(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল আনিকু ফী ফাদলিস সিদ্দিক (পৃষ্ঠা: -)
الروض الأنيق في فضل الصديق   (الجلال السيوطي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الروض الأنيق في فضل الصديق

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911 هـ)

عدد الصفحات: 3

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সিদ্দীকের মর্যাদায় সুশোভিত কানন   (জালালুদ্দিন সুয়ূতী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস


গ্রন্থ: সিদ্দীকের মর্যাদায় সুশোভিত কানন

লেখক: আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর، জালালুদ্দিন সুয়ূতী (মৃ. ৯১১ হিজরী)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল আনিকু ফী ফাদলিস সিদ্দিক (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي جعل خير هذه الأمة أبا بكر الصديق، ورفع مقامه على كل مقام بزيادة اليقين والتصديق … شيخ الإسلام على التحقيق، أحمده وهو بكل حمد خليق، واشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له شهادة توسع على قائلها كل ضيق وأشهد أن سيدنا محمد عبده ورسوله النبي الرفيق صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه وأزواجه وذريته أولي الرشاد والتوفيق.

أما بعد، فهذا كتاب لقبته (الروض الأنيق في فضل الصديق) أوردت فيه أربعين حديثا مختصرة سهل حفظها على من أراد ذلك من البررة، واسأل الله أن ينفعنا بالانتساب إليه ويجمعنا وإياه في دار الزلفاء لديه بمحمد صلى الله عليه وسلم وعلى آله وسلم آمين آمين آمين.

‌‌الحديث الأول

عن عائشة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبى الله والمؤمنون أن يختلفوا عليك يا أبا بكر) .

اخرجه الامام احمد.

‌‌الحديث الثاني

عن أنس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر وعمر سيدا كهول أهل الجنة من الأولين والآخرين، ما خلا النبيين والمرسلين) .

اخرجه الضياء في مختاره، وجمع كثيرون.

‌‌الحديث الثالث

عن سعيد بن زيد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر في الجنة، وعمر في الجنة، وعثمان في الجنة، وعلي في الجنة، وطلحة في الجنة، والزبير في الجنة، وعبد الرحمن بن عوف في الجنة، وسعد بن أبي وقاص في الجنة، وسعيد بن زيد في الجنة، وأبو عبيدة بن الجراح في الجنة) .

اخرجه الضياء في مختاره، وجمع اخرون.

‌‌الحديث الرابع

عن المطلب بن عبد الله بن حنطب عن أبيه عن جده - وماله غيره - أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر وعمر مني كمنزلة السمع والبصر من الرأس (اخرجه البارودي وابو نعيم وغيرهما.

‌‌الحديث الخامس

عن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر وعمر من هذا الدين، كمنزلة السمع والبصر من الرأس) .

اخرجه ابن النجار، واخرجه الخطيب في تاريخه عن جابر.

‌‌الحديث السادس

عن جابر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر الصديق وزيري وخليفتي على أمتي من بعدي، وعمر ينطق على لساني، وعلي ابن عمي وأخي وحامل رايتي، وعثمان مني وأنا من عثمان) .

اخرجه الطبراني في الكبير، وابن عدي في الكامل وغيرهما.

‌‌الحديث السابع

عن شداد بن أوس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر أرأف أمتي وأرحمها، وعمر خير أمتي وأعدلها، وعثمان بن عفان احيى أمتي وأكرمها، وعلي بن أبي طالب ألبّ أمتي واشجعها، وعبد الله بن مسعود أبر أمتي وآمنها، وأبوذر أزهد أمتي وأصدقها، وابو الدرداء أعبد أمتي وأتقاها، ومعاوية بن أبي سفيان أحكم أمتي وأجودها) .

اخرجه ابن عساكر وضعفه، واخرجه غيره ايضا.

‌‌الحديث الثامن

عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر وعمر خير الأولين وخير أهل السموات وخير أهل الأرض، إلا النبيين والمرسلين) .

اخرجه ابن عدي والحاكم في الكنى، والخطيب في تاريخه.

‌‌الحديث التاسع

عن عكرمة بن عمار عن إياس بن سلمة بن الأكوع عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر خير الناس بعدي، إلا أن يكون نبي) .

اخرجه ابن عدي والطبراني في الكبير وغيرهما.

‌‌الحديث العاشر

عن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر صاحبي ومؤنسي في الغار فاعرفوا له ذلك، فلو كنت متخذا خليلا لاتخذت أبا بكر) .

اخرجه عبد الله بن الامام احمد في زوائد المسند والديلمي وغيرهما.

‌‌الحديث الحادي عشر

عن ابن مسعود رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر وعمر مني كعيني في رأسي، وعثمان بن عفان مني كلساني في فمي، وعلي بن أبي طالب مني كروحي في جسدي) .

اخرجه ابن النجار.

‌‌الحديث الثاني عشر

عن إبن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر وعمر مني بمنزلة هارون من موسى) .

اخرجه الخطيب في تاريخه وغيره.

‌‌الحديث الثالث عشر

عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر مني وأنا منه، وأبو بكر أخي في الدنيا والآخرة) .

اخرجه الديلمي.

‌‌الحديث الرابع عشر
‌‌পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আবু বকর সিদ্দীককে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বানিয়েছেন এবং ইয়াকীন ও সত্যায়নের আধিক্যের মাধ্যমে তাঁর মর্যাদাকে প্রতিটি উচ্চ মর্যাদার ঊর্ধ্বে উন্নীত করেছেন … যিনি প্রকৃতপক্ষেই শাইখুল ইসলাম। আমি তাঁর প্রশংসা করি এবং তিনি সকল প্রশংসার যোগ্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন সাক্ষ্য যা প্রদানকারীর জন্য প্রতিটি সংকীর্ণতাকে প্রশস্ত করে দেয়। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, পরম দয়ালু নবী। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, পত্নীগণ এবং হিদায়াত ও তাওফীকপ্রাপ্ত বংশধরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর, এটি একটি কিতাব যার নাম আমি রেখেছি 'আর-রাওজুল আনীক ফী ফাদলিস সিদ্দীক' (সিদ্দীকের ফযীলতে সুশোভিত বাগান)। এতে আমি চল্লিশটি সংক্ষিপ্ত হাদীস উল্লেখ করেছি, যা পুণ্যবানদের মধ্যে যারা চায় তাদের জন্য মুখস্থ করা সহজ। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করেন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উসিলায় তাঁর সান্নিধ্যের আলয়ে আমাদের ও তাঁকে একত্রিত করেন। আমীন, আমীন, আমীন।

‌‌প্রথম হাদীস

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে আবু বকর! আল্লাহ এবং মুমিনগণ আপনার ব্যাপারে মতবিরোধ করতে অস্বীকার করেন।"

ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌দ্বিতীয় হাদীস

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল জান্নাতী বয়স্কদের সর্দার হলেন আবু বকর ও উমর।"

যিয়া (আল-মাকদিসী) তাঁর মুখতারাহ-তে এবং আরও অনেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌তৃতীয় হাদীস

সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আবু বকর জান্নাতী, উমর জান্নাতী, উসমান জান্নাতী, আলী জান্নাতী, তালহা জান্নাতী, যুবাইর জান্নাতী, আবদুর রহমান বিন আউফ জান্নাতী, সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস জান্নাতী, সাঈদ বিন যায়েদ জান্নাতী এবং আবু উবাইদাহ বিন জাররাহ জান্নাতী।"

যিয়া তাঁর মুখতারাহ-তে এবং আরও অনেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌চতুর্থ হাদীস

মুত্তালিব বিন আব্দুল্লাহ বিন হানতাব তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন—আর তিনি ছাড়া তাঁর আর কেউ নেই (অর্থাৎ এই সূত্রে বর্ণিত)—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার কাছে আবু বকর ও উমরের মর্যাদা ঠিক তেমনি, যেমন শরীরের মাথায় কান ও চোখের মর্যাদা।" বারুদী, আবু নুয়াইম এবং আরও অনেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌পঞ্চম হাদীস

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এই দ্বীনে আবু বকর ও উমরের মর্যাদা ঠিক তেমনি, যেমন শরীরে মাথার কান ও চোখের মর্যাদা।"

ইবনে নাজ্জার এটি বর্ণনা করেছেন এবং খতীব তাঁর তারিখে জাবির (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌ষষ্ঠ হাদীস

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আবু বকর সিদ্দীক আমার মন্ত্রী এবং আমার পর আমার উম্মতের ওপর আমার খলীফা; উমর আমার মুখে কথা বলে; আলী আমার চাচাতো ভাই, আমার ভাই এবং আমার পতাকাবাহী; আর উসমান আমার থেকে এবং আমি উসমান থেকে।"

তাবারানী তাঁর কাবীর-এ এবং ইবনে আদী তাঁর কামিল-এ এবং আরও অনেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌সপ্তম হাদীস

শাদ্দাদ বিন আউস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আবু বকর আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে দয়ালু ও করুণাময়, উমর আমার উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ, উসমান বিন আফফান আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে লাজুক ও সম্মানিত, আলী বিন আবী তালিব আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও সাহসী, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে পুণ্যবান ও বিশ্বস্ত, আবু যার আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে দুনিয়াত্যাগী ও সত্যবাদী, আবু দারদা আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইবাদতকারী ও মুত্তাকী এবং মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে প্রজ্ঞাবান ও দানশীল।"

ইবনে আসাকির এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে দুর্বল বলেছেন, অন্যরাও এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌অষ্টম হাদীস

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আবু বকর ও উমর হলেন নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত পূর্ববর্তীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আকাশ ও জমিনবাসীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।"

ইবনে আদী, হাকেম তাঁর 'কুনা' গ্রন্থে এবং খতীব তাঁর তারিখে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌নবম হাদীস

ইকরিমাহ বিন আম্মার, ইয়াস বিন সালামাহ বিন আকওয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আবু বকর আমার পর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, যদি না কোনো নবী থেকে থাকেন।"

ইবনে আদী, তাবারানী তাঁর কাবীর-এ এবং আরও অনেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌দশম হাদীস

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আবু বকর গুহায় আমার সাথী ও সহচর ছিল, সুতরাং তোমরা তাঁর এই মর্যাদা চিনে রেখো। আমি যদি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম তবে অবশ্যই আবু বকরকে গ্রহণ করতাম।"

ইমাম আহমাদ তনয় আব্দুল্লাহ মুসনাদের যাওয়াইদ-এ এবং দাইলামী ও আরও অনেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌একাদশ হাদীস

ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আবু বকর ও উমর আমার কাছে আমার মাথার দুই চোখের মতো, উসমান বিন আফফান আমার কাছে আমার মুখের জিহ্বার মতো এবং আলী বিন আবী তালিব আমার কাছে আমার শরীরের রূহের মতো।"

ইবনে নাজ্জার এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌দ্বাদশ হাদীস

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার কাছে আবু বকর ও উমরের মর্যাদা মুসার কাছে হারুনের মর্যাদার মতো।"

খতীব তাঁর তারিখে এবং আরও অনেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌ত্রয়োদশ হাদীস

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আবু বকর আমার থেকে এবং আমি আবু বকর থেকে; আবু বকর দুনিয়া ও আখিরাতে আমার ভাই।"

দাইলামী এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌চতুর্দশ হাদীস
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল আনিকু ফী ফাদলিস সিদ্দিক (পৃষ্ঠা: ২)
عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر وعمر خير أهل السموات وأهل الأرض، وخير من بقي إلى يوم القيامة) . اخرجه الديلمي.

‌‌الحديث الخامس عشر

عن عائشة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر عتيق الله من النار) .

اخرجه ابو نعيم في المعرفه.

‌‌الحديث السادس عشر

عن أنس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر وزير يقوم مقامي، وعمر ينطق بلساني، وأنا من عثمان وعثمان مني، كأني بك يا أبا بكر تشفع لأمتي) .

اخرجه ابن النجار. ووصف عمر بما ذكر لأنه من المحدثين الذين تنطق الملائكه على السنتهم فاعلم.

‌‌الحديث السابع عشر

عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أتاني جبريل فأخذ بيدي فأراني باب الجنة الذي يدخل منه أمتي) . قال أبو بكر: وددت أني كنت معك حتى أنظر إليه، قال: (أما إنك يا أبا بكر أول من يدخل الجنة من أمتي) .

اخرجه أبو داوود وغيره، وصححه الحاكم من طريق اخر.

‌‌الحديث الثامن عشر

عن علي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أتاني جبريل فقلت: من يهاجر معي قال: أبو بكر، وهو يلي أمتك بعدك، وهو أفضل أمتك) . اخرجه الديلمي.

‌‌الحديث التاسع عشر

عن ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أتاني جبريل فقال لي: يا محمد إن الله يأمرك أن تستشير ابا بكر) . اخرجه تمام.

‌‌الحديث العشرون

عن أبي الدرداء قال: رأى النبي صلى الله عليه وسلم رجل مشى أمام أبا بكر فقال له: (أتمشي أمام من هو خير منك (إن أبا بكر خير من طلعت عليه الشمس وغربت) .

وأخرج الحديث أبو نعيم في فضائل الصحابة ولفظة: (أتمشي أمام من هو خير منك ألم تعلم أن الشمس لم تشرق أو تغب على أحد خير من أبي بكر، ما طلعت الشمس ولا غربت بعد النبيين والمرسلين على أحد أفضل من أبي بكر) .

‌‌الحديث الحادي والعشرون

عن أبي أمامة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أتيت بكفة ميزان فوضعت فيها وجيء بأمتي فوضعت في الكفة الاخرى، فرجحت بأمتي. ثم رفعت وجيء بأبي بكر فوضع في كفة الميزان فرجح بأمتي. ثم رفع أبو بكر وجيء بعمر بن الخطاب فوضع في كفه الميزان فرجح بأمتي، ثم رفع الميزان إلى السماء وأنا أنظر إليه) . اخرجه ابو نعيم في الفضائل.

‌‌الحديث الثاني والعشرون

عن عمرو بن العاص أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أحب النساء إلي عائشة، ومن الرجال أبوها) . اخرجه الشيخان.

‌‌الحديث الثالث والعشرون

عن ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أحشر أنا وأبو بكر وعمر يوم القيامة) هذا (وأخرج السبابة والوسطى والبنصر - ونحن مشرفون على الناس) . اخرجه الترمذي الحكيم.

‌‌الحديث الرابع والعشرون

عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أحشر يوم القيامة بين أبي بكر وعمر حتى أفق بين الحرمين، فيأتيني أهل المدينة وأهل مكة) . اخرجه ابن عساكر.

‌‌الحديث الخامس والعشرون

عن عائشة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (ادعي أبا بكر أباك وأخاك حتى أكتب كتاب، فإني أخاف أن يتمنى متمن ويقول قائل: أنا أولى، ويأبى الله والمؤمنون إلا أبا بكر) .

اخرجه الامام احمد ومسلم.

‌‌الحديث السادس والعشرون

عن حذيفة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (اقتدوا بالذين من بعدي: أبي بكر وعمر) .

اخرجه الترمذي وحسنه.

‌‌الحديث السابع والعشرون

عن أبي الدرداء أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (اقتدوا بالذين من بعدي: أبي بكر وعمر، فإنهما حبل الله الممدود من تمسك بهما فقد تمسك بالعروة الوثقى التي لا انفصام لها) .

اخرجه الطبراني في الكبير.

‌‌الحديث الثامن والعشرون

عن سهل بن أبي حثمة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إذا أنا مت وابو بكر وعمر، فإن استطعت أن تموت فمت) . اخرجه ابو نعيم في الحليه وابن عساكر.

‌‌الحديث التاسع والعشرون

عن سمرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أمرت أن أولي الرؤيا أبا بكر) . أخرجه الديلمي.

وكان أعبر أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم للرؤيا الصديق كرم الله وجهه ورضي عنه.

‌‌الحديث الثلاثون
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আবু বকর ও ওমর আসমানবাসী ও জমিনবাসীর মধ্যে সর্বোত্তম, এবং কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকা সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ)। এটি দাইলামি বর্ণনা করেছেন।

‌‌পনেরতম হাদিস

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আবু বকর হচ্ছেন জাহান্নাম থেকে আল্লাহর মুক্ত করা বান্দা)।

এটি আবু নুয়াইম 'আল-মারেফা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

‌‌ষোলতম হাদিস

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আবু বকর আমার এমন উজির যে আমার স্থলাভিষিক্ত হয়, আর ওমর আমার জিহ্বা দিয়ে কথা বলে, আর আমি ওসমান থেকে এবং ওসমান আমার থেকে; হে আবু বকর, আমি যেন তোমাকে আমার উম্মতের জন্য শাফায়াত করতে দেখছি)।

এটি ইবনে নাজ্জার বর্ণনা করেছেন। আর ওমরের এই বর্ণনা দেওয়া হয়েছে কারণ তিনি ছিলেন সেই সকল মুহাদ্দাসদের অন্তর্ভুক্ত যাদের জিহ্বা দিয়ে ফেরেশতারা কথা বলতেন, সুতরাং জেনে রাখো।

‌‌সতেরতম হাদিস

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (জিবরাইল আমার নিকট আসলেন এবং আমার হাত ধরলেন, অতঃপর আমাকে জান্নাতের সেই দরজাটি দেখালেন যেখান দিয়ে আমার উম্মত প্রবেশ করবে)। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমার আকাঙ্ক্ষা হচ্ছিল যদি আমি আপনার সাথে থাকতাম তবে সেটি দেখতে পেতাম। তিনি বললেন: (হে আবু বকর, জেনে রাখো যে, তুমিই আমার উম্মতের মধ্যে প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে)।

এটি আবু দাউদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম অন্য সূত্রে একে সহিহ বলেছেন।

‌আঠারতম হাদিস

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (জিবরাইল আমার কাছে আসলে আমি জিজ্ঞাসা করলাম: আমার সাথে হিজরত করবে কে? তিনি বললেন: আবু বকর; আর সে আপনার পরে আপনার উম্মতের দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং সে আপনার উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ)। এটি দাইলামি বর্ণনা করেছেন।

‌উনিশতম হাদিস

ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (জিবরাইল আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে আবু বকরের সাথে পরামর্শ করার আদেশ দিচ্ছেন)। এটি তাম্মাম বর্ণনা করেছেন।

‌বিশতম হাদিস

আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে আবু বকরের সামনে হাঁটতে দেখলেন, তখন তাকে বললেন: (তুমি কি এমন ব্যক্তির সামনে হাঁটছো যে তোমার চেয়ে উত্তম? নিশ্চয়ই আবু বকর সেই সকল ব্যক্তির চেয়ে উত্তম যাদের ওপর সূর্য উদিত হয় এবং অস্ত যায়)।

আবু নুয়াইম 'ফাযায়েলুস সাহাবা' গ্রন্থে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর শব্দগুলো হলো: (তুমি কি এমন ব্যক্তির সামনে হাঁটছো যে তোমার চেয়ে উত্তম? তুমি কি জানো না যে আবু বকরের চেয়ে উত্তম কারো ওপর সূর্য উদিত হয়নি বা অস্ত যায়নি? নবী ও রাসূলগণের পর আবু বকরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কারো ওপর সূর্য উদিত হয়নি এবং অস্ত যায়নি)।

‌একুশতম হাদিস

আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমার নিকট পাল্লা নিয়ে আসা হলো এবং আমাকে তার এক পাল্লায় রাখা হলো এবং আমার উম্মতকে নিয়ে এসে অন্য পাল্লায় রাখা হলো, অতঃপর আমার ওজন আমার উম্মতের চেয়ে বেশি হলো। তারপর আমাকে সরিয়ে আবু বকরকে নিয়ে এসে পাল্লায় রাখা হলো, তার ওজনও আমার উম্মতের চেয়ে বেশি হলো। তারপর আবু বকরকে সরিয়ে ওমর ইবনুল খাত্তাবকে নিয়ে এসে পাল্লায় রাখা হলো, তার ওজনও আমার উম্মতের চেয়ে বেশি হলো। এরপর পাল্লাটি আসমানের দিকে উঠিয়ে নেয়া হলো এবং আমি তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম)। এটি আবু নুয়াইম 'ফাযায়েল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

‌বাইশতম হাদিস

আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নারীদের মধ্যে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় আয়েশা, আর পুরুষদের মধ্যে তার পিতা)। এটি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন।

‌তেইশতম হাদিস

ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমি, আবু বকর ও ওমর কিয়ামতের দিন এভাবে পুনরুত্থিত হব - এই বলে তিনি তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা আঙুল বের করলেন - এবং আমরা মানুষের ওপর কর্তৃত্বশীল থাকব)। এটি তিরমিজি আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন।

‌চব্বিশতম হাদিস

তাঁর থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (কিয়ামতের দিন আমি আবু বকর ও ওমরের মাঝখানে পুনরুত্থিত হব এমনকি আমি দুই হারামের মাঝে অবস্থান করব, তখন মদীনাবাসী ও মক্কাবাসী আমার নিকট আসবে)। এটি ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন।

‌পঁচিশতম হাদিস

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমার পিতা আবু বকর ও তোমার ভাইকে ডাকো যাতে আমি একটি দলিল লিখে দিতে পারি, কারণ আমি আশঙ্কা করছি যে কোনো উচ্চাভিলাষী আকাঙ্ক্ষা করবে এবং কোনো বক্তা বলবে: আমিই অধিক যোগ্য; অথচ আল্লাহ এবং মুমিনগণ আবু বকর ছাড়া আর কাউকে মেনে নেবেন না)।

এটি ইমাম আহমদ ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

‌ছাব্বিশতম হাদিস

হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমরা আমার পরে দুই ব্যক্তির অনুসরণ করো: আবু বকর ও ওমর)।

এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন।

‌সাতাশতম হাদিস

আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমরা আমার পরে দুই ব্যক্তির অনুসরণ করো: আবু বকর ও ওমর, কেননা তাঁরা আল্লাহর ঝুলন্ত রশি; যে ব্যক্তি তাঁদের আঁকড়ে ধরল সে যেন এক মজবুত হাতল আঁকড়ে ধরল যার কোনো বিচ্ছেদ নেই)।

এটি তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

‌আটাশতম হাদিস

সাহল ইবনে আবি হাসমা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যখন আমি, আবু বকর এবং ওমর মৃত্যুবরণ করব, তখন যদি তুমি মরতে পারো তবে মরে যেও)। এটি আবু নুয়াইম 'হিলয়া' গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন।

‌উনত্রিশতম হাদিস

সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমাকে আদেশ করা হয়েছে যাতে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব আবু বকরকে দেই)। এটি দাইলামি বর্ণনা করেছেন।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বপ্নের ব্যাখ্যায় সবচেয়ে পারদর্শী ছিলেন।

‌ত্রিশতম হাদিস
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল আনিকু ফী ফাদলিস সিদ্দিক (পৃষ্ঠা: ৩)
عن جابر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إن الله إختار أصحابي على جميع العالمين سوى النبيين والمرسلين، واختار لي من أصحابي أربعة فجعلهم خير أصحابي وفي كل أصحابي خير: أبو بكر وعمر وعثمان وعلي. واختار أمتي على سائر الأمم فبعثني في خير قرن ثم الثاني ثم الثالث تترى ثم الرابع فرادى) .

اخرجه ابو النعيم والخطيب وقال غريب وبن عساكر.

‌‌الحديث الحادي والثلاثون

عن ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إن الله أمرني بحب أربعة من أصحابي وقال أحبهم: أبو بكر وعمر وعثمان وعلي) . اخرجه ابن عساكر وغيره.

‌‌الحديث الثاني والثلاثون

عن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إن الله أيدني بأربعة وزراء: اثنين من أهل السماء جبريل وميكائيل، واثنين من أهل الأرض أبي بكر وعمر) . اخرجه الخطيب وابن عساكر والطبراني في معجمه الكبير.

‌‌الحديث الثالث والثلاثون

عن أبي سعيد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إن الله خيّر عبدا بين الدنيا وبين ما عنده، فاختار ذلك العبد ما عند الله) . فبكى أبو بكر، فقال: (يا أبا بكر لا تبك إن أمن الناس علي في صحبته وماله أبو بكر، ولو كنت متخذا خليلا غير ربي لاتخذت أبا بكر خليلا، ولكن إخوة الإسلام ومودته، لا يبقين في المسجد باب إلا سد، إلا باب أبي بكر) . اخرجه مسلم وغيره.

‌‌الحديث الرابع والثلاثون

عن معاذ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إن الله تعالى يكره في السماء أن يخطأ أبو بكر الصديق) . اخرجه الحارث بن ابي اسامة.

‌‌الحديث الخامس والثلاثون

عن أنس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إني لأرجو لأمتي بحب أبي بكر وعمر كما أرجو لهم بقول لا إله إلا الله) . اخرجه الديلمي.

‌‌الحديث السادس والثلاثون

عن سمرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إن أبا بكر يؤول الرؤيا، وإن الرؤيا الصالحة حظ من النبوة) . اخرجه الطبراني في الكبير.

‌‌الحديث السابع والثلاثون

عن أنس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أرأف أمتي أبو بكر، وأشدهم في دينه الله عمر، وأصدقهم حياء عثمان، وأقضاهم علي بن أبي طالب، وأفرضهم زيد بن ثابت، وأقرأهم لكتاب الله أُبي بن كعب، وأعلمهم بالحلال والحرام معاذ بن جبل، ألا وإن لكل أمة وأمين هذه الأمة أبو عبيدة بن الجراح) . اخرجه ابن عساكر وغيره.

‌‌الحديث الثامن والثلاثون

عن ابن مسعود أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إن لكل نبي خاصة من أصحابه، وإن خاصتي من أصحابي أبو بكر وعمر) . اخرجه الطبراني في الكبير.

‌‌الحديث التاسع والثلاثون

عن ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أنا أول من تنشق عنه الأرض، ثم ابو بكر وعمر، فنحشر فنذهب إلى البقيع فيحشرون معي، ثم أنتظر أهل مكة فيحشرون معي ونبعث بين الحرمين) . اخرجه الترمذي وقال حسن غريب.

‌‌الحديث الأربعون

عن أنس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لحسان: (هل قلت في أبي بكر شيئا) قال: نعم، قال: (قل وأنا أسمع) فقلت:

وَثانِيَ اِثنَينِ في الغارِ المَنيفِ وَقَد … طافَ العَدُوُّ بِهِ إذ صاعَدَ الجَبَلا

وَكانَ حِبَّ رَسولِ اللَهِ قَد عَلِموا … مِنَ البَرِيَّةِ لَم يَعدِل بِهِ رَجُلا

فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى بدت نواجذه ثم قال: (صدقت يا حسان هو كما قلت) . اخرجه ابن عدي وابن عساكر.

واعلم أن هذا الباب فيه أحاديث كثيرة جدا، لكن هذه عجالة لمن أحب الوقوف على ذلك، والحمد لله الملك المالك أولاً وآخراً وباطناً وظاهراً، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وأزواجه وذريته وسلم تسليما كثيرا دائما أبدا سرمدا إلى يوم الدين، وحسبنا الله ثم الحمد لله والصلاة على رسوله.

تم الكتاب بعون الملك الوهاب
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ নবীদের এবং রাসূলদের ব্যতীত সমগ্র বিশ্বজগতের উপর আমার সাহাবীদের মনোনীত করেছেন এবং তিনি আমার সাহাবীদের মধ্য থেকে চারজনকে আমার জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাদের আমার শ্রেষ্ঠ সাহাবী বানিয়েছেন, যদিও আমার সকল সাহাবীদের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে: তারা হলেন আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী। তিনি সকল উম্মতের ওপর আমার উম্মতকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ প্রজন্মে প্রেরণ করেছেন, অতঃপর দ্বিতীয় প্রজন্মে, অতঃপর ধারাবাহিকভাবে তৃতীয় প্রজন্মে এবং এরপর চতুর্থ প্রজন্মে পৃথক পৃথকভাবে।"

আবু নুয়াইম ও খতিব এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে 'গরীব' বলেছেন, এছাড়াও ইবনে আসাকির এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌একত্রিশতম হাদিস

ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে আমার চারজন সাহাবীকে ভালোবাসার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে তিনি তাদের ভালোবাসেন: আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী।" ইবনে আসাকির ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌বত্রিশতম হাদিস

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে চারজন উজির (সহকারী) দ্বারা শক্তিশালী করেছেন: আসমানবাসীদের মধ্য থেকে দুইজন—জিবরাঈল ও মিকাইল, আর জমিনবাসীদের মধ্য থেকে দুইজন—আবু বকর ও উমর।" খতিব, ইবনে আসাকির এবং তাবারানি তার মুজামুল কাবিরে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌তেত্রিশতম হাদিস

আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এক বান্দাকে দুনিয়া এবং তাঁর নিকট যা আছে তার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, তখন সেই বান্দা আল্লাহর নিকট যা আছে তা-ই বেছে নিল।" তখন আবু বকর (রা.) কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন: (হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক)। তখন তিনি বললেন: "হে আবু বকর, কেঁদো না। নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে সাহচর্য ও সম্পদের দিক থেকে আমার প্রতি আবু বকরের দান সবচেয়ে বেশি। আমি যদি আমার রব ব্যতীত অন্য কাউকে খলিল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকেই গ্রহণ করতাম। তবে ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসাই যথেষ্ট। আবু বকরের দরজা ব্যতীত মসজিদের সকল প্রবেশপথ যেন অবশ্যই বন্ধ করে দেওয়া হয়।" মুসলিম ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌চৌত্রিশতম হাদিস

মুয়াজ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আসমানে এটি অপছন্দ করেন যে আবু বকর সিদ্দিক কোনো ভুল করবেন।" হারিস ইবনে আবু উসামা এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌পঁয়ত্রিশতম হাদিস

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি আমার উম্মতের জন্য আবু বকর ও উমরের ভালোবাসার মাধ্যমে তেমনি আশা রাখি যেমন আশা রাখি তাদের 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার মাধ্যমে।" দাইলামি এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌ছত্রিশতম হাদিস

সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আবু বকর স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পারেন এবং সলিহ (ভালো) স্বপ্ন হলো নবুয়তের একটি অংশ।" তাবারানি আল-কাবিরে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌সাইত্রিশতম হাদিস

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে দয়ালু হলেন আবু বকর, আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে সবচেয়ে কঠোর হলেন উমর, লজ্জার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠ হলেন উসমান, বিচারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ হলেন আলী বিন আবি তালিব, ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে সবচেয়ে পারদর্শী হলেন জায়েদ বিন সাবিত, আল্লাহর কিতাব পাঠে সবচেয়ে দক্ষ হলেন উবাই বিন কাব এবং হালাল-হারাম সম্পর্কে সবচেয়ে জ্ঞানী হলেন মুয়াজ বিন জাবাল। জেনে রেখো, প্রত্যেক উম্মতের একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি থাকে, আর এই উম্মতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি হলেন আবু উবাইদাহ বিন জাররাহ।" ইবনে আসাকির ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌আটত্রিশতম হাদিস

ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই প্রত্যেক নবীর তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে বিশেষ ব্যক্তি থাকে, আর আমার সাহাবীদের মধ্য থেকে আমার বিশেষ ব্যক্তি হলেন আবু বকর ও উমর।" তাবারানি আল-কাবিরে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌উনচল্লিশতম হাদিস

ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর কবর থেকে জমিন বিদীর্ণ হবে, অতঃপর আবু বকর ও উমর। এরপর আমাদের হাশর হবে এবং আমরা জান্নাতুল বাকিতে যাব, তখন তারা আমার সাথে সমবেত হবে। অতঃপর আমি মক্কাবাসীদের জন্য অপেক্ষা করব, ফলে তারাও আমার সাথে হাশরে উপস্থিত হবে এবং আমরা দুই হারামের মাঝখানে পুনরুত্থিত হব।" তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান 'গরীব'।

‌‌চল্লিশতম হাদিস

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসসানকে বললেন: "তুমি কি আবু বকর সম্পর্কে কিছু বলেছ?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "বলো, আমি শুনছি।" তখন তিনি বললেন:

তিনি সেই সুউচ্চ গুহায় দুজনের দ্বিতীয় জন ছিলেন, যখন … পাহাড়ের দিকে আরোহণের সময় শত্রুরা তাঁকে ঘিরে ফেলেছিল।

তারা জানে যে তিনি আল্লাহর রাসূলের অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন, … সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে তিনি কাউকে তাঁর সমতুল্য মনে করতেন না।

তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত দেখা গেল, অতঃপর তিনি বললেন: "হে হাসসান! তুমি সত্য বলেছ, তিনি তেমনই যেমনটি তুমি বলেছ।" ইবনে আদি এবং ইবনে আসাকির এটি বর্ণনা করেছেন।

জেনে রাখুন যে, এই অধ্যায়ে প্রচুর হাদিস রয়েছে, তবে যারা এ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী তাদের জন্য এটি একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন। সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য যিনি আদি ও অন্তে, গোপনে ও প্রকাশ্যে একমাত্র রাজাধিরাজ ও মালিক। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার, সাহাবী, স্ত্রী ও বংশধরদের ওপর অজস্র ও চিরন্তন রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন কিয়ামত পর্যন্ত। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, অতঃপর সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং তাঁর রাসূলের ওপর দরুদ।

দাতা ও মহান বাদশাহ আল্লাহর সাহায্যে কিতাবটি সমাপ্ত হলো।