(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
النشر الإلكتروني لترجمات معاني القرآن الكريم في خدمة الدعوة   (فهد بن محمد المالك)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: النشر الإلكتروني لترجمات معاني القرآن الكريم في خدمة الدعوة

المؤلف: الدكتور فهد بن محمد المالك

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 24

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দাওয়াহর সেবায় কুরআনুল কারিমের মর্মার্থের অনুবাদসমূহের ইলেকট্রনিক প্রকাশনা   (ফাহাদ বিন মুহাম্মদ আল-মালিক)

বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞান (علوم القرآن) এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)


গ্রন্থ: দাওয়াহর সেবায় কুরআনুল কারিমের মর্মার্থের অনুবাদসমূহের ইলেকট্রনিক প্রকাশনা

লেখক: ড. ফাহাদ বিন মুহাম্মদ আল-মালিক

প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

মুদ্রিত গ্রন্থের (পৃষ্ঠা সংখ্যা) : ২৪

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

শামেলায় প্রকাশনার তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১)
النشر الإلكتروني لترجمات معاني القرآن الكريم

في خدمة الدعوة

الدكتور فهد بن محمد المالك

‌‌مقدمة:

الحمد لله القائل في محكم التنزيل: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} (الفرقان:1) والقائل أيضًا: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (الحجر:9) ، والصلاة والسلام على النبي الأمي، الهادي البشير والسراج المنير، القائل: «تركت فيكم ما إن تمسكتم به لن تضلوا بعدي: كتاب الله وسنتي»
পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের অনুবাদের ইলেকট্রনিক প্রকাশনা

দাওয়াতের সেবায়

ড. ফাহাদ বিন মুহাম্মদ আল-মালিক

‌‌ভূমিকা:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সুদৃঢ় অবতীর্ণ বাণীতে (محكم التنزيل) বলেছেন: {পরম কল্যাণময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন} (আল-ফুরকান: ১) এবং তিনি আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশ (الذكر) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} (আল-হিজর: ৯)। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক উম্মী নবীর ওপর, যিনি সঠিক পথের দিশারী, সুসংবাদদাতা ও উজ্জ্বল প্রদীপ স্বরূপ; যিনি বলেছেন: «আমি তোমাদের মাঝে এমন বিষয় রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা আমার পরে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ (سنة)»
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২)
أما بعد: فكم كانت غبطتي وسروري عندما علمت بأن مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف يعتزم عقد ندوة تعالج أبحاثها قضية هامة وإنها تفوق العديد من القضايا المعاصرة، وذلك بحكم تخصصي الدقيق في هذا المجال، ولمعرفتي بالحاجة الماسة في العالم الإسلامي أجمع لعقد ندوات عدة حول هذه القضية الهامة، ألا وهي "ترجمة معاني القرآن الكريم"، فلقد ركزت العديد من المراكز الاستشراقية ومراكز الدراسات الشرق أوسطية في العديد من الجامعات الغربية دراساتها وبعض بحوثها حول ترجمة معاني القرآن الكريم، وذلك بقصد خدمة الأهداف التي يسعون إليها، أما العالم الإسلامي فهو غافل كل الغفلة عن هذه القضية، وكأنها من القضايا الجانبية التي لا تستحق بذل الجهود والدراسات حولها، وبنظرة سريعة إلى أعمال الترجمة للقرآن الكريم والكتابات حول هذا الموضوع نجد أن الغالبية العظمى قام بها أناس بعيدون كل البعد عن الفهم الإسلامي والدافع الديني الإسلامي.

ولعل هذه الندوة تكون - بإذن الله تعالى - باكورة لندوات ومؤتمرات مستقبلية تولي هذا الموضوع وهذه القضية الحساسة جزءًا من اهتماماتها، ولا سيما أنها تتعلق بكتاب الله عز وجل.
অতঃপর: আমার আনন্দ ও প্রফুল্লতার সীমা ছিল না যখন আমি জানতে পারলাম যে, বাদশাহ ফাহদ পবিত্র কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স এমন একটি সেমিনার আয়োজনের সংকল্প করেছে যার গবেষণাপত্রগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে এবং এটি সমসাময়িক অনেক বিষয়ের তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে আমার সূক্ষ্ম বিশেষায়ন থাকার কারণে এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে একাধিক সেমিনার আয়োজনের তীব্র প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমার জ্ঞান থাকায় আমি এটি অনুভব করেছি; আর বিষয়টি হলো "আল-কুরআনুল কারীমের অর্থানুবাদ"। পশ্চিমা বিশ্বের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যবিদ কেন্দ্র এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রগুলো তাদের অধ্যয়ন এবং গবেষণার একটি বড় অংশ আল-কুরআনুল কারীমের অর্থানুবাদের ওপর নিবদ্ধ করেছে, যা মূলত তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু মুসলিম বিশ্ব এই বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন রয়ে গেছে, যেন এটি কোনো পার্শ্বীয় বিষয় যা নিয়ে প্রচেষ্টা চালানো বা গবেষণা করার কোনো আবশ্যকতা নেই। আল-কুরআনুল কারীমের অনুবাদকর্ম এবং এ সংক্রান্ত লেখালেখির ওপর দ্রুত দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, এর সিংহভাগই এমন ব্যক্তিদের দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে যারা ইসলামি বোধ এবং ইসলামি ধর্মীয় চেতনা থেকে অনেক দূরে।

সম্ভবত এই সেমিনারটি—আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায়—ভবিষ্যতের এমন অনেক সেমিনার ও সম্মেলনের শুভ সূচনা হবে যা এই বিষয় এবং এই সংবেদনশীল সমস্যার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করবে, বিশেষ করে যেহেতু এটি মহান আল্লাহর কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩)
وحيث إنني رشحت من قبل اللجنة المنظمة للكتابة عن المحور الخامس في هذه الندوة، وهو " المحور الدعوي" وتحديدًا في موضوع بعنوان: ترجمة معاني القرآن الكريم عبر التاريخ

" النشر الإلكتروني لترجمات معاني القرآن الكريم في خدمة الدعوة"

ونظرًا لأهمية هذا الموضوع وحساسيته وبخاصة أننا نعيش في عصر الانفجار المعلوماتي والمعرفي والعلمي، لذا فإنني أسأل الله سبحانه وتعالى أن أوفق في المساهمة بهذا البحث البسيط في تقديم خدمة يسيرة لكتاب الله سبحانه وتعالى، وإيضاح أهمية النشر الإلكتروني لترجمات معاني القرآن الكريم في خدمة الدعوة ونشر الإسلام في أرجاء المعمورة.

وأختم مقدمتي هذه بدعاء الله سبحانه وتعالى أن يوفق القائمين على هذا الصرح الشامخ " مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف" وأن يأخذ بأيديهم لكل ما فيه خير للإسلام والمسلمين، وأن يبارك في جهودهم في خدمة كتابه الحكيم.
যেহেতু আমি এই সেমিনারের পঞ্চম মূলধারা তথা "দাওয়াতি ধারা" সম্পর্কে লেখার জন্য আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে মনোনীত হয়েছি, যার সুনির্দিষ্ট শিরোনাম হলো: ইতিহাসের পরিক্রমায় পবিত্র কুরআনের অর্থানুবাদ

"দাওয়াতি খিদমতে পবিত্র কুরআনের অর্থানুবাদের ইলেকট্রনিক প্রকাশনা"

এই বিষয়ের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে এবং বিশেষ করে আমরা যেহেতু বর্তমানে তথ্য, জ্ঞান ও বিজ্ঞানের অভাবনীয় প্রসারের যুগে বাস করছি, সেহেতু আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট তাওফিক কামনা করছি যেন আমি এই সংক্ষিপ্ত গবেষণাপত্রের মাধ্যমে আল্লাহর কিতাবের সামান্য খিদমত করার সুযোগ পাই এবং দাওয়াতি কাজে ও বিশ্বজুড়ে ইসলাম প্রসারে পবিত্র কুরআনের অর্থানুবাদের ইলেকট্রনিক প্রকাশনার গুরুত্ব ফুটিয়ে তুলতে পারি।

আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট এই সুউচ্চ ও মহতী প্রতিষ্ঠান "বাদশাহ ফাহাদ পবিত্র কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স"-এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সফলতা কামনা করে আমার এই ভূমিকার ইতি টানছি। আল্লাহ তাআলা যেন ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কল্যাণকর সকল কাজে তাঁদের সহায় হন এবং তাঁর মহিমাময় কিতাবের খিদমতে তাঁদের প্রচেষ্টাকে বরকতময় করেন।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪)
1:1‌‌ ترجمة معاني القرآن الكريم عبر التاريخ

منذ عدة قرون كانت قضية ترجمة معاني القرآن الكريم من اللغة العربية إلى اللغات الأخرى واحدة من أهم القضايا التي طغت على الساحة الإسلامية، وانقسم الناس في ذلك إلى قسمين لا ثالث لهما، قسم يبيح الترجمة ويرى ضرورتها وأهميتها في خدمة الدعوة إلى دين الله الخالد، ولا سيما مع دخول أمم كثيرة من غير العرب في الدين الإسلامي وانتشار الإسلام في شتى بقاع المعمورة، وقسم آخر يرى عدم جواز الترجمة البتة، وأن كل من أراد فهم معاني القرآن الكريم عليه أن يتعلم اللغة العربية ويتقنها.

ولكن مع مرور الزمن وتوسع رقعة العالم الإسلامي، لم يعد الإقدام على مثل هذا العمل بدعًا من القول، ولم تعد الآراء المخالفة للرأي الأول مجدية؛ لأن الواقع قد فرض نفسه، وأصبح أمر الجواز محسومًا لا جدال فيه البتة.

من هنا - فلا غرو - إن قلنا: إن معظم لغات العالم المهمة اليوم -ولله الحمد والمنة- قد ترجمت إليها معاني القرآن الكريم، بل أصبحت المكتبات تعج وتموج بالعديد من الترجمات المختلفة التي قام بها أشخاص لهم ميول وتوجهات مختلفة بحسب أهوائهم واجتهاداتهم.
1:1‌‌ইতিহাসের পরিক্রমায় পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের অনুবাদ

কয়েক শতাব্দী আগে থেকে আরবি ভাষা থেকে অন্য ভাষায় পবিত্র কুরআনের মর্মার্থ অনুবাদের বিষয়টি ছিল ইসলামিক অঙ্গনে প্রাধান্য বিস্তারকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এ ক্ষেত্রে মানুষ দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল যার তৃতীয় কোনো পথ ছিল না; এক পক্ষ অনুবাদকে বৈধ (مباح) মনে করত এবং আল্লাহর চিরন্তন দ্বীনের দাওয়াতের খেদমতে এর প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অনুধাবন করত, বিশেষ করে যখন অনারব বহু জাতি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছিল এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ছিল। অন্য পক্ষটি অনুবাদ করাকে একেবারেই অবৈধ (غير جائز) মনে করত এবং তাদের অভিমত ছিল যে, যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআনের অর্থ বুঝতে চায়, তাকে অবশ্যই আরবি ভাষা শিখতে হবে এবং তাতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করতে হবে।

কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এবং মুসলিম বিশ্বের পরিধি বিস্তারের সাথে সাথে এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা আর নজিরবিহীন বা অভিনব (بدع) কোনো বিষয় হিসেবে গণ্য হয়নি, এবং প্রথম মতের বিরোধী মতামতগুলোও আর ফলপ্রসূ থাকেনি; কারণ বাস্তব পরিস্থিতিই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং বৈধতার (جواز) বিষয়টি কোনো বিতর্ক ছাড়াই মীমাংসিত হয়ে গেছে।

এখান থেকেই—আর এতে কোনো বিস্ময় নেই—যদি আমরা বলি যে: আজ বিশ্বের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ভাষায়—সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহর—পবিত্র কুরআনের মর্মার্থ অনূদিত হয়েছে। বরং লাইব্রেরিগুলো এখন এমন অনেক অনুবাদে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যা বিভিন্ন ঝোঁক ও ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ তাদের প্রবৃত্তি এবং নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهادات) অনুযায়ী সম্পাদন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫)
من كل ما سبق نرى أن مجال ترجمة معاني القرآن الكريم إلى اللغات الأخرى أصبح الآن من أهم مجالات الدعوة إلى الله سبحانه وتعالى، ومن أخصب طرق نشر الإسلام إلى أرجاء المعمورة كافة، وأكاد أجزم بلا أدنى تردد أن الإقدام على العمل في مثل هذا المجال من أفضل السبل ومن أعظم الخدمات التي يمكن أن يقدمها المرء خدمة لكتاب الله سبحانه وتعالى متى ما تحلى ذلك بالدقة والأمانة وإخلاص النية لله سبحانه وتعالى (1) .

وما النشر الإلكتروني لهذه الترجمات إلا باب من أبواب الدعوة إلى الله سبحانه وتعالى، ومجال خصب لنشر الدين الإسلامي في أرجاء المعمورة، وذلك للأسباب والمزايا التي سأوضحها في هذا البحث، وما هذه الدراسة المعنونة: " النشر الإلكتروني لترجمات معاني القرآن الكريم في خدمة الدعوة " إلا محاولة لتسليط الضوء على أهمية هذا الموضوع، وقد قسمت هذه الدراسة إلى ثلاثة مباحث، إضافة إلى هذه المقدمة، وسأتناول في هذه المباحث الموضوعات التالية:

المبحث الأول: ماذا نقصد بالنشر الإلكتروني؟ وما مزاياه وخصائصه؟

--------------------------------------------

(1) لمزيد من الإيضاح حول موضوع جواز الترجمة من عدمها، يمكن الرجوع إلى مقال د / فهد المالك، «نظرات في قضية ترجمة معاني القرآن الكريم» مجلة البيان الأعداد 94، 95، 96، 97.
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা দেখতে পাই যে, পবিত্র কুরআনের অর্থসমূহ অন্যান্য ভাষায় অনুবাদের ক্ষেত্রটি বর্তমানে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দিকে দাওয়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং এটি বিশ্বের সকল প্রান্তে ইসলাম প্রচারের অন্যতম উর্বর মাধ্যম। আমি কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যে, এই ধরণের ক্ষেত্রে কাজ করতে এগিয়ে আসা অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথ এবং মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কিতাবের খিদমতে কোনো ব্যক্তি যা পেশ করতে পারে তার মধ্যে অন্যতম মহান সেবা—যদি তা নির্ভুলতা, বিশ্বস্ততা এবং মহান আল্লাহর প্রতি নিয়তের বিশুদ্ধতার সাথে সম্পাদিত হয় (১)।

এই অনুবাদসমূহের ইলেকট্রনিক প্রকাশনা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পথে দাওয়াতের একটি দ্বার এবং পৃথিবীর সর্বত্র দীন ইসলাম প্রচারের এক উর্বর ক্ষেত্র মাত্র; যা আমি এই গবেষণায় উল্লিখিত কারণ ও সুবিধাসমূহের মাধ্যমে স্পষ্ট করব। "দাওয়াতের খিদমতে পবিত্র কুরআনের অর্থসমূহের অনুবাদের ইলেকট্রনিক প্রকাশনা" শীর্ষক এই গবেষণাটি মূলত এই বিষয়ের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করার একটি প্রয়াস। আমি এই গবেষণাকে এই ভূমিকা ছাড়াও তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি এবং এই পরিচ্ছেদগুলোতে আমি নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করব:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইলেকট্রনিক প্রকাশনা বলতে আমরা কী বুঝি? এর সুবিধাসমূহ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ কী কী?

--------------------------------------------

(১) অনুবাদ বৈধ হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে জানার জন্য ড. ফাহাদ আল-মালিকের নিবন্ধ 'নাজারাত ফি কাজিয়্যাতি তারজামাত মাআনি আল-কুরআন আল-কারিম' দেখা যেতে পারে; যা আল-বায়ান ম্যাগাজিনের ৯৪, ৯৫, ৯৬ ও ৯৭ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬)
المبحث الثاني: طرق استخدام النشر الإلكتروني لترجمات معاني القرآن الكريم في سبيل خدمة الدعوة إلى الله سبحانه وتعالى، وفوائد ذلك.

المبحث الثالث: الخلاصة والاستنتاجات والتوصيات المستفادة من هذه الدراسة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পথে দাওয়াতের খিদমতে পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের অনুবাদের ইলেকট্রনিক প্রকাশনা ব্যবহারের পদ্ধতিসমূহ এবং এর উপকারিতা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই গবেষণা থেকে লব্ধ সারসংক্ষেপ, সিদ্ধান্তসমূহ এবং সুপারিশমালা।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭)
1:1:2‌‌ الشبكة العنكبوتية العالمية (World Wide Web)

تعد هذه الشبكة من أبرع التقنيات التي تم ابتكارها - حتى الآن - في مجال خدمات الإنترنت، إذ يستطيع مستخدمو هذه التقنية الحصول على معلومات مكتوبة أو مسموعة أو مرئية عبر صفحات إلكترونية تمثل كتيبًا إلكترونيا يتصفحه المستخدم من خلال جهازه الشخصي بمجرد نقل المؤشر إلى النص المكتوب الذي قد يكون متصلا بصوت أو صورة، حيث تقوم فكرة الشبكة العنكبوتية على أسلوب تقني يطلق عليه النص المحوري المرجعي (Hypertext) الذي يقوم بتنظيم العديد من المعلومات والبيانات المتاحة في موضوعات متعددة ومتشعبة ومشتتة (1) .

--------------------------------------------

(1) ندوة مستقبل النشر الإلكتروني العلمي، المجلة العربية للعلوم الإنسانية، عدد 56 عام 1996م.
1:1:2‌‌ বিশ্বব্যাপী জাল (World Wide Web)

ইন্টারনেট সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে এই নেটওয়ার্কটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তি হিসেবে গণ্য হয়। কেননা, এই প্রযুক্তির ব্যবহারকারীরা ইলেকট্রনিক পৃষ্ঠাগুলোর মাধ্যমে লিখিত, শ্রাব্য বা দৃশ্যমান তথ্য আহরণ করতে পারেন, যা একটি ইলেকট্রনিক পুস্তিকার ন্যায়; ব্যবহারকারী তার ব্যক্তিগত যন্ত্রের মাধ্যমে কেবল কার্সারটিকে লিখিত পাঠ্যের ওপর স্থানান্তর করে এটি ব্রাউজ করতে পারেন, যা কোনো শব্দ বা চিত্রের সাথে সংযুক্ত থাকতে পারে। এই বিশ্বব্যাপী জালের (World Wide Web) মূল ধারণাটি 'হাইপারটেক্সট' (Hypertext) নামক একটি প্রযুক্তিগত পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা বিভিন্ন বহুমুখী, বিস্তৃত ও বিক্ষিপ্ত বিষয়ে লভ্য প্রচুর তথ্য ও উপাত্তকে সুবিন্যস্ত করে (১)।

--------------------------------------------

(১) বৈজ্ঞানিক ইলেকট্রনিক প্রকাশনার ভবিষ্যৎ বিষয়ক সেমিনার, আল-মাজাল্লাত আল-আরাবিয়্যাহ লিল-উলূম আল-ইনসানিয়্যাহ, সংখ্যা ৫৬, ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৮)
2:1:2‌‌ النشر الإلكتروني Electronic Publishing

عند حاجتنا لتعريف النشر الإلكتروني يتوجب علينا قبل ذلك التعريج على النشر المكتبي (Desk Top Publishing - DTP) والذي يعرّفه أيمن السامرائي وعامر قنديلجي بتعاريف منها:

أنه استخدام الحواسيب المايكروية في الطباعة.

هو نظام إنتاج طباعي قليل الكلفة، له القدرة على تركيب وتشكيل وتجميع كل من النص المكتوب والمخطوطات والأشكال المرسومة على شاشة عالية الجودة (Highly Resoluted) مع برمجيات خاصة لهذا الغرض وضعت وصممت لجعل الطباعة عملية يمكن إتقانها والقيام بها من قبل أي شخص بعد تدريب بسيط.

3- النشر المكتبي هو عبارة عن برمجيات خاصة مع حواسيب مايكروية وطابعات ليزرية غير مكلفة تنتج صفحات منظمة ومعدة بصورة جذابة يمكن من خلالها الحصول على خطوط بأنواع وأشكال مختلفة ومتنوعة وتنفيذها (1) .

أما شوقي سالم فيستعرض لنا النشر المكتبي من خلال جملة تعاريف منها:

--------------------------------------------

(1) أيمن السامرائي وعامر قنديلجي «النشر المكتبي الإلكتروني» رسالة المكتبة، م30، ع 3 (أيلول 1995م) ص 38.
2:1:2‌‌ ইলেকট্রনিক প্রকাশনা Electronic Publishing

ইলেকট্রনিক প্রকাশনাকে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজনে আমাদের প্রথমে ডেস্কটপ পাবলিশিং (Desk Top Publishing - DTP) এর ওপর আলোকপাত করা আবশ্যক, যাকে আয়মান আল-সামাররাই এবং আমির কান্দিলজি বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

এটি হলো মুদ্রণকার্যে মাইক্রোকম্পিউটারের ব্যবহার।

এটি একটি স্বল্পব্যয়ী মুদ্রণ উৎপাদন ব্যবস্থা, যা উচ্চ মানের রেজোলিউশনসম্পন্ন (Highly Resoluted) স্ক্রিনে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে লিখিত পাঠ্য, পাণ্ডুলিপি এবং অঙ্কিত নকশাগুলোর বিন্যাস, গঠন ও সমাবেশের সক্ষমতা রাখে। এই সফটওয়্যারগুলো এই উদ্দেশ্যেই তৈরি ও ডিজাইন করা হয়েছে যাতে সামান্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি মুদ্রণকার্যটি আয়ত্ত করতে ও সম্পন্ন করতে পারে।

৩- ডেস্কটপ পাবলিশিং হলো মাইক্রোকম্পিউটার এবং সাশ্রয়ী লেজার প্রিন্টারের সাথে বিশেষ কিছু সফটওয়্যারের সমন্বয়, যা আকর্ষণীয়ভাবে বিন্যাসিত ও প্রস্তুতকৃত পৃষ্ঠা তৈরি করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার ও আকৃতির লিপি বা ফন্ট তৈরি ও প্রয়োগ করা সম্ভব (১)।

অন্যদিকে শওকি সালেম আমাদের সামনে ডেস্কটপ পাবলিশিং-এর বেশ কিছু সংজ্ঞা উপস্থাপন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) আয়মান আল-সামাররাই এবং আমির কান্দিলজি, «ইলেকট্রনিক ডেস্কটপ পাবলিশিং», রিসালাতুল মাকতাবা, খণ্ড ৩০, সংখ্যা ৩ (সেপ্টেম্বর ১৯৯৫), পৃষ্ঠা ৩৮।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৯)
هو تطبيق ناشئ للحواسيب المايكروية لتصميم وطباعة وثائق عالية الجودة بشكل كامل في المكتب ذاته دون إرسال أي معلومات أو أعمال طباعية إلى الخارج، أو عند الانتهاء من إعداد الصورة الأصلية للوثائق فيمكن عندئذ إرسالها إلى شركة طباعية لإنتاج كميات منها.

هو أحد تطورات نظم أجهزة معالجة النصوص التي تحولت من شكل آلي لتنفيذ الحروف إلى شكل إخراجي متميز بأحجام مختلفة من حروف الطبع مع مُسْتَوَى إِخْرَاجٍ قَدْ يَصْعُبُ حُتَّى عَلَى الْمُحْتَرِفِ الْقِيَامُ بِهِ بِمُسْتَوى الْحَاسِبِ نَفْسِهِ (1) .

ومن هنا يمكننا تعريف النشر الإلكتروني (EP) بأنه:

استخدام أجهزة وأنظمة تعمل بالكمبيوتر في الابتكار والإبداع والصف وإعداد الصفحات وإنتاج صفحات نموذجية وإخراجها كاملة ومنتهية.

وتتيح تقنيات النشر الإلكتروني الحديثة إمكان العرض السابق للصفحات، وتحريرها، وإعداد صفحات نهائية بأسلوب تفاعلي وهي لا تزال في صورة إلكترونية، وهو ما يعرف اصطلاحًا باسم "ما تراه تحصل عليه" (What you see is what you get) .

--------------------------------------------

(1) شوقي سالم، صناعة المعلومات: دراسة لمظاهر تقنية المعلومات المتطورة وآثارها على المنطقة العربية، الكويت، شركة المكتبات الكويتية، 1990م ص 227 -229.
এটি মাইক্রো-কম্পিউটারের একটি উদীয়মান অ্যাপ্লিকেশন যা নিজস্ব কার্যালয়েই কোনো তথ্য বা মুদ্রণকাজ বাইরে না পাঠিয়ে উচ্চ মানের নথিপত্র সম্পূর্ণভাবে নকশা ও মুদ্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়; অথবা নথির মূল চিত্র তৈরির কাজ সম্পন্ন হলে অধিক পরিমাণে উৎপাদনের জন্য তা কোনো মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে পাঠানো যেতে পারে।

এটি শব্দ প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রের ব্যবস্থার একটি উন্নয়ন, যা অক্ষর বিন্যাসের যান্ত্রিক রূপ থেকে বিভিন্ন আকারের মুদ্রণ অক্ষরের মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র আউটপুট প্রদানকারী রূপে পরিবর্তিত হয়েছে। এর আউটপুটের মান এতটাই উন্নত যে, কম্পিউটারের নিজস্ব সক্ষমতার স্তরে তা সম্পাদন করা একজন পেশাদারের পক্ষেও কঠিন হতে পারে (১)।

এখান থেকেই আমরা ইলেকট্রনিক পাবলিশিং বা বৈদ্যুতিন প্রকাশনাকে (EP) এভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি:

উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা, টাইপসেটিং, পৃষ্ঠা বিন্যাস এবং আদর্শ পৃষ্ঠা তৈরি ও তা পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্তরূপে উৎপাদনের ক্ষেত্রে কম্পিউটার-চালিত যন্ত্র ও ব্যবস্থার ব্যবহার।

আধুনিক ইলেকট্রনিক পাবলিশিং প্রযুক্তি পৃষ্ঠাগুলোর প্রাক-প্রদর্শন, সেগুলো সম্পাদনা করা এবং ইলেকট্রনিক বিন্যাসে থাকা অবস্থাতেই ইন্টারঅ্যাক্টিভ পদ্ধতিতে চূড়ান্ত পৃষ্ঠা প্রস্তুতির সুযোগ প্রদান করে। পরিভাষায় (اصطلاحاً) এটি "আপনি যা দেখছেন, তাই পাবেন" (What you see is what you get) নামে পরিচিত।

--------------------------------------------

(১) শাওকি সালেম, তথ্য শিল্প: উন্নত তথ্য প্রযুক্তির স্বরূপ এবং আরব অঞ্চলে এর প্রভাব সম্পর্কিত একটি অধ্যয়ন, কুয়েত, কুয়েত লাইব্রেরি কোম্পানি, ১৯৯০ খ্রি., পৃ. ২২৭-২২৯।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وتعد تقنيات النشر الإلكتروني (EP) تطويرًا لتقنيات النشر المكتبي (Desk Top Publishing) حيث أصبحت تشمل أنظمة النصوص المتلفزة مثل التيليتيكس (Teletext) الذي يمثل منظومة إلكترونية يتم بواسطتها نقل المادة المطبوعة عن طريق محطة تليفزيونية.

ويشير حسن أبو خضرة إلى أنه " تعود بداية النشر الإلكتروني إلى نهاية الستينات عندما بدأت بعض كبريات شركات النشر باستخدام الحاسوب في التنضيد الضوئي، وأظهر هذا الجيل الثانوي من الشريط الممغنط الذي أدى إلى إيجاد الدفعات والخدمات الآلية، وفي أواخر السبعينات قدمت أجهزة الحاسوب والاتصالات عن بعد فرصًا جديدة للنشر، أولها وأهمها أنها فتحت إمكان النشر الإلكتروني بناءً على الطلب (on demand) كما أصبح عمليًا تخزين نسخة من عمل بدلا من الاستماع إليه أو مشاهدته وكانت تلك البداية الحقيقية للنشر بناءً على الطلب". (1) وتشير جميع الدلائل إلى أن وسائل النشر الإلكتروني ستسحق الطباعة التقليدية معلنة سقوط "حضارة الورق" التي سادت المجتمع الإنساني منذ اختراع الورق عام 1440م (2) .

--------------------------------------------

(1) حسن أبو خضرة - النشر الإلكتروني - رسالة المكتبة 23 (3) أيلول 1988م ص 24.

(2) نبيل علي «اللغة العربية والحاسوب» عالم الفكر - مج 18 - ع 3 أكتوبر 1987م ص 62.
ইলেকট্রনিক প্রকাশনা (EP) প্রযুক্তি মূলত ডেস্কটপ পাবলিশিং (Desk Top Publishing)-এর একটি বিবর্তন হিসেবে বিবেচিত, যা বর্তমানে টেলিটেক্সট (Teletext)-এর মতো টেলিভিশন-ভিত্তিক পাঠ্য পদ্ধতিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি এমন একটি ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা যার মাধ্যমে একটি টেলিভিশন স্টেশনের সাহায্যে মুদ্রিত বিষয়বস্তু স্থানান্তর করা হয়।

হাসান আবু খাদরা উল্লেখ করেছেন যে, "বৈদ্যুতিন বা ইলেকট্রনিক প্রকাশনার সূচনা ঘটে ষাটের দশকের শেষের দিকে, যখন কিছু বড় প্রকাশনা সংস্থা আলোকচিত্র বিন্যাসে (photocomposition) কম্পিউটারের ব্যবহার শুরু করে। এই দ্বিতীয় প্রজন্মের ম্যাগনেটিক টেপ স্বয়ংক্রিয় সেবা ও সরবরাহ ব্যবস্থার পথ প্রশস্ত করে। সত্তরের দশকের শেষের দিকে কম্পিউটার এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করে দেয়। এর মধ্যে প্রথম এবং প্রধান বিষয়টি হলো, এটি চাহিদানুযায়ী ইলেকট্রনিক প্রকাশনার (on demand) সম্ভাবনা উন্মোচন করে। এছাড়া কোনো বিষয় শোনার বা দেখার পরিবর্তে তার একটি অনুলিপি সংরক্ষণ করা ব্যবহারিক দিক থেকে সম্ভবপর হয়ে ওঠে, যা ছিল চাহিদানুযায়ী প্রকাশনার প্রকৃত সূচনা।" (১) সকল লক্ষণ নির্দেশ করছে যে, ইলেকট্রনিক প্রকাশনা মাধ্যমগুলো প্রথাগত মুদ্রণ ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করে দেবে এবং ১৪৪০ খ্রিস্টাব্দে কাগজ আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে মানব সমাজে রাজত্ব করা "কাগজের সভ্যতা"র পতনের বার্তা দেবে (২)।

--------------------------------------------

(১) হাসান আবু খাদরা - ইলেকট্রনিক প্রকাশনা - রিসালাতুল মাকতাবা ২৩ (৩) সেপ্টেম্বর ১৯৮৮ খ্রি. পৃষ্ঠা ২৪।

(২) নাবিল আলী «আরবি ভাষা ও কম্পিউটার» আলমুল ফিকর - খণ্ড ১৮ - সংখ্যা ৩ অক্টোবর ১৯৮৭ খ্রি. পৃষ্ঠা ৬২।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وقد دخلت الإلكترونيات عالم النشر باستخدام معالج الكلمات (Word processor) (1) ، وأدى التطور السريع في مجال النشر الإلكتروني إلى ظهور أنواع جديدة من تقنية وسائل الإعلام، وإلى التأثير كذلك في تقنية الصحافة المطبوعة.

--------------------------------------------

(1) عبد الرزاق يونس - تقنية المعلومات وأثرها على التعاون العربي والدولي في مجال المعلومات (ورقة عمل مقدمة في اجتماع مسؤولي وخبراء المعلومات في الدول العربية) 5 / 12 / 88 - عمان المنظمة العربية للعلوم - ص 12.
ইলেকট্রনিক্স শব্দ প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্র (Word processor) (১) ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকাশনা জগতে প্রবেশ করেছে এবং ইলেকট্রনিক প্রকাশনা ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নয়ন গণমাধ্যম প্রযুক্তির নতুন সব ধারার উদ্ভব ঘটিয়েছে, সেই সাথে এটি মুদ্রিত সাংবাদিকতা প্রযুক্তির ওপরও প্রভাব বিস্তার করেছে।

--------------------------------------------

(১) আব্দুর রাজ্জাক ইউনুস - তথ্য প্রযুক্তি এবং তথ্য ক্ষেত্রে আরব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর এর প্রভাব (আরব দেশসমূহের তথ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সভায় উপস্থাপিত একটি কর্মপত্র) ৫ / ১২ / ৮৮ - আম্মান, আরব বিজ্ঞান সংস্থা - পৃষ্ঠা ১২।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১২)
2:2‌‌ أشكال النشر الإلكتروني

إذا كان أساس تقنية النشر الإلكتروني متنوعًا، فكذلك المنتجات التي نتجت عن استخدامها، لذلك فإن النشر الإلكتروني يأخذ صورًا منها:

بث خدمات غير تفاعلية (non-interactive) مثل التيليتكست.

خدمات تفاعلية (Interactive services) مثل الفيديوتكست، والبحث المباشر.

منتجات منفصلة مثل أسطوانات الفيديو، أشرطة الفيديو، البرمجيات.

غير ذلك مثل الصحف الإلكترونية، المنتجات المهجنة (1) .

--------------------------------------------

(1) Gurnsey، John - The Information Professions in the Electronic Age، London، Clive Bingley، 1985، P 3
2:2‌‌ ইলেকট্রনিক প্রকাশনার ধরনসমূহ

যদি ইলেকট্রনিক প্রকাশনা প্রযুক্তির ভিত্তি বৈচিত্র্যময় হয়, তবে এর ব্যবহারের ফলে উৎপাদিত সামগ্রীসমূহও অনুরূপ বৈচিত্র্যমণ্ডিত হয়; তাই ইলেকট্রনিক প্রকাশনা বেশ কিছু রূপ পরিগ্রহ করে, যার মধ্যে রয়েছে:

অ-ইন্টারেক্টিভ (non-interactive) সেবাসমূহ সম্প্রচার, যেমন: টেলিটেক্সট।

ইন্টারেক্টিভ (Interactive services) সেবাসমূহ, যেমন: ভিডিওটেক্সট এবং সরাসরি অনুসন্ধান।

স্বতন্ত্র পণ্যসমূহ, যেমন: ভিডিও ডিস্ক, ভিডিও টেপ এবং সফটওয়্যার।

অন্যান্য, যেমন: ইলেকট্রনিক সংবাদপত্র এবং হাইব্রিড (Hybrid) পণ্যসমূহ (১)।

--------------------------------------------

(১) Gurnsey, John - The Information Professions in the Electronic Age, London, Clive Bingley, 1985, P 3
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
3:2‌‌ مزايا النشر الإلكتروني وخصائصه:

لعل من أبرز مزايا النشر الإلكتروني وخصائصه ما يلي:

التفاعلية (Interactivity) حيث يؤثر المشاركون في عملية النشر الإلكتروني على أدوار الآخرين وأفكارهم ويتبادلون معهم المعلومات، وهو ما يطلق عليه الممارسة الاتصالية والمعلوماتية المتبادلة أو التفاعلية، فمن خلال منصات النشر الإلكتروني سيظهر نوع جديد من منتديات الاتصال والحوار الثقافي المتكامل والمتفاعل عن بعد، مما سيجعل المتلقي متفاعلًا مع وسائل الاتصال تفاعلا إيجابيًا.

اللاجماهيرية (Demassification) حيث يمكن توجيه النشر الإلكتروني إلى فرد أو مجموعة معينة من الأفراد.

اللاتزامنية (Asynchronization) حيث يمكن عن طريق النشر الإلكتروني القيام بالنشاط الاتصالي في الوقت المناسب للفرد دون ارتباط بالأفراد الآخرين أو الجماعات الأخرى.

الحركية (Mobility) التي تعني إمكان نقل المعلومات عن طريق النشر الإلكتروني من مكان لآخر بكل يسر وسهولة.

القابلية للتحويل (Convertibility) أي القدرة على نقل المعلومات عن طريق النشر الإلكتروني لها من وسيط لآخر.
3:2‌‌ইলেকট্রনিক প্রকাশনার সুবিধা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ:

ইলেকট্রনিক প্রকাশনার উল্লেখযোগ্য সুবিধা ও বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে সম্ভবত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্যতম:

মিথস্ক্রিয়া (Interactivity): যেখানে ইলেকট্রনিক প্রকাশনা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীরা অন্যদের ভূমিকা ও চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করে এবং তাদের সাথে তথ্য বিনিময় করে। একেই পারস্পরিক যোগাযোগ ও তথ্যগত অনুশীলন বা মিথস্ক্রিয়া বলা হয়। ইলেকট্রনিক প্রকাশনা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থান থেকে সমন্বিত ও মিথস্ক্রিয়াযোগ্য সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও সংলাপের এক নতুন ধরনের ফোরামের উদ্ভব ঘটবে, যা তথ্য গ্রহণকারীকে যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে ইতিবাচকভাবে সক্রিয় করে তুলবে।

ব্যক্তিমুখিতা (Demassification): যেখানে ইলেকট্রনিক প্রকাশনাকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে পরিচালিত করা সম্ভব।

অসমকালিকতা (Asynchronization): যেখানে ইলেকট্রনিক প্রকাশনার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সাথে সরাসরি যুক্ত না থেকেও নিজের সুবিধাজনক সময়ে যোগাযোগমূলক কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারে।

গতিশীলতা (Mobility): এর অর্থ হলো ইলেকট্রনিক প্রকাশনার মাধ্যমে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তথ্য স্থানান্তর করার সক্ষমতা।

রূপান্তরযোগ্যতা (Convertibility): অর্থাৎ ইলেকট্রনিক প্রকাশনার মাধ্যমে তথ্যকে এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে স্থানান্তর করার সক্ষমতা।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الشيوع والانتشار (Ubiquity) بمعنى الانتشار حول العالم وداخل كل طبقة من طبقات المجتمع.

العالمية أو الكونية (Globalization) على أساس أن البيئة الأساسية الجديدة للنشر الإلكتروني ووسائل الاتصال والمعلومات أصبحت بيئةً عالمية.

القضاء على مركزية وسائل الإعلام والاتصال، إذ ستعمل الأقمار الصناعية على القضاء على المركزية في نشر المعلومات والبيانات، ولن يرتبط الناس بوسائل الإعلام من خلال المسافات الجغرافية فقط، وإنما سيرتبطون معا من خلال اهتماماتهم المشتركة.

زوال الفروق التقليدية بين وسائل نشر المعلومات المتمثلة في الصحف والكتب والمجلات، حيث أصبح مضمون أي وسيلة منها عن طريق النشر الإلكتروني متاحًا ومشاعًا في جميع الوسائل الأخرى وبأشكال وأساليب عرض وتقديم مختلفة ومتطورة.
সর্বব্যাপীতা ও বিস্তার (Ubiquity) বলতে বিশ্বজুড়ে এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে পরিব্যাপ্ত হওয়াকে বোঝায়।

বিশ্বায়ন বা মহাজাগতিকতা (Globalization); এই ভিত্তিতে যে, ইলেকট্রনিক প্রকাশনা এবং যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তির নতুন মৌলিক পরিবেশটি একটি বৈশ্বিক পরিবেশে রূপান্তরিত হয়েছে।

গণমাধ্যম ও যোগাযোগের কেন্দ্রীয়করণ বিলোপ করা; যেহেতু কৃত্রিম উপগ্রহসমূহ তথ্য ও উপাত্ত প্রচারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার অবসান ঘটাবে। মানুষ কেবল ভৌগোলিক দূরত্বের মাধ্যমেই গণমাধ্যমের সাথে যুক্ত হবে না, বরং তারা তাদের পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন আগ্রহের ভিত্তিতে একে অপরের সাথে সংযুক্ত হবে।

সংবাদপত্র, বই এবং সাময়িকীর মতো তথ্য প্রকাশের মাধ্যমগুলোর মধ্যে বিদ্যমান প্রথাগত পার্থক্যের বিলুপ্তি; যেখানে ইলেকট্রনিক প্রকাশনার মাধ্যমে যেকোনো মাধ্যমের বিষয়বস্তু অন্য সকল মাধ্যমে সহজলভ্য ও উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে এবং তা বিভিন্ন ও উন্নত উপস্থাপনা ও প্রদর্শন শৈলীতে পরিবেশিত হচ্ছে।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
أصبح النشر الإلكتروني والإنترنت بمنزلة مكان يعج بالناس والأفكار تستطيع زيارته والتجول في جنباته، مما أتاح إيجاد ما اصطلح على تسميته بعالم الواقع الافتراضي (Cyber Space) والذي يزيل حواجز المكان والمسافة وقيود الزمان بين مستخدميه، حيث يستطيعون التواصل فيما بينهم بصورة تكاد تكون طبيعية، بغض النظر عن المسافات والتوقيتات التي تفصل بعضهم عن بعض.

على المستوى العلمي والبحثي والجامعي فإن النشر الإلكتروني يتيح الفرصة أمام الباحثين والجامعيين إلى توجيه الجزء الأكبر من جهودهم إلى عمليات التحليل والتفسير والاستنتاج والتنبؤ والكشف عن الظاهرات والمتغيرات الجديدة - وهو ما يمثل العمود الفقري للعملية البحثية - وذلك بديل عما كان يحدث قبل ذلك من ضياع نسبة كبيرة من جهد الباحثين في الحصول على المعلومات، وهو ما سوف يؤدي إلى تطوير المعرفة وتحديثها في المجالات البحثية المختلفة، وازدهار الابتكار والبحث العلمي.

أن النشر الإلكتروني يضمن للجامعات ومراكز الأبحاث الجودة العالية للمخرجات المطبوعة التي أصبحت بتطور البرمجيات والطابعات، تضاهي كفاءة منتجات المطابع المحترفة وجودتها، بشكل يصعب التفريق بينهما أحيانًا.
অনলাইন প্রকাশনা এবং ইন্টারনেট বর্তমানে এমন এক জনাকীর্ণ স্থানে পরিণত হয়েছে যেখানে মানুষ ও চিন্তাধারার সমাগম ঘটে এবং যেখানে যে কেউ বিচরণ করতে পারে। এর ফলে তথাকথিত ‘ভার্চুয়াল রিয়েলিটি’ (Cyber Space) বা কৃত্রিম জগতের উদ্ভব ঘটেছে যা ব্যবহারকারীদের মধ্য থেকে স্থান, দূরত্ব ও সময়ের প্রতিবন্ধকতা দূর করে দেয়। ফলে ভৌগোলিক দূরত্ব ও সময়ের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও তারা একে অপরের সাথে প্রায় স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়।

শিক্ষা, গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ইলেকট্রনিক প্রকাশনা গবেষক ও উচ্চশিক্ষায় সংশ্লিষ্টদের এই সুযোগ করে দেয় যে, তারা তাদের শ্রমের সিংহভাগ বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পূর্বাভাস এবং নতুন নতুন প্রপঞ্চ ও চলকসমূহ উন্মোচনের দিকে নিবদ্ধ করতে পারে—যা মূলত গবেষণা প্রক্রিয়ার মেরুদণ্ড স্বরূপ। এর ফলে ইতিপূর্বে তথ্য সংগ্রহের পেছনে গবেষকদের শ্রমের যে বিশাল অপচয় হতো, তার অবসান ঘটবে। এটি বিভিন্ন গবেষণা ক্ষেত্রে জ্ঞানের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং উদ্ভাবন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।

ইলেকট্রনিক প্রকাশনা বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর জন্য মুদ্রিত উপকরণের উচ্চমান নিশ্চিত করে। সফটওয়্যার ও প্রিন্টারের উৎকর্ষের ফলে এই মান বর্তমানে পেশাদার ছাপাখানার কাজের গুণগত মানের সমতুল্য হয়ে উঠেছে, যা অনেক সময় পৃথক করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ضمان الاقتصاد الملموس في الوقت والجهد والمال، فالمراحل المعروفة في إعداد النسخ للطباعة كالتنضيد والإجراءات والمتطلبات البشرية والمالية والأجهزة والمعدات التي تستهلكها هذه المرحلة قبل أن تصل النسخة إلى آلة الطباعة هي العامل المؤثر والمباشر في ارتفاع كلفة الطباعة في المطابع، والتأخير والأجور المرتفعة للأيدي العاملة الفنية، النشر الإلكتروني اختصر هذه العمليات كلها وأصبحت الكلفة الحالية تقدر بعُشْر كلفة الطباعة التقليدية.

السرعة العالية في الإنجاز مع ضمان الجودة والكفاءة العالية وبأقل جهد (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر المراجع التالية: أ) د، سليمان الميمان: استثمار الإنترنت في الدعوة إلى الله. ب) أيمن السامرائي: النشر المكتبي الإلكتروني. ج) د. حسين أبو خضرة: النشر الإلكتروني.
সময়, শ্রম এবং অর্থের বাস্তব সাশ্রয় নিশ্চিত করা; মুদ্রণের জন্য পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করার পরিচিত পর্যায়গুলো—যেমন কম্পোজিশন, প্রক্রিয়াগত ধাপসমূহ, মানবিক ও আর্থিক প্রয়োজনীয়তা এবং মুদ্রণযন্ত্রে পৌঁছানোর আগে যে সকল সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়—তা ছাপাখানায় মুদ্রণ ব্যয় বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ ও প্রভাবশালী কারণ। পাশাপাশি বিলম্ব এবং কারিগরি জনশক্তির উচ্চ মজুরিও এতে প্রভাব ফেলে। ইলেকট্রনিক প্রকাশনা এই সমস্ত প্রক্রিয়াকে সংক্ষিপ্ত করে দিয়েছে এবং বর্তমানে এর ব্যয় ঐতিহ্যবাহী মুদ্রণ ব্যয়ের দশ ভাগের এক ভাগ বলে ধরা হয়।

মান ও উচ্চ দক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ন্যূনতম পরিশ্রমে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা (১)।

--------------------------------------------

(১) নিম্নোক্ত তথ্যসূত্রগুলো দেখুন: ক) ড. সুলাইমান আল-মাইমান: আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার। খ) আয়মান আস-সামাররায়ি: ডেস্কটপ ইলেকট্রনিক পাবলিশিং। গ) ড. হুসাইন আবু খাদরা: ইলেকট্রনিক পাবলিশিং।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
4:2‌‌ الدعوة الإسلامية والنشر الإلكتروني:

مع تطور وسائل الاتصالات الحديثة أصبح العالم كالقرية الصغيرة التي يمكن التواصل بين أهلها والتأثير فيهم بسهولة ويسر، ولقد استغل أعداء الإسلام من اليهود والنصارى وغيرهم من ملل الكفر والإلحاد هذه التقنية الحديثة من إنترنت ونشر إلكتروني استغلالا سيئًا في خدمة عقائدهم الباطلة وفي سبيل تشويه صورة الإسلام والمسلمين، فهذا بابا الفاتيكان يهتم شخصيًا بالإنترنت والنشر الإلكتروني للنصرانية وأفكارها وعقائدها ويقول "يجب على الكنيسة أن تفيد من أي تطور تكنولوجي للتبشير بالنصرانية" (1) ، بل وصل الأمر إلى أنه في عام 1995م بدأ الفاتيكان بافتتاح موقع على الإنترنت خاص به، استغرق تصميمه وتنفيذه عدة سنوات، يوفر من خلاله النشر الإلكتروني لترجمات الإنجيل إلى جميع لغات العالم، إضافة إلى نشر معتقدات النصارى وأفكارهم كافة، كما أن اليهود قد صمموا مواقعهم الخاصة بهم وخلالها ينشرون أفكارهم وعقائدهم، وكذلك فعل الهندوس والبوذيون وملل أخرى كثيرة أخذت زمام السبق في استغلال تلك الوسيلة في خدمة مصالحهم ونشر ضلالاتهم.

--------------------------------------------

(1) الميمان: استثمار الإنترنت في الدعوة إلى الله.
4:2‌‌ ইসলামী দাওয়াত ও ইলেকট্রনিক প্রকাশনা:

আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের উন্নয়নের ফলে বিশ্ব আজ একটি ছোট গ্রামের ন্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে এর অধিবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ স্থাপন এবং তাদের প্রভাবিত করা অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল হয়ে গেছে। ইসলামের শত্রু ইহুদি, খ্রিস্টান এবং কুফর ও নাস্তিক্যবাদের অন্যান্য অনুসারীরা আধুনিক এই ইন্টারনেট প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক প্রকাশনাকে তাদের ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাসের সেবায় এবং ইসলাম ও মুসলমানদের ভাবমূর্তি বিকৃত করার উদ্দেশ্যে নিকৃষ্টভাবে ব্যবহার করেছে। এমনকি ভ্যাটিকানের পোপ ব্যক্তিগতভাবে ইন্টারনেট এবং খ্রিস্টধর্মের ধ্যান-ধারণা ও আকিদা-বিশ্বাসের ইলেকট্রনিক প্রকাশনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং বলছেন, "খ্রিস্টধর্ম প্রচারের স্বার্থে গির্জার উচিত যেকোনো প্রযুক্তিগত উন্নয়ন থেকে সুফল গ্রহণ করা।" (১)। এমনকি বিষয়টি এই পর্যন্ত গড়িয়েছে যে, ১৯৯৫ সালে ভ্যাটিকান তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করেছে, যা নকশা ও বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় নিয়েছিল। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বের সকল ভাষায় ইনজিলের অনুবাদের ইলেকট্রনিক প্রকাশনার পাশাপাশি খ্রিস্টানদের যাবতীয় বিশ্বাস ও চিন্তাধারা প্রচার করছে। তেমনিভাবে ইহুদিরাও তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট নির্মাণ করেছে এবং এর মাধ্যমে তারা তাদের নিজস্ব চিন্তাধারা ও আকিদা প্রচার করছে। হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য বহু মতাদর্শের অনুসারীরাও একইভাবে তাদের স্বার্থসিদ্ধি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য এই মাধ্যমটি ব্যবহারে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছে।

--------------------------------------------

(১) আল-মাইমান: আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের বিনিয়োগ।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ونحن أهل الإسلام وأهل الدين الخالد أولى وأحرى أن نقتحم غمار هذه التقنية الحديثة، ولا سيما أن الدين الإسلامي يحمل كل المقومات التي تجعله منصورًا دومًا في ميادين الحوار، كيف لا؟ وهو الدين الحق المبين الذي ارتضاه الله لخاتم الأنبياء والمرسلين.

{يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ} {يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} (المائدة:15-16) .
এবং আমরা ইসলামের অনুসারী ও শাশ্বত দীনের ধারক হিসেবে এই আধুনিক প্রযুক্তির উত্তাল প্রবাহে প্রবেশ করা আমাদের জন্য অধিকতর সমীচীন ও সংগত। বিশেষত ইসলাম ধর্ম এমন সব বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ যা একে সংলাপ ও বিতর্কের ময়দানে সর্বদা বিজয়ী হিসেবে আসীন রাখে। আর তা হবেই না কেন? এটিই তো সেই সুস্পষ্ট সত্য দীন যা আল্লাহ তাআলা সর্বশেষ নবী ও রাসুলগণের জন্য মনোনীত করেছেন।

{হে আহলে কিতাব, তোমাদের নিকট আমাদের রাসুল এসেছেন; কিতাবের যা তোমরা গোপন করতে তিনি তার অনেক কিছুই তোমাদের নিকট স্পষ্ট করছেন এবং অনেক কিছু মার্জনা করছেন। অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট এক জ্যোতি ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে।} {এর মাধ্যমে আল্লাহ ঐ সকল ব্যক্তিকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে, আর তিনি স্বীয় আজ্ঞায় তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদেরকে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেন।} (আল-মায়িদাহ: ১৫-১৬)।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المبحث الثاني: استخدام النشر الإلكتروني لترجمات

معاني القرآن الكريم في خدمة الدعوة

الإنترنت والنشر الإلكتروني وسيلتان من الممكن استخدامهما وتطويعهما في الخير كما أنه يمكن استخدامهما في الشر، وقد ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم استخدم كل وسيلة اتصال ممكنة في وقته لغرض الدعوة إلى دين الله سبحانه وتعالى ونشره بين الناس، فقد استخدم الاتصال المباشر، فكان يقصد الناس في مجتمعاتهم وأسواقهم ويكلمهم ويدعوهم إلى الإسلام جماعات وأفرادًا، كما راسل صلى الله عليه وسلم الملوك، واستقبل الوفود ينشر بينهم الدين الحق.

وفي هذا الإطار يقول الدكتور سليمان الميمان: " إن كل وسيلة تستخدم للدعوة إلى الله ينبغي أن يراعى فيها الشروط التالية:

عدم مخالفتها للشرع الحكيم، فيشترط في الوسيلة أن تكون غير محرمة شرعًا.

أن يكون المقصد الذي تفضي إليه تلك الوسيلة غير محرم.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দাওয়াতের খিদমতে পবিত্র কুরআনের অর্থসমূহের অনুবাদের

ইলেকট্রনিক প্রকাশনার ব্যবহার

ইন্টারনেট এবং ইলেকট্রনিক প্রকাশনা হলো এমন দুটি মাধ্যম যা কল্যাণের পথে ব্যবহার ও নিয়োজিত করা সম্ভব, ঠিক যেমন এগুলো মন্দের পথেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এবং এটি প্রমাণিত (ثبت) যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সময়ে আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত এবং মানুষের মাঝে তা প্রচারের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্য সকল যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেছেন। তিনি প্রত্যক্ষ যোগাযোগ পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন; ফলে তিনি মানুষের সমাবেশ ও বাজারগুলোতে যেতেন এবং তাদের সাথে কথা বলতেন ও তাদের দলগতভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে ইসলামের দিকে আহ্বান জানাতেন। অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাজন্যবর্গের নিকট পত্র প্রেরণ করেছেন এবং প্রতিনিধিদলদের গ্রহণ করেছেন যাতে তাদের মাঝে সত্য দ্বীন প্রচার করা যায়।

এই প্রেক্ষাপটে ডক্টর সুলাইমান আল-মায়মান বলেন: "আল্লাহর দিকে দাওয়াতের জন্য ব্যবহৃত প্রতিটি মাধ্যমের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তাবলি মেনে চলা উচিত:

প্রজ্ঞাপূর্ণ শরিয়তের পরিপন্থী না হওয়া; সুতরাং শর্ত হলো মাধ্যমটি শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ (محرم) হওয়া যাবে না।

উক্ত মাধ্যমটি যে লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করে তা যেন নিষিদ্ধ (محرم) না হয়।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২০)
ألا يترتب على استخدام تلك الوسيلة مفسدة تزيد على مصلحة هذا المقصد، فإذا كانت الوسيلة غير محرمة في ذاتها كالنشر الإلكتروني للترجمات، والمقصد منها واجبا وهو الدعوة إلى دين الله تعالى، ولا يترتب على استخدام هذه الوسيلة مفسدة أعظم من المصلحة المترتبة عليها، فعندها لا شك في وجوب استخدام تلك الوسيلة في ضوء (ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب) (1) .

إننا باستغلال وسيلة النشر الإلكتروني لترجمات معاني القرآن الكريم نسهل بذلك على ملايين المسلمين في شتى بقاع المعمورة التعرف على الدين الصحيح والرجوع إلى مصادره الأصلية، ومهما أنفق المسلمون في هذا المجال، فإن ذلك سيوفر عليهم الوقت والجهد والمال الكثير.

--------------------------------------------

(1) الميمان - «استثمار الإنترنت في الدعوة إلى الله» ورقة عمل مقدمة لندوة الكتاب الإلكتروني 1420.
সেই মাধ্যমটি ব্যবহারের ফলে যেন এমন কোনো অনিষ্ট (مفسدة) তৈরি না হয় যা এই উদ্দেশ্যের কল্যাণ (مصلحة) অপেক্ষা অধিকতর হয়। সুতরাং মাধ্যমটি যদি তার সত্তাগতভাবে নিষিদ্ধ না হয়—যেমন অনুবাদসমূহের ইলেকট্রনিক প্রকাশনা—এবং এর উদ্দেশ্য যদি ওয়াজিব (واجب) হয়, আর তা হলো আল্লাহর দীনের দিকে দাওয়াত দেওয়া, এবং এই মাধ্যমটি ব্যবহারের ফলে যদি এর দ্বারা অর্জিত কল্যাণের চেয়ে বড় কোনো অনিষ্টের সৃষ্টি না হয়, তবে ‘যা ছাড়া ওয়াজিব (واجب) সম্পন্ন হয় না, তাও ওয়াজিব (واجب)’—এই মূলনীতির আলোকে সেই মাধ্যমটি ব্যবহার করার আবশ্যকতা বা ওয়াজিব (واجب) হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই (১)।

পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের অনুবাদের ইলেকট্রনিক প্রকাশনা মাধ্যমটি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কোটি কোটি মুসলমানের জন্য সঠিক দীন সম্পর্কে জানা এবং এর মূল উৎসসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করা সহজ করে দিচ্ছি। আর মুসলমানরা এই ক্ষেত্রে যা-ই ব্যয় করুক না কেন, তা তাদের অনেক সময়, শ্রম ও প্রচুর অর্থ সাশ্রয় করবে।

--------------------------------------------

(১) আল-মাইমান - «আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার» ইলেকট্রনিক বুক সেমিনার ১৪২০-এ উপস্থাপিত একটি কার্যপত্র।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২১)
قس على ذلك ما يكلفه مثلا القيام بحملة دعوية على إحدى القنوات الفضائية أو استئجار قناة فضائية لبث الإسلام منها، وحشد جميع الطاقات والإمكانات لذلك، لا شك أن ذلك سيكون في غاية الصعوبة كما أن تكلفة تشغيل هذه القنوات يعد اليوم باهظ التكاليف، ناهيك عما فيه من صعوبات ومحدودية الجمهور، في حين أن النشر الإلكتروني عبر الإنترنت أو الأقراص المدمجة محاط بعدد هائل من الجمهور، إضافة إلى ما يتمتع به النشر الإلكتروني من مزايا فريدة تجعله من أنسب الوسائل لبث الدعوة دون قيود ولا شروط.

كما أننا ملزمون اليوم في ظل ما يسمى بالعولمة والانفتاح العالمي ألا نقف مكتوفي الأيدي، أو ندس رؤوسنا في التراب، بل لا بد من نقل الدعوة من المحلية إلى العالمية، ومن الأرض إلى الفضاء الإلكتروني الذي يتنافس العالم شرقه وغربه حكومات وأفرادًا ومؤسسات دينية لتثبيت وإرساء مواقعهم فيه.

عند الحديث عن استخدام النشر الإلكتروني لترجمات معاني القرآن الكريم في خدمة الدعوة إلى الله سبحانه وتعالى، لا بد لنا من ذكر بعض خصائص القرآن العظيم، والذي يهمنا منها في هذا المقام:
উদাহরণস্বরূপ, কোনো স্যাটেলাইট চ্যানেলে দাওয়াতি অভিযান পরিচালনা করার বা ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে কোনো স্যাটেলাইট চ্যানেল ভাড়া করার এবং তার জন্য যাবতীয় শক্তি ও সক্ষমতা নিয়োজিত করার ব্যয়ের সাথে বিষয়টি তুলনা করে দেখুন। নিঃসন্দেহে এটি অত্যন্ত কঠিন হবে, কারণ বর্তমানে এই চ্যানেলগুলো পরিচালনার ব্যয় অত্যন্ত অত্যধিক। তদুপরি, এতে নানাবিধ অসুবিধা এবং দর্শকসংখ্যার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পক্ষান্তরে, ইন্টারনেট বা সিডি-রমের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক প্রকাশনা বিশাল দর্শকগোষ্ঠী দ্বারা পরিবেষ্টিত। উপরন্তু, ইলেকট্রনিক প্রকাশনার এমন কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা একে কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতা বা শর্ত ছাড়াই দাওয়াত প্রচারের অন্যতম উপযুক্ত মাধ্যমে পরিণত করেছে।

বিশ্বায়ন ও বৈশ্বিক উন্মুক্ততার এই যুগে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে বা বালিতে মাথা গুঁজে থাকতে পারি না। বরং দাওয়াতকে স্থানীয় পর্যায় থেকে বৈশ্বিক পর্যায়ে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে সাইবার স্পেসে নিয়ে যাওয়া অপরিহার্য, যেখানে বিশ্বের প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সরকার, ব্যক্তি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের অবস্থান সুদৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

মহান আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানের সেবায় পবিত্র কুরআনের অর্থানুবাদের ইলেকট্রনিক প্রকাশনা ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনার সময়, মহিমান্বিত কুরআনের কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা আমাদের জন্য আবশ্যক, যার মধ্যে এই প্রেক্ষাপটে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الخلود، وذلك بحكم حفظ الله سبحانه وتعالى لهذا الكتاب الكريم، كما وعد وتكفل هو سبحانه وتعالى بذلك في قوله تعالى:

{إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (الحجر:9)

فكتاب الله ليس كتاب جيل أو عدة أجيال، وليس كتاب عصر أو جملة عصور، بل هو كتاب الزمن كله إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها.

أنه الكتاب المعجز الذي تحدى الله به الإنس والجن أن يأتوا بمثله، بل وتحدى فصحاء العرب أن يأتوا بسورة من مثله، فعجزوا وانقطعوا وحقت عليهم كلمة الله سبحانه وتعالى:

{قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا} (الإسراء:88) ، {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} (البقرة:23) .
শাশ্বতকাল, আর তা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার এই সম্মানিত কিতাব সংরক্ষণের বিধানের মাধ্যমেই নিশ্চিত হয়েছে, যেমনটি তিনি তাঁর সুমহান বাণীতে ওয়াদা করেছেন এবং স্বয়ং এর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন:

{নিশ্চয়ই আমিই এই উপদেশবাণী অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} (আল-হিজর: ৯)

বস্তুত আল্লাহর কিতাব কোনো নির্দিষ্ট প্রজন্ম বা কয়েক প্রজন্মের কিতাব নয়, এবং এটি কোনো একটি যুগ বা কয়েক যুগের কিতাব নয়; বরং এটি মহাকালের কিতাব—যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের উত্তরাধিকারী হবেন।

এটি সেই অলৌকিক (معجز) কিতাব যার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষ ও জিন জাতিকে এর সদৃশ কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। এমনকি তিনি আরবের শ্রেষ্ঠ বাগ্মীদেরও এর সদৃশ একটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা অক্ষম হয়েছে ও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে এবং তাদের ওপর মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ঘোষণা সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে:

{বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ নিয়ে আসার জন্য মানুষ ও জিন জাতি সমবেত হয়, তারা এর অনুরূপ নিয়ে আসতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়} (আল-ইসরা: ৮৮) , {আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি তাতে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাহায্যকারীদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও} (আল-বাকারা: ২৩) ।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
3- أنه كتاب مبين ميسر للذكر والفهم، ليس ككتب الفلاسفة المليئة بالغموض والألغاز، ولا كتب العلم التي لا يقرؤها إلا فئة محدودة من أهل الاختصاص، بل كتاب يقرؤه العامي كما يقرؤه العالم:

{وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} (القمر:17) .

4- أنه كتاب عالمي، فكما ذكرت قبل قليل من أنه للزمن كله، فكذلك هو للعالم كله، فليس كتاب العرب وحدهم وإن نزل بلغتهم، وليس كتاب أهل الجزيرة وحدهم وإن بعث محمد صلى الله عليه وسلم من بينهم، ولكنه كتاب رب العالمين لكل العالمين عربًا وعجمًا، شرقًا وغربًا، بيضًا وسودًا، حكامًا ومحكومين، أغنياء وفقراء، فهو كتاب كل الأجناس وكل الأوطان وكل الألسنة وكل الطبقات (1) :

{تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} (الفرقان:1) ، {الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ} (إبراهيم:1) ، {إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ} (التكوير:27) ، ومن هنا يبرز لنا سؤالان هامان، هما:

--------------------------------------------

(1) المعايرجي - الهيئة العالمية للقرآن الكريم - 1991م.
৩- এটি একটি সুস্পষ্ট ও উপদেশ গ্রহণ এবং অনুধাবনের জন্য সহজবোধ্য কিতাব; এটি দার্শনিকদের কিতাবসমূহের মতো নয় যা অস্পষ্টতা ও রহস্যে ঘেরা, আর না এটি এমন কোনো জ্ঞানতাত্ত্বিক গ্রন্থ যা কেবল একদল নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ ছাড়া অন্য কেউ পাঠ করে না। বরং এটি এমন এক কিতাব যা একজন সাধারণ মানুষও যেমন পাঠ করে, তেমনি একজন আলেমও পাঠ করে:

{আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?} (আল-কামার: ১৭) ।

৪- এটি একটি বিশ্বজনীন কিতাব। আমি কিছুক্ষণ আগে যেমনটি উল্লেখ করেছি যে এটি সর্বকালের জন্য, তেমনি এটি সমগ্র বিশ্বের জন্য। এটি কেবল আরবদের কিতাব নয় যদিও তা তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, এবং এটি কেবল আরব উপদ্বীপের অধিবাসীদের জন্য নয় যদিও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্য হতেই প্রেরিত হয়েছেন। বরং এটি সমস্ত জগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য—আরব ও অনারব, পূর্ব ও পশ্চিম, শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ, শাসক ও শাসিত, ধনী ও দরিদ্র সবার জন্য কিতাব। এটি সকল জাতি, সকল দেশ, সকল ভাষা এবং সকল স্তরের মানুষের কিতাব (১) :

{বরকতময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তা বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে} (আল-ফুরকান: ১) , {আলিফ-লাম-রা; এটি একটি কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষকে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অন্ধকার হতে আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন—পরাক্রমশালী প্রশংসিত সত্তার পথের দিকে} (ইবরাহিম: ১) , {এটি তো কেবল বিশ্বজগতের জন্য একটি উপদেশ} (আত-তাকউইর: ২৭) , এখান থেকেই আমাদের সামনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রতিভাত হয়, তা হলো:

--------------------------------------------

(১) আল-মুআইরিজি - ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর আল-কুরআন আল-কারিম - ১৯৯১ খ্রি.
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
السؤال الأول: كيف نبلغ القرآن العربي إلى غير العرب؟ هل يكون ذلك بتعجيم القرآن حتى يفهمه غير العربي؟ أو يكون بتعريب الأعاجم ليفقهوا القرآن بلغته العربية؟

إن الدارس للتاريخ الإسلامي في صدر هذه الأمة، سيجد أن أسلافنا الأوائل كانوا حريصين على تعريب الأعاجم حتى يدركوا معنى القرآن باللغة العربية، وكان من ذلك أن نشروا الإسلام والعربية على حد سواء، ولكن مع انتشار الإسلام وتوسع رقعته، بزيادة عدد الداخلين في الإسلام من غير العرب على عدد العرب بما يزيد على خمسة أضعاف، من هنا يبرز لنا:

السؤال الثاني وهو: كيف نوصل هذا القرآن إلى هؤلاء المسلمين ولغاتهم غير اللغة العربية؟

إن غير المسلمين لم يجدوا مشكلة في ترجمة كتبهم التي يقدّسونها إلى لغات العالم، وذلك لسبب بيّنٍ وهو أن تلك الكتب قد اعتراها من التبديل والتحريف والحذف ما جعل بعضها ليس بلغته الأصلية التي نزل بها، كالإنجيل مثلا.

وقد ذكرت في مقدمة هذا البحث أن جواز ترجمة معاني القرآن الكريم إلى اللغات الأخرى يعد أمرًا لا جدال فيه ولا نقاش، فلقد فرض الواقع نفسه وحتم على المسلمين السعي الدؤوب لنقل ترجمات معاني القرآن الكريم إلى لغات العالم الأخرى.
প্রথম প্রশ্ন: আমরা কীভাবে অনারবদের নিকট আরবি কুরআন পৌঁছাব? এটি কি কুরআনকে অনারবীয়করণের মাধ্যমে হবে যাতে অনারবরা তা বুঝতে পারে? অথবা অনারবদের আরবিয়করণের মাধ্যমে হবে যাতে তারা কুরআনকে তার নিজস্ব আরবি ভাষায় অনুধাবন করতে পারে?

নিশ্চয়ই এই উম্মতের প্রাথমিক যুগের ইসলামি ইতিহাসের শিক্ষার্থী দেখতে পাবেন যে, আমাদের পূর্বসূরিগণ অনারবদের আরবিয়করণের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন যাতে তারা আরবি ভাষায় কুরআনের মর্ম উপলব্ধি করতে পারে। এরই অংশ হিসেবে তারা ইসলাম ও আরবি ভাষা উভয়কেই সমানভাবে প্রচার করেছিলেন। কিন্তু ইসলামের প্রচার ও এর ভৌগোলিক বিস্তৃতির সাথে সাথে, ইসলাম গ্রহণকারী অনারবদের সংখ্যা আরবদের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় এখান থেকে আমাদের সামনে প্রতিভাত হয়:

দ্বিতীয় প্রশ্নটি হলো: আমরা এই কুরআনকে সেই সকল মুসলিমদের নিকট কীভাবে পৌঁছাব যাদের ভাষা আরবি নয়?

অমুসলিমরা তাদের পবিত্র জ্ঞানকৃত গ্রন্থসমূহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। এর একটি সুস্পষ্ট কারণ হলো, সেই গ্রন্থসমূহে এমন পরিবর্তন (تبديل), বিকৃতি (تحريف) এবং বিয়োজন (حذف) ঘটেছে যা সেগুলোর কোনো কোনোটিকে তার অবতীর্ণ হওয়ার মূল ভাষায় আর অবশিষ্ট রাখেনি, যেমন উদাহরণস্বরূপ ইঞ্জিল।

আমি এই গবেষণার ভূমিকায় উল্লেখ করেছি যে, পবিত্র কুরআনের মর্মার্থ অন্য ভাষায় অনুবাদ করার বৈধতা (جواز) একটি অনস্বীকার্য ও তর্কাতীত বিষয়। বাস্তবতা নিজেকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, বিশ্বের অন্যান্য ভাষায় পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের অনুবাদ পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালানো মুসলিমদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ومع ما ذكرنا من خصائص ومزايا للنشر الإلكتروني في هذا العصر التقني الذي أصبح العالم فيه كالقرية الصغيرة، وأصبح البعيد قريبًا مهما بعدت مسافته، كان لزامًا على العالم الإسلامي أن يعد العدة لاستغلال هذه الوسيلة في إيصال كتاب الله إلى كل بقعة من بقاع الأرض، ولعل من أبرز سمات هذه الوسيلة في مجال الدعوة إلى دين الله:

أن النشر الإلكتروني لترجمات معاني القرآن الكريم سيوفر المال والجهد الكثير، فليس هناك تكلفة شحن بري أو جوي أو بحري، فعن طريق النشر الإلكتروني لهذه الترجمات -سواءً على الإنترنت أو عن طريق الأقراص المدمجة (CDs) - يمكن توصيل القرآن مترجمة معانيه إلى أي شخص في العالم، فعلى سبيل المثال لإرسال طرد بريدي فيه (40) نسخة من ترجمة معاني القرآن الكريم باللغة الإنجليزية إلى أي ولاية في الولايات المتحدة الأمريكية، سوف يكلف شحن ذلك الطرد وإيصاله إلى الجهة المستفيدة ما يزيد على ألف وخمسمائة ريال، بينما لن يكلف نشرها إلكترونيا إلا قيمة القرص المدمج، أو الدخول إلى أحد المواقع على الشبكة العنكبوتية.
বর্তমান এই প্রযুক্তিগত যুগে ইলেকট্রনিক প্রকাশনার যেসব বৈশিষ্ট্য ও সুবিধার কথা আমরা উল্লেখ করেছি, যার ফলে পুরো বিশ্ব একটি ছোট গ্রামে পরিণত হয়েছে এবং দূরত্ব যা-ই হোক না কেন দূরবর্তী স্থান নিকটবর্তী হয়েছে, তাতে আল্লাহর কিতাবকে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই মাধ্যমটিকে কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াতের ক্ষেত্রে এই মাধ্যমের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এই যে:

পবিত্র কুরআনের অর্থানুবাদসমূহের ইলেকট্রনিক প্রকাশনা প্রচুর অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় করবে; কেননা এতে স্থল, আকাশ বা সমুদ্রপথে কোনো শিপিং বা পরিবহন খরচ নেই। এই অনুবাদগুলোর ইলেকট্রনিক প্রকাশনার মাধ্যমে—চাই তা ইন্টারনেটে হোক কিংবা সিডির (CDs) মাধ্যমে—পৃথিবীর যেকোনো ব্যক্তির কাছে কুরআনের অর্থানুবাদ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে ইংরেজি ভাষায় অনূদিত পবিত্র কুরআনের অর্থানুবাদের ৪০টি কপির একটি পার্সেল ডাকযোগে পাঠাতে এবং তা সংশ্লিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পনেরোশ রিয়ালেরও বেশি খরচ হবে। অথচ এটি ইলেকট্রনিকভাবে প্রচার করতে শুধুমাত্র একটি সিডির মূল্য অথবা ইন্টারনেটের কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার ব্যয় ছাড়া অন্য কোনো খরচের প্রয়োজন হবে না।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
أن النشر الإلكتروني لترجمات معاني القرآن الكريم سوف يكسر الحواجز والحدود، ولن يستطيع أحد، ولن تستطيع دولة الوقوف حجر عثرة في سبيل توصيل تلك الترجمة إلى مريديها، فكل ما على طالب الترجمة فقط هو حمل القرص المدمج أو الدخول إلى مواقع دعوية على الإنترنت، مثل موقع (al-islam، com) حيث يتم نشر ترجمة معاني القرآن الكريم إلى سبع لغات عالمية ويجري العمل حاليًا في هذا الموقع لزيادة عدد الترجمات، وقد نفع الله كثيرًا بهذا الموقع، وذلك لسهولة الحصول على الترجمة دون أدنى تكلفة أو عناء يذكر، ناهيك عن سهولة البحث والنظر في الآيات وتفسيرها.

سهولة حمل الترجمة والتنقل بها من مكان لآخر، دون تكبد عناء حمل تلك الترجمة والتعرض للمساءلة في بعض الدول والأماكن، بل كل ما يتطلب الأمر هو حمل القرص المدمج أو الدخول إلى أحد المواقع الإسلامية على شبكة الإنترنت.

الانتشار الكبير والسريع لهذه الوسيلة، وهذا يعني إيصال ترجمات معاني القرآن الكريم من خلال النشر الإلكتروني إلى ملايين البشر، حيث يقدر أن يصل عدد مستخدمي الإنترنت مثلا عام 2004م إلى بليون مستخدم في العالم. (1)

--------------------------------------------

(1) الميمان، المرجع السابق 1420.
নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের অনুবাদের ইলেকট্রনিক প্রকাশনা সকল প্রকার প্রতিবন্ধকতা ও ভৌগোলিক সীমানা চূর্ণ করবে। কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের পক্ষে এই অনুবাদসমূহ এর অন্বেষণকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে না। অনুবাদপ্রার্থীর কেবল একটি সিডি বহন করা অথবা ইন্টারনেটে দাওয়াতি ওয়েবসাইটগুলোতে প্রবেশ করাই যথেষ্ট; যেমন (al-islam.com) ওয়েবসাইটটি, যেখানে পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের অনুবাদ বিশ্বের সাতটি প্রধান ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে এই ওয়েবসাইটে অনুবাদের সংখ্যা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে। আল্লাহ তাআলা এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনেককে উপকৃত করেছেন; কারণ কোনো প্রকার ব্যয় বা বিশেষ পরিশ্রম ছাড়াই এখান থেকে অনুবাদ সংগ্রহ করা অত্যন্ত সহজ। এর পাশাপাশি আয়াতসমূহ অনুসন্ধান এবং আয়াত ও এর ব্যাখ্যা দেখার সহজলভ্যতা তো অনস্বীকার্য।

অনুবাদ সাথে রাখা এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের সহজলভ্যতা; এতে অনুবাদের কিতাবসমূহ সশরীরে বহনের কষ্ট করতে হয় না এবং কিছু দেশ বা স্থানে জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। বরং কেবল একটি সিডি বহন করা অথবা ইন্টারনেটে কোনো ইসলামি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করাই এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট।

এই মাধ্যমের ব্যাপক ও দ্রুত বিস্তার; যার অর্থ হলো ইলেকট্রনিক প্রকাশনার মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের অনুবাদ কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। উদাহরণস্বরূপ, প্রাক্কলন করা হয়েছিল যে ২০০৪ সালে বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটিতে পৌঁছাবে। (১)

--------------------------------------------

(১) আল-মাইমান, পূর্বোক্ত সূত্র ১৪২০।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
أن النشر الإلكتروني من أسرع وسائل الاتصال المتاحة في العالم، حيث يمكن من خلالها الوصول إلى أفراد وجماعات في أماكن مختلفة في العالم قد يكون من الصعب الوصول إليهم بغير النشر الإلكتروني، وذلك بأقل تكلفة وأقل عناء وبأسرع وقت ممكن.

قد لا يوجد في كثير من مناطق العالم مراكز إسلامية وفي بعض الأحيان لا توجد مساجد تتوافر فيها ترجمات لمعاني القرآن الكريم، وبالتالي تنعدم مصادر تبصير من يسكن في تلك المناطق بكتاب الله سبحانه وتعالى، ولكن عن طريق النشر الإلكتروني للترجمات نستطيع الوصول إلى ما لا يمكن الوصول إليه، وربط المسلمين هناك بالمصدر الأول في حياتهم، وتنويرهم بهدي القرآن العظيم مصحوبًا بالتفسير الموضح والمبين للمشكل فيه.

أن النشر الإلكتروني لترجمات معاني القرآن الكريم سواءً عن طريق الإنترنت أو عن طريق الأقراص المدمجة (CDs) هو وسيلة اتصال لا تتحكم فيها جهة معينة ولا تفرض عليها سياسات محددة، بل المتحكم فيها هو من يستخدمها، فله أن يستقبل ما يشاء ويرسل ما يشاء بلا رقيب ولا حسيب.
ইলেকট্রনিক প্রকাশনা বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম যোগাযোগ মাধ্যম, যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত এমন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব যাদের কাছে ইলেকট্রনিক প্রকাশনা ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে পৌঁছানো অত্যন্ত দুরূহ হতে পারে। এটি সর্বনিম্ন ব্যয়, ন্যূনতম পরিশ্রম এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব।

বিশ্বের বহু অঞ্চলে হয়তো ইসলামি দাওয়াহ কেন্দ্র নেই এবং অনেক সময় এমন কোনো মসজিদও থাকে না যেখানে পবিত্র কুরআনের অর্থানুবাদ সংগৃহীত আছে। ফলে সেসব অঞ্চলে বসবাসকারীদের মহান আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অবগত হওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য উৎসের অভাব পরিলক্ষিত হয়। তবে অনুবাদের ইলেকট্রনিক প্রকাশনার মাধ্যমে আমরা দুর্গম স্থানেও পৌঁছাতে পারি এবং সেখানকার মুসলিমদের তাদের জীবনের প্রধান উৎসের সাথে সম্পৃক্ত করতে পারি। এর মাধ্যমে তাদের কুরআনের হেদায়েতের আলোয় আলোকিত করা সম্ভব হয়, যার সাথে দুর্বোধ্য বা অস্পষ্ট (مشكل) বিষয়গুলোর বিশদ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ সম্বলিত তাফসিরও সংযুক্ত থাকে।

পবিত্র কুরআনের অর্থানুবাদের ইলেকট্রনিক প্রকাশনা, চাই তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে হোক কিংবা সিডির (CDs) মাধ্যমে—এটি এমন এক যোগাযোগ মাধ্যম যা কোনো সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় এবং এর ওপর কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালাও আরোপ করা হয় না। বরং এর নিয়ন্ত্রক স্বয়ং ব্যবহারকারী; তিনি কোনো প্রকার নজরদারি বা জবাবদিহিতা ছাড়াই যা ইচ্ছা গ্রহণ করতে পারেন এবং যা ইচ্ছা প্রেরণ করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
أن الحواسيب في عصر الانفجار المعرفي والمعلوماتي تحظى بكثير من الثقة والاحترام لدى عدد غير قليل من الناس، وهو ما يجعلها من الوسائل الدعوية التي تسهم في إقناع تلك الفئة نظرًا لتقبلهم وارتياحهم النفسي في التعامل معها، لذا فمتى ما تم نشر ترجمات معاني القرآن إلكترونيًا، فإن ذلك سيكون معينًا على نشر الدعوة.

জ্ঞান ও তথ্যের বিস্ফোরণের এই যুগে কম্পিউটার বিপুল সংখ্যক মানুষের নিকট যথেষ্ট নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছে। আর এটিই একে দাওয়াতি মাধ্যমসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছে যা সেই শ্রেণির মানুষকে প্রভাবিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে; কারণ তারা এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানসিক স্বস্তি ও ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। তাই যখনই ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে কুরআনের অর্থের অনুবাদসমূহ প্রকাশ করা হবে, তখন তা দাওয়াত প্রসারে অত্যন্ত সহায়ক হবে।

(খণ্ড: ১) আন-নাশরুল ইলেকট্রনিক লি-তারজামাতি মাআনিল কুরআনিল কারীম ফী খিদমাতিদ দাওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌توصيات الدراسة:

وبعد أن استعرضت في هذا البحث المباحث والموضوعات المتعلقة بعنوان البحث، فإنه يكون لزامًا عليّ ومن الأمانة العلمية أن أوضح وأبين بعض النتائج والاقتراحات والتوصيات التي توصلت إليها، وهي توصيات - إن كانت صوابًا- آمل أن ترى النور، وتجد من يأخذ بها إلى حيز التطبيق العملي خدمة لكتاب الله سبحانه وتعالى.

ضرورة تنسيق الجهود وتضافر الهمم بين الجمعيات والمنظمات والهيئات الإسلامية ذات العلاقة بالدعوة إلى الله سبحانه وتعالى لاستغلال وسيلة الإنترنت والنشر الإلكتروني لترجمات معاني القرآن الكريم لتكون وسيلة فعالة ومجدية في هذا المجال، ووسيلة سهلة وميسرة في سبيل جمع المسلمين وتأليفهم على كتاب الله سبحانه وتعالى.

ضرورة العمل الجاد على إنشاء مواقع إسلامية على شبكة الإنترنت العنكبوتية تتولى نشر ترجمات معاني القرآن الكريم المعتمدة إلكترونيا، كما أنه أصبح لزامًا إنتاج أقراص مدمجة لتلك الترجمات يتم تداولها ونشرها بين المسلمين في أقطار المعمورة.
গবেষণার সুপারিশমালা:

এই গবেষণায় গবেষণার শিরোনাম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরিচ্ছেদ ও বিষয়বস্তু পর্যালোচনার পর, জ্ঞানতাত্ত্বিক আমানতদারিতার খাতিরে আমার জন্য এটি আবশ্যক হয়ে পড়েছে যে, আমি গবেষণালব্ধ কিছু ফলাফল, প্রস্তাবনা ও সুপারিশমালা স্পষ্ট ও ব্যক্ত করি। আমি আশা করি এই সুপারিশগুলো—যদি তা সঠিক হয়ে থাকে—আলোর মুখ দেখবে এবং এমন কাউকে খুঁজে পাবে যারা মহান আল্লাহর কিতাবের সেবায় এগুলোকে বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে রূপদান করবেন।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পথে দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত ইসলামি সংস্থা, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রচেষ্টার সমন্বয় ও সংকল্পের একাত্মতা গড়ে তোলা জরুরি, যাতে পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের অনুবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ও ইলেকট্রনিক প্রকাশনা মাধ্যমকে সদ্ব্যবহার করা যায়; যা এই ক্ষেত্রে একটি কার্যকর ও ফলপ্রসূ মাধ্যম এবং মুসলিম উম্মাহকে মহান আল্লাহর কিতাবের ওপর ঐক্যবদ্ধ করার ও তাঁদের হৃদয়ে সম্প্রীতি স্থাপনের একটি সহজ ও সাবলীল পথ হিসেবে গণ্য হয়।

ইন্টারনেটে এমন সব ইসলামি ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুরুত্বের সাথে কাজ করা প্রয়োজন যা পবিত্র কুরআনের অর্থানুবাদের অনুমোদিত কপিগুলো ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রচারের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। সেই সঙ্গে এই অনুবাদগুলোর সিডি (CD) প্রস্তুত করাও এখন আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে, যা পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তের মুসলিমদের মাঝে বিতরণ ও প্রচার করা হবে।