(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: -)
الانتصار للسلف الأخيار القسم: العقيدة
الكتاب: الانتصار للسلف الأخيار: نقد لكتاب «أسماء الله الحسنى» للدكتور: محمود عبدالرازق الرضواني
المؤلف: محمد محب الدين أبو زيد
الناشر: الرواد للإعلام والنشر، المكتبة الإسلامية للنشر والتوزيع - مصر
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م
عدد الصفحات: 93
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الآخر 1438
আল-ইনতিসার লিস-সালাফিল আখইয়ার বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ: আল-ইনতিসার লিস-সালাফিল আখইয়ার: ডক্টর: মাহমুদ আব্দুল রাজ্জাক আর-রিদওয়ানি রচিত «আসমাউল্লাহিল হুসনা» গ্রন্থের একটি সমালোচনা
লেখক: মুহাম্মদ মুহিব্বুদ্দীন আবু যায়েদ
প্রকাশক: আর-রুওয়াদ ফর মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিশিং, আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ ফর পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৩
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউস সানি ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১)
الانتصار
للسلف الأخيار
نقد لكتاب «أسماء الله الحسنى»
للدكتور: محمود عبدالرازق الرضواني
بقلم/ محمد محب الدين أبو زيد
الرواد للإعلام والنشر
المكتبة الإسلامية للنشر والتوزيع
প্রতিরক্ষা
সৎকর্মশীল সালাফদের পক্ষে
ডক্টর মাহমুদ আব্দুর রাজ্জাক আর-রিদওয়ানী রচিত ‘আসমাউল্লাহিল হুসনা’ কিতাবের একটি সমালোচনা
লিখনীতে: মুহাম্মদ মুহিব্বুদ্দীন আবু যায়েদ
আর-রুওয়াদ মিডিয়া ও প্রকাশনা
আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়া প্রকাশনা ও বিতরণ
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২)
الانتصار
للسلف الأخيار
نقد لكتاب «أسماء الله الحسنى»
للدكتور: محمود عبدالرازق الرضواني
بقلم/
محمد محب الدين أبو زيد
المكتبة الإسلامية للنشر والتوزيع
বিজয়
পুণ্যবান সালাফদের পক্ষে
‘আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ’ গ্রন্থের একটি সমালোচনা
ডক্টর: মাহমুদ আব্দুর রাজ্জাক আর-রিজওয়ানী-এর
কলমে/
মুহাম্মাদ মুহিবুদ্দীন আবু যায়িদ
আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ প্রকাশনা ও বিতরণ
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৪)
حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الأولى
رقم الإيداع: 19209/ 2007
التاريخ: 1428 هـ 2007 م
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
নিবন্ধন নম্বর: ১৯২০৯/ ২০০৭
তারিখ: ১৪২৮ হিজরি ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد:
فإن كتاب "أسماء الله الحسنى الثابتة في الكتاب والسنة" لفضيلة الدكتور/ محمود عبد الرازق الرضواني. من أفضل الكتب التي وقفت عليها مما أُلف في موضوعه ولقد استفدت منه كثيرًا وكنت - ولا أزال - أحض من أعرفه من طلبة العلم على اقتنائه والاستفادة منه. وكنت ألاحظ فيه - وكذلك غيري من طلبة العلم - بعض الأخطاء ولكني كنت أتغاضى عنها في بداية الأمر لأنه ما من كتاب إلا وبه أخطاء، وأبى الله أن يصح إلا كتابه.
ولما ازدادت مطالعتي للكتاب ازدادت بالتالي كمية هذه الأخطاء التي لاحظتها، فأشار عليّ بعض إخواني أن أكتب هذه الملاحظات وأرسلها
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
শ্রদ্ধেয় ডক্টর মাহমুদ আব্দুল রাজ্জাক আর-রিদওয়ানি রচিত 'আসমাউল্লাহিল হুসনা আস-সাবি-তাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ' (কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ) গ্রন্থটি এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে আমার দেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি গ্রন্থ। আমি এটি থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি এবং আমার পরিচিত ইলম অন্বেষণকারীদের এটি সংগ্রহ করতে ও এটি থেকে উপকৃত হতে আমি সবসময় উৎসাহিত করে আসছি। আমি এবং আমার মতো আরও অনেক ইলম অন্বেষণকারী এই গ্রন্থে কিছু ভুল লক্ষ্য করেছি। তবে শুরুর দিকে আমি সেগুলো এড়িয়ে যেতাম, কারণ এমন কোনো গ্রন্থ নেই যাতে ভুল নেই; আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে অস্বীকার করেছেন।
যখন আমি বইটি আরও গভীরভাবে অধ্যয়ন করতে লাগলাম, তখন আমার দৃষ্টিগোচর হওয়া ভুলের পরিমাণও বাড়তে লাগল। এরপর আমার কিছু দ্বীনি ভাই আমাকে পরামর্শ দিলেন যেন আমি এই পর্যবেক্ষণগুলো লিখে পাঠাই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৬)
إلى فضيلة الدكتور/ محمود عبد الرازق تعاونًا معه على الخير، وتنزيهًا لهذا الكتاب القيم مما وقع فيه من أخطاء، وبالفعل قمت بذلك واتصلت به هاتفيًّا وأخبرته بأنني سوف أرسل له مع بعض إخواني وريقات بها بعض ملاحظات على الكتاب فأصر أن يعرف مجملًا لهذه الملاحظات فأخبرته بها فأصر على موقفه ولم يبد أي تجاوب معي وقال مقالة عظيمة ما كنت أتوقع أبدًا أن تصدر منه حيث قال لي: «إنني اطلعت على خمس وثلاثين موسوعة إلكترونية لم يطلع عليها السلف الصالح»! ! (1).
فلما رأيت الأمر بهذه الصورة استخرت الله وعزمت على نشر هذه النقد في مقدمة أحد الكتب التي أقوم بتحقيقها في مجال "العقيدة" ولكن أشار علي أحد إخواني الفضلاء أن أفرده بالنشر حتى تعم الفائدة فاستجبت لطلبه مستعينًا بالله على تحقيق ذلك.
ولعل من الضرورة أن أشير إلى أهم تلك الأخطاء ليعلم القارئ أهمية هذا النقد. فأقول: يمكن حصر أهم الأخطاء في النقاط التالية:
--------------------------------------------
মুহতারাম ডক্টর মাহমুদ আব্দুল রাযিকের প্রতি, তাঁর সাথে কল্যাণের কাজে সহযোগিতার লক্ষ্যে এবং এই মূল্যবান কিতাবটি তাতে নিপতিত ভুলভ্রান্তি থেকে পবিত্র করার উদ্দেশ্যে আমি উদ্যোগ গ্রহণ করি। বস্তুত আমি তা-ই করেছি এবং তাঁর সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করে তাঁকে জানিয়েছি যে, আমার কতিপয় ভাইয়ের মাধ্যমে আমি কিতাবটির উপর কিছু মন্তব্য সম্বলিত কিছু কাগজ তাঁর কাছে পাঠাব। কিন্তু তিনি এই মন্তব্যগুলোর সারসংক্ষেপ জানার জন্য পীড়াপীড়ি করলেন। তাই আমি তাঁকে সেগুলো জানালাম। এরপরও তিনি তাঁর অবস্থানে অটল থাকলেন এবং আমার সাথে কোনো প্রকার ইতিবাচক সাড়া দিলেন না। বরং তিনি এমন এক অদ্ভুত কথা বললেন যা আমি কখনো তাঁর কাছ থেকে আশা করিনি। তিনি আমাকে বললেন: «আমি এমন পঁয়ত্রিশটি ইলেকট্রনিক বিশ্বকোষ দেখেছি যা সালাফে সালেহীন দেখেননি»!! (১)।
যখন আমি বিষয়টি এই অবস্থায় দেখলাম, তখন আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম এবং ‘আকীদা’ বিষয়ক যে কিতাবটি আমি সম্পাদনা করছি তার ভূমিকায় এই সমালোচনাটি প্রকাশ করার সংকল্প করলাম। কিন্তু আমার এক মুহতারাম ভাই আমাকে পরামর্শ দিলেন যে, আমি যেন এটি পৃথকভাবে প্রকাশ করি যাতে উপকারিতা ব্যাপক হয়। তাই আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে তা বাস্তবায়নে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করলাম।
সম্ভবত সেই ভুলগুলোর মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটির প্রতি ইঙ্গিত করা আবশ্যক যাতে পাঠক এই সমালোচনার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেন। আমি বলছি: প্রধান ভুলগুলোকে নিচের পয়েন্টগুলোতে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৭)
1 - زعمه أنه لم يقم أحد من السلف الصالح ولا من علماء المسلمين وأئمتهم بإحصاء الأسماء الحسنى لعدم توفر الحاسب الآلي لديهم.
2 - اشتراطه فحص جميع النصوص القرآنية والنبوية لإحصاء الأسماء الحسنى.
3 - زعمه امتناع إحصاء الأسماء الحسنى بدون استخدام الحاسب الآلي.
4 - ادعاؤه أنه أحاط علمًا بالسنة النبوية كلها.
5 - عدم قبوله للحديث الحسن في باب إثبات الأسماء الحسنى.
6 - رده كذلك للحديث الموقوف الذي له حكم الرفع.
7 - زعمه أن الأسماء الحسنى الثابتة في الكتاب والسنة تسعة وتسعون اسمًا فقط.
8 - إخراجه لفظ الجلالة "الله" من التسعة والتسعين اسمًا.
9 - جزمه بأن الأسماء التي قام بإحصائها هي المعنية بحديث " إن لله تسعة وتسعين اسمًا
… ".
10 - تفسيره لحديث: " إن لله تسعة وتسعين اسمًا
… ". تفسيرا لم يقله أحد قبله.
11 - وقوعه في أخطاء كثيرة نتيجة لاعتماده الكلي على الحاسب الآلي.
هذه هي أهم الأخطاء التي وقع فيها الدكتور، وسيجد القارئ أخطاء أخرى نبهت عليها في غضون هذه الرسالة ولم أستوعب كل الأخطاء الموجودة في الكتاب، ولكن ذكرت ما تيسر لي الوقوف عليه.
১ - তাঁর এই দাবি যে, সালফে সালেহীন এবং মুসলিম উলামা ও ইমামদের কেউ আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম নামসমূহ (আসমাউল হুসনা) গণনা করেননি, কারণ তাঁদের নিকট কম্পিউটার সহজলভ্য ছিল না।
২ - সুন্দরতম নামসমূহ গণনার জন্য কুরআন ও সুন্নাহর সমস্ত বর্ণনা বা পাঠ (নুসূস) পরীক্ষা করার শর্তারোপ করা।
৩ - কম্পিউটার ব্যবহার ব্যতিরেকে সুন্দরতম নামসমূহ গণনা করা অসম্ভব বলে তাঁর দাবি।
৪ - তাঁর এই দাবি যে, তিনি সমগ্র সুন্নাতে নববীয়ার পূর্ণ জ্ঞান পরিবেষ্টন করেছেন।
৫ - সুন্দরতম নামসমূহ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে 'হাসান' পর্যায়ের হাদীস গ্রহণ না করা।
৬ - অনুরূপভাবে এমন 'মাওকুফ' হাদীসও প্রত্যাখ্যান করা যা 'মারফু' এর হুকুম রাখে।
৭ - কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত সুন্দরতম নামসমূহ কেবল নিরানব্বইটি—তাঁর এই দাবি।
৮ - নিরানব্বইটি নামের তালিকা থেকে মহান আল্লাহর নাম "আল্লাহ" শব্দটিকে বাদ দেওয়া।
৯ - তাঁর এই সুনিশ্চিত দাবি যে, তিনি যে নামগুলো গণনা করেছেন সেগুলোই "নিশ্চয় আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে..." হাদীসের মূল উদ্দেশ্য।
১০ - "নিশ্চয় আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে..." হাদীসটির এমন ব্যাখ্যা প্রদান করা যা তাঁর পূর্বে কেউ কখনো বলেনি।
১১ - কম্পিউটারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়ার ফলে তাঁর অসংখ্য ভুল-ভ্রান্তিতে পতিত হওয়া।
এগুলোই হলো ডক্টর সাহেবের করা প্রধান প্রধান ভুলসমূহ। এছাড়া পাঠক এই পুস্তিকার বিভিন্ন স্থানে আরও কিছু ভুল দেখতে পাবেন যেগুলোর ব্যাপারে আমি সতর্ক করেছি। তবে আমি বইটিতে বিদ্যমান সমস্ত ভুল এখানে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করিনি, বরং আমার জন্য যতটুকু সহজ হয়েছে কেবল সেটুকুই উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৮)
وليعلم القارئ الكريم أني لا أريد ببيان أخطاء هذا الكتاب أن أحط من قدره أو من قدر مؤلفه، بل إنما أريد الانتصار للحق بالحق، والدفاع عن السلف الصالح وعن عقيدتهم الطاهرة النقية الزكية، وتنزيهًا للكتاب عن الخطأ ما أمكن. فإن ذلك أدعى لإقبال الناس عليه واستفادتهم منه.
والله أسأل أن يجعل كتابي هذا خالصًا لوجهه الكريم. وأن يتقبله مني بقبول حسن، وأن لا يخزني يوم يبعثون يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم.
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
وكتب
محمد محب الدين أبو زيد
القاهرة: الأحد 8 من رجب، سنة 1428 هـ
الموافق 22 يونيو 2007 م
* * *
সম্মানিত পাঠকগণের জানা উচিত যে, এই গ্রন্থের ভুলসমূহ বর্ণনা করার মাধ্যমে আমি এর মর্যাদা বা এর লেখকের মর্যাদা খাটো করতে চাই না; বরং আমি সত্যের মাধ্যমে সত্যকে বিজয়ী করতে চাই, এবং সালাফে সালেহীন ও তাঁদের পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও বিশুদ্ধ আকিদার প্রতিরক্ষা করতে চাই, আর যথাসম্ভব এই গ্রন্থকে ভুলভ্রান্তি থেকে মুক্ত রাখতে চাই। কেননা এটিই মানুষের এতে মনোনিবেশ করার এবং এর থেকে উপকৃত হওয়ার বড় কারণ।
আর আল্লাহর কাছে আমি প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই গ্রন্থটিকে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন। আর তিনি যেন আমার নিকট থেকে একে উত্তমভাবে কবুল করেন এবং যেদিন মানুষকে পুনরুত্থিত করা হবে সেদিন যেন আমাকে লাঞ্ছিত না করেন—যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সে ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আসবে।
আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
লেখক
মুহাম্মদ মুহিব্বুদ্দীন আবু যায়দ
কায়রো: রবিবার, ৮ই রজব, ১৪২৮ হিজরী
মোতাবেক ২২শে জুন ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৯)
الدفاع عن السلف الصالحوبيان أن الإحصاء لا يتوقفعلى استخدام الحاسب الآليذكر الدكتور (ص: 14) أن ابن الوزير اليماني قال: «تمييز التسعة والتسعين يحتاج إلى نص متفق على صحته أو توفيق رباني، وقد عدم النص المتفق على صحته في تعيينها فينبغي في تعيين ما تعين منها الرجوع إلى ما ورد في كتاب الله بنصه، أو ما ورد في المتفق على صحته من الحديث» اهـ.
ثم علق الدكتور قائلًا: «والرجوع إلى ما أشار إليه ابن الوزير مسألة أكبر من طاقة فرد وأوسع من دائرة مُجِدٍّ؛ لأن الشرط الأول والأساسي في إحصاء الأسماء الحسنى هو فحص جميع النصوص القرآنية وجميع ما ورد في السنة النبوية مما وصل إلينا في المكتبة الإسلامية، وهذا الأمر يتطلب استقصاءً شاملًا لكل اسم ورد في القرآن، وكذلك كل نص ثبت في السنة، ويلزم من هذا بالضرورة فرز عشرات الآلاف من الأحاديث النبوية وقراءتها كلمة كلمة للوصول إلى اسم واحد، وهذا في العادة خارج عن قدرة البشر المحدودة وأيامهم المعدودة؛ ولذلك لم يقم أحد من أهل العلم سلفًا وخلفًا بتتبع الأسماء حصرًا منذ أكثر من ألف عام، وإنما كان كل منهم يجمع ما استطاع باجتهاده أو ما تيسر له من جمع غيره واجتهاده .... لكن الله عز وجل لَمَّا يسر الأسباب في هذا العصر أصبح
সলফে সালেহীনদের প্রতিরক্ষাএবং আসমাউল হুসনা গণনা যে কম্পিউটার ব্যবহারের ওপরনির্ভরশীল নয় তার বর্ণনাডক্টর উল্লেখ করেছেন (পৃষ্ঠা: ১৪) যে ইবনুল উজির ইয়ামানি বলেছেন: «নিরানব্বইটি নামকে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করার জন্য এমন একটি নসের (দলিল) প্রয়োজন যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐক্যমত্য রয়েছে অথবা রব্বানি তাওফীক প্রয়োজন। আর সেগুলো নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতার ওপর ঐক্যমত্য রয়েছে এমন নস পাওয়া যায় না, তাই যা কিছু নির্ধারিত হয়েছে তা নির্ধারণে আল্লাহর কিতাবে সরাসরি যা বর্ণিত হয়েছে অথবা হাদিসের যে বর্ণনাগুলোর বিশুদ্ধতার ওপর ঐক্যমত্য রয়েছে সেদিকে ফিরে যাওয়া উচিত» ইতি।
অতঃপর ডক্টর মন্তব্য করে বলেন: «ইবনুল উজির যা ইঙ্গিত করেছেন সেদিকে ফিরে যাওয়া একজন ব্যক্তির সক্ষমতার চেয়েও বড় বিষয় এবং একজন পরিশ্রমী ব্যক্তির পরিধির চেয়েও বিস্তৃত; কারণ আসমাউল হুসনা গণনার প্রথম ও মৌলিক শর্ত হলো সমস্ত কুরআনি নস এবং ইসলামী লাইব্রেরিতে আমাদের কাছে পৌঁছানো সুন্নাহর সমস্ত বর্ণনা পরীক্ষা করা। আর এই বিষয়টি কুরআনে বর্ণিত প্রতিটি নামের জন্য একটি ব্যাপক অনুসন্ধান দাবি করে, ঠিক একইভাবে সুন্নাহর প্রতিটি প্রমাণিত নসের ক্ষেত্রেও। এর জন্য অপরিহার্যভাবে হাজার হাজার হাদিস বাছাই করা এবং একটি মাত্র নামের কাছে পৌঁছাতে শব্দে শব্দে পাঠ করা প্রয়োজন। সাধারণত এটি মানুষের সীমিত ক্ষমতা এবং তাদের গণনাকৃত দিনগুলোর (আয়ুর) অতীত; তাই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের মধ্য থেকে কেউ গত এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে একচেটিয়াভাবে নামগুলো এভাবে অনুসরণ করেননি। বরং তাদের প্রত্যেকেই নিজ ইজতিহাদ অনুযায়ী যা সক্ষম হয়েছেন অথবা অন্যের সংগ্রহ ও ইজতিহাদ থেকে যা সহজ হয়েছে তা একত্র করেছেন... কিন্তু আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত যখন বর্তমান যুগে উপায়-উপকরণ সহজ করে দিয়েছেন তখন তা হয়ে উঠেছে...»
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১০)
من الممكن إنجاز مثل هذا البحث في وقت قصير نسبيًّا، وذلك باستخدام الكمبيوتر والموسوعات الإلكترونية التي قامت على خدمة القرآن وحوت آلاف الكتب العلمية واشتملت على المراجع الأصلية للسنة النبوية وكتب التفسير والفقه
… ولم تكن هذه التقنية قد ظهرت منذ عشر سنوات تقريبًا، أو بصورة أدق لم يكن ما صدر منها كافيًا لإنجاز مثل هذا البحث
… » اهـ.
أقول:
هذا الكلام يحتوي على عدة أخطاء وبيانها كالتالي:
أولًا: زعم الدكتور أن فحص جميع النصوص القرآنية والنبوية شرط أساسي في إحصاء الأسماء الحسنى التسعة والتسعين.
وهذا كلام لا دليل عليه، ولم يشترط أحد من العلماء هذا الشرط، وكلام الإمام ابن الوزير اليماني رحمه الله لا يدل عليه كما هو ظاهر. ودليل بطلان هذا الشرط: هو أنه لا يوجد أحد يستطيع فحص جميع النصوص النبوية، مهما أوتي من علم وحفظ، وتوفرت له سبل البحث بواسطة الكمبيوتر أو غيره، كما سيأتي بيانه قريبًا (1). فإذا اشترطنا هذا الشرط أدى إلى إلغاء العمل بحديث النبي صلى الله عليه وسلم: «إن لله تسعة وتسعين اسمًا مائة إلا واحد من أحصاها دخل الجنة» (2). فتبين من ذلك أن هذا الشرط غير صحيح، «وكل شرط ليس في كتاب الله فهو باطل».
--------------------------------------------
এমন গবেষণা তুলনামূলক অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব, আর তা কম্পিউটার এবং ঐসব ইলেকট্রনিক বিশ্বকোষ ব্যবহারের মাধ্যমে যা কুরআনের খিদমতে নিয়োজিত এবং যাতে হাজার হাজার ইলমি কিতাব রয়েছে এবং যা সুন্নাহে নববী, তাফসির ও ফিকহ শাস্ত্রের মূল উৎসসমূহকে ধারণ করেছে
… প্রায় দশ বছর আগে এই প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়নি, অথবা আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে, এ ধরণের গবেষণা সম্পন্ন করার জন্য তখন যা প্রকাশিত হয়েছিল তা পর্যাপ্ত ছিল না
… » সমাপ্ত।
আমি বলছি:
এই বক্তব্যের মধ্যে বেশ কিছু ভুল রয়েছে এবং সেগুলোর বিবরণ নিম্নরূপ:
প্রথমত: ডাক্তার সাহেব দাবি করেছেন যে, আল্লাহর সুন্দর নিরানব্বইটি নাম গণনার ক্ষেত্রে সমস্ত কুরআনি ও নববী নস (পাঠ্য) পরীক্ষা করা একটি মৌলিক শর্ত।
এটি এমন এক কথা যার কোনো দলিল নেই এবং আলেমদের কেউই এই শর্তারোপ করেননি। ইমাম ইবনুল উজির আল-ইয়ামানি (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য থেকেও এটি প্রমাণিত হয় না, যেমনটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। আর এই শর্তটি বাতিল হওয়ার প্রমাণ হলো: এমন কেউ নেই যিনি সমস্ত নববী নস (পাঠ্য) পরীক্ষা করতে সক্ষম, তাকে যত ইলম ও মুখস্থ রাখার শক্তিই দান করা হোক না কেন এবং কম্পিউটার বা অন্য কোনো মাধ্যমে গবেষণার সুযোগ সহজলভ্য হোক না কেন, যা অচিরেই ব্যাখ্যা করা হবে (১)। সুতরাং আমরা যদি এই শর্তারোপ করি, তবে তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই হাদিসের ওপর আমল করাকে রহিত করে দেয়: «নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, এক কম একশত; যে ব্যক্তি এগুলো গণনা (সংরক্ষণ) করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে» (২)। এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে এই শর্তটি সঠিক নয়, আর «যে শর্ত আল্লাহর কিতাবে নেই তা বাতিল»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقد أدى اشتراط الدكتور لهذا الشرط إلى أن يدعي أن مسألة الإحصاء أكبر من طاقة البشر وخارجة عن قدرتهم المحدودة وأيامهم المعدودة! !
وجوابًا على ذلك أقول:
بل إن إحصاء الأسماء الحسنى التسعة والتسعين في وسع كل مؤمن، حيث إن النبي صلى الله عليه وسلم قد رغّب المؤمنين من لدن الصحابة رضي الله عنهم إلى قيام الساعة على إحصائها، مما يدل على أن هذا الإحصاء في طاقتهم وداخل قدرتهم، وهل يرغّب النبي صلى الله عليه وسلم في أمر خارج عن قدرة البشر؟ ! !
ولو كان هذا الإحصاء أكبر من طاقة فرد وأوسع من دائرة مُجد، ولا يستطيع أحد القيام به إلا بفرز عشرات الآلاف من الأحاديث واستخدام الحاسب الآلي كما يزعم الدكتور، لم يكن لهذا الحديث فائدة بدون الحاسب الآلي، ولقصرت فائدة هذا الحديث على هذا العصر، أو على الدكتور خاصة، وهذا ظاهر البطلان.
ثم إن أحكام الشريعة لا تتوقف على شيء من العلوم الكونية والاكتشافات العلمية، كالحاسب الآلي وغيره. فأحكام الشريعة يستوي في إمكانية معرفتها والقيام بها جمهور الناس، وهذا مقتضى شمولية دعوة الإسلام لجميع البشر.
ولا ننكر أن بعض الاكتشافات العلمية الحديثة قد تُيسِّر على بعض الناس القيام ببعض أمور الشريعة، ولكن أن نقول: إن شيئا من أمور الشريعة تتوقف معرفته على بعض الاكتشافات العلمية أو العلوم الكونية. فهذا الذي لا نقبله أبدًا.
ডক্টরের এই শর্তারোপ তাকে এই দাবি করতে পরিচালিত করেছে যে, (আল্লাহর নামের) গণনার বিষয়টি মানুষের সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে এবং তাদের সীমিত ক্ষমতা ও নির্দিষ্ট দিনগুলোর আয়ত্তের বাইরে! !
এর জবাবে আমি বলব:
বরং নিরানব্বইটি আসমাউল হুসনা (সুন্দরতম নাম) গণনা করা প্রত্যেক মুমিনের সাধ্যের মধ্যে রয়েছে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সময় থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আসা সকল মুমিনকে তা গণনা করতে উৎসাহিত করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, এই গণনা তাদের সামর্থ্য ও ক্ষমতার ভেতরেই রয়েছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এমন কোনো কাজে উৎসাহিত করবেন যা মানুষের ক্ষমতার বাইরে? ! !
আর এই গণনা যদি কোনো ব্যক্তির সামর্থ্যের চেয়ে বড় এবং একজন পরিশ্রমী ব্যক্তির পরিধির চেয়ে প্রশস্ত হতো, আর ডক্টর যেমন দাবি করেছেন সে অনুযায়ী হাজার হাজার হাদীস বাছাই করা এবং কম্পিউটার ব্যবহার করা ছাড়া যদি কেউ তা করতে সক্ষম না হতো, তবে কম্পিউটার ব্যতীত এই হাদীসের কোনো ফায়দা থাকত না। আর এই হাদীসের উপকারিতা কেবল এই যুগে অথবা বিশেষভাবে ডক্টরের জন্য সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ত। অথচ এর অসারতা সুস্পষ্ট।
তাছাড়া শরীয়তের বিধানসমূহ মহাজাগতিক বিজ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার—যেমন কম্পিউটার ইত্যাদি—কিছুর ওপরই নির্ভরশীল নয়। শরীয়তের বিধানাবলী জানা এবং তা পালন করার সক্ষমতার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ সমান অংশীদার। আর এটাই সকল মানুষের প্রতি ইসলামের দাওয়াতের ব্যাপকতার দাবি।
আমরা এটি অস্বীকার করি না যে, আধুনিক কিছু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার শরীয়তের কিছু বিষয় পালন করা মানুষের জন্য সহজ করে দিতে পারে। কিন্তু শরীয়তের কোনো একটি বিষয় জানার ক্ষেত্রকে কিছু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বা মহাজাগতিক বিজ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল বলা—এটি আমরা কখনোই গ্রহণ করব না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১২)
قال الإمام الشاطبي في «الموافقات» (2/ 58):
«هذه الشريعة المباركة أمية (1)؛ لأن أهلها كذلك، فهو أجرى (2) على اعتبار المصالح، ويدل على ذلك أمور:
أحدها: النصوص المتواترة اللفظ والمعنى، كقوله تعالى: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ} [الجمعة: 2]، {فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ} [الأعراف: 158]، وفي الحديث: «بعثت إلى أمة أمية» (3) لأنهم لم يكن لهم علم بعلوم
--------------------------------------------
ইমাম শাতবি তাঁর «আল-মুওয়াফাকাত» গ্রন্থে (২/ ৫৮) বলেছেন:
«এই বরকতময় শরীয়ত উম্মি বা নিরক্ষরদের স্বভাবজাত (১); কারণ এর অনুসারীরাও তদ্রূপ। সুতরাং এটি জনকল্যাণ বিবেচনার ক্ষেত্রে অধিক উপযোগী (২), এবং বেশ কিছু বিষয় এর প্রমাণ দেয়:
প্রথমত: শাব্দিক ও অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির (সুসংবাদিত) পাঠসমূহ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই উম্মিদের (নিরক্ষরদের) মাঝে তাদেরই একজনকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন} [জুমুআ: ২], {অতএব তোমরা আল্লাহর ওপর ঈমান আনো এবং তাঁর প্রেরিত উম্মি নবীর ওপর, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের ওপর ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো} [আরাফ: ১৫৮]। এবং হাদিসে এসেছে: «আমি এক উম্মি উম্মতের নিকট প্রেরিত হয়েছি» (৩); কারণ তাদের কোনো জাগতিক জ্ঞান সম্পর্কে ধারণা ছিল না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الأقدمين، والأمي منسوب إلى الأم، وهو الباقي على أصل ولادة الأم لم يتعلم كتابًا ولا غيره، فهو على أصل خلقته التي ولد عليها، وفي الحديث: «نحن أمة أمية، لا نحسب ولا نكتب، الشهر هكذا وهكذا وهكذا» (1). وقد فسر معنى الأمية في الحديث، أي: ليس لنا علم بالحساب ولا الكتاب. ونحوه قوله تعالى: {وَمَا كُنْتَ تَتْلُو مِنْ قَبْلِهِ مِنْ كِتَابٍ وَلَا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ} [العنكبوت: 48]. وما أشبه هذا من الأدلة المبثوثة في الكتاب والسنة، الدالة على أن الشريعة موضوعة على وصف الأمية؛ لأن أهلها كذلك
… ) اهـ.
وقال الإمام الشاطبي رحمه الله أيضًا في «الموافقات» (2/ 66، 74 - 76): «ما تقرر من أمية الشريعة وأنها جارية على مذاهب أهلها - وهم العرب - ينبني عليه قواعد:
… ومنها: أن تكون التكاليف الاعتقادية والعملية مما يسع الأمي تعقلها ليسعه الدخول تحت حكمها.
أما الاعتقادية: بأن تكون من القرب للفهم والسهولة على العقل بحيث يشترك فيها الجمهور، من كان منهم ثاقب الفهم أو بليدًا؛ فإنها لو كانت مما لا يدركه إلا الخواص لم تكن الشريعة عامة، ولم تكن أمية، وقد ثبت كونها كذلك، فلابد أن تكون المعاني المطلوب علمها واعتقادها
--------------------------------------------
পূর্ববর্তীদের; আর 'উম্মী' শব্দটি 'উম্ম' বা মায়ের দিকে সম্পর্কিত। এর অর্থ হলো এমন ব্যক্তি যে তার মায়ের থেকে জন্মের মূল অবস্থার ওপর অবশিষ্ট রয়েছে, সে কোনো কিতাব বা অন্য কিছু শিক্ষা করেনি। ফলে সে তার সেই সৃষ্টিগত মূল অবস্থার ওপর রয়েছে যে অবস্থার ওপর সে জন্মগ্রহণ করেছে। আর হাদীসে এসেছে: «আমরা এক উম্মী জাতি, আমরা হিসাব করি না এবং লিখিও না; মাস হলো এমন, এমন এবং এমন» (১)। হাদীসে উম্মী হওয়ার অর্থের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে যে, আমাদের হিসাব এবং লেখালেখির কোনো জ্ঞান নেই। এরই সদৃশ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি এর পূর্বে কোনো কিতাব তিলাওয়াত করতেন না এবং আপনার ডান হাত দিয়ে তা লিখতেন না} [আল-আনকাবুত: ৪৮]। কুরআন ও সুন্নাহর ছড়িয়ে থাকা দলিলসমূহের মধ্যে এটি এবং এর সদৃশ দলিলগুলো প্রমাণ করে যে, শরীয়তকে উম্মী বা সরলতার গুণাবলির ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়েছে; কারণ এর অনুসারীরা তেমনই ছিলেন
… ) সমাপ্ত।
ইমাম শাতবি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আল-মুয়াফাকাত’ (২/ ৬৬, ৭৪ - ৭৬) গ্রন্থে আরও বলেছেন: ‘শরীয়তের উম্মী হওয়া এবং এটি তার অনুসারীদের—যারা হলো আরব—পদ্ধতির ওপর চলমান হওয়া থেকে কিছু মূলনীতি সাব্যস্ত হয়:
… তার মধ্যে একটি হলো: বিশ্বাসগত এবং কর্মগত বিধানগুলো এমন হতে হবে যা একজন উম্মী বা সাধারণ ব্যক্তির অনুধাবন করার ক্ষমতার মধ্যে থাকে, যাতে সে এর হুকুমের অধীনে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
বিশ্বাসগত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে: তা বুঝের নিকটবর্তী এবং বিবেকের জন্য সহজ হতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ—চাই সে তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমান হোক বা স্থূলবুদ্ধি সম্পন্ন—তাতে শরিক হতে পারে। কারণ তা যদি এমন হতো যা কেবল বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিরাই উপলব্ধি করতে পারে, তবে শরীয়ত সর্বজনীন হতো না এবং এটি উম্মী বা সহজবোধগম্য শরীয়ত হতো না। অথচ এটি যে এমনই (উম্মী) তা প্রমাণিত। অতএব যেসব বিষয়ের জ্ঞান ও বিশ্বাস থাকা আবশ্যক, তা অবশ্যই হতে হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
سهلة المأخذ.
وأيضًا فلو لم تكن كذلك لزم بالنسبة إلى الجمهور تكليف ما لا يطاق، وهو غير واقع كما هو مذكور في الأصول
…وأما العمليات: فمن مراعاة الأمية فيها أن وقع تكليفهم بالجلائل في الأعمال والتقريبات (1) في الأمور، بحيث يدركها الجمهور، كما عرف أوقات الصلوات بالأمور المشاهدة لهم، كتعريفها بالظلال، وطلوع الفجر، والشمس وغروبها، وغروب الشفق، وكذلك الصوم
… ولم يطالبنا بحساب مسير الشمس مع القمر بالمنازل؛ لأن ذلك لم يكن من معهود العرب ولا من علومها، ولدقة الأمر فيه، وصعوبة الطريق إليه. وأجرى لنا غلبة الظن في الأحكام مجرى اليقين وعذر الجاهل فرفع عنه الإثم، وعفا عن الخطأ، إلى غير ذلك من الأمور المشتركة للجمهور، فلا يصح الخروج عما حد في الشريعة، ولا تطلب ما وراء هذه الغاية؛ فإنها مظنة الضلال، ومزلة الأقدام» اهـ.
قلت: وكلام هذا الإمام يدل دلالة واضحة على أن الشريعة لا تتوقف معرفتها على شيء من العلوم الطبيعية والاكتشافات العِلميَّة الحديثة، فما ذهب إليه الدكتور من تعذر إحصاء الأسماء التسعة والتسعين بدون وجود الحاسب الآلي باطل، اعتمادًا على الأدلة التي ساقها الإمام الشاطبي رحمه الله.
--------------------------------------------
সহজবোধ্য।
তদুপরি, এটি যদি এমন না হতো, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এমন দায়িত্ব অর্পণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ত যা তাদের সাধ্যাতীত; অথচ উসুল শাস্ত্রের বর্ণনা অনুযায়ী বাস্তবে এমনটি ঘটে না
…আর কর্মগত বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে: এতে উম্মি বা নিরক্ষরতার (সহজবোধ্যতার) বিবেচনার দিকটি হলো—তাদেরকে আমলসমূহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি এবং বিষয়সমূহে এমন সব আনুমানিক নিদর্শনের (১) মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যা সাধারণ মানুষ সহজেই অনুধাবন করতে পারে। যেমন, তাদের কাছে দৃশ্যমান বিষয়াবলি দ্বারা নামাজের ওয়াক্তসমূহ নির্ধারণ করা হয়েছে; যেমন ছায়া, সুবহে সাদিকের উদয়, সূর্যের উদয় ও অস্ত এবং সন্ধ্যার লাল আভা অদৃশ্য হওয়ার মাধ্যমে ওয়াক্ত চেনা। একইভাবে রোজার বিধানও
… আর তিনি আমাদের কাছে চন্দ্র-সূর্যের কক্ষপথ ও মঞ্জিলসমূহের সূক্ষ্ম হিসাব দাবি করেননি; কারণ এটি আরবদের পরিচিত বিষয় ছিল না এবং তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্তও ছিল না। তদুপরি, এই বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং এর প্রক্রিয়াও অত্যন্ত কঠিন। তিনি শরিয়তের বিধানের ক্ষেত্রে প্রবল ধারণাকে নিশ্চিত জ্ঞানের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং অজ্ঞ ব্যক্তিকে ওজরপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য করে তার গুনাহ তুলে নিয়েছেন এবং ভুলত্রুটি ক্ষমা করেছেন—এ জাতীয় আরও অনেক বিষয় যা সাধারণ মানুষের জন্য প্রযোজ্য। অতএব, শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সীমার বাইরে যাওয়া সমীচীন নয় এবং এই লক্ষ্যের অতিরিক্ত কিছুর অনুসন্ধান করাও উচিত নয়; কারণ এটি পথভ্রষ্টতার আশঙ্কা এবং পা পিছলে যাওয়ার স্থান।" সমাপ্ত।
আমি বলি: এই ইমামের বক্তব্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, শরিয়ত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা কোনো প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বা আধুনিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ওপর নির্ভরশীল নয়। সুতরাং কম্পিউটারের অস্তিত্ব ছাড়া আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম গণনা করা অসম্ভব বলে ওই ডাক্তার যে মত প্রকাশ করেছেন, তা ইমাম শাতিবি (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক উপস্থাপিত দলিলের ভিত্তিতে বাতিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ثانيًا: زعم الدكتور أنه لم يقم أحد من أهل العلم سلفًا وخلفًا بتتبع الأسماء حصرًا منذ أكثر من ألف عام لعدم توفر الحاسب الآلي لديهم! !
أقول:
هل تظن يا فضيلة الدكتور أن السابقين الأولين من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان من أهل القرون الثلاثة الأولى المفضلة لم يستطيعوا إحصاء الأسماء التسعة والتسعين لعدم توفر الحاسب الآلي لديهم؟ !
وهل نفهم من ذلك أن الله عز وجل قد حرم السلف الصالح وعلى رأسهم الصحابة رضي الله عنهم من هذه الفضيلة وخصك بها يا فضيلة الدكتور؟ !
يجب علينا أن نعلم أن السلف الصالح رضي الله عنهم قد شهد لهم النبي صلى الله عليه وسلم بالخيرية في قوله صلى الله عليه وسلم: «خير الناس قرني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم» (1). فهم خير الناس علمًا وعملًا. وكل فضيلة في علم أو عمل، وكل جزء من الدين صغير أو كبير فإنهم قد سبقونا إلى معرفته والعمل به.
فلا شك أنهم قد قاموا بإحصاء الأسماء التسعة والتسعين؛ لأنه جزء من الدين وفضيلة في العلم والعمل، وليس عدم نقل ذلك إلينا دليلًا على عدم وقوعه. والله أعلم.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: ডক্টর দাবি করেছেন যে, বিগত এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে সালাফ (পূর্ববর্তী) ও খালাফ (পরবর্তী) আলেমদের কেউ নির্দিষ্টভাবে নামগুলো গণনা করতে সক্ষম হননি, কারণ তাঁদের কাছে কম্পিউটার ছিল না! !
আমি বলি:
হে সম্মানিত ডক্টর, আপনি কি মনে করেন যে মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে সেই প্রথম অগ্রগামী ব্যক্তিবর্গ এবং যারা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন—অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ তিন প্রজন্মের ব্যক্তিবর্গ—তাঁদের কাছে কম্পিউটার না থাকার কারণে নিরানব্বইটি নাম গণনা করতে সক্ষম হননি? !
আমরা কি এ থেকে এটিই বুঝব যে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা সালাফে সালেহীনকে—যাঁদের শীর্ষে রয়েছেন সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)—এই ফযীলত থেকে বঞ্চিত করেছেন এবং হে সম্মানিত ডক্টর, আপনাকে এর জন্য নির্দিষ্ট করেছেন? !
আমাদের অবশ্যই জানা উচিত যে, সালাফে সালেহীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বাণীতে শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন: «মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আমার যুগের লোক, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী» (১)। অতএব তাঁরা জ্ঞান ও আমলের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ মানুষ। জ্ঞান বা আমলের প্রতিটি ফযীলত এবং দ্বীনের ছোট-বড় প্রতিটি অংশ সম্পর্কে তাঁরা আমাদের আগেই জ্ঞান লাভ করেছেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেছেন।
তাই এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তাঁরা নিরানব্বইটি নাম গণনা করেছিলেন; কারণ এটি দ্বীনের অংশ এবং জ্ঞান ও আমলের একটি ফযীলত। আর এটি আমাদের নিকট বর্ণিত না হওয়াটা তা না ঘটার দলীল নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قال الإمام ابن القيم رحمه الله في «أعلام الموقعين» (4/ 77 - 78): «ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم في «الصحيح» من وجوه متعددة أنه قال: «خير القرون القرن الذي بعثت فيهم، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم».
فأخبر النبي صلى الله عليه وسلم أن خير القرون قرنه مطلقًا، وذلك يقتضي تقديمهم في كل باب من أبواب الخير، وإلا لو كانوا خيرًا من بعض الوجوه، فلا يكونون خير القرون مطلقًا، فلو جاز أن يخطئ الرجل منهم في حكم وسائرهم لم يفتوا بالصواب، وإنما ظفر بالصواب من بعدهم وأخطئوا هم - لزم أن يكون ذلك القرن خيرًا منهم من ذلك الوجه؛ لأن القرن المشتمل على الصواب خير من القرن المشتمل على الخطأ في ذلك الفن
… ومعلوم أن فضيلة العلم ومعرفة الصواب أكمل الفضائل وأشرفها، فيا سبحان الله! أي وصمة أعظم من أن يكون الصِّدِّيق أو الفاروق أو عثمان أو علي أو ابن مسعود أو سلمان الفارسي أو عبادة بن الصامت وأضرابهم رضي الله عنهم قد أخبر عن حكم الله أنه كيت وكيت في مسائل كثيرة وأخطأ في ذلك، ولم يشتمل قرنهم على ناطق بالصواب في تلك المسائل حتى نبغ من بعدهم فعرفوا حكم الله الذي جهله أولئك السادة، وأصابوا الحق الذي أخطأه أولئك الأئمة؟ ! سبحانك هذا بهتان عظيم» اهـ.
قلت: رحم الله الإمام ابن القيم فكأنه يتكلم في مسألتنا هذه، ولا أظن الدكتور يدعي أن قرنه الذي استطاع فيه إحصاء الأسماء التسعة والتسعين بواسطة الحاسب الآلي أفضل من القرون الثلاثة الأولى المشهود لها بالخيرية! !
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' (৪/ ৭৭ - ৭৮) গ্রন্থে বলেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে 'সহীহ' গ্রন্থে বিভিন্ন সূত্রে সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: 'সর্বোত্তম যুগ হলো সেই যুগ যাতে আমি প্রেরিত হয়েছি, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, তারপর যারা তাদের নিকটবর্তী'।"
অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর যুগটি হচ্ছে নিঃশর্তভাবে সর্বোত্তম যুগ। আর এটি কল্যাণের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দানকে অপরিহার্য করে। অন্যথায়, যদি তারা কেবল কোনো কোনো দিক থেকে উত্তম হতেন, তবে তারা নিঃশর্তভাবে সর্বোত্তম যুগ হতেন না। সুতরাং যদি এমনটি হওয়া বৈধ হতো যে, তাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি কোনো বিধানে ভুল করেছেন এবং তাদের বাকিরাও সঠিক ফতোয়া দিতে পারেননি, বরং কেবল তাদের পরবর্তী লোকেরাই সঠিক সমাধানে পৌঁছেছে অথচ তারা ভুল করেছেন—তবে এটি আবশ্যিকভাবে দাবি করে যে, সেই পরবর্তী যুগটি ওই দিক থেকে তাদের চেয়ে উত্তম; কারণ যে যুগে সঠিক বিষয়টি বিদ্যমান থাকে তা ওই যুগের চেয়ে উত্তম যাতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভুল বিদ্যমান ছিল
… আর এটি তো জানা কথা যে, ইলমের মর্যাদা এবং সঠিক বিষয়টি অনুধাবন করা হচ্ছে সকল মর্যাদার মাঝে পূর্ণাঙ্গ ও শ্রেষ্ঠতম। সুবহানাল্লাহ! এর চেয়ে বড় কলঙ্ক আর কী হতে পারে যে, আবু বকর সিদ্দিক, উমর আল-ফারুক, উসমান, আলী, ইবনে মাসউদ, সালমান আল-ফারিসি অথবা উবাদাহ ইবনুস সামিত এবং তাঁদের সমমর্যাদার ব্যক্তিবর্গ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অনেক মাসআলায় আল্লাহর বিধান সম্পর্কে এমন এমন সংবাদ দিয়েছেন অথচ তাঁরা তাতে ভুল করেছেন, আর তাঁদের যুগে সেই সকল মাসআলায় সঠিক কথা বলার মতো কেউ ছিলেন না, যতক্ষণ না তাঁদের পর এমন এক দলের উদ্ভব ঘটল যারা আল্লাহর ঐ বিধান সম্পর্কে জানতে পারল যা সেই মহান ব্যক্তিবর্গ জানতেন না, এবং তারা সেই সত্যে উপনীত হলো যাতে সেই ইমামগণ ভুল করেছিলেন?! হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র, এটি তো এক মহা অপবাদ।" সমাপ্ত।
আমি বলছি: ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমের ওপর আল্লাহ রহম করুন, তিনি যেন আমাদের এই মাসআলাটি নিয়েই কথা বলছেন। আর আমি মনে করি না যে ডক্টর সাহেব এমন দাবি করবেন যে, তাঁর এই যুগ—যাতে তিনি কম্পিউটারের সাহায্যে নিরানব্বইটি নাম গণনা করতে সক্ষম হয়েছেন—তা সেই প্রথম তিন যুগ থেকে উত্তম যেগুলোর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য প্রদান করা হয়েছে!!
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ويقول الإمام الشاطبي رحمه الله في «الموافقات» (1/ 74 - 76) في معرض بيانه لطرق أخذ العلم عن أهله:
«
… أن يتحرى كتب المتقدمين من أهل العلم المراد؛ فإنهم أقعد به من غيرهم من المتأخرين، وأصل ذلك التجربة والخبر:
أما التجربة: فهو أمر مشاهد في أي علم كان، فالمتأخر لا يبلغ من الرسوخ في علم ما بلغه المتقدم. وحسبك من ذلك أهل كل علم عملي أو نظري، فأعمال المتقدمين في إصلاح دنياهم ودينهم على خلاف أعمال المتأخرين، وعلومهم في التحقيق أقعد، فتحقق الصحابة بعلوم الشريعة ليس كتحقق التابعين، والتابعون ليسوا كتابعيهم، وهكذا إلى الآن، ومن طالع سِيَرهم وأقوالهم وحكاياتهم أبصر العجب في هذا المعنى.
وأما الخبر: ففي الحديث: «خير القرون قرني ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم» (1). وفي هذا إشارة إلى أن كل قرن مع ما بعده كذلك.
وروي عن النبي صلى الله عليه وسلم: «أول دينكم نبوة ورحمة، ثم ملك ورحمة، ثم ملك وجبرية، ثم ملك عضوض» (2). ولا يكون هذا إلا مع قلة الخير، وتكاثر الشر شيئًا بعد شيء، ويندرج ما نحن فيه تحت الإطلاق. وعن ابن مسعود أنه قال: «ليس عام إلا الذي بعده شر منه، لا أقول عام أمطر من عام، ولا عام أخصب من عام، ولا أمير خير من أمير، ولكن ذهاب
--------------------------------------------
ইমাম শাতবি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর «আল-মুওয়াফাকাত» (১/ ৭৪ - ৭৬) গ্রন্থে যোগ্য ব্যক্তিদের থেকে ইলম অর্জনের পদ্ধতি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন:
«
… কাম্য বিষয়ের ক্ষেত্রে পূর্বসূরি আলেমদের কিতাবসমূহ অনুসন্ধান করা; কারণ তারা পরবর্তী যুগের আলেমদের তুলনায় সে বিষয়ে অধিক পারদর্শী ছিলেন। এর মূল ভিত্তি হলো অভিজ্ঞতা ও বর্ণনা:
অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলা যায়: এটি যেকোনো ইলমের ক্ষেত্রেই একটি প্রত্যক্ষ বিষয়। পরবর্তী যুগের কেউ কোনো বিদ্যায় সেই গভীরতা অর্জন করতে পারে না যা পূর্ববর্তীগণ অর্জন করেছিলেন। ব্যবহারিক বা তাত্ত্বিক—যেকোনো ইলমের পারদর্শীদের দিকে তাকালে এটিই আপনার জন্য যথেষ্ট হবে। কেননা তাদের দুনিয়া ও দ্বীন সংশোধনের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের কর্মকাণ্ড পরবর্তীদের চেয়ে ভিন্ন ছিল এবং সূক্ষ্ম বিচারে তাদের জ্ঞান ছিল অধিক সুদৃঢ়। তাই শরিয়তের জ্ঞানে সাহাবায়ে কেরামের বুৎপত্তি তাবিঈদের মতো নয়, আর তাবিঈরা তাদের পরবর্তী যুগের লোকদের মতো নন। এভাবে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত। যারা তাদের জীবনী, উক্তি এবং ঘটনাবলি পাঠ করবেন, তারা এই বিষয়ে বিস্ময়কর কিছু দেখতে পাবেন।
বর্ণনা সম্পর্কে বলা যায়: হাদিসে এসেছে: «সর্বোত্তম যুগ হলো আমার যুগ, অতঃপর তার পরবর্তী যুগ, অতঃপর তার পরবর্তী যুগ» (১)। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, প্রতিটি যুগ তার পরবর্তী যুগের তুলনায় শ্রেষ্ঠ।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: «তোমাদের দ্বীনের সূচনা হলো নবুওয়াত ও রহমত দিয়ে, অতঃপর রাজতন্ত্র ও রহমত, অতঃপর রাজতন্ত্র ও জবরদস্তি, অতঃপর যন্ত্রণাদায়ক রাজতন্ত্র» (২)। এটি কল্যাণের স্বল্পতা এবং ক্রমান্বয়ে অকল্যাণের বিস্তৃতির মাধ্যমেই ঘটে থাকে। আমাদের আলোচ্য বিষয়টিও এই সাধারণ বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: «এমন কোনো বছর আসে না যার পরবর্তী বছরটি তার চেয়ে মন্দ নয়। আমি বলছি না যে এক বছর অন্য বছরের চেয়ে অধিক বৃষ্টিবহুল হবে, বা এক বছর অন্য বছরের চেয়ে অধিক উর্বর হবে, অথবা এক শাসক অন্য শাসকের চেয়ে উত্তম হবে; বরং বিষয়টি হলো (আলেমদের) চলে যাওয়া...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
خياركم وعلمائكم، ثم يحدث قوم يقيسون الأمور برأيهم، فيهدم الإسلام ويثلم». ومعناه موجود في «الصحيح» في قوله: «ولكن ينتزعه مع قبض العلماء بعلمهم، فيبقى ناس جهال يُستفتَون فيُفتُون برأيهم، فيضلون ويضلون» (1) ....
والأخبار هنا كثيرة، وهي تدل على نقص الدين والدنيا، وأعظم ذلك العلم، فهو إذا فى نقص بلا شك. فلذلك صارت كتب المتقدمين وكلامهم وسيرهم أنفع لمن أراد الأخذ بالاحتياط في العلم، على أي نوع كان، وخصوصًا علم الشريعة، الذي هو العروة الوثقى، والوَزَر (2) الأحمى. وبالله تعالى التوفيق» اهـ.
أقول: فالسلف الصالح هم سادات هذه الأمة علمًا وعملًا، فمن ادعى أنه علم شيئًا من الدين لم يعلموه فهو كاذب؛ إذ الدين هو ما جاء عنهم رضي الله عنهم، فما لم يعلموه فليس هو من الدين قولًا واحدًا. وإذا انفرد أحد المتأخرين بقول ولم يسبقه إليه أحد من السلف الصالح فلا بد أن يكون خطأ.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في «مجموع الفتاوى» (21/ 291): «وكل قول ينفرد به المتأخر عن المتقدمين، ولم يسبقه إليه أحد منهم، فإنه يكون خطأ، كمال قال الإمام أحمد بن حنبل: إياك أن تتكلم في مسألة ليس لك فيها إمام» اهـ.
--------------------------------------------
তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি ও তোমাদের আলেমগণ; অতঃপর এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটবে যারা নিজেদের মতের ভিত্তিতে বিষয়সমূহ পরিমাপ করবে, ফলে ইসলাম ধ্বংস হবে এবং তাতে ফাটল ধরবে।" এর অর্থ 'সহিহ' গ্রন্থে বর্ণিত এই বাণীতে বিদ্যমান: "কিন্তু তিনি (আল্লাহ) আলেমদের তুলে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম কেড়ে নেবেন, ফলে কেবল কিছু মূর্খ লোক অবশিষ্ট থাকবে যাদের নিকট ফতোয়া চাওয়া হবে এবং তারা নিজেদের মতানুসারে ফতোয়া প্রদান করবে, ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে" (১) ....
এই প্রসঙ্গে বর্ণনা অনেক, যা দ্বীন ও দুনিয়ার অবনতির প্রমাণ দেয়। আর এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো ইলম বা জ্ঞানের হ্রাস পাওয়া, যা নিঃসন্দেহে এখন হ্রাসের মুখে। এ কারণেই পূর্বসূরিদের গ্রন্থসমূহ, তাদের বক্তব্য এবং তাদের জীবনচরিত ঐ ব্যক্তির জন্য অধিক উপকারী যে জ্ঞানে সতর্কতা অবলম্বন করতে চায়, তা যে কোনো প্রকারের জ্ঞানই হোক না কেন; বিশেষ করে শরীয়তের জ্ঞান, যা হলো সুদৃঢ় রজ্জু এবং সুরক্ষিত আশ্রয়স্থল (২)। আর আল্লাহর তাওফিক কাম্য।
আমি বলি: সালাফে সালেহীন হলেন জ্ঞান ও আমলের দিক থেকে এই উম্মতের নেতা। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করবে যে সে দ্বীনের এমন কিছু জেনেছে যা তারা জানতেন না, সে মিথ্যাবাদী; কেননা দ্বীন হলো তা-ই যা তাঁদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পক্ষ থেকে এসেছে। ফলে তাঁরা যা জানতেন না, তা নিশ্চিতভাবেই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যদি কোনো পরবর্তী স্তরের আলেম এমন কোনো মত পোষণ করেন যাতে সালাফে সালেহীনের কেউ অগ্রগামী হননি, তবে তা অবশ্যই ভুল হবে।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (২১/ ২৯১) গ্রন্থে বলেছেন: "প্রত্যেক এমন কথা যা কোনো পরবর্তী ব্যক্তি পূর্বসূরিদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এককভাবে বলে এবং তাঁদের কেউ তার আগে তা বলেনি, তবে তা ভুল হবে; যেমনটি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: সাবধান! তুমি এমন কোনো বিষয়ে কথা বলো না যাতে তোমার কোনো ইমাম (পূর্বসূরি আদর্শ) নেই।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال الإمام الشاطبي في «الموافقات» (3/ 56):
«فالحذر الحذر من مخالفة الأولين. فلو كان ثَمَّ فضل ما، لكان الأولون أحق به. والله المستعان» اهـ.
فيجب علينا - وعلى الدكتور كذلك - أن نتواضع لعلم السلف الصالح وأن نقر لهم بالسبق في كل باب من أبواب الدين.
كان الإمام أبو عمرو بن العلاء يقول: «ما نحن فيمن مضى إلا كبَقْل (1) في أصول نخلٍ طُوال» (2).
وأبو عمرو هذا تابعي ثقة جليل أحد الأئمة القراء السبعة، وهو يقول هذا في مشايخه من الصحابة والتابعين، فماذا نقول نحن؟ ! هل نقول: إنهم رجال ونحن رجال؟ ! أم نقول: إنهم لم يستطيعوا إحصاء الأسماء التسعة والتسعين لعدم توفر الحاسب الآلي لديهم؟ !
كلا والله، بل نقول كما قال الإمام أبو عمرو بن العلاء نقول: «ما نحن فيمن مضى إلا كقطرة في بحر خضم».
قال الإمام الشافعي في «الرسالة البغدادية» (3):
«وقد أثنى الله تبارك وتعالى على أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم في القرآن والتوراة والإنجيل، وسبق لهم على لسان رسول الله صلى الله عليه وسلم من الفضل
--------------------------------------------
ইমাম শাতবি 'আল-মুয়াফাকাত' (৩/৫৬) গ্রন্থে বলেছেন:
«পূর্ববর্তীদের বিরোধিতার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকুন। যদি সেখানে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব থাকত, তবে পূর্ববর্তীরাই তার অধিক হকদার হতেন। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হচ্ছে।» (সমাপ্ত)
অতএব আমাদের ওপর—এবং সেই ডাক্তারের ওপরও—অপরিহার্য হলো সালাফে সালেহীনের ইলমের সামনে বিনয়ী হওয়া এবং দ্বীনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রগামিতাকে স্বীকার করে নেওয়া।
ইমাম আবু আমর বিন আল-আলা বলতেন: «যারা গত হয়েছেন তাঁদের তুলনায় আমরা দীর্ঘকায় খেজুর গাছের গোড়ায় জন্মানো ক্ষুদ্র তৃণলতার (১) ন্যায়।» (২)
এই আবু আমর ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য মহান তাবিঈ এবং কিরাআতের সাত ইমামের একজন। তিনি তাঁর উস্তাদ সাহাবী ও তাবিঈদের সম্পর্কে এই কথা বলছেন, তাহলে আমরা কী বলব?! আমরা কি বলব যে, তাঁরাও মানুষ আর আমরাও মানুষ?! নাকি আমরা বলব যে, তাঁদের কাছে কম্পিউটার ছিল না বলে তাঁরা নিরানব্বইটি নাম গণনা করতে সক্ষম হননি?!
আল্লাহর কসম, কক্ষনো নয়! বরং আমরা ইমাম আবু আমর বিন আল-আলার মতোই বলব: «গত হয়ে যাওয়া মহাপুরুষদের তুলনায় আমরা বিশাল সমুদ্রের এক ফোঁটা বিন্দুর মতো।»
ইমাম শাফিঈ 'আর-রিসালাতুল বাগদাদিয়্যাহ' (৩) গ্রন্থে বলেছেন:
«আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কুরআন, তাওরাত ও ইঞ্জিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের প্রশংসা করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানে তাঁদের যে শ্রেষ্ঠত্বের কথা বর্ণিত হয়েছে তা সবার অগ্রবর্তী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২০)
ما ليس لأحد بعدهم، فرحمهم الله وهنأهم بما آتاهم من ذلك ببلوغ أعلى منازل الصديقين والشهداء والصالحين، أدوا إلينا سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وشاهدوه والوحي ينزل عليه، فعلموا ما أراد رسول الله صلى الله عليه وسلم عامًّا وخاصًّا وعَزمًا وإرشادًا، وعرفوا من سنته ما عرفنا وجهلنا، وهم فوقنا في كل علم واجتهاد وورع وعقل وأمر استدرك به علم واستنبط به، وآراؤهم لنا أحمد، وأولى بنا من رأينا عند أنفسنا
… » اهـ.
وقد رد الإمام ابن رجب الحنلبي في «فضل علم السلف على الخلف» (ضمن مجموع رسائل ابن رجب: 3/ 22 - 24) على من ظن في شخص من المتأخرين أنه أعلم من السلف الصالح بكلام قوي رأيت نقله هنا لنفاسته، قال رحمه الله:
«وقد ابتلينا بجهلة من الناس يعتقدون في بعض من توسع في القول من المتأخرين أنه أعلم ممن تقدم، فمنهم من يظن في شخص أنه أعلم من كل من تقدم من الصحابة ومن بعدهم؛ لكثرة بيانه ومقاله، ومنهم من يقول: هو أعلم من الفقهاء المشهورين المتبوعين، وهذا يلزم منه ما قبله؛ لأن هؤلاء الفقهاء المشهورين المتبوعين أكثر قولًا ممن كان قبلهم، فإذا كان من بعدهم أعلم منهم لاتساع قوله، كان أعلم ممن كان أقل منهم قولًا بطريق الأولى كالثوري والأوزاعي والليث وابن المبارك وطبقتهم، وممن قبلهم من التابعين والصحابة أيضًا؛ فإن هؤلاء كلهم أقل كلامًا ممن جاء بعدهم.
وهذا تنقص عظيم بالسلف الصالح، وإساءة ظن بهم، ونسبة لهم إلى
যা তাঁদের পরে আর কারও নেই। আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন এবং তাঁদেরকে যা দান করেছেন তার মাধ্যমে তাঁদেরকে অভিনন্দন জানান, যার মাধ্যমে তাঁরা সিদ্দীকীন, শুহাদা এবং সালেহীনদের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছেন। তাঁরা আমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহসমূহ পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁরা তাঁকে ওহী নাজিল হওয়া অবস্থায় প্রত্যক্ষ করেছেন। ফলে তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্য—তা সাধারণ হোক বা বিশেষ, দৃঢ় সংকল্প হোক বা পথনির্দেশ—তা সম্যক অবগত হয়েছেন। তাঁরা তাঁর সুন্নাহর এমন সব বিষয় জানতেন যা আমরা জানি এবং যা আমরা জানি না। তাঁরা প্রতিটি জ্ঞান, ইজতিহাদ, তাকওয়া, বুদ্ধি এবং এমন প্রতিটি বিষয়ে আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যার মাধ্যমে জ্ঞান আহরণ এবং মাসআলা উদ্ভাবন করা হয়। তাঁদের রায় আমাদের জন্য অধিক প্রশংসনীয় এবং আমাদের নিজেদের রায়ের চেয়ে আমাদের জন্য অধিক গ্রহণযোগ্য
… » সমাপ্ত।
ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী তাঁর ‘ফাদলু ইলমিস সালাফ আলাল খালাফ’ (ইবনে রজবের পত্রসমষ্টির সংকলন: ৩/ ২২ - ২৪) গ্রন্থে এমন ব্যক্তিদের প্রতিবাদ করেছেন যারা পরবর্তী যুগের কোনো ব্যক্তিকে সালাফে সালেহীনদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী মনে করে। তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী ভাষায় এর উত্তর দিয়েছেন, যা এর বিশেষত্বের কারণে আমি এখানে উদ্ধৃত করছি। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
«আমরা এমন কিছু অজ্ঞ লোকের দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছি যারা পরবর্তীকালের কিছু বাগ্মী ব্যক্তির ব্যাপারে ধারণা পোষণ করে যে, তারা পূর্ববর্তীদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে মনে করে যে সে সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী সকলের চেয়ে অধিক জ্ঞানী; কেবল তার সুদীর্ঘ বর্ণনা ও বক্তব্যের আধিক্যের কারণে। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে: সে সুপ্রসিদ্ধ অনুসরণীয় ফকীহদের চেয়েও অধিক জ্ঞানী। আর এর থেকে মূলত পূর্বের কথাটিই অনিবার্য হয়ে পড়ে; কারণ এই সুপ্রসিদ্ধ অনুসরণীয় ফকীহগণ তাঁদের পূর্ববর্তীদের চেয়ে অধিক কথা বলেছেন। সুতরাং যদি তাঁদের পরবর্তী কেউ তাঁদের বক্তব্যের বিস্তৃতির কারণে তাঁদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী হয়, তবে সে অগ্রগণ্যভাবে তাঁদের চেয়েও অধিক জ্ঞানী হবে যাদের কথা কম ছিল—যেমন সাওরী, আওযাঈ, লাইস, ইবনুল মুবারক ও তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ এবং তাঁদের পূর্ববর্তী তাবিঈন ও সাহাবীগণও; কারণ তাঁদের সকলের কথা তাঁদের পরবর্তীদের চেয়ে কম ছিল।
আর এটি সালাফে সালেহীনদের জন্য এক বিরাট অবমাননা, তাঁদের সম্পর্কে কুধারণা এবং তাঁদের প্রতি এমন বিষয়ের সম্বন্ধ করা যে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২১)
الجهل وقصور العلم، ولا حول ولا قوة إلا بالله. ولقد صدق ابن مسعود في قوله في الصحابة: «إنهم أبر الأمة قلوبًا، وأعمقها علومًا، وأقلها تكلفًا». وروي نحوه عن ابن عمر أيضًا. وفيه إشارة إلى أن من بعدهم أقل علومًا وأكثر تكلفًا. وقال ابن مسعود أيضًا: «إنكم في زمان كثير علماؤه، قليل خطباؤه، وسيأتي بعدكم زمان قليل علماؤه، كثير خطباؤه». فمن كثر علمه وقل قوله فهو الممدوح، ومن كان بالعكس فهو مذموم» اهـ.
وقد شهد النبي صلى الله عليه وسلم لأهل اليمن بالإيمان والفقه. وأهل اليمن أقل الناس كلامًا وتوسعًا في العلوم، لكن علمهم علم نافع في قلوبهم ويعبرون بألسنتهم عن القدر المحتاج إليه من ذلك. وهذا هو الفقه والعلم النافع، فأفضل العلوم في تفسير القرآن ومعاني الحديث والكلام في الحلال والحرام ما كان مأثورًا عن الصحابة والتابعين وتابعيهم إلى أن ينتهي إلى زمن أئمة الإسلام المشهورين المقتدى بهم الذين سميناهم فيما سبق.
فضبط ما رُوي عنهم في ذلك أفضل العلوم مع تفهمه وتعقله والتفقه فيه، وما حدث بعدهم من التوسع لا خير في كثير منه، إلا أن يكون شرحًا لكلام يتعلق من كلامهم. وأما ما كان مخالفًا لكلامهم فأكثره باطل أو لا منفعه فيه، وفي كلامهم في ذلك كفاية وزيادة، فلا يوجد في كلام من بعدهم من حق إلا وهو في كلامهم موجود بأوجز لفظ وأخصر عبارة، ولا يوجد في كلام من بعدهم من باطل إلا وفي كلامهم ما يبين بطلانه لمن فهمه وتأمله، ويوجد في كلامهم من المعاني البديعة والمآخذ الدقيقة
অজ্ঞতা এবং জ্ঞানের স্বল্পতা; আর আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই। সাহাবীদের সম্পর্কে ইবনে মাসউদ সত্যই বলেছেন: "নিশ্চয়ই তারা এই উম্মতের মধ্যে হৃদয়ের দিক থেকে সবচাইতে পুণ্যবান, ইলমের দিক থেকে সবচাইতে গভীর এবং কৃত্রিমতার দিক থেকে সবচাইতে কম।" ইবনে উমর থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এতে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, তাদের পরবর্তী লোকেরা ইলমের দিক থেকে কম এবং কৃত্রিমতার দিক থেকে বেশি হবে। ইবনে মাসউদ আরও বলেছেন: "তোমরা এমন এক সময়ে আছো যখন আলেমদের সংখ্যা অনেক বেশি এবং বক্তাদের সংখ্যা কম। আর তোমাদের পরে এমন এক সময় আসবে যখন আলেমদের সংখ্যা হবে কম এবং বক্তাদের সংখ্যা হবে অনেক বেশি।" অতএব, যার ইলম বেশি এবং কথা কম, সেই প্রশংসিত। আর যে এর বিপরীত, সে নিন্দিত।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইয়ামেনবাসীদের ঈমান ও ফিকহের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর ইয়ামেনের অধিবাসীগণ কথা বলা এবং ইলমের বিস্তৃতির ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচাইতে কম, কিন্তু তাদের ইলম তাদের হৃদয়ে এক উপকারী ইলম এবং তারা তাদের জিহ্বা দিয়ে কেবল ততটুকুই প্রকাশ করে যতটুকু প্রয়োজন। আর এটাই হলো ফিকহ এবং উপকারী ইলম। অতএব, কুরআনের তাফসির, হাদিসের মর্মার্থ এবং হালাল-হারাম বিষয়ক আলোচনার ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম হলো তা-ই যা সাহাবী, তাবেঈন এবং তাবে-তাবেঈনদের থেকে বর্ণিত হয়েছে, যা পরবর্তীতে আমরা পূর্বে যাদের নাম উল্লেখ করেছি সেই অনুসরণযোগ্য প্রসিদ্ধ ইসলামি ইমামদের যুগ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
সুতরাং তাদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা অনুধাবন করা, হৃদয়ঙ্গম করা এবং ফিকহ অর্জনের সাথে সাথে সংরক্ষণ করাই হলো সর্বোত্তম ইলম। আর তাদের পরে ইলমের যে বিস্তৃতি ঘটেছে তার অধিকাংশের মধ্যেই কোনো কল্যাণ নেই, যদি না তা তাদের বাণীর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা হয়। আর যা কিছু তাদের বাণীর পরিপন্থী, তার অধিকাংশ বাতিল অথবা তাতে কোনো উপকার নেই। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্যই যথেষ্ট এবং তার চেয়েও বেশি। তাদের পরবর্তী লোকদের কথায় এমন কোনো হক নেই যা তাদের (পূর্ববর্তীদের) কথায় সংক্ষিপ্ত শব্দে ও সংক্ষেপে বিদ্যমান নেই। আর তাদের পরবর্তী লোকদের কথায় এমন কোনো বাতিল নেই যা তাদের (পূর্ববর্তীদের) কথায় বিদ্যমান নেই যা তা অনুধাবনকারী ও পর্যালোচনাকারীর কাছে তার অসারতা স্পষ্ট করে দেয়। তাদের কথার মধ্যে রয়েছে চমৎকার সব অর্থ এবং সূক্ষ্ম সব উৎস।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২২)
ما لا يهتدي إليه من بعدهم ولا يلم به. فمن لم يأخذ العلم من كلامهم فاته ذلك الخير كله، مع ما يقع في كثيرٍ من الباطل متابعة لمن تأخر عنهم
… » اهـ.
وقال أيضًا رحمه الله (3/ 31 - 32):
«
… وأما مِن علمه غير نافع؛ فليس له شغل سوى التكبر بعلمه على الناس، وإظهار فضل علمه عليهم، ونسبتهم إلى الجهل، وتنقصهم ليرتفع بذلك عليهم، وهذا من أقبح الخصال وأردئها.
وربما نسب من كان قبله من العلماء إلى الجهل والغفلة والسهو، فيوجب له حب نفسه، وحب ظهورها، وإحسان ظنه بها، وإساءة ظنه بمن سلف من العلماء.
وأهل العلم النافع على ضد هذا: يسيئون الظن بأنفسهم ويحسنون الظن بمن سلف من العلماء، ويقرون بقلوبهم بفضل مَن سلف عليهم، وبعجزهم عن بلوغ مراتبهم والوصول إليها أو مقاربتها.
وما أحسن قول أبي حنيفة! وقد سئل عن علقمة والأسود أيهما أفضل؟ فقال: «والله ما نحن بأهل أن نذكرهم، فكيف نفضل بينهم؟ ! ».
وكان ابن المبارك إذا ذكر أخلاق من سلف ينشد:
لا تعرضن بذكرنا مع ذكرهم
… ليس الصحيح إذا مشى كالمقعد
ومَن علمه غير نافع إذا رأى لنفسه فضلًا على مَن تقدمه في المقال وتشقق الكلام، ظن لنفسه عليهم فضلًا في العلوم أو الدرجة عند الله
যা তাদের পরবর্তী কেউ পথ খুঁজে পায় না এবং তা অনুধাবন করতে পারে না। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের কথা থেকে জ্ঞান গ্রহণ করবে না, সে এই সমস্ত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে, পাশাপাশি পরবর্তীদের অনুসরণের ফলে বহু বাতিলের মধ্যে সে নিপতিত হবে
… » সমাপ্ত।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন (৩/ ৩১ - ৩২):
«
… আর যার জ্ঞান উপকারী নয়; মানুষের ওপর নিজের জ্ঞান নিয়ে অহংকার করা, তাদের ওপর নিজের জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা, তাদেরকে অজ্ঞতার দিকে নিসবত করা এবং তাদেরকে খাটো করা ছাড়া তার আর কোনো কাজ নেই—যাতে সে এর মাধ্যমে তাদের ওপর উচ্চাসীন হতে পারে। আর এটি হলো অত্যন্ত কদর্য ও নিকৃষ্ট স্বভাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
কখনো কখনো সে তার পূর্ববর্তী আলেমদের অজ্ঞতা, অসতর্কতা ও ভুলের দিকে নিসবত করে। ফলে এটি তার মাঝে আত্মপ্রীতি, আত্মপ্রকাশের আকাঙ্ক্ষা ও নিজের সম্পর্কে সুধারণা এবং পূর্ববর্তী আলেমদের সম্পর্কে কুধারণা সৃষ্টি করে।
আর উপকারী জ্ঞানের অধিকারীরা এর বিপরীত: তারা নিজেদের সম্পর্কে হীন ধারণা পোষণ করেন এবং পূর্ববর্তী আলেমদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করেন। তারা তাদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে তাদের ওপর পূর্ববর্তীদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেন এবং তাদের মর্তবায় পৌঁছাতে, সেখানে উপনীত হতে বা তার নিকটবর্তী হতে নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করে নেন।
আবু হানিফার উক্তিটি কতই না চমৎকার! তাকে আলকামা ও আসওয়াদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, তাদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ? তখন তিনি বললেন: «আল্লাহর কসম, আমরা তাদের আলোচনা করারই যোগ্য নই, তবে কীভাবে আমরা তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণ করব?!»।
ইবনুল মুবারক যখন সালাফদের চরিত্রের কথা উল্লেখ করতেন, তখন এই কবিতা আবৃত্তি করতেন:
তাদের আলোচনার সাথে আমাদের নাম উল্লেখ করো না
… কেননা সুস্থ ব্যক্তি চলার সময় পঙ্গুর মতো নয়
আর যার জ্ঞান উপকারী নয়, সে যখন বাকপটুতা ও বাগ্মিতায় পূর্ববর্তীদের ওপর নিজের কোনো পারদর্শিতা দেখে, তখন সে মনে করে যে জ্ঞানের ক্ষেত্রে অথবা আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক থেকেও তাদের ওপর তার শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لفضل خص به عمن سبق، فاحتقر من تقدمه، وأزرى عليه بقلة العلم، ولا يعلم المسكين أن قلة كلام من سلف إنما كان ورعًا وخشية لله، ولو أراد الكلام وإطالته لما عجز عن ذلك
… » اهـ.
قلت: فكلام هؤلاء الأئمة يدل على أن السلف الصالح قد تفوقوا علينا في العلوم الشرعية، وقد سبقونا إلى كل باب من أبواب الخير، فلا سبيل لنا أن نصل إلى درجة علمهم وفقههم ومعرفتهم بأسرار الشريعة فضلًا عن أن نفوقهم، ولو يسر لإنسان في هذا العصر كل وسائل التقنية الحديثة، وحصل على مئات الموسوعات الإلكترونية وآلاف الكتب المجلدات فلن يصل أبدًا إلى ما وصل إليه السلف الصالح من العلوم الدينية والمعارف الشرعية، ولن يتمكن من معرفة شيء من أمور الدين لم يعرفه السلف الصالح. والله أعلم.
فيتبين من ذلك أن ما ادعاه الدكتور من عدم قيام السلف الصالح بمسألة إحصاء التسعة والتسعين اسمًا ادعاءٌ باطل. والله الموفق.
* * *
* ثالثًا: قوله: «ويلزم من هذا بالضرورة فرز عشرات الآلاف من الأحاديث النبوية وقراءتها كلمة كلمة للوصول إلى اسم واحد
… ».
أقول هذا القول حجة عليه؛ لأنه إذا كان الأمر كذلك، فكثير من السلف الصالح والعلماء المتقدمين كانو يحفظون أضعاف أضعاف هذا العدد من الأحاديث، فإحصاء الأسماء الحسنى أيسر عليهم بكثير.
কোনো বিশেষ ফযীলতের কারণে যা তাকে পূর্ববর্তীদের থেকে পৃথক করেছে, ফলে সে তার অগ্রজদের তুচ্ছজ্ঞান করে এবং ইলমের স্বল্পতার কারণে তাদের অবজ্ঞা করে। এই বেচারা জানে না যে, সালাফদের কথার স্বল্পতা ছিল মূলত পরহেজগারি ও আল্লাহর প্রতি ভীতির কারণে। তারা যদি কথা বলতে ও তা দীর্ঘ করতে চাইতেন, তবে তারা তাতে অক্ষম ছিলেন না
... » সমাপ্ত।
আমি বলি: এই ইমামগণের কথা একথাই প্রমাণ করে যে, সালাফে সালেহীন শরয়ী ইলমে আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন এবং তারা কল্যাণের প্রতিটি দ্বারে আমাদের পূর্বেই পৌঁছে গেছেন। তাই তাদের ইলম, ফিকহ ও শরীয়তের রহস্য অনুধাবনের স্তরে পৌঁছানোর কোনো পথ আমাদের নেই, তাদেরকে ছাড়িয়ে যাওয়া তো দূরের কথা। বর্তমান যুগে কোনো ব্যক্তির জন্য যদি আধুনিক প্রযুক্তির সকল মাধ্যম সহজলভ্য করে দেওয়া হয় এবং সে যদি শত শত ইলেকট্রনিক বিশ্বকোষ ও হাজার হাজার খণ্ড বইপত্রও লাভ করে, তবুও সে দ্বীনি ইলম ও শরয়ী জ্ঞানের ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীন যে স্তরে পৌঁছেছেন, সেখানে কখনও পৌঁছাতে পারবে না। আর সে দ্বীনের এমন কোনো বিষয় জানতে সক্ষম হবে না যা সালাফে সালেহীন জানতেন না। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, সালাফে সালেহীন নিরানব্বইটি নাম গণনার কাজ করেননি বলে ডক্টর যে দাবি করেছেন, তা একটি বাতিল দাবি। আর আল্লাহই তাওফীক দানকারী।
* * *
* তৃতীয়ত: তাঁর কথা: «এর জন্য অনিবার্যভাবে হাজার হাজার নববী হাদীস যাচাই-বাছাই করা এবং একটি মাত্র নামের অনুসন্ধানে প্রতিটি শব্দ পাঠ করা প্রয়োজন
... »।
আমি বলব, এই কথাটি তাঁর বিপক্ষেই একটি দলীল; কারণ যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে অনেক সালাফে সালেহীন ও পূর্ববর্তী আলেমগণ এই সংখ্যার কয়েক গুণ বেশি হাদীস মুখস্থ রাখতেন। তাই আসমাউল হুসনা বা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ গণনা করা তাঁদের জন্য অনেক বেশি সহজ ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فهذا الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله كان يحفظ «مليون» حديث، فقد روى الخطيب البغدادي في «تاريخ بغداد» (6/ 100) عن أبي زرعة الرازي أنه قال: كان أحمد بن حنبل يحفظ ألف ألف حديث. فقيل له: وما يدريك؟ قال: ذاكرته فأخذت عليه الأبواب.
وهذا الإمام يحيى بن معين قد كتب بيده «مليون» حديث (1).
وكان الإمام أبو زرعة الرازي يحفظ ستمائة ألف حديث. وكان يقول: «أحفظ مائتي ألف حديث كما يحفظ الإنسان: قل هو الله أحد» اهـ (2).
وقد أخرج الإمام البخاري أحاديث «صحيحه» من ستمائة ألف حديث. وكان يقول: «أحفظ مائة ألف حديث صحيح، وأحفظ مائتي ألف حديث غير صحيح» اهـ (3).
وقال الإمام مسلم: «صنفت هذا «المسند الصحيح» من ثلاثمائة ألف حديث مسموعة» اهـ (4).
ولو ذهبت أسرد علماء السلف الذين كانو يحفظون مئات الآلاف من الأحاديث لطال المقام جدًّا، وفيما ذكرته كفاية (5).
--------------------------------------------
এই ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) 'দশ লক্ষ' হাদিস মুখস্থ রাখতেন। আল-খতিব আল-বাগদাদি 'তারিখে বাগদাদ' (৬/১০০) গ্রন্থে আবু যুরআহ আর-রাজি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল দশ লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কীভাবে জানলেন? তিনি বললেন: আমি তাঁর সাথে মুজাকারা (আলোচনা) করেছি এবং তাঁর নিকট থেকে অধ্যায়ভিত্তিক হাদিসগুলো যাচাই করেছি।
আর এই ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন নিজ হাতে 'দশ লক্ষ' হাদিস লিখেছিলেন (১)।
ইমাম আবু যুরআহ আর-রাজি ছয় লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন। তিনি বলতেন: "আমি দুই লক্ষ হাদিস এমনভাবে মুখস্থ রাখি যেভাবে মানুষ 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সুরা ইখলাস) মুখস্থ রাখে" (২)।
ইমাম বুখারি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থের হাদিসগুলো ছয় লক্ষ হাদিস থেকে চয়ন করেছেন। তিনি বলতেন: "আমি এক লক্ষ সহিহ হাদিস মুখস্থ রাখি এবং দুই লক্ষ অ-সহিহ হাদিস মুখস্থ রাখি" (৩)।
ইমাম মুসলিম বলেছেন: "আমি এই 'সহিহ মুসনাদ' শ্রুত তিন লক্ষ হাদিস থেকে সংকলন করেছি" (৪)।
যদি আমি সালাফদের সেইসব আলেমদের তালিকা করতে শুরু করি যাঁরা লক্ষ লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন, তবে আলোচনা অনেক দীর্ঘ হয়ে যেত; যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
• فإذا تبين أن الأئمة المتقدمين كانوا يحفظون مئات الآلاف من الأحاديث النبوية والآثار السلفية تقرر أنهم كانوا أوسع إحاطة للسنة من هذه الموسوعات الإلكترونية؛ لأن هذه الموسوعات التي اعتمد عليها الدكتور في إحصاء الأسماء التسعة والتسعين لا يبلغ ما تحتويه عشر ما حفظه هؤلاء الأئمة وذلك بشهادة الدكتور نفسه (1)، وهذا يدل دلالة واضحة أنهم كانوا أقدر على إحصاء الأسماء الحسنى التسعة والتسعين منا. والله أعلم.
* * *
--------------------------------------------
• যখন এটি স্পষ্ট হলো যে, পূর্ববর্তী ইমামগণ লক্ষ লক্ষ নববী হাদিস এবং সালাফদের বর্ণনা (আসার) মুখস্থ রাখতেন, তখন এটি সুনিশ্চিত হয় যে, এই ইলেকট্রনিক বিশ্বকোষগুলোর তুলনায় সুন্নাহর বিষয়ে তাঁদের পরিধি ও জ্ঞান অনেক বেশি প্রশস্ত ছিল; কারণ, নিরানব্বইটি নাম গণনার ক্ষেত্রে ডক্টর যেসব বিশ্বকোষের ওপর নির্ভর করেছেন, সেগুলোতে যা রয়েছে তা ওই ইমামদের মুখস্থ করা বিদ্যার দশভাগের একভাগও নয়, আর এটি খোদ ডক্টরের নিজেরই দেওয়া সাক্ষ্য (১)। এটি স্পষ্টত প্রমাণ করে যে, আল্লাহর সুন্দরতম নিরানব্বইটি নাম গণনার ক্ষেত্রে তাঁরা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম ছিলেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الرد على طعنه في الإمامالوليد بن مسلم رحمه اللهقال الدكتور (ص: 8): «في نهاية القرن الثاني ومطلع القرن الثالث الهجري حاول ثلاثة من رواه الحديث جمعها - أي: جمع الأسماء الحسنى التسعة والتسعين - باجتهادهم؛ إما استنباطًا من القرآن والسنة أو نقلًا عن اجتهاد الآخرين في زمانهم، الأول منهم -وهو أشهرهم وأسبقهم- الوليد بن مسلم مولى بني أمية (ت: 195 هـ) وهو عند علماء الجرح والتعديل كثير التدليس والتسوية في الحديث
… » اهـ.
أقول:
نفهم من كلام الدكتور أن هذه الأسماء المشهورة بين الناس هي من اجتهاد الوليد بن مسلم أو مِن نقله عن اجتهاد بعض شيوخه، والوليد يدلس تدليس التسوية؛ فلذلك لا نقبل منه هذه الأسماء!
وهذا طعن ليس في محله؛ لأن تدليس التسوية خاص بالرواية لا بالاجتهاد (1). والوليد بن مسلم رحمه الله قد جمع هذه الأسماء باجتهاده
--------------------------------------------
ইমাম আল-ওয়ালীদ ইবনুল মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতিতাঁর সমালোচনার খণ্ডনডক্টর (পৃষ্ঠা: ৮) বলেন: «দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষে এবং হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর শুরুতে হাদীসের তিনজন বর্ণনাকারী তাঁদের ইজতিহাদের মাধ্যমে তা—অর্থাৎ আসমাউল হুসনার নিরানব্বইটি নাম—একত্র করার চেষ্টা করেছিলেন; হয় কুরআন ও সুন্নাহ থেকে তা গ্রহণের মাধ্যমে অথবা তাঁদের সময়ের অন্যদের ইজতিহাদ বর্ণনার মাধ্যমে। তাঁদের মধ্যে প্রথমজন—যিনি সর্বাধিক প্রসিদ্ধ এবং অগ্রগণ্য—হলেন আল-ওয়ালীদ ইবনুল মুসলিম, বনূ উমাইয়্যার মুক্তদাস (মৃত্যু: ১৯৫ হিজরি)। জারাহ ও তাদীল (হাদীস বিশারদ) বিজ্ঞানীদের নিকট তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে অত্যধিক 'তাদলীস' এবং 'তাসবিয়াহ' (তাদলীসুত তাসবিয়াহ) প্রদানকারী
… » উক্তি সমাপ্ত।
আমি বলি:
ডক্টরের কথা থেকে আমরা এটি বুঝতে পারি যে, মানুষের মাঝে প্রচলিত এই নামগুলো আল-ওয়ালীদ ইবনুল মুসলিমের ইজতিহাদ অথবা তাঁর কিছু উস্তাদের ইজতিহাদ থেকে তাঁর করা বর্ণনা; আর ওয়ালীদ যেহেতু 'তাদলীসুত তাসবিয়াহ' করেন, তাই তাঁর থেকে আমরা এই নামগুলো গ্রহণ করি না!
আর এটি এমন একটি সমালোচনা যা সঠিক নয়; কারণ 'তাদলীসুত তাসবিয়াহ' বিষয়টি বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট, ইজতিহাদের সাথে নয় (১)। আর আল-ওয়ালীদ ইবনুল মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ইজতিহাদের মাধ্যমেই এই নামগুলো সংগ্রহ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
هو، كما صرح بذلك العلماء ومنهم الدكتور، فطعن الدكتور في الوليد بن مسلم رحمه الله بتدليس التسوية في هذا الموضع خطأ. والله أعلم.
• وإذا افترضنا أن الوليد نقل هذه الأسماء عن اجتهاد بعض شيوخه، كما صرح بذلك بعض العلماء؛ لم يكن للدكتور أن يطعن في نقله بتدليس التسوية؛ لأن الذي يدلس تدليس التسوية يسقط شيخ شيخه وهنا نقل عن شيوخه مباشرة.
• ومما يوضح خطأ الدكتور في طعنه في الوليد بتدليس التسوية في هذا الأمر: أن الإمام أبا حنيفة رحمه الله كان إمامًا في الفقه من أهل الاجتهاد، ولكنه مع ذلك كان ضعيفا في الحديث (1). فهل نقول: إننا لا نقبل اجتهاداته الفقهية؛ لأنه كان ضعيفا في الحديث؟ !
وكذلك حفص بن سليمان المقرئ كان ضعيفًا في الحديث (2)، ولكنه إمام في القراءة، فهل ضعفه في الحديث يمنعنا أن نقرأ بروايته عن عاصم؟ !
غاية ما في الأمر أن نقول: إن سرد الأسماء بهذه الصورة المشهورة بين الناس هي من اجتهاد الوليد بن مسلم، فنقبل منها ما ثبت في الكتاب
--------------------------------------------
এটি তেমনই, যেমনটি আলেমগণ এবং তাঁদের মধ্যে ডক্টর স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। সুতরাং এই ক্ষেত্রে ওয়ালিদ বিন মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ওপর ‘তাদলিসুত তাসবিয়াহ’-এর অভিযোগ তোলা ডক্টরের একটি ভুল। আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
• আর যদি আমরা ধরে নেই যে, ওয়ালিদ এই নামগুলো তাঁর কিছু শিক্ষকের ইজতিহাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি কিছু আলেম স্পষ্টভাবে বলেছেন; তবে ডক্টরের পক্ষে তাঁর বর্ণনার ওপর ‘তাদলিসুত তাসবিয়াহ’-এর অভিযোগ তোলা সমীচীন নয়; কারণ যে ব্যক্তি ‘তাদলিসুত তাসবিয়াহ’ করে, সে তার শিক্ষকের শিক্ষককে বাদ দিয়ে দেয়, অথচ এখানে তিনি সরাসরি তাঁর শিক্ষকদের থেকে বর্ণনা করেছেন।
• এই বিষয়ে ওয়ালিদের ওপর ‘তাদলিসুত তাসবিয়াহ’-এর অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে ডক্টরের ভুলটি যা স্পষ্ট করে তা হলো: ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) ফিকহ শাস্ত্রের একজন ইমাম এবং মুজতাহিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল ছিলেন (১)। তবে আমরা কি বলব যে, আমরা তাঁর ফিকহী ইজতিহাদগুলো গ্রহণ করব না; কারণ তিনি হাদিসে দুর্বল ছিলেন?!
একইভাবে ক্বারী হাফস বিন সুলাইমান হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল ছিলেন (২), কিন্তু তিনি ক্বিরাআত শাস্ত্রের একজন ইমাম। তবে হাদিসে তাঁর দুর্বলতা কি আমাদের তাঁর আসিমের সূত্রে বর্ণিত ক্বিরাআত অনুযায়ী পাঠ করতে বাধা দেয়?!
এই বিষয়ের মূল কথা হলো আমরা বলব: মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধ এই পদ্ধতিতে নামগুলোর বিন্যাস ওয়ালিদ বিন মুসলিমের ইজতিহাদ থেকে এসেছে। সুতরাং আমরা এর মধ্য থেকে তা-ই গ্রহণ করব যা কিতাবে প্রমাণিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والسنة ونرد ما لم يثبت. أما أن نطعن في اجتهاده بأمر لا دخل له في الاجتهاد فهذا بعيد عن الإنصاف (1).
هذا مع العلم بأن الوليد بن مسلم إمام كبير وعالم جليل من أتباع التابعين. وقد أثنى عليه كثير من الحفاظ والأئمة. وحديثه مخرج في الكتب الستة كلها.
قال الإمام أحمد بن حنبل: «ما رأيت في الشاميين أعقل من الوليد بن مسلم».
وقال الإمام ابن سعد: «كان ثقة، كثير الحديث».
وقال الإمام علي بن المديني: «ما رأيت من الشاميين مثله، وقد أغرب الوليد أحاديث صحيحة لم يشركه فيها أحد».
وقال الإمام يعقوب بن سفيان: كنت أسمع أصحابنا يقولون: «علم الشام عند إسماعيل بن عياش والوليد بن مسلم، فأما الوليد فمضى على سنته محمودًا عند أهل العلم، متقنًا صحيحًا صحيح العلم» اهـ.
وقال الإمام أبو زرعة الدمشقي سألت أبا مسهر عن الوليد بن مسلم فقال: «كان من ثقات أصحابنا. وفي رواية: من حفاظ أصحابنا» (2) اهـ.
--------------------------------------------
এবং সুন্নাহ, আর যা সাব্যস্ত হয়নি তা আমরা প্রত্যাখ্যান করি। তবে ইজতিহাদের সাথে সম্পর্ক নেই এমন কোনো বিষয়ে তাঁর ইজতিহাদের ওপর আপত্তি তোলা ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী (১)।
এটি এই অবগতির সাথে যে, ওয়ালিদ বিন মুসলিম একজন মহান ইমাম এবং আতবাউত তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত একজন সম্মানিত আলেম। অনেক হাফিজ ও ইমাম তাঁর প্রশংসা করেছেন। তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলো কুতুবে সিত্তার (ছয়টি প্রধান হাদিসগ্রন্থের) সবকটিতেই উদ্ধৃত হয়েছে।
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. বলেন: «আমি শামবাসীদের (সিরিয়াবাসীদের) মধ্যে ওয়ালিদ বিন মুসলিমের চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান আর কাউকে দেখিনি»।
ইমাম ইবনে সাদ বলেন: «তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) এবং অনেক হাদিস বর্ণনাকারী»।
ইমাম আলী ইবনুল মাদিনী বলেন: «আমি শামবাসীদের মধ্যে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি। ওয়ালিদ এমন কিছু সহিহ হাদিস এককভাবে বর্ণনা করেছেন যা অন্য কেউ বর্ণনা করেনি»।
ইমাম ইয়াকুব বিন সুফিয়ান বলেন: আমি আমাদের সাথীদের বলতে শুনতাম: «শামের ইলম ইসমাঈল বিন আইয়াশ এবং ওয়ালিদ বিন মুসলিমের কাছে সংরক্ষিত। ওয়ালিদ তো আহলে ইলমদের নিকট প্রশংসিত অবস্থায় স্বীয় আদর্শের ওপর অটল থেকে অতিবাহিত হয়েছেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং তাঁর ইলম ছিল নির্ভুল» সমাপ্ত।
ইমাম আবু জুরআ আদ-দিমাশকি বলেন, আমি আবু মুশহিরকে ওয়ালিদ বিন মুসলিম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: «তিনি আমাদের নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) সাথীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অন্য বর্ণনায় আছে: আমাদের হেফজকারী (হাফিজ) সাথীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন» (২) সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লিস সালাফিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الرد على الدكتورفي ادعائه الإحاطة بالسنة النبويةقال الدكتور: (ص: 19): «إن من دوافع البحث الرئيسية أن باب الأسماء الحسنى يفتقر إلى دراسة علمية استقصائية حصرية تشمل كل ما ورد في الأصول القرآنية والنبوية ..... ولما يسر الله عز وجل الأسباب في هذا العصر وأصبح ذلك أمرًا ممكنًا بعد أن ظهرت تقنية البحث الحاسوبية، وقدرة الحاسوب على قراءة ملايين الصفحات في لحظات معدودات أقدمت على البحث وأنا لا أتوقع ما توصلت إليه من نتائج» (1).
قلت:
فهنا يزعم الدكتور أنه باستخدام تقنية البحث الحاسوبية أصبح قادرًا على عمل دراسة علمية استقصائية حصرية تشمل كل ما ورد في الكتاب والسنة.
وهذا كلام غير صحيح؛ إذ إنه لا يستطيع أحد مهما أوتي من علم أن يحيط بكل ما ورد في السنة النبوية.
--------------------------------------------
ডক্টরের সুন্নাহ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখার দাবির খণ্ডনডক্টর বলেছেন: (পৃষ্ঠা: ১৯): "গবেষণার অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল এই যে, আসমাউল হুসনা অধ্যায়টিতে এমন একটি বৈজ্ঞানিক, অনুসন্ধানমূলক এবং পূর্ণাঙ্গ গবেষণার অভাব ছিল যা কুরআন ও সুন্নাহর মূলে বর্ণিত সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। বর্তমান যুগে আল্লাহ তাআলা যখন উপায়-উপকরণ সহজ করে দিয়েছেন এবং কম্পিউটার সার্চ প্রযুক্তি ও মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কম্পিউটারের লক্ষ লক্ষ পৃষ্ঠা পড়ার সক্ষমতা প্রকাশের পর যখন এটি সম্ভবপর হয়েছে, তখন আমি গবেষণার কাজ শুরু করি। অথচ আমি নিজে যে ফলাফলে উপনীত হয়েছি তা প্রত্যাশা করিনি।" (১)।
আমি বলি:
এখানে ডক্টর দাবি করছেন যে, কম্পিউটার সার্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি কিতাব ও সুন্নাহতে বর্ণিত সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বৈজ্ঞানিক, অনুসন্ধানমূলক এবং পূর্ণাঙ্গ গবেষণা সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন।
এই কথাটি সঠিক নয়; কারণ কাউকে যত জ্ঞানই দান করা হোক না কেন, সে সুন্নাহয়ে নববীতে বর্ণিত সকল কিছুর পূর্ণ জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম নয়।
--------------------------------------------