(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: -)
أساليب التربية والدعوة والتوجيه من خلال سورة إبراهيم   (وسيم فتح الله)

القسم: كتب عامة


الكتاب: أساليب التربية والدعوة والتوجيه من خلال سورة إبراهيم

المؤلف: د. وسيم فتح الله

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 54

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 80

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সূরা ইব্রাহিমের আলোকে শিক্ষা, দাওয়াহ এবং নির্দেশনার পদ্ধতিসমূহ   (ওয়াসিম ফাতহুল্লাহ)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: সূরা ইব্রাহিমের আলোকে শিক্ষা, দাওয়াহ এবং নির্দেশনার পদ্ধতিসমূহ

লেখক: ড. ওয়াসিম ফাতহুল্লাহ

প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে, কোনো তথ্যাদি ছাড়াই

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৫৪

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১)
أساليب التربية والدعوة والتوجيه

من خلال سورة إبراهيم

د. وسيم فتح الله

بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم المرسلين نبينا محمد وعلى آله وصحبه الطيبين، ومن سار على نهجهم واقتفى أثرهم إلى يوم الدين، أما بعد؛
সূরা ইব্রাহিমের আলোকে শিক্ষা, দাওয়াত ও নির্দেশনার পদ্ধতিসমূহ

ড. ওয়াসিম ফাতহুল্লাহ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ রাসুল আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পবিত্র পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর। আর যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করেছেন এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছেন, তাঁদের ওপরও। অতঃপর;
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২)
فهذا بحث تناولت فيه سورة إبراهيم متدبرًا متفكرًا بالقدر الذي يسره الله تعالى لي، ولقد تعرضت إلى المناحي التربوية والدعوية في هذه السورة من خلال السبر والاستقراء التام لآياتها الكريمة مستعينًا - بعد الله سبحانه وتعالى بما تيسرت لي مطالعته من كتب التفسير لا سيما التفسير المأثور، ولقد جاء البحث على إيجازه منبهًا على حقائق عظيمة شملتها هذه السورة المباركة، ولقد بدأته بالتمهيد ثم جاءت مباحثه الثلاثة حيث تناولت في أولها سورة إبراهيم بتعريف عام لا بد منه لمن رام تفيؤ ظلال هذه السورة، ثم عرضت في المبحث الثاني الملامح العامة لمنهج الدعوة في هذه السورة حيث حددت رسالة الدعوة ثم صفات الرسل ثم معوقات الدعوة ثم أساليب الدعوة، أما المبحث الثالث فتناولت فيه منهج التوجيه الدعوي في السورة وملامح المنهج التربوي فيها ثم لخصت أهم نقاط البحث في الخاتمة دون تفصيل شديد خشية الإطالة.

وأسأل الله تعالى أن أكون قد وفقت فيما عرضت وأسأله العفو عما به زللت، إنه خير مأمول وأكرم مسؤول، فهو وحده المستعان وعليه التكلان.
এটি একটি গবেষণা যেখানে আমি সুরা ইবরাহিম নিয়ে চিন্তাগবেষণা ও গভীরভাবে অনুধ্যান করেছি সেই সামর্থ্য অনুযায়ী যা আল্লাহ তাআলা আমার জন্য সহজ করে দিয়েছেন। আমি এই সুরার আয়াতগুলোর সুনিপুণ পরখ (سبر) এবং সামগ্রিক আরোহী অনুসন্ধান (استقراء)-এর মাধ্যমে এর শিক্ষামূলক ও দাওয়াহ সংক্রান্ত দিকগুলো আলোচনা করেছি। এক্ষেত্রে আমি—মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্যের পর—তাফসিরের সেই সব কিতাব থেকে সহায়তা নিয়েছি যা অধ্যয়ন করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে, বিশেষ করে বর্ণনা-পরম্পরা সম্বলিত (مأثور) তাফসিরসমূহ। গবেষণাটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এই বরকতময় সুরার অন্তর্ভুক্ত মহান সত্যগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আমি এটি একটি উপক্রমণিকার মাধ্যমে শুরু করেছি, এরপর তিনটি মূল পরিচ্ছেদ এসেছে। প্রথম পরিচ্ছেদে আমি সুরা ইবরাহিমের একটি আবশ্যকীয় সাধারণ পরিচিতি তুলে ধরেছি যা এই সুরার ছায়াতলে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য একান্ত প্রয়োজন। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আমি এই সুরা থেকে দাওয়াহর মানহাজের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো উপস্থাপন করেছি, যেখানে আমি দাওয়াহর বার্তা, রাসুলগণের গুণাবলি, দাওয়াহর প্রতিবন্ধকতা এবং দাওয়াহর পদ্ধতিসমূহ চিহ্নিত করেছি। আর তৃতীয় পরিচ্ছেদে আমি সুরার দাওয়াহ বিষয়ক দিকনির্দেশনামূলক মানহাজ এবং এর শিক্ষামূলক মানহাজের বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। অতঃপর দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় কোনো প্রকার বিস্তারিত বিবরণ ছাড়াই উপসংহারে গবেষণার প্রধান বিষয়গুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি।

আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন আমি যা উপস্থাপন করেছি তাতে সফল হই এবং আমার বিচ্যুতিগুলোর জন্য তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রত্যাশার স্থল এবং শ্রেষ্ঠতম দাতা; একমাত্র তিনিই সাহায্যস্থল এবং তাঁর ওপরই পূর্ণ নির্ভরতা।
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تمهيد
ভূমিকা (تمهيد)
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৪)
لقد جاءت الشرائع السماوية المختلفة بحقيقة واحدة هي أعظم حقيقة في الكون أعني حقيقة التوحيد كما قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} (1) ، ولكن تنوعت أساليب وطرق عرض هذه الدعوة والتأكيد عليها من نبي إلى نبي ومن رسول إلى رسول ومن قوم إلى قوم، وليست شريعة الإسلام الخاتمة بعيدةً عن هذا التعدد الأسلوبي في عرض هذه الحقيقة الخالدة مراعاةً لتنوع مشارب الناس وأفكارهم وشبههم، قال تعالى: {وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ لِلنَّاسِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ وَكَانَ الْإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا} (2) ولا شك أن هيمنة القرآن الكريم ونسخه لما سواه من كتب يستلزم شموليةً في الخطاب تناسب كافة المشارب والمنازع الفكرية حين دعوتها إلى الحق، قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ} (3) وهكذا كانت طبيعة هذا الكتاب الكريم في نفس الأمر، حيث أثبت القرآن الكريم قدرته على جذب الباحثين عن الحق

--------------------------------------------

(1) سورة الأنبياء - 25

(2) سورة الكهف - 54

(3) سورة المائدة - 48
বিভিন্ন আসমানি শরিয়ত (شريعة) এক সুমহান সত্য নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে যা মহাবিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সত্য, অর্থাৎ তাওহিদের (توحيد) হাকিকত; যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই পাঠিয়েছি, তার কাছে এই ওহিই প্রেরণ করেছি যে, আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; অতএব আপনারা আমারই ইবাদত করুন।} (১), কিন্তু এই দাওয়াতের উপস্থাপনা এবং এর ওপর গুরুত্বারোপের পদ্ধতি ও পন্থা এক নবি থেকে অন্য নবি, এক রাসূল থেকে অন্য রাসূল এবং এক জাতি থেকে অন্য জাতির ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। আর সর্বশেষ ইসলামি শরিয়তও (شريعة) এই শাশ্বত সত্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে শৈল্পিক বৈচিত্র্যের উর্ধ্বে নয়, যাতে মানুষের রুচি, চিন্তা ও সংশয়ের ভিন্নতার প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের উদাহরণ নানাভাবে বর্ণনা করেছি; আর মানুষ সবচেয়ে বেশি বিতর্ককারী।} (২) এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পবিত্র কুরআনের আধিপত্য (هيمنة) এবং অন্যান্য কিতাবকে রহিতকরণ (نسخ) এমন এক ব্যাপক সম্বোধন (خطاب) দাবি করে যা সত্যের পথে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে সকল প্রকার রুচি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঝোঁকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী ও রক্ষক (مهيمن); সুতরাং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুযায়ী আপনি তাদের মধ্যে বিচার ফয়সালা করুন।} (৩) আর প্রকৃতপক্ষে এই সম্মানিত কিতাবের প্রকৃতি এমনই ছিল, যেখানে পবিত্র কুরআন সত্য অন্বেষণকারীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

--------------------------------------------

(১) সুরা আল-আম্বিয়া - ২৫

(২) সুরা আল-কাহাফ - ৫৪

(৩) সুরা আল-মায়িদা - ৪৮
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৫)
إليه من كل عرق وحضارة ولغة ولون ليهتدوا إلى فحوى رسالته ولتكون السمة العالمية في خطابه وأسلوبه الدعوي بارزةً منذ بزوغ شمس الدعوة فإذا بالعربي يسلم مع الحبشي والروماني مع الفارسي وإذا كان الأمر كذلك ولما كنا مخاطبين بلزوم حمل الدعوة وأداء الرسالة إلى الناس كافة كان جديرًا بنا أن نقف على بعض المعالم الأسلوبية في الخطاب الدعوي القرآني لتكون زادًا للمسلم في رحلة الدعوة والجهاد البياني، ليتمكن من خلال هذه الأساليب من خرق حجب الشبهات التي تحول دون وصول نور الحق لتبديد ظلمات القلوب.

فإذا عُلم ما سبق فإن هذا البحث ليس إلا محاولة استقراء هذه الرسالة القرآنية في سورةٍ من سوره الكريمة هي سورة إبراهيم وسنرى - بإذن الله - كيف اجتمعت العديد من سمات المنهج القرآني الدعوي في هذه السورة المباركة على قصرها وإيجازها وبساطتها، وهل الإعجاز القرآني إلا هذا!
প্রতিটি বংশ, সভ্যতা, ভাষা ও বর্ণের মানুষ তাঁর দিকে ধাবিত হয়েছে, যাতে তারা তাঁর বার্তার সারমর্ম উপলব্ধি করে হেদায়াত লাভ করতে পারে এবং যাতে দাওয়াতের সূর্যোদয় লগ্ন থেকেই তাঁর বক্তব্য ও দাওয়াতি পদ্ধতির বিশ্বজনীন বৈশিষ্ট্যটি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর ফলে আরবরা হাবশিদের সাথে এবং রোমানরা পারস্যবাসীদের সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছে। বিষয়টি যখন এমনই এবং যেহেতু আমরা সকল মানুষের কাছে দাওয়াত বহন করা এবং রিসালাত আদায়ের বিষয়ে আদিষ্ট, তাই আমাদের জন্য কোরআনের দাওয়াতি বক্তব্যের কতিপয় আলঙ্কারিক বৈশিষ্ট্যের স্বরূপ অনুধাবন করা সমীচীন, যা দাওয়াতের সফর ও বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের (الجهاد البياني) ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের জন্য পাথেয় হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে সে ঐ সকল পদ্ধতির দ্বারা সংশয়ের (شبهات) সেই অন্তরায়সমূহ ছিন্ন করতে সক্ষম হবে যা সত্যের আলো পৌঁছাতে বাধা প্রদান করে এবং এর মাধ্যমে অন্তরের অন্ধকার বিদূরিত হবে।

পূর্বোক্ত বিষয়সমূহ স্পষ্ট হওয়ার পর বলা যায় যে, এই গবেষণাটি মূলত মহাগ্রন্থ কোরআনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সূরা—সূরা ইব্রাহিমের এই কোরআনিক বার্তার একটি বিশ্লেষণাত্মক পর্যালোচনার (استقراء) প্রয়াস মাত্র। আমরা ইনশাআল্লাহ দেখব, এই বরকতময় সূরাটি সংক্ষিপ্ত ও সাবলীল হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এখানে কোরআনের দাওয়াতি মানহাজের (منهج) বহুবিধ বৈশিষ্ট্য একত্রিত হয়েছে; আর কোরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) কি এটি ছাড়া অন্য কিছু!
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌المبحث الأول: مدخل إلى سورة إبراهيم

جدير بنا إذ عقدنا العزم على دراسة الملامح الأسلوبية التربوية والدعوية في سورة إبراهيم أن نتعرف على هذه السورة المباركة بشيء من الإيجاز، ونتعرف على موضوعها بصورة مجملة إن شاء الله.

‌‌المطلب الأول: تعريف عام بسورة إبراهيم:

هذه السورة هي السورة الرابعة عشرة بترتيب المصحف الشريف وهي الثانية والسبعون بترتيب النزول (1) ومجموع آياتها اثنان وخمسون آية كلها مكية كما ذكر الحافظ ابن كثير رحمه الله (2) ونقل مثله الإمام القرطبي عن الحسن وعكرمة وجابر، ونقل أيضًا عن ابن عباس وقتادة استثناء آيتين أو ثلاث منها نزلت في الذين حاربوا الله ورسوله وهي من قوله تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ بَدَّلُوا نِعْمَةَ اللَّهِ كُفْرًا} إلى قوله تعالى: {فَإِنَّ مَصِيرَكُمْ إِلَى النَّارِ} ((3) الآيات من 28 إلى 30) .

--------------------------------------------

(1) قواعد التدبر الأمثل لكتاب الله - عبد الرحمن حبنكة - 128

(2) تفسير القرآن العظيم - ابن كثير - 595 / 8

(3) الجامع لأحكام القرآن - القرطبي - 9 / 288
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: সূরা ইবরাহিমের ভূমিকা

যেহেতু আমরা সূরা ইবরাহিমের শৈল্পিক, শিক্ষামূলক এবং দাওয়াহ সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ অধ্যয়নের সংকল্প করেছি, তাই ইনশাআল্লাহ এই বরকতময় সূরাটি সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নেওয়া এবং এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে সামগ্রিকভাবে পরিচিত হওয়া আমাদের জন্য সমীচীন হবে।

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: সূরা ইবরাহিমের সাধারণ পরিচিতি:

পবিত্র কুরআনের বিন্যাস অনুযায়ী এই সূরাটি চৌদ্দতম এবং অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম অনুসারে বাহাত্তরতম (১)। এর মোট আয়াত সংখ্যা বায়ান্নটি, যার সবগুলোই মাক্কী (مكية), যেমনটি হাফেজ (الحافظ) ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন (২)। ইমাম কুরতুবীও হাসান, ইকরিমা এবং জাবের থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি ইবনে আব্বাস ও কাতাদাহ থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, এর মধ্য থেকে দুই বা তিনটি আয়াত ব্যতিক্রম, যা তাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল; যা মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি কি তাদের দেখেননি যারা আল্লাহর অনুগ্রহকে কুফরিতে পরিণত করেছে} থেকে তাঁর বাণী: {অতঃপর তোমাদের গন্তব্যস্থল তো আগুন} পর্যন্ত (৩) (২৮ থেকে ৩০ নং আয়াত)।

--------------------------------------------

(১) কাওয়ায়েদুত তাদাব্বুরিল আমসাল লি-কিতাবিল্লাহ - আবদুর রহমান হাবান্নাকা - ১২৮

(২) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম - ইবনে কাসীর - ৮ / ৫৯৫

(৩) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন - কুরতুবী - ৯ / ২৮৮
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৭)
ولم أقف لهذه السورة أو لبعض منها على سبب نزول معين صحيح، فهي مما نزل ابتداءً لمحض الهداية، اللهم إلا ما ورد في قوله تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ بَدَّلُوا نِعْمَةَ اللَّهِ كُفْرًا} حيث وردت روايات عمن نزلت فيهم هذه الآية كالتي ذكرها الإمام البخاري رحمه الله عن عطاء سمع ابن عباس {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ بَدَّلُوا نِعْمَةَ اللَّهِ كُفْرًا} قال: هم كفار أهل مكة" (1) ولكن هذه الروايات ليست نصًا في السببية فلا تصلح للاستثناء.

--------------------------------------------

(1) فتح الباري - ابن حجر العسقلاني - 9 / 289
আমি এই সূরা বা এর কোনো অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সহিহ (صحيح) অবতীর্ণ হওয়ার কারণ খুঁজে পাইনি; এটি কেবল হেদায়েতের উদ্দেশ্যে প্রাথমিকভাবে নাযিল হওয়া সূরাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। তবে মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত: {আপনি কি তাদের দেখেননি যারা আল্লাহর নিয়ামতকে কুফরিতে পরিণত করেছে?}, যেখানে এই আয়াতটি যাদের প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে তাদের সম্পর্কে কিছু বর্ণনা (روايات) এসেছে; যেমনটি ইমাম বুখারি (রহ.) আতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি ইবনে আব্বাস (রা.)-কে {আপনি কি তাদের দেখেননি যারা আল্লাহর নিয়ামতকে কুফরিতে পরিণত করেছে?} আয়াতটি সম্পর্কে বলতে শুনেছেন: "তারা হলো মক্কার কাফির সম্প্রদায়।" (১) কিন্তু এই বর্ণনাগুলো (روايات) অবতীর্ণ হওয়ার কারণ বা সাবাবিয়্যাহ (السببية) সংক্রান্ত স্পষ্ট দলিল (نص) নয়, তাই একে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করা যায় না।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারি - ইবনে হাজার আসকালানি - ৯ / ২৮৯
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المطلب الثاني: الوحدة الموضوعية لسورة إبراهيم:

يقول الدكتور عبد الرحمن الميداني:" فعلى متدبر كلام الله أن يوجه عنايته ما استطاع لاكتشاف وحدة موضوع السورة القرآنية وارتباط المعاني التي اشتملت عليها جملها بهذا الموضوع الكلي.." (1) والحقيقة أن التأمل والتدبر في سورة إبراهيم يُظهر بوضوح شديد الوحدة الموضوعية فيها، بمعنى أنك تقرأ السورة من أولها إلى آخرها وأنت تعيش جوًا واحدًا وتستشعر معنى واحدًا لا تأخذك التفريعات بعيدًا عنه ولا تسمح السورة لذهنك بالشرود عنه. ولئن كان هذا هو دأب السور القرآنية كلها على تفاوتٍ في وضوح هذه الظاهرة القرآنية، فإنك لا تجد أية صعوبة في استشعار هذه الوحدة الموضوعية في سورة إبراهيم، تمامًا كما هو الحال في سور أخرى كسورة يوسف وسورة ق وسورة الرحمن حيث تبرز وحدة موضوع السورة بروزًا لا يخفى على الناظر.

وإن للتعرف على وحدة موضوع سورة إبراهيم - الذي هو الدعوة إلى التوحيد - فوائد جمة أوجزها فيما يلي:

--------------------------------------------

(1) قواعد التدبر الأمثل لكتاب الله - عبد الرحمن حبنكة - 30
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সূরা ইব্রাহিমের বিষয়গত ঐক্য (الوحدة الموضوعية):

ডক্টর আবদুর রহমান আল-মায়দানি বলেন: "আল্লাহর কালাম নিয়ে গবেষণাকারীর (المتدبر) উচিত তার সাধ্যমতো কুরআনের সূরার বিষয়গত ঐক্যের (وحدة موضوع السورة) রহস্য উন্মোচন এবং এর বাক্যগুলোর মধ্যে নিহিত অর্থের সাথে এই সামগ্রিক বিষয়ের যোগসূত্র খুঁজে বের করার দিকে মনোনিবেশ করা..." (১) বাস্তবতা এই যে, সূরা ইব্রাহিম নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও গবেষণা (التدبر) করলে এতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বিষয়গত ঐক্য (الوحدة الموضوعية) ফুটে ওঠে। এর অর্থ হলো, আপনি সূরাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করবেন এবং একটি অভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে বিচরণ করবেন এবং এমন একটি মূল ভাব অনুভব করবেন যা থেকে কোনো শাখা-প্রশাখা আপনাকে দূরে সরিয়ে নেবে না এবং সূরাটি আপনার মনকে অন্য কোনো দিকে বিচ্যুত হতে দেবে না। যদিও কুরআনের সকল সূরারই এটি সাধারণ নিয়ম—তবে এই কোরআনিক বৈশিষ্ট্যের (الظاهرة القرآنية) স্পষ্টতার ক্ষেত্রে কিছুটা তারতম্য রয়েছে—তথাপি সূরা ইব্রাহিমের এই বিষয়গত ঐক্য (الوحدة الموضوعية) অনুভব করতে আপনি কোনো প্রকার অসুবিধার সম্মুখীন হবেন না। এটি ঠিক অন্যান্য সূরা যেমন— সূরা ইউসুফ, সূরা ক্বাফ এবং সূরা আর-রাহমান-এর মতোই, যেখানে সূরার বিষয়গত ঐক্য এমনভাবে প্রকাশ পায় যা কোনো পর্যবেক্ষকের নিকট অস্পষ্ট থাকে না।

আর সূরা ইব্রাহিমের বিষয়গত ঐক্য —যা মূলত তাওহিদের (التوحيد) প্রতি আহ্বান— তা অনুধাবনের বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে, যা আমি নিম্নে সংক্ষেপে উল্লেখ করছি:

--------------------------------------------

(১) কাওয়াইদুত তাদাব্বুর আল-আমসাল লি কিতাবিল্লাহ - আবদুর রহমান হাবান্নাকা - ৩০
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৯)
1- إن تأمل هذه الوحدة الموضوعية في سورة متكاملة من سور القرآن المكي يشير إلى الأهمية القصوى التي أولاها القرآن الكريم لموضوع التوحيد، لا سيما وأن هذه السورة ليست الوحيدة التي تتفرغ لموضوع التوحيد فها أنت أمام سور كالإخلاص والكافرون وغيرها، والشاهد أن إفراد السور القرآنية على تنوعها في الطول والقصر بموضوع التوحيد تأكيد على أهمية وأولوية هذه الموضوع في الخطاب القرآني.

2- إن تأمل التنوع الأسلوبي الذي سلكته السورة في أدائها للخطاب الدعوي تؤكد على ضرورة مراعاة هذا التنويع عند خطاب المكلفين بحيث يراعى أحوال المدعوين والشبهات السائدة والعوائق المانعة من قبول الدعوة.

3- إن الوحدة الموضوعية في سورة إبراهيم ظلت بارزةً في السورة كلها من أولها إلى آخرها وكأنها تشير للدعاة إلى مبدأ منهجي مهم وهو عدم تجاوز مسألة تقرير العقيدة والتوحيد إلى أي شيء البتة حتى يتم الفراغ من تقرير الأساس العقدي.

4- إن الوحدة الموضوعية في هذه السورة ظهرت أيضًا في السياق التاريخي الذي سردته السورة من وقائع الأمم السابقة والرسل السابقين لتؤكد مرةً أخرى على وحدة رسالة الرسل وأن دينهم التوحيد من أولهم إلى آخرهم.
1- মাক্কী কুরআনের একটি পূর্ণাঙ্গ সূরায় এই বিষয়ভিত্তিক ঐক্য পর্যবেক্ষণ করলে তাওহীদের বিষয়ের প্রতি আল-কুরআনুল কারীম যে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে তা ফুটে ওঠে। বিশেষ করে এই সূরাটিই একমাত্র সূরা নয় যা কেবল তাওহীদের আলোচনার জন্য নিবেদিত; বরং আপনার সামনে সূরা আল-ইখলাস ও সূরা আল-কাফিরুনসহ আরও অন্যান্য সূরা বিদ্যমান। লক্ষণীয় বিষয় হলো, দৈর্ঘ্যের বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও কুরআনের সূরাগুলোকে তাওহীদের আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করা কুরআনিক ভাষ্যে এই বিষয়ের গুরুত্ব ও অগ্রাধিকারেরই বহিঃপ্রকাশ।

2- দাওয়াতি বক্তব্য উপস্থাপনে এই সূরাটি যে আলঙ্কারিক বৈচিত্র্য অবলম্বন করেছে, তা পর্যবেক্ষণ করলে শরীয়তের বিধান পালনে আদিষ্ট ব্যক্তিদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে এই বৈচিত্র্য বজায় রাখার আবশ্যকতা নিশ্চিত হয়; যেন আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের অবস্থা, প্রচলিত সংশয়সমূহ এবং দাওয়াত গ্রহণের প্রতিবন্ধকতাগুলো বিবেচনায় রাখা হয়।

3- সূরা ইবরাহীমের বিষয়ভিত্তিক ঐক্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো সূরা জুড়েই সুস্পষ্ট ছিল, যা যেন দাঈদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিগত মূলনীতির দিকে ইঙ্গিত করছে; আর তা হলো—আকীগত ভিত্তি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত আকীদা ও তাওহীদ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে অতিক্রম করে অন্য কোনো কিছুর দিকে না যাওয়া।

4- এই সূরার বিষয়ভিত্তিক ঐক্য ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেও ফুটে উঠেছে, যেখানে পূর্ববর্তী উম্মতগণের ঘটনাবলী এবং পূর্ববর্তী রাসূলগণের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আবারও রাসূলগণের বার্তার অভিন্নতা এবং প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁদের সকলের দ্বীন যে তাওহীদ ছিল, তা দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১০)
5- إن الوحدة الموضوعية لسورة إبراهيم تعين المتدبر على فهم الجزئيات المذكورة في السورة ضمن هذا السياق الذي يقرر الفاصل والفارق بين الإيمان والكفر؛ بحيث إن كل انقياد لأمر وارد في هذه السورة يمثل طريقًا لتحقيق الإيمان، تمامًا كما أن كل مخالفة لأمر وارد أو تلبُّسٍ بمنهيٍ عنه في السورة يشكل موردًا من موارد الكفر إن لم يكن كفرًا بعينه، وتدبُّر هذا دقيق جدًا كما سيظهر معنا في مثال لاحق عند الحديث عن كفران النعم إن شاء الله.

هذه بعض الملامح العامة التي أحببت أن أستهل بها رحلتنا في رحاب هذه السورة المباركة، ولسوف تتضح إن شاء الله أبعاد هذه الفوائد بشكل أدق في سياق استعراض جزئيات السورة، فهلم متكلين على الله، رب يسِّر وأعِن.
5- সূরা ইব্রাহিমের বিষয়ভিত্তিক ঐক্য (الوحدة الموضوعية) অনুধাবনকারীকে এই প্রসঙ্গের আওতায় সূরায় বর্ণিত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো বুঝতে সাহায্য করে, যা ঈমান ও কুফরের মধ্যকার বিভাজন ও পার্থক্য সুনির্ধারিত করে; এর ফলে এই সূরায় বর্ণিত কোনো নির্দেশের প্রতি প্রতিটি আনুগত্য ঈমান অর্জনের একটি পথকে উপস্থাপন করে, ঠিক একইভাবে কোনো নির্দেশের প্রতিটি লঙ্ঘন কিংবা সূরায় নিষিদ্ধ কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া কুফরের (كفر) একটি উৎস তৈরি করে, যদি না তা সরাসরি কুফরই হয়। আর এর গভীর অনুধাবন (تدبر) অত্যন্ত সূক্ষ্ম, যা নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা নিয়ে আলোচনার সময় পরবর্তীতে একটি উদাহরণের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ আমাদের সামনে স্পষ্ট হবে।

এগুলো হলো কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য যা দিয়ে আমি এই বরকতময় সূরার সান্নিধ্যে আমাদের সফর শুরু করতে চেয়েছি। ইনশাআল্লাহ সূরার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পর্যালোচনার প্রেক্ষাপটে এই ফায়দাগুলোর দিকগুলো আরও সূক্ষ্মভাবে স্পষ্ট হবে। অতএব, আল্লাহর ওপর ভরসা করে এগিয়ে চলুন; হে প্রতিপালক, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المطلب الأول: رسالة الدعوة:
প্রথম পরিচ্ছেদ: দাওয়াতের বার্তা:
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১২)
لقد جاء تقرير هذه الرسالة وبيان الهدف الدعوي في هذه السورة بأسلوب سهل بسيط مباشر لا لبس فيه ولا غموض، وتتمثل عناصر هذه الرسالة في آيتين معجزتين استهلت السورة بإحداهما واختتمت بالأخرى؛ فالأولى قوله تعالى: {الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ} (1) والثانية قوله تعالى: {هَذَا بَلَاغٌ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذَرُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ} (2) فهاتان الآيتان تقرران بكل وضوح أن هدف هذه الرسالة استنقاذ الناس أجمعين من (ظلمات الجهل والكفر والأخلاق السيئة وأنواع المعاصي إلى نور العلم والإيمان والأخلاق الحسنة) (3) وهذا لا يتحقق إلا بتحقيق التوحيد الخالص المجرد لله تعالى كما ذكر في الآية الثانية {وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ} ، وهنا نكتة دقيقة وهي أن ذكر التوحيد لم يكن صريحًا في فاتحة السورة وإنما جاء بهذه الصراحة في خاتمتها، ولعل الحكمة من ذلك لفت انتباه المخاطبين إلى ما في دعوة التوحيد هذه من تحقيق مصلحتهم لأن الناس مجبولة

--------------------------------------------

(1) سورة إبراهيم - آية 1

(2) سورة إبراهيم - آية 52

(3) تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان - السعدي - 370
এই বার্তার উপস্থাপনা এবং এই সূরায় দাওয়াতি লক্ষ্যের বর্ণনা অত্যন্ত সহজ, সরল ও সরাসরি পদ্ধতিতে এসেছে, যেখানে কোনো অস্পষ্টতা বা সংশয় নেই। এই বার্তার উপাদানগুলো দুটি অলৌকিক আয়াতের মধ্যে নিহিত রয়েছে, যার একটি দিয়ে সূরাটি শুরু হয়েছে এবং অন্যটি দিয়ে শেষ হয়েছে; প্রথমটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আলিফ-লাম-রা; এটি একটি কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে—পরাক্রমশালী, চিরপ্রশংসিত সত্তার পথের দিকে বের করে আনতে পারেন} (১) এবং দ্বিতীয়টি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এটি মানুষের জন্য এক বার্তা, যাতে এর মাধ্যমে তাদের সতর্ক করা হয় এবং তারা যেন জানতে পারে যে তিনিই একমাত্র ইলাহ এবং যাতে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে} (২)। সুতরাং এই আয়াত দুটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সাব্যস্ত করে যে, এই বার্তার লক্ষ্য হলো সমস্ত মানুষকে (মূর্খতা, কুফর, মন্দ চরিত্র এবং নানাবিধ পাপাচারের অন্ধকার থেকে জ্ঞান, ঈমান ও উত্তম চরিত্রের আলোর দিকে) উদ্ধার করা (৩)। আর এটি মহান আল্লাহর জন্য বিশুদ্ধ ও একনিষ্ঠ তাওহিদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল সম্ভব, যেমনটি দ্বিতীয় আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে {যাতে তারা জানতে পারে যে তিনিই একমাত্র ইলাহ}। এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে, আর তা হলো—তাওহিদের আলোচনা সূরার শুরুতে স্পষ্টভাবে আসেনি, বরং এর সমাপ্তিতে এতোটা স্পষ্টতার সাথে এসেছে। সম্ভবত এর পেছনের প্রজ্ঞা হলো সম্বোধিত ব্যক্তিদের দৃষ্টি তাওহিদের এই দাওয়াতের মাধ্যমে তাদের নিজেদের স্বার্থ ও কল্যাণ হাসিলের দিকে আকর্ষণ করা, কারণ মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি...

--------------------------------------------

(১) সূরা ইবরাহিম - আয়াত ১

(২) সূরা ইবরাহিম - আয়াত ৫২

(৩) তাইসিরুল কারিমির রহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান - আস-সাদি - ৩৭০
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১৩)
على اتباع ما فيه مصلحة لهم، فضربت الآية الأولى المثال للكفر وللإسلام بما جُبل الناس على أنه مصلحة (وهذا على سبيل التمثيل، لأن الكفر بمنزلة الظلمة والإسلام بمنزلة النور) (1) ثم مضت السورة في الدعوة إلى التوحيد الذي هو حقيقة الإسلام وختمت السورة بذكر التوحيد صراحة إشارةً إلى أن هذه هي النتيجة القمن أن يصل إليها أولو الألباب والعقول النيرة حين تلتفت إلى ما جاء في السورة من توجيهات كما سيأتي. ولا بد لنا من أن نقرر جملة من المبادئ التي رسختها هاتان الآيتان فيما يتعلق بطبيعة الرسالة ومنها:

أولًا: التأكيد على عالمية الدعوة وقد جاء ذلك في فاتحة السورة في قوله تعالى: {لِتُخْرِجَ النَّاسَ} كما جاء في خاتمتها في قوله تعالى: {هَذَا بَلَاغٌ لِلنَّاسِ} ، ولا شك أن في هذا تأكيدًا على شمولية الدعوة من جهة وعلى أنها ناسخة ما قبلها وخاتمة الشرائع من جهة أخرى.

--------------------------------------------

(1) الجامع لأحكام القرآن - القرطبي - 288 / 9
তাঁদের জন্য যা কল্যাণকর তা অনুসরণের ক্ষেত্রে। প্রথম আয়াতে কুফর ও ইসলামের উদাহরণ এমন বিষয় দিয়ে প্রদান করা হয়েছে যা মানুষের প্রকৃতিগতভাবেই কল্যাণকর হিসেবে স্বীকৃত (আর এটি একটি রূপক উদাহরণ মাত্র, কারণ কুফর অন্ধকারের ন্যায় এবং ইসলাম আলোর ন্যায়)। (১) অতঃপর সূরাটি তাওহীদের দাওয়াতের দিকে ধাবিত হয়েছে যা ইসলামের প্রকৃত স্বরূপ এবং সূরার সমাপ্তিও ঘটেছে তাওহীদের সুস্পষ্ট আলোচনার মাধ্যমে। এটি মূলত এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত যে, প্রজ্ঞাবান ও আলোকিত হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তিগণ যখন সূরার দিকনির্দেশনাগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, তখন এটিই সেই যৌক্তিক পরিণতি যা তাঁদের নিকট প্রতিভাত হয়, যেমনটি পরবর্তীতে আলোচিত হবে। রিসালাতের প্রকৃতি সম্পর্কে এই আয়াতদ্বয় যে কতিপয় মূলনীতি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে, তা আমাদের তুলে ধরা প্রয়োজন। সেগুলো হলো:

প্রথমত: দাওয়াতের বিশ্বজনীনতার ওপর গুরুত্বারোপ। এটি সূরার শুরুতে মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: {যাতে আপনি মানবজাতিকে বের করে আনতে পারেন}। তেমনিভাবে সূরার শেষেও বর্ণিত হয়েছে: {এটি মানবজাতির জন্য এক বার্তা}। নিঃসন্দেহে এটি একদিকে যেমন দাওয়াতের ব্যাপকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে, তেমনি অন্যদিকে এটি পূর্ববর্তী বিধানসমূহের রহিতকারী (ناسخة) এবং সর্বশেষ শরীয়ত হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করে।

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন - আল-কুরতুবি - ৯ / ২৮৮
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১৪)
ثانيًا: بيان تحقق هداية الإرشاد بتزيل كتاب الله عز وجل وأن هذا الكتاب هو مَعين هذه الدعوة ونبعها الصافي وهذا جليٌ في قوله تعالى: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ} حيث أكد على مصدرية الوحي ومحورية دور الكتاب فلا يمكن أن يستقيم حال الناس وهم له هاجرون ولا يمكن لهم الانتفاع بنذارته وهم عنه لاهون، وهذا النوع من الهداية عام لكل الناس وبه يتحقق الإعذار.

ثالثًا: بيان أن تحقق هداية التوفيق موقوفة على إذن الله عز وجل حتى لا يغتر الناس بالركون إلى عقولهم وأهوائهم ويعترفوا بالفضل لله تعالى أولًا وآخرًا ويحترزوا عن أسباب خذلان الله تعالى لهم أشد ما يكونوا محتاجين إليه، وهذا الأمر واضح وجلي في قوله تعالى: {بِإِذْنِ رَبِّهِمْ}
দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহর কিতাব অবতীর্ণ করার মাধ্যমে পথপ্রদর্শনের হিদায়াত (هداية الإرشاد) অর্জিত হওয়ার বর্ণনা এবং এই কিতাবই যে এই দাওয়াতের মূল উৎস ও স্বচ্ছ প্রস্রবণ তা স্পষ্ট করা। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে সুস্পষ্ট: {একটি কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি}, যেখানে ওহীর উৎস হওয়া এবং কিতাবের কেন্দ্রীয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সুতরাং মানুষ একে বর্জন করে চললে তাদের অবস্থা সঠিক হওয়া সম্ভব নয় এবং তারা এর সতর্কবার্তা থেকে উপকৃত হতে পারবে না যতক্ষণ তারা এর প্রতি উদাসীন থাকবে। এই ধরণের হিদায়াত সকল মানুষের জন্য সাধারণ (عام) এবং এর মাধ্যমেই ওজর খণ্ডন (الإعذار) সম্পন্ন হয়।

তৃতীয়ত: তাওফিকের হিদায়াত (هداية التوفيق) প্রাপ্তি যে মহান আল্লাহর অনুমতির ওপর নির্ভরশীল তা বর্ণনা করা; যাতে মানুষ কেবল তাদের বুদ্ধি ও প্রবৃত্তির ওপর নির্ভর করে প্রতারিত না হয় এবং তারা যেন শুরুতে ও শেষে মহান আল্লাহর অনুগ্রহ স্বীকার করে। সেই সাথে তারা যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে বঞ্চনা বা সহায়তাহীনতা (خذلان) সৃষ্টির কারণসমূহ থেকে অত্যন্ত সতর্ক থাকে যখন তারা তাঁর সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী হয়। এই বিষয়টি মহান আল্লাহর বাণী {তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে}-তে অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১৫)
رابعًا: التأكيد على أن الله تعالى لا تنفعه طاعة المؤمنين ولا يضره عصيان الكافرين، وأنه سبحانه وتعالى إنما أرسل الرسل وأنزل الكتب غير محتاجٍ لطاعة أحد من عبيده ولا آبهٍ لمن أبق منهم، ولهذا أكدت الآية على أن الله تعالى هو {الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ} فهو تعالى العزيز بذاته (الذي لا يغلبه غالب) (1) والحميد بذاته (المحمود بكل لسان والممجَّد في كل مكان على كل حال) (2) ولكن الذي ينتفع من سلوك هذا الصراط هو العبد المطيع الذي يعتز بسلوكه الطريق الموصل إلى مرضاة ربه مهما استوحش الطريق وقل الصاحب والرفيق، فيكفيه عزًا أنه متذلل للعزيز ويكفيه فخرًا أنه متعبدٌ للحميد.

هذه ببساطة ملامح هذه الدعوة، ووصف البساطة في مقام الخطاب الشامل للناس كافة على تفاوت في المشارب والعلوم والوعي والتفكير والاستيعاب هو وصف مدح لأنه هو الأقدر على توصيل أعظم حقيقة - حقيقة التوحيد - إلى كل عقل وقلب من غير أن تحول دون ذلك تقعرات الفلاسفة وتشدقات الكلاميين وتعقيدات العلماء، بل يمكن لأكثر الناس عاميةً وبداءة أن يدرك هذه الحقيقة بنفس الوضوح الذي يدركه جهابذة العلم.

--------------------------------------------

(1) السابق

(2) السابق
চতুর্থত: এই বিষয়টি সুনিশ্চিত করা যে, আল্লাহ তাআলা মুমিনদের আনুগত্য দ্বারা উপকৃত হন না এবং কাফেরদের অবাধ্যতা তাঁর কোনো ক্ষতি সাধন করে না। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কোনো বান্দার আনুগত্যের মুখাপেক্ষী না হয়ে এবং যারা তাঁর অবাধ্য হয়ে দূরে সরে যায় তাদের পরোয়া না করেই রাসুলগণকে প্রেরণ করেছেন ও কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন। এজন্যই আয়াতে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা হলেন {পরাক্রমশালী, চির-প্রশংসিত}। তিনি স্বীয় সত্তায় পরাক্রমশালী (যাকে কোনো বিজয়ী পরাভূত করতে পারে না) (১) এবং স্বীয় সত্তায় চির-প্রশংসিত (যিনি সকল ভাষায় প্রশংসিত এবং সর্বাবস্থায় সর্বস্থানে মহিমান্বিত) (২)। তবে এই পথ অবলম্বনের মাধ্যমে সেই অনুগত বান্দাই উপকৃত হয়, যে তার রবের সন্তুষ্টির পথে চলার মাধ্যমে মর্যাদা লাভ করে; পথটি যতই নির্জন হোক এবং সঙ্গী ও বন্ধুর সংখ্যা যতই কম হোক না কেন। তার সম্মানের জন্য এটাই যথেষ্ট যে সে পরাক্রমশালীর সমীপে বিনম্র এবং তার গৌরবের জন্য এটাই যথেষ্ট যে সে চির-প্রশংসিতের ইবাদতকারী।

সহজ কথায় এটিই হলো এই দাওয়াতের রূপরেখা। মানুষের রুচি, জ্ঞান, সচেতনতা, চিন্তা ও বোধশক্তির ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সর্বজনীন সম্বোধনের ক্ষেত্রে 'সরলতা'র গুণটি প্রশংসার দাবিদার। কারণ দার্শনিকদের বাক্যবাগীশতা, কালামশাস্ত্রবিদদের বাগাড়ম্বর এবং আলিমদের জটিলতা ছাড়াই এই সরলতার মাধ্যমেই সুমহান সত্য—তাওহিদের হাকিকত—প্রতিটি বিবেক ও হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়া সবচেয়ে বেশি সম্ভব। এমনকি অতি সাধারণ ও সাধারণ স্তরের মানুষের পক্ষেও এই সত্যটি ঠিক ততটাই স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব, যতটা সম্ভব ইলমের প্রথিতযশা সমালোচকদের (جهابذة) পক্ষে।

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত

(২) প্রাগুক্ত
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১৬)
ويمكن أن نستنبط مما تقدم عدة قضايا أسلوبية ينبغي للداعية إلى الله تعالى أن يلتزم بها في سياق الدعوة إلى الله تعالى وهي:

1- الوضوح في بيان ما يدعو إليه مع مراعاة القدر المشترك الأدنى لأفهام الناس.

2- مراعاة الأولويات في الدعوة فيقصر همه وجهده على مسائل التوحيد قبل غيرها.

3- شحذ الهمم ورفع المعنويات من خلال إثارة معاني العزة عند الداعية والمستجيبين له لا سيما مع وحشة الطريق للسالكين الأوائل.
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা বেশ কিছু পদ্ধতিগত বিষয় অনুধাবন করতে পারি যা আল্লাহর পথে আহবানকারীর জন্য দাওয়াতের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা আবশ্যক, আর সেগুলো হলো:

১- যা দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তার বর্ণনায় স্পষ্টতা বজায় রাখা এবং মানুষের বোধগম্যতার সাধারণ স্তরের প্রতি লক্ষ্য রাখা।

২- দাওয়াতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের ক্রম বিবেচনা করা, ফলে অন্য সবকিছুর আগে তাওহীদের মাসআলাসমূহে নিজের প্রচেষ্টা ও মনোযোগ নিবদ্ধ করা।

৩- মনোবল সুদৃঢ় করা এবং হিম্মত বৃদ্ধি করা; যা আহবানকারী এবং তার দাওয়াত গ্রহণকারীদের মাঝে মর্যাদাবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে সম্ভব, বিশেষ করে হিদায়াতের পথের প্রাথমিক পথিকদের একাকীত্বের মুহূর্তে।
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المطلب الثاني: صفات الرسل:

إن الرسول هو حامل هذه الدعوة من الله تعالى إلى قومه، ولا شك أن الأسلوب الدعوي الناجح هو الذي يراعي متطلبات شخص الداعية ويعمل على تهذيبها كي يكون أدعى لاستجابة الناس، ولدى تأمل هذه السورة وجدنا جملةً من هذه الملامح التي يتصف بها الرسل وهي:

أولًا: الإرسال بلسان القوم:
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাসুলগণের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

নিশ্চয়ই রাসুল হলেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কওমের নিকট এই দাওয়াতের বাহক। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সেই দাওয়াতি পদ্ধতিই সফল যা একজন দায়ীর ব্যক্তিত্বের চাহিদাসমূহ বিবেচনা করে এবং তা মার্জিত করার লক্ষ্যে কাজ করে, যাতে করে তা মানুষের সাড়া পাওয়ার ক্ষেত্রে অধিকতর সহায়ক হয়। এই সূরাটি নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করলে আমরা রাসুলগণের এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের সমষ্টি দেখতে পাই যা তাঁরা ধারণ করেন, আর তা হলো:

প্রথমত: স্বজাতির ভাষায় প্রেরণ:
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১৮)
إن توافق لسان الرسول البشري مع لسان قومه أمر لازم لتحقق البيان عن الله عز وجل، ولهذا نجد الآية الكريمة تؤكد على تقرير ذلك حيث قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} (1) وهذا أصلٌ ضروري في إقامة الحجة بهداية الإرشاد التي هي أثر من آثار رحمة الله تعالى بالناس، ولهذا كان (من لطفه تعالى بخلقه أنه يرسل إليهم رسلًا منهم بلغاتهم ليفهموا عنهم ما يريدون وما أرسلوا به إليهم) (2) قلت: وبهذا البيان الجلي تتحقق هداية الإرشاد والدلالة على الحق، ولذا ناسب أن يتبع ذلك بتأكيد أن هداية التوفيق لا تكون إلا بمشيئة الله مثوبةً من عنده سبحانه لمن أقبل على الدعوة مستمعًا منصتًا مخبتًا منقادًا للحق.

ثانيًا: التوكل على الله:

--------------------------------------------

(1) سورة إبراهيم - 4

(2) تفسير القرآن العظيم - 596 / 4
রাসুলের মানবিক ভাষা এবং তাঁর কওমের ভাষার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে দ্বীনের সুস্পষ্ট বর্ণনা (بيان) প্রদানের জন্য একটি অপরিহার্য বিষয়। এই কারণেই পবিত্র আয়াতে বিষয়টি সুনিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে, যেখানে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {আমি প্রত্যেক রাসুলকেই তাঁর নিজ কওমের ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, যাতে তিনি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে বর্ণনা (بيان) করতে পারেন। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} (১) পথপ্রদর্শনমূলক হিদায়াত (هداية الإرشاد)-এর মাধ্যমে প্রমাণ (حجة) উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যাবশ্যকীয় মূলনীতি (أصل), যা মানুষের প্রতি আল্লাহ তাআলার রহমতেরই একটি বহিঃপ্রকাশ। আর এ কারণেই বলা হয়েছে: (সৃষ্টির প্রতি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ যে, তিনি তাদের নিকট তাদের মধ্য থেকেই তাদের ভাষায় রাসুল প্রেরণ করেন, যাতে তারা তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর উদ্দেশ্য এবং যা দিয়ে তাঁদের পাঠানো হয়েছে তা বুঝতে পারে।) (২) আমি বলি: এই সুস্পষ্ট বর্ণনার (بيان) মাধ্যমেই পথপ্রদর্শনমূলক হিদায়াত (هداية الإرشاد) এবং সত্যের দিশা বাস্তবায়িত হয়। তাই এর সাথে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে যে, তাওফিকমূলক হিদায়াত (هداية التوفيق) কেবল আল্লাহর ইচ্ছাতেই অর্জিত হয়; যা তাঁর পক্ষ থেকে সেই ব্যক্তির জন্য পুরস্কারস্বরূপ, যে দাওয়াতের প্রতি মনোযোগী ও বিনম্র হয়ে সত্যের অনুগামী হয়।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহর ওপর ভরসা (توكل):

--------------------------------------------

(১) সুরা ইবরাহিম - ৪

(২) তাফসিরুল কুরআনিল আজিম - ৪ / ৫৯৬
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১৯)
إن الرسول والداعية الناجح هو الذي يستعين بالله على تنفيذ أوامر الله، ويتوكل على الله حين يأخذ بأسبابه مهما كانت هذه الأسباب قوية، وأي شيء أقوى من معجزاتٍ أيَّد الله تعالى بها رسله وبينات وبراهين أقام على أيديهم بها حجته، ولكن ذلك لا يكفي بل إن مقام شهود هذه الأسباب هو - بالنسبة للداعية الناجح - عين مقام شهود الفقر إلى الله وهو بذلك أشد داعٍ إلى التوكل على الله تعالى حق توكله دونما ركون لما سواه مهما كان قويًا، بل إن هذا التوكل يصبح في سياق مجابهة الرسل أقوامهم نوعًا من التحدي المعجز بحد ذاته، فهو (كالإشارة من الرسل عليهم الصلاة والسلام لقومهم بآية عظيمة وهو أن قومهم في الغالب أن لهم القهر والغلبة عليهم، فتحدَّتهم رسلهم بأنهم متوكلون على الله في دفع كيدهم ومكرهم وجازمون بكفايته إياهم، وقد كفاهم الله شرهم مع حرصهم على إتلافهم وإطفاء ما معهم من الحق) (1) ولقد جاءت السورة بتأكيد هذا الأمر في مقام محاججة الرسل قومهم، تأمل قوله تعالى: {قَالَتْ لَهُمْ رُسُلُهُمْ إِنْ نَحْنُ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَمُنُّ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَمَا كَانَ لَنَا أَنْ نَأْتِيَكُمْ

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن- السعدي - 372
রাসুল এবং সফল দাঈ হলেন তিনি, যিনি আল্লাহর নির্দেশসমূহ বাস্তবায়নে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন এবং যাবতীয় উপায়-উপকরণ গ্রহণ করার সময় আল্লাহর ওপর ভরসা করেন, সেই উপকরণগুলো যত শক্তিশালীই হোক না কেন। আর মহান আল্লাহ তাঁর রাসুলগণকে যে সকল অলৌকিক নিদর্শন দ্বারা সাহায্য করেছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে যে সকল সুস্পষ্ট প্রমাণ ও দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠা করেছেন, তার চেয়ে শক্তিশালী আর কী হতে পারে? কিন্তু কেবল এটিই যথেষ্ট নয়; বরং একজন সফল দাঈর নিকট এই মাধ্যম বা উপকরণসমূহ প্রত্যক্ষ করার স্তরটি হলো—আল্লাহর নিকট নিজের পরম মুখাপেক্ষিতা অনুধাবন করারই নামান্তর। আর এই উপলব্ধিই তাঁকে অন্য কোনো কিছুর ওপর নির্ভর না করে—তা যত শক্তিশালীই হোক—মহান আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে তাওয়াক্কুল করার প্রতি প্রবলভাবে উদ্বুদ্ধ করে। এমনকি রাসুলগণ যখন তাঁদের কওমের মোকাবিলা করেন, তখন এই তাওয়াক্কুল নিজেই একটি স্বতন্ত্র অলৌকিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়। এটি হলো রাসুলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) পক্ষ থেকে তাঁদের কওমের প্রতি এক মহান নিদর্শনের ইশারা স্বরূপ; অথচ বাস্তবতা হলো, সাধারণত সেই কওমগুলোই তাঁদের ওপর শক্তি ও প্রভাবের দিক থেকে প্রবল থাকত। এমতাবস্থায় রাসুলগণ তাঁদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতেন যে, তাঁরা তাঁদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত নস্যাৎ করার বিষয়ে আল্লাহর ওপর ভরসাশীল এবং আল্লাহ যে তাঁদের জন্য যথেষ্ট হবেন সে ব্যাপারে তাঁরা সুনিশ্চিত। আর আল্লাহ তাঁদেরকে সেই অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন, যদিও সেই কওম তাঁদের বিনাশ করতে এবং তাঁদের নিকট থাকা সত্যকে নিভিয়ে দিতে অত্যন্ত উদগ্রীব ছিল। (১) আর এই সুরায় রাসুলগণ এবং তাঁদের কওমের বিতর্কের প্রেক্ষিতে এই বিষয়টি সুনিশ্চিত করা হয়েছে। মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করুন: {তাঁদের নিকট তাঁদের রাসুলগণ বললেন: আমরা তোমাদের মতো মানুষ ছাড়া আর কিছুই নই, কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। আর আমাদের এমন কোনো সাধ্য নেই যে, আমরা তোমাদের নিকট...

--------------------------------------------

(১) তাইসিরুল কারিমির রহমান - আস-সা'দি - ৩৭২
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২০)
بِسُلْطَانٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ} {وَمَا لَنَا أَلَّا نَتَوَكَّلَ عَلَى اللَّهِ وَقَدْ هَدَانَا سُبُلَنَا وَلَنَصْبِرَنَّ عَلَى مَا آذَيْتُمُونَا وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكِّلُونَ} (1) والحقيقة أنه لا يمكن أن تقوم للداعية قائمة في مواجهة مهمة البلاغ إلا بتوكل صحيح على الله تعالى، ولهذا كان توكل الرسل عليهم الصلاة السلام أكمل ما يكون من التوكل لأنه في أعلى ما يكون من المطالب وأشرف ما يكون من المراتب (2) فقمنٌ بالداعية إلى الله تعالى أن يسير على خطاهم وأن يقتفي آثارهم وسننهم.

ثالثًا: الصبر على الأذى:

لقد تقدم معنا في آية التوكل قوله تعالى: {وَلَنَصْبِرَنَّ عَلَى مَا آذَيْتُمُونَا} (3) ولا شك أن في هذا إشارة جلية من الله تعالى إلى أن الرسل سيلاقون من المشاق والمتاعب ما يستلزم استحضار هذا الابتلاء والاستعداد لمواجهته، ولقد جاء التزام الرسل بهذا الصبر مؤكدًا بلام القسم وبنون التوكيد مبالغةً في الثبات وإمعانًا في إظهار الثقة بالله تعالى أنه ينصرهم.

--------------------------------------------

(1) سورة إبراهيم - 11-12

(2) تيسير الكريم الرحمن- السعدي - 372 - بتصرف

(3) سورة إبراهيم - 12
...কোনো প্রমাণসহ (আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত)। আর মুমিনদের উচিত কেবল আল্লাহর ওপরই ভরসা করা। আর আমাদের কী হয়েছে যে আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করব না, অথচ তিনি আমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন? তোমরা আমাদের যে কষ্ট দিচ্ছ, আমরা অবশ্যই তাতে ধৈর্য ধারণ করব। আর ভরসাকারীদের উচিত কেবল আল্লাহর ওপরই ভরসা করা।} (১) আর বাস্তবতা হলো এই যে, দাওয়াতের গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর ওপর সঠিক (صحيح) তাওয়াক্কুল বা ভরসা ব্যতীত একজন দায়ীর পক্ষে অটল থাকা সম্ভব নয়। এই কারণেই রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) তাওয়াক্কুল ছিল সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যায়ের; কেননা তা ছিল সর্বোচ্চ লক্ষ্য এবং অত্যন্ত সম্মানিত মর্যাদাসমূহের অন্তর্ভুক্ত (২)। অতএব, আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানকারীর জন্য এটিই সমীচীন যে, তিনি তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন এবং তাঁদের পদাঙ্ক ও সুন্নাহর (سنن) অনুসারী হবেন।

তৃতীয়ত: দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য ধারণ করা:

তাওয়াক্কুল সংক্রান্ত আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী আমাদের সামনে অতিক্রান্ত হয়েছে: {তোমরা আমাদের যে কষ্ট দিচ্ছ, আমরা অবশ্যই তাতে ধৈর্য ধারণ করব} (৩)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি এক সুস্পষ্ট ইঙ্গিত যে, রাসূলগণ এমন সব কষ্ট ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হবেন যা এই পরীক্ষা বা ইবতিলা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং তা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকাকে অপরিহার্য করে তোলে। আর রাসূলগণের এই ধৈর্যের অঙ্গীকার শপথের 'লাম' এবং তাকিদ বা নিশ্চয়তার 'নুন' দ্বারা সুদৃঢ় করা হয়েছে, যাতে অবিচলতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে এবং মহান আল্লাহর ওপর এই গভীর আস্থা (ثقة) পরিস্ফুট হয় যে, তিনি তাঁদের সাহায্য করবেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা ইবরাহিম - ১১-১২

(২) তাইসিরুল কারিমির রহমান - আস-সা'দি - ৩৭২ - পরিমার্জিত

(৩) সূরা ইবরাহিম - ১২
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২১)
مما تقدم نستنبط عدة قضايا أسلوبية تتعلق بصفات الداعية إلى الله تعالى أوجزها فيما يلي:

1- مخاطبة الناس بما يفهمون؛ فهدف الداعية أن يوصل رسالة التوحيد إلى الناس لا أن يستعلي على القوم أو يتشدق بما لا يفهمون، وفي إرسال الله تعالى رسله بلغة أقوامهم تنبيه إلى ذلك.

2- ضرورة التزود بزاد التوكل والصبر؛ فطريق الدعوة شاق وموحش، والمعوقات - كما سيأتي - ليست بالقليلة ولا باليسيرة، فلا بد للداعية من أن يستعد لتحمل الأذى والمشقة في سبيل البلاغ عن ربه.
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা মহান আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত বেশ কিছু পদ্ধতিগত বিষয় উপলব্ধি করতে পারি, যা আমি নিম্নে সংক্ষেপে উল্লেখ করছি:

১- মানুষের সাথে তাদের বোধগম্য ভাষায় কথা বলা; কেননা একজন দাঈর লক্ষ্য হলো মানুষের কাছে তাওহীদের বাণী পৌঁছে দেওয়া, লোকজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা কিংবা এমন দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করা নয় যা তারা বুঝতে সক্ষম নয়। মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর রাসূলগণকে তাঁদের নিজ নিজ জাতির ভাষায় প্রেরণ করার মধ্যে এই বিষয়ের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।

২- তাওয়াক্কুল ও ধৈর্যের পাথেয় গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা; কারণ দাওয়াতের পথ অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ ও বন্ধুর। এই পথের প্রতিবন্ধকতাগুলো—যেমনটি সামনে আলোচিত হবে—একেবারে নগণ্য বা সহজসাধ্য নয়। সুতরাং স্বীয় রবের পক্ষ থেকে দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে যে কোনো কষ্ট ও কাঠিন্য সহ্য করার জন্য একজন দাঈকে অবশ্যই সদাপ্রস্তুত থাকতে হবে।
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌أولًا: حب الدنيا على الآخرة:

وقد جاء هذا وصفًا للكافرين في قوله تعالى: {وَوَيْلٌ لِلْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ شَدِيدٍ} {الَّذِينَ يَسْتَحِبُّونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ} ، وهذا المعوِّق يمكن اعتباره في الحقيقة الداء الأصيل لكل من وضع أمام الدعوة عائقًا أو اعترض طريقها بعقبة أو نحوها، لأنهم (يقدمونها [أي الدنيا] ويؤثرونها عليها [أي الآخرة] ويعملون للدنيا ونسوا الآخرة وتركوها وراء ظهورهم) (1) قلت: فالذي يعمل للدنيا يتخبط في كل أوديتها ويسير وراء كل هوى، فكلما عارض الشرعُ ودعوةُ الحق هواه أخذ يضع من العوائق والعقبات ما يحجب دعوة الحق عنه لتخليَّ بينه وبين هواه، وهذا عندي هو وجه كون هذا هو المعوِّق الأصيل للدعوة، فهو يتعدى كونه مانعًا من قبول الفرد للدعوة وتلقيها إلى تجنيد هذا الفرد تحت إمرة إبليس للوقوف في طريق الدعوة بشتى السبل كما سيلي، ولهذا كان مناسبًا أن ذكرت الآية الكريمة هذا العائق أول ما ذكرت، والله تعالى أعلم.

--------------------------------------------

(1) تفسير القرآن العظيم - ابن كثير - 596 / 4 وما بين معقوفتين من كلامي
প্রথমত: আখেরাতের বিপরীতে দুনিয়াপ্রীতি:

আর এটি অবিশ্বাসীদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে মহান আল্লাহর এই বাণীতে এসেছে: {অবিশ্বাসীদের জন্য দুর্ভোগ রয়েছে কঠোর আযাবের কারণে} {যারা আখেরাতের চেয়ে পার্থিব জীবনকে বেশি পছন্দ করে।} আর এই প্রতিবন্ধকতাকে প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি সেই ব্যক্তির জন্য মৌলিক ব্যাধি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, যে দাওয়াতের সামনে কোনো বাধা সৃষ্টি করেছে বা এর পথে কোনো অন্তরায় বা অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে বাধা দিয়েছে। কেননা তারা (একে [অর্থাৎ দুনিয়াকে] অগ্রগণ্য করে এবং একে সেটির [অর্থাৎ আখেরাতের] ওপর প্রাধান্য দেয়, আর তারা দুনিয়ার জন্য কাজ করে এবং আখেরাতকে ভুলে গিয়ে তাকে নিজেদের পেছনে ফেলে রাখে)। (১) আমি বলছি: যে ব্যক্তি দুনিয়ার জন্য কাজ করে, সে এর প্রতিটি অলিগলিতে দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং প্রত্যেক প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। ফলে যখনই শরীয়ত এবং সত্যের দাওয়াত তার প্রবৃত্তির পরিপন্থী হয়, তখনই সে এমন সব বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে শুরু করে যা সত্যের দাওয়াতকে তার থেকে আড়াল করে দেয়, যাতে তাকে ও তার প্রবৃত্তিকে যথেচ্ছভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর আমার মতে এটিই হলো দাওয়াতের ক্ষেত্রে একে মৌলিক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে গণ্য করার কারণ। কেননা এটি ব্যক্তিকে শুধু দাওয়াত গ্রহণ ও তা লাভ করা থেকে বাধা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি সেই ব্যক্তিকে ইবলিসের কর্তৃত্বাধীনে দাওয়াতের পথে বিভিন্ন উপায়ে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য নিয়োজিত করে, যা সামনে বিস্তারিত আসবে। এই কারণেই পবিত্র আয়াতে সর্বপ্রথম এই বাধার কথা উল্লেখ করা সঙ্গত হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

(১) তাফসিরুল কুরআনিল আজিম - ইবনে কাসির - ৪ / ৫৯৬ এবং তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু আমার নিজস্ব বক্তব্য।
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌ثانيًا: الصد عن سبيل الله:

وسبيل الله هنا بمعنى (اتباع الرسل) (1) فهؤلاء الكفار لا يكتفون برفض دعوة الرسل لهم ولكنهم يصرفون الناس عن اتباع ما جاءت به الرسل، وهذا الصد يكون بالرفض تارة وبالإكراه تارة وبالتهديد تارة وبالتشويه والتحريف تارة كما بينت الآية نفسها في قوله تعالى: {وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا} أي (يحرصون على تهجينها [أي سبيل الله] وتقبيحها للتنفير منها) (2) ولما كان دأب هؤلاء هو التشهير بالدعوة والدعاة فقد رد عليهم القرآن بمثل ما فعلوا فشهَّر الله تعالى بهم وفضحهم على رؤوس الأشهاد وبيَّن أنهم معادون لمولاهم ومعادون للحق ومعادون لأنفسهم في اعتراض دعوة الرسل وتنفير الناس منها، ولقد ذكر الله تعالى أمثال هؤلاء في غير موضع من القرآن، فهذه الآية نظير قوله تعالى: {قُلْ يَاأَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ مَنْ آمَنَ تَبْغُونَهَا عِوَجًا وَأَنْتُمْ شُهَدَاءُ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ} (3) فكان جزاء هؤلاء من جنس عملهم ولبئس ما عملوا.

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق

(2) تيسير الكريم الرحمن - السعدي - 370

(3) سورة آل عمران - 99
দ্বিতীয়ত: আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান:

এবং এখানে আল্লাহর পথ বলতে (রাসূলগণের অনুসরণ) (১) বোঝানো হয়েছে। এই কাফিররা কেবল তাদের প্রতি রাসূলগণের দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেই ক্ষান্ত হয় না, বরং তারা মানুষকে রাসূলগণের আনীত আদর্শ অনুসরণ করা থেকেও বিরত রাখে। আর এই বাধা প্রদান কখনো প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে, কখনো জবরদস্তির মাধ্যমে, কখনো হুমকির মাধ্যমে এবং কখনো বিকৃতি ও অপপ্রচারের মাধ্যমে হয়ে থাকে, যেমনটি এই আয়াতেই মহান আল্লাহর বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {এবং তারা তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করে} অর্থাৎ (তারা আল্লাহর পথকে ত্রুটিযুক্ত এবং কদর্য হিসেবে উপস্থাপন করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাতে মানুষ তা থেকে বিমুখ হয়) (২)। যেহেতু এই লোকদের স্বভাবই ছিল দাওয়াত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো, তাই কুরআন তাদের কর্মকাণ্ডের অনুরূপই তাদের জবাব দিয়েছে। ফলে মহান আল্লাহ তাদের কর্মকাণ্ড জনসমক্ষে প্রকাশ করে তাদের লাঞ্ছিত করেছেন এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তারা রাসূলগণের দাওয়াতে বাধা প্রদান ও তা থেকে মানুষকে বিতাড়িত করার মাধ্যমে তাদের মাবুদ, সত্য এবং খোদ নিজেদের শত্রুতা করছে। মহান আল্লাহ কুরআনের বিভিন্ন স্থানে এদের কথা উল্লেখ করেছেন। এই আয়াতটি মহান আল্লাহর এই বাণীর সদৃশ: {বলুন, হে আহলে কিতাব! কেন তোমরা আল্লাহর পথে মুমিনদের বাধা দাও, তোমরা তাতে বক্রতা তালাশ করো, অথচ তোমরা সাক্ষী? আর আল্লাহ তোমাদের আমল সম্পর্কে অনবহিত নন} (৩)। সুতরাং তাদের কর্ম অনুযায়ীই ছিল তাদের প্রতিফল এবং তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট!

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস

(২) তায়সীরুল কারীমুর রহমান - আস-সা'দী - ৩৭০

(৩) সূরা আলে ইমরান - ৯৯
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌ثالثًا: الاستهزاء بالرسل:
তৃতীয়ত: রাসূলগণের প্রতি উপহাস:
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২৫)
وهذا مسلك آخر لهؤلاء الكفار وهو دليل على إفلاس حججهم بل عدمها، إذ لو كانت لهم حجة من المعقول أو أثر صحيح منقول لخاصموا به الرسل، ولكن لما أعيتهم الحيلة جحدوا {فَرَدُّوا أَيْدِيَهُمْ فِي أَفْوَاهِهِمْ} ، ولقد تعددت أقوال أهل التفسير في المراد من هذا الوصف، وذكر منها الشيخ الشنقيطي رحمه الله تعالى أن معناها أن الكفار عضوا على أناملهم غيظًا مما جاء به الرسل، أو أنهم فعلوا ذلك من العجب لما سمعوا من دعوة الرسل، أو أنهم إنما يشيرون بأيديهم إلى أفواه الرسل ليسكتوا عما جاءوا به، أو أنهم كذبوهم بأفواههم (1) إضافة إلى أقوال أخرى، (2) وأول الأقوال مأثور عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه ولعله أصح الماثور في الآية إسنادًا، ووجهه ابن جرير الطبري بقوله تعالى: {وَإِذَا خَلَوْا عَضُّوا عَلَيْكُمُ الْأَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِ} . (3) قلت: إن تأمل هذا الوصف - أعني قوله تعالى {فَرَدُّوا أَيْدِيَهُمْ فِي أَفْوَاهِهِمْ} - يوحي بشيء من الاستهزاء والتهكم وهذا مشاهد ومعروف عند الناس فترى الرجل إذا تكلم بكلمة لا يحبها القوم وضعوا أيديهم على أفواههم وتهكموا وربما تبسموا أو ضحكوا استخفافًا واستهزاءً بما يقول، وعندي أن

--------------------------------------------

(1) وهذا على أن في بمعنى الباء، ذكره في أضواء البيان

(2) أضواء البيان - الشنقيطي - 58-59 / 2

(3) تفسير القرآن العظيم - ابن كثير - 601 / 4 بتصرف
এটি এই কাফিরদের জন্য অন্য একটি পথ এবং এটি তাদের যুক্তির দেউলিয়াপনা বরং যুক্তির অনুপস্থিতির প্রমাণ; কারণ তাদের কাছে যদি বুদ্ধিভিত্তিক কোনো দলিল থাকত অথবা বর্ণিত কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনা (أثر) থাকত, তবে তারা তা দিয়ে রাসুলগণের সাথে বিতর্ক করত। কিন্তু যখন তাদের সব কৌশল ব্যর্থ হলো, তখন তারা অস্বীকার করল {অতঃপর তারা তাদের হাত তাদের মুখে ফিরিয়ে নিল}। এই বর্ণনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে মুফাসসিরগণের বিভিন্ন মত রয়েছে। শেখ শানকীতি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, এর অর্থ হলো কাফিররা রাসুলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি ক্ষোভে আঙুল কামড়াত, অথবা রাসুলগণের দাওয়াত শুনে বিস্ময়ের কারণে তারা এমনটি করত, অথবা তারা রাসুলগণের মুখের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করত যাতে তাঁরা যা নিয়ে এসেছেন তা থেকে চুপ থাকেন, অথবা তারা তাদের মুখ দিয়ে তাঁদের মিথ্যা সাব্যস্ত করত (১), এর পাশাপাশি আরও কিছু মত রয়েছে। (২) আর প্রথম মতটি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত (مأثور) এবং সম্ভবত এটিই সনদের (إسناد) দিক থেকে এই আয়াতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) বর্ণনা (مأثور)। ইবনে জারির তবারী একে শক্তিশালী করেছেন আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর যখন তারা একান্তে মিলিত হয়, তখন তোমাদের প্রতি রাগে তারা তাদের আঙুলের অগ্রভাগ কামড়ায়}। (৩) আমি বলছি: এই বর্ণনাটি—অর্থাৎ আল্লাহর বাণী {অতঃপর তারা তাদের হাত তাদের মুখে ফিরিয়ে নিল}—নিয়ে গভীর চিন্তা করলে তাতে উপহাস ও বিদ্রূপের একটি আবেশ পাওয়া যায়। এটি মানুষের মধ্যে দৃশ্যমান এবং সুপরিচিত। কোনো ব্যক্তি যখন এমন কোনো কথা বলে যা লোকেরা অপছন্দ করে, তখন দেখা যায় তারা তাদের মুখের ওপর হাত রাখে এবং বিদ্রূপ করে; সম্ভবত তারা তার কথাকে তাচ্ছিল্য ও উপহাস করে মুচকি হাসে বা অট্টহাসি দেয়। আমার মতে...

--------------------------------------------

(১) এটি এ কারণে যে, 'ফি' (في) অব্যয়টি এখানে 'বা' (باء) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, আদওয়াউল বয়ান গ্রন্থে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) আদওয়াউল বয়ান - শানকীতি - ২/৫৮-৫৯।

(৩) তাফসিরুল কুরআনিল আজিম - ইবনে কাসির - ৪/৬০১ (পরিমার্জিত)
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২৬)
هذا لا يتعارض مع ما أُثر عن ابن مسعود رضي الله عنه بل يكون ما ذكره من عضهم على الأنامل غيظًا في حال السر واختلائهم ببعضهم البعض كما ذكر تعالى: {وَإِذَا خَلَوْا عَضُّوا عَلَيْكُمُ الْأَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِ} (1) ويكون ما ذكرتُه من الاستهزاء والاستخفاف والتهكم في الملأ والعلن وهذا أبلغ في الصد عن سبيل الله من كونهم يظهرون الغيظ مما جاءت به الرسل، والله تعالى أعلم.

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران - آية 119
এটি ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (أُثر) বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক নয়; বরং তিনি রাগের কারণে তাদের আঙ্গুল কামড়ানোর যে কথা উল্লেখ করেছেন, তা ছিল তাদের নির্জনে একে অপরের সাথে নিভৃতে অবস্থানের সময়ের বিষয়। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর যখন তারা নির্জনে থাকে, তখন তোমাদের প্রতি রাগে তারা আঙ্গুলের অগ্রভাগ কামড়ে ধরে" (১)। আর আমি উপহাস, অবজ্ঞা ও বিদ্রূপের যে কথা উল্লেখ করেছি, তা জনসমক্ষে ও প্রকাশ্য অবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি তাদের আক্রোশ প্রকাশ করার চেয়ে এটি (উপহাস) আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা প্রদানের ক্ষেত্রে অধিক প্রভাবশালী। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইমরান - আয়াত ১১৯
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌رابعًا: إثارة الشكوك والشبهات:

وقد فضحت السورة هذا المسلك أيضًا في قوله تعالى: {وَإِنَّا لَفِي شَكٍّ مِمَّا تَدْعُونَنَا إِلَيْهِ مُرِيبٍ} ، وردت عليهم ردًا حاسمًا في قوله تعالى: {قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللَّهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} (1) ذلك أن هذه الشبهة شبهة واهية لا تستحق النقاش والجدال فكان كافيًا في الرد عليها تقرير ما هو مستقر في الفطر السليمة والعقول الصحيحة، ولكن الغرض هنا التنبيه على مدى انحطاط هؤلاء الكفرة الصادين عن سبيل الله فهم لا يتورعون عن إثارة الفتنة والشبهة مهما كانت الحقيقة بدهية في العقول، ولكن ما تقول فيمن جعل الله في قلبه مرض وعلى بصره غشاوة وفي أذنه وقر نسأل الله السلامة والعافية.

--------------------------------------------

(1) سورة إبراهيم - آية 10
চতুর্থত: সংশয় ও সন্দেহ উত্থাপন করা:

সুরাটি তাদের এই কর্মপন্থাকেও উন্মোচিত করে দিয়েছে মহান আল্লাহর বাণীতে: "আর তোমরা আমাদের যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান করছ, সে সম্পর্কে আমরা বিভ্রান্তিকর সন্দেহে রয়েছি।" এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে তাদের ওপর চূড়ান্ত প্রতিত্তোর দিয়েছেন: "তাদের রাসূলগণ বলেছিলেন, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা আল্লাহ সম্পর্কে কি কোনো সন্দেহ আছে?" (১) কেননা এই সংশয়টি ছিল একটি অত্যন্ত দুর্বল (واهية) সংশয় যা কোনো আলোচনা ও তর্কের যোগ্য নয়; তাই এর জওয়াবে সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতি (فطرة) ও সঠিক বুদ্ধিবৃত্তিতে যা বদ্ধমূল রয়েছে তার স্বীকৃতি প্রদানই যথেষ্ট ছিল। তবে এখানে উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর পথ থেকে বাধাদানকারী সেই কাফিরদের হীনমন্যতার স্তর সম্পর্কে সতর্ক করা, কারণ সত্য বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে যতই স্বতঃসিদ্ধ হোক না কেন, তারা ফিতনা ও সংশয় সৃষ্টি করতে দ্বিধাবোধ করে না। কিন্তু আপনি তাদের সম্পর্কে কী বলবেন যাদের অন্তরে আল্লাহ ব্যাধি সৃষ্টি করেছেন, চোখে পর্দা দিয়েছেন এবং কানে দিয়েছেন বধিরতা; আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করি।

--------------------------------------------

(১) সুরা ইব্রাহিম - আয়াত ১০
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌خامسًا: الإيذاء الحسي والإخراج من الأرض:
পঞ্চম: শারীরিক নির্যাতন এবং ভূখণ্ড থেকে বহিষ্কার:
(খণ্ড: ১) আসালীবুত তারবিয়াহ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াত তাওজীহ মিন খিলালি সূরাতি ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২৯)
وهذا التهديد الذي واجهت به أقوام الرسل الدعوة إلى الله تعالى كما حكت الآية تهديدهم: {لَنُخْرِجَنَّكُمْ مِنْ أَرْضِنَا أَوْ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَا} ، ولا شك أن هذا التهديد يعتبر من المعوقات المهمة لانتشار الدعوة وتقبل الناس لها، فالمرء مجبول على حب موطنه والأنس به وكراهة الإخراج منه، كما جاء في الحديث عن عبد الله بن عدي بن حمراء الزهري قال: «رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم واقفًا على الحَزْوَرَة فقال:" والله إنك لخير أرض الله وأحب أرض الله إلى الله ولولا أني أُخرجت منك ما خرجت» (1) ولقد فصلَّت آيات أخرى في كتاب الله تهديد الكفار هذا لرسلهم، فجاء قوله تعالى عن قوم شعيب: {لَنُخْرِجَنَّكَ يَاشُعَيْبُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَكَ مِنْ قَرْيَتِنَا أَوْ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَا قَالَ أَوَلَوْ كُنَّا كَارِهِينَ} (2) وقوله تعالى عن قوم لوط: {فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا أَخْرِجُوا آلَ لُوطٍ مِنْ قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ} (3) وقال تعالى عن قريش: {وَإِذْ يَمْكُرُ بِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِيُثْبِتُوكَ أَوْ يَقْتُلُوكَ أَوْ يُخْرِجُوكَ وَيَمْكُرُونَ

--------------------------------------------

(1) سنن الترمذي - كتاب المناقب وقال أبو عيسى: حديث حسن غريب صحيح، والحزورة مكان بسوق مكة

(2) سورة الأعراف - آية 88

(3) سورة النمل - آية 56
আর এটিই সেই হুমকি যার মাধ্যমে রাসুলদের কওমসমূহ আল্লাহর পথে দাওয়াতের মোকাবিলা করেছিল, যেমনটি কুরআনের আয়াতে তাদের হুমকির কথা বর্ণনা করা হয়েছে: {আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে আমাদের ভূখণ্ড থেকে বের করে দেব অথবা তোমাদেরকে আমাদের ধর্মে ফিরে আসতে হবে}। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই হুমকি দাওয়াতের প্রসার এবং মানুষের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে বিবেচিত। কারণ মানুষ স্বভাবগতভাবেই তার স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করে, সেখানে প্রশান্তি অনুভব করে এবং সেখান থেকে বহিষ্কৃত হওয়াকে অপছন্দ করে। যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে আদি ইবনে হামরা আল-জুহরি থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাজওয়ারা নামক স্থানে দাঁড়িয়ে বলতে দেখেছি: "আল্লাহর কসম! তুমি আল্লাহর জমিনের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ভূখণ্ড। যদি আমাকে তোমার থেকে বের করে দেওয়া না হতো, তবে আমি বের হতাম না"» (১) আল্লাহর কিতাবের অন্যান্য আয়াতেও কাফেরদের পক্ষ থেকে তাদের রাসুলদের প্রতি এই হুমকির বিস্তারিত বিবরণ এসেছে। যেমন শুয়াইব (আ.)-এর কওম সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {হে শুয়াইব! আমরা অবশ্যই তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বের করে দেব অথবা তোমাদেরকে আমাদের ধর্মে ফিরে আসতে হবে। তিনি বললেন, আমরা অপছন্দ করা সত্ত্বেও কি?} (২) এবং লুত (আ.)-এর কওম সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {উত্তরে তার কওম কেবল এটাই বলল যে, লুতের পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও; তারা তো এমন লোক যারা অতি পবিত্র সাজতে চায়} (৩) আর কুরাইশদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: {স্মরণ করুন, যখন কাফেররা আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল আপনাকে বন্দি করার জন্য, হত্যা করার জন্য অথবা আপনাকে বের করে দেওয়ার জন্য। তারা ষড়যন্ত্র করছিল...}

--------------------------------------------

(১) সুনানে তিরমিজি - কিতাবুল মানাকিব; ইমাম আবু ঈসা বলেন: হাদিসটি হাসান (حسن) গরিব (غريب) সহিহ (صحيح)। হাজওয়ারা হলো মক্কার বাজারের একটি স্থান।

(২) সুরা আল-আরাফ - আয়াত ৮৮

(৩) সুরা আন-নামল - আয়াত ৫৬