضكما، ووصل من وصلكما، وقطع من قطعكما، وأسعد من أسعدكما في حياتكما وبعد مماتكما"، فقال علي: لقد ازددت لهما حبا يا رسول الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أجل حبهما فإن حبهما إيمان وبغضهما نفاق. وفي رواية: "يا علي، ألا أدلك على عمل إذا عملته كنت من أهل الجنة، وأنت من أهل الجنة؟ إنه سيكون بعدي أقوام يقال لهم الرافضة يرفضون الإسلام، ويزعمون مودة أهل بيتي، يسبون أبا بكر وعمر، فإذا أدركتموهم فاقتلوهم فإنهم مشركون".
وعن فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم، رضي الله عنها، قالت: نظر
এবং তাঁর থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {নাকি তারা মানুষের প্রতি ঈর্ষা করে সে জন্য যা আল্লাহ তাদের স্বীয় অনুগ্রহ থেকে দান করেছেন} সম্পর্কে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: তারা হলেন আল্লাহর রাসূল, আবু বকর এবং উমর।
হাসান বিন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বকর ও উমরের দিকে তাকালেন এবং বললেন: "আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের দুজনকে ভালোবাসি, আর আমি যাকে ভালোবাসি তাকে আল্লাহও ভালোবাসেন। আর মহান আল্লাহ তোমাদের দুজনকে আমার চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। নিশ্চয়ই ফেরেশতারাও তোমাদেরকে আল্লাহর ভালোবাসার কারণে ভালোবাসে। সুতরাং যে তোমাদের ভালোবাসল আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন, আর যে তোমাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করল তিনি তাকে ঘৃণা করেন। যে তোমাদের সাথে সম্পর্ক রাখল তিনি তার সাথে সম্পর্ক রাখেন, আর যে তোমাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল তিনি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। যে তোমাদেরকে সুখী করল তোমাদের জীবনে ও মরণের পর, আল্লাহ তাকে সৌভাগ্যবান করেন।" তখন আলী বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাদের প্রতি আমার ভালোবাসা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হ্যাঁ, তাদের ভালোবাসো, কেননা তাদের ভালোবাসা হলো ঈমান এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ হলো মুনাফেকি। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "হে আলী, আমি কি তোমাকে এমন একটি আমল বলে দেব না যা করলে তুমি জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, যদিও তুমি জান্নাতবাসীদের একজন? নিশ্চয়ই আমার পর এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটবে যাদেরকে রাফেযি বলা হবে, তারা ইসলামকে বর্জন করবে এবং আমার আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার দাবি করবে, তারা আবু বকর ও উমরকে গালি দেবে। সুতরাং তোমরা যদি তাদের নাগাল পাও তবে তাদের হত্যা করো, কারণ তারা মুশরিক।"
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তাকালেন...
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭১)
رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى علي فقال: "هذا في الجنة وإن من شيعته قوما يسمون الرافضة يرفضون الإسلام من لقيهم فليقتلهم فإنهم مشركون"، وأخرجه الإمام أحمد أيضا. وفي رواية: "إن ممن يزعم إنه يحبك أقواما يقرأون القرآن لا يجاوز تراقيهم يقال لهم الرافضة فإن أنت أدركتهم فجاهدهم فإنهم مشركون" كررها ثلاثا قال: يا رسول وما علامتهم؟ قال: "لا يشهدون جمعة ولا جماعة أي لأهل السنة ويطعنون في السلف الأول".
وعن ابن عباس وقد سئل عن أبي بكر فقال: كان رحمه الله للقرآن تاليا، وللشر قاليا، وعن الفحشاء لاهيا، وبالله عارفا، ومن الله خائفا، فاق الصحابة ورعا وزهادة وبرا وأمانة، فعقب الله من يبغضه اللعنة إلى يوم القيامة. وأما عمر فرحم الله أبا حفص فكان والله كهف الإسلام، ومأوى الأيتام، وللحق حصنا حصينا، وللإيمان وأهله عونا معينا، قائما بأمر الله، صابرا محتسبا لله، آمرا بالمعروف، ناهيا عن المنكر، وقورا في الرخاء والشدة، شكورا لله على كل حال، فأعقب الله من يبغضه اللعنة والندامة إلى يوم القيامة. أما عثمان فرحم الله أبا عمرو كان والله أفضل البررة، وأكرم الحفدة، مجهز جيش العسرة، كثير الاستغفار، هجادا بالأسحار سريع الدموع عند ذكر النار، دائم الفكر فيما يعنيه بالليل والنهار، مبادرا إلى كل مكرمة، فارا من كل مهلكة، ولقد عاش سعيدا، ومات شهيدا فأعقب الله من يبغضه اللعنة إلى يوم القيامة. وأما علي فرحم الله تعالى أبا الحسن كان والله علم الهدى، وكهف التقى، وطود النهى، وعين الندى، ونورا مسفرا في الدجى، وداعيا إلى المحجة العظمى، ومستمسكا بالعروة الوثقى، أبو السبطين وزوج خير النساء، فعلى من يبغضه لعنة الله ولعنة العباد إلى يوم التناد.
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলীর প্রতি লক্ষ্য করে বললেন: "তিনি জান্নাতে থাকবেন। আর তাঁর অনুসারীদের মধ্য থেকে এমন একদল লোক হবে যাদেরকে রাফেজা বলা হবে, তারা ইসলামকে বিসর্জন দিবে। যে তাদের সাক্ষাৎ পাবে সে যেন তাদের হত্যা করে, কারণ তারা মুশরিক।" এটি ইমাম আহমদও বর্ণনা করেছেন। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "নিশ্চয়ই যারা তোমাকে ভালোবাসার দাবি করে তাদের মধ্যে এমন কিছু জাতি রয়েছে যারা কুরআন পাঠ করে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না, তাদের রাফেজা বলা হয়। তুমি যদি তাদের পাও তবে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো, কারণ তারা মুশরিক।" তিনি কথাটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাদের নিদর্শন কী? তিনি বললেন: "তারা জুমুআ ও জামাআতে (অর্থাৎ আহলুস সুন্নাহর সাথে) উপস্থিত হবে না এবং তারা প্রথম যুগের পূর্বসূরীদের (সালাফদের) নিন্দা করবে।"
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তাকে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি ছিলেন কুরআনের তিলাওয়াতকারী, মন্দকে বর্জনকারী, অশ্লীলতা থেকে বিমুখ, আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানবান এবং আল্লাহকে ভয়কারী। তিনি তাকওয়া, দুনিয়াবিমুখতা, পুণ্য এবং আমানতদারিতায় সাহাবীদের অতিক্রম করে গিয়েছিলেন। অতএব আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য কিয়ামত পর্যন্ত লানত অবধারিত করেছেন যে তাঁকে ঘৃণা করে। আর ওমরের ব্যাপারে—আল্লাহ আবু হাফসের ওপর রহম করুন—আল্লাহর কসম, তিনি ছিলেন ইসলামের আশ্রয়স্থল, ইয়াতীমদের ঠিকানা, হকের মজবুত দুর্গ এবং ঈমান ও ঈমানদারদের জন্য এক অনন্য সাহায্যকারী। তিনি আল্লাহর বিধানের ওপর অটল ছিলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ধৈর্যশীল ও সওয়াবের প্রত্যাশী ছিলেন। তিনি সৎ কাজের আদেশদাতা ও অসৎ কাজের নিষেধকারী ছিলেন। সচ্ছলতা ও কঠিন—উভয় সময়েই তিনি গাম্ভীর্য বজায় রাখতেন এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায়কারী ছিলেন। ফলে আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য কিয়ামত পর্যন্ত লানত ও অনুশোচনা অবধারিত করেছেন যে তাঁকে ঘৃণা করে। আর ওসমানের ব্যাপারে—আল্লাহ আবু আমরের ওপর রহম করুন—আল্লাহর কসম, তিনি ছিলেন পুণ্যবানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং বংশধরদের মধ্যে অতি সম্মানিত। তিনি সংকটকালীন বাহিনীর সরঞ্জাম সরবরাহকারী ছিলেন। তিনি প্রচুর পরিমাণে ক্ষমা প্রার্থনাকারী, শেষ রাতে তাহাজ্জুদ আদায়কারী এবং জাহান্নামের কথা উল্লেখ করলে দ্রুত অশ্রুপাতকারী ছিলেন। তিনি রাত-দিন নিজের জন্য কল্যাণকর বিষয়ে সর্বদা চিন্তাশীল থাকতেন। প্রতিটি মহৎ কাজে অগ্রগামী এবং প্রতিটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে পলায়নকারী ছিলেন। তিনি সৌভাগ্যবান হিসেবে জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন। ফলে আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য কিয়ামত পর্যন্ত লানত অবধারিত করেছেন যে তাঁকে ঘৃণা করে। আর আলীর ব্যাপারে—আল্লাহ তাআলা আবু হাসানের ওপর রহম করুন—আল্লাহর কসম, তিনি ছিলেন হেদায়েতের ঝাণ্ডা, তাকওয়ার আশ্রয়স্থল, প্রজ্ঞার সুউচ্চ পাহাড়, বদান্যতার উৎস এবং অন্ধকারের মাঝে প্রজ্জ্বলিত আলো। তিনি মহাসত্যের পথের দিকে আহ্বানকারী এবং সুদৃঢ় রজ্জুকে আঁকড়ে ধারণকারী ছিলেন। তিনি দুই দৌহিত্রের পিতা এবং শ্রেষ্ঠ নারীর স্বামী। অতএব যে তাঁকে ঘৃণা করে, তার ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত আল্লাহর লানত এবং বান্দাদের লানত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭২)
وسئل عنهم أيضا جعفر الصادق بن محمد الباقر بن علي زين العابدين بن الحسين السبط بن علي المرتضى أمير المؤمنين رضي الله تعالى عنهم أجمعين فقال: أما أبو بكر فقد ملئ قلبه بمشاهدة الربوبية، وكان لا يشهد مع الله غيره، فمن أجل ذلك كان أكثر كلامه لا إله إلا الله، وأما عمر كان يرى كل ما دون الله صغيرا حقيرا في جنب عظمة الله، وكان لا يرى التعظيم لغير الله، فمن أجل ذلك كان أكثر كلامه الله أكبر، وأما عثمان كان يرى ما دون الله معلولا إذا كان مرجعه إلى الفناء، وكان لا يرى التنزيه لغير الله تعالى، فمن أجل ذلك كان أكثر كلامه سبحان الله، وأما علي بن فكان يرى ظهور الكون من الله، وقيام الكون بالله، ورجوع الكون إلى الله فمن أجل ذلك كان أكثر كلامه الحمد لله.
وطعن قوم في أبي بكر وعمر عند زين العابدين ابن علي بن الحسين بن علي رضي الله عنهم فقال لهم بعد أن أغلظ لهم القول: ألا تخبروني هل أنتم من السابقين الأولين أو الفقراء المهاجرين الذين أخرجوا من ديارهم وأموالهم؟ قالوا: لا، قال: فهل أنتم من الذين تبوؤا الدار والإيمان الآية؟ قالوا: لا، قال: فأنا أشهد أيضا أنكم لستم من {الذين جاءوا من بعدهم يقولون ربنا اغفر لنا ولإخواننا الذين سبقونا بالإيمان}.
وسئل الباقر محمد بن علي عن أبي بكر وعمر فقال: إماما عدل لا نالتني شفاعة جدي محمد عن لم أتولاهما وأتبرأ من عدوهما. وفي رواية قيل له: ما ترى في أبي بكر وعمر؟ فقال: إني أتولاهما وأستغفر لهما وما رأيت أحدا من أهل
মুহাম্মাদ আল-বাকির ইবনে আলী যয়নুল আবিদীন ইবনে হুসাইন আস-সিবত ইবনে আলী আল-মুরতাজা আমীরুল মুমিনীন (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর পুত্র জাফর আস-সাদিককেও তাঁদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: আবু বকরের বিষয়টি হলো এই যে, তাঁর অন্তর রুবুবিয়্যাহর (প্রভুত্বের) পর্যবেক্ষণে পরিপূর্ণ ছিল এবং তিনি আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে প্রত্যক্ষ করতেন না। এই কারণেই তাঁর অধিকাংশ কথা ছিল ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’। আর উমর আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুকে আল্লাহর মহত্ত্বের সামনে ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ মনে করতেন এবং তিনি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য শ্রেষ্ঠত্ব দেখতেন না। এই কারণেই তাঁর অধিকাংশ কথা ছিল ‘আল্লাহ সবচেয়ে বড়’। আর উসমান আল্লাহ ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে সেগুলোকে নশ্বরতার দিকে প্রত্যাবর্তনশীল হওয়ার কারণে ত্রুটিযুক্ত মনে করতেন এবং তিনি মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য পবিত্রতা দেখতেন না। এই কারণেই তাঁর অধিকাংশ কথা ছিল ‘আল্লাহ অতি পবিত্র’। আর আলী জগতের বিকাশ আল্লাহর পক্ষ থেকে, জগতের স্থিতি আল্লাহর মাধ্যমে এবং জগতের প্রত্যাবর্তন আল্লাহর দিকেই হতে দেখতেন। এই কারণেই তাঁর অধিকাংশ কথা ছিল ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর’।
যয়নুল আবিদীন আলী ইবনে হুসাইন ইবনে আলীর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নিকট একদল লোক আবু বকর ও উমর সম্পর্কে কটূক্তি করল। তিনি তাদের প্রতি কঠোর বাক্য প্রয়োগ করার পর বললেন: তোমরা কি আমাকে বলবে যে, তোমরা কি সেই অগ্রবর্তী প্রথম দল বা অভাবী মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল? তারা বলল: না। তিনি বললেন: তবে তোমরা কি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা ঈমান এনে আগে থেকেই এই আবাসস্থলে (মদীনায়) বসবাস করছিল? তারা বলল: না। তখন তিনি বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্তও নও যারা তাদের পরে এসেছে এবং বলে: “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের পথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে।”
আল-বাকির মুহাম্মাদ ইবনে আলীকে আবু বকর ও উমর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তাঁরা উভয়েই ন্যায়নিষ্ঠ ইমাম। আমি যদি তাঁদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করি এবং তাঁদের শত্রুদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করি, তবে আমার দাদা মুহাম্মাদের সুপারিশ যেন আমাকে স্পর্শ না করে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আবু বকর ও উমর সম্পর্কে আপনার মতামত কী? তিনি বললেন: আমি তাঁদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করি এবং তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমি আহলে বাইতের কাউকে দেখিনি...