(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: -)
الوسطية في ضوء القرآن الكريم القسم: كتب عامة
الكتاب: الوسطية في ضوء القرآن الكريم
المؤلف: ناصر بن سليمان العمر
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 303
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 363
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
পবিত্র কুরআনের আলোকে মধ্যপন্থা বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
বই: পবিত্র কুরআনের আলোকে মধ্যপন্থা
লেখক: নাসির বিন সুলাইমান আল-উমর
প্রকাশক: তথ্য ছাড়াই সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বইটি প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৩০৩
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৩
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১)
القضية التي يعالجها البحثمفهوم الوسطيَّة وحقيقتها ضلَّ فيها كثيرون، وبيان ذلك كما يلي:
1- هناك من فهم أن الوسطيَّة تعني التَّنازل والتَّساهل، فإذا رأوا مسلمًا قد التزم الصّراط المستقيم، وسار على هدي النبوَّة، قالوا له: لماذا تُشدِّد على نفسك وعلى الآخرين ودين الله وسط؟ ولذلك نجد في واقعنا المعاصر أن أكثر الذين يُرمَون بالتَّطرف والغلوّ وأخيرًا بالأصوليَّة (1) هم من الذين التزموا بالمنهج على وجهه الصَّحيح.
ومن أسباب ذلك الجهل بحقيقة الوسطيَّة.
2- وفي المقابل نجد فئة من المتحمِّسين المندفعين، يصفون أصحاب المنهج الحقّ، الذين لم يوافقوا هؤلاء على أفكارهم، ولم يسايروهم في حماسهم واندفاعهم يصفونهم بالتَّساهل والتَّهاون، وعدم الغيرة، بل وأحيانًا بالتَّنازل والممالأة.
ومنشأ ذلك - أيضًا - جهلهم بحقيقة الوسطيَّة، مع أنهم يدَّعونها، لكنهم لا يفهمونها على الوجه الصحيح.
3- وهناك فئة ثالثة ليست من هؤلاء ولا أولئك، وهم حريصون على الالتزام بالمنهج الصحيح، ولكنَّهم يقعون في أخطاء أثناء ممارستهم للدعوة قولا أو فعلا، وسبب هذا الأمر عدم تصورهم لمنهج الوسطيَّة تصورًا شاملا، وقصرهم هذا المنهج على بعض آحاده.
--------------------------------------------
গবেষণার আলোচ্য বিষয়মধ্যপন্থা (الوسطية)-র ধারণা ও এর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অনেকেই বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছেন, যার বিবরণ নিম্নরূপ:
১- একদল লোক এমন রয়েছে যারা মনে করে মধ্যপন্থা (الوسطية) মানেই হলো আপস (التنازل) ও শিথিলতা (التساهل)। ফলে তারা যখন কোনো মুসলিমকে সরল সঠিক পথের ওপর অবিচল থাকতে এবং নববী হিদায়াতের ওপর চলতে দেখে, তখন তাকে বলে: "আপনি কেন নিজের ও অন্যদের ওপর কড়াকড়ি করছেন, অথচ আল্লাহর দ্বীন তো মধ্যমপন্থা?" একারণেই আমরা আমাদের সমসাময়িক বাস্তবতায় দেখতে পাই যে, যাদের ওপর চরমপন্থা (التطرف), বাড়াবাড়ি (الغلو) এবং সবশেষে মৌলবাদ (الأصولية) (১) -এর তকমাারোপ করা হয়, তাদের অধিকাংশই হলেন সেই সব ব্যক্তি যারা সঠিক পন্থায় আদর্শের ওপর অটল রয়েছেন।
এর অন্যতম কারণ হলো মধ্যপন্থা (الوسطية)-র প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অজ্ঞতা।
২- বিপরীত দিকে, আমরা অতি-উৎসাহী ও আবেগপ্রবণ একদল লোক দেখতে পাই, যারা সেই সব সত্যপন্থীদের—যারা তাদের চিন্তাধারার সাথে একমত হন না কিংবা তাদের আবেগ ও উগ্রতার সাথে তাল মিলিয়ে চলেন না—শিথিলতা (التساهل), অবহেলা (التهاون) এবং মর্যাদাবোধহীনতার বিশেষণে বিশেষিত করে। এমনকি কখনও কখনও তাদের আপস (التنازل) ও তোষামোদের দায়েও অভিযুক্ত করে।
এর উৎসও হলো মধ্যপন্থা (الوسطية)-র হাকীকত বা বাস্তবতা সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা; যদিও তারা এর দাবিদার, কিন্তু তারা একে সঠিক পদ্ধতিতে অনুধাবন করে না।
৩- আবার তৃতীয় এমন একদল রয়েছে যারা পূর্বোক্ত দুই দলের কোনোটিরই অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা সঠিক আদর্শের ওপর অবিচল থাকার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী, কিন্তু দাওয়াহ পরিচালনার ক্ষেত্রে কথা বা কাজে ভুল করে বসেন। এর কারণ হলো মধ্যপন্থা (الوسطية)-র আদর্শ সম্পর্কে তাদের সামগ্রিক ও পূর্ণাঙ্গ ধারণার অভাব এবং এই আদর্শকে কেবল এর কিছু একক বিষয়ের (آحاد) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২)
4- والنتيجة التي نتوصل إليها من ذلك كله أن هذا المنهج بحاجة إلى تفصيل وبيان، لا لخفائه في ذاته، بل هو أوضح من الشمس في رابعة النهار، ولكن خفاءه من الأمور النسبيَّة التي تعود إلى بُعد كثير من الناس عن منهج القرآن والسنة، وضعف حصيلتهم العلميَّة، وممارستهم التعبديَّة والدعويَّة.
والخلاصة أنَّ هذا البحث معنيُّ بإيضاح مفهوم الوسطيَّة، وتحديد مدلولها في ضوء القرآن الكريم، تعريفًا وتأصيلا، وتحديدًا، وتطبيقًا.
وهذا هو المعنى الشّامل الذي نفهمه من قوله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} (البقرة: من الآية 143) . فمن منطوق هذه الآية انْطَلَقْت، وفي ضوئها سرتُ وكتبتُ، ومن مفهومها موافقة ومخالفة حقَّقتُ وبيَّنتُ.
وكنت أضع القضيَّة التي جئت أعالجها نصب عيني في كل ما سطَّرتُ ودوَّنتْ.
4- এবং এ সব কিছু থেকে আমরা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হই তা হলো, এই পদ্ধতি (منهج) বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মুখাপেক্ষী। এর কারণ এটি স্বয়ং অস্পষ্ট (خفاء) হওয়ার দরুন নয়, বরং এটি তো দ্বিপ্রহরের প্রখর সূর্যের চেয়েও অধিক স্পষ্ট; তবে এর অস্পষ্টতা একটি আপেক্ষিক বিষয়, যা মূলত কুরআন ও সুন্নাহর পদ্ধতি (منهج) থেকে অধিকাংশ মানুষের দূরত্ব, তাদের জ্ঞানগত (علمية) দৈন্যতা এবং তাদের ইবাদত ও দাওয়াতি চর্চার অভাব থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
সারকথা হলো, এই গবেষণাটি মধ্যপন্থার (وسطية) ধারণা স্পষ্ট করা এবং পবিত্র কুরআনের আলোকে এর তাৎপর্য নির্ধারণের সাথে সংশ্লিষ্ট; যা সংজ্ঞা (تعريف), মূলনীতি নির্ধারণ (تأصيل), সুনির্দিষ্টকরণ এবং প্রয়োগের (تطبيق) দিকগুলোকে বেষ্টন করে আছে।
আর এটিই সেই ব্যাপক অর্থ যা মহান আল্লাহর বাণী: {এভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি (أمة وسطا) হিসেবে সৃষ্টি করেছি} (সূরা আল-বাকারা: ১৪৩ নং আয়াতের অংশবিশেষ) থেকে আমরা অনুধাবন করি। সুতরাং এই আয়াতের সুস্পষ্ট ভাষ্য (منطوق) থেকেই আমি যাত্রা শুরু করেছি, এর আলোকেই আমি অগ্রসর হয়েছি ও লিখেছি এবং এর মর্মার্থের (مفهوم) আলোকে যা এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ (موافقة) এবং যা এর পরিপন্থী (مخالفة) তা যাচাই ও ব্যাখ্যা করেছি।
আমি যা কিছু লিখেছি ও লিপিবদ্ধ করেছি, তার প্রতিটিতে যে বিষয়টি নিয়ে আমি আলোচনা করতে এসেছি তা সর্বদা আমার দৃষ্টির সম্মুখে রেখেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩)
مخطط البحثبدأت البحث بتعريف الوسطيَّة، واشتمل هذا المبحث على ما يأتي:
1- الوسطيَّة في اللغة.
2- استعمالات الكلمة في القرآن الكريم.
3- أحاديث نبوية في (الوسط) .
4- تحرير معنى الوسطيَّة.
ثم انتقلت إلى مبحث آخر وهو أسس فهم الوسطيَّة، واشتمل على ما يلي:
1- مقدمة لهذا المبحث.
2- الغلو والإفراط.
3- الجفاء والتفريط.
4- الصّراط المستقيم.
ثم عقدت مبحثًا لبيان ملامح الوسطيَّة، وتضمّن الحديث عن الملامح التالية، بعد مقدمة المبحث:
1- الخيرية.
2- الاستقامة.
3- اليسر ورفع الحرج.
4- البينيَّة.
5- العدل والحكمة.
وأخيرًا ذكرت دليلا تطبيقيًّا يجمع هذه الملامح.
وهذه المباحث الثلاثة، تعتبر أركانًا أساسيَّة، ومنطلقات منهجيَّة لمعرفة حقيقة الوسطيَّة في حدودها الشرعيَّة، بل إن مضمون تلك المباحث هو المعيار الذي نستطيع من خلاله أن نعرف هل هذا الأمر وسطيًا أو هو يتضمَّن إفراطًا أو تفريطًا؟
وهي كذلك وسيلة للبحث عن المنهج الوسطيّ في كل قضية تعرض لنا، فمن خلال تلك المباحث نخرج المنهج وننقحه، ثم نحقّقه.
গবেষণার রূপরেখাআমি মধ্যপন্থা (وسطية) সংজ্ঞায়নের মাধ্যমে গবেষণাটি শুরু করেছি, এবং এই পরিচ্ছেদটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
১- আভিধানিক অর্থে মধ্যপন্থা (وسطية)।
২- পবিত্র কুরআনে এই শব্দের ব্যবহারসমূহ।
৩- 'মধ্যম' (وسط) প্রসঙ্গে কতিপয় নববীয় হাদিস।
৪- মধ্যপন্থা (وسطية) এর মর্মার্থ বিশ্লেষণ।
অতঃপর আমি অন্য একটি পরিচ্ছেদে উপনীত হয়েছি, যা হলো মধ্যপন্থা (وسطية) অনুধাবনের ভিত্তি। এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সংবলিত:
১- এই পরিচ্ছেডের ভূমিকা।
২- অতিরঞ্জন (غلو) ও অতিশয়তা (إفراط)।
৩- রুক্ষতা (جفاء) ও অবহেলা (تفريط)।
৪- সরল পথ (الصراط المستقيم)।
এরপর আমি মধ্যপন্থা (وسطية) এর বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনার জন্য একটি পরিচ্ছেদ তৈরি করেছি, যা পরিচ্ছেদের ভূমিকার পর নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে আলোচনা করে:
১- শ্রেষ্ঠত্ব (خيرية)।
২- অবিচলতা (استقامة)।
৩- সহজতা (يسر) ও সংকীর্ণতা দূরীকরণ (رفع الحرج)।
৪- মধ্যবর্তী অবস্থান (بينية)।
৫- ন্যায়বিচার (عدل) ও প্রজ্ঞা (حكمة)।
সর্বশেষে আমি একটি প্রায়োগিক দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছি যা এই বৈশিষ্ট্যসমূহকে একত্রিত করে।
এই তিনটি পরিচ্ছেদকে মৌলিক স্তম্ভ এবং শারয়ি (شرعية) সীমানার মধ্যে মধ্যপন্থা (وسطية) এর প্রকৃত রূপ জানার পদ্ধতিগত প্রারম্ভবিন্দু হিসেবে গণ্য করা হয়। বরং এই পরিচ্ছেদসমূহের বিষয়বস্তুই হলো সেই মানদণ্ড, যার মাধ্যমে আমরা জানতে সক্ষম হই যে, কোনো বিষয় কি মধ্যপন্থা (وسطية) অনুযায়ী হচ্ছে, নাকি তাতে অতিশয়তা (إفراط) অথবা অবহেলা (تفريط) রয়েছে?
অনুরূপভাবে, এটি আমাদের সামনে উপস্থাপিত প্রতিটি বিষয়ে মধ্যপন্থা (وسطية) অনুসৃত নীতি অনুসন্ধানের একটি মাধ্যম। সুতরাং এই পরিচ্ছেদগুলোর মাধ্যমেই আমরা উক্ত নীতিটি নির্যাস করি, তা পরিমার্জন করি এবং অতঃপর তা বাস্তবায়ন করি।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৪)
وبعد تحرير تلك الأصول والمنطلقات، عقدت أهمَّ مباحث الكتاب، وهو بيان تقرير القرآن الكريم لمنهج الوسطيَّة، حيث بيَّنت عناية القرآن بهذا المنهج، وذكرت الأمثلة التطبيقيَّة التي توضح ذلك، وجاء هذا الباب مشتملا على المباحث التالية:
1- مقدمة توضيحيَّة.
2- وقفة مع سورة الفاتحة.
3- منهج الوسطيَّة في الاعتقاد.
4- منهج الوسطيَّة في التَّشريع والتَّكليف.
5- منهج الوسطيَّة في العبادة.
6- منهج الوسطيَّة في الشّهادة والحكم.
7- منهج الوسطيَّة في الأمر بالمعروف، والنَّهي عن المنكر.
8- منهج الوسطيَّة في الجهاد في سبيل الله.
9- منهج الوسطيَّة في المعاملة والأخلاق.
10- منهج الوسطيَّة في كسب المال وإنفاقه.
11- منهج الوسطيَّة في مطالب النفس وشهواتها.
وأخيرًا ذكرت بعض الشواهد المتفرِّقة التي تؤكد هذا المنهج وتبيِّنه.
وختمت البحث بخاتمة مناسبة ربطت فيها بين الهدف والنتيجة.
وبعد:
সে সকল মূলনীতি (الأصول) এবং প্রারম্ভিক বিষয়াবলি পর্যালোচনার পর, আমি এই কিতাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাটি উপস্থাপন করেছি, যা হলো পবিত্র কুরআন কর্তৃক মধ্যপন্থা (الوسطية) পদ্ধতির বিবরণ। এখানে আমি এই পদ্ধতির প্রতি কুরআনের বিশেষ যত্নের বিষয়টি বর্ণনা করেছি এবং তা স্পষ্ট করার জন্য কিছু প্রায়োগিক উদাহরণ উল্লেখ করেছি। এই অধ্যায়টি নিম্নোক্ত বিষয়াবলি সম্বলিত:
১- ব্যাখ্যামূলক ভূমিকা।
২- সূরা আল-ফাতিহার ওপর একটি পর্যালোচনা।
৩- বিশ্বাসের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (الوسطية) এর পদ্ধতি।
৪- বিধান প্রণয়ন ও দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (الوسطية) এর পদ্ধতি।
৫- ইবাদতের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (الوسطية) এর পদ্ধতি।
৬- সাক্ষ্য প্রদান ও বিচারের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (الوسطية) এর পদ্ধতি।
৭- সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (الوسطية) এর পদ্ধতি।
৮- আল্লাহর পথে জিহাদের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (الوسطية) এর পদ্ধতি।
৯- পারস্পরিক লেনদেন ও চরিত্রের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (الوسطية) এর পদ্ধতি।
১০- অর্থ উপার্জন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (الوسطية) এর পদ্ধতি।
১১- নফসের চাহিদা ও প্রবৃত্তির তাড়নার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (الوسطية) এর পদ্ধতি।
পরিশেষে আমি কিছু বিক্ষিপ্ত সাক্ষ্য (الشواهد) উল্লেখ করেছি যা এই পদ্ধতিকে সুদৃঢ় ও পরিস্ফুট করে।
আমি একটি উপযুক্ত উপসংহারের মাধ্যমে গবেষণার ইতি টেনেছি, যেখানে আমি লক্ষ্য ও ফলাফলের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেছি।
অতঃপর:
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৫)
فقد بذلت جهدي في إخراج هذا الموضوع، فما كان فيه من حقّ وصواب فمن الله وحده {وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ} (البقرة: من الآية 255) . {وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ} (النساء: من الآية 113) . وما كان فيه من تقصير وخطأ فمن نفسي والشَّيطان، وأستغفر الله.
فلله الحمد والشكر والمنَّة، والثَّناء الحسن، على فضله، وتيسيره، وإعانته، وتوفيقه، ثم أشكر كل من أسهم في إخراج هذا البحث سواء كان إسهامًا مباشرًا أو غير مباشر (1) فلهم مني الشّكر وجميل الدّعاء.
والحمد لله أولا وآخرًا.
إن تجد عيبًا فسدَّ الخللا
… جلَّ من لا عيبَ فيه وعلا
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
الطائف
26 / 3 / 1413 هـ
--------------------------------------------
আমি এই বিষয়টি উপস্থাপনে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। এতে যা কিছু সত্য ও সঠিক রয়েছে তা কেবল একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। {আর তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছু তারা আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া} (আল-বাকারাহ: ২৫৫ নং আয়াতের অংশ)। {এবং তিনি আপনাকে শিখিয়েছেন যা আপনি জানতেন না} (আন-নিসা: ১১৩ নং আয়াতের অংশ)। আর এতে যা কিছু ত্রুটি ও ভুল রয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আর আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
সুতরাং আল্লাহর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা, শুকরিয়া, অনুগ্রহ এবং উত্তম স্তুতি—তাঁর দয়া, সহজীকরণ, সহায়তা ও তাওফিকের জন্য। অতঃপর আমি তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই যারা এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে (১) অবদান রেখেছেন; তাঁদের প্রতি রইল আমার কৃতজ্ঞতা ও নেক দোয়া।
শুরু ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
যদি কোনো ত্রুটি খুঁজে পাও, তবে সেই বিচ্যুতি সংশোধন করে দিও
… সুমহান ও মহিমান্বিত তিনি, যাঁর কোনো ত্রুটি নেই।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
তায়েফ
২৬ / ০৩ / ১৪১৩ হিজরি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬)
تعريف الوسطيَّة
الوسطيَّة في اللغةجاءت كلمة (وسط) في اللغة لعدّة معانٍ، ولكنها مُتقاربة في مدلولها عند التأمّل في حقيقتها ومآلها.
قال ابن فارس: (وسط) : الواو والسّين والطّاء: بناء صحيح يدلّ على العدل والنّصف.
وأعدل الشيء: أوسطه، ووسطه، قال الله عز وجل {أُمَّةً وَسَطًا} (البقرة: من الآية 143) .
ويقولون: ضربتُ وَسَطَ رأسِه - بفتح السين - ووسْط القوم - بسكونها -، وهو أوسَطُهم حسبًا - إذا كان في واسطةِ قومه وأرفعهم محلا (1) .
ومن هذا الكلام يتَّضح أن (وسط) تأتي بفتح السّين وسكونها، وفتحها أكثر استعمالا كما سيأتي.
ويمكن إجمال المعاني التي جاءت تدلّ عليها هذه الكلمة فيما يلي (2) .
1- (وسْط) بسكون السّين تكون ظرفًا بمعنى (بين) ، قال في لسان العرب: وأمَّا الوسْط بسكون السّين فهو ظرف لا اسم، جاء على وزان نظيره في المعنى وهو (بين) ، تقول: جلست وسْط القوم، أي: بينهم، ومنه قول سوار بن المضرب:
إنيّ كأنِّي أرى من لا حياء له
… ولا أمانة وسْط النَّاس عُريانًا
--------------------------------------------
মধ্যপন্থার (الوسطية) সংজ্ঞা
ভাষাতত্ত্বে মধ্যপন্থা (الوسطية)অভিধানে 'ওয়াসাত' (وسط) শব্দটি বেশ কিছু অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; তবে এর প্রকৃত অর্থ ও পরিণতির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, অর্থগুলো একে অপরের অত্যন্ত নিকটবর্তী।
ইবনে ফারিস বলেন: 'ওয়াসাত' (وسط): 'ওয়াও', 'সীন' এবং 'ত'—এই মূলবর্ণগুলো একটি সঠিক (صحيح) শব্দমূল, যা ন্যায়পরায়ণতা (العدل) ও সমতার (النصف) অর্থ প্রকাশ করে।
আর কোনো জিনিসের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অংশ হলো তার মধ্যভাগ বা কেন্দ্র। মহান আল্লাহ বলেন: {এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি (أمة وسطا) করেছি} (আল-বাকারাহ: ১৪৩ নং আয়াতের অংশবিশেষ)।
আরবগণ বলে থাকে: 'আমি তার মাথার মাঝখানে (وَسَطَ - সীন বর্ণে ফাতহা সহ) আঘাত করেছি' এবং 'আমি কাওমের মাঝে (وسْط - সীন বর্ণে সুকুন সহ) বসেছি'। আর বংশমর্যাদার দিক থেকে তিনি তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ (أوسطهم حسبًا) —অর্থাৎ যখন তিনি তাঁর স্বজাতির কেন্দ্রে অবস্থান করেন এবং মর্যাদায় উচ্চাসীন হন (১)।
এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, 'ওয়াসাত' (وسط) শব্দটি সীন বর্ণে ফাতহা এবং সুকুন—উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়, তবে ফাতহা বা যবরযুক্ত ব্যবহারটিই অধিক প্রচলিত, যা সামনে বিস্তারিত আসবে।
এই শব্দটি যেসব অর্থ নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়, তা সংক্ষেপে নিম্নরূপ (২)।
১- সীন বর্ণে সুকুনযুক্ত 'ওয়াসত' (وسْط) শব্দটি 'মাঝখানে' (بين) অর্থে অধিকরণ (ظرف) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। লিসানুল আরব গ্রন্থে বলা হয়েছে: সীন বর্ণে সুকুনযুক্ত 'ওয়াসত' (وسْط) শব্দটি একটি অধিকরণ (ظرف), এটি বিশেষ্য (اسم) নয়। এটি অর্থগত দিক থেকে তার সমজাতীয় শব্দ 'বাইনা' (بين)-এর ওজনে বা নিয়মে ব্যবহৃত হয়। যেমন আপনি বললেন: 'আমি লোকজনের মাঝে (وسْط القوم) বসেছি', অর্থাৎ তাদের মাঝখানে। এ প্রসঙ্গে সাওয়ার ইবনুল মুদাররিব বলেন:
নিশ্চয়ই আমি এমন ব্যক্তিকে দেখি যার লজ্জা নেই... এবং মানুষের মাঝে (وسْط) যার আমানতদারিতা নেই, সে যেন এক উলঙ্গ ব্যক্তি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৭)
(1) قال د. زيد الزيد: وقد أشارت بعض المعاجم اللغوية إلى التفريق بين كلمة وسَط - بالتحريك - ووسْط بالسكون، فقالوا: إن كل موضع يصلح فيه (بين) فهو بالسّكون، وما لا يصلح فيه (بين) فهو بالفتح.
وقيل: كل منهما يقع موضع الآخر، قال ابن الأثير في غريب الحديث: وهو الأشبه (2) .
وقال الزبيدي: وقديمًا كنت أسمع شيوخنا يقولون في الفرق بينهما كلامًا شاملا لما ذكر، وهو السّاكن متحرّك، والمتحرّك ساكن (3) .
2- وتأتي - وسَط بالفتح - اسمًا لما بين طرفي الشيء وهو منه، ومن ذلك: قبضْت وسط الحبل، وكسرت وسط القوس، وجلست وسط الدّار، وهذه حقيقة معناها كما ذكر ابن برّي (4) .
3- وتأتي - بالفتح أيضًا - صفة، بمعنى خيار، وأفضل، وأجود، فأوسط الشيء أفضله وخياره: كوسط المرعى خير من طرفيه، ومرعى وسط أي: خيار.
وواسطة القلادة: الجوهر الذي وسطها، وهو أجودها، ورجل وسط ووسيط: حسن (5) .
4- وتأتي وسط - بالفتح - بمعني عدل، قال ابن فارس: وسط: بناء صحيح يدلّ على العدل، وأعدل الشيء أوسطه ووسطه.
وقال ابن منظور: ووسط الشيء وأوسطه: أعدله.
وقال الفيروزآبادي: الوسط - محركة - من كل شيء: أعدله (6) .
5- وتأتي (وسط) بالفتح - أيضًا - للشيء بين الجيد والرديء.
--------------------------------------------
(১) ড. যায়েদ আল-যায়েদ বলেন: কিছু ভাষাতাত্ত্বিক অভিধান 'ওয়াসাত' (ফাতহা যোগে) এবং 'ওয়াসত' (সুকুন যোগে) এই দুই শব্দের মধ্যে পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছে। তারা বলেছেন: যে সকল স্থানে 'বাইন' (মধ্যবর্তী) শব্দটি ব্যবহার করা সঠিক হয়, সেখানে সুকুনযুক্ত শব্দ (ওয়াসত) ব্যবহৃত হয়; আর যেখানে 'বাইন' ব্যবহার করা সঠিক হয় না, সেখানে ফাতহাযুক্ত শব্দ (ওয়াসাত) ব্যবহৃত হয়।
কারো মতে: এই দুটির প্রতিটিই অন্যের স্থলাভিষিক্ত হয়। ইবনুল আসির 'গারিবুল হাদিস' গ্রন্থে বলেছেন: এটিই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ (২)।
যুবাইদী বলেছেন: অতীতে আমি আমাদের উস্তাদদের এই দুটির পার্থক্যের ব্যাপারে এমন কথা বলতে শুনতাম যা উল্লিখিত আলোচনাকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর তা হলো: যা সাকিন (স্থির) তা-ই মুতাহাবরিক (গতিশীল), আর যা মুতাহাবরিক তা-ই সাকিন (৩)।
২- 'ওয়াসাত' (ফাতহা যোগে) কোনো বস্তুর দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী অংশের নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং তা ওই বস্তুরই অংশ। যেমন: 'আমি দড়ির মাঝখান (ওয়াসাত) ধরলাম', 'আমি ধনুকের মধ্যভাগ ভেঙে ফেললাম', এবং 'আমি ঘরের মাঝখানে বসলাম'। ইবনে বাররি যেমনটি উল্লেখ করেছেন, এটিই এর প্রকৃত অর্থ (৪)।
৩- এটি (ফাতহা যোগে) গুণবাচক শব্দ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ হলো উৎকৃষ্ট, শ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম। সুতরাং কোনো বস্তুর 'আওসাত' হলো তার শ্রেষ্ঠ ও উৎকৃষ্ট অংশ। যেমন: চারণভূমির মধ্যভাগ তার দুই প্রান্তের চেয়ে উত্তম; আর 'মারআ ওয়াসাত' মানে হলো উৎকৃষ্ট চারণভূমি।
হারের 'ওয়াসিতাহ' হলো তার মাঝখানের রত্নটি, যা সবচেয়ে উৎকৃষ্ট। আর 'রাজুলুন ওয়াসাত' এবং 'ওয়াসিত' বলতে সচ্চরিত্র বা উত্তম ব্যক্তি বোঝায় (৫)।
৪- 'ওয়াসাত' (ফাতহা যোগে) ন্যায়পরায়ণ (عدل) অর্থেও আসে। ইবনে ফারিস বলেছেন: 'ওয়াসাত' একটি সঠিক শব্দকাঠামো যা ন্যায়পরায়ণতা (العدل) নির্দেশ করে। কোনো জিনিসের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ বা ন্যায়নিষ্ঠ (أعدل) অংশ হলো তার মধ্যভাগ বা ওয়াসাত।
ইবনে মানজুর বলেছেন: কোনো বস্তুর 'ওয়াসাত' বা 'আওসাত' হলো তার সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ (أعدله) অংশ।
ফিরোজাবাদি বলেছেন: প্রতিটি জিনিসের 'ওয়াসাত' (হরকতসহ) হলো তার সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ (أعدله) অংশ (৬)।
৫- 'ওয়াসাত' (ফাতহা যোগে) ভালো এবং মন্দের মাঝামাঝি কোনো জিনিসের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৮)
قال الجوهري: ويقال: شيء وسط: أي بين الجيد والرديء.
وقال صاحب المصباح المنير: يُقال شيء وسط، أي بين الجيد والرديء (1) .
ومنه ما ورد في الحديث: «ولكن من وسط أموالكم فإنّ الله لم يسألكم خيره، ولم يأمركم بشرّه» (2) .
6- ويقال (وسط) لما له طرفان مذمومان، يراد به ما كان بينهما سالمًا من الذّمِّ، وهو الغالب.
قال الراغب: وتارة يُقال لما له طرفان مذمومان (3) .
ومثال ذلك: السّخاء وسط بين البخل والتّبذير، والشّجاعة وسط بين الجبن والتهوُّر (4) .
قال محمد باكريم (5) وكيفما تصرّفت هذه اللفظة نجدها لا تخرج في معناها عن معاني العدل والفضل والخيرية، والنصف والبينيَّة، والتوسط بين الطرفين، فتقول: (وسوطًا) : بمعنى المتوسّط المعتدل، ومنه قول الأعرابي: علمني دينًا وسوطًا، لا ذاهبًا فروطًا، ولا ساقطًا سقوطًا، فإن الوسط هاهنا المتوسّط بين الغالي والجافي (6) .
و (وسيطًا) أي: حسيبًا شريفًا، قال الجوهري: وفلان وسيط في قومه، إذا كان أوسطهم نسبًا، وأرفعهم محلا، قال العرجي:
كأنّي لم أكن فيهم وسيطًا
… ولم تك نسبتي في آل عمرو
(7) و (الوسيط) : المتوسّط بين المتخاصمين (8) .
و (التوسط) : بين الناس من الوساطة (9) وهي الشفاعة.
--------------------------------------------
জাওহারী বলেন: বলা হয়: মধ্যম (وسط) বস্তু: অর্থাৎ যা উৎকৃষ্ট ও নিকৃষ্টের মাঝামাঝি।
আল-মিসবাহুল মুনীর-এর লেখক বলেন: বলা হয় মধ্যম (وسط) বস্তু, অর্থাৎ যা উৎকৃষ্ট ও নিকৃষ্টের মধ্যবর্তী (১)।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: «কিন্তু তোমাদের সম্পদের মধ্যম (وسط) অংশ থেকে; কেননা আল্লাহ তোমাদের কাছে তার সর্বোত্তম অংশটি চাননি এবং নিকৃষ্ট অংশটিরও নির্দেশ দেননি» (২)।
৬- আর যার দুটি নিন্দনীয় প্রান্তসীমা রয়েছে, তার ক্ষেত্রেও ‘মধ্যম’ (وسط) শব্দটি ব্যবহৃত হয়; এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন কিছু যা উভয় প্রান্তের মাঝামাঝি এবং নিন্দা থেকে মুক্ত, আর এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
রাগিব বলেন: কখনো কখনো এটি এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে বলা হয় যার দুটি নিন্দনীয় প্রান্তসীমা রয়েছে (৩)।
এর উদাহরণ হলো: দানশীলতা হলো কৃপণতা ও অপচয়ের মাঝামাঝি (وسط) অবস্থা, আর বীরত্ব হলো ভীরুতা ও হঠকারিতার মাঝামাঝি (وسط) অবস্থা (৪)।
মুহাম্মদ বাকরীম (৫) বলেন, এই শব্দটি যে রূপেই ব্যবহৃত হোক না কেন, আমরা দেখতে পাই এর অর্থ ন্যায়পরায়ণতা, শ্রেষ্ঠত্ব, কল্যাণকামিতা, সমতা, মধ্যবর্তীতা এবং দুই প্রান্তের মাঝে ভারসাম্য (التوسط)-এর অর্থের বাইরে যায় না। আপনি বলবেন: ‘ওয়াসুতান’ (وسوطًا): সুষম ভারসাম্যপূর্ণ (المتوسط المعتدل) অর্থে; এর উদাহরণ হলো জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তির উক্তি: আমাকে এমন একটি মধ্যম (وسوطًا) দ্বীন শিক্ষা দিন, যা অতিরঞ্জনকারী (فروطًا) হয়ে চলে যাবে না, আবার শিথিলকারী (سقوطًا) হয়ে ঝরে পড়বে না; কেননা এখানে ‘মধ্যম’ (وسط) বলতে অতিরঞ্জনকারী (الغالي) ও শৈথিল্য প্রদর্শনকারীর (الجافي) মধ্যবর্তী (المتوسط) অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে (৬)।
আর ‘ওয়াসীতান’ (وسيطًا) অর্থ: উচ্চবংশীয় ও মর্যাদাবান; জাওহারী বলেন: অমুক ব্যক্তি তার সম্প্রদায়ের মধ্যে ‘ওয়াসীত’ (وسيط), যখন সে বংশগতভাবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে মধ্যম পর্যায়ের (أوسطهم) এবং মর্যাদায় সর্বোচ্চ স্তরের হয়। আল-আরজী বলেন:
যেন আমি তাদের মাঝে মর্যাদাবান (وسيطًا) ছিলাম না … এবং আমর বংশে আমার কোনো আত্মীয়তা ছিল না
(৭) আর ‘আল-ওয়াসীত’ (الوسيط): বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যকার মধ্যস্থতাকারী (المتوسط) (৮)।
আর মানুষের মাঝে ‘মধ্যস্থতা করা’ (التوسط) শব্দটি ‘ওয়াসাতাহ’ (الوساطة) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো সুপারিশ (الشفاعة)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৯)
و (التوسيط) : أي تجعل الشيء في الوسط (1) .
و (التوسيط) : - أيضًا - قطع الشيء نصفين (2) .
و (وسوط الشمس) : توسّطها السماء (3) .
و (واسطة القلادة) : الجوهر الذي في وسطها، وهو أجودها (4) .
وقال فريد عبد القادر: استقرّ عند العرب أنهم إذا أطلقوا كلمة (وسط) أرادوا معاني الخير، والعدل، والنصفة، والجودة، والرّفعة، والمكانة العليّة.
والعرب تصف فاضل النّسب بأنه وسط في قومه، وفلان من واسطة قومه، أي: من أعيانهم، وهو من أوسط قومه، أي من خيارهم وأشرافهم (5) .
وأختم ما قيل في معنى الوسط بهذا الكلام للشيخ ابن عاشور، حيث قال أثناء تفسيره لقوله - تعالى -: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} (البقرة: من الآية 143) .
--------------------------------------------
এবং (আত-তাওসিত): অর্থাৎ কোনো বস্তুকে মধ্যস্থলে স্থাপন করা (১)।
এবং (আত-তাওসিত): - আরও - কোনো বস্তুকে দ্বিখণ্ডিত করা (২)।
এবং (উসুতুশ শামস): আসমানের মধ্যগগনে সূর্যের অবস্থান (৩)।
এবং (ওয়াসিতাতুল কিলাদাহ): অলংকারের মধ্যমণি বা রত্ন, যা এর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট (৪)।
ফরিদ আব্দুল কাদির বলেছেন: আরবদের নিকট এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, তারা যখন মধ্যমপন্থা (وسط) শব্দটি উচ্চারণ করে, তখন তারা এর দ্বারা কল্যাণ, ন্যায়পরায়ণতা (عدل), ইনসাফ, গুণগত মান, উচ্চমর্যাদা এবং সুউচ্চ অবস্থানের অর্থ গ্রহণ করে।
আর আরবরা উচ্চবংশীয় ব্যক্তিকে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে মধ্যমপন্থা (وسط) অবলম্বনকারী বলে বর্ণনা করে। অমুক ব্যক্তি তার সম্প্রদায়ের মধ্যমণি (واسطة), অর্থাৎ: তাদের মধ্যকার বিশিষ্ট ব্যক্তি। আর সে তার সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠ (أوسط), অর্থাৎ তাদের মধ্যকার সর্বোত্তম (خيار) ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি (৫)।
আর মধ্যমপন্থা (وسط) শব্দের অর্থের ব্যাপারে যা বলা হয়েছে, শায়খ ইবনে আশুরের এই বক্তব্যের মাধ্যমে আমি তার ইতি টানছি, যেখানে তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসির করার সময় বলেছেন: {এবং এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (وسط) জাতি হিসেবে গঠন করেছি} (আল-বাকারাহ: আয়াত ১৪৩-এর অংশ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১০)
والوسط: اسم للمكان الواقع بين أمكنة تحيط به، أو للشيء الواقع بين أشياء محيطة به، ليس هو إلى بعضها أقرب منه إلى بعض عرفًا، ولما كان الوصول إليه لا يقع إلاّ بعد اختراق ما يُحيط به، أخذ فيه معنى الصّيانة والعزّة؛ طبعًا: كوسط الوادي لا تصل إليه الرّعاة والدّواب إلا بعد أكل ما في الجوانب، فيبقى كثير العشب والكلأ، ووضعًا: كوسط المملكة يجعل محلّ قاعدتها، ووسط المدينة يجعل محل قصبتها؛ لأن المكان الوسط لا يصل إليه العدوّ بسهولة، وكواسطة العقد لأنفس لؤلؤة فيه.
فمن أجل ذلك صار معنى النّفاسة والعزّة والخيار من لوازم معنى الوسط عرفًا، فأطلقوه على الخيار النفيس كناية، قال زهير:
هم وسط يرضى الأنامُ بحكمهم
… إذا نزلت إحدى الليالي بمعضل
ويقال: أوسط القبيلة، لصميمها.
وأمّا إطلاق الوسط على الصّفة الواقعة عدلا بين خلقين ذميمين فيهما إفراط وتفريط، كالشّجاعة بين الجبن والتهوّر، والكرم بين الشُّحِّ والسرّف، والعدالة بين الرّحمة والقساوة، فذلك روى حديث: «خير الأمور أوسطها» وسنده ضعيف (1) .
وقد شاع هذان الإطلاقان حتى صارا حقيقتين عُرفيَّتين (2) .
--------------------------------------------
'ওয়াসাত' (وسط) হলো এমন একটি স্থানের নাম যা তাকে পরিবেষ্টিত করে রাখা অন্যান্য স্থানের মাঝে অবস্থিত, অথবা এমন একটি বস্তুর নাম যা তাকে ঘিরে রাখা অন্যান্য বস্তুর মাঝে বিদ্যমান; যা প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী কোনো এক দিকের তুলনায় অন্য দিকের বেশি নিকটবর্তী নয়। যেহেতু এর নিকট পৌঁছানো তাকে ঘিরে থাকা বিষয়গুলো ভেদ করা ব্যতীত সম্ভব নয়, তাই এর মাঝে সুরক্ষা ও মর্যাদার অর্থ নিহিত রয়েছে। প্রকৃতিগতভাবে: যেমন উপত্যকার মধ্যভাগ, যেখানে গবাদি পশু ও রাখালরা চারপাশের ঘাস ভক্ষণ করা ব্যতীত পৌঁছাতে পারে না, ফলে সেখানে প্রচুর ঘাস ও লতাগুল্ম অবশিষ্ট থাকে। অবস্থানগতভাবে: যেমন রাজ্যের মধ্যভাগকে তার রাজধানী করা হয় এবং শহরের মধ্যভাগকে তার প্রশাসনিক কেন্দ্র করা হয়; কারণ মধ্যবর্তী স্থানে শত্রু সহজে পৌঁছাতে পারে না। আবার কণ্ঠহারের মধ্যমণি (ওয়াসিতাতুল ইক্কদ), যা এর মধ্যকার সবচেয়ে মূল্যবান মুক্তা।
এ কারণেই প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী 'ওয়াসাত' শব্দের অর্থের সাথে আভিজাত্য, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি অবিচ্ছেদ্য হয়ে পড়েছে। তাই তারা রূপক হিসেবে শ্রেষ্ঠ ও মূল্যবান বুঝাতে এটি ব্যবহার করে থাকেন। কবি যুহাইর বলেছেন:
তারা মধ্যপন্থী (শ্রেষ্ঠ), যাদের সিদ্ধান্তে মানুষ সন্তুষ্ট হয়... যখন কোনো এক রাতে কঠিন কোনো বিপদ নেমে আসে।
বলা হয়ে থাকে: গোত্রের 'আওসাত', অর্থাৎ তাদের মূল বা মধ্যভাগ।
আর চরমপন্থা (إفراط) ও অবহেলা (تفريط) নামক দুটি নিন্দনীয় স্বভাবের মাঝে ন্যায়নিষ্ঠ গুণ হিসেবে 'ওয়াসাত' শব্দের যে ব্যবহার (যেমন: ভীরুতা ও হঠকারিতার মাঝে বীরত্ব, কার্পণ্য ও অপব্যয়ের মাঝে বদান্যতা এবং দয়া ও কঠোরতার মাঝে ন্যায়বিচার), সেই প্রেক্ষিতেই এই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে: "কার্যাবলীর মধ্যে মধ্যম পন্থাই সর্বোত্তম", তবে এর সূত্র (سند) দুর্বল (ضعيف) (১)।
এই দুই ধরণের ব্যবহারই এত প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে তা আভিধানিক সত্যে পরিণত হয়েছে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১১)
ومن خلال ما سبق اتَّضح لنا المعنى اللغوي لكلمة (وسط) ، وما تصرّف منها، وأنها تئول إلى معانٍ متقاربة.
এবং পূর্বালোচনার প্রেক্ষিতে আমাদের নিকট ‘ওয়াসাত’ (وسط) শব্দের আভিধানিক অর্থ এবং এর থেকে যা কিছু ব্যুৎপন্ন হয়েছে তা স্পষ্ট হয়েছে; আর এটিও প্রতীয়মান হয়েছে যে, এ শব্দগুলো মূলত কাছাকাছি অর্থেরই প্রতিফলন ঘটায়।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১২)
أولا: كلمة "وسطًا":
وردت في قوله - تعالى - في سورة البقرة: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} (البقرة: من الآية 143) .
وقد ورد تفسير هذه الكلمة في السّنة النّبويَّة، كما ذكر لها المفسرون عدّة معانٍ، وتفصيل ذلك كما يلي:
1- روى البخاري عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله، صلى الله عليه وسلم «يُدعى نوح يوم القيامة فيقول: لبيك وسعديك يا رب، فيقول: هل بلّغت؟ فيقول: نعم، فيُقال لأمَّته: هل بَلَّغَكُم؟ فيقولون: ما أتانا من نذير، فيقول: من يشهد لك؟ فيقول: محمد وأمَّته، فيشهدون أنَّه قد بلَّغ، ويكون الرّسول عليكم شهيدًا. فذلك قوله - جلَّ ذكره -: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} . والوسط: العدل» (1) .
وروى الطبري بإسناده عن النبي، صلى الله عليه وسلم في قوله: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} (البقرة: من الآية 143) قال: «عدولا» (2) .
--------------------------------------------
প্রথমত: "ওয়াসাতান" (وسطًا) শব্দটি:
এটি সূরা আল-বাকারায় মহান আল্লাহর বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (وسطًا) জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন} (আল-বাকারা: ১৪৩ নং আয়াতের অংশবিশেষ)।
সুন্নাহ-এ এই শব্দটির ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে এবং মুফাসসিরগণ এর বেশ কিছু অর্থ উল্লেখ করেছেন। এর বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
১- বুখারি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “কিয়ামতের দিন নূহ (আ.)-কে ডাকা হবে। তিনি বলবেন: হে আমার প্রতিপালক, আমি আপনার দরবারে উপস্থিত ও আপনার আদেশ পালনে সদা প্রস্তুত। আল্লাহ বলবেন: তুমি কি (আমার বার্তা) পৌঁছে দিয়েছ? তিনি বলবেন: হ্যাঁ। এরপর তাঁর উম্মতকে জিজ্ঞাসা করা হবে: তিনি কি তোমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন? তারা বলবে: আমাদের কাছে কোনো সতর্ককারী আসেনি। তখন আল্লাহ নূহ (আ.)-কে বলবেন: তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে কে? তিনি বলবেন: মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর উম্মত। এরপর তারা সাক্ষ্য দেবে যে, তিনি নিশ্চয়ই পৌঁছে দিয়েছেন। আর রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হবেন। আর এটিই হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (وسطًا) জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন}। আর ‘আল-ওয়াসাত’ অর্থ হলো: ন্যায়পরায়ণ (العدل)।” (১)।
তাবারী তাঁর সনদযোগে (بإسناده) নবী (সা.) থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (وسطًا) জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি} (আল-বাকারা: ১৪৩ নং আয়াতের অংশবিশেষ)-এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “ন্যায়পরায়ণ (عدولا)।” (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد ساق الطبري عددًا من الرِّوايات في هذا المعنى. ثم ذكر تفسير هذه الآية منسوبًا إلى بعض الصَّحابة والتَّابعين، كأبي سعيد ومجاهد وغيرهما، حيث فسَّروها بـ "عدولا".
وكذلك نقل تفسير ابن عباس لها "جعلكم أمة عدولا". وقال ابن زيد: هم وسط بين النبي، صلى الله عليه وسلم وبين الأمم (1) .
2- قال الإمام الطبري: وأمّا الوسط فإنه في كلام العرب: الخيار، يُقال منه: فلان وسط الحسب في قومه، أي متوسط الحسب، إذا أرادوا بذلك الرّفع في حسبه.
وهو وسط في قومه وواسط، قال ابن زهير بن أبي سُلمى في الوسط:
هم وسط يرضى الأنام بحكمهم
… إذا نزلت إحدى الليالي بمعظَمِ
قال: وأنا أرى أن الوسط في هذا الموضع هو الوسط الذي بمعنى الجزء، الذي هو بين الطَّرفين، مثل وسط الدّار.
وأرى أن الله - تعالى ذكره - إنّما وصفهم بأنَّهم وسط لتوسّطهم في الدّين، فلا هم أهل غلوّ فيه، غلوّ النَّصارى الذين غلوا بالتَّرهُّب، وقيل هم في عيسى ما قالوا فيه، ولا هم أهل تقصير فيه، تقصير اليهود الذين بدَّلوا كتاب الله، وقتلوا أنبياءهم، وكذبوا على ربِّهم، وكفروا به، ولكنهم أهل توسّط واعتدال فيه، فوصفهم الله بذلك، إذ كان أحبّ الأمور إلى الله أوسطها.
--------------------------------------------
ইমাম তাবারী এই মর্মে বেশ কিছু বর্ণনা (রিওয়ায়াত) পেশ করেছেন। এরপর তিনি আবু সাঈদ, মুজাহিদ এবং অন্যদের মতো কিছু সাহাবী ও তাবিঈর সূত্রে এই আয়াতের তাফসীর উল্লেখ করেছেন, যেখানে তাঁরা এর ব্যাখ্যা করেছেন 'ন্যায়পরায়ণ (عدولاً)' হিসেবে।
অনুরূপভাবে তিনি ইবনে আব্বাসের তাফসীরও বর্ণনা করেছেন: "তিনি তোমাদের এক ন্যায়পরায়ণ (عدولاً) জাতি হিসেবে তৈরি করেছেন।" ইবনে যায়েদ বলেন: তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং অন্যান্য জাতিসমূহের মধ্যবর্তী অবস্থানে রয়েছে (১)।
2- ইমাম তাবারী বলেন: আর 'ওয়াসাত' (وسط) শব্দটি আরবদের কথোপকথনে 'শ্রেষ্ঠ' অর্থে ব্যবহৃত হয়। প্রচলিত আছে: অমুক ব্যক্তি তার সম্প্রদায়ের মধ্যে উচ্চবংশীয় (ওয়াসাতুল হাসাব), অর্থাৎ যখন তারা তার বংশমর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব বুঝাতে চায় তখন তাকে মধ্যম বা উচ্চবংশীয় বলে।
সে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে মধ্যম ও ভারসাম্যপূর্ণ। ইবনে জুহাইর বিন আবি সুলমা 'ওয়াসাত' সম্পর্কে বলেছেন:
তারা এমন মধ্যমপন্থী যাদের বিচারে মানুষ সন্তুষ্ট থাকে... যখন কোনো এক রাতে বড় কোনো সংকট ঘনীভূত হয়।
তিনি বলেন: আমার মতে এই স্থানে 'ওয়াসাত' শব্দটি 'মধ্যভাগ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী অংশকে বুঝায়, যেমন ঘরের মধ্যভাগ।
আমি মনে করি যে, আল্লাহ তাআলা তাদের 'ওয়াসাত' হিসেবে অভিহিত করেছেন দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কারণে। ফলে তারা দ্বীনের ব্যাপারে খ্রিষ্টানদের মতো অতিরঞ্জনকারী নয়—যারা সংসারবিরাগের মাধ্যমে অতিরঞ্জন করেছে এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে যা বলার ছিল না তা বলেছে। আবার তারা ইহুদিদের মতো অবহেলাকারীও নয়—যারা আল্লাহর কিতাব পরিবর্তন করেছে, তাদের নবীদের হত্যা করেছে, তাদের রবের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে এবং তাঁর সাথে কুফরি করেছে। বরং তারা হলো দ্বীনের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা ও ভারসাম্য অবলম্বনকারী, তাই আল্লাহ তাদের এই গুণেই ভূষিত করেছেন; কেননা আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম কাজ হলো মধ্যমপন্থার কাজ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأمَّا التأويل فإنَّه جاء بأن الوسط العدل - كما سبق - وذلك معنى الخيار، لأنَّ الخيار من الناس عدولهم (1) .
3- قال ابن كثير (2) وقوله - تعالى -: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} (البقرة: من الآية 143) . الوسط هنا: الخيار والأجود، كما يُقال في قريش: أوسط العرب نسبًا ودارًا، أي: خيرها.
وكان رسول الله، صلى الله عليه وسلم وسطًا في قومه، أي: أشرفهم نسبًا.
ومنه الصلاة الوسطى، التي هي أفضل الصّلوات، وهي العصر، كما ثبت في الصّحاح وغيرها.
وروى الإمام أحمد (3) عن أبي سعيد، قال: قال رسول الله، صلى الله عليه وسلم «يدعى نوح يوم القيامة فيُقال له: هل بلّغت؟ فيقول: نعم، فيدعى قومه فيُقال لهم: هل بلَّغكم؟ فيقولون: ما أتانا من نذير، وما أتانا من أحد، فيُقال لنوح: من يشهد لك؟ فيقول: محمد وأمَّته، قال: فذلك قوله: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} . قال: الوسط: العدل، فتُدعون فتشهدون له بالبلاغ، ثم أشهد عليكم» رواه البخاري والترمذي والنسائي وابن ماجه (4) .
4- وقال ابن الجوزي في تفسيره لهذه الآية: سبب نزولها أن اليهود قالوا: قبلتنا قبلة الأنبياء، ونحن عدل بين الناس، فنزلت هذه الآية.
--------------------------------------------
আর ব্যাখ্যার (التأويل) ক্ষেত্রে কথা হলো, ‘ওয়াসাত’ (الوسط) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ন্যায়পরায়ণ (العدل) —যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে— আর এটিই হলো শ্রেষ্ঠত্বের (الخيار) অর্থ; কেননা মানুষের মধ্যে যারা ন্যায়পরায়ণ (عدولهم), তারাই শ্রেষ্ঠ (الخيار)। (১)
৩- ইবনে কাসীর (২) বলেছেন, আল্লাহ তাআলার বাণী: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} (আল-বাকারাহ: ১৪৩ এর অংশ)। এখানে ‘ওয়াসাত’ (الوسط) অর্থ হলো: শ্রেষ্ঠ (الخيار) এবং সর্বোৎকৃষ্ট (الأجود); যেমনটি কুরাইশদের সম্পর্কে বলা হয় যে, তারা বংশ ও আবাসের দিক থেকে আরবের ‘আওসাত’ (أوسط), অর্থাৎ তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ (خيرها)।
আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কওমের মধ্যে ‘ওয়াসাত’ (وسطًا) ছিলেন, অর্থাৎ বংশমর্যাদায় তাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত (أشرفهم)।
এর থেকেই এসেছে ‘আস-সালাতুল উসতা’ (الصلاة الوسطى), যা সালাতসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম; আর তা হলো আসরের সালাত, যেমনটি সহিহ (الصّحاح) গ্রন্থসমূহ ও অন্যান্য কিতাবে প্রমাণিত হয়েছে।
ইমাম আহমদ (৩) আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামতের দিন নূহ (আ.)-কে ডাকা হবে এবং তাঁকে বলা হবে: আপনি কি পৌঁছে দিয়েছেন? তিনি বলবেন: হ্যাঁ। এরপর তাঁর কওমকে ডাকা হবে এবং তাদের বলা হবে: তিনি কি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন? তারা বলবে: আমাদের কাছে কোনো সতর্ককারী আসেনি এবং আমাদের কাছে কেউ আসেনি। তখন নূহ (আ.)-কে বলা হবে: আপনার পক্ষে কে সাক্ষ্য দিবে? তিনি বলবেন: মুহাম্মদ এবং তাঁর উম্মত। নবীজি বলেন: এটাই হলো আল্লাহর বাণী: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا}। তিনি বলেন: ‘ওয়াসাত’ (الوسط) হলো ন্যায়পরায়ণ (العدل)। সুতরাং তোমাদের ডাকা হবে এবং তোমরা তাঁর রিসালাত পৌঁছানোর (بالبلاغ) বিষয়ে সাক্ষ্য দিবে, এরপর আমি তোমাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবো»। হাদীসটি ইমাম বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন (৪)।
৪- ইবনে আল-জাওযী এই আয়াতের তাফসীরে বলেছেন: এটি নাযিল হওয়ার কারণ হলো ইয়াহুদীরা বলেছিল: আমাদের কিবলা হলো নবীদের কিবলা, আর আমরা মানুষের মাঝে ন্যায়নিষ্ঠ (عدل); তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والوسط: العدل، قاله ابن عباس وأبو سعيد ومجاهد وقتادة.
وقال ابن قتيبة: الوسط: العدل والخيار، ومنه قوله - تعالى -: {قَالَ أَوْسَطُهُمْ} (القلم: من الآية 28) . أي: أعدلهم وخيرهم.
قال الشاعر:
هم وسط يرضى الأنام بحكمهم
… إذا نزلت إحدى الليالي بمعظم
وأصل ذلك أن خير الأشياء أوسطها، والغلوّ والتقصير مذمومان.
قال أبو سليمان الدّمشقي: في هذا الكلام محذوف، ومعناه جعلت قبلتكم وسطًا بين القبلتين، فإن اليهود يصلون نحو المغرب، والنصارى نحو المشرق، وأنتم بينهما (1) .
5- قال صاحب المنار: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} (البقرة: من الآية 143) . هو تصريح بما فهم من قوله: {وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ} (البقرة: من الآية 213) . أي على هذا النحو من الهداية جعلناكم أمّة وسطًا.
قالوا: إن الوسط هو العدل والخيار، وذلك أن الزيادة على المطلوب في الأمر إفراط، والنّقص عنه تقصير وتفريط، وكلُّ من الإفراط والتَّفريط ميْلٌ عن الجادّة القويمة، فهو شرّ ومذموم، فالخيار هو الوسط بين طرفي الأمر، أي المتوسّط بينهما (2) .
6- وقال الشيخ عبد الرحمن بن سعدي:
--------------------------------------------
আর 'ওয়াসাত' (الوسط) হলো: ন্যায়নিষ্ঠ (العدل); ইবনে আব্বাস, আবু সাঈদ, মুজাহিদ এবং কাতাদা এমনটিই বলেছেন।
ইবনে কুতায়বা বলেন: 'ওয়াসাত' (الوسط) হলো: ন্যায়নিষ্ঠ (العدل) ও সর্বোত্তম (الخيار)। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের মধ্যে যিনি মধ্যম (أوسطهم) ব্যক্তি ছিলেন তিনি বললেন} (আল-কালাম: ২৮)। অর্থাৎ: তাদের মধ্যে অধিক ন্যায়নিষ্ঠ (أعدلهم) ও সর্বোত্তম (خيرهم) ব্যক্তি।
কবি বলেন:
তারা এমন মধ্যপন্থী (وسط) যাদের ফয়সালায় সৃষ্টিজগত সন্তুষ্ট থাকে... যখন কোনো এক রজনীতে কঠিন বিপদ নেমে আসে।
এর মূল কথা হলো, সর্বোত্তম বিষয় হলো মধ্যমটি (أوسطها); আর চরমপন্থা (الغلو) ও শৈথিল্য (التقصير) উভয়ই নিন্দনীয়।
আবু সুলাইমান আদ-দামেশকি বলেন: এই বক্তব্যের মধ্যে কিছু উহ্য রয়েছে। এর অর্থ হলো—আমি তোমাদের কিবলাকে দুই কিবলার মধ্যবর্তী (وسطًا) করেছি। কারণ ইহুদিরা পশ্চিম দিকে মুখ করে সালাত আদায় করে এবং খ্রিস্টানরা পূর্ব দিকে, আর তোমরা এই দুইয়ের মাঝে। (১)
৫- 'আল-মানার'-এর লেখক বলেন: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (وسطًا) উম্মত হিসেবে সৃষ্টি করেছি} (আল-বাকারাহ: ১৪৩)। এটি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে যা বোঝা যায় তারই সুস্পষ্ট বর্ণনা: {আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ প্রদর্শন করেন} (আল-বাকারাহ: ২১৩)। অর্থাৎ: হেদায়াতের এই পদ্ধতির মাধ্যমেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী (وسطًا) উম্মত বানিয়েছি।
উলামাগণ বলেন: নিশ্চয়ই 'ওয়াসাত' (الوسط) হলো ন্যায়নিষ্ঠ (العدل) ও সর্বোত্তম (الخيار)। কারণ কোনো কাজে আবশ্যকীয় মাত্রার অতিরিক্ত করা হলো বাড়াবাড়ি (إفراط), আর তা থেকে কমিয়ে ফেলা হলো শৈথিল্য (تقصير) ও অবহেলা (تفريط)। আর বাড়াবাড়ি (الإفراط) ও অবহেলা (التفريط) উভয়ই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি, যা মন্দ ও নিন্দনীয়। সুতরাং সর্বোত্তম (الخيار) হলো কোনো বিষয়ের দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী (الوسط) অবস্থা, অর্থাৎ উভয়ের মাঝে ভারসাম্যপূর্ণ (المتوسط) অবস্থান। (২)
৬- শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে সাদী বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
{وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} (البقرة: من الآية 143) أي: عدلا خيارًا.
وما عدا الوسط فأطراف داخلة تحت الخطر، فجعل الله هذه الأمة وسطًا في كل أمور الدّين، وسطًا في الأنبياء بين من غلا فيهم كالنصارى، وبين من جفاهم كاليهود، بأن آمنوا بهم كل على الوجه اللائق بذلك.
ووسطًا في الشريعة، لا تشديدات اليهود وآصارهم، ولا تهاون النصارى.
وفي باب الطّهارة والمطاعم، لا كاليهود الذين لا تصحّ لهم صلاة إلاّ في بِيَعهِمْ وكنائسهم، ولا يطهّرهم الماء من النَّجاسات، وقد حرّمت عليهم طيِّبات عقوبة لهم.
ولا كالنصارى الذين لا يُنجسّون شيئًا ولا يُحرّمون شيئًا، بل أباحوا ما دبَّ ودرج.
بل طهارتهم - أي هذه الأمة - أكمل طهارة وأتمّها، وأباح لهم الطيّبات من المطاعم، والمشارب، والملابس، والمناكح، وحرَّم عليهم الخبائث من ذلك.
فلهذه الأمّة من الدّين أكمله، ومن الأخلاق أجلّها، ومن الأعمال أفضلها.
{এভাবে আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী (وسطًا) উম্মত বানিয়েছি} (বাকারা: ১৪৩ নম্বর আয়াতের অংশ)। অর্থাৎ: ন্যায়পরায়ণ (عدلا) ও শ্রেষ্ঠ (خيارًا)।
আর মধ্যপন্থা ব্যতীত অন্যান্য প্রান্তিক পথসমূহ বিপদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ এই উম্মতকে দ্বীনের প্রতিটি বিষয়ে মধ্যপন্থী (وسطًا) করেছেন। নবীদের ক্ষেত্রে তারা খ্রিষ্টানদের মতো অতিরঞ্জনকারী (غلا) এবং ইহুদিদের মতো রূঢ়তা প্রদর্শনকারী (جفاهم) নয়, বরং তারা নবীদের প্রতি এমনভাবে ঈমান এনেছে যা তাঁদের উচ্চমর্যাদার জন্য যথোপযুক্ত।
এবং শরীয়তের ক্ষেত্রেও তারা মধ্যপন্থী (وسطًا); এতে ইহুদিদের মতো কঠোরতা ও বোঝা নেই, আবার খ্রিষ্টানদের মতো শিথিলতাও নেই।
পবিত্রতা এবং আহার্যাদির ক্ষেত্রেও তারা ইহুদিদের মতো নয়, যাদের সালাত তাদের উপাসনালয় ও গির্জা ব্যতীত শুদ্ধ হয় না এবং পানি তাদের অপবিত্রতা (النَّجاسات) হতে পবিত্র করে না; উপরন্তু তাদের ওপর শাস্তি স্বরূপ অনেক উত্তম বস্তু হারাম করা হয়েছিল।
আবার তারা খ্রিষ্টানদের মতোও নয়, যারা কোনো কিছুকেই অপবিত্র মনে করে না এবং কোনো কিছুই হারাম করে না; বরং তারা ভূ-পৃষ্ঠের বিচরণশীল প্রতিটি প্রাণীকে বৈধ করে নিয়েছে।
বরং এই উম্মতের পবিত্রতা—অর্থাৎ এই উম্মত—হচ্ছে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত। আল্লাহ তাদের জন্য আহার, পানীয়, পোশাক ও বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পবিত্র ও উত্তম বস্তুসমূহ বৈধ করেছেন এবং অপবিত্র (الخبائث) বস্তুসমূহকে তাদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন।
সুতরাং এই উম্মতের জন্য রয়েছে দ্বীনের পূর্ণতা, সুমহান চরিত্র এবং সর্বোত্তম আমলসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ووهبهم الله من العلم والحلم والعدل والإحسان ما لم يهبه لأمة سواهم، فلذلك كانوا: {أُمَّةً وَسَطًا} (البقرة: من الآية 143) كاملين معتدلين، ليكونوا: {شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ} (البقرة: من الآية 143) بسب عدالتهم وحكمهم بالقسط، يحكمون على النَّاس من سائر أهل الأديان، ولا يحكم عليهم غيرهم (1) .
7- وقال سيد قطب في تفسيره لهذه الآية:
وإنها للأمَّة الوسط بكل معاني الوسط، سواء من الوساطة بمعنى الحسن والفضل، أو من الوسط بمعنى الاعتدال والقصد، أو من الوسط بمعناه الماديّ والحسيّ.
أمَّةً وسطًا في التصوّر والاعتقاد، أمَّةً وسطًا في التّفكير والشّعور، أمَّةً وسطًا في التَّنظيم والتَّنسيق، أمة وسطًا في الارتباطات والعلاقات، أمَّةً وسطًا في الزَّمان، أمَّةً وسطًا في المكان، ثم قال: وما يعوق هذه الأمة اليوم عن أن تأخذ مكانها هذا الذي وهبه الله لها، إلا أنّها تخلَّت عن منهج الله الذي اختاره لها، واتَّخذت لها مناهج مختلفة، ليست هي التي اختارها الله لها (2) .
--------------------------------------------
আর আল্লাহ তাঁদেরকে জ্ঞান, সহনশীলতা, ন্যায়বিচার এবং ইহসান থেকে এমন কিছু দান করেছেন যা তিনি অন্য কোনো জাতিকে দান করেননি। এ কারণেই তাঁরা ছিলেন: {মধ্যম জাতি (أُمَّةً وَسَطًا)} (আল-বাক্বারা: আয়াত ১৪৩-এর অংশ), পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ; যাতে করে তাঁরা তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং ইনসাফের সাথে ফয়সালা করার কারণে: {মানুষের ওপর সাক্ষী (شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ)} (আল-বাক্বারা: আয়াত ১৪৩-এর অংশ) হতে পারেন। তাঁরা অন্যান্য সকল ধর্মাবলম্বী মানুষের ওপর বিচার করবেন, কিন্তু অন্য কেউ তাঁদের ওপর বিচার করবে না (১)।
৭- সাইয়্যেদ কুতুব এই আয়াতের তাফসিরে বলেছেন:
আর এটি 'ওয়াসাত' বা মধ্যম হওয়ার সকল অর্থেই একটি মধ্যম জাতি (أمة وسطًا), চাই তা শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার অর্থে 'ওয়াসাতাহ' হোক, কিংবা ভারসাম্য ও মিতাচারের অর্থে 'ওয়াসাত' হোক, অথবা এর পার্থিব ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অর্থেই হোক।
দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এক মধ্যম জাতি (أمة وسطًا), চিন্তা ও অনুভূতির ক্ষেত্রে এক মধ্যম জাতি (أمة وسطًا), শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এক মধ্যম জাতি (أمة وسطًا), যোগাযোগ ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক মধ্যম জাতি (أمة وسطًا), সময়ের ক্ষেত্রে এক মধ্যম জাতি (أمة وسطًا), স্থানের ক্ষেত্রে এক মধ্যম জাতি (أمة وسطًا)। অতঃপর তিনি বলেন: আল্লাহ প্রদত্ত এই সুউচ্চ স্থান গ্রহণ করতে এই জাতিকে আজ যা বাধা দিচ্ছে তা হলো, তারা আল্লাহর সেই জীবনপদ্ধতি ত্যাগ করেছে যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছিলেন এবং তারা এমন ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে যা আল্লাহ তাদের জন্য পছন্দ করেননি (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
هذه أهمّ أقوال المفسِّرين في تفسير هذه الآية، ومن خلال هذا التفسير اتَّضحت معانٍ سيأتي اعتبارها عند الحديث عن منهج القرآن في تقرير الوسطيَّة في فصول لاحقة.
এগুলো এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণের গুরুত্বপূর্ণ অভিমতসমূহ। এই তাফসীরের মাধ্যমে এমন কিছু তাৎপর্য স্পষ্ট হয়েছে যা পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে কুরআনের মধ্যপন্থা নির্ধারণের পদ্ধতি বিষয়ক আলোচনার সময় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ثانيًا: كلمة "الوسطى"
وقد وردت هذه الكلمة في قوله - تعالى - في سورة البقرة: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} (البقرة:238) وسأذكر أقوال المفسِّرين في هذه الآية ممَّا له علاقة مباشرة في معنى "الوسط" حيث سيتَّضح سبب تسميتها بذلك، هل لأنها متوسِّطة بين الصَّلوات، أو لأنَّها أفضل الصّلوات، أو لكليْهما معًا؟ دون الوقوف عند أي الصَّلوات هي، وما سيرد حول هذه القضيَّة فهو لبيان المعنى فقط.
1- ذكر الإمام الطبري أقوال العلماء في الصَّلاة الوسطى، وأطال في ذكر أدلَّة من قال: إنَّ الصّلاة الوسطى هي العصر، ثم قال بعد أن رجَّح أن الصَّلاة الوسطى هي العصر:
وإنما قيل لها الوسطى: لتوسّطها الصَّلوات المكتوبات الخمس، وذلك أن قبلها صلاتين، وبعدها صلاتين، وهي بين ذلك وسطاهنّ.
والوسطى: الفعلى من قول القائل: وسطت القوم أسطهم سطة ووسوطًا، إذا دخلت وسطهم. ويقال للذّكر فيه: هو أوسطنا، وللأنثى: هي وسطانًا (1) . وعندما ذكر قول من قال: إن (الوسطى) هي صلاة المغرب، وهي قول: قبيصة بن ذؤيب، عقَّب الطبري على ذلك قائلا:
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: "আল-উস্তা" (الوسطى) শব্দটি।
এই শব্দটি মহান আল্লাহর বাণীতে সূরা আল-বাকারায় বর্ণিত হয়েছে: {তোমরা সকল সালাতের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী (الوسطى) সালাতের প্রতি; এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াও} (আল-বাকারা: ২৩৮)। আমি এই আয়াতে মুফাসসিরগণের সেই সকল উক্তি উল্লেখ করব যার সাথে "ওয়াসাত" (الوسط) শব্দের অর্থের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এতে একে এই নামে নামকরণের কারণ স্পষ্ট হবে—এটি কি সালাতসমূহের মাঝে অবস্থিত হওয়ার কারণে, নাকি এটি শ্রেষ্ঠতম সালাত হওয়ার কারণে, নাকি উভয় কারণে? এখানে এটি নির্দিষ্টভাবে কোন সালাত—তা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ না করে কেবল অর্থের বর্ণনার জন্য প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো উল্লেখ করা হবে।
১- ইমাম তাবারী মধ্যবর্তী (الوسطى) সালাত সম্পর্কে আলিমগণের মতামত উল্লেখ করেছেন। যারা আসরের সালাতকে মধ্যবর্তী (الوسطى) সালাত বলেছেন, তিনি তাদের দলীলসমূহ দীর্ঘভাবে আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি আসরের সালাতকে মধ্যবর্তী (الوسطى) সালাত হিসেবে প্রাধান্য (رجَّح) দান করার পর বলেন:
একে মধ্যবর্তী (الوسطى) বলা হয়েছে কারণ এটি পাঁচটি ফরয সালাতের মাঝে অবস্থিত। অর্থাৎ এর পূর্বে দুটি সালাত এবং এর পরে দুটি সালাত রয়েছে এবং এটি সেগুলোর মাঝে মধ্যম (وسطاهنّ)।
আর 'আল-উস্তা' (الوسطى) শব্দটি হলো 'ফুইলা' (الفعلى) রূপ, যা কোনো ব্যক্তির উক্তি 'ওয়াসাত্তুল কাওমা' (আমি লোকজনের মাঝে প্রবেশ করলাম) থেকে আগত। যখন কেউ তাদের মাঝখানে প্রবেশ করে তখন এই শব্দ ব্যবহৃত হয়। এর পুরুষবাচক রূপের ক্ষেত্রে বলা হয়: 'হুয়া আওসাতুনা' (أوسطنا), আর স্ত্রীবাচকের ক্ষেত্রে বলা হয়: 'হিয়া উস্তানা' (وسطانا) (১)। যখন তিনি কবিসাহ বিন জুয়াইবের উক্তি উল্লেখ করলেন যে, মধ্যবর্তী (الوسطى) সালাত হলো মাগরিবের সালাত, তখন তাবারী এর ওপর মন্তব্য করে বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২০)
ووجه قبيصة بن ذؤيب قوله: (الوسطى) إلى معنى التوسّط، الذي يكون صفة للشيء يكون عدلا بين الأمرين، كالرَّجل المعتدل القامة، الذي لا يكون مفرطًا طوله، ولا قصيرة قامته، ولذلك قال: ألا ترى أنَّها ليست بأقلِّها ولا أكثرها.
ومن أجل فهم كلام الإمام الطبري في تعقيبه على ابن ذؤيب أذكر كلام قبيصة بن ذؤيب، قال: الصلاة الوسطى: صلاة المغرب، ألا ترى أنها ليست بأقلها ولا أكثرها، ولا تُقصر في السَّفر، وأنّ رسول الله، صلى الله عليه وسلم لم يؤخِّرها عن وقتها ولم يُعجّلها (1) .
2- وجه ابن الجوزي أقوال العلماء في المراد بالصَّلاة الوسطى قائلا: وفي المراد بالوسطى ثلاثة أقوال:
أحدها: أنَّها أوسط الصَّلوات محلا.
والثاني: أوسطها مقدارًا.
والثالث: أفضلها.
ووسط الشيء خيره وأعدله، ومنه قوله - تعالى -: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} (البقرة: من الآية 143) .
فإن قلنا: إن الوُسطى بمعنى الفُضلى، جاز أن يدّعي هذا كل ذي مذهب فيها. وإن قلنا: إنَّها أوسطها مقدارًا، فهي المغرب، لأن أقل المفروضات ركعتان، وأكثرها أربعًا.
--------------------------------------------
কাবিজাহ ইবনে জুআইব 'উসতা' (الوسطى) শব্দটিকে মধ্যবর্তীতার অর্থের দিকে নিবিষ্ট করেছেন, যা কোনো বিষয়ের এমন একটি গুণ যা দুটি বিষয়ের মাঝে ভারসাম্যপূর্ণ (عدل) হয়; যেমন মাঝারি গড়নের ব্যক্তি, যার উচ্চতা খুব বেশিও নয় আবার লম্বায় খাটোও নয়। আর একারণেই তিনি বলেছেন: আপনি কি দেখছেন না যে এটি [রাকাত সংখ্যায়] সবচেয়ে কমও নয় আবার সবচেয়ে বেশিও নয়?
আর ইবনে জুআইবের মতের ওপর ইমাম তাবারির পর্যালোচনামূলক বক্তব্য বোঝার জন্য আমি কাবিজাহ ইবনে জুআইবের উক্তিটি উল্লেখ করছি, তিনি বলেছেন: সালাতুল উসতা হলো মাগরিবের নামাজ; আপনি কি দেখছেন না যে এটি [রাকাত সংখ্যায়] সবচেয়ে কমও নয় এবং সবচেয়ে বেশিও নয়? আর সফরে এটি সংক্ষিপ্ত (قصر) করা হয় না এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি আদায়ে বিলম্বও করতেন না আবার খুব তাড়াহুড়োও করতেন না (১)।
২- ইবনুল জাওযি 'সালাতুল উসতা' দ্বারা কী উদ্দেশ্য সে বিষয়ে আলেমগণের অভিমতগুলোকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন: 'উসতা' (الوسطى) দ্বারা কী উদ্দেশ্য সে সম্পর্কে তিনটি অভিমত রয়েছে:
প্রথমটি: এটি অবস্থানের দিক থেকে নামাজের মধ্যবর্তী (أوسط)।
দ্বিতীয়টি: এটি পরিমাণের দিক থেকে মধ্যবর্তী (أوسط)।
তৃতীয়টি: এটি শ্রেষ্ঠ (أفضل) নামাজ।
আর কোনো জিনিসের মধ্যভাগ হলো তার সর্বোত্তম ও সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ (أعدل) অংশ। মহান আল্লাহর বাণীও এই অর্থেই এসেছে: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (وسطا) জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি" (সূরা আল-বাকারা: ১৪৩-এর অংশবিশেষ)।
অতএব আমরা যদি বলি 'উসতা' (الوسطى) এর অর্থ হলো শ্রেষ্ঠ (فضلى), তবে এই বিষয়ে প্রতিটি মাযহাবের অনুসারীই নিজ নিজ মতের পক্ষে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করতে পারেন। আর যদি আমরা বলি যে এটি পরিমাণের দিক থেকে মধ্যবর্তী (أوسط), তবে সেটি হবে মাগরিবের নামাজ; কেননা ফরয নামাজগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন হলো দুই রাকাত এবং সর্বোচ্চ হলো চার রাকাত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২১)
وإن قلنا: إنَّها أوسطها محلا، فللقائلين: إنَّها العصر أن يقولوا: قبلها صلاتان في النهار، وبعدها صلاتان في الليل، فهي الوسطى.
ومن قال هي الفجر، قال عكرمة: هي وسط بين الليل والنهار، وكذلك قال ابن الأنباري: هي وسط بين الليل والنهار.
وقال ابن الأنباري: ومن قال: هي الظهر، قال: هي وسط النهار.
فأما من قال: هي المغرب، فاحتجّ بأن أوّل صلاة فرضت الظّهر، فصارت المغرب وُسْطى.
ومن قال: هي العشاء، فإنَّه قال: هي بين صلاتين لا تقصران (1) .
ومن خلال ما سبق يتَّضح ارتباط كل قول بمعنى (الوسط) في ضوء المعاني التي سبق بيانها.
3- وقال القاسميّ في تفسيره:
و"الصلاة الوسطى" أي: الوسطى بين الصَّلوات، بمعنى المتوسّطة، أو الفضلى منها، من قولهم للأفضل: الأوسط.
فعلى الأوّل يكون الأمر لصلاة متوسّطة بين صلاتين، وهل هي: الصّبح، أو الظهر، أو العصر، أو المغرب، أو العشاء، أقوال مأثورة عن الصّحابة والتَّابعين.
وعلى الثاني: فهي صلاة الفطر أو الأضحى أو الجماعة أو صلاة الخوف أو الجمعة أو المتوسطة بين الطّول والقصر، أقوال - أيضًا- عن كثير من الأعلام.
--------------------------------------------
আর যদি আমরা বলি যে, এটি অবস্থানের দিক থেকে মধ্যবর্তী, তবে যারা একে আসর বলেন তাদের যুক্তি হলো: এর আগে দিনের দুটি সালাত এবং এর পরে রাতের দুটি সালাত রয়েছে, তাই এটিই মধ্যবর্তী (الوسطى)।
আর যারা একে ফজর বলেন, তাদের সম্পর্কে ইকরিমাহ বলেন: এটি রাত ও দিনের মাঝখানের মধ্যবর্তী সময়। একইভাবে ইবনুল আনবারি বলেন: এটি রাত ও দিনের মধ্যবর্তী (وسط)।
ইবনুল আনবারি বলেন: আর যারা একে যোহর বলেন, তারা বলেন: এটি দিনের মধ্যভাগ (وسط)।
পক্ষান্তরে যারা একে মাগরিব বলেন, তারা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, সর্বপ্রথম যোহর সালাত ফরজ করা হয়েছিল, ফলে মাগরিব মধ্যবর্তী (وُسْطى) হিসেবে গণ্য হয়েছে।
আর যারা একে ইশা বলেন, তারা বলেন: এটি এমন দুটি সালাতের মধ্যবর্তী যা সংক্ষিপ্ত (قصر) করা হয় না (১)।
উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইতিপূর্বে বর্ণিত অর্থসমূহের আলোকে প্রতিটি মতামতের সাথে ‘মধ্যবর্তী’ (الوسط) শব্দটির যোগসূত্র রয়েছে।
৩- আল-কাসেমী তাঁর তাফসিরে বলেন:
‘সালাতুল উসতা’ তথা ‘মধ্যবর্তী সালাত’ অর্থ: সালাতসমূহের মধ্যবর্তী সালাত, অর্থাৎ যা মাঝখানে অবস্থিত, অথবা সালাতসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; কারণ আরবরা শ্রেষ্ঠ বস্তুকে ‘উৎকৃষ্ট’ (الأوسط) বলে থাকে।
প্রথম অর্থ অনুযায়ী, এটি হবে দুটি সালাতের মাঝখানে অবস্থিত একটি সালাত। আর সেটি কি ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব নাকি ইশা—এ বিষয়ে সাহাবী ও তাবেয়ীগণের কাছ থেকে বর্ণিত অভিমত (أقوال مأثورة) রয়েছে।
আর দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী, এটি হতে পারে ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহার সালাত, কিংবা জামাতের সালাত, অথবা ভীতিপূর্ণ অবস্থার সালাত (صلاة الخوف), অথবা জুমার সালাত, অথবা দীর্ঘ ও হ্রস্বের মধ্যবর্তী কোনো সালাত—এগুলোও বহু বরেণ্য আলেমের অভিমত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২২)
ثم قال: سنح لي وقوي بعد تمعّن احتمال قوله - تعالى -: {وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى} (البقرة: من الآية 238) بعد قوله: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ} (البقرة: من الآية 238) لأن يكون إرشادًا وأمرًا بالمحافظة على أداء الصلاة أداءً متوسّطًا، لا طويلا مُملا، ولا قصيرًا مُخلا، أي: والصلاة المتوسطة بين الطول والقصر، ويؤيّده الأحاديث المرويَّة عنه، صلى الله عليه وسلم في ذلك قولا وفعلا.
ثم مرَّ بي في القاموس حكاية هذا قولا، حيث ساق في مادة (وسط) الأقوال في الآية، ومنها قوله: أو المتوسّطة بين الطّول والقصر، قال شارحه الزّبيدي. وهذا القول ردّه أبو حيّان في البحر.
ثم سنح لي احتمال وجه آخر، وهو أن يكون قوله: {وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى} (البقرة: من الآية 238) أريد به توصيف الصَّلاة المأمور بالمحافظة عليها بأنَّها فُضلى، أي ذات فضل عظيم عند الله، فالوسطى بمعنى الفُضلى من قولهم للأفضل: الأوسط (1) .
4- أما رشيد رضا فقال:
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি বলেন: গভীর চিন্তাভাবনার পর আল্লাহ তাআলার বাণী— "এবং মধ্যবর্তী সালাত" (আল-বাকারাহ: ২৩৮ নং আয়াতের অংশ), যা তাঁর বাণী: "তোমরা সালাতসমূহের প্রতি যত্নবান হও" (আল-বাকারাহ: ২৩৮ নং আয়াতের অংশ) এর পরে এসেছে— সে সম্পর্কে একটি সম্ভাবনা আমার মনে উদিত ও শক্তিশালী হয়েছে যে, এটি সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা বজায় রাখার একটি নির্দেশনা ও আদেশ হতে পারে; যেন তা অতি দীর্ঘ ও বিরক্তিকর না হয় এবং অতি সংক্ষিপ্ত ও অসম্পূর্ণও না হয়। অর্থাৎ: দৈর্ঘ্য ও সংক্ষিপ্ততার মাঝামাঝি সালাত। এ বিষয়ে কথা ও কাজে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত (المروية) হাদিসসমূহ একে সমর্থন করে।
অতঃপর 'আল-কামুস' গ্রন্থে আমি এটি একটি মত হিসেবে উল্লিখিত হতে দেখি, যেখানে গ্রন্থকার 'ওয়াসাত' মূলশব্দের অধীনে আয়াতটি সম্পর্কে বিভিন্ন মত বর্ণনা করেছেন; সেগুলোর মধ্যে একটি হলো: অথবা দৈর্ঘ্য ও সংক্ষিপ্ততার মাঝামাঝি সালাত; এর ব্যাখ্যাকার আয-যাবিদি এটি বলেছেন। তবে আবু হাইয়ান 'আল-বাহর' গ্রন্থে এই মতটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এরপর আমার নিকট অন্য একটি দিকের সম্ভাবনা উদিত হয়েছে, আর তা হলো: "এবং মধ্যবর্তী সালাত" (আল-বাকারাহ: ২৩৮ নং আয়াতের অংশ) বাণীটি দ্বারা যে সালাতটি সংরক্ষণের আদেশ দেওয়া হয়েছে সেটিকে 'সর্বোত্তম' হিসেবে বিশেষিত করা উদ্দেশ্য হতে পারে; অর্থাৎ যা আল্লাহর নিকট মহান ফযিলতপূর্ণ। সুতরাং এখানে 'মধ্যবর্তী' শব্দটি 'সর্বোত্তম' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন আরবরা শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনায় 'সবচেয়ে মধ্যবর্তী' শব্দটি ব্যবহার করে থাকে (১)।
৪- রশীদ রিযা বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والصَّلاة الوسطى هي إحدى الخمس، والوسطى مؤنَّث الأوسط، ويستعمل بمعنى التوسّط بين شيئين أو أشياء لها طرفان متساويان، وبمعنى الأفضل، وبكل من المعنيين قال قائلون، ولذلك اختلفوا في أيّ الصّلوات أفضل، وأيّتها المتوسّطة (1) .
5- وأختم كلام المفسّرين حول هذه الآية بما ذكره ابن عاشور في تفسيره، حيث قال:
فأمّا الذين تعلّقوا بالاستدلال بوصف الوسطى فمنهم من حاول جعل الوصف من الوسط بمعنى الخيار والفضل، فرجع إلى تتبّع ما ورد في تفضيل بعض الصّلوات على بعض، ومنهم من حاول جعل الوصف من الوسط، وهو الواقع بين جانبين متساويين من العدد، فذهب يتطلّب الصّلاة التي هي بين صلاتين من كل جانب (2) .
وبهذا التفسير لمعنى (الوسطى) من خلال كلام المفسّرين المتقدّم نلحظ الارتباط بين هذه الكلمة وموضوع الوسطيَّة الذي هو مدار هذا البحث، سواء أكانت بمعنى التوسّط بين شيئين أم بمعنى الخيار الأفضل، وسيأتي مزيد بيان لهذه القضيَّة - إن شاء الله - بعد عرض جميع الآيات.
--------------------------------------------
সালাতুল উস্তা (الوسطى) হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের অন্যতম। ‘উস্তা’ (الوسطى) শব্দটি ‘আওসাত’ (الأوسط) এর স্ত্রীবাচক শব্দ। এটি দুই বা ততোধিক সমান প্রান্তবিশিষ্ট বিষয়ের মধ্যবর্তী (التوسّط) হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়, আবার শ্রেষ্ঠ (الأفضل) অর্থেও ব্যবহৃত হয়। উভয় অর্থেই প্রবক্তাগণ মত দিয়েছেন। আর একারণেই তাঁরা মতবিরোধ করেছেন যে, সালাতসমূহের মধ্যে কোনটি শ্রেষ্ঠ (أفضل) এবং কোনটি মধ্যবর্তী (المتوسّطة)। (১)
5- আমি এই আয়াতের ব্যাপারে মুফাসসিরগণের (المفسّرين) আলোচনার সমাপ্তি টানছি ইবনে আশুর তাঁর তাফসিরে যা উল্লেখ করেছেন তার মাধ্যমে। তিনি বলেছেন:
যারা ‘উস্তা’ (الوسطى) গুণের মাধ্যমে দলীল গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ গুণটিকে ‘অসত’ (الوسط) তথা পছন্দনীয় ও শ্রেষ্ঠত্ব (الخيار والفضل) অর্থে গ্রহণ করার চেষ্টা করেছেন। ফলে তিনি এক সালাতের ওপর অন্য সালাতের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তা অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হয়েছেন। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ গুণটিকে ‘অসত’ (الوسط) তথা মধ্যবর্তীতা থেকে গ্রহণ করার চেষ্টা করেছেন, যা সংখ্যার দিক থেকে দুই সমান প্রান্তের মাঝে অবস্থিত। ফলে তিনি এমন সালাত তালাশ করেছেন যা উভয় দিক থেকে দুটি সালাতের মাঝখানে অবস্থিত (২)।
পূর্বোক্ত মুফাসসিরগণের (المفسّرين) বক্তব্যের আলোকে ‘উস্তা’ (الوسطى) শব্দের এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে আমরা এই শব্দ এবং ‘ওয়াসাতীয়াত’ (الوسطيَّة) বা মধ্যপন্থা বিষয়ের মধ্যে একটি গভীর যোগসূত্র লক্ষ্য করি, যা এই গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য; চাই তা দুটি জিনিসের মাঝখানে হওয়া অর্থে হোক কিংবা সর্বোত্তম বা শ্রেষ্ঠ (الخيار الأفضل) অর্থে হোক। ইনশাআল্লাহ, সকল আয়াত উপস্থাপনের পর এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ثالثًا: كلمة (أوسط)
وقد وردت هذه الكلمة في آيتين:
الأولى في قوله - تعالى -: {فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ} (المائدة: من الآية 89) .
والثانية في سورة القلم في قوله - تعالى -: {قَالَ أَوْسَطُهُمْ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ لَوْلَا تُسَبِّحُونَ} (القلم:28) .
وقد ذكر المفسّرون معنى كل كلمة في موضعها، فمنهم من جعل معناهما واحدًا، ومنهم من فرَّق بين مدلوليهما، وإليك تفصيل ذلك:
الأولى: آية سورة المائدة:
1- قال الطبري: يعني - تعالى ذكره - بقوله: {مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ} (المائدة: من الآية 89) أعدله.
قال عطاء: أوسطه: أعدله.
وقال بعضهم: معناه: من أوسط ما يطعم من أجناس الطعام الذي يقتاته أهل بلد المكفَّر أهليهم، ومن ذلك قول ابن عمر: من أوسط ما يطعم أهله الخبز والتّمر، والخبز والسَّمن، والخبز والزيت، ومن أفضل ما يطعمهم: الخبز واللحم.
وقال آخرون: من أوسط ما يُطعم المكفّر أهله، قال إن كان ممن يشبع أهله أشبع المساكين العشرة، وإن كان ممن لا يشبعهم لعجزه عن ذلك أطعم المساكين على قدر ما يفعل من ذلك بأهله في عُسره ويُسره.
তৃতীয়ত: (أوسط) শব্দটির আলোচনা
এই শব্দটি দুটি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে:
প্রথমটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {এর কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে খাদ্য দান করা, তোমরা তোমাদের পরিবারবর্গকে যা খাওয়াও তার গড়পড়তা (أوسط) মানের খাদ্য থেকে।} (সূরা আল-মায়িদাহ: ৮৯ নং আয়াতের অংশ)।
আর দ্বিতীয়টি সূরা আল-কালামে মহান আল্লাহর বাণীতে: {তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি (أوسطهم) বলল, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, তোমরা কেন তাসবিহ পাঠ করছ না?} (সূরা আল-কালাম: ২৮)।
মুফাসসিরগণ প্রতিটি শব্দের অর্থ নিজ নিজ স্থানে উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ উভয় স্থানে শব্দটির অর্থ একই গণ্য করেছেন, আবার কেউ কেউ এদের অর্থের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। নিচে তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
প্রথমটি: সূরা আল-মায়িদাহর আয়াত:
১- ইমাম তবারি বলেন: মহান আল্লাহ তাঁর বাণী {তোমরা তোমাদের পরিবারবর্গকে যা খাওয়াও তার গড়পড়তা (أوسط) মানের থেকে} (সূরা আল-মায়িদাহ: ৮৯ নং আয়াতের অংশ) দ্বারা সবচেয়ে পরিমিত বা মধ্যমপন্থা (أعدله) উদ্দেশ্য নিয়েছেন।
আতা বলেন: ‘অসাত’ (أوسطه) অর্থ হলো সবচেয়ে পরিমিত বা মধ্যমপন্থা (أعدله)।
আবার কেউ কেউ বলেন: এর অর্থ হলো কাফফারা দানকারীর এলাকার লোকজন তাদের পরিবারকে সচরাচর যে ধরনের খাদ্যদ্রব্য খাইয়ে থাকে, তার গড়পড়তা (أوسط) মানের খাদ্য। এরই প্রেক্ষিতে ইবনে উমর রাযি.-এর উক্তি হলো: গড়পড়তা (أوسط) মানের খাবার হলো রুটি ও খেজুর, রুটি ও ঘি এবং রুটি ও তেল। আর পরিবারকে খাওয়ানোর সর্বোত্তম খাবার হলো রুটি ও গোশত।
অন্যান্যগণ বলেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কাফফারা দানকারী নিজের পরিবারকে যে মানের খাবার খাওয়ায় তার গড়পড়তা (أوسط) মান। তিনি বলেন, যদি সে তার পরিবারকে পেট ভরে খাওয়ানোর সামর্থ্য রাখে তবে দশজন মিসকিনকেও পেট ভরে খাওয়াবে। আর যদি নিজের অক্ষমতার কারণে তাদেরকে পেট ভরে খাওয়াতে না পারে, তবে নিজের সচ্ছলতা বা অস্বচ্ছলতা অনুযায়ী পরিবারের পেছনে যেমন ব্যয় করে, তেমনিভাবে মিসকিনদের খাওয়াবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ثم عقَّب الطبري على ذلك بقوله:
وأولى الأقوال عندنا قول من قال: من أوسط ما تُطعمون أهليكم في القلّة والكثرة (1) .
2- وقال ابن الجوزي:
في قوله: {مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ} (المائدة: من الآية 89) قولان:
أحدهما: من أوسطه في القدر، قاله عمر، وعلي، وابن عباس، ومجاهد.
الثاني: من أوسط أجناس الطعام، قاله ابن عمر، والأسود، وعَبِيدَة، والحسن، وابن سيرين (2) .
3- وقال القرطبي:
تقدَّم في سورة البقرة أن الوسط بمعنى الأعلى والخيار، وهو هنا منزلة بين المنزلتين، ونصفًا بين طرفين، وعن ابن عباس، قال: كان الرجل يقوت أهله قوتًا فيه سعة، وكان الرّجل يقوت أهله قوتًا فيه شدَّة، فنزلت: {مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ} (المائدة: من الآية 89) وهذا يدلّ على أن الوسط ما ذكرناه، وهو ما كان بين شيئين (3) .
4- وقال الزمخشريّ:
{مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ} (المائدة: من الآية 89) من أقصده، لأنَّ منهم من يُسرف في إطعام أهله، ومنهم من يُقتّر (4) .
5- وأختم هذه الأقوال في معنى (أوسط) فيما قاله سيد قطب حيث قال:
--------------------------------------------
এরপর তাবারী এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন:
আমাদের নিকট সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য অভিমত হলো তাদের কথা যারা বলেন: (এর অর্থ হলো) স্বল্পতা ও আধিক্যের বিচারে তোমাদের পরিবারকে তোমরা যা খাওয়াও তার মধ্যম মানের (১)।
২- এবং ইবনুল জাওযী বলেন:
মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের পরিবারবর্গকে তোমরা যা খাওয়াও তার মধ্যম মানের} (আল-মায়িদাহ: আয়াত ৮৯-এর অংশ) এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:
প্রথমটি: পরিমাণের দিক থেকে মধ্যম মানের; এটি ওমর, আলী, ইবনে আব্বাস ও মুজাহিদ (র.)-এর বক্তব্য।
দ্বিতীয়টি: খাদ্যের প্রকারভেদে মধ্যম মানের; এটি ইবনে ওমর, আসওয়াদ, আবিদাহ, হাসান ও ইবনে সিরীন (র.)-এর বক্তব্য (২)।
৩- এবং কুরতুবী বলেন:
সূরা আল-বাকারায় ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, 'ওয়াসাত' (الوسط) অর্থ হলো সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম। কিন্তু এখানে এটি দুটি অবস্থানের মধ্যবর্তী একটি পর্যায় এবং দুই প্রান্তের মাঝামাঝি অবস্থা। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কোনো ব্যক্তি তার পরিবারকে সচ্ছলভাবে আহার করাত, আবার কোনো ব্যক্তি তার পরিবারকে টানাপোড়েনের সাথে আহার করাত। তখন নাযিল হলো: {তোমাদের পরিবারবর্গকে তোমরা যা খাওয়াও তার মধ্যম মানের} (আল-মায়িদাহ: আয়াত ৮৯-এর অংশ)। এটি প্রমাণ করে যে, 'মধ্যম' (الوسط) বলতে আমরা যা উল্লেখ করেছি তাই, আর তা হলো যা দুই জিনিসের মাঝামাঝি (৩)।
৪- এবং যামাখশারী বলেন:
{তোমাদের পরিবারবর্গকে তোমরা যা খাওয়াও তার মধ্যম মানের} (আল-মায়িদাহ: আয়াত ৮৯-এর অংশ) অর্থাৎ এর মধ্যে পরিমিত মানের। কেননা তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরিবারকে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে অপচয় করে, আবার কেউ কেউ কার্পণ্য করে (৪)।
৫- আমি 'আওসাত' (أوسط) শব্দের অর্থ সম্পর্কে সায়্যিদ কুতুবের বক্তব্য দিয়ে এসব অভিমত শেষ করছি, যেখানে তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
و (أوسط) تحتمل من (أحسن) ، أو من (متوسّط) ، فكلاهما من معاني اللفظ، وإن كان الجمع بينهما لا يخرج عن القصد، لأنَّ المتوسط هو الأحسن، فالوسط هو الأحسن في ميزان الإسلام (1) .
الثانية: آية سورة القلم:
1- قال الطبري:
وقوله: {قَالَ أَوْسَطُهُمْ} (القلم: من الآية 28) . يعني أعدلهم. وبنحو الذي قلنا في ذلك قال أهل التأويل.
قال ابن عباس: أوسطهم: أعدلهم، وبمثل ذلك قال مجاهد، وسعيد، والضّحَّاك.
وقال قتادة: أي أعدلهم قولا، وكان أسرع القوم فزعًا، وأحسنهم رجعة (2) .
2- وقال القرطبي:
{قَالَ أَوْسَطُهُمْ} (القلم: من الآية 28) أي: أمثلهم وأعدلهم وأعقلهم (3) .
3- وقال ابن كثير:
{قَالَ أَوْسَطُهُمْ} (القلم: من الآية 28) قال ابن عباس، ومجاهد، وسعيد بن جبير، وعكرمة، ومحمد بن كعب، والربيع بن أنس، والضّحاك، وقتادة: أي أعدلهم وخيرهم (4) .
4- وقال ابن الجوزي:
{قَالَ أَوْسَطُهُمْ} (القلم: من الآية 28) أي أعدلهم وأفضلهم (5) .
5- قال القاسميّ:
أي: أعدلهم وخيرهم رأيًا (6) .
--------------------------------------------
এবং 'আওসাত' (أوسط) শব্দটি 'আহসান' (أحسن - সর্বোত্তম) অথবা 'মুতাওয়াসসিত' (متوسط - মধ্যম) অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে। কেননা উভয়ই শব্দটির অর্থগত অন্তর্ভুক্ত। যদিও এই দুই অর্থকে একত্রিত করা মূল উদ্দেশ্যের বাইরে নয়, কারণ মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারীই হলো সর্বোত্তম। সুতরাং ইসলামের মানদণ্ডে মধ্যমপন্থাই হলো সর্বোত্তম (১)।
দ্বিতীয়ত: সূরা আল-কালামের আয়াত:
১- তাবারী বলেছেন:
এবং তাঁর বাণী: {তাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলল} (সূরা আল-কালাম: ২৮ নং আয়াতের অংশ)। অর্থাৎ তাদের মধ্যকার অধিক ন্যায়পরায়ণ (أعدلهم) ব্যক্তি। আর আমরা যা বলেছি, ব্যাখ্যাবিদগণও অনুরূপ বলেছেন।
ইবনে আব্বাস বলেন: 'আওসাতুহুম' মানে তাদের মধ্যকার অধিক ন্যায়পরায়ণ (أعدلهم) ব্যক্তি। মুজাহিদ, সাঈদ এবং দাহহাকও অনুরূপ বলেছেন।
এবং কাতাদাহ বলেন: অর্থাৎ কথার দিক দিয়ে তাদের মধ্যে অধিক ন্যায়পরায়ণ (أعدلهم)। তিনি ছিলেন কওমের মধ্যে দ্রুততম আল্লাহভীতিসম্পন্ন এবং তওবায় প্রত্যাবর্তনকারী হিসেবে সর্বোত্তম (أحسنهم) (২)।
২- এবং কুরতুবী বলেছেন:
{তাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলল} (সূরা আল-কালাম: ২৮ নং আয়াতের অংশ) অর্থাৎ: তাদের মধ্যে আদর্শ স্থানীয় (أمثلهم), অধিক ন্যায়পরায়ণ (أعدلهم) এবং অধিক বুদ্ধিমান (أعقلهم) ব্যক্তি (৩)।
৩- এবং ইবনে কাসীর বলেছেন:
{তাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলল} (সূরা আল-কালাম: ২৮ নং আয়াতের অংশ) ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, ইকরিমাহ, মুহাম্মদ ইবনে কাব, রাবী ইবনে আনাস, দাহহাক এবং কাতাদাহ বলেছেন: অর্থাৎ তাদের মধ্যে অধিক ন্যায়পরায়ণ (أعدلهم) এবং সর্বোত্তম (خيرهم) ব্যক্তি (৪)।
৪- এবং ইবনুল জাওযী বলেছেন:
{তাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলল} (সূরা আল-কালাম: ২৮ নং আয়াতের অংশ) অর্থাৎ তাদের মধ্যে অধিক ন্যায়পরায়ণ (أعدلهم) এবং শ্রেষ্ঠ (أفضلهم) ব্যক্তি (৫)।
৫- কাসেমী বলেছেন:
অর্থাৎ: তাদের মধ্যে মতামতের দিক দিয়ে অধিক ন্যায়পরায়ণ (أعدلهم) ও উত্তম (خيرهم) ব্যক্তি (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومما سبق يتَّضح لنا أن كلمة (أوسط) في آية المائدة فسِّرت على عدَّة أوجه وبعدَّة معاني، منها: الأفضل، وبين القليل والكثير، وبين الجيّد والرديء، أو الشدَّة والسّعة. أمَّا آية القلم فاتَّفق المفسِّرون (1) على تفسيرها بمعنى الأفضل والخيار وهو الأعدل.
--------------------------------------------
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, সূরা আল-মায়িদাহর আয়াতে 'আওসাত' (أوسط) শব্দটি বিভিন্ন আঙ্গিকে এবং একাধিক অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়েছে; তার মধ্যে রয়েছে: সর্বোত্তম (الأفضل), অল্প ও বেশির মধ্যবর্তী, ভালো ও মন্দের মধ্যবর্তী, অথবা কঠোরতা ও প্রাচুর্যের মধ্যবর্তী। অন্যদিকে সূরা আল-কলমের আয়াতের ক্ষেত্রে মুফাসসিরগণ (১) এর অর্থ সর্বোত্তম (الأفضل) ও উৎকৃষ্ট (الخيار) করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, আর তা হলো সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ (الأعدل)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
رابعًا: كلمة (فوسطن) .
وردت في قوله - تعالى -: {فَوَسَطْنَ بِهِ جَمْعًا} (العاديات:5) وذلك في سورة العاديات، الآية الخامسة.
وقد ذكر المفسِّرون أنَّ معناها من التوسط في المكان، وهذه جملة من أقوالهم:
1- قال الطبري:
يقول - تعالى ذكره -: فوسطن بركبانهن جمع القوم، يقال: وسطت القوم - بالتخفيف -، ووسّطته - بالتّشديد -، وتوسّطته، بمعنى واحد (1) .
2- وقال ابن الجوزي:
قال المفسّرون: المعنى: توسّطن جمعًا من العدوّ.
وقال ابن مسعود: فوسطن به جمعًا، يعني مزدلفة (2) .
3- وقال القرطبي:
{جَمْعًا} (العاديات:5) مفعول بـ "وسطن" أي: فوسطن بركبانهن العدوّ.
يُقال: وسطت القوم أسِطُهم وسْطًا وسطَة أي: صرت وسطهم.
يقال: وسطت القوم - بالتّشديد والتخفيف - وتوسّطتهم، بمعنى واحد.
وقيل: معنى التّشديد: جعلها الجمع قسمين، والتّخفيف: صرن وسط الجمع (3) .
4- وقال القاسمي:
{فَوَسَطْنَ بِهِ جَمْعًا} (العاديات:5) أي: فتوسطن ودخلن في وسط جمع من الأعداء، ففرَّقته وشتَّته.
يقال: وسطت القوم - بالتَّخفيف - ووسّطته - بالتَّشديد وتوسّطته، بمعنى واحد (4) .
5- وقال سيد قطب:
--------------------------------------------
চতুর্থত: ‘ফাওয়াসাতনা’ (فوسطن) শব্দটি।
এটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: {অতঃপর তারা এর মাধ্যমে দলের মধ্যস্থলে ঢুকে পড়ল} (আল-আদিয়াত: ৫), যা সুরা আল-আদিয়াতের পঞ্চম আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
তাফসিরকারগণ উল্লেখ করেছেন যে, এর অর্থ হলো কোনো স্থানের মধ্যস্থলে উপনীত হওয়া। নিচে তাদের কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হলো:
১- ইমাম তাবারী বলেন:
মহান আল্লাহ—তাঁর আলোচনা সুউচ্চ হোক—বলছেন: অতঃপর তারা তাদের আরোহীদের নিয়ে শত্রুদলের মাঝখানে ঢুকে পড়ল। বলা হয়ে থাকে: ‘আমি লোকজনের মাঝে প্রবেশ করলাম’—সহজ উচ্চারণে, দ্বিত্ব উচ্চারণে এবং ‘আমি মধ্যস্থলে উপনীত হলাম’—সবগুলোর অর্থ একই (১)।
২- ইবনুল জাওযী বলেন:
তাফসিরকারগণ বলেছেন: এর অর্থ হলো তারা শত্রুদলের মাঝখানে ঢুকে পড়ল।
ইবনে মাসউদ বলেন: ‘অতঃপর তারা এর মাধ্যমে দলের মধ্যস্থলে ঢুকে পড়ল’ অর্থাৎ মুযদালিফা (২)।
৩- ইমাম কুরতুবী বলেন:
{দলের মাঝখানে} (আল-আদিয়াত: ৫) শব্দটি ‘মাঝখানে প্রবেশ করা’ ক্রিয়ার কর্ম। অর্থাৎ অতঃপর তারা আরোহীদের নিয়ে শত্রুদলের মাঝখানে ঢুকে পড়ল।
বলা হয়: ‘আমি লোকজনের মাঝে প্রবেশ করলাম, আমি তাদের মাঝখানে অবস্থান করি, আমার অবস্থান করা’ অর্থাৎ আমি তাদের মাঝখানে হয়ে গেলাম।
বলা হয়: ‘আমি লোকজনের মাঝে প্রবেশ করলাম’—দ্বিত্ব ও সহজ উচ্চারণে এবং ‘আমি মধ্যস্থলে অবস্থান করলাম’, সবগুলোর অর্থ একই।
কেউ কেউ বলেন: দ্বিত্ব উচ্চারণের অর্থ হলো সেই দলটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দেওয়া, আর সহজ উচ্চারণের অর্থ হলো সেই দলের মাঝখানে অবস্থান করা (৩)।
৪- আল-কাসেমী বলেন:
{অতঃপর তারা এর মাধ্যমে দলের মধ্যস্থলে ঢুকে পড়ল} (আল-আদিয়াত: ৫) অর্থাৎ তারা শত্রুদলের মাঝখানে উপনীত হলো এবং ভেতরে প্রবেশ করল, ফলে তাদের ছত্রভঙ্গ ও বিচ্ছিন্ন করে দিল।
বলা হয়: ‘আমি লোকজনের মাঝে প্রবেশ করলাম’—সহজ উচ্চারণে, দ্বিত্ব উচ্চারণে এবং ‘আমি মাঝখানে অবস্থান করলাম’, সবগুলোর অর্থ একই (৪)।
৫- সাইয়্যেদ কুতুব বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসাতিয়্যাহ ফী দ্বাউইল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وهي تتوسّط صفوف الأعداء على غرَّة، فتوقع بينهم الفوضى والاضطراب (1) .
ومن خلال ما سبق يتَّضح أن معناها التوسّط والوسط.
أحاديث نبوية في (الوسط)
السنة شارحة للقرآن، ومبيّنة له، وقد وردت بعض الأحاديث التي فيها الدّلالة على معاني (الوسط) .
--------------------------------------------
আর এটি অতর্কিতে শত্রুবাহিনীর মধ্যস্থলে ঢুকে পড়ে, ফলে তাদের মাঝে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয় (১) ।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি স্পষ্ট হয় যে, এর অর্থ হলো মধ্যবর্তিতা (التوسط) এবং মধ্যমপন্থা (الوسط)।
‘মধ্যমপন্থা’ (الوسط) সংক্রান্ত নববী হাদিসসমূহ
সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যাদানকারী ও বিশদ বর্ণনাকারী, আর এমন কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে যাতে ‘মধ্যমপন্থা’ (الوسط)-এর অর্থাবলির ওপর নির্দেশনা (الدلالة) রয়েছে।
--------------------------------------------